Brand logo light

রাজনৈতিক বিতর্ক

যুবদলের পদে খালেদা জিয়ার গাড়িবহরে হামলার আসামি
ফেনীতে খালেদা জিয়ার গাড়িবহর হামলা মামলার আসামি যুবদল নেতা: কমিটি বিলুপ্ত

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : খালেদা জিয়া-র গাড়িবহরে হামলার মামলার এক আসামিকে ওয়ার্ড যুবদলের সাধারণ সম্পাদক করার ঘটনায় ফেনীতে তীব্র সমালোচনা ও ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। এর জেরে ফেনী পৌর যুবদলের কমিটি স্থগিত, সংশ্লিষ্ট নেতাদের শোকজ এবং অভিযুক্ত ব্যক্তিকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। রোববার (৩ মে) কেন্দ্রীয় যুবদলের সহ-দপ্তর সম্পাদক মিনহাজুল ইসলাম ভূঁইয়া স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এসব সিদ্ধান্ত জানানো হয়। কী ঘটেছিল দলীয় সূত্রে জানা যায়, ৩০ এপ্রিল ফেনী পৌর যুবদলের সভাপতি জাহিদ হোসেন বাবলু এবং সাধারণ সম্পাদক হায়দার আলী রাসেল পাটোয়ারী-এর স্বাক্ষরে ১২টি ওয়ার্ড কমিটি ঘোষণা করা হয়। এই তালিকায় ৪ নম্বর ওয়ার্ডের সাধারণ সম্পাদক করা হয় গাজী এনামুল হক সুজন-কে। পরে জানা যায়, তিনি ২০১৭ সালে মহিপালে খালেদা জিয়ার গাড়িবহরে হামলার মামলার এজাহারভুক্ত আসামি। এ তথ্য প্রকাশ্যে আসার পর জেলাজুড়ে সমালোচনা শুরু হয়। পরদিনই ওই কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক ছাড়া বাকি ছয় সদস্য পদত্যাগ করেন। কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত কেন্দ্রীয় যুবদল জানায়— ফেনী পৌর যুবদলের বিদ্যমান কমিটি স্থগিত ঘোষিত ১২টি ওয়ার্ড কমিটি বিলুপ্ত সুজনকে প্রাথমিক সদস্যপদসহ দল থেকে বহিষ্কার সংশ্লিষ্ট সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ব্যাখ্যা দিতে নির্দেশ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বহিষ্কৃত ব্যক্তির কোনো কর্মকাণ্ডের দায় দল নেবে না এবং নেতাকর্মীদের তার সঙ্গে সাংগঠনিক সম্পর্ক না রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কেন্দ্রীয় যুবদলের সভাপতি আব্দুল মোনায়েম মুন্না এবং সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ নুরুল ইসলাম নয়ন ইতোমধ্যে এ সিদ্ধান্ত কার্যকর করেছেন। মামলার পটভূমি এজাহার সূত্রে জানা যায়, ২০১৭ সালে ফেনীর মহিপাল এলাকায় খালেদা জিয়ার গাড়িবহরে হামলার ঘটনায় করা মামলায় ২৮ জনকে আসামি করা হয়। তাদের মধ্যে সুজনের নাম রয়েছে ২৫ নম্বরে। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর যমুনা হাই ডিলাক্স পরিবহনের চেয়ারম্যান আবুল কাশেম মিলন এ মামলা দায়ের করেন। বিরোধী মত ওই কমিটির সিনিয়র সহ-সভাপতি গাজী আবদুল কাদের নয়ন দাবি করেন, সুজন আগে আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে যুক্ত ছিলেন এবং হামলার ঘটনায় জড়িতদের নেতৃত্বে রাজনীতি করা সম্ভব নয় বলেই তারা পদত্যাগ করেছেন। অন্যদিকে, অভিযুক্ত সুজন অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, এটি পারিবারিক বিরোধের জের। তার ভাষ্য অনুযায়ী, জমি-সংক্রান্ত বিরোধ থেকেই তাকে মামলায় জড়ানো হয়েছে। স্থানীয় প্রতিক্রিয়া পৌর যুবদলের সভাপতি বাবলু বলেন, মামলাটি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং বিষয়টি জেলা বিএনপি ও যুবদল অবগত রয়েছে। জেলা যুবদলের দপ্তর-দায়িত্বপ্রাপ্ত সদস্য মো. আল ইমরান জানান, কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সব পদক্ষেপ ইতোমধ্যে কার্যকর করা হয়েছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ৪, ২০২৬ 0
সৈয়দা আসিফা আশরাফী পাপিয়া
দীর্ঘ রাজনৈতিক সংগ্রাম, আন্দোলন ও সৈয়দা আসিফা আশরাফী পাপিয়া

