Brand logo light

চট্রগ্রাম

গণপূর্তের প্রকৌশলীসহ ৮ জনের বিরুদ্ধে দুদকের মামলা

ক্ষমতার অপব্যবহার, নথি জালিয়াতি ও সরকারি জমি-ভাড়া বাবদ ২৩ কোটি ৬৮ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ ইত্তেহাদ নিউজ, অনলাইন: চট্টগ্রামের আগ্রাবাদ বাণিজ্যিক এলাকায় সরকারি জমি অবৈধভাবে দখলে রাখা এবং বকেয়া ভাড়া পরিশোধ না করে বিপুল অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে আগ্রাবাদ কনভেনশন হলের স্বত্বাধিকারী মোহাম্মদ ফাহিম আহমেদ ও গণপূর্ত বিভাগের সাবেক উপবিভাগীয় প্রকৌশলী মোহাম্মদ শাহ-আলম ফারুক চৌধুরীসহ আটজনের বিরুদ্ধে মামলা করার অনুমোদন দিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। দুদক সূত্রে রোববার (৪ অক্টোবর) এ তথ্য জানা গেছে। দুদকের অভিযোগ অনুযায়ী, আসামিরা পরস্পর যোগসাজশে অর্পিত ক্ষমতার অপব্যবহার করে নিজেদের লাভবান হওয়া এবং অন্যকে লাভবান করার উদ্দেশ্যে ভুয়া রেকর্ডপত্র ব্যবহার করেছেন। এর মাধ্যমে চট্টগ্রামের গুরুত্বপূর্ণ আগ্রাবাদ বাণিজ্যিক এলাকায় ২৪ দশমিক ৯৬ শতক সরকারি জমি অবৈধভাবে দখলে রাখা হয়। অভিযোগ রয়েছে, বকেয়া ভাড়া পরিশোধ না করেও জালিয়াতি ও অপরাধমূলক বিশ্বাসভঙ্গের মাধ্যমে সরকারি অর্থ আত্মসাৎ করা হয়েছে। দুদকের হিসাবে আত্মসাতের পরিমাণ ২৩ কোটি ৬৮ লাখ ৩৯ হাজার ২৬৮ টাকা। সরকারি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার দায়িত্বে ছিলেন শাহ-আলম মামলার অনুমোদন পাওয়া আসামিদের মধ্যে মোহাম্মদ শাহ-আলম ফারুক চৌধুরী বর্তমানে বাগেরহাট গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী হিসেবে কর্মরত বলে উল্লেখ করা হয়েছে। এর আগে তিনি গণপূর্ত অধিদপ্তরের ঢাকা ডিভিশন-২-এর নির্বাহী প্রকৌশলী হিসেবে প্রায় পাঁচ বছর দায়িত্ব পালন করেন। ওই সময়ে তাঁর দায়িত্বের আওতায় ছিল গণভবন, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়সহ রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি সরকারি স্থাপনা। ফলে সরকারি জমি ও স্থাপনা ব্যবস্থাপনার সঙ্গে যুক্ত একজন প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার ও নথি জালিয়াতির মতো অভিযোগ ওঠায় বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। এক বছরের বেশি কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকার অভিযোগ গণপূর্ত অধিদপ্তরের একাধিক প্রকৌশলীর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, শাহ-আলম ফারুক চৌধুরী এক বছরেরও বেশি সময় ধরে বিনা অনুমতিতে কর্মস্থলে অনুপস্থিত রয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। বিশ্বস্ত সূত্রের বরাতে জানা গেছে, তিনি ইতোমধ্যে কানাডায় পাড়ি জমিয়েছেন। তবে তাঁর অনুপস্থিতির বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য এবং কানাডায় অবস্থানের বিষয়টি স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। ২৪ দশমিক ৯৬ শতক সরকারি জমি কীভাবে দখলে? দুদকের অভিযোগের কেন্দ্রে রয়েছে চট্টগ্রামের আগ্রাবাদ বাণিজ্যিক এলাকার ২৪ দশমিক ৯৬ শতক সরকারি জমি। দুদকের ভাষ্য অনুযায়ী, আসামিরা পরস্পর যোগসাজশে ক্ষমতার অপব্যবহার করে ভুয়া রেকর্ডপত্র তৈরি ও ব্যবহার করেন। এসব নথি ব্যবহারের মাধ্যমে সরকারি জমি অবৈধভাবে দখলে রাখা হয়। অভিযোগের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো—জমির বিপরীতে বকেয়া ভাড়া পরিশোধ না করেই বিভিন্ন জালিয়াতি ও অপরাধমূলক বিশ্বাসভঙ্গের মাধ্যমে সরকারি অর্থ আত্মসাৎ করা হয়েছে। দুদকের হিসাব অনুযায়ী, জমি ও ভাড়া বাবদ সরকারি অর্থের মোট ক্ষতির পরিমাণ ২৩ কোটি ৬৮ লাখ ৩৯ হাজার ২৬৮ টাকা। যে ধারায় মামলা অভিযোগের ভিত্তিতে আসামিদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৪০৯, ৪২০, ৪৬৭, ৪৬৮, ৪৭১ ও ১০৯ ধারা এবং ১৯৪৭ সালের দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫(২) ধারায় মামলা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে দুদক। ৪০৯ ধারায় বিশ্বাসভঙ্গ ও দায়িত্বের অপব্যবহার, ৪২০ ধারায় প্রতারণা, ৪৬৭ ও ৪৬৮ ধারায় জাল দলিল ও জালিয়াতি, ৪৭১ ধারায় জাল দলিলকে আসল হিসেবে ব্যবহারের মতো অপরাধের বিধান রয়েছে। আর ১০৯ ধারাটি অপরাধে সহায়তা বা প্ররোচনার সঙ্গে সম্পর্কিত। তবে মামলা অনুমোদন এবং অভিযোগের ভিত্তিতে আসামিদের অপরাধ প্রমাণিত হয়েছে—এমনটি বলা যায় না। আদালতে বিচার ও প্রমাণের ভিত্তিতেই অভিযোগের সত্যতা চূড়ান্তভাবে নির্ধারিত হবে। এখন সামনে কী? সরকারি জমি ব্যবস্থাপনা, নথিপত্রের বৈধতা এবং বিপুল অঙ্কের সরকারি রাজস্ব আদায়ের ক্ষেত্রে দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের ভূমিকা কতটা স্বচ্ছ ছিল—দুদকের মামলায় সেটিই এখন গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে সরকারি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার দায়িত্বে থাকা একজন প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে সরকারি জমি ও অর্থসংক্রান্ত এমন অভিযোগ ওঠায় তাঁর দায়িত্ব পালন, সংশ্লিষ্ট নথিপত্র এবং জমির দখল ও ভাড়া ব্যবস্থাপনার পুরো প্রক্রিয়াটি তদন্তের আওতায় আসতে পারে। দুদকের মামলা এখন সেই অভিযোগগুলোর বিচারিক যাচাইয়ের পথ খুলে দিয়েছে। সামনে তদন্ত ও আদালতের কার্যক্রমে সরকারি জমিটি কীভাবে দখলে গেল, কারা নথি তৈরি বা ব্যবহার করেছেন এবং কীভাবে ২৩ কোটি ৬৮ লাখ ৩৯ হাজার ২৬৮ টাকার আর্থিক ক্ষতির অভিযোগ তৈরি হলো—এসব প্রশ্নের উত্তর আরও স্পষ্ট হওয়ার কথা।

নিজস্ব প্রতিবেদক অক্টোবর ৮, ২০২৬ 0
বন্যায় পাহাড়ধস ও পানি
চট্টগ্রামে বন্যায় ৬ লাখের বেশি মানুষ এখনও পানিবন্দি, ক্ষতিগ্রস্ত ১৪ হাজারের বেশি ঘর

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন :  চট্টগ্রামে টানা বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে সৃষ্ট বন্যা পরিস্থিতি পুরোপুরি কাটেনি। প্রশাসনের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, জেলার ১৬টি উপজেলার ১৭৬টি ইউনিয়নে এখনও ৬ লাখের বেশি মানুষ পানিবন্দি। বন্যায় এ পর্যন্ত ১৪ হাজার ২৮১টি বসতঘর, ২১২টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং ১৪৫টি সেতু ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বিভাগীয় প্রশাসনের তথ্য বলছে, চট্টগ্রাম বিভাগে এই বন্যায় ৮ লাখ ৬৬ হাজার ৬১৪ জন মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। বন্যা, পাহাড়ধস ও পানিতে ডুবে মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫০ জনে; এর মধ্যে চট্টগ্রাম জেলায় ১৩ জন নিহত হয়েছেন। পানি কমলেও দুর্ভোগ কাটেনি শনিবার দিনভর বন্যার পানি কিছুটা কমলেও রাত থেকে নতুন করে বৃষ্টিপাতের কারণে রোববার আবারও পানি বাড়তে শুরু করে। বিশেষ করে সাতকানিয়া ও বাঁশখালী উপজেলার বিস্তীর্ণ এলাকা এখনও পানির নিচে। জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, এই দুই উপজেলাতেই প্রায় ৫ লাখ মানুষ এখনও পানিবন্দি। বাঁশখালী ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স স্টেশনের দায়িত্বপ্রাপ্ত স্টেশন অফিসার মো. মিজানুর রহমান বলেন,   “বাঁশখালীর প্রায় সব এলাকা এখনও পানির নিচে। নৌকা ছাড়া অধিকাংশ স্থানে যাতায়াত করা যাচ্ছে না। শনিবার পানি কিছুটা কমলেও রাত থেকে বৃষ্টিতে আবার পানি বেড়েছে। কাঁচা ঘর ধসে পড়েছে, অসংখ্য বাড়িঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।” ত্রাণ সহায়তায় ঘাটতির অভিযোগ বন্যাদুর্গত মানুষ অভিযোগ করেছেন, পর্যাপ্ত ত্রাণ সহায়তা তাদের কাছে পৌঁছাচ্ছে না। জেলা প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত ৫৫৭ টন চাল এবং ৩০ লাখ ৪০ হাজার টাকা নগদ সহায়তা বিতরণ করা হয়েছে। তবে একই সঙ্গে প্রশাসন জানিয়েছে, বন্যাকবলিত এলাকায় এখনও ৫৬৫ টন চাল, ৮৮ লাখ টাকা নগদ সহায়তা এবং ৪ হাজার ৩৫০ বান্ডিল ঢেউটিনের চাহিদা রয়েছে। অর্থাৎ সরবরাহ ও চাহিদার মধ্যে উল্লেখযোগ্য ব্যবধান রয়েছে, যা দুর্গত মানুষের ভোগান্তি আরও বাড়াচ্ছে। সাতকানিয়া ও বাঁশখালীর সংকট সাতকানিয়ার কেঁওচিয়া, বাজালিয়া, এওচিয়া, ছদাহা, সোনাকানিয়া, ঢেমশা, খাগরিয়া, চরতী ও আমিলাইষ ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ এলাকা এখনও পানিতে তলিয়ে রয়েছে। অনেক সড়ক ডুবে যাওয়ায় যান চলাচল বন্ধ রয়েছে এবং তীব্র স্রোতের কারণে অনেক এলাকায় নৌকা ছাড়া যাতায়াত সম্ভব হচ্ছে না। সাতকানিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা খন্দকার মাহমুদুল হাসান বলেন,   “সাতকানিয়ায় পানি নামতে শুরু করেছে এবং পরিস্থিতির ধীরে ধীরে উন্নতি হচ্ছে। তবে ডলু নদীসংলগ্ন নিচু এলাকা এখনও পানিতে তলিয়ে রয়েছে। ফলে অনেক পরিবার এখনো বাড়ি ফিরতে পারেনি।”   ক্ষয়ক্ষতির চিত্র ক্ষতির ধরন সংখ্যা পানিবন্দি মানুষ ৬ লাখের বেশি ক্ষতিগ্রস্ত বসতঘর ১৪,২৮১টি ক্ষতিগ্রস্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ২১২টি ক্ষতিগ্রস্ত সেতু ১৪৫টি আশ্রয়কেন্দ্র ৬৭০টি আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থানরত মানুষ ২২,৬০০ জন   বিভাগজুড়ে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সংখ্যা জেলা ক্ষতিগ্রস্ত মানুষ চট্টগ্রাম ৬,৬২,০০০ কক্সবাজার ১,৫৮,০২৭ খাগড়াছড়ি ৩৪,৪১৭ বান্দরবান ৮,৩৫০ রাঙামাটি ৩,৮২০ মোট ৮,৬৬,৬১৪   জেলাভিত্তিক মৃত্যুর হিসাব জেলা মৃত্যু কক্সবাজার ২৮ জন চট্টগ্রাম ১৩ জন বান্দরবান ৬ জন রাঙামাটি ৩ জন মোট ৫০ জন   সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা চট্টগ্রামের চন্দনাইশ, লোহাগাড়া, সন্দ্বীপ, বোয়ালখালী, আনোয়ারা, বাঁশখালী, কর্ণফুলী, মীরসরাই, সীতাকুণ্ড, ফটিকছড়ি, রাউজান, রাঙ্গুনিয়া, হাটহাজারী, সাতকানিয়া ও পটিয়া উপজেলার বিভিন্ন এলাকা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। জেলায় ৫৮০টি আশ্রয়কেন্দ্রে ২১ হাজার ৯০০ মানুষ আশ্রয় নিয়েছেন। ত্রাণ কার্যক্রম ও প্রশাসনের বক্তব্য চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার ড. মো. জিয়াউদ্দীন জানিয়েছেন, বন্যাকবলিত এলাকায় উদ্ধার, ত্রাণ বিতরণ এবং ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পুনর্বাসনে জেলা প্রশাসন, সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী, কোস্ট গার্ড, ফায়ার সার্ভিস, স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ও স্থানীয় প্রশাসন সমন্বিতভাবে কাজ করছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় ত্রাণসামগ্রী মজুত রাখা হয়েছে এবং ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তা কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।    সামনে পুনর্বাসনের চ্যালেঞ্জ বন্যার পানি কমতে শুরু করলেও ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সামনে এখন বড় চ্যালেঞ্জ হলো বসতঘর পুনর্নির্মাণ, নিরাপদ পানির ব্যবস্থা, খাদ্য সহায়তা এবং ক্ষতিগ্রস্ত অবকাঠামো পুনরুদ্ধার। বিশেষজ্ঞদের মতে, পাহাড়ি ঢল ও অতিবৃষ্টির কারণে সৃষ্ট আকস্মিক বন্যা মোকাবিলায় দীর্ঘমেয়াদি পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা, ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার মানচিত্রায়ন এবং দ্রুত ত্রাণ সরবরাহ ব্যবস্থার উন্নয়ন জরুরি।   এই প্রতিবেদনটি প্রদত্ত তথ্যের ভিত্তিতে প্রস্তুত করা হয়েছে এবং ভাষা ও কাঠামোকে পাঠকবান্ধব, পেশাদার ও বিবিসি বাংলা স্টাইলের অনুসন্ধানধর্মী উপস্থাপনা অনুসরণ করে সাজানো হয়েছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক জুলাই ১৩, ২০২৬ 0
বন্যার পানিতে তলিয়ে যাওয়া কবরস্থান, ভেলায় লাশ নিয়ে পাহাড়ে দাফন

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন :  চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলাের বন্যাকবলিত একটি গ্রামে পারিবারিক কবরস্থান পানির নিচে তলিয়ে যাওয়ায় এক ব্যক্তির মরদেহ ভেলায় করে নিরাপদ স্থানে নেওয়ার পর দূরের পাহাড়ে দাফন করতে হয়েছে। মৃত ব্যক্তি মোহাম্মদ ফোরকান (৬০), সাতকানিয়া উপজেলার জনার কেঁওচিয়া ইউনিয়নের বাসিন্দা এবং পেশায় একজন অটোরিকশাচালক ছিলেন। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার (১১ জুলাই) বিকেলে তার মৃত্যু হয়। তবে বাড়ি, উঠান, চলাচলের পথ এবং পারিবারিক কবরস্থান বন্যার পানিতে প্লাবিত থাকায় স্বাভাবিকভাবে দাফনের ব্যবস্থা করা সম্ভব হয়নি। প্রতিবেদন অনুযায়ী, পরিবারের সদস্যরা প্রথমে ভেলায় করে মরদেহ প্রায় ৫০০ মিটার দূরে নিরাপদ স্থানে নিয়ে যান। পরে অটোরিকশায় করে আরও প্রায় দুই কিলোমিটার দূরে দস্তিদারহাট এলাকায় নেওয়া হয়, যেখানে গোসল ও দাফনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়। রাত ১০টার দিকে ফকির মুড়া ঈদগাহ মাঠে জানাজা শেষে তাকে পাহাড়ের সরকারি খাস জায়গায় দাফন করা হয়। জানাজায় ইমামতি করেন তার বড় ছেলে হাফেজ রাশেদুল ইসলাম। পারিবারিক কবরস্থানে দাফনের ইচ্ছা পূরণ হলো না মৃতের ছেলে রাসেল উদ্দিন বলেন, বাড়ির পাশেই তাদের পারিবারিক কবরস্থান রয়েছে, যেখানে তার দাদা-দাদিসহ পরিবারের অন্য সদস্যদের কবর রয়েছে।   “বাবা সবসময় ওই কবরস্থানেই দাফনের ইচ্ছা প্রকাশ করতেন। কিন্তু বন্যার কারণে সেই ইচ্ছা পূরণ করা সম্ভব হয়নি। কবরস্থানে কোমরসমান পানি থাকায় বাবাকে দূরের পাহাড়ে দাফন করতে হয়েছে,” বলেন রাসেল উদ্দিন। বন্যা পরিস্থিতি ও মৃত্যুর ঘটনা স্থানীয়রা জানান, টানা বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে সৃষ্ট বন্যায় জনার কেঁওচিয়া ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ এলাকা পানির নিচে তলিয়ে যায়। শুক্রবার সকালে মোহাম্মদ ফোরকান বন্যার পানিতে মাছ ধরছিলেন। এ সময় তিনি হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং পরে বাড়িতে তার মৃত্যু হয়। সাতকানিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা খোন্দকার মাহমুদুল হাসান বলেন, প্রাথমিকভাবে জানা গেছে যে মাছ ধরার সময় ফোরকান স্ট্রোকে আক্রান্ত হন এবং পরে বাড়িতে মারা যান।   “প্রশাসনকে জানানো হলে দাফনের জন্য প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া হতো। এ ধরনের পরিস্থিতি মোকাবিলায় উপজেলা প্রশাসনের স্বেচ্ছাসেবক দল প্রস্তুত ছিল,” বলেন তিনি। স্থানীয় প্রশাসনের বক্তব্য জনার কেঁওচিয়া ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান মো. মহসিন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ইউনিয়নের অধিকাংশ এলাকা এখনো পানিতে নিমজ্জিত রয়েছে।   “বসতবাড়ি, কবরস্থান ও সড়ক প্লাবিত থাকায় লাশ ভেলায় করে নিরাপদ স্থানে নিতে হয়েছে। পরে সরকারি খাস জায়গায় দাফন সম্পন্ন করা হয়,” বলেন তিনি। বন্যার মানবিক প্রভাব টানা বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে প্রায় এক সপ্তাহ ধরে সাতকানিয়া উপজেলার বিস্তীর্ণ এলাকা বন্যাকবলিত রয়েছে। যদিও গত দুই দিনে পানি কিছুটা কমেছে, তবুও পৌরসভাসহ উপজেলার ১৭টি ইউনিয়নের অনেক এলাকা এখনো প্লাবিত রয়েছে। স্থানীয় প্রশাসনের তথ্যমতে, এ পরিস্থিতিতে প্রায় চার লাখ মানুষ পানিবন্দি অবস্থায় রয়েছেন। বাসস্থান, যোগাযোগ ব্যবস্থা, খাদ্যসংগ্রহ এবং দাফন-কাফনের মতো মৌলিক মানবিক প্রয়োজনও বন্যাকবলিত এলাকাগুলোতে চরমভাবে ব্যাহত হয়েছে। মোহাম্মদ ফোরকানের দাফনের ঘটনাটি বন্যার সময় গ্রামীণ এলাকার মানুষের বাস্তব দুর্ভোগের একটি প্রতীকী উদাহরণ হিসেবে স্থানীয়দের মধ্যে আলোচিত হয়েছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক জুলাই ১৩, ২০২৬ 0
পানিবন্দি মানুষ
কুতুবদিয়া ও পেকুয়ায় বেঁড়িবাধ ভেঙে জলাবদ্ধতা: স্লুইসগেট বন্ধ রাখার অভিযোগে তদন্তের দাবি

