Brand logo light

রাজনীতি

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রধান কৌঁসুলি মো. আমিনুল ইসলাম
আওয়ামী লীগ কি বিদ্যমান আইনেই নিষিদ্ধ হতে পারে? ট্রাইব্যুনালের প্রধান কৌঁসুলির বক্তব্যে নতুন আলোচনা

ঢাকা: আওয়ামী লীগ সরকারের সময় প্রণীত বিদ্যমান আইন ব্যবহার করেই রাজনৈতিক দল হিসেবে আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব বলে মন্তব্য করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রধান কৌঁসুলি মো. আমিনুল ইসলাম। রোববার (৫ জুলাই) দুপুরে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে আয়োজিত এক ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে তিনি এ মন্তব্য করেন। প্রধান কৌঁসুলি বলেন, আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকা প্রায় ১৫ বছরে রাষ্ট্রের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে দুর্বল করেছে এবং দল হিসেবে বিভিন্ন ধরনের অপরাধে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে। এসব অভিযোগের প্রতিটি আইনের আওতায় তদন্ত ও বিচারিক প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়েই নিষ্পত্তি হবে বলে তিনি জানান। তার ভাষ্য অনুযায়ী, মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে রাজনৈতিক দল হিসেবে আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে তদন্ত চলমান রয়েছে। তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হলে প্রচলিত আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করে দলটিকে নিষিদ্ধ ঘোষণার উদ্যোগ নেওয়া হতে পারে। একই সঙ্গে তিনি জানান, শাপলা চত্বরের ঘটনাসহ একাধিক নির্দিষ্ট মামলায় আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার বিরুদ্ধেও বিচারিক কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়ার প্রস্তুতি রয়েছে। বিদ্যমান আইন নিয়েই কেন আলোচনা? প্রধান কৌঁসুলির বক্তব্যের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় প্রণীত আইনই দলটির বিরুদ্ধে প্রয়োগ করা যেতে পারে বলে তিনি উল্লেখ করেছেন। এর ফলে নতুন আইন প্রণয়ন ছাড়াই বিদ্যমান আইনি কাঠামোর আওতায় রাজনৈতিক দল হিসেবে কোনো সংগঠনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার প্রশ্নটি আবারও আলোচনায় এসেছে। তবে কোন নির্দিষ্ট আইনের কোন ধারা প্রয়োগ করা হবে, সে বিষয়ে ব্রিফিংয়ে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি। সরকারের অবস্থান এর এক দিন আগে, শনিবার (৪ জুলাই) জুলাই জাতীয় সম্মেলনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, বর্তমানে নিষিদ্ধ কার্যক্রম পরিচালনাকারী আওয়ামী লীগ ভবিষ্যতে বাংলাদেশে আর রাজনীতি করতে পারবে না। মন্ত্রী দাবি করেন, আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক পতন ইতোমধ্যেই ঘটেছে এবং দলটি রাজনৈতিকভাবে আর পুনরায় সক্রিয় হওয়ার সুযোগ পাবে না। তদন্ত ও বিচারিক প্রক্রিয়া আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে। অভিযোগের সত্যতা, প্রমাণ এবং বিচারিক সিদ্ধান্তের ভিত্তিতেই পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নির্ধারিত হবে। এ কারণে আওয়ামী লীগের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক অবস্থান এবং দলটির বিরুদ্ধে সম্ভাব্য আইনি ব্যবস্থা এখন তদন্ত ও আদালতের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে। মূল বিষয়গুলো আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রধান কৌঁসুলির দাবি, বিদ্যমান আইনেই আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব। মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে রাজনৈতিক দল হিসেবে তদন্ত চলছে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে আইনি প্রক্রিয়ায় দলটিকে নিষিদ্ধ করার সুযোগ রয়েছে বলে বক্তব্য। শাপলা চত্বরসহ একাধিক মামলায় শেখ হাসিনার বিচারিক কার্যক্রমের প্রস্তুতির কথা জানানো হয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকেও আওয়ামী লীগের ভবিষ্যৎ রাজনীতি নিয়ে কঠোর অবস্থানের কথা পুনর্ব্যক্ত করা হয়েছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক জুলাই ৬, ২০২৬ 0
একাত্তরের ভূমিকার জন্য জামায়াতের জাতির কাছে ক্ষমা চাওয়া উচিত: সংসদে মির্জা ফখরুল

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধকে ঘিরে অতীতের রাজনৈতিক অবস্থান আবারও জাতীয় সংসদে আলোচনায় এসেছে। বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ১৯৭১ সালের ভূমিকার জন্য বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর জাতির কাছে ক্ষমা চাওয়া উচিত ছিল। তাঁর মতে, দলটি অতীতের অবস্থান স্পষ্ট না করায় রাজনৈতিক বিতর্ক এখনো বহাল রয়েছে। রোববার (২৮ জুন) জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এসব মন্তব্য করেন। কী বলেছেন মির্জা ফখরুল? সংসদে বক্তব্যে বিএনপি মহাসচিব বলেন, একাত্তরের ভূমিকার জন্য জামায়াত কখনো জাতির কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করেনি। তিনি বলেন, "একাত্তর সালের ভূমিকার জন্য আপনারা একবারও ক্ষমা প্রার্থনা করলেন না। জাতির সামনে আপনাদের ক্ষমা প্রার্থনা করা উচিত ছিল। এটা করলে আজকে সমস্যাগুলো হয় না।" তিনি আরও বলেন, জামায়াতের সাবেক নেতা গোলাম আজম একসময় বলেছিলেন, "একাত্তরে আমরা ভুল করি নাই।" এই বক্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে তিনি দলটির প্রতি আহ্বান জানান, বাংলাদেশ রাষ্ট্র ও মুক্তিযুদ্ধ সম্পর্কে নিজেদের বর্তমান অবস্থান স্পষ্ট করতে। মির্জা ফখরুলের ভাষায়, "এখনো সময় আছে ভেবে-চিন্তে দেখতে পারেন। বাংলাদেশ সম্পর্কে আপনাদের অবস্থান পরিষ্কার করেন। অতীতের অবস্থান স্পষ্ট করলে দলটির রাজনীতি আরও গ্রহণযোগ্য হবে।" সংসদে আর কী আলোচনা হয়? জামায়াতের নেতাদের উদ্দেশ করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে পারস্পরিক উত্তেজনা সৃষ্টি বা একে অপরকে উপেক্ষা করার সময় নয়। বরং অতীতের বিতর্কিত অধ্যায় নিয়ে সুস্পষ্ট অবস্থান নেওয়া প্রয়োজন। তিনি বলেন, "আমাদের বন্ধুরা বিভিন্নভাবে আমাদের ইগনোর করার চেষ্টা করছেন। আমাদের বিভিন্নভাবে ক্ষুব্ধ করার চেষ্টা করছেন। আমি মনে করি এ সময়টা সঠিক নয়। নিজেদের দিকেও আপনাদের ফিরে তাকানো দরকার।" বক্তৃতার সময় বিরোধী দলের সদস্যদের মন্তব্যের জবাবে স্থানীয় সরকারমন্ত্রীও বলেন, তিনি আজ পর্যন্ত জামায়াতের কাছ থেকে ১৯৭১ সালের ভূমিকা সম্পর্কে স্পষ্ট স্বীকারোক্তি শোনেননি। তাঁর মতে, বিষয়টি স্বীকার করলে দলটির রাজনীতি পরিচালনা সহজ হবে। এনসিপিকে নিয়েও মন্তব্য জামায়াতের জোটসঙ্গী এনসিপির প্রসঙ্গ টেনে মির্জা ফখরুল বলেন, নতুন রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে তাদের সামনে সম্ভাবনা রয়েছে। তবে যে দলের সঙ্গে তারা রাজনৈতিক সম্পর্ক বজায় রেখেছে, সেই দল বাংলাদেশের স্বাধীনতাকে বিশ্বাস করেনি—এমন অভিযোগ তুলে তিনি এনসিপিকে নিজেদের রাজনৈতিক অবস্থান আরও পরিষ্কার করার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, "তারা ভালো করবে, আমরা চাই তারা ভালো করুক। কিন্তু বাংলাদেশের অস্তিত্বের প্রশ্নে যারা বিতর্কিত অবস্থানে ছিল, সেই স্টিগমা নিয়ে যেন তাদের রাজনীতি না এগোয়।"   মির্জা ফখরুলের বক্তব্য এমন এক সময়ে এসেছে, যখন বাংলাদেশের রাজনীতিতে মুক্তিযুদ্ধ, স্বাধীনতার ইতিহাস এবং ১৯৭১ সালে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের ভূমিকা আবারও আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছে। বিশেষ করে সম্ভাব্য রাজনৈতিক সমীকরণ, জোট রাজনীতি এবং নতুন দলগুলোর অবস্থান নিয়ে বিতর্কের মধ্যে তাঁর এই মন্তব্য রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন আলোচনা তৈরি করতে পারে। তবে এ বিষয়ে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

নিজস্ব প্রতিবেদক জুন ২৯, ২০২৬ 0
বিধ্বস্ত অর্থনীতি পুনরুদ্ধারে সাহসী বাজেটের দাবি আলতাফ হোসেন চৌধুরীর, সংসদে চীন সফরেরও প্রশংসা

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : সরকারের ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটকে দেশের "বিধ্বস্ত অর্থনীতি" পুনরুদ্ধারের একটি বাস্তবভিত্তিক রূপরেখা হিসেবে অভিহিত করেছেন সরকারি দলের সংসদ সদস্য আলতাফ হোসেন চৌধুরী। তাঁর ভাষ্য, কঠিন বৈশ্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতির মধ্যেও সরকার এমন একটি বাজেট প্রণয়ন করেছে, যা দীর্ঘমেয়াদে টেকসই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির ভিত্তি তৈরি করবে। জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম। আলোচনায় আলতাফ হোসেন চৌধুরী বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাম্প্রতিক মালয়েশিয়া ও চীন সফর বাংলাদেশের কূটনৈতিক সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেছে। বিশেষ করে চীন সফরকে তিনি উচ্চ পর্যায়ের সফল সফর হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর বৈঠক দুই দেশের পারস্পরিক সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করবে। এ উপলক্ষে তিনি সংসদ এবং দেশবাসীর পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রীকে অভিনন্দন ও ধন্যবাদ জানান। সংসদ সদস্য আলতাফ হোসেন চৌধুরী আরও বলেন, বর্তমান সংসদের অধিকাংশ সদস্য অতীত সরকারের আমলে মামলা, কারাবাস, হয়রানি ও রাজনৈতিক নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। গণতান্ত্রিক আন্দোলনের ধারাবাহিকতার মধ্য দিয়েই তারা সংসদে প্রতিনিধিত্ব করার সুযোগ পেয়েছেন বলে তিনি উল্লেখ করেন। সরকারের প্রথম চার মাসের কার্যক্রম তুলে ধরে তিনি বলেন, এরই মধ্যে কাবিখা, কাবিটা, টিআর এবং ভিজিএফ কর্মসূচির বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ধর্মীয় উপাসনালয়ের অনুদান, ইমাম, মুয়াজ্জিন, পুরোহিত, পাদ্রী ও ভান্তেদের ভাতা, বয়স্ক, বিধবা, মাতৃত্বকালীন ও প্রতিবন্ধী ভাতা, ফ্যামিলি কার্ড, হেলথ কার্ড, কৃষক কার্ড এবং কৃষিঋণ মওকুফসহ বিভিন্ন সামাজিক নিরাপত্তা ও জনকল্যাণমূলক কর্মসূচি বাস্তবায়নের কথাও তুলে ধরেন তিনি। আলতাফ হোসেন চৌধুরীর মতে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার বাজেট প্রণয়ন করেছেন। তিনি বলেন, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ, মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিতিশীলতা এবং বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার মধ্যেও এ ধরনের বাজেট প্রণয়ন একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। অর্থমন্ত্রীকে অভিনন্দন জানিয়ে তিনি বলেন, বর্তমান বৈশ্বিক বাস্তবতায় সময়োপযোগী বাজেট উপস্থাপন সরকারের অর্থনৈতিক পরিকল্পনার প্রতিফলন। তবে সংসদে দেওয়া এসব বক্তব্য সরকারের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক মূল্যায়নের অংশ। প্রস্তাবিত বাজেটের কার্যকারিতা, রাজস্ব আহরণ, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং বিনিয়োগ বৃদ্ধির মতো সূচকগুলো আগামী অর্থবছরে বাস্তবায়নের অগ্রগতির মাধ্যমে মূল্যায়িত হবে।

নিজস্ব প্রতিবেদক জুন ২৭, ২০২৬ 0
চীনে কূটনৈতিক ব্যস্ততা: দালিয়ান থেকে বেইজিংয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

বেইজিং, চীন: চীনের দালিয়ান থেকে হাই-স্পিড ট্রেনে রাজধানী বেইজিংয়ে পৌঁছেছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক, অর্থনৈতিক সহযোগিতা এবং আঞ্চলিক কূটনীতির গুরুত্বপূর্ণ প্রেক্ষাপটে অনুষ্ঠিত এই সফরকে ঢাকা-বেইজিং সম্পর্কের নতুন অধ্যায়ের অংশ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় (পিএমও) সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় বিকেল ৫টা ৩৫ মিনিটে বেইজিংয়ের চাউমিং রেলওয়ে স্টেশনে পৌঁছান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তাঁর সঙ্গে রয়েছেন সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান এবং উচ্চপর্যায়ের সরকারি প্রতিনিধিদল। স্টেশনে প্রধানমন্ত্রীকে অভ্যর্থনা জানান চীনের ‘জেনারেল অ্যাডমিনিস্ট্রেশন অব কাস্টমস’ (জিএসিসি)-এর মন্ত্রী এবং চীনের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিসি) কমিটির সেক্রেটারি সুন মেইজুন। এ সময় শিশু-কিশোররা প্রধানমন্ত্রী ও তাঁর সহধর্মিণীর হাতে ফুলের তোড়া তুলে দেয়। কূটনৈতিক সৌজন্যের অংশ হিসেবে প্রধানমন্ত্রীকে লাল গালিচা সংবর্ধনা এবং গার্ড অব অনার প্রদান করা হয়। পরে বিশেষ মোটর শোভাযাত্রায় তাঁকে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন দিয়াওইউতাই গেস্ট হাউসে নিয়ে যাওয়া হয়। সফরকালীন সময় প্রধানমন্ত্রী ও তাঁর সফরসঙ্গীরা সেখানেই অবস্থান করবেন। দালিয়ান থেকে বেইজিং: উচ্চগতির রেলযাত্রা এর আগে স্থানীয় সময় দুপুর ১টা ৫৮ মিনিটে দালিয়ান উত্তর রেলওয়ে স্টেশন থেকে হাই-স্পিড বা বুলেট ট্রেনে বেইজিংয়ের উদ্দেশে যাত্রা করেন প্রধানমন্ত্রী। সফরসঙ্গীদের মধ্যে রয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির, বৈদেশিক কর্মসংস্থানবিষয়ক উপদেষ্টা মাহদী আমিন, প্রতিরক্ষাবিষয়ক উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এ কে এম শামছুল ইসলাম, অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন এবং ডেপুটি প্রেস সেক্রেটারি জাহিদুল ইসলাম রনি। গ্রীষ্মকালীন দাভোসে অংশগ্রহণ বেইজিংয়ে পৌঁছানোর আগে দালিয়ানে অনুষ্ঠিত ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের (ডব্লিউইএফ) ‘গ্রীষ্মকালীন দাভোস’ সম্মেলনে অংশ নেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। স্থানীয় সময় সকাল ১০টায় ডালিয়ান আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে আয়োজিত এ বৈশ্বিক অর্থনৈতিক ফোরামে বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধান, নীতিনির্ধারক এবং ব্যবসায়িক নেতারা অংশ নেন। প্রথম বিদেশ সফরের কূটনৈতিক গুরুত্ব গত সোমবার মালয়েশিয়া সফর শেষ করে চীনের দালিয়ানে পৌঁছান প্রধানমন্ত্রী। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের পর ১৭ ফেব্রুয়ারি সরকারপ্রধানের দায়িত্ব গ্রহণের পর মালয়েশিয়া ও চীন সফর তাঁর প্রথম বিদেশ সফর। বিশ্লেষকদের মতে, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া এবং পূর্ব এশিয়ার দুই গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার দেশ মালয়েশিয়া ও চীনকে প্রথম সফরের গন্তব্য হিসেবে বেছে নেওয়া বাংলাদেশের নতুন সরকারের অর্থনৈতিক কূটনীতি, বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং আঞ্চলিক সহযোগিতা জোরদারের অগ্রাধিকারের ইঙ্গিত বহন করে।

