ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : ডেন্টাল টেকনোলজিস্টদের প্রাইভেট প্র্যাকটিস রেজিস্ট্রেশনসংক্রান্ত বহুল আলোচিত সিভিল আপিল নং-৬০/২০১৭ মামলার রায়কে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভ্রান্তিকর তথ্য নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ ডেন্টাল পরিষদ। সংগঠনটি বলছে, আদালতের পূর্ণাঙ্গ লিখিত রায় প্রকাশের আগেই নানা ধরনের ব্যাখ্যা ও দাবি প্রচার করা হচ্ছে, যা জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করতে পারে। সংগঠনের দাবি, এ ধরনের তথ্য প্রচার থেকে বিরত থেকে আদালতের পূর্ণাঙ্গ রায়ের জন্য অপেক্ষা করাই হবে দায়িত্বশীল ও আইনসম্মত আচরণ। মঙ্গলবার (২৪ জুন ২০২৬) সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে মামলাটির পূর্ণাঙ্গ শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। শুনানি শেষে আপিল বিভাগ বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিল (বিএমডিসি) দায়ের করা আপিল মঞ্জুর করেন। তবে শুনানি-পরবর্তী পরিস্থিতি নিয়ে বাংলাদেশ ডেন্টাল পরিষদের বক্তব্য হলো, আদালত ঘোষিত আদেশে ডেন্টাল টেকনোলজিস্টদের প্রাইভেট প্র্যাকটিস পরিচালনা বন্ধ, স্থগিত কিংবা নিষিদ্ধ করার বিষয়ে কোনো পৃথক নির্দেশনা দেননি। অথচ বিভিন্ন মাধ্যমে এমন দাবি ছড়িয়ে পড়েছে, যা আদালতের ঘোষিত আদেশের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় বলে সংগঠনটি উল্লেখ করেছে। বাংলাদেশ ডেন্টাল পরিষদের মহাসচিব লায়ন মুহাম্মদ কামাল হোসেন এক বিবৃতিতে বলেন, পূর্ণাঙ্গ লিখিত রায় প্রকাশের আগে অনুমাননির্ভর মন্তব্য, গুজব কিংবা অপপ্রচার আদালতের সিদ্ধান্ত সম্পর্কে ভুল ধারণা তৈরি করতে পারে। তাই সাংবাদিক, সংশ্লিষ্ট পেশাজীবী এবং সাধারণ জনগণকে দায়িত্বশীলতার সঙ্গে তথ্য যাচাই করে বক্তব্য দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। বিবৃতিতে আরও বলা হয়, আদালতের পূর্ণাঙ্গ লিখিত রায় প্রকাশিত হওয়ার পর রায়ের আইনগত ব্যাখ্যা, এর বাস্তবিক প্রভাব এবং পরবর্তী করণীয় সম্পর্কে সংশ্লিষ্টদের আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হবে। কেন এই বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, আপিল বিভাগের সংক্ষিপ্ত আদেশ (Short Order) এবং পূর্ণাঙ্গ লিখিত রায়ের (Full Judgment) মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ আইনি ব্যাখ্যা ও পর্যবেক্ষণ থাকতে পারে। ফলে কেবল সংক্ষিপ্ত আদেশের ভিত্তিতে কোনো সিদ্ধান্ত বা প্রশাসনিক পদক্ষেপের বিষয়ে চূড়ান্ত দাবি করা বিভ্রান্তির জন্ম দিতে পারে। এই প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ ডেন্টাল পরিষদ বলছে, আদালতের লিখিত রায় প্রকাশের আগ পর্যন্ত যেকোনো তথ্য বা ব্যাখ্যা সতর্কতার সঙ্গে উপস্থাপন করা প্রয়োজন। সংগঠনটি একই সঙ্গে ন্যায়বিচার, আইনের শাসন এবং দেশের সর্বোচ্চ আদালতের প্রতি শ্রদ্ধা পুনর্ব্যক্ত করে জানিয়েছে, আদালতের চূড়ান্ত লিখিত নির্দেশনার আলোকেই পরবর্তী কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : ঢাকার স্যার সলিমুল্লাহ মেডিক্যাল কলেজ (মিটফোর্ড) হাসপাতালে দায়িত্বরত চিকিৎসকদের ওপর হামলার অভিযোগকে কেন্দ্র করে নতুন করে নিরাপত্তা সংকটের প্রশ্ন সামনে এসেছে। ঘটনার প্রতিবাদে অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি শুরু করেছেন হাসপাতালের ইন্টার্ন চিকিৎসকরা। চিকিৎসকদের অভিযোগ, মঙ্গলবার (২৩ জুন) রাতে হাসপাতালের সার্জারি ভবনের চতুর্থ তলায় একদল ব্যক্তি প্রবেশ করে দায়িত্বরত চিকিৎসকদের সঙ্গে বাগবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়ে। পরে পরিস্থিতি সংঘর্ষে রূপ নেয় এবং কয়েকজন চিকিৎসক শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত হন। অভিযোগে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের আহ্বায়ক মেহেদী হাসান হিমেলের নাম উল্লেখ করা হলেও, এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক তদন্তে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের পরিচয় নিশ্চিত করা যায়নি। কী ঘটেছিল? ইন্টার্ন চিকিৎসকদের ভাষ্য অনুযায়ী, ঘটনার সময় সার্জারি বিভাগের ৪২৯ নম্বর কক্ষে চিকিৎসা কার্যক্রম চলছিল। এ সময় হিমেলসহ ১০ থেকে ১২ জনের একটি দল সেখানে প্রবেশ করে চিকিৎসকদের সঙ্গে বাকবিতণ্ডায় জড়ায়। পরবর্তীতে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে কয়েকজন চিকিৎসক শারীরিকভাবে নির্যাতনের শিকার হন বলে অভিযোগ করা হয়। ঘটনার পর বুধবার (২৪ জুন) থেকে কর্মবিরতি শুরু করেন হাসপাতালের ইন্টার্ন চিকিৎসকরা। চিকিৎসকদের চার দফা দাবি ঘটনার পর এসএসএমসি মিটফোর্ড হাসপাতাল ইন্টার্ন ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন (আইডিএ) এক বিবৃতিতে জানায়, হামলায় সহকারী রেজিস্ট্রার, ট্রেইনি ও ইন্টার্ন চিকিৎসকরা আক্রান্ত হয়েছেন। সংগঠনটি চারটি দাবি উত্থাপন করেছে— প্রতিটি ওয়ার্ড ইউনিটের বাইরে অন্তত চারজন পুলিশ সদস্য মোতায়েন; হাসপাতালের গুরুত্বপূর্ণ স্থানে দ্রুত সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন; হামলায় জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা; সার্জারি বিভাগে দায়িত্বে থাকা আনসার সদস্যকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ। আইডিএর আহ্বায়ক ডা. দেবাশীষ চক্রবর্তী বলেন, সিসিটিভি ফুটেজ না থাকায় অভিযুক্তদের শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। তবে ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত ও বিচার নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত কর্মবিরতি অব্যাহত থাকবে। তদন্তে জটিলতা কোথায়? চিকিৎসকদের অভিযোগের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো—ঘটনাস্থলে কার্যকর সিসিটিভি নজরদারি না থাকা। নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের মতে, হাসপাতালের মতো সংবেদনশীল প্রতিষ্ঠানে পর্যাপ্ত নজরদারি ব্যবস্থা না থাকলে এমন ঘটনার প্রকৃত দায় নির্ধারণ কঠিন হয়ে পড়ে। এতে অভিযোগ ও পাল্টা অভিযোগের মধ্যে সত্য উদঘাটন বিলম্বিত হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়। বর্তমান ঘটনাতেও প্রত্যক্ষ ভিডিও প্রমাণের অভাব তদন্তকে জটিল করে তুলতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন। পুলিশের অবস্থান কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহ মো. ফয়সাল আহমেদ জানিয়েছেন, ঘটনার রাতে হাসপাতাল এলাকায় একটি অপ্রীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছিল। তার ভাষ্য, খবর পেয়ে পুলিশের একাধিক দল ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষ আনুষ্ঠানিক লিখিত অভিযোগ জমা দেয়নি। লিখিত অভিযোগ না থাকায় তদন্ত ও আইনগত প্রক্রিয়া শুরু করা কঠিন হয়ে পড়তে পারে বলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সূত্রগুলো ইঙ্গিত দিয়েছে। অভিযুক্তের পাল্টা দাবি অভিযোগের বিষয়ে মেহেদী হাসান হিমেল চিকিৎসকদের বক্তব্য প্রত্যাখ্যান করেছেন। তার দাবি, হাসপাতালে তারা উল্টো ‘মবের’ শিকার হয়েছেন। ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত হলে প্রকৃত ঘটনা সামনে আসবে বলে তিনি মন্তব্য করেন। ফলে ঘটনাটি এখন দুই পক্ষের পরস্পরবিরোধী দাবির মধ্যে দাঁড়িয়ে আছে, যার সত্যতা নির্ভর করছে সম্ভাব্য তদন্ত ও সাক্ষ্য-প্রমাণের ওপর। কেন গুরুত্বপূর্ণ এই ঘটনা? বাংলাদেশের সরকারি হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসক, রোগী ও স্বজনদের মধ্যে উত্তেজনা কিংবা নিরাপত্তা-সংক্রান্ত ঘটনা নতুন নয়। তবে চিকিৎসকদের দাবি, কর্মপরিবেশ নিরাপদ না হলে স্বাস্থ্যসেবার ধারাবাহিকতা ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা থাকে। মিটফোর্ড হাসপাতালের এই ঘটনা সেই পুরোনো প্রশ্নই আবার সামনে এনেছে—দেশের বৃহৎ সরকারি হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসাকর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিদ্যমান ব্যবস্থাগুলো কতটা কার্যকর, এবং ভবিষ্যতে এমন পরিস্থিতি প্রতিরোধে কী ধরনের কাঠামোগত পরিবর্তন প্রয়োজন। বর্তমানে চিকিৎসকদের কর্মবিরতি অব্যাহত রয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পদক্ষেপ এবং সম্ভাব্য তদন্তের ফলাফলের দিকেই নজর রয়েছে হাসপাতাল সংশ্লিষ্টদের।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : ছয় নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনার জেরে রাজধানীর মগবাজারের আদ্-দ্বীন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিলের সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে শতাধিক রোগীর চিকিৎসার ভবিষ্যৎ নিয়ে। হাসপাতালটি থেকে রোগীদের দ্রুত অন্যত্র স্থানান্তরের নির্দেশ দিলেও বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নিবিড় পরিচর্যায় থাকা রোগীদের স্থানান্তর নিজেই একটি বড় স্বাস্থ্যঝুঁকি। শুক্রবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিকসমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে রাজধানীর ছয়টি সরকারি হাসপাতালে আদ্-দ্বীন হাসপাতাল থেকে রেফার হওয়া রোগীদের চিকিৎসা নিশ্চিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কোন হাসপাতালগুলোকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে? স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনা অনুযায়ী রোগীদের নিম্নোক্ত সরকারি হাসপাতালে স্থানান্তর করে প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে— ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ (মিটফোর্ড) হাসপাতাল শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতাল বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউট অধিদপ্তর বলছে, রোগীদের স্বাস্থ্যঝুঁকি বিবেচনায় নিয়ে সংশ্লিষ্ট হাসপাতালগুলোকে চিকিৎসার সার্বিক দায়িত্ব গ্রহণ করতে হবে। লাইসেন্স বাতিলের পর শুরু রোগী স্থানান্তর গত বৃহস্পতিবার ছয় নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনার পর আদ্-দ্বীন হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিল করে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একই সঙ্গে হাসপাতালটিকে রোগীদের অন্যত্র স্থানান্তরের জন্য ৭২ ঘণ্টার সময়সীমা দেওয়া হয়। এর পরপরই হাসপাতাল থেকে রোগী ছাড়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়। হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, মাত্র একদিনের ব্যবধানে চিকিৎসাধীন রোগীর সংখ্যা ১৭৩ জন কমে বর্তমানে ২৪৩ জনে নেমে এসেছে। তবে সংখ্যার এই পরিবর্তনের আড়ালে সবচেয়ে বড় উদ্বেগের বিষয় হয়ে উঠেছে নিবিড় পরিচর্যায় থাকা রোগীদের নিরাপত্তা। সবচেয়ে ঝুঁকিতে কারা? হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে— ৫০ জন নবজাতক এনআইসিইউতে চিকিৎসাধীন ১৩ জন রোগী আইসিইউ ও এইচডিইউতে ভর্তি অর্থাৎ প্রায় ৭০ জন রোগী এমন অবস্থায় রয়েছেন, যাদের চিকিৎসা স্থানান্তরের সময় বিশেষায়িত অ্যাম্বুলেন্স, প্রশিক্ষিত চিকিৎসক দল এবং উন্নত লাইফ সাপোর্ট প্রয়োজন হতে পারে। রোগীর স্বজনরা বলছেন, আদ্-দ্বীন হাসপাতালে তুলনামূলক কম খরচে জটিল চিকিৎসার সুযোগ ছিল। অন্য হাসপাতালে একই ধরনের সেবা পাওয়া গেলেও ব্যয়, শয্যা সংকট এবং দ্রুত ভর্তি নিশ্চিত করা নিয়ে তাদের মধ্যে অনিশ্চয়তা রয়েছে। স্বজনদের অভিযোগ: সহায়তা কোথায়? স্বাস্থ্য অধিদপ্তর রোগী স্থানান্তর প্রক্রিয়ায় প্রয়োজনীয় সহায়তার আশ্বাস দিলেও শুক্রবার হাসপাতালে অধিদপ্তরের কোনো প্রতিনিধিকে দেখা যায়নি বলে অভিযোগ করেছেন কয়েকজন রোগীর স্বজন। তাদের আশঙ্কা, সংকটাপন্ন রোগীদের স্থানান্তরের সময় সমন্বয়হীনতা তৈরি হলে তা রোগীদের জন্য মারাত্মক ঝুঁকির কারণ হতে পারে। সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার আবেদন এদিকে আদ্-দ্বীন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক তারিকুল ইসলাম জানিয়েছেন, রোগীদের জীবনরক্ষার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে লাইসেন্স বাতিলের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার অনুরোধ জানানো হয়েছে। তিনি বলেন, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ভবনের প্রয়োজনীয় সংস্কার ও পুনর্নির্মাণের জন্য তিন মাস সময় চেয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে আবেদন করেছে। তদন্তের কেন্দ্রে যে প্রশ্নগুলো ছয় নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় লাইসেন্স বাতিলের সিদ্ধান্ত স্বাস্থ্যখাতে জবাবদিহির প্রশ্ন সামনে এনেছে। তবে একই সঙ্গে উঠে এসেছে আরও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন— মৃত্যুর ঘটনাগুলোর পূর্ণাঙ্গ তদন্ত কতদূর এগিয়েছে? সংকটাপন্ন রোগীদের নিরাপদ স্থানান্তরের জন্য কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে? বিকল্প হাসপাতালগুলোতে পর্যাপ্ত শয্যা ও চিকিৎসা সক্ষমতা রয়েছে কি? নিম্ন আয়ের রোগীদের জন্য চিকিৎসা ব্যয় কীভাবে সামাল দেওয়া হবে? স্বাস্থ্য অধিদপ্তর রোগীদের চিকিৎসা অব্যাহত রাখার আশ্বাস দিলেও মাঠপর্যায়ে সেই নির্দেশনার বাস্তবায়ন কতটা কার্যকর হয়, সেটিই এখন সবচেয়ে বড় পরীক্ষা।