Brand logo light

বরিশাল সংবাদ

আহসান হাবিব লিংকন
প্রেমের সম্পর্ক থেকে বিয়ে, এরপর কোটি টাকার সম্পত্তি আত্মসাত: বরিশালে লিংকন,পান্নার বিরুদ্ধে অভিযোগ

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : বরিশাল নগরীর গণপাড়া এলাকায় রাজনৈতিক পরিচয়, পারিবারিক প্রভাব এবং সম্পত্তি নিয়ে বিরোধকে কেন্দ্র করে আহসান হাবিব লিংকন, রেজাউল ইসলাম পান্না ও তার পরিবারের বিরুদ্ধে একাধিক গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগগুলোর মধ্যে রয়েছে প্রেমের সম্পর্কের মাধ্যমে বিয়ে করে সম্পত্তি আত্মসাৎ, জমি দখল, আদালতে মামলা , প্রভাব বিস্তার, ভুক্তভোগীকে হয়রানি এবং ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের সম্পদ নিয়ে বিতর্ক। অভিযোগগুলোর কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ফরিদা মাফরোজা (রিক্তা) নামের এক নারী। তার দাবি, দীর্ঘ প্রেমের সম্পর্কের পর বিয়ের মাধ্যমে তাকে একটি পরিকল্পিত সম্পদ দখল প্রক্রিয়ার মধ্যে ফেলা হয়। পরবর্তীতে তার সম্পত্তি নিজের নামে লিখে নেওয়ার পর তাকে তালাক দেওয়া হয়। বর্তমানে সম্পত্তি ফিরে পাওয়ার জন্য আদালতে লড়াই চালিয়ে গেলেও নানা ধরনের চাপ ও হয়রানির মুখোমুখি হতে হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন তিনি। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে যে পরিবার অভিযোগের তীর মূলত বরিশাল মহানগরের ৩০ নম্বর ওয়ার্ডের গণপাড়া এলাকার বাসিন্দা রেজাউল ইসলাম পান্না ও তার পরিবারের দিকে। স্থানীয় সূত্রগুলো বলছে, রেজাউল ইসলাম পান্না নিজেকে বিএনপি ও ছাত্রদলের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত হিসেবে পরিচয় দিলেও তার রাজনৈতিক অবস্থান এবং প্রভাব নিয়ে এলাকায় নানা আলোচনা রয়েছে। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি একইসঙ্গে বরিশাল মহানগর ছাত্রলীগের ৩০ নম্বর ওয়ার্ড সভাপতি মশিউরের আপন ভাই হিসেবেও পরিচিত। স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দার দাবি, অতীতের রাজনৈতিক যোগাযোগ এবং বিভিন্ন মহলের সঙ্গে সম্পর্ককে কাজে লাগিয়ে ও বর্তমানে রেজাউল ইসলাম পান্না বরিশাল নগরীর ৩০ নং ওয়ার্ড বিএনপির সাবেক আহবায়ক মিশাদ বেগের নাম ভাঙ্গিয়ে  প্রভাব বিস্তার করছেন বলে স্থানীয় লোকজন জানিয়েছে। প্রেম থেকে বিয়ে, তারপর সম্পত্তি বিরোধ ভুক্তভোগী ফরিদা মাফরোজার বর্ণনা অনুযায়ী, ২০০৬ সালে ঢাকায় চাকরির সুবাদে আহসান হাবিব লিংকনের সঙ্গে তার পরিচয় হয়। পরিচয় ধীরে ধীরে প্রেমের সম্পর্কে রূপ নেয় এবং দীর্ঘ ছয় বছরের সম্পর্কের পর ২০১২ সালের ৭ সেপ্টেম্বর দুই লাখ টাকা কাবিনে তাদের বিয়ে সম্পন্ন হয়। রিক্তার অভিযোগ, বিয়ের পর থেকেই তার ওপর আর্থিক নির্ভরতা তৈরির চেষ্টা শুরু হয়। ধীরে ধীরে তাকে বিভিন্ন বিনিয়োগ ও জমি ক্রয়ের বিষয়ে উৎসাহিত করা হয়। পরিবারের সদস্যদের পরামর্শে বরিশালের গণপাড়া ও মংগলহাটা এলাকায় কয়েক দফায় প্রায় ৫০ লাখ টাকার জমি কেনা হয়। তার দাবি, পরবর্তীতে পরিস্থিতি এমনভাবে তৈরি করা হয় যাতে জমির মালিকানা তার হাতছাড়া হয়ে যায়। ‘হেবা দলিলের’ মাধ্যমে সম্পত্তি হস্তান্তরের অভিযোগ ফরিদা মাফরোজা অভিযোগ করেন, একপর্যায়ে তাকে বিভিন্ন ধরনের ওষুধ প্রয়োগ করা হয়, যার ফলে তিনি মানসিকভাবে অসুস্থ বা ভারসাম্যহীন অবস্থায় পড়েন। তার ভাষ্যমতে, সেই সুযোগে তার কাছ থেকে হেবা দলিলের মাধ্যমে জমিগুলো অন্যের নামে লিখে নেওয়া হয়। ভুক্তভোগীর দাবি, দলিল সম্পাদনের সময় তিনি স্বাভাবিক মানসিক অবস্থায় ছিলেন না এবং বিষয়টি সম্পর্কে পূর্ণাঙ্গ ধারণাও তার ছিল না। তবে এই অভিযোগ আদালতে বিষয়টি বিচারাধীন থাকায় অভিযোগগুলোর সত্যতা নির্ধারণের দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট বিচারিক কর্তৃপক্ষের। সম্পত্তি হস্তান্তরের পর তালাক ভুক্তভোগীর অভিযোগ অনুযায়ী, সম্পত্তির মালিকানা পরিবর্তনের পর পারিবারিক সম্পর্কে টানাপোড়েন শুরু হয়।পরবর্তীতে তাকে বিভিন্ন অপবাদ দিয়ে তালাক দেওয়া হয় বলে দাবি করেন তিনি।ফরিদা মাফরোজা বলেন, “যে মানুষকে বিশ্বাস করে জীবন গড়তে চেয়েছিলাম, শেষ পর্যন্ত সেই বিশ্বাসই আমার সবচেয়ে বড় ক্ষতির কারণ হয়েছে।”তার অভিযোগ, তালাকের পর সম্পত্তি ফিরে পাওয়ার জন্য আইনি লড়াই শুরু করলে তাকে নানাভাবে বাধার মুখে পড়তে হয়। আদালতের দ্বারস্থ ভুক্তভোগী নিজের দাবি প্রতিষ্ঠার জন্য ফরিদা মাফরোজা বরিশাল সদর আদালতে একাধিক মামলা দায়ের করেছেন। ভুক্তভোগী পক্ষের সরবরাহ করা নথি অনুযায়ী, ০৫/২০২১ এবং ৬৪৯/২১ নম্বর মামলায় সম্পত্তি সংক্রান্ত বিরোধ ও সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো বিচারাধীন রয়েছে।তিনি অভিযোগ করেন, মামলা দায়েরের পর তাকে বিভিন্নভাবে হয়রানি করা হয়েছে এবং মিথ্যা মামলায় জড়ানোর চেষ্টা করা হয়েছে।তার আরও দাবি, এসব কার্যক্রমের পেছনে রেজাউল ইসলাম পান্না প্রত্যক্ষভাবে জড়িত। আমমোক্তারনামা ও মামলার নিয়ন্ত্রণ নিয়ে প্রশ্ন ভুক্তভোগী পক্ষের অভিযোগ অনুযায়ী, রেজাউল ইসলাম পান্না তার ভাই আহসান হাবিব লিংকনের কাছ থেকে আমমোক্তারনামা গ্রহণ করে সম্পত্তি ও আদালত-সংক্রান্ত বিষয়গুলো পরিচালনা করছেন। তাদের দাবি, মামলার কার্যক্রমে পান্নার সক্রিয় ভূমিকা রয়েছে এবং সম্পত্তি সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণেও তিনি প্রভাব বিস্তার করছেন।এ বিষয়ে আমমোক্তারনামা, মামলা সংক্রান্ত নথি এবং সাব-রেজিস্ট্রার কার্যালয়ের একটি চিঠির কপিও ভুক্তভোগী পক্ষ সরবরাহ করেছে বলে জানা গেছে। মসজিদের জমি নিয়েও নতুন অভিযোগ ব্যক্তিগত সম্পত্তি বিরোধের বাইরেও রেজাউল ইসলাম পান্নার বিরুদ্ধে ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের সম্পদ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, তার এক নিঃসন্তান চাচার দেওয়া পূর্ব চহঠা জামে মসজিদের প্রায় ১৬ শতাংশ জমি, যার বর্তমান বাজারমূল্য আনুমানিক ৫০ থেকে ৬০ লাখ টাকা, কৌশলে নিজের নামে নেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা দাবি করেছেন, বিষয়টি নিয়ে এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে আলোচনা রয়েছে। মসজিদ কমিটি ও আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ স্থানীয় সূত্রগুলোর আরও দাবি, রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রভাব ব্যবহার করে গণপাড়া দেওয়ান বাড়ি জামে মসজিদ কমিটির গুরুত্বপূর্ণ পদে আসীন হয়েছেন রেজাউল ইসলাম পান্না।একইসঙ্গে মসজিদ পরিচালনা ও আর্থিক ব্যবস্থাপনায় অনিয়মের অভিযোগও রয়েছে বলে জানিয়েছেন কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দা।   স্থানীয়দের দাবি: প্রয়োজন গভীর তদন্ত গণপাড়া এলাকার কয়েকজন বাসিন্দা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, সম্পত্তি বিরোধ, রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার এবং স্থানীয় প্রভাব বিস্তারকে কেন্দ্র করে রেজাউল ইসলাম পান্না ও তার পরিবারের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরেই নানা অভিযোগ রয়েছে। তাদের মতে, সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থা বা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী নিরপেক্ষ অনুসন্ধান চালালে আরও তথ্য সামনে আসতে পারে। 

নিজস্ব প্রতিবেদক জুন ৫, ২০২৬ 0
বরিশালে বাসের ধাক্কায় মোটরসাইকেলে থাকা একই পরিবারের তিনজন নিহত, মহাসড়কে বিক্ষোভ

বরিশাল অফিস :    বরিশালের গৌরনদীতে ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কে যাত্রীবাহী বাসের ধাক্কায় মোটরসাইকেলে থাকা একই পরিবারের তিনজন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে রয়েছেন স্বামী-স্ত্রী ও তাদের কন্যাসন্তান। দুর্ঘটনার পর স্থানীয়দের বিক্ষোভ ও বাস ভাঙচুরের ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। মঙ্গলবার (২৬ মে) দুপুরে গৌরনদী উপজেলার বাটাজোর বাসস্ট্যান্ড এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলেন উজিরপুর পৌরসভার বাসিন্দা ফিরোজ মাহমুদ, তার স্ত্রী মনিরা বেগম এবং তাদের মেয়ে জান্নাত আক্তার। প্রত্যক্ষদর্শী ও উদ্ধারকর্মীদের তথ্য অনুযায়ী, স্ত্রী ও মেয়েকে নিয়ে মোটরসাইকেলে উজিরপুরের দিকে যাচ্ছিলেন ফিরোজ মাহমুদ। বাটাজোর এলাকায় যানজটের কারণে মোটরসাইকেল থামিয়ে দাঁড়িয়ে থাকাকালে পেছন দিক থেকে দ্রুতগতির ‘তাজ পরিবহন’-এর একটি যাত্রীবাহী বাস তাদের ধাক্কা দেয়। ধাক্কায় মোটরসাইকেলটি দুমড়ে-মুচড়ে যায় এবং তিনজন গুরুতর আহত হন। স্থানীয়রা দ্রুত তাদের উদ্ধার করে গৌরনদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক সবাইকে মৃত ঘোষণা করেন। উদ্ধার অভিযানে থাকা গৌরনদী ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার মিজানুর রহমান বলেন, দুর্ঘটনার সময় মোটরসাইকেলটি স্থির অবস্থায় ছিল। পেছন থেকে বাসের ধাক্কা এতটাই শক্তিশালী ছিল যে ঘটনাস্থলেই পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ নেয়। দুর্ঘটনার পরপরই স্থানীয় জনতা ক্ষোভে ঘাতক বাসটিতে ভাঙচুর চালায়। এতে কিছু সময়ের জন্য ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায় এবং দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। গৌরনদী হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মহসীন বলেন, দুর্ঘটনায় জড়িত বাসটি জব্দ করা হয়েছে। তবে চালক ও হেলপার ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে গেছে। তাদের শনাক্ত ও আটকের চেষ্টা চলছে। সংশ্লিষ্টদের ভাষ্য অনুযায়ী, ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের বাটাজোর অংশে প্রায়ই যানজট ও ঝুঁকিপূর্ণ ওভারটেকিংয়ের ঘটনা ঘটে। স্থানীয়দের অভিযোগ, মহাসড়কে পরিবহন নিয়ন্ত্রণ ও গতিনিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা দুর্বল হওয়ায় প্রায়ই প্রাণঘাতী দুর্ঘটনা ঘটছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানিয়েছে, এ ঘটনায় আইনানুগ প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ২৭, ২০২৬ 0
কাজী আফরিদা তাসনিম ও আবু জাফর সালেহ
সুপ্রিম কোর্টে আইনজীবীর স্বীকৃতি পেলেন কাজী আফরিদা তাসনিম ও আবু জাফর সালেহ

মামুনুর রশীদ নোমানী, বরিশাল : বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগে আইনজীবী হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুষদের দুই সাবেক শিক্ষার্থী। হাইকোর্ট পারমিশন পরীক্ষা-২০২৬-এ উত্তীর্ণ হওয়ার মাধ্যমে তারা দেশের সর্বোচ্চ আদালতে মামলা পরিচালনার অনুমতি পেয়েছেন। সফল দুই আইনজীবী হলেন এ্যাডভোকেট কাজী আফরিদা তাসনিম এবং এ্যাডভোকেট আবু জাফর সালেহ। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সুপ্রিম কোর্টে অন্তর্ভুক্ত হওয়ার আগে এ্যাডভোকেট কাজী আফরিদা তাসনিম বরিশাল জেলা ও দায়রা জজ আদালতে এবং এ্যাডভোকেট আবু জাফর সালেহ ঢাকা জেলা ও দায়রা জজ আদালতে আইন পেশায় সক্রিয়ভাবে যুক্ত ছিলেন। আইন পেশার প্রতিযোগিতাপূর্ণ এই পর্যায়ে উত্তীর্ণ হওয়াকে তারা দেখছেন দীর্ঘ প্রস্তুতি, পেশাগত নিষ্ঠা ও ব্যক্তিগত সংগ্রামের ফল হিসেবে। সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী হিসেবে অন্তর্ভুক্তির অনুভূতি জানাতে গিয়ে বরিশাল আইনজীবী সমিতির সদস্য এ্যাডভোকেট কাজী আফরিদা তাসনিম বলেন, “আমি মহান আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞ। পরিবারের সদস্য, মেন্টর ও সহকর্মীদের সমর্থন ছাড়া এতদূর আসা সম্ভব হতো না। আমি শুধু নিজের ক্যারিয়ার গড়তে চাই না, সততা, ন্যায়বোধ ও পেশাগত দায়িত্বশীলতা নিয়ে মানুষের জন্য কাজ করতে চাই।” তিনি বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ প্রফেসর শাহ সাজেদা এবং দৈনিক শাহনামার সম্পাদক কাজী আবুল কালাম আজাদের একমাত্র কন্যা। অন্যদিকে, ঢাকা আইনজীবী সমিতির সদস্য এ্যাডভোকেট আবু জাফর সালেহ বলেন, “ঢাকায় প্র্যাকটিস জীবনের পর বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগে অ্যাডভোকেট হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হতে পেরে আমি মহান আল্লাহর প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। এই অর্জন আমার জন্য অত্যন্ত আনন্দ ও গৌরবের।” তিনি জানান, একই সময়ে জুডিশিয়ারির প্রিলিমিনারি পরীক্ষার প্রস্তুতি এবং হাইকোর্ট পারমিশনের লিখিত পরীক্ষায় অংশ নেওয়া ছিল বড় চ্যালেঞ্জ। তার ভাষায়, “জুডিশিয়ারির প্রিলিমিনারি পরীক্ষার মাত্র সাত দিন আগে হাইকোর্ট পারমিশনের লিখিত পরীক্ষায় অংশ নিতে হয়েছিল। একই সময়ে দুটি গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষার প্রস্তুতি নেওয়া সহজ ছিল না। সিনিয়র আইনজীবীদের দিকনির্দেশনা ও সহযোগিতা আমাকে এগিয়ে যেতে সহায়তা করেছে।” এ্যাডভোকেট আবু জাফর সালেহ বরগুনা সদরের সেলিনা বেগম ও মরহুম মো. জাকির হোসাইনের একমাত্র পুত্র। আইনজীবী মহলের কয়েকজন সদস্য বলছেন, দেশের উচ্চ আদালতে নতুন প্রজন্মের আইনজীবীদের অন্তর্ভুক্তি শুধু ব্যক্তিগত সাফল্য নয়, বরং আঞ্চলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলো থেকে উঠে আসা শিক্ষার্থীদের সক্ষমতারও প্রতিফলন। বিশেষ করে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুষদের শিক্ষার্থীদের ধারাবাহিক অগ্রগতি দেশের আইন অঙ্গনে নতুন সম্ভাবনার ইঙ্গিত দিচ্ছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ২৬, ২০২৬ 0
বরিশালে আদালত ভবনের ছাদ ধস, অল্পের জন্য প্রাণে বাঁচলেন বিচারপ্রার্থী ও বিচারক

মামুনুর রশীদ নোমানী,বরিশাল : বরিশালের ঐতিহাসিক সিএমএম আদালত ভবনের দ্বিতীয় তলায় বিচার চলাকালেই হঠাৎ ছাদের একটি বড় অংশ ধসে পড়েছে। এতে অল্পের জন্য প্রাণে বেঁচে যান বিচারক, আইনজীবী, বিচারপ্রার্থী, পুলিশ সদস্য এবং আদালতের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। শনিবার (২৩ মে) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে এ ঘটনা ঘটে বরিশালের বহুল পরিচিত ‘লাল বিল্ডিং’ আদালত ভবনে। প্রায় ১৩০ বছরের পুরনো এই ভবনটি দীর্ঘদিন ধরেই ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে পরিচিত হলেও সেখানে এখনো বিচারিক কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। ঘটনার সময় দ্বিতীয় তলায় বাকেরগঞ্জ সিনিয়র সহকারী জজ আদালতের এজলাসে বিচার কার্যক্রম চলছিল। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, হঠাৎ বিকট শব্দে ছাদের পলেস্তোরার বড় অংশ ভেঙে নিচে পড়ে যায়। মুহূর্তেই আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে আদালত কক্ষে। বাকেরগঞ্জ সিনিয়র সহকারী জজ আদালতের কর্মরত  মোহাম্মদ রাসেল বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, ধসে পড়া অংশে আদালতের সিলিং ও আসবাবপত্র ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে বড় ধরনের প্রাণহানি এড়ানো গেছে ‘সৌভাগ্যবশত’। ঘটনার পর আদালত ভবনটি পরিদর্শনে যান বিচারক ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।   বরিশালে আদালত কক্ষে বিচার চলাকালে ছাদ ধস, অল্পের জন্য রক্ষা ১৩০ বছরের পুরনো আদালত ভবন এখন ‘মৃত্যুফাঁদ’? বিচার চলছিল, হঠাৎ ধসে পড়ল আদালতের ছাদ বরিশাল আদালত ভবনে বড় দুর্ঘটনা এড়ানো গেল অল্পের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে চলছে বিচার, আতঙ্কে বিচারপ্রার্থী ও আইনজীবীরা   ‘ডেমেজ ভবনে’ ঝুঁকি নিয়ে বিচারকার্য ১৮৯৬ সালে নির্মিত বরিশালের এই আদালত ভবনটি দীর্ঘদিন ধরে জরাজীর্ণ অবস্থায় রয়েছে। ভবনের বিভিন্ন দেয়াল, পিলার ও বিমে বড় ধরনের ফাটল দেখা গেছে। একাধিক স্থানে খসে পড়ছে ছাদের পলেস্তোরা। স্থানীয় আইনজীবীরা বলছেন, বহু বছর ধরেই ভবনটি ব্যবহার অনুপযোগী হলেও আদালতের এজলাস সংকটের কারণে ঝুঁকি নিয়েই বিচারিক কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়া হচ্ছে। বর্তমানে প্রায় ৮টি আদালতের এজলাস কক্ষ এবং আরও ৮টি পেশকার রুম এই ভবনে পরিচালিত হচ্ছে। এর আগেও একাধিকবার ছাদের অংশ ও দেয়ালের পলেস্তোরা ভেঙে পড়ে বিচারপ্রার্থী ও সংশ্লিষ্টদের আহত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে বলে জানা গেছে। বরিশাল বারের আইনজীবী অ্যাডভোকেট শাহে আলম বলেন, “দীর্ঘদিন ধরে ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে বিচার কার্যক্রম চলছে। আজকের ঘটনায় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারত। জরুরি ভিত্তিতে নতুন আদালত ভবন নির্মাণ প্রয়োজন।”   নিরাপত্তাহীনতায় বিচারপ্রার্থী থেকে বিচারক আদালত সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের অভিযোগ, ভবনটির ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থা নিয়ে বহুবার সংশ্লিষ্ট দপ্তরে জানানো হলেও কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। বিচারপ্রার্থী, সাক্ষী, পুলিশ সদস্য, আদালত কর্মচারী ও আইনজীবীদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে নিরাপত্তাহীনতা কাজ করছে। আদালতের অনেক কক্ষেই ছাদের পলেস্তোরা নিয়মিত খসে পড়ে বলে অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয়দের প্রশ্ন—প্রতিদিন শত শত মানুষ যাতায়াত করা এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ সরকারি ভবন কেন এখনো সংস্কার বা পুনর্নির্মাণ করা হয়নি?   নতুন ভবনের আশ্বাস বরিশাল গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী ফয়সাল আলম জানিয়েছেন, নতুন আদালত ভবন নির্মাণের বিষয়ে দ্রুত ডিজিটাল সার্ভে করা হবে। তিনি বলেন,  বিচারক ও কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করে জায়গা নির্ধারণ করা হলে নতুন ভবন নির্মাণের কার্যক্রম শুরু হবে। একই সঙ্গে ক্ষতিগ্রস্ত অংশ মেরামতের জন্য গণপূর্ত বিভাগের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করবেন বলেও জানান তিনি। তবে স্থানীয় আইনজীবী ও আদালত সংশ্লিষ্টদের প্রশ্ন—শুধু মেরামত নয়, পুরো ভবনটিই এখন ‘মৃত্যুঝুঁকিতে’; এমন অবস্থায় স্থায়ী সমাধান কত দ্রুত বাস্তবায়ন হবে, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন।    

