Brand logo light

প্রবাসী বাংলাদেশি

মালয়েশিয়ায় ৫ মাসে ৩০ হাজার বিদেশি আটক
মালয়েশিয়ায় ৫ মাসে ৩০ হাজার বিদেশি আটক, কঠোর হচ্ছে ইমিগ্রেশন অভিযান

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : মালয়েশিয়ায় অবৈধভাবে অবস্থান, ভিসার শর্ত লঙ্ঘন এবং অনুমতিবিহীন কর্মসংস্থানের বিরুদ্ধে নজিরবিহীন অভিযান চালাচ্ছে দেশটির ইমিগ্রেশন বিভাগ। চলতি বছরের প্রথম পাঁচ মাসেই দেশজুড়ে পরিচালিত অভিযানে আটক হয়েছেন ৩০ হাজার ৮০১ জন বিদেশি নাগরিক, যা দেশটির অভিবাসন ব্যবস্থাপনা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন ও উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে। মঙ্গলবার (৯ জুন) মালয়েশিয়ার ইমিগ্রেশন মহাপরিচালক জাকারিয়া শাবান এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানান। রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা বার্নামার বরাত দিয়ে বিষয়টি প্রকাশ করেছে মালায় মেইল। তথ্য অনুযায়ী, আটক হওয়া বিদেশিদের মধ্যে ২ হাজার ৩২৪ জনের বিরুদ্ধে ভিসার শর্ত ভঙ্গের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ রয়েছে। তারা যে উদ্দেশ্যে মালয়েশিয়ায় প্রবেশ করেছিলেন, বাস্তবে তার বাইরে গিয়ে বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিলেন বলে অভিযোগ করেছে কর্তৃপক্ষ। ভিসা এক, কাজ আরেক—কেন উদ্বিগ্ন কর্তৃপক্ষ? ইমিগ্রেশন বিভাগের তদন্তে দেখা গেছে, অনেক বিদেশি নাগরিক পর্যটক, শিক্ষার্থী কিংবা অন্যান্য সীমিত অনুমতির ভিসায় দেশটিতে প্রবেশ করলেও পরে অনুমোদনহীন ব্যবসা, শ্রমবাজার বা বাণিজ্যিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত হয়েছেন। বিশ্লেষকদের মতে, এই প্রবণতা শুধু অভিবাসন নীতিকেই চ্যালেঞ্জ করছে না, বরং বৈধ শ্রমবাজার, কর ব্যবস্থাপনা এবং জাতীয় নিরাপত্তার ওপরও প্রভাব ফেলছে। জাকারিয়া শাবান বলেন, মালয়েশিয়ার অভিবাসন ব্যবস্থার স্বচ্ছতা, জনশৃঙ্খলা এবং ন্যায্য অর্থনৈতিক পরিবেশ নিশ্চিত করতে ইমিগ্রেশন সুবিধার অপব্যবহার ঠেকানো এখন বিভাগের অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার। বিশেষ অভিযান ইউনিট গঠন অভিযান আরও কার্যকর করতে মালয়েশিয়া ইমিগ্রেশন বিভাগ নতুন কিছু কৌশলগত পদক্ষেপ নিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে— বিশেষ ‘এনফোর্সমেন্ট ইন্সপেক্টরেট’ গঠন; ঝুঁকিপূর্ণ ও অপরাধপ্রবণ এলাকাগুলোতে লক্ষ্যভিত্তিক চিরুনি অভিযান; ভিসা ও কর্মসংস্থান আইন লঙ্ঘনকারীদের শনাক্তে গোয়েন্দা তৎপরতা বৃদ্ধি; অবৈধ কর্মী নিয়োগকারী নিয়োগকর্তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা। কর্তৃপক্ষের দাবি, শুধু বিদেশি নাগরিক নয়, তাদের অবৈধভাবে নিয়োগ দেওয়া ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধেও সমান গুরুত্ব দিয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। যৌথ অভিযানে নতুন কৌশল ইমিগ্রেশন বিভাগ জানিয়েছে, বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, আইন প্রয়োগকারী সংস্থা এবং স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বিত অভিযান জোরদার করা হয়েছে। এছাড়া অবৈধ অভিবাসন ও ভিসা অপব্যবহার প্রতিরোধকে বিভাগের বার্ষিক কর্মদক্ষতা মূল্যায়নের (KPI) অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এতে করে অভিযান পরিচালনা, আইন প্রয়োগ এবং দায়ীদের বিচারের আওতায় আনার প্রক্রিয়া আরও দ্রুত ও জবাবদিহিমূলক হবে বলে মনে করছে সংশ্লিষ্টরা। প্রবাসীদের জন্য সতর্কবার্তা পর্যবেক্ষকরা বলছেন, সাম্প্রতিক এই অভিযান বিদেশি শ্রমিকনির্ভর খাতগুলোতে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে যেসব প্রবাসী ভিসার শর্ত অনুযায়ী কাজ করছেন না কিংবা অনুমতিবিহীন কর্মসংস্থানে যুক্ত রয়েছেন, তাদের জন্য এটি স্পষ্ট সতর্কবার্তা। মালয়েশিয়া সরকার ইতোমধ্যে ইঙ্গিত দিয়েছে, অভিবাসন আইন লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে ‘শূন্য সহনশীলতা’ নীতি অনুসরণ করা হবে। ফলে ভবিষ্যতে বিদেশি কর্মী ও নিয়োগকর্তা—উভয় পক্ষের ওপর নজরদারি আরও কঠোর হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক জুন ৯, ২০২৬ 0
ওমানে গাড়ির ভেতরে চার ভাইয়ের মৃত্যু: বিয়ের প্রস্তুতি থেকে কফিনবন্দি প্রত্যাবর্তন ,রাঙ্গুনিয়ায় একসঙ্গে জানাজা ও দাফনে শোকের মাতম

