Brand logo light
ইত্তেহাদ এক্সক্লুসিভ

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইল সংঘাত: মধ্যপ্রাচ্য ও ভারত মহাসাগরে যুদ্ধ জোরদার,মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে হামলা চালিয়ে যাচ্ছে ইরান

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ৬, ২০২৬ 0
ইসরায়েলি ভূখণ্ড লক্ষ্য করে ইরান থেকে ঝাঁকে ঝাঁকে ব্যালেস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র
ইসরায়েলি ভূখণ্ড লক্ষ্য করে ইরান থেকে ঝাঁকে ঝাঁকে ব্যালেস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র

ইরান যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলকে প্রতিহত করছে, মধ্যপ্রাচ্য ও ভারত মহাসাগরে তীব্র যুদ্ধ, তেহরান ছেড়ে যাচ্ছে লক্ষাধিক মানুষ ,ইরান যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলের যৌথ হামলার জবাবে কঠোর পাল্টা হুমকি

ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ সামরিক হামলার পর ইরান যুদ্ধ ত্যাগের অঙ্গীকার জোরদার করেছে। খাতাম আল আম্বিয়া কেন্দ্রীয় দপ্তরের ডেপুটি কমান্ডার জেনারেল কিওমারস হেইদারি বলেন, তার দেশ লক্ষ্য পূরণ এবং যুক্তরাষ্ট্রের ওপর তীব্র আঘাত না হানা পর্যন্ত যুদ্ধ ত্যাগ করবে না।

২৮শে ফেব্রুয়ারি হামলার পর তেহরান প্রতিশোধমূলক অভিযান শুরু করে। ইরান এখন পর্যন্ত ইসরাইলের রাজধানী তেল আবিব ও মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। লেবাননের হিজবুল্লাহ ইরানের পাশে সরাসরি যুদ্ধে নেমেছে। উভয়ে মিলে তেল আবিবে হামলা চালাচ্ছে।

মধ্যপ্রাচ্য থেকে ভারত মহাসাগরে যুদ্ধের ছড়িয়ে পড়া

ভূমধ্যসাগরের উত্তেজনা ভারত মহাসাগরে পৌঁছেছে। সাইপ্রাসে ফ্রান্স রণতরী মোতায়েন করেছে, যুক্তরাজ্য অ্যান্টি-মিসাইল সরঞ্জাম পাঠিয়েছে, এবং জার্মানি মৌন সমর্থন দিয়েছে। বুধবার ভারত মহাসাগরে অবস্থানরত ইরানের জাহাজে হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র। পাল্টা হিসেবে ইরান একটি মার্কিন তেলবাহী জাহাজে হামলা চালিয়েছে। আইআরজিসি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছে, যুক্তরাষ্ট্র, ইসরাইল ও তাদের সমর্থিত কোনো জাহাজ হরমুজ প্রণালী পার হতে পারবে না।

এদিকে যুদ্ধের তীব্রতায় স্কুল ও হাসপাতালেও ক্ষতি হচ্ছে। ইরানের রেড ক্রিসেন্ট জানিয়েছে, শনিবার থেকে বুধবার পর্যন্ত অন্তত ১০৫টি বেসামরিক স্থাপনায় হামলা হয়েছে। লাখ লাখ মানুষ নিরাপদ আশ্রয় খুঁজতে তেহরান ছাড়ছে। জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, যুদ্ধের প্রথম দুইদিনে লক্ষাধিক মানুষ দেশ ছাড়েছে।

ইরানের তিন দেশে যুক্তরাষ্ট্রের ২০ সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে হামলা

ইরানের রেভ্যুলুশনারি গার্ড (আইআরজিসি) জানিয়েছে, কুয়েত, বাহরাইন ও সংযুক্ত আরব আমিরাতে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের ২০টি সামরিক স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে। হামলায় উল্লেখযোগ্য ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

ট্রাম্পের পরিকল্পনায় পরিবর্তন

ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্র ইরানে যৌথ অভিযান শুরু করার মূল লক্ষ্য ছিল তেহরানের শাসনব্যবস্থা দ্রুত পরিবর্তন। তবে, মাঠ পর্যায়ের পরিস্থিতিতে দেখা যাচ্ছে, ইরানের ভেতরে অস্থিরতা তৈরি হয়নি। উল্টো, ইরান ও হিজবুল্লাহ পাল্টা আঘাত চালাচ্ছে। সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির মৃত্যু হলে ইরান আলোচনায় যেতে রাজি নয়।

আঞ্চলিক কূটনৈতিক তৎপরতা

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি বলেছেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প কূটনীতির সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছেন। তার মতে, তথ্য বিকৃতি পরমাণু আলোচনাকে ব্যর্থ করেছে।

হতাহতের সংখ্যা

যুদ্ধ শুরুর পর এ পর্যন্ত ইরানে ১২৩০ জন নিহত হয়েছেন। মিনাবে স্কুলে হামলায় ১৭৫ জন নিহত হয়েছেন। ইসরাইলে ১১ জন, যুক্তরাষ্ট্রে ৬ জন, কুয়েতে দুই সেনা নিহত হয়েছেন। লেবাননে ৭৭ জন নিহত হয়েছেন। সংযুক্ত আরব আমিরাতে তিনজন ও ওমান উপকূলের কাছে এক জন নিহত হয়েছেন।

ট্রাম্পের যুদ্ধ নিয়ন্ত্রণ প্রচেষ্টা ব্যর্থ

মার্কিন কংগ্রেসের সিনেটে ট্রাম্পের সামরিক নিয়ন্ত্রণ প্রস্তাব ৪৭-৫২ ভোটে খারিজ হয়েছে। রিপাবলিকানরা প্রস্তাবের বিপক্ষে ভোট দিয়েছেন। এর ফলে ট্রাম্পের সামরিক আকাঙ্ক্ষা কংগ্রেস নিয়ন্ত্রণে আনা ব্যর্থ হলো এবং যুদ্ধ পরিচালনায় প্রেসিডেন্টের সমর্থন স্পষ্ট হলো।


Popular post
ফারুকীর সম্পদ কমেছে, তিশার বেড়েছে দ্বিগুণেরও বেশি: সম্পদ বিবরণী ঘিরে আলোচনা

অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের সম্পদ বিবরণী প্রকাশের পর সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী ও তার স্ত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদের হিসাব নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। এক বছরের ব্যবধানে স্বামী ফারুকীর সম্পদ কমলেও স্ত্রী তিশার সম্পদ বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে প্রকাশিত তথ্যে উঠে এসেছে এই চিত্র। প্রকাশিত খতিয়ান অনুযায়ী, জনপ্রিয় অভিনেত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদ এক বছরে অভাবনীয় হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তিশার মোট সম্পদের পরিমাণ ছিল ১ কোটি ৪০ লাখ ৮১ হাজার ৮৬০ টাকা। ঠিক এক বছর পর, ২০২৫ সালের ৩০ জুন সেই সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ৯৯ লাখ ৮৯ হাজার ৫০১ টাকায়। অর্থাৎ মাত্র এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ বেড়েছে ১ কোটি ৫৯ লাখ ৭ হাজার ৬৪১ টাকা, যা আগের বছরের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি। অন্যদিকে সংস্কৃতি উপদেষ্টা ও নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর ক্ষেত্রে দেখা গেছে উল্টো চিত্র। এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ কমেছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তার মোট সম্পদ ছিল ২ কোটি ২৬ লাখ ৯২ হাজার ২৬ টাকা। ২০২৫ সালের ৩০ জুন তা কমে দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ১৫ লাখ ১৮ হাজার ২৬ টাকায়। হিসাব অনুযায়ী, এক বছরে তার সম্পদ কমেছে ১১ লাখ ৭৪ হাজার টাকা। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে গত মঙ্গলবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ প্রধান উপদেষ্টা, উপদেষ্টা ও সমমর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের পাশাপাশি তাদের স্ত্রী বা স্বামীর সম্পদ বিবরণী প্রকাশ করে। একই সময়ে স্বামী-স্ত্রীর সম্পদে এমন ভিন্নমুখী পরিবর্তন স্বাভাবিকভাবেই সাধারণ মানুষের কৌতূহলের জন্ম দিয়েছে। শোবিজ অঙ্গনের জনপ্রিয় দম্পতি হওয়ায় তাদের এই আয়-ব্যয়ের হিসাব এখন টক অব দ্য কান্ট্রি।

সংসার সামলাতে অটোরিকশা নিয়ে রাস্তায় নেমেছেন রোজিনা

বাসস : বাবা একজন তাঁত শ্রমিক। তিন বোন দুই ভাইয়ের মধ্যে সবার বড় রোজিনা। অভাব সংসার, তাই এক এতিম যুবকের সাথে বাবা-মা বিয়ে দেন তাকে। বিয়ের পর জন্ম হয় দুই কন্যা সন্তানের। অটোরিকশা চালিয়ে কোন রকম সংসার চালাচ্ছিলেন স্বামী রফিকুল ইসলাম। কিন্তু সড়ক দুর্ঘটনায় রফিকুলের এক চোখ সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যায়। আরেকটি চোখ আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ধীরে ধীরে ওই চোখের দৃষ্টি শক্তিও কমতে থাকে। ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে অটোরিকশা চালানো। সংসারের উপার্জনক্ষম মানুষটি অচল হয়ে পড়ায় চিকিৎসার খরচ, ঘর ভাড়া ও খাবারের পাশাপাশি মেয়েদের লেখাপড়ার খরচ চালানোই কঠিন হয়ে যায়। দিশেহারা হয়ে পরেন রোজিনা। এক পর্যায়ে মানুষের বাড়ি বাড়ি কাজ করে সংসার চালানোর চেস্টা করেন। কিন্তু সুবিধা করতে পারেন না। এমন পরিস্থিতিতে অটোরিকশা চালানোর সিদ্ধান্ত নেন তিনি। স্বামী রফিকুলের কাছেই হাতেখড়ি। গ্রামের স্কুলের মাঠে স্বামীর কাছেই অটোরিকশা চালানোর শিক্ষা নেন তিনি। পরে গ্রামের পথে নেমে পড়েন অটোরিকশা নিয়ে। ৫-৬ দিন এভাবে হাত পাকা করে একদিন টাঙ্গাইল শহরে চলে আসেন রোজিনা। এরপর শুরু করেন অটোরিক্সা চালানোর ব্যতিক্রমী জীবন সংগ্রাম। এখন টাঙ্গাইল পৌরসভায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার চালকদের মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা বেগম। জেলার বাসাইল উপজেলার আইসড়া গ্রামের বাসিন্দা রোজিনা টাঙ্গাইল পৌর শহরের এক প্রান্ত রাবনা বাইপাস থেকে আরেক প্রান্ত বেবিস্ট্যান্ডে যাত্রী আনা নেয়া করেন। যানজটের কারণে শহরে পুরুষ চালকরা যেখানে হিমসিম খায়, সেখানেই বিগত ৫ বছর ধরেই নির্বিঘেœ অটোরিকশা চালাচ্ছেন তিনি। টাঙ্গাইল পৌরসভা কার্যালয় সূত্রে জানা যাায়, টাঙ্গাইল শহরে চলাচলের জন্য ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক ও ৫ হাজার ব্যাটারিচালিত রিকশার অনুমতি (লাইসেন্স) দেওয়া হয়েছে। যানজট এড়াতে ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক জোড় ও বিজোড় সংখ্যায় দিনে দুই ভাগ করা হয়েছে। সকাল থেকে বেলা দুইটা পর্যন্ত এক ভাগ এবং বেলা দুইটা থেকে রাত পর্যন্ত আরেক ভাগের ইজিবাইক চলাচল করার নির্দেশনা দিয়েছে পৌর কর্তৃপক্ষ। কিন্তু রোজিনাকে দুই শিফটে চালানোর অনুমতি দিয়েছে পৌরসভা। সরেজমিনে দেখা যায়, নতুন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অটোরিকশা নিয়ে যাত্রী ডাকছেন রোজিনা। কলেজ গেট, পুরাতন বাসস্ট্যান্ড, ক্যাপসুল, নিরালা মোড়, বেবিস্ট্যান্ড সর্বত্রই যাত্রী আনানেয়া করেন তিনি। পুরাতন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অন্য অটো চালকদের দাঁড় করতে না দিলেও রোজিনাকে বাঁধা দেননা ট্রাফিক পুলিশ। বলতে গেলে সবাই তার প্রতি সহানুভুতিশীল। ট্রাফিক পুলিশসহ অন্য অটোচালকরাও তাকে সহযোগিতা করেন। রোজিনা বলেন, আমার অটোতে নারী যাত্রীরা খুব কম। তারা মনে করে আমার অটোতে উঠলে দুর্ঘটনায় পড়বে। কিন্তু আমি খুব সাবধানে অটো চালাই। দ্রুত গতিতেও না, আবার একেবারে ধীরগতিতেও না। এখন পর্যন্ত আমি কোন দুর্ঘটনার কবলে পড়ি নাই। শহরের পুরুষ অটোরিকশা চালকরা আমাকে অনেক সহযোগিতা করে। অটোচালক কাদের মিয়া বলেন, আমাদের শহরে কয়েক হাজার অটো চলাচল করে। তার মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। তাকে আমরা সব সময় সহযোগিতা করি। যাত্রী সাইদ মিয়া বলেন, আমি এ পর্যন্ত ৫-৬ বার রোজিনার অটোতে চড়েছি। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। অন্য পুরুষ অটো চালকের চেয়েও ভালো অটো চালান। নারী সংগঠক সেরাজুম মনিরা বলেন, তিনি অনেক দিন যাবত অটোরিকশা চালাচ্ছেন। আমি রোজিনাকে স্যালুট জানাই। একজন পুরুষের চেয়ে একজন নারী কোনো ভাবেই যে পিছিয়ে নেই, রোজিনা তা প্রমাণ করেছেন। রোজিনা বলেন, অটো চালানোর এই সিদ্ধান্তটি তার জন্য খুব সহজ ছিল না। তিনি বলেন, ৫ ও ১০ বছরের দুই মেয়েকে বাড়িতে রেখে অটোরিকশা নিয়ে সারাদিন রাস্তায় থাকতে হয়। তাদের ভালোভাবে দেখাশোনা করতে পারি না। কিন্তু কি করবো, অভাবের সংসার! এখন ঋণ নিয়ে একটু জমি কিনেছি। প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ণ প্রকল্পের অর্থায়নে প্রশাসন সেখানে ঘর তুলে দিয়েছে। শুরুতে যারা আমাকে নিয়ে ঠাট্টা করেছে এখন তারাই আমাকে সম্মান করেন। নারীরাও যে কিছু করতে পারে, তা প্রমাণ করেছি। আমার বড় মেয়ে আইসড়া উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়ে, ছোট মেয়ে পড়ে স্থানীয় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। মেয়েদের শিক্ষিত করতে হবে। ধার দেনা শোধ করতে হবে। তাই থেমে গেলো চলবে না। আমি অটোরিকশা চালিয়েই দুই সন্তানকে মানুষ করতে চাই।’ ঘারিন্দা ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য বাবুল সরকার বলেন, সরকার রোজিনাকে একটি ঘর নির্মাণ করে দিয়েছে। শুরুতে যারা তাকে নিয়ে নানান কথা বলতো, এখন তার সংকল্প ও মানষিক দৃঢ়তা দেখে থেমে গেছে। আমরা তাকে নিয়ে গর্ব করি। টাঙ্গাইলের ট্রাফিক ইন্সপেক্টর (প্রশাসন) দেলোয়ার হোসেন বলেন, শহরের একমাত্র নারী চালক রোজিনাকে কেউ যেন বিরক্ত করতে না পারে সেদিকে সব সময় নজর রাখে ট্রাফিক পুলিশ। আমরা তাকে সব সময় সহযোগিতা করে আসছি। টাঙ্গাইলের সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক শাহ আলম বলেন, বিষয়টি এখন জানতে পারলাম। ওই নারী এখনো পর্যন্ত আমাদের কাছে আসেন নাই। যদি আমাদের কাছে এসে আবেদন করেন অবশ্যই তাকে আমরা সহযেগিতা করবো, তার পাশে দাঁড়াবো।

