Brand logo light
ব্রেকিং

ঢাকা-খুলনা-সিলেটসহ ৬ সিটি করপোরেশনে নতুন প্রশাসক নিয়োগ

Admin ফেব্রুয়ারি ২৩, ২০২৬ 0
স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়
স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়

ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণসহ দেশের মোট ছয়টি সিটি করপোরেশনে প্রশাসক নিয়োগ দিয়েছে সরকার। রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি) জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়।

প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন-এর প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন মো. আব্দুস সালাম। আর ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন-এর দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে মো. শফিকুল ইসলাম খানকে।

এছাড়া খুলনা সিটি করপোরেশন-এ নজরুল ইসলাম মঞ্জু, সিলেট সিটি করপোরেশন-এ আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী, নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন-এ মো. সাখাওয়াত হোসেন খান এবং গাজীপুর সিটি করপোরেশন-এ প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন মো. শওকত হোসেন সরকার।

অধ্যাদেশ অনুযায়ী দায়িত্ব পালন

প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে, ‘স্থানীয় সরকার (সিটি করপোরেশন) (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৪’-এর ধারা ২৫ক এর উপধারা (১) অনুসারে করপোরেশন গঠিত না হওয়া পর্যন্ত অথবা পরবর্তী আদেশ না দেওয়া পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের পূর্ণকালীন প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ প্রদান করা হয়েছে।

মেয়রের ক্ষমতা প্রয়োগ করবেন প্রশাসকরা

নিয়োগপ্রাপ্ত প্রশাসকরা সংশ্লিষ্ট সিটি করপোরেশনের মেয়রের ক্ষমতা প্রয়োগ ও দায়িত্ব পালন করবেন বলে প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়েছে। তারা বিধি মোতাবেক ভাতা প্রাপ্য হবেন।

জনস্বার্থে জারিকৃত এ আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে বলেও প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে।

Popular post
ফারুকীর সম্পদ কমেছে, তিশার বেড়েছে দ্বিগুণেরও বেশি: সম্পদ বিবরণী ঘিরে আলোচনা

অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের সম্পদ বিবরণী প্রকাশের পর সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী ও তার স্ত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদের হিসাব নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। এক বছরের ব্যবধানে স্বামী ফারুকীর সম্পদ কমলেও স্ত্রী তিশার সম্পদ বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে প্রকাশিত তথ্যে উঠে এসেছে এই চিত্র। প্রকাশিত খতিয়ান অনুযায়ী, জনপ্রিয় অভিনেত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদ এক বছরে অভাবনীয় হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তিশার মোট সম্পদের পরিমাণ ছিল ১ কোটি ৪০ লাখ ৮১ হাজার ৮৬০ টাকা। ঠিক এক বছর পর, ২০২৫ সালের ৩০ জুন সেই সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ৯৯ লাখ ৮৯ হাজার ৫০১ টাকায়। অর্থাৎ মাত্র এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ বেড়েছে ১ কোটি ৫৯ লাখ ৭ হাজার ৬৪১ টাকা, যা আগের বছরের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি। অন্যদিকে সংস্কৃতি উপদেষ্টা ও নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর ক্ষেত্রে দেখা গেছে উল্টো চিত্র। এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ কমেছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তার মোট সম্পদ ছিল ২ কোটি ২৬ লাখ ৯২ হাজার ২৬ টাকা। ২০২৫ সালের ৩০ জুন তা কমে দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ১৫ লাখ ১৮ হাজার ২৬ টাকায়। হিসাব অনুযায়ী, এক বছরে তার সম্পদ কমেছে ১১ লাখ ৭৪ হাজার টাকা। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে গত মঙ্গলবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ প্রধান উপদেষ্টা, উপদেষ্টা ও সমমর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের পাশাপাশি তাদের স্ত্রী বা স্বামীর সম্পদ বিবরণী প্রকাশ করে। একই সময়ে স্বামী-স্ত্রীর সম্পদে এমন ভিন্নমুখী পরিবর্তন স্বাভাবিকভাবেই সাধারণ মানুষের কৌতূহলের জন্ম দিয়েছে। শোবিজ অঙ্গনের জনপ্রিয় দম্পতি হওয়ায় তাদের এই আয়-ব্যয়ের হিসাব এখন টক অব দ্য কান্ট্রি।

বাংলাদেশে ঐতিহাসিক নির্বাচন: বিএনপি এগিয়ে, জামায়াতের উত্থান ও তরুণ ভোটারদের প্রভাব

২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশে আজ এক ঐতিহাসিক ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ২০০৮ সালের পর এই প্রথম একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হতে যাচ্ছে যেখানে দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগ রাজনৈতিক মানচিত্র থেকে কার্যত অনুপস্থিত। বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক জরিপ বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০০ আসনের মধ্যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) কার্যকর সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে যাচ্ছে। তবে ভোটের ব্যবধান এবং কিছু সমীকরণ নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। নির্বাচনের সবচেয়ে বড় নিয়ামক হয়ে দাঁড়িয়েছে আওয়ামী লীগের বিশাল ভোটব্যাংক। দলটির নিয়মিত প্রায় ৪ কোটি ভোটার এখন নতুন রাজনৈতিক আশ্রয় খুঁজছেন। সিআরএফ বা বিইপিওএস জরিপ বলছে, এই ভোটারদের প্রায় অর্ধেক বিএনপির দিকে ঝুঁকেছে, যা দলটিকে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতার পথে এগিয়ে দিচ্ছে। অন্যদিকে, প্রায় ৩০ শতাংশ আওয়ামী ভোটার জামায়াতে ইসলামীকে বেছে নিতে পারেন বলে আভাস পাওয়া যাচ্ছে। এছাড়া বাংলাদেশের বিদ্যমান নির্বাচনী ব্যবস্থার কারণে দেশজুড়ে সুষম জনসমর্থন থাকা বিএনপি আসন জয়ের ক্ষেত্রে জামায়াতের তুলনায় সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। তবে বিএনপির এই সম্ভাব্য জয়ের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও বিদ্রোহী প্রার্থীরা। প্রায় ৭৯টি নির্বাচনী এলাকায় দলের মনোনয়ন না পাওয়া ৯২ জন প্রভাবশালী নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, যা বিএনপির ১৫ থেকে ৩০টি আসন কমিয়ে দিতে পারে। অন্যদিকে, তরুণ ভোটার বা ‘জেন-জি’ প্রজন্মের বিশাল সমর্থন জামায়াতে ইসলামীর শক্তির উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেশের ৪৪ শতাংশ ভোটারই তরুণ, যাদের বড় একটি অংশ প্রথমবার ভোট দিচ্ছেন। এই তরুণরা যদি দলবেঁধে কেন্দ্রে উপস্থিত হন, তবে নির্বাচনী ফলে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। সবশেষে, প্রায় ১৭ থেকে ৩৫ শতাংশ দোদুল্যমান ভোটার এবং তাদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করবে আগামীর সরকার কতটা শক্তিশালী হবে। দ্য নিউইয়র্ক এডিটোরিয়ালের মূল পূর্বাভাস, তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি প্রায় ১৮৫টি আসনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করতে পারে এবং জামায়াতে ইসলামী ৮০টির মতো আসন পেয়ে প্রধান বিরোধী দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারে। তবে বিদ্রোহী প্রার্থীদের প্রভাব এবং তরুণ ভোটারদের উপস্থিতির ওপর ভিত্তি করে আসন সংখ্যায় বড় ধরনের হেরফের হওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

