Brand logo light

পশ্চিমবঙ্গ

ব্যারাকপুরে বুলডোজার অভিযান: সরকারি জমি দখলের অভিযোগে তৃণমূলের একাধিক দলীয় কার্যালয় ভেঙে দিল প্রশাসন

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : পশ্চিমবঙ্গে রাজনৈতিক ক্ষমতার ভারসাম্য বদলের পর প্রশাসনিক তৎপরতা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। উত্তর প্রদেশে বহুল আলোচিত ‘বুলডোজার মডেল’-এর সঙ্গে তুলনা টেনে এবার পশ্চিমবঙ্গেও অবৈধ দখল উচ্ছেদ অভিযান নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। সর্বশেষ উত্তর ২৪ পরগনার ব্যারাকপুরে সরকারি জমি দখলের অভিযোগে ক্ষমতাসীন তৃণমূল কংগ্রেসের একাধিক দলীয় কার্যালয় গুঁড়িয়ে দিয়েছে প্রশাসন। বুধবার (২৪ জুন) ব্যারাকপুর পৌরসভার ২০, ১৪, ২ এবং ৮ নম্বর ওয়ার্ডে অবস্থিত কয়েকটি দলীয় কার্যালয়ে বুলডোজার চালানো হয়। প্রশাসনের দাবি, এসব স্থাপনা সরকারি জমি জবরদখল করে নির্মাণ করা হয়েছিল এবং দীর্ঘদিন ধরে সেগুলো অবৈধভাবে ব্যবহার করা হচ্ছিল। উচ্ছেদ অভিযানে কঠোর নিরাপত্তা উচ্ছেদ অভিযান ঘিরে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে ব্যারাকপুর পুলিশ কমিশনারেটের পক্ষ থেকে বিপুল সংখ্যক পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়। পাশাপাশি জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য ঘটনাস্থলে প্রস্তুত রাখা হয়েছিল দমকল বাহিনীকেও। প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, সরকারি সম্পত্তি পুনরুদ্ধার এবং অবৈধ দখলমুক্ত করার অংশ হিসেবেই এই অভিযান পরিচালিত হয়েছে। তবে অভিযানের সময় স্থানীয় পর্যায়ে রাজনৈতিক উত্তেজনা তৈরি হওয়ার আশঙ্কা ছিল। রাজনৈতিক প্রতিহিংসার অভিযোগ অন্যদিকে উচ্ছেদ অভিযানের বৈধতা ও উদ্দেশ্য নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয় তৃণমূল কংগ্রেস নেতারা। ব্যারাকপুর পৌরসভার ২০ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর ও তৃণমূল নেতা রমেশ সাউ দাবি করেন, যে স্থাপনা ভাঙা হয়েছে সেটি সরকারি বা গণপূর্ত বিভাগের (পিডব্লিউডি) জমির ওপর নির্মিত ছিল না। তার ভাষ্য অনুযায়ী, জমিটি আগে সুধীর সাহা নামে এক ব্যক্তির মালিকানাধীন ছিল। সেখানে একটি সাইকেল মেরামতের দোকান পরিচালিত হতো। পরবর্তীতে জমির মালিকের ছেলে সেটি বিক্রি করতে চাইলে তিনি জমিটি কিনে নেন। রমেশ সাউ অভিযোগ করেন, উচ্ছেদের বিষয়ে তাকে আগে থেকে অবহিত করা হয়নি। ঘটনাস্থলে গিয়ে তিনি দেখতে পান, বুলডোজার দিয়ে পুরো স্থাপনা ভেঙে ফেলা হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় দলবদলের প্রভাব এবং রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। তার দাবি, জমিটি ব্যক্তিমালিকানাধীন হলেও প্রশাসন তা ভেঙে দিয়েছে। এ ঘটনায় তিনি আইনি লড়াইয়ের প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলেও জানিয়েছেন। জমির মালিকানা নিয়ে নতুন প্রশ্ন ঘটনার পর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হয়ে উঠেছে জমিটির প্রকৃত মালিকানা। প্রশাসন যেখানে সরকারি জমি দখলের অভিযোগ তুলছে, সেখানে স্থানীয় তৃণমূল নেতৃত্ব ব্যক্তিমালিকানার দাবি করছে। বিশ্লেষকদের মতে, জমির রেকর্ড, দখল ও মালিকানা সংক্রান্ত সরকারি নথি প্রকাশ না হওয়া পর্যন্ত প্রকৃত পরিস্থিতি নিয়ে বিতর্ক অব্যাহত থাকতে পারে। একই সঙ্গে রাজনৈতিকভাবে সংবেদনশীল এলাকায় উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনার ক্ষেত্রে প্রশাসনিক স্বচ্ছতা ও আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণের বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। বৃহত্তর রাজনৈতিক বার্তা? সাম্প্রতিক সময়ে পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন এলাকায় অবৈধ দখল উচ্ছেদ এবং নির্মাণ ভাঙার ঘটনা বেড়েছে। ব্যারাকপুরের এই অভিযান শুধু একটি স্থানীয় প্রশাসনিক পদক্ষেপ নাকি বৃহত্তর রাজনৈতিক বার্তার অংশ—তা নিয়েও রাজনৈতিক মহলে আলোচনা চলছে। তবে প্রশাসনের অবস্থান স্পষ্ট—অবৈধ দখলদারিত্বের বিরুদ্ধে অভিযান চলবে। অন্যদিকে ক্ষতিগ্রস্ত পক্ষের দাবি, এসব পদক্ষেপের পেছনে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য রয়েছে। ফলে বিষয়টি এখন প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক—উভয় ক্ষেত্রেই নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক জুন ২৫, ২০২৬ 0
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়
জাল স্বাক্ষর অভিযোগে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাসভবন ও দলীয় কার্যালয়ে সিআইডি অভিযান

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে বিধায়কদের কথিত জাল স্বাক্ষর সংক্রান্ত একটি অভিযোগ। সেই অভিযোগের তদন্তে রাজ্যের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) তল্লাশি পরোয়ানা নিয়ে সাবেক তিনবারের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়–এর কলকাতার বাসভবন ও সংশ্লিষ্ট দলীয় কার্যালয়ে অভিযান চালিয়েছে। মঙ্গলবার দুপুরে সিআইডির কর্মকর্তারা কালিঘাট থানার পুলিশ ও বিপুল সংখ্যক নারী পুলিশ সদস্যকে সঙ্গে নিয়ে তৃণমূল কংগ্রেসের কেন্দ্রীয় কার্যালয় ৩০বি, হরিশ চ্যাটার্জি স্ট্রিটে পৌঁছান। তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রের ভাষ্য, একই সময় তিনটি পৃথক দলে বিভক্ত হয়ে তল্লাশি চালানো হয়।   কী অভিযোগ? তদন্তসংশ্লিষ্ট নথি অনুযায়ী, বিধানসভার বিরোধী দলনেতা হিসেবে শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়কে স্বীকৃতি দেওয়ার প্রস্তাবে কয়েকজন বিধায়কের স্বাক্ষর জাল করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এই অভিযোগ সামনে আসার পর সিআইডি তথ্য চেয়ে নোটিশ জারি করে। সিআইডির এক কর্মকর্তা ঘটনাস্থলে সাংবাদিকদের বলেন, তৃণমূল কংগ্রেসের জাতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় জবাবে উল্লেখ করেছেন যে স্বাক্ষরগুলো দলীয় কেন্দ্রীয় কার্যালয় থেকেই সংগ্রহ করা হয়েছিল। তদন্তকারীরা এখন সেই দাবির সত্যতা যাচাই করছেন। তল্লাশি কোথায় কোথায়? তদন্তকারীরা তিনটি আলাদা স্থানে অভিযান চালাচ্ছেন বলে জানা গেছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাসভবন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কার্যালয় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাসভবন তবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বর্তমানে দিল্লিতে অবস্থান করায় অভিযানের সময় তিনি বাসায় ছিলেন না। কারা অভিযোগ করেছেন? দুই বিধায়ক— ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় এবং সন্দীপন সাহা— বিধানসভার স্পিকারের কাছে লিখিত অভিযোগ জমা দেন। তাদের দাবি, বিরোধী দলনেতা স্বীকৃতির জন্য পাঠানো প্রস্তাবটি ছিল “মনগড়া ও জালিয়াতিপূর্ণ”। অভিযোগকারীদের ভাষ্যমতে, প্রস্তাবে মোট ৭০টি স্বাক্ষরের মধ্যে অন্তত ১৪টি ব্লক লেটারে লেখা ছিল, যা তাদের কাছে সন্দেহজনক মনে হয়েছে। এরপর এ ঘটনায় একটি এফআইআর দায়ের করা হয় এবং তদন্তভার দেওয়া হয় সিআইডিকে।   তদন্তের মূল প্রশ্ন প্রস্তাবে থাকা স্বাক্ষরগুলো কি প্রকৃতপক্ষে সংশ্লিষ্ট বিধায়কদের? স্বাক্ষর সংগ্রহের প্রক্রিয়ায় কোনো অনিয়ম বা জালিয়াতি হয়েছে কি না? দলীয় কার্যালয় থেকে নথি প্রস্তুত বা প্রেরণের ক্ষেত্রে কারা জড়িত ছিলেন? বিধানসভার স্পিকারের কাছে জমা দেওয়া প্রস্তাবের উৎস ও অনুমোদনের শৃঙ্খল কী ছিল? রাজনৈতিক প্রভাব তল্লাশি অভিযানের খবর প্রকাশ্যে আসার পর পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক অঙ্গনে উত্তেজনা আরও বেড়েছে। বিরোধীরা ঘটনাটিকে “গুরুতর সাংবিধানিক প্রশ্ন” হিসেবে তুলে ধরছে, আর তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে অভিযোগকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করা হচ্ছে। তদন্ত এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। সিআইডি আনুষ্ঠানিকভাবে কী তথ্য উদ্ধার করেছে বা কারও বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নেবে কি না, সে বিষয়ে এখনো বিস্তারিত জানায়নি।