নিজস্ব প্রতিবেদক জুন ২৫, ২০২৬ 0
মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ ফয়জুল করীম। ফাইল ছবি
কুমিল্লায় মুফতি ফয়জুল করীমের বিরুদ্ধে মামলা: বাদীর রাজনৈতিক পরিচয় নিয়ে বিতর্ক, উঠছে নতুন প্রশ্ন

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : কুমিল্লা-৬ আসনের সংসদ সদস্য মনিরুল হক চৌধুরী-কে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে উসকানিমূলক, বিদ্বেষমূলক ও মানহানিকর বক্তব্য প্রচারের অভিযোগে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের জ্যেষ্ঠ নায়েবে আমির মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ ফয়জুল করীম-এর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। গত ২০ জুন কুমিল্লা সদর দক্ষিণ মডেল থানায় জালাল আহমেদ খোকন তালুকদার নামে এক ব্যক্তি মামলাটি করেন। অভিযোগে বলা হয়েছে, ১৯ জুন বিভিন্ন ফেসবুক আইডি ও ইউটিউব চ্যানেলে সংসদ সদস্যকে নিয়ে কটূক্তি, বিদ্রূপ ও মানহানিকর বক্তব্য প্রচার করা হয়। মামলার এজাহার অনুযায়ী, একটি ইউটিউব ভিডিওতে সংসদ সদস্যের দাড়ি, টুপি ও পোশাক নিয়ে বিদ্রুপাত্মক মন্তব্য করা হয়। পাশাপাশি একটি ফেসবুক পোস্টে তার ছবি ব্যবহার করে তাকে ‘গুপ্ত আওয়ামী লীগ নেতা’ এবং ‘ইসলামবিদ্বেষী’ হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়। বাদীর দাবি, এসব প্রচারণার মাধ্যমে সংসদ সদস্যের রাজনৈতিক, সামাজিক ও ব্যক্তিগত সুনাম ক্ষুণ্ন করার চেষ্টা করা হয়েছে। মামলার চেয়ে বড় আলোচনায় বাদীর পরিচয় তবে মামলা দায়েরের পর আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে এসেছে অভিযোগের বিষয়বস্তু নয়, বরং মামলার বাদীর রাজনৈতিক পরিচয়। জালাল আহমেদ খোকন তালুকদার নিজেকে কুমিল্লা মহানগরীর ২৬ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবে পরিচয় দিলেও স্থানীয় বিএনপি ও যুবদলের একাধিক নেতা সেই দাবির সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। কুমিল্লা মহানগরীর ২৬ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবু সাঈদ বলেন, খোকন তালুকদার যুবদলের দায়িত্বশীল কোনো নেতা নন। তার দাবি, খোকন অতীতে যুবলীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন এবং আওয়ামী লীগের কর্মী হিসেবেই পরিচিত। একই বক্তব্য দিয়েছেন কুমিল্লা মহানগর যুবদলের সদস্যসচিব রোমান হাসান। তার ভাষ্য, খোকন তালুকদার যুবদলের কোনো পর্যায়ের নেতা নন এবং পূর্বে যুবলীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলা? মামলাটিকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেছে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ। কুমিল্লা মহানগর ইসলামী আন্দোলনের সভাপতি এম এম বিলাল হোসাইন বলেন, তাদের মতে মামলাটি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে করা হয়েছে এবং বিষয়টি আইনগতভাবে মোকাবিলা করা হবে। বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক রাজনৈতিক বাস্তবতায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বক্তব্যকে কেন্দ্র করে দায়ের হওয়া মামলাগুলো প্রায়ই রাজনৈতিক বিতর্কের জন্ম দিচ্ছে। বিশেষ করে যখন অভিযোগকারী ও অভিযুক্ত ভিন্ন রাজনৈতিক ধারার সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকেন, তখন মামলার পেছনের উদ্দেশ্য নিয়েও প্রশ্ন ওঠে। বাদীর পাল্টা বক্তব্য তবে নিজের অবস্থানে অনড় রয়েছেন জালাল আহমেদ খোকন তালুকদার। তার বক্তব্য, সংসদ সদস্য মনিরুল হক চৌধুরীর বিরুদ্ধে কুরুচিপূর্ণ ও মানহানিকর বক্তব্য প্রচার করা হয়েছে বলেই তিনি মামলা করেছেন। যুবদলের পরিচয় প্রসঙ্গে তিনি বলেন, তিনি যে কমিটির সদস্য বলে দাবি করছেন, সেটি সংসদ সদস্য মনিরুল হক চৌধুরীর ঘোষিত কমিটি; এটি কেন্দ্রীয় যুবদলের অনুমোদিত কমিটি নয়। এই বক্তব্য নতুন করে রাজনৈতিক বৈধতা ও সাংগঠনিক স্বীকৃতি নিয়ে প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। পুলিশের অবস্থান কী? মামলা গ্রহণের বিষয়ে কুমিল্লা সদর দক্ষিণ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রকিবুল ইসলাম বলেন, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশক্রমে মামলাটি গ্রহণ করা হয়েছে। অন্যদিকে কুমিল্লা সদর দক্ষিণ সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোস্তাইন বিল্লাহ ফেরদৌস বলেন, আইনের দৃষ্টিতে যে কোনো ব্যক্তি অভিযোগ নিয়ে আদালত বা থানার দ্বারস্থ হতে পারেন। অভিযোগ যাচাই-বাছাই করেই মামলাটি গ্রহণ করা হয়েছে। তদন্তে যেসব প্রশ্ন গুরুত্বপূর্ণ এই ঘটনাকে ঘিরে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন সামনে এসেছে— অভিযুক্ত বক্তব্যগুলো প্রকৃতপক্ষে কে বা কারা প্রচার করেছিলেন? মামলায় মুফতি ফয়জুল করীমের প্রত্যক্ষ সম্পৃক্ততার প্রমাণ কী? বাদীর রাজনৈতিক পরিচয় ও সাংগঠনিক অবস্থান নিয়ে যে বিতর্ক তৈরি হয়েছে, তার বাস্তবতা কী? সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যক্তিগত মতামত, রাজনৈতিক সমালোচনা ও মানহানির সীমারেখা কোথায়? মামলা দায়েরের পেছনে রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতার কোনো প্রভাব রয়েছে কি না? এসব প্রশ্নের উত্তর মিলবে তদন্তের অগ্রগতির সঙ্গে। তবে আপাতত কুমিল্লার এই মামলা শুধু একটি মানহানির অভিযোগ নয়; বরং এটি স্থানীয় রাজনৈতিক সমীকরণ, সাংগঠনিক বৈধতা এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমভিত্তিক রাজনৈতিক সংঘাতের নতুন এক আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক জুন ২৫, ২০২৬ 0
আক্তারুজ্জামান শামীম
বরিশাল মহানগর বিএনপির নেতৃত্বে আলোচনায় আখতারুজ্জামান শামীম: তৃণমূলের রাজনীতি থেকে শীর্ষ নেতৃত্বের সম্ভাবনা

বরিশাল অফিস :    বরিশাল মহানগর বিএনপির ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে যখন নানা আলোচনা চলছে, তখন বারবার উচ্চারিত হচ্ছে একটি নাম—অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ আখতারুজ্জামান শামীম। ছাত্রদল ও যুবদলের দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা, আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় ভূমিকা এবং সংগঠনের প্রতি ধারাবাহিক আনুগত্যের কারণে তিনি মহানগর বিএনপির সম্ভাব্য নেতৃত্বের আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান তৈরি করেছেন। দলীয় সূত্র, রাজনৈতিক সহকর্মী এবং অনুসারীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, আখতারুজ্জামান শামীমের রাজনৈতিক পরিচয় কেবল একটি পদ বা দায়িত্বের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বরং প্রায় চার দশকের রাজনৈতিক পথচলার মধ্য দিয়ে তিনি নিজস্ব একটি অবস্থান তৈরি করেছেন। এরশাদবিরোধী আন্দোলন থেকে রাজনৈতিক যাত্রা আখতারুজ্জামান শামীমের রাজনৈতিক জীবন শুরু হয় আশির দশকের স্বৈরাচারবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের মধ্য দিয়ে। ১৯৮৩ সালে মজিদ খানের শিক্ষানীতির বিরুদ্ধে আন্দোলনের সময় তিনি বরিশাল জিলা স্কুল শাখা ছাত্রদলের সভাপতি হিসেবে নেতৃত্ব দেন। পরবর্তীতে ১৯৮৬ সালে বরিশাল কলেজ শাখা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। সে সময়ের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে পুলিশি নির্যাতন, হামলা ও মামলার মুখোমুখি হয়েও তিনি মাঠে সক্রিয় ছিলেন বলে দলীয় নেতাকর্মীরা জানান। ১৯৮৯ সালে বরিশাল সরকারি বিএম কলেজ ছাত্র সংসদ নির্বাচনে ছাত্রদলের প্যানেল থেকে সাহিত্য বিষয়ক সম্পাদক নির্বাচিত হন। এরপর ১৯৯৪ সালে একই কলেজের ছাত্র সংসদ নির্বাচনে জেনারেল সেক্রেটারি (জিএস) পদে বিজয়ী হন। ছাত্রদল থেকে কেন্দ্রীয় রাজনীতিতে ১৯৯২ থেকে ১৯৯৬ সাল পর্যন্ত বরিশাল মহানগর ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন শামীম। পরবর্তী সময়ে ১৯৯৬ থেকে ২০০০ সাল পর্যন্ত জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটিতে সহ-সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পান। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, তৃণমূল পর্যায় থেকে উঠে এসে কেন্দ্রীয় ছাত্র রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ পদ লাভ করা সে সময়ের রাজনীতিতে সহজ বিষয় ছিল না। সংগঠনের প্রতি সক্রিয়তা এবং নেতৃত্বের সক্ষমতার কারণেই তিনি ধারাবাহিকভাবে দায়িত্ব পেয়েছেন বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা। যুবদলে উত্থান ও সাংগঠনিক ভূমিকা ২০০২ সালে জাতীয়তাবাদী যুবদলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সহ বন ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন তিনি। পরে ২০১০ সালে যুবদলের কেন্দ্রীয় সমাজকল্যাণ সম্পাদক হন। ২০১৭ সালে বরিশাল মহানগর যুবদলের সভাপতি নির্বাচিত হওয়ার মাধ্যমে স্থানীয় রাজনীতিতে তার অবস্থান আরও সুদৃঢ় হয়। একই সময়ে যুবদলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সহ-সভাপতির দায়িত্বও পালন করেন। দলীয় নেতাকর্মীদের মতে, বরিশালে বিএনপির সাংগঠনিক কার্যক্রম সচল রাখতে এবং যুবদলকে সক্রিয় রাখতে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। কারাবরণ, মামলা ও রাজনৈতিক সংগ্রামের অভিজ্ঞতা নিজের রাজনৈতিক জীবনের বিভিন্ন পর্যায়ে একাধিকবার মামলা, গ্রেপ্তার এবং কারাবরণের অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করেছেন আখতারুজ্জামান শামীম। বরিশাল ডায়েরিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, “পুলিশি নির্যাতন, হামলা-মামলা এবং কারাবরণের অভিজ্ঞতা আমার রাজনৈতিক জীবনের অংশ। দীর্ঘ সময় রাজপথে থেকেছি। দলকে শক্তিশালী করা এবং গণতান্ত্রিক চর্চা ধরে রাখাই এখন সবচেয়ে বড় অগ্রাধিকার।” তিনি আরও বলেন, দল যেখানে প্রয়োজন মনে করবে, সেখানেই দায়িত্ব পালন করতে প্রস্তুত রয়েছেন। পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তি নাকি রাজনৈতিক বাস্তবতা? আখতারুজ্জামান শামীমের অনুসারীরা দাবি করেন, দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে তার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি বা দুর্নীতির কোনো অভিযোগ ওঠেনি। তারা তাকে একজন সৎ, শিক্ষিত এবং পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তির রাজনীতিক হিসেবে তুলে ধরেন। ৫ নম্বর ওয়ার্ড যুবদল নেতা নজরুল ইসলাম কামাল বলেন, “রাজনীতি করেও শামীম ভাইকে কখনো ব্যক্তিগত সুবিধার জন্য দৌড়ঝাঁপ করতে দেখিনি। তিনি সবসময় জ্ঞানচর্চা, পেশাগত দায়িত্ব এবং সংগঠনের কাজে মনোযোগী ছিলেন।” তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করেন, কোনো নেতার জনপ্রিয়তা ও গ্রহণযোগ্যতা মূল্যায়নের ক্ষেত্রে সমর্থকদের বক্তব্যের পাশাপাশি সাংগঠনিক কার্যকারিতা, জনসম্পৃক্ততা এবং দলীয় সিদ্ধান্তও গুরুত্বপূর্ণ বিবেচ্য বিষয়। মহানগর বিএনপির নেতৃত্বের সমীকরণে কোথায় শামীম? বরিশাল মহানগর বিএনপির নতুন নেতৃত্ব নিয়ে আলোচনা যত এগোচ্ছে, ততই সামনে আসছে কয়েকজন অভিজ্ঞ নেতার নাম। তাদের মধ্যে আখতারুজ্জামান শামীম অন্যতম। দলীয় সূত্রগুলো বলছে, ছাত্রদল ও যুবদলে দীর্ঘ সাংগঠনিক অভিজ্ঞতা, আন্দোলন-সংগ্রামের ইতিহাস এবং তৃণমূলের সঙ্গে যোগাযোগ—এই তিন কারণে তিনি নেতৃত্বের দৌড়ে আলোচিত। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নির্ভর করবে বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের রাজনৈতিক কৌশল, সাংগঠনিক প্রয়োজন এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার ওপর। মূল্যায়ন প্রায় চার দশকের রাজনৈতিক পথচলায় অ্যাডভোকেট আখতারুজ্জামান শামীম ছাত্রদল, যুবদল এবং কেন্দ্রীয় রাজনীতির বিভিন্ন স্তরে দায়িত্ব পালন করেছেন। সমর্থকদের কাছে তিনি ত্যাগী ও পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তির নেতা; অন্যদিকে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, তার দীর্ঘ অভিজ্ঞতা তাকে বরিশাল মহানগর বিএনপির নেতৃত্বের আলোচনায় একটি গুরুত্বপূর্ণ নাম হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে। আগামী দিনে মহানগর বিএনপির সাংগঠনিক পুনর্গঠন ও নেতৃত্ব নির্ধারণের প্রক্রিয়ায় তার ভূমিকা কতটা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে, সেটিই এখন দেখার বিষয়।

নিজস্ব প্রতিবেদক জুন ১৭, ২০২৬ 0
তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন
রাষ্ট্র গণমাধ্যমকে চোখ রাঙাত, এখন সমস্যা সমাধানে ‘সহযোগী’ হতে চায়: তথ্যমন্ত্রী

