Brand logo light

সরকারি অর্থ আত্মসাৎ

পিরোজপুর এলজিইডির সাবেক নির্বাহী প্রকৌশলী রঞ্জিত দে'র বিরুদ্ধে শত কোটি টাকার ভুয়া বিল ও দুর্নীতির অভিযোগ

 ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : পিরোজপুরের স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) সাবেক নির্বাহী প্রকৌশলী রঞ্জিত দে-এর বিরুদ্ধে কাজ সম্পন্ন না করেই ভুয়া বিল-ভাউচারের মাধ্যমে শত শত কোটি টাকার বিল অনুমোদন, ঠিকাদার সিন্ডিকেট গঠন, ঘুষ-বাণিজ্য এবং প্রশাসনিক আদেশ উপেক্ষা করে দীর্ঘ সময় একই পদে বহাল থাকার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, এসব অনিয়মের কারণে তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হলেও তিনি এখনও আইনের আওতার বাইরে রয়েছেন। একই সঙ্গে পুনর্বহালের জন্য বিভিন্ন পর্যায়ে তৎপরতাও চালিয়ে যাচ্ছেন বলে সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র দাবি করেছে। যোগদানের পরই অভিযোগের সূত্রপাত অনুসন্ধানে জানা যায়, ২০২৪ সালের ৩০ জুন রঞ্জিত দে পিরোজপুরে এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী হিসেবে যোগদান করেন। অভিযোগ অনুযায়ী, দায়িত্ব গ্রহণের পর তিনি একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট গড়ে তোলেন এবং তার পূর্বসূরি আব্দুস সাত্তারের সময়কার কার্যক্রমের ধারাবাহিকতায় নির্বাচিত কয়েকটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন না হলেও ভুয়া বিল-ভাউচারের মাধ্যমে বিপুল অঙ্কের অর্থ ছাড় করেন। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের অভিযোগ, এসব বিলের একটি বড় অংশ বাস্তব কাজের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ ছিল না। প্রধান প্রকৌশলী, মন্ত্রণালয় ও দুদকে লিখিত অভিযোগ মঠবাড়িয়া উপজেলার শিংগা গ্রামের বাসিন্দা হরিদাশ হাওলাদার শিপন রঞ্জিত দে'র বিরুদ্ধে ধারাবাহিকভাবে লিখিত অভিযোগ দাখিল করেন। অভিযোগপত্র অনুযায়ী— ৬ জানুয়ারি প্রধান প্রকৌশলীর কাছে, ২৬ জানুয়ারি স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিবের কাছে, এবং ৫ মার্চ দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) চেয়ারম্যানের কাছে অভিযোগ জমা দেওয়া হয়। অভিযোগে বলা হয়, কাজ বাস্তবে সম্পন্ন না হলেও পছন্দের কয়েকটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে প্রায় শত কোটি টাকার বিল প্রদান করা হয়েছে। এছাড়া ইফতি ইটিসিএল নামে একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে কোনো কাজ সম্পন্ন না করেই ৮৯ কোটি টাকা বিল দেওয়ার অভিযোগও উত্থাপন করা হয়। বদলির আদেশ, স্থগিতাদেশ এবং পুনর্বহাল নিয়ে প্রশ্ন সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, গত বছরের ১৪ নভেম্বর রঞ্জিত দে-কে কুড়িগ্রামে স্ট্যান্ড রিলিজ করা হয়। তবে মাত্র দুই সপ্তাহের মধ্যেই, ২৮ নভেম্বর তিনি বিভিন্ন প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ওই আদেশ স্থগিত করাতে সক্ষম হন বলে অভিযোগ রয়েছে। পরবর্তীতে রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে ৪ ফেব্রুয়ারি পুনরায় তার বদলির নির্দেশ জারি হলেও তিনি দীর্ঘ সময় স্বপদে বহাল ছিলেন। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলজিইডির ভেতরে ও বাইরে নানা প্রশ্নের জন্ম দেয় বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। সাময়িক বরখাস্তের পর নিঃশব্দে পিরোজপুর ত্যাগ একাধিক সূত্র জানায়, দুর্নীতি সংক্রান্ত অভিযোগ বিভিন্ন দপ্তরে পৌঁছানোর পর রঞ্জিত দে-কে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। বরখাস্তের পর তিনি অফিসে আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব হস্তান্তর না করেই রাতের আঁধারে পিরোজপুর ত্যাগ করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। সীমান্ত পাড়ি দেওয়ার অভিযোগ অনুসন্ধানে আরও জানা যায়, পিরোজপুর ছাড়ার পর রঞ্জিত দে অবৈধভাবে সীমান্ত অতিক্রম করে ভারতের পশ্চিমবঙ্গে অবস্থান করেছিলেন বলে একটি সূত্র দাবি করেছে। পরে তিনি আবার বাংলাদেশে ফিরে এসে নিজেকে বিএনপির কর্মী হিসেবে পরিচয় দিয়ে দলটির কয়েকজন নেতার মাধ্যমে চাকরিতে পুনর্বহালের চেষ্টা করেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।   পুনর্বহালের চেষ্টার অভিযোগ বর্তমানে রঞ্জিত দে ঢাকায় এলজিইডির প্রধান কার্যালয়ের কয়েকজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ রেখে পুনর্বহালের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন বলে একাধিক সূত্র দাবি করেছে।   ঠিকাদারদের অভিযোগ পিরোজপুরের একাধিক ঠিকাদার অভিযোগ করেছেন, রঞ্জিত দে নির্দিষ্ট কিছু প্রতিষ্ঠানকে অগ্রাধিকার দিয়ে কাজ বণ্টন করতেন। স্থানীয় ঠিকাদার মো. মামুন মিয়া বলেন, "নির্বাহী প্রকৌশলী রঞ্জিত দে বিভিন্ন অনিয়মে জড়িয়ে পড়েছেন। বদলির আদেশ হলেও অদৃশ্য শক্তির কারণে তিনি বহাল ছিলেন। এতে সাধারণ ঠিকাদারদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।" পরিচয় প্রকাশে অনিচ্ছুক আরেক ঠিকাদার বলেন, "তার পছন্দের প্রতিষ্ঠানগুলো কাজ না করলেও শত কোটি টাকার বিল পেয়েছে। আমার বৈধ বিলও দীর্ঘদিন আটকে ছিল। প্রকাশ্যে কিছু বললে সমস্যা হতে পারে।" ১২২ কোটি টাকার বিলের অভিযোগ আরেকটি সূত্রের দাবি, নেছারাবাদ উপজেলার ঠিকাদার শফিক সুমন-সংশ্লিষ্ট কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের নামে কোনো কাজ সম্পন্ন না হলেও ভুয়া বিল-ভাউচারের মাধ্যমে ১২২ কোটি টাকা পরিশোধ করা হয়েছে।   স্থানীয়দের প্রতিক্রিয়া স্থানীয় বাসিন্দা মো. আব্দুল্লাহ বলেন, "কাজ না হলেও ঠিকাদার টাকা পেয়েছেন—এমন অভিযোগ আমরা শুনছি। এসব প্রকল্প শেষ পর্যন্ত বাস্তবায়ন হবে কি না, তা নিয়েও মানুষের মধ্যে সন্দেহ রয়েছে।" স্থানীয়দের দাবি, অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হোক, যাতে ভবিষ্যতে সরকারি অর্থের অপব্যবহার রোধ করা যায়। বক্তব্য পাওয়া যায়নি এই প্রতিবেদনে উত্থাপিত অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে রঞ্জিত দে'র সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।

নিজস্ব প্রতিবেদক জুন ৩০, ২০২৬ 0
গণপূর্তে কোটি টাকার অনিয়মের অভিযোগ,চাকরি না করেই অর্থ উত্তোলন
গণপূর্ত অধিদপ্তরে অবৈধ পদোন্নতি ও ৩ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ, আদালতের নির্দেশও উপেক্ষিত

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : গণপূর্ত অধিদপ্তরে নজিরবিহীন প্রশাসনিক অনিয়ম, অবৈধ পদোন্নতি এবং সরকারি অর্থ আত্মসাতের অভিযোগকে কেন্দ্র করে প্রশাসনিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় রাজনৈতিক প্রভাব ও প্রশাসনিক অপব্যবহারের মাধ্যমে গণপূর্ত অধিদপ্তরের ১১ জন প্রকৌশলী নিয়মিত দায়িত্ব পালন না করেই প্রায় সোয়া তিন কোটি টাকা উত্তোলন করেছেন। সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র দাবি করেছে, আদালতের স্থগিতাদেশ কার্যকর থাকা অবস্থাতেই এসব কর্মকর্তা বেতন-ভাতা ও অন্যান্য আর্থিক সুবিধা গ্রহণ করেন, যা সরকারি চাকরিবিধি ও প্রশাসনিক শৃঙ্খলার গুরুতর লঙ্ঘন হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিধি ভেঙে পদোন্নতির অভিযোগ সরকারি চাকরিবিধি অনুযায়ী নবম গ্রেডে যোগদানকারী কর্মকর্তারা নির্দিষ্ট প্রক্রিয়ায় পদোন্নতির সুযোগ পেলেও ষষ্ঠ গ্রেডে সরাসরি নিয়োগপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের ক্ষেত্রে সেই সুযোগ সীমিত। কিন্তু অভিযোগ রয়েছে, প্রভাবশালী মহলের সহায়তায় সংশ্লিষ্ট ১১ কর্মকর্তা নিয়ম বহির্ভূতভাবে নির্বাহী প্রকৌশলী (পঞ্চম গ্রেড) পদে উন্নীত হন। বিধি অনুযায়ী তাদের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী হিসেবে দায়িত্ব পালনের কথা থাকলেও প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের মাধ্যমে তাদের উচ্চপদে বসানো হয় বলে অভিযোগ উঠেছে। অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, এই পদোন্নতি প্রক্রিয়ায় সাবেক পূর্ত সচিব শহীদুল্লাহ খন্দকার, সাবেক প্রধান প্রকৌশলী কবির আহমেদ ভূঁইয়া এবং রফিকুল ইসলামের ভূমিকা ছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। পাশাপাশি সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, শেখ সেলিম এবং শেখ হেলালের রাজনৈতিক প্রভাবও ব্যবহৃত হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর দাবি। রাজনৈতিক সম্পৃক্ততার অভিযোগ অভিযুক্তদের কয়েকজন আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন বলেও অভিযোগ উঠেছে। প্রশাসনিক সূত্রগুলো দাবি করছে, ছাত্র-জনতার আন্দোলনের সময় যুবলীগ ও ছাত্রলীগের কার্যক্রমে আর্থিক সহায়তাও দেওয়া হয়েছিল। এই প্রসঙ্গে প্রকৌশলী সমীরণ মিস্ত্রি ও জাহাঙ্গীর আলমের নাম বিশেষভাবে আলোচনায় এসেছে। আদালতের নির্দেশ নিয়েও প্রশ্ন অভিযোগ রয়েছে, আদালতের নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও রিটকারী ১৭ কর্মকর্তার পদ সংরক্ষণ করা হয়নি। বরং অবৈধভাবে পদোন্নতি পাওয়া কর্মকর্তাদের বিসিএস কর্মকর্তাদের ওপরে জ্যেষ্ঠতা দেওয়া হয়। সরকার পরিবর্তনের পর বঞ্চিত কর্মকর্তারা গ্রেডেশন তালিকা সংশোধনের দাবি জানালেও বর্তমান প্রধান প্রকৌশলী মো. শামীম আখতারের বিরুদ্ধে কার্যকর কোনো ব্যবস্থা না নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। জনপ্রশাসনের একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “এ ধরনের পদোন্নতি বিধিসম্মত নয়। শক্তিশালী রাজনৈতিক প্রভাব ছাড়া এমন অনিয়ম সম্ভব নয়।” ‘চাকরি না করেই’ সরকারি অর্থ উত্তোলন দুর্নীতিবিরোধী বিশ্লেষকদের মতে, আদালতের স্থগিতাদেশ বহাল থাকা অবস্থায় চাকরিতে নিয়মিত দায়িত্ব পালন না করেও সরকারি অর্থ উত্তোলন অত্যন্ত গুরুতর অনিয়ম। একজন দুর্নীতিবিরোধী বিশেষজ্ঞ বলেন, “আদালতের নির্দেশ অমান্য করে অর্থ উত্তোলন প্রশাসনিক ও ফৌজদারি—দুই দিক থেকেই তদন্তযোগ্য বিষয়। এ ঘটনায় দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) স্বাধীন তদন্ত প্রয়োজন।” জাহাঙ্গীর আলমকে ঘিরে নতুন অভিযোগ অভিযুক্ত প্রকৌশলী জাহাঙ্গীর আলমকে ঘিরেও উঠেছে একাধিক গুরুতর অভিযোগ। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর দাবি, বিপুল অর্থের বিনিময়ে তিনি বিভিন্ন প্রশাসনিক সুবিধা নিয়েছেন। কর্মস্থল রাজশাহীতে হলেও অধিকাংশ সময় তিনি ঢাকায় অবস্থান করতেন বলে অভিযোগ রয়েছে। আরও অভিযোগ উঠেছে, অন্তর্বর্তী সরকারের গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা আদিলুর রহমানের আত্মীয় পরিচয় ব্যবহারকারী এক প্রভাবশালী ব্যক্তির মাধ্যমে বড় অঙ্কের আর্থিক চুক্তির বিনিময়ে ঢাকায় সুবিধাজনক পোস্টিং নিশ্চিত করেন তিনি। বর্তমানে তিনি গণপূর্ত ই/এম কাঠের কারখানা বিভাগ, ঢাকায় সংযুক্ত হিসেবে কর্মরত রয়েছেন। দ্বৈত বেতন উত্তোলনের অভিযোগ জাহাঙ্গীর আলমের বিরুদ্ধে একই সময়ে গণপূর্ত অধিদপ্তর এবং বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডাব্লিউটিএ) থেকে দ্বৈত বেতন উত্তোলনের অভিযোগও উঠেছে। এই অভিযোগ প্রশাসনিক মহলে নতুন করে প্রশ্ন তৈরি করেছে—কীভাবে একই ব্যক্তি একাধিক সরকারি প্রতিষ্ঠানে একযোগে আর্থিক সুবিধা গ্রহণ করেছেন এবং সেই প্রক্রিয়ায় কারা সহযোগিতা করেছেন। তদন্তের দাবি ঘটনাটি নিয়ে প্রশাসন ও দুর্নীতিবিরোধী মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অভিযোগগুলো নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করা জরুরি। বিশেষ করে আদালতের নির্দেশ উপেক্ষা, অবৈধ পদোন্নতি, রাজনৈতিক প্রভাব এবং সরকারি অর্থ উত্তোলনের অভিযোগ প্রশাসনিক স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার প্রশ্নকে সামনে নিয়ে এসেছে। দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) এবং জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের স্বাধীন তদন্ত ছাড়া এই অভিযোগের প্রকৃত চিত্র সামনে আসবে না বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ২৮, ২০২৬ 0
নির্বাহী প্রকৌশলী বাবুল আখতার
মাদারীপুর এলজিইডিতে শতকোটি টাকার অনিয়মের অভিযোগ: টেন্ডার কারসাজিতে সাবেক নির্বাহী প্রকৌশলী বাবুল আখতার

