Brand logo light

লেবানন

ইসরায়েলে সাইরেন আতঙ্ক
ইসরায়েলে ক্ষেপণাস্ত্র আতঙ্ক: ইরানের হামলা, লেবানন সীমান্তে উত্তেজনা, আশ্রয়কেন্দ্রে ছুটছে মানুষ

হামলার আশঙ্কায় ইসরায়েলের বিভিন্ন অঞ্চলে একের পর এক সতর্কতামূলক সাইরেন বেজে ওঠায় মুহূর্তেই ছড়িয়ে পড়েছে ব্যাপক আতঙ্ক। মধ্য ও দক্ষিণাঞ্চলজুড়ে জরুরি সতর্কতা জারি হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বাসিন্দারা দ্রুত আশ্রয়কেন্দ্রে ছুটতে শুরু করেন। একই সময়ে উত্তরাঞ্চলে লেবানন সীমান্ত থেকে সম্ভাব্য রকেট হামলার খবর পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করে তোলে। মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) এক বিবৃতিতে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) জানায়, ইরান থেকে মধ্য ও দক্ষিণ ইসরায়েল লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণের ঘটনায় অন্তত সাতটি সতর্কতা জারি করা হয়েছে। পাশাপাশি উত্তর ইসরায়েলে লেবানন থেকে সম্ভাব্য রকেট হামলার প্রেক্ষিতে আরও ছয়টি সতর্ক সংকেত পাঠানো হয়। আইডিএফ জনগণকে নিরাপদ আশ্রয়ে অবস্থান করার জন্য বারবার আহ্বান জানিয়েছে। প্রতিরক্ষা বাহিনীর দাবি অনুযায়ী, ইরান থেকে নিক্ষেপ করা ক্ষেপণাস্ত্রের প্রায় ৯০ শতাংশের বেশি প্রতিহত করা সম্ভব হয়েছে। তবে তারা স্বীকার করেছে, আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা পুরোপুরি অভেদ্য নয় এবং যেকোনো সময় ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। এদিকে, পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তেল আবিব এলাকায় একাধিক স্থানে বিস্ফোরণ বা ক্ষয়ক্ষতির চিহ্ন পাওয়া গেছে। ঘটনাস্থলে বোমা নিষ্ক্রিয়করণ দল মোতায়েন করা হয়েছে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা চলছে। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের বরাতে জানা গেছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ সামরিক তৎপরতার পরিপ্রেক্ষিতে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে। চীন ইতোমধ্যে ইরানে অবস্থানরত তাদের নাগরিকদের সরিয়ে নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। পাশাপাশি মঙ্গলবার চীন তাদের নাগরিকদের ইসরায়েল ত্যাগ করার নির্দেশও দিয়েছে। অন্যদিকে, উত্তেজনার মধ্যেই কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)। তারা জানিয়েছে, লেবানন ও গাজায় বেসামরিক নাগরিকদের ওপর হামলা অব্যাহত থাকলে ‘কোনো ধরনের সংযম ছাড়াই’ পাল্টা আঘাত হানা হবে। আইআরজিসি তাদের বিবৃতিতে অভিযোগ করেছে, যুদ্ধ পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে ইসরায়েল ফিলিস্তিন ও লেবাননে বেসামরিকদের ওপর ব্যাপক হামলা চালাচ্ছে, যা তাদের ভাষায় ‘স্পষ্ট যুদ্ধাপরাধ’। তারা আরও হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছে, এই হামলা অব্যাহত থাকলে উত্তর ইসরায়েল ও গাজা উপকূলীয় এলাকায় ভারী ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালানো হবে এবং ভবিষ্যৎ অভিযানে কোনো সীমাবদ্ধতা রাখা হবে না। এদিকে, ইরানের শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তা মোহসেন রাজাই যুক্তরাষ্ট্রকেও সতর্ক করে বলেছেন, ইরানের অবকাঠামোতে হামলা হলে কঠোর জবাব দেওয়া হবে। এমনকি প্রয়োজনে মার্কিন নৌযানও লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হতে পারে বলে ইঙ্গিত দেন তিনি। বর্তমান পরিস্থিতিতে গোটা অঞ্চলে যুদ্ধাবস্থার মতো উত্তেজনা বিরাজ করছে এবং আন্তর্জাতিক মহলে গভীর উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ২৫, ২০২৬ 0
ইরানে এক রাতে ২৩০টি বোমা-ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ
মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা তীব্র,লেবাননে নিহত ১২:তেহরানে একাধিক বিস্ফোরণ

মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। ইরানের বিভিন্ন সামরিক স্থাপনায় রাতভর বিমান হামলা চালিয়েছে ইসরাইল। একই সময়ে লেবাননেও ইসরাইলি বিমান হামলায় অন্তত ১২ জন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। ইসরাইলি সামরিক বাহিনীর বরাত দিয়ে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা শনিবার (৭ মার্চ) এ তথ্য জানিয়েছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই অভিযানে ইসরাইলের ৮০টির বেশি যুদ্ধবিমান অংশ নেয় এবং তারা মোট ২৩০টি বোমা ও ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে। তেহরানে একাধিক বিস্ফোরণ রাতভর ইরানের বিভিন্ন এলাকায়, বিশেষ করে রাজধানী তেহরানে একাধিক বড় ধরনের বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গেছে। ইসরাইলি সেনাবাহিনী দাবি করেছে, হামলার লক্ষ্য ছিল কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সামরিক স্থাপনা। এর মধ্যে রয়েছে— ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)-এর একটি সামরিক বিশ্ববিদ্যালয় ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ অবকাঠামোর একটি গুদাম ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র সংরক্ষণ ও উৎপাদনের একটি ভূগর্ভস্থ স্থাপনা তবে এসব স্থাপনার সুনির্দিষ্ট অবস্থান সম্পর্কে ইসরাইলি বাহিনী বিস্তারিত কিছু জানায়নি। লেবাননে হামলায় নিহত ১২ এদিকে লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দেশটির পূর্বাঞ্চলীয় বেকা উপত্যকার নাবি শহরে ইসরাইলি বিমান হামলায় অন্তত ১২ জন নিহত এবং ৩৩ জন আহত হয়েছেন। এই হামলার ফলে ওই এলাকায় ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ এবং মানবিক বিপর্যয়ের সৃষ্টি হয়েছে বলে জানিয়েছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ। গত এক সপ্তাহ ধরে ইসরাইলি সামরিক বাহিনী দক্ষিণ লেবানন এবং রাজধানী বৈরুতের দক্ষিণাঞ্চলীয় শহরতলিতে বড় ধরনের উচ্ছেদ আদেশ জারি করায় হাজার হাজার মানুষ এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়েছেন। সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকে লেবাননে এ পর্যন্ত ২০০-র বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। এছাড়া প্রায় ৯৫ হাজার মানুষ ঘরবাড়ি ছেড়ে বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। মানবিক সংস্থাগুলো বলছে, অব্যাহত বোমাবর্ষণ এবং ক্রমবর্ধমান বাস্তুচ্যুত মানুষের কারণে লেবাননের মানবিক পরিস্থিতি অত্যন্ত সংকটজনক হয়ে উঠেছে। সৌদিতে ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত অন্যদিকে সৌদি আরবের একটি গুরুত্বপূর্ণ বিমানঘাঁটিকে লক্ষ্য করে ছোড়া দুটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র আকাশেই ধ্বংস করার দাবি করেছে দেশটির সামরিক বাহিনী। সৌদি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ক্ষেপণাস্ত্র দুটি প্রিন্স সুলতান বিমানঘাঁটিকে লক্ষ্য করে নিক্ষেপ করা হয়েছিল। তবে সেগুলো প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে আকাশেই ধ্বংস করা হয়। এর আগে শনিবারই সৌদি বাহিনী দেশের দক্ষিণাঞ্চলে চারটি ড্রোন এবং একই ঘাঁটিকে লক্ষ্য করে ছোড়া আরও একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত করার দাবি করে। তবে এসব হামলার জন্য কে দায়ী— সে বিষয়ে সৌদি কর্তৃপক্ষ বিস্তারিত কিছু জানায়নি। পাকিস্তানের সামনে নতুন কূটনৈতিক চ্যালেঞ্জ মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত ক্রমশ বিস্তৃত হওয়ায় পাকিস্তানের কূটনৈতিক অবস্থান নিয়েও নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। ইরানের সঙ্গে পাকিস্তানের প্রায় ৯০০ কিলোমিটার দীর্ঘ সীমান্ত রয়েছে, যা ভূ-রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত সংবেদনশীল। অন্যদিকে সৌদি আরব এবং উপসাগরীয় দেশগুলোতে বিপুলসংখ্যক পাকিস্তানি শ্রমিক কর্মরত রয়েছেন, যাদের পাঠানো রেমিট্যান্স দেশটির অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ঐতিহাসিকভাবে সৌদি আরবের সঙ্গে পাকিস্তানের সম্পর্কও অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ। সম্প্রতি দুই দেশের মধ্যে একটি আনুষ্ঠানিক পারস্পরিক প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষর হয়েছে। তবে মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাতের বিস্তার ঘটলে ইসলামাবাদের জন্য দুই পক্ষের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখা ক্রমেই কঠিন হয়ে উঠতে পারে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা। বর্তমান পরিস্থিতিতে আঞ্চলিক যুদ্ধ আরও ছড়িয়ে পড়লে পাকিস্তান কোন অবস্থান নেবে— তা নিয়ে দেশটির ভেতরে ও আন্তর্জাতিক মহলে ব্যাপক আলোচনা চলছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ৭, ২০২৬ 0
লেবাননে হেজবুল্লাহবিরোধী অভিযান ইসরায়েলের
ইরান-ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাত চরমে:লেবাননে হেজবুল্লাহ নিষিদ্ধ, ইউরোপে গ্যাসের দাম বেড়েছে ৩০ শতাংশেরও বেশি

ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির পর তার স্ত্রীও নিহত হয়েছেন। এদিকে ইউরোপে গ্যাসের দাম বেড়েছে ৩০ শতাংশেরও বেশি।হেজবুল্লাহর সামরিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ করেছে লেবানন সরকার। ব্রেকিং নিউজ জানতে চোখ রাখুন ইত্তেহাদ নিউজে...............................   যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের যুদ্ধ:   ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের হামলায় যুক্তরাজ্য যোগ দেবে না বলে জানিয়েছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী কিয়ের স্টারমার। ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা বেইত শেমেশ এলাকা পরিদর্শন করেছেন ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। ইরান ইস্যুতে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতি নিয়ে সমালোচনার মুখে সোমবার নতুন করে বিবৃতি দিয়েছে সরকার। এতে বলা হয়েছে, আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিকে হামলা চালিয়ে হত্যার ঘটনাটি আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন। ইরান যুক্তরাষ্ট্রের সাথে কোনো নেগোশিয়েশন বা সমঝোতা করবে না বলে জানিয়েছেন দেশটির সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের সেক্রেটারি আলী লারিজানি। যুক্তরাষ্ট্র লেবাননে অবস্থানরত তাদের দেশের নাগরিকদের দ্রুত দেশটি ছেড়ে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের সাথে চলমান সংঘাতে এখন পর্যন্ত চারজন নিহত হয়েছে বলে জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র সেন্ট্রাল কমান্ড। ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হওয়ার পর তার স্ত্রীও নিহত হয়েছেন। ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী বা আইডিএফ এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, রোববার বৈরুতে চালানো হামলায় হিজবুল্লাহর গোয়েন্দা প্রধান নিহত হয়েছেন। ইরানের পাল্টা হামলার পর কাতারের জ্বালানি উৎপাদন বন্ধ হয়ে গেছে। এর ফলে ইউরোপে গ্যাসের দাম ৩০ শতাংশেরও বেশি বেড়েছে। লেবাননের রাজধানী বৈরুত ও দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলের হামলায় ৩১ জন নিহত হয়েছে। আরো ১৪৯জন আহত হয়েছেন। লেবানন সরকার দেশটিতে হেজবুল্লাহর সশস্ত্র কার্যক্রম নিষিদ্ধ করেছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। এই সিদ্ধান্তের ফলে হেজবুল্লাহ ও সরকারের সমান্তরাল ক্ষমতার বিষয়টি এখন বড় চ্যালেঞ্জের মুখে পড়লো। জাতিসংঘের পারমাণবিক তদারকি সংস্থা জানিয়েছে, সাম্প্রতিক মার্কিন ও ইসরায়েলি হামলায় ইরানের কোনো পারমাণবিক স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এমন কোন কিছুর লক্ষণ তারা টের পান নি। ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী বা আইডিএফ জানিয়েছে, তারা ইরানের গোয়েন্দা মন্ত্রণালয়ের ইসরায়েলবিষয়ক উপমন্ত্রী সাইয়েদ ইয়াহিয়া হামিদিকে হত্যা করেছে। ইরানে গত শনিবার ইসরায়েলি হামলা শুরুর পর থেকে এখন পর্যন্ত ৫৫৫ জন নিহত হয়েছে বলে জানিয়েছে ইরানি রেড ক্রিসেন্ট। কুয়েতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তাদের প্রতিরোধে সোমবার সকালে অন্তত তিনটি মার্কিন যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হয়েছে। ভোর থেকে মধ্যপ্রাচ্যের কুয়েত, কাতার, দুবাইয়ে ব্যাপক বিষ্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। ইরানের সঙ্গে যুদ্ধের মধ্যেই লেবাননে হেজবুল্লাহবিরোধী অভিযান ইসরায়েলের   ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধের মধ্যেই লেবাননে হেজবুল্লাহ’র বিভিন্ন স্থাপনা লক্ষ্য করে হামলা চালাচ্ছে ইসরায়েল। বৈরুত ও দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি হামলায় ইতোমধ্যে অন্তত ৩১ জন নিহত হয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। এসব হামলায় আরো ১৪৯ জন মানুষ আহত হয়েছেন বলে জানান লেবাননের কর্মকর্তারা। এদিকে, ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী বা আইডিএফ এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, বৈরুতে তাদের চালানো হামলায় হিজবুল্লাহর গোয়েন্দা প্রধান হুসেইন মাকলেদ নিহত হয়েছেন। ইসরায়েলি প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কার্টজ সোমবার বলেছেন, হেজবু্ল্লাহ সেক্রেটারি জেনারেল নাঈম কাশেম এখন স্পষ্টভাবে তাদের হত্যার লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছে। তিনি আরও বলেন, “আমি এবং প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ইসরায়েলি সেনাবাহিনীকে হেজবুল্লাহর বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছি।” এমন অবস্থায় সোমবার হেজবুল্লাহর সশস্ত্র কার্যক্রম নিষিদ্ধ করেছে লেবানন সরকার। তবে গোষ্ঠীটি তাদের রাজনৈতিক কার্যক্রম চালাতে পারবে। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়ের হামলার জবাবে সোমবার তৃতীয় দিনের মতো পাল্টা হামলা অব্যাহত রেখেছে ইরান। ইসরায়েলি ডিফেন্স ফোর্সেস (আইডিএফ) এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, তারা ইরান থেকে ইসরায়েলের দিকে নিক্ষেপ করা ক্ষেপণাস্ত্র শনাক্ত করেছে। ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ সংশ্লিষ্ট এলাকাগুলোর বাসিন্দাদের মোবাইল ফোনে ‘সতর্কতামূলক নির্দেশনা পাঠিয়েছে। উত্তর ইরাকের কুর্দিস্তান অঞ্চলের কাছে অবস্থিত এরবিল বিমানবন্দরের আকাশ থেকে তিনটি সশস্ত্র ড্রোন ভূপাতিত করা হয়েছে। নিরাপত্তা সূত্রের বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা রয়টার্স এই তথ্য প্রকাশ করেছে। বিমানবন্দরটিতে মার্কিন সেনারা অবস্থান করছে। মূলত ইসরায়েলের পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যের যেসব দেশে মার্কিন স্থাপনা রয়েছে, সেগুলো লক্ষ্য করেই হামলা চালাচ্ছে ইরান। এর মধ্যে সোমবার কুয়েতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, সকালে সেদেশে একাধিক মার্কিন যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হয়েছে। বিমানের ক্রুরা "অক্ষত অবস্থায় বেঁচে গেছেন" এবং তাদের উদ্ধার করে স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে মন্ত্রণালয়। ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের হামলায় যোগ দেবে না যুক্তরাজ্য: ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী   ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের হামলায় যুক্তরাজ্য যোগ দেবে না বলে জানিয়েছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী কিয়ের স্টারমার। প্রধানমন্ত্রী স্টারমার বলেন, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্রগুলো যেসব জায়গায় সংরক্ষিত রয়েছে বা উৎক্ষেপণের জন্য প্রস্তুত রাখা হয়েছে, শুধুমাত্র সেগুলোকে উৎসমূলেই থামানোর জন্যই যুক্তরাষ্ট্র ব্রিটিশ সামরিক ঘাঁটি ব্যবহারের অনুমতি চেয়েছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, “ইরান যেন অঞ্চলজুড়ে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে বেসামরিক মানুষকে হত্যা করতে না পারে, সে লক্ষ্যেই তিনি এই যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের অনুরোধে সম্মতি দিয়েছেন। তবে তিনি জোর দিয়ে বলেছেন, “যুক্তরাজ্য ‘যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের’ সাথে হামলায় অংশ নেবে না। তিনি আরও জানান, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ সক্ষমতা রোধ করতেই যুক্তরাষ্ট্রকে ঘাঁটি ব্যবহারের অনুমতি দিতে ফ্রান্স- জার্মানিও প্রস্তত রয়েছে। হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করেছেন নেতানিয়াহু   ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা বেইত শেমেশ এলাকা পরিদর্শন করেছেন ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। পরিদর্শনে গিয়ে এসময় তিনি সেখানে উপস্থিত সাংবাদিকদের সাথে কথাও বলেছেন। তিনি যে এলাকা পরিদর্শনে গিয়েছেন, ওই এলাকায় আগের দিন রোববার ইরানের ভয়াবহ ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ক্ষয়ক্ষতি ও হতাহতের ঘটনা ঘটেছে। বিস্ফোরণে কমপক্ষে নয়জন ইসরায়েলি নিহত হয়েছেন এবং অনেকে আহত হয়েছেন। ওই এলাকাটি ছিল একটি আবাসিক এলাকা এবং আশপাশের কাঠামোগুলোতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। নেতানিয়াহু তার বক্তব্যে উদ্ভুত পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলেছেন। তবে তিনি ঠিক কী বলেছেন তার বিস্তারিত এখনো জানা যায় নি।   নিজ দেশের নাগরিকদের দ্রুত লেবানন ছাড়ার আহ্বান যুক্তরাষ্ট্রের যুক্তরাষ্ট্র লেবাননে অবস্থানরত তাদের দেশের নাগরিকদের দ্রুত দেশটি ছেড়ে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। বৈরুতে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস তাদের এক্স পোস্টে লিখেছে, “আমরা মার্কিন নাগরিকদের লেবাননে ভ্রমণ না করার আহ্বান জানাচ্ছি। কেউ যদি বর্তমানে দেশটিতে অবস্থান করে থাকেন, তাহলে ফ্লাইট চালু থাকা অবস্থায় এখনই লেবানন ত্যাগ করুন।” তারা আরও বলেছে, “লেবাননের নিরাপত্তা দ্রুতই অনিশ্চিত হয়ে উঠতে পারে। দেশজুড়ে, বিশেষ করে দক্ষিণাঞ্চল, বেকা উপত্যকা এবং বৈরুতের কিছু অংশে বিমান হামলা শুরু হয়েছে। লেবাননের রাজধানী বৈরুত থেকে বিবিসির সংবাদদাতার জানিয়েছেন, ইরান-সমর্থিত সংগঠন হেজবুল্লাহর শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত দাহিয়েহ এলাকায় একটি বড় বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। ইরান অভিযানে যুক্তরাষ্ট্রের চারজন সেনা নিহত ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের সাথে চলমান সংঘাতে এখন পর্যন্ত চারজন নিহত হয়েছে বলে জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র সেন্ট্রাল কমান্ড। এর আগে তিনজন নিহত খবর জানিয়েছিল দেশটি। গুরুত্বর আহত একজন সেনা সদস্যের সোমবার মৃত্যু হয়েছে বলে সেন্ট্রাল কমান্ড জানায়। এদিকে, চারজন সেনার মৃত্যুতে শোক ও শ্রদ্ধা জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ। তিনি বলেন, “এই সেনারা ছিল আমাদের জাতির সেরা সন্তান”। ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় নিহত হয়েছেন খামেনির স্ত্রীও: ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হওয়ার পরদিন তার স্ত্রীও নিহত হয়েছেন। সোমবার ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের খবরে এই তথ্য জানানো হয়েছে। এর আগে শনিবারে ইসরায়েল-মার্কিন যৌথ হামলায় নিহত হন আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি। ওই হামলায় খামেনির মেয়ে, নাতি ও জামাই নিহত হওয়ার খবর দেয় ইরানের সংবাদ মাধ্যমগুলো। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে লিখেছিলেন "ইতিহাসের অন্যতম খারাপ মানুষ খামেনি মারা গেছেন”। এদিকে, রাশিয়া ও চীন আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিকে হত্যার ঘটনার নিন্দা জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছিল। বৈরুতে ইসরায়েলি হামলায় হেজবুল্লাহর গোয়েন্দা প্রধান নিহত: আইডিএফ ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী বা আইডিএফ এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, রোববার বৈরুতে চালানো হামলায় হিজবুল্লাহর গোয়েন্দা প্রধান নিহত হয়েছেন। এতে বলা হয়েছে, রোববার লেবাননের রাজধানী বৈরুতে হামলায় হেজবুল্লাহর গোয়েন্দা সদরদপ্তরের প্রধান হুসেইন মাকলেদকে হত্যা করা হয়েছে। কাতারের জ্বালানি উৎপাদন বন্ধের পর ইউরোপে গ্যাসের দাম বেড়েছে ৩০ শতাংশেরও বেশি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ইরানে হামলার পর, পাল্টা জবাব দিতে দিচ্ছে ইরান। গত কয়েকদিনে দফায় দফায় হামলা চালানো হয়েছে মধ্যপ্রাচ্যের দেশ কাতার, কুয়েত, বাহরাইন, সৌদি আরবে। এমন অবস্থার মধ্যে কাতারের জ্বালানি উৎপাদন বন্ধ হয়ে গেছে। এর ফলে ইউরোপে গ্যাসের দাম ৩০ শতাংশেরও বেশি বেড়েছে। হেজবুল্লাহর সামরিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ করল লেবানন সরকার   লেবানন সরকার দেশটিতে হেজবুল্লাহর সশস্ত্র কার্যক্রম নিষিদ্ধ করেছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। এই সিদ্ধান্তের ফলে হেজবুল্লাহ ও সরকারের সমান্তরাল ক্ষমতার বিষয়টি এখন বড় চ্যালেঞ্জের মুখে পড়লো। তবে হেজবুল্লাহ রাজনৈতিক দল হিসেবে কার্যক্রম চালাতে পারবে। মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাতের মধ্যে হেজবুল্লাহ সোমবার ইসরায়েলের দিকে রকেট হামলার পরই লেবানন সরকার হেজবুল্লাহর সশস্ত্র কার্যক্রম নিষিদ্ধ করার এই সিদ্ধান্ত নেয়। সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, লেবাননের অবস্থান যেখানে যে কোনো ধরনের সংঘাত বিরোধী, সেখানে কোনো পরামর্শ ছাড়াই রকেট হামলা চালিয়েছে হেজবুল্লাহ। যা আঞ্চলিক উত্তেজনাকে আরো বাড়িয়ে তুলেছে। দেশটির রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী উভয়েই বলেছেন, হেজবুল্লাহর এই তৎপরতা লেবাননের সার্বভৌমত্বের লঙ্ঘন। বাস্তবে এই সিদ্ধান্ত কতটা কার্যকর হবে, তা এখনও স্পষ্ট নয়। কারণ সাম্প্রতিক সংঘাত সত্ত্বেও হেজবুল্লাহ এখনো সশস্ত্র অবস্থায় রয়েছে। এদিকে, ইসরায়েলী বাহিনী লেবাননে হেজবুল্লাহর অবকাঠামোগুলোয় হামলা চালানোর ঘোষণা দিয়েছে। ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলোয় ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার লক্ষণ নেই: জাতিসংঘ পারমাণবিক তদারকি সংস্থা জাতিসংঘের পারমাণবিক তদারকি সংস্থার প্রধান রাফিয়াল গ্রোসি বলেছেন, সাম্প্রতিক মার্কিন ও ইসরায়েলি হামলায় ইরানের কোনো পারমাণবিক স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এমন কোন কিছুর ইঙ্গিত তারা পান নি। তিনি জানান, বুশেহর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র, তেহরান গবেষণা রিঅ্যাক্টর বা অন্যান্য পারমাণবিক জ্বালানি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এমন কোন লক্ষণ নেই। সংস্থাটির গভর্নর বোর্ডে দেওয়া এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক অ্যাটমিক অ্যানার্জি এজেন্সি বা আইএইএ ইরানের পারমাণবিক নিয়ন্ত্রক কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করছিল, তবে তাদের কোন সাড়া পাওয়া যায়নি। আইএইএ-তে ইরানের রাষ্ট্রদূত রেজা নাজাফি বিবিসিকে জানিয়েছেন, রোববার নাতাঞ্জ পারমাণবিক স্থাপনায় হামলা হয়েছে। তবে এ বিষয়ে তিনি আর কোনো বিস্তারিত তথ্য দেননি।   ব্রেকিং আপডেট পেতে চোখ রাখুন ইত্তেহাদ নিউজে.......................