কুড়িগ্রামের তাজু ভাই ২.০: ‘সরকারি রেটে জিলাপি’ প্রশ্নে ভাইরাল এক নির্মাণশ্রমিকের গল্প

বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের প্রত্যন্ত চরাঞ্চল থেকে উঠে এসে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার কেন্দ্রে এখন তাইজুল ইসলাম, যিনি অনলাইনে পরিচিত ‘তাজু ভাই ২.০’ নামে। মাত্র একটি ভিডিও—যেখানে তিনি এক দোকানিকে প্রশ্ন করেন, “জিলাপি আজকে কত করে বেচতেছেন সরকারি রেটে?”—এই সরল উপস্থাপনাই তাকে রাতারাতি ভাইরাল করে তোলে।  কয়েক ঘণ্টায় ফলোয়ার লাখ ছাড়াল রোববার রাত পর্যন্ত তার ফেসবুক অনুসারী ছিল প্রায় ৩৫ হাজার। কিন্তু সোমবার সন্ধ্যা থেকে রাতের মধ্যেই তা বেড়ে এক লাখের বেশি হয়ে যায়। ভাইরাল ভিডিওটি ইতোমধ্যে প্রায় ৫০ থেকে ৫৫ লাখবার দেখা হয়েছে।  কী ছিল সেই ভিডিওতে? ভিডিওতে দেখা যায়, কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীর নারায়ণপুর বাজারে দাঁড়িয়ে স্থানীয় ভাষায় তিনি জিলাপির দাম জানতে চান। তার কথাগুলো ছিল একেবারেই সহজ ও গ্রাম্য ভঙ্গিতে— “সাদাডা কত, লালডা কত? সরকারি রেটে বেচতেছেন?” এই সরল প্রশ্নই সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।  কোথা থেকে উঠে এলেন তাজু ভাই? কুড়িগ্রাম জেলার নাগেশ্বরী উপজেলার নারায়ণপুর ইউনিয়নের একটি দুর্গম গ্রামে জন্ম তার। ব্রহ্মপুত্র নদবেষ্টিত এই অঞ্চলে পৌঁছাতে এখনও কয়েকটি নৌঘাট পার হতে হয়। দারিদ্র্যের কারণে কখনো স্কুলে যাওয়া হয়নি তার। পেশায় তিনি একজন নির্মাণশ্রমিকের সহকারী (হেলপার)। কাজের ফাঁকে ঢাকায় থাকাকালীন মোবাইল ফোনে ভিডিও তৈরি করাই তার শখ। ব্যক্তিগত সংগ্রাম তাইজুল ইসলামের পরিবারে ছয় ভাই-বোন। তিনি সবার বড়। তার বাবা-মা দুজনই শ্রবণপ্রতিবন্ধী। পরিবার চালাতে তাকে ছোটবেলা থেকেই সংগ্রাম করতে হয়েছে। তিনি বলেন, “পরিবারের কষ্ট ভুলতেই ভিডিও করি। আমি সাংবাদিক না, কিন্তু আমাদের এলাকায় কেউ আসে না—তাই নিজেরাই ভিডিও বানাই।” ভাইরাল হওয়ার পেছনের উদ্দেশ্য তাইজুলের দাবি, তার ভিডিও শুধুই বিনোদনের জন্য নয়। তিনি চান তার এলাকার অবহেলিত মানুষের কথা প্রশাসনের নজরে আসুক। “আমি চাই চরের মানুষের উন্নয়ন হোক,”—বলছেন তিনি।  মিশ্র প্রতিক্রিয়া ভিডিওটি নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে দুই ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ তার সরলতা ও বাস্তবতা তুলে ধরার চেষ্টা প্রশংসা করছেন আবার কেউ তাকে নিয়ে ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ করছেন তবে এসব সমালোচনায় তিনি বিচলিত নন।

