Brand logo light
ব্রেকিং

কেন আটকে আছে এসপিএম

বাংলাদেশে আট হাজার কোটি টাকার সমুদ্র প্রকল্প: প্রস্তুত অবকাঠামো, বন্ধ অপারেশন,অবকাঠামো পড়ে আছে অচল অবস্থায়

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ১১, ২০২৬ 0
চীনের ঋণ সহায়তায় প্রকল্প
চীনের ঋণ সহায়তায় প্রকল্প

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : কক্সবাজারের মহেশখালীতে বঙ্গোপসাগরের কোল ঘেঁষে দাঁড়িয়ে আছে দেশের সবচেয়ে ব্যয়বহুল জ্বালানি অবকাঠামোগুলোর একটি—সিঙ্গেল পয়েন্ট মুরিং (SPM) প্রকল্প। গভীর সমুদ্র থেকে সরাসরি পাইপলাইনে জ্বালানি তেল খালাস করে দেশে পরিবহনের এই আধুনিক ব্যবস্থা নির্মাণে ব্যয় হয়েছে আট হাজার কোটি টাকারও বেশি। অবকাঠামো সম্পূর্ণ, পরীক্ষামূলক চালানও শেষ—তবু প্রকল্পটি কার্যত অচল পড়ে আছে।

প্রায় দুই বছর আগে নির্মাণ শেষ হলেও এখনো পূর্ণাঙ্গভাবে চালু হয়নি এই প্রকল্প। ফলে বাংলাদেশের জ্বালানি আমদানির একটি বড় অংশ এখনো পুরনো, ব্যয়বহুল এবং সময়সাপেক্ষ পদ্ধতিতে চলছে।

 

কী ছিল এই প্রকল্পের লক্ষ্য

এসপিএম প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য ছিল—গভীর সমুদ্র থেকে বড় ট্যাংকারে আসা জ্বালানি তেল সরাসরি পাইপলাইনের মাধ্যমে মহেশখালীতে আনা, সেখানে সংরক্ষণ করা এবং সেখান থেকে আবার পাইপলাইনে চট্টগ্রামের ইস্টার্ন রিফাইনারিতে পাঠানো।

বর্তমানে যে পদ্ধতি ব্যবহৃত হচ্ছে তা হলো লাইটারেজ সিস্টেম—বড় জাহাজ থেকে ছোট জাহাজে করে কর্ণফুলী চ্যানেল হয়ে তেল আনা। এতে সময় বেশি লাগে, খরচও বেশি এবং কিছুটা অপচয়ও ঘটে।

নতুন ব্যবস্থায় এই পুরো প্রক্রিয়াটি ১১ দিনের বদলে মাত্র ৪৮ ঘণ্টায় সম্পন্ন হওয়ার কথা ছিল।

 

কী তৈরি করা হয়েছে মহেশখালীতে

প্রকল্পের আওতায় নির্মিত হয়েছে—

  • গভীর সমুদ্রের ভাসমান বয়া (SPM পয়েন্ট)

  • প্রায় ২২০ কিলোমিটার পাইপলাইন ব্যবস্থা

  • মহেশখালীতে পাম্পিং স্টেশন ও ডিজেল জেনারেটর

  • প্রায় ১০০ একর জমিতে স্টোরেজ সুবিধা

  • ছয়টি বিশাল স্টোরেজ ট্যাংক

এই ছয়টি ট্যাংকে একসঙ্গে প্রায় ২ লাখ টন তেল সংরক্ষণ করা সম্ভব। এর মধ্যে তিনটি ক্রুড অয়েল এবং তিনটি ডিজেলের জন্য।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই মজুত ক্ষমতা দিয়ে দেশের প্রায় এক মাসের ক্রুড অয়েল এবং এক সপ্তাহের ডিজেল চাহিদা সামাল দেওয়া সম্ভব।

 

এত বড় অবকাঠামো কেন চালু হয়নি?

২০২৪ সালে নির্মাণ শেষ হওয়ার পর প্রকল্পটি পরীক্ষামূলকভাবে চালু করে কমিশনিং সম্পন্ন করা হয়। কিন্তু নিয়মিত অপারেশনের জন্য প্রয়োজনীয় অপারেটর বা ঠিকাদার নিয়োগ এখনো সম্পন্ন হয়নি।

জ্বালানি বিভাগ বলছে, এই ধরনের সিস্টেম পরিচালনার জন্য দেশে অভিজ্ঞ অপারেটর নেই। তাই বিদেশি ঠিকাদার নিয়োগের প্রক্রিয়া চলছে।

তবে এই প্রক্রিয়া থেমে গেছে আইনি ও প্রশাসনিক পরিবর্তনের কারণে।

আগে বিশেষ বিধান আইনের আওতায় সরাসরি দরপত্র ছাড়া চীনা কোম্পানির মাধ্যমে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হয়েছিল। পরবর্তীতে অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে সেই বিশেষ আইন বাতিল হওয়ায় অপারেশন ও মেইনটেনেন্স (O&M) চুক্তিও আটকে যায়।

ফলে উন্মুক্ত দরপত্রের মাধ্যমে নতুন অপারেটর নিয়োগের চেষ্টা শুরু হলেও এখনো তা শেষ হয়নি।

 

অর্থনৈতিক ক্ষতি: প্রতিদিনের বিলম্বে কী হারাচ্ছে বাংলাদেশ

প্রকল্পটি চালু হলে বছরে প্রায় ৮০০ কোটি টাকার বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় হওয়ার সম্ভাবনা ছিল। আংশিকভাবে চালু থাকলেও অন্তত ৫০০ কোটি টাকার সাশ্রয় সম্ভব বলে প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা জানান।

বর্তমানে লাইটারেজ ব্যবস্থায়—

  • বেশি জাহাজ ব্যবহার করতে হচ্ছে

  • সময় বেশি লাগছে

  • পরিবহন খরচ বাড়ছে

  • তেল অপচয়ের ঝুঁকি থাকছে

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই অতিরিক্ত খরচ আসলে প্রতিদিনই দেশের জ্বালানি আমদানির ব্যয় বাড়াচ্ছে।

 

বিশেষজ্ঞদের সতর্কতা: শুধু অবকাঠামো নয়, কৌশলগত সম্পদ

ইন্ডিপেন্ডেন্ট ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশের অধ্যাপক ম তামিম মনে করেন, প্রকল্পটি শুধু একটি পরিবহন ব্যবস্থা নয়, এটি একটি কৌশলগত জ্বালানি মজুত কেন্দ্রও হতে পারত।

তার মতে, পাইপলাইন চালু থাকলে—

  • লাইটারেজ নির্ভরতা কমত

  • পরিবহন ক্ষতি হ্রাস পেত

  • পরিবেশগত ঝুঁকি কমত

  • খরচ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যেত

তিনি আরও বলেন, দুই লাখ টন স্টোরেজকে দেশের কৌশলগত জ্বালানি রিজার্ভ হিসেবে ব্যবহার করার সুযোগ ছিল, যা এখনো কাজে লাগানো যায়।

আরেক বিশেষজ্ঞ ড. বদরুল ইমাম বলেন, এটি আধুনিক ও সাশ্রয়ী ব্যবস্থা হওয়া সত্ত্বেও পড়ে থাকলে প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক—কেন এটি চালু করা যাচ্ছে না এবং কার গাফিলতিতে দেরি হচ্ছে।

প্রশাসনিক অবস্থান: আশ্বাস বনাম বাস্তবতা

জ্বালানি বিভাগ বলছে, প্রকল্প দ্রুত চালুর জন্য তারা আন্তরিকভাবে কাজ করছে। নতুন করে দরপত্র মূল্যায়ন চলছে এবং পেট্রোলিয়াম ট্রান্সমিশন কোম্পানি গঠন করা হয়েছে, যারা ভবিষ্যতে এটি পরিচালনা করবে।

কর্মকর্তাদের দাবি, অপারেশন ধীরে ধীরে স্থানীয় জনবল দিয়ে হস্তান্তরের পরিকল্পনা আছে।

তবে বাস্তবতা হলো—নির্দিষ্ট কোনো সময়সীমা এখনো কেউ দিতে পারেনি।

 

তদন্তের প্রশ্ন: বিলম্ব কি শুধু প্রশাসনিক জটিলতা?

