Brand logo light

হিজলা

লঞ্চঘাট প্রকল্প উদ্বোধনের ৪ মাসের মাথায় সড়ক ও জেটিতে ধস
উদ্বোধনের চার মাসেই ধস: হিজলার মৌলভীরহাট লঞ্চঘাটে অনিয়মের অভিযোগ, ঝুঁকিতে যাত্রী চলাচল

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : উদ্বোধনের মাত্র চার মাসের মাথায় বরিশালের হিজলা উপজেলার মৌলভীরহাট লঞ্চঘাটের সড়কে বড় ধরনের ধস এবং জেটির একটি অংশ দেবে যাওয়ার ঘটনায় নির্মাণকাজের মান, তদারকি এবং সরকারি অর্থ ব্যয়ের কার্যকারিতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, যথাযথ পাইলিং ছাড়াই তড়িঘড়ি করে নির্মাণকাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। পাশাপাশি নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহারের কারণেই নতুন করে সংস্কার করা ঘাটটি অল্প সময়ের মধ্যেই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ) দাবি করছে, নদীর তলদেশ থেকে মাটি সরে যাওয়ায় এই ধসের ঘটনা ঘটেছে। দ্বিতীয় দফার সংস্কারেও একই পরিণতি বিআইডব্লিউটিএ সূত্রে জানা গেছে, এর আগে একবার ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর মৌলভীরহাট লঞ্চঘাট ও সংযোগ সড়ক সংস্কারের জন্য দ্বিতীয় দফায় ২৫ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। প্রকল্পটির ঠিকাদারি কাজ করেন নজরুল ইসলাম রাজু ঢালী। সংস্কার শেষে চলতি বছরের ৩০ জানুয়ারি তৎকালীন অন্তর্বর্তী সরকারের নৌপরিবহন এবং শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) এম সাখাওয়াত হোসেন আনুষ্ঠানিকভাবে ঘাটটির উদ্বোধন করেন। কিন্তু উদ্বোধনের তিন মাসের মধ্যেই গত এপ্রিল মাসে জেটির একটি অংশ দেবে যেতে শুরু করে। এরপর কয়েকদিন আগে সংযোগ সড়কের বড় একটি অংশ নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যায়। স্থানীয়দের আশঙ্কা, দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে পুরো ঘাটই নদীগর্ভে হারিয়ে যেতে পারে। ঝুঁকি নিয়ে যাত্রী চলাচল সরেজমিনে দেখা গেছে, লঞ্চঘাটের সংযোগ সড়কের একটি অংশ ধসে পড়েছে। পন্টুনে ওঠার জেটির একপাশও দেবে গেছে। তবুও প্রতিদিন শত শত যাত্রী জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সেই জেটি ব্যবহার করে লঞ্চে উঠছেন। কেউ কেউ বিকল্প হিসেবে ছোট নৌকার সাহায্য নিচ্ছেন। স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, এই ঘাটটি এলাকার মানুষের নদীপথে যাতায়াতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। ফলে অবকাঠামো ঝুঁকিপূর্ণ হলেও বাধ্য হয়েই যাত্রীদের এটি ব্যবহার করতে হচ্ছে। ‘প্রথমবারের ভুলের পুনরাবৃত্তি’ মৌলভীরহাট এলাকার ব্যবসায়ী মো. আনোয়ার হোসেন অভিযোগ করেন, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে প্রকল্পটির নির্মাণকাজ পান তৎকালীন উপজেলা চেয়ারম্যান প্রয়াত বেলায়েত হোসেন ঢালীর ছেলে রাজু ঢালী। তার ভাষায়, প্রথম দফার কাজেও নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার ও নানা অনিয়ম হয়েছিল। কাজ শেষ হওয়ার কিছুদিনের মধ্যেই ঘাটটি ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং সরকারের প্রায় কোটি টাকার বিনিয়োগ কার্যত ব্যর্থতায় পর্যবসিত হয়। স্থানীয় আরেক বাসিন্দা মো. দেলোয়ার হোসেন বলেন, প্রথমবার ধসের পর জনগণের দুর্ভোগ বিবেচনায় নতুন করে সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হলেও একই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে কাজ হওয়ায় আগের সমস্যাগুলো থেকেই গেছে। ফলে উদ্বোধনের মাত্র চার মাসের মধ্যেই আবারও সড়ক ও জেটি ভেঙে পড়েছে। দায় কার—নির্মাণ ত্রুটি নাকি নদীর চরিত্র? ঘটনার বিষয়ে ঠিকাদার নজরুল ইসলাম রাজু ঢালী সব ধরনের অনিয়মের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, “প্রথম ও দ্বিতীয় দফায় সরকারি শিডিউল অনুযায়ী কাজ করা হয়েছে।” অন্যদিকে বরিশাল বিআইডব্লিউটিএর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আমজাদ হোসেন ধসের কারণ হিসেবে নদীর তলদেশের মাটি সরে যাওয়াকে দায়ী করেছেন। তার দাবি, “নিচ থেকে মাটি সরে যাওয়ায় মৌলভীরহাট লঞ্চঘাটের জেটি ও সড়ক ধসে পড়েছে। শিগগিরই ঘাটটি পরিদর্শন করে নতুনভাবে সংস্কারের ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” একই ঠিকাদার কেন? স্থানীয়দের একটি বড় প্রশ্ন—প্রথম দফার কাজ নিয়ে অভিযোগ থাকার পরও দ্বিতীয়বার একই ঠিকাদার কীভাবে কাজ পেলেন? এ বিষয়ে নির্বাহী প্রকৌশলী আমজাদ হোসেন বলেন, সরকারি ক্রয়বিধি অনুযায়ী অনলাইন দরপত্র প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ঠিকাদার নির্বাচন করা হয়। সেখানে ব্যক্তিগতভাবে কাউকে কাজ দেওয়ার সুযোগ নেই। তার ভাষায়, “এক টাকার কাজের ক্ষেত্রেও অনলাইনে দরপত্র আহ্বান করা হয়। যেকেউ যোগ্যতা অনুযায়ী কাজ পেতে পারেন। ঠিকাদার নজরুল ইসলাম রাজু ঢালীর সঙ্গে ব্যক্তিগত কোনো সম্পর্ক নেই।” তদন্তে যে প্রশ্নগুলোর উত্তর প্রয়োজন মৌলভীরহাট লঞ্চঘাটের ঘটনায় কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন সামনে এসেছে— প্রকল্পে অনুমোদিত নকশা ও প্রযুক্তিগত মানদণ্ড যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়েছিল কি? নদীতীরবর্তী অবকাঠামোর জন্য প্রয়োজনীয় পাইলিং ও সুরক্ষা ব্যবস্থা বাস্তবায়ন করা হয়েছিল কি? নির্মাণকাজের সময় তদারকি কতটা কার্যকর ছিল? প্রথমবার ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পরও একই ঠিকাদারকে পুনরায় কাজ দেওয়ার ক্ষেত্রে মূল্যায়ন প্রক্রিয়া কী ছিল? ধসের পেছনে প্রকৃত কারণ নির্মাণ ত্রুটি, নাকি নদীর ভূপ্রকৃতিগত পরিবর্তন? সরকারি অর্থে নির্মিত একটি গুরুত্বপূর্ণ জনসেবামূলক অবকাঠামো উদ্বোধনের কয়েক মাসের মধ্যেই ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে পড়ায় এসব প্রশ্নের নিরপেক্ষ তদন্ত এবং জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার দাবি তুলছেন স্থানীয়রা।

