Brand logo light
বাংলাদেশ

৩৩ পুলিশ কর্মকর্তা বাধ্যতামূলক অবসরে: ডিআইজি ১৪, অতিরিক্ত ডিআইজি ১৮, এসপি ১

নিজস্ব প্রতিবেদক জুলাই ৬, ২০২৬ 0
ডিআইজিসহ ৩৩ পুলিশ কর্মকর্তা বাধ্যতামূলক অবসরে
ডিআইজিসহ ৩৩ পুলিশ কর্মকর্তা বাধ্যতামূলক অবসরে

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : পুলিশের ৩৩ জন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে জনস্বার্থে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠিয়েছে সরকার। অবসরপ্রাপ্তদের মধ্যে রয়েছেন ১৪ জন উপমহাপরিদর্শক (ডিআইজি), ১৮ জন অতিরিক্ত উপমহাপরিদর্শক (অতিরিক্ত ডিআইজি) এবং একজন পুলিশ সুপার (এসপি)।

রোববার (৫ জুলাই) রাতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পুলিশ শাখা-১ থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়।
সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, বিসিএস (পুলিশ) ক্যাডারের তালিকাভুক্ত কর্মকর্তাদের সরকারি চাকরি আইন, ২০১৮-এর ৪৫ ধারার বিধান অনুযায়ী জনস্বার্থে চাকরি থেকে অবসর প্রদান করা হয়েছে।

প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো ৩৩ কর্মকর্তার মধ্যে ১৪ জন ডিআইজি, ১৮ জন অতিরিক্ত ডিআইজি এবং একজন পুলিশ সুপার রয়েছেন। এদের মধ্যে দুইজন ডিআইজি বর্তমানে গ্রেপ্তার অবস্থায় রয়েছেন।

 

Popular post
ফারুকীর সম্পদ কমেছে, তিশার বেড়েছে দ্বিগুণেরও বেশি: সম্পদ বিবরণী ঘিরে আলোচনা

অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের সম্পদ বিবরণী প্রকাশের পর সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী ও তার স্ত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদের হিসাব নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। এক বছরের ব্যবধানে স্বামী ফারুকীর সম্পদ কমলেও স্ত্রী তিশার সম্পদ বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে প্রকাশিত তথ্যে উঠে এসেছে এই চিত্র। প্রকাশিত খতিয়ান অনুযায়ী, জনপ্রিয় অভিনেত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদ এক বছরে অভাবনীয় হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তিশার মোট সম্পদের পরিমাণ ছিল ১ কোটি ৪০ লাখ ৮১ হাজার ৮৬০ টাকা। ঠিক এক বছর পর, ২০২৫ সালের ৩০ জুন সেই সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ৯৯ লাখ ৮৯ হাজার ৫০১ টাকায়। অর্থাৎ মাত্র এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ বেড়েছে ১ কোটি ৫৯ লাখ ৭ হাজার ৬৪১ টাকা, যা আগের বছরের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি। অন্যদিকে সংস্কৃতি উপদেষ্টা ও নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর ক্ষেত্রে দেখা গেছে উল্টো চিত্র। এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ কমেছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তার মোট সম্পদ ছিল ২ কোটি ২৬ লাখ ৯২ হাজার ২৬ টাকা। ২০২৫ সালের ৩০ জুন তা কমে দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ১৫ লাখ ১৮ হাজার ২৬ টাকায়। হিসাব অনুযায়ী, এক বছরে তার সম্পদ কমেছে ১১ লাখ ৭৪ হাজার টাকা। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে গত মঙ্গলবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ প্রধান উপদেষ্টা, উপদেষ্টা ও সমমর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের পাশাপাশি তাদের স্ত্রী বা স্বামীর সম্পদ বিবরণী প্রকাশ করে। একই সময়ে স্বামী-স্ত্রীর সম্পদে এমন ভিন্নমুখী পরিবর্তন স্বাভাবিকভাবেই সাধারণ মানুষের কৌতূহলের জন্ম দিয়েছে। শোবিজ অঙ্গনের জনপ্রিয় দম্পতি হওয়ায় তাদের এই আয়-ব্যয়ের হিসাব এখন টক অব দ্য কান্ট্রি।