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন :  কক্সবাজারের কুতুবদিয়া ও পেকুয়া উপজেলায় টানা এক সপ্তাহের ভারি বৃষ্টিতে বেঁড়িবাধ ভেঙে ব্যাপক জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। গত দুদিন বৃষ্টির পরিমাণ কিছুটা কমলেও রোববার সকাল থেকে আবারও ভারি বৃষ্টি শুরু হলে পানির উচ্চতা বাড়তে থাকে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দুই উপজেলার বহু ঘরবাড়ি এখনও পানির নিচে রয়েছে। অনেক পরিবার ঘরছাড়া হয়ে অন্যের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছে, আবার কেউ কেউ নৌকাকে একমাত্র যাতায়াতের মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করছেন। স্লুইসগেট ও কালভার্ট নিয়ে স্থানীয়দের অভিযোগ জলাবদ্ধতার কারণ হিসেবে স্থানীয় বাসিন্দারা শুধু অতিবৃষ্টিকেই দায়ী করছেন না। তাঁদের অভিযোগ, পানি উন্নয়ন বোর্ডের স্লুইসগেট ও কালভার্টগুলোতে পানি চলাচলে বাধা সৃষ্টি করে কিছু অসাধু চক্র মাছ শিকারের ব্যবস্থা করেছে। এতে বৃষ্টির পানি দ্রুত নিষ্কাশিত হতে না পেরে বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়েছে বলে দাবি করেন তাঁরা। স্থানীয় বাসিন্দা ফরিদ আহমেদ বলেন,   “অনেকেই মাছ ধরার জন্য ইচ্ছা করে স্লুইসগেটগুলো বন্ধ করে রাখে। তাদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনা উচিত।” এই অভিযোগের স্বাধীন যাচাই তাৎক্ষণিকভাবে সম্ভব হয়নি। তবে বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়ভাবে ক্ষোভ বাড়ছে। কুতুবদিয়ার যেসব এলাকা বেশি ক্ষতিগ্রস্ত সরেজমিনে দেখা গেছে, কুতুবদিয়া উপজেলার লেমশীখালী ইউনিয়নের মতির বাপের পাড়া, চিন্নি খাইয়ে পাড়া, শাহজীর পাড়া, গাইনে কাটা, নয়াঘোনা ও ধুপি পাড়া পানিতে তলিয়ে গেছে। এ ছাড়া দক্ষিণ ধূরুং ইউনিয়নের কিল্লার পাড়া ও বাতিঘর এলাকা, উত্তর ধূরুং ইউনিয়নের আজিম উদ্দিন সিকদার পাড়া, চাটি পাড়া, জইজ্যার পাড়া, ছাদের ঘোনা, জুম্মা পাড়া ও বাকখালী এলাকায়ও জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত বড়ঘোপ ইউনিয়নের আজম কলোনিতে কোমরসমান পানি জমে রয়েছে। পাশাপাশি আলী আকবর ডেইল ইউনিয়নের পূর্ব তাবালেরচর, আনিছর ডেইল ও জেলে পাড়া; বড়ঘোপ ইউনিয়নের বদাইয়ার পাড়া, মনোহরখালী, মিয়ার ঘোনা, কালাইয়া পাড়া ও দক্ষিণ অমজাখালী; এবং কৈয়ারবিল ইউনিয়নের মলমচর, কিল্লার পাড়া ও নজর আলী মাতবর এলাকায়ও মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। পেকুয়ায় নৌকাই প্রধান যাতায়াতের মাধ্যম পেকুয়া উপজেলার টইটং, বারবাকিয়া, শিলখালী, পেকুয়া সদর, উজানটিয়া, রাজাখালী ও মগনামা ইউনিয়নের অধিকাংশ গ্রাম এখনও পানির নিচে রয়েছে। অনেক এলাকায় রাস্তাঘাট ডুবে যাওয়ায় নৌকাই মানুষের চলাচলের একমাত্র ভরসা হয়ে উঠেছে। উজানটিয়া ইউনিয়নের কয়েকজন বাসিন্দা অভিযোগ করেন, প্রশাসনের কর্মকর্তারা এলাকা পরিদর্শনে এলেও তাঁদের সমস্যার কথা যথাযথভাবে শোনা হয়নি। তাঁরা বলেন,   “রাতে ঘুমাতে পারছি না, ছেলে-মেয়েরা না খেয়ে আছে। আমরা পর্যাপ্ত সাহায্য পাচ্ছি না।” ত্রাণ সহায়তা নিয়ে প্রশ্ন স্থানীয়দের অভিযোগ, দুই উপজেলায় প্রশাসনের পক্ষ থেকে পর্যাপ্ত শুকনো খাবার সরবরাহ করা হয়নি। ফলে অনেক পরিবার খাবার সংকটে দিন কাটাচ্ছে। কৃষক হারুন বলেন,   “বৃষ্টির প্রথম রাতেই আমার ঘরবাড়ি পানিতে তলিয়ে যায়। ঘরের হাঁড়ি-পাতিলসহ অনেক জিনিসপত্র ভেসে গেছে। এখন পরিবার নিয়ে অন্যের ঘরে আশ্রয় নিয়ে আছি।” তিনি আরও বলেন,   “আমার মাছের ঘেরটাই ছিল বেঁচে থাকার একমাত্র উপায়। সেটাও ভেসে গেছে। এখন আমি পুরোপুরি নিঃস্ব।” প্রশাসনের বক্তব্য কুতুবদিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মিজানুর রহমান বলেন,   “স্লুইসগেট ও কালভার্টগুলো নজরদারি করতে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদকে কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। উপজেলা প্রশাসনও বিষয়টি তদারকি করছে। পানিবন্দি পরিবারগুলোর জন্য শুকনো খাবার বিতরণের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।” পেকুয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রফিকুল ইসলাম বলেন,   “আমরা সার্বক্ষণিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছি। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় প্রশাসনের টিম কাজ করছে। সাতটি ইউনিয়নের জন্য ১০ মেট্রিক টন জিআর চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। প্রয়োজনে আরও সহায়তা চাওয়া হবে। শুকনো খাবার বিতরণ কার্যক্রম চলমান রয়েছে।” তদন্তের দাবি কেন জোরালো হচ্ছে স্থানীয়দের অভিযোগ যদি সত্য হয়, তবে এটি শুধু প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঘটনা নয়; বরং পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থাপনায় অনিয়ম বা অব্যবস্থাপনার ইঙ্গিতও বহন করতে পারে। স্লুইসগেট ও কালভার্টের কার্যকারিতা, এগুলোর রক্ষণাবেক্ষণ এবং কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠী ইচ্ছাকৃতভাবে পানি চলাচলে বাধা সৃষ্টি করেছে কি না—এসব বিষয় তদন্তের দাবি তুলেছেন স্থানীয়রা। বিশেষজ্ঞদের মতে, উপকূলীয় অঞ্চলে জলাবদ্ধতা মোকাবিলায় স্লুইসগেট, কালভার্ট ও বেঁড়িবাধের কার্যকর ব্যবস্থাপনা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এসব অবকাঠামো সঠিকভাবে পরিচালিত না হলে অতিবৃষ্টির সময় ক্ষয়ক্ষতির মাত্রা বহুগুণ বেড়ে যেতে পারে।

নিজস্ব প্রতিবেদক জুলাই ১৩, ২০২৬ 0
বন্যাকবলিত চট্টগ্রামে সেনাবাহিনীর ত্রাণ ও সড়ক উদ্ধার তৎপরতা

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন :  টানা ভারী বর্ষণে বন্যাকবলিত চট্টগ্রামের বিভিন্ন এলাকায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনী খাদ্যসামগ্রী, বিশুদ্ধ পানি ও প্রয়োজনীয় সহায়তা পৌঁছে দিয়ে মানবিক সহায়তা কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। একই সঙ্গে ভূমিধসে ক্ষতিগ্রস্ত পাহাড়ি সড়ক দ্রুত সচল করতে সেনাবাহিনী উদ্ধার ও পুনঃসংযোগের কাজ শুরু করেছে। আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) জানিয়েছে, সেনাবাহিনীর ১০ পদাতিক ডিভিশনের উদ্যোগে চট্টগ্রামের সাতকানিয়া, লোহাগাড়া, বাঁশখালী ও আনোয়ারা উপজেলার বন্যাদুর্গত মানুষের মধ্যে প্রয়োজনীয় ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে। পাশাপাশি বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা কার্যক্রমও পরিচালনা করা হয়েছে। এ ছাড়া সেনাবাহিনীর ৭ স্বতন্ত্র এডি ব্রিগেডের উদ্যোগে বাঁশখালী উপজেলার বন্যাকবলিত মানুষের মাঝে ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে বলে আইএসপিআর জানিয়েছে। অন্যদিকে, একটানা ভারী বর্ষণে বান্দরবান জেলার থানচি উপজেলার বান্দরবান-আলীকদম-লাইক্রি সড়কের বিভিন্ন স্থানে ভূমিধসের ঘটনা ঘটেছে। এতে বকলাইপাড়া আর্মি ক্যাম্প-প্রাতা পাড়া সড়ক, বকলাইপাড়া আর্মি ক্যাম্পের প্রবেশপথ এবং ২৩ কিলোমিটার এলাকায় সড়ক যোগাযোগ উল্লেখযোগ্যভাবে ব্যাহত হয়েছে। দুর্যোগপূর্ণ এই পরিস্থিতিতে ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক দ্রুত সচল করতে ঘটনাস্থলে কাজ শুরু করেছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। আজ দিনব্যাপী ১৬ ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের সদস্যরা স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে নিয়ে সড়কে জমে থাকা মাটি ও উপড়ে পড়া গাছ অপসারণে অংশ নেন। বকলাইপাড়া আর্মি ক্যাম্প-প্রাতা পাড়া সড়কে দ্রুত যান চলাচল স্বাভাবিক করতে ১৬ ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের পাশাপাশি ১৭ ইঞ্জিনিয়ার কনস্ট্রাকশন ব্যাটালিয়ন (ইসিবি)ও নিরলসভাবে কাজ করছে। এ ছাড়া ২৩ কিলোমিটার এলাকার ঝুঁকিপূর্ণ অংশে সর্বোচ্চ সতর্কতার সঙ্গে যানবাহন চলাচল নিশ্চিত করতে সেনাসদস্যরা দায়িত্ব পালন করছেন। একই সঙ্গে বকলাইপাড়া আর্মি ক্যাম্পের প্রবেশপথে সৃষ্ট ভূমিধস দ্রুত অপসারণ এবং স্বাভাবিক যোগাযোগ ব্যবস্থা পুনঃস্থাপনের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় রেখে পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সড়ক যোগাযোগ দ্রুত স্বাভাবিক করতে সেনাবাহিনীর সব ধরনের সহায়তা ও কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

নিজস্ব প্রতিবেদক জুলাই ১২, ২০২৬ 0
সাতকানিয়ায় ভয়াবহ বন্যা: পানির নিচে সড়ক-বাড়িঘর, দুর্ভোগে হাজারো মানুষ

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন :  চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলায় টানা বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে সৃষ্ট ভয়াবহ বন্যায় জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। উপজেলার বিস্তীর্ণ এলাকা পানির নিচে তলিয়ে যাওয়ায় সড়ক যোগাযোগ, ব্যবসা-বাণিজ্য, শিক্ষা কার্যক্রম ও স্বাভাবিক জীবনযাত্রা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। বন্যার পানিতে নিম্নাঞ্চলের অসংখ্য বসতবাড়ি প্লাবিত হয়েছে। অনেক পরিবার বাধ্য হয়ে নিরাপদ আশ্রয়ের সন্ধানে অন্যত্র সরে গেছে। স্থানীয়দের ভাষ্য, সাম্প্রতিক বছরগুলোর মধ্যে এবারের পানির উচ্চতা ও স্রোত অনেক বেশি। পানির নিচে সড়ক, থেমে গেছে চলাচল শুক্রবার বিকালে উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, প্রধান সড়কগুলোতে হাঁটু থেকে কোমর সমান পানি জমে আছে। প্রয়োজনীয় কাজে বের হওয়া মানুষকে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পানির মধ্য দিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে। সাতকানিয়া-কেরানীহাট-বান্দরবান সড়কের বাজালিয়া এলাকায় দেখা যায়, বন্যার পানিতে ডুবে থাকা সড়কের ওপর স্থানীয়রা জাল হাতে মাছ ধরছেন। কেউ খাদ্যসামগ্রী সংগ্রহের জন্য পানি মাড়িয়ে এগিয়ে যাচ্ছেন, আবার কেউ পরিবারের খাবারের ব্যবস্থা করতে বন্যার পানিতে নেমেছেন। সড়কের দুই পাশে এখন শুধু পানি আর পানি। অধিকাংশ যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে পড়ায় সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ আরও বেড়েছে। বন্যার মধ্যেও জীবিকার সংগ্রাম স্থানীয় বাসিন্দা মো. নুরুল ইসলাম বলেন, “জীবনে অনেক বন্যা দেখেছি, কিন্তু এবার পানির স্রোত ও পরিমাণ অনেক বেশি। ঘরে পানি ঢুকে গেছে। পরিবারের সদস্যদের নিয়ে নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নিয়েছি।” আরেক বাসিন্দা আবদুল কাদের জানান, দুই দিন ধরে কাজকর্ম বন্ধ রয়েছে। বাজারে যাতায়াত করাও কঠিন হয়ে পড়েছে। তিনি বলেন, “পানিতে মাছ উঠেছে দেখে অনেকে জাল নিয়ে নেমেছে। যা পাওয়া যাচ্ছে, তা দিয়েই সংসার চালানোর চেষ্টা করছি।” ব্যবসা-বাণিজ্যে স্থবিরতা বন্যার কারণে স্থানীয় ব্যবসায়ীরাও বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়েছেন। ব্যবসায়ী মো. সেলিম বলেন, “দোকান বন্ধ রাখতে হয়েছে। সড়কে পানি থাকায় ক্রেতা আসছে না। বিদ্যুৎ ও মোবাইল নেটওয়ার্ক সমস্যার কারণে ব্যবসা-বাণিজ্যও স্থবির হয়ে পড়েছে।” স্থানীয়দের মতে, যোগাযোগ ব্যবস্থা ভেঙে পড়ায় জরুরি পণ্য সরবরাহেও সমস্যা তৈরি হচ্ছে। প্রশাসনের চ্যালেঞ্জ: বিচ্ছিন্ন এলাকায় পৌঁছানো কঠিন সাতকানিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) খোন্দকার মাহমদুল হাসান বলেন, পুরো উপজেলা বর্তমানে বন্যাকবলিত অবস্থায় রয়েছে। তিনি জানান, অনেক এলাকায় যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে এবং নেটওয়ার্ক সমস্যার কারণে সব এলাকার সর্বশেষ তথ্য সংগ্রহ করা কঠিন হচ্ছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রশাসনের পক্ষ থেকে কাজ চলমান রয়েছে। দ্রুত সহায়তার দাবি বন্যাকবলিত এলাকার বাসিন্দারা দ্রুত ত্রাণ সহায়তা বাড়ানো, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পুনর্বাসন এবং যোগাযোগ ব্যবস্থা স্বাভাবিক করার জন্য কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, পাহাড়ি ঢল, অতিবৃষ্টি ও দুর্বল পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থার কারণে চট্টগ্রামের পাহাড়সংলগ্ন এলাকাগুলোতে আকস্মিক বন্যার ঝুঁকি বাড়ছে। সাতকানিয়ার বর্তমান পরিস্থিতি সেই ঝুঁকিরই আরেকটি উদাহরণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক জুলাই ১১, ২০২৬ 0
চট্টগ্রামে ভয়াবহ বন্যা: ৭.৫ লাখ মানুষ পানিবন্দি, ত্রাণ না পৌঁছানোয় সাতকানিয়া-বাঁশখালীতে গভীর মানবিক সংকট