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ৪, ২০২৬ 0
Popular post
ফারুকীর সম্পদ কমেছে, তিশার বেড়েছে দ্বিগুণেরও বেশি: সম্পদ বিবরণী ঘিরে আলোচনা

অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের সম্পদ বিবরণী প্রকাশের পর সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী ও তার স্ত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদের হিসাব নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। এক বছরের ব্যবধানে স্বামী ফারুকীর সম্পদ কমলেও স্ত্রী তিশার সম্পদ বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে প্রকাশিত তথ্যে উঠে এসেছে এই চিত্র। প্রকাশিত খতিয়ান অনুযায়ী, জনপ্রিয় অভিনেত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদ এক বছরে অভাবনীয় হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তিশার মোট সম্পদের পরিমাণ ছিল ১ কোটি ৪০ লাখ ৮১ হাজার ৮৬০ টাকা। ঠিক এক বছর পর, ২০২৫ সালের ৩০ জুন সেই সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ৯৯ লাখ ৮৯ হাজার ৫০১ টাকায়। অর্থাৎ মাত্র এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ বেড়েছে ১ কোটি ৫৯ লাখ ৭ হাজার ৬৪১ টাকা, যা আগের বছরের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি। অন্যদিকে সংস্কৃতি উপদেষ্টা ও নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর ক্ষেত্রে দেখা গেছে উল্টো চিত্র। এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ কমেছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তার মোট সম্পদ ছিল ২ কোটি ২৬ লাখ ৯২ হাজার ২৬ টাকা। ২০২৫ সালের ৩০ জুন তা কমে দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ১৫ লাখ ১৮ হাজার ২৬ টাকায়। হিসাব অনুযায়ী, এক বছরে তার সম্পদ কমেছে ১১ লাখ ৭৪ হাজার টাকা। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে গত মঙ্গলবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ প্রধান উপদেষ্টা, উপদেষ্টা ও সমমর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের পাশাপাশি তাদের স্ত্রী বা স্বামীর সম্পদ বিবরণী প্রকাশ করে। একই সময়ে স্বামী-স্ত্রীর সম্পদে এমন ভিন্নমুখী পরিবর্তন স্বাভাবিকভাবেই সাধারণ মানুষের কৌতূহলের জন্ম দিয়েছে। শোবিজ অঙ্গনের জনপ্রিয় দম্পতি হওয়ায় তাদের এই আয়-ব্যয়ের হিসাব এখন টক অব দ্য কান্ট্রি।