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : রাজনীতিতে একটি প্রচলিত ধারণা আছে—রাজপথ কখনো বেইমানি করে না। দীর্ঘ রাজনৈতিক সংগ্রাম, আন্দোলন আর তৃণমূলের সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ততার মধ্য দিয়ে অনেক নেতাকর্মীর পরিচয় গড়ে ওঠে এই রাজপথেই। বিএনপি-ঘনিষ্ঠ রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচিত নাম সৈয়দা আসিফা আশরাফী পাপিয়া। দলের একাংশের দাবি, তিনি দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার দুঃসময়ে রাজপথে সক্রিয় ভূমিকা রেখেছেন এবং সাংগঠনিক কর্মসূচিতে ধারাবাহিকভাবে অংশ নিয়েছেন। দলীয় সমর্থকদের একটি অংশের ভাষ্য অনুযায়ী, যখন দলের অনেক শীর্ষ পর্যায়ের নেতা আত্মগোপনে ছিলেন বা অবস্থান বদল করেছিলেন, তখন তিনি রাজপথেই অবস্থান করেন এবং আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় ছিলেন। তাঁদের দাবি, এই সময়েই তিনি তৃণমূল পর্যায়ের কর্মীদের মধ্যে পরিচিতি পান এবং ৬৪ জেলার বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মীদের সঙ্গে তার রাজনৈতিক যোগাযোগ তৈরি হয়। তাঁদের আরও দাবি, এই ধারাবাহিক রাজনৈতিক উপস্থিতির কারণে সাধারণ জনগণের মধ্যেও তাঁর পরিচিতি বাড়ে। সমর্থকদের মতে, এই পরিচিতিই তাঁকে একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক অবস্থান ও জনপ্রিয়তা এনে দিয়েছে, যা কোনো আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়ার ওপর নির্ভরশীল নয়। তবে তাঁর জনপ্রিয়তা বা রাজনৈতিক ভূমিকা নিয়ে করা এসব দাবি স্বাধীনভাবে যাচাইযোগ্য নয়। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশ মনে করেন, বাংলাদেশের রাজনৈতিক বাস্তবতায় তৃণমূল পর্যায়ের সক্রিয়তা ও কেন্দ্রীয় নেতৃত্বে অবস্থান সবসময় সরলরৈখিকভাবে নির্ধারিত হয় না। সৈয়দা আসিফা আশরাফী পাপিয়ার বিরুদ্ধে একাধিক মামলার কথাও বিভিন্ন সময় আলোচনায় এসেছে। দলীয় সমর্থকদের দাবি অনুযায়ী, তাঁর বিরুদ্ধে ৮০টির বেশি মামলা রয়েছে এবং রাজনৈতিক অস্থির সময়গুলোতে তিনি গ্রেপ্তার, রিমান্ডসহ বিভিন্ন আইনি প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে গেছেন। তবে এসব মামলার বর্তমান অবস্থা ও আইনি নিষ্পত্তি নিয়ে পূর্ণাঙ্গ ও নিরপেক্ষ তথ্য সর্বত্র সহজলভ্য নয়। রাজনীতিতে তাঁর অবস্থান নিয়ে ভিন্নমতও রয়েছে। এক পক্ষ তাঁকে ত্যাগী ও সংগ্রামী কর্মী হিসেবে দেখলেও, অন্য পক্ষ মনে করে এটি দলীয় রাজনীতির বৃহত্তর প্রেক্ষাপটেরই অংশ। বর্তমানে তিনি সক্রিয় রাজনৈতিক দৃশ্যপট থেকে কিছুটা আড়ালে থাকলেও, দলীয় একাংশের মতে তৃণমূল পর্যায়ে তাঁর নাম ও প্রভাব এখনো বিদ্যমান। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, বাংলাদেশের রাজনীতিতে জনপ্রিয়তা, ত্যাগ এবং নেতৃত্বের অবস্থান—সবকিছুই বহুস্তরীয় সমীকরণের ওপর নির্ভরশীল, যেখানে রাজপথ যেমন একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান, তেমনি দলীয় কাঠামো ও রাজনৈতিক বাস্তবতাও সমানভাবে প্রভাব ফেলে।

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ২১, ২০২৬ 0
বিএনপির মনোনয়ন পাওয়া সুবর্ণা সিকদার
যদি আ.লীগ নেত্রীকেই বিএনপি এমপি করে,আমাদের বোনদের কী লাভ হলো

ইত্তেহাদ নিউজ, অনলাইন ডেস্ক : ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনে প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করেছে বিএনপি। সোমবার (২০ এপ্রিল) এ তালিকা ঘোষণা করা হয়। মনোনীত প্রার্থীদের মধ্যে এক নেত্রীকে নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। তিনি হলেন গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী উপজেলার সুবর্ণা সিকদার (ঠাকুর)। তিনি দল করেন আওয়ামী লীগ, কিন্তু সংরক্ষিত আসনে সংসদ সদস্য হয়ে যাচ্ছেন বিএনপি থেকে— এমন ঘটনা যদি ঘটে, তাহলে সেটি তো কম বিস্ময়ের নয়। এমনটাই ঘটেছে সুবর্ণা সিকদার এর বেলায়। বিএনপি থেকে প্রকাশিত ৩৬ জন সংরক্ষিত মহিলা আসনের এমপির তালিকায় তার নাম রয়েছে ২৩ নম্বরে। গোপালগঞ্জের কাশিয়ানীর শ্রিধাম ওড়াকান্দি ঠাকুরবাড়ির সদস্য ও কাশিয়ানী উপজেলা আওয়ামী লীগ নেত্রী সুবর্ণা সিকদারের (ঠাকুর) বিএনপিদলীয় সংরক্ষিত সদস্য হিসেবে মনোনয়ন পাওয়ায় জেলাব্যাপী চলছে তুমুল বিতর্ক। একদিকে বিএনপির নেতাকর্মীরা বিস্ময়, ক্ষোভ ও হতাশা ব্যক্ত করছেন। অন্যদিকে আওয়ামী লীগের সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা এ ধরনের মনোনয়নকে উল্লেখ করেছেন বিএনপির দেউলিয়াত্ব হিসেবে। সামাজিক মাধ্যম ব্যবহার করে বিএনপি ও আওয়ামী লীগের সঙ্গে জড়িতরা করছেন নানা ধরনের মন্তব্য এবং সেইসঙ্গে বিভিন্ন ছবি দিয়ে ছুড়ছেন নানা প্রশ্ন। গোপালগঞ্জ জেলা ছাত্রদলের সাবেক নেতা শরিফুল ইসলাম রোমান সামাজিক মাধ্যমে হতাশা ও দুঃখ প্রকাশ করে প্রশ্ন করেছেন, ‘আমি হতাশ! দীর্ঘদিন রাজপথে থেকে আমাদের বোনদের কী লাভ হলো, যদি আওয়ামী লীগের নেত্রীকেই সংরক্ষিত আসনে বিএনপি থেকে মনোনয়ন দেওয়া হয়?’ ‘তিনি কি আদৌও আওয়ামী লীগ থেকে পদত্যাগ করেছেন অথবা বিএনপির সদস্য হয়েছেন’— এমন প্রশ্ন যোগ করেছেন রোমান। টিটো বৈদ্য নামে আরেকজন অভিযোগ করে লিখেছেন, ‘অফিসিয়ালি কোনও জায়গায় তিনি পদত্যাগ করেননি। আর আওয়ামী লীগের পোস্টধারী নেত্রীর কোনও ত্যাগ, শ্রম ছাড়া দুই দিনেই যদি এমপি বনে যাওয়া যায়, তাহলে এটিকে বিএনপির দৈন্য ছাড়া আর কিছুই বলা যায় না।’ কাশিয়ানী উপজেলা আওয়ামী লীগ সূত্রে জানা যাচ্ছে, ২০২২ সালের ৩০ নভেম্বর কাশিয়ানী উপজেলা আওয়ামী লীগের ত্রিবার্ষিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। পরের বছর ১ জানুয়ারি কমিটির পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রকাশ করা হয়। গোপালগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জি এম সাহাবুদ্দিন আজম স্বাক্ষরিত ওই তালিকার ২৭ নম্বরে বন ও পরিবেশবিষয়ক সম্পাদক হিসেবে আছে সুবর্ণা ঠাকুরের নাম। এ বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানার জন্য মনোনয়নপ্রাপ্ত সুবর্ণা সিকদারের (ঠাকুর) মোবাইল নম্বরে কল করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি। সুবর্ণা ‘মতুয়া সম্প্রদায়ের’ একজন নারী। তিনি ওড়াকান্দি হরিচাঁদ ঠাকুর পরিবারের সদস্য ও পেশায় একজন শিক্ষক। এলাকাবাসীর দাবি, আলোচিত সুবর্ণা ঠাকুর গোপালঞ্জের কাশিয়ানী উপজেলা আওয়ামী লীগের বন ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক। তিনি কীভাবে বিএনপি থেকে এমপি হবেন? যদি এমনটা হয় তাহলে বুঝতে হবে, দেশের জনগণের সঙ্গে বিএনপি তামাশা করছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দল পুনর্গঠনের এই সময়ে এ ধরনের সিদ্ধান্ত দলীয় ঐক্য ও শৃঙ্খলার ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে তৃণমূল পর্যায়ে ক্ষোভ বাড়লে নির্বাচনি কার্যক্রমে এর নেতিবাচক প্রতিফলন দেখা দিতে পারে।

