Brand logo light

স্থানীয় সরকার

গৌরনদীতে খাল পুনঃখনন: অবৈধ স্থাপনা বহাল, সরকারি গাছ কাটার অভিযোগে প্রশ্নের মুখে প্রকল্প

বরিশাল অফিস :   বরিশালের গৌরনদী উপজেলার বাটাজোর থেকে চন্দ্রহার খাল পুনঃখনন প্রকল্পকে ঘিরে অনিয়ম, অব্যবস্থাপনা এবং সরকারি সম্পদ আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, খাল পুনঃখননের নামে সরকারি অর্থ ব্যয় হলেও প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য বাস্তবায়িত হচ্ছে না। একদিকে খালের গভীরতা বাড়ানো হচ্ছে না, অন্যদিকে সরকারি রাস্তার গাছ কেটে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় প্রভাবশালীদের বিরুদ্ধে। স্থানীয় সূত্র বলছে, পানি উন্নয়ন বোর্ডের আওতায় বাটাজোর ইউনিয়ন থেকে সরিকল ইউনিয়নের সাকোকাঠী (আগরপুর) পর্যন্ত প্রায় ৮ কিলোমিটার খাল পুনঃখননের কাজ সম্প্রতি শুরু হয়েছে। প্রকল্পটির লক্ষ্য ছিল খালের পানি ধারণক্ষমতা বৃদ্ধি, জলাবদ্ধতা নিরসন এবং কৃষি সেচ ব্যবস্থার উন্নয়ন। তবে প্রকল্প এলাকা ঘুরে দেখা এবং স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে ভিন্ন চিত্র পাওয়া গেছে। ‘পুনঃখনন’ নাকি শুধু খালের পাড় ঘষামাজা? স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, প্রকৃত অর্থে খালের গভীরতা বৃদ্ধি না করে দুই পাড়ে সীমিত পরিসরে মাটি কাটার কাজ চলছে। ফলে বর্ষা মৌসুমে পানি ধারণক্ষমতা বাড়বে কি না, তা নিয়ে সন্দেহ রয়েছে। একাধিক কৃষক জানান, দীর্ঘদিন ধরে খালটি নাব্যতা হারিয়েছে। পুনঃখননের মাধ্যমে তারা কৃষি জমিতে সেচ সুবিধা এবং জলাবদ্ধতা নিরসনের আশা করেছিলেন। কিন্তু বর্তমানে যে কাজ হচ্ছে, তাতে কাঙ্ক্ষিত সুফল পাওয়া যাবে না বলে তাদের আশঙ্কা। অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে ‘বাছাই নীতি’? স্থানীয়দের অভিযোগ অনুযায়ী, খালের দক্ষিণ পাড়ে থাকা কিছু ব্যক্তিগত গাছ ও স্থাপনা অপসারণ করা হলেও রাস্তার পাশের বেশ কয়েকটি অবৈধ দোকান ও স্থাপনা অক্ষত রাখা হয়েছে। তাদের দাবি, খালের উভয় পাড় থেকে সমানভাবে প্রতিবন্ধকতা অপসারণ না করলে পানিপ্রবাহ স্বাভাবিক হবে না এবং পুনঃখননের কার্যকারিতাও সীমিত থাকবে। একজন স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, “যেখানে সাধারণ মানুষের স্থাপনা সরানো হয়েছে, সেখানে রাস্তার পাশের অবৈধ দোকানগুলো কেন বহাল রয়েছে—এ প্রশ্নের উত্তর কেউ দিচ্ছে না।” সরকারি গাছ কাটার অভিযোগ প্রকল্প ঘিরে সবচেয়ে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে সরকারি রাস্তার গাছ কাটাকে কেন্দ্র করে। স্থানীয়দের দাবি, খননকাজে ব্যবহৃত ভেকু (এক্সকাভেটর) দিয়ে দিনের বেলায়ই রাস্তার পাশের সরকারি গাছ কেটে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে। তবে এসব গাছ অপসারণের ক্ষেত্রে কোনো প্রকাশ্য নিলাম, টেন্ডার বা সরকারি অনুমোদনের তথ্য স্থানীয়রা জানেন না। কয়েকজন প্রবীণ রাজনৈতিক কর্মী অভিযোগ করেন, সরকারি সম্পদ ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা না থাকলে তা সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করতে পারে। তাদের মতে, সরকারি গাছ অপসারণের ক্ষেত্রে নিয়মতান্ত্রিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়েছে কি না, তা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্ত করা প্রয়োজন। খালের পাড় ভাঙনের আশঙ্কা স্থানীয়দের আরেকটি উদ্বেগ খনন পদ্ধতি নিয়ে। তাদের দাবি, ভারী যন্ত্র ব্যবহার করে খননকাজ পরিচালনার ফলে খালের দক্ষিণ পাড়ের বিভিন্ন অংশে মাটি ধসে পড়তে শুরু করেছে। এতে ভবিষ্যতে পাড় রক্ষা, ভূমিক্ষয় এবং খালের স্থায়িত্ব নিয়ে নতুন প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। প্রকৌশলগত মানদণ্ড অনুসরণ করা হচ্ছে কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন তুলছেন এলাকাবাসী। কর্তৃপক্ষের বক্তব্য মেলেনি অভিযোগগুলোর বিষয়ে বক্তব্য নিতে স্থানীয় ইউনিয়ন সদস্য মোহাম্মদ রেজাউল শেখের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। অন্যদিকে বাটাজোর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আব্দুর রব হাওলাদার অসুস্থ থাকায় তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।   তদন্তের দাবি স্থানীয়দের দাবি, খাল পুনঃখনন প্রকল্পে সরকারি অর্থের যথাযথ ব্যবহার, অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের বৈষম্য, সরকারি গাছ অপসারণের বৈধতা এবং খননকাজের মান যাচাইয়ে স্বাধীন তদন্ত প্রয়োজন। তাদের মতে, প্রকল্পটি যদি পরিকল্পনা অনুযায়ী বাস্তবায়িত না হয়, তাহলে কৃষি, পানি ব্যবস্থাপনা এবং স্থানীয় পরিবেশের ওপর প্রত্যাশিত ইতিবাচক প্রভাব পড়বে না।

নিজস্ব প্রতিবেদক জুন ২৩, ২০২৬ 0
বিদ্যালয়ে না গিয়েও ২৩ বছর ধরে বেতন নিচ্ছেন বিএনপি নেতা
বিদ্যালয়ে না গিয়েও ২৩ বছর ধরে বেতন নিচ্ছেন টাঙ্গাইলে বিএনপি নেতা ও প্রধান শিক্ষক সেলু

ইত্তেহাদনিউজ,অনলাইন : টাঙ্গাইলের ভূঞাপুর উপজেলার তালুকদার সিরাজ আলী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এবং উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সেলিমুজ্জান সেলুর বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত থেকেও বেতন গ্রহণের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, তিনি প্রতিষ্ঠানে নিয়মিত উপস্থিত না থেকেও প্রায় ২৩ বছর ধরে সরকারি বেতন-ভাতা উত্তোলন করছেন। অভিযোগ রয়েছে, সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর তিনি দলীয় প্রভাব খাটিয়ে নিজ বাসা থেকেই বিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনা করছেন। বিষয়টি নিয়ে শিক্ষক, অভিভাবক ও স্থানীয়দের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। বিদ্যালয়ের ইতিহাস ও নিয়োগ স্থানীয় সূত্র জানায়, ১৯৯৫ সালের জানুয়ারিতে প্রতিষ্ঠিত হয় তালুকদার সিরাজ আলী উচ্চ বিদ্যালয়। প্রতিষ্ঠার সময় প্রধান শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ পান সেলিমুজ্জান সেলু। ২০০৩ সালের জানুয়ারিতে বিদ্যালয়টি এমপিওভুক্ত হয়। তবে প্রতিষ্ঠার পর থেকেই তিনি নিয়মিত বিদ্যালয়ে যান না বলে অভিযোগ রয়েছে। এলাকাবাসীর দাবি, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ও স্থানীয় রাজনৈতিক প্রভাব ব্যবহার করে তিনি নিয়মিত বেতন গ্রহণ করতেন। বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতির দায়িত্ব দীর্ঘদিন ধরে পালন করছেন তার বড় ভাই শাহ আলম তালুকদার। রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক ভূমিকা সংশ্লিষ্ট সূত্র অনুযায়ী, সেলিমুজ্জান সেলু ২০০৩ সালে উপজেলা বিএনপির যুববিষয়ক সম্পাদক ছিলেন। পরে ২০০৯ সালে যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এবং ২০১৪ সালের পর থেকে উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করে আসছেন। স্থানীয়দের ভাষ্য, ২০২৪ সালের ৭ সেপ্টেম্বর তিনি উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতির একটি অ্যাডহক কমিটি গঠন করেন এবং ছয় মাসের জন্য সভাপতি নির্বাচিত হন। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নির্বাচন আয়োজনের কথা থাকলেও তা হয়নি। পরে কমিটির মেয়াদ বাড়ানো হয় এবং নির্বাচন ছাড়াই তিনি দীর্ঘ সময় ধরে সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। বর্তমানে তিনি একসঙ্গে উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক, তালুকদার সিরাজ আলী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এবং উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতির সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন। আচরণবিধি নিয়ে প্রশ্ন শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রণীত খসড়া আচরণবিধিতে এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীদের প্রত্যক্ষ রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা, রাজনৈতিক পদ গ্রহণ কিংবা রাজনৈতিক আন্দোলনে অংশগ্রহণের বিষয়ে বিধিনিষেধের কথা উল্লেখ রয়েছে। সংশ্লিষ্ট নীতিমালা অনুযায়ী, কোনো প্রধান শিক্ষক সরাসরি রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত থাকলে বা নির্বাচনী কার্যক্রমে অংশ নিলে তা অসদাচরণ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে এবং শাস্তিমূলক ব্যবস্থার আওতায় পড়তে পারেন। এ অবস্থায় একজন সক্রিয় রাজনৈতিক নেতা হিসেবে সেলিমুজ্জান সেলুর দায়িত্ব পালন নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন স্থানীয়রা। শিক্ষকদের অভিযোগ নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক শিক্ষক বলেন, বিশেষ অনুষ্ঠান বা আনুষ্ঠানিক কর্মসূচি ছাড়া সেলিমুজ্জান সেলুকে বিদ্যালয়ে খুব কমই দেখা যায়। তাদের একজন বলেন, “বিশেষ প্রোগ্রাম ছাড়া তিনি বিদ্যালয়ে আসেন না। অধিকাংশ দাপ্তরিক কাজ বাসা থেকেই পরিচালনা করেন।” প্রশাসনের বক্তব্য ভূঞাপুর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) শহিদুল ইসলাম বলেন, “সেলিমুজ্জান সেলু বিগত সরকার এবং বর্তমান সরকার—উভয় সময়েই প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। ঈদের ছুটির পর শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো সম্প্রতি খুলেছে। বিষয়টি খতিয়ে দেখতে একাডেমিক সুপারভাইজারকে পরিদর্শনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তদন্তের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” বিএনপির অবস্থান ভূঞাপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি গোলাম মোস্তফা বলেন, “কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধান যদি রাজনৈতিক দলের নেতাও হন, তবু তাকে নিজের দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করতে হবে। দায়িত্বে অবহেলা করলে তার দায় দল নেবে না।” শিক্ষক সমিতির বক্তব্য মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতির জেলা শাখার একাংশের সভাপতি আব্দুল কাদের বলেন, “ভূঞাপুরের অ্যাডহক কমিটি গঠনের বিষয়ে আমাদের কাছ থেকে কোনো অনুমোদন নেওয়া হয়নি।” অন্যদিকে জেলা শাখার আরেক অংশের সভাপতি শামিম আল মামুন জুয়েল বলেন, “প্রথমে ছয় মাসের জন্য অ্যাডহক কমিটি করা হয়েছিল। পরে মেয়াদ বাড়ানো হয়। তবে নির্বাচন কেন অনুষ্ঠিত হয়নি, সেটি প্রশ্নসাপেক্ষ।” অভিযোগ অস্বীকার অভিযোগের বিষয়ে সেলিমুজ্জান সেলু বলেন, “আমার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন।” মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতির কমিটি সংক্রান্ত বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি সরাসরি সাক্ষাৎ করে কথা বলার অনুরোধ জানান।

নিজস্ব প্রতিবেদক জুন ১১, ২০২৬ 0
আব্দুর রহিম প্রামানিক
পীরগঞ্জ পৌরসভার সচিব আব্দুর রহিমের বিরুদ্ধে কোটি টাকার দুর্নীতি, কমিশন বাণিজ্য ও স্বজনপ্রীতির অভিযোগ

পীরগঞ্জ পৌরসভায় ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুতে এক কর্মকর্তা, উঠছে দুর্নীতির বিস্তর অভিযোগ ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : রংপুরের পীরগঞ্জ পৌরসভার নির্বাহী কর্মকর্তা (সচিব) আব্দুর রহিম প্রামানিকের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে দুর্নীতি, অনিয়ম, ক্ষমতার অপব্যবহার এবং অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, প্রকৌশলী, ঠিকাদার ও একাধিক কর্মচারীর অভিযোগ—পৌর প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নেও তার একক প্রভাব ছিল দৃশ্যমান। ২০১৫ সালে পীরগঞ্জ পৌরসভা গঠনের পর অতিরিক্ত দায়িত্বে সচিব হিসেবে যোগ দেন আব্দুর রহিম প্রামানিক। সে সময় তিনি গাইবান্ধার পলাশবাড়ি পৌরসভার সচিব হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছিলেন। পরে তৎকালীন মেয়র তাজিমুল ইসলাম শামিমের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিতি পান এবং ধীরে ধীরে পৌরসভার প্রশাসনিক ও আর্থিক কার্যক্রমে শক্তিশালী প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয় সূত্র ও সংশ্লিষ্ট একাধিক ব্যক্তির দাবি, ভুয়া বিল-ভাউচার তৈরি করে রাজস্ব খাত থেকে বিপুল অঙ্কের অর্থ উত্তোলন, উন্নয়ন প্রকল্পে কমিশন বাণিজ্য এবং ঠিকাদারদের কাছ থেকে নিয়মিত কমিশন আদায়ের মাধ্যমে একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট গড়ে তোলা হয়। পৌরসভার সাবেক দুই প্রকৌশলী ও কয়েকজন কাউন্সিলর নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, উন্নয়ন কাজের বিল ছাড় করতে ঠিকাদারদের কাছ থেকে ৬ থেকে ৭ শতাংশ পর্যন্ত কমিশন নেওয়া হতো। অভিযোগ রয়েছে, প্রকল্পভিত্তিক জামানতের অর্থও বিভিন্ন কৌশলে আত্মসাৎ করা হয়েছে। সম্প্রতি দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) রংপুর আঞ্চলিক কার্যালয়ে জমা দেওয়া এক লিখিত অভিযোগে বলা হয়, ২০২২-২৩ অর্থবছরে কোনো কাজ বাস্তবায়ন ছাড়াই উন্নয়ন তহবিল থেকে প্রায় ১০ লাখ টাকা উত্তোলন করা হয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, জনতা ব্যাংক পীরগঞ্জ শাখার একাধিক চেকের মাধ্যমে “মেসার্স হাফসা ট্রেডার্স” নামে একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের অনুকূলে ওই অর্থ উত্তোলন করা হয়। একই অভিযোগে আরও বলা হয়, মৃত্তিকা এগ্রো ফার্মসহ বিভিন্ন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের প্রায় পাঁচ লাখ টাকার জামানত বিধিবহির্ভূতভাবে উত্তোলন করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারদের দাবি, তারা কোনো আবেদন বা অনুমোদন দেননি, এমনকি তাদের স্বাক্ষর ছাড়াই জামানতের অর্থ উত্তোলন করা হয়েছে। এছাড়া আরবান প্রাইমারি হেলথ কেয়ার সার্ভিসেস ডেলিভারি প্রজেক্ট-২ এর সুপারভাইজার ও প্রশাসন, অর্থ এবং মনিটরিং কর্মকর্তা মিজানুর রহমান গত বছরের ২৬ অক্টোবর জেলা প্রশাসকের কাছে একটি লিখিত অভিযোগ জমা দেন। সেখানে তাকে বিনা নোটিশে চাকরিচ্যুত করার পাশাপাশি পৌর সচিবের বিরুদ্ধে নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ তোলা হয়। এরপর তৎকালীন জেলা প্রশাসক বিষয়টি তদন্তের নির্দেশ দিলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পপি খাতুন তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেন। কমিটিতে সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা, সহকারী প্রোগ্রামার (তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি) এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ের প্রশাসনিক কর্মকর্তাকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। অভিযোগ রয়েছে, পৌরসভা কর্মচারী নিয়োগ বিধিমালা ১৯৯২ লঙ্ঘন করে ২০২২ সাল থেকে “পাপড়ি রানী সাহা” নামে এক টিকাদান কর্মীকে ভুয়া কাগজপত্রের ভিত্তিতে চাকরিতে বহাল রাখা হয়েছে। এ সময় তাকে নিয়মিত বেতন-ভাতাও প্রদান করা হয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়। এছাড়াও চাকরি দেওয়ার নামে স্বজনপ্রীতি, নিয়মবহির্ভূত নিয়োগ, কর্মচারীদের চাকরিচ্যুত করা এবং নারী কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ওপর প্রশাসনিক চাপ প্রয়োগের অভিযোগও উঠেছে আব্দুর রহিম প্রামানিকের বিরুদ্ধে। তবে সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন পীরগঞ্জ পৌরসভার নির্বাহী কর্মকর্তা আব্দুর রহিম প্রামানিক। তিনি বলেন, “আমার বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা, বানোয়াট ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। একটি কুচক্রী মহল সাংবাদিকদের ভুল তথ্য দিচ্ছে। কোনো কাজ না করে বিল উত্তোলন বা পরিশোধ করা হয়নি। বিভিন্ন তদন্তে আমি নির্দোষ প্রমাণিত হয়েছি।” অভিযোগগুলোর বিষয়ে এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ না হলেও স্থানীয় প্রশাসন ও দুদকের সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, অভিযোগগুলোর নথিপত্র যাচাই-বাছাই চলছে। স্থানীয়দের প্রশ্ন—একজন পৌর কর্মকর্তার বিরুদ্ধে এত বিস্তৃত অভিযোগ ওঠার পরও কেন দীর্ঘদিন কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ১১, ২০২৬ 0
চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার অফিস সহকারী (নাজির) সোহাগ
চরফ্যাশনে ইউএনও অফিস সহকারী সোহাগের বিরুদ্ধে দুর্নীতি, অর্থ আত্মসাৎ ও সম্পদ অর্জনের অভিযোগ

