Brand logo light

বরিশাল সংবাদ

বরিশাল সরকারি মডেল স্কুল এন্ড কলেজ
বরিশাল সরকারি মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজে ফল বিপর্যয়: নেপথ্যে শিক্ষকদের কোন্দল, অবহেলা ও রাজনীতি

ইত্তেহাদ নিউজ, অনলাইন:  একসময় যে শিক্ষার্থীরা বিজ্ঞান বিভাগে জিপিএ-৫ পেয়ে ভর্তি হয়েছিল, তাদের অনেকেই এবার এইচএসসি পরীক্ষায় প্রত্যাশিত ফল অর্জন করতে পারেনি। বরিশাল সরকারি মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজের ৩১৫ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছে ২৩৪ জন, ফেল করেছে ৮১ জন। জিপিএ-৫ পেয়েছে মাত্র ১ জন। প্রতিষ্ঠানের এমন ফল বিপর্যয়ে হতাশা প্রকাশ করেছেন নবাগত অধ্যক্ষ অধ্যাপক তপন কুমার সাহা। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটির এই ফল বিপর্যয়ের পেছনে শিক্ষক-শিক্ষকদের দলাদলি, অভ্যন্তরীণ কোন্দল, নিয়মিত ক্লাস না নেওয়া, শিক্ষার্থীদের প্রতি যথাযথ মনোযোগের অভাব এবং প্রতিষ্ঠানটির ভবিষ্যৎ নিয়ে নানা ধরনের বিরোধের অভিযোগ সামনে এসেছে। একই সঙ্গে মাধ্যমিক শাখা বন্ধের ষড়যন্ত্র, প্রতিষ্ঠানের নাম পরিবর্তনের উদ্যোগ এবং প্রভাব বিস্তারের চেষ্টাকেও সংকটের অন্যতম কারণ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।  ভালো ফল নিয়ে ভর্তি, শেষ পর্যন্ত হতাশাজনক পরিণতি চলতি বছরের এইচএসসি পরীক্ষায় বরিশাল সরকারি মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে মোট ৩১৫ জন শিক্ষার্থী অংশ নেয়। তাদের মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছে ২৩৪ জন। অকৃতকার্য হয়েছে ৮১ জন। আর জিপিএ-৫ পেয়েছে মাত্র একজন শিক্ষার্থী। ফলাফলের এই চিত্র প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষার মান, শ্রেণিকক্ষে পাঠদান এবং শিক্ষার্থীদের নিয়মিত তদারকি নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তৈরি করেছে। বিশেষ করে যেসব শিক্ষার্থী বিজ্ঞান বিভাগে জিপিএ-৫ অর্জন করে কলেজ শাখায় ভর্তি হয়েছিল, তাদের অনেকের ফল প্রত্যাশার তুলনায় খারাপ হওয়ায় অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে হতাশা তৈরি হয়েছে। নবাগত অধ্যক্ষ অধ্যাপক তপন কুমার সাহাও ফলাফলে হতাশা প্রকাশ করেছেন। তবে এই বিপর্যয়ের প্রকৃত কারণ  নিয়মিত পাঠদান না করা,শিক্ষার্থীদের ধারাবাহিক মূল্যায়ন পর্যালোচনা না করা,শিক্ষার্থীদের প্রতি যত্নশীল না হওয়া।গাইড বই পড়তে উৎস্হ দেয়া,কলেজ শিক্ষকদের অভ্যান্তরীন কোন্দল।   শিক্ষক-কোন্দল, রাজনীতি ও প্রভাবের অভিযোগ প্রতিষ্ঠানটির অভ্যন্তরীণ পরিবেশ নিয়েও উঠেছে নানা অভিযোগ। সংশ্লিষ্টদের দাবি, কলেজ শাখার শিক্ষকদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে দলাদলি ও কোন্দল চলছে। এর প্রভাব পড়ছে শ্রেণিকক্ষের পাঠদান এবং শিক্ষার্থীদের ওপর। অভিযোগ রয়েছে, কিছু শিক্ষক নিয়মিত ক্লাস নিচ্ছেন না। শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ, দুর্বল শিক্ষার্থীদের বাড়তি সহযোগিতা এবং পরীক্ষার প্রস্তুতিতে প্রয়োজনীয় মনোযোগ দেওয়ার ক্ষেত্রেও ঘাটতি রয়েছে। এ ছাড়া প্রতিষ্ঠানটির মাধ্যমিক শাখা বন্ধ করা এবং নাম পরিবর্তনের উদ্যোগ ঘিরেও বিতর্ক ও অসন্তোষ তৈরি হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এসব বিষয়কে কেন্দ্র করে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের স্বাভাবিক পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। মাধ্যমিক শাখা বন্ধ করা এবং নাম পরিবর্তনের উদ্যোগ এর নেতৃত্ব দিচ্ছেন শিক্ষক আবু মামুন,মাসুম বিল্লাহ ও ওয়াহিদুজ্জামান বলে জানিয়েছে অভিভাবকরা।    বরিশাল সরকারি মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজ ,বেগম জিয়ার একটি বিশেষ  উদ্যোগ বরিশাল সরকারি মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজের প্রতিষ্ঠার পেছনে ছিল সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম জিয়ার একটি বিশেষ  উদ্যোগ। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীনে ঢাকা মহানগরীসহ দেশের ছয়টি বিভাগীয় শহরে ১১টি মডেল স্কুল ও কলেজ প্রতিষ্ঠার জন্য ১১৪ কোটি টাকা ব্যয়ের একটি প্রকল্প নেওয়া হয়েছিল। ২০০৬ সালের ৩১ জানুয়ারি জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় প্রকল্পটি অনুমোদন পায়। ওই প্রকল্পের অংশ হিসেবেই ২০০৭ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় বরিশাল  মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজ। প্রতিষ্ঠানটি চালুর লক্ষ্য ছিল মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করা এবং বিভাগীয় শহরের শিক্ষার্থীদের জন্য আধুনিক শিক্ষার পরিবেশ তৈরি করা। কিন্তু প্রতিষ্ঠার প্রায় দুই দশক পর প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষার মান ও প্রশাসনিক পরিবেশ নিয়ে প্রশ্ন ওঠায় উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। ঐতিহ্য রক্ষায় প্রয়োজন জবাবদিহি ও কার্যকর উদ্যোগ সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার  নেয়া বিশেষ প্রকল্পের আওতায় প্রতিষ্ঠিত এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটি বরিশালের শিক্ষাঙ্গনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখার কথা ছিল। কিন্তু শিক্ষক-কোন্দল, প্রশাসনিক অস্থিরতা, পাঠদানে অবহেলা এবং শিক্ষকদের রাজনীতি ও প্রভাবের কারনে প্রতিষ্ঠানটির ভাবমূর্তিকে প্রশ্নের মুখে ফেলেছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটির হারানো সুনাম ফিরিয়ে আনতে হলে প্রথমেই ফল বিপর্যয়ের কারণ নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে শিক্ষকদের দায়িত্ব ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা, নিয়মিত পাঠদান পর্যবেক্ষণ, শিক্ষার্থীদের প্রতি বাড়তি যত্ন এবং প্রতিষ্ঠানের ভবিষ্যৎ নিয়ে সৃষ্ট বিরোধের অবসান জরুরি। প্রতিষ্ঠানটিতে  প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত, শিক্ষক ব্যবস্থাপনা, পাঠদানের মান এবং প্রভাব—সব দিক বিবেচনায় নিয়ে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। কারণ, একটি সরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরিচয় শুধু তার নাম কিংবা প্রতিষ্ঠার ইতিহাসে নয়; তার প্রকৃত পরিচয় তৈরি হয় শিক্ষার্থীদের সাফল্য, শিক্ষার পরিবেশ এবং প্রাতিষ্ঠানিক শৃঙ্খলার মধ্য দিয়ে। বরিশাল সরকারি মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজ সেই মর্যাদা ফিরে পাবে কি না, এখন সেটিই বড় প্রশ্ন।

নিজস্ব প্রতিবেদক অক্টোবর ৩১, ২০২৬ 0
আদালতের নিষেধাজ্ঞার পরও বাকেরগঞ্জে বিদ্যালয়ের ভবন নির্মাণ
আদালতের নিষেধাজ্ঞার পরও বাকেরগঞ্জে বিদ্যালয়ের ভবন নির্মাণ, জমি দখলের অভিযোগ

ইত্তেহাদ নিউজ, অনলাইন : বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলার বোয়ালিয়া জে এম মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের নতুন ভবন নির্মাণকে কেন্দ্র করে জমির মালিকানা নিয়ে বিরোধ দেখা দিয়েছে। আদালতের নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও নির্মাণকাজ চালিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় জমির দাবিদার কুলসুম বেগমের পক্ষ থেকে আদালতের নির্দেশ অমান্য, জমি দখল, গাছপালা কেটে বিক্রি এবং ভয়ভীতি দেখানোর অভিযোগ করা হয়েছে। কুলসুম বেগমের দাবি, বিদ্যালয়ের নতুন ভবন নির্মাণের জন্য তাঁদের মালিকানাধীন প্রায় ১৫ শতাংশ জমি দখল করা হয়েছে। পাশাপাশি ভবনের পেছনে জায়গা থাকা সত্ত্বেও তাঁদের অন্য একটি জমিতে জোরপূর্বক সেপটিক ট্যাংক নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ওই জমির পরিমাণ প্রায় ২১ শতাংশ বলে দাবি তাঁর। জমি দুটি এসএ ২০৯৩ ও ২০৯৪ দাগের অন্তর্ভুক্ত বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এসব অভিযোগের সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করেছে। তাদের দাবি, পুরোনো ভবনের একই সীমানায় নতুন ভবন নির্মাণ করা হচ্ছে এবং বিদ্যালয়ের জমি নিয়ে ওঠা দাবির আইনগত ভিত্তি নেই। বিষয়টি আদালতে বিচারাধীন থাকায় আইনগতভাবেই মোকাবিলা করার কথা জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। আদালতের নির্দেশ, তবু নির্মাণকাজ চলার অভিযোগ কুলসুম বেগমের অভিযোগ, জমির মালিকানা নিয়ে বিরোধের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত নির্মাণকাজ বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছেন। কিন্তু সেই নির্দেশের পরও বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের নিয়োজিত শ্রমিকেরা কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। তাঁর দাবি, আদালতের নির্দেশ কার্যকর করতে পুলিশের পক্ষ থেকে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। ফলে বিরোধপূর্ণ জমিতে নির্মাণকাজ অব্যাহত রয়েছে। এ বিষয়ে স্থানীয় সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল হোসেন খানের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে তিনি বিষয়টি নিয়ে আদালতের দৃষ্টি আকর্ষণ করার পরামর্শ দেন বলে জানান কুলসুম বেগম। পরে আদালতের শরণাপন্ন হয়ে নির্মাণকাজ বন্ধ রাখার নির্দেশ নেওয়া হলেও পুলিশি পদক্ষেপ নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন তিনি।   জমি দখল, গাছপালা বিক্রি ও হুমকির অভিযোগ লিখিত অভিযোগে কুলসুম বেগম দাবি করেন, বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ কখনো তাঁদের সঙ্গে জমির বিরোধ নিয়ে সমঝোতা বা মীমাংসায় আসেনি। বরং প্রভাব খাটিয়ে তাঁদের ভয়ভীতি দেখানো এবং খুন-জখমের হুমকি দেওয়ার মাধ্যমে জমি দখলে রাখা হয়েছে। তাঁর ভাষ্য, বিভিন্ন সময়ে মামলা-মোকদ্দমা করে তাঁরা নিজেদের পক্ষে রায় পেয়েছেন। কিন্তু বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ সেসব রায়কে গুরুত্ব দেয়নি বলে অভিযোগ তাঁর। কুলসুম বেগম আরও অভিযোগ করেন, তাঁদের জমিতে লাগানো গাছপালা কেটে বিক্রি করা হয়েছে। নিজেরা গাছ কাটতে গেলে তাঁদের কাছে মোটা অঙ্কের টাকা দাবি করা হয়। টাকা দিতে না পারলে পুলিশ ডেকে মিথ্যা লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয় বলেও দাবি করেন তিনি। এ ছাড়া বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও তাঁর অনুসারীদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময়ে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করার অভিযোগ তুলেছেন কুলসুম বেগম। বর্তমানে বাকেরগঞ্জ থানায় তাঁদের বিরুদ্ধে আরও একটি লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।   চাকরির আশ্বাস দিয়েও নিয়োগ না দেওয়ার অভিযোগ জমি নিয়ে বিরোধের পাশাপাশি বিদ্যালয়ে চাকরি দেওয়ার আশ্বাস ভঙ্গের অভিযোগও তুলেছেন কুলসুম বেগম। তাঁর অভিযোগ, তাঁর সন্তানদের বিভিন্ন সময়ে চাকরি দেওয়ার প্রলোভন দেখানো হয়েছিল। এ বিষয়ে বিদ্যালয়ের রেজুলেশনও করা হয়েছিল বলে দাবি করেন তিনি। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তাঁদের চাকরি দেওয়া হয়নি। বরং অন্য ব্যক্তিদের কাছ থেকে নগদ অর্থ নিয়ে চাকরি দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ তাঁর। কুলসুম বেগমের দাবি, একদিকে তাঁদের জমি দখল করে রাখা হয়েছে, অন্যদিকে চাকরির আশ্বাস দিয়ে তাঁদের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করা হয়েছে।   পুলিশের বক্তব্য কী? আদালতের নির্দেশের পরও নির্মাণকাজ চলার অভিযোগের বিষয়ে বাকেরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আদিল হোসেন বলেন, আদালতের নির্দেশ পাওয়ার পর তিনি পুলিশ পাঠিয়ে নির্মাণকাজ বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি আরও বলেন, এরপরও কাজ চলার বিষয়ে তাঁর কাছে কোনো অভিযোগ আসেনি। পুলিশের এই বক্তব্যের সঙ্গে কুলসুম বেগমের অভিযোগের স্পষ্ট পার্থক্য রয়েছে। তাঁর দাবি, আদালতের নির্দেশের পরও কাজ চলছে এবং পুলিশ কার্যকর ব্যবস্থা নিচ্ছে না। অন্যদিকে ওসির বক্তব্য, পুলিশ পাঠিয়ে কাজ বন্ধ রাখতে বলা হয়েছে এবং পরবর্তী সময়ে কাজ চলার বিষয়ে কোনো অভিযোগ তিনি পাননি। এ অবস্থায় আদালতের আদেশ বাস্তবায়নে পুলিশ কী পদক্ষেপ নিয়েছে, ঘটনাস্থলে পরবর্তী সময়ে কাজ চলেছে কি না এবং এ বিষয়ে কোনো লিখিত অভিযোগ জমা পড়েছে কি না—এসব বিষয় যাচাই করা জরুরি।   বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের বক্তব্য বিদ্যালয়ের সভাপতি জিন্নাহ রথী বলেন, বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠার পর ১৯৬৬ সাল থেকেই সেখানে ভবন ছিল। তাঁর পূর্বপুরুষেরা এই বিদ্যালয়ে পড়াশোনা করেছেন এবং তিনিও এখান থেকে পাস করেছেন।তাঁর দাবি, পুরোনো ভবনটি একই সীমানার মধ্যে পুনর্নির্মাণ করতে গেলে বিদ্যালয়ের সাবেক কর্মচারী কুলসুম বেগমের পক্ষ থেকে জমির মালিকানা নিয়ে অভিযোগ তোলা হচ্ছে।জিন্নাহ রথী বলেন, বিষয়টি তাঁরা আইনগতভাবেই মোকাবিলা করছেন। তিনি আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল বলেও জানান। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ইদ্রিসুর রহমান বলেন, তিনি প্রায় ১০ থেকে ১২ বছর ধরে বিদ্যালয়টির দায়িত্ব পালন করছেন এবং বিদ্যালয়ের সব কাগজপত্র তাঁর হেফাজতে রয়েছে। প্রধান শিক্ষকের দাবি, পুরোনো ভবন থাকা অবস্থায় কেউ সেখানে জমির মালিকানা নিয়ে দাবি তোলেননি। কিন্তু পুরোনো ভবন ভেঙে নতুন ভবন নির্মাণের কাজ শুরু হলে বিদ্যালয়ের সাবেক কর্মচারী কুলসুম বেগমের পক্ষ থেকে জমির দাবি করা হচ্ছে, যার কোনো ভিত্তি নেই বলে মনে করেন তিনি।ইদ্রিসুর রহমান বলেন, কুলসুম বেগমের পক্ষ থেকে আদালতে অভিযোগ করা হয়েছে। বিষয়টি তাঁরা আইনগতভাবেই মোকাবিলা করবেন। বিরোধের নিষ্পত্তিতে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি বোয়ালিয়া জে এম মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের নতুন ভবন নির্মাণ ঘিরে বিরোধটি এখন জমির মালিকানা, আদালতের নির্দেশ বাস্তবায়ন এবং প্রশাসনিক দায়িত্ব পালনের প্রশ্ন সামনে এনেছে। একদিকে কুলসুম বেগমের পক্ষ থেকে জমি দখল, গাছপালা বিক্রি, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং আদালতের নির্দেশ অমান্যের অভিযোগ তোলা হয়েছে। অন্যদিকে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ দাবি করছে, পুরোনো ভবনের একই সীমানায় নির্মাণকাজ হচ্ছে এবং জমির মালিকানা নিয়ে ওঠা দাবির আইনগত ভিত্তি নেই। এ অবস্থায় জমির দলিল, এসএ ও অন্যান্য প্রাসঙ্গিক খতিয়ান, দাগভিত্তিক নকশা, আদালতের আদেশ, পূর্ববর্তী মামলার রায় এবং বিদ্যালয়ের জমি-সংক্রান্ত নথি যাচাই করে বিরোধের প্রকৃত অবস্থা নির্ধারণ করা প্রয়োজন।এলাকার সচেতন মহলের পক্ষ থেকে বিষয়টি সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়েছে। আদালতের নির্দেশের পর নির্মাণকাজের প্রকৃত অবস্থা কী, বিরোধপূর্ণ জমির বৈধ মালিক কে এবং আদালতের আদেশ যথাযথভাবে বাস্তবায়িত হচ্ছে কি না—এসব প্রশ্নের নিরপেক্ষ নিষ্পত্তি হলেই বিরোধের প্রকৃত চিত্র স্পষ্ট হবে।  

নিজস্ব প্রতিবেদক অক্টোবর ২৮, ২০২৬ 0
বরিশালে সওজের কম্পিউটার অপারেটর ফারুকের কয়েক কোটি টাকার সম্পত্তির তথ্য ফাঁস

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন :  বরিশাল নগরীর বিভিন্ন এলাকায় জমি ও ভবনের মালিকানা ঘিরে প্রশ্ন উঠেছে সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের (সওজ) সার্কেল মেকানিক্যাল অফিসের কম্পিউটার অপারেটর ফারুককে নিয়ে। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, নগরীর নতুন বাজার শঙ্কর মাঠের বিপরীতে, বগুড়া আলেকান্দা মৌজার ওসমান খান সড়ক এবং ২৮ নম্বর ওয়ার্ডের ফিসারি রোড এলাকায় তাঁর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বলে দাবি করা একাধিক মূল্যবান স্থাবর সম্পত্তির বিবরণ পাওয়া গেছে। এ ছাড়া ভান্ডারিয়া উপজেলার ইকরি এলাকায় পরিবারের সদস্যদের নামে সম্পত্তি থাকার তথ্যও সামনে এসেছে। প্রদত্ত হিসাব অনুযায়ী, শুধু বরিশাল নগরীর তিনটি স্থানের জমি ও ভবনেই বিপুল অঙ্কের সম্পদ রয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে। এর মধ্যে নতুন বাজার এলাকায় প্রায় আট শতাংশ জমির ওপর তিনতলা ভবন, ওসমান খান সড়কে ‘লতিফ ভিলা’ নামে একটি ভবন এবং ফিসারি রোডে ১২ থেকে ১৫ শতাংশ জমির তথ্য উল্লেখযোগ্য।   বরিশাল নগরীর নতুন বাজারে তিনতলা ভবন, জমির মূল্যই প্রায় পৌনে তিন কোটি টাকা প্রাপ্ত বিবরণ অনুযায়ী, বরিশাল নগরীর নতুন বাজার শঙ্কর মাঠের বিপরীতে একটি পেট্রোল পাম্পের পেছনে প্রায় আট শতাংশ জমির ওপর তিনতলা একটি ভবন রয়েছে। স্থানীয় বাজারদরের যে হিসাব দেওয়া হয়েছে, তাতে প্রতি শতাংশ জমির মূল্য ৩০ থেকে ৩৫ লাখ টাকা। সে হিসাবে আট শতাংশ জমির আনুমানিক মূল্য দাঁড়ায় দুই কোটি ৪০ লাখ থেকে দুই কোটি ৮০ লাখ টাকা। অর্থাৎ জমির মূল্য দুই কোটি ৮০ লাখ টাকা বলা হলে তা এই মূল্যসীমার সর্বোচ্চ হিসাবের সঙ্গে মেলে। এ ছাড়া ভবনটির নির্মাণব্যয় দুই কোটি টাকার বেশি এবং সেখানে ব্যবহৃত আসবাবপত্রের মূল্য ৫০ লাখ টাকার বেশি বলে দাবি করা হয়েছে। এসব হিসাব সঠিক হলে জমি, ভবন ও আসবাবপত্র মিলিয়ে সম্পদটির আনুমানিক মূল্য পাঁচ কোটি ৩০ লাখ টাকার বেশি হতে পারে।   বরিশাল নগরীর ওসমান খান সড়কে ‘লতিফ ভিলা’, জমির মূল্য নিয়ে হিসাবের অসংগতি বরিশাল নগরীর ১২ নম্বর ওয়ার্ডের বগুড়া আলেকান্দা মৌজার ওসমান খান সড়কে ‘লতিফ ভিলা’ নামে আরেকটি ভবনের তথ্য পাওয়া গেছে। প্রদত্ত বিবরণে বলা হয়েছে, ভবনটির তিনতলা নির্মাণ সম্পন্ন হয়েছে এবং চতুর্থ তলার নির্মাণকাজ চলছে। জমির পরিমাণ আনুমানিক আট থেকে দশ শতাংশ। প্রতি শতাংশ জমির মূল্য প্রায় ৩৫ লাখ টাকা ধরে হিসাব করলে জমিটির মূল্য দাঁড়ায় দুই কোটি ৮০ লাখ থেকে তিন কোটি ৫০ লাখ টাকা। এর সঙ্গে ভবনটির নির্মাণমূল্য দুই কোটি টাকার বেশি এবং আসবাবপত্রের আনুমানিক মূল্য এক কোটি টাকা যোগ করলে সম্পত্তিটির মোট মূল্য আরও বেশি হতে পারে। প্রকৃত জমির পরিমাণ, সুনির্দিষ্ট অবস্থান, দলিলমূল্য এবং বর্তমান বাজারদর যাচাই করে এ অসংগতি নিরসন করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে ভবনটির মালিকানা ও নির্মাণব্যয়ের তথ্যও যাচাই করা জরুরি। বরিশাল নগরীর ফিসারি রোডে ১২ থেকে ১৫ শতাংশ জমির তথ্য নগরীর ২৮ নম্বর ওয়ার্ডের ফিসারি রোডের প্রথম লেনে প্রায় ১২ থেকে ১৫ শতাংশ জমির বিবরণও পাওয়া গেছে। জমিটি ইটের প্রাচীর দিয়ে ঘেরা বলে উল্লেখ করা হয়েছে। প্রতি শতাংশের আনুমানিক মূল্য ২৮ থেকে ৩০ লাখ টাকা ধরে হিসাব করলে ১২ শতাংশ জমির মূল্য দাঁড়ায় তিন কোটি ৩৬ লাখ থেকে তিন কোটি ৬০ লাখ টাকা। আর ১৫ শতাংশ জমির ক্ষেত্রে মূল্য দাঁড়ায় চার কোটি ২০ লাখ থেকে চার কোটি ৫০ লাখ টাকা। অর্থাৎ জমির পরিমাণ ও প্রতি শতাংশের মূল্য অনুযায়ী এর আনুমানিক মূল্য তিন কোটি ৩৬ লাখ থেকে চার কোটি ৫০ লাখ টাকার মধ্যে হতে পারে। পরিবারের সদস্যদের নামে সম্পত্তি থাকার তথ্য বরিশাল নগরীর বাইরেও ভান্ডারিয়া উপজেলার ইকরি এলাকায় ফারুকের স্ত্রী, শ্যালিকা ও শ্বশুরবাড়ির সদস্যদের নামে সম্পত্তি থাকার তথ্য দেওয়া হয়েছে। তবে এসব সম্পত্তির সুনির্দিষ্ট অবস্থান, পরিমাণ, দলিল, ক্রয়ের সময় এবং বাজারমূল্য সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো,  মালিকানা ও অর্থের উৎস নিয়ে অসংগতি পাওয়া গেলে তা নথিপত্রের ভিত্তিতে অনুসন্ধানের দাবি রাখে। সম্পদের মূল্য নয়, গুরুত্বপূর্ণ অর্থের উৎস প্রাপ্ত বিবরণে উল্লিখিত সম্পত্তিগুলোর মূল্যসংক্রান্ত দাবি সঠিক হলে সেগুলো উল্লেখযোগ্য পরিমাণ সম্পদের ইঙ্গিত দেয়। তবে কোনো ব্যক্তির সম্পদ কত, শুধু সেই হিসাব দিয়ে অনিয়ম নির্ধারণ করা যায় না। সম্পত্তি অর্জনের সময়, বৈধ আয়, সঞ্চয়, ঋণ, উত্তরাধিকার, পারিবারিক অর্থায়ন এবং অন্যান্য বৈধ উৎস বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন। তাই অনুসন্ধানের ক্ষেত্রে কয়েকটি প্রশ্ন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। সম্পত্তিগুলো কবে কেনা হয়েছে? দলিলে কত মূল্য দেখানো হয়েছে? জমি কেনা ও ভবন নির্মাণে প্রকৃত ব্যয় কত? সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির ঘোষিত আয় ও আর্থিক সক্ষমতার সঙ্গে এসব ব্যয়ের সামঞ্জস্য রয়েছে কি না? পরিবারের সদস্যদের নামে থাকা সম্পত্তির অর্থের উৎস কী?   বক্তব্য জানতে গিয়ে পাওয়া যায়নি ফারুককে অভিযোগ ও সম্পত্তিসংক্রান্ত তথ্যের বিষয়ে বক্তব্য জানতে ফারুকের সঙ্গে একাধিকবার ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। তবে ফোন রিসিভ না করায় তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। পরে স্থানীয় সাংবাদিকেরা সওজের সার্কেল মেকানিক্যাল অফিসে গেলে ফারুক তাঁদের দেখে সেখান থেকে চলে যান বলে প্রতিবেদকের দেওয়া তথ্যে উল্লেখ করা হয়েছে। ওই সময় অফিস উপস্থিত না থাকায় সংশ্লিষ্ট দপ্তরের বক্তব্যও সংগ্রহ করা সম্ভব হয়নি। ফারুকের বক্তব্য পাওয়া না যাওয়ায় সম্পত্তিগুলোর মালিকানা, অর্থের উৎস এবং উত্থাপিত প্রশ্নগুলোর বিষয়ে তাঁর ব্যাখ্যা জানা যায়নি।  নিরপেক্ষ যাচাইয়ের দাবি সওজের মতো সরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত কোনো ব্যক্তির সম্পদ নিয়ে প্রশ্ন উঠলে তা নিষ্পত্তির উপযুক্ত পথ হলো নথিনির্ভর ও নিরপেক্ষ অনুসন্ধান। এ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট সম্পত্তিগুলোর প্রকৃত মালিকানা, ক্রয় ও নির্মাণব্যয়, অর্থের উৎস এবং প্রযোজ্য আর্থিক নথি যাচাই করা হলে অভিযোগের ভিত্তি আছে কি না, তা স্পষ্ট হতে পারে। 

