ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আশানুরূপ সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পেলেও প্রথমবারের মতো জাতীয় সংসদের প্রধান বিরোধী দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন জোট। নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, এবারের নির্বাচনে দলটি এককভাবে ৬৮টি আসন এবং জোটগতভাবে মোট ৭৭টি আসনে জয় পেয়েছে। ভোটের হিসেবে দলটির প্রাপ্ত ভোট ৩৮ দশমিক ৫০ শতাংশ। অন্যদিকে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) এককভাবে ২০৯টি আসনে জয় পেয়েছে। নির্বাচন কী দিল জামায়াতকে? রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই নির্বাচনে জামায়াতের সবচেয়ে বড় অর্জন হলো—প্রধান বিরোধী দল হিসেবে সংসদে বসার সুযোগ পাওয়া। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে বাংলাদেশের রাজনীতি বিশ্লেষণকারী ড. মুবাশ্বার হাসান বলেন, আদর্শিক ভোটের পাশাপাশি দলটি “এন্টি-এস্টাব্লিশমেন্ট” ভোটও পেয়েছে। বিএনপি ও আওয়ামী লীগকে একই কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়ে প্রচারণা চালানো তাদের কৌশলগত সফলতা এনে দিয়েছে। দৈনিক নয়া দিগন্ত সম্পাদক সালাহউদ্দিন মুহাম্মদ বাবর মনে করেন, “আসন ও ভোটের দিক থেকে জামায়াত নিজেদের অতীতের সব রেকর্ড ভেঙেছে। একটি পূর্ণাঙ্গ রাজনৈতিক দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে—এটাই তাদের বড় অর্জন।” অতীতের রেকর্ড ভেঙে নতুন উচ্চতায় স্বাধীনতার পর ভিন্ন নামে ১৯৭৯ সালে ৬টি আসন দিয়ে নির্বাচনী যাত্রা শুরু করে জামায়াত। ১৯৯১ সালে এককভাবে সর্বোচ্চ ১৮টি আসন ২০০১ সালে বিএনপির সঙ্গে জোটে ১৭টি আসন ২০০৮ সালে মাত্র ২টি আসন ১৯৯৬ সালে ৩টি আসন এবারের ৬৮টি একক আসন ও ৭৭টি জোটগত আসন দলটির ইতিহাসে সর্বোচ্চ। আঞ্চলিক ফলাফল: কোথায় শক্তিশালী, কোথায় দুর্বল খুলনা বিভাগের ৩৬টি আসনের মধ্যে ২৫টিতেই জয় পেয়েছে জামায়াত। খুলনা, যশোর, বাগেরহাট, সাতক্ষীরা জেলায় ব্যাপক সাফল্য পেয়েছে দলটি। বিশেষ করে সাতক্ষীরার চারটি আসনের সবকটিতে জয় দলটির জন্য তাৎপর্যপূর্ণ। উত্তরাঞ্চল: রংপুরে উত্থান রংপুর বিভাগের ৩৩টি আসনের মধ্যে ১৭টিতে জয় পেয়েছে দলটি। রংপুর জেলার ৬টির মধ্যে ৫টিতেই জয় জামায়াতের। কুড়িগ্রাম, নীলফামারী, গাইবান্ধা জেলাতেও উল্লেখযোগ্য ফলাফল এসেছে। বিশ্লেষকদের মতে, উত্তরাঞ্চলের অর্থনৈতিক বৈষম্য, স্থানীয় সমস্যা ও সাংগঠনিক কার্যক্রম এখানে দলটির সাফল্যে ভূমিকা রেখেছে। রাজধানী ঢাকায় চমক সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক বার্তা এসেছে ঢাকায়। ঢাকা মহানগরের ১৫টি আসনের মধ্যে ৬টিতে জয় পেয়েছে জামায়াত। দলটির অভ্যন্তরে এটিকে বড় অর্জন হিসেবে দেখা হচ্ছে। রাজধানীতে অবস্থান শক্তিশালী হওয়া ভবিষ্যৎ জাতীয় রাজনীতিতে বড় প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। যেসব জেলায় দুর্বলতা স্পষ্ট যদিও সামগ্রিকভাবে সাফল্য এসেছে, তবে দেশের বহু জেলায় দলটির অবস্থান দুর্বল রয়ে গেছে। দক্ষিণাঞ্চলের বেশ কয়েকটি জেলায় কার্যত কোনো শক্ত অবস্থান তৈরি করতে পারেনি জামায়াত। সিলেটে সরাসরি জয় না পেলেও জোটসঙ্গী দল একটি আসনে জয় পেয়েছে। আমিরের বক্তব্য দলের আমির শফিকুর রহমান এক বিবৃতিতে বলেছেন: “জামায়াতে ইসলামী অতীতের অনেক রেকর্ড ভঙ্গ করে দেশের ইতিহাসে অন্যতম বৃহৎ বিরোধী দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে। প্রায় ২ কোটি ৮৮ লাখ নাগরিক আমাদের জোটের প্রতি আস্থা রেখেছেন।” তিনি এটিকে “ঐতিহাসিক অগ্রযাত্রার শুরু” হিসেবে উল্লেখ করেন। সামনে কী? বিশ্লেষকদের মতে, এখন দেখার বিষয়—প্রধান বিরোধী দল হিসেবে সংসদে জামায়াত কী ধরনের ভূমিকা পালন করে। ধর্মভিত্তিক রাজনীতি, সংখ্যালঘু অধিকার, নারী ইস্যু এবং রাষ্ট্র পরিচালনায় নীতিগত অবস্থান—এসব প্রশ্ন এখন নতুন করে সামনে আসবে। রাজনৈতিক মহলের মতে, এই নির্বাচন জামায়াতকে শুধু আসন ও ভোটই দেয়নি—দিয়েছে জাতীয় রাজনীতির কেন্দ্রীয় মঞ্চে একটি নতুন অবস্থান। তবে এই অর্জন ভবিষ্যতে কতটা টেকসই হবে, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন। আন্তর্জাতিক ডেস্ক বিভাগ: জাতীয় রাজনীতি প্রকাশের তারিখ: ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
তারেক রহমান নেতৃত্বাধীন দল দুই-তৃতীয়াংশ আসনে জয় নিশ্চিত করে সরকার গঠনের অবস্থানে পৌঁছানোর পর প্রথমবারের মতো সংবাদ সম্মেলনে কথা বলেছেন তিনি। শনিবার আয়োজিত এ সংবাদ সম্মেলনে দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি, ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা-কে দেশে ফেরানো, ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক, আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের রায় এবং অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারসহ নানা ইস্যুতে প্রশ্নের জবাব দেন বিএনপি নেতারা। সংবাদ সম্মেলনে সংক্ষিপ্ত লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন তারেক রহমান। এরপর প্রশ্নোত্তর পর্বেও বেশিরভাগ উত্তরে সংক্ষিপ্ত অবস্থান তুলে ধরা হয়। শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ: “আইনি প্রক্রিয়ার ওপর নির্ভর করবে” ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দেশে ফেরানোর বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তারেক রহমান বলেন, বিষয়টি সম্পূর্ণভাবে “আইনি প্রক্রিয়ার ওপর নির্ভর করবে”। এদিকে বিএনপি সরকার শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে চলমান দুর্নীতির মামলা অব্যাহত রাখবে কি না—এ প্রশ্নের সরাসরি কোনো উত্তর দেওয়া হয়নি। আইনশাসনের মাধ্যমে রাজনৈতিক সমাধান দেশে আওয়ামী লীগের উল্লেখযোগ্য সমর্থক গোষ্ঠী রয়েছে—এ বাস্তবতায় রাজনৈতিক মিটমাট বা সমাধানের পরিকল্পনা কী—এ প্রশ্নের উত্তরে তারেক রহমান বলেন, “আইনের শাসন নিশ্চিত করার মাধ্যমে” সমস্যার সমাধান হবে। তিনি প্রতিশোধ বা প্রতিহিংসার রাজনীতির বিরুদ্ধে সতর্ক করে বলেন, নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার কারণে যদি কোনো ভুল বোঝাবুঝি সৃষ্টি হয়ে থাকে, তা যেন সংঘাতে রূপ না নেয়। আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত প্রসঙ্গে অবস্থান আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের রায় পুনর্বিবেচনা করা হবে কি না—এ প্রশ্নের জবাব দেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেন, “এটি বিচার বিভাগের বিষয়।” বিচার বিভাগকে নির্বাহী ও আইনসভার কাজ থেকে পৃথক রাখার ওপর জোর দিয়ে তিনি জানান, আদালতসংক্রান্ত বিষয়ে সরকার সরাসরি হস্তক্ষেপ করবে না। ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক: “সব দেশের জন্য একই বৈদেশিক নীতি” ভারতীয় সাংবাদিকদের পক্ষ থেকে একাধিকবার ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়। তারেক রহমান বলেন, “বাংলাদেশ ও দেশের মানুষের স্বার্থ বিবেচনায় সব দেশের জন্য একই বৈদেশিক নীতি” অনুসরণ করা হবে। আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী যোগ করেন, এই সম্পর্ক হবে “পারস্পরিক শ্রদ্ধা, পারস্পরিক স্বার্থ, হস্তক্ষেপ না করার নীতি এবং কৌশলগত স্বশাসনের ভিত্তিতে।” চীনের সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক ও বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভে অংশগ্রহণ প্রসঙ্গে একই ধরনের অবস্থান তুলে ধরা হয়—বাংলাদেশের মানুষ ও অর্থনীতির স্বার্থই হবে সিদ্ধান্তের মূল বিবেচ্য বিষয়। বিজয় মিছিল নয়, শান্ত উদযাপন নির্বাচনে নিরঙ্কুশ জয় অর্জনের পরও সারাদেশে বিজয় মিছিল না করার নির্দেশ দিয়েছিলেন বলে জানান তারেক রহমান। তিনি বলেন, “কোনো অপশক্তি যাতে পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটানোর সুযোগ নিতে না পারে, এজন্য... বিজয় মিছিল বের করতে নিষেধ করেছিলাম। আল্লাহর দরবারের শুকরিয়া আদায়ের মাধ্যমে আমরা বিজয় উৎসব পালন করেছি।” তিনি আরও বলেন, দেশে শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে কোনো ধরনের বেআইনি কর্মকাণ্ড “বরদাশত করা হবে না”। ৩১ দফা ইশতেহার ও জুলাই সনদ বাস্তবায়নের অঙ্গীকার লিখিত বক্তব্যে ‘জুলাই সনদ’ বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করে বলা হয়, জনগণের কাছে দেওয়া প্রতিটি অঙ্গীকার পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়ন করা হবে। প্রশ্নোত্তর পর্বে একাধিকবার বিএনপির ৩১ দফা পরিকল্পনা বা নির্বাচনী ইশতেহারের কথা উঠে আসে। দলটির পক্ষ থেকে জানানো হয়, সরকার গঠন করলে ইশতেহারে ঘোষিত কর্মসূচিগুলোই বাস্তবায়নের ভিত্তি হবে। অর্থনীতি ও দুর্নীতির অভিযোগ বিগত সরকারের সময় অর্থনীতিতে ‘লুটপাট’ ও অর্থ পাচারের অভিযোগ নিয়ে প্রশ্ন করা হলে বিএনপির পক্ষ থেকে জানানো হয়, অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার প্রক্রিয়ায় ইশতেহার অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তারেক রহমান বলেন, “সবাই সবার যোগ্যতার ভিত্তিতে সবাই সবার মতো করে ব্যবসা-বাণিজ্য করতে পারবে। কোনো একটা বিশেষ মহলকে আমরা সুযোগ দিতে চাই না।” ক্রিকেট ও রাজনীতি প্রসঙ্গ এড়িয়ে যাওয়া টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশের অংশ না নেওয়ার প্রসঙ্গ টেনে একজন সাংবাদিক জানতে চান—ক্রিকেটকে রাজনীতির বাইরে রাখা হবে কি না। তবে এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেননি বিএনপি নেতারা। প্রথম সংবাদ সম্মেলনে তারেক রহমান ও বিএনপি নেতারা সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে আইনশাসন, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, ভারসাম্যপূর্ণ বৈদেশিক নীতি ও ইশতেহার বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন। রাজনৈতিক প্রতিশোধের পরিবর্তে স্থিতিশীলতা ও শৃঙ্খলা বজায় রাখার বার্তা দিয়েই শুরু হলো সম্ভাব্য নতুন সরকারের পথচলা।
জোট শরিকদের নিয়ে জাতীয় সরকার গঠন করবে বিএনপি। এমনটাই জানিয়েছেন দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। আজ (১৩ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় রাজধানীর গুলশানে দলীয় চেয়ারম্যানের কার্যালয়ে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন। এর আগে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাত করেন আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। এই বিএনপি নেতা আরও বলেন, সব সময় দেশের কঠিন সময়ে মানুষ বিএনপির ওপর আস্থা রেখেছে। এবারও তার প্রতিফলন ঘটেছে। জনগণ বিএনপি ও তারেক রহমানের ওপর আস্থা রেখেছে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে টাঙ্গাইলের দুটি গুরুত্বপূর্ণ আসনে বিএনপি মনোনীত দুই সহোদর প্রার্থী জয়লাভ করেছেন। আজ টাঙ্গাইল-২ (গোপালপুর-ভূঞাপুর) আসনে সাবেক মন্ত্রী ও বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আবদুস সালাম পিন্টু এবং টাঙ্গাইল-৫ (সদর) আসনে তার ছোট ভাই কেন্দ্রীয় বিএনপির প্রচার সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকু জয়লাভ করেছেন। বড়ভাই আবদুস ছালাম পিন্টু ১ লাখ ৯৮ হাজার ২১৩ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতের প্রার্থী হুমায়ুন কবির পান ৬০ হাজার ৮৭১ ভোট। ১৩৯টি কেন্দ্রে এ আসনে ৬৪.৫৬ শতাংশ ভোট কাস্টিং হয়েছে। বাতিল হয়েছে ৫ হাজার ৫৫৫টি ভোট। অন্যদিকে ছোটভাই সুলতান সালাউদ্দিন বেসরকারি ফলাফলে বিজয়ী হয়েছেন। তিনি পান ১ লাখ ৩১ হাজার ২৭৯ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতের আহসান হাবিব মাসুদ পেয়েছেন ৮০ হাজার ৮২৩ জন। এছাড়া স্বতন্ত্র প্রার্থী ফরহাদ ইকবাল ৬৯ হাজার ৪০৮ ভোট পান। ঘোষিত ফলাফল অনুযায়ী, টাঙ্গাইল-৫ আসনে ৪ লাখ ৬২ হাজার ৪১২টি ভোটারের মধ্যে কাস্টিং হয় ২ লাখ ৮৮ হাজার ৮০ ভোট। এর মধ্যে বাতিল হয় ৪ হাজার ৪০১ ভোট। শতকরা হিসাবে মোট ৬৩.২৫ ভাগ ভোট কাস্টিং হয়।
প্রথমবারের মতো গোপালগঞ্জ জেলার তিনটি সংসদীয় আসনেই জয় পেয়েছেন বিএনপি মনোনীত ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থীরা। জেলার রাজনৈতিক ইতিহাসে এটি একটি নতুন অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এর আগে ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে গোপালগঞ্জ-১ আসন থেকে মাত্র একবার বিএনপির প্রার্থী এফ ই শরফুজ্জামান জাহাঙ্গীর বিজয়ী হয়েছিলেন। এবারই প্রথম জেলার সবকটি আসনে জয় নিশ্চিত করল দলটি। বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাতে জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক মো. আরিফ-উজ-জামান বেসরকারিভাবে ফলাফল ঘোষণা করেন। গোপালগঞ্জ-১ আসন গোপালগঞ্জ-১ আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী সেলিমুজ্জামান মোল্যা ৬৮ হাজার ৮৬৭ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন।তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী গণঅধিকার পরিষদের প্রার্থী মো. কাবির মিয়া পেয়েছেন ৫৩ হাজার ৯৬১ ভোট। গোপালগঞ্জ-২ আসন গোপালগঞ্জ-২ আসনে বিএনপি মনোনীত কে এম বাবর ৪০ হাজার ৪৮ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন।তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী এম এইচ খান মঞ্জু পেয়েছেন ৩৩ হাজার ৩৯ ভোট। গোপালগঞ্জ-৩ আসন গোপালগঞ্জ-৩ আসনে বিএনপি মনোনীত এস এম জিলানী ৬০ হাজার ১৬৬ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন।তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী গোবিন্দ চন্দ্র প্রামাণিক পেয়েছেন ৩৩ হাজার ৮৬৭ ভোট। তিন আসনেই গণভোটে ‘না’ ভোটের জয় এদিকে, গোপালগঞ্জ জেলার তিনটি সংসদীয় আসনেই অনুষ্ঠিত গণভোটে ‘না’ ভোট জয়ী হয়েছে। বিষয়টি জেলার রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন আলোচনা তৈরি করেছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, সংসদীয় আসনে বিএনপির পূর্ণ বিজয়ের পাশাপাশি গণভোটের ফলাফল ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক সমীকরণে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিজের ভোট প্রদান করা কেন্দ্রেই পরাজয়ের স্বাদ পেয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) সকালে তিনি রাজধানীর মিরপুরে অবস্থিত মনিপুর স্কুল অ্যান্ড কলেজ বালক শাখা কেন্দ্রে ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছিলেন। তবে কেন্দ্রটির ভোট গণনা শেষে প্রাপ্ত ফলাফলে দেখা গেছে, দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে তিনি ৫৬০ ভোট পেয়েছেন। তাঁর বিপরীতে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) মনোনীত প্রার্থী শফিকুল ইসলাম খান ৫৬৫ ভোট পেয়ে ওই কেন্দ্রে জয়ী হয়েছেন। কেন্দ্রটিতে সর্বমোট ১ হাজার ১৭৪টি ভোট পড়েছিল, যার মধ্যে ২৭টি ভোট বাতিল বলে গণ্য করা হয়েছে। নিজ কেন্দ্রে মাত্র ৫ ভোটের এই ব্যবধানে জামায়াত আমিরের পরাজয়টি স্থানীয় ভোটার ও রাজনৈতিক মহলে বিশেষ আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ (সরাইল, আশুগঞ্জ ও বিজয়নগর একাংশ) আসনে বেসরকারি ভাবে নির্বাচিত হয়েছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা। তিনি হাঁস প্রতীকে ভোট পেয়েছেন ১ লাখ ১৭ হাজার ৪৯৫ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির দলীয় জোটের মনোনীত প্রার্থী আল্লামা জুনায়েদ আল হাবিব খেজুর গাছ প্রতীকে পেয়েছেন ৭৯ হাজার ৯ভোট।এ আসনে ১৫১টি ভোট কেন্দ্রে মোট ভোটার ৪৯৯৪৪৮ জন। ব্রাহ্মণবাড়িয়া ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা ৩৭ হাজার ৫৬৮ ভোট বেশী পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সরাইল উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও সহকারী রিটার্নিং অফিসার মো. আবুবকর সরকার।
