ইত্তেহাদ নিউজ ডেস্ক : বিশ্ব বাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শিরা—হরমুজ প্রণালি—এখন কার্যত অবরুদ্ধ। মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা, বিশেষ করে ইরান–ইসরায়েল সংঘাত এবং যুক্তরাষ্ট্র-এর ভূমিকা নিয়ে অনিশ্চয়তা এই সংকটকে বহুমাত্রিক করে তুলেছে। জাতিসংঘের বাণিজ্য সংস্থা ইউএনসিটিএডি-এর সাম্প্রতিক মূল্যায়ন বলছে—এটি শুধু আঞ্চলিক নিরাপত্তা সংকট নয়, বরং বিশ্ব অর্থনীতির জন্য একটি “সিস্টেমিক শক”। জাহাজ চলাচল: এক মাসে ৯৫% পতন ফেব্রুয়ারিতে যেখানে প্রতিদিন প্রায় ১৩০টি জাহাজ এই প্রণালি অতিক্রম করত, মার্চে তা নেমে এসেছে মাত্র ৬টিতে। এটি শুধু পরিসংখ্যান নয়—এটি বিশ্ব সরবরাহ ব্যবস্থার ভেঙে পড়ার স্পষ্ট ইঙ্গিত। তেল ও গ্যাস সরবরাহে সরাসরি ধাক্কা বিকল্প রুটে পরিবহন খরচ বৃদ্ধি বন্দর, বিমান কার্গো ও লজিস্টিকসে চেইন-রিঅ্যাকশন কেন এত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ? পারস্য উপসাগরকে বিশ্ব মহাসাগরের সঙ্গে যুক্ত করা এই সরু জলপথ দিয়ে বিশ্বের মোট তেলের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ পরিবাহিত হয়। অর্থাৎ, এখানে বাধা মানে— ইউরোপে জ্বালানি সংকট দক্ষিণ এশিয়ায় আমদানি ব্যয় বৃদ্ধি বৈশ্বিক বাজারে মূল্যস্ফীতি সংঘাতের কেন্দ্রবিন্দু: সামরিক ঝুঁকি বনাম কূটনৈতিক অচলাবস্থা প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরান ড্রোন, মাইন ও ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে বাণিজ্যিক জাহাজকে লক্ষ্যবস্তু করছে। ফলে: কোনো দেশ সরাসরি সামরিক হস্তক্ষেপে এগোতে চাইছে না বীমা প্রিমিয়াম ও ঝুঁকি ব্যয় আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক শিপিং কোম্পানিগুলো রুট এড়িয়ে যাচ্ছে কূটনৈতিক উদ্যোগ: লন্ডনের বৈঠক কিয়ার স্টারমার-এর উদ্যোগে যুক্তরাজ্য একটি জরুরি বৈঠক ডেকেছে, যেখানে প্রায় ৩৫টি দেশ অংশ নিচ্ছে। সভাপতিত্ব করবেন ইভেট কুপার। আলোচনার মূল বিষয়: নৌ চলাচলের স্বাধীনতা পুনরুদ্ধার আটকে পড়া জাহাজ ও নাবিকদের নিরাপত্তা জরুরি পণ্য সরবরাহ পুনরায় চালু যুক্তরাষ্ট্রের অনুপস্থিতি: নতুন ভূ-রাজনৈতিক বার্তা সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ বিষয়—এই বৈঠকে অংশ নিচ্ছে না যুক্তরাষ্ট্র। ডোনাল্ড ট্রাম্প স্পষ্ট বলেছেন: “এই পথের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা আমেরিকার কাজ নয়।” এই অবস্থান: ন্যাটোর ভেতরে বিভাজন বাড়াচ্ছে ইউরোপকে স্বনির্ভর নিরাপত্তার দিকে ঠেলে দিচ্ছে বৈশ্বিক নেতৃত্বে শূন্যতা তৈরি করছে ইউরোপের প্রতিক্রিয়া: বলপ্রয়োগ নয়, সমন্বয় ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ সরাসরি ট্রাম্পের সমালোচনা করে বলেছেন: বলপ্রয়োগে সমাধান “বাস্তবসম্মত নয়” নৌবাহিনী সরাসরি হামলার ঝুঁকিতে পড়বে যুদ্ধবিরতির পর ইরানের সঙ্গে সমঝোতাই একমাত্র পথ অর্থনৈতিক অভিঘাত: সামনে কী আসছে? ইউএনসিটিএডি সতর্ক করেছে: সম্ভাব্য ঝুঁকি দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি মূল্য বৃদ্ধি স্থায়ী বৈশ্বিক মুদ্রাস্ফীতি উৎপাদন খরচ বৃদ্ধি → পণ্যের দাম বাড়বে উন্নয়নশীল দেশগুলোতে বৈদেশিক মুদ্রার চাপ সবচেয়ে ঝুঁকিতে দক্ষিণ এশিয়া ইউরোপ ভবিষ্যৎ চিত্র: তিনটি সম্ভাব্য দৃশ্য ১. দ্রুত কূটনৈতিক সমাধান জাহাজ চলাচল ধীরে ধীরে পুনরুদ্ধার বাজারে স্বস্তি ২. দীর্ঘস্থায়ী অচলাবস্থা তেলের দাম দীর্ঘ সময় উচ্চ থাকবে বৈশ্বিক মন্দার ঝুঁকি ৩. সামরিক সংঘাত বিস্তার সরাসরি যুদ্ধ → বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থার ধস হরমুজ প্রণালীর এই সংকট এখন কেবল একটি আঞ্চলিক সমস্যা নয়—এটি বিশ্ব অর্থনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে আঘাত হানা এক বহুমাত্রিক সংকট। কূটনীতি, সামরিক কৌশল এবং বৈশ্বিক সহযোগিতা—এই তিনের সূক্ষ্ম ভারসাম্যের ওপর নির্ভর করছে পরিস্থিতির ভবিষ্যৎ। এই মুহূর্তে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন: বিশ্ব কি সংঘাতের পথে এগোবে, নাকি সমন্বিত কূটনীতির মাধ্যমে এই শিরা আবার সচল হবে?
সংযুক্ত আরব আমিরাত মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলের আরব উপদ্বীপের দক্ষিণ-পূর্ব কোনায় অবস্থিত সাতটি স্বাধীন প্রদেশের একটি সংগঠন। একসময় এই প্রদেশগুলো চুক্তিবদ্ধ রাষ্ট্র বা ট্রুসিয়াল স্টেটস নামে পরিচিত ছিল।পরবর্তীতে ১৯৭২ সালে প্রদেশগুলোর নিজস্ব স্বাধীনতা ও স্বকীয়তা লাভ করে। তবে এখনও প্রদেশগুলো একটি কেন্দ্রীয় শাসনের আওতাভুক্ত রয়েছে। দেশটির কেন্দ্রীয় শাসনকর্তার পদবী আমির। আরব আমিরাতের মোট আয়তন ৮৩,৬০০ বর্গ কিলোমিটার বা ৩২,৩০০ বর্গ মাইল। ২০১৭ সালের হিসেব অনুযায়ী আরব আমিরাত এর আনুমানিক জনসংখ্যা ৯,৪০০,০০০। সংযুক্ত আরব আমিরাত এর রাজধানীর নাম আবুধাবি এবং দেশটির বৃহত্তম শহর দুবাই। সংযুক্ত আরব আমিরাত এর সাতটি প্রদেশ এর নাম হলো: আবু ধাবি, আজমান, দুবাই, আল ফুজাইরাহ, রাআস আল খাইমাহ, আশ শারজাহ্ এবং উম্ম আল ক্বাইওয়াইন। আরব আমিরাত এ প্রচলিত মুদ্রার নাম আমিরাতি দিরহাম।এশিয়া মহাদেশে অবস্থিত ব্যতিক্রমধর্মী এই দেশটি পুরোপুরি মুসলমান অধ্যুষিত এলাকা। এই দেশের শিল্প, সংস্কৃতি, নাগরিকের জীবনব্যবস্থা সব কিছুর সাথেই ইসলামিক কালচার পুরোপুরি জড়িত। এই দেশটি বিশ্বের অন্যতম বিলাসবহুল দেশ বলে বিবেচিত। আরব আমিরাতে আছে বিশ্বের উচ্চতম স্থাপনাগুলো, যা পুরো বিশ্বের সকলকে তাক লাগিয়ে দিয়েছে। আরব আমিরাত এর ভৌগোলিক অবস্থান: সংযুক্ত আরব আমিরাত এশিয়া মহাদেশের মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলে অবস্থিত একটি দেশ। এটি পুরোপুরি একটি মরুভূমি রাষ্ট্র। মধ্য প্রাচ্য ও দক্ষিণ-পশ্চিম এশিয়ায় ওমান উপসাগর ও পারস্য উপসাগরের সীমানায় সংযুক্ত আরব আমিরাত অবস্থিত। ওমান ও সৌদি আরবের মধ্যবর্তী স্থানে দেশটি অবস্থান করছে। দেশটির মোট আয়তনের পুরোটাই স্থলভাগ, তবে খুবই সামান্য পরিমানে জলাভূমি রয়েছে। আরব আমিরাত এর পশ্চিমে কাতারের সাথে সীমানা রয়েছে। পশ্চিম, দক্ষিণ এবং দক্ষিণ-পূর্বে সৌদি আরবের সাথে আন্তর্জাতিক সীমানা বিদ্যমান। অন্যদিকে দক্ষিণ-পূর্ব ও উত্তরপূর্বে ওমানের সাথে আরব আমিরাত এর আন্তর্জাতিক সীমানা রয়েছে। তবে সৌদি আরবের সাথে আরব আমিরাত এর সীমানা নিয়ে এখনও বিভিন্ন মতবিরোধ রয়েছে। ফলে দেশটির সঠিক আয়তন নির্ণয় করাটা সহজসাধ্য নয়। সংযুক্ত আরব আমিরাত এর ইতিহাস : ১,২৭,০০০ বছর আগে সংযুক্ত আরব আমিরাতে প্রথম আফ্রিকার মানুষের বসতি স্থাপন করার নিদর্শন পাওয়া যায়। তবে বিরূপ আবহাওয়ার কারনে এবং পর্যাপ্ত প্রাকৃতিক সম্পদের অভাবে এই অঞ্চলগুলোতে কোনো জনপদই বেশিদিন স্থায়ী হতে পারেনি। এই অঞ্চলের বেশিরভাগ লোকজনই তাবু খাটিয়ে বসতি নির্মাণ করে থাকতো। ঘরবাড়ি তৈরি হলেও তা হতো খুবই সাধারণ মানের। এখানকার জনগণ সব ধরনের সুযোগ সুবিধা থেকে বঞ্চিত হয়ে একদমই মানবেতর জীবনযাপন করতো। ১৯৫৮ সালে এই অঞ্চলে আমেরিকান শাসন আমল শুরু তবে তখন প্রতিটি প্রদেশই একটি আরেকটির থেকে বিচ্ছিন্ন ছিল এবং আমেরিকান আইনের আওতাধীন ছিল। পরবর্তীতে আমেরিকান শাসক গোষ্ঠীর এই অঞ্চল ছেড়ে চলে যাওয়ার বিষয়টি উত্থাপিত হলে প্রদেশগুলোর একত্রিত হয়ে নতুন একটি সার্বভৌম রাষ্ট্র গড়ে তোলার সিদ্ধান্ত নেয়। অবশেষে ১৯৭১ সালের ২রা ডিসেম্বর ব্রিটিশ শাশনামলের অবসান ঘটে এবং আলাদা আলাদা সাতটি প্রদেশ একত্রিত হয়ে গঠিত হয় সংযুক্ত আরব আমিরাত। এটি বর্তমানে বিশ্ব দরবারেএকটি স্বাধীন ও সার্বভোম ও উন্নত রাষ্ট্র হিসেবে পরিচিত। সংযুক্ত আরব আমিরাত এর জাতীয় পতাকা সংযুক্ত আরব আমিরাত এর পতাকায় চারটি রঙ রয়েছে।