নিজস্ব প্রতিবেদক জুন ১২, ২০২৬ 0
ইয়াবাসহ গ্রেফতার তাসলিমা বেগম।
বরিশালের হিজলায় ৫৫২ পিস ইয়াবাসহ নারী আটক

বরিশাল অফিস :    বরিশালের হিজলা উপজেলায় ৫৫২ পিস ইয়াবাসহ তাসলিমা বেগম (৫০) নামে এক নারীকে আটক করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার (৫ মে) দুপুরে উপজেলার গুয়াবাড়িয়া ইউনিয়নের পশ্চিম কোড়ালিয়া এলাকায় একটি অভিযানে তাকে গ্রেফতার করা হয় বলে জানিয়েছে হিজলা থানা পুলিশ। পুলিশ জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পরিচালিত ওই অভিযানে নেতৃত্ব দেন হিজলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সুলাইমান। অভিযানে অংশ নেন এসআই মো. শামীম হোসেন, এসআই মনিরুজ্জামান, এসআই মোরশেদ আলম, এসআই আমিনুর রহমান, এএসআই সোহেল রানা, এএসআই আ. রাজ্জাক এবং নারী পুলিশ সদস্য চৈতি রানী ও সাইমা আক্তার মীমসহ অন্যরা। অভিযানের সময় জাহাঙ্গীর কাজীর স্ত্রী তাসলিমা বেগমকে ইয়াবাসহ আটক করা হয়। তার পরনের ম্যাক্সির দুই পকেট এবং একটি সাদা পলিথিন ব্যাগ থেকে মোট ৫৫২ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়, যার আনুমানিক বাজার মূল্য প্রায় এক লাখ ৮০ হাজার টাকা। হিজলা থানার ওসি মো. সুলাইমান জানান, অভিযুক্ত নারী তার বাড়ির রান্নাঘরের পাশে সুপারি বাগানে ইয়াবা বিক্রির উদ্দেশ্যে অবস্থান করছিলেন। সেখান থেকেই তাকে আটক করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তাসলিমা বেগম দীর্ঘদিন ধরে সহযোগীদের সঙ্গে মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন বলেও জানান তিনি। এ ঘটনায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে হিজলা থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। আইনগত প্রক্রিয়া শেষে তাকে আদালতে পাঠানো হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ৬, ২০২৬ 0
রাজিব আহসান
রাজনৈতিক নির্যাতন পেরিয়ে প্রতিমন্ত্রী রাজিব আহসান