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ২৩, ২০২৬ 0
অলিম্পিক সিমেন্ট লিমিটেড
এ্যাংকর সিমেন্ট কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে অর্থপাচার, বিদেশে সম্পদের পাহাড় গড়ার অভিযোগ : তদন্তে দুদক ও ভ্যাট গোয়েন্দা

বরিশাল অফিস : একসময় দেশের শিল্পখাতে সম্ভাবনাময় প্রতিষ্ঠান হিসেবে পরিচিত ছিল বরিশাল ভিত্তিক অলিম্পিক সিমেন্ট লিমিটেড। খান সন্স ভবন, ৫১ কাঠপট্টি রোডে করপোরেট অফিস এবং রূপাতলীতে কারখানা নিয়ে যাত্রা শুরু করা প্রতিষ্ঠানটি বিদশে অর্থ পাচারের কারনে এখন ভয়াবহ আর্থিক সংকট, শ্রমিক অসন্তোষ এবং ব্যাংক ঋন খেলাপী,বিদ্যুৎ বিল বকেয়ায় বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন,কর্মকর্তাদের বেতন বকেয়ায় কর্ম বিরতি, ৩ দেশে অর্থপাচার করে সম্পদের পাহাড় বানানো,৪০ কোটি টাকার ভ্যাট ফাঁকি,সরকার থেকে অতিরিক্ত রেয়াত সুবিধা নেয়া,ঈদুল আজহার পরে স্থায়ী ভাবে বন্ধ করে দেয়ার পায়তারা,ডিলার, রিটেইলারদের থেকে অতিরিক্ত কমিশন দেয়ার নামে অগ্রীম টাকা নিয়ে সিমেন্ট না দেয়া,পাওনাদারদের পাওনা টাকা না দেয়াসহ গুরুতর অভিযোগে আলোচনায় এসেছে।   ৪০ কোটি টাকার ভ্যাট ফাঁকির অভিযোগ,তদন্তে ভ্যাট গোয়েন্দা   ৪০ কোটি টাকা ভ্যাট ফাঁকি ও অতিরিক্ত রেয়াত সুবিধা নেয়ায় কাগজপত্রসহ অলিম্পিক সিমেন্ট লিমিটেড এর কর্তৃপক্ষকে তলব করেছে কাস্টমস,ও ভ্যাট বিভাগ। ইতিমধ্যে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর এবং ভ্যাট অডিট, গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর বিষয়টি আমলে নিয়ে এ্যাংকর সিমেন্টের  শুল্ক ফাঁকি, ভ্যাট জালিয়াতি ও অর্থ পাচারের বিষয়ে নজরধারী ও তদন্ত শুরু করেছে।  বিদেশে নাগরিত্ব গ্রহন, বাংলাদেশের অর্থ বিদেশে পাচার এবং জ্ঞাত আয় বহির্ভুত অবৈধ সম্পদ গড়ে তোলাসহ অনিয়ম ও দুর্নীতির কারনে দুর্নীতি দমন কমিশন অনুসন্ধান শুরু করেছে।সম্প্রতি অলিম্পিক সিমেন্ট লিমিটেডকে দুদক নোটিশ প্রদান করেছে। বিদেশে সম্পদ গড়ার অভিযোগ, পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা   অলিম্পিক সিমেন্ট লিমিটেড এর অর্থ বিদেশে পাচার এবং বিদেশে অবৈধ সম্পদ গড়ে তোলা,দুদকের অনুসন্ধান,ভ্যাট ফাঁকি ও সরকার থেকে অতিরিক্ত রেয়াত সুবিধা নেয়ার ফলে ভ্যাট অডিট, গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর বিষয়টি আমলে নেয়ায়,ব্যাংক ঋন বকেয়া, বিদ্যুৎ বিল বকেয়া,কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের বেতন ভাতা বকেয়া, ডিলার, রিটেইলারদের থেকে অতিরিক্ত কমিশন দেয়ার নামে অগ্রীম টাকা নিয়ে সিমেন্ট না দেয়া,পাওনাদারদের পাওনা টাকা না দেয়ার চাপ বাড়তে থাকায় অলিম্পিক সিমেন্ট লিমিটেড এর চেয়ারম্যান জুলিয়া রহমান ,ব্যবস্থাপনা পরিচালক আনিকা রহমান ও পরিচালক রিফাত বিদেশ পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন বলে অলিম্পিক সিমেন্ট লিমিটেড এর একটি বিশ্বস্ত সুত্র নিশ্চিত করেছে। দুবাই,আমেরিকা ও লন্ডনে তাদের বাড়ি ও গাড়ি রয়েছে।তারা এই তিন দেশের কোন এক দেশে যাবেন বলে সুত্র জানায়।   জুলিয়া রহমান-আনিকা রহমান - রিফাত                                                                                                                                                        ছবি- ইত্তেহাদ নিউজ   পররাষ্ট্র মন্ত্রনালয়ে লিখিত অভিযোগ   সম্প্রতি পররাষ্ট্র মন্ত্রনালয়ে এক প্রবাসী লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। লিখিত অভিযোগে উল্লেখ করা হয়,অলিম্পিক সিমেন্ট লিমিটেডের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক মরহুম মজিবুর রহমান খানের মৃত্যুর পর প্রতিষ্ঠানটির নিয়ন্ত্রণ নেন তার স্ত্রী জুলিয়া রহমান, মেয়ে আনিকা রহমান এবং জামাতা রিফাত। এরপর থেকেই কোম্পানির অর্থ বিদেশে পাচার এবং অবৈধ সম্পদ গড়ে তোলার কার্যক্রম শুরু  করেন। অভিযোগে আরো উল্লেখ করা হয়, জুলিয়া রহমান হুন্ডির মাধ্যমে ও আন্ডার ইন ভয়েসের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যে একাধিক ডুপ্লেক্স বাড়ি ও ফ্ল্যাট ক্রয় করেছেন। অভিযোগ অনুযায়ী, এসব অর্থ এসেছে অলিম্পিক সিমেন্ট লিমিটেডের তহবিল ও ব্যাংক ঋণ থেকে। একইসঙ্গে জুলিয়া রহমান অ্যান্টিগুয়া ও বারবুডার নাগরিকত্ব গ্রহণ করেছেন। তার বিদেশি ঠিকানা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে—৫১ চার্চ স্ট্রিট, সেন্ট জন’স, অ্যান্টিগুয়া।   কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধেও অভিযোগ অন্যদিকে আনিকা রহমান ও তার স্বামী রিফাতের বিরুদ্ধে দুবাই, শারজাহ এবং নিউইয়র্কে বিপুল সম্পদ গড়ে তোলার অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগকারীরা বলছেন, অলিম্পিক সিমেন্ট লিমিটেডের অর্থ হুন্ডির মাধ্যমে বিদেশে স্থানান্তরে সহায়তা করেছেন প্রতিষ্ঠানের কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারী, যাদের মধ্যে ব্যবস্থাপনা পরিচালকের পিএস নিলুফা ,পরিচালকের পিএস জুয়েল ইসলাম,সিওও শাহেদ উদ্দিন,মার্কেটিং প্রধান ইমাম ফারুকী,সেলস মার্কেটিং ম্যানেজার মেহেদী হাসান,ভ্যাট ব্যবস্থাপক মোস্তফা ও রিয়াজসহ আরো অনেকে। সহায়তা করার জন্য এসব কর্মকর্তারা হয়েছেন ক্রোড়পতি।গড়েছেন নামে বেনামে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সহায় সম্পদ। বন্ধ রয়েছে এ্যাংকর সিমেন্ট ফ্যাক্টরী ও ব্যাগ ফ্যাক্টরী                                                                                                                            ছবি- ইত্তেহাদ নিউজ              ব্যাংক ঋণ  সংকটে ও উৎপাদন বন্ধ   জানা গেছে, প্রতিষ্ঠানটি প্রতিষ্ঠার সময় বিভিন্ন ব্যাংক থেকে বড় অঙ্কের ঋণ নেয়। এর মধ্যে রয়েছে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসি, মার্কেন্টাইল ব্যাংক পিএলসি এবং ন্যাশনাল ব্যাংক পিএলসি। অভিযোগ অনুযায়ী, এসব ঋণের অর্থ উৎপাদনে ব্যবহার না করে বিদেশে সরিয়ে নেওয়ায় বর্তমানে কোম্পানিটি মারাত্মক ঋণ সংকটে পড়েছে। বর্তমানে কারখানায় উৎপাদন বন্ধ। কাঁচামালের সংকট, এলসি খুলতে অক্ষমতা এবং কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের নিয়মিত বেতন পরিশোধে ব্যর্থতার কারণে তাদের মধ্যে অসন্তোষ চরমে পৌঁছেছে। একাধিক কর্মকর্তা জানান, দীর্ঘদিন ধরে বেতন বকেয়া থাকায় এখন কর্ম বিরতি চলছে।   নতুন ঋণের জন্য জাল কাগজ তৈরির অভিযোগ   এদিকে অভিযোগ রয়েছে, নতুন করে ব্যাংক ঋণ নেওয়ার উদ্দেশ্যে কিছু জমির জাল কাগজপত্র প্রস্তুতের কাজও চলছে। এ কাজে স্থানীয় কিছু ব্যক্তির সম্পৃক্ততার অভিযোগ উঠেছে।   বিদেশে পালিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা,আটকের দাবি   সংশ্লিষ্ট মহল বলছে, অলিম্পিক সিমেন্ট লিমিটেডের চেয়ারম্যান জুলিয়া রহমান, ব্যবস্থাপনা পরিচালক আনিকা রহমান এবং পরিচালক রিফাত এর বিদেশ গমনের পথ বন্ধ করে  তাদের আটক করে এবং অভিযোগগুলো সঠিকভাবে দুদক ও ভ্যাট অডিট, গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর তদন্ত করলে বড় ধরনের অর্থপাচার ও ব্যাংক জালিয়াতির তথ্য বেরিয়ে আসতে পারে। অভিযুক্তদের বিদেশ গমনে নিষেধাজ্ঞা এবং আর্থিক গোয়েন্দা সংস্থা, দুদক ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বিত তদন্তের দাবি জানিয়েছেন তারা ।   আরও পড়ুন: এ্যাংকর সিমেন্টে ৪০ কোটি টাকার ভ্যাট ফাঁকির অভিযোগ : বন্ধ হতে যাচ্ছে এ্যাংকর সিমেন্ট ফ্যাক্টরী বরিশালে এ্যাংকর সিমেন্ট ফ্যাক্টরী বন্ধ হতে যাচ্ছে : বাড়ছে পাওনাদারদের ভিড়,গা ঢাকা দিয়েছে  এ্যাংকর সিমেন্টের বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন, আর্থিক সংকট,উৎপাদন বন্ধ , তদন্তের দাবি   তারা অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আর্থিক গোয়েন্দা সংস্থা, দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তদন্ত দাবি করেছেন। অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে অনুসন্ধান সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দেশের শিল্প ও ব্যাংক খাতকে রক্ষা করতে দ্রুত তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি। অনুসন্ধান সংশ্লিষ্ট একাধিক ব্যক্তি বলছেন, অভিযোগগুলো সত্য প্রমাণিত হলে এটি দেশের শিল্পখাত ও ব্যাংকিং ব্যবস্থার জন্য বড় ধরনের আর্থিক কেলেঙ্কারির উদাহরণ হয়ে উঠতে পারে। এ্যাংকর সিমেন্টের বর্তমান পরিস্থিতি শুধু একটি শিল্পপ্রতিষ্ঠানের আর্থিক সংকট নয়; বরং এটি করপোরেট সুশাসন, আর্থিক স্বচ্ছতা এবং রাষ্ট্রীয় নজরদারির কার্যকারিতা নিয়ে বড় প্রশ্নও সামনে আনছে। এক কথায় এই অলিম্পিক সিমেন্ট লিমিটেডের গল্প শুধুমাত্র একটি ব্যবসার পতনের নয়, বরং নৈতিকতার, প্রজ্ঞার, এবং দেশপ্রেমের চূড়ান্ত পরীক্ষা।   এ্যাংকর সিমেন্টে ভয়াবহ কেলেঙ্কারি! বিদেশে সম্পদের পাহাড়, তদন্তে দুদক বরিশালের সিমেন্ট সাম্রাজ্যে ধস: ব্যাংক ঋণ থেকে বিদেশে বিলাসবহুল বাড়ি! ৪০ কোটি টাকার ভ্যাট ফাঁকি? এ্যাংকর সিমেন্ট নিয়ে তোলপাড় বেতন নেই, উৎপাদন বন্ধ, বিদেশে সম্পদ—সংকটে এ্যাংকর সিমেন্ট হুন্ডিতে অর্থপাচারের অভিযোগ, বিদেশে পালানোর শঙ্কা কোম্পানি কর্তাদের সিমেন্ট কোম্পানি নাকি অর্থপাচারের নেটওয়ার্ক? তদন্তে চাঞ্চল্যকর তথ্য দুবাই-লন্ডন-নিউইয়র্কে সম্পদ, দেশে বন্ধ কারখানা! প্রশ্নের মুখে এ্যাংকর সিমেন্ট ডিলারদের কোটি টাকা আটকে, তদন্তে ভ্যাট গোয়েন্দা ও দুদক     আগামী পর্বে থাকছে ------ ▪️অযোগ্য কর্মকর্তা ও কর্মচারী নিয়োগ নেপথ্যে করপোরেটে নিলা ও ফ্যক্টরীতে শাহেদ উদ্দিন।  ▪️ধ্বংসের দ্বার প্রান্তে অলিম্পিক সিমেন্ট, অলিম্পিক ফাইবার,অলিম্পিক শিপিং লাইনস লিমিটেড।  ▪️সহায় -সম্পত্তি জামানতের চেয়ে ব্যাংক ঋন পরিমান কত?।  ▪️কোম্পানী ধ্বংসের কারিগর  এমডি,ডিরেক্টর,এমডির পিস,ডিরেক্টরের পিএস,সিওও,সিএমও,ভ্যাট কর্মকর্তাসহ একাধিক কর্মকর্তা। ▪️অলিম্পিক সিমেন্ট লিমিটেড থেকে অনিয়ম, দুর্নীতির মাধ্যমে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনসহ টাকার পাহাড় গড়েছেন ব্যবস্থাপনা পরিচালকের পিএস নিলুফা ,পরিচালকের পিএস জুয়েল ইসলাম,মার্কেটিং প্রধান ইমাম ফারুকী,সেলস মার্কেটিং ম্যানেজার মেহেদী হাসান,ভ্যাট ব্যবস্থাপক মোস্তফা ও রিয়াজসহ একাধিক কর্মকর্তারা। এসব কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে  ব্যবস্থাপনা পরিচালককে অর্থ আত্মসাতে সহায়তাসহ বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতি করেছেন।

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ২১, ২০২৬ 0
জুলিয়া রহমান-আনিকা রহমান - রিফাত
এ্যাংকর সিমেন্ট কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে অর্থপাচার, বিদেশে সম্পদের পাহাড় গড়ার অভিযোগ : তদন্তে দুদক ও ভ্যাট গোয়েন্দা

বরিশাল অফিস : একসময় দেশের শিল্পখাতে সম্ভাবনাময় প্রতিষ্ঠান হিসেবে পরিচিত ছিল বরিশাল ভিত্তিক অলিম্পিক সিমেন্ট লিমিটেড। খান সন্স ভবন, ৫১ কাঠপট্টি রোডে করপোরেট অফিস এবং রূপাতলীতে কারখানা নিয়ে যাত্রা শুরু করা প্রতিষ্ঠানটি বিদশে অর্থ পাচারের কারনে এখন ভয়াবহ আর্থিক সংকট, শ্রমিক অসন্তোষ এবং ব্যাংক ঋন খেলাপী,বিদ্যুৎ বিল বকেয়ায় বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন,কর্মকর্তাদের বেতন বকেয়ায় কর্ম বিরতি, ৩ দেশে অর্থপাচার করে সম্পদের পাহাড় বানানো,৪০ কোটি টাকার ভ্যাট ফাঁকি,সরকার থেকে অতিরিক্ত রেয়াত সুবিধা নেয়া,ঈদুল আজহার পরে স্থায়ী ভাবে বন্ধ করে দেয়ার পায়তারা,ডিলার, রিটেইলারদের থেকে অতিরিক্ত কমিশন দেয়ার নামে অগ্রীম টাকা নিয়ে সিমেন্ট না দেয়া,পাওনাদারদের পাওনা টাকা না দেয়াসহ গুরুতর অভিযোগে আলোচনায় এসেছে।   ৪০ কোটি টাকার ভ্যাট ফাঁকির অভিযোগ,তদন্তে ভ্যাট গোয়েন্দা   ৪০ কোটি টাকা ভ্যাট ফাঁকি ও অতিরিক্ত রেয়াত সুবিধা নেয়ায় কাগজপত্রসহ অলিম্পিক সিমেন্ট লিমিটেড এর কর্তৃপক্ষকে তলব করেছে কাস্টমস,ও ভ্যাট বিভাগ। ইতিমধ্যে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর এবং ভ্যাট অডিট, গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর বিষয়টি আমলে নিয়ে এ্যাংকর সিমেন্টের  শুল্ক ফাঁকি, ভ্যাট জালিয়াতি ও অর্থ পাচারের বিষয়ে নজরধারী ও তদন্ত শুরু করেছে।  বিদেশে নাগরিত্ব গ্রহন, বাংলাদেশের অর্থ বিদেশে পাচার এবং জ্ঞাত আয় বহির্ভুত অবৈধ সম্পদ গড়ে তোলাসহ অনিয়ম ও দুর্নীতির কারনে দুর্নীতি দমন কমিশন অনুসন্ধান শুরু করেছে।সম্প্রতি অলিম্পিক সিমেন্ট লিমিটেডকে দুদক নোটিশ প্রদান করেছে। বিদেশে সম্পদ গড়ার অভিযোগ, পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা   অলিম্পিক সিমেন্ট লিমিটেড এর অর্থ বিদেশে পাচার এবং বিদেশে অবৈধ সম্পদ গড়ে তোলা,দুদকের অনুসন্ধান,ভ্যাট ফাঁকি ও সরকার থেকে অতিরিক্ত রেয়াত সুবিধা নেয়ার ফলে ভ্যাট অডিট, গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর বিষয়টি আমলে নেয়ায়,ব্যাংক ঋন বকেয়া, বিদ্যুৎ বিল বকেয়া,কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের বেতন ভাতা বকেয়া, ডিলার, রিটেইলারদের থেকে অতিরিক্ত কমিশন দেয়ার নামে অগ্রীম টাকা নিয়ে সিমেন্ট না দেয়া,পাওনাদারদের পাওনা টাকা না দেয়ার চাপ বাড়তে থাকায় অলিম্পিক সিমেন্ট লিমিটেড এর চেয়ারম্যান জুলিয়া রহমান ,ব্যবস্থাপনা পরিচালক আনিকা রহমান ও পরিচালক রিফাত বিদেশ পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন বলে অলিম্পিক সিমেন্ট লিমিটেড এর একটি বিশ্বস্ত সুত্র নিশ্চিত করেছে। দুবাই,আমেরিকা ও লন্ডনে তাদের বাড়ি ও গাড়ি রয়েছে।তারা এই তিন দেশের কোন এক দেশে যাবেন বলে সুত্র জানায়।   জুলিয়া রহমান-আনিকা রহমান - রিফাত                                                                                                                                                        ছবি- ইত্তেহাদ নিউজ   পররাষ্ট্র মন্ত্রনালয়ে লিখিত অভিযোগ   সম্প্রতি পররাষ্ট্র মন্ত্রনালয়ে এক প্রবাসী লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। লিখিত অভিযোগে উল্লেখ করা হয়,অলিম্পিক সিমেন্ট লিমিটেডের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক মরহুম মজিবুর রহমান খানের মৃত্যুর পর প্রতিষ্ঠানটির নিয়ন্ত্রণ নেন তার স্ত্রী জুলিয়া রহমান, মেয়ে আনিকা রহমান এবং জামাতা রিফাত। এরপর থেকেই কোম্পানির অর্থ বিদেশে পাচার এবং অবৈধ সম্পদ গড়ে তোলার কার্যক্রম শুরু  করেন। অভিযোগে আরো উল্লেখ করা হয়, জুলিয়া রহমান হুন্ডির মাধ্যমে ও আন্ডার ইন ভয়েসের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যে একাধিক ডুপ্লেক্স বাড়ি ও ফ্ল্যাট ক্রয় করেছেন। অভিযোগ অনুযায়ী, এসব অর্থ এসেছে অলিম্পিক সিমেন্ট লিমিটেডের তহবিল ও ব্যাংক ঋণ থেকে। একইসঙ্গে জুলিয়া রহমান অ্যান্টিগুয়া ও বারবুডার নাগরিকত্ব গ্রহণ করেছেন। তার বিদেশি ঠিকানা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে—৫১ চার্চ স্ট্রিট, সেন্ট জন’স, অ্যান্টিগুয়া।   কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধেও অভিযোগ অন্যদিকে আনিকা রহমান ও তার স্বামী রিফাতের বিরুদ্ধে দুবাই, শারজাহ এবং নিউইয়র্কে বিপুল সম্পদ গড়ে তোলার অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগকারীরা বলছেন, অলিম্পিক সিমেন্ট লিমিটেডের অর্থ হুন্ডির মাধ্যমে বিদেশে স্থানান্তরে সহায়তা করেছেন প্রতিষ্ঠানের কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারী, যাদের মধ্যে ব্যবস্থাপনা পরিচালকের পিএস নিলুফা ,পরিচালকের পিএস জুয়েল ইসলাম,সিওও শাহেদ উদ্দিন,মার্কেটিং প্রধান ইমাম ফারুকী,সেলস মার্কেটিং ম্যানেজার মেহেদী হাসান,ভ্যাট ব্যবস্থাপক মোস্তফা ও রিয়াজসহ আরো অনেকে। সহায়তা করার জন্য এসব কর্মকর্তারা হয়েছেন ক্রোড়পতি।গড়েছেন নামে বেনামে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সহায় সম্পদ। বন্ধ রয়েছে এ্যাংকর সিমেন্ট ফ্যাক্টরী ও ব্যাগ ফ্যাক্টরী                                                                                                                            ছবি- ইত্তেহাদ নিউজ              ব্যাংক ঋণ  সংকটে ও উৎপাদন বন্ধ   জানা গেছে, প্রতিষ্ঠানটি প্রতিষ্ঠার সময় বিভিন্ন ব্যাংক থেকে বড় অঙ্কের ঋণ নেয়। এর মধ্যে রয়েছে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসি, মার্কেন্টাইল ব্যাংক পিএলসি এবং ন্যাশনাল ব্যাংক পিএলসি। অভিযোগ অনুযায়ী, এসব ঋণের অর্থ উৎপাদনে ব্যবহার না করে বিদেশে সরিয়ে নেওয়ায় বর্তমানে কোম্পানিটি মারাত্মক ঋণ সংকটে পড়েছে। বর্তমানে কারখানায় উৎপাদন বন্ধ। কাঁচামালের সংকট, এলসি খুলতে অক্ষমতা এবং কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের নিয়মিত বেতন পরিশোধে ব্যর্থতার কারণে তাদের মধ্যে অসন্তোষ চরমে পৌঁছেছে। একাধিক কর্মকর্তা জানান, দীর্ঘদিন ধরে বেতন বকেয়া থাকায় এখন কর্ম বিরতি চলছে।   নতুন ঋণের জন্য জাল কাগজ তৈরির অভিযোগ   এদিকে অভিযোগ রয়েছে, নতুন করে ব্যাংক ঋণ নেওয়ার উদ্দেশ্যে কিছু জমির জাল কাগজপত্র প্রস্তুতের কাজও চলছে। এ কাজে স্থানীয় কিছু ব্যক্তির সম্পৃক্ততার অভিযোগ উঠেছে।   বিদেশে পালিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা,আটকের দাবি   সংশ্লিষ্ট মহল বলছে, অলিম্পিক সিমেন্ট লিমিটেডের চেয়ারম্যান জুলিয়া রহমান, ব্যবস্থাপনা পরিচালক আনিকা রহমান এবং পরিচালক রিফাত এর বিদেশ গমনের পথ বন্ধ করে  তাদের আটক করে এবং অভিযোগগুলো সঠিকভাবে দুদক ও ভ্যাট অডিট, গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর তদন্ত করলে বড় ধরনের অর্থপাচার ও ব্যাংক জালিয়াতির তথ্য বেরিয়ে আসতে পারে। অভিযুক্তদের বিদেশ গমনে নিষেধাজ্ঞা এবং আর্থিক গোয়েন্দা সংস্থা, দুদক ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বিত তদন্তের দাবি জানিয়েছেন তারা ।   আরও পড়ুন: এ্যাংকর সিমেন্টে ৪০ কোটি টাকার ভ্যাট ফাঁকির অভিযোগ : বন্ধ হতে যাচ্ছে এ্যাংকর সিমেন্ট ফ্যাক্টরী বরিশালে এ্যাংকর সিমেন্ট ফ্যাক্টরী বন্ধ হতে যাচ্ছে : বাড়ছে পাওনাদারদের ভিড়,গা ঢাকা দিয়েছে  এ্যাংকর সিমেন্টের বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন, আর্থিক সংকট,উৎপাদন বন্ধ , তদন্তের দাবি   তারা অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আর্থিক গোয়েন্দা সংস্থা, দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তদন্ত দাবি করেছেন। অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে অনুসন্ধান সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দেশের শিল্প ও ব্যাংক খাতকে রক্ষা করতে দ্রুত তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি। অনুসন্ধান সংশ্লিষ্ট একাধিক ব্যক্তি বলছেন, অভিযোগগুলো সত্য প্রমাণিত হলে এটি দেশের শিল্পখাত ও ব্যাংকিং ব্যবস্থার জন্য বড় ধরনের আর্থিক কেলেঙ্কারির উদাহরণ হয়ে উঠতে পারে। এ্যাংকর সিমেন্টের বর্তমান পরিস্থিতি শুধু একটি শিল্পপ্রতিষ্ঠানের আর্থিক সংকট নয়; বরং এটি করপোরেট সুশাসন, আর্থিক স্বচ্ছতা এবং রাষ্ট্রীয় নজরদারির কার্যকারিতা নিয়ে বড় প্রশ্নও সামনে আনছে। এক কথায় এই অলিম্পিক সিমেন্ট লিমিটেডের গল্প শুধুমাত্র একটি ব্যবসার পতনের নয়, বরং নৈতিকতার, প্রজ্ঞার, এবং দেশপ্রেমের চূড়ান্ত পরীক্ষা।   এ্যাংকর সিমেন্টে ভয়াবহ কেলেঙ্কারি! বিদেশে সম্পদের পাহাড়, তদন্তে দুদক বরিশালের সিমেন্ট সাম্রাজ্যে ধস: ব্যাংক ঋণ থেকে বিদেশে বিলাসবহুল বাড়ি! ৪০ কোটি টাকার ভ্যাট ফাঁকি? এ্যাংকর সিমেন্ট নিয়ে তোলপাড় বেতন নেই, উৎপাদন বন্ধ, বিদেশে সম্পদ—সংকটে এ্যাংকর সিমেন্ট হুন্ডিতে অর্থপাচারের অভিযোগ, বিদেশে পালানোর শঙ্কা কোম্পানি কর্তাদের সিমেন্ট কোম্পানি নাকি অর্থপাচারের নেটওয়ার্ক? তদন্তে চাঞ্চল্যকর তথ্য দুবাই-লন্ডন-নিউইয়র্কে সম্পদ, দেশে বন্ধ কারখানা! প্রশ্নের মুখে এ্যাংকর সিমেন্ট ডিলারদের কোটি টাকা আটকে, তদন্তে ভ্যাট গোয়েন্দা ও দুদক     আগামী পর্বে থাকছে ------ ▪️অযোগ্য কর্মকর্তা ও কর্মচারী নিয়োগ নেপথ্যে করপোরেটে নিলা ও ফ্যক্টরীতে শাহেদ উদ্দিন।  ▪️ধ্বংসের দ্বার প্রান্তে অলিম্পিক সিমেন্ট, অলিম্পিক ফাইবার,অলিম্পিক শিপিং লাইনস লিমিটেড।  ▪️সহায় -সম্পত্তি জামানতের চেয়ে ব্যাংক ঋন পরিমান কত?।  ▪️কোম্পানী ধ্বংসের কারিগর  এমডি,ডিরেক্টর,এমডির পিস,ডিরেক্টরের পিএস,সিওও,সিএমও,ভ্যাট কর্মকর্তাসহ একাধিক কর্মকর্তা। ▪️অলিম্পিক সিমেন্ট লিমিটেড থেকে অনিয়ম, দুর্নীতির মাধ্যমে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনসহ টাকার পাহাড় গড়েছেন ব্যবস্থাপনা পরিচালকের পিএস নিলুফা ,পরিচালকের পিএস জুয়েল ইসলাম,মার্কেটিং প্রধান ইমাম ফারুকী,সেলস মার্কেটিং ম্যানেজার মেহেদী হাসান,ভ্যাট ব্যবস্থাপক মোস্তফা ও রিয়াজসহ একাধিক কর্মকর্তারা। এসব কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে  ব্যবস্থাপনা পরিচালককে অর্থ আত্মসাতে সহায়তাসহ বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতি করেছেন।  