মাদারীপুর এলজিইডিতে ‘পুকুর চুরি’র অভিযোগ: শতকোটি টাকার অনিয়মে সাবেক নির্বাহী প্রকৌশলী ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : মাদারীপুরের স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) ঘিরে আবারও বড় ধরনের আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। জেলার সাবেক নির্বাহী প্রকৌশলী এবং বর্তমানে একটি বড় সরকারি প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক (পিডি) বাবুল আখতারের বিরুদ্ধে টেন্ডার প্রক্রিয়ায় জালিয়াতি, অতিমূল্যে কার্যাদেশ প্রদান এবং ঠিকাদারি সিন্ডিকেটের মাধ্যমে সরকারের বিপুল অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ পাওয়া গেছে। অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, বিশেষ করে করোনাকালীন সময়কে কেন্দ্র করে প্রায় এক হাজার কোটি টাকার বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে শতকোটি টাকার অনিয়ম হয়েছে। অভিযোগের তথ্য দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)-এর নজরেও আনা হয়েছে বলে জানা গেছে। প্রাক্কলিত মূল্যের চেয়ে কোটি কোটি টাকা বেশি ব্যয় অভিযোগ অনুযায়ী, শিবচর উপজেলার অধীনে দরপত্র আইডি ৫৮৯৬৪৫-এর আওতায় আড়িয়াল খাঁ ব্রিজ থেকে বাবলাতলা বাজার এবং শিবচর সদর থেকে রাজৈর ভায়া উত্রাইল জিসি সড়ক উন্নয়ন প্রকল্পে ২৩ কোটি ১৮ লাখ টাকার প্রাক্কলনের বিপরীতে ২৬ কোটি ৬০ লাখ টাকায় কার্যাদেশ দেওয়া হয়। এই কাজটি পায় মেসার্স হামীম ইন্টারন্যাশনাল। অভিযোগ রয়েছে, প্রাক্কলিত মূল্যের তুলনায় প্রায় ১৪ দশমিক ৭৪ শতাংশ বা প্রায় ৩ কোটি ৪১ লাখ টাকা বেশি দামে কার্যাদেশ দেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, সরকারি নির্মাণকাজে সাধারণত দরপত্রে প্রতিযোগিতার মাধ্যমে কম দরে কার্যাদেশ দেওয়ার প্রবণতা থাকে। কিন্তু এখানে উল্টো অতিরিক্ত মূল্যে কার্যাদেশ দেওয়াকে অস্বাভাবিক হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। একই দরপত্রের আরেকটি প্যাকেজেও ২২ কোটি ৫৪ লাখ টাকার প্রাক্কলনের বিপরীতে প্রায় ৯ দশমিক ৮৫ শতাংশ বেশি দামে কার্যাদেশ দিয়ে সরকারের প্রায় ২ কোটি ২২ লাখ টাকার ক্ষতি করা হয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়। সেতু নির্মাণ প্রকল্পেও একই অভিযোগ শিবচরের বিভিন্ন সড়কে অনূর্ধ্ব ১০০ মিটার সেতু নির্মাণ প্রকল্পের অধীনে দরপত্র আইডি ৫৬০৫০৫-এ প্রায় ১৬ কোটি ৯৭ লাখ টাকার কাজেও একই প্রতিষ্ঠানের কাছে প্রায় ৯ দশমিক ৮৩ শতাংশ বেশি দামে কার্যাদেশ দেওয়া হয়। অভিযোগে বলা হয়েছে, এতে সরকারের অতিরিক্ত ব্যয় দেখানো হয়েছে প্রায় ১ কোটি ৬৭ লাখ টাকা। এছাড়া আরসিআইপি প্রকল্পের আওতায় সদর উপজেলায় প্রায় ২৮ কোটি ৫৩ লাখ টাকার একটি প্রকল্পে ‘ভুয়া প্রাক্কলন’ তৈরি করে অনুমোদন নেওয়ার অভিযোগও রয়েছে। ওই কাজটি মেসার্স কহিনুর এন্টারপ্রাইজকে দেওয়া হয়। অনুসন্ধান সংশ্লিষ্টরা বলছেন, করোনাকালীন লকডাউনের সময় প্রকল্প বাস্তবায়নের নামে বড় ধরনের আর্থিক অনিয়ম সংঘটিত হয়েছে। ছোট প্রকল্পেও ‘উচ্চ দর’ কৌশল অনুসন্ধানে আরও কয়েকটি ছোট ও মাঝারি প্রকল্পে একই ধরনের অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এর মধ্যে রয়েছে— দরপত্র আইডি ২৬২৯৭৫ (প্যাকেজ ২২৮)-এ ৪.৯৩ শতাংশ বেশি দামে মেসার্স পাভেল এন্টারপ্রাইজকে কার্যাদেশ দরপত্র আইডি ৩৩৮৩২৯ (প্যাকেজ ৩০৮)-এ ৪.৯৫ শতাংশ বেশি দামে হাবিবা কনস্ট্রাকশনকে কার্যাদেশ দরপত্র আইডি ৩১৬০৬৯ (প্যাকেজ ২৭৮)-এ ৪.৯৭ শতাংশ বেশি দামে মেসার্স মোহাম্মদ ফারুক মিয়াকে কার্যাদেশ দরপত্র আইডি ২৬২৯৭৬ (প্যাকেজ ২১৪)-এ ৪.৯৭ শতাংশ বেশি দামে মেসার্স হামীম ইন্টারন্যাশনালকে কার্যাদেশ দরপত্র আইডি ৩৩৮৩৩০ (প্যাকেজ ৩০৯)-এ ৯.৪৯ শতাংশ বেশি দামে মেসার্স আতাহার এন্টারপ্রাইজকে কার্যাদেশ দরপত্র আইডি ৩৩৩২০০ (প্যাকেজ ২৮০)-এ ৯.৭২ শতাংশ বেশি দামে মেসার্স মাদবর ট্রেডার্সকে কার্যাদেশ এছাড়া কয়েকটি এইচবিবি ও ড্রেনেজ প্রকল্পেও প্রাক্কলিত মূল্যের তুলনায় প্রায় ৫ শতাংশ পর্যন্ত অতিরিক্ত দরে কার্যাদেশ দিয়ে লাখ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। ‘সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণের’ অভিযোগ অভিযোগে বলা হয়েছে, নির্বাহী প্রকৌশলী হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে বাবুল আখতার তার ঘনিষ্ঠ ঠিকাদারি সিন্ডিকেটকে সুবিধা দিতে টেন্ডার প্রক্রিয়ায় প্রভাব বিস্তার করতেন। একাধিক প্রকল্পে একই ধরনের উচ্চ দর অনুমোদনের ঘটনায় পরিকল্পিত যোগসাজশের ইঙ্গিত মিলেছে বলে দাবি অভিযোগকারীদের। স্থানীয় সচেতন মহল বলছে, করোনাকালীন সময় প্রশাসনিক নজরদারি দুর্বল থাকায় সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে বিপুল পরিমাণ সরকারি অর্থ লুটপাট করা হয়ে থাকতে পারে। তদন্তের দাবি এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে পূর্ণাঙ্গ তদন্ত দাবি করেছেন স্থানীয় নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা। তাদের দাবি, টেন্ডার প্রক্রিয়া, প্রাক্কলন অনুমোদন, কার্যাদেশ প্রদান এবং প্রকল্প বাস্তবায়নের আর্থিক নথিপত্র স্বাধীনভাবে নিরীক্ষা করা হলে প্রকৃত চিত্র সামনে আসতে পারে। অভিযুক্ত বাবুল আখতারের বক্তব্য নেওয়ার সুযোগ রাখা হয়েছে। তার বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তীতে যুক্ত করা হবে।

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ১৩, ২০২৬ 0
বরিশালের জেলা প্রশাসক (ডিসি) খায়রুল আলম সুমন
বরিশালে ডিসির বিরুদ্ধে নির্বাচন তহবিল আত্মসাতের অভিযোগ, প্রশাসনে অসন্তোষ