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেছেন, অতীতে ফ্যাসিবাদী ও স্বৈরাচারী যুগে রাষ্ট্র গণমাধ্যমের দিকে চোখ রাঙিয়ে কথা বলত। তবে বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকার সেই অবস্থান থেকে সরে এসেছে। আমরা গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও সাংবাদিকদের পেশাগত সমস্যা সমাধানে প্রকৃত ‘সহযোগী অংশীদার’ হিসেবে কাজ করতে চাই। তিনি বলেন, ‘১৬ জুন সংবাদপত্রের কালো দিবস। গণমাধ্যমের সংকট এবং সাংবাদিকতা পেশার কালো পরিবেশ এখন একাকার হয়ে গেছে। তাই কেবল ৫০ বছর আগের সমস্যার আলাপের মধ্যে নিজেদের আটকে না রেখে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ও ডিজিটাল মাধ্যমের নতুন চেহারা ও চ্যালেঞ্জ অনুধাবন করে তার উদ্ভাবনী সমাধান বের করতে হবে।’ মঙ্গলবার দুপুরে রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবের তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে আয়োজিত ‘সংবাদপত্রের কালো দিবস’ শীর্ষক আলোচনা সভায় বিশেষ বক্তা হিসেবে তিনি এসব কথা বলেন। বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন (বিএফইউজে) ও ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন (ডিইউজে) এই আলোচনা সভার আয়োজন করে। ডিইউজের সভাপতি মো. শহিদুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। ডিইউজের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক দিদারুল আলম দিদারের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বিএফইউজের মহাসচিব কাদের গনি চৌধুরী। ইতিহাসের প্রেক্ষাপট টেনে তথ্যমন্ত্রী বলেন, ১৯৭৫ সালের জানুয়ারি সংবিধানে চতুর্থ সংশোধনী অন্তর্ভুক্তের মাধ্যমে মহান স্বাধীনতা যুদ্ধের মূল চেতনাকে হত্যা করে একদলীয় শাসন কায়েম করা হয়েছিল। সেদিনের স্বৈরাচারী শাসকরা বুঝতে পেরেছিল, জনগণের কণ্ঠস্বর ও ক্ষোভ রোধ করতে গণমাধ্যমকে গলা টিপে হত্যা করতে হবে; নতুবা তারা রক্ষা পাবে না। সে কারণে ১৯৭৫ সালের ১৬ জুন তারা সংবাদপত্রের কণ্ঠস্বরকে আনুষ্ঠানিকভাবে হত্যা করেছিল। তিনি আরও বলেন, ‘অতীতে পালিয়ে যাওয়া ফ্যাসিবাদের ভাইরাসের জীবনী আমাদের ভালো করে পাঠ করা দরকার। আমাদের মনের অজান্তে লুকিয়ে থাকা স্বৈরাচারী মানসিকতার বিরুদ্ধে তা ‘অ্যান্টিভাইরাস’ হিসেবে কাজ করবে।’ তথ্যপ্রযুক্তির বর্তমান চরিত্র তুলে ধরে জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, ৫০ বছর আগে কেবল ছাপার অক্ষরের গণমাধ্যম ছিল। কিন্তু এখন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে ঘরে বসেই প্রতিনিয়ত সত্য কিংবা বিকৃত তথ্য উৎপাদন করা যাচ্ছে। পরে তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ২৪ ঘণ্টা ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে। বর্তমান প্রযুক্তির অপব্যবহারের উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার প্রযুক্তিগত সংকটের নতুন চেহারা আমাদের অনুধাবন ও সমাধান করতে হবে। এর বাইরে বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পড়া ‘সিটিজেন জার্নালিজম’ বা নাগরিক সাংবাদিকতার বাস্তবতাকে অস্বীকারের সুযোগ নেই, বরং একে কাঠামোবদ্ধ করতে হবে। এই লক্ষ্যে ইতোমধ্যে অস্ট্রেলিয়া, যুক্তরাজ্য ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) নতুন আইন প্রণয়ন করেছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। মন্ত্রী বলেন, সরকার যতই স্বাধীনতা দিক না কেন, মিডিয়া মালিকরা যদি স্বাধীনতা ও সঠিক বেতন-ভাতা না দেয় এবং মর্যাদাপূর্ণ পরিবেশ না রাখে, তবে সাংবাদিকরা স্বাধীন হতে পারবে না। রাষ্ট্রকে অবশ্যই সাংবাদিকদের পেশাগত আর্থিক নিরাপত্তা ও সামাজিক মর্যাদা নিশ্চিত করতে হবে। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, যে গণমাধ্যম নিজেকে ‘শিল্প প্রতিষ্ঠান’ হিসেবে দাবি করবে, তাকে অবশ্যই দেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী পরিচালিত হতে হবে। একই সঙ্গে কর্মচারীদের শতভাগ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। তবে মুনাফাভিত্তিক শিল্পের বাইরে যেসব গণমাধ্যম কেবল জনকল্যাণে নিয়োজিত থাকবে, তাদের রাষ্ট্র বিশেষ প্রণোদনা বা ইনসেনটিভ এবং সহযোগিতা দেবে। তথ্যমন্ত্রী বলেন, সরকার ইতোমধ্যেই এডিটরস কাউন্সিল ও টেলিভিশন অ্যাসোসিয়েশনসহ সব অংশীজনের সঙ্গে মতবিনিময় করেছে। খুব শিগগিরই কোয়াসি-জুডিশিয়াল (আধা-বিচারিক) ক্ষমতাসহ একটি শক্তিশালী ‘গণমাধ্যম কমিশন’ গঠন করা হবে, যা ফ্যাসিবাদ-উত্তর বাংলাদেশের সবচেয়ে শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান হবে। প্রধান অতিথি ও বিএনপি মহাসচিবের উদ্দেশ্যে আহ্বান জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, গণমাধ্যমের স্বাধীনতার প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের জন্য সরকারে একটি উচ্চপর্যায়ের গুরুত্বপূর্ণ ‘নীতি নির্ধারণী ফোরাম’ রাখা দরকার, যা তথ্য মন্ত্রণালয়কে নিয়মিত গাইড করবে।  তিনি বলেন, ‘গণমাধ্যম যদি সঠিক নীতির মাধ্যমে রাষ্ট্রকে সবসময় প্রশ্নের মুখোমুখি রাখতে পারে, তবে রাষ্ট্র ও সরকার কোনো ভুল করতে পারবে না, দেশ সঠিক পথে এগিয়ে যাবে।’ আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য দেন জাতীয় প্রেস ক্লাবের সভাপতি কবি হাসান হাফিজ, টেলিভিশন এডিটরস কাউন্সিলের আহ্বায়ক ও বাংলা ভিশনের প্রধান সম্পাদক ড. আবদুল হাই সিদ্দিক এবং প্রতিদিনের বাংলাদেশ পত্রিকার সম্পাদক ও বিশিষ্ট সাংবাদিক মারুফ কামাল খান সোহেল। এছাড়াও বক্তব্য দেন, বিএফইউজে’র সহ সভাপতি খায়রুল বাশার, এ কে এম মহসিন, সহকারী মহাসচিব ড. সাদিকুল ইসলাম, প্রচার সম্পাদক শাহজাহান সাজু, সাংগঠনিক সম্পাদক এরফানুল হক নাহিদসহ দেশের বিভিন্ন সাংবাদিক সংগঠনের নেতারা।

নিজস্ব প্রতিবেদক জুন ১৭, ২০২৬ 0
তাসনিম জারা
হাসনাত ও মোশাররফকে ঘিরে বিতর্ক: ‘রাজনৈতিক দেউলিয়াত্বের বহিঃপ্রকাশ’ বললেন তাসনিম জারা

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতা হাসনাত আবদুল্লাহ এবং জনপ্রিয় অভিনেতা মোশাররফ করিমকে ঘিরে সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহ নিয়ে প্রকাশ্যে অবস্থান জানিয়েছেন রাজনীতিক ও চিকিৎসক তাসনিম জারা। তিনি বিদেশের মাটিতে হামলা, ডিম নিক্ষেপ এবং বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টাকে রাজনৈতিক হতাশা ও দেউলিয়াত্বের বহিঃপ্রকাশ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। মঙ্গলবার (১৬ জুন) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে তাসনিম জারা বলেন, মতপার্থক্য থাকলেও রাজনৈতিক বা সামাজিক ব্যক্তিত্বদের বিরুদ্ধে এ ধরনের আচরণ গণতান্ত্রিক চর্চার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। তিনি মনে করেন, এসব কর্মকাণ্ড জনস্বার্থের পরিপন্থী এবং রাজনৈতিক সংস্কৃতিকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। কী ঘটেছে? সাম্প্রতিক সময়ে লন্ডনে একটি সভাকে কেন্দ্র করে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। ওই ঘটনায় ডিম নিক্ষেপের অভিযোগ সামনে আসে, যা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়। অন্যদিকে, ভারতের কলকাতায় অভিনেতা মোশাররফ করিম ও তার স্ত্রী রোবেনা রেজা জুঁইকে ঘিরে অপ্রীতিকর ঘটনার খবর সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। তবে পরে মোশাররফ করিম নিজেই বিষয়টিকে গুজব হিসেবে উল্লেখ করে এসব দাবি নাকচ করেন। তাসনিম জারার বক্তব্য ফেসবুক পোস্টে তাসনিম জারা স্পষ্টভাবে বলেন, বিদেশে হামলা, ডিম নিক্ষেপ কিংবা বিশৃঙ্খলা তৈরির মতো কর্মকাণ্ড রাজনৈতিক শক্তির প্রকাশ নয়; বরং তা রাজনৈতিক ব্যর্থতা ও হতাশার প্রতিফলন। তিনি হাসনাত আবদুল্লাহ ও মোশাররফ করিমের প্রতি সমর্থন জানিয়ে তাদের পাশে থাকার কথাও উল্লেখ করেন। একই সঙ্গে তিনি ইঙ্গিত দেন, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও ভিন্নমতের প্রতি সহনশীলতা গণতান্ত্রিক সমাজের অন্যতম ভিত্তি হওয়া উচিত। রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রতিক্রিয়া বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা তৈরি করেছে। রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, সাংস্কৃতিক অঙ্গনের ব্যক্তিত্ব এবং সাধারণ নাগরিকদের মধ্যে এ নিয়ে ভিন্নমত দেখা গেলেও সহিংস বা অপমানজনক আচরণ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন অনেকে। তাসনিম জারার মন্তব্যও সেই বিতর্কে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। তার বক্তব্যে রাজনৈতিক সংস্কৃতি, সহনশীলতা এবং ভিন্নমত প্রকাশের সীমা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। কেন আলোচনায় এই ঘটনা? বাংলাদেশের রাজনীতি ও সংস্কৃতি অঙ্গনের পরিচিত দুই ব্যক্তিত্ব—হাসনাত আবদুল্লাহ ও মোশাররফ করিমকে ঘিরে কয়েক দিনের ব্যবধানে আলোচিত দুটি ঘটনা সামনে আসে। এর পরিপ্রেক্ষিতে তাসনিম জারার প্রকাশ্য অবস্থান সামাজিক মাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং ব্যাপক প্রতিক্রিয়ার জন্ম দেয়। পর্যবেক্ষকদের মতে, রাজনৈতিক মতভেদ থাকলেও ব্যক্তি আক্রমণ, অপদস্থ করার চেষ্টা বা বিশৃঙ্খল আচরণ গণতান্ত্রিক চর্চার জন্য ইতিবাচক বার্তা বহন করে না। তাসনিম জারার বক্তব্য সেই প্রশ্নটিকেই আবারও সামনে নিয়ে এসেছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক জুন ১৬, ২০২৬ 0
জিয়া শিশু-কিশোর মেলার ঢাকা মহানগর উত্তর কমিটির যুগ্ম-আহ্বায়ক হলেন জহুরুল হাসান তালুকদার

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : জিয়া শিশু-কিশোর মেলার ঢাকা মহানগর উত্তর কমিটির যুগ্ম-আহ্বায়ক পদে মনোনীত হয়েছেন বরিশালের বিশিষ্ট কণ্ঠশিল্পী, গীতিকার, সুরকার, সংগীত পরিচালক, সাংস্কৃতিক সংগঠক ও উন্নয়নকর্মী মোঃ জহুরুল হাসান তালুকদার। সম্প্রতি সংগঠনটির কেন্দ্রীয় কমিটির এক জরুরি সভায় এ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। পরে কেন্দ্রীয় কমিটির পক্ষ থেকে প্রকাশিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে তাঁর মনোনয়নের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়। সংগঠনের নেতারা জানিয়েছেন, শিশু-কিশোরদের মানসিক, নৈতিক ও সাংস্কৃতিক বিকাশে দীর্ঘদিনের সম্পৃক্ততা, সাংগঠনিক দক্ষতা এবং সাংস্কৃতিক অঙ্গনে তাঁর অভিজ্ঞতা সংগঠনের কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ আশা প্রকাশ করেন, সংগঠনের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য বাস্তবায়নে তিনি কার্যকর নেতৃত্ব প্রদান করবেন। সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আরও উল্লেখ করা হয়, শিশু-কিশোরদের সৃজনশীলতা বিকাশ, দেশপ্রেম ও নৈতিক মূল্যবোধ গঠনে জিয়া শিশু-কিশোর মেলার কার্যক্রমকে সম্প্রসারণে নবনিযুক্ত যুগ্ম-আহ্বায়ক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবেন বলে সংগঠনটির প্রত্যাশা। এদিকে তাঁর এই মনোনয়নে অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানিয়েছেন বরিশালের বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ। শুভেচ্ছা জানানো ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছেন সাবেক বরিশাল জাসাসের সভাপতি হাসিব আহম্মেদ অপু, জাসাস মহানগর বরিশালের আহ্বায়ক মীর আদনান উদ্দীন আহম্মেদ তুহিন, সদস্য-সচিব কামরুল আহসান মোঃ মাহবুব (রুমী), জাসাস বরিশাল জেলা উত্তরের আহ্বায়ক মোঃ কবির ঢালী এবং বরিশাল জেলা দক্ষিণের সদস্য-সচিব আহমেদুর কবির বিপ্লব। অভিনন্দন বার্তায় তারা বলেন, জহুরুল হাসান তালুকদারের নেতৃত্ব ও অভিজ্ঞতা শিশু-কিশোরদের সৃজনশীল বিকাশ এবং সাংস্কৃতিক চর্চা বিস্তারে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে। নবনির্বাচিত যুগ্ম-আহ্বায়ক মোঃ জহুরুল হাসান তালুকদার তাঁর ওপর অর্পিত দায়িত্ব যথাযথভাবে পালনের জন্য সকলের সহযোগিতা, পরামর্শ ও দোয়া কামনা করেছেন।

নিজস্ব প্রতিবেদক জুন ১৪, ২০২৬ 0
রাশেদ খান
নির্বাচনের আগে ‘ত্যাগের রাজনীতি’, পরে সুবিধা চাওয়ার অভিযোগ: জামায়াত-এনসিপিকে ঘিরে নতুন বিতর্ক

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : নির্বাচনের আগে সরকারি সুযোগ-সুবিধা গ্রহণ না করার যে রাজনৈতিক অবস্থানের কথা বলা হয়েছিল, ক্ষমতার কাঠামোর কাছাকাছি পৌঁছানোর পর সেই অবস্থান কতটা অপরিবর্তিত থাকে—এ প্রশ্ন নতুন করে সামনে এনেছেন বিএনপি নেতা রাশেদ খান। মঙ্গলবার (৯ জুন) নিজের ফেসবুক পোস্টে তিনি জামায়াতে ইসলামী ও জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-কে লক্ষ্য করে দাবি করেন, নির্বাচনের আগে তারা সরকারি বাড়ি-গাড়ি ও অন্যান্য সুবিধা গ্রহণ না করার কথা বললেও সংসদে প্রবেশের পর গাড়ি ও অফিসের দাবি তুলেছে। রাশেদ খান, যিনি একসময় গণ অধিকার পরিষদের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং পরে বিএনপিতে যোগ দেন, লিখেছেন যে শুরুতে জামায়াত ও এনসিপির নেতারা ক্ষমতায় গেলে সরকারি বাড়ি-গাড়ির সুবিধা নেবেন না বলে প্রচার করেছিলেন। কিন্তু বাস্তবে সংসদে যাওয়ার পর তাদের অবস্থানে পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে বলে তিনি অভিযোগ করেন। মারদিয়া মমতাজকে ঘিরেও প্রশ্ন ফেসবুক পোস্টে সংরক্ষিত নারী আসনের সদস্য মারদিয়া মমতাজের সাম্প্রতিক বক্তব্য নিয়েও প্রশ্ন তোলেন রাশেদ খান। তার দাবি, মারদিয়া মমতাজ বলেছেন আত্মীয়ের বাসায় থেকে সংসদে যাতায়াত করা কষ্টসাধ্য হওয়ায় সরকারি আবাসনের প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। এ প্রসঙ্গে রাশেদ খান প্রশ্ন করেন, যদি তিনি অতীতে শিক্ষকতা এবং নিয়মিত টেলিভিশন টকশোতে অংশগ্রহণ করতে পারেন, তাহলে একই পরিস্থিতিতে সংসদীয় দায়িত্ব পালনে অতিরিক্ত সুবিধার প্রয়োজন কেন দেখা দিল। পুরোনো টকশো অভিজ্ঞতার উল্লেখ পোস্টে রাশেদ খান একটি টেলিভিশন টকশোতে মারদিয়া মমতাজের সঙ্গে অংশ নেওয়ার অভিজ্ঞতার কথাও তুলে ধরেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, ওই অনুষ্ঠানে মারদিয়া মমতাজ শিক্ষক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক পরিচয়ে উপস্থিত ছিলেন। তবে আলোচনার সময় তার বক্তব্যে জামায়াতপন্থী অবস্থান স্পষ্ট ছিল বলে রাশেদ খানের দাবি। তিনি আরও বলেন, আলোচনার এক পর্যায়ে মারদিয়া মমতাজ নিজেকে জামায়াতের কোনো পদধারী বা আনুষ্ঠানিক কর্মী নয়, বরং সমর্থক হিসেবে পরিচয় দিয়েছিলেন। আদর্শ বনাম বাস্তবতার প্রশ্ন রাশেদ খানের পোস্টের সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ অংশটি ছিল রাজনৈতিক আদর্শ ও বাস্তব রাজনীতির মধ্যে ব্যবধান নিয়ে তার মন্তব্য। তিনি ব্যঙ্গাত্মক ভঙ্গিতে বলেন, এমন এক রাজনৈতিক দর্শনের কথা বলা হচ্ছে যেখানে নির্বাচনের আগে গাড়ি, বাড়ি ও অফিসের প্রয়োজন হয় না, কিন্তু নির্বাচনের পর সেই প্রয়োজনীয়তাই সামনে চলে আসে। তার এই বক্তব্য মূলত রাজনৈতিক দলগুলোর নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি ও ক্ষমতার কাছাকাছি যাওয়ার পর বাস্তব অবস্থানের মধ্যে পার্থক্য নিয়ে নতুন বিতর্ক সৃষ্টি করেছে। রাজনৈতিক তাৎপর্য বিশ্লেষকরা বলছেন, সংসদীয় সুযোগ-সুবিধা গ্রহণের প্রশ্নটি কেবল প্রশাসনিক নয়; এটি রাজনৈতিক বিশ্বাসযোগ্যতার সঙ্গেও জড়িত। কোনো দল বা রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব যদি নির্বাচনের আগে কঠোর নৈতিক অবস্থান গ্রহণ করে, তবে পরবর্তীতে সেই অবস্থান থেকে বিচ্যুতির অভিযোগ তাদের রাজনৈতিক ভাবমূর্তিকে প্রভাবিত করতে পারে। তবে রাশেদ খানের অভিযোগের বিষয়ে জামায়াতে ইসলামী, এনসিপি বা মারদিয়া মমতাজের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

