Brand logo light
বাংলাদেশ

খাল পুনঃখননে স্কুলের ওয়াশব্লক ভাঙার নির্দেশ, অক্ষত বাজারের ৭০ অবৈধ স্থাপনা নিয়ে প্রশ্ন

নিজস্ব প্রতিবেদক জুন ২৩, ২০২৬ 0

 বরিশাল অফিস :  বরিশালের বাটাজোর ইউনিয়নের বাটাজোর থেকে চন্দ্রহার পর্যন্ত খাল পুনঃখনন প্রকল্পকে ঘিরে স্থানীয়দের মধ্যে নতুন বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, খালের দখলমুক্তকরণ কার্যক্রমের অংশ হিসেবে চন্দ্রহার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ওয়াশব্লক অপসারণের নির্দেশ দেওয়া হলেও খালের অপর পাড়ে গড়ে ওঠা প্রায় ৭০টি অবৈধ বাজার স্থাপনা উচ্ছেদের বিষয়ে কোনো দৃশ্যমান পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।

স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, খাল পুনঃখননের শেষ পর্যায়ে এসে প্রশাসনের এ সিদ্ধান্ত প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। তাদের ভাষ্য, খালের দক্ষিণ পাড়ে অবস্থিত বিদ্যালয়ের ওয়াশব্লক দ্রুত অপসারণের নির্দেশ দেওয়া হলেও উত্তর পাড়ে দীর্ঘদিন ধরে থাকা বাজারের অসংখ্য অবৈধ স্থাপনা অক্ষত রয়েছে।

শিক্ষার্থীদের স্যানিটেশন সংকটের আশঙ্কা

চন্দ্রহার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রায় ২৫০ শিক্ষার্থী অধ্যয়ন করে। বিদ্যালয়টির একমাত্র কার্যকর স্যানিটেশন সুবিধা হিসেবে ব্যবহৃত ওয়াশব্লকটি অপসারণ করা হলে শিক্ষার্থীরা চরম দুর্ভোগে পড়বে বলে আশঙ্কা করছেন অভিভাবক ও স্থানীয়রা।

তাদের প্রশ্ন, বিকল্প স্যানিটেশন ব্যবস্থা নিশ্চিত না করে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অবকাঠামো অপসারণ কতটা যৌক্তিক? বিশেষ করে যখন একই খালের অপর পাড়ে বহু অবৈধ স্থাপনা বহাল রয়েছে।

একাধিক অভিভাবক ও এলাকাবাসী জানান, খাল পুনঃখনন কার্যক্রমে তারা বাধা দিতে চান না। তবে উচ্ছেদ কার্যক্রমে সমতা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা জরুরি। তাদের মতে, জনস্বার্থে প্রয়োজন হলে অবৈধ দোকানপাট অপসারণ করা যেতে পারে, কিন্তু শিক্ষার্থীদের মৌলিক স্যানিটেশন সুবিধা ধ্বংস করে নয়।

দ্বৈত নীতির অভিযোগ

স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রশাসনের বর্তমান অবস্থান বৈষম্যমূলক বলে মনে হচ্ছে। একদিকে বিদ্যালয়ের অবকাঠামো অপসারণের তাগিদ, অন্যদিকে খালের জায়গা দখল করে থাকা বাজারের স্থাপনাগুলোর বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়া—এ দুই অবস্থানের মধ্যে স্পষ্ট অসঙ্গতি রয়েছে বলে তারা মনে করেন।

এলাকাবাসীর ভাষ্য, যদি খাল পুনরুদ্ধারই মূল লক্ষ্য হয়, তাহলে খালের উভয় পাড়ে সমানভাবে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা উচিত। শুধুমাত্র বিদ্যালয়ের ওয়াশব্লক অপসারণের উদ্যোগ প্রকল্পের উদ্দেশ্য ও বাস্তবায়ন নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করছে।

পুনর্বিবেচনার দাবি

স্থানীয় জনগণ প্রশাসনের কাছে সিদ্ধান্তটি পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানিয়েছেন। তারা চান, বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের স্বার্থ বিবেচনায় ওয়াশব্লকটি আপাতত বহাল রাখা হোক অথবা বিকল্প ব্যবস্থা নিশ্চিত হওয়ার পর প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেওয়া হোক।

একই সঙ্গে খালের উত্তর পাড়ে অবস্থিত অবৈধ বাজার স্থাপনাগুলোর বিষয়েও সমানভাবে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা। এলাকাবাসীর মতে, জনস্বার্থ, শিক্ষা ও স্যানিটেশন সুরক্ষার বিষয়টি বিবেচনায় এনে প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপ প্রয়োজন।