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : ভোলার চরফ্যাশন উপজেলায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) অফিস সহকারী ও নাজির সোহাগের বিরুদ্ধে ব্যাপক অনিয়ম, দুর্নীতি ও অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় বাসিন্দা, জনপ্রতিনিধি এবং বিভিন্ন সূত্রের দাবি—দীর্ঘদিন একই কর্মস্থলে অবস্থান করে তিনি ক্ষমতার অপব্যবহার করে বিপুল অর্থ ও সম্পদের মালিক হয়েছেন। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা সোহাগ তা অস্বীকার করেছেন। দীর্ঘদিন একই কর্মস্থলে দায়িত্ব ও অভিযোগের শুরু স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, সোহাগ প্রায় আট বছর ধরে একই উপজেলায় কর্মরত আছেন। এ দীর্ঘ সময় ধরে দায়িত্বে থাকাকালীন তিনি বিভিন্ন প্রকল্প, স্থানীয় সরকার নির্বাচন এবং প্রশাসনিক কর্মকাণ্ডে প্রভাব খাটিয়ে আর্থিক সুবিধা নিয়েছেন—এমন অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগকারীদের দাবি, বিশেষ করে গত কয়েক অর্থবছরে উপজেলা পর্যায়ের বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের বরাদ্দ থেকে ভ্যাট ও অন্যান্য হিসাব-সংক্রান্ত অর্থ ব্যবস্থাপনায় অনিয়ম হয়েছে। চেয়ারম্যান বানানোর নামে অর্থ লেনদেনের অভিযোগ স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও এক ইউপি সদস্য আবু জাহের ফরাজীর অভিযোগ অনুযায়ী, প্যানেল চেয়ারম্যান ও চেয়ারম্যান পদে নিয়োগ বা সমর্থনের বিনিময়ে জনপ্রতি কয়েক লাখ টাকা নেওয়ার ঘটনা ঘটেছে বলে দাবি করা হচ্ছে। তিনি বলেন, তিনি নিজেও জমি বিক্রি করে সোহাগকে কয়েক দফায় মোট ৫ লাখ টাকা দিয়েছেন। তবে প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী কাজ না হওয়ায় তিনি অর্থ ফেরত চেয়েও পাননি বলে অভিযোগ করেন। এ বিষয়ে তিনি প্রশাসনের উচ্চ পর্যায়ে তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। সম্পত্তি ও বিলাসবহুল ভবন নির্মাণের অভিযোগ স্থানীয়দের দাবি, চরফ্যাশন পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের ভদ্রপাড়া এলাকায় চারতলা একটি ভবন নির্মাণ করছেন সোহাগ। এছাড়া বিভিন্ন এলাকায় তার নামে বা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মাধ্যমে জমি ক্রয়ের অভিযোগও উঠেছে। একজন ঠিকাদারের ভাষ্য অনুযায়ী, “এই বাড়িটি সোহাগ ভাইয়ের। কয়েক মাস ধরে নির্মাণ কাজ চলছে।” তবে এসব সম্পদের উৎস নিয়েই প্রশ্ন তুলছেন স্থানীয়রা। সরকারি অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ আরও অভিযোগে বলা হয়েছে, ২০২৩–২০২৪ অর্থবছরে উপজেলার বিভিন্ন প্রকল্পের ভ্যাট সংক্রান্ত অর্থ নির্ধারিত সরকারি হিসাব বা আইডিতে জমা না দিয়ে ব্যক্তিগতভাবে আত্মসাৎ করা হয়েছে।   সোহাগের বক্তব্য অভিযোগের বিষয়ে নাজির সোহাগ বলেন, তার দুই ভাই প্রবাসে থাকেন এবং তাদের পাঠানো অর্থ দিয়ে তিনি জমি ও বাড়ি নির্মাণ করেছেন। চেয়ারম্যান বানানোর বিনিময়ে অর্থ নেওয়ার অভিযোগও তিনি অস্বীকার করেন। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, ভ্যাট সংক্রান্ত অর্থ যথাযথভাবে চালানের মাধ্যমে জমা দেওয়া হয়েছে। তবে তিনি এ সংক্রান্ত কোনো রসিদ বা প্রমাণ দেখাতে পারেননি বলে অভিযোগকারীদের দাবি। প্রশাসনের অবস্থান এ বিষয়ে স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে পূর্ণাঙ্গ তদন্তের কোনো ঘোষণা পাওয়া যায়নি। তবে অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে বিষয়টি খতিয়ে দেখা প্রয়োজন বলে স্থানীয়ভাবে আলোচনা চলছে। জনমনে প্রশ্ন একজন উপজেলা পর্যায়ের অফিস সহকারীর সীমিত বেতনের চাকরি থেকে কীভাবে এত সম্পদ অর্জন সম্ভব—এ প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে স্থানীয়দের মধ্যে। অভিযোগ, পাল্টা অভিযোগ ও অস্পষ্টতার মধ্যে পুরো বিষয়টি এখনো অনিশ্চিত অবস্থায় রয়েছে। স্থানীয়রা স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদঘাটনের দাবি জানিয়েছেন।

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ২৮, ২০২৬ 0
অবশেষে কাটলো অচলাবস্থা, নলছিটিতে ইউএনও’র দায়িত্ব নিলেন রিজভী আহমেদ
নলছিটিতে ইউএনও হিসেবে দায়িত্ব নিলেন সহকারী কমিশনার রিজভী আহমেদ সবুজ

ঝালকাঠি: ঝালকাঠির নলছিটি উপজেলায় প্রশাসনিক স্থবিরতার অবসান হয়েছে। অবশেষে  দ্বায়িত্ব হস্তান্তর করলেন ঝালকাঠি সদর উপজেলার ইউএনও এবং নলছিটির অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা সেগুফতা মেহনাজ। নলছিটি উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) রিজভী আহমেদ সবুজ ভারপ্রাপ্ত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করায় স্থবির হয়ে পড়া সরকারি সেবাগুলো আবার সচল হতে শুরু করেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, নিয়মিত ইউএনও না থাকায় জন্ম নিবন্ধন সংশোধন, পৌরসভার নাগরিক সনদ প্রদান এবং ইউনিয়ন পরিষদের উন্নয়নমূলক কার্যক্রমসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক সেবা ব্যাহত হচ্ছিল। এতে সাধারণ মানুষকে দীর্ঘদিন ভোগান্তি পোহাতে হয়েছে। দায়িত্ব হস্তান্তর জটিলতার কারণে এই অচলাবস্থা তৈরি হলেও, নতুন করে দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রশাসনিক কার্যক্রমে গতি ফিরতে শুরু করেছে। ভারপ্রাপ্ত ইউএনও হিসেবে রিজভী আহমেদ সবুজ দায়িত্ব নেওয়ায় এসব সেবা এখন আবার উন্মুক্ত হয়েছে বলে জানিয়েছে উপজেলা প্রশাসন। উপজেলা প্রশাসনের কার্যক্রমে ইউএনও দপ্তর গুরুত্বপূর্ণ সমন্বয়কারী ভূমিকা পালন করে। শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও স্থানীয় সরকার ব্যবস্থাপনার নানা কার্যক্রম এই দপ্তরের মাধ্যমে পরিচালিত হয়। ফলে এই পদটি দীর্ঘদিন শূন্য থাকায় সার্বিক প্রশাসনিক কার্যক্রমে প্রভাব পড়েছিল। আরও পড়ুন:  নলছিটিতে ইউএনও’র দায়িত্ব হস্তান্তর নিয়ে অচলাবস্থা: প্রশাসনিক আদেশ অমান্যের অভিযোগ   নতুন দায়িত্ব গ্রহণের পর ঝুলে থাকা অনেক গুরুত্বপূর্ণ কাজ ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে। এতে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে। স্থানীয়রা আশা করছেন, প্রশাসনিক এই শূন্যতা পূরণ হওয়ায় নলছিটির সেবাব্যবস্থা আরও গতিশীল হবে এবং সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় সরকারি সেবা পৌঁছে দেওয়া সহজ হবে। ঝালকাঠি জেলা প্রশাসকের কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, বরিশাল বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়, বরিশাল এর ১৯ এপ্রিল ২০২৬ তারিখের ০৫.১০.০০০০.০০০.০০১.০৫.০০০২.২৬.১১৪ নং স্মারক ও ঝালকাঠি জেলা প্রশাসক কার্যালয় ২৩ এপ্রিল ২০২৬ তারিখের জারি করা০৫.১০,৪২০০,০০০.০০৬.০৫.০০০৪.২৫.১২৮ নম্বর স্মারকে এক অফিস আদেশে নলছিটি উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) রিজভী আহমেদ সবুজকে অতিরিক্ত দায়িত্ব হিসেবে ইউএনও’র দায়িত্ব দেওয়া হয়। একই সঙ্গে ঝালকাঠি সদর উপজেলার ইউএনও এবং নলছিটির অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা সেগুফতা মেহনাজকে নির্দেশ দেওয়া হয় নতুন দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তার কাছে দায়িত্বভার বুঝিয়ে দিতে।

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ২৭, ২০২৬ 0
বরিশাল সিটি করপোরেশন: দুদকের অনুসন্ধানে ফেঁসে যাচ্ছে জনসংযোগ কর্মকর্তা আহসান উদ্দিন রোমেল

বরিশাল অফিস :   বরিশাল সিটি করপোরেশনের (বিসিসি) বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প, আইটি অবকাঠামো এবং প্রশাসনিক ব্যয়ের খাতে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ ঘিরে নতুন করে আলোচনা তৈরি হয়েছে। দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) একটি অনুসন্ধান প্রতিবেদনে অন্তত ১৮ জন কর্মকর্তা-কর্মচারীর বিরুদ্ধে তদন্ত শেষে প্রায় ১০ জনের বিরুদ্ধে অনিয়মের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ার কথা বলা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র দাবি করেছে। এই তালিকায় সবচেয়ে বেশি আলোচনায় এসেছে বিসিসির জনসংযোগ কর্মকর্তা আহসান উদ্দিন রোমেলের নাম। তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক প্রকল্পে আর্থিক অনিয়ম, অতিরিক্ত বিল উত্তোলন, টেন্ডার প্রক্রিয়ায় প্রভাব খাটানো এবং ব্যক্তিগত প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে সিটি করপোরেশনের কাজ নিয়ন্ত্রণের অভিযোগ উঠেছে। দুদক এখনো কোনো মামলা দায়ের করেনি এবং অনুসন্ধান প্রতিবেদন কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে বলে জানা গেছে। বরিশাল সিটি করপোরেশনের প্রশাসক হিসেবে এ্যাডভোকেট বিলকিস আক্তার জাহান শিরিন দায়িত্ব গ্রহনের পরই সিটি করপোরেশনকে দুর্নীতিমুক্ত করার ঘোষনা দিয়েছেন।তিনি বিসিসিতে দীর্ঘদিনের অনিয়ম ও দুর্নীতি বন্ধ করার জন্য সোচ্চার রয়েছেন।  দুদকের অনুসন্ধান: কীভাবে শুরু হলো তদন্ত দুদক সূত্রে জানা যায়, বরিশাল সিটি করপোরেশনের কয়েকটি উন্নয়ন প্রকল্পে আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ পাওয়ার পর ২০২৫ সালের মাঝামাঝি সময়ে একটি প্রাথমিক অনুসন্ধান শুরু হয়। তদন্তের আওতায় আনা হয় আইটি প্রকল্প, সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন, ডিজিটাল ট্রেড লাইসেন্স ব্যবস্থা এবং বিভিন্ন প্রচার-প্রচারণা ব্যয়। অনুসন্ধানের অংশ হিসেবে ২০২৫ সালের ৯ ও ১০ জুলাই সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। এ সময় তাদের সম্পদের বিবরণ, প্রকল্পের ব্যয়ের হিসাব এবং অনুমোদন প্রক্রিয়া সম্পর্কে ব্যাখ্যা চাওয়া হয়।   আরও পড়ুন: বিসিসির জনসংযোগ কর্মকর্তা রোমেল চাকুরির আড়ালে ঠিকাদারও   দুদকের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, “প্রাথমিক পর্যায়ে অনিয়ম পাওয়া গেছে। বিশেষ করে আইটি ও ডিজিটাল প্রকল্পগুলোর ব্যয় ও বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।” তবে তিনি  উল্লেখ করেন যে, অনুসন্ধান এটি কেবলমাত্র পরবর্তী আইনি পদক্ষেপের ভিত্তি তৈরি করে।  অভিযোগের কেন্দ্রে কে আহসান উদ্দিন রোমেল? বরিশাল সিটি করপোরেশনের জনসংযোগ কর্মকর্তা আহসান উদ্দিন রোমেল দীর্ঘদিন ধরে প্রশাসনিক বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত বলে জানা যায়। অভিযোগপত্র ও একাধিক সূত্রের দাবি অনুযায়ী, তিনি একই সঙ্গে আইটি সংশ্লিষ্ট কিছু দায়িত্বে প্রভাব বিস্তার করেছেন এবং কিছু প্রকল্পে ব্যক্তিগতভাবে সম্পৃক্ত থেকেছেন। অভিযোগগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো— * সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন প্রকল্পে প্রকৃত কাজের তুলনায় অতিরিক্ত বিল দেখানো * অনলাইন ট্রেড লাইসেন্স ব্যবস্থায় অনিয়ম ও বিলম্ব * বিভিন্ন আইটি প্রকল্পে বাজেট বৃদ্ধির মাধ্যমে অতিরিক্ত ব্যয় দেখানো * ব্যক্তিগত আইটি প্রতিষ্ঠান  পিপলো বিডি দিয়ে ব্যবহার করে প্রকল্পে প্রভাব বিস্তার * সরকারি প্রচারণা ও বিজ্ঞাপন ব্যয়ে অতিরিক্ত অর্থ উত্তোলন এসব অভিযোগ বিভিন্ন অভিযোগকারী ও অভ্যন্তরীণ নথির ভিত্তিতে উপস্থাপন করা হয়েছে বলে জানা যায়।  আইটি প্রকল্প নিয়ে সবচেয়ে গুরুতর অভিযোগ অভিযোগপত্রে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে সিটি করপোরেশনের ডিজিটালাইজেশন প্রকল্পগুলোকে। সূত্রের দাবি অনুযায়ী, অনলাইন ট্রেড লাইসেন্স ব্যবস্থা চালু করার উদ্যোগ নেওয়া হলেও প্রকল্পটি পুরোপুরি কার্যকর হয়নি বা মাঝপথে ব্যাহত হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, এই প্রকল্পের প্রযুক্তিগত বাস্তবায়নে যে প্রতিষ্ঠানগুলো যুক্ত ছিল, তাদের কাজের বিল ও দায়িত্ব বণ্টন নিয়ে অনিয়ম হয়েছে। একটি অভিযোগে বলা হয়, একটি স্থানীয় আইটি প্রতিষ্ঠান প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করলেও যথাযথ বিল না পাওয়ার অভিযোগ করেছে। অন্যদিকে, পরবর্তীতে সেই প্রকল্পে ভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে যুক্ত করে পুনরায় বাজেট প্রস্তাব করা হয় বলে দাবি করা হয়। একাধিক সূত্রের দাবি, প্রকল্পের বাস্তব ব্যয় এবং প্রস্তাবিত বাজেটের মধ্যে বড় ধরনের পার্থক্য ছিল। যেখানে বিশেষজ্ঞদের মতে কিছু কাজ তুলনামূলক কম খরচে সম্পন্ন করা সম্ভব ছিল, সেখানে কয়েক কোটি টাকার বাজেট প্রস্তাব করা হয়। সিসিটিভি প্রকল্প: অতিরিক্ত ব্যয়ের অভিযোগ সিটি করপোরেশনের সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন প্রকল্পেও অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগপত্র অনুযায়ী, প্রয়োজনের তুলনায় বেশি সংখ্যক ক্যামেরা দেখিয়ে অতিরিক্ত বিল তোলা হয়েছে এবং প্রকৃত বাজারমূল্যের চেয়ে বেশি খরচ দেখানো হয়েছে। একটি সূত্রের দাবি, প্রকল্পের কাজের পরিমাণ এবং বিলের মধ্যে অসামঞ্জস্য ছিল। তবে এ বিষয়ে স্বাধীনভাবে কোনো মূল্যায়ন বা যাচাই প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়নি। ব্যক্তিগত প্রতিষ্ঠান ব্যবহারের অভিযোগ অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, আহসান উদ্দিন রোমেলের একটি ব্যক্তিগত আইটি প্রতিষ্ঠান রয়েছে, যার মাধ্যমে তিনি সিটি করপোরেশনের বিভিন্ন প্রকল্পে পরোক্ষভাবে সম্পৃক্ত ছিলেন বলে অভিযোগ ওঠে। এই অভিযোগ অনুযায়ী, কিছু প্রকল্পে ঠিকাদার নির্বাচন, বিল অনুমোদন এবং কাজের তদারকিতে ব্যক্তিগত প্রভাব খাটানোর বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে। তবে এ বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো আদালতের রায় বা প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত এখনো পাওয়া যায়নি।  প্রচার-প্রচারণা ও বিজ্ঞাপন ব্যয় নিয়ে প্রশ্ন অভিযোগপত্রে আরও বলা হয়, সিটি করপোরেশনের বিভিন্ন প্রচারণামূলক কার্যক্রম—যেমন ব্যানার, ফেস্টুন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারণা—এসব খাতে অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় করা হয়েছে। কিছু ক্ষেত্রে বাস্তব কাজের তুলনায় কয়েকগুণ বেশি বিল দেখানো হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। উদাহরণ হিসেবে বলা হয়, নির্দিষ্ট একটি প্রচারণা কাজে প্রকৃত ব্যয়ের তুলনায় অতিরিক্ত অর্থ উত্তোলন করা হয়েছে। তবে এসব অভিযোগের পক্ষে স্বতন্ত্র আর্থিক নিরীক্ষা প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়নি।   অভ্যন্তরীণ প্রশাসনিক দ্বন্দ্বের ইঙ্গিত সূত্রগুলো বলছে, বিসিসির অভ্যন্তরে কিছু প্রকল্প ও বিল অনুমোদন প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশাসনিক দ্বন্দ্ব ছিল। কিছু প্রকল্পে একাধিক পক্ষের সম্পৃক্ততা এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণে সমন্বয়হীনতা দেখা গেছে বলে অভিযোগে উল্লেখ রয়েছে। একটি সূত্র দাবি করে, কিছু ক্ষেত্রে প্রকল্প অনুমোদন ও বিল আটকে দেওয়ার মতো ঘটনাও ঘটেছে, যা পরবর্তীতে অর্থনৈতিক লেনদেনের মাধ্যমে সমাধান হয়েছে বলে অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়।  রাজনৈতিক পরিবর্তনের প্রভাব সূত্রগুলো আরও জানায়, প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক পরিবর্তনের ফলে কিছু প্রকল্প স্থগিত এবং পরে পুনরায় সক্রিয় করার চেষ্টা হয়েছে। এতে প্রকল্প বাস্তবায়ন প্রক্রিয়ায় ধারাবাহিকতা নষ্ট হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। তবে এসব বিষয় রাজনৈতিক বিশ্লেষণের অংশ এবং এর সঙ্গে সরাসরি দুর্নীতির প্রমাণ সম্পর্কিত নয় বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করেন।  ছাত্র আন্দোলন ও জনমতের চাপ বরিশালে সম্প্রতি কিছু ছাত্র ও নাগরিক সংগঠন দুর্নীতির অভিযোগে দাবি তুলেছে। তাদের প্রধান দাবি—অভিযুক্ত কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে দ্রুত তদন্ত সম্পন্ন করে প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা। একজন আন্দোলনকারী বলেন, “আমরা চাই স্বচ্ছ তদন্ত হোক। যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে, তাদের জবাবদিহির আওতায় আনা হোক।” তবে প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখনো এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি।  দুদকের পরবর্তী পদক্ষেপ কী? দুদক সূত্র বলছে, অনুসন্ধান প্রতিবেদন এখনো চূড়ান্ত অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। কমিশন অনুমোদন দিলে মামলা দায়ের হবে।    অভিযুক্তদের অবস্থান ও প্রতিক্রিয়া এই প্রতিবেদনে উল্লিখিত অভিযোগগুলোর বিষয়ে আহসান উদ্দিন রোমেল বা সংশ্লিষ্ট অন্যদের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। সাধারণত এ ধরনের অভিযোগে অভিযুক্ত ব্যক্তিরা তদন্ত চলাকালে মন্তব্য থেকে বিরত থাকেন ।  অভিযোগ বনাম প্রমাণ দুর্নীতি বিষয়ক বিশেষজ্ঞদের মতে, অনুসন্ধান প্রতিবেদন এবং অভিযোগপত্র প্রাথমিক পর্যায়ের তথ্য হিসেবে গণ্য হয়। এগুলোকে আদালতে প্রমাণ হিসেবে উপস্থাপন করতে হলে পূর্ণাঙ্গ তদন্ত, অডিট রিপোর্ট এবং সাক্ষ্য-প্রমাণ প্রয়োজন। একজন প্রশাসনিক বিশ্লেষক বলেন, “সরকারি প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগ প্রায়ই ওঠে, কিন্তু সব অভিযোগ প্রমাণিত হয় না। তাই চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের জন্য বিচারিক প্রক্রিয়া অপরিহার্য।” বরিশাল সিটি করপোরেশনের বিভিন্ন প্রকল্প ঘিরে যে অভিযোগগুলো উঠেছে, তা এখনো তদন্তাধীন পর্যায়ে রয়েছে। দুর্নীতি দমন কমিশনের অনুসন্ধান প্রতিবেদন এই প্রক্রিয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হলেও এটি চূড়ান্ত রায় নয়। আহসান উদ্দিন রোমেলসহ অন্যান্য কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো প্রমাণিত হবে কি না, তা নির্ভর করছে পরবর্তী আইনি তদন্ত, সাক্ষ্য-প্রমাণ এবং বিচারিক প্রক্রিয়ার ওপর। ততক্ষণ পর্যন্ত এসব অভিযোগকে “অভিযোগ” হিসেবেই বিবেচনা করা হচ্ছে—যার সত্যতা বা অসত্যতা নির্ধারণের দায়িত্ব এখন আইনি প্রক্রিয়ার হাতে।  