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : রোগীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে বরিশালের কেএমসি হাসপাতালে হামলা এবং এক নবীন চিকিৎসককে গুরুতর আহত করার ঘটনার পর হাসপাতাল পরিদর্শন করেছে ডক্টরস এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ড্যাব) বরিশাল জেলা শাখার একটি প্রতিনিধি দল। পরিদর্শন শেষে সংগঠনটির সভাপতি ও কেন্দ্রীয় কমিটির উপদেষ্টা ডা. কবিরুজ্জামান বলেছেন, সংশ্লিষ্ট রোগীর চিকিৎসা-সংক্রান্ত নথি ও চিকিৎসা প্রক্রিয়া পর্যালোচনা করে তারা কোনো ধরনের অবহেলার প্রমাণ পাননি। তার দাবি, হাসপাতালের সক্ষমতার মধ্যে রোগীকে সর্বোচ্চ চিকিৎসা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে। ড্যাব সূত্রে জানা যায়, হামলার শিকার চিকিৎসকের সহকর্মীরা ঘটনার পরদিন হাসপাতালে গিয়ে রোগীর চিকিৎসা-সংক্রান্ত বিভিন্ন দিক পর্যবেক্ষণ করেন। তাদের মূল্যায়নে, অচেতন রোগী হাসপাতালে আনার পর যেসব জরুরি চিকিৎসা পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন, তার সবগুলোই অনুসরণ করা হয়েছে। ডা. কবিরুজ্জামান বলেন, অচেতন রোগীর ক্ষেত্রে নাকের মাধ্যমে শ্বাস-প্রশ্বাস বা খাদ্য সরবরাহের নল, প্রস্রাবের পথের ক্যাথেটার এবং স্যালাইন সংযুক্ত করা প্রাথমিক চিকিৎসার অংশ। সংশ্লিষ্ট রোগীর ক্ষেত্রেও এসব ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছিল। এছাড়া রোগীর স্বজনদের সঙ্গে প্রয়োজনীয় কাউন্সেলিংয়েও কোনো ঘাটতি ছিল না বলে দাবি করেন তিনি। রোগীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে চিকিৎসকের ওপর হামলার ঘটনাকে ‘অগ্রহণযোগ্য’ আখ্যা দিয়ে ড্যাব সভাপতি বলেন, চিকিৎসাসেবা প্রদানকারী কোনো ব্যক্তির ওপর হামলা শুধু একজন চিকিৎসকের বিরুদ্ধে নয়, পুরো স্বাস্থ্যব্যবস্থার ওপর আঘাত। দ্রুত বিচার চায় চিকিৎসকরা ঘটনার পর রাষ্ট্রীয় আইন অনুযায়ী মামলা দায়ের করা হয়েছে উল্লেখ করে ডা. কবিরুজ্জামান বলেন, এখন তদন্ত ও আইন প্রয়োগের দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর। তার ভাষ্য, “এ ধরনের ঘটনায় আসামি গ্রেপ্তার এবং চার্জশিট দাখিলে এক সপ্তাহের বেশি সময় নেওয়া কাম্য নয়। আমরা দেখতে চাই আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলো তাদের দায়িত্ব পালনে কোনো শৈথিল্য দেখায় কি না।” চিকিৎসাসেবা বন্ধের সতর্কবার্তা ড্যাব নেতারা বলেছেন, তাদের আইন প্রয়োগের ক্ষমতা না থাকলেও চিকিৎসাসেবা দেওয়া বা না দেওয়ার বিষয়ে সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার রয়েছে। ডা. কবিরুজ্জামান প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, হামলার বিচার নিশ্চিত না হলে চিকিৎসক সমাজ কঠোর অবস্থানে যেতে বাধ্য হতে পারে। তিনি সতর্ক করে বলেন, অনির্দিষ্টকালের জন্য চিকিৎসাসেবা সীমিত বা বন্ধ করার মতো পরিস্থিতি তৈরি হোক, তা তারা চান না; তবে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার দায়িত্ব প্রশাসনের। কেন গুরুত্বপূর্ণ এই ঘটনা? স্বাস্থ্যখাতে কর্মরত চিকিৎসকদের নিরাপত্তা প্রশ্নে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বারবার উদ্বেগ দেখা গেছে। রোগীর মৃত্যু বা চিকিৎসা জটিলতাকে কেন্দ্র করে হাসপাতাল ও চিকিৎসকদের ওপর হামলার একাধিক ঘটনা চিকিৎসক সংগঠনগুলোকে নিরাপত্তা ইস্যুতে সোচ্চার করেছে। কেএমসি হাসপাতালের ঘটনাও সেই বিতর্ককে নতুন করে সামনে এনেছে। একদিকে রোগীর স্বজনদের ক্ষোভ, অন্যদিকে চিকিৎসকদের নিরাপত্তা—এই দুই বাস্তবতার মধ্যে ভারসাম্য কীভাবে রক্ষা করা হবে, সেটিই এখন স্বাস্থ্যখাত ও প্রশাসনের জন্য বড় প্রশ্ন হয়ে উঠেছে।
বরিশাল অফিস : বরিশালের বেসরকারি কেএমসি হাসপাতালে এক রোগীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে সংঘটিত হামলার ঘটনাকে চিকিৎসকদের নিরাপত্তার জন্য ‘গুরুতর হুমকি’ হিসেবে দেখছে ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ড্যাব)। সংগঠনটির নেতারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে হামলার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। বৃহস্পতিবার (১১ জুন) দুপুর আড়াইটার দিকে ড্যাবের শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ (শেবাচিম) শাখা ও বরিশাল জেলা শাখার নেতারা কেএমসি হাসপাতাল পরিদর্শন করেন। এ সময় তারা হামলায় আহত দায়িত্বরত চিকিৎসকের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে তার শারীরিক অবস্থার খোঁজখবর নেন এবং পরিবারের প্রতি সহমর্মিতা জানান। কী ঘটেছিল? ড্যাব নেতাদের দাবি, হাসপাতালের এক মুমূর্ষু রোগীর মৃত্যুর পর পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। একপর্যায়ে কতিপয় দুর্বৃত্ত হাসপাতালের ভেতরে হামলা চালায় এবং কর্তব্যরত এক চিকিৎসকের ওপর প্রাণনাশের চেষ্টা করে। এ ঘটনায় হাসপাতালের নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং চিকিৎসকদের কর্মপরিবেশ নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। ড্যাবের দাবি ? পরিদর্শন শেষে ড্যাব নেতারা বলেন, চিকিৎসকদের ওপর হামলার ঘটনা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। রোগী ও স্বজনদের সেবাদানে নিয়োজিত চিকিৎসকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্র ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব। তারা অবিলম্বে হামলাকারীদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তার এবং আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানান। পরিদর্শনকালে উপস্থিত ছিলেন ড্যাব বরিশাল জেলা শাখার সভাপতি ডা. কবিরুজ্জামান, শেবাচিম শাখার সভাপতি ডা. নজরুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক ডা. ইমতিয়াজউদ্দিন সাজিদ, দপ্তর সম্পাদক ডা. ইস্তিয়াক আহমেদ রিফাত, ডা. আবদুল মালেক, ডা. সাইদুল ইসলাম আবীর, ডা. মাজহারুল রেজওয়ান রেজাসহ সংগঠনের অন্যান্য নেতৃবৃন্দ। নিরাপদ কর্মপরিবেশের দাবি ড্যাব নেতারা মনে করেন, চিকিৎসকদের ওপর হামলার পুনরাবৃত্তি রোধে হাসপাতালভিত্তিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা এবং স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানে সহিংসতার বিরুদ্ধে কঠোর নীতি গ্রহণ প্রয়োজন। তারা এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেন। ড্যাবের বিবৃতিতে গভীর ক্ষোভ ও তীব্র নিন্দা এদিকে এক বিবৃতিতে শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল (শেবাচিম), ড্যাব ও বরিশাল জেলা, ড্যাব গভীর ক্ষোভ ও তীব্র নিন্দা জানা। ড্যাব নেতৃবৃন্দ কেএমসি হাসপাতালে কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. শুভেন্দু হালদার (শিবু)-এর ওপর রোগীর স্বজন কর্তৃক সংঘটিত ন্যাক্কারজনক হামলা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না বলে উল্লেখ করেন। চিকিৎসকের নিরাপত্তা ও মর্যাদার ওপর এ ধরনের বর্বর আক্রমণ সমগ্র চিকিৎসক সমাজের জন্য উদ্বেগজনক এবং স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থার জন্য হুমকিস্বরূপ। নেতৃবৃন্দ অবিলম্বে হামলাকারীদের সনাক্ত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। পাশাপাশি হাসপাতালসমূহে চিকিৎসকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি জোর দাবি জানান। অন্যথায় চিকিৎসক সমাজ কঠোর কর্মসূচি দিতে বাধ্য হবে, যার দায়ভার সম্পূর্ণরূপে প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে বহন করতে হবে। চিকিৎসকদের ওপর হামলার সংস্কৃতি বন্ধে এখনই কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।
বরিশাল অফিস : বরিশাল নগরীর আরিফ মেমোরিয়াল হাসপাতাল আবারও এসেছে সংবাদের শিরোনামে। এবার অভিযোগ উঠেছে চিকিৎসা অবহেলার কারণে এক নবজাতকের মৃত্যুর। শিশুটির পরিবারের দাবি, সময়মতো প্রয়োজনীয় চিকিৎসা এবং উন্নত হাসপাতালে রেফার না করায় তাদের সন্তানের মৃত্যু হয়েছে। ঘটনাটি নতুন হলেও অভিযোগের ধরন নতুন নয়। এর আগেও চিকিৎসা অবহেলায় রোগীর মৃত্যুর অভিযোগে আলোচনায় এসেছিল হাসপাতালটি। গত বছরের অক্টোবর মাসে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এবং সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকের বিরুদ্ধে বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দিয়েছিলেন একাধিক ভুক্তভোগী পরিবার। সেই অভিযোগগুলোর নিষ্পত্তি না হতেই নতুন করে নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় হাসপাতালটির সেবার মান ও জবাবদিহি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। স্থানীয়দের কেউ কেউ ক্ষোভ প্রকাশ করে প্রশ্ন তুলছেন—“আর কত প্রাণ গেলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের ঘুম ভাঙবে?” অপারেশনের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই সংকট পরিবার সূত্রে জানা যায়, উজিরপুর উপজেলার মোরাকাঠি গ্রামের বাসিন্দা মুনা সর্দার এবং তার স্বামী সাজ্জাদ ফরাজী বর্তমানে বরিশাল নগরীর ভাটিখানা জোর মসজিদ এলাকার একটি ভাড়া বাসায় বসবাস করেন। গত ৩১ মে দুপুরে অন্তঃসত্ত্বা মুনা সর্দারকে সিজারিয়ান অপারেশনের জন্য আরিফ মেমোরিয়াল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তার চিকিৎসার দায়িত্বে ছিলেন হাসপাতালের চিকিৎসক ডা. নজরুল ইসলাম। পরিবারের দাবি, ভর্তি হওয়ার পর প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষায় মা সুস্থ ছিলেন। রাত প্রায় ৮টার দিকে সিজারিয়ান অপারেশনের মাধ্যমে একটি পুত্রসন্তানের জন্ম হয়। তবে জন্মের পরপরই চিকিৎসক পরিবারকে জানান, নবজাতকের শারীরিক অবস্থা ভালো নয় এবং তাকে অক্সিজেন সাপোর্ট দিতে হবে। ছিল না প্রয়োজনীয় বিশেষায়িত সুবিধা? পরিবারের অভিযোগ অনুযায়ী, হাসপাতালটিতে নবজাতকের সংকটাপন্ন অবস্থার চিকিৎসার জন্য প্রয়োজনীয় সিসিইউ বা আইসিইউ সুবিধা ছিল না। শুধু তাই নয়, সিজারিয়ান অপারেশনের সময় কোনো শিশু বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকও উপস্থিত ছিলেন না। অভিযোগ রয়েছে, শিশুর অবস্থার অবনতি হলেও তাৎক্ষণিকভাবে তাকে উন্নত চিকিৎসা কেন্দ্রে পাঠানো হয়নি। বরং ডা. নজরুল ইসলাম তার পছন্দের একজন শিশু বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক আসার জন্য অপেক্ষা করতে বলেন। পরিবারের ভাষ্যমতে, রাত ১১টা ২০ মিনিটের দিকে শিশু বিশেষজ্ঞ ডা. মুজিবুর রহমান হাসপাতালে এসে নবজাতককে পরীক্ষা করেন এবং দ্রুত শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করেন। ততক্ষণে প্রায় সাড়ে তিন ঘণ্টা পেরিয়ে গেছে। ‘আরও আগে রেফার করলে বাঁচানো যেত’ নবজাতকের বাবা সাজ্জাদ ফরাজীর দাবি, চিকিৎসার ক্ষেত্রে এই বিলম্বই তাদের সন্তানের মৃত্যুর প্রধান কারণ। তিনি বলেন, “আমার সন্তানের মৃত্যুর জন্য ডা. নজরুল ইসলাম দায়ী। তিনি দায়িত্বে অবহেলা করেছেন এবং সময়মতো উন্নত চিকিৎসার জন্য রেফার করেননি। আমি এই ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই।” পরিবারের দাবি, শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসকরাও তাদের জানিয়েছেন যে, রোগীকে আরও আগে রেফার করা হলে পরিস্থিতি ভিন্ন হতে পারত। তবে হাসপাতালটিতে পৌঁছানোর আগেই পথিমধ্যে নবজাতকটির মৃত্যু হয়। পুরোনো অভিযোগের ছায়া আরিফ মেমোরিয়াল হাসপাতালের বিরুদ্ধে এটিই প্রথম অভিযোগ নয়। গত বছরের অক্টোবর মাসে চিকিৎসা অবহেলায় রোগীর মৃত্যুর অভিযোগ এনে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এবং সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে লিখিত অভিযোগ করেছিলেন একাধিক ভুক্তভোগী পরিবার। বর্তমান ঘটনাটি সেই অভিযোগগুলোর কার্যকর তদন্ত ও জবাবদিহি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তৈরি করেছে। এছাড়া হাসপাতালটিকে ঘিরে আরেকটি অভিযোগও রয়েছে। কয়েকজন ভুক্তভোগীর দাবি, ডা. নজরুল ইসলামের চেম্বারে চিকিৎসা নেওয়ার পর তার নির্ধারিত ডায়াগনস্টিক সেন্টারে পরীক্ষা-নিরীক্ষা না করালে অন্য প্রতিষ্ঠানের রিপোর্ট গ্রহণে অনীহা দেখানো হয়। যদিও এই অভিযোগের বিষয়ে স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। চিকিৎসকের বক্তব্য মেলেনি নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় ডা. নজরুল ইসলামের বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার মোবাইল ফোন রিসিভ না করায় কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। কী বলছে প্রশাসন? বরিশাল জেলা সিভিল সার্জন ডা. এস. এম. মনজুর-এ-এলাহী বলেন, “বিষয়টি আমি শুনেছি। অভিযোগের তদন্ত করা হবে। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।” আগের অভিযোগগুলোর বিষয়ে তিনি জানান, সেগুলো ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে। বরিশাল বিভাগীয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক ডা. মোহাম্মদ লোকমান হাকিম বলেন, “আমি সম্প্রতি দায়িত্ব গ্রহণ করেছি। বিষয়টি সম্পর্কে খোঁজখবর নিচ্ছি। আমাদের কাছে এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ আসেনি। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্তসাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” অন্যদিকে বরিশাল কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আল মামুন উল ইসলাম জানান, জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এর মাধ্যমে অভিযোগ পাওয়ার পরপরই পুলিশের একটি দল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছিল। তিনি বলেন, “ভুক্তভোগী পরিবারকে থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” জবাবদিহির অপেক্ষায় একটি মৃত্যু একটি নবজাতকের মৃত্যু শুধু একটি পরিবারের স্বপ্ন ভেঙে দেয় না, এটি স্বাস্থ্যসেবার মান, জরুরি চিকিৎসা ব্যবস্থা এবং বেসরকারি হাসপাতালের জবাবদিহির প্রশ্নও সামনে নিয়ে আসে। আরিফ মেমোরিয়াল হাসপাতালের বিরুদ্ধে অতীতের অভিযোগ এবং সাম্প্রতিক এই মৃত্যুর ঘটনার মধ্যে কোনো যোগসূত্র আছে কি না, সেটি এখন তদন্তের বিষয়। তবে একটি প্রশ্ন ইতোমধ্যে জনমনে জোরালো হয়ে উঠেছে—যদি অভিযোগগুলো আগেই কার্যকরভাবে তদন্ত হতো, তাহলে কি আরেকটি প্রাণহানি এড়ানো সম্ভব ছিল?
