Brand logo light

ব্রেকিং

কলকাতার নিউমার্কেট এলাকার একের পর এক হোটেল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বিপাকে পড়েছেন সেখানে অবস্থানরত হাজারো বাংলাদেশি পর্যটক
কলকাতার নিউমার্কেটে ভয়াবহ আগুনের পর অভিযান, দুই দিনে বন্ধ ২২১ হোটেল : বিপাকে পড়েছেন হাজারো বাংলাদেশি পর্যটক

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন :  কলকাতার নিউমার্কেট এলাকার একের পর এক হোটেল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বিপাকে পড়েছেন সেখানে অবস্থানরত হাজারো বাংলাদেশি পর্যটক। মির্জা গালিব স্ট্রিটের ‘শিখা ইন’ হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে নয়জনের মৃত্যুর পর অগ্নিনিরাপত্তা বিধি মানা হচ্ছে কি না, তা যাচাইয়ে অভিযান শুরু করে কলকাতা পুলিশ, পৌরসভা, দমকল ও বিদ্যুৎ বিভাগ। মাত্র দুই দিনের ব্যবধানে কলকাতার ‘মিনি বাংলাদেশ’ খ্যাত মারকুইজ স্ট্রিট, কলিন স্ট্রিট, সদর স্ট্রিট ও মির্জা গালিব স্ট্রিটে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে দুই শতাধিক হোটেল। এমন অবস্থায় বিপাকে পড়েছেন হাজার হাজার বাংলাদেশি পর্যটক।   এক নজরে ‘শিখা ইন’ হোটেলে অগ্নিকাণ্ডে ৯ জনের মৃত্যু, নিহতদের মধ্যে ৭ জন বাংলাদেশি। অগ্নিনিরাপত্তা যাচাইয়ে ৪৮ ঘণ্টায় নিউমার্কেট এলাকায় ২২১টি হোটেল ও ৯টি রেস্তোরাঁ বন্ধের নির্দেশ। নিরাপত্তা বিধি না মানায় কিছু প্রতিষ্ঠানের বিদ্যুৎ-সংযোগও বিচ্ছিন্ন। কলকাতায় অবস্থানরত প্রায় ১১ হাজার বাংলাদেশি পর্যটকের মধ্যে প্রায় ৭ হাজার ছিলেন নিউমার্কেট এলাকায়। হঠাৎ হোটেল ছাড়ার নির্দেশ, নতুন আবাসন সংকট এবং বাড়তি ভাড়ায় বিপাকে পর্যটকেরা। প্রশাসনের অবস্থান—পর্যটকদের নিরাপত্তার প্রশ্নে কোনো আপস নয়। কলকাতার নিউমার্কেট এলাকা দীর্ঘদিন ধরেই বাংলাদেশি পর্যটকদের অন্যতম প্রধান গন্তব্য। চিকিৎসা, কেনাকাটা কিংবা ভ্রমণ—বিভিন্ন প্রয়োজনে কলকাতায় আসা বাংলাদেশিদের বড় একটি অংশ সাধারণত মির্জা গালিব স্ট্রিট, মারকুইজ স্ট্রিট, কলিন স্ট্রিট ও সদর স্ট্রিটের হোটেলগুলোতে অবস্থান করেন। স্থানীয়ভাবে এলাকাটি অনেকের কাছে ‘মিনি বাংলাদেশ’ নামেও পরিচিত। কিন্তু একটি ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের পর শুরু হওয়া নিরাপত্তা অভিযানে মাত্র দুই দিনের ব্যবধানে দুই শতাধিক হোটেল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় এখন সেই এলাকাতেই দেখা দিয়েছে আবাসন সংকট। সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন সেখানে অবস্থানরত হাজারো বাংলাদেশি পর্যটক। মঙ্গলবার গভীর রাতে মির্জা গালিব স্ট্রিটের ১৫জি নম্বরে অবস্থিত ‘শিখা ইন’ আবাসিক হোটেলে অগ্নিকাণ্ডে ৯ জনের মৃত্যু হয়। নিহতদের মধ্যে ৭ জন বাংলাদেশি এবং ২ জন ভারতীয় নাগরিক। এই ঘটনার পর নিউমার্কেট এলাকায় হোটেলগুলোর অগ্নিনিরাপত্তা ও অন্যান্য নিরাপত্তাবিধি মানা হচ্ছে কি না, তা যাচাইয়ে মাঠে নামে পুলিশ, পৌরসভা, দমকল ও বিদ্যুৎ বিভাগ। এরপর থেকেই একের পর এক হোটেল বন্ধের নির্দেশ আসতে শুরু করে। আগুনের পর ৪৮ ঘণ্টার অভিযান অগ্নিকাণ্ডের পর ওই দিন সন্ধ্যা থেকেই নিউমার্কেট থানার পুলিশ এলাকায় অভিযান শুরু করে। পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতিতে কঠোর অবস্থানের কথা আগেই জানিয়েছিল প্রশাসন। অভিযানে অংশ নেন উপমুখ্যমন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পালও। বিভিন্ন হোটেলের অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা পরিদর্শনের পর কয়েকটি প্রতিষ্ঠান বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হয়। পরবর্তীতে কলকাতা পুলিশ, কলকাতা পৌরসভা, দমকল বিভাগ এবং সিইএসসির সমন্বয়ে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। এই কমিটির দায়িত্ব কলকাতার সাড়ে তিন হাজারের বেশি হোটেলের নিরাপত্তাবিধি পর্যালোচনা করা। তবে বৃহত্তর কলকাতার তুলনায় নিউমার্কেট এলাকায় অভিযান ছিল বিশেষভাবে কঠোর। গত শনিবার থেকে মাত্র ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে ২২১টি হোটেল এবং ৯টি রেস্তোরাঁ বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হয়। নিরাপত্তাবিধি না মানার অভিযোগে একাধিক হোটেলের বিদ্যুৎ-সংযোগও বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে। প্রশাসনের এই সিদ্ধান্তের ফলে হঠাৎ করেই আবাসন সংকটে পড়েন বাংলাদেশি পর্যটকদের বড় একটি অংশ। হোটেল ছাড়ার নির্দেশ, কোথায় যাবেন পর্যটকেরা? কলকাতায় এই মুহূর্তে প্রায় ১১ হাজার বাংলাদেশি পর্যটক অবস্থান করছেন বলে সংশ্লিষ্টদের ধারণা। তাদের মধ্যে প্রায় ৭ হাজারই ছিলেন নিউমার্কেট এলাকায়। হোটেল বন্ধের নির্দেশের পর অনেককে দ্রুত আবাসন খুঁজতে হচ্ছে। কেউ আশপাশের এলাকায় নতুন হোটেল খুঁজছেন, কেউ দালালের মাধ্যমে থাকার ব্যবস্থা করার চেষ্টা করছেন। আবার কেউ নির্ধারিত সময়ের আগেই দেশে ফিরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন। তবে নতুন হোটেল পাওয়া গেলেও সেখানে ভাড়া বেড়ে যাওয়ার অভিযোগ রয়েছে। পর্যটকদের অভিযোগ, কিছু হোটেলে আগের তুলনায় দেড় থেকে দ্বিগুণ ভাড়া চাওয়া হচ্ছে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে ভাড়া দ্বিগুণ থেকে তিন গুণ পর্যন্ত বেড়ে গেছে বলেও অভিযোগ করেছেন সংশ্লিষ্টরা। কলকাতার গ্রিন লাইন পরিবহনের সঙ্গে যুক্ত শ্যামল ঘোষ বলেন, সীমান্ত থেকে যাত্রীবোঝাই বাস নিয়মিত কলকাতায় আসছে, কিন্তু তাদের থাকার মতো পর্যাপ্ত হোটেল এখন পাওয়া যাচ্ছে না। তার ভাষ্য, অনেক পর্যটক বাধ্য হয়ে আশপাশের এলাকায় হোটেল খুঁজছেন। তবে সেখানে ভাড়া অনেক বেড়ে গেছে। তিনি বলেন, নিরাপত্তার বিষয়ে সরকারের কঠোর অবস্থানকে তারা সমর্থন করেন। তবে হোটেল মালিকদের নিরাপত্তা ব্যবস্থা সংশোধনের জন্য কিছুটা সময় দেওয়া হলে পরিস্থিতি ভিন্ন হতে পারত। ‘গতকাল উঠেছি, আজই বের হয়ে যেতে হলো’ সোমবার সকাল থেকেই নিউমার্কেট এলাকায় অনেক পর্যটককে ব্যাগপত্র নিয়ে হোটেল থেকে বের হয়ে যেতে দেখা যায়। তাদের একজন ঢাকার বাসিন্দা নাসিব পাপ্পু। চিকিৎসার জন্য তিনি কলকাতায় এসেছেন। তিনি জানান, বাংলাদেশ থেকে কলকাতায় এসে বিকেলে একটি হোটেলে ওঠেন। হোটেলে ওঠার সময় তাকে সম্ভাব্য বন্ধের বিষয়ে কিছু জানানো হয়নি। পরে বাইরে থেকে ফিরে হোটেল কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে তিনি জানতে পারেন, থানা থেকে হোটেল খালি করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সোমবার সকাল ১০টার মধ্যে তাকে হোটেল ছাড়তে বলা হয়। পরদিন সকালেই তাকে হোটেল ছেড়ে বের হতে হয়। নাসিব পাপ্পুর ভাষায়, চিকিৎসার জন্য কলকাতায় এসে হোটেল নিয়ে এমন সমস্যায় পড়তে হবে, তা তিনি ভাবেননি। তার মতে, দীর্ঘদিন পর পর্যটন ভিসা চালু হওয়ার পর বাংলাদেশি পর্যটকদের সংখ্যা বাড়তে শুরু করেছিল। কিন্তু এমন পরিস্থিতি চলতে থাকলে ভবিষ্যতে অনেকেই কলকাতায় আসার বিষয়ে নতুন করে ভাবতে পারেন। ‘প্রায় ৫০ জন বাংলাদেশি পর্যটক ছিলেন’ নাম প্রকাশ না করার শর্তে নিউমার্কেট এলাকার এক হোটেল মালিক জানান, তার হোটেলে প্রায় ৫০ জন বাংলাদেশি পর্যটক অবস্থান করছিলেন। সোমবার তাদের সবাইকে হোটেল ছাড়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। হঠাৎ করে এতসংখ্যক পর্যটকের বিকল্প আবাসনের ব্যবস্থা করা সহজ ছিল না বলে জানান তিনি। এদিকে, নিউমার্কেটের একটি হোটেলের কর্মচারী সেলিমের অভিযোগ, একটি এলাকায় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনার পর আশপাশের বহু হোটেলের বিরুদ্ধে একযোগে ব্যবস্থা নেওয়ায় কর্মসংস্থানের ওপরও চাপ তৈরি হয়েছে। তার ভাষায়, ব্যবসার অবস্থা এমনিতেই খারাপ ছিল। নতুন করে হোটেল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় অনেক কর্মচারীর জীবিকা অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। বাংলাদেশি পর্যটকনির্ভর অর্থনীতিতে নতুন ধাক্কা নিউমার্কেট এলাকার অর্থনীতির সঙ্গে বাংলাদেশি পর্যটকদের সম্পর্ক দীর্ঘদিনের। এই পর্যটকদের ঘিরে গড়ে উঠেছে অসংখ্য হোটেল, খাবারের দোকান, পরিবহনসেবা, কেনাকাটার ব্যবসা এবং বিভিন্ন ধরনের পর্যটনসংশ্লিষ্ট কার্যক্রম। সাম্প্রতিক কয়েক বছরে নানা কারণে এই ব্যবসায় ধাক্কা লেগেছিল। পর্যটন ভিসা চালুর পর পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হওয়ার আশা তৈরি হয়েছিল। ব্যবসায়ীরা বলছেন, পর্যটক বাড়তে শুরু করার সময় নতুন করে বিপুলসংখ্যক হোটেল বন্ধ হয়ে যাওয়ার ঘটনা পুরো এলাকার ব্যবসায় নতুন চাপ তৈরি করতে পারে। স্থানীয় অর্থনীতির সঙ্গে যুক্ত রিকশাচালক, ছোট ব্যবসায়ী এবং বিভিন্ন পেশার মানুষও এ ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাদের আশঙ্কা, দীর্ঘ সময় ধরে হোটেলগুলো বন্ধ থাকলে এর প্রভাব শুধু মালিকদের ওপর নয়, পুরো এলাকার ক্ষুদ্র অর্থনীতিতেও পড়বে। নিরাপত্তা বনাম পর্যটন সংকট তবে প্রশাসনের যুক্তি ভিন্ন। ‘শিখা ইন’-এর অগ্নিকাণ্ডে ৯ জনের মৃত্যুর পর নিরাপত্তাবিধি উপেক্ষা করার কোনো সুযোগ নেই বলে মনে করছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। প্রশাসনের অবস্থান স্পষ্ট—পর্যটকদের নিরাপত্তার সঙ্গে কোনো ধরনের আপস করা হবে না। অগ্নিনিরাপত্তা বিধি এবং অন্যান্য বাধ্যতামূলক নিরাপত্তা মানদণ্ড না মানা হোটেলের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা অব্যাহত থাকবে। ফলে নিউমার্কেট এলাকায় এখন দুটি বাস্তবতা পাশাপাশি দাঁড়িয়ে গেছে। একদিকে, ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা। অন্যদিকে, হঠাৎ বিপুলসংখ্যক হোটেল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় আবাসন সংকটে পড়া হাজারো পর্যটক—যাদের বড় একটি অংশ বাংলাদেশি। যে আগুন বদলে দিল নিউমার্কেটের পরিস্থিতি মঙ্গলবার গভীর রাতে কলকাতার নিউমার্কেট এলাকার ১৫জি, মির্জা গালিব স্ট্রিটের ‘শিখা ইন’ আবাসিক হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড ঘটে। এ ঘটনায় ৯ জনের মৃত্যু হয়। নিহতদের মধ্যে ৭ জন বাংলাদেশি নাগরিক এবং ২ জন ভারতীয় নাগরিক। নিহত বাংলাদেশিরা হলেন—আকরাম আলী (৭৪), দেবাশীষ দত্ত (৩৯), আফসানা শিরমিন (২৭), সর্নাশীষ দত্ত (২), বাবু আহমেদ (৩৭), রেবতী সরকার এবং এস এম আলিমুজ্জামান। দুই ভারতীয় নাগরিকের মধ্যে ঝাড়খণ্ডের সন্দীপ পাশওয়ান (১৯) এবং শিলিগুড়ির যোগ নারায়ণ আগারওয়াল (৬৮) রয়েছেন। এই অগ্নিকাণ্ডের পরই নিউমার্কেট এলাকার হোটেল নিরাপত্তা নিয়ে বড় ধরনের প্রশ্ন সামনে আসে। তারই ধারাবাহিকতায় শুরু হওয়া অভিযানে এখন পর্যন্ত দুই শতাধিক হোটেল বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।   নিউমার্কেট এলাকায় চলমান অভিযানের মূল লক্ষ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করা—এ বিষয়ে প্রশাসনের অবস্থান কঠোর। তবে হঠাৎ করে বিপুলসংখ্যক হোটেল বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর প্রশ্ন উঠছে, সেখানে অবস্থানরত হাজারো পর্যটকের জন্য বিকল্প ব্যবস্থা কতটা প্রস্তুত ছিল? বাংলাদেশি পর্যটকদের বড় অংশ চিকিৎসা, ব্যবসা বা পারিবারিক প্রয়োজনে কলকাতায় যান। তাদের অনেকেই আগাম বুকিং এবং নির্দিষ্ট সময়সূচি অনুযায়ী সফর পরিকল্পনা করেন। সেই অবস্থায় হঠাৎ হোটেল ছাড়ার নির্দেশ তাদের জন্য শুধু আবাসন সংকট নয়, চিকিৎসা, যাতায়াত ও অতিরিক্ত ব্যয়ের নতুন সমস্যাও তৈরি করছে। অন্যদিকে, অগ্নিকাণ্ডে ৯ জনের মৃত্যুর ঘটনা দেখিয়ে দিয়েছে—নিরাপত্তাবিধি উপেক্ষার মূল্য কতটা ভয়াবহ হতে পারে। তাই এখন নিউমার্কেটের সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ—কীভাবে কঠোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি পর্যটকদের জন্য একটি সুশৃঙ্খল ও কার্যকর বিকল্প আবাসন ব্যবস্থা তৈরি করা যায়। কারণ, নিরাপত্তার প্রশ্নে কোনো আপস যেমন গ্রহণযোগ্য নয়, তেমনি পর্যটকদের হঠাৎ অনিশ্চয়তার মুখে ঠেলে দেওয়াও এই সংকটের দীর্ঘমেয়াদি সমাধান হতে পারে না। একটি ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের পর মাত্র ৪৮ ঘণ্টায় কলকাতার নিউমার্কেট এলাকায় বন্ধ ২২১টি হোটেল। হঠাৎ আবাসন সংকট, বাড়তি ভাড়া আর হোটেল ছাড়ার নির্দেশে বিপাকে হাজারো বাংলাদেশি পর্যটক। নিরাপত্তা নিশ্চিত করার এই অভিযানের মাঝেই উঠছে প্রশ্ন—পর্যটকদের বিকল্প ব্যবস্থা কোথায়?