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ার লালানগর গ্রামে ১৫ মে ছিল উৎসবের অপেক্ষা। মধ্যপ্রাচ্যের দেশ ওমান থেকে দেশে ফেরার কথা ছিল চার ভাইয়ের। পরিবারের সদস্যরা প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন দুই ভাইয়ের বিয়ের আয়োজন ঘিরে। কিন্তু সেই প্রতীক্ষা শেষ হলো চারটি কফিনে। ওমানের মুলাদ্দাহ এলাকায় একটি গাড়ির ভেতর থেকে উদ্ধার হওয়া চার প্রবাসী ভাইয়ের মরদেহ বুধবার (২০ মে) নিজ গ্রামের সামাজিক কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে। সকাল থেকে হাজারো মানুষের কান্না, আহাজারি ও শোকের মাতমে ভারী হয়ে ওঠে পুরো এলাকা। মারা যাওয়া চার ভাই হলেন শাহিদুল ইসলাম, সিরাজুল ইসলাম, শহিদুল ইসলাম ও রাশেদুল ইসলাম। তারা সবাই চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার লালানগর ইউনিয়নের বাসিন্দা। তাদের বাবা মৃত জামাল উদ্দিন। চার ভাইয়ের মধ্যে রাশেদুল ও শাহিদুল বিবাহিত ছিলেন। অন্য দুই ভাইয়ের বিয়ের প্রস্তুতি চলছিল। একসঙ্গে চার ভাইয়ের জানাজা বুধবার সকাল ১১টায় হোছনাবাদ উচ্চবিদ্যালয় মাঠে চার ভাইয়ের জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। কয়েক হাজার মানুষ এতে অংশ নেন। জানাজায় ইমামতি করেন নিহতদের একমাত্র জীবিত ছোট ভাই হাফেজ মুহাম্মদ এনামুল হক। ভাইদের জন্য দোয়া চাইতে গিয়ে তিনি কান্নায় ভেঙে পড়েন। ভাঙা কণ্ঠে উপস্থিত মানুষের উদ্দেশে বলেন, “আমার ভাইদের আপনারা ক্ষমা করে দিয়েন। আমাদের জন্য দোয়া করবেন।” জানাজা শেষে চার ভাইকে পাশাপাশি কবরে দাফন করা হয়। স্থানীয়দের ভাষ্য, রাঙ্গুনিয়ার ইতিহাসে একসঙ্গে চার ভাইয়ের জানাজা ও দাফনের মতো ঘটনা আগে কেউ দেখেনি। স্থানীয় বাসিন্দা ইয়াকুব আলী বলেন, “একসঙ্গে চার ভাইয়ের মৃত্যু কতটা মর্মান্তিক, তা ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়।” মায়ের কাছ থেকে এক সপ্তাহ গোপন রাখা হয় মৃত্যুর খবর পরিবার ও স্থানীয় সূত্র জানায়, নিহতদের মা খাদিজা বেগমের কাছ থেকে প্রায় এক সপ্তাহ মৃত্যুর খবর গোপন রাখা হয়েছিল। বুধবার ভোরে মরদেহ বাড়িতে পৌঁছানোর পর তাকে বিষয়টি জানানো হয়। কফিনবন্দি ছেলেদের মরদেহ দেখে তিনি বারবার জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন। ঘরের ভেতরে আহাজারি করছিলেন নিহত রাশেদুলের স্ত্রী কুলসুমা আক্তার ও শাহিদুলের স্ত্রী শান্তা আক্তারও। স্থানীয় চিকিৎসক কাজী মনসুর আহমেদ জানান, সকাল থেকে শোক ও মানসিক আঘাতে খাদিজা বেগম বারবার মূর্ছা যাচ্ছিলেন। প্রবাস জীবনের সাফল্য, হঠাৎ মৃত্যুর ট্র্যাজেডি স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রায় ১১ বছর আগে পরিবারের মেজো ভাই প্রথমে ওমানে যান। পরে একে একে অন্য ভাইদেরও সেখানে নিয়ে যান। তারা মিলে গাড়ি ওয়াশিংয়ের দুটি ব্যবসা গড়ে তুলেছিলেন এবং আর্থিকভাবে সচ্ছল হয়ে ওঠেন। স্থানীয় বাসিন্দা এম এ মতিন বলেন, “অনেক কষ্ট করে তারা দাঁড়িয়েছিল। পরিবারের অবস্থাও বদলে দিয়েছিল। কিন্তু একসঙ্গে চার ভাইয়ের এভাবে চলে যাওয়া কেউ মেনে নিতে পারছে না।” পরিবার সূত্রে জানা গেছে, ১৫ মে দুই অবিবাহিত ভাইয়ের বিয়ের কেনাকাটা ও দেশে ফেরার প্রস্তুতির অংশ হিসেবে তারা একসঙ্গে গাড়ি নিয়ে বের হয়েছিলেন। এরপরই ঘটে বিপর্যয়। কীভাবে মৃত্যু হলো? গত ১৩ মে রাতে ওমানের মুলাদ্দাহ এলাকায় একটি গাড়ির ভেতর থেকে চার ভাইয়ের মরদেহ উদ্ধার করে রয়্যাল ওমান পুলিশ। প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের ধারণা, গাড়ি চালু থাকা অবস্থায় এসির এক্সহস্ট সিস্টেম থেকে নির্গত কার্বন মনোক্সাইড গ্যাস গাড়ির ভেতরে ছড়িয়ে পড়ে। দীর্ঘ সময় সেই বিষাক্ত গ্যাস শ্বাস নেওয়ার ফলে তাদের মৃত্যু হতে পারে। কার্বন মনোক্সাইড একটি বর্ণহীন ও গন্ধহীন বিষাক্ত গ্যাস, যা বন্ধ পরিবেশে দ্রুত প্রাণঘাতী হয়ে উঠতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, গাড়ির বায়ু চলাচল ব্যবস্থা বা এক্সহস্ট লাইনে ত্রুটি থাকলে এমন দুর্ঘটনার ঝুঁকি তৈরি হয়। বিমানবন্দর থেকে গ্রামের পথে মঙ্গলবার (১৯ মে) রাত ৮টা ১৫ মিনিটে বাংলাদেশ বিমানের একটি ফ্লাইটে চার ভাইয়ের মরদেহ ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছায়। আনুষ্ঠানিকতা শেষে বিশেষ ফ্রিজার ভ্যানে করে মরদেহগুলো রাঙ্গুনিয়ায় নিয়ে আসা হয়। বুধবার ভোরে মরদেহ গ্রামে পৌঁছানোর পর থেকেই মানুষের ঢল নামে। শুধু রাঙ্গুনিয়া নয়, আশপাশের রাউজান, ফটিকছড়ি, বোয়ালখালী, হাটহাজারী ও সীতাকুণ্ড থেকেও মানুষ ছুটে আসেন শেষ শ্রদ্ধা জানাতে। লালানগর ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য আমির হোসেন সুমন বলেন, “চার ভাইকে একই সারিতে কবর দেওয়া হয়েছে। পুরো এলাকা শোকে স্তব্ধ।” রাঙ্গুনিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. নাজমুল হাসান জানান, মরদেহ ভোরে গ্রামের বাড়িতে পৌঁছানোর পর জানাজা ও দাফন সম্পন্ন হয়।