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ২১, ২০২৬ 0
রাশেদ প্রধান
তারেক রহমানকে নিয়ে মন্তব্যে দুঃখ প্রকাশ রাশেদ প্রধানের, বিএনপি-জাগপা উত্তেজনা

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্যের জন্য দুঃখ প্রকাশ করেছেন জাগপার সিনিয়র সহসভাপতি রাশেদ প্রধান।  শনিবার রাজধানীর পল্টনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে দুঃখ প্রকাশ করেন তিনি। রাশেদ প্রধান বলেন, ‘যেহেতু বিএনপির কর্মীরা একটি শব্দ ব্যবহার করার জন্য রাগ করেছেন, কষ্ট পেয়েছেন তাই আমি বিএনপি সমর্থকগোষ্ঠীর কাছে আন্তরিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করছি। ভবিষ্যতে আর ওই শব্দটি ব্যবহার করব না বলে কথা দিচ্ছি।’ তিনি বলেন, ‘জাতীয় নির্বাচনের আগে থেকেই আমার বক্তব্যে বারবার বলেছি, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান এবং আপসহীন বেগম খালেদা জিয়ার বিএনপি আর নেই। তারেক রহমান তার বাবা-মায়ের আদর্শে বর্তমান বিএনপি পরিচালনা করেন না। তিনি তাদের সম্মান নষ্ট করেছেন, তাদের অপমান করেছেন।’ রাশেদ প্রধান বলেন, ‘গত বুধবার এক আলোচনা সভায় আমার দেওয়া বক্তব্যে আমি একই কথা বলেছি। আমার এই বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে আলোচনা এবং সমালোচনার ঝড় উঠেছে। অতীতে অসংখ্যবার দেওয়া বক্তব্যে তেমন কোনো প্রতিক্রিয়া দেখা না গেলেও ১৫ এপ্রিলের বক্তব্যে বড় রকমের প্রতিক্রিয়া লক্ষ্য করা যাচ্ছে।’ জাগপা নেতা বলেন, ‘আমি মনে-প্রাণে বিশ্বাস করি, তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বিএনপি, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ও দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার আদর্শের বিএনপি নয়। যেটা তিনি নির্বাচনের পরে জুলাইয়ের সঙ্গে বেইমানি করে প্রমাণ করেছেন। আমার এই বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বিএনপি সমর্থকগোষ্ঠী প্রতিবাদ, মিছিল, মিটিং, আমার কুশপুত্তলিকা দাহসহ নানাবিধ কর্মসূচি পালন করেছেন। সেটা করার সম্পূর্ণ গণতান্ত্রিক অধিকার তাদের আছে। আমি সরকারি দলের নেতাকর্মীদের সাধুবাদ জানাই।’ তিনি বলেন, ‘শুক্রবার সকালে আমার বাসভবনের সামনে সরকারি দল ও বিএনপি সমর্থকগোষ্ঠী যেভাবে অবরুদ্ধ করে মব সৃষ্টি করেছে হতবাক করার মতোই। জুলাই গণঅভ্যুথানের সময় আওয়ামী সন্ত্রাসীরা পঞ্চগড় জেলায় জাগপা কার্যালয় হামলা ও ভাঙচুর করেছিল। গতকাল দেখলাম ছাত্রদল ও যুবদলের নেতাকর্মীরা মিছিল করে সেই আওয়ামী সন্ত্রাসী কায়দায় পঞ্চগড় জেলা জাগপা কার্যালয়ে হামলা ও ভাঙচুর করেছে।’ রাশেদ প্রধান বলেন, ‘স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছিলেন বাংলাদেশে আর কোনো মব কালচার থাকবে না। তারেক রহমান দেশে আসার আগে সোশ্যাল মিডিয়াতে নিজের ব্যঙ্গাত্মক চিত্র শেয়ার করে বাকস্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছিলেন। আমি তারেক রহমান ও সালাহউদ্দিন আহমদের কথার প্রতিফলন দেখার অপেক্ষায় আছি।’ তিনি বলেন, ‘আমি যে রাজনৈতিক বক্তব্য দিয়েছি, তা শুধুমাত্র আমার বক্তব্য অথবা দলীয় মুখপাত্র হিসেবে জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির (জাগপা) বক্তব্য। এর সঙ্গে আমাদের ১১ দলীয় ঐক্যের কোনো সম্পর্ক নেই। ফলে আমার বক্তব্যকে জামায়াত অথবা ১১ দলের বক্তব্য হিসেবে যারা প্রচার করছেন তারা ভুল করছেন।’ জাগপার সহসভাপতি বলেন, ‘আমাকে বিব্রত করার লক্ষ্যে সোশ্যাল মিডিয়ায় আমার ফোন নম্বর ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। অতি উৎসাহী বিএনপি সমর্থকেরা আমার ফোন করে বকাঝকা দিচ্ছেন। আমাকে হত্যার হুমকিও দিয়েছেন। জুলাই গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশে বাকস্বাধীনতার এতো চমৎকার উদাহরণ আমরা আশা করিনি। বিএনপি সমর্থকদের বলতে চাই, জুলাই গণঅভ্যুথানে আমার ১৯ তারিখ মৃত্যু হতে পারত। আমি আল্লাহপ্রদত্ত দ্বিতীয় জীবনযাপন করছি। মৃত্যু ভয় নিয়ে আমি রাজনীতি করি না। মহান রাব্বুল আলামিন যেদিন যে সময়ে আমার মৃত্যু নির্ধারণ করেছেন, তার ১ সেকেন্ড আগে অথবা ১ সেকেন্ড পরে আমার মৃত্যু হবে না।’ জাগপা মুখপাত্র বলেন, ‘রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত না থাকার পরেও শুধুমাত্র আমার সহধর্মিণী হওয়ার অপরাধে সোশ্যাল মিডিয়ায় তার ফোন নম্বর ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। আমার বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে আমার পরিবারের মানুষকে হেনস্তা করা হচ্ছে, যা একটি গোষ্ঠীর রুচিবোধকে প্রশ্নবিদ্ধ করে। আমার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করতে যেয়ে আমার মরহুম দাদা পাকিস্তান আমলের স্পিকার মুসলিম লীগ নেতা গমীর উদ্দিন প্রধানকে রাজাকার বলা হচ্ছে। অথচ আওয়ামী লীগ, বিএনপিসহ কোনো সরকারের আমলে তার নামে এই ধরনের কোনো অপবাদ কেউ দেয়নি।’ তিনি বলেন, ‘আমার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করতে যেয়ে আমার মরহুম পিতা জাগপা প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি শফিউল আলম প্রধানকে রাজাকার বলা হচ্ছে। অথচ ইতিহাস বলে শফিউল আলম প্রধান ৭১ সালের ২৩ মার্চ পরাধীন বাংলার দিনাজপুরে পাকিস্তানের পতাকা নামিয়ে স্বাধীন বাংলার পতাকা উত্তোলন করেছিলেন। তিনি একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন। একজন বীর মুক্তিযোদ্ধাকে রাজাকার বানানোর এই মিথ্যা চক্রান্ত নিন্দনীয়। তাকে মহসিন হলে সংগঠিত সাত খুনের হত্যাকারী বলা হচ্ছে। বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ অসংখ্য বর্ষীয়ান বিএনপি নেতাদের মুখে আমরা শুনেছি এটা মিথ্যা অপবাদ।’ রাশেদ প্রধান বলেন, ‘তৎকালীন ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের ৬৪ জন দুর্নীতিবাজের নামের তালিকা প্রকাশের এক সপ্তাহের মধ্যে সাত খুন সংগঠিত হয় এবং শফিউল আলম প্রধানকে আসামি করা হয় মুজিব সরকারের নির্দেশে। শফিউল আলম প্রধান তখন ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক ছিলেন আর সভাপতি ছিলেন বর্তমান বিএনপি সরকারের সংসদ সদস্য মনিরুল হক চৌধুরী। আমি বিএনপি সমর্থকদের বিনয়ের সঙ্গে অনুরধ করব, আমার মরহুম পিতাকে আওয়ামী কায়দায় খুনি বলার আগে আপনাদের নেতা মনিরুল হক চৌধুরীর কাছে প্রকৃত ঘটনাটি সম্পর্কে অবগত হওয়ার জন্য। ওনাকে খুনি বলা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের সিদ্ধান্তকে অসম্মান করা।’