নিজস্ব প্রতিবেদক আগস্ট ২৫, ২০২৬ 0
বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক নতুন সন্ধিক্ষণে: হাসিনার ফেরার ঘোষণা কি বদলে দেবে কূটনৈতিক সমীকরণ?

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন :   বাংলাদেশ ও ভারতের সম্পর্ক আবারও এক গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে এসে দাঁড়িয়েছে। প্রায় আড়াই বছর আগে ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মুখে ক্ষমতা হারিয়ে দেশ ছাড়ার পর সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আগামী ডিসেম্বরে দেশে ফেরার ঘোষণা দিয়েছেন। এই ঘোষণাকে কেন্দ্র করে দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক অস্বস্তি নতুন মাত্রা পেয়েছে। গত ৫ আগস্ট নয়াদিল্লিতে ভারতীয় ও আন্তর্জাতিক সাংবাদিকদের উদ্দেশে দেওয়া এক অনলাইন বক্তব্যে শেখ হাসিনা বলেন, দেশে ফিরলে কারাবরণ কিংবা মৃত্যুদণ্ডের মতো পরিণতির আশঙ্কা থাকলেও দেশের মানুষের সেবা করার দায়িত্ববোধ থেকেই তিনি ফিরতে চান। এই ঘোষণার পরই তীব্র প্রতিক্রিয়া জানায় ঢাকা। বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকার অভিযোগ করে, নয়াদিল্লিতে এমন সংবাদ সম্মেলনের সুযোগ দেওয়া দুই দেশের সম্পর্ক পুনর্গঠনের প্রচেষ্টাকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। সরকারের ভাষ্য অনুযায়ী, বিষয়টি নিয়ে আগেই ভারতকে সতর্ক করা হয়েছিল। তারপরও অনুষ্ঠানটি আয়োজনের সুযোগ দেওয়ায় বাংলাদেশ গভীর হতাশা প্রকাশ করেছে। ঢাকার দৃষ্টিতে, শেখ হাসিনার ক্ষমতাচ্যুতির দ্বিতীয় বার্ষিকীর দিন এমন আয়োজন শুধু কূটনৈতিক সংবেদনশীলতাই নয়, বরং বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব ও জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের শহীদদের স্মৃতির প্রতিও অসম্মান। ভারত কী বলছে? ভারত সরকার শুরু থেকেই নিজেদের এই আয়োজন থেকে দূরে রাখার চেষ্টা করেছে। তাদের দাবি, ফরেন করেসপন্ডেন্টস ক্লাব অব সাউথ এশিয়ায় আয়োজিত ওই সংবাদ সম্মেলনের সঙ্গে ভারতের কোনো সম্পৃক্ততা নেই এবং সরকারিভাবে কোনো অনুমোদনও দেওয়া হয়নি। তবে এই ব্যাখ্যা ঢাকার উদ্বেগ দূর করতে পারেনি। ২০২৪ সালের গণ-আন্দোলনের ছায়া ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার আন্দোলন বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে বড় এক মোড় তৈরি করে। আন্দোলন দমনে কঠোর অভিযানে এক হাজারেরও বেশি মানুষের প্রাণহানির অভিযোগ ওঠে। শেষ পর্যন্ত ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা পদত্যাগ করে ভারত চলে যান। তার ভারতে অবস্থান বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে দীর্ঘদিন ধরেই বিতর্কের বিষয়। বিশেষ করে ২০২৫ সালের নভেম্বরে মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে বিশেষ ট্রাইব্যুনাল শেখ হাসিনা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার পর পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে। এরপর থেকেই বাংলাদেশ সরকার একাধিকবার শেখ হাসিনার রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড সীমিত করা এবং তাকে বিচারের মুখোমুখি করতে প্রত্যর্পণের আহ্বান জানায়। কিন্তু ভারত এখন পর্যন্ত সেই অনুরোধে সাড়া দেয়নি। নয়াদিল্লির কৌশলগত হিসাব ভারতের নীতিনির্ধারকদের কাছে বাংলাদেশ কেবল প্রতিবেশী নয়; এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত অংশীদার। ৪ হাজার ১০০ কিলোমিটার দীর্ঘ সীমান্ত, উত্তর-পূর্ব ভারতের সঙ্গে স্থল যোগাযোগ, সীমান্ত নিরাপত্তা এবং বিদ্রোহ দমনে বাংলাদেশের সহযোগিতা ভারতের নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্বার্থের সঙ্গে সরাসরি জড়িত। নয়াদিল্লির ধারণা, জোরপূর্বক শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশে পাঠানো ভারতের জন্য গ্রহণযোগ্য বিকল্প নয়। তবে তার স্বেচ্ছায় দেশে ফেরার সিদ্ধান্ত বর্তমান উত্তেজনা কিছুটা প্রশমিত করতে পারে। কূটনৈতিক মহলে এমন গুঞ্জনও রয়েছে যে, দেশে ফেরার পর শেখ হাসিনার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কয়েকটি ইউরোপীয় দেশের সঙ্গে ভারত নীরবে যোগাযোগ রাখছে। যদিও এ বিষয়ে ভারত সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি। ক্ষমতার পালাবদল ও বদলে যাওয়া কূটনীতি শেখ হাসিনার সময় বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক ছিল অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ। কিন্তু তার পতনের পর অন্তর্বর্তী সরকারের সময় চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের ঘনিষ্ঠতা বৃদ্ধি এবং ভারতের উদ্বেগকে গুরুত্ব না দেওয়ার অভিযোগে সম্পর্কে দূরত্ব তৈরি হয়। পরে বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকার ক্ষমতায় আসার পর সম্পর্ক পুনর্গঠনের চেষ্টা শুরু হয়। গত ফেব্রুয়ারিতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের শপথ অনুষ্ঠানে ভারতের পররাষ্ট্রসচিব বিক্রম মিশ্রি ও লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার উপস্থিতি সেই বার্তারই অংশ হিসেবে দেখা হয়। এরপর ভারত বাংলাদেশে জ্বালানি সহায়তা হিসেবে ৪৫ হাজার টন ডিজেল পাঠায়, নতুন রাষ্ট্রদূত নিয়োগ দেয় এবং সেপ্টেম্বরে অনুষ্ঠেয় ব্রিকস সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে আমন্ত্রণ জানায়। তবে একই সময়ে পাকিস্তান, চীন ও তুরস্কের সঙ্গে বাংলাদেশের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বৃদ্ধিকে ভারত সতর্কতার সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করছে। সামনে বড় পরীক্ষা: গঙ্গা ও তিস্তা দুই দেশের সম্পর্কের ভবিষ্যৎ নির্ধারণে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুগুলোর একটি হলো পানিবণ্টন। ১৯৯৬ সালে স্বাক্ষরিত গঙ্গা চুক্তির ৩০ বছরের মেয়াদ আগামী ডিসেম্বরে শেষ হচ্ছে। জলবায়ু পরিবর্তন, নদীর প্রবাহ এবং আঞ্চলিক বাস্তবতা বিবেচনায় নতুন চুক্তি দুই দেশের জন্যই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। একই সঙ্গে বহু বছর ধরে ঝুলে থাকা তিস্তা পানিবণ্টন চুক্তিও আবার আলোচনায় এসেছে। বর্তমানে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার এবং পশ্চিমবঙ্গ—উভয় জায়গাতেই বিজেপি ক্ষমতায় থাকায় নতুন সমঝোতার সম্ভাবনা আগের তুলনায় বেশি বলে মনে করছেন অনেক পর্যবেক্ষক। চীনের প্রভাব নিয়ে ভারতের উদ্বেগ ভারতের পার্লামেন্টারি কমিটি অন এক্সটার্নাল অ্যাফেয়ার্স সম্প্রতি সরকারকে বাংলাদেশে উন্নয়ন সহযোগিতা আরও বাড়ানোর সুপারিশ করেছে। কমিটির মতে, বাংলাদেশে অবকাঠামো, বন্দর উন্নয়ন এবং প্রতিরক্ষা খাতে চীনের ক্রমবর্ধমান উপস্থিতি ভারতের জন্য দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠছে। তাদের সুপারিশ—বিশ্বাসভিত্তিক অংশীদারিত্ব আরও শক্তিশালী করে বাংলাদেশে ভারতের অবস্থান সুদৃঢ় করতে হবে। একদিকে বিচার, রাজনীতি ও অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার প্রশ্ন; অন্যদিকে সীমান্ত, বাণিজ্য, পানি, আঞ্চলিক কৌশল এবং চীন-ভারত প্রতিযোগিতার বাস্তবতা—সব মিলিয়ে আগামী কয়েক মাস দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের জন্য অত্যন্ত সংবেদনশীল সময় হতে যাচ্ছে। ডিসেম্বরে শেখ হাসিনার সম্ভাব্য প্রত্যাবর্তন এবং একই সময়ে গঙ্গা চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার বিষয়টি বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ককে নতুন এক পরীক্ষার সামনে দাঁড় করিয়েছে। এই সংকট কীভাবে সামাল দেওয়া হবে, তার ওপরই নির্ভর করবে দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের আগামী অধ্যায়।

