ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : কক্সবাজারের মহেশখালীতে বঙ্গোপসাগরের কোল ঘেঁষে দাঁড়িয়ে আছে দেশের সবচেয়ে ব্যয়বহুল জ্বালানি অবকাঠামোগুলোর একটি—সিঙ্গেল পয়েন্ট মুরিং (SPM) প্রকল্প। গভীর সমুদ্র থেকে সরাসরি পাইপলাইনে জ্বালানি তেল খালাস করে দেশে পরিবহনের এই আধুনিক ব্যবস্থা নির্মাণে ব্যয় হয়েছে আট হাজার কোটি টাকারও বেশি। অবকাঠামো সম্পূর্ণ, পরীক্ষামূলক চালানও শেষ—তবু প্রকল্পটি কার্যত অচল পড়ে আছে।
প্রায় দুই বছর আগে নির্মাণ শেষ হলেও এখনো পূর্ণাঙ্গভাবে চালু হয়নি এই প্রকল্প। ফলে বাংলাদেশের জ্বালানি আমদানির একটি বড় অংশ এখনো পুরনো, ব্যয়বহুল এবং সময়সাপেক্ষ পদ্ধতিতে চলছে।
এসপিএম প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য ছিল—গভীর সমুদ্র থেকে বড় ট্যাংকারে আসা জ্বালানি তেল সরাসরি পাইপলাইনের মাধ্যমে মহেশখালীতে আনা, সেখানে সংরক্ষণ করা এবং সেখান থেকে আবার পাইপলাইনে চট্টগ্রামের ইস্টার্ন রিফাইনারিতে পাঠানো।
বর্তমানে যে পদ্ধতি ব্যবহৃত হচ্ছে তা হলো লাইটারেজ সিস্টেম—বড় জাহাজ থেকে ছোট জাহাজে করে কর্ণফুলী চ্যানেল হয়ে তেল আনা। এতে সময় বেশি লাগে, খরচও বেশি এবং কিছুটা অপচয়ও ঘটে।
নতুন ব্যবস্থায় এই পুরো প্রক্রিয়াটি ১১ দিনের বদলে মাত্র ৪৮ ঘণ্টায় সম্পন্ন হওয়ার কথা ছিল।
প্রকল্পের আওতায় নির্মিত হয়েছে—
গভীর সমুদ্রের ভাসমান বয়া (SPM পয়েন্ট)
প্রায় ২২০ কিলোমিটার পাইপলাইন ব্যবস্থা
মহেশখালীতে পাম্পিং স্টেশন ও ডিজেল জেনারেটর
প্রায় ১০০ একর জমিতে স্টোরেজ সুবিধা
ছয়টি বিশাল স্টোরেজ ট্যাংক
এই ছয়টি ট্যাংকে একসঙ্গে প্রায় ২ লাখ টন তেল সংরক্ষণ করা সম্ভব। এর মধ্যে তিনটি ক্রুড অয়েল এবং তিনটি ডিজেলের জন্য।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই মজুত ক্ষমতা দিয়ে দেশের প্রায় এক মাসের ক্রুড অয়েল এবং এক সপ্তাহের ডিজেল চাহিদা সামাল দেওয়া সম্ভব।
২০২৪ সালে নির্মাণ শেষ হওয়ার পর প্রকল্পটি পরীক্ষামূলকভাবে চালু করে কমিশনিং সম্পন্ন করা হয়। কিন্তু নিয়মিত অপারেশনের জন্য প্রয়োজনীয় অপারেটর বা ঠিকাদার নিয়োগ এখনো সম্পন্ন হয়নি।
জ্বালানি বিভাগ বলছে, এই ধরনের সিস্টেম পরিচালনার জন্য দেশে অভিজ্ঞ অপারেটর নেই। তাই বিদেশি ঠিকাদার নিয়োগের প্রক্রিয়া চলছে।
তবে এই প্রক্রিয়া থেমে গেছে আইনি ও প্রশাসনিক পরিবর্তনের কারণে।
আগে বিশেষ বিধান আইনের আওতায় সরাসরি দরপত্র ছাড়া চীনা কোম্পানির মাধ্যমে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হয়েছিল। পরবর্তীতে অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে সেই বিশেষ আইন বাতিল হওয়ায় অপারেশন ও মেইনটেনেন্স (O&M) চুক্তিও আটকে যায়।
ফলে উন্মুক্ত দরপত্রের মাধ্যমে নতুন অপারেটর নিয়োগের চেষ্টা শুরু হলেও এখনো তা শেষ হয়নি।
প্রকল্পটি চালু হলে বছরে প্রায় ৮০০ কোটি টাকার বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় হওয়ার সম্ভাবনা ছিল। আংশিকভাবে চালু থাকলেও অন্তত ৫০০ কোটি টাকার সাশ্রয় সম্ভব বলে প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা জানান।
বর্তমানে লাইটারেজ ব্যবস্থায়—
বেশি জাহাজ ব্যবহার করতে হচ্ছে
সময় বেশি লাগছে
পরিবহন খরচ বাড়ছে
তেল অপচয়ের ঝুঁকি থাকছে
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই অতিরিক্ত খরচ আসলে প্রতিদিনই দেশের জ্বালানি আমদানির ব্যয় বাড়াচ্ছে।
ইন্ডিপেন্ডেন্ট ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশের অধ্যাপক ম তামিম মনে করেন, প্রকল্পটি শুধু একটি পরিবহন ব্যবস্থা নয়, এটি একটি কৌশলগত জ্বালানি মজুত কেন্দ্রও হতে পারত।
তার মতে, পাইপলাইন চালু থাকলে—
লাইটারেজ নির্ভরতা কমত
পরিবহন ক্ষতি হ্রাস পেত
পরিবেশগত ঝুঁকি কমত
খরচ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যেত
তিনি আরও বলেন, দুই লাখ টন স্টোরেজকে দেশের কৌশলগত জ্বালানি রিজার্ভ হিসেবে ব্যবহার করার সুযোগ ছিল, যা এখনো কাজে লাগানো যায়।
আরেক বিশেষজ্ঞ ড. বদরুল ইমাম বলেন, এটি আধুনিক ও সাশ্রয়ী ব্যবস্থা হওয়া সত্ত্বেও পড়ে থাকলে প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক—কেন এটি চালু করা যাচ্ছে না এবং কার গাফিলতিতে দেরি হচ্ছে।
জ্বালানি বিভাগ বলছে, প্রকল্প দ্রুত চালুর জন্য তারা আন্তরিকভাবে কাজ করছে। নতুন করে দরপত্র মূল্যায়ন চলছে এবং পেট্রোলিয়াম ট্রান্সমিশন কোম্পানি গঠন করা হয়েছে, যারা ভবিষ্যতে এটি পরিচালনা করবে।
কর্মকর্তাদের দাবি, অপারেশন ধীরে ধীরে স্থানীয় জনবল দিয়ে হস্তান্তরের পরিকল্পনা আছে।
তবে বাস্তবতা হলো—নির্দিষ্ট কোনো সময়সীমা এখনো কেউ দিতে পারেনি।
প্রকল্পটি সময়মতো চালু না হওয়ায় এখন প্রশ্ন উঠছে—
এত বড় প্রকল্প শেষ হওয়ার পরও কেন অপারেটর নিয়োগ হয়নি?
বিশেষ আইন বাতিলের পর বিকল্প পরিকল্পনা কি আগে থেকে ছিল?
সময়মতো রূপান্তর না হওয়ায় কি বাড়তি আর্থিক ক্ষতি হয়েছে?
দায়িত্বে কারা ছিলেন এবং কোথায় সিদ্ধান্তগত বিলম্ব ঘটেছে?