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন :  টানা কয়েক দিনের ভারী বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে চট্টগ্রামের বিস্তীর্ণ এলাকা এখনও পানির নিচে। সবচেয়ে ভয়াবহ পরিস্থিতি সাতকানিয়া ও বাঁশখালী উপজেলায়। প্রশাসনের সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী, জেলার সাতটি উপজেলায় অন্তত ৭ লাখ ৫৪ হাজার ৫৯০ মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। কিন্তু দুর্গম এলাকায় যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন থাকায় প্রয়োজনীয় ত্রাণ ও উদ্ধার সহায়তা এখনও বহু মানুষের কাছে পৌঁছায়নি। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে এখন সবচেয়ে বড় সংকট শুধু বন্যার পানি নয়; বরং খাদ্য, বিশুদ্ধ পানি, বিদ্যুৎ, যোগাযোগ ও আশ্রয়ের বহুমাত্রিক সংকট। স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, সরকারি ত্রাণ কার্যক্রম শুরু হলেও বাস্তবে অনেক মানুষ এখনও সহায়তার বাইরে রয়েছেন। সবচেয়ে সংকটে সাতকানিয়া ও বাঁশখালী জেলা প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, সাতকানিয়া উপজেলার ১৭টি ইউনিয়নের সবকটিই পানির নিচে তলিয়ে গেছে। শুধু এই উপজেলাতেই চার লাখের বেশি মানুষ পানিবন্দি। অন্যদিকে বাঁশখালীর পশ্চিমাঞ্চলের কাথারিয়া, বড়ইতলী, গণ্ডামারা, ডোমরা, কদমরসূল, খানখানাবাদ, বাহারছড়া, চাম্বল, ছনুয়া, শেখেরখীল, সরল, রায়ছাটা ও পুঁইছড়িসহ উপকূলীয় বিস্তীর্ণ এলাকা প্রায় সম্পূর্ণ প্লাবিত হয়েছে। অনেক একতলা বাড়ি পুরোপুরি ডুবে গেছে। কাঁচা ঘর ভেঙে পড়েছে, আর পাকা ও আধাপাকা ঘরের নিচতলায় কোমরসমান পানি জমে রয়েছে। অনেক পরিবার আশ্রয়কেন্দ্রে গেলেও অনেকে এখনও বাড়ির ছাদ কিংবা উঁচু স্থানে আশ্রয় নিয়ে মানবেতর জীবন কাটাচ্ছেন। "রান্না করারও সুযোগ নেই" বাঁশখালীর ছনুয়া ইউনিয়নের বাসিন্দা আনোয়ার সাঈফী বলেন, "বন্যার পানির কারণে ঘরে রান্না করা যাচ্ছে না। সরকারি সহায়তাও তেমন পাওয়া যাচ্ছে না। খাবারের পাশাপাশি বিশুদ্ধ পানির তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে।" স্থানীয়দের অভিযোগ, দুর্গম এলাকায় নৌযান সংকট এবং যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন থাকায় বহু পরিবার এখনও ত্রাণের অপেক্ষায়। বিদ্যুৎহীন জনপদ, বিচ্ছিন্ন যোগাযোগ সাতকানিয়া ও বাঁশখালীর অধিকাংশ এলাকায় কয়েক দিন ধরে বিদ্যুৎ নেই। ফলে— মোবাইল ফোন চার্জ দেওয়া যাচ্ছে না। পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছেন অনেকেই। রাতে পুরো এলাকা অন্ধকারে ডুবে থাকছে। বিশুদ্ধ পানির সংকট আরও প্রকট হয়েছে। রান্না করার সুযোগ না থাকায় শুকনো খাবারের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে। এই পরিস্থিতি বন্যাকে শুধু প্রাকৃতিক দুর্যোগ নয়, বরং একটি মানবিক সংকটে পরিণত করেছে। প্রশাসনের দাবি বনাম বাস্তবতা জেলা প্রশাসন বলছে, ইতোমধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে ত্রাণ বিতরণ শুরু হয়েছে। জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা শুক্রবার সাতকানিয়ার ঢেমশা ইউনিয়ন ও পৌরসভা এলাকা পরিদর্শন করে ৮০০ পরিবারের মধ্যে জরুরি ত্রাণ বিতরণ করেন। প্রতিটি প্যাকেটে ছিল— ১ কেজি মুড়ি ১ কেজি চিড়া ১ কেজি চিনি দুটি বিস্কুট ২ লিটার বিশুদ্ধ পানি চারটি মোমবাতি পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট প্রয়োজনীয় জরুরি ওষুধ তবে প্রশাসনও স্বীকার করেছে, সব এলাকায় এখনও ত্রাণ পৌঁছানো সম্ভব হয়নি। জেলা প্রশাসক বলেন, "অনেক এলাকায় সাধারণ নৌকাও পৌঁছাতে পারছে না। তাই দুর্গম এলাকায় স্পিডবোট ব্যবহার করে উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করা হবে।" সেনাবাহিনীর স্পিডবোট নামছে উদ্ধার অভিযানে দুর্গম এলাকায় উদ্ধার কার্যক্রম জোরদার করতে জেলা প্রশাসনের অনুরোধে শনিবার থেকে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী স্পিডবোট নিয়ে উদ্ধার অভিযানে নামছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোন এলাকায় কতটি স্পিডবোট প্রয়োজন এবং কোথায় অগ্রাধিকার ভিত্তিতে অভিযান চালাতে হবে—সে বিষয়ে সেনাবাহিনীকে লিখিত তালিকা দেওয়া হয়েছে। এরই মধ্যে সাতকানিয়া, বোয়ালখালী, হাটহাজারী ও ফটিকছড়িতে সেনাবাহিনী স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে যৌথভাবে উদ্ধার কার্যক্রম পরিচালনা করছে। সন্দ্বীপে সহায়তা করছে বাংলাদেশ কোস্টগার্ড। পাশাপাশি পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস ও বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির স্বেচ্ছাসেবকেরাও উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন। ক্ষয়ক্ষতির চিত্র জেলা প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী— ১৬টি উপজেলা ও মহানগরের ১৭৬টি ইউনিয়ন ও পৌরসভা ক্ষতিগ্রস্ত। পানিবন্দি ও ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার ১ লাখ ৮৮ হাজার ৬৪৮টি। ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সংখ্যা ৭ লাখ ৫৪ হাজার ৫৯০। পাহাড়ধস, দেয়ালধস ও পানিতে ডুবে এখন পর্যন্ত ১০ জনের মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছেন ৫ জন। ত্রাণের হিসাব এ পর্যন্ত বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে— ৭০০ মেট্রিক টন চাল ৬০ লাখ টাকা এর মধ্যে বিতরণ করা হয়েছে— ৩০০ মেট্রিক টন চাল ৪৩ লাখ টাকা ২২ হাজার ২৫০টি শুকনো খাবারের প্যাকেট ৯ হাজার ৮০০টি রান্না করা খাবারের প্যাকেট বর্তমানে প্রশাসনের মজুদে রয়েছে— আরও ৪০০ মেট্রিক টন চাল ১৭ লাখ টাকা সাতকানিয়ার জন্য আলাদাভাবে ২৫ মেট্রিক টন চাল ও ৯ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। আশ্রয়কেন্দ্রে হাজারো মানুষ জেলায় মোট ৬৭০টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে। বর্তমানে সেখানে আশ্রয় নিয়েছেন ২৩ হাজার ৮৫০ জন। আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে শুকনো খাবারের পাশাপাশি রান্না করা খাবারেরও ব্যবস্থা রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছে প্রশাসন। জেলা প্রশাসনের মতে, গত কয়েক দিনের তুলনায় বৃষ্টির তীব্রতা কিছুটা কমেছে। আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী দুই-এক দিনের মধ্যে বৃষ্টিপাত আরও কমলে পাহাড়ি ঢলের পানিও নেমে যেতে পারে। তবে নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে সাংগু নদীর পানি, যা শনিবার বিপদসীমা অতিক্রম করেছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের সঙ্গে সমন্বয় করে স্লুইসগেট সচল রাখা এবং দ্রুত পানি নিষ্কাশনের কাজ চলছে।  শুধু বন্যা নয়, পরীক্ষায় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনাও চট্টগ্রামের এবারের বন্যা কেবল প্রাকৃতিক দুর্যোগের ভয়াবহতাই নয়, দুর্গম এলাকায় দ্রুত ত্রাণ পৌঁছে দেওয়ার সক্ষমতা, উদ্ধার ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতা এবং দুর্যোগ-পরবর্তী মানবিক সহায়তা ব্যবস্থার কার্যকারিতাকেও নতুন করে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে। যেখানে প্রশাসনের হিসাবে লাখো মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত, সেখানে স্থানীয়দের অভিযোগ—ত্রাণ এখনও অনেকের কাছে পৌঁছেনি। ফলে খাদ্য, বিশুদ্ধ পানি ও চিকিৎসাসেবার সংকট যত দীর্ঘ হবে, মানবিক বিপর্যয়ের ঝুঁকিও তত বাড়বে।

নিজস্ব প্রতিবেদক জুলাই ১১, ২০২৬ 0
কক্সবাজারগামী পর্যটক এক্সপ্রেস ট্রেনের যাত্রা বাতিল করেছে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ
রেললাইন পানিতে ডুবে চট্টগ্রাম–কক্সবাজার রুটে ট্রেন চলাচল বন্ধ, ৮০০ যাত্রীর দুর্ভোগ

 ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : চট্টগ্রামে টানা অতিবৃষ্টির কারণে রেললাইন পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় চট্টগ্রাম–কক্সবাজার রুটে ট্রেন চলাচল বন্ধ রয়েছে। এর আগে, দীর্ঘ ১১ ঘণ্টা আটকে থাকার পর মঙ্গলবার (৭ জুলাই) রাত ১১টার দিকে কক্সবাজারগামী পর্যটক এক্সপ্রেস ট্রেনের যাত্রা বাতিল করে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ। ঢাকার কমলাপুর রেলস্টেশন থেকে ভোর ৬টা ১৫ মিনিটে ছেড়ে আসা ট্রেনটিতে প্রায় ৮০০ যাত্রী ছিলেন। ট্রেনটির বিকেল পৌনে ৩টায় কক্সবাজার পৌঁছানোর কথা ছিল। কিন্তু চট্টগ্রামের ষোলশহর স্টেশনের কাছে দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে এটি আটকে পড়ে। রেলওয়ের তথ্য অনুযায়ী, অতিবৃষ্টির কারণে চট্টগ্রামের বিভিন্ন স্থানে রেললাইনের ওপর পানি জমে যায়। প্রথমে ট্রেনটি মুরাদপুর সুন্নিয়া মাদ্রাসার সামনে আটকে থাকলেও পরে সেটিকে সরিয়ে ষোলশহর রেলওয়ে স্টেশনের সামনে নেওয়া হয়। রেললাইনে ২০ ইঞ্চি পানি রেলওয়ের চট্টগ্রাম বিভাগীয় পরিবহন কর্মকর্তা ফারহান মাহমুদ বলেন, রেললাইনের ওপর প্রায় ২০ ইঞ্চি পানি জমে ছিল।   “পানি অন্তত ছয় ইঞ্চিতে না নামলে ট্রেনের ইঞ্জিন চালানো সম্ভব নয়। সন্ধ্যার দিকে পানি কিছুটা কমলেও রাতে বৃষ্টি বেড়ে যাওয়ায় পানি আবার বাড়তে শুরু করে। এ কারণে পরিস্থিতি বিবেচনা করে যাত্রীদের সুরক্ষায় রাত ১১টার দিকে আমরা ট্রেনটির যাত্রা বাতিল করতে বাধ্য হয়েছি,” বলেন তিনি। যাত্রীদের দীর্ঘ দুর্ভোগ ট্রেনটির যাত্রা বাতিলের ঘোষণা আসে গভীর রাতে। এতে ট্রেনে থাকা শিশু, বৃদ্ধ ও অন্যান্য যাত্রীরা চরম দুর্ভোগে পড়েন। দীর্ঘ সময় ট্রেনে আটকে থাকার কারণে খাবার, বিশ্রাম ও গন্তব্যে পৌঁছানো নিয়ে যাত্রীদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়। অনেক যাত্রীকে পরে বিকল্প ব্যবস্থায় গন্তব্যে যাওয়ার চেষ্টা করতে দেখা যায়। সকাল থেকেও ট্রেন চলাচল বন্ধ ষোলশহর রেলওয়ে স্টেশন মাস্টার আরিফুল ইসলাম জানান, বুধবার সকাল থেকেও চট্টগ্রাম–কক্সবাজার রুটে কোনো ট্রেন চলাচল করেনি।   “এখনও রেললাইনে পানি জমে আছে। পানি সরে গেলে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক হবে,” বলেন তিনি। ঘটনার তাৎপর্য চট্টগ্রাম–কক্সবাজার রুটটি পর্যটন ও বাণিজ্যিক যোগাযোগের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। এই রুটে ট্রেন চলাচল বন্ধ থাকায় শুধু কক্সবাজারগামী পর্যটকরাই নন, স্থানীয় যাত্রীদেরও দুর্ভোগের মুখে পড়তে হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্ষা মৌসুমে রেললাইন প্লাবিত হওয়ার ঘটনা রেল অবকাঠামোর জলাবদ্ধতা-সংক্রান্ত ঝুঁকির বিষয়টিকে সামনে নিয়ে এসেছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক জুলাই ৯, ২০২৬ 0
উখিয়ার ৫ নম্বর রোহিঙ্গা আশ্রয়শিবিরে পাহাড়ধসে একটি মাদ্রাসা ও হেফজখানার ওপর পড়ে
উখিয়ায় পাহাড়ধসে রোহিঙ্গা মাদ্রাসায় ৮ শিশুর মৃত্যু

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : কক্সবাজারের উখিয়ার ৫ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ভারী বর্ষণের মধ্যে পাহাড়ধসে একটি মহিলা মাদ্রাসা ও হেফজখানার ওপর মাটি ও ধ্বংসাবশেষ চাপা পড়ে অন্তত আট শিশুশিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়েছে। আহত অবস্থায় জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে আরও ১৩ শিশুকে। বুধবার (৮ জুলাই) দুপুর ২টার দিকে ক্যাম্পের এ-৩ ব্লকে অবস্থিত খাদিজাতুল কুবরা মহিলা মাদ্রাসা ও হেফজখানায় এই দুর্ঘটনা ঘটে। সন্ধ্যা ৬টার দিকে ফায়ার সার্ভিসের নেতৃত্বে পরিচালিত উদ্ধার অভিযান শেষ হয়। ঘটনার সারসংক্ষেপ স্থান: উখিয়া, কক্সবাজারের ৫ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্প, এ-৩ ব্লক সময়: বুধবার (৮ জুলাই), দুপুর প্রায় ২টা নিহত: ৮ শিশুশিক্ষার্থী জীবিত উদ্ধার: ১৩ শিশুশিক্ষার্থী আহতদের চিকিৎসা: ক্যাম্প-৩-এর জিকে হাসপাতাল, ক্যাম্প-৫-এর ফ্রেন্ডশিপ হাসপাতাল ও ক্যাম্প-৬-এর আইআরসি হাসপাতালে উদ্ধারকারী সংস্থা: ফায়ার সার্ভিস, সিসিসিএম স্বেচ্ছাসেবক, এপিবিএন ও ক্যাম্প প্রশাসন   কীভাবে ঘটল দুর্ঘটনা ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয় প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, টানা ভারী বর্ষণের মধ্যে দুপুরে পাহাড়ের একটি বড় অংশ ধসে পড়ে। ধসের সঙ্গে পাহাড়ের খাদে নির্মিত একটি দেয়াল ভেঙে মাদ্রাসা ও হেফজখানার ওপর আছড়ে পড়ে। দুর্ঘটনার সময় সেখানে সাত থেকে ১৫ বছর বয়সী মেয়েশিশুরা কোরআন শিক্ষা নিচ্ছিল। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, হঠাৎ বিকট শব্দের পর মাটি ও ধ্বংসাবশেষে শ্রেণিকক্ষটি চাপা পড়ে যায়। মুহূর্তের মধ্যে এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। উদ্ধার অভিযান খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করে। তাদের সঙ্গে যোগ দেন এপিবিএন সদস্য, স্থানীয় রোহিঙ্গা স্বেচ্ছাসেবক এবং বিভিন্ন মানবিক সংস্থার কর্মীরা। প্রায় চার ঘণ্টা অভিযান চালিয়ে আট শিশুর মরদেহ উদ্ধার করা হয় এবং ১৩ শিশুকে জীবিত উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়। উদ্ধার কার্যক্রম তদারকি করেন শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনারের (আরআরআরসি) কার্যালয়ের কর্মকর্তারা।   সরকারি তথ্য   “পাহাড় ধসে ক্ষতিগ্রস্ত ক্যাম্প-৫ এলাকা থেকে এ পর্যন্ত আট জনের মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। এর মধ্যে চার জন ঘটনাস্থলেই এবং অপর চার জন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায়। ১৩ শিশুকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে।” — মোহাম্মদ মিজানুর রহমান, শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার (আরআরআরসি) আরআরআরসি জানিয়েছে, আহত শিশুদের বিভিন্ন স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ভর্তি করা হয়েছে এবং তাদের চিকিৎসা চলছে। নিহতদের পরিচয় নিহত আট শিশুর মধ্যে চার জনের পরিচয় পাওয়া গেছে। তারা হলেন: রাশিদা বেগম (১৩) উম্মে নেজাতুল (১৩) উম্মে সালমা (১২) উমাইসা বিবি (১৩) অপর শিশুদের পরিচয় শনাক্তের কাজ চলছিল বলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। শিক্ষিকার বর্ণনায় দুর্ঘটনার মুহূর্ত   “আমাদের এখানে ২৫ জনের মতো শিশু পড়ছিল। হঠাৎ বিকট শব্দে পাহাড়ধসে খাদে নির্মিত দেয়াল মাদ্রাসার ওপর ধসে পড়ে। মুহূর্তেই চারদিক ধুলায় অন্ধকার হয়ে যায়। আমরা সবাই মাটির নিচে চাপা পড়ি। পশ্চিম পাশের দরজাটি খোলা থাকায় কয়েকজন বের হতে পেরেছিলাম, কিন্তু পূর্ব পাশে থাকা অনেক শিশু বের হওয়ার সুযোগ পায়নি।” — বেগম জাহান, শিক্ষিকা তিনি আরও বলেন, সাত জন নারী শিক্ষক সেখানে পাঠদান করাচ্ছিলেন এবং প্রায় ২৫ জন শিক্ষার্থী কোরআন শিক্ষা নিচ্ছিল। ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থান ও তদন্তের প্রশ্ন দুর্ঘটনাস্থলটি পাহাড়ের পাদদেশে অবস্থিত ছিল। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, সকাল থেকেই আশ্রয়শিবিরে ভারী বর্ষণ হচ্ছিল এবং বৃষ্টির পানি পাহাড়ি মাটি নরম করে দেয়। এই ঘটনার পর কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন সামনে এসেছে: মাদ্রাসা ও হেফজখানাটি পাহাড়ের এত কাছে কেন নির্মিত হয়েছিল? বর্ষা মৌসুমে ঝুঁকিপূর্ণ স্থাপনার বিষয়ে আগাম সতর্কতা বা স্থানান্তর ব্যবস্থা ছিল কি? রোহিঙ্গা ক্যাম্পে পাহাড়ধসপ্রবণ এলাকা চিহ্নিত করে নিয়মিত পর্যবেক্ষণ কতটা কার্যকর? ক্যাম্প এলাকায় পাহাড়ধসের ঝুঁকি কক্সবাজারের রোহিঙ্গা আশ্রয়শিবিরগুলো দীর্ঘদিন ধরেই পাহাড়ধসের ঝুঁকিতে রয়েছে। অতিরিক্ত জনসংখ্যার চাপ, পাহাড় কেটে বসতি স্থাপন, অস্থায়ী কাঠামো নির্মাণ এবং বর্ষাকালে ভারী বৃষ্টিপাত—সব মিলিয়ে এসব এলাকা দুর্যোগের জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। বিশেষজ্ঞদের মতে, ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও বসতি স্থাপনের ক্ষেত্রে নিয়মিত নিরাপত্তা মূল্যায়ন, ঢাল সংরক্ষণ এবং প্রয়োজন হলে স্থানান্তর ব্যবস্থা জোরদার করা জরুরি।   উখিয়ার ৫ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পে এই পাহাড়ধস শুধু একটি দুর্ঘটনা নয়; এটি শরণার্থী শিবিরে বসবাসরত শিশুদের নিরাপত্তা, অবকাঠামোগত ঝুঁকি এবং দুর্যোগ প্রস্তুতির সীমাবদ্ধতার প্রশ্নও সামনে নিয়ে এসেছে। আট শিশুশিক্ষার্থীর মৃত্যুতে ক্যাম্পজুড়ে শোক নেমে এসেছে, আর জীবিত উদ্ধার হওয়া শিশুদের চিকিৎসা চলছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক জুলাই ৯, ২০২৬ 0
কক্সবাজারে এক রাতে ১১ প্রাণহানি: পাহাড়ধস কি শুধু প্রাকৃতিক দুর্যোগ, নাকি দীর্ঘদিনের অব্যবস্থাপনার পরিণতি