নিজস্ব প্রতিবেদক জুন ৯, ২০২৬ 0
ঈদুল আজহায় সারাদিন ‘গো-সেবা’ করলেন শুভেন্দু
পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি সরকারের প্রথম ঈদ: রেড রোডে নামাজ বন্ধ, কোরবানিতে কড়াকড়ি, মুসলিম সমাজে উদ্বেগ

পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি সরকারের প্রথম ঈদ: বদলে গেল রেড রোডের ঐতিহ্য, কোরবানিতে কড়াকড়ি ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : ভারতের পশ্চিমবঙ্গে রাজনৈতিক পালাবদলের পর এবারের ঈদুল আজহা পালিত হয়েছে এক ভিন্ন বাস্তবতায়। দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক ও সামাজিক রীতিনীতিতে পরিবর্তনের প্রভাব পড়েছে ঈদের প্রধান জামাত থেকে শুরু করে কোরবানির ব্যবস্থাপনায়ও। নতুন বিজেপি সরকারের অধীনে মুসলিম সম্প্রদায়ের বড় একটি অংশের মধ্যে উদ্বেগ, অনিশ্চয়তা ও চাপা অসন্তোষের চিত্র সামনে এসেছে। সম্প্রতি বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারীপশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর রাজ্যে প্রশাসনিক নীতিতে বেশ কিছু পরিবর্তনের ইঙ্গিত মিলেছে। বিভিন্ন ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নতুন সরকার জনসমাগম ও ধর্মীয় কার্যক্রম নিয়ে কঠোর অবস্থান গ্রহণ করেছে। রেড রোডে ঈদের জামাত বন্ধ দশকের পর দশক ধরে কলকাতার ঐতিহাসিক রেড রোডে ঈদের প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হয়ে আসছিল। পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে এটি ছিল একটি প্রতীকী আয়োজন, যেখানে সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিয়মিত উপস্থিত থাকতেন। তবে এবার সেই চিত্র বদলে গেছে। বিভিন্ন গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, প্রশাসন রেড রোডে ধর্মীয় সমাবেশের অনুমতি না দিয়ে ঈদের প্রধান জামাত সরিয়ে নেয় কলকাতার ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে। সরকারের যুক্তি ছিল—জনসড়কে ধর্মীয় জমায়েত সীমিত করা। ঈদের দিন শহরের বিভিন্ন এলাকায় বাড়তি পুলিশ মোতায়েন, নজরদারি এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যে এক ধরনের অস্বস্তির পরিবেশ তৈরি করেছে বলে অভিযোগ ওঠে। যদিও প্রশাসন দাবি করেছে, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতেই এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। কোরবানিতে কড়াকড়ি, গরুর হাটে ভাটা এবারের ঈদে সবচেয়ে বড় পরিবর্তন দেখা গেছে কোরবানির ব্যবস্থাপনায়। পশ্চিমবঙ্গে পশু জবাই সংক্রান্ত পুরোনো আইন কঠোরভাবে কার্যকর করা হয়েছে বলে বিভিন্ন মহলে আলোচনা চলছে। প্রশাসনের পূর্বানুমোদন ছাড়া প্রকাশ্যে পশু জবাই নিষিদ্ধ করা হয় এবং নির্দিষ্ট স্থান বা ব্যক্তিগত পরিসরে কোরবানি সম্পন্ন করার নির্দেশনা জারি করা হয় বলে অভিযোগ উঠে। ফলে রাজ্যের বিভিন্ন এলাকার গরুর হাটে বেচাকেনা কমে যায় বলে ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন। অনেক বিক্রেতার অভিযোগ, প্রশাসনিক নজরদারি ও অনিশ্চয়তার কারণে ক্রেতারা আগের মতো আগ্রহ দেখাননি। তবে সরকারের ঘনিষ্ঠ মহল বলছে, জনস্বাস্থ্য, পরিবেশ এবং আইনশৃঙ্খলার বিষয় বিবেচনায় এনে এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। রাজনৈতিক বার্তা নাকি ব্যক্তিগত বিশ্বাস? ঈদ উপলক্ষে রাজনৈতিক সৌজন্যের ক্ষেত্রেও পরিবর্তন ছিল স্পষ্ট। পূর্ববর্তী বছরগুলোতে রাজ্য সরকারের শীর্ষ পর্যায় থেকে ঈদের শুভেচ্ছা ও প্রকাশ্য অংশগ্রহণ দেখা গেলেও এবার সেই চিত্র অনেকটাই অনুপস্থিত ছিল বলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা শুরু হয়। ঈদের দিন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর মায়াপুরের ইসকন মন্দির পরিদর্শন এবং ‘গো-সেবা’ কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে। সমর্থকদের দাবি, এটি ছিল তার ব্যক্তিগত ধর্মীয় অনুশীলন। অন্যদিকে সমালোচকদের একাংশ এটিকে রাজনৈতিক বার্তা হিসেবে দেখছেন। সামাজিক মাধ্যমে হতাশা ও আবেগ ঈদের পর পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন মুসলিম নাগরিকের ফেসবুক পোস্ট ও অনলাইন প্রতিক্রিয়ায় হতাশা ও বঞ্চনার অনুভূতি উঠে এসেছে। কেউ কেউ দাবি করেছেন, বহু পরিবার অর্থনৈতিক ও প্রশাসনিক চাপে কোরবানি দিতে পারেনি। আবার অনেকে লিখেছেন, এবারের ঈদ ছিল “নিঃশব্দ ও সংযত”। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া কয়েকটি পোস্টে “সংখ্যাগুরুর রাজনীতি”, “সাংস্কৃতিক সংকোচন” এবং “ধর্মীয় স্বাধীনতার প্রশ্ন” নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। তবে এসব মন্তব্যের স্বাধীন যাচাই সম্ভব হয়নি। বিশ্লেষকদের মতে, পশ্চিমবঙ্গে রাজনৈতিক পালাবদলের পর রাজ্যের ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক পরিবেশে যে পরিবর্তনের ইঙ্গিত মিলছে, এবারের ঈদুল আজহা ছিল তার প্রথম বড় পরীক্ষাগুলোর একটি। পরিবর্তনের সূচনা নাকি সাময়িক পরিস্থিতি? নতুন সরকারের সমর্থকরা বলছেন, আইন প্রয়োগ ও প্রশাসনিক শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠার অংশ হিসেবেই এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বিপরীতে বিরোধী মহল ও সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের একটি অংশের অভিযোগ, এসব পদক্ষেপ সামাজিক সহাবস্থান ও ধর্মীয় স্বাধীনতার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক বাস্তবতায় এই পরিবর্তন ভবিষ্যতে কতটা গভীর প্রভাব ফেলবে, তা এখনই নিশ্চিতভাবে বলা কঠিন। তবে এবারের ঈদুল আজহা রাজ্যের সাম্প্রদায়িক সম্পর্ক, রাজনৈতিক বার্তা এবং প্রশাসনিক নীতির নতুন এক অধ্যায়ের সূচনা করেছে—এ নিয়ে খুব কমই দ্বিমত রয়েছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ২৯, ২০২৬ 0
আটক কেন্দ্র
পশ্চিমবঙ্গে প্রতিটি জেলায় ‘হোল্ডিং সেন্টার’: বাংলাদেশি-রোহিঙ্গা সন্দেহে আটক আতঙ্ক, প্রশ্ন মানবাধিকার নিয়ে