নিজস্ব প্রতিবেদক জুন ৯, ২০২৬ 0
জামায়াতে ইসলামীর আমির ড. শফিকুর রহমান।
ইসলামী ব্যাংক নিয়ে সংসদে শফিকুর রহমানের সতর্কবার্তা, শেয়ার ফেরতের দাবি

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : ইসলামী ব্যাংকের মালিকানা, নিয়োগ এবং আর্থিক স্থিতিশীলতা নিয়ে জাতীয় সংসদে নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছেন বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ড. শফিকুর রহমান। মঙ্গলবার (৯ জুন) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় (বাজেট) অধিবেশনে ৬৮ বিধিতে দেওয়া নোটিশের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি দাবি করেন, অতীতে জোরজবরদস্তি ও অনিয়মের মাধ্যমে ইসলামী ব্যাংকের প্রকৃত শেয়ারহোল্ডারদের কাছ থেকে মালিকানা কেড়ে নেওয়া হয়েছিল। তার ভাষ্য অনুযায়ী, সেই মালিকানা অবিলম্বে প্রকৃত মালিকদের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া প্রয়োজন। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীরবিক্রমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত অধিবেশনে শফিকুর রহমান বলেন, ইসলামী ব্যাংকের বর্তমান ও অতীত মালিকানা কাঠামো নিয়ে নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া উচিত। শেয়ারহোল্ডাররা কীভাবে মালিকানা অর্জন করেছেন, সেটিও তদন্তের মাধ্যমে স্পষ্ট হওয়া প্রয়োজন বলে তিনি উল্লেখ করেন। ‘জোরপূর্বক মালিকানা হস্তান্তরের’ অভিযোগ সংসদে দেওয়া বক্তব্যে তিনি অভিযোগ করেন, অতীতে চাপ প্রয়োগের মাধ্যমে প্রকৃত শেয়ারহোল্ডারদের কাছ থেকে শেয়ার হস্তান্তর করানো হয়েছিল। তার দাবি, এর ফলে ব্যাংকটির স্বাভাবিক কার্যক্রম ও আর্থিক অবস্থান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে তিনি এসব অভিযোগের পক্ষে নতুন কোনো নথি বা প্রমাণ সংসদে উপস্থাপন করেননি। ফলে বিষয়টি তদন্তের মাধ্যমে যাচাইয়ের দাবি আরও গুরুত্ব পেয়েছে। নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন ইসলামী ব্যাংকের নিয়োগ কার্যক্রম নিয়েও প্রশ্ন তোলেন বিরোধীদলীয় নেতা। তিনি বলেন, নির্ধারিত নিয়ম, প্রকাশ্য নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি কিংবা প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার বাইরে গিয়ে হাজার হাজার কর্মী নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। তার মতে, এ ধরনের নিয়োগ প্রক্রিয়া ব্যাংকের প্রশাসনিক কাঠামো ও জবাবদিহিতাকে দুর্বল করতে পারে। তবে সংশ্লিষ্ট নিয়োগগুলোর বিষয়ে তিনি কোনো নির্দিষ্ট সময়কাল বা প্রশাসনের নাম উল্লেখ করেননি। ৭০০ কোটি টাকার অভিযোগে পাল্টা চ্যালেঞ্জ আলোচনার একপর্যায়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় শফিকুর রহমান ৭০০ কোটি টাকার ঋণ নির্বাচনি তহবিলে ব্যবহারের অভিযোগ প্রসঙ্গেও কথা বলেন। তিনি বলেন, অভিযোগটি প্রমাণিত হলে তিনি ব্যক্তিগতভাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে ‘মেডেল’ দেবেন। এই মন্তব্যের মাধ্যমে তিনি অভিযোগটির সত্যতা নিয়ে প্রকাশ্য চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেন। ‘শুধু একটি ব্যাংক নয়, আস্থার প্রতীক’ শফিকুর রহমানের বক্তব্যের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিল ব্যাংকটির অর্থনৈতিক গুরুত্ব নিয়ে তার মূল্যায়ন। তিনি বলেন, ইসলামী ব্যাংক কেবল একটি আর্থিক প্রতিষ্ঠান নয়; এটি লাখো গ্রাহকের আস্থার জায়গা। ব্যাংকটি কোনো কারণে বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়লে শুধু প্রতিষ্ঠানটি নয়, পুরো ব্যাংকিং খাতেই আস্থার সংকট তৈরি হতে পারে। সম্প্রতি গ্রাহকদের বড় অঙ্কের আমানত উত্তোলনের ঘটনাও তিনি উল্লেখ করেন। তার মতে, এই প্রবণতা অব্যাহত থাকলে তা দেশের আর্থিক ব্যবস্থার ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করতে পারে। সরকারের প্রতি আহ্বান বক্তব্যের শেষাংশে তিনি সরকারের প্রতি রাজনৈতিক অবস্থান বা পূর্বধারণার বাইরে গিয়ে বাস্তবতার ভিত্তিতে ইসলামী ব্যাংককে ঘিরে উদ্ভূত সংকট মোকাবিলার আহ্বান জানান। তার ভাষায়, সময়মতো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া না হলে এর প্রভাব শুধু একটি ব্যাংকের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না; বরং দেশের সামগ্রিক অর্থনীতিতেও বড় ধরনের নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখা দিতে পারে।

নিজস্ব প্রতিবেদক জুন ৯, ২০২৬ 0
মাহফুজ আলম
আওয়ামী লীগ প্রশ্নে বিএনপি-জামায়াতের ‘ইনসিকিউরিটি’: তরুণদের ভবিষ্যৎ নিয়ে শঙ্কা মাহফুজ আলমের

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে আওয়ামী লীগকে ঘিরে বিরোধী শক্তিগুলোর অবস্থান ও ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক সমীকরণ নিয়ে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক উপদেষ্টা মাহফুজ আলম। তিনি দাবি করেছেন, আওয়ামী লীগ প্রশ্নে দেশের দুই প্রধান ইসলামপন্থী ও জাতীয়তাবাদী রাজনৈতিক শক্তি—বিএনপি এবং জামায়াতে ইসলামী—উভয়ই এক ধরনের রাজনৈতিক ‘ইনসিকিউরিটিতে’ ভুগছে। সোমবার (১ জুন) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক দীর্ঘ পোস্টে তিনি রাজনৈতিক দলগুলোর অবস্থান, অতীত অভিজ্ঞতা এবং ভবিষ্যৎ ক্ষমতার রাজনীতির সম্ভাব্য চিত্র তুলে ধরে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। বিশেষ করে আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে আন্দোলনে সক্রিয় থাকা তরুণ প্রজন্মের ভবিষ্যৎ নিয়ে তিনি সতর্কবার্তা দেন। ‘লীগ প্রশ্নে দুই বড় দলের ইনসিকিউরিটি’ মাহফুজ আলমের ভাষ্য অনুযায়ী, আওয়ামী লীগকে কেন্দ্র করে বর্তমানে যে রাজনৈতিক বিতর্ক ও অবস্থানগত প্রতিযোগিতা চলছে, তার মূল কারণ দুই বড় দলের অনিরাপত্তাবোধ। তিনি লেখেন, “লীগ প্রশ্নে এখন যা চলছে, তা হচ্ছে দুই বড় দলের ইনসিকিউরিটি। কৌন বনেগা লীগকা বাপ? ’৮৬ আর ’৯৬-এর স্মৃতি বিএনপি ভুলতে পারছে না, আর জামায়াত আছে আদর্শিক শত্রুতা ও সহিংসতার ভয়ে।” তার মতে, বিএনপির এই অবস্থানের পেছনে রয়েছে ১৯৮৬ ও ১৯৯৬ সালের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা। অন্যদিকে জামায়াতের আশঙ্কার উৎস নব্বইয়ের দশকে বিএনপি ও আওয়ামী লীগের সঙ্গে সংঘাতময় সম্পর্ক এবং অতীত রাজনৈতিক সহিংসতার স্মৃতি। ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক সমীকরণ নিয়ে আশঙ্কা পোস্টে মাহফুজ আলম একটি সম্ভাব্য রাজনৈতিক পরিস্থিতির কথাও উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, যদি ভবিষ্যতে বিএনপি ক্ষমতায় আসে, তাহলে তারা ‘বহুদলীয় গণতন্ত্র’-এর কাঠামোর মধ্যেই নিজেদের রাজনৈতিক অবস্থান সুসংহত করবে। একই সময়ে জামায়াতে ইসলামী অপেক্ষাকৃত নীরব অবস্থান নিতে পারে। তার ভাষায়, “আগামীতে বিএনপি (আল্লাহ না করুক) ক্ষমতায় থেকে বহুদলীয় গণতন্ত্র করে নেবে আর জামায়াত চুপ মেরে গুপ্ত হয়ে যাবে।” এই পরিস্থিতিতে সবচেয়ে বড় ঝুঁকিতে পড়তে পারেন আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে আন্দোলন ও প্রতিরোধে যুক্ত থাকা নতুন প্রজন্মের কর্মী ও রাজনৈতিকভাবে সক্রিয় তরুণরা বলে মন্তব্য করেন তিনি। ‘আসল বিপদ তরুণদের জন্য’ মাহফুজ আলমের মতে, আওয়ামী লীগের ‘ফ্যাসিবাদ’ বিরোধী আন্দোলনে যারা সামনের সারিতে ছিলেন, তাদের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ সবচেয়ে বেশি অনিশ্চয়তার মুখে পড়তে পারে। তিনি দাবি করেন, জামায়াতের সঙ্গে রাজনৈতিক জোট বা সমঝোতার কারণে সেই ঝুঁকি আরও বেড়েছে। তার বক্তব্য অনুযায়ী, রাজনৈতিক দলগুলোর ক্ষমতার হিসাব-নিকাশের মধ্যে আন্দোলনকারী তরুণদের স্বার্থ প্রায়ই উপেক্ষিত হয়, যা বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে নতুন নয়। তরুণদের প্রতি আহ্বান: ‘রুটি বড় করুন’ নিজের পোস্টে তরুণ প্রজন্মকে উদ্দেশ করে মাহফুজ আলম বলেন, তারা বর্তমানে সীমিত রাজনৈতিক সুযোগ-সুবিধা নিয়ে নিজেদের মধ্যে প্রতিযোগিতায় ব্যস্ত। তিনি লেখেন, “এ প্রজন্ম ব্যস্ত নিজেদের হাতের তালুর চেয়ে ছোট রুটি ভাগাভাগিতে। রুটিটা বড় করেন।” তরুণদের উদ্দেশে তিনি আরও বলেন, তাদের মধ্যে এমন সক্ষমতা রয়েছে যা শুধু বাংলাদেশ নয়, গোটা ‘গ্লোবাল সাউথ’-এর নেতৃত্ব দেওয়ার সম্ভাবনা তৈরি করতে পারে। এ জন্য তিনি প্রতিষ্ঠান নির্মাণ, সামাজিক প্রভাব বিস্তার, সাংগঠনিক সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং দীর্ঘমেয়াদি রাজনৈতিক পরিকল্পনার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। ‘আগের প্রজন্ম আপনাদের বাঁচাবে না’ বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের বিভিন্ন পর্যায়ের উদাহরণ টেনে মাহফুজ আলম বলেন, অতীতেও তরুণ প্রজন্মকে রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করা হয়েছে। তিনি মন্তব্য করেন, “বড়রা হাটে নিয়ে বিক্রি করে দিয়েছে এ প্রজন্মকে। এভাবেই খেয়ে ফেলা হয় তরুণদের। সেটা ’৭০-এর দশকে, ’৯০-এর দশকেও ঘটেছে।” তার মতে, বর্তমান রাজনৈতিক সংগ্রাম মূলত প্রজন্মগত লড়াই এবং নতুন প্রজন্মকে নিজেদের ভবিষ্যৎ নিজেরাই নির্মাণ করতে হবে। ‘কিবলা রাখেন জুলাই আর অ্যান্টি-ফ্যাসিজম’ পোস্টের শেষাংশে তিনি রাজনৈতিক সহযোদ্ধা ও তরুণদের প্রতি ব্যক্তি আক্রমণ ও বিদ্বেষের রাজনীতি থেকে দূরে থাকার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, “নিজেদের মধ্যে ব্যক্তি আক্রমণ আর বিদ্বেষচর্চা বন্ধ করেন। কিবলা রাখেন জুলাই আর অ্যান্টি-ফ্যাসিজম।” মাহফুজ আলমের মতে, আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে আন্দোলনে অংশগ্রহণকারীরা নিশ্চিত ঝুঁকি ও প্রতিকূলতা জেনেও সংগ্রাম করেছেন। এখন সেই সাহসের সঙ্গে সাংগঠনিক শক্তি, রাজনৈতিক পরিকল্পনা এবং দীর্ঘমেয়াদি কৌশল যুক্ত করতে হবে, যাতে ভবিষ্যতে কোনো ধরনের ফ্যাসিবাদ পুনরায় প্রতিষ্ঠিত হতে না পারে।