বাংলাদেশে ঐতিহাসিক নির্বাচন: বিএনপি এগিয়ে, জামায়াতের উত্থান ও তরুণ ভোটারদের প্রভাব

২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশে আজ এক ঐতিহাসিক ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ২০০৮ সালের পর এই প্রথম একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হতে যাচ্ছে যেখানে দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগ রাজনৈতিক মানচিত্র থেকে কার্যত অনুপস্থিত। বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক জরিপ বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০০ আসনের মধ্যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) কার্যকর সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে যাচ্ছে। তবে ভোটের ব্যবধান এবং কিছু সমীকরণ নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। নির্বাচনের সবচেয়ে বড় নিয়ামক হয়ে দাঁড়িয়েছে আওয়ামী লীগের বিশাল ভোটব্যাংক। দলটির নিয়মিত প্রায় ৪ কোটি ভোটার এখন নতুন রাজনৈতিক আশ্রয় খুঁজছেন। সিআরএফ বা বিইপিওএস জরিপ বলছে, এই ভোটারদের প্রায় অর্ধেক বিএনপির দিকে ঝুঁকেছে, যা দলটিকে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতার পথে এগিয়ে দিচ্ছে। অন্যদিকে, প্রায় ৩০ শতাংশ আওয়ামী ভোটার জামায়াতে ইসলামীকে বেছে নিতে পারেন বলে আভাস পাওয়া যাচ্ছে। এছাড়া বাংলাদেশের বিদ্যমান নির্বাচনী ব্যবস্থার কারণে দেশজুড়ে সুষম জনসমর্থন থাকা বিএনপি আসন জয়ের ক্ষেত্রে জামায়াতের তুলনায় সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। তবে বিএনপির এই সম্ভাব্য জয়ের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও বিদ্রোহী প্রার্থীরা। প্রায় ৭৯টি নির্বাচনী এলাকায় দলের মনোনয়ন না পাওয়া ৯২ জন প্রভাবশালী নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, যা বিএনপির ১৫ থেকে ৩০টি আসন কমিয়ে দিতে পারে। অন্যদিকে, তরুণ ভোটার বা ‘জেন-জি’ প্রজন্মের বিশাল সমর্থন জামায়াতে ইসলামীর শক্তির উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেশের ৪৪ শতাংশ ভোটারই তরুণ, যাদের বড় একটি অংশ প্রথমবার ভোট দিচ্ছেন। এই তরুণরা যদি দলবেঁধে কেন্দ্রে উপস্থিত হন, তবে নির্বাচনী ফলে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। সবশেষে, প্রায় ১৭ থেকে ৩৫ শতাংশ দোদুল্যমান ভোটার এবং তাদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করবে আগামীর সরকার কতটা শক্তিশালী হবে। দ্য নিউইয়র্ক এডিটোরিয়ালের মূল পূর্বাভাস, তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি প্রায় ১৮৫টি আসনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করতে পারে এবং জামায়াতে ইসলামী ৮০টির মতো আসন পেয়ে প্রধান বিরোধী দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারে। তবে বিদ্রোহী প্রার্থীদের প্রভাব এবং তরুণ ভোটারদের উপস্থিতির ওপর ভিত্তি করে আসন সংখ্যায় বড় ধরনের হেরফের হওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