 

প্রকল্পটি সময়মতো চালু না হওয়ায় এখন প্রশ্ন উঠছে—

  • এত বড় প্রকল্প শেষ হওয়ার পরও কেন অপারেটর নিয়োগ হয়নি?

  • বিশেষ আইন বাতিলের পর বিকল্প পরিকল্পনা কি আগে থেকে ছিল?

  • সময়মতো রূপান্তর না হওয়ায় কি বাড়তি আর্থিক ক্ষতি হয়েছে?

  • দায়িত্বে কারা ছিলেন এবং কোথায় সিদ্ধান্তগত বিলম্ব ঘটেছে?

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিষয়টি কেবল প্রযুক্তিগত নয়—এটি একটি প্রশাসনিক সিদ্ধান্তহীনতার উদাহরণও হতে পারে, যার প্রভাব পড়ছে দেশের জ্বালানি নিরাপত্তায়।

 

প্রস্তুত অবকাঠামো, অপূর্ণ ব্যবস্থাপনা

 

মহেশখালীর এসপিএম প্রকল্প এখন এক অদ্ভুত অবস্থায় দাঁড়িয়ে—একদিকে সম্পূর্ণ প্রস্তুত আধুনিক অবকাঠামো, অন্যদিকে অচল অপারেশন। দেশ যখন জ্বালানি সংকট, বৈদেশিক মুদ্রার চাপ এবং আমদানি ব্যয় কমানোর চ্যালেঞ্জের মুখে, তখন এই প্রকল্পটি কার্যকর হলে তা বড় স্বস্তি দিতে পারত।

কিন্তু এখন এটি একটি বড় প্রশ্নের প্রতীক হয়ে আছে—বাংলাদেশ কি বড় অবকাঠামো নির্মাণে এগোচ্ছে, কিন্তু তা পরিচালনায় পিছিয়ে পড়ছে?  কিন্তু দীর্ঘ প্রশাসনিক জটিলতায় এখনো সেটি বাস্তবায়নের অপেক্ষায়।

Popular post
ফারুকীর সম্পদ কমেছে, তিশার বেড়েছে দ্বিগুণেরও বেশি: সম্পদ বিবরণী ঘিরে আলোচনা

অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের সম্পদ বিবরণী প্রকাশের পর সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী ও তার স্ত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদের হিসাব নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। এক বছরের ব্যবধানে স্বামী ফারুকীর সম্পদ কমলেও স্ত্রী তিশার সম্পদ বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে প্রকাশিত তথ্যে উঠে এসেছে এই চিত্র। প্রকাশিত খতিয়ান অনুযায়ী, জনপ্রিয় অভিনেত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদ এক বছরে অভাবনীয় হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তিশার মোট সম্পদের পরিমাণ ছিল ১ কোটি ৪০ লাখ ৮১ হাজার ৮৬০ টাকা। ঠিক এক বছর পর, ২০২৫ সালের ৩০ জুন সেই সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ৯৯ লাখ ৮৯ হাজার ৫০১ টাকায়। অর্থাৎ মাত্র এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ বেড়েছে ১ কোটি ৫৯ লাখ ৭ হাজার ৬৪১ টাকা, যা আগের বছরের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি। অন্যদিকে সংস্কৃতি উপদেষ্টা ও নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর ক্ষেত্রে দেখা গেছে উল্টো চিত্র। এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ কমেছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তার মোট সম্পদ ছিল ২ কোটি ২৬ লাখ ৯২ হাজার ২৬ টাকা। ২০২৫ সালের ৩০ জুন তা কমে দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ১৫ লাখ ১৮ হাজার ২৬ টাকায়। হিসাব অনুযায়ী, এক বছরে তার সম্পদ কমেছে ১১ লাখ ৭৪ হাজার টাকা। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে গত মঙ্গলবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ প্রধান উপদেষ্টা, উপদেষ্টা ও সমমর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের পাশাপাশি তাদের স্ত্রী বা স্বামীর সম্পদ বিবরণী প্রকাশ করে। একই সময়ে স্বামী-স্ত্রীর সম্পদে এমন ভিন্নমুখী পরিবর্তন স্বাভাবিকভাবেই সাধারণ মানুষের কৌতূহলের জন্ম দিয়েছে। শোবিজ অঙ্গনের জনপ্রিয় দম্পতি হওয়ায় তাদের এই আয়-ব্যয়ের হিসাব এখন টক অব দ্য কান্ট্রি।