নিজস্ব প্রতিবেদক অক্টোবর ১৭, ২০২৬ 0
বরিশাল শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী শহিদুল যখন ঠিকাদার: ঘুষ দুর্নীতি ও অনিয়মের মাধ্যমে সম্পদের পাহাড় গড়ার অভিযোগ

বরিশাল শিক্ষা প্রকৌশলে দুর্নীতির অভিযোগ: নির্বাহী প্রকৌশলী শহিদুলের বিরুদ্ধে ঠিকাদারি নিয়ন্ত্রণ, কমিশন বাণিজ্য ও ভুয়া বিলের প্রশ্ন:২৪ ঠিকাদারের লিখিত অভিযোগ, মানববন্ধন ও টেন্ডার কারসাজির দাবি; প্রায় ৩২ কোটি টাকার টিএসসি প্রকল্পে কমিশন লেনদেনের অভিযোগ, নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি ইত্তেহাদ নিউজ, অনলাইন: বরিশাল শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর (ইইডি) জেলার শিক্ষা অবকাঠামো উন্নয়নের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সরকারি প্রতিষ্ঠান। জেলার স্কুল,কলেজ ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ভবন নির্মাণ, সংস্কার, শ্রেণিকক্ষ সম্প্রসারণ, টয়লেট ও অন্যান্য অবকাঠামোগত কাজের দায়িত্ব এই দপ্তরের ওপর ন্যস্ত। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে এই দপ্তর ঘিরে যে চিত্র উঠে আসছে, তা সরকারি উন্নয়ন কার্যক্রমের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তৈরি করছে। অনুসন্ধানে পাওয়া গেছে, দীর্ঘদিন ধরে দপ্তরের ভেতরে ঘুষ, অনিয়ম, দরপত্র কারসাজি ও সরকারি অর্থ অপচয়ের অভিযোগ জমতে জমতে এখন পাহাড় হয়ে প্রকাশ্যে আসছে। এসব অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন বরিশাল শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী শহিদুল ইসলাম।   কে এই শহিদুল,আটকের দাবি শহিদুল ইসলাম ছাত্র জিবন থেকেই ছাত্রলীগের কর্মকান্ডের সাথে জড়িত।বাড়ি বাগেরহাট জেলার মোড়লগঞ্জ উপজেলার ঢেপুয়ারপাড় জামুয়া গ্রামে।তার পিতার নাম শেখ রুস্তুম আলী।পিমস আইডি নং ০০০৫৪৩।এন আই ডি নং- এনআইডি নং- ২৬৯০৪১৭১৫৪+++। ডুয়েটে থাকাকালীন সময়ে আবেদ আলী পিএসসি সনদ বানিজ্যে জড়িয়ে পড়েন। বহুল আলোচিত কেলেঙ্কারি বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) প্রশ্নপত্র ফাঁস সংক্রান্ত পিএসসির সাবেক চেয়ারম্যানের গাড়িচালক সৈয়দ আবেদ আলী এবং পিএসসির বেশ কয়েকজন কর্মকর্তাসহ একটি শক্তিশালী প্রশ্নফাঁস চক্রের সাথে প্রকৌশলী শহিদুল জড়িয়ে পড়েন। শহিদুলের নিয়োগেও রয়েছে বড় অনিয়ম।তিনি ও তার বন্ধুদের নিয়োগ নিয়ে বড় ধরনের অনিয়ম ফাঁস হয়েছিল।বড় অংকের ঘুসের বিনিময়ে সেই অনিয়ম ধামাচাপা দেয়া হয়।শহিদুলকে আটক করে রিমান্ডে নেয়া হয়ে আবেদআলী পিএসসি প্রশ্নফাঁসে বহু তথ্য বেড়িয়ে আসবে।   শহিদুলের গডফাদাররা কারাগারে থাকলেও তিনি এখনো বহাল তবিয়তে: বরিশাল শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী শহিদুল ইসলাম তিনি সরকারি দ্বায়িত্বে নিয়োজিতই নন।তিনি এখনো বঙ্গবন্ধু প্রকৌশল পরিষদের শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর শাখার সদস্যও। ডুয়েটে ছাত্র জিবনে কার্য্যক্রম নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের একজন সক্রিয় নেতা ছিলেন।২০০৯ ব্যাচের এই প্রকৌশলী শহিদুল ইসলামের চতুরতায় বরিশাল,ঝালকাঠি ও পটুয়াখালীর অসংখ্য ঠিকাদারগন পথে বসেছে। শহিদুলের গডফাদার ঝালকাঠিতে কর্মরত থাকাকালীন সময়ে ছিলেন আমির হোসেন আমু,বরিশালে তার গডফাদার ছিলেন জাহিদ ফারুক শামিম। আমু ও জাহিদ ফারুক শামিম কারাগারে অথচ প্রকৌশলী শহিদুল ইসলাম দুটি গুরুত্বপূর্ণ জেলা বরিশাল ও বরগুনার দ্বায়িত্বে বহাল তবিয়তে ফুরফুরে মেজাজে রয়েছেন।শহিদুল ইসলামকে দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছে সাধারন ঠিকাদারগন। ঠিকাদার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি এবং দপ্তরের ভেতরের একাধিক সূত্রের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, নির্বাহী প্রকৌশলী শহিদুলের প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ অনুমোদন ছাড়া কোনো প্রকল্পের ফাইল কার্যত এগোয় না-এমনটাই দাবি করছেন সংশ্লিষ্টরা। অভিযোগ রয়েছে, তিনি দপ্তরের ভেতরে এমন একটি প্রভাববলয় তৈরি করেছেন, যেখানে সিদ্ধান্ত গ্রহণ থেকে শুরু করে অর্থ ছাড় পর্যন্ত প্রায় সব গুরুত্বপূর্ণ ধাপ তাঁর নিয়ন্ত্রণে থাকে। ফলে কেউ তাঁর বিরাগভাজন হলে কিংবা তাঁর কথিত নির্দেশনা অনুসরণ না করলে ফাইল আটকে যাওয়াটা যেন নিয়মে পরিণত হয়েছে। নির্বাহী প্রকৌশলী শহিদুল ইসলাম যখন ঠিকাদার : বরিশাল শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী শহিদুল ইসলাম তিনি নিজ দপ্তরে বসেই চারটি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান নিয়ন্ত্রন করেন।এই চারটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের নামে কাজ নিয়ে সাব কন্ট্যাক্টে কাজ দেন বিভিন্ন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে।ফলে প্রকৌশলী শহিদুল ইসলামের নিকট জিম্মি থাকে সাব কন্টাক্টে কাজ নেয়া প্রতিষ্ঠানের লোকজন।শহিদুল ইসলাম যে চারটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান নিয়ন্ত্রন করেন সেসব ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানগুলো হলো বরিশালের মেসার্স মোমিন সিকদার,দিনাজপুরের মেসার্স মা এন্টার প্রাইজ,চট্রগ্রামের ইউনুস এন্ড ব্রাদার্স,খুলনার মেসার্স রাফিদ ট্রেডার্স। অভিযোগকারীদের দাবি, এসব প্রতিষ্ঠানের নামে কাজ নেওয়ার পর বিভিন্ন ক্ষেত্রে অন্য ঠিকাদারদের কাছে সাবকন্ট্রাক্টে কাজ দেওয়া হয়। এতে মূল কাজের বরাদ্দ, বাস্তবায়ন এবং আর্থিক লেনদেনের ওপর সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার প্রভাব বজায় থাকে বলে তাঁদের অভিযোগ। তাঁদের আরও দাবি, সাবকন্ট্রাক্টে কাজ নেওয়া ঠিকাদারদের বিল, জামানত ও ভবিষ্যৎ কাজের সুযোগ সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ে। ফলে অনিয়মের প্রতিবাদ করা বা অভিযোগ প্রকাশ্যে আনা তাঁদের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠে।  উল্লিখিত চারটি প্রতিষ্ঠানের প্রকৃত মালিকানা, নির্বাহী প্রকৌশলীর সঙ্গে তাদের আর্থিক বা ব্যবসায়িক সম্পর্ক এবং সংশ্লিষ্ট কাজের বরাদ্দ ও সাবকন্ট্রাক্টের বৈধতা যাচাই করতে দরপত্রের নথি, চুক্তিপত্র, মালিকানা-সংক্রান্ত কাগজপত্র এবং আর্থিক লেনদেনের তথ্য অনুসন্ধান চলছে।   নিরাপত্তা জামানত নিয়েও প্রশ্ন: ঠিকাদারদের অভিযোগ, চারটি প্রতিষ্ঠানের নামে সম্পাদিত কাজের বিপরীতে নিরাপত্তা জামানত হিসেবে ৫ শতাংশ অর্থ কর্তন করা হয়েছে, যেখানে তাঁদের দাবি অনুযায়ী প্রযোজ্য বিধিতে ১০ শতাংশ কর্তনের কথা রয়েছে। তাঁদের অভিযোগ, এভাবে জামানত কর্তনের ক্ষেত্রে বিধি অনুসরণ না করা হলে সরকারের আর্থিক স্বার্থ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। অনুসন্ধানের শুরুটা হয় ঠিকাদারদের অসন্তোষ থেকে। বরিশাল জেলার বিভিন্ন স্থানে বিদ্যালয় ভবন নির্মাণ ও সংস্কারকাজ শেষ করেও একাধিক ঠিকাদার বিল না পাওয়ার অভিযোগ তুলতে থাকেন। কেউ কেউ জানান, কাজ শেষ হওয়ার পর মাসের পর মাস অফিসে ঘুরেও তারা বিল পাচ্ছেন না। আবার কোনো ক্ষেত্রে বিল আংশিক ছাড় করা হলেও বাকি অর্থ আটকে রাখা হচ্ছে। এসব অভিযোগ খতিয়ে দেখে দেখা যায়, অধিকাংশ ফাইলের শেষ ধাপ গিয়ে থেমে থাকে নির্বাহী প্রকৌশলীর টেবিলে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক ঠিকাদার জানান, এখানে কাজ করতে হলে শুধু নিয়ম মেনে কাজ করলেই হয় না, বাড়তি কিছু 'ম্যানেজ' করতে হয়। এক ঠিকাদারের ভাষায়, “এখানে কাজ করতে হলে দুইটা জিনিস লাগে-ধৈর্য আর টাকা। টাকা না দিলে ধৈর্য পরীক্ষা নেওয়া হয়।” তাঁর দাবি, অফিসে কেউ সরাসরি ঘুষের কথা বলে না, কিন্তু কথাবার্তার ইঙ্গিত থেকেই বিষয়টি পরিষ্কার হয়ে যায়। প্রথমে বলা হয় ফাইলে একটু সমস্যা আছে, পরে নতুন কাগজ চাই, এরপর বলা হয় 'উপরে কথা বলতে হবে'।   শহিদুলের যত সম্পদ:  বরিশাল শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী শহিদুল শেয়ারি বরিশাল ও ঢাকায় জমি ক্রয় করে ফ্ল্যাট ব্যবসা,উত্তরায় নিজস্ব ফ্ল্যাট,গাড়িসহ নামে বেনামে শত শত কোটি টাকাসহ সহায় সম্পদ গড়েছেন। ঘুষ,ঠিকাদারি,ঠিকাদারদের থেকে প্রতি বিলে ঘুষ,কমিশন,ঠিকাদারী কাজ বিক্রি, পার্টনার ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের নামে কাজের রিভাইজের মাধ্যমে অতিরিক্ত বিল করে সরকারি টাকা আত্মসাৎ,প্রতি লাইসেন্স থেকে দশ হাজার করে ঘুষ আদায়সহ অনৈতিক ভাবে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন করেছেন।দুদক তদন্ত করলে বেড়িয়ে আসবে তার সম্পদের পাহাড়ের সকল তথ্য। নারী কেলেঙ্কারির যত অভিযোগ:  বরিশাল শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী শহিদুল নারীদের প্রতি খুবই দুর্বল।তাকে নারী সাপ্লাই দিত সাবেক এক হিসাব রক্ষক।বর্তমানে এক নারীর সাথে অনৈতিক সম্পর্কের বিষয়ে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের অভ্যান্তরে কানাঘুষা চলছে।এছাড়া তার নিজস্ব নিয়োগ দেয়া ব্যক্তিও তাকে সুন্দরী নারী সাপ্লাই দিচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।একটি নির্জন বাংলোতে নারীদের নিয়ে সময় কাটানোর অভিযোগ দীর্ঘদিনের। অনুসন্ধানে জানা গেছে, বিদ্যালয়ের ভবন নির্মাণ বা সংস্কারকাজ শেষ হওয়ার পর বিল ছাড় করাতে নির্দিষ্ট অঙ্কের অর্থ দিতে হয়-এমন অভিযোগ বহু ঠিকাদারের। প্রকল্পের আকার ও বাজেট অনুযায়ী এই অর্থের পরিমাণ ভিন্ন হয়ে থাকে বলে তারা জানান। কাজ যত বড়, কথিত লেনদেনের অঙ্কও তত বেশি-এমনটাই অভিযোগ ভুক্তভোগীদের। পুরো প্রক্রিয়াটি সাধারণত ধাপে ধাপে সম্পন্ন হয় বলে তারা দাবি করেন। প্রথমে মৌখিক ইঙ্গিত দেওয়া হয়, পরে কোনো মধ্যস্থতাকারীর মাধ্যমে বার্তা পৌঁছে দেওয়া হয়, সবশেষে সরাসরি 'খরচের কথা' বলা হয়।   ঠিকাদারদের অভিযোগ, ঘুষ দিতে অস্বীকৃতি জানালে ফাইল এক টেবিল থেকে আরেক টেবিলে ঘুরতেই থাকে। কখনো নতুন করে মাপজোপের কথা বলা হয়, কখনো আগের কাগজে ত্রুটি বের করা হয়। ফলে কাজ শেষ করেও তারা আর্থিক সংকটে পড়েন। কেউ কেউ বাধ্য হয়ে ঋণ নিয়ে কাজ করেছেন, কিন্তু বিল আটকে থাকায় সেই ঋণ শোধ করাও কঠিন হয়ে পড়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।   বিল ছাড়ের পাশাপাশি দরপত্র প্রক্রিয়ায়ও ভয়াবহ অনিয়মের অভিযোগ উঠে এসেছে। অনুসন্ধানে পাওয়া তথ্যমতে, অনেক ক্ষেত্রে দরপত্রের শর্ত এমনভাবে নির্ধারণ করা হয়, যাতে নির্দিষ্ট কিছু ঠিকাদারই সুবিধা পায়। প্রকৃত প্রতিযোগী ঠিকাদারদের দরপত্রে কৃত্রিম কারিগরি ত্রুটি দেখিয়ে বাতিল করা হয়-এমন অভিযোগও রয়েছে। দরপত্র মূল্যায়ন কমিটিতে প্রভাব বিস্তার করে তার চারটি ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানকে কাজ পাইয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে নির্বাহী প্রকৌশলী শহিদুলের বিরুদ্ধে।এক ঠিকাদার বলেন, "আগেই ঠিক করে দেওয়া থাকে কে কাজ পাবে। দরপত্র শুধু আনুষ্ঠানিকতা। আমরা কাগজ জমা দিলেও পরে বলা হয় টেকনিক্যাল সমস্যা আছে।” তাঁর দাবি, এসব সমস্যার কোনো বাস্তব ভিত্তি থাকে না, বরং পছন্দের ঠিকাদারকে জায়গা করে দিতেই এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।এই অনিয়মের ফলে সরকারি ক্রয়বিধি লঙ্ঘনের পাশাপাশি সরকারের আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কাও তৈরি হচ্ছে। প্রতিযোগিতা না থাকায় কাজের মান কমে যাওয়ার অভিযোগও উঠেছে। অনুসন্ধানে জেলার কয়েকটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, কোথাও অর্ধসমাপ্ত ভবন পড়ে আছে, কোথাও নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার করা হয়েছে, আবার কোথাও কাগজে কাজ শেষ দেখানো হলেও বাস্তবে ভবনের বিভিন্ন অংশ অসম্পূর্ণ রয়ে গেছে। একটি বিদ্যালয়ের শিক্ষক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, "ছাদ থেকে পানি পড়ে, দেয়ালে ফাটল। কিন্তু কাগজে নাকি সব ঠিক। আমাদের শিক্ষার্থীরা ঝুঁকির মধ্যে ক্লাস করছে।” অভিভাবকদের অভিযোগ, ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে পাঠদান চলায় শিক্ষার্থীদের জীবন হুমকির মুখে পড়ছে। তারা বলছেন, শিক্ষা খাতে অনিয়ম মানে সরাসরি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা। অনুসন্ধানে আরও জানা গেছে, দপ্তরের ভেতরে ও বাইরে একটি মধ্যস্থতাকারী নেটওয়ার্ক সক্রিয় রয়েছে। এই নেটওয়ার্কের মাধ্যমে সরাসরি লেনদেন এড়িয়ে যোগাযোগ রক্ষা করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। দপ্তরের কিছু কর্মচারী এবং বাইরের কয়েকজন ব্যক্তি এই যোগাযোগের কাজ করে থাকেন বলে সংশ্লিষ্টরা দাবি করেছেন। এর ফলে মূল অভিযুক্ত সবসময় সরাসরি সামনে না এসে আড়ালে থাকার সুযোগ পাচ্ছেন।তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন নির্বাহী প্রকৌশলী শহিদুল ইসলাম।   সরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ভবন নির্মাণ, সংস্কার ও অবকাঠামো উন্নয়নের দায়িত্বে থাকা শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের (ইইডি) বরিশাল কার্যালয় ঘিরে ঘুষ, দরপত্রে অনিয়ম, কমিশন বাণিজ্য, বিল আটকে রাখা এবং ঠিকাদারদের হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এসব অভিযোগের কেন্দ্রে রয়েছেন অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. শহিদুল ইসলাম। তাঁর বিরুদ্ধে প্রতিকার চেয়ে  সচিবের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ২৪ জন ঠিকাদার। অভিযোগের প্রতিবাদে তাঁর অপসারণ ও তদন্তের দাবিতে মানববন্ধনও করেছেন ভুক্তভোগীরা। ঠিকাদারদের অভিযোগ, প্রকল্পের কাজ পাওয়া থেকে শুরু করে বিল উত্তোলন, জামানত ফেরত এবং দরপত্রের মূল্যায়ন—প্রায় প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপেই একটি প্রভাবশালী বলয়ের নিয়ন্ত্রণ রয়েছে। অভিযোগের মধ্যে রয়েছে নির্দিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে কাজ নেওয়া, পরে অন্য ঠিকাদারের কাছে কাজ হস্তান্তর, নির্ধারিত হারে কমিশন আদায়, কাজের অগ্রগতি নিয়ে প্রশ্নবিদ্ধ নথি তৈরি এবং পছন্দের প্রতিষ্ঠানকে সুবিধা দেওয়ার চেষ্টা। প্রায় ৩২ কোটি টাকার কারিগরি স্কুল ও কলেজ  স্থাপন প্রকল্প ঘিরে কমিশন লেনদেনের অভিযোগও সামনে এসেছে। এ ছাড়া বরিশাল নগরীর কলেজিয়েট মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের নতুন ভবন নির্মাণের দরপত্র, নিরাপত্তা জামানত কর্তন এবং ঠিকাদারদের বিল আটকে রাখার অভিযোগও উঠেছে। অভিযোগগুলো সত্য হলে, তা শুধু একটি সরকারি দপ্তরের প্রশাসনিক অনিয়মের প্রশ্ন নয়; বরং শিক্ষা অবকাঠামোর গুণগত মান, সরকারি অর্থের সুরক্ষা এবং সরকারি ক্রয়প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়েও গুরুতর প্রশ্ন তৈরি করে।    বিল ছাড়ে কমিশনের অভিযোগ: কাজ শেষ, তবু অপেক্ষা অনুসন্ধানের উপাদানে উঠে আসা অভিযোগগুলোর মধ্যে সবচেয়ে গুরুতর হলো কাজ সম্পন্ন করার পরও ঠিকাদারদের বিল আটকে রাখা এবং বিল ছাড়ের জন্য কমিশন দাবি করার অভিযোগ। ঠিকাদারদের ভাষ্য, বিদ্যালয়ের ভবন নির্মাণ, সংস্কার কিংবা সম্প্রসারণের কাজ শেষ করার পরও মাসের পর মাস তাঁদের দপ্তরে ঘুরতে হয়। কখনো বিলের একটি অংশ ছাড় করা হয়, আবার কখনো নতুন করে কাগজপত্র চাওয়া বা কাজের পরিমাপ নিয়ে আপত্তি তোলার কারণে ফাইল আটকে থাকে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক ঠিকাদারের অভিযোগ, “এখানে কাজ করতে হলে দুইটা জিনিস লাগে—ধৈর্য আর টাকা। টাকা না দিলে ধৈর্যের পরীক্ষা নেওয়া হয়।” ঠিকাদারদের দাবি, বিলের পরিমাণ ও প্রকল্পের আকার অনুযায়ী কথিত কমিশনের অঙ্ক নির্ধারিত হয়। অভিযোগ অনুযায়ী, প্রথমে ফাইলে সমস্যা থাকার কথা বলা হয়, পরে অতিরিক্ত কাগজপত্র চাওয়া হয় এবং শেষ পর্যন্ত মধ্যস্থতাকারীর মাধ্যমে অর্থের ইঙ্গিত দেওয়া হয়। আরেকটি অভিযোগ হলো, নিরাপত্তা জামানত ফেরত পেতেও অতিরিক্ত অর্থ দিতে হয়। তবে এসব লেনদেনের সুনির্দিষ্ট পরিমাণ, অর্থ গ্রহণকারী ব্যক্তি এবং সংশ্লিষ্ট নথি স্বাধীনভাবে যাচাই করা প্রয়োজন। ঠিকাদারদের বক্তব্য, বিল আটকে থাকায় তাঁদের ব্যাংকঋণের সুদ, শ্রমিকের মজুরি ও নির্মাণসামগ্রীর বকেয়া পরিশোধে সমস্যা তৈরি হচ্ছে। এর প্রভাব পড়ছে নতুন প্রকল্প বাস্তবায়নের সক্ষমতার ওপরও।   দরপত্রে পছন্দের প্রতিষ্ঠানকে সুবিধা দেওয়ার অভিযোগ শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের বরিশাল কার্যালয় ঘিরে আরেকটি বড় অভিযোগ হলো দরপত্রের প্রতিযোগিতা প্রভাবিত করা। ঠিকাদারদের দাবি, নির্দিষ্ট কিছু প্রতিষ্ঠানকে কাজ পাইয়ে দিতে দরপত্রের শর্ত ও মূল্যায়নপ্রক্রিয়া প্রভাবিত করা হয়। প্রতিদ্বন্দ্বী ঠিকাদারদের কারিগরি ত্রুটির অজুহাতে বাদ দেওয়া এবং পছন্দের প্রতিষ্ঠানকে সুবিধা দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে। এক ঠিকাদারের ভাষায়, “আগেই ঠিক করে দেওয়া থাকে কে কাজ পাবে। দরপত্র শুধু আনুষ্ঠানিকতা। আমরা কাগজ জমা দিলেও পরে বলা হয়, টেকনিক্যাল সমস্যা আছে।” অভিযোগকারীদের দাবি, এসব সিদ্ধান্তের ফলে প্রকৃত প্রতিযোগিতা বাধাগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি সরকারি অর্থের সর্বোত্তম ব্যবহারও ব্যাহত হতে পারে।    কলেজিয়েট মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ৪ কোটি ২৯ লাখ টাকার প্রকল্প বরিশাল নগরীর ২০ নম্বর ওয়ার্ডে অবস্থিত কলেজিয়েট মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের নতুন ভবন নির্মাণ প্রকল্প ঘিরে দরপত্র নিয়ে বিতর্কের অভিযোগ উঠেছে। প্রকল্পটির ব্যয় ধরা হয়েছিল ৪ কোটি ২৯ লাখ ৩৪ হাজার টাকা। প্রাপ্ত তথ্যমতে, ২০১৯ সালের ১৯ জুন প্রকল্পটির জন্য প্রথম দফায় দরপত্র আহ্বান করা হয়। সে সময় কোহিনূর এন্টারপ্রাইজ কাজটি পায়। অভিযোগে বলা হয়েছে, বিদ্যালয়ের তৎকালীন ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি, মহানগর যুবলীগ নেতা ও ২০ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর জিয়াউল হক বিপ্লব এবং তাঁর ঘনিষ্ঠ সহযোগী জাহিদ কাজটি শুরু করেন। কিন্তু নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ না হওয়ায় প্রকল্পটি পুনঃদরপত্রে যায় বলে অভিযোগকারীরা জানিয়েছেন। পরবর্তী দরপত্রে বিভিন্ন স্থান থেকে চারটি প্রতিষ্ঠান অংশ নেয় এবং প্রত্যেকেই ১০ শতাংশ ছাড় দিয়ে দরপত্র জমা দেয় বলে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারদের দাবি। অভিযোগ রয়েছে, নির্বাহী প্রকৌশলী শহিদুল ইসলাম পুনঃদরপত্রে অংশ নেওয়া একটি প্রতিষ্ঠানকে কাজ পাইয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেন, যেটি জিয়াউল হক বিপ্লবের ঘনিষ্ঠ বলে দাবি করা হয়েছে। ঠিকাদারদের আরও অভিযোগ, দরপত্র প্রক্রিয়া ১২০ দিনের মধ্যে সম্পন্ন হওয়ার কথা থাকলেও  এ ক্ষেত্রে নিয়ম মানা হয়নি। অভিযোগকারীরা বিষয়টিকে রাজনৈতিক ও ব্যক্তিগত প্রভাবের মাধ্যমে নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে সুবিধা দেওয়ার প্রচেষ্টা হিসেবে দেখছেন। তাঁদের দাবি, দরপত্রের শর্ত, মূল্যায়নের ফলাফল এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণে বিলম্বের কারণ প্রকাশ করা হলে প্রকৃত চিত্র স্পষ্ট হবে।   প্রায় ৩২ কোটি টাকার টিএসসি প্রকল্প: কমিশন বাণিজ্যের অভিযোগ বরিশাল শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের বাবুগঞ্জ ও আগৈলঝাড়ায় কারিগরি স্কুল ও কলেজ (টিএসসি) স্থাপন প্রকল্প ঘিরেও গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন ঠিকাদারদের একাংশ। তাঁদের দাবি, প্রায় ৩২ কোটি টাকার প্রকল্পের কাজ বসুন্ধরা হাউজিং (প্রা.) লিমিটেডের লাইসেন্স ব্যবহার করে নির্বাহী প্রকৌশলী শহিদুল ইসলাম নিজেই নিয়ন্ত্রণ করেছেন। পরে প্রকল্পের কাজ ৭ শতাংশ কমিশনের বিনিময়ে অন্যদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এই অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে প্রকল্পের কার্যাদেশ, সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের মালিকানা ও প্রতিনিধিত্ব, চুক্তির শর্ত, কাজের বাস্তবায়নকারী প্রতিষ্ঠান এবং অর্থ পরিশোধের নথি পরীক্ষা করা প্রয়োজন। সরকারি কাজের চুক্তি অন্য প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে বাস্তবায়িত হয়ে থাকলে সেটি অনুমোদিত সাবকন্ট্রাক্ট কি না, তা-ও যাচাই করতে হবে। ৩৫ লাখ টাকা ও কম্পিউটার অপারেটর রাশেদকে ঘিরে অভিযোগ টিএসসি প্রকল্পের কমিশন লেনদেন নিয়ে আরও একটি গুরুতর অভিযোগ সামনে এসেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ২৩ অক্টোবর সকাল সাড়ে ১১টার দিকে প্রধান কার্যালয়ের প্রকৌশলী শহিদুল ইসলাম বরিশালে আসার পর সার্কিট হাউসে ঠিকাদার প্রতিনিধিরা প্রকল্পের অগ্রিম কমিশন হিসেবে ৩৫ লাখ টাকা তাঁর দপ্তরের কম্পিউটার অপারেটর রাশেদের কাছে জমা দেন। ঠিকাদারদের অভিযোগ, টাকা গ্রহণের পর রাশেদকে আর খুঁজে পাওয়া যায়নি। পরবর্তী সময়ে তাঁকে খুঁজতে নির্বাহী প্রকৌশলীর সরকারি গাড়িতে করে তাঁর স্ত্রী, সন্তান ও ভাইকে বরিশালে আনা হয় এবং গভীর রাত পর্যন্ত তাঁদের ওপর চাপ প্রয়োগ করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। পরে রাশেদের স্ত্রীর আপত্তির মুখে তাঁদের ফিরিয়ে দেওয়া হয় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি।অভিযোগটি সত্য হলে তা সরকারি প্রকল্পের অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনা ও দপ্তরের জবাবদিহি নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুলবে। এ কারণে ঘটনাটির নিরপেক্ষ তদন্ত জরুরি। ছয় থেকে আট ঠিকাদারের সিন্ডিকেটের অভিযোগ ঠিকাদারদের একাংশের দাবি, নির্বাহী প্রকৌশলীর আশপাশে ছয় থেকে আটজন ঠিকাদারকে কেন্দ্র করে একটি প্রভাবশালী বলয় তৈরি হয়েছে। প্রকল্পের বরাদ্দ, কার্যাদেশ, বিল ছাড় এবং জামানত ফেরতের মতো বিষয়ে এই বলয় বাড়তি সুবিধা পায় বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগে কয়েকজন কর্মকর্তার নামও এসেছে। তাঁদের বিরুদ্ধে বড় প্রকল্পের কাজ বণ্টন ও কমিশনভিত্তিক লেনদেনের সঙ্গে যুক্ত থাকার অভিযোগ তুলেছেন সংশ্লিষ্টরা। এ ছাড়া ঢাকায় দায়িত্ব পালন করা শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের সাবেক এক প্রধান প্রকৌশলীর সঙ্গে শহিদুল ইসলামের ঘনিষ্ঠতা এবং তাঁকে নিয়মিত বরিশালের ইলিশ পাঠানোর অভিযোগও ঠিকাদারি মহলে আলোচিত বলে দাবি করা হয়েছে।   ২৪ ঠিকাদারের লিখিত অভিযোগ: কী প্রতিকার চাওয়া হয়েছে? সচিবের কাছে দেওয়া লিখিত অভিযোগে ২৪ জন ঠিকাদার নির্বাহী প্রকৌশলী শহিদুল ইসলামের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার, ঘুষ, দুর্নীতি, ভুয়া বিল উত্তোলন, দরপত্রে অনিয়ম ও হয়রানির অভিযোগ তুলেছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। অভিযোগের প্রধান বিষয়গুলো হলো— কমিশন দাবি: নির্ধারিত হারে কমিশন না দিলে সম্পন্ন কাজের বিল অনুমোদন না করার অভিযোগ। জামানত ফেরতে হয়রানি: নিরাপত্তা জামানত ফেরত পেতে অতিরিক্ত অর্থ দাবির অভিযোগ। ভুয়া অগ্রগতির নথি: মাঠপর্যায়ে কাজের দৃশ্যমান অগ্রগতি না থাকলেও কাগজে অগ্রগতি দেখিয়ে বিল ছাড়ের অভিযোগ। দরপত্রে প্রভাব বিস্তার: নির্দিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে সুবিধা দেওয়ার অভিযোগ। হুমকি ও অশালীন আচরণ: ঠিকাদারদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার এবং ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগ। কর্মকর্তাদের অনুপস্থিতি: কর্মদিবসে দপ্তরের একাধিক প্রকৌশলীর অননুমোদিতভাবে অনুপস্থিত থাকার অভিযোগ। সরকারি বিশ্রামাগারের ব্যবহার: দপ্তরের রেস্ট হাউস ব্যক্তিগত ও অনৈতিক কাজে ব্যবহারের অভিযোগ। অভিযোগকারীদের দাবি, এসব বিষয়ে প্রশাসনিক তদন্তের পাশাপাশি দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) হস্তক্ষেপ প্রয়োজন।  ঠিকাদারকে ফোনে হুমকির অভিযোগ, থানায় সাধারণ ডায়েরি নির্বাহী প্রকৌশলী শহিদুল ইসলামের বিরুদ্ধে ঠিকাদার ফারুক হোসেনকে ফোনে গালিগালাজ ও হুমকি দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ২৯ নভেম্বর এ ঘটনা ঘটে। পরদিন ৩০ নভেম্বর বরিশাল কোতোয়ালি মডেল থানায় এ বিষয়ে একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়, যার নম্বর ২০৭৬ বলে উল্লেখ করা হয়েছে। ঠিকাদারদের আরও দাবি, প্রকাশ্যে অভিযোগ জানালে তাঁদের চলমান প্রকল্পের বিল আটকে দেওয়া হতে পারে কিংবা কাজের সাইটে নতুন করে ত্রুটি খোঁজা হতে পারে—এমন আশঙ্কায় অনেকে পরিচয় গোপন রাখতে চান। ‘রাসেল’ ছদ্মনামে পরিচিত এক ঠিকাদারের দাবি, নির্ধারিত কমিশন না দিলে ফাইল স্বাক্ষর হয় না। ‘অয়ন’ ছদ্মনামে আরেক ঠিকাদার বলেন, মাঠপর্যায়ে কাজের নিরপেক্ষ পরিদর্শন ও নথি যাচাই করা হলে ভুয়া বিলের অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণ করা সম্ভব হবে। নির্মাণকাজের মান নিয়েও প্রশ্ন দরপত্র ও বিলসংক্রান্ত অভিযোগের পাশাপাশি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ভবন নির্মাণ ও সংস্কারকাজের মান নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। প্রতিবেদনের উপাদানে কয়েকটি প্রতিষ্ঠানে অর্ধসমাপ্ত ভবন, নির্মাণসামগ্রীর মান নিয়ে অসন্তোষ এবং কাগজে কাজ শেষ দেখানো হলেও বাস্তবে কিছু অংশ অসম্পূর্ণ থাকার অভিযোগ উল্লেখ করা হয়েছে। একটি বিদ্যালয়ের শিক্ষক অভিযোগ করেন, ভবনের ছাদ থেকে পানি পড়ে এবং দেয়ালে ফাটল দেখা দিয়েছে। অথচ নথিতে কাজ ঠিকঠাক সম্পন্ন হওয়ার কথা বলা হয়েছে বলে তাঁর দাবি। অভিভাবকদের উদ্বেগ, ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে পাঠদান চলতে থাকলে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হতে পারে। তবে কোন বিদ্যালয়ের ভবনে কী ধরনের ত্রুটি পাওয়া গেছে, কাজের চুক্তিমূল্য কত, নির্মাণকাজের দায়িত্বে কোন প্রতিষ্ঠান ছিল এবং প্রকৌশলগত পরীক্ষায় কী ফল এসেছে—এসব তথ্য আলাদাভাবে যাচাই করা প্রয়োজন। শিক্ষা অবকাঠামোর গুণগত মান নিশ্চিত করতে নির্মাণকাজের পরিমাপ, উপকরণের পরীক্ষার ফল, প্রকৌশলগত পরিদর্শন এবং ত্রুটি সংশোধনের নথি প্রকাশের দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। রাজনৈতিক পরিচয় ও অতীত দায়িত্ব নিয়েও বিতর্ক শহিদুল ইসলামকে ঘিরে রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতার অভিযোগও সামনে এসেছে। অভিযোগকারীদের দাবি, তিনি বঙ্গবন্ধু প্রকৌশলী পরিষদের শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর শাখার সদস্য ছিলেন এবং ঢাকা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (ডুয়েট) শিক্ষাজীবনে ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তাঁর বাড়ি বাগেরহাট জেলার মোরেলগঞ্জ উপজেলার ঢেপুয়ারপাড় জামুয়া গ্রামে এবং তাঁর পিতার নাম শেখ রুস্তুম আলী  ।  অভিযোগকারীরা আরও দাবি করেছেন, ঝালকাঠিতে দায়িত্ব পালনের সময় আমির হোসেন আমু এবং বরিশালে দায়িত্ব পালনকালে জাহিদ ফারুক শামীমের রাজনৈতিক বলয়ের সঙ্গে তাঁর ঘনিষ্ঠতা ছিল। তাঁদের ভাষ্য অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক ব্যক্তিরা বর্তমানে কারাগারে থাকলেও শহিদুল ইসলাম বরিশাল ও বরগুনার দায়িত্বে বহাল রয়েছেন। পিএসসির প্রশ্নফাঁসের অভিযোগের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার দাবি  শহিদুল ইসলামের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) প্রশ্নফাঁসসংক্রান্ত আলোচিত ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগও উল্লেখ করা হয়েছে। অভিযোগকারীদের দাবি, ডুয়েটে শিক্ষাজীবনের সময় তিনি পিএসসির সাবেক চেয়ারম্যানের গাড়িচালক সৈয়দ আবেদকে ঘিরে আলোচিত প্রশ্নফাঁস চক্রের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। এ ছাড়া তাঁর নিয়োগ এবং একই সময় নিয়োগ পাওয়া কয়েকজন বন্ধুর নিয়োগপ্রক্রিয়া নিয়েও অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। অভিযোগকারীদের ভাষ্য, ঘুষের বিনিময়ে এসব অনিয়ম ধামাচাপা দেওয়া হয়েছিল।   পটুয়াখালীতেও অনিয়মের অভিযোগ ছিল বলে দাবি ঠিকাদারদের একাংশের দাবি, পটুয়াখালীতে দায়িত্ব পালনকালেও শহিদুল ইসলামের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছিল।  মানববন্ধনে অপসারণ ও শাস্তির দাবি শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের বরিশাল কার্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী শহিদুল ইসলামের অপসারণ ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে অধিদপ্তরের ভবনের সামনে মানববন্ধন করেছেন ভুক্তভোগীরা বলে প্রতিবেদনের উপাদানে উল্লেখ রয়েছে। আয়োজকদের দাবি, সীমাহীন দুর্নীতি, অনিয়ম ও ক্ষমতার অপব্যবহারের প্রতিবাদে এ কর্মসূচি আয়োজন করা হয়। তাঁদের অভিযোগ, রাজনৈতিক পরিচয় ও প্রভাব ব্যবহার করে সংশ্লিষ্ট অনিয়মের প্রতিবাদ দুর্বল করার চেষ্টা হয়েছে।  ভুক্তভোগীদের দাবি, অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ও আইনগত ব্যবস্থা নিতে হবে। তদন্ত চলাকালে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকে দায়িত্বে বহাল রাখা তদন্তের স্বচ্ছতায় প্রভাব ফেলতে পারে কি না, সেটিও কর্তৃপক্ষের বিবেচনায় নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তাঁরা। প্রধান প্রকৌশলীর আশ্বাস, তদন্তের অগ্রগতি নিয়ে প্রশ্ন বরিশাল কার্যালয় ঘিরে অভিযোগের বিষয়ে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলীর বক্তব্য হিসেবে বলা হয়েছে, “দুর্নীতি-অনিয়ম কোনোভাবেই বরদাস্ত করা হবে না। তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” তবে অভিযোগকারীদের দাবি, আশ্বাসের পরও দৃশ্যমান প্রশাসনিক পদক্ষেপের তথ্য তাঁরা পাননি। এ কারণে অভিযোগ তদন্তের অগ্রগতি, তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে কি না এবং কোনো অডিট বা বিভাগীয় অনুসন্ধান চলছে কি না—এসব বিষয়ে স্পষ্ট তথ্য প্রকাশের দাবি উঠেছে। এ প্রতিবেদনের জন্য নির্বাহী প্রকৌশলী শহিদুল ইসলামের বক্তব্য সম্পর্কে যে তথ্য পাওয়া গেছে, তাতে তিনি অভিযোগগুলো অস্বীকার করেছেন।  প্রকৌশলী শহীদুলের অনিয়মই নিয়মে পরিণত হয়েছে বরিশাল শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর। দুর্নীতি-অনিয়ম কোন ভাবেই বন্ধ হচ্ছে না বরিশাল শিক্ষা প্রোকৌশলী অধিদপ্তর। বিভিন্ন উপায়ে অতিরিক্ত ব্যয় প্রাক্কলন, দরপত্র প্রক্রিয়ায় অনিয়ম, প্রকৌশলীদের অনৈতিক সুবিধা আদায়সহ নানা অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ পাওয়া গেছে।অনুসন্ধানে জানা যায়, একাধিক ঠিকাদারদের সঙ্গে যোগসাজশ করে এই দপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী শহিদুল ইসলাম কাজ পাইয়ে দেওয়া, বিল ও জামানতের চেক পরিশোধের ক্ষেত্রে গুনে গুনে বুঝে নেন কমিশন।  ২৬ কোটি টাকার কাজ দুইটি ৭% কমিশনে অন্য ঠিকাদারের কাছে বিক্রী করে দেন। অবশ্য তিনি বরিশালে যোগদানের পর থেকেই অতিরিক্ত ব্যয় প্রাক্কলন এবং বাছাই করা উন্নয়ন কাজগুলো নিজেই বিভিন্ন কৌশলে ভাগিয়ে নিয়ে ঠিকাদারদের কাছে বিক্রী করে আসছেন।     এখন প্রয়োজন নথিভিত্তিক, নিরপেক্ষ তদন্ত বরিশাল শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর ঘিরে ওঠা অভিযোগগুলোর গুরুত্ব বিবেচনায় কয়েকটি বিষয়ে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে তদন্তের দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী ঠিকাদার ও সচেতন নাগরিকদের একাংশ। প্রথমত, নির্বাহী প্রকৌশলী ও অভিযোগে উল্লিখিত চারটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে কোনো প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ ব্যবসায়িক সম্পর্ক রয়েছে কি না, তা যাচাই করতে হবে। দ্বিতীয়ত, প্রায় ৩২ কোটি টাকার টিএসসি প্রকল্প এবং কলেজিয়েট মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ৪ কোটি ২৯ লাখ ৩৪ হাজার টাকার প্রকল্পের দরপত্র, কার্যাদেশ ও বিলের নথি পর্যালোচনা করা প্রয়োজন। তৃতীয়ত, ২৪ ঠিকাদারের লিখিত অভিযোগ, নিরাপত্তা জামানত কর্তনের হার, বিল আটকে রাখার কারণ এবং কথিত কমিশন লেনদেনের বিষয়ে প্রশাসনিক তদন্ত করা দরকার। চতুর্থত, ৩৫ লাখ টাকা হস্তান্তরের অভিযোগ, কম্পিউটার অপারেটর রাশেদের ভূমিকা এবং ঠিকাদার ফারুক হোসেনের জিডির তথ্য যাচাই করতে হবে। পঞ্চমত, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ভবনগুলোর নির্মাণমান পরীক্ষা করে ত্রুটি পাওয়া গেলে দায়ী ঠিকাদার ও তদারক কর্মকর্তাদের ভূমিকা নির্ধারণ করতে হবে। দুর্নীতি দমন কমিশন, শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে এসব অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি উঠেছে। অভিযোগের প্রমাণ পাওয়া গেলে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া  প্রয়োজন। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অবকাঠামো নির্মাণে বরাদ্দ দেওয়া সরকারি অর্থের প্রতিটি টাকার যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করা রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব। অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণে বিলম্ব, নথি গোপন রাখা কিংবা তদন্তের ফল প্রকাশ না করা হলে দপ্তরের ওপর আস্থার সংকট আরও বাড়তে পারে। মূল প্রশ্ন এখন একটাই: বরিশাল শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরে ওঠা অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত হবে কি, নাকি ২৪ ঠিকাদারের অভিযোগ, দরপত্র বিতর্ক ও কমিশন বাণিজ্যের দাবিগুলোও প্রশাসনিক ফাইলের ভেতরেই আটকে থাকবে? অনুসন্ধান প্রতিবেদনের পরবর্তী পর্বে  বরিশাল শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের অনিয়ম,দুর্নীতি, এবং নতুন অভিযোগ নিয়ে বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরা হবে।  