 বরিশাল অফিস :   ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বরিশালের জেলা প্রশাসক (ডিসি) খায়রুল আলম সুমনের বিরুদ্ধে বিপুল পরিমাণ সরকারি অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। অতিরিক্ত ভোটকক্ষ ও দুর্গম কেন্দ্র দেখানো, ভুয়া বিল-ভাউচার তৈরি এবং বিভিন্ন খাতে বরাদ্দকৃত অর্থ ব্যয়ের নামে অনিয়মের অভিযোগে প্রশাসনের অভ্যন্তরে চরম অসন্তোষ তৈরি হয়েছে বলে একাধিক সূত্র জানিয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের একাংশের দাবি, নির্বাচন কমিশনের বরাদ্দকৃত অর্থের একটি বড় অংশ প্রকৃত কাজে ব্যয় না করে তা আত্মসাৎ করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, এসব অনিয়ম আড়াল করতে প্রশাসনিক চাপ, বদলি এবং কর্মকর্তাদের ওপর প্রভাব খাটানোর ঘটনাও ঘটেছে। অতিরিক্ত ভোটকেন্দ্র দেখিয়ে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ প্রশাসনিক সূত্রগুলো বলছে, হিজলা, মুলাদী ও মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলায় অতিরিক্ত অস্থায়ী ভোটকক্ষ ও দুর্গম ভোটকেন্দ্র দেখিয়ে প্রায় ৬২ লাখ ৫০ হাজার টাকা অতিরিক্ত বরাদ্দ আনা হয়। সরকারি নথি অনুযায়ী, বরিশালের ১০ উপজেলার পাঁচটি সংসদীয় আসনের জন্য মোট ৮৩৩টি ভোটকেন্দ্র ও ৫ হাজার ১৯৭টি ভোটকক্ষ দেখানো হয়। এর মধ্যে ৭৭৭টি অস্থায়ী ভোটকক্ষ, ১৯৫টি দুর্গম ভোটকেন্দ্র এবং ১ হাজার ৮৯৩টি দুর্গম ভোটকক্ষ অন্তর্ভুক্ত ছিল। তবে উপজেলা নির্বাচন অফিসের বিভিন্ন নথিতে এ সংখ্যাগুলোতে অসামঞ্জস্য দেখা গেছে। মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলা নির্বাচন অফিসের একটি স্মারকে প্রথমে দুর্গম ভোটকেন্দ্রের সংখ্যা ১০০ উল্লেখ করা হলেও পরে তা সংশোধন করে ৫৫ করা হয়। একইভাবে মুলাদীতে ৭২ থেকে ৩৯ এবং হিজলায় ৪৯ থেকে ২৩টি দুর্গম কেন্দ্র দেখানো হয়। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর দাবি, প্রকৃত তালিকার বাইরে অতিরিক্ত ভোটকেন্দ্র ও ভোটকক্ষ দেখিয়ে যে অতিরিক্ত অর্থ বরাদ্দ আনা হয়েছিল, তার বড় অংশ ডিসি কার্যালয়ের নিয়ন্ত্রণে থেকে যায়। ‘ভুয়া ভাউচার’ সমন্বয়ের অভিযোগ সূত্র জানায়, নির্বাচন কমিশন থেকে বরিশাল জেলা রিটার্নিং অফিসের জন্য মোট ১৩ কোটি ১১ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। এ অর্থ ভোটকেন্দ্র পরিচালনা, সরঞ্জাম পরিবহন ও প্রশাসনিক ব্যয়সহ বিভিন্ন খাতে ব্যবহারের কথা ছিল। অভিযোগ রয়েছে, অতিরিক্ত বরাদ্দ বৈধ দেখাতে সংশ্লিষ্ট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের কাছ থেকে বিল-ভাউচার সংগ্রহ করা হয়। কয়েকজন কর্মকর্তাকে মৌখিকভাবে অতিরিক্ত ভাউচার পাঠানোর নির্দেশও দেওয়া হয়েছিল বলে দাবি করা হয়েছে। তবে সংশ্লিষ্ট তিন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটদের বরাদ্দ নিয়েও প্রশ্ন অভিযোগ অনুযায়ী, নির্বাচনী আচরণবিধি তদারকিতে নিয়োজিত ২০ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের জন্য নির্বাচন কমিশন থেকে প্রায় ৫৮ লাখ ৫০ হাজার টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। এর মধ্যে আপ্যায়ন, পিএল ব্যয় এবং মোবাইল কোর্ট পরিচালনায় নিয়োজিত সহকারী কর্মীদের জন্য আলাদা বরাদ্দ ছিল। কিন্তু সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের অভিযোগ, নির্ধারিত অর্থ তাদের হাতে পৌঁছায়নি। একাধিক সূত্র বলছে, নির্বাচনী দায়িত্ব পালন শেষে প্রাপ্য অর্থ না পেয়ে অনেক কর্মকর্তা ক্ষুব্ধ হন। পরে কয়েকজনকে আংশিক অর্থ দেওয়া হলেও বাকি অর্থ ভুয়া ভাউচারের মাধ্যমে সমন্বয়ের চেষ্টা করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া ব্যাকডেটে ভাউচারে সই করার জন্যও চাপ দেওয়া হয়েছিল বলে দাবি করেছেন কয়েকজন কর্মকর্তা। প্রশাসনের ভেতরে অসন্তোষ ও বদলির অভিযোগ অভিযোগ রয়েছে, অনিয়ম নিয়ে প্রশ্ন তোলা বা ব্যয়-সংক্রান্ত তথ্য জানতেন—এমন কয়েকজন কর্মকর্তাকে বিভিন্ন শাখায় বদলি করা হয়েছে। এর মধ্যে সাধারণ শাখা, মানবসম্পদ শাখা এবং অন্য জেলায় বদলির ঘটনাও রয়েছে। কয়েকজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের প্রশাসনিক সুবিধা সীমিত করার অভিযোগও উঠেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট বলেন, নির্বাচন কমিশনের বরাদ্দকৃত অর্থ সংশ্লিষ্ট খাতে ব্যয় না করে তা আত্মসাতের চেষ্টা করা হয়। এর প্রতিবাদ করায় অনেক কর্মকর্তাকে প্রশাসনিকভাবে চাপে রাখা হয়েছে। তার ভাষায়, “প্রশাসনিক কাজ পরিচালনার জন্য জেলা প্রশাসকের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ প্রয়োজন। কিন্তু নির্বাচনী ব্যয়ের বিষয়ে প্রশ্ন তোলার পর অনেকের সঙ্গে সম্পর্কের অবনতি ঘটে।” আরও যেসব খাতে অনিয়মের অভিযোগ সূত্রগুলো আরও জানিয়েছে, নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কন্ট্রোল রুম, ফলাফল সংগ্রহ, পর্যবেক্ষক টিম, আপ্যায়ন ও জ্বালানি খাতে বরাদ্দকৃত কয়েক লাখ টাকা ব্যয়ের ক্ষেত্রেও অনিয়ম হয়েছে। এছাড়া ২৬ মার্চ উদযাপন উপলক্ষে স্থানীয় উৎস থেকে সংগৃহীত প্রায় সাড়ে ১৭ লাখ টাকা ব্যবহারে অনিয়ম এবং ভুয়া বিল-ভাউচারের অভিযোগও রয়েছে। ডিসি বাংলোর সংস্কারের জন্য ত্রাণ তহবিল থেকে প্রায় আট লাখ টাকা বরাদ্দ নেওয়া হলেও বাস্তবে কাজ হয়নি বলেও অভিযোগ উঠেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর দাবি, টিআর নীতিমালা অনুযায়ী এ ধরনের ব্যয় বৈধ নয়। ডিসির বক্তব্য পাওয়া যায়নি অভিযোগগুলোর বিষয়ে বরিশালের জেলা প্রশাসক খায়রুল আলম সুমনের বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। ফোন, বার্তা ও হোয়াটসঅ্যাপে যোগাযোগের চেষ্টা করেও সাড়া মেলেনি বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ৭, ২০২৬ 0
শিক্ষিকাকে জুতাপেটা
রাজশাহীতে শিক্ষিকা নিয়োগে জালিয়াতি: অন্যের ইনডেক্সে এমপিও, ২১ লাখ টাকা আত্মসাৎ অভিযোগ

 ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : রাজশাহীর একটি বেসরকারি কলেজে এক নারী শিক্ষিকার বিরুদ্ধে অবৈধ নিয়োগ ও জালিয়াতির মাধ্যমে দীর্ঘদিন বেতন-ভাতা উত্তোলনের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। সরকারি পরিদর্শন ও নিরীক্ষা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অন্যের ইনডেক্স নম্বর ব্যবহার করে এমপিওভুক্ত হয়ে তিনি প্রায় ২১ লাখ টাকা আত্মসাৎ করেছেন। প্রতিবেদন অনুযায়ী, দাওকান্দি সরকারি ডিগ্রি কলেজে সাচিবিক বিদ্যা বিষয়ের প্রদর্শক হিসেবে মোছা. আলেয়া খাতুন হীরার নিয়োগটি জনবল কাঠামোর অনুমোদন ছাড়াই দেওয়া হয়। ফলে দীর্ঘ সময় তিনি এমপিওভুক্ত হতে পারেননি। নিয়োগ প্রক্রিয়া পর্যালোচনায় দেখা যায়, ২০০২ সালের ১৮ জানুয়ারি শুধুমাত্র একটি আঞ্চলিক পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়; জাতীয় পর্যায়ের কোনো পত্রিকায় তা প্রকাশিত হয়নি। ওই বছরের ৮ মে মৌখিক পরীক্ষার মাধ্যমে তাকে নির্বাচিত করা হয়। নিয়োগ বোর্ডে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতিনিধিও ছিলেন। তবে সরকারি বিধি অনুযায়ী সাচিবিক বিদ্যা বিভাগে প্রদর্শক বা প্রশিক্ষক পদ অনুমোদিত না থাকায় তার এমপিওভুক্তি দীর্ঘদিন ঝুলে থাকে। পরবর্তীতে, ২০১৮ সালের জুলাইয়ে আলেয়া খাতুন একই প্রতিষ্ঠানের আরেক কর্মী চামেলী খাতুনের ইনডেক্স নম্বর ব্যবহার করে এমপিওভুক্ত হন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, চামেলী খাতুন প্রতিষ্ঠান ছাড়ার পরও এমপিও তালিকা থেকে তার নাম অপসারণ করা হয়নি। এই সুযোগে ২০০৩ সালের জানুয়ারি থেকে ২০১৮ সালের জুন পর্যন্ত সময়ের মধ্যে আলেয়া খাতুন ধারাবাহিকভাবে সরকারি বেতন-ভাতা উত্তোলন করেন। নিরীক্ষা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রতিষ্ঠান প্রধানের সহযোগিতায় তথ্য গোপন করে মোট ২০ লাখ ৫১ হাজার ৮১৩ টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে। এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট শিক্ষিকার এমপিও বাতিল, আত্মসাৎকৃত অর্থ সরকারি কোষাগারে ফেরত প্রদান, বিভাগীয় মামলা দায়ের এবং ফৌজদারি আইনে ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে। উল্লেখ্য, বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জনবল কাঠামো ও এমপিও নীতিমালা অনুযায়ী বিজ্ঞানভিত্তিক কয়েকটি বিষয়ে ল্যাব থাকলে প্রদর্শক পদ অনুমোদিত হয়, তবে সাচিবিক বিদ্যা বিভাগে এ ধরনের কোনো পদ নেই।

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ৩০, ২০২৬ 0
বরিশাল সিটি করপোরেশন: দুদকের অনুসন্ধানে ফেঁসে যাচ্ছে জনসংযোগ কর্মকর্তা আহসান উদ্দিন রোমেল