বাংলাদেশে ঐতিহাসিক নির্বাচন: বিএনপি এগিয়ে, জামায়াতের উত্থান ও তরুণ ভোটারদের প্রভাব

২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশে আজ এক ঐতিহাসিক ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ২০০৮ সালের পর এই প্রথম একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হতে যাচ্ছে যেখানে দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগ রাজনৈতিক মানচিত্র থেকে কার্যত অনুপস্থিত। বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক জরিপ বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০০ আসনের মধ্যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) কার্যকর সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে যাচ্ছে। তবে ভোটের ব্যবধান এবং কিছু সমীকরণ নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। নির্বাচনের সবচেয়ে বড় নিয়ামক হয়ে দাঁড়িয়েছে আওয়ামী লীগের বিশাল ভোটব্যাংক। দলটির নিয়মিত প্রায় ৪ কোটি ভোটার এখন নতুন রাজনৈতিক আশ্রয় খুঁজছেন। সিআরএফ বা বিইপিওএস জরিপ বলছে, এই ভোটারদের প্রায় অর্ধেক বিএনপির দিকে ঝুঁকেছে, যা দলটিকে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতার পথে এগিয়ে দিচ্ছে। অন্যদিকে, প্রায় ৩০ শতাংশ আওয়ামী ভোটার জামায়াতে ইসলামীকে বেছে নিতে পারেন বলে আভাস পাওয়া যাচ্ছে। এছাড়া বাংলাদেশের বিদ্যমান নির্বাচনী ব্যবস্থার কারণে দেশজুড়ে সুষম জনসমর্থন থাকা বিএনপি আসন জয়ের ক্ষেত্রে জামায়াতের তুলনায় সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। তবে বিএনপির এই সম্ভাব্য জয়ের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও বিদ্রোহী প্রার্থীরা। প্রায় ৭৯টি নির্বাচনী এলাকায় দলের মনোনয়ন না পাওয়া ৯২ জন প্রভাবশালী নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, যা বিএনপির ১৫ থেকে ৩০টি আসন কমিয়ে দিতে পারে। অন্যদিকে, তরুণ ভোটার বা ‘জেন-জি’ প্রজন্মের বিশাল সমর্থন জামায়াতে ইসলামীর শক্তির উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেশের ৪৪ শতাংশ ভোটারই তরুণ, যাদের বড় একটি অংশ প্রথমবার ভোট দিচ্ছেন। এই তরুণরা যদি দলবেঁধে কেন্দ্রে উপস্থিত হন, তবে নির্বাচনী ফলে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। সবশেষে, প্রায় ১৭ থেকে ৩৫ শতাংশ দোদুল্যমান ভোটার এবং তাদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করবে আগামীর সরকার কতটা শক্তিশালী হবে। দ্য নিউইয়র্ক এডিটোরিয়ালের মূল পূর্বাভাস, তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি প্রায় ১৮৫টি আসনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করতে পারে এবং জামায়াতে ইসলামী ৮০টির মতো আসন পেয়ে প্রধান বিরোধী দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারে। তবে বিদ্রোহী প্রার্থীদের প্রভাব এবং তরুণ ভোটারদের উপস্থিতির ওপর ভিত্তি করে আসন সংখ্যায় বড় ধরনের হেরফের হওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