নিজস্ব প্রতিবেদক অক্টোবর ১৫, ২০২৬ 0
বরিশালে সিটি সুপার মার্কেট নির্মাণ বন্ধে হাইকোর্টে রিট খারিজ,কর্মজীবী নারীদের জন্য মার্কেট নির্মাণের পরিকল্পনা

মামুনুর রশীদ নোমানী, ইত্তেহাদ নিউজ :  বরিশাল নগরীর বগুড়া রোডে বাংলাদেশ ব্যাংকের পাশের এলাকায় সিটি সুপার মার্কেট নির্মাণ বন্ধের দাবিতে হাইকোর্টে করা রিট খারিজ হয়ে গেছে। মঙ্গলবার শুনানি শেষে বিচারপতি শেখ আউয়াল রিটটি খারিজ করে দেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। এর ফলে বরিশাল সিটি করপোরেশনের (বিসিসি) নিজস্ব জমিতে উন্নয়নকাজ এগিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে আদালতের এই সিদ্ধান্ত নতুন গুরুত্ব পেয়েছে। সিটি করপোরেশন সূত্রের দাবি, নগরীর ১৭ নম্বর ওয়ার্ডের বগুড়া রোড এলাকায় অবস্থিত ৯ দশমিক ৯ শতাংশ জমির রেকর্ডীয় মালিক বিসিসি। দীর্ঘদিন ধরে জমিটি কয়েকটি পরিবার ভোগদখল করে আসছিল। সরকারি জমি উদ্ধারের উদ্যোগের অংশ হিসেবে ২০২৫ সালে জমিটি পুনরুদ্ধার করে সেখানে ড্রেন নির্মাণ ও একতলা মার্কেট তৈরির কার্যক্রম শুরু করে সংস্থাটি। তবে জমিটি উদ্ধারের পর থেকেই উন্নয়নকাজ নিয়ে বিরোধ দেখা দেয়। মার্কেট নির্মাণ বন্ধের দাবিতে মানববন্ধন এবং পরবর্তী সময়ে হাইকোর্টে রিটের ঘটনা জমিটির ব্যবহার, দখল ও নগর উন্নয়ন পরিকল্পনা নিয়ে বিতর্ক তৈরি করে। রিট খারিজ, কী বলছে সিটি করপোরেশন? সংশ্লিষ্ট সূত্রের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, সিটি সুপার মার্কেট নির্মাণ বন্ধের আবেদনসংক্রান্ত রিট পিটিশন নম্বর ১৪৪৪৪। মামলাটি ১৮ নম্বর কোর্টের ১৭ নম্বর আইটেম হিসেবে তালিকাভুক্ত ছিল বলে উল্লেখ করা হয়েছে। বিসিসির সম্পত্তি কর্মকর্তা মাহাবুবুর রহমান শাকিলের দাবি, জমিটি সিটি করপোরেশনের নিজস্ব সম্পত্তি। এটি কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর এককভাবে ভোগদখল করার সুযোগ নেই। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, বিরোধের কেন্দ্রে থাকা জমিটি ড্রেন শ্রেণিভুক্ত এবং বিবাদী পক্ষ জমিটি সিটি করপোরেশনকে ব্যবহারের জন্য অনাপত্তি দিয়েছিল। রিট খারিজের আদেশে নির্মাণকাজে বাধা, আপত্তি বা মামলা করার সুযোগ থাকবে না—এমন বক্তব্যও সিটি করপোরেশন-সংশ্লিষ্ট সূত্রে তুলে ধরা হয়েছে।  ৯.৯ শতাংশ জমি নিয়ে বিরোধের সূত্রপাত সিটি করপোরেশন সূত্রে জানা গেছে, বগুড়া রোডের এসএ দাগ নম্বর ৪০৪৪ এবং ৩ নম্বর খতিয়ানভুক্ত ৯ দশমিক ৯ শতাংশ জমির রেকর্ডীয় মালিক বিসিসি। সংস্থাটির দাবি, ২০২৫-২৬ অর্থবছর পর্যন্ত জমিটির খাজনাও পরিশোধ করা হয়েছে। জমিটি মূল সড়ক ও ব্যক্তিমালিকানাধীন জমির মাঝামাঝি অবস্থানে থাকায় দীর্ঘদিন ধরে কয়েকটি পরিবার তা ভোগদখল করে আসছিল বলে দাবি করেছে সিটি করপোরেশন। ২০২৫ সালে মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনার পর অবৈধ দখলে থাকা জমি উদ্ধারের কার্যক্রম শুরু করে সংস্থাটি। একই সঙ্গে উদ্ধার করা জমিতে স্থাপনা নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়, যাতে ভবিষ্যতে সেগুলো আবারও বেদখল হয়ে না যায়। বগুড়া রোডের জমিটিও ওই উদ্যোগের আওতায় আনা হয়। এরপর সেখানে ড্রেন ও একতলা মার্কেট নির্মাণের কার্যক্রম শুরু হলে জমিটির পেছনে থাকা কয়েকটি পরিবারের সঙ্গে বিরোধ দেখা দেয় বলে বিসিসি সূত্রের দাবি। অধিগ্রহণের উদ্যোগ থেকে মানববন্ধন সিটি করপোরেশনের সংশ্লিষ্ট সূত্রের ভাষ্য অনুযায়ী, জমিটি নিজেদের দখলে রাখার স্বার্থে সংশ্লিষ্ট পরিবারগুলো প্রথমে পাশের বাংলাদেশ ব্যাংকের সহযোগিতা নেওয়ার চেষ্টা করে। বাংলাদেশ ব্যাংকের মাধ্যমে জমিটি অধিগ্রহণ করা হবে—এমন মর্মে চিঠি দেওয়া হয়েছিল বলেও সূত্রটি দাবি করেছে। তবে সিটি করপোরেশনের বক্তব্য, নগরীর ভেতরে কোনো দপ্তরের জমি অধিগ্রহণের ক্ষেত্রে সিটি করপোরেশনের অনাপত্তিপত্র প্রয়োজন।  এরপর বিরোধের বিষয়টি রাজনৈতিক পরিসরে গড়ায় বলে অভিযোগ উঠেছে। সিটি করপোরেশনের প্রশাসক ও বিএনপির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট বিলকিস আক্তার জাহান শিরীনের রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে পরিচিত মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক আফরোজা খানম নাসরিনের কাছে সংশ্লিষ্ট পরিবারগুলো রাজনৈতিক সহযোগিতা চেয়েছিল বলে দাবি করা হয়েছে। পরবর্তী সময়ে নাসরিনের নেতৃত্বে কয়েকজন সমর্থক নির্মাণকাজ বন্ধের দাবিতে মানববন্ধন করেন বলে ওই সূত্রের ভাষ্য। তাঁদের বক্তব্যে উন্নয়নকাজ নিয়ে বিভিন্ন প্রশ্ন তোলা হয়। ফলে ঘটনাটিকে সরাসরি রাজনৈতিক প্রতিহিংসার ফল হিসেবে চিহ্নিত করার আগে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের বক্তব্য ও নথি পর্যালোচনা জরুরি। উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত: সিটি করপোরেশনের অভিযোগ, নিজস্ব জমিতে উন্নয়নকাজ শুরু করলেই একটি পক্ষ বাধা দেওয়ার চেষ্টা করছে। সংস্থাটির দাবি, সরকারি জমি পুনরুদ্ধার করে নাগরিকদের ব্যবহারের উপযোগী করা এবং সেখানে স্থাপনা নির্মাণের লক্ষ্যেই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে, জমিটি নিয়ে বিরোধের প্রকৃতি নির্ধারণে কেবল মালিকানার দাবি বা রাজনৈতিক বক্তব্য যথেষ্ট নয়। জমির খতিয়ান, দাগ, নকশা, দখলসংক্রান্ত নথি, অনাপত্তিপত্র এবং আদালতের আদেশ  এবং জনস্বার্থের বিষয়গুলোও গুরুত্বপূর্ণ।   কর্মজীবী নারীদের জন্য মার্কেট নির্মাণের পরিকল্পনা সিটি করপোরেশনের প্রশাসক অ্যাডভোকেট বিলকিস আক্তার জাহান শিরীন জানিয়েছেন, নগরীর প্রাণকেন্দ্র বগুড়া রোডের উদ্ধার করা জমিতে কর্মজীবী নারীদের জন্য মার্কেট নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পরিকল্পনাটি বাস্তবায়িত হলে কর্মজীবী নারীদের জন্য ব্যবসার সুযোগ তৈরির সম্ভাবনা রয়েছে। একই সঙ্গে প্রকল্পটির স্বচ্ছতা, বরাদ্দপ্রক্রিয়া, নির্মাণমান ও জনসাধারণের চলাচলের সুবিধা নিশ্চিত করাও জরুরি। রাজনৈতিক বিরোধের আড়ালে জমির স্বার্থ? জমি উদ্ধারের পর মানববন্ধন, রাজনৈতিক ব্যক্তিদের সম্পৃক্ততা এবং আদালতে রিট—ঘটনাগুলোর ধারাবাহিকতা নিয়ে সিটি করপোরেশন-সংশ্লিষ্ট মহলে প্রশ্ন উঠেছে। সংস্থাটির কর্মকর্তাদের ধারণা, জমিটি পুনরুদ্ধার ও উন্নয়নকাজের ফলে দীর্ঘদিনের ভোগদখল থেকে সংশ্লিষ্টদের স্বার্থ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় বিরোধ তৈরি হয়েছে।   সিটি করপোরেশনের সম্পত্তি কর্মকর্তা মাহাবুবুর রহমান শাকিলের বক্তব্য, সরকারি জমি নাগরিকদের ব্যবহারের জন্য; কোনো ব্যক্তি এককভাবে তা ভোগদখল করতে পারেন না। অন্যদিকে, প্রশাসক বিলকিস আক্তার জাহান শিরীনের ভাষ্য, নগর উন্নয়নের উদ্যোগে বাধা এলেও কর্মজীবী নারীদের জন্য মার্কেট নির্মাণের পরিকল্পনা এগিয়ে নেওয়া হবে। এখন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—আদালতের আদেশ অনুযায়ী নির্মাণকাজের আইনগত অবস্থান নিশ্চিত করা, জমির নথি জনসমক্ষে স্পষ্ট করা এবং ড্রেনেজ ও নাগরিক সুবিধা অক্ষুণ্ণ রেখে প্রকল্প বাস্তবায়ন করা। এতে একদিকে সরকারি সম্পত্তির সুরক্ষা নিশ্চিত হবে, অন্যদিকে জমি নিয়ে ভবিষ্যৎ বিরোধ ও জনমনে বিভ্রান্তি কমানোর সুযোগ তৈরি হবে।