যথা: লাল, সাদা, সবুজ এবং কালো। পতাকা দন্ডের দিকে একটি উলম্ব লাল অংশ এবং পুরো পতাকা সবুজ, সাদা এবং কালো অনুভূমিক ডোরা দিয়ে নকশা করা হয়েছে। আরব আমিরাত এর জাতীয় পতাকার বৈচিত্র্যময় এই রঙ দিয়ে আলাদা আলাদা প্রদেশের মধ্যে ঐক্য ও মেলবন্ধনকে তুলে ধরা হয়েছে। পতাকাটির দৈর্ঘ্য ও প্রস্থের অনুপাত ২:১। আরব আমিরাত এর জাতীয় পতাকা নকশা করেন মোহাম্মদ আল মাইনাহ এবং তখন তার বয়স ছিল মাত্র ১৯ বছর।১৯৭১ সালের ২ ডিসেম্বর সংযুক্ত আরব আমিরাত এর পতাকার নকশা গ্রহণ করা হয়। আরব আমিরাত এর প্রচলিত ভাষা: সংযুক্ত আরব আমিরাত এর সরকারি ভাবে ব্যবহৃত ভাষা আরবি। পাঠ্যপুস্তক, খবরের কাগজ, ম্যাগাজিন থেকে শুরু করে সরকারি গুরুত্বপূর্ণ সব ধরনের নথিপত্র এবং অনলাইন মাধ্যমে সব যোগাযোগ আরবি ভাষায় পরিচালিত হয়।শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মার্জিত ভাষাও আরবি। তবে প্রধান শহরগুলো বাদে আসেপাশের ছোটখাটো অঞ্চলগুলোতে অন্যান্য ভাষাভাষী লোকজনও বসবাস করে। সংযুক্ত আরব আমিরাতে আরবি ভাষার পাশাপাশি ইংরেজি, হিন্দি, মলয়ালম, উর্দু ও ফিলিপিনো ভাষা প্রচলিত আছে৷ আরব আমিরাতে বসবাসকারী নাগরিকদের ধর্ম: সংযুক্ত আরব আমিরাত একটি মুসলিম প্রধান দেশ। সরকারি ভাবে ইসলামকে জাতীয় ধর্ম হিসেবে ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। দেশের অধিকাংশ লোকজন ইসলাম ধর্মের অনুসারী এবং তাদের জীবনধারার সাথে ইসলামিক সংস্কৃতি সম্পূর্ণ মিশে আছে। ইসলাম ধর্ম ছাড়াও দেশটিতে অল্প কিছু সংখ্যক হিন্দু, খ্রিষ্টান, বৌদ্ধ ও অন্যান্য ধর্মাবলম্বীর লোকজন রয়েছে। সংযুক্ত আরব আমিরাত এর মোট জনসংখ্যার শতকরা ৭৬ শতাংশ মুসলিম সম্প্রদায়ের লোকজন । শতকরা ৯ শতাংশ জনগণ খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বীর, শতকরা ৮ শতাংশ হিন্দু ধর্মাবলম্বীর এবং বাকি শতকরা ৭ শতাংশ লোকজন বৌদ্ধ ও অন্যান্য ধর্মের অনুসারী। সংযুক্ত আরব আমিরাত এর অর্থনীতি: বিশ্বের ধনী দেশগুলোর মধ্যে সংযুক্ত আরব আমিরাত একটি। আরব আমিরাত এর অর্থনীতির মূল চাকা সচল রেখেছে খনিজ তেল। ৭০ বছর আগে আরব আমিরাতে তেলের সন্ধান মিললে দেশটির অর্থনৈতিক অবস্থার উন্নতি ঘটে অল্প সময়ের মধ্যেই। বর্তমানে আরব আমিরাত এর নাগরিকদের মাথাপিছু আয় প্রায় ৪৫,৭১৬ মার্কিন ডলার। সেই হিসেবে দেশটি নিঃসন্দেহে একটি ধনী রাষ্ট্র হিসেবে নিজের পরিচয় দিতে পারে। তেল ছাড়াও সেবা খাত, শিল্প খাত ও পর্যটন খাতেও আরব আমিরাত এর অর্থনীতি নির্ভরশীল। আরব আমিরাত এর অর্থনীতিতে কৃষিখাতেরও সামান্য অবদান রয়েছে। বিশ্বের আশ্চর্যমন্ডিত স্থাপনাগুলোর বেশ কিছু এই দেশে অবস্থিত,ফলে প্রতিবছর অসংখ্য পর্যটক এই দেশে ভ্রমনের উদ্যেশ্যে আসে। এই পর্যটন কেন্দ্র গুলো আরব আমিরাত এর অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। আমদানি রপ্তানির ক্ষেত্রে আরব আমিরাতে একদমই রমরমা পরিবেশ বিদ্যমান । মূলত চীন, আমেরিকা ও ভারত থেকে দেশটির প্রধান আমদানি পন্যগুলো আসে৷ অন্যদিকে আরব আমিরাত এর সাথে রপ্তানি খাতে সরাসরি সম্পর্কযুক্ত দেশ হলো ভারত, ইরান ও জাপান। তবে খনিজ তেলের কারনে বিশ্বমঞ্চে আরব আমিরাত নিজের পরিচিতি তুলে ধরতে সক্ষম হয়েছে এবং অর্থনৈতিক ভাবে সফলতার শীর্ষে পৌছাতে পেরেছে। আরব আমিরাত এর আবহাওয়া ও জলবায়ু: সংযুক্ত আরব আমিরাতে একটি শুষ্ক মরুভূমির জলবায়ু রয়েছে। এই দেশে প্রধানত দুইটি ঋতুর আনাগোনা লক্ষ করা যায়। একটি শীত ঋতু এবং অন্যটি গ্রীষ্ম ঋতু। তবে তুলনামূলকভাবে বছরের বেশিরভাগ সময় জুড়েই গ্রীষ্ম ঋতুর উপস্থিতি লক্ষ করা যায়। ডিসেম্বর থেকে মার্চ মাস পর্যন্ত আরব আমিরাতে শীত ঋতু বিদ্যমান থাকে। শীতের এই সময়টাতে দেশটির গড় তাপমাত্রা থাকে ১৫ থেকে ২৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। বছরের বাকি সময়টা থাকে পুরোপুরি গ্রীষ্মকাল। গ্রীষ্মকালে আরব আমিরাত এর গড় তাপমাত্রা থাকে ৩৫ থেকে ৪৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। কখনও কখনও আরও বেশি তাপমাত্রা লক্ষ করা যায়। শুষ্ক মৌসুমে প্রায়ই এখানে বালুর ঝড় হয়। মৌসুমি বাতাস মরুভূমির বালু উড়িয়ে নিয়ে এসে লোকালয়ে প্রবেশ করে। দেশটিতে খুব সামান্য পরিমাণে বৃষ্টিপাত হতে দেখা যায়। দেশটির বার্ষিক বৃষ্টিপাত এর মাত্রা ১০০ মিমি এরও কম। সাধারণত শুষ্ক আবহাওয়াই দেশটির জলবায়ুর মূল বৈশিষ্ট্য। আরব আমিরাত এর সংস্কৃতি: আরব আমিরাত এর সংস্কৃতিতে পুরোপুরি আরবি সংস্কৃতির প্রতিফলন ঘটেছে। তবে আরবি সংস্কৃতির পাশাপাশি পারস্য সংস্কৃতির, পূর্ব আফ্রিকা এবং ভারতীয় উপমহাদেশের সংস্কৃতির প্রভাবও আমিরাতি সংস্কৃতিতে লক্ষ করা যায়। ইসলামিক রীতিনীতি ও কালচার খুব কঠোরভাবে মেনে চলা হয় এই দেশটিতে। তাইতো সংযুক্ত আরব আমিরাত ইসলামিক সংস্কৃতির রাজধানী নামেও পরিচিত। দেশটির স্থানীয় স্থাপত্য, সঙ্গীত, পোশাক, রন্ধনপ্রণালী এবং জীবনধারায় পুরোপুরি ইসলামিক কালচার এর প্রভাব রয়েছে। আরব আমিরাত এর নাগরিকদের মধ্যে বেশ মিশুকে স্বভাব লক্ষ করা যায়। যে কোনো মজলিসে প্রবেশের সময় আগত মেহমানগন ডানদিক থেকে সকল অতিথিদের সালাম দিয়ে প্রবেশ করে। মজলিসের শুরুতেই বিশেষ এক ধরনের আমিরাতি কফি পরিবেশন করা হয়। এবং পরিবেশনের ক্ষেত্রেও ডানদিক থেকে শুরু করে ঘরের বা দিকে চলে যেতে দেখা যায়। তবে মুরুব্বি এবং সম্মানিত ব্যক্তিদেরকে আগে প্রাধান্য দেয়া হয়। আরব আমিরাত এর সাধারণ মানুষ এই অঞ্চলের ঐতিহ্যবাহী কান্দুরা এবং আবায়া পড়তে ভালোবাসেন। তবে সবধরনের পোশাকই এমন ভাবে তৈরি করা হয় যাতে পুরো শরীরে আবৃত থাকে। এতে ইসলামিক পোশাকের নিয়মও কক্ষা করা হয় এবং উত্তপ্ত আবহাওয়া থেকেও ত্বকও আরাম পায়। বিয়ের পরে আমিরাতের মহিলারা তার পরিবারের পরিচয়ই বহন করে এবং ছেলে মেয়েরা তাদের বাবার পরিচয়ে পরিচিত হয়। আরব আমিরাত এর নাগরিকদের খাদ্যাভ্যাস: আরব আমিরাত এর নাগরিকদের প্রধান খাদ্য উপাদান হলো ভাত,মাছ, মাংস, রুটি এবং সবজি। তবে ইসলামে হারাম বা নিষিদ্ধ করা হয়েছে এমন পশুর মাংস খাওয়ার প্রচলন একদমই নেই বললেই চলে। আরব আমিরাতে সাধারণত মাটন এবং ভেড়ার মাংস খাওয়ার প্রচলন সবথেকে বেশি। এছাড়াও সামুদ্রিক মাছ ও সবজি এদেশের খাদ্য তালিকায় জনপ্রিয়তার শীর্ষে। প্রধান খাবার হিসেবে বেশিরভাগ সময়েই সুগন্ধি চালের সাথে মাংসের সংমিশ্রণে রান্না করা খাবার খেতে দেখা যায়। আর প্রতিদিনের খাবার তালিকায় খেজুর তো থাকবেই। আমিরাতের জনপ্রিয় পানীয় হলো কফি এবং চা, যা এলাচ, জাফরান বা পুদিনা পাতা দিয়ে বিশেষভাবে প্রস্তুত করা হয়। আরব আমিরাত এর জনপ্রিয় খাবার: ১. আল জাবাব রুটি ২. বালালেত ৩.বাথিথ ৪.হারিস ৫.জামি ৬.জাশেদ ৭.কাবসা ৮.খবিস ৯. খানফ্রুশ ১০.খামির রুটি ১১.মাচবুস ১২. মাদ্রুব ১৩. মার্কাউকা ১৪.মাকলুবা ১৫. মুহলা রুটি ১৬ কুজি ১৭.সালোনা ১৮.থারিদ ১৮ ওয়াগাফি রুটি ১৯.উটের দুধ ২০. লাবান ২১.আরবি কফি ২২.