গাজায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা ট্রাম্প প্রশাসনে

ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। ৩৫০ একরের ঘাঁটিটিতে সামরিক বাহিনীর পাঁচ হাজার সদস্য থাকতে পারবে। গাজার ‘বোর্ড অব পিস’র নথি পর্যালোচনা করে এ তথ্য জানিয়েছে দ্য গার্ডিয়ান। প্রতিবেদনে ব্রিটিশ সংবাদ মাধ্যমটি জানিয়েছে, বোর্ড অব পিসে গাজাকে নিরাপদ করার জন্য ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যাবিলাইজেশন ফোর্স (আইএসএফ) নামে একটি আন্তর্জাতিক বাহিনী মোতায়েনের কথা বলা হয়েছে। যে স্থানটি ঘাঁটি করার জন্য বিবেচনা করা হচ্ছে সেখানে আইএসএফের সদস্যরা থাকবে। বোর্ড অব পিসের প্রধান হবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আর সংগঠনটির আংশিক নেতৃত্ব দেবেন ট্রাম্পের জামাতা জ্যারার্ড কুশনার।দ্য গার্ডিয়ান বোর্ড অব পিসের নথি পর্যালোচনা করে জানায়, ধাপে ধাপে একটি সামরিক ঘাঁটি নির্মাণ করা হবে। সবকিছু শেষ হলে ঘাঁটিটি ১৫ লাখ ১৭ হাজার ৫৭৫ বর্গমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত হবে। ঘাঁটিটির চারপাশে ট্রেইলার সংযুক্ত ২৬টি সাঁজোয়া নজরদারি টাওয়ার থাকবে। এছাড়া একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, বাংকার ও অস্ত্র রাখার গুদাম থাকবে। পুরো ঘাঁটিটি কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে ঘিরে রাখা হবে। সামরিক ঘাঁটি নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে দক্ষিণ গাজার একটি শুষ্ক সমতলভূমিতে। সেখানে ইসরায়েলি হামলার চিহ্ন রয়েছে। ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে বিভিন্ন ধাতবের ধ্বংসাবশেষ।  ওই এলাকার ভিডিও পর্যালোচনা করেছে দ্য গার্ডিয়ান। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, ঘাঁটি নির্মাণের জন্য টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে। যুদ্ধক্ষেত্রে কাজের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন আন্তর্জাতিক নির্মাণ কোম্পানিগুলোর একটি ছোট দলকে ইতোমধ্যেই এলাকাটি দেখানো হয়েছে। ওই দলটি দরপত্রে অংশ নিতে আগ্রহী।    ইন্দোনেশিয়া সরকার গাজায় আট হাজার সেনা সদস্য পাঠানোর জন্য প্রস্তাব দিয়েছে। বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটন ডিসিতে বোর্ড অব পিসের অনানুষ্ঠানিক বৈঠকে ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্টের অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। এছাড়া দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার আরও তিন নেতার ওই বৈঠকে অংশ নেবেন বলে জানা গেছে। জাতিসংঘের নিরাপত্তা কাউন্সিল গাজার সাময়িক স্থিতিশীলতার জন্য অস্থায়ীভাবে সামরিক বাহিনী মোতায়েনের অনুমোদন দিয়েছে। নিরাপত্তা কাউন্সিলই বোর্ড অব পিসের মূল হোতা। গাজার সীমান্ত ও শান্তি প্রণয়নে কাজ করবে আইএসএফ। এছাড়া বেসামরিকদের সুরক্ষা এবং ফিলিস্তিনি পুলিশ বাহিনীকে প্রশিক্ষণ ও সহায়তা দেবে তারা। যদি গাজায় ফের সংঘর্ষ হয়, ইসরায়েল বোমা হামলা চালায় অথবা হামাস হামলা চালায় সেক্ষেত্রে আইএসএফ কি করবে তা এখনও স্পষ্ট নয়। গাজা পুনর্গঠনে ইসরায়েল হামাসকে নিরস্ত্রীকরণের যে শর্ত দিয়েছে সেটির জন্য আইএসএফ কাজ করবে কিনা তাও স্পষ্ট না। ইতোমধ্যে বোর্ড অব পিসে ২০ এর অধিক দেশ যোগ দিয়েছে। তবে, এখনও অনেক পরাশক্তি এর থেকে দূরে রয়েছে। জাতিসংঘের অনুমোদন নিয়ে প্রতিষ্ঠিত হলেও ধারণা করা হচ্ছে, সংগঠনটির স্থায়ী নেতৃত্ব ও নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে। রুটজার্স বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক আদিল হক বলেন, “বোর্ড অব পিস এক ধরনের আইনি কল্পসত্তা। নামমাত্রভাবে এর নিজস্ব আন্তর্জাতিক আইনগত সত্তা রয়েছে, যা জাতিসংঘ ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে আলাদা। কিন্তু বাস্তবে এটি যুক্তরাষ্ট্রের ইচ্ছামতো ব্যবহারের জন্য একটি ফাঁপা খোলসমাত্র।” বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গাজা পুনর্গঠনে যে অর্থায়ন ও শাসন কাঠামো হচ্ছে তা অস্বচ্ছ। কয়েকজন ঠিকাদার গার্ডিয়ানকে জানান, গাজায় কাজ করার জন্য মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে তাদের প্রায়শ আলোচনা সরকারি ইমেলের বদলে সিগন্যালের মাধ্যমে করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রের তথ্য মতে, ঘাঁটি নির্মাণের সিদ্ধান্তটি বোর্ড অব পিসের। এতে সহায়তা করছে মার্কিন কর্মকর্তারা। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ঘাঁটিতে তৈরি বাংকার নেটওয়ার্কের মতোন কাজ করবে। প্রতিটি বাংকারের ২৪ মিটারের হবে। উচ্চতা থাকবে আড়াই মিটার। এগুলো এমনভাবে করা হবে যেন সেনা সদস্যরা আশ্রয় নিতে পারে। স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসের গাজায় সুড়ঙ্গ নেটওয়ার্ক বা টানেল রয়েছে। সেগুলোর আদলে নেটওয়ার্ক করতে চাওয়া হচ্ছে। পিস অব বোর্ডের নথি পর্যালোচনা করে এমন দাবি করছে গার্ডিয়ান। সংবাদ মাধ্যমটি বলছে,  স্থানটির ভূ-ভৌত জরিপ পরিচালনা করবে ঠিকাদাররা। নথির এক অংশে ‘হিউম্যান রেমিয়েনস প্রোটোকল’র কথা বলা হয়েছে। এর মানে দাঁড়ায়, সন্দেহভাজন মানব অবশিষ্ট বা সাংস্কৃতিক নিদর্শন পাওয়া গেলে অবিলম্বে সেই এলাকায় সব কাজ বন্ধ করতে হবে। চুক্তি কর্মকর্তাকে দিকনির্দেশনার জন্য অবিলম্বে জানাতে হবে। গাজা সিভিল ডিফেন্সের ধারণা, গাজার ধ্বংসস্তূপের নিচে ১০ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনির মরদেহ রয়েছে। ঘাঁটির জন্য যে স্থানটি বিবেচিত করা হচ্ছে সেটির মালিক কে তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে, দক্ষিণ গাজার বেশিরভাগ অংশ  বর্তমানে ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণে। জাতিসংঘের অনুমান, যুদ্ধ চলাকালীন ১৯ লাখ ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত হয়েছে। ফিলিস্তিনের জমিতে সরকারের অনুমতি না নিয়ে সামরিক ঘাঁটি স্থাপনকে দখল হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন ফিলিস্তিনি-কানাডিয়ান আইনজীবী এবং প্রাক্তন শান্তি আলোচক দিয়ানা বুট্টু। তিনি প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়ে বলেন, “কার অনুমতিতে তারা সামরিক ঘাঁটি স্থাপন করবে।” বিষয়টি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা বোর্ড অব পিসের কথা টানেন। ট্রাম্প প্রশাসনের একজন কর্মকর্তা সামরিক ঘাঁটির চুক্তি নিয়ে আলোচনা করতে অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, “যেমনটি প্রেসিডেন্ট বলেছেন, কোনও মার্কিন সেনা স্থলভাগে যাবে না। আমরা লিক হওয়া নথি নিয়ে আলোচনা করবো না।”