বরিশাল অফিস : বরিশালে শিশু বিশেষজ্ঞ ডা. আশীষ কুমার হালদারের বিরুদ্ধে চিকিৎসা অবহেলার অভিযোগে এক নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করেছে ডা. আশীষ কুমার হালদার ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা শিশু বিশেষজ্ঞ ডা. আশীষ কুমার হালদারকে ঘিরেও উঠেছে নানা প্রশ্ন। মৃত নবজাতকের বাবা, বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের অর্থোপেডিকস বিভাগের মেডিকেল অফিসার ডা. ইসতিয়াক আহমেদ রিফাতের অভিযোগ— সাতদিন এনআইসিইউতে চিকিৎসাধীন থাকার পরও তার সন্তান প্রয়োজনীয় চিকিৎসা পায়নি। শেষ পর্যন্ত ঢাকায় নেওয়ার পর শিশুটির মৃত্যু হয়। ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ্যে আনার পর শুরু হয় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা। এরপর বেলভিউ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ডা. রিফাতকে ডেকে সমবেদনা জানায় এবং ভবিষ্যতে এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি না হওয়ার আশ্বাস দেয়। তদন্ত কমিটি, অব্যাহতি ও দায় এড়ানোর অভিযোগ বেলভিউ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, অভ্যন্তরীণ তদন্ত কমিটির প্রাথমিক প্রতিবেদনের ভিত্তিতে দায়ীদের শোকজ করা হয়েছে। একই সঙ্গে অভিযোগগুলো যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও বলা হয়েছে। তবে অভিযোগের মূল কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা শিশু বিশেষজ্ঞ ডা. আশীষ কুমার হালদারের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক কোনো প্রশাসনিক ব্যবস্থা নিতে অপারগতার কথা জানিয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। আরও পড়ুন: বরিশালে ডাঃ আশীষ কুমার হালদারের অবহেলায় চিকিৎসক দম্পতির নবজাতকের মৃত্যু ১৯ মে বরিশাল প্রাইভেট ডায়াগনস্টিক অ্যান্ড ক্লিনিক অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে ডা. নজরুল ইসলামের উদ্যোগে ডা. ইসতিয়াক আহমেদ রিফাতকে নিয়ে বেলভিউ হাসপাতালে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। হাসপাতালের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) রিয়াজ হাসানের কক্ষে অনুষ্ঠিত ওই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন বেলভিউর শেয়ারহোল্ডার ডা. জি কে চক্রবর্তীসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। বৈঠকে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার জন্য দুঃখ প্রকাশ করে এবং চিকিৎসা বাবদ নেওয়া অর্থ ফেরত দেওয়ার প্রস্তাব দেয়। ‘পা ধরে অনুরোধ করেও চিকিৎসককে পাওয়া যায়নি’ ডা. ইসতিয়াক আহমেদ রিফাত তার ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে দেওয়া দীর্ঘ পোস্টে অভিযোগ করেন, গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় তার সন্তানকে বেলভিউ হাসপাতালের এনআইসিইউতে ভর্তি করা হলেও সংশ্লিষ্ট কনসালটেন্ট ডা. আশীষ কুমার হালদার চিকিৎসা দিতে আসতে অপারগতা প্রকাশ করেন। তিনি দাবি করেন, ফোন করে “পা ধরে” অনুরোধ করার পরও চিকিৎসক হাসপাতালে আসেননি। এছাড়া প্রেসক্রিপশনে অস্পষ্ট নির্দেশনা, প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সরঞ্জামের ঘাটতি, হাসপাতাল স্টাফদের অসহযোগিতা ও দুর্ব্যবহারের কারণেও শিশুটি যথাযথ চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। তার ভাষায়, “ডাক্তার কাপলের সঙ্গেও যদি এমন আচরণ হয়, তাহলে সাধারণ রোগীরা কী পরিস্থিতির মুখোমুখি হন, সেটাই বড় প্রশ্ন।” এনআইসিইউ সেবার মান নিয়েও প্রশ্ন ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ অনুযায়ী, হাসপাতালের এনআইসিইউতে পর্যাপ্ত চিকিৎসা সরঞ্জাম ও দক্ষ ব্যবস্থাপনা ছিল না। তবুও সেখানে নবজাতককে ভর্তি রাখা হয় এবং সাত দিনের চিকিৎসা শেষে প্রায় ১ লাখ ১৪ হাজার টাকার বিল করা হয়। পরিবারের দাবি, অবস্থার অবনতি হওয়ার পর দায় এড়াতে শেষ মুহূর্তে শিশুটিকে ঢাকায় রেফার করা হয়। এ ঘটনায় স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থাপনা ও বেসরকারি হাসপাতালগুলোর জবাবদিহি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও ড্যাবের নজরে ঘটনা ঘটনাটি গণমাধ্যমে প্রকাশের পর বিষয়টি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এবং ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ড্যাব)-এর নজরে এসেছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। তারা জানিয়েছে, অভিযোগের বিষয়ে বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের প্রস্তুতি চলছে। হাসপাতাল সিইও যা বললেন বেলভিউ মা ও শিশু হাসপাতালের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রিয়াজ হাসান বলেন, “অভিযোগের বিষয়ে দায়ীদের শোকজ করা হয়েছে। মৃত নবজাতকের চিকিৎসা বাবদ নেওয়া বিল ফেরত দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। একই সঙ্গে ডা. আশীষ কুমার হালদার ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এ অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার জন্য দুঃখ প্রকাশ করেছে।”
বরিশাল অফিস : বরিশালে শিশু বিশেষজ্ঞ ডা. আশীষ কুমার হালদারের অবহেলায় ও ভুল চিকিৎসায় এক চিকিৎসক দম্পতির নবজাতকের মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। নবজাতকের বাবা বরিশাল শেবাচিম হাসপাতালের অর্থোপেডিকস বিভাগের মেডিকেল অফিসার এবং মা একজন এমবিবিএস ডাক্তার। ২১ দিন বয়সের নবজাতকের মৃত্যুর পর তার বাবা নিজের ফেসবুক আইডিতে এই নির্মম অবহেলা জনিত মৃত্যুর বর্ননা তুলে ধরেন।এ ঘটনায় নেট দুনিয়া সহ বরিশালের সচেতন মহলে নানা প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নেতিবাচক পোস্ট দেখেই তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে বেলভিউ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। তাদের হাসপাতাল স্টাফ বা কর্তৃপক্ষের কোন অবহেলা আছে কিনা সে বিষয়ে সঠিক তথ্য উদঘাটন ও ব্যবস্থা গ্রহণের নিমিত্তে তদন্ত করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন বেলভিউ মা ও শিশু হাসপাতলের সিইও রিয়াজ হাসান। এদিকে পোস্টের শুরুতেই ডা. ইসতিয়াক অহমেদ রিফাত লিখেছেন, আমার ‘ইজান’ আল্লাহর হুকুমে আল্লাহর কাছে চলে গেছে। বিনিময়ে আমাকে দেখিয়ে গেছে বরিশালে শিশু চিকিৎসার করুণ অবস্থা। তাছাড়া বেলভিউ হাসপাতালে তেমন কোন চিকিৎসা না পেলেও তারা ১লক্ষ ১১ হাজার টাকা বিল গ্রহণ করেছেন বলে অভিযোগ তোলেন তিনি। এরপর তিনি পুরো ঘটনার বর্ননা দিতে গিয়ে লিখেন, ২১ এপ্রিল রাত এগারটায় জরুরী ভিত্তিতে সিজারিয়ান এর মাধ্যমে মমতা হাসপাতালে আমার একটি ফুটফুটে পুত্র সন্তানের জন্ম হয়। গাইনি ম্যাম নিজেই ডা:আশিষ স্যারকে ডেলিভারির সময় বলে রাখেন। সিজার হলো। ইজান দুনিয়াতে আসলো। আশীষ স্যার প্রাইমারি রিসাসিটেশন করলেন। ইজান হালকা করে কাদলো। আশিষ স্যার প্রেসক্রিপশন করলেন আর বললেন শেবাচিম অথবা বেলভিউ হাসপাতালে নিতে পারেন। সিজারের এক ঘন্টা পর রাত বারোটার দিকে বেলভিউতে নিয়ে গেলাম। সেখানে গিয়ে আরেক ক্যাচাল। ডা:আশিষ স্যার তার প্রেসক্রিপশনে নরমাল বেড বা ইনকিউবেটরের কিছুই লিখেন নাই। আর অত রাতে স্যারকে কল দেয়া যাবে না। তাই তারা জেনারেল কেবিনে দিল। শুধু একটু অক্সিজেন লাগিয়ে দিল। আর ডাক্তার পরিচয় দেবার পরেও তাদের জঘন্য ব্যবহারের কথা আর নাই বলি। সারা রাতে একবার তারা খোজ নিতে আসলো না। হঠাত সন্ধ্যার পরে ইজান অসুস্থ্য হয়ে যায়। স্যাচুরেশন ফল করে। আবার অক্সিজেন লাগানো হলো। এরপরো অবস্থার উন্নতি না হওয়াতে আশীষ স্যারকে ডিউটি ডাক্তার কল দেয়। সে রুডলি বলে শেবাচিম বা ঢাকা নিতে। এতটুকু অসুস্থ্য একটা বাচ্চাকে ঢাকা নেয়া পসিবল? আবার বাচ্চাটি বেশি অসুস্থ্য হয়ে পড়ার পর ডিউটি ডাক্তার কল দিল। আমি কল দিলাম। আমি কল দিয়ে পা ধরছি। তাও আশিষ স্যার আসবেন না। শেষে শেবাচিম ড্যাবের প্রেসিডেন্ট ডা:নজরুল স্যার কল দেয়াতে তিনি আসেন এবং চিকিৎসা দেন। দিন দিন বাচ্চাটা ফ্লপি হয়ে যাচ্ছে সেটা আর খেয়াল করলেন না। আমাদেরও কিছু বলেন না। কথা একটাই,উন্নতি নাই। এর বাইরে কোন কাউন্সিলিং নাই। এরপর আমরা ঢাকা যাওয়ার প্রস্তুতি নিলাম। বেলভিউর রিসিপশনে বললাম আমি ডাক্তার,আমার স্ত্রী ডাক্তার। তারপরও খুবই বাজে একটা মন্তব্য পাইলাম। একদিন দুপুরে দুর্ভাগ্যক্রমে আমার বউ ডা.নুসাইবা এবং তার এক মেয়ে কাজিন হাসপাতালে ছিল। ইজানকে জরুরী একটা টেস্ট করতে দেয়। আমার স্ত্রী নুসাইবা বেলভিউর কাউন্টারে গিয়ে ডাক্তার এবং মা পরিচয় দেবার পরেও বাজে বিহাভের স্বীকার হয়। পোস্টের শেষে মন্তব্যে তিনি লিখেন, বেলভিউ কর্তৃপক্ষ ডাক্তার কাপলের সাথে যদি এরকমটা করতে পারে, তাহলে অন্যান্য মানুষের সাথে কি করবে? এদিকে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বরিশাল শেরে বাংলা মেডিকেল কলেজের শিশু বিভাগের সহযোগি অধ্যাপক ডা. আশীষ কুমার হালদার। তার শশুর কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নিশি ভোটের একাধিকবার এমপি। স্বাচিপ এর রাজনীতির সাথে জড়িত ডা. আশীষ। এক সময় তার কলমের ধারে অনেক নীরিহ পেশাদার চিকিৎসককে হয়রানী হতে হয়েছে। বরিশাল সদররোড বেলভিউতে একটি এনআইসিইউ গড়ে তুলেছেন। শুধু বিল নেওয়ার বেলায় সেটি এনআইসিইউ হলেও সেখানে আসলে পর্যাপ্ত চিকিৎসা সামগ্রী ও ব্যবস্থাপনা নেই। মানুষের চোখে ধুলো দিয়ে সেখান থেকে লক্ষ লক্ষ টাকা আয় করছেন ডা. আশীষ। এর পূর্বেও একাধিক বাচ্চাকে ভুল চিকিৎসা প্রদানের অভিযোগ রয়েছে ডা. আশীষের বিরূদ্ধে। এ বিষয়ে শেরে বাংলা মেডিকেল কলেজের শিশু বিভাগের সহযোগি অধ্যাপক ডা. আশীষ কুমার হালদার বলেন, বাচ্চাটি আমার আন্ডারে বেলভিউতে ভর্তি ছিল। সাধ্যমত চিকিৎসা প্রদানের চেষ্টা করেছি, আমি আমার রাউন্ড ফি পর্যন্ত নেইনি। তাছাড়া কোন ডাক্তার ইচ্ছা করে কোন রোগীগে ভুল চিকিৎসা করেন না। বেলভিউ মা ও শিশু হাসপাতালের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) রিয়াজ হাসান বলেন, এ বিষয়ে তিন সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি করা হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন পেলে আসল তথ্য পাবো। যেহেতু আমাদের প্রাতিষ্ঠানিকভাবে বিষয়টি তদন্তানাধীন তাই এর বেশি এখন বলা সম্ভব নয়।
বরিশাল অফিস : ১২ মে ২০২৬, মঙ্গলবার বিশ্বব্যাপী পালিত হলো আন্তর্জাতিক সেবিকা দিবস বা “নার্স ডে”। এ উপলক্ষে বরিশালের কেএমসি হসপিটাল-এ দিনব্যাপী নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে উদযাপন করা হয় এই বিশেষ দিনটি। হাসপাতালের নার্সিং স্টাফদের আন্তরিক সেবা, মানবিকতা ও পেশাদারিত্বের প্রতি সম্মান জানাতে আয়োজিত অনুষ্ঠানে ছিল আনন্দঘন পরিবেশ, শুভেচ্ছা বিনিময় এবং সম্মাননা প্রদান। সকালের শুরুতেই হাসপাতাল প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত হয় এক সংক্ষিপ্ত আলোচনা সভা। এতে হাসপাতালের ব্যবস্তাটনা পরিচালক,ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, চিকিৎসক, নার্স ও অন্যান্য কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। বক্তারা বলেন, একজন নার্স কেবল চিকিৎসা সহকারী নন, বরং একজন রোগীর সুস্থতার পেছনে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অনুপ্রেরণা ও সাহসের প্রতীক। রোগীর প্রতি ভালোবাসা, ধৈর্য ও নিরলস সেবার মাধ্যমে নার্সরা প্রতিদিন মানবতার এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করছেন। অনুষ্ঠানে নার্সদের ফুলেল শুভেচ্ছা ও সম্মাননা স্মারক প্রদান করা হয়। পাশাপাশি কেক কাটা, সাংস্কৃতিক পরিবেশনা ও দলীয় ছবি তোলার মধ্য দিয়ে দিনটির আনন্দ আরও বাড়িয়ে তোলা হয়। উপস্থিত নার্সরা জানান, এমন আয়োজন তাদের কাজের প্রতি নতুন উৎসাহ ও অনুপ্রেরণা জোগায়। কেএমসি হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক রুহুল আমিন রুবেল বলেন, স্বাস্থ্যসেবার মান উন্নয়নে নার্সদের অবদান অপরিসীম। তাদের নিষ্ঠা, মমতা ও দায়িত্ববোধের কারণেই রোগীরা সঠিক সেবা ও মানসিক সাহস পেয়ে থাকেন। তাই বিশ্ব সেবিকা দিবস শুধু একটি আনুষ্ঠানিকতা নয়, বরং মানবসেবায় নিয়োজিত এই যোদ্ধাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশের একটি বিশেষ দিন। দিনব্যাপী উৎসবমুখর পরিবেশে উদযাপিত এই আয়োজন হাসপাতালের সকল কর্মীদের মাঝে সৌহার্দ্য ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ আরও দৃঢ় করেছে। বিশ্ব সেবিকা দিবস উপলক্ষে কেএমসি হসপিটালের এই উদ্যোগ উপস্থিত সকলের কাছে হয়ে ওঠে এক স্মরণীয় ও আবেগঘন মুহূর্ত।