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ১৯, ২০২৬ 0
ব্যারিস্টার শাহরিয়ার কবির
ভোটের প্রচারণায় টাকা দেওয়ার ভিডিও ভাইরাল, সমালোচনার মুখে ব্যারিস্টার শাহরিয়ার কবির

ভোটের প্রচারণায় টাকা দেওয়ার ভিডিও ভাইরাল, সমালোচনার মুখে ব্যারিস্টার শাহরিয়ার কবির

Admin ফেব্রুয়ারি ১৩, ২০২৬ 0
Popular post
ফারুকীর সম্পদ কমেছে, তিশার বেড়েছে দ্বিগুণেরও বেশি: সম্পদ বিবরণী ঘিরে আলোচনা

অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের সম্পদ বিবরণী প্রকাশের পর সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী ও তার স্ত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদের হিসাব নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। এক বছরের ব্যবধানে স্বামী ফারুকীর সম্পদ কমলেও স্ত্রী তিশার সম্পদ বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে প্রকাশিত তথ্যে উঠে এসেছে এই চিত্র। প্রকাশিত খতিয়ান অনুযায়ী, জনপ্রিয় অভিনেত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদ এক বছরে অভাবনীয় হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তিশার মোট সম্পদের পরিমাণ ছিল ১ কোটি ৪০ লাখ ৮১ হাজার ৮৬০ টাকা। ঠিক এক বছর পর, ২০২৫ সালের ৩০ জুন সেই সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ৯৯ লাখ ৮৯ হাজার ৫০১ টাকায়। অর্থাৎ মাত্র এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ বেড়েছে ১ কোটি ৫৯ লাখ ৭ হাজার ৬৪১ টাকা, যা আগের বছরের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি। অন্যদিকে সংস্কৃতি উপদেষ্টা ও নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর ক্ষেত্রে দেখা গেছে উল্টো চিত্র। এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ কমেছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তার মোট সম্পদ ছিল ২ কোটি ২৬ লাখ ৯২ হাজার ২৬ টাকা। ২০২৫ সালের ৩০ জুন তা কমে দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ১৫ লাখ ১৮ হাজার ২৬ টাকায়। হিসাব অনুযায়ী, এক বছরে তার সম্পদ কমেছে ১১ লাখ ৭৪ হাজার টাকা। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে গত মঙ্গলবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ প্রধান উপদেষ্টা, উপদেষ্টা ও সমমর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের পাশাপাশি তাদের স্ত্রী বা স্বামীর সম্পদ বিবরণী প্রকাশ করে। একই সময়ে স্বামী-স্ত্রীর সম্পদে এমন ভিন্নমুখী পরিবর্তন স্বাভাবিকভাবেই সাধারণ মানুষের কৌতূহলের জন্ম দিয়েছে। শোবিজ অঙ্গনের জনপ্রিয় দম্পতি হওয়ায় তাদের এই আয়-ব্যয়ের হিসাব এখন টক অব দ্য কান্ট্রি।