Popular post
সংসার সামলাতে অটোরিকশা নিয়ে রাস্তায় নেমেছেন রোজিনা

বাসস : বাবা একজন তাঁত শ্রমিক। তিন বোন দুই ভাইয়ের মধ্যে সবার বড় রোজিনা। অভাব সংসার, তাই এক এতিম যুবকের সাথে বাবা-মা বিয়ে দেন তাকে। বিয়ের পর জন্ম হয় দুই কন্যা সন্তানের। অটোরিকশা চালিয়ে কোন রকম সংসার চালাচ্ছিলেন স্বামী রফিকুল ইসলাম। কিন্তু সড়ক দুর্ঘটনায় রফিকুলের এক চোখ সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যায়। আরেকটি চোখ আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ধীরে ধীরে ওই চোখের দৃষ্টি শক্তিও কমতে থাকে। ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে অটোরিকশা চালানো। সংসারের উপার্জনক্ষম মানুষটি অচল হয়ে পড়ায় চিকিৎসার খরচ, ঘর ভাড়া ও খাবারের পাশাপাশি মেয়েদের লেখাপড়ার খরচ চালানোই কঠিন হয়ে যায়। দিশেহারা হয়ে পরেন রোজিনা। এক পর্যায়ে মানুষের বাড়ি বাড়ি কাজ করে সংসার চালানোর চেস্টা করেন। কিন্তু সুবিধা করতে পারেন না। এমন পরিস্থিতিতে অটোরিকশা চালানোর সিদ্ধান্ত নেন তিনি। স্বামী রফিকুলের কাছেই হাতেখড়ি। গ্রামের স্কুলের মাঠে স্বামীর কাছেই অটোরিকশা চালানোর শিক্ষা নেন তিনি। পরে গ্রামের পথে নেমে পড়েন অটোরিকশা নিয়ে। ৫-৬ দিন এভাবে হাত পাকা করে একদিন টাঙ্গাইল শহরে চলে আসেন রোজিনা। এরপর শুরু করেন অটোরিক্সা চালানোর ব্যতিক্রমী জীবন সংগ্রাম। এখন টাঙ্গাইল পৌরসভায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার চালকদের মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা বেগম। জেলার বাসাইল উপজেলার আইসড়া গ্রামের বাসিন্দা রোজিনা টাঙ্গাইল পৌর শহরের এক প্রান্ত রাবনা বাইপাস থেকে আরেক প্রান্ত বেবিস্ট্যান্ডে যাত্রী আনা নেয়া করেন। যানজটের কারণে শহরে পুরুষ চালকরা যেখানে হিমসিম খায়, সেখানেই বিগত ৫ বছর ধরেই নির্বিঘেœ অটোরিকশা চালাচ্ছেন তিনি। টাঙ্গাইল পৌরসভা কার্যালয় সূত্রে জানা যাায়, টাঙ্গাইল শহরে চলাচলের জন্য ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক ও ৫ হাজার ব্যাটারিচালিত রিকশার অনুমতি (লাইসেন্স) দেওয়া হয়েছে। যানজট এড়াতে ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক জোড় ও বিজোড় সংখ্যায় দিনে দুই ভাগ করা হয়েছে। সকাল থেকে বেলা দুইটা পর্যন্ত এক ভাগ এবং বেলা দুইটা থেকে রাত পর্যন্ত আরেক ভাগের ইজিবাইক চলাচল করার নির্দেশনা দিয়েছে পৌর কর্তৃপক্ষ। কিন্তু রোজিনাকে দুই শিফটে চালানোর অনুমতি দিয়েছে পৌরসভা। সরেজমিনে দেখা যায়, নতুন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অটোরিকশা নিয়ে যাত্রী ডাকছেন রোজিনা। কলেজ গেট, পুরাতন বাসস্ট্যান্ড, ক্যাপসুল, নিরালা মোড়, বেবিস্ট্যান্ড সর্বত্রই যাত্রী আনানেয়া করেন তিনি। পুরাতন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অন্য অটো চালকদের দাঁড় করতে না দিলেও রোজিনাকে বাঁধা দেননা ট্রাফিক পুলিশ। বলতে গেলে সবাই তার প্রতি সহানুভুতিশীল। ট্রাফিক পুলিশসহ অন্য অটোচালকরাও তাকে সহযোগিতা করেন। রোজিনা বলেন, আমার অটোতে নারী যাত্রীরা খুব কম। তারা মনে করে আমার অটোতে উঠলে দুর্ঘটনায় পড়বে। কিন্তু আমি খুব সাবধানে অটো চালাই। দ্রুত গতিতেও না, আবার একেবারে ধীরগতিতেও না। এখন পর্যন্ত আমি কোন দুর্ঘটনার কবলে পড়ি নাই। শহরের পুরুষ অটোরিকশা চালকরা আমাকে অনেক সহযোগিতা করে। অটোচালক কাদের মিয়া বলেন, আমাদের শহরে কয়েক হাজার অটো চলাচল করে। তার মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। তাকে আমরা সব সময় সহযোগিতা করি। যাত্রী সাইদ মিয়া বলেন, আমি এ পর্যন্ত ৫-৬ বার রোজিনার অটোতে চড়েছি। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। অন্য পুরুষ অটো চালকের চেয়েও ভালো অটো চালান। নারী সংগঠক সেরাজুম মনিরা বলেন, তিনি অনেক দিন যাবত অটোরিকশা চালাচ্ছেন। আমি রোজিনাকে স্যালুট জানাই। একজন পুরুষের চেয়ে একজন নারী কোনো ভাবেই যে পিছিয়ে নেই, রোজিনা তা প্রমাণ করেছেন। রোজিনা বলেন, অটো চালানোর এই সিদ্ধান্তটি তার জন্য খুব সহজ ছিল না। তিনি বলেন, ৫ ও ১০ বছরের দুই মেয়েকে বাড়িতে রেখে অটোরিকশা নিয়ে সারাদিন রাস্তায় থাকতে হয়। তাদের ভালোভাবে দেখাশোনা করতে পারি না। কিন্তু কি করবো, অভাবের সংসার! এখন ঋণ নিয়ে একটু জমি কিনেছি। প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ণ প্রকল্পের অর্থায়নে প্রশাসন সেখানে ঘর তুলে দিয়েছে। শুরুতে যারা আমাকে নিয়ে ঠাট্টা করেছে এখন তারাই আমাকে সম্মান করেন। নারীরাও যে কিছু করতে পারে, তা প্রমাণ করেছি। আমার বড় মেয়ে আইসড়া উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়ে, ছোট মেয়ে পড়ে স্থানীয় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। মেয়েদের শিক্ষিত করতে হবে। ধার দেনা শোধ করতে হবে। তাই থেমে গেলো চলবে না। আমি অটোরিকশা চালিয়েই দুই সন্তানকে মানুষ করতে চাই।’ ঘারিন্দা ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য বাবুল সরকার বলেন, সরকার রোজিনাকে একটি ঘর নির্মাণ করে দিয়েছে। শুরুতে যারা তাকে নিয়ে নানান কথা বলতো, এখন তার সংকল্প ও মানষিক দৃঢ়তা দেখে থেমে গেছে। আমরা তাকে নিয়ে গর্ব করি। টাঙ্গাইলের ট্রাফিক ইন্সপেক্টর (প্রশাসন) দেলোয়ার হোসেন বলেন, শহরের একমাত্র নারী চালক রোজিনাকে কেউ যেন বিরক্ত করতে না পারে সেদিকে সব সময় নজর রাখে ট্রাফিক পুলিশ। আমরা তাকে সব সময় সহযোগিতা করে আসছি। টাঙ্গাইলের সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক শাহ আলম বলেন, বিষয়টি এখন জানতে পারলাম। ওই নারী এখনো পর্যন্ত আমাদের কাছে আসেন নাই। যদি আমাদের কাছে এসে আবেদন করেন অবশ্যই তাকে আমরা সহযেগিতা করবো, তার পাশে দাঁড়াবো।