পশ্চিমবঙ্গে ‘হোল্ডিং সেন্টার’: অনুপ্রবেশ ঠেকানো নাকি নতুন আতঙ্কের অবকাঠামো? ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন ডেস্ক : ভারতের পশ্চিমবঙ্গ সরকার কথিত ‘বাংলাদেশি ও রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশকারী’দের আটকে রাখার জন্য রাজ্যের প্রতিটি জেলায় ‘হোল্ডিং সেন্টার’ বা আটক কেন্দ্র তৈরির নির্দেশ দেওয়ার পর নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে নাগরিক অধিকার ও মানবাধিকার প্রশ্নে। গত সপ্তাহের শেষ দিকে রাজ্য পুলিশের কাছে পাঠানো এক সরকারি নোটে বলা হয়েছে, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের গত বছরের নির্দেশিকা অনুযায়ী প্রত্যেক জেলায় এমন কেন্দ্র গড়ে তুলতে হবে, যেখানে ‘অবৈধভাবে বসবাসরত বিদেশি নাগরিকদের’ রাখা হবে। শুধু কথিত অনুপ্রবেশকারীই নয়, জেল থেকে সাজা শেষ করে মুক্তি পাওয়া এবং নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর অপেক্ষায় থাকা বিদেশিদেরও এসব কেন্দ্রে রাখা হবে। ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে গত এক বছরে এ ধরনের হোল্ডিং সেন্টার গড়ে উঠলেও পশ্চিমবঙ্গে এই প্রথম এমন উদ্যোগ নেওয়া হলো। ‘হোল্ডিং সেন্টার’: নাম বদল, বাস্তবতা একই? গত বছর থেকে ভারতের গুজরাত, মহারাষ্ট্র, দিল্লি, হরিয়ানা ও ওড়িশাসহ বিভিন্ন রাজ্যে কথিত বাংলাদেশি ও রোহিঙ্গা শনাক্তে ব্যাপক অভিযান চালানো হয়। ওইসব অভিযানে হাজার হাজার মানুষকে আটক করা হয়েছিল, যাদের মধ্যে নারী ও শিশুও ছিলেন। পরিচয় যাচাইয়ের নামে অনেককে ছয়-সাত দিন কিংবা তারও বেশি সময় আটকে রাখা হয়। পরে দেখা যায়, আটক হওয়া অনেকেই প্রকৃত ভারতীয় নাগরিক; বিশেষ করে পশ্চিমবঙ্গ থেকে কাজের সন্ধানে অন্য রাজ্যে যাওয়া বাংলাভাষী মুসলিম পরিযায়ী শ্রমিকরা। আটক ব্যক্তিদের একাংশ বিবিসি বাংলাকে জানিয়েছেন, ‘হোল্ডিং সেন্টার’ নামে পরিচিত এসব স্থান বাস্তবে ছিল অস্থায়ী আটক শিবির। কোনো অনুষ্ঠানবাড়ি, বড় অফিস ভবন বা খালি প্রাঙ্গণ ব্যবহার করা হতো এসব কেন্দ্র হিসেবে। বাইরে থাকত পুলিশি পাহারা, ভেতরে সীমিত চলাফেরা। অনেকের অভিযোগ, মোবাইল ফোন ব্যবহার করতে দেওয়া হতো না, খাবারও ছিল অপ্রতুল। কেউ কেউ গোপনে ছবি বা ভিডিও পাঠিয়ে পরিবারের কাছে নিজেদের অবস্থার কথা জানান। ভাষা ও ধর্ম কি হয়ে উঠছে সন্দেহের কারণ? আটক হওয়া বহু মানুষের দাবি, শুধুমাত্র বাংলায় কথা বলা এবং মুসলমান পরিচয়ের কারণেই তাদের সন্দেহভাজন হিসেবে ধরা হয়েছিল। পরিযায়ী শ্রমিক মঞ্চের রাজ্য সাধারণ সম্পাদক আসিফ ফারুক বলেন, “বাংলাভাষী মুসলমান শ্রমিকদের লক্ষ্য করেই বহু জায়গায় অভিযান চালানো হয়েছে। পরবর্তীতে দেখা গেছে, আটক হওয়া অনেকেই প্রকৃত ভারতীয় নাগরিক ছিলেন। কিন্তু ততক্ষণে তারা হেনস্তা, মানসিক নির্যাতন ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের শিকার হয়েছেন।” মানবাধিকারকর্মীদের আশঙ্কা, পশ্চিমবঙ্গেও যদি একই ধরনের অভিযান শুরু হয়, তাহলে বৃহৎ সংখ্যক দরিদ্র শ্রমজীবী মানুষ নতুন করে হয়রানির মুখে পড়তে পারেন। ‘পুশব্যাক’: পরিচয় যাচাইয়ের আগেই সীমান্ত পার? গত এক বছরে একাধিক ঘটনায় দেখা গেছে, পরিচয় যাচাই সম্পন্ন হওয়ার আগেই অনেককে বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়া হয়েছে। সবচেয়ে আলোচিত ঘটনাগুলোর একটি পশ্চিমবঙ্গের সোনালী খাতুন ও তার পরিবারের। গর্ভবতী অবস্থায় তাকে পরিবারসহ বাংলাদেশে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছিল। পরে আন্তর্জাতিক সমালোচনার মুখে শুধু সোনালী খাতুনকে ভারতে ফিরিয়ে আনা হয়। মুর্শিদাবাদের মেহবুব শেখ এবং পূর্ব বর্ধমানের মুস্তাফা কামাল শেখের ঘটনাও একই ধরনের। দুজনকেই বাংলাদেশে পাঠিয়ে দেওয়ার পর পুনরায় ভারতে ফিরিয়ে আনা হয়, যখন প্রমাণিত হয় তারা ভারতীয় নাগরিক। এ ধরনের ঘটনা সীমান্ত নিরাপত্তা ও নাগরিক অধিকার—দুই প্রশ্নই সামনে এনে দিয়েছে। কেন্দ্রীয় নির্দেশনায় কী বলা আছে? ভারতের প্রচলিত আইনে অবৈধভাবে প্রবেশ বা বসবাসের অভিযোগে বিদেশি নাগরিকদের আটক করে আদালতের মাধ্যমে বিচার করার বিধান রয়েছে। সাজা শেষে সংশ্লিষ্ট দেশের দূতাবাসের সহায়তায় পরিচয় নিশ্চিত করে প্রত্যর্পণ করা হয়। কিন্তু কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নতুন নির্দেশনায় আলাদা প্রক্রিয়ার কথা বলা হয়েছে। সেখানে বলা হয়— প্রতিটি রাজ্যে বিশেষ টাস্ক ফোর্স গঠন করতে হবে প্রতিটি জেলায় পুলিশের তত্ত্বাবধানে হোল্ডিং সেন্টার তৈরি করতে হবে সন্দেহভাজন ব্যক্তি যে রাজ্যের বাসিন্দা দাবি করবেন, সেই রাজ্যের পুলিশকে ৩০ দিনের মধ্যে পরিচয় যাচাই করতে হবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে রিপোর্ট না এলে ফরেনার্স রিজিওনাল রেজিস্ট্রেশন অফিসার (FRRO) প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়া শুরু করতে পারবেন অধিকারকর্মীদের মতে, এই ব্যবস্থায় ভুল শনাক্তকরণের ঝুঁকি অত্যন্ত বেশি। প্রশ্নের মুখে পরিসংখ্যান সমালোচকদের বড় প্রশ্ন—পশ্চিমবঙ্গে কথিত বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীর প্রকৃত সংখ্যা কত? অর্থনীতিবিদ ও জাতীয় কংগ্রেস নেতা প্রসেনজিৎ বসু বলেন, “কতজন বাংলাদেশি বা রোহিঙ্গা পশ্চিমবঙ্গে আছেন, সেই তথ্য সরকার আগে প্রকাশ করুক। তথ্য ছাড়া এমন অবকাঠামো তৈরির যৌক্তিকতা কোথায়?” তিনি জানান, তথ্য অধিকার আইনে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কাছে জানতে চেয়েছিলেন— ২০০০ সাল থেকে কতজন কথিত অনুপ্রবেশকারী আটক হয়েছেন তাদের ধর্মীয় পরিচয় কী কতজন বর্তমানে জেল বা ডিটেনশন সেন্টারে আছেন কতজনকে বাংলাদেশে পুশব্যাক করা হয়েছে তবে এখনও তিনি কোনো সুস্পষ্ট উত্তর পাননি। নিরাপত্তা নাকি রাজনৈতিক বার্তা? বিশ্লেষকদের মতে, পশ্চিমবঙ্গে ‘হোল্ডিং সেন্টার’ তৈরির সিদ্ধান্ত শুধু প্রশাসনিক উদ্যোগ নয়, এটি রাজনৈতিকভাবেও তাৎপর্যপূর্ণ। রাজ্যের বিরোধী দল দীর্ঘদিন ধরেই ‘অনুপ্রবেশ’ ইস্যুকে রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার করে আসছে। অন্যদিকে মানবাধিকার সংগঠনগুলোর আশঙ্কা, এই ইস্যুকে ঘিরে বাংলাভাষী মুসলমান জনগোষ্ঠীর ওপর নজরদারি ও সন্দেহের সংস্কৃতি আরও প্রাতিষ্ঠানিক রূপ পেতে পারে। ফলে প্রশ্ন উঠছে— এই হোল্ডিং সেন্টার কি সত্যিই সীমান্ত নিরাপত্তার প্রয়োজন, নাকি তা ধীরে ধীরে নাগরিক পরিচয় যাচাইয়ের নামে নতুন এক আতঙ্কের অবকাঠামো হয়ে উঠছে?