সংসার সামলাতে অটোরিকশা নিয়ে রাস্তায় নেমেছেন রোজিনা

বাসস : বাবা একজন তাঁত শ্রমিক। তিন বোন দুই ভাইয়ের মধ্যে সবার বড় রোজিনা। অভাব সংসার, তাই এক এতিম যুবকের সাথে বাবা-মা বিয়ে দেন তাকে। বিয়ের পর জন্ম হয় দুই কন্যা সন্তানের। অটোরিকশা চালিয়ে কোন রকম সংসার চালাচ্ছিলেন স্বামী রফিকুল ইসলাম। কিন্তু সড়ক দুর্ঘটনায় রফিকুলের এক চোখ সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যায়। আরেকটি চোখ আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ধীরে ধীরে ওই চোখের দৃষ্টি শক্তিও কমতে থাকে। ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে অটোরিকশা চালানো। সংসারের উপার্জনক্ষম মানুষটি অচল হয়ে পড়ায় চিকিৎসার খরচ, ঘর ভাড়া ও খাবারের পাশাপাশি মেয়েদের লেখাপড়ার খরচ চালানোই কঠিন হয়ে যায়। দিশেহারা হয়ে পরেন রোজিনা। এক পর্যায়ে মানুষের বাড়ি বাড়ি কাজ করে সংসার চালানোর চেস্টা করেন। কিন্তু সুবিধা করতে পারেন না। এমন পরিস্থিতিতে অটোরিকশা চালানোর সিদ্ধান্ত নেন তিনি। স্বামী রফিকুলের কাছেই হাতেখড়ি। গ্রামের স্কুলের মাঠে স্বামীর কাছেই অটোরিকশা চালানোর শিক্ষা নেন তিনি। পরে গ্রামের পথে নেমে পড়েন অটোরিকশা নিয়ে। ৫-৬ দিন এভাবে হাত পাকা করে একদিন টাঙ্গাইল শহরে চলে আসেন রোজিনা। এরপর শুরু করেন অটোরিক্সা চালানোর ব্যতিক্রমী জীবন সংগ্রাম। এখন টাঙ্গাইল পৌরসভায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার চালকদের মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা বেগম। জেলার বাসাইল উপজেলার আইসড়া গ্রামের বাসিন্দা রোজিনা টাঙ্গাইল পৌর শহরের এক প্রান্ত রাবনা বাইপাস থেকে আরেক প্রান্ত বেবিস্ট্যান্ডে যাত্রী আনা নেয়া করেন। যানজটের কারণে শহরে পুরুষ চালকরা যেখানে হিমসিম খায়, সেখানেই বিগত ৫ বছর ধরেই নির্বিঘেœ অটোরিকশা চালাচ্ছেন তিনি। টাঙ্গাইল পৌরসভা কার্যালয় সূত্রে জানা যাায়, টাঙ্গাইল শহরে চলাচলের জন্য ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক ও ৫ হাজার ব্যাটারিচালিত রিকশার অনুমতি (লাইসেন্স) দেওয়া হয়েছে। যানজট এড়াতে ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক জোড় ও বিজোড় সংখ্যায় দিনে দুই ভাগ করা হয়েছে। সকাল থেকে বেলা দুইটা পর্যন্ত এক ভাগ এবং বেলা দুইটা থেকে রাত পর্যন্ত আরেক ভাগের ইজিবাইক চলাচল করার নির্দেশনা দিয়েছে পৌর কর্তৃপক্ষ। কিন্তু রোজিনাকে দুই শিফটে চালানোর অনুমতি দিয়েছে পৌরসভা। সরেজমিনে দেখা যায়, নতুন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অটোরিকশা নিয়ে যাত্রী ডাকছেন রোজিনা। কলেজ গেট, পুরাতন বাসস্ট্যান্ড, ক্যাপসুল, নিরালা মোড়, বেবিস্ট্যান্ড সর্বত্রই যাত্রী আনানেয়া করেন তিনি। পুরাতন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অন্য অটো চালকদের দাঁড় করতে না দিলেও রোজিনাকে বাঁধা দেননা ট্রাফিক পুলিশ। বলতে গেলে সবাই তার প্রতি সহানুভুতিশীল। ট্রাফিক পুলিশসহ অন্য অটোচালকরাও তাকে সহযোগিতা করেন। রোজিনা বলেন, আমার অটোতে নারী যাত্রীরা খুব কম। তারা মনে করে আমার অটোতে উঠলে দুর্ঘটনায় পড়বে। কিন্তু আমি খুব সাবধানে অটো চালাই। দ্রুত গতিতেও না, আবার একেবারে ধীরগতিতেও না। এখন পর্যন্ত আমি কোন দুর্ঘটনার কবলে পড়ি নাই। শহরের পুরুষ অটোরিকশা চালকরা আমাকে অনেক সহযোগিতা করে। অটোচালক কাদের মিয়া বলেন, আমাদের শহরে কয়েক হাজার অটো চলাচল করে। তার মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। তাকে আমরা সব সময় সহযোগিতা করি। যাত্রী সাইদ মিয়া বলেন, আমি এ পর্যন্ত ৫-৬ বার রোজিনার অটোতে চড়েছি। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। অন্য পুরুষ অটো চালকের চেয়েও ভালো অটো চালান। নারী সংগঠক সেরাজুম মনিরা বলেন, তিনি অনেক দিন যাবত অটোরিকশা চালাচ্ছেন। আমি রোজিনাকে স্যালুট জানাই। একজন পুরুষের চেয়ে একজন নারী কোনো ভাবেই যে পিছিয়ে নেই, রোজিনা তা প্রমাণ করেছেন। রোজিনা বলেন, অটো চালানোর এই সিদ্ধান্তটি তার জন্য খুব সহজ ছিল না। তিনি বলেন, ৫ ও ১০ বছরের দুই মেয়েকে বাড়িতে রেখে অটোরিকশা নিয়ে সারাদিন রাস্তায় থাকতে হয়। তাদের ভালোভাবে দেখাশোনা করতে পারি না। কিন্তু কি করবো, অভাবের সংসার! এখন ঋণ নিয়ে একটু জমি কিনেছি। প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ণ প্রকল্পের অর্থায়নে প্রশাসন সেখানে ঘর তুলে দিয়েছে। শুরুতে যারা আমাকে নিয়ে ঠাট্টা করেছে এখন তারাই আমাকে সম্মান করেন। নারীরাও যে কিছু করতে পারে, তা প্রমাণ করেছি। আমার বড় মেয়ে আইসড়া উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়ে, ছোট মেয়ে পড়ে স্থানীয় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। মেয়েদের শিক্ষিত করতে হবে। ধার দেনা শোধ করতে হবে। তাই থেমে গেলো চলবে না। আমি অটোরিকশা চালিয়েই দুই সন্তানকে মানুষ করতে চাই।’ ঘারিন্দা ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য বাবুল সরকার বলেন, সরকার রোজিনাকে একটি ঘর নির্মাণ করে দিয়েছে। শুরুতে যারা তাকে নিয়ে নানান কথা বলতো, এখন তার সংকল্প ও মানষিক দৃঢ়তা দেখে থেমে গেছে। আমরা তাকে নিয়ে গর্ব করি। টাঙ্গাইলের ট্রাফিক ইন্সপেক্টর (প্রশাসন) দেলোয়ার হোসেন বলেন, শহরের একমাত্র নারী চালক রোজিনাকে কেউ যেন বিরক্ত করতে না পারে সেদিকে সব সময় নজর রাখে ট্রাফিক পুলিশ। আমরা তাকে সব সময় সহযোগিতা করে আসছি। টাঙ্গাইলের সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক শাহ আলম বলেন, বিষয়টি এখন জানতে পারলাম। ওই নারী এখনো পর্যন্ত আমাদের কাছে আসেন নাই। যদি আমাদের কাছে এসে আবেদন করেন অবশ্যই তাকে আমরা সহযেগিতা করবো, তার পাশে দাঁড়াবো।