ফারুকীর সম্পদ কমেছে, তিশার বেড়েছে দ্বিগুণেরও বেশি: সম্পদ বিবরণী ঘিরে আলোচনা

অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের সম্পদ বিবরণী প্রকাশের পর সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী ও তার স্ত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদের হিসাব নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। এক বছরের ব্যবধানে স্বামী ফারুকীর সম্পদ কমলেও স্ত্রী তিশার সম্পদ বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে প্রকাশিত তথ্যে উঠে এসেছে এই চিত্র। প্রকাশিত খতিয়ান অনুযায়ী, জনপ্রিয় অভিনেত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদ এক বছরে অভাবনীয় হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তিশার মোট সম্পদের পরিমাণ ছিল ১ কোটি ৪০ লাখ ৮১ হাজার ৮৬০ টাকা। ঠিক এক বছর পর, ২০২৫ সালের ৩০ জুন সেই সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ৯৯ লাখ ৮৯ হাজার ৫০১ টাকায়। অর্থাৎ মাত্র এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ বেড়েছে ১ কোটি ৫৯ লাখ ৭ হাজার ৬৪১ টাকা, যা আগের বছরের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি। অন্যদিকে সংস্কৃতি উপদেষ্টা ও নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর ক্ষেত্রে দেখা গেছে উল্টো চিত্র। এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ কমেছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তার মোট সম্পদ ছিল ২ কোটি ২৬ লাখ ৯২ হাজার ২৬ টাকা। ২০২৫ সালের ৩০ জুন তা কমে দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ১৫ লাখ ১৮ হাজার ২৬ টাকায়। হিসাব অনুযায়ী, এক বছরে তার সম্পদ কমেছে ১১ লাখ ৭৪ হাজার টাকা। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে গত মঙ্গলবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ প্রধান উপদেষ্টা, উপদেষ্টা ও সমমর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের পাশাপাশি তাদের স্ত্রী বা স্বামীর সম্পদ বিবরণী প্রকাশ করে। একই সময়ে স্বামী-স্ত্রীর সম্পদে এমন ভিন্নমুখী পরিবর্তন স্বাভাবিকভাবেই সাধারণ মানুষের কৌতূহলের জন্ম দিয়েছে। শোবিজ অঙ্গনের জনপ্রিয় দম্পতি হওয়ায় তাদের এই আয়-ব্যয়ের হিসাব এখন টক অব দ্য কান্ট্রি।

বাংলাদেশে ঐতিহাসিক নির্বাচন: বিএনপি এগিয়ে, জামায়াতের উত্থান ও তরুণ ভোটারদের প্রভাব

২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশে আজ এক ঐতিহাসিক ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ২০০৮ সালের পর এই প্রথম একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হতে যাচ্ছে যেখানে দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগ রাজনৈতিক মানচিত্র থেকে কার্যত অনুপস্থিত। বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক জরিপ বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০০ আসনের মধ্যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) কার্যকর সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে যাচ্ছে। তবে ভোটের ব্যবধান এবং কিছু সমীকরণ নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। নির্বাচনের সবচেয়ে বড় নিয়ামক হয়ে দাঁড়িয়েছে আওয়ামী লীগের বিশাল ভোটব্যাংক। দলটির নিয়মিত প্রায় ৪ কোটি ভোটার এখন নতুন রাজনৈতিক আশ্রয় খুঁজছেন। সিআরএফ বা বিইপিওএস জরিপ বলছে, এই ভোটারদের প্রায় অর্ধেক বিএনপির দিকে ঝুঁকেছে, যা দলটিকে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতার পথে এগিয়ে দিচ্ছে। অন্যদিকে, প্রায় ৩০ শতাংশ আওয়ামী ভোটার জামায়াতে ইসলামীকে বেছে নিতে পারেন বলে আভাস পাওয়া যাচ্ছে। এছাড়া বাংলাদেশের বিদ্যমান নির্বাচনী ব্যবস্থার কারণে দেশজুড়ে সুষম জনসমর্থন থাকা বিএনপি আসন জয়ের ক্ষেত্রে জামায়াতের তুলনায় সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। তবে বিএনপির এই সম্ভাব্য জয়ের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও বিদ্রোহী প্রার্থীরা। প্রায় ৭৯টি নির্বাচনী এলাকায় দলের মনোনয়ন না পাওয়া ৯২ জন প্রভাবশালী নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, যা বিএনপির ১৫ থেকে ৩০টি আসন কমিয়ে দিতে পারে। অন্যদিকে, তরুণ ভোটার বা ‘জেন-জি’ প্রজন্মের বিশাল সমর্থন জামায়াতে ইসলামীর শক্তির উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেশের ৪৪ শতাংশ ভোটারই তরুণ, যাদের বড় একটি অংশ প্রথমবার ভোট দিচ্ছেন। এই তরুণরা যদি দলবেঁধে কেন্দ্রে উপস্থিত হন, তবে নির্বাচনী ফলে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। সবশেষে, প্রায় ১৭ থেকে ৩৫ শতাংশ দোদুল্যমান ভোটার এবং তাদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করবে আগামীর সরকার কতটা শক্তিশালী হবে। দ্য নিউইয়র্ক এডিটোরিয়ালের মূল পূর্বাভাস, তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি প্রায় ১৮৫টি আসনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করতে পারে এবং জামায়াতে ইসলামী ৮০টির মতো আসন পেয়ে প্রধান বিরোধী দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারে। তবে বিদ্রোহী প্রার্থীদের প্রভাব এবং তরুণ ভোটারদের উপস্থিতির ওপর ভিত্তি করে আসন সংখ্যায় বড় ধরনের হেরফের হওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

