সৌদি আরবে ইরানের ছোড়া মিসাইলের আঘাতে এক বাংলাদেশি ও এক ভারতীয়সহ দুজন নিহত হয়েছেন। এছাড়া আহত হয়েছেন আরও ১২ জন। আহতদের সবাই বাংলাদেশি।
রোববার বার্তাসংস্থা রয়টার্স দেশটির সিভিল ডিফেন্সের বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে।
সূত্র জানিয়েছে, সৌদির আল-কারজ শহরে রোববার এ হামলার ঘটনা ঘটে। সেখানে একটি আবাসিক এলাকায় মিসাইল আছড়ে পড়ে।
জানা গেছে, মিসাইলটি আঘাত হেনেছে একটি মেইনটেনেন্স এবং ক্লিনিং কোম্পানির ভবনে।
সিভিল ডিফেন্স এক বিবৃতিতে বলেছে, নিহত দুজনের মধ্যে একজন বাংলাদেশি, অপরজন ভারতীয়। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও ১২ জন। তারা সবাই বাংলাদেশের নাগরিক। সূত্র: রয়টার্স
অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের সম্পদ বিবরণী প্রকাশের পর সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী ও তার স্ত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদের হিসাব নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। এক বছরের ব্যবধানে স্বামী ফারুকীর সম্পদ কমলেও স্ত্রী তিশার সম্পদ বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে প্রকাশিত তথ্যে উঠে এসেছে এই চিত্র। প্রকাশিত খতিয়ান অনুযায়ী, জনপ্রিয় অভিনেত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদ এক বছরে অভাবনীয় হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তিশার মোট সম্পদের পরিমাণ ছিল ১ কোটি ৪০ লাখ ৮১ হাজার ৮৬০ টাকা। ঠিক এক বছর পর, ২০২৫ সালের ৩০ জুন সেই সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ৯৯ লাখ ৮৯ হাজার ৫০১ টাকায়। অর্থাৎ মাত্র এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ বেড়েছে ১ কোটি ৫৯ লাখ ৭ হাজার ৬৪১ টাকা, যা আগের বছরের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি। অন্যদিকে সংস্কৃতি উপদেষ্টা ও নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর ক্ষেত্রে দেখা গেছে উল্টো চিত্র। এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ কমেছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তার মোট সম্পদ ছিল ২ কোটি ২৬ লাখ ৯২ হাজার ২৬ টাকা। ২০২৫ সালের ৩০ জুন তা কমে দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ১৫ লাখ ১৮ হাজার ২৬ টাকায়। হিসাব অনুযায়ী, এক বছরে তার সম্পদ কমেছে ১১ লাখ ৭৪ হাজার টাকা। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে গত মঙ্গলবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ প্রধান উপদেষ্টা, উপদেষ্টা ও সমমর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের পাশাপাশি তাদের স্ত্রী বা স্বামীর সম্পদ বিবরণী প্রকাশ করে। একই সময়ে স্বামী-স্ত্রীর সম্পদে এমন ভিন্নমুখী পরিবর্তন স্বাভাবিকভাবেই সাধারণ মানুষের কৌতূহলের জন্ম দিয়েছে। শোবিজ অঙ্গনের জনপ্রিয় দম্পতি হওয়ায় তাদের এই আয়-ব্যয়ের হিসাব এখন টক অব দ্য কান্ট্রি।
২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশে আজ এক ঐতিহাসিক ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ২০০৮ সালের পর এই প্রথম একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হতে যাচ্ছে যেখানে দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগ রাজনৈতিক মানচিত্র থেকে কার্যত অনুপস্থিত। বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক জরিপ বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০০ আসনের মধ্যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) কার্যকর সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে যাচ্ছে। তবে ভোটের ব্যবধান এবং কিছু সমীকরণ নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। নির্বাচনের সবচেয়ে বড় নিয়ামক হয়ে দাঁড়িয়েছে আওয়ামী লীগের বিশাল ভোটব্যাংক। দলটির নিয়মিত প্রায় ৪ কোটি ভোটার এখন নতুন রাজনৈতিক আশ্রয় খুঁজছেন। সিআরএফ বা বিইপিওএস জরিপ বলছে, এই ভোটারদের প্রায় অর্ধেক বিএনপির দিকে ঝুঁকেছে, যা দলটিকে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতার পথে এগিয়ে দিচ্ছে। অন্যদিকে, প্রায় ৩০ শতাংশ আওয়ামী ভোটার জামায়াতে ইসলামীকে বেছে নিতে পারেন বলে আভাস পাওয়া যাচ্ছে। এছাড়া বাংলাদেশের বিদ্যমান নির্বাচনী ব্যবস্থার কারণে দেশজুড়ে সুষম জনসমর্থন থাকা বিএনপি আসন জয়ের ক্ষেত্রে জামায়াতের তুলনায় সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। তবে বিএনপির এই সম্ভাব্য জয়ের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও বিদ্রোহী প্রার্থীরা। প্রায় ৭৯টি নির্বাচনী এলাকায় দলের মনোনয়ন না পাওয়া ৯২ জন প্রভাবশালী নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, যা বিএনপির ১৫ থেকে ৩০টি আসন কমিয়ে দিতে পারে। অন্যদিকে, তরুণ ভোটার বা ‘জেন-জি’ প্রজন্মের বিশাল সমর্থন জামায়াতে ইসলামীর শক্তির উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেশের ৪৪ শতাংশ ভোটারই তরুণ, যাদের বড় একটি অংশ প্রথমবার ভোট দিচ্ছেন। এই তরুণরা যদি দলবেঁধে কেন্দ্রে উপস্থিত হন, তবে নির্বাচনী ফলে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। সবশেষে, প্রায় ১৭ থেকে ৩৫ শতাংশ দোদুল্যমান ভোটার এবং তাদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করবে আগামীর সরকার কতটা শক্তিশালী হবে। দ্য নিউইয়র্ক এডিটোরিয়ালের মূল পূর্বাভাস, তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি প্রায় ১৮৫টি আসনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করতে পারে এবং জামায়াতে ইসলামী ৮০টির মতো আসন পেয়ে প্রধান বিরোধী দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারে। তবে বিদ্রোহী