সংসার সামলাতে অটোরিকশা নিয়ে রাস্তায় নেমেছেন রোজিনা

বাসস : বাবা একজন তাঁত শ্রমিক। তিন বোন দুই ভাইয়ের মধ্যে সবার বড় রোজিনা। অভাব সংসার, তাই এক এতিম যুবকের সাথে বাবা-মা বিয়ে দেন তাকে। বিয়ের পর জন্ম হয় দুই কন্যা সন্তানের। অটোরিকশা চালিয়ে কোন রকম সংসার চালাচ্ছিলেন স্বামী রফিকুল ইসলাম। কিন্তু সড়ক দুর্ঘটনায় রফিকুলের এক চোখ সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যায়। আরেকটি চোখ আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ধীরে ধীরে ওই চোখের দৃষ্টি শক্তিও কমতে থাকে। ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে অটোরিকশা চালানো। সংসারের উপার্জনক্ষম মানুষটি অচল হয়ে পড়ায় চিকিৎসার খরচ, ঘর ভাড়া ও খাবারের পাশাপাশি মেয়েদের লেখাপড়ার খরচ চালানোই কঠিন হয়ে যায়। দিশেহারা হয়ে পরেন রোজিনা। এক পর্যায়ে মানুষের বাড়ি বাড়ি কাজ করে সংসার চালানোর চেস্টা করেন। কিন্তু সুবিধা করতে পারেন না। এমন পরিস্থিতিতে অটোরিকশা চালানোর সিদ্ধান্ত নেন তিনি। স্বামী রফিকুলের কাছেই হাতেখড়ি। গ্রামের স্কুলের মাঠে স্বামীর কাছেই অটোরিকশা চালানোর শিক্ষা নেন তিনি। পরে গ্রামের পথে নেমে পড়েন অটোরিকশা নিয়ে। ৫-৬ দিন এভাবে হাত পাকা করে একদিন টাঙ্গাইল শহরে চলে আসেন রোজিনা। এরপর শুরু করেন অটোরিক্সা চালানোর ব্যতিক্রমী জীবন সংগ্রাম। এখন টাঙ্গাইল পৌরসভায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার চালকদের মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা বেগম। জেলার বাসাইল উপজেলার আইসড়া গ্রামের বাসিন্দা রোজিনা টাঙ্গাইল পৌর শহরের এক প্রান্ত রাবনা বাইপাস থেকে আরেক প্রান্ত বেবিস্ট্যান্ডে যাত্রী আনা নেয়া করেন। যানজটের কারণে শহরে পুরুষ চালকরা যেখানে হিমসিম খায়, সেখানেই বিগত ৫ বছর ধরেই নির্বিঘেœ অটোরিকশা চালাচ্ছেন তিনি। টাঙ্গাইল পৌরসভা কার্যালয় সূত্রে জানা যাায়, টাঙ্গাইল শহরে চলাচলের জন্য ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক ও ৫ হাজার ব্যাটারিচালিত রিকশার অনুমতি (লাইসেন্স) দেওয়া হয়েছে। যানজট এড়াতে ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক জোড় ও বিজোড় সংখ্যায় দিনে দুই ভাগ করা হয়েছে। সকাল থেকে বেলা দুইটা পর্যন্ত এক ভাগ এবং বেলা দুইটা থেকে রাত পর্যন্ত আরেক ভাগের ইজিবাইক চলাচল করার নির্দেশনা দিয়েছে পৌর কর্তৃপক্ষ। কিন্তু রোজিনাকে দুই শিফটে চালানোর অনুমতি দিয়েছে পৌরসভা। সরেজমিনে দেখা যায়, নতুন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অটোরিকশা নিয়ে যাত্রী ডাকছেন রোজিনা। কলেজ গেট, পুরাতন বাসস্ট্যান্ড, ক্যাপসুল, নিরালা মোড়, বেবিস্ট্যান্ড সর্বত্রই যাত্রী আনানেয়া করেন তিনি। পুরাতন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অন্য অটো চালকদের দাঁড় করতে না দিলেও রোজিনাকে বাঁধা দেননা ট্রাফিক পুলিশ। বলতে গেলে সবাই তার প্রতি সহানুভুতিশীল। ট্রাফিক পুলিশসহ অন্য অটোচালকরাও তাকে সহযোগিতা করেন। রোজিনা বলেন, আমার অটোতে নারী যাত্রীরা খুব কম। তারা মনে করে আমার অটোতে উঠলে দুর্ঘটনায় পড়বে। কিন্তু আমি খুব সাবধানে অটো চালাই। দ্রুত গতিতেও না, আবার একেবারে ধীরগতিতেও না। এখন পর্যন্ত আমি কোন দুর্ঘটনার কবলে পড়ি নাই। শহরের পুরুষ অটোরিকশা চালকরা আমাকে অনেক সহযোগিতা করে। অটোচালক কাদের মিয়া বলেন, আমাদের শহরে কয়েক হাজার অটো চলাচল করে। তার মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। তাকে আমরা সব সময় সহযোগিতা করি। যাত্রী সাইদ মিয়া বলেন, আমি এ পর্যন্ত ৫-৬ বার রোজিনার অটোতে চড়েছি। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। অন্য পুরুষ অটো চালকের চেয়েও ভালো অটো চালান। নারী সংগঠক সেরাজুম মনিরা বলেন, তিনি অনেক দিন যাবত অটোরিকশা চালাচ্ছেন। আমি রোজিনাকে স্যালুট জানাই। একজন পুরুষের চেয়ে একজন নারী কোনো ভাবেই যে পিছিয়ে নেই, রোজিনা তা প্রমাণ করেছেন। রোজিনা বলেন, অটো চালানোর এই সিদ্ধান্তটি তার জন্য খুব সহজ ছিল না। তিনি বলেন, ৫ ও ১০ বছরের দুই মেয়েকে বাড়িতে রেখে অটোরিকশা নিয়ে সারাদিন রাস্তায় থাকতে হয়। তাদের ভালোভাবে দেখাশোনা করতে পারি না। কিন্তু কি করবো, অভাবের সংসার! এখন ঋণ নিয়ে একটু জমি কিনেছি। প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ণ প্রকল্পের অর্থায়নে প্রশাসন সেখানে ঘর তুলে দিয়েছে। শুরুতে যারা আমাকে নিয়ে ঠাট্টা করেছে এখন তারাই আমাকে সম্মান করেন। নারীরাও যে কিছু করতে পারে, তা প্রমাণ করেছি। আমার বড় মেয়ে আইসড়া উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়ে, ছোট মেয়ে পড়ে স্থানীয় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। মেয়েদের শিক্ষিত করতে হবে। ধার দেনা শোধ করতে হবে। তাই থেমে গেলো চলবে না। আমি অটোরিকশা চালিয়েই দুই সন্তানকে মানুষ করতে চাই।’ ঘারিন্দা ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য বাবুল সরকার বলেন, সরকার রোজিনাকে একটি ঘর নির্মাণ করে দিয়েছে। শুরুতে যারা তাকে নিয়ে নানান কথা বলতো, এখন তার সংকল্প ও মানষিক দৃঢ়তা দেখে থেমে গেছে। আমরা তাকে নিয়ে গর্ব করি। টাঙ্গাইলের ট্রাফিক ইন্সপেক্টর (প্রশাসন) দেলোয়ার হোসেন বলেন, শহরের একমাত্র নারী চালক রোজিনাকে কেউ যেন বিরক্ত করতে না পারে সেদিকে সব সময় নজর রাখে ট্রাফিক পুলিশ। আমরা তাকে সব সময় সহযোগিতা করে আসছি। টাঙ্গাইলের সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক শাহ আলম বলেন, বিষয়টি এখন জানতে পারলাম। ওই নারী এখনো পর্যন্ত আমাদের কাছে আসেন নাই। যদি আমাদের কাছে এসে আবেদন করেন অবশ্যই তাকে আমরা সহযেগিতা করবো, তার পাশে দাঁড়াবো।

