মামুনুর রশীদ নোমানী,বরিশাল :
বরিশালের সিটি করপোরেশনে সিসিটিভি ক্যামেরা কেলেঙ্কারি ফাসঁ। স্থাপনের চেয়ে অতিরিক্ত সংখ্যা ও প্রকৃত মূল্য থেকে অতিরিক্ত বিল করে অর্থ আত্মসাৎ।অভিযোগের তীর জনসংযোগ কর্মকর্তা ও আইটি কর্মকর্তা (চঃদাঃ) আহসান উদ্দিন রোমেলের দিকে।রোমেলের কারনে অনলাইন ট্রেড লাইসেন্স কার্য্যক্রম ভেস্তে গেছে।এছাড়া রোমেল চাকুরির আড়ালে ঠিকাদারী কাজও করেন। সাবেক মেয়র সাদিক আব্দুল্লাহ এই রোমেলকে দুর্নীতির কারনে চাকুরীচ্যুত করেছিল।

বরিশালে একটি আইটি প্রতিষ্ঠান এর তৈরি ডিজিটাল ট্রেড লাইসেন্স এর কাজ শেষ হলেও উদ্ভোধনের দিনক্ষন নির্ধারিত হওয়ার ঠিক আগ মুহুর্তে ঐ আইটি প্রতিষ্ঠানের কাজকে এড়িয়ে সাবেক মেয়র সাদিক আব্দুল্লাহ আমলে আর্থিক ক্ষতিসহ ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করায় চতুর্থ পরিষদের নবম সাধারণ সভায় চুরিসহ বিভিন্ন অপরাধমুলক কর্মকান্ডের জন্য চাকুরী হারানো আহসিন উদ্দিন রোমেল ।
গোপনে তার নিজের প্রতিষ্ঠান পিপলো বিডি দিয়ে সিটি কর্পোরেশনের আইটিসহ বিভিন্ন বিভাগের সুবিধা হাতিয়ে নিয়েছে। রোমেলের নিজ প্রতিষ্ঠান পিপলো বিডির করা প্রজেক্টের কাজ ও বিল আটকে দেয় সচিব মাসুমা আক্তার।পরে রোমেল ও সচিব মাসুমা অর্থ ভাগাভাগি করে অর্থ আত্মসাৎ করে। এর সাথে কমিশন সম্পর্ক থাকায় রোমেল জনসংযোগ কর্মকর্তার পাশাপাশি আইটি বিভাগের কর্মকর্তার পদটি বাগিয়ে নেয়।আইটি কর্মকর্তা হিসেবে নামে বে নামে বিল ও ভাউচার করতো এ ছাড়া মেয়রের, ঈদ শুভেচ্ছার ব্যানার, সাইনবোর্ড, ফেসবুকে মেয়রের ব্যক্তিগত প্রচারণা (বুষ্টিং )চালানোর নামে অতিরিক্ত বিল আদায়ের অভিযোগ রোমেলের নামে।
নেটওয়ার্কের জন্য ২ লাখ নিয়ে ৭৬ হাজার টাকার কাজ করে বাকি টাকা আত্মসাৎ করেছে রোমেল। এছাড়া রোমেলের বিরুদ্ধে সাবেক মেয়র খোকন সেরনিয়াবাতের ঈদ শুভেচ্ছার ব্যানার সাইনবোর্ড ও ফেস্টুন বাবদ ১৩ লাখ নিলেও ৭ লাখ টাকার ব্যানার ও ফেস্টুন লাগিয়ে ৬ লাখ টাকা আত্মসাৎ করেছে এই দুর্নীতিবাজ আহসান উদ্দিন রোমেল। এছাড়া নামে মাত্র বুষ্টিংয়ের কাজ করে ১ লাখ ৫৮ হাজার ২৩৭ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে এই দুর্নীতিবাজ রোমেল। রোমেলের অপকর্মের তথ্য চেয়ে সম্প্রতি তরিকুল ইসলাম নামে এক ব্যক্তি তথ্য অধিকার আইনে তথ্য চেয়ে আবেদন করেছেন।
সম্প্রতি সিটি করপোরেশনের দুর্নীতির বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীরা আন্দোলন করছে সেই আন্দোলনের অন্যতম দাবী ছিল দুর্নীতিবাজ ও সরকারি টাকা আত্মসাৎকারী আহসান উদ্দিন রোমেলকে চাকুরী থেকে বরখাস্তসহ যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহন করার।
অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের সম্পদ বিবরণী প্রকাশের পর সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী ও তার স্ত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদের হিসাব নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। এক বছরের ব্যবধানে স্বামী ফারুকীর সম্পদ কমলেও স্ত্রী তিশার সম্পদ বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে প্রকাশিত তথ্যে উঠে এসেছে এই চিত্র। প্রকাশিত খতিয়ান অনুযায়ী, জনপ্রিয় অভিনেত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদ এক বছরে অভাবনীয় হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তিশার মোট সম্পদের পরিমাণ ছিল ১ কোটি ৪০ লাখ ৮১ হাজার ৮৬০ টাকা। ঠিক এক বছর পর, ২০২৫ সালের ৩০ জুন সেই সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ৯৯ লাখ ৮৯ হাজার ৫০১ টাকায়। অর্থাৎ মাত্র এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ বেড়েছে ১ কোটি ৫৯ লাখ ৭ হাজার ৬৪১ টাকা, যা আগের বছরের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি। অন্যদিকে সংস্কৃতি উপদেষ্টা ও নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর ক্ষেত্রে দেখা গেছে উল্টো চিত্র। এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ কমেছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তার মোট সম্পদ ছিল ২ কোটি ২৬ লাখ ৯২ হাজার ২৬ টাকা। ২০২৫ সালের ৩০ জুন তা কমে দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ১৫ লাখ ১৮ হাজার ২৬ টাকায়। হিসাব অনুযায়ী, এক বছরে তার সম্পদ কমেছে ১১ লাখ ৭৪ হাজার টাকা। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে গত মঙ্গলবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ প্রধান উপদেষ্টা, উপদেষ্টা ও সমমর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের পাশাপাশি তাদের স্ত্রী বা স্বামীর সম্পদ বিবরণী প্রকাশ করে। একই সময়ে স্বামী-স্ত্রীর সম্পদে এমন ভিন্নমুখী পরিবর্তন স্বাভাবিকভাবেই সাধারণ মানুষের কৌতূহলের জন্ম দিয়েছে। শোবিজ অঙ্গনের জনপ্রিয় দম্পতি হওয়ায় তাদের এই আয়-ব্যয়ের হিসাব এখন টক অব দ্য কান্ট্রি।