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ২১, ২০২৬ 0
দক্ষিণাঞ্চলে চিংড়ির রেণুপোনা পাচার: টুলু সিন্ডিকেট
দক্ষিণাঞ্চলে চিংড়ির রেণুপোনা পাচার: টুলু সিন্ডিকেট, কোটি টাকার এই অবৈধ বাণিজ্যের নেপথ্যে যারা

মামুনুর রশীদ নোমানী,বরিশাল : উপকূলীয় অঞ্চলের জীববৈচিত্র্য ও প্রাকৃতিক মৎস্যসম্পদ ধ্বংস করে দক্ষিণাঞ্চলে দীর্ঘদিন ধরে চলছে নিষিদ্ধ চিংড়ির রেণুপোনা পাচার। অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, বরিশালকেন্দ্রিক একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট প্রতিরাতে কোটি টাকার অবৈধ রেণুপোনা দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে পাচার করছে। স্থানীয় সূত্র, সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী, প্রশাসনিক পর্যায়ের একাধিক ব্যক্তি এবং মাঠপর্যায়ের অনুসন্ধানে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, এই চক্রের সঙ্গে রাজনৈতিক প্রভাবশালী ব্যক্তি, অসাধু ব্যবসায়ী,  সাংবাদিক এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কিছু সদস্যের যোগসাজশ থাকার অভিযোগ রয়েছে।   ‘টুলু সিন্ডিকেট’ নামে পরিচিত একটি নেটওয়ার্ক অনুসন্ধানে জানা যায়, গোপালগঞ্জের টুলু নামের এক ব্যক্তি দীর্ঘদিন ধরে এই অবৈধ বাণিজ্যের অন্যতম নিয়ন্ত্রক হিসেবে পরিচিত। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, অতীতে রাজনৈতিক প্রভাব ব্যবহার করে তিনি দক্ষিণাঞ্চলের রেণুপোনা বাণিজ্যে একক আধিপত্য গড়ে তোলেন। বর্তমানে তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা ও গ্রেপ্তারি পরোয়ানা রয়েছে বলে দাবি করেছেন সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো।  অভিযোগের বিষয়ে টুলুর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তার মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও সাড়া মেলেনি। সূত্র বলছে, বরিশাল বিভাগের বিভিন্ন এলাকায় পরিচালিত এই সিন্ডিকেটে সিপন, হারুন, বিপ্লব, রনি, জিন্নাত ডাক্তার, নিও, সুমনরাজ, সকেট জামাল, রহিমসহ প্রায় দুই শতাধিক ব্যক্তি বিভিন্ন পর্যায়ে যুক্ত রয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। উপকূল থেকে নগর—রাতভর পাচারের রুট তদন্তে উঠে এসেছে, পটুয়াখালীর কলাপাড়া, ভোলার উপকূলীয় অঞ্চল ও মেহেন্দিগঞ্জ এলাকার নদী মোহনা থেকে অবৈধভাবে চিংড়ির রেণুপোনা সংগ্রহ করা হয়। পরে ড্রামভর্তি করে ট্রাক, ট্রলার ও স্পিডবোটে করে সেগুলো বরিশাল হয়ে খুলনা ও বাগেরহাটসহ বিভিন্ন অঞ্চলে পাঠানো হয়। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, প্রশাসনের নজর এড়াতে প্রতিনিয়ত নতুন কৌশল ব্যবহার করছে এই চক্র। কখনও মাছবাহী ট্রাক, কখনও সাংবাদিক স্টিকার লাগানো প্রাইভেটকার ব্যবহার করা হচ্ছে পরিবহনে।   ‘সাংবাদিক স্টিকার’ ব্যবহার করে নিরাপদ রুটের অভিযোগ সাম্প্রতিক সময়ে পোর্ট রোড এলাকার এক মৎস্য ব্যবসায়ী রনির বিরুদ্ধে সিন্ডিকেটকে সহায়তার অভিযোগ উঠেছে। বিশ্বস্ত সূত্রের দাবি, গভীর রাতে প্রাইভেটকারে ‘Press’ বা ‘সাংবাদিক’ স্টিকার ব্যবহার করে তারা রেণুপোনার চালান নিরাপদে পার করে দেওয়ার দায়িত্ব পালন করছেন। রাজনৈতিক পরিচয় ও প্রভাব ব্যবহার করে বিভিন্ন চেকপোস্ট এড়িয়ে যাওয়ার অভিযোগও রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে। অনুসন্ধানী দলের হাতে এমন কয়েকটি ভিডিও এসেছে, যেখানে সাংবাদিক স্টিকারযুক্ত গাড়ির গতিবিধি সন্দেহজনক বলে প্রতীয়মান হয়েছে।  ‘ম্যানেজ বাজেট’: ৪৪ লাখ টাকার সমঝোতার অভিযোগ স্থানীয় একাধিক সূত্র জানিয়েছে, রেণুপোনা পরিবহন নির্বিঘ্ন করতে প্রশাসন, স্থানীয় প্রভাবশালী মহল ও কিছু সংবাদকর্মীকে ‘ম্যানেজ’ করার জন্য একটি বড় অঙ্কের অর্থ বরাদ্দ করা হয়। বরিশাল নগরীর কয়েকটি অভিজাত হোটেলে গোপন বৈঠকের মাধ্যমে প্রথমে ৩৬ লাখ টাকার একটি সমঝোতা বাজেট নির্ধারণ করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। পরে সেটি বাড়িয়ে ৪৪ লাখ টাকা করা হয় বলেও দাবি করেছে সংশ্লিষ্ট সূত্র।   কনস্টেবল  মেহেদি হাসানের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগ সাম্প্রতিক এক ঘটনায় বরিশাল আইনশৃংখলা বাহিনীর এক তদন্তকারী সংস্থার কনস্টেবল মেহেদি হাসানের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার ও চাঁদাবাজির অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, শিকারপুর ব্রিজসংলগ্ন এলাকায় তিনি নিজেকে ‘এসআই’ পরিচয় দিয়ে রেণুপোনা ভর্তি একটি ট্রাক ও একটি সিএনজি আটক করেন। পরে ব্যবসায়ীদের কাছে তিন লাখ টাকা দাবি করা হয়। দরকষাকষির একপর্যায়ে ৩০ হাজার টাকা নেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন ভুক্তভোগীরা।পরবর্তীতে বিষয়টি জানাজানি হলে সেই টাকা ফেরত দেওয়া হয় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র দাবি করেছে। এ ঘটনায় ভোর থেকে প্রায় সাড়ে সাত ঘণ্টা যানবাহন আটকে থাকায় ড্রামে থাকা প্রায় ৯০ হাজার রেণুপোনা মারা যায় বলে ব্যবসায়ীদের দাবি। এতে প্রায় পাঁচ লাখ টাকার আর্থিক ক্ষতি হয়েছে বলেও তারা জানিয়েছেন।তবে মেহেদি হাসান তার বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।   নোমরহাট ব্রিজে ‘সরাসরি উপস্থিতি’ অনুসন্ধানী দল চাঁদপাশা–সায়েস্তাবাদ সংযোগস্থলের নোমরহাট ব্রিজ এলাকায় অবস্থান নিয়ে স্পিডবোট, ট্রলার ও ট্রাকে রেণুপোনা পরিবহনের দৃশ্য ধারণ করে।সেখানে কয়েকজনকে রেণুপোনাভর্তি ড্রাম ট্রাকে তুলতে দেখা যায়। স্থানীয়দের প্রশ্ন—মৎস্য অধিদপ্তর বা সংশ্লিষ্ট থানাকে না জানিয়ে কারা এসব কার্যক্রম পরিচালনা করছে, এবং কোন ক্ষমতাবলে তা হচ্ছে? এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা ও ক্ষোভ তৈরি হয়েছে।   প্রশাসনের অভিযান, তবু থামছে না পাচার র‌্যাব-৮, নৌ পুলিশ, কোস্ট গার্ড ও জেলা মৎস্য অধিদপ্তর একাধিক যৌথ অভিযানে বিপুল পরিমাণ রেণুপোনা, ইলিশ ও সামুদ্রিক মাছ জব্দ করেছে। বরিশালের রূপাতলী, দপদপিয়া সেতু ও বিভিন্ন প্রবেশপথে চেকপোস্ট বসিয়ে বেশ কয়েকবার ট্রাকচালক, শ্রমিক ও সিন্ডিকেটসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের আটক করা হয়েছে। ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে জরিমানা ও কারাদণ্ডও দেওয়া হয়েছে। তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, জামিনে বেরিয়ে আবারও একই কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ছে সিন্ডিকেটের সদস্যরা।   জীববৈচিত্র্যের জন্য ভয়াবহ হুমকি পরিবেশবিদ ও মৎস্য বিশেষজ্ঞদের মতে, একটি চিংড়ির রেণু সংগ্রহ করতে গিয়ে নদী ও মোহনায় শত শত প্রজাতির অন্যান্য মাছের পোনা ও জলজ প্রাণী ধ্বংস হয়ে যায়। তাদের ভাষ্য, দীর্ঘদিন ধরে এই অবৈধ শিকার চলতে থাকলে উপকূলীয় অঞ্চলের প্রাকৃতিক মৎস্যসম্পদ ভয়াবহ সংকটে পড়বে। একই সঙ্গে ক্ষতিগ্রস্ত হবে দেশের সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্য ও অর্থনীতি।   রেণু আহরণের সময়  নষ্ট করা হচ্ছে রেণু ও লার্ভি,দেশীয় প্রজাতির অনেক মাছ বিলুপ্তির শঙ্কা মৎস্য গবেষকরা বলছেন, নদী থেকে একটি চিংড়ি রেণু আহরণের সময় মাছ, জুপ্লাংকটনসহ বিভিন্ন জলজ প্রজাতির সাড়ে ৭৭৮টি রেণু ও লার্ভি নষ্ট করা হচ্ছে। মাছের রেণু রক্ষা করা না গেলে জীববৈচিত্র নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি প্রাকৃতিক জলাশয় থেকে দেশীয় প্রজাতির অনেক মাছ বিলুপ্তির শঙ্কা রয়েছে।প্রাকৃতিক জলাশয়ে মাছের উৎপাদন বৃদ্ধিতে ২০০২ সালে গলদা চিংড়িসহ সব ধরনের মাছের রেণু পোনা আহরণ নিষিদ্ধ করে সরকার।চরাঞ্চলের বিভিন্ন স্থানেও নিয়মিত চোখে পড়ে এমন দৃশ্য। গোধূলী লগ্ন থেকে শুরু করে মধ্যরাত পর্যন্ত চলে এই নিষিদ্ধ কার্যক্রম। মূলত মশারি জাল দিয়ে তৈরিকৃত এক ধরনের বিশেষ জাল (ঠেলা জাল) দিয়ে নদী থেকে চিংড়ির রেণু আহরণ করে থাকে জেলেরা। এসময় চিংড়ির পাশাপাশি নদীতে থাকা সকল ধরনের মাঝের পোনা ও লার্ভি উঠে আসে জালে। পরে সেগুলো থেকে বাছাই করে গলদা চিংড়ির রেণুগুলো সংরক্ষণ করলেও নির্বিচারে নষ্ট হচ্ছে অন্যান্য মাছের পোনা। জেলে তাজুল ইসলাম বলেন, চিংড়ির রেণু ধরে প্রতিদিন পাঁচশ থেকে ১২শ টাকা আয় হচ্ছে আমাদের। যশোর, খুলনা, বাগেরহাট, সাতক্ষীরাসহ দেশের দক্ষিণাঞ্চলেরজেলাগুলোর মাছের ঘেরে ব্যাপক চাহিদা রয়েছে গলদা চিংড়ির রেণুর। চাহিদার ওপর ভিত্তি করে পঞ্চাশ পয়সা থেকে ২ টাকা পর্যন্ত প্রতি পিস রেণু বিক্রি করা হয়ে থাকে।জেলে রূপম ইসলাম বলেন, চিংড়ি’র রেণু ধরা যে অবৈধ তা আমরা জানিনা। সংসার চালাতে পেটের দায়ে রেণু আহরণ করি আমরা। রেণু ধরতে গিয়ে হয়তো কিছু পোনা মারা যায়। তবে গলদা চিংড়ির রেণু বেছে বাকি মাছের রেণু আমরা নদীতে ফেলে দেই।   রেণু নিধণের ফলে নদীতে সংকট দেখা দিয়েছে মাছ উৎপাদনে,প্রভাব পড়ছে বাজারে চিংড়ি গবেষক আব্দুল বারী বলেন, প্রতিনিয়ত মাছের রেণু নিধণের ফলে নদীতে সংকট দেখা দিয়েছে মাছ উৎপাদনে। এর প্রভাব পড়ছে বাজারে। আগে নদীতে বড় সাইজের চিংড়ি মাছ পাওয়া যেত। কিন্তু এখন আর তেমনটা দেখা যাচ্ছে না। চিংড়ির দামও অনেক বেশি। নদীতে মাছের রেণু সংরক্ষণ করা না গেলে আগামীতে দেশীয় প্রজাতির মাছ বিলুপ্তি হয়ে যাবে।   রেণু আহরণ পরিবেশের প্রাকৃতিক ভারসাম্য বাগেরহাট চিংড়ি গবেষণা কেন্দ্রের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ও চিংড়ি গবেষক ড. মো. হারুনর রশিদ বলেন, কোনো অবস্থাতেই মাছের রেণু আহরণ করা ঠিক নয়। এতে করে পরিবেশের প্রাকৃতিক ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে। তিনি জানান, চিংড়ি গবেষণা কেন্দ্রের একটি গবেষণা প্রতিবেদনে দেখা যায়, নদী থেকে একটি চিংড়ির রেণু ধরার জন্য মাছসহ অন্যান্য জলজ প্রজাতির প্রায় ৭৭৮টি পোনা ও লার্ভি নষ্ট করা হয়। প্রতি বছর প্রাকৃতিক উৎস হতে রেণু আহরণের মাত্রা আশঙ্কাজনক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। এর ফলে জলাশয়ের জীববৈচিত্র বিনষ্ট হওয়াসহ অনেক মাছ বিলুপ্তি আশঙ্কা রয়েছে। এই সংকট থেকে উত্তরণে কৃত্রিমভাবে গলদা চিংড়ির রেণু উৎপাদন করার পাশাপাশি জেলেদের সচেতন করা প্রয়োজন।    নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি স্থানীয় সচেতন মহল বলছে, অভিযোগগুলো অত্যন্ত গুরুতর। তাই পুরো সিন্ডিকেট, তাদের অর্থনৈতিক নেটওয়ার্ক, প্রশাসনিক যোগসাজশ এবং রাজনৈতিক প্রভাবের বিষয়টি নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করা প্রয়োজন। তাদের মতে, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, প্রশাসন ও গণমাধ্যমের নাম ব্যবহার করে কেউ যদি অবৈধ কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে থাকে, তবে তা শুধু রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থার প্রতি জনআস্থাই নষ্ট করবে না, বরং উপকূলীয় পরিবেশ ও অর্থনীতির জন্যও দীর্ঘমেয়াদি হুমকি হয়ে দাঁড়াবে।

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ২০, ২০২৬ 0
বরিশাল এলজিইডি নির্বাহী প্রকৌশলী আল ইমরান
বরিশাল এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী আল ইমরানের বিরুদ্ধে দুর্নীতি, অনিয়মসহ বিভিন্ন অভিযোগে তদন্ত কমিটি গঠন