সংসার সামলাতে অটোরিকশা নিয়ে রাস্তায় নেমেছেন রোজিনা

বাসস : বাবা একজন তাঁত শ্রমিক। তিন বোন দুই ভাইয়ের মধ্যে সবার বড় রোজিনা। অভাব সংসার, তাই এক এতিম যুবকের সাথে বাবা-মা বিয়ে দেন তাকে। বিয়ের পর জন্ম হয় দুই কন্যা সন্তানের। অটোরিকশা চালিয়ে কোন রকম সংসার চালাচ্ছিলেন স্বামী রফিকুল ইসলাম। কিন্তু সড়ক দুর্ঘটনায় রফিকুলের এক চোখ সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যায়। আরেকটি চোখ আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ধীরে ধীরে ওই চোখের দৃষ্টি শক্তিও কমতে থাকে। ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে অটোরিকশা চালানো। সংসারের উপার্জনক্ষম মানুষটি অচল হয়ে পড়ায় চিকিৎসার খরচ, ঘর ভাড়া ও খাবারের পাশাপাশি মেয়েদের লেখাপড়ার খরচ চালানোই কঠিন হয়ে যায়। দিশেহারা হয়ে পরেন রোজিনা। এক পর্যায়ে মানুষের বাড়ি বাড়ি কাজ করে সংসার চালানোর চেস্টা করেন। কিন্তু সুবিধা করতে পারেন না। এমন পরিস্থিতিতে অটোরিকশা চালানোর সিদ্ধান্ত নেন তিনি। স্বামী রফিকুলের কাছেই হাতেখড়ি। গ্রামের স্কুলের মাঠে স্বামীর কাছেই অটোরিকশা চালানোর শিক্ষা নেন তিনি। পরে গ্রামের পথে নেমে পড়েন অটোরিকশা নিয়ে। ৫-৬ দিন এভাবে হাত পাকা করে একদিন টাঙ্গাইল শহরে চলে আসেন রোজিনা। এরপর শুরু করেন অটোরিক্সা চালানোর ব্যতিক্রমী জীবন সংগ্রাম। এখন টাঙ্গাইল পৌরসভায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার চালকদের মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা বেগম। জেলার বাসাইল উপজেলার আইসড়া গ্রামের বাসিন্দা রোজিনা টাঙ্গাইল পৌর শহরের এক প্রান্ত রাবনা বাইপাস থেকে আরেক প্রান্ত বেবিস্ট্যান্ডে যাত্রী আনা নেয়া করেন। যানজটের কারণে শহরে পুরুষ চালকরা যেখানে হিমসিম খায়, সেখানেই বিগত ৫ বছর ধরেই নির্বিঘেœ অটোরিকশা চালাচ্ছেন তিনি। টাঙ্গাইল পৌরসভা কার্যালয় সূত্রে জানা যাায়, টাঙ্গাইল শহরে চলাচলের জন্য ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক ও ৫ হাজার ব্যাটারিচালিত রিকশার অনুমতি (লাইসেন্স) দেওয়া হয়েছে। যানজট এড়াতে ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক জোড় ও বিজোড় সংখ্যায় দিনে দুই ভাগ করা হয়েছে। সকাল থেকে বেলা দুইটা পর্যন্ত এক ভাগ এবং বেলা দুইটা থেকে রাত পর্যন্ত আরেক ভাগের ইজিবাইক চলাচল করার নির্দেশনা দিয়েছে পৌর কর্তৃপক্ষ। কিন্তু রোজিনাকে দুই শিফটে চালানোর অনুমতি দিয়েছে পৌরসভা। সরেজমিনে দেখা যায়, নতুন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অটোরিকশা নিয়ে যাত্রী ডাকছেন রোজিনা। কলেজ গেট, পুরাতন বাসস্ট্যান্ড, ক্যাপসুল, নিরালা মোড়, বেবিস্ট্যান্ড সর্বত্রই যাত্রী আনানেয়া করেন তিনি। পুরাতন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অন্য অটো চালকদের দাঁড় করতে না দিলেও রোজিনাকে বাঁধা দেননা ট্রাফিক পুলিশ। বলতে গেলে সবাই তার প্রতি সহানুভুতিশীল। ট্রাফিক পুলিশসহ অন্য অটোচালকরাও তাকে সহযোগিতা করেন। রোজিনা বলেন, আমার অটোতে নারী যাত্রীরা খুব কম। তারা মনে করে আমার অটোতে উঠলে দুর্ঘটনায় পড়বে। কিন্তু আমি খুব সাবধানে অটো চালাই। দ্রুত গতিতেও না, আবার একেবারে ধীরগতিতেও না। এখন পর্যন্ত আমি কোন দুর্ঘটনার কবলে পড়ি নাই। শহরের পুরুষ অটোরিকশা চালকরা আমাকে অনেক সহযোগিতা করে। অটোচালক কাদের মিয়া বলেন, আমাদের শহরে কয়েক হাজার অটো চলাচল করে। তার মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। তাকে আমরা সব সময় সহযোগিতা করি। যাত্রী সাইদ মিয়া বলেন, আমি এ পর্যন্ত ৫-৬ বার রোজিনার অটোতে চড়েছি। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। অন্য পুরুষ অটো চালকের চেয়েও ভালো অটো চালান। নারী সংগঠক সেরাজুম মনিরা বলেন, তিনি অনেক দিন যাবত অটোরিকশা চালাচ্ছেন। আমি রোজিনাকে স্যালুট জানাই। একজন পুরুষের চেয়ে একজন নারী কোনো ভাবেই যে পিছিয়ে নেই, রোজিনা তা প্রমাণ করেছেন। রোজিনা বলেন, অটো চালানোর এই সিদ্ধান্তটি তার জন্য খুব সহজ ছিল না। তিনি বলেন, ৫ ও ১০ বছরের দুই মেয়েকে বাড়িতে রেখে অটোরিকশা নিয়ে সারাদিন রাস্তায় থাকতে হয়। তাদের ভালোভাবে দেখাশোনা করতে পারি না। কিন্তু কি করবো, অভাবের সংসার! এখন ঋণ নিয়ে একটু জমি কিনেছি। প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ণ প্রকল্পের অর্থায়নে প্রশাসন সেখানে ঘর তুলে দিয়েছে। শুরুতে যারা আমাকে নিয়ে ঠাট্টা করেছে এখন তারাই আমাকে সম্মান করেন। নারীরাও যে কিছু করতে পারে, তা প্রমাণ করেছি। আমার বড় মেয়ে আইসড়া উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়ে, ছোট মেয়ে পড়ে স্থানীয় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। মেয়েদের শিক্ষিত করতে হবে। ধার দেনা শোধ করতে হবে। তাই থেমে গেলো চলবে না। আমি অটোরিকশা চালিয়েই দুই সন্তানকে মানুষ করতে চাই।’ ঘারিন্দা ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য বাবুল সরকার বলেন, সরকার রোজিনাকে একটি ঘর নির্মাণ করে দিয়েছে। শুরুতে যারা তাকে নিয়ে নানান কথা বলতো, এখন তার সংকল্প ও মানষিক দৃঢ়তা দেখে থেমে গেছে। আমরা তাকে নিয়ে গর্ব করি। টাঙ্গাইলের ট্রাফিক ইন্সপেক্টর (প্রশাসন) দেলোয়ার হোসেন বলেন, শহরের একমাত্র নারী চালক রোজিনাকে কেউ যেন বিরক্ত করতে না পারে সেদিকে সব সময় নজর রাখে ট্রাফিক পুলিশ। আমরা তাকে সব সময় সহযোগিতা করে আসছি। টাঙ্গাইলের সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক শাহ আলম বলেন, বিষয়টি এখন জানতে পারলাম। ওই নারী এখনো পর্যন্ত আমাদের কাছে আসেন নাই। যদি আমাদের কাছে এসে আবেদন করেন অবশ্যই তাকে আমরা সহযেগিতা করবো, তার পাশে দাঁড়াবো।

বাংলাদেশে ঐতিহাসিক নির্বাচন: বিএনপি এগিয়ে, জামায়াতের উত্থান ও তরুণ ভোটারদের প্রভাব

২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশে আজ এক ঐতিহাসিক ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ২০০৮ সালের পর এই প্রথম একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হতে যাচ্ছে যেখানে দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগ রাজনৈতিক মানচিত্র থেকে কার্যত অনুপস্থিত। বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক জরিপ বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০০ আসনের মধ্যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) কার্যকর সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে যাচ্ছে। তবে ভোটের ব্যবধান এবং কিছু সমীকরণ নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। নির্বাচনের সবচেয়ে বড় নিয়ামক হয়ে দাঁড়িয়েছে আওয়ামী লীগের বিশাল ভোটব্যাংক। দলটির নিয়মিত প্রায় ৪ কোটি ভোটার এখন নতুন রাজনৈতিক আশ্রয় খুঁজছেন। সিআরএফ বা বিইপিওএস জরিপ বলছে, এই ভোটারদের প্রায় অর্ধেক বিএনপির দিকে ঝুঁকেছে, যা দলটিকে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতার পথে এগিয়ে দিচ্ছে। অন্যদিকে, প্রায় ৩০ শতাংশ আওয়ামী ভোটার জামায়াতে ইসলামীকে বেছে নিতে পারেন বলে আভাস পাওয়া যাচ্ছে। এছাড়া বাংলাদেশের বিদ্যমান নির্বাচনী ব্যবস্থার কারণে দেশজুড়ে সুষম জনসমর্থন থাকা বিএনপি আসন জয়ের ক্ষেত্রে জামায়াতের তুলনায় সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। তবে বিএনপির এই সম্ভাব্য জয়ের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও বিদ্রোহী প্রার্থীরা। প্রায় ৭৯টি নির্বাচনী এলাকায় দলের মনোনয়ন না পাওয়া ৯২ জন প্রভাবশালী নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, যা বিএনপির ১৫ থেকে ৩০টি আসন কমিয়ে দিতে পারে। অন্যদিকে, তরুণ ভোটার বা ‘জেন-জি’ প্রজন্মের বিশাল সমর্থন জামায়াতে ইসলামীর শক্তির উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেশের ৪৪ শতাংশ ভোটারই তরুণ, যাদের বড় একটি অংশ প্রথমবার ভোট দিচ্ছেন। এই তরুণরা যদি দলবেঁধে কেন্দ্রে উপস্থিত হন, তবে নির্বাচনী ফলে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। সবশেষে, প্রায় ১৭ থেকে ৩৫ শতাংশ দোদুল্যমান ভোটার এবং তাদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করবে আগামীর সরকার কতটা শক্তিশালী হবে। দ্য নিউইয়র্ক এডিটোরিয়ালের মূল পূর্বাভাস, তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি প্রায় ১৮৫টি আসনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করতে পারে এবং জামায়াতে ইসলামী ৮০টির মতো আসন পেয়ে প্রধান বিরোধী দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারে। তবে বিদ্রোহী প্রার্থীদের প্রভাব এবং তরুণ ভোটারদের উপস্থিতির ওপর ভিত্তি করে আসন সংখ্যায় বড় ধরনের হেরফের হওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