নিজস্ব প্রতিবেদক আগস্ট ৮, ২০২৬ 0
গণপ্রতিরোধের মুখে চব্বিশের ৫ আগস্ট হাসিনার স্বৈরশাসন থেকে মুক্ত হয় বাংলাদেশ

বাসস:  ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট (সোমবার) ছাত্র-জনতার সর্বোচ্চ আত্মত্যাগ ও তীব্র প্রতিরোধের মুখে প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করে শেখ হাসিনা ভারতে পালিয়ে যান। এর মাধ্যমে প্রায় ১৬ বছরের স্বৈরশাসনের অবসান ঘটে। বাংলাদেশ এক ভয়ঙ্কর ফ্যাসিবাদী স্বৈরশাসনের কবল থেকে মুক্তি পায়। গণআন্দোলনের মুখে শেখ হাসিনা দেশ ছেড়ে পালিয়ে গেছেন। অথচ নিজের দীর্ঘ শাসনামলে বহুবার অহংকার করে উঁচু গলায় বলেছেন, ‘শেখ হাসিনা পালায় না’। এমনকি ২০২৪ সালের ২২ জুলাই গণআন্দোলন চলাকালেও ব্যবসায়ীদের সঙ্গে চলা এক বৈঠকেও এ কথা পুনর্ব্যক্ত করেছিলেন হাসিনা। কিন্তু সেই বক্তব্যের দুই সপ্তাহের মধ্যেই জনগণের তীব্র প্রতিরোধ, প্রচণ্ড ঘৃণা ও গণআন্দোলনের মুখে পদত্যাগ করে পালিয়ে যেতে বাধ্য হন তিনি।চব্বিশের ৫ আগস্ট বাংলাদেশের জনগণের জন্য একদিকে যেমন বিজয়ের, অন্যদিকে ততটাই মর্মান্তিক। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তথ্য অনুযায়ী এ বিজয় অর্জনে হাজারো শহীদ, ২৩ হাজারেরও বেশি আহত, সাত শতাধিক মানুষ দৃষ্টিহারা, হাজারো মানুষের পঙ্গুত্ববরণ, হাজারো সাধারণ মানুষ, রাজনৈতিক নেতাকর্মী, শিক্ষার্থীর কারাবরণ, নির্যাতন-নিপীড়নের অবর্ণনীয় ত্যাগ রয়েছে এ অর্জনে। রয়েছে প্রিয়জন, স্বজন এবং সন্তান হারানোর করুণ আর্তনাদ। ৫ আগস্ট হাসিনার সরকারের পতনের পরও পুলিশের বর্বর হামলায় অনেক মানুষ প্রাণ হারান। শেখ হাসিনার অনুগত আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠন যুবলীগ ও ছাত্রলীগের সশস্ত্র ক্যাডারদের হামলায় জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শত শত মানুষ নিহত এবং অসংখ্য মানুষ আহত হন। এসব ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে এখন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে বিচারিক কার্যক্রম চলছে। চব্বিশের জুলাই-আগস্টে গণঅভ্যুত্থানে মানবতাবিরোধী অপরাধের ৬টি মামলায় রায় ইতোমধ্যে ঘোষণা করেছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। আলোচিত ৬টি রায়ে ১৬ জনের মৃত্যুদণ্ড ও ১১ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়ার পাশাপাশি এসব মামলার অপর আসামিদের বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।   আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চলমান বিচারের বিষয়ে চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম  বলেন, চব্বিশের জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানে শহীদ ও আহতদের বিচারের প্রতিশ্রুতি নিয়ে যে ট্রাইব্যুনাল পুনর্গঠিত হয়েছিল, এখন পর্যন্ত দুটি ট্রাইব্যুনালের দেওয়া ৬টি রায়ের মাধ্যমে সে প্রতিশ্রুতি অনেকাংশে পূরণ হয়েছে। দেশের অন্য কোনো আদালতের চেয়ে অনেক কম সময়ে সেনসিটিভ ৬টি মামলায় যে রায় ঘোষণা করা হয়েছে, তা অবশ্যই দৃষ্টান্তমূলক। এখনো অনেকগুলো মামলা বিচারাধীন রয়েছে, দুটি ট্রাইব্যুনালে সেগুলোর বিচার চলছে এবং সেগুলো বিচারের গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে রয়েছে। আশা করি, আমাদের ট্রাইব্যুনাল চব্বিশের জুলাই-আগস্টে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের সব বিচার নিশ্চিত হবে। যেভাবে হাসিনার পতন অনিবার্য হয়ে ওঠে ৫ আগস্টের কারফিউ উপেক্ষা করে ‘মার্চ টু ঢাকা’ কর্মসূচি সফল করতে হাজার হাজার মানুষ রাজধানী ঢাকার অভিমুখে পদযাত্রা করেন। দেশজুড়ে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার লাখ লাখ মানুষ রাজপথে নেমে আসেন। সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান শেখ হাসিনার পদত্যাগের খবর নিশ্চিত করার পর জনতার উল্লাসে চারদিক মুখরিত হয়ে ওঠে। শেখ হাসিনার ক্ষমতার আধিপত্য এবং আওয়ামী লীগের কথিত রাজনৈতিক দুর্গ যেন মুহূর্তেই ভেঙে পড়ে। রাজধানীর রাজপথ দখলে নেয় লাখ লাখ মানুষ। তাদের মধ্যে হাজার হাজার বিক্ষুব্ধ জনতা শেখ হাসিনার তৎকালীন বাসভবন গণভবনে প্রবেশ করে বিজয় উদ্‌যাপন করা শুরু করে।   শুধু গণভবন নয়, শেখ হাসিনা দেশত্যাগ করার পর অসংখ্য মানুষ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ও জাতীয় সংসদেও প্রবেশ করে। দুপুর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত শিশু, বৃদ্ধ, শ্রমজীবী মানুষ ও শিক্ষার্থী সবাই রাজপথে নেমে দীর্ঘদিনের একনায়কতান্ত্রিক শাসনের পতন উদ্‌যাপন করে।হাসিনার পতনের আনন্দে রাজপথে অসংখ্য মানুষ শুকরিয়া আদায়ে সেদিন নফল নামাজ আদায় করেন। শেখ হাসিনা শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত ক্ষমতা ধরে রাখার চেষ্টা করেন। ৫ আগস্ট রাজধানীর প্রবেশপথগুলোতে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সংঘর্ষ হয়। দুপুরের দিকে হাজার হাজার মানুষ শাহবাগে জড়ো হতে থাকেন। শেখ হাসিনা হঠাৎ দেশত্যাগ করার পরও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী রাজধানীসহ সারা দেশে ছাত্র-জনতার ওপর গুলি চালায়। এতে অনেক মানুষ নিহত ও আহত হন। ২০০৯ সালে রাষ্ট্রক্ষমতায় আসার পর থেকেই শেখ হাসিনা তার এই ‘নিরঙ্কুশ ক্ষমতা’ ধরে রাখতে চেয়েছেন। এ লক্ষ্যে তিনি মানবাধিকার লঙ্ঘন, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা হরণসহ শাসনব্যবস্থায় নানা অনিয়ম ও দমন-পীড়নের বিরুদ্ধে দেশি-বিদেশি সমালোচনাকেও সম্পূর্ণভাবে উপেক্ষা করেন। তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বিলোপ করে তার অধীনে একের পর এক বিতর্কিত জাতীয় নির্বাচন করে ক্ষমতা ধরে রাখেন। ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপিসহ দেশের অধিকাংশ রাজনৈতিক দলের বর্জনের মধ্যে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। হাসিনার অধীনে অনুষ্ঠিত ওই নির্বাচনে ১৫৩ জন আওয়ামী লীগ-সমর্থিত প্রার্থী বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন, যা ইতিহাসে কলঙ্কজনক অধ্যায় সৃষ্টি করে। ২০১৮ সালের ৩০ ডিসেম্বর একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনও হাসিনার অধীনে অনুষ্ঠিত হয়। ওই নির্বাচনে আওয়ামী লীগ জোটের পাশাপাশি বিএনপির নেতৃত্বাধীন জোটও অংশ নিয়েছিল। শেখ হাসিনা সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের আশ্বাস দিলেও নির্বাচনের আগের দিন রাতেই সারা দেশের সব ব্যালট বাক্স ভর্তি করে নির্বাচন শেষ করা হয়। ওই নির্বাচনে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি আওয়ামী লীগের কর্মীরা মানুষের ভোটাধিকার হরণ করে। ইতিহাসে ওই নির্বাচন ‘রাতের ভোট’ হিসেবে স্বীকৃতি পায়। দেশের অন্যতম প্রধান দল বিএনপিকে মাত্র ৬টি আসনে বিজয়ী দেখানো হয়। ২০২৪ সালের ৭ জানুয়ারি দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ইতিহাসে ‘আমি-ডামি’ নির্বাচন হিসেবে স্বীকৃতি পায়। ওই নির্বাচন আওয়ামী লীগ বনাম আওয়ামী লীগের কর্মী এবং কতিপয় দোসরদের মধ্যেই অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচনের প্রাক্কালে বিএনপির সব শীর্ষ নেতৃত্বসহ জামায়াতে ইসলামী ও অন্যান্য দলের শীর্ষ নেতৃত্ব এবং হাজার হাজার রাজনৈতিক নেতাকর্মীকে কারাবন্দি করে রাখা হয়। হাসিনা তার ক্ষমতা টিকিয়ে রাখতে অসংখ্য গুম, খুন ও ভয়াবহ কারা নির্যাতনের অসংখ্য নজির স্থাপন করেছেন। আয়নাঘরে আটক রেখে অবর্ণনীয় নির্যাতনের ঘটনা প্রকাশ হলে মানুষ আতঙ্কে শিহরিত হয়ে ওঠে। বর্বর এসব ঘটনা পৃথিবীর সব নিষ্ঠুরতাকেও হার মানায়। গুমের শিকার শত শত মানুষের সন্ধান এখনো মেলেনি।   