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : টানা ভারি বর্ষণের এক রাতেই কক্সবাজারে পাহাড়ধসে নারী ও শিশুসহ অন্তত ১১ জনের মৃত্যু হয়েছে। নিহতদের মধ্যে আটজন রোহিঙ্গা শরণার্থী, একজন স্থানীয় বাসিন্দা এবং পেকুয়ায় মারা যাওয়া এক শিশুও রয়েছেন। সবচেয়ে ভয়াবহ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে উখিয়ার তিনটি রোহিঙ্গা ক্যাম্পে, যেখানে কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে একাধিক পাহাড়ধসে একই পরিবারের সাতজনসহ মোট আটজন প্রাণ হারিয়েছেন। ঘটনার পর প্রশাসন এটিকে প্রাকৃতিক দুর্যোগের পাশাপাশি দীর্ঘদিনের ঝুঁকি ও অবৈধ পাহাড় কাটার পরিণতি হিসেবে দেখছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, পাহাড়ের পাদদেশে অনিয়ন্ত্রিত বসতি, অপরিকল্পিত পাহাড় কাটা এবং টানা বর্ষণের সম্মিলিত প্রভাবে এ ধরনের প্রাণঘাতী দুর্ঘটনা ক্রমেই বাড়ছে। এক রাতে চার স্থানে পাহাড়ধস রোববার গভীর রাত থেকে সোমবার ভোরের মধ্যে উখিয়ার ৭, ১১ ও ১৫ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্প এবং কক্সবাজার শহরের ছাত্তার ঘোনা এলাকায় পৃথক পাহাড়ধসের ঘটনা ঘটে। একই সময় পেকুয়ায়ও পাহাড়ধসে প্রাণ হারায় এক শিশু। মঙ্গলবার দুপুরে কক্সবাজার সদরের দরিয়ানগর এলাকায় আরেকটি পাহাড়ধসে এক নারীর মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় শিশুসহ চারজন আহত হন। জামতলীর ট্র্যাজেডি: একই পরিবারের তিনজনের মৃত্যু সবচেয়ে মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে উখিয়ার পালংখালী ইউনিয়নের ১৫ নম্বর জামতলী রোহিঙ্গা ক্যাম্পের ডি-৬ ব্লকে। রাত দেড়টার দিকে পাহাড়ের বিশাল অংশ ধসে পড়ে মোহাম্মদ কামাল হোসাইনের বসতঘরের ওপর। মুহূর্তেই ঘরটি মাটির নিচে চাপা পড়ে যায়। উদ্ধার অভিযানে নিহত হন— কামাল হোসাইন (৪৪) তার স্ত্রী হুমায়রা বেগম (৩৯) তাদের চার বছরের ছেলে মোহাম্মদ আনাস পরিবারের ১০ সদস্য ঘুমিয়ে থাকলেও অলৌকিকভাবে সাতজন জীবিত উদ্ধার হন। তবে তাদের সবাই আহত। উখিয়া ফায়ার সার্ভিস কর্মকর্তা ডলার ত্রিপুরা জানান, দুর্গম ও ঝুঁকিপূর্ণ পরিবেশে রাতভর উদ্ধার অভিযান চালিয়ে তিনজনের মরদেহ এবং দুইজনকে গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে আরও পাঁচ প্রাণহানি জামতলীর ঘটনার কিছুক্ষণ পর রাত ২টার দিকে কুতুপালং ৭ নম্বর ক্যাম্পে পাহাড়ধসে একরাম (৭) নামে এক শিশুর মৃত্যু হয়। এর প্রায় দেড় ঘণ্টা পর বালুখালী ১১ নম্বর ক্যাম্পের সি-১১ ব্লকে আরেকটি পাহাড়ধসে একই পরিবারের চার সদস্য নিহত হন। তারা হলেন— উম্মে হাবিবা (২৭) তানজিনা আক্তার (১৩) মোহাম্মদ রিহান (৫) হারুনুর রশিদ (৩) ক্যাম্পের বাইরে স্থানীয় বাসিন্দারও মৃত্যু রাত তিনটার দিকে কক্সবাজার শহরের ১২ নম্বর ওয়ার্ডের ছাত্তার ঘোনা এলাকায় পাহাড়ধসে আলী আকবর নামে এক স্থানীয় বাসিন্দা গুরুতর আহত হন। হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। অন্যদিকে, পেকুয়া উপজেলার টৈটং ইউনিয়নের খলিফা মুরা আলিম্যার ঝিরি এলাকায় সোমবার দুপুরে পাহাড়ধসে সাত বছরের শিশু মো. মিনহাজ উদ্দিনের মৃত্যু হয়। প্রশাসনের হিসাব কক্সবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. অহিদুর রহমান জানান, পাহাড়ধসে নিহতদের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য কক্সবাজার সদর হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। আবহাওয়ার উন্নতি না হওয়া পর্যন্ত পাহাড়ের পাদদেশ ও ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় অবস্থান না করার জন্য সবাইকে অনুরোধ করা হয়েছে। আতঙ্কের নাম বর্ষাকাল রোহিঙ্গা ক্যাম্পে বসবাসকারী আবদুস সালাম ও মাহ আলম বলেন, বর্ষা মৌসুম এলেই তাদের জীবনে নেমে আসে স্থায়ী আতঙ্ক। তাদের ভাষ্য, অধিকাংশ ঘর পাহাড় কেটে তৈরি ঢালের ওপর বাঁশ, ত্রিপল ও অস্থায়ী উপকরণ দিয়ে নির্মিত। ভারি বৃষ্টিতে মাটি নরম হয়ে গেলে সামান্য ধসও মুহূর্তের মধ্যে পুরো পরিবারকে চাপা দিতে পারে। ঝুঁকিতে প্রায় তিন লাখ মানুষ শুধু রোহিঙ্গা ক্যাম্প নয়, কক্সবাজার সদর, উখিয়া ও রামুর পাহাড়ঘেরা এলাকাগুলোতেও প্রায় তিন লাখ মানুষ পাহাড়ের পাদদেশ বা ভূমিধসপ্রবণ এলাকায় বসবাস করছেন। টানা বৃষ্টির কারণে এসব এলাকায় নতুন করে ভূমিধসের আশঙ্কা তৈরি হওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে উৎকণ্ঠা বাড়ছে। অবৈধ পাহাড় কাটা নিয়ে প্রশাসনের কঠোর বক্তব্য শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার (আরআরআরসি) মোহাম্মদ মিজানুর রহমান বলেন, ক্যাম্পের বিভিন্ন স্থানে স্থানীয় ও কিছু রোহিঙ্গার অবৈধ পাহাড় কাটার কারণে বহু এলাকা চরম ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। তার দাবি, বারবার সতর্ক করার পরও একটি অসাধু চক্র পাহাড় কাটা অব্যাহত রেখেছে। তিনি বলেন, এই ঘটনা শুধু একটি প্রাকৃতিক দুর্ঘটনা নয়; অবৈধভাবে পাহাড় কেটে ঝুঁকিপূর্ণ পরিবেশ তৈরির কারণে এটি এক ধরনের মানবসৃষ্ট বিপর্যয়। এ কাজে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন। প্রকৃতির সঙ্গে মানুষের হস্তক্ষেপের সংঘর্ষ প্রতিবছর বর্ষা এলেই কক্সবাজারে পাহাড়ধসের ঝুঁকি সামনে আসে। কিন্তু একই ধরনের প্রাণহানি বারবার ঘটলেও ঝুঁকিপূর্ণ বসতি সরানো, পাহাড় কাটা বন্ধ করা এবং নিরাপদ পুনর্বাসনের মতো দীর্ঘমেয়াদি উদ্যোগ এখনো কাঙ্ক্ষিত পর্যায়ে পৌঁছায়নি। এবারের ঘটনাও সেই বাস্তবতাকেই নতুন করে সামনে নিয়ে এসেছে। যেখানে টানা বৃষ্টি ছিল তাৎক্ষণিক কারণ, আর অনিয়ন্ত্রিত পাহাড় কাটা, ঝুঁকিপূর্ণ বসতি এবং দুর্বল প্রতিরোধ ব্যবস্থা ছিল দীর্ঘদিনের নীরব বিপদের ভিত্তি। ফলে প্রশ্ন উঠছে—এ ধরনের মৃত্যু কতটা অনিবার্য, আর কতটা প্রতিরোধযোগ্য।

নিজস্ব প্রতিবেদক জুলাই ৮, ২০২৬ 0
পাহাড়ের ঢালে অনিশ্চিত জীবন: উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্পে আবারও প্রাণ গেল আটজনের

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : একদিকে টানা বর্ষণ, অন্যদিকে নরম হয়ে আসা পাহাড়ের মাটি। গভীর রাতে মুহূর্তের ব্যবধানে ধসে পড়া মাটির নিচে চাপা পড়ে নিভে গেল আটটি জীবন। কিন্তু সেই মৃত্যুর পরও বদলায়নি বাস্তবতা—কক্সবাজারের উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোর পাহাড়ের ঢাল ও পাদদেশে এখনও ঝুঁকি নিয়ে বসবাস করছেন লাখো মানুষ। প্রতি বর্ষা মৌসুমেই পাহাড়ধসের আশঙ্কা তৈরি হয়। প্রশাসনের পক্ষ থেকে সতর্কতা, মাইকিং এবং নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হলেও আশ্রয়ের সীমাবদ্ধতা, ঘনবসতি এবং বিকল্প জায়গার অভাবে বহু পরিবার এখনও ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় রয়ে গেছে। ফলে যেকোনও সময় আবারও ঘটতে পারে বড় ধরনের প্রাণহানি। পাহাড় কেটে তৈরি আশ্রয়, বর্ষায় বাড়ে বিপদ বিশ্বের সবচেয়ে বড় রোহিঙ্গা আশ্রয়শিবির হিসেবে পরিচিত কক্সবাজারের উখিয়া-টেকনাফের বিস্তীর্ণ পাহাড়ি এলাকায় বসবাস করছেন ১০ লাখের বেশি রোহিঙ্গা। ২০১৭ সালে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে সেনা অভিযানের পর প্রাণ বাঁচাতে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া এসব মানুষের জন্য পাহাড় কেটে তৈরি করা হয়েছে ঘরবাড়ি, সড়ক ও বিভিন্ন অবকাঠামো। দীর্ঘদিন ধরে পাহাড় কেটে বসতি গড়ে ওঠায় প্রাকৃতিক ভারসাম্য নষ্ট হয়েছে। বর্ষা মৌসুমে ভারী বৃষ্টিপাত হলেই এসব এলাকায় তৈরি হয় ভয়াবহ পাহাড়ধসের ঝুঁকি। প্রতি বছরই ক্যাম্পগুলোতে পাহাড়ধসে প্রাণহানির ঘটনা ঘটছে। এবারও তার ব্যতিক্রম হয়নি। সোমবার গভীর রাতে উখিয়ার ৭ ও ১৫ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পে পৃথক পাহাড়ধসের ঘটনায় নারী ও শিশুসহ আটজন নিহত হন। ঘটনার পর ক্যাম্পজুড়ে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। একই সঙ্গে পাহাড়ঘেঁষা বসতিতে থাকা হাজারো পরিবারের মধ্যে ছড়িয়ে পড়েছে নতুন আতঙ্ক। আট মৃত্যুর পরও ঝুঁকিপূর্ণ বসতিতে মানুষ স্থানীয় প্রশাসন এবং শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনারের (আরআরআরসি) কার্যালয় জানিয়েছে, ভারী বর্ষণের সময় অতি ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার কাজ চলছে। ক্যাম্পের লার্নিং সেন্টারগুলোকে অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে প্রস্তুত রাখা হয়েছে। কিছু পরিবার সেখানে আশ্রয় নিয়েছে। তবে এখনও বিপুলসংখ্যক মানুষ পাহাড়ের ঢাল ও পাদদেশের ঝুঁকিপূর্ণ বসতিতে অবস্থান করছেন। এ কারণে নতুন করে দুর্ঘটনার আশঙ্কা কাটছে না। ৭ নম্বর ক্যাম্প: পাহাড় কেটে গড়ে ওঠা জনপদ উখিয়ার কুতুপালং টিভি টাওয়ারসংলগ্ন পাহাড় কেটে গড়ে উঠেছে ৭ নম্বর রোহিঙ্গা আশ্রয়শিবির। এখানে ১০ হাজারের বেশি পরিবারের প্রায় অর্ধলাখ রোহিঙ্গার বসবাস। ক্যাম্পটির বড় একটি অংশ পাহাড়ের ঢাল ও নিচু এলাকায় অবস্থিত। বর্ষা এলেই এসব এলাকার বাসিন্দাদের মধ্যে তৈরি হয় চরম উদ্বেগ। সোমবার রাতের পাহাড়ধসে এই ক্যাম্পে মো. একরাম (৭) নামে এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। ৭ নম্বর ক্যাম্পের চেয়ারম্যান রোহিঙ্গা নেতা আবদুল মাবুদ বলেন, পুরো ক্যাম্পই পাহাড় কেটে তৈরি হওয়ায় টানা বৃষ্টির সময় প্রায় অর্ধলাখ মানুষ আতঙ্কের মধ্যে থাকেন। তিনি বলেন, ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার কিছু পরিবারকে লার্নিং সেন্টারে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি মাইকিং করে সবাইকে নিরাপদ স্থানে যাওয়ার আহ্বান জানানো হচ্ছে। নয়টি ক্যাম্পে বড় ঝুঁকি খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, উখিয়া ও টেকনাফের ৩২টি রোহিঙ্গা ক্যাম্পের মধ্যে অন্তত নয়টি ক্যাম্প পাহাড়ধসের মারাত্মক ঝুঁকিতে রয়েছে। পাহাড়ের পাদদেশ এবং খাড়া ঢালজুড়ে তৈরি হওয়া অসংখ্য বসতিতে বসবাস করছেন এক লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা। বর্ষার ভারী বৃষ্টি শুরু হওয়ায় এসব পরিবারের মধ্যে উদ্বেগ আরও বেড়েছে। ক্যাম্প-১৫-এর বাসিন্দা মো. আক্তার বলেন, বর্ষা এলেই তাদের ভয় বেড়ে যায়। সোমবার রাতের পাহাড়ধসে একই পরিবারের তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। এমন ঘটনা ক্যাম্পবাসীর মধ্যে গভীর আতঙ্ক তৈরি করেছে। তিনি বলেন, এখনও টানা বৃষ্টি চলছে। কেউ জানেন না কখন কোথায় আবার পাহাড় ধসে পড়বে। প্রশাসনের সতর্কতা, কিন্তু সংকট রয়ে গেছে শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার (আরআরআরসি) মিজানুর রহমান বলেন, রোহিঙ্গা ক্যাম্পের বড় অংশ পাহাড় কেটে তৈরি হওয়ায় ভারী বর্ষণে পাহাড়ধসের ঝুঁকি বাড়ে। তিনি বলেন, সোমবারের ঘটনায় নারী-শিশুসহ আটজনের মৃত্যু অত্যন্ত মর্মান্তিক। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিতে নিয়মিত প্রচারণা চালানো হচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, ক্যাম্পের লার্নিং সেন্টারগুলোকে অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে প্রস্তুত রাখা হয়েছে। তবে বাস্তবতা হলো—ঝুঁকি জানা সত্ত্বেও বিকল্প জায়গার অভাবে বহু মানুষ এখনও বিপজ্জনক ঢালেই বসবাস করছেন। আবহাওয়া পরিস্থিতি আরও বাড়াচ্ছে উদ্বেগ কক্সবাজার আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় জেলায় ১০০ মিলিমিটারের বেশি বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। আবহাওয়া কর্মকর্তা আব্দুল হান্নান জানান, বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত সুস্পষ্ট লঘুচাপ এবং সক্রিয় মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে এই বৃষ্টিপাত হচ্ছে। তিনি জানান, আগামী দুই দিন কক্সবাজারে ভারী থেকে অতি ভারী বর্ষণ অব্যাহত থাকতে পারে। বারবার সতর্কতার পরও কেন থামছে না ঝুঁকি? রোহিঙ্গা ক্যাম্পে পাহাড়ধস এখন শুধু একটি মৌসুমি দুর্যোগ নয়, বরং দীর্ঘমেয়াদি মানবিক সংকটে পরিণত হয়েছে। অতিরিক্ত জনসংখ্যার চাপ, পাহাড় কেটে বসতি তৈরি, সীমিত পুনর্বাসন সুযোগ এবং বর্ষার তীব্রতা—সব মিলিয়ে প্রতিবছর নতুন করে তৈরি হচ্ছে প্রাণহানির আশঙ্কা। প্রশ্ন থেকে যাচ্ছে—আর কত প্রাণহানির পর পাহাড়ের ঢালে বসবাসরত মানুষগুলোকে স্থায়ীভাবে নিরাপদ আশ্রয়ে নেওয়া সম্ভব হবে?