সংসার সামলাতে অটোরিকশা নিয়ে রাস্তায় নেমেছেন রোজিনা

বাসস : বাবা একজন তাঁত শ্রমিক। তিন বোন দুই ভাইয়ের মধ্যে সবার বড় রোজিনা। অভাব সংসার, তাই এক এতিম যুবকের সাথে বাবা-মা বিয়ে দেন তাকে। বিয়ের পর জন্ম হয় দুই কন্যা সন্তানের। অটোরিকশা চালিয়ে কোন রকম সংসার চালাচ্ছিলেন স্বামী রফিকুল ইসলাম। কিন্তু সড়ক দুর্ঘটনায় রফিকুলের এক চোখ সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যায়। আরেকটি চোখ আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ধীরে ধীরে ওই চোখের দৃষ্টি শক্তিও কমতে থাকে। ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে অটোরিকশা চালানো। সংসারের উপার্জনক্ষম মানুষটি অচল হয়ে পড়ায় চিকিৎসার খরচ, ঘর ভাড়া ও খাবারের পাশাপাশি মেয়েদের লেখাপড়ার খরচ চালানোই কঠিন হয়ে যায়। দিশেহারা হয়ে পরেন রোজিনা। এক পর্যায়ে মানুষের বাড়ি বাড়ি কাজ করে সংসার চালানোর চেস্টা করেন। কিন্তু সুবিধা করতে পারেন না। এমন পরিস্থিতিতে অটোরিকশা চালানোর সিদ্ধান্ত নেন তিনি। স্বামী রফিকুলের কাছেই হাতেখড়ি। গ্রামের স্কুলের মাঠে স্বামীর কাছেই অটোরিকশা চালানোর শিক্ষা নেন তিনি। পরে গ্রামের পথে নেমে পড়েন অটোরিকশা নিয়ে। ৫-৬ দিন এভাবে হাত পাকা করে একদিন টাঙ্গাইল শহরে চলে আসেন রোজিনা। এরপর শুরু করেন অটোরিক্সা চালানোর ব্যতিক্রমী জীবন সংগ্রাম। এখন টাঙ্গাইল পৌরসভায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার চালকদের মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা বেগম। জেলার বাসাইল উপজেলার আইসড়া গ্রামের বাসিন্দা রোজিনা টাঙ্গাইল পৌর শহরের এক প্রান্ত রাবনা বাইপাস থেকে আরেক প্রান্ত বেবিস্ট্যান্ডে যাত্রী আনা নেয়া করেন। যানজটের কারণে শহরে পুরুষ চালকরা যেখানে হিমসিম খায়, সেখানেই বিগত ৫ বছর ধরেই নির্বিঘেœ অটোরিকশা চালাচ্ছেন তিনি। টাঙ্গাইল পৌরসভা কার্যালয় সূত্রে জানা যাায়, টাঙ্গাইল শহরে চলাচলের জন্য ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক ও ৫ হাজার ব্যাটারিচালিত রিকশার অনুমতি (লাইসেন্স) দেওয়া হয়েছে। যানজট এড়াতে ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক জোড় ও বিজোড় সংখ্যায় দিনে দুই ভাগ করা হয়েছে। সকাল থেকে বেলা দুইটা পর্যন্ত এক ভাগ এবং বেলা দুইটা থেকে রাত পর্যন্ত আরেক ভাগের ইজিবাইক চলাচল করার নির্দেশনা দিয়েছে পৌর কর্তৃপক্ষ। কিন্তু রোজিনাকে দুই শিফটে চালানোর অনুমতি দিয়েছে পৌরসভা। সরেজমিনে দেখা যায়, নতুন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অটোরিকশা নিয়ে যাত্রী ডাকছেন রোজিনা। কলেজ গেট, পুরাতন বাসস্ট্যান্ড, ক্যাপসুল, নিরালা মোড়, বেবিস্ট্যান্ড সর্বত্রই যাত্রী আনানেয়া করেন তিনি। পুরাতন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অন্য অটো চালকদের দাঁড় করতে না দিলেও রোজিনাকে বাঁধা দেননা ট্রাফিক পুলিশ। বলতে গেলে সবাই তার প্রতি সহানুভুতিশীল। ট্রাফিক পুলিশসহ অন্য অটোচালকরাও তাকে সহযোগিতা করেন। রোজিনা বলেন, আমার অটোতে নারী যাত্রীরা খুব কম। তারা মনে করে আমার অটোতে উঠলে দুর্ঘটনায় পড়বে। কিন্তু আমি খুব সাবধানে অটো চালাই। দ্রুত গতিতেও না, আবার একেবারে ধীরগতিতেও না। এখন পর্যন্ত আমি কোন দুর্ঘটনার কবলে পড়ি নাই। শহরের পুরুষ অটোরিকশা চালকরা আমাকে অনেক সহযোগিতা করে। অটোচালক কাদের মিয়া বলেন, আমাদের শহরে কয়েক হাজার অটো চলাচল করে। তার মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। তাকে আমরা সব সময় সহযোগিতা করি। যাত্রী সাইদ মিয়া বলেন, আমি এ পর্যন্ত ৫-৬ বার রোজিনার অটোতে চড়েছি। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। অন্য পুরুষ অটো চালকের চেয়েও ভালো অটো চালান। নারী সংগঠক সেরাজুম মনিরা বলেন, তিনি অনেক দিন যাবত অটোরিকশা চালাচ্ছেন। আমি রোজিনাকে স্যালুট জানাই। একজন পুরুষের চেয়ে একজন নারী কোনো ভাবেই যে পিছিয়ে নেই, রোজিনা তা প্রমাণ করেছেন। রোজিনা বলেন, অটো চালানোর এই সিদ্ধান্তটি তার জন্য খুব সহজ ছিল না। তিনি বলেন, ৫ ও ১০ বছরের দুই মেয়েকে বাড়িতে রেখে অটোরিকশা নিয়ে সারাদিন রাস্তায় থাকতে হয়। তাদের ভালোভাবে দেখাশোনা করতে পারি না। কিন্তু কি করবো, অভাবের সংসার! এখন ঋণ নিয়ে একটু জমি কিনেছি। প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ণ প্রকল্পের অর্থায়নে প্রশাসন সেখানে ঘর তুলে দিয়েছে। শুরুতে যারা আমাকে নিয়ে ঠাট্টা করেছে এখন তারাই আমাকে সম্মান করেন। নারীরাও যে কিছু করতে পারে, তা প্রমাণ করেছি। আমার বড় মেয়ে আইসড়া উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়ে, ছোট মেয়ে পড়ে স্থানীয় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। মেয়েদের শিক্ষিত করতে হবে। ধার দেনা শোধ করতে হবে। তাই থেমে গেলো চলবে না। আমি অটোরিকশা চালিয়েই দুই সন্তানকে মানুষ করতে চাই।’ ঘারিন্দা ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য বাবুল সরকার বলেন, সরকার রোজিনাকে একটি ঘর নির্মাণ করে দিয়েছে। শুরুতে যারা তাকে নিয়ে নানান কথা বলতো, এখন তার সংকল্প ও মানষিক দৃঢ়তা দেখে থেমে গেছে। আমরা তাকে নিয়ে গর্ব করি। টাঙ্গাইলের ট্রাফিক ইন্সপেক্টর (প্রশাসন) দেলোয়ার হোসেন বলেন, শহরের একমাত্র নারী চালক রোজিনাকে কেউ যেন বিরক্ত করতে না পারে সেদিকে সব সময় নজর রাখে ট্রাফিক পুলিশ। আমরা তাকে সব সময় সহযোগিতা করে আসছি। টাঙ্গাইলের সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক শাহ আলম বলেন, বিষয়টি এখন জানতে পারলাম। ওই নারী এখনো পর্যন্ত আমাদের কাছে আসেন নাই। যদি আমাদের কাছে এসে আবেদন করেন অবশ্যই তাকে আমরা সহযেগিতা করবো, তার পাশে দাঁড়াবো।

বাংলাদেশে ঐতিহাসিক নির্বাচন: বিএনপি এগিয়ে, জামায়াতের উত্থান ও তরুণ ভোটারদের প্রভাব