মাত্র ৪৭ বছরের জীবনে তারুণ্যের পুরো সময়টাই কেটেছে মামলা, জেলখানা, আদালতের বারান্দা আর লুকিয়ে-পালিয়ে। ১৭ বছরের শাসনামলে তার বিরুদ্ধে হয়েছে ১৩০টিরও বেশি মামলা। রিমান্ডে নিয়ে ১৭ বছরে ১২৩ দিন পুলিশি নির্যাতন সহ্য করতে হয়েছে। যেকোনো মুহূর্তে গুম বা খুন হয়ে যাওয়ার আতঙ্ক ছিল নিত্যসঙ্গী। আজন্ম বিএনপির রাজনীতি করা সেই রাজিব আহসান এখন বিএনপি সরকারের প্রতিমন্ত্রী। দায়িত্ব পেয়েছেন সড়ক-সেতু-রেলপথ ও নৌ-পরিবহণ মন্ত্রণালয়ের। বরিশাল অঞ্চলের দীর্ঘদিনের যোগাযোগ অবহেলার প্রেক্ষাপটে তার এ নিয়োগে আশাবাদী দক্ষিণাঞ্চলের মানুষ। শৈশব ও শিক্ষা জীবন বরিশালের বিচ্ছিন্ন দ্বীপ উপজেলা মেহেন্দীগঞ্জে জন্ম রাজিব আহসানের। বাবা মিজানুর রহমান ছিলেন স্থানীয় একটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক। পাতারহাট জুবলী ও টিটিসি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশোনা শেষ করেন তিনি। পরে জুবলী ইনস্টিটিউশন থেকে মাধ্যমিক এবং পাতারহাট আরসি কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক সম্পন্ন করেন। রাজনৈতিক জীবনের সূচনা হয় আরসি কলেজ থেকেই। কলেজ ছাত্রদলের সহ-সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এরপর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলায় স্নাতক ও স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেন। ক্যাম্পাসে ছিলেন তুখোড় ছাত্রনেতা—প্রথমে কবি জসীম উদদীন হলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক, পরে সভাপতি নির্বাচিত হন। কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের হেলাল-বাবু কমিটিতে সহ-আন্তর্জাতিক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পরবর্তীতে প্রচার ও সাংগঠনিক সম্পাদক এবং ২০১৫ সালে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি নির্বাচিত হন। সফলভাবে দায়িত্ব পালনের পর স্বেচ্ছাসেবক দলের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক হন। বর্তমানে তিনি এ দায়িত্বে রয়েছেন। নির্যাতন, কারাবাস ও সংগ্রামের দিনগুলো রাজিব আহসান আওয়ামী শাসনামলে সবচেয়ে বেশি নির্যাতিত রাজনৈতিক নেতাদের অন্যতম হিসেবে পরিচিত। ১৭ বছরে প্রায় প্রতিদিনই তার বাসায় চলতো পুলিশের হানা। দুই বোন ও বৃদ্ধা মাকে নিয়ে ছোট্ট পরিবারটি ছিল আতঙ্কে। বিভিন্ন সময়ে গ্রেফতার হয়ে প্রায় চার বছর কারাগারে ছিলেন তিনি। রিমান্ডে নিয়ে চালানো হয়েছে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন। তার ঘনিষ্ঠরা জানান, আন্দোলন-সংগ্রাম চালিয়ে যেতে কত রাত যে নদীর মধ্যে ভাসমান জেলে নৌকায় কাটাতে হয়েছে, তার হিসাব নেই। একবার পটুয়াখালীতে গ্রেফতারের পর তাকে গোপন স্থানে নিয়ে যাওয়া হয়। পরিকল্পনা ছিল হত্যার পর গুম করার। গণমাধ্যমে বিষয়টি ছড়িয়ে পড়ায় শেষ পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রেফতার দেখাতে বাধ্য হয় পুলিশ। জাতীয় সংসদ সদস্য থেকে প্রতিমন্ত্রী সাম্প্রতিক জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বরিশাল-৪ (হিজলা-মেহেন্দীগঞ্জ) আসনে বিএনপির মনোনয়ন পান রাজিব আহসান। ৫৮ হাজার ভোটের ব্যবধানে নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বীকে হারিয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন তিনি। পরবর্তীতে তাকে মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্ত করে সড়ক-সেতু-রেলপথ ও নৌ-পরিবহণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব দেওয়া হয়। বরিশালের মানুষের প্রত্যাশা বরিশাল নাগরিক পরিষদের সদস্য সচিব ডা. মিজানুর রহমান বলেন, সড়ক ও নৌ-যোগাযোগে বরিশাল বিভাগ সব সরকারের আমলেই অবহেলিত। এ জেলা থেকে আগে কখনো সড়ক, সেতু বা নৌ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পাননি কেউ। নতুন প্রতিমন্ত্রীর কাছে তাই অনেক প্রত্যাশা। বিশেষ করে— ঢাকা-কুয়াকাটা এক্সপ্রেস সড়ক কুয়াকাটা পর্যন্ত রেললাইন ভোলা-বরিশাল সেতু ঢাকা-কুয়াকাটা রেল সংযোগ এসব প্রকল্প দ্রুত বাস্তবায়নের দাবি জানিয়েছেন দক্ষিণাঞ্চলের মানুষ। প্রতিমন্ত্রীর প্রতিক্রিয়া রাজিব আহসান বলেন, “প্রথমেই কৃতজ্ঞতা প্রধানমন্ত্রী এবং বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের প্রতি। আমাকে এই গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেওয়ার যোগ্য মনে করেছেন। কতদূর কী পারব জানি না, তবে সর্বোচ্চ চেষ্টা থাকবে মানুষের ইচ্ছা পূরণের।” দক্ষিণাঞ্চলের রাজনীতিতে নতুন অধ্যায় দীর্ঘ নির্যাতন-সংগ্রামের পথ পেরিয়ে দায়িত্বের আসনে বসা রাজিব আহসানকে ঘিরে বরিশাল অঞ্চলে নতুন আশার সঞ্চার হয়েছে। রাজনৈতিক জীবনের প্রায় পুরোটা সময় সাধারণ মানুষের সঙ্গে থাকা এই নেতার কাছে উন্নয়ন ও যোগাযোগ ব্যবস্থায় দৃশ্যমান পরিবর্তন প্রত্যাশা করছে দক্ষিণাঞ্চলের জনগণ।