নিজস্ব প্রতিবেদক জুলাই ৭, ২০২৬ 0
চট্টগ্রাম নগরের সদরঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ শরীফ.
চট্টগ্রাম সদরঘাট থানার ওসি ১৭ দিনের মাথায় প্রত্যাহার: দুর্নীতি, চাঁদাবাজি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগে তদন্ত

মাত্র ১৭ দিনের মাথায় দায়িত্ব থেকে প্রত্যাহার করা হয়েছে চট্টগ্রাম নগরের সদরঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ শরীফকে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী অভিযোগ তদন্তের প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার পর রবিবার সন্ধ্যায় চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশ (সিএমপি) তাকে দামপাড়া পুলিশ লাইন্সে সংযুক্ত করার আদেশ দেয়। একই সঙ্গে একজন উপপুলিশ কমিশনারকে প্রধান করে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে সাত কর্মদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে। কীভাবে শুরু হয় অভিযোগের প্রক্রিয়া? পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, রাজনৈতিক পক্ষপাত, চাঁদাবাজি এবং বিভিন্ন ধরনের অনিয়মের অভিযোগ তুলে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে একটি আধা সরকারি (ডিও) চিঠি পাঠান। পরবর্তীতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পুলিশ-২ শাখার উপসচিব নাসরীন সুলতানা পুলিশ মহাপরিদর্শকের (আইজিপি) কাছে পাঠানো এক চিঠিতে অভিযোগগুলো তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানান। ওই চিঠিতে প্রতিমন্ত্রীর ডিও পত্রকে তথ্যসূত্র হিসেবে উল্লেখ করা হয়। চিঠিটি চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশে পৌঁছানোর পরই ওসি মুহাম্মদ শরীফকে সদরঘাট থানা থেকে প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হয়। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের চিঠিতে কী অভিযোগ? স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন এবং সংশ্লিষ্ট তথ্য-উপাত্ত পর্যালোচনায় মুহাম্মদ শরীফের বিরুদ্ধে একাধিক গুরুতর অভিযোগ উঠে এসেছে। অভিযোগগুলোর মধ্যে রয়েছে— দুর্নীতি চাঁদাবাজি অবৈধ আর্থিক লেনদেন জ্ঞাত আয়ের সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ সম্পদ অর্জন প্রশাসনিক ক্ষমতার অপব্যবহার ব্যক্তিগত ও গোষ্ঠীগত স্বার্থ হাসিল চিঠিতে এসব অভিযোগ তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং পরবর্তী পদক্ষেপ সম্পর্কে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে অবহিত করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। তবে এসব অভিযোগ এখনো তদন্তাধীন এবং এ বিষয়ে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত বা প্রমাণ উপস্থাপিত হয়নি। সিএমপির বক্তব্য চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কমিশনার ওয়াহিদুল হক চৌধুরী বলেন, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের চিঠি পাওয়ার পর সদরঘাট থানার ওসিকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। তিনি জানান, অভিযোগ তদন্তে একজন উপপুলিশ কমিশনারের নেতৃত্বে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে এবং সাত কর্মদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে। কী বলছেন ওসি মুহাম্মদ শরীফ? অভিযোগ অস্বীকার করেছেন প্রত্যাহার হওয়া ওসি মুহাম্মদ শরীফ। তিনি বলেন, "আমি কোনো অনিয়মের সঙ্গে জড়িত নই। কর্ণফুলী থানায় দায়িত্ব পালনকালে এক আওয়ামী লীগ নেতার মেয়ের বিয়েতে গিয়েছিলাম। সেই অনুষ্ঠানের ছবি ব্যবহার করে বিভিন্নভাবে আমাকে হেনস্তা করা হয়েছে। সম্ভবত এ কারণেই আমাকে বদলি করা হয়েছে।" যোগদানের মাত্র ১৭ দিন গত ১৮ জুন মুহাম্মদ শরীফকে চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের এস্টেট অ্যান্ড বিল্ডিং শাখা থেকে সদরঘাট থানার ওসি হিসেবে পদায়ন করা হয়। এর আগে ২০২৫ সালের ১৪ ডিসেম্বর তিনি সিটিএসবির নিরস্ত্র পুলিশ পরিদর্শকের পদ থেকে এস্টেট অ্যান্ড বিল্ডিং শাখায় বদলি হন। এছাড়া তিনি গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) থেকে কর্ণফুলী থানার ওসি হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। তদন্তে যেসব প্রশ্ন সামনে ঘটনাটি কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন সামনে নিয়ে এসেছে— অভিযোগের ভিত্তি হিসেবে ব্যবহৃত তথ্য-উপাত্ত কতটা শক্তিশালী? রাজনৈতিক অভিযোগ ও প্রশাসনিক তদন্ত—দুইয়ের সীমারেখা কোথায়? তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে অভিযোগগুলোর সত্যতা কতটা প্রতিষ্ঠিত হবে? অভিযোগ প্রমাণিত হলে কী ধরনের প্রশাসনিক বা আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে? এসব প্রশ্নের উত্তর এখন নির্ভর করছে চলমান তদন্তের ওপর।

নিজস্ব প্রতিবেদক জুলাই ৭, ২০২৬ 0
মাত্র ৮ মাসে ৬১১ পৃষ্ঠায় সম্পূর্ণ ৩০ পারা কুরআন হাতে লিখে নজির গড়লেন লাকসামের সুরাইয়া জান্নাত

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : চট্টগ্রাম বিভাগের লাকসাম উপজেলার এক মাদ্রাসাছাত্রী—সুরাইয়া জান্নাত (১৮)—মাত্র ৮ মাসে হাতে লিখে সম্পূর্ণ ৩০ পারার পবিত্র কুরআন মাজিদ লিপিবদ্ধ করে আলোচনায় এসেছেন। তাঁর হাতের লেখা এতটাই নিখুঁত যে তা ছাপানো বইয়ের সঙ্গে পার্থক্য করা কঠিন বলে দাবি স্থানীয়দের। লাকসাম উপজেলার মুদাফরগঞ্জ এ.ইউ ফাজিল ডিগ্রি মাদ্রাসার আলিম দ্বিতীয় বর্ষের এই শিক্ষার্থী ২০২৫ সালের ১ জানুয়ারি থেকে শুরু করে আগস্টের শেষ দিকে তাঁর কাজ শেষ করেন। পুরো কুরআন লিখতে তাঁর সময় লেগেছে প্রায় ৮ মাস। স্থানীয় সূত্র ও পারিবারিক তথ্য অনুযায়ী, সুরাইয়া জান্নাত তাঁর লেখালেখির কাজে মোট প্রায় ৫৫টি কলম ব্যবহার করেন এবং ৬১১ পৃষ্ঠায় পুরো কুরআন মাজিদ সম্পন্ন করেন। “ফেসবুক নয়, বেছে নিয়েছি কুরআনের সান্নিধ্য” সুরাইয়া জান্নাত জানান, সমবয়সীরা যখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সময় ব্যয় করে, তিনি তখন বেছে নিয়েছেন পবিত্র কুরআন লেখার মতো কঠিন ও সময়সাপেক্ষ কাজ। তিনি বলেন, ধর্মীয় অনুপ্রেরণা, আল্লাহর সন্তুষ্টি এবং ব্যক্তিগত আত্মশুদ্ধির লক্ষ্য থেকেই এই উদ্যোগ নেন তিনি। প্রতিবার লেখার আগে তিনি অজু করতেন এবং দরূদ শরীফ পাঠ করে শুরু করতেন বলেও জানান। শিক্ষার ফাঁকে নিরবচ্ছিন্ন সাধনা মাদ্রাসার ক্লাস ও পড়াশোনার ফাঁকে নিয়মিত লিখতেন তিনি। এতে তাঁর একাডেমিক পড়াশোনায় কোনো ব্যাঘাত না ঘটানোর চেষ্টা ছিল বলে জানান। পরিবারের ভূমিকা ও স্থানীয় প্রতিক্রিয়া সুরাইয়ার মা জান্নাতুল ফেরদৌস জানান, ছোটবেলা থেকেই আরবি লেখা ও ক্যালিগ্রাফির প্রতি তাঁর আগ্রহ ছিল। মেয়ের এই অর্জনে পরিবার তাকে ১ লাখ টাকা পুরস্কার প্রদান করে। স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আলী বলেন, সুরাইয়া ছোটবেলা থেকেই ব্যতিক্রমী ও সৃজনশীল। অন্যদিকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নার্গিস সুলতানা বলেন, “এ বয়সে এমন একটি কাজ সত্যিই অনন্য নজির। তাঁর ভবিষ্যৎ উজ্জ্বল হোক।” ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সুরাইয়া জানান, ভবিষ্যতে তিনি সহিহ বুখারিসহ অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ ইসলামি গ্রন্থও হাতে লেখার ইচ্ছা পোষণ করেন।

নিজস্ব প্রতিবেদক জুলাই ৩, ২০২৬ 0
ফুলগাজীতে সিএনজি-পিকআপ সংঘর্ষ: মুহূর্তেই ঝরে গেল তিন প্রাণ, শোকের ছায়া পরিবারে

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন :  ফেনীর ফুলগাজী উপজেলায় সিএনজিচালিত অটোরিকশা ও একটি পিকআপের মুখোমুখি সংঘর্ষে মা-মেয়েসহ তিনজন নিহত হয়েছেন। দুর্ঘটনায় আরও দুজন গুরুতর আহত হয়েছেন। শনিবার (২৭ জুন) রাতে ফেনী-বিলোনিয়া আঞ্চলিক সড়কের ফুলগাজী উপজেলা পরিষদসংলগ্ন পল্লী বিদ্যুৎ অফিসের সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে। পুলিশ, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ, প্রত্যক্ষদর্শী এবং নিহতদের স্বজনদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ফেনী শহর থেকে যাত্রী নিয়ে একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশা ফুলগাজীর দিকে যাচ্ছিল। পথে পল্লী বিদ্যুৎ অফিসসংলগ্ন এলাকায় পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি পিকআপের সঙ্গে অটোরিকশাটির মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষের তীব্রতায় অটোরিকশাটি দুমড়ে-মুচড়ে যায়। এতে চালকসহ পাঁচজন গুরুতর আহত হন। স্থানীয়রা দ্রুত উদ্ধার করে তাঁদের ফুলগাজী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক মোহাম্মদ কাউছার (৩২) ও ওয়াহিদা আক্তার (২০)-কে মৃত ঘোষণা করেন। আহত অপর তিনজনকে সংকটাপন্ন অবস্থায় ফেনী ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হলে পথেই মারা যান ওয়াহিদা আক্তারের মা জাকিয়া আক্তার (৪০)। নিহতরা কারা? নিহত মোহাম্মদ কাউছার ফেনী জেলার ফুলগাজী উপজেলার সদর ইউনিয়নের উত্তর দৌলতপুর গ্রামের আবুল কালামের ছেলে। নিহত ওয়াহিদা আক্তার ছাগলনাইয়া উপজেলার পশ্চিম পাঠাননগরের কাজীবাড়ি এলাকার ইতালি প্রবাসী কাজী হায়াতের স্ত্রী। অপর নিহত জাকিয়া আক্তার ফুলগাজী উপজেলার বাসিন্দা এবং সোহেল মজুমদারের স্ত্রী। 'অসুস্থ আত্মীয়কে দেখে ফেরার পথেই মৃত্যু' জাকিয়া আক্তারের ভগ্নিপতি মিজানুর রহমান জানান, সকালে মেয়েকে সঙ্গে নিয়ে অসুস্থ এক আত্মীয়কে দেখতে পাশের দৌলতপুর গ্রামে গিয়েছিলেন জাকিয়া আক্তার। সন্ধ্যায় বাড়ি ফেরার পথে দুর্ঘটনার কবলে পড়ে ঘটনাস্থলেই কার্যত পরিবারের সবকিছু বদলে যায়। তিনি বলেন, "একসঙ্গে মা ও মেয়ের মৃত্যু আমাদের পরিবারের জন্য অপূরণীয় ক্ষতি।" হাসপাতালের বক্তব্য ফুলগাজী উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. গোলাম কিবরিয়া বলেন, দুর্ঘটনার পর পাঁচজন আহতকে হাসপাতালে আনা হয়েছিল। তাঁদের মধ্যে দুজন হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই মারা যান। বাকি তিনজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য ফেনী জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে নেওয়ার পথেই আরও একজনের মৃত্যু হয়। পুলিশের অবস্থান ফুলগাজী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এস এম মিজানুর রহমান বলেন, নিহতদের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ফেনী ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। তিনি জানান, দুর্ঘটনাকবলিত অটোরিকশা ও পিকআপ জব্দ করা হয়েছে এবং ঘটনার প্রকৃত কারণ নির্ধারণে তদন্ত চলছে। এ ঘটনায় আইনগত প্রক্রিয়াও অব্যাহত রয়েছে। দুর্ঘটনা নিয়ে যে প্রশ্নগুলো সামনে আসছে এই দুর্ঘটনার পর কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন সামনে এসেছে— পিকআপ ও অটোরিকশার মধ্যে সংঘর্ষের প্রকৃত কারণ কী? কোনো যানবাহন অতিরিক্ত গতিতে চলছিল কি না। সংশ্লিষ্ট সড়কে পর্যাপ্ত আলোকসজ্জা ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছিল কি না। চালকদের লাইসেন্স, ফিটনেস ও যানবাহনের কারিগরি অবস্থা তদন্তে উঠে আসে কি না। তদন্ত শেষে এসব প্রশ্নের উত্তর মিললে দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা পাওয়া যাবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

নিজস্ব প্রতিবেদক জুন ২৮, ২০২৬ 0
কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পাওয়ার পর ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় নেতা জিসান মিয়া প্রধান
কুমিল্লায় ছাত্রশিবির নেতা জিসান মিয়া কারাগারে: ধর্ষণ, গর্ভপাত ও ‘অপহরণ নাটক’ নিয়ে নতুন প্রশ্ন

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : চার দিন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকার পর ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় নেতা জিসান মিয়া প্রধানকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। তবে তার বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া ধর্ষণ ও ভ্রূণ নষ্টের মামলার পাশাপাশি ‘অপহরণ’ ও ‘অসুস্থতা’ ঘিরে তৈরি হয়েছে একাধিক প্রশ্ন, যা এখন তদন্তের কেন্দ্রবিন্দুতে। মঙ্গলবার বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে কুমিল্লার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-৩-এ কঠোর পুলিশি নিরাপত্তার মধ্যে জিসানকে হাজির করা হয়। বিচারক তৈয়ব উদ্দিন আহমেদ তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। আদালত প্রাঙ্গণে তার মাথায় হেলমেট এবং শরীরে পুলিশি নিরাপত্তা ভেস্ট দেখা যায়। আদেশের পরপরই তাকে দ্রুত প্রিজন ভ্যানে করে কারাগারে নেওয়া হয়। চিকিৎসকদের প্রতিবেদন কী বলছে? জিসানকে চার দিন ধরে কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছিল। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, মেডিক্যাল বোর্ড তার শারীরিক অবস্থা পর্যবেক্ষণ করে তাকে সুস্থ বলে মত দিয়েছে। হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক মোহাম্মদ শাহজাহান বলেন, চিকিৎসকদের মূল্যায়নে জিসানের শারীরিক অবস্থায় এমন কোনো জটিলতা পাওয়া যায়নি, যা হাসপাতালে রাখার প্রয়োজনীয়তা তৈরি করে। সেই ভিত্তিতেই তাকে ছাড়পত্র দেওয়া হয়। এই পর্যবেক্ষণ গুরুত্বপূর্ণ, কারণ গ্রেপ্তারের পর থেকে জিসান নিজেকে অসুস্থ দাবি করে হাসপাতালে অবস্থান করছিলেন এবং সে কারণে তাকে আদালতে হাজির করা সম্ভব হয়নি বলে জানিয়েছিল পুলিশ। ‘অপহরণ’ না ‘আত্মগোপন’? ঘটনার আরেকটি বিতর্কিত দিক হলো জিসানের কথিত নিখোঁজ হওয়া। ১১ জুন রাতে নিখোঁজ হওয়ার বিষয়ে তার পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়। পরদিন বিভিন্ন মাধ্যমে দাবি ওঠে, তিনি অপহরণের শিকার হয়েছেন। তবে পুলিশ বলছে, তদন্তে তারা অপহরণের কোনো প্রমাণ পায়নি। বরং জিসান স্বেচ্ছায় আত্মগোপনে ছিলেন বলে তাদের দাবি। পুলিশের ভাষ্যমতে, এক বিধবা নারীর সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক, পরবর্তীতে ওই নারীর অন্তঃসত্ত্বা হওয়া এবং বিয়ের চাপ থেকে বাঁচতেই তিনি নিখোঁজ হওয়ার নাটক সাজান। পরে কুমিল্লার লাকসাম রেলওয়ে জংশন এলাকা থেকে তাকে উদ্ধার করা হয়। অন্যদিকে পরিবারের দাবি ছিল, তাকে অচেতন অবস্থায় পাওয়া গেছে এবং তিনি অপহরণের শিকার হয়েছিলেন। এই দুই বিপরীতমুখী বক্তব্যের মধ্যে প্রকৃত ঘটনা কী, সেটি এখনো তদন্তের বিষয়। ধর্ষণ ও ভ্রূণ নষ্টের অভিযোগ পুলিশের তদন্ত অনুযায়ী, কয়েক মাস আগে ফেসবুকের মাধ্যমে এক ২৫ বছর বয়সী বিধবা নারীর সঙ্গে জিসানের পরিচয় হয়। পরে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, সম্পর্কের একপর্যায়ে ওই নারী অন্তঃসত্ত্বা হন। এরপর তাকে গর্ভপাতের জন্য চাপ দেওয়া হয় এবং ওষুধ সেবনের মাধ্যমে ভ্রূণ নষ্ট করা হয়। পরে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও তা বাস্তবায়ন করা হয়নি বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। বিয়ে এড়াতেই জিসান আত্মগোপনে যান বলে দাবি পুলিশের। শুক্রবার রাতে উদ্ধার হওয়ার পর ওই নারী বাদী হয়ে দাউদকান্দি মডেল থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের করেন। মামলায় জিসানসহ চারজনকে আসামি করা হয়েছে। আদালতে আইনজীবীদের অভিযোগ জিসানের আইনজীবী মনির হোসেন দাবি করেছেন, আদালতে তার শারীরিক অবস্থার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে কারা হাসপাতালে রাখার আবেদন করা হয়েছিল। তার অভিযোগ, ওকালতনামা সংগ্রহের জন্য তারা পুলিশ হেফাজতে থাকা জিসানের সঙ্গে দেখা করতে চাইলেও সুযোগ দেওয়া হয়নি। এছাড়া আদালতের আদেশের পর পুলিশ দ্রুত তাকে প্রিজন ভ্যানে তুলে নেয়। তবে এ বিষয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তদন্তের সামনে যেসব প্রশ্ন ঘটনার বিভিন্ন দিক সামনে আসার পর কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন এখন আলোচনায় রয়েছে— জিসান সত্যিই অপহরণের শিকার হয়েছিলেন, নাকি আত্মগোপনে ছিলেন? চিকিৎসাধীন থাকার প্রয়োজন ছিল কি না, সে বিষয়ে হাসপাতালের পর্যবেক্ষণ ও তার দাবির মধ্যে এত পার্থক্য কেন? ধর্ষণ ও ভ্রূণ নষ্টের অভিযোগের পক্ষে কী ধরনের প্রমাণ তদন্তকারীদের হাতে রয়েছে? বিয়ের প্রতিশ্রুতি ও সম্পর্কের প্রকৃত প্রকৃতি কী ছিল? মামলার অন্য আসামিদের ভূমিকা কী? এখন কী হবে? মামলার তিন আসামি—সেকান্দর আলী, গোলাম রাব্বী ও সজীব হাসান—ইতোমধ্যে কারাগারে রয়েছেন। জিসানকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানোর ফলে এখন তদন্তের পরবর্তী ধাপ, সাক্ষ্য-প্রমাণ সংগ্রহ এবং সম্ভাব্য জিজ্ঞাসাবাদের ওপর গুরুত্ব বাড়বে। একদিকে ধর্ষণ ও ভ্রূণ নষ্টের অভিযোগ, অন্যদিকে অপহরণ ও আত্মগোপনের পরস্পরবিরোধী বর্ণনা—সব মিলিয়ে ঘটনাটি এখন শুধু একটি ফৌজদারি মামলা নয়; বরং এটি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তদন্ত, চিকিৎসা মূল্যায়ন এবং রাজনৈতিকভাবে পরিচিত একজন নেতাকে ঘিরে তৈরি হওয়া বহুমাত্রিক বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক জুন ১৭, ২০২৬ 0
তনু হত্যা মামলায় সাবেক দুই সেনাসদস্যের বিরুদ্ধে ইন্টারপোলে পরোয়ানা
তনু হত্যা মামলা: দুই সাবেক সেনাসদস্যের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা, ইন্টারপোল রেড নোটিশের নির্দেশ