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিষয়টি কেবল প্রযুক্তিগত নয়—এটি একটি প্রশাসনিক সিদ্ধান্তহীনতার উদাহরণও হতে পারে, যার প্রভাব পড়ছে দেশের জ্বালানি নিরাপত্তায়।
মহেশখালীর এসপিএম প্রকল্প এখন এক অদ্ভুত অবস্থায় দাঁড়িয়ে—একদিকে সম্পূর্ণ প্রস্তুত আধুনিক অবকাঠামো, অন্যদিকে অচল অপারেশন। দেশ যখন জ্বালানি সংকট, বৈদেশিক মুদ্রার চাপ এবং আমদানি ব্যয় কমানোর চ্যালেঞ্জের মুখে, তখন এই প্রকল্পটি কার্যকর হলে তা বড় স্বস্তি দিতে পারত।
কিন্তু এখন এটি একটি বড় প্রশ্নের প্রতীক হয়ে আছে—বাংলাদেশ কি বড় অবকাঠামো নির্মাণে এগোচ্ছে, কিন্তু তা পরিচালনায় পিছিয়ে পড়ছে? কিন্তু দীর্ঘ প্রশাসনিক জটিলতায় এখনো সেটি বাস্তবায়নের অপেক্ষায়।
বাসস : বাবা একজন তাঁত শ্রমিক। তিন বোন দুই ভাইয়ের মধ্যে সবার বড় রোজিনা। অভাব সংসার, তাই এক এতিম যুবকের সাথে বাবা-মা বিয়ে দেন তাকে। বিয়ের পর জন্ম হয় দুই কন্যা সন্তানের। অটোরিকশা চালিয়ে কোন রকম সংসার চালাচ্ছিলেন স্বামী রফিকুল ইসলাম। কিন্তু সড়ক দুর্ঘটনায় রফিকুলের এক চোখ সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যায়। আরেকটি চোখ আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ধীরে ধীরে ওই চোখের দৃষ্টি শক্তিও কমতে থাকে। ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে অটোরিকশা চালানো। সংসারের উপার্জনক্ষম মানুষটি অচল হয়ে পড়ায় চিকিৎসার খরচ, ঘর ভাড়া ও খাবারের পাশাপাশি মেয়েদের লেখাপড়ার খরচ চালানোই কঠিন হয়ে যায়। দিশেহারা হয়ে পরেন রোজিনা। এক পর্যায়ে মানুষের বাড়ি বাড়ি কাজ করে সংসার চালানোর চেস্টা করেন। কিন্তু সুবিধা করতে পারেন না। এমন পরিস্থিতিতে অটোরিকশা চালানোর সিদ্ধান্ত নেন তিনি। স্বামী রফিকুলের কাছেই হাতেখড়ি। গ্রামের স্কুলের মাঠে স্বামীর কাছেই অটোরিকশা চালানোর শিক্ষা নেন তিনি। পরে গ্রামের পথে নেমে পড়েন অটোরিকশা নিয়ে। ৫-৬ দিন এভাবে হাত পাকা করে একদিন টাঙ্গাইল শহরে চলে আসেন রোজিনা। এরপর শুরু করেন অটোরিক্সা চালানোর ব্যতিক্রমী জীবন সংগ্রাম। এখন টাঙ্গাইল পৌরসভায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার চালকদের মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা বেগম। জেলার বাসাইল উপজেলার আইসড়া গ্রামের বাসিন্দা রোজিনা টাঙ্গাইল পৌর শহরের এক প্রান্ত রাবনা বাইপাস থেকে আরেক প্রান্ত বেবিস্ট্যান্ডে যাত্রী আনা নেয়া করেন। যানজটের কারণে শহরে পুরুষ চালকরা যেখানে হিমসিম খায়, সেখানেই বিগত ৫ বছর ধরেই নির্বিঘেœ অটোরিকশা চালাচ্ছেন তিনি। টাঙ্গাইল পৌরসভা কার্যালয় সূত্রে জানা যাায়, টাঙ্গাইল শহরে চলাচলের জন্য ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক ও ৫ হাজার ব্যাটারিচালিত রিকশার অনুমতি (লাইসেন্স) দেওয়া হয়েছে। যানজট এড়াতে ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক জোড় ও বিজোড় সংখ্যায় দিনে দুই ভাগ করা হয়েছে। সকাল থেকে বেলা দুইটা পর্যন্ত এক ভাগ এবং বেলা দুইটা থেকে রাত পর্যন্ত আরেক ভাগের ইজিবাইক চলাচল করার নির্দেশনা দিয়েছে পৌর কর্তৃপক্ষ। কিন্তু রোজিনাকে দুই শিফটে চালানোর অনুমতি দিয়েছে পৌরসভা। সরেজমিনে দেখা যায়, নতুন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অটোরিকশা নিয়ে যাত্রী ডাকছেন রোজিনা। কলেজ গেট, পুরাতন বাসস্ট্যান্ড, ক্যাপসুল, নিরালা মোড়, বেবিস্ট্যান্ড সর্বত্রই যাত্রী আনানেয়া করেন তিনি। পুরাতন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অন্য অটো চালকদের দাঁড় করতে না দিলেও রোজিনাকে বাঁধা দেননা ট্রাফিক পুলিশ। বলতে গেলে সবাই তার প্রতি সহানুভুতিশীল। ট্রাফিক পুলিশসহ অন্য অটোচালকরাও তাকে সহযোগিতা করেন। রোজিনা বলেন, আমার অটোতে নারী যাত্রীরা খুব কম। তারা মনে করে আমার অটোতে উঠলে দুর্ঘটনায় পড়বে। কিন্তু আমি খুব সাবধানে অটো চালাই। দ্রুত গতিতেও না, আবার একেবারে ধীরগতিতেও না। এখন পর্যন্ত আমি কোন দুর্ঘটনার কবলে পড়ি নাই। শহরের পুরুষ অটোরিকশা চালকরা আমাকে অনেক সহযোগিতা করে। অটোচালক কাদের মিয়া বলেন, আমাদের শহরে কয়েক হাজার অটো চলাচল করে। তার মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। তাকে আমরা সব সময় সহযোগিতা করি। যাত্রী সাইদ মিয়া বলেন, আমি এ পর্যন্ত ৫-৬ বার রোজিনার অটোতে চড়েছি। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। অন্য পুরুষ অটো চালকের চেয়েও ভালো অটো চালান। নারী সংগঠক সেরাজুম মনিরা বলেন, তিনি অনেক দিন যাবত অটোরিকশা চালাচ্ছেন। আমি রোজিনাকে স্যালুট জানাই। একজন পুরুষের চেয়ে একজন নারী কোনো ভাবেই যে পিছিয়ে নেই, রোজিনা তা প্রমাণ করেছেন। রোজিনা বলেন, অটো চালানোর এই সিদ্ধান্তটি তার জন্য খুব সহজ ছিল না। তিনি বলেন, ৫ ও ১০ বছরের দুই মেয়েকে বাড়িতে রেখে অটোরিকশা নিয়ে সারাদিন রাস্তায় থাকতে হয়। তাদের ভালোভাবে দেখাশোনা করতে পারি না। কিন্তু কি করবো, অভাবের সংসার! এখন ঋণ নিয়ে একটু জমি কিনেছি। প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ণ প্রকল্পের অর্থায়নে প্রশাসন সেখানে ঘর তুলে দিয়েছে। শুরুতে যারা আমাকে নিয়ে ঠাট্টা করেছে এখন তারাই আমাকে সম্মান করেন। নারীরাও যে কিছু করতে পারে, তা প্রমাণ করেছি। আমার বড় মেয়ে আইসড়া উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়ে, ছোট মেয়ে পড়ে স্থানীয় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। মেয়েদের শিক্ষিত করতে হবে। ধার দেনা শোধ করতে হবে। তাই থেমে গেলো চলবে না। আমি অটোরিকশা চালিয়েই দুই সন্তানকে মানুষ করতে চাই।’ ঘারিন্দা ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য বাবুল সরকার বলেন, সরকার রোজিনাকে একটি ঘর নির্মাণ করে দিয়েছে। শুরুতে যারা তাকে নিয়ে নানান কথা বলতো, এখন তার সংকল্প ও মানষিক দৃঢ়তা দেখে থেমে গেছে। আমরা তাকে নিয়ে গর্ব করি। টাঙ্গাইলের ট্রাফিক ইন্সপেক্টর (প্রশাসন) দেলোয়ার হোসেন বলেন, শহরের একমাত্র নারী চালক রোজিনাকে কেউ যেন বিরক্ত করতে না পারে সেদিকে সব সময় নজর রাখে ট্রাফিক পুলিশ। আমরা তাকে সব সময় সহযোগিতা করে আসছি। টাঙ্গাইলের সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক শাহ আলম বলেন, বিষয়টি এখন জানতে পারলাম। ওই নারী এখনো পর্যন্ত আমাদের কাছে আসেন নাই। যদি আমাদের কাছে এসে আবেদন করেন অবশ্যই তাকে আমরা সহযেগিতা করবো, তার পাশে দাঁড়াবো।
অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের সম্পদ বিবরণী প্রকাশের পর সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী ও তার স্ত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদের হিসাব নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। এক বছরের ব্যবধানে স্বামী ফারুকীর সম্পদ কমলেও স্ত্রী তিশার সম্পদ বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে প্রকাশিত তথ্যে উঠে এসেছে এই চিত্র। প্রকাশিত খতিয়ান অনুযায়ী, জনপ্রিয় অভিনেত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদ এক বছরে অভাবনীয় হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তিশার মোট সম্পদের পরিমাণ ছিল ১ কোটি ৪০ লাখ ৮১ হাজার ৮৬০ টাকা। ঠিক এক বছর পর, ২০২৫ সালের ৩০ জুন সেই সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ৯৯ লাখ ৮৯ হাজার ৫০১ টাকায়। অর্থাৎ মাত্র এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ বেড়েছে ১ কোটি ৫৯ লাখ ৭ হাজার ৬৪১ টাকা, যা আগের বছরের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি। অন্যদিকে সংস্কৃতি উপদেষ্টা ও নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর ক্ষেত্রে দেখা গেছে উল্টো চিত্র। এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ কমেছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তার মোট সম্পদ ছিল ২ কোটি ২৬ লাখ ৯২ হাজার ২৬ টাকা। ২০২৫ সালের ৩০ জুন তা কমে দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ১৫ লাখ ১৮ হাজার ২৬ টাকায়। হিসাব অনুযায়ী, এক বছরে তার সম্পদ কমেছে ১১ লাখ ৭৪ হাজার টাকা। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে গত মঙ্গলবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ প্রধান উপদেষ্টা, উপদেষ্টা ও সমমর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের পাশাপাশি তাদের স্ত্রী বা স্বামীর সম্পদ বিবরণী প্রকাশ করে। একই সময়ে স্বামী-স্ত্রীর সম্পদে এমন ভিন্নমুখী পরিবর্তন স্বাভাবিকভাবেই সাধারণ মানুষের কৌতূহলের জন্ম দিয়েছে। শোবিজ অঙ্গনের জনপ্রিয় দম্পতি হওয়ায় তাদের এই আয়-ব্যয়ের হিসাব এখন টক অব দ্য কান্ট্রি।
ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। ৩৫০ একরের ঘাঁটিটিতে সামরিক বাহিনীর পাঁচ হাজার সদস্য থাকতে পারবে। গাজার ‘বোর্ড অব পিস’র নথি পর্যালোচনা করে এ তথ্য জানিয়েছে দ্য গার্ডিয়ান। প্রতিবেদনে ব্রিটিশ সংবাদ মাধ্যমটি জানিয়েছে, বোর্ড অব পিসে গাজাকে নিরাপদ করার জন্য ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যাবিলাইজেশন ফোর্স (আইএসএফ) নামে একটি আন্তর্জাতিক বাহিনী মোতায়েনের কথা বলা হয়েছে। যে স্থানটি ঘাঁটি করার জন্য বিবেচনা করা হচ্ছে সেখানে আইএসএফের সদস্যরা থাকবে। বোর্ড অব পিসের প্রধান হবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আর সংগঠনটির আংশিক নেতৃত্ব দেবেন ট্রাম্পের জামাতা জ্যারার্ড কুশনার।দ্য গার্ডিয়ান বোর্ড অব পিসের নথি পর্যালোচনা করে জানায়, ধাপে ধাপে একটি সামরিক ঘাঁটি নির্মাণ করা হবে। সবকিছু শেষ হলে ঘাঁটিটি ১৫ লাখ ১৭ হাজার ৫৭৫ বর্গমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত হবে। ঘাঁটিটির চারপাশে ট্রেইলার সংযুক্ত ২৬টি সাঁজোয়া নজরদারি টাওয়ার থাকবে। এছাড়া একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, বাংকার ও অস্ত্র রাখার গুদাম থাকবে। পুরো ঘাঁটিটি কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে ঘিরে রাখা হবে। সামরিক ঘাঁটি নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে দক্ষিণ গাজার একটি শুষ্ক সমতলভূমিতে। সেখানে ইসরায়েলি হামলার চিহ্ন রয়েছে। ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে বিভিন্ন ধাতবের ধ্বংসাবশেষ। ওই এলাকার ভিডিও পর্যালোচনা করেছে দ্য গার্ডিয়ান। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, ঘাঁটি নির্মাণের জন্য টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে। যুদ্ধক্ষেত্রে কাজের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন আন্তর্জাতিক নির্মাণ কোম্পানিগুলোর একটি ছোট দলকে ইতোমধ্যেই এলাকাটি দেখানো হয়েছে। ওই দলটি দরপত্রে অংশ নিতে আগ্রহী। ইন্দোনেশিয়া সরকার গাজায় আট হাজার সেনা সদস্য পাঠানোর জন্য প্রস্তাব দিয়েছে। বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটন ডিসিতে বোর্ড অব পিসের অনানুষ্ঠানিক বৈঠকে ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্টের অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। এছাড়া দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার আরও তিন নেতার ওই বৈঠকে অংশ নেবেন বলে জানা গেছে। জাতিসংঘের নিরাপত্তা কাউন্সিল গাজার সাময়িক স্থিতিশীলতার জন্য অস্থায়ীভাবে সামরিক বাহিনী মোতায়েনের অনুমোদন দিয়েছে। নিরাপত্তা কাউন্সিলই বোর্ড অব পিসের মূল হোতা। গাজার সীমান্ত ও শান্তি প্রণয়নে কাজ করবে আইএসএফ। এছাড়া বেসামরিকদের সুরক্ষা এবং ফিলিস্তিনি পুলিশ বাহিনীকে প্রশিক্ষণ ও সহায়তা দেবে তারা। যদি গাজায় ফের সংঘর্ষ হয়, ইসরায়েল বোমা হামলা চালায় অথবা হামাস হামলা চালায় সেক্ষেত্রে আইএসএফ কি করবে তা এখনও স্পষ্ট নয়। গাজা পুনর্গঠনে ইসরায়েল হামাসকে নিরস্ত্রীকরণের যে শর্ত দিয়েছে সেটির জন্য আইএসএফ কাজ করবে কিনা তাও স্পষ্ট না। ইতোমধ্যে বোর্ড অব পিসে ২০ এর অধিক দেশ যোগ দিয়েছে। তবে, এখনও অনেক পরাশক্তি এর থেকে দূরে রয়েছে। জাতিসংঘের অনুমোদন নিয়ে প্রতিষ্ঠিত হলেও ধারণা করা হচ্ছে, সংগঠনটির স্থায়ী নেতৃত্ব ও নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে। রুটজার্স বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক আদিল হক বলেন, “বোর্ড অব পিস এক ধরনের আইনি কল্পসত্তা। নামমাত্রভাবে এর নিজস্ব আন্তর্জাতিক আইনগত সত্তা রয়েছে, যা জাতিসংঘ ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে আলাদা। কিন্তু বাস্তবে এটি যুক্তরাষ্ট্রের ইচ্ছামতো ব্যবহারের জন্য একটি ফাঁপা খোলসমাত্র।” বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গাজা পুনর্গঠনে যে অর্থায়ন ও শাসন কাঠামো হচ্ছে তা অস্বচ্ছ। কয়েকজন ঠিকাদার গার্ডিয়ানকে জানান, গাজায় কাজ করার জন্য মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে তাদের প্রায়শ আলোচনা সরকারি ইমেলের বদলে সিগন্যালের মাধ্যমে করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রের তথ্য মতে, ঘাঁটি নির্মাণের সিদ্ধান্তটি বোর্ড অব পিসের। এতে সহায়তা করছে মার্কিন কর্মকর্তারা। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ঘাঁটিতে তৈরি বাংকার নেটওয়ার্কের মতোন কাজ করবে। প্রতিটি বাংকারের ২৪ মিটারের হবে। উচ্চতা থাকবে আড়াই মিটার। এগুলো এমনভাবে করা হবে যেন সেনা সদস্যরা আশ্রয় নিতে পারে। স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসের গাজায় সুড়ঙ্গ নেটওয়ার্ক বা টানেল রয়েছে। সেগুলোর আদলে নেটওয়ার্ক করতে চাওয়া হচ্ছে। পিস অব বোর্ডের নথি পর্যালোচনা করে এমন দাবি করছে গার্ডিয়ান। সংবাদ মাধ্যমটি বলছে, স্থানটির ভূ-ভৌত জরিপ পরিচালনা করবে ঠিকাদাররা। নথির এক অংশে ‘হিউম্যান রেমিয়েনস প্রোটোকল’র কথা বলা হয়েছে। এর মানে দাঁড়ায়, সন্দেহভাজন মানব অবশিষ্ট বা সাংস্কৃতিক নিদর্শন পাওয়া গেলে অবিলম্বে সেই এলাকায় সব কাজ বন্ধ করতে হবে। চুক্তি কর্মকর্তাকে দিকনির্দেশনার জন্য অবিলম্বে জানাতে হবে। গাজা সিভিল ডিফেন্সের ধারণা, গাজার ধ্বংসস্তূপের নিচে ১০ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনির মরদেহ রয়েছে। ঘাঁটির জন্য যে স্থানটি বিবেচিত করা হচ্ছে সেটির মালিক কে তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে, দক্ষিণ গাজার বেশিরভাগ অংশ বর্তমানে ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণে। জাতিসংঘের অনুমান, যুদ্ধ চলাকালীন ১৯ লাখ ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত হয়েছে। ফিলিস্তিনের জমিতে সরকারের অনুমতি না নিয়ে সামরিক ঘাঁটি স্থাপনকে দখল হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন ফিলিস্তিনি-কানাডিয়ান আইনজীবী এবং প্রাক্তন শান্তি আলোচক দিয়ানা বুট্টু। তিনি প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়ে বলেন, “কার অনুমতিতে তারা সামরিক ঘাঁটি স্থাপন করবে।” বিষয়টি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা বোর্ড অব পিসের কথা টানেন। ট্রাম্প প্রশাসনের একজন কর্মকর্তা সামরিক ঘাঁটির চুক্তি নিয়ে আলোচনা করতে অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, “যেমনটি প্রেসিডেন্ট বলেছেন, কোনও মার্কিন সেনা স্থলভাগে যাবে না। আমরা লিক হওয়া নথি নিয়ে আলোচনা করবো না।”
২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশে আজ এক ঐতিহাসিক ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ২০০৮ সালের পর এই প্রথম একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হতে যাচ্ছে যেখানে দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগ রাজনৈতিক মানচিত্র থেকে কার্যত অনুপস্থিত। বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক জরিপ বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০০ আসনের মধ্যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) কার্যকর সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে যাচ্ছে। তবে ভোটের ব্যবধান এবং কিছু সমীকরণ নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। নির্বাচনের সবচেয়ে বড় নিয়ামক হয়ে দাঁড়িয়েছে আওয়ামী লীগের বিশাল ভোটব্যাংক। দলটির নিয়মিত প্রায় ৪ কোটি ভোটার এখন নতুন রাজনৈতিক আশ্রয় খুঁজছেন। সিআরএফ বা বিইপিওএস জরিপ বলছে, এই ভোটারদের প্রায় অর্ধেক বিএনপির দিকে ঝুঁকেছে, যা দলটিকে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতার পথে এগিয়ে দিচ্ছে। অন্যদিকে, প্রায় ৩০ শতাংশ আওয়ামী ভোটার জামায়াতে ইসলামীকে বেছে নিতে পারেন বলে আভাস পাওয়া যাচ্ছে। এছাড়া বাংলাদেশের বিদ্যমান নির্বাচনী ব্যবস্থার কারণে দেশজুড়ে সুষম জনসমর্থন থাকা বিএনপি আসন জয়ের ক্ষেত্রে জামায়াতের তুলনায় সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। তবে বিএনপির এই সম্ভাব্য জয়ের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও বিদ্রোহী প্রার্থীরা। প্রায় ৭৯টি নির্বাচনী এলাকায় দলের মনোনয়ন না পাওয়া ৯২ জন প্রভাবশালী নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, যা বিএনপির ১৫ থেকে ৩০টি আসন কমিয়ে দিতে পারে। অন্যদিকে, তরুণ ভোটার বা ‘জেন-জি’ প্রজন্মের বিশাল সমর্থন জামায়াতে ইসলামীর শক্তির উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেশের ৪৪ শতাংশ ভোটারই তরুণ, যাদের বড় একটি অংশ প্রথমবার ভোট দিচ্ছেন। এই তরুণরা যদি দলবেঁধে কেন্দ্রে উপস্থিত হন, তবে নির্বাচনী ফলে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। সবশেষে, প্রায় ১৭ থেকে ৩৫ শতাংশ দোদুল্যমান ভোটার এবং তাদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করবে আগামীর সরকার কতটা শক্তিশালী হবে। দ্য নিউইয়র্ক এডিটোরিয়ালের মূল পূর্বাভাস, তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি প্রায় ১৮৫টি আসনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করতে পারে এবং জামায়াতে ইসলামী ৮০টির মতো আসন পেয়ে প্রধান বিরোধী দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারে। তবে বিদ্রোহী প্রার্থীদের প্রভাব এবং তরুণ ভোটারদের উপস্থিতির ওপর ভিত্তি করে আসন সংখ্যায় বড় ধরনের হেরফের হওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের প্রত্যন্ত চরাঞ্চল থেকে উঠে এসে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার কেন্দ্রে এখন তাইজুল ইসলাম, যিনি অনলাইনে পরিচিত ‘তাজু ভাই ২.০’ নামে। মাত্র একটি ভিডিও—যেখানে তিনি এক দোকানিকে প্রশ্ন করেন, “জিলাপি আজকে কত করে বেচতেছেন সরকারি রেটে?”—এই সরল উপস্থাপনাই তাকে রাতারাতি ভাইরাল করে তোলে। কয়েক ঘণ্টায় ফলোয়ার লাখ ছাড়াল রোববার রাত পর্যন্ত তার ফেসবুক অনুসারী ছিল প্রায় ৩৫ হাজার। কিন্তু সোমবার সন্ধ্যা থেকে রাতের মধ্যেই তা বেড়ে এক লাখের বেশি হয়ে যায়। ভাইরাল ভিডিওটি ইতোমধ্যে প্রায় ৫০ থেকে ৫৫ লাখবার দেখা হয়েছে। কী ছিল সেই ভিডিওতে? ভিডিওতে দেখা যায়, কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীর নারায়ণপুর বাজারে দাঁড়িয়ে স্থানীয় ভাষায় তিনি জিলাপির দাম জানতে চান। তার কথাগুলো ছিল একেবারেই সহজ ও গ্রাম্য ভঙ্গিতে— “সাদাডা কত, লালডা কত? সরকারি রেটে বেচতেছেন?” এই সরল প্রশ্নই সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। কোথা থেকে উঠে এলেন তাজু ভাই? কুড়িগ্রাম জেলার নাগেশ্বরী উপজেলার নারায়ণপুর ইউনিয়নের একটি দুর্গম গ্রামে জন্ম তার। ব্রহ্মপুত্র নদবেষ্টিত এই অঞ্চলে পৌঁছাতে এখনও কয়েকটি নৌঘাট পার হতে হয়। দারিদ্র্যের কারণে কখনো স্কুলে