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ২১, ২০২৬ 0
লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলে ইসরায়েলের ড্রোন হামলা
লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলে ইসরায়েলি ড্রোন হামলা: আরও দুই বাংলাদেশি কর্মীর মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত

ইত্তেহাদ নিউজ, অনলাইন ডেস্ক : লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলে ইসরায়েলি ড্রোন হামলায় আরও দুই বাংলাদেশি কর্মীর মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত করেছে বৈরুতের বাংলাদেশ দূতাবাস। নিখোঁজ দুই বাংলাদেশির একজনের মরদেহ উদ্ধার করা হলেও আরেকজন এখনও ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে থাকতে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। বুধবার (১৩ মে) দূতাবাস এক বিবৃতিতে জানায়, গত ১১ মে রাতে দক্ষিণ লেবাননের নাবাতিয়ে জেলার মাইফাদুন এলাকায় একটি আবাসিক ভবনে ইসরায়েলি ড্রোন হামলা চালানো হয়। ওই হামলায় সাতক্ষীরার শ্রী শুভ কুমার দাস এবং নরসিংদীর করিম মিয়ার মৃত্যুর তথ্য বিভিন্ন সূত্রে পাওয়া যায়। দূতাবাস বলছে, লেবানিজ আর্মি ও লেবানিজ রেডক্রসের সহায়তায় বুধবার ধ্বংসস্তূপ থেকে একটি অঙ্গবিচ্ছিন্ন মরদেহ উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। স্থানীয় হাসপাতালে নেওয়ার পর সেটি শ্রী শুভ কুমার দাসের মরদেহ বলে শনাক্ত করেন একই এলাকায় বসবাসকারী আরেক বাংলাদেশি প্রবাসী কর্মী রাজিব। মরদেহটি বর্তমানে নাবাতিয়ের নাযদ হাসপাতালে রাখা হয়েছে। অন্যদিকে একই ভবনে অবস্থানকারী বাংলাদেশি কর্মী করিম মিয়ার মরদেহ এখনও উদ্ধার করা যায়নি। স্থানীয় সূত্রের বরাতে দূতাবাস জানিয়েছে, তার মরদেহ ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে থাকতে পারে। তবে চলমান নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণে উদ্ধার অভিযান পুরোপুরি চালানো সম্ভব হয়নি। দূতাবাস জানিয়েছে, সম্ভাব্য দ্বিতীয় মরদেহ উদ্ধারে স্থানীয় প্রশাসন, লেবানিজ আর্মি এবং রেডক্রসের সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে। সংঘাতের মধ্যে ঝুঁকিতে প্রবাসীরা গত কয়েক মাস ধরে দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েল ও সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলা বেড়েছে। সীমান্তবর্তী এলাকাগুলোতে নিয়মিত বিমান হামলা ও ড্রোন আক্রমণের কারণে সেখানে অবস্থানরত বিদেশি শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। বাংলাদেশি প্রবাসী কর্মীদের একটি অংশ জীবিকার তাগিদে সংঘাতপ্রবণ এলাকাগুলোতেও কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। তবে সাম্প্রতিক হামলাগুলো নতুন করে তাদের নিরাপত্তা ও জরুরি সরিয়ে নেওয়ার সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছে। এর আগে গত সোমবারও দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি হামলায় দুই বাংলাদেশি কর্মী নিহত হওয়ার খবর প্রকাশিত হয়েছিল। সর্বশেষ দূতাবাসের নিশ্চিত তথ্যে নিহতের সংখ্যা আরও বেড়েছে। দূতাবাসের তৎপরতা বৈরুতের বাংলাদেশ দূতাবাস জানিয়েছে, নিহতদের পরিচয় নিশ্চিত করা, মরদেহ সংরক্ষণ এবং পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগের কাজ চলছে। একই সঙ্গে নিখোঁজদের বিষয়ে স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় অব্যাহত রয়েছে। কূটনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, চলমান সংঘাতের কারণে দক্ষিণ লেবাননে উদ্ধার তৎপরতা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। ফলে অনেক ক্ষেত্রেই হতাহতদের শনাক্ত ও উদ্ধারে সময় লাগছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ১৪, ২০২৬ 0
আসাদুল বক্তিয়ার।
লিবিয়ায় অপহৃত বরিশালের যুবক আসাদুল: নির্যাতনের ভিডিও পাঠিয়ে ৩০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি

 বরিশাল অফিস :   লিবিয়ায় মাফিয়া চক্রের হাতে জিম্মি হয়ে প্রায় দুই মাস ধরে নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন বরিশালের আগৈলঝাড়া উপজেলার এক যুবক। তার পরিবারের অভিযোগ, নির্যাতনের ভিডিও পাঠিয়ে ৩০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়েছে। জিম্মি হওয়া ওই যুবকের নাম আসাদুল বক্তিয়ার। তিনি বরিশালের আগৈলঝাড়া উপজেলার চাত্রিশিরা গ্রামের বাসিন্দা। পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন, ইতোমধ্যে ধারদেনা করে ৪ লাখ টাকা পরিশোধ করা হলেও বাকি অর্থ দ্রুত না দিলে তাকে হত্যার হুমকি দেওয়া হচ্ছে। অপহরণ ও নির্যাতনের অভিযোগ পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের রমজান মাসের ৯ তারিখ ভোরে ৫ থেকে ৬ জনের একটি সশস্ত্র দল লিবিয়ার আনজারা শহরে তার বাসা থেকে আসাদুলকে তুলে নিয়ে যায়। এরপর তাকে অজ্ঞাত স্থানে আটকে রেখে হাত-পা বেঁধে উল্টো করে ঝুলিয়ে মারধর করা হয় বলে অভিযোগ। এমনকি চাকু দিয়ে আঘাত করা এবং নখ তুলে ফেলার হুমকির কথাও জানিয়েছে পরিবার। এসব নির্যাতনের দৃশ্য ভিডিও কলে দেশে থাকা পরিবারের সদস্যদের দেখিয়ে মুক্তিপণ দাবি করা হয়। মুক্তিপণ আদায় ও হুমকি পরিবার জানায়, প্রথমে ৩০ লাখ টাকা দাবি করা হয়। পরে বাধ্য হয়ে সুদে ৩ লাখ টাকা এবং আত্মীয়দের কাছ থেকে আরও ১ লাখ টাকা জোগাড় করে মোট ৪ লাখ টাকা পাঠানো হয়েছে। তবে এতে সন্তুষ্ট হয়নি অপহরণকারীরা। তারা দুই দিনের মধ্যে বাকি টাকা না দিলে আসাদুলকে হত্যা করে মরুভূমিতে ফেলে দেওয়ার হুমকি দিয়েছে বলে পরিবার দাবি করছে। অভিযোগের পর নির্যাতন বেড়েছে আসাদুলের শ্যালক এরফান সরদার লিবিয়ায় স্থানীয় দুই থানায় বিষয়টি জানালে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে বলে জানা গেছে। পরিবারের দাবি, এরপর অপহরণকারীরা আরও ক্ষিপ্ত হয়ে আসাদুলের ওপর নির্যাতনের মাত্রা বাড়িয়ে দেয়। নিরাপত্তাহীনতায় এরফান সরদার পরে বাংলাদেশে ফিরে এসে প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। পরিবারের আকুতি আসাদুলের বাবা আবু বক্তিয়ার বলেন, “ছেলেকে ঝুলিয়ে পিটাচ্ছে, শরীর থেকে রক্ত ঝরছে। আমাদের কোনো সম্পদ নেই। সরকার যেন আমার ছেলেকে ফিরিয়ে আনে।” মা বকুল বেগম বলেন, “ছেলেকে এভাবে নির্যাতন করা হচ্ছে—আমি তা সহ্য করতে পারছি না। আমাদের কিছুই নেই, কীভাবে তাকে উদ্ধার করব?” স্ত্রী নিপা বেগমও স্বামীকে উদ্ধারের জন্য সরকারের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। প্রশাসনের প্রতিক্রিয়া আগৈলঝাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা লিখন বনিক বলেন, “পরিবার লিখিতভাবে জানালে বিষয়টি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে।”

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ৬, ২০২৬ 0
বাংলাদেশ দূতাবাস কুয়েত
কুয়েতে প্রবাসী বাংলাদেশিদের বিশেষ সতর্কতা

উপসাগরীয় এলাকায় সম্প্রতি যুদ্ধ শুরু হওয়ার প্রেক্ষিতে কুয়েতে অবস্থিত প্রবাসী বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য বিশেষ সতর্কতার আহ্বান জানিয়েছে কুয়েতের বাংলাদেশ দূতাবাস। ২৮ ফেব্রুয়ারি, শনিবার কুয়েতের বাংলাদেশ দূতাবাস এক জরুরি বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, নিরাপত্তার স্বার্থে সবাইকে নিম্নলিখিত নির্দেশনা অনুসরণ করার জন্য অনুরোধ করা হয়েছে: সামরিক স্থাপনার কাছাকাছি না যাওয়া: কুয়েতের সামরিক স্থাপনার আশপাশে যাওয়া থেকে বিরত থাকতে বলা হয়েছে। নিজ বাসায় অথবা নিরাপদ স্থানে অবস্থান: বিপদ কাটার আগ পর্যন্ত সবাইকে তাদের নিজ নিজ বাসায় বা নিরাপদ স্থানে অবস্থান করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। বিপদ কাটার আগে বাইরে না যাওয়া: অতি প্রয়োজন ছাড়া বাইরে যাওয়া থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে। প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র সঙ্গে রাখা: নগদ টাকা, কুয়েতের সিভিল আইডি, স্বাস্থ্য বীমা কার্ড, প্রয়োজনীয় ঔষধ, মোবাইল ফোন, মোবাইল চার্জার, শুকনো খাবার এবং পানি সবসময় সঙ্গে রাখার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে সতর্কতা: কুয়েতের বাংলাদেশ দূতাবাস সকল প্রবাসী বাংলাদেশি নাগরিককে কুয়েতি আইন মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছে। বিশেষ করে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বর্তমান আঞ্চলিক পরিস্থিতির কোনো ছবি বা ভিডিও শেয়ার না করতে অনুরোধ করা হয়েছে। জরুরি যোগাযোগের জন্য: দূতাবাসের হটলাইন নম্বর: +965 69920013 +965 66516404 কুয়েতের আইন এবং সরকারের নির্দেশনা মেনে চলতে প্রবাসী বাংলাদেশিদের প্রতি আবারও আহ্বান জানানো হয়েছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ১, ২০২৬ 0
Popular post
ফারুকীর সম্পদ কমেছে, তিশার বেড়েছে দ্বিগুণেরও বেশি: সম্পদ বিবরণী ঘিরে আলোচনা

অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের সম্পদ বিবরণী প্রকাশের পর সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী ও তার স্ত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদের হিসাব নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। এক বছরের ব্যবধানে স্বামী ফারুকীর সম্পদ কমলেও স্ত্রী তিশার সম্পদ বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে প্রকাশিত তথ্যে উঠে এসেছে এই চিত্র। প্রকাশিত খতিয়ান অনুযায়ী, জনপ্রিয় অভিনেত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদ এক বছরে অভাবনীয় হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তিশার মোট সম্পদের পরিমাণ ছিল ১ কোটি ৪০ লাখ ৮১ হাজার ৮৬০ টাকা। ঠিক এক বছর পর, ২০২৫ সালের ৩০ জুন সেই সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ৯৯ লাখ ৮৯ হাজার ৫০১ টাকায়। অর্থাৎ মাত্র এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ বেড়েছে ১ কোটি ৫৯ লাখ ৭ হাজার ৬৪১ টাকা, যা আগের বছরের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি। অন্যদিকে সংস্কৃতি উপদেষ্টা ও নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর ক্ষেত্রে দেখা গেছে উল্টো চিত্র। এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ কমেছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তার মোট সম্পদ ছিল ২ কোটি ২৬ লাখ ৯২ হাজার ২৬ টাকা। ২০২৫ সালের ৩০ জুন তা কমে দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ১৫ লাখ ১৮ হাজার ২৬ টাকায়। হিসাব অনুযায়ী, এক বছরে তার সম্পদ কমেছে ১১ লাখ ৭৪ হাজার টাকা। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে গত মঙ্গলবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ প্রধান উপদেষ্টা, উপদেষ্টা ও সমমর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের পাশাপাশি তাদের স্ত্রী বা স্বামীর সম্পদ বিবরণী প্রকাশ করে। একই সময়ে স্বামী-স্ত্রীর সম্পদে এমন ভিন্নমুখী পরিবর্তন স্বাভাবিকভাবেই সাধারণ মানুষের কৌতূহলের জন্ম দিয়েছে। শোবিজ অঙ্গনের জনপ্রিয় দম্পতি হওয়ায় তাদের এই আয়-ব্যয়ের হিসাব এখন টক অব দ্য কান্ট্রি।