বাংলাদেশে ঐতিহাসিক নির্বাচন: বিএনপি এগিয়ে, জামায়াতের উত্থান ও তরুণ ভোটারদের প্রভাব

২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশে আজ এক ঐতিহাসিক ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ২০০৮ সালের পর এই প্রথম একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হতে যাচ্ছে যেখানে দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগ রাজনৈতিক মানচিত্র থেকে কার্যত অনুপস্থিত। বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক জরিপ বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০০ আসনের মধ্যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) কার্যকর সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে যাচ্ছে। তবে ভোটের ব্যবধান এবং কিছু সমীকরণ নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। নির্বাচনের সবচেয়ে বড় নিয়ামক হয়ে দাঁড়িয়েছে আওয়ামী লীগের বিশাল ভোটব্যাংক। দলটির নিয়মিত প্রায় ৪ কোটি ভোটার এখন নতুন রাজনৈতিক আশ্রয় খুঁজছেন। সিআরএফ বা বিইপিওএস জরিপ বলছে, এই ভোটারদের প্রায় অর্ধেক বিএনপির দিকে ঝুঁকেছে, যা দলটিকে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতার পথে এগিয়ে দিচ্ছে। অন্যদিকে, প্রায় ৩০ শতাংশ আওয়ামী ভোটার জামায়াতে ইসলামীকে বেছে নিতে পারেন বলে আভাস পাওয়া যাচ্ছে। এছাড়া বাংলাদেশের বিদ্যমান নির্বাচনী ব্যবস্থার কারণে দেশজুড়ে সুষম জনসমর্থন থাকা বিএনপি আসন জয়ের ক্ষেত্রে জামায়াতের তুলনায় সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। তবে বিএনপির এই সম্ভাব্য জয়ের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও বিদ্রোহী প্রার্থীরা। প্রায় ৭৯টি নির্বাচনী এলাকায় দলের মনোনয়ন না পাওয়া ৯২ জন প্রভাবশালী নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, যা বিএনপির ১৫ থেকে ৩০টি আসন কমিয়ে দিতে পারে। অন্যদিকে, তরুণ ভোটার বা ‘জেন-জি’ প্রজন্মের বিশাল সমর্থন জামায়াতে ইসলামীর শক্তির উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেশের ৪৪ শতাংশ ভোটারই তরুণ, যাদের বড় একটি অংশ প্রথমবার ভোট দিচ্ছেন। এই তরুণরা যদি দলবেঁধে কেন্দ্রে উপস্থিত হন, তবে নির্বাচনী ফলে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। সবশেষে, প্রায় ১৭ থেকে ৩৫ শতাংশ দোদুল্যমান ভোটার এবং তাদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করবে আগামীর সরকার কতটা শক্তিশালী হবে। দ্য নিউইয়র্ক এডিটোরিয়ালের মূল পূর্বাভাস, তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি প্রায় ১৮৫টি আসনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করতে পারে এবং জামায়াতে ইসলামী ৮০টির মতো আসন পেয়ে প্রধান বিরোধী দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারে। তবে বিদ্রোহী প্রার্থীদের প্রভাব এবং তরুণ ভোটারদের উপস্থিতির ওপর ভিত্তি করে আসন সংখ্যায় বড় ধরনের হেরফের হওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