গাজায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা ট্রাম্প প্রশাসনে

ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। ৩৫০ একরের ঘাঁটিটিতে সামরিক বাহিনীর পাঁচ হাজার সদস্য থাকতে পারবে। গাজার ‘বোর্ড অব পিস’র নথি পর্যালোচনা করে এ তথ্য জানিয়েছে দ্য গার্ডিয়ান। প্রতিবেদনে ব্রিটিশ সংবাদ মাধ্যমটি জানিয়েছে, বোর্ড অব পিসে গাজাকে নিরাপদ করার জন্য ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যাবিলাইজেশন ফোর্স (আইএসএফ) নামে একটি আন্তর্জাতিক বাহিনী মোতায়েনের কথা বলা হয়েছে। যে স্থানটি ঘাঁটি করার জন্য বিবেচনা করা হচ্ছে সেখানে আইএসএফের সদস্যরা থাকবে। বোর্ড অব পিসের প্রধান হবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আর সংগঠনটির আংশিক নেতৃত্ব দেবেন ট্রাম্পের জামাতা জ্যারার্ড কুশনার।দ্য গার্ডিয়ান বোর্ড অব পিসের নথি পর্যালোচনা করে জানায়, ধাপে ধাপে একটি সামরিক ঘাঁটি নির্মাণ করা হবে। সবকিছু শেষ হলে ঘাঁটিটি ১৫ লাখ ১৭ হাজার ৫৭৫ বর্গমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত হবে। ঘাঁটিটির চারপাশে ট্রেইলার সংযুক্ত ২৬টি সাঁজোয়া নজরদারি টাওয়ার থাকবে। এছাড়া একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, বাংকার ও অস্ত্র রাখার গুদাম থাকবে। পুরো ঘাঁটিটি কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে ঘিরে রাখা হবে। সামরিক ঘাঁটি নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে দক্ষিণ গাজার একটি শুষ্ক সমতলভূমিতে। সেখানে ইসরায়েলি হামলার চিহ্ন রয়েছে। ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে বিভিন্ন ধাতবের ধ্বংসাবশেষ।  ওই এলাকার ভিডিও পর্যালোচনা করেছে দ্য গার্ডিয়ান। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, ঘাঁটি নির্মাণের জন্য টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে। যুদ্ধক্ষেত্রে কাজের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন আন্তর্জাতিক নির্মাণ কোম্পানিগুলোর একটি ছোট দলকে ইতোমধ্যেই এলাকাটি দেখানো হয়েছে। ওই দলটি দরপত্রে অংশ নিতে আগ্রহী।    ইন্দোনেশিয়া সরকার গাজায় আট হাজার সেনা সদস্য পাঠানোর জন্য প্রস্তাব দিয়েছে। বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটন ডিসিতে বোর্ড অব পিসের অনানুষ্ঠানিক বৈঠকে ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্টের অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। এছাড়া দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার আরও তিন নেতার ওই বৈঠকে অংশ নেবেন বলে জানা গেছে। জাতিসংঘের নিরাপত্তা কাউন্সিল গাজার সাময়িক স্থিতিশীলতার জন্য অস্থায়ীভাবে সামরিক বাহিনী মোতায়েনের অনুমোদন দিয়েছে। নিরাপত্তা কাউন্সিলই বোর্ড অব পিসের মূল হোতা। গাজার সীমান্ত ও শান্তি প্রণয়নে কাজ করবে আইএসএফ। এছাড়া বেসামরিকদের সুরক্ষা এবং ফিলিস্তিনি পুলিশ বাহিনীকে প্রশিক্ষণ ও সহায়তা দেবে তারা। যদি গাজায় ফের সংঘর্ষ হয়, ইসরায়েল বোমা হামলা চালায় অথবা হামাস হামলা চালায় সেক্ষেত্রে আইএসএফ কি করবে তা এখনও স্পষ্ট নয়। গাজা পুনর্গঠনে ইসরায়েল হামাসকে নিরস্ত্রীকরণের যে শর্ত দিয়েছে সেটির জন্য আইএসএফ কাজ করবে কিনা তাও স্পষ্ট না। ইতোমধ্যে বোর্ড অব পিসে ২০ এর অধিক দেশ যোগ দিয়েছে। তবে, এখনও অনেক পরাশক্তি এর থেকে দূরে রয়েছে। জাতিসংঘের অনুমোদন নিয়ে প্রতিষ্ঠিত হলেও ধারণা করা হচ্ছে, সংগঠনটির স্থায়ী নেতৃত্ব ও নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে। রুটজার্স বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক আদিল হক বলেন, “বোর্ড অব পিস এক ধরনের আইনি কল্পসত্তা। নামমাত্রভাবে এর নিজস্ব আন্তর্জাতিক আইনগত সত্তা রয়েছে, যা জাতিসংঘ ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে আলাদা। কিন্তু বাস্তবে এটি যুক্তরাষ্ট্রের ইচ্ছামতো ব্যবহারের জন্য একটি ফাঁপা খোলসমাত্র।” বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গাজা পুনর্গঠনে যে অর্থায়ন ও শাসন কাঠামো হচ্ছে তা অস্বচ্ছ। কয়েকজন ঠিকাদার গার্ডিয়ানকে জানান, গাজায় কাজ করার জন্য মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে তাদের প্রায়শ আলোচনা সরকারি ইমেলের বদলে সিগন্যালের মাধ্যমে করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রের তথ্য মতে, ঘাঁটি নির্মাণের সিদ্ধান্তটি বোর্ড অব পিসের। এতে সহায়তা করছে মার্কিন কর্মকর্তারা। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ঘাঁটিতে তৈরি বাংকার নেটওয়ার্কের মতোন কাজ করবে। প্রতিটি বাংকারের ২৪ মিটারের হবে। উচ্চতা থাকবে আড়াই মিটার। এগুলো এমনভাবে করা হবে যেন সেনা সদস্যরা আশ্রয় নিতে পারে। স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসের গাজায় সুড়ঙ্গ নেটওয়ার্ক বা টানেল রয়েছে। সেগুলোর আদলে নেটওয়ার্ক করতে চাওয়া হচ্ছে। পিস অব বোর্ডের নথি পর্যালোচনা করে এমন দাবি করছে গার্ডিয়ান। সংবাদ মাধ্যমটি বলছে,  স্থানটির ভূ-ভৌত জরিপ পরিচালনা করবে ঠিকাদাররা। নথির এক অংশে ‘হিউম্যান রেমিয়েনস প্রোটোকল’র কথা বলা হয়েছে। এর মানে দাঁড়ায়, সন্দেহভাজন মানব অবশিষ্ট বা সাংস্কৃতিক নিদর্শন পাওয়া গেলে অবিলম্বে সেই এলাকায় সব কাজ বন্ধ করতে হবে। চুক্তি কর্মকর্তাকে দিকনির্দেশনার জন্য অবিলম্বে জানাতে হবে। গাজা সিভিল ডিফেন্সের ধারণা, গাজার ধ্বংসস্তূপের নিচে ১০ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনির মরদেহ রয়েছে। ঘাঁটির জন্য যে স্থানটি বিবেচিত করা হচ্ছে সেটির মালিক কে তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে, দক্ষিণ গাজার বেশিরভাগ অংশ  বর্তমানে ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণে। জাতিসংঘের অনুমান, যুদ্ধ চলাকালীন ১৯ লাখ ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত হয়েছে। ফিলিস্তিনের জমিতে সরকারের অনুমতি না নিয়ে সামরিক ঘাঁটি স্থাপনকে দখল হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন ফিলিস্তিনি-কানাডিয়ান আইনজীবী এবং প্রাক্তন শান্তি আলোচক দিয়ানা বুট্টু। তিনি প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়ে বলেন, “কার অনুমতিতে তারা সামরিক ঘাঁটি স্থাপন করবে।” বিষয়টি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা বোর্ড অব পিসের কথা টানেন। ট্রাম্প প্রশাসনের একজন কর্মকর্তা সামরিক ঘাঁটির চুক্তি নিয়ে আলোচনা করতে অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, “যেমনটি প্রেসিডেন্ট বলেছেন, কোনও মার্কিন সেনা স্থলভাগে যাবে না। আমরা লিক হওয়া নথি নিয়ে আলোচনা করবো না।”