বরিশাল অফিস : শিশু অতিক্ষ হালদার। পিতা অনিমেষ হালদার। মাতা নিভা হালদার।গ্রামের বাড়ি পিরোজপুর জেলার ভান্ডারিয়া উপজেলার রাধানগর গ্রামে।২১ এপ্রিল বরিশাল শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের শিশু বিভাগের সাবেক বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ডাঃ অসীম কুমার সাহার নিকট ঝালকাঠীর চেম্বারে চিকিৎসা সেবা নেন। অসীম কুমার সাহার চিকিৎসা নেয়ার পরে শিশু অতিক্ষ হালদারের অবস্থার অবনতি হলে তার পরিবার ঢাকার একটি হাসপাতালে ভর্তি করান।৩ মে দুপুর সাড়ে ১২ টায় ১৮ মাস বয়সের সময় অসিম কুমার সাহার ভুল চিকিৎসায় মুত্যুর কোলো ঢলে পরেন অতিক্ষ হালদার। পরিবারের অভিযোগ শিশু অতিক্ষ হালদারের পরিবারের অভিযোগ ডাক্তার অসীম কুমার সাহার ভুল চিকিৎসায় অতিক্ষ হালদার মারা গেছে।তারা বলেন আর কোন শিশু যেন অসীম কুমার সাহার ভুল চিকিৎসায় মারা না যায়। ফেসবুকের এক পোস্টে গোপাল মিস্ত্রী এই অভিযোগ করেন। এছাড়া প্রণব হালদার তিনি ফেসবুকের এক পোস্টে লিখেন, ডাক্তার অসীম সাহা ঝালকাঠি উনি একজন মানুষ মারার কারিগর উনি নাকি শিশু বিশেষজ্ঞ ভুল চিকিৎসা দিয়ে। আমার ভাগ্নে টাকে মেরে ফেলল ওনার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই ।ডাক্তারকে বলা হয় সৃষ্টিকর্তার রূপ, কিন্তু যখন তারাই জীবনের কারণ হয়ে দাঁড়ায় মৃত্যুর, তখন আর অবশিষ্ট কিছু থাকে না।" . " ভুল ওষুধের বোঝায় আজ আমার বোনের পুরো পরিবার নিঃস্ব।" জ্বর আর কাশি কমাতে গিয়ে হায়ার এন্টিবায়োটিক দিয়ে আজীবনের হাহাকার উপহার দিলেন ডাক্তার অসিম সাহা ঝালকাঠি।" "সাদা কোটের আড়ালে লুকিয়ে থাকা খুনিদের শাস্তির দাবি জানাই।" ডাক্তার অসীম সাহার "একটি ভুল সিদ্ধান্ত, হাজারো স্বপ্ন ভেঙে চুরমার।" ঝালকাঠি। জেলা প্রশাসকের কাছে আবেদন ডাক্তার অসীম সাহাকে কঠিন দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ব্যবস্থা আনা হোক। ডাক্তার অসীম শাহা মানুষ মারার কারিগর আমার ভাগ্নে টা কে শেষ করে দিল। ডা: আসিম কুমার সাহার দৃষ্টান্ত মুলক শাস্তি দাবী প্রদীপ হাওলাদার এক পোস্টে " বরিশাল শিশু বিভাগীয় প্রধান (প্রাক্তন) ডা: আসিম কুমার সাহার দৃষ্টান্ত মুলক শাস্তি চাই। প্রদীপ হাওলাদার আরেক পোস্টে লিখেন "আমার ভাগ্নার হত্যাকারী, অধ্যাপক ডা: অসিম কুমার সাহা ও বিভাগীয় প্রধান, শিশু (প্রাক্তন)শেরে -ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ ও হাডপাতাল বরিশাল দৃস্টান্ত মুলক শাস্তি চাই।" মানুষ মারার কারিগর অসীম কুমার সাহা! শিশু অতিক্ষের মামা।প্রদীপ হাওলাদার ফেসবুকে সর্বশেষ পোস্টে লিখেন" ডাক্তার অসীম কুমার সাহা ঝালকাঠি উনি একজন মানুষ মারার কারিগর উনি নাকি শিশু বিশেষজ্ঞ ভুল চিকিৎসা দিয়ে। আমার ভাগ্নে টাকে মেরে ফেলল ওনার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই ।ডাক্তারকে বলা হয় সৃষ্টিকর্তার রূপ, কিন্তু যখন তারাই জীবনের কারণ হয়ে দাঁড়ায় মৃত্যুর, তখন আর অবশিষ্ট কিছু থাকে না।" . " ভুল ওষুধের বোঝায় আজ আমার বোনের পুরো পরিবার নিঃস্ব।" জ্বর আর কাশি কমাতে গিয়ে হায়ার এন্টিবায়োটিক দিয়ে আজীবনের হাহাকার উপহার দিলেন ডাক্তার অসিম সাহা ঝালকাঠি।" "সাদা কোটের আড়ালে লুকিয়ে থাকা খুনিদের শাস্তির দাবি জানাই।" ডাক্তার অসীম সাহার "একটি ভুল সিদ্ধান্ত, হাজারো স্বপ্ন ভেঙে চুরমার।" ঝালকাঠি। জেলা প্রশাসকের কাছে আবেদন ডাক্তার অসীম সাহাকে কঠিন দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ব্যবস্থা আনা হোক। ডাক্তার অসীম শাহা মানুষ মারার কারিগর আমার ভাগ্নে টা কে শেষ করে দিল। গল্প থেমে যায় হাসপাতালের বিছানায় পিরোজপুরের একটি সাধারণ পরিবার। ১৮ মাস বয়সী এক শিশুর হাসি-আনন্দে ভরে থাকত ঘর। কিন্তু কয়েক দিনের অসুস্থতা, তারপর চিকিৎসা—শেষ পর্যন্ত সেই গল্প থেমে যায় ঢাকার একটি হাসপাতালের বিছানায়। পরিবারের অভিযোগ, এটি শুধু একটি মৃত্যু নয়—এটি একটি “ভুল চিকিৎসার ফল”। তবে সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকের বক্তব্য এখনো সামনে আসেনি, আর স্বাধীনভাবে এসব অভিযোগ যাচাইও করা সম্ভব হয়নি। ফলে প্রশ্ন রয়ে গেছে—ঠিক কী ঘটেছিল? অসুস্থতা থেকে মৃত্যু পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য অনুযায়ী, শিশুটি প্রথমে জ্বর ও কাশিতে আক্রান্ত হয়। ঝালকাঠিতে ডাঃ অসীম কুমার সাহা নামে এক শিশু বিশেষজ্ঞের শরণাপন্ন হন তারা। অভিযোগ রয়েছে, চিকিৎসার অংশ হিসেবে শিশুটিকে উচ্চমাত্রার অ্যান্টিবায়োটিক দেওয়া হয়। স্বজনদের দাবি, এই ওষুধ প্রয়োগের পর থেকেই শিশুটির শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি ঘটে। অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাকে পরে ঢাকায় নেওয়া হয়। গত ৩ মে ২০২৬, দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে ঢাকার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শিশুটি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করে—এমনটাই জানিয়েছেন পরিবারের সদস্যরা। “একটি ভুল সিদ্ধান্ত, হাজারো স্বপ্নের অবসান” নিহত শিশুর মামা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক আবেগঘন পোস্টে লিখেছেন— “একটি ভুল সিদ্ধান্ত, হাজারো স্বপ্ন ভেঙে চুরমার করে দিল। ভুল ওষুধের বোঝায় আজ আমার বোনের পুরো পরিবার নিঃস্ব।” আরেক স্বজনের ভাষায়, সন্তানের মরদেহ কোলে নেওয়ার অভিজ্ঞতা “পৃথিবীর সবচেয়ে কঠিন ও বেদনাদায়ক মুহূর্ত”। পরিবারের দাবি, চিকিৎসকের ভুল সিদ্ধান্তই এই মৃত্যুর জন্য দায়ী। তারা অভিযুক্ত চিকিৎসক ডাঃ অসীম কুমার সাহার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চান। অভিযোগ ও প্রতিক্রিয়া পরিবারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, তারা জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগ দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। ঘটনাটি স্থানীয়ভাবে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও এ নিয়ে ক্ষোভ ও বিচার দাবি করছেন অনেকে। চিকিৎসা অবহেলা—কীভাবে নির্ধারিত হয় দায়? স্বাস্থ্যখাত সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা বলছেন, চিকিৎসা অবহেলার অভিযোগ প্রমাণ করা একটি জটিল প্রক্রিয়া। কোনো চিকিৎসা সিদ্ধান্ত ভুল ছিল কিনা, তা নির্ধারণে রোগীর পূর্ণাঙ্গ চিকিৎসা ইতিহাস, ব্যবহৃত ওষুধের ধরন, ডোজ, রোগের প্রকৃতি এবং চিকিৎসা প্রটোকল—সবকিছু বিশ্লেষণ করতে হয়। অনেক ক্ষেত্রেই জ্বর ও কাশির মতো উপসর্গের পেছনে গুরুতর সংক্রমণ লুকিয়ে থাকতে পারে, যেখানে অ্যান্টিবায়োটিক প্রয়োজন হতে পারে। আবার ভুল ডোজ বা অনুপযুক্ত ওষুধ প্রয়োগ করলে তা ঝুঁকিপূর্ণও হতে পারে। জবাবদিহিতার প্রশ্ন বাংলাদেশে চিকিৎসা অবহেলার অভিযোগ নতুন নয়। তবে প্রতিটি ঘটনায় নিরপেক্ষ তদন্ত ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা গেলে স্বাস্থ্যসেবার প্রতি মানুষের আস্থা বাড়তে পারে বলে মনে করেন বিশ্লেষকরা। এই ঘটনার ক্ষেত্রেও একই প্রশ্ন সামনে এসেছে— শিশুটির মৃত্যু কি প্রতিরোধযোগ্য ছিল? চিকিৎসা পদ্ধতিতে কোনো ত্রুটি ছিল কি? নাকি এটি ছিল একটি অনাকাঙ্ক্ষিত চিকিৎসাগত জটিলতা? একটি অসমাপ্ত গল্প একটি পরিবারের জন্য এটি কেবল একটি খবর নয়—এটি তাদের জীবনের স্থায়ী ক্ষত। একদিকে স্বজনদের বুকভাঙা কান্না, অন্যদিকে অনিশ্চিত প্রশ্ন—এই দুইয়ের মাঝে দাঁড়িয়ে আছে একটি শিশুর অসমাপ্ত জীবন। এখন নজর তদন্তের দিকে। কারণ সত্য উদঘাটনই নির্ধারণ করবে—এটি কি চিকিৎসা অবহেলা, নাকি এক অনিবার্য ট্র্যাজেডি। ডাঃ অসীম কুমার সাহার বক্তব্য এ ব্যাপারে ডাঃ অসীম কুমার সাহা জানান,আমার মনে পড়তেছেনা।রোগীর কাগজপত্র দিন।বললেতো হবেনা।আমি রোগীর অবস্থা খারাপ তাই হয়তো ঢাকায় রেফার্ড করছি।তিনি এও বলেন রোগীর হয়তো রোগটাই চিন্থিত করতে পারি নাই।তাই ঢাকায় পাঠিয়েছি।তিনি বলেন কাগজ পত্র না দেখে বলতে পারবোনা বিস্তারিত।
বরিশাল অফিস : বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. ভাস্কর সাহাকে ঘিরে অর্থ পাচার ও অবৈধ সম্পদ গঠনের অভিযোগ নতুন করে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, তিনি গত ৯ এপ্রিল একটি মেডিকেল ভিসার জন্য আবেদন করেছেন—যা সংশ্লিষ্ট মহলে তার সম্ভাব্য দেশত্যাগ নিয়ে উদ্বেগ আরও বাড়িয়ে তুলেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, ভিসা প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে তিনি স্থায়ীভাবে বিদেশে পাড়ি জমাতে পারেন। ইতোমধ্যে তার স্ত্রী ও সন্তানরা ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যে অবস্থান করছেন বলে জানা গেছে। এছাড়া তিনি নিজ বাসভবনের বাইরে বর্তমানে বরিশাল সদরে একটি আবাসিক হোটেলে অবস্থান করছেন—যা তার চলাফেরায় গোপনীয়তার ইঙ্গিত দেয় বলে মনে করছেন অনেকে। অর্থ পাচারের অভিযোগ ডা. ভাস্কর সাহার বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে, তিনি একটি বেসরকারি চিকিৎসা প্রতিষ্ঠান “সাউথ অ্যাপোলো হাসপাতাল”-এর শেয়ার বিক্রি করে প্রায় দুই কোটি টাকা সংগ্রহ করেন এবং সেই অর্থ বিদেশে পাচার করেন। প্রাথমিকভাবে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, এই অর্থ ভারতের দিকে স্থানান্তর করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র দাবি করছে। সম্পদের বিস্তার ও বিক্রির উদ্যোগ অনুসন্ধানে আরও জানা গেছে, বরিশাল শহরে তার মালিকানাধীন অন্তত তিনটি ফ্ল্যাট রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, এর মধ্যে দুটি বিক্রির প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে—যা সম্ভাব্য দেশত্যাগের প্রস্তুতির অংশ হতে পারে বলে মনে করছেন তদন্ত সংশ্লিষ্টরা। শুধু দেশেই নয়, ভারতের পশ্চিমবঙ্গের উত্তর ২৪ পরগনা জেলার বারাসাত এলাকাতেও তার নামে একাধিক বাড়ির তথ্য উঠে এসেছে বলে দাবি করা হচ্ছে। এসব তথ্য গুরুত্বসহকারে খতিয়ে দেখা প্রয়োজন বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। পারিবারিক নাগরিকত্ব ও অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন ডা. সাহার পরিবারের সদস্যদের নাগরিকত্ব, দীর্ঘদিন বিদেশে অবস্থান এবং সম্পদ অর্জনের উৎস নিয়েও নানা প্রশ্ন উঠছে। এসব বিষয় ভবিষ্যৎ তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। রাজনৈতিক যোগাযোগের ইঙ্গিত স্থানীয়ভাবে প্রচলিত রয়েছে, ডা. ভাস্কর সাহা সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ফুপাতো ভাই ও দক্ষিণাঞ্চলের প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব আবুল হাসনাত আবদুল্লাহর ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত। যদিও এই সম্পর্কের প্রভাব কতটুকু—তা নিয়ে স্পষ্ট কোনো প্রমাণ এখনো প্রকাশ্যে আসেনি। নজরদারি জোরদারের দাবি এমন পরিস্থিতিতে সচেতন মহল সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থাগুলোর প্রতি জরুরি ভিত্তিতে নজরদারি বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছে। তাদের মতে, কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ এখন অত্যন্ত জরুরি— ভিসা প্রক্রিয়ার ওপর কঠোর নজরদারি। সম্ভাব্য দেশত্যাগে নিয়ন্ত্রণমূলক ব্যবস্থা। অর্থের উৎস ও লেনদেনের পূর্ণাঙ্গ তদন্ত। বিদেশে সম্পদের সত্যতা যাচাই। প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা দ্রুত গ্রহণ। সচেতন মহলের মতে, সময়মতো কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়া হলে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য-প্রমাণ হাতছাড়া হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। ফলে বিষয়টি শুধু ব্যক্তিগত অভিযোগের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে বৃহত্তর আর্থিক অনিয়মের চিত্রও উন্মোচন করতে পারে। ডা. ভাস্কর সাহাকে ঘিরে ওঠা অভিযোগ, তথ্য ও পরিস্থিতির প্রেক্ষাপট একটি পূর্ণাঙ্গ, স্বচ্ছ ও দ্রুত তদন্তের প্রয়োজনীয়তা স্পষ্ট করছে। সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সক্রিয়তা এখনই নির্ধারণ করতে পারে—এটি একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা, নাকি বড় কোনো আর্থিক জালিয়াতির অংশ।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : বরিশাল নগরীর একসময়ের আস্থার প্রতীক হেমায়েত উদ্দিন ডায়াবেটিক হাসপাতাল এখন যেন ধীরে ধীরে হারাচ্ছে তার বিশ্বাসযোগ্যতা। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন প্রতিষ্ঠানটির বর্তমান তত্ত্বাবধায়ক ডা.মানবেন্দ্র সরকার—যিনি দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক প্রভাব, ব্যক্তিগত নেটওয়ার্ক এবং প্রশাসনিক দুর্বলতাকে কাজে লাগিয়ে নিজের অবস্থান ধরে রেখেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। বরিশাল নগরীর হেমায়েত উদ্দিন ডায়াবেটিক হাসপাতালে দীর্ঘদিন ধরে অনিয়ম, প্রশাসনিক স্বেচ্ছাচারিতা এবং রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ উঠেছে। এসব অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন হাসপাতালের বর্তমান তত্ত্বাবধায়ক ডা. মানবেন্দ্র সরকার। হাসপাতালের অভ্যন্তরীণ সূত্র এবং একাধিক কর্মকর্তা-কর্মচারীর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, নির্ধারিত বয়সসীমা অতিক্রম করার পরও তিনি এখনো দায়িত্বে বহাল রয়েছেন। ২০২৩ সালের ১৬ নভেম্বর হাসপাতালের কার্যনির্বাহী কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী কর্মকর্তাদের অবসরের বয়সসীমা ৬২ বছর নির্ধারণ করা হলেও ডা. মানবেন্দ্র সরকারের বর্তমান বয়স ৭৪ বছর বলে জানা যায়। বয়সসীমা পেরিয়েও দায়িত্বে বহাল হাসপাতালের কার্যনির্বাহী কমিটির ২০২৩ সালের ১৬ নভেম্বরের সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, কর্মকর্তাদের অবসর গ্রহণের বয়সসীমা ৬২ বছর এবং কর্মচারীদের জন্য তা ৬৫ বছর নির্ধারণ করা হয়। অথচ বর্তমান তত্ত্বাবধায়ক ডা. মানবেন্দ্র সরকারের বয়স ৭৪ বছর—যা নির্ধারিত সীমার চেয়ে অন্তত ৯ বছর বেশি। নিয়ম অনুযায়ী বহু আগেই তার দায়িত্ব ছাড়ার কথা থাকলেও বাস্তবে তার কোনো প্রতিফলন দেখা যায়নি। তথ্যানুসন্ধানে জানা গেছে, বিভিন্ন সময় প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তিদের সুপারিশের মাধ্যমে তিনি তার চাকরির মেয়াদ বাড়িয়ে নিয়েছেন। এমনকি ২০২৩ সালের ২০ নভেম্বর তিনি নিজেই দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিলেও অল্প সময়ের মধ্যেই পুনরায় একই পদে বহাল হন। রাজনৈতিক ভারসাম্যের কৌশল ডা. মানবেন্দ্র সরকারের বিরুদ্ধে সবচেয়ে আলোচিত অভিযোগগুলোর একটি হলো—তিনি ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক শক্তির সঙ্গে সময়োপযোগী সম্পর্ক বজায় রেখে নিজের অবস্থান নিশ্চিত করেন। আওয়ামী লীগ আমলে স্বাচিপ নেতা হিসেবে পরিচিত থাকলেও সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর তিনি বিএনপির নেতাদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা বাড়িয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।