বরিশাল এলজিইডিতে ‘কমিশন সিন্ডিকেট’? নির্বাহী প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে তদন্ত বিল আটকে ঘুষ দাবি! বরিশাল এলজিইডির কর্মকর্তার বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ বদলি আদেশও মানেননি? বরিশাল এলজিইডিতে তদন্ত শুরু ঠিকাদারদের ক্ষোভ, এলজিইডি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগে তদন্ত কমিটি বরিশাল এলজিইডিতে ঘুষ-কাণ্ড: নির্বাহী প্রকৌশলী আল ইমরানকে ঘিরে বিতর্ক   মামুনুর রশীদ নোমানী,বরিশাল : বরিশাল এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ আল ইমরানের বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও বিভিন্ন অনিয়ম গনমাধ্য্যমে প্রকাশিত হওয়ায় স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) ৩ সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের ২৫৯০ নং স্মারকে প্রধান প্রকৌশলী (চলতি দায়িত্ব) মোঃ বেলাল হোসেন স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে এ তদন্ত কমিটি গঠন করেন। তদন্ত কমিটির আহবায়ক হলেন, এলজিইডির প্রধান কার্যালয়ের মানব সম্পদ, পরিবেশ ও জেন্ডার বিভাগের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মোঃ ছয়ফুদ্দিন, অপর দুজন সদস্য হলেন,স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর বরিশাল বিভাগের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলীর কার্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ রহমত-ই-খুদা ও স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর বরিশাল অঞ্চলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী কার্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী নূর-উস-শামস্। ৩ সদস্য বিশিষ্টি এ কমিটিকে সরেজমিন তদন্ত পুর্বক মতামতসহ বিস্তারিত প্রতিবেদন ৭ কর্মদিবসের মধ্যে প্রধান প্রকৌশলীর কার্যালয়ে প্রেরনের আদেশ প্রদান করেন প্রধান প্রকৌশলী। তদন্তের দিকে নজর এলজিইডির অভ্যন্তরীণ সূত্রগুলো বলছে, তদন্ত প্রতিবেদনের ওপর ভিত্তি করে পরবর্তী প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।   আরও পড়ুন: বরিশাল এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী আল ইমরানের বিরুদ্ধে ঘুস-কমিশন বাণিজ্যের অভিযোগ     বরিশাল এলজিইডিতে ‘কমিশন সিন্ডিকেট’ অভিযোগ: বিল আটকে ঘুস দাবি, বদলি আদেশ অমান্য ও ঠিকাদারদের কাছ থেকে  কমিশন নেওয়ার অভিযোগে বিতর্কে নির্বাহী প্রকৌশলী।  চলমান ও সম্পন্ন হওয়া বিভিন্ন রাস্তা ও ব্রিজের বিল ঘুস না পেলে আটকে রাখা,ঠিকাদারদের জরিমানা মওকুফের নামে ১০ থেকে ২০ লাখ টকা ঘুস দাবী,ঘুস আদায়কারী অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক মোঃ এনামুল হকের বদলী আদেশ আটকে রাখা,এলজিইডির বরিশাল অঞ্চলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলীর আদেশ না মানা,ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কার্যাদেশ দেয়ার সাথে শতকরা ১ ভাগ কমিশন আদায় করা,রিভাইজ স্কিম অনুমোদনে চাহিদা অনুযায়ী কমিশন নেয়া ও বিল প্রদানের ক্ষেত্রে শতকরা ২ থেকে ৩ ভাগ কমিশন আদায়সহ অসংখ্য অভিযোগ। দুর্নীতি ও ঘুসসহ বিভিন্ন অভিযোগে সম্প্রতি তার বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করে এলজিইডি। ঢাকা থেকে ঐ তদন্তকারী কর্মকর্তা বরিশালে এসে তদন্ত শুরু করলে তাকে ঘুস দিয়ে তার পক্ষে রিপোর্ট প্রদানের জন্য ব্যাপক তদবির করেন।তার দুর্নীতি, অনিয়ম, ঘুসকান্ডসহ বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের জন্য  নেতিবাচক রিপোর্ট প্রদান করেছেন।যার বিরুদ্ধে এত অভিযোগ তিনি হলেন,বরিশাল এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ আল ইমরান। তবে সকল অভিযোগ অস্বিকার করে নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ আল ইমরান বলেন, আমি আমার কার্যালয়কে পরিস্কার করতেছি।তিনি তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলীর আদেশ প্রসঙ্গে বলেন,আমি ঢাকায় কথা বলে কাজ করছি।   অভিযোগের কেন্দ্রে ‘কমিশন বাণিজ্য’ : রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার বরিশাল এলজিইডিতে নির্বাহী প্রকৌশলী পদে ২০২৫ সালের ২৭ অক্টোবর মোহাম্মদ আল ইমরান যোগদান করেন।যোগদানের পরেই বিতর্ক যেন তার পিছু না ছাড়ে। যোগদানের পরেই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কাজের বিপরীতে প্রদেয় পিসি - কমিশন বাণিজ্যের কারনে প্রথমেই সমালোচিত হোন। নিজের দাপট দেখাতে তিনি লক্ষ্মীপুর -৩ আসনের এমপি ও পানিসম্পদ মন্ত্রী মো. শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানির আত্মীয় পরিচয় দেয়া শুরু করেন।খোজ নিয়ে জানা গেছে মোহাম্মদ আল ইমরান পানিসম্পদ মন্ত্রী মো. শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানির কোন আত্মীয় নন এমন কি কোন সম্পর্কও নেই।তিনি মোহাম্মদ আল ইমরানকে চিনেনও না।  তবে মোহাম্মদ আল ইমরান কার্য্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামীলীগের সাবেক রাষ্ট্রপতি আব্দুল হামিদের একজন অনুসারী।তার বাড়ি কিশোরগঞ্জে।      ‘ঘুষ সংগ্রাহক’ হিসেবে এনামুল হক !   বরিশাল এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ আল ইমরান যোগদান করেই অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক মোঃ এনামুল হককে অনৈতিক পথে ঘুস গ্রহন ও ঘুস সংগ্রহ এবং সমস্যা সমাধানের জন্য নিয়োগ করেন।বিল ও কার্যদেশের ব্যাপারেও এনামুল হকের সাথে আগেভাগেই ঠিকাদারদের যোগাযোগ করতে হয়।এনামুলের গ্রীন সিগনাল ছাড়া নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ আল ইমরান কোন ফাইলে স্বাক্ষর করেন না।  চলতি বছরের মার্চ মাসে সকল ঠিকাদার ক্ষুব্ধ হন এনামুলকে দিয়ে নির্বাহী প্রকৌশলীর ঘুস আদায়ের বিরুদ্ধে।এমনকি ঠিকাদাররা নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ আল ইমরানের বিরুদ্ধে মানববন্ধন করার উদ্যোগ গ্রহন করেন।পরে ঠিকাদারদের সাথে সমঝোতা করেন নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ আল ইমরান।   এনামুলকে বদলী,তিনদিন পর জানলেন নির্বাহী প্রকৌশলী: বদলি আদেশ নিয়েও বিতর্ক   অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক মোঃ এনামুল হকের বিরুদ্ধে নির্বাহী প্রকৌশলীর অনৈতিক সুবিধা আদায়কারী প্রমানিত হওয়ার পরেই গত ১৪ মে এলজিইডির বরিশাল অঞ্চলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী শরীফ মোঃ জামাল উদ্দিন স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশের মাধ্যমে এনামুল হককে পিরোজপুর জেলার কাউখালী উপজেলা এলজিইডিতে এবং অপর এক অফিস আদেশে বরিশাল সদর উপজেলা এলজিইডি থেকে বরিশাল এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলীর দপ্তরে রেহেনা আখতারকে বদলী করা হয়।আদেশগুলোতে উল্লেখ করা হয়,১৯ মে তারিখ হতে ষ্ট্যান্ড রিলিজ হিসেবে গণ্য হবে। নির্বাহী প্রকৌশলীর অফিস ও বরিশাল অঞ্চলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলীর অফিস একই দেয়ালে ঘেরা।দুরত্ব একশত হাতেরও কম।তবুও ১৪ মে তারিখের আদেশ নির্বাহী প্রকৌশলী পেলেন ১৭ মে। তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলীর অফিস আদেশ পেয়েও এনামুল হককে ছাড়তে নারাজ নির্বাহী প্রকৌশলী। এ ব্যাপারে নির্বাহী  প্রকৌশলী মোহাম্মদ আল ইমরান বলেন,আমি ঢাকায় কথা বলেছি।আমার অফিসের ব্যাপার বাইরে কেন।তবে তিনি বরিশাল অঞ্চলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলীর আদেশকে তুচ্ছ তাচ্ছিল্য'র সুরে বলেন,আমার অফিসের ব্যাপারে আমি সিদ্ধান্ত নিব।আমি ঢাকায় কথা বলেছি।ঢাকা যে সিদ্ধান্ত দিবে তা পালন করবো। কারন হিসেবে জানা গেছে,মোহাম্মদ আল ইমরান এলজিইডির প্রধান কার্যালয়ে কর্মরত ছিলেন। এছাড়া তিনি সাবেক বিতর্কিত প্রধান প্রকৌশলী জাবেদ করিমের ঘনিষ্ঠ হওয়ায় বরিশাল অঞ্চলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলীর আদেশ পালনে ইচ্ছুক নন। তিনি বলেন রেহেনা আখতার এখানে আসতে চান না। রেহেনা আখতার জানালেন কে বলেছে আমি যেতে চাইনা। আমিতো নির্বাহী প্রকৌশলী স্যারকে বলিনি যে আমি নির্বাহী প্রকৌশলীর দপ্তরে যোগদান করবোনা। এ ব্যাপারে এলজিইডির বরিশাল সদর উপজেলা প্রকৌশলী সৈয়দ মাইনুল মাহমুদ বলেন, রেহেনা আখতারকে আলাদা ছাড়পত্র দেয়ার কিছু নাই।তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলীর আদেশই যথেষ্ট।   জরিমানার অর্থ মওকুফের নামে ১০ থেকে ২০ লাখ টাকা   এ দিকে নির্বাহী প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে ঠিকাদারদের থেকে জরিমানার অর্থ মওকুফের নামে ১০ থেকে ২০ লাখ টাকা আদায় করা হচ্ছে। প্রতি বিল থেকে শতকরা ২ থেকে ৩ পারসেন্ট ঘুসের ব্যাপারে ঠিকাদররা ক্ষুব্ধ।   কমিশন আদায়ের অভিজ্ঞ নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ আল ইমরান   নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ আল ইমরান এলজিইডির প্রধান কার্যালয়ে সারাদেশে খাল-পুকুর প্রকল্পের উপ- প্রকল্প পরিচালক হিসেবে কাজ করেছেন।তিনি তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের রাষ্ট্রপতির জেলা কিশোরগঞ্জের বাসিন্দা।এ কারণে প্রধান কার্যালয়ের উক্ত প্রকল্পে তার প্রভাব ছিল অপ্রতিরোধ্য।তৎকালীন সময়ে প্রকল্পের স্কিম গ্রহণ,অনুমোদন এবং রিভাইজ ও অর্থছারের কমিশন বাণিজ্যে ছিল সিদ্ধহস্ত ।পরবর্তীতে সাবেক অভিযুক্ত প্রধান প্রকৌশলী জাবেদ করিম দায়িত্বে থাকাকালীন সময়ে মন্ত্রণালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগের উপদেষ্টাকে ম্যানেজ করে বরিশাল জেলা নির্বাহী প্রকৌশলীর পথটি ভাগিয়ে নেন। অভিযোগ জানা গেছে, জেলা পর্যায়ে কাজ করার অভিজ্ঞতা না থাকলেও স্থানীয় ঠিকাদারদের কাছ থেকে কমিশন আদায়ে যথেষ্ট অভিজ্ঞ। রিভাইজ স্কিম অনুমোদনে ২ থেকে ৩ পারসেন্ট কমিশন এছাড়া রিভাইজ স্কিম অনুমোদনে চাহিদা অনুযায়ী কমিশন নেয়া ও বিল প্রদানের ক্ষেত্রেও ২ থেকে ৩ পারসেন্ট কমিশনের দাবি পূরণের বিষয়টি ঠিকাদারদের কাছে অসহনীয় পর্যায়ে পৌঁছে গেছে। নির্বাহী প্রকৌশলীর এই অনৈতিক আর্থিক সুবিধা নেওয়ার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীরা বিব্রত ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। নির্বাহী প্রকৌশলীদের ফিল্ড পর্যায়ে কাজ পরিদর্শনের রীতি থাকলেও তিনি দপ্তরে বসেই সবকিছু নিয়ন্ত্রণ করেন। ঠিকাদারদের কাছ থেকে অধীনস্থ প্রকৌশলীর মাধ্যমে কমিশন আদায় চাপ প্রয়োগ করার কারণে নির্বাহী প্রকৌশল অধিদপ্তরের কর্মকর্তা, কর্মচারীরা চরম ক্ষুব্ধ। নাম প্রকাশে অনুচ্ছুক এক কর্মচারী বলেন, বিগত সময় কোন নির্বাহী প্রকৌশলী এভাবে ঠিকাদারদের কাছ থেকে কমিশন আদায়ের জন্য চাপ প্রয়োগ করতেন না। এছাড়া কমিশনের টাকা এককভাবে নেওয়ার অভিযোগ ও রয়েছে।   বিভিন্ন বাহানায় অর্থ প্রাপ্তির কৌশল   নাম প্রকাশে অনচ্ছুক এক ঠিকাদার অভিযোগ করে বলেন, একটি রিভাইজ স্কিম অনুমোদনের জন্য প্রধান কার্যালয়ে প্রেরণের ক্ষেত্রে মোটা অংকের অর্থ দাবি করেছেন।যা বিগত সময়ের কোন নির্বাহী প্রকৌশলী এ অর্থ দাবি করেনি।অন্য একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের মালিক বলেন, হঠাৎ করে নির্বাহী প্রকৌশলী তার সাইট পরিদর্শনের কথা বলে সরে জমিনে পরিদর্শন পূর্বক ত্রুটির বিচ্যুতির কথা উল্লেখ করে বিভিন্ন বাহানায় অর্থ প্রাপ্তির কৌশল অবলম্বন করেন। এক্ষেত্রে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানগুলো তার অনৈতিক আর্থিক সুবিধা নেয়ার কারণে তার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ ও মানববন্ধন করার স্থির করেন। নির্বাহী প্রকৌশলী আল ইমরানের অনৈতিক পথে অর্থ সংগ্রহের বিষয়টি তদারকি করেন অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক  মোঃ এনামুল হক।   নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ আল ইমরানকে বদলী ও শাস্তিমুলক ব্যবস্থা গ্রহনের দাবী    অভিজ্ঞজনদের মতে, জনস্বার্থে সরকারের আর্থিক সদ্ব্যবহার ও কাজের গুণগত মান নিশ্চিত করতে অর্থলোভী ও কমিশন বাণিজ্যের হোতা বরিশাল এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ আল ইমরানকে বদলী ও শাস্তিমুলক ব্যবস্থা গ্রহনের দাবী জানিয়েছেন।নচেৎ এলজিইডি বরিশালের নির্বাহী প্রকৌশলীর কার্যালয়সহ বিভগের সকল জেলা ও উপজেলা এলজিইডি অফিসে চেইন্ড অব কমান্ড ভেঙ্গে পড়বে।  তাকে বদলী করা না হলে বরিশাল জেলায় জনদুর্ভোগ ও জনরোষ ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধি পাবে।    

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ২১, ২০২৬ 0
বরিশালে বন্ধ হতে যাচ্ছে এ্যাংকর সিমেন্ট ফ্যাক্টরী
বরিশালে এ্যাংকর সিমেন্ট ফ্যাক্টরী বন্ধ হতে যাচ্ছে : বাড়ছে পাওনাদারদের ভিড়,গা ঢাকা দিয়েছে কর্তৃপক্ষ