ঢাকা-১৭ ও বগুড়া-৬ আসনে বেসরকারিভাবে বিজয়ী হয়েছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) রাতে বিএনপির অফিশিয়াল ফেসবুক পেজে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। আজ সকাল সাড়ে ৭টা থেকে সারাদেশের ৪২ হাজার ৭৭৯টি কেন্দ্রে একযোগে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ শুরু হয়ে চলে বিকাল সাড়ে চারটা পর্যন্ত। অনুষ্ঠিত হয়েছে গণভোটও।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ শেষে চলছে গণনা। এরই মধ্যে বেশ কয়েকটি আসনের বেসরকারি ফলাফল প্রকাশ হয়েছে। এতে দেখা যায়, জামায়াতে ইসলামীর তিন শীর্ষ নেতা হেরে গেছেন। তাদের মধ্যে দুজন উল্লেখযোগ্য সংখ্যক ভোটের ব্যবধানে পরাজিত হয়েছেন। যদিও তাদের জয়ের ব্যাপারে দলটি সবচেয়ে বেশি আশাবাদী ছিল। জামায়াতের পরাজিত হেভিওয়েট প্রার্থীরা হলেন- দলটির সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক সংসদ সদস্য অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক সংসদ সদস্য হামিদুর রহমান আযাদ এবং ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাবেক সেক্রেটারি জেনারেল ও আলোচিত আইনজীবী শিশির মনির৷ বিএনপি প্রার্থীদের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় হেরে যাওয়া দাঁড়িপাল্লার প্রার্থীদের মধ্যে মিয়া গোলাম পরওয়ারের ব্যবধান তিন হাজার ভোট, হামিদুর রহমান আযাদ ২৮ হাজার ও শিশির মনিরের ব্যবধান ৩৯ হাজার ভোট।
বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা ও সাবেক এমপি হারুনুর রশীদ হারুনকে হারিয়ে জয় তুলে নিয়েছেন চাঁপাইনবাবগঞ্জ-০৩ আসনের জামায়াত মনোনীত প্রার্থী নুরুল ইসলাম বুলবুল।বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) রাতে বেসরকারি ফলাফলে এ তথ্য উঠে আসে। তথ্যমতে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে নুরুল ইসলাম বুলবুল পেয়েছেন ১ লাখ ৮৯ হাজার ৬১৩। অন্যদিকে ধানের শীষ প্রতীকে হারুনুর রশীদ পেয়েছেন ১ লাখ ২৬ হাজার ৯৯৭ ভোট। পরাজিত ও বিজয়ী প্রার্থীর ভোটের ব্যবধান ৬২ হাজার ৬১৬। একটি পৌরসভা ও ১৪টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত এ আসনে পাঁচজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তারা হলেন- বিএনপির মো. হারুনুর রশীদ, জামায়াতের নূরুল ইসলাম বুলবুল, জেএসডির ফজলুর ইসলাম খাঁন সুমন, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মো. মনিরুল ইসলাম, গণঅধিকার পরিষদের মো. শফিকুল ইসলাম। এ আসনে ভোটার সংখ্যা ৪ লাখ ৬৮ হাজার ৪৭৯ জন। এর মধ্যে পুরুষ ২ লাখ ৩৬ হাজার ৬৪৮ জন এবং নারী ২ লাখ ৩১ হাজার ৮৩১ জন। এখানে ১৭২টি কেন্দ্রের ৯২৮টি কক্ষে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
কুমিল্লা-৪ (দেবিদ্বার) আসনের ১১৬টি কেন্দ্রের ফলাফল জানা গেছে। এরমধ্যে ১,৭২,০০০ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন শাপলা কলির প্রার্থী হাসনাত আবদুল্লাহ এবং ট্রাক প্রতীকের জসীমউদ্দীন পেয়েছেন ২৬,০০০। বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় এ ফলাফল পাওয়া যায়। এর আগে এদিন সকাল সাড়ে ৭টা থেকে ৪২ হাজার ৭৭৯টি কেন্দ্রে একযোগে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ শুরু হয়ে চলে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত। সংসদ নির্বাচনের পাশাপাশি এদিন দেশজুড়ে গণভোটও অনুষ্ঠিত হয়েছে।
পটুয়াখালী-৩ আসনে বিএনপি জোটের প্রার্থী মো. নুরুল হক বেসরকারিভাবে জয়ী হয়েছেন। বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) ভোট গণনা শেষে বেসরকারিভাবে গণঅধিকার পরিষদের এই প্রার্থীর বিজয়ের তথ্য জানা গেছে। এবারের নির্বাচনে মোট ভোটার ১২ কোটি ৭৭ লাখ ১১ হাজার ৮৯৫ জন। তাদের মধ্যে পুরুষ ভোটার ৬ কোটি ৪৮ লাখ ২৫ হাজার ১৫১ জন। নারী ভোটার ৬ কোটি ২৮ লাখ ৮৫ হাজার ৫২৪ জন। এছাড়া তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার ১ হাজার ১২০ জন।
এম নজরুল ইসলাম: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোলা-৩ (লালমোহন তজুমদ্দিন) আসনে বেসরকারিভাবে ধানের শীষ প্রতীকের বিএনপির প্রার্থী মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বীরবিক্রম নির্বাচিত হয়েছেন। নিকটতন প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াত সমর্থিত ফুলকপি প্রতীকের প্রার্থী নিজামুল হক নাঈমের থেকে ৯৬১১৪ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন তিনি। এ নিয়ে মেজর হাফিজ সপ্তম বারের মতো সংসদ সদস্য নির্বাচিত হলেন। ভোলা-৩ আসনে (লালমোহন-তজুমদ্দিন) মোট ভোট কেন্দ্র ১১৯ টি। এজেন্ট ও অসমর্থিত সূত্রের ফলাফলে বেসরকারিভাবে ধানের শীষ প্রতীকে পেয়েছে ১ লাখ ৫১ হাজার ৭৭৪ ভোট এবং ফুলকপি প্রতীকে পেয়েছে ৫৫ হাজার ৬৬০ ভোট। ভোলা-৩ আসনে ভোট প্রদানের হার ৫৮%। উল্লেখ্য ভোলা-৩ আসনে ১টি পৌরসভা ও ১৫টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত। মোট ভোটার সংখ্যা ৩,৮৫,৫৯৭ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ১,৯৭,০১৭ জন, মহিলা ভোটার ১,৮৭,৫৭৭ জন এবং হিজড়া ভোটার ৩ জন। এই আসনে মোট ১১৯টি ভোটকেন্দ্রে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। বিজয় প্রতিক্রিয়ায় মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, এই বিজয় আমার একার নয়, এটি লালমোহন-তজুমদ্দিনের মানুষের বিজয়। বারবার জনগণের কাছে যাওয়াই আমার রাজনীতির শক্তি। আগামীতেও মানুষের অধিকার, উন্নয়ন ও গণতন্ত্র রক্ষায় আমি আপসহীন থাকব।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও দলটির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম খান বলেছেন, ‘পরাজয়ের আশঙ্কায় জামায়াতে ইসলামী যেভাবে সহিংসতা, ভোটকেন্দ্র দখল, অবৈধ অর্থের ব্যবহার, কারচুপি ও জালভোটসহ নৈরাজ্যের নানা পথ বেছে নিয়েছে, তা অত্যন্ত হতাশাজনক।’ বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) রাতে রাজধানীর গুলশানে বিএনপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। দলীয় নেতাকর্মী ও দেশের জনগণের প্রতি অনুরোধ জানিয়ে নজরুল ইসলাম বলেন, ‘এত বছর লড়াই করে যা আমরা অর্জন করতে যাচ্ছি, সেটা যাতে বাধাগ্রস্ত না হয়। সেজন্য পালাক্রমে কেন্দ্রগুলো পাহারা দেবেন। আপনারা সবাই ভোটকেন্দ্রে যাবেন। ভোট দেবেন এবং ভোটের ফলাফল বুঝে নিয়ে তারপরে ভোটকেন্দ্র পরিত্যাগ করবেন।’ তিনি ভোটের আগের দিনে ও রাতে সারা দেশে জামায়াতের সহিংসতা, ভোটকেন্দ্র দখল, অবৈধ অর্থের ব্যবহার, কারচুপি ও জালভোটের চিত্র তুলে ধরেন। নজরুল ইসলাম খান বলেন, ‘সৈয়দপুর বিমানবন্দরে ৭৪ লাখ টাকা নিয়ে আটক জামায়াতের ঠাকুরগাঁও জেলা আমিরের বার্ষিক আয় সাড়ে চার লাখ টাকা, শরীয়তপুরে সাড়ে ৭ লাখ টাকাসহ জামায়াতকর্মী আটক ও ২ বছরের কারাদণ্ড, টাকা বিতরণের অভিযোগে নেত্রকোনা ইউনিয়ন জামায়াতের আমির আটক, সৈয়দপুর, কুমিল্লা ও পটুয়াখালীতে টাকাসহ জামায়াতের ১২ নেতা আটক করা হয়েছে।’ তিনি বলেন, ‘পটুয়াখালী-১ আসনে ভোটারদের টাকা দেওয়ার অভিযোগে জামায়াত নেতা আটক, পল্লবীতে জামায়াতের ২ পোলিং এজেন্টের কারাদণ্ড ও কেন্দ্র থেকে অফিসার বহিষ্কার, ভোটারদের টাকা বিতরণ, জামায়াতের শিক্ষককে কারাদণ্ড, ভোট কিনতে গিয়ে জনতার ধাওয়া, দৌড়ে পালালেন জামায়াত নেতা, নোয়াখালীতে জামায়াতের লোকজন হ্যান্ডবিল ও টাকাসহ জনতার জেরার মুখে পড়ে।’ বিএনপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান বলেন, ‘দাড়িপাল্লায় ভোট দেওয়ার চাপ, গৃহবধূকে একা পেয়ে ধর্ষণচেষ্টা জামায়াত কর্মীদের, সংখ্যালঘুদের বাড়িতে আগুন দেওয়ার অভিযোগ জামায়াতের বিরুদ্ধে, জামায়াতের বিরুদ্ধে রাজধানীতে ভোটকেন্দ্র দখল চেষ্টার অভিযোগ, ঝিনাইদহ-৪ দাড়িপাল্লার এজেন্টদের স্বাক্ষরিত ২৩টি রেজাল্ট শিট জব্দ, জামায়াত নেতার মাছের খামার থেকে জিআই পাইপ ও ককটেল তৈরির সরঞ্জাম উদ্ধার, পলাশবাড়ীতে জামায়াত নেতার বসতবাড়ি থেকে লাঠি উদ্ধার করেছে।’ তিনি বলেন, ‘রাজশাহীতে কৃষকদল নেতার রগ কেটে দিয়েছে , মিরপুরের রূপনগরে অস্ত্রসহ জামায়াত কর্মীকে সেনাবাহিনীর কাছে হস্তান্তর, জাল ভোট দেওয়ার অভিযোগে নারায়ণগঞ্জে জনতার হাতে আটক জামায়াত নেতা, রাতে ভোটকেন্দ্রে প্রবেশ ওজামায়াত নেতা আটক, রাজধানীতে ভোট কেনার সময় জামায়াতের স্থানীয় নায়েবে আমির আটক, টাকা বিলি করার অভিযোগে গোদাগাড়ীতে জামায়াত আমিরের গাড়ি ঘেরাও ও সিলসহ জামায়াত কর্মীকে হাতেনাতে ধরে এলাকাবাসী, বগুড়ায় রাতে ভোটকেন্দ্রে ঢুকে জামায়াত নেতা আটক, মির্জাগঞ্জে অভিযোগে জামায়াত কর্মী আটক ও মুচলেকায় মুক্ত, নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনে প্রিসাইডিং কর্মকর্তার দায়িত্বে সাবেক জামায়াত নেতা, ব্যালট খোলার অভিযোগ নিয়ে উত্তেজনা হয়েছে। নোয়াখালীতে ধানের শীষের নারী কর্মীকে পিটিয়ে আহত, যুবদল নেতাকে ছুরিকাঘাত। তোপের মুখে জামায়াতের এমপি প্রার্থী (ঢাকা-১৪), দুই জামায়াত নেতাকে আটকে রাখে বিএনপি নেতাকর্মীরা।’