গাজায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা ট্রাম্প প্রশাসনে

ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। ৩৫০ একরের ঘাঁটিটিতে সামরিক বাহিনীর পাঁচ হাজার সদস্য থাকতে পারবে। গাজার ‘বোর্ড অব পিস’র নথি পর্যালোচনা করে এ তথ্য জানিয়েছে দ্য গার্ডিয়ান। প্রতিবেদনে ব্রিটিশ সংবাদ মাধ্যমটি জানিয়েছে, বোর্ড অব পিসে গাজাকে নিরাপদ করার জন্য ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যাবিলাইজেশন ফোর্স (আইএসএফ) নামে একটি আন্তর্জাতিক বাহিনী মোতায়েনের কথা বলা হয়েছে। যে স্থানটি ঘাঁটি করার জন্য বিবেচনা করা হচ্ছে সেখানে আইএসএফের সদস্যরা থাকবে। বোর্ড অব পিসের প্রধান হবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আর সংগঠনটির আংশিক নেতৃত্ব দেবেন ট্রাম্পের জামাতা জ্যারার্ড কুশনার।দ্য গার্ডিয়ান বোর্ড অব পিসের নথি পর্যালোচনা করে জানায়, ধাপে ধাপে একটি সামরিক ঘাঁটি নির্মাণ করা হবে। সবকিছু শেষ হলে ঘাঁটিটি ১৫ লাখ ১৭ হাজার ৫৭৫ বর্গমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত হবে। ঘাঁটিটির চারপাশে ট্রেইলার সংযুক্ত ২৬টি সাঁজোয়া নজরদারি টাওয়ার থাকবে। এছাড়া একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, বাংকার ও অস্ত্র রাখার গুদাম থাকবে। পুরো ঘাঁটিটি কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে ঘিরে রাখা হবে। সামরিক ঘাঁটি নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে দক্ষিণ গাজার একটি শুষ্ক সমতলভূমিতে। সেখানে ইসরায়েলি হামলার চিহ্ন রয়েছে। ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে বিভিন্ন ধাতবের ধ্বংসাবশেষ।  ওই এলাকার ভিডিও পর্যালোচনা করেছে দ্য গার্ডিয়ান। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, ঘাঁটি নির্মাণের জন্য টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে। যুদ্ধক্ষেত্রে কাজের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন আন্তর্জাতিক নির্মাণ কোম্পানিগুলোর একটি ছোট দলকে ইতোমধ্যেই এলাকাটি দেখানো হয়েছে। ওই দলটি দরপত্রে অংশ নিতে আগ্রহী।    ইন্দোনেশিয়া সরকার গাজায় আট হাজার সেনা সদস্য পাঠানোর জন্য প্রস্তাব দিয়েছে। বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটন ডিসিতে বোর্ড অব পিসের অনানুষ্ঠানিক বৈঠকে ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্টের অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। এছাড়া দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার আরও তিন নেতার ওই বৈঠকে অংশ নেবেন বলে জানা গেছে। জাতিসংঘের নিরাপত্তা কাউন্সিল গাজার সাময়িক স্থিতিশীলতার জন্য অস্থায়ীভাবে সামরিক বাহিনী মোতায়েনের অনুমোদন দিয়েছে। নিরাপত্তা কাউন্সিলই বোর্ড অব পিসের মূল হোতা। গাজার সীমান্ত ও শান্তি প্রণয়নে কাজ করবে আইএসএফ। এছাড়া বেসামরিকদের সুরক্ষা এবং ফিলিস্তিনি পুলিশ বাহিনীকে প্রশিক্ষণ ও সহায়তা দেবে তারা। যদি গাজায় ফের সংঘর্ষ হয়, ইসরায়েল বোমা হামলা চালায় অথবা হামাস হামলা চালায় সেক্ষেত্রে আইএসএফ কি করবে তা এখনও স্পষ্ট নয়। গাজা পুনর্গঠনে ইসরায়েল হামাসকে নিরস্ত্রীকরণের যে শর্ত দিয়েছে সেটির জন্য আইএসএফ কাজ করবে কিনা তাও স্পষ্ট না। ইতোমধ্যে বোর্ড অব পিসে ২০ এর অধিক দেশ যোগ দিয়েছে। তবে, এখনও অনেক পরাশক্তি এর থেকে দূরে রয়েছে। জাতিসংঘের অনুমোদন নিয়ে প্রতিষ্ঠিত হলেও ধারণা করা হচ্ছে, সংগঠনটির স্থায়ী নেতৃত্ব ও নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে। রুটজার্স বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক আদিল হক বলেন, “বোর্ড অব পিস এক ধরনের আইনি কল্পসত্তা। নামমাত্রভাবে এর নিজস্ব আন্তর্জাতিক আইনগত সত্তা রয়েছে, যা জাতিসংঘ ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে আলাদা। কিন্তু বাস্তবে এটি যুক্তরাষ্ট্রের ইচ্ছামতো ব্যবহারের জন্য একটি ফাঁপা খোলসমাত্র।” বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গাজা পুনর্গঠনে যে অর্থায়ন ও শাসন কাঠামো হচ্ছে তা অস্বচ্ছ। কয়েকজন ঠিকাদার গার্ডিয়ানকে জানান, গাজায় কাজ করার জন্য মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে তাদের প্রায়শ আলোচনা সরকারি ইমেলের বদলে সিগন্যালের মাধ্যমে করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রের তথ্য মতে, ঘাঁটি নির্মাণের সিদ্ধান্তটি বোর্ড অব পিসের। এতে সহায়তা করছে মার্কিন কর্মকর্তারা। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ঘাঁটিতে তৈরি বাংকার নেটওয়ার্কের মতোন কাজ করবে। প্রতিটি বাংকারের ২৪ মিটারের হবে। উচ্চতা থাকবে আড়াই মিটার। এগুলো এমনভাবে করা হবে যেন সেনা সদস্যরা আশ্রয় নিতে পারে। স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসের গাজায় সুড়ঙ্গ নেটওয়ার্ক বা টানেল রয়েছে। সেগুলোর আদলে নেটওয়ার্ক করতে চাওয়া হচ্ছে। পিস অব বোর্ডের নথি পর্যালোচনা করে এমন দাবি করছে গার্ডিয়ান। সংবাদ মাধ্যমটি বলছে,  স্থানটির ভূ-ভৌত জরিপ পরিচালনা করবে ঠিকাদাররা। নথির এক অংশে ‘হিউম্যান রেমিয়েনস প্রোটোকল’র কথা বলা হয়েছে। এর মানে দাঁড়ায়, সন্দেহভাজন মানব অবশিষ্ট বা সাংস্কৃতিক নিদর্শন পাওয়া গেলে অবিলম্বে সেই এলাকায় সব কাজ বন্ধ করতে হবে। চুক্তি কর্মকর্তাকে দিকনির্দেশনার জন্য অবিলম্বে জানাতে হবে। গাজা সিভিল ডিফেন্সের ধারণা, গাজার ধ্বংসস্তূপের নিচে ১০ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনির মরদেহ রয়েছে। ঘাঁটির জন্য যে স্থানটি বিবেচিত করা হচ্ছে সেটির মালিক কে তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে, দক্ষিণ গাজার বেশিরভাগ অংশ  বর্তমানে ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণে। জাতিসংঘের অনুমান, যুদ্ধ চলাকালীন ১৯ লাখ ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত হয়েছে। ফিলিস্তিনের জমিতে সরকারের অনুমতি না নিয়ে সামরিক ঘাঁটি স্থাপনকে দখল হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন ফিলিস্তিনি-কানাডিয়ান আইনজীবী এবং প্রাক্তন শান্তি আলোচক দিয়ানা বুট্টু। তিনি প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়ে বলেন, “কার অনুমতিতে তারা সামরিক ঘাঁটি স্থাপন করবে।” বিষয়টি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা বোর্ড অব পিসের কথা টানেন। ট্রাম্প প্রশাসনের একজন কর্মকর্তা সামরিক ঘাঁটির চুক্তি নিয়ে আলোচনা করতে অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, “যেমনটি প্রেসিডেন্ট বলেছেন, কোনও মার্কিন সেনা স্থলভাগে যাবে না। আমরা লিক হওয়া নথি নিয়ে আলোচনা করবো না।”

