Brand logo light

তেল পরিবহন

হরমুজ প্রণালিতে ‘টোল নয়, ফি’: আন্তর্জাতিক আইন ও কূটনীতিতে নতুন বিতর্ক

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক বাণিজ্যপথ হরমুজ প্রণালি ব্যবহারকারী জাহাজের ওপর কোনো ধরনের ট্রানজিট টোল আরোপ করা হবে না বলে জানিয়েছে ইরান। তবে একইসঙ্গে দেশটি স্পষ্ট করেছে, প্রণালি ব্যবহারকারী জাহাজগুলোকে নির্দিষ্ট কিছু সেবার বিনিময়ে ‘সার্ভিস ফি’ পরিশোধ করতে হতে পারে। ইরানের এই অবস্থান আন্তর্জাতিক আইন, সমুদ্রপথ ব্যবস্থাপনা এবং বৈশ্বিক জ্বালানি নিরাপত্তা নিয়ে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। কারণ, টোল ও সার্ভিস ফির মধ্যে পার্থক্য থাকলেও বাস্তবে এর আইনগত বৈধতা কতটুকু—তা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন বিভিন্ন বিশেষজ্ঞ। ট্রাম্পের ঘোষণার পর নতুন আলোচনা বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় আসে রোববার (১৪ জুন) যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের এক ঘোষণার পর। তিনি দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে শান্তি সমঝোতার ফলে হরমুজ প্রণালি পুনরায় উন্মুক্ত হয়েছে এবং এটি স্থায়ীভাবে ‘টোলমুক্ত’ থাকবে। তবে ট্রাম্পের ওই বক্তব্যের মাত্র একদিন পরই ইরান জানিয়ে দেয়, প্রণালিটি ব্যবহারকারী জাহাজগুলোর কাছ থেকে কিছু ধরনের চার্জ বা ফি নেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ফলে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের মধ্যে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে—বাস্তবে হরমুজ প্রণালি কি সত্যিই ‘টোলমুক্ত’ থাকছে, নাকি নতুন নামে আর্থিক দায় বহাল রাখা হচ্ছে? কী বলছে ইরান? ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই বলেছেন, “আমরা কোনো ট্রানজিট টোল আরোপের পরিকল্পনা করছি না; তবে যেসব সেবা প্রদান করা হবে, তার বিনিময়ে ফি নেওয়া হবে।” তার ভাষ্য অনুযায়ী, সম্ভাব্য সেবাগুলোর মধ্যে থাকতে পারে— পরিবেশ সুরক্ষা কার্যক্রম; নৌচলাচল নিরাপত্তা সহায়তা; সামুদ্রিক ব্যবস্থাপনা; জরুরি প্রতিক্রিয়া ও নজরদারি সেবা। তবে এসব সেবার আওতা, ফি নির্ধারণের পদ্ধতি কিংবা কোন ধরনের জাহাজকে অর্থ পরিশোধ করতে হবে—সে বিষয়ে এখনো বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করেনি তেহরান। কেন গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি? হরমুজ প্রণালি বিশ্বের সবচেয়ে কৌশলগত সামুদ্রিক করিডরগুলোর একটি। মধ্যপ্রাচ্যের তেলসমৃদ্ধ দেশগুলো থেকে রপ্তানি হওয়া বিপুল পরিমাণ জ্বালানি এই পথ দিয়ে বৈশ্বিক বাজারে পৌঁছে। আন্তর্জাতিক জ্বালানি বিশ্লেষকদের তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বব্যাপী ব্যবহৃত মোট অপরিশোধিত তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই জলপথ অতিক্রম করে পরিবাহিত হয়। ফলে প্রণালিটিতে যেকোনো ধরনের বিধিনিষেধ, অতিরিক্ত চার্জ বা নিরাপত্তা সংকট সরাসরি বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার, পরিবহন ব্যয় এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে প্রভাব ফেলতে পারে। টোল ও সার্ভিস ফির পার্থক্য কোথায়? আন্তর্জাতিক সমুদ্র আইনে সাধারণভাবে ‘ট্রানজিট প্যাসেজ’ ব্যবস্থার আওতায় গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক প্রণালি ব্যবহারকারী জাহাজের ওপর সরাসরি টোল আরোপ বিতর্কিত হিসেবে বিবেচিত হয়। তবে কোনো রাষ্ট্র যদি নৌ-নিরাপত্তা, পরিবেশ সুরক্ষা বা বিশেষ সেবা প্রদান করে, তাহলে নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে সার্ভিস চার্জ বা প্রশাসনিক ফি আদায়ের সুযোগ থাকতে পারে। এখানেই মূল বিতর্ক। সমালোচকদের প্রশ্ন হলো—যদি ফি বাধ্যতামূলক হয় এবং জাহাজ চলাচলের শর্ত হিসেবে আরোপ করা হয়, তাহলে সেটি কার্যত টোলের বিকল্প রূপে পরিণত হবে কি না। অন্যদিকে ইরানের অবস্থান হলো, এটি প্রণালি ব্যবহারের জন্য নয়; বরং প্রদত্ত সেবার বিনিময়ে নেওয়া অর্থ। সামনে কী হতে পারে? বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালিতে ‘টোল’ শব্দটি এড়িয়ে ‘সার্ভিস ফি’ ব্যবহারের মাধ্যমে ইরান একদিকে আন্তর্জাতিক আইনের সীমারেখা মেনে চলার বার্তা দিতে চাইছে, অন্যদিকে প্রণালির ব্যবস্থাপনায় নিজেদের ভূমিকা ও প্রভাবও বজায় রাখতে চায়। তবে এই নীতির বাস্তব প্রয়োগ, চার্জের ধরন এবং আন্তর্জাতিক শিপিং কোম্পানিগুলোর প্রতিক্রিয়ার ওপরই নির্ভর করবে নতুন এই ব্যবস্থাকে বৈশ্বিক সম্প্রদায় কতটা গ্রহণযোগ্য বলে মনে করে। বর্তমানে হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে যে আলোচনা শুরু হয়েছে, তা শুধু আঞ্চলিক ভূরাজনীতির নয়; বরং বৈশ্বিক জ্বালানি নিরাপত্তা, আন্তর্জাতিক সমুদ্র আইন এবং বাণিজ্যিক নৌপরিবহনের ভবিষ্যতের সঙ্গেও সরাসরি সম্পর্কিত।