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : দীর্ঘ এক দশক ধরে দেশের অন্যতম আলোচিত ও রহস্যাবৃত হত্যাকাণ্ড হিসেবে আলোচনায় থাকা সোহাগী জাহান তনু হত্যা মামলার তদন্তে নতুন অগ্রগতি এসেছে। কুমিল্লার একটি আদালত দুই সাবেক সেনাসদস্যের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন এবং তাঁদের অবস্থান শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের লক্ষ্যে আন্তর্জাতিক পুলিশ সংস্থা ইন্টারপোলের মাধ্যমে রেড নোটিশ জারির প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। সোমবার (৮ জুন) বিকেলে কুমিল্লার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট-১ আদালতের বিচারক মুমিনুল হক এই আদেশ দেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কুমিল্লা আদালত পুলিশের পরিদর্শক মোহাম্মদ মামুনুর রশীদ। কারা এই দুই সাবেক সেনাসদস্য? আদালতের আদেশে যাঁদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হয়েছে, তাঁরা হলেন তৎকালীন কুমিল্লা সেনানিবাসে কর্মরত সার্জেন্ট জাহিদুজ্জামান (জাহিদ) এবং সৈনিক শাহীন আলম। তদন্ত-সংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, হত্যাকাণ্ডের সময় জাহিদুজ্জামান ১২ ইঞ্জিনিয়ার ব্যাটালিয়নে কর্মরত ছিলেন। তাঁর বাড়ি বাগেরহাট জেলার মোড়েলগঞ্জ উপজেলার গড়ঘাটা এলাকায়। অন্যদিকে শাহীন আলম তখন ২ সিগন্যাল ব্যাটালিয়নে দায়িত্ব পালন করতেন। তাঁর বাড়ি কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার পীরযাত্রাপুর ইউনিয়নের গোবিন্দপুর গ্রামে। তদন্তসংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, তিনি বর্তমানে দেশের বাইরে অবস্থান করছেন। আদালতের নির্দেশনায় কী আছে? মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) পরিদর্শক তরিকুল ইসলাম সম্প্রতি আদালতে একটি আবেদন দাখিল করেন। আবেদনে দুই সাবেক সেনাসদস্যের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি, ইন্টারপোলের মাধ্যমে রেড নোটিশ জারির উদ্যোগ গ্রহণ এবং হত্যাকাণ্ড-সংক্রান্ত কোনো তথ্য বা নথি সেনাবাহিনীর কাছে থাকলে তা তদন্তকারী সংস্থাকে সরবরাহের অনুরোধ জানানো হয়। আদালত ওই আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে পরোয়ানা জারি ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতা চাওয়ার নির্দেশ দেন। তদন্ত কর্মকর্তা তরিকুল ইসলাম বলেন, মামলাটির শুনানির তারিখ থাকলেও আদালতের আদেশের অনুলিপি হাতে না পাওয়ায় তিনি তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত মন্তব্য করতে পারেননি। ডিএনএ বিশ্লেষণে নতুন তথ্য তদন্তে সম্প্রতি আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সামনে এসেছে বলে জানিয়েছে পিবিআই। তনুর পোশাক থেকে সংগ্রহ করা আলামতের ডিএনএ বিশ্লেষণে পূর্বে শনাক্ত তিনজনের পাশাপাশি আরও একজনের সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া গেছে। তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, নতুন করে শনাক্ত হওয়া ব্যক্তির রক্তের নমুনার সঙ্গে আলামত থেকে পাওয়া নমুনার মিল পাওয়া গেছে। তদন্তকারীদের মতে, এই তথ্য মামলার গতিপথে নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে এবং দীর্ঘদিন ধরে অমীমাংসিত থাকা হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটনে সহায়ক হতে পারে। কারাগারে সাবেক সেনা কর্মকর্তা এদিকে মামলায় গ্রেপ্তার হওয়া সাবেক সেনা কর্মকর্তা হাফিজুর রহমানকে সোমবার কুমিল্লার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করা হয়। তাঁর পক্ষে কোনো জামিন আবেদন না থাকায় আদালত তাঁকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। হাফিজুর রহমান সেনাবাহিনীর সাবেক সিনিয়র ওয়ারেন্ট অফিসার। ২০২৩ সালে তিনি অবসর গ্রহণ করেন। চলতি বছরের ২১ এপ্রিল ঢাকার কেরানীগঞ্জ এলাকা থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। তনু হত্যাকাণ্ডের সময় তিনিও কুমিল্লা সেনানিবাসে কর্মরত ছিলেন। এক দশকের বেশি সময় ধরে উত্তরহীন প্রশ্ন ২০১৬ সালের ২০ মার্চ সন্ধ্যায় কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের শিক্ষার্থী সোহাগী জাহান তনু টিউশনি করতে গিয়ে নিখোঁজ হন। পরে কুমিল্লা সেনানিবাসের পাওয়ার হাউসসংলগ্ন একটি ঝোপ থেকে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ঘটনার পর থেকে হত্যার প্রকৃত কারণ, জড়িত ব্যক্তিদের পরিচয় এবং বিচারপ্রক্রিয়ার অগ্রগতি নিয়ে দেশজুড়ে ব্যাপক আলোচনা, প্রতিবাদ ও প্রশ্ন তৈরি হয়। বিভিন্ন সময় তদন্তের অগ্রগতি নিয়ে সমালোচনাও হয়েছে। সাম্প্রতিক আদালতের নির্দেশনা, নতুন ডিএনএ তথ্য এবং সম্ভাব্য আন্তর্জাতিক সহযোগিতার উদ্যোগ—সব মিলিয়ে প্রায় এক দশক ধরে আলোচিত এই মামলাটি আবারও নতুন করে জনমতের কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে। এখন নজর থাকবে, নতুন তদন্ত তথ্য ও আইনগত পদক্ষেপ শেষ পর্যন্ত তনু হত্যার রহস্য উদ্ঘাটন এবং বিচার নিশ্চিত করতে কতটা ভূমিকা রাখতে পারে তার ওপর।

নিজস্ব প্রতিবেদক জুন ৯, ২০২৬ 0
নোয়াখালী সদরে মাইকে ঘোষণা দিয়ে আ.লীগের হামলা ছাত্রদলের ওপর, মোটরসাইকেলে আগুন

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন :  নোয়াখালীর সদর উপজেলায় ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে আওয়ামী লীগ ও তাদের সমর্থকদের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ সময় ছাত্রদলের একটি মোটরসাইকেলে আগুন দেওয়া হয়। সংঘর্ষে নোয়াখালী শহর শ্রমিক দলের সাংগঠনিক সম্পাদক হৃদয়সহ ছাত্রদল ও যুবদলের অন্তত ছয়জন আহত হয়েছেন। শনিবার (৬ জুন) সন্ধ্যায় উপজেলার কালাদরাপ ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের পশ্চিম শুল্লুকিয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলাকায় বিপুল সংখ্যক আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার বিকেলে উপজেলার নোয়ান্নই ইউনিয়নের বাঁধেরহাট এলাকায় ছাত্রলীগের উদ্যোগে একটি বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। এর প্রতিবাদে শনিবার বিকেলে জেলা ছাত্রদলের সভাপতি এন বি এস রাসেলের নেতৃত্বে একই এলাকায় বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ করে ছাত্রদল। সমাবেশ চলাকালে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা খবর পান যে, আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা কাফনের কাপড় মাথায় বেঁধে কালাদরাপ ইউনিয়নে একটি মিছিল করেছেন। পরে কর্মসূচি শেষ করে মোটরসাইকেল বহর নিয়ে ফেরার পথে তারা কালাদরাপ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এবং সাবেক ইউনিয়ন ছাত্রলীগ সভাপতি শাহাদাত হোসেন সেলিমকে তার বাড়ির পাশের একটি দোকানে দেখতে পান। এ সময় মিছিলকে কেন্দ্র করে চেয়ারম্যানের সঙ্গে ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের বাগবিতণ্ডা হয় বলে স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, পরে মসজিদের মাইকে চেয়ারম্যানের ওপর হামলার খবর প্রচার হলে আওয়ামী লীগ ও চেয়ারম্যানের সমর্থকেরা ঘটনাস্থলে জড়ো হন। একপর্যায়ে উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়। সংঘর্ষে ইটপাটকেল নিক্ষেপের পাশাপাশি ছাত্রদলের একটি মোটরসাইকেলে আগুন দেওয়া হয়। এ ঘটনায় শ্রমিকদল নেতা হৃদয়সহ অন্তত ছয়জন আহত হন। স্থানীয় সূত্র আরও জানায়, রাত পৌনে ৮টার দিকে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা পুনরায় সংঘবদ্ধ হয়ে শাহাদাত হোসেন সেলিমের একটি ব্যক্তিগত কার্যালয়ে অগ্নিসংযোগ করেন। জেলা ছাত্রদলের সভাপতি এন বি এস রাসেল অভিযোগ করেন, চেয়ারম্যানের বাড়ির পাশে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা মিছিলের জন্য জড়ো হয়েছিল। খবর পেয়ে ওয়ার্ড ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা সেখানে গেলে তাদের ওপর অতর্কিত হামলা চালানো হয়। পরে বাঁধেরহাটের কর্মসূচি শেষ করে তিনি ঘটনাস্থলে গিয়ে নেতাকর্মীদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেন। হামলায় ছাত্রদলের ছয়জন নেতাকর্মী আহত হয়েছেন এবং একটি মোটরসাইকেলে আগুন দেওয়া হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি। অন্যদিকে, সুধারাম মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ তৌহিদুল ইসলাম বলেন, সংঘর্ষ, মোটরসাইকেলে অগ্নিসংযোগ এবং একটি অফিসে আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ঘটনাস্থলে পুলিশ ও র‍্যাব সদস্যরা অবস্থান করছেন। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা এলাকায় নজরদারি অব্যাহত রেখেছেন। ঘটনার বিষয়ে তদন্ত চলছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক জুন ৭, ২০২৬ 0
‘মেমেই’ নামের কেমিক্যাল ট্যাংকার।
মার্কিন নিষেধাজ্ঞায় চট্টগ্রামে আটকে ‘মেমেই’ ট্যাংকার, ৬০ কোটি টাকার কেমিক্যাল জাহাজ ফেরত পাঠানোর সিদ্ধান্ত

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে জাহাজ ভাঙার জন্য আমদানি করা একটি কেমিক্যাল ট্যাংকারকে ঘিরে নতুন জটিলতা তৈরি হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হওয়ার পর ‘মেমেই’ নামের জাহাজটি বর্তমানে চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে আটকে আছে। ফলে জাহাজটি সৈকতে ভেড়ানো বা ভাঙার কার্যক্রম শুরু করা সম্ভব হচ্ছে না। এই পরিস্থিতিতে প্রায় ৬০ কোটি ৮০ লাখ টাকা মূল্যের জাহাজটি ফেরত পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান এসএন করপোরেশন। কী ঘটেছে? আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, ‘মেমেই’ নামের ৪৪ হাজার ৮০০ টন ধারণক্ষমতার কেমিক্যাল ট্যাংকারটি স্ক্র্যাপ হিসেবে ভাঙার উদ্দেশ্যে বাংলাদেশে আনা হয়। গত ২২ মে জাহাজটি চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে পৌঁছায়। তবে জাহাজটি বাংলাদেশে পৌঁছানোর মাত্র ছয় দিনের মাথায়, ২৮ মে, যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দফতর এবং অফিস অব ফরেন অ্যাসেটস কন্ট্রোল (ওএফএসি) এটিকে নিষেধাজ্ঞার তালিকাভুক্ত করে। এসএন করপোরেশনের প্রশাসনিক ব্যবস্থাপক ওমর ফারুক বলেন, জাহাজটি ভাঙার জন্য আমদানি করা হয়েছিল। কিন্তু নিষেধাজ্ঞা আরোপের পর পরিস্থিতি পরিবর্তিত হয়েছে। এখনো জাহাজটির মূল্য পরিশোধ করা হয়নি এবং সেটি ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু করা হয়েছে। কেন নিষেধাজ্ঞা? মার্কিন কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, ‘মেমেই’ ২০২৪ সালের জুলাই মাসে ইরানের পেট্রোকেমিক্যাল পণ্য পরিবহনের সঙ্গে জড়িত ছিল। ওয়াশিংটনের দাবি, ইরানের ওপর অর্থনৈতিক চাপ বাড়ানোর কৌশলের অংশ হিসেবে জাহাজটিকে কালো তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। শুধু ‘মেমেই’ নয়, এর হংকংভিত্তিক মালিক ও বাণিজ্যিক ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠান ‘এভার শাইনিং লিমিটেড’ এবং তাদের নিয়ন্ত্রিত ‘ফ্লোরা’ নামের আরেকটি জাহাজও একই নিষেধাজ্ঞার আওতায় এসেছে। চট্টগ্রামে কেন আটকে আছে জাহাজটি? আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক বাণিজ্যে মার্কিন নিষেধাজ্ঞার প্রভাব সাধারণত বৈশ্বিক পর্যায়ে কার্যকর হয়। ফলে কোনো জাহাজ নিষেধাজ্ঞার তালিকাভুক্ত হলে সেটিকে ঘিরে বন্দর কর্তৃপক্ষ, আর্থিক প্রতিষ্ঠান, বীমা কোম্পানি এবং সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়িক অংশীদাররা অতিরিক্ত সতর্ক অবস্থান নেয়। এই কারণে ‘মেমেই’কে চট্টগ্রামের শিপ ব্রেকিং ইয়ার্ডে নিয়ে গিয়ে ভাঙার অনুমতি পাওয়া যাচ্ছে না। ফলে জাহাজটি বর্তমানে বহির্নোঙরেই অবস্থান করছে। শিপ ব্রেকিং শিল্পের জন্য কী বার্তা? বাংলাদেশ বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ জাহাজ ভাঙা শিল্পের কেন্দ্র। প্রতিবছর শতাধিক পুরোনো জাহাজ সীতাকুণ্ডের বিভিন্ন ইয়ার্ডে ভাঙা হয়। তবে আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা, জাহাজের অতীত কার্যক্রম এবং মালিকানা কাঠামো নিয়ে যথাযথ যাচাইয়ের গুরুত্ব আবারও সামনে নিয়ে এসেছে ‘মেমেই’ ঘটনা। বিশ্লেষকদের মতে, বৈশ্বিক নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকা জাহাজ আমদানির ঝুঁকি শুধু ব্যবসায়িক ক্ষতির মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; এটি আর্থিক, আইনি ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক সম্পর্কের ক্ষেত্রেও প্রভাব ফেলতে পারে। এখন কী হবে? আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, জাহাজটির মূল্য পরিশোধ না করেই সেটি ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। তবে জাহাজটি শেষ পর্যন্ত কোন গন্তব্যে যাবে এবং নিষেধাজ্ঞার কারণে আর কী ধরনের জটিলতা তৈরি হতে পারে, তা এখনো স্পষ্ট নয়। তবে ঘটনাটি বাংলাদেশের শিপ ব্রেকিং শিল্পে আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা-সংক্রান্ত ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু করেছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক জুন ৪, ২০২৬ 0
বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) নতুন সদর দপ্তর
উদ্বোধনের আগেই ৫০ কোটি টাকার বিপিসি সদর দপ্তরে ফাটল, নির্মাণমান নিয়ে প্রশ্ন

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : প্রায় ৫০ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) নতুন সদর দপ্তর ভবন এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন হয়নি। কিন্তু এরই মধ্যে ভবনের একাধিক স্থানে ফাটল দেখা দেওয়ায় নির্মাণমান ও তদারকি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। চট্টগ্রাম নগরের সার্সন রোডের জয় পাহাড় এলাকায় নির্মিত পাঁচতলা ভবনটিতে সম্প্রতি কয়েকটি দেয়ালে ফাটল শনাক্ত করা হয়। স্থানীয় সূত্রগুলো বলছে, ফাটলগুলো দেখা দেওয়ার পর দ্রুততার সঙ্গে পুটিং ও প্লাস্টারের মাধ্যমে সেগুলো ঢেকে ফেলার কাজ চলছে। নির্মাণশ্রমিকদের তড়িঘড়ি মেরামত কার্যক্রম ভবনটির গুণগত মান নিয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি করেছে। উদ্বোধনের আগেই কেন মেরামত? ভবনটির উদ্বোধনের প্রস্তুতি যখন শেষ পর্যায়ে, ঠিক তখনই ফাটল মেরামতের কাজ শুরু হওয়ায় বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট মহলে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। সাধারণত নতুন কোনো সরকারি অবকাঠামো প্রকল্প উদ্বোধনের আগেই এমন সংস্কার কাজের প্রয়োজন দেখা দিলে নির্মাণপ্রক্রিয়া, উপকরণের মান এবং তদারকির কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। স্থানীয় পর্যবেক্ষকদের মতে, ফাটলগুলো কেবল নান্দনিক সমস্যা নাকি কাঠামোগত দুর্বলতার ইঙ্গিত—তা যাচাই করা প্রয়োজন। কারণ ভবনটি দীর্ঘমেয়াদে শতাধিক কর্মকর্তা-কর্মচারীর কর্মস্থল হিসেবে ব্যবহৃত হবে। প্রকল্প পরিচালকের ব্যাখ্যা তবে প্রকল্প কর্তৃপক্ষ বিষয়টিকে বড় কোনো সমস্যা হিসেবে দেখছে না। বিপিসির নতুন সদর দপ্তর নির্মাণ প্রকল্পের পরিচালক এবং সংস্থাটির উপমহাব্যবস্থাপক (ডিজিএম) মো. আপেল মামুন দাবি করেন, ভবনে যে ফাটলগুলো দেখা গেছে সেগুলো বড় ধরনের নয়। তার ভাষ্য, নির্মাণকাজের বিভিন্ন পর্যায়ে ছোটখাটো ফাটল তৈরি হওয়া অস্বাভাবিক নয় এবং সেগুলো পুটিং ও প্লাস্টারের মাধ্যমে মেরামত করা হচ্ছে। ভবনের সার্বিক মান নিয়ে উদ্বিগ্ন হওয়ার কোনো কারণ নেই বলেও তিনি উল্লেখ করেন। তিন দশক পর নিজস্ব ভবন বিপিসি সূত্রে জানা যায়, ১৯৯০ সাল থেকে সংস্থাটির সদর দপ্তর চট্টগ্রামে ভাড়া ভবনে পরিচালিত হয়ে আসছে। প্রথমে আগ্রাবাদের হাউজ বিল্ডিং ফাইন্যান্স করপোরেশন ভবনে এবং পরে ২০০১ সাল থেকে বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনের ভবনে কার্যক্রম পরিচালনা করছে প্রতিষ্ঠানটি। দীর্ঘ তিন দশকেরও বেশি সময় পর নিজস্ব সদর দপ্তর নির্মাণের উদ্যোগ নেয় বিপিসি। জয় পাহাড় এলাকায় নির্মিত স্টিল স্ট্রাকচারের পাঁচতলা ভবনের নির্মাণকাজ শুরু হয় গত বছর। প্রকল্পটির নির্মাণ দায়িত্ব পায় ইউনাইটেড করপোরেশন। ১৮০ কর্মকর্তা-কর্মচারীর কর্মস্থল নতুন ভবনটি চালু হলে বিপিসির প্রায় ১৮০ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী সেখানে কাজ করবেন। দেশের জ্বালানি খাতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান হিসেবে বিপিসি বছরে প্রায় ৭০ লাখ টন জ্বালানি তেল আমদানি করে। এসব তেল বিপণনের দায়িত্বে রয়েছে পদ্মা অয়েল, যমুনা অয়েল ও মেঘনা পেট্রোলিয়াম। নির্মাণমান নিয়ে প্রশ্নের উত্তর কে দেবে? বিশেষজ্ঞদের মতে, উদ্বোধনের আগেই সরকারি অর্থায়নে নির্মিত একটি গুরুত্বপূর্ণ ভবনে ফাটল দেখা দেওয়া স্বাভাবিকভাবে জনমনে প্রশ্ন তৈরি করে। ফাটলের প্রকৃতি, কারণ এবং ভবনের কাঠামোগত নিরাপত্তা সম্পর্কে স্বাধীন কারিগরি মূল্যায়ন হলে প্রকৃত অবস্থা স্পষ্ট হতে পারে। কারণ সরকারি অবকাঠামো প্রকল্পে ব্যয়, মান নিয়ন্ত্রণ ও জবাবদিহিতা—তিনটি বিষয়ই জনস্বার্থের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত।