কুড়িগ্রামের তাজু ভাই ২.০: ‘সরকারি রেটে জিলাপি’ প্রশ্নে ভাইরাল এক নির্মাণশ্রমিকের গল্প

বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের প্রত্যন্ত চরাঞ্চল থেকে উঠে এসে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার কেন্দ্রে এখন তাইজুল ইসলাম, যিনি অনলাইনে পরিচিত ‘তাজু ভাই ২.০’ নামে। মাত্র একটি ভিডিও—যেখানে তিনি এক দোকানিকে প্রশ্ন করেন, “জিলাপি আজকে কত করে বেচতেছেন সরকারি রেটে?”—এই সরল উপস্থাপনাই তাকে রাতারাতি ভাইরাল করে তোলে।  কয়েক ঘণ্টায় ফলোয়ার লাখ ছাড়াল রোববার রাত পর্যন্ত তার ফেসবুক অনুসারী ছিল প্রায় ৩৫ হাজার। কিন্তু সোমবার সন্ধ্যা থেকে রাতের মধ্যেই তা বেড়ে এক লাখের বেশি হয়ে যায়। ভাইরাল ভিডিওটি ইতোমধ্যে প্রায় ৫০ থেকে ৫৫ লাখবার দেখা হয়েছে।  কী ছিল সেই ভিডিওতে? ভিডিওতে দেখা যায়, কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীর নারায়ণপুর বাজারে দাঁড়িয়ে স্থানীয় ভাষায় তিনি জিলাপির দাম জানতে চান। তার কথাগুলো ছিল একেবারেই সহজ ও গ্রাম্য ভঙ্গিতে— “সাদাডা কত, লালডা কত? সরকারি রেটে বেচতেছেন?” এই সরল প্রশ্নই সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।  কোথা থেকে উঠে এলেন তাজু ভাই? কুড়িগ্রাম জেলার নাগেশ্বরী উপজেলার নারায়ণপুর ইউনিয়নের একটি দুর্গম গ্রামে জন্ম তার। ব্রহ্মপুত্র নদবেষ্টিত এই অঞ্চলে পৌঁছাতে এখনও কয়েকটি নৌঘাট পার হতে হয়। দারিদ্র্যের কারণে কখনো স্কুলে যাওয়া হয়নি তার। পেশায় তিনি একজন নির্মাণশ্রমিকের সহকারী (হেলপার)। কাজের ফাঁকে ঢাকায় থাকাকালীন মোবাইল ফোনে ভিডিও তৈরি করাই তার শখ। ব্যক্তিগত সংগ্রাম তাইজুল ইসলামের পরিবারে ছয় ভাই-বোন। তিনি সবার বড়। তার বাবা-মা দুজনই শ্রবণপ্রতিবন্ধী। পরিবার চালাতে তাকে ছোটবেলা থেকেই সংগ্রাম করতে হয়েছে। তিনি বলেন, “পরিবারের কষ্ট ভুলতেই ভিডিও করি। আমি সাংবাদিক না, কিন্তু আমাদের এলাকায় কেউ আসে না—তাই নিজেরাই ভিডিও বানাই।” ভাইরাল হওয়ার পেছনের উদ্দেশ্য তাইজুলের দাবি, তার ভিডিও শুধুই বিনোদনের জন্য নয়। তিনি চান তার এলাকার অবহেলিত মানুষের কথা প্রশাসনের নজরে আসুক। “আমি চাই চরের মানুষের উন্নয়ন হোক,”—বলছেন তিনি।  মিশ্র প্রতিক্রিয়া ভিডিওটি নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে দুই ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ তার সরলতা ও বাস্তবতা তুলে ধরার চেষ্টা প্রশংসা করছেন আবার কেউ তাকে নিয়ে ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ করছেন তবে এসব সমালোচনায় তিনি বিচলিত নন।

নিজস্ব প্রতিবেদক

বাংলাদেশ

View more
দুই পোষা কুকুরকে পিটিয়ে হত্যা, পটুয়াখালীতে দুই ব্যক্তির ২০ হাজার টাকা জরিমানা

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন :  পটুয়াখালীর সদর উপজেলায় দুটি পোষা কুকুরকে বৈদ্যুতিক খুঁটির সঙ্গে দড়ি দিয়ে বেঁধে কাঠের লাঠি দিয়ে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় দুই ব্যক্তিকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন আদালত। জরিমানার অর্থ পরিশোধে ব্যর্থ হলে প্রত্যেককে ১৫ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে। বৃহস্পতিবার পটুয়াখালী সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ১ম আদালতের বিচারক মো. আবু বকর এ রায় দেন। কী ঘটেছিল আদালত ও মামলার নথি সূত্রে জানা গেছে, গত ২৩ জুলাই বেলা ১১টার দিকে পটুয়াখালী সদর উপজেলার আউলিয়াপুর ইউনিয়নের দক্ষিণ বাদুরা খেজুরতলা স্ট্যান্ড এলাকায় দুটি পোষা কুকুরকে বৈদ্যুতিক খুঁটির সঙ্গে দড়ি দিয়ে বেঁধে কাঠের লাঠি দিয়ে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি পটুয়াখালী সদর উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তার নজরে আসে। পরে এ ঘটনায় সদর উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. আতিউর রহমান বাদী হয়ে মামলা করেন। যে আইনে মামলা মামলাটি করা হয় প্রাণিকল্যাণ আইন, ২০১৯-এর ৭(২) ধারা এবং দণ্ডবিধির ৪২৮ ধারায়। মামলায় দক্ষিণ বাদুরা গ্রামের মঞ্জু হাওলাদার (৫০) ও জহির হাওলাদারকে (৪৫) আসামি করা হয়। আদালতের রায়ে দুই আসামির প্রত্যেককে ১০ হাজার টাকা করে মোট ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। জরিমানা অনাদায়ে প্রত্যেককে ১৫ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে। আদালতের রায়ে কী বলা হয়েছে বাদীপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মো. ইমরান বলেন, প্রাণিকল্যাণ আইনে এ অপরাধের জন্য সর্বোচ্চ যে শাস্তির বিধান রয়েছে, আদালত সেটিই দিয়েছেন। তার মতে, প্রাণীর প্রতি নিষ্ঠুরতার ঘটনায় আদালতের এই রায় সমাজে সচেতনতা তৈরিতে ভূমিকা রাখবে। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে এ ধরনের অপরাধ প্রতিরোধেও রায়টি ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে। কেন ঘটনাটি গুরুত্বপূর্ণ পটুয়াখালীর এ ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওর মাধ্যমে প্রকাশ্যে আসে। পরে সরকারি প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তার উদ্যোগে মামলা এবং আদালতের রায়ের মাধ্যমে বিষয়টি বিচারিক প্রক্রিয়ায় যায়। প্রাণীর প্রতি নিষ্ঠুরতার অভিযোগে করা মামলায় আদালতের এ ধরনের রায় প্রাণিকল্যাণ আইন বাস্তবায়নের বিষয়টিকেও সামনে নিয়ে এসেছে। তবে এ ঘটনায় আদালতের রায় ও মামলার নথিতে থাকা তথ্যই প্রতিবেদনের মূল ভিত্তি। দুই আসামির বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের বিষয়ে আদালতের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত বিবেচ্য।