২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশে আজ এক ঐতিহাসিক ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ২০০৮ সালের পর এই প্রথম একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হতে যাচ্ছে যেখানে দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগ রাজনৈতিক মানচিত্র থেকে কার্যত অনুপস্থিত। বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক জরিপ বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০০ আসনের মধ্যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) কার্যকর সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে যাচ্ছে। তবে ভোটের ব্যবধান এবং কিছু সমীকরণ নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। নির্বাচনের সবচেয়ে বড় নিয়ামক হয়ে দাঁড়িয়েছে আওয়ামী লীগের বিশাল ভোটব্যাংক। দলটির নিয়মিত প্রায় ৪ কোটি ভোটার এখন নতুন রাজনৈতিক আশ্রয় খুঁজছেন। সিআরএফ বা বিইপিওএস জরিপ বলছে, এই ভোটারদের প্রায় অর্ধেক বিএনপির দিকে ঝুঁকেছে, যা দলটিকে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতার পথে এগিয়ে দিচ্ছে। অন্যদিকে, প্রায় ৩০ শতাংশ আওয়ামী ভোটার জামায়াতে ইসলামীকে বেছে নিতে পারেন বলে আভাস পাওয়া যাচ্ছে। এছাড়া বাংলাদেশের বিদ্যমান নির্বাচনী ব্যবস্থার কারণে দেশজুড়ে সুষম জনসমর্থন থাকা বিএনপি আসন জয়ের ক্ষেত্রে জামায়াতের তুলনায় সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। তবে বিএনপির এই সম্ভাব্য জয়ের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও বিদ্রোহী প্রার্থীরা। প্রায় ৭৯টি নির্বাচনী এলাকায় দলের মনোনয়ন না পাওয়া ৯২ জন প্রভাবশালী নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, যা বিএনপির ১৫ থেকে ৩০টি আসন কমিয়ে দিতে পারে। অন্যদিকে, তরুণ ভোটার বা ‘জেন-জি’ প্রজন্মের বিশাল সমর্থন জামায়াতে ইসলামীর শক্তির উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেশের ৪৪ শতাংশ ভোটারই তরুণ, যাদের বড় একটি অংশ প্রথমবার ভোট দিচ্ছেন। এই তরুণরা যদি দলবেঁধে কেন্দ্রে উপস্থিত হন, তবে নির্বাচনী ফলে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। সবশেষে, প্রায় ১৭ থেকে ৩৫ শতাংশ দোদুল্যমান ভোটার এবং তাদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করবে আগামীর সরকার কতটা শক্তিশালী হবে। দ্য নিউইয়র্ক এডিটোরিয়ালের মূল পূর্বাভাস, তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি প্রায় ১৮৫টি আসনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করতে পারে এবং জামায়াতে ইসলামী ৮০টির মতো আসন পেয়ে প্রধান বিরোধী দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারে। তবে বিদ্রোহী প্রার্থীদের প্রভাব এবং তরুণ ভোটারদের উপস্থিতির ওপর ভিত্তি করে আসন সংখ্যায় বড় ধরনের হেরফের হওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। ৩৫০ একরের ঘাঁটিটিতে সামরিক বাহিনীর পাঁচ হাজার সদস্য থাকতে পারবে। গাজার ‘বোর্ড অব পিস’র নথি পর্যালোচনা করে এ তথ্য জানিয়েছে দ্য গার্ডিয়ান। প্রতিবেদনে ব্রিটিশ সংবাদ মাধ্যমটি জানিয়েছে, বোর্ড অব পিসে গাজাকে নিরাপদ করার জন্য ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যাবিলাইজেশন ফোর্স (আইএসএফ) নামে একটি আন্তর্জাতিক বাহিনী মোতায়েনের কথা বলা হয়েছে। যে স্থানটি ঘাঁটি করার জন্য বিবেচনা করা হচ্ছে সেখানে আইএসএফের সদস্যরা থাকবে। বোর্ড অব পিসের প্রধান হবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আর সংগঠনটির আংশিক নেতৃত্ব দেবেন ট্রাম্পের জামাতা জ্যারার্ড কুশনার।