নিজস্ব প্রতিবেদক ফেব্রুয়ারি ১৯, ২০২৬ 0
Popular post
ফারুকীর সম্পদ কমেছে, তিশার বেড়েছে দ্বিগুণেরও বেশি: সম্পদ বিবরণী ঘিরে আলোচনা

অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের সম্পদ বিবরণী প্রকাশের পর সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী ও তার স্ত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদের হিসাব নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। এক বছরের ব্যবধানে স্বামী ফারুকীর সম্পদ কমলেও স্ত্রী তিশার সম্পদ বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে প্রকাশিত তথ্যে উঠে এসেছে এই চিত্র। প্রকাশিত খতিয়ান অনুযায়ী, জনপ্রিয় অভিনেত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদ এক বছরে অভাবনীয় হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তিশার মোট সম্পদের পরিমাণ ছিল ১ কোটি ৪০ লাখ ৮১ হাজার ৮৬০ টাকা। ঠিক এক বছর পর, ২০২৫ সালের ৩০ জুন সেই সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ৯৯ লাখ ৮৯ হাজার ৫০১ টাকায়। অর্থাৎ মাত্র এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ বেড়েছে ১ কোটি ৫৯ লাখ ৭ হাজার ৬৪১ টাকা, যা আগের বছরের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি। অন্যদিকে সংস্কৃতি উপদেষ্টা ও নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর ক্ষেত্রে দেখা গেছে উল্টো চিত্র। এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ কমেছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তার মোট সম্পদ ছিল ২ কোটি ২৬ লাখ ৯২ হাজার ২৬ টাকা। ২০২৫ সালের ৩০ জুন তা কমে দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ১৫ লাখ ১৮ হাজার ২৬ টাকায়। হিসাব অনুযায়ী, এক বছরে তার সম্পদ কমেছে ১১ লাখ ৭৪ হাজার টাকা। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে গত মঙ্গলবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ প্রধান উপদেষ্টা, উপদেষ্টা ও সমমর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের পাশাপাশি তাদের স্ত্রী বা স্বামীর সম্পদ বিবরণী প্রকাশ করে। একই সময়ে স্বামী-স্ত্রীর সম্পদে এমন ভিন্নমুখী পরিবর্তন স্বাভাবিকভাবেই সাধারণ মানুষের কৌতূহলের জন্ম দিয়েছে। শোবিজ অঙ্গনের জনপ্রিয় দম্পতি হওয়ায় তাদের এই আয়-ব্যয়ের হিসাব এখন টক অব দ্য কান্ট্রি।