নিজস্ব প্রতিবেদক অক্টোবর ১৫, ২০২৬ 0
বরিশাল নগরীর উন্নয়নে বিসিসি প্রশাসক শিরিন :দখলমুক্ত ফুটপাত ও সড়ক: স্বস্তি ফেরানোর উদ্যোগ

মামুনুর রশীদ নোমানী | বরিশাল অফিস:  বরিশাল নগরীকে আধুনিক, পরিচ্ছন্ন ও নাগরিকবান্ধব হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছেন বরিশাল সিটি করপোরেশনের (বিসিসি) প্রশাসক অ্যাডভোকেট বিলকিস আক্তার জাহান শিরিন। দায়িত্ব গ্রহণের পর নগরীর সড়ক ও ফুটপাত দখলমুক্ত করা, ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন, খাল পরিষ্কার, সুপেয় পানির সংকট নিরসন, পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম জোরদার এবং তরুণদের খেলাধুলায় সম্পৃক্ত করার মতো বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছেন তিনি। দীর্ঘদিনের নাগরিক সমস্যায় জর্জরিত বরিশালকে পরিবর্তনের পথে এগিয়ে নিতে তাঁর এসব উদ্যোগকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন সাধারন মানুষ, বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা। তাঁদের মতে, প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর নগরীর উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে গতি এসেছে।  ২০২৬ সালের ১৪ মার্চ স্থানীয় সরকার বিভাগের প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে বরিশাল সিটি করপোরেশনের প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব পান বিলকিস আক্তার জাহান শিরিন। সে হিসাবে অক্টোবরের মাঝামাঝি তাঁর দায়িত্ব পালনের সময়কাল সাত মাসের কাছাকাছি। দায়িত্ব গ্রহণের পর নগরীর উন্নয়ন উদ্যোগ, রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়েছেন।   দখলমুক্ত ফুটপাত ও সড়ক: স্বস্তি ফেরানোর উদ্যোগ: বরিশাল নগরীর দীর্ঘদিনের সমস্যাগুলোর মধ্যে রয়েছে সড়ক ও ফুটপাত দখল, যানজট এবং অপরিকল্পিত নগর ব্যবস্থাপনা। এসব সমস্যা মোকাবিলায় বিভিন্ন এলাকায় অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে অভিযান পরিচালনা করছে সিটি করপোরেশন। হাতেম আলী কলেজ চৌমাথা বাজারসহ গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও বাণিজ্যিক এলাকার ফুটপাত দখলমুক্ত করা হয়েছে। কোথাও কোথাও ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে ব্যবস্থা নেওয়া এবং অবৈধ স্থাপনা অপসারণের কার্যক্রমও পরিচালিত হচ্ছে। এসব অভিযানের লক্ষ্য শুধু ফুটপাত খালি করা নয়; পথচারীদের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করা, যানবাহনের গতি স্বাভাবিক রাখা এবং নগরীর বাণিজ্যিক এলাকাগুলোতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা।   জলাবদ্ধতা নিরসনে খাল ও ড্রেন পরিষ্কারের উদ্যোগ: বরিশালের নাগরিক দুর্ভোগের অন্যতম কারণ জলাবদ্ধতা। বর্ষা মৌসুমে বৃষ্টির পানি দ্রুত নিষ্কাশিত না হওয়া, ড্রেনের সক্ষমতা কমে যাওয়া এবং খাল ও জলাশয়ের পানি প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হওয়ার কারণে বিভিন্ন এলাকায় ভোগান্তি তৈরি হয়। এই সমস্যা মোকাবিলায় নগরীর খাল এবং  গুচ্ছগ্রাম এলাকাসহ বিভিন্ন স্থানে খাল, জলাশয় ও ড্রেন পরিষ্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এসব কার্যক্রমের উদ্দেশ্য পানি প্রবাহ স্বাভাবিক করা এবং বৃষ্টির পানি দ্রুত নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করা। প্রশাসক শিরিনের  ভবিষ্যৎ পরিকল্পনায় নগরীর ২২টি প্রাকৃতিক খাল সংস্কার ও খনন, সীমানা নির্ধারণ এবং খালের দুই পাড় সংরক্ষণের বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে। পরিকল্পনাটি বাস্তবায়িত হলে পানি নিষ্কাশনব্যবস্থার উন্নতির পাশাপাশি নগরীর পরিবেশ রক্ষায়ও ভূমিকা রাখবে।   সুপেয় পানির সংকট নিরসন'র উদ্যোগ   নগরবাসীর সুপেয় পানির সংকট নিরসন প্রশাসক শিরিনের উন্নয়ন পরিকল্পনার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এ লক্ষ্যে প্রায় আট কোটি টাকা বরাদ্দে একটি ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্লান্ট মেরামত ও সচল করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।পানি শোধনাগারটি  চালু করা হলে নগরীর পানি সরবরাহ ব্যবস্থার সক্ষমতা বাড়বে।   কীর্তনখোলা নদীর তীরের সড়ক ও নগর অবকাঠামো   বরিশালের যোগাযোগব্যবস্থা ও নগর সৌন্দর্য বাড়াতে কীর্তনখোলা নদীর তীরসংলগ্ন অসম্পূর্ণ সড়কের কাজ শেষ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি নতুন সড়ক নির্মাণ, বিদ্যমান রাস্তা প্রশস্ত করা এবং বিভিন্ন সংযোগ সড়কের উন্নয়নের বিষয়টিও গুরুত্ব পাচ্ছে।এসব উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে নগরীর অভ্যন্তরীণ যোগাযোগ সহজ হবে।  এবং গুরুত্বপূর্ণ সড়কের ওপর যানবাহনের চাপ কমানোর সুযোগ তৈরি হবে। নগর উন্নয়নের সুফল টেকসই করতে  বিচ্ছিন্ন প্রকল্পের পরিবর্তে সড়ক, পানি নিষ্কাশন, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও জনপরিসরের উন্নয়নকে সমন্বিতভাবে করে যাচ্ছেন শিরিন।   কর্মসংস্থান ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের পুনর্বাসন: নগর উন্নয়নের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো কর্মসংস্থান। ফুটপাত ও সড়ক দখলমুক্ত করার উদ্যোগের পাশাপাশি ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ও হকারদের জীবিকার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে প্রশাসক শিরিনের  উদ্যোগের মধ্যে হকারদের পুনর্বাসন এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হয়েছে। পরিকল্পিত স্টল নির্মাণ, নির্ধারিত স্থানে ব্যবসার সুযোগ এবং নাগরিক চলাচলের পথ উন্মুক্ত রাখতে কাজ করে যাচ্ছেন। বিশেষ করে কর্মজীবী নারীদের জন্য নিরাপদ ও পরিকল্পিত ব্যবসার স্থান তৈরি করা গেলে তা নগরীর অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে নারীদের অংশগ্রহণ বাড়াতে সহায়ক হবে।   তরুণদের খেলাধুলা ও সামাজিক কর্মকাণ্ড:  নগরীর তরুণদের খেলাধুলায় উৎসাহিত করতে ‘বিসিসি প্রশাসক কাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট-২০২৬’ আয়োজনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ৫ নম্বর ওয়ার্ডের ইউসেপ স্কুল মাঠ পরিষ্কার করে শিশুদের খেলাধুলার উপযোগী করা হয়েছে। খেলাধুলার সুযোগ বাড়ানো তরুণদের সুস্থ বিনোদন, সামাজিক সম্পৃক্ততা এবং শারীরিক সক্ষমতা বিকাশে ভূমিকা রাখবে। বিশেষ করে নগরীর যেসব এলাকায় শিশু-কিশোরদের জন্য পর্যাপ্ত খেলার মাঠ নেই, সেখানে বিদ্যমান মাঠ সংরক্ষণ ও উন্নয়ন গুরুত্বপূর্ণ।   পরিচ্ছন্নতা কর্মীদের সম্মান: প্রশাসনিক সংস্কৃতিতে নতুন বার্তা:  প্রশাসক অ্যাডভোকেট বিলকিস আক্তার জাহান শিরিন দায়িত্ব গ্রহণের পর পরিচ্ছন্নতা কর্মীদের রজনীগন্ধা ফুল দিয়ে বরণ করে নেওয়ার উদ্যোগ নেন। এর মধ্য দিয়ে নগর পরিচ্ছন্ন রাখার কাজে যুক্ত কর্মীদের অবদানকে সম্মান জানানোর একটি প্রতীকী বার্তা দেওয়া হয়েছে। নগরীর পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমের সাফল্য অনেকাংশেই নির্ভর করে মাঠপর্যায়ে কর্মরত কর্মীদের ওপর। তাঁদের কাজের পরিবেশ, নিরাপত্তা সরঞ্জাম, নিয়মিত বেতন-ভাতা, প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ এবং পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম আরও কার্যকর করতে কাজ করে যাচ্ছেন প্রশাসক শিরিন। তাই সম্মান প্রদর্শনের পাশাপাশি কর্মীদের বাস্তব কর্মপরিবেশ উন্নয়ন এবং নিয়মিত তদারকির ব্যবস্থা গ্রহন করেছেন তিনি।   প্রশাসক শিরিনের রাজনৈতিক ও পেশাগত পরিচয়: অ্যাডভোকেট বিলকিস আক্তার জাহান শিরিন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) রাজনীতির সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে যুক্ত। তিনি দলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির বরিশাল বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন । বরিশালে জন্ম নেওয়া শিরিনের বাবা নাসির আহমেদ এবং মা জাহানারা বেগম। তিনি বরিশাল সরকারি বালিকা উচ্চবিদ্যালয় থেকে এসএসসি এবং বরিশাল সরকারি মহিলা কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করেন। পরে ব্রজমোহন কলেজ থেকে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে স্নাতকোত্তর এবং বরিশাল ল' কলেজ থেকে এলএলবি ডিগ্রি অর্জন করেন। পেশাগত জীবনে তিনি একজন আইনজীবী। পাশাপাশি বরিশাল সিটি কলেজে প্রায় ১০ বছর অধ্যাপনার দায়িত্ব পালন করেছেন । ছাত্রজীবন থেকেই রাজনীতিতে যুক্ত শিরিন ১৯৮৭ সালে বিএম কলেজ ছাত্র সংসদ নির্বাচনে ছাত্রীবিষয়ক সম্পাদক এবং ১৯৯০ সালে সহসাধারণ সম্পাদক (এজিএস) নির্বাচিত হন। ১৯৯১ সালে বরিশাল জেলা ছাত্রদলের সহসভাপতির দায়িত্ব পান। ১৯৯৬ সালে বরিশাল জেলা মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক হন এবং ২০১১ সালে বিএনপির বরিশাল জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি অষ্টম জাতীয় সংসদে সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য ছিলেন। তাঁর সংসদ সদস্যপদের মেয়াদ ছিল ১ অক্টোবর ২০০১ থেকে ২৯ অক্টোবর ২০০৬ পর্যন্ত। ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশ জাতীয় মহিলা সংস্থার চেয়ারম্যান হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন । বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে বিরোধী দলের রাজনীতিতে সক্রিয় থাকার কারণে শিরিন হামলা, মামলা ও নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। তাঁদের মতে, তাঁর নেতৃত্বে বরিশালে দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে ঐক্য আরও জোরদার হয়েছে। তবে রাজনৈতিক সমর্থন ও সাংগঠনিক অবস্থানের বাইরে নগর প্রশাসক হিসেবে তাঁর সাফল্যের প্রধান মাপকাঠি  নাগরিক সেবার মান, উন্নয়ন প্রকল্পের স্বচ্ছতা এবং সব শ্রেণির মানুষের জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করা। আধুনিক নগরীর পরিকল্পনা: সামনে পাঁচটি বড় লক্ষ্য প্রশাসক শিরিনের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনায় বরিশালকে পরিচ্ছন্ন, পরিকল্পিত ও নাগরিকবান্ধব নগরীতে রূপান্তরে ব্যাপক পদক্ষেপ গ্রহন করেছেন তিনি।। এসব পরিকল্পনার বাস্তবায়ন নগরীর দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে ১. ২২টি খালের সংস্কার ও জলাবদ্ধতার স্থায়ী সমাধান: নগরীর প্রাকৃতিক খালগুলো চিহ্নিত করা, সীমানা নির্ধারণ, খনন এবং দুই পাড় সংরক্ষণের পরিকল্পনা রয়েছে। এর সঙ্গে ড্রেনেজ ব্যবস্থার সমন্বয় করা গেলে পানি নিষ্কাশনের সক্ষমতা বাড়বে। ২. যানজট নিয়ন্ত্রণ ও সড়কব্যবস্থার আধুনিকায়ন গুরুত্বপূর্ণ মোড় ও প্রবেশপথে ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা উন্নত করা এবং কীর্তনখোলা নদীর তীরসংলগ্ন সড়কসহ সংযোগ সড়কগুলোর কাজ শেষ করার পরিকল্পনা রয়েছে। দীর্ঘমেয়াদি সুফলের জন্য যানবাহন চলাচল, পথচারী নিরাপত্তা ও পার্কিং ব্যবস্থাকেও পরিকল্পনার আওতায় আসবে। ৩. শতভাগ নিরাপদ পানি ও উন্নত ড্রেনেজ প্রতিটি ওয়ার্ডে পরিশোধিত পানি সরবরাহ এবং নতুন ও বর্ধিত এলাকাগুলোতে উন্নত ড্রেনেজ নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।  ৪. আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও পরিবেশবান্ধব পার্ক কীর্তনখোলা নদী ও নগরীর পরিবেশ রক্ষায় বর্জ্য শোধনব্যবস্থা আধুনিকায়ন, ময়লা ফেলার স্থান উন্নত করা এবং নদীর তীর ঘেঁষে পরিবেশবান্ধব বিনোদনকেন্দ্র ও পার্ক নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। এসব উদ্যোগ বাস্তবায়নে পরিবেশগত প্রভাব মূল্যায়ন, বর্জ্য সংগ্রহ ও প্রক্রিয়াজাতকরণের সক্ষমতা এবং নদীর স্বাভাবিক পরিবেশ সংরক্ষণের বিষয়টি নিশ্চিত হবে। ৫. ডিজিটাল নাগরিক সেবা ও জবাবদিহি ট্রেড লাইসেন্স, হোল্ডিং ট্যাক্স, জন্ম-মৃত্যু নিবন্ধনসহ সিটি করপোরেশনের নাগরিক সেবা ডিজিটাল করার পরিকল্পনা রয়েছে। এর মাধ্যমে নাগরিকদের ভোগান্তি কমবে।   বরিশাল নগরীর উন্নয়নে প্রশাসক শিরিনের নেওয়া উদ্যোগগুলো বাস্তবায়িত হলে নাগরিক সমস্যার  গুরুত্বপূর্ণ ফুটপাত দখলমুক্ত করা, খাল ও ড্রেন পরিষ্কার, সুপেয় পানির সংকট নিরসন এবং সড়ক উন্নয়নের মতো বিষয়গুলো নগরবাসীর দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পুরন হবে। বরিশালকে আধুনিক নগরীতে রূপান্তরের লক্ষ্য অর্জনে প্রশাসক শিরিনের সামনে তাই একদিকে রয়েছে চলমান উদ্যোগগুলো কার্যকরভাবে বাস্তবায়নের সুযোগ, অন্যদিকে রয়েছে দীর্ঘদিনের অবকাঠামোগত দুর্বলতা, অর্থায়ন, রক্ষণাবেক্ষণ এবং নাগরিক প্রত্যাশা পূরণের চ্যালেঞ্জ।  

নিজস্ব প্রতিবেদক অক্টোবর ১৩, ২০২৬ 0
শেবাচিম কেন্দ্রীয় মসজিদ
বরিশালে সরকারি পদ আছে, নিয়োগ নেই, বছরের পর বছর অনিশ্চয়তায় ইমাম-মুয়াজ্জিন

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন :  বরিশালের শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল চত্বরে অবস্থিত কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে ইমাম ও মুয়াজ্জিন নিয়োগের জন্য পৃথক সরকারি পদ ও বরাদ্দ থাকার অভিযোগ রয়েছে। কিন্তু সেই পদগুলো দীর্ঘদিন ধরে শূন্য পড়ে আছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট মুসল্লিরা। তাদের অভিযোগ, শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজের জন্য বরাদ্দ থাকা ইমাম-মুয়াজ্জিনের পদ ২০১৯ সাল থেকে এবং হাসপাতালের জন্য বরাদ্দ থাকা পদ ২০২৩ সাল থেকে কার্যত শূন্য। নিয়োগ প্রক্রিয়া দীর্ঘদিনেও সম্পন্ন না হওয়ায় বর্তমানে মসজিদের দায়িত্ব পালনকারীরা সীমিত পারিশ্রমিকে কাজ করছেন। এতে তারা আর্থিক সংকটে পড়েছেন বলেও অভিযোগ উঠেছে। অন্যদিকে, মসজিদ কমিটির সভাপতি ও শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ ডা. আনোয়ার হোসেন বাবলু বলছেন, সরকারি ছাড়পত্র পাওয়ার প্রক্রিয়া এখনও চলমান। সেই প্রক্রিয়া শেষ হলেই নিয়োগ দেওয়া হবে। তবে প্রশ্ন উঠছে—পদ শূন্য থাকার এত বছর পরও কেন নিয়োগ প্রক্রিয়া শেষ হয়নি? আর সরকারি নিয়োগ না হওয়া পর্যন্ত দায়িত্ব পালনকারীদের জীবনযাত্রা ও প্রাপ্য আর্থিক সহায়তার দায়ই বা কার? প্রতিষ্ঠার চার দশক পরও নিয়োগ সংকট মুসল্লিদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ১৯৮১ সালে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি শহীদ জিয়াউর রহমান শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল এলাকায় মুসলমানদের নামাজ ও ইবাদত-বন্দেগির সুবিধার্থে কেন্দ্রীয় জামে মসজিদটি নির্মাণ করেন। বর্তমানে দেশের অন্যতম বড় এই চিকিৎসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট চিকিৎসক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারী, রোগী এবং তাদের স্বজনসহ বিপুলসংখ্যক মানুষ নিয়মিত মসজিদটিতে নামাজ আদায় করেন। এত বড় একটি সরকারি প্রতিষ্ঠানকেন্দ্রিক মসজিদে ইমাম ও মুয়াজ্জিনের দায়িত্ব পালনের জন্য পৃথকভাবে পদ বরাদ্দ থাকার কথা জানালেও দীর্ঘদিন ধরে নিয়মিত নিয়োগ না হওয়ায় স্থানীয় মুসল্লিদের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। তাদের ভাষ্য, শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ এবং শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জন্য পৃথকভাবে একজন করে ইমাম ও একজন করে মুয়াজ্জিনের পদ বরাদ্দ রয়েছে। কিন্তু পদ থাকা সত্ত্বেও বছরের পর বছর তা শূন্য থাকছে। ২০১৯ ও ২০২৩: দুই সময়সীমা, এক প্রশ্ন মুসল্লিদের অভিযোগ অনুযায়ী, কলেজের জন্য বরাদ্দ থাকা ইমাম-মুয়াজ্জিনের পদ ২০১৯ সাল থেকে এবং হাসপাতালের জন্য বরাদ্দ থাকা পদ ২০২৩ সাল থেকে শূন্য রয়েছে। এই দীর্ঘ সময়ের মধ্যে নিয়োগ প্রক্রিয়া কেন শেষ করা সম্ভব হয়নি—সেটিই এখন প্রধান প্রশ্ন হয়ে উঠেছে। মসজিদ পরিচালনার জন্য একটি কমিটি থাকলেও ইমাম-মুয়াজ্জিন নিয়োগ ও তাদের বেতন-ভাতার বিষয়ে কার্যকর ভূমিকা দৃশ্যমান নয় বলেও অভিযোগ করেছেন কয়েকজন নিয়মিত মুসল্লি। পদাধিকারবলে শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ মসজিদ কমিটির সভাপতি হওয়ায় নিয়োগসংক্রান্ত প্রক্রিয়ায় তাঁর ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু দীর্ঘসূত্রতায় সমস্যাটি আরও জটিল হয়েছে বলে মনে করছেন তারা। তবে অভিযোগের জবাবে অধ্যক্ষ ডা. আনোয়ার হোসেন বাবলু বলেন, “ইমাম-মুয়াজ্জিন নিয়োগের সরকারি ছাড়পত্রের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। সেটি সম্পন্ন হলেই নিয়োগ দেওয়া হবে।” সাড়ে ৬ হাজার টাকায় সংসার সরকারি নিয়োগ ও নিয়মিত বেতন-ভাতার বাইরে থেকে দীর্ঘদিন ধরে মসজিদের খেদমত করে আসা ইমাম-মুয়াজ্জিনদের আর্থিক অবস্থা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন মুসল্লিরা। তাদের অভিযোগ, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির এই সময়ে সীমিত পারিশ্রমিকে পরিবার-পরিজন নিয়ে জীবনযাপন করা তাদের জন্য কঠিন হয়ে পড়েছে। মুসল্লিদের ভাষ্য অনুযায়ী, সাবেক অধ্যক্ষ ডা. ফায়জুল বাশারের সময়ে কলেজ অফিস থেকে ইমাম-মুয়াজ্জিনদের জন্য মাসিক সাড়ে ৬ হাজার টাকা করে বরাদ্দ দেওয়া হতো। এর পাশাপাশি মসজিদে মুসল্লিদের দেওয়া দানের অর্থ থেকেও তাদের সহযোগিতা করা হতো বলে তারা দাবি করেন। বর্তমানে কলেজের পক্ষ থেকে সাড়ে ৬ হাজার টাকা করে দেওয়া হলেও মসজিদের দানের অর্থ ইমাম-মুয়াজ্জিনদের দেওয়া হচ্ছে না বলে অভিযোগ উঠেছে। এই অভিযোগ অবশ্য সরাসরি অস্বীকার করেছেন মসজিদ কমিটির সভাপতি ডা. আনোয়ার হোসেন বাবলু। তিনি বলেন, “কলেজের ফান্ডে সমস্যা থাকায় ইমাম-মুয়াজ্জিনদের বেতন দিতে সমস্যা হচ্ছে। আর মুসল্লিদের দানের টাকা আমরা নিয়ে যাই—এমন তথ্য সঠিক নয়।” দানের অর্থ কোথায় ব্যয় হয়? মুসল্লিদের একটি অংশের অভিযোগ, মসজিদের দানের অর্থ ব্যবস্থাপনা ও ব্যয়ের ক্ষেত্রে আরও স্বচ্ছতা থাকা প্রয়োজন। তাদের মতে, মসজিদে নিয়মিত দান সংগ্রহ হলেও সেই অর্থের আয়-ব্যয়ের বিস্তারিত তথ্য সাধারণ মুসল্লিদের সামনে স্পষ্টভাবে উপস্থাপন করা হয় কি না, সে প্রশ্ন রয়েছে। যদিও মসজিদ কমিটির সভাপতি দানের অর্থ আত্মসাৎ বা অন্যত্র নেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তবে নিয়মিত মুসল্লিদের দাবি, ভুল বোঝাবুঝি ও বিতর্ক এড়াতে মসজিদের দানের অর্থের আয়-ব্যয়ের হিসাব নিয়মিতভাবে প্রকাশ করা উচিত। নিয়োগের অপেক্ষায় আর কতদিন? দীর্ঘদিন ধরে পদ শূন্য থাকা এবং সরকারি ছাড়পত্রের প্রক্রিয়া চলমান থাকার বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে এখন মূল প্রশ্ন হলো—নিয়োগ প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা আছে কি না। মুসল্লিরা বলছেন, বছরের পর বছর একটি গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের অনিশ্চয়তার মধ্যে রাখা সমাধান হতে পারে না। তাদের দাবি, দ্রুত সরকারি নিয়ম অনুযায়ী ইমাম ও মুয়াজ্জিন নিয়োগ দিতে হবে। একই সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে আসা ব্যক্তিদের প্রাপ্য ও ন্যায্য বেতন-ভাতা নিশ্চিত করতে হবে। এ বিষয়ে বরিশাল-৫ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মজিবর রহমান সরোয়ার এবং বরিশাল সিটি করপোরেশনের প্রশাসক অ্যাডভোকেট বিলকিস জাহান শিরিনের হস্তক্ষেপও কামনা করেছেন এলাকাবাসী ও মুসল্লিরা। প্রশ্নগুলো এখনো রয়ে গেছে শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের মতো বৃহৎ সরকারি প্রতিষ্ঠানের কেন্দ্রীয় মসজিদে পদ থাকা সত্ত্বেও বছরের পর বছর কেন ইমাম-মুয়াজ্জিন নিয়োগ হয়নি? সরকারি ছাড়পত্রের প্রক্রিয়া কবে শুরু হয়েছে এবং কবে শেষ হবে? মসজিদের দানের অর্থ কীভাবে পরিচালিত ও ব্যয় হচ্ছে? আর সরকারি নিয়োগ না হওয়া পর্যন্ত দীর্ঘদিন ধরে দায়িত্ব পালন করে আসা ইমাম-মুয়াজ্জিনদের ন্যায্য আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে কে? মসজিদ কমিটির সভাপতি অবশ্য জানিয়েছেন, সরকারি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলেই নিয়োগ দেওয়া হবে। এখন মুসল্লিদের অপেক্ষা—সেই প্রক্রিয়ার বাস্তব সমাপ্তি কবে।

নিজস্ব প্রতিবেদক আগস্ট ২৫, ২০২৬ 0
বরিশাল গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলীকে গালাগাল, লাঞ্চিত ও হুমকি : নেপথ্যে কী?