নিজস্ব প্রতিবেদক জুন ৪, ২০২৬ 0
দীপেন দেওয়ান
পদত্যাগের পর রাজনৈতিক অবস্থান স্পষ্ট করলেন দীপেন দেওয়ান, পাহাড়ে শান্তি ও সম্প্রীতির আহ্বান

 ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগের পর প্রথমবারের মতো প্রকাশ্যে নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করেছেন দীপেন দেওয়ান। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক দীর্ঘ পোস্টে তিনি পার্বত্য অঞ্চলের জনগণের প্রতি শান্তি, ধৈর্য ও সম্প্রীতি বজায় রাখার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে নিজের রাজনৈতিক পরিচয় ও ভবিষ্যৎ পথচলা সম্পর্কেও স্পষ্ট বক্তব্য দেন। বুধবার (৪ জুন) রাত ৯টার দিকে দেওয়া ওই পোস্টে দীপেন দেওয়ান পার্বত্য চট্টগ্রামের বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠী ও সম্প্রদায়ের মানুষের প্রতি শুভেচ্ছা জানিয়ে বক্তব্য শুরু করেন। পদত্যাগের ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবানে যে প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে, সে বিষয়ে তিনি অবগত রয়েছেন বলে উল্লেখ করেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, রাজনৈতিক সহকর্মী, শুভানুধ্যায়ী এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে এ ঘটনায় আবেগ ও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। তবে তিনি পরিস্থিতি শান্ত রাখার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন। পাহাড়ি, বাঙালি ও অন্যান্য সম্প্রদায়ের মানুষের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, কোনো ধরনের উসকানি, বিভ্রান্তি বা সংঘাতের পথে না গিয়ে আইনশৃঙ্খলা ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখা প্রয়োজন। পাশাপাশি পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সহমর্মিতা ও সৌহার্দ্যের পরিবেশ অটুট রাখারও আহ্বান জানান তিনি। পার্বত্য অঞ্চলের ভবিষ্যৎ নিয়ে বার্তা ফেসবুক পোস্টে দীপেন দেওয়ান বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রাম সবার এবং এ অঞ্চলের উন্নয়ন, স্থিতিশীলতা ও শান্তি রক্ষার দায়িত্বও সবার। পাহাড়ি-বাঙালি নির্বিশেষে সব জনগণের মধ্যে পারস্পরিক আস্থা ও ভ্রাতৃত্ব আরও সুদৃঢ় হোক—এ প্রত্যাশার কথাও তুলে ধরেন তিনি। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, পদত্যাগের পরপরই সম্প্রীতি ও স্থিতিশীলতার প্রশ্নে এ ধরনের বার্তা দেওয়া পার্বত্য অঞ্চলের বিদ্যমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় তাৎপর্যপূর্ণ। বিএনপির প্রতি আনুগত্য পুনর্ব্যক্ত পোস্টের একটি বড় অংশজুড়ে নিজের রাজনৈতিক পরিচয় ও অতীতের কথা তুলে ধরেন সাবেক এই মন্ত্রী। তিনি জানান, তার পিতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। পরিবার থেকেই তিনি দেশপ্রেম ও জনসেবার আদর্শে উদ্বুদ্ধ হয়েছেন বলে উল্লেখ করেন। দীপেন দেওয়ানের ভাষ্য অনুযায়ী, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্ব ও দিকনির্দেশনায় তিনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলে (বিএনপি) যোগ দেন। রাজনৈতিক জীবনের শুরু থেকে তিনি দলের একজন নিবেদিত কর্মী হিসেবে কাজ করে আসছেন এবং ভবিষ্যতেও বিএনপির প্রতি তার আনুগত্য ও অঙ্গীকার অব্যাহত থাকবে বলে জানান। ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক পথচলার ইঙ্গিত ফেসবুক পোস্টের শেষাংশে ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক অবস্থান সম্পর্কেও ইঙ্গিত দেন দীপেন দেওয়ান। তিনি বলেন, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বের প্রতি তার পূর্ণ আস্থা রয়েছে এবং নতুন বাংলাদেশ গঠনের লক্ষ্যে সেই নেতৃত্বের অধীনেই কাজ করে যেতে চান। তার এই বক্তব্যকে অনেকেই পদত্যাগ-পরবর্তী রাজনৈতিক জল্পনার জবাব হিসেবে দেখছেন। যদিও পদত্যাগের কারণ বা এর পেছনের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট নিয়ে তিনি পোস্টে বিস্তারিত কোনো ব্যাখ্যা দেননি।

নিজস্ব প্রতিবেদক জুন ৪, ২০২৬ 0
সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে চাঁদপুর-চট্টগ্রামের শতাধিক গ্রামে বুধবার ঈদুল আজহা

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : বাংলাদেশে সরকারি ঘোষণার আগেই সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর সঙ্গে মিল রেখে বুধবার (২৭ মে) পবিত্র ঈদুল আজহা উদযাপন করতে যাচ্ছে চাঁদপুর ও চট্টগ্রামের শতাধিক গ্রামের মুসল্লিরা। এই আয়োজনকে ঘিরে কয়েকটি দরবার শরীফ ও তাদের অনুসারীদের মধ্যে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এটি শুধু ধর্মীয় অনুশীলন নয়; বরং প্রায় এক শতাব্দী ধরে চলে আসা একটি ধারাবাহিক বিশ্বাস ও অনুসৃত ঐতিহ্য। চাঁদপুরের প্রায় ৪০ গ্রামে ঈদের প্রস্তুতি চাঁদপুরের হাজীগঞ্জ উপজেলার সাদ্রা দরবার শরীফসহ জেলার প্রায় ৪০টি গ্রামে বুধবার ঈদুল আজহা উদযাপিত হবে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন দরবার শরীফের ঈদ জামাত কমিটির সদস্য আহমেদ রেজা চৌধুরী। তার ভাষ্য অনুযায়ী, ঈদ জামাত আয়োজনের সব প্রস্তুতি ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে এবং মুসল্লিদের নিরাপত্তা ও সুশৃঙ্খল পরিবেশ নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। সাদ্রা দরবার শরীফ মাঠে সকাল সাড়ে ৮টায় প্রথম ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত হবে। এতে ইমামতি করবেন দরবারের পীর জাকারিয়া চৌধুরী আল মাদানি। পরে সকাল ৯টায় সাদ্রা হামিদিয়া ফাজিল মাদ্রাসা মাঠে দ্বিতীয় জামাত অনুষ্ঠিত হবে, যেখানে ইমামতি করবেন পীর মাওলানা আরিফ চৌধুরী। চাঁদপুরের পার্শ্ববর্তী ফরিদগঞ্জ উপজেলাতেও কয়েকটি গ্রামে আগাম ঈদ উদযাপন হবে। সুবিদপুর ইউনিয়নের টোরামুন্সীরহাট বাজার কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে সকাল ৮টায় প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এতে ইমামতি করবেন মাওলানা মুহাম্মদ আব্দুর রহমান। একই এলাকায় টোরা ঈদগাহ ও হাফেজিয়া মাদ্রাসা মাঠে সকাল সাড়ে ৮টায় আরেকটি জামাত অনুষ্ঠিত হবে। সেখানে ইমামতি করবেন মাওলানা মো. বরকত উল্যাহ। এদিকে মতলব উত্তর উপজেলার দেওয়ানকান্দি কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে সকাল ৯টায় ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত হবে। এতে ইমামতি করবেন মসজিদের খতিব মাওলানা আরিফুল ইসলাম। সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, এই উপজেলায় মোট ছয়টি ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত হবে। ‘১৯২৮ সাল থেকে চলে আসছে প্রথা’ সাদ্রা দরবার শরীফের পীরজাদা ড. বাকীবিল্লাহ মিশকাত চৌধুরী বলেন, প্রতিবছরের মতো এবারও দরবার মাঠে ঈদুল আজহার জামাতের আয়োজন করা হয়েছে এবং কোরবানির পশু কেনাসহ আনুষঙ্গিক সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। স্থানীয়ভাবে জানা যায়, ১৯২৮ সালে সাদ্রা দরবার শরীফের মরহুম পীর মাওলানা ইসহাক (রহ.) সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর সঙ্গে মিল রেখে রোজা, ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহা পালনের রীতি চালু করেন। এরপর থেকে তার অনুসারীরা দেশের বিভিন্ন স্থানে একই সময়ে ঈদ উদযাপন করে আসছেন। চট্টগ্রামের শতাধিক গ্রামেও আগাম ঈদ চট্টগ্রামের সাতকানিয়ার মির্জাখীল দরবার শরীফ এবং চন্দনাইশের জাঁহাগীরি শাহ সুফি মমতাজিয়া দরবার শরীফের অনুসারীরাও বুধবার ঈদুল আজহা উদযাপন করবেন। মির্জাখীল দরবার শরীফের খানকাহ মাঠে সকাল সাড়ে ৯টায় ঈদের প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হবে। এতে ইমামতি করবেন ড. মৌলানা মুহাম্মদ মকছুদুর রহমান। দরবারের দায়িত্বশীল মোহাম্মদ মছউদুর রহমান বলেন, তাদের অনুসারীরা দীর্ঘ দুই শতাব্দীর বেশি সময় ধরে হজ দিবসের পরদিন ঈদুল আজহা পালন করে আসছেন। তার দাবি, চাঁদের অবস্থান, আরাফাত দিবস এবং হজের আনুষ্ঠানিকতা সরাসরি পর্যবেক্ষণ করেই তারা ঈদের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন। তিনি আরও বলেন, আরাফাতের ময়দান থেকে প্রচারিত খুতবা ও হজ কার্যক্রম প্রত্যক্ষ করার পর দেশ-বিদেশে সিলসিলায়ে আলীয়া জাঁহাগীরিয়া ও মির্জাখীল দরবার শরীফের অনুসারীরা বুধবার ঈদের নামাজ আদায় করবেন এবং পরে কোরবানি সম্পন্ন করবেন। যেসব এলাকায় উদযাপিত হবে আগাম ঈদ মির্জাখীল দরবার শরীফের তথ্যমতে, চন্দনাইশ, সাতকানিয়া, দোহাজারী, কাঞ্চননগর, হারলা, বাইনজুরি, জলদী, গুনাগরি, কালিপুর, বারখাইন, চরণদ্বীপ, চুনতি, পুটিবিলা, বাজালিয়া, কাঞ্চনা, পুরানগড়সহ চট্টগ্রামের শতাধিক গ্রামে তাদের অনুসারীরা বুধবার ঈদ উদযাপন করবেন। এ ছাড়া বান্দরবানের লামা, আলীকদম ও নাইক্ষ্যংছড়ি এবং কক্সবাজারের চকরিয়া, টেকনাফ, মহেশখালী ও কুতুবদিয়ার কয়েকটি গ্রামেও একই দিনে ঈদ পালিত হবে। রাষ্ট্রীয় ঘোষণার বাইরে আলাদা ধর্মীয় চর্চা বাংলাদেশে সাধারণত জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ঈদ উদযাপিত হয়। তবে কয়েকটি দরবার শরীফ ও ধর্মীয় অনুসারী গোষ্ঠী বহু বছর ধরে সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে পৃথকভাবে রোজা ও ঈদ পালন করে আসছে। ধর্মীয় বিশ্লেষকরা বলছেন, এই চর্চা দেশের মূলধারার বাইরে হলেও দীর্ঘদিন ধরে নির্দিষ্ট অনুসারীদের মধ্যে সামাজিক ও ধর্মীয় ঐতিহ্য হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ২৭, ২০২৬ 0
Popular post
বাংলাদেশে ঐতিহাসিক নির্বাচন: বিএনপি এগিয়ে, জামায়াতের উত্থান ও তরুণ ভোটারদের প্রভাব

২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশে আজ এক ঐতিহাসিক ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ২০০৮ সালের পর এই প্রথম একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হতে যাচ্ছে যেখানে দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগ রাজনৈতিক মানচিত্র থেকে কার্যত অনুপস্থিত। বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক জরিপ বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০০ আসনের মধ্যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) কার্যকর সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে যাচ্ছে। তবে ভোটের ব্যবধান এবং কিছু সমীকরণ নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। নির্বাচনের সবচেয়ে বড় নিয়ামক হয়ে দাঁড়িয়েছে আওয়ামী লীগের বিশাল ভোটব্যাংক। দলটির নিয়মিত প্রায় ৪ কোটি ভোটার এখন নতুন রাজনৈতিক আশ্রয় খুঁজছেন। সিআরএফ বা বিইপিওএস জরিপ বলছে, এই ভোটারদের প্রায় অর্ধেক বিএনপির দিকে ঝুঁকেছে, যা দলটিকে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতার পথে এগিয়ে দিচ্ছে। অন্যদিকে, প্রায় ৩০ শতাংশ আওয়ামী ভোটার জামায়াতে ইসলামীকে বেছে নিতে পারেন বলে আভাস পাওয়া যাচ্ছে। এছাড়া বাংলাদেশের বিদ্যমান নির্বাচনী ব্যবস্থার কারণে দেশজুড়ে সুষম জনসমর্থন থাকা বিএনপি আসন জয়ের ক্ষেত্রে জামায়াতের তুলনায় সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। তবে বিএনপির এই সম্ভাব্য জয়ের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও বিদ্রোহী প্রার্থীরা। প্রায় ৭৯টি নির্বাচনী এলাকায় দলের মনোনয়ন না পাওয়া ৯২ জন প্রভাবশালী নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, যা বিএনপির ১৫ থেকে ৩০টি আসন কমিয়ে দিতে পারে। অন্যদিকে, তরুণ ভোটার বা ‘জেন-জি’ প্রজন্মের বিশাল সমর্থন জামায়াতে ইসলামীর শক্তির উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেশের ৪৪ শতাংশ ভোটারই তরুণ, যাদের বড় একটি অংশ প্রথমবার ভোট দিচ্ছেন। এই তরুণরা যদি দলবেঁধে কেন্দ্রে উপস্থিত হন, তবে নির্বাচনী ফলে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। সবশেষে, প্রায় ১৭ থেকে ৩৫ শতাংশ দোদুল্যমান ভোটার এবং তাদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করবে আগামীর সরকার কতটা শক্তিশালী হবে। দ্য নিউইয়র্ক এডিটোরিয়ালের মূল পূর্বাভাস, তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি প্রায় ১৮৫টি আসনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করতে পারে এবং জামায়াতে ইসলামী ৮০টির মতো আসন পেয়ে প্রধান বিরোধী দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারে। তবে বিদ্রোহী প্রার্থীদের প্রভাব এবং তরুণ ভোটারদের উপস্থিতির ওপর ভিত্তি করে আসন সংখ্যায় বড় ধরনের হেরফের হওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