সংসার সামলাতে অটোরিকশা নিয়ে রাস্তায় নেমেছেন রোজিনা

বাসস : বাবা একজন তাঁত শ্রমিক। তিন বোন দুই ভাইয়ের মধ্যে সবার বড় রোজিনা। অভাব সংসার, তাই এক এতিম যুবকের সাথে বাবা-মা বিয়ে দেন তাকে। বিয়ের পর জন্ম হয় দুই কন্যা সন্তানের। অটোরিকশা চালিয়ে কোন রকম সংসার চালাচ্ছিলেন স্বামী রফিকুল ইসলাম। কিন্তু সড়ক দুর্ঘটনায় রফিকুলের এক চোখ সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যায়। আরেকটি চোখ আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ধীরে ধীরে ওই চোখের দৃষ্টি শক্তিও কমতে থাকে। ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে অটোরিকশা চালানো। সংসারের উপার্জনক্ষম মানুষটি অচল হয়ে পড়ায় চিকিৎসার খরচ, ঘর ভাড়া ও খাবারের পাশাপাশি মেয়েদের লেখাপড়ার খরচ চালানোই কঠিন হয়ে যায়। দিশেহারা হয়ে পরেন রোজিনা। এক পর্যায়ে মানুষের বাড়ি বাড়ি কাজ করে সংসার চালানোর চেস্টা করেন। কিন্তু সুবিধা করতে পারেন না। এমন পরিস্থিতিতে অটোরিকশা চালানোর সিদ্ধান্ত নেন তিনি। স্বামী রফিকুলের কাছেই হাতেখড়ি। গ্রামের স্কুলের মাঠে স্বামীর কাছেই অটোরিকশা চালানোর শিক্ষা নেন তিনি। পরে গ্রামের পথে নেমে পড়েন অটোরিকশা নিয়ে। ৫-৬ দিন এভাবে হাত পাকা করে একদিন টাঙ্গাইল শহরে চলে আসেন রোজিনা। এরপর শুরু করেন অটোরিক্সা চালানোর ব্যতিক্রমী জীবন সংগ্রাম। এখন টাঙ্গাইল পৌরসভায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার চালকদের মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা বেগম। জেলার বাসাইল উপজেলার আইসড়া গ্রামের বাসিন্দা রোজিনা টাঙ্গাইল পৌর শহরের এক প্রান্ত রাবনা বাইপাস থেকে আরেক প্রান্ত বেবিস্ট্যান্ডে যাত্রী আনা নেয়া করেন। যানজটের কারণে শহরে পুরুষ চালকরা যেখানে হিমসিম খায়, সেখানেই বিগত ৫ বছর ধরেই নির্বিঘেœ অটোরিকশা চালাচ্ছেন তিনি। টাঙ্গাইল পৌরসভা কার্যালয় সূত্রে জানা যাায়, টাঙ্গাইল শহরে চলাচলের জন্য ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক ও ৫ হাজার ব্যাটারিচালিত রিকশার অনুমতি (লাইসেন্স) দেওয়া হয়েছে। যানজট এড়াতে ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক জোড় ও বিজোড় সংখ্যায় দিনে দুই ভাগ করা হয়েছে। সকাল থেকে বেলা দুইটা পর্যন্ত এক ভাগ এবং বেলা দুইটা থেকে রাত পর্যন্ত আরেক ভাগের ইজিবাইক চলাচল করার নির্দেশনা দিয়েছে পৌর কর্তৃপক্ষ। কিন্তু রোজিনাকে দুই শিফটে চালানোর অনুমতি দিয়েছে পৌরসভা। সরেজমিনে দেখা যায়, নতুন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অটোরিকশা নিয়ে যাত্রী ডাকছেন রোজিনা। কলেজ গেট, পুরাতন বাসস্ট্যান্ড, ক্যাপসুল, নিরালা মোড়, বেবিস্ট্যান্ড সর্বত্রই যাত্রী আনানেয়া করেন তিনি। পুরাতন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অন্য অটো চালকদের দাঁড় করতে না দিলেও রোজিনাকে বাঁধা দেননা ট্রাফিক পুলিশ। বলতে গেলে সবাই তার প্রতি সহানুভুতিশীল। ট্রাফিক পুলিশসহ অন্য অটোচালকরাও তাকে সহযোগিতা করেন। রোজিনা বলেন, আমার অটোতে নারী যাত্রীরা খুব কম। তারা মনে করে আমার অটোতে উঠলে দুর্ঘটনায় পড়বে। কিন্তু আমি খুব সাবধানে অটো চালাই। দ্রুত গতিতেও না, আবার একেবারে ধীরগতিতেও না। এখন পর্যন্ত আমি কোন দুর্ঘটনার কবলে পড়ি নাই। শহরের পুরুষ অটোরিকশা চালকরা আমাকে অনেক সহযোগিতা করে। অটোচালক কাদের মিয়া বলেন, আমাদের শহরে কয়েক হাজার অটো চলাচল করে। তার মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। তাকে আমরা সব সময় সহযোগিতা করি। যাত্রী সাইদ মিয়া বলেন, আমি এ পর্যন্ত ৫-৬ বার রোজিনার অটোতে চড়েছি। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। অন্য পুরুষ অটো চালকের চেয়েও ভালো অটো চালান। নারী সংগঠক সেরাজুম মনিরা বলেন, তিনি অনেক দিন যাবত অটোরিকশা চালাচ্ছেন। আমি রোজিনাকে স্যালুট জানাই। একজন পুরুষের চেয়ে একজন নারী কোনো ভাবেই যে পিছিয়ে নেই, রোজিনা তা প্রমাণ করেছেন। রোজিনা বলেন, অটো চালানোর এই সিদ্ধান্তটি তার জন্য খুব সহজ ছিল না। তিনি বলেন, ৫ ও ১০ বছরের দুই মেয়েকে বাড়িতে রেখে অটোরিকশা নিয়ে সারাদিন রাস্তায় থাকতে হয়। তাদের ভালোভাবে দেখাশোনা করতে পারি না। কিন্তু কি করবো, অভাবের সংসার! এখন ঋণ নিয়ে একটু জমি কিনেছি। প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ণ প্রকল্পের অর্থায়নে প্রশাসন সেখানে ঘর তুলে দিয়েছে। শুরুতে যারা আমাকে নিয়ে ঠাট্টা করেছে এখন তারাই আমাকে সম্মান করেন। নারীরাও যে কিছু করতে পারে, তা প্রমাণ করেছি। আমার বড় মেয়ে আইসড়া উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়ে, ছোট মেয়ে পড়ে স্থানীয় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। মেয়েদের শিক্ষিত করতে হবে। ধার দেনা শোধ করতে হবে। তাই থেমে গেলো চলবে না। আমি অটোরিকশা চালিয়েই দুই সন্তানকে মানুষ করতে চাই।’ ঘারিন্দা ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য বাবুল সরকার বলেন, সরকার রোজিনাকে একটি ঘর নির্মাণ করে দিয়েছে। শুরুতে যারা তাকে নিয়ে নানান কথা বলতো, এখন তার সংকল্প ও মানষিক দৃঢ়তা দেখে থেমে গেছে। আমরা তাকে নিয়ে গর্ব করি। টাঙ্গাইলের ট্রাফিক ইন্সপেক্টর (প্রশাসন) দেলোয়ার হোসেন বলেন, শহরের একমাত্র নারী চালক রোজিনাকে কেউ যেন বিরক্ত করতে না পারে সেদিকে সব সময় নজর রাখে ট্রাফিক পুলিশ। আমরা তাকে সব সময় সহযোগিতা করে আসছি। টাঙ্গাইলের সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক শাহ আলম বলেন, বিষয়টি এখন জানতে পারলাম। ওই নারী এখনো পর্যন্ত আমাদের কাছে আসেন নাই। যদি আমাদের কাছে এসে আবেদন করেন অবশ্যই তাকে আমরা সহযেগিতা করবো, তার পাশে দাঁড়াবো।