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ২৭, ২০২৬ 0
লোকমান হোসেন ডাকুয়া
বাকেরগঞ্জের সাবেক মেয়র লোকমান ডাকুয়ার সম্পদের উৎস নিয়ে প্রশ্ন, দুর্নীতির অভিযোগে তোলপাড়

বরিশাল অফিস :   বাকেরগঞ্জ পৌরসভার সাবেক মেয়র এবং উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক লোকমান হোসেন ডাকুয়ার দ্রুত সম্পদ বৃদ্ধিকে কেন্দ্র করে এলাকায় নানা প্রশ্ন ও আলোচনা তৈরি হয়েছে। একসময় তিনি একজন সাধারণ মুরগির খামারি হিসেবে পরিচিত ছিলেন। তবে সময়ের ব্যবধানে তিনি বিপুল সম্পদের মালিক হয়েছেন বলে স্থানীয়ভাবে প্রচলিত রয়েছে। এই সম্পদের উৎস কী—তা নিয়ে স্পষ্ট তথ্য জনসমক্ষে আসেনি। অভিযোগ ও বিতর্ক স্থানীয় কিছু বাসিন্দা এবং রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের অভিযোগ, মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পালনের সময় থেকেই তার বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার ও অনিয়মের অভিযোগ উঠতে থাকে। বিশেষ করে পৌরসভার উন্নয়ন প্রকল্প—যেমন রাস্তা নির্মাণ, ড্রেনেজ ব্যবস্থা ও সরকারি স্থাপনা সংস্কার—সংক্রান্ত বরাদ্দে অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগকারীরা দাবি করেন, এসব প্রকল্পের কিছু ক্ষেত্রে কাগজে-কলমে কাজ দেখিয়ে অর্থ আত্মসাতের ঘটনা ঘটেছে। এছাড়া জমি দখল সংক্রান্ত অভিযোগও একাধিকবার উঠেছে। কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দার ভাষ্য অনুযায়ী, ভয়ভীতি দেখিয়ে বা প্রভাব খাটিয়ে জমি দখলের অভিযোগ রয়েছে, যেখানে পরবর্তীতে বাণিজ্যিক স্থাপনা বা আবাসিক ভবন নির্মাণ করা হয়েছে বলে দাবি করা হয়। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে স্বাধীনভাবে যাচাইযোগ্য প্রমাণ সর্বসমক্ষে পাওয়া যায়নি। রাজনৈতিক প্রভাব ও সহিংসতার অভিযোগ ২০২২ সালে রাজনৈতিক সহিংসতার কিছু ঘটনার সঙ্গে তার নাম জড়িয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। বিরোধী রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের ওপর হামলা ও মামলা দায়েরের পেছনে তার সংশ্লিষ্টতার অভিযোগও বিভিন্ন মহল থেকে এসেছে। যদিও এসব অভিযোগের বিষয়ে তার পক্ষ থেকে প্রকাশ্যে বিস্তারিত প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। সম্পদের প্রশ্ন লোকমান হোসেন ডাকুয়ার নামে এবং তার পরিবারের সদস্যদের নামে বিভিন্ন সম্পদ—যেমন ফ্ল্যাট, জমি, যানবাহন ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের মালিকানা থাকার কথা স্থানীয়ভাবে আলোচিত। তবে তার আয়কর নথি বা বৈধ আয়ের উৎস সম্পর্কিত তথ্য জনসমক্ষে স্পষ্টভাবে উপস্থাপিত হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে। তদন্ত ও জবাবদিহি স্থানীয়দের একটি অংশ দাবি করছেন, তার সম্পদের উৎস নিয়ে নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া প্রয়োজন। তারা মনে করেন, অভিযোগগুলো সত্য হলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত। অন্যদিকে, একাধিকবার তদন্তের উদ্যোগ নেওয়া হলেও তা কার্যকর পর্যায়ে পৌঁছায়নি বলে অভিযোগ উঠেছে। বৃহত্তর প্রেক্ষাপট বাংলাদেশে স্থানীয় সরকার ও রাজনীতির সঙ্গে সম্পদ বৃদ্ধির সম্পর্ক নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই আলোচনা রয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, ক্ষমতার সঙ্গে আর্থিক প্রভাবের সম্পর্ক থাকলেও, কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ যাচাই করা এবং প্রমাণভিত্তিক তদন্ত নিশ্চিত করা জরুরি। লোকমান হোসেন ডাকুয়ার দ্রুত সম্পদ বৃদ্ধি এবং তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলো এখনো প্রমাণিত নয়, তবে প্রশ্নগুলো রয়ে গেছে। বাকেরগঞ্জের অনেক বাসিন্দাই চান, বিষয়টি নিয়ে স্বচ্ছ তদন্ত হোক এবং প্রকৃত তথ্য জনসমক্ষে আসুক—যাতে সন্দেহ ও বিতর্কের অবসান ঘটে।

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ২৬, ২০২৬ 0
বাবুগঞ্জ এলজিইডি উপজেলা প্রকৌশলী কাজী এমামুল হক আলীম
বাবুগঞ্জে এলজিডি প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ : সরকারি অর্থ অপচয়, প্রভাবশালী চক্রের দৌরাত্ম্য

বরিশাল অফিস :    বাবুগঞ্জ উপজেলা—দক্ষিণাঞ্চলের এই জনপদে সম্প্রতি স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের একাধিক উন্নয়ন প্রকল্প নিয়ে গুরুতর অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ সামনে এসেছে। অভিযোগের কেন্দ্রে রয়েছেন বাবুগঞ্জ এলজিইডি উপজেলা প্রকৌশলী কাজী এমামুল হক আলীম। সরকারি অর্থ আত্মসাৎ, নিম্নমানের কাজ, এমনকি কাজ না করেই বিল উত্তোলনের মতো অভিযোগ এলাকায় ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। স্থানীয় বাসিন্দা, জনপ্রতিনিধি এবং সংশ্লিষ্ট সূত্রের সঙ্গে কথা বলে একটি উদ্বেগজনক চিত্র উঠে এসেছে—যেখানে উন্নয়নের নামে বরাদ্দকৃত অর্থের বড় অংশই সঠিকভাবে কাজে লাগানো হয়নি বলে অভিযোগ। বরং প্রশাসনিক দুর্বলতা, তদারকির অভাব এবং প্রভাবশালী মহলের হস্তক্ষেপ মিলিয়ে তৈরি হয়েছে এক ধরনের “অদৃশ্য দুর্নীতির কাঠামো”। সামান্য কাজ,বরাদ্দ ২ লাখ  সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে উপজেলার রহমতপুর ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডে একটি প্রকল্পের সিপিসি (কমিউনিটি প্রকিউরমেন্ট কমিটি) হিসেবে স্থানীয় ইউপি সদস্য জিয়াদুলকে দায়িত্ব দেন উপজেলা প্রকৌশলী কাজী এমামুল হক আলীম। ওই প্রকল্পের আওতায় দপ্তরের টয়লেট মেরামত ও আসবাবপত্র ক্রয়ের জন্য প্রায় ২ লাখ টাকা উত্তোলন করা হয়। তবে অভিযোগ রয়েছে, বাস্তবে খুব সামান্য কাজ করেই পুরো বরাদ্দের টাকা তুলে নেয়া হয়েছে। কাজের মান নিয়ে প্রশ্ন এদিকে ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরে রাজস্ব খাত থেকে উন্নয়ন কার্যক্রমের জন্য প্রায় ১ কোটি ১৭ লাখ টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়। এই বরাদ্দের আওতায় উপজেলার ৬টি ইউনিয়নে ৮৬টি প্রকল্প বাস্তবায়নের কথা থাকলেও অধিকাংশ প্রকল্পেই কাজের মান নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, নির্ধারিত টেন্ডার প্রক্রিয়া উপেক্ষা করে প্রভাবশালী মহলের মাধ্যমে এসব কাজ বণ্টন করা হয়েছে। পুরনো কাজ দেখিয়েই বিল উত্তোলন অভিযোগের তালিকায় রয়েছে উপজেলা প্রকৌশল দপ্তরের টাইলস মেরামতের একটি কাজও। প্রায় ৩ লাখ ৫০ হাজার টাকার এই প্রকল্পটি টেন্ডারের মাধ্যমে ‘বিডি ইঞ্জিনিয়ারিং’নামের একটি প্রতিষ্ঠান পেলেও সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারকে কাজ করতে না দিয়ে পুরনো কাজ দেখিয়েই বিল উত্তোলন করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া, কেদারপুর এইচএস জামে মসজিদের ওজুখানা নির্মাণে ১ লাখ টাকা বরাদ্দ থাকলেও যথাযথ কাজ সম্পন্ন না করেই ‘চৌধুরী কনস্ট্রাকশন’ নামের একটি প্রতিষ্ঠানকে বিল প্রদান করা হয়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে।  প্রকল্প বাস্তবায়নের আড়ালে অনিয়মের অভিযোগ ২০২৪-২৫ অর্থবছরে রহমতপুর ইউনিয়নের একটি ছোট প্রকল্পকে ঘিরেই প্রথম অভিযোগের সূত্রপাত। সূত্র অনুযায়ী, ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডে একটি উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য সিপিসি (কমিউনিটি প্রকিউরমেন্ট কমিটি) গঠন করা হয়। ওই কমিটির দায়িত্ব পান স্থানীয় ইউপি সদস্য জিয়াদুল। প্রকল্পটির আওতায় উপজেলা প্রকৌশল দপ্তরের টয়লেট সংস্কার এবং কিছু আসবাবপত্র ক্রয়ের জন্য প্রায় ২ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। কিন্তু স্থানীয়দের অভিযোগ, বাস্তবে কাজের পরিমাণ ছিল খুবই সীমিত—অথচ পুরো বরাদ্দের অর্থ তুলে নেওয়া হয়েছে। একজন স্থানীয় বাসিন্দা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “কাজের নামে সামান্য রং করা আর কয়েকটা জিনিসপত্র আনা হয়েছে। কিন্তু বিল দেখানো হয়েছে পুরো প্রকল্পের। এটা চোখে পড়ার মতো বিষয়।” এই অভিযোগ শুধু একটি প্রকল্পে সীমাবদ্ধ নয়—বরং এটি বৃহত্তর অনিয়মের ইঙ্গিত দেয় বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।  ১ কোটি ১৭ লাখ টাকার প্রকল্প—প্রশ্নবিদ্ধ বাস্তবায়ন ২০২৫-২৬ অর্থবছরে রাজস্ব খাত থেকে বাবুগঞ্জ উপজেলায় উন্নয়ন কার্যক্রমের জন্য বরাদ্দ দেওয়া হয় প্রায় ১ কোটি ১৭ লাখ টাকা। এই অর্থের আওতায় উপজেলার ছয়টি ইউনিয়নে মোট ৮৬টি প্রকল্প বাস্তবায়নের পরিকল্পনা ছিল। কাগজে-কলমে এসব প্রকল্পের তালিকা বিস্তৃত—গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন, ছোটখাটো সংস্কার কাজ, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান উন্নয়ন, অফিস মেরামতসহ নানা উদ্যোগ অন্তর্ভুক্ত ছিল। কিন্তু বাস্তব চিত্র ভিন্ন বলে দাবি স্থানীয়দের। অভিযোগ উঠেছে— * অধিকাংশ প্রকল্পেই কাজের মান নিম্নমানের * নির্ধারিত সময়ে কাজ সম্পন্ন হয়নি * কোথাও কোথাও কাজ আংশিক বা অসম্পূর্ণ অবস্থায় রয়েছে * কিছু ক্ষেত্রে কাজ না করেই বিল উত্তোলনের অভিযোগ রয়েছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, এসব প্রকল্পে টেন্ডার প্রক্রিয়া যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে। একজন স্থানীয় ঠিকাদার বলেন, “অনেক কাজই ওপেন টেন্ডারের মাধ্যমে হয়নি। প্রভাবশালী কিছু ব্যক্তি ঠিকাদারি বণ্টনে প্রভাব বিস্তার করেছে। ফলে প্রকৃত প্রতিযোগিতা হয়নি।”  টেন্ডার প্রক্রিয়া উপেক্ষা—কারা লাভবান? সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার অন্যতম প্রধান মাধ্যম হলো উন্মুক্ত টেন্ডার প্রক্রিয়া। কিন্তু বাবুগঞ্জের ক্ষেত্রে অভিযোগ উঠেছে—এই প্রক্রিয়াকে পাশ কাটিয়ে কিছু নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে কাজ দেওয়া হয়েছে। এর ফলে— * প্রকল্প ব্যয়ের তুলনায় কাজের মান কমে গেছে * প্রতিযোগিতামূলক দরপত্র না হওয়ায় অতিরিক্ত ব্যয় হয়েছে * কিছু ক্ষেত্রে “কাগুজে কাজ” দেখিয়ে বিল উত্তোলনের সুযোগ তৈরি হয়েছে বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এ ধরনের পরিস্থিতিতে প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত হয় সাধারণ জনগণ—কারণ উন্নয়নের সুফল তারা পায় না।  ‘বিডি ইঞ্জিনিয়ারিং’ প্রকল্প: কাজ ছাড়াই বিল উত্তোলনের অভিযোগ উপজেলা প্রকৌশল দপ্তরের টাইলস মেরামতের একটি প্রকল্পকে ঘিরেও গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। প্রায় ৩ লাখ ৫০ হাজার টাকার এই প্রকল্পটি টেন্ডারের মাধ্যমে ‘বিডি ইঞ্জিনিয়ারিং’ নামের একটি প্রতিষ্ঠান পায়। কিন্তু অভিযোগ অনুযায়ী— * সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারকে কাজ করতে দেওয়া হয়নি * পুরনো কাজ দেখিয়ে বিল উত্তোলন করা হয়েছে * প্রকল্প বাস্তবায়নের কোনো দৃশ্যমান প্রমাণ নেই এ বিষয়ে স্থানীয় এক ব্যবসায়ী বলেন, “আমরা দেখেছি অফিসের পুরনো টাইলসই আছে। নতুন করে কাজ হয়েছে বলে মনে হয় না। কিন্তু বিল হয়ে গেছে—এটা রহস্যজনক।” ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের উন্নয়নেও অনিয়ম? কেদারপুর এইচএস জামে মসজিদের ওজুখানা নির্মাণ প্রকল্পেও অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। এই প্রকল্পের জন্য ১ লাখ টাকা বরাদ্দ ছিল। অভিযোগ অনুযায়ী— * কাজ সম্পূর্ণভাবে শেষ করা হয়নি * নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার করা হয়েছে * কাজের প্রকৃত অগ্রগতি ছাড়াই বিল প্রদান করা হয়েছে * ‘চৌধুরী কনস্ট্রাকশন’ নামের একটি প্রতিষ্ঠান বিল পেয়েছে মসজিদ কমিটির এক সদস্য বলেন, “ওজুখানার কাজ ঠিকমতো হয়নি। আমরা বারবার বলেছি, কিন্তু কাজ শেষ না করেই বিল নিয়ে নেওয়া হয়েছে।”  প্রশাসনিক শূন্যতা: অনিয়মের সুযোগ ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর বাবুগঞ্জ উপজেলার কিছু ইউনিয়নে চেয়ারম্যান না থাকায় প্রশাসনিক কাঠামোতে একটি শূন্যতা তৈরি হয়। স্থানীয়দের মতে, এই পরিস্থিতিই অনিয়মের অন্যতম প্রধান কারণ। এই সময়ে— * প্রকল্প তদারকি দুর্বল হয়ে পড়ে * সিদ্ধান্ত গ্রহণে জবাবদিহিতা কমে যায় * স্থানীয় পর্যায়ে ক্ষমতার ভারসাম্য নষ্ট হয় ফলে কিছু অসাধু ব্যক্তি এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে উন্নয়ন প্রকল্পে অনিয়ম করার সুযোগ পেয়েছে বলে অভিযোগ। একজন সমাজকর্মী বলেন, “যেখানে তদারকি নেই, সেখানে দুর্নীতি হওয়া খুবই স্বাভাবিক। এখানে সেটাই হয়েছে।”  অভিযোগ অস্বীকার প্রশাসনের অভিযোগের বিষয়ে উপজেলা প্রকৌশলী কাজী এমামুল হক আলীম বলেন, “সব কাজই নিয়ম অনুযায়ী হয়েছে। কোনো অনিয়ম হয়নি। ঠিকাদারের মাধ্যমে কাজ সম্পন্ন হয়েছে।” তিনি আরও বলেন, বিস্তারিত জানতে চাইলে অফিসে এসে ফাইল পর্যালোচনা করা যেতে পারে। অন্যদিকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বলেন, “অভিযোগগুলো গুরুত্বসহকারে দেখা হচ্ছে। তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” স্থানীয়দের দাবি: নিরপেক্ষ তদন্ত ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এলাকাবাসীর প্রধান দাবি হলো— * নিরপেক্ষ তদন্ত * প্রকল্পভিত্তিক অডিট * দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা তাদের মতে, যদি দ্রুত ব্যবস্থা না নেওয়া হয়, তাহলে উন্নয়ন কার্যক্রমের প্রতি মানুষের আস্থা আরও কমে যাবে। একজন প্রবীণ নাগরিক বলেন, “সরকার টাকা দিচ্ছে উন্নয়নের জন্য। কিন্তু যদি সেই টাকা সঠিকভাবে ব্যবহার না হয়, তাহলে উন্নয়নের কোনো অর্থ থাকে না।”  বৃহত্তর প্রেক্ষাপট: স্থানীয় উন্নয়নে স্বচ্ছতার সংকট বাবুগঞ্জের ঘটনাটি কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়—বরং এটি বাংলাদেশের স্থানীয় সরকার ব্যবস্থায় বিদ্যমান কিছু কাঠামোগত সমস্যার প্রতিফলন বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। এই সমস্যাগুলোর মধ্যে রয়েছে— * দুর্বল তদারকি ব্যবস্থা * রাজনৈতিক প্রভাব * স্বচ্ছতার অভাব * জবাবদিহিতার সীমাবদ্ধতা বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, প্রযুক্তিনির্ভর মনিটরিং, সামাজিক অডিট এবং জনগণের অংশগ্রহণ বাড়ানো গেলে এই ধরনের অনিয়ম অনেকাংশে কমানো সম্ভব।  আস্থা পুনর্গঠনের চ্যালেঞ্জ বাবুগঞ্জ উপজেলার উন্নয়ন প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগ শুধু আর্থিক দুর্নীতির বিষয় নয়—এটি জনআস্থার সঙ্গেও জড়িত। উন্নয়নের নামে যদি প্রকল্প বাস্তবায়ন হয় কিন্তু তার সুফল জনগণের কাছে না পৌঁছায়, তাহলে পুরো ব্যবস্থাটিই প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়ে। বর্তমানে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো— * অভিযোগগুলোর সুষ্ঠু তদন্ত * স্বচ্ছতার নিশ্চয়তা * দায়ীদের জবাবদিহিতার আওতায় আনা এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই কেবল জনগণের আস্থা পুনরুদ্ধার করা সম্ভব। বাবুগঞ্জের মানুষ এখন অপেক্ষায়—তদন্তের ফলাফল কী আসে, এবং প্রশাসন কতটা কার্যকরভাবে এই অভিযোগগুলোর মোকাবিলা করতে পারে।  