বরিশাল অফিস :   বরিশাল সিটি করপোরেশনের (বিসিসি) বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প, আইটি অবকাঠামো এবং প্রশাসনিক ব্যয়ের খাতে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ ঘিরে নতুন করে আলোচনা তৈরি হয়েছে। দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) একটি অনুসন্ধান প্রতিবেদনে অন্তত ১৮ জন কর্মকর্তা-কর্মচারীর বিরুদ্ধে তদন্ত শেষে প্রায় ১০ জনের বিরুদ্ধে অনিয়মের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ার কথা বলা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র দাবি করেছে। এই তালিকায় সবচেয়ে বেশি আলোচনায় এসেছে বিসিসির জনসংযোগ কর্মকর্তা আহসান উদ্দিন রোমেলের নাম। তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক প্রকল্পে আর্থিক অনিয়ম, অতিরিক্ত বিল উত্তোলন, টেন্ডার প্রক্রিয়ায় প্রভাব খাটানো এবং ব্যক্তিগত প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে সিটি করপোরেশনের কাজ নিয়ন্ত্রণের অভিযোগ উঠেছে। দুদক এখনো কোনো মামলা দায়ের করেনি এবং অনুসন্ধান প্রতিবেদন কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে বলে জানা গেছে। বরিশাল সিটি করপোরেশনের প্রশাসক হিসেবে এ্যাডভোকেট বিলকিস আক্তার জাহান শিরিন দায়িত্ব গ্রহনের পরই সিটি করপোরেশনকে দুর্নীতিমুক্ত করার ঘোষনা দিয়েছেন।তিনি বিসিসিতে দীর্ঘদিনের অনিয়ম ও দুর্নীতি বন্ধ করার জন্য সোচ্চার রয়েছেন।  দুদকের অনুসন্ধান: কীভাবে শুরু হলো তদন্ত দুদক সূত্রে জানা যায়, বরিশাল সিটি করপোরেশনের কয়েকটি উন্নয়ন প্রকল্পে আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ পাওয়ার পর ২০২৫ সালের মাঝামাঝি সময়ে একটি প্রাথমিক অনুসন্ধান শুরু হয়। তদন্তের আওতায় আনা হয় আইটি প্রকল্প, সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন, ডিজিটাল ট্রেড লাইসেন্স ব্যবস্থা এবং বিভিন্ন প্রচার-প্রচারণা ব্যয়। অনুসন্ধানের অংশ হিসেবে ২০২৫ সালের ৯ ও ১০ জুলাই সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। এ সময় তাদের সম্পদের বিবরণ, প্রকল্পের ব্যয়ের হিসাব এবং অনুমোদন প্রক্রিয়া সম্পর্কে ব্যাখ্যা চাওয়া হয়।   আরও পড়ুন: বিসিসির জনসংযোগ কর্মকর্তা রোমেল চাকুরির আড়ালে ঠিকাদারও   দুদকের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, “প্রাথমিক পর্যায়ে অনিয়ম পাওয়া গেছে। বিশেষ করে আইটি ও ডিজিটাল প্রকল্পগুলোর ব্যয় ও বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।” তবে তিনি  উল্লেখ করেন যে, অনুসন্ধান এটি কেবলমাত্র পরবর্তী আইনি পদক্ষেপের ভিত্তি তৈরি করে।  অভিযোগের কেন্দ্রে কে আহসান উদ্দিন রোমেল? বরিশাল সিটি করপোরেশনের জনসংযোগ কর্মকর্তা আহসান উদ্দিন রোমেল দীর্ঘদিন ধরে প্রশাসনিক বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত বলে জানা যায়। অভিযোগপত্র ও একাধিক সূত্রের দাবি অনুযায়ী, তিনি একই সঙ্গে আইটি সংশ্লিষ্ট কিছু দায়িত্বে প্রভাব বিস্তার করেছেন এবং কিছু প্রকল্পে ব্যক্তিগতভাবে সম্পৃক্ত থেকেছেন। অভিযোগগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো— * সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন প্রকল্পে প্রকৃত কাজের তুলনায় অতিরিক্ত বিল দেখানো * অনলাইন ট্রেড লাইসেন্স ব্যবস্থায় অনিয়ম ও বিলম্ব * বিভিন্ন আইটি প্রকল্পে বাজেট বৃদ্ধির মাধ্যমে অতিরিক্ত ব্যয় দেখানো * ব্যক্তিগত আইটি প্রতিষ্ঠান  পিপলো বিডি দিয়ে ব্যবহার করে প্রকল্পে প্রভাব বিস্তার * সরকারি প্রচারণা ও বিজ্ঞাপন ব্যয়ে অতিরিক্ত অর্থ উত্তোলন এসব অভিযোগ বিভিন্ন অভিযোগকারী ও অভ্যন্তরীণ নথির ভিত্তিতে উপস্থাপন করা হয়েছে বলে জানা যায়।  আইটি প্রকল্প নিয়ে সবচেয়ে গুরুতর অভিযোগ অভিযোগপত্রে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে সিটি করপোরেশনের ডিজিটালাইজেশন প্রকল্পগুলোকে। সূত্রের দাবি অনুযায়ী, অনলাইন ট্রেড লাইসেন্স ব্যবস্থা চালু করার উদ্যোগ নেওয়া হলেও প্রকল্পটি পুরোপুরি কার্যকর হয়নি বা মাঝপথে ব্যাহত হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, এই প্রকল্পের প্রযুক্তিগত বাস্তবায়নে যে প্রতিষ্ঠানগুলো যুক্ত ছিল, তাদের কাজের বিল ও দায়িত্ব বণ্টন নিয়ে অনিয়ম হয়েছে। একটি অভিযোগে বলা হয়, একটি স্থানীয় আইটি প্রতিষ্ঠান প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করলেও যথাযথ বিল না পাওয়ার অভিযোগ করেছে। অন্যদিকে, পরবর্তীতে সেই প্রকল্পে ভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে যুক্ত করে পুনরায় বাজেট প্রস্তাব করা হয় বলে দাবি করা হয়। একাধিক সূত্রের দাবি, প্রকল্পের বাস্তব ব্যয় এবং প্রস্তাবিত বাজেটের মধ্যে বড় ধরনের পার্থক্য ছিল। যেখানে বিশেষজ্ঞদের মতে কিছু কাজ তুলনামূলক কম খরচে সম্পন্ন করা সম্ভব ছিল, সেখানে কয়েক কোটি টাকার বাজেট প্রস্তাব করা হয়। সিসিটিভি প্রকল্প: অতিরিক্ত ব্যয়ের অভিযোগ সিটি করপোরেশনের সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন প্রকল্পেও অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগপত্র অনুযায়ী, প্রয়োজনের তুলনায় বেশি সংখ্যক ক্যামেরা দেখিয়ে অতিরিক্ত বিল তোলা হয়েছে এবং প্রকৃত বাজারমূল্যের চেয়ে বেশি খরচ দেখানো হয়েছে। একটি সূত্রের দাবি, প্রকল্পের কাজের পরিমাণ এবং বিলের মধ্যে অসামঞ্জস্য ছিল। তবে এ বিষয়ে স্বাধীনভাবে কোনো মূল্যায়ন বা যাচাই প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়নি। ব্যক্তিগত প্রতিষ্ঠান ব্যবহারের অভিযোগ অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, আহসান উদ্দিন রোমেলের একটি ব্যক্তিগত আইটি প্রতিষ্ঠান রয়েছে, যার মাধ্যমে তিনি সিটি করপোরেশনের বিভিন্ন প্রকল্পে পরোক্ষভাবে সম্পৃক্ত ছিলেন বলে অভিযোগ ওঠে। এই অভিযোগ অনুযায়ী, কিছু প্রকল্পে ঠিকাদার নির্বাচন, বিল অনুমোদন এবং কাজের তদারকিতে ব্যক্তিগত প্রভাব খাটানোর বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে। তবে এ বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো আদালতের রায় বা প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত এখনো পাওয়া যায়নি।  প্রচার-প্রচারণা ও বিজ্ঞাপন ব্যয় নিয়ে প্রশ্ন অভিযোগপত্রে আরও বলা হয়, সিটি করপোরেশনের বিভিন্ন প্রচারণামূলক কার্যক্রম—যেমন ব্যানার, ফেস্টুন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারণা—এসব খাতে অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় করা হয়েছে। কিছু ক্ষেত্রে বাস্তব কাজের তুলনায় কয়েকগুণ বেশি বিল দেখানো হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। উদাহরণ হিসেবে বলা হয়, নির্দিষ্ট একটি প্রচারণা কাজে প্রকৃত ব্যয়ের তুলনায় অতিরিক্ত অর্থ উত্তোলন করা হয়েছে। তবে এসব অভিযোগের পক্ষে স্বতন্ত্র আর্থিক নিরীক্ষা প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়নি।   অভ্যন্তরীণ প্রশাসনিক দ্বন্দ্বের ইঙ্গিত সূত্রগুলো বলছে, বিসিসির অভ্যন্তরে কিছু প্রকল্প ও বিল অনুমোদন প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশাসনিক দ্বন্দ্ব ছিল। কিছু প্রকল্পে একাধিক পক্ষের সম্পৃক্ততা এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণে সমন্বয়হীনতা দেখা গেছে বলে অভিযোগে উল্লেখ রয়েছে। একটি সূত্র দাবি করে, কিছু ক্ষেত্রে প্রকল্প অনুমোদন ও বিল আটকে দেওয়ার মতো ঘটনাও ঘটেছে, যা পরবর্তীতে অর্থনৈতিক লেনদেনের মাধ্যমে সমাধান হয়েছে বলে অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়।  রাজনৈতিক পরিবর্তনের প্রভাব সূত্রগুলো আরও জানায়, প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক পরিবর্তনের ফলে কিছু প্রকল্প স্থগিত এবং পরে পুনরায় সক্রিয় করার চেষ্টা হয়েছে। এতে প্রকল্প বাস্তবায়ন প্রক্রিয়ায় ধারাবাহিকতা নষ্ট হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। তবে এসব বিষয় রাজনৈতিক বিশ্লেষণের অংশ এবং এর সঙ্গে সরাসরি দুর্নীতির প্রমাণ সম্পর্কিত নয় বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করেন।  ছাত্র আন্দোলন ও জনমতের চাপ বরিশালে সম্প্রতি কিছু ছাত্র ও নাগরিক সংগঠন দুর্নীতির অভিযোগে দাবি তুলেছে। তাদের প্রধান দাবি—অভিযুক্ত কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে দ্রুত তদন্ত সম্পন্ন করে প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা। একজন আন্দোলনকারী বলেন, “আমরা চাই স্বচ্ছ তদন্ত হোক। যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে, তাদের জবাবদিহির আওতায় আনা হোক।” তবে প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখনো এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি।  দুদকের পরবর্তী পদক্ষেপ কী? দুদক সূত্র বলছে, অনুসন্ধান প্রতিবেদন এখনো চূড়ান্ত অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। কমিশন অনুমোদন দিলে মামলা দায়ের হবে।    অভিযুক্তদের অবস্থান ও প্রতিক্রিয়া এই প্রতিবেদনে উল্লিখিত অভিযোগগুলোর বিষয়ে আহসান উদ্দিন রোমেল বা সংশ্লিষ্ট অন্যদের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। সাধারণত এ ধরনের অভিযোগে অভিযুক্ত ব্যক্তিরা তদন্ত চলাকালে মন্তব্য থেকে বিরত থাকেন ।  অভিযোগ বনাম প্রমাণ দুর্নীতি বিষয়ক বিশেষজ্ঞদের মতে, অনুসন্ধান প্রতিবেদন এবং অভিযোগপত্র প্রাথমিক পর্যায়ের তথ্য হিসেবে গণ্য হয়। এগুলোকে আদালতে প্রমাণ হিসেবে উপস্থাপন করতে হলে পূর্ণাঙ্গ তদন্ত, অডিট রিপোর্ট এবং সাক্ষ্য-প্রমাণ প্রয়োজন। একজন প্রশাসনিক বিশ্লেষক বলেন, “সরকারি প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগ প্রায়ই ওঠে, কিন্তু সব অভিযোগ প্রমাণিত হয় না। তাই চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের জন্য বিচারিক প্রক্রিয়া অপরিহার্য।” বরিশাল সিটি করপোরেশনের বিভিন্ন প্রকল্প ঘিরে যে অভিযোগগুলো উঠেছে, তা এখনো তদন্তাধীন পর্যায়ে রয়েছে। দুর্নীতি দমন কমিশনের অনুসন্ধান প্রতিবেদন এই প্রক্রিয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হলেও এটি চূড়ান্ত রায় নয়। আহসান উদ্দিন রোমেলসহ অন্যান্য কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো প্রমাণিত হবে কি না, তা নির্ভর করছে পরবর্তী আইনি তদন্ত, সাক্ষ্য-প্রমাণ এবং বিচারিক প্রক্রিয়ার ওপর। ততক্ষণ পর্যন্ত এসব অভিযোগকে “অভিযোগ” হিসেবেই বিবেচনা করা হচ্ছে—যার সত্যতা বা অসত্যতা নির্ধারণের দায়িত্ব এখন আইনি প্রক্রিয়ার হাতে।  

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ২৭, ২০২৬ 0
বাবুগঞ্জ এলজিইডি উপজেলা প্রকৌশলী কাজী এমামুল হক আলীম
বাবুগঞ্জে এলজিডি প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ : সরকারি অর্থ অপচয়, প্রভাবশালী চক্রের দৌরাত্ম্য

