Brand logo light

ঢাকা

রেলসেতুর পিলারের নিচের মাটি কাটা বন্ধ
রেলসেতুর পিলারের নিচে মাটি কাটা: পরিবেশ পুনরুদ্ধার নাকি মাটি বাণিজ্য? তদন্তে উঠে এলো নতুন তথ্য

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার ফতুল্লার আলীগঞ্জ এলাকায় পদ্মা রেল সংযোগ সেতুর কয়েকটি পিলারের নিচ থেকে খননযন্ত্র দিয়ে মাটি কাটার ঘটনা স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি করেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওকে কেন্দ্র করে প্রশ্ন উঠেছে—এটি কি অনুমোদিত প্রকল্পকাজ, নাকি প্রভাবশালী মহলের মাটি বাণিজ্যের অংশ? প্রশাসন আপাতত কাজ বন্ধ করে দিয়েছে। তবে প্রকল্প কর্তৃপক্ষ বলছে, এটি ছিল পরিবেশ পুনরুদ্ধারের একটি পরিকল্পিত কার্যক্রম, যার সঙ্গে সেতুর নিরাপত্তার কোনো সম্পর্ক নেই। ভিডিও থেকে শুরু বিতর্ক সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, আলীগঞ্জ এলাকায় পদ্মা রেল সংযোগ প্রকল্পের ৮৫, ৮৬ ও ৮৭ নম্বর পিলারের নিচ ও আশপাশে খননযন্ত্র দিয়ে মাটি অপসারণ করা হচ্ছে। ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর স্থানীয়দের মধ্যে আশঙ্কা তৈরি হয় যে, সেতুর ভিত্তির কাছ থেকে মাটি সরানোর ফলে ভবিষ্যতে অবকাঠামোগত ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। একই সঙ্গে অভিযোগ ওঠে, একটি প্রভাবশালী চক্র রাতদিন মাটি কেটে ট্রাকে করে স্থানীয় ইটভাটাগুলোতে সরবরাহ করছে। প্রশাসনের হস্তক্ষেপ মাটি কাটার খবর পাওয়ার পর ফতুল্লার সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান নূর ঘটনাস্থলে গিয়ে কাজ বন্ধ করে দেন। পরে সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এস এম ফয়েজ উদ্দিনও এলাকা পরিদর্শন করেন। ইউএনও জানান, সংশ্লিষ্টরা অনুমতির দাবি করলেও তাৎক্ষণিকভাবে কোনো বৈধ নথি দেখাতে পারেননি। ফলে রেলপথ মন্ত্রণালয়ের আনুষ্ঠানিক নির্দেশনা না পাওয়া পর্যন্ত মাটি কাটার কার্যক্রম বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। নারায়ণগঞ্জের জেলা প্রশাসক মো. রায়হান কবিরও একই অবস্থানের কথা জানিয়েছেন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, সরেজমিন পর্যবেক্ষণে এভাবে মাটি অপসারণের যৌক্তিকতা স্পষ্ট হয়নি এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্রও উপস্থাপন করা যায়নি। এ কারণে বিষয়টি বিভাগীয় কমিশনারের মাধ্যমে রেলপথ মন্ত্রণালয়ের নজরে আনা হয়েছে। প্রকল্প কর্তৃপক্ষের ব্যাখ্যা অন্যদিকে পদ্মা রেল সংযোগ প্রকল্পের ব্রিজ অ্যান্ড ভায়াডাক্ট ইনচার্জ প্রকৌশলী আমিনুল করিম দাবি করেছেন, ঘটনাটি ভুলভাবে উপস্থাপিত হয়েছে। তাঁর মতে, আলীগঞ্জ এলাকার সংশ্লিষ্ট অংশটি মূলত একটি জলাধার ছিল। প্রকল্প বাস্তবায়নের সময় নির্মাণসামগ্রী পরিবহন ও যন্ত্রপাতি চলাচলের সুবিধার্থে সেখানে অস্থায়ীভাবে বালু ও মাটি ফেলে প্রবেশপথ তৈরি করা হয়েছিল। প্রকল্পের কাজ শেষ হওয়ার পর চুক্তি অনুযায়ী সেই ভরাটকৃত মাটি অপসারণ করে জলাশয়কে আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনার কাজ চলছিল। ৭৬ থেকে ৯০ নম্বর পিলার পর্যন্ত প্রায় ৬০০ মিটার এলাকায় এই কাজের পরিকল্পনা ছিল বলে তিনি জানান। প্রকৌশলী আমিনুল করিমের দাবি, পুরো কার্যক্রম সেনাবাহিনী ও চীনা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হয়েছে এবং এতে পিলারের স্থিতিশীলতা বা সেতুর নিরাপত্তা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার কোনো আশঙ্কা নেই। রেলওয়ের আনুষ্ঠানিক অবস্থান মঙ্গলবার সন্ধ্যায় বাংলাদেশ রেলওয়ের মহাপরিচালকের কার্যালয় থেকে প্রকাশিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতেও একই ব্যাখ্যা দেওয়া হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, মাটি কাটার স্থানটি রেলওয়ের অধিগ্রহণকৃত জমির অন্তর্ভুক্ত। ভায়াডাক্ট নির্মাণকালে ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান সেখানে একটি অস্থায়ী রাস্তা নির্মাণ করেছিল। প্রকল্প চুক্তি অনুযায়ী কাজ শেষ হলে পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষার স্বার্থে স্থানটিকে পূর্বাবস্থায় ফিরিয়ে নেওয়ার বাধ্যবাধকতা ছিল। রেলওয়ের ভাষ্য অনুযায়ী, সেই চুক্তির অংশ হিসেবেই ভরাট করা মাটি অপসারণের কাজ চলছিল এবং পুরো প্রক্রিয়া প্রকল্পের পরামর্শক প্রতিষ্ঠান ‘কনস্ট্রাকশন সুপারভিশন কনসালট্যান্ট বাংলাদেশ আর্মি’র তত্ত্বাবধানে ছিল। তবে জনমনে উদ্বেগ এবং প্রশাসনিক আপত্তির বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে আপাতত মাটি অপসারণ বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি এলাকাটি ভবিষ্যৎ বৃক্ষরোপণের জন্য সংরক্ষণের সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়েছে। মাঠপর্যায়ে যা দেখা গেছে সরেজমিনে স্থানীয়দের বর্ণনা এবং প্রত্যক্ষ পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, তিনটি পিলারের নিচ ও আশপাশে প্রায় ৮ থেকে ১০ ফুট গভীর গর্ত তৈরি হয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, অন্তত এক সপ্তাহ ধরে দিনে-রাতে খননযন্ত্র ব্যবহার করে মাটি কেটে ড্রাম ট্রাকে করে বিভিন্ন ইটভাটায় নেওয়া হয়েছে। তাদের অভিযোগ, প্রতিবাদ সত্ত্বেও প্রভাবশালী ব্যক্তিদের কারণে কার্যক্রম বন্ধ করা সম্ভব হয়নি। স্থানীয়দের একাংশের দাবি, কুতুবপুর ইউনিয়নের সাবেক মেম্বার আবুবক্কর ও তাঁর ঘনিষ্ঠরা এই মাটি অপসারণের সঙ্গে জড়িত। তবে আবুবক্কর অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছেন, তিনি কোনো মাটি কাটার সঙ্গে যুক্ত নন এবং তাঁর জানা মতে সংশ্লিষ্ট কাজের অনুমতি ছিল। মূল প্রশ্নগুলো এখনও অমীমাংসিত ঘটনার কেন্দ্রবিন্দুতে এখন কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন— মাটি অপসারণের জন্য প্রকল্প কর্তৃপক্ষের লিখিত অনুমোদন ছিল কি না? জেলা প্রশাসনকে আগে থেকেই আনুষ্ঠানিকভাবে অবহিত করা হয়েছিল কি? অপসারিত মাটি কোথায় নেওয়া হয়েছে এবং তার হিসাব রয়েছে কি? পরিবেশ পুনরুদ্ধারের কাজ হলে তা কেন স্থানীয় প্রশাসনের কাছে স্পষ্ট ছিল না? পিলারের সংলগ্ন এলাকায় খননের নিরাপত্তা মূল্যায়ন প্রতিবেদন রয়েছে কি? তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত বিতর্ক অব্যাহত বর্তমানে প্রশাসনের নির্দেশে মাটি কাটার কাজ বন্ধ রয়েছে। রেলপথ মন্ত্রণালয়ের আনুষ্ঠানিক মতামত এবং প্রয়োজনীয় নথিপত্র যাচাই না হওয়া পর্যন্ত নতুন কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে না বলে জানিয়েছে জেলা প্রশাসন। একদিকে প্রকল্প কর্তৃপক্ষ বলছে এটি পরিবেশ পুনরুদ্ধারের অংশ, অন্যদিকে স্থানীয়দের অভিযোগ মাটি বাণিজ্যের। দুই পক্ষের পরস্পরবিরোধী অবস্থানের মধ্যে এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে নথিপত্র, অনুমোদন প্রক্রিয়া এবং স্বাধীন কারিগরি মূল্যায়ন। সেই তদন্তের ফলই নির্ধারণ করবে—আলীগঞ্জে যা ঘটেছে তা প্রকল্প-পরবর্তী পরিবেশ পুনর্বাসন, নাকি অবকাঠামোর ছায়ায় পরিচালিত আরেকটি মাটি বাণিজ্যের ঘটনা।

নিজস্ব প্রতিবেদক জুন ১৭, ২০২৬ 0
মীর শাহে আলম
দেশের সব উপজেলায় এমপিদের জন্য পরিদর্শন কক্ষ নির্মাণে বরাদ্দ

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : বাংলাদেশের প্রতিটি উপজেলা পরিষদ চত্বরে সংসদ সদস্য (এমপি) ও ঊর্ধ্বতন সরকারি কর্মকর্তাদের জন্য একটি করে পরিদর্শন কক্ষ নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ লক্ষ্যে দেশের সব উপজেলা পরিষদের অনুকূলে ছয় লাখ টাকা করে বরাদ্দও দেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার (১৬ জুন) জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় অধিবেশনে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে এ তথ্য জানান। সরকারের এই সিদ্ধান্ত প্রশাসনিক সমন্বয় বৃদ্ধির উদ্যোগ হিসেবে উপস্থাপন করা হলেও এর পেছনে রাজনৈতিক ও প্রাতিষ্ঠানিক বাস্তবতার প্রশ্নও সামনে এসেছে। কী বলছে সরকার? গাইবান্ধা-৪ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ শামীম কায়সারের প্রশ্নের জবাবে স্থানীয় সরকারমন্ত্রী জানান, দেশের সব উপজেলায় সংসদ সদস্যসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের ব্যবহারের জন্য একটি করে পরিদর্শন কক্ষ নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, এসব কক্ষ কেবল সংসদ সদস্যদের জন্য নয়; বিভিন্ন পর্যায়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও দাপ্তরিক কাজে এগুলো ব্যবহার করতে পারবেন। স্থানীয় সরকার বিভাগ ইতোমধ্যে প্রতিটি উপজেলা পরিষদের জন্য ছয় লাখ টাকা করে বরাদ্দ দিয়েছে। কেন উঠেছিল এই দাবি? উপজেলা পর্যায়ে সংসদ সদস্যদের জন্য নির্দিষ্ট কর্মপরিসর তৈরির বিষয়টি প্রথম আলোচনায় আসে চলতি বছরের ৩১ মার্চ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে। সেদিন এনসিপির সংসদ সদস্য আতিকুর রহমান নির্বাচনী এলাকায় এমপিদের জন্য বসার জায়গা নিশ্চিত করার দাবি উত্থাপন করেন। পরবর্তীতে ২১ এপ্রিল স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম সংসদে জানান, উপজেলা পরিষদে সংসদ সদস্যদের জন্য বসার ব্যবস্থা করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। একই দিনে এনসিপির আরেক সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ ট্যাক্সমুক্ত গাড়ির সুবিধার পরিবর্তে উপজেলা পর্যায়ে কার্যকর অফিস স্থাপনের দাবি জানান। সাম্প্রতিক এই উদ্যোগকে অনেকেই ওই ধারাবাহিক দাবির বাস্তবায়ন হিসেবে দেখছেন। প্রশাসনিক সুবিধা নাকি ক্ষমতার নতুন কেন্দ্র? বাংলাদেশের উপজেলা পরিষদ দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি ও কেন্দ্রীয় সরকারের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সমন্বয়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র। বিশ্লেষকরা বলছেন, নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের এলাকায় নিয়মিত উপস্থিতি এবং সরকারি কার্যক্রম তদারকির জন্য নির্দিষ্ট কর্মপরিসর থাকা কার্যকর হতে পারে। তবে প্রশ্ন উঠছে, উপজেলা পরিষদের নিজস্ব প্রশাসনিক কাঠামোর মধ্যে এমপিদের জন্য আলাদা অবকাঠামো তৈরি হলে স্থানীয় সরকারের ক্ষমতার ভারসাম্যে কোনো প্রভাব পড়বে কি না। অতীতে উপজেলা চেয়ারম্যান, উপজেলা প্রশাসন এবং সংসদ সদস্যদের ভূমিকা ও কর্তৃত্ব নিয়ে বিভিন্ন সময় বিতর্ক দেখা গেছে। ফলে নতুন এই কক্ষগুলো কেবল দাপ্তরিক ব্যবহারে সীমাবদ্ধ থাকবে, নাকি রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের কেন্দ্র হিসেবেও ব্যবহৃত হবে—সেই প্রশ্নও আলোচনায় এসেছে। কত টাকা ব্যয় হবে? বাংলাদেশে বর্তমানে প্রায় ৪৯৫টি উপজেলা রয়েছে। সে হিসাবে প্রতিটি উপজেলায় ছয় লাখ টাকা বরাদ্দ দিলে মোট ব্যয়ের পরিমাণ প্রায় ২৯ কোটি ৭০ লাখ টাকার কাছাকাছি পৌঁছাতে পারে। যদিও সরকার এখন পর্যন্ত প্রকল্পের পূর্ণাঙ্গ ব্যয়, নকশা কিংবা বাস্তবায়ন সময়সূচি প্রকাশ করেনি। স্থানীয় সরকার নির্বাচনের আগে নতুন বার্তা? স্থানীয় সরকারমন্ত্রী ইতোমধ্যে সেপ্টেম্বর-অক্টোবরের মধ্যে স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনের ইঙ্গিত দিয়েছেন। এমন প্রেক্ষাপটে উপজেলা পর্যায়ে সংসদ সদস্যদের জন্য নতুন অবকাঠামো নির্মাণের সিদ্ধান্ত রাজনৈতিকভাবেও তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা। তাদের মতে, নির্বাচনী এলাকায় জনপ্রতিনিধিদের প্রশাসনিক উপস্থিতি জোরদার করার পাশাপাশি কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গে স্থানীয় প্রশাসনের যোগাযোগ আরও প্রাতিষ্ঠানিক করার লক্ষ্যও এর পেছনে থাকতে পারে। তবে এই উদ্যোগ স্থানীয় সরকার ব্যবস্থাকে কতটা শক্তিশালী করবে, নাকি নতুন ধরনের প্রভাব বলয়ের জন্ম দেবে—সেই মূল্যায়ন নির্ভর করবে এর বাস্তব প্রয়োগের ওপর।

নিজস্ব প্রতিবেদক জুন ১৭, ২০২৬ 0
বেনজীর আহমেদ।
বেনজীরকে ফেরাতে দুবাইয়ে বাংলাদেশের প্রতিনিধি দল

 ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : বাংলাদেশ পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদকে দেশে ফিরিয়ে আনা এবং তাকে জামিনে মুক্ত করার প্রচেষ্টাকে কেন্দ্র করে সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ে শুরু হয়েছে সমান্তরাল আইনি লড়াই। একদিকে বাংলাদেশের প্রতিনিধি দল প্রত্যর্পণের পক্ষে আদালতে নথিপত্র জমা দিয়েছে, অন্যদিকে বেনজীরের আইনজীবীরা তার মুক্তির আবেদন নিয়ে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন। দুবাই ও বাংলাদেশের একাধিক সূত্র জানিয়েছে, প্রাথমিক কার্যক্রম শেষে বেনজীর আহমেদকে দুবাইয়ের আল আওয়ার কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানো হয়েছে। বর্তমানে তার বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগ, ইন্টারপোলের নোটিশ এবং প্রত্যর্পণ-সংক্রান্ত নথি যাচাই-বাছাই করছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। জামিনের আবেদন, কিন্তু সিদ্ধান্ত নয় সূত্রগুলোর তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার (১৬ জুন) দুবাই কোর্ট অব আপিলে বেনজীর আহমেদের পক্ষে জামিন আবেদন দাখিল করা হয়। একই দিনে বাংলাদেশ থেকে যাওয়া প্রতিনিধি দলও আদালতে পৃথক আবেদন জমা দেয়, যেখানে তাকে বাংলাদেশের কাছে হস্তান্তরের পক্ষে যুক্তি ও নথিপত্র উপস্থাপন করা হয়েছে। আদালত উভয় পক্ষের আবেদন গ্রহণ করলেও তাৎক্ষণিক কোনো সিদ্ধান্ত দেয়নি। বরং অভিযোগ, ইন্টারপোল নোটিশ, দুদকের মামলার নথি এবং দুবাইয়ের প্রচলিত আইন অনুযায়ী বিষয়গুলো পর্যালোচনার জন্য সময় নিয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর ধারণা, এই প্রক্রিয়ায় অন্তত ১০ থেকে ১৫ দিন বা তারও বেশি সময় লাগতে পারে। কী বলছেন বেনজীরের আইনজীবীরা? বেনজীর আহমেদের ঘনিষ্ঠ একটি সূত্র জানিয়েছে, ইন্টারপোলের মাধ্যমে উত্থাপিত অভিযোগ, তার দুবাইয়ে অবস্থানের কারণ এবং জামিনের পক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যাখ্যাসহ সব নথি দুবাইয়ের পাবলিক প্রসিকিউটরের কাছে জমা দেওয়া হয়েছে। যদিও আদালত আবেদন গ্রহণ করেছে, তবে জামিন বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত দেয়নি। পরবর্তী শুনানির তারিখ নির্ধারণ করে তা জানিয়ে দেওয়া হবে। বেনজীরের আইনজীবীদের দাবি, আগামী সাত দিনের মধ্যে তাকে জামিনে মুক্ত করার লক্ষ্যে আইনি প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। দুবাইয়ে বাংলাদেশের প্রতিনিধি দল বাংলাদেশের আইনশৃঙ্খলা ও গোয়েন্দা সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, অন্তত পাঁচ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল ইতোমধ্যে দুবাই পৌঁছেছে। দলটিতে রয়েছেন— এনসিবি (ন্যাশনাল সেন্ট্রাল ব্যুরো) বা ইন্টারপোল-সংশ্লিষ্ট একজন কর্মকর্তা; পুলিশ সদর দপ্তরের তিন কর্মকর্তা; দুটি পৃথক গোয়েন্দা সংস্থার দুই প্রতিনিধি। মঙ্গলবার তারা আদালতে দুদকের মামলা, ইন্টারপোল নোটিশ এবং বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে আনা বিভিন্ন অভিযোগের নথি জমা দিয়েছেন। পাশাপাশি দুবাইয়ের বিচারিক ও প্রশাসনিক কর্তৃপক্ষের সঙ্গে প্রয়োজনীয় আইনি সমন্বয়ও করছেন। দুবাইয়ের আইনে কী হতে পারে? দুবাইয়ে বাংলাদেশের কূটনৈতিক দায়িত্বে অতীতে কর্মরত ছিলেন—এমন একজন ব্যক্তি জানিয়েছেন, গ্রেপ্তার ব্যক্তিকে প্রথমে দুবাই পুলিশের হেফাজতে রাখা হয়। সাধারণত ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে তাকে পাবলিক প্রসিকিউশনের কাছে হস্তান্তর করা হয়। এরপর প্রসিকিউশন কয়েকটি বিষয় যাচাই করে— ইন্টারপোলের রেড নোটিশ বৈধ কি না; অভিযোগকারী রাষ্ট্রের নথিপত্র যথাযথ কি না; প্রত্যর্পণের আইনি ভিত্তি রয়েছে কি না। প্রাথমিক যাচাইয়ের পর মামলাটি পাঠানো হয় দুবাই কোর্ট অব আপিলে। সংযুক্ত আরব আমিরাতের ২০০৬ সালের ৩৯ নম্বর ফেডারেল আইন অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক প্রত্যর্পণ-সংক্রান্ত মামলার প্রাথমিক শুনানির এখতিয়ার এই আদালতের। জামিন পেতে কী শর্ত পূরণ করতে হতে পারে? আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, ইন্টারপোল-সংক্রান্ত প্রত্যর্পণ মামলায় সাধারণত অভিযুক্তের পাসপোর্ট জব্দ করা হয়। এছাড়া আদালত চাইতে পারে— একজন নির্ভরযোগ্য আমিরাতি নাগরিককে জামিনদার হিসেবে; উল্লেখযোগ্য অঙ্কের আর্থিক বন্ড; আদালতে হাজিরা নিশ্চিত করার মুচলেকা। এসব শর্ত পূরণ হলেও আদালত জামিন দেবেন কি না, তা নির্ভর করে মামলার প্রকৃতি ও বিচারকের মূল্যায়নের ওপর। প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়া কতটা দীর্ঘ? দুবাইয়ের আইন অনুযায়ী, আদালত যদি প্রত্যর্পণের পক্ষে রায়ও দেন, তবুও সঙ্গে সঙ্গে অভিযুক্তকে সংশ্লিষ্ট দেশের কাছে হস্তান্তর করা হয় না। প্রক্রিয়ার পরবর্তী ধাপগুলো হলো— কোর্ট অব আপিলের রায়; প্রয়োজন হলে কোর্ট অব ক্যাসেশনে আপিল; সংযুক্ত আরব আমিরাতের বিচার মন্ত্রণালয় বা সংশ্লিষ্ট নির্বাহী কর্তৃপক্ষের প্রশাসনিক অনুমোদন; চূড়ান্ত প্রত্যর্পণ কার্যকর। ফলে আদালতের সিদ্ধান্তের পরও পুরো প্রক্রিয়া সম্পন্ন হতে আরও সময় লাগতে পারে। আগামী ১০ দিন গুরুত্বপূর্ণ পুলিশের একজন অতিরিক্ত আইজিপি পর্যায়ের কর্মকর্তা জানিয়েছেন, বাংলাদেশ সরকার যেমন বেনজীর আহমেদকে দেশে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা চালাচ্ছে, তেমনি তার পক্ষে জামিনের উদ্যোগও অব্যাহত রয়েছে। তার ভাষায়, “আগামী ১০ দিনের মধ্যে দুবাই আদালতের পক্ষ থেকে গুরুত্বপূর্ণ কোনো সিদ্ধান্ত আসতে পারে।” তবে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে আইজিপি, এনসিবি বা পুলিশ সদর দপ্তরের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। পুলিশের অতিরিক্ত আইজিপি (অ্যাডমিন) একেএম আওলাদ হোসেনও বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন বলে জানিয়েছেন। সামনে কোন তিনটি সম্ভাবনা? বর্তমান পরিস্থিতিতে বেনজীর আহমেদের মামলায় তিনটি সম্ভাব্য পথ খোলা রয়েছে— প্রথমত, আদালত জামিন মঞ্জুর করতে পারেন, তবে তার ওপর ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকবে। দ্বিতীয়ত, আদালত প্রত্যর্পণযোগ্য অপরাধ হিসেবে অভিযোগগুলো গ্রহণ করে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু করতে পারেন। তৃতীয়ত, আইনি আপিল ও প্রশাসনিক অনুমোদনের জটিলতায় পুরো প্রক্রিয়া দীর্ঘায়িত হতে পারে। ফলে সাবেক এই পুলিশ প্রধানের ভবিষ্যৎ এখন অনেকটাই নির্ভর করছে দুবাইয়ের আদালত, ইন্টারপোল নোটিশের আইনি বৈধতা এবং বাংলাদেশ সরকারের উপস্থাপিত নথিপত্রের ওপর।

নিজস্ব প্রতিবেদক জুন ১৭, ২০২৬ 0
‘সবার আগে বাংলাদেশ’—ভারত সম্পর্ক নিয়ে সরকারের অবস্থান স্পষ্ট করলেন উপদেষ্টা

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের তথ্য ও সম্প্রচার এবং সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান বলেছেন, ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নের প্রশ্নে বর্তমান সরকারের অবস্থান স্পষ্ট—কোনোভাবেই বাংলাদেশের স্বার্থ বিসর্জন দিয়ে বা দেশকে ‘বিকিয়ে’ দিয়ে সম্পর্ক গড়ে তোলা হবে না। মঙ্গলবার সচিবালয়ের তথ্য অধিদপ্তর (পিআইডি) আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের অগ্রগতি তুলে ধরার সময় সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ মন্তব্য করেন। উপদেষ্টা বলেন, ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক নিয়ে দেশে প্রায়ই নানা ধরনের রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি হয়। অনেকের মধ্যে এমন ধারণা রয়েছে যে, ভারতের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা মানেই বাংলাদেশের স্বার্থ ক্ষুণ্ন হওয়া। তবে সরকারের অবস্থান সে রকম নয়। “সবার আগে বাংলাদেশ”—এই নীতির কথা পুনর্ব্যক্ত করে তিনি বলেন, ঢাকা ও দিল্লির সম্পর্ক হতে হবে পারস্পরিক সম্মান, সমমর্যাদা এবং জাতীয় স্বার্থের ভিত্তিতে। সহযোগিতা বাড়ানোর ইঙ্গিত ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, বাংলাদেশ ভারতের সঙ্গে ব্যবসা-বাণিজ্য, অর্থনৈতিক সহযোগিতা এবং আঞ্চলিক উন্নয়নসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সম্পর্ক আরও সম্প্রসারণ করতে আগ্রহী। তিনি জানান, ভবিষ্যতে যথাযথ আমন্ত্রণ পেলে তিনি ভারত সফরে যেতে প্রস্তুত রয়েছেন। দুই দেশের মধ্যে যোগাযোগ ও পারস্পরিক বোঝাপড়া বাড়ানোর ক্ষেত্রেও ইতিবাচক মনোভাবের কথা তুলে ধরেন তিনি। পানি বণ্টন ইস্যুতে গুরুত্ব প্রেস ব্রিফিংয়ে গঙ্গার পানি বণ্টন চুক্তির প্রসঙ্গও উঠে আসে। উপদেষ্টা জানান, চলতি বছরের ডিসেম্বরে গঙ্গা পানি চুক্তির মেয়াদ শেষ হতে যাচ্ছে। এছাড়া তিস্তা চুক্তিসহ বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে অভিন্ন ৫৩টি নদীর পানি বণ্টন ও ব্যবস্থাপনা নিয়ে আলোচনা এখনও গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। তার ভাষায়, এসব বিষয়ে বাংলাদেশের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করতে সরকার সক্রিয় ভূমিকা পালন করতে চায় এবং আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের পথ খুঁজছে। দিল্লি বিমানবন্দরের ঘটনা নিয়ে প্রতিক্রিয়া ভারতের রাজধানী দিল্লির একটি বিমানবন্দরে তাকে দুই ঘণ্টার বেশি সময় আটকে রাখার ঘটনার প্রসঙ্গেও কথা বলেন ডা. জাহেদ উর রহমান। তিনি ঘটনাটিকে ‘হয়রানি’ হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, ঘটনার পর তিনি তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া জানিয়েছিলেন। তবে বিষয়টি কেবল ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। তার মতে, রাষ্ট্রীয় পর্যায়ের কোনো প্রতিনিধির সঙ্গে এ ধরনের আচরণ গ্রহণযোগ্য নয় এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি হওয়া উচিত নয়। তবে তিনি স্পষ্ট করেন, পারস্পরিক সম্মান ও কূটনৈতিক শিষ্টাচারের ভিত্তিতে ভবিষ্যতেও ভারত সফর এবং দুই দেশের সম্পর্ক এগিয়ে নেওয়ার বিষয়ে তিনি আশাবাদী।

নিজস্ব প্রতিবেদক জুন ১৬, ২০২৬ 0
রেলপথমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম
দক্ষিণাঞ্চলসহ ১০ জেলা রেল যোগাযোগে আসছে, ঢাকার সঙ্গে সংযোগহীন জেলাগুলোকে অগ্রাধিকার

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : দেশের রেল অবকাঠামো সম্প্রসারণের নতুন পরিকল্পনার অংশ হিসেবে ঢাকার পার্শ্ববর্তী অঞ্চল ও দক্ষিণাঞ্চলসহ আরও ১০ জেলাকে রেল যোগাযোগের আওতায় আনার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে যেসব জেলার সঙ্গে এখনো ঢাকার সরাসরি রেল যোগাযোগ নেই, সেসব এলাকাকে। মঙ্গলবার (১৬ জুন) সচিবালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে রেলপথমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম এ তথ্য জানান। মন্ত্রী বলেন, বর্তমানে দেশের ৪৯টি জেলার সঙ্গে রেল যোগাযোগ রয়েছে। সরকারের নির্বাচনী অঙ্গীকার ছিল দেশের ৬৪টি জেলাকে রেল নেটওয়ার্কের আওতায় আনা। সেই লক্ষ্য বাস্তবায়নে নতুন ১০ জেলায় রেলসেবা সম্প্রসারণের সম্ভাব্য রুট ও প্রকল্প নিয়ে প্রাথমিক পরিকল্পনা প্রস্তুত করা হয়েছে। রেল মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, নতুন রেললাইন নির্মাণ ও বিদ্যমান নেটওয়ার্ক আধুনিকায়নের মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের মধ্যে যোগাযোগ আরও দ্রুত ও কার্যকর করার পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে। বিশেষ করে রাজধানীর সঙ্গে রেল সংযোগবিহীন জেলাগুলোকে অগ্রাধিকার দেওয়ার বিষয়টি নীতিগতভাবে বিবেচনায় রয়েছে। সংবাদ সম্মেলনে শেখ রবিউল আলম বলেন, কয়েকটি বড় অবকাঠামোগত প্রকল্প ইতোমধ্যে বাস্তবায়নের পথে রয়েছে। এর মধ্যে আখাউড়া-সিলেট এবং সিরাজগঞ্জ-বগুড়া রেলপথ প্রকল্প উল্লেখযোগ্য। পাশাপাশি ধীরাশ্রমে একটি আইসিডি (ইনল্যান্ড কনটেইনার ডিপো) প্রকল্প অনুমোদন পেয়েছে, যা পণ্য পরিবহন সক্ষমতা বাড়াতে সহায়ক হবে বলে আশা করা হচ্ছে। তিনি আরও জানান, ঢাকা-চট্টগ্রাম করিডোরে বর্তমানে মিটারগেজ ও ব্রডগেজ উভয় ধরনের রেললাইন বিদ্যমান থাকায় পরিচালনাগত কিছু সীমাবদ্ধতা রয়েছে। এ কারণে টঙ্গী-আখাউড়া এবং লাকসাম-সিলেট অংশে ডুয়েলগেজ ডাবল লাইন নির্মাণের বিষয়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া ঢাকা থেকে কুমিল্লা পর্যন্ত একটি নতুন কর্ড লাইন নির্মাণের পরিকল্পনাও সরকারের অগ্রাধিকার তালিকায় রয়েছে। সংশ্লিষ্ট প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ও কারিগরি প্রস্তুতি গ্রহণের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলে জানান মন্ত্রী। কেন গুরুত্বপূর্ণ এই সম্প্রসারণ? রেল বিশেষজ্ঞদের মতে, দেশের সব জেলাকে রেল নেটওয়ার্কের আওতায় আনতে পারলে যাত্রী ও পণ্য পরিবহনে সড়কপথের ওপর চাপ কমবে। একই সঙ্গে আঞ্চলিক অর্থনীতি, শিল্পায়ন ও বাণিজ্যিক কার্যক্রমে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। বিশেষ করে দক্ষিণাঞ্চল ও অপেক্ষাকৃত কম সংযুক্ত জেলাগুলোতে রেলসেবা সম্প্রসারণ দীর্ঘদিনের দাবি। নতুন প্রকল্পগুলো বাস্তবায়িত হলে রাজধানীর সঙ্গে এসব অঞ্চলের যোগাযোগ সময় ও ব্যয়ের দিক থেকে আরও সাশ্রয়ী হতে পারে। তবে ঘোষিত প্রকল্পগুলোর বাস্তবায়ন, অর্থায়ন এবং সময়সীমা নিয়ে এখনো বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। ফলে পরিকল্পনাগুলো কত দ্রুত বাস্তবে রূপ পায়, সেদিকেই নজর থাকবে সংশ্লিষ্ট মহল ও সাধারণ মানুষের।

নিজস্ব প্রতিবেদক জুন ১৬, ২০২৬ 0
ইসলামী ব্যাংক
ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যানসহ পুরো বোর্ড বাতিল, নিয়ন্ত্রণে বাংলাদেশ ব্যাংক

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : দেশের বৃহত্তম শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংক ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসি-এর চেয়ারম্যানসহ পরিচালনা পর্ষদের (বোর্ড অব ডিরেক্টরস) সব সদস্যের নিয়োগ বাতিল করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। ব্যাংক কোম্পানি আইন, ১৯৯১-এর ৪৫ ও ৪৭(৩) ধারায় অর্পিত ক্ষমতাবলে নেওয়া এই সিদ্ধান্ত দেশের ব্যাংকিং খাতে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। রবিবার (১৪ জুন) বাংলাদেশ ব্যাংক এক বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, ব্যাংক-কোম্পানির স্বার্থ, আমানতকারীদের স্বার্থ এবং বৃহত্তর জনস্বার্থে ইসলামী ব্যাংকের বিদ্যমান পরিচালনা পর্ষদ বাতিল করা হয়েছে। একই সঙ্গে ব্যাংক কোম্পানি আইন, ১৯৯১-এর ৪৭(৩) ধারা অনুযায়ী বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক মো. জহির হোসেনকে ইসলামী ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের সব ক্ষমতা প্রয়োগ ও দায়িত্ব পালনের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। পরবর্তী নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত তিনি ব্যাংকটির বোর্ডের কার্যক্রম পরিচালনা করবেন। কেন হঠাৎ পুরো বোর্ড বাতিল? বাংলাদেশ ব্যাংকের বিজ্ঞপ্তিতে সরাসরি কোনো নির্দিষ্ট কারণ উল্লেখ না করা হলেও, কেন্দ্রীয় ব্যাংক বলছে—সুশাসন নিশ্চিত করা, আমানতকারীদের স্বার্থ রক্ষা করা এবং ব্যাংকিং কার্যক্রমে স্থিতিশীলতা বজায় রাখার লক্ষ্যে এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। তবে ব্যাংকিং খাতসংশ্লিষ্ট বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক মাসগুলোতে ইসলামী ব্যাংককে ঘিরে যে সংকট তৈরি হয়েছিল, তার সঙ্গে এই সিদ্ধান্তের সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে। ব্যাংকটির তারল্য পরিস্থিতি, গ্রাহকদের ব্যাপক অর্থ উত্তোলন, পরিচালন কাঠামো নিয়ে প্রশ্ন এবং বাজারে আস্থার সংকট—এসব বিষয় দীর্ঘদিন ধরে আলোচনায় ছিল। সম্প্রতি বাংলাদেশ ব্যাংক ইসলামী ব্যাংককে আড়াই হাজার কোটি টাকার তারল্য সহায়তা দেওয়ার তথ্যও সামনে আসে। নিয়ন্ত্রণ কি সরাসরি কেন্দ্রীয় ব্যাংকের হাতে? সর্বশেষ সিদ্ধান্তের ফলে কার্যত ইসলামী ব্যাংকের পরিচালন কাঠামোতে সরাসরি হস্তক্ষেপ করল কেন্দ্রীয় ব্যাংক। ব্যাংক কোম্পানি আইনের ৪৭(৩) ধারা বাংলাদেশ ব্যাংককে বিশেষ পরিস্থিতিতে কোনো ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের ক্ষমতা স্থগিত বা বাতিল করে বিকল্প প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের সুযোগ দেয়। বিশ্লেষকদের মতে, একজন নির্বাহী পরিচালককে বোর্ডের পূর্ণ ক্ষমতা প্রদান করার অর্থ হলো—ব্যাংকের নীতিগত ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত এখন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রত্যক্ষ তদারকির আওতায় পরিচালিত হবে। আমানতকারীদের জন্য কী বার্তা? বাংলাদেশ ব্যাংকের বক্তব্যে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পেয়েছে আমানতকারীদের স্বার্থের বিষয়টি। ব্যাংক খাতের বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সাধারণত কোনো ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ ভেঙে দেওয়ার মতো পদক্ষেপ তখনই নেওয়া হয়, যখন নিয়ন্ত্রক সংস্থা মনে করে বিদ্যমান ব্যবস্থাপনায় আস্থা পুনরুদ্ধার করা কঠিন হয়ে পড়েছে। তাদের মতে, এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে কেন্দ্রীয় ব্যাংক বাজারকে একটি স্পষ্ট বার্তা দিতে চেয়েছে—ইসলামী ব্যাংকের কার্যক্রম চলমান থাকবে এবং গ্রাহকদের আমানত সুরক্ষার বিষয়ে নিয়ন্ত্রক সংস্থা সরাসরি নজরদারি করবে। সামনে কী হতে পারে? ব্যাংকিং খাতসংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, বোর্ড বাতিলের পরবর্তী ধাপে নতুন পরিচালনা পর্ষদ গঠন, মালিকানা কাঠামো পর্যালোচনা এবং সুশাসন পুনঃপ্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেওয়া হতে পারে। এছাড়া ব্যাংকের আর্থিক অবস্থা, ঋণ বিতরণ, করপোরেট গভর্ন্যান্স এবং ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত বিষয়গুলোও নতুন করে মূল্যায়নের আওতায় আসতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এদিকে বাংলাদেশ ব্যাংক কিংবা ইসলামী ব্যাংক কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে সিদ্ধান্তটির পেছনের বিস্তারিত কারণ সম্পর্কে তাৎক্ষণিক কোনো অতিরিক্ত ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি। তবে দেশের ব্যাংকিং ইতিহাসে অন্যতম বৃহৎ বেসরকারি ব্যাংকের পুরো পরিচালনা পর্ষদ একযোগে বাতিলের ঘটনা নিঃসন্দেহে খাতটির জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ ও তাৎপর্যপূর্ণ মোড় হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক জুন ১৫, ২০২৬ 0
দুবাইয়ে গ্রেপ্তার সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদ: ইন্টারপোল, দুদকের মামলা ও প্রত্যর্পণ প্রশ্নে নতুন অধ্যায়