যাওয়া হয়নি তার। পেশায় তিনি একজন নির্মাণশ্রমিকের সহকারী (হেলপার)। কাজের ফাঁকে ঢাকায় থাকাকালীন মোবাইল ফোনে ভিডিও তৈরি করাই তার শখ। ব্যক্তিগত সংগ্রাম তাইজুল ইসলামের পরিবারে ছয় ভাই-বোন। তিনি সবার বড়। তার বাবা-মা দুজনই শ্রবণপ্রতিবন্ধী। পরিবার চালাতে তাকে ছোটবেলা থেকেই সংগ্রাম করতে হয়েছে। তিনি বলেন, “পরিবারের কষ্ট ভুলতেই ভিডিও করি। আমি সাংবাদিক না, কিন্তু আমাদের এলাকায় কেউ আসে না—তাই নিজেরাই ভিডিও বানাই।” ভাইরাল হওয়ার পেছনের উদ্দেশ্য তাইজুলের দাবি, তার ভিডিও শুধুই বিনোদনের জন্য নয়। তিনি চান তার এলাকার অবহেলিত মানুষের কথা প্রশাসনের নজরে আসুক। “আমি চাই চরের মানুষের উন্নয়ন হোক,”—বলছেন তিনি। মিশ্র প্রতিক্রিয়া ভিডিওটি নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে দুই ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ তার সরলতা ও বাস্তবতা তুলে ধরার চেষ্টা প্রশংসা করছেন আবার কেউ তাকে নিয়ে ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ করছেন তবে এসব সমালোচনায় তিনি বিচলিত নন।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : কলকাতার নিউমার্কেট এলাকার একের পর এক হোটেল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বিপাকে পড়েছেন সেখানে অবস্থানরত হাজারো বাংলাদেশি পর্যটক। মির্জা গালিব স্ট্রিটের ‘শিখা ইন’ হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে নয়জনের মৃত্যুর পর অগ্নিনিরাপত্তা বিধি মানা হচ্ছে কি না, তা যাচাইয়ে অভিযান শুরু করে কলকাতা পুলিশ, পৌরসভা, দমকল ও বিদ্যুৎ বিভাগ। মাত্র দুই দিনের ব্যবধানে কলকাতার ‘মিনি বাংলাদেশ’ খ্যাত মারকুইজ স্ট্রিট, কলিন স্ট্রিট, সদর স্ট্রিট ও মির্জা গালিব স্ট্রিটে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে দুই শতাধিক হোটেল। এমন অবস্থায় বিপাকে পড়েছেন হাজার হাজার বাংলাদেশি পর্যটক। এক নজরে ‘শিখা ইন’ হোটেলে অগ্নিকাণ্ডে ৯ জনের মৃত্যু, নিহতদের মধ্যে ৭ জন বাংলাদেশি। অগ্নিনিরাপত্তা যাচাইয়ে ৪৮ ঘণ্টায় নিউমার্কেট এলাকায় ২২১টি হোটেল ও ৯টি রেস্তোরাঁ বন্ধের নির্দেশ। নিরাপত্তা বিধি না মানায় কিছু প্রতিষ্ঠানের বিদ্যুৎ-সংযোগও বিচ্ছিন্ন। কলকাতায় অবস্থানরত প্রায় ১১ হাজার বাংলাদেশি পর্যটকের মধ্যে প্রায় ৭ হাজার ছিলেন নিউমার্কেট এলাকায়। হঠাৎ হোটেল ছাড়ার নির্দেশ, নতুন আবাসন সংকট এবং বাড়তি ভাড়ায় বিপাকে পর্যটকেরা। প্রশাসনের অবস্থান—পর্যটকদের নিরাপত্তার প্রশ্নে কোনো আপস নয়। কলকাতার নিউমার্কেট এলাকা দীর্ঘদিন ধরেই বাংলাদেশি পর্যটকদের অন্যতম প্রধান গন্তব্য। চিকিৎসা, কেনাকাটা কিংবা ভ্রমণ—বিভিন্ন প্রয়োজনে কলকাতায় আসা বাংলাদেশিদের বড় একটি অংশ সাধারণত মির্জা গালিব স্ট্রিট, মারকুইজ স্ট্রিট, কলিন স্ট্রিট ও সদর স্ট্রিটের হোটেলগুলোতে অবস্থান করেন। স্থানীয়ভাবে এলাকাটি অনেকের কাছে ‘মিনি বাংলাদেশ’ নামেও পরিচিত। কিন্তু একটি ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের পর শুরু হওয়া নিরাপত্তা অভিযানে মাত্র দুই দিনের ব্যবধানে দুই শতাধিক হোটেল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় এখন সেই এলাকাতেই দেখা দিয়েছে আবাসন সংকট। সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন সেখানে অবস্থানরত হাজারো বাংলাদেশি পর্যটক। মঙ্গলবার গভীর রাতে মির্জা গালিব স্ট্রিটের ১৫জি নম্বরে অবস্থিত ‘শিখা ইন’ আবাসিক হোটেলে অগ্নিকাণ্ডে ৯ জনের মৃত্যু হয়। নিহতদের মধ্যে ৭ জন বাংলাদেশি এবং ২ জন ভারতীয় নাগরিক। এই ঘটনার পর নিউমার্কেট এলাকায় হোটেলগুলোর অগ্নিনিরাপত্তা ও অন্যান্য নিরাপত্তাবিধি মানা হচ্ছে কি না, তা যাচাইয়ে মাঠে নামে পুলিশ, পৌরসভা, দমকল ও বিদ্যুৎ বিভাগ। এরপর থেকেই একের পর এক হোটেল বন্ধের নির্দেশ আসতে শুরু করে। আগুনের পর ৪৮ ঘণ্টার অভিযান অগ্নিকাণ্ডের পর ওই দিন সন্ধ্যা থেকেই নিউমার্কেট থানার পুলিশ এলাকায় অভিযান শুরু করে। পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতিতে কঠোর অবস্থানের কথা আগেই জানিয়েছিল প্রশাসন। অভিযানে অংশ নেন উপমুখ্যমন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পালও। বিভিন্ন হোটেলের অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা পরিদর্শনের পর কয়েকটি প্রতিষ্ঠান বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হয়। পরবর্তীতে কলকাতা পুলিশ, কলকাতা পৌরসভা, দমকল বিভাগ এবং সিইএসসির সমন্বয়ে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। এই কমিটির দায়িত্ব কলকাতার সাড়ে তিন হাজারের বেশি হোটেলের নিরাপত্তাবিধি পর্যালোচনা করা। তবে বৃহত্তর কলকাতার তুলনায় নিউমার্কেট এলাকায় অভিযান ছিল বিশেষভাবে কঠোর। গত শনিবার থেকে মাত্র ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে ২২১টি হোটেল এবং ৯টি রেস্তোরাঁ বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হয়। নিরাপত্তাবিধি না মানার অভিযোগে একাধিক হোটেলের বিদ্যুৎ-সংযোগও বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে। প্রশাসনের এই সিদ্ধান্তের ফলে হঠাৎ করেই আবাসন সংকটে পড়েন বাংলাদেশি পর্যটকদের বড় একটি অংশ। হোটেল ছাড়ার নির্দেশ, কোথায় যাবেন পর্যটকেরা? কলকাতায় এই মুহূর্তে প্রায় ১১ হাজার বাংলাদেশি পর্যটক অবস্থান করছেন বলে সংশ্লিষ্টদের ধারণা। তাদের মধ্যে প্রায় ৭ হাজারই ছিলেন নিউমার্কেট এলাকায়। হোটেল বন্ধের নির্দেশের পর অনেককে দ্রুত আবাসন খুঁজতে হচ্ছে। কেউ আশপাশের এলাকায় নতুন হোটেল খুঁজছেন, কেউ দালালের মাধ্যমে থাকার ব্যবস্থা করার চেষ্টা করছেন। আবার কেউ নির্ধারিত সময়ের আগেই দেশে ফিরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন। তবে নতুন হোটেল পাওয়া গেলেও সেখানে ভাড়া বেড়ে যাওয়ার অভিযোগ রয়েছে। পর্যটকদের অভিযোগ, কিছু হোটেলে আগের তুলনায় দেড় থেকে দ্বিগুণ ভাড়া চাওয়া হচ্ছে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে ভাড়া দ্বিগুণ থেকে তিন গুণ পর্যন্ত বেড়ে গেছে বলেও অভিযোগ করেছেন সংশ্লিষ্টরা। কলকাতার গ্রিন লাইন পরিবহনের সঙ্গে যুক্ত শ্যামল ঘোষ বলেন, সীমান্ত থেকে যাত্রীবোঝাই বাস নিয়মিত কলকাতায় আসছে, কিন্তু তাদের থাকার মতো পর্যাপ্ত হোটেল এখন পাওয়া যাচ্ছে না। তার ভাষ্য, অনেক পর্যটক বাধ্য হয়ে আশপাশের এলাকায় হোটেল খুঁজছেন। তবে সেখানে ভাড়া অনেক বেড়ে গেছে। তিনি বলেন, নিরাপত্তার বিষয়ে সরকারের কঠোর অবস্থানকে তারা সমর্থন করেন। তবে হোটেল মালিকদের নিরাপত্তা ব্যবস্থা