বাংলাদেশের নবগঠিত সরকারের প্রশাসনিক কাঠামোর কেন্দ্রবিন্দুতে অবস্থান করছেন প্রধানমন্ত্রীর মুখ্যসচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তার। কিন্তু দায়িত্ব গ্রহণের অল্প সময়ের মধ্যেই তাকে ঘিরে নানা বিতর্ক, অভিযোগ এবং প্রশাসনিক ব্যর্থতার আলোচনা সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন মহলে তীব্র হয়ে উঠেছে। প্রশাসনের ভেতরের একাধিক সূত্র, সাবেক আমলা এবং রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়—তার কার্যক্রম, নিয়োগ প্রক্রিয়া, এবং ব্যক্তিগত প্রভাব বলয়ের বিস্তার নিয়ে প্রশ্ন ক্রমেই জোরালো হচ্ছে। এসব অভিযোগের ব্যাপকতা এবং বিস্তার প্রশাসনিক স্থিতিশীলতা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি করেছে। ক্ষমতার কেন্দ্রের ঘনিষ্ঠ একজন কর্মকর্তা এ বি এম আব্দুস সাত্তার দীর্ঘদিন ধরে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া-এর ব্যক্তিগত সচিব (পিএস) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন (২০১২–২০২৪)। তাঁর মৃত্যুর পর তিনি একই ধারাবাহিকতায় বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান-এর ঘনিষ্ঠ প্রশাসনিক ব্যক্তি হিসেবে পুনরায় গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োজিত হন। নতুন সরকার গঠনের পর তাকে চুক্তিভিত্তিকভাবে প্রধানমন্ত্রীর মুখ্যসচিব হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়—যে পদটি প্রশাসনিক সমন্বয়, নীতি বাস্তবায়ন এবং রাষ্ট্রযন্ত্র পরিচালনার ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দ্বৈত ভূমিকা নিয়ে বিতর্ক: অফিসার্স ক্লাব ও রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব অভিযোগ উঠেছে, মুখ্যসচিবের দায়িত্বে থাকা অবস্থায়ও তিনি ঢাকা অফিসার্স ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক পদে বহাল রয়েছেন। প্রশাসনিক বিশেষজ্ঞদের মতে, এ ধরনের দ্বৈত ভূমিকা “স্বার্থের সংঘাত” তৈরি করতে পারে। একজন সাবেক সচিব নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ প্রশাসনিক দায়িত্বে থাকা একজন কর্মকর্তা যদি একই সঙ্গে একটি বিতর্কিত ক্লাব পরিচালনা করেন, তা প্রশাসনিক নিরপেক্ষতার প্রশ্ন তোলে।” রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানে বিশৃঙ্খলা: সমন্বয়হীনতার অভিযোগ গত ফেব্রুয়ারিতে প্রধানমন্ত্রীর আয়োজিত এক বড় অনুষ্ঠানে ব্যাপক বিশৃঙ্খলার অভিযোগ উঠে। আমন্ত্রিত অতিথিদের ভিড়, নিরাপত্তা ব্যবস্থার দুর্বলতা এবং সমন্বয়হীনতার কারণে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায় বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন। এই ঘটনায় বিএনপির সিনিয়র নেতা নজরুল ইসলাম খান-সহ অনেকেই ভিড়ের চাপে পড়েন। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সর্বোচ্চ প্রশাসনিক কর্মকর্তা হিসেবে এই আয়োজনের দায়িত্ব মুখ্যসচিবের ওপর বর্তালেও, অভিযোগ রয়েছে—সংকটময় মুহূর্তে তাকে ঘটনাস্থলে দেখা যায়নি। গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগে স্থবিরতা সরকার গঠনের পর দুই মাস পার হলেও একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সচিব পদ শূন্য রয়েছে বলে অভিযোগ। এর মধ্যে রয়েছে: * প্রধানমন্ত্রীর সচিব * ক্যাবিনেট সচিব * জনপ্রশাসন সচিব * অর্থ, এনবিআর, ইআরডি, এফআইডি সংশ্লিষ্ট পদ প্রশাসনের ভেতরের সূত্র দাবি করেছে, এই শূন্যপদগুলো পূরণে সিদ্ধান্তহীনতা এবং সমন্বয় ঘাটতি রয়েছে। একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বলেন: “ফাইল পড়ে আছে, সিদ্ধান্ত নেই—এটাই এখন বড় সমস্যা।” দুর্নীতির অভিযোগ ও নিয়োগ বাণিজ্য সচিবালয়ের বিভিন্ন পর্যায়ে অভিযোগ রয়েছে যে, উচ্চপদস্থ নিয়োগে অনিয়ম এবং আর্থিক লেনদেন হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও অনলাইন পোর্টালেও এ বিষয়ে বিভিন্ন দাবি উঠে এসেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে আনুষ্ঠানিক তদন্ত বা প্রমাণ এখনো প্রকাশ্যে আসেনি। বিতর্কিত কর্মকর্তাদের পৃষ্ঠপোষকতার অভিযোগ অভিযোগ রয়েছে, প্রশাসনে পূর্ববর্তী সরকারের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বা বিতর্কিত কর্মকর্তাদের তিনি রক্ষা করছেন এবং গুরুত্বপূর্ণ পদে বহাল রাখছেন। কিছু নামও আলোচনায় এসেছে, যাদের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক পক্ষপাতের অভিযোগ রয়েছে। তবে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের কাছ থেকে এসব অভিযোগের বিষয়ে সরাসরি প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। বিসিবি ও আর্থিক সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) সংক্রান্ত একটি সিদ্ধান্তে যথাযথ ঝুঁকি বিশ্লেষণ ছাড়া অনুমোদন নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এছাড়া প্রায় ২০০০ কোটি টাকার একটি স্থগিত ফান্ড ছাড় করার চেষ্টা নিয়েও বিতর্ক তৈরি হয়েছে, যেখানে ব্যক্তিগত স্বার্থ জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে। এলজিইডি নিয়োগ কেলেঙ্কারি এলজিইডির প্রধান প্রকৌশলী পদে এক অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে রাতারাতি চুক্তিতে নিয়োগ দেওয়ার ঘটনা প্রশাসনে আলোড়ন সৃষ্টি করে। অভিযোগ অনুযায়ী: * সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়কে পাশ কাটিয়ে প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয় * প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের ভেতরে গোপনে ফাইল প্রস্তুত করা হয় * রাষ্ট্রপতির অনুমোদন নিয়ে দ্রুত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয় পরবর্তীতে বিষয়টি প্রকাশ্যে এলে সরকার বিব্রত হয় এবং নিয়োগ বাতিল করা হয়। অফিসার্স ক্লাব দখল ও তদবির বাণিজ্যের অভিযোগ ২০২৪ সালের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর ঢাকা অফিসার্স ক্লাব দখলের অভিযোগ রয়েছে এ বি এম আব্দুস সাত্তার-এর বিরুদ্ধে। সূত্রগুলো দাবি করেছে: * ক্লাবকে তদবির বাণিজ্যের কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে * পদোন্নতি, বদলি, টেন্ডার ও মামলা নিষ্পত্তিতে প্রভাব খাটানো হয়েছে * কর্মকর্তাদের ক্লাবে ডেকে চাপ প্রয়োগ করা হতো একজন কর্মকর্তা বলেন: “ক্লাবটা এক ধরনের ‘পাওয়ার হাব’-এ পরিণত হয়েছিল।” আর্থিক অনিয়ম ও সিন্ডিকেটের অভিযোগ অভিযোগ অনুযায়ী, একটি সংগঠিত সিন্ডিকেটের মাধ্যমে আর্থিক লেনদেন পরিচালিত হতো। এমনকি “কাজ না হলেও টাকা ফেরত না দেওয়া” নিয়ে অভিযোগও রয়েছে। যদিও এসব দাবি আনুষ্ঠানিকভাবে প্রমাণিত নয়। অফিসার্স কল্যাণ ফান্ড ও অগ্নিকাণ্ড সবচেয়ে গুরুতর অভিযোগগুলোর একটি হলো অফিসার্স কল্যাণ ফান্ড দখল এবং পরবর্তী অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা। সূত্র অনুযায়ী: * ফান্ড থেকে অর্থ তছরুপের অভিযোগ ছিল * গুরুত্বপূর্ণ নথি নষ্ট করতে আগুন দেওয়া হয় * ঘটনায় দুজনের মৃত্যু হয় এই ঘটনায় তদন্ত সংস্থা কাজ করলেও, অভিযোগ রয়েছে—পরবর্তীতে প্রভাব খাটিয়ে তদন্ত প্রভাবিত করার চেষ্টা হয়েছে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও অন্যান্য প্রতিষ্ঠানে প্রভাব তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে প্রভাব বিস্তার এবং আর্থিক সুবিধা নেওয়ার অভিযোগও উঠেছে। এর মধ্যে রয়েছে: * ব্যাংকের পরিচালক পদ * শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের গভর্নিং বডি * হাসপাতাল পরিচালনা একটি স্কুলে যৌন হয়রানির অভিযোগে অভিযুক্ত শিক্ষককে রক্ষা করার অভিযোগও সামনে এসেছে, যদিও তা স্বাধীনভাবে যাচাই করা যায়নি। গোয়েন্দা সংস্থার আপত্তি একটি উচ্চপর্যায়ের নিরাপত্তা বৈঠকে তাকে অন্তর্ভুক্ত করা নিয়ে গোয়েন্দা সংস্থার আপত্তির কথাও উঠে এসেছে। সূত্র বলছে, তার অতীত কর্মকাণ্ড নিয়ে সংস্থাগুলোর মধ্যে উদ্বেগ রয়েছে। প্রশাসনিক অচলাবস্থা: বাস্তবতা না অতিরঞ্জন? সমালোচকদের মতে, এই সব ঘটনার সম্মিলিত প্রভাব প্রশাসনের কার্যকারিতাকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। অভিযোগগুলোর মধ্যে রয়েছে: * ফাইল আটকে থাকা * সিদ্ধান্তহীনতা * কর্মকর্তাদের সঙ্গে অসদাচরণ তবে সরকারের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো মূল্যায়ন এখনো প্রকাশ করা হয়নি। প্রশ্নের মুখে নেতৃত্ব এ বি এম আব্দুস সাত্তার-কে ঘিরে ওঠা অভিযোগগুলো প্রশাসনের ভেতরে আস্থার সংকট তৈরি করছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। তবে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—এগুলোর অধিকাংশই অভিযোগ ও সূত্রভিত্তিক তথ্য, যেগুলোর পূর্ণাঙ্গ তদন্ত এবং যাচাই প্রয়োজন। রাষ্ট্র পরিচালনার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা একজন কর্মকর্তাকে ঘিরে এমন বিতর্ক দীর্ঘমেয়াদে প্রশাসনিক স্থিতিশীলতা, নীতি বাস্তবায়ন এবং রাজনৈতিক বিশ্বাসযোগ্যতার ওপর প্রভাব ফেলতে পারে—এমন আশঙ্কা অস্বীকার করা যাচ্ছে না।
বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ সরকারি সংস্থা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)-এর প্রধান প্রকৌশলী পদে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগকে কেন্দ্র করে তীব্র বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। অবশেষে ব্যাপক সমালোচনার মুখে এই নিয়োগ বাতিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। গত ২৪ মার্চ ঈদের ছুটির পর প্রথম কর্মদিবসে সাবেক প্রধান প্রকৌশলী মো. আব্দুর রশীদ মিয়াকে এক বছরের জন্য চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেওয়া হয়। তিনি এর আগে অবসরে গিয়েছিলেন এবং দায়িত্বে থাকাকালে তার বিরুদ্ধে ব্যাপক দুর্নীতির অভিযোগ ছিল। দুর্নীতির অভিযোগ ও তদন্ত মো. আব্দুর রশীদের বিরুদ্ধে প্রায় ৩০০ কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)-এর তদন্ত চলমান রয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, তিনি বিভিন্ন সময় সরকারি পদে থেকে অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে বিপুল সম্পদের মালিক হয়েছেন। দুদকের নথিতে উল্লেখ আছে, এসব সম্পদের একটি বড় অংশ তিনি আত্মীয়স্বজনের নামে গোপনে অর্জন করেছেন। সরকারের ভাবমূর্তি নিয়ে প্রশ্ন এই নিয়োগের পরপরই প্রশাসন ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়। এতে সরকারের দুর্নীতিবিরোধী অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। বর্তমান সরকারের নেতৃত্বে থাকা তারেক রহমান নির্বাচনের আগে ও পরে দুর্নীতি দমনের কঠোর অঙ্গীকার করেছিলেন। ফলে এমন নিয়োগ সরকারের প্রতিশ্রুতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। মন্ত্রীও ছিলেন অজ্ঞাত স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে থাকা মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এ বিষয়ে আগে থেকে কিছুই জানতেন না বলে জানা গেছে। নিয়োগের প্রজ্ঞাপন জারির পর বিভিন্ন মহল থেকে জানতে চাইলে তিনি বিব্রত হন এবং বিষয়টি নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন। ‘সিন্ডিকেট’ অভিযোগ নির্ভরযোগ্য সূত্র দাবি করেছে, একটি প্রভাবশালী প্রশাসনিক সিন্ডিকেটের মাধ্যমে এই নিয়োগ সম্পন্ন হয়েছে। এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে রয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখ্যসচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তার। তার সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর একান্ত সচিব মিঞা মুহাম্মদ আশরাফ রেজা ফরিদী এবং স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগও উঠেছে। নিয়ম ভঙ্গের অভিযোগ সরকারি নিয়ম অনুযায়ী, এ ধরনের নিয়োগে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন প্রয়োজন। কিন্তু এই ক্ষেত্রে সেই প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়নি বলে জানা গেছে। দ্রুত ইউ-টার্ন সমালোচনার মুখে মো. আব্দুর রশীদ মিয়া দায়িত্ব গ্রহণ করেননি। ইতোমধ্যে তিনি বুঝতে পেরেছেন যে নিয়োগটি টিকছে না। সরকারের উচ্চপর্যায়ে আলোচনার পর সিদ্ধান্ত হয়েছে, নিয়োগের প্রজ্ঞাপন বাতিল করা হবে। রোববারের মধ্যেই তা আনুষ্ঠানিকভাবে প্রত্যাহার হতে পারে বলে জানা গেছে। রাজনৈতিক প্রভাব এই ঘটনায় সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। বিশেষ করে দুর্নীতিবিরোধী অবস্থান নিয়ে সরকারের বিশ্বাসযোগ্যতা প্রশ্নের মুখে পড়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, নিয়োগ বাতিলের সিদ্ধান্ত পরিস্থিতি কিছুটা সামাল দিলেও প্রশাসনিক স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে।
এক বছরের চুক্তিতে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)-এর প্রধান প্রকৌশলী হিসেবে পুনরায় নিয়োগ পেয়েছেন মো. আব্দুর রশীদ মিয়া। মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় এ সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন জারি করে। এর আগে তিনি চলতি দায়িত্বে এলজিইডির প্রধান প্রকৌশলী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন এবং পরে অবসরে যান। নতুন প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, সরকারি চাকরি আইন, ২০১৮-এর ধারা ৪৯ অনুযায়ী আব্দুর রশীদ মিয়াকে তার অবসর-উত্তর ছুটি ও সংশ্লিষ্ট সুবিধাদি স্থগিত রাখতে হবে। পাশাপাশি অন্য কোনো পেশা, ব্যবসা বা সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কর্ম-সম্পর্ক পরিত্যাগের শর্তে যোগদানের তারিখ থেকে এক বছরের জন্য তাকে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এ নিয়োগের অন্যান্য শর্ত চুক্তিপত্রের মাধ্যমে নির্ধারিত হবে বলেও জানানো হয়েছে। পেশাগত জীবন আব্দুর রশীদ মিয়া এলজিইডির মানবসম্পদ উন্নয়ন, মান নিয়ন্ত্রণ ও পরিবেশ ইউনিটের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী (গ্রেড-৩) হিসেবে কর্মরত ছিলেন। গত বছরের ৪ ফেব্রুয়ারি তিনি চলতি দায়িত্বে প্রধান প্রকৌশলী হন এবং বছরের শেষ দিকে অবসরে যান। তিনি ১৯৮৭ সালে তৎকালীন বাংলাদেশ ইনস্টিটিউশন অব টেকনোলজি (বর্তমানে রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়) থেকে পুরকৌশলে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন। পরে ২০১৪ সালে স্টেট ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ থেকে পরিবেশ বিজ্ঞানে স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেন। কর্মজীবনের শুরুতে তিনি জাপানের বহুজাতিক প্রতিষ্ঠান মিতসুবিশিতে প্রজেক্ট ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে কাজ করেন। ১৯৮৯ সালে বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের মাধ্যমে এলজিইবিতে সহকারী প্রকৌশলী হিসেবে যোগ দেন। তিনি ২০০৬ সালে নির্বাহী প্রকৌশলী, ২০১৯ সালে তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী এবং ২০২৩ সালে অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী হিসেবে পদোন্নতি লাভ করেন। মিল্ক ভিটায় নতুন মহাব্যবস্থাপক অন্যদিকে, বাংলাদেশ দুগ্ধ উৎপাদনকারী সমবায় ইউনিয়ন লিমিটেড (মিল্ক ভিটা)-এর মহাব্যবস্থাপক হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন মো. এনায়েত করিম চৌধুরী। এ বিষয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় পৃথক প্রজ্ঞাপন জারি করেছে। এতে বলা হয়েছে, গ্রেড-৫ বেতন স্কেলে তাকে এক বছরের জন্য চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। প্রজ্ঞাপনে আরও উল্লেখ করা হয়, তাকে অন্য কোনো পেশা বা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সম্পৃক্ততা ত্যাগ করে এই দায়িত্ব গ্রহণ করতে হবে। নিয়োগের অন্যান্য শর্ত চুক্তিপত্রের মাধ্যমে নির্ধারিত হবে।
দেশ সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে সাংবাদিক নেতা মুহাম্মদ আবদুল্লাহকে। একই সঙ্গে নতুন এমডি হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে সিনিয়র সাংবাদিক বাছির জামাল কে। বাংলাদেশ সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে মুহাম্মদ আবদুল্লাহকে। চুক্তি অনুযায়ী এখনও তার চাকরির মেয়াদ ছয়মাস বাকি ছিল।মঙ্গলবার জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়। একইদিন অপর আরেক প্রজ্ঞাপনে সিনিয়র সাংবাদিক মোহাম্মদ আবদুল বাছিরকে (বাছির জামাল) এমডি পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। বাছির জামাল বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের (বিএফইউজে) সিনিয়র সহকারী মহাসচিব এবং দৈনিক আমার দেশের চিফ রিপোর্টার। তাকে এক বছরের জন্য এ পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এদিকে ২০২৪ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ২ বছরের জন্য বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের (বিএফইউজে) সাবেক সভাপতি এবং দৈনিক আমার দেশ এর নগর সম্পাদক মুহাম্মদ আবদুল্লাহকে নিয়োগ দেয়।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের একান্ত সচিব-১, সহকারী একান্ত সচিব-১ এবং প্রোটোকল অফিসার নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) এ সংক্রান্ত পৃথক তিনটি প্রজ্ঞাপন জারি করেছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব মিঞা মুহাম্মদ আশরাফ রেজা ফরিদীকে প্রধানমন্ত্রীর একান্ত সচিব-১ হিসেবে নিয়োগ করা হয়। প্রধানমন্ত্রী যতদিন প্রধানমন্ত্রীর পদ অলংকৃত করবেন অথবা মিঞা মুহাম্মদ আশরাফ রেজা ফরিদীকে তার একান্ত সচিব-১ পদে বহাল রাখার অভিপ্রায় পোষণ করবেন ততদিন এ নিয়োগ আদেশ কার্যকর থাকবে। প্রধানমন্ত্রীর অভিপ্রায় অনুযায়ী জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব মোহাম্মদ মামুন শিবলীকে প্রধানমন্ত্রীর সহকারী একান্ত সচিব-১ হিসেবে নিয়োগ করা হয়। প্রধানমন্ত্রী যতদিন প্রধানমন্ত্রীর পদ অলংকৃত করবেন অথবা মোহাম্মদ মামুন শিবলীকে তার সহকারী একান্ত সচিব পদে বহাল রাখার অভিপ্রায় পোষণ করবেন ততদিন এ নিয়োগ আদেশ কার্যকর থাকবে। অপর আদেশে, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব মো. উজ্জল হোসেনকে প্রধানমন্ত্রীর প্রোটোকল অফিসার-১ নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের সম্পদ বিবরণী প্রকাশের পর সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী ও তার স্ত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদের হিসাব নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। এক বছরের ব্যবধানে স্বামী ফারুকীর সম্পদ কমলেও স্ত্রী তিশার সম্পদ বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে প্রকাশিত তথ্যে উঠে এসেছে এই চিত্র। প্রকাশিত খতিয়ান অনুযায়ী, জনপ্রিয় অভিনেত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদ এক বছরে অভাবনীয় হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তিশার মোট সম্পদের পরিমাণ ছিল ১ কোটি ৪০ লাখ ৮১ হাজার ৮৬০ টাকা। ঠিক এক বছর পর, ২০২৫ সালের ৩০ জুন