Brand logo light

ঢাকা অগ্নিকাণ্ড

বিয়াম ফাউন্ডেশন
বিয়াম ভবনে বিস্ফোরণ ও হত্যাকাণ্ড:পরিকল্পিত নাশকতার অভিযোগ, এক বছরেও থমকে তদন্ত

শীর্ষনিউজ: রাজধানীর নিউ ইস্কাটনস্থ বিয়াম (বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব অ্যাডমিনিস্ট্রেশন অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট) ফাউন্ডেশন ভবনে বিস্ফোরণ ও হত্যাকাণ্ডের ঘটনার এক বছর পার হলেও প্রভাবশালী মহলের চাপে আটকে আছে তদন্ত। অথচ গত বছর প্রাথমিক তদন্ত শেষ করে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) জানিয়েছিল, ওই বিস্ফোরণ ছিল পরিকল্পিত ঘটনার জের। অনুসন্ধানের পর পিবিআই গত বছরের ২৮ জুলাই এ তথ্য জানায়। পিবিআই’র উদঘাটিত তথ্যে বলা হয়, এটি ছিল পূর্বপরিকল্পিত অগ্নিসংযোগ। মূল উদ্দেশ্য ছিল বিসিএস প্রশাসন কল্যাণ সমবায় সমিতির গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র পুড়িয়ে দেয়া। ঘটনার সঙ্গে জড়িত দুজনকে গ্রেফতারও করা হয়েছিল। তাদের জবানবন্ধীতে ঘটনা যে পরিকল্পিত এর বিবরণ বেরিয়ে আসে। কিন্তু এরপরে তদন্ত আর এগোয়নি মোটেই, প্রাথমিক প্রতিবেদনের পর ইতিমধ্যে আট মাস অতিক্রান্ত হয়ে গেছে। ধামাচাপা পড়ে আছে পুরো বিষয়টি। এদিকে ঘটনার শুরুতে বিসিএস প্রশাসন কল্যাণ সমবায় সমিতির কর্মকর্তারা এর জন্য সরাসরি বসুন্ধরা গ্রুপকে দায়ী করলেও পরে তারা বোল পাল্টে ফেলেন। বলছেন, বসুন্ধরা গ্রুপ এটা করেনি। তবে কে করেছে, এর জবাবও তারা দিচ্ছেন না। শীর্ষনিউজ ডটকম ও সাপ্তাহিক শীর্ষকাগজের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে অন্য কথা তুলে প্রসঙ্গ এড়িয়ে যাচ্ছেন সমিতির নেতারা। বিয়ামে বিস্ফোরণ ও অগ্নিকাণ্ড ঘটাতে উল্লেখযোগ্য পরিমাণে অর্থ ব্যয়ের অভিযোগ আছে। এর প্রমাণও পাওয়া গেছে প্রাথমিক তদন্তে। জড়িত ছিলেন বিয়াম ফাউন্ডেশনের একজন কর্মকর্তাসহ কয়েকজন। তারা আগুন ধরিয়ে বসুন্ধরার সঙ্গে করা কয়েকশ’ কোটি টাকার চুক্তির কাগজপত্র ও দলিল নিশ্চিহ্ন করে দেন। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, প্রাথমিক তদন্তে ‘পরিকল্পিত’ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ফাঁস হয়ে যাওয়ার পর বসুন্ধরা গ্রুপের সঙ্গে বিসিএস প্রশাসন কল্যাণ সমবায় সমিতির নেতাদের গোপন সমঝোতা হয়। সমঝোতার পরিপ্রেক্ষিতে বসুন্ধরা গ্রুপকে ছাড় দিচ্ছেন সমিতির নেতারা। অগ্নিকাণ্ডের পরপরই বসন্ধুরাকে দায়ী করলেও এখন আর তারা এ বিষয়ে কোনো কথা বলতে রাজি নন। উল্লেখ্য, বসুন্ধরা গ্রুপের একের পর এক চুক্তিভঙ্গের কারণে সমিতির সদস্য, প্রশাসন ক্যাডারের কর্মকর্তারা অনেক আগে অর্থ পরিশোধের পরও প্লট পাননি। দীর্ঘকাল ধরে প্লটের জন্য ঘুরেছেন তারা। এখন পর্যন্ত একটি প্লটও সরেজমিনে বুঝিয়ে দিতে পারেনি কল্যাণ সমিতি। জমি ক্রয় এবং মাটি ভরাট বিষয়ে বসুন্ধরা গ্রুপের সঙ্গে বিভিন্ন সময়ে পর পর ৫টি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। প্রত্যেকটি চুক্তিই লঙ্ঘন করে এই প্রভাবশালী আওয়ামী ব্যবসায়ী গ্রুপটি। ৫ আগস্ট, ২০২৪ আওয়ামী