নিজস্ব প্রতিবেদক জুন ২, ২০২৬ 0
তারেক রহমান
‘সামনে অত্যন্ত কঠিন সময়’: সরকার পরিচালনায় নেতা-কর্মীদের সতর্ক করলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন ডেস্ক : শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাতবার্ষিকীর আলোচনা সভা শুধু একটি স্মরণানুষ্ঠানেই সীমাবদ্ধ থাকেনি; এটি ক্ষমতাসীন বিএনপি সরকারের রাজনৈতিক অগ্রাধিকার, ভবিষ্যৎ চ্যালেঞ্জ এবং দলীয় কর্মীদের প্রতি সরকারের প্রত্যাশার একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তায় পরিণত হয়েছে। রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশ (কেআইবি) মিলনায়তনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, দেশের জনগণের প্রত্যাশা পূরণে সরকার বদ্ধপরিকর। তবে একইসঙ্গে তিনি সতর্ক করে দিয়েছেন যে সামনে ‘অত্যন্ত কঠিন’ এবং ‘অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ’ সময় অপেক্ষা করছে। কেন ‘কঠিন সময়ের’ কথা বললেন প্রধানমন্ত্রী? তারেক রহমানের বক্তব্যের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিল সরকারের সামনে থাকা চ্যালেঞ্জ নিয়ে তার সতর্কবার্তা। তিনি বলেন, সামনে এমন একটি সময় আসছে, যা হালকাভাবে নেওয়া হলে দেশের জন্য অপূরণীয় ক্ষতির কারণ হতে পারে। তার ভাষায়, এই ক্ষতি ব্যক্তি বা রাজনৈতিক দলের নয়; বরং দেশের এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ক্ষমতায় আসার পর বিএনপির সামনে এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হচ্ছে নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন, প্রশাসনিক সংস্কার, অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা এবং জনগণের প্রত্যাশা পূরণ করা। ‘জিয়ার দর্শন’কে রাষ্ট্র পরিচালনার ভিত্তি হিসেবে তুলে ধরা অনুষ্ঠানে তারেক রহমান বারবার শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের রাজনৈতিক দর্শনের কথা উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, দেশের মানুষ যে নির্বাচনী ইশতেহারের পক্ষে রায় দিয়েছে, সেটি মূলত জিয়াউর রহমানের পথনির্দেশনা অনুসরণ করেই প্রণয়ন করা হয়েছে। তার বক্তব্যে স্পষ্টভাবে উঠে আসে যে বর্তমান সরকার নিজেদের রাজনৈতিক বৈধতা এবং নীতিগত অবস্থানকে জিয়ার রাজনৈতিক উত্তরাধিকারের সঙ্গে যুক্ত করে দেখতে চায়। তিনি দাবি করেন, জিয়াউর রহমান দেশের বিভিন্ন খাতকে ধাপে ধাপে এগিয়ে নিয়ে একটি স্বাবলম্বী বাংলাদেশ গঠনের স্বপ্ন দেখেছিলেন এবং বর্তমান সরকার সেই ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে চায়। নির্বাচনী ইশতেহার: দলীয় অঙ্গীকার থেকে ‘জনগণের পরিকল্পনা’ বক্তব্যে তারেক রহমান একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ব্যাখ্যা তুলে ধরেন। তার মতে, নির্বাচনের আগে ইশতেহার ছিল বিএনপির রাজনৈতিক পরিকল্পনা; কিন্তু জনগণ দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা দিয়ে সমর্থন দেওয়ার পর সেটি আর শুধু দলের নয়, জনগণের পরিকল্পনায় পরিণত হয়েছে। এ কারণে সরকারের ওপর এখন সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের নৈতিক ও রাজনৈতিক দায় সৃষ্টি হয়েছে। এই বক্তব্যের মাধ্যমে তিনি নির্বাচনী অঙ্গীকার পূরণের প্রশ্নে সরকারের জবাবদিহিতার বিষয়টিও সামনে আনেন। দলীয় কর্মীদের প্রতি বিশেষ বার্তা তারেক রহমানের বক্তব্যের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিল দলীয় নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে দেওয়া নির্দেশনা। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, শুধু মন্ত্রী বা সংসদ সদস্যদের পরিশ্রমে একটি সরকার সফল হতে পারে না। বরং বিএনপি, যুবদল, ছাত্রদল, স্বেচ্ছাসেবক দল, মহিলা দল, শ্রমিক দলসহ সব অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীদের মাঠপর্যায়ে সক্রিয় থাকতে হবে। তার মতে, নির্বাচনে বিজয় অর্জনের মধ্য দিয়ে দায়িত্ব শেষ হয়নি; বরং সরকারের কর্মসূচি বাস্তবায়নের মধ্য দিয়েই প্রকৃত সাফল্য অর্জিত হবে। গণতন্ত্র, বিচার ও শিক্ষা সংস্কারের প্রতিশ্রুতি সরকারের ভবিষ্যৎ অগ্রাধিকার নিয়েও বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, মুক্তিযুদ্ধ-পরবর্তী সময় থেকে শুরু করে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বিচারব্যবস্থা, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এসব খাত পুনর্গঠন এবং গণতান্ত্রিক কাঠামোকে শক্তিশালী করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি। বক্তব্যে সামাজিক অবক্ষয় ও পারিবারিক মূল্যবোধের সংকট নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন তারেক রহমান। তিনি জানান, সামাজিক ও পারিবারিক মূল্যবোধ শক্তিশালী করতে সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। জিয়ার স্মৃতিচারণ এবং রাজনৈতিক উত্তরাধিকার বক্তব্যের শেষাংশে আবেগঘনভাবে নিজের বাবা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানকে স্মরণ করেন তারেক রহমান। তিনি বলেন, একসময় আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বাংলাদেশকে অনেকেই জিয়াউর রহমানের মাধ্যমেই চিনতেন, যা একজন সন্তান হিসেবে তাকে গর্বিত করে। এ বক্তব্যের মাধ্যমে তিনি শুধু পারিবারিক স্মৃতিচারণই করেননি; বরং জিয়াউর রহমানের রাজনৈতিক উত্তরাধিকারকে বর্তমান রাষ্ট্র পরিচালনার সঙ্গে সংযুক্ত করারও চেষ্টা করেছেন। অনুষ্ঠানে কারা ছিলেন? বিএনপির উদ্যোগে আয়োজিত এই আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী এবং বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। অনুষ্ঠানে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য, কেন্দ্রীয় নেতা, অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের প্রতিনিধিসহ বিপুলসংখ্যক নেতা-কর্মী উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া বিভিন্ন শিক্ষাবিদ ও বিশিষ্টজন জিয়াউর রহমানের রাজনৈতিক জীবন, রাষ্ট্রীয় অবদান এবং বাংলাদেশের উন্নয়ন প্রক্রিয়ায় তাঁর ভূমিকা নিয়ে আলোচনা করেন। কেন গুরুত্বপূর্ণ এই বক্তব্য? ক্ষমতায় আসার পর এটি তারেক রহমানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ভাষণ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। কারণ এতে একদিকে যেমন সরকারের রাজনৈতিক দর্শন, অগ্রাধিকার ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার ইঙ্গিত রয়েছে, অন্যদিকে দলীয় কর্মীদের জন্য দায়িত্ববোধ, শৃঙ্খলা এবং মাঠপর্যায়ের সক্রিয়তার স্পষ্ট বার্তাও রয়েছে। সব মিলিয়ে বক্তব্যটি শুধু অতীতের একজন রাষ্ট্রনায়ককে স্মরণ করার অনুষ্ঠান নয়; বরং নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতায় বিএনপি সরকারের করণীয় ও প্রত্যাশার একটি রূপরেখাও তুলে ধরেছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক জুন ২, ২০২৬ 0
শেখ হাসিনা
দেশ ছাড়ার আগে ৩ পৃষ্ঠার পদত্যাগপত্র লিখেছিলেন শেখ হাসিনা, দাবি মতিউর রহমান চৌধুরীর

ইউটিউবভিত্তিক সংবাদমাধ্যমে দেওয়া সাক্ষাৎকারে মানবজমিন সম্পাদক দাবি করেন, গণভবন ছাড়ার তাড়াহুড়োয় আনুষ্ঠানিকভাবে জমা দেওয়া হয়নি পদত্যাগপত্র; সেটি শেষ পর্যন্ত শেখ হাসিনার ব্যক্তিগত ব্যাগেই থেকে যায়। ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানের মুখে ক্ষমতা ছাড়ার প্রাক্কালে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তিন পৃষ্ঠার একটি পদত্যাগপত্র লিখেছিলেন এবং দেশ ছাড়ার সময় সেটি নিজের সঙ্গে নিয়ে যান—এমন দাবি করেছেন প্রবীণ সাংবাদিক মতিউর রহমান চৌধুরী। রোববার (৩১ মে) ইউটিউবভিত্তিক সংবাদ প্ল্যাটফর্ম ‘দ্য পোস্ট’-এ প্রচারিত এক সাক্ষাৎকারে তিনি এ তথ্য তুলে ধরেন। তবে এই দাবির পক্ষে স্বাধীনভাবে যাচাইযোগ্য কোনো সরকারি নথি বা আনুষ্ঠানিক প্রমাণ এখনো প্রকাশ্যে আসেনি। ফলে বিষয়টি রাজনৈতিক ও সাংবিধানিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ হলেও বর্তমানে তা একটি প্রত্যক্ষদর্শী-ভিত্তিক দাবি হিসেবেই বিবেচিত হচ্ছে। কী দাবি করা হয়েছে? মতিউর রহমান চৌধুরীর ভাষ্য অনুযায়ী, শেখ হাসিনা দেশত্যাগের আগে সাংবিধানিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করে আনুষ্ঠানিকভাবে পদত্যাগ করতে চেয়েছিলেন। এ উদ্দেশ্যে তিনি তিন পৃষ্ঠার একটি বিস্তারিত পদত্যাগপত্র প্রস্তুত করেন। সেই চিঠিতে সরকারের বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মকাণ্ড, রাষ্ট্র পরিচালনায় নেওয়া পদক্ষেপ এবং উদ্ভূত রাজনৈতিক সংকটের প্রেক্ষাপটে পদত্যাগের কারণ ব্যাখ্যা করা হয়েছিল বলে দাবি করেন তিনি। তার বক্তব্য অনুযায়ী, চিঠিটি আনুষ্ঠানিকভাবে টাইপ করার দায়িত্ব বাংলাদেশ টেলিভিশনের (বিটিভি) এক কর্মকর্তার ওপর দেওয়ার পরিকল্পনা ছিল। কিন্তু গণভবনের বাইরে দ্রুত অবনতিশীল পরিস্থিতির কারণে সেটি আর চূড়ান্ত রূপ পায়নি। শেষ মুহূর্তে কী ঘটেছিল? সাক্ষাৎকারে তুলে ধরা বিবরণ অনুযায়ী, ৫ আগস্ট দুপুরের দিকে গণভবনের চারপাশে বিপুলসংখ্যক বিক্ষোভকারী অবস্থান নিতে শুরু করলে নিরাপত্তা পরিস্থিতি দ্রুত বদলে যায়। সে সময় নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা সেনা কর্মকর্তারা ওয়াকিটকির মাধ্যমে বারবার সতর্কবার্তা পাঠাচ্ছিলেন বলে দাবি করেন মতিউর রহমান চৌধুরী। তার ভাষ্যমতে, দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা শেখ হাসিনাকে দ্রুত গণভবন ত্যাগের পরামর্শ দেন এবং জানান যে সেখানে অবস্থানের জন্য আর সময় নেই। এই তাড়াহুড়োর মধ্যেই শেখ হাসিনা তাঁর ব্যক্তিগত ভ্যানিটি ব্যাগ একটি চেয়ারের ওপর ফেলে বেরিয়ে যান বলে তিনি দাবি করেন। পরে গাড়িতে ওঠার আগে ব্যাগটির কথা মনে পড়লে একজন ব্রিগেডিয়ার পদমর্যাদার কর্মকর্তাকে সেটি এনে দেওয়ার নির্দেশ দেন। মতিউর রহমান চৌধুরীর দাবি, ওই ব্যাগের ভেতরেই সংরক্ষিত ছিল তিন পৃষ্ঠার সেই পদত্যাগপত্র। কেন গুরুত্বপূর্ণ এই দাবি? বাংলাদেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ইতিহাসে শেখ হাসিনার ক্ষমতা ত্যাগের প্রক্রিয়া অন্যতম আলোচিত ও বিতর্কিত বিষয়। বিশেষ করে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে পদত্যাগ করেছিলেন কি না, করলে কখন এবং কীভাবে করেছিলেন—এ প্রশ্ন নিয়ে বিভিন্ন মহলে আলোচনা রয়েছে। যদি এমন কোনো পদত্যাগপত্র বাস্তবেই থেকে থাকে, তবে সেটি ভবিষ্যতে দেশের রাজনৈতিক ইতিহাস, সাংবিধানিক বিতর্ক এবং ক্ষমতা হস্তান্তর প্রক্রিয়া নিয়ে গবেষণার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ দলিল হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। তবে এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত রাষ্ট্রপতির কার্যালয়, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ কিংবা সংশ্লিষ্ট কোনো সরকারি প্রতিষ্ঠান আনুষ্ঠানিকভাবে এমন কোনো নথির অস্তিত্ব নিশ্চিত করেনি। যা জানা জরুরি এই প্রতিবেদনে উল্লিখিত তথ্য মূলত মতিউর রহমান চৌধুরীর সাক্ষাৎকারে দেওয়া বক্তব্যের ভিত্তিতে উপস্থাপন করা হয়েছে। দাবিগুলোর স্বাধীন ও প্রামাণ্য যাচাই এখনো প্রকাশ্যে আসেনি। ফলে বিষয়টি নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর আগে সংশ্লিষ্ট সরকারি নথি, প্রত্যক্ষ সাক্ষ্য কিংবা আনুষ্ঠানিক তদন্তের তথ্য সামনে আসা প্রয়োজন।

নিজস্ব প্রতিবেদক জুন ১, ২০২৬ 0
নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর ওপর হামলার অভিযোগে মামলা
ঝিনাইদহে এনসিপি নেতাদের ওপর হামলা: ছাত্রদলের ৮ নেতার বিরুদ্ধে মামলা, আসামি অর্ধশতাধিক

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : ঝিনাইদহ শহরে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কেন্দ্রীয় নেতাদের ওপর হামলার ঘটনায় রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। দলটির মুখ্য সংগঠক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীসহ কেন্দ্রীয় নেতাদের ওপর হামলা, মারধর ও ছিনতাইয়ের অভিযোগে ছাত্রদলের সাবেক ও বর্তমান আট নেতার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। একইসঙ্গে অজ্ঞাতনামা আরও ১১০ থেকে ১১৫ জনকে আসামি করা হয়েছে। শুক্রবার (২২ মে) রাতে ঝিনাইদহ সদর থানায় মামলাটি করেন এনসিপির কেন্দ্রীয় যুগ্ম সদস্য সচিব তারেকুল ইসলাম তারেক রেজা। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ইসলামী ইউনিভার্সিটি শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক শাহেদ আহম্মেদ, জেলা ছাত্রদলের সভাপতি ইমরান হোসেন, সাবেক সভাপতি এসএম সমিনুজ্জামান সমিন, সাধারণ সম্পাদক শাহরিয়ার রাসেল, সাবেক সহ-সভাপতি নয়ন হাওলাদার, পৌর ছাত্রদলের সভাপতি মোবারেক হোসেন ইমন ও সাবেক যুগ্ম সম্পাদক হাদুসহ আটজন নেতা। হামলার ঘটনাস্থল: মসজিদ চত্বর থেকে সংঘর্ষের সূচনা মামলার এজাহার অনুযায়ী, শুক্রবার জুমার নামাজ শেষে ঝিনাইদহ শহরের পুরাতন ডিসি কোর্ট জামে মসজিদ থেকে বের হওয়ার সময় এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী এবং তার সঙ্গে থাকা নেতাকর্মীদের লক্ষ্য করে অতর্কিত হামলা চালানো হয়। অভিযোগে বলা হয়েছে, হামলাকারীরা ঘুসি, ইটপাটকেল, জিআই পাইপ, বেসবল ব্যাট ও ধারালো অস্ত্র নিয়ে হামলায় অংশ নেয়। এতে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ছাড়াও তানাইম, আসিফ, আলামিন, হাসিবুর রহমান, নাহিয়ান খান নিয়াজ ও অয়ন রহমান খানসহ কয়েকজন আহত হন। ঘটনার সময় এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয় সূত্রগুলো বলছে, জুমার নামাজ শেষে রাজনৈতিক কর্মীদের উপস্থিতি বেশি থাকায় পরিস্থিতি দ্রুত উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, সংঘর্ষের সময় কয়েক দফা ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনাও ঘটে। ছিনতাইয়ের অভিযোগ: হারিয়ে যায় ক্যামেরা ও নগদ অর্থ এজাহারে হামলার পাশাপাশি ছিনতাইয়ের অভিযোগও আনা হয়েছে। অভিযোগে বলা হয়, হামলাকারীরা একটি ডিএসএলআর ক্যামেরা, কয়েকটি মোবাইল ফোন ও নগদ টাকা নিয়ে যায়। ছিনতাই হওয়া সরঞ্জামের মধ্যে একটি সনি আলফা এ-৬৪০০ ক্যামেরা, ট্যামরন লেন্স ও মেমোরি কার্ড রয়েছে, যার আনুমানিক মূল্য প্রায় ১ লাখ ৯০ হাজার টাকা বলে দাবি করা হয়েছে। রাজনৈতিক সহিংসতার ঘটনায় মূল্যবান সরঞ্জাম ছিনতাইয়ের অভিযোগ নতুন মাত্রা যোগ করেছে। স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এটি শুধু সংঘর্ষ নয়, বরং পরিকল্পিত ভয়ভীতি প্রদর্শনের অংশ কিনা—তা তদন্তে গুরুত্ব পেতে পারে। ‘হত্যার হুমকি’ অভিযোগে বাড়ছে উদ্বেগ মামলার বর্ণনায় আরও বলা হয়েছে, পরে স্থানীয় এনসিপি নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষ এগিয়ে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করেন। তবে সেসময় হামলাকারীরা এনসিপি নেতাকর্মীদের হত্যার হুমকি দেয় বলেও অভিযোগ করা হয়েছে। এ ধরনের অভিযোগ ঝিনাইদহের রাজনৈতিক পরিবেশ নিয়ে নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে। বিশেষ করে সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন জেলায় রাজনৈতিক কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ ও হামলার প্রবণতা বাড়তে থাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়েও প্রশ্ন উঠছে। পুলিশের অবস্থান ঝিনাইদহ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জানিয়েছেন, অভিযোগ গ্রহণ করা হয়েছে এবং বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, ঘটনার ভিডিও ফুটেজ, প্রত্যক্ষদর্শীর বক্তব্য ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ক্লিপগুলোও যাচাই করা হতে পারে। হামলার প্রকৃতি, পূর্বপরিকল্পনা এবং ছিনতাইয়ের অভিযোগের সত্যতা খতিয়ে দেখতে একাধিক দিক বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে। রাজনৈতিক বার্তা ও সম্ভাব্য প্রভাব বিশ্লেষকদের মতে, এই হামলার ঘটনা স্থানীয় রাজনীতিতে নতুন মেরুকরণের ইঙ্গিত দিচ্ছে। এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতাদের ওপর প্রকাশ্য হামলার অভিযোগ রাজনৈতিক সহনশীলতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। অন্যদিকে ছাত্রদলের নেতাদের বিরুদ্ধে সরাসরি মামলা হওয়ায় বিষয়টি জাতীয় পর্যায়েও আলোচনায় আসতে পারে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, তদন্তের স্বচ্ছতা এবং দ্রুত বিচার প্রক্রিয়া নিশ্চিত না হলে এ ধরনের ঘটনা রাজনৈতিক প্রতিশোধ ও পাল্টা অভিযোগের নতুন চক্র তৈরি করতে পারে।