গাজায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা ট্রাম্প প্রশাসনে

ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। ৩৫০ একরের ঘাঁটিটিতে সামরিক বাহিনীর পাঁচ হাজার সদস্য থাকতে পারবে। গাজার ‘বোর্ড অব পিস’র নথি পর্যালোচনা করে এ তথ্য জানিয়েছে দ্য গার্ডিয়ান। প্রতিবেদনে ব্রিটিশ সংবাদ মাধ্যমটি জানিয়েছে, বোর্ড অব পিসে গাজাকে নিরাপদ করার জন্য ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যাবিলাইজেশন ফোর্স (আইএসএফ) নামে একটি আন্তর্জাতিক বাহিনী মোতায়েনের কথা বলা হয়েছে। যে স্থানটি ঘাঁটি করার জন্য বিবেচনা করা হচ্ছে সেখানে আইএসএফের সদস্যরা থাকবে। বোর্ড অব পিসের প্রধান হবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আর সংগঠনটির আংশিক নেতৃত্ব দেবেন ট্রাম্পের জামাতা জ্যারার্ড কুশনার।দ্য গার্ডিয়ান বোর্ড অব পিসের নথি পর্যালোচনা করে জানায়, ধাপে ধাপে একটি সামরিক ঘাঁটি নির্মাণ করা হবে। সবকিছু শেষ হলে ঘাঁটিটি ১৫ লাখ ১৭ হাজার ৫৭৫ বর্গমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত হবে। ঘাঁটিটির চারপাশে ট্রেইলার সংযুক্ত ২৬টি সাঁজোয়া নজরদারি টাওয়ার থাকবে। এছাড়া একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, বাংকার ও অস্ত্র রাখার গুদাম থাকবে। পুরো ঘাঁটিটি কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে ঘিরে রাখা হবে। সামরিক ঘাঁটি নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে দক্ষিণ গাজার একটি শুষ্ক সমতলভূমিতে। সেখানে ইসরায়েলি হামলার চিহ্ন রয়েছে। ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে বিভিন্ন ধাতবের ধ্বংসাবশেষ।  ওই এলাকার ভিডিও পর্যালোচনা করেছে দ্য গার্ডিয়ান। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, ঘাঁটি নির্মাণের জন্য টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে। যুদ্ধক্ষেত্রে কাজের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন আন্তর্জাতিক নির্মাণ কোম্পানিগুলোর একটি ছোট দলকে ইতোমধ্যেই এলাকাটি দেখানো হয়েছে। ওই দলটি দরপত্রে অংশ নিতে আগ্রহী।    ইন্দোনেশিয়া সরকার গাজায় আট হাজার সেনা সদস্য পাঠানোর জন্য প্রস্তাব দিয়েছে। বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটন ডিসিতে বোর্ড অব পিসের অনানুষ্ঠানিক বৈঠকে ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্টের অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। এছাড়া দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার আরও তিন নেতার ওই বৈঠকে অংশ নেবেন বলে জানা গেছে। জাতিসংঘের নিরাপত্তা কাউন্সিল গাজার সাময়িক স্থিতিশীলতার জন্য অস্থায়ীভাবে সামরিক বাহিনী মোতায়েনের অনুমোদন দিয়েছে। নিরাপত্তা কাউন্সিলই বোর্ড অব পিসের মূল হোতা। গাজার সীমান্ত ও শান্তি প্রণয়নে কাজ করবে আইএসএফ। এছাড়া বেসামরিকদের সুরক্ষা এবং ফিলিস্তিনি পুলিশ বাহিনীকে প্রশিক্ষণ ও সহায়তা দেবে তারা। যদি গাজায় ফের সংঘর্ষ হয়, ইসরায়েল বোমা হামলা চালায় অথবা হামাস হামলা চালায় সেক্ষেত্রে আইএসএফ কি করবে তা এখনও স্পষ্ট নয়। গাজা পুনর্গঠনে ইসরায়েল হামাসকে নিরস্ত্রীকরণের যে শর্ত দিয়েছে সেটির জন্য আইএসএফ কাজ করবে কিনা তাও স্পষ্ট না। ইতোমধ্যে বোর্ড অব পিসে ২০ এর অধিক দেশ যোগ দিয়েছে। তবে, এখনও অনেক পরাশক্তি এর থেকে দূরে রয়েছে। জাতিসংঘের অনুমোদন নিয়ে প্রতিষ্ঠিত হলেও ধারণা করা হচ্ছে, সংগঠনটির স্থায়ী নেতৃত্ব ও নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে। রুটজার্স বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক আদিল হক বলেন, “বোর্ড অব পিস এক ধরনের আইনি কল্পসত্তা। নামমাত্রভাবে এর নিজস্ব আন্তর্জাতিক আইনগত সত্তা রয়েছে, যা জাতিসংঘ ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে আলাদা। কিন্তু বাস্তবে এটি যুক্তরাষ্ট্রের ইচ্ছামতো ব্যবহারের জন্য একটি ফাঁপা খোলসমাত্র।” বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গাজা পুনর্গঠনে যে অর্থায়ন ও শাসন কাঠামো হচ্ছে তা অস্বচ্ছ। কয়েকজন ঠিকাদার গার্ডিয়ানকে জানান, গাজায় কাজ করার জন্য মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে তাদের প্রায়শ আলোচনা সরকারি ইমেলের বদলে সিগন্যালের মাধ্যমে করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রের তথ্য মতে, ঘাঁটি নির্মাণের সিদ্ধান্তটি বোর্ড অব পিসের। এতে সহায়তা করছে মার্কিন কর্মকর্তারা। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ঘাঁটিতে তৈরি বাংকার নেটওয়ার্কের মতোন কাজ করবে। প্রতিটি বাংকারের ২৪ মিটারের হবে। উচ্চতা থাকবে আড়াই মিটার। এগুলো এমনভাবে করা হবে যেন সেনা সদস্যরা আশ্রয় নিতে পারে। স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসের গাজায় সুড়ঙ্গ নেটওয়ার্ক বা টানেল রয়েছে। সেগুলোর আদলে নেটওয়ার্ক করতে চাওয়া হচ্ছে। পিস অব বোর্ডের নথি পর্যালোচনা করে এমন দাবি করছে গার্ডিয়ান। সংবাদ মাধ্যমটি বলছে,  স্থানটির ভূ-ভৌত জরিপ পরিচালনা করবে ঠিকাদাররা। নথির এক অংশে ‘হিউম্যান রেমিয়েনস প্রোটোকল’র কথা বলা হয়েছে। এর মানে দাঁড়ায়, সন্দেহভাজন মানব অবশিষ্ট বা সাংস্কৃতিক নিদর্শন পাওয়া গেলে অবিলম্বে সেই এলাকায় সব কাজ বন্ধ করতে হবে। চুক্তি কর্মকর্তাকে দিকনির্দেশনার জন্য অবিলম্বে জানাতে হবে। গাজা সিভিল ডিফেন্সের ধারণা, গাজার ধ্বংসস্তূপের নিচে ১০ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনির মরদেহ রয়েছে। ঘাঁটির জন্য যে স্থানটি বিবেচিত করা হচ্ছে সেটির মালিক কে তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে, দক্ষিণ গাজার বেশিরভাগ অংশ  বর্তমানে ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণে। জাতিসংঘের অনুমান, যুদ্ধ চলাকালীন ১৯ লাখ ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত হয়েছে। ফিলিস্তিনের জমিতে সরকারের অনুমতি না নিয়ে সামরিক ঘাঁটি স্থাপনকে দখল হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন ফিলিস্তিনি-কানাডিয়ান আইনজীবী এবং প্রাক্তন শান্তি আলোচক দিয়ানা বুট্টু। তিনি প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়ে বলেন, “কার অনুমতিতে তারা সামরিক ঘাঁটি স্থাপন করবে।” বিষয়টি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা বোর্ড অব পিসের কথা টানেন। ট্রাম্প প্রশাসনের একজন কর্মকর্তা সামরিক ঘাঁটির চুক্তি নিয়ে আলোচনা করতে অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, “যেমনটি প্রেসিডেন্ট বলেছেন, কোনও মার্কিন সেনা স্থলভাগে যাবে না। আমরা লিক হওয়া নথি নিয়ে আলোচনা করবো না।”