সেই সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ৯৯ লাখ ৮৯ হাজার ৫০১ টাকায়। অর্থাৎ মাত্র এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ বেড়েছে ১ কোটি ৫৯ লাখ ৭ হাজার ৬৪১ টাকা, যা আগের বছরের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি। অন্যদিকে সংস্কৃতি উপদেষ্টা ও নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর ক্ষেত্রে দেখা গেছে উল্টো চিত্র। এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ কমেছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তার মোট সম্পদ ছিল ২ কোটি ২৬ লাখ ৯২ হাজার ২৬ টাকা। ২০২৫ সালের ৩০ জুন তা কমে দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ১৫ লাখ ১৮ হাজার ২৬ টাকায়। হিসাব অনুযায়ী, এক বছরে তার সম্পদ কমেছে ১১ লাখ ৭৪ হাজার টাকা। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে গত মঙ্গলবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ প্রধান উপদেষ্টা, উপদেষ্টা ও সমমর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের পাশাপাশি তাদের স্ত্রী বা স্বামীর সম্পদ বিবরণী প্রকাশ করে। একই সময়ে স্বামী-স্ত্রীর সম্পদে এমন ভিন্নমুখী পরিবর্তন স্বাভাবিকভাবেই সাধারণ মানুষের কৌতূহলের জন্ম দিয়েছে। শোবিজ অঙ্গনের জনপ্রিয় দম্পতি হওয়ায় তাদের এই আয়-ব্যয়ের হিসাব এখন টক অব দ্য কান্ট্রি।
বাসস : বাবা একজন তাঁত শ্রমিক। তিন বোন দুই ভাইয়ের মধ্যে সবার বড় রোজিনা। অভাব সংসার, তাই এক এতিম যুবকের সাথে বাবা-মা বিয়ে দেন তাকে। বিয়ের পর জন্ম হয় দুই কন্যা সন্তানের। অটোরিকশা চালিয়ে কোন রকম সংসার চালাচ্ছিলেন স্বামী রফিকুল ইসলাম। কিন্তু সড়ক দুর্ঘটনায় রফিকুলের এক চোখ সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যায়। আরেকটি চোখ আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ধীরে ধীরে ওই চোখের দৃষ্টি শক্তিও কমতে থাকে। ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে অটোরিকশা চালানো। সংসারের উপার্জনক্ষম মানুষটি অচল হয়ে পড়ায় চিকিৎসার খরচ, ঘর ভাড়া ও খাবারের পাশাপাশি মেয়েদের লেখাপড়ার খরচ চালানোই কঠিন হয়ে যায়। দিশেহারা হয়ে পরেন রোজিনা। এক পর্যায়ে মানুষের বাড়ি বাড়ি কাজ করে সংসার চালানোর চেস্টা করেন। কিন্তু সুবিধা করতে পারেন না। এমন পরিস্থিতিতে অটোরিকশা চালানোর সিদ্ধান্ত নেন তিনি। স্বামী রফিকুলের কাছেই হাতেখড়ি। গ্রামের স্কুলের মাঠে স্বামীর কাছেই অটোরিকশা চালানোর শিক্ষা নেন তিনি। পরে গ্রামের পথে নেমে পড়েন অটোরিকশা নিয়ে। ৫-৬ দিন এভাবে হাত পাকা করে একদিন টাঙ্গাইল শহরে চলে আসেন রোজিনা। এরপর শুরু করেন অটোরিক্সা চালানোর ব্যতিক্রমী জীবন সংগ্রাম। এখন টাঙ্গাইল পৌরসভায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার চালকদের মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা বেগম। জেলার বাসাইল উপজেলার আইসড়া গ্রামের বাসিন্দা রোজিনা টাঙ্গাইল পৌর শহরের এক প্রান্ত রাবনা বাইপাস থেকে আরেক প্রান্ত বেবিস্ট্যান্ডে যাত্রী আনা নেয়া করেন। যানজটের কারণে শহরে পুরুষ চালকরা যেখানে হিমসিম খায়, সেখানেই বিগত ৫ বছর ধরেই নির্বিঘেœ অটোরিকশা চালাচ্ছেন তিনি। টাঙ্গাইল পৌরসভা কার্যালয় সূত্রে জানা যাায়, টাঙ্গাইল শহরে চলাচলের জন্য ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক ও ৫ হাজার ব্যাটারিচালিত রিকশার অনুমতি (লাইসেন্স) দেওয়া হয়েছে। যানজট এড়াতে ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক জোড় ও বিজোড় সংখ্যায় দিনে দুই ভাগ করা হয়েছে। সকাল থেকে বেলা দুইটা পর্যন্ত এক ভাগ এবং বেলা দুইটা থেকে রাত পর্যন্ত আরেক ভাগের ইজিবাইক চলাচল করার নির্দেশনা দিয়েছে পৌর কর্তৃপক্ষ। কিন্তু রোজিনাকে দুই শিফটে চালানোর অনুমতি দিয়েছে পৌরসভা। সরেজমিনে দেখা যায়, নতুন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অটোরিকশা নিয়ে যাত্রী ডাকছেন রোজিনা। কলেজ গেট, পুরাতন বাসস্ট্যান্ড, ক্যাপসুল, নিরালা মোড়, বেবিস্ট্যান্ড সর্বত্রই যাত্রী আনানেয়া করেন তিনি। পুরাতন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অন্য অটো চালকদের দাঁড় করতে না দিলেও রোজিনাকে বাঁধা দেননা ট্রাফিক পুলিশ। বলতে গেলে সবাই তার প্রতি সহানুভুতিশীল। ট্রাফিক পুলিশসহ অন্য অটোচালকরাও তাকে সহযোগিতা করেন। রোজিনা বলেন, আমার অটোতে নারী যাত্রীরা খুব কম। তারা মনে করে আমার অটোতে উঠলে দুর্ঘটনায় পড়বে। কিন্তু আমি খুব সাবধানে অটো চালাই। দ্রুত গতিতেও না, আবার একেবারে ধীরগতিতেও না। এখন পর্যন্ত আমি কোন দুর্ঘটনার কবলে পড়ি নাই। শহরের পুরুষ অটোরিকশা চালকরা আমাকে অনেক সহযোগিতা করে। অটোচালক কাদের মিয়া বলেন, আমাদের শহরে কয়েক হাজার অটো চলাচল করে। তার মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। তাকে আমরা সব সময় সহযোগিতা করি। যাত্রী সাইদ মিয়া বলেন, আমি এ পর্যন্ত ৫-৬ বার রোজিনার অটোতে চড়েছি। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। অন্য পুরুষ অটো চালকের চেয়েও ভালো অটো চালান। নারী সংগঠক সেরাজুম মনিরা বলেন, তিনি অনেক দিন যাবত অটোরিকশা চালাচ্ছেন। আমি রোজিনাকে স্যালুট জানাই। একজন পুরুষের চেয়ে একজন নারী কোনো ভাবেই যে পিছিয়ে নেই, রোজিনা তা প্রমাণ করেছেন। রোজিনা বলেন, অটো চালানোর এই সিদ্ধান্তটি তার জন্য খুব সহজ ছিল না। তিনি বলেন, ৫ ও ১০ বছরের দুই মেয়েকে বাড়িতে রেখে অটোরিকশা নিয়ে সারাদিন রাস্তায় থাকতে হয়। তাদের ভালোভাবে দেখাশোনা করতে পারি না। কিন্তু কি করবো, অভাবের সংসার! এখন ঋণ নিয়ে একটু জমি কিনেছি। প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ণ প্রকল্পের অর্থায়নে প্রশাসন সেখানে ঘর তুলে দিয়েছে। শুরুতে যারা আমাকে নিয়ে ঠাট্টা করেছে এখন তারাই আমাকে সম্মান করেন। নারীরাও যে কিছু করতে পারে, তা প্রমাণ করেছি। আমার বড় মেয়ে আইসড়া উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়ে, ছোট মেয়ে পড়ে স্থানীয় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। মেয়েদের শিক্ষিত করতে হবে। ধার দেনা শোধ করতে হবে। তাই থেমে গেলো চলবে না। আমি অটোরিকশা চালিয়েই দুই সন্তানকে মানুষ করতে চাই।’ ঘারিন্দা ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য বাবুল সরকার বলেন, সরকার রোজিনাকে একটি ঘর নির্মাণ করে দিয়েছে। শুরুতে যারা তাকে নিয়ে নানান কথা বলতো, এখন তার সংকল্প ও মানষিক দৃঢ়তা দেখে থেমে গেছে। আমরা তাকে নিয়ে গর্ব করি। টাঙ্গাইলের ট্রাফিক ইন্সপেক্টর (প্রশাসন) দেলোয়ার হোসেন বলেন, শহরের একমাত্র নারী চালক রোজিনাকে কেউ যেন বিরক্ত করতে না পারে সেদিকে সব সময় নজর রাখে ট্রাফিক পুলিশ। আমরা তাকে সব সময় সহযোগিতা করে আসছি। টাঙ্গাইলের সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক শাহ আলম বলেন, বিষয়টি এখন জানতে পারলাম। ওই নারী এখনো পর্যন্ত আমাদের কাছে আসেন নাই। যদি আমাদের কাছে এসে আবেদন করেন অবশ্যই তাকে আমরা সহযেগিতা করবো, তার পাশে দাঁড়াবো।
২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশে আজ এক ঐতিহাসিক ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ২০০৮ সালের পর এই প্রথম একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হতে যাচ্ছে যেখানে দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগ রাজনৈতিক মানচিত্র থেকে কার্যত অনুপস্থিত। বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক জরিপ বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০০ আসনের মধ্যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) কার্যকর সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে যাচ্ছে। তবে ভোটের ব্যবধান এবং কিছু সমীকরণ নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। নির্বাচনের সবচেয়ে বড় নিয়ামক হয়ে দাঁড়িয়েছে আওয়ামী লীগের বিশাল ভোটব্যাংক। দলটির নিয়মিত প্রায় ৪ কোটি ভোটার এখন নতুন রাজনৈতিক আশ্রয় খুঁজছেন। সিআরএফ বা বিইপিওএস জরিপ বলছে, এই ভোটারদের প্রায় অর্ধেক বিএনপির দিকে ঝুঁকেছে, যা দলটিকে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতার পথে এগিয়ে দিচ্ছে। অন্যদিকে, প্রায় ৩০ শতাংশ আওয়ামী ভোটার জামায়াতে ইসলামীকে বেছে নিতে পারেন বলে আভাস পাওয়া যাচ্ছে। এছাড়া বাংলাদেশের বিদ্যমান নির্বাচনী ব্যবস্থার কারণে দেশজুড়ে সুষম জনসমর্থন থাকা বিএনপি আসন জয়ের ক্ষেত্রে জামায়াতের তুলনায় সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। তবে বিএনপির এই সম্ভাব্য জয়ের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও বিদ্রোহী প্রার্থীরা। প্রায় ৭৯টি নির্বাচনী এলাকায় দলের মনোনয়ন না পাওয়া ৯২ জন প্রভাবশালী নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, যা বিএনপির ১৫ থেকে ৩০টি আসন কমিয়ে দিতে পারে। অন্যদিকে, তরুণ ভোটার বা ‘জেন-জি’ প্রজন্মের বিশাল সমর্থন জামায়াতে ইসলামীর শক্তির উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেশের ৪৪ শতাংশ ভোটারই তরুণ, যাদের বড় একটি অংশ প্রথমবার ভোট দিচ্ছেন। এই তরুণরা যদি দলবেঁধে কেন্দ্রে উপস্থিত হন, তবে নির্বাচনী ফলে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। সবশেষে, প্রায় ১৭ থেকে ৩৫ শতাংশ দোদুল্যমান ভোটার এবং তাদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করবে আগামীর সরকার কতটা শক্তিশালী হবে। দ্য নিউইয়র্ক এডিটোরিয়ালের