গাজায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা ট্রাম্প প্রশাসনে

ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। ৩৫০ একরের ঘাঁটিটিতে সামরিক বাহিনীর পাঁচ হাজার সদস্য থাকতে পারবে। গাজার ‘বোর্ড অব পিস’র নথি পর্যালোচনা করে এ তথ্য জানিয়েছে দ্য গার্ডিয়ান। প্রতিবেদনে ব্রিটিশ সংবাদ মাধ্যমটি জানিয়েছে, বোর্ড অব পিসে গাজাকে নিরাপদ করার জন্য ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যাবিলাইজেশন ফোর্স (আইএসএফ) নামে একটি আন্তর্জাতিক বাহিনী মোতায়েনের কথা বলা হয়েছে। যে স্থানটি ঘাঁটি করার জন্য বিবেচনা করা হচ্ছে সেখানে আইএসএফের সদস্যরা থাকবে। বোর্ড অব পিসের প্রধান হবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আর সংগঠনটির আংশিক নেতৃত্ব দেবেন ট্রাম্পের জামাতা জ্যারার্ড কুশনার।দ্য গার্ডিয়ান বোর্ড অব পিসের নথি পর্যালোচনা করে জানায়, ধাপে ধাপে একটি সামরিক ঘাঁটি নির্মাণ করা হবে। সবকিছু শেষ হলে ঘাঁটিটি ১৫ লাখ ১৭ হাজার ৫৭৫ বর্গমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত হবে। ঘাঁটিটির চারপাশে ট্রেইলার সংযুক্ত ২৬টি সাঁজোয়া নজরদারি টাওয়ার থাকবে। এছাড়া একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, বাংকার ও অস্ত্র রাখার গুদাম থাকবে। পুরো ঘাঁটিটি কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে ঘিরে রাখা হবে। সামরিক ঘাঁটি নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে দক্ষিণ গাজার একটি শুষ্ক সমতলভূমিতে। সেখানে ইসরায়েলি হামলার চিহ্ন রয়েছে। ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে বিভিন্ন ধাতবের ধ্বংসাবশেষ।  ওই এলাকার ভিডিও পর্যালোচনা করেছে দ্য গার্ডিয়ান। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, ঘাঁটি নির্মাণের জন্য টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে। যুদ্ধক্ষেত্রে কাজের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন আন্তর্জাতিক নির্মাণ কোম্পানিগুলোর একটি ছোট দলকে ইতোমধ্যেই এলাকাটি দেখানো হয়েছে। ওই দলটি দরপত্রে অংশ নিতে আগ্রহী।    ইন্দোনেশিয়া সরকার গাজায় আট হাজার সেনা সদস্য পাঠানোর জন্য প্রস্তাব দিয়েছে। বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটন ডিসিতে বোর্ড অব পিসের অনানুষ্ঠানিক বৈঠকে ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্টের অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। এছাড়া দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার আরও তিন নেতার ওই বৈঠকে অংশ নেবেন বলে জানা গেছে। জাতিসংঘের নিরাপত্তা কাউন্সিল গাজার সাময়িক স্থিতিশীলতার জন্য অস্থায়ীভাবে সামরিক বাহিনী মোতায়েনের অনুমোদন দিয়েছে। নিরাপত্তা কাউন্সিলই বোর্ড অব পিসের মূল হোতা। গাজার সীমান্ত ও শান্তি প্রণয়নে কাজ করবে আইএসএফ। এছাড়া বেসামরিকদের সুরক্ষা এবং ফিলিস্তিনি পুলিশ বাহিনীকে প্রশিক্ষণ ও সহায়তা দেবে তারা। যদি গাজায় ফের সংঘর্ষ হয়, ইসরায়েল বোমা হামলা চালায় অথবা হামাস হামলা চালায় সেক্ষেত্রে আইএসএফ কি করবে তা এখনও স্পষ্ট নয়। গাজা পুনর্গঠনে ইসরায়েল হামাসকে নিরস্ত্রীকরণের যে শর্ত দিয়েছে সেটির জন্য আইএসএফ কাজ করবে কিনা তাও স্পষ্ট না। ইতোমধ্যে বোর্ড অব পিসে ২০ এর অধিক দেশ যোগ দিয়েছে। তবে, এখনও অনেক পরাশক্তি এর থেকে দূরে রয়েছে। জাতিসংঘের অনুমোদন নিয়ে প্রতিষ্ঠিত হলেও ধারণা করা হচ্ছে, সংগঠনটির স্থায়ী নেতৃত্ব ও নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে। রুটজার্স বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক আদিল হক বলেন, “বোর্ড অব পিস এক ধরনের আইনি কল্পসত্তা। নামমাত্রভাবে এর নিজস্ব আন্তর্জাতিক আইনগত সত্তা রয়েছে, যা জাতিসংঘ ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে আলাদা। কিন্তু বাস্তবে এটি যুক্তরাষ্ট্রের ইচ্ছামতো ব্যবহারের জন্য একটি ফাঁপা খোলসমাত্র।” বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গাজা পুনর্গঠনে যে অর্থায়ন ও শাসন কাঠামো হচ্ছে তা অস্বচ্ছ। কয়েকজন ঠিকাদার গার্ডিয়ানকে জানান, গাজায় কাজ করার জন্য মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে তাদের প্রায়শ আলোচনা সরকারি ইমেলের বদলে সিগন্যালের মাধ্যমে করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রের তথ্য মতে, ঘাঁটি নির্মাণের সিদ্ধান্তটি বোর্ড অব পিসের। এতে সহায়তা করছে মার্কিন কর্মকর্তারা। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ঘাঁটিতে তৈরি বাংকার নেটওয়ার্কের মতোন কাজ করবে। প্রতিটি বাংকারের ২৪ মিটারের হবে। উচ্চতা থাকবে আড়াই মিটার। এগুলো এমনভাবে করা হবে যেন সেনা সদস্যরা আশ্রয় নিতে পারে। স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসের গাজায় সুড়ঙ্গ নেটওয়ার্ক বা টানেল রয়েছে। সেগুলোর আদলে নেটওয়ার্ক করতে চাওয়া হচ্ছে। পিস অব বোর্ডের নথি পর্যালোচনা করে এমন দাবি করছে গার্ডিয়ান। সংবাদ মাধ্যমটি বলছে,  স্থানটির ভূ-ভৌত জরিপ পরিচালনা করবে ঠিকাদাররা। নথির এক অংশে ‘হিউম্যান রেমিয়েনস প্রোটোকল’র কথা বলা হয়েছে। এর মানে দাঁড়ায়, সন্দেহভাজন মানব অবশিষ্ট বা সাংস্কৃতিক নিদর্শন পাওয়া গেলে অবিলম্বে সেই এলাকায় সব কাজ বন্ধ করতে হবে। চুক্তি কর্মকর্তাকে দিকনির্দেশনার জন্য অবিলম্বে জানাতে হবে। গাজা সিভিল ডিফেন্সের ধারণা, গাজার ধ্বংসস্তূপের নিচে ১০ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনির মরদেহ রয়েছে। ঘাঁটির জন্য যে স্থানটি বিবেচিত করা হচ্ছে সেটির মালিক কে তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে, দক্ষিণ গাজার বেশিরভাগ অংশ  বর্তমানে ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণে। জাতিসংঘের অনুমান, যুদ্ধ চলাকালীন ১৯ লাখ ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত হয়েছে। ফিলিস্তিনের জমিতে সরকারের অনুমতি না নিয়ে সামরিক ঘাঁটি স্থাপনকে দখল হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন ফিলিস্তিনি-কানাডিয়ান আইনজীবী এবং প্রাক্তন শান্তি আলোচক দিয়ানা বুট্টু। তিনি প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়ে বলেন, “কার অনুমতিতে তারা সামরিক ঘাঁটি স্থাপন করবে।” বিষয়টি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা বোর্ড অব পিসের কথা টানেন। ট্রাম্প প্রশাসনের একজন কর্মকর্তা সামরিক ঘাঁটির চুক্তি নিয়ে আলোচনা করতে অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, “যেমনটি প্রেসিডেন্ট বলেছেন, কোনও মার্কিন সেনা স্থলভাগে যাবে না। আমরা লিক হওয়া নথি নিয়ে আলোচনা করবো না।”

ফারুকীর সম্পদ কমেছে, তিশার বেড়েছে দ্বিগুণেরও বেশি: সম্পদ বিবরণী ঘিরে আলোচনা

অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের সম্পদ বিবরণী প্রকাশের পর সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী ও তার স্ত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদের হিসাব নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। এক বছরের ব্যবধানে স্বামী ফারুকীর সম্পদ কমলেও স্ত্রী তিশার সম্পদ বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে প্রকাশিত তথ্যে উঠে এসেছে এই চিত্র। প্রকাশিত খতিয়ান অনুযায়ী, জনপ্রিয় অভিনেত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদ এক বছরে অভাবনীয় হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তিশার মোট সম্পদের পরিমাণ ছিল ১ কোটি ৪০ লাখ ৮১ হাজার ৮৬০ টাকা। ঠিক এক বছর পর, ২০২৫ সালের ৩০ জুন সেই সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ৯৯ লাখ ৮৯ হাজার ৫০১ টাকায়। অর্থাৎ মাত্র এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ বেড়েছে ১ কোটি ৫৯ লাখ ৭ হাজার ৬৪১ টাকা, যা আগের বছরের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি। অন্যদিকে সংস্কৃতি উপদেষ্টা ও নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর ক্ষেত্রে দেখা গেছে উল্টো চিত্র। এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ কমেছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তার মোট সম্পদ ছিল ২ কোটি ২৬ লাখ ৯২ হাজার ২৬ টাকা। ২০২৫ সালের ৩০ জুন তা কমে দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ১৫ লাখ ১৮ হাজার ২৬ টাকায়। হিসাব অনুযায়ী, এক বছরে তার সম্পদ কমেছে ১১ লাখ ৭৪ হাজার টাকা। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে গত মঙ্গলবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ প্রধান উপদেষ্টা, উপদেষ্টা ও সমমর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের পাশাপাশি তাদের স্ত্রী বা স্বামীর সম্পদ বিবরণী প্রকাশ করে। একই সময়ে স্বামী-স্ত্রীর সম্পদে এমন ভিন্নমুখী পরিবর্তন স্বাভাবিকভাবেই সাধারণ মানুষের কৌতূহলের জন্ম দিয়েছে। শোবিজ অঙ্গনের জনপ্রিয় দম্পতি হওয়ায় তাদের এই আয়-ব্যয়ের হিসাব এখন টক অব দ্য কান্ট্রি।

সংসার সামলাতে অটোরিকশা নিয়ে রাস্তায় নেমেছেন রোজিনা

বাসস : বাবা একজন তাঁত শ্রমিক। তিন বোন দুই ভাইয়ের মধ্যে সবার বড় রোজিনা। অভাব সংসার, তাই এক এতিম যুবকের সাথে বাবা-মা বিয়ে দেন তাকে। বিয়ের পর জন্ম হয় দুই কন্যা সন্তানের। অটোরিকশা চালিয়ে কোন রকম সংসার চালাচ্ছিলেন স্বামী রফিকুল ইসলাম। কিন্তু সড়ক দুর্ঘটনায় রফিকুলের এক চোখ সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যায়। আরেকটি চোখ আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ধীরে ধীরে ওই চোখের দৃষ্টি শক্তিও কমতে থাকে। ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে অটোরিকশা চালানো। সংসারের উপার্জনক্ষম মানুষটি অচল হয়ে পড়ায় চিকিৎসার খরচ, ঘর ভাড়া ও খাবারের পাশাপাশি মেয়েদের লেখাপড়ার খরচ চালানোই কঠিন হয়ে যায়। দিশেহারা হয়ে পরেন রোজিনা। এক পর্যায়ে মানুষের বাড়ি বাড়ি কাজ করে সংসার চালানোর চেস্টা করেন। কিন্তু সুবিধা করতে পারেন না। এমন পরিস্থিতিতে অটোরিকশা চালানোর সিদ্ধান্ত নেন তিনি। স্বামী রফিকুলের কাছেই হাতেখড়ি। গ্রামের স্কুলের মাঠে স্বামীর কাছেই অটোরিকশা চালানোর শিক্ষা নেন তিনি। পরে গ্রামের পথে নেমে পড়েন অটোরিকশা নিয়ে। ৫-৬ দিন এভাবে হাত পাকা করে একদিন টাঙ্গাইল শহরে চলে আসেন রোজিনা। এরপর শুরু করেন অটোরিক্সা চালানোর ব্যতিক্রমী জীবন সংগ্রাম। এখন টাঙ্গাইল পৌরসভায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার চালকদের মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা বেগম। জেলার বাসাইল উপজেলার আইসড়া গ্রামের বাসিন্দা রোজিনা টাঙ্গাইল পৌর শহরের এক প্রান্ত রাবনা বাইপাস থেকে আরেক প্রান্ত বেবিস্ট্যান্ডে যাত্রী আনা নেয়া করেন। যানজটের কারণে শহরে পুরুষ চালকরা যেখানে হিমসিম খায়, সেখানেই বিগত ৫ বছর ধরেই নির্বিঘেœ অটোরিকশা চালাচ্ছেন তিনি। টাঙ্গাইল পৌরসভা কার্যালয় সূত্রে জানা যাায়, টাঙ্গাইল শহরে চলাচলের জন্য ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক ও ৫ হাজার ব্যাটারিচালিত রিকশার অনুমতি (লাইসেন্স) দেওয়া হয়েছে। যানজট এড়াতে ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক জোড় ও বিজোড় সংখ্যায় দিনে দুই ভাগ করা হয়েছে। সকাল থেকে বেলা দুইটা পর্যন্ত এক ভাগ এবং বেলা দুইটা থেকে রাত পর্যন্ত আরেক ভাগের ইজিবাইক চলাচল করার নির্দেশনা দিয়েছে পৌর কর্তৃপক্ষ। কিন্তু রোজিনাকে দুই শিফটে চালানোর অনুমতি দিয়েছে পৌরসভা। সরেজমিনে দেখা যায়, নতুন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অটোরিকশা নিয়ে যাত্রী ডাকছেন রোজিনা। কলেজ গেট, পুরাতন বাসস্ট্যান্ড, ক্যাপসুল, নিরালা মোড়, বেবিস্ট্যান্ড সর্বত্রই যাত্রী আনানেয়া করেন তিনি। পুরাতন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অন্য অটো চালকদের দাঁড় করতে না দিলেও রোজিনাকে বাঁধা দেননা ট্রাফিক পুলিশ। বলতে গেলে সবাই তার প্রতি সহানুভুতিশীল। ট্রাফিক পুলিশসহ অন্য অটোচালকরাও তাকে সহযোগিতা করেন। রোজিনা বলেন, আমার অটোতে নারী যাত্রীরা খুব কম। তারা মনে করে আমার অটোতে উঠলে দুর্ঘটনায় পড়বে। কিন্তু আমি খুব সাবধানে অটো চালাই। দ্রুত গতিতেও না, আবার একেবারে ধীরগতিতেও না। এখন পর্যন্ত আমি কোন দুর্ঘটনার কবলে পড়ি নাই। শহরের পুরুষ অটোরিকশা চালকরা আমাকে অনেক সহযোগিতা করে। অটোচালক কাদের মিয়া বলেন, আমাদের শহরে কয়েক হাজার অটো চলাচল করে। তার মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। তাকে আমরা সব সময় সহযোগিতা করি। যাত্রী সাইদ মিয়া বলেন, আমি এ পর্যন্ত ৫-৬ বার রোজিনার অটোতে চড়েছি। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। অন্য পুরুষ অটো চালকের চেয়েও ভালো অটো চালান। নারী সংগঠক সেরাজুম মনিরা বলেন, তিনি অনেক দিন যাবত অটোরিকশা চালাচ্ছেন। আমি রোজিনাকে স্যালুট জানাই। একজন পুরুষের চেয়ে একজন নারী কোনো ভাবেই যে পিছিয়ে নেই, রোজিনা তা প্রমাণ করেছেন। রোজিনা বলেন, অটো চালানোর এই সিদ্ধান্তটি তার জন্য খুব সহজ ছিল না। তিনি বলেন, ৫ ও ১০ বছরের দুই মেয়েকে বাড়িতে রেখে অটোরিকশা নিয়ে সারাদিন রাস্তায় থাকতে হয়। তাদের ভালোভাবে দেখাশোনা করতে পারি না। কিন্তু কি করবো, অভাবের সংসার! এখন ঋণ নিয়ে একটু জমি কিনেছি। প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ণ প্রকল্পের অর্থায়নে প্রশাসন সেখানে ঘর তুলে দিয়েছে। শুরুতে যারা আমাকে নিয়ে ঠাট্টা করেছে এখন তারাই আমাকে সম্মান করেন। নারীরাও যে কিছু করতে পারে, তা প্রমাণ করেছি। আমার বড় মেয়ে আইসড়া উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়ে, ছোট মেয়ে পড়ে স্থানীয় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। মেয়েদের শিক্ষিত করতে হবে। ধার দেনা শোধ করতে হবে। তাই থেমে গেলো চলবে না। আমি অটোরিকশা চালিয়েই দুই সন্তানকে মানুষ করতে চাই।’ ঘারিন্দা ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য বাবুল সরকার বলেন, সরকার রোজিনাকে একটি ঘর নির্মাণ করে দিয়েছে। শুরুতে যারা তাকে নিয়ে নানান কথা বলতো, এখন তার সংকল্প ও মানষিক দৃঢ়তা দেখে থেমে গেছে। আমরা তাকে নিয়ে গর্ব করি। টাঙ্গাইলের ট্রাফিক ইন্সপেক্টর (প্রশাসন) দেলোয়ার হোসেন বলেন, শহরের একমাত্র নারী চালক রোজিনাকে কেউ যেন বিরক্ত করতে না পারে সেদিকে সব সময় নজর রাখে ট্রাফিক পুলিশ। আমরা তাকে সব সময় সহযোগিতা করে আসছি। টাঙ্গাইলের সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক শাহ আলম বলেন, বিষয়টি এখন জানতে পারলাম। ওই নারী এখনো পর্যন্ত আমাদের কাছে আসেন নাই। যদি আমাদের কাছে এসে আবেদন করেন অবশ্যই তাকে আমরা সহযেগিতা করবো, তার পাশে দাঁড়াবো।

কুড়িগ্রামের তাজু ভাই ২.০: ‘সরকারি রেটে জিলাপি’ প্রশ্নে ভাইরাল এক নির্মাণশ্রমিকের গল্প

বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের প্রত্যন্ত চরাঞ্চল থেকে উঠে এসে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার কেন্দ্রে এখন তাইজুল ইসলাম, যিনি অনলাইনে পরিচিত ‘তাজু ভাই ২.০’ নামে। মাত্র একটি ভিডিও—যেখানে তিনি এক দোকানিকে প্রশ্ন করেন, “জিলাপি আজকে কত করে বেচতেছেন সরকারি রেটে?”—এই সরল উপস্থাপনাই তাকে রাতারাতি ভাইরাল করে তোলে।  কয়েক ঘণ্টায় ফলোয়ার লাখ ছাড়াল রোববার রাত পর্যন্ত তার ফেসবুক অনুসারী ছিল প্রায় ৩৫ হাজার। কিন্তু সোমবার সন্ধ্যা থেকে রাতের মধ্যেই তা বেড়ে এক লাখের বেশি হয়ে যায়। ভাইরাল ভিডিওটি ইতোমধ্যে প্রায় ৫০ থেকে ৫৫ লাখবার দেখা হয়েছে।  কী ছিল সেই ভিডিওতে? ভিডিওতে দেখা যায়, কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীর নারায়ণপুর বাজারে দাঁড়িয়ে স্থানীয় ভাষায় তিনি জিলাপির দাম জানতে চান। তার কথাগুলো ছিল একেবারেই সহজ ও গ্রাম্য ভঙ্গিতে— “সাদাডা কত, লালডা কত? সরকারি রেটে বেচতেছেন?” এই সরল প্রশ্নই সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।  কোথা থেকে উঠে এলেন তাজু ভাই? কুড়িগ্রাম জেলার নাগেশ্বরী উপজেলার নারায়ণপুর ইউনিয়নের একটি দুর্গম গ্রামে জন্ম তার। ব্রহ্মপুত্র নদবেষ্টিত এই অঞ্চলে পৌঁছাতে এখনও কয়েকটি নৌঘাট পার হতে হয়। দারিদ্র্যের কারণে কখনো স্কুলে যাওয়া হয়নি তার। পেশায় তিনি একজন নির্মাণশ্রমিকের সহকারী (হেলপার)। কাজের ফাঁকে ঢাকায় থাকাকালীন মোবাইল ফোনে ভিডিও তৈরি করাই তার শখ। ব্যক্তিগত সংগ্রাম তাইজুল ইসলামের পরিবারে ছয় ভাই-বোন। তিনি সবার বড়। তার বাবা-মা দুজনই শ্রবণপ্রতিবন্ধী। পরিবার চালাতে তাকে ছোটবেলা থেকেই সংগ্রাম করতে হয়েছে। তিনি বলেন, “পরিবারের কষ্ট ভুলতেই ভিডিও করি। আমি সাংবাদিক না, কিন্তু আমাদের এলাকায় কেউ আসে না—তাই নিজেরাই ভিডিও বানাই।” ভাইরাল হওয়ার পেছনের উদ্দেশ্য তাইজুলের দাবি, তার ভিডিও শুধুই বিনোদনের জন্য নয়। তিনি চান তার এলাকার অবহেলিত মানুষের কথা প্রশাসনের নজরে আসুক। “আমি চাই চরের মানুষের উন্নয়ন হোক,”—বলছেন তিনি।  মিশ্র প্রতিক্রিয়া ভিডিওটি নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে দুই ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ তার সরলতা ও বাস্তবতা তুলে ধরার চেষ্টা প্রশংসা করছেন আবার কেউ তাকে নিয়ে ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ করছেন তবে এসব সমালোচনায় তিনি বিচলিত নন।

অর্থনীতি

ইসলামী ব্যাংক,

ইসলামী ব্যাংকে আস্থা সংকট কেন কাটছে না?: দেশের বৃহত্তম শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংককে ঘিরে নতুন প্রশ্ন

নিজস্ব প্রতিবেদক জুন ২২, ২০২৬ 0




অপরাধ

ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো

ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকোর বিরুদ্ধে ৩০ বিলিয়ন ডলার জালিয়াতি ও অর্থপাচার অভিযোগে দুদকের অনুসন্ধান

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ২৪, ২০২৬ 0




কৃষি ও জলবায়ু

ধান

শেরপুরে বোরো ধানের দাম কমে লোকসানে কৃষকরা, উৎপাদন খরচও উঠছে না

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ৬, ২০২৬ 0