উল্লেখ্য যে ‘এই হাসপাতালে তার চাকরি হয়েছিলো আবুল হাসানাত আবদুল্লাহ ও সাবেক সিটি মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহর সুপারিশে। ২০২৩ সালে ২০ নভেম্বর তত্ত্বাবধায়কের দায়িত্ব থেকে নিজেই অব্যহতি নিয়েছিলেন। এর কিছুদিন পর খোকন সেরনিবায়াত ও এমপি শাহজাহান ওমরের সুপারিশ নিয়ে আবার স্ব-পদে বহাল হন। বর্তমান বিএনপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর বরিশাল সদর আসনের সংসদ সদস্য এ্যাড. মজিবর রহমান সরোয়ারেরও সুপারিশ আনেন তার চাকরি টিকিয়ে রাখার জন্য। অভিযোগ রয়েছে মানবেন্দ্র তত্ত্বাবধায়ক হওয়ার কারনে হিন্দু সম্প্রদায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা বিশেষ সুবিধা পেয়ে আসছেন। ডা: মানবেন্দ্র সরকারের খামখেয়ালীপনার সর্বশেষ শিকার হয়েছেন হাসপাতালের অফিস সহায়ক আনিসুর রহমান। এর আগেও তার কথা মতো না চলায় বেশ কয়েকজনকে তিনি বিনা নোটিশে বাড়ি পাঠিয়ে দিয়েছেন। ৫ আগষ্টের পর ভোলপাল্টে তিনি এখন বিএনপি নেতা। হাসপাতালের একাধিক সূত্র জানায়, স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাদের বাসায় নিয়মিত যাতায়াতের মাধ্যমে তিনি নিজের অবস্থানকে “অপরিহার্য” হিসেবে প্রতিষ্ঠা করার চেষ্টা করছেন। এর ফলে প্রশাসনিক জবাবদিহিতা কার্যত দুর্বল হয়ে পড়েছে। অভিযোগ: দুর্নীতি ও আর্থিক অনিয়ম হাসপাতালের পরিচালনা পর্ষদের কিছু সদস্য ও কর্মকর্তার সঙ্গে যোগসাজশে গত কয়েক বছরে কোটি কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। অথচ কর্মচারীদের বেতন পরিশোধের সময় নিয়মিতভাবে “টাকা নেই” বলে জানানো হয়। এই বৈপরীত্য কর্মচারীদের মধ্যে ক্ষোভ বাড়িয়েছে। অভ্যন্তরীণ একাধিক সূত্র দাবি করেছে, বিভিন্ন ক্রয়-বিক্রয়, নিয়োগ এবং সেবামূলক খাতে অনিয়মের মাধ্যমে অর্থ লুটপাট হয়েছে। তবে এসব অভিযোগের কোনো স্বচ্ছ তদন্ত এখনো দৃশ্যমান নয়। ভয় ও দমন-পীড়নের সংস্কৃতি হাসপাতালের ভেতরে ভয়ের একটি পরিবেশ তৈরি হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন কয়েকজন চিকিৎসক ও কর্মচারী। তারা জানান, তত্ত্বাবধায়কের নির্দেশ অমান্য করলে চাকরি হারানোর আশঙ্কা থাকে। সম্প্রতি আনিসুর রহমান নামের এক অফিস সহায়ককে কোনো লিখিত অভিযোগ ছাড়াই সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। সহকর্মীদের ভাষ্যমতে, ব্যক্তিগত অসন্তোষ থেকেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর আগেও একই ধরনের ঘটনায় কয়েকজন কর্মচারীকে বিনা নোটিশে চাকরিচ্যুত করার অভিযোগ রয়েছে। বৈষম্যের অভিযোগ কিছু কর্মচারীর দাবি, নির্দিষ্ট একটি সম্প্রদায়ের সদস্যরা প্রশাসনিক সুবিধা বেশি পাচ্ছেন। যদিও এই অভিযোগের বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তদন্ত হয়নি, তবুও এটি প্রতিষ্ঠানটির অভ্যন্তরীণ বিভাজনকে আরও তীব্র করেছে। ক্ষোভে ফুঁসছে কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ক্রমাগত অনিয়ম, বেতন সংকট এবং প্রশাসনিক স্বেচ্ছাচারিতার কারণে হাসপাতালের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। তারা দ্রুত তত্ত্বাবধায়ক অপসারণের দাবি জানিয়েছেন এবং একটি স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ তদন্তের আহ্বান জানিয়েছেন। প্রশ্ন রয়ে যায় একজন ব্যক্তি কীভাবে দীর্ঘদিন ধরে নিয়ম ভেঙে, রাজনৈতিক পালাবদলের সঙ্গে নিজেকে খাপ খাইয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে পারেন—এই প্রশ্ন এখন স্থানীয়দের মধ্যে ঘুরপাক খাচ্ছে। হেমায়েত উদ্দিন ডায়াবেটিক হাসপাতালের মতো একটি জনস্বাস্থ্যকেন্দ্র যদি অনিয়ম ও প্রভাবের বলয়ে আটকে পড়ে, তবে এর প্রভাব পড়ে সরাসরি সাধারণ মানুষের চিকিৎসা সেবার ওপর। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপই পারে এই সংকট থেকে উত্তরণের পথ দেখাতে। কর্তৃপক্ষের নীরবতা এ বিষয়ে হাসপাতাল প্রশাসনের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, একটি গুরুত্বপূর্ণ স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানে এ ধরনের অভিযোগের দ্রুত ও স্বচ্ছ তদন্ত জরুরি।
বরিশাল অফিস : বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয়ে দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি, অনিয়ম ও ক্ষমতার অপব্যবহারের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে।অভিযোগের কেন্দ্রে রয়েছেন মেডিকেল অফিসার ডা. সৈয়দা সুলতানা পারভীন এবং উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা প্রদীপ দাস। ডা. সৈয়দা সুলতানা পারভীনের বিরুদ্ধে যত অভিযোগ: বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয়ের মেডিকেল অফিসার ডা. সৈয়দা সুলতানা পারভীনের বিরুদ্ধে দুর্নীতি, ক্ষমতার অপব্যবহার, দায়িত্বে গাফিলতি ও অসদাচরণের একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এছাড়া তিনি চাকুরীর শুরু থেকেই বরিশাল জেলায় ঘুরে ফিরে রয়েছেন। চাকুরীর শুরু উপজেলা মুলাদী থেকে শুরু করে বরিশাল ও বাবুগঞ্জে বিতর্ক আর প্রতিরোধের মুখে বদলী হয়েছেন। ডা. সৈয়দা সুলতানা পারভীনের বিরুদ্ধে অভিযোগের শেষ নাই। বাবুগঞ্জ থেকে বাকেরগঞ্জে যোগদানের পরেই পুর্বের কর্মস্থলের মত আচরন শুরু করেন।তার ওপরে পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের সকলেই ক্ষুব্ধ। ২০২৫ সালের ২৭ অক্টোবর তৎকালীন স্বাস্থ্য উপদেষ্টার কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছিল বাকেরগঞ্জ পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের কর্মচারীরা। বরিশাল ও বাবুগঞ্জের মত বাকেরগঞ্জে ও তিনি বেপরোয়া হয়ে উঠেছেন। কর্মচারী ও সেবাগ্রহীতাদের অভিযোগ, ডা. সৈয়দা সুলতানা পারভীনের বিরুদ্ধে অনিয়মের বিষয়ে লিখিত অভিযোগ দিলেও দৃশ্যমান ব্যবস্থা হয়নি। জানা গেছে, ডা. সৈয়দা সুলতানা পারভীন একই জেলায় দীর্ঘদিন কর্মরত থাকায় নানা অনিয়ম, দায়িত্বে অবহেলা, দুর্নীতি ও কর্মচারীদের প্রতি অসদাচরণের অভিযোগ উঠেছে। এসব বিষয়ে একাধিকবার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিকট লিখিত ও মৌখিক অভিযোগ দেওয়া হলেও তার বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা গ্রহন করা হয়নি। প্রভাবশালী মহলের সঙ্গে যোগাযোগ থাকার কারণে অভিযোগের বিষয়ে তদন্তে আলোর মুখ দেখেনি। ডা.সৈয়দা সুলতানা পারভীনের ওপর উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে পরিবার পরিকল্পনার চিকিৎসা সেবা প্রদানের দায়িত্ব থাকলেও তিনি নিয়মিতভাবে তা পালন করছেন না। যা সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা অনুযায়ী শাস্তিমূলক অপরাধ। বরিশাল জেলা পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয়ের উপ পরিচালক মেহবুব মোর্শেদের সাথে সু সম্পর্ক থকার কারনে ডা. সৈয়দা সুলতানা পারভীন নির্ধারিত সময়ে কর্মস্থলে উপস্থিত না থেকে নিজ ক্ষমতা প্রয়োগ করে দায়িত্ব এড়িয়ে চলেন। এতে করে সাধারন রোগীরা প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। ডা. সৈয়দা সুলতানা পারভীন নিয়মিত ইউনিয়নগুলোতে নির্ধারিত দায়িত্ব পালন না করেই ভুয়া টিএ (ভ্রমণ ভাতা) ও ডিএ (দৈনিক ভাতা) বিল জমা দিয়ে সরকারি অর্থ আত্মসাৎ করছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। একাধিকবার একই ধরণের বিল জমা দিয়ে সরকারি অর্থ লোপাটের প্রমাণ রয়েছে বলে জানা যায়। ডা. সৈয়দা সুলতানা পারভীনের পরিবার পরিকল্পনার সেবা নিতে আসা রোগীদের সাথে হরহামেশাই খারাপ আচরন করে থাকেন। এমনকি রোগীকে গলা ধাক্কা দিয়ে বের করে দেয়ার নজিরও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। ডা. সৈয়দা সুলতানা পারভীনের ব্যাপারে জানা যায়, দীর্ঘ মেয়াদি জন্ম নিয়ন্ত্রন ব্যবস্থা ইমপ্লান্ট পড়ানো ও খোলা দুইটিই ডা. সৈয়দা সুলতানা পারভীনের দায়িত্ব থাকলেও এফডাব্লিউভি (পরিবার পরিকল্পনা পরিদর্শিকা) দ্বারা জোরপূর্বক তা করিয়ে থাকেন। যার ফলে প্রায়শই ব্যবস্থাটি ত্রুটিপূর্ন হয়ে থাকে। যা নিয়ে হর-হামেশাই সেবা প্রত্যাশীরা ক্ষোভ প্রকাশ করেন। বাবুগঞ্জে কর্মরত থাকাকালে মাধবপাশা ইউনিয়ন থেকে ইমপ্লান্ট এর চিকিৎসা সেবা নিতে আসা রাবেয়া নামে এক নারী জানিয়েছিলেন আগে দুইবার এ পদ্ধতি নিলেও এইবারের মতো কষ্ট কখোনই পাইনি। ডা.নিজে তার কাজ না করে অনভিজ্ঞদের দ্বারা ইমপ্লান্ট পড়ায়। এতে অসহ্য রকমের ব্যাথা অনুভূত হয়। এভাবেই বাকেরগঞ্জে তিনি কর্ম করে যাচ্ছেন। অভিযোগ রয়েছে, কর্মচারীদের টিএ বিল উত্তোলনের ক্ষেত্রে বিলের ৩০-৪০% টাকা ডা. সৈয়দা সুলতানা পারভীনকে ঘুষ দিতে হয়। কারন হিসেবে তিনি বলেন এ অর্থ বরিশাল অফিসে ও হিসাব শাখায় জমা দিতে হয়। এ টাকা কেউ না দিতে চাইলে তাকে ডা. সৈয়দা সুলতানা পারভীনের রোষাণলে পরতে হয়। এমনকি বিল আটকে দেয়ার হুমকিও প্রদান করা হয়। এছাড়াও কথায় কথায় কর্মচারীদের সাথে দুর্ব্যবহার করার ও অসংখ্য নজিরও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। ডা. সৈয়দা সুলতানা পারভীনের বিরুদ্ধে অভিযোগে বলা হয়,মেডিকেল অফিসার ডা. সৈয়দা সুলতানা (সোনিয়া) কর্মস্থলে অধিকাংশ সময় অনুপস্থিত থাকেন, টি.এ বিল আত্মসাৎ করেন, এবং কর্মচারীদের সঙ্গে অপমানজনক আচরণ করেন, যা সরকারি কর্মচারী আচরণ বিধিমালা ১৯৭৯ (খারা ৩ ও ৭)-এর পরিপন্থী। তিনি চিকিৎসা সেবা সম্পর্কেও দায়িত্বহীন আচরণ করেন, ফলে মাঠপর্যায়ে পরিবার পরিকল্পনা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। এ বিষয়ে বহুবার উপ-পরিচালক, পরিবার পরিকল্পনা, বরিশাল বরাবর মৌখিক ও লিখিতভাবে অভিযোগ জানানো হলেও, তিনি অভিযুক্তদের কাছ থেকে সুবিধা গ্রহণ করায় কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করেননি, যা দুর্নীতি দমন আইন ও সরকারি কর্মচারী বিধিমালা অনুযায়ী গুরুতর অপরাধ।আবেদনকারীরা স্বাস্থ্য উপদেষ্টার কাছে প্রতিকার চেয়েছিলেন। প্রদীপ দাসের বিরুদ্ধে যত অভিযোগ: অন্যদিকে উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা প্রদীপ দাসের বিরুদ্ধেও একাধিক গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগে বলা হয়— মুসলিম নারী কর্মীদের পোষাক নিয়ে বিদ্রুপ আচরন ধর্মীয় বৈষম্যমূলক আচরণ গর্ভবতী কর্মীদের অপমান করা হিন্দু কর্মীদের বিশেষ সুবিধা দেওয়া এছাড়া তিনি নিয়মিত অফিসে অনুপস্থিত থেকে তার ঘনিষ্ঠ সহকারী পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা সবুর হোসেনের মাধ্যমে অফিস পরিচালনা করেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। সবুর হোসেনের মাধ্যমে কর্মচারীদের কাছ থেকে ঘুষ আদায় ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগ উঠেছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়। এ ব্যাপারে ডা. সৈয়দা সুলতানা পারভীন বলেন,আমার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ দেয়া হয়েছে তা আমি জানিনা।তিনি বলেন, আমার বিরুদ্ধে যে সব অভিযোগ আনা হয়েছে তার জন্য আমার বিভাগ তদন্ত করে যে শাস্তি দিবে তা মেনে নিবো।তিনি বলেন, আমি কর্মস্থলেই আছি,ফাঁকি কেন দিবো। এ ব্যাপারে বাকেরগঞ্জ উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা প্রদীপ দাসের মোবাইলে কল করা হলে তার নম্বরটি বন্ধ পাওয়ায় বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি। একাধিক লিখিত ও মৌখিক অভিযোগ সত্ত্বেও কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্ট কর্মচারীরা। তারা বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