সংসার সামলাতে অটোরিকশা নিয়ে রাস্তায় নেমেছেন রোজিনা

বাসস : বাবা একজন তাঁত শ্রমিক। তিন বোন দুই ভাইয়ের মধ্যে সবার বড় রোজিনা। অভাব সংসার, তাই এক এতিম যুবকের সাথে বাবা-মা বিয়ে দেন তাকে। বিয়ের পর জন্ম হয় দুই কন্যা সন্তানের। অটোরিকশা চালিয়ে কোন রকম সংসার চালাচ্ছিলেন স্বামী রফিকুল ইসলাম। কিন্তু সড়ক দুর্ঘটনায় রফিকুলের এক চোখ সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যায়। আরেকটি চোখ আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ধীরে ধীরে ওই চোখের দৃষ্টি শক্তিও কমতে থাকে। ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে অটোরিকশা চালানো। সংসারের উপার্জনক্ষম মানুষটি অচল হয়ে পড়ায় চিকিৎসার খরচ, ঘর ভাড়া ও খাবারের পাশাপাশি মেয়েদের লেখাপড়ার খরচ চালানোই কঠিন হয়ে যায়। দিশেহারা হয়ে পরেন রোজিনা। এক পর্যায়ে মানুষের বাড়ি বাড়ি কাজ করে সংসার চালানোর চেস্টা করেন। কিন্তু সুবিধা করতে পারেন না। এমন পরিস্থিতিতে অটোরিকশা চালানোর সিদ্ধান্ত নেন তিনি। স্বামী রফিকুলের কাছেই হাতেখড়ি। গ্রামের স্কুলের মাঠে স্বামীর কাছেই অটোরিকশা চালানোর শিক্ষা নেন তিনি। পরে গ্রামের পথে নেমে পড়েন অটোরিকশা নিয়ে। ৫-৬ দিন এভাবে হাত পাকা করে একদিন টাঙ্গাইল শহরে চলে আসেন রোজিনা। এরপর শুরু করেন অটোরিক্সা চালানোর ব্যতিক্রমী জীবন সংগ্রাম। এখন টাঙ্গাইল পৌরসভায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার চালকদের মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা বেগম। জেলার বাসাইল উপজেলার আইসড়া গ্রামের বাসিন্দা রোজিনা টাঙ্গাইল পৌর শহরের এক প্রান্ত রাবনা বাইপাস থেকে আরেক প্রান্ত বেবিস্ট্যান্ডে যাত্রী আনা নেয়া করেন। যানজটের কারণে শহরে পুরুষ চালকরা যেখানে হিমসিম খায়, সেখানেই বিগত ৫ বছর ধরেই নির্বিঘেœ অটোরিকশা চালাচ্ছেন তিনি। টাঙ্গাইল পৌরসভা কার্যালয় সূত্রে জানা যাায়, টাঙ্গাইল শহরে চলাচলের জন্য ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক ও ৫ হাজার ব্যাটারিচালিত রিকশার অনুমতি (লাইসেন্স) দেওয়া হয়েছে। যানজট এড়াতে ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক জোড় ও বিজোড় সংখ্যায় দিনে দুই ভাগ করা হয়েছে। সকাল থেকে বেলা দুইটা পর্যন্ত এক ভাগ এবং বেলা দুইটা থেকে রাত পর্যন্ত আরেক ভাগের ইজিবাইক চলাচল করার নির্দেশনা দিয়েছে পৌর কর্তৃপক্ষ। কিন্তু রোজিনাকে দুই শিফটে চালানোর অনুমতি দিয়েছে পৌরসভা। সরেজমিনে দেখা যায়, নতুন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অটোরিকশা নিয়ে যাত্রী ডাকছেন রোজিনা। কলেজ গেট, পুরাতন বাসস্ট্যান্ড, ক্যাপসুল, নিরালা মোড়, বেবিস্ট্যান্ড সর্বত্রই যাত্রী আনানেয়া করেন তিনি। পুরাতন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অন্য অটো চালকদের দাঁড় করতে না দিলেও রোজিনাকে বাঁধা দেননা ট্রাফিক পুলিশ। বলতে গেলে সবাই তার প্রতি সহানুভুতিশীল। ট্রাফিক পুলিশসহ অন্য অটোচালকরাও তাকে সহযোগিতা করেন। রোজিনা বলেন, আমার অটোতে নারী যাত্রীরা খুব কম। তারা মনে করে আমার অটোতে উঠলে দুর্ঘটনায় পড়বে। কিন্তু আমি খুব সাবধানে অটো চালাই। দ্রুত গতিতেও না, আবার একেবারে ধীরগতিতেও না। এখন পর্যন্ত আমি কোন দুর্ঘটনার কবলে পড়ি নাই। শহরের পুরুষ অটোরিকশা চালকরা আমাকে অনেক সহযোগিতা করে। অটোচালক কাদের মিয়া বলেন, আমাদের শহরে কয়েক হাজার অটো চলাচল করে। তার মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। তাকে আমরা সব সময় সহযোগিতা করি। যাত্রী সাইদ মিয়া বলেন, আমি এ পর্যন্ত ৫-৬ বার রোজিনার অটোতে চড়েছি। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। অন্য পুরুষ অটো চালকের চেয়েও ভালো অটো চালান। নারী সংগঠক সেরাজুম মনিরা বলেন, তিনি অনেক দিন যাবত অটোরিকশা চালাচ্ছেন। আমি রোজিনাকে স্যালুট জানাই। একজন পুরুষের চেয়ে একজন নারী কোনো ভাবেই যে পিছিয়ে নেই, রোজিনা তা প্রমাণ করেছেন। রোজিনা বলেন, অটো চালানোর এই সিদ্ধান্তটি তার জন্য খুব সহজ ছিল না। তিনি বলেন, ৫ ও ১০ বছরের দুই মেয়েকে বাড়িতে রেখে অটোরিকশা নিয়ে সারাদিন রাস্তায় থাকতে হয়। তাদের ভালোভাবে দেখাশোনা করতে পারি না। কিন্তু কি করবো, অভাবের সংসার! এখন ঋণ নিয়ে একটু জমি কিনেছি। প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ণ প্রকল্পের অর্থায়নে প্রশাসন সেখানে ঘর তুলে দিয়েছে। শুরুতে যারা আমাকে নিয়ে ঠাট্টা করেছে এখন তারাই আমাকে সম্মান করেন। নারীরাও যে কিছু করতে পারে, তা প্রমাণ করেছি। আমার বড় মেয়ে আইসড়া উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়ে, ছোট মেয়ে পড়ে স্থানীয় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। মেয়েদের শিক্ষিত করতে হবে। ধার দেনা শোধ করতে হবে। তাই থেমে গেলো চলবে না। আমি অটোরিকশা চালিয়েই দুই সন্তানকে মানুষ করতে চাই।’ ঘারিন্দা ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য বাবুল সরকার বলেন, সরকার রোজিনাকে একটি ঘর নির্মাণ করে দিয়েছে। শুরুতে যারা তাকে নিয়ে নানান কথা বলতো, এখন তার সংকল্প ও মানষিক দৃঢ়তা দেখে থেমে গেছে। আমরা তাকে নিয়ে গর্ব করি। টাঙ্গাইলের ট্রাফিক ইন্সপেক্টর (প্রশাসন) দেলোয়ার হোসেন বলেন, শহরের একমাত্র নারী চালক রোজিনাকে কেউ যেন বিরক্ত করতে না পারে সেদিকে সব সময় নজর রাখে ট্রাফিক পুলিশ। আমরা তাকে সব সময় সহযোগিতা করে আসছি। টাঙ্গাইলের সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক শাহ আলম বলেন, বিষয়টি এখন জানতে পারলাম। ওই নারী এখনো পর্যন্ত আমাদের কাছে আসেন নাই। যদি আমাদের কাছে এসে আবেদন করেন অবশ্যই তাকে আমরা সহযেগিতা করবো, তার পাশে দাঁড়াবো।

