Brand logo light

চট্রগ্রাম

কনটেন্ট ক্রিয়েটর দ্বীন ইসলাম
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় কনটেন্ট ক্রিয়েটর দ্বীন ইসলামকে পিটিয়ে হত্যা

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবায় দ্বীন ইসলাম (৩৫) নামে এক কনটেন্ট ক্রিয়েটরকে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) দুপুরে উপজেলার মেহারী ইউনিয়নের শিমরাইল গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। দ্বীন ইসলাম কসবা উপজেলার মেহারী ইউনিয়নের শিমরাইল গ্রামের বাসিন্দা সফিকুল ইসলামের ছেলে। এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।   পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, উপজেলার শিমরাইল গ্রামে মঙ্গলবার দুপুরে বেশ কয়েকজনের একটি সংঘবদ্ধ দল দ্বীন ইসলামকে তার নিজ বাড়ি থেকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে যায়। এরপর তাকে বেধড়ক মারধর করা হয়। তাকে গুরুতর আহত অবস্থায় বুড়ি নদী পার করে পাশের কুমিল্লার বাঙ্গরা থানার গাঙ্গেরকুট এলাকায় ফেলে রেখে যায় দুর্বৃত্তরা। পরে পরিবারের সদস্যরা ৯৯৯ নম্বরে ফোন করলে কসবা থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। কসবা থানার পুলিশ বিষয়টি বাঙ্গরা থানাকে অবহিত করলে পুলিশ দ্বীন ইসলামকে উদ্ধার করে থানায় হস্তান্তর করে। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় তাকে কসবা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। দ্বীন ইসলাম সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও ইউটিউবে ‘তালাশ ক্রাইম দৃষ্টি’ নামে একটি পেজ পরিচালনা করতেন। তিনি বিভিন্ন জায়গায় নিজেকে সাংবাদিক পরিচয় দিতেন।   নিহতের বাবা সফিকুল ইসলাম ও মা পারুল বেগম জানান, মাদকসেবন, মাদক ব্যবসা ও বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড নিয়ে ভিডিও কন্টেন্ট তৈরি করতো তাদের ছেলে। অপরাধীদের বিরুদ্ধে নিয়মিত ভিডিও প্রকাশ করায় ক্ষুব্ধ হয়ে একটি প্রভাবশালী চক্র পরিকল্পিতভাবে তাকে হত্যা করেছে। দ্বীন ইসলাম নিহতের ঘটনায় স্থানীয় সাবেক ইউপি সদস্য মো. আবদুল আওয়াল ও তার সহযোগীরা জড়িত। এ বিষয়ে জানতে চাইলে অভিযোগ অস্বীকার করে মেহারী ইউনিয়নের সাবেক ইউপি সদস্য মো. আবদুল আওয়াল বলেন, দ্বীন ইসলাম খারাপ প্রকৃতির লোক। তার বিরুদ্ধে কসবা থানাসহ বিভিন্ন থানয় বহু মামলাও রয়েছে। ফেসবুকে একটি পেজ খুলে মানুষের বিরুদ্ধে ভিডিও দিতো। তবে তিনি শুনেছেন কে বা কারা তাকে মারধর করে নদীর পাড়ে পাশের থানার সীমানায় ফেলে রেখেছে।   কসবা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজনীন সুলতানা বলেন, কয়েকজন ব্যক্তি তাকে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে মারধর করে হত্যা করে নদীর ধারে ফেলে রেখেছে বলে শুনেছি। মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। তিনি আরও জানান, দ্বীন ইসলামের নামে কসবা থানায় মাদক, চুরি ও ডাকাতিসহ প্রায় ১০টি মামলা রয়েছে। তবে হত্যার পেছনের কারণ উদঘাটনে তদন্ত চলছে এবং জড়িতদের শনাক্ত করে গ্রেফতারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ২৪, ২০২৬ 0
কুমিল্লায় বাস-ট্রেন সংঘর্ষে নিহত ১২
কুমিল্লায় ট্রেন-বাস সংঘর্ষে নিহত ১২, আহত অন্তত ১০ : চট্টগ্রামের সঙ্গে সারাদেশের রেল যোগাযোগ বন্ধ

কুমিল্লার সদর দক্ষিণ উপজেলায় ভয়াবহ ট্রেন ও যাত্রীবাহী বাসের সংঘর্ষে অন্তত ১২ জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে ৭ জন পুরুষ, ২ জন নারী ও ৩ জন শিশু রয়েছে। এ ঘটনায় আরও অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। দুর্ঘটনার পর চট্টগ্রামের সঙ্গে সারাদেশের রেল যোগাযোগ সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে যায়। শনিবার (২১ মার্চ) দিবাগত রাত প্রায় ৩টার দিকে পদুয়ার বাজার এলাকার একটি রেলক্রসিংয়ে এই দুর্ঘটনা ঘটে। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, চট্টগ্রাম থেকে ছেড়ে আসা ঢাকাগামী একটি ট্রেনের সঙ্গে চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে চট্টগ্রামগামী ‘মামুন স্পেশাল’ পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাসের সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষের পর দ্রুতগতির ট্রেনটি বাসটিকে প্রায় এক কিলোমিটার পর্যন্ত টেনে নিয়ে যায়, ফলে হতাহতের সংখ্যা বেড়ে যায়। খবর পেয়ে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার কাজ শুরু করেন। নিহতদের মরদেহ উদ্ধার করে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয় এবং আহতদের সেখানে ভর্তি করা হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দা ও ট্রেনের যাত্রীরা অভিযোগ করেছেন, রেলগেটের সিগন্যালম্যানের অবহেলার কারণেই এই দুর্ঘটনা ঘটেছে। তাদের দাবি, একাধিকবার জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ ফোন করা হলেও যথাসময়ে সাড়া পাওয়া যায়নি, যা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন তারা। ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের উপসহকারী পরিচালক মো. ইদ্রিস জানিয়েছেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, রেলক্রসিংয়ে যথাযথ সিগন্যাল না থাকায় বাসটি রেললাইনে উঠে গেলে এ দুর্ঘটনা ঘটে। কুমিল্লা ইপিজেড পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ পরিদর্শক মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বলেন, “রাত ৩টার দিকে দুর্ঘটনার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে হতাহতদের উদ্ধারে কাজ শুরু করা হয়।” কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. অজয় ভৌমিক জানান, এখন পর্যন্ত হাসপাতালে ১২ জনের মরদেহ আনা হয়েছে। এর মধ্যে দুজনের পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে এবং বাকিদের পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা চলছে। রবিবার সকালে রেলওয়ে ও পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন এবং দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত কার্যক্রম শুরু হয়েছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ২২, ২০২৬ 0
কক্সবাজার ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির সহকারী পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক মুহাম্মদ ইউনুস
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে নিয়ে পোস্ট, কক্সবাজার ইন্টারন্যাশনাল বিশ্ববিদ্যালয় কর্মকর্তা বরখাস্ত

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ‘মানহানিকর ও কুরুচিপূর্ণ’ পোস্ট শেয়ার করার অভিযোগে কক্সবাজার ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির সহকারী পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক মুহাম্মদ ইউনুসকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার অফিস থেকে জারি করা এক অফিস আদেশের মাধ্যমে এই সিদ্ধান্ত জানানো হয়। আদেশে বলা হয়,'তার বিরুদ্ধে কেন স্থায়ী প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে না, তা সাত কার্যদিবসের মধ্যে লিখিত ব্যাখ্যা দিতে হবে।' এছাড়াও আদেশে উল্লেখ করা হয়, ' বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন কর্মকর্তা হয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ ধরনের উসকানিমূলক বা আপত্তিকর রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে লিপ্ত হওয়া প্রতিষ্ঠানের আচরণবিধি ও শৃঙ্খলা পরিপন্থি। যা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করেছে।' বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, কক্সবাজার-১ (চকরিয়া-পেকুয়া) আসনের সংসদ সদস্য ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে নিয়ে মুহাম্মদ ইউনুসের ব্যক্তিগত ফেসবুক প্রোফাইল থেকে সম্প্রতি একটি পোস্ট শেয়ার করা হয়। বিষয়টি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের নজরে এলে শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে তার বিরুদ্ধে এই ব্যবস্থা নেয়া হয়। কক্সবাজার ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির রেজিস্ট্রার রাজিদুল হক বলেন, ‘শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে সহকারী পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক মুহাম্মদ ইউনুসকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। তাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেয়া হয়েছে। তার লিখিত জবাব পাওয়ার পর বিশ্ববিদ্যালয়ের শৃঙ্খলা কমিটির বৈঠকে পরবর্তী চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।’

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ১৮, ২০২৬ 0
হাতিয়া উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আলাউদ্দিন
হাতিয়ার ইউএনও ওএসডি, ভাইরাল ভিডিও ঘিরে বিতর্ক

নোয়াখালী : নোয়াখালীর হাতিয়া উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আলাউদ্দিনকে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওএসডি) করা হয়েছে। মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় এ সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন জারি করে। এর আগে সোমবার (১৬ মার্চ) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ইউএনও মো. আলাউদ্দিনকে ঘিরে একটি আপত্তিকর ভিডিও ভাইরাল হয়। প্রায় ২৯ সেকেন্ড দৈর্ঘ্যের ওই ভিডিওটি দ্রুতই ফেসবুকসহ বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে ছড়িয়ে পড়ে, যা নিয়ে নেটিজেনদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়। অভিযোগের বিষয়ে মো. আলাউদ্দিন দাবি করেছেন, ভিডিওটি সম্পূর্ণ ভুয়া এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তি ব্যবহার করে তৈরি করা হয়েছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, আগের কর্মস্থল সুনামগঞ্জের তাহেরপুর এলাকা থেকে পরিকল্পিতভাবে এটি ছড়ানো হয়েছে। স্থানীয় সূত্র জানায়, ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার খবর পাওয়ার পর সোমবার সকালেই তিনি কর্মস্থল ত্যাগ করে জেলা সদরের উদ্দেশে রওনা দেন। এরপর থেকে তার সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। ইউএনও কার্যালয়ের একাধিক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, তারা সামাজিক মাধ্যমে ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার বিষয়টি অবগত আছেন। তবে ভিডিওতে থাকা নারীর পরিচয় এখনো নিশ্চিত করা যায়নি। ঘটনাটি ঘিরে এলাকায় নানা গুঞ্জন তৈরি হয়েছে। কেউ কেউ একে ‘হানিট্র্যাপ’ হিসেবে দেখছেন, যদিও এ বিষয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক তদন্তের ফলাফল প্রকাশিত হয়নি। প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ১৮, ২০২৬ 0
বিজয়নগরের লৌহর নদীর সেতু, অনিয়মের অভিযোগে তিনবার বন্ধ কাজ

ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি: ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগর উপজেলার হরষপুর এলাকায় লৌহর নদীর ওপর নির্মাণাধীন একটি সেতুর কাজ নির্ধারিত সময় পেরিয়ে গেলেও এখনো অর্ধেকও শেষ হয়নি। প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হওয়ার প্রায় ৯ মাস পরও মাত্র ৪০ শতাংশ কাজ সম্পন্ন হয়েছে, যা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে চরম হতাশা ও ক্ষোভ বিরাজ করছে। স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিআরডি) সূত্রে জানা যায়, প্রায় ৩ কোটি ৮৬ লাখ টাকা ব্যয়ে ৬০ মিটার দৈর্ঘ্যের সেতুটি নির্মাণের কাজ শুরু হয় ২৬ নভেম্বর ২০২৩। প্রকল্প অনুযায়ী কাজ শেষ হওয়ার কথা ছিল ২৫ মে ২০২৫। তবে সময়সীমা পেরিয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত সেতুর কাজের অগ্রগতি মাত্র ৪০ শতাংশ। এলজিআরডি অফিস জানায়, সেতুর পাইলিং, বেইজ ঢালাই ও ওয়েং ওয়াল নির্মাণের মতো গুরুত্বপূর্ণ কাজ উপজেলা এলজিআরডি অফিসের প্রতিনিধির অনুপস্থিতিতে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার করে করা হচ্ছিল বলে অভিযোগ ওঠে। বালু, কংক্রিট, সিমেন্টসহ বিভিন্ন উপকরণে অনিয়মের অভিযোগে স্থানীয়রা কাজ বন্ধের দাবি জানালে প্রশাসন তিন দফায় কাজ বন্ধ করে দেয়। স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযোগ করেন, দীর্ঘ সময় কাজ বন্ধ থাকার পাশাপাশি বড় প্রকল্পের কাজ মাত্র ২ থেকে ৪ জন শ্রমিক দিয়ে ধীরগতিতে চালানো হচ্ছে, যা প্রকল্প বাস্তবায়নে বড় ধরনের বিলম্ব সৃষ্টি করেছে। এই প্রকল্পের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান অনন্ত আকাশ ত্রিপুরা এবং মেসার্স লোকমান হোসেন জেবি। প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক লোকমান হোসেনের সঙ্গে মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। এ বিষয়ে উপজেলা এলজিআরডি অফিসের উপজেলা প্রকৌশলী আশিকুর রহমান ভূইয়া বলেন, “আমাদের প্রতিনিধির অনুপস্থিতিতে কাজ করার বিষয়টি এলাকাবাসী জানালে আমরা কাজ বন্ধ করে দিই। ঠিকাদারকে দ্রুত সেতুর কাজ শেষ করার জন্য নিয়মিত তাগিদ দেওয়া হচ্ছে।” এদিকে দীর্ঘদিনেও সেতুর কাজ শেষ না হওয়ায় স্থানীয়দের যাতায়াতে ভোগান্তি বাড়ছে। দ্রুত কাজ শেষ করে এলাকাবাসীর দীর্ঘদিনের স্বপ্নের সেতুটি চালু করার দাবি জানিয়েছেন তারা।

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ৮, ২০২৬ 0
চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন
চট্টগ্রামে ৩ কোটি ৩০ লাখ টাকার পৌরকর কমিয়ে ১৮ লাখ টাকা !

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) আগ্রাবাদ এলাকায় অবস্থিত হোটেল সেন্টমার্টিন লিমিটেড-এর বার্ষিক পৌরকর সংক্রান্ত একটি ভয়াবহ অনিয়মের সত্যতা তদন্ত কমিটি প্রকাশ করেছে। প্রতিবেদনে দেখা গেছে, হোটেলের পৌরকর ৩ কোটি ৩০ লাখ টাকা থেকে কমিয়ে মাত্র ১৮ লাখ টাকায় নেমেছে, যা চসিকের জন্য ৩ কোটি ১২ লাখ টাকার আর্থিক ক্ষতির কারণ হয়েছে। চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন-এর কাছে বুধবার (৪ মার্চ) সন্ধ্যায় এই তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়া হয়। তদন্ত কমিটি হোটেলের পৌরকর কমানোর পিছনে রাজস্ব বিভাগের দুই কর্মকর্তার যোগসাজশের প্রমাণ পায়। তদন্ত কমিটির গঠন ও দায়িত্ব চসিক ২৪ নভেম্বর একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে। কমিটির আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পান সংস্থাটির আইন কর্মকর্তা মহিউদ্দিন মুরাদ, আর সদস্য সচিব হিসেবে দায়িত্ব পান হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা আশুতোষ দে। কমিটির অন্য দুই সদস্য হলেন রাজস্ব কর্মকর্তা মো. সাব্বির রহমান সানি এবং শিক্ষা কর্মকর্তা নাজমা বিনতে আমিন। কমিটির মূল কাজ ছিল হোটেল সেন্টমার্টিন লিমিটেডের ‘পৌরকর কমানোর’ অভিযোগ যাচাই করা। তদন্তে উঠে আসে যে, ২০১৭-১৮ অর্থবছরে হোটেলের বার্ষিক পৌরকর প্রথমে ৩ কোটি ৩০ লাখ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছিল। তবে পরবর্তীতে দুই দফা কমিয়ে তা ১৮ লাখ টাকায় আনা হয়। পৌরকর কমানোর প্রক্রিয়ার বিশদ ২০১৭ সালে হোটেল কর্তৃপক্ষ নির্ধারিত পৌরকরের বিরুদ্ধে আপিল করে। আপিলের পর ৩ কোটি ৩০ লাখ টাকার পৌরকর কমিয়ে ২২ লাখ টাকায় নির্ধারণ করা হয়। পরবর্তীতে ২০২৪ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি পুনরায় আপিল শুনানি শেষে চূড়ান্তভাবে ১৮ লাখ টাকা নির্ধারণ করা হয়। তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বার্ষিক মূল্যায়ন সংক্রান্ত আপিল once সিদ্ধান্ত হওয়ার পর তা আর পরিবর্তন করার বা পুনরায় আপিল দায়ের করার সুযোগ নেই। তবে তৎকালীন কর কর্মকর্তা মো. মেজবাহ উদ্দিন বেআইনিভাবে আপিল কার্যক্রম সম্পন্ন করেছেন। চসিকের আর্থিক ক্ষতি এই অনিয়মের কারণে চসিক ৩ কোটি ১২ লাখ টাকার আর্থিক ক্ষতি হয়েছে। কমিটি প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছে যে, পৌরকরের সঠিক পুনর্মূল্যায়ন ও প্রক্রিয়ার বাইরে গিয়ে যে কর কমানো হয়েছে, তা সম্পূর্ণ বেআইনি। চসিকের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এই অনিয়মের বিষয়টি প্রথম প্রকাশিত হয় সেপ্টেম্বর মাসে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের এক নিরীক্ষা প্রতিবেদনে। এরপরই চসিক তদন্ত কমিটি গঠন করে। অনিয়মের দায় এবং সম্ভাব্য পদক্ষেপ কমিটি প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছে যে, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং হোটেল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা উচিত। এছাড়া ভবিষ্যতে এমন ধরনের অনিয়ম রোধ করতে চসিককে আরও স্বচ্ছ ও নিয়মিত মূল্যায়ন ও তদারকি ব্যবস্থা গ্রহণের পরামর্শ দিয়েছে। চট্টগ্রামে কর প্রশাসনে স্বচ্ছতা নিশ্চিতকরণ চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন বারবার দাবি করেছে যে, স্থানীয় সরকার ও কর প্রশাসনের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে নিয়মিত মূল্যায়ন এবং স্বতন্ত্র তদন্ত প্রক্রিয়া চালু করা হবে। হোটেল সেন্টমার্টিন লিমিটেডের মতো বড় ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানগুলোর কর নির্ধারণ ও পরিশোধ প্রক্রিয়ার তদারকি চসিকের অগ্রাধিকারের মধ্যে থাকবে।   চট্টগ্রামে হোটেল সেন্টমার্টিন লিমিটেডে পৌরকর কমানোর এই ঘটনা স্থানীয় কর প্রশাসনের জন্য এক সতর্কবার্তা। তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে স্পষ্টভাবে উল্লেখ আছে যে, রাজস্ব কর্মকর্তাদের বেআইনি ক্রিয়াকলাপ চসিকের জন্য বড় আর্থিক ক্ষতির কারণ হয়েছে। চট্টগ্রামবাসী ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ আশা করছে, এই প্রতিবেদন অনুযায়ী কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করলে ভবিষ্যতে এমন ধরনের অনিয়ম আর ঘটবে না।

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ৫, ২০২৬ 0
বাংলাদেশ  বিমান
চট্টগ্রাম থেকে মধ্যপ্রাচ্যগামী ২০টি ফ্লাইট বাতিল