হাসিনার শাসনামলে বিএনপিসহ প্রধান রাজনৈতিক দলগুলো নির্বিঘ্নে কোনো সমাবেশ করতে পারেনি। বিভিন্ন রকম বাধার পাশাপাশি গণগ্রেপ্তার এবং সাজানো মিথ্যা মামলা ছিল নিত্যদিনের ঘটনা। চব্বিশের দুনিয়া কাঁপানো ৩৬ জুলাইয়ের (১ জুলাই থেকে ৫ আগস্ট) আন্দোলনেও একই ঘটনা ঘটায় হাসিনা সরকার। বিএনপি-জামায়াতসহ গণতন্ত্রকামী রাজনৈতিক দলসমূহের অধিকাংশ শীর্ষ নেতৃত্বকেই কারারুদ্ধ করে রাখা হয়। চব্বিশের জুলাইয়ের টানা আন্দোলন আগস্টের ৫ আগস্ট সফলতা পায়, এটিই ৩৬ জুলাই আন্দোলন হিসেবে জনগণের কাছ থেকে স্বীকৃতি পায়। সরকারি চাকরিতে কোটা ব্যবস্থার যৌক্তিক সংস্কারের দাবিতে শিক্ষার্থীদের শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের প্রতি হাসিনার উদাসীনতা এবং দমনমূলক আচরণই শেষ পর্যন্ত এ আন্দোলনকে সফল গণঅভ্যুত্থানে রূপ দেয়। দেশের মানুষ কখনো কল্পনাও করতে পারেনি, ১ জুলাই শুরু হওয়া কোটা সংস্কার আন্দোলন একপর্যায়ে ছাত্র-জনতার সম্মিলিত ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান’-এ রূপ নেবে। শিক্ষার্থীরা শুরুতে সরকারি চাকরিতে কোটা ব্যবস্থার যৌক্তিক সংস্কারের দাবিকে কেন্দ্র করেই রাজপথে নামেন। ২০১৮ সালে শিক্ষার্থী ও চাকরিপ্রত্যাশীদের আন্দোলনের মুখে সরকার এক প্রজ্ঞাপনে প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির সরকারি চাকরিতে কোটা বাতিল করে দেয়। ২০২৪ সালের জুনে হাইকোর্ট সেই প্রজ্ঞাপনকে অবৈধ ঘোষণা করে কোটা পুনর্বহালের রায় দেন। হাইকোর্টের রায়ে ফের ৫৬ শতাংশ কোটা প্রথা পুনর্বহাল হলে শিক্ষার্থীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ তৈরি হয়। মেধাবী শিক্ষার্থীদের বঞ্চনার প্রতীক হিসেবে এই কোটা পুনর্বহালকে তারা প্রত্যাখ্যান করে এবং তীব্র ছাত্র আন্দোলন গড়ে ওঠে। সরকার শিক্ষার্থীদের এ আন্দোলন দমন করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও আওয়ামী লীগের সমর্থক ক্যাডারদের মাঠে নামিয়ে দেয়, যার ফলে এ আন্দোলন গণঅভ্যুত্থানে রূপ নেয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীদের ওপর আওয়ামী ক্যাডার বাহিনীর হামলার চিত্র মনে হলে এখনো গা শিউরে ওঠে। জাতিসংঘের হিসাব অনুযায়ী, এই আন্দোলনে প্রায় ১ হাজার ৪০০ মানুষ নিহত হন এবং প্রায় ২০ হাজার মানুষ আহত হন। যার ফলে দেশ রক্তাক্ত এক প্রান্তরে পরিণত হয়। গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়, ৫ আগস্ট সকাল থেকেই ‘মার্চ টু ঢাকা’ কর্মসূচিতে যোগ দিতে আন্দোলনরত ছাত্র-জনতা শাহবাগে আসতে শুরু করেন। তারা যখন কারফিউ ও পুলিশের ব্যারিকেড উপেক্ষা করে রাজধানীতে প্রবেশের চেষ্টা করেন, তখনই আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নির্বিচারে গুলি চালায়। এতে হতাহতের সংখ্যা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়ে যায়। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়করা মূলত ৬ আগস্ট ‘মার্চ টু ঢাকা’ কর্মসূচি ঘোষণা দিয়েছিলেন। কিন্তু ৩ ও ৪ আগস্ট আওয়ামী লীগের ‘রাজনৈতিক শক্তি প্রদর্শনের’ নামে চালানো হামলায় যথাক্রমে অন্তত ৯৩ ও ৬৬ জন নিহত হওয়ায় শিক্ষার্থীরা কর্মসূচির সময় এগিয়ে এনে ৫ আগস্ট নির্ধারণ করেন। আন্দোলন যখন সহিংস হয়ে ওঠে, সমন্বয়করা সারা দেশে হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় দায় স্বীকার করে শেখ হাসিনাকে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাওয়াসহ বেশ কয়েকটি দাবি জানিয়েছিলেন। কিন্তু সরকার তা না করে আন্দোলন দমনে কৌশল অবলম্বন করে। একপর্যায়ে ৯ দফা ঘোষণা করে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন ছাত্র সমন্বয়করা। এরপর চব্বিশের ৩ আগস্ট কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে এক জনসভায় শেখ হাসিনার পদত্যাগের দাবি তুলে এক দফা ঘোষণা করেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়করা। শেখ হাসিনার পদত্যাগের এক দফা দাবি ঘোষণার পর আন্দোলনকারীদের ওপর দমন-পীড়ন আরও বেড়ে যায়। এরপর আন্দোলনকারীরা ৫ আগস্ট ‘মার্চ টু ঢাকা’ কর্মসূচি ঘোষণা করেন। দিনটিকে তারা ‘৩৬ জুলাই’ হিসেবে আখ্যায়িত করেন। তাদের মতে, শেখ হাসিনার পতন না হওয়া পর্যন্ত জুলাই মাস শেষ হবে না।   অবশেষে আসে সেই ঐতিহাসিক দিন ৫ আগস্ট। ভোরে আলো ফুটতেই ঢাকার বিভিন্ন এলাকা ও শহরতলি থেকে লাখ লাখ মানুষ রাজধানীর শাহবাগ অভিমুখে যাত্রা শুরু করেন। ঢাকার বাইরে থেকেও হাজার হাজার মানুষ পুলিশের বাধা উপেক্ষা করে রাজধানীতে আসার চেষ্টা করেন। পরিস্থিতি তখন ছিল চরম উত্তেজনাপূর্ণ ও অস্থির। শেখ হাসিনাকে ক্ষমতা থেকে সরাতে হাজার হাজার মানুষ জীবন দেওয়ার জন্য প্রস্তুত ছিল। কোনো কিছুই তাদের থামাতে পারেনি। তারা যেকোনো নিরাপত্তাব্যবস্থাকে পদদলিত করে গণভবনের দিকে অগ্রসর হতে থাকে। শেষ পর্যন্ত শেখ হাসিনা উপলব্ধি করেন, বাংলাদেশের মাটিতে এটাই তার শেষ মুহূর্ত। এবার বিদায় নিতে হবে। এরপর শেখ হাসিনা প্রধানমন্ত্রী পদ থেকে পদত্যাগ করেন এবং তার ছোট বোন শেখ রেহানাকে সঙ্গে নিয়ে একটি সামরিক হেলিকপ্টারে করে ভারতের উদ্দেশে দেশত্যাগ করেন। এর মধ্য দিয়ে তার দীর্ঘদিনের স্বৈরশাসনের অবসান ঘটে। ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থানে রাজপথ কাঁপানো বিভিন্ন স্লোগান আন্দোলনকে বেগবান করেছিল। সেই স্লোগানগুলো অধিকার আদায়, প্রতিবাদ ও সরকার পতনের প্রতীক হয়ে উঠেছিল। প্রাথমিক প্রতিবাদ ও মেধার স্লোগান ছিল-‘কোটা না মেধা? মেধা! মেধা!’, ‘চাইলাম অধিকার, হয়ে গেলাম রাজাকার!’, ‘আমি কে, তুমি কে? রাজাকার, রাজাকার! কে বলেছে, কে বলেছে? স্বৈরাচার, স্বৈরাচার!’, ‘আপোষ না সংগ্রাম? সংগ্রাম! সংগ্রাম!’ এবং ‘দালালি না রাজপথ? রাজপথ! রাজপথ!’ প্রতিরোধ ও প্রতিবাদের স্লোগান ছিল-‘আমার ভাই মরল কেন? প্রশাসন জবাব চাই!’, ‘আমার খায়, আমার পরে, আমার বুকেই গুলি করে!’, ‘তোর কোটা তুই নে, আমার ভাই ফিরিয়ে দে!’, ‘লাশের ভেতর জীবন দে, নইলে গদি ছাইড়া দে!’ এবং ‘ভয় পেলে শেষ, লড়লে বাংলাদেশ!’ সরকার পতনের চূড়ান্ত স্লোগান ছিল-‘এক দুই তিন চার, শেখ হাসিনা গদি ছাড়!’, ‘দফা এক, দাবি এক, হাসিনা সরকারের পতন!’ এবং ‘ইনকিলাব জিন্দাবাদ!’ লন্ডনে থেকে আন্দোলনে নেতৃত্ব দেওয়া বিএনপির তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের মুখে উচ্চারিত বিভিন্ন স্লোগান আন্দোলনে ভিন্নমাত্রা যোগ করে। উল্লেখ্য, বিতর্কিত ১/১১ এর জরুরি তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময়ে নির্যাতন নিপীড়নের শিকার হয়ে দীর্ঘদিন লন্ডনে নির্বাসিত ছিলেন তিনি। তারেক রহমানের স্লোগানগুলো ছিল: ‘যদি তুমি ভয় পাও, তবে তুমি শেষ; যদি তুমি রুখে দাঁড়াও-তবেই তুমি বাংলাদেশ।’ ‘দফা ১, দাবি ১, খুনি হাসিনার পদত্যাগ।’  তবে স্বৈরাচারী শাসন থেকে মুক্ত করে জনগণের বাংলাদেশ জনগণের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার মূল লক্ষ্য নিয়ে ‘টেক ব্যাক বাংলাদেশ’ স্লোগানটি আন্দোলনকারীদের মাঝে জোরালো প্রচার পায়। কোটা সংস্কার আন্দোলন তীব্র রূপ ধারণ করার পর তারেক রহমান সরাসরি এই এক দফা দাবির স্লোগানটি সামনে নিয়ে আসেন। সেটি হলো-‘করবো কাজ, গড়বো দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ।’ স্বৈরাচার পতন ও রাষ্ট্র পুনর্গঠনের ডাক দিতে গিয়ে তিনি এই স্লোগানটির ওপর সবচেয়ে বেশি জোর দেন।