২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশে আজ এক ঐতিহাসিক ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ২০০৮ সালের পর এই প্রথম একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হতে যাচ্ছে যেখানে দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগ রাজনৈতিক মানচিত্র থেকে কার্যত অনুপস্থিত। বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক জরিপ বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০০ আসনের মধ্যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) কার্যকর সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে যাচ্ছে। তবে ভোটের ব্যবধান এবং কিছু সমীকরণ নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। নির্বাচনের সবচেয়ে বড় নিয়ামক হয়ে দাঁড়িয়েছে আওয়ামী লীগের বিশাল ভোটব্যাংক। দলটির নিয়মিত প্রায় ৪ কোটি ভোটার এখন নতুন রাজনৈতিক আশ্রয় খুঁজছেন। সিআরএফ বা বিইপিওএস জরিপ বলছে, এই ভোটারদের প্রায় অর্ধেক বিএনপির দিকে ঝুঁকেছে, যা দলটিকে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতার পথে এগিয়ে দিচ্ছে। অন্যদিকে, প্রায় ৩০ শতাংশ আওয়ামী ভোটার জামায়াতে ইসলামীকে বেছে নিতে পারেন বলে আভাস পাওয়া যাচ্ছে। এছাড়া বাংলাদেশের বিদ্যমান নির্বাচনী ব্যবস্থার কারণে দেশজুড়ে সুষম জনসমর্থন থাকা বিএনপি আসন জয়ের ক্ষেত্রে জামায়াতের তুলনায় সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। তবে বিএনপির এই সম্ভাব্য জয়ের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও বিদ্রোহী প্রার্থীরা। প্রায় ৭৯টি নির্বাচনী এলাকায় দলের মনোনয়ন না পাওয়া ৯২ জন প্রভাবশালী নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, যা বিএনপির ১৫ থেকে ৩০টি আসন কমিয়ে দিতে পারে। অন্যদিকে, তরুণ ভোটার বা ‘জেন-জি’ প্রজন্মের বিশাল সমর্থন জামায়াতে ইসলামীর শক্তির উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেশের ৪৪ শতাংশ ভোটারই তরুণ, যাদের বড় একটি অংশ প্রথমবার ভোট দিচ্ছেন। এই তরুণরা যদি দলবেঁধে কেন্দ্রে উপস্থিত হন, তবে নির্বাচনী ফলে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। সবশেষে, প্রায় ১৭ থেকে ৩৫ শতাংশ দোদুল্যমান ভোটার এবং তাদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করবে আগামীর সরকার কতটা শক্তিশালী হবে। দ্য নিউইয়র্ক এডিটোরিয়ালের মূল পূর্বাভাস, তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি প্রায় ১৮৫টি আসনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করতে পারে এবং জামায়াতে ইসলামী ৮০টির মতো আসন পেয়ে প্রধান বিরোধী দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারে। তবে বিদ্রোহী প্রার্থীদের প্রভাব এবং তরুণ ভোটারদের উপস্থিতির ওপর ভিত্তি করে আসন সংখ্যায় বড় ধরনের হেরফের হওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