গাজায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা ট্রাম্প প্রশাসনে

ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। ৩৫০ একরের ঘাঁটিটিতে সামরিক বাহিনীর পাঁচ হাজার সদস্য থাকতে পারবে। গাজার ‘বোর্ড অব পিস’র নথি পর্যালোচনা করে এ তথ্য জানিয়েছে দ্য গার্ডিয়ান। প্রতিবেদনে ব্রিটিশ সংবাদ মাধ্যমটি জানিয়েছে, বোর্ড অব পিসে গাজাকে নিরাপদ করার জন্য ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যাবিলাইজেশন ফোর্স (আইএসএফ) নামে একটি আন্তর্জাতিক বাহিনী মোতায়েনের কথা বলা হয়েছে। যে স্থানটি ঘাঁটি করার জন্য বিবেচনা করা হচ্ছে সেখানে আইএসএফের সদস্যরা থাকবে। বোর্ড অব পিসের প্রধান হবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আর সংগঠনটির আংশিক নেতৃত্ব দেবেন ট্রাম্পের জামাতা জ্যারার্ড কুশনার।দ্য গার্ডিয়ান বোর্ড অব পিসের নথি পর্যালোচনা করে জানায়, ধাপে ধাপে একটি সামরিক ঘাঁটি নির্মাণ করা হবে। সবকিছু শেষ হলে ঘাঁটিটি ১৫ লাখ ১৭ হাজার ৫৭৫ বর্গমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত হবে। ঘাঁটিটির চারপাশে ট্রেইলার সংযুক্ত ২৬টি সাঁজোয়া নজরদারি টাওয়ার থাকবে। এছাড়া একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, বাংকার ও অস্ত্র রাখার গুদাম থাকবে। পুরো ঘাঁটিটি কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে ঘিরে রাখা হবে। সামরিক ঘাঁটি নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে দক্ষিণ গাজার একটি শুষ্ক সমতলভূমিতে। সেখানে ইসরায়েলি হামলার চিহ্ন রয়েছে। ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে বিভিন্ন ধাতবের ধ্বংসাবশেষ।  ওই এলাকার ভিডিও পর্যালোচনা করেছে দ্য গার্ডিয়ান। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, ঘাঁটি নির্মাণের জন্য টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে। যুদ্ধক্ষেত্রে কাজের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন আন্তর্জাতিক নির্মাণ কোম্পানিগুলোর একটি ছোট দলকে ইতোমধ্যেই এলাকাটি দেখানো হয়েছে। ওই দলটি দরপত্রে অংশ নিতে আগ্রহী।    ইন্দোনেশিয়া সরকার গাজায় আট হাজার সেনা সদস্য পাঠানোর জন্য প্রস্তাব দিয়েছে। বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটন ডিসিতে বোর্ড অব পিসের অনানুষ্ঠানিক বৈঠকে ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্টের অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। এছাড়া দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার আরও তিন নেতার ওই বৈঠকে অংশ নেবেন বলে জানা গেছে। জাতিসংঘের নিরাপত্তা কাউন্সিল গাজার সাময়িক স্থিতিশীলতার জন্য অস্থায়ীভাবে সামরিক বাহিনী মোতায়েনের অনুমোদন দিয়েছে। নিরাপত্তা কাউন্সিলই বোর্ড অব পিসের মূল হোতা। গাজার সীমান্ত ও শান্তি প্রণয়নে কাজ করবে আইএসএফ। এছাড়া বেসামরিকদের সুরক্ষা এবং ফিলিস্তিনি পুলিশ বাহিনীকে প্রশিক্ষণ ও সহায়তা দেবে তারা। যদি গাজায় ফের সংঘর্ষ হয়, ইসরায়েল বোমা হামলা চালায় অথবা হামাস হামলা চালায় সেক্ষেত্রে আইএসএফ কি করবে তা এখনও স্পষ্ট নয়। গাজা পুনর্গঠনে ইসরায়েল হামাসকে নিরস্ত্রীকরণের যে শর্ত দিয়েছে সেটির জন্য আইএসএফ কাজ করবে কিনা তাও স্পষ্ট না। ইতোমধ্যে বোর্ড অব পিসে ২০ এর অধিক দেশ যোগ দিয়েছে। তবে, এখনও অনেক পরাশক্তি এর থেকে দূরে রয়েছে। জাতিসংঘের অনুমোদন নিয়ে প্রতিষ্ঠিত হলেও ধারণা করা হচ্ছে, সংগঠনটির স্থায়ী নেতৃত্ব ও নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে। রুটজার্স বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক আদিল হক বলেন, “বোর্ড অব পিস এক ধরনের আইনি কল্পসত্তা। নামমাত্রভাবে এর নিজস্ব আন্তর্জাতিক আইনগত সত্তা রয়েছে, যা জাতিসংঘ ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে আলাদা। কিন্তু বাস্তবে এটি যুক্তরাষ্ট্রের ইচ্ছামতো ব্যবহারের জন্য একটি ফাঁপা খোলসমাত্র।” বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গাজা পুনর্গঠনে যে অর্থায়ন ও শাসন কাঠামো হচ্ছে তা অস্বচ্ছ। কয়েকজন ঠিকাদার গার্ডিয়ানকে জানান, গাজায় কাজ করার জন্য মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে তাদের প্রায়শ আলোচনা সরকারি ইমেলের বদলে সিগন্যালের মাধ্যমে করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রের তথ্য মতে, ঘাঁটি নির্মাণের সিদ্ধান্তটি বোর্ড অব পিসের। এতে সহায়তা করছে মার্কিন কর্মকর্তারা। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ঘাঁটিতে তৈরি বাংকার নেটওয়ার্কের মতোন কাজ করবে। প্রতিটি বাংকারের ২৪ মিটারের হবে। উচ্চতা থাকবে আড়াই মিটার। এগুলো এমনভাবে করা হবে যেন সেনা সদস্যরা আশ্রয় নিতে পারে। স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসের গাজায় সুড়ঙ্গ নেটওয়ার্ক বা টানেল রয়েছে। সেগুলোর আদলে নেটওয়ার্ক করতে চাওয়া হচ্ছে। পিস অব বোর্ডের নথি পর্যালোচনা করে এমন দাবি করছে গার্ডিয়ান। সংবাদ মাধ্যমটি বলছে,  স্থানটির ভূ-ভৌত জরিপ পরিচালনা করবে ঠিকাদাররা। নথির এক অংশে ‘হিউম্যান রেমিয়েনস প্রোটোকল’র কথা বলা হয়েছে। এর মানে দাঁড়ায়, সন্দেহভাজন মানব অবশিষ্ট বা সাংস্কৃতিক নিদর্শন পাওয়া গেলে অবিলম্বে সেই এলাকায় সব কাজ বন্ধ করতে হবে। চুক্তি কর্মকর্তাকে দিকনির্দেশনার জন্য অবিলম্বে জানাতে হবে। গাজা সিভিল ডিফেন্সের ধারণা, গাজার ধ্বংসস্তূপের নিচে ১০ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনির মরদেহ রয়েছে। ঘাঁটির জন্য যে স্থানটি বিবেচিত করা হচ্ছে সেটির মালিক কে তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে, দক্ষিণ গাজার বেশিরভাগ অংশ  বর্তমানে ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণে। জাতিসংঘের অনুমান, যুদ্ধ চলাকালীন ১৯ লাখ ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত হয়েছে। ফিলিস্তিনের জমিতে সরকারের অনুমতি না নিয়ে সামরিক ঘাঁটি স্থাপনকে দখল হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন ফিলিস্তিনি-কানাডিয়ান আইনজীবী এবং প্রাক্তন শান্তি আলোচক দিয়ানা বুট্টু। তিনি প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়ে বলেন, “কার অনুমতিতে তারা সামরিক ঘাঁটি স্থাপন করবে।” বিষয়টি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা বোর্ড অব পিসের কথা টানেন। ট্রাম্প প্রশাসনের একজন কর্মকর্তা সামরিক ঘাঁটির চুক্তি নিয়ে আলোচনা করতে অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, “যেমনটি প্রেসিডেন্ট বলেছেন, কোনও মার্কিন সেনা স্থলভাগে যাবে না। আমরা লিক হওয়া নথি নিয়ে আলোচনা করবো না।”

কুড়িগ্রামের তাজু ভাই ২.০: ‘সরকারি রেটে জিলাপি’ প্রশ্নে ভাইরাল এক নির্মাণশ্রমিকের গল্প

বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের প্রত্যন্ত চরাঞ্চল থেকে উঠে এসে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার কেন্দ্রে এখন তাইজুল ইসলাম, যিনি অনলাইনে পরিচিত ‘তাজু ভাই ২.০’ নামে। মাত্র একটি ভিডিও—যেখানে তিনি এক দোকানিকে প্রশ্ন করেন, “জিলাপি আজকে কত করে বেচতেছেন সরকারি রেটে?”—এই সরল উপস্থাপনাই তাকে রাতারাতি ভাইরাল করে তোলে।  কয়েক ঘণ্টায় ফলোয়ার লাখ ছাড়াল রোববার রাত পর্যন্ত তার ফেসবুক অনুসারী ছিল প্রায় ৩৫ হাজার। কিন্তু সোমবার সন্ধ্যা থেকে রাতের মধ্যেই তা বেড়ে এক লাখের বেশি হয়ে যায়। ভাইরাল ভিডিওটি ইতোমধ্যে প্রায় ৫০ থেকে ৫৫ লাখবার দেখা হয়েছে।  কী ছিল সেই ভিডিওতে? ভিডিওতে দেখা যায়, কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীর নারায়ণপুর বাজারে দাঁড়িয়ে স্থানীয় ভাষায় তিনি জিলাপির দাম জানতে চান। তার কথাগুলো ছিল একেবারেই সহজ ও গ্রাম্য ভঙ্গিতে— “সাদাডা কত, লালডা কত? সরকারি রেটে বেচতেছেন?” এই সরল প্রশ্নই সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।  কোথা থেকে উঠে এলেন তাজু ভাই? কুড়িগ্রাম জেলার নাগেশ্বরী উপজেলার নারায়ণপুর ইউনিয়নের একটি দুর্গম গ্রামে জন্ম তার। ব্রহ্মপুত্র নদবেষ্টিত এই অঞ্চলে পৌঁছাতে এখনও কয়েকটি নৌঘাট পার হতে হয়। দারিদ্র্যের কারণে কখনো স্কুলে যাওয়া হয়নি তার। পেশায় তিনি একজন নির্মাণশ্রমিকের সহকারী (হেলপার)। কাজের ফাঁকে ঢাকায় থাকাকালীন মোবাইল ফোনে ভিডিও তৈরি করাই তার শখ। ব্যক্তিগত সংগ্রাম তাইজুল ইসলামের পরিবারে ছয় ভাই-বোন। তিনি সবার বড়। তার বাবা-মা দুজনই শ্রবণপ্রতিবন্ধী। পরিবার চালাতে তাকে ছোটবেলা থেকেই সংগ্রাম করতে হয়েছে। তিনি বলেন, “পরিবারের কষ্ট ভুলতেই ভিডিও করি। আমি সাংবাদিক না, কিন্তু আমাদের এলাকায় কেউ আসে না—তাই নিজেরাই ভিডিও বানাই।” ভাইরাল হওয়ার পেছনের উদ্দেশ্য তাইজুলের দাবি, তার ভিডিও শুধুই বিনোদনের জন্য নয়। তিনি চান তার এলাকার অবহেলিত মানুষের কথা প্রশাসনের নজরে আসুক। “আমি চাই চরের মানুষের উন্নয়ন হোক,”—বলছেন তিনি।  মিশ্র প্রতিক্রিয়া ভিডিওটি নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে দুই ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ তার সরলতা ও বাস্তবতা তুলে ধরার চেষ্টা প্রশংসা করছেন আবার কেউ তাকে নিয়ে ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ করছেন তবে এসব সমালোচনায় তিনি বিচলিত নন।

নিজস্ব প্রতিবেদক

ইত্তেহাদ এক্সক্লুসিভ

View more
মার্কিন প্রস্তাবে ট্রাম্পের বিপক্ষে ৪ রিপাবলিকান, সিনেটে পাস
ইরান যুদ্ধ নিয়ে ট্রাম্পকে চাপে ফেলল মার্কিন সিনেট, নতুন নিষেধাজ্ঞা ও তেহরানের হুঁশিয়ারিতে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা তীব্র

