ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের মুখে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর প্রথমবারের মতো ভারত থেকে বাংলাদেশে আসছে নতুন যাত্রীবাহী রেল বগি। দীর্ঘ অনিশ্চয়তার পর আগামী জুলাই মাসে ২০টি ব্রডগেজ যাত্রীবাহী বগির প্রথম চালান বাংলাদেশে পৌঁছানোর কথা রয়েছে।
ভারতের প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম ইকোনোমিক টাইমস বুধবার (২৪ জুন) এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে স্বাক্ষরিত ৯১৫ কোটি রুপির চুক্তির আওতায় নির্মিত ২০০টি ব্রডগেজ যাত্রীবাহী বগির মধ্যে প্রথম ২০টি ইতোমধ্যে রপ্তানির জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে।
ভারতীয় রেলওয়ের রপ্তানি বিভাগের কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়, জুলাই মাসেই প্রথম চালান পাঠানোর লক্ষ্য নিয়ে সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে। বগিগুলো ভারতের পাঞ্জাবের কাপুরথালায় অবস্থিত রেল কোচ কারখানায় (Rail Coach Factory) নির্মাণ করা হচ্ছে।
বাংলাদেশে ২০২৪ সালের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর ভারতীয় এই রপ্তানি প্রকল্পের ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন দেখা দেয়। শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর কিছু সময়ের জন্য প্রকল্পের কার্যক্রম ধীরগতিতে চললেও শেষ পর্যন্ত চুক্তির বাস্তবায়ন অব্যাহত রাখা হয়েছে।
ভারতীয় রেলওয়ের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা ইকোনোমিক টাইমসকে বলেন, “চুক্তির প্রথম রেকগুলো আগামী জুলাইয়ের মধ্যে প্রস্তুত হয়ে যাবে। বাংলাদেশের কাছে সময়মতো বগিগুলো হস্তান্তরের জন্য প্রয়োজনীয় সব প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।”
বিশ্লেষকদের মতে, রাজনৈতিক পরিবর্তনের মধ্যেও অবকাঠামোগত সহযোগিতা অব্যাহত রাখা দুই দেশের অর্থনৈতিক ও যোগাযোগ সম্পর্কের একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বহন করে।
২০০টি ব্রডগেজ বগি সরবরাহের এই প্রকল্পে অর্থায়ন করছে ইউরোপিয়ান ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংক (ইআইবি)। ২০২৪ সালের মে মাসে আন্তর্জাতিক দরপত্রের মাধ্যমে ভারতীয় প্রতিষ্ঠান এই নির্মাণ কাজের দায়িত্ব পায়।
প্রকল্পটি শুধু রেল বগি সরবরাহেই সীমাবদ্ধ নয়। চুক্তি অনুযায়ী ভারত বাংলাদেশকে ডিজাইন সহায়তা, প্রয়োজনীয় যন্ত্রাংশ, রক্ষণাবেক্ষণ প্রশিক্ষণ এবং বগিগুলো পরিচালনার জন্য কারিগরি সহযোগিতাও দেবে।
বাংলাদেশের রেল অবকাঠামো উন্নয়নে ভারতের অংশগ্রহণ নতুন নয়। এর আগে দুই দেশের যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন কর্মসূচির অংশ হিসেবে ভারত বাংলাদেশে ১২০টি ব্রডগেজ কোচ, ২৫টি ব্রডগেজ লোকোমোটিভ এবং ১০টি মিটারগেজ লোকোমোটিভ সরবরাহ করেছিল।
সংশ্লিষ্টদের মতে, নতুন ২০০ কোচের প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশ রেলওয়ের যাত্রী পরিবহন সক্ষমতা আরও বৃদ্ধি পাবে। একই সঙ্গে আন্তঃনগর ও দূরপাল্লার রুটে যাত্রীসেবার মান উন্নয়নের সুযোগ তৈরি হবে।
হাসিনা-পরবর্তী রাজনৈতিক বাস্তবতায় ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের ভবিষ্যৎ নিয়ে নানা আলোচনা চললেও রেল বগির এই চালান দেখাচ্ছে যে অবকাঠামো ও অর্থনৈতিক সহযোগিতার বড় প্রকল্পগুলো এখনো কার্যকর রয়েছে। ফলে আগামী মাসে প্রথম ২০টি বগির আগমন শুধু একটি পরিবহন প্রকল্প নয়, বরং দুই দেশের চলমান কৌশলগত ও অর্থনৈতিক সম্পর্কেরও একটি গুরুত্বপূর্ণ সূচক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের সম্পদ বিবরণী প্রকাশের পর সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী ও তার স্ত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদের হিসাব নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। এক বছরের ব্যবধানে স্বামী ফারুকীর সম্পদ কমলেও স্ত্রী তিশার সম্পদ বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে প্রকাশিত তথ্যে উঠে এসেছে এই চিত্র। প্রকাশিত খতিয়ান অনুযায়ী, জনপ্রিয় অভিনেত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদ এক বছরে অভাবনীয় হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তিশার মোট সম্পদের পরিমাণ ছিল ১ কোটি ৪০ লাখ ৮১ হাজার ৮৬০ টাকা। ঠিক এক বছর পর, ২০২৫ সালের ৩০ জুন সেই সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ৯৯ লাখ ৮৯ হাজার ৫০১ টাকায়। অর্থাৎ মাত্র এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ বেড়েছে ১ কোটি ৫৯ লাখ ৭ হাজার ৬৪১ টাকা, যা আগের বছরের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি। অন্যদিকে সংস্কৃতি উপদেষ্টা ও নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর ক্ষেত্রে দেখা গেছে উল্টো চিত্র। এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ কমেছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তার মোট সম্পদ ছিল ২ কোটি ২৬ লাখ ৯২ হাজার ২৬ টাকা। ২০২৫ সালের ৩০ জুন তা কমে দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ১৫ লাখ ১৮ হাজার ২৬ টাকায়। হিসাব অনুযায়ী, এক বছরে তার সম্পদ কমেছে ১১ লাখ ৭৪ হাজার টাকা। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে গত মঙ্গলবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ প্রধান উপদেষ্টা, উপদেষ্টা ও সমমর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের পাশাপাশি তাদের স্ত্রী বা স্বামীর সম্পদ বিবরণী প্রকাশ করে। একই সময়ে স্বামী-স্ত্রীর সম্পদে এমন ভিন্নমুখী পরিবর্তন স্বাভাবিকভাবেই সাধারণ মানুষের কৌতূহলের জন্ম দিয়েছে। শোবিজ অঙ্গনের জনপ্রিয় দম্পতি হওয়ায় তাদের এই আয়-ব্যয়ের হিসাব এখন টক অব দ্য কান্ট্রি।
বাসস : বাবা একজন তাঁত শ্রমিক। তিন বোন দুই ভাইয়ের মধ্যে সবার বড় রোজিনা। অভাব সংসার, তাই এক এতিম যুবকের সাথে বাবা-মা বিয়ে দেন তাকে। বিয়ের পর জন্ম হয় দুই কন্যা সন্তানের। অটোরিকশা চালিয়ে কোন রকম সংসার চালাচ্ছিলেন স্বামী রফিকুল ইসলাম। কিন্তু সড়ক দুর্ঘটনায় রফিকুলের এক চোখ সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যায়। আরেকটি চোখ আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ধীরে ধীরে ওই চোখের দৃষ্টি শক্তিও কমতে থাকে। ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে অটোরিকশা চালানো। সংসারের উপার্জনক্ষম মানুষটি অচল হয়ে পড়ায় চিকিৎসার খরচ, ঘর ভাড়া ও খাবারের পাশাপাশি মেয়েদের লেখাপড়ার খরচ চালানোই কঠিন হয়ে যায়। দিশেহারা হয়ে পরেন রোজিনা। এক পর্যায়ে মানুষের বাড়ি বাড়ি কাজ করে সংসার চালানোর চেস্টা করেন। কিন্তু সুবিধা করতে পারেন না। এমন পরিস্থিতিতে অটোরিকশা চালানোর সিদ্ধান্ত নেন তিনি। স্বামী রফিকুলের কাছেই হাতেখড়ি। গ্রামের স্কুলের মাঠে স্বামীর কাছেই অটোরিকশা চালানোর শিক্ষা নেন তিনি। পরে গ্রামের পথে নেমে পড়েন অটোরিকশা নিয়ে। ৫-৬ দিন এভাবে হাত পাকা করে একদিন টাঙ্গাইল শহরে চলে আসেন রোজিনা। এরপর শুরু করেন অটোরিক্সা চালানোর ব্যতিক্রমী জীবন সংগ্রাম। এখন টাঙ্গাইল পৌরসভায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার চালকদের মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা বেগম। জেলার বাসাইল উপজেলার আইসড়া গ্রামের বাসিন্দা রোজিনা টাঙ্গাইল পৌর শহরের এক প্রান্ত রাবনা বাইপাস থেকে আরেক প্রান্ত বেবিস্ট্যান্ডে যাত্রী আনা নেয়া করেন। যানজটের কারণে শহরে পুরুষ চালকরা যেখানে হিমসিম খায়, সেখানেই বিগত ৫ বছর ধরেই নির্বিঘেœ অটোরিকশা চালাচ্ছেন তিনি। টাঙ্গাইল পৌরসভা কার্যালয় সূত্রে জানা যাায়, টাঙ্গাইল শহরে চলাচলের জন্য ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক ও ৫ হাজার ব্যাটারিচালিত রিকশার অনুমতি (লাইসেন্স) দেওয়া হয়েছে। যানজট এড়াতে ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক জোড় ও বিজোড় সংখ্যায় দিনে দুই ভাগ করা হয়েছে। সকাল থেকে বেলা দুইটা পর্যন্ত এক ভাগ এবং বেলা দুইটা থেকে রাত পর্যন্ত আরেক ভাগের ইজিবাইক চলাচল করার নির্দেশনা দিয়েছে পৌর কর্তৃপক্ষ। কিন্তু রোজিনাকে দুই শিফটে চালানোর অনুমতি দিয়েছে পৌরসভা। সরেজমিনে দেখা যায়, নতুন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অটোরিকশা নিয়ে যাত্রী ডাকছেন রোজিনা। কলেজ গেট, পুরাতন বাসস্ট্যান্ড, ক্যাপসুল, নিরালা মোড়, বেবিস্ট্যান্ড সর্বত্রই যাত্রী আনানেয়া করেন তিনি। পুরাতন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অন্য অটো চালকদের দাঁড় করতে না দিলেও রোজিনাকে বাঁধা দেননা ট্রাফিক পুলিশ। বলতে গেলে সবাই তার প্রতি সহানুভুতিশীল। ট্রাফিক পুলিশসহ অন্য অটোচালকরাও তাকে সহযোগিতা করেন। রোজিনা বলেন, আমার অটোতে নারী যাত্রীরা খুব কম। তারা মনে করে আমার অটোতে উঠলে দুর্ঘটনায় পড়বে। কিন্তু আমি খুব সাবধানে অটো চালাই। দ্রুত গতিতেও না, আবার একেবারে ধীরগতিতেও না। এখন পর্যন্ত আমি কোন দুর্ঘটনার কবলে পড়ি নাই। শহরের পুরুষ অটোরিকশা চালকরা আমাকে অনেক সহযোগিতা করে। অটোচালক কাদের মিয়া বলেন, আমাদের শহরে কয়েক হাজার অটো চলাচল করে। তার মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। তাকে আমরা সব সময় সহযোগিতা করি। যাত্রী সাইদ মিয়া বলেন, আমি এ পর্যন্ত ৫-৬ বার রোজিনার অটোতে চড়েছি। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। অন্য পুরুষ অটো চালকের চেয়েও ভালো অটো চালান। নারী সংগঠক সেরাজুম মনিরা বলেন, তিনি অনেক দিন যাবত অটোরিকশা চালাচ্ছেন। আমি রোজিনাকে স্যালুট জানাই। একজন পুরুষের চেয়ে একজন নারী কোনো ভাবেই যে পিছিয়ে নেই, রোজিনা তা প্রমাণ করেছেন। রোজিনা বলেন, অটো চালানোর এই সিদ্ধান্তটি তার জন্য খুব সহজ ছিল না। তিনি বলেন, ৫ ও ১০ বছরের দুই মেয়েকে বাড়িতে রেখে অটোরিকশা নিয়ে সারাদিন রাস্তায় থাকতে হয়। তাদের ভালোভাবে দেখাশোনা করতে পারি না। কিন্তু কি করবো, অভাবের সংসার! এখন ঋণ নিয়ে একটু জমি কিনেছি। প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ণ প্রকল্পের অর্থায়নে প্রশাসন সেখানে ঘর তুলে দিয়েছে। শুরুতে যারা আমাকে নিয়ে ঠাট্টা করেছে এখন তারাই আমাকে সম্মান করেন। নারীরাও যে কিছু করতে পারে, তা প্রমাণ করেছি। আমার বড় মেয়ে আইসড়া উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়ে, ছোট মেয়ে পড়ে স্থানীয় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। মেয়েদের শিক্ষিত করতে হবে। ধার দেনা শোধ করতে হবে। তাই থেমে গেলো চলবে না। আমি অটোরিকশা চালিয়েই দুই সন্তানকে মানুষ করতে চাই।’ ঘারিন্দা ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য বাবুল সরকার বলেন, সরকার রোজিনাকে একটি ঘর নির্মাণ করে দিয়েছে। শুরুতে যারা তাকে নিয়ে নানান কথা বলতো, এখন তার সংকল্প ও মানষিক দৃঢ়তা দেখে থেমে গেছে। আমরা তাকে নিয়ে গর্ব করি। টাঙ্গাইলের ট্রাফিক ইন্সপেক্টর (প্রশাসন) দেলোয়ার হোসেন বলেন, শহরের একমাত্র নারী চালক রোজিনাকে কেউ যেন বিরক্ত করতে না পারে সেদিকে সব সময় নজর রাখে ট্রাফিক পুলিশ। আমরা তাকে সব সময় সহযোগিতা করে আসছি। টাঙ্গাইলের সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক শাহ আলম বলেন, বিষয়টি এখন জানতে পারলাম। ওই নারী এখনো পর্যন্ত আমাদের কাছে আসেন নাই। যদি আমাদের কাছে এসে আবেদন করেন অবশ্যই তাকে আমরা সহযেগিতা করবো, তার পাশে দাঁড়াবো।
২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশে আজ এক ঐতিহাসিক ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ২০০৮ সালের পর এই প্রথম একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হতে যাচ্ছে যেখানে দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগ রাজনৈতিক মানচিত্র থেকে কার্যত অনুপস্থিত। বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক জরিপ বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০০ আসনের মধ্যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) কার্যকর সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে যাচ্ছে। তবে ভোটের ব্যবধান এবং কিছু সমীকরণ নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। নির্বাচনের সবচেয়ে বড় নিয়ামক হয়ে দাঁড়িয়েছে আওয়ামী লীগের বিশাল ভোটব্যাংক। দলটির নিয়মিত প্রায় ৪ কোটি ভোটার এখন নতুন রাজনৈতিক আশ্রয় খুঁজছেন। সিআরএফ বা বিইপিওএস জরিপ বলছে, এই ভোটারদের প্রায় অর্ধেক বিএনপির দিকে ঝুঁকেছে, যা দলটিকে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতার পথে এগিয়ে দিচ্ছে। অন্যদিকে, প্রায় ৩০ শতাংশ আওয়ামী ভোটার জামায়াতে ইসলামীকে বেছে নিতে পারেন বলে আভাস পাওয়া যাচ্ছে। এছাড়া বাংলাদেশের বিদ্যমান নির্বাচনী ব্যবস্থার কারণে দেশজুড়ে সুষম জনসমর্থন থাকা বিএনপি আসন জয়ের ক্ষেত্রে জামায়াতের তুলনায় সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। তবে বিএনপির এই সম্ভাব্য জয়ের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও বিদ্রোহী প্রার্থীরা। প্রায় ৭৯টি নির্বাচনী এলাকায় দলের মনোনয়ন না পাওয়া ৯২ জন প্রভাবশালী নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, যা বিএনপির ১৫ থেকে ৩০টি আসন কমিয়ে দিতে পারে। অন্যদিকে, তরুণ ভোটার বা ‘জেন-জি’ প্রজন্মের বিশাল সমর্থন জামায়াতে ইসলামীর শক্তির উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেশের ৪৪ শতাংশ ভোটারই তরুণ, যাদের বড় একটি অংশ প্রথমবার ভোট দিচ্ছেন। এই তরুণরা যদি দলবেঁধে কেন্দ্রে উপস্থিত হন, তবে নির্বাচনী ফলে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। সবশেষে, প্রায় ১৭ থেকে ৩৫ শতাংশ দোদুল্যমান ভোটার এবং তাদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করবে আগামীর সরকার কতটা শক্তিশালী হবে। দ্য নিউইয়র্ক এডিটোরিয়ালের মূল পূর্বাভাস, তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি প্রায় ১৮৫টি আসনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করতে পারে এবং জামায়াতে ইসলামী ৮০টির মতো আসন পেয়ে প্রধান বিরোধী দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারে। তবে বিদ্রোহী প্রার্থীদের প্রভাব এবং তরুণ ভোটারদের উপস্থিতির ওপর ভিত্তি করে আসন সংখ্যায় বড় ধরনের হেরফের হওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। ৩৫০ একরের ঘাঁটিটিতে সামরিক বাহিনীর পাঁচ হাজার সদস্য থাকতে পারবে। গাজার ‘বোর্ড অব পিস’র নথি পর্যালোচনা করে এ তথ্য জানিয়েছে দ্য গার্ডিয়ান। প্রতিবেদনে ব্রিটিশ সংবাদ মাধ্যমটি জানিয়েছে, বোর্ড অব পিসে গাজাকে নিরাপদ করার জন্য ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যাবিলাইজেশন ফোর্স (আইএসএফ) নামে একটি আন্তর্জাতিক বাহিনী মোতায়েনের কথা বলা হয়েছে। যে স্থানটি ঘাঁটি করার জন্য বিবেচনা করা হচ্ছে সেখানে আইএসএফের সদস্যরা থাকবে। বোর্ড অব পিসের প্রধান হবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আর সংগঠনটির আংশিক নেতৃত্ব দেবেন ট্রাম্পের জামাতা জ্যারার্ড কুশনার।