বরিশালে এ্যাংকর সিমেন্ট বন্ধের শঙ্কা: ভ্যাট ফাঁকি, বেতন বকেয়া ও হাজার কোটি টাকার আর্থিক সংকটের অভিযোগ ইত্তেহাদ নিউজ অনলাইন :  বরিশালের এ্যাংকর সিমেন্ট ফ্যাক্টরী বন্ধ হতে যাচ্ছে এমন সংবাদ পেয়ে অলিম্পিক সিমেন্ট লিমিটেডের করপোরেট অফিস বরিশালের কাঠপট্টিতে এবং রুপাতলীতে এ্যংকর সিমেন্ট ফ্যক্টরীতে শত শত লোক জড়ো হচ্ছেন।এদের মধ্যে রয়েছেন সিমেন্টের জন্য অগ্রীম বিল দেয়া ডিলার,রিটেইলার,করপোরেট ক্রেতা,মাল বহনকারী জাহাজ মালিকসহ বিভিন্ন ধরনের পাওনাদাররা।এ ছাড়া রয়েছেন সিমেন্ট বানানোর উপাদান বিক্রেতারা।সব মিলিয়ে জটিল পরিস্থতির মধ্যে রয়েছেন অলিম্পিক সিমেন্ট লিমিটেড কর্তৃপক্ষ।   ব্যাংক ঋণের চাপ বাড়ছে   এদিকে অলিম্পিক সিমেন্ট লি.অলিম্পিক ফাইবার লি.অলিম্পিক শিপিং লাইনস লি. এ লগ্নিকারী ব্যাংকগুলো ঋন আদায়ের জন্য চাপ সৃস্টি করেছেন। ইসলামী ব্যাংক,ন্যাশনাল ব্যাংক,মার্কেন্টাইল ব্যাংক,এনসিসি ব্যাংক ও উত্তরা ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট শাখা সুত্রে জানা গেছে, তারা ঋনের কিস্তি আদায়ের জন্য প্রতিনিয়ত ধর্না দিলেও এ্যাংকর সিমেন্ট কর্তৃপক্ষ ঋন পরিশোধ করছেনা। এছাড়া ব্যাংকের প্রতিনিধিদের সাথেও স্বাক্ষাৎ করছেননা। এমনকি কল দিলেও রিসিভ না করার অভিযোগ করছেন ব্যাংক কর্মকর্তারা। কর্ম বিরতি,উপাদান না থাকার ফলে উৎপাদন কার্যক্রম বন্ধ  কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের বেতন না দেয়ার কারনের কর্ম বিরতি এবং সিমেন্ট বানানোর উপাদান ক্লিংকার,লাইমস্টোন,স্লাগ,জিপশাস,ফ্লাই এ্যাশ না থাকার ফলে এ্যাংকর সিমেন্ট  ফ্যাক্টরীর উৎপাদন বন্ধ রয়েছে। এছাড়া ২০ মে পর্যন্ত বন্ধ ঘোষনা  করা হয়েছে এ্যাংকর সিমেন্ট ব্যাগ ফ্যাক্টরী।   ‘৪০ কোটি টাকার ভ্যাট ফাঁকি’ অভিযোগ এদিকে ৪০ কোটি টাকার ভ্যাট ফাঁকির অভিযোগ : ৮০ হাজার টন ক্লিংকার উধাও।লুটপাট ও অর্থ-পাচারের কারনে স্থায়ী ভাবে বন্ধ হতে যাচ্ছে এ্যাংকর সিমেন্ট ফ্যাক্টরী।  এ্যাংকর সিমেন্টের সাবেক স্টাফ মোঃ মোশাররফ হোসেন খান এক আবেগপুর্ন স্ট্যাটাস দিয়েছেন,তিনি লিখেছেন "  অলিম্পিক সিমেন্ট লিমিটেড এর প্রতিষ্ঠাতা/ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মরহুম মোঃ মজিবুর রহমান খান সাহেবের মৃত্যুর পর তার আস্থাভাজন ফ্যাক্টরি বান্ধব নিরলস ভাবে নিজের মনে করে কাজ করা সকল কর্মকর্তা কর্মচারীদের ছাটাই এর অভিশাপ লেগেছে। ফ্যাক্টরি বন্ধ হয়ে যাওয়ার খবরটা আমাদের দক্ষিণ অঞ্চল অর্থাৎ বৃহত্তর বরিশাল বিভাগের জন্য একটা বড় ধরনের দুঃসংবাদ। এই ফ্যাক্টরিতে কাজ করে কয়েক হাজার লোকের রুজি রোজগারের মাধ্যম বন্ধ হয়ে যাচ্ছে বলে ফ্যাক্টরিতে কাজ করা সকল পুরাতন স্টাফ আন্তরিকভাবে দুঃখিত। তিনি আরো লিখেন একটি কমেন্টে সেটি হলো " মানুষের অভিশাপ লাগছে। সেনাবাহিনী থেকে বরখাস্ত হওয়া সিওও দিয়া ফস্টি নস্টি  করে এত বড় একটা ফ্যাক্টরি চালানো খুবই অসম্ভব। মো: মজিবুর রহমান খান ও আব্দুর রব শাহিন সাহেবদের হাতে তিল তিল করে গড়ে ওঠা দক্ষিণ অঞ্চলের স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠান অলিম্পিক সিমেন্ট ফ্যাক্টরি খাদের কিনারায় গিয়ে দাঁড়িয়েছে। ঐ যে একটা কথা বলে রানিং ফ্যাক্টরি বন্ধ হইত ও সময় লাগে। তাই ওনাদের রানিং ফ্যাক্টরির সেই রেস শেষ হয়ে গেছে।     আরও পড়ুন: এ্যাংকর সিমেন্টে ৪০ কোটি টাকার ভ্যাট ফাঁকির অভিযোগ : বন্ধ হতে যাচ্ছে এ্যাংকর সিমেন্ট ফ্যাক্টরী     সাবেক কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ক্ষোভ ইত্তেহাদ নিউজের পোস্টে করা উল্লেখযোগ্য  কমেন্ট প্রকাশ করা হলো-   সৈয়দ এমডি মহসিন নামে তিনি কমেন্ট করেছ তিনি কমেন্টে লিখেন, সিওওকে আটক করা হোক এবং ফারুকী কে। তিনি কমেন্ট আরো লিখেন,সবাই আওয়াজ তুলুন,পুরবে যারা পরিশ্রম করেছেন দয়া করে রাস্তায় নামুন, মিলটিকে রক্ষা করুন। এছাড়া সাংবাদিক জুয়েল সরকার কমেন্ট লিখেন,দুই নাম্বারি মাল কামানো ছাড়া কেউ নাম কামাইতে পারে নাই। সাইফুল ইসলাম নামে একজন উল্লেখ করেন,এই ফ্যাক্টরি সুষ্ঠু পরিচালনার জন্য যে সমস্ত যোগ্য পরিচালক বা‌ সিওওগণ ছিলেন তাদেরকে তো সরিয়ে দেওয়া হ‌ইছে। পাবেল মাহিম নামে একজন কমেন্টে উল্লেখ করেন- (১)আসলে বলতে অনেক কষ্ট লাগে কিন্তু এই দিনটা দেখার জন্য খুব অপেক্ষায় ছিলাম। অত্র এই প্রতিষ্ঠানে আমার বাবা আমার বড় ভাই এবং আমি নিজে শুনামের সাথে চেষ্টা করেছি চাকরি করার জন্য। কিন্তু কিছু দুষ্কৃতী চক্র মাহবুব , হেমায়েত উদ্দিন, আহসানুল্লাহ কাঠপট্টি অফিসের মাহবুবুর রহমান, এবং ফোরমান আয়নাল শেখ। এদের লক্ষ্য ছিল এই কোম্পানিকে ধ্বংস করা। এই কোম্পানির টাকা চুরি না করেও চুরির দায় নিয়ে পালিয়ে গিয়েছিল জানে আলম শুধু এই পাঁচটি লোকের কারণে কারণ জানে আলম চোর চিনে ফেলেছিল। তাই তাকে মিথ্যা ভাউচারে সই নিয়ে পালিয়ে যেতে বাধ্য করেছে।এই সিন্ডিকেটের হোতা মাহবুবকে নাকি কোম্পানির মাধ্যমে আবার হজেও পাঠাচ্ছে।এই কোম্পানি এখনো ঘুরে দাঁড়ানো সম্ভব একমাত্র শাহিন সাহেবকে দরকার। (২)এই কোম্পানির অধঃপতনের জন্য একমাত্র দায়ী সিওও।পূর্বে যখন শাহীন সাহেবের দায়িত্ব ছিল তখন কোম্পানিতে ৭০ থেকে ৮০ হাজার ব্যাগ উৎপাদ করার সক্ষমতা ছিল। শাহিন সাহেব যাওয়ার পরেই এই সিওওর নিয়োগ হয়। মজিবর সাহেবের তিলে তিলে গড়া ফ্যাক্টরি আস্তে আস্তে ধ্বংস হতে থাকে। এই কোম্পানিতে বর্তমানে যারা ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা আছেন সর্বনিম্ন ফোর মেন পর্যন্ত সব চোর কোম্পানিকে লুটেপুটে খাওয়াটাই তাদের মূল পেশা। পোড়া রোডের মাছ বিক্রেতা আয়নাল শেখ এংকর  সিমেন্ট এসে চাকরি করে আজ বাড়ি গাড়ির মালিক। সামান্য ওয়ার্কশপ ফোরম্যান যদি বাড়ি গাড়ির মালিক হয়। আমার মনে হয় অন্য কর্মকর্তারা বিদেশে বাড়ি করেছে। এছাড়া কামরুল ইসলাম নামে একজন লিখেছেন, আমি ও ৬০ হাজার টাকা পাবো অলিম্পক সিমেন্ট কোম্পানির কাছে  ।   আমি আল্লাহ্ কাছে বিচার দিয়েছি আমার কষ্টের টাকা । সাইফ সুমন নামে এক ব্যক্তি কমেন্ট করেছেন, " সবগুলা চোর, পিএস থেকে শুরু করে যে কয়টা আছে বড় দায়িত্বে।"  (১)" বর্তমানে যে কয়টা আছে সব বাটপার। যে কোম্পানির মালিককে বিয়ে করতে চায় তাকে দিয়ে কোম্পানির সকল দায়িত্ব পালন করায় মালিক তখন বুঝতে হবে এর মধ্যে সমস্যা আছে।" (২) এরা চোর ঠকবাজ কর্মচারী দের পাওনা টাকা মেরে এরা বড় হয়েছে এরা ওজনে কম দেয় সিমেন্টে নিম্ন মানের ম্যাটেরিয়ালস ব্যবহার করে। শত শত ডিলার এদের কাছে টাকা পাবে দাম বৃদ্ধির কথা বলে টাকা নিয়ে এখন সিমেন্ট দিচ্ছে না।   পাওনাদারদের অনিশ্চয়তা   ডিলার ও শ্রমিকদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি উদ্বেগ তৈরি হয়েছে পাওনা টাকা নিয়ে। অনেকেই দাবি করছেন, দাম বৃদ্ধির আশ্বাসে অগ্রিম অর্থ নেওয়া হলেও সময়মতো পণ্য সরবরাহ করা হয়নি। কেউ কেউ অভিযোগ করেছেন, বছরের পর বছর কাজ করেও এখন বেতন ও পাওনা বুঝে পাচ্ছেন না। এতে কয়েক হাজার মানুষের জীবিকা অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।   শিল্পখাতের জন্য সতর্কবার্তা   ব্যবসায়ীরা বলছেন, বরিশাল অঞ্চলে বড় শিল্পপ্রতিষ্ঠানের সংখ্যা সীমিত। এ্যাংকর সিমেন্ট পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেলে শুধু শ্রমিক নয়, পরিবহন, সরবরাহ ও স্থানীয় ব্যবসায়ও বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে। বিশ্লেষকদের মতে, শিল্পপ্রতিষ্ঠান পরিচালনায় স্বচ্ছতা, আর্থিক জবাবদিহি এবং দক্ষ ব্যবস্থাপনার অভাব থাকলে এমন সংকট আরও বাড়তে পারে। এখন পরিস্থিতি সামাল দিতে দ্রুত প্রশাসনিক ও আর্থিক পুনর্গঠনের উদ্যোগ প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।   বরিশালে এ্যাংকর সিমেন্টে ধস: হাজারো শ্রমিকের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত ভ্যাট ফাঁকি ও ঋণচাপে বন্ধের পথে এ্যাংকর সিমেন্ট! পাওনাদারদের ভিড়ে অচল এ্যাংকর সিমেন্ট কারখানা বেতন বন্ধ, উৎপাদন বন্ধ: কী হচ্ছে এ্যাংকর সিমেন্টে? দক্ষিণাঞ্চলের শিল্পখাতে বড় ধাক্কা, সংকটে এ্যাংকর সিমেন্ট ৮০ হাজার টন ক্লিংকার উধাও? এ্যাংকর সিমেন্ট ঘিরে চাঞ্চল্য অলিম্পিক সিমেন্টে আর্থিক বিপর্যয়, উদ্বিগ্ন ব্যাংক ও শ্রমিকরা ‘দুর্নীতি ও অব্যবস্থাপনায় ধ্বংস’— এ্যাংকর সিমেন্ট নিয়ে বিস্ফোরক অভিযোগ ডিলারদের কোটি কোটি টাকা আটকে, বন্ধের মুখে এ্যাংকর সিমেন্ট বরিশালের বৃহৎ শিল্পপ্রতিষ্ঠানে সংকট, তদন্ত দাবি বিভিন্ন মহলের আগামী পর্বে থাকছে ------ ▪️অযোগ্য কর্মকর্তা ও কর্মচারী নিয়োগ নেপথ্যে করপোরেটে নিলা ও ফ্যক্টরীতে শাহেদ উদ্দিন।  ▪️ধ্বংসের দ্বার প্রান্তে অলিম্পিক সিমেন্ট, অলিম্পিক ফাইবার,অলিম্পিক শিপিং লাইনস লিমিটেড।  ▪️সহায় -সম্পত্তি জামানতের চেয়ে ব্যাংক ঋন পরিমান কত?।  ▪️কোম্পানী ধ্বংসের কারিগর  এমডি,ডিরেক্টর,এমডির পিস,ডিরেক্টরের পিএস,সিওও,সিএমও,ভ্যাট কর্মকর্তাসহ একাধিক কর্মকর্তা। ▪️অলিম্পিক সিমেন্ট লিমিটেড থেকে অনিয়ম, দুর্নীতির মাধ্যমে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনসহ টাকার পাহাড় গড়েছেন ব্যবস্থাপনা পরিচালকের পিএস নিলুফা ,পরিচালকের পিএস জুয়েল ইসলাম,মার্কেটিং প্রধান ইমাম ফারুকী,সেলস মার্কেটিং ম্যানেজার মেহেদী হাসান,ভ্যাট ব্যবস্থাপক মোস্তফা ও রিয়াজসহ একাধিক কর্মকর্তারা। এসব কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে  ব্যবস্থাপনা পরিচালককে অর্থ আত্মসাতে সহায়তাসহ বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতি করেছেন।   ইত্তেহাদ নিউজ মানে সব সময় আপডেট খবর। বিস্তারিত জানতে চোখ রাখুন ইত্তেহাদ নিউজে।সাথেই থাকুন :   https://etihad.news

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ১৩, ২০২৬ 0
কেএমসি হাসপাতাল
বরিশালে কেএমসি হাসপাতালে বিশ্ব সেবিকা দিবস উদযাপন

বরিশাল অফিস :  ১২ মে ২০২৬, মঙ্গলবার বিশ্বব্যাপী পালিত হলো আন্তর্জাতিক সেবিকা দিবস বা “নার্স ডে”। এ উপলক্ষে বরিশালের কেএমসি হসপিটাল-এ দিনব্যাপী নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে উদযাপন করা হয় এই বিশেষ দিনটি। হাসপাতালের নার্সিং স্টাফদের আন্তরিক সেবা, মানবিকতা ও পেশাদারিত্বের প্রতি সম্মান জানাতে আয়োজিত অনুষ্ঠানে ছিল আনন্দঘন পরিবেশ, শুভেচ্ছা বিনিময় এবং সম্মাননা প্রদান। সকালের শুরুতেই হাসপাতাল প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত হয় এক সংক্ষিপ্ত আলোচনা সভা। এতে হাসপাতালের ব্যবস্তাটনা পরিচালক,ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, চিকিৎসক, নার্স ও অন্যান্য কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। বক্তারা বলেন, একজন নার্স কেবল চিকিৎসা সহকারী নন, বরং একজন রোগীর সুস্থতার পেছনে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অনুপ্রেরণা ও সাহসের প্রতীক। রোগীর প্রতি ভালোবাসা, ধৈর্য ও নিরলস সেবার মাধ্যমে নার্সরা প্রতিদিন মানবতার এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করছেন। অনুষ্ঠানে নার্সদের ফুলেল শুভেচ্ছা ও সম্মাননা স্মারক প্রদান করা হয়। পাশাপাশি কেক কাটা, সাংস্কৃতিক পরিবেশনা ও দলীয় ছবি তোলার মধ্য দিয়ে দিনটির আনন্দ আরও বাড়িয়ে তোলা হয়। উপস্থিত নার্সরা জানান, এমন আয়োজন তাদের কাজের প্রতি নতুন উৎসাহ ও অনুপ্রেরণা জোগায়। কেএমসি হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক রুহুল আমিন রুবেল বলেন, স্বাস্থ্যসেবার মান উন্নয়নে নার্সদের অবদান অপরিসীম। তাদের নিষ্ঠা, মমতা ও দায়িত্ববোধের কারণেই রোগীরা সঠিক সেবা ও মানসিক সাহস পেয়ে থাকেন। তাই বিশ্ব সেবিকা দিবস শুধু একটি আনুষ্ঠানিকতা নয়, বরং মানবসেবায় নিয়োজিত এই যোদ্ধাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশের একটি বিশেষ দিন। দিনব্যাপী উৎসবমুখর পরিবেশে উদযাপিত এই আয়োজন হাসপাতালের সকল কর্মীদের মাঝে সৌহার্দ্য ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ আরও দৃঢ় করেছে। বিশ্ব সেবিকা দিবস উপলক্ষে কেএমসি হসপিটালের এই উদ্যোগ উপস্থিত সকলের কাছে হয়ে ওঠে এক স্মরণীয় ও আবেগঘন মুহূর্ত।

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ১২, ২০২৬ 0
‘হোটেল নছিব’।
বরিশালে আবাসিক হোটেলে নারীর সঙ্গে সময় কাটাতে গিয়ে যুবকের মৃত্যু, আটক ৩

বরিশাল অফিস :    বরিশাল নগরীর একটি আবাসিক হোটেলে এক নারীর সঙ্গে সময় কাটাতে গিয়ে সুজন দালাল (৩০) নামে দুই সন্তানের এক জনকের মৃত্যু হয়েছে। অতিরিক্ত মাত্রায় যৌনউত্তেজক ওষুধ সেবনের কারণে তিনি অসুস্থ হয়ে মারা যেতে পারেন বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে পুলিশ। এ ঘটনায় এক নারীসহ তিনজনকে আটক করা হয়েছে। পুলিশ ও পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য অনুযায়ী, শনিবার (৯ মে) মধ্যরাতে বন্ধু মারুফ আকনের সঙ্গে বরিশাল নগরীর চকবাজার এলাকার বিউটি রোডের ‘হোটেল নছিব’-এ যান সুজন দালাল। পরে তিনি এক নারীর সঙ্গে সময় কাটানোর জন্য একটি কক্ষে প্রবেশ করেন। কিছু সময় পর সুজন তার বন্ধু মারুফকে ফোন করে অসুস্থতার কথা জানান। পরে মারুফ তাকে উদ্ধার করে দ্রুত বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে দায়িত্বরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। নিহত সুজন দালাল বরিশাল সদর উপজেলার চন্দ্রমোহন ইউনিয়নের ভেদুরিয়া গ্রামের বাসিন্দা। তিনি পেশায় বাল্কহেড কর্মচারী ছিলেন এবং দুই সন্তানের জনক। খবর পেয়ে রোববার (১০ মে) সকালে কোতোয়ালি মডেল থানা পুলিশ হাসপাতাল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠায়। এ ঘটনায় জড়িত থাকার সন্দেহে নিহতের বন্ধু মারুফ, হোটেল ম্যানেজার জাকির এবং লিমা নামে এক নারীকে আটক করেছে পুলিশ। নিহতের বড় ভাই রুবেল দালালের অভিযোগ, সুজনকে পরিকল্পিতভাবে নেশাজাতীয় বা অতিরিক্ত মাত্রার যৌনউত্তেজক কিছু খাইয়ে হত্যা করা হয়েছে। এ ঘটনায় তিনি বাদী হয়ে থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। পরে আটক তিনজনকে ওই মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়। বরিশাল কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আল মামুন উল ইসলাম বলেন, সুজনের মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কারণ এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তিনি বলেন, “ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে। সেই অনুযায়ী পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ১১, ২০২৬ 0
বিদেশে অর্থ পাচার
পাচারকৃত সম্পদ উদ্ধারে উদ্যোগ গ্রহণ

বরিশাল অফিস :     বরিশালের অলিম্পিক সিমেন্ট লিমিটেডের চেয়ারম্যান জুলিয়া রহমানের বিরুদ্ধে অর্থপাচার, মানি লন্ডারিং,বিদেশে নাগরিত্ব গ্রহন,ব্যাংক থেকে ঋন নিয়ে দুবাইতে ব্যবসা,আমেরিকা ও লন্ডনে দোকান,ফ্লাট,বাড়ি ডুপ্লেক্স বাড়ি বানানোর অভিযোগ রয়েছে। তানভির আহমেদ নামে এক ব্যক্তির লিখিত অভিযোগে জানাগেছে, সম্প্রতি অলিম্পিক সিমেন্ট লিমিটেডের চেয়ারম্যানকে দুর্নীতি দমন কমিশন নোটিশ প্রদান করেছেন সম্পদ বিবরনীর তথ্য চেয়ে। বিদেশে অর্থ পাচারকারী অলিম্পিক সিমেন্ট লিমিটেড বিদেশে পাচার করা অর্থ ফেরত আনতে ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর মাসে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের নেতৃদ্বে সরকারি ১১ সংস্থার নেতৃত্বে একটি টাস্কফোর্স গঠিত হয়েছিল। বিদেশে অর্থ পাচারকারী শিল্পগ্রুপের মধ্যে খান সন্স গ্রুপের সহযোগী প্রতিষ্ঠান অলিম্পিক সিমেন্ট লিমিটেডের নাম সর্বাগ্রে চলে আসে। অর্থ পাচারকারীদের মধ্যে জুলিয়া রহমানের নামও বাংলাদেশ ব্যাংকের তৎকালীন গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর জানিয়েছিলেন,শুধু ব্যাংক খাত থেকে গত ১৫ বছরে ১৬ দশমিক ৭ বিলিয়ন ডলার; অর্থাৎ ২ লাখ কোটি টাকা পাচার করা হয়েছে।  ধনকুবেররা এ পাচারকাণ্ডে জড়িত। এছাড়া দেশের অর্থনীতির ওপর শ্বেতপত্র তৈরির জন্য গঠিত কমিটির চূড়ান্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, ১৫ বছরে পাচার হয়েছে ২৩৪ বিলিয়ন ডলার, অর্থাৎ ২৮ লাখ কোটি টাকা। এই অর্থ পাচারকারীদের মধ্যে রয়েছেন অলিম্পিক সিমেন্ট লিমিটেডের চেয়ারম্যান জুলিয়া রহমানের নামও। ২০২৪ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে বিদেশে পাচার করা সম্পদ বাংলাদেশে ফেরত আনা ও ব্যবস্থাপনার লক্ষ্যে একটি উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন আন্তঃসংস্থা টাস্কফোর্স গঠন করে। বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরকে সভাপতি করে গঠিত টাস্কফোর্সের সদস্য সচিব হলেন বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের (বিএফআইইউ) একজন প্রতিনিধি। এছাড়া স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগ, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ, আইন মন্ত্রণালয়ের আইন ও বিচার বিভাগ, দুর্নীতি দমন কমিশন, পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি), অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয়, কাস্টম গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর, এনবিআর-এর সেন্ট্রাল ইন্টিলিজেন্স সেলের (সিআইসি) একজন করে প্রতিনিধি টাস্কফোর্সের সদস্য হিসাবে কাজ করছেন। টাস্কফোর্সের কার্যপরিধির মধ্যে রয়েছে বাংলাদেশ থেকে পাচারকৃত অর্থ বা সম্পদ চিহ্নিত করা ও তদন্তে সংশ্লিষ্ট পক্ষকে সহযোগিতা দেওয়া, পাচারকৃত সম্পদ উদ্ধারে দায়ের করা মামলাগুলোর কার্যক্রম দ্রুত শেষ করার ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধকতা চিহ্নিত করা ও তা দূর করার উদ্যোগ গ্রহণ, বিদেশে পাচারকৃত সম্পদ বাংলাদেশে ফেরত আনার উদ্যোগ গ্রহণ, জব্দ বা উদ্ধারকৃত সম্পদের ব্যবস্থাপনার জন্য প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া, এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট দেশ, বিদেশি সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগ, তথ্য সংগ্রহ এবং পাচারকৃত সম্পদ উদ্ধারে সংশ্লিষ্ট পক্ষের সক্ষমতা বৃদ্ধি ও অভ্যন্তরীণ সমন্বয় করা। টাস্কফোর্স প্রয়োজনে কোনো সদস্য কো-অপ্ট করতে পারবে এবং কোনো দেশি-বিদেশি সংস্থার প্রতিনিধি বা বিশেষজ্ঞকে সভায় উপস্থিত হওয়াসহ বিশেষজ্ঞ মতামত/পরামর্শ প্রদানের অনুরোধ করতে পারবে। অর্থ পাচারকারী হিসাবে বরিশালের অলিম্পিক সিমেন্ট চিহ্নিত জানা যায়, সন্দেহভাজন মোটা অঙ্কের অর্থ পাচারকারী হিসাবে টাস্কফোর্স সদস্যরা প্রাথমিকভাবে ১০/১২টি শিল্প গ্রুপ ও একক ব্যক্তি হিসাবে সাবেক একজন সাবেক মন্ত্রীকে চিহ্নিত করেছে। তালিকার আছে ব্যাংকখেকো হিসাবে আলোচিত নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগ সরকারের ক্ষমতার কেন্দ্রের ছায়ায় থাকা এস আলম গ্রুপ, এস আলমের আশীর্বাদপুষ্ট রাজশাহীর নাবিল গ্রুপ, ফ্যাসিস্ট  শেখ হাসিনার বেসরকারি শিল্প ও বাণিজ্যবিষয়ক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমানের মালিকানাধীন বেক্সিমকো গ্রুপ, ব্যাংক মালিকদের সংগঠনের  নেতা নজরুল ইসলাম মজুমদারের নাসা গ্রুপ, প্রয়াত কাজী সাহেদের জেমকন গ্রুপ, শিকদার গ্রুপ, বিদ্যুৎ খাতের সবচেয়ে বড় লোপাটকারী সামিট গ্রুপ,বরিশালের অলিম্পিক সিমেন্ট লিমিটেড এবং ওরিয়ন গ্রুপ। জুলিয়া রহমানকে দুদকের নোটিশ প্রদান অলিম্পিক সিমেন্ট লিমিটেড এর একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন,সম্প্রতি অলিম্পিক সিমেন্ট লিমিটেড এর চেয়ারম্যানকে দুদক নোটিশ প্রদান করেছে সম্পদ বিবরনীর তথ্য চেয়ে।নোটিশে দেশ ও বিদেশে স্থাবর অস্থাবর সম্পত্তি নগদ অর্থসহ সহায় সম্পদের হিসেব দিতে বলেছে।এছাড়া নিজের, সন্তান ও  নির্ভরশীলদের নামে থাকা স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তির হিসাব, আয়কর রিটার্ন, ও ব্যাংক স্টেটমেন্ট দাখিল করতে বলা হয়েছে। অবৈধ সম্পদ,অর্থ পাচার ও মানিলন্ডারিংয়ের প্রমাণ পাওয়ায়  দুদক থেকে পাঠানো এক নোটিশে সম্পদের হিসাব দাখিল করতে বলা হয়।  অর্থ পাচার ও মানিলন্ডারিং এবং জ্ঞাত আয়বহির্ভুত সম্পদ অর্জন দুদকের সূত্র বিষয়টি নিশ্চিত করে জানায়, দুদকের অনুসন্ধানে অঢেল সম্পদ অর্জন,হুন্ডির মাধ্যমে অর্থ পাচার ও মানিলন্ডারিং এবং জ্ঞাত আয়বহির্ভুত সম্পদ অর্জনের সত্যতা পাওয়ায় এ নোটিশ দেওয়া হয়েছে। তার বিরুদ্ধে  শত কোটি টাকা পাচার ও  অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ রয়েছে। ২০২৪ সাল থেকে অনুসন্ধানে নামে দুদক। সম্পদের নোটিশে বলা হয়, প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে প্রাথমিক অনুসন্ধান করে কমিশনের স্থির বিশ্বাস জন্মেছে যে, জ্ঞাত আয় বহির্ভূত স্বনামে/বেনামে বিপুল পরিমাণ সম্পদ/সম্পত্তির মালিক হয়েছেন । এছাড়া বিদেশে অর্থ পাচার ও মানিলন্ডারিংয়ের অভিযোগ রয়েছে জুলিয়া রহমানের বিরুদ্ধে।  তাই নোটিশে জুলিয়া রহমান,তার তিন সন্তান, নিজের, নির্ভরশীল ব্যক্তিবর্গের যাবতীয় স্থাবর/অস্থাবর সম্পত্তি, দায়-দেনা, আয়ের উৎস ও তা অর্জনের বিস্তারিত বিবরণ নির্ধারিত ফরমে দাখিল করতে বলা হয়েছে। লিখিত অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, বরিশালের অলিম্পিক সিমেন্ট লিমিটেডের চেয়ারম্যান জুলিয়া রহমান বারমুডা থেকে নির্দিষ্ট পরিমান অর্থ দিয়ে তার মেয়েসহ নাগরিত্ব গ্রহন করেছেন।।  বিদেশে যেভাবে অর্থ পাচার : বরিশালের অলিম্পিক সিমেন্ট লিমিটেডের চেয়ারম্যান জুলিয়া রহমান ও তার সন্তান অলিম্পিক সিমেন্ট লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সিমেন্ট বানানোর উপাদান ক্লিংকার,লাইমস্টোন,স্লাগ,জিপসাম আমদানীর নামে ব্যাংকে এলসি ভ্যালু বাড়িয়ে আন্ডার ইন ভয়েসের মাধ্যমে ও হুন্ডির মাধ্যমে অর্থ পাচার করে দুবাইতে ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান,যুক্তরাজ্যে ডুপ্লেক্স বাড়ি ও ফ্লাট,আমেরিকায় বাড়ি ক্রয় করেছেন। দুবাই,আমেরিকা ও লন্ডনে দোকান ,বাড়ি ও ফ্লাট ক্রয় দুদকের এক কর্মকর্তা জানান,কিভাবে দুবাই,আমেরিকা ও লন্ডনে দোকান ,বাড়ি ও ফ্লাট ক্রয় করেছেন তার হিসেব   জানতে চাওয়া হয়েছে। কোন প্রক্রিয়ায় বাংলাদেশ থেকে বিদেশে অর্থ গেল। কত টাকা বৈধ ভাবে এবং কত টাকা অবৈধভাপে পাচার করা হয়েছে তার অনসন্ধান করে দুদক প্রাথমিক ভাবে নিশ্চিত হয়েছে যে তারা অবৈধ ভাবে টাকা পাচার করেছে। অলিম্পিক সিমেন্ট লিমিটেডের কর্পোরেট অফিসের এক কর্মকর্তা জানান,দুদকের জাল থেকে বের হওয়াটা সহজ হবেনা।তিনি আশ্চর্য হয়ে বলেন একটি চলমান লাভজনক প্রতিষ্ঠান কিভাবে ধুকে ধুকে বন্ধের পথে যাচ্ছে তা ভাবা মাত্র শরীর শিউরে উঠে। ব্যাংক লোন দিতে নাজেহাল অবস্থা অলিম্পিক সিমেন্ট লিমিটেড ও অলিম্পিক ফাইবার লিমিটেডের কাছে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসির প্রায় ৬ শত কোটির বেশী টাকা পাওনা রয়েছে। এ ছাড়া এ দুটি প্রতিষ্ঠানের কাছে মার্কেন্টাইল ব্যাংক,ন্যাশনাল ব্যাংক,উত্তরা ব্যাংক ও এনসিসি ব্যাংকের পাওনা রয়েছে আরো শত কোটি টাকা। অলিম্পিক ফাইবার এক মাস যাবৎ বন্ধ ব্যাংকগুলোতে ঋনের কিস্তি দিতে হিমশিম খাচ্ছে অলিম্পিক সিমেন্ট লিমিটেড। ইতিমধ্যে অলিম্পিক ফাইবার লিমিটেড প্রায় এক মাস যাবৎ বন্ধ রয়েছে। যেকোন মুহুর্তে বন্ধ হয়ে যেতে পারে অলিম্পিক সিমেন্ট লিমিটেডের এ্যাংকর সিমেন্ট ফ্যাক্টরী। বিদ্যুৎ বিল বকেয়া রয়েছে প্রায় ৩ কোটি টাকা। এছাড়া কর্মকর্তাদের বেতন বকেয়া রয়েছে ঈদুল ফিতরের বোনাসসহ দু মাসের বেতন বকেয়া রয়েছে।  সূত্রের দাবি, সরকারের শীর্ষ পর্যায়ের নির্দেশনা অনুযায়ী আয়কর ও ট্যাক্স ফাঁকির পাশাপাশি অর্থপাচারকারীদের বিরুদ্ধে  দুর্নীতি দমন কমিশন মানি লন্ডারিং সংক্রান্ত মামলার কাজ শুরু করেছে। ইতোমধ্যে বেশ কয়েকজনের বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জন ও অর্থপাচারের অভিযোগে মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন। এছাড়া পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগও (সিআইডি) তাদের বিষয়ে তদন্ত করছে। পাচার হওয়া অর্থ ফেরত আনা সম্ভব:টিআইবি টাকা পাচার প্রসঙ্গে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, ‘রাষ্ট্রীয় কাঠামো ব্যবহার করে সরকারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ প্রভাবশালীরা ব্যাংক খাত ও বাণিজ্যের আড়ালে প্রতিবছর ১২ থেকে ১৫ বিলিয়ন ডলার পাচার করেছে। যে দেশে অর্থ পাচার করা হয়েছে, সেই দেশের সঙ্গে আইনি চুক্তি ও সমঝোতার মাধ্যমে ফিরিয়ে আনার পদক্ষেপ নিতে হবে। পাচার হওয়া অর্থ ফেরত আনা সম্ভব।   তিনি বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের দেশগুলোয় পাচার হওয়া অর্থ ফেরাতে ইতোমধ্যে কাজ শুরু হয়েছে। এর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের সঙ্গে বৈঠক করেছে সরকার। দুই বছরের মধ্যে যদি কোনো টাকা ফেরত আসে, তাহলে সেটাও বড় অর্জন হবে।’ খোঁজ নিয়ে জানা যায়, পাচার হওয়া অর্থ ফেরত আনার ক্ষেত্রে বাংলাদেশে এখন পর্যন্ত একটি দৃষ্টান্ত আছে। ২০০৭ সালে পাচার হওয়া অর্থ ফেরতের উদ্যোগ নেয় দুদক। পারস্পরিক আইনি সহায়তার মাধ্যমে ২০১৩ সালে সিঙ্গাপুর থেকে ৯ দশমিক ৩ বিলিয়ন বা ৯৩০ কোটি ডলার ফেরত আনা সম্ভব হয়েছিল। এ ব্যাপারে অলিম্পিক সিমেন্ট লিমিটেডের চেয়ারম্যান জুলিয়া রহমান, ব্যবস্থাপনা পরিচালক আনিকা রহমান,পিএস নিলুফা ইসলাম, পিএস জুয়েল ইসলামের সাথে যোগাযোগের জন্য কল দেয়া হলেও বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি কল রিসিভ না করার কারনে। দুর্নীতি ও অর্থ-আত্মসাতে আরো যারা জড়িত এদিকে  অলিম্পিক সিমেন্ট লিমিটেড থেকে অনিয়ম, দুর্নীতির মাধ্যমে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনসহ টাকার পাহাড় গড়েছেন ব্যবস্থাপনা পরিচালকের পিএস নিলুফা ,পরিচালকের পিএস জুয়েল ইসলাম,মার্কেটিং প্রধান ইমাম ফারুকী,সেলস মার্কেটিং ম্যানেজার মেহেদী হাসান,ভ্যাট ব্যবস্থাপক মোস্তফা ও রিয়াজসহ একাধিক কর্মকর্তারা। এসব কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে  ব্যবস্থাপনা পরিচালককে অর্থ আত্মসাতে সহায়তাসহ বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতি করেছেন। এদের বিরুদ্ধে অনুসন্ধানী সংবাদ প্রকাশিত হবে শিঘ্রই। চোখ রাখুন ইত্তেহাদ নিউজে......  