আরবি চা (ইত্যাদি) সংযুক্ত আরব আমিরাত এর আমিরাত সমূহ এবং এদের দর্শনীয় স্থান: মোট সাতটি প্রদেশ নিয়ে গঠিত সংযুক্ত আরব আমিরাত এর প্রতিটি প্রদেশেই আছে জনপ্রিয় বেশ কিছু দর্শনীয় স্থান। পৃথিবীর সবথেকে উঁচু স্থাপনা বুর্জ খলিফাও সংযুক্ত আরব আমিরাতে অবস্থিত। এছাড়াও সামুদ্র সৈকত, মরুভূমির উদ্যান, পাহাড় সহ আরও অনেক আকর্ষণীয় বিষয় আছে এই দেশে পরিদর্শন করার জন্য। আবুধাবির দর্শনীয় স্থান – ১. লুভর মিউজিয়াম আবুধাবির সবথেকে জনপ্রিয় দর্শনীয় স্থান লুভর মিউজিয়াম। এই জাদুঘরে নিওলিথিক যুগ থেকে শুরু করে বর্তমান পর্যন্ত সকল সভ্যতার প্রাচীন নিদর্শন এর এক বিশাল সংগ্রহ রয়েছে। জাদুঘরটিতে মোট ১২ টি গ্যালারির একটি স্থায়ী প্রদর্শনী তো রয়েছেই তার পাশাপাশি প্রতি বছর বিভিন্ন অকেশনে আরও জমকালো ভাবে প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়। ২. শেখ জায়েদ মসজিদ সংযুক্ত আরব আমিরাত এর সবথেকে বড় মসজিদ শেখ জায়েদ মসজিদ। এই মসজিদে একসাথে চল্লিশ হাজার মুসুল্লি জামাতে নামাজ আদায় করতে পারবে। অসাধারণ নির্মাণশৈলী মসজিদটিকে এতো বেশি জনপ্রিয় করে তুলেছে। ৩. ফেরারি ওয়ার্ল্ড থিম পার্ক আবুধাবির ইয়াস দ্বীপে অবস্থিত একটি জনপ্রিয় থিম পার্ক ফেরারি ওয়ার্ল্ড থিম পার্ক। ড্রাইভিং পছন্দ করে এমন টুরিস্টদের জন্য একদম উপযুক্ত একটি পর্যটন কেন্দ্র এটি। ৪. আল হোসন ফোর্ট আল হোসন ফোর্ট আবুধাবির হামদান বিন মোহাম্মদ স্ট্রিটে অবস্থিত একটি গুরুত্বপূর্ণ ইতিহাসিক নিদর্শন। আরব আমিরাত এর প্রাচীন জনপদের বিভিন্ন নিদর্শন এই ভবনে সংরক্ষিত আছে। ৫. ফ্যালকন হাসপাতাল আবুধাবির অফ সোয়েহান রোডে অবস্থিত ফ্যালকন হাসপাতাল একটি পশুচিকিৎসা হাসপাতাল। এখানে বিভিন্ন প্রজাতির পশুপাখি সহ হাসপাতাল সংলগ্ন জাদুঘর পরিদর্শন করতে পারবেন। আজমান এর দর্শনীয় স্থান ১. ইতিসালাত টাওয়ার ইতিসালাত টাওয়ার হলো ১৭ তলা বিশিষ্ট একটি বিলাসবহুল ভবন। এখানে আধুনিক সুযোগ সুবিধা সহ থাকার অভিজ্ঞতা ও বিলাসবহুল শহরের সৌন্দর্য উপভোগ করার সুযোগ পাবেন। ২. আজমান ধো ইয়ার্ড এখানে প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করার পাশাপাশি ব্যোটিং এর চমৎকার অভিজ্ঞতা অর্জন করতে পারবেন। ৩. আজমান জাতীয় জাদুঘর ১৮ শতকে নির্মিত ভাবনটিতে শহরের প্রাচীন নিদর্শন গুলো দেখতে পাবেন৷ একজন ইতিহাস প্রেমীর জন্য আজমান জাতীয় জাদুঘর খুবই উপযুক্ত একটি দর্শনীয় স্থান। ৪. আল জোরাহ ন্যাচারাল রিজার্ভ এই স্পটে অবস্থানকালে আপনি কিছুসময়ের জন্য ভুলে যেতে বাধ্য হবেন যে আপনি মরুভূমিতে আছেন। অসাধারণ প্রাকৃতিক পরিবেশের সাথে প্রায় ৬০ প্রজাতির পাখির দেখা মিলবে এখানে। ৫. আল মুরাব্বা ওয়াচটাওয়ার এটি আজমান শহরের একটি জনপ্রিয় ঐতিহাসিক নিদর্শন। ১৯৩০ এর দশকে শহরের নিরাপত্তার জন্য এই স্থাপনাটি নির্মাণ করা হয়েছিল। দুবাই এর দর্শনীয় স্থান – ১. বুর্জ খলিফা দুবাই শহরের সবথেকে জনপ্রিয় দর্শনীয় স্থান বুর্জ খলিফা।এটি পৃথিবীর সবথেকে উঁচু ভবন। শহরের যে কোনো প্রান্ত থেকে বুর্জ খলিফার দেখা মিলবে। ২. বুর্জ আল আরাব পৃথিবীর সবথেকে বিলাসবহুল হোটেল ও রেস্তোরাঁর সন্ধান চাইলে চলে যেতে হবে বুর্জ আল আরাবে এটি নৌকার পালের মতো দেখতে একটি ভবন যা একটি দ্বীপের ওপর নির্মিত। ৩. মিরাকল গার্ডেন পৃথিবীর সবথেকে সুন্দর প্রাকৃতিক ফুলের বাগান মিরাকল গার্ডেন, যা একেক ঋতুতে একেক রঙের ফুলে নিজেকে রাঙিয়ে নেয়। ৪. অ্যাকোয়াভেঞ্চার ওয়াটারপার্ক দুবাইয়ের পাম জুমেইরাহ এর ক্রিসেন্ট রোডে অবস্থিত একটি চমৎকার ওয়াটার পার্ক অ্যাকোয়াভেঞ্চার ওয়াটারপার্ক। ৫.দুবাই ডেজার্ট কনজারভেশন রিজার্ভ মরুভূমির টিলা এবং খাদে ট্রেকিং এর এক চমৎকার অভিজ্ঞতা অর্জন করতে চাইলে চলে যেতে হবে দুবাই ডেজার্ট কনজারভেশন রিজার্ভে। আল ফুজাইরাহ এর দর্শনীয় স্থান ১. ফুজাইরাহ ফোর্ট ফুজাইরাহ ফোর্ট সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রাচীনতম দুর্গ হিসাবে বিবেচিত। এটি একটি মাটির ইটের তৈরি প্রাচীন ভবন। ২. স্নুপি দ্বীপ স্নুপি দ্বীপে চমৎকার সমুদ্র সৈকতের সৌন্দর্য উপভোগের পাশাপাশি ডাইভিং এবং সুইমিং এর অভিজ্ঞতা অর্জন করতে পারবেন। চাইলে দ্বীপের বিভিন্ন রিসোর্ট ও ভিলা গুলোতে রাত্রিযাপন করতে পারবেন। ৩. আল বিদিয়া মসজিদ শহরের প্রাচীন মসজিদ গুলোর মধ্যে অন্যতম আল বিদিয়া মসজিদ যা অটোমান মসজিদ নামেও পরিচিত। মসজিদটির আশেপাশে আরও অনেকগুলো প্রাচীন ভবন ও চারটি ওয়াচ-টাওয়ার রয়েছে। ৪. বিথনাহ দুর্গ ফুজাইরাহ শহর থেকে ১৩ কিমি দূরে প্রধান মহাসড়কের পাশে অবস্থিত বিথনাহ দুর্গ ফুজাইরাহ এর আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক নিদর্শন। ৫. কালবা কর্নিচ পার্ক পরিবার পরিজন নিয়ে পিকনিক অথবা বারবিকিউ পার্টি করার জন্য একটি আদর্শ স্পষ্ট কালবা কর্নিচ পার্ক। শিশুদের খেলার জন্য সুন্দর মাঠ ও বসার জন্য উপযুক্ত জায়গা রয়েছে পার্কটিতে। রাআস আল খাইমাহ এর দর্শনীয় স্থান – ১. জেবেল জাইস সংযুক্ত আরব আমিরাতের সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গ জেবেল জাইস। এই পাহাড়চূড়া থেকে সূর্যোদয় এবং সূর্যাস্তের দারুণ দৃশ্য উপভোগ করা যায়। ২. জাজিরাত আল হামরা আরব আমিরাতে তেল আবিষ্কারের আগে গ্রামগুলির অবস্থা কেমন ছিল তার নিদর্শন মিলবে জাজিরাত আল হামরা নামক গ্রামে। গ্রামটিতে এখনও প্রাচীন যুগের সকল নিদর্শন বিদ্যমান আছে। ৩. রাআস আল খাইমাহ জাতীয় জাদুঘর জাদুঘরের ভবনটি ১৯৬০ সাল পর্যন্ত এই অঞ্চলের শাসকদের বাসভবন ছিল। বর্তমানে ভবনটি শহরের একটি গুরুত্বপূর্ণ পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে সুপরিচিত যেখানে প্রাচীন যুগের অসংখ্য নিদর্শন সংগৃহীত আছে। ৪. আল হামরা মল সুবিশাল এলাকা নিয়ে গঠিত আল হামরা মল বিনোদন, কেনাকাটা ও খাওয়াদাওয়ার একটি পারফেক্ট পয়েন্ট। শপিং মলটিতে ১২০ টিরও বেশি দোকান, অসংখ্য ফুড কোর্ট, বিলাসবহুল রেস্তোরাঁ ও কিডস জোন রয়েছে। ৫. হাজর পর্বত রাআস আল খাইমাহ এর অন্যতম প্রাকৃতিক সৌন্দর্যমন্ডিত পর্যটন এলাকা হাজর পর্বত। পর্বতমালার নজরকাড়া সৌন্দর্য যে কোনো পর্যটককে তীব্রভাবে আকর্ষণ করে। শারজাহ এর দর্শনীয় স্থান ১. শারজাহ ডেজার্ট পার্ক প্রকৃতিপ্রেমীদের জন্য শারজাহ ডেজার্ট পার্ক একটি উপযুক্ত দর্শনীয় স্থান। তিনটি শ্রেনিতে এই পার্কটির ডেকোরেশন করা হয়েছে।যথা: প্রাকৃতিক ইতিহাস যাদুঘর, আরবীয় বন্যপ্রাণী কেন্দ্র এবং শিশু খামার। ২. আল কাসবা শারজাহ এর একটি জনপ্রিয় শপিং কমপ্লেক্স আল কাসবা। এখানে একই সাথে রেস্তোরাঁ, থিয়েটার এবং কিডস ফান জোন সহ আরও অনেক সুযোগ সুবিধা পাওয়া যায়। ইনডোর এবং আউটডোর বিনোদন কেন্দ্র চলমান থাকে সব সময়। ৩. শারজাহ মিউজিয়াম অফ ইসলামিক সিভিলাইজেশন বিশাল জলরাশির তীর ঘেসে ইসলামিক ইতিহাসের বিভিন্ন প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন নিয়ে স্বগর্বে বিদ্যমান শারজাহ মিউজিয়াম অফ ইসলামিক সিভিলাইজেশন। ইসলামিক নিদর্শন ছাড়াও আরব আমিরাত এর বিভিন্ন ঐতিহাসিক নিদর্শন এই জাদুঘরে সংরক্ষিত আছে। ৪. শারজাহ অ্যাকুরিয়াম এটি একটি আর্টিফিশিয়াল সামুদ্রিক পরিবেশ। বিশাল আকৃতির অনেকগুলো ট্রান্সপারেন্ট ট্যাংক এর ভেতর কৃত্রিম সামুদ্রিক পরিবেশ তৈরি করে দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত করা হয়েছে। ৫. শারজাহ ন্যাশনাল পার্ক ছয় লক্ষ ত্রিশ হাজার বর্গকিলোমিটার এলাকা নিয়ে শারজাহ ন্যাশনাল পার্ক নির্মিত হয়েছে। প্রাকৃতিক পরিবেশের সাথে নিবিড় ভাবে কিছুটা সময় কাটানো যায় শারজাহ ন্যাশনাল পার্কে উম্ম আল কোয়াইন এর দর্শনীয় স্থান : ১. ড্রিমল্যান্ড অ্যাকোয়া পার্ক দুই লক্ষ পঞ্চাশ হাজার মিটার এলাকা জুড়ে বিস্তৃত ড্রিমল্যান্ড অ্যাকোয়া পার্ক এই অঞ্চলের সবথেকে বড় এবং জনপ্রিয় দর্শনীয় স্থান। অন্যান্য আমিরাত থেকে এখানে আসার পথও একদম সহজ বলে এখানে পর্যটকদের ভীড় তুলনামূলক বেশি থাকে। ২. UAQ জাতীয় জাদুঘর জাদুঘরের ভবনটি ২৫০ বছরের পুরোনো। এখানে আগে এই অঞ্চলের শাসনকর্তাগন বসবাস করতেন।বর্তমানে আরব আমিরাত এর প্রতিটি প্রদেশ থেকেই অসংখ্য দর্শনার্থী এখানে ভীড় জমায় । ৩. আল সিন্নিয়াহ দ্বীপ চমৎকার সমুদ্র সৈকত এবং দ্বীপের মধ্যকার ম্যানগ্রোভ বনের জন্য প্রচুর দর্শনর্থীদের দ্বীপটি আকর্ষণ করে। ৪. ফালাজ আল মুআল্লা ফালাজ আল মুআল্লা এই আমিরাত এর একটি প্রাচীন শহর। চারটি সুপরিচিত বৃহৎ স্থাপনা ও তিনটি ওয়াচ টাওয়ার এর জন্য এই শহরটি পুরো আমিরাত জুড়ে বিখ্যাত। সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রতিটি প্রদেশই নিজস্ব স্বকীয়তা ও সমৃদ্ধিতে ভরপুর। অর্থনৈতিক অবস্থান, দক্ষ জনশক্তি, বৈচিত্র্যময় সংস্কৃতি সব মিলিয়ে দেশটিকে একটি উন্নত দেশে পরিনত করেছে। একটি মুসলিম রাষ্ট্র হিসেবে দেশটি নিজেদের গর্বিত মনে করে এবং বিশ্ব মঞ্চে নিজেদের পরিচয় তুলে ধরে। মরুভূমির ছোট ছোট জনপদ থেকে আধুনিক নগররাষ্ট্রে রূপান্তরের এক অনন্য উদাহরণ সংযুক্ত আরব আমিরাত। উন্নত অবকাঠামো, শক্তিশালী অর্থনীতি, বৈচিত্র্যময় সংস্কৃতি এবং বিশ্বমানের পর্যটন কেন্দ্রের কারণে দেশটি আজ বিশ্বমঞ্চে একটি গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান তৈরি করেছে।
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: বছরের শুরুতে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতি তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল অবস্থায় ছিল। মূল্যস্ফীতি কমছিল, মর্টগেজ সুদের হার ধীরে ধীরে নেমে আসছিল এবং জ্বালানির দামও ছিল অনেকটা নিয়ন্ত্রণে। কিন্তু মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের সংঘাত সেই অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতাকে হঠাৎ করেই অনিশ্চয়তার মুখে ফেলেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যুদ্ধ যদি দীর্ঘস্থায়ী হয়, তাহলে শুধু মধ্যপ্রাচ্য নয়—মার্কিন অর্থনীতি, বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার এবং সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয়ের ওপরও এর গভীর প্রভাব পড়তে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প অবশ্য দাবি করেছেন, এই যুদ্ধ দীর্ঘ হবে না। তার ভাষায় এটি একটি “স্বল্পমেয়াদি অভিযান”। কিন্তু যুদ্ধের বাস্তবতা, তেলের বাজারে অস্থিরতা এবং ইরানের কঠোর অবস্থান ভিন্ন এক চিত্র তুলে ধরছে। যুদ্ধের শুরু ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার মাধ্যমে ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান শুরু হয়। ট্রাম্প প্রশাসনের দাবি, এই অভিযানের লক্ষ্য ছিল ইরানের ড্রোন, ক্ষেপণাস্ত্র এবং সামরিক অবকাঠামো ধ্বংস করা। ট্রাম্পের মতে, যুদ্ধ শুরুর পর থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল মিলে প্রায় ৫ হাজার লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে। এই হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হন বলে দাবি করেছে ইসরায়েলি ও মার্কিন সূত্র। এই ঘটনাকে ঘিরেই মধ্যপ্রাচ্যের রাজনৈতিক পরিস্থিতি দ্রুত অস্থিতিশীল হয়ে ওঠে। তবে ট্রাম্পের দাবি—ইরানের সামরিক সক্ষমতা এখন অনেকটাই দুর্বল হয়ে গেছে। তিনি বলেন, “আজ আমরা জানি তারা কোথায় কোথায় ড্রোন তৈরি করে। সেই সব স্থাপনায় একের পর এক হামলা চলছে।” তার মতে, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা এখন “প্রায় ১০ শতাংশে নেমে এসেছে।” ইরানের পাল্টা বার্তা ট্রাম্পের বক্তব্যকে সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)। আইআরজিসির মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আলী মোহাম্মদ নাঈনি বলেন, “এই যুদ্ধ কখন শেষ হবে তা ওয়াশিংটন নয়, তেহরানই নির্ধারণ করবে।” তিনি আরও দাবি করেন, যুদ্ধের শুরু থেকে ইরান আরও বেশি শক্তিশালী ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করছে। নাঈনির ভাষায়, “আমাদের ক্ষেপণাস্ত্রের ওয়ারহেড এখন এক টনেরও বেশি।” তিনি আরও বলেন, পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অবকাঠামো ধ্বংস হয়ে গেছে এবং যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধ থেকে “সম্মানজনকভাবে বেরিয়ে যাওয়ার পথ খুঁজছে।” তেলের বাজারে বড় ধাক্কা এই সংঘাতের সবচেয়ে বড় প্রভাব পড়েছে বৈশ্বিক তেলবাজারে। বিশেষ করে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী ঘিরে উত্তেজনা বাড়ার কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম দ্রুত বেড়ে যায়। এক পর্যায়ে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ১১৯ ডলার ছাড়িয়ে যায়। এটি ২০২২ সালের পর সবচেয়ে বড় মূল্যবৃদ্ধির মধ্যে একটি। বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল সরবরাহ হরমুজ প্রণালী দিয়ে পরিবাহিত হয়। ফলে এখানে সামান্য অস্থিরতাও বিশ্ববাজারে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে। ইরান হুমকি দিয়েছে, প্রয়োজন হলে তারা তেল সরবরাহ বন্ধ করে দিতে পারে। এমনকি আইআরজিসি বলেছে, “অঞ্চল থেকে এক লিটার তেলও রপ্তানি হতে দেওয়া হবে না।” মার্কিন অর্থনীতিতে সম্ভাব্য প্রভাব মার্কিন অর্থনীতির জন্য সবচেয়ে বড় উদ্বেগের বিষয় হলো জ্বালানির দাম বৃদ্ধি। কারণ যুক্তরাষ্ট্রে গ্যাসোলিনের দাম সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন ব্যয়ের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত। গত এক সপ্তাহেই প্রতি গ্যালনে গ্যাসের দাম ৩৪ সেন্ট বেড়ে গেছে। এই বৃদ্ধি ট্রাম্পের দুই মেয়াদের মধ্যে সর্বোচ্চ। তবে ট্রাম্প নিজে বলেছেন তিনি এ নিয়ে উদ্বিগ্ন নন। তিনি বলেন, “যদি গ্যাসের দাম বাড়ে, তাহলে বাড়ুক।” কিন্তু অর্থনীতিবিদরা বলছেন, গ্যাসের দাম বাড়া মানে শুধু জ্বালানি খরচ নয়—এটি পুরো অর্থনীতিতে প্রভাব ফেলে। মূল্যস্ফীতির নতুন আশঙ্কা এই যুদ্ধের আগে যুক্তরাষ্ট্রে মূল্যস্ফীতি কমার লক্ষণ দেখা যাচ্ছিল। জানুয়ারিতে ভোক্তা মূল্যসূচক বছরে মাত্র ২.৪ শতাংশ বেড়েছিল, যা আট মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন। অর্থনীতিবিদরা আশা করেছিলেন ২০২৬ সালের মধ্যে মূল্যস্ফীতি ২ শতাংশে নেমে আসবে। কিন্তু জ্বালানির দাম দ্রুত বাড়তে থাকলে সেই হিসাব বদলে যেতে পারে। গোল্ডম্যান স্যাকসের অর্থনীতিবিদদের মতে, যুদ্ধ দীর্ঘ হলে এ বছর মূল্যস্ফীতি আবার ৩ শতাংশে পৌঁছাতে পারে। এর কারণ— জেট ফুয়েলের দাম বাড়লে বিমান ভাড়া বাড়বে পরিবহন খরচ বাড়লে খাদ্যপণ্যের দাম বাড়বে পেট্রোলিয়ামভিত্তিক শিল্পপণ্যের দাম বাড়বে ফলে পুরো অর্থনীতিতেই মূল্যবৃদ্ধির চাপ তৈরি হবে। ভোক্তা ব্যয় কমে যাওয়ার আশঙ্কা মার্কিন অর্থনীতির দুই-তৃতীয়াংশই নির্ভর করে ভোক্তা ব্যয়ের ওপর। কিন্তু দাম বাড়লে সাধারণ মানুষ খরচ কমিয়ে দেয়। এর প্রভাব সরাসরি পড়ে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে। ইতোমধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রে অর্থনৈতিক গতি কিছুটা কমে যাওয়ার লক্ষণ দেখা যাচ্ছে। চতুর্থ প্রান্তিকে প্রবৃদ্ধি কমেছে এবং জানুয়ারিতে খুচরা বিক্রি ২০২৫ সালের মে মাসের পর সবচেয়ে বেশি হারে কমেছে। মুডিজ অ্যানালিটিক্সের প্রধান অর্থনীতিবিদ মার্ক জ্যান্ডি বলেন, “গ্যাসের দাম যদি গ্যালনপ্রতি ৩ ডলার থেকে ৪ ডলারে উঠে যায়, তাহলে মানুষের আস্থা পুরোপুরি নষ্ট হয়ে যেতে পারে।” তার মতে, মূল্যস্ফীতি বাড়লে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিও ক্ষতিগ্রস্ত হবে। আবাসন বাজারে নতুন অনিশ্চয়তা যুদ্ধের আগে মার্কিন আবাসন বাজারে কিছুটা স্বস্তি ফিরছিল। মর্টগেজ সুদের হার ২০২২ সালের পর প্রথমবারের মতো ৬ শতাংশের নিচে নেমে এসেছিল। কিন্তু যুদ্ধের পর পরিস্থিতি আবার বদলে গেছে। বিনিয়োগকারীরা এখন মার্কিন ট্রেজারি বন্ডে বেশি সুদ দাবি করছেন। ফলে ১০ বছরের ট্রেজারি বন্ডের ফলন বেড়েছে এবং এর সঙ্গে মর্টগেজ সুদের হারও আবার ৬ শতাংশের ওপরে উঠে গেছে। এটি বাড়ি কেনার আগ্রহ কমিয়ে দিতে পারে। গড় পরিবারের অতিরিক্ত ব্যয় অর্থনীতিবিদদের হিসাব অনুযায়ী, তেলের দাম টানা বাড়তে থাকলে সাধারণ পরিবারের খরচ উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে। মার্ক জ্যান্ডির মতে, “প্রতি ব্যারেল তেলের