দ্য গার্ডিয়ান বোর্ড অব পিসের নথি পর্যালোচনা করে জানায়, ধাপে ধাপে একটি সামরিক ঘাঁটি নির্মাণ করা হবে। সবকিছু শেষ হলে ঘাঁটিটি ১৫ লাখ ১৭ হাজার ৫৭৫ বর্গমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত হবে। ঘাঁটিটির চারপাশে ট্রেইলার সংযুক্ত ২৬টি সাঁজোয়া নজরদারি টাওয়ার থাকবে। এছাড়া একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, বাংকার ও অস্ত্র রাখার গুদাম থাকবে। পুরো ঘাঁটিটি কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে ঘিরে রাখা হবে। সামরিক ঘাঁটি নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে দক্ষিণ গাজার একটি শুষ্ক সমতলভূমিতে। সেখানে ইসরায়েলি হামলার চিহ্ন রয়েছে। ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে বিভিন্ন ধাতবের ধ্বংসাবশেষ। ওই এলাকার ভিডিও পর্যালোচনা করেছে দ্য গার্ডিয়ান। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, ঘাঁটি নির্মাণের জন্য টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে। যুদ্ধক্ষেত্রে কাজের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন আন্তর্জাতিক নির্মাণ কোম্পানিগুলোর একটি ছোট দলকে ইতোমধ্যেই এলাকাটি দেখানো হয়েছে। ওই দলটি দরপত্রে অংশ নিতে আগ্রহী। ইন্দোনেশিয়া সরকার গাজায় আট হাজার সেনা সদস্য পাঠানোর জন্য প্রস্তাব দিয়েছে। বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটন ডিসিতে বোর্ড অব পিসের অনানুষ্ঠানিক বৈঠকে ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্টের অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। এছাড়া দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার আরও তিন নেতার ওই বৈঠকে অংশ নেবেন বলে জানা গেছে। জাতিসংঘের নিরাপত্তা কাউন্সিল গাজার সাময়িক স্থিতিশীলতার জন্য অস্থায়ীভাবে সামরিক বাহিনী মোতায়েনের অনুমোদন দিয়েছে। নিরাপত্তা কাউন্সিলই বোর্ড অব পিসের মূল হোতা। গাজার সীমান্ত ও শান্তি প্রণয়নে কাজ করবে আইএসএফ। এছাড়া বেসামরিকদের সুরক্ষা এবং ফিলিস্তিনি পুলিশ বাহিনীকে প্রশিক্ষণ ও সহায়তা দেবে তারা। যদি গাজায় ফের সংঘর্ষ হয়, ইসরায়েল বোমা হামলা চালায় অথবা হামাস হামলা চালায় সেক্ষেত্রে আইএসএফ কি করবে তা এখনও স্পষ্ট নয়। গাজা পুনর্গঠনে ইসরায়েল হামাসকে নিরস্ত্রীকরণের যে শর্ত দিয়েছে সেটির জন্য আইএসএফ কাজ করবে কিনা তাও স্পষ্ট না। ইতোমধ্যে বোর্ড অব পিসে ২০ এর অধিক দেশ যোগ দিয়েছে। তবে, এখনও অনেক পরাশক্তি এর থেকে দূরে রয়েছে। জাতিসংঘের অনুমোদন নিয়ে প্রতিষ্ঠিত হলেও ধারণা করা হচ্ছে, সংগঠনটির স্থায়ী নেতৃত্ব ও নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে। রুটজার্স বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক আদিল হক বলেন, “বোর্ড অব পিস এক ধরনের আইনি কল্পসত্তা। নামমাত্রভাবে এর নিজস্ব আন্তর্জাতিক আইনগত সত্তা রয়েছে, যা জাতিসংঘ ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে আলাদা। কিন্তু বাস্তবে এটি যুক্তরাষ্ট্রের ইচ্ছামতো ব্যবহারের জন্য একটি ফাঁপা খোলসমাত্র।” বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গাজা পুনর্গঠনে যে অর্থায়ন ও শাসন কাঠামো হচ্ছে তা অস্বচ্ছ। কয়েকজন ঠিকাদার গার্ডিয়ানকে জানান, গাজায় কাজ করার জন্য মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে তাদের প্রায়শ আলোচনা সরকারি ইমেলের বদলে সিগন্যালের মাধ্যমে করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রের তথ্য মতে, ঘাঁটি নির্মাণের সিদ্ধান্তটি বোর্ড অব পিসের। এতে সহায়তা করছে মার্কিন কর্মকর্তারা। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ঘাঁটিতে তৈরি বাংকার নেটওয়ার্কের মতোন কাজ করবে। প্রতিটি বাংকারের ২৪ মিটারের হবে। উচ্চতা থাকবে আড়াই মিটার। এগুলো এমনভাবে করা হবে যেন সেনা সদস্যরা আশ্রয় নিতে পারে। স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসের গাজায় সুড়ঙ্গ নেটওয়ার্ক বা টানেল রয়েছে। সেগুলোর আদলে নেটওয়ার্ক করতে চাওয়া হচ্ছে। পিস অব বোর্ডের নথি পর্যালোচনা করে এমন দাবি করছে গার্ডিয়ান। সংবাদ মাধ্যমটি বলছে, স্থানটির ভূ-ভৌত জরিপ পরিচালনা করবে ঠিকাদাররা। নথির এক অংশে ‘হিউম্যান রেমিয়েনস প্রোটোকল’র কথা বলা হয়েছে। এর মানে দাঁড়ায়, সন্দেহভাজন মানব অবশিষ্ট বা সাংস্কৃতিক নিদর্শন পাওয়া গেলে অবিলম্বে সেই এলাকায় সব কাজ বন্ধ করতে হবে। চুক্তি কর্মকর্তাকে দিকনির্দেশনার জন্য অবিলম্বে জানাতে হবে। গাজা সিভিল ডিফেন্সের ধারণা, গাজার ধ্বংসস্তূপের নিচে ১০ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনির মরদেহ রয়েছে। ঘাঁটির জন্য যে স্থানটি