চট্টগ্রাম: মধ্যপ্রাচ্যে ইরান ও আমেরিকা ও ইসরায়েলের সম্ভাব্য সংঘর্ষের প্রেক্ষিতে চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ২০টি ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। রোববার (১ মার্চ) বিকেলে দুইটি ফ্লাইট মধ্যপ্রাচ্যের উদ্দেশ্যে সফলভাবে উড্ডয়ন করেছে। বিমানবন্দরের জনসংযোগ কর্মকর্তা প্রকৌশলী মোহাম্মদ ইব্রাহীম খলিল বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, বিকেল ৪টা ৩৫ মিনিটে ৪১৯ জন যাত্রী নিয়ে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের ফ্লাইট BG135 চট্টগ্রাম থেকে জেদ্দার উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছে। এছাড়া, সালাম এয়ারের ফ্লাইট OV-403 মাস্কাট থেকে স্থানীয় সময় বিকেল ৫টা ৫০ মিনিটে চট্টগ্রামের উদ্দেশ্যে আগমন করেছে। তবে, মধ্যপ্রাচ্যগামী এবং আসা ফ্লাইটগুলোর মধ্যে কিছু বাতিল করা হয়েছে। এয়ার আরাবিয়ার ১টি অ্যারাইভাল ও ১টি ডিপার্চার ফ্লাইট বাতিল হয়েছে। একইভাবে, ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসের মধ্যপ্রাচ্যগামী ১টি ডিপার্চার ফ্লাইট এবং ১টি অ্যারাইভাল ফ্লাইটও বাতিল করা হয়েছে। বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ যাত্রীদের নিরাপত্তার কারণে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে এবং সকল যাত্রীকে সময়মতো তথ্য দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ২, ২০২৬ 0
শীর্ষ সন্ত্রাসী মোহাম্মদ রায়হান আলম ও মোবারক হোসেন ইমন।
চট্টগ্রামে স্মার্ট গ্রুপ চেয়ারম্যানের বাসায় গুলি: শীর্ষ সন্ত্রাসী রায়হান-ইমনকে ঘিরে নতুন আতঙ্ক

চট্টগ্রাম নগরীতে আবারও সশস্ত্র হামলার ঘটনায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। পুলিশি পাহারায় থাকা শীর্ষ ব্যবসায়ী স্মার্ট গ্রুপের চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান-এর বাসা লক্ষ্য করে মুখোশধারী দুর্বৃত্তরা গুলি চালিয়েছে। এ ঘটনায় শীর্ষ সন্ত্রাসী মোহাম্মদ রায়হান আলম ও মোবারক হোসেন ইমনকে ঘিরে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। ভোরের নীরবতা ভাঙে গুলির শব্দ শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) সকালে চট্টগ্রাম নগরের চকবাজার থানার চন্দনপুরা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। ব্যবসায়ী মোস্তাফিজুর রহমানের বাসার সামনে ও পেছনে কয়েক রাউন্ড গুলি ছুড়ে দ্রুত পালিয়ে যায় হামলাকারীরা। এতে কেউ হতাহত না হলেও পুরো এলাকায় চরম আতঙ্ক সৃষ্টি হয়। ভুক্তভোগী জানান, ভোরে পরিবারের সদস্যরা ঘুমিয়ে ছিলেন। হঠাৎ গুলির শব্দে সবাই আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। পরে বাসার সামনে ও পেছনে গুলির চিহ্ন দেখা যায়। তার অভিযোগ, বিদেশে পলাতক শীর্ষ সন্ত্রাসী সাজ্জাদ আলীর অনুসারীরা চাঁদা না পেয়ে এ হামলা চালিয়েছে। প্রথমে ১০ কোটি, পরে ৫ কোটি টাকা চাঁদা দাবি করা হয়েছিল। চাঁদা না দেওয়ায় একাধিকবার হুমকি দেওয়া হচ্ছিল বলেও জানান তিনি। সিসিটিভিতে মুখোশধারী চারজন সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, চারজন মুখোশধারী অস্ত্রধারী একটি প্রাইভেটকার ও মোটরসাইকেলে এসে কিছু দূরে গাড়ি রেখে হেঁটে বাসার সামনে যায়। তাদের একজনের হাতে দুটি পিস্তল, অন্যদের হাতে সাবমেশিনগান (এসএমজি), চায়নিজ রাইফেল ও শটগান ছিল। কয়েক মিনিটের মধ্যে গুলি চালিয়ে দ্রুত সরে পড়ে তারা। ‘সাজ্জাদ বাহিনী’র পুরোনো কৌশল পুলিশের ভাষ্য, চাঁদা আদায়ে আতঙ্ক সৃষ্টির জন্য গুলি চালানো সাজ্জাদ বাহিনীর পুরোনো কৌশল। নগরের চান্দগাঁও, বায়েজিদ ও পাঁচলাইশসহ বিভিন্ন এলাকায় নতুন নির্মাণকাজ, ব্যবসা বা জমি লেনদেন শুরু হলেই চাঁদার দাবি আসে তাদের কাছ থেকে। বাহিনীতে অন্তত অর্ধশত শুটার ও সহযোগী সক্রিয় রয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, দীর্ঘদিন ধরে চট্টগ্রামের অপরাধ জগৎ নিয়ন্ত্রণ করে আসা এই বাহিনীর সক্রিয় কিলিং স্কোয়াডের নেতৃত্বে রয়েছেন রায়হান ও ইমন। ছোট সাজ্জাদ কারাগারে যাওয়ার পর গুরুত্বপূর্ণ অপারেশন তাদের হাতেই আসে বলে দাবি পুলিশের। রায়হানের বিরুদ্ধে একাধিক হত্যা মামলা পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকে চট্টগ্রাম নগরী ও জেলায় অন্তত আটটি হত্যাকাণ্ডসহ বিভিন্ন ঘটনায় রায়হানের বিরুদ্ধে প্রায় দেড় ডজন মামলা হয়েছে। রাউজানে যুবদল কর্মী মুহাম্মদ আলমগীর আলম হত্যা, পতেঙ্গা সমুদ্র সৈকতে ‘ঢাকাইয়া আকবর’ খুন, গাজীপাড়ায় যুবদলকর্মী ইব্রাহিম হত্যা এবং বাকলিয়া এক্সেস রোডে জোড়া খুনের ঘটনায় তার নাম উঠে এসেছে। এছাড়া চান্দগাঁওয়ে ব্যবসায়ী তাহসীন হত্যা ও অক্সিজেন-হাটহাজারী এলাকায় দুইজনকে গুলি করে হত্যার মামলাতেও তিনি আসামি। পুলিশের দাবি, রায়হান একজন দুর্ধর্ষ শুটার। টার্গেট কিলিং করে দ্রুত পাহাড়ি এলাকায় আত্মগোপনে যাওয়াই তার কৌশল। রাউজান, ফটিকছড়ি ও রাঙ্গুনিয়ার দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় তার একাধিক গোপন আস্তানা রয়েছে বলে জানা গেছে। ইমনের বিরুদ্ধেও চাঁদাবাজির অভিযোগ অন্যদিকে, মোবারক হোসেন প্রকাশ ইমন একই চক্রের সক্রিয় সদস্য। নগরজুড়ে চাঁদাবাজি, ভয়ভীতি প্রদর্শন ও সশস্ত্র হামলার সঙ্গে তার সম্পৃক্ততার অভিযোগ রয়েছে। রায়হানের সঙ্গে যৌথভাবে বাহিনীর বিভিন্ন অপারেশন পরিচালনা করেন তিনি বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র। পুলিশের বক্তব্য চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ-এর উপ কমিশনার (দক্ষিণ) হোসাইন কবির ভূঁইয়া জানান, হামলাকারীরা একটি প্রাইভেটকার ও মোটরসাইকেলে এসে গাড়ি কিছুটা দূরে রেখে হেঁটে বাসার সামনে গিয়ে গুলি চালায় এবং কয়েক মিনিটের মধ্যে পালিয়ে যায়। মুখোশধারী হওয়ায় শনাক্ত করা কঠিন হলেও সাজ্জাদ আলীর সহযোগী রায়হান ও বোরহানের সংশ্লিষ্টতার সন্দেহ রয়েছে। তাদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে। সিএমপির সহকারী পুলিশ কমিশনার (সদর), অতিরিক্ত দায়িত্বে সহকারী পুলিশ কমিশনার (জনসংযোগ) আমিনুর রশিদ জানান, গুলির ঘটনায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। ইতোমধ্যে চারজনকে গ্রেপ্তার এবং ব্যবহৃত গাড়ি উদ্ধার করা হয়েছে। পলাতক রায়হান ও ইমনকে ধরতে একাধিক টিম অভিযান চালাচ্ছে। নগরবাসীর উদ্বেগ পুলিশি পাহারার মধ্যেই শীর্ষ ব্যবসায়ীর বাসায় গুলির ঘটনায় নগরবাসীর মধ্যে নতুন করে নিরাপত্তা উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বলছে, পলাতক সন্ত্রাসীদের আইনের আওতায় আনতে সব ধরনের অভিযান অব্যাহত রয়েছে এবং শিগগিরই অগ্রগতি জানানো হবে।  

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ২, ২০২৬ 0
প্রবাসী আলমগীর হোসেন- ফাইল ছবি
লক্ষ্মীপুরে ৫ টাকার বিরোধে আপন ছোট ভাইকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ

লক্ষ্মীপুরের লক্ষ্মীপুর জেলার রামগঞ্জ উপজেলায় মাত্র ৫ টাকার বিদ্যুৎ বিলের লেনদেনকে কেন্দ্র করে প্রবাসী আলমগীর হোসেন (৪০) নামে এক ব্যক্তিকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে তার আপন বড় ভাই খোরশেদ আলমের বিরুদ্ধে। শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) রাত সাড়ে ৮টার দিকে উপজেলার ৮নং করপাড়া ইউনিয়নের উত্তর বদরপুর এলাকায় এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। পারিবারিক বিরোধ থেকে প্রাণহানি নিহতের স্ত্রী সাবিনা ইয়াসমিন জানান, তুচ্ছ লেনদেন নিয়ে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে বিরোধের সৃষ্টি হয়। সন্ধ্যার দিকে আলমগীর হোসেন এলাকার একটি চায়ের দোকানে গেলে খোরশেদ আলমসহ কয়েকজন তাকে বেধড়ক মারধর করে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, অভিযুক্তরা তাকে এলোপাতাড়ি কিল-ঘুসি ও লাঠি দিয়ে আঘাত করে। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে ঘটনাস্থলে ফেলে রেখে যায় তারা। হাসপাতালে নেওয়ার পর মৃত্যু পরে স্থানীয়রা উদ্ধার করে দ্রুত রামগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। জানা যায়, নিহত আলমগীর হোসেন দীর্ঘদিন দুবাইয়ে কর্মরত ছিলেন এবং সম্প্রতি ছুটিতে দেশে ফিরেছেন। তার আকস্মিক মৃত্যুর খবরে পরিবারে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। স্ত্রী সাবিনা ইয়াসমিন ও শ্বশুর আবু সায়েদসহ স্বজনদের আহাজারিতে পুরো এলাকা ভারী হয়ে ওঠে। এলাকায় ক্ষোভ ও উত্তেজনা ঘটনার পর এলাকায় চরম ক্ষোভ ও উত্তেজনা বিরাজ করছে। স্থানীয়দের দাবি, তুচ্ছ ঘটনায় এমন নৃশংস হত্যাকাণ্ড কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। দ্রুত জড়িতদের গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন তারা। পুলিশের বক্তব্য রামগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ফিরোজ উদ্দিন চৌধুরী জানান, এ ঘটনায় হত্যা মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। জড়িতদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