প্রার্থীদের প্রভাব এবং তরুণ ভোটারদের উপস্থিতির ওপর ভিত্তি করে আসন সংখ্যায় বড় ধরনের হেরফের হওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। ৩৫০ একরের ঘাঁটিটিতে সামরিক বাহিনীর পাঁচ হাজার সদস্য থাকতে পারবে। গাজার ‘বোর্ড অব পিস’র নথি পর্যালোচনা করে এ তথ্য জানিয়েছে দ্য গার্ডিয়ান। প্রতিবেদনে ব্রিটিশ সংবাদ মাধ্যমটি জানিয়েছে, বোর্ড অব পিসে গাজাকে নিরাপদ করার জন্য ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যাবিলাইজেশন ফোর্স (আইএসএফ) নামে একটি আন্তর্জাতিক বাহিনী মোতায়েনের কথা বলা হয়েছে। যে স্থানটি ঘাঁটি করার জন্য বিবেচনা করা হচ্ছে সেখানে আইএসএফের সদস্যরা থাকবে। বোর্ড অব পিসের প্রধান হবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আর সংগঠনটির আংশিক নেতৃত্ব দেবেন ট্রাম্পের জামাতা জ্যারার্ড কুশনার।দ্য গার্ডিয়ান বোর্ড অব পিসের নথি পর্যালোচনা করে জানায়, ধাপে ধাপে একটি সামরিক ঘাঁটি নির্মাণ করা হবে। সবকিছু শেষ হলে ঘাঁটিটি ১৫ লাখ ১৭ হাজার ৫৭৫ বর্গমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত হবে। ঘাঁটিটির চারপাশে ট্রেইলার সংযুক্ত ২৬টি সাঁজোয়া নজরদারি টাওয়ার থাকবে। এছাড়া একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, বাংকার ও অস্ত্র রাখার গুদাম থাকবে। পুরো ঘাঁটিটি কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে ঘিরে রাখা হবে। সামরিক ঘাঁটি নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে দক্ষিণ গাজার একটি শুষ্ক সমতলভূমিতে। সেখানে ইসরায়েলি হামলার চিহ্ন রয়েছে। ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে বিভিন্ন ধাতবের ধ্বংসাবশেষ। ওই এলাকার ভিডিও পর্যালোচনা করেছে দ্য গার্ডিয়ান। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, ঘাঁটি নির্মাণের জন্য টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে। যুদ্ধক্ষেত্রে কাজের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন আন্তর্জাতিক নির্মাণ কোম্পানিগুলোর একটি ছোট দলকে ইতোমধ্যেই এলাকাটি দেখানো হয়েছে। ওই দলটি দরপত্রে অংশ নিতে আগ্রহী। ইন্দোনেশিয়া সরকার গাজায় আট হাজার সেনা সদস্য পাঠানোর জন্য প্রস্তাব দিয়েছে। বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটন ডিসিতে বোর্ড অব পিসের অনানুষ্ঠানিক বৈঠকে ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্টের অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। এছাড়া দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার আরও তিন নেতার ওই বৈঠকে অংশ নেবেন বলে জানা গেছে। জাতিসংঘের নিরাপত্তা কাউন্সিল গাজার সাময়িক স্থিতিশীলতার জন্য অস্থায়ীভাবে সামরিক বাহিনী মোতায়েনের অনুমোদন দিয়েছে। নিরাপত্তা কাউন্সিলই বোর্ড অব পিসের মূল হোতা। গাজার সীমান্ত ও শান্তি প্রণয়নে কাজ করবে আইএসএফ। এছাড়া বেসামরিকদের সুরক্ষা এবং ফিলিস্তিনি পুলিশ বাহিনীকে প্রশিক্ষণ ও সহায়তা দেবে তারা। যদি গাজায় ফের সংঘর্ষ হয়, ইসরায়েল বোমা হামলা চালায় অথবা হামাস হামলা চালায় সেক্ষেত্রে আইএসএফ কি করবে তা এখনও স্পষ্ট নয়। গাজা পুনর্গঠনে ইসরায়েল হামাসকে নিরস্ত্রীকরণের যে শর্ত দিয়েছে সেটির জন্য আইএসএফ কাজ করবে কিনা তাও স্পষ্ট না। ইতোমধ্যে বোর্ড অব পিসে ২০ এর অধিক দেশ যোগ দিয়েছে। তবে, এখনও অনেক পরাশক্তি এর থেকে দূরে রয়েছে। জাতিসংঘের অনুমোদন নিয়ে প্রতিষ্ঠিত হলেও ধারণা করা হচ্ছে, সংগঠনটির স্থায়ী নেতৃত্ব ও নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে। রুটজার্স বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক আদিল হক বলেন, “বোর্ড অব পিস এক ধরনের আইনি কল্পসত্তা। নামমাত্রভাবে এর নিজস্ব আন্তর্জাতিক আইনগত সত্তা রয়েছে, যা জাতিসংঘ ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে আলাদা। কিন্তু বাস্তবে এটি যুক্তরাষ্ট্রের ইচ্ছামতো ব্যবহারের জন্য একটি ফাঁপা খোলসমাত্র।” বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গাজা পুনর্গঠনে যে অর্থায়ন ও শাসন কাঠামো হচ্ছে তা অস্বচ্ছ। কয়েকজন ঠিকাদার গার্ডিয়ানকে জানান, গাজায় কাজ করার জন্য মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে তাদের প্রায়শ আলোচনা সরকারি ইমেলের বদলে সিগন্যালের মাধ্যমে করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রের তথ্য মতে, ঘাঁটি নির্মাণের সিদ্ধান্তটি বোর্ড অব পিসের। এতে সহায়তা করছে মার্কিন কর্মকর্তারা। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ঘাঁটিতে তৈরি বাংকার নেটওয়ার্কের মতোন কাজ করবে। প্রতিটি বাংকারের ২৪ মিটারের হবে। উচ্চতা থাকবে আড়াই মিটার। এগুলো এমনভাবে করা হবে যেন সেনা সদস্যরা আশ্রয় নিতে পারে। স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসের গাজায় সুড়ঙ্গ নেটওয়ার্ক বা টানেল রয়েছে। সেগুলোর আদলে নেটওয়ার্ক করতে চাওয়া হচ্ছে। পিস অব বোর্ডের নথি পর্যালোচনা করে এমন দাবি করছে গার্ডিয়ান। সংবাদ মাধ্যমটি বলছে, স্থানটির ভূ-ভৌত জরিপ পরিচালনা করবে ঠিকাদাররা। নথির এক অংশে ‘হিউম্যান রেমিয়েনস প্রোটোকল’র কথা বলা হয়েছে। এর মানে দাঁড়ায়, সন্দেহভাজন মানব অবশিষ্ট বা সাংস্কৃতিক নিদর্শন পাওয়া গেলে অবিলম্বে সেই এলাকায় সব কাজ বন্ধ করতে হবে। চুক্তি কর্মকর্তাকে দিকনির্দেশনার জন্য অবিলম্বে জানাতে হবে। গাজা সিভিল ডিফেন্সের ধারণা, গাজার ধ্বংসস্তূপের নিচে ১০ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনির মরদেহ রয়েছে। ঘাঁটির জন্য যে স্থানটি বিবেচিত করা হচ্ছে সেটির মালিক কে তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে, দক্ষিণ গাজার বেশিরভাগ অংশ বর্তমানে ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণে। জাতিসংঘের