বিবেচিত করা হচ্ছে সেটির মালিক কে তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে, দক্ষিণ গাজার বেশিরভাগ অংশ বর্তমানে ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণে। জাতিসংঘের অনুমান, যুদ্ধ চলাকালীন ১৯ লাখ ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত হয়েছে। ফিলিস্তিনের জমিতে সরকারের অনুমতি না নিয়ে সামরিক ঘাঁটি স্থাপনকে দখল হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন ফিলিস্তিনি-কানাডিয়ান আইনজীবী এবং প্রাক্তন শান্তি আলোচক দিয়ানা বুট্টু। তিনি প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়ে বলেন, “কার অনুমতিতে তারা সামরিক ঘাঁটি স্থাপন করবে।” বিষয়টি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা বোর্ড অব পিসের কথা টানেন। ট্রাম্প প্রশাসনের একজন কর্মকর্তা সামরিক ঘাঁটির চুক্তি নিয়ে আলোচনা করতে অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, “যেমনটি প্রেসিডেন্ট বলেছেন, কোনও মার্কিন সেনা স্থলভাগে যাবে না। আমরা লিক হওয়া নথি নিয়ে আলোচনা করবো না।”
মামুনুর রশীদ নোমানী,বরিশাল: আসন্ন বরিশাল সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদকে ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে সক্রিয়তা দেখা যাচ্ছে। দক্ষিণাঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ নগর প্রশাসনিক প্রতিষ্ঠান বরিশাল সিটি করপোরেশন এর নির্বাচন স্থানীয় ও জাতীয় রাজনীতিতে সমানভাবে তাৎপর্যপূর্ণ হবে।ইতিমধ্যে নির্বাচন কমিশন ঢাকা উত্তর ও দক্ষিন এবং চট্রগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচনের প্রস্তুতি নেয়ার পরেই বরিশাল নগরজুড়ে এখন এক ধরনের নীরব রাজনৈতিক উত্তাপ। চায়ের দোকান থেকে শুরু করে নদী তীরের আড্ডা—সবখানেই আলোচনা একটাই: আসন্ন বরিশাল সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদে কে হচ্ছেন বিএনপির প্রার্থী? দক্ষিণাঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ এই সিটি করপোরেশন শুধু একটি প্রশাসনিক ইউনিট নয়; এটি বরিশালের রাজনৈতিক স্পন্দনের কেন্দ্র। আর তাই বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)–র সম্ভাব্য মনোনয়ন ঘিরে শুরু হয়েছে জল্পনা–কল্পনা, হিসাব–নিকাশ আর ভেতরের নীরব লবিং। দীর্ঘদিন পর স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশগ্রহণের প্রশ্নে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)'র অবস্থান ও কৌশল রাজনৈতিক মহলে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে। দলটির সম্ভাব্য মনোনয়ন প্রত্যাশীরা ইতোমধ্যে মাঠপর্যায়ে সাংগঠনিক তৎপরতা জোরদার করেছেন। বিএনপির মেয়র পদে মনোনয়ন নিয়ে আলোচনায় যারা : বিএনপির ভেতরে কয়েকজন জ্যেষ্ঠ নেতা ও সাবেক জনপ্রতিনিধির নাম আলোচনায় রয়েছে। তাদের মধ্যে রয়েছেন সাবেক প্যানেল মেয়র আলহাজ্ব কে এম শহিদুল্লাহ,বরিশাল মহানগর বিএনপি'র সাবেক সদস্য সচিব সাবেক ছাত্রনেতা অ্যাডঃ মীর জাহিদুল কবির জাহিদ,মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক মনিরুজ্জামান ফারুক,বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য আবু নাসের রহমাতুল্লাহ,বিএনপির বরিশাল বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক বিলকিস জাহান শিরীন,বিএনপি নেতা এবায়েদুল হক চান ও বরিশাল জেলা বিএনপির সাবেক সাধারন সম্পাদক এ্যাড.নজরুল ইসলাম খান রাজন। এছাড়া বরিশাল মহানগর যুবদলের সাবেক সভাপতি ও কেন্দ্রীয় যুবদলের সাবেক সহ- সভাপতি ও বি এম কলেজ এর সাবেক জি এস এ্যাডভোকেট আকতারুজ্জামান শামীম আলোচনায় রয়েছেন। অভিজ্ঞতার পাল্লা ভারী: দলীয় সূত্র বলছে, এবার প্রার্থী বাছাইয়ে গুরুত্ব পাবে অভিজ্ঞতা ও গ্রহণযোগ্যতা। নির্দিষ্ট কেউকে ঘিরেই আলোচনা সীমাবদ্ধ নয়। কেন্দ্রীয়, জেলা ও মহানগর বিএনপির শীর্ষ পর্যায়ের আরও কয়েকজন নেতা নীরবে মাঠ গুছিয়ে নিচ্ছেন। কেউ কেউ তৃণমূল নেতাকর্মীদের সঙ্গে বৈঠক করছেন, কেউ আবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সক্রিয় হয়ে নিজেদের অবস্থান জানান দিচ্ছেন। দলীয় সূত্রে জানা যায়, তৃণমূলের মতামত, সাংগঠনিক দক্ষতা, অতীত রাজনৈতিক ভূমিকা এবং জনসম্পৃক্ততা এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে চূড়ান্ত প্রার্থী নির্ধারণ করা হবে। চূড়ান্ত মনোনয়নের বিষয়ে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান এর সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত হবে। অন্যদিকে দলীয় একটি সূত্র জানায়, এবার বিএনপিকে এমন প্রার্থী দিতে হবে যিনি সর্বস্তরে গ্রহণযোগ্য। কারণ, মেয়র পদে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ–এর সম্ভাব্য প্রার্থীদের বিষয়টিও রাজনৈতিক সমীকরণে বিবেচনায় রাখতে হবে। দলীয় কৌশল ও চ্যালেঞ্জ : বিএনপি সূত্রে ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে, নির্বাচন অংশগ্রহণের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এলে প্রার্থী নির্ধারণ করবে কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব। সেক্ষেত্রে— *ফ্যাসিস্ট বিরোধী আন্দোলনে ভুমিকা, *জেল জুলম,মামলা হামলা নির্যাতন, *রাজনৈতিক অবস্থান। এসব বিষয় গুরুত্ব পাবে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বরিশালে দলীয় ঐক্য ধরে রাখা এবং গ্রহণযোগ্য প্রার্থী বাছাই করা বিএনপির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। অতীতের নির্বাচনে বিভক্তি বা বিদ্রোহী প্রার্থীর কারণে দল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলেও অনেকে মন্তব্য করেন। ভোটারদের প্রত্যাশা : বরিশাল নগরবাসীর প্রধান দাবি— * জলাবদ্ধতা নিরসন, * সড়ক ও ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন, * পরিচ্ছন্ন নগর ব্যবস্থাপনা, * কর্মসংস্থান ও ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ, মেয়র প্রার্থীদের জন্য এসব ইস্যু হবে নির্বাচনী প্রচারণার মূল প্রতিপাদ্য। বরিশাল সিটি করপোরেশন নির্বাচনকে ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা ক্রমেই বাড়ছে।চূড়ান্ত ঘোষণা না হওয়া পর্যন্ত সম্ভাব্য প্রার্থীদের তৎপরতা ও দলীয় কৌশলই থাকবে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। প্রার্থী ঘোষণার পর নির্বাচনী সমীকরণ আরও স্পষ্ট হবে বলে রাজনৈতিক মহল মনে করছে। বরিশালের রাজনীতির বাতাসে ইতিমধ্যেই নির্বাচনী সুর। বিএনপি শক্ত প্রার্থী দিলে নগর রাজনীতিতে জমে উঠতে পারে লড়াই।এখন সবার দৃষ্টি কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্তের দিকে। কে হবেন বিএনপির ‘নগর সেনাপতি’তার উত্তর মিললেই বরিশাল সিটির নির্বাচনী সমীকরণ আরও স্পষ্ট হয়ে উঠবে। উল্লেখ্য,বরিশাল সিটি করপোরেশ নির্বাচনে ২০১৩ সালে আওয়ামীলীগের মেয়র প্রার্থী শওকত হোসেন হিরনকে পরাজিত করে বিজয়ী হয়েছিলেন তৎকালীন মহানগর বিএনপির সভাপতি ও বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির মৎস্য বিষয়ক সম্পাদক আহসান হাবিব কামাল।২০১৮ সালে আলহাজ্ব মজিবর রহমান সরোয়ার দল থেকে দলীয় মনোনয়ন পেয়েছিলেন।ভোট ডাকাতির মাধ্যমে মেয়র নির্বাচিত হোন সাদিক আব্দুল্লাহ। ২০২৩ সালে অনুষ্ঠিত বরিশাল সিটি নির্বাচনে বিএনপি অংশ নেয়নি।
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি নিহত হয়েছেন বলে দাবি করেছেন ইসরায়েলি জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা। ইসরায়েলি কর্মকর্তা জানান, তেহরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার পর খামেনির মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) বার্তা সংস্থা রয়টার্সে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা যায়। ইসরায়েলের চ্যানেল ১২ এবং টাইমস অব ইসরায়েলসহ একাধিক গণমাধ্যমও সরকারি সূত্রের বরাতে জানায়, খামেনির মৃত্যু নিশ্চিত হয়েছে। তবে, এই দাবি প্রকাশ পাওয়ার পর পরই ইরান সরকার কঠোর ভাষায় তার নেতার জীবিত থাকার দাবি করেছে। ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন আল-আলম জানিয়েছে, আয়াতুল্লাহ খামেনি এখনো বেঁচে আছেন এবং তিনি পরিস্থিতি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন। আরও বলা হয়, তিনি দেশের সেনাবাহিনী এবং সরকারের নেতা হিসেবে দৃঢ়তার সঙ্গে যুদ্ধের ময়দানে নেতৃত্ব দিচ্ছেন। খামেনি বেঁচে আছেন, দৃঢ়তার সঙ্গে নেতৃত্ব দিচ্ছেন:ইরানের গণমাধ্যমের দাবি এদিকে, এনবিসিতে সম্প্রতি একটি সাক্ষাৎকার প্রকাশিত হয়েছে, যেখানে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি বলেন, “ইরানের প্রায় সব কর্মকর্তা জীবিত, সুস্থ ও নিরাপদ স্থানে আছেন।” তার এই বক্তব্যের মাধ্যমে ইরান আবারও তাদের নেতার বেঁচে থাকার বিষয়ে নিশ্চিত করেছে। প্রতিবেদনের দাবি অনুযায়ী, ইসরায়েল এবং যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ হামলার পর ইরানে বড় ধরনের রাজনৈতিক পরিবর্তন বা শূন্যতা তৈরি হতে পারে, তবে এখনো কোনও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা পাওয়া যায়নি। এর পাশাপাশি, ইরান সরকার তাদের সর্বোচ্চ নেতার অবস্থান নিয়ে প্রাথমিকভাবে কোনো বিশেষ প্রতিক্রিয়া দেয়নি। এ ঘটনার পর বিশ্বের নজর তেহরানে, এবং এটি আন্তর্জাতিক রাজনীতির জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত হিসেবে চিহ্নিত হতে পারে।