গাজায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা ট্রাম্প প্রশাসনে

ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। ৩৫০ একরের ঘাঁটিটিতে সামরিক বাহিনীর পাঁচ হাজার সদস্য থাকতে পারবে। গাজার ‘বোর্ড অব পিস’র নথি পর্যালোচনা করে এ তথ্য জানিয়েছে দ্য গার্ডিয়ান। প্রতিবেদনে ব্রিটিশ সংবাদ মাধ্যমটি জানিয়েছে, বোর্ড অব পিসে গাজাকে নিরাপদ করার জন্য ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যাবিলাইজেশন ফোর্স (আইএসএফ) নামে একটি আন্তর্জাতিক বাহিনী মোতায়েনের কথা বলা হয়েছে। যে স্থানটি ঘাঁটি করার জন্য বিবেচনা করা হচ্ছে সেখানে আইএসএফের সদস্যরা থাকবে। বোর্ড অব পিসের প্রধান হবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আর সংগঠনটির আংশিক নেতৃত্ব দেবেন ট্রাম্পের জামাতা জ্যারার্ড কুশনার।দ্য গার্ডিয়ান বোর্ড অব পিসের নথি পর্যালোচনা করে জানায়, ধাপে ধাপে একটি সামরিক ঘাঁটি নির্মাণ করা হবে। সবকিছু শেষ হলে ঘাঁটিটি ১৫ লাখ ১৭ হাজার ৫৭৫ বর্গমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত হবে। ঘাঁটিটির চারপাশে ট্রেইলার সংযুক্ত ২৬টি সাঁজোয়া নজরদারি টাওয়ার থাকবে। এছাড়া একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, বাংকার ও অস্ত্র রাখার গুদাম থাকবে। পুরো ঘাঁটিটি কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে ঘিরে রাখা হবে। সামরিক ঘাঁটি নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে দক্ষিণ গাজার একটি শুষ্ক সমতলভূমিতে। সেখানে ইসরায়েলি হামলার চিহ্ন রয়েছে। ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে বিভিন্ন ধাতবের ধ্বংসাবশেষ।  ওই এলাকার ভিডিও পর্যালোচনা করেছে দ্য গার্ডিয়ান। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, ঘাঁটি নির্মাণের জন্য টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে। যুদ্ধক্ষেত্রে কাজের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন আন্তর্জাতিক নির্মাণ কোম্পানিগুলোর একটি ছোট দলকে ইতোমধ্যেই এলাকাটি দেখানো হয়েছে। ওই দলটি দরপত্রে অংশ নিতে আগ্রহী।    ইন্দোনেশিয়া সরকার গাজায় আট হাজার সেনা সদস্য পাঠানোর জন্য প্রস্তাব দিয়েছে। বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটন ডিসিতে বোর্ড অব পিসের অনানুষ্ঠানিক বৈঠকে ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্টের অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। এছাড়া দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার আরও তিন নেতার ওই বৈঠকে অংশ নেবেন বলে জানা গেছে। জাতিসংঘের নিরাপত্তা কাউন্সিল গাজার সাময়িক স্থিতিশীলতার জন্য অস্থায়ীভাবে সামরিক বাহিনী মোতায়েনের অনুমোদন দিয়েছে। নিরাপত্তা কাউন্সিলই বোর্ড অব পিসের মূল হোতা। গাজার সীমান্ত ও শান্তি প্রণয়নে কাজ করবে আইএসএফ। এছাড়া বেসামরিকদের সুরক্ষা এবং ফিলিস্তিনি পুলিশ বাহিনীকে প্রশিক্ষণ ও সহায়তা দেবে তারা। যদি গাজায় ফের সংঘর্ষ হয়, ইসরায়েল বোমা হামলা চালায় অথবা হামাস হামলা চালায় সেক্ষেত্রে আইএসএফ কি করবে তা এখনও স্পষ্ট নয়। গাজা পুনর্গঠনে ইসরায়েল হামাসকে নিরস্ত্রীকরণের যে শর্ত দিয়েছে সেটির জন্য আইএসএফ কাজ করবে কিনা তাও স্পষ্ট না। ইতোমধ্যে বোর্ড অব পিসে ২০ এর অধিক দেশ যোগ দিয়েছে। তবে, এখনও অনেক পরাশক্তি এর থেকে দূরে রয়েছে। জাতিসংঘের অনুমোদন নিয়ে প্রতিষ্ঠিত হলেও ধারণা করা হচ্ছে, সংগঠনটির স্থায়ী নেতৃত্ব ও নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে। রুটজার্স বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক আদিল হক বলেন, “বোর্ড অব পিস এক ধরনের আইনি কল্পসত্তা। নামমাত্রভাবে এর নিজস্ব আন্তর্জাতিক আইনগত সত্তা রয়েছে, যা জাতিসংঘ ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে আলাদা। কিন্তু বাস্তবে এটি যুক্তরাষ্ট্রের ইচ্ছামতো ব্যবহারের জন্য একটি ফাঁপা খোলসমাত্র।” বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গাজা পুনর্গঠনে যে অর্থায়ন ও শাসন কাঠামো হচ্ছে তা অস্বচ্ছ। কয়েকজন ঠিকাদার গার্ডিয়ানকে জানান, গাজায় কাজ করার জন্য মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে তাদের প্রায়শ আলোচনা সরকারি ইমেলের বদলে সিগন্যালের মাধ্যমে করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রের তথ্য মতে, ঘাঁটি নির্মাণের সিদ্ধান্তটি বোর্ড অব পিসের। এতে সহায়তা করছে মার্কিন কর্মকর্তারা। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ঘাঁটিতে তৈরি বাংকার নেটওয়ার্কের মতোন কাজ করবে। প্রতিটি বাংকারের ২৪ মিটারের হবে। উচ্চতা থাকবে আড়াই মিটার। এগুলো এমনভাবে করা হবে যেন সেনা সদস্যরা আশ্রয় নিতে পারে। স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসের গাজায় সুড়ঙ্গ নেটওয়ার্ক বা টানেল রয়েছে। সেগুলোর আদলে নেটওয়ার্ক করতে চাওয়া হচ্ছে। পিস অব বোর্ডের নথি পর্যালোচনা করে এমন দাবি করছে গার্ডিয়ান। সংবাদ মাধ্যমটি বলছে,  স্থানটির ভূ-ভৌত জরিপ পরিচালনা করবে ঠিকাদাররা। নথির এক অংশে ‘হিউম্যান রেমিয়েনস প্রোটোকল’র কথা বলা হয়েছে। এর মানে দাঁড়ায়, সন্দেহভাজন মানব অবশিষ্ট বা সাংস্কৃতিক নিদর্শন পাওয়া গেলে অবিলম্বে সেই এলাকায় সব কাজ বন্ধ করতে হবে। চুক্তি কর্মকর্তাকে দিকনির্দেশনার জন্য অবিলম্বে জানাতে হবে। গাজা সিভিল ডিফেন্সের ধারণা, গাজার ধ্বংসস্তূপের নিচে ১০ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনির মরদেহ রয়েছে। ঘাঁটির জন্য যে স্থানটি বিবেচিত করা হচ্ছে সেটির মালিক কে তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে, দক্ষিণ গাজার বেশিরভাগ অংশ  বর্তমানে ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণে। জাতিসংঘের অনুমান, যুদ্ধ চলাকালীন ১৯ লাখ ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত হয়েছে। ফিলিস্তিনের জমিতে সরকারের অনুমতি না নিয়ে সামরিক ঘাঁটি স্থাপনকে দখল হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন ফিলিস্তিনি-কানাডিয়ান আইনজীবী এবং প্রাক্তন শান্তি আলোচক দিয়ানা বুট্টু। তিনি প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়ে বলেন, “কার অনুমতিতে তারা সামরিক ঘাঁটি স্থাপন করবে।” বিষয়টি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা বোর্ড অব পিসের কথা টানেন। ট্রাম্প প্রশাসনের একজন কর্মকর্তা সামরিক ঘাঁটির চুক্তি নিয়ে আলোচনা করতে অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, “যেমনটি প্রেসিডেন্ট বলেছেন, কোনও মার্কিন সেনা স্থলভাগে যাবে না। আমরা লিক হওয়া নথি নিয়ে আলোচনা করবো না।”

কুড়িগ্রামের তাজু ভাই ২.০: ‘সরকারি রেটে জিলাপি’ প্রশ্নে ভাইরাল এক নির্মাণশ্রমিকের গল্প

বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের প্রত্যন্ত চরাঞ্চল থেকে উঠে এসে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার কেন্দ্রে এখন তাইজুল ইসলাম, যিনি অনলাইনে পরিচিত ‘তাজু ভাই ২.০’ নামে। মাত্র একটি ভিডিও—যেখানে তিনি এক দোকানিকে প্রশ্ন করেন, “জিলাপি আজকে কত করে বেচতেছেন সরকারি রেটে?”—এই সরল উপস্থাপনাই তাকে রাতারাতি ভাইরাল করে তোলে।  কয়েক ঘণ্টায় ফলোয়ার লাখ ছাড়াল রোববার রাত পর্যন্ত তার ফেসবুক অনুসারী ছিল প্রায় ৩৫ হাজার। কিন্তু সোমবার সন্ধ্যা থেকে রাতের মধ্যেই তা বেড়ে এক লাখের বেশি হয়ে যায়। ভাইরাল ভিডিওটি ইতোমধ্যে প্রায় ৫০ থেকে ৫৫ লাখবার দেখা হয়েছে।  কী ছিল সেই ভিডিওতে? ভিডিওতে দেখা যায়, কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীর নারায়ণপুর বাজারে দাঁড়িয়ে স্থানীয় ভাষায় তিনি জিলাপির দাম জানতে চান। তার কথাগুলো ছিল একেবারেই সহজ ও গ্রাম্য ভঙ্গিতে— “সাদাডা কত, লালডা কত? সরকারি রেটে বেচতেছেন?” এই সরল প্রশ্নই সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।  কোথা থেকে উঠে এলেন তাজু ভাই? কুড়িগ্রাম জেলার নাগেশ্বরী উপজেলার নারায়ণপুর ইউনিয়নের একটি দুর্গম গ্রামে জন্ম তার। ব্রহ্মপুত্র নদবেষ্টিত এই অঞ্চলে পৌঁছাতে এখনও কয়েকটি নৌঘাট পার হতে হয়। দারিদ্র্যের কারণে কখনো স্কুলে যাওয়া হয়নি তার। পেশায় তিনি একজন নির্মাণশ্রমিকের সহকারী (হেলপার)। কাজের ফাঁকে ঢাকায় থাকাকালীন মোবাইল ফোনে ভিডিও তৈরি করাই তার শখ। ব্যক্তিগত সংগ্রাম তাইজুল ইসলামের পরিবারে ছয় ভাই-বোন। তিনি সবার বড়। তার বাবা-মা দুজনই শ্রবণপ্রতিবন্ধী। পরিবার চালাতে তাকে ছোটবেলা থেকেই সংগ্রাম করতে হয়েছে। তিনি বলেন, “পরিবারের কষ্ট ভুলতেই ভিডিও করি। আমি সাংবাদিক না, কিন্তু আমাদের এলাকায় কেউ আসে না—তাই নিজেরাই ভিডিও বানাই।” ভাইরাল হওয়ার পেছনের উদ্দেশ্য তাইজুলের দাবি, তার ভিডিও শুধুই বিনোদনের জন্য নয়। তিনি চান তার এলাকার অবহেলিত মানুষের কথা প্রশাসনের নজরে আসুক। “আমি চাই চরের মানুষের উন্নয়ন হোক,”—বলছেন তিনি।  মিশ্র প্রতিক্রিয়া ভিডিওটি নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে দুই ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ তার সরলতা ও বাস্তবতা তুলে ধরার চেষ্টা প্রশংসা করছেন আবার কেউ তাকে নিয়ে ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ করছেন তবে এসব সমালোচনায় তিনি বিচলিত নন।

নিজস্ব প্রতিবেদক

বাংলাদেশ

View more
মেহের আফরোজ শাওন ও চিত্রনায়িকা মাহিয়া মাহিসহ ছয় জনের নামে কুষ্টিয়ার ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় থানায় অভিযোগ
জুলাই আন্দোলন নিয়ে কটাক্ষ ও অবমাননার অভিযোগে শাওন–মাহিসহ ৬ জনের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ, তদন্তের আশ্বাস

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : কুষ্টিয়ার ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় থানায় ‘জুলাই আন্দোলন’ নিয়ে অবমাননাকর মন্তব্য ও কটাক্ষের অভিযোগে ছয়জনের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ জমা পড়েছে। অভিযোগকারীর দাবি, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও প্রকাশ্য বক্তব্যে তারা আন্দোলন ও এর স্মৃতিচিহ্নকে অবমাননা করেছেন। রবিবার (৫ জুলাই) দুপুরে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কেন্দ্রীয় সদস্য এস এম সুইট এই অভিযোগ দাখিল করেন। অভিযুক্তদের তালিকায় রয়েছেন—অভিনেত্রী মেহের আফরোজ শাওন, চিত্রনায়িকা মাহিয়া মাহি, শান্তা ফারজানা, সাংবাদিক আনিস আলমগীর, সোমা ইসলাম ও মোমিন মেহেদী। অভিযোগে কী বলা হয়েছে অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে, ‘জুলাই আন্দোলন’ চলাকালে ১৪০০ জন নিহত এবং ৩০ হাজারের বেশি মানুষ আহত হয়েছেন—যা বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত। অভিযোগ অনুযায়ী, সাম্প্রতিক সময়ে কয়েকজন ব্যক্তি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন বক্তব্যে এই আন্দোলনকে নিয়ে কটাক্ষ করেছেন এবং অবমাননাকর মন্তব্য করেছেন। এছাড়া অভিযোগে বলা হয়, শান্তা ফারজানা নামের একজন ব্যক্তি ‘জুলাই স্মৃতিস্তম্ভে জুতা নিক্ষেপ’ করেছেন বলেও দাবি করা হয়েছে। অভিনেত্রী শাওনের বিরুদ্ধে ফেসবুকে আন্দোলনকে ‘সাজানো ঘটনা’ হিসেবে উল্লেখ এবং অবমাননাকর মন্তব্য করার অভিযোগ আনা হয়েছে। অন্যদিকে সাংবাদিক আনিস আলমগীর, সোমা ইসলাম ও মোমিন মেহেদীর বিরুদ্ধেও বিভিন্ন সময়ে কটাক্ষের অভিযোগ উল্লেখ করা হয়েছে। অভিযোগকারীর বক্তব্য এস এম সুইট বলেন, “সম্প্রতি জুলাই বিপ্লবের বিরুদ্ধে কটূক্তি এবং স্মৃতিস্তম্ভ অবমাননার মতো ঘটনা ঘটেছে। যারা এ ধরনের বক্তব্য দিচ্ছে এবং তাদের পক্ষে বয়ান তৈরি করছে, তাদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছি।” পুলিশের অবস্থান ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাসুদ রানা জানান, ছয়জনের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ গ্রহণ করা হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

নিজস্ব প্রতিবেদক জুলাই ৬, ২০২৬ 0

বরিশালের অগ্রণী হাউজিং বিতর্ক : লিটুর স্ত্রীর দাবি বিনিয়োগের পাওনা আদায়ের চেষ্টা

যবিপ্রবি

যবিপ্রবির দেড় কোটি টাকার টেন্ডারে অনিয়মের অভিযোগ: ১৪ সর্বনিম্ন দরদাতাকে বাদ দিয়ে কার্যাদেশ, অতিরিক্ত ব্যয়ের দাবি

৬ ডিআইজি ও ৩ পুলিশ সুপার পদে রদবদল

পুলিশে বড় রদবদল: ঢাকা, রাজশাহী, খুলনা ও বরিশাল রেঞ্জে নতুন ডিআইজি, বদলি তিন পুলিশ সুপার