অনুমান, যুদ্ধ চলাকালীন ১৯ লাখ ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত হয়েছে। ফিলিস্তিনের জমিতে সরকারের অনুমতি না নিয়ে সামরিক ঘাঁটি স্থাপনকে দখল হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন ফিলিস্তিনি-কানাডিয়ান আইনজীবী এবং প্রাক্তন শান্তি আলোচক দিয়ানা বুট্টু। তিনি প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়ে বলেন, “কার অনুমতিতে তারা সামরিক ঘাঁটি স্থাপন করবে।” বিষয়টি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা বোর্ড অব পিসের কথা টানেন। ট্রাম্প প্রশাসনের একজন কর্মকর্তা সামরিক ঘাঁটির চুক্তি নিয়ে আলোচনা করতে অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, “যেমনটি প্রেসিডেন্ট বলেছেন, কোনও মার্কিন সেনা স্থলভাগে যাবে না। আমরা লিক হওয়া নথি নিয়ে আলোচনা করবো না।”
মামুনুর রশীদ নোমানী,বরিশাল: আসন্ন বরিশাল সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদকে ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে সক্রিয়তা দেখা যাচ্ছে। দক্ষিণাঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ নগর প্রশাসনিক প্রতিষ্ঠান বরিশাল সিটি করপোরেশন এর নির্বাচন স্থানীয় ও জাতীয় রাজনীতিতে সমানভাবে তাৎপর্যপূর্ণ হবে।ইতিমধ্যে নির্বাচন কমিশন ঢাকা উত্তর ও দক্ষিন এবং চট্রগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচনের প্রস্তুতি নেয়ার পরেই বরিশাল নগরজুড়ে এখন এক ধরনের নীরব রাজনৈতিক উত্তাপ। চায়ের দোকান থেকে শুরু করে নদী তীরের আড্ডা—সবখানেই আলোচনা একটাই: আসন্ন বরিশাল সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদে কে হচ্ছেন বিএনপির প্রার্থী? দক্ষিণাঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ এই সিটি করপোরেশন শুধু একটি প্রশাসনিক ইউনিট নয়; এটি বরিশালের রাজনৈতিক স্পন্দনের কেন্দ্র। আর তাই বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)–র সম্ভাব্য মনোনয়ন ঘিরে শুরু হয়েছে জল্পনা–কল্পনা, হিসাব–নিকাশ আর ভেতরের নীরব লবিং। দীর্ঘদিন পর স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশগ্রহণের প্রশ্নে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)'র অবস্থান ও কৌশল রাজনৈতিক মহলে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে। দলটির সম্ভাব্য মনোনয়ন প্রত্যাশীরা ইতোমধ্যে মাঠপর্যায়ে সাংগঠনিক তৎপরতা জোরদার করেছেন। বিএনপির মেয়র পদে মনোনয়ন নিয়ে আলোচনায় যারা : বিএনপির ভেতরে কয়েকজন জ্যেষ্ঠ নেতা ও সাবেক জনপ্রতিনিধির নাম আলোচনায় রয়েছে। তাদের মধ্যে রয়েছেন সাবেক প্যানেল মেয়র আলহাজ্ব কে এম শহিদুল্লাহ,বরিশাল মহানগর বিএনপি'র সাবেক সদস্য সচিব সাবেক ছাত্রনেতা অ্যাডঃ মীর জাহিদুল কবির জাহিদ,মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক মনিরুজ্জামান ফারুক,বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য আবু নাসের রহমাতুল্লাহ,বিএনপির বরিশাল বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক বিলকিস জাহান শিরীন,বিএনপি নেতা এবায়েদুল হক চান ও বরিশাল জেলা বিএনপির সাবেক সাধারন সম্পাদক এ্যাড.নজরুল ইসলাম খান রাজন। এছাড়া বরিশাল মহানগর যুবদলের সাবেক সভাপতি ও কেন্দ্রীয় যুবদলের সাবেক সহ- সভাপতি ও বি এম কলেজ এর সাবেক জি এস এ্যাডভোকেট আকতারুজ্জামান শামীম আলোচনায় রয়েছেন। অভিজ্ঞতার পাল্লা ভারী: দলীয় সূত্র বলছে, এবার প্রার্থী বাছাইয়ে গুরুত্ব পাবে অভিজ্ঞতা ও গ্রহণযোগ্যতা। নির্দিষ্ট কেউকে ঘিরেই আলোচনা সীমাবদ্ধ নয়। কেন্দ্রীয়, জেলা ও মহানগর বিএনপির শীর্ষ পর্যায়ের আরও কয়েকজন নেতা নীরবে মাঠ গুছিয়ে নিচ্ছেন। কেউ কেউ তৃণমূল নেতাকর্মীদের সঙ্গে বৈঠক করছেন, কেউ আবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সক্রিয় হয়ে নিজেদের অবস্থান জানান দিচ্ছেন। দলীয় সূত্রে জানা যায়, তৃণমূলের মতামত, সাংগঠনিক দক্ষতা, অতীত রাজনৈতিক ভূমিকা এবং জনসম্পৃক্ততা এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে চূড়ান্ত প্রার্থী নির্ধারণ করা হবে। চূড়ান্ত মনোনয়নের বিষয়ে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান এর সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত হবে। অন্যদিকে দলীয় একটি সূত্র জানায়, এবার বিএনপিকে এমন প্রার্থী দিতে হবে যিনি সর্বস্তরে গ্রহণযোগ্য। কারণ, মেয়র পদে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ–এর সম্ভাব্য প্রার্থীদের বিষয়টিও রাজনৈতিক সমীকরণে বিবেচনায় রাখতে হবে। দলীয় কৌশল ও চ্যালেঞ্জ : বিএনপি সূত্রে ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে, নির্বাচন অংশগ্রহণের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এলে প্রার্থী নির্ধারণ করবে কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব। সেক্ষেত্রে— *ফ্যাসিস্ট বিরোধী আন্দোলনে ভুমিকা, *জেল জুলম,মামলা হামলা নির্যাতন, *রাজনৈতিক অবস্থান। এসব বিষয় গুরুত্ব পাবে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বরিশালে দলীয় ঐক্য ধরে রাখা এবং গ্রহণযোগ্য প্রার্থী বাছাই করা বিএনপির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। অতীতের নির্বাচনে বিভক্তি বা বিদ্রোহী প্রার্থীর কারণে দল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলেও অনেকে মন্তব্য করেন। ভোটারদের প্রত্যাশা : বরিশাল নগরবাসীর প্রধান দাবি— * জলাবদ্ধতা নিরসন, * সড়ক ও ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন, * পরিচ্ছন্ন নগর ব্যবস্থাপনা, * কর্মসংস্থান ও ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ, মেয়র প্রার্থীদের জন্য এসব ইস্যু হবে নির্বাচনী প্রচারণার মূল প্রতিপাদ্য। বরিশাল সিটি করপোরেশন নির্বাচনকে ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা ক্রমেই বাড়ছে।