বরিশাল সিটিতে বিএনপির মেয়র মনোনয়ন ঘিরে হিসাব–নিকাশ

মামুনুর রশীদ নোমানী,বরিশাল: আসন্ন বরিশাল সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদকে ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে সক্রিয়তা দেখা যাচ্ছে। দক্ষিণাঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ নগর প্রশাসনিক প্রতিষ্ঠান বরিশাল সিটি করপোরেশন এর নির্বাচন স্থানীয় ও জাতীয় রাজনীতিতে সমানভাবে তাৎপর্যপূর্ণ হবে।ইতিমধ্যে নির্বাচন কমিশন ঢাকা উত্তর ও দক্ষিন এবং চট্রগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচনের প্রস্তুতি নেয়ার পরেই বরিশাল নগরজুড়ে এখন এক ধরনের নীরব রাজনৈতিক উত্তাপ। চায়ের দোকান থেকে শুরু করে নদী তীরের আড্ডা—সবখানেই আলোচনা একটাই: আসন্ন বরিশাল সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদে কে হচ্ছেন বিএনপির প্রার্থী? দক্ষিণাঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ এই সিটি করপোরেশন শুধু একটি প্রশাসনিক ইউনিট নয়; এটি বরিশালের রাজনৈতিক স্পন্দনের কেন্দ্র। আর তাই বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)–র সম্ভাব্য মনোনয়ন ঘিরে শুরু হয়েছে জল্পনা–কল্পনা, হিসাব–নিকাশ আর ভেতরের নীরব লবিং। দীর্ঘদিন পর স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশগ্রহণের প্রশ্নে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)'র অবস্থান ও কৌশল রাজনৈতিক মহলে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে। দলটির সম্ভাব্য মনোনয়ন প্রত্যাশীরা ইতোমধ্যে মাঠপর্যায়ে সাংগঠনিক তৎপরতা জোরদার করেছেন। বিএনপির মেয়র পদে মনোনয়ন নিয়ে আলোচনায় যারা : বিএনপির ভেতরে কয়েকজন জ্যেষ্ঠ নেতা ও সাবেক জনপ্রতিনিধির নাম আলোচনায় রয়েছে। তাদের মধ্যে রয়েছেন সাবেক প্যানেল মেয়র আলহাজ্ব কে এম শহিদুল্লাহ,বরিশাল মহানগর বিএনপি'র সাবেক সদস্য সচিব সাবেক ছাত্রনেতা অ্যাডঃ মীর জাহিদুল কবির জাহিদ,মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক মনিরুজ্জামান ফারুক,বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য আবু নাসের রহমাতুল্লাহ,বিএনপির বরিশাল বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক বিলকিস জাহান শিরীন,বিএনপি নেতা এবায়েদুল হক চান ও  বরিশাল জেলা বিএনপির সাবেক সাধারন সম্পাদক এ্যাড.নজরুল ইসলাম খান রাজন। এছাড়া বরিশাল মহানগর যুবদলের সাবেক সভাপতি ও কেন্দ্রীয় যুবদলের সাবেক সহ- সভাপতি ও  বি এম কলেজ এর  সাবেক জি এস  এ্যাডভোকেট আকতারুজ্জামান শামীম আলোচনায় রয়েছেন। অভিজ্ঞতার পাল্লা ভারী: দলীয় সূত্র বলছে, এবার প্রার্থী বাছাইয়ে গুরুত্ব পাবে অভিজ্ঞতা ও গ্রহণযোগ্যতা।  নির্দিষ্ট কেউকে ঘিরেই আলোচনা সীমাবদ্ধ নয়। কেন্দ্রীয়, জেলা ও মহানগর বিএনপির শীর্ষ পর্যায়ের আরও কয়েকজন নেতা নীরবে মাঠ গুছিয়ে নিচ্ছেন। কেউ কেউ তৃণমূল নেতাকর্মীদের সঙ্গে বৈঠক করছেন, কেউ আবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সক্রিয় হয়ে নিজেদের অবস্থান জানান দিচ্ছেন। দলীয় সূত্রে জানা যায়, তৃণমূলের মতামত, সাংগঠনিক দক্ষতা, অতীত রাজনৈতিক ভূমিকা এবং জনসম্পৃক্ততা এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে চূড়ান্ত প্রার্থী নির্ধারণ করা হবে। চূড়ান্ত মনোনয়নের বিষয়ে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান এর সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত হবে। অন্যদিকে দলীয় একটি সূত্র জানায়, এবার বিএনপিকে এমন প্রার্থী দিতে হবে যিনি সর্বস্তরে গ্রহণযোগ্য। কারণ, মেয়র পদে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ–এর সম্ভাব্য প্রার্থীদের বিষয়টিও রাজনৈতিক সমীকরণে বিবেচনায় রাখতে হবে। দলীয় কৌশল ও চ্যালেঞ্জ : বিএনপি সূত্রে ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে, নির্বাচন অংশগ্রহণের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এলে প্রার্থী নির্ধারণ করবে কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব। সেক্ষেত্রে— *ফ্যাসিস্ট বিরোধী আন্দোলনে ভুমিকা, *জেল জুলম,মামলা হামলা নির্যাতন, *রাজনৈতিক অবস্থান। এসব বিষয় গুরুত্ব পাবে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বরিশালে দলীয় ঐক্য ধরে রাখা এবং গ্রহণযোগ্য প্রার্থী বাছাই করা বিএনপির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। অতীতের নির্বাচনে বিভক্তি বা বিদ্রোহী প্রার্থীর কারণে দল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলেও অনেকে মন্তব্য করেন। ভোটারদের প্রত্যাশা : বরিশাল নগরবাসীর প্রধান দাবি— * জলাবদ্ধতা নিরসন, * সড়ক ও ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন, * পরিচ্ছন্ন নগর ব্যবস্থাপনা, * কর্মসংস্থান ও ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ, মেয়র প্রার্থীদের জন্য এসব ইস্যু হবে নির্বাচনী প্রচারণার মূল প্রতিপাদ্য। বরিশাল সিটি করপোরেশন নির্বাচনকে ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা ক্রমেই বাড়ছে।চূড়ান্ত ঘোষণা না হওয়া পর্যন্ত সম্ভাব্য প্রার্থীদের তৎপরতা ও দলীয় কৌশলই থাকবে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। প্রার্থী ঘোষণার পর নির্বাচনী সমীকরণ আরও স্পষ্ট হবে বলে রাজনৈতিক মহল মনে করছে। বরিশালের রাজনীতির বাতাসে ইতিমধ্যেই নির্বাচনী সুর। বিএনপি শক্ত প্রার্থী দিলে নগর রাজনীতিতে জমে উঠতে পারে লড়াই।এখন সবার দৃষ্টি কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্তের দিকে। কে হবেন বিএনপির ‘নগর সেনাপতি’তার উত্তর মিললেই বরিশাল সিটির নির্বাচনী সমীকরণ আরও স্পষ্ট হয়ে উঠবে। উল্লেখ্য,বরিশাল সিটি করপোরেশ নির্বাচনে ২০১৩ সালে আওয়ামীলীগের মেয়র প্রার্থী শওকত হোসেন হিরনকে পরাজিত করে বিজয়ী হয়েছিলেন তৎকালীন মহানগর বিএনপির সভাপতি ও বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির মৎস্য বিষয়ক সম্পাদক আহসান হাবিব কামাল।২০১৮ সালে আলহাজ্ব মজিবর রহমান সরোয়ার দল থেকে দলীয় মনোনয়ন পেয়েছিলেন।ভোট ডাকাতির মাধ্যমে মেয়র নির্বাচিত হোন সাদিক আব্দুল্লাহ। ২০২৩ সালে অনুষ্ঠিত বরিশাল সিটি নির্বাচনে বিএনপি অংশ নেয়নি।  

অর্থনীতি

তেল-গ্যাস অনুসন্ধানে ৪৭ ব্লকে আন্তর্জাতিক দরপত্র

বাংলাদেশে ৪৭টি তেল-গ্যাস ব্লকে আন্তর্জাতিক দরপত্র শিগগির: এলএনজি নির্ভরতা কমানোর পরিকল্পনা

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ১৯, ২০২৬ 0




অপরাধ

বন ও পরিবেশ অধিদপ্তরের বরিশাল বিভাগীয় কার্যালয়ের নমুনা সংগ্রহকারী গ্রেফতার

বরিশাল পরিবেশ অধিদপ্তরের বিভাগীয় কার্যালয়ের নমুনা সংগ্রহকারী গ্রেফতার

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ২০, ২০২৬ 0




কৃষি ও জলবায়ু

সার ডিলার নিয়োগ ও বিতরণ নীতিমালা  দ্রুত বাস্তবায়নের দাবিতে বরিশালে মানববন্ধন

সার ডিলার নিয়োগ ও বিতরণ নীতিমালা দ্রুত বাস্তবায়নের দাবিতে বরিশালে মানববন্ধন

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ১৯, ২০২৬ 0