বরিশাল অফিস :    বাবুগঞ্জ উপজেলা—দক্ষিণাঞ্চলের এই জনপদে সম্প্রতি স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের একাধিক উন্নয়ন প্রকল্প নিয়ে গুরুতর অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ সামনে এসেছে। অভিযোগের কেন্দ্রে রয়েছেন বাবুগঞ্জ এলজিইডি উপজেলা প্রকৌশলী কাজী এমামুল হক আলীম। সরকারি অর্থ আত্মসাৎ, নিম্নমানের কাজ, এমনকি কাজ না করেই বিল উত্তোলনের মতো অভিযোগ এলাকায় ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। স্থানীয় বাসিন্দা, জনপ্রতিনিধি এবং সংশ্লিষ্ট সূত্রের সঙ্গে কথা বলে একটি উদ্বেগজনক চিত্র উঠে এসেছে—যেখানে উন্নয়নের নামে বরাদ্দকৃত অর্থের বড় অংশই সঠিকভাবে কাজে লাগানো হয়নি বলে অভিযোগ। বরং প্রশাসনিক দুর্বলতা, তদারকির অভাব এবং প্রভাবশালী মহলের হস্তক্ষেপ মিলিয়ে তৈরি হয়েছে এক ধরনের “অদৃশ্য দুর্নীতির কাঠামো”। সামান্য কাজ,বরাদ্দ ২ লাখ  সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে উপজেলার রহমতপুর ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডে একটি প্রকল্পের সিপিসি (কমিউনিটি প্রকিউরমেন্ট কমিটি) হিসেবে স্থানীয় ইউপি সদস্য জিয়াদুলকে দায়িত্ব দেন উপজেলা প্রকৌশলী কাজী এমামুল হক আলীম। ওই প্রকল্পের আওতায় দপ্তরের টয়লেট মেরামত ও আসবাবপত্র ক্রয়ের জন্য প্রায় ২ লাখ টাকা উত্তোলন করা হয়। তবে অভিযোগ রয়েছে, বাস্তবে খুব সামান্য কাজ করেই পুরো বরাদ্দের টাকা তুলে নেয়া হয়েছে। কাজের মান নিয়ে প্রশ্ন এদিকে ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরে রাজস্ব খাত থেকে উন্নয়ন কার্যক্রমের জন্য প্রায় ১ কোটি ১৭ লাখ টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়। এই বরাদ্দের আওতায় উপজেলার ৬টি ইউনিয়নে ৮৬টি প্রকল্প বাস্তবায়নের কথা থাকলেও অধিকাংশ প্রকল্পেই কাজের মান নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, নির্ধারিত টেন্ডার প্রক্রিয়া উপেক্ষা করে প্রভাবশালী মহলের মাধ্যমে এসব কাজ বণ্টন করা হয়েছে। পুরনো কাজ দেখিয়েই বিল উত্তোলন অভিযোগের তালিকায় রয়েছে উপজেলা প্রকৌশল দপ্তরের টাইলস মেরামতের একটি কাজও। প্রায় ৩ লাখ ৫০ হাজার টাকার এই প্রকল্পটি টেন্ডারের মাধ্যমে ‘বিডি ইঞ্জিনিয়ারিং’নামের একটি প্রতিষ্ঠান পেলেও সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারকে কাজ করতে না দিয়ে পুরনো কাজ দেখিয়েই বিল উত্তোলন করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া, কেদারপুর এইচএস জামে মসজিদের ওজুখানা নির্মাণে ১ লাখ টাকা বরাদ্দ থাকলেও যথাযথ কাজ সম্পন্ন না করেই ‘চৌধুরী কনস্ট্রাকশন’ নামের একটি প্রতিষ্ঠানকে বিল প্রদান করা হয়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে।  প্রকল্প বাস্তবায়নের আড়ালে অনিয়মের অভিযোগ ২০২৪-২৫ অর্থবছরে রহমতপুর ইউনিয়নের একটি ছোট প্রকল্পকে ঘিরেই প্রথম অভিযোগের সূত্রপাত। সূত্র অনুযায়ী, ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডে একটি উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য সিপিসি (কমিউনিটি প্রকিউরমেন্ট কমিটি) গঠন করা হয়। ওই কমিটির দায়িত্ব পান স্থানীয় ইউপি সদস্য জিয়াদুল। প্রকল্পটির আওতায় উপজেলা প্রকৌশল দপ্তরের টয়লেট সংস্কার এবং কিছু আসবাবপত্র ক্রয়ের জন্য প্রায় ২ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। কিন্তু স্থানীয়দের অভিযোগ, বাস্তবে কাজের পরিমাণ ছিল খুবই সীমিত—অথচ পুরো বরাদ্দের অর্থ তুলে নেওয়া হয়েছে। একজন স্থানীয় বাসিন্দা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “কাজের নামে সামান্য রং করা আর কয়েকটা জিনিসপত্র আনা হয়েছে। কিন্তু বিল দেখানো হয়েছে পুরো প্রকল্পের। এটা চোখে পড়ার মতো বিষয়।” এই অভিযোগ শুধু একটি প্রকল্পে সীমাবদ্ধ নয়—বরং এটি বৃহত্তর অনিয়মের ইঙ্গিত দেয় বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।  ১ কোটি ১৭ লাখ টাকার প্রকল্প—প্রশ্নবিদ্ধ বাস্তবায়ন ২০২৫-২৬ অর্থবছরে রাজস্ব খাত থেকে বাবুগঞ্জ উপজেলায় উন্নয়ন কার্যক্রমের জন্য বরাদ্দ দেওয়া হয় প্রায় ১ কোটি ১৭ লাখ টাকা। এই অর্থের আওতায় উপজেলার ছয়টি ইউনিয়নে মোট ৮৬টি প্রকল্প বাস্তবায়নের পরিকল্পনা ছিল। কাগজে-কলমে এসব প্রকল্পের তালিকা বিস্তৃত—গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন, ছোটখাটো সংস্কার কাজ, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান উন্নয়ন, অফিস মেরামতসহ নানা উদ্যোগ অন্তর্ভুক্ত ছিল। কিন্তু বাস্তব চিত্র ভিন্ন বলে দাবি স্থানীয়দের। অভিযোগ উঠেছে— * অধিকাংশ প্রকল্পেই কাজের মান নিম্নমানের * নির্ধারিত সময়ে কাজ সম্পন্ন হয়নি * কোথাও কোথাও কাজ আংশিক বা অসম্পূর্ণ অবস্থায় রয়েছে * কিছু ক্ষেত্রে কাজ না করেই বিল উত্তোলনের অভিযোগ রয়েছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, এসব প্রকল্পে টেন্ডার প্রক্রিয়া যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে। একজন স্থানীয় ঠিকাদার বলেন, “অনেক কাজই ওপেন টেন্ডারের মাধ্যমে হয়নি। প্রভাবশালী কিছু ব্যক্তি ঠিকাদারি বণ্টনে প্রভাব বিস্তার করেছে। ফলে প্রকৃত প্রতিযোগিতা হয়নি।”  টেন্ডার প্রক্রিয়া উপেক্ষা—কারা লাভবান? সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার অন্যতম প্রধান মাধ্যম হলো উন্মুক্ত টেন্ডার প্রক্রিয়া। কিন্তু বাবুগঞ্জের ক্ষেত্রে অভিযোগ উঠেছে—এই প্রক্রিয়াকে পাশ কাটিয়ে কিছু নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে কাজ দেওয়া হয়েছে। এর ফলে— * প্রকল্প ব্যয়ের তুলনায় কাজের মান কমে গেছে * প্রতিযোগিতামূলক দরপত্র না হওয়ায় অতিরিক্ত ব্যয় হয়েছে * কিছু ক্ষেত্রে “কাগুজে কাজ” দেখিয়ে বিল উত্তোলনের সুযোগ তৈরি হয়েছে বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এ ধরনের পরিস্থিতিতে প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত হয় সাধারণ জনগণ—কারণ উন্নয়নের সুফল তারা পায় না।  ‘বিডি ইঞ্জিনিয়ারিং’ প্রকল্প: কাজ ছাড়াই বিল উত্তোলনের অভিযোগ উপজেলা প্রকৌশল দপ্তরের টাইলস মেরামতের একটি প্রকল্পকে ঘিরেও গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। প্রায় ৩ লাখ ৫০ হাজার টাকার এই প্রকল্পটি টেন্ডারের মাধ্যমে ‘বিডি ইঞ্জিনিয়ারিং’ নামের একটি প্রতিষ্ঠান পায়। কিন্তু অভিযোগ অনুযায়ী— * সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারকে কাজ করতে দেওয়া হয়নি * পুরনো কাজ দেখিয়ে বিল উত্তোলন করা হয়েছে * প্রকল্প বাস্তবায়নের কোনো দৃশ্যমান প্রমাণ নেই এ বিষয়ে স্থানীয় এক ব্যবসায়ী বলেন, “আমরা দেখেছি অফিসের পুরনো টাইলসই আছে। নতুন করে কাজ হয়েছে বলে মনে হয় না। কিন্তু বিল হয়ে গেছে—এটা রহস্যজনক।” ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের উন্নয়নেও অনিয়ম? কেদারপুর এইচএস জামে মসজিদের ওজুখানা নির্মাণ প্রকল্পেও অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। এই প্রকল্পের জন্য ১ লাখ টাকা বরাদ্দ ছিল। অভিযোগ অনুযায়ী— * কাজ সম্পূর্ণভাবে শেষ করা হয়নি * নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার করা হয়েছে * কাজের প্রকৃত অগ্রগতি ছাড়াই বিল প্রদান করা হয়েছে * ‘চৌধুরী কনস্ট্রাকশন’ নামের একটি প্রতিষ্ঠান বিল পেয়েছে মসজিদ কমিটির এক সদস্য বলেন, “ওজুখানার কাজ ঠিকমতো হয়নি। আমরা বারবার বলেছি, কিন্তু কাজ শেষ না করেই বিল নিয়ে নেওয়া হয়েছে।”  প্রশাসনিক শূন্যতা: অনিয়মের সুযোগ ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর বাবুগঞ্জ উপজেলার কিছু ইউনিয়নে চেয়ারম্যান না থাকায় প্রশাসনিক কাঠামোতে একটি শূন্যতা তৈরি হয়। স্থানীয়দের মতে, এই পরিস্থিতিই অনিয়মের অন্যতম প্রধান কারণ। এই সময়ে— * প্রকল্প তদারকি দুর্বল হয়ে পড়ে * সিদ্ধান্ত গ্রহণে জবাবদিহিতা কমে যায় * স্থানীয় পর্যায়ে ক্ষমতার ভারসাম্য নষ্ট হয় ফলে কিছু অসাধু ব্যক্তি এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে উন্নয়ন প্রকল্পে অনিয়ম করার সুযোগ পেয়েছে বলে অভিযোগ। একজন সমাজকর্মী বলেন, “যেখানে তদারকি নেই, সেখানে দুর্নীতি হওয়া খুবই স্বাভাবিক। এখানে সেটাই হয়েছে।”  অভিযোগ অস্বীকার প্রশাসনের অভিযোগের বিষয়ে উপজেলা প্রকৌশলী কাজী এমামুল হক আলীম বলেন, “সব কাজই নিয়ম অনুযায়ী হয়েছে। কোনো অনিয়ম হয়নি। ঠিকাদারের মাধ্যমে কাজ সম্পন্ন হয়েছে।” তিনি আরও বলেন, বিস্তারিত জানতে চাইলে অফিসে এসে ফাইল পর্যালোচনা করা যেতে পারে। অন্যদিকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বলেন, “অভিযোগগুলো গুরুত্বসহকারে দেখা হচ্ছে। তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” স্থানীয়দের দাবি: নিরপেক্ষ তদন্ত ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এলাকাবাসীর প্রধান দাবি হলো— * নিরপেক্ষ তদন্ত * প্রকল্পভিত্তিক অডিট * দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা তাদের মতে, যদি দ্রুত ব্যবস্থা না নেওয়া হয়, তাহলে উন্নয়ন কার্যক্রমের প্রতি মানুষের আস্থা আরও কমে যাবে। একজন প্রবীণ নাগরিক বলেন, “সরকার টাকা দিচ্ছে উন্নয়নের জন্য। কিন্তু যদি সেই টাকা সঠিকভাবে ব্যবহার না হয়, তাহলে উন্নয়নের কোনো অর্থ থাকে না।”  বৃহত্তর প্রেক্ষাপট: স্থানীয় উন্নয়নে স্বচ্ছতার সংকট বাবুগঞ্জের ঘটনাটি কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়—বরং এটি বাংলাদেশের স্থানীয় সরকার ব্যবস্থায় বিদ্যমান কিছু কাঠামোগত সমস্যার প্রতিফলন বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। এই সমস্যাগুলোর মধ্যে রয়েছে— * দুর্বল তদারকি ব্যবস্থা * রাজনৈতিক প্রভাব * স্বচ্ছতার অভাব * জবাবদিহিতার সীমাবদ্ধতা বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, প্রযুক্তিনির্ভর মনিটরিং, সামাজিক অডিট এবং জনগণের অংশগ্রহণ বাড়ানো গেলে এই ধরনের অনিয়ম অনেকাংশে কমানো সম্ভব।  আস্থা পুনর্গঠনের চ্যালেঞ্জ বাবুগঞ্জ উপজেলার উন্নয়ন প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগ শুধু আর্থিক দুর্নীতির বিষয় নয়—এটি জনআস্থার সঙ্গেও জড়িত। উন্নয়নের নামে যদি প্রকল্প বাস্তবায়ন হয় কিন্তু তার সুফল জনগণের কাছে না পৌঁছায়, তাহলে পুরো ব্যবস্থাটিই প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়ে। বর্তমানে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো— * অভিযোগগুলোর সুষ্ঠু তদন্ত * স্বচ্ছতার নিশ্চয়তা * দায়ীদের জবাবদিহিতার আওতায় আনা এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই কেবল জনগণের আস্থা পুনরুদ্ধার করা সম্ভব। বাবুগঞ্জের মানুষ এখন অপেক্ষায়—তদন্তের ফলাফল কী আসে, এবং প্রশাসন কতটা কার্যকরভাবে এই অভিযোগগুলোর মোকাবিলা করতে পারে।  

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ২৬, ২০২৬ 0
বরিশাল প্রধান ডাকঘরের সহকারী পোস্টমাস্টার জেনারেল আব্দুর রশিদ
বরিশাল প্রধান ডাকঘরের সহকারী পোস্টমাস্টার জেনারেল আব্দুর রশিদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ

মামুনুর রশীদ নোমানী,বরিশাল :  বরিশাল প্রধান ডাকঘরের সহকারী পোস্টমাস্টার জেনারেল আব্দুর রশিদ-এর বিরুদ্ধে সরকারি অর্থ আত্মসাৎ, ক্ষমতার অপব্যবহারসহ একাধিক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। দীর্ঘদিন ধরে এসব অভিযোগ স্থানীয় কর্মচারী ও ভুক্তভোগীদের মধ্যে আলোচনার বিষয় হয়ে রয়েছে। অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, তিনি বিগত সরকারের সময় তৎকালীন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক-এর প্রভাব খাটিয়ে বিভিন্ন অনৈতিক সুবিধা গ্রহণ করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। পাশাপাশি সরকারি অর্থ আত্মসাৎ, রেস্টহাউজের ভাড়া পরিশোধ না করা এবং বিভিন্ন আর্থিক অনিয়মের বিষয়ও সামনে এসেছে। এছাড়া তার বিরুদ্ধে নারী সহকর্মীদের প্রতি অনাকাঙ্ক্ষিত আচরণ ও কুপ্রস্তাব দেওয়ার অভিযোগও উঠেছে। অভিযোগে আরও বলা হয়, একটি বেসরকারি আর্থিক প্রতিষ্ঠানকে অবৈধ সুবিধা প্রদান, ঘুষের বিনিময়ে বদলি বাণিজ্য, তদন্তের নামে অর্থ আদায় এবং অধীনস্ত কর্মচারীদের সঙ্গে দুর্ব্যবহারের মতো ঘটনাও ঘটেছে তার মাধ্যমে। কর্মচারীদের একটি অংশ দাবি করেন, নিয়মিত ছুটি ছাড়াই তিনি নিজ জেলা ঝিনাইদহে যাতায়াত করতেন, যা সরকারি বিধি লঙ্ঘনের শামিল। এ ধরনের কর্মকাণ্ডে অফিসের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পরও তিনি বহাল তবিয়তে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন। এ নিয়ে সংশ্লিষ্ট মহলে ক্ষোভ বিরাজ করছে। এছাড়া তার বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে তিনি ২০২৫ সালের জুন পর্যন্ত রেষ্টহাউজের ভাড়া পরিশোধ করেননি।নির্ধারিত বাসা থাকলেও তিনি সেখানে না থেকে রেষ্ট হাউজে বিনা ভাড়ায় বিদ্যুৎ,পানি ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা গ্রহন করেছেন। ব্যাংক এশিয়া পোষ্ট অফিসে নিষিদ্ধ থাকলেও তিনি নিয়মিত বাজার ও অর্থের বিনিময়ে তাদেরকে পোষ্ট অফিসের অভ্যান্তরে বসে কাজ করার সুযোগ দিয়েছেন। এছাড়া তার বিরুদ্ধে "প" অদ্যক্ষরের এক নারীকে কু প্রস্তাব দেয়ার কারনে তিনি পোষ্ট অফিস ত্যাগ করেছেন। সহকারী পোস্টমাস্টার জেনারেল আব্দুর রশিদ-এর বিরুদ্ধে বাজেটের টাকা থেকে বিদ্যুৎ বিল,ও বাজার করার অভিযোগও রয়েছে। ভুয়া ভাউচার দিয়ে সরকারি অর্থ আত্মসাত, কর্মচারীদের সাথে খারাপ আচরনে সকলেই অতিষ্ঠ। আব্দুর রশিদ-এর সাফ কথা আমাকে তেল দিয়ে চলতে হবে।আমার কথাই আদেশ। সহকারী পোস্টমাস্টার জেনারেল আব্দুর রশিদ পোষ্ট অফিসকে বানিয়েছেন ঘুষের আখড়া। তার কাছে ঘুষই প্রধান।তিনি একই লোককে ঘুরিয়ে ফিরিয়ে বদলী করছেন। যে সেভিংস বিভাগে আত্মসাৎ সেখানেই নুরুল কবির ও তানজিম হোসেনকে ঘুরিয়ে ফিরিয়ে বদলী করা হয়েছে। অফিসের মধ্যে তিনি নুরুজ্জামান ও মশিউর রহমানকে নিজের লোক বনিয়েছেন, ফলে তাদের কোন বদলী নাই।  কিছু কর্মচারীর দাবি, বাজেটের অর্থ থেকে বিদ্যুৎ বিল ও ব্যক্তিগত খরচ মেটানো, ভুয়া ভাউচার ব্যবহার করে অর্থ আত্মসাৎ এবং কর্মচারীদের বিরুদ্ধে ভিত্তিহীন তদন্তের মাধ্যমে হয়রানি করে ঘুষ আদায়ের অভিযোগও রয়েছে  আব্দুর রশিদের বিরুদ্ধে।  এসব অভিযোগের বিষয়ে আব্দুর রশিদ-এর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ২, ২০২৬ 0
বরিশাল বিভাগে হাসপাতাল টেন্ডার সিন্ডিকেট
বরিশাল বিভাগে হাসপাতাল টেন্ডার সিন্ডিকেট: কৃষ্ণ পরিবারের বিরুদ্ধে শত কোটি টাকার দুর্নীতির অভিযোগ