চূড়ান্ত ঘোষণা না হওয়া পর্যন্ত সম্ভাব্য প্রার্থীদের তৎপরতা ও দলীয় কৌশলই থাকবে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। প্রার্থী ঘোষণার পর নির্বাচনী সমীকরণ আরও স্পষ্ট হবে বলে রাজনৈতিক মহল মনে করছে। বরিশালের রাজনীতির বাতাসে ইতিমধ্যেই নির্বাচনী সুর। বিএনপি শক্ত প্রার্থী দিলে নগর রাজনীতিতে জমে উঠতে পারে লড়াই।এখন সবার দৃষ্টি কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্তের দিকে। কে হবেন বিএনপির ‘নগর সেনাপতি’তার উত্তর মিললেই বরিশাল সিটির নির্বাচনী সমীকরণ আরও স্পষ্ট হয়ে উঠবে। উল্লেখ্য,বরিশাল সিটি করপোরেশ নির্বাচনে ২০১৩ সালে আওয়ামীলীগের মেয়র প্রার্থী শওকত হোসেন হিরনকে পরাজিত করে বিজয়ী হয়েছিলেন তৎকালীন মহানগর বিএনপির সভাপতি ও বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির মৎস্য বিষয়ক সম্পাদক আহসান হাবিব কামাল।২০১৮ সালে আলহাজ্ব মজিবর রহমান সরোয়ার দল থেকে দলীয় মনোনয়ন পেয়েছিলেন।ভোট ডাকাতির মাধ্যমে মেয়র নির্বাচিত হোন সাদিক আব্দুল্লাহ। ২০২৩ সালে অনুষ্ঠিত বরিশাল সিটি নির্বাচনে বিএনপি অংশ নেয়নি।
বাসস : বাবা একজন তাঁত শ্রমিক। তিন বোন দুই ভাইয়ের মধ্যে সবার বড় রোজিনা। অভাব সংসার, তাই এক এতিম যুবকের সাথে বাবা-মা বিয়ে দেন তাকে। বিয়ের পর জন্ম হয় দুই কন্যা সন্তানের। অটোরিকশা চালিয়ে কোন রকম সংসার চালাচ্ছিলেন স্বামী রফিকুল ইসলাম। কিন্তু সড়ক দুর্ঘটনায় রফিকুলের এক চোখ সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যায়। আরেকটি চোখ আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ধীরে ধীরে ওই চোখের দৃষ্টি শক্তিও কমতে থাকে। ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে অটোরিকশা চালানো। সংসারের উপার্জনক্ষম মানুষটি অচল হয়ে পড়ায় চিকিৎসার খরচ, ঘর ভাড়া ও খাবারের পাশাপাশি মেয়েদের লেখাপড়ার খরচ চালানোই কঠিন হয়ে যায়। দিশেহারা হয়ে পরেন রোজিনা। এক পর্যায়ে মানুষের বাড়ি বাড়ি কাজ করে সংসার চালানোর চেস্টা করেন। কিন্তু সুবিধা করতে পারেন না। এমন পরিস্থিতিতে অটোরিকশা চালানোর সিদ্ধান্ত নেন তিনি। স্বামী রফিকুলের কাছেই হাতেখড়ি। গ্রামের স্কুলের মাঠে স্বামীর কাছেই অটোরিকশা চালানোর শিক্ষা নেন তিনি। পরে গ্রামের পথে নেমে পড়েন অটোরিকশা নিয়ে। ৫-৬ দিন এভাবে হাত পাকা করে একদিন টাঙ্গাইল শহরে চলে আসেন রোজিনা। এরপর শুরু করেন অটোরিক্সা চালানোর ব্যতিক্রমী জীবন সংগ্রাম। এখন টাঙ্গাইল পৌরসভায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার চালকদের মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা বেগম। জেলার বাসাইল উপজেলার আইসড়া গ্রামের বাসিন্দা রোজিনা টাঙ্গাইল পৌর শহরের এক প্রান্ত রাবনা বাইপাস থেকে আরেক প্রান্ত বেবিস্ট্যান্ডে যাত্রী আনা নেয়া করেন। যানজটের কারণে শহরে পুরুষ চালকরা যেখানে হিমসিম খায়, সেখানেই বিগত ৫ বছর ধরেই নির্বিঘেœ অটোরিকশা চালাচ্ছেন তিনি। টাঙ্গাইল পৌরসভা কার্যালয় সূত্রে জানা যাায়, টাঙ্গাইল শহরে চলাচলের জন্য ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক ও ৫ হাজার ব্যাটারিচালিত রিকশার অনুমতি (লাইসেন্স) দেওয়া হয়েছে। যানজট এড়াতে ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক জোড় ও বিজোড় সংখ্যায় দিনে দুই ভাগ করা হয়েছে। সকাল থেকে বেলা দুইটা পর্যন্ত এক ভাগ এবং বেলা দুইটা থেকে রাত পর্যন্ত আরেক ভাগের ইজিবাইক চলাচল করার নির্দেশনা দিয়েছে পৌর কর্তৃপক্ষ। কিন্তু রোজিনাকে দুই শিফটে চালানোর অনুমতি দিয়েছে পৌরসভা। সরেজমিনে দেখা যায়, নতুন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অটোরিকশা নিয়ে যাত্রী ডাকছেন রোজিনা। কলেজ গেট, পুরাতন বাসস্ট্যান্ড, ক্যাপসুল, নিরালা মোড়, বেবিস্ট্যান্ড সর্বত্রই যাত্রী আনানেয়া করেন তিনি। পুরাতন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অন্য অটো চালকদের দাঁড় করতে না দিলেও রোজিনাকে বাঁধা দেননা ট্রাফিক পুলিশ। বলতে গেলে সবাই তার প্রতি সহানুভুতিশীল। ট্রাফিক পুলিশসহ অন্য অটোচালকরাও তাকে সহযোগিতা করেন। রোজিনা বলেন, আমার অটোতে নারী যাত্রীরা খুব কম। তারা মনে করে আমার অটোতে উঠলে দুর্ঘটনায় পড়বে। কিন্তু আমি খুব সাবধানে অটো চালাই। দ্রুত গতিতেও না, আবার একেবারে ধীরগতিতেও না। এখন পর্যন্ত আমি কোন দুর্ঘটনার কবলে পড়ি নাই। শহরের পুরুষ অটোরিকশা চালকরা আমাকে অনেক সহযোগিতা করে। অটোচালক কাদের মিয়া বলেন, আমাদের শহরে কয়েক হাজার অটো চলাচল করে। তার মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। তাকে আমরা সব সময় সহযোগিতা করি। যাত্রী সাইদ মিয়া বলেন, আমি এ পর্যন্ত ৫-৬ বার রোজিনার অটোতে চড়েছি। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। অন্য পুরুষ অটো চালকের চেয়েও ভালো অটো চালান। নারী সংগঠক সেরাজুম মনিরা বলেন, তিনি অনেক দিন যাবত অটোরিকশা চালাচ্ছেন। আমি রোজিনাকে স্যালুট জানাই। একজন পুরুষের চেয়ে একজন নারী কোনো ভাবেই যে পিছিয়ে নেই, রোজিনা তা প্রমাণ করেছেন। রোজিনা বলেন, অটো চালানোর এই সিদ্ধান্তটি তার জন্য খুব সহজ ছিল না। তিনি বলেন, ৫ ও ১০ বছরের দুই মেয়েকে বাড়িতে রেখে অটোরিকশা নিয়ে সারাদিন রাস্তায় থাকতে হয়। তাদের ভালোভাবে দেখাশোনা করতে পারি না। কিন্তু কি করবো, অভাবের সংসার! এখন ঋণ নিয়ে একটু জমি কিনেছি। প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ণ প্রকল্পের অর্থায়নে প্রশাসন সেখানে ঘর তুলে দিয়েছে। শুরুতে যারা আমাকে নিয়ে ঠাট্টা করেছে এখন তারাই আমাকে সম্মান করেন। নারীরাও যে কিছু করতে পারে, তা প্রমাণ করেছি। আমার বড় মেয়ে আইসড়া উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়ে, ছোট মেয়ে পড়ে স্থানীয় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। মেয়েদের শিক্ষিত করতে হবে। ধার দেনা শোধ করতে হবে। তাই থেমে গেলো চলবে না। আমি অটোরিকশা চালিয়েই দুই সন্তানকে মানুষ করতে চাই।’ ঘারিন্দা ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য বাবুল সরকার বলেন, সরকার রোজিনাকে একটি ঘর নির্মাণ করে দিয়েছে। শুরুতে যারা তাকে নিয়ে নানান কথা বলতো, এখন তার সংকল্প ও মানষিক দৃঢ়তা দেখে থেমে গেছে। আমরা তাকে নিয়ে গর্ব করি। টাঙ্গাইলের ট্রাফিক ইন্সপেক্টর (প্রশাসন) দেলোয়ার হোসেন বলেন, শহরের একমাত্র নারী চালক রোজিনাকে কেউ যেন বিরক্ত করতে না পারে সেদিকে সব সময় নজর রাখে ট্রাফিক পুলিশ। আমরা তাকে সব সময় সহযোগিতা করে আসছি। টাঙ্গাইলের সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক শাহ আলম বলেন, বিষয়টি এখন জানতে পারলাম। ওই নারী এখনো পর্যন্ত আমাদের কাছে আসেন নাই। যদি আমাদের কাছে এসে আবেদন করেন অবশ্যই তাকে আমরা সহযেগিতা করবো, তার পাশে দাঁড়াবো।
বাবার হত্যার পর খামেনির ছেলেকে ইরান নতুন সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে ঘোষণা করেছে মোজতবা খামেনির বিরুদ্ধে এখন ইসলামিক প্রজাতন্ত্রকে ৪৭ বছরের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় সংকটের মধ্য দিয়ে নেতৃত্ব দেওয়ার অভিযোগ আনা হবে। ইরানের নিহত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির পুত্র মোজতবা খামেনি তেহরানে জেরুজালেম দিবস উপলক্ষে এক বিক্ষোভে যোগ দিয়েছেন। [ফাইল: মোর্তেজা নিকোবাজল/নূরফটো গেটি ইমেজেসের মাধ্যমে] মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলি হামলায় তার বাবা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির হত্যার মাত্র এক সপ্তাহেরও বেশি সময় পরে ইরান মোজতবা খামেনিকে তার নতুন সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে ঘোষণা করেছে, যা পুরো অঞ্চলকে এক বিস্তৃত যুদ্ধে ডুবিয়ে দিয়েছে। ৫৬ বছর বয়সী এই ব্যক্তিকে এখন ইসলামিক প্রজাতন্ত্রকে ৪৭ বছরের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় সংকটের মধ্য দিয়ে নেতৃত্ব দেওয়ার অভিযোগ আনা হবে, রবিবার ধর্মগুরুরা তার বাবার উত্তরসূরি হিসেবে নাম ঘোষণা করেছেন। ইরানের শক্তিশালী ইসলামিক রেভোলিউশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) এবং সশস্ত্র বাহিনী, সকলেই নতুন নেতার প্রতি তাদের সমর্থনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের সচিব আলী লারিজানি, যিনি আমেরিকা ও ইসরায়েলের সর্বাত্মক আক্রমণ শুরু করার পর থেকে ইরানের নিরাপত্তা কৌশল পরিচালনার দায়িত্বে রয়েছেন, তিনি নতুন সর্বোচ্চ নেতার চারপাশে ঐক্যের আহ্বান জানিয়েছেন। ইরানের সংসদের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ এই পছন্দকে স্বাগত জানিয়ে বলেছেন, নতুন সর্বোচ্চ নেতাকে অনুসরণ করা একটি "ধর্মীয় ও জাতীয় কর্তব্য"। মোজতবা খামেনি কখনও পদের জন্য প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেননি বা জনসাধারণের ভোটের শিকার হননি, তবে কয়েক দশক ধরে সর্বোচ্চ নেতার অভ্যন্তরীণ বৃত্তে অত্যন্ত প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব, আইআরজিসির সাথে গভীর সম্পর্ক গড়ে তুলেছেন। সাম্প্রতিক বছরগুলিতে, খামেনিকে তার বাবার সম্ভাব্য শীর্ষস্থানীয় বিকল্প হিসেবে ক্রমবর্ধমানভাবে প্রচার করা হচ্ছে। তার নির্বাচন ইরানের প্রতিষ্ঠানের আরও কট্টরপন্থী গোষ্ঠীগুলির ক্ষমতা ধরে রাখার লক্ষণ হতে পারে এবং এটি ইঙ্গিত দিতে পারে যে যুদ্ধ দ্বিতীয় সপ্তাহে প্রবেশ করায় সরকারের স্বল্পমেয়াদে কোনও চুক্তি বা আলোচনায় সম্মত হওয়ার খুব কম ইচ্ছা রয়েছে। আল জাজিরার আলী হাশেম খামেনিকে তার "পিতার দারোয়ান" হিসেবে বর্ণনা করেছেন। "তিনি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরায়েলের ক্ষেত্রে তার পিতার অবস্থান গ্রহণ করেন। তাই আমরা একজন সংঘাতমূলক নেতার প্রত্যাশা করছি। আমরা কোনও মধ্যপন্থা আশা করছি না," তিনি বলেন। "তবে, যদি এই যুদ্ধ শেষ হয় এবং তিনি এখনও বেঁচে থাকেন এবং তিনি দেশ পরিচালনা চালিয়ে যেতে সক্ষম হন, তাহলে ইরানের জন্য নতুন পথ খুঁজে বের করার বিশাল সম্ভাবনা থাকবে," হাশেম বলেন। আমেরিকান ইউনিভার্সিটি অফ বৈরুতের একজন বিশিষ্ট পাবলিক পলিসি ফেলো রামি খুরি বলেন, খামেনির নিয়োগ "ধারাবাহিকতার" ইঙ্গিত দেয় এবং নতুন সর্বোচ্চ নেতা যুদ্ধের অবসানের জন্য আলোচনার জন্য চাপ দেবেন কিনা তা দেখার বিষয়। আপনার আগ্রহের ভিত্তিতে তাৎক্ষণিক সতর্কতা এবং আপডেট পান। বড় খবর ঘটলে প্রথমেই জানুন। তিনি বলেন, তার নিয়োগ ছিল "অবাধ্যতার একটি কাজ"। তিনি আরও বলেন, ইরান "আমেরিকান এবং ইসরায়েলিদের বলছিল 'আপনি আমাদের ব্যবস্থা থেকে মুক্তি পেতে চান? আচ্ছা ... এটি তার বাবার চেয়েও বেশি উগ্র ব্যক্তি যিনি নিহত হয়েছেন'।" দেশের সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচনের দায়িত্বপ্রাপ্ত বিশেষজ্ঞ পরিষদের সদস্য হায়দারি আলেকাসির বলেন, প্রার্থীকে প্রয়াত খামেনির পরামর্শের ভিত্তিতে নির্বাচিত করা হয়েছে যে ইরানের শীর্ষ নেতাকে "শত্রুদের দ্বারা ঘৃণা করা উচিত" বরং তাদের দ্বারা প্রশংসা করা উচিত। “এমনকি মহান শয়তান (মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র)ও তার নাম উল্লেখ করেছে,” এই জ্যেষ্ঠ ধর্মীয় নেতা বলেন। ট্রাম্পের পূর্বের বক্তব্যের প্রেক্ষিতে তিনি বলেন, মোজতবা খামেনি তার জন্য "অগ্রহণযোগ্য" পছন্দ হবেন। ইসরায়েলি সেনাবাহিনী পূর্বে যেকোনো উত্তরসূরীকে সতর্ক করে দিয়েছিল যে "আমরা আপনাকে লক্ষ্যবস্তু করতে দ্বিধা করব না"। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রপতি ডোনাল্ড ট্রাম্প আবারও ইরানের পরবর্তী সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে কাকে নির্বাচিত করা হবে তার উপর প্রভাব বিস্তারের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, বলেছিলেন যে, ওয়াশিংটনের অনুমোদন ছাড়া, যাকে এই ভূমিকার জন্য নির্বাচিত করা হবে তিনি "দীর্ঘদিন টিকবেন না"। খামেনির ছেলের নির্বাচন নিশ্চিতভাবেই ট্রাম্পকে ক্ষুব্ধ করবে। সর্বোচ্চ নেতা ‘এপস্টাইনের দল’ দ্বারা নির্ধারিত হয়নি ৮৮ সদস্যের বিশেষজ্ঞ পরিষদ রবিবার বলেছে যে "অপরাধী আমেরিকা এবং দুষ্ট ইহুদিবাদী শাসনের নৃশংস আগ্রাসন" সত্ত্বেও, তারা নতুন সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচন করতে "এক মিনিটের জন্যও দ্বিধা করেনি"। এর আগে, ধর্মীয় সংস্থাটি ইঙ্গিত দিয়েছিল যে তারা তাদের পছন্দের বিষয়ে সংখ্যাগরিষ্ঠ ঐক্যমতে পৌঁছেছে, নাম উল্লেখ না করেই, একজন সদস্য বলেছিলেন, "ইমাম খোমেনির পথ এবং শহীদ ইমাম খামেনির পথ বেছে নেওয়া হয়েছে। খামেনির নাম অব্যাহত থাকবে।" খামেনি শিয়া ধর্মতাত্ত্বিক শিক্ষার প্রাণকেন্দ্র কোমের মাদ্রাসাগুলিতে রক্ষণশীল ধর্মীয় নেতাদের অধীনে পড়াশোনা করেছেন এবং হোজ্জাতোলেসলামের ধর্মীয় পদমর্যাদা ধারণ করেছেন। ১৯৭৯ সালের বিপ্লবের নেতৃত্বদানকারী আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেনির স্থলাভিষিক্ত হয়ে ৩৭ বছর ধরে ইরান শাসনকারী আলী খামেনি ২৮ ফেব্রুয়ারি তেহরানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের হামলায় নিহত হন। যুদ্ধের শুরুতেই মধ্যপ্রাচ্যে বিশৃঙ্খলা ছড়িয়ে পড়েছে। ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী ইতিমধ্যেই খামেনির যেকোনো বিকল্পকে হত্যার হুমকি দিয়েছে, অন্যদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, যিনি মনোনয়নের বিষয়ে মতামত দাবি করেছিলেন, বলেছেন যে ইরানের সামরিক বাহিনী এবং শাসকদের নিশ্চিহ্ন করে ফেলা হলেই যুদ্ধ শেষ হতে পারে। ট্রাম্প রবিবার বলেছেন যে ইরানের পরবর্তী নেতা তার অনুমোদন ছাড়া "দীর্ঘদিন" টিকবেন না। "তাকে আমাদের কাছ থেকে অনুমোদন নিতে হবে," ট্রাম্প এবিসি নিউজকে বলেন। "যদি তিনি আমাদের কাছ থেকে অনুমোদন না পান তবে তিনি বেশিদিন টিকবেন না।" ইরানি কর্মকর্তারা দেশের পরবর্তী নেতা নির্বাচনের সাথে জড়িত থাকার জন্য ট্রাম্পের চাপ প্রত্যাখ্যান করেছেন, জোর দিয়ে বলেছেন যে কেবল ইরানিরাই তাদের দেশের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করতে পারে। ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ শুক্রবার মার্কিন প্রেসিডেন্টের এই দাবিকে উপহাস করেছেন যে তিনি খামেনির উত্তরসূরি নিয়োগে তাদের বক্তব্য রাখতে চান। “প্রিয় ইরানের ভাগ্য, যা জীবনের চেয়েও মূল্যবান, তা কেবল গর্বিত ইরানি জাতির দ্বারা নির্ধারিত হবে, [জেফ্রি] এপস্টাইনের দল দ্বারা নয়,” গালিবাফ X-এ লিখেছেন, প্রয়াত যৌন অপরাধীর কথা উল্লেখ করে যার সাথে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ধনী ও ক্ষমতাশালী ব্যক্তিত্বদের সম্পর্ক ছিল। অন্ধকার আকাশ ধর্মগুরুরা নতুন সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচন করার সাথে সাথে, তেহরানের উপর একটি অন্ধকার কুয়াশা ছড়িয়ে পড়ে যখন ইসরায়েল রাতারাতি রাজধানী শহর এবং তার আশেপাশের পাঁচটি তেল স্থাপনায় হামলা চালায়, সেগুলিতে আগুন ধরিয়ে দেয় এবং আকাশ তীব্র ধোঁয়ায় ভরে যায়। যুদ্ধ যখন নবম দিনে পৌঁছে, তখন আইআরজিসি বলে যে তাদের কাছে মধ্যপ্রাচ্যে ছয় মাস পর্যন্ত তাদের ড্রোন এবং ক্ষেপণাস্ত্র যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার জন্য পর্যাপ্ত সরবরাহ রয়েছে। গার্ডের মুখপাত্র আলী মোহাম্মদ নাইনি বলেছেন যে ইরান এখনও পর্যন্ত কেবল প্রথম এবং দ্বিতীয় প্রজন্মের ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করেছে, তবে আগামী দিনে "উন্নত এবং কম ব্যবহৃত দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র" ব্যবহার করবে। ট্রাম্প আবারও ইরানে আমেরিকান স্থল সেনা পাঠানোর বিষয়টি উড়িয়ে দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন, তবে জোর দিয়ে বলেছেন যে চলমান ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র এবং ড্রোন হামলা সত্ত্বেও যুদ্ধ প্রায় জয়ী হয়েছে। বিশ্লেষকরা সতর্ক করে দিচ্ছেন যে মার্কিন ও ইসরায়েলি কর্মকর্তারা বলছেন যে এক মাস বা তার বেশি সময় ধরে চলতে পারে এমন একটি সংঘাতের অবসানের কোনও স্পষ্ট পথ এখনও নেই। মোজতবা খামেনি প্রভাবশালী মোজতবা খামেনি কখনও জনসম্মুখে কোনো নির্বাচনে অংশ নেননি। তবে দীর্ঘদিন ধরে তিনি তার বাবার ঘনিষ্ঠ বৃত্তে প্রভাবশালী ব্যক্তি হিসেবে পরিচিত। বিশ্লেষকদের মতে, আইআরজিসির সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক এবং ক্ষমতাসীন রক্ষণশীল গোষ্ঠীর সমর্থনের কারণেই তাকে উত্তরসূরি হিসেবে বেছে নেওয়া হয়েছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে তাকে আলী খামেনির সম্ভাব্য উত্তরসূরি হিসেবে দেখা হচ্ছিল। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের কঠোর বার্তা যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেছেন, ইরানের পরবর্তী নেতা যদি ওয়াশিংটনের অনুমোদন না পান, তাহলে তিনি “দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থাকতে পারবেন না”। এদিকে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীও সতর্ক করে দিয়েছে যে ইরানের নতুন যেকোনো নেতাকে লক্ষ্যবস্তু করতে তারা দ্বিধা করবে না। তবে ইরানের নেতারা এই মন্তব্য প্রত্যাখ্যান করেছেন এবং বলেছেন, দেশের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করবে কেবল ইরানের জনগণ। চলমান যুদ্ধ আরও তীব্র হতে পারে যুদ্ধ ইতোমধ্যে নবম দিনে পৌঁছেছে। আইআরজিসি জানিয়েছে, তাদের কাছে অন্তত ছয় মাস পর্যন্ত ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার মতো অস্ত্র রয়েছে। গার্ডের মুখপাত্র আলী মোহাম্মদ নাইনি বলেছেন, এখন পর্যন্ত তারা মূলত প্রথম ও দ্বিতীয় প্রজন্মের ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করেছে। ভবিষ্যতে আরও উন্নত দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করা হতে পারে। বিশ্লেষকদের সতর্কবার্তা বিশ্লেষকরা বলছেন, নতুন নেতৃত্ব ক্ষমতায় আসার ফলে ইরানের নীতিতে বড় পরিবর্তনের সম্ভাবনা কম। বরং যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে সংঘাত আরও তীব্র হতে পারে। তবে যদি চলমান যুদ্ধ শেষ হয় এবং নতুন নেতা স্থিতিশীলভাবে ক্ষমতায় থাকতে পারেন, তাহলে ইরানের জন্য নতুন রাজনৈতিক পথ খুঁজে নেওয়ার সুযোগ তৈরি হতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। ইরানের বিভিন্ন সামরিক স্থাপনায় রাতভর বিমান হামলা চালিয়েছে ইসরাইল। একই সময়ে লেবাননেও ইসরাইলি বিমান হামলায় অন্তত ১২ জন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। ইসরাইলি সামরিক বাহিনীর বরাত দিয়ে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা শনিবার (৭ মার্চ) এ তথ্য জানিয়েছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই অভিযানে ইসরাইলের ৮০টির বেশি যুদ্ধবিমান অংশ নেয় এবং তারা মোট ২৩০টি বোমা ও ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে। তেহরানে একাধিক বিস্ফোরণ রাতভর ইরানের বিভিন্ন এলাকায়, বিশেষ করে রাজধানী তেহরানে একাধিক বড় ধরনের বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গেছে। ইসরাইলি সেনাবাহিনী দাবি করেছে, হামলার লক্ষ্য ছিল কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সামরিক স্থাপনা। এর মধ্যে রয়েছে— ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)-এর একটি সামরিক বিশ্ববিদ্যালয় ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ অবকাঠামোর একটি গুদাম ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র সংরক্ষণ ও উৎপাদনের একটি ভূগর্ভস্থ স্থাপনা তবে এসব স্থাপনার সুনির্দিষ্ট অবস্থান সম্পর্কে ইসরাইলি বাহিনী বিস্তারিত কিছু জানায়নি। লেবাননে হামলায় নিহত ১২ এদিকে লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দেশটির পূর্বাঞ্চলীয় বেকা উপত্যকার নাবি শহরে ইসরাইলি বিমান হামলায় অন্তত ১২ জন নিহত এবং ৩৩ জন আহত হয়েছেন। এই হামলার ফলে ওই এলাকায় ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ এবং মানবিক বিপর্যয়ের সৃষ্টি হয়েছে বলে জানিয়েছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ। গত এক সপ্তাহ ধরে ইসরাইলি সামরিক বাহিনী দক্ষিণ লেবানন এবং রাজধানী বৈরুতের দক্ষিণাঞ্চলীয় শহরতলিতে বড় ধরনের উচ্ছেদ আদেশ জারি করায় হাজার হাজার মানুষ এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়েছেন। সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকে লেবাননে এ পর্যন্ত ২০০-র বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। এছাড়া প্রায় ৯৫ হাজার মানুষ ঘরবাড়ি ছেড়ে বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। মানবিক সংস্থাগুলো বলছে, অব্যাহত বোমাবর্ষণ এবং ক্রমবর্ধমান বাস্তুচ্যুত মানুষের কারণে লেবাননের মানবিক পরিস্থিতি অত্যন্ত সংকটজনক হয়ে উঠেছে। সৌদিতে ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত অন্যদিকে সৌদি আরবের একটি গুরুত্বপূর্ণ বিমানঘাঁটিকে লক্ষ্য করে ছোড়া দুটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র আকাশেই ধ্বংস করার দাবি করেছে দেশটির সামরিক বাহিনী। সৌদি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ক্ষেপণাস্ত্র দুটি প্রিন্স সুলতান বিমানঘাঁটিকে লক্ষ্য করে নিক্ষেপ করা হয়েছিল। তবে সেগুলো প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে আকাশেই ধ্বংস করা হয়। এর আগে শনিবারই সৌদি বাহিনী দেশের দক্ষিণাঞ্চলে চারটি ড্রোন এবং একই ঘাঁটিকে লক্ষ্য করে ছোড়া আরও একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত করার দাবি করে। তবে এসব হামলার জন্য কে দায়ী— সে বিষয়ে সৌদি কর্তৃপক্ষ বিস্তারিত কিছু জানায়নি। পাকিস্তানের সামনে নতুন কূটনৈতিক চ্যালেঞ্জ মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত ক্রমশ বিস্তৃত হওয়ায় পাকিস্তানের কূটনৈতিক অবস্থান নিয়েও নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। ইরানের সঙ্গে পাকিস্তানের প্রায় ৯০০ কিলোমিটার দীর্ঘ সীমান্ত রয়েছে, যা ভূ-রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত সংবেদনশীল। অন্যদিকে সৌদি আরব এবং উপসাগরীয় দেশগুলোতে বিপুলসংখ্যক পাকিস্তানি শ্রমিক কর্মরত রয়েছেন, যাদের পাঠানো রেমিট্যান্স দেশটির অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ঐতিহাসিকভাবে সৌদি আরবের সঙ্গে পাকিস্তানের সম্পর্কও অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ। সম্প্রতি দুই দেশের মধ্যে একটি আনুষ্ঠানিক পারস্পরিক প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষর হয়েছে। তবে মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাতের বিস্তার ঘটলে ইসলামাবাদের জন্য দুই পক্ষের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখা ক্রমেই কঠিন হয়ে উঠতে পারে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা। বর্তমান পরিস্থিতিতে আঞ্চলিক যুদ্ধ আরও ছড়িয়ে পড়লে পাকিস্তান কোন অবস্থান নেবে— তা নিয়ে দেশটির ভেতরে ও আন্তর্জাতিক মহলে ব্যাপক আলোচনা চলছে।
মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। ইরানের ইসলামিক রেভ্যুলুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) দাবি করেছে, পারস্য উপসাগরের উত্তরাংশে তারা একটি মার্কিন ট্যাঙ্কারে হামলা চালিয়েছে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র, ইসরাইল এবং তাদের সমর্থনকারী ইউরোপীয় দেশগুলোর সামরিক ও বাণিজ্যিক জাহাজকে হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচল না করার হুঁশিয়ারি দিয়েছে তারা। বৃহস্পতিবার সকালে দেওয়া এক বিবৃতিতে আইআরজিসি জানায়, তাদের নৌবাহিনী পারস্য উপসাগরের উত্তরের একটি এলাকায় যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি ট্যাঙ্কারকে লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে। যদিও এ হামলায় কী ধরনের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বা ট্যাঙ্কারটির অবস্থা কী— সে বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানায়নি তারা। এ খবর প্রকাশ করেছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান তাদের অনলাইন প্রতিবেদনে। হরমুজ প্রণালি নিয়ে কড়া হুঁশিয়ারি আইআরজিসি তাদের বিবৃতিতে আরও বলেছে, যুক্তরাষ্ট্র, ইসরাইল এবং তাদের ইউরোপীয় মিত্রদের কোনো সামরিক বা বাণিজ্যিক জাহাজ যদি হরমুজ প্রণালির আশপাশে দেখা যায়, তাহলে সেগুলোর ওপর হামলা চালানো হতে পারে। বিবৃতিতে বলা হয়, “আমরা আগেও স্পষ্ট করে বলেছি— আন্তর্জাতিক আইন ও বিভিন্ন প্রস্তাবের আলোকে যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতে ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরান হরমুজ প্রণালি দিয়ে যাতায়াত নিয়ন্ত্রণ করার অধিকার রাখে।” তারা দাবি করে, ইরানের নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার স্বার্থে প্রয়োজন হলে ওই গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক পথ ব্যবহার সীমিত বা বন্ধ করে দেওয়া হতে পারে। বিশ্ব বাণিজ্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ পথ হরমুজ প্রণালি বিশ্ব অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি সামুদ্রিক পথ। পারস্য উপসাগরকে ওমান উপসাগর ও আরব সাগরের সঙ্গে যুক্ত করেছে এই সংকীর্ণ জলপথ। বিশ্বের মোট সমুদ্রপথে পরিবাহিত তেলের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই প্রণালি দিয়ে পরিবহন করা হয়। প্রতিদিন লাখ লাখ ব্যারেল তেল এবং বিপুল পরিমাণ তরল প্রাকৃতিক গ্যাস এই পথে আন্তর্জাতিক বাজারে যায়। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই প্রণালিতে কোনো ধরনের সামরিক সংঘাত বা অবরোধ সৃষ্টি হলে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের অস্থিরতা দেখা দিতে পারে। এর প্রভাব পড়তে পারে বিশ্ব অর্থনীতিতেও। যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিক্রিয়া আইআরজিসির এই দাবির পর এখনো যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো বিস্তারিত প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তবে অতীতে ওয়াশিংটন বারবার বলেছে, আন্তর্জাতিক জলপথে জাহাজ চলাচল অবাধ রাখার জন্য তারা প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুত। যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনী দীর্ঘদিন ধরে পারস্য উপসাগর ও হরমুজ প্রণালিতে টহল দিয়ে আসছে। আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচল নিরাপদ রাখতে সেখানে বিভিন্ন সময় বহুজাতিক নৌজোটও গঠন করা হয়েছে। ইরান-যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনার দীর্ঘ ইতিহাস ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে উত্তেজনা বহুদিনের। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক উপস্থিতি, পারমাণবিক কর্মসূচি এবং আঞ্চলিক প্রভাব বিস্তার নিয়ে দুই দেশের মধ্যে বারবার সংঘাতের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। গত কয়েক বছর ধরে পারস্য উপসাগর এলাকায় একাধিকবার ট্যাঙ্কার জব্দ, ড্রোন ভূপাতিত করা এবং নৌবাহিনীর মধ্যে উত্তেজনাপূর্ণ মুখোমুখি অবস্থার ঘটনা ঘটেছে। বিশ্লেষকদের মতে, এসব ঘটনার পেছনে রয়েছে বৃহত্তর ভূরাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা এবং আঞ্চলিক ক্ষমতার ভারসাম্য রক্ষার লড়াই। আন্তর্জাতিক উদ্বেগ হরমুজ প্রণালি ঘিরে নতুন এই উত্তেজনা আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ তৈরি করেছে। অনেক দেশ আশঙ্কা করছে, পরিস্থিতি আরও খারাপ হলে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে বড় ধরনের সংকট দেখা দিতে পারে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের কয়েকজন কূটনীতিক ইতোমধ্যে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা কমানোর আহ্বান জানিয়েছেন। তাদের মতে, সামুদ্রিক বাণিজ্যপথকে সংঘাতের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত করা হলে তার প্রভাব গোটা বিশ্বের ওপর পড়বে। সম্ভাব্য প্রভাব বিশ্লেষকদের মতে, যদি সত্যিই হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল বাধাগ্রস্ত হয়, তাহলে তেলের দাম দ্রুত বেড়ে যেতে পারে। এর ফলে বিশ্বব্যাপী জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা দেখা দিতে পারে এবং অনেক দেশের অর্থনীতিতে চাপ তৈরি হতে পারে। বিশেষ করে তেল আমদানিনির্ভর দেশগুলোর জন্য পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে। পরিস্থিতি নজরে বিশ্ব বর্তমানে আন্তর্জাতিক মহল গভীরভাবে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে। অনেকেই আশঙ্কা করছেন, মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে বড় ধরনের সামরিক উত্তেজনা তৈরি হতে পারে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে কূটনৈতিক উদ্যোগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অন্যথায় পারস্য উপসাগরের গুরুত্বপূর্ণ এই সামুদ্রিক পথ বিশ্ব রাজনীতির নতুন সংঘাতের কেন্দ্রে পরিণত হতে পারে।