গাজায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা ট্রাম্প প্রশাসনে

ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। ৩৫০ একরের ঘাঁটিটিতে সামরিক বাহিনীর পাঁচ হাজার সদস্য থাকতে পারবে। গাজার ‘বোর্ড অব পিস’র নথি পর্যালোচনা করে এ তথ্য জানিয়েছে দ্য গার্ডিয়ান। প্রতিবেদনে ব্রিটিশ সংবাদ মাধ্যমটি জানিয়েছে, বোর্ড অব পিসে গাজাকে নিরাপদ করার জন্য ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যাবিলাইজেশন ফোর্স (আইএসএফ) নামে একটি আন্তর্জাতিক বাহিনী মোতায়েনের কথা বলা হয়েছে। যে স্থানটি ঘাঁটি করার জন্য বিবেচনা করা হচ্ছে সেখানে আইএসএফের সদস্যরা থাকবে। বোর্ড অব পিসের প্রধান হবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আর সংগঠনটির আংশিক নেতৃত্ব দেবেন ট্রাম্পের জামাতা জ্যারার্ড কুশনার।দ্য গার্ডিয়ান বোর্ড অব পিসের নথি পর্যালোচনা করে জানায়, ধাপে ধাপে একটি সামরিক ঘাঁটি নির্মাণ করা হবে। সবকিছু শেষ হলে ঘাঁটিটি ১৫ লাখ ১৭ হাজার ৫৭৫ বর্গমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত হবে। ঘাঁটিটির চারপাশে ট্রেইলার সংযুক্ত ২৬টি সাঁজোয়া নজরদারি টাওয়ার থাকবে। এছাড়া একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, বাংকার ও অস্ত্র রাখার গুদাম থাকবে। পুরো ঘাঁটিটি কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে ঘিরে রাখা হবে। সামরিক ঘাঁটি নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে দক্ষিণ গাজার একটি শুষ্ক সমতলভূমিতে। সেখানে ইসরায়েলি হামলার চিহ্ন রয়েছে। ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে বিভিন্ন ধাতবের ধ্বংসাবশেষ।  ওই এলাকার ভিডিও পর্যালোচনা করেছে দ্য গার্ডিয়ান। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, ঘাঁটি নির্মাণের জন্য টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে। যুদ্ধক্ষেত্রে কাজের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন আন্তর্জাতিক নির্মাণ কোম্পানিগুলোর একটি ছোট দলকে ইতোমধ্যেই এলাকাটি দেখানো হয়েছে। ওই দলটি দরপত্রে অংশ নিতে আগ্রহী।    ইন্দোনেশিয়া সরকার গাজায় আট হাজার সেনা সদস্য পাঠানোর জন্য প্রস্তাব দিয়েছে। বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটন ডিসিতে বোর্ড অব পিসের অনানুষ্ঠানিক বৈঠকে ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্টের অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। এছাড়া দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার আরও তিন নেতার ওই বৈঠকে অংশ নেবেন বলে জানা গেছে। জাতিসংঘের নিরাপত্তা কাউন্সিল গাজার সাময়িক স্থিতিশীলতার জন্য অস্থায়ীভাবে সামরিক বাহিনী মোতায়েনের অনুমোদন দিয়েছে। নিরাপত্তা কাউন্সিলই বোর্ড অব পিসের মূল হোতা। গাজার সীমান্ত ও শান্তি প্রণয়নে কাজ করবে আইএসএফ। এছাড়া বেসামরিকদের সুরক্ষা এবং ফিলিস্তিনি পুলিশ বাহিনীকে প্রশিক্ষণ ও সহায়তা দেবে তারা। যদি গাজায় ফের সংঘর্ষ হয়, ইসরায়েল বোমা হামলা চালায় অথবা হামাস হামলা চালায় সেক্ষেত্রে আইএসএফ কি করবে তা এখনও স্পষ্ট নয়। গাজা পুনর্গঠনে ইসরায়েল হামাসকে নিরস্ত্রীকরণের যে শর্ত দিয়েছে সেটির জন্য আইএসএফ কাজ করবে কিনা তাও স্পষ্ট না। ইতোমধ্যে বোর্ড অব পিসে ২০ এর অধিক দেশ যোগ দিয়েছে। তবে, এখনও অনেক পরাশক্তি এর থেকে দূরে রয়েছে। জাতিসংঘের অনুমোদন নিয়ে প্রতিষ্ঠিত হলেও ধারণা করা হচ্ছে, সংগঠনটির স্থায়ী নেতৃত্ব ও নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে। রুটজার্স বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক আদিল হক বলেন, “বোর্ড অব পিস এক ধরনের আইনি কল্পসত্তা। নামমাত্রভাবে এর নিজস্ব আন্তর্জাতিক আইনগত সত্তা রয়েছে, যা জাতিসংঘ ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে আলাদা। কিন্তু বাস্তবে এটি যুক্তরাষ্ট্রের ইচ্ছামতো ব্যবহারের জন্য একটি ফাঁপা খোলসমাত্র।” বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গাজা পুনর্গঠনে যে অর্থায়ন ও শাসন কাঠামো হচ্ছে তা অস্বচ্ছ। কয়েকজন ঠিকাদার গার্ডিয়ানকে জানান, গাজায় কাজ করার জন্য মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে তাদের প্রায়শ আলোচনা সরকারি ইমেলের বদলে সিগন্যালের মাধ্যমে করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রের তথ্য মতে, ঘাঁটি নির্মাণের সিদ্ধান্তটি বোর্ড অব পিসের। এতে সহায়তা করছে মার্কিন কর্মকর্তারা। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ঘাঁটিতে তৈরি বাংকার নেটওয়ার্কের মতোন কাজ করবে। প্রতিটি বাংকারের ২৪ মিটারের হবে। উচ্চতা থাকবে আড়াই মিটার। এগুলো এমনভাবে করা হবে যেন সেনা সদস্যরা আশ্রয় নিতে পারে। স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসের গাজায় সুড়ঙ্গ নেটওয়ার্ক বা টানেল রয়েছে। সেগুলোর আদলে নেটওয়ার্ক করতে চাওয়া হচ্ছে। পিস অব বোর্ডের নথি পর্যালোচনা করে এমন দাবি করছে গার্ডিয়ান। সংবাদ মাধ্যমটি বলছে,  স্থানটির ভূ-ভৌত জরিপ পরিচালনা করবে ঠিকাদাররা। নথির এক অংশে ‘হিউম্যান রেমিয়েনস প্রোটোকল’র কথা বলা হয়েছে। এর মানে দাঁড়ায়, সন্দেহভাজন মানব অবশিষ্ট বা সাংস্কৃতিক নিদর্শন পাওয়া গেলে অবিলম্বে সেই এলাকায় সব কাজ বন্ধ করতে হবে। চুক্তি কর্মকর্তাকে দিকনির্দেশনার জন্য অবিলম্বে জানাতে হবে। গাজা সিভিল ডিফেন্সের ধারণা, গাজার ধ্বংসস্তূপের নিচে ১০ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনির মরদেহ রয়েছে। ঘাঁটির জন্য যে স্থানটি বিবেচিত করা হচ্ছে সেটির মালিক কে তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে, দক্ষিণ গাজার বেশিরভাগ অংশ  বর্তমানে ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণে। জাতিসংঘের অনুমান, যুদ্ধ চলাকালীন ১৯ লাখ ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত হয়েছে। ফিলিস্তিনের জমিতে সরকারের অনুমতি না নিয়ে সামরিক ঘাঁটি স্থাপনকে দখল হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন ফিলিস্তিনি-কানাডিয়ান আইনজীবী এবং প্রাক্তন শান্তি আলোচক দিয়ানা বুট্টু। তিনি প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়ে বলেন, “কার অনুমতিতে তারা সামরিক ঘাঁটি স্থাপন করবে।” বিষয়টি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা বোর্ড অব পিসের কথা টানেন। ট্রাম্প প্রশাসনের একজন কর্মকর্তা সামরিক ঘাঁটির চুক্তি নিয়ে আলোচনা করতে অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, “যেমনটি প্রেসিডেন্ট বলেছেন, কোনও মার্কিন সেনা স্থলভাগে যাবে না। আমরা লিক হওয়া নথি নিয়ে আলোচনা করবো না।”