দ্য গার্ডিয়ান বোর্ড অব পিসের নথি পর্যালোচনা করে জানায়, ধাপে ধাপে একটি সামরিক ঘাঁটি নির্মাণ করা হবে। সবকিছু শেষ হলে ঘাঁটিটি ১৫ লাখ ১৭ হাজার ৫৭৫ বর্গমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত হবে। ঘাঁটিটির চারপাশে ট্রেইলার সংযুক্ত ২৬টি সাঁজোয়া নজরদারি টাওয়ার থাকবে। এছাড়া একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, বাংকার ও অস্ত্র রাখার গুদাম থাকবে। পুরো ঘাঁটিটি কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে ঘিরে রাখা হবে। সামরিক ঘাঁটি নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে দক্ষিণ গাজার একটি শুষ্ক সমতলভূমিতে। সেখানে ইসরায়েলি হামলার চিহ্ন রয়েছে। ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে বিভিন্ন ধাতবের ধ্বংসাবশেষ। ওই এলাকার ভিডিও পর্যালোচনা করেছে দ্য গার্ডিয়ান। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, ঘাঁটি নির্মাণের জন্য টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে। যুদ্ধক্ষেত্রে কাজের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন আন্তর্জাতিক নির্মাণ কোম্পানিগুলোর একটি ছোট দলকে ইতোমধ্যেই এলাকাটি দেখানো হয়েছে। ওই দলটি দরপত্রে অংশ নিতে আগ্রহী। ইন্দোনেশিয়া সরকার গাজায় আট হাজার সেনা সদস্য পাঠানোর জন্য প্রস্তাব দিয়েছে। বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটন ডিসিতে বোর্ড অব পিসের অনানুষ্ঠানিক বৈঠকে ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্টের অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। এছাড়া দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার আরও তিন নেতার ওই বৈঠকে অংশ নেবেন বলে জানা গেছে। জাতিসংঘের নিরাপত্তা কাউন্সিল গাজার সাময়িক স্থিতিশীলতার জন্য অস্থায়ীভাবে সামরিক বাহিনী মোতায়েনের অনুমোদন দিয়েছে। নিরাপত্তা কাউন্সিলই বোর্ড অব পিসের মূল হোতা। গাজার সীমান্ত ও শান্তি প্রণয়নে কাজ করবে আইএসএফ। এছাড়া বেসামরিকদের সুরক্ষা এবং ফিলিস্তিনি পুলিশ বাহিনীকে প্রশিক্ষণ ও সহায়তা দেবে তারা। যদি গাজায় ফের সংঘর্ষ হয়, ইসরায়েল বোমা হামলা চালায় অথবা হামাস হামলা চালায় সেক্ষেত্রে আইএসএফ কি করবে তা এখনও স্পষ্ট নয়। গাজা পুনর্গঠনে ইসরায়েল হামাসকে নিরস্ত্রীকরণের যে শর্ত দিয়েছে সেটির জন্য আইএসএফ কাজ করবে কিনা তাও স্পষ্ট না। ইতোমধ্যে বোর্ড অব পিসে ২০ এর অধিক দেশ যোগ দিয়েছে। তবে, এখনও অনেক পরাশক্তি এর থেকে দূরে রয়েছে। জাতিসংঘের অনুমোদন নিয়ে প্রতিষ্ঠিত হলেও ধারণা করা হচ্ছে, সংগঠনটির স্থায়ী নেতৃত্ব ও নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে। রুটজার্স বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক আদিল হক বলেন, “বোর্ড অব পিস এক ধরনের আইনি কল্পসত্তা। নামমাত্রভাবে এর নিজস্ব আন্তর্জাতিক আইনগত সত্তা রয়েছে, যা জাতিসংঘ ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে আলাদা। কিন্তু বাস্তবে এটি যুক্তরাষ্ট্রের ইচ্ছামতো ব্যবহারের জন্য একটি ফাঁপা খোলসমাত্র।” বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গাজা পুনর্গঠনে যে অর্থায়ন ও শাসন কাঠামো হচ্ছে তা অস্বচ্ছ। কয়েকজন ঠিকাদার গার্ডিয়ানকে জানান, গাজায় কাজ করার জন্য মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে তাদের প্রায়শ আলোচনা সরকারি ইমেলের বদলে সিগন্যালের মাধ্যমে করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রের তথ্য মতে, ঘাঁটি নির্মাণের সিদ্ধান্তটি বোর্ড অব পিসের। এতে সহায়তা করছে মার্কিন কর্মকর্তারা। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ঘাঁটিতে তৈরি বাংকার নেটওয়ার্কের মতোন কাজ করবে। প্রতিটি বাংকারের ২৪ মিটারের হবে। উচ্চতা থাকবে আড়াই মিটার। এগুলো এমনভাবে করা হবে যেন সেনা সদস্যরা আশ্রয় নিতে পারে। স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসের গাজায় সুড়ঙ্গ নেটওয়ার্ক বা টানেল রয়েছে। সেগুলোর আদলে নেটওয়ার্ক করতে চাওয়া হচ্ছে। পিস অব বোর্ডের নথি পর্যালোচনা করে এমন দাবি করছে গার্ডিয়ান। সংবাদ মাধ্যমটি বলছে, স্থানটির ভূ-ভৌত জরিপ পরিচালনা করবে ঠিকাদাররা। নথির এক অংশে ‘হিউম্যান রেমিয়েনস প্রোটোকল’র কথা বলা হয়েছে। এর মানে দাঁড়ায়, সন্দেহভাজন মানব অবশিষ্ট বা সাংস্কৃতিক নিদর্শন পাওয়া গেলে অবিলম্বে সেই এলাকায় সব কাজ বন্ধ করতে হবে। চুক্তি কর্মকর্তাকে দিকনির্দেশনার জন্য অবিলম্বে জানাতে হবে। গাজা সিভিল ডিফেন্সের ধারণা, গাজার ধ্বংসস্তূপের নিচে ১০ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনির মরদেহ রয়েছে। ঘাঁটির জন্য যে স্থানটি বিবেচিত করা হচ্ছে সেটির মালিক কে তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে, দক্ষিণ গাজার বেশিরভাগ অংশ বর্তমানে ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণে। জাতিসংঘের অনুমান, যুদ্ধ চলাকালীন ১৯ লাখ ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত হয়েছে। ফিলিস্তিনের জমিতে সরকারের অনুমতি না নিয়ে সামরিক ঘাঁটি স্থাপনকে দখল হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন ফিলিস্তিনি-কানাডিয়ান আইনজীবী এবং প্রাক্তন শান্তি আলোচক দিয়ানা বুট্টু। তিনি প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়ে বলেন, “কার অনুমতিতে তারা সামরিক ঘাঁটি স্থাপন করবে।” বিষয়টি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা বোর্ড অব পিসের কথা টানেন। ট্রাম্প প্রশাসনের একজন কর্মকর্তা সামরিক ঘাঁটির চুক্তি নিয়ে আলোচনা করতে অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, “যেমনটি প্রেসিডেন্ট বলেছেন, কোনও মার্কিন সেনা স্থলভাগে যাবে না। আমরা লিক হওয়া নথি নিয়ে আলোচনা করবো না।”
বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের প্রত্যন্ত চরাঞ্চল থেকে উঠে এসে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার কেন্দ্রে এখন তাইজুল ইসলাম, যিনি অনলাইনে পরিচিত ‘তাজু ভাই ২.০’ নামে। মাত্র একটি ভিডিও—যেখানে তিনি এক দোকানিকে প্রশ্ন করেন, “জিলাপি আজকে কত করে বেচতেছেন সরকারি রেটে?”—এই সরল উপস্থাপনাই তাকে রাতারাতি ভাইরাল করে তোলে। কয়েক ঘণ্টায় ফলোয়ার লাখ ছাড়াল রোববার রাত পর্যন্ত তার ফেসবুক অনুসারী ছিল প্রায় ৩৫ হাজার। কিন্তু সোমবার সন্ধ্যা থেকে রাতের মধ্যেই তা বেড়ে এক লাখের বেশি হয়ে যায়। ভাইরাল ভিডিওটি ইতোমধ্যে প্রায় ৫০ থেকে ৫৫ লাখবার দেখা হয়েছে। কী ছিল সেই ভিডিওতে? ভিডিওতে দেখা যায়, কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীর নারায়ণপুর বাজারে দাঁড়িয়ে স্থানীয় ভাষায় তিনি জিলাপির দাম জানতে চান। তার কথাগুলো ছিল একেবারেই সহজ ও গ্রাম্য ভঙ্গিতে— “সাদাডা কত, লালডা কত? সরকারি রেটে বেচতেছেন?” এই সরল প্রশ্নই সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। কোথা থেকে উঠে এলেন তাজু ভাই? কুড়িগ্রাম জেলার নাগেশ্বরী উপজেলার নারায়ণপুর ইউনিয়নের একটি দুর্গম গ্রামে জন্ম তার। ব্রহ্মপুত্র নদবেষ্টিত এই অঞ্চলে পৌঁছাতে এখনও কয়েকটি নৌঘাট পার হতে হয়। দারিদ্র্যের কারণে কখনো স্কুলে যাওয়া হয়নি তার। পেশায় তিনি একজন নির্মাণশ্রমিকের সহকারী (হেলপার)। কাজের ফাঁকে ঢাকায় থাকাকালীন মোবাইল ফোনে ভিডিও তৈরি করাই তার শখ। ব্যক্তিগত সংগ্রাম তাইজুল ইসলামের পরিবারে ছয় ভাই-বোন। তিনি সবার বড়। তার বাবা-মা দুজনই শ্রবণপ্রতিবন্ধী। পরিবার চালাতে তাকে ছোটবেলা থেকেই সংগ্রাম করতে হয়েছে। তিনি বলেন, “পরিবারের কষ্ট ভুলতেই ভিডিও করি। আমি সাংবাদিক না, কিন্তু আমাদের এলাকায় কেউ আসে না—তাই নিজেরাই ভিডিও বানাই।” ভাইরাল হওয়ার পেছনের উদ্দেশ্য তাইজুলের দাবি, তার ভিডিও শুধুই বিনোদনের জন্য নয়। তিনি চান তার এলাকার অবহেলিত মানুষের কথা প্রশাসনের নজরে আসুক। “আমি চাই চরের মানুষের উন্নয়ন হোক,”—বলছেন তিনি। মিশ্র প্রতিক্রিয়া ভিডিওটি নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে দুই ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ তার সরলতা ও বাস্তবতা তুলে ধরার চেষ্টা প্রশংসা করছেন আবার কেউ তাকে নিয়ে ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ করছেন তবে এসব সমালোচনায় তিনি বিচলিত নন।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের মুখে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর প্রথমবারের মতো ভারত থেকে বাংলাদেশে আসছে নতুন যাত্রীবাহী রেল বগি। দীর্ঘ অনিশ্চয়তার পর আগামী জুলাই মাসে ২০টি ব্রডগেজ যাত্রীবাহী বগির প্রথম চালান বাংলাদেশে পৌঁছানোর কথা রয়েছে। ভারতের প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম ইকোনোমিক টাইমস বুধবার (২৪ জুন) এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে স্বাক্ষরিত ৯১৫ কোটি রুপির চুক্তির আওতায় নির্মিত ২০০টি ব্রডগেজ যাত্রীবাহী বগির মধ্যে প্রথম ২০টি ইতোমধ্যে রপ্তানির জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে। ভারতীয় রেলওয়ের রপ্তানি বিভাগের কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়, জুলাই মাসেই প্রথম চালান পাঠানোর লক্ষ্য নিয়ে সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে। বগিগুলো ভারতের পাঞ্জাবের কাপুরথালায় অবস্থিত রেল কোচ কারখানায় (Rail Coach Factory) নির্মাণ করা হচ্ছে। রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর প্রকল্পে অনিশ্চয়তা বাংলাদেশে ২০২৪ সালের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর ভারতীয় এই রপ্তানি প্রকল্পের ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন দেখা দেয়। শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর কিছু সময়ের জন্য প্রকল্পের কার্যক্রম ধীরগতিতে চললেও শেষ পর্যন্ত চুক্তির বাস্তবায়ন অব্যাহত রাখা হয়েছে। ভারতীয় রেলওয়ের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা ইকোনোমিক টাইমসকে বলেন, “চুক্তির প্রথম রেকগুলো আগামী জুলাইয়ের মধ্যে প্রস্তুত হয়ে যাবে। বাংলাদেশের কাছে সময়মতো বগিগুলো হস্তান্তরের জন্য প্রয়োজনীয় সব প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।” বিশ্লেষকদের