সংশোধনের জন্য কিছুটা সময় দেওয়া হলে পরিস্থিতি ভিন্ন হতে পারত। ‘গতকাল উঠেছি, আজই বের হয়ে যেতে হলো’ সোমবার সকাল থেকেই নিউমার্কেট এলাকায় অনেক পর্যটককে ব্যাগপত্র নিয়ে হোটেল থেকে বের হয়ে যেতে দেখা যায়। তাদের একজন ঢাকার বাসিন্দা নাসিব পাপ্পু। চিকিৎসার জন্য তিনি কলকাতায় এসেছেন। তিনি জানান, বাংলাদেশ থেকে কলকাতায় এসে বিকেলে একটি হোটেলে ওঠেন। হোটেলে ওঠার সময় তাকে সম্ভাব্য বন্ধের বিষয়ে কিছু জানানো হয়নি। পরে বাইরে থেকে ফিরে হোটেল কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে তিনি জানতে পারেন, থানা থেকে হোটেল খালি করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সোমবার সকাল ১০টার মধ্যে তাকে হোটেল ছাড়তে বলা হয়। পরদিন সকালেই তাকে হোটেল ছেড়ে বের হতে হয়। নাসিব পাপ্পুর ভাষায়, চিকিৎসার জন্য কলকাতায় এসে হোটেল নিয়ে এমন সমস্যায় পড়তে হবে, তা তিনি ভাবেননি। তার মতে, দীর্ঘদিন পর পর্যটন ভিসা চালু হওয়ার পর বাংলাদেশি পর্যটকদের সংখ্যা বাড়তে শুরু করেছিল। কিন্তু এমন পরিস্থিতি চলতে থাকলে ভবিষ্যতে অনেকেই কলকাতায় আসার বিষয়ে নতুন করে ভাবতে পারেন। ‘প্রায় ৫০ জন বাংলাদেশি পর্যটক ছিলেন’ নাম প্রকাশ না করার শর্তে নিউমার্কেট এলাকার এক হোটেল মালিক জানান, তার হোটেলে প্রায় ৫০ জন বাংলাদেশি পর্যটক অবস্থান করছিলেন। সোমবার তাদের সবাইকে হোটেল ছাড়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। হঠাৎ করে এতসংখ্যক পর্যটকের বিকল্প আবাসনের ব্যবস্থা করা সহজ ছিল না বলে জানান তিনি। এদিকে, নিউমার্কেটের একটি হোটেলের কর্মচারী সেলিমের অভিযোগ, একটি এলাকায় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনার পর আশপাশের বহু হোটেলের বিরুদ্ধে একযোগে ব্যবস্থা নেওয়ায় কর্মসংস্থানের ওপরও চাপ তৈরি হয়েছে। তার ভাষায়, ব্যবসার অবস্থা এমনিতেই খারাপ ছিল। নতুন করে হোটেল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় অনেক কর্মচারীর জীবিকা অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। বাংলাদেশি পর্যটকনির্ভর অর্থনীতিতে নতুন ধাক্কা নিউমার্কেট এলাকার অর্থনীতির সঙ্গে বাংলাদেশি পর্যটকদের সম্পর্ক দীর্ঘদিনের। এই পর্যটকদের ঘিরে গড়ে উঠেছে অসংখ্য হোটেল, খাবারের দোকান, পরিবহনসেবা, কেনাকাটার ব্যবসা এবং বিভিন্ন ধরনের পর্যটনসংশ্লিষ্ট কার্যক্রম। সাম্প্রতিক কয়েক বছরে নানা কারণে এই ব্যবসায় ধাক্কা লেগেছিল। পর্যটন ভিসা চালুর পর পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হওয়ার আশা তৈরি হয়েছিল। ব্যবসায়ীরা বলছেন, পর্যটক বাড়তে শুরু করার সময় নতুন করে বিপুলসংখ্যক হোটেল বন্ধ হয়ে যাওয়ার ঘটনা পুরো এলাকার ব্যবসায় নতুন চাপ তৈরি করতে পারে। স্থানীয় অর্থনীতির সঙ্গে যুক্ত রিকশাচালক, ছোট ব্যবসায়ী এবং বিভিন্ন পেশার মানুষও এ ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাদের আশঙ্কা, দীর্ঘ সময় ধরে হোটেলগুলো বন্ধ থাকলে এর প্রভাব শুধু মালিকদের ওপর নয়, পুরো এলাকার ক্ষুদ্র অর্থনীতিতেও পড়বে। নিরাপত্তা বনাম পর্যটন সংকট তবে প্রশাসনের যুক্তি ভিন্ন। ‘শিখা ইন’-এর অগ্নিকাণ্ডে ৯ জনের মৃত্যুর পর নিরাপত্তাবিধি উপেক্ষা করার কোনো সুযোগ নেই বলে মনে করছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। প্রশাসনের অবস্থান স্পষ্ট—পর্যটকদের নিরাপত্তার সঙ্গে কোনো ধরনের আপস করা হবে না। অগ্নিনিরাপত্তা বিধি এবং অন্যান্য বাধ্যতামূলক নিরাপত্তা মানদণ্ড না মানা হোটেলের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা অব্যাহত থাকবে। ফলে নিউমার্কেট এলাকায় এখন দুটি বাস্তবতা পাশাপাশি দাঁড়িয়ে গেছে। একদিকে, ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা। অন্যদিকে, হঠাৎ বিপুলসংখ্যক হোটেল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় আবাসন সংকটে পড়া হাজারো পর্যটক—যাদের বড় একটি অংশ বাংলাদেশি। যে আগুন বদলে দিল নিউমার্কেটের পরিস্থিতি মঙ্গলবার গভীর রাতে কলকাতার নিউমার্কেট এলাকার ১৫জি, মির্জা গালিব স্ট্রিটের ‘শিখা ইন’ আবাসিক হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড ঘটে। এ ঘটনায় ৯ জনের মৃত্যু হয়। নিহতদের মধ্যে ৭ জন বাংলাদেশি নাগরিক এবং ২ জন ভারতীয় নাগরিক। নিহত বাংলাদেশিরা হলেন—আকরাম আলী (৭৪), দেবাশীষ দত্ত (৩৯), আফসানা শিরমিন (২৭), সর্নাশীষ দত্ত (২), বাবু আহমেদ (৩৭), রেবতী সরকার এবং এস এম আলিমুজ্জামান। দুই ভারতীয় নাগরিকের মধ্যে ঝাড়খণ্ডের সন্দীপ পাশওয়ান (১৯) এবং শিলিগুড়ির যোগ নারায়ণ আগারওয়াল (৬৮) রয়েছেন। এই অগ্নিকাণ্ডের পরই নিউমার্কেট এলাকার হোটেল নিরাপত্তা নিয়ে বড় ধরনের প্রশ্ন সামনে আসে। তারই ধারাবাহিকতায় শুরু হওয়া অভিযানে এখন পর্যন্ত দুই শতাধিক হোটেল বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নিউমার্কেট এলাকায় চলমান অভিযানের মূল লক্ষ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করা—এ বিষয়ে প্রশাসনের অবস্থান কঠোর। তবে হঠাৎ করে বিপুলসংখ্যক হোটেল বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর প্রশ্ন উঠছে, সেখানে অবস্থানরত হাজারো পর্যটকের জন্য বিকল্প ব্যবস্থা কতটা প্রস্তুত ছিল? বাংলাদেশি পর্যটকদের বড় অংশ চিকিৎসা, ব্যবসা বা পারিবারিক প্রয়োজনে কলকাতায় যান। তাদের অনেকেই আগাম বুকিং এবং নির্দিষ্ট সময়সূচি অনুযায়ী সফর পরিকল্পনা করেন। সেই অবস্থায় হঠাৎ হোটেল ছাড়ার নির্দেশ তাদের জন্য শুধু আবাসন সংকট নয়, চিকিৎসা, যাতায়াত ও অতিরিক্ত ব্যয়ের নতুন সমস্যাও তৈরি করছে। অন্যদিকে, অগ্নিকাণ্ডে ৯ জনের মৃত্যুর ঘটনা দেখিয়ে দিয়েছে—নিরাপত্তাবিধি উপেক্ষার মূল্য কতটা ভয়াবহ হতে পারে। তাই এখন নিউমার্কেটের সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ—কীভাবে কঠোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি পর্যটকদের জন্য একটি সুশৃঙ্খল ও কার্যকর বিকল্প আবাসন ব্যবস্থা তৈরি করা যায়। কারণ, নিরাপত্তার প্রশ্নে কোনো আপস যেমন গ্রহণযোগ্য নয়, তেমনি পর্যটকদের হঠাৎ অনিশ্চয়তার মুখে ঠেলে দেওয়াও এই সংকটের দীর্ঘমেয়াদি সমাধান হতে পারে না। একটি ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের পর মাত্র ৪৮ ঘণ্টায় কলকাতার নিউমার্কেট এলাকায় বন্ধ ২২১টি হোটেল। হঠাৎ আবাসন সংকট, বাড়তি ভাড়া আর হোটেল ছাড়ার নির্দেশে বিপাকে হাজারো বাংলাদেশি পর্যটক। নিরাপত্তা নিশ্চিত করার এই অভিযানের মাঝেই উঠছে প্রশ্ন—পর্যটকদের বিকল্প ব্যবস্থা কোথায়?