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ২৬, ২০২৬ 0
এইচ এম আনসার
কোটালীপাড়ায় টিআর-কাবিখা প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগ, পিআইও-র বিরুদ্ধে ঘুষ ও দুর্নীতির অভিযোগ ঘিরে অনুসন্ধান

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : কোটালীপাড়ায় সরকারি উন্নয়ন প্রকল্প ঘিরে ওঠা দুর্নীতির অভিযোগের পর এবার প্রশ্ন আরও গভীর—এই প্রকল্পগুলো কি আদৌ জনগণের জন্য, নাকি কেবল নথিপত্রে সীমাবদ্ধ এক উন্নয়ন ব্যবস্থার অংশ? গত পর্বে ওঠা অভিযোগগুলোতে বলা হয়, টিআর, কাবিখা এবং বিভিন্ন অবকাঠামো প্রকল্প বাস্তবায়নে অনিয়ম, ভুয়া বিল এবং অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) এইচ এম আনসারের বিরুদ্ধে। তবে এবার স্থানীয় পর্যায়ের বাস্তব চিত্র আরও বিস্তৃতভাবে উঠে এসেছে।  “কাজ আছে কাগজে, মাঠে নেই কিছুই” কোটালীপাড়ার কয়েকটি ইউনিয়ন ঘুরে দেখা যায়, একাধিক প্রকল্পের নাম থাকলেও বাস্তবে কাজের কোনো চিহ্ন নেই। একজন স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, “কাগজে রাস্তা মেরামত দেখানো হয়েছে, কিন্তু আমাদের গ্রামে সেই রাস্তা এখনও আগের মতোই ভাঙা।” আরও পড়ুন: কোটালীপাড়ার পিআইও আনসারের সম্পদের পাহাড় বরিশাল ও ঢাকায় আরেকজন কৃষক জানান, “প্রকল্পের কাজ শেষ দেখানো হয়, কিন্তু আমরা তো কোনো কাজই দেখি না।” স্থানীয়দের মতে, প্রকল্প অনুমোদন, বাস্তবায়ন এবং বিল উত্তোলনের পুরো প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতার ঘাটতি স্পষ্ট।  “অফিস খরচ” নাকি নিয়মিত কাটছাঁট? একাধিক ইউপি সদস্য ও সংশ্লিষ্ট সূত্র দাবি করেছে, প্রকল্পের অর্থ বিতরণে একটি অনানুষ্ঠানিক নিয়ম তৈরি হয়েছে। তাদের অভিযোগ অনুযায়ী, * প্রকল্পের মোট অর্থের ১৫% থেকে ৪০% পর্যন্ত কেটে রাখা হয় * “অফিস খরচ” বা “ম্যানেজমেন্ট ফি” নামে অর্থ সংগ্রহ করা হয় * কাজ সম্পন্ন না হলেও বিল অনুমোদনের নজির রয়েছে একজন ইউপি সদস্য নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “টাকা না দিলে ফাইল এগোয় না—এটা এখন অলিখিত নিয়মে পরিণত হয়েছে।”  টিআর ও কাবিখা প্রকল্প: সবচেয়ে বেশি প্রশ্ন এখানেই গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়নের জন্য গুরুত্বপূর্ণ টিআর ও কাবিখা প্রকল্প নিয়েই সবচেয়ে বেশি অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় সূত্র বলছে— * প্রকল্পের কাজ অনেক ক্ষেত্রে বাস্তবে হয়নি * শ্রমিকদের পরিবর্তে কাগজে নাম দেখানো হয়েছে * প্রকল্প সভাপতি ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরের মধ্যে সমন্বিত ভাগাভাগির অভিযোগ রয়েছে একজন স্থানীয় সমাজকর্মী বলেন, “এখানে উন্নয়ন নয়, বরং উন্নয়নের নামে লেনদেন চলছে।”  সম্পদের প্রশ্নে নতুন মাত্রা অভিযুক্ত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ওঠা সম্পদ সংক্রান্ত অভিযোগও স্থানীয় আলোচনায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে। স্থানীয়দের দাবি অনুযায়ী— * বরিশাল ও ঢাকায় ফ্ল্যাট * বিভিন্ন এলাকায় জমি * ব্যক্তিগত ও পারিবারিক নামে সম্পদ বৃদ্ধি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সম্পদের উৎস যাচাই জরুরি।”  প্রশাসনিক নীরবতা: সবচেয়ে বড় প্রশ্ন এত অভিযোগ প্রকাশ্যে আসার পরও প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো দৃশ্যমান তদন্ত কমিটি বা আনুষ্ঠানিক বিবৃতি না থাকায় প্রশ্ন উঠছে। একজন স্থানীয় শিক্ষাবিদ বলেন, “অভিযোগ যদি সত্য না হয়, তাহলে তদন্তে ভয় কিসের? আর যদি সত্য হয়, তাহলে দেরি কেন?”  বিশেষজ্ঞদের বিশ্লেষণ সুশাসন বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, উপজেলা পর্যায়ের উন্নয়ন ব্যবস্থায় কাঠামোগত দুর্বলতা রয়েছে। তাদের মতে প্রয়োজন— * স্বাধীন ও নিরপেক্ষ অডিট * ডিজিটাল প্রকল্প ট্র্যাকিং * সামাজিক নিরীক্ষা বাধ্যতামূলক করা * প্রকল্প ব্যয়ের অনলাইন প্রকাশ   অভিযোগের পরও নীরবতা স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও সচেতন মহল বলছেন, এত গুরুতর অভিযোগ প্রকাশ্যে আসার পরও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নীরবতা রহস্যজনক। একজন সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান বলেন, “এত অভিযোগ ওঠার পরও যদি তদন্ত না হয়, তাহলে মানুষের বিশ্বাস থাকবে কোথায়?” আরেকজন স্থানীয় ব্যবসায়ী মন্তব্য করেন, “সবাই জানে কী হচ্ছে, কিন্তু কেউ ব্যবস্থা নেয় না—এটাই সবচেয়ে ভয়ঙ্কর বিষয়।” মাঠপর্যায়ে বাস্তবতা যাচাইয়ের দাবি স্থানীয়দের দাবি, কাগজে-কলমে দেখানো প্রকল্পগুলোর বাস্তব অবস্থা সরেজমিনে যাচাই করা হোক। বিশেষ করে টিআর ও কাবিখা প্রকল্পের ক্ষেত্রে অভিযোগ রয়েছে— অনেক কাজ বাস্তবে হয়নি, নিম্নমানের কাজ দেখিয়ে বিল তোলা হয়েছে, প্রকৃত শ্রমিকদের বঞ্চিত করা হয়েছে। একজন তরুণ সমাজকর্মী বলেন, “প্রশাসন চাইলে এক সপ্তাহের মধ্যে সব সত্য বের হয়ে আসবে—শুধু সদিচ্ছা দরকার।” সম্পদ তদন্তের দাবি জোরালো এইচ এম আনসারের বিরুদ্ধে নামে-বেনামে বিপুল সম্পদ গড়ে তোলার অভিযোগ নিয়েও এখন প্রশ্ন উঠছে। সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা বলছেন, আয়কর নথি যাচাই, ব্যাংক লেনদেন বিশ্লেষণ, সম্পত্তির উৎস অনুসন্ধান —এসবের মাধ্যমে সহজেই সত্যতা যাচাই করা সম্ভব। একজন আইনজীবীর ভাষায়, “দুর্নীতি দমন কমিশন চাইলে স্বপ্রণোদিত হয়ে তদন্ত করতে পারে। এখানে অভিযোগের গুরুত্ব অনেক বেশি।” কী হতে পারে পদক্ষেপ সম্ভাব্য ? বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পরিস্থিতি সামাল দিতে দ্রুত কিছু পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি: স্বাধীন তদন্ত কমিটি গঠন প্রকল্পভিত্তিক অডিট সংশ্লিষ্টদের সাময়িক দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি জনসাধারণের জন্য প্রকল্প তথ্য উন্মুক্ত করা জনআস্থার সংকট স্থানীয়দের আশঙ্কা, এ ধরনের অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত না হলে সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পের প্রতি মানুষের আস্থা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। একজন শিক্ষক বলেন, “উন্নয়নের টাকা যদি লুটপাট হয়, তাহলে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয় সাধারণ মানুষই।” কোটালীপাড়ার উন্নয়ন প্রকল্প ঘিরে ওঠা অভিযোগ এখন শুধু একটি প্রশাসনিক ইস্যু নয়—এটি জনআস্থা, সুশাসন এবং জবাবদিহিতার প্রশ্নে পরিণত হয়েছে। অভিযোগের সত্যতা নিরপেক্ষভাবে যাচাই করে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে কি না—এখন সেটিই দেখার অপেক্ষা।    পরবর্তী পর্বে কী থাকছে? পরবর্তী পর্বে অনুসন্ধান করা হবে— * প্রকল্পের অর্থ প্রবাহের প্রকৃত চিত্র * কোন পর্যায়ে সিদ্ধান্তে অনিয়ম হচ্ছে * এবং স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের ভূমিকা কতটা দায়ী   কোটালীপাড়ার উন্নয়ন প্রকল্প ঘিরে অভিযোগ এখন আর শুধু অনিয়মের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই—এটি একটি কাঠামোগত প্রশ্নে পরিণত হয়েছে। প্রকল্প বাস্তবায়নের নামে যদি জবাবদিহিতা না থাকে, তাহলে উন্নয়নের প্রকৃত সুফল জনগণের কাছে পৌঁছায় না—এমনটাই মনে করছেন স্থানীয়রা।    

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ২৬, ২০২৬ 0
কোটালীপাড়া উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা এইচ এম আনসার
কোটালীপাড়ার পিআইও আনসারের সম্পদের পাহাড় বরিশাল ও ঢাকায়

মামুনুর রশীদ নোমানী : গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া উপজেলায় সরকারি উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন নিয়ে একাধিক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও প্রকল্প সংশ্লিষ্টদের অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) এইচ এম আনসার। নামে বেনাসে সম্পদের পাহাড়।বরিশালে জমি,ফ্লাট,ঢাকায় ফ্লাট,প্রায় দুই শত ভরি স্বর্ন, গাড়িসহ রয়েছে ঢাকা,বরিশাল ও বাকেরগঞ্জে জমি। বরিশালের প্রান কেন্দ্র সদর রোডের একটি বহুতল ভবনেও রয়েছে তার ফ্লাট। তার  আত্মীয় জেলা ত্রান ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা হওয়ায় দুর্নীতি করে পার পেযে যাচ্ছেন বার বার।   “১৫ থেকে ৪০ শতাংশ পর্যন্ত ঘুষ”—স্থানীয়দের অভিযোগ স্থানীয় একাধিক ইউপি সদস্য ও চেয়ারম্যানের দাবি, বিভিন্ন সরকারি প্রকল্প বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট হারে অর্থ কেটে রাখা হয়। তাদের অভিযোগ অনুযায়ী, প্রকল্পভেদে ১৫ থেকে ৪০ শতাংশ পর্যন্ত অর্থ “অফিস খরচ” বা অনানুষ্ঠানিক খাতে দিতে হয়। একজন ইউপি সদস্য নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “প্রকল্প শেষ করার পর বিল নিতে গেলে পুরো টাকা পাওয়া যায় না। বিভিন্ন খাতে কেটে রাখা হয়।” আরেকজন জনপ্রতিনিধির দাবি, “কাজ ঠিকমতো করলেও একটি নির্দিষ্ট অংশ দিতে হয়, না দিলে বিল পেতে সমস্যা হয়।”   টিআর ও কাবিখা প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগ কোটালীপাড়া উপজেলার গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়নের গুরুত্বপূর্ণ দুটি কর্মসূচি—টিআর ও কাবিখা—নিয়ে বিশেষ অভিযোগ উঠেছে। সূত্রগুলোর দাবি, কিছু প্রকল্প বাস্তবে সম্পন্ন না করেই বিল উত্তোলন করা হয়েছে, প্রকল্প সভাপতি ও দপ্তরের মধ্যে যোগসাজশে অর্থ বণ্টন হয়েছে, শ্রমভিত্তিক প্রকল্প হলেও প্রকৃত শ্রমিকরা পুরো সুবিধা পাননি। একজন স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, “কাগজে কাজ হয়, কিন্তু মাঠে আমরা অনেক সময় তার অস্তিত্ব দেখি না।”   “কাজের আগে টাকা”—একটি অভিযোগ একাধিক সূত্রের দাবি, প্রকল্প বাস্তবায়নের আগে বা চলাকালে অর্থ লেনদেন একটি অনানুষ্ঠানিক নিয়মে পরিণত হয়েছে। একজন ঠিকাদার নাম প্রকাশ না করে বলেন, “কিছু না দিলে ফাইল এগোয় না—এটাই বাস্তবতা হয়ে গেছে।” মেরামত ও সংস্কারের জন্য সরকারি ও বিভিন্ন সংস্থার বরাদ্দ অর্থের বেশির ভাগ তছরুপ হচ্ছে। এসব প্রকল্প বাস্তবায়নের দায়িত্বে থাকা কোটালীপাড়া পজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্টদের একাংশ দুর্নীতিতে জড়িয়ে পড়ছেন। বেশির ভাগ কাজ না করে পিআইও মাধ্যমে ভাগ বাটোয়ারা হয়ে থাকে। কোটালীপাড়া উপজেলার অনুকূলে বরাদ্দ অর্থ সমন্বয় কমিটির সভার মাধ্যমে বণ্টন হয় বিভিন্ন ইউনিয়নভুক্ত এলাকার প্রকল্পের নামে। যা বাস্তবায়নের দায়িত্বে জনপ্রতিনিধিরা থাকলেও দেখাশোনার দায়িত্ব থাকে কোটালীপাড়া উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার ওপর।  প্রকল্প কাগজকলমে থাকলেও এগুলো বাস্তবে মাঠে হদিস খুঁজে পাচ্ছে না। এসব প্রকল্পের নামের তালিকা কাজগুলো কোটালীপাড়া উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা ইউনিয়ন পরিষদের মেম্বার ও চেয়ারম্যানের মাধ্যমে ভুয়া বিল জমা দিয়ে কাজ না করেই প্রকল্পের টাকা ভাগবাটোয়ারা করে নেন পিআইও।   বরাদ্দ অর্থের সিংহভাগ তছরুপ হচ্ছে অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে   কোটালীপাড়া উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নভুক্ত মাদ্রাসা, মসজিদ, মন্দির, কবরস্থান, শ্মশানঘাট, রাস্তাঘাট, ব্রিজ, কালভার্ট স্থাপন, মেরামত ও সংস্কারের জন্য সরকারি ও বিভিন্ন সংস্থার বরাদ্দ অর্থের সিংহভাগ তছরুপ হচ্ছে অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে।দেশের তৃণমূলে উন্নয়ন ও দরিদ্রদের সহায়ক হিসেবে সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন সংস্থার নানা অর্থ বরাদ্দ হয় উপজেলায়। উন্নয়নের জন্য ত্রাণ, দুর্যোগ ও পুনর্বাসন এবং স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয় এবং এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) উপজেলা পর্যায়ে থোক বরাদ্দ, সাধারণ ও বিশেষ নামে পরিচিত।অনুসন্ধানে জানা যায়, গ্রামীণ অবকাঠামো সংস্কার কাবিটা বা কাবিখা কর্মসূচির আওতায় প্রথম ও দ্বিতীয় পর্যায়ে কাবিটা,গ্রামীণ অবকাঠামো রক্ষণাবেক্ষণ টিআর কর্মসূচি,  গ্রামীণ অবকাঠামো সংস্কার কাবিটা বা কাবিটা কর্মসূচির আওতায় তৃতীয় পর্যায়ের কাবিটা এবং গ্রামীণ অবকাঠামো রক্ষণাবেক্ষণ টিআর কর্মসূচির আওতায় প্রকল্পের কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে।  ইউনিয়ন পর্যায়ে বরাদ্দের বিপরীতে প্রকল্প তালিকা জমা দেন।কয়েকজন সদস্য বলেন, তারা প্রকল্পের কাজ সমাপ্ত করে বিলের জন্য পিআইও অফিস থেকে নগদ টাকা বিল নিয়ে যান। অফিস খরচ বাবদ ১৯ শতাংশ টাকা কম দেওয়া হয় । সদস্য বলেন, একটি প্রকল্পে আমাকে বরাদ্দ দেয়। বিল পিআইও অফিস থেকে নগদ টাকায় দিয়েছে। বাকি টাকা খরচ হিসেবে কেটে রাখা হয়েছে।     উন্নয়ন প্রকল্প নিয়ে প্রশ্ন স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়ের অধীনে কোটালীপাড়ায় নিয়মিত উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন হয়। এসব প্রকল্পের লক্ষ্য থাকে: গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন, দরিদ্র জনগোষ্ঠীর কর্মসংস্থান সৃষ্টি, জরুরি সংস্কার কাজ।   গ্রামীণ অবকাঠামোর রক্ষণাবেক্ষণ ও সংস্কারে টিআর ও কাবিখার প্রকল্পের কাজ না করেই টাকা আত্মসাতের অভিযোগের ঘটনায় উপজেলাজুড়েই ব্যাপক তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। সংশ্লিষ্ট প্রকল্প সভাপতি ও উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) নিজেদের মধ্যে যোগসাজশে এসব টাকা আত্মসাৎ করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।   কিন্তু অভিযোগ রয়েছে, এসব প্রকল্পের একটি অংশ কাগজে-কলমে সীমাবদ্ধ থেকে যাচ্ছে। কোটালীপাড়া  উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন এইচ এম আনসার এর যোগদান করার পর টাকা ছাড়া কোনো ফাইল নড়ে না। আগে টাকা পরে কাজ, সঠিক কাজ করলে ২০ ভাগ ঘুষ দিতে হবে, না দিলে হয়রানির শিকার হতে হয়। আর সরকারি প্রকল্পে ২০ থেকে ২৫ শতাংশ পর্যন্ত ঘুস নেওয়ার অভিযোগের ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেছেন ইউপি মেম্বার চেয়ারম্যানরা। বিশেষ করে গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়নের লক্ষ্যে সরকারি বরাদ্দের টাকা নয়ছয় করা হচ্ছে।   সম্পদ গঠনের অভিযোগ নামে ও আত্মীয়দের মাধ্যমে বিভিন্ন স্থানে জমি, ফ্ল্যাট এবং অন্যান্য সম্পদ রয়েছে।বরিশালে জমি,ফ্লাট,ঢাকায় ফ্লাট,প্রায় দুই শত ভরি স্বর্ন, গাড়িসহ রয়েছে ঢাকা,বরিশাল ও বাকেরগঞ্জে জমি। বরিশালের প্রান কেন্দ্র সদর রোডের একটি বহুতল ভবনেও রয়েছে তার ফ্লাট।বরিশাল নগরীর চৈতন্য স্কুল এলাকায় রয়েছে জমি ও ফ্লাট। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এ ধরনের অভিযোগ যাচাই করতে আয়কর নথি, সম্পত্তি রেকর্ড ও ব্যাংকিং তথ্য বিশ্লেষণ প্রয়োজন।   প্রশাসনিক নীরবতা নিয়ে প্রশ্ন এতগুলো অভিযোগের পরও কোনো দৃশ্যমান তদন্ত না হওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে প্রশ্ন উঠেছে। একজন স্থানীয় নাগরিক বলেন, “অভিযোগ বহুদিনের, কিন্তু কোনো সমাধান দেখা যাচ্ছে না।”   বিশেষজ্ঞদের মতামত সুশাসন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, উপজেলা পর্যায়ের প্রকল্প ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে হলে: ডিজিটাল মনিটরিং ব্যবস্থা চালু করা, প্রকল্প তথ্য জনসমক্ষে প্রকাশ করা, সামাজিক নিরীক্ষা বাধ্যতামূলক করা, নিয়মিত নিরপেক্ষ অডিট করা। তাদের মতে, জবাবদিহিতা না থাকলে উন্নয়ন প্রকল্পে অনিয়মের ঝুঁকি বাড়ে।   কোটালীপাড়া উপজেলার উন্নয়ন প্রকল্প নিয়ে ওঠা অভিযোগগুলো স্থানীয় পর্যায়ে ব্যাপক আলোচনা ও উদ্বেগ তৈরি করেছে। অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাইয়ের জন্য নিরপেক্ষ তদন্তের প্রয়োজনীয়তা রয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। সরকারি অর্থ ব্যবহারে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা না গেলে উন্নয়ন কার্যক্রমের ওপর মানুষের আস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে—এমন আশঙ্কাও প্রকাশ করেছেন বিশ্লেষকরা। অভিযোগের ব্যাপারে  কোটালীপাড়া উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা এইচ এম আনসার এর সরকারি ও নিজস্ব মোবাইল নম্বরে কল করা হলেও তিনি  রিসিভ করেন নি।ফলে তার বক্তব্য দেযা সম্ভব হয়নি।  