বাংলাদেশে ঐতিহাসিক নির্বাচন: বিএনপি এগিয়ে, জামায়াতের উত্থান ও তরুণ ভোটারদের প্রভাব

২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশে আজ এক ঐতিহাসিক ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ২০০৮ সালের পর এই প্রথম একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হতে যাচ্ছে যেখানে দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগ রাজনৈতিক মানচিত্র থেকে কার্যত অনুপস্থিত। বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক জরিপ বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০০ আসনের মধ্যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) কার্যকর সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে যাচ্ছে। তবে ভোটের ব্যবধান এবং কিছু সমীকরণ নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। নির্বাচনের সবচেয়ে বড় নিয়ামক হয়ে দাঁড়িয়েছে আওয়ামী লীগের বিশাল ভোটব্যাংক। দলটির নিয়মিত প্রায় ৪ কোটি ভোটার এখন নতুন রাজনৈতিক আশ্রয় খুঁজছেন। সিআরএফ বা বিইপিওএস জরিপ বলছে, এই ভোটারদের প্রায় অর্ধেক বিএনপির দিকে ঝুঁকেছে, যা দলটিকে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতার পথে এগিয়ে দিচ্ছে। অন্যদিকে, প্রায় ৩০ শতাংশ আওয়ামী ভোটার জামায়াতে ইসলামীকে বেছে নিতে পারেন বলে আভাস পাওয়া যাচ্ছে। এছাড়া বাংলাদেশের বিদ্যমান নির্বাচনী ব্যবস্থার কারণে দেশজুড়ে সুষম জনসমর্থন থাকা বিএনপি আসন জয়ের ক্ষেত্রে জামায়াতের তুলনায় সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। তবে বিএনপির এই সম্ভাব্য জয়ের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও বিদ্রোহী প্রার্থীরা। প্রায় ৭৯টি নির্বাচনী এলাকায় দলের মনোনয়ন না পাওয়া ৯২ জন প্রভাবশালী নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, যা বিএনপির ১৫ থেকে ৩০টি আসন কমিয়ে দিতে পারে। অন্যদিকে, তরুণ ভোটার বা ‘জেন-জি’ প্রজন্মের বিশাল সমর্থন জামায়াতে ইসলামীর শক্তির উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেশের ৪৪ শতাংশ ভোটারই তরুণ, যাদের বড় একটি অংশ প্রথমবার ভোট দিচ্ছেন। এই তরুণরা যদি দলবেঁধে কেন্দ্রে উপস্থিত হন, তবে নির্বাচনী ফলে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। সবশেষে, প্রায় ১৭ থেকে ৩৫ শতাংশ দোদুল্যমান ভোটার এবং তাদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করবে আগামীর সরকার কতটা শক্তিশালী হবে। দ্য নিউইয়র্ক এডিটোরিয়ালের মূল পূর্বাভাস, তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি প্রায় ১৮৫টি আসনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করতে পারে এবং জামায়াতে ইসলামী ৮০টির মতো আসন পেয়ে প্রধান বিরোধী দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারে। তবে বিদ্রোহী প্রার্থীদের প্রভাব এবং তরুণ ভোটারদের উপস্থিতির ওপর ভিত্তি করে আসন সংখ্যায় বড় ধরনের হেরফের হওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