স্বাস্থ্যখাতে  শত কোটি টাকার দুর্নীতি! বরিশাল বিভাগে হাসপাতাল টেন্ডার সিন্ডিকেট মামুনুর রশীদ নোমানী,বরিশাল  : বরিশাল বিভাগের বিভিন্ন সরকারি হাসপাতালে টেন্ডার সিন্ডিকেট, নিম্নমানের যন্ত্রপাতি সরবরাহ এবং অতিরিক্ত দামে বিল উত্তোলনের অভিযোগে আলোচনায় এসেছে পিপলাই পরিবার। অভিযোগ রয়েছে, প্রায় দেড় দশক ধরে তারা হাসপাতালগুলোতে সরঞ্জাম সরবরাহের নামে সরকারি কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছেন। ১৫ বছরের বেশি সময় ধরে সরকারি হাসপাতালের টেন্ডার নিয়ন্ত্রণ, নিম্নমানের যন্ত্রপাতি সরবরাহ এবং কোটি কোটি টাকার বিল উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে পিপলাই পরিবারের বিরুদ্ধে। দুদক ইতোমধ্যে মামলা করেছে। তদন্তে বেরিয়ে আসছে নতুন নতুন তথ্য। এ ঘটনায় ইতোমধ্যে মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। তদন্তে আরও অনিয়ম ও দুর্নীতির তথ্য উঠে আসছে বলে জানিয়েছেন সংস্থাটির কর্মকর্তারা। ১৫ বছরের টেন্ডার সিন্ডিকেট দুদকের অনুসন্ধান সূত্রে জানা গেছে, গত ১৫ বছরের বেশি সময় ধরে সত্য কৃষ্ণ পিপলাই ও তার ছেলে সোহাগ কৃষ্ণ পিপলাই বরিশাল বিভাগের বিভিন্ন হাসপাতালে মালামাল সরবরাহের টেন্ডারে সিন্ডিকেট গড়ে তোলেন। অভিযোগ অনুযায়ী তারা:—     নিজেদের নিয়ন্ত্রণে একাধিক প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে দরপত্রে অংশগ্রহণ     প্রতিযোগিতামূলক দরপত্রের ভান তৈরি     নিম্নমানের মালামাল সরবরাহ     অন্য প্রতিষ্ঠান থেকে কম দামে কিনে বেশি দামে সরকারি হাসপাতালে সরবরাহ এই পদ্ধতিতে সরকারি কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছেন। দুদকের মামলা গত বছরের ২৬ নভেম্বর ঝালকাঠি সদর হাসপাতালের একটি টেন্ডারকে কেন্দ্র করে মামলা করে দুদক। মামলার বাদী দুদকের উপসহকারী পরিচালক পার্থ চন্দ্র পাল। মামলায় আসামি করা হয়েছে—     ডা. শামীম আহমেদ (তৎকালীন তত্ত্বাবধায়ক, ঝালকাঠি সদর হাসপাতাল)     শিপ্রা রানী পিপলাই     সোহাগ কৃষ্ণ পিপলাই     সত্য কৃষ্ণ পিপলাই দুদকের অভিযোগ, হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়কের সঙ্গে যোগসাজশ করে টেন্ডার প্রক্রিয়ায় প্রতারণার মাধ্যমে সরকারি অর্থ আত্মসাৎ করা হয়েছে। একই পরিবারের তিন প্রতিষ্ঠানের টেন্ডার ২০২৩–২৪ অর্থবছরে ঝালকাঠি সদর হাসপাতালে ৫ কোটি টাকার উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়। এর মধ্যে ২ কোটি ১৬ লাখ টাকার গজ, ব্যান্ডেজ, তুলা, ওষুধ, কেমিক্যাল, আসবাবপত্র ও কিচেন সামগ্রী ক্রয়ের জন্য ছয়টি গ্রুপে দরপত্র আহ্বান করা হয়। তদন্তে দেখা যায়— চারটি প্রতিষ্ঠান দরপত্র জমা দিলেও তিনটি প্রতিষ্ঠানের মালিকানা একই পরিবারের। সেগুলো হলো—     আহসান ব্রাদার্স — মালিক সত্য কৃষ্ণ পিপলাই     পিপলাই এন্টারপ্রাইজ — মালিক সোহাগ কৃষ্ণ পিপলাই     বাপ্পী ইন্টারন্যাশনাল — মালিক শিপ্রা রানী পিপলাই তিন প্রতিষ্ঠানের ঠিকানাও একই—বরিশাল সদরের উত্তর কাটপট্টি। দুদকের মতে, কাছাকাছি দর দিয়ে দরপত্র সাজানো হয়েছিল, যা সরকারি ক্রয় বিধিমালা অনুযায়ী দণ্ডনীয় অপরাধ। বরগুনা হাসপাতালে ৪ কোটি টাকার টেন্ডার বিতর্ক বরগুনা ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে প্রায় ৪ কোটি টাকার মালামাল ক্রয়ের দরপত্রেও একই ধরনের অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে—     ছয়টি প্যাকেজে ২৪টি ফরম বিক্রি হয়     জমা পড়ে মাত্র দুটি প্রতিষ্ঠানের দরপত্র     দুটি প্রতিষ্ঠানের মালিক একই পরিবারের বাবা ও ছেলে অন্য ঠিকাদাররা অভিযোগ করেন, দরপত্রে অপ্রয়োজনীয় ও কঠিন শর্ত যোগ করে অন্যদের অংশগ্রহণ কার্যত বন্ধ করে দেওয়া হয়। এ ঘটনায় কয়েকজন ঠিকাদার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত অভিযোগও করেন। শেবাচিম হাসপাতালে ১১ কোটি টাকার সরঞ্জাম কেলেঙ্কারি বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভারী যন্ত্রপাতি সরবরাহের ক্ষেত্রেও ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেছে। সরকারি নিরীক্ষা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে— ২০২০ সালে টেন্ডার আহ্বানের পর চারটি প্রতিষ্ঠান দরপত্র জমা দেয়। তবে তদন্তে দেখা যায়, ওই চারটির মধ্যেও কয়েকটি প্রতিষ্ঠান পিপলাই পরিবারের নিয়ন্ত্রণে ছিল। অভিযোগ অনুযায়ী—     অনিয়মের মাধ্যমে ভারী যন্ত্রপাতি সরবরাহ বাবদ ৪ কোটি ১৬ লাখ টাকা     এমএসআর সামগ্রী সরবরাহের নামে ৭ কোটি ৩৬ লাখ টাকা মোট প্রায় ১১ কোটি ৫৩ লাখ টাকার বিল উত্তোলন করা হয়। তদন্তে আরও অভিযোগ পাওয়া গেছে যে দরপত্রে অযোগ্য ঘোষিত অন্য প্রতিষ্ঠান থেকে যন্ত্রপাতি এনে বেশি দামে হাসপাতালে সরবরাহ করা হয়েছিল। প্রতিযোগিতামূলক দরপত্র হলে সাশ্রয় হতো কোটি টাকা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মতে, প্রকৃত প্রতিযোগিতামূলক দরপত্রের মাধ্যমে সরঞ্জাম কেনা হলে সরকারের বিপুল পরিমাণ অর্থ সাশ্রয় সম্ভব ছিল। দুদক কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, চলমান তদন্তে আরও অনিয়মের তথ্য পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে নতুন আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।   সত্য কৃষ্ণ পিপলাই বরিশাল বিভাগের স্বাস্থ্য খাতে মালামাল সরবরাহকারী একটি বিতর্কিত ঠিকাদারী পরিবারের প্রধান। তিনি মেসার্স পিপলাই এন্টারপ্রাইজ ও মেসার্স আহসান ব্রাদার্সের মালিক হিসেবে পরিচিত এবং স্ত্রী ও সন্তানদের নামে একাধিক লাইসেন্স ব্যবহার করে বছরের পর বছর ধরে হাসপাতালের টেন্ডার নিয়ন্ত্রণ ও দুর্নীতির অভিযোগে অভিযুক্ত । সত্য কৃষ্ণ পিপলাই সম্পর্কে মূল তথ্য:     পেশা ও পরিচয়: তিনি বরিশালের একজন প্রভাবশালী ঠিকাদার, যিনি দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন হাসপাতালে ওষুধ ও সরঞ্জাম সরবরাহ করেন ।     দুর্নীতির অভিযোগ: তার বিরুদ্ধে স্ত্রী শিপ্রা রানী পিপলাই ও ছেলে সোহাগ কৃষ্ণ পিপলাইয়ের সাথে যোগসাজশে টেন্ডার বাণিজ্য, অবৈধভাবে কার্যাদেশ পাওয়া এবং সরঞ্জাম সরবরাহ না করেই টাকা উত্তোলনের অভিযোগ রয়েছে ।     আইনি পদক্ষেপ: ঝালকাঠি সদর হাসপাতালের কেনাকাটায় দুর্নীতির অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) তাকে ও তার পরিবারকে আসামি করে মামলা করেছে ।     ভূমিকা: মেসার্স পিপলাই এন্টারপ্রাইজ ও মেসার্স আহসান ব্রাদার্সের মাধ্যমে তিনি মূলত বরিশাল বিভাগের স্বাস্থ্য খাতে ঠিকাদারী নিয়ন্ত্রণ করেন ।

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ১৮, ২০২৬ 0
লালমনিরহাট গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সাইফুজ্জামান
লালমনিরহাট গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী সাময়িক বরখাস্ত

লালমনিরহাট গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সাইফুজ্জামানকে তার চলতি দায়িত্ব থেকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে সরকার। মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে এ তথ্য জানানো হয়। প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, মো. সাইফুজ্জামান লালমনিরহাট গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের জন্য রেকর্ড ভবন নির্মাণ প্রকল্পের মূলধন অংশের ‘অনাবাসিক ভবন’ খাতে কাজ (W-1) প্যাকেজের সিভিল কাজ অনুমোদিত DPP, RDPP বা HOPE ছাড়াই বিধি-বহির্ভূতভাবে বাস্তবায়ন করেন। অভিযোগ অনুযায়ী, তিনি ক্ষমতার অপব্যবহার করে একটি প্যাকেজকে ৮টি প্যাকেজে বিভাজন করে ই-জিপির মাধ্যমে টেন্ডার আহ্বান করেন এবং এতে মোট ৬ কোটি ৩১ লাখ ৯৭ হাজার টাকা ব্যয় দেখানো হয়। এছাড়া, ৮টি প্যাকেজের বিপরীতে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের নামে পরিশোধিত বিলের বিপরীতে বাস্তবে কোনো কাজের অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি। প্রকল্পের কাজ বাস্তবায়নের জন্য নিয়োজিত ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট ইঞ্জিনিয়ার্স লিমিটেড ব্যতীত অন্য ৮টি প্রতিষ্ঠানের নামে ২০২৩-২০২৪ অর্থবছরে কাজ না করেই বিল পরিশোধ করা হয়। প্রজ্ঞাপনে আরও উল্লেখ করা হয়, এ ধরনের কর্মকাণ্ড সরকারি অর্থ আত্মসাৎ, ক্ষমতার অপব্যবহার ও দুর্নীতির শামিল। এসব অভিযোগের প্রেক্ষিতে সরকারি চাকরি আইন অনুযায়ী মো. সাইফুজ্জামানকে ৩ ফেব্রুয়ারি সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। তবে সাময়িক বরখাস্তকালীন সময়ে তিনি বিধি অনুযায়ী ভাতা প্রাপ্য হবেন।