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ২৩, ২০২৬ 0
রুমানা আফরোজ
বাকেরগঞ্জের সাবেক ইউএনও রুমানা আফরোজের বিরুদ্ধে কোটি টাকার ঘুষ ও দুর্নীতির অভিযোগ

বরিশালের বাকেরগঞ্জে ইউএনওকে ঘিরে ‘পার্সেন্টেজ বাণিজ্য’ অভিযোগ বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলায় সদ্য বদলি হওয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজকে ঘিরে ব্যাপক অনিয়ম, দুর্নীতি ও ‘পার্সেন্টেজ বাণিজ্য’-এর অভিযোগ উঠেছে। প্রায় ১৫ মাস দায়িত্ব পালনের সময়কালে বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প, ত্রাণ বরাদ্দ এবং প্রশাসনিক কার্যক্রমে কোটি টাকার লেনদেন হয়েছে বলে অভিযোগ করছেন স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, ঠিকাদার এবং সংশ্লিষ্টরা। যদিও এসব অভিযোগ সরাসরি অস্বীকার করেছেন ওই কর্মকর্তা। অভিযোগের ধরন: বিল পাস থেকে বরাদ্দ—সবখানেই ‘নির্ধারিত হার’? অভিযোগ অনুযায়ী, ২০২৪ সালের শুরুতে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই উন্নয়ন প্রকল্পের বিল অনুমোদনে নির্দিষ্ট হারে কমিশন আদায় শুরু হয়। উপজেলা পরিষদের একাধিক সূত্র জানায়, ২০২৪-২৫ ও ২০২৫-২৬ অর্থবছরে প্রায় ১৩ কোটি টাকার উন্নয়ন প্রকল্পে বিল উত্তোলনের ক্ষেত্রে ১২ শতাংশ পর্যন্ত ঘুষ দিতে হয়েছে। ত্রাণ ও পুনর্বাসন খাতের প্রকল্পে ৫ শতাংশ, বার্ষিক উন্নয়ন প্রকল্পে ২ শতাংশ, এলজিইডি প্রকল্পেও ২ শতাংশ হারে অর্থ আদায়ের অভিযোগ রয়েছে। এই অর্থ সরাসরি ইউএনওর নামে তার কার্যালয়ের কিছু কর্মকর্তার মাধ্যমে সংগ্রহ করা হতো বলে অভিযোগ। একজন ঠিকাদার জানান, “বিল তুলতে গেলে নির্ধারিত পার্সেন্টেজ না দিলে ফাইল এগোতো না।” কাবিখা ও টিআর প্রকল্পেও অভিযোগ কাবিখা (কাজের বিনিময়ে খাদ্য) প্রকল্পেও অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। একজন ইউপি সদস্যের পরিবারের সদস্যের দাবি, ১ লাখ ২৫ হাজার টাকার প্রকল্পে প্রায় ১৮,৭৫০ টাকা ঘুষ দিতে হয়েছে। অন্য ইউনিয়নগুলোর প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির সদস্যরাও একই ধরনের অভিযোগ করেছেন। ‘অস্তিত্বহীন এতিমখানা’ ও বরাদ্দ প্রশ্নে বিতর্ক ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ১৫টি এতিমখানার নামে ১৫ টন জিআর (গ্র্যাটুইটাস রিলিফ) চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়। তবে স্থানীয়দের দাবি, এসব প্রতিষ্ঠানের অনেকগুলোর বাস্তব অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়া যায়নি। এছাড়া: সড়ক সংস্কার ও ড্রেন পরিষ্কারের নামে ১০ লাখ টাকা ব্যয়ের হিসাব দেখানো হলেও কাজের দৃশ্যমান প্রমাণ নেই বলে অভিযোগ পরিত্যক্ত ঘোষিত সরকারি বাসভবনে যাওয়ার রাস্তা মেরামতে ৬ লাখ টাকা ব্যয়ের দাবি নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে পৌর প্রশাসক হিসেবেও একই অভিযোগ ইউএনও হিসেবে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি পৌর প্রশাসকের দায়িত্বেও ছিলেন রুমানা আফরোজ। এখানেও অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেছে। পৌরসভার সংশ্লিষ্টদের দাবি: ঠিকাদারি বিল পেতে ৫ শতাংশ ঘুষ জামানতের টাকা ফেরত নিতেও একই হার প্রকৌশল শাখায় কাজ পেতে ২ শতাংশ কমিশন এক বছরে প্রায় ৩০ কোটি টাকার প্রকল্পের মধ্যে অন্তত ৫ কোটি টাকার বিল থেকে প্রায় ২৫ লাখ টাকা ঘুষ আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। ‘অপ্রয়োজনীয় প্রকল্প’ ও তড়িঘড়ি দরপত্র বদলির আগে তড়িঘড়ি করে প্রায় ১ কোটি ১০ লাখ টাকার ছয়টি প্রকল্পের দরপত্র আহ্বান করা হয়। এর মধ্যে তিনটি প্রকল্পে ৬৩ লাখ টাকার ব্যয় প্রস্তাবকে সংশ্লিষ্টরা “অস্বাভাবিক” ও “অপ্রয়োজনীয়” বলে উল্লেখ করেছেন। চাঁদা আদায়ের অভিযোগ জাতীয় দিবস উদযাপনের নামে ইটভাটা ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান থেকে অর্থ আদায়ের অভিযোগও রয়েছে। স্থানীয়দের দাবি: প্রতি ইটভাটা থেকে ৫,০০০–৮,০০০ টাকা পর্যন্ত নেওয়া হতো না দিলে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে জরিমানার ভয় দেখানো হতো নামজারি অনুমোদনেও অনিয়ম? অভিযোগ রয়েছে, অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকাকালে প্রায় ১,০০০ নামজারির বিপরীতে প্রতিটি থেকে ১,০০০ টাকা করে অতিরিক্ত আদায় করা হয়েছে, যা মোট প্রায় ১০ লাখ টাকার সমান। ইউএনওর বক্তব্য: “অপপ্রচার” সব অভিযোগ অস্বীকার করে রুমানা আফরোজ বলেন: “অনেকেই অনৈতিক সুবিধা নিতে চেয়েছেন। তাদের দাবি না মানায় আমার বিরুদ্ধে এসব অপপ্রচার ছড়ানো হচ্ছে। কাজের চাপে কিছু ভুলত্রুটি হতে পারে, কিন্তু দুর্নীতির অভিযোগ সত্য নয়।” প্রশ্নগুলো রয়ে যাচ্ছে এই ঘটনায় কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন সামনে এসেছে: প্রকল্প বরাদ্দ ও বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে তদারকি কতটা কার্যকর? স্থানীয় প্রশাসনে ‘পার্সেন্টেজ সংস্কৃতি’ কতটা প্রাতিষ্ঠানিক রূপ নিয়েছে? অভিযোগগুলো তদন্তে কি স্বাধীন ও নিরপেক্ষ প্রক্রিয়া নিশ্চিত হবে?  স্থানীয় পর্যায়ে এই বিষয়টি ইতোমধ্যেই ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ২১, ২০২৬ 0
ব্রিজে রডের বদলে বাঁশের কঞ্চি
আগৈলঝাড়ায় ব্রিজ ঢালাইয়ে রডের বদলে বাঁশের কঞ্চি ব্যবহারের অভিযোগ, ঢালাই ভেঙে পুনর্নির্মাণের নির্দেশ

বরিশাল অফিস :    বরিশালের আগৈলঝাড়া উপজেলায় একটি ব্রিজের ঢালাইয়ে রডের পরিবর্তে বাঁশের কঞ্চি ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। বিষয়টি স্থানীয়ভাবে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে ব্রিজটির ঢালাই ভেঙে ফেলার নির্দেশ দিয়েছেন স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)–এর প্রকৌশলী। পরে উপজেলার রত্নপুর ইউনিয়নের দুশুমি-করিমবাজার খালের ওপর রুহুল আমিনের বাড়ির সামনে নির্মিত ব্রিজটি সরেজমিনে পরিদর্শনে যান আগৈলঝাড়া উপজেলা এলজিইডির প্রকৌশলী রবীন্দ্র চক্রবর্তী। পরিদর্শনকালে উপস্থিত স্থানীয় শতাধিক মানুষের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, মঙ্গলবার ব্রিজের ঢালাইয়ের সময় শেষ অংশে রডের পরিবর্তে বাঁশের কঞ্চি যুক্ত করে ঢালাই দেন ওই ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য সোহেল মোল্লা। এলজিইডি প্রকৌশলী সরেজমিনে গিয়ে অভিযোগের সত্যতা পাওয়ার পর ব্রিজটির ঢালাই ভেঙে পুনরায় নির্মাণের নির্দেশ দেন। এ বিষয়ে আগৈলঝাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) লিখন বণিক জানান, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি জানার পর উপজেলা প্রকৌশলীকে সরেজমিনে পাঠানো হয়। পরে তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়। তিনি আরও জানান, ব্রিজটির স্ট্রাকচারটি গত অর্থবছরে উপজেলা পরিষদের ১ শতাংশ অর্থায়নে নির্মিত হয়েছিল। তবে সেই সময় উপরের ঢালাই সম্পন্ন হয়নি। চলতি অর্থবছরে ঢালাইয়ের জন্য কোনো সরকারি বরাদ্দ বা অনুমোদন ছিল না বলে জানান ইউএনও। স্থানীয় এক ইউপি সদস্য নিজের উদ্যোগে ও এলাকাবাসীর সহায়তায় ঢালাই কাজ করেন। তবে শেষ অংশে এসে রডের পরিবর্তে বাঁশের কঞ্চি ব্যবহার করা হয়। উপজেলা প্রকৌশলীর বরাতে তিনি বলেন, বাঁশ ব্যবহারের কারণে কাঠামোটি পর্যাপ্ত মজবুত হয়নি, তাই এটি ভেঙে সরকারি নিয়ম মেনে নতুন করে নির্মাণ করা হবে। তিনি আরও সতর্ক করে বলেন, ভবিষ্যতে এ ধরনের অনিয়ম করে সরকারি প্রকল্পের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার চেষ্টা করলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ১৭, ২০২৬ 0
বগুড়া- শেরপুর- পৌর আইন
বগুড়ার শেরপুরে অনুমোদন ছাড়াই ভবন নির্মাণের অভিযোগ, প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন

শেরপুর: বগুড়ার শেরপুর পৌরসভায় অনুমোদন ছাড়াই প্রভাব খাটিয়ে ভবন নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে। এতে পৌর আইন লঙ্ঘনের পাশাপাশি নগর পরিকল্পনা ও নাগরিক নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। পৌর শহরের রামচন্দ্রপুর পাড়ায় (মাবিয়া কমপ্লেক্সের উত্তর পাশে) ‘সাকিব’ নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে প্রভাব খাটিয়ে ভবন নির্মাণের অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা। তাঁদের দাবি, কোনো প্রকার অনুমোদন ছাড়াই নির্মাণকাজ চালিয়ে যাওয়া হলেও প্রশাসন কার্যত নীরব ভূমিকা পালন করছে। বাংলাদেশের স্থানীয় সরকার (পৌরসভা) আইন, ২০০৯ অনুযায়ী পৌর এলাকায় কোনো ভবন নির্মাণের আগে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমোদন নেওয়া বাধ্যতামূলক। তবে বাস্তবে শেরপুর পৌরসভার বিভিন্ন এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে এই আইন উপেক্ষিত হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের মতে, অপরিকল্পিত ও গা-ঘেঁষাঘেঁষি ভবন নির্মাণের কারণে সড়ক সংকুচিত হয়ে পড়ছে, ড্রেনেজ ব্যবস্থা ব্যাহত হচ্ছে এবং জননিরাপত্তা ঝুঁকির মুখে পড়ছে। এতে ভবিষ্যতে বড় ধরনের নগর সংকট তৈরি হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তারা। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন পৌর নাগরিক অভিযোগ করেন, পৌরসভার প্রকৌশল বিভাগ দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হয়েছে। তাঁদের ভাষ্য, “প্রভাবশালী হওয়ায় কোনো অনুমতি ছাড়াই ভবন নির্মাণ করা হলেও প্রশাসন কার্যকর পদক্ষেপ নিচ্ছে না।” এ বিষয়ে শেরপুর পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলীর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, ভবন নির্মাণকারীরা কোনো অনুমতি নেননি। তবে এ বিষয়ে কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে—সে প্রশ্ন এড়িয়ে যান তিনি। অন্যদিকে, শেরপুর পৌর প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বলেন, “আমি নতুন দায়িত্ব গ্রহণ করেছি। আমার যোগদানের পর এখন পর্যন্ত নতুন কোনো অনুমোদন দেওয়া হয়নি। পূর্বে কী হয়েছে, তা আমার জানা নেই।” তিনি আরও বলেন, “সম্প্রতি একটি ভবন নির্মাণের বিষয়ে অভিযোগ পেয়েছি। যদি পৌর আইন লঙ্ঘন হয়ে থাকে, তাহলে অবশ্যই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” নগর পরিকল্পনাবিদদের মতে, এ ধরনের অনিয়ন্ত্রিত নির্মাণ একদিকে যেমন জীবনঝুঁকি বাড়ায়, অন্যদিকে শহরের পরিবেশ ও সৌন্দর্য নষ্ট করে। দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে বলে সতর্ক করেছেন তারা।

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ১৭, ২০২৬ 0
জাতীয় সংসদ
সংসদে পৌরসভা সংশোধন বিল পাস: থাকছে না দলীয় প্রতীক

 ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : জাতীয় সংসদে স্থানীয় সরকার (পৌরসভা) সংশোধন বিল-২০২৬ পাস হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের পক্ষে মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম সংসদে বিলটি উত্থাপন করেন। পরে সেটি কণ্ঠভোটে পাস হয়। এ বিল পাসের মধ্যদিয়ে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে দলীয় প্রতীক থাকছে না। সম্প্রতি স্থানীয় সরকার ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর, জবাবদিহিতামূলক ও সময়োপযোগী করতে ধারাবাহিকভাবে বিভিন্ন আইন সংশোধন করা হয়। এই সংশোধন বিলও সেই প্রক্রিয়ার অংশ। এদিকে বিলটি পাসের সময় ওয়াকআউট করেন বিরোধী দলের সংসদ সদস্যরা। সংসদ অধিবেশনে বিরতির পর তারা আবার সংসদে ফেরেন। পরে বিরোধীদলীয় সংসদ সদস্য হান্নান মাসুদ বলেন, আওয়ামী লীগ খারাপ, কিন্তু ক্ষমতা ধরে রাখতে তাদের করা সব আইন আজ ভালো হয়ে যাচ্ছে। তিনি বলেন, অন্তর্বর্তী সরকার বিশেষ পরিস্থিতিতে স্থানীয় সরকার অধ্যাদেশ জারি করেছিল। এখন আবার কী বিশেষ পরিস্থিতি তৈরি হলো, জানতে চাই। এর মাধ্যমে নির্বাচিত প্রতিনিধির পরিবর্তে দলীয় প্রশাসক বসানো হচ্ছে। এই আইনের মাধ্যমে স্থানীয় সরকারের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে গলাটিপে হত্যা করা হল। বিকেলে সংসদে ‘স্থানীয় সরকার (পৌরসভা) (সংশোধন) বিল, ২০২৬’ উত্থাপন করা হয়। পরে কণ্ঠভোটে বিলটি পাস হয়। বিরোধীদলীয় এমপিরা এতে না ভোট দেন। এর প্রতিক্রিয়ায় শফিকুর রহমান সংসদে দাঁড়িয়ে ওয়াকআউটের ঘোষণা দেন। এদিকে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা ১৩৩ অধ্যাদেশের মধ্যে সংসদে ৭২টি বিল আকারে পাস হয়েছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ৯, ২০২৬ 0
বরিশাল সিটি করপোরেশন
বরিশাল সিটি করপোরেশনে উন্মুক্ত ইজারা প্রক্রিয়া: গুজ হলে নষ্ট হবে ভাবমূর্তি

বরিশাল অফিস :   বরিশাল সিটি করপোরেশনের (বিসিসি) অধীনে হাট-বাজার, পাবলিক টয়লেট ও বাস টার্মিনাল ইজারা প্রক্রিয়াকে ঘিরে সাধারণ মানুষের মধ্যে সন্তোষ দেখা যাচ্ছে। উন্মুক্ত ও স্বচ্ছ পদ্ধতিতে ইজারা কার্যক্রম পরিচালিত হওয়ায় নাগরিকদের মধ্যে আস্থার পরিবেশ তৈরি হয়েছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে ইজারা প্রক্রিয়ায় অনিয়ম ও গোপনীয়তার অভিযোগ থাকলেও এবার বিসিসি কর্তৃপক্ষ উন্মুক্ত দরপত্রের মাধ্যমে ইজারা প্রদান শুরু করেছে। এতে অংশগ্রহণের সুযোগ পাচ্ছেন যোগ্য ও আগ্রহী ব্যক্তিরা, যা প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশ সৃষ্টি করেছে। নগরীর বিভিন্ন হাট-বাজার ও বাস টার্মিনাল ঘুরে দেখা গেছে, সাধারণ ব্যবসায়ী ও সেবাগ্রহীতারা এই উদ্যোগকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন। তাদের মতে, উন্মুক্ত ইজারা প্রক্রিয়া চালু থাকলে দুর্নীতি কমবে এবং সেবার মানও বাড়বে। একই সঙ্গে পাবলিক টয়লেটের মতো গুরুত্বপূর্ণ সেবাগুলো আরও পরিচ্ছন্ন ও ব্যবহার উপযোগী হবে বলে আশা করছেন তারা। একজন স্থানীয় ব্যবসায়ী বলেন, “আগে ইজারা প্রক্রিয়া নিয়ে অনেক অভিযোগ শুনতাম। এবার খোলামেলা দরপত্র হওয়ায় আমরা খুশি। এতে সঠিক ব্যক্তি ইজারা পাবে বলে মনে হচ্ছে।” তবে সচেতন মহল সতর্ক করে বলছেন, যদি এই প্রক্রিয়ায় কোনো ধরনের ‘গুজ’ বা অনিয়ম প্রবেশ করে, তাহলে বিসিসির ইতিবাচক ভাবমূর্তি নষ্ট হতে পারে। তাই তারা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে কঠোর নজরদারি বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছেন। সচেতন মহলের মতে, ইজারা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা বজায় রাখা গেলে শুধু রাজস্ব বৃদ্ধি পাবে না, বরং নগর সেবার মানও উল্লেখযোগ্যভাবে উন্নত হবে। এজন্য দরপত্রের প্রতিটি ধাপে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা জরুরি।   এ বিষয়ে বিসিসির দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, উন্মুক্ত ও নীতিমালা অনুযায়ী ইজারা কার্যক্রম পরিচালনার বিষয়ে তারা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। কোনো অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও তারা আশ্বস্ত করেছেন। উন্মুক্ত ইজারা প্রক্রিয়ার এই ইতিবাচক ধারা বজায় রাখতে পারলে বরিশাল সিটি করপোরেশন একটি স্বচ্ছ ও জনবান্ধব প্রতিষ্ঠান হিসেবে আরও শক্ত অবস্থান তৈরি করতে সক্ষম হবে—এমনটাই প্রত্যাশা নগরবাসীর।

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ১, ২০২৬ 0
ধানিসাফা ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা (সচিব) আব্দুল জলিল
পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ায় জন্ম সনদ বাণিজ্য: কোটি টাকার অভিযোগে ইউপি সচিবের বিরুদ্ধে দুর্নীতির ঝড়

পিরোজপুর : পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া উপজেলায় জন্ম নিবন্ধন সনদকে ঘিরে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে ২ নং ধানিসাফা ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা (সচিব) আব্দুল জলিলের বিরুদ্ধে। অভিযোগ রয়েছে, জন্ম সনদ বিক্রি, অতিরিক্ত ফি আদায় এবং বিভিন্ন বরাদ্দ থেকে কমিশন নেওয়ার মাধ্যমে তিনি বিপুল অর্থের মালিক হয়েছেন। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সরকার নির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী জন্ম নিবন্ধন ০ থেকে ৪৫ দিনের মধ্যে বিনামূল্যে এবং ৪৬ দিন থেকে ৫ বছর বয়স পর্যন্ত মাত্র ২৫ টাকা ফি নেওয়ার কথা থাকলেও বাস্তবে এ নিয়ম মানা হচ্ছে না। ধানিসাফা ইউনিয়ন পরিষদে জন্ম নিবন্ধনের জন্য সব বয়সের নাগরিকদের কাছ থেকে ২০০ থেকে ৩০০ টাকা পর্যন্ত নেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া জন্ম নিবন্ধনে বয়স সংশোধনের ক্ষেত্রে নেওয়া হচ্ছে ৮ থেকে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত, যা সম্পূর্ণ নিয়মবহির্ভূত বলে জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা। খোঁজ নিয়ে আরও জানা গেছে, জন্ম নিবন্ধন কার্যক্রমকে গতিশীল করতে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে প্রতি বছর ইউনিয়ন পরিষদ সচিবদের অনুকূলে ৩০ হাজার টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। কিন্তু এ অর্থের সঠিক ব্যবহার নিয়ে রয়েছে প্রশ্ন। কখনো প্রিন্টার কেনা, আবার কখনো ওয়াইফাই সংযোগ চালুর কথা বলা হলেও বাস্তবে কোনো উন্নয়ন কাজ দৃশ্যমান নয় বলে অভিযোগ উঠেছে। এছাড়া হোল্ডিং ট্যাক্স আদায়ে অনিয়মের অভিযোগও রয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী জরিপভিত্তিক এসেসমেন্ট না করে গ্রাম পুলিশদের মাধ্যমে ট্যাক্স আদায় করে সেই অর্থ আত্মসাৎ করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। জন্ম নিবন্ধন, ট্রেড লাইসেন্স ও ট্যাক্স সংক্রান্ত কোনো তথ্য রেজিস্টার খাতায় সংরক্ষণ করা হয় না বলেও জানা গেছে। অভিযোগ রয়েছে, বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের বরাদ্দ থেকেও ৫ শতাংশ হারে অর্থ আদায় করা হয়। অডিটরদের ঘুষ দিয়ে বিষয়গুলো ‘ম্যানেজ’ করার কথাও বলে থাকেন তিনি। এ বিষয়ে পরিষদের প্রশাসক ও উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কামরুন নেছা সুমি বলেন, “জন্ম নিবন্ধনসহ সকল সেবায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার চেষ্টা চলছে। কেউ অনিয়ম করলে তার দায়ভার তাকেই নিতে হবে।” অভিযোগের বিষয়ে জানতে একাধিকবার চেষ্টা করেও ইউপি সচিব আব্দুল জলিলের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।  এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে এবং দ্রুত তদন্তপূর্বক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি উঠেছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ১৮, ২০২৬ 0
৫ সিটি করপোরেশনে নতুন প্রশাসক নিয়োগ
পাঁচ সিটি করপোরেশনে বিএনপি নেতাদের প্রশাসক নিয়োগ

বাংলাদেশে আরও পাঁচটি সিটি করপোরেশনে প্রশাসক নিয়োগ দিয়েছে সরকার। নিয়োগ পাওয়া প্রশাসকেরা আগামীকাল থেকে দায়িত্ব গ্রহণ করবেন বলে জানিয়েছে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়। শনিবার প্রকাশিত এক প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, বরিশাল, রাজশাহী, কুমিল্লা, ময়মনসিংহ ও রংপুর সিটি করপোরেশনে পাঁচজন প্রশাসক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। নিয়োগ পাওয়া পাঁচজনই বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত নেতা। যাঁরা প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী— বরিশাল সিটি করপোরেশনে প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন বিলকিস আক্তার জাহান শিরীন রাজশাহী সিটি করপোরেশনে মাহফুজুর রহমান কুমিল্লা সিটি করপোরেশনে মো. ইউসুফ মোল্লা ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশনে রুকুনোজ্জামান রোকন রংপুর সিটি করপোরেশনে মাহফুজ উন নবী চৌধুরী তাদের সবাই বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃস্থানীয় দায়িত্বে রয়েছেন। বিলকিস আক্তার জাহান বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক (বরিশাল বিভাগ)। মাহফুজুর রহমান রাজশাহী মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক। মো. ইউসুফ মোল্লা কুমিল্লা মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এছাড়া রুকুনোজ্জামান রোকন ময়মনসিংহ দক্ষিণ জেলা বিএনপির সদস্যসচিব এবং মাহফুজ উন নবী চৌধুরী রংপুর মহানগর বিএনপির সদস্যসচিব। মেয়রের ক্ষমতা প্রয়োগ করবেন প্রশাসকেরা প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, স্থানীয় সরকার (সিটি করপোরেশন) (সংশোধন) অধ্যাদেশ ২০২৪–এর ধারা ২৫ক-এর উপধারা (৩) অনুযায়ী নিয়োগ পাওয়া প্রশাসকেরা মেয়রের ক্ষমতা প্রয়োগ ও দায়িত্ব পালন করবেন। তারা বিধি অনুযায়ী ভাতা ও অন্যান্য সুবিধা পাবেন। এখন পর্যন্ত ১১ সিটিতে প্রশাসক এই পাঁচজনকে নিয়োগের মাধ্যমে দেশে মোট ১১টি সিটি করপোরেশনে প্রশাসক নিয়োগ দেওয়া হলো। তবে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনে আদালতের আদেশে বিএনপি নেতা শাহাদাত হোসেন বর্তমানে মেয়রের দায়িত্ব পালন করছেন। স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সিটি করপোরেশন নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়া পর্যন্ত রাজনৈতিক প্রশাসকেরা দায়িত্বে থাকবেন। নির্বাচন শেষে নির্বাচিত মেয়রের কাছে তারা দায়িত্ব হস্তান্তর করবেন। এর আগে ছয় সিটিতে প্রশাসক এর আগে গত ২৩ ফেব্রুয়ারি দেশের আরও ছয়টি সিটি করপোরেশনে প্রশাসক নিয়োগ দেয় সরকার। সেগুলো হলো— ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন – মো. আব্দুস সালাম ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন – মো. শফিকুল ইসলাম খান খুলনা সিটি করপোরেশন – নজরুল ইসলাম মঞ্জু সিলেট সিটি করপোরেশন – আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন – মো. সাখাওয়াত হোসেন খান গাজীপুর সিটি করপোরেশন – মো. শওকত হোসেন সরকার সরকারি কর্মকর্তারা বলছেন, নির্বাচন আয়োজনের আগ পর্যন্ত প্রশাসনিক কার্যক্রম সচল রাখতে এসব নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।  

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ১৪, ২০২৬ 0
বরিশাল  সিটি করপোরেশন
বরিশালে কাউন্সিলর নেই, প্রশাসকের কাছে ঢোকাও কঠিন—সনদের জন্য মাসের পর মাস অপেক্ষা নগরবাসীর

বরিশাল নগরীতে দীর্ঘদিন ধরে নাগরিক সেবা কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে। সিটি করপোরেশনের অধিকাংশ ওয়ার্ড কাউন্সিলর আত্মগোপনে থাকায় জন্মনিবন্ধন সনদ, মৃত্যুসনদ, নাগরিকত্ব সনদ, ওয়ারিশ সনদসহ নানা গুরুত্বপূর্ণ সেবা পেতে চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন নগরবাসী। সরকার পতনের পরবর্তী পরিস্থিতিতে বরিশাল  সিটি করপোরেশনের মেয়র ও বেশিরভাগ কাউন্সিলর আত্মগোপনে চলে যান। এরপর বিভাগীয় কমিশনার মো. শওকত আলী গত ১৯ আগস্ট সিটি করপোরেশনের প্রশাসকের দায়িত্ব গ্রহণ করেন। তবে অধিকাংশ ওয়ার্ডে নির্বাচিত কাউন্সিলর না থাকায় নাগরিক সেবা কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। কাউন্সিলর কার্যালয় বন্ধ, সেবা বন্ধ বরিশাল  সিটি করপোরেশনের সিটিজেন চার্টার অনুযায়ী, ওয়ার্ড কাউন্সিলরদের কার্যালয় থেকেই জন্মনিবন্ধন সনদ, মৃত্যুসনদ, নাগরিকত্ব সনদ, চারিত্রিক সনদ, উত্তরাধিকার (ওয়ারিশ) সনদ, ভূমিহীন সনদ, টিসিবি কার্ড এবং বিভিন্ন ভাতার সত্যায়িত সনদ প্রদান করা হয়। এছাড়া জাতীয় পরিচয়পত্র ও ভোটার তালিকা যাচাই, বিভিন্ন প্রত্যয়নপত্র ও অনাপত্তিপত্রেও কাউন্সিলরের স্বাক্ষর প্রয়োজন হয়। কিন্তু বর্তমানে মামলার কারণে বরিশাল সিটি করপোরেশনের ১৪টিরও বেশি ওয়ার্ডের কাউন্সিলর আত্মগোপনে থাকায় এসব কার্যালয় কার্যত বন্ধ রয়েছে। ফলে নাগরিকদের বিভিন্ন সেবা কার্যক্রম প্রায় স্থবির হয়ে পড়েছে। প্রশাসক নিয়োগেও সমাধান হয়নি বরিশাল  সিটি করপোরেশনে একজন মেয়র, ৩০ জন সাধারণ কাউন্সিলর এবং ১০ জন সংরক্ষিত নারী কাউন্সিলরের পরিবর্তে প্রথম শ্রেণির ২০ জন সরকারি কর্মকর্তাকে প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। কিন্তু নাগরিকদের অভিযোগ, দাফতরিক কাজের চাপে প্রশাসকরা যথাসময়ে নাগরিক সেবা দিতে পারছেন না। একজন জনপ্রতিনিধি যে সেবা দ্রুত দিতে পারতেন, তা পেতে এখন সপ্তাহ থেকে মাস পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে সেবাগ্রহীতারা প্রশাসকের কক্ষে প্রবেশও করতে পারছেন না। সনদের জন্য মাসের পর মাস অপেক্ষা নগরীর ১৩ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা মিরাজুল ইসলাম জানান, তার সন্তানের স্কুলে ভর্তির জন্য জন্মনিবন্ধন সনদের প্রয়োজন হয়েছিল। তিনি বলেন, “প্রশাসকের কক্ষে ঢুকতেই দেওয়া হয়নি। এক সপ্তাহ ঘোরার পর দেখা পাই। কিন্তু সনদ পেতে এক মাস লেগে যায়। আগে কাউন্সিলরের মাধ্যমে এক সপ্তাহেই পাওয়া যেত।” একই ধরনের অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন ৯ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা পুষ্প চক্রবর্তী। তিনি জানান, নাগরিক সনদের জন্য এক মাস চেষ্টা করেও প্রশাসকের কক্ষে প্রবেশ করতে পারেননি। পরে সাবেক কাউন্সিলরের সহযোগিতায় সনদ সংগ্রহ করতে হয়েছে। সাবেক কাউন্সিলরদের কাছে ছুটছেন নাগরিকরা বর্তমানে অনেক নাগরিক সাবেক কাউন্সিলরদের কার্যালয়ে গিয়ে সাহায্য চাইছেন। সাবেক কাউন্সিলররা জানান, প্রশাসকদের প্রটোকল ও ব্যস্ততার কারণে সাধারণ মানুষ সহজে তাদের কাছে পৌঁছাতে পারছেন না। ফলে তারা সিটি করপোরেশনের বিভিন্ন দফতরে ফোন করে নাগরিকদের জরুরি কাজ করিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছেন। ২ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর মর্তুজা আবেদীন বলেন, “একটি নাগরিক সনদ পেতে দেড় মাস পর্যন্ত অপেক্ষা করার নজির রয়েছে। প্রতিদিন মানুষ আমার অফিসে সনদের জন্য আসছেন।” সমাধান কী? সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক রফিকুল আলম মনে করেন, বর্তমান পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের জন্য দ্রুত নির্বাচন আয়োজন করা প্রয়োজন। তিনি বলেন, “সরকারি কর্মকর্তারা অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করছেন। তারা এলাকার মানুষকেও চেনেন না। তাই সেবা দিতে দেরি হচ্ছে। দ্রুত নির্বাচন বা সাবেক কাউন্সিলরদের প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দিলে সমস্যা কমবে।” শতভাগ সেবা দেওয়া সম্ভব নয়: সিইও এ বিষয়ে সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রেজাউল বারী বলেন, বর্তমানে যারা কাউন্সিলরদের স্থলে প্রশাসকের দায়িত্ব পালন করছেন, তাদের পক্ষে নাগরিকদের শতভাগ সেবা দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। তবে তারা সর্বোচ্চ চেষ্টা করছেন। মশার উপদ্রবে অতিষ্ঠ নগরবাসী নগরীতে নাগরিক সেবার সংকটের পাশাপাশি বেড়েছে মশার উপদ্রবও। শুষ্ক মৌসুমে মশার অস্বাভাবিক বিস্তারে দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে নগর জীবন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সিটি করপোরেশন নগরজুড়ে বিশেষ ‘ক্র্যাশ প্রোগ্রাম’ শুরু করেছে। ১২টি জরুরি দলের মাধ্যমে সকাল-বিকাল নিয়মিত মশক নিধন কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। সিটি করপোরেশনের স্বাস্থ্য কর্মকর্তা মো. মনজুরুল হক জানান, মশার বিস্তার রোধে নতুন ধরনের ওষুধ ব্যবহার শুরু হয়েছে। পরিচ্ছন্নতা বিভাগের কর্মকর্তা স্বপন কুমার দাস বলেন, প্রতিদিন প্রায় ২০০ লিটার অ্যাডাল্টিসাইড এবং বিভিন্ন এলাকায় লার্ভিসাইড ব্যবহার করা হচ্ছে। তবে চারপাশে মশার বংশবিস্তার অনুকূল পরিবেশ থাকায় সমস্যার স্থায়ী সমাধান কঠিন হয়ে পড়েছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ১৯, ২০২৬ 0
চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন
চট্টগ্রামে ৩ কোটি ৩০ লাখ টাকার পৌরকর কমিয়ে ১৮ লাখ টাকা !