সংসার সামলাতে অটোরিকশা নিয়ে রাস্তায় নেমেছেন রোজিনা

বাসস : বাবা একজন তাঁত শ্রমিক। তিন বোন দুই ভাইয়ের মধ্যে সবার বড় রোজিনা। অভাব সংসার, তাই এক এতিম যুবকের সাথে বাবা-মা বিয়ে দেন তাকে। বিয়ের পর জন্ম হয় দুই কন্যা সন্তানের। অটোরিকশা চালিয়ে কোন রকম সংসার চালাচ্ছিলেন স্বামী রফিকুল ইসলাম। কিন্তু সড়ক দুর্ঘটনায় রফিকুলের এক চোখ সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যায়। আরেকটি চোখ আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ধীরে ধীরে ওই চোখের দৃষ্টি শক্তিও কমতে থাকে। ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে অটোরিকশা চালানো। সংসারের উপার্জনক্ষম মানুষটি অচল হয়ে পড়ায় চিকিৎসার খরচ, ঘর ভাড়া ও খাবারের পাশাপাশি মেয়েদের লেখাপড়ার খরচ চালানোই কঠিন হয়ে যায়। দিশেহারা হয়ে পরেন রোজিনা। এক পর্যায়ে মানুষের বাড়ি বাড়ি কাজ করে সংসার চালানোর চেস্টা করেন। কিন্তু সুবিধা করতে পারেন না। এমন পরিস্থিতিতে অটোরিকশা চালানোর সিদ্ধান্ত নেন তিনি। স্বামী রফিকুলের কাছেই হাতেখড়ি। গ্রামের স্কুলের মাঠে স্বামীর কাছেই অটোরিকশা চালানোর শিক্ষা নেন তিনি। পরে গ্রামের পথে নেমে পড়েন অটোরিকশা নিয়ে। ৫-৬ দিন এভাবে হাত পাকা করে একদিন টাঙ্গাইল শহরে চলে আসেন রোজিনা। এরপর শুরু করেন অটোরিক্সা চালানোর ব্যতিক্রমী জীবন সংগ্রাম। এখন টাঙ্গাইল পৌরসভায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার চালকদের মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা বেগম। জেলার বাসাইল উপজেলার আইসড়া গ্রামের বাসিন্দা রোজিনা টাঙ্গাইল পৌর শহরের এক প্রান্ত রাবনা বাইপাস থেকে আরেক প্রান্ত বেবিস্ট্যান্ডে যাত্রী আনা নেয়া করেন। যানজটের কারণে শহরে পুরুষ চালকরা যেখানে হিমসিম খায়, সেখানেই বিগত ৫ বছর ধরেই নির্বিঘেœ অটোরিকশা চালাচ্ছেন তিনি। টাঙ্গাইল পৌরসভা কার্যালয় সূত্রে জানা যাায়, টাঙ্গাইল শহরে চলাচলের জন্য ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক ও ৫ হাজার ব্যাটারিচালিত রিকশার অনুমতি (লাইসেন্স) দেওয়া হয়েছে। যানজট এড়াতে ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক জোড় ও বিজোড় সংখ্যায় দিনে দুই ভাগ করা হয়েছে। সকাল থেকে বেলা দুইটা পর্যন্ত এক ভাগ এবং বেলা দুইটা থেকে রাত পর্যন্ত আরেক ভাগের ইজিবাইক চলাচল করার নির্দেশনা দিয়েছে পৌর কর্তৃপক্ষ। কিন্তু রোজিনাকে দুই শিফটে চালানোর অনুমতি দিয়েছে পৌরসভা। সরেজমিনে দেখা যায়, নতুন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অটোরিকশা নিয়ে যাত্রী ডাকছেন রোজিনা। কলেজ গেট, পুরাতন বাসস্ট্যান্ড, ক্যাপসুল, নিরালা মোড়, বেবিস্ট্যান্ড সর্বত্রই যাত্রী আনানেয়া করেন তিনি। পুরাতন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অন্য অটো চালকদের দাঁড় করতে না দিলেও রোজিনাকে বাঁধা দেননা ট্রাফিক পুলিশ। বলতে গেলে সবাই তার প্রতি সহানুভুতিশীল। ট্রাফিক পুলিশসহ অন্য অটোচালকরাও তাকে সহযোগিতা করেন। রোজিনা বলেন, আমার অটোতে নারী যাত্রীরা খুব কম। তারা মনে করে আমার অটোতে উঠলে দুর্ঘটনায় পড়বে। কিন্তু আমি খুব সাবধানে অটো চালাই। দ্রুত গতিতেও না, আবার একেবারে ধীরগতিতেও না। এখন পর্যন্ত আমি কোন দুর্ঘটনার কবলে পড়ি নাই। শহরের পুরুষ অটোরিকশা চালকরা আমাকে অনেক সহযোগিতা করে। অটোচালক কাদের মিয়া বলেন, আমাদের শহরে কয়েক হাজার অটো চলাচল করে। তার মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। তাকে আমরা সব সময় সহযোগিতা করি। যাত্রী সাইদ মিয়া বলেন, আমি এ পর্যন্ত ৫-৬ বার রোজিনার অটোতে চড়েছি। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। অন্য পুরুষ অটো চালকের চেয়েও ভালো অটো চালান। নারী সংগঠক সেরাজুম মনিরা বলেন, তিনি অনেক দিন যাবত অটোরিকশা চালাচ্ছেন। আমি রোজিনাকে স্যালুট জানাই। একজন পুরুষের চেয়ে একজন নারী কোনো ভাবেই যে পিছিয়ে নেই, রোজিনা তা প্রমাণ করেছেন। রোজিনা বলেন, অটো চালানোর এই সিদ্ধান্তটি তার জন্য খুব সহজ ছিল না। তিনি বলেন, ৫ ও ১০ বছরের দুই মেয়েকে বাড়িতে রেখে অটোরিকশা নিয়ে সারাদিন রাস্তায় থাকতে হয়। তাদের ভালোভাবে দেখাশোনা করতে পারি না। কিন্তু কি করবো, অভাবের সংসার! এখন ঋণ নিয়ে একটু জমি কিনেছি। প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ণ প্রকল্পের অর্থায়নে প্রশাসন সেখানে ঘর তুলে দিয়েছে। শুরুতে যারা আমাকে নিয়ে ঠাট্টা করেছে এখন তারাই আমাকে সম্মান করেন। নারীরাও যে কিছু করতে পারে, তা প্রমাণ করেছি। আমার বড় মেয়ে আইসড়া উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়ে, ছোট মেয়ে পড়ে স্থানীয় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। মেয়েদের শিক্ষিত করতে হবে। ধার দেনা শোধ করতে হবে। তাই থেমে গেলো চলবে না। আমি অটোরিকশা চালিয়েই দুই সন্তানকে মানুষ করতে চাই।’ ঘারিন্দা ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য বাবুল সরকার বলেন, সরকার রোজিনাকে একটি ঘর নির্মাণ করে দিয়েছে। শুরুতে যারা তাকে নিয়ে নানান কথা বলতো, এখন তার সংকল্প ও মানষিক দৃঢ়তা দেখে থেমে গেছে। আমরা তাকে নিয়ে গর্ব করি। টাঙ্গাইলের ট্রাফিক ইন্সপেক্টর (প্রশাসন) দেলোয়ার হোসেন বলেন, শহরের একমাত্র নারী চালক রোজিনাকে কেউ যেন বিরক্ত করতে না পারে সেদিকে সব সময় নজর রাখে ট্রাফিক পুলিশ। আমরা তাকে সব সময় সহযোগিতা করে আসছি। টাঙ্গাইলের সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক শাহ আলম বলেন, বিষয়টি এখন জানতে পারলাম। ওই নারী এখনো পর্যন্ত আমাদের কাছে আসেন নাই। যদি আমাদের কাছে এসে আবেদন করেন অবশ্যই তাকে আমরা সহযেগিতা করবো, তার পাশে দাঁড়াবো।