নিজস্ব প্রতিবেদক

ব্রেকিং

View more
চীনের ঋণ সহায়তায় প্রকল্প
বাংলাদেশে আট হাজার কোটি টাকার সমুদ্র প্রকল্প: প্রস্তুত অবকাঠামো, বন্ধ অপারেশন,অবকাঠামো পড়ে আছে অচল অবস্থায়

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : কক্সবাজারের মহেশখালীতে বঙ্গোপসাগরের কোল ঘেঁষে দাঁড়িয়ে আছে দেশের সবচেয়ে ব্যয়বহুল জ্বালানি অবকাঠামোগুলোর একটি—সিঙ্গেল পয়েন্ট মুরিং (SPM) প্রকল্প। গভীর সমুদ্র থেকে সরাসরি পাইপলাইনে জ্বালানি তেল খালাস করে দেশে পরিবহনের এই আধুনিক ব্যবস্থা নির্মাণে ব্যয় হয়েছে আট হাজার কোটি টাকারও বেশি। অবকাঠামো সম্পূর্ণ, পরীক্ষামূলক চালানও শেষ—তবু প্রকল্পটি কার্যত অচল পড়ে আছে। প্রায় দুই বছর আগে নির্মাণ শেষ হলেও এখনো পূর্ণাঙ্গভাবে চালু হয়নি এই প্রকল্প। ফলে বাংলাদেশের জ্বালানি আমদানির একটি বড় অংশ এখনো পুরনো, ব্যয়বহুল এবং সময়সাপেক্ষ পদ্ধতিতে চলছে।   কী ছিল এই প্রকল্পের লক্ষ্য এসপিএম প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য ছিল—গভীর সমুদ্র থেকে বড় ট্যাংকারে আসা জ্বালানি তেল সরাসরি পাইপলাইনের মাধ্যমে মহেশখালীতে আনা, সেখানে সংরক্ষণ করা এবং সেখান থেকে আবার পাইপলাইনে চট্টগ্রামের ইস্টার্ন রিফাইনারিতে পাঠানো। বর্তমানে যে পদ্ধতি ব্যবহৃত হচ্ছে তা হলো লাইটারেজ সিস্টেম—বড় জাহাজ থেকে ছোট জাহাজে করে কর্ণফুলী চ্যানেল হয়ে তেল আনা। এতে সময় বেশি লাগে, খরচও বেশি এবং কিছুটা অপচয়ও ঘটে। নতুন ব্যবস্থায় এই পুরো প্রক্রিয়াটি ১১ দিনের বদলে মাত্র ৪৮ ঘণ্টায় সম্পন্ন হওয়ার কথা ছিল।   কী তৈরি করা হয়েছে মহেশখালীতে প্রকল্পের আওতায় নির্মিত হয়েছে— গভীর সমুদ্রের ভাসমান বয়া (SPM পয়েন্ট) প্রায় ২২০ কিলোমিটার পাইপলাইন ব্যবস্থা মহেশখালীতে পাম্পিং স্টেশন ও ডিজেল জেনারেটর প্রায় ১০০ একর জমিতে স্টোরেজ সুবিধা ছয়টি বিশাল স্টোরেজ ট্যাংক এই ছয়টি ট্যাংকে একসঙ্গে প্রায় ২ লাখ টন তেল সংরক্ষণ করা সম্ভব। এর মধ্যে তিনটি ক্রুড অয়েল এবং তিনটি ডিজেলের জন্য। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই মজুত ক্ষমতা দিয়ে দেশের প্রায় এক মাসের ক্রুড অয়েল এবং এক সপ্তাহের ডিজেল চাহিদা সামাল দেওয়া সম্ভব।   এত বড় অবকাঠামো কেন চালু হয়নি? ২০২৪ সালে নির্মাণ শেষ হওয়ার পর প্রকল্পটি পরীক্ষামূলকভাবে চালু করে কমিশনিং সম্পন্ন করা হয়। কিন্তু নিয়মিত অপারেশনের জন্য প্রয়োজনীয় অপারেটর বা ঠিকাদার নিয়োগ এখনো সম্পন্ন হয়নি। জ্বালানি বিভাগ বলছে, এই ধরনের সিস্টেম পরিচালনার জন্য দেশে অভিজ্ঞ অপারেটর নেই। তাই বিদেশি ঠিকাদার নিয়োগের প্রক্রিয়া চলছে। তবে এই প্রক্রিয়া থেমে গেছে আইনি ও প্রশাসনিক পরিবর্তনের কারণে। আগে বিশেষ বিধান আইনের আওতায় সরাসরি দরপত্র ছাড়া চীনা কোম্পানির মাধ্যমে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হয়েছিল। পরবর্তীতে অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে সেই বিশেষ আইন বাতিল হওয়ায় অপারেশন ও মেইনটেনেন্স (O&M) চুক্তিও আটকে যায়। ফলে উন্মুক্ত দরপত্রের মাধ্যমে নতুন অপারেটর নিয়োগের চেষ্টা শুরু হলেও এখনো তা শেষ হয়নি।   