কুড়িগ্রামের তাজু ভাই ২.০: ‘সরকারি রেটে জিলাপি’ প্রশ্নে ভাইরাল এক নির্মাণশ্রমিকের গল্প

বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের প্রত্যন্ত চরাঞ্চল থেকে উঠে এসে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার কেন্দ্রে এখন তাইজুল ইসলাম, যিনি অনলাইনে পরিচিত ‘তাজু ভাই ২.০’ নামে। মাত্র একটি ভিডিও—যেখানে তিনি এক দোকানিকে প্রশ্ন করেন, “জিলাপি আজকে কত করে বেচতেছেন সরকারি রেটে?”—এই সরল উপস্থাপনাই তাকে রাতারাতি ভাইরাল করে তোলে।  কয়েক ঘণ্টায় ফলোয়ার লাখ ছাড়াল রোববার রাত পর্যন্ত তার ফেসবুক অনুসারী ছিল প্রায় ৩৫ হাজার। কিন্তু সোমবার সন্ধ্যা থেকে রাতের মধ্যেই তা বেড়ে এক লাখের বেশি হয়ে যায়। ভাইরাল ভিডিওটি ইতোমধ্যে প্রায় ৫০ থেকে ৫৫ লাখবার দেখা হয়েছে।  কী ছিল সেই ভিডিওতে? ভিডিওতে দেখা যায়, কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীর নারায়ণপুর বাজারে দাঁড়িয়ে স্থানীয় ভাষায় তিনি জিলাপির দাম জানতে চান। তার কথাগুলো ছিল একেবারেই সহজ ও গ্রাম্য ভঙ্গিতে— “সাদাডা কত, লালডা কত? সরকারি রেটে বেচতেছেন?” এই সরল প্রশ্নই সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।  কোথা থেকে উঠে এলেন তাজু ভাই? কুড়িগ্রাম জেলার নাগেশ্বরী উপজেলার নারায়ণপুর ইউনিয়নের একটি দুর্গম গ্রামে জন্ম তার। ব্রহ্মপুত্র নদবেষ্টিত এই অঞ্চলে পৌঁছাতে এখনও কয়েকটি নৌঘাট পার হতে হয়। দারিদ্র্যের কারণে কখনো স্কুলে যাওয়া হয়নি তার। পেশায় তিনি একজন নির্মাণশ্রমিকের সহকারী (হেলপার)। কাজের ফাঁকে ঢাকায় থাকাকালীন মোবাইল ফোনে ভিডিও তৈরি করাই তার শখ। ব্যক্তিগত সংগ্রাম তাইজুল ইসলামের পরিবারে ছয় ভাই-বোন। তিনি সবার বড়। তার বাবা-মা দুজনই শ্রবণপ্রতিবন্ধী। পরিবার চালাতে তাকে ছোটবেলা থেকেই সংগ্রাম করতে হয়েছে। তিনি বলেন, “পরিবারের কষ্ট ভুলতেই ভিডিও করি। আমি সাংবাদিক না, কিন্তু আমাদের এলাকায় কেউ আসে না—তাই নিজেরাই ভিডিও বানাই।” ভাইরাল হওয়ার পেছনের উদ্দেশ্য তাইজুলের দাবি, তার ভিডিও শুধুই বিনোদনের জন্য নয়। তিনি চান তার এলাকার অবহেলিত মানুষের কথা প্রশাসনের নজরে আসুক। “আমি চাই চরের মানুষের উন্নয়ন হোক,”—বলছেন তিনি।  মিশ্র প্রতিক্রিয়া ভিডিওটি নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে দুই ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ তার সরলতা ও বাস্তবতা তুলে ধরার চেষ্টা প্রশংসা করছেন আবার কেউ তাকে নিয়ে ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ করছেন তবে এসব সমালোচনায় তিনি বিচলিত নন।

নিজস্ব প্রতিবেদক

ব্রেকিং

View more
জঙ্গল সলিমপুরে পাহাড় কেটে গড়ে উঠেছে অবৈধ বসতি
জঙ্গল সলিমপুরে আবার সশস্ত্র হামলা: নিয়ন্ত্রণ ও সন্ত্রাসীদের আধিপত্য