ফ্যাসিস্ট সরকারের পতনের পর বসুন্ধরা গ্রুপের কর্তাব্যক্তিরা বেকায়দায় পড়ে যান। সমিতির কাছ থেকে শত শত কোটি টাকা অগ্রিম নিয়েছিলেন, কিন্তু সমিতির জমি ও প্লট বুঝিয়ে দেননি। পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে চুক্তি বাস্তবায়নের চাপে পড়েন তারা। তখনো সমিতির জমি বুঝিয়ে দেয়া বাকি ছিল ৫৬ বিঘা। এছাড়া সমিতির সঙ্গে সম্পদিত চুক্তি ও কার্যক্রমে নানা রকমের অসঙ্গতি রয়ে গিয়েছিল। আর সেই কারণেই বসুন্ধরা গ্রুপ পরিকল্পিতভাবে এই অগ্নিকাণ্ড ঘটায় শুরুতে এবক্তব্য ছিল সমিতির নেতাদের। বিসিএস প্রশাসন কল্যাণ সমিতির নেতাদের আগের বক্তব্য এবং লিখিত এজহারেও এ তথ্য উঠে এসেছে। কিন্তু সমিতির নেতারা সেই অবস্থান থেকে পরে সরে এসেছেন। উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি রাতে রাজধানীর ইস্কাটনের বিয়াম ভবনে বড় আকারের এক বিস্ফোরণ হয়। এতে ভবনের দুজন নিহত হন। তাৎক্ষণিকভাবে এটিকে এসির বিস্ফোরণ বলে চালিয়ে দেয়ার চেষ্টা হয়েছিল। এমনকি পুরো ঘটনাটাই চাপা দেয়ার চেষ্টা হয়েছিল। গণমাধ্যমে যাতে খবরটা ফলাও করে প্রচার করা না হয় এ ব্যবস্থাও নেয়া হয়েছিল প্রভাবশালী মহলের পক্ষ থেকে। ফায়ার সার্ভিস এবং স্থানীয় থানা-পুলিশকেও ম্যানেজ করা হয়েছিল। ২৭ ফেব্রুয়ারি রাত প্রায় আড়াইটায় হঠাৎ করেই ভবনটির পঞ্চম তলায় বিস্ফোরণ হয় এবং এ থেকে অগ্নিকাণ্ডও হয়। ভবনের ৫ম তলার ওই ফ্লোরটিতে ছিল বিসিএস প্রশাসন কল্যাণ সমিতির অফিস। বিস্ফোরণ এবং আগুনের লেলিহানে ফ্লোরটির প্রায় সবগুলো কক্ষই ক্ষতিগ্রস্থ হয়। এরমধ্যে কয়েকটি কক্ষ পুরোপুরি বিধ্বস্ত হয়। কল্যাণ সমিতি অফিসের কাগজপত্রসহ, দলিলপত্র, ব্যাংকের কাগজপত্র, চুক্তিপত্র, আসবাবপত্র সবই পুড়ে যায়। ভবনের ওই ফ্লোরে থাকা দু’জন কর্মচারীর একজন সঙ্গে সঙ্গেই মারা যান। অন্য একজন দগ্ধ অবস্থায় পরবর্তীতে হাসাপাতালে মারা যান। রহস্যজনকভাবে শুরু থেকেই ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশ এত বড় ঘটনাকে ‘এসির বিস্ফোরণ’ এবং একটি সাধারণ ঘটনা বলে চালিয়ে দেয়ার চেষ্টা করে। যদিও এতে নাশকতার যথেষ্ট আলামত এমনকি প্রমাণাদিও ছিল। ভবনের সিসিটিভি ফুটেজেই এর বড় প্রমাণ রয়ে গিয়েছিল। তারপরও এটিকে ‘সাধারণ দুর্ঘটনা’ বলে চালিয়ে দেওয়ার চেষ্টা হয়েছিল। সাপ্তাহিক শীর্ষ কাগজে এ ব্যাপারে অনুসন্ধানী একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয় ১৭ মার্চ, ২০২৫। প্রতিবেদনটির শিরোনাম ছিল, “বিয়াম ভবনে বিস্ফোরণ পরিকল্পিত নাশকতা, অভিযোগের তীর বসুন্ধরা গ্রুপের দিকে! মাস্ক-গ্লাভস পরা যুবক এখনো গ্রেফতার হয়নি”। পরে ২৮ জুলাই রাজধানীর কল্যাণপুরে এক সংবাদ সম্মেলনে পিবিআইয়ের বিশেষ পুলিশ সুপার আব্দুর রহমান যে তথ্য তুলে ধরেন তাতে বলা হয়, “ঘটনার পেছনে ছিলেন বিয়াম ফাউন্ডেশনের প্রশাসনিক কর্মকর্তা এসএম জাহিদুল ইসলাম। তিনি মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে ভবনের একটি কক্ষে আগুন ধরিয়ে নথিপত্র পুড়িয়ে দেয়ার পরিকল্পনা করেন। এ কাজে তিনি ভাড়া করেন তার পূর্ব