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) আগ্রাবাদ এলাকায় অবস্থিত হোটেল সেন্টমার্টিন লিমিটেড-এর বার্ষিক পৌরকর সংক্রান্ত একটি ভয়াবহ অনিয়মের সত্যতা তদন্ত কমিটি প্রকাশ করেছে। প্রতিবেদনে দেখা গেছে, হোটেলের পৌরকর ৩ কোটি ৩০ লাখ টাকা থেকে কমিয়ে মাত্র ১৮ লাখ টাকায় নেমেছে, যা চসিকের জন্য ৩ কোটি ১২ লাখ টাকার আর্থিক ক্ষতির কারণ হয়েছে। চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন-এর কাছে বুধবার (৪ মার্চ) সন্ধ্যায় এই তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়া হয়। তদন্ত কমিটি হোটেলের পৌরকর কমানোর পিছনে রাজস্ব বিভাগের দুই কর্মকর্তার যোগসাজশের প্রমাণ পায়। তদন্ত কমিটির গঠন ও দায়িত্ব চসিক ২৪ নভেম্বর একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে। কমিটির আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পান সংস্থাটির আইন কর্মকর্তা মহিউদ্দিন মুরাদ, আর সদস্য সচিব হিসেবে দায়িত্ব পান হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা আশুতোষ দে। কমিটির অন্য দুই সদস্য হলেন রাজস্ব কর্মকর্তা মো. সাব্বির রহমান সানি এবং শিক্ষা কর্মকর্তা নাজমা বিনতে আমিন। কমিটির মূল কাজ ছিল হোটেল সেন্টমার্টিন লিমিটেডের ‘পৌরকর কমানোর’ অভিযোগ যাচাই করা। তদন্তে উঠে আসে যে, ২০১৭-১৮ অর্থবছরে হোটেলের বার্ষিক পৌরকর প্রথমে ৩ কোটি ৩০ লাখ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছিল। তবে পরবর্তীতে দুই দফা কমিয়ে তা ১৮ লাখ টাকায় আনা হয়। পৌরকর কমানোর প্রক্রিয়ার বিশদ ২০১৭ সালে হোটেল কর্তৃপক্ষ নির্ধারিত পৌরকরের বিরুদ্ধে আপিল করে। আপিলের পর ৩ কোটি ৩০ লাখ টাকার পৌরকর কমিয়ে ২২ লাখ টাকায় নির্ধারণ করা হয়। পরবর্তীতে ২০২৪ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি পুনরায় আপিল শুনানি শেষে চূড়ান্তভাবে ১৮ লাখ টাকা নির্ধারণ করা হয়। তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বার্ষিক মূল্যায়ন সংক্রান্ত আপিল once সিদ্ধান্ত হওয়ার পর তা আর পরিবর্তন করার বা পুনরায় আপিল দায়ের করার সুযোগ নেই। তবে তৎকালীন কর কর্মকর্তা মো. মেজবাহ উদ্দিন বেআইনিভাবে আপিল কার্যক্রম সম্পন্ন করেছেন। চসিকের আর্থিক ক্ষতি এই অনিয়মের কারণে চসিক ৩ কোটি ১২ লাখ টাকার আর্থিক ক্ষতি হয়েছে। কমিটি প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছে যে, পৌরকরের সঠিক পুনর্মূল্যায়ন ও প্রক্রিয়ার বাইরে গিয়ে যে কর কমানো হয়েছে, তা সম্পূর্ণ বেআইনি। চসিকের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এই অনিয়মের বিষয়টি প্রথম প্রকাশিত হয় সেপ্টেম্বর মাসে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের এক নিরীক্ষা প্রতিবেদনে। এরপরই চসিক তদন্ত কমিটি গঠন করে। অনিয়মের দায় এবং সম্ভাব্য পদক্ষেপ কমিটি প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছে যে, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং হোটেল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা উচিত। এছাড়া ভবিষ্যতে এমন ধরনের অনিয়ম রোধ করতে চসিককে আরও স্বচ্ছ ও নিয়মিত মূল্যায়ন ও তদারকি ব্যবস্থা গ্রহণের পরামর্শ দিয়েছে। চট্টগ্রামে কর প্রশাসনে স্বচ্ছতা নিশ্চিতকরণ চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন বারবার দাবি করেছে যে, স্থানীয় সরকার ও কর প্রশাসনের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে নিয়মিত মূল্যায়ন এবং স্বতন্ত্র তদন্ত প্রক্রিয়া চালু করা হবে। হোটেল সেন্টমার্টিন লিমিটেডের মতো বড় ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানগুলোর কর নির্ধারণ ও পরিশোধ প্রক্রিয়ার তদারকি চসিকের অগ্রাধিকারের মধ্যে থাকবে।   চট্টগ্রামে হোটেল সেন্টমার্টিন লিমিটেডে পৌরকর কমানোর এই ঘটনা স্থানীয় কর প্রশাসনের জন্য এক সতর্কবার্তা। তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে স্পষ্টভাবে উল্লেখ আছে যে, রাজস্ব কর্মকর্তাদের বেআইনি ক্রিয়াকলাপ চসিকের জন্য বড় আর্থিক ক্ষতির কারণ হয়েছে। চট্টগ্রামবাসী ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ আশা করছে, এই প্রতিবেদন অনুযায়ী কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করলে ভবিষ্যতে এমন ধরনের অনিয়ম আর ঘটবে না।

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ৫, ২০২৬ 0
ছয় সিটি করপোরেশনে প্রশাসক নিয়োগ
ছয় সিটি করপোরেশনে নতুন প্রশাসক নিয়োগ, বিএনপির শীর্ষ নেতাদের দায়িত্ব

সরকার ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনসহ দেশের মোট ছয়টি সিটি করপোরেশনে নতুন প্রশাসক নিয়োগ দিয়েছে। স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে এ নিয়োগের তথ্য জানানো হয়। প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, স্থানীয় সরকার (সিটি করপোরেশন) (সংশোধন) অধ্যাদেশ ২০২৪-এর ধারা ২৫(ক) এর উপধারা (১) অনুযায়ী করপোরেশন গঠিত না হওয়া পর্যন্ত অথবা পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত এসব প্রশাসক দায়িত্ব পালন করবেন। তারা মেয়রের ক্ষমতা প্রয়োগ ও দায়িত্ব পালন করবেন এবং বিধি অনুযায়ী ভাতা পাবেন। ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি) ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন-এর নতুন প্রশাসক হয়েছেন আবদুস সালাম। তিনি বিএনপির বর্ষীয়ান নেতা এবং একসময় অবিভক্ত ঢাকা সিটি করপোরেশনের ডেপুটি মেয়র ছিলেন। বর্তমানে তিনি ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির সভাপতি এবং বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য। আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ডিএসসিসির মেয়র ছিলেন শেখ ফজলে নূর তাপস। ২০২৪ সালের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের আগে দেশত্যাগ করেন তিনি। অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন শাহজাহান মিয়া ও পরে মো. মাহমুদুল হাসান। ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি) ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন-এর প্রশাসক হয়েছেন শফিকুল ইসলাম খান মিল্টন। তিনি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-১৫ আসনে বিএনপির প্রার্থী ছিলেন এবং যুবদলের কেন্দ্রীয় কমিটির সহসভাপতি। আওয়ামী লীগ আমলে ডিএনসিসির মেয়র ছিলেন আতিকুল ইসলাম। ২০১৯ সালে দায়িত্ব নেওয়া এই মেয়র ২০২৪ সালের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর গ্রেপ্তার হন। অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে প্রশাসক ছিলেন মোহাম্মদ এজাজ ও পরে সুরাইয়া আখতার জাহান। সিলেট সিটি করপোরেশন সিলেট সিটি করপোরেশন-এর নতুন প্রশাসক হয়েছেন আবদুল কাইয়ুম চৌধুরী। তিনি সিলেট জেলা বিএনপির সভাপতি এবং সাবেক ছাত্রদল ও যুবদল নেতা। এছাড়া তিনি সাবেক অর্থমন্ত্রী এম সাইফুর রহমানের রাজনৈতিক সচিব ছিলেন। চারদলীয় জোট সরকারের আমলে তিনি বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) পরিচালক ছিলেন এবং বর্তমানে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সদস্য। খুলনা সিটি করপোরেশন খুলনা সিটি করপোরেশন-এর প্রশাসক হয়েছেন বর্ষীয়ান রাজনীতিক নজরুল ইসলাম মঞ্জু। তিনি বিএনপির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক এবং দীর্ঘদিন খুলনা মহানগর বিএনপির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। ২০০৮ সালের জাতীয় নির্বাচনে বিএনপি জোটের ভরাডুবির মধ্যেও খুলনা-২ আসনে জয় পেয়েছিলেন তিনি। গাজীপুর সিটি করপোরেশন গাজীপুর সিটি করপোরেশন-এর নতুন প্রশাসক হয়েছেন শওকত হোসেন সরকার। তিনি গাজীপুর মহানগর বিএনপির সভাপতি এবং পূর্বে কাশিমপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ছিলেন। আওয়ামী লীগ আমলে গাজীপুর সিটির মেয়র ছিলেন জাহাঙ্গীর আলম। নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন-এর প্রশাসক পদে নিয়োগ পেয়েছেন সাখাওয়াত হোসেন খান। তিনি নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির সিনিয়র সহসভাপতি এবং আলোচিত সাত খুনের মামলার বাদীপক্ষের আইনজীবী হিসেবে পরিচিত। আওয়ামী লীগ আমলে নারায়ণগঞ্জ সিটির মেয়র ছিলেন সেলিনা হায়াৎ আইভী। অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন আবু নছর মোহাম্মদ আবদুল্লাহ। রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ২০২৪ সালের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর স্থানীয় সরকার কাঠামোয় বড় ধরনের পরিবর্তন আসে। অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে বিভিন্ন সিটি করপোরেশনে প্রশাসক নিয়োগ দেওয়া হয়। সর্বশেষ প্রজ্ঞাপনে বিএনপির একাধিক শীর্ষ ও প্রভাবশালী নেতাকে প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে, যা দেশের স্থানীয় সরকার ব্যবস্থায় নতুন রাজনৈতিক সমীকরণের ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

নিজস্ব প্রতিবেদক ফেব্রুয়ারি ২৪, ২০২৬ 0
স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়
ঢাকা-খুলনা-সিলেটসহ ৬ সিটি করপোরেশনে নতুন প্রশাসক নিয়োগ

ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণসহ দেশের মোট ছয়টি সিটি করপোরেশনে প্রশাসক নিয়োগ দিয়েছে সরকার। রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি) জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়। প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন-এর প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন মো. আব্দুস সালাম। আর ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন-এর দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে মো. শফিকুল ইসলাম খানকে। এছাড়া খুলনা সিটি করপোরেশন-এ নজরুল ইসলাম মঞ্জু, সিলেট সিটি করপোরেশন-এ আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী, নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন-এ মো. সাখাওয়াত হোসেন খান এবং গাজীপুর সিটি করপোরেশন-এ প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন মো. শওকত হোসেন সরকার। অধ্যাদেশ অনুযায়ী দায়িত্ব পালন প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে, ‘স্থানীয় সরকার (সিটি করপোরেশন) (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৪’-এর ধারা ২৫ক এর উপধারা (১) অনুসারে করপোরেশন গঠিত না হওয়া পর্যন্ত অথবা পরবর্তী আদেশ না দেওয়া পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের পূর্ণকালীন প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ প্রদান করা হয়েছে। মেয়রের ক্ষমতা প্রয়োগ করবেন প্রশাসকরা নিয়োগপ্রাপ্ত প্রশাসকরা সংশ্লিষ্ট সিটি করপোরেশনের মেয়রের ক্ষমতা প্রয়োগ ও দায়িত্ব পালন করবেন বলে প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়েছে। তারা বিধি মোতাবেক ভাতা প্রাপ্য হবেন। জনস্বার্থে জারিকৃত এ আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে বলেও প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে।

Admin ফেব্রুয়ারি ২৩, ২০২৬ 0
Popular post
ফারুকীর সম্পদ কমেছে, তিশার বেড়েছে দ্বিগুণেরও বেশি: সম্পদ বিবরণী ঘিরে আলোচনা

অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের সম্পদ বিবরণী প্রকাশের পর সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী ও তার স্ত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদের হিসাব নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। এক বছরের ব্যবধানে স্বামী ফারুকীর সম্পদ কমলেও স্ত্রী তিশার সম্পদ বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে প্রকাশিত তথ্যে উঠে এসেছে এই চিত্র। প্রকাশিত খতিয়ান অনুযায়ী, জনপ্রিয় অভিনেত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদ এক বছরে অভাবনীয় হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তিশার মোট সম্পদের পরিমাণ ছিল ১ কোটি ৪০ লাখ ৮১ হাজার ৮৬০ টাকা। ঠিক এক বছর পর, ২০২৫ সালের ৩০ জুন সেই সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ৯৯ লাখ ৮৯ হাজার ৫০১ টাকায়। অর্থাৎ মাত্র এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ বেড়েছে ১ কোটি ৫৯ লাখ ৭ হাজার ৬৪১ টাকা, যা আগের বছরের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি। অন্যদিকে সংস্কৃতি উপদেষ্টা ও নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর ক্ষেত্রে দেখা গেছে উল্টো চিত্র। এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ কমেছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তার মোট সম্পদ ছিল ২ কোটি ২৬ লাখ ৯২ হাজার ২৬ টাকা। ২০২৫ সালের ৩০ জুন তা কমে দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ১৫ লাখ ১৮ হাজার ২৬ টাকায়। হিসাব অনুযায়ী, এক বছরে তার সম্পদ কমেছে ১১ লাখ ৭৪ হাজার টাকা। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে গত মঙ্গলবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ প্রধান উপদেষ্টা, উপদেষ্টা ও সমমর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের পাশাপাশি তাদের স্ত্রী বা স্বামীর সম্পদ বিবরণী প্রকাশ করে। একই সময়ে স্বামী-স্ত্রীর সম্পদে এমন ভিন্নমুখী পরিবর্তন স্বাভাবিকভাবেই সাধারণ মানুষের কৌতূহলের জন্ম দিয়েছে। শোবিজ অঙ্গনের জনপ্রিয় দম্পতি হওয়ায় তাদের এই আয়-ব্যয়ের হিসাব এখন টক অব দ্য কান্ট্রি।

সংসার সামলাতে অটোরিকশা নিয়ে রাস্তায় নেমেছেন রোজিনা

বাসস : বাবা একজন তাঁত শ্রমিক। তিন বোন দুই ভাইয়ের মধ্যে সবার বড় রোজিনা। অভাব সংসার, তাই এক এতিম যুবকের সাথে বাবা-মা বিয়ে দেন তাকে। বিয়ের পর জন্ম হয় দুই কন্যা সন্তানের। অটোরিকশা চালিয়ে কোন রকম সংসার চালাচ্ছিলেন স্বামী রফিকুল ইসলাম। কিন্তু সড়ক দুর্ঘটনায় রফিকুলের এক চোখ সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যায়। আরেকটি চোখ আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ধীরে ধীরে ওই চোখের দৃষ্টি শক্তিও কমতে থাকে। ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে অটোরিকশা চালানো। সংসারের উপার্জনক্ষম মানুষটি অচল হয়ে পড়ায় চিকিৎসার খরচ, ঘর ভাড়া ও খাবারের পাশাপাশি মেয়েদের লেখাপড়ার খরচ চালানোই কঠিন হয়ে যায়। দিশেহারা হয়ে পরেন রোজিনা। এক পর্যায়ে মানুষের বাড়ি বাড়ি কাজ করে সংসার চালানোর চেস্টা করেন। কিন্তু সুবিধা করতে পারেন না। এমন পরিস্থিতিতে অটোরিকশা চালানোর সিদ্ধান্ত নেন তিনি। স্বামী রফিকুলের কাছেই হাতেখড়ি। গ্রামের স্কুলের মাঠে স্বামীর কাছেই অটোরিকশা চালানোর শিক্ষা নেন তিনি। পরে গ্রামের পথে নেমে পড়েন অটোরিকশা নিয়ে। ৫-৬ দিন এভাবে হাত পাকা করে একদিন টাঙ্গাইল শহরে চলে আসেন রোজিনা। এরপর শুরু করেন অটোরিক্সা চালানোর ব্যতিক্রমী জীবন সংগ্রাম। এখন টাঙ্গাইল পৌরসভায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার চালকদের মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা বেগম। জেলার বাসাইল উপজেলার আইসড়া গ্রামের বাসিন্দা রোজিনা টাঙ্গাইল পৌর শহরের এক প্রান্ত রাবনা বাইপাস থেকে আরেক প্রান্ত বেবিস্ট্যান্ডে যাত্রী আনা নেয়া করেন। যানজটের কারণে শহরে পুরুষ চালকরা যেখানে হিমসিম খায়, সেখানেই বিগত ৫ বছর ধরেই নির্বিঘেœ অটোরিকশা চালাচ্ছেন তিনি। টাঙ্গাইল পৌরসভা কার্যালয় সূত্রে জানা যাায়, টাঙ্গাইল শহরে চলাচলের জন্য ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক ও ৫ হাজার ব্যাটারিচালিত রিকশার অনুমতি (লাইসেন্স) দেওয়া হয়েছে। যানজট এড়াতে ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক জোড় ও বিজোড় সংখ্যায় দিনে দুই ভাগ করা হয়েছে। সকাল থেকে বেলা দুইটা পর্যন্ত এক ভাগ এবং বেলা দুইটা থেকে রাত পর্যন্ত আরেক ভাগের ইজিবাইক চলাচল করার নির্দেশনা দিয়েছে পৌর কর্তৃপক্ষ। কিন্তু রোজিনাকে দুই শিফটে চালানোর অনুমতি দিয়েছে পৌরসভা। সরেজমিনে দেখা যায়, নতুন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অটোরিকশা নিয়ে যাত্রী ডাকছেন রোজিনা। কলেজ গেট, পুরাতন বাসস্ট্যান্ড, ক্যাপসুল, নিরালা মোড়, বেবিস্ট্যান্ড সর্বত্রই যাত্রী আনানেয়া করেন তিনি। পুরাতন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অন্য অটো চালকদের দাঁড় করতে না দিলেও রোজিনাকে বাঁধা দেননা ট্রাফিক পুলিশ। বলতে গেলে সবাই তার প্রতি সহানুভুতিশীল। ট্রাফিক পুলিশসহ অন্য অটোচালকরাও তাকে সহযোগিতা করেন। রোজিনা বলেন, আমার অটোতে নারী যাত্রীরা খুব কম। তারা মনে করে আমার অটোতে উঠলে দুর্ঘটনায় পড়বে। কিন্তু আমি খুব সাবধানে অটো চালাই। দ্রুত গতিতেও না, আবার একেবারে ধীরগতিতেও না। এখন পর্যন্ত আমি কোন দুর্ঘটনার কবলে পড়ি নাই। শহরের পুরুষ অটোরিকশা চালকরা আমাকে অনেক সহযোগিতা করে। অটোচালক কাদের মিয়া বলেন, আমাদের শহরে কয়েক হাজার অটো চলাচল করে। তার মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। তাকে আমরা সব সময় সহযোগিতা করি। যাত্রী সাইদ মিয়া বলেন, আমি এ পর্যন্ত ৫-৬ বার রোজিনার অটোতে চড়েছি। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। অন্য পুরুষ অটো চালকের চেয়েও ভালো অটো চালান। নারী সংগঠক সেরাজুম মনিরা বলেন, তিনি অনেক দিন যাবত অটোরিকশা চালাচ্ছেন। আমি রোজিনাকে স্যালুট জানাই। একজন পুরুষের চেয়ে একজন নারী কোনো ভাবেই যে পিছিয়ে নেই, রোজিনা তা প্রমাণ করেছেন। রোজিনা বলেন, অটো চালানোর এই সিদ্ধান্তটি তার জন্য খুব সহজ ছিল না। তিনি বলেন, ৫ ও ১০ বছরের দুই মেয়েকে বাড়িতে রেখে অটোরিকশা নিয়ে সারাদিন রাস্তায় থাকতে হয়। তাদের ভালোভাবে দেখাশোনা করতে পারি না। কিন্তু কি করবো, অভাবের সংসার! এখন ঋণ নিয়ে একটু জমি কিনেছি। প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ণ প্রকল্পের অর্থায়নে প্রশাসন সেখানে ঘর তুলে দিয়েছে। শুরুতে যারা আমাকে নিয়ে ঠাট্টা করেছে এখন তারাই আমাকে সম্মান করেন। নারীরাও যে কিছু করতে পারে, তা প্রমাণ করেছি। আমার বড় মেয়ে আইসড়া উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়ে, ছোট মেয়ে পড়ে স্থানীয় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। মেয়েদের শিক্ষিত করতে হবে। ধার দেনা শোধ করতে হবে। তাই থেমে গেলো চলবে না। আমি অটোরিকশা চালিয়েই দুই সন্তানকে মানুষ করতে চাই।’ ঘারিন্দা ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য বাবুল সরকার বলেন, সরকার রোজিনাকে একটি ঘর নির্মাণ করে দিয়েছে। শুরুতে যারা তাকে নিয়ে নানান কথা বলতো, এখন তার সংকল্প ও মানষিক দৃঢ়তা দেখে থেমে গেছে। আমরা তাকে নিয়ে গর্ব করি। টাঙ্গাইলের ট্রাফিক ইন্সপেক্টর (প্রশাসন) দেলোয়ার হোসেন বলেন, শহরের একমাত্র নারী চালক রোজিনাকে কেউ যেন বিরক্ত করতে না পারে সেদিকে সব সময় নজর রাখে ট্রাফিক পুলিশ। আমরা তাকে সব সময় সহযোগিতা করে আসছি। টাঙ্গাইলের সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক শাহ আলম বলেন, বিষয়টি এখন জানতে পারলাম। ওই নারী এখনো পর্যন্ত আমাদের কাছে আসেন নাই। যদি আমাদের কাছে এসে আবেদন করেন অবশ্যই তাকে আমরা সহযেগিতা করবো, তার পাশে দাঁড়াবো।