নানা ধরনের ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে জামায়াতে ইসলামীর পরিকল্পনা দেশব্যাপী স্পষ্ট হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৬ (বাঞ্ছারামপুর) আসনের বিএনপি জোট সমর্থিত প্রার্থী ও গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকি। বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে বাঞ্ছারামপুর উপজেলা সদরে সংবাদ সম্মেলনে এমন মন্তব্য করেন তিনি। জোনায়েদ সাকি বলেন, রাজনৈতিক ক্ষমতার লড়াইয়ে এসে অনেক পুরনো পদ্ধতি-কৌশলগুলো অবলম্বন করা হচ্ছে। যার মধ্যে দিয়ে জনগণের ভোটের চাইতে নানা ধরনের ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের উপরে কোনো কোনো দলের আস্থা বেশি। বিশেষভাবে জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন জোটের এই ধরনের পরিকল্পনা দেশব্যাপী স্পষ্ট হয়ে গেছে। বাঞ্ছারামপুরেও আমরা তার নানান রকম লক্ষণ দেখছি। তিনি বলেন, সারাদেশে নানানভাবে ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের একটা পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। অনুপস্থিত ভোটারদের ভোট দিয়ে দেওয়া, কালি মোছার জন্যে মেডিসিন নিয়ে আসা, একই ব্যক্তিকে ভোট দেওয়ানো, ইচ্ছাকৃতভাবে কেন্দ্রে মব তৈরি করা এবং সেগুলো দিয়ে প্রচার করে ভোটারদের বাধাগ্রস্ত করাসহ নানান লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে। জোনায়েদ সাকি বলেন, প্রশাসন একটি দলের পক্ষে প্রভাবিত হলে অনেক কিছু তারা দেখবে না। জাল ভোট দেওয়া, কেন্দ্র দখলের পরিকল্পনা, কালো টাকার ছড়াছড়ির বিষয়ে প্রশাসনের কাছে অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। তারা ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন। সংবাদ সম্মেলনে উপজেলা বিএনপির সভাপতি মেহেদি হাসান পলাশ, নির্বাহী কমিটির সদস্য ও সাবেক সংসদ সদস্য এম এ খালেকসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দরা উপস্থিত ছিলেন।
লক্ষ্মীপুর–৩ (সদর) আসনে বিএনপির প্রার্থী শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানির নির্বাচনি কাজে ব্যবহৃত একটি গাড়ি থেকে ১৫ লাখ টাকা উদ্ধার করা হয়েছে। বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) রাত ৮টার দিকে শহরের ঝুমুর এলাকায় তল্লাশি চৌকিতে এ টাকা উদ্ধার করা হয়। এ সময় এ্যানির ব্যক্তিগত সহকারী (পিএস) ও কৃষক দলের জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি বদরুল ইসলাম শ্যামলসহ তিন জনকে আটক করা হয়। পরে তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় আধা ঘণ্টার মধ্যে কারণ দর্শানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নির্বাচন অনুসন্ধান ও বিচারিক কমিটির সদস্য এবং লক্ষ্মীপুর জেলা জজ আদালতের বিচারক তাহরিনা আক্তার নওরিন ১৫ লাখ টাকা উদ্ধারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তবে তিনি এ বিষয়ে বিস্তারিত মন্তব্য করেননি। প্রত্যক্ষদর্শী ও নির্বাচন অনুসন্ধান টিম সূত্রে জানা গেছে, নির্বাচনকালে নিরাপত্তাব্যবস্থার অংশ হিসেবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ঝুমুর এলাকায় তল্লাশি চৌকি বসায়। কৃষক দল নেতাসহ তিন জন একটি গাড়িতে করে যাচ্ছিলেন। গাড়িটি তল্লাশি করে ১৫ লাখ টাকা পাওয়া যায়। পরে তাদের জেলা জজ আদালতে নেওয়া হয়। সেখানে বিচারক তাহরিনা আক্তার নওরিন অভিযুক্ত ব্যক্তিদের আধঘণ্টার মধ্যে কারণ দর্শানোর নির্দেশ দেন। এরপর তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়। এ ব্যাপারে জানতে চাইলে রাত ৯টার দিকে জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হাছিবুর রহমান বলেন, ‘নির্বাচনি ব্যয় হিসেবে আমরা সর্বোচ্চ ৪০ লাখ টাকা পর্যন্ত খরচ করতে পারবো। ওই খরচের ১৫ লাখ টাকা গাড়িতে ছিল। এ বিষয়ে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে। আমরা দ্রুত এর জবাব দেবো।’ রাতে একটি ভিডিও বার্তায় শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি বলেন, ‘আমি নির্বাচনি কাজে ব্যস্ত আছি। শুনতে পেলাম, আমার নির্বাচনি কাজের গাড়ি চেক (তল্লাশি) করা হয়েছে। প্রকৃতপক্ষে আমার নির্বাচনি এজেন্ট সেই গাড়ি নিয়ে বিভিন্ন কেন্দ্রে যাচ্ছেন। সেখানে আমার যে ব্যয়, তার মধ্যে ১৫ লাখ টাকা কেন্দ্র ওয়াইজ দেওয়ার জন্য যাচ্ছিল। কর্তৃপক্ষ চেক করেছে। ইতিমধ্যে কোট তাদের রিলিজ (ছেড়ে) করে দিয়েছে। সুতরাং এ নিয়ে বিভ্রান্ত হওয়ার কোনও সুযোগ নেই।’
জুলাইয়ের গণ-অভ্যুত্থানের মাধ্যমে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। দীর্ঘ দেড় দশকের বিতর্কিত নির্বাচনী ইতিহাস, নতুন রাজনৈতিক মেরুকরণ এবং ভোটাধিকার ফিরে পাওয়ার প্রত্যাশা—সব মিলিয়ে এবারের নির্বাচন বাংলাদেশের রাজনীতিতে এক ভিন্ন মাত্রা যোগ করেছে। নির্বাচনকে ঘিরে শেষ মুহূর্তের উত্তেজনা ভোটের আগের দিনেও প্রধান দুই প্রতিদ্বন্দ্বী দল বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামী পাল্টাপাল্টি সংবাদ সম্মেলন করে একে অপরের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছে। নির্বাচন হবে কি না—এ নিয়ে দীর্ঘদিন শঙ্কা থাকলেও শেষ পর্যন্ত পুরো দেশ এখন ভোটের অপেক্ষায়। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই নির্বাচন শুধু একটি সরকার গঠনের প্রক্রিয়া নয়; বরং দেশের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক গতিপথ নির্ধারণের একটি গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণ। কেন এবারের নির্বাচন ব্যতিক্রম ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রেক্ষাপট আগের নির্বাচনগুলোর চেয়ে আলাদা। বিশ্লেষকেরা মূলত দুটি কারণে এই নির্বাচনকে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছেন দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগের পতনের পর প্রথম জাতীয় নির্বাচন দেড় দশকে পরপর তিনটি বিতর্কিত নির্বাচনের পর ভোটারদের অংশগ্রহণের সুযোগ ২০১৪ ও ২০২৪ সালের নির্বাচন একতরফাভাবে অনুষ্ঠিত হয়। ২০১৮ সালে সব দল অংশ নিলেও সেটি ‘রাতের ভোট’ হিসেবে পরিচিতি পায়। ওই নির্বাচনগুলোতে সাধারণ মানুষ প্রকৃত অর্থে ভোট দিতে পারেনি—এমন অভিযোগ দীর্ঘদিনের। আওয়ামী লীগের অনুপস্থিতিতে নতুন মেরুকরণ আওয়ামী লীগ নির্বাচনের বাইরে থাকায় রাজনীতিতে নতুন মেরুকরণ তৈরি হয়েছে। বিএনপি এখন প্রধান রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে সামনে এলেও তাদের প্রতিদ্বন্দ্বী বদলেছে। একসময় রাজনীতির পার্শ্বচরিত্র হিসেবে থাকা জামায়াতে ইসলামী এবার বড় শক্তি হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। দলটি ১১ দলীয় একটি জোট গঠন করেছে, যেখানে ইসলামী দলগুলোর সংখ্যা বেশি। জুলাইয়ের গণ-অভ্যুত্থানে নেতৃত্ব দেওয়া তরুণদের দল জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)ও এই জোটে রয়েছে। অন্যদিকে বিএনপি আসন সমঝোতার ভিত্তিতে তাদের যুগপৎ আন্দোলনের শরিক ও কয়েকটি ইসলামপন্থি দলের সঙ্গে জোট করেছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষক অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ বলছেন, এই নির্বাচনের মধ্য দিয়ে ডানপন্থি রাজনৈতিক শক্তিগুলোর প্রভাব বাড়ার বিষয়টি স্পষ্ট হচ্ছে। টাকা উদ্ধারের ঘটনা ও পারস্পরিক অভিযোগ ভোটের আগের দিনে জামায়াতের ঠাকুরগাঁও জেলা আমিরের কাছ থেকে ৭৪ লাখ টাকা উদ্ধারের ঘটনা বড় আলোচনার জন্ম দেয়। জামায়াত অভিযোগ করেছে, ভোটের আগে তাদের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। জামায়াতের আমির শফিকুর রহমান দাবি করেন, দলের জনপ্রিয়তায় ভীত হয়ে একটি গোষ্ঠী ভোটারদের বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছে। অন্যদিকে বিএনপির পক্ষ থেকেও অভিযোগ তোলা হয়েছে যে, তাদের ‘অনিবার্য বিজয়’ ঠেকাতে পরিকল্পিতভাবে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা হচ্ছে। দুই দলের পাল্টাপাল্টি অভিযোগে বিভিন্ন এলাকায় অর্থ উদ্ধারের ঘটনাগুলো নির্বাচনকে ঘিরে বড় ইস্যুতে পরিণত