পরিচিত আশরাফুল ইসলামকে। দুজনের মধ্যে নথিপত্র ধ্বংসে ১০ থেকে ১২ লাখ টাকার মৌখিক চুক্তি হয়। পরিকল্পনা অনুযায়ী আশরাফুল সিসিটিভি ক্যামেরা বন্ধ করে দেন এবং অফিস সহায়ক আব্দুল মালেক ও গাড়িচালক ফারুক ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন ধরিয়ে দেন। আগুন লাগার পরপরই প্রচণ্ড বিস্ফোরণ ঘটে। ঘটনাস্থলেই মারা যান অফিস সহায়ক মালেক। আহত গাড়িচালক ফারুককে হাসপাতালে নেয়া হলে সেখানেই তিনি মারা যান।” এখন প্রশ্ন দাঁড়িয়েছে, সমিতির কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জাহিদুল ইসলামের সরাসরি কোনো সম্পর্ক নেই। বিয়াম এবং সমিতি আলাদা প্রতিষ্ঠান। তাহলে কেন তিনি ১০-১২ লাখ টাকা ব্যয় করে নথি পোড়ানোর পরিকল্পনা করলেন, এ প্রশ্নের জবাব এখন পর্যন্ত পাওয়া যায়নি। পিবিআই কর্মকর্তারাও এ বিষয়ে মুখ খুলছেন না। অদৃশ্য ইশারায় তাদের তদন্তও আর এগোয়নি। সংশ্লিষ্টরা বলেন, জাহিদুল ইসলামকে ভাড়া করে অন্য কেউ। এ ব্যাপারে একমাত্র নাম আসছে বসুন্ধরা গ্রুপের। সমবায় সমিতির নেতাদের বক্তব্যেও তা উঠে আসে। এ ঘটনায় ২৮ ফেব্রুয়ারি হাতিরঝিল থানায় জিডি এন্ট্রি করেন বিসিএস (প্রশাসন) কল্যাণ সমিতির সাধারণ সম্পাদক, সরকারের সাবেক সচিব মোহাম্মদ মসিউর রহমান। এরপরে ৪ মার্চ তিনি থানায় এজহারও দায়ের করেন। পরিকল্পিত নাশকতার কথা উল্লেখ করে তিনি এজহারে। পরিকল্পিত নাশকতার জন্য তিনি নাম উল্লেখ না করে বসুন্ধরা গ্রুপকেই সরাসরি দায়ী করেন। দায়েরকৃত এজহারে তিনি ‘একটি ডেভেলপার কোম্পানির’ সঙ্গে তাদের সম্পাদিত চুক্তিসমূহ বাস্তবায়ন না হওয়াসহ বিভিন্ন মনস্তাত্ত্বিক দ্বন্দ্বের কথা উল্লেখ করেছেন। সমিতির সভাপতি, সাবেক সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তারও এ বিষয়ে দেয়া এক লিখিত বিবৃতিতে একই অভিযোগ করেছেন। কিন্তু পরে সমিতির নেতারা আর সেই অবস্থানে থাকেননি। এর পেছনে কী রহস্য সেটা বের হওয়া প্রয়োজন। নথিপত্র ধ্বংসের প্রশ্ন ঘটনায় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো— সমিতির সব গুরুত্বপূর্ণ নথি, ব্যাংক ডকুমেন্ট ও চুক্তিপত্র পুড়ে যায় এসব নথিই ছিল চলমান আর্থিক ও জমি সংক্রান্ত বিরোধের কেন্দ্রবিন্দু এতে প্রশ্ন উঠছে—এই নথি ধ্বংসের পেছনে কার স্বার্থ ছিল? অমীমাংসিত প্রশ্ন ঘটনার এক বছর পরও বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নের উত্তর মেলেনি— কেন একজন বিয়াম কর্মকর্তা বিপুল অর্থ খরচ করে এই পরিকল্পনা করলেন? তিনি কি নিজ উদ্যোগে কাজ করেছেন, নাকি কারও হয়ে? তদন্ত কেন থেমে গেল? সমিতির নেতারা কেন তাদের অবস্থান পরিবর্তন করলেন? বিশ্লেষকদের মতে, এই ঘটনা শুধু একটি অগ্নিকাণ্ড নয়—বরং এটি প্রশাসনিক স্বচ্ছতা, জবাবদিহি এবং প্রভাবশালী গোষ্ঠীর প্রভাব নিয়ে বড় প্রশ্ন তৈরি করেছে। তদন্ত পুনরায় সক্রিয় না হলে এই ঘটনার প্রকৃত সত্য অধরাই থেকে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ৪, ২০২৬ 0
Popular post
ফারুকীর সম্পদ কমেছে, তিশার বেড়েছে দ্বিগুণেরও বেশি: সম্পদ বিবরণী ঘিরে আলোচনা

অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের সম্পদ বিবরণী প্রকাশের পর সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী ও তার স্ত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদের হিসাব নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। এক বছরের ব্যবধানে স্বামী ফারুকীর সম্পদ কমলেও স্ত্রী তিশার সম্পদ বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে প্রকাশিত তথ্যে উঠে এসেছে এই চিত্র। প্রকাশিত খতিয়ান অনুযায়ী, জনপ্রিয় অভিনেত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদ এক বছরে অভাবনীয় হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তিশার মোট সম্পদের পরিমাণ ছিল ১ কোটি ৪০ লাখ ৮১ হাজার ৮৬০ টাকা। ঠিক এক বছর পর, ২০২৫ সালের ৩০ জুন সেই সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ৯৯ লাখ ৮৯ হাজার ৫০১ টাকায়। অর্থাৎ মাত্র এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ বেড়েছে ১ কোটি ৫৯ লাখ ৭ হাজার ৬৪১ টাকা, যা আগের বছরের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি। অন্যদিকে সংস্কৃতি উপদেষ্টা ও নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর ক্ষেত্রে দেখা গেছে উল্টো চিত্র। এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ কমেছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তার মোট সম্পদ ছিল ২ কোটি ২৬ লাখ ৯২ হাজার ২৬ টাকা। ২০২৫ সালের ৩০ জুন তা কমে দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ১৫ লাখ ১৮ হাজার ২৬ টাকায়। হিসাব অনুযায়ী, এক বছরে তার সম্পদ কমেছে ১১ লাখ ৭৪ হাজার টাকা। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে গত মঙ্গলবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ প্রধান উপদেষ্টা, উপদেষ্টা ও সমমর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের পাশাপাশি তাদের স্ত্রী বা স্বামীর সম্পদ বিবরণী প্রকাশ করে। একই সময়ে স্বামী-স্ত্রীর সম্পদে এমন ভিন্নমুখী পরিবর্তন স্বাভাবিকভাবেই সাধারণ মানুষের কৌতূহলের জন্ম দিয়েছে। শোবিজ অঙ্গনের জনপ্রিয় দম্পতি হওয়ায় তাদের এই আয়-ব্যয়ের হিসাব এখন টক অব দ্য কান্ট্রি।