নিজস্ব প্রতিবেদক জুন ১৭, ২০২৬ 0
হরমুজ সংকটের ধাক্কা সৌদি বাজেটে
হরমুজ প্রণালি সংকট: সৌদি আরবে রেকর্ড বাজেট ঘাটতি, নতুন নিয়ন্ত্রণে ইরান

ইত্তেহাদ নিউজ, অনলাইন ডেস্ক : হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে মধ্যপ্রাচ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার প্রভাব এবার সরাসরি পড়েছে সৌদি আরবের অর্থনীতিতে। ২০২৬ সালের প্রথম প্রান্তিকে দেশটি ১২৫ দশমিক ৭ বিলিয়ন রিয়াল বা প্রায় ৩৩ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলার বাজেট ঘাটতির মুখে পড়েছে। ২০১৮ সালের পর এটিই সৌদি আরবের সর্বোচ্চ বাজেট ঘাটতি। একই সঙ্গে গত বছরের একই সময়ের তুলনায় এই ঘাটতি প্রায় দ্বিগুণ বেড়েছে। ব্লুমবার্গের প্রতিবেদনে সৌদি অর্থ মন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, হরমুজ প্রণালির অচলাবস্থা এবং জ্বালানি পরিবহন ঝুঁকি মোকাবিলায় সরকার আগেভাগেই বড় অঙ্কের ব্যয় শুরু করে। বিশেষ করে অবকাঠামো উন্নয়ন, খাদ্য আমদানি এবং বিকল্প বাণিজ্যপথ শক্তিশালী করতে অতিরিক্ত অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হয়। লোহিত সাগর ঘিরে নতুন বিনিয়োগ সৌদি অর্থ মন্ত্রণালয়ের এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, সম্ভাব্য সরবরাহ সংকট মোকাবিলায় লোহিত সাগর উপকূলীয় বন্দরগুলোর সক্ষমতা বাড়ানো হয়েছে। একই সঙ্গে পরিবহন ও লজিস্টিক খাতে নতুন প্রকল্পেও ব্যয় বাড়ানো হয়েছে, যাতে হরমুজ প্রণালির ওপর নির্ভরতা কমানো যায়। বিশ্লেষকদের মতে, আঞ্চলিক নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং জ্বালানি সরবরাহ অনিশ্চয়তার কারণে সৌদি আরব অর্থনৈতিক নিরাপত্তাকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে। তবে এর তাৎক্ষণিক চাপ পড়ছে রাষ্ট্রীয় বাজেটের ওপর। ট্যাংকার জব্দ করল ইরান এদিকে পারস্য উপসাগর ও ওমান উপসাগরকে সংযুক্তকারী কৌশলগত হরমুজ প্রণালিতে একটি তেলবাহী ট্যাংকার জব্দ করেছে ইরান। ইরানি কর্তৃপক্ষের দাবি, বার্বাডোজের পতাকাবাহী ‘ওশান কোই’ নামের ট্যাংকারটি ইরানের তেল বহন করছিল এবং দেশটির তেল রপ্তানিতে বিঘ্ন ঘটানোর প্রচেষ্টার সঙ্গে জড়িত ছিল। ফার্স নিউজ এজেন্সির খবরে বলা হয়েছে, জাহাজটিকে ইরানের দক্ষিণ উপকূলে নিয়ে যাওয়া হয়েছে এবং পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়ার জন্য বিচার বিভাগীয় কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। উল্লেখ্য, ‘ওশান কোই’ গত ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার আওতায় আসে। তবে কী কারণে জাহাজটির বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছিল, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হয়নি। নতুন নিয়ন্ত্রণে হরমুজ প্রণালি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের উত্তেজনা বাড়ার পর থেকে হরমুজ প্রণালিতে চলাচলের ওপর কঠোর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করেছে তেহরান। যুদ্ধ শুরুর আগে বিশ্বের মোট তেল পরিবহনের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই নৌপথ দিয়ে পরিচালিত হতো। সম্প্রতি ইরানের নবগঠিত ‘পার্সিয়ান গালফ স্ট্রেট অথরিটি’ (পিজিএসএ) নতুন একটি ‘ভেসেল ইনফরমেশন ডিক্লারেশন’ প্রকাশ করেছে বলে জানিয়েছে সিএনএন। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করতে ইচ্ছুক সব জাহাজকে ৪০টির বেশি প্রশ্নের উত্তরসহ একটি আবেদনপত্র জমা দিতে হবে। এতে জাহাজের পরিচয়, মালিকানা, ক্রুদের জাতীয়তা এবং বহন করা পণ্যের বিস্তারিত তথ্য উল্লেখ করতে হবে। ইরান হুঁশিয়ারি দিয়েছে, ইসলামিক রেভোল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) নৌবাহিনীর অনুমতি ছাড়া কোনো জাহাজ চলাচল করলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে। ‘কৌশলগত হাতিয়ার’ হিসেবে হরমুজ ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনির টেলিগ্রাম বার্তায় বলা হয়েছে, ‘শক্তিশালী ইরানের কৌশল’ বাস্তবায়নে নতুন আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক ব্যবস্থা গড়ে তোলা হবে, যেখানে বিদেশি শক্তির কোনো স্থান থাকবে না। তিনি হরমুজ প্রণালিকে একটি গুরুত্বপূর্ণ ‘লিভারেজ’ বা কৌশলগত হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহারের ইঙ্গিত দেন। জাহাজপ্রতি ২০ লাখ ডলার দাবি সিএনএনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রণালি ব্যবহারকারী প্রতিটি জাহাজের কাছ থেকে প্রায় ২০ লাখ ডলার পর্যন্ত পারাপার ফি আদায়ের পরিকল্পনা করছে ইরান। তবে মার্কিন ট্রেজারি বিভাগ সতর্ক করে জানিয়েছে, কোনো মার্কিন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান এই অর্থ পরিশোধ করলে তা নিষেধাজ্ঞা লঙ্ঘন হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। বর্তমানে ভারত, পাকিস্তানসহ কয়েকটি দেশ তাদের বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল অব্যাহত রাখতে ইরানের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ৮, ২০২৬ 0
হরমুজ প্রণালী
হরমুজ প্রণালী খুলে দেওয়ার দাবি ট্রাম্পের