ইত্তেহাদ নিউজ,ঢাকা : দেশের স্বাস্থ্যখাতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান কেন্দ্রীয় চিকিৎসা সরঞ্জামাগার (সিএমএসডি) গত কয়েক বছরে ক্রয়, সংরক্ষণ ও প্রশাসনিক কার্যক্রমে নীতি-নিয়ম উপেক্ষা এবং স্বচ্ছতার অভাব নিয়ে আলোচনা ও অনুসন্ধানের কেন্দ্রে রয়েছে। সিএমএসডির উপ-পরিচালক ডাঃ তৌহিদ আহমেদ (দাপ্তরিক কোড: ১০৯৬৩০)-এর দায়িত্বকালে, বিভিন্ন সূত্র অনুসারে প্রতিষ্ঠানটির ক্রয় কার্যক্রম, সরকারি অর্থ ব্যবহার ও প্রশাসনিক তদারকিতে গুরুতর প্রশ্ন উঠেছে। সিএমএসডি দেশের সরকারি হাসপাতাল ও স্বাস্থ্য কেন্দ্রগুলোর জন্য চিকিৎসা সরঞ্জাম ক্রয়, সংরক্ষণ ও বিতরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। প্রতিষ্ঠানটি পরিচালনা করে সরকারি বাজেটের মাধ্যমে এবং ক্রয় কার্যক্রমে নির্দিষ্ট নীতিমালা অনুসরণ করে। ডাঃ তৌহিদ আহমেদ সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজের ৩০তম ব্যাচের শিক্ষার্থী। তার প্রশাসনিক পথচলা এবং কেন্দ্রীয় পর্যায়ের সংগঠনগুলোর সঙ্গে সম্পর্ককে অনুসন্ধানকারীরা গুরুত্বপূর্ণ প্রেক্ষাপট হিসেবে উল্লেখ করছেন। ডাঃ তৌহিদ আহমেদ সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজের ৩০তম ব্যাচের শিক্ষার্থী এবং ছাত্রজীবনে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। পরবর্তীতে তিনি কেন্দ্রীয় পর্যায়ের একটি সচিব কমিটির সঙ্গেও দীর্ঘদিন সম্পৃক্ত ছিলেন। অভিযোগ রয়েছে, এই প্রভাববলয় ব্যবহার করেই তিনি সিএমএসডিতে দীর্ঘ পাঁচ বছর ধরে একই প্রতিষ্ঠানে থেকে প্রশাসনিকভাবে শক্ত অবস্থান তৈরি করেন এবং জ্যেষ্ঠতা উপেক্ষা করে সহকারী পরিচালক (এডি) পদ থেকে সরাসরি উপ-পরিচালক পদে বিধি বহির্ভূতভাবে পদায়ন লাভ করেন। সিএমএসডিতে দায়িত্ব পালনকালে তিনি নিয়ম-নীতি উপেক্ষা করে বিভিন্ন আর্থিক অনিয়মে জড়িয়ে পড়েন। অভিযোগ রয়েছে, একাধিক ক্ষেত্রে মামলা দায়ের না করেই সংশ্লিষ্ট খাতের অর্থ উত্তোলন করে তা আত্মসাৎ করা হয়েছে। একই সঙ্গে প্রকৃত ক্রয় কার্যক্রম সম্পন্ন না করেই ভাউচার বিল প্রদর্শনের মাধ্যমে সরকারি অর্থ উত্তোলনের অভিযোগও উত্থাপিত হয়েছে। এতে করে দীর্ঘ সময় ধরে তিনি বিপুল পরিমাণ অর্থ নিজের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে ব্যক্তিগতভাবে সুবিধা ভোগ করেছেন বলে অনুসন্ধানে জানা যায়। বিশেষ করে করোনা মহামারির সময়কার ক্রয় কার্যক্রম নিয়ে সবচেয়ে বেশি প্রশ্ন উঠেছে। সূত্রমতে, এন-৯৫ মাস্ক, রেমডেসিভির ইনজেকশনসহ বিভিন্ন কোভিড-সম্পর্কিত চিকিৎসা সামগ্রী দরপত্রে সম্ভাব্য মূল্য নির্ধারণ না করে অতিরিক্ত পরিমাণে ও উচ্চমূল্যে ক্রয় করা হয়। অধিকাংশ ক্রয়ই সরাসরি ক্রয় পদ্ধতি (ডিপিএম) অনুসরণ করে সম্পন্ন হয়েছে, যা স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার পরিপন্থী বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। অনুসন্ধানে আরো জানা যায়, বর্তমানে এসব সামগ্রীর বড় অংশ ওয়েস্টেজ হিসেবে অল্প মূল্যে বিক্রি করে দেওয়া হয়েছে, আর কিছু মালামাল পুড়িয়ে বা ধ্বংস করা হয়েছে, ফলে সরকারের কোটি কোটি টাকার আর্থিক ক্ষতি হয়েছে। এছাড়া, বিপুল পরিমাণ ব্যক্তিগত সুরক্ষা সামগ্রী (পিপিই) দীর্ঘদিন ধরে অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে থেকে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। আনুমানিক ১২ লাখ পিপিই, যার বাজারমূল্য কয়েক কোটি টাকা, যথাযথ সংরক্ষণ ও ব্যবস্থাপনার অভাবে পচে নষ্ট হয়ে পড়ে আছে বলে জানা যায়। এসব সামগ্রীর তদারকি তার নিয়ন্ত্রণে থাকলেও কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে। দাপ্তরিক দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রেও রয়েছে গুরুতর অবহেলার চিত্র। ডাঃ তৌহিদ আহমেদ একজন টেবিল টেনিস খেলোয়াড় হওয়ায় প্রায়ই অফিস সময়ে কাজ বন্ধ রেখে খেলাধুলায় ব্যস্ত থাকেন। অফিস চলাকালীন সময়ে টেবিল টেনিস ও ব্যাডমিন্টন খেলায় অংশ নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে, যা সহকর্মী ও সংশ্লিষ্টদের মধ্যে বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে। বিদেশ সফরের ক্ষেত্রেও একাধিক প্রশ্ন উঠেছে। প্রযুক্তিগত কর্মকর্তা না হওয়া সত্ত্বেও তিনি প্রতিবছর সরকারি অর্থে জাপান, জার্মানি সহ বিভিন্ন দেশে সফর করেছেন বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। বিভিন্ন কমিটির সদস্য হিসেবে থেকে প্রতিবছর লক্ষ লক্ষ টাকা আর্থিক সুবিধা গ্রহণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। ক্রয় কার্যক্রমে প্রশ্ন সূত্রের দাবি, ডাঃ তৌহিদ আহমেদ-এর প্রশাসনকালে সিএমএসডিতে একাধিক সরঞ্জাম, বিশেষ করে করোনা মহামারির সময় এন-৯৫ মাস্ক, রেমডেসিভির ইনজেকশন ও পিপিই সামগ্রী অতিরিক্ত পরিমাণে ও উচ্চমূল্যে ক্রয় করা হয়েছে। একাধিক ক্রয়ই ডিপিএম পদ্ধতিতে সম্পন্ন হয়েছে, যা স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার দিক থেকে প্রশ্নবিদ্ধ। বিভিন্ন ক্রয়কৃত সামগ্রী অল্প মূল্যে বিক্রি বা ধ্বংস করা হয়েছে বলে কিছু সূত্র দাবি করছে, যা সরকারি অর্থের ক্ষতির কারণ হতে পারে। সংরক্ষণ ও ব্যবস্থাপনার চ্যালেঞ্জ সূত্র অনুযায়ী, প্রায় ১২ লাখ পিপিই দীর্ঘ সময় ধরে অব্যবহৃত অবস্থায় সংরক্ষিত ছিল এবং বাজারমূল্য কয়েক কোটি টাকা। যথাযথ তদারকি বা ব্যবস্থাপনার অভাবের কারণে অনেক সামগ্রী নষ্ট হয়েছে। সিএমএসডির ক্রয় ও সংরক্ষণ কমিটিতে ডাঃ তৌহিদ আহমেদ-এর উপস্থিতি থাকায়, অনেকে বলছেন এটি স্বার্থের সংঘাত তৈরি করেছে। প্রশাসনিক ও অফিসিয়াল কার্যক্রম ডাঃ তৌহিদ আহমেদ-এর অফিসিয়াল কার্যক্রম সম্পর্কেও বিভিন্ন প্রশ্ন উঠেছে। তিনি সাপ্তাহিকভাবে সিলেট থেকে ঢাকায় বিমানে যাতায়াত করেছেন। বিদেশ সফরের সময় (জাপান, জার্মানি) সরকারি অর্থে অংশগ্রহণ করেছেন, যদিও প্রযুক্তিগত দায়িত্ব নন। অফিস সময়ের মাঝে খেলাধুলায় অংশগ্রহণ এবং দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগও উঠেছে। সরকারি সম্পদের ব্যবহার, যেমন গাড়ি, জ্বালানি ও উন্নয়ন প্রকল্পের যানবাহন ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহার, এবং তদারকিতে স্বচ্ছতার অভাবও সূত্রে উল্লেখ করা হয়েছে। প্রতিক্রিয়া ও সামাজিক প্রতিক্রিয়া ২০২৪ সালের ৮ আগস্ট ছাত্রদের এক আন্দোলনে তাঁকে প্রকাশ্যে দুর্নীতিবাজ হিসেবে আখ্যা দেওয়া হয়। দুর্নীতি দমন কমিশনে তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ বিচারাধীন। বিশ্লেষকরা বলছেন, একজন চিকিৎসক যদি জনসেবা নিশ্চিত না করে ব্যক্তিগত স্বার্থে লিপ্ত হন, তা শুধু নৈতিক বিচ্যুতি নয়, গোটা স্বাস্থ্যব্যবস্থার জন্য হুমকিস্বরূপ। সিএমএসডিতে ক্রয়, সংরক্ষণ ও প্রশাসনিক ব্যবস্থার নানা পর্যায়ে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার অভাব সম্পর্কিত প্রশ্ন অনুসন্ধান ও উত্থাপিত অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ এখন সময়ের দাবি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট মহল।
কিশোরগঞ্জ: কিশোরগঞ্জের শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে অ্যাম্বুলেন্স ভাড়া নিয়ে বিরোধের জেরে সময়মতো চিকিৎসা না পেয়ে এক নবজাতকের মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। পরিবারের দাবি, মাত্র ৫০০ টাকার জন্য প্রায় এক ঘণ্টা অপেক্ষার পর শিশুটি মারা যায়। ঘटनাটি ঘটে শুক্রবার (২৭ মার্চ) দিবাগত রাতে। পরদিন সকালে খবর ছড়িয়ে পড়লে স্বজনরা হাসপাতালে বিক্ষোভ করেন, এতে হাসপাতাল এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। কী ঘটেছিল? নিহত নবজাতক কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার যশোদল ইউনিয়নের মীরপাড়া গ্রামের বাসিন্দা মো. রোহানের ছেলে। পরিবার জানায়, শুক্রবার রাত ১১টার দিকে শহরের একটি বেসরকারি ক্লিনিকে সিজারিয়ান অপারেশনের মাধ্যমে শিশুটির জন্ম হয়। জন্মের পরপরই সে শ্বাসকষ্ট ও ঠাণ্ডাজনিত সমস্যায় ভুগতে থাকে। চিকিৎসকের পরামর্শে তাকে রাত সাড়ে ১২টার দিকে শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য ময়মনসিংহে রেফার করা হয়। অ্যাম্বুলেন্স নিয়ে বিরোধ রাতের মধ্যেই শিশুটিকে নিয়ে হাসপাতাল গেটে আসেন স্বজনরা। তবে সেখানে গিয়ে তারা অ্যাম্বুলেন্স ভাড়া নিয়ে জটিলতায় পড়েন। পরিবারের অভিযোগ, সরকারি অ্যাম্বুলেন্স না থাকায় বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্স চালকরা ময়মনসিংহ যাওয়ার জন্য সাড়ে ৪ হাজার টাকা ভাড়া দাবি করেন। স্বজনরা সরকারি নির্ধারিত ভাড়া (১৬০০ টাকা) উল্লেখ করে কম ভাড়া প্রস্তাব করলেও চালকরা তা প্রত্যাখ্যান করেন। এমনকি ৪ হাজার টাকাও দিতে রাজি হলেও চালকরা সাড়ে ৪ হাজার টাকার নিচে নামেননি। অভিযোগ রয়েছে, একটি ‘সিন্ডিকেট’ বাইরের কোনো অ্যাম্বুলেন্সকে রোগী বহন করতে দেয় না এবং জোর করে নিজেদের গাড়িতে রোগী তুলতে বাধ্য করে। মৃত্যু ভাড়া নিয়ে আলোচনার মধ্যেই রাত প্রায় ৩টার দিকে নবজাতকটি মারা যায় বলে জানান স্বজনরা। এরপর অভিযুক্ত চালক ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। পরিবারের অভিযোগ নিহত শিশুর নানি কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “অনেক অনুরোধ করেছি, কিন্তু তারা নেয়নি। আমার নাতিকে বাঁচতে দিল না।” শিশুটির বাবা মো. রোহান বলেন, “হাসপাতালের এত কাছে থেকেও যদি এমন হয়, তাহলে দূর থেকে আসা মানুষ কী করবে?” স্থানীয়দের দাবি স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে হাসপাতালটিতে একটি অ্যাম্বুলেন্স সিন্ডিকেট সক্রিয়। তারা অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করে এবং অন্য গাড়িকে বাধা দেয়। তাদের মতে— সরকারি ভাড়া থাকলেও বাস্তবে বেশি টাকা নেওয়া হয় বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্সে দ্বিগুণ-তিনগুণ ভাড়া দাবি করা হয় ভাড়া না দিলে রোগী পরিবহন করা হয় না প্রশাসনের প্রতিক্রিয়া হাসপাতালের উপ-পরিচালক ডা. সাইফুল ইসলাম বলেন, “এ বিষয়ে আমাকে কেউ জানায়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” কিশোরগঞ্জের সিভিল সার্জন ডা. অভিজিত শর্ম্মা বলেন, “বিষয়টি জানা নেই। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
স্বাস্থ্যখাতে শত কোটি টাকার দুর্নীতি! বরিশাল বিভাগে হাসপাতাল টেন্ডার সিন্ডিকেট মামুনুর রশীদ নোমানী,বরিশাল : বরিশাল বিভাগের বিভিন্ন সরকারি হাসপাতালে টেন্ডার সিন্ডিকেট, নিম্নমানের যন্ত্রপাতি সরবরাহ এবং অতিরিক্ত দামে বিল উত্তোলনের অভিযোগে আলোচনায় এসেছে পিপলাই পরিবার। অভিযোগ রয়েছে, প্রায় দেড় দশক ধরে তারা হাসপাতালগুলোতে সরঞ্জাম সরবরাহের নামে সরকারি কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছেন। ১৫ বছরের বেশি সময় ধরে সরকারি হাসপাতালের টেন্ডার নিয়ন্ত্রণ, নিম্নমানের যন্ত্রপাতি সরবরাহ এবং কোটি কোটি টাকার বিল উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে পিপলাই পরিবারের বিরুদ্ধে। দুদক ইতোমধ্যে মামলা করেছে। তদন্তে বেরিয়ে আসছে নতুন নতুন তথ্য। এ ঘটনায় ইতোমধ্যে মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। তদন্তে আরও অনিয়ম ও দুর্নীতির তথ্য উঠে আসছে বলে জানিয়েছেন সংস্থাটির কর্মকর্তারা। ১৫ বছরের টেন্ডার সিন্ডিকেট দুদকের অনুসন্ধান সূত্রে জানা গেছে, গত ১৫ বছরের বেশি সময় ধরে সত্য কৃষ্ণ পিপলাই ও তার ছেলে সোহাগ কৃষ্ণ পিপলাই বরিশাল বিভাগের বিভিন্ন হাসপাতালে মালামাল সরবরাহের টেন্ডারে সিন্ডিকেট গড়ে তোলেন। অভিযোগ অনুযায়ী তারা:— নিজেদের নিয়ন্ত্রণে একাধিক প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে দরপত্রে অংশগ্রহণ প্রতিযোগিতামূলক দরপত্রের ভান তৈরি নিম্নমানের মালামাল সরবরাহ অন্য প্রতিষ্ঠান থেকে কম দামে কিনে বেশি দামে সরকারি হাসপাতালে সরবরাহ এই পদ্ধতিতে সরকারি কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছেন। দুদকের মামলা গত বছরের ২৬ নভেম্বর ঝালকাঠি সদর হাসপাতালের একটি টেন্ডারকে কেন্দ্র করে মামলা করে দুদক। মামলার বাদী দুদকের উপসহকারী পরিচালক পার্থ চন্দ্র পাল। মামলায় আসামি করা হয়েছে— ডা. শামীম আহমেদ (তৎকালীন তত্ত্বাবধায়ক, ঝালকাঠি সদর হাসপাতাল) শিপ্রা রানী পিপলাই সোহাগ কৃষ্ণ পিপলাই সত্য কৃষ্ণ পিপলাই দুদকের অভিযোগ, হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়কের সঙ্গে যোগসাজশ করে টেন্ডার প্রক্রিয়ায় প্রতারণার মাধ্যমে সরকারি অর্থ আত্মসাৎ করা হয়েছে। একই পরিবারের তিন প্রতিষ্ঠানের টেন্ডার ২০২৩–২৪ অর্থবছরে ঝালকাঠি সদর হাসপাতালে ৫ কোটি টাকার উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়। এর মধ্যে ২ কোটি ১৬ লাখ টাকার গজ, ব্যান্ডেজ, তুলা, ওষুধ, কেমিক্যাল, আসবাবপত্র ও কিচেন সামগ্রী ক্রয়ের জন্য ছয়টি গ্রুপে দরপত্র আহ্বান করা হয়। তদন্তে দেখা যায়— চারটি প্রতিষ্ঠান দরপত্র জমা দিলেও তিনটি প্রতিষ্ঠানের মালিকানা একই পরিবারের। সেগুলো হলো— আহসান ব্রাদার্স — মালিক সত্য কৃষ্ণ পিপলাই পিপলাই এন্টারপ্রাইজ — মালিক সোহাগ কৃষ্ণ পিপলাই বাপ্পী ইন্টারন্যাশনাল — মালিক শিপ্রা রানী পিপলাই তিন প্রতিষ্ঠানের ঠিকানাও একই—বরিশাল সদরের উত্তর কাটপট্টি। দুদকের মতে, কাছাকাছি দর দিয়ে দরপত্র সাজানো হয়েছিল, যা সরকারি ক্রয় বিধিমালা অনুযায়ী দণ্ডনীয় অপরাধ। বরগুনা হাসপাতালে ৪ কোটি টাকার টেন্ডার বিতর্ক বরগুনা ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে প্রায় ৪ কোটি টাকার মালামাল ক্রয়ের দরপত্রেও একই ধরনের অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে— ছয়টি প্যাকেজে ২৪টি ফরম বিক্রি হয় জমা পড়ে মাত্র দুটি প্রতিষ্ঠানের দরপত্র দুটি প্রতিষ্ঠানের মালিক একই পরিবারের বাবা ও ছেলে অন্য ঠিকাদাররা অভিযোগ করেন, দরপত্রে অপ্রয়োজনীয় ও কঠিন শর্ত যোগ করে অন্যদের অংশগ্রহণ কার্যত বন্ধ করে দেওয়া হয়। এ ঘটনায় কয়েকজন ঠিকাদার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত অভিযোগও করেন। শেবাচিম হাসপাতালে ১১ কোটি টাকার সরঞ্জাম কেলেঙ্কারি বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভারী যন্ত্রপাতি সরবরাহের ক্ষেত্রেও ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেছে। সরকারি নিরীক্ষা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে— ২০২০ সালে টেন্ডার আহ্বানের পর চারটি প্রতিষ্ঠান দরপত্র জমা দেয়। তবে তদন্তে দেখা যায়, ওই চারটির মধ্যেও কয়েকটি প্রতিষ্ঠান পিপলাই পরিবারের নিয়ন্ত্রণে ছিল। অভিযোগ অনুযায়ী— অনিয়মের মাধ্যমে ভারী যন্ত্রপাতি সরবরাহ বাবদ ৪ কোটি ১৬ লাখ টাকা এমএসআর সামগ্রী সরবরাহের নামে ৭ কোটি ৩৬ লাখ টাকা মোট প্রায় ১১ কোটি ৫৩ লাখ টাকার বিল উত্তোলন করা হয়। তদন্তে আরও অভিযোগ পাওয়া গেছে যে দরপত্রে অযোগ্য ঘোষিত অন্য প্রতিষ্ঠান থেকে যন্ত্রপাতি এনে বেশি দামে হাসপাতালে সরবরাহ করা হয়েছিল। প্রতিযোগিতামূলক দরপত্র হলে সাশ্রয় হতো কোটি টাকা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মতে, প্রকৃত প্রতিযোগিতামূলক দরপত্রের মাধ্যমে সরঞ্জাম কেনা হলে সরকারের বিপুল পরিমাণ অর্থ সাশ্রয় সম্ভব ছিল। দুদক কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, চলমান তদন্তে আরও অনিয়মের তথ্য পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে নতুন আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সত্য কৃষ্ণ পিপলাই বরিশাল বিভাগের স্বাস্থ্য খাতে মালামাল সরবরাহকারী একটি বিতর্কিত ঠিকাদারী পরিবারের প্রধান। তিনি মেসার্স পিপলাই এন্টারপ্রাইজ ও মেসার্স আহসান ব্রাদার্সের মালিক হিসেবে পরিচিত এবং স্ত্রী ও সন্তানদের নামে একাধিক লাইসেন্স ব্যবহার করে বছরের পর বছর ধরে হাসপাতালের টেন্ডার নিয়ন্ত্রণ ও দুর্নীতির অভিযোগে অভিযুক্ত । সত্য কৃষ্ণ পিপলাই সম্পর্কে মূল তথ্য: পেশা ও পরিচয়: তিনি বরিশালের একজন প্রভাবশালী ঠিকাদার, যিনি দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন হাসপাতালে ওষুধ ও সরঞ্জাম সরবরাহ করেন । দুর্নীতির অভিযোগ: তার বিরুদ্ধে স্ত্রী শিপ্রা রানী পিপলাই ও ছেলে সোহাগ কৃষ্ণ পিপলাইয়ের সাথে যোগসাজশে টেন্ডার বাণিজ্য, অবৈধভাবে কার্যাদেশ পাওয়া এবং সরঞ্জাম সরবরাহ না করেই টাকা উত্তোলনের অভিযোগ রয়েছে । আইনি পদক্ষেপ: ঝালকাঠি সদর হাসপাতালের কেনাকাটায় দুর্নীতির অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) তাকে ও তার পরিবারকে আসামি করে মামলা করেছে । ভূমিকা: মেসার্স পিপলাই এন্টারপ্রাইজ ও মেসার্স আহসান ব্রাদার্সের মাধ্যমে তিনি মূলত বরিশাল বিভাগের স্বাস্থ্য খাতে ঠিকাদারী নিয়ন্ত্রণ করেন ।