ফতুল্লায় খুঁটিতে বেঁধে যুবককে পিটিয়ে হত্যা
নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় ‘ছিনতাইয়ের অভিযোগে’ খুঁটিতে বেঁধে মারধর, যুবকের মৃত্যু

নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় কী ঘটেছিল? ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় ছিনতাইয়ের অভিযোগ তুলে সিজান (২৫) নামে এক যুবককে বৈদ্যুতিক খুঁটির সঙ্গে বেঁধে মারধরের পর হত্যার অভিযোগ উঠেছে। একই ঘটনায় অনিক নামে আরেক তরুণ গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। শনিবার (৪ জুলাই) রাতে পশ্চিম মাসদাইর এলাকায় ঘটে যাওয়া এই ঘটনাকে ঘিরে স্থানীয়ভাবে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। নিহত সিজান পশ্চিম মাসদাইর এলাকার বাসিন্দা ইউনুছ ওরফে ইন্নু মিয়ার ছেলে। স্থানীয়দের বক্তব্য: সামাজিক উদ্যোগ নাকি আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়া? স্থানীয় কয়েকজনের দাবি, সম্প্রতি এলাকার একটি মসজিদের ইমাম কাউছারের উদ্যোগে ৩০ থেকে ৪০ সদস্যের একটি সামাজিক সংগঠন গড়ে ওঠে। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, সংগঠনটি এলাকায় অপরাধ ও অসামাজিক কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে কাজ করে। তাদের দাবি, সেই কার্যক্রমের অংশ হিসেবেই সিজানকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। তবে ঘটনাস্থলে ঠিক কী ঘটেছিল, কারা মারধরে অংশ নিয়েছিল এবং কীভাবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়—এসব বিষয়ে এখনো স্পষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি। পরিবারের অভিযোগ নিহতের বাবা ইন্নু মিয়া অভিযোগ করেন, মসজিদের ইমাম কাউছারের নেতৃত্বে একদল কিশোর ও যুবক তার ছেলেকে বাড়ি থেকে ধরে নিয়ে যায়। তার অভিযোগ অনুযায়ী, পরে মাসদাইর মোড়ে একটি বৈদ্যুতিক খুঁটির সঙ্গে সিজানকে বেঁধে পাইপ দিয়ে বেধড়ক মারধর করা হয়। এতে তার ডান পা ভেঙে যায় এবং গুরুতর আহত অবস্থায় তিনি অচেতন হয়ে পড়েন। ইন্নু মিয়ার দাবি, পরে ইমাম কাউছার সিজানের হাতের বাঁধন খুলে দিয়ে তাকে চিকিৎসার জন্য নিয়ে যেতে বলেন। দ্রুত খানপুর হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। ইমাম কাউছারের বক্তব্য অভিযোগের বিষয়ে মসজিদের ইমাম কাউছার ভিন্ন ব্যাখ্যা দিয়েছেন। তার ভাষ্য, "সিজানের বিরুদ্ধে ছিনতাইসহ একাধিক অভিযোগ ছিল। তাকে শাস্তি দেওয়ার জন্য নয়, বরং খারাপ কাজ থেকে বিরত থাকতে বোঝানোর উদ্দেশ্যে বাসা থেকে আনা হয়েছিল। তবে সেখানে উপস্থিত কিছু উত্তেজিত ব্যক্তি তাকে মারধর করেন।" তিনি আরও দাবি করেন, যারা মারধরে অংশ নিয়েছেন তারা তার সংগঠনের সদস্য নন। পুলিশের তদন্ত ফতুল্লা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহবুব আলম জানান, মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। তিনি বলেন, নিহতের শরীরে একাধিক আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে এবং জড়িতদের শনাক্ত করে দ্রুত আইনের আওতায় আনার চেষ্টা চলছে। তদন্তে যেসব প্রশ্নের উত্তর এখনো বাকি ঘটনার পর কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন সামনে এসেছে— সিজানকে কোন আইনি ক্ষমতায় বাসা থেকে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল? কথিত সামাজিক সংগঠনের সদস্যদের ভূমিকা কী ছিল? মারধরে অংশ নেওয়া ব্যক্তিরা কারা? ঘটনাস্থলে উপস্থিত অন্যরা কেন হামলা ঠেকাতে পারেননি? আহত অনিক কীভাবে এই ঘটনার সঙ্গে যুক্ত হলেন? ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনে মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে কী উঠে আসে? এসব প্রশ্নের উত্তর তদন্তের অগ্রগতির সঙ্গে আরও পরিষ্কার হতে পারে।

নিজস্ব প্রতিবেদক জুলাই ৬, ২০২৬ 0
ডিআইজিসহ ৩৩ পুলিশ কর্মকর্তা বাধ্যতামূলক অবসরে

৩৩ পুলিশ কর্মকর্তা বাধ্যতামূলক অবসরে: ডিআইজি ১৪, অতিরিক্ত ডিআইজি ১৮, এসপি ১

বরিশালে ২৪৮ আসামির মামলায় মৃত ব্যক্তিদের নাম: আলোচনায় বিতর্কিত অভিযোগ, তদন্তের নির্দেশ

সাবেক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আবদুল্লাহিল আমান আযমী

আবদুল্লাহিল আমান আযমীকে ভূতাপেক্ষ লেফটেন্যান্ট জেনারেল পদোন্নতি, বকেয়া সুবিধার সঙ্গে ১ কোটি টাকা প্রণোদনা

তুরাগে নিখোঁজের পর উদ্ধার নিহত সুমন
তুরাগে মিছিল, গ্রেপ্তার, নিখোঁজ ও মরদেহ উদ্ধার: ২২ জুন আশুলিয়ায় আসলে কী ঘটেছিল? অনুসন্ধানে যা জানা গেল