অর্থনৈতিক ক্ষতি: প্রতিদিনের বিলম্বে কী হারাচ্ছে বাংলাদেশ প্রকল্পটি চালু হলে বছরে প্রায় ৮০০ কোটি টাকার বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় হওয়ার সম্ভাবনা ছিল। আংশিকভাবে চালু থাকলেও অন্তত ৫০০ কোটি টাকার সাশ্রয় সম্ভব বলে প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা জানান। বর্তমানে লাইটারেজ ব্যবস্থায়— বেশি জাহাজ ব্যবহার করতে হচ্ছে সময় বেশি লাগছে পরিবহন খরচ বাড়ছে তেল অপচয়ের ঝুঁকি থাকছে বিশেষজ্ঞদের মতে, এই অতিরিক্ত খরচ আসলে প্রতিদিনই দেশের জ্বালানি আমদানির ব্যয় বাড়াচ্ছে।   বিশেষজ্ঞদের সতর্কতা: শুধু অবকাঠামো নয়, কৌশলগত সম্পদ ইন্ডিপেন্ডেন্ট ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশের অধ্যাপক ম তামিম মনে করেন, প্রকল্পটি শুধু একটি পরিবহন ব্যবস্থা নয়, এটি একটি কৌশলগত জ্বালানি মজুত কেন্দ্রও হতে পারত। তার মতে, পাইপলাইন চালু থাকলে— লাইটারেজ নির্ভরতা কমত পরিবহন ক্ষতি হ্রাস পেত পরিবেশগত ঝুঁকি কমত খরচ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যেত তিনি আরও বলেন, দুই লাখ টন স্টোরেজকে দেশের কৌশলগত জ্বালানি রিজার্ভ হিসেবে ব্যবহার করার সুযোগ ছিল, যা এখনো কাজে লাগানো যায়। আরেক বিশেষজ্ঞ ড. বদরুল ইমাম বলেন, এটি আধুনিক ও সাশ্রয়ী ব্যবস্থা হওয়া সত্ত্বেও পড়ে থাকলে প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক—কেন এটি চালু করা যাচ্ছে না এবং কার গাফিলতিতে দেরি হচ্ছে। প্রশাসনিক অবস্থান: আশ্বাস বনাম বাস্তবতা জ্বালানি বিভাগ বলছে, প্রকল্প দ্রুত চালুর জন্য তারা আন্তরিকভাবে কাজ করছে। নতুন করে দরপত্র মূল্যায়ন চলছে এবং পেট্রোলিয়াম ট্রান্সমিশন কোম্পানি গঠন করা হয়েছে, যারা ভবিষ্যতে এটি পরিচালনা করবে। কর্মকর্তাদের দাবি, অপারেশন ধীরে ধীরে স্থানীয় জনবল দিয়ে হস্তান্তরের পরিকল্পনা আছে। তবে বাস্তবতা হলো—নির্দিষ্ট কোনো সময়সীমা এখনো কেউ দিতে পারেনি।   তদন্তের প্রশ্ন: বিলম্ব কি শুধু প্রশাসনিক জটিলতা?   প্রকল্পটি সময়মতো চালু না হওয়ায় এখন প্রশ্ন উঠছে— এত বড় প্রকল্প শেষ হওয়ার পরও কেন অপারেটর নিয়োগ হয়নি? বিশেষ আইন বাতিলের পর বিকল্প পরিকল্পনা কি আগে থেকে ছিল? সময়মতো রূপান্তর না হওয়ায় কি বাড়তি আর্থিক ক্ষতি হয়েছে? দায়িত্বে কারা ছিলেন এবং কোথায় সিদ্ধান্তগত বিলম্ব ঘটেছে? বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিষয়টি কেবল প্রযুক্তিগত নয়—এটি একটি প্রশাসনিক সিদ্ধান্তহীনতার উদাহরণও হতে পারে, যার প্রভাব পড়ছে দেশের জ্বালানি নিরাপত্তায়।   প্রস্তুত অবকাঠামো, অপূর্ণ ব্যবস্থাপনা   মহেশখালীর এসপিএম প্রকল্প এখন এক অদ্ভুত অবস্থায় দাঁড়িয়ে—একদিকে সম্পূর্ণ প্রস্তুত আধুনিক অবকাঠামো, অন্যদিকে অচল অপারেশন। দেশ যখন জ্বালানি সংকট, বৈদেশিক মুদ্রার চাপ এবং আমদানি ব্যয় কমানোর চ্যালেঞ্জের মুখে, তখন এই প্রকল্পটি কার্যকর হলে তা বড় স্বস্তি দিতে পারত। কিন্তু এখন এটি একটি বড় প্রশ্নের প্রতীক হয়ে আছে—বাংলাদেশ কি বড় অবকাঠামো নির্মাণে এগোচ্ছে, কিন্তু তা পরিচালনায় পিছিয়ে পড়ছে?  কিন্তু দীর্ঘ প্রশাসনিক জটিলতায় এখনো সেটি বাস্তবায়নের অপেক্ষায়।