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ২৩, ২০২৬ 0
ঝিনাইদহে পাটওয়ারীর ওপর হামলা: রাজনৈতিক উত্তেজনা, অস্ত্রধারী বিতর্ক ও পাল্টাপাল্টি অভিযোগ

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : ঝিনাইদহে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সংগঠক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী–এর ওপর হামলার ঘটনাকে কেন্দ্র করে নতুন করে রাজনৈতিক উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। ডিম নিক্ষেপ, ইটপাটকেল ছোড়া, মারধর এবং পরবর্তীতে অস্ত্রধারী দুই যুবকের উপস্থিতির অভিযোগ—সব মিলিয়ে ঘটনাটি স্থানীয় রাজনীতিকে অস্থির করে তুলেছে। শুক্রবার জুমার নামাজ শেষে ঝিনাইদহ শহরের পুরাতন কালেক্টরেট মসজিদ চত্বরে এ ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষে অন্তত পাঁচজন আহত হওয়ার দাবি পাওয়া গেছে। ঘটনার জন্য নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী সরাসরি ছাত্রদল, যুবদল ও বিএনপিকে দায়ী করেছেন। তবে অভিযোগ অস্বীকার করে পাল্টা বিক্ষোভ মিছিল করেছে ছাত্রদল। ঘটনাস্থলে কী ঘটেছিল প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, জুমার নামাজ শেষে মসজিদ থেকে বের হওয়ার সময় ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের আহ্বায়ক শাহেদ আহমেদ–এর সঙ্গে কথা বলেন নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। কিছুক্ষণ পরই উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। এ সময় পাটওয়ারীর দিকে ডিম ছোড়া হয়। পরে তাকে ঘিরে কিল-ঘুসি, ইটপাটকেল নিক্ষেপ এবং লাঠিসোঁটা ও হকিস্টিক দিয়ে হামলার অভিযোগ ওঠে। সংঘর্ষের মধ্যে সাধারণ মানুষ দিগ্বিদিক ছুটতে শুরু করেন। পরে নেতাকর্মীদের বেষ্টনীতে মসজিদ এলাকা ত্যাগ করেন তিনি। হামলার পর ডিমে ভেজা পাঞ্জাবি পরা অবস্থায় ঝিনাইদহ সদর থানায় গিয়ে অবস্থান নেন পাটওয়ারী। কয়েক ঘণ্টা অপেক্ষার পর রাত সোয়া ৯টার দিকে তার অভিযোগ মামলা হিসেবে রেকর্ড করা হয়। “পুলিশও হামলাকারীদের সঙ্গে ছিল”—পাটওয়ারীর অভিযোগ সদর থানায় অবস্থানকালে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। তার দাবি, হামলাকারীরা নিজেদের ছাত্রদলের কর্মী হিসেবে পরিচয় দেয় এবং পরিকল্পিতভাবে তার ওপর হামলা চালায়। তিনি অভিযোগ করেন, হামলার সময় ছাত্রদল, যুবদল, বিএনপি এবং পুলিশের একটি অংশ একই অবস্থানে ছিল। তার ভাষায়, স্থানীয় রাজনৈতিক প্রভাবশালীদের “ইন্ধন” ছাড়া এ ধরনের হামলা সম্ভব নয়। পাটওয়ারী আরও দাবি করেন, সীমান্তে হত্যাকাণ্ড, তিস্তা ইস্যু, ধর্ষণবিরোধী বক্তব্য এবং মাদকের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ার কারণে তিনি রাজনৈতিকভাবে টার্গেটে পরিণত হয়েছেন। তিনি বলেন, “আমরা ভীত নই। রাজনৈতিক কর্মসূচি চলবে।” অস্ত্রধারী দুই যুবক: নতুন বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দু ঘটনার কয়েক ঘণ্টা পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে সংঘর্ষ চলাকালে অস্ত্র উঁচিয়ে থাকা দুই যুবকের ছবি। এতে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। ছাত্রদলের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, অস্ত্রধারী দুজন হলেন সদর উপজেলার কাষ্টসাগরা গ্রামের আশিক এবং মাস্টারপাড়ার সিয়াম। পরে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির একটি ফেসবুক পোস্টে তাদের “শিবিরকর্মী” হিসেবে আখ্যা দেন। তার দাবি, নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী “মব তৈরি করতে” ঝিনাইদহে গিয়েছিলেন এবং সাধারণ মানুষের প্রতিক্রিয়ার মুখে তার সঙ্গে থাকা সশস্ত্র ব্যক্তিরা অস্ত্র প্রদর্শন করে। তিনি আরও অভিযোগ করেন, অস্ত্রধারী দুই ব্যক্তি জামায়াত-শিবির সংশ্লিষ্ট পরিবারের সদস্য এবং তাদের দ্রুত গ্রেফতার করা উচিত। তবে এই অভিযোগের বিষয়ে এনসিপির পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। ছাত্রদলের পাল্টা অবস্থান বিকেলে জেলা ছাত্রদলের উদ্যোগে শহরে বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। শহীদ মিনার চত্বর থেকে শুরু হওয়া মিছিলটি বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে পায়রা চত্বরে গিয়ে শেষ হয়। সমাবেশে জেলা ছাত্রদলের সভাপতি ইমরান হোসেন, সাধারণ সম্পাদক শাহরিয়ার রাসেল এবং শাহেদ আহমেদসহ অন্য নেতারা বক্তব্য দেন। তাদের বক্তব্যে বলা হয়, হামলার সঙ্গে ছাত্রদলের কোনো সম্পৃক্ততা নেই। কারা হামলা করেছে তা তদন্ত করে বের করার দাবি জানান তারা। একই সঙ্গে এনসিপির পক্ষ থেকে ছাত্রদলকে দায়ী করাকে “অপপ্রচার” হিসেবে বর্ণনা করা হয়। রাজনৈতিক বার্তা নাকি মাঠ দখলের লড়াই? বিশ্লেষকদের মতে, ঘটনাটি কেবল একটি বিচ্ছিন্ন হামলা নয়; বরং সাম্প্রতিক রাজনৈতিক মেরুকরণের বহিঃপ্রকাশ। গণ-অভ্যুত্থান-পরবর্তী বাংলাদেশের রাজনীতিতে নতুন শক্তি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করা এনসিপি এবং ঐতিহ্যগত বিরোধী রাজনৈতিক বলয় বিএনপি-ছাত্রদলের মধ্যে মাঠের নিয়ন্ত্রণ ও জনসমর্থন নিয়ে অদৃশ্য প্রতিযোগিতা ক্রমেই প্রকাশ্য রূপ নিচ্ছে। বিশেষ করে “মব পলিটিক্স”, রাজনৈতিক কর্মসূচিতে উসকানি এবং সশস্ত্র উপস্থিতির অভিযোগ—এসব বিষয় নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতায় বড় উদ্বেগ হিসেবে দেখা দিচ্ছে। তদন্তে যেসব প্রশ্ন সামনে আসছে ঘটনার পর এখন কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন সামনে এসেছে— হামলা পূর্বপরিকল্পিত ছিল কি না অস্ত্রধারী দুই ব্যক্তি কারা এবং তারা কার সঙ্গে যুক্ত পুলিশ ঘটনাস্থলে কী ভূমিকা পালন করেছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও ও ছবির সত্যতা কতটা রাজনৈতিকভাবে ঘটনাটি ব্যবহার করা হচ্ছে কি না আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তদন্ত এবং মামলা প্রক্রিয়ার অগ্রগতির ওপর এখন নজর রাজনৈতিক মহলের।

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ২৩, ২০২৬ 0
শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ।
শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদতবার্ষিকী উপলক্ষে বিএনপির ৮ দিনের কর্মসূচি ঘোষণা

 ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) প্রতিষ্ঠাতা, বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রবক্তা, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদত বার্ষিকী উপলক্ষ্যে আগামী ২৫ মে থেকে ১ জুন পর্যন্ত আট দিনব্যাপী কর্মসূচি ঘোষণা করেছে বিএনপি।  রাজধানীর নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী এই কর্মসূচি ঘোষণা করেন। এর আগে শাহাদত বার্ষিকী সফলভাবে পালনের লক্ষ্যে দলীয় কার্যালয়ে এক যৌথসভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী। এতে দলের যুগ্ম মহাসচিব হাবিব-উন-নবী খান সোহেল, ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ বিএনপির আহ্বায়ক ও সদস্য সচিবগণ এবং অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের কেন্দ্রীয় সভাপতি, সাধারণ সম্পাদকসহ শীর্ষ নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। ঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী, আগামী ২৫ মে থেকে ১ জুন পর্যন্ত আট দিন দেশব্যাপী বিশেষ পোস্টার প্রকাশ করা হবে এবং দলীয় নেতাকর্মীরা কালো ব্যাজ ধারণ করবেন। এছাড়া বিভিন্ন সংবাদপত্র ও অনলাইন পোর্টালে বিশেষ ক্রোড়পত্র প্রকাশ করা হবে। ৩০ মে শনিবার ভোর ৬টায় নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়সহ সারা দেশের সকল স্তরের দলীয় কার্যালয়ে দলীয় পতাকা অর্ধনমিতকরণ ও কালো পতাকা উত্তোলন করা হবে। একই দিন সকাল ১১টায় প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বে দলের জাতীয় নেতৃবৃন্দসহ সর্বস্তরের নেতাকর্মীরা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের মাজারে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ ও মাজার জিয়ারত করবেন। জিয়ারত শেষে মাজার প্রাঙ্গণে জাতীয়তাবাদী ওলামা দলের উদ্যোগে এক দোয়া মহফিল অনুষ্ঠিত হবে। এছাড়া দিবসটি উপলক্ষ্যে ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণের প্রতিটি থানায় এবং দেশের অন্যান্য ইউনিটে অসচ্ছল ও দুঃস্থ মানুষের মাঝে কাপড় এবং চাল, ডালসহ খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করা হবে। অনুরূপভাবে, দেশের সকল জেলা, মহানগরীসহ প্রতিটি ইউনিটেও ৩০ মে ভোর ৬টায় দলীয় পতাকা অর্ধনমিতকরণ ও কালো পতাকা উত্তোলন করা হবে এবং স্থানীয় সুবিধা অনুযায়ী আলোচনা সভা, দোয়া মহফিল ও দুঃস্থদের মাঝে খাদ্যসামগ্রী ও বস্ত্র বিতরণ কর্মসূচি পালন করা হবে। পরদিন ৩১ মে রোববার বেলা ২টায় রাজধানীর রমনায় ইনস্টিটিউশন অব ইঞ্জিনিয়ার্স, বাংলাদেশ (আইইবি) মিলনায়তনে বিএনপির উদ্যোগে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে। সংবাদ সম্মেলনে দেশের ক্রান্তিকালে জিয়াউর রহমানের অবদানের কথা স্মরণ করে রিজভী বলেন, ‘দেশের ক্রান্তিকালে রাজনীতি ও রাষ্ট্রক্ষমতার পাদপীঠে আলো ছড়িয়েছিলেন জিয়াউর রহমান। এর আগে গণতন্ত্র হত্যা করা হয়েছিল, চরম নৈরাজ্য তৈরি হয়েছিল, দেশ দুর্ভিক্ষের করাল গ্রাসে নিপতিত হয়েছিল, সমাজে চলছিল ভয়ংকর রক্তপাত, সহিংসতা ও খুনাখুনি।’ তিনি বলেন, ‘স্বাধীনতা-উত্তর সেই ক্রান্তিকাল অতিক্রমের এক পর্যায়ে জনগণ ও সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যরা যৌথভাবে শান্তিময় পরিবেশ তৈরির প্রত্যয় নিয়ে শহীদ জিয়াউর রহমানকে নেতা হিসেবে গ্রহণ করেন এবং তিনি রাষ্ট্রের দায়িত্ব নেন। তাঁর আমলের শান্তি ও আইনের শাসন ফিরিয়ে আনার দৃষ্টান্ত বিরল। দেশকে সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে নিতে তাঁর যুগান্তকারী পদক্ষেপগুলো আজও মানুষের মনে অম্লান।’ বহুদলীয় গণতন্ত্রের পুনরুজ্জীবনের কথা উল্লেখ করে রিজভী বলেন, ‘১৯৭৫ সালের ২৫ জানুয়ারি তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার বাকশাল গঠন করে গণতন্ত্রকে হত্যা করেছিল। সেই মৃত গণতন্ত্রকে পুনরুজ্জীবিত করেন জিয়াউর রহমান। তিনি বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রবর্তন করেন, যার ফলে অনেক দল রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড শুরু করার এবং স্বাধীনভাবে কথা বলার সুযোগ পায়।’ এ সময় রিজভী দলীয় নেতাকর্মীদের কর্মসূচি পালনের সময় জনগণের ভোগান্তি এড়াতে কঠোর নির্দেশনা দিয়ে বলেন, জনগণের কষ্ট হয় এমন কোনো কর্মসূচি পরিচালনা করা যাবে না। রাস্তার মোড়ে অস্থায়ী মঞ্চ তৈরি করে কোনো আলোচনা সভা করা যাবে না, কর্মসূচি কেবল উন্মুক্ত মাঠ বা মিলনায়তনে সম্পন্ন করতে হবে।

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ১৯, ২০২৬ 0
আমির হামজা
মুফতি আমির হামজার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানার বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের নির্দেশ

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : সিরাজগঞ্জে দায়ের করা এক মানহানি মামলায় কুষ্টিয়া-৩ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য ও ইসলামিক বক্তা মুফতি আমির হামজা–র বিরুদ্ধে পত্রিকায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানার বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। রোববার (১৭ মে) সিরাজগঞ্জ অতিরিক্ত চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক সুমন কর্মকার এ আদেশ দেন। মামলার বাদী ও অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট হুমায়ুন কবির কর্নেল জানান, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু–কে ‘নাস্তিক’ ও ‘ইসলামবিদ্বেষী’ আখ্যা দিয়ে প্রকাশ্য জনসভায় বক্তব্য দেন আমির হামজা। এ ঘটনায় ক্ষোভের সৃষ্টি হলে দলের নির্দেশনায় গত ২ এপ্রিল তিনি মানহানির মামলা দায়ের করেন। বাদীপক্ষের ভাষ্য অনুযায়ী, মামলার পর আদালত আমির হামজার বিরুদ্ধে সমন জারি করে ২১ এপ্রিল হাজির হওয়ার নির্দেশ দেন। তবে নির্ধারিত দিনে আদালতে উপস্থিত না হওয়ায় তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়। পরবর্তীতে রোববারও আদালতে হাজির না হওয়ায় বিচারক তার বিরুদ্ধে জাতীয় পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের নির্দেশ দেন। আইনজীবীরা বলছেন, কোনো আসামি ধারাবাহিকভাবে আদালতে অনুপস্থিত থাকলে ফৌজদারি কার্যবিধির নির্দিষ্ট ধারার আওতায় আদালত এ ধরনের পদক্ষেপ নিতে পারেন।