ইত্তেহাদ নিউজ, অনলাইন ডেস্ক : বিশ্ববাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহন পথ হরমুজ প্রণালী ‘স্থায়ীভাবে খুলে’ দেওয়ার দাবি করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বুধবার নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যাল–এ দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, এই সিদ্ধান্তে চীন ‘খুবই সন্তুষ্ট’ হয়েছে এবং ভবিষ্যতে এই গুরুত্বপূর্ণ প্রণালী আর কখনও অবরুদ্ধ থাকবে না। ট্রাম্প লিখেছেন, “আমি স্থায়ীভাবে হরমুজ প্রণালী খুলে দিয়েছি। এতে চীন খুবই খুশি হবে। আমি এটা তাদের এবং বিশ্বের ভালোর জন্য করছি। এমন অচলাবস্থা আর কখনও ঘটবে না।” তিনি আরও দাবি করেন, ইরানে সমরাস্ত্র না পাঠানোর বিষয়ে চীন সম্মত হয়েছে। কয়েক সপ্তাহ পর চীন সফরে গেলে দেশটির প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং তাকে ‘উষ্ণ অভ্যর্থনা’ জানাবেন বলেও উল্লেখ করেন ট্রাম্প। তার ভাষায়, “আমরা বুদ্ধিমত্তার সঙ্গে একসঙ্গে কাজ করছি—সংঘাতের চেয়ে এটি কি ভালো নয়?” এর আগে ইরান হুঁশিয়ারি দিয়ে জানিয়েছিল, যুক্তরাষ্ট্র তাদের ওপর আরোপিত নৌ-অবরোধ প্রত্যাহার না করলে শুধু লোহিত সাগর নয়, বরং পারস্য উপসাগর এবং ওমান উপসাগর–সহ পুরো অঞ্চলে বাণিজ্য কার্যক্রম অচল করে দেওয়া হবে। ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে প্রচারিত এক বিবৃতিতে দেশটির সামরিক বাহিনীর কেন্দ্রীয় কমান্ডের প্রধান আলী আবদুল্লাহি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি অবরোধ অব্যাহত রাখে এবং ইরানের বাণিজ্যিক জাহাজ ও তেল ট্যাংকারের নিরাপত্তা বিঘ্নিত করে, তবে তা চলমান যুদ্ধবিরতির লঙ্ঘন হিসেবে বিবেচিত হবে।

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ১৬, ২০২৬ 0
হরমুজ প্রণালী
হরমুজ প্রণালীতে নিরাপদ যাতায়াতে ২২ দেশের উদ্যোগ, ইরানের পদক্ষেপের নিন্দা

হরমুজ প্রণালীতে নিরাপদ যাতায়াতের জন্য প্রচেষ্টা চালাতে চায় ২০টিরও বেশি দেশ। যার মধ্যে সংযুক্ত আরব আমিরাতও রয়েছে। খবর ডনের। প্রতিবেদন বলছে, ২০টিরও বেশি দেশ হরমুজ প্রণালীতে নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করার প্রচেষ্টায় অংশগ্রহণের কথা জানিয়েছে এবং এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ অবরোধের নিন্দা করেছে। প্রধানত ইউরোপীয় দেশগুলোসহ সংযুক্ত আরব আমিরাত ও বাহরাইন মিলে ২২টি দেশ বলেছে, ‘আমরা পারস্য উপসাগরে নিরস্ত্র বাণিজ্যিক জাহাজের ওপর ইরানের সাম্প্রতিক হামলা, তেল ও গ্যাস স্থাপনাসহ বেসামরিক অবকাঠামোর ওপর হামলা এবং ইরানি বাহিনীর হরমুজ প্রণালী কার্যত বন্ধ করে দেয়ার তীব্র নিন্দা জানাই।’ ‘প্রণালীটি দিয়ে নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করার যথাযথ প্রচেষ্টায় অবদান রাখতে আমরা আমাদের প্রস্তুতি প্রকাশ করছি। যেসব দেশ প্রস্তুতিমূলক পরিকল্পনায় নিযুক্ত রয়েছে, আমরা তাদের অঙ্গীকারকে স্বাগত জানাই।’ তারা একটি যৌথ বিবৃতিতে বলেছে। ‘তেল ও গ্যাস স্থাপনাসহ বেসামরিক অবকাঠামোর ওপর হামলায় অবিলম্বে একটি পূর্ণাঙ্গ স্থগিতাদেশের আহ্বান জানাচ্ছি।’ দেশগুলো আরও যোগ করেছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ২১, ২০২৬ 0
Popular post
ফারুকীর সম্পদ কমেছে, তিশার বেড়েছে দ্বিগুণেরও বেশি: সম্পদ বিবরণী ঘিরে আলোচনা

অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের সম্পদ বিবরণী প্রকাশের পর সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী ও তার স্ত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদের হিসাব নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। এক বছরের ব্যবধানে স্বামী ফারুকীর সম্পদ কমলেও স্ত্রী তিশার সম্পদ বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে প্রকাশিত তথ্যে উঠে এসেছে এই চিত্র। প্রকাশিত খতিয়ান অনুযায়ী, জনপ্রিয় অভিনেত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদ এক বছরে অভাবনীয় হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তিশার মোট সম্পদের পরিমাণ ছিল ১ কোটি ৪০ লাখ ৮১ হাজার ৮৬০ টাকা। ঠিক এক বছর পর, ২০২৫ সালের ৩০ জুন সেই সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ৯৯ লাখ ৮৯ হাজার ৫০১ টাকায়। অর্থাৎ মাত্র এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ বেড়েছে ১ কোটি ৫৯ লাখ ৭ হাজার ৬৪১ টাকা, যা আগের বছরের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি। অন্যদিকে সংস্কৃতি উপদেষ্টা ও নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর ক্ষেত্রে দেখা গেছে উল্টো চিত্র। এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ কমেছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তার মোট সম্পদ ছিল ২ কোটি ২৬ লাখ ৯২ হাজার ২৬ টাকা। ২০২৫ সালের ৩০ জুন তা কমে দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ১৫ লাখ ১৮ হাজার ২৬ টাকায়। হিসাব অনুযায়ী, এক বছরে তার সম্পদ কমেছে ১১ লাখ ৭৪ হাজার টাকা। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে গত মঙ্গলবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ প্রধান উপদেষ্টা, উপদেষ্টা ও সমমর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের পাশাপাশি তাদের স্ত্রী বা স্বামীর সম্পদ বিবরণী প্রকাশ করে। একই সময়ে স্বামী-স্ত্রীর সম্পদে এমন ভিন্নমুখী পরিবর্তন স্বাভাবিকভাবেই সাধারণ মানুষের কৌতূহলের জন্ম দিয়েছে। শোবিজ অঙ্গনের জনপ্রিয় দম্পতি হওয়ায় তাদের এই আয়-ব্যয়ের হিসাব এখন টক অব দ্য কান্ট্রি।

