Brand logo light
ইত্তেহাদ এক্সক্লুসিভ

বাংলাদেশে চার বছরে ৮০ লাখ মানুষ দরিদ্র, ঝুঁকিতে আরও ৬ কোটি ২০ লাখ

নিজস্ব প্রতিবেদক অক্টোবর ৮, ২০২৬ 0

ইত্তেহাদ নিউজ, অনলাইন:

“আর পারা যাচ্ছে না। বাজারে শাক-সবজি থেকে শুরু করে তেল, গ্যাস, বিদ্যুৎ, বাসভাড়া, ঘরভাড়া—সবকিছু যেভাবে বাড়ছে, তাতে খেয়ে-পরে বেঁচে থাকাই দিন দিন কঠিন হয়ে যাচ্ছে।”

ঢাকার মগবাজারের বাসিন্দা ও একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের মধ্যমসারির কর্মকর্তা আতিকুর রহমানের কথায় ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের বহু পরিবারের বর্তমান অর্থনৈতিক বাস্তবতা।

তার ভাষ্য, কয়েক বছরে জীবনযাত্রার ব্যয় যে হারে বেড়েছে, তার তুলনায় আয় বেড়েছে সামান্যই। সংসারের খরচ মেটাতে গিয়ে আগের সঞ্চয়ও প্রায় শেষের দিকে।

“বেতনের টাকা দিয়ে মাস পার হচ্ছে না। এভাবে যদি জিনিসপত্রের দাম বাড়তে থাকে, তাহলে সংসার কীভাবে চালাব, ছেলে-মেয়ের পড়াশোনার খরচ কীভাবে দেব—সেটাই ভেবে কূল-কিনারা পাচ্ছি না,” বলেন তিনি।

আতিকুরের এই ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার সঙ্গে এখন মিলছে বৃহত্তর অর্থনৈতিক চিত্রও।

বিশ্বব্যাংকের সর্বশেষ প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, গত চার বছরে বাংলাদেশে দরিদ্র মানুষের সংখ্যা বেড়েছে প্রায় ৮০ লাখ। শুধু গত এক বছরেই প্রায় ২১ লাখ মানুষ নতুন করে দারিদ্র্যসীমার নিচে নেমেছেন।

আর যারা এখন নিম্ন মধ্যবিত্ত শ্রেণিতে রয়েছেন, তাদের মধ্যেও প্রায় ৬ কোটি ২০ লাখ মানুষ দরিদ্র হয়ে পড়ার ঝুঁকিতে রয়েছেন বলে সতর্ক করেছে সংস্থাটি।

অর্থনীতিবিদদের প্রশ্ন—একসময় দারিদ্র্য কমানোর ক্ষেত্রে ‘বিশ্বের মডেল’ হিসেবে প্রশংসিত বাংলাদেশ আবার কোন পথে হাঁটছে?

দারিদ্র্য কমার গল্প থেকে উল্টো পথে

স্বাধীনতার পর যুদ্ধবিধ্বস্ত বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অবস্থা ছিল অত্যন্ত দুর্বল। সত্তরের দশকে দেশের দারিদ্র্যের হার ছিল প্রায় ৭০ শতাংশ।

এরপর সরকারি-বেসরকারি নানা উদ্যোগ, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, কর্মসংস্থান এবং সামাজিক উন্নয়ন কর্মসূচির কারণে দীর্ঘ সময় ধরে দারিদ্র্যের হার কমেছে।

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী, পাঁচ দশকের মধ্যে দারিদ্র্যের হার কমে ২০ দশমিক ৫ শতাংশে নেমে আসে।

২০২০ সালে বাংলাদেশকে দারিদ্র্য বিমোচনের ক্ষেত্রে বিশ্বের ‘মডেল’ হিসেবে উল্লেখ করেছিল বিশ্বব্যাংক।

২০২২ সালের খানা আয় ও ব্যয় জরিপে দারিদ্র্যের হার আরও কমে ১৮ দশমিক ৭ শতাংশে দাঁড়ানোর তথ্য পাওয়া যায়। একই সময়ে অতি দারিদ্র্যের হার ছিল ৫ দশমিক ৬ শতাংশ।

তখন দারিদ্র্য বিমোচনের এই ধারা অব্যাহত থাকলে ২০৩১ সালের মধ্যে বাংলাদেশ পুরোপুরি দারিদ্র্যমুক্ত হতে পারে—এমন প্রত্যাশাও জানিয়েছিলেন পরিসংখ্যান ব্যুরোর কর্মকর্তারা।

কিন্তু এরপর পরিস্থিতির মোড় ঘুরতে শুরু করে।

বিশ্বব্যাংকের সর্বশেষ হিসাব বলছে, ২০২৫ সালে অতি দারিদ্র্যের হার বেড়ে ১০ দশমিক ১ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। একই সময়ে মোট দারিদ্র্যের হার বেড়ে হয়েছে প্রায় ২২ দশমিক ৫ শতাংশ।

অর্থাৎ, বর্তমানে বাংলাদেশে দরিদ্র মানুষের সংখ্যা ৩ কোটি ৫০ লাখের বেশি বলে অনুমান করছে বিশ্বব্যাংক।

কেন এই বিপরীত যাত্রা?

বিশ্বব্যাংকের বিশ্লেষণে বাংলাদেশের দারিদ্র্য বৃদ্ধির পেছনে কয়েকটি বড় কারণ চিহ্নিত করা হয়েছে।

এর মধ্যে রয়েছে—

  • কোভিড-১৯ মহামারির দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব;

  • উচ্চ মূল্যস্ফীতি;

  • জ্বালানি সংকট;

  • দুর্বল বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান;

  • রাজনৈতিক অস্থিরতা;

  • করব্যবস্থার দুর্বলতা;

  • সামাজিক নিরাপত্তা ও ভর্তুকি ব্যবস্থায় কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যভিত্তিকতা না থাকা।

এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে ব্যাংকিং খাতের সংকট, অনিয়ম, দুর্নীতি ও অর্থপাচারের মতো বিষয়গুলোও—যেগুলো অর্থনীতির ওপর দীর্ঘমেয়াদি চাপ তৈরি করেছে বলে অর্থনীতিবিদদের বক্তব্য।

প্রবৃদ্ধি কমেছে, কর্মসংস্থানও সংকটে

করোনা মহামারির সময় অর্থনীতির বড় একটি অংশ কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছিল। শিল্প-কারখানা ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান বন্ধ হওয়ায় বহু মানুষ চাকরি হারান।

কিছু প্রতিষ্ঠান টিকে থাকলেও কর্মী ছাঁটাই করতে বাধ্য হয়।

অর্থনীতিবিদ ড. ফাহমিদা খাতুনের মতে, মহামারির সময় যারা চাকরি হারিয়েছিলেন, তাদের অনেকেই পরে আনুষ্ঠানিক খাতে আর ফিরতে পারেননি।

সরকার তখন আশা করেছিল, করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার পর নতুন বিনিয়োগ আসবে এবং অর্থনীতি দ্রুত ঘুরে দাঁড়াবে।

কিন্তু বাস্তবে সেই প্রত্যাশা পুরোপুরি পূরণ হয়নি।

বরং লাগাতার অনিয়ম, দুর্নীতি, লুটপাট ও অর্থপাচারের অভিযোগে ব্যাংকিং খাতসহ অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ কিছু খাত দুর্বল হয়ে পড়েছে বলে মন্তব্য করেছেন ফাহমিদা খাতুন।

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর হিসাবে, ২০২১-২২ অর্থবছরে দেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধি ছিল ৭ দশমিক ১ শতাংশ। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে তা কমে ৪ দশমিক ২২ শতাংশে দাঁড়ায়।

বিশ্বব্যাংকের পূর্বাভাস অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরে প্রবৃদ্ধি আরও কমে ৩ দশমিক ৪ শতাংশে নেমে আসতে পারে।

অর্থাৎ, অর্থনীতির আকার বাড়লেও সেই প্রবৃদ্ধি সাধারণ মানুষের আয় ও কর্মসংস্থানে আগের মতো প্রভাব ফেলছে না—এমন একটি বাস্তবতা সামনে এসেছে।

রাজনৈতিক অস্থিরতার প্রভাব

২০২৪ সালের জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানের পর শেখ হাসিনা সরকারের পতন ঘটে।

এরপর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিতে যে নাজুকতা তৈরি হয়েছিল, তার প্রভাব বিনিয়োগ পরিবেশেও পড়েছে বলে অর্থনীতিবিদদের একটি অংশ মনে করছেন।

দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীদের অনেকে নতুন বিনিয়োগে আগ্রহ দেখাননি।

এর মধ্যেই মধ্যপ্রাচ্যের সংকট আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে নতুন অস্থিরতা তৈরি করেছে। গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকটও বেড়েছে।

বিশ্বব্যাংকের আশঙ্কা, জ্বালানি সংকটের কারণে শিল্প-কারখানায় উৎপাদন ব্যাহত হলে নতুন করে কর্মী ছাঁটাইয়ের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।

অর্থাৎ, একদিকে বিনিয়োগ কমছে, অন্যদিকে কর্মসংস্থানের সুযোগও সংকুচিত হচ্ছে। এর সরাসরি প্রভাব পড়ছে মানুষের আয় ও জীবনযাত্রায়।

মূল্যস্ফীতি: আয় বাড়ার আগেই খরচ বাড়ছে

বাংলাদেশে টানা চার বছরেরও বেশি সময় ধরে মূল্যস্ফীতি উচ্চ পর্যায়ে রয়েছে।

গত দুই বছরে কিছুটা কমে মূল্যস্ফীতি বর্তমানে ৮ দশমিক ৩ শতাংশে দাঁড়ালেও অর্থনীতিবিদদের মতে, এটিকে এখনো সহনীয় পর্যায় বলা যায় না।

সমস্যাটি শুধু মূল্যস্ফীতির হারেই নয়; দীর্ঘ সময় ধরে উচ্চ মূল্যস্ফীতি চলায় মানুষের প্রকৃত ক্রয়ক্ষমতা কমে গেছে।

করোনার সময়ে চাকরি হারানো বা আয় কমে যাওয়ার পর অনেক পরিবার যখন আর্থিকভাবে দুর্বল হয়ে পড়ে, তখন খাদ্যসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বাড়তে থাকে।

ফলে আয়ের সঙ্গে ব্যয়ের ব্যবধান বাড়ে।

ঢাকার এক বাসিন্দা জানান, সংসারের ব্যয় মেটাতে গিয়ে তাকে জমি-জমাসহ মূল্যবান সম্পদ বিক্রি করতে হচ্ছে।