বাংলাদেশে ঐতিহাসিক নির্বাচন: বিএনপি এগিয়ে, জামায়াতের উত্থান ও তরুণ ভোটারদের প্রভাব

২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশে আজ এক ঐতিহাসিক ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ২০০৮ সালের পর এই প্রথম একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হতে যাচ্ছে যেখানে দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগ রাজনৈতিক মানচিত্র থেকে কার্যত অনুপস্থিত। বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক জরিপ বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০০ আসনের মধ্যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) কার্যকর সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে যাচ্ছে। তবে ভোটের ব্যবধান এবং কিছু সমীকরণ নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। নির্বাচনের সবচেয়ে বড় নিয়ামক হয়ে দাঁড়িয়েছে আওয়ামী লীগের বিশাল ভোটব্যাংক। দলটির নিয়মিত প্রায় ৪ কোটি ভোটার এখন নতুন রাজনৈতিক আশ্রয় খুঁজছেন। সিআরএফ বা বিইপিওএস জরিপ বলছে, এই ভোটারদের প্রায় অর্ধেক বিএনপির দিকে ঝুঁকেছে, যা দলটিকে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতার পথে এগিয়ে দিচ্ছে। অন্যদিকে, প্রায় ৩০ শতাংশ আওয়ামী ভোটার জামায়াতে ইসলামীকে বেছে নিতে পারেন বলে আভাস পাওয়া যাচ্ছে। এছাড়া বাংলাদেশের বিদ্যমান নির্বাচনী ব্যবস্থার কারণে দেশজুড়ে সুষম জনসমর্থন থাকা বিএনপি আসন জয়ের ক্ষেত্রে জামায়াতের তুলনায় সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। তবে বিএনপির এই সম্ভাব্য জয়ের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও বিদ্রোহী প্রার্থীরা। প্রায় ৭৯টি নির্বাচনী এলাকায় দলের মনোনয়ন না পাওয়া ৯২ জন প্রভাবশালী নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, যা বিএনপির ১৫ থেকে ৩০টি আসন কমিয়ে দিতে পারে। অন্যদিকে, তরুণ ভোটার বা ‘জেন-জি’ প্রজন্মের বিশাল সমর্থন জামায়াতে ইসলামীর শক্তির উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেশের ৪৪ শতাংশ ভোটারই তরুণ, যাদের বড় একটি অংশ প্রথমবার ভোট দিচ্ছেন। এই তরুণরা যদি দলবেঁধে কেন্দ্রে উপস্থিত হন, তবে নির্বাচনী ফলে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। সবশেষে, প্রায় ১৭ থেকে ৩৫ শতাংশ দোদুল্যমান ভোটার এবং তাদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করবে আগামীর সরকার কতটা শক্তিশালী হবে। দ্য নিউইয়র্ক এডিটোরিয়ালের মূল পূর্বাভাস, তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি প্রায় ১৮৫টি আসনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করতে পারে এবং জামায়াতে ইসলামী ৮০টির মতো আসন পেয়ে প্রধান বিরোধী দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারে। তবে বিদ্রোহী প্রার্থীদের প্রভাব এবং তরুণ ভোটারদের উপস্থিতির ওপর ভিত্তি করে আসন সংখ্যায় বড় ধরনের হেরফের হওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

গাজায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা ট্রাম্প প্রশাসনে

ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। ৩৫০ একরের ঘাঁটিটিতে সামরিক বাহিনীর পাঁচ হাজার সদস্য থাকতে পারবে। গাজার ‘বোর্ড অব পিস’র নথি পর্যালোচনা করে এ তথ্য জানিয়েছে দ্য গার্ডিয়ান। প্রতিবেদনে ব্রিটিশ সংবাদ মাধ্যমটি জানিয়েছে, বোর্ড অব পিসে গাজাকে নিরাপদ করার জন্য ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যাবিলাইজেশন ফোর্স (আইএসএফ) নামে একটি আন্তর্জাতিক বাহিনী মোতায়েনের কথা বলা হয়েছে। যে স্থানটি ঘাঁটি করার জন্য বিবেচনা করা হচ্ছে সেখানে আইএসএফের সদস্যরা থাকবে। বোর্ড অব পিসের প্রধান হবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আর সংগঠনটির আংশিক নেতৃত্ব দেবেন ট্রাম্পের জামাতা জ্যারার্ড কুশনার।দ্য গার্ডিয়ান বোর্ড অব পিসের নথি পর্যালোচনা করে জানায়, ধাপে ধাপে একটি সামরিক ঘাঁটি নির্মাণ করা হবে। সবকিছু শেষ হলে ঘাঁটিটি ১৫ লাখ ১৭ হাজার ৫৭৫ বর্গমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত হবে। ঘাঁটিটির চারপাশে ট্রেইলার সংযুক্ত ২৬টি সাঁজোয়া নজরদারি টাওয়ার থাকবে। এছাড়া একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, বাংকার ও অস্ত্র রাখার গুদাম থাকবে। পুরো ঘাঁটিটি কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে ঘিরে রাখা হবে। সামরিক ঘাঁটি নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে দক্ষিণ গাজার একটি শুষ্ক সমতলভূমিতে। সেখানে ইসরায়েলি হামলার চিহ্ন রয়েছে। ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে বিভিন্ন ধাতবের ধ্বংসাবশেষ।  ওই এলাকার ভিডিও পর্যালোচনা করেছে দ্য গার্ডিয়ান। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, ঘাঁটি নির্মাণের জন্য টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে। যুদ্ধক্ষেত্রে কাজের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন আন্তর্জাতিক নির্মাণ কোম্পানিগুলোর একটি ছোট দলকে ইতোমধ্যেই এলাকাটি দেখানো হয়েছে। ওই দলটি দরপত্রে অংশ নিতে আগ্রহী।    ইন্দোনেশিয়া সরকার গাজায় আট হাজার সেনা সদস্য পাঠানোর জন্য প্রস্তাব দিয়েছে। বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটন ডিসিতে বোর্ড অব পিসের অনানুষ্ঠানিক বৈঠকে ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্টের অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। এছাড়া দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার আরও তিন নেতার ওই বৈঠকে অংশ নেবেন বলে জানা গেছে। জাতিসংঘের নিরাপত্তা কাউন্সিল গাজার সাময়িক স্থিতিশীলতার জন্য অস্থায়ীভাবে সামরিক বাহিনী মোতায়েনের অনুমোদন দিয়েছে। নিরাপত্তা কাউন্সিলই বোর্ড অব পিসের মূল হোতা। গাজার সীমান্ত ও শান্তি প্রণয়নে কাজ করবে আইএসএফ। এছাড়া বেসামরিকদের সুরক্ষা এবং ফিলিস্তিনি পুলিশ বাহিনীকে প্রশিক্ষণ ও সহায়তা দেবে তারা। যদি গাজায় ফের সংঘর্ষ হয়, ইসরায়েল বোমা হামলা চালায় অথবা হামাস হামলা চালায় সেক্ষেত্রে আইএসএফ কি করবে তা এখনও স্পষ্ট নয়। গাজা পুনর্গঠনে ইসরায়েল হামাসকে নিরস্ত্রীকরণের যে শর্ত দিয়েছে সেটির জন্য আইএসএফ কাজ করবে কিনা তাও স্পষ্ট না। ইতোমধ্যে বোর্ড অব পিসে ২০ এর অধিক দেশ যোগ দিয়েছে। তবে, এখনও অনেক পরাশক্তি এর থেকে দূরে রয়েছে। জাতিসংঘের অনুমোদন নিয়ে প্রতিষ্ঠিত হলেও ধারণা করা হচ্ছে, সংগঠনটির স্থায়ী নেতৃত্ব ও নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে। রুটজার্স বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক আদিল হক বলেন, “বোর্ড অব পিস এক ধরনের আইনি কল্পসত্তা। নামমাত্রভাবে এর নিজস্ব আন্তর্জাতিক আইনগত সত্তা রয়েছে, যা জাতিসংঘ ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে আলাদা। কিন্তু বাস্তবে এটি যুক্তরাষ্ট্রের ইচ্ছামতো ব্যবহারের জন্য একটি ফাঁপা খোলসমাত্র।” বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গাজা পুনর্গঠনে যে অর্থায়ন ও শাসন কাঠামো হচ্ছে তা অস্বচ্ছ। কয়েকজন ঠিকাদার গার্ডিয়ানকে জানান, গাজায় কাজ করার জন্য মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে তাদের প্রায়শ আলোচনা সরকারি ইমেলের বদলে সিগন্যালের মাধ্যমে করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রের তথ্য মতে, ঘাঁটি নির্মাণের সিদ্ধান্তটি বোর্ড অব পিসের। এতে সহায়তা করছে মার্কিন কর্মকর্তারা। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ঘাঁটিতে তৈরি বাংকার নেটওয়ার্কের মতোন কাজ করবে। প্রতিটি বাংকারের ২৪ মিটারের হবে। উচ্চতা থাকবে আড়াই মিটার। এগুলো এমনভাবে করা হবে যেন সেনা সদস্যরা আশ্রয় নিতে পারে। স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসের গাজায় সুড়ঙ্গ নেটওয়ার্ক বা টানেল রয়েছে। সেগুলোর আদলে নেটওয়ার্ক করতে চাওয়া হচ্ছে। পিস অব বোর্ডের নথি পর্যালোচনা করে এমন দাবি করছে গার্ডিয়ান। সংবাদ মাধ্যমটি বলছে,  স্থানটির ভূ-ভৌত জরিপ পরিচালনা করবে ঠিকাদাররা। নথির এক অংশে ‘হিউম্যান রেমিয়েনস প্রোটোকল’র কথা বলা হয়েছে। এর মানে দাঁড়ায়, সন্দেহভাজন মানব অবশিষ্ট বা সাংস্কৃতিক নিদর্শন পাওয়া গেলে অবিলম্বে সেই এলাকায় সব কাজ বন্ধ করতে হবে। চুক্তি কর্মকর্তাকে দিকনির্দেশনার জন্য অবিলম্বে জানাতে হবে। গাজা সিভিল ডিফেন্সের ধারণা, গাজার ধ্বংসস্তূপের নিচে ১০ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনির মরদেহ রয়েছে। ঘাঁটির জন্য যে স্থানটি বিবেচিত করা হচ্ছে সেটির মালিক কে তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে, দক্ষিণ গাজার বেশিরভাগ অংশ  বর্তমানে ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণে। জাতিসংঘের অনুমান, যুদ্ধ চলাকালীন ১৯ লাখ ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত হয়েছে। ফিলিস্তিনের জমিতে সরকারের অনুমতি না নিয়ে সামরিক ঘাঁটি স্থাপনকে দখল হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন ফিলিস্তিনি-কানাডিয়ান আইনজীবী এবং প্রাক্তন শান্তি আলোচক দিয়ানা বুট্টু। তিনি প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়ে বলেন, “কার অনুমতিতে তারা সামরিক ঘাঁটি স্থাপন করবে।” বিষয়টি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা বোর্ড অব পিসের কথা টানেন। ট্রাম্প প্রশাসনের একজন কর্মকর্তা সামরিক ঘাঁটির চুক্তি নিয়ে আলোচনা করতে অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, “যেমনটি প্রেসিডেন্ট বলেছেন, কোনও মার্কিন সেনা স্থলভাগে যাবে না। আমরা লিক হওয়া নথি নিয়ে আলোচনা করবো না।”

কুড়িগ্রামের তাজু ভাই ২.০: ‘সরকারি রেটে জিলাপি’ প্রশ্নে ভাইরাল এক নির্মাণশ্রমিকের গল্প

বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের প্রত্যন্ত চরাঞ্চল থেকে উঠে এসে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার কেন্দ্রে এখন তাইজুল ইসলাম, যিনি অনলাইনে পরিচিত ‘তাজু ভাই ২.০’ নামে। মাত্র একটি ভিডিও—যেখানে তিনি এক দোকানিকে প্রশ্ন করেন, “জিলাপি আজকে কত করে বেচতেছেন সরকারি রেটে?”—এই সরল উপস্থাপনাই তাকে রাতারাতি ভাইরাল করে তোলে।  কয়েক ঘণ্টায় ফলোয়ার লাখ ছাড়াল রোববার রাত পর্যন্ত তার ফেসবুক অনুসারী ছিল প্রায় ৩৫ হাজার। কিন্তু সোমবার সন্ধ্যা থেকে রাতের মধ্যেই তা বেড়ে এক লাখের বেশি হয়ে যায়। ভাইরাল ভিডিওটি ইতোমধ্যে প্রায় ৫০ থেকে ৫৫ লাখবার দেখা হয়েছে।  কী ছিল সেই ভিডিওতে? ভিডিওতে দেখা যায়, কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীর নারায়ণপুর বাজারে দাঁড়িয়ে স্থানীয় ভাষায় তিনি জিলাপির দাম জানতে চান। তার কথাগুলো ছিল একেবারেই সহজ ও গ্রাম্য ভঙ্গিতে— “সাদাডা কত, লালডা কত? সরকারি রেটে বেচতেছেন?” এই সরল প্রশ্নই সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।  কোথা থেকে উঠে এলেন তাজু ভাই? কুড়িগ্রাম জেলার নাগেশ্বরী উপজেলার নারায়ণপুর ইউনিয়নের একটি দুর্গম গ্রামে জন্ম তার। ব্রহ্মপুত্র নদবেষ্টিত এই অঞ্চলে পৌঁছাতে এখনও কয়েকটি নৌঘাট পার হতে হয়। দারিদ্র্যের কারণে কখনো স্কুলে যাওয়া হয়নি তার। পেশায় তিনি একজন নির্মাণশ্রমিকের সহকারী (হেলপার)। কাজের ফাঁকে ঢাকায় থাকাকালীন মোবাইল ফোনে ভিডিও তৈরি করাই তার শখ। ব্যক্তিগত সংগ্রাম তাইজুল ইসলামের পরিবারে ছয় ভাই-বোন। তিনি সবার বড়। তার বাবা-মা দুজনই শ্রবণপ্রতিবন্ধী। পরিবার চালাতে তাকে ছোটবেলা থেকেই সংগ্রাম করতে হয়েছে। তিনি বলেন, “পরিবারের কষ্ট ভুলতেই ভিডিও করি। আমি সাংবাদিক না, কিন্তু আমাদের এলাকায় কেউ আসে না—তাই নিজেরাই ভিডিও বানাই।” ভাইরাল হওয়ার পেছনের উদ্দেশ্য তাইজুলের দাবি, তার ভিডিও শুধুই বিনোদনের জন্য নয়। তিনি চান তার এলাকার অবহেলিত মানুষের কথা প্রশাসনের নজরে আসুক। “আমি চাই চরের মানুষের উন্নয়ন হোক,”—বলছেন তিনি।  মিশ্র প্রতিক্রিয়া ভিডিওটি নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে দুই ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ তার সরলতা ও বাস্তবতা তুলে ধরার চেষ্টা প্রশংসা করছেন আবার কেউ তাকে নিয়ে ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ করছেন তবে এসব সমালোচনায় তিনি বিচলিত নন।

অর্থনীতি

ইসলামী ব্যাংক,

ইসলামী ব্যাংকে আস্থা সংকট কেন কাটছে না?: দেশের বৃহত্তম শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংককে ঘিরে নতুন প্রশ্ন

নিজস্ব প্রতিবেদক জুন ২২, ২০২৬ 0




অপরাধ

ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো

ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকোর বিরুদ্ধে ৩০ বিলিয়ন ডলার জালিয়াতি ও অর্থপাচার অভিযোগে দুদকের অনুসন্ধান

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ২৪, ২০২৬ 0




কৃষি ও জলবায়ু

ধান

শেরপুরে বোরো ধানের দাম কমে লোকসানে কৃষকরা, উৎপাদন খরচও উঠছে না

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ৬, ২০২৬ 0