নিজস্ব প্রতিবেদক ফেব্রুয়ারি ২২, ২০২৬ 0
সালেহ উদ্দিন সিফাত
জাতীয় নাগরিক পার্টির নেতা সালেহ উদ্দিন সিফাত হত্যার হুমকির অভিযোগ

বিভিন্ন নম্বর থেকে হত্যার হুমকি পাচ্ছেন বলে অভিযোগ করেছেন সালেহ উদ্দিন সিফাত। তিনি জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) যুগ্ম সদস্যসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে নিজের ব্যক্তিগত আইডিতে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ অভিযোগ করেন। পোস্টে সিফাত দাবি করেন, তার মোবাইল নম্বর, পারিবারিক ঠিকানা এবং অন্যান্য ব্যক্তিগত তথ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ফাঁস করা হয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, “গণহত্যাকারী লীগ” তার এসব তথ্য প্রকাশ করেছে। এর পর থেকেই বিভিন্ন অজ্ঞাত নম্বর থেকে তাকে অনবরত মৃত্যুর হুমকি, হামলার আশঙ্কা এবং পরিবারের সদস্যদের ওপর আঘাতের হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলে উল্লেখ করেন। তিনি আরও লেখেন, বিষয়টি নিয়ে তিনি পুলিশের কাছে মামলা করতে যাচ্ছেন। পাশাপাশি সীতাকুণ্ড-এর স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশকেও অবহিত করেছেন। পোস্টের শেষাংশে তিনি সমর্থকদের উদ্দেশে লেখেন, “এই গণহত্যাকারী ও ফ্যাসিবাদীদের মোকাবেলায় আমি আপনাদেরকে পাশে চাই। আমরা এই খুনীচক্রকে একসঙ্গে প্রতিহত করবো, ইনশাআল্লাহ! ইনকিলাব জিন্দাবাদ!” এ ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যক্তিগত তথ্য ফাঁস ও হুমকির ঘটনা উদ্বেগজনকভাবে বাড়ছে। ঘটনার বিষয়ে বিস্তারিত জানতে সংশ্লিষ্ট থানার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা চলছে। নতুন কোনো তথ্য পাওয়া গেলে তা হালনাগাদ করা হবে।

নিজস্ব প্রতিবেদক ফেব্রুয়ারি ২২, ২০২৬ 0
শহীদ মিনারে রুমিন ফারহানাকে ফুল দিতে বাধা
শহীদ মিনারে রুমিন ফারহানাকে ফুল দিতে বাধা, পুষ্পস্তবক ছিঁড়ে ফেলায় উত্তেজনা

রুমিন ফারহানা বিএনপি নেতাকর্মীদের বাধার মুখে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে পারেননি। এ সময় উত্তেজিত নেতাকর্মীরা তার আনা পুষ্পস্তবক ছিঁড়ে ফেলেন। শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাত ১২টার দিকে সরাইল উপজেলার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে এ ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে কর্মী-সমর্থকদের প্রহরায় শহীদ মিনার এলাকা ত্যাগ করেন তিনি। ঘটনাস্থলের পরিস্থিতি প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, রাত পৌনে ১২টার দিকে পুষ্পস্তবক নিয়ে শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে পৌঁছান রুমিন ফারহানা। কর্মী-সমর্থকদের সঙ্গে নিয়ে শহীদ বেদীর সামনে দাঁড়ালে সরাইল উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার হোসেনের নেতৃত্বে একদল নেতাকর্মী সেখানে উপস্থিত হন। এ সময় তারা রুমিন ফারহানাকে উদ্দেশ করে ‘ভুয়া ভুয়া’ স্লোগান দিতে থাকেন। এতে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হয়। এক পর্যায়ে বিএনপির নেতাকর্মীরা তার আনা পুষ্পস্তবকটি ছিঁড়ে ফেলেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। তবে পুষ্পস্তবক অর্পণ করতে না পেরে এলাকা ত্যাগ করেন রুমিন ফারহানা। মহাসড়কে অবরোধ ঘটনার প্রতিবাদে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের শাহবাজপুর প্রথম গেট এলাকায় প্রায় এক ঘণ্টা অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন রুমিন ফারহানার কর্মী-সমর্থকরা। এতে মহাসড়কে যান চলাচল সাময়িকভাবে ব্যাহত হয়। রুমিন ফারহানার অভিযোগ নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা অভিযোগ করে বলেন, “নিয়ম অনুযায়ী আমি প্রথমে শহীদ মিনারে ফুল দিতে যাই। সে সময় বিএনপির কিছু নেতাকর্মী পূর্বপরিকল্পিতভাবে হামলা চালায়।” তিনি আরও বলেন, “দীর্ঘ ১৭ বছর পর বিএনপি রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বে এসে যদি স্থানীয় পর্যায়ের নেতাকর্মীদের নিয়ন্ত্রণ করতে না পারে তাহলে এর পরিণতি ভয়াবহ হবে। যারা দলের পদ ব্যবহার করে এমন হিংস্রতা করে তাদের বিরুদ্ধে উচ্চ পর্যায় থেকে ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। না হলে এটি দলের জন্য যেমন ক্ষতিকর হবে, তেমনি সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হবে।” পুলিশের বক্তব্য ব্রাহ্মণবাড়িয়ার পুলিশ সুপার শাহ মোহাম্মদ আব্দুর রউফ বলেন, “শহীদ মিনারে দুই পক্ষের মধ্যে ধাক্কাধাক্কি ও স্লোগান দেওয়ার বিষয়ে অভিযোগ পেয়েছি। ভিডিও ফুটেজ দেখে বিষয়টি যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। পরবর্তীতে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”  

নিজস্ব প্রতিবেদক ফেব্রুয়ারি ২১, ২০২৬ 0
মালয়েশিয়ায় পাচারকালে নারী ও শিশুসহ ৫৫ জন উদ্ধার
টেকনাফ থেকে ৫৫ জন উদ্ধার, মানবপাচারে ৫ জন আটক: বাংলাদেশ কোস্টগার্ডের অভিযান

উন্নত জীবনের প্রলোভনে সাগরপথে মালয়েশিয়ায় পাচারকালে কক্সবাজারের টেকনাফ থেকে ৫৫ জনকে উদ্ধার করেছে বাংলাদেশ কোস্টগার্ড। এ সময় মানবপাচারে জড়িত থাকার অভিযোগে ৫ জনকে আটক করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) রাতে টেকনাফের বাহারছড়ার কচ্ছপিয়া-সংলগ্ন সমুদ্র এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের উদ্ধার করা হয়। পরে শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় কোস্টগার্ড সদর দপ্তারের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সিয়াম-উল-হক বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, সাগরপথে মালয়েশিয়ায় পাচারের উদ্দেশ্যে নারী ও শিশুসহ বিপুলসংখ্যক ব্যক্তি টেকনাফের বাহারছড়া সমুদ্র এলাকায় অবস্থান করছে এমন গোপন তথ্য পাই আমরা। পরে বৃহস্পতিবার রাতে কোস্টগার্ডের ৩টি দল সেখানে বিশেষ অভিযান শুরু করে। অভিযানে সাগরে একটি সন্দেহজনক ট্রলারকে থামার সংকেত দেয়া হলে তা অমান্য করে ট্রলারটি পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। তবে কোস্টগার্ড সদস্যরা ধাওয়া করে টেকনাফের বাহারছড়ার কচ্ছপিয়া-সংলগ্ন সমুদ্র এলাকায় ট্রলারটি আটক করতে সক্ষম হন। তিনি আরও বলেন, পরে ট্রলারে তল্লাশি চালিয়ে মালয়েশিয়ায় পাচারকালে নারী ও শিশুসহ ৫৫ জন ভুক্তভোগীকে উদ্ধার করার পাশাপাশি ৫ জন মানবপাচারকারীকে আটক করা হয়। উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, কয়েকটি সংঘবদ্ধ পাচারকারী চক্র বিদেশে উন্নত জীবনযাপনের স্বপ্ন, উচ্চ বেতনের চাকরি এবং অল্প খরচে বিদেশযাত্রার প্রলোভন দেখিয়েছিল। টেকনাফসহ দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে বাংলাদেশি ও রোহিঙ্গা নাগরিকদের মালয়েশিয়ায় নিয়ে যেতে সাগরপথে পাচারের পরিকল্পনা করছিল তারা। উদ্ধার হওয়া ব্যক্তি ও আটক মানবপাচারকারীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। এছাড়া মানবপাচার রোধে ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানান কোস্টগার্ডের এই কর্মকর্তা।  

নিজস্ব প্রতিবেদক ফেব্রুয়ারি ২১, ২০২৬ 0
লেবু।
রমজানেই লেবুর দাম পাঁচগুণ! চাঁদপুরের শাহরাস্তিতে হালি ১৬০ টাকা