হয়েছে। নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, ভোটের দিন সারাদেশে সেনা, পুলিশসহ সব আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েন থাকবে। তবে অন্তর্বর্তী সরকারের গত ১৮ মাসে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতার অভিযোগ থাকায় ভোটের নিরাপত্তা নিয়ে ভোটার ও রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে শঙ্কা রয়েছে। তবুও বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং জামায়াতের আমির শফিকুর রহমান দুজনেই আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন যে ভোট শান্তিপূর্ণ হবে। ভোটের পর যে চ্যালেঞ্জগুলো সামনে বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচন শেষ হলেও চ্যালেঞ্জ তখনই শুরু হবে। যে দল সরকার গঠন করবে, তাদের সামনে প্রধান দুই সংকট থাকবে— আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ স্থবির অর্থনীতিকে পুনরুজ্জীবিত করা ব্যবসা-বাণিজ্য ও বিনিয়োগ দীর্ঘদিন ধরে স্থবির হয়ে আছে। অন্তর্বর্তী সরকার অর্থনীতি ঘুরে দাঁড়ানোর আশ্বাস দিলেও বিশ্লেষকেরা মনে করছেন, এই দুটি বিষয়ই নতুন সরকারের জন্য সবচেয়ে বড় পরীক্ষা হয়ে দাঁড়াবে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপিকে সমর্থন দেওয়ায় দেশের শীর্ষ পীর ও আলেমদের ধন্যবাদ জানিয়েছেন দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান। বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) বিকালে প্রেস সচিব সালেহ শিবলী সই করা বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। তারেক রহমান বলেন, জাতির একটি ঐতিহাসিক মুহূর্তে দেশের শীর্ষ আলেম-ওলামাদের অবস্থান জনগণকে সঠিক পথ নির্দেশনা দেবে। আলেম-ওলামাদের ওই স্পষ্ট অবস্থান ইসলামী মূল্যবোধে বিশ্বাসী দল বিএনপির বিরুদ্ধে অপপ্রচার রোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। একইসঙ্গে তিনি বলেন, জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে দেশের জনগণ তাদের রাজনৈতিক ও সামাজিক অধিকার প্রতিষ্ঠায় করণীয় সঠিক নির্দেশনা পাবে বলে আমি মনে করি। ভবিষ্যতেও ইসলামী মূল্যবোধের আলোকে দল-মত-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সব নাগরিকের জন্য একটি নিরাপদ ও মানবিক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠায় আলেমরা ভূমিকা রাখবেন বলে প্রত্যাশা তারেক রহমানের।
নির্বাচনকে সামনে রেখে পটুয়াখালী-৩ (দশমিনা–গলাচিপা) আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী ও গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুর চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলে অভিযোগ করেছেন। মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) বিকাল সাড়ে ৫টার দিকে জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা ড. মোহাম্মদ শহীদ হোসেন চৌধুরীর সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে সংবাদিকদের এসব অভিযোগ করেন তিনি। ডাকসুর সাবেক ভিপি জানান, গত দুইদিনে ঘটে যাওয়া একাধিক গুরুতর ঘটনার বিষয়ে তিনি পুলিশ সুপার ও জেলা প্রশাসককে অবহিত করেছেন। কিন্তু এসব ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের এখনো গ্রেফতার না করায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি। তিনি আরও বলেন, এ পরিস্থিতিতে আমাদের পক্ষে নির্বাচন করা সম্ভব নয়। তিনি জানান, এলাকায় পরপর অন্তত পাঁচটি গুরুতর ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে রয়েছে বাড়ি ও অফিসে আগুন, নারীকে ধর্ষণের পর হত্যা, চর বোরহানী এলাকায় অফিস ভাঙচুর এবং কুপিয়ে মানুষকে আহত করার ঘটনা। এসব গুরুতর অপরাধ সংঘটিত হলেও প্রশাসন সন্তোষজনক ব্যবস্থা নেইনি বলে অভিযোগ করেন তিনি। সংবাদ সম্মেলনে নুর বলেন, এসব বিষয়ে তিনি নির্বাচন কমিশনের সচিব ও পুলিশের মহাপরিদর্শককেও (আইজিপি) অবহিত করেছেন। তার অভিযোগ, একজন স্বতন্ত্র প্রার্থী এলাকার চিহ্নিত চর দখলকারী, ভূমিদস্যু ও চাঁদাবাজদের নিয়ে পরিকল্পিতভাবে অশান্তি সৃষ্টি করছেন এবং নির্বাচন বানচালের চেষ্টা চালাচ্ছেন। তিনি বলেন, আমাদের এজেন্ট ও ভোটাররা চরম নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে রয়েছেন। এসব অপকর্ম বন্ধে প্রশাসন যদি শক্ত ব্যবস্থা না নেয়, তাহলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠবে। নিজের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে ভিপি নুর বলেন, আমি একটি দলের প্রধান ও সাবেক ভিপি। আমার মতো একজন প্রার্থী যদি নিরাপত্তাহীনতায় থাকি, তাহলে সাধারণ মানুষের অবস্থা কেমন হতে পারে, তা ভেবে শঙ্কিত হচ্ছি। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, দ্রুত সংশ্লিষ্ট সন্ত্রাসীদের গ্রেফতার করা না হলে নির্বাচন করা আমার পক্ষে সম্ভব হবে না। প্রয়োজনে গ্রেফতারের দাবিতে আন্দোলনে যাওয়ার কথাও জানান তিনি। মঙ্গলবারও তাদের দুই কর্মীকে হুমকি দেওয়া হয়েছে। অভিযোগ জানানো হলেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে না বলে অভিযোগ করেন নুর।
বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া নির্বাচনের পর তারা এককভাবে সরকার গঠনে সক্ষম হবেন বলে আশা করছেন৷ ডয়চে ভেলেকে দেয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে তিনি এই আশাবাদ ব্যক্ত করেন৷ সাক্ষাৎকারে তিনি নারীর ক্ষমতায়ন, প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক এবং গুম-খুনের বিচার নিয়েও কথা বলেছেন৷ ১৭ বছরের নির্বাসন শেষে দেশে ফিরে মায়ের মৃত্যু এবং নির্বাচনি প্রস্তুতি - দুটোর সামঞ্জস্য রাখাই তার জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ ছিল বলে জানান তারেক রহমান৷ সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছেন, বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া নির্বাচনের পর তারা এককভাবে সরকার গঠনে সক্ষম হবেন বলে আশাবাদী তিনি। এ ছাড়া ১৭ বছরের নির্বাসন শেষে দেশে ফিরে মায়ের মৃত্যু এবং নির্বাচনি প্রস্তুতি এ দুইয়ের মধ্যে সামঞ্জস্য রাখাই তার জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ ছিল বলেও জানান তারেক রহমান। এ নির্বাচন কতটা সুষ্ঠু হবে- এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘আমরা আশা করছি, নির্বাচনটা সুষ্ঠু হবে। মানুষেরও তাই প্রত্যাশা। আমরা আশাবাদী।’ এ ছাড়া ১৭ বছর পর দেশে ফেরে কেমন চ্যালেঞ্জ ফেস করছেন এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, ‘এত বছর পর এসেছি, আসার পর মানুষের চোখেমুখে একটা প্রত্যাশা দেখেছি। অন্যদিকে আসার পাঁচ দিন পরেই আম্মা মারা গেলেন। স্বাভাবিকভাবে এটাও একটা খুব কষ্টকর বিষয়। তরুণদের আকৃষ্ট করার জন্য দলের পক্ষ থেকে নতুন কোনো বিষয় রাখা হয়েছে কিনা- এমন প্রশ্নে তারেক রহমান বলেন, ‘আমাদের ইশতেহারে সমাজের তরুণদের জন্য, বয়স্কদের জন্য, দেশের ৪০ লাখ প্রতিবন্ধীদের জন্য, একই সঙ্গে বাংলাদেশের জনগোষ্ঠীর অর্ধেক যে নারী, তাদের ক্ষমতায়নের জন্য আমরা পরিকল্পনা রেখেছি, কর্মসূচি রেখেছি। বিশেষ করে শুধু তরুণদের জন্য না, সবার জন্য এই পরিকল্পনা রাখা হয়েছে। কারণ দেশটা গঠন করতে হবে সবাইকে নিয়ে।’ ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা যদি দেখি যে এমন কোনো চুক্তি হচ্ছে যেটা বাংলাদেশের মানুষের স্বার্থের পরিপন্থি, বাংলাদেশের স্বার্থের পরিপন্থি, সেটা যে কোনো দেশের সাথেই হোক না কেন, তাদের সঙ্গে স্বাভাবিকভাবেই দূরত্ব হবে। কারণ আমি তো প্রতিনিধিত্ব করি আমার দেশের মানুষকে।’ বিএনপি ক্ষমতায় এলে সবাইকে নিয়ে ঐক্যবদ্ধ সরকার গঠন করবেন কিনা- এ প্রসঙ্গে তারেক রহমান বলেন, ‘বিএনপি এককভাবে সরকার গঠন করবে। কারণ কাউকে অপজিশনে থাকতে হবে। একটা ব্যালেন্সড রাষ্ট্র যদি হতে হয়, ব্যালেন্সড সরকার যদি হতে হয়, অপজিশনে থাকতে হবে কাউকে। সবাই সরকারে চলে এলে কেমন করে দেশ চলবে?’ দেশের মোট ভোটারের অর্ধেকই নারী। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানেও নারীদের অবদান রয়েছে। সে ক্ষেত্রে নারীদের নিয়ে বিএনপির ভাবনা কি? এ বিষয়ে তারেক রহমান বলেন, ‘বেগম খালেদা জিয়া যখন এর আগে দেশ পরিচালনার দায়িত্বে ছিলেন, তখন তিনি একটি পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করেছিলেন এবং সেটা হচ্ছে মেয়েদের শিক্ষাব্যবস্থা। ক্লাশ ওয়ান থেকে টুয়েলভ পর্যন্ত উনি ফ্রি করে দিয়েছিলেন। এটি হচ্ছে নারীসমাজকে এমপাওয়ার করার প্রথম একটি পদক্ষেপ৷ অর্থাৎ আপনি একজনের শিক্ষার সুযোগ তৈরি করলে ন৷ আমরা সরকার গঠন করতে সক্ষম হলে নারীদের এ শিক্ষার সুযোগটা আরও হায়ার ক্লাশ পর্যন্ত আমরা নিয়ে যাব।’ এছাড়া দেশের প্রত্যেক হাউসওয়াইফের জন্য, বিশেষ করে প্রথমে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে ফ্যামিলি কার্ড দিয়ে রাষ্ট্রীয়ভাবে সহযোগিতা ও স্বাবলম্বী করার কথাও বলেন তিনি। পাশাপাশি নারীদের জন্য বিভিন্ন প্রকল্প গ্রহণের বিস্তারিত বর্ণনাও দেন তারেক রহমান। আওয়ামী লীগের রাজনীতি ও দলটি নিষিদ্ধের ব্যাপারে তিনি বলেন, ‘আমরা রাজনীতি করি মানুষের জন্য, মানুষের সমর্থন নিয়ে৷ আমি মনে করি, রাজনীতিতে মানুষ যাকে গ্রহণ করবে তাকে কেউ ঠেকিয়ে রাখতে পারবে না৷ আর যাকে মানুষ গ্রহণ করবে না, যত শক্তিই থাকুক না কেন, শক্তি প্রয়োগ করে সে ধরে রাখতে পারে না, ৫ আগস্ট যার উদাহরণ।’ দলের প্রার্থীদের ঋণখেলাপি থাকার অভিযোগ এবং বিএনপির ইশতেহারে দুর্নীতি দমনের উদ্যোগের বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তারেক রহমান বলেন, ‘দেখুন দুর্নীতি এবং ঋণগ্রস্ত বা ব্যাংক ডিফল্ট দুটো ভিন্ন জিনিস। আমাদের দলের লক্ষ নেতাকর্মীর নামে বিগত স্বৈরাচার সরকার মামলা দিয়েছিল। আমাদের দলের মধ্যে যারা আছেন, যারা আমাদের দলীয় রাজনীতির সঙ্গে আছে, যারা ব্যবসাবাণিজ্য করে তাদের বিভিন্নভাবে হয়রানি করা হয়েছে৷ তাদের ন্যায্য অধিকার থেকে তাদের বঞ্চিত করা হয়েছে। তাদের ব্যবসাবাণিজ্য চলতে দেওয়া হয়নি। তাদের ন্যায্য ব্যাংক লোন যেটা আছে সেটা তাদের দেওয়া হয়নি। কাজেই এ রকম একটি অবস্থার মধ্যে আমাদের লোক, আমাদের ব্যবসায়ীরা, আমাদের নেতাকর্মীরা যারা ব্যবসাবাণিজ্য করতেন, তাদের জন্য তো এ রকম ডিফল্ট হওয়াটা খুব স্বাভাবিক ব্যাপার। দুর্নীতি এবং ডিফল্ট হয়ে যাওয়ার মধ্যে সম্পর্ক তো নেই। দুটো একদম ভিন্ন জিনিস।’ ১৫-১৬ বছরে গুম-খুনের বিচার এবং ভুক্তভোগী ও তাদের পরিবারকে সহায়তার ব্যাপারে বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, ‘আমাদের নেতাকর্মীরা যে রকম গুম-খুনের শিকার হয়েছে, অন্যান্য গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দল, যারা আমাদের সঙ্গে আন্দোলন-সংগ্রামে ছিল, তারা গুম-খুনের শিকার হয়েছে। এমনকি অনেক মানুষ আছেন, যারা রাজনীতির সঙ্গে জড়িত না, কিন্তু তারা অত্যাচার-নির্যাতনের শিকার হয়েছে, গুম-খুনের শিকার হয়েছে। একটি সভ্য দেশে মানুষ গুম হয়ে যাবে, দেশের মানুষ খুন হয়ে যাবে, কিন্তু তার কোনো বিচার হবে না- এটি তো হতে পারে না। কাজেই দেশের আইন অনুযায়ী অবশ্যই প্রত্যেকটা মানুষের বিচার পাওয়ার অধিকার রয়েছে।
জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান জাতির উদ্দেশ্যে ভাষণে বলেছেন, এমন বাংলাদেশ গড়তে চাই ‘যেখানে রাষ্ট্র হবে সবার, সরকার হবে জনগণের’। একই সাথে তিনি জুলাইয়ের মতো কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে দেশ গড়ার কাজে সবাইকে সঙ্গী হওয়ার আহ্বান জানান। এ সময় তিনি আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীদেরকে দাঁড়িপাল্লায় এবং ১১ দলীয় প্রার্থীকে তাদের প্রতীকে ভোট দেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। আজ সোমবার সন্ধ্যায় বাংলাদেশ টেলিভিশন (বিটিভি) এবং বাংলাদেশ বেতারে একযোগে সম্প্রচারিত দেশব্যাপী দেয়া ভাষণে ডা. রহমান একটি নতুন বাংলাদেশ গঠনে যুব, নারী এবং প্রবাসীদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা তুলে ধরেন এবং জনসাধারণের আস্থা পুনরুদ্ধার এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়নের জন্য শিক্ষা, বিচার বিভাগ, অর্থনীতি এবং শাসনব্যবস্থায় সংস্কারের রূপরেখা তুলে ধরেন। বাংলাদেশকে ন্যায়সঙ্গত, গণতান্ত্রিক ও সমৃদ্ধ ভবিষ্যতের দিকে পরিচালিত করার জন্য জাতীয় ঐক্য, মূল্যবোধের পুন:প্রতিষ্ঠা এবং নীতিবান নেতৃত্বের আহ্বান জানিয়ে আমির বলেন, আসন্ন ১৩তম জাতীয় সংসদ নির্বাচন জনসাধারণের আস্থা পুনরুদ্ধার এবং দেশের রাজনৈতিক দিকনির্দেশনা পুনর্গঠনের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ। জামায়াতের আমির বলেন, তার বক্তব্য নিয়মিত রাজনৈতিক ভাষণ হিসেবে নয় বরং জাতির ভবিষ্যতের প্রতিফলন হিসেবে ছিল। তিনি বলেন, "আমি হৃদয় থেকে এমন বিষয়গুলি নিয়ে কথা বলতে চাই যা কেবল এই প্রজন্মের জন্য নয়, বরং বাংলাদেশের ভবিষ্যত প্রজন্মের জন্য-মুসলিম এবং অমুসলিম উভয়ের জন্যই গুরুত্বপূর্ণ"। ভাষণের শুরুতে জামায়াতের আমির জুলাইয়ের বিদ্রোহ এবং মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন এবং আন্দোলনে আহতদের জন্য দোয়া কামনা করেন। জুলাই মাসকে অন্যায়ের বিরুদ্ধে সম্মিলিত প্রতিবাদ হিসেবে বর্ণনা করে তিনি বলেন, সমাজের সকল স্তরের মানুষ ঐক্যবদ্ধ হয়েছিলেন। ‘আমরা আর একটি জুলাই চাই না। আমরা এমন একটি বাংলাদেশ চাই যেখানে নাগরিকদের তাদের অধিকার দাবিতে কখনও রাস্তায় নামতে না হয়’। ডা. রহমান বলেন, তরুণদের একটি নতুন বাংলাদেশ গড়ে তোলার জন্য প্রয়োজনীয় সাহস, প্রতিভা এবং প্রযুক্তিগত দক্ষতা রয়েছে। ‘তারা পরিশ্রমী, নির্ভীক, সত্যের প্রতি নিবেদিতপ্রাণ এবং দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য প্রস্তুত," তিনি সমাজকে এমন সুযোগ তৈরি করার আহ্বান জানান যা তাদের অর্থপূর্ণভাবে অবদান রাখার সুযোগ করে দেয়। জামায়াতের আমির জোর দিয়ে বলেন, জাতীয় ঐক্য একটি স্লোগান নয় বরং একটি দায়িত্ব, তিনি সতর্ক করে বলেন, বিভাজন দেশকে দুর্বল করে এবং অন্যায়কে আরও গভীর করে। তিনি গত দশকে গণতান্ত্রিক অনুশীলনের ক্ষয় এবং ক্ষমতার কেন্দ্রীকরণ হিসেবে বর্ণনা করাকে সমালোচনা করেন, অভিযোগ করেন- ত্রুটিপূর্ণ নির্বাচনের মাধ্যমে নাগরিকদের তাদের ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে। তিনি বলেন, মানুষ যখন তাদের ভোটাধিকার হারায়, তখন তারা তাদের কণ্ঠস্বর হারায়। তিনি ২০১৪, ২০১৮ এবং ২০২৪ সালের নির্বাচনের কথা উল্লেখ করে বলেন, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের অপব্যবহার, জবাবদিহিতার অভাব এবং ভিন্নমত দমন গণতান্ত্রিক রীতিনীতি এবং জনসাধারণের আস্থাকে ক্ষুন্ন করেছে। নৈতিক নেতৃত্ব নেতৃত্বের আহ্বান জানিয়ে ড. রহমান বলেন, নৈতিকতাবিহীন রাজনীতি নিপীড়নের দিকে পরিচালিত করে। একজন নেতা শাসক নন, বরং জনগণের সেবক। তিনি বলেন, নেতৃত্ব ব্যক্তিগত বা দলীয় স্বার্থের পরিবর্তে সততা, ন্যায়বিচার এবং দায়িত্বের উপর ভিত্তি করে হওয়া উচিত। তিনি সততা, ঐক্য, ন্যায়বিচার, যোগ্যতা এবং কর্মসংস্থানের উপর কেন্দ্রীভূত বাংলাদেশের জন্য একটি দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরে বলেন, এই মূল্যবোধগুলি দুর্নীতি, চাঁদাবাজি এবং বৈষম্যকে প্রতিস্থাপন করবে। আমাদের অবশ্যই সততা এবং ন্যায়বিচারকে হ্যাঁ বলতে হবে, এবং দুর্নীতি ও নিপীড়নকে না বলতে হবে বলে উল্লেখ করেন তিনি। ডা. রহমান শিক্ষা, বিচার বিভাগ এবং অর্থনীতিতে সংস্কারের প্রয়োজনীয়তার উপর জোর দেন। তিনি বলেন, বিশ্বব্যাপী প্রতিযোগিতার জন্য তরুণদের প্রস্তুত করতে শিক্ষা ব্যবস্থা আধুনিক, মূল্যবোধ-ভিত্তিক এবং প্রযুক্তিগত অগ্রগতির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ হওয়া উচিত। “শিক্ষা নীতিশাস্ত্রের উপর ভিত্তি করে এবং প্রযুক্তির উপর ভিত্তি করে তৈরি হতে হবে। আজ বিশ্ব প্রযুক্তি-ভিত্তিক শিক্ষার উপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল, যা থেকে আমরা বঞ্চিত। আমরা আমাদের সন্তানদের দক্ষ কারিগরদের হাতে গড়ে তুলতে চাই এবং তাদের প্রকৃত কাজের সুযোগ প্রদান করতে চাই। আমরা তাদের বেকার ভাতা দিতে চাই না,”। বিচার বিভাগীয় সংস্কারের বিষয়ে তিনি বলেন, ন্যায়বিচার অবশ্যই নিরপেক্ষ এবং সহজলভ্য হতে হবে, তিনি সতর্ক করে বলেন, যদি মানুষ বিচার ব্যবস্থার উপর আস্থা হারিয়ে ফেলে, তবে একটি জাতি অগ্রগতি অর্জন করতে পারবে না। ‘সমাজে ন্যায়বিচার দৃঢভাবে প্রতিষ্ঠিত হলেই আমরা আমাদের আকাঙ্খার বাংলাদেশ গড়ে তুলতে