নিজস্ব প্রতিবেদক আগস্ট ৫, ২০২৬ 0
র‍্যাবের টিএফআই সেল ‘আয়নাঘর’: ট্রাইব্যুনালের পরিদর্শনে উঠে এলো গুম, গোপন বন্দিশালা ও আলামত নষ্টের অভিযোগ

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন :  ঢাকার উত্তরার বিমানবন্দরসংলগ্ন র‍্যাব-১ ব্যাটালিয়নের কম্পাউন্ডে অবস্থিত টাস্কফোর্স ফর ইন্টারোগেশন (টিএফআই) সেল—যা দীর্ঘদিন ধরে ‘আয়নাঘর’ নামে পরিচিত—পরিদর্শন করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এর তিন বিচারপতি। তাদের সঙ্গে ছিলেন চিফ প্রসিকিউটর ও প্রসিকিউশন টিমের সদস্যরা। পরিদর্শনের সময় স্থাপনাটির কাঠামো, বিভিন্ন সেল, জিজ্ঞাসাবাদ কক্ষ এবং অভিযোগ অনুযায়ী গুম ও নির্যাতনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দিক পর্যালোচনা করা হয়। প্রসিকিউশনের দাবি, শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে এই স্থাপনাটি বলপূর্বক গুম ও নির্যাতনের একটি গুরুত্বপূর্ণ গোপন বন্দিশালা হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছিল। আওয়ামী লীগ এ ধরনের অভিযোগ অতীতে অস্বীকার করে এসেছে। কোথায় অবস্থিত টিএফআই সেল? র‍্যাব-১ ব্যাটালিয়নের কম্পাউন্ডের অস্ত্রাগারের পাশে অবস্থিত একটি পুরোনো দ্বিতল ভবনে টিএফআই সেলটি নির্মিত হয়। আনুষ্ঠানিকভাবে এটি জিজ্ঞাসাবাদ কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত হলেও তদন্ত-সংশ্লিষ্টদের দাবি, সময়ের সঙ্গে এটি গোপন আটককেন্দ্রে রূপ নেয়। প্রসিকিউশনের ভাষ্য অনুযায়ী, পুরো স্থাপনাটি র‍্যাবের গোয়েন্দা শাখা (ইন্ট উইং)-এর পরিচালকের নিয়ন্ত্রণে পরিচালিত হতো এবং সাধারণ প্রশাসনিক কাঠামোর বাইরে বিশেষ গোপনীয়তায় পরিচালিত হওয়ার কারণে এর কোডনেম ছিল ‘হাসপাতাল’। কীভাবে পরিচালিত হতো বলে অভিযোগ? প্রসিকিউশনের অভিযোগ, ২০০৯ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে বলপূর্বক গুমের ঘটনাগুলো একটি সমন্বিত কাঠামোর মাধ্যমে পরিচালিত হতো। অভিযোগ অনুযায়ী, নির্দিষ্ট ব্যক্তিকে লক্ষ্য করে অপহরণ, গোপনে আটক, জিজ্ঞাসাবাদ, নির্যাতন এবং কোনো কোনো ক্ষেত্রে হত্যার মতো কর্মকাণ্ড পরিচালিত হতো। কখনও র‍্যাব এককভাবে, আবার কখনও অন্যান্য সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় করে এসব অভিযান চালানো হয়েছে বলেও দাবি করা হয়। তদন্তকারীদের ভাষ্য অনুযায়ী, টিএফআই সেলে রাখা অনেক ব্যক্তিকে পরবর্তীতে অন্য গোপন বন্দিশালাতেও স্থানান্তর করা হয়েছিল। ২৯টি স্থায়ী সেল: কী পাওয়া গেছে? পরিদর্শনে ট্রাইব্যুনাল দেখতে পায়, পুরো ভবনে মোট ২৯টি স্থায়ী সেল রয়েছে। নিচতলায় রয়েছে— খোলা টয়লেটসহ ১০টি ছোট সেল প্রতিটি সেলের গড় আয়তন প্রায় ৫ ফুট × ৮ ফুট একই তলায় নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা র‍্যাব সদস্যদের ব্যারাক দ্বিতীয় তলায় রয়েছে— আরও ১০টি সেল দুটি বড় আকারের তথাকথিত 'ভিআইপি সেল' ছোট দুটি সংযুক্ত টয়লেট গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের কয়েকটি অফিস কক্ষ 'ডেথ সেল' নামে পরিচিত সাতটি সংকীর্ণ কক্ষ প্রবেশমুখের সিঁড়ির পাশে খোলা টয়লেটসংবলিত সাতটি অতিক্ষুদ্র সেলের সন্ধান পাওয়া যায়। প্রতিটি সেলের আয়তন গড়ে মাত্র ২ ফুট × ৪ ফুট। প্রসিকিউশনের ভাষ্য অনুযায়ী, এগুলোকে নিরাপত্তা সদস্যদের মধ্যে 'ডেথ সেল' বা 'যম সেল' নামে ডাকা হতো। তদন্তে আরও উঠে এসেছে, আটক ব্যক্তির সংখ্যা বেড়ে গেলে ভবনের করিডোরে কাপড় বা ক্যানভাসের পার্টিশন দিয়ে অস্থায়ী সেলও তৈরি করা হতো। সাউন্ডপ্রুফ নির্যাতন কক্ষের অভিযোগ পরিদর্শনে তিনটি সাউন্ডপ্রুফ জিজ্ঞাসাবাদ কক্ষের অস্তিত্ব পাওয়া যায়। প্রসিকিউশনের অভিযোগ অনুযায়ী, এসব কক্ষে ছিল— বৈদ্যুতিক মোটরে ঘোরানো স্টিলের চেয়ার বৈদ্যুতিক শক দেওয়ার ব্যবস্থা ছাদ থেকে ঝুলিয়ে নির্যাতনের সরঞ্জাম লোহার মই-আকৃতির নির্যাতন বেড তদন্তকারীদের দাবি, আটক ব্যক্তিদের এসব যন্ত্রের মাধ্যমে স্বীকারোক্তি আদায়ের চেষ্টা করা হতো। এছাড়া কক্ষগুলোর দেয়ালে কাটা হাত, উপড়ে ফেলা চোখসহ নির্যাতনের বিভৎস ছবি টাঙিয়ে রাখা হয়েছিল বলেও প্রসিকিউশন জানিয়েছে। আলামত নষ্টের অভিযোগ ট্রাইব্যুনালের পরিদর্শনে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে উঠে আসে স্থাপনাটির কাঠামোগত পরিবর্তনের অভিযোগ। চিফ প্রসিকিউটরের দাবি, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর ভবনের দেয়াল, দরজা ও জানালার বিভিন্ন অংশ পরিবর্তন করে গুম-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ আলামত আড়াল করার চেষ্টা করা হয়েছে। তদন্তকারীরা জানান, ভুক্তভোগীদের বর্ণনার সঙ্গে স্থাপনার মিল না পাওয়ায় বিস্তারিত অনুসন্ধানে কয়েকটি নতুন দেয়াল শনাক্ত করা হয়। পরে সেগুলো অপসারণ করলে আড়ালে থাকা ২২টি কক্ষের সন্ধান পাওয়া যায়। চিফ প্রসিকিউটর যা বললেন চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, তদন্ত শুরুর সময় পুরো স্থাপনাটিকে এমনভাবে পরিবর্তন করা হয়েছিল, যাতে ভুক্তভোগীদের দেওয়া বর্ণনার সঙ্গে মিল না পাওয়া যায়। তার ভাষ্য, দেয়াল অপসারণের পর লুকিয়ে রাখা কক্ষ এবং একটি ডেথ সেলের সন্ধান পাওয়া গেছে। তিনি বলেন, যারা অতীতে এসব কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিলেন, তাদের যেমন জবাবদিহির মুখোমুখি হতে হবে, তেমনি পরে আলামত নষ্ট বা স্থাপনা পরিবর্তনের অভিযোগে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধেও আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বিচারাধীন মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলা চিফ প্রসিকিউটর জানান, ২০২৪ সালের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর উদ্ধার হওয়া কয়েকজন ভুক্তভোগী আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে অভিযোগ দায়ের করেন। তাদের মধ্যে ব্যারিস্টার মীর আহমেদ বিন কাশেম আরমানের অভিযোগের ভিত্তিতে টিএফআই সেলে গুম ও নির্যাতনের অভিযোগে মানবতাবিরোধী অপরাধের একটি মামলা বর্তমানে বিচারাধীন। তিনি আরও দাবি করেন, এখন পর্যন্ত গুম ও হত্যার শিকার ২৫০ জনেরও বেশি ব্যক্তির সন্ধান মেলেনি। নিখোঁজদের তালিকায় বিএনপি নেতা ইলিয়াস আলী এবং সুমনের নামও রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। তদন্তের সামনে যেসব প্রশ্ন এই পরিদর্শনের পর কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন সামনে এসেছে— টিএফআই সেলের প্রকৃত ব্যবহার কী ছিল? গুমের অভিযোগের সঙ্গে কারা সরাসরি জড়িত ছিলেন? স্থাপনাটির কাঠামো পরিবর্তনের নির্দেশ কে দিয়েছিল? আলামত নষ্টের অভিযোগ কতটা প্রমাণ করা সম্ভব হবে? বিচারিক প্রক্রিয়ায় ভুক্তভোগীদের সাক্ষ্য ও ফরেনসিক প্রমাণ কতটা ভূমিকা রাখবে? এসব প্রশ্নের উত্তর এখন বিচারিক তদন্ত ও আদালতের কার্যক্রমের ওপর নির্ভর করছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক আগস্ট ১, ২০২৬ 0
উলুছড়ি গ্রামের বাজার ও বেশকিছু বাড়ি বন্যার পানিতে ডুবে যায়
পাহাড়ি ঢল, বৃষ্টিপাত ও অব্যবস্থাপনার ত্রিমুখী চাপ