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ১১, ২০২৬ 0
সংসদে সাউন্ড সিস্টেম

জাতীয় সংসদের সাউন্ড সিস্টেমে দুর্নীতি ও কোটি টাকার কারচুপি: আড়ালে প্রভাবশালী চক্র,জাহিদ মালেকের ভায়রার প্রতিষ্ঠান দায়ী!

সিলেট ওসমানী বিমানবন্দরে আগুন

সিলেট আন্তর্জাতিক ওসমানী বিমানবন্দরের সার্ভার রুমে আগুন

রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ড। চিকিৎসাধীন অনেকে হামে আক্রান্ত।

হাম পরিস্থিতি উদ্বেগজনক: দেশজুড়ে ভয়ংকর রূপ নিচ্ছে হাম রোগ

গাজীপুরে ডিসি
গাজীপুরে ৭৫ কোটি টাকার প্রতারণা নস্যাৎ: ভুয়া ক্ষমতার আড়ালে সংগঠিত জালিয়াতির ভয়ংকর চক্র

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : গাজীপুর জেলা প্রশাসকের একটি তীক্ষ্ণ সিদ্ধান্ত—আর তাতেই ভেস্তে গেল ৭৫ কোটি টাকার এক সুপরিকল্পিত প্রতারণা। উচ্চপর্যায়ের সরকারি কর্মকর্তার ছদ্মবেশে পরিচালিত এই চক্রটি শুধু একটি আর্থিক জালিয়াতির চেষ্টা করেনি, বরং রাষ্ট্রীয় প্রশাসনিক কাঠামোকেই ব্যবহার করতে চেয়েছিল তাদের অপরাধ ঢাকতে। অনুসন্ধানে উঠে এসেছে এক বিস্তৃত প্রতারণা নেটওয়ার্কের চিত্র, যার শিকড় ছড়িয়ে আছে দেশের বিভিন্ন জেলায়। ছদ্মবেশে প্রবেশ, লক্ষ্য কোটি টাকা বুধবার দুপুর। নিয়মিত কাজের ব্যস্ততার মধ্যেই গাজীপুর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে প্রবেশ করে দুই ব্যক্তি। নিজেদের পরিচয় দেয় স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা হিসেবে। পোশাক-আশাক, আত্মবিশ্বাসী ভঙ্গি—সব মিলিয়ে প্রথম নজরে সন্দেহের অবকাশ কমই ছিল। তারা জেলা প্রশাসকের সামনে উপস্থাপন করে দুটি ‘সম্মতিপত্র’। কাগজে ছিল না কোনো স্বাক্ষর, অথচ দাবি—তাৎক্ষণিক অনুমোদন দরকার। প্রস্তাবটি ছিল চমকে দেওয়ার মতো: ৬৫ কোটি টাকা ঋণ গ্রহণ ১০ কোটি টাকা ‘সার্ভিস চার্জ’ মোট দায়: ৭৫ কোটি টাকা পরিশোধের শর্ত: মাত্র ১৮ মাসে ১৫০ কোটি টাকা এই অস্বাভাবিক আর্থিক কাঠামোই তৈরি করে প্রথম সন্দেহ। সন্দেহ থেকে পদক্ষেপ: মুহূর্তেই পাল্টে যায় দৃশ্যপট জেলা প্রশাসক পরিস্থিতির গুরুত্ব অনুধাবন করেন দ্রুত। কাগজপত্র যাচাইয়ের নামে সময় নিয়ে তিনি ওই দুই ব্যক্তিকে আটকে রাখেন এবং গোপনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে খবর দেন। অল্প সময়ের মধ্যেই মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ এসে তাদের গ্রেফতার করে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদেই বেরিয়ে আসে চাঞ্চল্যকর তথ্য—তারা একটি সংঘবদ্ধ প্রতারক চক্রের সদস্য এবং এর পেছনে রয়েছে আরও কয়েকজন সক্রিয় সহযোগী। মধ্যরাতে অভিযান: গুলিস্তান থেকে গ্রেফতার আরেক সদস্য পরদিন গভীর রাতে ঢাকার গুলিস্তান এলাকায় অভিযান চালিয়ে গ্রেফতার করা হয় চক্রের আরেক সদস্যকে। তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বিভিন্ন স্থানে চালানো হয় তল্লাশি। জব্দ করা হয়: ব্ল্যাংক চেক স্ট্যাম্প পেপার ভুয়া চুক্তিপত্র গুরুত্বপূর্ণ আর্থিক নথি এই আলামতগুলো প্রমাণ করে, চক্রটি দীর্ঘদিন ধরে পরিকল্পিতভাবে প্রতারণা চালিয়ে আসছিল। চক্রের বিস্তার: দেশের বিভিন্ন প্রান্তে শিকড় গ্রেফতার হওয়া ব্যক্তিরা দেশের ভিন্ন ভিন্ন জেলার বাসিন্দা: লক্ষ্মীপুর কুমিল্লা বগুড়া পলাতক সদস্যদের বাড়ি রংপুর ও ভোলায়—যা ইঙ্গিত দেয় একটি বিস্তৃত ও সমন্বিত নেটওয়ার্কের দিকে। তদন্ত সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এরা কেবলমাত্র একটি বড় চক্রের অংশ, যারা সরকারি পরিচয়, জাল কাগজপত্র এবং প্রভাব খাটিয়ে বড় অঙ্কের অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে। প্রতারণার কৌশল: বিশ্বাসযোগ্যতার আবরণ চক্রটির কার্যপদ্ধতি ছিল সূক্ষ্ম ও পরিকল্পিত: সরকারি কর্মকর্তা পরিচয় ব্যবহার জরুরি সিদ্ধান্তের চাপ সৃষ্টি বড় অঙ্কের লেনদেনের লোভ দেখানো জাল দলিল ও ব্ল্যাংক চেকের ব্যবহার এই কৌশলগুলো সাধারণ মানুষের পাশাপাশি সরকারি প্রতিষ্ঠানকেও বিভ্রান্ত করার জন্য যথেষ্ট ছিল। প্রশাসনের সতর্কবার্তা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই চক্র দীর্ঘদিন ধরে একই ধরনের প্রতারণা চালিয়ে আসছিল। তারা এখন আরও সদস্য শনাক্ত ও গ্রেফতারে কাজ করছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে স্পষ্ট বার্তা: “যে কোনো আর্থিক প্রস্তাব বা উচ্চপর্যায়ের পরিচয় যাচাই ছাড়া গ্রহণ করবেন না।” বিশ্লেষণ: কেন এটি গুরুত্বপূর্ণ? এই ঘটনা শুধু একটি প্রতারণা রোধের গল্প নয়—এটি দেখায়: প্রশাসনিক সতর্কতা কতটা গুরুত্বপূর্ণ সরকারি পরিচয়ের অপব্যবহার কতটা ভয়ংকর হতে পারে সংগঠিত প্রতারণা কতটা পেশাদার হয়ে উঠেছে যদি এই চুক্তিতে স্বাক্ষর হয়ে যেত, তবে রাষ্ট্রীয় অর্থ ব্যবস্থায় বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরি হতে পারত।   গাজীপুরের এই ঘটনা একটি বড় সতর্ক সংকেত। প্রযুক্তি, তথ্য আর ভুয়া ক্ষমতার মিশেলে প্রতারক চক্রগুলো দিন দিন আরও কৌশলী হয়ে উঠছে। তবে একই সঙ্গে এটি একটি ইতিবাচক উদাহরণও—সঠিক সময়ে সঠিক সিদ্ধান্ত কিভাবে একটি বড় বিপর্যয় ঠেকাতে পারে। এই ঘটনার তদন্ত এখনো চলছে। সামনে হয়তো আরও বিস্ময়কর তথ্য উঠে আসবে—যা উন্মোচন করবে দেশের আর্থিক প্রতারণার অন্ধকার জগতের আরও গভীর স্তর।

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ৪, ২০২৬ 0
হরমুজ প্রণালি

হরমুজ প্রণালি অবরোধ: ঝুঁকিতে বিশ্ব অর্থনীতি, কূটনীতির নতুন অগ্নিপরীক্ষা

তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি)

এলপিজি বাজারে কৃত্রিম সংকট,দামে নৈরাজ্য:ভোক্তা নিঃস্ব, নজরদারি সংস্থাগুলো নিষ্ক্রিয়

বরিশালে বাড়ছে হাম

হামের সংক্রমণ বাড়ছে: পাঁচ বিভাগে ৪৬৭ রোগী হাসপাতালে, শিশুরাই বেশি ঝুঁকিতে

জ্বালানি তেল
জ্বালানি মজুত যথেষ্ট, তবু বাজারে অস্বস্তি : কৃত্রিম সংকটের পেছনে ‘সিন্ডিকেট’?