গাজায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা ট্রাম্প প্রশাসনে

ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। ৩৫০ একরের ঘাঁটিটিতে সামরিক বাহিনীর পাঁচ হাজার সদস্য থাকতে পারবে। গাজার ‘বোর্ড অব পিস’র নথি পর্যালোচনা করে এ তথ্য জানিয়েছে দ্য গার্ডিয়ান। প্রতিবেদনে ব্রিটিশ সংবাদ মাধ্যমটি জানিয়েছে, বোর্ড অব পিসে গাজাকে নিরাপদ করার জন্য ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যাবিলাইজেশন ফোর্স (আইএসএফ) নামে একটি আন্তর্জাতিক বাহিনী মোতায়েনের কথা বলা হয়েছে। যে স্থানটি ঘাঁটি করার জন্য বিবেচনা করা হচ্ছে সেখানে আইএসএফের সদস্যরা থাকবে। বোর্ড অব পিসের প্রধান হবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আর সংগঠনটির আংশিক নেতৃত্ব দেবেন ট্রাম্পের জামাতা জ্যারার্ড কুশনার।দ্য গার্ডিয়ান বোর্ড অব পিসের নথি পর্যালোচনা করে জানায়, ধাপে ধাপে একটি সামরিক ঘাঁটি নির্মাণ করা হবে। সবকিছু শেষ হলে ঘাঁটিটি ১৫ লাখ ১৭ হাজার ৫৭৫ বর্গমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত হবে। ঘাঁটিটির চারপাশে ট্রেইলার সংযুক্ত ২৬টি সাঁজোয়া নজরদারি টাওয়ার থাকবে। এছাড়া একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, বাংকার ও অস্ত্র রাখার গুদাম থাকবে। পুরো ঘাঁটিটি কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে ঘিরে রাখা হবে। সামরিক ঘাঁটি নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে দক্ষিণ গাজার একটি শুষ্ক সমতলভূমিতে। সেখানে ইসরায়েলি হামলার চিহ্ন রয়েছে। ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে বিভিন্ন ধাতবের ধ্বংসাবশেষ।  ওই এলাকার ভিডিও পর্যালোচনা করেছে দ্য গার্ডিয়ান। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, ঘাঁটি নির্মাণের জন্য টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে। যুদ্ধক্ষেত্রে কাজের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন আন্তর্জাতিক নির্মাণ কোম্পানিগুলোর একটি ছোট দলকে ইতোমধ্যেই এলাকাটি দেখানো হয়েছে। ওই দলটি দরপত্রে অংশ নিতে আগ্রহী।    ইন্দোনেশিয়া সরকার গাজায় আট হাজার সেনা সদস্য পাঠানোর জন্য প্রস্তাব দিয়েছে। বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটন ডিসিতে বোর্ড অব পিসের অনানুষ্ঠানিক বৈঠকে ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্টের অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। এছাড়া দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার আরও তিন নেতার ওই বৈঠকে অংশ নেবেন বলে জানা গেছে। জাতিসংঘের নিরাপত্তা কাউন্সিল গাজার সাময়িক স্থিতিশীলতার জন্য অস্থায়ীভাবে সামরিক বাহিনী মোতায়েনের অনুমোদন দিয়েছে। নিরাপত্তা কাউন্সিলই বোর্ড অব পিসের মূল হোতা। গাজার সীমান্ত ও শান্তি প্রণয়নে কাজ করবে আইএসএফ। এছাড়া বেসামরিকদের সুরক্ষা এবং ফিলিস্তিনি পুলিশ বাহিনীকে প্রশিক্ষণ ও সহায়তা দেবে তারা। যদি গাজায় ফের সংঘর্ষ হয়, ইসরায়েল বোমা হামলা চালায় অথবা হামাস হামলা চালায় সেক্ষেত্রে আইএসএফ কি করবে তা এখনও স্পষ্ট নয়। গাজা পুনর্গঠনে ইসরায়েল হামাসকে নিরস্ত্রীকরণের যে শর্ত দিয়েছে সেটির জন্য আইএসএফ কাজ করবে কিনা তাও স্পষ্ট না। ইতোমধ্যে বোর্ড অব পিসে ২০ এর অধিক দেশ যোগ দিয়েছে। তবে, এখনও অনেক পরাশক্তি এর থেকে দূরে রয়েছে। জাতিসংঘের অনুমোদন নিয়ে প্রতিষ্ঠিত হলেও ধারণা করা হচ্ছে, সংগঠনটির স্থায়ী নেতৃত্ব ও নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে। রুটজার্স বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক আদিল হক বলেন, “বোর্ড অব পিস এক ধরনের আইনি কল্পসত্তা। নামমাত্রভাবে এর নিজস্ব আন্তর্জাতিক আইনগত সত্তা রয়েছে, যা জাতিসংঘ ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে আলাদা। কিন্তু বাস্তবে এটি যুক্তরাষ্ট্রের ইচ্ছামতো ব্যবহারের জন্য একটি ফাঁপা খোলসমাত্র।” বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গাজা পুনর্গঠনে যে অর্থায়ন ও শাসন কাঠামো হচ্ছে তা অস্বচ্ছ। কয়েকজন ঠিকাদার গার্ডিয়ানকে জানান, গাজায় কাজ করার জন্য মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে তাদের প্রায়শ আলোচনা সরকারি ইমেলের বদলে সিগন্যালের মাধ্যমে করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রের তথ্য মতে, ঘাঁটি নির্মাণের সিদ্ধান্তটি বোর্ড অব পিসের। এতে সহায়তা করছে মার্কিন কর্মকর্তারা। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ঘাঁটিতে তৈরি বাংকার নেটওয়ার্কের মতোন কাজ করবে। প্রতিটি বাংকারের ২৪ মিটারের হবে। উচ্চতা থাকবে আড়াই মিটার। এগুলো এমনভাবে করা হবে যেন সেনা সদস্যরা আশ্রয় নিতে পারে। স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসের গাজায় সুড়ঙ্গ নেটওয়ার্ক বা টানেল রয়েছে। সেগুলোর আদলে নেটওয়ার্ক করতে চাওয়া হচ্ছে। পিস অব বোর্ডের নথি পর্যালোচনা করে এমন দাবি করছে গার্ডিয়ান। সংবাদ মাধ্যমটি বলছে,  স্থানটির ভূ-ভৌত জরিপ পরিচালনা করবে ঠিকাদাররা। নথির এক অংশে ‘হিউম্যান রেমিয়েনস প্রোটোকল’র কথা বলা হয়েছে। এর মানে দাঁড়ায়, সন্দেহভাজন মানব অবশিষ্ট বা সাংস্কৃতিক নিদর্শন পাওয়া গেলে অবিলম্বে সেই এলাকায় সব কাজ বন্ধ করতে হবে। চুক্তি কর্মকর্তাকে দিকনির্দেশনার জন্য অবিলম্বে জানাতে হবে। গাজা সিভিল ডিফেন্সের ধারণা, গাজার ধ্বংসস্তূপের নিচে ১০ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনির মরদেহ রয়েছে। ঘাঁটির জন্য যে স্থানটি বিবেচিত করা হচ্ছে সেটির মালিক কে তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে, দক্ষিণ গাজার বেশিরভাগ অংশ  বর্তমানে ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণে। জাতিসংঘের অনুমান, যুদ্ধ চলাকালীন ১৯ লাখ ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত হয়েছে। ফিলিস্তিনের জমিতে সরকারের অনুমতি না নিয়ে সামরিক ঘাঁটি স্থাপনকে দখল হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন ফিলিস্তিনি-কানাডিয়ান আইনজীবী এবং প্রাক্তন শান্তি আলোচক দিয়ানা বুট্টু। তিনি প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়ে বলেন, “কার অনুমতিতে তারা সামরিক ঘাঁটি স্থাপন করবে।” বিষয়টি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা বোর্ড অব পিসের কথা টানেন। ট্রাম্প প্রশাসনের একজন কর্মকর্তা সামরিক ঘাঁটির চুক্তি নিয়ে আলোচনা করতে অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, “যেমনটি প্রেসিডেন্ট বলেছেন, কোনও মার্কিন সেনা স্থলভাগে যাবে না। আমরা লিক হওয়া নথি নিয়ে আলোচনা করবো না।”