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ১৭, ২০২৬ 0
হানি ট্র্যাপে ফেলে ব্ল্যাকমেইল
পটুয়াখালীতে হানি ট্র্যাপ চক্রের বিরুদ্ধে অভিযান, বিএনপি নেতা ও যুবলীগ কর্মীসহ গ্রেপ্তার ৩

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : পটুয়াখালীতে আপত্তিকর ভিডিও ধারণ করে ব্ল্যাকমেইল ও চাঁদাবাজির অভিযোগে বিএনপির এক নেতা, যুবলীগের এক কর্মীসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার রাত থেকে বুধবার ভোর পর্যন্ত শহরের বনানী, সবুজবাগ, কলেজ রোড এলাকা এবং বাউফল উপজেলার আদাবাড়িয়া ইউনিয়নের হাজিরহাট বন্দরে অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়। পরে জিজ্ঞাসাবাদ ও প্রাথমিক তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে তাদের গ্রেপ্তার দেখানো হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ। গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিরা হলেন—আদাবাড়িয়া ইউনিয়ন বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি মোহাম্মদ আজহার উদ্দিন (৫৫), গলাচিপা উপজেলার কলাগাছিয়া গ্রামের মো. কবির হোসেন (৪০) এবং পটুয়াখালী পৌর শহরের কলেজ রোড এলাকার মোহাম্মদ রাসেল তালুকদার (৩৪)। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, রাসেল তালুকদার যুবলীগের কর্মী হিসেবে পরিচিত ছিলেন। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রগুলো বলছে, অভিযুক্তরা পরিকল্পিতভাবে ‘হানি ট্র্যাপ’ পদ্ধতিতে ফাঁদ তৈরি করে অন্তত এক ঔষধ ব্যবসায়ী ও এক চাকরিজীবীর কাছ থেকে বড় অঙ্কের টাকা আদায় করেন। অভিযোগ অনুযায়ী, শহিদুল নামে এক ব্যক্তিকে কৌশলে ডেকে এনে নারীদের সঙ্গে আপত্তিকর অবস্থায় ভিডিও ধারণ করা হয়। পরে সেই ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে তার কাছে ১৮ লাখ টাকা দাবি করা হয়। একপর্যায়ে তার কাছ থেকে প্রায় ১৪ লাখ ৮০ হাজার টাকা আদায় করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। ঘটনাটি এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে বনানী এলাকায় একটি সালিশ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে অভিযুক্ত বিএনপি নেতা মোহাম্মদ আজহার উদ্দিন টাকা নেওয়ার বিষয়টি স্বীকার করেন বলে স্থানীয়রা দাবি করেছেন। পরে উপস্থিত লোকজন তাকে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেন। পরবর্তীতে পুলিশের অভিযানে বাকি দুজনও গ্রেপ্তার হন। পটুয়াখালী সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান বলেন, “অভিযান চালিয়ে হানি ট্র্যাপ চক্রের সদস্যদের আটক করা হয়েছে। তাদের কাছ থেকে ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন আলামত ও তথ্য-প্রমাণ পাওয়া গেছে।” তিনি জানান, প্রাথমিক তদন্তে আরও কয়েকজন ভুক্তভোগীর কাছ থেকে অর্থ আদায়ের তথ্য মিলেছে। ঘটনায় অন্য কেউ জড়িত আছে কি না, সেটিও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ১৪, ২০২৬ 0
হারুনুর রশীদ
চেক জালিয়াতি মামলায় জামায়াত নেতা হারুনুর রশীদ গ্রেফতার

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : জামালপুরে ৭৬ লাখ টাকার চেক জালিয়াতি মামলায় জেলা জামায়াতে ইসলামীর সাবেক সেক্রেটারি হারুনুর রশীদকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। রোববার দুপুরে শহরের সরদারপাড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করা হয়। মেলান্দহ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ওবায়দুর রহমান রাতে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। পুলিশ ও মামলার নথি সূত্রে জানা যায়, প্রায় এক বছর আগে ব্যবসায়িক প্রয়োজনে এরশাদ আলী নামের এক ব্যবসায়ীর কাছ থেকে ৭৬ লাখ টাকা ধার নেন হারুনুর রশীদ। তবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে টাকা পরিশোধ না করায় বিষয়টি নিয়ে বিরোধ সৃষ্টি হয়। পরবর্তীতে এরশাদ আলী জামালপুর আদালতে চেক জালিয়াতির মামলা দায়ের করেন। মামলার শুনানি শেষে আদালত হারুনুর রশীদকে ৭৬ লাখ টাকা পরিশোধের নির্দেশ দেন। একই সঙ্গে তাকে এক বছরের কারাদণ্ড ও গ্রেফতারের আদেশ দেওয়া হয়। আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী রোববার দুপুরে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালায় পুলিশ। পরে জামালপুর পৌর এলাকার সরদারপাড়া থেকে হারুনুর রশীদকে গ্রেফতার করে মেলান্দহ থানায় নেওয়া হয়। ওসি ওবায়দুর রহমান বলেন, আদালতের জারি করা গ্রেফতারি পরোয়ানার ভিত্তিতেই তাকে আটক করা হয়েছে। সোমবার তাকে জামালপুর আদালতে সোপর্দ করা হবে।

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ১১, ২০২৬ 0
নবদম্পতিকে শুভেচ্ছা তারেক রহমানের
বিয়ের অনুষ্ঠানের কথা ভেবে আগেই শেষ হলো বিএনপির কর্মসূচি, নবদম্পতিকে শুভেচ্ছা তারেক রহমানের

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : একই মিলনায়তনে নির্ধারিত ছিল রাজনৈতিক কর্মসূচি ও একটি বিয়ের আয়োজন। অনুষ্ঠানসূচির সংঘাতের বিষয়টি জানার পর বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান নির্ধারিত সময়ের আগেই দলীয় কর্মসূচি শেষ করার নির্দেশ দেন। দলীয় সূত্রে জানা গেছে, সন্ধ্যায় ওই মিলনায়তনে একটি বিয়ের অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়েছিল। যাতে নবদম্পতি ও অতিথিদের কোনো ধরনের অসুবিধার মুখে পড়তে না হয়, সে বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে কর্মসূচি সংক্ষিপ্ত করা হয়। পরে তারেক রহমান নবদম্পতির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। এ সময় তিনি বর-কনেকে শুভেচ্ছা ও শুভকামনা জানান। ঘটনাস্থলে উপস্থিত অতিথিদের অনেকেই এ আচরণকে ইতিবাচক ও মানবিক উদ্যোগ হিসেবে উল্লেখ করেন। তাদের ভাষ্য, রাজনৈতিক ব্যস্ততার মধ্যেও সাধারণ মানুষের ব্যক্তিগত আয়োজন ও অনুভূতির প্রতি সম্মান দেখানো দায়িত্বশীল নেতৃত্বের পরিচয় বহন করে। এ ঘটনাকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও বিভিন্ন মহলে আলোচনা তৈরি হয়েছে। অনেকেই এটিকে সৌজন্য ও সামাজিক সংবেদনশীলতার উদাহরণ হিসেবে দেখছেন।

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ১০, ২০২৬ 0
Popular post
ফারুকীর সম্পদ কমেছে, তিশার বেড়েছে দ্বিগুণেরও বেশি: সম্পদ বিবরণী ঘিরে আলোচনা

অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের সম্পদ বিবরণী প্রকাশের পর সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী ও তার স্ত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদের হিসাব নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। এক বছরের ব্যবধানে স্বামী ফারুকীর সম্পদ কমলেও স্ত্রী তিশার সম্পদ বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে প্রকাশিত তথ্যে উঠে এসেছে এই চিত্র। প্রকাশিত খতিয়ান অনুযায়ী, জনপ্রিয় অভিনেত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদ এক বছরে অভাবনীয় হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তিশার মোট সম্পদের পরিমাণ ছিল ১ কোটি ৪০ লাখ ৮১ হাজার ৮৬০ টাকা। ঠিক এক বছর পর, ২০২৫ সালের ৩০ জুন সেই সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ৯৯ লাখ ৮৯ হাজার ৫০১ টাকায়। অর্থাৎ মাত্র এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ বেড়েছে ১ কোটি ৫৯ লাখ ৭ হাজার ৬৪১ টাকা, যা আগের বছরের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি। অন্যদিকে সংস্কৃতি উপদেষ্টা ও নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর ক্ষেত্রে দেখা গেছে উল্টো চিত্র। এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ কমেছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তার মোট সম্পদ ছিল ২ কোটি ২৬ লাখ ৯২ হাজার ২৬ টাকা। ২০২৫ সালের ৩০ জুন তা কমে দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ১৫ লাখ ১৮ হাজার ২৬ টাকায়। হিসাব অনুযায়ী, এক বছরে তার সম্পদ কমেছে ১১ লাখ ৭৪ হাজার টাকা। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে গত মঙ্গলবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ প্রধান উপদেষ্টা, উপদেষ্টা ও সমমর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের পাশাপাশি তাদের স্ত্রী বা স্বামীর সম্পদ বিবরণী প্রকাশ করে। একই সময়ে স্বামী-স্ত্রীর সম্পদে এমন ভিন্নমুখী পরিবর্তন স্বাভাবিকভাবেই সাধারণ মানুষের কৌতূহলের জন্ম দিয়েছে। শোবিজ অঙ্গনের জনপ্রিয় দম্পতি হওয়ায় তাদের এই আয়-ব্যয়ের হিসাব এখন টক অব দ্য কান্ট্রি।

সংসার সামলাতে অটোরিকশা নিয়ে রাস্তায় নেমেছেন রোজিনা

বাসস : বাবা একজন তাঁত শ্রমিক। তিন বোন দুই ভাইয়ের মধ্যে সবার বড় রোজিনা। অভাব সংসার, তাই এক এতিম যুবকের সাথে বাবা-মা বিয়ে দেন তাকে। বিয়ের পর জন্ম হয় দুই কন্যা সন্তানের। অটোরিকশা চালিয়ে কোন রকম সংসার চালাচ্ছিলেন স্বামী রফিকুল ইসলাম। কিন্তু সড়ক দুর্ঘটনায় রফিকুলের এক চোখ সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যায়। আরেকটি চোখ আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ধীরে ধীরে ওই চোখের দৃষ্টি শক্তিও কমতে থাকে। ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে অটোরিকশা চালানো। সংসারের উপার্জনক্ষম মানুষটি অচল হয়ে পড়ায় চিকিৎসার খরচ, ঘর ভাড়া ও খাবারের পাশাপাশি মেয়েদের লেখাপড়ার খরচ চালানোই কঠিন হয়ে যায়। দিশেহারা হয়ে পরেন রোজিনা। এক পর্যায়ে মানুষের বাড়ি বাড়ি কাজ করে সংসার চালানোর চেস্টা করেন। কিন্তু সুবিধা করতে পারেন না। এমন পরিস্থিতিতে অটোরিকশা চালানোর সিদ্ধান্ত নেন তিনি। স্বামী রফিকুলের কাছেই হাতেখড়ি। গ্রামের স্কুলের মাঠে স্বামীর কাছেই অটোরিকশা চালানোর শিক্ষা নেন তিনি। পরে গ্রামের পথে নেমে পড়েন অটোরিকশা নিয়ে। ৫-৬ দিন এভাবে হাত পাকা করে একদিন টাঙ্গাইল শহরে চলে আসেন রোজিনা। এরপর শুরু করেন অটোরিক্সা চালানোর ব্যতিক্রমী জীবন সংগ্রাম। এখন টাঙ্গাইল পৌরসভায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার চালকদের মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা বেগম। জেলার বাসাইল উপজেলার আইসড়া গ্রামের বাসিন্দা রোজিনা টাঙ্গাইল পৌর শহরের এক প্রান্ত রাবনা বাইপাস থেকে আরেক প্রান্ত বেবিস্ট্যান্ডে যাত্রী আনা নেয়া করেন। যানজটের কারণে শহরে পুরুষ চালকরা যেখানে হিমসিম খায়, সেখানেই বিগত ৫ বছর ধরেই নির্বিঘেœ অটোরিকশা চালাচ্ছেন তিনি। টাঙ্গাইল পৌরসভা কার্যালয় সূত্রে জানা যাায়, টাঙ্গাইল শহরে চলাচলের জন্য ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক ও ৫ হাজার ব্যাটারিচালিত রিকশার অনুমতি (লাইসেন্স) দেওয়া হয়েছে। যানজট এড়াতে ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক জোড় ও বিজোড় সংখ্যায় দিনে দুই ভাগ করা হয়েছে। সকাল থেকে বেলা দুইটা পর্যন্ত এক ভাগ এবং বেলা দুইটা থেকে রাত পর্যন্ত আরেক ভাগের ইজিবাইক চলাচল করার নির্দেশনা দিয়েছে পৌর কর্তৃপক্ষ। কিন্তু রোজিনাকে দুই শিফটে চালানোর অনুমতি দিয়েছে পৌরসভা। সরেজমিনে দেখা যায়, নতুন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অটোরিকশা নিয়ে যাত্রী ডাকছেন রোজিনা। কলেজ গেট, পুরাতন বাসস্ট্যান্ড, ক্যাপসুল, নিরালা মোড়, বেবিস্ট্যান্ড সর্বত্রই যাত্রী আনানেয়া করেন তিনি। পুরাতন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অন্য অটো চালকদের দাঁড় করতে না দিলেও রোজিনাকে বাঁধা দেননা ট্রাফিক পুলিশ। বলতে গেলে সবাই তার প্রতি সহানুভুতিশীল। ট্রাফিক পুলিশসহ অন্য অটোচালকরাও তাকে সহযোগিতা করেন। রোজিনা বলেন, আমার অটোতে নারী যাত্রীরা খুব কম। তারা মনে করে আমার অটোতে উঠলে দুর্ঘটনায় পড়বে। কিন্তু আমি খুব সাবধানে অটো চালাই। দ্রুত গতিতেও না, আবার একেবারে ধীরগতিতেও না। এখন পর্যন্ত আমি কোন দুর্ঘটনার কবলে পড়ি নাই। শহরের পুরুষ অটোরিকশা চালকরা আমাকে অনেক সহযোগিতা করে। অটোচালক কাদের মিয়া বলেন, আমাদের শহরে কয়েক হাজার অটো চলাচল করে। তার মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। তাকে আমরা সব সময় সহযোগিতা করি। যাত্রী সাইদ মিয়া বলেন, আমি এ পর্যন্ত ৫-৬ বার রোজিনার অটোতে চড়েছি। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। অন্য পুরুষ অটো চালকের চেয়েও ভালো অটো চালান। নারী সংগঠক সেরাজুম মনিরা বলেন, তিনি অনেক দিন যাবত অটোরিকশা চালাচ্ছেন। আমি রোজিনাকে স্যালুট জানাই। একজন পুরুষের চেয়ে একজন নারী কোনো ভাবেই যে পিছিয়ে নেই, রোজিনা তা প্রমাণ করেছেন। রোজিনা বলেন, অটো চালানোর এই সিদ্ধান্তটি তার জন্য খুব সহজ ছিল না। তিনি বলেন, ৫ ও ১০ বছরের দুই মেয়েকে বাড়িতে রেখে অটোরিকশা নিয়ে সারাদিন রাস্তায় থাকতে হয়। তাদের ভালোভাবে দেখাশোনা করতে পারি না। কিন্তু কি করবো, অভাবের সংসার! এখন ঋণ নিয়ে একটু জমি কিনেছি। প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ণ প্রকল্পের অর্থায়নে প্রশাসন সেখানে ঘর তুলে দিয়েছে। শুরুতে যারা আমাকে নিয়ে ঠাট্টা করেছে এখন তারাই আমাকে সম্মান করেন। নারীরাও যে কিছু করতে পারে, তা প্রমাণ করেছি। আমার বড় মেয়ে আইসড়া উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়ে, ছোট মেয়ে পড়ে স্থানীয় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। মেয়েদের শিক্ষিত করতে হবে। ধার দেনা শোধ করতে হবে। তাই থেমে গেলো চলবে না। আমি অটোরিকশা চালিয়েই দুই সন্তানকে মানুষ করতে চাই।’ ঘারিন্দা ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য বাবুল সরকার বলেন, সরকার রোজিনাকে একটি ঘর নির্মাণ করে দিয়েছে। শুরুতে যারা তাকে নিয়ে নানান কথা বলতো, এখন তার সংকল্প ও মানষিক দৃঢ়তা দেখে থেমে গেছে। আমরা তাকে নিয়ে গর্ব করি। টাঙ্গাইলের ট্রাফিক ইন্সপেক্টর (প্রশাসন) দেলোয়ার হোসেন বলেন, শহরের একমাত্র নারী চালক রোজিনাকে কেউ যেন বিরক্ত করতে না পারে সেদিকে সব সময় নজর রাখে ট্রাফিক পুলিশ। আমরা তাকে সব সময় সহযোগিতা করে আসছি। টাঙ্গাইলের সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক শাহ আলম বলেন, বিষয়টি এখন জানতে পারলাম। ওই নারী এখনো পর্যন্ত আমাদের কাছে আসেন নাই। যদি আমাদের কাছে এসে আবেদন করেন অবশ্যই তাকে আমরা সহযেগিতা করবো, তার পাশে দাঁড়াবো।