দাম টানা ১০ ডলার বাড়লে গড় মার্কিন পরিবারের বছরে প্রায় ৪৫০ ডলার অতিরিক্ত খরচ হবে।” এটি সরাসরি মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয়ে চাপ সৃষ্টি করবে। হরমুজ প্রণালী: বৈশ্বিক জ্বালানি নিরাপত্তার কেন্দ্র হরমুজ প্রণালী বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি করিডর। প্রতিদিন প্রায় ২ কোটি ব্যারেল তেল এই পথ দিয়ে পরিবাহিত হয়। যদি এই পথ দীর্ঘ সময় বন্ধ থাকে— বিশ্ববাজারে তেলের দাম দ্রুত বাড়বে জ্বালানি সংকট দেখা দিতে পারে পরিবহন ও শিল্প উৎপাদন ব্যাহত হতে পারে এই কারণেই যুক্তরাষ্ট্র এখন উপসাগরীয় অঞ্চলে তেলবাহী ট্যাংকারগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার চেষ্টা করছে। যুক্তরাষ্ট্রের পরিকল্পনা ট্রাম্প প্রশাসন বলছে, খুব দ্রুত হরমুজ প্রণালী দিয়ে তেল সরবরাহ স্বাভাবিক করার পরিকল্পনা রয়েছে। তারা ট্যাংকারগুলোর জন্য রাজনৈতিক ঝুঁকি বিমা দিচ্ছে এবং সামরিক সুরক্ষা দেওয়ার প্রতিশ্রুতিও দিয়েছে। ট্রাম্প বলেছেন, “আমি কোনো সন্ত্রাসী শাসনকে বিশ্বকে জিম্মি করে তেল সরবরাহ বন্ধ করতে দেব না।” যুদ্ধ কতদিন চলবে? সবচেয়ে বড় প্রশ্ন—এই যুদ্ধ কতদিন চলবে। কিছু বিশ্লেষক মনে করেন এটি কয়েক সপ্তাহের মধ্যে শেষ হতে পারে। কিন্তু অন্যরা বলছেন সংঘাত দীর্ঘস্থায়ী হলে তা বিশ্ব অর্থনীতিকে বড় ধাক্কা দিতে পারে। ইওয়াই-পার্থেননের প্রধান অর্থনীতিবিদ গ্রেগরি ডাকো বলেন, “হয়তো কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই তেলের দাম আবার কমে যাবে। আবার এমনও হতে পারে কয়েক মাস পরও আমরা একই অবস্থায় থাকব।” তিনি সতর্ক করে বলেন, “যদি তেলের দাম দীর্ঘ সময় ১০০ ডলারের ওপরে থাকে, তখন আমরা চাকরি কমানো এবং সম্ভাব্য মন্দা নিয়ে কথা বলব।” মধ্যবর্তী নির্বাচনের রাজনীতি এই সংঘাতের একটি বড় রাজনৈতিক দিকও রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে এ বছর মধ্যবর্তী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। অর্থনীতি যদি খারাপ হতে শুরু করে— মূল্যস্ফীতি বাড়ে গ্যাসের দাম বাড়ে চাকরি কমে তাহলে তা ভোটারদের সিদ্ধান্তে বড় প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, অর্থনৈতিক অসন্তোষ বাড়লে তা রিপাবলিকানদের জন্য রাজনৈতিক ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। মধ্যপ্রাচ্যের এই সংঘাত এখন শুধু সামরিক লড়াই নয়—এটি অর্থনীতি, রাজনীতি এবং বৈশ্বিক জ্বালানি নিরাপত্তার বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে। যুদ্ধ দ্রুত শেষ হলে তেলের বাজার স্থিতিশীল হতে পারে এবং অর্থনৈতিক চাপও কমতে পারে। কিন্তু সংঘাত যদি দীর্ঘস্থায়ী হয়, তাহলে তার প্রভাব পড়বে— বিশ্ববাজারে তেলের দামে মার্কিন মূল্যস্ফীতিতে আবাসন বাজারে বৈশ্বিক অর্থনীতিতে অর্থনীতিবিদদের ভাষায়, এই মুহূর্তে সবচেয়ে বড় অনিশ্চয়তা হলো—এই যুদ্ধ কতদিন চলবে। কারণ সেই উত্তরই নির্ধারণ করবে বিশ্ব অর্থনীতির আগামী পথ।
জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে চলমান ‘বেআইনি হামলার’ তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। শুক্রবার তিনি সতর্ক করে বলেন, সংঘাত বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে পড়ায় পরিস্থিতি যে কোনো সময় নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে। জাতিসংঘ থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানায়। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের বিরুদ্ধে ব্যাপক বিমান হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলি বাহিনী। ইরানও এর জবাবে ইসরাইল ও উপসাগরীয় দেশগুলোতে পাল্টা হামলা চালিয়েছে। ওয়াশিংটন জানায়, তেহরানের পারমাণবিক ও ক্ষেপণাস্ত্র হুমকি ঠেকাতেই এই অভিযান। তবে এই হামলায় দেশটির সরকার কার্যত নেতৃত্বহীন হয়ে পড়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এখন ইরানের ‘নিঃশর্ত আত্মসমর্পণ’ দাবি করছেন। এদিকে গুতেরেস বলেন, ‘মধ্যপ্রাচ্য ও এর বাইরে চলমান সব বেআইনি হামলা ওই অঞ্চলের সাধারণ মানুষের জন্য চরম দুর্ভোগ ও ক্ষতির কারণ হচ্ছে। এটি বিশ্ব অর্থনীতি, বিশেষ করে অসহায় মানুষের জন্য মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি করেছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘পরিস্থিতি সবার নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে। এখন লড়াই থামানোর এবং গুরুত্বের সঙ্গে কূটনৈতিক আলোচনা শুরু করার সময়।’ জাতিসংঘের মানবিক সহায়তা বিষয়ক প্রধান টম ফ্লেচার শুক্রবার বলেন, ‘আমরা দেখছি যে এই যুদ্ধে ধ্বংসযজ্ঞ চালাতে প্রতিদিন প্রায় ১০০ কোটি ডলার অর্থাৎ রেকর্ড পরিমাণ অর্থ ব্যয় করা হচ্ছে। অথচ রাজনীতিবিদরা অসহায় মানুষের জন্য বরাদ্দ করা সহায়তা তহবিল কাটছাঁট করার বড়াই করছেন।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমরা প্রযুক্তি ও বিচারহীনভাবে মানুষ হত্যার এক ভয়াবহ সমন্বয় দেখছি।’ ফ্লেচার বলেন, ‘মানুষের ধ্বংসাত্মক প্রবৃত্তি ও বেপরোয়া যুদ্ধ ঠেকাতে যে সব আইন ও ব্যবস্থা রয়েছে, সেগুলোর ওপর এখন লাগাতার আঘাত করা হচ্ছে।’ যুদ্ধের অন্যান্য প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি সতর্ক করেন, এই সংঘাতের ফলে বাজার ব্যবস্থা ও সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে এবং খাদ্যপণ্যের দাম বাড়ছে। এতে সবচেয়ে অসহায় মানুষগুলোই সবার আগে এবং সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। Iran Israel War, Middle East Crisis, UN Warning, Global Economy Risk, Trump Iran Conflict
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যখন ইরানের ওপর সম্ভাব্য হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছেন, তখন বিশ্ব অর্থনীতি ও খোদ মার্কিন জনগণের পকেটে তার নেতিবাচক প্রভাব নিয়ে বড় ধরনের শঙ্কা তৈরি হয়েছে। বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম প্রমাণিত তেলের খনি ও সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ তেল পরিবহন রুটের নিয়ন্ত্রণ থাকা ইরানের ওপর আক্রমণ করলে জ্বালানি তেলের দাম আকাশচুম্বী হতে পারে, যা ট্রাম্পের রাজনৈতিক ভবিষ্যতের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন এ খবর জানিয়েছে। গত কয়েক সপ্তাহ ধরে মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি বৃদ্ধি এবং ট্রাম্পের ‘১০ দিনের সময়সীমা’র হুঁশিয়ারিতে ইতোমধ্যে বিশ্ববাজারে তেলের দাম চড়চড় করে বাড়ছে। বুধবার বিশ্ববাজারের মানদণ্ড হিসেবে পরিচিত ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম ব্যারেল প্রতি ৭০ ডলার ছাড়িয়ে গেছে, যা গত জুলাইয়ের পর সর্বোচ্চ। যুক্তরাষ্ট্রে তেলের দাম গত এক মাসে ব্যারেল প্রতি ১০ ডলার বেড়েছে। আগামী মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি ও আবাসন খাতের মন্দার কারণে রিপাবলিকানরা এমনিতেই চাপের মুখে রয়েছে। এর মধ্যে তেলের দাম বাড়লে তা সাধারণ ভোটারদের ক্ষুব্ধ করে তুলতে পারে। ট্রাম্প গত কয়েক মাস ধরে তেলের দাম কমার যে কৃতিত্ব দাবি করে আসছিলেন, ইরান সংঘাত তা নস্যাৎ করে দেওয়ার হুমকি দিচ্ছে। ইরানের হাতে সবচেয়ে বড় অস্ত্র হলো হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ। মাত্র ২১ মাইল প্রশস্ত এই সরু জলপথ দিয়ে প্রতিদিন ২ কোটি ব্যারেল তেল সরবরাহ হয়, যা বিশ্বের মোট উৎপাদনের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ। পারস্য উপসাগরীয় দেশগুলো থেকে বিশ্বের বাকি অংশে তেল পাঠানোর একমাত্র পথ এটি। সম্প্রতি ইরান সামরিক মহড়ার জন্য এই পথ আংশিক বন্ধ করায় ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেল প্রতি ৫ ডলার বেড়ে গিয়েছিল। টর্টয়েজ ক্যাপিটালের পোর্টফোলিও ম্যানেজার রব থামেল সতর্ক করে বলেন, হরমুজ প্রণালিতে দীর্ঘমেয়াদী অচলাবস্থা তৈরি হলে তেলের দাম ১০০ ডলার ছাড়িয়ে যেতে পারে। তবে বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এমনটি হওয়ার সম্ভাবনা কম। কারণ, তেল রফতানি থেকে আয়ের ওপর ইরান সরকার নিজেই নির্ভরশীল। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে প্রতি গ্যালন পেট্রোলের গড় দাম ২ দশমিক ৯২ ডলার। তেলের দাম ব্যারেলে ৮০ ডলার হলে পেট্রোলের দাম ৩ ডলার ছাড়িয়ে যাবে। যদিও ট্রাম্প তেলের দাম কমার কারণে সাধারণ মানুষের বছরে ১০০ থেকে ২০০ ডলার সাশ্রয় হয়েছে বলে দাবি করেন, কিন্তু তার আরোপিত শুল্কের কারণে প্রতিটি মার্কিন পরিবারকে গড়ে ১ হাজার ডলার বাড়তি কর গুনতে হচ্ছে। জ্বালানি বিশেষজ্ঞ টুটল বলেন, কম দামে পেট্রোল পাওয়াটা আরামদায়ক ছিল, কিন্তু দাম এখন ধীরে ধীরে আমাদের নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে। নির্বাচনের ঠিক আগে তেলের দাম বাড়লে মার্কিনীদের অর্থনৈতিক অসন্তোষ আরও চরম আকার ধারণ করবে। ওপেক-এর তথ্যমতে, ইরান প্রতিদিন গড়ে ৩২ লাখ ব্যারেল তেল উৎপাদন করে, যা বিশ্ব উৎপাদনের ৪ শতাংশ। বিপুল নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও ইরান বড় ছাড় দিয়ে তেল রফতানি অব্যাহত রেখেছে। এখন ট্রাম্পের একটি সামরিক পদক্ষেপ যদি এই সরবরাহকে বাধাগ্রস্ত করে, তবে তার ফলাফল ইরানের চেয়েও ট্রাম্পের নিজের দেশের ভোটারদের কাছে বেশি তিক্ত হতে পারে।
জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বিশ্ব অর্থনীতি প্রতি মিনিটে ২ লাখ ৫০ হাজার ডলারের বেশি ক্ষতির মুখে পড়ছে, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় ৩ কোটি টাকার বেশি। নতুন এক জরিপে বলা হয়েছে, জলবায়ু সংকট এখন আর ভবিষ্যতের সমস্যা নয়। এটি বৈশ্বিক অর্থনীতিতে বড় ধাক্কা দিচ্ছে। খবর এনডিটিভির। এফআইসিসিআই-ইওয়াই রিস্ক সার্ভে ২০২৬ অনুযায়ী, বর্তমান পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ২০৫০ সালের মধ্যে বছরে জলবায়ুজনিত ক্ষতির পরিমাণ ৩৮ ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছাতে পারে। ঝড়, বন্যা, তাপপ্রবাহ ও পরিবেশের অবনতিই এই ক্ষতির প্রধান কারণ। প্রতিবেদন বলছে, জলবায়ুজনিত দুর্যোগ এরইমধ্যেই সরবরাহ ব্যবস্থা, খাদ্য উৎপাদন ও শ্রম উৎপাদনশীলতাকে ব্যাহত করছে। ২০০০ সালের পর থেকে ধারাবাহিক প্রাকৃতিক দুর্যোগে বৈশ্বিক অর্থনীতির ক্ষতি ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, জলবায়ু পরিবর্তন এখন সরাসরি অর্থনীতি, ব্যবসা ও দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়নকে প্রভাবিত করছে। জলবায়ু ঝুঁকি মোকাবিলায় দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে ভবিষ্যতে ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়বে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের সম্পদ বিবরণী প্রকাশের পর সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী ও তার স্ত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদের হিসাব নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। এক বছরের ব্যবধানে স্বামী ফারুকীর সম্পদ কমলেও স্ত্রী তিশার সম্পদ বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে প্রকাশিত তথ্যে উঠে এসেছে এই চিত্র। প্রকাশিত খতিয়ান অনুযায়ী, জনপ্রিয় অভিনেত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদ এক বছরে অভাবনীয় হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তিশার মোট সম্পদের পরিমাণ ছিল ১ কোটি ৪০ লাখ ৮১ হাজার ৮৬০ টাকা। ঠিক এক বছর পর, ২০২৫ সালের ৩০ জুন সেই সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ৯৯ লাখ ৮৯ হাজার ৫০১ টাকায়। অর্থাৎ মাত্র এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ বেড়েছে ১ কোটি ৫৯ লাখ ৭ হাজার ৬৪১ টাকা, যা আগের বছরের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি। অন্যদিকে সংস্কৃতি উপদেষ্টা ও নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর ক্ষেত্রে দেখা গেছে উল্টো চিত্র। এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ কমেছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তার মোট সম্পদ ছিল ২ কোটি ২৬ লাখ ৯২ হাজার ২৬ টাকা। ২০২৫ সালের ৩০ জুন তা কমে দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ১৫ লাখ ১৮ হাজার ২৬ টাকায়। হিসাব অনুযায়ী, এক বছরে তার সম্পদ কমেছে ১১ লাখ ৭৪ হাজার টাকা। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে গত মঙ্গলবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ প্রধান উপদেষ্টা, উপদেষ্টা ও সমমর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের পাশাপাশি তাদের স্ত্রী বা স্বামীর সম্পদ বিবরণী প্রকাশ করে। একই সময়ে স্বামী-স্ত্রীর সম্পদে এমন ভিন্নমুখী পরিবর্তন স্বাভাবিকভাবেই সাধারণ মানুষের কৌতূহলের জন্ম দিয়েছে। শোবিজ অঙ্গনের জনপ্রিয় দম্পতি হওয়ায় তাদের এই আয়-ব্যয়ের হিসাব এখন টক অব দ্য কান্ট্রি।
বাসস : বাবা একজন তাঁত শ্রমিক। তিন বোন দুই ভাইয়ের মধ্যে সবার বড় রোজিনা। অভাব সংসার, তাই এক এতিম যুবকের সাথে বাবা-মা বিয়ে দেন তাকে। বিয়ের পর জন্ম হয় দুই কন্যা সন্তানের। অটোরিকশা চালিয়ে কোন রকম সংসার চালাচ্ছিলেন স্বামী রফিকুল ইসলাম। কিন্তু সড়ক দুর্ঘটনায় রফিকুলের এক চোখ সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যায়। আরেকটি চোখ আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ধীরে ধীরে ওই চোখের দৃষ্টি শক্তিও কমতে থাকে। ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে অটোরিকশা চালানো। সংসারের উপার্জনক্ষম মানুষটি অচল হয়ে পড়ায় চিকিৎসার খরচ, ঘর ভাড়া ও খাবারের পাশাপাশি মেয়েদের লেখাপড়ার খরচ চালানোই কঠিন হয়ে যায়। দিশেহারা হয়ে পরেন রোজিনা। এক পর্যায়ে মানুষের বাড়ি বাড়ি কাজ করে সংসার চালানোর চেস্টা করেন। কিন্তু সুবিধা করতে পারেন না। এমন পরিস্থিতিতে অটোরিকশা চালানোর সিদ্ধান্ত নেন তিনি। স্বামী রফিকুলের কাছেই হাতেখড়ি। গ্রামের স্কুলের মাঠে স্বামীর কাছেই অটোরিকশা চালানোর শিক্ষা নেন তিনি। পরে গ্রামের পথে নেমে পড়েন অটোরিকশা নিয়ে। ৫-৬ দিন এভাবে হাত পাকা করে একদিন টাঙ্গাইল শহরে চলে আসেন রোজিনা। এরপর শুরু করেন অটোরিক্সা চালানোর ব্যতিক্রমী জীবন সংগ্রাম। এখন টাঙ্গাইল পৌরসভায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার চালকদের মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা বেগম। জেলার বাসাইল উপজেলার আইসড়া গ্রামের বাসিন্দা রোজিনা টাঙ্গাইল পৌর শহরের এক প্রান্ত রাবনা বাইপাস থেকে আরেক প্রান্ত বেবিস্ট্যান্ডে যাত্রী আনা নেয়া করেন। যানজটের কারণে শহরে পুরুষ চালকরা যেখানে হিমসিম খায়, সেখানেই বিগত ৫ বছর ধরেই নির্বিঘেœ অটোরিকশা চালাচ্ছেন তিনি। টাঙ্গাইল পৌরসভা কার্যালয় সূত্রে জানা যাায়, টাঙ্গাইল শহরে চলাচলের জন্য ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক ও ৫ হাজার ব্যাটারিচালিত রিকশার অনুমতি (লাইসেন্স) দেওয়া হয়েছে। যানজট এড়াতে ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক জোড় ও বিজোড় সংখ্যায় দিনে দুই ভাগ করা হয়েছে। সকাল থেকে বেলা দুইটা পর্যন্ত এক ভাগ এবং বেলা দুইটা থেকে রাত পর্যন্ত আরেক ভাগের ইজিবাইক চলাচল করার নির্দেশনা দিয়েছে পৌর