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ২৫, ২০২৬ 0
পশ্চিমবঙ্গে গরু কোরবানিতে বিধিনিষেধ, হিন্দু ব্যবসায়ীদের মাথায় হাত!
ভারতের বিজেপি সরকারের নতুন আইনে পশ্চিমবঙ্গে কোরবানির গরু সংকট: নতুন বিধিনিষেধে বিপাকে খামারি ও ব্যবসায়ীরা

ইত্তেহাদ নিউজ, অনলাইন ডেস্ক : ঈদুল আজহার আগে ভারতের পশ্চিমবঙ্গে গরু কেনাবেচা কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে। বিজেপি সরকারের নতুন পশু জবাই নির্দেশিকাকে কেন্দ্র করে মুসলিম ক্রেতাদের মধ্যে তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা, আর তার সরাসরি প্রভাব পড়েছে হিন্দু খামারি ও গরু ব্যবসায়ীদের ওপর। একই সময়ে ধর্মভিত্তিক ভাতা বন্ধের ঘোষণাও রাজ্যের রাজনৈতিক আবহকে আরও উত্তপ্ত করে তুলেছে। ঈদুল আজহা সামনে রেখে পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন পশুর হাটে সাধারণত যে বেচাকেনার চাপ দেখা যায়, এবার তার উল্টো চিত্র দেখা যাচ্ছে। ব্যবসায়ীদের দাবি, নতুন আইনি বিধিনিষেধ এবং প্রশাসনিক নজরদারির কারণে মুসলিম ক্রেতারা গরু কিনতে আগ্রহ হারাচ্ছেন। ফলে কোটি টাকার বাজারে নেমে এসেছে স্থবিরতা। গত ১৩ মে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের জারি করা ‘পশু জবাই সংক্রান্ত নির্দেশিকা’ অনুযায়ী, সরকারি অনুমতি ও সরকারি পশু চিকিৎসকের ফিটনেস সনদ ছাড়া গরু, ষাঁড়, বলদ, বাছুর কিংবা স্ত্রী-পুরুষ মহিষ জবাই করা যাবে না। নতুন নিয়মে বলা হয়েছে, কোনো পশুকে জবাইয়ের উপযোগী হিসেবে বিবেচনা করতে হলে তার বয়স অন্তত ১৪ বছর হতে হবে এবং সেটি প্রজনন বা শ্রমের কাজে অক্ষম হতে হবে। গুরুতর আঘাত, স্থায়ী বিকলাঙ্গতা বা অনিরাময়যোগ্য রোগে আক্রান্ত পশুর ক্ষেত্রেও বিশেষ অনুমতির বিধান রাখা হয়েছে। এছাড়া শুধুমাত্র অনুমোদিত কসাইখানা বা প্রশাসন নির্ধারিত স্থানে পশু জবাইয়ের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। প্রকাশ্যে বা জনসমাগমপূর্ণ এলাকায় পশু জবাই করলে তা দণ্ডনীয় অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে। ঈদের বাজারে অনিশ্চয়তা মুর্শিদাবাদ, মালদহ, নদীয়া এবং উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনার মতো মুসলিম অধ্যুষিত জেলাগুলোতে কোরবানির ঈদকে কেন্দ্র করে প্রতিবছর বিপুল অঙ্কের গরু ব্যবসা হয়। স্থানীয় হিন্দু খামারিদের বড় একটি অংশ এই মৌসুমি বিক্রির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু এবার ব্যবসায়ীরা বলছেন, নতুন নিয়মে ১৪ বছরের কম বয়সী গবাদিপশু নিয়ে আইনি জটিলতা তৈরি হওয়ায় ক্রেতারা হাটে আসলেও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে দ্বিধায় পড়ছেন। পুলিশের হয়রানি বা আইনি জটিলতার আশঙ্কাও অনেকের মধ্যে কাজ করছে। ফলে অনেকে গরুর বদলে ছাগল বা ভেড়ার দিকে ঝুঁকছেন। এতে বড় আকারের গরু খামারিরা সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মুখে পড়েছেন। একাধিক খামারি জানিয়েছেন, বছরজুড়ে গরু লালন-পালনের পর ঈদের বাজার থেকেই তারা মূল বিনিয়োগ ফেরত পান। কিন্তু এবার বিক্রি না হলে ঋণের চাপ সামলানো কঠিন হয়ে পড়বে। সরকারের অবস্থান কী? সোমবার নবান্নে মন্ত্রিসভার দ্বিতীয় বৈঠকের পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন রাজ্যের নারী ও শিশুকল্যাণ মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল। তিনি জানান, মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী পুরো বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখছেন এবং খুব দ্রুত একটি “সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা” ঘোষণা করা হতে পারে। মন্ত্রী বলেন, “আমাদের মুখ্যমন্ত্রী বিষয়টা নিজে দেখছেন। পরিস্থিতি মোকাবিলায় খুব তাড়াতাড়ি কোনও পরিকল্পনা নেওয়া হবে।” যদিও সরকার এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো শিথিলতার ঘোষণা দেয়নি, তবে রাজনৈতিক মহলে ধারণা করা হচ্ছে—ঈদ, আদালতের গাইডলাইন এবং জনমতের মধ্যে ভারসাম্য রাখতে মধ্যপন্থী সমাধানের চেষ্টা করা হতে পারে। ধর্মীয় স্বাধীনতা বনাম প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ নতুন বিধিনিষেধকে ঘিরে পশ্চিমবঙ্গে ধর্মীয় স্বাধীনতা ও প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নতুন বিতর্ক শুরু হয়েছে। সমালোচকদের দাবি, কোরবানির মতো ধর্মীয় আচার পালনের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত প্রশাসনিক জটিলতা তৈরি হলে তা সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মধ্যে অনিশ্চয়তা বাড়াবে। একই সঙ্গে ক্ষুদ্র খামারি ও পশু ব্যবসায়ীদের অর্থনৈতিক ক্ষতিও গভীর হবে। অন্যদিকে বিজেপির বক্তব্য, এই পদক্ষেপ মূলত অবৈধ পশু জবাই ও প্রকাশ্যে কসাই কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণে আনতেই নেওয়া হয়েছে। দলটি দীর্ঘদিন ধরে গবাদিপশু সংরক্ষণ ও “আইনসম্মত জবাই ব্যবস্থার” পক্ষে অবস্থান নিয়ে আসছে। ধর্মভিত্তিক ভাতা বন্ধের ঘোষণা পশু জবাই নির্দেশিকার বিতর্কের মধ্যেই রাজ্য সরকার ধর্মভিত্তিক বিভিন্ন ভাতা ও সহায়তামূলক প্রকল্প বন্ধের ঘোষণাও দিয়েছে। মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল জানিয়েছেন, আগামী ১ জুন থেকে ইমাম, মুয়াজ্জিন ও পুরোহিতদের জন্য চালু থাকা ভাতা প্রকল্পগুলো বন্ধ হয়ে যাবে। তিনি বলেন, ধর্মীয় পরিচয়ের ভিত্তিতে পরিচালিত প্রকল্পগুলো পুনর্বিবেচনা করা হচ্ছে। তবে একইসঙ্গে সরকার “লক্ষ্মীর ভাণ্ডার” প্রকল্পকে পুনর্গঠন করে “অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার” নামে চালুর ঘোষণা দিয়েছে। আগের সুবিধাভোগীরা স্বয়ংক্রিয়ভাবে নতুন প্রকল্পে অন্তর্ভুক্ত হবেন বলেও জানানো হয়েছে। রাজনৈতিক বার্তা নাকি প্রশাসনিক সংস্কার? রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সরকার গঠনের অল্প সময়ের মধ্যেই বিজেপির এই ধারাবাহিক সিদ্ধান্তগুলো মূলত তাদের দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক অবস্থানের প্রতিফলন। ধর্মভিত্তিক ভাতা বন্ধ, পশু জবাই নিয়ন্ত্রণ এবং প্রশাসনিক নজরদারি জোরদারের মতো পদক্ষেপের মাধ্যমে নতুন সরকার তাদের ভোটারদের কাছে একটি শক্ত রাজনৈতিক বার্তা দিতে চাইছে। তবে এর বাস্তব অর্থনৈতিক প্রভাব কতটা গভীর হবে, তা নির্ভর করছে আগামী কয়েক সপ্তাহের ওপর—বিশেষ করে ঈদুল আজহার বাজার পরিস্থিতি এবং সরকারের সম্ভাব্য নতুন ঘোষণার ওপর।