নিজস্ব প্রতিবেদক ফেব্রুয়ারি ৪, ২০২৬ 0
Popular post
ফারুকীর সম্পদ কমেছে, তিশার বেড়েছে দ্বিগুণেরও বেশি: সম্পদ বিবরণী ঘিরে আলোচনা

অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের সম্পদ বিবরণী প্রকাশের পর সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী ও তার স্ত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদের হিসাব নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। এক বছরের ব্যবধানে স্বামী ফারুকীর সম্পদ কমলেও স্ত্রী তিশার সম্পদ বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে প্রকাশিত তথ্যে উঠে এসেছে এই চিত্র। প্রকাশিত খতিয়ান অনুযায়ী, জনপ্রিয় অভিনেত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদ এক বছরে অভাবনীয় হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তিশার মোট সম্পদের পরিমাণ ছিল ১ কোটি ৪০ লাখ ৮১ হাজার ৮৬০ টাকা। ঠিক এক বছর পর, ২০২৫ সালের ৩০ জুন সেই সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ৯৯ লাখ ৮৯ হাজার ৫০১ টাকায়। অর্থাৎ মাত্র এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ বেড়েছে ১ কোটি ৫৯ লাখ ৭ হাজার ৬৪১ টাকা, যা আগের বছরের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি। অন্যদিকে সংস্কৃতি উপদেষ্টা ও নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর ক্ষেত্রে দেখা গেছে উল্টো চিত্র। এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ কমেছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তার মোট সম্পদ ছিল ২ কোটি ২৬ লাখ ৯২ হাজার ২৬ টাকা। ২০২৫ সালের ৩০ জুন তা কমে দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ১৫ লাখ ১৮ হাজার ২৬ টাকায়। হিসাব অনুযায়ী, এক বছরে তার সম্পদ কমেছে ১১ লাখ ৭৪ হাজার টাকা। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে গত মঙ্গলবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ প্রধান উপদেষ্টা, উপদেষ্টা ও সমমর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের পাশাপাশি তাদের স্ত্রী বা স্বামীর সম্পদ বিবরণী প্রকাশ করে। একই সময়ে স্বামী-স্ত্রীর সম্পদে এমন ভিন্নমুখী পরিবর্তন স্বাভাবিকভাবেই সাধারণ মানুষের কৌতূহলের জন্ম দিয়েছে। শোবিজ অঙ্গনের জনপ্রিয় দম্পতি হওয়ায় তাদের এই আয়-ব্যয়ের হিসাব এখন টক অব দ্য কান্ট্রি।

সংসার সামলাতে অটোরিকশা নিয়ে রাস্তায় নেমেছেন রোজিনা

বাসস : বাবা একজন তাঁত শ্রমিক। তিন বোন দুই ভাইয়ের মধ্যে সবার বড় রোজিনা। অভাব সংসার, তাই এক এতিম যুবকের সাথে বাবা-মা বিয়ে দেন তাকে। বিয়ের পর জন্ম হয় দুই কন্যা সন্তানের। অটোরিকশা চালিয়ে কোন রকম সংসার চালাচ্ছিলেন স্বামী রফিকুল ইসলাম। কিন্তু সড়ক দুর্ঘটনায় রফিকুলের এক চোখ সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যায়। আরেকটি চোখ আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ধীরে ধীরে ওই চোখের দৃষ্টি শক্তিও কমতে থাকে। ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে অটোরিকশা চালানো। সংসারের উপার্জনক্ষম মানুষটি অচল হয়ে পড়ায় চিকিৎসার খরচ, ঘর ভাড়া ও খাবারের পাশাপাশি মেয়েদের লেখাপড়ার খরচ চালানোই কঠিন হয়ে যায়। দিশেহারা হয়ে পরেন রোজিনা। এক পর্যায়ে মানুষের বাড়ি বাড়ি কাজ করে সংসার চালানোর চেস্টা করেন। কিন্তু সুবিধা করতে পারেন না। এমন পরিস্থিতিতে অটোরিকশা চালানোর সিদ্ধান্ত নেন তিনি। স্বামী রফিকুলের কাছেই হাতেখড়ি। গ্রামের স্কুলের মাঠে স্বামীর কাছেই অটোরিকশা চালানোর শিক্ষা নেন তিনি। পরে গ্রামের পথে নেমে পড়েন অটোরিকশা নিয়ে। ৫-৬ দিন এভাবে হাত পাকা করে একদিন টাঙ্গাইল শহরে চলে আসেন রোজিনা। এরপর শুরু করেন অটোরিক্সা চালানোর ব্যতিক্রমী জীবন সংগ্রাম। এখন টাঙ্গাইল পৌরসভায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার চালকদের মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা বেগম। জেলার বাসাইল উপজেলার আইসড়া গ্রামের বাসিন্দা রোজিনা টাঙ্গাইল পৌর শহরের এক প্রান্ত রাবনা বাইপাস থেকে আরেক প্রান্ত বেবিস্ট্যান্ডে যাত্রী আনা নেয়া করেন। যানজটের কারণে শহরে পুরুষ চালকরা যেখানে হিমসিম খায়, সেখানেই বিগত ৫ বছর ধরেই নির্বিঘেœ অটোরিকশা চালাচ্ছেন তিনি। টাঙ্গাইল পৌরসভা কার্যালয় সূত্রে জানা যাায়, টাঙ্গাইল শহরে চলাচলের জন্য ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক ও ৫ হাজার ব্যাটারিচালিত রিকশার অনুমতি (লাইসেন্স) দেওয়া হয়েছে। যানজট এড়াতে ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক জোড় ও বিজোড় সংখ্যায় দিনে দুই ভাগ করা হয়েছে। সকাল থেকে বেলা দুইটা পর্যন্ত এক ভাগ এবং বেলা দুইটা থেকে রাত পর্যন্ত আরেক ভাগের ইজিবাইক চলাচল করার নির্দেশনা দিয়েছে পৌর কর্তৃপক্ষ। কিন্তু রোজিনাকে দুই শিফটে চালানোর অনুমতি দিয়েছে পৌরসভা। সরেজমিনে দেখা যায়, নতুন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অটোরিকশা নিয়ে যাত্রী ডাকছেন রোজিনা। কলেজ গেট, পুরাতন বাসস্ট্যান্ড, ক্যাপসুল, নিরালা মোড়, বেবিস্ট্যান্ড সর্বত্রই যাত্রী আনানেয়া করেন তিনি। পুরাতন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অন্য অটো চালকদের দাঁড় করতে না দিলেও রোজিনাকে বাঁধা দেননা ট্রাফিক পুলিশ। বলতে গেলে সবাই তার প্রতি সহানুভুতিশীল। ট্রাফিক পুলিশসহ অন্য অটোচালকরাও তাকে সহযোগিতা করেন। রোজিনা বলেন, আমার অটোতে নারী যাত্রীরা খুব কম। তারা মনে করে আমার অটোতে উঠলে দুর্ঘটনায় পড়বে। কিন্তু আমি খুব সাবধানে অটো চালাই। দ্রুত গতিতেও না, আবার একেবারে ধীরগতিতেও না। এখন পর্যন্ত আমি কোন দুর্ঘটনার কবলে পড়ি নাই। শহরের পুরুষ অটোরিকশা চালকরা আমাকে অনেক সহযোগিতা করে। অটোচালক কাদের মিয়া বলেন, আমাদের শহরে কয়েক হাজার অটো চলাচল করে। তার মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। তাকে আমরা সব সময় সহযোগিতা করি। যাত্রী সাইদ মিয়া বলেন, আমি এ পর্যন্ত ৫-৬ বার রোজিনার অটোতে চড়েছি। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। অন্য পুরুষ অটো চালকের চেয়েও ভালো অটো চালান। নারী সংগঠক সেরাজুম মনিরা বলেন, তিনি অনেক দিন যাবত অটোরিকশা চালাচ্ছেন। আমি রোজিনাকে স্যালুট জানাই। একজন পুরুষের চেয়ে একজন নারী কোনো ভাবেই যে পিছিয়ে নেই, রোজিনা তা প্রমাণ করেছেন। রোজিনা বলেন, অটো চালানোর এই সিদ্ধান্তটি তার জন্য খুব সহজ ছিল না। তিনি বলেন, ৫ ও ১০ বছরের দুই মেয়েকে বাড়িতে রেখে অটোরিকশা নিয়ে সারাদিন রাস্তায় থাকতে হয়। তাদের ভালোভাবে দেখাশোনা করতে পারি না। কিন্তু কি করবো, অভাবের সংসার! এখন ঋণ নিয়ে একটু জমি কিনেছি। প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ণ প্রকল্পের অর্থায়নে প্রশাসন সেখানে ঘর তুলে দিয়েছে। শুরুতে যারা আমাকে নিয়ে ঠাট্টা করেছে এখন তারাই আমাকে সম্মান করেন। নারীরাও যে কিছু করতে পারে, তা প্রমাণ করেছি। আমার বড় মেয়ে আইসড়া উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়ে, ছোট মেয়ে পড়ে স্থানীয় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। মেয়েদের শিক্ষিত করতে হবে। ধার দেনা শোধ করতে হবে। তাই থেমে গেলো চলবে না। আমি অটোরিকশা চালিয়েই দুই সন্তানকে মানুষ করতে চাই।’ ঘারিন্দা ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য বাবুল সরকার বলেন, সরকার রোজিনাকে একটি ঘর নির্মাণ করে দিয়েছে। শুরুতে যারা তাকে নিয়ে নানান কথা বলতো, এখন তার সংকল্প ও মানষিক দৃঢ়তা দেখে থেমে গেছে। আমরা তাকে নিয়ে গর্ব করি। টাঙ্গাইলের ট্রাফিক ইন্সপেক্টর (প্রশাসন) দেলোয়ার হোসেন বলেন, শহরের একমাত্র নারী চালক রোজিনাকে কেউ যেন বিরক্ত করতে না পারে সেদিকে সব সময় নজর রাখে ট্রাফিক পুলিশ। আমরা তাকে সব সময় সহযোগিতা করে আসছি। টাঙ্গাইলের সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক শাহ আলম বলেন, বিষয়টি এখন জানতে পারলাম। ওই নারী এখনো পর্যন্ত আমাদের কাছে আসেন নাই। যদি আমাদের কাছে এসে আবেদন করেন অবশ্যই তাকে আমরা সহযেগিতা করবো, তার পাশে দাঁড়াবো।

বাংলাদেশে ঐতিহাসিক নির্বাচন: বিএনপি এগিয়ে, জামায়াতের উত্থান ও তরুণ ভোটারদের প্রভাব

২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশে আজ এক ঐতিহাসিক ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ২০০৮ সালের পর এই প্রথম একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হতে যাচ্ছে যেখানে দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগ রাজনৈতিক মানচিত্র থেকে কার্যত অনুপস্থিত। বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক জরিপ বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০০ আসনের মধ্যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) কার্যকর সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে যাচ্ছে। তবে ভোটের ব্যবধান এবং কিছু সমীকরণ নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। নির্বাচনের সবচেয়ে বড় নিয়ামক হয়ে দাঁড়িয়েছে আওয়ামী লীগের বিশাল ভোটব্যাংক। দলটির নিয়মিত প্রায় ৪ কোটি ভোটার এখন নতুন রাজনৈতিক আশ্রয় খুঁজছেন। সিআরএফ বা বিইপিওএস জরিপ বলছে, এই ভোটারদের প্রায় অর্ধেক বিএনপির দিকে ঝুঁকেছে, যা দলটিকে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতার পথে এগিয়ে দিচ্ছে। অন্যদিকে, প্রায় ৩০ শতাংশ আওয়ামী ভোটার জামায়াতে ইসলামীকে বেছে নিতে পারেন বলে আভাস পাওয়া যাচ্ছে। এছাড়া বাংলাদেশের বিদ্যমান নির্বাচনী ব্যবস্থার কারণে দেশজুড়ে সুষম জনসমর্থন থাকা বিএনপি আসন জয়ের ক্ষেত্রে জামায়াতের তুলনায় সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। তবে বিএনপির এই সম্ভাব্য জয়ের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও বিদ্রোহী প্রার্থীরা। প্রায় ৭৯টি নির্বাচনী এলাকায় দলের মনোনয়ন না পাওয়া ৯২ জন প্রভাবশালী নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, যা বিএনপির ১৫ থেকে ৩০টি আসন কমিয়ে দিতে পারে। অন্যদিকে, তরুণ ভোটার বা ‘জেন-জি’ প্রজন্মের বিশাল সমর্থন জামায়াতে ইসলামীর শক্তির উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেশের ৪৪ শতাংশ ভোটারই তরুণ, যাদের বড় একটি অংশ প্রথমবার ভোট দিচ্ছেন। এই তরুণরা যদি দলবেঁধে কেন্দ্রে উপস্থিত হন, তবে নির্বাচনী ফলে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। সবশেষে, প্রায় ১৭ থেকে ৩৫ শতাংশ দোদুল্যমান ভোটার এবং তাদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করবে আগামীর সরকার কতটা শক্তিশালী হবে। দ্য নিউইয়র্ক এডিটোরিয়ালের মূল পূর্বাভাস, তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি প্রায় ১৮৫টি আসনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করতে পারে এবং জামায়াতে ইসলামী ৮০টির মতো আসন পেয়ে প্রধান বিরোধী দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারে। তবে বিদ্রোহী প্রার্থীদের প্রভাব এবং তরুণ ভোটারদের উপস্থিতির ওপর ভিত্তি করে আসন সংখ্যায় বড় ধরনের হেরফের হওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