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : চট্টগ্রাম বিভাগের পাঁচ জেলায় সাম্প্রতিক বন্যা ও পাহাড়ধস শুধু প্রাকৃতিক দুর্যোগ নয়, বরং বহুদিনের অবকাঠামোগত দুর্বলতা, ঝুঁকিপূর্ণ বসতি এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার সীমাবদ্ধতাকে সামনে নিয়ে এসেছে। চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবানে অতি ভারী বর্ষণ, পাহাড়ি ঢল ও পাহাড়ধসে রবিবার (১২ জুলাই) সন্ধ্যা পর্যন্ত অন্তত ৫০ জনের মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছেন অর্ধশতাধিক। ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে আট লাখ ৬৬ হাজার ৬১৪ জনে। দুর্যোগের মাত্রা জেলা মৃত্যু কক্সবাজার ২৮ জন চট্টগ্রাম ১৩ জন রাঙামাটি ৩ জন বান্দরবান ৬ জন মোট ৫০ জন সংখ্যায় ক্ষয়ক্ষতি ক্ষতিগ্রস্ত মানুষ ৮,৬৬,৬১৪ জন খোলা আশ্রয়কেন্দ্র ১,৭২৭টি আশ্রয় নেওয়া মানুষ ৩৭,০৫৫ জন সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাত ৪১২ মিমি কেন বন্যা এত প্রাণঘাতী হয়ে উঠল বিশ্লেষণে দেখা যায়, এই বিপর্যয়ের পেছনে কয়েকটি কারণ একসঙ্গে কাজ করেছে। রেকর্ডভাঙা বৃষ্টিপাত ৪৩ বছরের রেকর্ড ভেঙে একদিনে সর্বোচ্চ ৪১২ মিলিমিটার পর্যন্ত বৃষ্টিপাত হয়। অল্প সময়ে এত বিপুল বৃষ্টিপাত হওয়ায় পাহাড়ি ঢলের সঙ্গে সমতল এলাকার পানি দ্রুত বেড়ে যায়। উজানের পাহাড়ি ঢল ভারতের ত্রিপুরা ও সংলগ্ন পার্বত্য অঞ্চল এবং দেশের অভ্যন্তরীণ পাহাড়ি এলাকা থেকে নেমে আসা ঢল সাঙ্গু, ডলু ও শঙ্খ নদীর পানির চাপ বাড়িয়ে দেয়। এসব নদীর পানি বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় সাতকানিয়া, লোহাগাড়া, চন্দনাইশ ও বাঁশখালী দ্রুত প্লাবিত হয়। পাহাড়ধসের ঝুঁকি অতিভারী বর্ষণে পাহাড়ের মাটি নরম হয়ে অন্তত ৯৭টি স্থানে পাহাড়ধসের ঘটনা ঘটে। পাহাড়ের পাদদেশে ও ঝুঁকিপূর্ণ ঢালে গড়ে ওঠা অস্থায়ী ও অবৈধ বসতিগুলো মাটির নিচে চাপা পড়ায় মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে যায়। নিষ্কাশন ব্যবস্থার দুর্বলতা স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, দীর্ঘদিনের অপরিকল্পিত নগরায়ণ, খাল-নালা দখল এবং পর্যাপ্ত রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে বৃষ্টির পানি দ্রুত সরতে পারেনি। ফলে অনেক এলাকায় দীর্ঘস্থায়ী জলাবদ্ধতা কৃত্রিম বন্যার রূপ নেয়। সতর্কতা উপেক্ষা ও সীমিত প্রয়োগ প্রশাসন মাইকিং ও অনুরোধের মাধ্যমে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার বাসিন্দাদের আশ্রয়কেন্দ্রে যেতে বললেও অনেকে যাননি। তবে প্রশ্ন উঠেছে, ঝুঁকিপূর্ণ বসতি থেকে মানুষকে সরিয়ে নিতে প্রশাসন কতটা কার্যকর ও আইনগত ব্যবস্থা নিয়েছিল। সাতকানিয়া ও বাঁশখালীতে মানবিক সংকট চট্টগ্রামের সাতকানিয়া ও বাঁশখালীতে পরিস্থিতি সবচেয়ে ভয়াবহ। কয়েক লাখ মানুষ পানিবন্দি অবস্থায় রয়েছেন। অনেক এলাকায় বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন, খাদ্য ও বিশুদ্ধ পানির সংকট তীব্র, এবং যোগাযোগ ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে। পশ্চিম বাঁশখালীর কাথারিয়া, বড়ইতলী, গণ্ডামারা, ডোমরা, কদমরসূল, খানখানাবাদ ও বাহারছড়াসহ উপকূলীয় এলাকায় অধিকাংশ বাড়িঘর পানির নিচে তলিয়ে গেছে। অনেক পরিবার আশ্রয়কেন্দ্র বা আত্মীয়-স্বজনের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছে। কিছু মানুষ বাড়ির উঁচু অংশ বা টিনের ছাদে অবস্থান করে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। মোবাইল ফোন চার্জ দিতে না পারায় অনেক পরিবার আত্মীয়-স্বজনের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের জেলা ভিত্তিক চিত্র জেলা ক্ষতিগ্রস্ত মানুষ চট্টগ্রাম ৬,৬২,০০০ জন কক্সবাজার ১,৫৮,০২৭ জন রাঙামাটি ৩,৮২০ জন খাগড়াছড়ি ৩৪,৪১৭ জন বান্দরবান ৮,৩৫০ জন মোট ৮,৬৬,৬১৪ জন আশ্রয়কেন্দ্র ও বাস্তবতা পাঁচ জেলায় মোট ১,৭২৭টি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হলেও সেখানে আশ্রয় নিয়েছেন ৩৭,০৫৫ জন। ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের তুলনায় আশ্রয় নেওয়া মানুষের সংখ্যা তুলনামূলক কম। জেলা আশ্রয়কেন্দ্র আশ্রিত মানুষ চট্টগ্রাম ৬৭০টি ২২,৬০০ জন কক্সবাজার ৬৪০টি ২,৯৭৪ জন রাঙামাটি ৪৭টি ৩,৮২০ জন খাগড়াছড়ি ১৫০টি ২,৯১৬ জন বান্দরবান ২২০টি ৪,৭৪৫ জন মোট ১,৭২৭টি ৩৭,০৫৫ জন প্রশাসনের পদক্ষেপ ও প্রশ্ন চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার ড. মো. জিয়াউদ্দীন জানিয়েছেন, বন্যাকবলিত এলাকা সার্বক্ষণিক মনিটরিং করা হচ্ছে এবং উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম চলছে। চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা বলেছেন, দুর্গম এলাকায় স্পিডবোট ব্যবহার করে উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে এবং ৬৭০টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছিল। প্রশাসনের পক্ষ থেকে আরও জানানো হয়েছে: ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় মাইকিং করে মানুষকে আশ্রয়কেন্দ্রে যাওয়ার আহ্বান জানানো হয়। সেনাবাহিনীসহ বিভিন্ন বাহিনী উদ্ধার অভিযানে অংশ নেয়। প্রায় ১০ হাজার স্বেচ্ছাসেবক ত্রাণ ও উদ্ধার কার্যক্রমে কাজ করছেন। চট্টগ্রাম মহানগরের ২৬টি ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়কে পাঁচটি জোনে ভাগ করে বিশেষ টিম গঠন করা হয়েছে। সব কর্মকর্তা-কর্মচারীর ছুটি বাতিল করে ২৪ ঘণ্টার কন্ট্রোল রুম চালু রাখা হয়েছে। তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, জলাবদ্ধতা নিরসন প্রকল্প থাকা সত্ত্বেও পানি দ্রুত সরতে পারেনি এবং উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রমে সমন্বয়ের ঘাটতি ছিল। মূল