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন :  চট্টগ্রাম বিভাগের পাঁচ জেলায় সাম্প্রতিক বন্যা ও পাহাড়ধস শুধু প্রাকৃতিক দুর্যোগ নয়, বরং বহুদিনের অবকাঠামোগত দুর্বলতা, ঝুঁকিপূর্ণ বসতি এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার সীমাবদ্ধতাকে সামনে নিয়ে এসেছে। চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবানে অতি ভারী বর্ষণ, পাহাড়ি ঢল ও পাহাড়ধসে রবিবার (১২ জুলাই) সন্ধ্যা পর্যন্ত অন্তত ৫০ জনের মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছেন অর্ধশতাধিক। ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে আট লাখ ৬৬ হাজার ৬১৪ জনে।   দুর্যোগের মাত্রা জেলা মৃত্যু কক্সবাজার ২৮ জন চট্টগ্রাম ১৩ জন রাঙামাটি ৩ জন বান্দরবান ৬ জন মোট ৫০ জন   সংখ্যায় ক্ষয়ক্ষতি ক্ষতিগ্রস্ত মানুষ ৮,৬৬,৬১৪ জন খোলা আশ্রয়কেন্দ্র ১,৭২৭টি আশ্রয় নেওয়া মানুষ ৩৭,০৫৫ জন সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাত ৪১২ মিমি   কেন বন্যা এত প্রাণঘাতী হয়ে উঠল বিশ্লেষণে দেখা যায়, এই বিপর্যয়ের পেছনে কয়েকটি কারণ একসঙ্গে কাজ করেছে। রেকর্ডভাঙা বৃষ্টিপাত ৪৩ বছরের রেকর্ড ভেঙে একদিনে সর্বোচ্চ ৪১২ মিলিমিটার পর্যন্ত বৃষ্টিপাত হয়। অল্প সময়ে এত বিপুল বৃষ্টিপাত হওয়ায় পাহাড়ি ঢলের সঙ্গে সমতল এলাকার পানি দ্রুত বেড়ে যায়। উজানের পাহাড়ি ঢল ভারতের ত্রিপুরা ও সংলগ্ন পার্বত্য অঞ্চল এবং দেশের অভ্যন্তরীণ পাহাড়ি এলাকা থেকে নেমে আসা ঢল সাঙ্গু, ডলু ও শঙ্খ নদীর পানির চাপ বাড়িয়ে দেয়। এসব নদীর পানি বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় সাতকানিয়া, লোহাগাড়া, চন্দনাইশ ও বাঁশখালী দ্রুত প্লাবিত হয়। পাহাড়ধসের ঝুঁকি অতিভারী বর্ষণে পাহাড়ের মাটি নরম হয়ে অন্তত ৯৭টি স্থানে পাহাড়ধসের ঘটনা ঘটে। পাহাড়ের পাদদেশে ও ঝুঁকিপূর্ণ ঢালে গড়ে ওঠা অস্থায়ী ও অবৈধ বসতিগুলো মাটির নিচে চাপা পড়ায় মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে যায়। নিষ্কাশন ব্যবস্থার দুর্বলতা স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, দীর্ঘদিনের অপরিকল্পিত নগরায়ণ, খাল-নালা দখল এবং পর্যাপ্ত রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে বৃষ্টির পানি দ্রুত সরতে পারেনি। ফলে অনেক এলাকায় দীর্ঘস্থায়ী জলাবদ্ধতা কৃত্রিম বন্যার রূপ নেয়। সতর্কতা উপেক্ষা ও সীমিত প্রয়োগ প্রশাসন মাইকিং ও অনুরোধের মাধ্যমে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার বাসিন্দাদের আশ্রয়কেন্দ্রে যেতে বললেও অনেকে যাননি। তবে প্রশ্ন উঠেছে, ঝুঁকিপূর্ণ বসতি থেকে মানুষকে সরিয়ে নিতে প্রশাসন কতটা কার্যকর ও আইনগত ব্যবস্থা নিয়েছিল।   সাতকানিয়া ও বাঁশখালীতে মানবিক সংকট চট্টগ্রামের সাতকানিয়া ও বাঁশখালীতে পরিস্থিতি সবচেয়ে ভয়াবহ। কয়েক লাখ মানুষ পানিবন্দি অবস্থায় রয়েছেন। অনেক এলাকায় বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন, খাদ্য ও বিশুদ্ধ পানির সংকট তীব্র, এবং যোগাযোগ ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে। পশ্চিম বাঁশখালীর কাথারিয়া, বড়ইতলী, গণ্ডামারা, ডোমরা, কদমরসূল, খানখানাবাদ ও বাহারছড়াসহ উপকূলীয় এলাকায় অধিকাংশ বাড়িঘর পানির নিচে তলিয়ে গেছে। অনেক পরিবার আশ্রয়কেন্দ্র বা আত্মীয়-স্বজনের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছে। কিছু মানুষ বাড়ির উঁচু অংশ বা টিনের ছাদে অবস্থান করে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। মোবাইল ফোন চার্জ দিতে না পারায় অনেক পরিবার আত্মীয়-স্বজনের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।   ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের জেলা ভিত্তিক চিত্র জেলা ক্ষতিগ্রস্ত মানুষ চট্টগ্রাম ৬,৬২,০০০ জন কক্সবাজার ১,৫৮,০২৭ জন রাঙামাটি ৩,৮২০ জন খাগড়াছড়ি ৩৪,৪১৭ জন বান্দরবান ৮,৩৫০ জন মোট ৮,৬৬,৬১৪ জন   আশ্রয়কেন্দ্র ও বাস্তবতা পাঁচ জেলায় মোট ১,৭২৭টি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হলেও সেখানে আশ্রয় নিয়েছেন ৩৭,০৫৫ জন। ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের তুলনায় আশ্রয় নেওয়া মানুষের সংখ্যা তুলনামূলক কম। জেলা আশ্রয়কেন্দ্র আশ্রিত মানুষ চট্টগ্রাম ৬৭০টি ২২,৬০০ জন কক্সবাজার ৬৪০টি ২,৯৭৪ জন রাঙামাটি ৪৭টি ৩,৮২০ জন খাগড়াছড়ি ১৫০টি ২,৯১৬ জন বান্দরবান ২২০টি ৪,৭৪৫ জন মোট ১,৭২৭টি ৩৭,০৫৫ জন   প্রশাসনের পদক্ষেপ ও প্রশ্ন চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার ড. মো. জিয়াউদ্দীন জানিয়েছেন, বন্যাকবলিত এলাকা সার্বক্ষণিক মনিটরিং করা হচ্ছে এবং উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম চলছে। চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা বলেছেন, দুর্গম এলাকায় স্পিডবোট ব্যবহার করে উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে এবং ৬৭০টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছিল। প্রশাসনের পক্ষ থেকে আরও জানানো হয়েছে: ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় মাইকিং করে মানুষকে আশ্রয়কেন্দ্রে যাওয়ার আহ্বান জানানো হয়। সেনাবাহিনীসহ বিভিন্ন বাহিনী উদ্ধার অভিযানে অংশ নেয়। প্রায় ১০ হাজার স্বেচ্ছাসেবক ত্রাণ ও উদ্ধার কার্যক্রমে কাজ করছেন। চট্টগ্রাম মহানগরের ২৬টি ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়কে পাঁচটি জোনে ভাগ করে বিশেষ টিম গঠন করা হয়েছে। সব কর্মকর্তা-কর্মচারীর ছুটি বাতিল করে ২৪ ঘণ্টার কন্ট্রোল রুম চালু রাখা হয়েছে। তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, জলাবদ্ধতা নিরসন প্রকল্প থাকা সত্ত্বেও পানি দ্রুত সরতে পারেনি এবং উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রমে সমন্বয়ের ঘাটতি ছিল।   মূল প্রশ্নগুলো ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ি বসতি থেকে মানুষকে সরাতে প্রশাসন কেন আরও কঠোর পদক্ষেপ নেয়নি? খাল-নালা দখল ও নিষ্কাশন ব্যবস্থার দুর্বলতা দূর করতে দীর্ঘমেয়াদি পদক্ষেপ কতটা কার্যকর ছিল? আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত থাকলেও কেন বিপুল সংখ্যক মানুষ সেখানে যাননি? দুর্গম এলাকায় দ্রুত উদ্ধার ও ত্রাণ পৌঁছাতে ভবিষ্যতে কী ধরনের সমন্বিত ব্যবস্থা প্রয়োজন?   এই বিপর্যয় দেখিয়েছে যে অতি ভারী বৃষ্টিপাত ও পাহাড়ি ঢল তাৎক্ষণিক কারণ হলেও, ঝুঁকিপূর্ণ বসতি, দুর্বল নিষ্কাশন ব্যবস্থা এবং দুর্যোগ প্রস্তুতির সীমাবদ্ধতা প্রাণহানিকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ভবিষ্যতে একই ধরনের দুর্যোগের ক্ষতি কমাতে আগাম সতর্কতা, ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা থেকে বাধ্যতামূলক স্থানান্তর, প্রাকৃতিক পানি প্রবাহের পথ সংরক্ষণ এবং স্থানীয় পর্যায়ে দ্রুত সমন্বিত উদ্ধার ব্যবস্থার উন্নয়ন জরুরি।

নিজস্ব প্রতিবেদক জুলাই ১৩, ২০২৬ 0
শেখ হাসিনা
আইনি প্রক্রিয়ার মুখোমুখি হতে হবে শেখ হাসিনাকে: দেশে ফেরার ঘোষণায় রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া, আইনি বাস্তবতা নাকি কৌশলগত বার্তা?