দুবাইয়ে গ্রেপ্তার সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদ: তদন্তের কেন্দ্রবিন্দুতে সম্পদের উৎস, সামনে প্রত্যর্পণ প্রশ্ন ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : বাংলাদেশ পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদকে সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে পুলিশ সদর দপ্তর। দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) দায়ের করা মামলার প্রেক্ষাপটে ইন্টারপোলের সহযোগিতায় তাকে আটক করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। পুলিশ সদর দপ্তরের মুখপাত্র এআইজি শাহাদাত হোসেন রোববার বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, দুদকের মামলায় আন্তর্জাতিক পুলিশ সংস্থা ইন্টারপোলের সহায়তায় বেনজীর আহমেদকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ বিষয়ে ১২ জুন বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষকে আনুষ্ঠানিকভাবে অবহিত করা হয়েছে। তবে কোন নির্দিষ্ট মামলার ভিত্তিতে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, বর্তমানে তিনি কী ধরনের আইনি প্রক্রিয়ার মুখোমুখি, কিংবা তাকে দেশে ফিরিয়ে আনতে বাংলাদেশ সরকার আনুষ্ঠানিক প্রত্যর্পণ উদ্যোগ নিয়েছে কি না—এসব বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি। দীর্ঘ তদন্তের পর গ্রেপ্তার বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে গত কয়েক বছরে অবৈধ সম্পদ অর্জন, সম্পদের তথ্য গোপন এবং ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগে একাধিক অনুসন্ধান ও মামলা শুরু করে দুর্নীতি দমন কমিশন। দুদকের তদন্তে অভিযোগ ওঠে, সরকারি চাকরিতে থাকা অবস্থায় তিনি ও তার পরিবারের সদস্যদের নামে বিপুল পরিমাণ স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ গড়ে তোলা হয়েছে, যার বৈধ উৎস নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। তদন্তের ধারাবাহিকতায় বেনজীর আহমেদ, তার স্ত্রী ও দুই মেয়ের বিরুদ্ধে পৃথক মামলা দায়ের করা হয়। আদালতের নির্দেশে তাদের নামে থাকা জমি, ফ্ল্যাট, ব্যবসায়িক অংশীদারিত্ব এবং বিভিন্ন আর্থিক সম্পদ ক্রোক (জব্দ) করা হয়। একইসঙ্গে একাধিক ব্যাংক হিসাব ও সঞ্চয়পত্রও অবরুদ্ধ করা হয়েছে। ইন্টারপোলের রেড নোটিশ কীভাবে এলো? দুদকের আবেদনের পর ঢাকার একটি আদালত ২০২৫ সালের শুরুতে বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির নির্দেশ দেন। এরপর আন্তর্জাতিক পর্যায়ে তাকে শনাক্ত ও আটক করতে ইন্টারপোলের সহযোগিতা চাওয়া হয়। পরবর্তীতে তার বিরুদ্ধে ইন্টারপোলের ‘রেড নোটিশ’ জারি হয়। যদিও রেড নোটিশ নিজেই কোনো আন্তর্জাতিক গ্রেপ্তারি পরোয়ানা নয়, এটি সদস্য রাষ্ট্রগুলোকে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে শনাক্ত, অবস্থান নির্ণয় এবং স্থানীয় আইনের আওতায় আটক করার অনুরোধ হিসেবে কাজ করে। দুবাইয়ে তার গ্রেপ্তারের খবর প্রকাশের পর এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হয়ে উঠেছে—বাংলাদেশ কি তাকে দেশে ফিরিয়ে আনতে পারবে? সামনে কী আইনি প্রক্রিয়া? আন্তর্জাতিক আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, কোনো ব্যক্তিকে বিদেশে গ্রেপ্তারের পর সরাসরি দেশে ফেরত আনা যায় না। সাধারণত প্রত্যর্পণ চুক্তি, স্থানীয় আদালতের অনুমোদন এবং সংশ্লিষ্ট দেশের আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পরই পরবর্তী সিদ্ধান্ত কার্যকর হয়। ফলে বেনজীর আহমেদের ক্ষেত্রে দুবাইয়ের আদালত, সংযুক্ত আরব আমিরাতের আইন এবং বাংলাদেশের অনুরোধ—সবকিছু মিলিয়ে একটি জটিল আইনি প্রক্রিয়া সামনে আসতে পারে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যদি বাংলাদেশ আনুষ্ঠানিক প্রত্যর্পণ আবেদন করে, তাহলে অভিযোগের প্রকৃতি, মামলার অবস্থা এবং দুই দেশের আইনি কাঠামোর ভিত্তিতে বিষয়টি বিবেচিত হবে। কেন গুরুত্বপূর্ণ এই গ্রেপ্তার? বাংলাদেশ পুলিশের ইতিহাসে বেনজীর আহমেদ ছিলেন অন্যতম আলোচিত কর্মকর্তা। র‌্যাবের মহাপরিচালক এবং পরে পুলিশের মহাপরিদর্শক হিসেবে দায়িত্ব পালন করা এই সাবেক শীর্ষ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ সামনে আসার পর বিষয়টি জাতীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। দুবাইয়ে তার গ্রেপ্তার শুধু একটি ব্যক্তিগত মামলার অগ্রগতি নয়; বরং এটি বাংলাদেশের দুর্নীতি তদন্ত, আন্তর্জাতিক আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সহযোগিতা এবং সীমান্ত-পেরোনো আর্থিক অপরাধ তদন্তের ক্ষেত্রেও একটি গুরুত্বপূর্ণ নজির হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। তবে গ্রেপ্তারের খবর নিশ্চিত হলেও তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের বিচারিক নিষ্পত্তি এখনও হয়নি। ফলে আদালতের চূড়ান্ত রায় না হওয়া পর্যন্ত তিনি আইনগতভাবে অভিযুক্ত ব্যক্তি হিসেবেই বিবেচিত হবেন। এখন নজর থাকবে দুবাই কর্তৃপক্ষের পরবর্তী পদক্ষেপ, বাংলাদেশের সম্ভাব্য প্রত্যর্পণ আবেদন এবং বহুল আলোচিত এই মামলার ভবিষ্যৎ আইনি গতিপথের দিকে।

নিজস্ব প্রতিবেদক জুন ১৪, ২০২৬ 0
রামিসা হত্যার দায় স্বীকার
রামিসা ধর্ষণ ও হত্যা মামলা: ‘মাদকাসক্ত ছিলাম, ভুল করেছি’—হাইকোর্টে ক্ষমা প্রার্থনা ফাঁসির আসামি সোহেল রানার

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : রাজধানীর পল্লবীতে আট বছর বয়সী শিশু রামিসা ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত প্রধান আসামি সোহেল রানা হাইকোর্টে দায় স্বীকার করে ক্ষমা প্রার্থনা করেছেন। জেল আপিলে দেওয়া তার স্বীকারোক্তিমূলক বক্তব্যে তিনি দাবি করেছেন, দীর্ঘদিনের মাদকাসক্তি, চরম আর্থিক সংকট এবং পারিবারিক অশান্তির মধ্যে থাকায় তিনি অবচেতন অবস্থায় এই নৃশংস অপরাধে জড়িয়ে পড়েন। তবে মামলার অপর দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি ও সোহেল রানার স্ত্রী স্বপ্না আক্তার নিজেকে নির্দোষ দাবি করে আদালতের কাছে খালাস চেয়েছেন। জেল আপিলে কী বললেন সোহেল রানা? রোববার (১৪ জুন) হাইকোর্টে উপস্থাপিত জেল আপিলে সোহেল রানা বলেন, তিনি একজন অটোরিকশা গ্যারেজের মিস্ত্রি ছিলেন এবং দীর্ঘদিন ধরে ইয়াবাসহ বিভিন্ন মাদকে আসক্ত ছিলেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, মাদকাসক্তির কারণে পরিবারে প্রায়ই কলহ-বিবাদ হতো। তিনি দাবি করেন, অতীতে কোনো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিলেন না এবং রামিসার সঙ্গে ঘটে যাওয়া ঘটনাটি নেশাগ্রস্ত অবস্থায় সংঘটিত হয়েছে। জবানবন্দিতে তিনি উল্লেখ করেন, আর্থিক অভাব, পারিবারিক অস্থিরতা এবং মাদকের প্রভাবে তিনি এমন একটি অপরাধ করে ফেলেছেন, যার পরিণতি তিনি তখন উপলব্ধি করতে পারেননি। আদালতের প্রতি আবেদন জানিয়ে তিনি বলেন, তার একটি মাত্র সন্তান রয়েছে, যার পড়াশোনা ও পরিবারের দায়িত্ব নেওয়ার মতো আর কেউ নেই। এজন্য তিনি নিজের অপরাধের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করেছেন। স্ত্রী স্বপ্নার দাবি: ‘আমি নির্দোষ’ অন্যদিকে একই মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত স্বপ্না আক্তার জেল আপিলে দাবি করেছেন, তিনি ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ত নন। তার বক্তব্য অনুযায়ী, মামলায় তাকে অন্যায়ভাবে জড়ানো হয়েছে এবং তিনি খালাস পাওয়ার যোগ্য। আইনি বিশ্লেষকদের মতে, জেল আপিল শুনানিতে দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিদের এমন অবস্থান আদালতের চূড়ান্ত মূল্যায়নের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ হলেও শুধুমাত্র ক্ষমা প্রার্থনা বা দায় অস্বীকার করাই রায়ের ভিত্তি পরিবর্তনের নিশ্চয়তা দেয় না। আদালত মূলত সাক্ষ্য-প্রমাণ, তদন্ত প্রতিবেদন, ফরেনসিক তথ্য এবং বিচারিক নথিপত্রের আলোকে সিদ্ধান্ত নেবেন। হাইকোর্টে আপিল গ্রহণ আদালত সূত্রে জানা গেছে, গত ১১ জুন কারা কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে সোহেল রানা ও স্বপ্না আক্তার পৃথকভাবে জেল আপিল দায়ের করেন। রোববার হাইকোর্ট তাদের আপিল শুনানির জন্য গ্রহণ করেছেন। এর ফলে এখন মামলাটি উচ্চ আদালতে বিচারিক পর্যালোচনার নতুন ধাপে প্রবেশ করলো। আপিল শুনানির পর আদালত মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখা, কমানো অথবা খালাস দেওয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত দিতে পারবেন। তদন্তে উঠে আসা প্রশ্ন এই মামলায় সোহেল রানার সর্বশেষ বক্তব্য নতুন করে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন সামনে নিয়ে এসেছে— অপরাধ সংঘটনের সময় তার মানসিক ও শারীরিক অবস্থা কী ছিল? মাদকাসক্তির দাবি তদন্তে কতটা প্রতিফলিত হয়েছে? অপরাধের পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নে অন্য কোনো ব্যক্তি জড়িত ছিল কি না? স্বপ্না আক্তারের বিরুদ্ধে উপস্থাপিত সাক্ষ্য-প্রমাণ কতটা শক্তিশালী? আইনবিদদের মতে, এসব প্রশ্নের উত্তরই আপিল শুনানির সময় গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

নিজস্ব প্রতিবেদক জুন ১৪, ২০২৬ 0
সাংবাদিকতার নতুন চ্যালেঞ্জ ও সম্ভাবনা নিয়ে গ্রিন ইউনিভার্সিটিতে নবীনবরণ

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : ঢাকার পূর্বাচলে অবস্থিত গ্রিন ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশের নিজস্ব ক্যাম্পাসে সাংবাদিকতা ও গণমাধ্যম যোগাযোগ (জেএমসি) বিভাগের সামার-২০২৬ (ব্যাচ-২৬০কে) শিক্ষার্থীদের বরণ করে নেওয়া হয়েছে বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে। শনিবার অনুষ্ঠিত নবীনবরণ অনুষ্ঠানটি শুধু আনুষ্ঠানিক পরিচিতি বা সাংস্কৃতিক আয়োজনেই সীমাবদ্ধ ছিল না; বরং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) নির্ভর পরিবর্তিত গণমাধ্যম বাস্তবতায় ভবিষ্যৎ সাংবাদিকদের প্রস্তুত হওয়ার বার্তাও উঠে আসে বক্তাদের বক্তব্যে। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিভাগের প্রধান ড. হাবীব মোহাম্মদ আলী। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. খাজা ইফতেখার উদ্দিন আহমেদ। বিশেষ অতিথি ছিলেন কলা ও সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. এম শহীদুল্লাহ। গেস্ট অব অনার হিসেবে বক্তব্য দেন দৈনিক খবরের কাগজের বার্তা সম্পাদক রোকেয়া রহমান। অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বাগত বক্তব্য দেন সাংবাদিকতা ও গণমাধ্যম যোগাযোগ বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মো. অলিউর রহমান। সাংবাদিকতার নতুন বাস্তবতায় এআই প্রধান অতিথির বক্তব্যে অধ্যাপক ড. খাজা ইফতেখার উদ্দিন আহমেদ বলেন, বর্তমান সময়ে সাংবাদিকতা আর কেবল তথ্য সংগ্রহ ও প্রতিবেদন তৈরির মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার বিস্তৃত ব্যবহারের ফলে তথ্য বিশ্লেষণ, ফ্যাক্ট-চেকিং, অডিও-ভিডিও কনটেন্ট নির্মাণ এবং স্বয়ংক্রিয় রিপোর্ট তৈরির মতো ক্ষেত্রগুলোতে প্রযুক্তি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। তবে প্রযুক্তির এই দ্রুত বিকাশের মধ্যেও নৈতিকতা, তথ্যের সত্যতা এবং জনস্বার্থ রক্ষার প্রশ্নকে সাংবাদিকতার প্রধান চ্যালেঞ্জ হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি। তার মতে, পরিবর্তিত কর্মবাজারে টিকে থাকতে হলে শিক্ষার্থীদের কেবল একাডেমিক জ্ঞান অর্জন করলেই চলবে না; প্রযুক্তিনির্ভর নতুন টুলস এবং ডিজিটাল দক্ষতার ওপরও সমান গুরুত্ব দিতে হবে। একই সঙ্গে ব্যক্তিগত মূল্যবোধ ও মানবিক গুণাবলির বিকাশও প্রয়োজন। দক্ষতা উন্নয়নের ওপর জোর বক্তারা বলেন, গণমাধ্যম শিল্প দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে। ফলে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের সাংবাদিকতা শিক্ষাকে এখন আরও বাস্তবমুখী ও প্রযুক্তিনির্ভর করতে হচ্ছে। নতুন প্রজন্মের সাংবাদিকদের জন্য মাল্টিমিডিয়া প্রোডাকশন, ডেটা জার্নালিজম, ডিজিটাল স্টোরিটেলিং এবং তথ্য যাচাইয়ের দক্ষতা অপরিহার্য হয়ে উঠছে। অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন বিভাগের প্রভাষক ও প্রোগ্রাম কো-অর্ডিনেটর মোহাম্মদ বায়েজীদ খান, প্রভাষক জান্নাতুল ফেরদৌস মীম এবং নাজমুন্নাহার উর্মি। প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের অভিজ্ঞতা বিনিময় অনুষ্ঠানের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিল প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ। এ সময় অভিজ্ঞতা ভাগাভাগি করেন বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের প্রতিবেদক জুবায়ের আহমেদ এবং জেএমসি মিডিয়া ক্লাবের সভাপতি ও মেন্টর ইমু আক্তার মিম। এ ছাড়া জেএমসি ল্যাব কো-অর্ডিনেটর কাজী মাহাদী মুনতাসির বিভাগের কার্যক্রমভিত্তিক একটি ডকুমেন্টারি প্রদর্শন করেন। ফাইয়াজ সরকার ও নাজিফা তাবাস্সুম তাজের সঞ্চালনায় আয়োজিত অনুষ্ঠানটি কেক কাটা এবং গ্রুপ ফটোসেশনের মধ্য দিয়ে শেষ হয়। কেন গুরুত্বপূর্ণ এই বার্তা? বিশ্বজুড়ে গণমাধ্যম খাতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সাংবাদিকদের ভূমিকা ও দায়িত্ব নিয়েও নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। সেই বাস্তবতায় গ্রিন ইউনিভার্সিটির নবীনবরণ অনুষ্ঠানটি শুধু নতুন শিক্ষার্থীদের আনুষ্ঠানিক স্বাগত জানানোর আয়োজন নয়; বরং ভবিষ্যৎ সাংবাদিকদের প্রযুক্তি, নৈতিকতা ও পেশাগত দক্ষতার সমন্বয়ে প্রস্তুত হওয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তাও বহন করেছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক জুন ১৪, ২০২৬ 0
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের ১০ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ২০ লাখ টাকা ঘুষ, চাঁদাবাজির অভিযোগ