প্রশ্নগুলো ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ি বসতি থেকে মানুষকে সরাতে প্রশাসন কেন আরও কঠোর পদক্ষেপ নেয়নি? খাল-নালা দখল ও নিষ্কাশন ব্যবস্থার দুর্বলতা দূর করতে দীর্ঘমেয়াদি পদক্ষেপ কতটা কার্যকর ছিল? আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত থাকলেও কেন বিপুল সংখ্যক মানুষ সেখানে যাননি? দুর্গম এলাকায় দ্রুত উদ্ধার ও ত্রাণ পৌঁছাতে ভবিষ্যতে কী ধরনের সমন্বিত ব্যবস্থা প্রয়োজন? এই বিপর্যয় দেখিয়েছে যে অতি ভারী বৃষ্টিপাত ও পাহাড়ি ঢল তাৎক্ষণিক কারণ হলেও, ঝুঁকিপূর্ণ বসতি, দুর্বল নিষ্কাশন ব্যবস্থা এবং দুর্যোগ প্রস্তুতির সীমাবদ্ধতা প্রাণহানিকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ভবিষ্যতে একই ধরনের দুর্যোগের ক্ষতি কমাতে আগাম সতর্কতা, ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা থেকে বাধ্যতামূলক স্থানান্তর, প্রাকৃতিক পানি প্রবাহের পথ সংরক্ষণ এবং স্থানীয় পর্যায়ে দ্রুত সমন্বিত উদ্ধার ব্যবস্থার উন্নয়ন জরুরি।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : জামালপুরের সরিষাবাড়ী উপজেলায় সম্পত্তি নিয়ে পারিবারিক বিরোধের জেরে এক বৃদ্ধা মাকে স্বামীর বাড়ি থেকে বের করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে তার একমাত্র ছেলের বিরুদ্ধে। ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর স্থানীয়ভাবে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনাটি উপজেলার পোগলদিঘা ইউনিয়নের গেন্দারপাড়া গ্রামের। অভিযোগের কেন্দ্রে রয়েছেন রাশেদা বেগম (৬৫) এবং তার একমাত্র ছেলে রাশেদুল ইসলাম জাকির। যে বিরোধ থেকে ঘটনার সূত্রপাত স্থানীয় সূত্র জানায়, প্রায় ছয় বছর আগে রাশেদা বেগমের স্বামী মোজাম্মেল হক গুঠু তালুকদার মারা যান। এরপর তিনি স্বামীর বাড়িতেই একা বসবাস করছিলেন। অন্যদিকে, তাদের একমাত্র ছেলে রাশেদুল ইসলাম জাকির স্ত্রীকে নিয়ে টাঙ্গাইলের মধুপুর উপজেলার মাস্টারপাড়া এলাকায় শ্বশুরবাড়িতে বসবাস করেন। রাশেদা বেগমের বাবার বাড়ি টাঙ্গাইলের ধনবাড়ী উপজেলার বাঁশনিওগী গ্রামে। পারিবারিক সূত্র অনুযায়ী, তিনি বাবার সম্পত্তি থেকে ওয়ারিশ হিসেবে পাওয়া ৫৬ শতাংশ জমি প্রায় ৮ লাখ টাকায় ভাইদের কাছে বিক্রি করেন। পরে সেই অর্থ দিয়ে নিজের নামে অন্য জায়গায় জমি কেনেন। 'জমি লিখে দেওয়ার চাপ'—অভিযোগ কী রাশেদা বেগমের অভিযোগ, নতুন কেনা জমি ছেলের নামে লিখে দেওয়ার জন্য দীর্ঘদিন ধরে তার ওপর চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছিল। এতে সম্মতি না দেওয়ায় তাকে বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি ও হুমকি দেওয়া হয়। তিনি দাবি করেন, এ নিয়ে এর আগেও সরিষাবাড়ী থানায় অভিযোগ করেছিলেন। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, বিরোধের একপর্যায়ে জাকির গেন্দারপাড়ার বাড়িতে তালা লাগিয়ে স্ত্রীকে নিয়ে মধুপুরে চলে যান। পরে রাশেদা বেগম বাড়িতে ফিরলে স্থানীয় বাসিন্দারা তালা ভেঙে তাকে ঘরে প্রবেশে সহায়তা করেন। স্থানীয়ভাবে একাধিকবার সালিশ বৈঠক অনুষ্ঠিত হলেও বিরোধের স্থায়ী সমাধান হয়নি বলে জানা গেছে। সালিশের পর কী ঘটেছে অভিযোগ অনুযায়ী, গত রোববার অনুষ্ঠিত সর্বশেষ সালিশ বৈঠকেও ছেলের পক্ষ থেকে জমি নিজের নামে লিখে দেওয়ার দাবি জানানো হয়। রাশেদা বেগম এতে রাজি না হলে তাকে মানসিক চাপ প্রয়োগ করে বাড়ি থেকে বের করে দেওয়া হয়। পরে খবর পেয়ে তার ভাইয়েরা ঘটনাস্থলে এসে তাকে বাবার বাড়িতে নিয়ে যান। ভাইরাল ভিডিওতে যা দেখা গেছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, হাতে পবিত্র কোরআন নিয়ে কান্নাজড়িত অবস্থায় স্বামীর বাড়ি থেকে বের হচ্ছেন রাশেদা বেগম। পরে স্বজনরা তাকে একটি ইজিবাইকে তুলে নিয়ে যান। ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর ঘটনাটি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। তবে ভিডিওটির ধারণের সময় ও সম্পূর্ণ প্রেক্ষাপট স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। রাশেদা বেগম যা বলছেন রাশেদা বেগম বলেন, "আমার ছেলে দীর্ঘদিন ধরে সম্পত্তি লিখে দেওয়ার জন্য নানা ধরনের ভয়ভীতি দেখাচ্ছে। সম্পত্তি লিখে না দেওয়ায় আমাকে স্বামীর বাড়িতে থাকতে দেয় না। আমি গেলে আত্মহত্যা করে আমাকে ফাঁসিয়ে দেওয়ারও হুমকি দেয়। রোববার আমাকে বাড়ি থেকে বের করে দিয়েছে। পরে ভাইদের খবর দিলে তারা এসে আমাকে নিয়ে যায়।" অভিযুক্তের বক্তব্য মেলেনি অভিযোগের বিষয়ে জানতে অভিযুক্ত রাশেদুল ইসলাম জাকিরের মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও সেটি বন্ধ পাওয়া যায়। ফলে এ অভিযোগের বিষয়ে তার বক্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি। পুলিশের অবস্থান সরিষাবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ ইকবাল হোসেন বলেন, "এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো লিখিত অভিযোগ পাইনি। তবে বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখা হবে।" তদন্তে যেসব প্রশ্ন সামনে আসছে ঘটনার পর কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন সামনে এসেছে— সম্পত্তি নিয়ে বিরোধের আগের অভিযোগগুলো আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে কীভাবে নিষ্পত্তি হয়েছিল? স্থানীয় সালিশগুলো কেন স্থায়ী সমাধান দিতে পারেনি? ভাইরাল ভিডিওতে উঠে আসা অভিযোগগুলোর বাস্তবতা তদন্তে কী তথ্য পাওয়া যায়? বৃদ্ধা নারীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসন কী পদক্ষেপ নেবে? লিখিত অভিযোগ না থাকলেও পুলিশ স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে তদন্ত করবে কি না? এসব প্রশ্নের উত্তর মিললেই পুরো ঘটনার প্রকৃত চিত্র আরও স্পষ্ট হবে।