মামুনুর রশীদ নোমানী,বরিশাল : বরিশালের সিটি করপোরেশনে সিসিটিভি ক্যামেরা কেলেঙ্কারি ফাসঁ। স্থাপনের চেয়ে অতিরিক্ত সংখ্যা ও প্রকৃত মূল্য থেকে অতিরিক্ত বিল করে অর্থ আত্মসাৎ।অভিযোগের তীর জনসংযোগ কর্মকর্তা ও আইটি কর্মকর্তা (চঃদাঃ) আহসান উদ্দিন রোমেলের দিকে।রোমেলের কারনে অনলাইন ট্রেড লাইসেন্স কার্য্যক্রম ভেস্তে গেছে।এছাড়া রোমেল চাকুরির আড়ালে ঠিকাদারী কাজও করেন। সাবেক মেয়র সাদিক আব্দুল্লাহ এই রোমেলকে দুর্নীতির কারনে চাকুরীচ্যুত করেছিল। বরিশাল সিটি কর্পোরেশনে কে এই দুর্নীতিবাজ রোমেল : বরিশালে একটি আইটি প্রতিষ্ঠান এর তৈরি ডিজিটাল ট্রেড লাইসেন্স এর কাজ শেষ হলেও উদ্ভোধনের দিনক্ষন নির্ধারিত হওয়ার ঠিক আগ মুহুর্তে ঐ আইটি প্রতিষ্ঠানের কাজকে এড়িয়ে সাবেক মেয়র সাদিক আব্দুল্লাহ আমলে আর্থিক ক্ষতিসহ ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করায় চতুর্থ পরিষদের নবম সাধারণ সভায় চুরিসহ বিভিন্ন অপরাধমুলক কর্মকান্ডের জন্য চাকুরী হারানো আহসিন উদ্দিন রোমেল । গোপনে তার নিজের প্রতিষ্ঠান পিপলো বিডি দিয়ে সিটি কর্পোরেশনের আইটিসহ বিভিন্ন বিভাগের সুবিধা হাতিয়ে নিয়েছে। রোমেলের নিজ প্রতিষ্ঠান পিপলো বিডির করা প্রজেক্টের কাজ ও বিল আটকে দেয় সচিব মাসুমা আক্তার।পরে রোমেল ও সচিব মাসুমা অর্থ ভাগাভাগি করে অর্থ আত্মসাৎ করে। এর সাথে কমিশন সম্পর্ক থাকায় রোমেল জনসংযোগ কর্মকর্তার পাশাপাশি আইটি বিভাগের কর্মকর্তার পদটি বাগিয়ে নেয়।আইটি কর্মকর্তা হিসেবে নামে বে নামে বিল ও ভাউচার করতো এ ছাড়া মেয়রের, ঈদ শুভেচ্ছার ব্যানার, সাইনবোর্ড, ফেসবুকে মেয়রের ব্যক্তিগত প্রচারণা (বুষ্টিং )চালানোর নামে অতিরিক্ত বিল আদায়ের অভিযোগ রোমেলের নামে। নেটওয়ার্কের জন্য ২ লাখ নিয়ে ৭৬ হাজার টাকার কাজ করে বাকি টাকা আত্মসাৎ করেছে রোমেল। এছাড়া রোমেলের বিরুদ্ধে সাবেক মেয়র খোকন সেরনিয়াবাতের ঈদ শুভেচ্ছার ব্যানার সাইনবোর্ড ও ফেস্টুন বাবদ ১৩ লাখ নিলেও ৭ লাখ টাকার ব্যানার ও ফেস্টুন লাগিয়ে ৬ লাখ টাকা আত্মসাৎ করেছে এই দুর্নীতিবাজ আহসান উদ্দিন রোমেল। এছাড়া নামে মাত্র বুষ্টিংয়ের কাজ করে ১ লাখ ৫৮ হাজার ২৩৭ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে এই দুর্নীতিবাজ রোমেল। রোমেলের অপকর্মের তথ্য চেয়ে সম্প্রতি তরিকুল ইসলাম নামে এক ব্যক্তি তথ্য অধিকার আইনে তথ্য চেয়ে আবেদন করেছেন। সম্প্রতি সিটি করপোরেশনের দুর্নীতির বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীরা আন্দোলন করছে সেই আন্দোলনের অন্যতম দাবী ছিল দুর্নীতিবাজ ও সরকারি টাকা আত্মসাৎকারী আহসান উদ্দিন রোমেলকে চাকুরী থেকে বরখাস্তসহ যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহন করার।
মামুনুর রশীদ নোমানী,বরিশাল : বরিশালের সাবেক উপ কর কমিশনার মোঃ নেফাউল ইসলাম সরকারের বিরুদ্ধে দশ কোটি টাকা ঘুস নেয়ার অভিযোগে লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। ডাঃ এনামুল হক নামে একজন ব্যক্তি এনবিআরের চেয়ারম্যানের নিকট এই লিখিত অভিযোগ দেন। অভিযোগে উল্লেখ করা হয়,৩৩ ব্যাচের উপ কর কমিশনার মোঃ নেফাউল ইসলাম সরকার সরকারি রাজস্ব আদায়ের টার্গেট নয় তিনি নিজের জন্য ডাক্তার ও ব্যবসায়ীদের টার্গেট করে ভয়ংকর পদ্ধতি অবলম্ভন করে ঘুস নিতেন।বরিশাল কর অঞ্চলে কর্মরত থাকাকালিন সময়ে মানুষকে ভয়-ভীতি দেখিয়ে কর আদায়ের নামে ঘুস নেয়া ছিল নিত্য নৈমিত্তিক ব্যাপার। বরিশালের একজন করদাতা মোঃ জহিরুল ইসলাম উপ কর কমিশনার নেফাউল ইসলামকে নিয়ে একটি কবিতাও লিখেছিলেন। কবিতার শিরোনাম ছিল “কষ্ট করিয়া আমি আয় করি,ধনি হয় নেফাউল” ।কবিতার শিরোনামেই প্রকাশ পেয়েছিল নেফাউলের ভয়ংকর দুর্নীতির চিত্র। ডাঃ এনামুল হকের দেয়া লিখিত অভিযোগ থেকে জানা গেছে,ঝালকাঠির মেসার্স জাবেদ ফ্লাওয়ার মিলসটির ফাইল ছিল বরিশাল সার্কেল -১(কোম্পানীজ) এ ।২০১৬-২০১৭ করবর্ষ থেকে ছয় বছরের ব্যাংক তল্লাশি দিয়ে ১৬০০ কোটি টাকা ব্যাংকে জমা পাওয়া যায়।