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন :  মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের (ডিএনসি) কয়েকজন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে গুরুতর অনিয়ম, ঘুষ গ্রহণ এবং ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ নতুন করে আলোচনায় এসেছে। রাজধানীর এক ব্যবসায়ী দাবি করেছেন, ডিএনসির একটি দল তাঁর ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে অভিযান চালিয়ে মোটা অঙ্কের অর্থ আদায় করেছে এবং পরে তাঁকে মাদক মামলায় জড়িয়েছে। অভিযোগটি ইতোমধ্যে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, আইন মন্ত্রণালয় এবং মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের (ডিজি) কাছে লিখিতভাবে জমা দেওয়া হয়েছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ডিএনসির ১০ কর্মকর্তা। পুরোনো অভিযোগ, নতুন বিতর্ক মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের বিরুদ্ধে অতীতেও বিভিন্ন সময়ে অভিযানে অনিয়ম, জব্দ করা মাদকের পরিমাণ কম দেখানো, একই কর্মস্থলে দীর্ঘদিন অবস্থান এবং কিছু ব্যবসা প্রতিষ্ঠান থেকে অবৈধ সুবিধা নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। তবে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই অভিযোগগুলো তদন্ত বা শাস্তিমূলক ব্যবস্থার পর্যায়ে পৌঁছায়নি বলে সংশ্লিষ্ট মহলের দাবি। এমন প্রেক্ষাপটে নতুন এই অভিযোগ ডিএনসির কার্যক্রম ও জবাবদিহিতা নিয়ে আবারও প্রশ্ন তুলেছে। কী অভিযোগ করেছেন ব্যবসায়ী? অভিযোগকারী ফরহাদ বিল্লা রুবেল, রাজধানীর নিকুঞ্জ এলাকার বাসিন্দা এবং লা পেসেতা ফ্যাশন অ্যান্ড ট্রেডিং করপোরেশনের মালিক। লিখিত অভিযোগে তিনি দাবি করেন, দীর্ঘদিন ধরে তিনি তৈরি পোশাক ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্য খাতে ব্যবসা করছেন। ব্যবসায়িক প্রয়োজনে বিদেশি ক্রেতা ও অতিথিরা তাঁর অফিস ও বাসায় নিয়মিত আসা-যাওয়া করেন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, বিদেশি অতিথিদের ব্যবহৃত কিছু পানীয়ের খালি বোতল এবং হুকা-সংশ্লিষ্ট সামগ্রী বাসায় সংরক্ষিত ছিল। ফরহাদ বিল্লা রুবেলের অভিযোগ, গত ৭ এপ্রিল সন্ধ্যায় ডিএনসির পরিচয়ে ১০ থেকে ১২ জন কর্মকর্তা তাঁর অফিসে প্রবেশ করেন। অভিযানে অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে পরিদর্শক মাহবুব রহমান, সহকারী পরিচালক মোস্তাক আহমেদ, উপপরিদর্শক আবদুল্লাহ আল মামুন, সহকারী উপপরিদর্শক মোহাম্মদ আলী, তৃষ্ণা রাণী বিশ্বাস, রুবেল হোসেন, সাইফুল ইসলাম, মাহমুদুল হাসান এবং লুৎফর রহমানের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। তিনি দাবি করেন, কর্মকর্তারা অফিসের বিভিন্ন নথিপত্র তল্লাশির নামে এলোমেলো করেন। পরে তিনি ঘটনাস্থলে পৌঁছে অভিযানের কারণ জানতে চাইলে তাঁকে ভয়ভীতি দেখানো হয় এবং মাদক মামলায় জড়ানোর হুমকি দেওয়া হয়। ‘এক কোটি টাকা দাবি, পরে ৫০ লাখে সমঝোতার প্রস্তাব’ অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, একপর্যায়ে তাঁকে মামলা থেকে রেহাই দেওয়ার বিনিময়ে এক কোটি টাকা দাবি করা হয়। পরে সেই দাবি কমিয়ে ৫০ লাখ টাকায় নামিয়ে আনা হয় এবং দ্রুত অর্থ পরিশোধের জন্য চাপ সৃষ্টি করা হয়। ফরহাদ বিল্লা রুবেলের দাবি, তিনি অর্থ দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাঁকে জোরপূর্বক একটি গাড়িতে তুলে নেওয়া হয়। সেখানে কয়েক ঘণ্টা আটকে রেখে আরও চাপ প্রয়োগ করা হয়। অভিযোগ অনুযায়ী, রাত ১১টার দিকে ডিএনসির এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এসে তাঁর কাছে থাকা নগদ ২০ লাখ টাকা নিয়ে যান। ‘ঘোরানো হয় বিভিন্ন স্থানে’ লিখিত অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, অর্থ নেওয়ার পর তাঁকে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় ঘোরানো হয়। বনানীর একটি কফিশপের সামনে নিয়ে গিয়ে আরও অর্থ সংগ্রহের জন্য চাপ দেওয়া হয়। পরে গুলশান ও হাতিরঝিল এলাকা ঘুরিয়ে তাঁকে গেন্ডারিয়ায় ডিএনসির কার্যালয়ে নেওয়া হয়। পরদিন তাঁর বিরুদ্ধে খিলক্ষেত থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা দায়ের করা হয়। ‘মাদক ব্যবসায়ী হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে’ ফরহাদ বিল্লা রুবেল অভিযোগ করেছেন, মামলার এজাহারে তাঁকে মাদক ব্যবসায়ী হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে, যা তিনি সম্পূর্ণ মিথ্যা বলে দাবি করেন। তাঁর আরও অভিযোগ, জব্দ তালিকায় থাকা স্বাক্ষর তাঁর নয় এবং অভিযানের সময় বাসা থেকে বিভিন্ন মালামালও নিয়ে যাওয়া হয়েছে। তিনি দাবি করেন, মামলার নথিতে অভিযানের সময়সূচি ও ঘটনাপ্রবাহের যে বিবরণ দেওয়া হয়েছে, তা বাসার সিসিটিভি ফুটেজের সঙ্গে মিলছে না। ফুটেজে কর্মকর্তাদের প্রবেশ ও বের হওয়ার সময় এজাহারের তথ্যের সঙ্গে অসামঞ্জস্য রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেছেন। তদন্তের প্রয়োজনীয়তার কথা বলছেন বিশেষজ্ঞরা অপরাধ বিশ্লেষক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক ড. তৌহিদুল হক মনে করেন, সরকারি কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে এ ধরনের গুরুতর অভিযোগ উঠলে নিরপেক্ষ ও দ্রুত তদন্ত হওয়া জরুরি। তাঁর মতে, অভিযোগ সত্য হলে তা শুধু ব্যক্তিগত অপরাধ নয়, বরং আইন প্রয়োগকারী প্রতিষ্ঠানের প্রতি জনসাধারণের আস্থার ওপরও নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। ডিএনসির প্রতিক্রিয়া অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের পরিচালক (অপারেশন) মো. বশির আহমেদ বলেন, অভিযোগটি প্রধান কার্যালয়ে জমা পড়েছে। তিনি জানান, বিষয়টি এখনো বিস্তারিতভাবে পর্যালোচনা করা হয়নি। তবে অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সামনে যে প্রশ্নগুলো এই অভিযোগের পর কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন সামনে এসেছে— অভিযানের সময় কী নিয়মতান্ত্রিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়েছিল? অভিযোগকারীর দাবি অনুযায়ী সিসিটিভি ফুটেজে কী দেখা যাচ্ছে? ঘুষ গ্রহণ ও অর্থ লেনদেনের অভিযোগের কোনো প্রমাণ রয়েছে কি? মামলার এজাহার ও জব্দ তালিকার তথ্য কতটা নির্ভুল? অভিযুক্ত কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে স্বাধীন তদন্ত হবে কি? এসব প্রশ্নের উত্তর মিলবে কেবল নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে। আর সেই তদন্তই এখন নজরে সংশ্লিষ্ট মহল ও সাধারণ মানুষের।

নিজস্ব প্রতিবেদক জুন ১৪, ২০২৬ 0
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়
প্রশাসনে বড় রদবদল: ১১ কর্মকর্তার বদলি ও পদায়ন, নতুন অধিদপ্তরেও নিয়োগ

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : বাংলাদেশের প্রশাসনে আবারও বড় ধরনের রদবদল এনেছে সরকার। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের জারি করা ১১টি পৃথক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে যুগ্ম-সচিব পদমর্যাদার ১১ কর্মকর্তাকে নতুন দায়িত্বে পদায়ন ও বদলি করা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, প্রশাসনের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ খাত—জ্বালানি, স্থানীয় সরকার, পানি সরবরাহ, পল্লী উন্নয়ন, প্রশিক্ষণ এবং মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক কার্যক্রম—একযোগে পুনর্বিন্যাসের মাধ্যমে সরকার নীতি বাস্তবায়নে গতি আনতে চাইছে। জ্বালানি খাতে পরিবর্তন জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের হাইড্রোকার্বন ইউনিটের মহাপরিচালক (যুগ্ম-সচিব) মো. সাবেত আলীকে একই বিভাগের যুগ্ম-সচিব হিসেবে পদায়ন করা হয়েছে। জ্বালানি নিরাপত্তা ও সম্পদ ব্যবস্থাপনা বর্তমানে সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার হওয়ায় এই পদায়নকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। অন্যদিকে বিভাগে সংযুক্ত যুগ্ম-সচিব মো. অলিউর রহমানকে বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন বোর্ডের (বিআরডিবি) পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। রাজউক থেকে জনপ্রশাসনে রাজশাহী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করা এস এম তুহিনুর আলমকে পরবর্তী পদায়নের জন্য জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে ন্যস্ত করা হয়েছে। প্রশাসনিক মহলে এ ধরনের পদক্ষেপকে ভবিষ্যৎ গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব প্রদানের পূর্বপ্রস্তুতি হিসেবে দেখা হয়। প্রশিক্ষণ ও মানবসম্পদ উন্নয়নে নতুন নিয়োগ প্রেষণ শেষে সম্প্রতি জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে যোগদানকারী যুগ্ম-সচিব মো. আবুল হোসেনকে জাতীয় উন্নয়ন প্রশাসন একাডেমির (নাডা) এমডিএস হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। সরকারি কর্মকর্তাদের দক্ষতা উন্নয়ন ও প্রশাসনিক সক্ষমতা বৃদ্ধিতে নাডা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। ফলে এই পদায়ন প্রশাসনিক মানবসম্পদ উন্নয়নের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত। নতুন অধিদপ্তরে প্রথম ডিজি সবচেয়ে আলোচিত পদায়নগুলোর একটি হলো নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের যুগ্ম-সচিব ডি এম আতিকুর রহমানকে নবগঠিত ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান অধিদপ্তর’-এর মহাপরিচালক (ডিজি) হিসেবে নিয়োগ। তার চাকরি মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ে ন্যস্ত করা হয়েছে। নতুন এই অধিদপ্তরের কার্যক্রম ও প্রশাসনিক কাঠামো কীভাবে গড়ে তোলা হবে, সে বিষয়ে এখন আগ্রহ তৈরি হয়েছে প্রশাসনিক অঙ্গনে। আবাসন ও অবকাঠামো খাতে পরিবর্তন পরিবেশ অধিদপ্তরের পরিচালক সৈয়দ ফরহাদ হোসেনকে ‘অসচ্ছল বীর মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য আবাসন নির্মাণ’ প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক (পিডি) হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এছাড়া গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম-সচিব মো. জহিরুল ইসলাম খানকে সরকারি আবাসন পরিদপ্তরের পরিচালক হিসেবে পদায়ন করা হয়েছে। ওয়াসায় নতুন নেতৃত্ব রাজশাহী বিভাগের কৃষি বিপণন কার্যালয়ের উপ-পরিচালক বেগম শাহানা আখতার জাহানকে রাজশাহী ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে বাংলাদেশ পাটকল করপোরেশনের পরিচালক এরশাদ হোসেন খানকে ঢাকা ওয়াসার উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক (ডিএমডি) হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। পানি সরবরাহ ও নগর সেবার মতো গুরুত্বপূর্ণ খাতে এই নিয়োগগুলোকে ভবিষ্যৎ সেবা ব্যবস্থাপনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। কী ইঙ্গিত দিচ্ছে এই রদবদল? প্রশাসনের বিভিন্ন খাতে একযোগে এই পুনর্বিন্যাস সরকারের কৌশলগত অগ্রাধিকারকে সামনে নিয়ে আসে। বিশেষ করে নবগঠিত অধিদপ্তরে নেতৃত্ব নিয়োগ, উন্নয়ন প্রকল্পে নতুন কর্মকর্তা দায়িত্ব প্রদান এবং প্রশিক্ষণ ও স্থানীয় সরকার সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন প্রশাসনিক কার্যক্রমে নতুন গতি আনার প্রচেষ্টার অংশ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। যদিও সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে এসব বদলিকে নিয়মিত প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে উল্লেখ করেছে, তবে গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি প্রতিষ্ঠানে একযোগে নেতৃত্ব পরিবর্তন প্রশাসনিক পুনর্গঠনের ইঙ্গিত হিসেবেও বিবেচিত হচ্ছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক জুন ১৩, ২০২৬ 0
আদ্-দ্বীন হাসপাতাল
আদ্-দ্বীন হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিল: সংকটাপন্ন রোগীদের স্থানান্তরে উদ্বেগ, ছয় সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসার নির্দেশ

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : ছয় নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনার জেরে রাজধানীর মগবাজারের আদ্-দ্বীন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিলের সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে শতাধিক রোগীর চিকিৎসার ভবিষ্যৎ নিয়ে। হাসপাতালটি থেকে রোগীদের দ্রুত অন্যত্র স্থানান্তরের নির্দেশ দিলেও বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নিবিড় পরিচর্যায় থাকা রোগীদের স্থানান্তর নিজেই একটি বড় স্বাস্থ্যঝুঁকি। শুক্রবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিকসমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে রাজধানীর ছয়টি সরকারি হাসপাতালে আদ্-দ্বীন হাসপাতাল থেকে রেফার হওয়া রোগীদের চিকিৎসা নিশ্চিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কোন হাসপাতালগুলোকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে? স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনা অনুযায়ী রোগীদের নিম্নোক্ত সরকারি হাসপাতালে স্থানান্তর করে প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে— ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ (মিটফোর্ড) হাসপাতাল শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতাল বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউট অধিদপ্তর বলছে, রোগীদের স্বাস্থ্যঝুঁকি বিবেচনায় নিয়ে সংশ্লিষ্ট হাসপাতালগুলোকে চিকিৎসার সার্বিক দায়িত্ব গ্রহণ করতে হবে। লাইসেন্স বাতিলের পর শুরু রোগী স্থানান্তর গত বৃহস্পতিবার ছয় নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনার পর আদ্-দ্বীন হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিল করে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একই সঙ্গে হাসপাতালটিকে রোগীদের অন্যত্র স্থানান্তরের জন্য ৭২ ঘণ্টার সময়সীমা দেওয়া হয়। এর পরপরই হাসপাতাল থেকে রোগী ছাড়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়। হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, মাত্র একদিনের ব্যবধানে চিকিৎসাধীন রোগীর সংখ্যা ১৭৩ জন কমে বর্তমানে ২৪৩ জনে নেমে এসেছে। তবে সংখ্যার এই পরিবর্তনের আড়ালে সবচেয়ে বড় উদ্বেগের বিষয় হয়ে উঠেছে নিবিড় পরিচর্যায় থাকা রোগীদের নিরাপত্তা। সবচেয়ে ঝুঁকিতে কারা? হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে— ৫০ জন নবজাতক এনআইসিইউতে চিকিৎসাধীন ১৩ জন রোগী আইসিইউ ও এইচডিইউতে ভর্তি অর্থাৎ প্রায় ৭০ জন রোগী এমন অবস্থায় রয়েছেন, যাদের চিকিৎসা স্থানান্তরের সময় বিশেষায়িত অ্যাম্বুলেন্স, প্রশিক্ষিত চিকিৎসক দল এবং উন্নত লাইফ সাপোর্ট প্রয়োজন হতে পারে। রোগীর স্বজনরা বলছেন, আদ্-দ্বীন হাসপাতালে তুলনামূলক কম খরচে জটিল চিকিৎসার সুযোগ ছিল। অন্য হাসপাতালে একই ধরনের সেবা পাওয়া গেলেও ব্যয়, শয্যা সংকট এবং দ্রুত ভর্তি নিশ্চিত করা নিয়ে তাদের মধ্যে অনিশ্চয়তা রয়েছে। স্বজনদের অভিযোগ: সহায়তা কোথায়? স্বাস্থ্য অধিদপ্তর রোগী স্থানান্তর প্রক্রিয়ায় প্রয়োজনীয় সহায়তার আশ্বাস দিলেও শুক্রবার হাসপাতালে অধিদপ্তরের কোনো প্রতিনিধিকে দেখা যায়নি বলে অভিযোগ করেছেন কয়েকজন রোগীর স্বজন। তাদের আশঙ্কা, সংকটাপন্ন রোগীদের স্থানান্তরের সময় সমন্বয়হীনতা তৈরি হলে তা রোগীদের জন্য মারাত্মক ঝুঁকির কারণ হতে পারে। সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার আবেদন এদিকে আদ্-দ্বীন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক তারিকুল ইসলাম জানিয়েছেন, রোগীদের জীবনরক্ষার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে লাইসেন্স বাতিলের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার অনুরোধ জানানো হয়েছে। তিনি বলেন, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ভবনের প্রয়োজনীয় সংস্কার ও পুনর্নির্মাণের জন্য তিন মাস সময় চেয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে আবেদন করেছে। তদন্তের কেন্দ্রে যে প্রশ্নগুলো ছয় নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় লাইসেন্স বাতিলের সিদ্ধান্ত স্বাস্থ্যখাতে জবাবদিহির প্রশ্ন সামনে এনেছে। তবে একই সঙ্গে উঠে এসেছে আরও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন— মৃত্যুর ঘটনাগুলোর পূর্ণাঙ্গ তদন্ত কতদূর এগিয়েছে? সংকটাপন্ন রোগীদের নিরাপদ স্থানান্তরের জন্য কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে? বিকল্প হাসপাতালগুলোতে পর্যাপ্ত শয্যা ও চিকিৎসা সক্ষমতা রয়েছে কি? নিম্ন আয়ের রোগীদের জন্য চিকিৎসা ব্যয় কীভাবে সামাল দেওয়া হবে? স্বাস্থ্য অধিদপ্তর রোগীদের চিকিৎসা অব্যাহত রাখার আশ্বাস দিলেও মাঠপর্যায়ে সেই নির্দেশনার বাস্তবায়ন কতটা কার্যকর হয়, সেটিই এখন সবচেয়ে বড় পরীক্ষা।

নিজস্ব প্রতিবেদক জুন ১৩, ২০২৬ 0
সোহেলি ইসলাম
ঢাকায় ছিনতাইকারীর হামলায় আহত হওয়ার চার দিন পর মৃত্যু: সোহেলির মৃত্যুতে নগর নিরাপত্তা নিয়ে নতুন প্রশ্ন