সংসার সামলাতে অটোরিকশা নিয়ে রাস্তায় নেমেছেন রোজিনা

বাসস : বাবা একজন তাঁত শ্রমিক। তিন বোন দুই ভাইয়ের মধ্যে সবার বড় রোজিনা। অভাব সংসার, তাই এক এতিম যুবকের সাথে বাবা-মা বিয়ে দেন তাকে। বিয়ের পর জন্ম হয় দুই কন্যা সন্তানের। অটোরিকশা চালিয়ে কোন রকম সংসার চালাচ্ছিলেন স্বামী রফিকুল ইসলাম। কিন্তু সড়ক দুর্ঘটনায় রফিকুলের এক চোখ সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যায়। আরেকটি চোখ আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ধীরে ধীরে ওই চোখের দৃষ্টি শক্তিও কমতে থাকে। ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে অটোরিকশা চালানো। সংসারের উপার্জনক্ষম মানুষটি অচল হয়ে পড়ায় চিকিৎসার খরচ, ঘর ভাড়া ও খাবারের পাশাপাশি মেয়েদের লেখাপড়ার খরচ চালানোই কঠিন হয়ে যায়। দিশেহারা হয়ে পরেন রোজিনা। এক পর্যায়ে মানুষের বাড়ি বাড়ি কাজ করে সংসার চালানোর চেস্টা করেন। কিন্তু সুবিধা করতে পারেন না। এমন পরিস্থিতিতে অটোরিকশা চালানোর সিদ্ধান্ত নেন তিনি। স্বামী রফিকুলের কাছেই হাতেখড়ি। গ্রামের স্কুলের মাঠে স্বামীর কাছেই অটোরিকশা চালানোর শিক্ষা নেন তিনি। পরে গ্রামের পথে নেমে পড়েন অটোরিকশা নিয়ে। ৫-৬ দিন এভাবে হাত পাকা করে একদিন টাঙ্গাইল শহরে চলে আসেন রোজিনা। এরপর শুরু করেন অটোরিক্সা চালানোর ব্যতিক্রমী জীবন সংগ্রাম। এখন টাঙ্গাইল পৌরসভায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার চালকদের মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা বেগম। জেলার বাসাইল উপজেলার আইসড়া গ্রামের বাসিন্দা রোজিনা টাঙ্গাইল পৌর শহরের এক প্রান্ত রাবনা বাইপাস থেকে আরেক প্রান্ত বেবিস্ট্যান্ডে যাত্রী আনা নেয়া করেন। যানজটের কারণে শহরে পুরুষ চালকরা যেখানে হিমসিম খায়, সেখানেই বিগত ৫ বছর ধরেই নির্বিঘেœ অটোরিকশা চালাচ্ছেন তিনি। টাঙ্গাইল পৌরসভা কার্যালয় সূত্রে জানা যাায়, টাঙ্গাইল শহরে চলাচলের জন্য ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক ও ৫ হাজার ব্যাটারিচালিত রিকশার অনুমতি (লাইসেন্স) দেওয়া হয়েছে। যানজট এড়াতে ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক জোড় ও বিজোড় সংখ্যায় দিনে দুই ভাগ করা হয়েছে। সকাল থেকে বেলা দুইটা পর্যন্ত এক ভাগ এবং বেলা দুইটা থেকে রাত পর্যন্ত আরেক ভাগের ইজিবাইক চলাচল করার নির্দেশনা দিয়েছে পৌর কর্তৃপক্ষ। কিন্তু রোজিনাকে দুই শিফটে চালানোর অনুমতি দিয়েছে পৌরসভা। সরেজমিনে দেখা যায়, নতুন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অটোরিকশা নিয়ে যাত্রী ডাকছেন রোজিনা। কলেজ গেট, পুরাতন বাসস্ট্যান্ড, ক্যাপসুল, নিরালা মোড়, বেবিস্ট্যান্ড সর্বত্রই যাত্রী আনানেয়া করেন তিনি। পুরাতন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অন্য অটো চালকদের দাঁড় করতে না দিলেও রোজিনাকে বাঁধা দেননা ট্রাফিক পুলিশ। বলতে গেলে সবাই তার প্রতি সহানুভুতিশীল। ট্রাফিক পুলিশসহ অন্য অটোচালকরাও তাকে সহযোগিতা করেন। রোজিনা বলেন, আমার অটোতে নারী যাত্রীরা খুব কম। তারা মনে করে আমার অটোতে উঠলে দুর্ঘটনায় পড়বে। কিন্তু আমি খুব সাবধানে অটো চালাই। দ্রুত গতিতেও না, আবার একেবারে ধীরগতিতেও না। এখন পর্যন্ত আমি কোন দুর্ঘটনার কবলে পড়ি নাই। শহরের পুরুষ অটোরিকশা চালকরা আমাকে অনেক সহযোগিতা করে। অটোচালক কাদের মিয়া বলেন, আমাদের শহরে কয়েক হাজার অটো চলাচল করে। তার মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। তাকে আমরা সব সময় সহযোগিতা করি। যাত্রী সাইদ মিয়া বলেন, আমি এ পর্যন্ত ৫-৬ বার রোজিনার অটোতে চড়েছি। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। অন্য পুরুষ অটো চালকের চেয়েও ভালো অটো চালান। নারী সংগঠক সেরাজুম মনিরা বলেন, তিনি অনেক দিন যাবত অটোরিকশা চালাচ্ছেন। আমি রোজিনাকে স্যালুট জানাই। একজন পুরুষের চেয়ে একজন নারী কোনো ভাবেই যে পিছিয়ে নেই, রোজিনা তা প্রমাণ করেছেন। রোজিনা বলেন, অটো চালানোর এই সিদ্ধান্তটি তার জন্য খুব সহজ ছিল না। তিনি বলেন, ৫ ও ১০ বছরের দুই মেয়েকে বাড়িতে রেখে অটোরিকশা নিয়ে সারাদিন রাস্তায় থাকতে হয়। তাদের ভালোভাবে দেখাশোনা করতে পারি না। কিন্তু কি করবো, অভাবের সংসার! এখন ঋণ নিয়ে একটু জমি কিনেছি। প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ণ প্রকল্পের অর্থায়নে প্রশাসন সেখানে ঘর তুলে দিয়েছে। শুরুতে যারা আমাকে নিয়ে ঠাট্টা করেছে এখন তারাই আমাকে সম্মান করেন। নারীরাও যে কিছু করতে পারে, তা প্রমাণ করেছি। আমার বড় মেয়ে আইসড়া উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়ে, ছোট মেয়ে পড়ে স্থানীয় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। মেয়েদের শিক্ষিত করতে হবে। ধার দেনা শোধ করতে হবে। তাই থেমে গেলো চলবে না। আমি অটোরিকশা চালিয়েই দুই সন্তানকে মানুষ করতে চাই।’ ঘারিন্দা ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য বাবুল সরকার বলেন, সরকার রোজিনাকে একটি ঘর নির্মাণ করে দিয়েছে। শুরুতে যারা তাকে নিয়ে নানান কথা বলতো, এখন তার সংকল্প ও মানষিক দৃঢ়তা দেখে থেমে গেছে। আমরা তাকে নিয়ে গর্ব করি। টাঙ্গাইলের ট্রাফিক ইন্সপেক্টর (প্রশাসন) দেলোয়ার হোসেন বলেন, শহরের একমাত্র নারী চালক রোজিনাকে কেউ যেন বিরক্ত করতে না পারে সেদিকে সব সময় নজর রাখে ট্রাফিক পুলিশ। আমরা তাকে সব সময় সহযোগিতা করে আসছি। টাঙ্গাইলের সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক শাহ আলম বলেন, বিষয়টি এখন জানতে পারলাম। ওই নারী এখনো পর্যন্ত আমাদের কাছে আসেন নাই। যদি আমাদের কাছে এসে আবেদন করেন অবশ্যই তাকে আমরা সহযেগিতা করবো, তার পাশে দাঁড়াবো।