ব্যাংকে কিভাবে এত টাকা জমা হলো এবং নামমাত্র কর দিয়ে কিভাবে রেহাই পেল যা তদন্ত করলে সকল গোমড় ফাঁস হবে বলে আবেদনে উল্লেখ করা হয়।নামমাত্র করধার্য্য করার কারনে এই মিল মালিক থেকে উপ কর কমিশনার মোঃ নেফাউল ইসলাম নিয়েছেন ঘুস হিসেবে দশ কোটি টাকা। এছাড়া অভিযোগে বরিশালের আরিফ মেমোরিয়াল ক্লিনিক এর নজরুল ইসলাম,নাসরিন জাহান ও আরিফ মেমোরিয়াল ক্লিনিক এন্ড হসপিটাল নামের এই তিনটি ফাইলের ব্যাপারেও পরীক্ষা করার আবেদন করা হয়। নেফাউল ইসলাম সরকার বরিশালে থাকাকালিন সময়ে ডাক্তার ও ব্যবসায়ীরা ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছেন। করদাতাদের কাছে আতংকের এক নাম উপ কর কমিশনার মোঃ নেফাউল ইসলাম সরকার। তার কাছে করদাতার ফাইল মানেই মোটা অংকের ঘুষ। তিনি সেসব স্থানে কর্মরত ছিলেন সেসব স্থানের সকল ফাইল পরিক্ষা -নীরিক্ষা ও নেফাউল ইসলাম সরকারের বিরুদ্ধে তদন্ত পুর্বক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহনের আবেদন জানানো হয়।মোঃ নেফাউল ইসলাম সরকার ২০১৪ সালে সহকারি কর কমিশার পদে চট্রগ্রাম কর অঞ্চল -৩ এ যোগদান করেন।তিনি বরিশালে কর্মরত ছিলেন সার্কেল -৮,৯ সহ বিভিন্ন সার্কেলে।বরিশালে তিনি কর বিভাগে ঘুসের রাজত্ব কায়েম করেছিলেন। বরিশাল থেকে তাকে ২০২৩ সালের ১ নভেম্বর ঢাকা কর অঞ্চল -১৫ তে বদলী করা হয়।ঢাকায় কর অঞ্চল ১৫ এর অধীনে সার্কেল ৩১৬,৩১০ (কোম্পানীজ) তে কর্মরত থাকাকালীন ব্যক্তি ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান রোষানলের শিকার হয়েছেন।তিনি কর কর্মকর্তাদের এক নেতা ছিলেন।সম্প্রতি তিনি পদত্যাগও করেছেন।তিনি রাজস্ব আদায়ের থেকে নিজের সহায় সম্পদ বাড়াতে ঘুসের জন্য ছিলেন বেপরোয়া।তাকে ঢাকা থেকে খুলনায় বদলী করা হয়েছে।খুলনা কর কমিশনার কার্যালয়ের অধীনে সার্কেল -১ (কোম্পানীজ),সার্কেল -৮ (খুলনা সদর) এ উপ কর কমিশনার পদে কর্মরত রয়েছেন। এনবিআর বিলুপ্ত করে মে মাসে রাজস্ব নীতি ও রাজস্ব ব্যবস্থাপনা অধ্যাদেশ জারির পর শুরু হওয়া আন্দোলনের অন্যতম নায়ক ছিলেন নেফাউল ইসলাম সরকার। অধ্যাদেশ জারির পরে সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলনে নামেন নেফাউল ইসলামসহ বিতর্কিত কর্মকর্তারা।অনেককে বাধ্যতামুলক অবসর দেয়া হলেও নেফাউলের বিরুদ্ধে নেয়া হয়নি কোন ব্যবস্থা। নেফাউলের বিরুদ্ধে তখন সরকার বিরোধী আন্দোলনে জনমত গঠনেরও অভিযোগ উঠেছিল। এনবিআর চেয়ারম্যানের পদত্যাগের দাবিতে শুরু হওয়া আন্দোলনের নেপথ্যের নায়ক ছিলেন এ নেফাউল ইসলাম সরকার।তিনি কমপ্লিট শাটডাউন কর্মসুচীর সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িত ছিলেন। নেফাউল ইসলাম সরকারকে নিয়ে বরিশালের সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব মোঃ জহিরুল ইসলাম তার ফেসবুকে একটি লেখা প্রকাশ করেন। লেখাটি হুবহু দেয়া হল- কষ্ট করিয়া আমি আয় করি ধনি হয় নেফাউল। ২০২৩ সালে বরিশালের আয়কর বিভাগের এই লোকের ঘুষ নির্যাতনের শিকার হয়ে ক্ষোভ, রাগ, দুঃখ ও অসহায়ত্ব নিয়ে এই ছড়াটি লিখেছিলাম। সোহেল এর ছড়া এবং কবিতা: আয়কর নোটিস ২০২৩ তখন বরিশালে অগনিত লোক এর ঘুষ নির্যাতনের শিকার হয়েছিলো। পরবর্তী নির্যাতনের ভয়ে কেউই মুখ খোলেনি। আমাদের কাছে ১০ লাখ টাকা ঘুষ চেয়েছে। ঘুষ দেইনি বলে কল্পিত আয় ধরে যেই আয়কর ধার্য করেছিলো, সেটা পরিশোধ করতে ব্যংক লোন নিতে হয়েছে। আয়কর বিভাগের উপরে, ঘুষখোরের উপরে ঘেন্না ধরে গিয়েছিলো। তৎকালীন চেয়ারম্যন রহমাতুল মোমেনিনও এসব এড়িয়ে গেছে। জানিনা এদের বিচার হবে কিনা। তবে শিক্ষিত এসব কুলাঙ্গার দেশের জন্য সবচেয়ে বেশী ক্ষতিকর। এদের বিচার না হলে সাধারন মানুষকেও এদের ঘুষের টাকা জোগার করতে, বাধ্য হয়ে অনিয়ম করতে হয়। দৃষ্টান্তমুলক বিচার হোক এদের, বৈষম্যহীন হোক আয়কর আইন, ঘুষখোরহীন ও জনবান্ধব হোক রাজস্ব বিভাগ। মোঃ নেফাউল ইসলাম সরকারের বিরুদ্ধে অভিযোগের ব্যাপারে তার মোবাইলে কল করা হলে নম্বরটি বন্ধ পাওয়া গেছে।ফলে তার বক্তব্য গ্রহন করা সম্ভব হয়নি।