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : রাজধানীর ব্যস্ত নগরজীবনে ছিনতাই এখন কতটা ভয়াবহ রূপ নিয়েছে, তার আরেকটি মর্মান্তিক উদাহরণ হয়ে উঠেছে সোহেলি ইসলামের মৃত্যু। ভোরবেলায় মেয়েকে সঙ্গে নিয়ে বাসা ফিরছিলেন তিনি। কিন্তু কয়েক সেকেন্ডের এক ছিনতাইচেষ্টাই কেড়ে নিল তার জীবন। চার দিন মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করার পর বৃহস্পতিবার সকালে মারা যান ৪২ বছর বয়সী এই কর্মজীবী নারী। ঘটনাটি ঘটে গত রোববার ভোরে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সামনে। পরিবার ও স্বজনদের বর্ণনা অনুযায়ী, দিনাজপুরের পার্বতীপুর থেকে ঢাকায় ফেরার পর গাবতলী এলাকায় বাস থেকে নেমে একমাত্র মেয়েকে নিয়ে রিকশায় করে ধানমন্ডির বাসার উদ্দেশে রওনা দেন সোহেলি ইসলাম। পথে একটি মোটরসাইকেলে আসা দুই ছিনতাইকারী তাদের অনুসরণ করে। একপর্যায়ে হেলমেট পরা এক ব্যক্তি সোহেলির হাতে থাকা ভ্যানিটি ব্যাগ টান দিতে শুরু করে। ব্যাগ রক্ষার চেষ্টা করতে গিয়ে ধস্তাধস্তির মধ্যে চলন্ত রিকশা থেকে সড়কে ছিটকে পড়ে যান তিনি। মাথায় গুরুতর আঘাত, শুরু হয় জীবন-মৃত্যুর লড়াই পড়ে গিয়ে সোহেলির ডান হাত ভেঙে যায়। একই সঙ্গে মাথার পেছনে গুরুতর আঘাত লাগে এবং কান দিয়ে রক্তক্ষরণ শুরু হয়। ঘটনাস্থলে থাকা কয়েকজনের সহায়তায় তার মেয়ে দ্রুত তাকে হাসপাতালে নিয়ে যান। প্রথমে তাকে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্সেস অ্যান্ড হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। শেষ পর্যন্ত উন্নত চিকিৎসার জন্য একটি বেসরকারি হাসপাতালে নেওয়া হলেও চিকিৎসকদের সব চেষ্টা ব্যর্থ করে বৃহস্পতিবার সকালে তার মৃত্যু হয়। কর্মজীবী এক মায়ের অসমাপ্ত জীবন নিহত সোহেলি ইসলামের বাড়ি দিনাজপুরের পার্বতীপুর উপজেলায়। তিনি একটি বেসরকারি ওষুধ কোম্পানিতে মেডিক্যাল সার্ভিস অফিসার হিসেবে কর্মরত ছিলেন। কর্মসূত্রে ঢাকার ধানমন্ডি এলাকায় বসবাস করতেন। স্বজনদের ভাষ্য অনুযায়ী, পরিবারের দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি মেয়ের উচ্চশিক্ষার জন্য নিরলস পরিশ্রম করতেন তিনি। তার একমাত্র মেয়ে বর্তমানে স্নাতক পর্যায়ের শিক্ষার্থী। মায়ের আকস্মিক মৃত্যুতে তিনি গভীর মানসিক আঘাতের মধ্যে রয়েছেন। ভোরের ঢাকায় নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন পরিবার জানায়, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠান শেষে শনিবার রাতে মেয়েকে নিয়ে ঢাকার উদ্দেশে রওনা দেন সোহেলি। ভোরে গাবতলীতে পৌঁছে কিছু সময় অপেক্ষা করার পর রিকশায় করে বাসার দিকে রওনা দেন। কিন্তু গন্তব্যে পৌঁছানোর আগেই ছিনতাইকারীদের হামলার শিকার হন। ঘটনাটি আবারও রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও হাসপাতালসংলগ্ন এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। বিশেষ করে ভোররাত ও সকালবেলার সময় মোটরসাইকেলভিত্তিক ছিনতাই চক্রের সক্রিয়তা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে উদ্বেগ রয়েছে। আহত অবস্থায় পড়ে থাকলেও দ্রুত সহায়তা মেলেনি স্বজনদের অভিযোগ, দুর্ঘটনার পর গুরুতর আহত অবস্থায় সড়কে পড়ে থাকলেও শুরুতে আশপাশের অনেক মানুষ এগিয়ে আসেননি। পরে রিকশাচালক ও কয়েকজন পথচারীর সহায়তায় তাকে হাসপাতালে নেওয়া সম্ভব হয়। মানবিক সহায়তার এই বিলম্ব আহত ব্যক্তির চিকিৎসা ও বেঁচে থাকার সম্ভাবনায় কতটা প্রভাব ফেলেছে, সেই প্রশ্নও উঠছে পরিবারের পক্ষ থেকে। মামলা হয়নি, আইনি পদক্ষেপের প্রস্তুতি পরিবার সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার পর থেকে চিকিৎসা ও দাফনসংক্রান্ত ব্যস্ততার কারণে এখনো কোনো মামলা করা হয়নি। তবে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে ছিনতাইকারীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের দাবিতে আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে। এদিকে সোহেলির মৃত্যুর ঘটনায় স্বজনরা দ্রুত তদন্ত, সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ এবং জড়িতদের গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন।

নিজস্ব প্রতিবেদক জুন ১৩, ২০২৬ 0
বিদ্যালয়ে না গিয়েও ২৩ বছর ধরে বেতন নিচ্ছেন বিএনপি নেতা
বিদ্যালয়ে না গিয়েও ২৩ বছর ধরে বেতন নিচ্ছেন টাঙ্গাইলে বিএনপি নেতা ও প্রধান শিক্ষক সেলু

ইত্তেহাদনিউজ,অনলাইন : টাঙ্গাইলের ভূঞাপুর উপজেলার তালুকদার সিরাজ আলী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এবং উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সেলিমুজ্জান সেলুর বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত থেকেও বেতন গ্রহণের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, তিনি প্রতিষ্ঠানে নিয়মিত উপস্থিত না থেকেও প্রায় ২৩ বছর ধরে সরকারি বেতন-ভাতা উত্তোলন করছেন। অভিযোগ রয়েছে, সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর তিনি দলীয় প্রভাব খাটিয়ে নিজ বাসা থেকেই বিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনা করছেন। বিষয়টি নিয়ে শিক্ষক, অভিভাবক ও স্থানীয়দের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। বিদ্যালয়ের ইতিহাস ও নিয়োগ স্থানীয় সূত্র জানায়, ১৯৯৫ সালের জানুয়ারিতে প্রতিষ্ঠিত হয় তালুকদার সিরাজ আলী উচ্চ বিদ্যালয়। প্রতিষ্ঠার সময় প্রধান শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ পান সেলিমুজ্জান সেলু। ২০০৩ সালের জানুয়ারিতে বিদ্যালয়টি এমপিওভুক্ত হয়। তবে প্রতিষ্ঠার পর থেকেই তিনি নিয়মিত বিদ্যালয়ে যান না বলে অভিযোগ রয়েছে। এলাকাবাসীর দাবি, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ও স্থানীয় রাজনৈতিক প্রভাব ব্যবহার করে তিনি নিয়মিত বেতন গ্রহণ করতেন। বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতির দায়িত্ব দীর্ঘদিন ধরে পালন করছেন তার বড় ভাই শাহ আলম তালুকদার। রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক ভূমিকা সংশ্লিষ্ট সূত্র অনুযায়ী, সেলিমুজ্জান সেলু ২০০৩ সালে উপজেলা বিএনপির যুববিষয়ক সম্পাদক ছিলেন। পরে ২০০৯ সালে যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এবং ২০১৪ সালের পর থেকে উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করে আসছেন। স্থানীয়দের ভাষ্য, ২০২৪ সালের ৭ সেপ্টেম্বর তিনি উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতির একটি অ্যাডহক কমিটি গঠন করেন এবং ছয় মাসের জন্য সভাপতি নির্বাচিত হন। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নির্বাচন আয়োজনের কথা থাকলেও তা হয়নি। পরে কমিটির মেয়াদ বাড়ানো হয় এবং নির্বাচন ছাড়াই তিনি দীর্ঘ সময় ধরে সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। বর্তমানে তিনি একসঙ্গে উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক, তালুকদার সিরাজ আলী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এবং উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতির সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন। আচরণবিধি নিয়ে প্রশ্ন শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রণীত খসড়া আচরণবিধিতে এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীদের প্রত্যক্ষ রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা, রাজনৈতিক পদ গ্রহণ কিংবা রাজনৈতিক আন্দোলনে অংশগ্রহণের বিষয়ে বিধিনিষেধের কথা উল্লেখ রয়েছে। সংশ্লিষ্ট নীতিমালা অনুযায়ী, কোনো প্রধান শিক্ষক সরাসরি রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত থাকলে বা নির্বাচনী কার্যক্রমে অংশ নিলে তা অসদাচরণ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে এবং শাস্তিমূলক ব্যবস্থার আওতায় পড়তে পারেন। এ অবস্থায় একজন সক্রিয় রাজনৈতিক নেতা হিসেবে সেলিমুজ্জান সেলুর দায়িত্ব পালন নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন স্থানীয়রা। শিক্ষকদের অভিযোগ নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক শিক্ষক বলেন, বিশেষ অনুষ্ঠান বা আনুষ্ঠানিক কর্মসূচি ছাড়া সেলিমুজ্জান সেলুকে বিদ্যালয়ে খুব কমই দেখা যায়। তাদের একজন বলেন, “বিশেষ প্রোগ্রাম ছাড়া তিনি বিদ্যালয়ে আসেন না। অধিকাংশ দাপ্তরিক কাজ বাসা থেকেই পরিচালনা করেন।” প্রশাসনের বক্তব্য ভূঞাপুর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) শহিদুল ইসলাম বলেন, “সেলিমুজ্জান সেলু বিগত সরকার এবং বর্তমান সরকার—উভয় সময়েই প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। ঈদের ছুটির পর শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো সম্প্রতি খুলেছে। বিষয়টি খতিয়ে দেখতে একাডেমিক সুপারভাইজারকে পরিদর্শনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তদন্তের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” বিএনপির অবস্থান ভূঞাপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি গোলাম মোস্তফা বলেন, “কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধান যদি রাজনৈতিক দলের নেতাও হন, তবু তাকে নিজের দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করতে হবে। দায়িত্বে অবহেলা করলে তার দায় দল নেবে না।” শিক্ষক সমিতির বক্তব্য মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতির জেলা শাখার একাংশের সভাপতি আব্দুল কাদের বলেন, “ভূঞাপুরের অ্যাডহক কমিটি গঠনের বিষয়ে আমাদের কাছ থেকে কোনো অনুমোদন নেওয়া হয়নি।” অন্যদিকে জেলা শাখার আরেক অংশের সভাপতি শামিম আল মামুন জুয়েল বলেন, “প্রথমে ছয় মাসের জন্য অ্যাডহক কমিটি করা হয়েছিল। পরে মেয়াদ বাড়ানো হয়। তবে নির্বাচন কেন অনুষ্ঠিত হয়নি, সেটি প্রশ্নসাপেক্ষ।” অভিযোগ অস্বীকার অভিযোগের বিষয়ে সেলিমুজ্জান সেলু বলেন, “আমার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন।” মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতির কমিটি সংক্রান্ত বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি সরাসরি সাক্ষাৎ করে কথা বলার অনুরোধ জানান।

নিজস্ব প্রতিবেদক জুন ১১, ২০২৬ 0
মোহাম্মদ আশরাফুল আলম
ইসলামী ব্যাংকে পর্যবেক্ষক নিয়োগ দিল বাংলাদেশ ব্যাংক, নজরদারি জোরদারের উদ্যোগ

ইত্তেহাদনিউজ,অনলাইন : বাংলাদেশের বৃহত্তম শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংকগুলোর অন্যতম ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসি-তে একজন পর্যবেক্ষক নিয়োগ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ আশরাফুল আলমকে এ দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। বুধবার (১০ জুন) বাংলাদেশ ব্যাংকের এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ব্যাংক কোম্পানি আইন, ১৯৯১-এর ধারা ৪৯(১)(ঘ)(আ) অনুযায়ী প্রদত্ত ক্ষমতাবলে এই নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের মতে, ইসলামী ব্যাংকের সার্বিক কার্যক্রম নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ, ব্যাংকের স্বার্থ সংরক্ষণ, আমানতকারীদের স্বার্থ রক্ষা এবং বৃহত্তর জনস্বার্থ নিশ্চিত করার লক্ষ্যেই এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। পর্যবেক্ষক হিসেবে মোহাম্মদ আশরাফুল আলম ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের সভাসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন কার্যক্রমে অংশ নেবেন। পাশাপাশি তিনি নিয়মিতভাবে ব্যাংকের কার্যক্রম সম্পর্কে বাংলাদেশ ব্যাংককে তথ্য ও পর্যবেক্ষণ প্রতিবেদন প্রদান করবেন। কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানিয়েছে, দেশের ব্যাংকিং খাতে স্থিতিশীলতা, সুশাসন, স্বচ্ছতা এবং জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংক আশা করছে, এই উদ্যোগ ইসলামী ব্যাংকের কার্যক্রমে আস্থা, শৃঙ্খলা ও কার্যকর তদারকি আরও সুদৃঢ় করতে সহায়তা করবে। সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, ইসলামী ব্যাংকে পর্যবেক্ষক নিয়োগের এই পদক্ষেপ দেশের ব্যাংকিং খাতে নিয়ন্ত্রণ ও নজরদারি ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

নিজস্ব প্রতিবেদক জুন ১১, ২০২৬ 0
বাংলাদেশ ব্যাংক
বাংলাদেশ ব্যাংকের বড় সিদ্ধান্ত: পাঁচ এনবিএফআইয়ে প্রশাসক, ২৭ হাজার আমানতকারীর টাকার কী হবে?

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : বাংলাদেশের ব্যাংকবহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠান (এনবিএফআই) খাতে দীর্ঘদিনের সংকটের পর এবার কঠোর অবস্থানে যাচ্ছে বাংলাদেশ ব্যাংক। বছরের পর বছর খেলাপি ঋণ, দুর্বল সুশাসন, অর্থ আত্মসাৎ এবং আমানত ফেরত দিতে ব্যর্থতার অভিযোগে জর্জরিত পাঁচটি আর্থিক প্রতিষ্ঠানে প্রশাসক বসিয়ে অবসায়ন বা বন্ধের প্রক্রিয়া শুরু করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার (৯ জুন) বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। গভর্নর মোস্তাকুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ওই বৈঠকে দীর্ঘদিন ধরে সংকটে থাকা নয়টি আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনা হয়। কোন পাঁচ প্রতিষ্ঠান অবসায়নের পথে? বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, প্রাথমিকভাবে যেসব প্রতিষ্ঠানের পরিচালনা পর্ষদ ভেঙে দিয়ে প্রশাসক নিয়োগের সিদ্ধান্ত হয়েছে, সেগুলো হলো— এফএএস ফাইন্যান্স ফারইস্ট ফাইন্যান্স আভিভা ফাইন্যান্স পিপলস লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস ইন্টারন্যাশনাল লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস অন্যদিকে— বাংলাদেশ ইন্ডাস্ট্রিয়াল ফাইন্যান্স কোম্পানি (বিআইএফসি) প্রিমিয়ার লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্স জিএসপি ফাইন্যান্স প্রাইম ফাইন্যান্স —এই চার প্রতিষ্ঠানকে পুনরুদ্ধারের শেষ সুযোগ হিসেবে আরও তিন মাস সময় দেওয়া হয়েছে। ২৭ হাজার আমানতকারী, ২,৭০০ কোটি টাকার অনিশ্চয়তা বাংলাদেশ ব্যাংকের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, অবসায়নের সিদ্ধান্ত হওয়া পাঁচটি প্রতিষ্ঠানে প্রায় ২৭ হাজার ব্যক্তি আমানতকারীর প্রায় ২ হাজার ৭০০ কোটি টাকা আটকে রয়েছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী প্রথম ধাপে এসব প্রতিষ্ঠানের পরিচালনা পর্ষদ বিলুপ্ত করা হবে। এরপর প্রশাসক নিয়োগ দিয়ে সম্পদ, দায় এবং আদায়যোগ্য অর্থের পূর্ণাঙ্গ হিসাব নেওয়া হবে। প্রশাসক নিয়োগের পর ব্যক্তি আমানতকারীদের অর্থ ফেরত দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হবে। প্রাথমিকভাবে প্রত্যেক ব্যক্তি আমানতকারী সর্বোচ্চ ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত ফেরত পাওয়ার সুযোগ পাবেন বলে কেন্দ্রীয় ব্যাংক সূত্র জানিয়েছে। খেলাপি ঋণের ভয়াবহ চিত্র বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট পাঁচ প্রতিষ্ঠানের ঋণ পোর্টফোলিও কার্যত ধসে পড়েছে। প্রতিষ্ঠান খেলাপি ঋণের হার এফএএস ফাইন্যান্স ৯৯.৯৯% ইন্টারন্যাশনাল লিজিং ৯৯.৪৪% ফারইস্ট ফাইন্যান্স ৯৮.৫০% পিপলস লিজিং প্রায় ৯৫% আভিভা ফাইন্যান্স ৯৩.৯৩% অর্থনীতিবিদদের মতে, কোনো আর্থিক প্রতিষ্ঠানের খেলাপি ঋণের হার ২০-৩০ শতাংশ অতিক্রম করলেই তা টিকে থাকার সক্ষমতা হারাতে শুরু করে। সেখানে এসব প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে প্রায় পুরো ঋণপোর্টফোলিওই অকার্যকর হয়ে গেছে। কীভাবে এ অবস্থায় পৌঁছালো প্রতিষ্ঠানগুলো? বাংলাদেশের আর্থিক খাতে গত এক দশকে সংঘটিত কয়েকটি বড় কেলেঙ্কারির কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল কিছু এনবিএফআই। খাতসংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের সময় রাজনৈতিক প্রভাব, দুর্বল নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা এবং পরিচালনা পর্ষদের অনিয়মের সুযোগে বিপুল অঙ্কের ঋণ বিতরণ করা হয়, যার বড় অংশই পরে খেলাপিতে পরিণত হয়। সবচেয়ে আলোচিত ঘটনা হলো পিকে হালদার কেলেঙ্কারি। অভিযোগ রয়েছে, এনআরবি গ্লোবাল ব্যাংকের (বর্তমানে গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক) সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক পিকে হালদার বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের নামে জালিয়াতির মাধ্যমে অন্তত সাড়ে তিন হাজার কোটি টাকা আত্মসাৎ করেন। তদন্তে পিপলস লিজিং, ইন্টারন্যাশনাল লিজিং, এফএএস ফাইন্যান্স এবং বিআইএফসির মতো প্রতিষ্ঠানের নাম উঠে আসে। বিশ্লেষকদের মতে, এসব প্রতিষ্ঠানের বর্তমান সংকট কোনো আকস্মিক ঘটনা নয়; বরং দীর্ঘদিনের দুর্বল তদারকি, রাজনৈতিক প্রভাব এবং জবাবদিহিতার অভাবের ফল। কেন এখন কঠোর হচ্ছে বাংলাদেশ ব্যাংক? ২০২৫ সালের মে মাসে উচ্চ খেলাপি ঋণ এবং আমানত ফেরত দিতে ব্যর্থ হওয়ায় ২০টি আর্থিক প্রতিষ্ঠানকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেয় বাংলাদেশ ব্যাংক। পরে বিভিন্ন পর্যায়ের মূল্যায়নে দেখা যায়, বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠান পুনরুদ্ধারের বাস্তবসম্মত পরিকল্পনা দেখাতে ব্যর্থ হয়েছে। এর ভিত্তিতে ধাপে ধাপে প্রতিষ্ঠানগুলোর সংখ্যা কমিয়ে অবশেষে পাঁচটিকে অবসায়ন প্রক্রিয়ার জন্য চূড়ান্তভাবে বেছে নেওয়া হয়েছে। এটি বাংলাদেশের আর্থিক খাতে নতুন "রেজল্যুশন ফ্রেমওয়ার্ক" বা সংকটাপন্ন আর্থিক প্রতিষ্ঠান পুনর্গঠন ও বন্ধের কাঠামোর প্রথম বড় পরীক্ষা হিসেবে দেখা হচ্ছে। সামনে কী হতে পারে? বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রশাসক নিয়োগের মাধ্যমে কেন্দ্রীয় ব্যাংক একদিকে আমানতকারীদের আস্থা ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করছে, অন্যদিকে দীর্ঘদিনের অকার্যকর প্রতিষ্ঠানগুলোকে বাজার থেকে সরিয়ে খাতকে পুনর্গঠনের উদ্যোগ নিচ্ছে। তবে বড় প্রশ্ন রয়ে গেছে—যেসব প্রতিষ্ঠানের সম্পদের বড় অংশই খেলাপি ঋণে আটকে আছে, সেখানে আমানতকারীদের অর্থ কত দ্রুত এবং কতটুকু উদ্ধার করা সম্ভব হবে? বাংলাদেশ ব্যাংকের সামনে এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো, বছরের পর বছর ধরে অনিশ্চয়তায় থাকা হাজার হাজার আমানতকারীর আস্থা পুনরুদ্ধার করা এবং প্রমাণ করা যে আর্থিক খাতে অনিয়মের পরিণতি শেষ পর্যন্ত জবাবদিহিতার মধ্য দিয়েই নির্ধারিত হবে।