নিজস্ব প্রতিবেদক আগস্ট ৮, ২০২৬ 0

ডেপুটি স্পিকারের স্বাক্ষর ও অফিসিয়াল প্যাড জাল করে বদলির চেষ্টা? এসি ল্যান্ডের বিরুদ্ধে মামলা

বরিশালে সরকারি পুকুর ভরাট করে প্লট বিক্রি

বরিশালে সরকারি খাসজমির ১০ কোটি টাকার পুকুর ভরাটের অভিযোগ, প্লট করে বিক্রির প্রস্তুতি

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উদ্বোধন: খুলছে জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর

৫ আগস্ট ২০২৪: কারফিউ, ‘মার্চ টু ঢাকা’ এবং একদিনে বদলে যাওয়া বাংলাদেশের রাজনৈতিক বাস্তবতা

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন :  ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট বাংলাদেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ইতিহাসের সবচেয়ে আলোচিত দিনগুলোর একটি। দেশজুড়ে অনির্দিষ্টকালের কারফিউ, রাজধানীতে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা, ইন্টারনেট বিচ্ছিন্নতা এবং বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ঘোষিত ‘মার্চ টু ঢাকা’ কর্মসূচি—সবকিছু মিলিয়ে দিনটি শুরু হয়েছিল চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে। কিন্তু কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে সেই অনিশ্চয়তা রূপ নেয় নাটকীয় রাজনৈতিক পরিবর্তনে। এর আগের কয়েক দিনজুড়ে দেশজুড়ে সহিংসতা, প্রাণহানি ও সংঘাতের ঘটনা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে। আন্দোলনের ভবিষ্যৎ, সরকারের অবস্থান এবং নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে ছিল ব্যাপক উদ্বেগ। তবে ৫ আগস্ট সকালে রাজধানীর চিত্র দ্রুত বদলাতে শুরু করে। ভোর থেকেই কঠোর নিরাপত্তা সকালের প্রথম প্রহর থেকেই ঢাকা কার্যত নিরাপত্তা বলয়ে পরিণত হয়। রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ মোড়, সড়ক ও প্রবেশপথে সেনাবাহিনী, বিজিবি, র‍্যাব ও পুলিশের সদস্যরা অবস্থান নেন। মহাখালী, গুলশান, বনানী, শাহবাগ, যাত্রাবাড়ী, মোহাম্মদপুর ও রামপুরাসহ বিভিন্ন এলাকায় কাঁটাতারের ব্যারিকেড স্থাপন করা হয়। মাইকিং করে সাধারণ মানুষকে ঘরে থাকার আহ্বান জানানো হচ্ছিল। যাত্রাবাড়ী, গাবতলী ও আব্দুল্লাহপুরসহ রাজধানীর প্রবেশপথগুলোতে বাড়তি তল্লাশি চালানো হয়। কারফিউ পাসধারীদেরও বিভিন্ন চেকপয়েন্টে জিজ্ঞাসাবাদের মুখোমুখি হতে হয়। সকাল ১০টা পর্যন্ত ঢাকার অধিকাংশ সড়ক প্রায় জনশূন্য ছিল। একদিন এগিয়ে আসে ‘মার্চ টু ঢাকা’ ৪ আগস্ট সন্ধ্যায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক আসিফ মাহমুদ এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানান, পূর্বঘোষিত ৬ আগস্টের পরিবর্তে ৫ আগস্টই ‘মার্চ টু ঢাকা’ কর্মসূচি পালন করা হবে। ঘোষণায় বেলা ১১টায় শাহবাগে শ্রমিক সমাবেশ, বিকেল ৫টায় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে নারী সমাবেশ এবং দেশব্যাপী গণ-অবস্থান কর্মসূচির কথাও উল্লেখ করা হয়। অন্যদিকে আন্দোলনের আরেক সমন্বয়ক নাহিদ ইসলাম বলেন, ইন্টারনেট বন্ধ কিংবা নেতৃত্ব গ্রেপ্তার হলেও সরকার পতনের এক দফা দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানানো হয়। সকাল বাড়ার সঙ্গে বদলাতে থাকে রাজধানীর চিত্র সকাল ১০টার পর রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা থেকে ছোট ছোট দলে শিক্ষার্থীরা রাস্তায় নামতে শুরু করেন। অল্প সময়ের মধ্যেই তাঁদের সঙ্গে শিক্ষক, শ্রমিক, চাকরিজীবী, অভিভাবক এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ যুক্ত হন। বেলা ১১টার দিকে মোবাইল ও ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট সেবা বন্ধ হয়ে গেলেও আন্দোলনের গতি থামেনি। রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা থেকে মানুষের গন্তব্য হয়ে ওঠে শাহবাগ। শাহবাগে উত্তেজনা, বাড়তে থাকে জনসমাগম সকাল সাড়ে ১০টার দিকে বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের বহির্বিভাগসংলগ্ন এলাকায় শতাধিক মানুষ জড়ো হন। তাঁদের হাতে ছিল হ্যান্ডমাইক, মুখে এক দফা দাবির স্লোগান। সেই সময় শাহবাগ মোড়ে সেনাবাহিনীর কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছিল। সাঁজোয়া যান, সেনাসদস্য এবং বিপুলসংখ্যক পুলিশ পুরো এলাকা নিয়ন্ত্রণে রাখে। হাসপাতালে প্রবেশকারী রোগী, চিকিৎসক, নার্স ও স্বজনদেরও তল্লাশির আওতায় আনা হয়। সাড়ে ১১টার পর শাহবাগ ও আশপাশের এলাকায় গুলির শব্দ এবং বিস্ফোরণের আওয়াজ শোনা যায়, যা পরিস্থিতিকে আরও উত্তেজনাপূর্ণ করে তোলে। ফুল হাতে ব্যারিকেডের সামনে দুপুর ১২টার দিকে মৎস্য ভবনের দিক থেকে প্রায় ৫০০ মানুষের একটি মিছিল শাহবাগের দিকে অগ্রসর হয়। মিছিলের সামনের সারিতে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক নারী অংশগ্রহণকারী ছিলেন। কিশোর থেকে প্রবীণ—সব বয়সী মানুষের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। ওভারব্রিজসংলগ্ন এলাকায় সেনাবাহিনী মিছিল থামানোর চেষ্টা করলে সামনের সারির কয়েকজন আন্দোলনকারী সেনাসদস্যদের হাতে ফুল তুলে দেন। এরপর ধীরে ধীরে ব্যারিকেড অতিক্রম করে আন্দোলনকারীরা শাহবাগ এলাকায় প্রবেশ করেন। অল্প সময়ের মধ্যেই পুরো এলাকা এক দফা দাবির স্লোগানে মুখর হয়ে ওঠে। কয়েক ঘণ্টায় বদলে যায় রাজনৈতিক দৃশ্যপট দুপুরের পর গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জসহ আশপাশের জেলা থেকে আরও মানুষ শাহবাগে যোগ দিতে থাকেন। কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই শাহবাগ, বাংলামোটর, কাকরাইল, টিএসসি এবং মৎস্য ভবন এলাকা জনসমুদ্রে পরিণত হয়। একপর্যায়ে সেনাপ্রধানের জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেওয়ার খবর আসে। এর কিছুক্ষণ পর তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশ ছেড়ে চলে গেছেন—এমন খবর দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। খবরটি ছড়িয়ে পড়ার পর রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে উচ্ছ্বাসের দৃশ্য দেখা যায়। কেউ আবেগাপ্লুত হয়ে কেঁদেছেন, কেউ সিজদায় লুটিয়ে পড়েছেন, আবার কেউ একে অপরকে আলিঙ্গন করেছেন। পরে ইন্টারনেট সেবা স্বাভাবিক হলে সংবাদটি দ্রুত সারা দেশে ছড়িয়ে পড়ে। বহু মানুষ বিজয়ের মিছিল নিয়ে গণভবনের দিকে রওনা হন। ইতিহাসের এক গুরুত্বপূর্ণ দিন কড়া কারফিউ, কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং যোগাযোগ ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতার মধ্যেও ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রাজধানীতে যে ব্যাপক জনসমাগম হয়েছিল, তা বাংলাদেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে আলোচিত হয়ে আছে। দিনটি শুধু একটি রাজনৈতিক পরিবর্তনের প্রতীক নয়; বরং রাষ্ট্র, জনআন্দোলন এবং ক্ষমতার সম্পর্ক নিয়ে নতুন বাস্তবতার সূচনাবিন্দু হিসেবেও ইতিহাসে স্থান করে নিয়েছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক আগস্ট ৫, ২০২৬ 0