বাংলাদেশে ঐতিহাসিক নির্বাচন: বিএনপি এগিয়ে, জামায়াতের উত্থান ও তরুণ ভোটারদের প্রভাব

২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশে আজ এক ঐতিহাসিক ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ২০০৮ সালের পর এই প্রথম একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হতে যাচ্ছে যেখানে দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগ রাজনৈতিক মানচিত্র থেকে কার্যত অনুপস্থিত। বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক জরিপ বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০০ আসনের মধ্যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) কার্যকর সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে যাচ্ছে। তবে ভোটের ব্যবধান এবং কিছু সমীকরণ নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। নির্বাচনের সবচেয়ে বড় নিয়ামক হয়ে দাঁড়িয়েছে আওয়ামী লীগের বিশাল ভোটব্যাংক। দলটির নিয়মিত প্রায় ৪ কোটি ভোটার এখন নতুন রাজনৈতিক আশ্রয় খুঁজছেন। সিআরএফ বা বিইপিওএস জরিপ বলছে, এই ভোটারদের প্রায় অর্ধেক বিএনপির দিকে ঝুঁকেছে, যা দলটিকে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতার পথে এগিয়ে দিচ্ছে। অন্যদিকে, প্রায় ৩০ শতাংশ আওয়ামী ভোটার জামায়াতে ইসলামীকে বেছে নিতে পারেন বলে আভাস পাওয়া যাচ্ছে। এছাড়া বাংলাদেশের বিদ্যমান নির্বাচনী ব্যবস্থার কারণে দেশজুড়ে সুষম জনসমর্থন থাকা বিএনপি আসন জয়ের ক্ষেত্রে জামায়াতের তুলনায় সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। তবে বিএনপির এই সম্ভাব্য জয়ের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও বিদ্রোহী প্রার্থীরা। প্রায় ৭৯টি নির্বাচনী এলাকায় দলের মনোনয়ন না পাওয়া ৯২ জন প্রভাবশালী নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, যা বিএনপির ১৫ থেকে ৩০টি আসন কমিয়ে দিতে পারে। অন্যদিকে, তরুণ ভোটার বা ‘জেন-জি’ প্রজন্মের বিশাল সমর্থন জামায়াতে ইসলামীর শক্তির উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেশের ৪৪ শতাংশ ভোটারই তরুণ, যাদের বড় একটি অংশ প্রথমবার ভোট দিচ্ছেন। এই তরুণরা যদি দলবেঁধে কেন্দ্রে উপস্থিত হন, তবে নির্বাচনী ফলে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। সবশেষে, প্রায় ১৭ থেকে ৩৫ শতাংশ দোদুল্যমান ভোটার এবং তাদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করবে আগামীর সরকার কতটা শক্তিশালী হবে। দ্য নিউইয়র্ক এডিটোরিয়ালের মূল পূর্বাভাস, তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি প্রায় ১৮৫টি আসনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করতে পারে এবং জামায়াতে ইসলামী ৮০টির মতো আসন পেয়ে প্রধান বিরোধী দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারে। তবে বিদ্রোহী প্রার্থীদের প্রভাব এবং তরুণ ভোটারদের উপস্থিতির ওপর ভিত্তি করে আসন সংখ্যায় বড় ধরনের হেরফের হওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