বাংলাদেশে ঐতিহাসিক নির্বাচন: বিএনপি এগিয়ে, জামায়াতের উত্থান ও তরুণ ভোটারদের প্রভাব

২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশে আজ এক ঐতিহাসিক ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ২০০৮ সালের পর এই প্রথম একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হতে যাচ্ছে যেখানে দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগ রাজনৈতিক মানচিত্র থেকে কার্যত অনুপস্থিত। বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক জরিপ বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০০ আসনের মধ্যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) কার্যকর সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে যাচ্ছে। তবে ভোটের ব্যবধান এবং কিছু সমীকরণ নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। নির্বাচনের সবচেয়ে বড় নিয়ামক হয়ে দাঁড়িয়েছে আওয়ামী লীগের বিশাল ভোটব্যাংক। দলটির নিয়মিত প্রায় ৪ কোটি ভোটার এখন নতুন রাজনৈতিক আশ্রয় খুঁজছেন। সিআরএফ বা বিইপিওএস জরিপ বলছে, এই ভোটারদের প্রায় অর্ধেক বিএনপির দিকে ঝুঁকেছে, যা দলটিকে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতার পথে এগিয়ে দিচ্ছে। অন্যদিকে, প্রায় ৩০ শতাংশ আওয়ামী ভোটার জামায়াতে ইসলামীকে বেছে নিতে পারেন বলে আভাস পাওয়া যাচ্ছে। এছাড়া বাংলাদেশের বিদ্যমান নির্বাচনী ব্যবস্থার কারণে দেশজুড়ে সুষম জনসমর্থন থাকা বিএনপি আসন জয়ের ক্ষেত্রে জামায়াতের তুলনায় সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। তবে বিএনপির এই সম্ভাব্য জয়ের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও বিদ্রোহী প্রার্থীরা। প্রায় ৭৯টি নির্বাচনী এলাকায় দলের মনোনয়ন না পাওয়া ৯২ জন প্রভাবশালী নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, যা বিএনপির ১৫ থেকে ৩০টি আসন কমিয়ে দিতে পারে। অন্যদিকে, তরুণ ভোটার বা ‘জেন-জি’ প্রজন্মের বিশাল সমর্থন জামায়াতে ইসলামীর শক্তির উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেশের ৪৪ শতাংশ ভোটারই তরুণ, যাদের বড় একটি অংশ প্রথমবার ভোট দিচ্ছেন। এই তরুণরা যদি দলবেঁধে কেন্দ্রে উপস্থিত হন, তবে নির্বাচনী ফলে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। সবশেষে, প্রায় ১৭ থেকে ৩৫ শতাংশ দোদুল্যমান ভোটার এবং তাদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করবে আগামীর সরকার কতটা শক্তিশালী হবে। দ্য নিউইয়র্ক এডিটোরিয়ালের মূল পূর্বাভাস, তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি প্রায় ১৮৫টি আসনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করতে পারে এবং জামায়াতে ইসলামী ৮০টির মতো আসন পেয়ে প্রধান বিরোধী দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারে। তবে বিদ্রোহী প্রার্থীদের প্রভাব এবং তরুণ ভোটারদের উপস্থিতির ওপর ভিত্তি করে আসন সংখ্যায় বড় ধরনের হেরফের হওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