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার জঙ্গল সলিমপুর বহু বছর ধরেই স্থানীয়দের কাছে পরিচিত এক ভিন্ন বাস্তবতার জনপদ হিসেবে। প্রশাসনের ভাষায় এটি “ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা”, আর স্থানীয়দের কাছে—“দেশের ভেতর আরেক দেশ”। রাষ্ট্রের আইন, প্রশাসন কিংবা সরকারি নিয়ন্ত্রণের চেয়ে এখানে দীর্ঘদিন বেশি কার্যকর ছিল সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর নিজস্ব শাসনব্যবস্থা। পাহাড় কেটে অবৈধ বসতি, প্লট বাণিজ্য, চাঁদাবাজি এবং অস্ত্রনির্ভর আধিপত্যের মধ্য দিয়ে গড়ে ওঠে এক জটিল অপরাধ অর্থনীতি। গত জানুয়ারিতে র‌্যাব কর্মকর্তার নিহত হওয়ার ঘটনার পর বড় ধরনের অভিযানে নামে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। তখন দাবি করা হয়েছিল, জঙ্গল সলিমপুরের নিয়ন্ত্রণ “রাষ্ট্রের হাতে ফিরে এসেছে”। কিন্তু রবিবার মধ্যরাতে যৌথ বাহিনীর ক্যাম্পে সশস্ত্র হামলা সেই দাবিকে নতুন করে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে। মধ্যরাতের হামলা: দুই ঘণ্টা ধরে গোলাগুলি রাত প্রায় ১টা। সীতাকুণ্ডের আলীনগর স্কুলে স্থাপিত যৌথ বাহিনীর অস্থায়ী ক্যাম্পে দায়িত্ব পালন করছিল র‌্যাব, পুলিশ, এপিবিএন ও আরআরএফ সদস্যরা। হঠাৎ পাশের পাহাড়ি এলাকার কয়েকটি টিনের ঘর থেকে শুরু হয় গুলিবর্ষণ। স্থানীয় সূত্রগুলোর দাবি, টিনের দেয়াল ও চালে আগে থেকেই ছোট ছোট ছিদ্র তৈরি করে পরিকল্পিতভাবে ফায়ারিং পজিশন তৈরি করা হয়েছিল। আকস্মিক এই হামলার পর পাল্টা অবস্থান নেয় যৌথ বাহিনী। প্রায় দুই ঘণ্টা ধরে থেমে থেমে গোলাগুলিতে পুরো এলাকা আতঙ্কে কেঁপে ওঠে। একই সময় সন্ত্রাসীদের আরেকটি দল পাশেই নির্মাণাধীন যৌথ বাহিনীর নতুন ক্যাম্পে হামলা চালায়। সেখানে থাকা একটি এক্সকাভেটর ব্যবহার করে ভবনের বিভিন্ন অংশ গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সূত্র জানায়, ক্যাম্পটির প্রায় ৯০ শতাংশ নির্মাণকাজ শেষ হয়েছিল। আগামী ৩১ মে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর উপস্থিতিতে সেটি উদ্বোধনের পরিকল্পনা ছিল। হামলার পুনরাবৃত্তি কেন? জঙ্গল সলিমপুরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ওপর হামলার ঘটনা নতুন নয়। গত ১৯ জানুয়ারি অভিযানে গিয়ে সশস্ত্র হামলার মুখে পড়ে র‌্যাবের একটি দল। ওই ঘটনায় নিহত হন র‌্যাব কর্মকর্তা আবদুল মোতালেব। আহত হন আরও তিন সদস্য। এর আগে ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বরে বড়ইতলা এলাকায় অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ অভিযান শেষে ফেরার পথে হামলার শিকার হন জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা। আহত হন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট উমর ফারুক, সীতাকুণ্ড থানার তৎকালীন ওসি তোফায়েল আহমেদসহ অন্তত ২০ জন। স্থানীয়দের মতে, প্রতিবারই প্রশাসন অভিযান চালালেও কিছুদিন পর পরিস্থিতি আগের অবস্থায় ফিরে যায়। পাহাড় কেটে গড়ে ওঠা ‘অপরাধ অর্থনীতি’ জঙ্গল সলিমপুরের বর্তমান বাস্তবতা মূলত পাহাড় দখল ও জমি বাণিজ্যকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ অনুযায়ী, ‘চট্টগ্রাম মহানগর ছিন্নমূল বস্তিবাসী সমন্বয় সংগ্রাম পরিষদ’ নামের একটি সংগঠন ৩৪টি পাহাড় কেটে প্রায় ৫৮৬ একর সরকারি জমিতে প্রায় ১৪ হাজার প্লট তৈরি করেছে। অন্যদিকে ‘আলীনগর সমবায় সমিতি’ আরও তিনটি পাহাড় কেটে ২৩৬ একর জমিতে আড়াই হাজারের বেশি প্লট তৈরি করেছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এসব প্লট ৫ থেকে ১০ লাখ টাকায় বিক্রি করা হয় বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন। এলাকাজুড়ে চালু রয়েছে কথিত “টোকেন সিস্টেম”। অভিযোগ রয়েছে, প্রতিদিন নির্দিষ্ট পরিমাণ টাকা দিয়ে টোকেন সংগ্রহের মাধ্যমে পাহাড় কাটার অনুমতি দেওয়া হয়। এরপর সেই জমি বিক্রি করে হাতিয়ে নেওয়া হচ্ছে কোটি কোটি টাকা। ভূমি অফিসের জরিপে অন্তত ৩৭টি পাহাড় কাটার প্রমাণ পাওয়া গেছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। কীভাবে গড়ে উঠল ‘অন্য এক শাসনব্যবস্থা’? স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, দুর্গম পাহাড়ি অবস্থানের কারণে বহু বছর ধরেই জঙ্গল সলিমপুর অপরাধীদের নিরাপদ আশ্রয়স্থল হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। নব্বইয়ের দশকে ভূমিদস্যু আলী আক্কাসের হাত ধরে শুরু হয় পাহাড় দখল ও অবৈধ নিয়ন্ত্রণের বিস্তার। ২০১০ সালে র‌্যাবের অভিযানে আলী আক্কাস নিহত হওয়ার পর তার অনুসারীরা বিভিন্ন গ্রুপে বিভক্ত হয়ে এলাকায় আধিপত্য বিস্তার শুরু করে। বর্তমানে রোকন মেম্বার, মশিউর, ইয়াছিন, ফারুক, গাজী সাদেক, গফুর মেম্বার, রিপন ও আল আমিন সাগরসহ একাধিক সশস্ত্র গ্রুপের নাম স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তাদের মতে, এসব গ্রুপের মধ্যে আধিপত্যের দ্বন্দ্ব এবং অর্থনৈতিক স্বার্থই সংঘাতকে আরও জটিল করে তুলেছে। ইয়াছিন: শ্রমিক থেকে সশস্ত্র গোষ্ঠীর নেতৃত্বে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দাবি, রবিবারের হামলার পেছনে ছিল ইয়াছিন গ্রুপ। স্থানীয় সূত্র অনুযায়ী, ২০০৩ সালে নোয়াখালী থেকে চট্টগ্রামে আসেন মোহাম্মদ ইয়াছিন। শুরুতে একটি জুট মিলে চাকরি করলেও পরে জঙ্গল সলিমপুরে স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেন। ধীরে ধীরে তিনি অপরাধ জগতের সঙ্গে জড়িয়ে পড়েন। অভিযোগ রয়েছে, পুলিশের ভয় আছে—এমন অপরাধীদের আশ্রয় দেওয়া থেকে শুরু করে পাহাড় কেটে প্লট বাণিজ্য—সবকিছুর মধ্য দিয়ে তিনি গড়ে তোলেন নিজস্ব সশস্ত্র নেটওয়ার্ক। পরবর্তীতে সেটিই রূপ নেয় একটি শক্তিশালী গোষ্ঠীতে।  নিয়ন্ত্রণ” কতটা বাস্তব? র‌্যাব-৭ এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল হাফিজুর রহমান জানিয়েছেন, হামলায় ২০০ থেকে ৩০০ সশস্ত্র ব্যক্তি অংশ নেয়। তাদের হাতে দেশীয় অস্ত্রের পাশাপাশি আধুনিক আগ্নেয়াস্ত্রও ছিল। অন্যদিকে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলম বলেছেন, “যেই জড়িত থাকুক, কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।” তবে নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, শুধুমাত্র অভিযান দিয়ে জঙ্গল সলিমপুরের পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হবে। কারণ এখানে অপরাধ শুধু অস্ত্রের নয়—ভূমি, অবৈধ বসতি, রাজনৈতিক প্রভাব, দখল অর্থনীতি এবং দীর্ঘদিনের প্রশাসনিক দুর্বলতার সঙ্গে গভীরভাবে জড়িত। প্রশ্ন রয়ে যাচ্ছে যৌথ বাহিনীর ক্যাম্পে হামলা এবং নির্মাণাধীন স্থাপনা গুঁড়িয়ে দেওয়ার ঘটনা নতুন করে দেখিয়ে দিয়েছে—জঙ্গল সলিমপুরে সংঘাত এখনো শেষ হয়নি। রাষ্ট্র সেখানে উপস্থিত হলেও, নিয়ন্ত্রণের লড়াই এখনও চলছে ছায়ার আড়ালে। আর সেই লড়াইয়ের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে পাহাড়, জমি এবং কোটি কোটি টাকার অবৈধ অর্থনীতি।