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন :  বরিশাল গণপূর্ত বিভাগের কার্যালয়ে ১৫ লাখ টাকার সংস্কারকাজের কার্যাদেশকে কেন্দ্র করে এক ঠিকাদার  নির্বাহী প্রকৌশলীকে গালাগাল, লাঞ্চিত ও হুমকির কারনে উত্তপ্ত পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। এ ঘটনার প্রায় ছয় মিনিট ৩ সেকেন্ডের একটি সিসিটিভি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে।আতংকে রয়ে গনপুর্ত বরিশালের কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা। ভিডিওতে বরিশাল গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. ফয়সাল আলমের কক্ষে কয়েকজনের মধ্যে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময়ের দৃশ্য দেখা যায়। সেখানে ঠিকাদার এবং বরিশাল দক্ষিণ জেলা যুবদলের যুগ্ম সম্পাদক আশ্রাফুল ইসলাম মাহফুজকে উত্তেজিত অবস্থায় কথা বলতে এবং একপর্যায়ে নির্বাহী প্রকৌশলীর দিকে তেড়ে যেতে দেখা যায়।  যুবদল নেতা আশ্রাফুল ইসলাম মাহফুজ তিনি  জহিরুল ইসলাম খান নামের এক ঠিকাদারের মোস্তাকিম বিল্ডার্স নামে একটি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের টেন্ডার নিয়ে নির্বাহী প্রকৌশলীকে হুমকি প্রদান করেন বলে গনপুর্ত বিভাগের কর্মকর্তারা জানান। নির্বাহী প্রকৌশলীর অভিযোগ, কার্যাদেশ না পাওয়াকে কেন্দ্র করে মাহফুজ কয়েকজনকে নিয়ে তাঁর দপ্তরে এসে দুর্ব্যবহার করেন, হুমকি দেন এবং তাঁকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করার উদ্দেশ্যে একাধিকবার তেড়ে যান। তিনি বলেন মোস্তাকিম বিল্ডার্সের মালিক মাহফুজ নন।তার পরেও তিনি কেন সরকারি কাজে হস্তক্ষেপ করছেন তা আমার জানা নেই। অন্যদিকে মাহফুজের দাবি, তিনি কোনো হামলা বা শারীরিক লাঞ্ছনার ঘটনা ঘটাননি। দীর্ঘদিন ধরে দরপত্রে নির্বাচিত হওয়ার পরও কার্যাদেশ না পাওয়ায় তিনি বিষয়টি জানতে গণপূর্ত কার্যালয়ে গিয়েছিলেন। সেখানে মূলত উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় হয়েছে। ঘটনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে বরিশাল শের-ই-বাংলা চিকিৎসা মহাবিদ্যালয় হাসপাতালের একটি সংস্কারকাজ।   ছয় মিনিটের ভিডিওতে যা দেখা গেছে: সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া প্রায় ছয় মিনিটের সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, নির্বাহী প্রকৌশলীর কক্ষে কয়েকজন ব্যক্তি উপস্থিত রয়েছেন। একপর্যায়ে কথোপকথন উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। ভিডিওতে আশ্রাফুল ইসলাম মাহফুজকে উত্তেজিতভাবে কথা বলতে দেখা যায়। তিনি একাধিকবার আঙুল উঁচিয়ে নির্বাহী প্রকৌশলীর দিকে তেড়ে যান। এ সময় কক্ষে উপস্থিত অন্য কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এগিয়ে আসেন এবং তাঁকে নিবৃত্ত করার চেষ্টা করেন।   যে ১৫ লাখ টাকার কাজ নিয়ে বিরোধ: বিরোধের সূত্রপাত বরিশাল শের-ই-বাংলা চিকিৎসা মহাবিদ্যালয় হাসপাতালে প্রায় ১৫ লাখ টাকার একটি সংস্কারকাজকে কেন্দ্র করে। নির্বাহী প্রকৌশলী মো. ফয়সাল আলমের ভাষ্য অনুযায়ী, দরপত্র প্রতিযোগিতায় মোস্তাকিম বিল্ডার্স নামের একটি প্রতিষ্ঠান নির্বাচিত হয়। প্রতিষ্ঠানটির মালিক জহিরুল ইসলাম খান।মোস্তাকিম বিল্ডার্সের মালিক নন আশ্রাফুল ইসলাম মাহফুজ। তিনি জানান,ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে মোস্তাকিম বিল্ডার্স সাদিক আব্দুল্লাহকে দিয়ে কাজ করেছে।এখন সরকার পরিবর্তনের পরে মোস্তাকিম বিল্ডার্সের নামে  অন্য কেউ কাজ করলে তা নিয়ম বহির্ভূত ও অন্যায়।এছাড়া মোস্তাকিম বিল্ডার্সের বিরুদ্ধে অসংখ্য অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। তাই বিতর্কিত প্রতিষ্ঠানটিকে কার্যাদেশ দেওয়া সম্ভব হয়নি বলে দাবি করেন তিনি। ফয়সাল আলম বলেন,  মঙ্গলবার দুপুরে কার্যাদেশের বিষয়টি জানতে মাহফুজ কয়েকজনকে সঙ্গে নিয়ে তাঁর দপ্তরে আসেন বলে অভিযোগ নির্বাহী প্রকৌশলীর। তার দাবি, একপর্যায়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।   নির্বাহী প্রকৌশলীর অভিযোগ :  মো. ফয়সাল আলমের অভিযোগ, মাহফুজ তাঁর সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেন এবং বিভিন্ন ধরনের হুমকি দেন। তিনি দাবি করেন, ঠিকাদার একাধিকবার তাঁর দিকে তেড়ে যান এবং পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছায় যে তিনি নিজেকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত হওয়ার আশঙ্কায় মনে করেছিলেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, সরকারি কোনো কাজ বা কার্যাদেশ নিয়ে আপত্তি থাকলে তা নির্ধারিত প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে উত্থাপন করা উচিত।    যুবদল নেতা মাহফুজের বক্তব্য:  অন্যদিকে আশ্রাফুল ইসলাম মাহফুজ সাংবাদিকদের বলেন,গত ২৯ এপ্রিল দরপত্রে নির্বাচিত হওয়ার পরও কয়েক মাস ধরে তিনি কার্যাদেশ পাননি। দীর্ঘদিন ধরে বিষয়টি ঝুলে থাকায় তিনি গণপূর্ত কার্যালয়ে গিয়ে কারণ জানতে চেয়েছিলেন। মাহফুজ বলেন, নির্বাহী প্রকৌশলীর গায়ে হাত তোলা বা শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করার কোনো ঘটনা ঘটেনি। তার ভাষ্য, কার্যাদেশ না পাওয়ার কারণ জানতে গিয়ে সেখানে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় হয়েছে। দীর্ঘ সময় ধরে প্রক্রিয়াটি আটকে থাকায় তিনি ক্ষুব্ধ ছিলেন । সরকারি প্রকল্পে দরপত্র প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পর অর্থ বরাদ্দ বা প্রশাসনিক জটিলতায় কার্যাদেশ বিলম্বিত হলে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর মধ্যে বিরোধ তৈরি হওয়ার ঝুঁকি থাকে। তবে এ ধরনের বিরোধের সমাধান নির্ভর করে সংশ্লিষ্ট নথিপত্র, অর্থ বরাদ্দের অবস্থা এবং নির্ধারিত প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার ওপর।   রাজনৈতিক পরিচয় নিয়েও আলোচনা প্রত্যক্ষদর্শীদের কয়েকজনের ভাষ্য অনুযায়ী, ঘটনার সময় মাহফুজ নির্বাহী প্রকৌশলীর সঙ্গে উত্তপ্ত আচরণ করেন এবং একাধিকবার তাঁর দিকে তেড়ে যান।মাহফুজ বরিশাল দক্ষিণ জেলা যুবদলের যুগ্ম সম্পাদক । রাজনৈতিক পরিচয় ও প্রভাব খাটিয়ে একটি সরকারি অফিসে বসে সরকারি কর্মকর্তাকে হুমকি দেয়া অন্যায় বলে জানান গনপুর্তের একাধিক কর্মকর্তারা। বিএনপি নেতার বক্তব্য এ বিষয়ে জানতে চাইলে বরিশাল মহানগর বিএনপির সদস্যসচিব জিয়াউদ্দিন সিকদার বলেন, তিনি ঘটনাটি সম্পর্কে বিস্তারিত জানেন না এবং বর্তমানে ঢাকায় অবস্থান করছেন।তিনি বলেন, আইনের ঊর্ধ্বে কেউ নন। কেউ বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করলে কর্তৃপক্ষ আইনগত ব্যবস্থা নেবে। পুলিশের বক্তব্য:  বরিশাল কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মামুন উল ইসলাম বলেন, তিনি ঘটনাটির কথা শুনেছেন। তবে এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। তিনি বলেন, লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

নিজস্ব প্রতিবেদক আগস্ট ২১, ২০২৬ 0
বরিশালে সরকারি পুকুর ভরাট করে প্লট বিক্রি
বরিশালে সরকারি খাসজমির ১০ কোটি টাকার পুকুর ভরাটের অভিযোগ, প্লট করে বিক্রির প্রস্তুতি

 ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : বরিশাল নগরীতে সরকারি খাসজমির ওপর থাকা প্রায় ১০ কোটি ৩৫ লাখ টাকা মূল্যের একটি পুকুর বালু ফেলে ভরাট করে প্লট আকারে বিক্রির প্রস্তুতির অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রায় ৬৯ শতাংশ আয়তনের জলাশয়টির প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ ইতোমধ্যে ভরাট করা হয়েছে। তবে যাঁরা ভরাটের কাজ করছেন, তাঁদের দাবি—ওয়ারিশ সূত্রে জমিটির মালিকানা পাওয়া গেছে এবং বৈধ পাওয়ার অব অ্যাটর্নির ভিত্তিতেই উন্নয়নকাজ চলছে। অন্যদিকে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও ভূমি প্রশাসনের দাবি, এটি সরকারি খাসজমি। হাসপাতালের পাশের জলাশয় নগরীর মুন্সীবাড়ি এলাকায় বীণাপাণি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে থেকে উত্তরমুখী সড়কের পাশে অবস্থিত পুকুরটি বরিশাল বক্ষব্যাধি হাসপাতাল এবং উদ্বোধনের অপেক্ষায় থাকা ২০০ শয্যার শিশু হাসপাতালের ঠিক পাশেই অবস্থিত। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বলছে, পুকুরসহ আশপাশের জমি সরকারের মালিকানাধীন। পুকুরটি দখল ও ভরাট বন্ধে কাউনিয়া থানা, সহকারী কমিশনার (ভূমি) এবং অন্যান্য সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হলেও এখন পর্যন্ত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। কারা করছেন ভরাট? স্থানীয় সূত্রের দাবি, শহরের বাসিন্দা রাকিবুল ইসলাম লিয়ন, ৬ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব বাবুল তালুকদার, স্থানীয় বাসিন্দা মো. আলমগীর ও রফিকুল ইসলামের নেতৃত্বে পুকুরটি ভরাট করা হচ্ছে। অভিযোগ রয়েছে, এ কাজে স্থানীয় বিএনপির কয়েকজন নেতারও পরোক্ষ প্রভাব রয়েছে। তবে মহানগর বিএনপি এ অভিযোগ অস্বীকার করেছে। রাকিবুল ইসলাম লিয়ন বলেন, "ওয়ারিশ সূত্রে ওই জমির মালিক হেলাল আকন ও তাঁর বোন। আমরা চারজন পাওয়ার অব অ্যাটর্নি নিয়ে জায়গাটি ভরাট করছি। পরে প্লট আকারে বিক্রির পরিকল্পনা রয়েছে।" তিনি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সরকারি মালিকানার দাবিও প্রত্যাখ্যান করেন। পুকুর ভরাটের ঠিকাদার মো. জুয়েল জানান, সাত লাখ টাকার চুক্তিতে তিনি বালু ফেলে ভরাটের কাজ করছেন।   স্থানীয়দের ভাষ্য: "এটি সবসময় হাসপাতালের পুকুর হিসেবেই পরিচিত" এলাকার প্রবীণ বাসিন্দাদের দাবি, বহু দশক ধরেই জলাশয়টি বক্ষব্যাধি হাসপাতালের পুকুর হিসেবে পরিচিত। স্থানীয় বাসিন্দা মাহবুবুর রহমান বলেন, "৫০ বছরের বেশি সময় ধরে আমরা জানি, এটি বক্ষব্যাধি হাসপাতালের পুকুর। কয়েক দিন আগে শুনলাম কেউ নাকি এটি কিনে ফেলেছে।"   হাসপাতালের নথিতে কী আছে? হাসপাতালের অফিস সহকারীর দায়িত্বে থাকা ফার্মাসিস্ট আনোয়ারা বেগম বলেন, হাসপাতালের মোট সাত একর ৪১ শতাংশ জমির পর্চা রয়েছে। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী— দাগ নম্বর ১০৬৯ ভিটা, ১০৭০ ও ১০৭১ পুকুর হিসেবে রেকর্ডভুক্ত। এসব জমির মালিক হিসেবে বাংলাদেশ সরকারের পক্ষে কালেক্টরের নাম উল্লেখ রয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, "কাউনিয়া থানা ও এসিল্যান্ড অফিসে বহুবার গিয়েছি। কিন্তু জমি রক্ষায় কার্যকর কোনো উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না।"   "রাতের আঁধারে চলছে ভরাট" হাসপাতালের চিকিৎসা কর্মকর্তা ডা. মাসুমা আক্তার বলেন, হাসপাতালের পুরোনো কর্মচারীরা সবাই জানেন এটি সরকারি সম্পত্তি। তাঁর দাবি, ১৯ জুলাই কাউনিয়া থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি জেলা প্রশাসক, সিভিল সার্জন ও এসিল্যান্ডকেও জানানো হয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে বেড়া দেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হলেও পরে দখলকারীরাই সেখানে বেড়া দিয়েছেন। ঘটনাস্থলে পুলিশ গেলেও ভরাট বন্ধ হয়নি।   বাজারমূল্য প্রায় ১০ কোটি টাকা স্থানীয়দের হিসাবে, হাসপাতালসংলগ্ন ৬৯ শতাংশ আয়তনের এই পুকুরটির বর্তমান বাজারমূল্য প্রায় ১০ কোটি ৩৫ লাখ টাকা। বক্ষব্যাধি হাসপাতাল ভবনের পেছনে অবস্থান করায় মূল সড়ক থেকে জলাশয়টির বড় অংশ দেখা যায় না। স্থানীয়দের অভিযোগ, এই অবস্থানকেই কাজে লাগিয়ে দীর্ঘদিন ধরে ধাপে ধাপে ভরাট চলছে।   বিএনপির প্রতিক্রিয়া মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক মনিরুজ্জামান ফারুক বলেন, "এ ঘটনায় বিএনপির কোনো নেতা জড়িত নন। কাগজপত্রে জালিয়াতি হয়েছে কিনা, সেটি ভূমি অফিস তদন্ত করবে।"   ভূমি প্রশাসন কী বলছে? সদর উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) আজহারুল ইসলাম বলেন, পুকুরটি খাস খতিয়ানের জমি। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, প্রায় ১৫ বছর আগে জরিপে বিএস রেকর্ডে এটি ব্যক্তি মালিকানার হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হয়। তিনি বলেন, "আমার ধারণা, এখানে বড় ধরনের অনিয়ম বা লেনদেন হয়েছে। একটি চক্র পুকুরটি দখল করেছে। কীভাবে খাসজমি ব্যক্তি মালিকানায় গেল, সেটি চ্যালেঞ্জ করে ল্যান্ড সার্ভে ট্রাইব্যুনালে মামলা করা হবে।"   সিটি করপোরেশন ও জেলা প্রশাসনের বক্তব্য বরিশাল সিটি করপোরেশনের প্রশাসক বিলকিস আক্তার জাহান শিরীন বলেন, "প্রশাসনের উদাসীনতা রয়েছে। মামলা করে জমি উদ্ধার করতে দীর্ঘ সময় লাগতে পারে। তবে সরকারি সম্পত্তি রক্ষায় আমার যা করণীয়, তা করব।" জেলা প্রশাসক মো. মামুন খন্দকার বলেন, বিষয়টি তাঁর জানা ছিল না। তিনি খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন।   এখন যে প্রশ্নগুলো সামনে ঘটনাটি কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন সামনে নিয়ে এসেছে— সরকারি খাসজমি ব্যক্তি মালিকানায় রেকর্ড হলো কীভাবে? ওয়ারিশ ও পাওয়ার অব অ্যাটর্নির ভিত্তি কতটা বৈধ? প্রশাসনের কাছে অভিযোগ যাওয়ার পরও ভরাট কেন বন্ধ হয়নি? ভূমি রেকর্ডে কোনো জালিয়াতি বা অনিয়ম ঘটেছে কি না? সরকারি সম্পত্তি দখলের পেছনে কোনো প্রভাবশালী ব্যক্তি বা রাজনৈতিক প্রভাব রয়েছে কি না? এসব প্রশ্নের উত্তর মিলতে পারে ভূমি প্রশাসনের তদন্ত এবং সম্ভাব্য ল্যান্ড সার্ভে ট্রাইব্যুনালের মামলার মাধ্যমে। এদিকে স্থানীয়দের দাবি, তদন্ত শেষ হওয়ার আগেই পুকুর ভরাট বন্ধ করে প্রকৃত মালিকানা নির্ধারণ করতে হবে। পাশাপাশি সরকারি সম্পত্তি দখলের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ারও আহ্বান জানিয়েছেন তাঁরা।

নিজস্ব প্রতিবেদক আগস্ট ৮, ২০২৬ 0
ড্যাবের দুই পক্ষের বিরোধে অচল বরিশালের স্বাস্থ্য বিভাগ, পরিচালককে দপ্তর থেকে বের করে দেওয়ার অভিযোগ

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালকের দপ্তরে এক চিকিৎসক কর্মকর্তাকে ঘিরে তৈরি হয়েছে নজিরবিহীন উত্তেজনা। বিএনপি সমর্থিত চিকিৎসকদের সংগঠন ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ড্যাব)-এর অভ্যন্তরীণ বিরোধকে কেন্দ্র করে বরিশালের স্বাস্থ্য প্রশাসনে দেখা দিয়েছে অস্থিরতা। সম্প্রতি বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক হিসেবে নিয়োগ পাওয়া ডা. মনিরুজ্জামানকে একদল চিকিৎসক ও সহযোগী দপ্তর থেকে বের করে দিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় সংগঠনটির একাংশ নিয়োগ বাতিলের দাবি তুললেও অন্য অংশ বলছে, ব্যক্তিগত বিরোধ বা প্রতিহিংসার কারণে কোনো সরকারি কর্মকর্তার নিয়োগ প্রশ্নবিদ্ধ করা হলে তারা আন্দোলনে যাবে। ঘটনার পর থেকে পরিচালকের কার্যালয়ে তৈরি হয়েছে কার্যত অচলাবস্থা। এমনকি পরিচালকের কক্ষ ও প্রধান ফটকে তালা দেওয়ার ঘটনাও ঘটেছে। নিয়োগের পর থেকেই বিরোধের সূত্রপাত সরকার গত ৫ জুলাই শেরে বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সাবেক উপপরিচালক ডা. মনিরুজ্জামানকে বরিশালের বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক পদে নিয়োগ দেয়। পরদিন ৬ জুলাই তিনি দায়িত্ব গ্রহণ করেন।তবে দায়িত্ব নেওয়ার পরপরই তার নিয়োগকে ঘিরে আপত্তি তোলে ড্যাবের একটি অংশ। শেবাচিম শাখা ড্যাবের সভাপতি এবং সম্প্রতি অবসরে যাওয়া চিকিৎসক ডা. নজরুল ইসলাম সেলিমের নেতৃত্বে একদল চিকিৎসক ও শিক্ষার্থী বুধবার পরিচালকের কার্যালয়ে যান। অভিযোগ রয়েছে, তারা পরিচালকের কক্ষে প্রবেশ করে ডা. মনিরুজ্জামানকে চেয়ার থেকে উঠে যেতে বাধ্য করেন এবং তাকে দপ্তর ছাড়তে বলেন। পরে তার কক্ষে তালা দেওয়া হয়। ঘটনার সময় উপস্থিত ছিলেন ড্যাবের শেবাচিম শাখার সাবেক সভাপতি ডা. আজিজ রহিম এবং সম্মিলিত পেশাজীবী পরিষদের বরিশাল বিভাগীয় সদস্য সচিব ও জেলা ড্যাবের সাবেক সহসভাপতি ডা. মিজানুর রহমান। তারা বিষয়টি থামানোর চেষ্টা করলেও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়নি বলে জানা গেছে। দ্বিতীয় দফায় তালাবদ্ধ কার্যালয় বৃহস্পতিবার সকালে আবারও পরিচালকের কার্যালয়ে যান ডা. সেলিমের অনুসারীরা। আগের দিনের লাগানো তালা খোলা দেখতে পেয়ে তারা উত্তেজিত হয়ে ওঠেন। এরপর পরিচালকের দপ্তরের প্রধান ফটকে নতুন করে তালা দেওয়া হয়। কয়েক ঘণ্টা কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ভেতরে আটকা থাকেন। পরে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের অনুরোধে তালা খুলে দেওয়া হয়। এই ঘটনার পর স্বাস্থ্য বিভাগের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। কেন বিরোধ? দুই পক্ষের ভিন্ন দাবি ডা. নজরুল ইসলাম সেলিমের দাবি, ডা. মনিরুজ্জামান অতীতে আওয়ামী লীগ সরকারের বিভিন্ন কর্মসূচির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তিনি বলেন, শেরে বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের উপপরিচালক থাকাকালে তিনি “জুলাই আন্দোলনবিরোধী শান্তি মিছিলে” অংশ নিয়েছিলেন এবং আওয়ামী লীগপন্থী চিকিৎসকদের সংগঠন স্বাচিপের বিভিন্ন কর্মসূচিতেও তাকে দেখা গেছে। সেলিম বলেন, “আগস্ট বিপ্লবে তিনি জনগণের পক্ষে ছিলেন না। তাই এই নিয়োগ আমরা মেনে নিচ্ছি না।” অন্যদিকে বরিশাল জেলা ড্যাবের সভাপতি ডা. কবিরুজ্জামান বলেন, বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগের ক্ষেত্রে ড্যাবের নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করা উচিত ছিল। তার ভাষ্য, সংগঠনের মতামত উপেক্ষা করায় এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। পাল্টা অবস্থানে ড্যাবের অন্য অংশ তবে ড্যাবের আরেক অংশ এই অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে। শেবাচিম শাখা ড্যাবের সাবেক সভাপতি ডা. আজিজ রহিম বলেন, ডা. মনিরুজ্জামান ড্যাবের কেন্দ্রীয় পর্যায়ের আজীবন সদস্য। তিনি জানান, ১২ ফেব্রুয়ারির আগে কেন্দ্র থেকে গঠিত ড্যাবের নির্বাচন পরিচালনা কমিটিতেও মনিরুজ্জামান ছিলেন। আজিজ রহিম বলেন, “নির্বাচনি প্রচারণায় সেলিম ও মনিরুজ্জামান একসঙ্গে কাজ করেছেন। হঠাৎ এই বিভক্তির কারণ বুঝতে পারছি না। ব্যক্তিগত জেলাসি থেকেই বিষয়টি তৈরি হয়েছে বলে মনে হচ্ছে।” মবের অভিযোগের নিন্দা সম্মিলিত পেশাজীবী পরিষদের বরিশাল বিভাগীয় সদস্য সচিব ডা. মিজানুর রহমান বলেন, কোনো কর্মকর্তাকে দপ্তরে গিয়ে জোর করে চেয়ার থেকে উঠিয়ে দেওয়া গ্রহণযোগ্য নয়। তিনি বলেন, “মব সৃষ্টি করে কোনো সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেওয়ার ঘটনা দুঃখজনক।” তিনি আরও দাবি করেন, ডা. মনিরুজ্জামান শেরে বাংলা মেডিকেল কলেজ শাখা ছাত্রদলের আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক এবং পরে সহসভাপতি ছিলেন। ডা. মনিরুজ্জামানের বক্তব্য নিজের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ডা. মনিরুজ্জামান। তিনি বলেন, শেরে বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে উপপরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে তিনি কেবল সরকারি নির্দেশনা অনুসরণ করেছেন। তার ভাষায়, “সরকারি চাকরিতে দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে সরকারের নির্দেশ মানতে হয়, এটাই নিয়ম।” শান্তি সমাবেশে অংশ নেওয়ার অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, তৎকালীন পরিচালক তাকে সেখানে যেতে বাধ্য করেছিলেন। তিনি দাবি করেন, আওয়ামী লীগের কোনো রাজনৈতিক কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার প্রমাণ কেউ দেখাতে পারবে না।  প্রশাসনিক পদে রাজনৈতিক পরিচয়ের প্রভাব? বরিশালের এই ঘটনা আবারও সামনে এনেছে সরকারি প্রশাসনিক পদে নিয়োগের ক্ষেত্রে রাজনৈতিক পরিচয়, অতীত ভূমিকা এবং পেশাজীবী সংগঠনের প্রভাবের প্রশ্ন। একদিকে একটি পক্ষ বলছে, বিতর্কিত অতীত থাকা কাউকে গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক পদে রাখা উচিত নয়। অন্যদিকে অপর পক্ষের অভিযোগ, ব্যক্তিগত বিরোধ ও সংগঠনগত দ্বন্দ্বকে রাজনৈতিক অভিযোগের আড়ালে ব্যবহার করা হচ্ছে। বর্তমানে ডা. মনিরুজ্জামানের নিয়োগ বহাল থাকলেও পরিচালকের দপ্তরের পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে কী পদক্ষেপ নেওয়া হবে, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন।

নিজস্ব প্রতিবেদক জুলাই ১১, ২০২৬ 0
আগৈলঝাড়ায় থানা হামলার নেপথ্যে মৃত্যুর গুজব: গ্রেফতার আতঙ্কে এলাকা পুরুষশূন্য, পুলিশের অভিযান অব্যাহত

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন :   বরিশালের আগৈলঝাড়ায় এক গ্রেফতার আসামির মৃত্যুর গুজবকে কেন্দ্র করে থানায় হামলা, ভাঙচুর ও পুলিশ সদস্যদের আহত হওয়ার ঘটনায় ৪৩ জনের নাম উল্লেখ করে মামলা করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত ১৮ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। স্থানীয়দের মধ্যে গ্রেফতার আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ায় অনেক পরিবার এলাকা ছেড়ে আত্মগোপনে রয়েছে বলে জানা গেছে। বরিশালের আগৈলঝাড়া উপজেলায় পুলিশের হেফাজতে থাকা এক আসামির মৃত্যুর গুজবকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট উত্তেজনা এখন রূপ নিয়েছে বড় ধরনের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিতে। থানায় হামলা, পুলিশ সদস্যদের ওপর হামলা এবং সংঘর্ষের ঘটনায় পুলিশ অভিযান চালিয়ে একাধিক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করেছে। আগৈলঝাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মাসুদ খান জানান, হামলার পর থানায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। রাতভর অভিযান চালিয়ে হামলার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে ১৮ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ঘটনায় জড়িত প্রত্যেককে আইনের আওতায় আনা হবে বলে জানান তিনি। বরিশালের পুলিশ সুপার এজেডএম মোস্তাফিজুর রহমান জানিয়েছেন, থানায় হামলার ঘটনায় মামলা করা হয়েছে। সিসিটিভি ফুটেজ ও বিভিন্ন তথ্য যাচাই করে হামলায় জড়িত অন্যদের শনাক্ত ও গ্রেফতারে অভিযান চলছে। গ্রেফতার আসামিকে ঘিরে উত্তেজনার শুরু পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, গত ৮ জুন বুধবার সন্ধ্যায় নিয়মিত অভিযানের অংশ হিসেবে চুরি ও মাদকসহ একাধিক মামলার আসামি রিয়াজ ফকিরকে একটি চুরির মামলায় গ্রেফতার করা হয়। পুলিশ জানায়, থানার হাজতে থাকা অবস্থায় রিয়াজ নিজেই নিজের মাথায় আঘাত করেন। পরে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়লে প্রথমে তাকে আগৈলঝাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। রাতের দিকে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে বরিশাল শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এরপর বৃহস্পতিবার বিকালে রিয়াজ ফকিরের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ে এলাকায়। যদিও পরে পুলিশ জানায়, তিনি মারা যাননি এবং হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রয়েছেন। গুজব ছড়িয়ে হামলা, আহত পুলিশ সদস্য রিয়াজের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর তার স্বজন ও স্থানীয়দের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হয়। একপর্যায়ে শতাধিক মানুষ মিছিল নিয়ে আগৈলঝাড়া থানায় গিয়ে হামলা চালায়। পুলিশের অভিযোগ, এ সময় থানার ডিউটি অফিসার এএসআই আব্দুল হালিমকে মারধর করা হয় এবং থানায় ভাঙচুর চালানো হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ লাঠিচার্জ করলে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বাধে। সংঘর্ষে পুলিশের ছয় সদস্যসহ উভয় পক্ষের অন্তত ১২ জন আহত হন। গুরুতর আহত এএসআই আব্দুল হালিমকে বরিশাল শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। আহত পুলিশ সদস্য কনস্টেবল লিমন মিয়া, ফরহাদ হোসেন, মনির হোসেন, আল আমিন হোসেন ও মেহেদী হাসানকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। মামলায় ৪৩ জনের নাম, গ্রেফতার ১৮ থানায় হামলার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় ৪৩ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া অজ্ঞাতনামা আরও প্রায় ৩০০ জনকে আসামি করা হয়েছে। মামলার বাদী ওমর ফারুক জানান, বৃহস্পতিবার রাতে অভিযান চালিয়ে এজাহারভুক্ত ১৮ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। গ্রেফতার ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছেন— সিদ্দিক ফকির শারমিন আক্তার গিয়াস ফকির সবুজ ফকির মান্নান ফকির রিফাত ফকির নাইম ফকির হাবিবুর রহমান রাজু হাওলাদার তাহমিনা বেগম মনোয়ারা বেগম আসমা আক্তার মমতাজ বেগম ঝুমুর বেগম নাজমা আক্তার তানজিলা আক্তারসহ আরও কয়েকজন। পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেফতার ব্যক্তিদের শুক্রবার সকালে আদালতে পাঠানো হয়েছে। বাকি আসামিদের ধরতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। পরিবারের অভিযোগ, পুলিশের অস্বীকার এ ঘটনায় রিয়াজ ফকিরের পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে, পুলিশি নির্যাতনের কারণে তিনি আহত হয়েছেন। তবে পুলিশ এ অভিযোগ অস্বীকার করেছে। পুলিশের দাবি, রিয়াজ নিজের মাথায় আঘাত করে আহত হয়েছেন এবং বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আশঙ্কামুক্ত রয়েছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন থানা হামলার পর আগৈলঝাড়া এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে অভিযান অব্যাহত রেখেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গ্রেফতার আতঙ্কে অনেক নারী-পুরুষ বাড়িঘর ছেড়ে অন্যত্র অবস্থান করছেন। ঘটনার তদন্তে এখন মূল প্রশ্ন—রিয়াজ ফকিরের আহত হওয়ার প্রকৃত কারণ কী এবং মৃত্যুর গুজব এত দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে কীভাবে। পুলিশ বলছে, তদন্ত ও তথ্য যাচাইয়ের মাধ্যমে পুরো ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করা হবে।