“জায়গা-জমি বিক্রি করে কয়দিন চলা যায়? এখন প্রত্যেক মাসে ৩০-৪০ হাজার টাকার বেশি দেনা থাকি,” বলেন তিনি।

খুলনার বাসিন্দা বিলকিস আকতারও বলছেন একই ধরনের কথা।

“সঞ্চয় রাখব কীভাবে? সংসার চালাতেই তো হিমশিম খাচ্ছি।”

এ ধরনের পরিস্থিতিতে সঞ্চয় ভেঙে সংসার চালানো, সম্পদ বিক্রি কিংবা ধারদেনার ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়া—দারিদ্র্যের ঝুঁকি আরও বাড়িয়ে দিতে পারে বলে মনে করছেন অর্থনীতিবিদরা।

সবচেয়ে বড় সংকট: দরিদ্রদের কাছে পৌঁছাচ্ছে না সহায়তা

বাংলাদেশের দারিদ্র্য পরিস্থিতির আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক উঠে এসেছে বিশ্বব্যাংকের সামাজিক নিরাপত্তা বিশ্লেষণে।

সংস্থাটির হিসাবে, দেশের প্রায় ৬২ শতাংশ দরিদ্র মানুষ প্রধান সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির সুবিধা পান না।

অন্যদিকে, দরিদ্র জনগোষ্ঠীর যে প্রায় ৩৮ শতাংশ এসব কর্মসূচির সুবিধা পাচ্ছেন, তারাও ধনীদের তুলনায় কম সুবিধা পাচ্ছেন।

বিশ্বব্যাংকের হিসাব অনুযায়ী, সমাজের নিচের ২০ শতাংশ দরিদ্র মানুষ বছরে গড়ে ৭ হাজার ১৪০ টাকা সামাজিক নিরাপত্তা সুবিধা পান।

অন্যদিকে সবচেয়ে ধনী মানুষরা বছরে গড়ে ১০ হাজার ৪৭২ টাকা সুবিধা পাচ্ছেন।

এখানেই সামাজিক নিরাপত্তা ব্যবস্থার লক্ষ্যভিত্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হচ্ছে।

ভর্তুকির সুফল কারা বেশি পাচ্ছে?

বিদ্যুৎ খাতের ভর্তুকির ক্ষেত্রেও একই ধরনের বৈষম্যের কথা বলেছে বিশ্বব্যাংক।

বিদ্যুৎ ব্যবহারের পরিমাণের সঙ্গে ভর্তুকির সুবিধা বাড়ে। ফলে যারা বেশি বিদ্যুৎ ব্যবহার করেন, তারা তুলনামূলকভাবে বেশি ভর্তুকি পান।

বিশ্বব্যাংকের হিসাবে, সমাজের ওপরের ২০ শতাংশ ধনী মানুষের জন্য বিদ্যুৎ খাতের ভর্তুকির প্রায় এক-তৃতীয়াংশ ব্যয় হচ্ছে।

অর্থনীতিবিদ ড. ফাহমিদা খাতুনের মতে, ঢালাও ভর্তুকির পরিবর্তে দরিদ্র জনগোষ্ঠীকে লক্ষ্য করে কর্মসূচি নেওয়া হলে এর সুফল বেশি কার্যকরভাবে তাদের কাছে পৌঁছানো সম্ভব।

করব্যবস্থার দুর্বলতাও বড় সমস্যা

বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদনে বাংলাদেশের করব্যবস্থার সীমাবদ্ধতার কথাও তুলে ধরা হয়েছে।

দুর্বল কর প্রশাসন এবং কর পরিপালনের হার কম থাকার কারণে অভ্যন্তরীণ রাজস্ব আহরণ জিডিপির মাত্র ৮ শতাংশ থেকে আনুমানিক ৮ দশমিক ৩ শতাংশে উন্নীত হয়েছে।

রাজস্ব আয় কম হলে সরকারের সামাজিক সুরক্ষা, স্বাস্থ্য, শিক্ষা কিংবা দরিদ্র জনগোষ্ঠীর জন্য প্রয়োজনীয় সহায়তা বাড়ানোর সক্ষমতাও সীমিত থাকে।

এ কারণে করনীতি নির্ধারণ ও কর প্রশাসনকে আলাদা করার পাশাপাশি অধিকতর ডিজিটাল ব্যবস্থা, করদাতাদের সমন্বিত ডেটাবেস এবং শনাক্তকরণ নম্বর চালুর সুপারিশ করেছে বিশ্বব্যাংক।

ফ্যামিলি কার্ড কি ঘুরিয়ে দিতে পারবে পরিস্থিতি?

দারিদ্র্য মোকাবিলায় নতুন করে আলোচনায় এসেছে সরকারের ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি।

বিশ্বব্যাংকের মতে, যথাযথভাবে বাস্তবায়ন করা গেলে এই কর্মসূচি দারিদ্র্য কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

বিশ্বব্যাংকের অর্থনীতিবিদ ধ্রুব শর্মার হিসাবে, বিদ্যমান পদ্ধতিতে ফ্যামিলি কার্ডের সুবিধা দেওয়া হলে বছরে প্রায় ১৬ লাখ মানুষ দারিদ্র্যসীমা অতিক্রম করতে পারবেন।

তবে প্রকৃত দরিদ্র মানুষকে সঠিকভাবে চিহ্নিত করে কার্ড দেওয়া গেলে বছরে প্রায় সাড়ে ২৮ লাখ মানুষ দারিদ্র্য থেকে বেরিয়ে আসতে পারবেন বলে মনে করছে সংস্থাটি।

অর্থাৎ, কর্মসূচি থাকা যথেষ্ট নয়—কারা প্রকৃত সুবিধাভোগী, সেটি সঠিকভাবে শনাক্ত করাই বড় চ্যালেঞ্জ।

সরকারের বক্তব্য কী?

সরকার বলছে, বর্তমান অর্থনৈতিক সংকটের বড় একটি অংশ তারা আগের সরকারগুলোর কাছ থেকে ‘উত্তরাধিকারসূত্রে’ পেয়েছে।

এর পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের কারণে গ্যাস ও বিদ্যুতের দাম বেড়েছে বলেও সরকারের পক্ষ থেকে উল্লেখ করা হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা বিষয়ক উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর বলেন, মূল্যস্ফীতি, ব্যাংক খাতের সংকট, বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানের সমস্যাগুলো বহিঃস্থ কারণ অথবা উত্তরাধিকারসূত্রে পাওয়া।

তার ভাষায়, সরকার মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ এবং সামষ্টিক অর্থনীতিতে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করছে।

বিশ্বব্যাংকের সংস্কারসংক্রান্ত সুপারিশগুলোও সরকার গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে বলে জানিয়েছেন তিনি।

তাহলে সামনে পথ কোনটি?

বাংলাদেশের দারিদ্র্য কমানোর গত কয়েক দশকের সাফল্য ছিল ধারাবাহিক।

কিন্তু সাম্প্রতিক হিসাব সেই ধারায় বড় ধরনের ছেদ দেখাচ্ছে।

একদিকে উচ্চ মূল্যস্ফীতি মানুষের প্রকৃত আয় ও ক্রয়ক্ষমতা কমিয়ে দিচ্ছে। অন্যদিকে বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান দুর্বল। জ্বালানি সংকট শিল্প উৎপাদনের ওপর চাপ তৈরি করছে। ব্যাংকিং খাতের সংকট অর্থনীতির ভিত দুর্বল করছে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিতে লক্ষ্যভিত্তিকতার ঘাটতি।

ফলে দারিদ্র্য কমানোর বদলে আবারও মানুষ দরিদ্র হয়ে পড়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।

সবচেয়ে বড় উদ্বেগের জায়গাটি হলো—শুধু ৩ কোটি ৫০ লাখের বেশি মানুষ বর্তমানে দরিদ্র নয়; নিম্ন মধ্যবিত্তের আরও প্রায় ৬ কোটি ২০ লাখ মানুষও দারিদ্র্যের ঝুঁকিতে রয়েছেন।

অর্থাৎ, এটি কেবল দরিদ্র মানুষের সমস্যা নয়। অর্থনীতির একটি বড় অংশের মানুষের জীবনযাত্রা এখন এমন এক অনিশ্চয়তার মধ্যে, যেখানে আয় সামান্য কমে যাওয়া কিংবা ব্যয় সামান্য বেড়ে যাওয়াই একটি পরিবারকে দারিদ্র্যসীমার নিচে ঠেলে দিতে পারে।

বাংলাদেশ যে একসময় দারিদ্র্য বিমোচনের ‘মডেল’ হিসেবে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পেয়েছিল, সেই অর্জন ধরে রাখতে হলে শুধু প্রবৃদ্ধির পরিসংখ্যান বাড়ানো নয়—কর্মসংস্থান সৃষ্টি, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, বিনিয়োগ পুনরুদ্ধার, করব্যবস্থার সংস্কার এবং দরিদ্র মানুষের কাছে সামাজিক নিরাপত্তার অর্থ কার্যকরভাবে পৌঁছে দেওয়া—এই পাঁচটি জায়গায় একসঙ্গে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়াই এখন সবচেয়ে বড় পরীক্ষা।

Popular post
বাংলাদেশে ঐতিহাসিক নির্বাচন: বিএনপি এগিয়ে, জামায়াতের উত্থান ও তরুণ ভোটারদের প্রভাব