বাংলাদেশ-এর স্বাস্থ্যব্যবস্থা বর্তমানে বড় ধরনের দুর্যোগের মুখে। গ্রাম থেকে শহর পর্যন্ত মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা এখন কঠিন চ্যালেঞ্জ। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দীর্ঘদিনের অনিয়ম, দুর্নীতি, জনবল সংকট ও পরিকল্পনাহীনতার কারণে পরিস্থিতি জটিল আকার ধারণ করেছে। এই অবস্থা থেকে উত্তরণে প্রয়োজন বাস্তবসম্মত, সমন্বিত ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা। দুর্নীতির অভিযোগ: কেনাকাটা থেকে পদোন্নতি স্বাস্থ্য খাতে সবচেয়ে বেশি আর্থিক দুর্নীতি হয়েছে কেনাকাটা, নিয়োগ, বদলি ও পদোন্নতিতে—এমন অভিযোগ বিশেষজ্ঞদের। তাদের দাবি, বিগত সময়ে এসব ক্ষেত্রে হাজার হাজার কোটি টাকা লুট হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, প্রয়োজন না থাকা সত্ত্বেও চিকিৎসা যন্ত্রপাতি কেনা হয়েছে, অনেক ক্ষেত্রে খালি বাক্সের বিপরীতেও বিল পরিশোধ করা হয়েছে। কেনা যন্ত্রপাতির বড় অংশ স্টোরে বাক্সবন্দি পড়ে আছে। নিয়োগ, বদলি ও পদোন্নতিতে রাজনৈতিক প্রভাব ও আর্থিক লেনদেনের অভিযোগও রয়েছে। মন্ত্রী থেকে শুরু করে বিভিন্ন স্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব অনিয়মের সুবিধাভোগী হয়েছেন বলে দাবি উঠেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, বিগত সরকার, বিশেষ করে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে স্বাস্থ্যখাতে ব্যাপক দুর্নীতি হয়েছে। বর্তমানে ক্ষমতার বাইরে থাকা বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) সরকারে এলে এই সংকট মোকাবিলায় বড় চ্যালেঞ্জে পড়তে পারে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা। সরকারি সেবায় সীমিত কাভারেজ, বেসরকারিতে নির্ভরতা স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের তথ্য অনুযায়ী, দেশে মাত্র ১৫ শতাংশ মানুষ সরকারি পর্যায়ে স্বাস্থ্যসেবা পান। বাকি ৮৫ শতাংশ মানুষকে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে অর্থের বিনিময়ে সেবা নিতে হয়। চিকিৎসা ব্যয়ের ক্ষেত্রে ব্যক্তির পকেট থেকে খরচের হার বাংলাদেশে প্রায় ৭৪ শতাংশ। তুলনামূলকভাবে ভুটানে ১৩ শতাংশ, ভারতে ৬৩ শতাংশ, মালদ্বীপে ২১ শতাংশ, নেপালে ৫১ শতাংশ, পাকিস্তানে ৫৬ শতাংশ এবং শ্রীলঙ্কায় ৫১ শতাংশ। দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর তুলনায় বাংলাদেশে ব্যক্তিগত ব্যয়ের হার উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি। জনবল সংকট ও বৈষম্যপূর্ণ বণ্টন কমিউনিটি ক্লিনিক স্বাস্থ্য সহায়তা ট্রাস্টি বোর্ডের সভাপতি ডা. আবু মুহাম্মদ জাকির হোসেন বলেন, স্বাস্থ্যসেবার মূল উদ্দেশ্য মানুষের আয়ু ও কর্মক্ষমতা বাড়ানো। কিন্তু বাস্তবে সেবার মান ও কাভারেজ—দুটিই সন্তোষজনক নয়। তার ভাষায়, পর্যাপ্ত দক্ষ জনবল নেই, আর যাঁরা আছেন তাঁদের বণ্টন অসম। অধিকাংশ চিকিৎসক শহরকেন্দ্রিক; গ্রামে গেলেও অনেক সময় থাকেন না। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের ঘাটতি প্রকট—অপথালমোলজিস্ট, সাইকিয়াট্রিস্ট, কার্ডিওলজিস্ট, নেফ্রোলজিস্ট ও ডায়াবেটোলজিস্টের সংখ্যা প্রয়োজনের তুলনায় অনেক কম, বিশেষ করে পেরিফেরি পর্যায়ে। বিশেষজ্ঞদের মতে, দুর্গম এলাকায় ডাক্তার-নার্স রাখতে হলে ৩০ থেকে ১০০ শতাংশ পর্যন্ত বিশেষ ভাতা দিতে হবে। WHO মানদণ্ডে ঘাটতি World Health Organization (WHO)-এর সুপারিশ অনুযায়ী ডাক্তার, নার্স ও প্যারামেডিকের অনুপাত হওয়া উচিত ১:৩:৫। বর্তমানে দেশে প্রায় ৯০ হাজার চিকিৎসক থাকলেও নার্স রয়েছেন প্রায় ১ লাখ। অথচ এই সংখ্যায় নার্স থাকার কথা ছিল ২ লাখ ৭০ হাজার এবং প্যারামেডিক সাড়ে ৪ লাখ। সরকারি হিসাবে প্যারামেডিক রয়েছেন মাত্র ২০ হাজার। ডাক্তারের প্রায় ২০ শতাংশ এবং নার্স ও প্যারামেডিকের প্রায় ৪০ শতাংশ পদ শূন্য। এসব পদ দ্রুত পূরণ এবং প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা জোরদার করলে সেকেন্ডারি ও টারশিয়ারি পর্যায়ে চাপ কমবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। মেডিকেল শিক্ষার মান তলানিতে ডক্টরস এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ড্যাব)-এর সভাপতি অধ্যাপক ডা. হারুন আল রশীদ বলেন, মেডিকেল শিক্ষা হচ্ছে স্বাস্থ্যব্যবস্থার ভিত্তি। কিন্তু এই ভিত্তিই নড়বড়ে হয়ে গেছে। মানহীন ডাক্তার, নার্স ও টেকনোলজিস্ট তৈরি হচ্ছে, যা ভবিষ্যতে স্বাস্থ্যখাতে বড় সংকট ডেকে আনতে পারে। তিনি বলেন, স্বাস্থ্যখাত সংস্কার করতে হলে গ্রাম থেকে শহর পর্যন্ত প্রতিটি স্তরে পরিবর্তন আনতে হবে। বাজেট সংকট ও কাঠামোগত দুর্বলতা বর্তমানে স্বাস্থ্যখাতে বরাদ্দ জিডিপির মাত্র ০.৭৪ শতাংশ, যেখানে প্রয়োজন অন্তত ৫ শতাংশ। বার্ষিক প্রবৃদ্ধির হার ১৫ শতাংশ হওয়ার কথা থাকলেও বাস্তবে তা প্রায় ৫ শতাংশের মধ্যে সীমাবদ্ধ। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বরাদ্দ কম এবং তার একটি বড় অংশ দুর্নীতিতে নষ্ট হওয়ায় স্বাস্থ্যসেবার মান নিম্নমুখী। করণীয়: সমন্বিত পরিকল্পনা ও রোগপ্রতিরোধে গুরুত্ব জনস্বাস্থ্যবিদ রাশেদ রাব্বি বলেন, দেশের জনসংখ্যা, ঘনবসতি ও সামাজিক বাস্তবতা বিবেচনায় স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদি দুটি সমন্বিত পরিকল্পনা গ্রহণ জরুরি। চিকিৎসার চেয়ে রোগপ্রতিরোধ ও সুস্থতা নিশ্চিতকরণে বেশি গুরুত্ব দিতে হবে। তার প্রস্তাবগুলোর মধ্যে রয়েছে— দলীয় বিবেচনা বাদ দিয়ে যোগ্যতার ভিত্তিতে পদোন্নতি প্রাথমিক থেকে টারশিয়ারি পর্যায় পর্যন্ত কার্যকর রেফারেল ব্যবস্থা বেসরকারি হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেবার মূল্য নির্ধারণ ও মান নিয়ন্ত্রণ পৃথক স্বাস্থ্য প্রশাসন ও বেতন কাঠামো সময়োপযোগী ও জনমুখী স্বাস্থ্যনীতি প্রণয়ন তিনি আরও বলেন, গত দেড় বছরে স্বাস্থ্যখাতে যে লুটপাট ও স্থবিরতা তৈরি হয়েছে, তার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার নিশ্চিত না করলে কাঙ্ক্ষিত সংস্কার সম্ভব হবে না। বিশেষজ্ঞদের মতে, দেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থা এখন বড় ধরনের ধাক্কার মুখে। এ পরিস্থিতি সামাল দিতে হলে দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স, দক্ষ জনবল নিয়োগ, বাজেট বৃদ্ধি, প্রাথমিক সেবা জোরদার এবং স্বাস্থ্যনীতি সংস্কার—সব ক্ষেত্রেই একযোগে পদক্ষেপ নিতে হবে। অন্যথায় স্বাস্থ্যখাতের এই সংকট আরও গভীর হয়ে বৃহত্তর মানবিক দুর্যোগে রূপ নিতে পারে।
অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের সম্পদ বিবরণী প্রকাশের পর সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী ও তার স্ত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদের হিসাব নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। এক বছরের ব্যবধানে স্বামী ফারুকীর সম্পদ কমলেও স্ত্রী তিশার সম্পদ বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে প্রকাশিত তথ্যে উঠে এসেছে এই চিত্র। প্রকাশিত খতিয়ান অনুযায়ী, জনপ্রিয় অভিনেত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদ এক বছরে অভাবনীয় হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তিশার মোট সম্পদের পরিমাণ ছিল ১ কোটি ৪০ লাখ ৮১ হাজার ৮৬০ টাকা। ঠিক এক বছর পর, ২০২৫ সালের ৩০ জুন সেই সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ৯৯ লাখ ৮৯ হাজার ৫০১ টাকায়। অর্থাৎ মাত্র এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ বেড়েছে ১ কোটি ৫৯ লাখ ৭ হাজার ৬৪১ টাকা, যা আগের বছরের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি। অন্যদিকে সংস্কৃতি উপদেষ্টা ও নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর ক্ষেত্রে দেখা গেছে উল্টো চিত্র। এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ কমেছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তার মোট সম্পদ ছিল ২ কোটি ২৬ লাখ ৯২ হাজার ২৬ টাকা। ২০২৫ সালের ৩০ জুন তা কমে দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ১৫ লাখ ১৮ হাজার ২৬ টাকায়। হিসাব অনুযায়ী, এক বছরে তার সম্পদ কমেছে ১১ লাখ ৭৪ হাজার টাকা। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে গত মঙ্গলবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ প্রধান উপদেষ্টা, উপদেষ্টা ও সমমর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের পাশাপাশি তাদের স্ত্রী বা স্বামীর সম্পদ বিবরণী প্রকাশ করে। একই সময়ে স্বামী-স্ত্রীর সম্পদে এমন ভিন্নমুখী পরিবর্তন স্বাভাবিকভাবেই সাধারণ মানুষের কৌতূহলের জন্ম দিয়েছে। শোবিজ অঙ্গনের জনপ্রিয় দম্পতি হওয়ায় তাদের এই আয়-ব্যয়ের হিসাব এখন টক অব দ্য কান্ট্রি।
বাসস : বাবা একজন তাঁত শ্রমিক। তিন বোন দুই ভাইয়ের মধ্যে সবার বড় রোজিনা। অভাব সংসার, তাই এক এতিম যুবকের সাথে বাবা-মা বিয়ে দেন তাকে। বিয়ের পর জন্ম হয় দুই কন্যা সন্তানের। অটোরিকশা চালিয়ে কোন রকম সংসার চালাচ্ছিলেন স্বামী রফিকুল ইসলাম। কিন্তু সড়ক দুর্ঘটনায় রফিকুলের এক চোখ সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যায়। আরেকটি চোখ আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ধীরে ধীরে ওই চোখের দৃষ্টি শক্তিও কমতে থাকে। ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে অটোরিকশা চালানো। সংসারের উপার্জনক্ষম মানুষটি অচল হয়ে পড়ায় চিকিৎসার খরচ, ঘর ভাড়া ও খাবারের পাশাপাশি মেয়েদের লেখাপড়ার খরচ চালানোই কঠিন হয়ে যায়। দিশেহারা হয়ে পরেন রোজিনা। এক পর্যায়ে মানুষের বাড়ি বাড়ি কাজ করে সংসার চালানোর চেস্টা করেন। কিন্তু সুবিধা করতে পারেন না। এমন পরিস্থিতিতে অটোরিকশা চালানোর সিদ্ধান্ত নেন তিনি। স্বামী রফিকুলের কাছেই হাতেখড়ি। গ্রামের স্কুলের মাঠে স্বামীর কাছেই অটোরিকশা চালানোর শিক্ষা নেন তিনি। পরে গ্রামের পথে নেমে পড়েন অটোরিকশা নিয়ে। ৫-৬ দিন এভাবে হাত পাকা করে একদিন টাঙ্গাইল শহরে চলে আসেন রোজিনা। এরপর শুরু করেন অটোরিক্সা চালানোর ব্যতিক্রমী জীবন সংগ্রাম। এখন টাঙ্গাইল পৌরসভায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার চালকদের মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা বেগম। জেলার বাসাইল উপজেলার আইসড়া গ্রামের বাসিন্দা রোজিনা টাঙ্গাইল পৌর শহরের এক প্রান্ত রাবনা বাইপাস থেকে আরেক প্রান্ত বেবিস্ট্যান্ডে যাত্রী আনা নেয়া করেন। যানজটের কারণে শহরে পুরুষ চালকরা যেখানে হিমসিম খায়, সেখানেই বিগত ৫ বছর ধরেই নির্বিঘেœ অটোরিকশা চালাচ্ছেন তিনি। টাঙ্গাইল পৌরসভা কার্যালয় সূত্রে জানা যাায়, টাঙ্গাইল শহরে চলাচলের জন্য ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক ও ৫ হাজার ব্যাটারিচালিত রিকশার অনুমতি (লাইসেন্স) দেওয়া হয়েছে। যানজট এড়াতে ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক জোড় ও বিজোড় সংখ্যায় দিনে দুই ভাগ করা হয়েছে। সকাল থেকে বেলা দুইটা পর্যন্ত এক ভাগ এবং বেলা দুইটা থেকে রাত পর্যন্ত আরেক ভাগের ইজিবাইক চলাচল করার নির্দেশনা দিয়েছে পৌর কর্তৃপক্ষ। কিন্তু রোজিনাকে দুই শিফটে চালানোর অনুমতি দিয়েছে পৌরসভা। সরেজমিনে দেখা যায়, নতুন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অটোরিকশা নিয়ে যাত্রী ডাকছেন রোজিনা। কলেজ গেট, পুরাতন বাসস্ট্যান্ড, ক্যাপসুল, নিরালা মোড়, বেবিস্ট্যান্ড সর্বত্রই যাত্রী আনানেয়া করেন তিনি। পুরাতন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অন্য অটো চালকদের দাঁড় করতে না দিলেও রোজিনাকে বাঁধা দেননা ট্রাফিক পুলিশ। বলতে গেলে সবাই তার প্রতি সহানুভুতিশীল। ট্রাফিক পুলিশসহ অন্য অটোচালকরাও তাকে সহযোগিতা করেন। রোজিনা বলেন, আমার অটোতে নারী যাত্রীরা খুব কম। তারা মনে করে আমার অটোতে উঠলে দুর্ঘটনায় পড়বে। কিন্তু আমি খুব সাবধানে অটো চালাই। দ্রুত গতিতেও না, আবার একেবারে ধীরগতিতেও না। এখন পর্যন্ত আমি কোন দুর্ঘটনার কবলে পড়ি নাই। শহরের পুরুষ অটোরিকশা চালকরা আমাকে অনেক সহযোগিতা করে। অটোচালক কাদের মিয়া বলেন, আমাদের শহরে কয়েক হাজার অটো চলাচল করে। তার মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। তাকে আমরা সব সময় সহযোগিতা করি। যাত্রী সাইদ মিয়া বলেন, আমি এ পর্যন্ত ৫-৬ বার রোজিনার অটোতে চড়েছি। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। অন্য পুরুষ অটো চালকের চেয়েও ভালো অটো চালান। নারী সংগঠক সেরাজুম মনিরা বলেন, তিনি অনেক দিন যাবত অটোরিকশা চালাচ্ছেন। আমি রোজিনাকে স্যালুট জানাই। একজন পুরুষের চেয়ে একজন নারী কোনো ভাবেই যে পিছিয়ে নেই, রোজিনা তা প্রমাণ করেছেন। রোজিনা বলেন, অটো চালানোর এই সিদ্ধান্তটি তার জন্য খুব সহজ ছিল না। তিনি বলেন, ৫ ও ১০ বছরের দুই মেয়েকে বাড়িতে রেখে অটোরিকশা নিয়ে সারাদিন রাস্তায় থাকতে হয়। তাদের ভালোভাবে দেখাশোনা করতে পারি না। কিন্তু কি করবো, অভাবের সংসার! এখন ঋণ নিয়ে একটু জমি কিনেছি। প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ণ প্রকল্পের অর্থায়নে প্রশাসন সেখানে ঘর তুলে দিয়েছে। শুরুতে যারা আমাকে নিয়ে ঠাট্টা করেছে এখন তারাই আমাকে সম্মান করেন। নারীরাও যে কিছু করতে পারে, তা প্রমাণ করেছি। আমার বড় মেয়ে আইসড়া উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়ে, ছোট মেয়ে পড়ে স্থানীয় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। মেয়েদের শিক্ষিত করতে হবে। ধার দেনা শোধ করতে হবে। তাই থেমে গেলো চলবে না। আমি অটোরিকশা চালিয়েই দুই সন্তানকে মানুষ করতে চাই।’ ঘারিন্দা ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য বাবুল সরকার বলেন, সরকার রোজিনাকে একটি ঘর নির্মাণ করে দিয়েছে। শুরুতে যারা তাকে নিয়ে নানান কথা বলতো, এখন তার সংকল্প ও মানষিক দৃঢ়তা দেখে থেমে গেছে। আমরা তাকে নিয়ে গর্ব করি। টাঙ্গাইলের ট্রাফিক ইন্সপেক্টর (প্রশাসন) দেলোয়ার হোসেন বলেন, শহরের একমাত্র নারী চালক রোজিনাকে কেউ যেন বিরক্ত করতে না পারে সেদিকে সব সময় নজর রাখে ট্রাফিক পুলিশ। আমরা তাকে সব সময় সহযোগিতা করে আসছি। টাঙ্গাইলের সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক শাহ আলম বলেন, বিষয়টি এখন জানতে পারলাম। ওই নারী এখনো পর্যন্ত আমাদের কাছে আসেন নাই। যদি আমাদের কাছে এসে আবেদন করেন অবশ্যই তাকে আমরা সহযেগিতা করবো, তার পাশে দাঁড়াবো।