মতে, রাজনৈতিক পরিবর্তনের মধ্যেও অবকাঠামোগত সহযোগিতা অব্যাহত রাখা দুই দেশের অর্থনৈতিক ও যোগাযোগ সম্পর্কের একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বহন করে। আন্তর্জাতিক অর্থায়নে বাস্তবায়িত প্রকল্প ২০০টি ব্রডগেজ বগি সরবরাহের এই প্রকল্পে অর্থায়ন করছে ইউরোপিয়ান ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংক (ইআইবি)। ২০২৪ সালের মে মাসে আন্তর্জাতিক দরপত্রের মাধ্যমে ভারতীয় প্রতিষ্ঠান এই নির্মাণ কাজের দায়িত্ব পায়। প্রকল্পটি শুধু রেল বগি সরবরাহেই সীমাবদ্ধ নয়। চুক্তি অনুযায়ী ভারত বাংলাদেশকে ডিজাইন সহায়তা, প্রয়োজনীয় যন্ত্রাংশ, রক্ষণাবেক্ষণ প্রশিক্ষণ এবং বগিগুলো পরিচালনার জন্য কারিগরি সহযোগিতাও দেবে। দীর্ঘমেয়াদি রেল সহযোগিতার ধারাবাহিকতা বাংলাদেশের রেল অবকাঠামো উন্নয়নে ভারতের অংশগ্রহণ নতুন নয়। এর আগে দুই দেশের যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন কর্মসূচির অংশ হিসেবে ভারত বাংলাদেশে ১২০টি ব্রডগেজ কোচ, ২৫টি ব্রডগেজ লোকোমোটিভ এবং ১০টি মিটারগেজ লোকোমোটিভ সরবরাহ করেছিল। সংশ্লিষ্টদের মতে, নতুন ২০০ কোচের প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশ রেলওয়ের যাত্রী পরিবহন সক্ষমতা আরও বৃদ্ধি পাবে। একই সঙ্গে আন্তঃনগর ও দূরপাল্লার রুটে যাত্রীসেবার মান উন্নয়নের সুযোগ তৈরি হবে। কেন গুরুত্বপূর্ণ এই চালান? হাসিনা-পরবর্তী রাজনৈতিক বাস্তবতায় ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের ভবিষ্যৎ নিয়ে নানা আলোচনা চললেও রেল বগির এই চালান দেখাচ্ছে যে অবকাঠামো ও অর্থনৈতিক সহযোগিতার বড় প্রকল্পগুলো এখনো কার্যকর রয়েছে। ফলে আগামী মাসে প্রথম ২০টি বগির আগমন শুধু একটি পরিবহন প্রকল্প নয়, বরং দুই দেশের চলমান কৌশলগত ও অর্থনৈতিক সম্পর্কেরও একটি গুরুত্বপূর্ণ সূচক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) গঠনতন্ত্র অনুযায়ী প্রতি তিন বছর অন্তর জাতীয় কাউন্সিল করার বাধ্যবাধকতা থাকলেও সর্বশেষ কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হয়েছিল ২০১৬ সালের মার্চে। এরপর কেটে গেছে এক দশকেরও বেশি সময়। দলটির শীর্ষ নেতাদের ভাষ্য অনুযায়ী, রাজনৈতিক বাস্তবতা, আন্দোলন-সংগ্রাম, মামলা-মোকদ্দমা এবং সাংগঠনিক সীমাবদ্ধতার কারণে নির্ধারিত সময়ে কাউন্সিল আয়োজন সম্ভব হয়নি। তবে এ সময়ে দলের কার্যক্রম সচল রাখতে বিভিন্ন পদে রদবদল, পদোন্নতি এবং সাংগঠনিক সমন্বয় করা হয়েছে। এখন দীর্ঘ বিরতির পর সপ্তম জাতীয় কাউন্সিলের প্রস্তুতি শুরু হওয়ায় বিএনপির অভ্যন্তরে নেতৃত্বের ভবিষ্যৎ, ক্ষমতার ভারসাম্য এবং নতুন প্রজন্মের অংশগ্রহণ নিয়ে আলোচনা তীব্র হয়েছে। তারেক রহমানের নেতৃত্বে কোনো চ্যালেঞ্জ নেই? দলের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের একাধিক সূত্র বলছে, আসন্ন কাউন্সিলে চেয়ারম্যান পদে পরিবর্তনের সম্ভাবনা কার্যত নেই। ২০২৫ সালের শেষ দিকে খালেদা জিয়ার মৃত্যুর পর স্থায়ী কমিটির সিদ্ধান্তে তারেক রহমান পূর্ণাঙ্গ চেয়ারম্যানের দায়িত্ব গ্রহণ করেন। এর আগে তিনি প্রায় আট বছর ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হিসেবে দলের নেতৃত্ব দিয়েছেন। দলের ভেতরে প্রচলিত মূল্যায়ন অনুযায়ী, বর্তমান সময়ে তারেক রহমানের বিকল্প নেতৃত্ব দৃশ্যমান নয়। ফলে চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতার সম্ভাবনাও অত্যন্ত ক্ষীণ বলে মনে করছেন নেতারা। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রামের পর বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব এখন স্থিতিশীলতা ও ধারাবাহিকতাকে অগ্রাধিকার দিতে চাইছে। সে কারণে শীর্ষ নেতৃত্বে বড় ধরনের পরিবর্তনের সম্ভাবনা সীমিত। সবচেয়ে বড় প্রশ্ন: মহাসচিব থাকছেন কি মির্জা ফখরুল? চেয়ারম্যানের পর বিএনপির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সাংগঠনিক পদ মহাসচিব। বর্তমান মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এক দশকেরও বেশি সময় ধরে এ দায়িত্ব পালন করছেন। দলের দুর্দিনে আন্দোলন, রাজনৈতিক সমঝোতা, আন্তর্জাতিক যোগাযোগ এবং সাংগঠনিক সমন্বয়ে তিনি কেন্দ্রীয় ভূমিকা রেখেছেন। সম্প্রতি এক টেলিভিশন সাক্ষাৎকারে তিনি নিজেই জানান যে তিনি ক্লান্ত এবং কাউন্সিলের পর অবসর নেওয়ার ইচ্ছা পোষণ করেন। তার এই বক্তব্যের পর থেকেই মহাসচিব পদে সম্ভাব্য উত্তরসূরি নিয়ে জোর আলোচনা শুরু হয়েছে। তবে দলের একটি অংশ মনে করে, সংকটময় সময়ে নেতৃত্ব দেওয়ার অভিজ্ঞতা এবং গ্রহণযোগ্যতার কারণে দল এখনও তাকে ধরে রাখতে চাইতে পারে। মহাসচিব পদে আলোচনায় চার নেতা দলীয় সূত্রগুলো বলছে, মির্জা ফখরুল সরে দাঁড়ালে অন্তত চারজন নেতা সম্ভাব্য উত্তরসূরি হিসেবে বিবেচনায় থাকতে পারেন। ১. সালাহউদ্দিন আহমদ বর্তমানে স্থায়ী কমিটির সদস্য। নীতি নির্ধারণ, রাজনৈতিক কৌশল এবং সাংগঠনিক পরিকল্পনায় সক্রিয় ভূমিকা রাখছেন। দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা তাকে শক্তিশালী প্রার্থী হিসেবে সামনে