বাংলাদেশে ঐতিহাসিক নির্বাচন: বিএনপি এগিয়ে, জামায়াতের উত্থান ও তরুণ ভোটারদের প্রভাব

২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশে আজ এক ঐতিহাসিক ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ২০০৮ সালের পর এই প্রথম একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হতে যাচ্ছে যেখানে দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগ রাজনৈতিক মানচিত্র থেকে কার্যত অনুপস্থিত। বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক জরিপ বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০০ আসনের মধ্যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) কার্যকর সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে যাচ্ছে। তবে ভোটের ব্যবধান এবং কিছু সমীকরণ নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। নির্বাচনের সবচেয়ে বড় নিয়ামক হয়ে দাঁড়িয়েছে আওয়ামী লীগের বিশাল ভোটব্যাংক। দলটির নিয়মিত প্রায় ৪ কোটি ভোটার এখন নতুন রাজনৈতিক আশ্রয় খুঁজছেন। সিআরএফ বা বিইপিওএস জরিপ বলছে, এই ভোটারদের প্রায় অর্ধেক বিএনপির দিকে ঝুঁকেছে, যা দলটিকে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতার পথে এগিয়ে দিচ্ছে। অন্যদিকে, প্রায় ৩০ শতাংশ আওয়ামী ভোটার জামায়াতে ইসলামীকে বেছে নিতে পারেন বলে আভাস পাওয়া যাচ্ছে। এছাড়া বাংলাদেশের বিদ্যমান নির্বাচনী ব্যবস্থার কারণে দেশজুড়ে সুষম জনসমর্থন থাকা বিএনপি আসন জয়ের ক্ষেত্রে জামায়াতের তুলনায় সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। তবে বিএনপির এই সম্ভাব্য জয়ের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও বিদ্রোহী প্রার্থীরা। প্রায় ৭৯টি নির্বাচনী এলাকায় দলের মনোনয়ন না পাওয়া ৯২ জন প্রভাবশালী নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, যা বিএনপির ১৫ থেকে ৩০টি আসন কমিয়ে দিতে পারে। অন্যদিকে, তরুণ ভোটার বা ‘জেন-জি’ প্রজন্মের বিশাল সমর্থন জামায়াতে ইসলামীর শক্তির উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেশের ৪৪ শতাংশ ভোটারই তরুণ, যাদের বড় একটি অংশ প্রথমবার ভোট দিচ্ছেন। এই তরুণরা যদি দলবেঁধে কেন্দ্রে উপস্থিত হন, তবে নির্বাচনী ফলে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। সবশেষে, প্রায় ১৭ থেকে ৩৫ শতাংশ দোদুল্যমান ভোটার এবং তাদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করবে আগামীর সরকার কতটা শক্তিশালী হবে। দ্য নিউইয়র্ক এডিটোরিয়ালের মূল পূর্বাভাস, তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি প্রায় ১৮৫টি আসনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করতে পারে এবং জামায়াতে ইসলামী ৮০টির মতো আসন পেয়ে প্রধান বিরোধী দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারে। তবে বিদ্রোহী প্রার্থীদের প্রভাব এবং তরুণ ভোটারদের উপস্থিতির ওপর ভিত্তি করে আসন সংখ্যায় বড় ধরনের হেরফের হওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