২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশে আজ এক ঐতিহাসিক ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ২০০৮ সালের পর এই প্রথম একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হতে যাচ্ছে যেখানে দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগ রাজনৈতিক মানচিত্র থেকে কার্যত অনুপস্থিত। বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক জরিপ বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০০ আসনের মধ্যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) কার্যকর সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে যাচ্ছে। তবে ভোটের ব্যবধান এবং কিছু সমীকরণ নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। নির্বাচনের সবচেয়ে বড় নিয়ামক হয়ে দাঁড়িয়েছে আওয়ামী লীগের বিশাল ভোটব্যাংক। দলটির নিয়মিত প্রায় ৪ কোটি ভোটার এখন নতুন রাজনৈতিক আশ্রয় খুঁজছেন। সিআরএফ বা বিইপিওএস জরিপ বলছে, এই ভোটারদের প্রায় অর্ধেক বিএনপির দিকে ঝুঁকেছে, যা দলটিকে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতার পথে এগিয়ে দিচ্ছে। অন্যদিকে, প্রায় ৩০ শতাংশ আওয়ামী ভোটার জামায়াতে ইসলামীকে বেছে নিতে পারেন বলে আভাস পাওয়া যাচ্ছে। এছাড়া বাংলাদেশের বিদ্যমান নির্বাচনী ব্যবস্থার কারণে দেশজুড়ে সুষম জনসমর্থন থাকা বিএনপি আসন জয়ের ক্ষেত্রে জামায়াতের তুলনায় সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। তবে বিএনপির এই সম্ভাব্য জয়ের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও বিদ্রোহী প্রার্থীরা। প্রায় ৭৯টি নির্বাচনী এলাকায় দলের মনোনয়ন না পাওয়া ৯২ জন প্রভাবশালী নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, যা বিএনপির ১৫ থেকে ৩০টি আসন কমিয়ে দিতে পারে। অন্যদিকে, তরুণ ভোটার বা ‘জেন-জি’ প্রজন্মের বিশাল সমর্থন জামায়াতে ইসলামীর শক্তির উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেশের ৪৪ শতাংশ ভোটারই তরুণ, যাদের বড় একটি অংশ প্রথমবার ভোট দিচ্ছেন। এই তরুণরা যদি দলবেঁধে কেন্দ্রে উপস্থিত হন, তবে নির্বাচনী ফলে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। সবশেষে, প্রায় ১৭ থেকে ৩৫ শতাংশ দোদুল্যমান ভোটার এবং তাদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করবে আগামীর সরকার কতটা শক্তিশালী হবে। দ্য নিউইয়র্ক এডিটোরিয়ালের মূল পূর্বাভাস, তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি প্রায় ১৮৫টি আসনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করতে পারে এবং জামায়াতে ইসলামী ৮০টির মতো আসন পেয়ে প্রধান বিরোধী দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারে। তবে বিদ্রোহী প্রার্থীদের প্রভাব এবং তরুণ ভোটারদের উপস্থিতির ওপর ভিত্তি করে আসন সংখ্যায় বড় ধরনের হেরফের হওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

গাজায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা ট্রাম্প প্রশাসনে

ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। ৩৫০ একরের ঘাঁটিটিতে সামরিক বাহিনীর পাঁচ হাজার সদস্য থাকতে পারবে। গাজার ‘বোর্ড অব পিস’র নথি পর্যালোচনা করে এ তথ্য জানিয়েছে দ্য গার্ডিয়ান। প্রতিবেদনে ব্রিটিশ সংবাদ মাধ্যমটি জানিয়েছে, বোর্ড অব পিসে গাজাকে নিরাপদ করার জন্য ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যাবিলাইজেশন ফোর্স (আইএসএফ) নামে একটি আন্তর্জাতিক বাহিনী মোতায়েনের কথা বলা হয়েছে। যে স্থানটি ঘাঁটি করার জন্য বিবেচনা করা হচ্ছে সেখানে আইএসএফের সদস্যরা থাকবে। বোর্ড অব পিসের প্রধান হবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আর সংগঠনটির আংশিক নেতৃত্ব দেবেন ট্রাম্পের জামাতা জ্যারার্ড কুশনার।দ্য গার্ডিয়ান বোর্ড অব পিসের নথি পর্যালোচনা করে জানায়, ধাপে ধাপে একটি সামরিক ঘাঁটি নির্মাণ করা হবে। সবকিছু শেষ হলে ঘাঁটিটি ১৫ লাখ ১৭ হাজার ৫৭৫ বর্গমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত হবে। ঘাঁটিটির চারপাশে ট্রেইলার সংযুক্ত ২৬টি সাঁজোয়া নজরদারি টাওয়ার থাকবে। এছাড়া একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, বাংকার ও অস্ত্র রাখার গুদাম থাকবে। পুরো ঘাঁটিটি কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে ঘিরে রাখা হবে। সামরিক ঘাঁটি নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে দক্ষিণ গাজার একটি শুষ্ক সমতলভূমিতে। সেখানে ইসরায়েলি হামলার চিহ্ন রয়েছে। ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে বিভিন্ন ধাতবের ধ্বংসাবশেষ।  ওই এলাকার ভিডিও পর্যালোচনা করেছে দ্য গার্ডিয়ান। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, ঘাঁটি নির্মাণের জন্য টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে। যুদ্ধক্ষেত্রে কাজের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন আন্তর্জাতিক নির্মাণ কোম্পানিগুলোর একটি ছোট দলকে ইতোমধ্যেই এলাকাটি দেখানো হয়েছে। ওই দলটি দরপত্রে অংশ নিতে আগ্রহী।    ইন্দোনেশিয়া সরকার গাজায় আট হাজার সেনা সদস্য পাঠানোর জন্য প্রস্তাব দিয়েছে। বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটন ডিসিতে বোর্ড অব পিসের অনানুষ্ঠানিক বৈঠকে ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্টের অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। এছাড়া দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার আরও তিন নেতার ওই বৈঠকে অংশ নেবেন বলে জানা গেছে। জাতিসংঘের নিরাপত্তা কাউন্সিল গাজার সাময়িক স্থিতিশীলতার জন্য অস্থায়ীভাবে সামরিক বাহিনী মোতায়েনের অনুমোদন দিয়েছে। নিরাপত্তা কাউন্সিলই বোর্ড অব পিসের মূল হোতা। গাজার সীমান্ত ও শান্তি প্রণয়নে কাজ করবে আইএসএফ। এছাড়া বেসামরিকদের সুরক্ষা এবং ফিলিস্তিনি পুলিশ বাহিনীকে প্রশিক্ষণ ও সহায়তা দেবে তারা। যদি গাজায় ফের সংঘর্ষ হয়, ইসরায়েল বোমা হামলা চালায় অথবা হামাস হামলা চালায় সেক্ষেত্রে আইএসএফ কি করবে তা এখনও স্পষ্ট নয়। গাজা পুনর্গঠনে ইসরায়েল হামাসকে নিরস্ত্রীকরণের যে শর্ত দিয়েছে সেটির জন্য আইএসএফ কাজ করবে কিনা তাও স্পষ্ট না। ইতোমধ্যে বোর্ড অব পিসে ২০ এর অধিক দেশ যোগ দিয়েছে। তবে, এখনও অনেক পরাশক্তি এর থেকে দূরে রয়েছে। জাতিসংঘের অনুমোদন নিয়ে প্রতিষ্ঠিত হলেও ধারণা করা হচ্ছে, সংগঠনটির স্থায়ী নেতৃত্ব ও নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে। রুটজার্স বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক আদিল হক বলেন, “বোর্ড অব পিস এক ধরনের আইনি কল্পসত্তা। নামমাত্রভাবে এর নিজস্ব আন্তর্জাতিক আইনগত সত্তা রয়েছে, যা জাতিসংঘ ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে আলাদা। কিন্তু বাস্তবে এটি যুক্তরাষ্ট্রের ইচ্ছামতো ব্যবহারের জন্য একটি ফাঁপা খোলসমাত্র।” বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গাজা পুনর্গঠনে যে অর্থায়ন ও শাসন কাঠামো হচ্ছে তা অস্বচ্ছ। কয়েকজন ঠিকাদার গার্ডিয়ানকে জানান, গাজায় কাজ করার জন্য মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে তাদের প্রায়শ আলোচনা সরকারি ইমেলের বদলে সিগন্যালের মাধ্যমে করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রের তথ্য মতে, ঘাঁটি নির্মাণের সিদ্ধান্তটি বোর্ড অব পিসের। এতে সহায়তা করছে মার্কিন কর্মকর্তারা। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ঘাঁটিতে তৈরি বাংকার নেটওয়ার্কের মতোন কাজ করবে। প্রতিটি বাংকারের ২৪ মিটারের হবে। উচ্চতা থাকবে আড়াই মিটার। এগুলো এমনভাবে করা হবে যেন সেনা সদস্যরা আশ্রয় নিতে পারে। স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসের গাজায় সুড়ঙ্গ নেটওয়ার্ক বা টানেল রয়েছে। সেগুলোর আদলে নেটওয়ার্ক করতে চাওয়া হচ্ছে। পিস অব বোর্ডের নথি পর্যালোচনা করে এমন দাবি করছে গার্ডিয়ান। সংবাদ মাধ্যমটি বলছে,  স্থানটির ভূ-ভৌত জরিপ পরিচালনা করবে ঠিকাদাররা। নথির এক অংশে ‘হিউম্যান রেমিয়েনস প্রোটোকল’র কথা বলা হয়েছে। এর মানে দাঁড়ায়, সন্দেহভাজন মানব অবশিষ্ট বা সাংস্কৃতিক নিদর্শন পাওয়া গেলে অবিলম্বে সেই এলাকায় সব কাজ বন্ধ করতে হবে। চুক্তি কর্মকর্তাকে দিকনির্দেশনার জন্য অবিলম্বে জানাতে হবে। গাজা সিভিল ডিফেন্সের ধারণা, গাজার ধ্বংসস্তূপের নিচে ১০ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনির মরদেহ রয়েছে। ঘাঁটির জন্য যে স্থানটি বিবেচিত করা হচ্ছে সেটির মালিক কে তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে, দক্ষিণ গাজার বেশিরভাগ অংশ  বর্তমানে ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণে। জাতিসংঘের অনুমান, যুদ্ধ চলাকালীন ১৯ লাখ ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত হয়েছে। ফিলিস্তিনের জমিতে সরকারের অনুমতি না নিয়ে সামরিক ঘাঁটি স্থাপনকে দখল হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন ফিলিস্তিনি-কানাডিয়ান আইনজীবী এবং প্রাক্তন শান্তি আলোচক দিয়ানা বুট্টু। তিনি প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়ে বলেন, “কার অনুমতিতে তারা সামরিক ঘাঁটি স্থাপন করবে।” বিষয়টি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা বোর্ড অব পিসের কথা টানেন। ট্রাম্প প্রশাসনের একজন কর্মকর্তা সামরিক ঘাঁটির চুক্তি নিয়ে আলোচনা করতে অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, “যেমনটি প্রেসিডেন্ট বলেছেন, কোনও মার্কিন সেনা স্থলভাগে যাবে না। আমরা লিক হওয়া নথি নিয়ে আলোচনা করবো না।”