মূল পূর্বাভাস, তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি প্রায় ১৮৫টি আসনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করতে পারে এবং জামায়াতে ইসলামী ৮০টির মতো আসন পেয়ে প্রধান বিরোধী দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারে। তবে বিদ্রোহী প্রার্থীদের প্রভাব এবং তরুণ ভোটারদের উপস্থিতির ওপর ভিত্তি করে আসন সংখ্যায় বড় ধরনের হেরফের হওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। ৩৫০ একরের ঘাঁটিটিতে সামরিক বাহিনীর পাঁচ হাজার সদস্য থাকতে পারবে। গাজার ‘বোর্ড অব পিস’র নথি পর্যালোচনা করে এ তথ্য জানিয়েছে দ্য গার্ডিয়ান। প্রতিবেদনে ব্রিটিশ সংবাদ মাধ্যমটি জানিয়েছে, বোর্ড অব পিসে গাজাকে নিরাপদ করার জন্য ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যাবিলাইজেশন ফোর্স (আইএসএফ) নামে একটি আন্তর্জাতিক বাহিনী মোতায়েনের কথা বলা হয়েছে। যে স্থানটি ঘাঁটি করার জন্য বিবেচনা করা হচ্ছে সেখানে আইএসএফের সদস্যরা থাকবে। বোর্ড অব পিসের প্রধান হবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আর সংগঠনটির আংশিক নেতৃত্ব দেবেন ট্রাম্পের জামাতা জ্যারার্ড কুশনার।দ্য গার্ডিয়ান বোর্ড অব পিসের নথি পর্যালোচনা করে জানায়, ধাপে ধাপে একটি সামরিক ঘাঁটি নির্মাণ করা হবে। সবকিছু শেষ হলে ঘাঁটিটি ১৫ লাখ ১৭ হাজার ৫৭৫ বর্গমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত হবে। ঘাঁটিটির চারপাশে ট্রেইলার সংযুক্ত ২৬টি সাঁজোয়া নজরদারি টাওয়ার থাকবে। এছাড়া একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, বাংকার ও অস্ত্র রাখার গুদাম থাকবে। পুরো ঘাঁটিটি কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে ঘিরে রাখা হবে। সামরিক ঘাঁটি নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে দক্ষিণ গাজার একটি শুষ্ক সমতলভূমিতে। সেখানে ইসরায়েলি হামলার চিহ্ন রয়েছে। ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে বিভিন্ন ধাতবের ধ্বংসাবশেষ। ওই এলাকার ভিডিও পর্যালোচনা করেছে দ্য গার্ডিয়ান। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, ঘাঁটি নির্মাণের জন্য টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে। যুদ্ধক্ষেত্রে কাজের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন আন্তর্জাতিক নির্মাণ কোম্পানিগুলোর একটি ছোট দলকে ইতোমধ্যেই এলাকাটি দেখানো হয়েছে। ওই দলটি দরপত্রে অংশ নিতে আগ্রহী। ইন্দোনেশিয়া সরকার গাজায় আট হাজার সেনা সদস্য পাঠানোর জন্য প্রস্তাব দিয়েছে। বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটন ডিসিতে বোর্ড অব পিসের অনানুষ্ঠানিক বৈঠকে ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্টের অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। এছাড়া দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার আরও তিন নেতার ওই বৈঠকে অংশ নেবেন বলে জানা গেছে। জাতিসংঘের নিরাপত্তা কাউন্সিল গাজার সাময়িক স্থিতিশীলতার জন্য অস্থায়ীভাবে সামরিক বাহিনী মোতায়েনের অনুমোদন দিয়েছে। নিরাপত্তা কাউন্সিলই বোর্ড অব পিসের মূল হোতা। গাজার সীমান্ত ও শান্তি প্রণয়নে কাজ করবে আইএসএফ। এছাড়া বেসামরিকদের সুরক্ষা এবং ফিলিস্তিনি পুলিশ বাহিনীকে প্রশিক্ষণ ও সহায়তা দেবে তারা। যদি গাজায় ফের সংঘর্ষ হয়, ইসরায়েল বোমা হামলা চালায় অথবা হামাস হামলা চালায় সেক্ষেত্রে আইএসএফ কি করবে তা এখনও স্পষ্ট নয়। গাজা পুনর্গঠনে ইসরায়েল হামাসকে নিরস্ত্রীকরণের যে শর্ত দিয়েছে সেটির জন্য আইএসএফ কাজ করবে কিনা তাও স্পষ্ট না। ইতোমধ্যে বোর্ড অব পিসে ২০ এর অধিক দেশ যোগ দিয়েছে। তবে, এখনও অনেক পরাশক্তি এর থেকে দূরে রয়েছে। জাতিসংঘের অনুমোদন নিয়ে প্রতিষ্ঠিত হলেও ধারণা করা হচ্ছে, সংগঠনটির স্থায়ী নেতৃত্ব ও নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে। রুটজার্স বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক আদিল হক বলেন, “বোর্ড অব পিস এক ধরনের আইনি কল্পসত্তা। নামমাত্রভাবে এর নিজস্ব আন্তর্জাতিক আইনগত সত্তা রয়েছে, যা জাতিসংঘ ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে আলাদা। কিন্তু বাস্তবে এটি যুক্তরাষ্ট্রের ইচ্ছামতো ব্যবহারের জন্য একটি ফাঁপা খোলসমাত্র।” বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গাজা পুনর্গঠনে যে অর্থায়ন ও শাসন কাঠামো হচ্ছে তা অস্বচ্ছ। কয়েকজন ঠিকাদার গার্ডিয়ানকে জানান, গাজায় কাজ করার জন্য মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে তাদের প্রায়শ আলোচনা সরকারি ইমেলের বদলে সিগন্যালের মাধ্যমে করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রের তথ্য মতে, ঘাঁটি নির্মাণের সিদ্ধান্তটি বোর্ড অব পিসের। এতে সহায়তা করছে মার্কিন কর্মকর্তারা। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ঘাঁটিতে তৈরি বাংকার নেটওয়ার্কের মতোন কাজ করবে। প্রতিটি বাংকারের ২৪ মিটারের হবে। উচ্চতা থাকবে আড়াই মিটার। এগুলো এমনভাবে করা হবে যেন সেনা সদস্যরা আশ্রয় নিতে পারে। স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসের গাজায় সুড়ঙ্গ নেটওয়ার্ক বা টানেল রয়েছে। সেগুলোর আদলে নেটওয়ার্ক করতে চাওয়া হচ্ছে। পিস অব বোর্ডের নথি পর্যালোচনা করে এমন দাবি করছে গার্ডিয়ান। সংবাদ মাধ্যমটি বলছে, স্থানটির ভূ-ভৌত জরিপ পরিচালনা করবে ঠিকাদাররা। নথির এক অংশে ‘হিউম্যান রেমিয়েনস প্রোটোকল’র কথা বলা হয়েছে। এর মানে দাঁড়ায়, সন্দেহভাজন মানব অবশিষ্ট বা সাংস্কৃতিক নিদর্শন পাওয়া গেলে অবিলম্বে সেই এলাকায় সব কাজ বন্ধ করতে হবে। চুক্তি কর্মকর্তাকে দিকনির্দেশনার জন্য অবিলম্বে জানাতে হবে। গাজা সিভিল ডিফেন্সের ধারণা, গাজার ধ্বংসস্তূপের নিচে ১০ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনির মরদেহ রয়েছে। ঘাঁটির জন্য যে স্থানটি বিবেচিত করা হচ্ছে সেটির মালিক কে তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে, দক্ষিণ গাজার বেশিরভাগ অংশ বর্তমানে ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণে। জাতিসংঘের অনুমান, যুদ্ধ চলাকালীন ১৯ লাখ ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত হয়েছে। ফিলিস্তিনের জমিতে সরকারের অনুমতি না নিয়ে সামরিক ঘাঁটি স্থাপনকে দখল হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন ফিলিস্তিনি-কানাডিয়ান আইনজীবী এবং প্রাক্তন শান্তি আলোচক দিয়ানা বুট্টু। তিনি প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়ে বলেন, “কার অনুমতিতে তারা সামরিক ঘাঁটি স্থাপন করবে।” বিষয়টি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা বোর্ড অব পিসের কথা টানেন। ট্রাম্প প্রশাসনের একজন কর্মকর্তা সামরিক ঘাঁটির চুক্তি নিয়ে আলোচনা করতে অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, “যেমনটি প্রেসিডেন্ট বলেছেন, কোনও মার্কিন সেনা স্থলভাগে যাবে না। আমরা লিক হওয়া নথি নিয়ে আলোচনা করবো না।”
বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের প্রত্যন্ত চরাঞ্চল থেকে উঠে এসে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার কেন্দ্রে এখন তাইজুল ইসলাম, যিনি অনলাইনে পরিচিত ‘তাজু ভাই ২.০’ নামে। মাত্র একটি ভিডিও—যেখানে তিনি এক দোকানিকে প্রশ্ন করেন, “জিলাপি আজকে কত করে বেচতেছেন সরকারি রেটে?”—এই সরল উপস্থাপনাই তাকে রাতারাতি ভাইরাল করে তোলে। কয়েক ঘণ্টায় ফলোয়ার লাখ ছাড়াল রোববার রাত পর্যন্ত তার ফেসবুক অনুসারী ছিল প্রায় ৩৫ হাজার। কিন্তু সোমবার সন্ধ্যা থেকে রাতের মধ্যেই তা বেড়ে এক লাখের বেশি হয়ে যায়। ভাইরাল ভিডিওটি ইতোমধ্যে প্রায় ৫০ থেকে ৫৫ লাখবার দেখা হয়েছে। কী ছিল সেই ভিডিওতে? ভিডিওতে দেখা যায়, কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীর নারায়ণপুর বাজারে দাঁড়িয়ে স্থানীয় ভাষায় তিনি জিলাপির দাম জানতে চান। তার কথাগুলো ছিল একেবারেই সহজ ও গ্রাম্য ভঙ্গিতে— “সাদাডা কত, লালডা কত? সরকারি রেটে বেচতেছেন?” এই সরল প্রশ্নই সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। কোথা থেকে উঠে এলেন তাজু ভাই? কুড়িগ্রাম জেলার নাগেশ্বরী উপজেলার নারায়ণপুর ইউনিয়নের একটি দুর্গম গ্রামে জন্ম তার। ব্রহ্মপুত্র নদবেষ্টিত এই অঞ্চলে পৌঁছাতে এখনও কয়েকটি নৌঘাট পার হতে হয়। দারিদ্র্যের কারণে কখনো স্কুলে যাওয়া হয়নি তার। পেশায় তিনি একজন নির্মাণশ্রমিকের সহকারী (হেলপার)। কাজের ফাঁকে ঢাকায় থাকাকালীন মোবাইল ফোনে ভিডিও তৈরি করাই তার শখ। ব্যক্তিগত সংগ্রাম তাইজুল ইসলামের পরিবারে ছয় ভাই-বোন। তিনি সবার বড়। তার বাবা-মা দুজনই শ্রবণপ্রতিবন্ধী। পরিবার চালাতে তাকে ছোটবেলা থেকেই সংগ্রাম করতে হয়েছে। তিনি বলেন, “পরিবারের কষ্ট ভুলতেই ভিডিও করি। আমি সাংবাদিক না, কিন্তু আমাদের এলাকায় কেউ আসে না—তাই নিজেরাই ভিডিও বানাই।” ভাইরাল হওয়ার পেছনের উদ্দেশ্য তাইজুলের দাবি, তার ভিডিও শুধুই বিনোদনের জন্য নয়। তিনি চান তার এলাকার অবহেলিত মানুষের কথা প্রশাসনের নজরে আসুক। “আমি চাই চরের মানুষের উন্নয়ন হোক,”—বলছেন তিনি। মিশ্র প্রতিক্রিয়া ভিডিওটি নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে দুই ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ তার সরলতা ও বাস্তবতা তুলে ধরার চেষ্টা প্রশংসা করছেন আবার কেউ তাকে নিয়ে ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ করছেন তবে এসব সমালোচনায় তিনি বিচলিত নন।