রমজানের শুরুতেই নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজারে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। চাঁদপুর জেলার শাহরাস্তি উপজেলা এলাকায় লেবুর দাম বেড়েছে অস্বাভাবিক হারে। কয়েক দিন ধরেই উপজেলার বিভিন্ন কাঁচাবাজারে লেবু বিক্রি হচ্ছে স্বাভাবিক মূল্যের পাঁচগুণেরও বেশি দামে। বুধবার ও বৃহস্পতিবার সকালে উপজেলার একাধিক বাজার ঘুরে দেখা যায়, অধিকাংশ দোকানে অল্প পরিমাণে লেবু রয়েছে। কোথাও কোথাও এক হালি (চারটি) লেবু বিক্রি হচ্ছে ১৫০ থেকে ১৬০ টাকায়। প্রতি পিস লেবুর দাম নেওয়া হচ্ছে ৪০ টাকা পর্যন্ত। বাজারে সংকট, বাড়তি দামে বিক্রি উপজেলার আয়নাতলী বাজারের কাঁচামালের দোকানি মো. মনির হোসেন ও নুরুল হুদা জানান, বাজারে লেবুর চাহিদা অনেক বেশি থাকলেও সরবরাহ কম। মোকামে গিয়ে প্রয়োজনমতো লেবু আনতে পারছেন না তারা। আমদানি কমে যাওয়ায় বাজারে সংকট তৈরি হয়েছে বলে দাবি করেন তারা। সবজি বিক্রেতা হান্নান বলেন, “আগে বাজারে নিয়মিত লেবু আসত। এখন চাহিদা অনুযায়ী লেবু আসছে না। তাই বেশি দামে কিনে বেশি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে।” বিক্রেতাদের ভাষ্য অনুযায়ী, বর্তমান দাম স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় প্রায় পাঁচগুণ বেশি। ক্ষুব্ধ ক্রেতারা, বাজার মনিটরিংয়ের দাবি রমজানের শুরুতেই হঠাৎ লেবুর এমন মূল্যবৃদ্ধিতে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সাধারণ ক্রেতারা। অনেকেই দরদাম করে উচ্চমূল্য শুনে লেবু না কিনেই ফিরে যাচ্ছেন। ক্রেতাদের অভিযোগ, রমজানকে সামনে রেখে কিছু অসাধু ব্যবসায়ী অতিরিক্ত মুনাফা অর্জনের চেষ্টা করছেন। তারা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিয়মিত বাজার মনিটরিং জোরদারের দাবি জানিয়েছেন, যাতে নিত্যপণ্যের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়। প্রশাসনের বক্তব্য মেলেনি বাজার মনিটরিংয়ের বিষয়ে জানতে শাহরাস্তি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাজিয়া হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার মোবাইল ফোনে যোগাযোগ ও এসএমএস পাঠানো হলেও তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। রমজানজুড়ে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণে প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপ কতটা নেওয়া হয়, এখন সেটিই দেখার বিষয়।

নিজস্ব প্রতিবেদক ফেব্রুয়ারি ১৯, ২০২৬ 0
মাইক্রোবাসে এক ব্যক্তিকে টাকা গুনতে দেখা যায়
চট্টগ্রাম-১৪ আসনে ১০ লাখ ৪৯ হাজার টাকা ও মাইক্রোবাস জব্দ

চট্টগ্রাম-১৪ (চন্দনাইশ) আসনে নগদ ১০ লাখ ৪৯ হাজার টাকা ও একটি মাইক্রোবাস জব্দ করেছে সেনাবাহিনী। মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) গভীর রাতে উপজেলার আবদুল বারিহাট এলাকা থেকে মাইক্রোবাসটি আটক করা হয়। চন্দনাইশ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ইলিয়াছ খাঁন  বলেন, ‘রাত ১২টার দিকে ১০ লাখ ৪৯ হাজার টাকা ও মাইক্রোবাস থানায় হস্তান্তর করেছে সেনাবাহিনী। প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, জব্দ করা টাকাগুলো স্বতন্ত্র প্রার্থী মিজানুল হক চৌধুরীর। বিষয়টি যাচাই করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ এদিকে, টাকা জব্দ করার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। তাতে দেখা যায়, একটি মাইক্রোবাসের পাশে দাঁড়িয়ে থাকা এক ব্যক্তিকে ঘিরে রয়েছেন সেনাসদস্যরা। ওই ব্যক্তি টাকা গুনছেন। এ সময় একজন ওই ব্যক্তির পরিচয় জানতে চান। টাকা গুনতে থাকা ব্যক্তি উত্তরে জানান, তিনি মিজানুল হক চৌধুরীর এস্টেট ম্যানেজার। চট্টগ্রাম-১৪ (চন্দনাইশ) আসনে মিজানুল হক চৌধুরী ফুটবল প্রতীক নিয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। টাকাসহ জব্দের বিষয়ে জানতে মিজানুল হক চৌধুরীর মোবাইলে একাধিকবার কল করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।

নিজস্ব প্রতিবেদক ফেব্রুয়ারি ১১, ২০২৬ 0
হান্নান মাসুদের সমর্থকদের বাড়িঘরে হামলা
নোয়াখালী-৬: হান্নান মাসুদের সমর্থকদের বাড়িঘরে হামলা ও লুটপাটের অভিযোগ

নোয়াখালী-৬ (হাতিয়া) আসনের ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সিনিয়র যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক আবদুল হান্নান মাসুদের সমর্থকদের বাড়িঘরে হামলা ও লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে বিএনপির নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে। মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) রাত ১০টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।হান্নান মাসউদের দুজন সমর্থক জানান, বিএনপির নেতাকর্মীরা ধানের শীষ স্লোগান দিয়ে সংঘবদ্ধভাবে সন্ত্রাসী কায়দায় এই হামলা চালায়। তারা একাধিক বাড়িতে ভাঙচুর, লুটপাট চালায় এবং ভয়ভীতি দেখায়। এ ঘটনায় আমাদের কয়েকজন নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে কয়েকজনকে স্থানীয় হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির স্থানীয় নেতাদের পক্ষ থেকে এখনও আনুষ্ঠানিক কোনও বক্তব্য পাওয়া যায়নি। একাধিক নেতাকে ফোন করা হলেও কেউ রিসিভ করেননি। হামলার ঘটনার বিষয়ে জানতে চাইলে হাতিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আলাউদ্দিন বলেন, হাতিয়ার সব জায়গায় নৌবাহিনী সদস্যরা টহল দিচ্ছেন। বিষয়টি নৌবাহিনী এবং পুলিশকে জানানো হয়েছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক ফেব্রুয়ারি ১১, ২০২৬ 0
আল্লাহ ছাড়া আমাদের আর কেউ নেই
আল্লাহ ছাড়া আমাদের আর কেউ নেই

কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার হারবাং ইউনিয়নের উত্তর নোনাছড়িপাড়া এলাকায় নিঃসন্তান ও অসহায় বৃদ্ধ আনোয়ার হোসেনের জীবনের শেষ অবলম্বন দুটি গরু চুরি হয়ে গেছে।  রোববার দুপুরে সরেজমিনে দেখা যায়, আনোয়ার হোসেন বাড়িতেই আছেন এবং তার পাশে বসে আছে বৃদ্ধা স্ত্রী রিজিয়া বেগম। সাংবাদিকের উপস্থিতি বুঝতে পেরেই হাউমাউ করে কান্নায় ভেঙে পড়েন তারা।  আনোয়ার হোসেন জানান, তাদের নিজের কোনো সন্তান নেই। নিঃসন্তান জীবনের শূন্যতা পূরণ করতে তিনি একসময় একটি কন্যা শিশুকে দত্তক নিয়ে স্নেহ-মমতায় বড় করেন এবং সময়মতো তার বিয়ে দেন। কিন্তু সেই সুখ বেশিদিন টেকেনি। বিয়ের কয়েক বছরের মধ্যেই সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারান ওই মেয়ের স্বামী। তখন থেকেই দুঃখ আর সংগ্রাম নিত্যসঙ্গী হয়ে ওঠে পরিবারটির। বৃদ্ধা জানান, স্বামীহারা সেই দত্তক কন্যা গার্মেন্টসে চাকরি করে কোনোমতে সংসার চালালেও তার দুটি কন্যা সন্তানকে লালন-পালনের দায়িত্ব এসে পড়ে এই বৃদ্ধ দম্পতির কাঁধে। বয়সের ভারে নুয়ে পড়া শরীর নিয়ে তারা নাতনীদের আগলে রেখেছিলেন বুকভরা ভালোবাসায়। কিন্তু দুর্ভাগ্য যেন পিছু ছাড়েনি। দুই নাতনীর একজন কিছুদিন আগে গুরুতর আঘাতে একটি চোখ নষ্ট হওয়ার পথে।  চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, চোখটি বাঁচাতে দ্রুত চিকিৎসা জরুরি। সেই চিকিৎসার খরচ জোগাতেই আনোয়ার হোসেন তার জীবনের শেষ সম্বল দুটি গরু বিক্রির সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। কাঁপা কণ্ঠে আনোয়ার বলেন, গরু দুটাই ছিল আমার শেষ ভরসা। নাতনীর চোখটা বাঁচাতে চেয়েছিলাম। এখন আল্লাহ ছাড়া আমাদের আর কেউ নেই। পাশেই বসে থাকা তার স্ত্রী চোখের পানি মুছতে মুছতে বলেন, আমরা তো কিছু চাইনি, শুধু বাচ্চাটার চোখটা বাঁচাতে চেয়েছিলাম। স্থানীয়রা জানান, হারবাংসহ চকরিয়ার বিভিন্ন এলাকায় সাম্প্রতিক সময়ে গরু চুরির ঘটনা আশঙ্কাজনক হারে বেড়েছে। তারা দ্রুত চোরদের শনাক্ত করে গরু উদ্ধারের পাশাপাশি নিঃস্ব পরিবারটির পাশে দাঁড়ানোর জন্য প্রশাসন ও সমাজের বিত্তবানদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। গরু চুরির ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে স্থানীয় ইউপি সদস্য সরওয়ার ওসমান খোকা বলেন, অসহায় দরিদ্র আনোয়ার হোসেনের বাড়ি থেকে গরু চুরির বিষয়টি খুবই বেদনাদায়ক। আমরা প্রশাসনের মাধ্যমে চোর শনাক্ত করে গরু উদ্ধারের চেষ্টা করছি।

নিজস্ব প্রতিবেদক ফেব্রুয়ারি ১১, ২০২৬ 0
Popular post
ফারুকীর সম্পদ কমেছে, তিশার বেড়েছে দ্বিগুণেরও বেশি: সম্পদ বিবরণী ঘিরে আলোচনা

অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের সম্পদ বিবরণী প্রকাশের পর সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী ও তার স্ত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদের হিসাব নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। এক বছরের ব্যবধানে স্বামী ফারুকীর সম্পদ কমলেও স্ত্রী তিশার সম্পদ বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে প্রকাশিত তথ্যে উঠে এসেছে এই চিত্র। প্রকাশিত খতিয়ান অনুযায়ী, জনপ্রিয় অভিনেত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদ এক বছরে অভাবনীয় হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তিশার মোট সম্পদের পরিমাণ ছিল ১ কোটি ৪০ লাখ ৮১ হাজার ৮৬০ টাকা। ঠিক এক বছর পর, ২০২৫ সালের ৩০ জুন সেই সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ৯৯ লাখ ৮৯ হাজার ৫০১ টাকায়। অর্থাৎ মাত্র এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ বেড়েছে ১ কোটি ৫৯ লাখ ৭ হাজার ৬৪১ টাকা, যা আগের বছরের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি। অন্যদিকে সংস্কৃতি উপদেষ্টা ও নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর ক্ষেত্রে দেখা গেছে উল্টো চিত্র। এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ কমেছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তার মোট সম্পদ ছিল ২ কোটি ২৬ লাখ ৯২ হাজার ২৬ টাকা। ২০২৫ সালের ৩০ জুন তা কমে দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ১৫ লাখ ১৮ হাজার ২৬ টাকায়। হিসাব অনুযায়ী, এক বছরে তার সম্পদ কমেছে ১১ লাখ ৭৪ হাজার টাকা। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে গত মঙ্গলবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ প্রধান উপদেষ্টা, উপদেষ্টা ও সমমর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের পাশাপাশি তাদের স্ত্রী বা স্বামীর সম্পদ বিবরণী প্রকাশ করে। একই সময়ে স্বামী-স্ত্রীর সম্পদে এমন ভিন্নমুখী পরিবর্তন স্বাভাবিকভাবেই সাধারণ মানুষের কৌতূহলের জন্ম দিয়েছে। শোবিজ অঙ্গনের জনপ্রিয় দম্পতি হওয়ায় তাদের এই আয়-ব্যয়ের হিসাব এখন টক অব দ্য কান্ট্রি।

বাংলাদেশে ঐতিহাসিক নির্বাচন: বিএনপি এগিয়ে, জামায়াতের উত্থান ও তরুণ ভোটারদের প্রভাব

২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশে আজ এক ঐতিহাসিক ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ২০০৮ সালের পর এই প্রথম একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হতে যাচ্ছে যেখানে দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগ রাজনৈতিক মানচিত্র থেকে কার্যত অনুপস্থিত। বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক জরিপ বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০০ আসনের মধ্যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) কার্যকর সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে যাচ্ছে। তবে ভোটের ব্যবধান এবং কিছু সমীকরণ নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। নির্বাচনের সবচেয়ে বড় নিয়ামক হয়ে দাঁড়িয়েছে আওয়ামী লীগের বিশাল ভোটব্যাংক। দলটির নিয়মিত প্রায় ৪ কোটি ভোটার এখন নতুন রাজনৈতিক আশ্রয় খুঁজছেন। সিআরএফ বা বিইপিওএস জরিপ বলছে, এই ভোটারদের প্রায় অর্ধেক বিএনপির দিকে ঝুঁকেছে, যা দলটিকে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতার পথে এগিয়ে দিচ্ছে। অন্যদিকে, প্রায় ৩০ শতাংশ আওয়ামী ভোটার জামায়াতে ইসলামীকে বেছে নিতে পারেন বলে আভাস পাওয়া যাচ্ছে। এছাড়া বাংলাদেশের বিদ্যমান নির্বাচনী ব্যবস্থার কারণে দেশজুড়ে সুষম জনসমর্থন থাকা বিএনপি আসন জয়ের ক্ষেত্রে জামায়াতের তুলনায় সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। তবে বিএনপির এই সম্ভাব্য জয়ের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও বিদ্রোহী প্রার্থীরা। প্রায় ৭৯টি নির্বাচনী এলাকায় দলের মনোনয়ন না পাওয়া ৯২ জন প্রভাবশালী নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, যা বিএনপির ১৫ থেকে ৩০টি আসন কমিয়ে দিতে পারে। অন্যদিকে, তরুণ ভোটার বা ‘জেন-জি’ প্রজন্মের বিশাল সমর্থন জামায়াতে ইসলামীর শক্তির উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেশের ৪৪ শতাংশ ভোটারই তরুণ, যাদের বড় একটি অংশ প্রথমবার ভোট দিচ্ছেন। এই তরুণরা যদি দলবেঁধে কেন্দ্রে উপস্থিত হন, তবে নির্বাচনী ফলে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। সবশেষে, প্রায় ১৭ থেকে ৩৫ শতাংশ দোদুল্যমান ভোটার এবং তাদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করবে আগামীর সরকার কতটা শক্তিশালী হবে। দ্য নিউইয়র্ক এডিটোরিয়ালের মূল পূর্বাভাস, তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি প্রায় ১৮৫টি আসনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করতে পারে এবং জামায়াতে ইসলামী ৮০টির মতো আসন পেয়ে প্রধান বিরোধী দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারে। তবে বিদ্রোহী প্রার্থীদের প্রভাব এবং তরুণ ভোটারদের উপস্থিতির ওপর ভিত্তি করে আসন সংখ্যায় বড় ধরনের হেরফের হওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

গাজায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা ট্রাম্প প্রশাসনে

ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। ৩৫০ একরের ঘাঁটিটিতে সামরিক বাহিনীর পাঁচ হাজার সদস্য থাকতে পারবে। গাজার ‘বোর্ড অব পিস’র নথি পর্যালোচনা করে এ তথ্য জানিয়েছে দ্য গার্ডিয়ান। প্রতিবেদনে ব্রিটিশ সংবাদ মাধ্যমটি জানিয়েছে, বোর্ড অব পিসে গাজাকে নিরাপদ করার জন্য ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যাবিলাইজেশন ফোর্স (আইএসএফ) নামে একটি আন্তর্জাতিক বাহিনী মোতায়েনের কথা বলা হয়েছে। যে স্থানটি ঘাঁটি করার জন্য বিবেচনা করা হচ্ছে সেখানে আইএসএফের সদস্যরা থাকবে। বোর্ড অব পিসের প্রধান হবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আর সংগঠনটির আংশিক নেতৃত্ব দেবেন ট্রাম্পের জামাতা জ্যারার্ড কুশনার।দ্য গার্ডিয়ান বোর্ড অব পিসের নথি পর্যালোচনা করে জানায়, ধাপে ধাপে একটি সামরিক ঘাঁটি নির্মাণ করা হবে। সবকিছু শেষ হলে ঘাঁটিটি ১৫ লাখ ১৭ হাজার ৫৭৫ বর্গমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত হবে। ঘাঁটিটির চারপাশে ট্রেইলার সংযুক্ত ২৬টি সাঁজোয়া নজরদারি টাওয়ার থাকবে। এছাড়া একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, বাংকার ও অস্ত্র রাখার গুদাম থাকবে। পুরো ঘাঁটিটি কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে ঘিরে রাখা হবে। সামরিক ঘাঁটি নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে দক্ষিণ গাজার একটি শুষ্ক সমতলভূমিতে। সেখানে ইসরায়েলি হামলার চিহ্ন রয়েছে। ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে বিভিন্ন ধাতবের ধ্বংসাবশেষ।  ওই এলাকার ভিডিও পর্যালোচনা করেছে দ্য গার্ডিয়ান। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, ঘাঁটি নির্মাণের জন্য টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে। যুদ্ধক্ষেত্রে কাজের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন আন্তর্জাতিক নির্মাণ কোম্পানিগুলোর একটি ছোট দলকে ইতোমধ্যেই এলাকাটি দেখানো হয়েছে। ওই দলটি দরপত্রে অংশ নিতে আগ্রহী।    ইন্দোনেশিয়া সরকার গাজায় আট হাজার সেনা সদস্য পাঠানোর জন্য প্রস্তাব দিয়েছে। বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটন ডিসিতে বোর্ড অব পিসের অনানুষ্ঠানিক বৈঠকে ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্টের অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। এছাড়া দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার আরও তিন নেতার ওই বৈঠকে অংশ নেবেন বলে জানা গেছে। জাতিসংঘের নিরাপত্তা কাউন্সিল গাজার সাময়িক স্থিতিশীলতার জন্য অস্থায়ীভাবে সামরিক বাহিনী মোতায়েনের অনুমোদন দিয়েছে। নিরাপত্তা কাউন্সিলই বোর্ড অব পিসের মূল হোতা। গাজার সীমান্ত ও শান্তি প্রণয়নে কাজ করবে আইএসএফ। এছাড়া বেসামরিকদের সুরক্ষা এবং ফিলিস্তিনি পুলিশ বাহিনীকে প্রশিক্ষণ ও সহায়তা দেবে তারা। যদি গাজায় ফের সংঘর্ষ হয়, ইসরায়েল বোমা হামলা চালায় অথবা হামাস হামলা চালায় সেক্ষেত্রে আইএসএফ কি করবে তা এখনও স্পষ্ট নয়। গাজা পুনর্গঠনে ইসরায়েল হামাসকে নিরস্ত্রীকরণের যে শর্ত দিয়েছে সেটির জন্য আইএসএফ কাজ করবে কিনা তাও স্পষ্ট না। ইতোমধ্যে বোর্ড অব পিসে ২০ এর অধিক দেশ যোগ দিয়েছে। তবে, এখনও অনেক পরাশক্তি এর থেকে দূরে রয়েছে। জাতিসংঘের অনুমোদন নিয়ে প্রতিষ্ঠিত হলেও ধারণা করা হচ্ছে, সংগঠনটির স্থায়ী নেতৃত্ব ও নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে। রুটজার্স বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক আদিল হক বলেন, “বোর্ড অব পিস এক ধরনের আইনি কল্পসত্তা। নামমাত্রভাবে এর নিজস্ব আন্তর্জাতিক আইনগত সত্তা রয়েছে, যা জাতিসংঘ ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে আলাদা। কিন্তু বাস্তবে এটি যুক্তরাষ্ট্রের ইচ্ছামতো ব্যবহারের জন্য একটি ফাঁপা খোলসমাত্র।” বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গাজা পুনর্গঠনে যে অর্থায়ন ও শাসন কাঠামো হচ্ছে তা অস্বচ্ছ। কয়েকজন ঠিকাদার গার্ডিয়ানকে জানান, গাজায় কাজ করার জন্য মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে তাদের প্রায়শ আলোচনা সরকারি ইমেলের বদলে সিগন্যালের মাধ্যমে করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রের তথ্য মতে, ঘাঁটি নির্মাণের সিদ্ধান্তটি বোর্ড অব পিসের। এতে সহায়তা করছে মার্কিন কর্মকর্তারা। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ঘাঁটিতে তৈরি বাংকার নেটওয়ার্কের মতোন কাজ করবে। প্রতিটি বাংকারের ২৪ মিটারের হবে। উচ্চতা থাকবে আড়াই মিটার। এগুলো এমনভাবে করা হবে যেন সেনা সদস্যরা আশ্রয় নিতে পারে। স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসের গাজায় সুড়ঙ্গ নেটওয়ার্ক বা টানেল রয়েছে। সেগুলোর আদলে নেটওয়ার্ক করতে চাওয়া হচ্ছে। পিস অব বোর্ডের নথি পর্যালোচনা করে এমন দাবি করছে গার্ডিয়ান। সংবাদ মাধ্যমটি বলছে,  স্থানটির ভূ-ভৌত জরিপ পরিচালনা করবে ঠিকাদাররা। নথির এক অংশে ‘হিউম্যান রেমিয়েনস প্রোটোকল’র কথা বলা হয়েছে। এর মানে দাঁড়ায়, সন্দেহভাজন মানব অবশিষ্ট বা সাংস্কৃতিক নিদর্শন পাওয়া গেলে অবিলম্বে সেই এলাকায় সব কাজ বন্ধ করতে হবে। চুক্তি কর্মকর্তাকে দিকনির্দেশনার জন্য অবিলম্বে জানাতে হবে। গাজা সিভিল ডিফেন্সের ধারণা, গাজার ধ্বংসস্তূপের নিচে ১০ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনির মরদেহ রয়েছে। ঘাঁটির জন্য যে স্থানটি বিবেচিত করা হচ্ছে সেটির মালিক কে তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে, দক্ষিণ গাজার বেশিরভাগ অংশ  বর্তমানে ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণে। জাতিসংঘের অনুমান, যুদ্ধ চলাকালীন ১৯ লাখ ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত হয়েছে। ফিলিস্তিনের জমিতে সরকারের অনুমতি না নিয়ে সামরিক ঘাঁটি স্থাপনকে দখল হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন ফিলিস্তিনি-কানাডিয়ান আইনজীবী এবং প্রাক্তন শান্তি আলোচক দিয়ানা বুট্টু। তিনি প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়ে বলেন, “কার অনুমতিতে তারা সামরিক ঘাঁটি স্থাপন করবে।” বিষয়টি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা বোর্ড অব পিসের কথা টানেন। ট্রাম্প প্রশাসনের একজন কর্মকর্তা সামরিক ঘাঁটির চুক্তি নিয়ে আলোচনা করতে অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, “যেমনটি প্রেসিডেন্ট বলেছেন, কোনও মার্কিন সেনা স্থলভাগে যাবে না। আমরা লিক হওয়া নথি নিয়ে আলোচনা করবো না।”