ফারুকীর সম্পদ কমেছে, তিশার বেড়েছে দ্বিগুণেরও বেশি: সম্পদ বিবরণী ঘিরে আলোচনা

অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের সম্পদ বিবরণী প্রকাশের পর সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী ও তার স্ত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদের হিসাব নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। এক বছরের ব্যবধানে স্বামী ফারুকীর সম্পদ কমলেও স্ত্রী তিশার সম্পদ বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে প্রকাশিত তথ্যে উঠে এসেছে এই চিত্র। প্রকাশিত খতিয়ান অনুযায়ী, জনপ্রিয় অভিনেত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদ এক বছরে অভাবনীয় হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তিশার মোট সম্পদের পরিমাণ ছিল ১ কোটি ৪০ লাখ ৮১ হাজার ৮৬০ টাকা। ঠিক এক বছর পর, ২০২৫ সালের ৩০ জুন সেই সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ৯৯ লাখ ৮৯ হাজার ৫০১ টাকায়। অর্থাৎ মাত্র এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ বেড়েছে ১ কোটি ৫৯ লাখ ৭ হাজার ৬৪১ টাকা, যা আগের বছরের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি। অন্যদিকে সংস্কৃতি উপদেষ্টা ও নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর ক্ষেত্রে দেখা গেছে উল্টো চিত্র। এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ কমেছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তার মোট সম্পদ ছিল ২ কোটি ২৬ লাখ ৯২ হাজার ২৬ টাকা। ২০২৫ সালের ৩০ জুন তা কমে দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ১৫ লাখ ১৮ হাজার ২৬ টাকায়। হিসাব অনুযায়ী, এক বছরে তার সম্পদ কমেছে ১১ লাখ ৭৪ হাজার টাকা। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে গত মঙ্গলবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ প্রধান উপদেষ্টা, উপদেষ্টা ও সমমর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের পাশাপাশি তাদের স্ত্রী বা স্বামীর সম্পদ বিবরণী প্রকাশ করে। একই সময়ে স্বামী-স্ত্রীর সম্পদে এমন ভিন্নমুখী পরিবর্তন স্বাভাবিকভাবেই সাধারণ মানুষের কৌতূহলের জন্ম দিয়েছে। শোবিজ অঙ্গনের জনপ্রিয় দম্পতি হওয়ায় তাদের এই আয়-ব্যয়ের হিসাব এখন টক অব দ্য কান্ট্রি।

সংসার সামলাতে অটোরিকশা নিয়ে রাস্তায় নেমেছেন রোজিনা

বাসস : বাবা একজন তাঁত শ্রমিক। তিন বোন দুই ভাইয়ের মধ্যে সবার বড় রোজিনা। অভাব সংসার, তাই এক এতিম যুবকের সাথে বাবা-মা বিয়ে দেন তাকে। বিয়ের পর জন্ম হয় দুই কন্যা সন্তানের। অটোরিকশা চালিয়ে কোন রকম সংসার চালাচ্ছিলেন স্বামী রফিকুল ইসলাম। কিন্তু সড়ক দুর্ঘটনায় রফিকুলের এক চোখ সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যায়। আরেকটি চোখ আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ধীরে ধীরে ওই চোখের দৃষ্টি শক্তিও কমতে থাকে। ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে অটোরিকশা চালানো। সংসারের উপার্জনক্ষম মানুষটি অচল হয়ে পড়ায় চিকিৎসার খরচ, ঘর ভাড়া ও খাবারের পাশাপাশি মেয়েদের লেখাপড়ার খরচ চালানোই কঠিন হয়ে যায়। দিশেহারা হয়ে পরেন রোজিনা। এক পর্যায়ে মানুষের বাড়ি বাড়ি কাজ করে সংসার চালানোর চেস্টা করেন। কিন্তু সুবিধা করতে পারেন না। এমন পরিস্থিতিতে অটোরিকশা চালানোর সিদ্ধান্ত নেন তিনি। স্বামী রফিকুলের কাছেই হাতেখড়ি। গ্রামের স্কুলের মাঠে স্বামীর কাছেই অটোরিকশা চালানোর শিক্ষা নেন তিনি। পরে গ্রামের পথে নেমে পড়েন অটোরিকশা নিয়ে। ৫-৬ দিন এভাবে হাত পাকা করে একদিন টাঙ্গাইল শহরে চলে আসেন রোজিনা। এরপর শুরু করেন অটোরিক্সা চালানোর ব্যতিক্রমী জীবন সংগ্রাম। এখন টাঙ্গাইল পৌরসভায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার চালকদের মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা বেগম। জেলার বাসাইল উপজেলার আইসড়া গ্রামের বাসিন্দা রোজিনা টাঙ্গাইল পৌর শহরের এক প্রান্ত রাবনা বাইপাস থেকে আরেক প্রান্ত বেবিস্ট্যান্ডে যাত্রী আনা নেয়া করেন। যানজটের কারণে শহরে পুরুষ চালকরা যেখানে হিমসিম খায়, সেখানেই বিগত ৫ বছর ধরেই নির্বিঘেœ অটোরিকশা চালাচ্ছেন তিনি। টাঙ্গাইল পৌরসভা কার্যালয় সূত্রে জানা যাায়, টাঙ্গাইল শহরে চলাচলের জন্য ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক ও ৫ হাজার ব্যাটারিচালিত রিকশার অনুমতি (লাইসেন্স) দেওয়া হয়েছে। যানজট এড়াতে ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক জোড় ও বিজোড় সংখ্যায় দিনে দুই ভাগ করা হয়েছে। সকাল থেকে বেলা দুইটা পর্যন্ত এক ভাগ এবং বেলা দুইটা থেকে রাত পর্যন্ত আরেক ভাগের ইজিবাইক চলাচল করার নির্দেশনা দিয়েছে পৌর কর্তৃপক্ষ। কিন্তু রোজিনাকে দুই শিফটে চালানোর অনুমতি দিয়েছে পৌরসভা। সরেজমিনে দেখা যায়, নতুন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অটোরিকশা নিয়ে যাত্রী ডাকছেন রোজিনা। কলেজ গেট, পুরাতন বাসস্ট্যান্ড, ক্যাপসুল, নিরালা মোড়, বেবিস্ট্যান্ড সর্বত্রই যাত্রী আনানেয়া করেন তিনি। পুরাতন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অন্য অটো চালকদের দাঁড় করতে না দিলেও রোজিনাকে বাঁধা দেননা ট্রাফিক পুলিশ। বলতে গেলে সবাই তার প্রতি সহানুভুতিশীল। ট্রাফিক পুলিশসহ অন্য অটোচালকরাও তাকে সহযোগিতা করেন। রোজিনা বলেন, আমার অটোতে নারী যাত্রীরা খুব কম। তারা মনে করে আমার অটোতে উঠলে দুর্ঘটনায় পড়বে। কিন্তু আমি খুব সাবধানে অটো চালাই। দ্রুত গতিতেও না, আবার একেবারে ধীরগতিতেও না। এখন পর্যন্ত আমি কোন দুর্ঘটনার কবলে পড়ি নাই। শহরের পুরুষ অটোরিকশা চালকরা আমাকে অনেক সহযোগিতা করে। অটোচালক কাদের মিয়া বলেন, আমাদের শহরে কয়েক হাজার অটো চলাচল করে। তার মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। তাকে আমরা সব সময় সহযোগিতা করি। যাত্রী সাইদ মিয়া বলেন, আমি এ পর্যন্ত ৫-৬ বার রোজিনার অটোতে চড়েছি। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। অন্য পুরুষ অটো চালকের চেয়েও ভালো অটো চালান। নারী সংগঠক সেরাজুম মনিরা বলেন, তিনি অনেক দিন যাবত অটোরিকশা চালাচ্ছেন। আমি রোজিনাকে স্যালুট জানাই। একজন পুরুষের চেয়ে একজন নারী কোনো ভাবেই যে পিছিয়ে নেই, রোজিনা তা প্রমাণ করেছেন। রোজিনা বলেন, অটো চালানোর এই সিদ্ধান্তটি তার জন্য খুব সহজ ছিল না। তিনি বলেন, ৫ ও ১০ বছরের দুই মেয়েকে বাড়িতে রেখে অটোরিকশা নিয়ে সারাদিন রাস্তায় থাকতে হয়। তাদের ভালোভাবে দেখাশোনা করতে পারি না। কিন্তু কি করবো, অভাবের সংসার! এখন ঋণ নিয়ে একটু জমি কিনেছি। প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ণ প্রকল্পের অর্থায়নে প্রশাসন সেখানে ঘর তুলে দিয়েছে। শুরুতে যারা আমাকে নিয়ে ঠাট্টা করেছে এখন তারাই আমাকে সম্মান করেন। নারীরাও যে কিছু করতে পারে, তা প্রমাণ করেছি। আমার বড় মেয়ে আইসড়া উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়ে, ছোট মেয়ে পড়ে স্থানীয় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। মেয়েদের শিক্ষিত করতে হবে। ধার দেনা শোধ করতে হবে। তাই থেমে গেলো চলবে না। আমি অটোরিকশা চালিয়েই দুই সন্তানকে মানুষ করতে চাই।’ ঘারিন্দা ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য বাবুল সরকার বলেন, সরকার রোজিনাকে একটি ঘর নির্মাণ করে দিয়েছে। শুরুতে যারা তাকে নিয়ে নানান কথা বলতো, এখন তার সংকল্প ও মানষিক দৃঢ়তা দেখে থেমে গেছে। আমরা তাকে নিয়ে গর্ব করি। টাঙ্গাইলের ট্রাফিক ইন্সপেক্টর (প্রশাসন) দেলোয়ার হোসেন বলেন, শহরের একমাত্র নারী চালক রোজিনাকে কেউ যেন বিরক্ত করতে না পারে সেদিকে সব সময় নজর রাখে ট্রাফিক পুলিশ। আমরা তাকে সব সময় সহযোগিতা করে আসছি। টাঙ্গাইলের সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক শাহ আলম বলেন, বিষয়টি এখন জানতে পারলাম। ওই নারী এখনো পর্যন্ত আমাদের কাছে আসেন নাই। যদি আমাদের কাছে এসে আবেদন করেন অবশ্যই তাকে আমরা সহযেগিতা করবো, তার পাশে দাঁড়াবো।

কুড়িগ্রামের তাজু ভাই ২.০: ‘সরকারি রেটে জিলাপি’ প্রশ্নে ভাইরাল এক নির্মাণশ্রমিকের গল্প

বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের প্রত্যন্ত চরাঞ্চল থেকে উঠে এসে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার কেন্দ্রে এখন তাইজুল ইসলাম, যিনি অনলাইনে পরিচিত ‘তাজু ভাই ২.০’ নামে। মাত্র একটি ভিডিও—যেখানে তিনি এক দোকানিকে প্রশ্ন করেন, “জিলাপি আজকে কত করে বেচতেছেন সরকারি রেটে?”—এই সরল উপস্থাপনাই তাকে রাতারাতি ভাইরাল করে তোলে।  কয়েক ঘণ্টায় ফলোয়ার লাখ ছাড়াল রোববার রাত পর্যন্ত তার ফেসবুক অনুসারী ছিল প্রায় ৩৫ হাজার। কিন্তু সোমবার সন্ধ্যা থেকে রাতের মধ্যেই তা বেড়ে এক লাখের বেশি হয়ে যায়। ভাইরাল ভিডিওটি ইতোমধ্যে প্রায় ৫০ থেকে ৫৫ লাখবার দেখা হয়েছে।  কী ছিল সেই ভিডিওতে? ভিডিওতে দেখা যায়, কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীর নারায়ণপুর বাজারে দাঁড়িয়ে স্থানীয় ভাষায় তিনি জিলাপির দাম জানতে চান। তার কথাগুলো ছিল একেবারেই সহজ ও গ্রাম্য ভঙ্গিতে— “সাদাডা কত, লালডা কত? সরকারি রেটে বেচতেছেন?” এই সরল প্রশ্নই সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।  কোথা থেকে উঠে এলেন তাজু ভাই? কুড়িগ্রাম জেলার নাগেশ্বরী উপজেলার নারায়ণপুর ইউনিয়নের একটি দুর্গম গ্রামে জন্ম তার। ব্রহ্মপুত্র নদবেষ্টিত এই অঞ্চলে পৌঁছাতে এখনও কয়েকটি নৌঘাট পার হতে হয়। দারিদ্র্যের কারণে কখনো স্কুলে যাওয়া হয়নি তার। পেশায় তিনি একজন নির্মাণশ্রমিকের সহকারী (হেলপার)। কাজের ফাঁকে ঢাকায় থাকাকালীন মোবাইল ফোনে ভিডিও তৈরি করাই তার শখ। ব্যক্তিগত সংগ্রাম তাইজুল ইসলামের পরিবারে ছয় ভাই-বোন। তিনি সবার বড়। তার বাবা-মা দুজনই শ্রবণপ্রতিবন্ধী। পরিবার চালাতে তাকে ছোটবেলা থেকেই সংগ্রাম করতে হয়েছে। তিনি বলেন, “পরিবারের কষ্ট ভুলতেই ভিডিও করি। আমি সাংবাদিক না, কিন্তু আমাদের এলাকায় কেউ আসে না—তাই নিজেরাই ভিডিও বানাই।” ভাইরাল হওয়ার পেছনের উদ্দেশ্য তাইজুলের দাবি, তার ভিডিও শুধুই বিনোদনের জন্য নয়। তিনি চান তার এলাকার অবহেলিত মানুষের কথা প্রশাসনের নজরে আসুক। “আমি চাই চরের মানুষের উন্নয়ন হোক,”—বলছেন তিনি।  মিশ্র প্রতিক্রিয়া ভিডিওটি নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে দুই ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ তার সরলতা ও বাস্তবতা তুলে ধরার চেষ্টা প্রশংসা করছেন আবার কেউ তাকে নিয়ে ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ করছেন তবে এসব সমালোচনায় তিনি বিচলিত নন।