নিজস্ব প্রতিবেদক জুলাই ১১, ২০২৬ 0
বাবু রাঢ়ী
দোকানঘর নির্মাণের বিরোধ থেকে মৃত্যু: মেহেন্দীগঞ্জে যুবক হত্যার অভিযোগ

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : বরিশালের মেহেন্দীগঞ্জ উপজেলায় দোকানঘর নির্মাণকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিনের বিরোধের জেরে এক যুবকের মৃত্যুর ঘটনা স্থানীয়ভাবে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। নিহত বাবু রাঢ়ী (২৫) নিষিদ্ধঘোষিত ছাত্রলীগের একজন সক্রিয় কর্মী ছিলেন বলে স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে। তবে ঘটনাটির পেছনে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য ছিল নাকি এটি সম্পূর্ণ জমি-সংক্রান্ত বিরোধের ফল—তা নিয়ে ভিন্নমত দেখা যাচ্ছে। পরিবারের দাবি, পশ্চিম সাদেকপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে নিজেদের জমিতে দোকানঘর নির্মাণকে কেন্দ্র করে কয়েক মাস ধরে প্রতিপক্ষের সঙ্গে বিরোধ চলছিল বাবু রাঢ়ীর। সেই বিরোধই শেষ পর্যন্ত প্রাণঘাতী সংঘর্ষে রূপ নেয়। স্বজনদের বর্ণনা অনুযায়ী, মঙ্গলবার রাত প্রায় ৮টার দিকে উভয় পক্ষের মধ্যে প্রথমে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। পরে পরিস্থিতি সহিংসতায় রূপ নিলে বাবু রাঢ়ীর ওপর হামলা চালানো হয়। অভিযোগ রয়েছে, বজলু বয়াতী, জাহাঙ্গীর মাল, শহীদ পোদ্দার, নয়ন পোদ্দারসহ ৮ থেকে ৯ জনের একটি দল লাঠিসোঁটা নিয়ে তার ওপর চড়াও হয়। নিহতের পরিবারের ভাষ্য, হামলায় বাবুর মাথায় গুরুতর আঘাত লাগে এবং তার হাত-পা ভেঙে যায়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে প্রথমে মেহেন্দীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখান থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে বুধবার ভোরে তিনি মারা যান। বাবুর বাবা দুলাল রাঢ়ী অভিযোগ করেন, তার ছেলেকে পূর্বপরিকল্পিতভাবে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে। তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। পরিবারের আরেক সদস্য খোরশেদ রাঢ়ীর দাবি, এটি বিচ্ছিন্ন কোনো ঘটনা নয়। প্রায় এক মাস আগেও একই বিরোধের জেরে বাবুকে মারধরের ঘটনা ঘটেছিল। তার ভাষায়, সাম্প্রতিক হামলা ছিল পূর্বের বিরোধের ধারাবাহিকতা। ঘটনাটি নতুন মাত্রা পেয়েছে নিহতের রাজনৈতিক পরিচয় সামনে আসার পর। স্থানীয়ভাবে জানা গেছে, বাবু রাঢ়ী নিষিদ্ধঘোষিত ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে সক্রিয়ভাবে যুক্ত ছিলেন। যদিও সংগঠনের কোনো আনুষ্ঠানিক পদে তিনি ছিলেন না। মেহেন্দীগঞ্জ উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি নীরব ব্যাপারী দাবি করেছেন, বাবু সংগঠনের সক্রিয় কর্মী ছিলেন এবং হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের কঠোর শাস্তি হওয়া উচিত। তবে স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনের অন্য পক্ষ ভিন্ন ব্যাখ্যা দিচ্ছে। মেহেন্দীগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সভাপতি গিয়াস উদ্দিন দীপেন বলেন, প্রাথমিকভাবে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী ঘটনাটি রাজনৈতিক নয়; বরং জমি ও স্থাপনা নির্মাণসংক্রান্ত বিরোধের জেরেই সংঘটিত হয়েছে বলে মনে হচ্ছে। এই দুই অবস্থানের মধ্যে মূল প্রশ্ন হয়ে উঠেছে—নিহতের রাজনৈতিক পরিচয় কি কেবল একটি পারিপার্শ্বিক তথ্য, নাকি তা সংঘর্ষের প্রেক্ষাপটে কোনো ভূমিকা রেখেছে? এখন পর্যন্ত প্রকাশিত তথ্য থেকে এর স্পষ্ট উত্তর পাওয়া যায়নি। ঘটনার পর অভিযুক্তরা এলাকা ছেড়ে আত্মগোপনে গেছেন বলে স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে। ফলে অভিযোগের বিষয়ে তাদের বক্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি। মেহেন্দীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মমিন উদ্দিন জানিয়েছেন, ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। জড়িতদের শনাক্ত করে দ্রুত আইনের আওতায় আনার চেষ্টা চলছে বলে তিনি জানিয়েছেন। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো মামলা দায়ের বা গ্রেপ্তারের তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে স্থানীয়দের মতে, দীর্ঘদিনের জমি-সংক্রান্ত বিরোধ, পূর্বের হামলার অভিযোগ এবং সাম্প্রতিক মৃত্যুর ঘটনা—সবকিছু মিলিয়ে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ আইনশৃঙ্খলা ও বিচারিক অনুসন্ধানের বিষয়ে পরিণত হয়েছে। তদন্তের অগ্রগতিই নির্ধারণ করবে, এটি কেবল জমি-সংক্রান্ত বিরোধের মর্মান্তিক পরিণতি ছিল, নাকি এর পেছনে আরও গভীর কোনো প্রভাবক কাজ করেছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক জুন ২৫, ২০২৬ 0
গৌরনদীতে খাল পুনঃখনন: অবৈধ স্থাপনা বহাল, সরকারি গাছ কাটার অভিযোগে প্রশ্নের মুখে প্রকল্প

বরিশাল অফিস :   বরিশালের গৌরনদী উপজেলার বাটাজোর থেকে চন্দ্রহার খাল পুনঃখনন প্রকল্পকে ঘিরে অনিয়ম, অব্যবস্থাপনা এবং সরকারি সম্পদ আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, খাল পুনঃখননের নামে সরকারি অর্থ ব্যয় হলেও প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য বাস্তবায়িত হচ্ছে না। একদিকে খালের গভীরতা বাড়ানো হচ্ছে না, অন্যদিকে সরকারি রাস্তার গাছ কেটে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় প্রভাবশালীদের বিরুদ্ধে। স্থানীয় সূত্র বলছে, পানি উন্নয়ন বোর্ডের আওতায় বাটাজোর ইউনিয়ন থেকে সরিকল ইউনিয়নের সাকোকাঠী (আগরপুর) পর্যন্ত প্রায় ৮ কিলোমিটার খাল পুনঃখননের কাজ সম্প্রতি শুরু হয়েছে। প্রকল্পটির লক্ষ্য ছিল খালের পানি ধারণক্ষমতা বৃদ্ধি, জলাবদ্ধতা নিরসন এবং কৃষি সেচ ব্যবস্থার উন্নয়ন। তবে প্রকল্প এলাকা ঘুরে দেখা এবং স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে ভিন্ন চিত্র পাওয়া গেছে। ‘পুনঃখনন’ নাকি শুধু খালের পাড় ঘষামাজা? স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, প্রকৃত অর্থে খালের গভীরতা বৃদ্ধি না করে দুই পাড়ে সীমিত পরিসরে মাটি কাটার কাজ চলছে। ফলে বর্ষা মৌসুমে পানি ধারণক্ষমতা বাড়বে কি না, তা নিয়ে সন্দেহ রয়েছে। একাধিক কৃষক জানান, দীর্ঘদিন ধরে খালটি নাব্যতা হারিয়েছে। পুনঃখননের মাধ্যমে তারা কৃষি জমিতে সেচ সুবিধা এবং জলাবদ্ধতা নিরসনের আশা করেছিলেন। কিন্তু বর্তমানে যে কাজ হচ্ছে, তাতে কাঙ্ক্ষিত সুফল পাওয়া যাবে না বলে তাদের আশঙ্কা। অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে ‘বাছাই নীতি’? স্থানীয়দের অভিযোগ অনুযায়ী, খালের দক্ষিণ পাড়ে থাকা কিছু ব্যক্তিগত গাছ ও স্থাপনা অপসারণ করা হলেও রাস্তার পাশের বেশ কয়েকটি অবৈধ দোকান ও স্থাপনা অক্ষত রাখা হয়েছে। তাদের দাবি, খালের উভয় পাড় থেকে সমানভাবে প্রতিবন্ধকতা অপসারণ না করলে পানিপ্রবাহ স্বাভাবিক হবে না এবং পুনঃখননের কার্যকারিতাও সীমিত থাকবে। একজন স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, “যেখানে সাধারণ মানুষের স্থাপনা সরানো হয়েছে, সেখানে রাস্তার পাশের অবৈধ দোকানগুলো কেন বহাল রয়েছে—এ প্রশ্নের উত্তর কেউ দিচ্ছে না।” সরকারি গাছ কাটার অভিযোগ প্রকল্প ঘিরে সবচেয়ে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে সরকারি রাস্তার গাছ কাটাকে কেন্দ্র করে। স্থানীয়দের দাবি, খননকাজে ব্যবহৃত ভেকু (এক্সকাভেটর) দিয়ে দিনের বেলায়ই রাস্তার পাশের সরকারি গাছ কেটে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে। তবে এসব গাছ অপসারণের ক্ষেত্রে কোনো প্রকাশ্য নিলাম, টেন্ডার বা সরকারি অনুমোদনের তথ্য স্থানীয়রা জানেন না। কয়েকজন প্রবীণ রাজনৈতিক কর্মী অভিযোগ করেন, সরকারি সম্পদ ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা না থাকলে তা সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করতে পারে। তাদের মতে, সরকারি গাছ অপসারণের ক্ষেত্রে নিয়মতান্ত্রিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়েছে কি না, তা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্ত করা প্রয়োজন। খালের পাড় ভাঙনের আশঙ্কা স্থানীয়দের আরেকটি উদ্বেগ খনন পদ্ধতি নিয়ে। তাদের দাবি, ভারী যন্ত্র ব্যবহার করে খননকাজ পরিচালনার ফলে খালের দক্ষিণ পাড়ের বিভিন্ন অংশে মাটি ধসে পড়তে শুরু করেছে। এতে ভবিষ্যতে পাড় রক্ষা, ভূমিক্ষয় এবং খালের স্থায়িত্ব নিয়ে নতুন প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। প্রকৌশলগত মানদণ্ড অনুসরণ করা হচ্ছে কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন তুলছেন এলাকাবাসী। কর্তৃপক্ষের বক্তব্য মেলেনি অভিযোগগুলোর বিষয়ে বক্তব্য নিতে স্থানীয় ইউনিয়ন সদস্য মোহাম্মদ রেজাউল শেখের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। অন্যদিকে বাটাজোর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আব্দুর রব হাওলাদার অসুস্থ থাকায় তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।   তদন্তের দাবি স্থানীয়দের দাবি, খাল পুনঃখনন প্রকল্পে সরকারি অর্থের যথাযথ ব্যবহার, অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের বৈষম্য, সরকারি গাছ অপসারণের বৈধতা এবং খননকাজের মান যাচাইয়ে স্বাধীন তদন্ত প্রয়োজন। তাদের মতে, প্রকল্পটি যদি পরিকল্পনা অনুযায়ী বাস্তবায়িত না হয়, তাহলে কৃষি, পানি ব্যবস্থাপনা এবং স্থানীয় পরিবেশের ওপর প্রত্যাশিত ইতিবাচক প্রভাব পড়বে না।

নিজস্ব প্রতিবেদক জুন ২৩, ২০২৬ 0
খাল পুনঃখননে স্কুলের ওয়াশব্লক ভাঙার নির্দেশ, অক্ষত বাজারের ৭০ অবৈধ স্থাপনা নিয়ে প্রশ্ন

 বরিশাল অফিস :  বরিশালের বাটাজোর ইউনিয়নের বাটাজোর থেকে চন্দ্রহার পর্যন্ত খাল পুনঃখনন প্রকল্পকে ঘিরে স্থানীয়দের মধ্যে নতুন বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, খালের দখলমুক্তকরণ কার্যক্রমের অংশ হিসেবে চন্দ্রহার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ওয়াশব্লক অপসারণের নির্দেশ দেওয়া হলেও খালের অপর পাড়ে গড়ে ওঠা প্রায় ৭০টি অবৈধ বাজার স্থাপনা উচ্ছেদের বিষয়ে কোনো দৃশ্যমান পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, খাল পুনঃখননের শেষ পর্যায়ে এসে প্রশাসনের এ সিদ্ধান্ত প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। তাদের ভাষ্য, খালের দক্ষিণ পাড়ে অবস্থিত বিদ্যালয়ের ওয়াশব্লক দ্রুত অপসারণের নির্দেশ দেওয়া হলেও উত্তর পাড়ে দীর্ঘদিন ধরে থাকা বাজারের অসংখ্য অবৈধ স্থাপনা অক্ষত রয়েছে। শিক্ষার্থীদের স্যানিটেশন সংকটের আশঙ্কা চন্দ্রহার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রায় ২৫০ শিক্ষার্থী অধ্যয়ন করে। বিদ্যালয়টির একমাত্র কার্যকর স্যানিটেশন সুবিধা হিসেবে ব্যবহৃত ওয়াশব্লকটি অপসারণ করা হলে শিক্ষার্থীরা চরম দুর্ভোগে পড়বে বলে আশঙ্কা করছেন অভিভাবক ও স্থানীয়রা। তাদের প্রশ্ন, বিকল্প স্যানিটেশন ব্যবস্থা নিশ্চিত না করে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অবকাঠামো অপসারণ কতটা যৌক্তিক? বিশেষ করে যখন একই খালের অপর পাড়ে বহু অবৈধ স্থাপনা বহাল রয়েছে। একাধিক অভিভাবক ও এলাকাবাসী জানান, খাল পুনঃখনন কার্যক্রমে তারা বাধা দিতে চান না। তবে উচ্ছেদ কার্যক্রমে সমতা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা জরুরি। তাদের মতে, জনস্বার্থে প্রয়োজন হলে অবৈধ দোকানপাট অপসারণ করা যেতে পারে, কিন্তু শিক্ষার্থীদের মৌলিক স্যানিটেশন সুবিধা ধ্বংস করে নয়। দ্বৈত নীতির অভিযোগ স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রশাসনের বর্তমান অবস্থান বৈষম্যমূলক বলে মনে হচ্ছে। একদিকে বিদ্যালয়ের অবকাঠামো অপসারণের তাগিদ, অন্যদিকে খালের জায়গা দখল করে থাকা বাজারের স্থাপনাগুলোর বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়া—এ দুই অবস্থানের মধ্যে স্পষ্ট অসঙ্গতি রয়েছে বলে তারা মনে করেন। এলাকাবাসীর ভাষ্য, যদি খাল পুনরুদ্ধারই মূল লক্ষ্য হয়, তাহলে খালের উভয় পাড়ে সমানভাবে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা উচিত। শুধুমাত্র বিদ্যালয়ের ওয়াশব্লক অপসারণের উদ্যোগ প্রকল্পের উদ্দেশ্য ও বাস্তবায়ন নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করছে। পুনর্বিবেচনার দাবি স্থানীয় জনগণ প্রশাসনের কাছে সিদ্ধান্তটি পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানিয়েছেন। তারা চান, বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের স্বার্থ বিবেচনায় ওয়াশব্লকটি আপাতত বহাল রাখা হোক অথবা বিকল্প ব্যবস্থা নিশ্চিত হওয়ার পর প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেওয়া হোক। একই সঙ্গে খালের উত্তর পাড়ে অবস্থিত অবৈধ বাজার স্থাপনাগুলোর বিষয়েও সমানভাবে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা। এলাকাবাসীর মতে, জনস্বার্থ, শিক্ষা ও স্যানিটেশন সুরক্ষার বিষয়টি বিবেচনায় এনে প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপ প্রয়োজন।

নিজস্ব প্রতিবেদক জুন ২৩, ২০২৬ 0
কেএমসি হাসপাতালে চিকিৎসকের ওপর হামলা: রোগীর চিকিৎসায় অবহেলা পায়নি ড্যাব, গ্রেপ্তার দাবি

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : রোগীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে বরিশালের কেএমসি হাসপাতালে হামলা এবং এক নবীন চিকিৎসককে গুরুতর আহত করার ঘটনার পর হাসপাতাল পরিদর্শন করেছে ডক্টরস এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ড্যাব) বরিশাল জেলা শাখার একটি প্রতিনিধি দল। পরিদর্শন শেষে সংগঠনটির সভাপতি ও কেন্দ্রীয় কমিটির উপদেষ্টা ডা. কবিরুজ্জামান বলেছেন, সংশ্লিষ্ট রোগীর চিকিৎসা-সংক্রান্ত নথি ও চিকিৎসা প্রক্রিয়া পর্যালোচনা করে তারা কোনো ধরনের অবহেলার প্রমাণ পাননি। তার দাবি, হাসপাতালের সক্ষমতার মধ্যে রোগীকে সর্বোচ্চ চিকিৎসা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে। ড্যাব সূত্রে জানা যায়, হামলার শিকার চিকিৎসকের সহকর্মীরা ঘটনার পরদিন হাসপাতালে গিয়ে রোগীর চিকিৎসা-সংক্রান্ত বিভিন্ন দিক পর্যবেক্ষণ করেন। তাদের মূল্যায়নে, অচেতন রোগী হাসপাতালে আনার পর যেসব জরুরি চিকিৎসা পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন, তার সবগুলোই অনুসরণ করা হয়েছে। ডা. কবিরুজ্জামান বলেন, অচেতন রোগীর ক্ষেত্রে নাকের মাধ্যমে শ্বাস-প্রশ্বাস বা খাদ্য সরবরাহের নল, প্রস্রাবের পথের ক্যাথেটার এবং স্যালাইন সংযুক্ত করা প্রাথমিক চিকিৎসার অংশ। সংশ্লিষ্ট রোগীর ক্ষেত্রেও এসব ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছিল। এছাড়া রোগীর স্বজনদের সঙ্গে প্রয়োজনীয় কাউন্সেলিংয়েও কোনো ঘাটতি ছিল না বলে দাবি করেন তিনি। রোগীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে চিকিৎসকের ওপর হামলার ঘটনাকে ‘অগ্রহণযোগ্য’ আখ্যা দিয়ে ড্যাব সভাপতি বলেন, চিকিৎসাসেবা প্রদানকারী কোনো ব্যক্তির ওপর হামলা শুধু একজন চিকিৎসকের বিরুদ্ধে নয়, পুরো স্বাস্থ্যব্যবস্থার ওপর আঘাত। দ্রুত বিচার চায় চিকিৎসকরা ঘটনার পর রাষ্ট্রীয় আইন অনুযায়ী মামলা দায়ের করা হয়েছে উল্লেখ করে ডা. কবিরুজ্জামান বলেন, এখন তদন্ত ও আইন প্রয়োগের দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর। তার ভাষ্য, “এ ধরনের ঘটনায় আসামি গ্রেপ্তার এবং চার্জশিট দাখিলে এক সপ্তাহের বেশি সময় নেওয়া কাম্য নয়। আমরা দেখতে চাই আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলো তাদের দায়িত্ব পালনে কোনো শৈথিল্য দেখায় কি না।” চিকিৎসাসেবা বন্ধের সতর্কবার্তা ড্যাব নেতারা বলেছেন, তাদের আইন প্রয়োগের ক্ষমতা না থাকলেও চিকিৎসাসেবা দেওয়া বা না দেওয়ার বিষয়ে সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার রয়েছে। ডা. কবিরুজ্জামান প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, হামলার বিচার নিশ্চিত না হলে চিকিৎসক সমাজ কঠোর অবস্থানে যেতে বাধ্য হতে পারে। তিনি সতর্ক করে বলেন, অনির্দিষ্টকালের জন্য চিকিৎসাসেবা সীমিত বা বন্ধ করার মতো পরিস্থিতি তৈরি হোক, তা তারা চান না; তবে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার দায়িত্ব প্রশাসনের। কেন গুরুত্বপূর্ণ এই ঘটনা? স্বাস্থ্যখাতে কর্মরত চিকিৎসকদের নিরাপত্তা প্রশ্নে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বারবার উদ্বেগ দেখা গেছে। রোগীর মৃত্যু বা চিকিৎসা জটিলতাকে কেন্দ্র করে হাসপাতাল ও চিকিৎসকদের ওপর হামলার একাধিক ঘটনা চিকিৎসক সংগঠনগুলোকে নিরাপত্তা ইস্যুতে সোচ্চার করেছে। কেএমসি হাসপাতালের ঘটনাও সেই বিতর্ককে নতুন করে সামনে এনেছে। একদিকে রোগীর স্বজনদের ক্ষোভ, অন্যদিকে চিকিৎসকদের নিরাপত্তা—এই দুই বাস্তবতার মধ্যে ভারসাম্য কীভাবে রক্ষা করা হবে, সেটিই এখন স্বাস্থ্যখাত ও প্রশাসনের জন্য বড় প্রশ্ন হয়ে উঠেছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক জুন ১২, ২০২৬ 0
বরিশালের কেএমসি হাসপাতালে চিকিৎসকের ওপর হামলা: পরিদর্শনে ড্যাব, দোষীদের গ্রেপ্তারের দাবি

 বরিশাল অফিস :   বরিশালের বেসরকারি কেএমসি হাসপাতালে এক রোগীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে সংঘটিত হামলার ঘটনাকে চিকিৎসকদের নিরাপত্তার জন্য ‘গুরুতর হুমকি’ হিসেবে দেখছে ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ড্যাব)। সংগঠনটির নেতারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে হামলার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। বৃহস্পতিবার (১১ জুন) দুপুর আড়াইটার দিকে ড্যাবের শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ (শেবাচিম) শাখা ও বরিশাল জেলা শাখার নেতারা কেএমসি হাসপাতাল পরিদর্শন করেন। এ সময় তারা হামলায় আহত দায়িত্বরত  চিকিৎসকের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে তার শারীরিক অবস্থার খোঁজখবর নেন এবং পরিবারের প্রতি সহমর্মিতা জানান। কী ঘটেছিল? ড্যাব নেতাদের দাবি, হাসপাতালের এক মুমূর্ষু রোগীর মৃত্যুর পর পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। একপর্যায়ে কতিপয় দুর্বৃত্ত হাসপাতালের ভেতরে হামলা চালায় এবং কর্তব্যরত এক চিকিৎসকের ওপর প্রাণনাশের চেষ্টা করে। এ ঘটনায় হাসপাতালের নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং চিকিৎসকদের কর্মপরিবেশ নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। ড্যাবের দাবি ? পরিদর্শন শেষে ড্যাব নেতারা বলেন, চিকিৎসকদের ওপর হামলার ঘটনা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। রোগী ও স্বজনদের সেবাদানে নিয়োজিত চিকিৎসকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্র ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব। তারা অবিলম্বে হামলাকারীদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তার এবং আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানান। পরিদর্শনকালে উপস্থিত ছিলেন ড্যাব বরিশাল জেলা শাখার সভাপতি ডা. কবিরুজ্জামান, শেবাচিম শাখার সভাপতি ডা. নজরুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক ডা. ইমতিয়াজউদ্দিন সাজিদ, দপ্তর সম্পাদক ডা. ইস্তিয়াক আহমেদ রিফাত, ডা. আবদুল মালেক, ডা. সাইদুল ইসলাম আবীর, ডা. মাজহারুল রেজওয়ান রেজাসহ সংগঠনের অন্যান্য নেতৃবৃন্দ। নিরাপদ কর্মপরিবেশের দাবি ড্যাব নেতারা মনে করেন, চিকিৎসকদের ওপর হামলার পুনরাবৃত্তি রোধে হাসপাতালভিত্তিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা এবং স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানে সহিংসতার বিরুদ্ধে কঠোর নীতি গ্রহণ প্রয়োজন। তারা এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেন। ড্যাবের বিবৃতিতে গভীর ক্ষোভ ও তীব্র নিন্দা এদিকে  এক বিবৃতিতে শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল (শেবাচিম), ড্যাব ও বরিশাল জেলা, ড্যাব গভীর ক্ষোভ ও তীব্র নিন্দা জানা। ড্যাব নেতৃবৃন্দ কেএমসি হাসপাতালে কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. শুভেন্দু হালদার (শিবু)-এর ওপর রোগীর স্বজন কর্তৃক সংঘটিত ন্যাক্কারজনক হামলা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না বলে উল্লেখ করেন। চিকিৎসকের নিরাপত্তা ও মর্যাদার ওপর এ ধরনের বর্বর আক্রমণ সমগ্র চিকিৎসক সমাজের জন্য উদ্বেগজনক এবং স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থার জন্য হুমকিস্বরূপ। নেতৃবৃন্দ অবিলম্বে হামলাকারীদের সনাক্ত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। পাশাপাশি হাসপাতালসমূহে চিকিৎসকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি জোর দাবি জানান। অন্যথায় চিকিৎসক সমাজ কঠোর কর্মসূচি দিতে বাধ্য হবে, যার দায়ভার সম্পূর্ণরূপে প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে বহন করতে হবে। চিকিৎসকদের ওপর হামলার সংস্কৃতি বন্ধে এখনই কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।  