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : ২২ জুন আশুলিয়ার তুরাগ নদসংলগ্ন এলাকায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের একটি মিছিল, সাতজন নেতাকর্মীর গ্রেপ্তার, নদীতে ধাওয়া খেয়ে কয়েকজনের নিখোঁজ হওয়ার অভিযোগ এবং পরবর্তী চার দিনে তুরাগ থেকে একাধিক মরদেহ উদ্ধারের ঘটনা দেশজুড়ে ব্যাপক আলোচনা, প্রশ্ন ও বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঘটনাটি ঘিরে নানা ধরনের দাবি, গুজব ও সন্দেহ ছড়িয়ে পড়লেও এখন পর্যন্ত ঘটনার বিষয়ে পরস্পরবিরোধী বক্তব্য সামনে এসেছে। প্রত্যক্ষদর্শী, মিছিলে অংশ নেওয়া এক আওয়ামী লীগ কর্মী, গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের আইনজীবী, নিহতদের পরিবার এবং পুলিশের বক্তব্য বিশ্লেষণ করে দেখা যায়—ঘটনার গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি প্রশ্নের এখনও স্পষ্ট উত্তর মেলেনি। কী ঘটেছিল ২২ জুন? মিছিলে অংশ নেওয়া পরিচয় গোপন রাখা এক আওয়ামী লীগ কর্মীর ভাষ্য অনুযায়ী, দলের ৭৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৬০ থেকে ৬৫ জন নেতাকর্মী তুরাগের বেড়িবাঁধ এলাকায় কর্মসূচি শেষ করে ট্রলারে করে নিরাপদে এলাকা ত্যাগের পরিকল্পনা করেন। তার দাবি, সড়কপথে পুলিশি নজরদারি ও রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের হামলার আশঙ্কা থাকায় তারা নদীপথ বেছে নিয়েছিলেন। তিনি বলেন, প্রথমে কয়েকটি ঘাটে ভিড়তে ব্যর্থ হয়ে শেষ পর্যন্ত আশুলিয়া ঘাটে ট্রলার ভেড়ানো হয়। তার অভিযোগ, ট্রলার ঘাটে পৌঁছানোর সঙ্গে সঙ্গে পুলিশ ও সাদা পোশাকধারী কয়েকজন ব্যক্তি তাদের ধাওয়া দেয়। এ সময় কর্মীরা ছত্রভঙ্গ হয়ে পালানোর চেষ্টা করেন। কেউ নদীতে ঝাঁপ দেন, কেউ বিভিন্ন দিকে ছুটে যান এবং সাতজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার দাবি, প্রাথমিকভাবে সাতজন নিখোঁজ হন। পরে তাদের মধ্যে তিনজনের মরদেহ উদ্ধার হয়েছে। বাকি চারজন জীবিত আছেন বলে তারা তথ্য পেয়েছেন। আইনজীবীর বক্তব্যে কী উঠে এসেছে? গ্রেপ্তার হওয়া সাতজনের আইনজীবী আরিফ সরকার পাভেল জানান, রিমান্ড শুনানির সময় তার মক্কেলরা অভিযোগ করেন যে, মিছিলের তথ্য আগে থেকেই ফাঁস হয়ে যায়। তাদের দাবি অনুযায়ী, আশুলিয়া ঘাটে পৌঁছানোর পর পুলিশ ও সাদা পোশাকধারী কয়েকজন ব্যক্তি ধাওয়া দিলে ট্রলারে থাকা অনেকে নদীতে ঝাঁপিয়ে পড়েন। আসামিদের আরও অভিযোগ, নদীতে ঝাঁপ দেওয়া ব্যক্তিদের লক্ষ্য করে ইট-পাটকেলও নিক্ষেপ করা হয়েছিল। আশুলিয়া এলাকার পরিচয় গোপন রাখা এক প্রত্যক্ষদর্শীও বিবিসি বাংলাকে জানিয়েছেন, সেদিন ঘাট এলাকায় কিছু মানুষের দিকে ইট-পাটকেল ছোড়ার ঘটনা তিনি দেখেছেন। তবে আতঙ্কে দ্রুত স্থান ত্যাগ করায় পরবর্তী পরিস্থিতি তিনি দেখেননি। বিএনপির স্থানীয় নেতারা কী বলছেন? আশুলিয়া থানা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল গফুর দাবি করেন, ঘটনাস্থলে বিএনপির কোনো নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন না। একই ধরনের বক্তব্য দিয়েছেন স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা নূরু সরকারও। তার দাবি, এ ধরনের ঘটনায় দলের কোনো কর্মী জড়িত থাকার তথ্য তিনি পাননি। পুলিশের বক্তব্য আশুলিয়া থানা পুলিশ সাতজনকে গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করলেও নদীতে ধাওয়া খেয়ে কেউ নিখোঁজ হওয়ার অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছে। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই রাশেদুদ জামানের ভাষ্য অনুযায়ী, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বিশেষ অভিযানে গিয়ে বিকেল সাড়ে তিনটার দিকে আশুলিয়া ট্রলার ঘাট থেকে সাতজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার দাবি, পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগেই অন্যরা পালিয়ে যায়। কেউ নদীতে ঝাঁপ দিয়ে নিখোঁজ হয়েছেন—এমন কোনো তথ্য পুলিশের কাছে নেই। তিনি আরও বলেন, পরে তুরাগ নদ থেকে যেসব মরদেহ উদ্ধার হয়েছে, তাদের সঙ্গে ওই অভিযানের কোনো সম্পর্ক নেই। যদিও মামলার এজাহারে ২২ জনের নাম উল্লেখের পাশাপাশি ৪০ থেকে ৪৫ জন অজ্ঞাত ব্যক্তিকেও আসামি করা হয়েছে। মরদেহ উদ্ধারের পর নতুন প্রশ্ন ২২ জুনের পরবর্তী চার দিনে তুরাগ নদ থেকে অন্তত তিনটি মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় নতুন করে আলোচনার সৃষ্টি হয়। মিছিলে অংশ নেওয়া আওয়ামী লীগ কর্মীর দাবি, উদ্ধার হওয়া মরদেহগুলোর মধ্যে আরিফ ও সুমন ২২ জুনের মিছিলে অংশ নিয়েছিলেন এবং সেদিন থেকেই নিখোঁজ ছিলেন। তবে পুলিশ এই দাবি প্রত্যাখ্যান করেছে। সুমনের পরিবারের বক্তব্য নিহত সুমনের পরিবারের পক্ষ থেকে তার খালু জুয়েল বাবু জানান, পরিবার আগে জানত না সুমন আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। ২২ জুন নিখোঁজ হওয়ার খবর তারা মিছিলের অন্য অংশগ্রহণকারীদের কাছ থেকেই জানতে পারেন। পরে আশুলিয়া ব্রিজসংলগ্ন এলাকা থেকে সুমনের মরদেহ উদ্ধারের খবর পুলিশ তাদের জানায়। পরিবারের দাবি, মরদেহে কয়েকটি লালচে দাগ ছিল, যা আঘাতের চিহ্ন হতে পারে বলে তাদের সন্দেহ হয়েছিল। এছাড়া মরদেহ উদ্ধারের সময় চোখও ছিল না। তবে পরিবার শেষ পর্যন্ত অপমৃত্যুর মামলা করে। জুয়েল বাবুর ভাষ্য, পুলিশ জানতে চেয়েছিল কার বিরুদ্ধে মামলা করা হবে। কোনো নির্দিষ্ট অভিযোগ না থাকায় অপমৃত্যুর মামলাই করা হয়। তিনি বলেন, সুমন মিছিলে গিয়েছিলেন—এটি সত্য। তবে পরিবারের পক্ষ থেকে কাউকে দায়ী করা হচ্ছে না। তাদের ধারণা, তিনি পানিতে ডুবে মারা গেছেন। মোবাইল ফোন নিয়ে নতুন তথ্য সুমনের মরদেহ উদ্ধারের সময় তার পকেট থেকে পাঁচটি মোবাইল ফোন উদ্ধার হয়। মিছিলে অংশ নেওয়া আওয়ামী লীগ কর্মীর দাবি, এর মধ্যে তিনটি ফোন অন্য কর্মীদের ছিল। তার ভাষ্য অনুযায়ী, মিছিলের ভিডিও ধারণ কিংবা ভিডিও সংগ্রহের জন্য ফোনগুলো সুমনের কাছে দেওয়া হয়েছিল।   যে প্রশ্নগুলোর উত্তর এখনও মেলেনি ঘটনার পর কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন এখনও অনুত্তরিত রয়ে গেছে— নদীতে ঝাঁপ দিয়ে কেউ নিখোঁজ হয়েছিল কি না; উদ্ধার হওয়া মরদেহগুলোর সঙ্গে ২২ জুনের ঘটনার কোনো সম্পর্ক রয়েছে কি না; ঘটনাস্থলে পুলিশের বাইরে অন্য কোনো পক্ষ উপস্থিত ছিল কি না; ইট-পাটকেল নিক্ষেপের অভিযোগ সত্য কি না; মৃত্যুগুলো নিছক দুর্ঘটনা, নাকি অন্য কোনো ঘটনার ফল। মানবাধিকারকর্মীর মত মানবাধিকারকর্মী নূর খান লিটনের মতে, ঘটনাটি ঘিরে পরস্পরবিরোধী বক্তব্য এবং একাধিক মরদেহ উদ্ধারের কারণে একটি স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্ত প্রয়োজন। তার ভাষায়, কয়েকটি সম্ভাবনাই তদন্তের আওতায় আনা উচিত। তার মতে, নদীতে ধাওয়া খেয়ে ডুবে মৃত্যু যেমন সম্ভব, তেমনি পানিতে হামলা, আটক করে নির্যাতন কিংবা পরে মরদেহ নদীতে ফেলে দেওয়ার অভিযোগও তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করা প্রয়োজন। তিনি বলেন, "কোনটি সত্য, তা কেবল নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমেই স্পষ্ট হতে পারে।" এখনও যেসব বিষয়ে মতভেদ এই ঘটনায় চারটি বড় বিষয়ে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর বক্তব্য একেবারেই ভিন্ন— আওয়ামী লীগ কর্মীদের দাবি, ধাওয়া খেয়ে কয়েকজন নদীতে ঝাঁপ দেন; পুলিশ তা অস্বীকার করছে। পরিবার ও আওয়ামী লীগ কর্মীদের দাবি, উদ্ধার হওয়া অন্তত দুজন মিছিলে ছিলেন; পুলিশ তা মানছে না। ইট-পাটকেল নিক্ষেপের অভিযোগ উঠলেও বিএনপির স্থানীয় নেতারা সম্পৃক্ততার কথা অস্বীকার করেছেন। পুলিশ মরদেহ উদ্ধারের ঘটনাকে পৃথক ঘটনা বলছে; অন্যদিকে মানবাধিকারকর্মীরা পূর্ণাঙ্গ তদন্তের প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দিচ্ছেন। এ কারণে ২২ জুন আশুলিয়ার তুরাগ নদে আসলে কী ঘটেছিল—সে প্রশ্নের নির্ভরযোগ্য ও চূড়ান্ত উত্তর এখনও সামনে আসেনি। ঘটনাটি ঘিরে বিরোধপূর্ণ বক্তব্য ও উদ্ধার হওয়া মরদেহগুলোর প্রেক্ষাপটে একটি স্বাধীন, স্বচ্ছ ও বিশ্বাসযোগ্য তদন্তের দাবি আরও জোরালো হয়ে উঠেছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক জুলাই ৪, ২০২৬ 0
ছয় বছরেও হয়নি সংস্কার