নিজস্ব প্রতিবেদক জুন ৯, ২০২৬ 0
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ
ইসলামী ব্যাংকে চাকরিচ্যুতি, নিয়োগ বিতর্ক ও শেয়ার মালিকানা: পূর্ণাঙ্গ তদন্তের দাবি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : বাংলাদেশের অন্যতম বৃহৎ বেসরকারি ব্যাংক ইসলামী ব্যাংককে ঘিরে দীর্ঘদিনের বিতর্ক নতুন করে জাতীয় সংসদে আলোচনায় এসেছে। চাকরিচ্যুতি, রাজনৈতিক বিবেচনায় নিয়োগ, শেয়ার মালিকানা পরিবর্তন এবং বিতর্কিত ঋণ বিতরণের অভিযোগের মধ্যে এবার পূর্ণাঙ্গ তদন্তের দাবি তুলেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। মঙ্গলবার (৯ জুন) জাতীয় সংসদে দেওয়া বক্তব্যে তিনি বলেন, ব্যাংকটিতে যেসব কর্মকর্তা-কর্মচারীকে অন্যায়ভাবে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে, তাদের চাকরি পুনর্বহালের বিষয়টি তদন্তের মাধ্যমে পর্যালোচনা করা উচিত। একই সঙ্গে রাজনৈতিক বিবেচনায় দেওয়া নিয়োগগুলো কতটা নিয়মসঙ্গত ছিল, সেটিও খতিয়ে দেখার দাবি জানান তিনি। ইসলামী ব্যাংককে ঘিরে কী প্রশ্ন উঠছে? সাম্প্রতিক মাসগুলোতে ইসলামী ব্যাংকের মালিকানা, পরিচালনা পর্ষদ ও ব্যবস্থাপনা কাঠামো নিয়ে ব্যাপক আলোচনা চলছে। ব্যাংকটির নিয়ন্ত্রণ পরিবর্তন, ঋণ বিতরণে অনিয়ম এবং আমানতকারীদের উদ্বেগ দেশের ব্যাংকিং খাতে আস্থার সংকট নিয়ে নতুন বিতর্ক সৃষ্টি করেছে। সংসদে বক্তব্য দিতে গিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ইসলামী ব্যাংকের সঙ্গে ধর্মীয় পরিচয়কে একীভূত করে দেখার প্রবণতা বাস্তব পরিস্থিতি বিশ্লেষণে বাধা সৃষ্টি করছে। তার ভাষায়, “ইসলামী ব্যাংক ইসলাম নয়, মির্জা ফখরুল ইসলামও ইসলাম নয়, জামায়াতে ইসলামও ইসলাম নয়। সবকিছুতে ইসলামের দোহাই দেওয়া ঠিক নয়।” বিশ্লেষকদের মতে, এই বক্তব্যের মাধ্যমে তিনি ব্যাংকটির কার্যক্রমকে ধর্মীয় আবেগের বাইরে এনে আর্থিক ও প্রশাসনিক কাঠামোর আলোকে মূল্যায়নের আহ্বান জানিয়েছেন। পরিচালনা পর্ষদ পরিবর্তনে বাংলাদেশ ব্যাংকের ক্ষমতা ব্যাংকটির পরিচালনা পর্ষদ পরিবর্তন নিয়ে সমালোচনার জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ব্যাংক কোম্পানি আইন অনুযায়ী চেয়ারম্যান থেকে শুরু করে পরিচালনা পর্ষদের সদস্যদের অব্যাহতি দেওয়ার ক্ষমতা বাংলাদেশ ব্যাংকের রয়েছে। তিনি বলেন, এ নিয়ে আপত্তি থাকলে আইন পরিবর্তনের উদ্যোগ নিতে হবে। বিদ্যমান আইনের আওতায় কেন্দ্রীয় ব্যাংক তার ক্ষমতা প্রয়োগ করেছে। এ বক্তব্য ব্যাংক খাতে নিয়ন্ত্রক সংস্থার ক্ষমতা ও স্বাধীনতা নিয়ে চলমান বিতর্ককে আবারও সামনে নিয়ে এসেছে। ‘গ্রাহক’ সেজে আন্দোলনের অভিযোগ সংসদে দেওয়া বক্তব্যে সালাহউদ্দিন আহমদ অভিযোগ করেন, ইসলামী ব্যাংকে অস্থিরতা সৃষ্টির উদ্দেশ্যে একটি মহল পর্দার আড়াল থেকে ‘গ্রাহক’ পরিচয়ে আন্দোলন পরিচালনা করছে। তার দাবি, বিরোধী রাজনৈতিক শক্তি গণতান্ত্রিকভাবে তাদের ভূমিকা পালন করতে পারে, তবে বিভ্রান্তিকর প্রচারণার মাধ্যমে আমানতকারীদের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করা উচিত নয়। যদিও এ অভিযোগের পক্ষে তিনি সংসদে কোনো নির্দিষ্ট তথ্য বা প্রমাণ উপস্থাপন করেননি। শেয়ার মালিকানা ও ঋণ বিতরণ নিয়ে তদন্ত স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সংসদকে আশ্বস্ত করে বলেন, ইসলামী ব্যাংকের বৈধ শেয়ারহোল্ডারদের শেয়ার যথাযথ প্রক্রিয়ায় হস্তান্তর করা হবে। পাশাপাশি নাবিল গ্রুপসহ যেসব ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান ব্যাংক থেকে বড় অঙ্কের অর্থ নিয়ে তা ফেরত দেয়নি, তাদের বিরুদ্ধে তদন্তের ঘোষণা দেন তিনি। ব্যাংক খাতের বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বড় ঋণখেলাপিদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা গেলে সেটি শুধু ইসলামী ব্যাংক নয়, পুরো আর্থিক খাতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বার্তা হতে পারে। ৯ হাজার কর্মী ছাঁটাইয়ের অভিযোগ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিল ইসলামী ব্যাংকে অতীতে প্রায় ৯ হাজার কর্মীকে চাকরিচ্যুত করার অভিযোগ নিয়ে। তিনি জানান, এসব চাকরিচ্যুতি নিয়ম মেনে হয়েছিল কি না, তা তদন্ত করা হবে। যদি অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া যায়, তাহলে ক্ষতিগ্রস্তদের বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে। এ ঘোষণা বাস্তবায়িত হলে ইসলামী ব্যাংকের মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনা এবং অতীত প্রশাসনিক সিদ্ধান্তগুলো নতুন করে পর্যালোচনার মুখে পড়তে পারে। কেন গুরুত্বপূর্ণ? ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাতের সবচেয়ে বড় আমানতভিত্তিক প্রতিষ্ঠানগুলোর একটি। ফলে প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা, মালিকানা বা আর্থিক স্থিতিশীলতা নিয়ে যেকোনো প্রশ্ন সরাসরি লাখো গ্রাহক ও দেশের আর্থিক ব্যবস্থার ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যে চাকরিচ্যুতি, নিয়োগ, শেয়ার মালিকানা এবং ঋণ বিতরণের মতো চারটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়কে তদন্তের আওতায় আনার ইঙ্গিত মিলেছে। এখন নজর থাকবে সংশ্লিষ্ট তদন্ত কত দ্রুত শুরু হয় এবং তার ফলাফল কতটা স্বচ্ছভাবে জনসম্মুখে প্রকাশ করা হয়।

নিজস্ব প্রতিবেদক জুন ৯, ২০২৬ 0
ইসলামী ব্যাংক
ইসলামী ব্যাংকে সিআরআর ঘাটতি, গ্রাহকদের উত্তোলনে কমেছে আমানত: কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাছে ১০ হাজার কোটি টাকার সহায়তা আবেদন

  ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : দেশের বৃহত্তম শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংকগুলোর অন্যতম ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসি আবারও তারল্য সংকটের মুখে পড়েছে। ব্যাংকটির চেয়ারম্যান পরিবর্তনকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া অস্থিরতার মধ্যে কয়েক হাজার কোটি টাকার আমানত উত্তোলন হয়েছে বলে ব্যাংক সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। এর প্রভাবে বাধ্যতামূলক নগদ জমা সংরক্ষণ (সিআরআর) রক্ষণাবেক্ষণে ব্যর্থ হয়েছে ব্যাংকটি এবং পরিস্থিতি সামাল দিতে বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে ১০ হাজার কোটি টাকার তারল্য সহায়তা চেয়েছে। ব্যাংকের শীর্ষ পর্যায়ের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। আমানত উত্তোলনের প্রভাব কতটা? সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সাবেক ডেপুটি গভর্নর খুরশীদ আলমকে ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার পর ব্যাংকটিকে ঘিরে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়। এর জেরে উদ্বিগ্ন গ্রাহকদের একটি অংশ গত কয়েক দিনে প্রায় ৪ হাজার কোটি টাকার আমানত তুলে নিয়েছেন বলে দাবি করা হয়েছে। ব্যাংকটির অভ্যন্তরীণ হিসাব বলছে, বাংলাদেশ ব্যাংকে রক্ষিত প্রধান বা ‘প্রিন্সিপাল’ অ্যাকাউন্টে জমাকৃত অর্থ দ্রুত কমে এসেছে। আগে সেখানে প্রায় ৭ হাজার ১৫ কোটি টাকা থাকলেও বর্তমানে তা নেমে এসেছে প্রায় ২ হাজার ৬০০ কোটি টাকায়। ওই কর্মকর্তা বলেন, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্ধারিত সীমার মধ্যে সিআরআর সংরক্ষণ করতে না পারায় ব্যাংকটি এখন ঘাটতির মুখে পড়েছে। কী এই সিআরআর, কেন গুরুত্বপূর্ণ? সিআরআর বা Cash Reserve Ratio হলো গ্রাহকদের আমানতের একটি নির্দিষ্ট অংশ, যা বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোকে বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে নগদ হিসেবে সংরক্ষণ করতে হয়। এটি ব্যাংকের তারল্য সক্ষমতা ও আর্থিক স্থিতিশীলতার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সূচক। কোনো ব্যাংক সিআরআর বজায় রাখতে ব্যর্থ হলে তা সাধারণত তারল্য সংকটের একটি সতর্ক সংকেত হিসেবে বিবেচিত হয়। যদিও ব্যাংকটির কর্মকর্তারা দাবি করছেন, তাদের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের চলতি হিসাব এখনো ইতিবাচক অবস্থায় রয়েছে। ১০ হাজার কোটি টাকার সহায়তা চাওয়া হয়েছে ব্যাংক সূত্র জানায়, বর্তমান পরিস্থিতি মোকাবিলায় ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে ১০ হাজার কোটি টাকার তারল্য সহায়তা চেয়ে আবেদন করেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের একজন কর্মকর্তা বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ইসলামী ব্যাংক সিআরআর ঘাটতির কারণে তারল্য সহায়তার আবেদন করেছে। তবে এ বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। পটভূমিতে এস আলম ইস্যু বিশ্লেষকদের মতে, ইসলামী ব্যাংকের বর্তমান আর্থিক চাপের পেছনে দীর্ঘদিনের কাঠামোগত দুর্বলতাও রয়েছে। ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের সময় এস আলম গ্রুপের নামে-বেনামে বিপুল অঙ্কের ঋণ বিতরণের অভিযোগে ব্যাংকটি ব্যাপক আলোচনায় আসে। সেই সময় ব্যাংকটির সিআরআর ঘাটতি তৈরি হয় এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংকের চলতি হিসাবে প্রয়োজনীয় অর্থ সংরক্ষণেও ব্যর্থতার ঘটনা ঘটে। তবে অন্তর্বর্তী সরকারের সময় ব্যাংকটির আর্থিক অবস্থার কিছুটা উন্নতি হয়। কয়েক মাসের ব্যবধানে সিআরআর ঘাটতি কাটিয়ে ওঠার পাশাপাশি কেন্দ্রীয় ব্যাংকের হিসাবে পুনরায় অর্থ জমা রাখতে সক্ষম হয়েছিল ব্যাংকটি। চেয়ারম্যান পরিবর্তনের পর নতুন অস্থিরতা গত ২৪ মে বাংলাদেশ ব্যাংকের পরামর্শে ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান অধ্যাপক এম জুবায়দুর রহমান পদত্যাগ করেন। একই দিন রাতে সাবেক ডেপুটি গভর্নর খুরশীদ আলমকে নতুন চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। এরপর থেকেই তার নিয়োগের বৈধতা ও গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে একদল গ্রাহক ও শেয়ারহোল্ডার ধারাবাহিক কর্মসূচি পালন করে আসছেন। রাজধানীর ইসলামী ব্যাংক টাওয়ারের সামনে টানা নবম দিনের মতো বিক্ষোভ ও অবস্থান কর্মসূচি চলমান রয়েছে বলে জানা গেছে। সামনে কী ঝুঁকি? ব্যাংকিং খাতসংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গ্রাহকদের আস্থা ব্যাংকের সবচেয়ে বড় সম্পদ। কোনো ব্যাংককে ঘিরে দীর্ঘস্থায়ী অনিশ্চয়তা তৈরি হলে আমানতকারীদের আচরণ দ্রুত পরিবর্তিত হয়, যার সরাসরি প্রভাব পড়ে তারল্য ব্যবস্থাপনায়। বর্তমান পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ ব্যাংক কী ধরনের সহায়তা দেয় এবং ইসলামী ব্যাংক কীভাবে গ্রাহকদের আস্থা পুনরুদ্ধার করে—সেটিই এখন ব্যাংকটির ভবিষ্যৎ স্থিতিশীলতার প্রধান নির্ধারক হয়ে উঠেছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক জুন ৯, ২০২৬ 0
শিমুল জামিন পেলেন হাইকোর্টে
আনার হত্যা মামলা: স্বীকারোক্তি দেওয়া আসামি শিমুল ভূঁইয়ার অন্তর্বর্তীকালীন জামিন, রুল জারি

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : ঢাকায় দায়ের হওয়া বহুল আলোচিত সংসদ সদস্য আনোয়ারুল আজীম আনার হত্যা মামলার অন্যতম আসামি আমানুল্লা সাঈদ ওরফে শিমুল ভূঁইয়াকে অন্তর্বর্তীকালীন জামিন দিয়েছেন হাইকোর্ট। সোমবার (৮ জুন) হাইকোর্টের একটি বেঞ্চ এ আদেশ দেন। একই সঙ্গে তার জামিনসংক্রান্ত বিষয়ে একটি রুলও জারি করা হয়েছে বলে আদালত সূত্রে জানা গেছে। আদালত-সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে থাকা শিমুল ভূঁইয়ার করা জামিন আবেদনের ওপর শুনানি শেষে আদালত তাকে সাময়িক জামিন মঞ্জুর করেন। তবে রুলের চূড়ান্ত নিষ্পত্তির আগ পর্যন্ত মামলার বিচারিক প্রক্রিয়া নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। বাংলাদেশ ও ভারতের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বিত তদন্তে উঠে আসা তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ১৩ মে ভারতের কলকাতার নিউ টাউন এলাকার একটি ফ্ল্যাটে তৎকালীন সংসদ সদস্য আনোয়ারুল আজীম আনারকে হত্যা করা হয়। পরে তার মরদেহ খণ্ড-বিখণ্ড করার অভিযোগ উঠে, যা দুই দেশের গণমাধ্যম ও জনমনে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করে। ঘটনার নয় দিন পর, ২২ মে ঢাকার শেরেবাংলা নগর থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন আনারের মেয়ে মুমতারিন ফেরদৌস ডরিন। মামলার তদন্তের অংশ হিসেবে একই বছরের ৫ জুন আদালতে দণ্ডবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন আমানুল্লা সাঈদ, যিনি শিমুল ভূঁইয়া, শিহাব ও ফজল মোহাম্মদ ভূঁইয়া নামেও পরিচিত। জবানবন্দি গ্রহণের পর তাকে কারাগারে পাঠানো হয়। হত্যাকাণ্ডের পর ঢাকায় আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল জানান, ভারতীয় পুলিশের সরবরাহ করা তথ্যের ভিত্তিতে বাংলাদেশে তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে ছিলেন আমানুল্লা সাঈদ ওরফে শিমুল ভূঁইয়া, তানভীর ভূঁইয়া এবং সেলেস্টি রহমান। তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর ভাষ্য অনুযায়ী, এ হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনা, বাস্তবায়ন এবং পরবর্তী আলামত গোপনের অভিযোগ ঘিরে বাংলাদেশ ও ভারতের তদন্তকারী সংস্থাগুলোর মধ্যে তথ্য বিনিময় অব্যাহত রয়েছে। ঘটনার আন্তর্জাতিক মাত্রা এবং সীমান্ত অতিক্রমকারী অপরাধের উপাদান থাকায় মামলাটি শুরু থেকেই বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। সাম্প্রতিক জামিন আদেশের ফলে মামলার বিচারিক প্রক্রিয়া নতুন করে আলোচনায় এলেও, হত্যা মামলার মূল বিচার কার্যক্রম এখনো চলমান রয়েছে। আদালতের পরবর্তী নির্দেশনা এবং রুলের নিষ্পত্তি মামলার ভবিষ্যৎ গতিপথ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে আইন বিশ্লেষকরা মনে করছেন। কলকাতায় সংঘটিত এই হত্যাকাণ্ড গত কয়েক বছরের মধ্যে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে সবচেয়ে আলোচিত আন্তঃসীমান্ত অপরাধ তদন্তগুলোর একটি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। মামলাটি বর্তমানে বিচারাধীন রয়েছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক জুন ৯, ২০২৬ 0
শিক্ষা মন্ত্রণালয়
এনসিটিবি ও পাঁচ শিক্ষাবোর্ডে নতুন চেয়ারম্যান নিয়োগ, শিক্ষা প্রশাসনে বড় রদবদল