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ১৯, ২০২৬ 0
শরিফ ওসমান হাদি
হাদি হত্যা মামলার দুই আসামি পশ্চিমবঙ্গে গ্রেফতার, সীমান্ত নিরাপত্তা নিয়ে তৃণমূল–বিজেপির পাল্টাপাল্টি অভিযোগ

বাংলাদেশের ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরিফ ওসমান হাদির হত্যাকাণ্ডের প্রধান অভিযুক্ত ফয়সাল করিম মাসুদ এবং তাঁর সহযোগী আলমগীর হোসেন ভারতে গ্রেফতার হওয়ার পর সীমান্ত নিরাপত্তা ইস্যুতে পশ্চিমবঙ্গের ক্ষমতাসীন দল তৃণমূল কংগ্রেস এবং প্রধান বিরোধী দল বিজেপির মধ্যে রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়েছে। রোববার পশ্চিমবঙ্গে ওই দুই অভিযুক্তকে গ্রেফতার করা হয় বলে ভারতীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। তবে তাদের ভারতে প্রবেশের বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে তৃণমূল কংগ্রেস। দলের দাবি, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী Amit Shah-এর অধীনস্থ সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফের নজর এড়িয়ে কীভাবে ওই দুই ব্যক্তি ভারতে ঢুকল, তার ব্যাখ্যা দেওয়া উচিত। তৃণমূল কংগ্রেসের মুখপাত্র বলেন, হাদি হত্যাকাণ্ডের দুই অভিযুক্ত ভারতে প্রবেশ করেছেন মেঘালয় সীমান্ত দিয়ে, যেখানে বর্তমানে বিজেপি-সমর্থিত সরকার ক্ষমতায় রয়েছে। তিনি বলেন, “অমিত শাহ আমাদের সীমান্ত রক্ষা করতে ব্যর্থ হয়েছেন। শেষ পর্যন্ত Mamata Banerjee-র পুলিশের হাতেই গ্রেফতার হয়েছে দুই অভিযুক্ত।” অরূপ চক্রবর্তীর অভিযোগ, মেঘালয় থেকে পশ্চিমবঙ্গে প্রবেশ করতে হলে আসাম ও ত্রিপুরা অতিক্রম করতে হয়, আর এই দুই রাজ্যেই ক্ষমতায় রয়েছে বিজেপি। তার ভাষায়, “দুই রাজ্যের পুলিশ এবং অমিত শাহর বিএসএফের চোখে ধুলো দিয়ে দুষ্কৃতীরা দেশে ঘুরে বেড়াচ্ছে।” তবে এই অভিযোগ নাকচ করেছে ভারতীয় জনতা পার্টি। বিজেপির মুখপাত্র দাবি করেছেন, পশ্চিমবঙ্গই বাংলাদেশের অপরাধীদের জন্য একটি “নিরাপদ আশ্রয়স্থল” হয়ে উঠেছে। তিনি বলেন, “শুধু হাদি হত্যা মামলার অভিযুক্তরা নয়, বিভিন্ন সময় বাংলাদেশের বা অন্য দেশের অপরাধীরা পালিয়ে এসে পশ্চিমবঙ্গে আশ্রয় নিচ্ছে।” দেবজিৎ সরকারের দাবি, পশ্চিমবঙ্গের প্রায় ৪০০ কিলোমিটার সীমান্ত এলাকা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ এবং সেখানে সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদারের প্রয়োজন রয়েছে। তিনি আরও বলেন, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী সীমান্ত এলাকায় জমি অধিগ্রহণের যে প্রক্রিয়া হয়েছে, তা নিয়ে বিএসএফ পুরোপুরি সন্তুষ্ট নয়। এই ঘটনায় একদিকে সীমান্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে, অন্যদিকে ভারতীয় রাজনীতিতেও নতুন করে তৃণমূল কংগ্রেস ও বিজেপির মধ্যে বিতর্কের সূত্রপাত হয়েছে।   টাইমলাইন: হাদি হত্যা মামলা ঘটনার ধারাবাহিকতা বাংলাদেশে হত্যা – ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরিফ ওসমান হাদি খুন হন তদন্ত শুরু – বাংলাদেশে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তদন্ত শুরু করে প্রধান সন্দেহভাজন শনাক্ত – ফয়সাল করিম মাসুদ ও আলমগীর হোসেনকে প্রধান অভিযুক্ত হিসেবে চিহ্নিত করা হয় ভারতে পালানোর অভিযোগ – তদন্তে উঠে আসে তারা বাংলাদেশ ছেড়ে ভারতে পালিয়েছে রোববার গ্রেফতার – পশ্চিমবঙ্গে ভারতীয় পুলিশ দুই অভিযুক্তকে গ্রেফতার করে ফ্যাক্টবক্স: কী জানা গেছে হাদি হত্যা মামলা – গুরুত্বপূর্ণ তথ্য নিহত: শরিফ ওসমান হাদি পদবি: ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক প্রধান অভিযুক্ত: ফয়সাল করিম মাসুদ সহযোগী অভিযুক্ত: আলমগীর হোসেন গ্রেফতার: পশ্চিমবঙ্গ, ভারত সম্ভাব্য প্রবেশ পথ: মেঘালয় সীমান্ত বিশ্লেষণ এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ভারতের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের মধ্যে দায় চাপানোর প্রবণতা আবারও সামনে এসেছে। বিশেষ করে পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতাসীন তৃণমূল কংগ্রেস এবং বিরোধী বিজেপির মধ্যে সীমান্ত নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই রাজনৈতিক বিরোধ চলছে। হাদি হত্যা মামলার অভিযুক্তদের গ্রেফতারের ঘটনাটি সেই বিতর্ককে নতুন করে উসকে দিয়েছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ১০, ২০২৬ 0
Popular post
ফারুকীর সম্পদ কমেছে, তিশার বেড়েছে দ্বিগুণেরও বেশি: সম্পদ বিবরণী ঘিরে আলোচনা

অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের সম্পদ বিবরণী প্রকাশের পর সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী ও তার স্ত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদের হিসাব নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। এক বছরের ব্যবধানে স্বামী ফারুকীর সম্পদ কমলেও স্ত্রী তিশার সম্পদ বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে প্রকাশিত তথ্যে উঠে এসেছে এই চিত্র। প্রকাশিত খতিয়ান অনুযায়ী, জনপ্রিয় অভিনেত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদ এক বছরে অভাবনীয় হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তিশার মোট সম্পদের পরিমাণ ছিল ১ কোটি ৪০ লাখ ৮১ হাজার ৮৬০ টাকা। ঠিক এক বছর পর, ২০২৫ সালের ৩০ জুন সেই সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ৯৯ লাখ ৮৯ হাজার ৫০১ টাকায়। অর্থাৎ মাত্র এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ বেড়েছে ১ কোটি ৫৯ লাখ ৭ হাজার ৬৪১ টাকা, যা আগের বছরের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি। অন্যদিকে সংস্কৃতি উপদেষ্টা ও নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর ক্ষেত্রে দেখা গেছে উল্টো চিত্র। এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ কমেছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তার মোট সম্পদ ছিল ২ কোটি ২৬ লাখ ৯২ হাজার ২৬ টাকা। ২০২৫ সালের ৩০ জুন তা কমে দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ১৫ লাখ ১৮ হাজার ২৬ টাকায়। হিসাব অনুযায়ী, এক বছরে তার সম্পদ কমেছে ১১ লাখ ৭৪ হাজার টাকা। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে গত মঙ্গলবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ প্রধান উপদেষ্টা, উপদেষ্টা ও সমমর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের পাশাপাশি তাদের স্ত্রী বা স্বামীর সম্পদ বিবরণী প্রকাশ করে। একই সময়ে স্বামী-স্ত্রীর সম্পদে এমন ভিন্নমুখী পরিবর্তন স্বাভাবিকভাবেই সাধারণ মানুষের কৌতূহলের জন্ম দিয়েছে। শোবিজ অঙ্গনের জনপ্রিয় দম্পতি হওয়ায় তাদের এই আয়-ব্যয়ের হিসাব এখন টক অব দ্য কান্ট্রি।

সংসার সামলাতে অটোরিকশা নিয়ে রাস্তায় নেমেছেন রোজিনা

বাসস : বাবা একজন তাঁত শ্রমিক। তিন বোন দুই ভাইয়ের মধ্যে সবার বড় রোজিনা। অভাব সংসার, তাই এক এতিম যুবকের সাথে বাবা-মা বিয়ে দেন তাকে। বিয়ের পর জন্ম হয় দুই কন্যা সন্তানের। অটোরিকশা চালিয়ে কোন রকম সংসার চালাচ্ছিলেন স্বামী রফিকুল ইসলাম। কিন্তু সড়ক দুর্ঘটনায় রফিকুলের এক চোখ সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যায়। আরেকটি চোখ আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ধীরে ধীরে ওই চোখের দৃষ্টি শক্তিও কমতে থাকে। ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে অটোরিকশা চালানো। সংসারের উপার্জনক্ষম মানুষটি অচল হয়ে পড়ায় চিকিৎসার খরচ, ঘর ভাড়া ও খাবারের পাশাপাশি মেয়েদের লেখাপড়ার খরচ চালানোই কঠিন হয়ে যায়। দিশেহারা হয়ে পরেন রোজিনা। এক পর্যায়ে মানুষের বাড়ি বাড়ি কাজ করে সংসার চালানোর চেস্টা করেন। কিন্তু সুবিধা করতে পারেন না। এমন পরিস্থিতিতে অটোরিকশা চালানোর সিদ্ধান্ত নেন তিনি। স্বামী রফিকুলের কাছেই হাতেখড়ি। গ্রামের স্কুলের মাঠে স্বামীর কাছেই অটোরিকশা চালানোর শিক্ষা নেন তিনি। পরে গ্রামের পথে নেমে পড়েন অটোরিকশা নিয়ে। ৫-৬ দিন এভাবে হাত পাকা করে একদিন টাঙ্গাইল শহরে চলে আসেন রোজিনা। এরপর শুরু করেন অটোরিক্সা চালানোর ব্যতিক্রমী জীবন সংগ্রাম। এখন টাঙ্গাইল পৌরসভায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার চালকদের মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা বেগম। জেলার বাসাইল উপজেলার আইসড়া গ্রামের বাসিন্দা রোজিনা টাঙ্গাইল পৌর শহরের এক প্রান্ত রাবনা বাইপাস থেকে আরেক প্রান্ত বেবিস্ট্যান্ডে যাত্রী আনা নেয়া করেন। যানজটের কারণে শহরে পুরুষ চালকরা যেখানে হিমসিম খায়, সেখানেই বিগত ৫ বছর ধরেই নির্বিঘেœ অটোরিকশা চালাচ্ছেন তিনি। টাঙ্গাইল পৌরসভা কার্যালয় সূত্রে জানা যাায়, টাঙ্গাইল শহরে চলাচলের জন্য ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক ও ৫ হাজার ব্যাটারিচালিত রিকশার অনুমতি (লাইসেন্স) দেওয়া হয়েছে। যানজট এড়াতে ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক জোড় ও বিজোড় সংখ্যায় দিনে দুই ভাগ করা হয়েছে। সকাল থেকে বেলা দুইটা পর্যন্ত এক ভাগ এবং বেলা দুইটা থেকে রাত পর্যন্ত আরেক ভাগের ইজিবাইক চলাচল করার নির্দেশনা দিয়েছে পৌর কর্তৃপক্ষ। কিন্তু রোজিনাকে দুই শিফটে চালানোর অনুমতি দিয়েছে পৌরসভা। সরেজমিনে দেখা যায়, নতুন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অটোরিকশা নিয়ে যাত্রী ডাকছেন রোজিনা। কলেজ গেট, পুরাতন বাসস্ট্যান্ড, ক্যাপসুল, নিরালা মোড়, বেবিস্ট্যান্ড সর্বত্রই যাত্রী আনানেয়া করেন তিনি। পুরাতন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অন্য অটো চালকদের দাঁড় করতে না দিলেও রোজিনাকে বাঁধা দেননা ট্রাফিক পুলিশ। বলতে গেলে সবাই তার প্রতি সহানুভুতিশীল। ট্রাফিক পুলিশসহ অন্য অটোচালকরাও তাকে সহযোগিতা করেন। রোজিনা বলেন, আমার অটোতে নারী যাত্রীরা খুব কম। তারা মনে করে আমার অটোতে উঠলে দুর্ঘটনায় পড়বে। কিন্তু আমি খুব সাবধানে অটো চালাই। দ্রুত গতিতেও না, আবার একেবারে ধীরগতিতেও না। এখন পর্যন্ত আমি কোন দুর্ঘটনার কবলে পড়ি নাই। শহরের পুরুষ অটোরিকশা চালকরা আমাকে অনেক সহযোগিতা করে। অটোচালক কাদের মিয়া বলেন, আমাদের শহরে কয়েক হাজার অটো চলাচল করে। তার মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। তাকে আমরা সব সময় সহযোগিতা করি। যাত্রী সাইদ মিয়া বলেন, আমি এ পর্যন্ত ৫-৬ বার রোজিনার অটোতে চড়েছি। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। অন্য পুরুষ অটো চালকের চেয়েও ভালো অটো চালান। নারী সংগঠক সেরাজুম মনিরা বলেন, তিনি অনেক দিন যাবত অটোরিকশা চালাচ্ছেন। আমি রোজিনাকে স্যালুট জানাই। একজন পুরুষের চেয়ে একজন নারী কোনো ভাবেই যে পিছিয়ে নেই, রোজিনা তা প্রমাণ করেছেন। রোজিনা বলেন, অটো চালানোর এই সিদ্ধান্তটি তার জন্য খুব সহজ ছিল না। তিনি বলেন, ৫ ও ১০ বছরের দুই মেয়েকে বাড়িতে রেখে অটোরিকশা নিয়ে সারাদিন রাস্তায় থাকতে হয়। তাদের ভালোভাবে দেখাশোনা করতে পারি না। কিন্তু কি করবো, অভাবের সংসার! এখন ঋণ নিয়ে একটু জমি কিনেছি। প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ণ প্রকল্পের অর্থায়নে প্রশাসন সেখানে ঘর তুলে দিয়েছে। শুরুতে যারা আমাকে নিয়ে ঠাট্টা করেছে এখন তারাই আমাকে সম্মান করেন। নারীরাও যে কিছু করতে পারে, তা প্রমাণ করেছি। আমার বড় মেয়ে আইসড়া উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়ে, ছোট মেয়ে পড়ে স্থানীয় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। মেয়েদের শিক্ষিত করতে হবে। ধার দেনা শোধ করতে হবে। তাই থেমে গেলো চলবে না। আমি অটোরিকশা চালিয়েই দুই সন্তানকে মানুষ করতে চাই।’ ঘারিন্দা ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য বাবুল সরকার বলেন, সরকার রোজিনাকে একটি ঘর নির্মাণ করে দিয়েছে। শুরুতে যারা তাকে নিয়ে নানান কথা বলতো, এখন তার সংকল্প ও মানষিক দৃঢ়তা দেখে থেমে গেছে। আমরা তাকে নিয়ে গর্ব করি। টাঙ্গাইলের ট্রাফিক ইন্সপেক্টর (প্রশাসন) দেলোয়ার হোসেন বলেন, শহরের একমাত্র নারী চালক রোজিনাকে কেউ যেন বিরক্ত করতে না পারে সেদিকে সব সময় নজর রাখে ট্রাফিক পুলিশ। আমরা তাকে সব সময় সহযোগিতা করে আসছি। টাঙ্গাইলের সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক শাহ আলম বলেন, বিষয়টি এখন জানতে পারলাম। ওই নারী এখনো পর্যন্ত আমাদের কাছে আসেন নাই। যদি আমাদের কাছে এসে আবেদন করেন অবশ্যই তাকে আমরা সহযেগিতা করবো, তার পাশে দাঁড়াবো।