গাজায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা ট্রাম্প প্রশাসনে

ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। ৩৫০ একরের ঘাঁটিটিতে সামরিক বাহিনীর পাঁচ হাজার সদস্য থাকতে পারবে। গাজার ‘বোর্ড অব পিস’র নথি পর্যালোচনা করে এ তথ্য জানিয়েছে দ্য গার্ডিয়ান। প্রতিবেদনে ব্রিটিশ সংবাদ মাধ্যমটি জানিয়েছে, বোর্ড অব পিসে গাজাকে নিরাপদ করার জন্য ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যাবিলাইজেশন ফোর্স (আইএসএফ) নামে একটি আন্তর্জাতিক বাহিনী মোতায়েনের কথা বলা হয়েছে। যে স্থানটি ঘাঁটি করার জন্য বিবেচনা করা হচ্ছে সেখানে আইএসএফের সদস্যরা থাকবে। বোর্ড অব পিসের প্রধান হবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আর সংগঠনটির আংশিক নেতৃত্ব দেবেন ট্রাম্পের জামাতা জ্যারার্ড কুশনার।দ্য গার্ডিয়ান বোর্ড অব পিসের নথি পর্যালোচনা করে জানায়, ধাপে ধাপে একটি সামরিক ঘাঁটি নির্মাণ করা হবে। সবকিছু শেষ হলে ঘাঁটিটি ১৫ লাখ ১৭ হাজার ৫৭৫ বর্গমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত হবে। ঘাঁটিটির চারপাশে ট্রেইলার সংযুক্ত ২৬টি সাঁজোয়া নজরদারি টাওয়ার থাকবে। এছাড়া একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, বাংকার ও অস্ত্র রাখার গুদাম থাকবে। পুরো ঘাঁটিটি কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে ঘিরে রাখা হবে। সামরিক ঘাঁটি নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে দক্ষিণ গাজার একটি শুষ্ক সমতলভূমিতে। সেখানে ইসরায়েলি হামলার চিহ্ন রয়েছে। ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে বিভিন্ন ধাতবের ধ্বংসাবশেষ।  ওই এলাকার ভিডিও পর্যালোচনা করেছে দ্য গার্ডিয়ান। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, ঘাঁটি নির্মাণের জন্য টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে। যুদ্ধক্ষেত্রে কাজের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন আন্তর্জাতিক নির্মাণ কোম্পানিগুলোর একটি ছোট দলকে ইতোমধ্যেই এলাকাটি দেখানো হয়েছে। ওই দলটি দরপত্রে অংশ নিতে আগ্রহী।    ইন্দোনেশিয়া সরকার গাজায় আট হাজার সেনা সদস্য পাঠানোর জন্য প্রস্তাব দিয়েছে। বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটন ডিসিতে বোর্ড অব পিসের অনানুষ্ঠানিক বৈঠকে ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্টের অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। এছাড়া দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার আরও তিন নেতার ওই বৈঠকে অংশ নেবেন বলে জানা গেছে। জাতিসংঘের নিরাপত্তা কাউন্সিল গাজার সাময়িক স্থিতিশীলতার জন্য অস্থায়ীভাবে সামরিক বাহিনী মোতায়েনের অনুমোদন দিয়েছে। নিরাপত্তা কাউন্সিলই বোর্ড অব পিসের মূল হোতা। গাজার সীমান্ত ও শান্তি প্রণয়নে কাজ করবে আইএসএফ। এছাড়া বেসামরিকদের সুরক্ষা এবং ফিলিস্তিনি পুলিশ বাহিনীকে প্রশিক্ষণ ও সহায়তা দেবে তারা। যদি গাজায় ফের সংঘর্ষ হয়, ইসরায়েল বোমা হামলা চালায় অথবা হামাস হামলা চালায় সেক্ষেত্রে আইএসএফ কি করবে তা এখনও স্পষ্ট নয়। গাজা পুনর্গঠনে ইসরায়েল হামাসকে নিরস্ত্রীকরণের যে শর্ত দিয়েছে সেটির জন্য আইএসএফ কাজ করবে কিনা তাও স্পষ্ট না। ইতোমধ্যে বোর্ড অব পিসে ২০ এর অধিক দেশ যোগ দিয়েছে। তবে, এখনও অনেক পরাশক্তি এর থেকে দূরে রয়েছে। জাতিসংঘের অনুমোদন নিয়ে প্রতিষ্ঠিত হলেও ধারণা করা হচ্ছে, সংগঠনটির স্থায়ী নেতৃত্ব ও নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে। রুটজার্স বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক আদিল হক বলেন, “বোর্ড অব পিস এক ধরনের আইনি কল্পসত্তা। নামমাত্রভাবে এর নিজস্ব আন্তর্জাতিক আইনগত সত্তা রয়েছে, যা জাতিসংঘ ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে আলাদা। কিন্তু বাস্তবে এটি যুক্তরাষ্ট্রের ইচ্ছামতো ব্যবহারের জন্য একটি ফাঁপা খোলসমাত্র।” বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গাজা পুনর্গঠনে যে অর্থায়ন ও শাসন কাঠামো হচ্ছে তা অস্বচ্ছ। কয়েকজন ঠিকাদার গার্ডিয়ানকে জানান, গাজায় কাজ করার জন্য মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে তাদের প্রায়শ আলোচনা সরকারি ইমেলের বদলে সিগন্যালের মাধ্যমে করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রের তথ্য মতে, ঘাঁটি নির্মাণের সিদ্ধান্তটি বোর্ড অব পিসের। এতে সহায়তা করছে মার্কিন কর্মকর্তারা। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ঘাঁটিতে তৈরি বাংকার নেটওয়ার্কের মতোন কাজ করবে। প্রতিটি বাংকারের ২৪ মিটারের হবে। উচ্চতা থাকবে আড়াই মিটার। এগুলো এমনভাবে করা হবে যেন সেনা সদস্যরা আশ্রয় নিতে পারে। স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসের গাজায় সুড়ঙ্গ নেটওয়ার্ক বা টানেল রয়েছে। সেগুলোর আদলে নেটওয়ার্ক করতে চাওয়া হচ্ছে। পিস অব বোর্ডের নথি পর্যালোচনা করে এমন দাবি করছে গার্ডিয়ান। সংবাদ মাধ্যমটি বলছে,  স্থানটির ভূ-ভৌত জরিপ পরিচালনা করবে ঠিকাদাররা। নথির এক অংশে ‘হিউম্যান রেমিয়েনস প্রোটোকল’র কথা বলা হয়েছে। এর মানে দাঁড়ায়, সন্দেহভাজন মানব অবশিষ্ট বা সাংস্কৃতিক নিদর্শন পাওয়া গেলে অবিলম্বে সেই এলাকায় সব কাজ বন্ধ করতে হবে। চুক্তি কর্মকর্তাকে দিকনির্দেশনার জন্য অবিলম্বে জানাতে হবে। গাজা সিভিল ডিফেন্সের ধারণা, গাজার ধ্বংসস্তূপের নিচে ১০ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনির মরদেহ রয়েছে। ঘাঁটির জন্য যে স্থানটি বিবেচিত করা হচ্ছে সেটির মালিক কে তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে, দক্ষিণ গাজার বেশিরভাগ অংশ  বর্তমানে ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণে। জাতিসংঘের অনুমান, যুদ্ধ চলাকালীন ১৯ লাখ ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত হয়েছে। ফিলিস্তিনের জমিতে সরকারের অনুমতি না নিয়ে সামরিক ঘাঁটি স্থাপনকে দখল হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন ফিলিস্তিনি-কানাডিয়ান আইনজীবী এবং প্রাক্তন শান্তি আলোচক দিয়ানা বুট্টু। তিনি প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়ে বলেন, “কার অনুমতিতে তারা সামরিক ঘাঁটি স্থাপন করবে।” বিষয়টি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা বোর্ড অব পিসের কথা টানেন। ট্রাম্প প্রশাসনের একজন কর্মকর্তা সামরিক ঘাঁটির চুক্তি নিয়ে আলোচনা করতে অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, “যেমনটি প্রেসিডেন্ট বলেছেন, কোনও মার্কিন সেনা স্থলভাগে যাবে না। আমরা লিক হওয়া নথি নিয়ে আলোচনা করবো না।”