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ২৭, ২০২৬ 0
ভাইরাল মহিষ ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প’-এর রাজকীয় বিদায়: নারায়ণগঞ্জে লাল গালিচায় সংবর্ধনা

ভাইরাল মহিষ ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প’-এর রাজকীয় বিদায়: সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে আন্তর্জাতিক আলোচনায়

আটক কেন্দ্র

পশ্চিমবঙ্গে প্রতিটি জেলায় ‘হোল্ডিং সেন্টার’: বাংলাদেশি-রোহিঙ্গা সন্দেহে আটক আতঙ্ক, প্রশ্ন মানবাধিকার নিয়ে

নারায়ণগঞ্জের একটি খামারে এই মহিষটির নাম রাখা হয়েছে ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প’। ছবি-এএফপি

কোরবানির পশুর নামে ট্রাম্প-নেতানিয়াহু: ভাইরাল সংস্কৃতি, রাজনীতি ও প্রতীকী প্রতিবাদের নতুন ভাষা

ওমানে গাড়ির ভেতরে চার ভাইয়ের মৃত্যু: বিয়ের প্রস্তুতি থেকে কফিনবন্দি প্রত্যাবর্তন ,রাঙ্গুনিয়ায় একসঙ্গে জানাজা ও দাফনে শোকের মাতম

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ার লালানগর গ্রামে ১৫ মে ছিল উৎসবের অপেক্ষা। মধ্যপ্রাচ্যের দেশ ওমান থেকে দেশে ফেরার কথা ছিল চার ভাইয়ের। পরিবারের সদস্যরা প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন দুই ভাইয়ের বিয়ের আয়োজন ঘিরে। কিন্তু সেই প্রতীক্ষা শেষ হলো চারটি কফিনে। ওমানের মুলাদ্দাহ এলাকায় একটি গাড়ির ভেতর থেকে উদ্ধার হওয়া চার প্রবাসী ভাইয়ের মরদেহ বুধবার (২০ মে) নিজ গ্রামের সামাজিক কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে। সকাল থেকে হাজারো মানুষের কান্না, আহাজারি ও শোকের মাতমে ভারী হয়ে ওঠে পুরো এলাকা। মারা যাওয়া চার ভাই হলেন শাহিদুল ইসলাম, সিরাজুল ইসলাম, শহিদুল ইসলাম ও রাশেদুল ইসলাম। তারা সবাই চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার লালানগর ইউনিয়নের বাসিন্দা। তাদের বাবা মৃত জামাল উদ্দিন। চার ভাইয়ের মধ্যে রাশেদুল ও শাহিদুল বিবাহিত ছিলেন। অন্য দুই ভাইয়ের বিয়ের প্রস্তুতি চলছিল। একসঙ্গে চার ভাইয়ের জানাজা বুধবার সকাল ১১টায় হোছনাবাদ উচ্চবিদ্যালয় মাঠে চার ভাইয়ের জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। কয়েক হাজার মানুষ এতে অংশ নেন। জানাজায় ইমামতি করেন নিহতদের একমাত্র জীবিত ছোট ভাই হাফেজ মুহাম্মদ এনামুল হক। ভাইদের জন্য দোয়া চাইতে গিয়ে তিনি কান্নায় ভেঙে পড়েন। ভাঙা কণ্ঠে উপস্থিত মানুষের উদ্দেশে বলেন, “আমার ভাইদের আপনারা ক্ষমা করে দিয়েন। আমাদের জন্য দোয়া করবেন।” জানাজা শেষে চার ভাইকে পাশাপাশি কবরে দাফন করা হয়। স্থানীয়দের ভাষ্য, রাঙ্গুনিয়ার ইতিহাসে একসঙ্গে চার ভাইয়ের জানাজা ও দাফনের মতো ঘটনা আগে কেউ দেখেনি। স্থানীয় বাসিন্দা ইয়াকুব আলী বলেন, “একসঙ্গে চার ভাইয়ের মৃত্যু কতটা মর্মান্তিক, তা ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়।” মায়ের কাছ থেকে এক সপ্তাহ গোপন রাখা হয় মৃত্যুর খবর পরিবার ও স্থানীয় সূত্র জানায়, নিহতদের মা খাদিজা বেগমের কাছ থেকে প্রায় এক সপ্তাহ মৃত্যুর খবর গোপন রাখা হয়েছিল। বুধবার ভোরে মরদেহ বাড়িতে পৌঁছানোর পর তাকে বিষয়টি জানানো হয়। কফিনবন্দি ছেলেদের মরদেহ দেখে তিনি বারবার জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন। ঘরের ভেতরে আহাজারি করছিলেন নিহত রাশেদুলের স্ত্রী কুলসুমা আক্তার ও শাহিদুলের স্ত্রী শান্তা আক্তারও। স্থানীয় চিকিৎসক কাজী মনসুর আহমেদ জানান, সকাল থেকে শোক ও মানসিক আঘাতে খাদিজা বেগম বারবার মূর্ছা যাচ্ছিলেন। প্রবাস জীবনের সাফল্য, হঠাৎ মৃত্যুর ট্র্যাজেডি স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রায় ১১ বছর আগে পরিবারের মেজো ভাই প্রথমে ওমানে যান। পরে একে একে অন্য ভাইদেরও সেখানে নিয়ে যান। তারা মিলে গাড়ি ওয়াশিংয়ের দুটি ব্যবসা গড়ে তুলেছিলেন এবং আর্থিকভাবে সচ্ছল হয়ে ওঠেন। স্থানীয় বাসিন্দা এম এ মতিন বলেন, “অনেক কষ্ট করে তারা দাঁড়িয়েছিল। পরিবারের অবস্থাও বদলে দিয়েছিল। কিন্তু একসঙ্গে চার ভাইয়ের এভাবে চলে যাওয়া কেউ মেনে নিতে পারছে না।” পরিবার সূত্রে জানা গেছে, ১৫ মে দুই অবিবাহিত ভাইয়ের বিয়ের কেনাকাটা ও দেশে ফেরার প্রস্তুতির অংশ হিসেবে তারা একসঙ্গে গাড়ি নিয়ে বের হয়েছিলেন। এরপরই ঘটে বিপর্যয়। কীভাবে মৃত্যু হলো? গত ১৩ মে রাতে ওমানের মুলাদ্দাহ এলাকায় একটি গাড়ির ভেতর থেকে চার ভাইয়ের মরদেহ উদ্ধার করে রয়্যাল ওমান পুলিশ। প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের ধারণা, গাড়ি চালু থাকা অবস্থায় এসির এক্সহস্ট সিস্টেম থেকে নির্গত কার্বন মনোক্সাইড গ্যাস গাড়ির ভেতরে ছড়িয়ে পড়ে। দীর্ঘ সময় সেই বিষাক্ত গ্যাস শ্বাস নেওয়ার ফলে তাদের মৃত্যু হতে পারে। কার্বন মনোক্সাইড একটি বর্ণহীন ও গন্ধহীন বিষাক্ত গ্যাস, যা বন্ধ পরিবেশে দ্রুত প্রাণঘাতী হয়ে উঠতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, গাড়ির বায়ু চলাচল ব্যবস্থা বা এক্সহস্ট লাইনে ত্রুটি থাকলে এমন দুর্ঘটনার ঝুঁকি তৈরি হয়। বিমানবন্দর থেকে গ্রামের পথে মঙ্গলবার (১৯ মে) রাত ৮টা ১৫ মিনিটে বাংলাদেশ বিমানের একটি ফ্লাইটে চার ভাইয়ের মরদেহ ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছায়। আনুষ্ঠানিকতা শেষে বিশেষ ফ্রিজার ভ্যানে করে মরদেহগুলো রাঙ্গুনিয়ায় নিয়ে আসা হয়। বুধবার ভোরে মরদেহ গ্রামে পৌঁছানোর পর থেকেই মানুষের ঢল নামে। শুধু রাঙ্গুনিয়া নয়, আশপাশের রাউজান, ফটিকছড়ি, বোয়ালখালী, হাটহাজারী ও সীতাকুণ্ড থেকেও মানুষ ছুটে আসেন শেষ শ্রদ্ধা জানাতে। লালানগর ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য আমির হোসেন সুমন বলেন, “চার ভাইকে একই সারিতে কবর দেওয়া হয়েছে। পুরো এলাকা শোকে স্তব্ধ।” রাঙ্গুনিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. নাজমুল হাসান জানান, মরদেহ ভোরে গ্রামের বাড়িতে পৌঁছানোর পর জানাজা ও দাফন সম্পন্ন হয়।