গাজায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা ট্রাম্প প্রশাসনে

ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। ৩৫০ একরের ঘাঁটিটিতে সামরিক বাহিনীর পাঁচ হাজার সদস্য থাকতে পারবে। গাজার ‘বোর্ড অব পিস’র নথি পর্যালোচনা করে এ তথ্য জানিয়েছে দ্য গার্ডিয়ান। প্রতিবেদনে ব্রিটিশ সংবাদ মাধ্যমটি জানিয়েছে, বোর্ড অব পিসে গাজাকে নিরাপদ করার জন্য ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যাবিলাইজেশন ফোর্স (আইএসএফ) নামে একটি আন্তর্জাতিক বাহিনী মোতায়েনের কথা বলা হয়েছে। যে স্থানটি ঘাঁটি করার জন্য বিবেচনা করা হচ্ছে সেখানে আইএসএফের সদস্যরা থাকবে। বোর্ড অব পিসের প্রধান হবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আর সংগঠনটির আংশিক নেতৃত্ব দেবেন ট্রাম্পের জামাতা জ্যারার্ড কুশনার।দ্য গার্ডিয়ান বোর্ড অব পিসের নথি পর্যালোচনা করে জানায়, ধাপে ধাপে একটি সামরিক ঘাঁটি নির্মাণ করা হবে। সবকিছু শেষ হলে ঘাঁটিটি ১৫ লাখ ১৭ হাজার ৫৭৫ বর্গমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত হবে। ঘাঁটিটির চারপাশে ট্রেইলার সংযুক্ত ২৬টি সাঁজোয়া নজরদারি টাওয়ার থাকবে। এছাড়া একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, বাংকার ও অস্ত্র রাখার গুদাম থাকবে। পুরো ঘাঁটিটি কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে ঘিরে রাখা হবে। সামরিক ঘাঁটি নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে দক্ষিণ গাজার একটি শুষ্ক সমতলভূমিতে। সেখানে ইসরায়েলি হামলার চিহ্ন রয়েছে। ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে বিভিন্ন ধাতবের ধ্বংসাবশেষ।  ওই এলাকার ভিডিও পর্যালোচনা করেছে দ্য গার্ডিয়ান। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, ঘাঁটি নির্মাণের জন্য টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে। যুদ্ধক্ষেত্রে কাজের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন আন্তর্জাতিক নির্মাণ কোম্পানিগুলোর একটি ছোট দলকে ইতোমধ্যেই এলাকাটি দেখানো হয়েছে। ওই দলটি দরপত্রে অংশ নিতে আগ্রহী।    ইন্দোনেশিয়া সরকার গাজায় আট হাজার সেনা সদস্য পাঠানোর জন্য প্রস্তাব দিয়েছে। বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটন ডিসিতে বোর্ড অব পিসের অনানুষ্ঠানিক বৈঠকে ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্টের অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। এছাড়া দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার আরও তিন নেতার ওই বৈঠকে অংশ নেবেন বলে জানা গেছে। জাতিসংঘের নিরাপত্তা কাউন্সিল গাজার সাময়িক স্থিতিশীলতার জন্য অস্থায়ীভাবে সামরিক বাহিনী মোতায়েনের অনুমোদন দিয়েছে। নিরাপত্তা কাউন্সিলই বোর্ড অব পিসের মূল হোতা। গাজার সীমান্ত ও শান্তি প্রণয়নে কাজ করবে আইএসএফ। এছাড়া বেসামরিকদের সুরক্ষা এবং ফিলিস্তিনি পুলিশ বাহিনীকে প্রশিক্ষণ ও সহায়তা দেবে তারা। যদি গাজায় ফের সংঘর্ষ হয়, ইসরায়েল বোমা হামলা চালায় অথবা হামাস হামলা চালায় সেক্ষেত্রে আইএসএফ কি করবে তা এখনও স্পষ্ট নয়। গাজা পুনর্গঠনে ইসরায়েল হামাসকে নিরস্ত্রীকরণের যে শর্ত দিয়েছে সেটির জন্য আইএসএফ কাজ করবে কিনা তাও স্পষ্ট না। ইতোমধ্যে বোর্ড অব পিসে ২০ এর অধিক দেশ যোগ দিয়েছে। তবে, এখনও অনেক পরাশক্তি এর থেকে দূরে রয়েছে। জাতিসংঘের অনুমোদন নিয়ে প্রতিষ্ঠিত হলেও ধারণা করা হচ্ছে, সংগঠনটির স্থায়ী নেতৃত্ব ও নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে। রুটজার্স বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক আদিল হক বলেন, “বোর্ড অব পিস এক ধরনের আইনি কল্পসত্তা। নামমাত্রভাবে এর নিজস্ব আন্তর্জাতিক আইনগত সত্তা রয়েছে, যা জাতিসংঘ ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে আলাদা। কিন্তু বাস্তবে এটি যুক্তরাষ্ট্রের ইচ্ছামতো ব্যবহারের জন্য একটি ফাঁপা খোলসমাত্র।” বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গাজা পুনর্গঠনে যে অর্থায়ন ও শাসন কাঠামো হচ্ছে তা অস্বচ্ছ। কয়েকজন ঠিকাদার গার্ডিয়ানকে জানান, গাজায় কাজ করার জন্য মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে তাদের প্রায়শ আলোচনা সরকারি ইমেলের বদলে সিগন্যালের মাধ্যমে করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রের তথ্য মতে, ঘাঁটি নির্মাণের সিদ্ধান্তটি বোর্ড অব পিসের। এতে সহায়তা করছে মার্কিন কর্মকর্তারা। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ঘাঁটিতে তৈরি বাংকার নেটওয়ার্কের মতোন কাজ করবে। প্রতিটি বাংকারের ২৪ মিটারের হবে। উচ্চতা থাকবে আড়াই মিটার। এগুলো এমনভাবে করা হবে যেন সেনা সদস্যরা আশ্রয় নিতে পারে। স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসের গাজায় সুড়ঙ্গ নেটওয়ার্ক বা টানেল রয়েছে। সেগুলোর আদলে নেটওয়ার্ক করতে চাওয়া হচ্ছে। পিস অব বোর্ডের নথি পর্যালোচনা করে এমন দাবি করছে গার্ডিয়ান। সংবাদ মাধ্যমটি বলছে,  স্থানটির ভূ-ভৌত জরিপ পরিচালনা করবে ঠিকাদাররা। নথির এক অংশে ‘হিউম্যান রেমিয়েনস প্রোটোকল’র কথা বলা হয়েছে। এর মানে দাঁড়ায়, সন্দেহভাজন মানব অবশিষ্ট বা সাংস্কৃতিক নিদর্শন পাওয়া গেলে অবিলম্বে সেই এলাকায় সব কাজ বন্ধ করতে হবে। চুক্তি কর্মকর্তাকে দিকনির্দেশনার জন্য অবিলম্বে জানাতে হবে। গাজা সিভিল ডিফেন্সের ধারণা, গাজার ধ্বংসস্তূপের নিচে ১০ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনির মরদেহ রয়েছে। ঘাঁটির জন্য যে স্থানটি বিবেচিত করা হচ্ছে সেটির মালিক কে তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে, দক্ষিণ গাজার বেশিরভাগ অংশ  বর্তমানে ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণে। জাতিসংঘের অনুমান, যুদ্ধ চলাকালীন ১৯ লাখ ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত হয়েছে। ফিলিস্তিনের জমিতে সরকারের অনুমতি না নিয়ে সামরিক ঘাঁটি স্থাপনকে দখল হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন ফিলিস্তিনি-কানাডিয়ান আইনজীবী এবং প্রাক্তন শান্তি আলোচক দিয়ানা বুট্টু। তিনি প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়ে বলেন, “কার অনুমতিতে তারা সামরিক ঘাঁটি স্থাপন করবে।” বিষয়টি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা বোর্ড অব পিসের কথা টানেন। ট্রাম্প প্রশাসনের একজন কর্মকর্তা সামরিক ঘাঁটির চুক্তি নিয়ে আলোচনা করতে অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, “যেমনটি প্রেসিডেন্ট বলেছেন, কোনও মার্কিন সেনা স্থলভাগে যাবে না। আমরা লিক হওয়া নথি নিয়ে আলোচনা করবো না।”