সংসার সামলাতে অটোরিকশা নিয়ে রাস্তায় নেমেছেন রোজিনা

বাসস : বাবা একজন তাঁত শ্রমিক। তিন বোন দুই ভাইয়ের মধ্যে সবার বড় রোজিনা। অভাব সংসার, তাই এক এতিম যুবকের সাথে বাবা-মা বিয়ে দেন তাকে। বিয়ের পর জন্ম হয় দুই কন্যা সন্তানের। অটোরিকশা চালিয়ে কোন রকম সংসার চালাচ্ছিলেন স্বামী রফিকুল ইসলাম। কিন্তু সড়ক দুর্ঘটনায় রফিকুলের এক চোখ সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যায়। আরেকটি চোখ আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ধীরে ধীরে ওই চোখের দৃষ্টি শক্তিও কমতে থাকে। ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে অটোরিকশা চালানো। সংসারের উপার্জনক্ষম মানুষটি অচল হয়ে পড়ায় চিকিৎসার খরচ, ঘর ভাড়া ও খাবারের পাশাপাশি মেয়েদের লেখাপড়ার খরচ চালানোই কঠিন হয়ে যায়। দিশেহারা হয়ে পরেন রোজিনা। এক পর্যায়ে মানুষের বাড়ি বাড়ি কাজ করে সংসার চালানোর চেস্টা করেন। কিন্তু সুবিধা করতে পারেন না। এমন পরিস্থিতিতে অটোরিকশা চালানোর সিদ্ধান্ত নেন তিনি। স্বামী রফিকুলের কাছেই হাতেখড়ি। গ্রামের স্কুলের মাঠে স্বামীর কাছেই অটোরিকশা চালানোর শিক্ষা নেন তিনি। পরে গ্রামের পথে নেমে পড়েন অটোরিকশা নিয়ে। ৫-৬ দিন এভাবে হাত পাকা করে একদিন টাঙ্গাইল শহরে চলে আসেন রোজিনা। এরপর শুরু করেন অটোরিক্সা চালানোর ব্যতিক্রমী জীবন সংগ্রাম। এখন টাঙ্গাইল পৌরসভায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার চালকদের মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা বেগম। জেলার বাসাইল উপজেলার আইসড়া গ্রামের বাসিন্দা রোজিনা টাঙ্গাইল পৌর শহরের এক প্রান্ত রাবনা বাইপাস থেকে আরেক প্রান্ত বেবিস্ট্যান্ডে যাত্রী আনা নেয়া করেন। যানজটের কারণে শহরে পুরুষ চালকরা যেখানে হিমসিম খায়, সেখানেই বিগত ৫ বছর ধরেই নির্বিঘেœ অটোরিকশা চালাচ্ছেন তিনি। টাঙ্গাইল পৌরসভা কার্যালয় সূত্রে জানা যাায়, টাঙ্গাইল শহরে চলাচলের জন্য ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক ও ৫ হাজার ব্যাটারিচালিত রিকশার অনুমতি (লাইসেন্স) দেওয়া হয়েছে। যানজট এড়াতে ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক জোড় ও বিজোড় সংখ্যায় দিনে দুই ভাগ করা হয়েছে। সকাল থেকে বেলা দুইটা পর্যন্ত এক ভাগ এবং বেলা দুইটা থেকে রাত পর্যন্ত আরেক ভাগের ইজিবাইক চলাচল করার নির্দেশনা দিয়েছে পৌর কর্তৃপক্ষ। কিন্তু রোজিনাকে দুই শিফটে চালানোর অনুমতি দিয়েছে পৌরসভা। সরেজমিনে দেখা যায়, নতুন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অটোরিকশা নিয়ে যাত্রী ডাকছেন রোজিনা। কলেজ গেট, পুরাতন বাসস্ট্যান্ড, ক্যাপসুল, নিরালা মোড়, বেবিস্ট্যান্ড সর্বত্রই যাত্রী আনানেয়া করেন তিনি। পুরাতন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অন্য অটো চালকদের দাঁড় করতে না দিলেও রোজিনাকে বাঁধা দেননা ট্রাফিক পুলিশ। বলতে গেলে সবাই তার প্রতি সহানুভুতিশীল। ট্রাফিক পুলিশসহ অন্য অটোচালকরাও তাকে সহযোগিতা করেন। রোজিনা বলেন, আমার অটোতে নারী যাত্রীরা খুব কম। তারা মনে করে আমার অটোতে উঠলে দুর্ঘটনায় পড়বে। কিন্তু আমি খুব সাবধানে অটো চালাই। দ্রুত গতিতেও না, আবার একেবারে ধীরগতিতেও না। এখন পর্যন্ত আমি কোন দুর্ঘটনার কবলে পড়ি নাই। শহরের পুরুষ অটোরিকশা চালকরা আমাকে অনেক সহযোগিতা করে। অটোচালক কাদের মিয়া বলেন, আমাদের শহরে কয়েক হাজার অটো চলাচল করে। তার মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। তাকে আমরা সব সময় সহযোগিতা করি। যাত্রী সাইদ মিয়া বলেন, আমি এ পর্যন্ত ৫-৬ বার রোজিনার অটোতে চড়েছি। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। অন্য পুরুষ অটো চালকের চেয়েও ভালো অটো চালান। নারী সংগঠক সেরাজুম মনিরা বলেন, তিনি অনেক দিন যাবত অটোরিকশা চালাচ্ছেন। আমি রোজিনাকে স্যালুট জানাই। একজন পুরুষের চেয়ে একজন নারী কোনো ভাবেই যে পিছিয়ে নেই, রোজিনা তা প্রমাণ করেছেন। রোজিনা বলেন, অটো চালানোর এই সিদ্ধান্তটি তার জন্য খুব সহজ ছিল না। তিনি বলেন, ৫ ও ১০ বছরের দুই মেয়েকে বাড়িতে রেখে অটোরিকশা নিয়ে সারাদিন রাস্তায় থাকতে হয়। তাদের ভালোভাবে দেখাশোনা করতে পারি না। কিন্তু কি করবো, অভাবের সংসার! এখন ঋণ নিয়ে একটু জমি কিনেছি। প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ণ প্রকল্পের অর্থায়নে প্রশাসন সেখানে ঘর তুলে দিয়েছে। শুরুতে যারা আমাকে নিয়ে ঠাট্টা করেছে এখন তারাই আমাকে সম্মান করেন। নারীরাও যে কিছু করতে পারে, তা প্রমাণ করেছি। আমার বড় মেয়ে আইসড়া উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়ে, ছোট মেয়ে পড়ে স্থানীয় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। মেয়েদের শিক্ষিত করতে হবে। ধার দেনা শোধ করতে হবে। তাই থেমে গেলো চলবে না। আমি অটোরিকশা চালিয়েই দুই সন্তানকে মানুষ করতে চাই।’ ঘারিন্দা ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য বাবুল সরকার বলেন, সরকার রোজিনাকে একটি ঘর নির্মাণ করে দিয়েছে। শুরুতে যারা তাকে নিয়ে নানান কথা বলতো, এখন তার সংকল্প ও মানষিক দৃঢ়তা দেখে থেমে গেছে। আমরা তাকে নিয়ে গর্ব করি। টাঙ্গাইলের ট্রাফিক ইন্সপেক্টর (প্রশাসন) দেলোয়ার হোসেন বলেন, শহরের একমাত্র নারী চালক রোজিনাকে কেউ যেন বিরক্ত করতে না পারে সেদিকে সব সময় নজর রাখে ট্রাফিক পুলিশ। আমরা তাকে সব সময় সহযোগিতা করে আসছি। টাঙ্গাইলের সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক শাহ আলম বলেন, বিষয়টি এখন জানতে পারলাম। ওই নারী এখনো পর্যন্ত আমাদের কাছে আসেন নাই। যদি আমাদের কাছে এসে আবেদন করেন অবশ্যই তাকে আমরা সহযেগিতা করবো, তার পাশে দাঁড়াবো।