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ১৫, ২০২৬ 0
ঝালকাঠিতে ডা. অসীম কুমার সাহার ভুল চিকিৎসায় শিশুমৃত্যু: তদন্তের দাবি
ঝালকাঠিতে ডা. অসীম কুমার সাহার ভুল চিকিৎসায় শিশুমৃত্যু: তদন্তের দাবি

বরিশাল অফিস :    ঝালকাঠিতে এক শিশু বিশেষজ্ঞের বিরুদ্ধে ভুল চিকিৎসার অভিযোগ তুলে একটি নিষ্পাপ শিশুর মৃত্যুর দাবি করেছে তার পরিবার। ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে এবং স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। পরিবারের অভিযোগ, চিকিৎসক ডা. অসীম কুমার সাহার দেওয়া চিকিৎসার পর শিশুটির শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে এবং পরবর্তীতে তার মৃত্যু হয়। যদিও এই ধরনের অভিযোগ নতুন নয় বলে দাবি করছেন স্থানীয় অনেকেই। তাদের মতে, অতীতেও একাধিকবার এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটেছে। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, ঝালকাঠি ও নলছিটি এলাকায় শিশু বিশেষজ্ঞের অভাব থাকায় অনেকেই বাধ্য হয়ে ওই চিকিৎসকের শরণাপন্ন হন। তবে তার আচরণ, রোগীর কথা মনোযোগ দিয়ে না শোনা এবং যথাযথ পরীক্ষা-নিরীক্ষা ছাড়া ওষুধ দেওয়ার অভিযোগ দীর্ঘদিনের। আরও পড়ুন: ঝালকাঠিতে ডাঃ অসীম কুমার সাহার ভুল চিকিৎসায় শিশুর মৃত্যুর অভিযোগ   এক অভিভাবক জানান, তার নিজের সন্তানও একবার ওই চিকিৎসকের দেওয়া ওষুধ সেবনের পর আরও অসুস্থ হয়ে পড়ে। একই ধরনের অভিজ্ঞতার কথা আরও অনেকেই জানিয়েছেন। এদিকে  প্রকাশিত একটি সংবাদ প্রতিবেদনেও শিশুটির মৃত্যুর বিষয়টি সামনে আসে, যা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও স্থানীয় গণমাধ্যমে ব্যাপক প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করে। তবে অভিযোগকারীদের দাবি, এতকিছুর পরও সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকের বিরুদ্ধে কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। স্থানীয়দের দাবি, ঘটনাটির সুষ্ঠু তদন্ত করে সত্যতা যাচাই করা হোক এবং যদি অভিযোগ প্রমাণিত হয়, তবে দায়ীদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হোক। তারা মনে করেন, চিকিৎসকের দায়িত্ব রোগীর জীবন রক্ষা করা—অবহেলার কারণে তা বিপন্ন করা নয়। এ বিষয়ে প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন ভুক্তভোগী পরিবারসহ সচেতন মহল। তারা দ্রুত তদন্ত ও বিচার প্রক্রিয়া শুরু করার আহ্বান জানিয়েছেন।

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ৬, ২০২৬ 0
সাবমেরিন ক্যাবল
বরিশালের চন্দ্রমোহনে সাবমেরিন ক্যাবল চুরির অভিযোগ

 বরিশাল অফিস :   বরিশালের সদর উপজেলার ১০নং চন্দ্রমোহন ইউনিয়নে সরকারি সাবমেরিন ক্যাবল চুরিকে কেন্দ্র করে একটি সংঘবদ্ধ চক্রের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য শাহ আলম চুন্নুর নেতৃত্বে একটি সিন্ডিকেট দীর্ঘদিন ধরে এই অবৈধ কর্মকাণ্ড পরিচালনা করছে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সরকারি সম্পদ চুরির মাধ্যমে অর্জিত অর্থে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা অল্প সময়েই বিপুল সম্পদের মালিক হয়েছেন। অভিযোগ রয়েছে, ইউপি সদস্য শাহ আলম চুন্নুর পাশাপাশি তার পরিবারের সদস্য ও ঘনিষ্ঠরা এই অর্থনৈতিক সুবিধার অংশীদার হয়েছেন। অভিযোগে আরও বলা হয়, এই চক্রের সঙ্গে ইউনিয়নের অন্তত দুইটি গ্রামের কিছু অংশ জড়িত রয়েছে। দিনের পর দিন মাটির নিচে ও পানির নিচ থেকে ক্যাবল কেটে বিক্রি করা হলেও কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি বলে দাবি স্থানীয়দের। একই সঙ্গে স্থানীয়দের অভিযোগ, বন্দর থানা পুলিশকে বিষয়টি জানানো হলেও কার্যকর অভিযান না থাকায় চক্রটি আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। যদিও পুলিশ এসব অভিযোগ অস্বীকার করেনি, তবে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। গত বছর ক্যাবল চুরির ঘটনায় একটি মামলা (মামলা নং-৪, জিআর ১৪৬/২০২৬) দায়ের করা হয়, যেখানে দণ্ডবিধির ৩৭৯/৪১১/৩৪ ধারায় অভিযোগ আনা হয়। তবে স্থানীয়দের দাবি, মামলার অগ্রগতি ধীর এবং বেশিরভাগ আসামি এখনো গ্রেপ্তার হয়নি। এদিকে অভিযোগ রয়েছে, মামলার কয়েকজন আসামি বর্তমানে এলাকায় প্রভাবশালী অবস্থানে রয়েছেন এবং বিভিন্ন ব্যবসা-বাণিজ্যের সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন।  স্থানীয়দের মধ্যে চরম উদ্বেগ বিরাজ করছে। তাদের দাবি, দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে পুরো চক্রকে চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনা উচিত।  

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ৪, ২০২৬ 0
বরিশালের চকবাজারে পার্টনারশিপ বিরোধ
বরিশালের চকবাজারে পার্টনারশিপ বিরোধ: দোকান দখল, হামলা ও ৬ লাখ টাকার মালামাল লুটের অভিযোগে মামলা

বরিশাল অফিস :   বরিশাল নগরীর চকবাজার এলাকায় পারিবারিক অংশীদারিত্বে গড়ে ওঠা একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানকে ঘিরে বিরোধ সহিংস রূপ নিয়েছে। চুক্তি লঙ্ঘন, দোকানের তালা ভেঙে মালামাল সরিয়ে নেওয়া এবং পরবর্তীতে হামলার অভিযোগে একটি মামলা দায়ের হয়েছে, যার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন একই পরিবারের সদস্যরা। কী ঘটেছে মামলার এজাহার অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ২৩ ও ২৫ এপ্রিল নগরীর ৯ নম্বর ওয়ার্ডের জাহান মার্কেটের নিচতলায় দুই দফায় এ ঘটনা ঘটে। অভিযোগকারী ব্যবসায়ী সাহনাজ আক্তার শশী (৪৮) দাবি করেন, অংশীদার রাবেয়া আফরিন কান্তা পূর্ব চুক্তির শর্ত ভঙ্গ করে একতরফাভাবে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা করেন। এ ঘটনায় সোমবার (২৭ এপ্রিল) বরিশাল কোতোয়ালী মডেল থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। অভিযুক্তরা কারা মামলায় প্রধান আসামি করা হয়েছে রাবেয়া আফরিন কান্তা (৩৬)-কে। এছাড়া তার স্বামী মো. আরিফুর রহমান (৩৫), ভাই সাফায়েত (৩৩), বাবা কালাম ফকির (৬০) এবং অজ্ঞাতনামা আরও ২–৩ জনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। পুলিশ সূত্রে জানা যায়, অভিযুক্তদের বসবাস বরিশাল নগরীর বিভিন্ন এলাকায় এবং পার্শ্ববর্তী বাবুগঞ্জ উপজেলায়। উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো—বাদী ও প্রধান আসামি নিকট আত্মীয়। ব্যবসায়িক চুক্তি: কোথায় দ্বন্দ্ব নোটারি সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছরের ২৬ জানুয়ারি তিনজন অংশীদারের মধ্যে একটি লিখিত চুক্তি হয়। চুক্তি অনুযায়ী: ব্যবসার নাম হবে ‘মুসকান ফ্যাশন’ দোকানের ভাড়ার চুক্তিপত্র থাকবে রাবেয়া আফরিন কান্তার নামে মোট পাঁচটি শর্ত নির্ধারণ করা হয় ডেকোরেশন সংক্রান্ত বিনিয়োগের কোনো আর্থিক মূল্য নির্ধারণ করা হবে না অভিযোগ অনুযায়ী, পরবর্তীতে কান্তা এই শর্ত অমান্য করে দোকানের নাম পরিবর্তন করে ‘সুন্দরী বিডি’ রাখেন। অভিযোগ: তালা ভেঙে মালামাল সরানো বাদীর দাবি, ২৩ এপ্রিল দুপুরে দোকানের তালা ভেঙে প্রায় ৬ লাখ ২০ হাজার টাকার মালামাল সরিয়ে নেওয়া হয়। পরে ২৫ এপ্রিল তিনি ও তার সহযোগীরা বিষয়টি জানতে চাইলে তাদের ওপর হামলা চালানো হয়। হামলা ও আহত এ ঘটনায় অন্তত চারজন আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে রয়েছেন: সাহনাজ আক্তার শশী রায়হান মল্লিক ওরফে রাব্বি (৩৮) রায়হান রানা (৩৫) সুজন সরদার (৩৮) স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে বরিশাল শেবাচিম হাসপাতালে ভর্তি করেন। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, বাদী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন, অন্যরা প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে ছাড়া পেয়েছেন। আইনি প্রক্রিয়া ও প্রশ্ন মামলাটি এখন তদন্তাধীন। তবে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন সামনে এসেছে: পার্টনারশিপ চুক্তির শর্ত বাস্তবায়নে তদারকি কতটা ছিল? দোকানের নিয়ন্ত্রণ ও মালিকানা নিয়ে আগেই কি বিরোধের ইঙ্গিত ছিল? তালা ভাঙা ও নাম পরিবর্তনের সময় স্থানীয় প্রশাসনের ভূমিকা কী ছিল? বৃহত্তর প্রেক্ষাপট ব্যবসায়িক অংশীদারিত্বে পারিবারিক সম্পর্ক জড়িত থাকলে দ্বন্দ্ব জটিল হয়ে ওঠে—এমন মন্তব্য করেছেন স্থানীয় ব্যবসায়ী মহল। তাদের মতে, লিখিত চুক্তি থাকলেও প্রয়োগ ও আস্থার ঘাটতি থাকলে সংঘাতের ঝুঁকি থেকেই যায়। ঘটনার তদন্ত ও আইনি অগ্রগতির ওপর নির্ভর করছে—এটি নিছক পারিবারিক বিরোধ, নাকি পরিকল্পিতভাবে ব্যবসা দখলের চেষ্টা। স্থানীয় ব্যবসায়ী ও বাসিন্দারা এখন সেই উত্তর অপেক্ষায়।

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ২৯, ২০২৬ 0
হাতের টানেই উঠছে সড়কের পিচ
মুলাদীতে শিশুদের টানেই উঠে যাচ্ছে সড়কের পিচ, নিম্নমানের কাজের অভিযোগে সংস্কার বন্ধ

বরিশাল অফিস :    বরিশালের মুলাদী উপজেলায় সড়ক সংস্কার কাজ ঘিরে নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রীর অভিযোগে স্থানীয়দের বিক্ষোভের মুখে কাজ বন্ধ হয়ে গেছে। বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) দুপুরে এ ঘটনা ঘটে। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, সড়ক নির্মাণে নিম্নমানের ইট, অপর্যাপ্ত বিটুমিন এবং প্রয়োজনীয় প্রাইম কোট ব্যবহার না করায় পিচ সহজেই উঠে যাচ্ছে—এমনকি শিশুদের হাতের টানেই তা আলগা হয়ে পড়ছে। স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) সূত্র জানায়, প্রায় চার কোটি টাকা ব্যয়ে মুলাদী পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডের তেরচর পাইতিখোলা খেয়াঘাট থেকে সদর ইউনিয়নের কুতুবপুর বাজার পর্যন্ত প্রায় ২ হাজার ৪০০ মিটার সড়ক সংস্কারের কাজ দেওয়া হয়। কাজটি করছেন ঠিকাদার মো. রফিকুল ইসলাম। কুতুবপুর বাজার এলাকার বাসিন্দা আব্দুল জলিল সিকদার বলেন, “সংস্কার কাজে নিম্নমানের ইট ব্যবহার করা হয়েছে। বিষয়টি উপজেলা প্রকৌশলীকে জানানো হলেও কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।” তিনি আরও জানান, গত বুধবার (১৫ এপ্রিল) পিচ ঢালাই শুরু হয়, কিন্তু বিটুমিন কম ব্যবহারের কারণে পিচ খুব সহজেই উঠে যাচ্ছে। তার আশঙ্কা, এভাবে কাজ চলতে থাকলে অল্প সময়ের মধ্যেই সড়কটি চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়বে। এ কারণে স্থানীয় বাসিন্দারা কাজ বন্ধ করে দেন। তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ঠিকাদার মো. রফিকুল ইসলাম। তিনি বলেন, “নিয়ম মেনেই কাজ করা হচ্ছে। পিচ ঢালাইয়ের পর পূর্ণাঙ্গ ‘কিউরিং’ হতে অন্তত ৮ থেকে ১০ দিন সময় লাগে। এর আগে পিচ তুলে ভিডিও করা বিভ্রান্তিকর।” এদিকে মুলাদী উপজেলা প্রকৌশলী মো. জিয়াউল হক বলেন, কাজ সামগ্রিকভাবে সন্তোষজনক। তবে কিছু লোক কাজের বাধা দেওয়ার চেষ্টা করেছেন বলে তিনি উল্লেখ করেন। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ১৮, ২০২৬ 0
জুয়া আসর
বরিশালে ফ্ল্যাটে জুয়ার আসর: ক্যামেরা দেখে পালালেন ওসি আবুল খায়ের, তদন্তের দাবি