ইত্তেহাদ নিউজ,ঢাকা :  সরকার বলছে দেশে জ্বালানি তেলের কোনো ঘাটতি নেই—বরং পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে। তবু বাস্তবতা ভিন্ন: দেশের বিভিন্ন স্থানে পেট্রোল পাম্পে দীর্ঘ লাইন, তেল না পাওয়ার অভিযোগ, আর কালোবাজারে বেশি দামে বিক্রির ঘটনা জ্বালানি পরিস্থিতিকে নতুন করে প্রশ্নের মুখে ফেলেছে। জ্বালানি মজুত যথেষ্ট, তবু বাজারে অস্বস্তি জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, দেশে বর্তমানে প্রায় ১ লাখ ৩৩ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল মজুত রয়েছে। চলতি সপ্তাহে আরও ৫৪ হাজার ৬০০ মেট্রিক টন ডিজেল আসছে, আর এপ্রিল মাসে আমদানির পরিকল্পনা রয়েছে আরও ১ লাখ ৫৪ হাজার মেট্রিক টন। তাহলে সমস্যা কোথায়? সংসদেই উঠে এলো ‘তেল না পাওয়ার’ অভিযোগ জাতীয় সংসদে একাধিক সংসদ সদস্য জানিয়েছেন, তারা নিজেরাই পাম্পে গিয়ে তেল পাননি। অনেক এলাকায় পেট্রোল ও অকটেনের সরবরাহ না থাকলেও বোতলে করে বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে—এমন অভিযোগও উঠেছে। সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, এটি প্রকৃত সংকট নয়; বরং অতিরিক্ত কেনা, মজুত প্রবণতা এবং গুজবের কারণে তৈরি হয়েছে কৃত্রিম চাপ। কৃত্রিম সংকটের পেছনে ‘সিন্ডিকেট’? গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, জ্বালানি খাতে সক্রিয় রয়েছে অন্তত দুটি বড় সিন্ডিকেট: চট্টগ্রামের কর্ণফুলী ও বঙ্গোপসাগরকেন্দ্রিক চক্র ঢাকাভিত্তিক সরবরাহ ও বিতরণ চক্র তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ: ট্যাংক লরি থেকে তেল চুরি ডিপোতে অতিরিক্ত তেল লোড দেখিয়ে আত্মসাৎ পাম্পে মজুত রেখে বিক্রি বন্ধ রাখা দাম বাড়ার গুঞ্জন ছড়িয়ে কৃত্রিম সংকট তৈরি বিশেষ করে ‘সাপ্লাই নেই’ দেখিয়ে পাম্প বন্ধ রাখার প্রবণতা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করছে। অভিযান: ৩ হাজারের বেশি রেইড, লাখ লাখ লিটার জব্দ সরকার ইতোমধ্যে সারা দেশে ব্যাপক অভিযান চালিয়েছে। মার্চ মাসে: ৩,১৬৮টি অভিযান উদ্ধার: ২ লাখ ৮ হাজার লিটার জ্বালানি ঢাকায় একদিনেই জব্দ প্রায় ১,২০০ লিটার চট্টগ্রাম, জামালপুর, শেরপুর, চাঁপাইনবাবগঞ্জসহ বিভিন্ন জেলায় অবৈধ মজুতের ঘটনা ধরা পড়েছে। কোথাও পাম্পে তেল থাকা সত্ত্বেও বিক্রি বন্ধ রাখার প্রমাণও মিলেছে। নদী ও সাগরে চোরাই তেলের বড় কারবার জ্বালানি চোরাচালানের একটি বড় অংশ নিয়ন্ত্রিত হয় নদী ও সমুদ্রপথে। জাহাজ থেকে তেল চুরি ড্রাম ও নৌযানে গোপন সংরক্ষণ সীমান্ত দিয়ে পাচার ‘সিস্টেম লস’ নামে পরিচিত একটি কাঠামোগত দুর্বলতাকে ব্যবহার করে প্রতিদিন হাজার হাজার লিটার তেল সরিয়ে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। বৈশ্বিক অস্থিরতার প্রভাব মধ্যপ্রাচ্যে সাম্প্রতিক উত্তেজনা, বিশেষ করে ইরানকে ঘিরে সংঘাত এবং হরমুজ প্রণালীর অনিশ্চয়তা বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে চাপ তৈরি করেছে। এর প্রভাব পড়ছে আমদানি-নির্ভর বাংলাদেশেও। রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক স্বার্থের জটিলতা জ্বালানি খাতে কিছু প্রভাবশালী গোষ্ঠী কৃত্রিম সংকট তৈরি করে বাজার অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করছে—এমন অভিযোগও এসেছে। বিশ্লেষকদের মতে, এর পেছনে রয়েছে: অতিরিক্ত মুনাফার লোভ রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা তৈরির চেষ্টা প্রশাসনের ভেতরের দুর্বলতা সমাধান কী? বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দীর্ঘমেয়াদে সংকট এড়াতে প্রয়োজন: পুরো সরবরাহ ব্যবস্থার ডিজিটাল অটোমেশন ট্যাংক লরিতে জিপিএস ট্র্যাকিং ডিপো ও পাম্পে কড়া নজরদারি পাইপলাইনে জ্বালানি পরিবহন বাড়ানো দুর্নীতিতে জড়িতদের লাইসেন্স বাতিল   সরকারের হিসাব বলছে—সংকট নেই। কিন্তু মাঠপর্যায়ের বাস্তবতা বলছে—সমস্যা আছে, এবং তা সরবরাহ নয়, বরং ব্যবস্থাপনা, সিন্ডিকেট ও অনিয়ন্ত্রণে।   এই ব্যবধানই এখন জ্বালানি ইস্যুকে দেশের অন্যতম আলোচিত ও সংবেদনশীল বিষয়ে পরিণত করেছে।      

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ৩১, ২০২৬ 0
গোপালগঞ্জে হামের উপসর্গ নিয়ে ১০ মাসের শিশুর মৃত্যু

গোপালগঞ্জে হামের উপসর্গে ১০ মাসের শিশুর মৃত্যু, আতঙ্কে এলাকাবাসী

ইসরাইলের শতাধিক শহরে হামলা

ইরান ও হিজবুল্লাহর যৌথ হামলা:ইসরাইলের শতাধিক শহরে পরিস্থিতি জটিল-কেঁপে উঠছে শহর:সৌদিতে মার্কিন বিমান লক্ষ্য করে হামলা

টমাহক ক্ষেপণাস্ত্রের ঘাটতিতে দুশ্চিন্তায় পেন্টাগন

ইরান যুদ্ধ: টমাহক ক্ষেপণাস্ত্রের ঘাটতিতে দুশ্চিন্তায় পেন্টাগন, এক মাসে বাড়ছে প্রাণহানি

অর্থনীতি

মন্ত্রী আফরোজা খানম

মায়ের কাছ থেকে প্রায় ১৮ কোটি টাকার শেয়ার পেলেন মন্ত্রী আফরোজা খানম

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ১১, ২০২৬ 0




অপরাধ

বিয়াম ফাউন্ডেশন

বিয়াম ভবনে বিস্ফোরণ ও হত্যাকাণ্ড:পরিকল্পিত নাশকতার অভিযোগ, এক বছরেও থমকে তদন্ত

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ৪, ২০২৬ 0




কৃষি ও জলবায়ু

সবুজের সমারোহ

কুমিল্লার মনোহরগঞ্জে ৯ হাজার হেক্টরে বোরো চাষ, সবুজে ছেয়ে গেছে কৃষি মাঠ

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ১০, ২০২৬ 0