বাংলাদেশে ঐতিহাসিক নির্বাচন: বিএনপি এগিয়ে, জামায়াতের উত্থান ও তরুণ ভোটারদের প্রভাব

২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশে আজ এক ঐতিহাসিক ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ২০০৮ সালের পর এই প্রথম একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হতে যাচ্ছে যেখানে দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগ রাজনৈতিক মানচিত্র থেকে কার্যত অনুপস্থিত। বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক জরিপ বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০০ আসনের মধ্যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) কার্যকর সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে যাচ্ছে। তবে ভোটের ব্যবধান এবং কিছু সমীকরণ নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। নির্বাচনের সবচেয়ে বড় নিয়ামক হয়ে দাঁড়িয়েছে আওয়ামী লীগের বিশাল ভোটব্যাংক। দলটির নিয়মিত প্রায় ৪ কোটি ভোটার এখন নতুন রাজনৈতিক আশ্রয় খুঁজছেন। সিআরএফ বা বিইপিওএস জরিপ বলছে, এই ভোটারদের প্রায় অর্ধেক বিএনপির দিকে ঝুঁকেছে, যা দলটিকে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতার পথে এগিয়ে দিচ্ছে। অন্যদিকে, প্রায় ৩০ শতাংশ আওয়ামী ভোটার জামায়াতে ইসলামীকে বেছে নিতে পারেন বলে আভাস পাওয়া যাচ্ছে। এছাড়া বাংলাদেশের বিদ্যমান নির্বাচনী ব্যবস্থার কারণে দেশজুড়ে সুষম জনসমর্থন থাকা বিএনপি আসন জয়ের ক্ষেত্রে জামায়াতের তুলনায় সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। তবে বিএনপির এই সম্ভাব্য জয়ের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও বিদ্রোহী প্রার্থীরা। প্রায় ৭৯টি নির্বাচনী এলাকায় দলের মনোনয়ন না পাওয়া ৯২ জন প্রভাবশালী নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, যা বিএনপির ১৫ থেকে ৩০টি আসন কমিয়ে দিতে পারে। অন্যদিকে, তরুণ ভোটার বা ‘জেন-জি’ প্রজন্মের বিশাল সমর্থন জামায়াতে ইসলামীর শক্তির উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেশের ৪৪ শতাংশ ভোটারই তরুণ, যাদের বড় একটি অংশ প্রথমবার ভোট দিচ্ছেন। এই তরুণরা যদি দলবেঁধে কেন্দ্রে উপস্থিত হন, তবে নির্বাচনী ফলে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। সবশেষে, প্রায় ১৭ থেকে ৩৫ শতাংশ দোদুল্যমান ভোটার এবং তাদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করবে আগামীর সরকার কতটা শক্তিশালী হবে। দ্য নিউইয়র্ক এডিটোরিয়ালের মূল পূর্বাভাস, তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি প্রায় ১৮৫টি আসনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করতে পারে এবং জামায়াতে ইসলামী ৮০টির মতো আসন পেয়ে প্রধান বিরোধী দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারে। তবে বিদ্রোহী প্রার্থীদের প্রভাব এবং তরুণ ভোটারদের উপস্থিতির ওপর ভিত্তি করে আসন সংখ্যায় বড় ধরনের হেরফের হওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

গাজায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা ট্রাম্প প্রশাসনে

ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। ৩৫০ একরের ঘাঁটিটিতে সামরিক বাহিনীর পাঁচ হাজার সদস্য থাকতে পারবে। গাজার ‘বোর্ড অব পিস’র নথি পর্যালোচনা করে এ তথ্য জানিয়েছে দ্য গার্ডিয়ান। প্রতিবেদনে ব্রিটিশ সংবাদ মাধ্যমটি জানিয়েছে, বোর্ড অব পিসে গাজাকে নিরাপদ করার জন্য ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যাবিলাইজেশন ফোর্স (আইএসএফ) নামে একটি আন্তর্জাতিক বাহিনী মোতায়েনের কথা বলা হয়েছে। যে স্থানটি ঘাঁটি করার জন্য বিবেচনা করা হচ্ছে সেখানে আইএসএফের সদস্যরা থাকবে। বোর্ড অব পিসের প্রধান হবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আর সংগঠনটির আংশিক নেতৃত্ব দেবেন ট্রাম্পের জামাতা জ্যারার্ড কুশনার।দ্য গার্ডিয়ান বোর্ড অব পিসের নথি পর্যালোচনা করে জানায়, ধাপে ধাপে একটি সামরিক ঘাঁটি নির্মাণ করা হবে। সবকিছু শেষ হলে ঘাঁটিটি ১৫ লাখ ১৭ হাজার ৫৭৫ বর্গমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত হবে। ঘাঁটিটির চারপাশে ট্রেইলার সংযুক্ত ২৬টি সাঁজোয়া নজরদারি টাওয়ার থাকবে। এছাড়া একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, বাংকার ও অস্ত্র রাখার গুদাম থাকবে। পুরো ঘাঁটিটি কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে ঘিরে রাখা হবে। সামরিক ঘাঁটি নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে দক্ষিণ গাজার একটি শুষ্ক সমতলভূমিতে। সেখানে ইসরায়েলি হামলার চিহ্ন রয়েছে। ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে বিভিন্ন ধাতবের ধ্বংসাবশেষ।  ওই এলাকার ভিডিও পর্যালোচনা করেছে দ্য গার্ডিয়ান। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, ঘাঁটি নির্মাণের জন্য টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে। যুদ্ধক্ষেত্রে কাজের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন আন্তর্জাতিক নির্মাণ কোম্পানিগুলোর একটি ছোট দলকে ইতোমধ্যেই এলাকাটি দেখানো হয়েছে। ওই দলটি দরপত্রে অংশ নিতে আগ্রহী।    ইন্দোনেশিয়া সরকার গাজায় আট হাজার সেনা সদস্য পাঠানোর জন্য প্রস্তাব দিয়েছে। বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটন ডিসিতে বোর্ড অব পিসের অনানুষ্ঠানিক বৈঠকে ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্টের অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। এছাড়া দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার আরও তিন নেতার ওই বৈঠকে অংশ নেবেন বলে জানা গেছে। জাতিসংঘের নিরাপত্তা কাউন্সিল গাজার সাময়িক স্থিতিশীলতার জন্য অস্থায়ীভাবে সামরিক বাহিনী মোতায়েনের অনুমোদন দিয়েছে। নিরাপত্তা কাউন্সিলই বোর্ড অব পিসের মূল হোতা। গাজার সীমান্ত ও শান্তি প্রণয়নে কাজ করবে আইএসএফ। এছাড়া বেসামরিকদের সুরক্ষা এবং ফিলিস্তিনি পুলিশ বাহিনীকে প্রশিক্ষণ ও সহায়তা দেবে তারা। যদি গাজায় ফের সংঘর্ষ হয়, ইসরায়েল বোমা হামলা চালায় অথবা হামাস হামলা চালায় সেক্ষেত্রে আইএসএফ কি করবে তা এখনও স্পষ্ট নয়। গাজা পুনর্গঠনে ইসরায়েল হামাসকে নিরস্ত্রীকরণের যে শর্ত দিয়েছে সেটির জন্য আইএসএফ কাজ করবে কিনা তাও স্পষ্ট না। ইতোমধ্যে বোর্ড অব পিসে ২০ এর অধিক দেশ যোগ দিয়েছে। তবে, এখনও অনেক পরাশক্তি এর থেকে দূরে রয়েছে। জাতিসংঘের অনুমোদন নিয়ে প্রতিষ্ঠিত হলেও ধারণা করা হচ্ছে, সংগঠনটির স্থায়ী নেতৃত্ব ও নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে। রুটজার্স বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক আদিল হক বলেন, “বোর্ড অব পিস এক ধরনের আইনি কল্পসত্তা। নামমাত্রভাবে এর নিজস্ব আন্তর্জাতিক আইনগত সত্তা রয়েছে, যা জাতিসংঘ ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে আলাদা। কিন্তু বাস্তবে এটি যুক্তরাষ্ট্রের ইচ্ছামতো ব্যবহারের জন্য একটি ফাঁপা খোলসমাত্র।” বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গাজা পুনর্গঠনে যে অর্থায়ন ও শাসন কাঠামো হচ্ছে তা অস্বচ্ছ। কয়েকজন ঠিকাদার গার্ডিয়ানকে জানান, গাজায় কাজ করার জন্য মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে তাদের প্রায়শ আলোচনা সরকারি ইমেলের বদলে সিগন্যালের মাধ্যমে করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রের তথ্য মতে, ঘাঁটি নির্মাণের সিদ্ধান্তটি বোর্ড অব পিসের। এতে সহায়তা করছে মার্কিন কর্মকর্তারা। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ঘাঁটিতে তৈরি বাংকার নেটওয়ার্কের মতোন কাজ করবে। প্রতিটি বাংকারের ২৪ মিটারের হবে। উচ্চতা থাকবে আড়াই মিটার। এগুলো এমনভাবে করা হবে যেন সেনা সদস্যরা আশ্রয় নিতে পারে। স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসের গাজায় সুড়ঙ্গ নেটওয়ার্ক বা টানেল রয়েছে। সেগুলোর আদলে নেটওয়ার্ক করতে চাওয়া হচ্ছে। পিস অব বোর্ডের নথি পর্যালোচনা করে এমন দাবি করছে গার্ডিয়ান। সংবাদ মাধ্যমটি বলছে,  স্থানটির ভূ-ভৌত জরিপ পরিচালনা করবে ঠিকাদাররা। নথির এক অংশে ‘হিউম্যান রেমিয়েনস প্রোটোকল’র কথা বলা হয়েছে। এর মানে দাঁড়ায়, সন্দেহভাজন মানব অবশিষ্ট বা সাংস্কৃতিক নিদর্শন পাওয়া গেলে অবিলম্বে সেই এলাকায় সব কাজ বন্ধ করতে হবে। চুক্তি কর্মকর্তাকে দিকনির্দেশনার জন্য অবিলম্বে জানাতে হবে। গাজা সিভিল ডিফেন্সের ধারণা, গাজার ধ্বংসস্তূপের নিচে ১০ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনির মরদেহ রয়েছে। ঘাঁটির জন্য যে স্থানটি বিবেচিত করা হচ্ছে সেটির মালিক কে তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে, দক্ষিণ গাজার বেশিরভাগ অংশ  বর্তমানে ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণে। জাতিসংঘের অনুমান, যুদ্ধ চলাকালীন ১৯ লাখ ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত হয়েছে। ফিলিস্তিনের জমিতে সরকারের অনুমতি না নিয়ে সামরিক ঘাঁটি স্থাপনকে দখল হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন ফিলিস্তিনি-কানাডিয়ান আইনজীবী এবং প্রাক্তন শান্তি আলোচক দিয়ানা বুট্টু। তিনি প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়ে বলেন, “কার অনুমতিতে তারা সামরিক ঘাঁটি স্থাপন করবে।” বিষয়টি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা বোর্ড অব পিসের কথা টানেন। ট্রাম্প প্রশাসনের একজন কর্মকর্তা সামরিক ঘাঁটির চুক্তি নিয়ে আলোচনা করতে অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, “যেমনটি প্রেসিডেন্ট বলেছেন, কোনও মার্কিন সেনা স্থলভাগে যাবে না। আমরা লিক হওয়া নথি নিয়ে আলোচনা করবো না।”