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : ভারতে অবস্থানরত বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেশে ফেরার পরিকল্পনার কথা আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে প্রকাশিত হওয়ার পর  রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে। বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী এবং জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)সহ জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পক্ষে অবস্থান নেওয়া রাজনৈতিক দলগুলোর নেতারা প্রায় অভিন্ন ভাষায় বলেছেন, শেখ হাসিনা দেশে ফিরলে তাকে রাজনৈতিক নেতা হিসেবে নয়, বরং তার বিরুদ্ধে চলমান ও নিষ্পন্ন মামলাগুলোর আইনি প্রক্রিয়ার মুখোমুখি হতে হবে। তবে কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের একটি অংশ মনে করছেন, শেখ হাসিনার দেশে ফেরা কেবল তার ব্যক্তিগত ইচ্ছার ওপর নির্ভর করছে না। এর সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে বাংলাদেশ ও ভারতের কূটনৈতিক সম্পর্ক, ভ্রমণসংক্রান্ত আনুষ্ঠানিকতা এবং সম্ভাব্য আইনি প্রক্রিয়া। কী বলেছেন শেখ হাসিনা? রয়টার্সকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে শেখ হাসিনা জানান, তিনি চলতি বছরের ডিসেম্বরের দিকে বাংলাদেশে ফেরার পরিকল্পনা করছেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, দেশে ফিরে তিনি এবং আওয়ামী লীগের কয়েকজন জ্যেষ্ঠ নেতা আদালতে আত্মসমর্পণ করবেন। তিনি বলেন, দেশে ফিরলে তাকে গ্রেফতার করা হতে পারে, এমনকি প্রাণনাশের আশঙ্কাও রয়েছে। তবুও তিনি আদালতের মুখোমুখি হতে চান। রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতিক্রিয়া শেখ হাসিনার এই বক্তব্যের পর বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী ও এনসিপির নেতারা বলেছেন, তার বিরুদ্ধে যেসব মামলা বিচারাধীন বা যেসব মামলায় আদালতের সিদ্ধান্ত এসেছে, সেগুলোর আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই পরবর্তী পদক্ষেপ হওয়া উচিত। বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী গণমাধ্যমে বলেন, শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে জুলাই ২০২৪ সালের আন্দোলন-সংক্রান্ত অভিযোগসহ বিভিন্ন মামলার বিচার চলছে এবং আদালতই তার অপরাধ ও শাস্তি সম্পর্কে সিদ্ধান্ত দেবেন। বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলালের মতে, আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতৃত্বের বর্তমান রাজনৈতিক অবস্থান ও কৌশল নিয়ে দলটির মাঠপর্যায়ের নেতাকর্মীদের মধ্যেও অনিশ্চয়তা রয়েছে। তার দাবি, অনেক কর্মীর মধ্যে নেতৃত্বের ভূমিকা নিয়ে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ড. হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, যদি রয়টার্সে প্রকাশিত সাক্ষাৎকার সঠিক হয়ে থাকে এবং শেখ হাসিনা দেশে ফেরেন, তাহলে তাকে প্রচলিত আইনি প্রক্রিয়ার মুখোমুখি হতে হবে। একই সঙ্গে তিনি ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে বিদ্যমান বন্দিবিনিময় চুক্তির বিষয়টিও উল্লেখ করেন। অন্যদিকে এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেন, শেখ হাসিনা কখন, কীভাবে এবং কোন প্রক্রিয়ায় দেশে ফিরবেন—এটি তার ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত নয়; বরং এ বিষয়ে বাংলাদেশ সরকারের কূটনৈতিক ও আইনি উদ্যোগই নির্ধারক হবে। এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক সরোয়ার তুষারও বলেছেন, শেখ হাসিনা দেশে ফিরলে তার বিরুদ্ধে আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত। আইনি বাস্তবতা কী? বিশ্লেষকদের মতে, শেখ হাসিনার বাংলাদেশে প্রত্যাবর্তনের প্রশ্নে কয়েকটি বিষয় গুরুত্বপূর্ণ— তার ভ্রমণ নথি বা পাসপোর্টের বর্তমান অবস্থা। বাংলাদেশে প্রবেশের জন্য প্রয়োজনীয় ট্রাভেল ডকুমেন্ট। বাংলাদেশ সরকারের আনুষ্ঠানিক অবস্থান। ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে বিদ্যমান আইনি ও কূটনৈতিক প্রক্রিয়া। আদালতে বিচারাধীন বা নিষ্পন্ন মামলাগুলোর আইনগত অবস্থান।   কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের পর্যবেক্ষণ পররাষ্ট্র ও কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, শেখ হাসিনার দেশে ফেরা শুধু রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত নয়; এটি একটি রাষ্ট্রীয় ও কূটনৈতিক বিষয়ও। তাদের মতে, তিনি স্বেচ্ছায় দেশে ফিরতে চাইলেও প্রয়োজন হবে বৈধ ভ্রমণ নথি, সংশ্লিষ্ট সরকারি অনুমোদন এবং বাংলাদেশ-ভারত কূটনৈতিক সমন্বয়। এ কারণেই অনেক বিশ্লেষক মনে করছেন, দেশে ফেরার ঘোষণা বাস্তবে কার্যকর হবে কি না, তা নির্ভর করবে দুই দেশের সরকারি সিদ্ধান্ত এবং আইনি প্রক্রিয়ার ওপর। রাজনৈতিক বার্তা নাকি বাস্তব প্রস্তুতি? রয়টার্সে দেওয়া সাক্ষাৎকার প্রকাশের পর রাজনৈতিক অঙ্গনে দুটি ব্যাখ্যা সামনে এসেছে। একটি পক্ষ মনে করছে, এটি আদালতের মুখোমুখি হওয়ার রাজনৈতিক প্রস্তুতির ইঙ্গিত। অন্য একটি অংশের ধারণা, এটি বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি যাচাই, সমর্থকদের সক্রিয় রাখা কিংবা দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক আলোচনায় নতুন মাত্রা যোগ করার একটি কৌশলগত বার্তাও হতে পারে।     শেখ হাসিনার দেশে ফেরার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা যতই বাড়ুক না কেন, বাস্তবে বিষয়টি নির্ভর করবে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের ওপর— বাংলাদেশ সরকারের আনুষ্ঠানিক অবস্থান; ভারত সরকারের কূটনৈতিক সিদ্ধান্ত; প্রযোজ্য আইন ও আদালতের নির্দেশনা; এবং উভয় দেশের পারস্পরিক আইনি সহযোগিতা। ফলে রাজনৈতিক বক্তব্যের বাইরে এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হলো—দেশে ফেরা আদৌ সম্ভব হবে কি না, আর হলে সেটি কোন আইনি ও কূটনৈতিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সম্পন্ন হবে। সেই উত্তরই আগামী সময়ের রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠতে পারে।

নিজস্ব প্রতিবেদক জুলাই ১১, ২০২৬ 0
পাহাড়ধস
চট্টগ্রামে পাহাড়ধসের ঝুঁকি: ১৯ বছরে বাস্তবায়ন হয়নি ৩৬ সুপারিশ, প্রাণ গেছে অন্তত ২৫০ জনের

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট লঘুচাপের প্রভাবে টানা বৃষ্টিতে আবারও পাহাড়ধসের আশঙ্কায় কাঁপছে চট্টগ্রাম। আবহাওয়া অধিদফতর আগামী ২৪ ঘণ্টায় ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস দিয়েছে এবং চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের পাহাড়ি এলাকায় পাহাড়ধসের ঝুঁকির কথা জানিয়েছে। প্রশাসন ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ের পাদদেশে বসবাসকারীদের নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যেতে মাইকিং করলেও স্থানীয় বাসিন্দাদের আতঙ্ক কাটছে না। কারণ, ২০০৭ সালের ভয়াবহ পাহাড়ধসের পর গঠিত কমিটির দেওয়া ৩৬টি সুপারিশ দীর্ঘ ১৯ বছরেও বাস্তবায়ন হয়নি। এই সময়ের মধ্যে পাহাড়ধস ও মাটিচাপায় প্রাণ হারিয়েছেন অন্তত ২৫০ জন। ১৯ বছরের অমীমাংসিত সুপারিশ জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, ২০০৭ সালের ১১ জুন চট্টগ্রামের ইতিহাসের ভয়াবহতম পাহাড়ধসে একদিনেই ১২৭ জন নিহত হন। ওই ঘটনার পর বিভাগীয় কমিশনারের নেতৃত্বে গঠন করা হয় পাহাড় রক্ষা ব্যবস্থাপনা কমিটি। কমিটি পাহাড়ধসের ২৮টি কারণ চিহ্নিত করে ৩৬টি সুপারিশ করলেও প্রায় দুই দশকেও সেগুলোর একটিও কার্যকর হয়নি। ফলে প্রতি বর্ষা মৌসুমে চট্টগ্রামে নতুন করে বাড়ে পাহাড়ধসের ঝুঁকি। বিশেষজ্ঞদের মতে, ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ের পাদদেশে বসতি স্থাপন, অবৈধ পাহাড় কাটা এবং প্রয়োজনীয় অবকাঠামোগত সুরক্ষা না থাকাই এ ঝুঁকিকে স্থায়ী রূপ দিয়েছে। ৮৮টি পাহাড় পুরোপুরি বিলুপ্ত বাংলাদেশ পরিবেশ ফোরামের তথ্য অনুযায়ী, স্বাধীনতার পর থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত চট্টগ্রামে ৮৮টি পাহাড় পুরোপুরি বিলুপ্ত হয়েছে। একই সময়ে আংশিক কাটা হয়েছে আরও ৯৫টি পাহাড়। এরপরের বছরগুলোতে জনসংখ্যা বৃদ্ধি ও নগরায়নের চাপের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে পাহাড় নিধনের প্রবণতা আরও বেড়েছে। পরিবেশ ফোরামের সাধারণ সম্পাদক আলিউর রহমান বলেন, ২০০৭ সালের পর থেকে পাহাড়ধসে অন্তত ২৫০ জনের মৃত্যু হয়েছে। তার ভাষায়, “যে ৩৬টি সুপারিশ বাস্তবায়ন করলে এ ধরনের দুর্ঘটনা অনেকাংশে কমানো সম্ভব ছিল, তার একটি পর্যন্ত কার্যকর হয়নি। বর্ষা এলেই প্রশাসনের তৎপরতা দেখা যায়, কিন্তু সারা বছর পাহাড় রক্ষায় ধারাবাহিক কার্যক্রম চোখে পড়ে না।” তিনি আরও জানান, ১৯৭৬ সালে নগরের পাঁচ থানা এলাকায় মোট পাহাড় ছিল ৩২ দশমিক ৩৭ বর্গকিলোমিটার। ২০০৮ সালে তা কমে দাঁড়ায় ১৪ দশমিক শূন্য দুই বর্গকিলোমিটারে। অর্থাৎ এই সময়ে ১৮ দশমিক ৩৪৪ বর্গকিলোমিটার পাহাড় কাটা হয়েছে, যা মোট পাহাড়ের প্রায় ৫৭ শতাংশ। সুপারিশগুলো কী ছিল পাহাড় রক্ষায় কমিটির সুপারিশগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিল: পাহাড়ের পাঁচ কিলোমিটারের মধ্যে নতুন হাউজিং প্রকল্প নিষিদ্ধ করা। পাহাড়ে ব্যাপক বনায়ন কর্মসূচি গ্রহণ। গাইডওয়াল ও ড্রেন নির্মাণের মাধ্যমে পাহাড়ের স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা। পাহাড়ি বালু উত্তোলন বন্ধ করা। পাহাড়সংলগ্ন এলাকায় ইটভাটা স্থাপন নিষিদ্ধ করা। ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ের পাদদেশের বসতি উচ্ছেদ করা। পাহাড় কাটার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা নেওয়া। নগর সম্প্রসারণ কর্ণফুলীর দক্ষিণ পাড়ে পটিয়া-আনোয়ারা অঞ্চলে স্থানান্তরের পরিকল্পনা গ্রহণ। তবে বাস্তবে এসব সুপারিশের কোনোটিই পূর্ণাঙ্গভাবে বাস্তবায়িত হয়নি। আবহাওয়ার সতর্কতা ও বর্তমান ঝুঁকি আবহাওয়া অধিদফতর জানিয়েছে, উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থানরত সুস্পষ্ট লঘুচাপের প্রভাবে চট্টগ্রামে আগামী ২৪ ঘণ্টায় ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাত হতে পারে। অতি ভারী বৃষ্টির কারণে চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের পাহাড়ি এলাকায় পাহাড়ধসের ঝুঁকি রয়েছে। পতেঙ্গা আবহাওয়া অফিসের আবহাওয়াবিদ বশির আহমেদ বলেন, “আগামী ২৪ ঘণ্টায় ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। কোথাও কোথাও অতি ভারী বৃষ্টিও হতে পারে। এতে পাহাড়ধসের ঝুঁকি আছে।” এ পরিস্থিতিতে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরকে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্কসংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ে এখনও বসবাস জেলা পাহাড় ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত উপ-কমিটির তথ্য অনুযায়ী, চট্টগ্রাম নগরীর ২৫টি ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ে এখনও এক হাজারের বেশি পরিবার বসবাস করছে। প্রশাসন প্রতি বছর বর্ষা মৌসুমে তাদের নিরাপদ স্থানে সরে যেতে বললেও অধিকাংশ পরিবার জীবিকার কারণে সেখানে থেকেই যায়। নগরের বাকলিয়া সার্কেলের সহকারী কমিশনার (ভূমি) শিফাত বিনতে আরা জানান, মতিঝরনা পাহাড়ে ঝুঁকিপূর্ণভাবে বসবাসকারী লোকজনকে নিরাপদ আশ্রয়ে যাওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, সকাল থেকে মাইকিং চালু রয়েছে এবং স্থানীয় মসজিদগুলোতে এ সংক্রান্ত ঘোষণা প্রচার করা হচ্ছে। অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) সাখাওয়াত জামিল সৈকত বলেন, বর্ষা মৌসুম শুরুর আগেই ঝুঁকিপূর্ণভাবে বসবাসকারী বাসিন্দাদের সরে যেতে বলা হয়েছে। মাইকিংয়ের পাশাপাশি লিফলেট বিতরণ ও আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখার কথাও জানান তিনি। দুর্ঘটনার দীর্ঘ তালিকা চট্টগ্রামে পাহাড়ধসের ইতিহাসে ২০০৭ সালের ১১ জুনের ঘটনা সবচেয়ে ভয়াবহ। ওই দিন মাত্র কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে সেনানিবাস এলাকা, লেডিস ক্লাব, কুসুমবাগ, কাছিয়াঘোনা, ওয়ার্কশপঘোনা, মতিঝরনা ও বিশ্ববিদ্যালয় এলাকাসহ বিভিন্ন স্থানে পাহাড়ধসে ১২৭ জন নিহত হন। এরপরও প্রাণহানি থেমে থাকেনি। ২০০৮ সালে মতিঝরনায় ১২ জন, ২০১১ সালে বাটালি হিলে ১৭ জন, ২০১২ সালে ২৪ জন, ২০১৩ সালে দুই জন, ২০১৫ সালে পাঁচ জন, ২০১৮ সালে চার জন, ২০১৯ সালে একজন, ২০২২ সালে চার জন এবং ২০২৩ সালে তিন জনের মৃত্যু হয়। সবমিলিয়ে ২০০৭ সালের পর থেকে পাহাড়ধস ও মাটিচাপায় প্রাণ গেছে অন্তত ২৫০ জনের। সর্বশেষ ২০২৩ সালের ২৭ আগস্ট পাঁচলাইশ থানার ষোলশহর আইডব্লিউ কলোনিতে পাহাড়ধসে মো. সোহেল ও তার সাত মাস বয়সী মেয়ে জান্নাত নিহত হন। একই বছরের ৭ এপ্রিল আকবরশাহ থানার বেলতলিঘোনা এলাকায় সড়ক নির্মাণকাজের সময় পাহাড়ধসে এক শ্রমিক নিহত হন। প্রশাসনের বর্তমান উদ্যোগ জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, পাহাড়ে অবৈধ বসবাসকারীদের পানি, গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংযোগদানে সহযোগিতাকারীদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা ও ফৌজদারি মামলা করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। পাশাপাশি অবৈধ দখলদারদের তালিকা প্রণয়ন, মূল মালিকদের চিহ্নিত করা এবং পাহাড় কাটার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা ও জেল-জরিমানা নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তবে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, কেবল বর্ষা মৌসুমে উচ্ছেদ অভিযান বা মাইকিং করে পাহাড়ধস ঠেকানো সম্ভব নয়। ২০০৭ সালের ট্র্যাজেডির পর দেওয়া সুপারিশগুলো বাস্তবায়ন, অবৈধ পাহাড় কাটা ও দখল বন্ধ এবং ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ের পাদদেশ থেকে স্থায়ীভাবে বসতি অপসারণ করা না গেলে চট্টগ্রামে পাহাড়ধসে মৃত্যুর মিছিল আরও দীর্ঘ হওয়ার আশঙ্কা থেকেই যাবে।  কেন ঝুঁকি কমছে না চট্টগ্রামে পাহাড়ধসের ঝুঁকি কমে না আসার পেছনে কয়েকটি কাঠামোগত কারণ স্পষ্ট হয়ে উঠেছে: দীর্ঘদিন ধরে চলা অবৈধ পাহাড় কাটা ও পাহাড় দখল। ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ের পাদদেশে বসবাসকারী পরিবারগুলোর নিরাপদ পুনর্বাসনের অভাব। পাহাড় রক্ষায় গৃহীত সুপারিশ বাস্তবায়নে প্রশাসনিক সমন্বয় ও রাজনৈতিক সদিচ্ছার ঘাটতি। পাহাড়ের স্থিতিশীলতা রক্ষায় প্রয়োজনীয় ড্রেনেজ, গাইডওয়াল ও বনায়ন কার্যক্রমের অনুপস্থিতি। বর্ষা মৌসুমে সাময়িক সতর্কতার বাইরে সারা বছরব্যাপী নজরদারির অভাব।   বঙ্গোপসাগরের লঘুচাপজনিত ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস চট্টগ্রামের পাহাড়ধস-ঝুঁকিকে আবারও সামনে নিয়ে এসেছে। ২০০৭ সালের ভয়াবহ দুর্ঘটনার পর ৩৬টি সুপারিশ করা হলেও ১৯ বছরে সেগুলোর বাস্তবায়ন না হওয়া প্রশাসনিক ব্যর্থতার একটি বড় প্রশ্ন তুলে দেয়। অন্তত ২৫০ মানুষের প্রাণহানির পরও পাহাড় কাটা, দখল এবং ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসতি স্থাপন পুরোপুরি বন্ধ হয়নি। ফলে প্রতিবার বর্ষা এলেই চট্টগ্রামের পাহাড়ি এলাকায় বসবাসকারী হাজারো পরিবারের জন্য আতঙ্ক নতুন করে ফিরে আসে।