২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশে আজ এক ঐতিহাসিক ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ২০০৮ সালের পর এই প্রথম একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হতে যাচ্ছে যেখানে দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগ রাজনৈতিক মানচিত্র থেকে কার্যত অনুপস্থিত। বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক জরিপ বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০০ আসনের মধ্যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) কার্যকর সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে যাচ্ছে। তবে ভোটের ব্যবধান এবং কিছু সমীকরণ নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। নির্বাচনের সবচেয়ে বড় নিয়ামক হয়ে দাঁড়িয়েছে আওয়ামী লীগের বিশাল ভোটব্যাংক। দলটির নিয়মিত প্রায় ৪ কোটি ভোটার এখন নতুন রাজনৈতিক আশ্রয় খুঁজছেন। সিআরএফ বা বিইপিওএস জরিপ বলছে, এই ভোটারদের প্রায় অর্ধেক বিএনপির দিকে ঝুঁকেছে, যা দলটিকে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতার পথে এগিয়ে দিচ্ছে। অন্যদিকে, প্রায় ৩০ শতাংশ আওয়ামী ভোটার জামায়াতে ইসলামীকে বেছে নিতে পারেন বলে আভাস পাওয়া যাচ্ছে। এছাড়া বাংলাদেশের বিদ্যমান নির্বাচনী ব্যবস্থার কারণে দেশজুড়ে সুষম জনসমর্থন থাকা বিএনপি আসন জয়ের ক্ষেত্রে জামায়াতের তুলনায় সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। তবে বিএনপির এই সম্ভাব্য জয়ের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও বিদ্রোহী প্রার্থীরা। প্রায় ৭৯টি নির্বাচনী এলাকায় দলের মনোনয়ন না পাওয়া ৯২ জন প্রভাবশালী নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, যা বিএনপির ১৫ থেকে ৩০টি আসন কমিয়ে দিতে পারে। অন্যদিকে, তরুণ ভোটার বা ‘জেন-জি’ প্রজন্মের বিশাল সমর্থন জামায়াতে ইসলামীর শক্তির উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেশের ৪৪ শতাংশ ভোটারই তরুণ, যাদের বড় একটি অংশ প্রথমবার ভোট দিচ্ছেন। এই তরুণরা যদি দলবেঁধে কেন্দ্রে উপস্থিত হন, তবে নির্বাচনী ফলে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। সবশেষে, প্রায় ১৭ থেকে ৩৫ শতাংশ দোদুল্যমান ভোটার এবং তাদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করবে আগামীর সরকার কতটা শক্তিশালী হবে। দ্য নিউইয়র্ক এডিটোরিয়ালের মূল পূর্বাভাস, তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি প্রায় ১৮৫টি আসনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করতে পারে এবং জামায়াতে ইসলামী ৮০টির মতো আসন পেয়ে প্রধান বিরোধী দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারে। তবে বিদ্রোহী প্রার্থীদের প্রভাব এবং তরুণ ভোটারদের উপস্থিতির ওপর ভিত্তি করে আসন সংখ্যায় বড় ধরনের হেরফের হওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। ৩৫০ একরের ঘাঁটিটিতে সামরিক বাহিনীর পাঁচ হাজার সদস্য থাকতে পারবে। গাজার ‘বোর্ড অব পিস’র নথি পর্যালোচনা করে এ তথ্য জানিয়েছে দ্য গার্ডিয়ান। প্রতিবেদনে ব্রিটিশ সংবাদ মাধ্যমটি জানিয়েছে, বোর্ড অব পিসে গাজাকে নিরাপদ করার জন্য ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যাবিলাইজেশন ফোর্স (আইএসএফ) নামে একটি আন্তর্জাতিক বাহিনী মোতায়েনের কথা বলা হয়েছে। যে স্থানটি ঘাঁটি করার জন্য বিবেচনা করা হচ্ছে সেখানে আইএসএফের সদস্যরা থাকবে। বোর্ড অব পিসের প্রধান হবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আর সংগঠনটির আংশিক নেতৃত্ব দেবেন ট্রাম্পের জামাতা জ্যারার্ড কুশনার।দ্য গার্ডিয়ান বোর্ড অব পিসের নথি পর্যালোচনা করে জানায়, ধাপে ধাপে একটি সামরিক ঘাঁটি নির্মাণ করা হবে। সবকিছু শেষ হলে ঘাঁটিটি ১৫ লাখ ১৭ হাজার ৫৭৫ বর্গমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত হবে। ঘাঁটিটির চারপাশে ট্রেইলার সংযুক্ত ২৬টি সাঁজোয়া নজরদারি টাওয়ার থাকবে। এছাড়া একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, বাংকার ও অস্ত্র রাখার গুদাম থাকবে। পুরো ঘাঁটিটি কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে ঘিরে রাখা হবে। সামরিক ঘাঁটি নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে দক্ষিণ গাজার একটি শুষ্ক সমতলভূমিতে। সেখানে ইসরায়েলি হামলার চিহ্ন রয়েছে। ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে বিভিন্ন ধাতবের ধ্বংসাবশেষ। ওই এলাকার ভিডিও পর্যালোচনা করেছে দ্য গার্ডিয়ান। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, ঘাঁটি নির্মাণের জন্য টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে। যুদ্ধক্ষেত্রে কাজের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন আন্তর্জাতিক নির্মাণ কোম্পানিগুলোর একটি ছোট দলকে ইতোমধ্যেই এলাকাটি দেখানো হয়েছে। ওই দলটি দরপত্রে অংশ নিতে আগ্রহী। ইন্দোনেশিয়া সরকার গাজায় আট হাজার সেনা সদস্য পাঠানোর জন্য প্রস্তাব দিয়েছে। বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটন ডিসিতে বোর্ড অব পিসের অনানুষ্ঠানিক বৈঠকে ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্টের অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। এছাড়া দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার আরও তিন নেতার ওই বৈঠকে অংশ নেবেন বলে জানা গেছে। জাতিসংঘের নিরাপত্তা কাউন্সিল গাজার সাময়িক স্থিতিশীলতার জন্য অস্থায়ীভাবে সামরিক বাহিনী মোতায়েনের অনুমোদন দিয়েছে। নিরাপত্তা কাউন্সিলই বোর্ড অব পিসের মূল হোতা। গাজার সীমান্ত ও শান্তি প্রণয়নে কাজ করবে আইএসএফ। এছাড়া বেসামরিকদের সুরক্ষা এবং ফিলিস্তিনি পুলিশ বাহিনীকে প্রশিক্ষণ ও সহায়তা দেবে তারা। যদি গাজায় ফের সংঘর্ষ হয়, ইসরায়েল বোমা হামলা চালায় অথবা হামাস হামলা চালায় সেক্ষেত্রে আইএসএফ কি করবে তা এখনও স্পষ্ট নয়। গাজা পুনর্গঠনে ইসরায়েল হামাসকে নিরস্ত্রীকরণের যে শর্ত দিয়েছে সেটির জন্য আইএসএফ কাজ করবে কিনা তাও স্পষ্ট না। ইতোমধ্যে বোর্ড অব পিসে ২০ এর অধিক দেশ যোগ দিয়েছে। তবে, এখনও অনেক পরাশক্তি এর থেকে দূরে রয়েছে। জাতিসংঘের অনুমোদন নিয়ে প্রতিষ্ঠিত হলেও ধারণা করা হচ্ছে, সংগঠনটির স্থায়ী নেতৃত্ব ও নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে। রুটজার্স বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক আদিল হক বলেন, “বোর্ড অব পিস এক ধরনের আইনি কল্পসত্তা। নামমাত্রভাবে এর নিজস্ব আন্তর্জাতিক আইনগত সত্তা রয়েছে, যা জাতিসংঘ ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে আলাদা। কিন্তু বাস্তবে এটি যুক্তরাষ্ট্রের ইচ্ছামতো ব্যবহারের জন্য একটি ফাঁপা খোলসমাত্র।” বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গাজা পুনর্গঠনে যে অর্থায়ন ও শাসন কাঠামো হচ্ছে তা অস্বচ্ছ। কয়েকজন ঠিকাদার গার্ডিয়ানকে জানান, গাজায় কাজ করার জন্য মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে তাদের প্রায়শ আলোচনা সরকারি ইমেলের বদলে সিগন্যালের মাধ্যমে করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রের তথ্য মতে, ঘাঁটি নির্মাণের সিদ্ধান্তটি বোর্ড অব পিসের। এতে সহায়তা করছে মার্কিন কর্মকর্তারা। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ঘাঁটিতে তৈরি বাংকার নেটওয়ার্কের মতোন কাজ করবে। প্রতিটি বাংকারের ২৪ মিটারের হবে। উচ্চতা থাকবে আড়াই মিটার। এগুলো এমনভাবে করা হবে যেন সেনা সদস্যরা আশ্রয় নিতে পারে। স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসের গাজায় সুড়ঙ্গ নেটওয়ার্ক বা টানেল রয়েছে। সেগুলোর আদলে নেটওয়ার্ক করতে চাওয়া হচ্ছে। পিস অব বোর্ডের নথি পর্যালোচনা করে এমন দাবি করছে গার্ডিয়ান। সংবাদ মাধ্যমটি বলছে, স্থানটির ভূ-ভৌত জরিপ পরিচালনা করবে ঠিকাদাররা। নথির এক অংশে ‘হিউম্যান রেমিয়েনস প্রোটোকল’র কথা বলা হয়েছে। এর মানে দাঁড়ায়, সন্দেহভাজন মানব অবশিষ্ট বা সাংস্কৃতিক নিদর্শন পাওয়া গেলে অবিলম্বে সেই এলাকায় সব কাজ বন্ধ করতে হবে। চুক্তি কর্মকর্তাকে দিকনির্দেশনার জন্য অবিলম্বে জানাতে হবে। গাজা সিভিল ডিফেন্সের ধারণা, গাজার ধ্বংসস্তূপের নিচে ১০ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনির মরদেহ রয়েছে। ঘাঁটির জন্য যে স্থানটি বিবেচিত করা হচ্ছে সেটির মালিক কে তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে, দক্ষিণ গাজার বেশিরভাগ অংশ বর্তমানে ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণে। জাতিসংঘের অনুমান, যুদ্ধ চলাকালীন ১৯ লাখ ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত হয়েছে। ফিলিস্তিনের জমিতে সরকারের অনুমতি না নিয়ে সামরিক ঘাঁটি স্থাপনকে দখল হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন ফিলিস্তিনি-কানাডিয়ান আইনজীবী এবং প্রাক্তন শান্তি আলোচক দিয়ানা বুট্টু। তিনি প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়ে বলেন, “কার অনুমতিতে তারা সামরিক ঘাঁটি স্থাপন করবে।” বিষয়টি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা বোর্ড অব পিসের কথা টানেন। ট্রাম্প প্রশাসনের একজন কর্মকর্তা সামরিক ঘাঁটির চুক্তি নিয়ে আলোচনা করতে অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, “যেমনটি প্রেসিডেন্ট বলেছেন, কোনও মার্কিন সেনা স্থলভাগে যাবে না। আমরা লিক হওয়া নথি নিয়ে আলোচনা করবো না।”
বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের প্রত্যন্ত চরাঞ্চল থেকে উঠে এসে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার কেন্দ্রে এখন তাইজুল ইসলাম, যিনি অনলাইনে পরিচিত ‘তাজু ভাই ২.০’ নামে। মাত্র একটি ভিডিও—যেখানে তিনি এক দোকানিকে প্রশ্ন করেন, “জিলাপি আজকে কত করে বেচতেছেন সরকারি রেটে?”—এই সরল উপস্থাপনাই তাকে রাতারাতি ভাইরাল করে তোলে। কয়েক ঘণ্টায় ফলোয়ার লাখ ছাড়াল রোববার রাত পর্যন্ত তার ফেসবুক অনুসারী ছিল প্রায় ৩৫ হাজার। কিন্তু সোমবার সন্ধ্যা থেকে রাতের মধ্যেই তা বেড়ে এক লাখের বেশি হয়ে যায়। ভাইরাল ভিডিওটি ইতোমধ্যে প্রায় ৫০ থেকে ৫৫ লাখবার দেখা হয়েছে। কী ছিল সেই ভিডিওতে? ভিডিওতে দেখা যায়, কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীর নারায়ণপুর বাজারে দাঁড়িয়ে স্থানীয় ভাষায় তিনি জিলাপির দাম জানতে চান। তার কথাগুলো ছিল একেবারেই সহজ ও গ্রাম্য ভঙ্গিতে— “সাদাডা কত, লালডা কত? সরকারি রেটে বেচতেছেন?” এই সরল প্রশ্নই সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। কোথা থেকে উঠে এলেন তাজু ভাই? কুড়িগ্রাম জেলার নাগেশ্বরী উপজেলার নারায়ণপুর ইউনিয়নের একটি দুর্গম গ্রামে জন্ম তার। ব্রহ্মপুত্র নদবেষ্টিত এই অঞ্চলে পৌঁছাতে এখনও কয়েকটি নৌঘাট পার হতে হয়। দারিদ্র্যের কারণে কখনো স্কুলে যাওয়া হয়নি তার। পেশায় তিনি একজন নির্মাণশ্রমিকের সহকারী (হেলপার)। কাজের ফাঁকে ঢাকায় থাকাকালীন মোবাইল ফোনে ভিডিও তৈরি করাই তার শখ। ব্যক্তিগত সংগ্রাম তাইজুল ইসলামের পরিবারে ছয় ভাই-বোন। তিনি সবার বড়। তার বাবা-মা দুজনই শ্রবণপ্রতিবন্ধী। পরিবার চালাতে তাকে ছোটবেলা থেকেই সংগ্রাম করতে হয়েছে। তিনি বলেন, “পরিবারের কষ্ট ভুলতেই ভিডিও করি। আমি সাংবাদিক না, কিন্তু আমাদের এলাকায় কেউ আসে না—তাই নিজেরাই ভিডিও বানাই।” ভাইরাল হওয়ার পেছনের উদ্দেশ্য তাইজুলের দাবি, তার ভিডিও শুধুই বিনোদনের জন্য নয়। তিনি চান তার এলাকার অবহেলিত মানুষের কথা প্রশাসনের নজরে আসুক। “আমি চাই চরের মানুষের উন্নয়ন হোক,”—বলছেন তিনি। মিশ্র প্রতিক্রিয়া ভিডিওটি নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে দুই ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ তার সরলতা ও বাস্তবতা তুলে ধরার চেষ্টা প্রশংসা করছেন আবার কেউ তাকে নিয়ে ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ করছেন তবে এসব সমালোচনায় তিনি বিচলিত নন।