বরিশাল সিটিতে বিএনপির মেয়র মনোনয়ন ঘিরে হিসাব–নিকাশ

মামুনুর রশীদ নোমানী,বরিশাল: আসন্ন বরিশাল সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদকে ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে সক্রিয়তা দেখা যাচ্ছে। দক্ষিণাঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ নগর প্রশাসনিক প্রতিষ্ঠান বরিশাল সিটি করপোরেশন এর নির্বাচন স্থানীয় ও জাতীয় রাজনীতিতে সমানভাবে তাৎপর্যপূর্ণ হবে।ইতিমধ্যে নির্বাচন কমিশন ঢাকা উত্তর ও দক্ষিন এবং চট্রগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচনের প্রস্তুতি নেয়ার পরেই বরিশাল নগরজুড়ে এখন এক ধরনের নীরব রাজনৈতিক উত্তাপ। চায়ের দোকান থেকে শুরু করে নদী তীরের আড্ডা—সবখানেই আলোচনা একটাই: আসন্ন বরিশাল সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদে কে হচ্ছেন বিএনপির প্রার্থী? দক্ষিণাঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ এই সিটি করপোরেশন শুধু একটি প্রশাসনিক ইউনিট নয়; এটি বরিশালের রাজনৈতিক স্পন্দনের কেন্দ্র। আর তাই বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)–র সম্ভাব্য মনোনয়ন ঘিরে শুরু হয়েছে জল্পনা–কল্পনা, হিসাব–নিকাশ আর ভেতরের নীরব লবিং। দীর্ঘদিন পর স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশগ্রহণের প্রশ্নে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)'র অবস্থান ও কৌশল রাজনৈতিক মহলে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে। দলটির সম্ভাব্য মনোনয়ন প্রত্যাশীরা ইতোমধ্যে মাঠপর্যায়ে সাংগঠনিক তৎপরতা জোরদার করেছেন। বিএনপির মেয়র পদে মনোনয়ন নিয়ে আলোচনায় যারা : বিএনপির ভেতরে কয়েকজন জ্যেষ্ঠ নেতা ও সাবেক জনপ্রতিনিধির নাম আলোচনায় রয়েছে। তাদের মধ্যে রয়েছেন সাবেক প্যানেল মেয়র আলহাজ্ব কে এম শহিদুল্লাহ,বরিশাল মহানগর বিএনপি'র সাবেক সদস্য সচিব সাবেক ছাত্রনেতা অ্যাডঃ মীর জাহিদুল কবির জাহিদ,মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক মনিরুজ্জামান ফারুক,বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য আবু নাসের রহমাতুল্লাহ,বিএনপির বরিশাল বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক বিলকিস জাহান শিরীন,বিএনপি নেতা এবায়েদুল হক চান ও  বরিশাল জেলা বিএনপির সাবেক সাধারন সম্পাদক এ্যাড.নজরুল ইসলাম খান রাজন। এছাড়া বরিশাল মহানগর যুবদলের সাবেক সভাপতি ও কেন্দ্রীয় যুবদলের সাবেক সহ- সভাপতি ও  বি এম কলেজ এর  সাবেক জি এস  এ্যাডভোকেট আকতারুজ্জামান শামীম আলোচনায় রয়েছেন। অভিজ্ঞতার পাল্লা ভারী: দলীয় সূত্র বলছে, এবার প্রার্থী বাছাইয়ে গুরুত্ব পাবে অভিজ্ঞতা ও গ্রহণযোগ্যতা।  নির্দিষ্ট কেউকে ঘিরেই আলোচনা সীমাবদ্ধ নয়। কেন্দ্রীয়, জেলা ও মহানগর বিএনপির শীর্ষ পর্যায়ের আরও কয়েকজন নেতা নীরবে মাঠ গুছিয়ে নিচ্ছেন। কেউ কেউ তৃণমূল নেতাকর্মীদের সঙ্গে বৈঠক করছেন, কেউ আবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সক্রিয় হয়ে নিজেদের অবস্থান জানান দিচ্ছেন। দলীয় সূত্রে জানা যায়, তৃণমূলের মতামত, সাংগঠনিক দক্ষতা, অতীত রাজনৈতিক ভূমিকা এবং জনসম্পৃক্ততা এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে চূড়ান্ত প্রার্থী নির্ধারণ করা হবে। চূড়ান্ত মনোনয়নের বিষয়ে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান এর সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত হবে। অন্যদিকে দলীয় একটি সূত্র জানায়, এবার বিএনপিকে এমন প্রার্থী দিতে হবে যিনি সর্বস্তরে গ্রহণযোগ্য। কারণ, মেয়র পদে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ–এর সম্ভাব্য প্রার্থীদের বিষয়টিও রাজনৈতিক সমীকরণে বিবেচনায় রাখতে হবে। দলীয় কৌশল ও চ্যালেঞ্জ : বিএনপি সূত্রে ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে, নির্বাচন অংশগ্রহণের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এলে প্রার্থী নির্ধারণ করবে কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব। সেক্ষেত্রে— *ফ্যাসিস্ট বিরোধী আন্দোলনে ভুমিকা, *জেল জুলম,মামলা হামলা নির্যাতন, *রাজনৈতিক অবস্থান। এসব বিষয় গুরুত্ব পাবে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বরিশালে দলীয় ঐক্য ধরে রাখা এবং গ্রহণযোগ্য প্রার্থী বাছাই করা বিএনপির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। অতীতের নির্বাচনে বিভক্তি বা বিদ্রোহী প্রার্থীর কারণে দল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলেও অনেকে মন্তব্য করেন। ভোটারদের প্রত্যাশা : বরিশাল নগরবাসীর প্রধান দাবি— * জলাবদ্ধতা নিরসন, * সড়ক ও ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন, * পরিচ্ছন্ন নগর ব্যবস্থাপনা, * কর্মসংস্থান ও ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ, মেয়র প্রার্থীদের জন্য এসব ইস্যু হবে নির্বাচনী প্রচারণার মূল প্রতিপাদ্য। বরিশাল সিটি করপোরেশন নির্বাচনকে ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা ক্রমেই বাড়ছে।চূড়ান্ত ঘোষণা না হওয়া পর্যন্ত সম্ভাব্য প্রার্থীদের তৎপরতা ও দলীয় কৌশলই থাকবে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। প্রার্থী ঘোষণার পর নির্বাচনী সমীকরণ আরও স্পষ্ট হবে বলে রাজনৈতিক মহল মনে করছে। বরিশালের রাজনীতির বাতাসে ইতিমধ্যেই নির্বাচনী সুর। বিএনপি শক্ত প্রার্থী দিলে নগর রাজনীতিতে জমে উঠতে পারে লড়াই।এখন সবার দৃষ্টি কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্তের দিকে। কে হবেন বিএনপির ‘নগর সেনাপতি’তার উত্তর মিললেই বরিশাল সিটির নির্বাচনী সমীকরণ আরও স্পষ্ট হয়ে উঠবে। উল্লেখ্য,বরিশাল সিটি করপোরেশ নির্বাচনে ২০১৩ সালে আওয়ামীলীগের মেয়র প্রার্থী শওকত হোসেন হিরনকে পরাজিত করে বিজয়ী হয়েছিলেন তৎকালীন মহানগর বিএনপির সভাপতি ও বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির মৎস্য বিষয়ক সম্পাদক আহসান হাবিব কামাল।২০১৮ সালে আলহাজ্ব মজিবর রহমান সরোয়ার দল থেকে দলীয় মনোনয়ন পেয়েছিলেন।ভোট ডাকাতির মাধ্যমে মেয়র নির্বাচিত হোন সাদিক আব্দুল্লাহ। ২০২৩ সালে অনুষ্ঠিত বরিশাল সিটি নির্বাচনে বিএনপি অংশ নেয়নি।  

অর্থনীতি

তেল-গ্যাস অনুসন্ধানে ৪৭ ব্লকে আন্তর্জাতিক দরপত্র

বাংলাদেশে ৪৭টি তেল-গ্যাস ব্লকে আন্তর্জাতিক দরপত্র শিগগির: এলএনজি নির্ভরতা কমানোর পরিকল্পনা

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ১৯, ২০২৬ 0




অপরাধ

বন ও পরিবেশ অধিদপ্তরের বরিশাল বিভাগীয় কার্যালয়ের নমুনা সংগ্রহকারী গ্রেফতার

বরিশাল পরিবেশ অধিদপ্তরের বিভাগীয় কার্যালয়ের নমুনা সংগ্রহকারী গ্রেফতার

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ২০, ২০২৬ 0




কৃষি ও জলবায়ু

সার ডিলার নিয়োগ ও বিতরণ নীতিমালা  দ্রুত বাস্তবায়নের দাবিতে বরিশালে মানববন্ধন

সার ডিলার নিয়োগ ও বিতরণ নীতিমালা দ্রুত বাস্তবায়নের দাবিতে বরিশালে মানববন্ধন

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ১৯, ২০২৬ 0