কর্তৃপক্ষ। কিন্তু রোজিনাকে দুই শিফটে চালানোর অনুমতি দিয়েছে পৌরসভা। সরেজমিনে দেখা যায়, নতুন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অটোরিকশা নিয়ে যাত্রী ডাকছেন রোজিনা। কলেজ গেট, পুরাতন বাসস্ট্যান্ড, ক্যাপসুল, নিরালা মোড়, বেবিস্ট্যান্ড সর্বত্রই যাত্রী আনানেয়া করেন তিনি। পুরাতন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অন্য অটো চালকদের দাঁড় করতে না দিলেও রোজিনাকে বাঁধা দেননা ট্রাফিক পুলিশ। বলতে গেলে সবাই তার প্রতি সহানুভুতিশীল। ট্রাফিক পুলিশসহ অন্য অটোচালকরাও তাকে সহযোগিতা করেন। রোজিনা বলেন, আমার অটোতে নারী যাত্রীরা খুব কম। তারা মনে করে আমার অটোতে উঠলে দুর্ঘটনায় পড়বে। কিন্তু আমি খুব সাবধানে অটো চালাই। দ্রুত গতিতেও না, আবার একেবারে ধীরগতিতেও না। এখন পর্যন্ত আমি কোন দুর্ঘটনার কবলে পড়ি নাই। শহরের পুরুষ অটোরিকশা চালকরা আমাকে অনেক সহযোগিতা করে। অটোচালক কাদের মিয়া বলেন, আমাদের শহরে কয়েক হাজার অটো চলাচল করে। তার মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। তাকে আমরা সব সময় সহযোগিতা করি। যাত্রী সাইদ মিয়া বলেন, আমি এ পর্যন্ত ৫-৬ বার রোজিনার অটোতে চড়েছি। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। অন্য পুরুষ অটো চালকের চেয়েও ভালো অটো চালান। নারী সংগঠক সেরাজুম মনিরা বলেন, তিনি অনেক দিন যাবত অটোরিকশা চালাচ্ছেন। আমি রোজিনাকে স্যালুট জানাই। একজন পুরুষের চেয়ে একজন নারী কোনো ভাবেই যে পিছিয়ে নেই, রোজিনা তা প্রমাণ করেছেন। রোজিনা বলেন, অটো চালানোর এই সিদ্ধান্তটি তার জন্য খুব সহজ ছিল না। তিনি বলেন, ৫ ও ১০ বছরের দুই মেয়েকে বাড়িতে রেখে অটোরিকশা নিয়ে সারাদিন রাস্তায় থাকতে হয়। তাদের ভালোভাবে দেখাশোনা করতে পারি না। কিন্তু কি করবো, অভাবের সংসার! এখন ঋণ নিয়ে একটু জমি কিনেছি। প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ণ প্রকল্পের অর্থায়নে প্রশাসন সেখানে ঘর তুলে দিয়েছে। শুরুতে যারা আমাকে নিয়ে ঠাট্টা করেছে এখন তারাই আমাকে সম্মান করেন। নারীরাও যে কিছু করতে পারে, তা প্রমাণ করেছি। আমার বড় মেয়ে আইসড়া উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়ে, ছোট মেয়ে পড়ে স্থানীয় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। মেয়েদের শিক্ষিত করতে হবে। ধার দেনা শোধ করতে হবে। তাই থেমে গেলো চলবে না। আমি অটোরিকশা চালিয়েই দুই সন্তানকে মানুষ করতে চাই।’ ঘারিন্দা ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য বাবুল সরকার বলেন, সরকার রোজিনাকে একটি ঘর নির্মাণ করে দিয়েছে। শুরুতে যারা তাকে নিয়ে নানান কথা বলতো, এখন তার সংকল্প ও মানষিক দৃঢ়তা দেখে থেমে গেছে। আমরা তাকে নিয়ে গর্ব করি। টাঙ্গাইলের ট্রাফিক ইন্সপেক্টর (প্রশাসন) দেলোয়ার হোসেন বলেন, শহরের একমাত্র নারী চালক রোজিনাকে কেউ যেন বিরক্ত করতে না পারে সেদিকে সব সময় নজর রাখে ট্রাফিক পুলিশ। আমরা তাকে সব সময় সহযোগিতা করে আসছি। টাঙ্গাইলের সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক শাহ আলম বলেন, বিষয়টি এখন জানতে পারলাম। ওই নারী এখনো পর্যন্ত আমাদের কাছে আসেন নাই। যদি আমাদের কাছে এসে আবেদন করেন অবশ্যই তাকে আমরা সহযেগিতা করবো, তার পাশে দাঁড়াবো।
২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশে আজ এক ঐতিহাসিক ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ২০০৮ সালের পর এই প্রথম একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হতে যাচ্ছে যেখানে দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগ রাজনৈতিক মানচিত্র থেকে কার্যত অনুপস্থিত। বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক জরিপ বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০০ আসনের মধ্যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) কার্যকর সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে যাচ্ছে। তবে ভোটের ব্যবধান এবং কিছু সমীকরণ নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। নির্বাচনের সবচেয়ে বড় নিয়ামক হয়ে দাঁড়িয়েছে আওয়ামী লীগের বিশাল ভোটব্যাংক। দলটির নিয়মিত প্রায় ৪ কোটি ভোটার এখন নতুন রাজনৈতিক আশ্রয় খুঁজছেন। সিআরএফ বা বিইপিওএস জরিপ বলছে, এই ভোটারদের প্রায় অর্ধেক বিএনপির দিকে ঝুঁকেছে, যা দলটিকে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতার পথে এগিয়ে দিচ্ছে। অন্যদিকে, প্রায় ৩০ শতাংশ আওয়ামী ভোটার জামায়াতে ইসলামীকে বেছে নিতে পারেন বলে আভাস পাওয়া যাচ্ছে। এছাড়া বাংলাদেশের বিদ্যমান নির্বাচনী ব্যবস্থার কারণে দেশজুড়ে সুষম জনসমর্থন থাকা বিএনপি আসন জয়ের ক্ষেত্রে জামায়াতের তুলনায় সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। তবে বিএনপির এই সম্ভাব্য জয়ের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও বিদ্রোহী প্রার্থীরা। প্রায় ৭৯টি নির্বাচনী এলাকায় দলের মনোনয়ন না পাওয়া ৯২ জন প্রভাবশালী নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, যা বিএনপির ১৫ থেকে ৩০টি আসন কমিয়ে দিতে পারে। অন্যদিকে, তরুণ ভোটার বা ‘জেন-জি’ প্রজন্মের বিশাল সমর্থন জামায়াতে ইসলামীর শক্তির উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেশের ৪৪ শতাংশ ভোটারই তরুণ, যাদের বড় একটি অংশ প্রথমবার ভোট দিচ্ছেন। এই তরুণরা যদি দলবেঁধে কেন্দ্রে উপস্থিত হন, তবে নির্বাচনী ফলে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। সবশেষে, প্রায় ১৭ থেকে ৩৫ শতাংশ দোদুল্যমান ভোটার এবং তাদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করবে আগামীর সরকার কতটা শক্তিশালী হবে। দ্য নিউইয়র্ক এডিটোরিয়ালের মূল পূর্বাভাস, তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি প্রায় ১৮৫টি আসনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করতে পারে এবং জামায়াতে ইসলামী ৮০টির মতো আসন পেয়ে প্রধান বিরোধী দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারে। তবে বিদ্রোহী প্রার্থীদের প্রভাব এবং তরুণ ভোটারদের উপস্থিতির ওপর ভিত্তি করে আসন সংখ্যায় বড় ধরনের হেরফের হওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। ৩৫০ একরের ঘাঁটিটিতে সামরিক বাহিনীর পাঁচ হাজার সদস্য থাকতে পারবে। গাজার ‘বোর্ড অব পিস’র নথি পর্যালোচনা করে এ তথ্য জানিয়েছে দ্য গার্ডিয়ান। প্রতিবেদনে ব্রিটিশ সংবাদ মাধ্যমটি জানিয়েছে, বোর্ড অব পিসে গাজাকে নিরাপদ করার জন্য ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যাবিলাইজেশন ফোর্স (আইএসএফ) নামে একটি আন্তর্জাতিক বাহিনী মোতায়েনের কথা বলা হয়েছে। যে স্থানটি ঘাঁটি করার জন্য বিবেচনা করা হচ্ছে সেখানে আইএসএফের সদস্যরা থাকবে। বোর্ড অব পিসের প্রধান হবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আর সংগঠনটির আংশিক নেতৃত্ব দেবেন ট্রাম্পের জামাতা জ্যারার্ড কুশনার।দ্য গার্ডিয়ান বোর্ড অব পিসের নথি পর্যালোচনা করে জানায়, ধাপে ধাপে একটি সামরিক ঘাঁটি নির্মাণ করা হবে। সবকিছু শেষ হলে ঘাঁটিটি ১৫ লাখ ১৭ হাজার ৫৭৫ বর্গমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত হবে। ঘাঁটিটির চারপাশে ট্রেইলার সংযুক্ত ২৬টি সাঁজোয়া নজরদারি টাওয়ার থাকবে। এছাড়া একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, বাংকার ও অস্ত্র রাখার গুদাম থাকবে। পুরো ঘাঁটিটি কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে ঘিরে রাখা হবে। সামরিক ঘাঁটি নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে দক্ষিণ গাজার একটি শুষ্ক সমতলভূমিতে। সেখানে ইসরায়েলি হামলার চিহ্ন রয়েছে। ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে বিভিন্ন ধাতবের ধ্বংসাবশেষ। ওই এলাকার ভিডিও পর্যালোচনা করেছে দ্য গার্ডিয়ান। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, ঘাঁটি নির্মাণের জন্য টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে। যুদ্ধক্ষেত্রে কাজের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন আন্তর্জাতিক নির্মাণ কোম্পানিগুলোর একটি ছোট দলকে ইতোমধ্যেই এলাকাটি দেখানো হয়েছে। ওই দলটি দরপত্রে অংশ নিতে আগ্রহী। ইন্দোনেশিয়া সরকার গাজায় আট হাজার সেনা সদস্য পাঠানোর জন্য প্রস্তাব দিয়েছে। বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটন ডিসিতে বোর্ড অব পিসের অনানুষ্ঠানিক বৈঠকে ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্টের অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। এছাড়া দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার আরও তিন নেতার ওই বৈঠকে অংশ নেবেন বলে জানা গেছে। জাতিসংঘের নিরাপত্তা কাউন্সিল গাজার সাময়িক স্থিতিশীলতার জন্য অস্থায়ীভাবে সামরিক বাহিনী মোতায়েনের অনুমোদন দিয়েছে। নিরাপত্তা কাউন্সিলই বোর্ড অব পিসের মূল হোতা। গাজার সীমান্ত ও শান্তি প্রণয়নে কাজ করবে আইএসএফ। এছাড়া বেসামরিকদের সুরক্ষা এবং ফিলিস্তিনি পুলিশ বাহিনীকে প্রশিক্ষণ ও সহায়তা দেবে তারা। যদি গাজায় ফের সংঘর্ষ হয়, ইসরায়েল বোমা হামলা চালায় অথবা হামাস হামলা চালায় সেক্ষেত্রে আইএসএফ কি করবে তা এখনও স্পষ্ট নয়। গাজা পুনর্গঠনে ইসরায়েল হামাসকে নিরস্ত্রীকরণের যে শর্ত দিয়েছে সেটির জন্য আইএসএফ কাজ করবে কিনা তাও স্পষ্ট না। ইতোমধ্যে বোর্ড অব পিসে ২০ এর অধিক দেশ যোগ দিয়েছে। তবে, এখনও অনেক পরাশক্তি এর থেকে দূরে রয়েছে। জাতিসংঘের অনুমোদন নিয়ে প্রতিষ্ঠিত হলেও ধারণা করা হচ্ছে, সংগঠনটির স্থায়ী নেতৃত্ব ও নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে। রুটজার্স বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক আদিল হক বলেন, “বোর্ড অব পিস এক ধরনের আইনি কল্পসত্তা। নামমাত্রভাবে এর নিজস্ব আন্তর্জাতিক আইনগত সত্তা রয়েছে, যা জাতিসংঘ ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে আলাদা। কিন্তু বাস্তবে এটি যুক্তরাষ্ট্রের ইচ্ছামতো ব্যবহারের জন্য একটি ফাঁপা খোলসমাত্র।” বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গাজা পুনর্গঠনে যে অর্থায়ন ও শাসন কাঠামো হচ্ছে তা অস্বচ্ছ। কয়েকজন ঠিকাদার গার্ডিয়ানকে জানান, গাজায় কাজ করার জন্য মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে তাদের প্রায়শ আলোচনা সরকারি ইমেলের বদলে সিগন্যালের মাধ্যমে করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রের তথ্য মতে, ঘাঁটি নির্মাণের সিদ্ধান্তটি বোর্ড অব পিসের। এতে সহায়তা করছে মার্কিন কর্মকর্তারা। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ঘাঁটিতে তৈরি বাংকার নেটওয়ার্কের মতোন কাজ করবে। প্রতিটি বাংকারের ২৪ মিটারের হবে। উচ্চতা থাকবে আড়াই মিটার। এগুলো এমনভাবে করা হবে যেন সেনা সদস্যরা আশ্রয় নিতে পারে। স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসের গাজায় সুড়ঙ্গ নেটওয়ার্ক বা টানেল রয়েছে। সেগুলোর আদলে নেটওয়ার্ক করতে চাওয়া হচ্ছে। পিস অব বোর্ডের নথি পর্যালোচনা করে এমন দাবি করছে গার্ডিয়ান। সংবাদ মাধ্যমটি বলছে, স্থানটির ভূ-ভৌত জরিপ পরিচালনা করবে ঠিকাদাররা। নথির এক অংশে ‘হিউম্যান রেমিয়েনস প্রোটোকল’র কথা বলা হয়েছে। এর মানে দাঁড়ায়, সন্দেহভাজন মানব অবশিষ্ট বা সাংস্কৃতিক নিদর্শন পাওয়া গেলে অবিলম্বে সেই এলাকায় সব কাজ বন্ধ করতে হবে। চুক্তি কর্মকর্তাকে দিকনির্দেশনার জন্য অবিলম্বে জানাতে হবে। গাজা সিভিল ডিফেন্সের ধারণা, গাজার ধ্বংসস্তূপের নিচে ১০ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনির মরদেহ রয়েছে। ঘাঁটির জন্য যে স্থানটি বিবেচিত করা হচ্ছে সেটির মালিক কে তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে, দক্ষিণ গাজার বেশিরভাগ অংশ বর্তমানে ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণে। জাতিসংঘের অনুমান, যুদ্ধ চলাকালীন ১৯ লাখ ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত হয়েছে। ফিলিস্তিনের জমিতে সরকারের অনুমতি না নিয়ে সামরিক ঘাঁটি স্থাপনকে দখল হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন ফিলিস্তিনি-কানাডিয়ান আইনজীবী এবং প্রাক্তন শান্তি আলোচক দিয়ানা বুট্টু। তিনি প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়ে বলেন, “কার অনুমতিতে তারা সামরিক ঘাঁটি স্থাপন করবে।” বিষয়টি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা বোর্ড অব পিসের কথা টানেন। ট্রাম্প প্রশাসনের একজন কর্মকর্তা সামরিক ঘাঁটির চুক্তি নিয়ে আলোচনা করতে অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, “যেমনটি প্রেসিডেন্ট বলেছেন, কোনও মার্কিন সেনা স্থলভাগে যাবে না। আমরা লিক হওয়া নথি নিয়ে আলোচনা করবো না।”
বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের প্রত্যন্ত চরাঞ্চল থেকে উঠে এসে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার কেন্দ্রে এখন তাইজুল ইসলাম, যিনি অনলাইনে পরিচিত ‘তাজু ভাই ২.০’ নামে। মাত্র একটি ভিডিও—যেখানে তিনি এক দোকানিকে প্রশ্ন করেন, “জিলাপি আজকে কত করে বেচতেছেন সরকারি রেটে?”—এই সরল উপস্থাপনাই তাকে রাতারাতি ভাইরাল করে তোলে। কয়েক ঘণ্টায় ফলোয়ার লাখ ছাড়াল রোববার রাত পর্যন্ত তার ফেসবুক অনুসারী ছিল প্রায় ৩৫ হাজার। কিন্তু সোমবার সন্ধ্যা থেকে রাতের মধ্যেই তা বেড়ে এক লাখের বেশি হয়ে যায়। ভাইরাল ভিডিওটি ইতোমধ্যে প্রায় ৫০ থেকে ৫৫ লাখবার দেখা হয়েছে। কী ছিল সেই ভিডিওতে? ভিডিওতে দেখা যায়, কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীর নারায়ণপুর বাজারে দাঁড়িয়ে স্থানীয় ভাষায় তিনি জিলাপির দাম জানতে চান। তার কথাগুলো ছিল একেবারেই সহজ ও গ্রাম্য ভঙ্গিতে— “সাদাডা কত, লালডা কত? সরকারি রেটে বেচতেছেন?” এই সরল প্রশ্নই সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। কোথা থেকে উঠে এলেন তাজু ভাই? কুড়িগ্রাম জেলার নাগেশ্বরী উপজেলার নারায়ণপুর ইউনিয়নের একটি দুর্গম গ্রামে জন্ম তার। ব্রহ্মপুত্র নদবেষ্টিত এই অঞ্চলে পৌঁছাতে এখনও কয়েকটি নৌঘাট পার হতে হয়। দারিদ্র্যের কারণে কখনো স্কুলে যাওয়া হয়নি তার। পেশায় তিনি একজন নির্মাণশ্রমিকের সহকারী (হেলপার)। কাজের ফাঁকে ঢাকায় থাকাকালীন মোবাইল ফোনে ভিডিও তৈরি করাই তার শখ। ব্যক্তিগত সংগ্রাম তাইজুল ইসলামের পরিবারে ছয় ভাই-বোন। তিনি সবার বড়। তার বাবা-মা দুজনই শ্রবণপ্রতিবন্ধী। পরিবার চালাতে তাকে ছোটবেলা থেকেই সংগ্রাম করতে হয়েছে। তিনি বলেন, “পরিবারের কষ্ট ভুলতেই ভিডিও করি। আমি সাংবাদিক না, কিন্তু আমাদের এলাকায় কেউ আসে না—তাই নিজেরাই ভিডিও বানাই।” ভাইরাল হওয়ার পেছনের উদ্দেশ্য তাইজুলের দাবি, তার ভিডিও শুধুই বিনোদনের জন্য নয়। তিনি চান তার এলাকার অবহেলিত মানুষের কথা প্রশাসনের নজরে আসুক। “আমি চাই চরের মানুষের উন্নয়ন হোক,”—বলছেন তিনি। মিশ্র প্রতিক্রিয়া ভিডিওটি নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে দুই ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ তার সরলতা ও বাস্তবতা তুলে ধরার চেষ্টা প্রশংসা করছেন আবার কেউ তাকে নিয়ে ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ করছেন তবে এসব সমালোচনায় তিনি বিচলিত নন।