নিজস্ব প্রতিবেদক জুন ১২, ২০২৬ 0
অলিম্পিক সিমেন্ট কারখানা বিক্রির গুঞ্জন: চাকরি হারানোর শঙ্কায় শ্রমিকদের আন্দোলন

বরিশাল অফিস :    অলিম্পিক সিমেন্ট অ্যান্ড ফাইবার্স লিমিটেড কারখানা বিক্রির সম্ভাবনা ঘিরে শ্রমিকদের মধ্যে অনিশ্চয়তা ও উদ্বেগ বাড়ছে। চাকরির নিরাপত্তা এবং দীর্ঘদিনের বকেয়া পাওনা পরিশোধের দাবিতে বুধবার সকাল সাড়ে ১০টায় কারখানার প্রধান ফটকের সামনে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছেন শ্রমিকরা। শ্রমিক নেতাদের অভিযোগ, গণমাধ্যমে কারখানা বিক্রির খবর প্রকাশিত হওয়ার পর তারা বিষয়টি নিয়ে মালিকপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করলে মৌখিকভাবে বিক্রির বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়। তবে কারখানা হস্তান্তরের ক্ষেত্রে বর্তমান শ্রমিকদের চাকরি বহাল থাকবে কি না কিংবা দুই মাসের বকেয়া বেতন, ওভারটাইমসহ অন্যান্য পাওনা কীভাবে পরিশোধ করা হবে—সে বিষয়ে কোনো সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি। এ পরিস্থিতিতে নিজেদের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগে রয়েছেন শত শত শ্রমিক ও কর্মচারী। শ্রমিকদের মূল দাবি কী? সমাবেশে বক্তারা বলেন, কারখানা বিক্রি হলে শ্রমিকদের চাকরি অক্ষুণ্ণ রেখে নতুন মালিকের কাছে প্রতিষ্ঠান হস্তান্তর করতে হবে। একই সঙ্গে বকেয়া বেতন, ওভারটাইম এবং অন্যান্য আর্থিক পাওনা দ্রুত পরিশোধের নিশ্চয়তা দিতে হবে।   আরও পড়ুন:   এ্যাংকর সিমেন্ট কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে অর্থপাচার, বিদেশে সম্পদের পাহাড় গড়ার অভিযোগ এ্যাংকর সিমেন্টে ৪০ কোটি টাকার ভ্যাট ফাঁকির অভিযোগ : বন্ধ হতে যাচ্ছে এ্যাংকর সিমেন্ট ফ্যাক্টরী বরিশালে এ্যাংকর সিমেন্ট ফ্যাক্টরী বন্ধ হতে যাচ্ছে : বাড়ছে পাওনাদারদের ভিড়,গা ঢাকা দিয়েছে  এ্যাংকর সিমেন্টের বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন, আর্থিক সংকট,উৎপাদন বন্ধ      তাদের দাবি, মালিকপক্ষের নীরবতা শ্রমিকদের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করছে। দীর্ঘদিন ধরে প্রতিষ্ঠানটিতে কর্মরত শ্রমিকদের জীবিকা ও পরিবার নির্ভর করছে এই চাকরির ওপর। ফলে চাকরি হারানোর ঝুঁকি তৈরি হলে তা সামাজিক ও অর্থনৈতিক সংকট ডেকে আনতে পারে। সমাবেশে কারা ছিলেন? অলিম্পিক সিমেন্ট অ্যান্ড ফাইবার্স লিমিটেড শ্রমিক-কর্মচারী ইউনিয়নের (রেজি নং বরিশাল-৫৪) সভাপতি সেলিম সর্দারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সমাবেশে সংহতি প্রকাশ করে বক্তব্য দেন বাসদ বরিশাল জেলা শাখার সমন্বয়ক ডা. মনীষা চক্রবর্তী, বাসদ নেতা শহিদুল শেখ, সমাজতান্ত্রিক শ্রমিক ফ্রন্টের জেলা দপ্তর সম্পাদক শহিদুল হাওলাদারসহ বিভিন্ন শ্রমিক নেতা। এছাড়া ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক পাভেল হাওলাদার, সহ-সভাপতি আবু বকর সিদ্দিক লিটন, হান্নান হাওলাদার, সাংগঠনিক সম্পাদক সোহানুর রহমান শাহীন এবং যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শাকিল হাওলাদার বক্তব্য রাখেন। সামনে আরও কর্মসূচির ঘোষণা শ্রমিক নেতারা জানান, দাবি আদায়ে প্রয়োজন হলে আরও বৃহত্তর আন্দোলনে যাওয়ার প্রস্তুতি রয়েছে। এর অংশ হিসেবে আগামী ১৯ জুন বরিশালের অশ্বিনী কুমার হল চত্বরে সমাজতান্ত্রিক শ্রমিক ফ্রন্টের উদ্যোগে একটি বিক্ষোভ কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। সমাবেশ থেকে বরিশালের শ্রমিক, পেশাজীবী ও সাধারণ জনগণকে ওই কর্মসূচিতে সংহতি জানানোর আহ্বান জানানো হয়। প্রশ্নের মুখে শ্রমিক অধিকার শ্রম বিশেষজ্ঞদের মতে, কোনো শিল্পপ্রতিষ্ঠান মালিকানা পরিবর্তনের প্রক্রিয়ায় গেলে শ্রমিকদের চাকরি, বকেয়া মজুরি এবং আইনগত অধিকার নিশ্চিত করা একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। শ্রমিকদের অভিযোগ অনুযায়ী, যদি মালিকপক্ষ এ বিষয়ে স্বচ্ছ অবস্থান না নেয়, তাহলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে। অলিম্পিক সিমেন্ট কারখানা বিক্রির সম্ভাবনা ঘিরে এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন—শ্রমিকদের ভবিষ্যৎ কী হবে, আর তাদের পাওনা ও চাকরির নিশ্চয়তা কে দেবে?

নিজস্ব প্রতিবেদক জুন ১১, ২০২৬ 0
আহসান হাবিব লিংকন
প্রেমের সম্পর্ক থেকে বিয়ে, এরপর কোটি টাকার সম্পত্তি আত্মসাত: বরিশালে লিংকন,পান্নার বিরুদ্ধে অভিযোগ

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : বরিশাল নগরীর গণপাড়া এলাকায় রাজনৈতিক পরিচয়, পারিবারিক প্রভাব এবং সম্পত্তি নিয়ে বিরোধকে কেন্দ্র করে আহসান হাবিব লিংকন, রেজাউল ইসলাম পান্না ও তার পরিবারের বিরুদ্ধে একাধিক গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগগুলোর মধ্যে রয়েছে প্রেমের সম্পর্কের মাধ্যমে বিয়ে করে সম্পত্তি আত্মসাৎ, জমি দখল, আদালতে মামলা , প্রভাব বিস্তার, ভুক্তভোগীকে হয়রানি এবং ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের সম্পদ নিয়ে বিতর্ক। অভিযোগগুলোর কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ফরিদা মাফরোজা (রিক্তা) নামের এক নারী। তার দাবি, দীর্ঘ প্রেমের সম্পর্কের পর বিয়ের মাধ্যমে তাকে একটি পরিকল্পিত সম্পদ দখল প্রক্রিয়ার মধ্যে ফেলা হয়। পরবর্তীতে তার সম্পত্তি নিজের নামে লিখে নেওয়ার পর তাকে তালাক দেওয়া হয়। বর্তমানে সম্পত্তি ফিরে পাওয়ার জন্য আদালতে লড়াই চালিয়ে গেলেও নানা ধরনের চাপ ও হয়রানির মুখোমুখি হতে হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন তিনি। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে যে পরিবার অভিযোগের তীর মূলত বরিশাল মহানগরের ৩০ নম্বর ওয়ার্ডের গণপাড়া এলাকার বাসিন্দা রেজাউল ইসলাম পান্না ও তার পরিবারের দিকে। স্থানীয় সূত্রগুলো বলছে, রেজাউল ইসলাম পান্না নিজেকে বিএনপি ও ছাত্রদলের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত হিসেবে পরিচয় দিলেও তার রাজনৈতিক অবস্থান এবং প্রভাব নিয়ে এলাকায় নানা আলোচনা রয়েছে। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি একইসঙ্গে বরিশাল মহানগর ছাত্রলীগের ৩০ নম্বর ওয়ার্ড সভাপতি মশিউরের আপন ভাই হিসেবেও পরিচিত। স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দার দাবি, অতীতের রাজনৈতিক যোগাযোগ এবং বিভিন্ন মহলের সঙ্গে সম্পর্ককে কাজে লাগিয়ে ও বর্তমানে রেজাউল ইসলাম পান্না বরিশাল নগরীর ৩০ নং ওয়ার্ড বিএনপির সাবেক আহবায়ক মিশাদ বেগের নাম ভাঙ্গিয়ে  প্রভাব বিস্তার করছেন বলে স্থানীয় লোকজন জানিয়েছে। প্রেম থেকে বিয়ে, তারপর সম্পত্তি বিরোধ ভুক্তভোগী ফরিদা মাফরোজার বর্ণনা অনুযায়ী, ২০০৬ সালে ঢাকায় চাকরির সুবাদে আহসান হাবিব লিংকনের সঙ্গে তার পরিচয় হয়। পরিচয় ধীরে ধীরে প্রেমের সম্পর্কে রূপ নেয় এবং দীর্ঘ ছয় বছরের সম্পর্কের পর ২০১২ সালের ৭ সেপ্টেম্বর দুই লাখ টাকা কাবিনে তাদের বিয়ে সম্পন্ন হয়। রিক্তার অভিযোগ, বিয়ের পর থেকেই তার ওপর আর্থিক নির্ভরতা তৈরির চেষ্টা শুরু হয়। ধীরে ধীরে তাকে বিভিন্ন বিনিয়োগ ও জমি ক্রয়ের বিষয়ে উৎসাহিত করা হয়। পরিবারের সদস্যদের পরামর্শে বরিশালের গণপাড়া ও মংগলহাটা এলাকায় কয়েক দফায় প্রায় ৫০ লাখ টাকার জমি কেনা হয়। তার দাবি, পরবর্তীতে পরিস্থিতি এমনভাবে তৈরি করা হয় যাতে জমির মালিকানা তার হাতছাড়া হয়ে যায়। ‘হেবা দলিলের’ মাধ্যমে সম্পত্তি হস্তান্তরের অভিযোগ ফরিদা মাফরোজা অভিযোগ করেন, একপর্যায়ে তাকে বিভিন্ন ধরনের ওষুধ প্রয়োগ করা হয়, যার ফলে তিনি মানসিকভাবে অসুস্থ বা ভারসাম্যহীন অবস্থায় পড়েন। তার ভাষ্যমতে, সেই সুযোগে তার কাছ থেকে হেবা দলিলের মাধ্যমে জমিগুলো অন্যের নামে লিখে নেওয়া হয়। ভুক্তভোগীর দাবি, দলিল সম্পাদনের সময় তিনি স্বাভাবিক মানসিক অবস্থায় ছিলেন না এবং বিষয়টি সম্পর্কে পূর্ণাঙ্গ ধারণাও তার ছিল না। তবে এই অভিযোগ আদালতে বিষয়টি বিচারাধীন থাকায় অভিযোগগুলোর সত্যতা নির্ধারণের দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট বিচারিক কর্তৃপক্ষের। সম্পত্তি হস্তান্তরের পর তালাক ভুক্তভোগীর অভিযোগ অনুযায়ী, সম্পত্তির মালিকানা পরিবর্তনের পর পারিবারিক সম্পর্কে টানাপোড়েন শুরু হয়।পরবর্তীতে তাকে বিভিন্ন অপবাদ দিয়ে তালাক দেওয়া হয় বলে দাবি করেন তিনি।ফরিদা মাফরোজা বলেন, “যে মানুষকে বিশ্বাস করে জীবন গড়তে চেয়েছিলাম, শেষ পর্যন্ত সেই বিশ্বাসই আমার সবচেয়ে বড় ক্ষতির কারণ হয়েছে।”তার অভিযোগ, তালাকের পর সম্পত্তি ফিরে পাওয়ার জন্য আইনি লড়াই শুরু করলে তাকে নানাভাবে বাধার মুখে পড়তে হয়। আদালতের দ্বারস্থ ভুক্তভোগী নিজের দাবি প্রতিষ্ঠার জন্য ফরিদা মাফরোজা বরিশাল সদর আদালতে একাধিক মামলা দায়ের করেছেন। ভুক্তভোগী পক্ষের সরবরাহ করা নথি অনুযায়ী, ০৫/২০২১ এবং ৬৪৯/২১ নম্বর মামলায় সম্পত্তি সংক্রান্ত বিরোধ ও সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো বিচারাধীন রয়েছে।তিনি অভিযোগ করেন, মামলা দায়েরের পর তাকে বিভিন্নভাবে হয়রানি করা হয়েছে এবং মিথ্যা মামলায় জড়ানোর চেষ্টা করা হয়েছে।তার আরও দাবি, এসব কার্যক্রমের পেছনে রেজাউল ইসলাম পান্না প্রত্যক্ষভাবে জড়িত। আমমোক্তারনামা ও মামলার নিয়ন্ত্রণ নিয়ে প্রশ্ন ভুক্তভোগী পক্ষের অভিযোগ অনুযায়ী, রেজাউল ইসলাম পান্না তার ভাই আহসান হাবিব লিংকনের কাছ থেকে আমমোক্তারনামা গ্রহণ করে সম্পত্তি ও আদালত-সংক্রান্ত বিষয়গুলো পরিচালনা করছেন। তাদের দাবি, মামলার কার্যক্রমে পান্নার সক্রিয় ভূমিকা রয়েছে এবং সম্পত্তি সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণেও তিনি প্রভাব বিস্তার করছেন।এ বিষয়ে আমমোক্তারনামা, মামলা সংক্রান্ত নথি এবং সাব-রেজিস্ট্রার কার্যালয়ের একটি চিঠির কপিও ভুক্তভোগী পক্ষ সরবরাহ করেছে বলে জানা গেছে। মসজিদের জমি নিয়েও নতুন অভিযোগ ব্যক্তিগত সম্পত্তি বিরোধের বাইরেও রেজাউল ইসলাম পান্নার বিরুদ্ধে ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের সম্পদ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, তার এক নিঃসন্তান চাচার দেওয়া পূর্ব চহঠা জামে মসজিদের প্রায় ১৬ শতাংশ জমি, যার বর্তমান বাজারমূল্য আনুমানিক ৫০ থেকে ৬০ লাখ টাকা, কৌশলে নিজের নামে নেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা দাবি করেছেন, বিষয়টি নিয়ে এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে আলোচনা রয়েছে। মসজিদ কমিটি ও আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ স্থানীয় সূত্রগুলোর আরও দাবি, রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রভাব ব্যবহার করে গণপাড়া দেওয়ান বাড়ি জামে মসজিদ কমিটির গুরুত্বপূর্ণ পদে আসীন হয়েছেন রেজাউল ইসলাম পান্না।একইসঙ্গে মসজিদ পরিচালনা ও আর্থিক ব্যবস্থাপনায় অনিয়মের অভিযোগও রয়েছে বলে জানিয়েছেন কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দা।   স্থানীয়দের দাবি: প্রয়োজন গভীর তদন্ত গণপাড়া এলাকার কয়েকজন বাসিন্দা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, সম্পত্তি বিরোধ, রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার এবং স্থানীয় প্রভাব বিস্তারকে কেন্দ্র করে রেজাউল ইসলাম পান্না ও তার পরিবারের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরেই নানা অভিযোগ রয়েছে। তাদের মতে, সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থা বা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী নিরপেক্ষ অনুসন্ধান চালালে আরও তথ্য সামনে আসতে পারে। 

নিজস্ব প্রতিবেদক জুন ৫, ২০২৬ 0
বরিশালে বাসের ধাক্কায় মোটরসাইকেলে থাকা একই পরিবারের তিনজন নিহত, মহাসড়কে বিক্ষোভ

বরিশাল অফিস :    বরিশালের গৌরনদীতে ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কে যাত্রীবাহী বাসের ধাক্কায় মোটরসাইকেলে থাকা একই পরিবারের তিনজন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে রয়েছেন স্বামী-স্ত্রী ও তাদের কন্যাসন্তান। দুর্ঘটনার পর স্থানীয়দের বিক্ষোভ ও বাস ভাঙচুরের ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। মঙ্গলবার (২৬ মে) দুপুরে গৌরনদী উপজেলার বাটাজোর বাসস্ট্যান্ড এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলেন উজিরপুর পৌরসভার বাসিন্দা ফিরোজ মাহমুদ, তার স্ত্রী মনিরা বেগম এবং তাদের মেয়ে জান্নাত আক্তার। প্রত্যক্ষদর্শী ও উদ্ধারকর্মীদের তথ্য অনুযায়ী, স্ত্রী ও মেয়েকে নিয়ে মোটরসাইকেলে উজিরপুরের দিকে যাচ্ছিলেন ফিরোজ মাহমুদ। বাটাজোর এলাকায় যানজটের কারণে মোটরসাইকেল থামিয়ে দাঁড়িয়ে থাকাকালে পেছন দিক থেকে দ্রুতগতির ‘তাজ পরিবহন’-এর একটি যাত্রীবাহী বাস তাদের ধাক্কা দেয়। ধাক্কায় মোটরসাইকেলটি দুমড়ে-মুচড়ে যায় এবং তিনজন গুরুতর আহত হন। স্থানীয়রা দ্রুত তাদের উদ্ধার করে গৌরনদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক সবাইকে মৃত ঘোষণা করেন। উদ্ধার অভিযানে থাকা গৌরনদী ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার মিজানুর রহমান বলেন, দুর্ঘটনার সময় মোটরসাইকেলটি স্থির অবস্থায় ছিল। পেছন থেকে বাসের ধাক্কা এতটাই শক্তিশালী ছিল যে ঘটনাস্থলেই পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ নেয়। দুর্ঘটনার পরপরই স্থানীয় জনতা ক্ষোভে ঘাতক বাসটিতে ভাঙচুর চালায়। এতে কিছু সময়ের জন্য ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায় এবং দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। গৌরনদী হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মহসীন বলেন, দুর্ঘটনায় জড়িত বাসটি জব্দ করা হয়েছে। তবে চালক ও হেলপার ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে গেছে। তাদের শনাক্ত ও আটকের চেষ্টা চলছে। সংশ্লিষ্টদের ভাষ্য অনুযায়ী, ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের বাটাজোর অংশে প্রায়ই যানজট ও ঝুঁকিপূর্ণ ওভারটেকিংয়ের ঘটনা ঘটে। স্থানীয়দের অভিযোগ, মহাসড়কে পরিবহন নিয়ন্ত্রণ ও গতিনিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা দুর্বল হওয়ায় প্রায়ই প্রাণঘাতী দুর্ঘটনা ঘটছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানিয়েছে, এ ঘটনায় আইনানুগ প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ২৭, ২০২৬ 0
কাজী আফরিদা তাসনিম ও আবু জাফর সালেহ
সুপ্রিম কোর্টে আইনজীবীর স্বীকৃতি পেলেন কাজী আফরিদা তাসনিম ও আবু জাফর সালেহ

মামুনুর রশীদ নোমানী, বরিশাল : বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগে আইনজীবী হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুষদের দুই সাবেক শিক্ষার্থী। হাইকোর্ট পারমিশন পরীক্ষা-২০২৬-এ উত্তীর্ণ হওয়ার মাধ্যমে তারা দেশের সর্বোচ্চ আদালতে মামলা পরিচালনার অনুমতি পেয়েছেন। সফল দুই আইনজীবী হলেন এ্যাডভোকেট কাজী আফরিদা তাসনিম এবং এ্যাডভোকেট আবু জাফর সালেহ। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সুপ্রিম কোর্টে অন্তর্ভুক্ত হওয়ার আগে এ্যাডভোকেট কাজী আফরিদা তাসনিম বরিশাল জেলা ও দায়রা জজ আদালতে এবং এ্যাডভোকেট আবু জাফর সালেহ ঢাকা জেলা ও দায়রা জজ আদালতে আইন পেশায় সক্রিয়ভাবে যুক্ত ছিলেন। আইন পেশার প্রতিযোগিতাপূর্ণ এই পর্যায়ে উত্তীর্ণ হওয়াকে তারা দেখছেন দীর্ঘ প্রস্তুতি, পেশাগত নিষ্ঠা ও ব্যক্তিগত সংগ্রামের ফল হিসেবে। সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী হিসেবে অন্তর্ভুক্তির অনুভূতি জানাতে গিয়ে বরিশাল আইনজীবী সমিতির সদস্য এ্যাডভোকেট কাজী আফরিদা তাসনিম বলেন, “আমি মহান আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞ। পরিবারের সদস্য, মেন্টর ও সহকর্মীদের সমর্থন ছাড়া এতদূর আসা সম্ভব হতো না। আমি শুধু নিজের ক্যারিয়ার গড়তে চাই না, সততা, ন্যায়বোধ ও পেশাগত দায়িত্বশীলতা নিয়ে মানুষের জন্য কাজ করতে চাই।” তিনি বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ প্রফেসর শাহ সাজেদা এবং দৈনিক শাহনামার সম্পাদক কাজী আবুল কালাম আজাদের একমাত্র কন্যা। অন্যদিকে, ঢাকা আইনজীবী সমিতির সদস্য এ্যাডভোকেট আবু জাফর সালেহ বলেন, “ঢাকায় প্র্যাকটিস জীবনের পর বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগে অ্যাডভোকেট হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হতে পেরে আমি মহান আল্লাহর প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। এই অর্জন আমার জন্য অত্যন্ত আনন্দ ও গৌরবের।” তিনি জানান, একই সময়ে জুডিশিয়ারির প্রিলিমিনারি পরীক্ষার প্রস্তুতি এবং হাইকোর্ট পারমিশনের লিখিত পরীক্ষায় অংশ নেওয়া ছিল বড় চ্যালেঞ্জ। তার ভাষায়, “জুডিশিয়ারির প্রিলিমিনারি পরীক্ষার মাত্র সাত দিন আগে হাইকোর্ট পারমিশনের লিখিত পরীক্ষায় অংশ নিতে হয়েছিল। একই সময়ে দুটি গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষার প্রস্তুতি নেওয়া সহজ ছিল না। সিনিয়র আইনজীবীদের দিকনির্দেশনা ও সহযোগিতা আমাকে এগিয়ে যেতে সহায়তা করেছে।” এ্যাডভোকেট আবু জাফর সালেহ বরগুনা সদরের সেলিনা বেগম ও মরহুম মো. জাকির হোসাইনের একমাত্র পুত্র। আইনজীবী মহলের কয়েকজন সদস্য বলছেন, দেশের উচ্চ আদালতে নতুন প্রজন্মের আইনজীবীদের অন্তর্ভুক্তি শুধু ব্যক্তিগত সাফল্য নয়, বরং আঞ্চলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলো থেকে উঠে আসা শিক্ষার্থীদের সক্ষমতারও প্রতিফলন। বিশেষ করে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুষদের শিক্ষার্থীদের ধারাবাহিক অগ্রগতি দেশের আইন অঙ্গনে নতুন সম্ভাবনার ইঙ্গিত দিচ্ছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ২৬, ২০২৬ 0
বরিশালে আদালত ভবনের ছাদ ধস, অল্পের জন্য প্রাণে বাঁচলেন বিচারপ্রার্থী ও বিচারক

মামুনুর রশীদ নোমানী,বরিশাল : বরিশালের ঐতিহাসিক সিএমএম আদালত ভবনের দ্বিতীয় তলায় বিচার চলাকালেই হঠাৎ ছাদের একটি বড় অংশ ধসে পড়েছে। এতে অল্পের জন্য প্রাণে বেঁচে যান বিচারক, আইনজীবী, বিচারপ্রার্থী, পুলিশ সদস্য এবং আদালতের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। শনিবার (২৩ মে) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে এ ঘটনা ঘটে বরিশালের বহুল পরিচিত ‘লাল বিল্ডিং’ আদালত ভবনে। প্রায় ১৩০ বছরের পুরনো এই ভবনটি দীর্ঘদিন ধরেই ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে পরিচিত হলেও সেখানে এখনো বিচারিক কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। ঘটনার সময় দ্বিতীয় তলায় বাকেরগঞ্জ সিনিয়র সহকারী জজ আদালতের এজলাসে বিচার কার্যক্রম চলছিল। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, হঠাৎ বিকট শব্দে ছাদের পলেস্তোরার বড় অংশ ভেঙে নিচে পড়ে যায়। মুহূর্তেই আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে আদালত কক্ষে। বাকেরগঞ্জ সিনিয়র সহকারী জজ আদালতের কর্মরত  মোহাম্মদ রাসেল বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, ধসে পড়া অংশে আদালতের সিলিং ও আসবাবপত্র ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে বড় ধরনের প্রাণহানি এড়ানো গেছে ‘সৌভাগ্যবশত’। ঘটনার পর আদালত ভবনটি পরিদর্শনে যান বিচারক ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।   বরিশালে আদালত কক্ষে বিচার চলাকালে ছাদ ধস, অল্পের জন্য রক্ষা ১৩০ বছরের পুরনো আদালত ভবন এখন ‘মৃত্যুফাঁদ’? বিচার চলছিল, হঠাৎ ধসে পড়ল আদালতের ছাদ বরিশাল আদালত ভবনে বড় দুর্ঘটনা এড়ানো গেল অল্পের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে চলছে বিচার, আতঙ্কে বিচারপ্রার্থী ও আইনজীবীরা   ‘ডেমেজ ভবনে’ ঝুঁকি নিয়ে বিচারকার্য ১৮৯৬ সালে নির্মিত বরিশালের এই আদালত ভবনটি দীর্ঘদিন ধরে জরাজীর্ণ অবস্থায় রয়েছে। ভবনের বিভিন্ন দেয়াল, পিলার ও বিমে বড় ধরনের ফাটল দেখা গেছে। একাধিক স্থানে খসে পড়ছে ছাদের পলেস্তোরা। স্থানীয় আইনজীবীরা বলছেন, বহু বছর ধরেই ভবনটি ব্যবহার অনুপযোগী হলেও আদালতের এজলাস সংকটের কারণে ঝুঁকি নিয়েই বিচারিক কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়া হচ্ছে। বর্তমানে প্রায় ৮টি আদালতের এজলাস কক্ষ এবং আরও ৮টি পেশকার রুম এই ভবনে পরিচালিত হচ্ছে। এর আগেও একাধিকবার ছাদের অংশ ও দেয়ালের পলেস্তোরা ভেঙে পড়ে বিচারপ্রার্থী ও সংশ্লিষ্টদের আহত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে বলে জানা গেছে। বরিশাল বারের আইনজীবী অ্যাডভোকেট শাহে আলম বলেন, “দীর্ঘদিন ধরে ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে বিচার কার্যক্রম চলছে। আজকের ঘটনায় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারত। জরুরি ভিত্তিতে নতুন আদালত ভবন নির্মাণ প্রয়োজন।”   নিরাপত্তাহীনতায় বিচারপ্রার্থী থেকে বিচারক আদালত সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের অভিযোগ, ভবনটির ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থা নিয়ে বহুবার সংশ্লিষ্ট দপ্তরে জানানো হলেও কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। বিচারপ্রার্থী, সাক্ষী, পুলিশ সদস্য, আদালত কর্মচারী ও আইনজীবীদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে নিরাপত্তাহীনতা কাজ করছে। আদালতের অনেক কক্ষেই ছাদের পলেস্তোরা নিয়মিত খসে পড়ে বলে অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয়দের প্রশ্ন—প্রতিদিন শত শত মানুষ যাতায়াত করা এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ সরকারি ভবন কেন এখনো সংস্কার বা পুনর্নির্মাণ করা হয়নি?   নতুন ভবনের আশ্বাস বরিশাল গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী ফয়সাল আলম জানিয়েছেন, নতুন আদালত ভবন নির্মাণের বিষয়ে দ্রুত ডিজিটাল সার্ভে করা হবে। তিনি বলেন,  বিচারক ও কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করে জায়গা নির্ধারণ করা হলে নতুন ভবন নির্মাণের কার্যক্রম শুরু হবে। একই সঙ্গে ক্ষতিগ্রস্ত অংশ মেরামতের জন্য গণপূর্ত বিভাগের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করবেন বলেও জানান তিনি। তবে স্থানীয় আইনজীবী ও আদালত সংশ্লিষ্টদের প্রশ্ন—শুধু মেরামত নয়, পুরো ভবনটিই এখন ‘মৃত্যুঝুঁকিতে’; এমন অবস্থায় স্থায়ী সমাধান কত দ্রুত বাস্তবায়ন হবে, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন।    