নিজস্ব প্রতিবেদক

ইত্তেহাদ এক্সক্লুসিভ

View more
বাংলাদেশে চার বছরে ৮০ লাখ মানুষ দরিদ্র, ঝুঁকিতে আরও ৬ কোটি ২০ লাখ

ইত্তেহাদ নিউজ, অনলাইন: “আর পারা যাচ্ছে না। বাজারে শাক-সবজি থেকে শুরু করে তেল, গ্যাস, বিদ্যুৎ, বাসভাড়া, ঘরভাড়া—সবকিছু যেভাবে বাড়ছে, তাতে খেয়ে-পরে বেঁচে থাকাই দিন দিন কঠিন হয়ে যাচ্ছে।” ঢাকার মগবাজারের বাসিন্দা ও একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের মধ্যমসারির কর্মকর্তা আতিকুর রহমানের কথায় ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের বহু পরিবারের বর্তমান অর্থনৈতিক বাস্তবতা। তার ভাষ্য, কয়েক বছরে জীবনযাত্রার ব্যয় যে হারে বেড়েছে, তার তুলনায় আয় বেড়েছে সামান্যই। সংসারের খরচ মেটাতে গিয়ে আগের সঞ্চয়ও প্রায় শেষের দিকে। “বেতনের টাকা দিয়ে মাস পার হচ্ছে না। এভাবে যদি জিনিসপত্রের দাম বাড়তে থাকে, তাহলে সংসার কীভাবে চালাব, ছেলে-মেয়ের পড়াশোনার খরচ কীভাবে দেব—সেটাই ভেবে কূল-কিনারা পাচ্ছি না,” বলেন তিনি। আতিকুরের এই ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার সঙ্গে এখন মিলছে বৃহত্তর অর্থনৈতিক চিত্রও। বিশ্বব্যাংকের সর্বশেষ প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, গত চার বছরে বাংলাদেশে দরিদ্র মানুষের সংখ্যা বেড়েছে প্রায় ৮০ লাখ। শুধু গত এক বছরেই প্রায় ২১ লাখ মানুষ নতুন করে দারিদ্র্যসীমার নিচে নেমেছেন। আর যারা এখন নিম্ন মধ্যবিত্ত শ্রেণিতে রয়েছেন, তাদের মধ্যেও প্রায় ৬ কোটি ২০ লাখ মানুষ দরিদ্র হয়ে পড়ার ঝুঁকিতে রয়েছেন বলে সতর্ক করেছে সংস্থাটি। অর্থনীতিবিদদের প্রশ্ন—একসময় দারিদ্র্য কমানোর ক্ষেত্রে ‘বিশ্বের মডেল’ হিসেবে প্রশংসিত বাংলাদেশ আবার কোন পথে হাঁটছে? দারিদ্র্য কমার গল্প থেকে উল্টো পথে স্বাধীনতার পর যুদ্ধবিধ্বস্ত বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অবস্থা ছিল অত্যন্ত দুর্বল। সত্তরের দশকে দেশের দারিদ্র্যের হার ছিল প্রায় ৭০ শতাংশ। এরপর সরকারি-বেসরকারি নানা উদ্যোগ, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, কর্মসংস্থান এবং সামাজিক উন্নয়ন কর্মসূচির কারণে দীর্ঘ সময় ধরে দারিদ্র্যের হার কমেছে। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী, পাঁচ দশকের মধ্যে দারিদ্র্যের হার কমে ২০ দশমিক ৫ শতাংশে নেমে আসে। ২০২০ সালে বাংলাদেশকে দারিদ্র্য বিমোচনের ক্ষেত্রে বিশ্বের ‘মডেল’ হিসেবে উল্লেখ করেছিল বিশ্বব্যাংক। ২০২২ সালের খানা আয় ও ব্যয় জরিপে দারিদ্র্যের হার আরও কমে ১৮ দশমিক ৭ শতাংশে দাঁড়ানোর তথ্য পাওয়া যায়। একই সময়ে অতি দারিদ্র্যের হার ছিল ৫ দশমিক ৬ শতাংশ। তখন দারিদ্র্য বিমোচনের এই ধারা অব্যাহত থাকলে ২০৩১ সালের মধ্যে বাংলাদেশ পুরোপুরি দারিদ্র্যমুক্ত হতে পারে—এমন প্রত্যাশাও জানিয়েছিলেন পরিসংখ্যান ব্যুরোর কর্মকর্তারা। কিন্তু এরপর পরিস্থিতির মোড় ঘুরতে শুরু করে। বিশ্বব্যাংকের সর্বশেষ হিসাব বলছে, ২০২৫ সালে অতি দারিদ্র্যের হার বেড়ে ১০ দশমিক ১ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। একই সময়ে মোট দারিদ্র্যের হার বেড়ে হয়েছে প্রায় ২২ দশমিক ৫ শতাংশ। অর্থাৎ, বর্তমানে বাংলাদেশে দরিদ্র মানুষের সংখ্যা ৩ কোটি ৫০ লাখের বেশি বলে অনুমান করছে বিশ্বব্যাংক। কেন এই বিপরীত যাত্রা? বিশ্বব্যাংকের বিশ্লেষণে বাংলাদেশের দারিদ্র্য বৃদ্ধির পেছনে কয়েকটি বড় কারণ চিহ্নিত করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে— কোভিড-১৯ মহামারির দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব; উচ্চ মূল্যস্ফীতি; জ্বালানি সংকট; দুর্বল বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান; রাজনৈতিক অস্থিরতা; করব্যবস্থার দুর্বলতা; সামাজিক নিরাপত্তা ও ভর্তুকি ব্যবস্থায় কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যভিত্তিকতা না থাকা। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে ব্যাংকিং খাতের সংকট, অনিয়ম, দুর্নীতি ও অর্থপাচারের মতো বিষয়গুলোও—যেগুলো অর্থনীতির ওপর দীর্ঘমেয়াদি চাপ তৈরি করেছে বলে অর্থনীতিবিদদের বক্তব্য। প্রবৃদ্ধি কমেছে, কর্মসংস্থানও সংকটে করোনা মহামারির সময় অর্থনীতির বড় একটি অংশ কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছিল। শিল্প-কারখানা ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান বন্ধ হওয়ায় বহু মানুষ চাকরি হারান। কিছু প্রতিষ্ঠান টিকে থাকলেও কর্মী ছাঁটাই করতে বাধ্য হয়। অর্থনীতিবিদ ড. ফাহমিদা খাতুনের মতে, মহামারির সময় যারা চাকরি হারিয়েছিলেন, তাদের অনেকেই পরে আনুষ্ঠানিক খাতে আর ফিরতে পারেননি। সরকার তখন আশা করেছিল, করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার পর নতুন বিনিয়োগ আসবে এবং অর্থনীতি দ্রুত ঘুরে দাঁড়াবে। কিন্তু বাস্তবে সেই প্রত্যাশা পুরোপুরি পূরণ হয়নি। বরং লাগাতার অনিয়ম, দুর্নীতি, লুটপাট ও অর্থপাচারের অভিযোগে ব্যাংকিং খাতসহ অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ কিছু খাত দুর্বল হয়ে পড়েছে বলে মন্তব্য করেছেন ফাহমিদা খাতুন। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর হিসাবে, ২০২১-২২ অর্থবছরে দেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধি ছিল ৭ দশমিক ১ শতাংশ। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে তা কমে ৪ দশমিক ২২ শতাংশে দাঁড়ায়। বিশ্বব্যাংকের পূর্বাভাস অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরে প্রবৃদ্ধি আরও কমে ৩ দশমিক ৪ শতাংশে নেমে আসতে পারে। অর্থাৎ, অর্থনীতির আকার বাড়লেও সেই প্রবৃদ্ধি সাধারণ মানুষের আয় ও কর্মসংস্থানে আগের মতো প্রভাব ফেলছে না—এমন একটি বাস্তবতা সামনে এসেছে। রাজনৈতিক অস্থিরতার প্রভাব ২০২৪ সালের জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানের পর শেখ হাসিনা সরকারের পতন ঘটে। এরপর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিতে যে নাজুকতা তৈরি হয়েছিল, তার প্রভাব বিনিয়োগ পরিবেশেও পড়েছে বলে অর্থনীতিবিদদের একটি অংশ মনে করছেন। দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীদের অনেকে নতুন বিনিয়োগে আগ্রহ দেখাননি। এর মধ্যেই মধ্যপ্রাচ্যের সংকট আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে নতুন অস্থিরতা তৈরি করেছে। গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকটও বেড়েছে। বিশ্বব্যাংকের আশঙ্কা, জ্বালানি সংকটের কারণে শিল্প-কারখানায় উৎপাদন ব্যাহত হলে নতুন করে কর্মী ছাঁটাইয়ের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। অর্থাৎ, একদিকে বিনিয়োগ কমছে, অন্যদিকে কর্মসংস্থানের সুযোগও সংকুচিত হচ্ছে। এর সরাসরি প্রভাব পড়ছে মানুষের আয় ও জীবনযাত্রায়। মূল্যস্ফীতি: আয় বাড়ার আগেই খরচ বাড়ছে বাংলাদেশে টানা চার বছরেরও বেশি সময় ধরে মূল্যস্ফীতি উচ্চ পর্যায়ে রয়েছে। গত দুই বছরে কিছুটা কমে মূল্যস্ফীতি বর্তমানে ৮ দশমিক ৩ শতাংশে দাঁড়ালেও অর্থনীতিবিদদের মতে, এটিকে এখনো সহনীয় পর্যায় বলা যায় না। সমস্যাটি শুধু মূল্যস্ফীতির হারেই নয়; দীর্ঘ সময় ধরে উচ্চ মূল্যস্ফীতি চলায় মানুষের প্রকৃত ক্রয়ক্ষমতা কমে গেছে। করোনার সময়ে চাকরি হারানো বা আয় কমে যাওয়ার পর অনেক পরিবার যখন আর্থিকভাবে দুর্বল হয়ে পড়ে, তখন খাদ্যসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বাড়তে থাকে। ফলে আয়ের সঙ্গে ব্যয়ের ব্যবধান বাড়ে। ঢাকার এক বাসিন্দা জানান, সংসারের ব্যয় মেটাতে গিয়ে তাকে জমি-জমাসহ মূল্যবান সম্পদ বিক্রি করতে হচ্ছে। “জায়গা-জমি বিক্রি করে কয়দিন চলা যায়? এখন প্রত্যেক মাসে ৩০-৪০ হাজার টাকার বেশি দেনা থাকি,” বলেন তিনি। খুলনার বাসিন্দা বিলকিস আকতারও বলছেন একই ধরনের কথা। “সঞ্চয় রাখব কীভাবে? সংসার চালাতেই তো হিমশিম খাচ্ছি।” এ ধরনের পরিস্থিতিতে সঞ্চয় ভেঙে সংসার চালানো, সম্পদ বিক্রি কিংবা ধারদেনার ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়া—দারিদ্র্যের ঝুঁকি আরও বাড়িয়ে দিতে পারে বলে মনে করছেন অর্থনীতিবিদরা। সবচেয়ে বড় সংকট: দরিদ্রদের কাছে পৌঁছাচ্ছে না সহায়তা বাংলাদেশের দারিদ্র্য পরিস্থিতির আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক উঠে এসেছে বিশ্বব্যাংকের সামাজিক নিরাপত্তা বিশ্লেষণে। সংস্থাটির হিসাবে, দেশের প্রায় ৬২ শতাংশ দরিদ্র মানুষ প্রধান সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির সুবিধা পান না। অন্যদিকে, দরিদ্র জনগোষ্ঠীর যে প্রায় ৩৮ শতাংশ এসব কর্মসূচির সুবিধা পাচ্ছেন, তারাও ধনীদের তুলনায় কম সুবিধা পাচ্ছেন। বিশ্বব্যাংকের হিসাব অনুযায়ী, সমাজের নিচের ২০ শতাংশ দরিদ্র মানুষ বছরে গড়ে ৭ হাজার ১৪০ টাকা সামাজিক নিরাপত্তা সুবিধা পান। অন্যদিকে সবচেয়ে ধনী মানুষরা বছরে গড়ে ১০ হাজার ৪৭২ টাকা সুবিধা পাচ্ছেন। এখানেই সামাজিক নিরাপত্তা ব্যবস্থার লক্ষ্যভিত্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হচ্ছে। ভর্তুকির সুফল কারা বেশি পাচ্ছে? বিদ্যুৎ খাতের ভর্তুকির ক্ষেত্রেও একই ধরনের বৈষম্যের কথা বলেছে বিশ্বব্যাংক। বিদ্যুৎ ব্যবহারের পরিমাণের সঙ্গে ভর্তুকির সুবিধা বাড়ে। ফলে যারা বেশি বিদ্যুৎ ব্যবহার করেন, তারা তুলনামূলকভাবে বেশি ভর্তুকি পান। বিশ্বব্যাংকের হিসাবে, সমাজের ওপরের ২০ শতাংশ ধনী মানুষের জন্য বিদ্যুৎ খাতের ভর্তুকির প্রায় এক-তৃতীয়াংশ ব্যয় হচ্ছে। অর্থনীতিবিদ ড. ফাহমিদা খাতুনের মতে, ঢালাও ভর্তুকির পরিবর্তে দরিদ্র জনগোষ্ঠীকে লক্ষ্য করে কর্মসূচি নেওয়া হলে এর সুফল বেশি কার্যকরভাবে তাদের কাছে পৌঁছানো সম্ভব। করব্যবস্থার দুর্বলতাও বড় সমস্যা বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদনে বাংলাদেশের করব্যবস্থার সীমাবদ্ধতার কথাও তুলে ধরা হয়েছে। দুর্বল কর প্রশাসন এবং কর পরিপালনের হার কম থাকার কারণে অভ্যন্তরীণ রাজস্ব আহরণ জিডিপির মাত্র ৮ শতাংশ থেকে আনুমানিক ৮ দশমিক ৩ শতাংশে উন্নীত হয়েছে। রাজস্ব আয় কম হলে সরকারের সামাজিক সুরক্ষা, স্বাস্থ্য, শিক্ষা কিংবা দরিদ্র জনগোষ্ঠীর জন্য প্রয়োজনীয় সহায়তা বাড়ানোর সক্ষমতাও সীমিত থাকে। এ কারণে করনীতি নির্ধারণ ও কর প্রশাসনকে আলাদা করার পাশাপাশি অধিকতর ডিজিটাল ব্যবস্থা, করদাতাদের সমন্বিত ডেটাবেস এবং শনাক্তকরণ নম্বর চালুর সুপারিশ করেছে বিশ্বব্যাংক। ফ্যামিলি কার্ড কি ঘুরিয়ে দিতে পারবে পরিস্থিতি? দারিদ্র্য মোকাবিলায় নতুন করে আলোচনায় এসেছে সরকারের ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি। বিশ্বব্যাংকের মতে, যথাযথভাবে বাস্তবায়ন করা গেলে এই কর্মসূচি দারিদ্র্য কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। বিশ্বব্যাংকের অর্থনীতিবিদ ধ্রুব শর্মার হিসাবে, বিদ্যমান পদ্ধতিতে ফ্যামিলি কার্ডের সুবিধা দেওয়া হলে বছরে প্রায় ১৬ লাখ মানুষ দারিদ্র্যসীমা অতিক্রম করতে পারবেন। তবে প্রকৃত দরিদ্র মানুষকে সঠিকভাবে চিহ্নিত করে কার্ড দেওয়া গেলে বছরে প্রায় সাড়ে ২৮ লাখ মানুষ দারিদ্র্য থেকে বেরিয়ে আসতে পারবেন বলে মনে করছে সংস্থাটি। অর্থাৎ, কর্মসূচি থাকা যথেষ্ট নয়—কারা প্রকৃত সুবিধাভোগী, সেটি সঠিকভাবে শনাক্ত করাই বড় চ্যালেঞ্জ। সরকারের বক্তব্য কী? সরকার বলছে, বর্তমান অর্থনৈতিক সংকটের বড় একটি অংশ তারা আগের সরকারগুলোর কাছ থেকে ‘উত্তরাধিকারসূত্রে’ পেয়েছে। এর পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের কারণে গ্যাস ও বিদ্যুতের দাম বেড়েছে বলেও সরকারের পক্ষ থেকে উল্লেখ করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা বিষয়ক উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর বলেন, মূল্যস্ফীতি, ব্যাংক খাতের সংকট, বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানের সমস্যাগুলো বহিঃস্থ কারণ অথবা উত্তরাধিকারসূত্রে পাওয়া। তার ভাষায়, সরকার মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ এবং সামষ্টিক অর্থনীতিতে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করছে। বিশ্বব্যাংকের সংস্কারসংক্রান্ত সুপারিশগুলোও সরকার গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে বলে জানিয়েছেন তিনি। তাহলে সামনে পথ কোনটি? বাংলাদেশের দারিদ্র্য কমানোর গত কয়েক দশকের সাফল্য ছিল ধারাবাহিক। কিন্তু সাম্প্রতিক হিসাব সেই ধারায় বড় ধরনের ছেদ দেখাচ্ছে। একদিকে উচ্চ মূল্যস্ফীতি মানুষের প্রকৃত আয় ও ক্রয়ক্ষমতা কমিয়ে দিচ্ছে। অন্যদিকে বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান দুর্বল। জ্বালানি সংকট শিল্প উৎপাদনের ওপর চাপ তৈরি করছে। ব্যাংকিং খাতের সংকট অর্থনীতির ভিত দুর্বল করছে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিতে লক্ষ্যভিত্তিকতার ঘাটতি। ফলে দারিদ্র্য কমানোর বদলে আবারও মানুষ দরিদ্র হয়ে পড়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। সবচেয়ে বড় উদ্বেগের জায়গাটি হলো—শুধু ৩ কোটি ৫০ লাখের বেশি মানুষ বর্তমানে দরিদ্র নয়; নিম্ন মধ্যবিত্তের আরও প্রায় ৬ কোটি ২০ লাখ মানুষও দারিদ্র্যের ঝুঁকিতে রয়েছেন। অর্থাৎ, এটি কেবল দরিদ্র মানুষের সমস্যা নয়। অর্থনীতির একটি বড় অংশের মানুষের জীবনযাত্রা এখন এমন এক অনিশ্চয়তার মধ্যে, যেখানে আয় সামান্য কমে যাওয়া কিংবা ব্যয় সামান্য বেড়ে যাওয়াই একটি পরিবারকে দারিদ্র্যসীমার নিচে ঠেলে দিতে পারে। বাংলাদেশ যে একসময় দারিদ্র্য বিমোচনের ‘মডেল’ হিসেবে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পেয়েছিল, সেই অর্জন ধরে রাখতে হলে শুধু প্রবৃদ্ধির পরিসংখ্যান বাড়ানো নয়—কর্মসংস্থান সৃষ্টি, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, বিনিয়োগ পুনরুদ্ধার, করব্যবস্থার সংস্কার এবং দরিদ্র মানুষের কাছে সামাজিক নিরাপত্তার অর্থ কার্যকরভাবে পৌঁছে দেওয়া—এই পাঁচটি জায়গায় একসঙ্গে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়াই এখন সবচেয়ে বড় পরীক্ষা।