দুই বছরেই ধসে পড়ে ৩২ লাখ টাকার সেতু, ছয় বছরেও সংস্কার নেই: গজারিয়ায় দুর্ভোগে স্থানীয়রা

এক বছরে সেবা খাতে ১২ হাজার ৬৩৩ কোটি টাকার ঘুষ, সরকার বদলালেও কেন থামছে না দুর্নীতি-টিআইবি জরিপ

ফুলছড়ি সরকারি ডিগ্রি কলেজ কেন্দ্রে এইচএসসি পরীক্ষায় ভুল প্রশ্নপত্র বিতরণে ২৫ শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তা

অর্থনীতি

ইসলামী ব্যাংক,

ইসলামী ব্যাংকে আস্থা সংকট কেন কাটছে না?: দেশের বৃহত্তম শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংককে ঘিরে নতুন প্রশ্ন

নিজস্ব প্রতিবেদক জুন ২২, ২০২৬ 0




অপরাধ

ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো

ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকোর বিরুদ্ধে ৩০ বিলিয়ন ডলার জালিয়াতি ও অর্থপাচার অভিযোগে দুদকের অনুসন্ধান

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ২৪, ২০২৬ 0




কৃষি ও জলবায়ু

ধান

শেরপুরে বোরো ধানের দাম কমে লোকসানে কৃষকরা, উৎপাদন খরচও উঠছে না

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ৬, ২০২৬ 0