মধ্যপ্রাচ্যে টানা প্রায় তিন মাসের সংঘাতের মধ্যে এবার যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতেই বড় চাপের মুখে পড়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ইরানে মার্কিন ও ইসরাইলি সামরিক অভিযানের ৮০ দিনের মাথায় মার্কিন সিনেট এমন একটি যুদ্ধ-ক্ষমতা সংক্রান্ত প্রস্তাব অনুমোদন করেছে, যা কার্যকর হলে কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়া প্রেসিডেন্টের যুদ্ধ পরিচালনার ক্ষমতা সীমিত হয়ে যেতে পারে। মঙ্গলবারের ভোটে চার রিপাবলিকান সিনেটর নিজ দলের প্রেসিডেন্টকে অগ্রাহ্য করে ডেমোক্র্যাটদের সঙ্গে অবস্থান নেন। ৫০-৪৭ ভোটে পাস হওয়া এই প্রস্তাবকে ওয়াশিংটনে ট্রাম্পের বিরুদ্ধে বিরল প্রকাশ্য রাজনৈতিক বার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে। রিপাবলিকানদের ভাঙন কেন গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাবটির পক্ষে ভোট দেন রিপাবলিকান সিনেটর র‍্যান্ড পল, সুসান কলিন্স, লিসা মুরকোস্কি এবং বিল ক্যাসিডি। অন্যদিকে ডেমোক্র্যাট সিনেটর জন ফেটারম্যান প্রস্তাবের বিপক্ষে ভোট দেন। আরও তিন রিপাবলিকান অনুপস্থিত ছিলেন। মার্কিন রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, রিপাবলিকানদের এই অবস্থান কেবল প্রতীকী নয়; বরং এটি প্রেসিডেন্টের যুদ্ধ পরিচালনার সাংবিধানিক সীমা নিয়ে দীর্ঘদিনের বিতর্ককে নতুন করে সামনে এনেছে। ডেমোক্র্যাটরা যুক্তি দিচ্ছেন, যুক্তরাষ্ট্রের ‘ওয়ার পাওয়ারস অ্যাক্ট’ অনুযায়ী কোনো প্রেসিডেন্ট কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়া ৬০ দিনের বেশি সময় সামরিক বাহিনী মোতায়েন রাখতে পারেন না। তাদের দাবি, সেই সময়সীমা ১ মে শেষ হয়েছে। তবে হোয়াইট হাউসের অবস্থান ভিন্ন। প্রশাসনের দাবি, ৮ এপ্রিল ঘোষিত যুদ্ধবিরতির কারণে ওই সময়সীমার হিসাব স্থগিত ছিল, ফলে ট্রাম্পের হাতে এখনো অতিরিক্ত সময় রয়েছে। যুদ্ধের মানবিক ও অর্থনৈতিক মূল্য ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া সংঘাতে এখন পর্যন্ত উপসাগরীয় অঞ্চলে ১০ হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন বলে বিভিন্ন সূত্রের হিসাব। একই সঙ্গে জ্বালানি অবকাঠামো, বন্দর ও শিল্প খাতে শত শত কোটি ডলারের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। সবচেয়ে বড় ধাক্কা এসেছে হরমুজ প্রণালি ঘিরে। বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ তেল পরিবহন রুটটি কার্যত অচল হয়ে পড়ায় বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে নতুন অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। পেন্টাগনের হিসাব অনুযায়ী, এই সামরিক অভিযানে এখন পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের ব্যয় দাঁড়িয়েছে প্রায় ২৯ বিলিয়ন ডলার। পাশাপাশি ইউরোপীয় মিত্রদের সঙ্গে ওয়াশিংটনের সম্পর্কেও টানাপোড়েন তৈরি হয়েছে। যুদ্ধ থামাতে পারবে কি সিনেট? যদিও সিনেটের ভোট তাৎক্ষণিকভাবে ট্রাম্পকে সেনা প্রত্যাহারে বাধ্য করছে না, তবুও এটি প্রশাসনের ওপর রাজনৈতিক চাপ বাড়িয়েছে। ওয়ার পাওয়ারস অ্যাক্ট কার্যকর করতে হলে সিনেট ও প্রতিনিধি পরিষদ—উভয় কক্ষেই দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রয়োজন। ফলে বাস্তবে প্রস্তাবটি আইনে পরিণত হওয়া এখনও কঠিন। তবে এই ভোট যুদ্ধবিরোধী আইনপ্রণেতাদের জন্য একটি বড় প্রতীকী জয়। তারা দীর্ঘদিন ধরে বলে আসছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধান অনুযায়ী যুদ্ধ ঘোষণার ক্ষমতা কংগ্রেসের, প্রেসিডেন্টের নয়। নতুন নিষেধাজ্ঞায় ইরানের আর্থিক নেটওয়ার্ক লক্ষ্যবস্তু রাজনৈতিক চাপের মধ্যেই ইরানের বিরুদ্ধে নতুন আর্থিক নিষেধাজ্ঞা ঘোষণা করেছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ইরানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ১২ ব্যক্তি, ২৯টি প্রতিষ্ঠান এবং ১৯টি জাহাজকে নিষেধাজ্ঞার আওতায় আনা হয়েছে। ওয়াশিংটনের অভিযোগ, এসব নেটওয়ার্ক আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে তেহরানকে বৈশ্বিক আর্থিক ব্যবস্থায় প্রবেশে সহায়তা করছিল। নিষেধাজ্ঞার অন্যতম লক্ষ্য ‘আমিন এক্সচেঞ্জ’, যা ‘ইব্রাহিমি অ্যান্ড অ্যাসোসিয়েটস পার্টনারশিপ কোম্পানি’ নামেও পরিচিত। যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, প্রতিষ্ঠানটি বিভিন্ন দেশে ভুয়া কোম্পানির নেটওয়ার্ক গড়ে ইরানি ব্যাংকের হয়ে লেনদেন পরিচালনা করেছে। মার্কিন ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্ট অভিযোগ করেন, ইরানের তথাকথিত “ছায়া ব্যাংকিং ব্যবস্থা” সন্ত্রাসবাদ-সংশ্লিষ্ট অর্থ স্থানান্তরে ব্যবহৃত হচ্ছে। জাহাজ থেকে তেল—নিষেধাজ্ঞার বিস্তৃতি নতুন নিষেধাজ্ঞার আওতায় আনা হয়েছে কয়েকটি তেল ও কেমিক্যালবাহী জাহাজকেও। এর মধ্যে রয়েছে— বার্বাডোজের পতাকাবাহী এলপিজি ট্যাংকার গ্রেট সেইল পালাউয়ের পতাকাবাহী ট্যাংকার ওশান ওয়েভ পানামার পতাকাবাহী কেমিক্যাল ও অয়েল ট্যাংকার সুইফট ফ্যালকন যুক্তরাষ্ট্র বলছে, এসব জাহাজ ইরানি তেল ও পেট্রোকেমিক্যাল পণ্য পরিবহনে জড়িত ছিল। নিষেধাজ্ঞার ফলে তালিকাভুক্ত ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সম্পদ জব্দ করা হবে। একই সঙ্গে মার্কিন নাগরিক ও কোম্পানিগুলোর জন্য তাদের সঙ্গে লেনদেন নিষিদ্ধ থাকবে। ‘আরও বড় সারপ্রাইজ’—ইরানের নতুন হুঁশিয়ারি উত্তেজনার মধ্যেই কড়া বার্তা দিয়েছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বিবৃতিতে তিনি দাবি করেন, ইরান প্রথমবারের মতো যুক্তরাষ্ট্রের অত্যাধুনিক এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করতে সক্ষম হয়েছে। আরাগচির ভাষায়, “আগের যুদ্ধ থেকে আমরা যে অভিজ্ঞতা অর্জন করেছি, তা ভবিষ্যৎ সংঘাতে আরও বড় সারপ্রাইজ দেওয়ার সক্ষমতা তৈরি করেছে।” তিনি আরও দাবি করেন, মার্কিন কংগ্রেসের গবেষণা সংস্থা ‘কংগ্রেসনাল রিসার্চ সার্ভিস’-এর সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে ড্রোনসহ অন্তত ৪২টি মার্কিন যুদ্ধবিমান ধ্বংস বা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার তথ্য উঠে এসেছে। যদিও এই দাবিগুলোর স্বাধীন যাচাই এখনও সম্ভব হয়নি। কূটনীতির শেষ সুযোগ? ইরানের কঠোর অবস্থানের মধ্যেও কূটনৈতিক প্রচেষ্টা পুরোপুরি থেমে যায়নি। মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স জানিয়েছেন, উত্তেজনা সত্ত্বেও আলোচনা অব্যাহত রয়েছে এবং দুই পক্ষ “গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি” অর্জন করেছে। অন্যদিকে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ইরানকে যুদ্ধ বন্ধে “দুই থেকে তিন দিন” সময় বেঁধে দিয়েছেন বলে মার্কিন গণমাধ্যম জানিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান পরিস্থিতি এমন এক পর্যায়ে পৌঁছেছে যেখানে সামরিক সংঘাত, জ্বালানি নিরাপত্তা, বৈশ্বিক অর্থনীতি এবং যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ সাংবিধানিক রাজনীতি—সবকিছু একে অপরের সঙ্গে গভীরভাবে জড়িয়ে গেছে। মধ্যপ্রাচ্যের এই সংকট এখন কেবল যুদ্ধক্ষেত্রের নয়; বরং এটি ওয়াশিংটন ও তেহরানের ক্ষমতার লড়াইয়ের পাশাপাশি বৈশ্বিক ভূরাজনীতিরও বড় পরীক্ষায় পরিণত হয়েছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ২০, ২০২৬ 0
পশ্চিমবঙ্গে গরু কোরবানিতে বিধিনিষেধ, হিন্দু ব্যবসায়ীদের মাথায় হাত!