লাকুটিয়া খাল খননের ২.৫৭ কোটি টাকার প্রকল্প বাস্তবায়ন হয়নি কেন? তথ্য চাওয়ার পর বরাদ্দ ফেরত, উঠছে নানা প্রশ্ন

মতিঝিলে ফের চাঁদাবাজির অভিযোগ: নতুন পরিচয়ে সক্রিয় পুরোনো সিন্ডিকেট? অনুসন্ধানে যা জানা গেল

কাশিমপুর ভূমি অফিসে দালালচক্র ও অনিয়মের অভিযোগ: চার কর্মকর্তা-কর্মচারী সাময়িক বরখাস্ত, তদন্তে নতুন তথ্যের অপেক্ষা

বিস্ফোরণের খবর পেয়ে র‍্যাব, পুলিশের গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) সদস্য ও পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা
বরিশালের বাকেরগঞ্জে বালুর বস্তায় রহস্যময় বিস্ফোরণ: দগ্ধ মা-মেয়েসহ ৩, তদন্তে বোমা নাকি পরিত্যক্ত বিস্ফোরক?

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন :  বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলার একটি বাড়ির পাশে নির্মাণকাজের জন্য রাখা বালুভর্তি বস্তায় হঠাৎ বিস্ফোরণের ঘটনায় একই পরিবারের তিনজন দগ্ধ হওয়ার পর স্থানীয়দের পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সামনেও বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে—বালুর বস্তার ভেতরে বিস্ফোরকটি এলো কীভাবে? সোমবার (৩ আগস্ট) সকালে উপজেলার ভরপাশা ইউনিয়নের দুধলমৌ গ্রামে শাহ আলম হাওলাদারের বাড়িতে ঘটে এ ঘটনা। এতে দগ্ধ হন শাহ আলমের স্ত্রী হনুফা বেগম (৫০), মেয়ে ইতি আক্তার (২০) এবং নাতি ফাহিম হাওলাদার (১৪)। প্রথমে তাদের বাকেরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, পরে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। অবস্থার অবনতি হলে সন্ধ্যায় ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে পাঠানো হয়। তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা এখনও নিশ্চিত নন, এটি ককটেল, হাতবোমা নাকি অন্য কোনো বিস্ফোরক ছিল। ঘটনাস্থল থেকে আলামত সংগ্রহ করা হয়েছে এবং ঢাকার বোম ডিসপোজাল ইউনিটকে তদন্তে যুক্ত করা হয়েছে। ঘটনাস্থলে কী ঘটেছিল? স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য অনুযায়ী, সকাল ৭টার দিকে হনুফা বেগম নাতি ফাহিমকে স্থানীয় বিদ্যালয়ে নিয়ে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। সঙ্গে ছিলেন মেয়ে ইতি আক্তারও। ঠিক সেই সময় ঘরের পাশে রাখা বালুভর্তি একটি বস্তা থেকে বিকট শব্দে বিস্ফোরণ ঘটে। বিস্ফোরণের সঙ্গে সঙ্গে আগুন ছড়িয়ে পড়ে তিনজনের শরীরে। প্রাণ বাঁচাতে তারা বাড়ির পাশের তুলাতলা নদীতে ঝাঁপ দেন। পরে স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান। বিস্ফোরণের শব্দে পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পুলিশ ঘটনাস্থল ঘিরে ফেলে এবং আশপাশের লোকজনের বক্তব্য সংগ্রহ শুরু করে। সবচেয়ে বড় প্রশ্ন: বালুর বস্তায় বিস্ফোরক এলো কোথা থেকে? ঘটনার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হচ্ছে, বিস্ফোরকটি কীভাবে নির্মাণকাজের জন্য রাখা বালুর বস্তার ভেতরে গেল। পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, বিস্ফোরকটি আগে থেকেই বালুর সঙ্গে ছিল অথবা কেউ ইচ্ছাকৃতভাবে সেখানে লুকিয়ে রেখেছিল। তদন্তকারীরা কয়েকটি সম্ভাবনা খতিয়ে দেখছেন— নির্মাণকাজে আনা বালুর সঙ্গে পরিত্যক্ত বিস্ফোরক চলে এসেছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজর এড়াতে কেউ বালুর মধ্যে বিস্ফোরক লুকিয়ে রেখেছিল। ব্যক্তিগত শত্রুতা বা নাশকতার উদ্দেশ্যে কেউ বস্তার মধ্যে বিস্ফোরক রেখে যেতে পারে। এটি দীর্ঘদিনের পরিত্যক্ত ককটেল বা হাতবোমা হতে পারে, যা নড়াচড়ার সময় বিস্ফোরিত হয়েছে। তবে এসবই এখন পর্যন্ত প্রাথমিক অনুমান। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত কোনো সম্ভাবনাকেই নিশ্চিত বলে বিবেচনা করছে না পুলিশ। পরিবারের দাবি শাহ আলম হাওলাদারের ছেলে জামাল হোসেন বলেন, পরিবারের কেউ জানেন না বালুর বস্তার ভেতরে কীভাবে বিস্ফোরক গেল। তার ভাষায়, সকালে বিস্ফোরণের পর মুহূর্তেই আগুন ধরে যায়। পরিবারের সদস্যরা প্রাণ বাঁচাতে নদীতে ঝাঁপ দেন। পরে স্থানীয়রা উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান। তিনি বলেন, তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য বেরিয়ে আসুক—এটাই তাদের প্রত্যাশা। চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণ বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল সূত্র জানিয়েছে, আহতদের শরীরের বিভিন্ন অংশ, বিশেষ করে হাত, পা ও মুখ মারাত্মকভাবে ঝলসে গেছে। দুই নারীকে মহিলা সার্জারি ওয়ার্ডে স্থানান্তর করা হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য তিনজনকেই ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। তদন্তে যেসব সংস্থা ঘটনার পরপরই ঘটনাস্থলে যায়— জেলা পুলিশ গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) র‍্যাব পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল থেকে আলামত সংগ্রহ করা হয়েছে এবং আশপাশে থাকা অন্যান্য বালুর বস্তাও পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। পুলিশের বক্তব্য বাকেরগঞ্জ থানার ওসি আদিল হোসেন বলেছেন, বিস্ফোরকটির ধরন এবং এর সঙ্গে কারা জড়িত—তা তদন্ত শেষে নিশ্চিত হওয়া যাবে। থানার এসআই হাবিবুর রহমান জানান, প্রাথমিকভাবে এটি পরিত্যক্ত ককটেল বা হাতবোমা হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। অন্যদিকে বরিশালের পুলিশ সুপার এ জেড এম মুস্তাফিজুর রহমান বলেন, এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি এটি কী ধরনের বিস্ফোরক ছিল। বোম ডিসপোজাল ইউনিট ঘটনাস্থল পরীক্ষা করার পর বিষয়টি পরিষ্কার হবে। তিনি আরও বলেন, ঘটনাটির পেছনে নাশকতা, ব্যক্তিগত শত্রুতা বা অন্য কোনো উদ্দেশ্য রয়েছে কিনা, সেটিও তদন্তে গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্তে যেসব প্রশ্নের উত্তর এখনও মেলেনি বিস্ফোরকটি আসলে কী ধরনের ছিল? এটি বালুর সঙ্গে এসেছিল, নাকি পরে সেখানে রাখা হয়েছিল? বিস্ফোরকটি কতদিন ধরে সেখানে ছিল? এটি দুর্ঘটনা, নাকি পরিকল্পিত নাশকতা? অন্য বালুর বস্তাগুলোতেও কোনো বিস্ফোরক রয়েছে কি? এই প্রশ্নগুলোর উত্তর মিলবে বোম ডিসপোজাল ইউনিটের পরীক্ষা, ফরেনসিক বিশ্লেষণ এবং পুলিশের তদন্ত শেষে।   একটি সাধারণ নির্মাণসামগ্রীর বস্তা থেকে বিস্ফোরণের ঘটনা স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি করেছে। এখন পর্যন্ত কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছায়নি তদন্তকারী সংস্থাগুলো। ফলে বিস্ফোরকটির উৎস, উদ্দেশ্য এবং দায়ী ব্যক্তিদের পরিচয় জানতে তদন্তের ফলাফলের অপেক্ষাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

নিজস্ব প্রতিবেদক আগস্ট ৩, ২০২৬ 0

কাঁচা মরিচের দাম ১৫০ থেকে ৩৫০ টাকা: আমদানির ঘোষণায় কমার ইঙ্গিত, তবু স্বস্তিতে নেই ক্রেতারা

প্রথম শ্রেণিতে ফিরল লটারি, বাকি শ্রেণিতে পরীক্ষা বহাল

সম্পত্তি দান করলেও আজীবন ভোগাধিকার থাকবে দাতার, আইনের সংশোধনীতে চূড়ান্ত অনুমোদন

অর্থনীতি

ইসলামী ব্যাংক,

ইসলামী ব্যাংকে আস্থা সংকট কেন কাটছে না?: দেশের বৃহত্তম শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংককে ঘিরে নতুন প্রশ্ন

নিজস্ব প্রতিবেদক জুন ২২, ২০২৬ 0




অপরাধ

ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো

ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকোর বিরুদ্ধে ৩০ বিলিয়ন ডলার জালিয়াতি ও অর্থপাচার অভিযোগে দুদকের অনুসন্ধান

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ২৪, ২০২৬ 0




কৃষি ও জলবায়ু

ধান

শেরপুরে বোরো ধানের দাম কমে লোকসানে কৃষকরা, উৎপাদন খরচও উঠছে না

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ৬, ২০২৬ 0