এনেছে। ২. আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী দলের আন্তর্জাতিক যোগাযোগ, অর্থনৈতিক নীতি এবং কূটনৈতিক তৎপরতায় গুরুত্বপূর্ণ মুখ হিসেবে পরিচিত। আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে গ্রহণযোগ্যতার কারণে তিনিও আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছেন। ৩. রুহুল কবির রিজভী দীর্ঘদিন ধরে দলীয় দফতর, সাংগঠনিক সমন্বয় এবং মাঠ পর্যায়ের রাজনীতি পরিচালনার অভিজ্ঞতা রয়েছে তার। আন্দোলনের সময় দৃশ্যমান ভূমিকা তাকে শক্ত অবস্থানে নিয়ে এসেছে। ৪. শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি ছাত্ররাজনীতি থেকে উঠে আসা এই নেতা সাংগঠনিক ধারাবাহিকতা, পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তি এবং দলীয় আনুগত্যের কারণে সম্ভাব্য প্রার্থীদের তালিকায় রয়েছেন। স্থায়ী কমিটিতে আসছে নতুন মুখ? বিএনপির সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম স্থায়ী কমিটি। বর্তমানে বিভিন্ন কারণে কয়েকটি পদ কার্যত শূন্য রয়েছে। এছাড়া কিছু সদস্য অসুস্থ এবং কয়েকজন রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করছেন। এ পরিস্থিতিতে নতুন সদস্য অন্তর্ভুক্তির সম্ভাবনা জোরালো হয়েছে। দলীয় সূত্রগুলো যাদের নাম সামনে আনছে, তাদের মধ্যে রয়েছেন— রুহুল কবির রিজভী হাবিব উন নবী খান সোহেল শামসুজ্জামান দুদু সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল বিশেষ করে আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় ভূমিকা এবং সাংগঠনিক অভিজ্ঞতার কারণে রিজভীর নাম সবচেয়ে বেশি আলোচিত হচ্ছে। তরুণ নেতৃত্বকে সামনে আনার পরিকল্পনা বিএনপির শীর্ষ নেতারা ইতোমধ্যে ইঙ্গিত দিয়েছেন যে নতুন কমিটিতে নবীন ও প্রবীণের সমন্বয় ঘটানো হবে। স্থায়ী কমিটি, ভাইস চেয়ারম্যান, যুগ্ম মহাসচিব এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ পদে অপেক্ষাকৃত তরুণ নেতৃত্বকে সুযোগ দেওয়ার চিন্তাভাবনা চলছে। দলটির একাধিক নেতা মনে করছেন, আগামী রাজনৈতিক বাস্তবতায় সাংগঠনিক সক্ষমতা, জনসম্পৃক্ততা এবং আধুনিক রাজনৈতিক যোগাযোগের জন্য নতুন প্রজন্মের অংশগ্রহণ বাড়ানো জরুরি। কাউন্সিল কেন গুরুত্বপূর্ণ? বিএনপির ইতিহাসে কাউন্সিল কেবল নেতৃত্ব নির্বাচন নয়; এটি দলীয় দিকনির্দেশনা নির্ধারণেরও প্রধান মঞ্চ। ১৯৭৮ সালে প্রতিষ্ঠার পর দলটি মাত্র ছয়টি জাতীয় কাউন্সিল করেছে। প্রতিটি কাউন্সিলের মাধ্যমে নেতৃত্বের পুনর্বিন্যাস এবং রাজনৈতিক কৌশলের নতুন রূপরেখা নির্ধারিত হয়েছে। দীর্ঘ এক দশক পর অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া সপ্তম কাউন্সিল তাই শুধু সাংগঠনিক আনুষ্ঠানিকতা নয়; এটি বিএনপির ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক পথচলারও গুরুত্বপূর্ণ মোড় হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। ধারাবাহিকতার সঙ্গে পরিবর্তনের বার্তা? বর্তমান পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, বিএনপি শীর্ষ নেতৃত্বে বড় ধরনের পরিবর্তনের চেয়ে ধারাবাহিকতাকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে। তারেক রহমানের নেতৃত্ব প্রশ্নাতীত অবস্থানে থাকলেও মহাসচিব পদে নতুন মুখ আসার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। অন্যদিকে স্থায়ী কমিটি ও কেন্দ্রীয় নেতৃত্বে তরুণদের অন্তর্ভুক্তি দলটির দীর্ঘমেয়াদি পুনর্গঠনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। ফলে সপ্তম জাতীয় কাউন্সিল বিএনপির জন্য কেবল নেতৃত্ব নির্বাচনের অনুষ্ঠান নয়; বরং আগামী দশকের রাজনৈতিক কৌশল, ক্ষমতার ভারসাম্য এবং উত্তরাধিকার রাজনীতির নতুন রূপরেখা নির্ধারণের মঞ্চ হয়ে উঠতে পারে।
পশ্চিমবঙ্গে ‘হোল্ডিং সেন্টার’: অনুপ্রবেশ ঠেকানো নাকি নতুন আতঙ্কের অবকাঠামো? ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন ডেস্ক : ভারতের পশ্চিমবঙ্গ সরকার কথিত ‘বাংলাদেশি ও রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশকারী’দের আটকে রাখার জন্য রাজ্যের প্রতিটি জেলায় ‘হোল্ডিং সেন্টার’ বা আটক কেন্দ্র তৈরির নির্দেশ দেওয়ার পর নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে নাগরিক অধিকার ও মানবাধিকার প্রশ্নে। গত সপ্তাহের শেষ দিকে রাজ্য পুলিশের কাছে পাঠানো এক সরকারি নোটে বলা হয়েছে, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের গত বছরের নির্দেশিকা অনুযায়ী প্রত্যেক জেলায় এমন কেন্দ্র গড়ে তুলতে হবে, যেখানে ‘অবৈধভাবে বসবাসরত বিদেশি নাগরিকদের’ রাখা হবে। শুধু কথিত অনুপ্রবেশকারীই নয়, জেল থেকে সাজা শেষ করে মুক্তি পাওয়া এবং নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর অপেক্ষায় থাকা বিদেশিদেরও এসব কেন্দ্রে রাখা হবে। ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে গত এক বছরে এ ধরনের হোল্ডিং সেন্টার গড়ে উঠলেও পশ্চিমবঙ্গে এই প্রথম এমন উদ্যোগ নেওয়া হলো। ‘হোল্ডিং সেন্টার’: নাম বদল, বাস্তবতা একই? গত বছর থেকে ভারতের গুজরাত, মহারাষ্ট্র, দিল্লি, হরিয়ানা ও ওড়িশাসহ বিভিন্ন রাজ্যে কথিত বাংলাদেশি ও রোহিঙ্গা শনাক্তে ব্যাপক অভিযান চালানো হয়। ওইসব অভিযানে হাজার হাজার মানুষকে আটক করা হয়েছিল, যাদের মধ্যে নারী ও শিশুও ছিলেন। পরিচয় যাচাইয়ের নামে অনেককে ছয়-সাত দিন কিংবা তারও বেশি সময় আটকে রাখা হয়। পরে দেখা যায়, আটক হওয়া অনেকেই প্রকৃত ভারতীয় নাগরিক; বিশেষ করে পশ্চিমবঙ্গ থেকে কাজের সন্ধানে অন্য রাজ্যে যাওয়া বাংলাভাষী মুসলিম পরিযায়ী শ্রমিকরা। আটক ব্যক্তিদের একাংশ বিবিসি বাংলাকে জানিয়েছেন, ‘হোল্ডিং সেন্টার’ নামে পরিচিত এসব স্থান বাস্তবে ছিল অস্থায়ী আটক শিবির। কোনো অনুষ্ঠানবাড়ি, বড় অফিস ভবন বা খালি প্রাঙ্গণ ব্যবহার করা হতো এসব কেন্দ্র হিসেবে। বাইরে থাকত পুলিশি পাহারা, ভেতরে সীমিত চলাফেরা। অনেকের অভিযোগ, মোবাইল ফোন ব্যবহার করতে দেওয়া হতো না, খাবারও ছিল অপ্রতুল। কেউ কেউ গোপনে ছবি বা ভিডিও পাঠিয়ে পরিবারের কাছে নিজেদের অবস্থার কথা জানান। ভাষা ও ধর্ম কি হয়ে উঠছে সন্দেহের কারণ? আটক হওয়া বহু মানুষের দাবি, শুধুমাত্র বাংলায় কথা বলা এবং মুসলমান পরিচয়ের কারণেই তাদের সন্দেহভাজন হিসেবে ধরা হয়েছিল। পরিযায়ী শ্রমিক মঞ্চের রাজ্য সাধারণ সম্পাদক আসিফ ফারুক বলেন, “বাংলাভাষী মুসলমান শ্রমিকদের লক্ষ্য করেই বহু জায়গায় অভিযান চালানো হয়েছে। পরবর্তীতে দেখা গেছে, আটক হওয়া অনেকেই প্রকৃত ভারতীয় নাগরিক ছিলেন। কিন্তু ততক্ষণে তারা হেনস্তা, মানসিক নির্যাতন ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের শিকার হয়েছেন।” মানবাধিকারকর্মীদের আশঙ্কা, পশ্চিমবঙ্গেও যদি একই ধরনের অভিযান শুরু হয়, তাহলে বৃহৎ সংখ্যক দরিদ্র শ্রমজীবী মানুষ নতুন করে হয়রানির মুখে পড়তে পারেন। ‘পুশব্যাক’: পরিচয় যাচাইয়ের আগেই সীমান্ত পার? গত এক বছরে একাধিক ঘটনায় দেখা গেছে, পরিচয় যাচাই সম্পন্ন হওয়ার আগেই অনেককে বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়া হয়েছে। সবচেয়ে আলোচিত ঘটনাগুলোর একটি পশ্চিমবঙ্গের সোনালী খাতুন ও তার পরিবারের। গর্ভবতী অবস্থায় তাকে পরিবারসহ বাংলাদেশে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছিল। পরে আন্তর্জাতিক সমালোচনার মুখে শুধু সোনালী খাতুনকে ভারতে ফিরিয়ে আনা হয়। মুর্শিদাবাদের মেহবুব শেখ এবং পূর্ব বর্ধমানের মুস্তাফা কামাল শেখের ঘটনাও একই ধরনের। দুজনকেই বাংলাদেশে পাঠিয়ে দেওয়ার পর পুনরায় ভারতে ফিরিয়ে আনা হয়, যখন প্রমাণিত হয় তারা ভারতীয় নাগরিক। এ ধরনের ঘটনা সীমান্ত নিরাপত্তা ও নাগরিক অধিকার—দুই প্রশ্নই সামনে এনে দিয়েছে। কেন্দ্রীয় নির্দেশনায় কী বলা আছে? ভারতের প্রচলিত আইনে অবৈধভাবে প্রবেশ বা বসবাসের অভিযোগে বিদেশি নাগরিকদের আটক করে আদালতের মাধ্যমে বিচার করার বিধান রয়েছে। সাজা শেষে সংশ্লিষ্ট দেশের দূতাবাসের সহায়তায় পরিচয় নিশ্চিত করে প্রত্যর্পণ করা হয়। কিন্তু কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নতুন নির্দেশনায় আলাদা প্রক্রিয়ার কথা বলা হয়েছে। সেখানে বলা হয়— প্রতিটি রাজ্যে বিশেষ টাস্ক ফোর্স গঠন করতে হবে প্রতিটি জেলায় পুলিশের তত্ত্বাবধানে হোল্ডিং সেন্টার তৈরি করতে হবে সন্দেহভাজন ব্যক্তি যে রাজ্যের বাসিন্দা দাবি করবেন, সেই রাজ্যের পুলিশকে ৩০ দিনের মধ্যে পরিচয় যাচাই করতে হবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে রিপোর্ট না এলে ফরেনার্স রিজিওনাল রেজিস্ট্রেশন অফিসার (FRRO) প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়া শুরু করতে পারবেন অধিকারকর্মীদের মতে, এই ব্যবস্থায় ভুল শনাক্তকরণের ঝুঁকি অত্যন্ত বেশি। প্রশ্নের মুখে পরিসংখ্যান সমালোচকদের বড় প্রশ্ন—পশ্চিমবঙ্গে কথিত বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীর প্রকৃত সংখ্যা কত? অর্থনীতিবিদ ও জাতীয় কংগ্রেস নেতা প্রসেনজিৎ বসু বলেন, “কতজন বাংলাদেশি বা রোহিঙ্গা পশ্চিমবঙ্গে আছেন, সেই তথ্য সরকার আগে প্রকাশ করুক। তথ্য ছাড়া এমন অবকাঠামো তৈরির যৌক্তিকতা কোথায়?” তিনি জানান, তথ্য অধিকার আইনে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কাছে জানতে চেয়েছিলেন— ২০০০ সাল থেকে কতজন কথিত অনুপ্রবেশকারী আটক হয়েছেন তাদের ধর্মীয় পরিচয় কী কতজন বর্তমানে জেল বা ডিটেনশন সেন্টারে আছেন কতজনকে বাংলাদেশে পুশব্যাক করা হয়েছে তবে এখনও তিনি কোনো সুস্পষ্ট উত্তর পাননি। নিরাপত্তা নাকি রাজনৈতিক বার্তা? বিশ্লেষকদের মতে, পশ্চিমবঙ্গে ‘হোল্ডিং সেন্টার’ তৈরির সিদ্ধান্ত শুধু প্রশাসনিক উদ্যোগ নয়, এটি রাজনৈতিকভাবেও তাৎপর্যপূর্ণ। রাজ্যের বিরোধী দল দীর্ঘদিন ধরেই ‘অনুপ্রবেশ’ ইস্যুকে রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার করে আসছে। অন্যদিকে মানবাধিকার সংগঠনগুলোর আশঙ্কা, এই ইস্যুকে ঘিরে বাংলাভাষী মুসলমান জনগোষ্ঠীর ওপর নজরদারি ও সন্দেহের সংস্কৃতি আরও প্রাতিষ্ঠানিক রূপ পেতে পারে। ফলে প্রশ্ন উঠছে— এই হোল্ডিং সেন্টার কি সত্যিই সীমান্ত নিরাপত্তার প্রয়োজন, নাকি তা ধীরে ধীরে নাগরিক পরিচয় যাচাইয়ের নামে নতুন এক আতঙ্কের অবকাঠামো হয়ে উঠছে?