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ২৩, ২০২৬ 0
Popular post
বাংলাদেশে ঐতিহাসিক নির্বাচন: বিএনপি এগিয়ে, জামায়াতের উত্থান ও তরুণ ভোটারদের প্রভাব

২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশে আজ এক ঐতিহাসিক ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ২০০৮ সালের পর এই প্রথম একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হতে যাচ্ছে যেখানে দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগ রাজনৈতিক মানচিত্র থেকে কার্যত অনুপস্থিত। বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক জরিপ বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০০ আসনের মধ্যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) কার্যকর সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে যাচ্ছে। তবে ভোটের ব্যবধান এবং কিছু সমীকরণ নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। নির্বাচনের সবচেয়ে বড় নিয়ামক হয়ে দাঁড়িয়েছে আওয়ামী লীগের বিশাল ভোটব্যাংক। দলটির নিয়মিত প্রায় ৪ কোটি ভোটার এখন নতুন রাজনৈতিক আশ্রয় খুঁজছেন। সিআরএফ বা বিইপিওএস জরিপ বলছে, এই ভোটারদের প্রায় অর্ধেক বিএনপির দিকে ঝুঁকেছে, যা দলটিকে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতার পথে এগিয়ে দিচ্ছে। অন্যদিকে, প্রায় ৩০ শতাংশ আওয়ামী ভোটার জামায়াতে ইসলামীকে বেছে নিতে পারেন বলে আভাস পাওয়া যাচ্ছে। এছাড়া বাংলাদেশের বিদ্যমান নির্বাচনী ব্যবস্থার কারণে দেশজুড়ে সুষম জনসমর্থন থাকা বিএনপি আসন জয়ের ক্ষেত্রে জামায়াতের তুলনায় সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। তবে বিএনপির এই সম্ভাব্য জয়ের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও বিদ্রোহী প্রার্থীরা। প্রায় ৭৯টি নির্বাচনী এলাকায় দলের মনোনয়ন না পাওয়া ৯২ জন প্রভাবশালী নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, যা বিএনপির ১৫ থেকে ৩০টি আসন কমিয়ে দিতে পারে। অন্যদিকে, তরুণ ভোটার বা ‘জেন-জি’ প্রজন্মের বিশাল সমর্থন জামায়াতে ইসলামীর শক্তির উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেশের ৪৪ শতাংশ ভোটারই তরুণ, যাদের বড় একটি অংশ প্রথমবার ভোট দিচ্ছেন। এই তরুণরা যদি দলবেঁধে কেন্দ্রে উপস্থিত হন, তবে নির্বাচনী ফলে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। সবশেষে, প্রায় ১৭ থেকে ৩৫ শতাংশ দোদুল্যমান ভোটার এবং তাদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করবে আগামীর সরকার কতটা শক্তিশালী হবে। দ্য নিউইয়র্ক এডিটোরিয়ালের মূল পূর্বাভাস, তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি প্রায় ১৮৫টি আসনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করতে পারে এবং জামায়াতে ইসলামী ৮০টির মতো আসন পেয়ে প্রধান বিরোধী দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারে। তবে বিদ্রোহী প্রার্থীদের প্রভাব এবং তরুণ ভোটারদের উপস্থিতির ওপর ভিত্তি করে আসন সংখ্যায় বড় ধরনের হেরফের হওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

ফারুকীর সম্পদ কমেছে, তিশার বেড়েছে দ্বিগুণেরও বেশি: সম্পদ বিবরণী ঘিরে আলোচনা

অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের সম্পদ বিবরণী প্রকাশের পর সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী ও তার স্ত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদের হিসাব নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। এক বছরের ব্যবধানে স্বামী ফারুকীর সম্পদ কমলেও স্ত্রী তিশার সম্পদ বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে প্রকাশিত তথ্যে উঠে এসেছে এই চিত্র। প্রকাশিত খতিয়ান অনুযায়ী, জনপ্রিয় অভিনেত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদ এক বছরে অভাবনীয় হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তিশার মোট সম্পদের পরিমাণ ছিল ১ কোটি ৪০ লাখ ৮১ হাজার ৮৬০ টাকা। ঠিক এক বছর পর, ২০২৫ সালের ৩০ জুন সেই সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ৯৯ লাখ ৮৯ হাজার ৫০১ টাকায়। অর্থাৎ মাত্র এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ বেড়েছে ১ কোটি ৫৯ লাখ ৭ হাজার ৬৪১ টাকা, যা আগের বছরের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি। অন্যদিকে সংস্কৃতি উপদেষ্টা ও নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর ক্ষেত্রে দেখা গেছে উল্টো চিত্র। এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ কমেছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তার মোট সম্পদ ছিল ২ কোটি ২৬ লাখ ৯২ হাজার ২৬ টাকা। ২০২৫ সালের ৩০ জুন তা কমে দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ১৫ লাখ ১৮ হাজার ২৬ টাকায়। হিসাব অনুযায়ী, এক বছরে তার সম্পদ কমেছে ১১ লাখ ৭৪ হাজার টাকা। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে গত মঙ্গলবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ প্রধান উপদেষ্টা, উপদেষ্টা ও সমমর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের পাশাপাশি তাদের স্ত্রী বা স্বামীর সম্পদ বিবরণী প্রকাশ করে। একই সময়ে স্বামী-স্ত্রীর সম্পদে এমন ভিন্নমুখী পরিবর্তন স্বাভাবিকভাবেই সাধারণ মানুষের কৌতূহলের জন্ম দিয়েছে। শোবিজ অঙ্গনের জনপ্রিয় দম্পতি হওয়ায় তাদের এই আয়-ব্যয়ের হিসাব এখন টক অব দ্য কান্ট্রি।

গাজায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা ট্রাম্প প্রশাসনে

ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। ৩৫০ একরের ঘাঁটিটিতে সামরিক বাহিনীর পাঁচ হাজার সদস্য থাকতে পারবে। গাজার ‘বোর্ড অব পিস’র নথি পর্যালোচনা করে এ তথ্য জানিয়েছে দ্য গার্ডিয়ান। প্রতিবেদনে ব্রিটিশ সংবাদ মাধ্যমটি জানিয়েছে, বোর্ড অব পিসে গাজাকে নিরাপদ করার জন্য ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যাবিলাইজেশন ফোর্স (আইএসএফ) নামে একটি আন্তর্জাতিক বাহিনী মোতায়েনের কথা বলা হয়েছে। যে স্থানটি ঘাঁটি করার জন্য বিবেচনা করা হচ্ছে সেখানে আইএসএফের সদস্যরা থাকবে। বোর্ড অব পিসের প্রধান হবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আর সংগঠনটির আংশিক নেতৃত্ব দেবেন ট্রাম্পের জামাতা জ্যারার্ড কুশনার।দ্য গার্ডিয়ান বোর্ড অব পিসের নথি পর্যালোচনা করে জানায়, ধাপে ধাপে একটি সামরিক ঘাঁটি নির্মাণ করা হবে। সবকিছু শেষ হলে ঘাঁটিটি ১৫ লাখ ১৭ হাজার ৫৭৫ বর্গমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত হবে। ঘাঁটিটির চারপাশে ট্রেইলার সংযুক্ত ২৬টি সাঁজোয়া নজরদারি টাওয়ার থাকবে। এছাড়া একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, বাংকার ও অস্ত্র রাখার গুদাম থাকবে। পুরো ঘাঁটিটি কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে ঘিরে রাখা হবে। সামরিক ঘাঁটি নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে দক্ষিণ গাজার একটি শুষ্ক সমতলভূমিতে। সেখানে ইসরায়েলি হামলার চিহ্ন রয়েছে। ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে বিভিন্ন ধাতবের ধ্বংসাবশেষ।  ওই এলাকার ভিডিও পর্যালোচনা করেছে দ্য গার্ডিয়ান। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, ঘাঁটি নির্মাণের জন্য টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে। যুদ্ধক্ষেত্রে কাজের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন আন্তর্জাতিক নির্মাণ কোম্পানিগুলোর একটি ছোট দলকে ইতোমধ্যেই এলাকাটি দেখানো হয়েছে। ওই দলটি দরপত্রে অংশ নিতে আগ্রহী।    ইন্দোনেশিয়া সরকার গাজায় আট হাজার সেনা সদস্য পাঠানোর জন্য প্রস্তাব দিয়েছে। বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটন ডিসিতে বোর্ড অব পিসের অনানুষ্ঠানিক বৈঠকে ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্টের অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। এছাড়া দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার আরও তিন নেতার ওই বৈঠকে অংশ নেবেন বলে জানা গেছে। জাতিসংঘের নিরাপত্তা কাউন্সিল গাজার সাময়িক স্থিতিশীলতার জন্য অস্থায়ীভাবে সামরিক বাহিনী মোতায়েনের অনুমোদন দিয়েছে। নিরাপত্তা কাউন্সিলই বোর্ড অব পিসের মূল হোতা। গাজার সীমান্ত ও শান্তি প্রণয়নে কাজ করবে আইএসএফ। এছাড়া বেসামরিকদের সুরক্ষা এবং ফিলিস্তিনি পুলিশ বাহিনীকে প্রশিক্ষণ ও সহায়তা দেবে তারা। যদি গাজায় ফের সংঘর্ষ হয়, ইসরায়েল বোমা হামলা চালায় অথবা হামাস হামলা চালায় সেক্ষেত্রে আইএসএফ কি করবে তা এখনও স্পষ্ট নয়। গাজা পুনর্গঠনে ইসরায়েল হামাসকে নিরস্ত্রীকরণের যে শর্ত দিয়েছে সেটির জন্য আইএসএফ কাজ করবে কিনা তাও স্পষ্ট না। ইতোমধ্যে বোর্ড অব পিসে ২০ এর অধিক দেশ যোগ দিয়েছে। তবে, এখনও অনেক পরাশক্তি এর থেকে দূরে রয়েছে। জাতিসংঘের অনুমোদন নিয়ে প্রতিষ্ঠিত হলেও ধারণা করা হচ্ছে, সংগঠনটির স্থায়ী নেতৃত্ব ও নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে। রুটজার্স বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক আদিল হক বলেন, “বোর্ড অব পিস এক ধরনের আইনি কল্পসত্তা। নামমাত্রভাবে এর নিজস্ব আন্তর্জাতিক আইনগত সত্তা রয়েছে, যা জাতিসংঘ ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে আলাদা। কিন্তু বাস্তবে এটি যুক্তরাষ্ট্রের ইচ্ছামতো ব্যবহারের জন্য একটি ফাঁপা খোলসমাত্র।” বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গাজা পুনর্গঠনে যে অর্থায়ন ও শাসন কাঠামো হচ্ছে তা অস্বচ্ছ। কয়েকজন ঠিকাদার গার্ডিয়ানকে জানান, গাজায় কাজ করার জন্য মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে তাদের প্রায়শ আলোচনা সরকারি ইমেলের বদলে সিগন্যালের মাধ্যমে করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রের তথ্য মতে, ঘাঁটি নির্মাণের সিদ্ধান্তটি বোর্ড অব পিসের। এতে সহায়তা করছে মার্কিন কর্মকর্তারা। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ঘাঁটিতে তৈরি বাংকার নেটওয়ার্কের মতোন কাজ করবে। প্রতিটি বাংকারের ২৪ মিটারের হবে। উচ্চতা থাকবে আড়াই মিটার। এগুলো এমনভাবে করা হবে যেন সেনা সদস্যরা আশ্রয় নিতে পারে। স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসের গাজায় সুড়ঙ্গ নেটওয়ার্ক বা টানেল রয়েছে। সেগুলোর আদলে নেটওয়ার্ক করতে চাওয়া হচ্ছে। পিস অব বোর্ডের নথি পর্যালোচনা করে এমন দাবি করছে গার্ডিয়ান। সংবাদ মাধ্যমটি বলছে,  স্থানটির ভূ-ভৌত জরিপ পরিচালনা করবে ঠিকাদাররা। নথির এক অংশে ‘হিউম্যান রেমিয়েনস প্রোটোকল’র কথা বলা হয়েছে। এর মানে দাঁড়ায়, সন্দেহভাজন মানব অবশিষ্ট বা সাংস্কৃতিক নিদর্শন পাওয়া গেলে অবিলম্বে সেই এলাকায় সব কাজ বন্ধ করতে হবে। চুক্তি কর্মকর্তাকে দিকনির্দেশনার জন্য অবিলম্বে জানাতে হবে। গাজা সিভিল ডিফেন্সের ধারণা, গাজার ধ্বংসস্তূপের নিচে ১০ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনির মরদেহ রয়েছে। ঘাঁটির জন্য যে স্থানটি বিবেচিত করা হচ্ছে সেটির মালিক কে তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে, দক্ষিণ গাজার বেশিরভাগ অংশ  বর্তমানে ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণে। জাতিসংঘের অনুমান, যুদ্ধ চলাকালীন ১৯ লাখ ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত হয়েছে। ফিলিস্তিনের জমিতে সরকারের অনুমতি না নিয়ে সামরিক ঘাঁটি স্থাপনকে দখল হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন ফিলিস্তিনি-কানাডিয়ান আইনজীবী এবং প্রাক্তন শান্তি আলোচক দিয়ানা বুট্টু। তিনি প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়ে বলেন, “কার অনুমতিতে তারা সামরিক ঘাঁটি স্থাপন করবে।” বিষয়টি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা বোর্ড অব পিসের কথা টানেন। ট্রাম্প প্রশাসনের একজন কর্মকর্তা সামরিক ঘাঁটির চুক্তি নিয়ে আলোচনা করতে অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, “যেমনটি প্রেসিডেন্ট বলেছেন, কোনও মার্কিন সেনা স্থলভাগে যাবে না। আমরা লিক হওয়া নথি নিয়ে আলোচনা করবো না।”

সংসার সামলাতে অটোরিকশা নিয়ে রাস্তায় নেমেছেন রোজিনা

বাসস : বাবা একজন তাঁত শ্রমিক। তিন বোন দুই ভাইয়ের মধ্যে সবার বড় রোজিনা। অভাব সংসার, তাই এক এতিম যুবকের সাথে বাবা-মা বিয়ে দেন তাকে। বিয়ের পর জন্ম হয় দুই কন্যা সন্তানের। অটোরিকশা চালিয়ে কোন রকম সংসার চালাচ্ছিলেন স্বামী রফিকুল ইসলাম। কিন্তু সড়ক দুর্ঘটনায় রফিকুলের এক চোখ সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যায়। আরেকটি চোখ আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ধীরে ধীরে ওই চোখের দৃষ্টি শক্তিও কমতে থাকে। ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে অটোরিকশা চালানো। সংসারের উপার্জনক্ষম মানুষটি অচল হয়ে পড়ায় চিকিৎসার খরচ, ঘর ভাড়া ও খাবারের পাশাপাশি মেয়েদের লেখাপড়ার খরচ চালানোই কঠিন হয়ে যায়। দিশেহারা হয়ে পরেন রোজিনা। এক পর্যায়ে মানুষের বাড়ি বাড়ি কাজ করে সংসার চালানোর চেস্টা করেন। কিন্তু সুবিধা করতে পারেন না। এমন পরিস্থিতিতে অটোরিকশা চালানোর সিদ্ধান্ত নেন তিনি। স্বামী রফিকুলের কাছেই হাতেখড়ি। গ্রামের স্কুলের মাঠে স্বামীর কাছেই অটোরিকশা চালানোর শিক্ষা নেন তিনি। পরে গ্রামের পথে নেমে পড়েন অটোরিকশা নিয়ে। ৫-৬ দিন এভাবে হাত পাকা করে একদিন টাঙ্গাইল শহরে চলে আসেন রোজিনা। এরপর শুরু করেন অটোরিক্সা চালানোর ব্যতিক্রমী জীবন সংগ্রাম। এখন টাঙ্গাইল পৌরসভায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার চালকদের মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা বেগম। জেলার বাসাইল উপজেলার আইসড়া গ্রামের বাসিন্দা রোজিনা টাঙ্গাইল পৌর শহরের এক প্রান্ত রাবনা বাইপাস থেকে আরেক প্রান্ত বেবিস্ট্যান্ডে যাত্রী আনা নেয়া করেন। যানজটের কারণে শহরে পুরুষ চালকরা যেখানে হিমসিম খায়, সেখানেই বিগত ৫ বছর ধরেই নির্বিঘেœ অটোরিকশা চালাচ্ছেন তিনি। টাঙ্গাইল পৌরসভা কার্যালয় সূত্রে জানা যাায়, টাঙ্গাইল শহরে চলাচলের জন্য ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক ও ৫ হাজার ব্যাটারিচালিত রিকশার অনুমতি (লাইসেন্স) দেওয়া হয়েছে। যানজট এড়াতে ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক জোড় ও বিজোড় সংখ্যায় দিনে দুই ভাগ করা হয়েছে। সকাল থেকে বেলা দুইটা পর্যন্ত এক ভাগ এবং বেলা দুইটা থেকে রাত পর্যন্ত আরেক ভাগের ইজিবাইক চলাচল করার নির্দেশনা দিয়েছে পৌর কর্তৃপক্ষ। কিন্তু রোজিনাকে দুই শিফটে চালানোর অনুমতি দিয়েছে পৌরসভা। সরেজমিনে দেখা যায়, নতুন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অটোরিকশা নিয়ে যাত্রী ডাকছেন রোজিনা। কলেজ গেট, পুরাতন বাসস্ট্যান্ড, ক্যাপসুল, নিরালা মোড়, বেবিস্ট্যান্ড সর্বত্রই যাত্রী আনানেয়া করেন তিনি। পুরাতন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অন্য অটো চালকদের দাঁড় করতে না দিলেও রোজিনাকে বাঁধা দেননা ট্রাফিক পুলিশ। বলতে গেলে সবাই তার প্রতি সহানুভুতিশীল। ট্রাফিক পুলিশসহ অন্য অটোচালকরাও তাকে সহযোগিতা করেন। রোজিনা বলেন, আমার অটোতে নারী যাত্রীরা খুব কম। তারা মনে করে আমার অটোতে উঠলে দুর্ঘটনায় পড়বে। কিন্তু আমি খুব সাবধানে অটো চালাই। দ্রুত গতিতেও না, আবার একেবারে ধীরগতিতেও না। এখন পর্যন্ত আমি কোন দুর্ঘটনার কবলে পড়ি নাই। শহরের পুরুষ অটোরিকশা চালকরা আমাকে অনেক সহযোগিতা করে। অটোচালক কাদের মিয়া বলেন, আমাদের শহরে কয়েক হাজার অটো চলাচল করে। তার মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। তাকে আমরা সব সময় সহযোগিতা করি। যাত্রী সাইদ মিয়া বলেন, আমি এ পর্যন্ত ৫-৬ বার রোজিনার অটোতে চড়েছি। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। অন্য পুরুষ অটো চালকের চেয়েও ভালো অটো চালান। নারী সংগঠক সেরাজুম মনিরা বলেন, তিনি অনেক দিন যাবত অটোরিকশা চালাচ্ছেন। আমি রোজিনাকে স্যালুট জানাই। একজন পুরুষের চেয়ে একজন নারী কোনো ভাবেই যে পিছিয়ে নেই, রোজিনা তা প্রমাণ করেছেন। রোজিনা বলেন, অটো চালানোর এই সিদ্ধান্তটি তার জন্য খুব সহজ ছিল না। তিনি বলেন, ৫ ও ১০ বছরের দুই মেয়েকে বাড়িতে রেখে অটোরিকশা নিয়ে সারাদিন রাস্তায় থাকতে হয়। তাদের ভালোভাবে দেখাশোনা করতে পারি না। কিন্তু কি করবো, অভাবের সংসার! এখন ঋণ নিয়ে একটু জমি কিনেছি। প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ণ প্রকল্পের অর্থায়নে প্রশাসন সেখানে ঘর তুলে দিয়েছে। শুরুতে যারা আমাকে নিয়ে ঠাট্টা করেছে এখন তারাই আমাকে সম্মান করেন। নারীরাও যে কিছু করতে পারে, তা প্রমাণ করেছি। আমার বড় মেয়ে আইসড়া উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়ে, ছোট মেয়ে পড়ে স্থানীয় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। মেয়েদের শিক্ষিত করতে হবে। ধার দেনা শোধ করতে হবে। তাই থেমে গেলো চলবে না। আমি অটোরিকশা চালিয়েই দুই সন্তানকে মানুষ করতে চাই।’ ঘারিন্দা ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য বাবুল সরকার বলেন, সরকার রোজিনাকে একটি ঘর নির্মাণ করে দিয়েছে। শুরুতে যারা তাকে নিয়ে নানান কথা বলতো, এখন তার সংকল্প ও মানষিক দৃঢ়তা দেখে থেমে গেছে। আমরা তাকে নিয়ে গর্ব করি। টাঙ্গাইলের ট্রাফিক ইন্সপেক্টর (প্রশাসন) দেলোয়ার হোসেন বলেন, শহরের একমাত্র নারী চালক রোজিনাকে কেউ যেন বিরক্ত করতে না পারে সেদিকে সব সময় নজর রাখে ট্রাফিক পুলিশ। আমরা তাকে সব সময় সহযোগিতা করে আসছি। টাঙ্গাইলের সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক শাহ আলম বলেন, বিষয়টি এখন জানতে পারলাম। ওই নারী এখনো পর্যন্ত আমাদের কাছে আসেন নাই। যদি আমাদের কাছে এসে আবেদন করেন অবশ্যই তাকে আমরা সহযেগিতা করবো, তার পাশে দাঁড়াবো।

কুড়িগ্রামের তাজু ভাই ২.০: ‘সরকারি রেটে জিলাপি’ প্রশ্নে ভাইরাল এক নির্মাণশ্রমিকের গল্প

বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের প্রত্যন্ত চরাঞ্চল থেকে উঠে এসে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার কেন্দ্রে এখন তাইজুল ইসলাম, যিনি অনলাইনে পরিচিত ‘তাজু ভাই ২.০’ নামে। মাত্র একটি ভিডিও—যেখানে তিনি এক দোকানিকে প্রশ্ন করেন, “জিলাপি আজকে কত করে বেচতেছেন সরকারি রেটে?”—এই সরল উপস্থাপনাই তাকে রাতারাতি ভাইরাল করে তোলে।  কয়েক ঘণ্টায় ফলোয়ার লাখ ছাড়াল রোববার রাত পর্যন্ত তার ফেসবুক অনুসারী ছিল প্রায় ৩৫ হাজার। কিন্তু সোমবার সন্ধ্যা থেকে রাতের মধ্যেই তা বেড়ে এক লাখের বেশি হয়ে যায়। ভাইরাল ভিডিওটি ইতোমধ্যে প্রায় ৫০ থেকে ৫৫ লাখবার দেখা হয়েছে।  কী ছিল সেই ভিডিওতে? ভিডিওতে দেখা যায়, কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীর নারায়ণপুর বাজারে দাঁড়িয়ে স্থানীয় ভাষায় তিনি জিলাপির দাম জানতে চান। তার কথাগুলো ছিল একেবারেই সহজ ও গ্রাম্য ভঙ্গিতে— “সাদাডা কত, লালডা কত? সরকারি রেটে বেচতেছেন?” এই সরল প্রশ্নই সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।  কোথা থেকে উঠে এলেন তাজু ভাই? কুড়িগ্রাম জেলার নাগেশ্বরী উপজেলার নারায়ণপুর ইউনিয়নের একটি দুর্গম গ্রামে জন্ম তার। ব্রহ্মপুত্র নদবেষ্টিত এই অঞ্চলে পৌঁছাতে এখনও কয়েকটি নৌঘাট পার হতে হয়। দারিদ্র্যের কারণে কখনো স্কুলে যাওয়া হয়নি তার। পেশায় তিনি একজন নির্মাণশ্রমিকের সহকারী (হেলপার)। কাজের ফাঁকে ঢাকায় থাকাকালীন মোবাইল ফোনে ভিডিও তৈরি করাই তার শখ। ব্যক্তিগত সংগ্রাম তাইজুল ইসলামের পরিবারে ছয় ভাই-বোন। তিনি সবার বড়। তার বাবা-মা দুজনই শ্রবণপ্রতিবন্ধী। পরিবার চালাতে তাকে ছোটবেলা থেকেই সংগ্রাম করতে হয়েছে। তিনি বলেন, “পরিবারের কষ্ট ভুলতেই ভিডিও করি। আমি সাংবাদিক না, কিন্তু আমাদের এলাকায় কেউ আসে না—তাই নিজেরাই ভিডিও বানাই।” ভাইরাল হওয়ার পেছনের উদ্দেশ্য তাইজুলের দাবি, তার ভিডিও শুধুই বিনোদনের জন্য নয়। তিনি চান তার এলাকার অবহেলিত মানুষের কথা প্রশাসনের নজরে আসুক। “আমি চাই চরের মানুষের উন্নয়ন হোক,”—বলছেন তিনি।  মিশ্র প্রতিক্রিয়া ভিডিওটি নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে দুই ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ তার সরলতা ও বাস্তবতা তুলে ধরার চেষ্টা প্রশংসা করছেন আবার কেউ তাকে নিয়ে ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ করছেন তবে এসব সমালোচনায় তিনি বিচলিত নন।

অর্থনীতি

ইসলামী ব্যাংক,

ইসলামী ব্যাংকে আস্থা সংকট কেন কাটছে না?: দেশের বৃহত্তম শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংককে ঘিরে নতুন প্রশ্ন

নিজস্ব প্রতিবেদক জুন ২২, ২০২৬ 0




অপরাধ

ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো

ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকোর বিরুদ্ধে ৩০ বিলিয়ন ডলার জালিয়াতি ও অর্থপাচার অভিযোগে দুদকের অনুসন্ধান

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ২৪, ২০২৬ 0




কৃষি ও জলবায়ু

ধান

শেরপুরে বোরো ধানের দাম কমে লোকসানে কৃষকরা, উৎপাদন খরচও উঠছে না

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ৬, ২০২৬ 0