গাজায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা ট্রাম্প প্রশাসনে

ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। ৩৫০ একরের ঘাঁটিটিতে সামরিক বাহিনীর পাঁচ হাজার সদস্য থাকতে পারবে। গাজার ‘বোর্ড অব পিস’র নথি পর্যালোচনা করে এ তথ্য জানিয়েছে দ্য গার্ডিয়ান। প্রতিবেদনে ব্রিটিশ সংবাদ মাধ্যমটি জানিয়েছে, বোর্ড অব পিসে গাজাকে নিরাপদ করার জন্য ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যাবিলাইজেশন ফোর্স (আইএসএফ) নামে একটি আন্তর্জাতিক বাহিনী মোতায়েনের কথা বলা হয়েছে। যে স্থানটি ঘাঁটি করার জন্য বিবেচনা করা হচ্ছে সেখানে আইএসএফের সদস্যরা থাকবে। বোর্ড অব পিসের প্রধান হবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আর সংগঠনটির আংশিক নেতৃত্ব দেবেন ট্রাম্পের জামাতা জ্যারার্ড কুশনার।দ্য গার্ডিয়ান বোর্ড অব পিসের নথি পর্যালোচনা করে জানায়, ধাপে ধাপে একটি সামরিক ঘাঁটি নির্মাণ করা হবে। সবকিছু শেষ হলে ঘাঁটিটি ১৫ লাখ ১৭ হাজার ৫৭৫ বর্গমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত হবে। ঘাঁটিটির চারপাশে ট্রেইলার সংযুক্ত ২৬টি সাঁজোয়া নজরদারি টাওয়ার থাকবে। এছাড়া একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, বাংকার ও অস্ত্র রাখার গুদাম থাকবে। পুরো ঘাঁটিটি কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে ঘিরে রাখা হবে। সামরিক ঘাঁটি নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে দক্ষিণ গাজার একটি শুষ্ক সমতলভূমিতে। সেখানে ইসরায়েলি হামলার চিহ্ন রয়েছে। ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে বিভিন্ন ধাতবের ধ্বংসাবশেষ।  ওই এলাকার ভিডিও পর্যালোচনা করেছে দ্য গার্ডিয়ান। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, ঘাঁটি নির্মাণের জন্য টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে। যুদ্ধক্ষেত্রে কাজের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন আন্তর্জাতিক নির্মাণ কোম্পানিগুলোর একটি ছোট দলকে ইতোমধ্যেই এলাকাটি দেখানো হয়েছে। ওই দলটি দরপত্রে অংশ নিতে আগ্রহী।    ইন্দোনেশিয়া সরকার গাজায় আট হাজার সেনা সদস্য পাঠানোর জন্য প্রস্তাব দিয়েছে। বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটন ডিসিতে বোর্ড অব পিসের অনানুষ্ঠানিক বৈঠকে ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্টের অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। এছাড়া দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার আরও তিন নেতার ওই বৈঠকে অংশ নেবেন বলে জানা গেছে। জাতিসংঘের নিরাপত্তা কাউন্সিল গাজার সাময়িক স্থিতিশীলতার জন্য অস্থায়ীভাবে সামরিক বাহিনী মোতায়েনের অনুমোদন দিয়েছে। নিরাপত্তা কাউন্সিলই বোর্ড অব পিসের মূল হোতা। গাজার সীমান্ত ও শান্তি প্রণয়নে কাজ করবে আইএসএফ। এছাড়া বেসামরিকদের সুরক্ষা এবং ফিলিস্তিনি পুলিশ বাহিনীকে প্রশিক্ষণ ও সহায়তা দেবে তারা। যদি গাজায় ফের সংঘর্ষ হয়, ইসরায়েল বোমা হামলা চালায় অথবা হামাস হামলা চালায় সেক্ষেত্রে আইএসএফ কি করবে তা এখনও স্পষ্ট নয়। গাজা পুনর্গঠনে ইসরায়েল হামাসকে নিরস্ত্রীকরণের যে শর্ত দিয়েছে সেটির জন্য আইএসএফ কাজ করবে কিনা তাও স্পষ্ট না। ইতোমধ্যে বোর্ড অব পিসে ২০ এর অধিক দেশ যোগ দিয়েছে। তবে, এখনও অনেক পরাশক্তি এর থেকে দূরে রয়েছে। জাতিসংঘের অনুমোদন নিয়ে প্রতিষ্ঠিত হলেও ধারণা করা হচ্ছে, সংগঠনটির স্থায়ী নেতৃত্ব ও নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে। রুটজার্স বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক আদিল হক বলেন, “বোর্ড অব পিস এক ধরনের আইনি কল্পসত্তা। নামমাত্রভাবে এর নিজস্ব আন্তর্জাতিক আইনগত সত্তা রয়েছে, যা জাতিসংঘ ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে আলাদা। কিন্তু বাস্তবে এটি যুক্তরাষ্ট্রের ইচ্ছামতো ব্যবহারের জন্য একটি ফাঁপা খোলসমাত্র।” বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গাজা পুনর্গঠনে যে অর্থায়ন ও শাসন কাঠামো হচ্ছে তা অস্বচ্ছ। কয়েকজন ঠিকাদার গার্ডিয়ানকে জানান, গাজায় কাজ করার জন্য মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে তাদের প্রায়শ আলোচনা সরকারি ইমেলের বদলে সিগন্যালের মাধ্যমে করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রের তথ্য মতে, ঘাঁটি নির্মাণের সিদ্ধান্তটি বোর্ড অব পিসের। এতে সহায়তা করছে মার্কিন কর্মকর্তারা। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ঘাঁটিতে তৈরি বাংকার নেটওয়ার্কের মতোন কাজ করবে। প্রতিটি বাংকারের ২৪ মিটারের হবে। উচ্চতা থাকবে আড়াই মিটার। এগুলো এমনভাবে করা হবে যেন সেনা সদস্যরা আশ্রয় নিতে পারে। স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসের গাজায় সুড়ঙ্গ নেটওয়ার্ক বা টানেল রয়েছে। সেগুলোর আদলে নেটওয়ার্ক করতে চাওয়া হচ্ছে। পিস অব বোর্ডের নথি পর্যালোচনা করে এমন দাবি করছে গার্ডিয়ান। সংবাদ মাধ্যমটি বলছে,  স্থানটির ভূ-ভৌত জরিপ পরিচালনা করবে ঠিকাদাররা। নথির এক অংশে ‘হিউম্যান রেমিয়েনস প্রোটোকল’র কথা বলা হয়েছে। এর মানে দাঁড়ায়, সন্দেহভাজন মানব অবশিষ্ট বা সাংস্কৃতিক নিদর্শন পাওয়া গেলে অবিলম্বে সেই এলাকায় সব কাজ বন্ধ করতে হবে। চুক্তি কর্মকর্তাকে দিকনির্দেশনার জন্য অবিলম্বে জানাতে হবে। গাজা সিভিল ডিফেন্সের ধারণা, গাজার ধ্বংসস্তূপের নিচে ১০ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনির মরদেহ রয়েছে। ঘাঁটির জন্য যে স্থানটি বিবেচিত করা হচ্ছে সেটির মালিক কে তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে, দক্ষিণ গাজার বেশিরভাগ অংশ  বর্তমানে ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণে। জাতিসংঘের অনুমান, যুদ্ধ চলাকালীন ১৯ লাখ ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত হয়েছে। ফিলিস্তিনের জমিতে সরকারের অনুমতি না নিয়ে সামরিক ঘাঁটি স্থাপনকে দখল হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন ফিলিস্তিনি-কানাডিয়ান আইনজীবী এবং প্রাক্তন শান্তি আলোচক দিয়ানা বুট্টু। তিনি প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়ে বলেন, “কার অনুমতিতে তারা সামরিক ঘাঁটি স্থাপন করবে।” বিষয়টি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা বোর্ড অব পিসের কথা টানেন। ট্রাম্প প্রশাসনের একজন কর্মকর্তা সামরিক ঘাঁটির চুক্তি নিয়ে আলোচনা করতে অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, “যেমনটি প্রেসিডেন্ট বলেছেন, কোনও মার্কিন সেনা স্থলভাগে যাবে না। আমরা লিক হওয়া নথি নিয়ে আলোচনা করবো না।”

কুড়িগ্রামের তাজু ভাই ২.০: ‘সরকারি রেটে জিলাপি’ প্রশ্নে ভাইরাল এক নির্মাণশ্রমিকের গল্প

বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের প্রত্যন্ত চরাঞ্চল থেকে উঠে এসে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার কেন্দ্রে এখন তাইজুল ইসলাম, যিনি অনলাইনে পরিচিত ‘তাজু ভাই ২.০’ নামে। মাত্র একটি ভিডিও—যেখানে তিনি এক দোকানিকে প্রশ্ন করেন, “জিলাপি আজকে কত করে বেচতেছেন সরকারি রেটে?”—এই সরল উপস্থাপনাই তাকে রাতারাতি ভাইরাল করে তোলে।  কয়েক ঘণ্টায় ফলোয়ার লাখ ছাড়াল রোববার রাত পর্যন্ত তার ফেসবুক অনুসারী ছিল প্রায় ৩৫ হাজার। কিন্তু সোমবার সন্ধ্যা থেকে রাতের মধ্যেই তা বেড়ে এক লাখের বেশি হয়ে যায়। ভাইরাল ভিডিওটি ইতোমধ্যে প্রায় ৫০ থেকে ৫৫ লাখবার দেখা হয়েছে।  কী ছিল সেই ভিডিওতে? ভিডিওতে দেখা যায়, কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীর নারায়ণপুর বাজারে দাঁড়িয়ে স্থানীয় ভাষায় তিনি জিলাপির দাম জানতে চান। তার কথাগুলো ছিল একেবারেই সহজ ও গ্রাম্য ভঙ্গিতে— “সাদাডা কত, লালডা কত? সরকারি রেটে বেচতেছেন?” এই সরল প্রশ্নই সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।  কোথা থেকে উঠে এলেন তাজু ভাই? কুড়িগ্রাম জেলার নাগেশ্বরী উপজেলার নারায়ণপুর ইউনিয়নের একটি দুর্গম গ্রামে জন্ম তার। ব্রহ্মপুত্র নদবেষ্টিত এই অঞ্চলে পৌঁছাতে এখনও কয়েকটি নৌঘাট পার হতে হয়। দারিদ্র্যের কারণে কখনো স্কুলে যাওয়া হয়নি তার। পেশায় তিনি একজন নির্মাণশ্রমিকের সহকারী (হেলপার)। কাজের ফাঁকে ঢাকায় থাকাকালীন মোবাইল ফোনে ভিডিও তৈরি করাই তার শখ। ব্যক্তিগত সংগ্রাম তাইজুল ইসলামের পরিবারে ছয় ভাই-বোন। তিনি সবার বড়। তার বাবা-মা দুজনই শ্রবণপ্রতিবন্ধী। পরিবার চালাতে তাকে ছোটবেলা থেকেই সংগ্রাম করতে হয়েছে। তিনি বলেন, “পরিবারের কষ্ট ভুলতেই ভিডিও করি। আমি সাংবাদিক না, কিন্তু আমাদের এলাকায় কেউ আসে না—তাই নিজেরাই ভিডিও বানাই।” ভাইরাল হওয়ার পেছনের উদ্দেশ্য তাইজুলের দাবি, তার ভিডিও শুধুই বিনোদনের জন্য নয়। তিনি চান তার এলাকার অবহেলিত মানুষের কথা প্রশাসনের নজরে আসুক। “আমি চাই চরের মানুষের উন্নয়ন হোক,”—বলছেন তিনি।  মিশ্র প্রতিক্রিয়া ভিডিওটি নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে দুই ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ তার সরলতা ও বাস্তবতা তুলে ধরার চেষ্টা প্রশংসা করছেন আবার কেউ তাকে নিয়ে ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ করছেন তবে এসব সমালোচনায় তিনি বিচলিত নন।

অর্থনীতি

ইসলামী ব্যাংক,

ইসলামী ব্যাংকে আস্থা সংকট কেন কাটছে না?: দেশের বৃহত্তম শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংককে ঘিরে নতুন প্রশ্ন

নিজস্ব প্রতিবেদক জুন ২২, ২০২৬ 0




অপরাধ

ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো

ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকোর বিরুদ্ধে ৩০ বিলিয়ন ডলার জালিয়াতি ও অর্থপাচার অভিযোগে দুদকের অনুসন্ধান

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ২৪, ২০২৬ 0




কৃষি ও জলবায়ু

ধান

শেরপুরে বোরো ধানের দাম কমে লোকসানে কৃষকরা, উৎপাদন খরচও উঠছে না

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ৬, ২০২৬ 0