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : বাংলাদেশের শিক্ষা প্রশাসনে গুরুত্বপূর্ণ রদবদল এনে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি) এবং দেশের পাঁচটি শিক্ষা বোর্ডে নতুন চেয়ারম্যান নিয়োগ দিয়েছে সরকার। সোমবার (৮ জুন) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ থেকে জারি করা পৃথক প্রজ্ঞাপনে এসব নিয়োগের তথ্য জানানো হয়। মন্ত্রণালয় বলছে, জনস্বার্থে জারি করা এ আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে। নতুন নিয়োগ অনুযায়ী, জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি)-এর চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন চট্টগ্রাম কমার্স কলেজের উপাধ্যক্ষ অধ্যাপক মোহাম্মদ ফখরুল মাওলা। দেশের পাঠ্যক্রম উন্নয়ন, পাঠ্যপুস্তক প্রণয়ন ও শিক্ষা নীতির বাস্তবায়নের সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত এই প্রতিষ্ঠানের নেতৃত্বে পরিবর্তনকে শিক্ষা খাতের একটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখা হচ্ছে। অন্যদিকে, ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষাবোর্ডের চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন ময়মনসিংহ শিক্ষাবোর্ডের বর্তমান পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক সৈয়দ আক্তারুজ্জামান। দেশের সবচেয়ে বড় শিক্ষা বোর্ড হিসেবে পরিচিত ঢাকা বোর্ডের প্রশাসনিক ও পরীক্ষাসংক্রান্ত কার্যক্রমে তার নেতৃত্ব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন। রাজশাহী মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান করা হয়েছে বোর্ডটির বর্তমান সচিব শামীম আরা চৌধুরীকে। দীর্ঘদিন প্রশাসনিক দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতাকে বিবেচনায় নিয়েই তাকে এই পদে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বলে শিক্ষা প্রশাসনের সূত্রগুলো জানিয়েছে। কুমিল্লা মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষাবোর্ডের চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন দাউদকান্দি-দেবিদ্বার সরকারি এসএস কলেজের অধ্যক্ষ মো. আহসান পারভেজ। একই সঙ্গে যশোর মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষাবোর্ডের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে খুলনার হাজী মুহাম্মদ মহসিন কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ফারুখে আযম মু. আব্দুস ছালামকে। এছাড়া বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষাবোর্ডের চেয়ারম্যান পদে নিয়োগ পেয়েছেন কুমিল্লা শিক্ষাবোর্ডের বর্তমান সচিব অধ্যাপক খোন্দকার মোহাম্মদ সাদেকুর রহমান। শিক্ষা খাতসংশ্লিষ্ট বিশ্লেষকদের মতে, একযোগে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে নেতৃত্ব পরিবর্তন সরকারের শিক্ষা ব্যবস্থাপনা ও প্রশাসনিক কার্যক্রমে নতুন গতি আনার প্রচেষ্টার অংশ হতে পারে। বিশেষ করে পাঠ্যক্রম বাস্তবায়ন, পরীক্ষা ব্যবস্থাপনা, সনদ প্রদান এবং শিক্ষা প্রশাসনের বিভিন্ন চলমান চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় নতুন নেতৃত্বের কার্যকারিতা পর্যবেক্ষণে থাকবে সংশ্লিষ্ট মহল। তবে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপনে এসব পরিবর্তনের পেছনে নির্দিষ্ট কোনো কারণ উল্লেখ করা হয়নি। মন্ত্রণালয় শুধু জানিয়েছে, জনস্বার্থ বিবেচনায় এ নিয়োগাদেশ জারি করা হয়েছে এবং তা তাৎক্ষণিকভাবে কার্যকর হবে।

নিজস্ব প্রতিবেদক জুন ৯, ২০২৬ 0
টিআইবির ১০০ দিনের অপরাধ পরিসংখ্যান নিয়ে বিতর্ক: ৬০৫ হত্যাকাণ্ডের তথ্য কি ভিন্ন বাস্তবতা তুলে ধরছে?

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : বাংলাদেশে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে এসেছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) প্রকাশিত ১০০ দিনের অপরাধ পরিসংখ্যান। প্রতিবেদনে মাত্র দুই মাসে ৬০৫টি হত্যাকাণ্ড, ১৯৬টি অপহরণ, ২৯৪টি ছিনতাই এবং ৩ হাজার ৪৯৬টি নারী ও শিশু নির্যাতনের ঘটনার তথ্য তুলে ধরা হয়। তথ্যগুলো প্রকাশের পর রাজনৈতিক অঙ্গন, সংসদ এবং প্রশাসনের ভেতরে শুরু হয়েছে ব্যাপক আলোচনা। প্রতিবেদনটি প্রকাশের পর জাতীয় সংসদে স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। অন্যদিকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ দাবি করেন, দেশের নিরাপত্তা পরিস্থিতি আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় উন্নত এবং টিআইবির উপস্থাপিত চিত্র বাস্তবতার পূর্ণ প্রতিফলন নয়। তবে বিতর্কের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশটি এসেছে পুলিশ সদর দপ্তরের প্রতিক্রিয়া থেকে। এক বিজ্ঞপ্তিতে পুলিশ বলেছে, টিআইবির প্রতিবেদনে যে সংখ্যাগুলো উপস্থাপন করা হয়েছে, সেগুলোর সঙ্গে পূর্ববর্তী সময়ের তুলনামূলক বিশ্লেষণ নেই। ফলে পরিসংখ্যানগুলো পাঠকের কাছে একটি অসম্পূর্ণ ও বিভ্রান্তিকর ধারণা তৈরি করতে পারে। পুলিশ সদর দপ্তর অবশ্য দুই মাসে ৬০৫টি হত্যা মামলা নথিভুক্ত হওয়ার তথ্য অস্বীকার করেনি। বরং তারা বলছে, এই সংখ্যাকে প্রেক্ষাপট ছাড়া উপস্থাপন করায় বিতর্ক তৈরি হয়েছে। পুলিশের দীর্ঘমেয়াদি তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশে প্রতি বছর সাধারণত ৩ হাজার থেকে সাড়ে ৪ হাজার হত্যা মামলা রেকর্ড হয়। সে হিসাবে দুই মাসে ৬০৫টি হত্যাকাণ্ডের প্রবণতা বার্ষিক হিসাবে প্রায় ৩ হাজার ৬৩০ মামলার সমতুল্য, যা গত এক দশকের গড় পরিসংখ্যানের মধ্যেই পড়ে। প্রশ্ন হচ্ছে, তাহলে টিআইবির তথ্য কি অতিরঞ্জিত? বিশ্লেষকরা বলছেন, এখানে মূল বিতর্ক সংখ্যার সত্যতা নিয়ে নয়, বরং তথ্য উপস্থাপনার পদ্ধতি নিয়ে। কারণ একটি নির্দিষ্ট সময়ের অপরাধ পরিসংখ্যান যখন তুলনামূলক প্রেক্ষাপট ছাড়া প্রকাশ করা হয়, তখন তা জনমনে ভিন্ন ধরনের উদ্বেগ সৃষ্টি করতে পারে। আবার একইসঙ্গে এসব সংখ্যা বাস্তব পরিস্থিতি সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ সতর্কবার্তাও বহন করে। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, আলোচ্য সময়ে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের ৫৫.৫ শতাংশ ঘটেছে পূর্বশত্রুতার জেরে। পারিবারিক কলহ থেকে ঘটেছে ২৪.১ শতাংশ, সম্পত্তি ও অর্থনৈতিক বিরোধে ১১.৪ শতাংশ এবং বাকি ঘটনাগুলো বিভিন্ন সামাজিক ও বিচ্ছিন্ন কারণে সংঘটিত হয়েছে। রাজনৈতিক কারণে সংঘটিত হত্যার হার মাত্র ০.৫ শতাংশ বলে দাবি করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় সামনে এনেছে পুলিশ। তাদের দাবি, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর মামলা নথিভুক্তকরণ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা বৃদ্ধি পেয়েছে। আগে যেসব অভিযোগ বা অপরাধ মামলা আকারে নথিভুক্ত হতো না, বর্তমানে সেগুলোর অনেকগুলোই রেকর্ড করা হচ্ছে। ফলে মামলা বৃদ্ধির অর্থ সবসময় অপরাধ বৃদ্ধি নয়; কখনও কখনও এটি জবাবদিহিতা ও রিপোর্টিং ব্যবস্থার উন্নতিরও প্রতিফলন হতে পারে। তবে মানবাধিকার কর্মী ও সুশাসন বিশ্লেষকদের একটি অংশ মনে করেন, সংখ্যাগুলোকে শুধুমাত্র গড়ের সঙ্গে তুলনা করলেই বাস্তব পরিস্থিতি বোঝা যায় না। অপরাধের ধরন, ভুক্তভোগীর প্রোফাইল, অপরাধ সংঘটনের স্থান, বিচারপ্রক্রিয়ার অগ্রগতি এবং নাগরিক নিরাপত্তার অনুভূতি—এসব বিষয়ও সমান গুরুত্বপূর্ণ। ফলে টিআইবির ১০০ দিনের অপরাধ পরিসংখ্যানকে ঘিরে যে বিতর্ক তৈরি হয়েছে, তা মূলত দুই ধরনের ব্যাখ্যার সংঘর্ষ। একদিকে রয়েছে অপরাধের সংখ্যাগত চিত্র, অন্যদিকে রয়েছে সেই সংখ্যার প্রেক্ষাপট ও ব্যাখ্যা। বাস্তবতা বুঝতে হলে শুধু কতগুলো হত্যা হয়েছে তা নয়, কেন হয়েছে, কোথায় হয়েছে এবং দীর্ঘমেয়াদি প্রবণতার সঙ্গে তার সম্পর্ক কী—সেই প্রশ্নগুলোর উত্তরও খুঁজতে হবে। বর্তমান বিতর্কে একটি বিষয় স্পষ্ট—বাংলাদেশে অপরাধ পরিসংখ্যানের স্বচ্ছতা, ব্যাখ্যা এবং তথ্য উপস্থাপনার মান নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। আর সেই আলোচনাই হয়তো ভবিষ্যতে আরও তথ্যনির্ভর জননীতি ও জবাবদিহিমূলক প্রশাসনের পথ তৈরি করতে পারে।

নিজস্ব প্রতিবেদক জুন ৯, ২০২৬ 0
Popular post
ফারুকীর সম্পদ কমেছে, তিশার বেড়েছে দ্বিগুণেরও বেশি: সম্পদ বিবরণী ঘিরে আলোচনা

অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের সম্পদ বিবরণী প্রকাশের পর সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী ও তার স্ত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদের হিসাব নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। এক বছরের ব্যবধানে স্বামী ফারুকীর সম্পদ কমলেও স্ত্রী তিশার সম্পদ বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে প্রকাশিত তথ্যে উঠে এসেছে এই চিত্র। প্রকাশিত খতিয়ান অনুযায়ী, জনপ্রিয় অভিনেত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদ এক বছরে অভাবনীয় হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তিশার মোট সম্পদের পরিমাণ ছিল ১ কোটি ৪০ লাখ ৮১ হাজার ৮৬০ টাকা। ঠিক এক বছর পর, ২০২৫ সালের ৩০ জুন সেই সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ৯৯ লাখ ৮৯ হাজার ৫০১ টাকায়। অর্থাৎ মাত্র এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ বেড়েছে ১ কোটি ৫৯ লাখ ৭ হাজার ৬৪১ টাকা, যা আগের বছরের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি। অন্যদিকে সংস্কৃতি উপদেষ্টা ও নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর ক্ষেত্রে দেখা গেছে উল্টো চিত্র। এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ কমেছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তার মোট সম্পদ ছিল ২ কোটি ২৬ লাখ ৯২ হাজার ২৬ টাকা। ২০২৫ সালের ৩০ জুন তা কমে দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ১৫ লাখ ১৮ হাজার ২৬ টাকায়। হিসাব অনুযায়ী, এক বছরে তার সম্পদ কমেছে ১১ লাখ ৭৪ হাজার টাকা। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে গত মঙ্গলবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ প্রধান উপদেষ্টা, উপদেষ্টা ও সমমর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের পাশাপাশি তাদের স্ত্রী বা স্বামীর সম্পদ বিবরণী প্রকাশ করে। একই সময়ে স্বামী-স্ত্রীর সম্পদে এমন ভিন্নমুখী পরিবর্তন স্বাভাবিকভাবেই সাধারণ মানুষের কৌতূহলের জন্ম দিয়েছে। শোবিজ অঙ্গনের জনপ্রিয় দম্পতি হওয়ায় তাদের এই আয়-ব্যয়ের হিসাব এখন টক অব দ্য কান্ট্রি।

সংসার সামলাতে অটোরিকশা নিয়ে রাস্তায় নেমেছেন রোজিনা

বাসস : বাবা একজন তাঁত শ্রমিক। তিন বোন দুই ভাইয়ের মধ্যে সবার বড় রোজিনা। অভাব সংসার, তাই এক এতিম যুবকের সাথে বাবা-মা বিয়ে দেন তাকে। বিয়ের পর জন্ম হয় দুই কন্যা সন্তানের। অটোরিকশা চালিয়ে কোন রকম সংসার চালাচ্ছিলেন স্বামী রফিকুল ইসলাম। কিন্তু সড়ক দুর্ঘটনায় রফিকুলের এক চোখ সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যায়। আরেকটি চোখ আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ধীরে ধীরে ওই চোখের দৃষ্টি শক্তিও কমতে থাকে। ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে অটোরিকশা চালানো। সংসারের উপার্জনক্ষম মানুষটি অচল হয়ে পড়ায় চিকিৎসার খরচ, ঘর ভাড়া ও খাবারের পাশাপাশি মেয়েদের লেখাপড়ার খরচ চালানোই কঠিন হয়ে যায়। দিশেহারা হয়ে পরেন রোজিনা। এক পর্যায়ে মানুষের বাড়ি বাড়ি কাজ করে সংসার চালানোর চেস্টা করেন। কিন্তু সুবিধা করতে পারেন না। এমন পরিস্থিতিতে অটোরিকশা চালানোর সিদ্ধান্ত নেন তিনি। স্বামী রফিকুলের কাছেই হাতেখড়ি। গ্রামের স্কুলের মাঠে স্বামীর কাছেই অটোরিকশা চালানোর শিক্ষা নেন তিনি। পরে গ্রামের পথে নেমে পড়েন অটোরিকশা নিয়ে। ৫-৬ দিন এভাবে হাত পাকা করে একদিন টাঙ্গাইল শহরে চলে আসেন রোজিনা। এরপর শুরু করেন অটোরিক্সা চালানোর ব্যতিক্রমী জীবন সংগ্রাম। এখন টাঙ্গাইল পৌরসভায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার চালকদের মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা বেগম। জেলার বাসাইল উপজেলার আইসড়া গ্রামের বাসিন্দা রোজিনা টাঙ্গাইল পৌর শহরের এক প্রান্ত রাবনা বাইপাস থেকে আরেক প্রান্ত বেবিস্ট্যান্ডে যাত্রী আনা নেয়া করেন। যানজটের কারণে শহরে পুরুষ চালকরা যেখানে হিমসিম খায়, সেখানেই বিগত ৫ বছর ধরেই নির্বিঘেœ অটোরিকশা চালাচ্ছেন তিনি। টাঙ্গাইল পৌরসভা কার্যালয় সূত্রে জানা যাায়, টাঙ্গাইল শহরে চলাচলের জন্য ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক ও ৫ হাজার ব্যাটারিচালিত রিকশার অনুমতি (লাইসেন্স) দেওয়া হয়েছে। যানজট এড়াতে ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক জোড় ও বিজোড় সংখ্যায় দিনে দুই ভাগ করা হয়েছে। সকাল থেকে বেলা দুইটা পর্যন্ত এক ভাগ এবং বেলা দুইটা থেকে রাত পর্যন্ত আরেক ভাগের ইজিবাইক চলাচল করার নির্দেশনা দিয়েছে পৌর কর্তৃপক্ষ। কিন্তু রোজিনাকে দুই শিফটে চালানোর অনুমতি দিয়েছে পৌরসভা। সরেজমিনে দেখা যায়, নতুন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অটোরিকশা নিয়ে যাত্রী ডাকছেন রোজিনা। কলেজ গেট, পুরাতন বাসস্ট্যান্ড, ক্যাপসুল, নিরালা মোড়, বেবিস্ট্যান্ড সর্বত্রই যাত্রী আনানেয়া করেন তিনি। পুরাতন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অন্য অটো চালকদের দাঁড় করতে না দিলেও রোজিনাকে বাঁধা দেননা ট্রাফিক পুলিশ। বলতে গেলে সবাই তার প্রতি সহানুভুতিশীল। ট্রাফিক পুলিশসহ অন্য অটোচালকরাও তাকে সহযোগিতা করেন। রোজিনা বলেন, আমার অটোতে নারী যাত্রীরা খুব কম। তারা মনে করে আমার অটোতে উঠলে দুর্ঘটনায় পড়বে। কিন্তু আমি খুব সাবধানে অটো চালাই। দ্রুত গতিতেও না, আবার একেবারে ধীরগতিতেও না। এখন পর্যন্ত আমি কোন দুর্ঘটনার কবলে পড়ি নাই। শহরের পুরুষ অটোরিকশা চালকরা আমাকে অনেক সহযোগিতা করে। অটোচালক কাদের মিয়া বলেন, আমাদের শহরে কয়েক হাজার অটো চলাচল করে। তার মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। তাকে আমরা সব সময় সহযোগিতা করি। যাত্রী সাইদ মিয়া বলেন, আমি এ পর্যন্ত ৫-৬ বার রোজিনার অটোতে চড়েছি। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। অন্য পুরুষ অটো চালকের চেয়েও ভালো অটো চালান। নারী সংগঠক সেরাজুম মনিরা বলেন, তিনি অনেক দিন যাবত অটোরিকশা চালাচ্ছেন। আমি রোজিনাকে স্যালুট জানাই। একজন পুরুষের চেয়ে একজন নারী কোনো ভাবেই যে পিছিয়ে নেই, রোজিনা তা প্রমাণ করেছেন। রোজিনা বলেন, অটো চালানোর এই সিদ্ধান্তটি তার জন্য খুব সহজ ছিল না। তিনি বলেন, ৫ ও ১০ বছরের দুই মেয়েকে বাড়িতে রেখে অটোরিকশা নিয়ে সারাদিন রাস্তায় থাকতে হয়। তাদের ভালোভাবে দেখাশোনা করতে পারি না। কিন্তু কি করবো, অভাবের সংসার! এখন ঋণ নিয়ে একটু জমি কিনেছি। প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ণ প্রকল্পের অর্থায়নে প্রশাসন সেখানে ঘর তুলে দিয়েছে। শুরুতে যারা আমাকে নিয়ে ঠাট্টা করেছে এখন তারাই আমাকে সম্মান করেন। নারীরাও যে কিছু করতে পারে, তা প্রমাণ করেছি। আমার বড় মেয়ে আইসড়া উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়ে, ছোট মেয়ে পড়ে স্থানীয় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। মেয়েদের শিক্ষিত করতে হবে। ধার দেনা শোধ করতে হবে। তাই থেমে গেলো চলবে না। আমি অটোরিকশা চালিয়েই দুই সন্তানকে মানুষ করতে চাই।’ ঘারিন্দা ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য বাবুল সরকার বলেন, সরকার রোজিনাকে একটি ঘর নির্মাণ করে দিয়েছে। শুরুতে যারা তাকে নিয়ে নানান কথা বলতো, এখন তার সংকল্প ও মানষিক দৃঢ়তা দেখে থেমে গেছে। আমরা তাকে নিয়ে গর্ব করি। টাঙ্গাইলের ট্রাফিক ইন্সপেক্টর (প্রশাসন) দেলোয়ার হোসেন বলেন, শহরের একমাত্র নারী চালক রোজিনাকে কেউ যেন বিরক্ত করতে না পারে সেদিকে সব সময় নজর রাখে ট্রাফিক পুলিশ। আমরা তাকে সব সময় সহযোগিতা করে আসছি। টাঙ্গাইলের সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক শাহ আলম বলেন, বিষয়টি এখন জানতে পারলাম। ওই নারী এখনো পর্যন্ত আমাদের কাছে আসেন নাই। যদি আমাদের কাছে এসে আবেদন করেন অবশ্যই তাকে আমরা সহযেগিতা করবো, তার পাশে দাঁড়াবো।