নিজস্ব প্রতিবেদক অক্টোবর ৮, ২০২৬ 0
কিডনি ভ্যালি

কিডনি ভ্যালি থেকে উপসাগর: নেপালে কিডনি সংকটের নতুন আতঙ্ক

ইরানের বিরুদ্ধে ‘সবচেয়ে বড় আর্থিক অভিযান’: ওয়াশিংটনের চাপ, পাল্টা হরমুজ হুঁশিয়ারি

লোহিত সাগরে ভারতীয় জাহাজে হামলা, হরমুজ সংকটের প্রভাব ছড়াচ্ছে বৈশ্বিক অর্থনীতিতে

ওয়াশিংটনে দাবানলের ভয়াবহ বিস্তার: ৭ হাজার একর পুড়ে ছাই, সরিয়ে নেওয়া হয়েছে ৬৫ হাজার মানুষকে , জরুরি অবস্থা জারি

 ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন ডেস্ক : যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন অঙ্গরাজ্যে ভয়াবহ দাবানল দ্রুত বিস্তার লাভ করে অন্তত ৭ হাজার একর এলাকা পুড়িয়ে দিয়েছে। অগ্নিকাণ্ডে সাত শতাধিক বাড়িঘর, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও অন্যান্য স্থাপনা ধ্বংস হয়েছে। পরিস্থিতির দ্রুত অবনতির কারণে স্পোকেন অঞ্চলের প্রায় ৬৫ হাজার বাসিন্দাকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ায় ওয়াশিংটনের গভর্নর বব ফার্গুসন পুরো অঙ্গরাজ্যে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছেন। দাবানল নিয়ন্ত্রণে বড় চ্যালেঞ্জ দাবানল নিয়ন্ত্রণে সবচেয়ে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে দীর্ঘস্থায়ী শুষ্ক আবহাওয়া এবং প্রবল দমকা বাতাস। আগুন এত দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে যে অগ্নিনির্বাপণ কর্মীদের প্রচেষ্টা বারবার ব্যাহত হচ্ছে। ওয়াশিংটনের দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর স্পোকেন ও আশপাশে প্রায় ৮ দশমিক ২ বর্গমাইল (প্রায় ২১ বর্গকিলোমিটার) এলাকা আগুনে পুড়ে গেছে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের পশ্চিমাঞ্চলের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যেও একাধিক দাবানল সক্রিয় রয়েছে। এসব আগুন নিয়ন্ত্রণে ফেডারেল, অঙ্গরাজ্য ও স্থানীয় কর্তৃপক্ষ যৌথভাবে কাজ করছে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ওয়াশিংটনজুড়ে এখন পর্যন্ত ৭ হাজার একরের বেশি এলাকা আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। স্পোকেনের কয়েকটি বড় দাবানল এখনো নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়নি। হাসপাতালের রোগীদেরও সরিয়ে নেওয়া হয়েছে দাবানলের ঝুঁকি বাড়তে থাকায় স্পোকেন ভেটেরান্স অ্যাফেয়ার্স হাসপাতালের রোগীদেরও নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। স্থানীয় ভিডিওচিত্রে দেখা গেছে, একের পর এক ভবনে আগুন জ্বলছে। ঘন কালো ধোঁয়ায় ঢেকে গেছে আবাসিক এলাকা। অনেক বাড়ি সম্পূর্ণ পুড়ে ছাই হয়ে গেছে; কোথাও শুধু চিমনি দাঁড়িয়ে রয়েছে। "আমরা এখনো বিপদমুক্ত নই" সংবাদ সম্মেলনে মার্কিন সিনেটর মারিয়া ক্যান্টওয়েল বলেন, "আমরা এখনো বিপদমুক্ত নই। আগামী কয়েক দিন খুবই কঠিন হবে।" কর্মকর্তাদের আশঙ্কা, আবহাওয়ার উন্নতি না হওয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে। শুধু ওয়াশিংটন নয়, আগুন ছড়িয়েছে পার্শ্ববর্তী অঙ্গরাজ্যেও দাবানলের প্রভাব শুধু ওয়াশিংটনে সীমাবদ্ধ নেই। পশ্চিম আইডাহো ও পূর্ব ওরেগনে টানা দশম দিনের মতো বুলডোজার ও হেলিকপ্টারের সহায়তায় আগুন নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা চলছে। এসব এলাকায় প্রায় ৫২৫ বর্গমাইল (প্রায় ১ হাজার ৩৬০ বর্গকিলোমিটার) তৃণভূমি পুড়ে গেছে। গবাদিপশুর খামারের জন্য পরিচিত অঞ্চলগুলোতে ৭০০টির বেশি বাড়ি এবং আরও প্রায় ৮০০টি স্থাপনা হুমকির মুখে রয়েছে। আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, সপ্তাহজুড়ে শুষ্ক ও রৌদ্রোজ্জ্বল আবহাওয়া অব্যাহত থাকবে। বুধবার তাপমাত্রা ৯০ ডিগ্রি ফারেনহাইট (৩২ ডিগ্রি সেলসিয়াস) অতিক্রম করতে পারে, যা দাবানলের ঝুঁকি আরও বাড়াবে। বজ্রপাত থেকে আগুনের সূত্রপাতের ধারণা কর্মকর্তাদের প্রাথমিক ধারণা, সাম্প্রতিক বজ্রপাত থেকেই এসব দাবানলের সূত্রপাত হয়েছে। বর্তমানে স্পোকেন এলাকায় ওল্ড ট্রেইলস ফায়ার, ফেয়ারভিউ ফায়ার এবং মেডোভিউ ফায়ার—এই তিনটি বড় দাবানল সবচেয়ে বেশি উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠেছে। বায়ুদূষণ ও স্বাস্থ্যঝুঁকির সতর্কতা দাবানলের ধোঁয়ার কারণে যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় আবহাওয়া বিভাগ পূর্ব ওয়াশিংটন, পূর্ব ওরেগন, পশ্চিম ও মধ্য আইডাহো এবং পশ্চিম মন্টানায় বায়ুদূষণ সতর্কতা জারি করেছে। একই সঙ্গে উটাহ, মন্টানা ও পশ্চিম নেব্রাস্কার কিছু এলাকায় দাবানলের উচ্চ ঝুঁকির সতর্কতা এবং অ্যারিজোনা, ক্যালিফোর্নিয়া, নেভাডার দক্ষিণাঞ্চল ও উত্তর মন্টানায় তীব্র তাপপ্রবাহের সতর্কতা কার্যকর রয়েছে। এদিকে পূর্ব ওয়াশিংটনের জন্য জাতীয় আবহাওয়া বিভাগ 'অত্যন্ত বিপজ্জনক পরিস্থিতি' উল্লেখ করে বিশেষ দাবানল সতর্কতা জারি করেছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক আগস্ট ৪, ২০২৬ 0
পশ্চিম তীরে জমি দখল

পশ্চিম তীরে ইসরায়েলের সমন্বিত অভিযান: ১৪ ফিলিস্তিনি আটক, ছয় মাসে ১১ হাজারের বেশি হামলার দাবি

হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল সর্বনিম্ন, ইরানের বিরুদ্ধে নতুন নৌ অবরোধের ঘোষণা ট্রাম্পের—বিশ্ব জ্বালানি বাণিজ্যে নতুন সংকট?