বাংলাদেশে ঐতিহাসিক নির্বাচন: বিএনপি এগিয়ে, জামায়াতের উত্থান ও তরুণ ভোটারদের প্রভাব

২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশে আজ এক ঐতিহাসিক ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ২০০৮ সালের পর এই প্রথম একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হতে যাচ্ছে যেখানে দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগ রাজনৈতিক মানচিত্র থেকে কার্যত অনুপস্থিত। বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক জরিপ বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০০ আসনের মধ্যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) কার্যকর সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে যাচ্ছে। তবে ভোটের ব্যবধান এবং কিছু সমীকরণ নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। নির্বাচনের সবচেয়ে বড় নিয়ামক হয়ে দাঁড়িয়েছে আওয়ামী লীগের বিশাল ভোটব্যাংক। দলটির নিয়মিত প্রায় ৪ কোটি ভোটার এখন নতুন রাজনৈতিক আশ্রয় খুঁজছেন। সিআরএফ বা বিইপিওএস জরিপ বলছে, এই ভোটারদের প্রায় অর্ধেক বিএনপির দিকে ঝুঁকেছে, যা দলটিকে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতার পথে এগিয়ে দিচ্ছে। অন্যদিকে, প্রায় ৩০ শতাংশ আওয়ামী ভোটার জামায়াতে ইসলামীকে বেছে নিতে পারেন বলে আভাস পাওয়া যাচ্ছে। এছাড়া বাংলাদেশের বিদ্যমান নির্বাচনী ব্যবস্থার কারণে দেশজুড়ে সুষম জনসমর্থন থাকা বিএনপি আসন জয়ের ক্ষেত্রে জামায়াতের তুলনায় সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। তবে বিএনপির এই সম্ভাব্য জয়ের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও বিদ্রোহী প্রার্থীরা। প্রায় ৭৯টি নির্বাচনী এলাকায় দলের মনোনয়ন না পাওয়া ৯২ জন প্রভাবশালী নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, যা বিএনপির ১৫ থেকে ৩০টি আসন কমিয়ে দিতে পারে। অন্যদিকে, তরুণ ভোটার বা ‘জেন-জি’ প্রজন্মের বিশাল সমর্থন জামায়াতে ইসলামীর শক্তির উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেশের ৪৪ শতাংশ ভোটারই তরুণ, যাদের বড় একটি অংশ প্রথমবার ভোট দিচ্ছেন। এই তরুণরা যদি দলবেঁধে কেন্দ্রে উপস্থিত হন, তবে নির্বাচনী ফলে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। সবশেষে, প্রায় ১৭ থেকে ৩৫ শতাংশ দোদুল্যমান ভোটার এবং তাদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করবে আগামীর সরকার কতটা শক্তিশালী হবে। দ্য নিউইয়র্ক এডিটোরিয়ালের মূল পূর্বাভাস, তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি প্রায় ১৮৫টি আসনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করতে পারে এবং জামায়াতে ইসলামী ৮০টির মতো আসন পেয়ে প্রধান বিরোধী দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারে। তবে বিদ্রোহী প্রার্থীদের প্রভাব এবং তরুণ ভোটারদের উপস্থিতির ওপর ভিত্তি করে আসন সংখ্যায় বড় ধরনের হেরফের হওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

গাজায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা ট্রাম্প প্রশাসনে

ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। ৩৫০ একরের ঘাঁটিটিতে সামরিক বাহিনীর পাঁচ হাজার সদস্য থাকতে পারবে। গাজার ‘বোর্ড অব পিস’র নথি পর্যালোচনা করে এ তথ্য জানিয়েছে দ্য গার্ডিয়ান। প্রতিবেদনে ব্রিটিশ সংবাদ মাধ্যমটি জানিয়েছে, বোর্ড অব পিসে গাজাকে নিরাপদ করার জন্য ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যাবিলাইজেশন ফোর্স (আইএসএফ) নামে একটি আন্তর্জাতিক বাহিনী মোতায়েনের কথা বলা হয়েছে। যে স্থানটি ঘাঁটি করার জন্য বিবেচনা করা হচ্ছে সেখানে আইএসএফের সদস্যরা থাকবে। বোর্ড অব পিসের প্রধান হবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আর সংগঠনটির আংশিক নেতৃত্ব দেবেন ট্রাম্পের জামাতা জ্যারার্ড কুশনার।দ্য গার্ডিয়ান বোর্ড অব পিসের নথি পর্যালোচনা করে জানায়, ধাপে ধাপে একটি সামরিক ঘাঁটি নির্মাণ করা হবে। সবকিছু শেষ হলে ঘাঁটিটি ১৫ লাখ ১৭ হাজার ৫৭৫ বর্গমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত হবে। ঘাঁটিটির চারপাশে ট্রেইলার সংযুক্ত ২৬টি সাঁজোয়া নজরদারি টাওয়ার থাকবে। এছাড়া একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, বাংকার ও অস্ত্র রাখার গুদাম থাকবে। পুরো ঘাঁটিটি কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে ঘিরে রাখা হবে। সামরিক ঘাঁটি নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে দক্ষিণ গাজার একটি শুষ্ক সমতলভূমিতে। সেখানে ইসরায়েলি হামলার চিহ্ন রয়েছে। ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে বিভিন্ন ধাতবের ধ্বংসাবশেষ।  ওই এলাকার ভিডিও পর্যালোচনা করেছে দ্য গার্ডিয়ান। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, ঘাঁটি নির্মাণের জন্য টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে। যুদ্ধক্ষেত্রে কাজের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন আন্তর্জাতিক নির্মাণ কোম্পানিগুলোর একটি ছোট দলকে ইতোমধ্যেই এলাকাটি দেখানো হয়েছে। ওই দলটি দরপত্রে অংশ নিতে আগ্রহী।    ইন্দোনেশিয়া সরকার গাজায় আট হাজার সেনা সদস্য পাঠানোর জন্য প্রস্তাব দিয়েছে। বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটন ডিসিতে বোর্ড অব পিসের অনানুষ্ঠানিক বৈঠকে ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্টের অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। এছাড়া দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার আরও তিন নেতার ওই বৈঠকে অংশ নেবেন বলে জানা গেছে। জাতিসংঘের নিরাপত্তা কাউন্সিল গাজার সাময়িক স্থিতিশীলতার জন্য অস্থায়ীভাবে সামরিক বাহিনী মোতায়েনের অনুমোদন দিয়েছে। নিরাপত্তা কাউন্সিলই বোর্ড অব পিসের মূল হোতা। গাজার সীমান্ত ও শান্তি প্রণয়নে কাজ করবে আইএসএফ। এছাড়া বেসামরিকদের সুরক্ষা এবং ফিলিস্তিনি পুলিশ বাহিনীকে প্রশিক্ষণ ও সহায়তা দেবে তারা। যদি গাজায় ফের সংঘর্ষ হয়, ইসরায়েল বোমা হামলা চালায় অথবা হামাস হামলা চালায় সেক্ষেত্রে আইএসএফ কি করবে তা এখনও স্পষ্ট নয়। গাজা পুনর্গঠনে ইসরায়েল হামাসকে নিরস্ত্রীকরণের যে শর্ত দিয়েছে সেটির জন্য আইএসএফ কাজ করবে কিনা তাও স্পষ্ট না। ইতোমধ্যে বোর্ড অব পিসে ২০ এর অধিক দেশ যোগ দিয়েছে। তবে, এখনও অনেক পরাশক্তি এর থেকে দূরে রয়েছে। জাতিসংঘের অনুমোদন নিয়ে প্রতিষ্ঠিত হলেও ধারণা করা হচ্ছে, সংগঠনটির স্থায়ী নেতৃত্ব ও নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে। রুটজার্স বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক আদিল হক বলেন, “বোর্ড অব পিস এক ধরনের আইনি কল্পসত্তা। নামমাত্রভাবে এর নিজস্ব আন্তর্জাতিক আইনগত সত্তা রয়েছে, যা জাতিসংঘ ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে আলাদা। কিন্তু বাস্তবে এটি যুক্তরাষ্ট্রের ইচ্ছামতো ব্যবহারের জন্য একটি ফাঁপা খোলসমাত্র।” বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গাজা পুনর্গঠনে যে অর্থায়ন ও শাসন কাঠামো হচ্ছে তা অস্বচ্ছ। কয়েকজন ঠিকাদার গার্ডিয়ানকে জানান, গাজায় কাজ করার জন্য মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে তাদের প্রায়শ আলোচনা সরকারি ইমেলের বদলে সিগন্যালের মাধ্যমে করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রের তথ্য মতে, ঘাঁটি নির্মাণের সিদ্ধান্তটি বোর্ড অব পিসের। এতে সহায়তা করছে মার্কিন কর্মকর্তারা। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ঘাঁটিতে তৈরি বাংকার নেটওয়ার্কের মতোন কাজ করবে। প্রতিটি বাংকারের ২৪ মিটারের হবে। উচ্চতা থাকবে আড়াই মিটার। এগুলো এমনভাবে করা হবে যেন সেনা সদস্যরা আশ্রয় নিতে পারে। স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসের গাজায় সুড়ঙ্গ নেটওয়ার্ক বা টানেল রয়েছে। সেগুলোর আদলে নেটওয়ার্ক করতে চাওয়া হচ্ছে। পিস অব বোর্ডের নথি পর্যালোচনা করে এমন দাবি করছে গার্ডিয়ান। সংবাদ মাধ্যমটি বলছে,  স্থানটির ভূ-ভৌত জরিপ পরিচালনা করবে ঠিকাদাররা। নথির এক অংশে ‘হিউম্যান রেমিয়েনস প্রোটোকল’র কথা বলা হয়েছে। এর মানে দাঁড়ায়, সন্দেহভাজন মানব অবশিষ্ট বা সাংস্কৃতিক নিদর্শন পাওয়া গেলে অবিলম্বে সেই এলাকায় সব কাজ বন্ধ করতে হবে। চুক্তি কর্মকর্তাকে দিকনির্দেশনার জন্য অবিলম্বে জানাতে হবে। গাজা সিভিল ডিফেন্সের ধারণা, গাজার ধ্বংসস্তূপের নিচে ১০ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনির মরদেহ রয়েছে। ঘাঁটির জন্য যে স্থানটি বিবেচিত করা হচ্ছে সেটির মালিক কে তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে, দক্ষিণ গাজার বেশিরভাগ অংশ  বর্তমানে ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণে। জাতিসংঘের অনুমান, যুদ্ধ চলাকালীন ১৯ লাখ ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত হয়েছে। ফিলিস্তিনের জমিতে সরকারের অনুমতি না নিয়ে সামরিক ঘাঁটি স্থাপনকে দখল হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন ফিলিস্তিনি-কানাডিয়ান আইনজীবী এবং প্রাক্তন শান্তি আলোচক দিয়ানা বুট্টু। তিনি প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়ে বলেন, “কার অনুমতিতে তারা সামরিক ঘাঁটি স্থাপন করবে।” বিষয়টি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা বোর্ড অব পিসের কথা টানেন। ট্রাম্প প্রশাসনের একজন কর্মকর্তা সামরিক ঘাঁটির চুক্তি নিয়ে আলোচনা করতে অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, “যেমনটি প্রেসিডেন্ট বলেছেন, কোনও মার্কিন সেনা স্থলভাগে যাবে না। আমরা লিক হওয়া নথি নিয়ে আলোচনা করবো না।”

কুড়িগ্রামের তাজু ভাই ২.০: ‘সরকারি রেটে জিলাপি’ প্রশ্নে ভাইরাল এক নির্মাণশ্রমিকের গল্প

বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের প্রত্যন্ত চরাঞ্চল থেকে উঠে এসে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার কেন্দ্রে এখন তাইজুল ইসলাম, যিনি অনলাইনে পরিচিত ‘তাজু ভাই ২.০’ নামে। মাত্র একটি ভিডিও—যেখানে তিনি এক দোকানিকে প্রশ্ন করেন, “জিলাপি আজকে কত করে বেচতেছেন সরকারি রেটে?”—এই সরল উপস্থাপনাই তাকে রাতারাতি ভাইরাল করে তোলে।  কয়েক ঘণ্টায় ফলোয়ার লাখ ছাড়াল রোববার রাত পর্যন্ত তার ফেসবুক অনুসারী ছিল প্রায় ৩৫ হাজার। কিন্তু সোমবার সন্ধ্যা থেকে রাতের মধ্যেই তা বেড়ে এক লাখের বেশি হয়ে যায়। ভাইরাল ভিডিওটি ইতোমধ্যে প্রায় ৫০ থেকে ৫৫ লাখবার দেখা হয়েছে।  কী ছিল সেই ভিডিওতে? ভিডিওতে দেখা যায়, কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীর নারায়ণপুর বাজারে দাঁড়িয়ে স্থানীয় ভাষায় তিনি জিলাপির দাম জানতে চান। তার কথাগুলো ছিল একেবারেই সহজ ও গ্রাম্য ভঙ্গিতে— “সাদাডা কত, লালডা কত? সরকারি রেটে বেচতেছেন?” এই সরল প্রশ্নই সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।  কোথা থেকে উঠে এলেন তাজু ভাই? কুড়িগ্রাম জেলার নাগেশ্বরী উপজেলার নারায়ণপুর ইউনিয়নের একটি দুর্গম গ্রামে জন্ম তার। ব্রহ্মপুত্র নদবেষ্টিত এই অঞ্চলে পৌঁছাতে এখনও কয়েকটি নৌঘাট পার হতে হয়। দারিদ্র্যের কারণে কখনো স্কুলে যাওয়া হয়নি তার। পেশায় তিনি একজন নির্মাণশ্রমিকের সহকারী (হেলপার)। কাজের ফাঁকে ঢাকায় থাকাকালীন মোবাইল ফোনে ভিডিও তৈরি করাই তার শখ। ব্যক্তিগত সংগ্রাম তাইজুল ইসলামের পরিবারে ছয় ভাই-বোন। তিনি সবার বড়। তার বাবা-মা দুজনই শ্রবণপ্রতিবন্ধী। পরিবার চালাতে তাকে ছোটবেলা থেকেই সংগ্রাম করতে হয়েছে। তিনি বলেন, “পরিবারের কষ্ট ভুলতেই ভিডিও করি। আমি সাংবাদিক না, কিন্তু আমাদের এলাকায় কেউ আসে না—তাই নিজেরাই ভিডিও বানাই।” ভাইরাল হওয়ার পেছনের উদ্দেশ্য তাইজুলের দাবি, তার ভিডিও শুধুই বিনোদনের জন্য নয়। তিনি চান তার এলাকার অবহেলিত মানুষের কথা প্রশাসনের নজরে আসুক। “আমি চাই চরের মানুষের উন্নয়ন হোক,”—বলছেন তিনি।  মিশ্র প্রতিক্রিয়া ভিডিওটি নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে দুই ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ তার সরলতা ও বাস্তবতা তুলে ধরার চেষ্টা প্রশংসা করছেন আবার কেউ তাকে নিয়ে ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ করছেন তবে এসব সমালোচনায় তিনি বিচলিত নন।

অর্থনীতি

ইসলামী ব্যাংক,

ইসলামী ব্যাংকে আস্থা সংকট কেন কাটছে না?: দেশের বৃহত্তম শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংককে ঘিরে নতুন প্রশ্ন

নিজস্ব প্রতিবেদক জুন ২২, ২০২৬ 0




অপরাধ

ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো

ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকোর বিরুদ্ধে ৩০ বিলিয়ন ডলার জালিয়াতি ও অর্থপাচার অভিযোগে দুদকের অনুসন্ধান

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ২৪, ২০২৬ 0




কৃষি ও জলবায়ু

ধান

শেরপুরে বোরো ধানের দাম কমে লোকসানে কৃষকরা, উৎপাদন খরচও উঠছে না

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ৬, ২০২৬ 0