বাংলাদেশে ঐতিহাসিক নির্বাচন: বিএনপি এগিয়ে, জামায়াতের উত্থান ও তরুণ ভোটারদের প্রভাব

২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশে আজ এক ঐতিহাসিক ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ২০০৮ সালের পর এই প্রথম একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হতে যাচ্ছে যেখানে দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগ রাজনৈতিক মানচিত্র থেকে কার্যত অনুপস্থিত। বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক জরিপ বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০০ আসনের মধ্যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) কার্যকর সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে যাচ্ছে। তবে ভোটের ব্যবধান এবং কিছু সমীকরণ নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। নির্বাচনের সবচেয়ে বড় নিয়ামক হয়ে দাঁড়িয়েছে আওয়ামী লীগের বিশাল ভোটব্যাংক। দলটির নিয়মিত প্রায় ৪ কোটি ভোটার এখন নতুন রাজনৈতিক আশ্রয় খুঁজছেন। সিআরএফ বা বিইপিওএস জরিপ বলছে, এই ভোটারদের প্রায় অর্ধেক বিএনপির দিকে ঝুঁকেছে, যা দলটিকে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতার পথে এগিয়ে দিচ্ছে। অন্যদিকে, প্রায় ৩০ শতাংশ আওয়ামী ভোটার জামায়াতে ইসলামীকে বেছে নিতে পারেন বলে আভাস পাওয়া যাচ্ছে। এছাড়া বাংলাদেশের বিদ্যমান নির্বাচনী ব্যবস্থার কারণে দেশজুড়ে সুষম জনসমর্থন থাকা বিএনপি আসন জয়ের ক্ষেত্রে জামায়াতের তুলনায় সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। তবে বিএনপির এই সম্ভাব্য জয়ের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও বিদ্রোহী প্রার্থীরা। প্রায় ৭৯টি নির্বাচনী এলাকায় দলের মনোনয়ন না পাওয়া ৯২ জন প্রভাবশালী নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, যা বিএনপির ১৫ থেকে ৩০টি আসন কমিয়ে দিতে পারে। অন্যদিকে, তরুণ ভোটার বা ‘জেন-জি’ প্রজন্মের বিশাল সমর্থন জামায়াতে ইসলামীর শক্তির উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেশের ৪৪ শতাংশ ভোটারই তরুণ, যাদের বড় একটি অংশ প্রথমবার ভোট দিচ্ছেন। এই তরুণরা যদি দলবেঁধে কেন্দ্রে উপস্থিত হন, তবে নির্বাচনী ফলে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। সবশেষে, প্রায় ১৭ থেকে ৩৫ শতাংশ দোদুল্যমান ভোটার এবং তাদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করবে আগামীর সরকার কতটা শক্তিশালী হবে। দ্য নিউইয়র্ক এডিটোরিয়ালের মূল পূর্বাভাস, তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি প্রায় ১৮৫টি আসনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করতে পারে এবং জামায়াতে ইসলামী ৮০টির মতো আসন পেয়ে প্রধান বিরোধী দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারে। তবে বিদ্রোহী প্রার্থীদের প্রভাব এবং তরুণ ভোটারদের উপস্থিতির ওপর ভিত্তি করে আসন সংখ্যায় বড় ধরনের হেরফের হওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

গাজায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা ট্রাম্প প্রশাসনে

ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। ৩৫০ একরের ঘাঁটিটিতে সামরিক বাহিনীর পাঁচ হাজার সদস্য থাকতে পারবে। গাজার ‘বোর্ড অব পিস’র নথি পর্যালোচনা করে এ তথ্য জানিয়েছে দ্য গার্ডিয়ান। প্রতিবেদনে ব্রিটিশ সংবাদ মাধ্যমটি জানিয়েছে, বোর্ড অব পিসে গাজাকে নিরাপদ করার জন্য ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যাবিলাইজেশন ফোর্স (আইএসএফ) নামে একটি আন্তর্জাতিক বাহিনী মোতায়েনের কথা বলা হয়েছে। যে স্থানটি ঘাঁটি করার জন্য বিবেচনা করা হচ্ছে সেখানে আইএসএফের সদস্যরা থাকবে। বোর্ড অব পিসের প্রধান হবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আর সংগঠনটির আংশিক নেতৃত্ব দেবেন ট্রাম্পের জামাতা জ্যারার্ড কুশনার।দ্য গার্ডিয়ান বোর্ড অব পিসের নথি পর্যালোচনা করে জানায়, ধাপে ধাপে একটি সামরিক ঘাঁটি নির্মাণ করা হবে। সবকিছু শেষ হলে ঘাঁটিটি ১৫ লাখ ১৭ হাজার ৫৭৫ বর্গমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত হবে। ঘাঁটিটির চারপাশে ট্রেইলার সংযুক্ত ২৬টি সাঁজোয়া নজরদারি টাওয়ার থাকবে। এছাড়া একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, বাংকার ও অস্ত্র রাখার গুদাম থাকবে। পুরো ঘাঁটিটি কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে ঘিরে রাখা হবে। সামরিক ঘাঁটি নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে দক্ষিণ গাজার একটি শুষ্ক সমতলভূমিতে। সেখানে ইসরায়েলি হামলার চিহ্ন রয়েছে। ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে বিভিন্ন ধাতবের ধ্বংসাবশেষ।  ওই এলাকার ভিডিও পর্যালোচনা করেছে দ্য গার্ডিয়ান। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, ঘাঁটি নির্মাণের জন্য টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে। যুদ্ধক্ষেত্রে কাজের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন আন্তর্জাতিক নির্মাণ কোম্পানিগুলোর একটি ছোট দলকে ইতোমধ্যেই এলাকাটি দেখানো হয়েছে। ওই দলটি দরপত্রে অংশ নিতে আগ্রহী।    ইন্দোনেশিয়া সরকার গাজায় আট হাজার সেনা সদস্য পাঠানোর জন্য প্রস্তাব দিয়েছে। বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটন ডিসিতে বোর্ড অব পিসের অনানুষ্ঠানিক বৈঠকে ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্টের অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। এছাড়া দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার আরও তিন নেতার ওই বৈঠকে অংশ নেবেন বলে জানা গেছে। জাতিসংঘের নিরাপত্তা কাউন্সিল গাজার সাময়িক স্থিতিশীলতার জন্য অস্থায়ীভাবে সামরিক বাহিনী মোতায়েনের অনুমোদন দিয়েছে। নিরাপত্তা কাউন্সিলই বোর্ড অব পিসের মূল হোতা। গাজার সীমান্ত ও শান্তি প্রণয়নে কাজ করবে আইএসএফ। এছাড়া বেসামরিকদের সুরক্ষা এবং ফিলিস্তিনি পুলিশ বাহিনীকে প্রশিক্ষণ ও সহায়তা দেবে তারা। যদি গাজায় ফের সংঘর্ষ হয়, ইসরায়েল বোমা হামলা চালায় অথবা হামাস হামলা চালায় সেক্ষেত্রে আইএসএফ কি করবে তা এখনও স্পষ্ট নয়। গাজা পুনর্গঠনে ইসরায়েল হামাসকে নিরস্ত্রীকরণের যে শর্ত দিয়েছে সেটির জন্য আইএসএফ কাজ করবে কিনা তাও স্পষ্ট না। ইতোমধ্যে বোর্ড অব পিসে ২০ এর অধিক দেশ যোগ দিয়েছে। তবে, এখনও অনেক পরাশক্তি এর থেকে দূরে রয়েছে। জাতিসংঘের অনুমোদন নিয়ে প্রতিষ্ঠিত হলেও ধারণা করা হচ্ছে, সংগঠনটির স্থায়ী নেতৃত্ব ও নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে। রুটজার্স বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক আদিল হক বলেন, “বোর্ড অব পিস এক ধরনের আইনি কল্পসত্তা। নামমাত্রভাবে এর নিজস্ব আন্তর্জাতিক আইনগত সত্তা রয়েছে, যা জাতিসংঘ ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে আলাদা। কিন্তু বাস্তবে এটি যুক্তরাষ্ট্রের ইচ্ছামতো ব্যবহারের জন্য একটি ফাঁপা খোলসমাত্র।” বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গাজা পুনর্গঠনে যে অর্থায়ন ও শাসন কাঠামো হচ্ছে তা অস্বচ্ছ। কয়েকজন ঠিকাদার গার্ডিয়ানকে জানান, গাজায় কাজ করার জন্য মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে তাদের প্রায়শ আলোচনা সরকারি ইমেলের বদলে সিগন্যালের মাধ্যমে করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রের তথ্য মতে, ঘাঁটি নির্মাণের সিদ্ধান্তটি বোর্ড অব পিসের। এতে সহায়তা করছে মার্কিন কর্মকর্তারা। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ঘাঁটিতে তৈরি বাংকার নেটওয়ার্কের মতোন কাজ করবে। প্রতিটি বাংকারের ২৪ মিটারের হবে। উচ্চতা থাকবে আড়াই মিটার। এগুলো এমনভাবে করা হবে যেন সেনা সদস্যরা আশ্রয় নিতে পারে। স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসের গাজায় সুড়ঙ্গ নেটওয়ার্ক বা টানেল রয়েছে। সেগুলোর আদলে নেটওয়ার্ক করতে চাওয়া হচ্ছে। পিস অব বোর্ডের নথি পর্যালোচনা করে এমন দাবি করছে গার্ডিয়ান। সংবাদ মাধ্যমটি বলছে,  স্থানটির ভূ-ভৌত জরিপ পরিচালনা করবে ঠিকাদাররা। নথির এক অংশে ‘হিউম্যান রেমিয়েনস প্রোটোকল’র কথা বলা হয়েছে। এর মানে দাঁড়ায়, সন্দেহভাজন মানব অবশিষ্ট বা সাংস্কৃতিক নিদর্শন পাওয়া গেলে অবিলম্বে সেই এলাকায় সব কাজ বন্ধ করতে হবে। চুক্তি কর্মকর্তাকে দিকনির্দেশনার জন্য অবিলম্বে জানাতে হবে। গাজা সিভিল ডিফেন্সের ধারণা, গাজার ধ্বংসস্তূপের নিচে ১০ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনির মরদেহ রয়েছে। ঘাঁটির জন্য যে স্থানটি বিবেচিত করা হচ্ছে সেটির মালিক কে তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে, দক্ষিণ গাজার বেশিরভাগ অংশ  বর্তমানে ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণে। জাতিসংঘের অনুমান, যুদ্ধ চলাকালীন ১৯ লাখ ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত হয়েছে। ফিলিস্তিনের জমিতে সরকারের অনুমতি না নিয়ে সামরিক ঘাঁটি স্থাপনকে দখল হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন ফিলিস্তিনি-কানাডিয়ান আইনজীবী এবং প্রাক্তন শান্তি আলোচক দিয়ানা বুট্টু। তিনি প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়ে বলেন, “কার অনুমতিতে তারা সামরিক ঘাঁটি স্থাপন করবে।” বিষয়টি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা বোর্ড অব পিসের কথা টানেন। ট্রাম্প প্রশাসনের একজন কর্মকর্তা সামরিক ঘাঁটির চুক্তি নিয়ে আলোচনা করতে অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, “যেমনটি প্রেসিডেন্ট বলেছেন, কোনও মার্কিন সেনা স্থলভাগে যাবে না। আমরা লিক হওয়া নথি নিয়ে আলোচনা করবো না।”

কুড়িগ্রামের তাজু ভাই ২.০: ‘সরকারি রেটে জিলাপি’ প্রশ্নে ভাইরাল এক নির্মাণশ্রমিকের গল্প

বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের প্রত্যন্ত চরাঞ্চল থেকে উঠে এসে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার কেন্দ্রে এখন তাইজুল ইসলাম, যিনি অনলাইনে পরিচিত ‘তাজু ভাই ২.০’ নামে। মাত্র একটি ভিডিও—যেখানে তিনি এক দোকানিকে প্রশ্ন করেন, “জিলাপি আজকে কত করে বেচতেছেন সরকারি রেটে?”—এই সরল উপস্থাপনাই তাকে রাতারাতি ভাইরাল করে তোলে।  কয়েক ঘণ্টায় ফলোয়ার লাখ ছাড়াল রোববার রাত পর্যন্ত তার ফেসবুক অনুসারী ছিল প্রায় ৩৫ হাজার। কিন্তু সোমবার সন্ধ্যা থেকে রাতের মধ্যেই তা বেড়ে এক লাখের বেশি হয়ে যায়। ভাইরাল ভিডিওটি ইতোমধ্যে প্রায় ৫০ থেকে ৫৫ লাখবার দেখা হয়েছে।  কী ছিল সেই ভিডিওতে? ভিডিওতে দেখা যায়, কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীর নারায়ণপুর বাজারে দাঁড়িয়ে স্থানীয় ভাষায় তিনি জিলাপির দাম জানতে চান। তার কথাগুলো ছিল একেবারেই সহজ ও গ্রাম্য ভঙ্গিতে— “সাদাডা কত, লালডা কত? সরকারি রেটে বেচতেছেন?” এই সরল প্রশ্নই সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।  কোথা থেকে উঠে এলেন তাজু ভাই? কুড়িগ্রাম জেলার নাগেশ্বরী উপজেলার নারায়ণপুর ইউনিয়নের একটি দুর্গম গ্রামে জন্ম তার। ব্রহ্মপুত্র নদবেষ্টিত এই অঞ্চলে পৌঁছাতে এখনও কয়েকটি নৌঘাট পার হতে হয়। দারিদ্র্যের কারণে কখনো স্কুলে যাওয়া হয়নি তার। পেশায় তিনি একজন নির্মাণশ্রমিকের সহকারী (হেলপার)। কাজের ফাঁকে ঢাকায় থাকাকালীন মোবাইল ফোনে ভিডিও তৈরি করাই তার শখ। ব্যক্তিগত সংগ্রাম তাইজুল ইসলামের পরিবারে ছয় ভাই-বোন। তিনি সবার বড়। তার বাবা-মা দুজনই শ্রবণপ্রতিবন্ধী। পরিবার চালাতে তাকে ছোটবেলা থেকেই সংগ্রাম করতে হয়েছে। তিনি বলেন, “পরিবারের কষ্ট ভুলতেই ভিডিও করি। আমি সাংবাদিক না, কিন্তু আমাদের এলাকায় কেউ আসে না—তাই নিজেরাই ভিডিও বানাই।” ভাইরাল হওয়ার পেছনের উদ্দেশ্য তাইজুলের দাবি, তার ভিডিও শুধুই বিনোদনের জন্য নয়। তিনি চান তার এলাকার অবহেলিত মানুষের কথা প্রশাসনের নজরে আসুক। “আমি চাই চরের মানুষের উন্নয়ন হোক,”—বলছেন তিনি।  মিশ্র প্রতিক্রিয়া ভিডিওটি নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে দুই ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ তার সরলতা ও বাস্তবতা তুলে ধরার চেষ্টা প্রশংসা করছেন আবার কেউ তাকে নিয়ে ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ করছেন তবে এসব সমালোচনায় তিনি বিচলিত নন।

অর্থনীতি

ইসলামী ব্যাংক,

ইসলামী ব্যাংকে আস্থা সংকট কেন কাটছে না?: দেশের বৃহত্তম শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংককে ঘিরে নতুন প্রশ্ন

নিজস্ব প্রতিবেদক জুন ২২, ২০২৬ 0




অপরাধ

ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো

ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকোর বিরুদ্ধে ৩০ বিলিয়ন ডলার জালিয়াতি ও অর্থপাচার অভিযোগে দুদকের অনুসন্ধান

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ২৪, ২০২৬ 0




কৃষি ও জলবায়ু

ধান

শেরপুরে বোরো ধানের দাম কমে লোকসানে কৃষকরা, উৎপাদন খরচও উঠছে না

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ৬, ২০২৬ 0