১৩৬ বছরের পুরোনো মসজিদ বন্ধ করল ভারত

দমদম বিমানবন্দরে ১৩৬ বছরের পুরোনো গৌরীপুর জামে মসজিদ বন্ধ করল ভারত

হরমুজে ফি প্রস্তাবের আড়ালে বৈশ্বিক নৌ-বাণিজ্যের নতুন সমীকরণ

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন ডেস্ক : হরমুজ প্রণালিতে নৌ-নির্দেশনা সেবার বিপরীতে স্বেচ্ছাভিত্তিক ফি আরোপের প্রস্তাবকে ঘিরে আন্তর্জাতিক কূটনীতি, সামুদ্রিক আইন এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা প্রশ্নে নতুন বিতর্ক শুরু হয়েছে। ইউরোপীয় কয়েকটি দেশের আলোচনায় থাকা এই প্রস্তাব বাধ্যতামূলক টোল নয়, বরং নৌ-নিরাপত্তা ও সহায়ক সেবার জন্য অর্থ প্রদানের একটি সম্ভাব্য কাঠামো হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। বিশ্বের জ্বালানি সরবরাহের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পথ হরমুজ প্রণালি দিয়ে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ অপরিশোধিত তেল ও বাণিজ্যিক পণ্য পরিবাহিত হয়। ফলে এই পথের ব্যবস্থাপনা নিয়ে যে কোনো পরিবর্তন আন্তর্জাতিক অর্থনীতি ও ভূরাজনীতিতে সরাসরি প্রভাব ফেলতে পারে।   মূল তথ্যসংক্ষেপ হরমুজ প্রণালিতে নৌ-নির্দেশনা সেবার বিপরীতে স্বেচ্ছাভিত্তিক ফি আরোপের প্রস্তাব বিবেচনায় রয়েছে। ব্রিটেনের উপপ্রধানমন্ত্রী ডেভিড ল্যামি বাধ্যতামূলক টোল আরোপকে “বিপর্যয়কর” বলে মন্তব্য করেছেন। ওমান মালাক্কা প্রণালির সহযোগিতামূলক মডেলের আদলে একটি ব্যবস্থাপনা কাঠামো প্রস্তাব করেছে। যুক্তরাষ্ট্র ইরানের কাছে হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত রাখার প্রকাশ্য আশ্বাস চেয়েছে। আইএমওতে ইরানবিষয়ক একটি প্রস্তাবে রাশিয়া ও চীন সমর্থন দেয়নি।   কী ধরনের ফি বিবেচনায় রয়েছে? ইউরোপীয় দেশগুলোর আলোচনায় থাকা প্রস্তাব অনুযায়ী, হরমুজ প্রণালিতে চলাচলকারী জাহাজের জন্য বাধ্যতামূলক টোল নয়, বরং নির্দিষ্ট নৌ-নির্দেশনা, নিরাপত্তা ও সহায়ক সেবার বিনিময়ে স্বেচ্ছাভিত্তিক ফি নেওয়ার ব্যবস্থা বিবেচনা করা হচ্ছে। এই ধারণাটি মালাক্কা প্রণালি ও ইংলিশ চ্যানেলের মতো আন্তর্জাতিক জলপথে প্রচলিত কিছু সেবা-ভিত্তিক অর্থপ্রদানের মডেলের সঙ্গে তুলনা করা হচ্ছে। তবে প্রস্তাবটি কার্যকর করতে আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক সংস্থা (আইএমও)-এর সমর্থন প্রয়োজন হবে বলে আলোচনায় উঠে এসেছে।   ব্রিটেনের অবস্থান: টোল নয়, সেবা-ভিত্তিক ব্যবস্থা ব্রিটেনের উপপ্রধানমন্ত্রী ডেভিড ল্যামি বলেছেন, হরমুজ প্রণালিতে বাধ্যতামূলক টোল আরোপ করা হলে তা আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের জন্য “বিপর্যয়কর” হবে। তার বক্তব্যে মূল উদ্বেগ ছিল, এমন পদক্ষেপ বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থা ও জ্বালানি বাজারে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি করতে পারে। তবে ব্রিটিশ সরকারের কয়েকজন মন্ত্রী মনে করেন, নৌ-নিরাপত্তা, পরিবেশ সুরক্ষা এবং দুর্ঘটনা মোকাবিলায় সহায়ক সেবার জন্য স্বেচ্ছাভিত্তিক অর্থপ্রদানের ব্যবস্থা বিবেচনা করা যেতে পারে।   যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান: নিরাপত্তা ও নিয়ন্ত্রণের প্রশ্ন যুক্তরাষ্ট্র ইরানের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত রয়েছে এবং বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে—এমন একটি প্রকাশ্য ঘোষণা দিতে। ওয়াশিংটনের দাবি, তেহরানের অভ্যন্তরীণ ক্ষমতার দ্বন্দ্বের কারণে এ বিষয়ে সমঝোতা বাস্তবায়ন কঠিন হয়ে পড়ছে। অন্যদিকে ইরান বলছে, হরমুজ প্রণালি-সংক্রান্ত নীতিসহ গুরুত্বপূর্ণ সব বিষয়ে দেশটির নেতৃত্ব ঐক্যবদ্ধ। তবে কূটনৈতিক সূত্রগুলোর মতে, ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)-এর ভেতরে আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক আইন মেনে চলা নিয়ে মতপার্থক্য রয়েছে।   ওমানের প্রস্তাব ও মালাক্কা মডেল হরমুজ প্রণালির ভবিষ্যৎ ব্যবস্থাপনা নিয়ে ওমান মালাক্কা প্রণালির সহযোগিতামূলক মডেলের আদলে একটি প্রস্তাব তৈরি করেছে। ব্রিটিশ আইন বিশেষজ্ঞদের সহায়তায় প্রস্তুত এই পরিকল্পনায় আন্তর্জাতিক সহযোগিতার ভিত্তিতে নৌ-নিরাপত্তা, পরিবেশ সুরক্ষা এবং দুর্ঘটনা মোকাবিলার ব্যবস্থা গড়ে তোলার কথা বলা হয়েছে। ওমান জানিয়েছে, তারা এই পরিকল্পনা ব্যাখ্যা করতে আইন বিশেষজ্ঞদের তেহরানে পাঠাতেও আগ্রহী। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচির ওমান সফর এবং তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদানের মন্তব্যও ইঙ্গিত দিচ্ছে যে বিষয়টি আঞ্চলিক কূটনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে।   আইএমওতে বিতর্ক: আন্তর্জাতিক আইন বনাম আঞ্চলিক দাবি লন্ডনে আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক সংস্থার (আইএমও) কাউন্সিল বৈঠকে ওমানের প্রতিনিধি খামিস বিন মোহাম্মদ আল শামাখি বলেন, আন্তর্জাতিক আইনের আওতায় হরমুজ প্রণালি দিয়ে অবাধ নৌ-চলাচলের অধিকার নিশ্চিত এবং সেখানে বাধ্যতামূলক ট্রানজিট ফি আরোপের সুযোগ নেই। তবে তিনি উল্লেখ করেন, নৌ-নিরাপত্তা, পরিবেশ সুরক্ষা এবং দুর্ঘটনা মোকাবিলায় স্বেচ্ছাভিত্তিক নৌ-সহায়তা সেবা চালুর বিষয়ে আলোচনা করা যেতে পারে। এ বক্তব্যই বর্তমান আলোচনার কেন্দ্রীয় আইনি ভিত্তি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।   রাশিয়া ও চীনের আপত্তি উপসাগরীয় কয়েকটি দেশ ও ইউরোপীয় রাষ্ট্র আইএমওতে ইরানের বিরুদ্ধে একটি প্রস্তাব উত্থাপন করলেও রাশিয়া ও চীন তা সমর্থন করেনি। রাশিয়ার মতে, প্রস্তাবটি সংকটের মূল কারণগুলো উপেক্ষা করেছে। চীনের ভাষ্য, এটি একপেশে এবং আইএমওর এখতিয়ারের বাইরে। এই অবস্থান দেখায় যে হরমুজ প্রণালির প্রশ্নটি কেবল আঞ্চলিক নিরাপত্তা নয়, বরং বৃহৎ শক্তিগুলোর ভূরাজনৈতিক অবস্থানকেও প্রতিফলিত করছে।   সমঝোতা স্মারক ও বর্তমান বাস্তবতা গত মাসে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকে ইরান ৬০ দিনের জন্য কোনো অতিরিক্ত চার্জ ছাড়া বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দেয়। তবে যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, এই প্রতিশ্রুতির অর্থ এই নয় যে ইরানের অনুমতি ছাড়া কোনো জাহাজ হরমুজ প্রণালি ব্যবহার করতে পারবে না। অন্যদিকে আইআরজিসি নৌবাহিনী বলেছে, সমঝোতা অনুযায়ী তাদের দায়িত্ব তারা পালন করেছে এবং হরমুজ প্রণালিতে বিদেশি বাহিনীর কোনো ভূমিকা থাকার সুযোগ নেই।   কেন হরমুজ প্রণালি এত গুরুত্বপূর্ণ? হরমুজ প্রণালি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক বাণিজ্যপথ। পারস্য উপসাগর থেকে বৈশ্বিক বাজারে জ্বালানি সরবরাহের একটি বড় অংশ এই পথ দিয়ে পরিবাহিত হয়। যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড জানিয়েছে, মে মাসের শুরু থেকে তাদের বাহিনী ৮০০টির বেশি বাণিজ্যিক জাহাজ এবং প্রায় ৩৮ কোটি ব্যারেল অপরিশোধিত তেল নিরাপদে হরমুজ প্রণালি অতিক্রমে সহায়তা করেছে। ফলে এই প্রণালির ব্যবস্থাপনা, নিরাপত্তা এবং অর্থনৈতিক কাঠামো নিয়ে যে কোনো সিদ্ধান্ত বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার, বাণিজ্য ব্যয় এবং আঞ্চলিক শক্তির ভারসাম্যের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।   মূল বিতর্ক কোথায়? কূটনৈতিক সূত্রগুলোর মতে, বর্তমান বিতর্ক মূলত দুটি বিষয়কে কেন্দ্র করে: হরমুজ প্রণালি পুনরায় পুরোপুরি চালু হওয়ার পর এর নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা কী হবে। দীর্ঘমেয়াদে প্রণালির প্রশাসনিক কাঠামো কেমন হবে এবং মালাক্কা প্রণালির মডেল ইরানের জন্য গ্রহণযোগ্য হবে কি না। এছাড়া ইরানের অভ্যন্তরে আইআরজিসির বিভিন্ন অংশের অবস্থানও ভবিষ্যৎ সমঝোতার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ অনিশ্চয়তা হিসেবে দেখা হচ্ছে।   হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে বর্তমান আলোচনা শুধু একটি সম্ভাব্য ফি ব্যবস্থার প্রশ্ন নয়; এটি আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক আইন, আঞ্চলিক নিরাপত্তা, জ্বালানি সরবরাহ এবং বৈশ্বিক ভূরাজনীতির জটিল সমন্বয়ের প্রতিফলন। স্বেচ্ছাভিত্তিক নৌ-সহায়তা সেবা চালুর ধারণা আপাতদৃষ্টিতে গ্রহণযোগ্য সমাধান হিসেবে সামনে এলেও, এর বাস্তবায়ন নির্ভর করবে আইএমওর অবস্থান, ইরান-ওমান সমঝোতা, এবং যুক্তরাষ্ট্রসহ সংশ্লিষ্ট শক্তিগুলোর পারস্পরিক আস্থার ওপর।

নিজস্ব প্রতিবেদক জুলাই ১২, ২০২৬ 0

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ক আবারও সংঘাতের মুখে: হামলা, হরমুজ সংকট ও কূটনীতির ভবিষ্যৎ বিশ্লেষণ

ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের হামলা

ইরানের দক্ষিণাঞ্চলে বিস্ফোরণ, যুক্তরাষ্ট্র–ইরান উত্তেজনা নতুন পর্যায়ে

কারবালায় খামেনির জানাজা ঘিরে ব্যাপক প্রস্তুতি

কারবালায় খামেনির জানাজা : ইরানের রাজনৈতিক বার্তা, যুক্তরাষ্ট্রবিরোধী অবস্থান আরও জোরদারের দাবি

অর্থনীতি

ইসলামী ব্যাংক,

ইসলামী ব্যাংকে আস্থা সংকট কেন কাটছে না?: দেশের বৃহত্তম শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংককে ঘিরে নতুন প্রশ্ন

নিজস্ব প্রতিবেদক জুন ২২, ২০২৬ 0




অপরাধ

ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো

ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকোর বিরুদ্ধে ৩০ বিলিয়ন ডলার জালিয়াতি ও অর্থপাচার অভিযোগে দুদকের অনুসন্ধান

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ২৪, ২০২৬ 0




কৃষি ও জলবায়ু

ধান

শেরপুরে বোরো ধানের দাম কমে লোকসানে কৃষকরা, উৎপাদন খরচও উঠছে না

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ৬, ২০২৬ 0