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ২১, ২০২৬ 0
ইমরানকে ক্ষমতাচ্যুত করার পেছনে ছিল যুক্তরাষ্ট্র

পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানকে ক্ষমতাচ্যুত করার পেছনে ছিল যুক্তরাষ্ট্র, গোপন নথি ফাঁস

পুলিশ পদক স্থগিত

বিতর্কিত কর্মকর্তাদের নাম থাকায় পুলিশ সপ্তাহে পদক প্রদান স্থগিত

গাজীপুরে স্ত্রী-সন্তানসহ ৫ জনকে গলা কেটে হত্যা

গাজীপুরে স্ত্রী-সন্তানসহ ৫ জনকে গলা কেটে হত্যা

আন্দামান সাগরে ট্রলারডুবি
আন্দামান সাগরে ট্রলারডুবি: ২৬৪ নিখোঁজ, শতাধিক বাংলাদেশি ও রোহিঙ্গা

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : আন্দামান সাগর-এ মালয়েশিয়াগামী একটি ট্রলারডুবির ঘটনায় বাংলাদেশি ও রোহিঙ্গাসহ অন্তত ২৬৪ জন নিখোঁজ রয়েছেন বলে জানা গেছে। এদের মধ্যে শতাধিক বাংলাদেশি নাগরিক রয়েছেন, যাদের একটি বড় অংশ কিশোর ও তরুণ। কী ঘটেছিল তথ্য অনুযায়ী, গত ৮ এপ্রিল কক্সবাজার উপকূল থেকে ছেড়ে যাওয়া ট্রলারটি উত্তাল সাগর ও অতিরিক্ত যাত্রীর কারণে ডুবে যায়। প্রায় ৩৬ ঘণ্টা ভেসে থাকার পর ৯ জনকে একটি বাংলাদেশি পতাকাবাহী জাহাজ উদ্ধার করে। পরে তাদের সেন্ট মার্টিনে কোস্টগার্ডের কাছে হস্তান্তর করা হয়। উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে ছয়জন প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে মানবপাচার চক্রের সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন। তাদের বিরুদ্ধে টেকনাফ থানায় মামলা হয়েছে এবং বর্তমানে তারা কারাগারে আছেন। বাকি তিনজন রোহিঙ্গা নাগরিক, যাদের কাছ থেকে ট্রলারডুবির বিস্তারিত তথ্য পাওয়া গেছে। নিখোঁজদের পরিচয় নিখোঁজদের বেশিরভাগই উখিয়ার বিভিন্ন শরণার্থী শিবিরে আশ্রিত রোহিঙ্গা। তবে এখন পর্যন্ত অন্তত ৬২ জন বাংলাদেশির পরিচয় শনাক্ত করা হয়েছে। তাদের মধ্যে: টেকনাফ: ৪০ জন উখিয়া: ৬ জন রামু: ৪ জন পেকুয়া: ৭ জন বাঁশখালী (চট্টগ্রাম): ৫ জন স্থানীয় সূত্র জানায়, সাবরাং ইউনিয়নের শাহপরীর দ্বীপ এলাকা থেকেই ৩০ জনের বেশি যুবক নিখোঁজ রয়েছেন। পরিবারগুলোর অপেক্ষা ও অনিশ্চয়তা নিখোঁজদের পরিবারগুলো চরম উদ্বেগে দিন কাটাচ্ছেন। অনেকেই থানায়, জনপ্রতিনিধিদের কাছে এবং বিভিন্ন দপ্তরে ছুটছেন স্বজনদের খোঁজে। পেকুয়ার রাজাখালীর বাসিন্দা সুমি আক্তার বলেন, তার স্বামী দালালের প্রলোভনে মালয়েশিয়া যাওয়ার পথে নিখোঁজ হয়েছেন। “তিনি বলেছিলেন পৌঁছে ফোন দেবেন। এরপর আর কোনো খবর পাইনি,” বলেন তিনি। পাচারচক্রের ফাঁদ স্থানীয়দের মতে, এপ্রিলের প্রথম সপ্তাহে টেকনাফ উপকূল থেকে অন্তত তিনটি ট্রলার মালয়েশিয়ার উদ্দেশে রওনা দেয়। এর মধ্যে একটি ডুবে গেলেও অন্য দুটি থাইল্যান্ডে পৌঁছেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, মানবপাচারকারীরা মূলত দরিদ্র, বেকার ও ঋণগ্রস্ত তরুণদের লক্ষ্য করে। বিনা খরচে বিদেশে নেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে তাদের বিপজ্জনক সমুদ্রপথে পাঠানো হয়। মানবপাচার প্রতিরোধে কাজ করা একটি বেসরকারি সংস্থার নির্বাহী পরিচালক পারভেজ সিদ্দিকী বলেন, “বেকারত্ব ও দারিদ্র্যই মানবপাচারের মূল চালিকাশক্তি। কঠোর আইন প্রয়োগ ও সচেতনতা ছাড়া এ নেটওয়ার্ক ভাঙা কঠিন।” উদ্ধার অভিযান ও অনিশ্চয়তা কোস্টগার্ড জানিয়েছে, এখনও নিখোঁজদের কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। এমনকি ডুবে যাওয়া ট্রলারটির ধ্বংসাবশেষও উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। উদ্ধারকারীরা জানিয়েছেন, দুর্ঘটনার সময় কিছু মানুষ পানির ড্রাম ও কাঠের টুকরো ধরে ভেসে ছিলেন—যা থেকে ধারণা করা হচ্ছে, হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ৭, ২০২৬ 0
ইস্টার্ন রিফাইনারি

ইস্টার্ন রিফাইনারিতে আবার ক্রুড তেল সরবরাহ: দুই মাস পর উৎপাদন স্বাভাবিকের পথে

এস আলম

ব্যাংক খাতে আস্থার টানাপোড়েন:এস আলম ফেরার খবরে গ্রাহকদের মধ্যে অস্থিরতা

সৌরবিদ্যুৎ

বাংলাদেশে সৌরবিদ্যুৎ খাতে দুর্নীতি: অতিরিক্ত ব্যয়, নীতিগত বিশৃঙ্খলা ও জ্বালানি সংকটের প্রভাব

অর্থনীতি

ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান খুরশীদ আলম, কৃষি ব্যাংকে নূরুল আমিন: ব্যাংক খাতে নতুন সমীকরণ

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ২৪, ২০২৬ 0




অপরাধ

ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো

ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকোর বিরুদ্ধে ৩০ বিলিয়ন ডলার জালিয়াতি ও অর্থপাচার অভিযোগে দুদকের অনুসন্ধান

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ২৪, ২০২৬ 0




কৃষি ও জলবায়ু

ধান

শেরপুরে বোরো ধানের দাম কমে লোকসানে কৃষকরা, উৎপাদন খরচও উঠছে না

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ৬, ২০২৬ 0