ভারতের বিজেপি সরকারের নতুন আইনে পশ্চিমবঙ্গে কোরবানির গরু সংকট: নতুন বিধিনিষেধে বিপাকে খামারি ও ব্যবসায়ীরা

ইরান

ইরানকে ঘিরে নতুন যুদ্ধের শঙ্কা: ট্রাম্পের হুমকি, যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের বিরুদ্ধে বিভেদের অভিযোগ তেহরানের

ইরান সংকটে অচলাবস্থা

নতুন করে সংঘাতের আশঙ্কায় মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা

ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে নতুন কাঁটাতার তৎপরতা: মালদহে দ্রুত বেড়া নির্মাণ, ‘পুশ-ইন’ আশঙ্কায় উদ্বেগ

ইত্তেহাদ নিউজ, অনলাইন ডেস্ক : ভারতের পশ্চিমবঙ্গ অংশে বাংলাদেশ সীমান্ত ঘিরে নতুন করে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণে দ্রুত তৎপরতা শুরু করেছে ভারতীয় কর্তৃপক্ষ। সীমান্তের উন্মুক্ত অংশে কাজ শেষ করতে প্রশাসন, সীমান্তরক্ষী বাহিনী ও কেন্দ্রীয় সংস্থাগুলোর মধ্যে উচ্চপর্যায়ের সমন্বয় বৈঠকও অনুষ্ঠিত হয়েছে। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য টেলিগ্রাফ–এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মালদহ জেলার হাবিবপুর ও কালিয়াচক-৩ ব্লকের সীমান্ত এলাকায় দ্রুত বেড়া নির্মাণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এ লক্ষ্যে আগামী ৪৫ দিনের মধ্যে প্রয়োজনীয় জমি বর্ডার সিকিউরিটি ফোর্স (বিএসএফ)-এর কাছে হস্তান্তরের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। কেন হঠাৎ এই তৎপরতা? ভারতীয় কর্তৃপক্ষের দাবি, মালদহ জেলার প্রায় ১৭০ কিলোমিটার সীমান্তের বড় অংশ এখনও অরক্ষিত রয়েছে। উন্মুক্ত সীমান্ত ব্যবহার করে অনুপ্রবেশ, জাল নোটের বিস্তার এবং চোরাচালান বাড়ছে— এমন যুক্তি দেখিয়ে সীমান্তে দ্রুত অবকাঠামো নির্মাণের প্রয়োজনীয়তার কথা বলা হচ্ছে। মালদহের জেলা প্রশাসক রাজনবীর সিং কাপুর জানিয়েছেন, বিএসএফ, সিপিডব্লিউডি ও ভূমি সংস্কার দপ্তরের মধ্যে সমন্বয়ের জন্য বিশেষ মনিটরিং ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে। কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, সীমান্তের প্রায় ৩৩ কিলোমিটার এলাকায় বেড়া নির্মাণের জন্য ২৬০ একর জমি অধিগ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে। ভারতের কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা সংস্থাগুলো মনে করছে, সীমান্তের যেসব অংশ এখনো উন্মুক্ত রয়েছে, সেগুলো নিরাপত্তা ঝুঁকির বড় উৎস হয়ে উঠছে। বিশেষ করে মালদহ অঞ্চল দীর্ঘদিন ধরেই চোরাচালান ও অবৈধ পারাপারের জন্য আলোচিত। শুধু নিরাপত্তা নয়, রাজনৈতিক হিসাবও? তবে বিশ্লেষকদের একটি অংশ বিষয়টিকে কেবল নিরাপত্তা ইস্যু হিসেবে দেখছেন না। জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক ও গবেষক মেহেদী হাসান পলাশের মতে, পশ্চিমবঙ্গের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক বাস্তবতাও এই উদ্যোগের পেছনে প্রভাব ফেলতে পারে। তার ভাষ্য, ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়া বিপুলসংখ্যক মানুষের ভবিষ্যৎ নিয়ে ভারতীয় রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি হয়েছে। এসব মানুষের একটি অংশকে সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে “পুশ-ইন” করার সম্ভাবনা পুরোপুরি উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি। বিশ্লেষকদের মতে, সীমান্তে অবকাঠামো জোরদারের পাশাপাশি রাজনৈতিক বার্তা দেওয়ার উদ্দেশ্যও থাকতে পারে। বিশেষ করে জাতীয় নিরাপত্তা ও অভিবাসন ইস্যু ভারতের রাজনীতিতে দীর্ঘদিন ধরেই সংবেদনশীল ও নির্বাচনী আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু। বাংলাদেশের উদ্বেগ ও প্রতিক্রিয়া বাংলাদেশের পক্ষ থেকেও সীমান্ত পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। কূটনৈতিক বিশ্লেষক হুমায়ুন কবির বলেছেন, সীমান্ত ইস্যুতে বাংলাদেশ এখন আর “নতজানু অবস্থানে” নেই। কাঁটাতারের ভয় দেখিয়ে বাংলাদেশকে চাপে রাখা যাবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি। অন্যদিকে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ জানিয়েছেন, সীমান্তে কোনো ধরনের “পুশ-ইন” যেন না ঘটে, সে বিষয়ে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)-কে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। সীমান্তে নতুন বেড়া নির্মাণের বিষয়েও ভারতের সঙ্গে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানান তিনি। আঞ্চলিক রাজনীতিতে নতুন উত্তেজনা? বিশ্লেষকদের মতে, সীমান্তে ভারতের এই নতুন তৎপরতা শুধু দ্বিপক্ষীয় নিরাপত্তা ইস্যু নয়; এটি দক্ষিণ এশিয়ার আঞ্চলিক রাজনীতি এবং বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কেও নতুন চাপ তৈরি করতে পারে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সীমান্তে নিরাপত্তা জোরদার, অভিবাসন রাজনীতি এবং কৌশলগত বার্তা— এই তিনটি বিষয় এখন একে অপরের সঙ্গে গভীরভাবে জড়িয়ে গেছে। ফলে মালদহ সীমান্তে কাঁটাতারের এই নতুন প্রকল্প ভবিষ্যতে দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ আলোচনার বিষয় হয়ে উঠতে পারে।

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ১৬, ২০২৬ 0
ইসরাইল

গাজা যুদ্ধের পর বিশ্বে সবচেয়ে নেতিবাচক ভাবমূর্তির দেশ ইসরাইল, যুক্তরাষ্ট্রও নেমেছে ‘হুমকি রাষ্ট্র’ তালিকায়

লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলে ইসরায়েলের ড্রোন হামলা

লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলে ইসরায়েলি ড্রোন হামলা: আরও দুই বাংলাদেশি কর্মীর মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত

এনসিপি-জামায়াত

বাংলাদেশের স্থানীয় ভোটে আগাম দখলযুদ্ধ, মাঠে জামায়াত-এনসিপি; কৌশলগত চাপে বিএনপি

গাজার ধ্বংসস্তূপে এখনো চাপা ৮ হাজার মরদেহ
গাজার ধ্বংসস্তূপে চাপা পড়ে আছে হাজারো মরদেহ, উদ্ধার থমকে সরঞ্জাম সংকটে