সংসার সামলাতে অটোরিকশা নিয়ে রাস্তায় নেমেছেন রোজিনা

বাসস : বাবা একজন তাঁত শ্রমিক। তিন বোন দুই ভাইয়ের মধ্যে সবার বড় রোজিনা। অভাব সংসার, তাই এক এতিম যুবকের সাথে বাবা-মা বিয়ে দেন তাকে। বিয়ের পর জন্ম হয় দুই কন্যা সন্তানের। অটোরিকশা চালিয়ে কোন রকম সংসার চালাচ্ছিলেন স্বামী রফিকুল ইসলাম। কিন্তু সড়ক দুর্ঘটনায় রফিকুলের এক চোখ সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যায়। আরেকটি চোখ আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ধীরে ধীরে ওই চোখের দৃষ্টি শক্তিও কমতে থাকে। ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে অটোরিকশা চালানো। সংসারের উপার্জনক্ষম মানুষটি অচল হয়ে পড়ায় চিকিৎসার খরচ, ঘর ভাড়া ও খাবারের পাশাপাশি মেয়েদের লেখাপড়ার খরচ চালানোই কঠিন হয়ে যায়। দিশেহারা হয়ে পরেন রোজিনা। এক পর্যায়ে মানুষের বাড়ি বাড়ি কাজ করে সংসার চালানোর চেস্টা করেন। কিন্তু সুবিধা করতে পারেন না। এমন পরিস্থিতিতে অটোরিকশা চালানোর সিদ্ধান্ত নেন তিনি। স্বামী রফিকুলের কাছেই হাতেখড়ি। গ্রামের স্কুলের মাঠে স্বামীর কাছেই অটোরিকশা চালানোর শিক্ষা নেন তিনি। পরে গ্রামের পথে নেমে পড়েন অটোরিকশা নিয়ে। ৫-৬ দিন এভাবে হাত পাকা করে একদিন টাঙ্গাইল শহরে চলে আসেন রোজিনা। এরপর শুরু করেন অটোরিক্সা চালানোর ব্যতিক্রমী জীবন সংগ্রাম। এখন টাঙ্গাইল পৌরসভায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার চালকদের মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা বেগম। জেলার বাসাইল উপজেলার আইসড়া গ্রামের বাসিন্দা রোজিনা টাঙ্গাইল পৌর শহরের এক প্রান্ত রাবনা বাইপাস থেকে আরেক প্রান্ত বেবিস্ট্যান্ডে যাত্রী আনা নেয়া করেন। যানজটের কারণে শহরে পুরুষ চালকরা যেখানে হিমসিম খায়, সেখানেই বিগত ৫ বছর ধরেই নির্বিঘেœ অটোরিকশা চালাচ্ছেন তিনি। টাঙ্গাইল পৌরসভা কার্যালয় সূত্রে জানা যাায়, টাঙ্গাইল শহরে চলাচলের জন্য ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক ও ৫ হাজার ব্যাটারিচালিত রিকশার অনুমতি (লাইসেন্স) দেওয়া হয়েছে। যানজট এড়াতে ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক জোড় ও বিজোড় সংখ্যায় দিনে দুই ভাগ করা হয়েছে। সকাল থেকে বেলা দুইটা পর্যন্ত এক ভাগ এবং বেলা দুইটা থেকে রাত পর্যন্ত আরেক ভাগের ইজিবাইক চলাচল করার নির্দেশনা দিয়েছে পৌর কর্তৃপক্ষ। কিন্তু রোজিনাকে দুই শিফটে চালানোর অনুমতি দিয়েছে পৌরসভা। সরেজমিনে দেখা যায়, নতুন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অটোরিকশা নিয়ে যাত্রী ডাকছেন রোজিনা। কলেজ গেট, পুরাতন বাসস্ট্যান্ড, ক্যাপসুল, নিরালা মোড়, বেবিস্ট্যান্ড সর্বত্রই যাত্রী আনানেয়া করেন তিনি। পুরাতন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অন্য অটো চালকদের দাঁড় করতে না দিলেও রোজিনাকে বাঁধা দেননা ট্রাফিক পুলিশ। বলতে গেলে সবাই তার প্রতি সহানুভুতিশীল। ট্রাফিক পুলিশসহ অন্য অটোচালকরাও তাকে সহযোগিতা করেন। রোজিনা বলেন, আমার অটোতে নারী যাত্রীরা খুব কম। তারা মনে করে আমার অটোতে উঠলে দুর্ঘটনায় পড়বে। কিন্তু আমি খুব সাবধানে অটো চালাই। দ্রুত গতিতেও না, আবার একেবারে ধীরগতিতেও না। এখন পর্যন্ত আমি কোন দুর্ঘটনার কবলে পড়ি নাই। শহরের পুরুষ অটোরিকশা চালকরা আমাকে অনেক সহযোগিতা করে। অটোচালক কাদের মিয়া বলেন, আমাদের শহরে কয়েক হাজার অটো চলাচল করে। তার মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। তাকে আমরা সব সময় সহযোগিতা করি। যাত্রী সাইদ মিয়া বলেন, আমি এ পর্যন্ত ৫-৬ বার রোজিনার অটোতে চড়েছি। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। অন্য পুরুষ অটো চালকের চেয়েও ভালো অটো চালান। নারী সংগঠক সেরাজুম মনিরা বলেন, তিনি অনেক দিন যাবত অটোরিকশা চালাচ্ছেন। আমি রোজিনাকে স্যালুট জানাই। একজন পুরুষের চেয়ে একজন নারী কোনো ভাবেই যে পিছিয়ে নেই, রোজিনা তা প্রমাণ করেছেন। রোজিনা বলেন, অটো চালানোর এই সিদ্ধান্তটি তার জন্য খুব সহজ ছিল না। তিনি বলেন, ৫ ও ১০ বছরের দুই মেয়েকে বাড়িতে রেখে অটোরিকশা নিয়ে সারাদিন রাস্তায় থাকতে হয়। তাদের ভালোভাবে দেখাশোনা করতে পারি না। কিন্তু কি করবো, অভাবের সংসার! এখন ঋণ নিয়ে একটু জমি কিনেছি। প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ণ প্রকল্পের অর্থায়নে প্রশাসন সেখানে ঘর তুলে দিয়েছে। শুরুতে যারা আমাকে নিয়ে ঠাট্টা করেছে এখন তারাই আমাকে সম্মান করেন। নারীরাও যে কিছু করতে পারে, তা প্রমাণ করেছি। আমার বড় মেয়ে আইসড়া উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়ে, ছোট মেয়ে পড়ে স্থানীয় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। মেয়েদের শিক্ষিত করতে হবে। ধার দেনা শোধ করতে হবে। তাই থেমে গেলো চলবে না। আমি অটোরিকশা চালিয়েই দুই সন্তানকে মানুষ করতে চাই।’ ঘারিন্দা ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য বাবুল সরকার বলেন, সরকার রোজিনাকে একটি ঘর নির্মাণ করে দিয়েছে। শুরুতে যারা তাকে নিয়ে নানান কথা বলতো, এখন তার সংকল্প ও মানষিক দৃঢ়তা দেখে থেমে গেছে। আমরা তাকে নিয়ে গর্ব করি। টাঙ্গাইলের ট্রাফিক ইন্সপেক্টর (প্রশাসন) দেলোয়ার হোসেন বলেন, শহরের একমাত্র নারী চালক রোজিনাকে কেউ যেন বিরক্ত করতে না পারে সেদিকে সব সময় নজর রাখে ট্রাফিক পুলিশ। আমরা তাকে সব সময় সহযোগিতা করে আসছি। টাঙ্গাইলের সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক শাহ আলম বলেন, বিষয়টি এখন জানতে পারলাম। ওই নারী এখনো পর্যন্ত আমাদের কাছে আসেন নাই। যদি আমাদের কাছে এসে আবেদন করেন অবশ্যই তাকে আমরা সহযেগিতা করবো, তার পাশে দাঁড়াবো।