গাজায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা ট্রাম্প প্রশাসনে

ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। ৩৫০ একরের ঘাঁটিটিতে সামরিক বাহিনীর পাঁচ হাজার সদস্য থাকতে পারবে। গাজার ‘বোর্ড অব পিস’র নথি পর্যালোচনা করে এ তথ্য জানিয়েছে দ্য গার্ডিয়ান। প্রতিবেদনে ব্রিটিশ সংবাদ মাধ্যমটি জানিয়েছে, বোর্ড অব পিসে গাজাকে নিরাপদ করার জন্য ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যাবিলাইজেশন ফোর্স (আইএসএফ) নামে একটি আন্তর্জাতিক বাহিনী মোতায়েনের কথা বলা হয়েছে। যে স্থানটি ঘাঁটি করার জন্য বিবেচনা করা হচ্ছে সেখানে আইএসএফের সদস্যরা থাকবে। বোর্ড অব পিসের প্রধান হবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আর সংগঠনটির আংশিক নেতৃত্ব দেবেন ট্রাম্পের জামাতা জ্যারার্ড কুশনার।দ্য গার্ডিয়ান বোর্ড অব পিসের নথি পর্যালোচনা করে জানায়, ধাপে ধাপে একটি সামরিক ঘাঁটি নির্মাণ করা হবে। সবকিছু শেষ হলে ঘাঁটিটি ১৫ লাখ ১৭ হাজার ৫৭৫ বর্গমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত হবে। ঘাঁটিটির চারপাশে ট্রেইলার সংযুক্ত ২৬টি সাঁজোয়া নজরদারি টাওয়ার থাকবে। এছাড়া একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, বাংকার ও অস্ত্র রাখার গুদাম থাকবে। পুরো ঘাঁটিটি কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে ঘিরে রাখা হবে। সামরিক ঘাঁটি নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে দক্ষিণ গাজার একটি শুষ্ক সমতলভূমিতে। সেখানে ইসরায়েলি হামলার চিহ্ন রয়েছে। ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে বিভিন্ন ধাতবের ধ্বংসাবশেষ।  ওই এলাকার ভিডিও পর্যালোচনা করেছে দ্য গার্ডিয়ান। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, ঘাঁটি নির্মাণের জন্য টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে। যুদ্ধক্ষেত্রে কাজের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন আন্তর্জাতিক নির্মাণ কোম্পানিগুলোর একটি ছোট দলকে ইতোমধ্যেই এলাকাটি দেখানো হয়েছে। ওই দলটি দরপত্রে অংশ নিতে আগ্রহী।    ইন্দোনেশিয়া সরকার গাজায় আট হাজার সেনা সদস্য পাঠানোর জন্য প্রস্তাব দিয়েছে। বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটন ডিসিতে বোর্ড অব পিসের অনানুষ্ঠানিক বৈঠকে ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্টের অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। এছাড়া দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার আরও তিন নেতার ওই বৈঠকে অংশ নেবেন বলে জানা গেছে। জাতিসংঘের নিরাপত্তা কাউন্সিল গাজার সাময়িক স্থিতিশীলতার জন্য অস্থায়ীভাবে সামরিক বাহিনী মোতায়েনের অনুমোদন দিয়েছে। নিরাপত্তা কাউন্সিলই বোর্ড অব পিসের মূল হোতা। গাজার সীমান্ত ও শান্তি প্রণয়নে কাজ করবে আইএসএফ। এছাড়া বেসামরিকদের সুরক্ষা এবং ফিলিস্তিনি পুলিশ বাহিনীকে প্রশিক্ষণ ও সহায়তা দেবে তারা। যদি গাজায় ফের সংঘর্ষ হয়, ইসরায়েল বোমা হামলা চালায় অথবা হামাস হামলা চালায় সেক্ষেত্রে আইএসএফ কি করবে তা এখনও স্পষ্ট নয়। গাজা পুনর্গঠনে ইসরায়েল হামাসকে নিরস্ত্রীকরণের যে শর্ত দিয়েছে সেটির জন্য আইএসএফ কাজ করবে কিনা তাও স্পষ্ট না। ইতোমধ্যে বোর্ড অব পিসে ২০ এর অধিক দেশ যোগ দিয়েছে। তবে, এখনও অনেক পরাশক্তি এর থেকে দূরে রয়েছে। জাতিসংঘের অনুমোদন নিয়ে প্রতিষ্ঠিত হলেও ধারণা করা হচ্ছে, সংগঠনটির স্থায়ী নেতৃত্ব ও নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে। রুটজার্স বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক আদিল হক বলেন, “বোর্ড অব পিস এক ধরনের আইনি কল্পসত্তা। নামমাত্রভাবে এর নিজস্ব আন্তর্জাতিক আইনগত সত্তা রয়েছে, যা জাতিসংঘ ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে আলাদা। কিন্তু বাস্তবে এটি যুক্তরাষ্ট্রের ইচ্ছামতো ব্যবহারের জন্য একটি ফাঁপা খোলসমাত্র।” বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গাজা পুনর্গঠনে যে অর্থায়ন ও শাসন কাঠামো হচ্ছে তা অস্বচ্ছ। কয়েকজন ঠিকাদার গার্ডিয়ানকে জানান, গাজায় কাজ করার জন্য মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে তাদের প্রায়শ আলোচনা সরকারি ইমেলের বদলে সিগন্যালের মাধ্যমে করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রের তথ্য মতে, ঘাঁটি নির্মাণের সিদ্ধান্তটি বোর্ড অব পিসের। এতে সহায়তা করছে মার্কিন কর্মকর্তারা। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ঘাঁটিতে তৈরি বাংকার নেটওয়ার্কের মতোন কাজ করবে। প্রতিটি বাংকারের ২৪ মিটারের হবে। উচ্চতা থাকবে আড়াই মিটার। এগুলো এমনভাবে করা হবে যেন সেনা সদস্যরা আশ্রয় নিতে পারে। স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসের গাজায় সুড়ঙ্গ নেটওয়ার্ক বা টানেল রয়েছে। সেগুলোর আদলে নেটওয়ার্ক করতে চাওয়া হচ্ছে। পিস অব বোর্ডের নথি পর্যালোচনা করে এমন দাবি করছে গার্ডিয়ান। সংবাদ মাধ্যমটি বলছে,  স্থানটির ভূ-ভৌত জরিপ পরিচালনা করবে ঠিকাদাররা। নথির এক অংশে ‘হিউম্যান রেমিয়েনস প্রোটোকল’র কথা বলা হয়েছে। এর মানে দাঁড়ায়, সন্দেহভাজন মানব অবশিষ্ট বা সাংস্কৃতিক নিদর্শন পাওয়া গেলে অবিলম্বে সেই এলাকায় সব কাজ বন্ধ করতে হবে। চুক্তি কর্মকর্তাকে দিকনির্দেশনার জন্য অবিলম্বে জানাতে হবে। গাজা সিভিল ডিফেন্সের ধারণা, গাজার ধ্বংসস্তূপের নিচে ১০ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনির মরদেহ রয়েছে। ঘাঁটির জন্য যে স্থানটি বিবেচিত করা হচ্ছে সেটির মালিক কে তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে, দক্ষিণ গাজার বেশিরভাগ অংশ  বর্তমানে ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণে। জাতিসংঘের অনুমান, যুদ্ধ চলাকালীন ১৯ লাখ ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত হয়েছে। ফিলিস্তিনের জমিতে সরকারের অনুমতি না নিয়ে সামরিক ঘাঁটি স্থাপনকে দখল হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন ফিলিস্তিনি-কানাডিয়ান আইনজীবী এবং প্রাক্তন শান্তি আলোচক দিয়ানা বুট্টু। তিনি প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়ে বলেন, “কার অনুমতিতে তারা সামরিক ঘাঁটি স্থাপন করবে।” বিষয়টি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা বোর্ড অব পিসের কথা টানেন। ট্রাম্প প্রশাসনের একজন কর্মকর্তা সামরিক ঘাঁটির চুক্তি নিয়ে আলোচনা করতে অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, “যেমনটি প্রেসিডেন্ট বলেছেন, কোনও মার্কিন সেনা স্থলভাগে যাবে না। আমরা লিক হওয়া নথি নিয়ে আলোচনা করবো না।”