কুড়িগ্রামের তাজু ভাই ২.০: ‘সরকারি রেটে জিলাপি’ প্রশ্নে ভাইরাল এক নির্মাণশ্রমিকের গল্প

বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের প্রত্যন্ত চরাঞ্চল থেকে উঠে এসে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার কেন্দ্রে এখন তাইজুল ইসলাম, যিনি অনলাইনে পরিচিত ‘তাজু ভাই ২.০’ নামে। মাত্র একটি ভিডিও—যেখানে তিনি এক দোকানিকে প্রশ্ন করেন, “জিলাপি আজকে কত করে বেচতেছেন সরকারি রেটে?”—এই সরল উপস্থাপনাই তাকে রাতারাতি ভাইরাল করে তোলে।  কয়েক ঘণ্টায় ফলোয়ার লাখ ছাড়াল রোববার রাত পর্যন্ত তার ফেসবুক অনুসারী ছিল প্রায় ৩৫ হাজার। কিন্তু সোমবার সন্ধ্যা থেকে রাতের মধ্যেই তা বেড়ে এক লাখের বেশি হয়ে যায়। ভাইরাল ভিডিওটি ইতোমধ্যে প্রায় ৫০ থেকে ৫৫ লাখবার দেখা হয়েছে।  কী ছিল সেই ভিডিওতে? ভিডিওতে দেখা যায়, কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীর নারায়ণপুর বাজারে দাঁড়িয়ে স্থানীয় ভাষায় তিনি জিলাপির দাম জানতে চান। তার কথাগুলো ছিল একেবারেই সহজ ও গ্রাম্য ভঙ্গিতে— “সাদাডা কত, লালডা কত? সরকারি রেটে বেচতেছেন?” এই সরল প্রশ্নই সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।  কোথা থেকে উঠে এলেন তাজু ভাই? কুড়িগ্রাম জেলার নাগেশ্বরী উপজেলার নারায়ণপুর ইউনিয়নের একটি দুর্গম গ্রামে জন্ম তার। ব্রহ্মপুত্র নদবেষ্টিত এই অঞ্চলে পৌঁছাতে এখনও কয়েকটি নৌঘাট পার হতে হয়। দারিদ্র্যের কারণে কখনো স্কুলে যাওয়া হয়নি তার। পেশায় তিনি একজন নির্মাণশ্রমিকের সহকারী (হেলপার)। কাজের ফাঁকে ঢাকায় থাকাকালীন মোবাইল ফোনে ভিডিও তৈরি করাই তার শখ। ব্যক্তিগত সংগ্রাম তাইজুল ইসলামের পরিবারে ছয় ভাই-বোন। তিনি সবার বড়। তার বাবা-মা দুজনই শ্রবণপ্রতিবন্ধী। পরিবার চালাতে তাকে ছোটবেলা থেকেই সংগ্রাম করতে হয়েছে। তিনি বলেন, “পরিবারের কষ্ট ভুলতেই ভিডিও করি। আমি সাংবাদিক না, কিন্তু আমাদের এলাকায় কেউ আসে না—তাই নিজেরাই ভিডিও বানাই।” ভাইরাল হওয়ার পেছনের উদ্দেশ্য তাইজুলের দাবি, তার ভিডিও শুধুই বিনোদনের জন্য নয়। তিনি চান তার এলাকার অবহেলিত মানুষের কথা প্রশাসনের নজরে আসুক। “আমি চাই চরের মানুষের উন্নয়ন হোক,”—বলছেন তিনি।  মিশ্র প্রতিক্রিয়া ভিডিওটি নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে দুই ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ তার সরলতা ও বাস্তবতা তুলে ধরার চেষ্টা প্রশংসা করছেন আবার কেউ তাকে নিয়ে ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ করছেন তবে এসব সমালোচনায় তিনি বিচলিত নন।

অর্থনীতি

ইসলামী ব্যাংক

ইসলামী ব্যাংককে আড়াই হাজার কোটি টাকার তারল্য সহায়তা দিল বাংলাদেশ ব্যাংক

নিজস্ব প্রতিবেদক জুন ১৪, ২০২৬ 0




অপরাধ

ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো

ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকোর বিরুদ্ধে ৩০ বিলিয়ন ডলার জালিয়াতি ও অর্থপাচার অভিযোগে দুদকের অনুসন্ধান

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ২৪, ২০২৬ 0




কৃষি ও জলবায়ু

ধান

শেরপুরে বোরো ধানের দাম কমে লোকসানে কৃষকরা, উৎপাদন খরচও উঠছে না

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ৬, ২০২৬ 0