মামুনুর রশীদ নোমানী,বরিশাল : বরিশাল খাদ্য বিভাগের আঞ্চলিক খাদ্য নিয়ন্ত্রক মোঃ আব্দুল কাদেরের বিরুদ্ধে বদলী বানিজ্যসহ নানান দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে।ময়মনসিংহে জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক থেকে পদোন্নতি পেয়ে বরিশালে যোগদানের পরেই ময়মনসিংহের মত দুর্নীতি ও অনিয়মে জড়িয়ে পরেন। ঘুস নিয়ে ইতিমধ্যে পটুয়াখালী থেকে আলাউদ্দিনকে বাকেরগঞ্জের হলতায় বদলী করেছে।আমতলী থেকে শান্তি রঞ্জনকে বরিশাল সদরে বদলী করার প্রক্রিয়া শুরু করেছেন।এছাড়া বিএনপির এক শীর্ষ নেতার নাম ভাঙ্গিয়ে মুলাদী থেকে মোঃ ইমদাদুল হক কে বরিশালে বদলী করার চেষ্টা করছেন। আঞ্চলিক খাদ্য নিয়ন্ত্রক মোঃ আব্দুল কাদের যোগদানের পরেই খাদ্য গুদাম কর্মকর্তাদের জেলায় বদলীতে ২০ লাখ ও উপজেলায় বদলীতে ৫ লাখ থেকে ১০ লাখ টাকা ঘুষ নির্ধারন করেছেন।ঘুসের মুল্য নির্ধারন করায় বরিশাল অঞ্চলের খাদ্য বিভাগের কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। কর্মকর্তাদের বদলী,গুদামে ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা পদায়ন করে ছলেছেন লাখ লাখ টাকার ঘুসের বিনিময়ে।কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের বদলীতে নেয়া হচ্ছে মোটা অংকের টাকা। ময়মনসিংহে জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের দ্বায়িত্বে থাকাকালীন সময়ে তার বিরুদ্ধে ফ্যাসিবাদের দোসর ডিলারদের পুনর্বাসনের অভিযোগ ওঠে।বিএনপিসহ সাধারন মানুষের প্রতিবাদে ওএমএস ডিলার নিয়োগ লটারীর কার্য্যক্রম স্থগিত করতে বাধ্য হয়েছিল।এ ব্যাপারে ময়মনসিংহ মহানগর বিএনপি নেতা টুটুল ওয়াহিদ বলেন, “ফ্যাসিবাদের সময় যারা খাদ্য বিভাগ নিয়ন্ত্রণ করতেন, তারাই লটারির আয়োজন করেছেন। এতে বিষয়টি স্পষ্ট যে, আওয়ামী লীগের দোসররাই সুযোগ পাবে। এটা খাদ্য বিভাগের একটি কৌশল। তাই আমরা হট্টগোল করলে লটারি কার্যক্রম স্থগিত হয়।স্থানীয় লোকজন আব্দুল কাদেরকে ফাসিবাদের দোসর হিসেবে আখ্যায়িত করে বলেন,আব্দুল কাদের ময়মনসিংহ জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক পদে থাকাকালিন সময়ে বোরো,আমন ধান ক্রয়ে অনিয়ম ও দুর্নীতির সাথে জড়িত ছিলেন।তিনি ঘুস নিয়ে বাচিঁয়ে দিয়েছেন খাদ্য গুদামের দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তাদের। যারা গুদাম থেকে চাল লোপাট করে ধরা পরেছে তাদের থেকে ঘুস নিয়ে অভিযোগ থেকে মুক্ত করেছেন।ময়মনসিংহের একজন সাংবাদিক জানান,আব্দুল কাদেরের বিরুদ্ধে কেউ প্রতিবাদ করলে তাকে ম্যানেজ করতো বিভিন্ন উপায়ে।তিনি জানান,আব্দুল কাদেরের সহযোগীতায় ময়মনসিংহের খাদ্য গুদাম গুলোতে ভয়ঙ্কর দুর্নীতি ও ঘুষ বাণিজ্যের অভিযোগ ওঠেছিল। মিলারদের কাছ থেকে টনপ্রতি ৪০০থেকে ৫০০ টাকা ঘুস নিয়ে গুদামে ঢুকানো হতে নিম্নমানের চাল! অল্প সময়ে কোটিপতি বনে গেছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। এই ঘুস ওপেন সিক্রেট বিষয়।একে বলা হতো “অফিসিয়াল খরচ”! নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ময়মনসিংহের একাধিক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ঘুষের এই রেট জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক আব্দুল কাদের নির্ধারণ করে দিতেন। আঞ্চলিক খাদ্য কর্মকর্তার সঙ্গে সমন্বয় করে উপজেলা পর্যায়ের কর্মকর্তাদের বলা হতো“তোমরা শুধু নিয়ম মেনে চলো, দোষ গেলো ওপরে।” তার বিরুদ্ধে বড় অভিযোগ , ভালো মানের চালও ঘুষ ছাড়া গুদামে ঢুকতে পারেনি ময়মনসিংহের কোন গোডাউনে। “ঘুষ না দিলে আমাদের ভালো চালও মন্দ বলে ফেরত দেয়া হতে মিলারদের। আবার ঘুষ দিলে মন্দ টাকেও ভালো বলে গ্রহণ করতো। মিলাররা প্রতিবাদ করেনি কারন তাদের ব্যবসা ও লাইসেন্স ঝুঁকির মুখে ফেলে দেয়ার হুমকিতে।” আমন ও বোরো মৌসুমে এই ঘুষ বাণিজ্য ব্যাপকভাবে বেড়ে যায়। বিভিন্ন গুদামে নিম্নমানের চাল জমা পড়েছিল, অথচ তদারকি করেন নি আব্দুল কাদের। এদিকে, ময়মনসিংহের মুক্তাগাছা খাদ্যগুদামের ১ কোটি ৭১ লাখ ৯২ হাজার ৩৮২ টাকা মূল্যের ৩২৯ টন চাল ও খালি বস্তা আত্মসাতের ঘটনায় একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে দায় সারেন তৎকালীন ময়মনসিংহ জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক আব্দুল কাদের। এছাড়া বরিশাল ত্রিশ গোডাউনে কর্মরত সুজিত কুমার রায়কে ২০ লাখ টাকার বিনিয়মে পটুয়াখালি সদরে বদলী করা হলেও তা জেনে কোন ব্যবস্থা নেয়নি আব্দুল কাদের।সুজিত কুমার রায় ছিলেন আওয়ামীলীগের সাবেক এমপি পঙ্কজ দেবনাথের জেল পার্টনার। এ বিষয়ে বরিশাল আঞ্চলাক খাদ্য নিয়ন্ত্রক আব্দুল কাদের এর মোবাইল ২৪ অক্টোবর বিকেল ৪ টা ৩ মিনিটে কল করা হলেও তিনি রিসিভ করেন নি। ফলে তার বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।