কুড়িগ্রামের তাজু ভাই ২.০: ‘সরকারি রেটে জিলাপি’ প্রশ্নে ভাইরাল এক নির্মাণশ্রমিকের গল্প

বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের প্রত্যন্ত চরাঞ্চল থেকে উঠে এসে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার কেন্দ্রে এখন তাইজুল ইসলাম, যিনি অনলাইনে পরিচিত ‘তাজু ভাই ২.০’ নামে। মাত্র একটি ভিডিও—যেখানে তিনি এক দোকানিকে প্রশ্ন করেন, “জিলাপি আজকে কত করে বেচতেছেন সরকারি রেটে?”—এই সরল উপস্থাপনাই তাকে রাতারাতি ভাইরাল করে তোলে।  কয়েক ঘণ্টায় ফলোয়ার লাখ ছাড়াল রোববার রাত পর্যন্ত তার ফেসবুক অনুসারী ছিল প্রায় ৩৫ হাজার। কিন্তু সোমবার সন্ধ্যা থেকে রাতের মধ্যেই তা বেড়ে এক লাখের বেশি হয়ে যায়। ভাইরাল ভিডিওটি ইতোমধ্যে প্রায় ৫০ থেকে ৫৫ লাখবার দেখা হয়েছে।  কী ছিল সেই ভিডিওতে? ভিডিওতে দেখা যায়, কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীর নারায়ণপুর বাজারে দাঁড়িয়ে স্থানীয় ভাষায় তিনি জিলাপির দাম জানতে চান। তার কথাগুলো ছিল একেবারেই সহজ ও গ্রাম্য ভঙ্গিতে— “সাদাডা কত, লালডা কত? সরকারি রেটে বেচতেছেন?” এই সরল প্রশ্নই সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।  কোথা থেকে উঠে এলেন তাজু ভাই? কুড়িগ্রাম জেলার নাগেশ্বরী উপজেলার নারায়ণপুর ইউনিয়নের একটি দুর্গম গ্রামে জন্ম তার। ব্রহ্মপুত্র নদবেষ্টিত এই অঞ্চলে পৌঁছাতে এখনও কয়েকটি নৌঘাট পার হতে হয়। দারিদ্র্যের কারণে কখনো স্কুলে যাওয়া হয়নি তার। পেশায় তিনি একজন নির্মাণশ্রমিকের সহকারী (হেলপার)। কাজের ফাঁকে ঢাকায় থাকাকালীন মোবাইল ফোনে ভিডিও তৈরি করাই তার শখ। ব্যক্তিগত সংগ্রাম তাইজুল ইসলামের পরিবারে ছয় ভাই-বোন। তিনি সবার বড়। তার বাবা-মা দুজনই শ্রবণপ্রতিবন্ধী। পরিবার চালাতে তাকে ছোটবেলা থেকেই সংগ্রাম করতে হয়েছে। তিনি বলেন, “পরিবারের কষ্ট ভুলতেই ভিডিও করি। আমি সাংবাদিক না, কিন্তু আমাদের এলাকায় কেউ আসে না—তাই নিজেরাই ভিডিও বানাই।” ভাইরাল হওয়ার পেছনের উদ্দেশ্য তাইজুলের দাবি, তার ভিডিও শুধুই বিনোদনের জন্য নয়। তিনি চান তার এলাকার অবহেলিত মানুষের কথা প্রশাসনের নজরে আসুক। “আমি চাই চরের মানুষের উন্নয়ন হোক,”—বলছেন তিনি।  মিশ্র প্রতিক্রিয়া ভিডিওটি নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে দুই ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ তার সরলতা ও বাস্তবতা তুলে ধরার চেষ্টা প্রশংসা করছেন আবার কেউ তাকে নিয়ে ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ করছেন তবে এসব সমালোচনায় তিনি বিচলিত নন।

অর্থনীতি

ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান খুরশীদ আলম, কৃষি ব্যাংকে নূরুল আমিন: ব্যাংক খাতে নতুন সমীকরণ

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ২৪, ২০২৬ 0




অপরাধ

ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো

ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকোর বিরুদ্ধে ৩০ বিলিয়ন ডলার জালিয়াতি ও অর্থপাচার অভিযোগে দুদকের অনুসন্ধান

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ২৪, ২০২৬ 0




কৃষি ও জলবায়ু

ধান

শেরপুরে বোরো ধানের দাম কমে লোকসানে কৃষকরা, উৎপাদন খরচও উঠছে না

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ৬, ২০২৬ 0