কুড়িগ্রামের তাজু ভাই ২.০: ‘সরকারি রেটে জিলাপি’ প্রশ্নে ভাইরাল এক নির্মাণশ্রমিকের গল্প

বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের প্রত্যন্ত চরাঞ্চল থেকে উঠে এসে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার কেন্দ্রে এখন তাইজুল ইসলাম, যিনি অনলাইনে পরিচিত ‘তাজু ভাই ২.০’ নামে। মাত্র একটি ভিডিও—যেখানে তিনি এক দোকানিকে প্রশ্ন করেন, “জিলাপি আজকে কত করে বেচতেছেন সরকারি রেটে?”—এই সরল উপস্থাপনাই তাকে রাতারাতি ভাইরাল করে তোলে।  কয়েক ঘণ্টায় ফলোয়ার লাখ ছাড়াল রোববার রাত পর্যন্ত তার ফেসবুক অনুসারী ছিল প্রায় ৩৫ হাজার। কিন্তু সোমবার সন্ধ্যা থেকে রাতের মধ্যেই তা বেড়ে এক লাখের বেশি হয়ে যায়। ভাইরাল ভিডিওটি ইতোমধ্যে প্রায় ৫০ থেকে ৫৫ লাখবার দেখা হয়েছে।  কী ছিল সেই ভিডিওতে? ভিডিওতে দেখা যায়, কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীর নারায়ণপুর বাজারে দাঁড়িয়ে স্থানীয় ভাষায় তিনি জিলাপির দাম জানতে চান। তার কথাগুলো ছিল একেবারেই সহজ ও গ্রাম্য ভঙ্গিতে— “সাদাডা কত, লালডা কত? সরকারি রেটে বেচতেছেন?” এই সরল প্রশ্নই সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।  কোথা থেকে উঠে এলেন তাজু ভাই? কুড়িগ্রাম জেলার নাগেশ্বরী উপজেলার নারায়ণপুর ইউনিয়নের একটি দুর্গম গ্রামে জন্ম তার। ব্রহ্মপুত্র নদবেষ্টিত এই অঞ্চলে পৌঁছাতে এখনও কয়েকটি নৌঘাট পার হতে হয়। দারিদ্র্যের কারণে কখনো স্কুলে যাওয়া হয়নি তার। পেশায় তিনি একজন নির্মাণশ্রমিকের সহকারী (হেলপার)। কাজের ফাঁকে ঢাকায় থাকাকালীন মোবাইল ফোনে ভিডিও তৈরি করাই তার শখ। ব্যক্তিগত সংগ্রাম তাইজুল ইসলামের পরিবারে ছয় ভাই-বোন। তিনি সবার বড়। তার বাবা-মা দুজনই শ্রবণপ্রতিবন্ধী। পরিবার চালাতে তাকে ছোটবেলা থেকেই সংগ্রাম করতে হয়েছে। তিনি বলেন, “পরিবারের কষ্ট ভুলতেই ভিডিও করি। আমি সাংবাদিক না, কিন্তু আমাদের এলাকায় কেউ আসে না—তাই নিজেরাই ভিডিও বানাই।” ভাইরাল হওয়ার পেছনের উদ্দেশ্য তাইজুলের দাবি, তার ভিডিও শুধুই বিনোদনের জন্য নয়। তিনি চান তার এলাকার অবহেলিত মানুষের কথা প্রশাসনের নজরে আসুক। “আমি চাই চরের মানুষের উন্নয়ন হোক,”—বলছেন তিনি।  মিশ্র প্রতিক্রিয়া ভিডিওটি নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে দুই ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ তার সরলতা ও বাস্তবতা তুলে ধরার চেষ্টা প্রশংসা করছেন আবার কেউ তাকে নিয়ে ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ করছেন তবে এসব সমালোচনায় তিনি বিচলিত নন।

অর্থনীতি

ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান খুরশীদ আলম, কৃষি ব্যাংকে নূরুল আমিন: ব্যাংক খাতে নতুন সমীকরণ

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ২৪, ২০২৬ 0




অপরাধ

ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো

ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকোর বিরুদ্ধে ৩০ বিলিয়ন ডলার জালিয়াতি ও অর্থপাচার অভিযোগে দুদকের অনুসন্ধান

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ২৪, ২০২৬ 0




কৃষি ও জলবায়ু

ধান

শেরপুরে বোরো ধানের দাম কমে লোকসানে কৃষকরা, উৎপাদন খরচও উঠছে না

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ৬, ২০২৬ 0