 ইত্তেহাদ নিউজ, অনলাইন ডেস্ক : গাজা উপত্যকার বিস্তীর্ণ এলাকা এখন ধ্বংসস্তূপের নগরী। স্থানীয় সিভিল ডিফেন্স কর্তৃপক্ষের দাবি, ইসরাইলি হামলায় বিধ্বস্ত ভবনের নিচে এখনো অন্তত ৮ হাজার ফিলিস্তিনির মরদেহ চাপা পড়ে আছে। কিন্তু উদ্ধার অভিযানের জন্য প্রয়োজনীয় ভারী যন্ত্রপাতি না থাকায় সেসব মরদেহ বের করা সম্ভব হচ্ছে না। আমিরাতভিত্তিক সংবাদমাধ্যম দ্য ন্যাশনাল–কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে গাজার সিভিল ডিফেন্সের মুখপাত্র মাহমুদ বাসসাল বলেন, তাদের হাতে থাকা উদ্ধার সরঞ্জাম “পুরোনো ও অকার্যকর”। ব্যাপক ধ্বংসস্তূপ সরানোর মতো সক্ষমতা বর্তমানে তাদের নেই। তার ভাষায়, “ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়া মানুষের প্রকৃত সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে। প্রতিদিন নতুন নিখোঁজ ব্যক্তির তথ্য পাওয়া যাচ্ছে।” ধ্বংসস্তূপে স্বাস্থ্যঝুঁকি, বাড়ছে ইঁদুরের উপদ্রব গাজার মানবিক সংকট এখন শুধু খাদ্য ও চিকিৎসা ঘাটতিতে সীমাবদ্ধ নেই। সিভিল ডিফেন্স কর্মকর্তারা বলছেন, দীর্ঘদিন ধরে ধ্বংসস্তূপ পড়ে থাকায় সেখানে ইঁদুর ও ক্ষতিকর প্রাণীর বিস্তার ঘটছে, যা নতুন জনস্বাস্থ্য ঝুঁকি তৈরি করছে। মাহমুদ বাসসালের অভিযোগ, ভারী উদ্ধারযন্ত্র গাজায় প্রবেশ করতে দেওয়া হচ্ছে না। তবে ইঁদুরনাশক প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, গাজায় বর্তমানে ৬ কোটি ১০ লাখ মেট্রিক টনেরও বেশি ধ্বংসস্তূপ জমে আছে। এর মধ্যে মাত্র ১ শতাংশ অপসারণ করা সম্ভব হয়েছে। ৮১ শতাংশ অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত দীর্ঘ সামরিক অভিযান, বিমান হামলা ও বিস্ফোরণে গাজার অবকাঠামো কার্যত ভেঙে পড়েছে। আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর হিসাব অনুযায়ী— ১ লাখ ২৩ হাজারের বেশি ভবন পুরোপুরি ধ্বংস হয়েছে আরও প্রায় ৭৫ হাজার ভবন আংশিক বা গুরুতর ক্ষতিগ্রস্ত গাজার মোট অবকাঠামোর প্রায় ৮১ শতাংশ ক্ষতির মুখে পড়েছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল–এর এক বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, পুরো গাজা পরিষ্কার ও পুনর্গঠনে এক বিলিয়ন ডলারেরও বেশি ব্যয় হতে পারে। নিহত ৭২ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, গাজায় চলমান সংঘাতে এখন পর্যন্ত ৭২ হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন ১ লাখ ৭৩ হাজারেরও বেশি মানুষ। মানবাধিকার সংস্থাগুলো বলছে, নিহতদের একটি বড় অংশ নারী ও শিশু। পশ্চিম তীরে সহিংসতা: ইসরাইলি বসতি স্থাপনকারীদের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞার পথে ইইউ এদিকে দখলকৃত পশ্চিম তীরে সহিংস ইসরাইলি বসতি স্থাপনকারীদের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপের প্রস্তুতি নিচ্ছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)। ব্রাসেলসে ইইউ পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠকের আগে পররাষ্ট্র ও নিরাপত্তানীতি বিষয়ক প্রধান কাজা কালাস বলেন, হাঙ্গেরির নতুন সরকার এ বিষয়ে আর বাধা দেবে না বলে ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। ফলে দীর্ঘদিন ধরে আটকে থাকা নিষেধাজ্ঞা অনুমোদনের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর আগে সাবেক প্রধানমন্ত্রী ভিক্টর অরবান এই উদ্যোগ আটকে রেখেছিলেন। তবে নতুন প্রধানমন্ত্রী পিটার ম্যাগিয়ারের দায়িত্ব গ্রহণের পর অবস্থানে পরিবর্তনের আভাস মিলছে। কাজা কালাস বলেন, “সহিংস বসতি স্থাপনকারীদের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক সমঝোতায় পৌঁছানো সম্ভব হবে বলে আমরা আশাবাদী।” ইউরোপে বাড়ছে কঠোর অবস্থানের চাপ ফিনল্যান্ডের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এলিনা ভাল্টোনেন পশ্চিম তীরে সহিংসতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে নিষেধাজ্ঞার পক্ষে মত দিয়েছেন। অন্যদিকে নেদারল্যান্ডসের পররাষ্ট্রমন্ত্রী টম বেরেনডসেন আরও কঠোর পদক্ষেপের আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি অবৈধ ইসরাইলি বসতি থেকে আসা পণ্যের ওপর পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা আরোপের প্রস্তাব দিয়েছেন। মানবাধিকার সংগঠনগুলোর অভিযোগ, সাম্প্রতিক মাসগুলোতে পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে বসতি স্থাপনকারীদের হামলা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে এবং এসব ঘটনায় কার্যত দায়মুক্তি দেওয়া হচ্ছে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে পশ্চিম তীরে ইসরাইলি বাহিনী ও বসতি স্থাপনকারীদের হামলায় অন্তত ১ হাজার ১৫৫ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন প্রায় ১১ হাজার ৭৫০ জন এবং আটক হয়েছেন প্রায় ২২ হাজার মানুষ।

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ১২, ২০২৬ 0
ইরান

মধ্যপ্রাচ্যে নতুন কূটনৈতিক টানাপোড়েন, মুখোমুখি ওয়াশিংটন-তেহরান

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মুজতবা খামেনি

মুজতবা খামেনিকে ঘিরে রহস্য, ইরান-যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনায় বদলাচ্ছে বৈশ্বিক কূটনীতি

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে এইচএসসি পরীক্ষার্থীসহ দুই বাংলাদেশি নিহত

অর্থনীতি

করপোরেট ভ্যাট ফাঁকির নেটওয়ার্কে বিপুল রাজস্ব ঘাটতি, চাপ বাড়ছে সাধারণ করদাতার ওপর

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ১২, ২০২৬ 0




অপরাধ

মো. রুস্তুম গাজী (৬০)

গলাচিপায় শশুরের ধর্ষনে পুত্রবধুর গর্ভধারন, সন্তান জন্মের পর নবজাতক অপহরণ—শ্বশুরসহ ২ জন গ্রেপ্তার

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ২৮, ২০২৬ 0




কৃষি ও জলবায়ু

ধান

শেরপুরে বোরো ধানের দাম কমে লোকসানে কৃষকরা, উৎপাদন খরচও উঠছে না

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ৬, ২০২৬ 0