কুড়িগ্রামের তাজু ভাই ২.০: ‘সরকারি রেটে জিলাপি’ প্রশ্নে ভাইরাল এক নির্মাণশ্রমিকের গল্প

বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের প্রত্যন্ত চরাঞ্চল থেকে উঠে এসে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার কেন্দ্রে এখন তাইজুল ইসলাম, যিনি অনলাইনে পরিচিত ‘তাজু ভাই ২.০’ নামে। মাত্র একটি ভিডিও—যেখানে তিনি এক দোকানিকে প্রশ্ন করেন, “জিলাপি আজকে কত করে বেচতেছেন সরকারি রেটে?”—এই সরল উপস্থাপনাই তাকে রাতারাতি ভাইরাল করে তোলে।  কয়েক ঘণ্টায় ফলোয়ার লাখ ছাড়াল রোববার রাত পর্যন্ত তার ফেসবুক অনুসারী ছিল প্রায় ৩৫ হাজার। কিন্তু সোমবার সন্ধ্যা থেকে রাতের মধ্যেই তা বেড়ে এক লাখের বেশি হয়ে যায়। ভাইরাল ভিডিওটি ইতোমধ্যে প্রায় ৫০ থেকে ৫৫ লাখবার দেখা হয়েছে।  কী ছিল সেই ভিডিওতে? ভিডিওতে দেখা যায়, কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীর নারায়ণপুর বাজারে দাঁড়িয়ে স্থানীয় ভাষায় তিনি জিলাপির দাম জানতে চান। তার কথাগুলো ছিল একেবারেই সহজ ও গ্রাম্য ভঙ্গিতে— “সাদাডা কত, লালডা কত? সরকারি রেটে বেচতেছেন?” এই সরল প্রশ্নই সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।  কোথা থেকে উঠে এলেন তাজু ভাই? কুড়িগ্রাম জেলার নাগেশ্বরী উপজেলার নারায়ণপুর ইউনিয়নের একটি দুর্গম গ্রামে জন্ম তার। ব্রহ্মপুত্র নদবেষ্টিত এই অঞ্চলে পৌঁছাতে এখনও কয়েকটি নৌঘাট পার হতে হয়। দারিদ্র্যের কারণে কখনো স্কুলে যাওয়া হয়নি তার। পেশায় তিনি একজন নির্মাণশ্রমিকের সহকারী (হেলপার)। কাজের ফাঁকে ঢাকায় থাকাকালীন মোবাইল ফোনে ভিডিও তৈরি করাই তার শখ। ব্যক্তিগত সংগ্রাম তাইজুল ইসলামের পরিবারে ছয় ভাই-বোন। তিনি সবার বড়। তার বাবা-মা দুজনই শ্রবণপ্রতিবন্ধী। পরিবার চালাতে তাকে ছোটবেলা থেকেই সংগ্রাম করতে হয়েছে। তিনি বলেন, “পরিবারের কষ্ট ভুলতেই ভিডিও করি। আমি সাংবাদিক না, কিন্তু আমাদের এলাকায় কেউ আসে না—তাই নিজেরাই ভিডিও বানাই।” ভাইরাল হওয়ার পেছনের উদ্দেশ্য তাইজুলের দাবি, তার ভিডিও শুধুই বিনোদনের জন্য নয়। তিনি চান তার এলাকার অবহেলিত মানুষের কথা প্রশাসনের নজরে আসুক। “আমি চাই চরের মানুষের উন্নয়ন হোক,”—বলছেন তিনি।  মিশ্র প্রতিক্রিয়া ভিডিওটি নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে দুই ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ তার সরলতা ও বাস্তবতা তুলে ধরার চেষ্টা প্রশংসা করছেন আবার কেউ তাকে নিয়ে ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ করছেন তবে এসব সমালোচনায় তিনি বিচলিত নন।

অর্থনীতি

ইসলামী ব্যাংক,

ইসলামী ব্যাংকে আস্থা সংকট কেন কাটছে না?: দেশের বৃহত্তম শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংককে ঘিরে নতুন প্রশ্ন

নিজস্ব প্রতিবেদক জুন ২২, ২০২৬ 0




অপরাধ

ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো

ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকোর বিরুদ্ধে ৩০ বিলিয়ন ডলার জালিয়াতি ও অর্থপাচার অভিযোগে দুদকের অনুসন্ধান

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ২৪, ২০২৬ 0




কৃষি ও জলবায়ু

ধান

শেরপুরে বোরো ধানের দাম কমে লোকসানে কৃষকরা, উৎপাদন খরচও উঠছে না

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ৬, ২০২৬ 0