বরিশাল অফিস :   বরিশাল নগরীর একটি আবাসিক ফ্ল্যাটে জুয়া খেলার অভিযোগকে কেন্দ্র করে বিতর্কে জড়িয়েছেন একজন দায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তা ও একজন শিক্ষা কর্মকর্তা। ঘটনাস্থলে উপস্থিত সাংবাদিকদের ধারণ করা ভিডিওতে দেখা গেছে, ক্যামেরা দেখে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা দ্রুত স্থান ত্যাগের চেষ্টা করেন। এ ঘটনায় জবাবদিহি ও কঠোর শাস্তির দাবি উঠেছে বিভিন্ন মহল থেকে। ঘটনাস্থলে যা দেখা গেছে সাংবাদিকদের দাবি, গত ১৩ এপ্রিল রাতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তারা নগরীর একটি ফ্ল্যাটে যান। সেখানে গিয়ে তারা একটি লম্বা টেবিল ঘিরে পাঁচ থেকে ছয়জন ব্যক্তিকে বসে থাকতে দেখেন। প্রত্যেকের সামনে তাস, নগদ টাকা (প্রায় ৫০০ থেকে ১০০০ টাকার নোট), মোবাইল ফোন ও মানিব্যাগ রাখা ছিল। ভিডিও ফুটেজ অনুযায়ী, ক্যামেরা দেখতে পেয়ে উপস্থিত কয়েকজন দ্রুত দৌড়ে পালিয়ে যান। তাদের মধ্যে প্রাইমারি টিচার্স ট্রেনিং ইনস্টিটিউটের একজন ইন্সপেক্টর হিসেবে পরিচিত হেলালও ছিলেন বলে দাবি করা হয়েছে। অন্যদিকে, অভিযুক্ত পুলিশ কর্মকর্তা এম এ আবুল খায়ের নিজেকে আড়াল করতে পাশের একটি বাথরুমে ঢুকে দরজা বন্ধ করে দেন এবং পরে সুযোগ বুঝে সেখান থেকে বেরিয়ে চলে যান। সাংবাদিকদের অভিযোগ, ঘটনার পর মধ্যস্থতাকারীর মাধ্যমে বিষয়টি ‘ম্যানেজ’ করার চেষ্টা করা হয়েছিল, তবে তা সফল হয়নি। অভিযুক্তদের অবস্থান হেলাল নামে পরিচিত ওই ব্যক্তি মুঠোফোনে জানিয়েছেন, তিনি জুয়া খেলতে যাননি; বরং “পাওনা টাকা আনতে” সেখানে উপস্থিত ছিলেন। তবে স্থানীয় সূত্র বলছে, তিনি বর্তমানে প্রাইমারি টিচার্স ট্রেনিং ইনস্টিটিউটের একজন ইন্সপেক্টর হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন, যদিও তিনি নিজেকে একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক হিসেবে পরিচয় দিয়েছেন। অন্যদিকে, এম এ আবুল খায়ের বর্তমানে ঝালকাঠির নলছিটি পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ হিসেবে দায়িত্বে রয়েছেন। এর আগে তিনি পটুয়াখালীর মহিপুর থানার ওসি ছিলেন। তার বিরুদ্ধে অতীতে ঘুষ, দুর্নীতি, ক্ষমতার অপব্যবহার, মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানিসহ নানা অভিযোগ থাকার কথাও স্থানীয়দের মধ্যে আলোচিত। বৃহত্তর প্রশ্ন: আইনরক্ষকের ভূমিকা ঘটনাটি সামনে আসার পর সচেতন মহলে প্রশ্ন উঠেছে—যারা আইন প্রয়োগের দায়িত্বে, তাদের বিরুদ্ধেই যদি আইন ভঙ্গের অভিযোগ ওঠে, তবে তা কতটা গুরুতর প্রভাব ফেলতে পারে। সংশ্লিষ্টদের মতে, এ ধরনের ঘটনা পুলিশ বাহিনীর ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করে এবং জনসাধারণের আস্থায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। আইন ও আস্থার প্রশ্ন বিশ্লেষকরা বলছেন, জুয়াসহ নানা অপরাধ দমন করা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দায়িত্ব। কিন্তু আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সদস্যদের বিরুদ্ধেই যদি এ ধরনের অভিযোগ ওঠে, তবে তা জনমনে আস্থার সংকট তৈরি করতে পারে। তদন্তের দাবি ভিডিও প্রমাণ থাকার দাবি ঘিরে এখন মূল প্রশ্ন—এই ঘটনায় আনুষ্ঠানিক তদন্ত হবে কি না এবং হলে তা কতটা নিরপেক্ষভাবে সম্পন্ন হবে। নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা বলছেন, অভিযোগ প্রমাণিত হলে দায়ীদের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান ও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি, যাতে ভবিষ্যতে এমন ঘটনা প্রতিরোধ করা যায়।

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ১৮, ২০২৬ 0
ঝালকাঠী এলজিইডি
ঝালকাঠী এলজিইডির টেন্ডার প্রক্রিয়াকে ঘিরে অনিয়মের অভিযোগ

মামুনুর রশীদ নোমানী,বরিশাল : ঝালকাঠী সদর এলজিইডির উপজেলা প্রকৌশলী আব্দুল্লাহ হেল বাকীর বিরুদ্ধে রয়েছে পাহাড়সম দুর্নীতি,অনিয়ম,টেন্ডার বানিজ্য,সরকারি অর্থ তছরুপ ও প্রশাসনিক দুর্বলতার অভিযোগ। বিশেষ করে উন্নয়ন প্রকল্প, ক্রয় কার্যক্রম এবং টেন্ডার প্রক্রিয়া,ব্রিজ ও রাস্তা নির্মানকে  কেন্দ্র করে অসংখ্য বার প্রশ্ন উঠেছে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিয়ে। সর্বশেষ ২০২৫ সালের ১৩ অক্টোবর ঝালকাঠিতে অনুষ্ঠিত দুদকের গনশুনানীতে তার বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দিয়েছিল ঝালকাঠির পিপলীতার এস এ জুয়েল হাওলাদার নামে এক ব্যক্তি। দুদকে অভিযোগ ঘিরে নতুন করে এমন অভিযোগ সামনে এসেছে, যা পুরো ব্যবস্থাপনাকেই আবারও প্রশ্নবিদ্ধ করে তুলেছে। ঝালকাঠি সদর উপজেলায় একটি আয়রন ব্রিজ নির্মাণ প্রকল্পের টেন্ডার প্রক্রিয়াকে ঘিরে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে ঝালকাঠী সদর এলজিইডির উপজেলা প্রকৌশলী আব্দুল্লাহ হেল বাকীর বিরুদ্ধে। প্রায় ৪ কোটি ৬৫ লাখ টাকার এই প্রকল্প নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মধ্যে দোষারোপের পাল্টাপাল্টি অবস্থান পরিস্থিতিকে জটিল করে তুলেছে। অভিযোগের সূত্রপাত ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ফাস্টবিল্ডের পক্ষ থেকে, যারা দাবি করছে—টেন্ডার মূল্যায়নে স্বজনপ্রীতি ও অনিয়ম হয়েছে। অভিযোগটি স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) প্রধান প্রকৌশলীর কাছে জমা দেওয়ার পর বিষয়টি তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়।  কী এই প্রকল্প? এলজিইডি সূত্রে জানা যায়, ঝালকাঠি সদর উপজেলার দোগলচিড়া-বেতরা খালের ওপর একটি গার্ডার ব্রিজ নির্মাণের জন্য ২০২৪ সালের ১৩ নভেম্বর টেন্ডার আহ্বান করা হয়। ওটিএম পদ্ধতিতে অনুষ্ঠিত এ টেন্ডারে একাধিক প্রতিষ্ঠান অংশ নেয়। টেন্ডার আইডি ১০৩৩১৭৫-এ দুটি প্রতিষ্ঠান—ফাস্টবিল্ড ও ই-স্মার্ট কনস্ট্রাকশন লিমিটেড—একই দর (৪ কোটি ৫৯ লাখ ৪০ হাজার ৩০৩ টাকা) জমা দেয়।  কোথায় অনিয়মের অভিযোগ? ফাস্টবিল্ডের অভিযোগ অনুযায়ী, ই-স্মার্ট কনস্ট্রাকশন লিমিটেডের বিরুদ্ধে পূর্ব থেকেই এলজিইডির টেন্ডারে অংশগ্রহণে নিষেধাজ্ঞা ছিল। তাছাড়া, তারা বিভিন্ন প্রকল্পের নোটিফিকেশন অব অ্যাওয়ার্ড (NOA) গোপন রেখে নিজেদের টেন্ডার সক্ষমতা (capacity) বাড়িয়ে দেখিয়েছে। এই অবস্থায় প্রতিষ্ঠানটি কীভাবে মূল্যায়নে অগ্রাধিকার পেল—সেই প্রশ্ন তুলেছে ফাস্টবিল্ড।  তদন্তের নির্দেশ, চিঠি নিয়ে বিভ্রান্তি অভিযোগের প্রেক্ষিতে প্রকল্প পরিচালক শরীফ জামাল উদ্দিন অলোক ঝালকাঠি এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলীকে একটি চিঠি দিয়ে বিষয়টি ব্যাখ্যা করতে বলেন। তবে এই চিঠি নিয়েই তৈরি হয়েছে নতুন বিতর্ক। তৎকালীন নির্বাহী প্রকৌশলী শহিদুল ইসলাম সরকার দাবি করেন, চিঠিটি সরাসরি তার কাছে নয়, বরং সিনিয়র সহকারী প্রকৌশলীর উদ্দেশে পাঠানো হয়েছে—কারণ তিনিই টেন্ডার কমিটির সভাপতি। অন্যদিকে, সিনিয়র সহকারী প্রকৌশলী শিপলু কর্মকার বলেন, তিনি কোনো চিঠি পাননি। তার দাবি, টেন্ডার মূল্যায়নের কাজ আগের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রকৌশলী মো. রাজিউল্লাহ সম্পন্ন করে গেছেন এবং তিনি শুধু তাতে স্বাক্ষর করেছেন।  এই টেন্ডারে ক্ষমতার অপ ব্যবহার করেছেন সিনিয়র সহকারী প্রকৌশলী শিপলু কর্মকার।কারন তিনি ছিলেন টেন্ডার কমিটির সভাপতি।শিপলু কর্মকারের বিরুদ্ধে ২০২৫ সালের ১৩ অক্টোবর ঝালকাঠিতে অনুষ্ঠিত দুদকের গনশুনানীতে তার বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দিয়েছিল নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ব্যক্তি।তিনি অভিযোগে উল্লেখ করেন,ঝালকাঠি সদর উপজেলার দোগলচিড়া-বেতরা খালের ওপর একটি গার্ডার ব্রিজের টেন্ডারে অনিয়ম করে এলজিইডি থেকে টেন্ডারে নিষেধাজ্ঞা দেয়া "ই-স্মার্ট" ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানকে (নোহা) নোটিফিকেশন অব অ্যাওয়ারবড দেযার অভিযোগ।উক্ত এলজিইডি এর সিনিয়র প্রকৌশলী শিপলু কর্মকার টেন্ডার কমিটির সভাপতি হিসাবে নিজের ক্ষমতার অপব্যবহার করে।  ‘আমি করিনি’—পাল্টা দাবি সাবেক কর্মকর্তার এই অভিযোগ সরাসরি অস্বীকার করেছেন সাবেক সিনিয়র সহকারী প্রকৌশলী মো. রাজিউল্লাহ। তার বক্তব্য, তিনি কেবল দরপত্র খোলার কাজ পর্যন্ত যুক্ত ছিলেন এবং ২০২৪ সালের ১২ ডিসেম্বর বদলি হয়ে যান। মূল্যায়ন প্রক্রিয়ায় তার কোনো সম্পৃক্ততা ছিল না। তার ভাষায়, “মূল্যায়ন রিপোর্টে আমার কোনো স্বাক্ষর নেই। এখন আমার ওপর দায় চাপানো হলে তা সম্পূর্ণ মিথ্যা।”  বরখাস্ত প্রকল্প পরিচালকের অবস্থান এদিকে, এই প্রকল্পের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অস্থায়ী প্রকল্প পরিচালক আদনান আকতারুল আজিম ইতোমধ্যে দুর্নীতির অভিযোগে সাময়িক বরখাস্ত হয়েছেন। যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, বিষয়টি তার জানা নেই এবং বর্তমান প্রকল্প পরিচালকের সঙ্গে কথা বলার পরামর্শ দেন।  প্রশ্নের মুখে মূল্যায়ন প্রক্রিয়া অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, একই লাইসেন্সগত ত্রুটি থাকা সত্ত্বেও একটি টেন্ডার গ্রহণ এবং অন্যটি পুনঃটেন্ডার (রি-টেন্ডার) করার সিদ্ধান্ত কীভাবে নেওয়া হলো—তা স্পষ্ট নয়। এই বৈপরীত্যই এখন তদন্তের অন্যতম কেন্দ্রে রয়েছে।  কী হতে পারে পরবর্তী পদক্ষেপ? এলজিইডির প্রধান প্রকৌশলীর নির্দেশে বিষয়টি এখন তদন্তাধীন। প্রকল্প পরিচালক সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কাছ থেকে ব্যাখ্যা চেয়েছেন।   এলজিইডির প্রকৌশলী আব্দুল্লাহ হেল বাকীর বিরুদ্ধে আরো দু'টি অভিযোগ: ২০২৫ সালের ১৩ অক্টোবর ঝালকাঠিতে অনুষ্ঠিত দুদকের গনশুনানীতে তার বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দিয়েছিল ঝালকাঠির পিপলীতার আব্দুল হাইর পুত্র এস এ জুয়েল হাওলাদার নামে এক ব্যক্তি। তিনি লিখিত অভিযোগে উল্লেখ করেন,পিপলিতা মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে রমনাথপুর বাইপাস সংযোগ সড়কটির কাজ (আইডি নং ৫৪২৪০৪১৫৯) পুর্বে ইটের সলিং ছিল।পুর্বের রাস্তা যে দিকে ছিল সে দিকেই ইস্টিমেট করা সত্ত্বেও বর্তমানে কার্পেটিং করার সময় এই রাস্তাটি অন্য দিকে ঘুরিয়ে দিযেছেন।এছাড়া, এলজিইডির প্রকৌশলী আব্দুল্লাহ হেল বাকীর বিরুদ্ধে ঝালকাঠির পুর্ব তারুলীর আলতাফ হোসেন মোল্লার পুত্র মোঃ লিটন মোল্লাও দুদকে লিখিত অভিযোদ দায়ের করেছিল। দুদক ও এলজিইডিতে একের পর এক অভিযোগ থাকলেও তিনি এখনো ধরা ছোয়ার বাইরে। রয়েছেন বহাল তবিয়তে। সাবেক মন্ত্রী আমির হোসেন আমুর ঘনিষ্ঠ এই কর্মকর্তা দুর্নীতি ও অনিয়ম করলেও তিনি সব সময়ই থাকছেন খোশ মেজাজে। এ ব্যাপারে ঝালকাঠী সদর এলজিইডির উপজেলা প্রকৌশলী আব্দুল্লাহ হেল বাকীর সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে না পাওয়ায় তার বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি। এই ঘটনায় তিনটি বিষয় বিশেষভাবে সামনে এসেছে: প্রাতিষ্ঠানিক স্বচ্ছতার ঘাটতি, চিঠি আদান-প্রদান নিয়েই বিভ্রান্তি, যা প্রশাসনিক দুর্বলতার ইঙ্গিত দেয়। দায় এড়ানোর প্রবণতা,সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা পরস্পরের দিকে দায় ঠেলে দিচ্ছেন। টেন্ডার প্রক্রিয়ার প্রশ্নবিদ্ধতা,সমান দর, নিষিদ্ধ প্রতিষ্ঠান এবং ভিন্ন সিদ্ধান্ত—সব মিলিয়ে মূল্যায়ন প্রক্রিয়া নিয়ে সন্দেহ জোরালো হয়েছে। তদন্তের ফলাফলের ওপরই নির্ভর করছে—এই অভিযোগগুলো কতটা সত্য এবং এর দায় কার ওপর বর্তাবে।

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ১৭, ২০২৬ 0
জহুরুল ইসলাম জহির
গৌরনদীতে প্রেসক্লাব সভাপতি সাংবাদিক জহুরুল ইসলাম জহিরকে মোবাইলে হত্যার হুমকি, থানায় জিডি

বরিশালের গৌরনদী উপজেলায় মোবাইল ফোনে হত্যার হুমকির অভিযোগে থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে। ভুক্তভোগী গৌরনদী প্রেসক্লাবের সভাপতি ও সিনিয়র সাংবাদিক মোঃ জহুরুল ইসলাম জহির (৫৭)। তিনি উপজেলার গৌরনদী পৌরসভার উত্তর বিজয়পুর এলাকার বাসিন্দা। জানা গেছে, মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) তিনি গৌরনদী থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি দায়ের করেন। অভিযোগে তিনি উল্লেখ করেন, অজ্ঞাতনামা এক ব্যক্তি তার মোবাইল নম্বরে ফোন করে বিভিন্ন ধরনের ভয়ভীতি ও হত্যার হুমকি প্রদান করে। অভিযোগ অনুযায়ী, ওই ব্যক্তি নিজের পরিচয় গোপন রেখে অযৌক্তিকভাবে তাকে ভয়ভীতি প্রদর্শন করে এবং মানসিকভাবে হয়রানি করে আসছে। এ ঘটনায় তিনি নিজের ও পরিবারের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কিত হয়ে পড়েছেন। পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তিনি থানায় জিডি করেন এবং প্রশাসনের কাছে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান। এ বিষয়ে গৌরনদী থানার অফিসার ইনচার্জ জানান, বিষয়টি গুরুত্বসহকারে দেখা হচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ১৫, ২০২৬ 0
টুলু- শফিকুল
বাবুগঞ্জ প্রেসক্লাব নির্বাচন: সভাপতি টুলু, সম্পাদক শফিকুল নির্বাচিত

বরিশাল অফিস :   উৎসবমুখর ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলা প্রেসক্লাবের কার্যনির্বাহী কমিটির নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। নির্বাচনে মোস্তাফিজুর রহমান টুলু সভাপতি এবং মোঃ শফিকুল ইসলাম সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছেন। শুক্রবার (১০ এপ্রিল) সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত বাবুগঞ্জ প্রেসক্লাব কার্যালয়ে বিরতিহীনভাবে এই ভোটগ্রহণ চলে। নির্বাচন ফলাফল বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, সভাপতি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন সিনিয়র সাংবাদিক শাহজাহান খান এবং মোস্তাফিজুর রহমান টুলু। এর মধ্যে মোস্তাফিজুর রহমান টুলু ১২ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন, তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী শাহজাহান খান পান ৯ ভোট। অন্যদিকে, সাধারণ সম্পাদক পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন মোঃ শফিকুল ইসলাম ও আব্দুল্লাহ আল মামুন। শফিকুল ইসলাম ১২ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন, তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আব্দুল্লাহ আল মামুন পেয়েছেন ৯ ভোট। ভোটগ্রহণ শেষে আনুষ্ঠানিকভাবে ফলাফল ঘোষণা করা হয়। নবনির্বাচিত কমিটির নেতৃবৃন্দকে উপজেলার বিভিন্ন সামাজিক, রাজনৈতিক ও সাংবাদিক সংগঠনের পক্ষ থেকে অভিনন্দন জানানো হয়েছে। উপস্থিত সাংবাদিকবৃন্দ আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, নতুন এই কমিটির নেতৃত্বে বাবুগঞ্জ উপজেলার বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতা ও সাংবাদিকদের ঐক্য আরও সুদৃঢ় হবে।

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ১০, ২০২৬ 0
গ্রেপ্তারকৃত মিজানুর রহমান ওরফে নিজাম।
বাকেরগঞ্জে ১৬ মামলার আসামি আন্তঃজেলা ডাকাত নিজাম গ্রেপ্তার

বরিশাল অফিস :    বরিশালের বাকেরগঞ্জে আন্তঃজেলা ডাকাত দলের সক্রিয় সদস্য এবং একাধিক মামলার আসামি মিজানুর রহমান ওরফে নিজামকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। পুলিশ জানায়, বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) সকাল সাড়ে ৮টার দিকে উপজেলার রানীরহাট বাজার এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করা হয়।গ্রেপ্তারকৃত মিজানুর রহমান (৪০) উপজেলার চরামদ্দি ইউনিয়নের পশ্চিম চরামদ্দি গ্রামের মৃত শাহজাহান হাওলাদারের ছেলে। পুলিশের দাবি, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বাকেরগঞ্জ থানা পুলিশের একটি দল অভিযান পরিচালনা করে। এ সময় তাকে হাতেনাতে গ্রেপ্তার করা হয়।আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, তার বিরুদ্ধে বরিশাল, মাদারীপুর, পটুয়াখালী, বরগুনা ও ভোলা জেলায় ডাকাতি এবং ডাকাতির প্রস্তুতির অভিযোগে অন্তত ১৬টি মামলা বিচারাধীন রয়েছে। এর মধ্যে ৬টি মামলায় আদালতের গ্রেপ্তারি পরোয়ানা ছিল। বাকেরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কে এম সোহেল রানা জানান, মিজানুর রহমান একজন পেশাদার ডাকাত এবং দীর্ঘদিন ধরে পলাতক ছিলেন।তিনি বলেন, “তার বিরুদ্ধে থাকা মামলাগুলোর মধ্যে কয়েকটিতে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা ছিল। অভিযান চালিয়ে অবশেষে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।”পুলিশ জানিয়েছে, আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাকে বরিশাল আদালতে পাঠানো হয়েছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ৩, ২০২৬ 0
Popular post
ফারুকীর সম্পদ কমেছে, তিশার বেড়েছে দ্বিগুণেরও বেশি: সম্পদ বিবরণী ঘিরে আলোচনা

অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের সম্পদ বিবরণী প্রকাশের পর সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী ও তার স্ত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদের হিসাব নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। এক বছরের ব্যবধানে স্বামী ফারুকীর সম্পদ কমলেও স্ত্রী তিশার সম্পদ বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে প্রকাশিত তথ্যে উঠে এসেছে এই চিত্র। প্রকাশিত খতিয়ান অনুযায়ী, জনপ্রিয় অভিনেত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদ এক বছরে অভাবনীয় হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তিশার মোট সম্পদের পরিমাণ ছিল ১ কোটি ৪০ লাখ ৮১ হাজার ৮৬০ টাকা। ঠিক এক বছর পর, ২০২৫ সালের ৩০ জুন সেই সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ৯৯ লাখ ৮৯ হাজার ৫০১ টাকায়। অর্থাৎ মাত্র এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ বেড়েছে ১ কোটি ৫৯ লাখ ৭ হাজার ৬৪১ টাকা, যা আগের বছরের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি। অন্যদিকে সংস্কৃতি উপদেষ্টা ও নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর ক্ষেত্রে দেখা গেছে উল্টো চিত্র। এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ কমেছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তার মোট সম্পদ ছিল ২ কোটি ২৬ লাখ ৯২ হাজার ২৬ টাকা। ২০২৫ সালের ৩০ জুন তা কমে দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ১৫ লাখ ১৮ হাজার ২৬ টাকায়। হিসাব অনুযায়ী, এক বছরে তার সম্পদ কমেছে ১১ লাখ ৭৪ হাজার টাকা। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে গত মঙ্গলবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ প্রধান উপদেষ্টা, উপদেষ্টা ও সমমর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের পাশাপাশি তাদের স্ত্রী বা স্বামীর সম্পদ বিবরণী প্রকাশ করে। একই সময়ে স্বামী-স্ত্রীর সম্পদে এমন ভিন্নমুখী পরিবর্তন স্বাভাবিকভাবেই সাধারণ মানুষের কৌতূহলের জন্ম দিয়েছে। শোবিজ অঙ্গনের জনপ্রিয় দম্পতি হওয়ায় তাদের এই আয়-ব্যয়ের হিসাব এখন টক অব দ্য কান্ট্রি।