পারব। অন্যথায়, স্বৈরাচার এবং দুর্নীতি দমন করা অসম্ভব হবে। অতএব বিচার বিভাগকে পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পুনর্গঠন করতে হবে এবং কেবলমাত্র সৎ, যোগ্য এবং প্রতিশ্রুুতিবদ্ধ ব্যক্তিদের ন্যায়বিচারের বেঞ্চে বসানো উচিত,’ বলে উল্লেখ করেন আমির। তিনি বিনিয়োগ-বান্ধব পরিবেশ তৈরি এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টির জন্য অর্থনৈতিক পুনর্গঠনের গুরুত্বের উপরও জোর দেন, বিশেষ করে ব্যাংকিং খাতে। তিনি বলেন, আমাদের ব্যবসায়িক পরিবেশ বিনিয়োগ-বান্ধব হতে হবে। তবেই আমরা কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে এবং বেকারত্ব কমাতে পারব। সামাজিক বিষয়গুলি তুলে ধরে ডা. রহমান বলেন, জাতীয় অগ্রগতির জন্য নারীর নিরাপত্তা এবং মর্যাদা অপরিহার্য। যে সমাজ নারীদের সুরক্ষা দিতে ব্যর্থ হয় তারা কখনই সত্যিকার অর্থে এগিয়ে যেতে পারে না। এ জন্য তিনি সকল ক্ষেত্রে সমান সুযোগ এবং নারীর অর্থপূর্ণ অংশগ্রহণের প্রতিশ্রুতি দেন। পররাষ্ট্র নীতি সম্পর্কে ডা. রহমান বলেন, বাংলাদেশ জাতীয় সার্বভৌমত্ব রক্ষার পাশাপাশি পারস্পরিক শ্রদ্ধার ভিত্তিতে ভারসাম্যপূর্ণ কূটনীতি অনুসরণ করবে। তিনি জলবায়ু পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জগুলিও তুলে ধরেন এবং রোহিঙ্গা শরণার্থীদের নিরাপদ প্রত্যাবাসনের জন্য কূটনৈতিক উদ্যোগের পাশাপাশি তাদের জন্য মানবিক প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখার কথা পুনর্ব্যক্ত করেন। আন্তর্জাতিক ও জলবায়ু ইস্যুতে ডা. শফিকুর বলেন, তারা সকল জাতির আঞ্চলিক অখণ্ডতাকে সম্মান করে এবং বন্ধুত্বকে অগ্রাধিকার দিয়ে সমান সম্মানের ভিত্তিতে অন্যান্য দেশের সাথে সম্পর্ক গড়ে তুলবে। আমাদের জাতীয় স্বার্থ, মর্যাদা এবং উন্নয়ন লক্ষ্য আমাদের আন্তর্জাতিক কর্মকাণ্ডকে পরিচালিত করবে। জামায়াতের আমির জুলাই বিদ্রোহে প্রবাসী কর্মীদের ভূমিকার প্রশংসা করে বলেন, ‘হাজার হাজার মাইল দূরে থেকেও, আপনারা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন এবং কষ্ট সহ্য করেছেন। আপনারা ইতিমধ্যেই আপনাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করে ইতিহাস তৈরি করেছেন। আপনাদের সক্রিয় অংশগ্রহণ ছাড়া, আমাদের নতুন বাংলাদেশের স্বপ্ন অসম্পূর্ণ থেকে যাবে।’ তিনি দূতাবাস এবং হাইকমিশনের সাথে যোগাযোগের জন্য স্বেচ্ছাসেবক প্রতিনিধি নির্বাচন আয়োজনের পরিকল্পনার কথা ঘোষণা করেন। তিনি বলেন, ‘প্রবাসীদের অধিকারের পক্ষে কথা বলতে হবে এবং তাদের কণ্ঠস্বর শোনা নিশ্চিত করতে হবে। এই প্রতিনিধিরা আপনাদের স্বার্থ রক্ষা করবে এবং জাতীয় উন্নয়নে কার্যকর অংশগ্রহণ সক্ষম করবে’ বলে উল্লেখ করেন তিনি। ডা. রহমান একটি সমৃদ্ধ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক বাংলাদেশ গঠনে প্রবাসীদের ভূমিকা জোরদার করার জন্য আনুপাতিক সংসদীয় প্রতিনিধিত্বের উপরও জোর দেন এবং দেশের গণতান্ত্রিক ভবিষ্যতে সক্রিয়ভাবে অবদান রাখার আহ্বান জানান। ডা. রহমান তার ভাষণের সমাপ্তি টেনে আসন্ন নির্বাচনে ভোটারদের তাদের গণতান্ত্রিক অধিকার দায়িত্বশীলভাবে প্রয়োগ করার আহ্বান জানান। তিনি নাগরিকদের সৎ ও যোগ্য নেতৃত্বকে সমর্থন করার আহ্বান জানিয়ে বলেন ‘ব্যালট কেবল একটি ভোট নয়, এটি একটি আস্থা’। তিনি বলেন, আমাদের ভবিষ্যৎ আজ আমরা যে সিদ্ধান্ত নিই তার উপর নির্ভর করে। তাই আসুন আমরা ঐক্যবদ্ধ হই, অন্যায়কে প্রত্যাখ্যান করি এবং মর্যাদা, ন্যায়বিচার এবং আশার উপর ভিত্তি করে একটি বাংলাদেশ গড়ে তোলার জন্য একসাথে কাজ করি।
অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের সম্পদ বিবরণী প্রকাশের পর সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী ও তার স্ত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদের হিসাব নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। এক বছরের ব্যবধানে স্বামী ফারুকীর সম্পদ কমলেও স্ত্রী তিশার সম্পদ বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে প্রকাশিত তথ্যে উঠে এসেছে এই চিত্র। প্রকাশিত খতিয়ান অনুযায়ী, জনপ্রিয় অভিনেত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদ এক বছরে অভাবনীয় হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তিশার মোট সম্পদের পরিমাণ ছিল ১ কোটি ৪০ লাখ ৮১ হাজার ৮৬০ টাকা। ঠিক এক বছর পর, ২০২৫ সালের ৩০ জুন সেই সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ৯৯ লাখ ৮৯ হাজার ৫০১ টাকায়। অর্থাৎ মাত্র এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ বেড়েছে ১ কোটি ৫৯ লাখ ৭ হাজার ৬৪১ টাকা, যা আগের বছরের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি। অন্যদিকে সংস্কৃতি উপদেষ্টা ও নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর ক্ষেত্রে দেখা গেছে উল্টো চিত্র। এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ কমেছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তার মোট সম্পদ ছিল ২ কোটি ২৬ লাখ ৯২ হাজার ২৬ টাকা। ২০২৫ সালের ৩০ জুন তা কমে দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ১৫ লাখ ১৮ হাজার ২৬ টাকায়। হিসাব অনুযায়ী, এক বছরে তার সম্পদ কমেছে ১১ লাখ ৭৪ হাজার টাকা। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে গত মঙ্গলবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ প্রধান উপদেষ্টা, উপদেষ্টা ও সমমর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের পাশাপাশি তাদের স্ত্রী বা স্বামীর সম্পদ বিবরণী প্রকাশ করে। একই সময়ে স্বামী-স্ত্রীর সম্পদে এমন ভিন্নমুখী পরিবর্তন স্বাভাবিকভাবেই সাধারণ মানুষের কৌতূহলের জন্ম দিয়েছে। শোবিজ অঙ্গনের জনপ্রিয় দম্পতি হওয়ায় তাদের এই আয়-ব্যয়ের হিসাব এখন টক অব দ্য কান্ট্রি।
২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশে আজ এক ঐতিহাসিক ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ২০০৮ সালের পর এই প্রথম একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হতে যাচ্ছে যেখানে দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগ রাজনৈতিক মানচিত্র থেকে কার্যত অনুপস্থিত। বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক জরিপ বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০০ আসনের মধ্যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) কার্যকর সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে যাচ্ছে। তবে ভোটের ব্যবধান এবং কিছু সমীকরণ নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। নির্বাচনের সবচেয়ে বড় নিয়ামক হয়ে দাঁড়িয়েছে আওয়ামী লীগের বিশাল ভোটব্যাংক। দলটির নিয়মিত প্রায় ৪ কোটি ভোটার এখন নতুন রাজনৈতিক আশ্রয় খুঁজছেন। সিআরএফ বা বিইপিওএস জরিপ বলছে, এই ভোটারদের প্রায় অর্ধেক বিএনপির দিকে ঝুঁকেছে, যা দলটিকে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতার পথে এগিয়ে দিচ্ছে। অন্যদিকে, প্রায় ৩০ শতাংশ আওয়ামী ভোটার জামায়াতে ইসলামীকে বেছে নিতে পারেন বলে আভাস পাওয়া যাচ্ছে। এছাড়া বাংলাদেশের বিদ্যমান নির্বাচনী ব্যবস্থার কারণে দেশজুড়ে সুষম জনসমর্থন থাকা বিএনপি আসন জয়ের ক্ষেত্রে জামায়াতের তুলনায় সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। তবে বিএনপির এই সম্ভাব্য জয়ের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও বিদ্রোহী প্রার্থীরা। প্রায় ৭৯টি নির্বাচনী এলাকায় দলের মনোনয়ন না পাওয়া ৯২ জন প্রভাবশালী নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, যা বিএনপির ১৫ থেকে ৩০টি আসন কমিয়ে দিতে পারে। অন্যদিকে, তরুণ ভোটার বা ‘জেন-জি’ প্রজন্মের বিশাল সমর্থন জামায়াতে ইসলামীর শক্তির উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেশের ৪৪ শতাংশ ভোটারই তরুণ, যাদের বড় একটি অংশ প্রথমবার ভোট দিচ্ছেন। এই তরুণরা যদি দলবেঁধে কেন্দ্রে উপস্থিত হন, তবে নির্বাচনী ফলে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। সবশেষে, প্রায় ১৭ থেকে ৩৫ শতাংশ দোদুল্যমান ভোটার এবং তাদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করবে আগামীর সরকার কতটা শক্তিশালী হবে। দ্য নিউইয়র্ক এডিটোরিয়ালের মূল পূর্বাভাস, তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি প্রায় ১৮৫টি আসনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করতে পারে এবং জামায়াতে ইসলামী ৮০টির মতো আসন পেয়ে প্রধান বিরোধী দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারে। তবে বিদ্রোহী প্রার্থীদের প্রভাব এবং তরুণ ভোটারদের উপস্থিতির ওপর ভিত্তি করে আসন সংখ্যায় বড় ধরনের হেরফের হওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