কুড়িগ্রামের তাজু ভাই ২.০: ‘সরকারি রেটে জিলাপি’ প্রশ্নে ভাইরাল এক নির্মাণশ্রমিকের গল্প

বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের প্রত্যন্ত চরাঞ্চল থেকে উঠে এসে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার কেন্দ্রে এখন তাইজুল ইসলাম, যিনি অনলাইনে পরিচিত ‘তাজু ভাই ২.০’ নামে। মাত্র একটি ভিডিও—যেখানে তিনি এক দোকানিকে প্রশ্ন করেন, “জিলাপি আজকে কত করে বেচতেছেন সরকারি রেটে?”—এই সরল উপস্থাপনাই তাকে রাতারাতি ভাইরাল করে তোলে।  কয়েক ঘণ্টায় ফলোয়ার লাখ ছাড়াল রোববার রাত পর্যন্ত তার ফেসবুক অনুসারী ছিল প্রায় ৩৫ হাজার। কিন্তু সোমবার সন্ধ্যা থেকে রাতের মধ্যেই তা বেড়ে এক লাখের বেশি হয়ে যায়। ভাইরাল ভিডিওটি ইতোমধ্যে প্রায় ৫০ থেকে ৫৫ লাখবার দেখা হয়েছে।  কী ছিল সেই ভিডিওতে? ভিডিওতে দেখা যায়, কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীর নারায়ণপুর বাজারে দাঁড়িয়ে স্থানীয় ভাষায় তিনি জিলাপির দাম জানতে চান। তার কথাগুলো ছিল একেবারেই সহজ ও গ্রাম্য ভঙ্গিতে— “সাদাডা কত, লালডা কত? সরকারি রেটে বেচতেছেন?” এই সরল প্রশ্নই সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।  কোথা থেকে উঠে এলেন তাজু ভাই? কুড়িগ্রাম জেলার নাগেশ্বরী উপজেলার নারায়ণপুর ইউনিয়নের একটি দুর্গম গ্রামে জন্ম তার। ব্রহ্মপুত্র নদবেষ্টিত এই অঞ্চলে পৌঁছাতে এখনও কয়েকটি নৌঘাট পার হতে হয়। দারিদ্র্যের কারণে কখনো স্কুলে যাওয়া হয়নি তার। পেশায় তিনি একজন নির্মাণশ্রমিকের সহকারী (হেলপার)। কাজের ফাঁকে ঢাকায় থাকাকালীন মোবাইল ফোনে ভিডিও তৈরি করাই তার শখ। ব্যক্তিগত সংগ্রাম তাইজুল ইসলামের পরিবারে ছয় ভাই-বোন। তিনি সবার বড়। তার বাবা-মা দুজনই শ্রবণপ্রতিবন্ধী। পরিবার চালাতে তাকে ছোটবেলা থেকেই সংগ্রাম করতে হয়েছে। তিনি বলেন, “পরিবারের কষ্ট ভুলতেই ভিডিও করি। আমি সাংবাদিক না, কিন্তু আমাদের এলাকায় কেউ আসে না—তাই নিজেরাই ভিডিও বানাই।” ভাইরাল হওয়ার পেছনের উদ্দেশ্য তাইজুলের দাবি, তার ভিডিও শুধুই বিনোদনের জন্য নয়। তিনি চান তার এলাকার অবহেলিত মানুষের কথা প্রশাসনের নজরে আসুক। “আমি চাই চরের মানুষের উন্নয়ন হোক,”—বলছেন তিনি।  মিশ্র প্রতিক্রিয়া ভিডিওটি নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে দুই ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ তার সরলতা ও বাস্তবতা তুলে ধরার চেষ্টা প্রশংসা করছেন আবার কেউ তাকে নিয়ে ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ করছেন তবে এসব সমালোচনায় তিনি বিচলিত নন।

অর্থনীতি

দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য

বাংলাদেশে জ্বালানি আমদানিতে সীমাবদ্ধতা, বাজেটে সতর্কতার পরামর্শ দিলেন দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ১, ২০২৬ 0




অপরাধ

বিয়াম ফাউন্ডেশন

বিয়াম ভবনে বিস্ফোরণ ও হত্যাকাণ্ড:পরিকল্পিত নাশকতার অভিযোগ, এক বছরেও থমকে তদন্ত

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ৪, ২০২৬ 0




কৃষি ও জলবায়ু

উদ্ভাবিত নতুন জাতের ধান

গাজীপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় উদ্ভাবিত উচ্চ ফলনশীল চিকন ধান ‘জিএইউ ধান ৪’: স্বল্পমেয়াদী, উচ্চ ফলনশীল ও পুষ্টিগুণে সমৃদ্ধ আউশ ধান

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ৪, ২০২৬ 0