সংসার সামলাতে অটোরিকশা নিয়ে রাস্তায় নেমেছেন রোজিনা

বাসস : বাবা একজন তাঁত শ্রমিক। তিন বোন দুই ভাইয়ের মধ্যে সবার বড় রোজিনা। অভাব সংসার, তাই এক এতিম যুবকের সাথে বাবা-মা বিয়ে দেন তাকে। বিয়ের পর জন্ম হয় দুই কন্যা সন্তানের। অটোরিকশা চালিয়ে কোন রকম সংসার চালাচ্ছিলেন স্বামী রফিকুল ইসলাম। কিন্তু সড়ক দুর্ঘটনায় রফিকুলের এক চোখ সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যায়। আরেকটি চোখ আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ধীরে ধীরে ওই চোখের দৃষ্টি শক্তিও কমতে থাকে। ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে অটোরিকশা চালানো। সংসারের উপার্জনক্ষম মানুষটি অচল হয়ে পড়ায় চিকিৎসার খরচ, ঘর ভাড়া ও খাবারের পাশাপাশি মেয়েদের লেখাপড়ার খরচ চালানোই কঠিন হয়ে যায়। দিশেহারা হয়ে পরেন রোজিনা। এক পর্যায়ে মানুষের বাড়ি বাড়ি কাজ করে সংসার চালানোর চেস্টা করেন। কিন্তু সুবিধা করতে পারেন না। এমন পরিস্থিতিতে অটোরিকশা চালানোর সিদ্ধান্ত নেন তিনি। স্বামী রফিকুলের কাছেই হাতেখড়ি। গ্রামের স্কুলের মাঠে স্বামীর কাছেই অটোরিকশা চালানোর শিক্ষা নেন তিনি। পরে গ্রামের পথে নেমে পড়েন অটোরিকশা নিয়ে। ৫-৬ দিন এভাবে হাত পাকা করে একদিন টাঙ্গাইল শহরে চলে আসেন রোজিনা। এরপর শুরু করেন অটোরিক্সা চালানোর ব্যতিক্রমী জীবন সংগ্রাম। এখন টাঙ্গাইল পৌরসভায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার চালকদের মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা বেগম। জেলার বাসাইল উপজেলার আইসড়া গ্রামের বাসিন্দা রোজিনা টাঙ্গাইল পৌর শহরের এক প্রান্ত রাবনা বাইপাস থেকে আরেক প্রান্ত বেবিস্ট্যান্ডে যাত্রী আনা নেয়া করেন। যানজটের কারণে শহরে পুরুষ চালকরা যেখানে হিমসিম খায়, সেখানেই বিগত ৫ বছর ধরেই নির্বিঘেœ অটোরিকশা চালাচ্ছেন তিনি। টাঙ্গাইল পৌরসভা কার্যালয় সূত্রে জানা যাায়, টাঙ্গাইল শহরে চলাচলের জন্য ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক ও ৫ হাজার ব্যাটারিচালিত রিকশার অনুমতি (লাইসেন্স) দেওয়া হয়েছে। যানজট এড়াতে ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক জোড় ও বিজোড় সংখ্যায় দিনে দুই ভাগ করা হয়েছে। সকাল থেকে বেলা দুইটা পর্যন্ত এক ভাগ এবং বেলা দুইটা থেকে রাত পর্যন্ত আরেক ভাগের ইজিবাইক চলাচল করার নির্দেশনা দিয়েছে পৌর কর্তৃপক্ষ। কিন্তু রোজিনাকে দুই শিফটে চালানোর অনুমতি দিয়েছে পৌরসভা। সরেজমিনে দেখা যায়, নতুন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অটোরিকশা নিয়ে যাত্রী ডাকছেন রোজিনা। কলেজ গেট, পুরাতন বাসস্ট্যান্ড, ক্যাপসুল, নিরালা মোড়, বেবিস্ট্যান্ড সর্বত্রই যাত্রী আনানেয়া করেন তিনি। পুরাতন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অন্য অটো চালকদের দাঁড় করতে না দিলেও রোজিনাকে বাঁধা দেননা ট্রাফিক পুলিশ। বলতে গেলে সবাই তার প্রতি সহানুভুতিশীল। ট্রাফিক পুলিশসহ অন্য অটোচালকরাও তাকে সহযোগিতা করেন। রোজিনা বলেন, আমার অটোতে নারী যাত্রীরা খুব কম। তারা মনে করে আমার অটোতে উঠলে দুর্ঘটনায় পড়বে। কিন্তু আমি খুব সাবধানে অটো চালাই। দ্রুত গতিতেও না, আবার একেবারে ধীরগতিতেও না। এখন পর্যন্ত আমি কোন দুর্ঘটনার কবলে পড়ি নাই। শহরের পুরুষ অটোরিকশা চালকরা আমাকে অনেক সহযোগিতা করে। অটোচালক কাদের মিয়া বলেন, আমাদের শহরে কয়েক হাজার অটো চলাচল করে। তার মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। তাকে আমরা সব সময় সহযোগিতা করি। যাত্রী সাইদ মিয়া বলেন, আমি এ পর্যন্ত ৫-৬ বার রোজিনার অটোতে চড়েছি। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। অন্য পুরুষ অটো চালকের চেয়েও ভালো অটো চালান। নারী সংগঠক সেরাজুম মনিরা বলেন, তিনি অনেক দিন যাবত অটোরিকশা চালাচ্ছেন। আমি রোজিনাকে স্যালুট জানাই। একজন পুরুষের চেয়ে একজন নারী কোনো ভাবেই যে পিছিয়ে নেই, রোজিনা তা প্রমাণ করেছেন। রোজিনা বলেন, অটো চালানোর এই সিদ্ধান্তটি তার জন্য খুব সহজ ছিল না। তিনি বলেন, ৫ ও ১০ বছরের দুই মেয়েকে বাড়িতে রেখে অটোরিকশা নিয়ে সারাদিন রাস্তায় থাকতে হয়। তাদের ভালোভাবে দেখাশোনা করতে পারি না। কিন্তু কি করবো, অভাবের সংসার! এখন ঋণ নিয়ে একটু জমি কিনেছি। প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ণ প্রকল্পের অর্থায়নে প্রশাসন সেখানে ঘর তুলে দিয়েছে। শুরুতে যারা আমাকে নিয়ে ঠাট্টা করেছে এখন তারাই আমাকে সম্মান করেন। নারীরাও যে কিছু করতে পারে, তা প্রমাণ করেছি। আমার বড় মেয়ে আইসড়া উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়ে, ছোট মেয়ে পড়ে স্থানীয় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। মেয়েদের শিক্ষিত করতে হবে। ধার দেনা শোধ করতে হবে। তাই থেমে গেলো চলবে না। আমি অটোরিকশা চালিয়েই দুই সন্তানকে মানুষ করতে চাই।’ ঘারিন্দা ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য বাবুল সরকার বলেন, সরকার রোজিনাকে একটি ঘর নির্মাণ করে দিয়েছে। শুরুতে যারা তাকে নিয়ে নানান কথা বলতো, এখন তার সংকল্প ও মানষিক দৃঢ়তা দেখে থেমে গেছে। আমরা তাকে নিয়ে গর্ব করি। টাঙ্গাইলের ট্রাফিক ইন্সপেক্টর (প্রশাসন) দেলোয়ার হোসেন বলেন, শহরের একমাত্র নারী চালক রোজিনাকে কেউ যেন বিরক্ত করতে না পারে সেদিকে সব সময় নজর রাখে ট্রাফিক পুলিশ। আমরা তাকে সব সময় সহযোগিতা করে আসছি। টাঙ্গাইলের সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক শাহ আলম বলেন, বিষয়টি এখন জানতে পারলাম। ওই নারী এখনো পর্যন্ত আমাদের কাছে আসেন নাই। যদি আমাদের কাছে এসে আবেদন করেন অবশ্যই তাকে আমরা সহযেগিতা করবো, তার পাশে দাঁড়াবো।

বাংলাদেশে ঐতিহাসিক নির্বাচন: বিএনপি এগিয়ে, জামায়াতের উত্থান ও তরুণ ভোটারদের প্রভাব

২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশে আজ এক ঐতিহাসিক ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ২০০৮ সালের পর এই প্রথম একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হতে যাচ্ছে যেখানে দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগ রাজনৈতিক মানচিত্র থেকে কার্যত অনুপস্থিত। বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক জরিপ বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০০ আসনের মধ্যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) কার্যকর সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে যাচ্ছে। তবে ভোটের ব্যবধান এবং কিছু সমীকরণ নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। নির্বাচনের সবচেয়ে বড় নিয়ামক হয়ে দাঁড়িয়েছে আওয়ামী লীগের বিশাল ভোটব্যাংক। দলটির নিয়মিত প্রায় ৪ কোটি ভোটার এখন নতুন রাজনৈতিক আশ্রয় খুঁজছেন। সিআরএফ বা বিইপিওএস জরিপ বলছে, এই ভোটারদের প্রায় অর্ধেক বিএনপির দিকে ঝুঁকেছে, যা দলটিকে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতার পথে এগিয়ে দিচ্ছে। অন্যদিকে, প্রায় ৩০ শতাংশ আওয়ামী ভোটার জামায়াতে ইসলামীকে বেছে নিতে পারেন বলে আভাস পাওয়া যাচ্ছে। এছাড়া বাংলাদেশের বিদ্যমান নির্বাচনী ব্যবস্থার কারণে দেশজুড়ে সুষম জনসমর্থন থাকা বিএনপি আসন জয়ের ক্ষেত্রে জামায়াতের তুলনায় সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। তবে বিএনপির এই সম্ভাব্য জয়ের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও বিদ্রোহী প্রার্থীরা। প্রায় ৭৯টি নির্বাচনী এলাকায় দলের মনোনয়ন না পাওয়া ৯২ জন প্রভাবশালী নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, যা বিএনপির ১৫ থেকে ৩০টি আসন কমিয়ে দিতে পারে। অন্যদিকে, তরুণ ভোটার বা ‘জেন-জি’ প্রজন্মের বিশাল সমর্থন জামায়াতে ইসলামীর শক্তির উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেশের ৪৪ শতাংশ ভোটারই তরুণ, যাদের বড় একটি অংশ প্রথমবার ভোট দিচ্ছেন। এই তরুণরা যদি দলবেঁধে কেন্দ্রে উপস্থিত হন, তবে নির্বাচনী ফলে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। সবশেষে, প্রায় ১৭ থেকে ৩৫ শতাংশ দোদুল্যমান ভোটার এবং তাদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করবে আগামীর সরকার কতটা শক্তিশালী হবে। দ্য নিউইয়র্ক এডিটোরিয়ালের মূল পূর্বাভাস, তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি প্রায় ১৮৫টি আসনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করতে পারে এবং জামায়াতে ইসলামী ৮০টির মতো আসন পেয়ে প্রধান বিরোধী দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারে। তবে বিদ্রোহী প্রার্থীদের প্রভাব এবং তরুণ ভোটারদের উপস্থিতির ওপর ভিত্তি করে আসন সংখ্যায় বড় ধরনের হেরফের হওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

গাজায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা ট্রাম্প প্রশাসনে

ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। ৩৫০ একরের ঘাঁটিটিতে সামরিক বাহিনীর পাঁচ হাজার সদস্য থাকতে পারবে। গাজার ‘বোর্ড অব পিস’র নথি পর্যালোচনা করে এ তথ্য জানিয়েছে দ্য গার্ডিয়ান। প্রতিবেদনে ব্রিটিশ সংবাদ মাধ্যমটি জানিয়েছে, বোর্ড অব পিসে গাজাকে নিরাপদ করার জন্য ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যাবিলাইজেশন ফোর্স (আইএসএফ) নামে একটি আন্তর্জাতিক বাহিনী মোতায়েনের কথা বলা হয়েছে। যে স্থানটি ঘাঁটি করার জন্য বিবেচনা করা হচ্ছে সেখানে আইএসএফের সদস্যরা থাকবে। বোর্ড অব পিসের প্রধান হবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আর সংগঠনটির আংশিক নেতৃত্ব দেবেন ট্রাম্পের জামাতা জ্যারার্ড কুশনার।দ্য গার্ডিয়ান বোর্ড অব পিসের নথি পর্যালোচনা করে জানায়, ধাপে ধাপে একটি সামরিক ঘাঁটি নির্মাণ করা হবে। সবকিছু শেষ হলে ঘাঁটিটি ১৫ লাখ ১৭ হাজার ৫৭৫ বর্গমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত হবে। ঘাঁটিটির চারপাশে ট্রেইলার সংযুক্ত ২৬টি সাঁজোয়া নজরদারি টাওয়ার থাকবে। এছাড়া একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, বাংকার ও অস্ত্র রাখার গুদাম থাকবে। পুরো ঘাঁটিটি কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে ঘিরে রাখা হবে। সামরিক ঘাঁটি নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে দক্ষিণ গাজার একটি শুষ্ক সমতলভূমিতে। সেখানে ইসরায়েলি হামলার চিহ্ন রয়েছে। ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে বিভিন্ন ধাতবের ধ্বংসাবশেষ।  ওই এলাকার ভিডিও পর্যালোচনা করেছে দ্য গার্ডিয়ান। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, ঘাঁটি নির্মাণের জন্য টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে। যুদ্ধক্ষেত্রে কাজের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন আন্তর্জাতিক নির্মাণ কোম্পানিগুলোর একটি ছোট দলকে ইতোমধ্যেই এলাকাটি দেখানো হয়েছে। ওই দলটি দরপত্রে অংশ নিতে আগ্রহী।    ইন্দোনেশিয়া সরকার গাজায় আট হাজার সেনা সদস্য পাঠানোর জন্য প্রস্তাব দিয়েছে। বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটন ডিসিতে বোর্ড অব পিসের অনানুষ্ঠানিক বৈঠকে ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্টের অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। এছাড়া দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার আরও তিন নেতার ওই বৈঠকে অংশ নেবেন বলে জানা গেছে। জাতিসংঘের নিরাপত্তা কাউন্সিল গাজার সাময়িক স্থিতিশীলতার জন্য অস্থায়ীভাবে সামরিক বাহিনী মোতায়েনের অনুমোদন দিয়েছে। নিরাপত্তা কাউন্সিলই বোর্ড অব পিসের মূল হোতা। গাজার সীমান্ত ও শান্তি প্রণয়নে কাজ করবে আইএসএফ। এছাড়া বেসামরিকদের সুরক্ষা এবং ফিলিস্তিনি পুলিশ বাহিনীকে প্রশিক্ষণ ও সহায়তা দেবে তারা। যদি গাজায় ফের সংঘর্ষ হয়, ইসরায়েল বোমা হামলা চালায় অথবা হামাস হামলা চালায় সেক্ষেত্রে আইএসএফ কি করবে তা এখনও স্পষ্ট নয়। গাজা পুনর্গঠনে ইসরায়েল হামাসকে নিরস্ত্রীকরণের যে শর্ত দিয়েছে সেটির জন্য আইএসএফ কাজ করবে কিনা তাও স্পষ্ট না। ইতোমধ্যে বোর্ড অব পিসে ২০ এর অধিক দেশ যোগ দিয়েছে। তবে, এখনও অনেক পরাশক্তি এর থেকে দূরে রয়েছে। জাতিসংঘের অনুমোদন নিয়ে প্রতিষ্ঠিত হলেও ধারণা করা হচ্ছে, সংগঠনটির স্থায়ী নেতৃত্ব ও নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে। রুটজার্স বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক আদিল হক বলেন, “বোর্ড অব পিস এক ধরনের আইনি কল্পসত্তা। নামমাত্রভাবে এর নিজস্ব আন্তর্জাতিক আইনগত সত্তা রয়েছে, যা জাতিসংঘ ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে আলাদা। কিন্তু বাস্তবে এটি যুক্তরাষ্ট্রের ইচ্ছামতো ব্যবহারের জন্য একটি ফাঁপা খোলসমাত্র।” বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গাজা পুনর্গঠনে যে অর্থায়ন ও শাসন কাঠামো হচ্ছে তা অস্বচ্ছ। কয়েকজন ঠিকাদার গার্ডিয়ানকে জানান, গাজায় কাজ করার জন্য মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে তাদের প্রায়শ আলোচনা সরকারি ইমেলের বদলে সিগন্যালের মাধ্যমে করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রের তথ্য মতে, ঘাঁটি নির্মাণের সিদ্ধান্তটি বোর্ড অব পিসের। এতে সহায়তা করছে মার্কিন কর্মকর্তারা। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ঘাঁটিতে তৈরি বাংকার নেটওয়ার্কের মতোন কাজ করবে। প্রতিটি বাংকারের ২৪ মিটারের হবে। উচ্চতা থাকবে আড়াই মিটার। এগুলো এমনভাবে করা হবে যেন সেনা সদস্যরা আশ্রয় নিতে পারে। স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসের গাজায় সুড়ঙ্গ নেটওয়ার্ক বা টানেল রয়েছে। সেগুলোর আদলে নেটওয়ার্ক করতে চাওয়া হচ্ছে। পিস অব বোর্ডের নথি পর্যালোচনা করে এমন দাবি করছে গার্ডিয়ান। সংবাদ মাধ্যমটি বলছে,  স্থানটির ভূ-ভৌত জরিপ পরিচালনা করবে ঠিকাদাররা। নথির এক অংশে ‘হিউম্যান রেমিয়েনস প্রোটোকল’র কথা বলা হয়েছে। এর মানে দাঁড়ায়, সন্দেহভাজন মানব অবশিষ্ট বা সাংস্কৃতিক নিদর্শন পাওয়া গেলে অবিলম্বে সেই এলাকায় সব কাজ বন্ধ করতে হবে। চুক্তি কর্মকর্তাকে দিকনির্দেশনার জন্য অবিলম্বে জানাতে হবে। গাজা সিভিল ডিফেন্সের ধারণা, গাজার ধ্বংসস্তূপের নিচে ১০ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনির মরদেহ রয়েছে। ঘাঁটির জন্য যে স্থানটি বিবেচিত করা হচ্ছে সেটির মালিক কে তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে, দক্ষিণ গাজার বেশিরভাগ অংশ  বর্তমানে ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণে। জাতিসংঘের অনুমান, যুদ্ধ চলাকালীন ১৯ লাখ ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত হয়েছে। ফিলিস্তিনের জমিতে সরকারের অনুমতি না নিয়ে সামরিক ঘাঁটি স্থাপনকে দখল হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন ফিলিস্তিনি-কানাডিয়ান আইনজীবী এবং প্রাক্তন শান্তি আলোচক দিয়ানা বুট্টু। তিনি প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়ে বলেন, “কার অনুমতিতে তারা সামরিক ঘাঁটি স্থাপন করবে।” বিষয়টি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা বোর্ড অব পিসের কথা টানেন। ট্রাম্প প্রশাসনের একজন কর্মকর্তা সামরিক ঘাঁটির চুক্তি নিয়ে আলোচনা করতে অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, “যেমনটি প্রেসিডেন্ট বলেছেন, কোনও মার্কিন সেনা স্থলভাগে যাবে না। আমরা লিক হওয়া নথি নিয়ে আলোচনা করবো না।”

কুড়িগ্রামের তাজু ভাই ২.০: ‘সরকারি রেটে জিলাপি’ প্রশ্নে ভাইরাল এক নির্মাণশ্রমিকের গল্প

বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের প্রত্যন্ত চরাঞ্চল থেকে উঠে এসে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার কেন্দ্রে এখন তাইজুল ইসলাম, যিনি অনলাইনে পরিচিত ‘তাজু ভাই ২.০’ নামে। মাত্র একটি ভিডিও—যেখানে তিনি এক দোকানিকে প্রশ্ন করেন, “জিলাপি আজকে কত করে বেচতেছেন সরকারি রেটে?”—এই সরল উপস্থাপনাই তাকে রাতারাতি ভাইরাল করে তোলে।  কয়েক ঘণ্টায় ফলোয়ার লাখ ছাড়াল রোববার রাত পর্যন্ত তার ফেসবুক অনুসারী ছিল প্রায় ৩৫ হাজার। কিন্তু সোমবার সন্ধ্যা থেকে রাতের মধ্যেই তা বেড়ে এক লাখের বেশি হয়ে যায়। ভাইরাল ভিডিওটি ইতোমধ্যে প্রায় ৫০ থেকে ৫৫ লাখবার দেখা হয়েছে।  কী ছিল সেই ভিডিওতে? ভিডিওতে দেখা যায়, কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীর নারায়ণপুর বাজারে দাঁড়িয়ে স্থানীয় ভাষায় তিনি জিলাপির দাম জানতে চান। তার কথাগুলো ছিল একেবারেই সহজ ও গ্রাম্য ভঙ্গিতে— “সাদাডা কত, লালডা কত? সরকারি রেটে বেচতেছেন?” এই সরল প্রশ্নই সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।  কোথা থেকে উঠে এলেন তাজু ভাই? কুড়িগ্রাম জেলার নাগেশ্বরী উপজেলার নারায়ণপুর ইউনিয়নের একটি দুর্গম গ্রামে জন্ম তার। ব্রহ্মপুত্র নদবেষ্টিত এই অঞ্চলে পৌঁছাতে এখনও কয়েকটি নৌঘাট পার হতে হয়। দারিদ্র্যের কারণে কখনো স্কুলে যাওয়া হয়নি তার। পেশায় তিনি একজন নির্মাণশ্রমিকের সহকারী (হেলপার)। কাজের ফাঁকে ঢাকায় থাকাকালীন মোবাইল ফোনে ভিডিও তৈরি করাই তার শখ। ব্যক্তিগত সংগ্রাম তাইজুল ইসলামের পরিবারে ছয় ভাই-বোন। তিনি সবার বড়। তার বাবা-মা দুজনই শ্রবণপ্রতিবন্ধী। পরিবার চালাতে তাকে ছোটবেলা থেকেই সংগ্রাম করতে হয়েছে। তিনি বলেন, “পরিবারের কষ্ট ভুলতেই ভিডিও করি। আমি সাংবাদিক না, কিন্তু আমাদের এলাকায় কেউ আসে না—তাই নিজেরাই ভিডিও বানাই।” ভাইরাল হওয়ার পেছনের উদ্দেশ্য তাইজুলের দাবি, তার ভিডিও শুধুই বিনোদনের জন্য নয়। তিনি চান তার এলাকার অবহেলিত মানুষের কথা প্রশাসনের নজরে আসুক। “আমি চাই চরের মানুষের উন্নয়ন হোক,”—বলছেন তিনি।  মিশ্র প্রতিক্রিয়া ভিডিওটি নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে দুই ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ তার সরলতা ও বাস্তবতা তুলে ধরার চেষ্টা প্রশংসা করছেন আবার কেউ তাকে নিয়ে ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ করছেন তবে এসব সমালোচনায় তিনি বিচলিত নন।

অর্থনীতি

ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান খুরশীদ আলম, কৃষি ব্যাংকে নূরুল আমিন: ব্যাংক খাতে নতুন সমীকরণ

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ২৪, ২০২৬ 0




অপরাধ

ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো

ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকোর বিরুদ্ধে ৩০ বিলিয়ন ডলার জালিয়াতি ও অর্থপাচার অভিযোগে দুদকের অনুসন্ধান

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ২৪, ২০২৬ 0




কৃষি ও জলবায়ু

ধান

শেরপুরে বোরো ধানের দাম কমে লোকসানে কৃষকরা, উৎপাদন খরচও উঠছে না

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ৬, ২০২৬ 0