কুড়িগ্রামের তাজু ভাই ২.০: ‘সরকারি রেটে জিলাপি’ প্রশ্নে ভাইরাল এক নির্মাণশ্রমিকের গল্প

বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের প্রত্যন্ত চরাঞ্চল থেকে উঠে এসে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার কেন্দ্রে এখন তাইজুল ইসলাম, যিনি অনলাইনে পরিচিত ‘তাজু ভাই ২.০’ নামে। মাত্র একটি ভিডিও—যেখানে তিনি এক দোকানিকে প্রশ্ন করেন, “জিলাপি আজকে কত করে বেচতেছেন সরকারি রেটে?”—এই সরল উপস্থাপনাই তাকে রাতারাতি ভাইরাল করে তোলে।  কয়েক ঘণ্টায় ফলোয়ার লাখ ছাড়াল রোববার রাত পর্যন্ত তার ফেসবুক অনুসারী ছিল প্রায় ৩৫ হাজার। কিন্তু সোমবার সন্ধ্যা থেকে রাতের মধ্যেই তা বেড়ে এক লাখের বেশি হয়ে যায়। ভাইরাল ভিডিওটি ইতোমধ্যে প্রায় ৫০ থেকে ৫৫ লাখবার দেখা হয়েছে।  কী ছিল সেই ভিডিওতে? ভিডিওতে দেখা যায়, কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীর নারায়ণপুর বাজারে দাঁড়িয়ে স্থানীয় ভাষায় তিনি জিলাপির দাম জানতে চান। তার কথাগুলো ছিল একেবারেই সহজ ও গ্রাম্য ভঙ্গিতে— “সাদাডা কত, লালডা কত? সরকারি রেটে বেচতেছেন?” এই সরল প্রশ্নই সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।  কোথা থেকে উঠে এলেন তাজু ভাই? কুড়িগ্রাম জেলার নাগেশ্বরী উপজেলার নারায়ণপুর ইউনিয়নের একটি দুর্গম গ্রামে জন্ম তার। ব্রহ্মপুত্র নদবেষ্টিত এই অঞ্চলে পৌঁছাতে এখনও কয়েকটি নৌঘাট পার হতে হয়। দারিদ্র্যের কারণে কখনো স্কুলে যাওয়া হয়নি তার। পেশায় তিনি একজন নির্মাণশ্রমিকের সহকারী (হেলপার)। কাজের ফাঁকে ঢাকায় থাকাকালীন মোবাইল ফোনে ভিডিও তৈরি করাই তার শখ। ব্যক্তিগত সংগ্রাম তাইজুল ইসলামের পরিবারে ছয় ভাই-বোন। তিনি সবার বড়। তার বাবা-মা দুজনই শ্রবণপ্রতিবন্ধী। পরিবার চালাতে তাকে ছোটবেলা থেকেই সংগ্রাম করতে হয়েছে। তিনি বলেন, “পরিবারের কষ্ট ভুলতেই ভিডিও করি। আমি সাংবাদিক না, কিন্তু আমাদের এলাকায় কেউ আসে না—তাই নিজেরাই ভিডিও বানাই।” ভাইরাল হওয়ার পেছনের উদ্দেশ্য তাইজুলের দাবি, তার ভিডিও শুধুই বিনোদনের জন্য নয়। তিনি চান তার এলাকার অবহেলিত মানুষের কথা প্রশাসনের নজরে আসুক। “আমি চাই চরের মানুষের উন্নয়ন হোক,”—বলছেন তিনি।  মিশ্র প্রতিক্রিয়া ভিডিওটি নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে দুই ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ তার সরলতা ও বাস্তবতা তুলে ধরার চেষ্টা প্রশংসা করছেন আবার কেউ তাকে নিয়ে ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ করছেন তবে এসব সমালোচনায় তিনি বিচলিত নন।

অর্থনীতি

করপোরেট ভ্যাট ফাঁকির নেটওয়ার্কে বিপুল রাজস্ব ঘাটতি, চাপ বাড়ছে সাধারণ করদাতার ওপর

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ১২, ২০২৬ 0




অপরাধ

মো. রুস্তুম গাজী (৬০)

গলাচিপায় শশুরের ধর্ষনে পুত্রবধুর গর্ভধারন, সন্তান জন্মের পর নবজাতক অপহরণ—শ্বশুরসহ ২ জন গ্রেপ্তার

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ২৮, ২০২৬ 0




কৃষি ও জলবায়ু

ধান

শেরপুরে বোরো ধানের দাম কমে লোকসানে কৃষকরা, উৎপাদন খরচও উঠছে না

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ৬, ২০২৬ 0