বরিশালে কর্মরত সাংবাদিকদের ওপর যেন পাহাড়সম ক্ষোভ উগরে দিচ্ছেন বর্তমান জেলা প্রশাসক (ডিসি)। পারিবারিক কলহ ও স্ত্রীকে নির্যাতনের অভিযোগ নিয়ে অতীতে সংবাদ প্রকাশিত হওয়ায় সাংবাদিকদের ওপর এই চটে থাকা বলে জানা গেছে। বর্তমানে আসন্ন নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সাংবাদিকদের পেশাগত কাজের জন্য প্রয়োজনীয় 'নির্বাচনী কার্ড' ইস্যু করাকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করছেন তিনি। কার্ড ইস্যু নিয়ে চলছে টালবাহানা ভুক্তভোগী সংবাদকর্মীদের দাবি, যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করার পরেও কার্ড দিতে নানা অজুহাতে হয়রানি করা হচ্ছে। মূলত ডিসির ব্যক্তিগত ক্ষোভের কারণেই মাঠ পর্যায়ের সাংবাদিকদের এই ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। বরিশালের সাংবাদিক সমাজ এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন এবং একে গণমাধ্যমের কণ্ঠরোধ করার চেষ্টা হিসেবে দেখছেন। ব্যক্তিগত আক্রোশের প্রভাব পেশাগত কাজে উল্লেখ্য যে, ইতিপূর্বে এই জেলা প্রশাসকের বিরুদ্ধে স্ত্রীকে শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছিল, যা বিভিন্ন গণমাধ্যমে ফলাও করে প্রচার হয়। সেই থেকে সাংবাদিকদের প্রতি তার বিরূপ মনোভাব তৈরি হয়েছে। ফলস্বরূপ, এখন সরকারি ক্ষমতার অপব্যবহার করে তিনি সাংবাদিকদের পেশাগত অধিকার হরণ করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। পরিশেষে বলা যায়, একজন দায়িত্বশীল সরকারি কর্মকর্তার কাছ থেকে এমন আচরণ কাম্য নয়। নির্বাচনের মতো স্পর্শকাতর সময়ে সাংবাদিকদের অবাধ তথ্য সংগ্রহের সুযোগ নিশ্চিত করা প্রশাসনের নৈতিক দায়িত্ব। একজন সাংবাদিক লিখেছেন, বৌ পেটানো নিউজ করার মাসুল দিচ্ছে বরিশালের সাংবাদিকরা। আরেক সাংবাদিক প্রশাসনের এই প্রভাবকে চ্যালেঞ্জ করে লিখেছেন, ডিসি তার ক্ষমতা দেখাইছে, এখন আমাদের বরিশালের সাংবাদিকদের উচিত সবাই এক হয়ে ক্ষমতা দেখানো। কার পাশা যাবে কার টেবিলে, খেলা যে চলছে কোন লেভেলের! নির্বাচনী তথ্য সংগ্রহের জন্য কার্ড একটি অত্যন্ত প্রয়োজনীয় নথি। কিন্তু কার্ড পেতে বিলম্ব হওয়ায় মাঠ পর্যায়ে তথ্য সংগ্রহ ও প্রতিবেদন তৈরির কাজ ব্যাহত হচ্ছে। সাংবাদিকদের অভিযোগ, সঠিক কারণ ছাড়াই আবেদন ঝুলিয়ে রাখা হচ্ছে। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো সন্তোষজনক ব্যাখ্যা পাওয়া যাচ্ছে না। স্বাধীন সাংবাদিকতার পথ রুদ্ধ করার অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে। এই প্রতিকূল পরিস্থিতিতে বরিশালের সংবাদকর্মী মহলে ঐক্যের ডাক দেওয়া হয়েছে। প্রশাসনের এমন ‘ব্যক্তিগত রোষ’ এবং ‘ক্ষমতার দাপট’ রুখতে স্থানীয় সাংবাদিক সংগঠনগুলো কঠোর কর্মসূচির কথা ভাবছে। নির্বাচনী স্বচ্ছতা বজায় রাখতে অবিলম্বে সাংবাদিকদের কার্ড প্রদানের দাবি জানিয়েছেন সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরাও। কে এই ডিসি খাইরুল আলম সুমন যৌতুক সংক্রান্ত মামলায় কারাবাসের অভিযোগ থাকা একজন কর্মকর্তাকে বরিশালের জেলা প্রশাসক (ডিসি) হিসেবে নিয়োগ দেওয়ায় প্রশাসনের ভেতর ও বাইরে বিস্ময় ও বিতর্ক তৈরি হয়েছে। বরিশালের ডিসি খায়রুল আলম সুমন ২৯তম বিসিএস ব্যাচের কর্মকর্তা। জেলা প্রশাসকের দায়িত্ব জেলার আইনশৃঙ্খলা, ম্যাজিস্ট্রেসি ও ভূমিসংক্রান্ত সার্বিক কার্যক্রম তদারকি করা—যেখানে ব্যক্তিগত সুনাম ও নৈতিকতা গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেন প্রশাসনের একাধিক কর্মকর্তা। তাদের ভাষ্য, যাদের ব্যক্তিগত জীবনে গুরুতর অভিযোগ রয়েছে, এমন কর্মকর্তাকে ডিসি পদে বসানো ইমেজ ও আস্থার প্রশ্ন তৈরি করে। আদালত ও মামলার তথ্য সূত্র অনুযায়ী, কিশোরগঞ্জের বাজিতপুরে সহকারী কমিশনার (ভূমি) হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে খায়রুল আলম সুমনের বিরুদ্ধে যৌতুকের মামলা হয়। মামলার নথি অনুযায়ী, ২০১৬ সালের এপ্রিল মাসে ওই মামলায় খায়রুল আলম সুমন ও তার মা খোদেজা বেগমকে আদালত কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। তদন্ত কর্মকর্তা ওয়ারী থানার এসআই শাহ আলম আদালতে তাদের হাজির করে পাঁচ দিনের রিমান্ড আবেদন করেন। অপরদিকে আসামিপক্ষের আইনজীবী জামিন আবেদন করেন। শুনানি শেষে আদালত রিমান্ড ও জামিন—উভয় আবেদন নাকচ করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। পরবর্তী সময়ে তিনি দীর্ঘ সময় কারাবাসে ছিলেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়। মামলার অভিযোগে বলা হয়, ২০১৫ সালের ৫ জুন বিয়ের পর থেকেই যৌতুকের দাবিতে ভুক্তভোগীকে বিভিন্নভাবে নির্যাতন করা হতো। অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, ২০১৬ সালের ২৪ মার্চ রাতে ঢাকার ওয়ারী এলাকায় খায়রুলের বাসায় তার মায়ের মাধ্যমে গরম খুন্তি দিয়ে ছেঁকা দেওয়া হয় এবং এ সময় খায়রুল আলম সুমন ভুক্তভোগীর হাত চেপে ধরেন। পরদিন ওয়ারী থানায় মামলা করা হয়। বিভাগীয় মামলা ও পদোন্নতি স্ত্রীর করা মামলার পাশাপাশি জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়েও অভিযোগ দেওয়া হলে খায়রুল আলম সুমনের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা হয়। এর ফলে নিয়মিত পদোন্নতি ব্যাহত হয় বলে জানা গেছে। গত বছরের ৩ ডিসেম্বর উপসচিব পদে তার পদোন্নতির আদেশ জারি হলেও সেখানে ২০২৩ সালের ১১ সেপ্টেম্বর থেকে ভূতাপেক্ষ (ব্যাকডেটেড) পদোন্নতি দেখানো হয়। সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, নিজেকে পদোন্নতিতে বঞ্চিত দাবি করে তিনি ভূতাপেক্ষ পদোন্নতি গ্রহণ করেন। ব্যক্তিগত তথ্য ও ডিসির বক্তব্য খায়রুল আলম সুমনের ‘ব্যক্তিগত ডাটা শিটে’ (পিডিএস) বর্তমানে তাকে ‘অবিবাহিত’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে বলেও জানা গেছে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে খায়রুল আলম সুমন বলেন, “এসব আমার ব্যক্তিগত তথ্য। আমার নামে বিভাগীয় মামলা ছিল—সবই কর্তৃপক্ষ জানে এবং জেনেই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আমি এসব নিয়ে কোনো মন্তব্য করতে চাই না।” প্রশাসন বিশেষজ্ঞদের মত জনপ্রশাসন বিশেষজ্ঞদের মতে, জেলা প্রশাসক পদটি কেবল প্রশাসনিক নয়—এটি নৈতিক নেতৃত্বেরও প্রতীক। একজন ডিসির ব্যক্তিগত জীবনে গুরুতর অভিযোগ থাকলে জেলার আইনশৃঙ্খলা ও ম্যাজিস্ট্রেসি কার্যক্রম পরিচালনায় প্রশ্ন ও অস্বস্তি তৈরি হতে পারে। তাদের ভাষ্য, “ডিসির সুনামটাই সবচেয়ে জরুরি।” সূত্র জানায়, খায়রুল আলম সুমন প্রবেশনার হিসেবে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় চাকরি শুরু করেন। সে সময়ের ডিসি মো. আবদুল মান্নানের মেয়েকে তিনি বিয়ে করেছিলেন বলে জানা যায়। পরবর্তীতে তিনি চট্টগ্রাম ডিসি কার্যালয়ে দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়া নাঙ্গলকোট, নিকলি ও বাজিতপুরে এসিল্যান্ড এবং ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়াডাঙ্গী ও দিনাজপুরের ফুলবাড়ীতে ইউএনও হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। বরিশালের ডিসি হিসেবে তার নিয়োগ প্রশাসনে নৈতিকতা ও যোগ্যতার প্রশ্ন নতুন করে সামনে এনেছে। বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের স্পষ্ট ব্যাখ্যা ও অবস্থান প্রত্যাশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা। ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে। সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।” জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর। সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।