নিজস্ব প্রতিবেদক জুলাই ৯, ২০২৬ 0
সাজেকে সব পর্যটনকেন্দ্র বন্ধ ঘোষণা
টানা বৃষ্টি, পাহাড়ধস ও বন্যার ঝুঁকিতে সাজেক বন্ধ: চট্টগ্রাম-সিলেটসহ ১৭ জেলায় সতর্কতা, বিপর্যয়ের মুখে পাহাড়ি অঞ্চল

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : টানা ভারী বর্ষণ, উজানের ঢল এবং পাহাড়ধসের ক্রমবর্ধমান ঝুঁকির মধ্যে রাঙামাটির অন্যতম জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্র সাজেক ভ্যালি অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করেছে জেলা প্রশাসন। একই সময়ে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বন্যা ও ভূমিধসের আশঙ্কা বাড়তে থাকায় প্রশাসন সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় রয়েছে। মঙ্গলবার (৭ জুলাই) সন্ধ্যায় রাঙামাটির জেলা প্রশাসক নাজমা আশরাফী স্বাক্ষরিত জরুরি গণবিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত সাজেকে সব ধরনের পর্যটন কার্যক্রম বন্ধ থাকবে এবং পর্যটকদের প্রবেশ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ থাকবে। এই সিদ্ধান্ত কেবল একটি পর্যটনকেন্দ্র বন্ধের প্রশাসনিক ঘোষণা নয়; বরং দেশের পাহাড়ি অঞ্চলে ক্রমবর্ধমান জলবায়ুজনিত দুর্যোগের বাস্তব চিত্রও তুলে ধরছে। পাহাড়ধসের আশঙ্কা কেন এত বেড়েছে? জেলা প্রশাসনের ভাষ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের সর্বশেষ পূর্বাভাস এবং রাঙামাটিতে কয়েক দিনের টানা ভারী বর্ষণের কারণে বিভিন্ন স্থানে পাহাড়ধস ও ভূমিধসের উচ্চঝুঁকি তৈরি হয়েছে। এরই মধ্যে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সড়কে যোগাযোগ বিঘ্নিত হয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ বিবেচনায় বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে— সাজেক ভ্যালির সব পর্যটনকেন্দ্র সব ঝর্ণা পাহাড়ি ট্রেইল দুর্গম এলাকা অন্যান্য ঝুঁকিপূর্ণ পর্যটন স্পট প্রশাসন জানিয়েছে, পর্যটক, স্থানীয় বাসিন্দা, ট্যুর অপারেটরসহ কারও প্রবেশ আপাতত অনুমোদিত নয়। শুধু সাজেক নয়, দেশের ১৭ জেলা বন্যার ঝুঁকিতে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানিয়েছে, ভারী বৃষ্টি এবং ভারতের উজানের ঢলের কারণে দেশের অন্তত ১৭ জেলায় স্বল্পমেয়াদি বন্যার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। পূর্বাভাস অনুযায়ী আগামী চার দিন ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টি হতে পারে— চট্টগ্রাম সিলেট ময়মনসিংহ রংপুর বিভাগে একই সঙ্গে ভারতের ত্রিপুরা, আসাম, মেঘালয় ও পশ্চিমবঙ্গেও ভারী বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকতে পারে। কোন কোন নদীর পানি বিপৎসীমা ছুঁতে পারে? বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানিয়েছে— উত্তর-পূর্বাঞ্চল সুরমা কুশিয়ারা নদীর পানি দ্রুত বাড়তে পারে। এতে সিলেট ও সুনামগঞ্জের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চল দ্রুত পানি বাড়ছে— গোমতী মুহুরী ফেনী সিলোনিয়া হালদা সাঙ্গু মাতামুহুরী এসব নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করলে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে— বান্দরবান কক্সবাজার ফেনী চট্টগ্রাম খাগড়াছড়ি নোয়াখালী লক্ষ্মীপুর উত্তরাঞ্চল আগামী ২৪–৪৮ ঘণ্টার মধ্যে তিস্তার পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করতে পারে। এতে নীলফামারী ও লালমনিরহাটে বন্যার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। বান্দরবানে ৩০ হাজার পরিবার পাহাড়ধসের উচ্চঝুঁকিতে বর্তমানে সবচেয়ে উদ্বেগজনক পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে বান্দরবানে। জেলা প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী— সাত উপজেলায় প্রায় ৩০ হাজার পরিবার পাহাড়ধসের ঝুঁকিতে রয়েছে। প্রস্তুত রাখা হয়েছে ১২০টি আশ্রয়কেন্দ্র। মোতায়েন রয়েছে আটটি মেডিক্যাল টিম। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় চলছে মাইকিং। সাঙ্গু ও মাতামুহুরী নদীর পানি বেড়ে যাওয়ায় থানচি, রুমা, লামা ও আলীকদমে বন্যার আশঙ্কাও বাড়ছে। রুমার কেওক্রাডং এলাকায় ৫০ জনের বেশি পর্যটক আটকা পড়লেও থানচি ও রেমাক্রি থেকে পর্যটকদের নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। পরিস্থিতির কারণে আগামী শুক্রবার পর্যন্ত জেলার সব পর্যটন কার্যক্রম বন্ধ রাখা হয়েছে। কক্সবাজারে বাড়ছে প্রাণহানি, প্লাবিত ৩৩ ইউনিয়ন টানা বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে কক্সবাজারের নয়টি উপজেলার অন্তত ৩৩টি ইউনিয়ন প্লাবিত হয়েছে। পানিবন্দি হয়েছে শত শত পরিবার। দুই দিনে পাহাড়ধসে অন্তত ১১ জন নিহত হয়েছেন। প্রশাসনের তথ্যমতে— এক হাজারের বেশি মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। টেকনাফ–সেন্ট মার্টিন নৌপথে যাত্রীবাহী নৌযান চলাচল বন্ধ। টানা পাঁচ দিন যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন থাকায় সেন্ট মার্টিনে খাদ্যসংকটের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। কুতুবদিয়ায় একটি সেতু ভেঙে স্থানীয় যোগাযোগ ব্যাহত হয়েছে। রোহিঙ্গা শিবিরেও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি কক্সবাজারের রোহিঙ্গা শিবিরগুলোতেও পরিস্থিতি উদ্বেগজনক। জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা (ইউএনএইচসিআর)-এর তথ্য অনুযায়ী— নিহত ১০ জন আহত ১০ জন ক্ষতিগ্রস্ত ১৫,৮১৩ জন বাস্তুচ্যুত ৩,১৮২ জন এ ছাড়া রেকর্ড করা হয়েছে— ৫২টি পাহাড়ধস ১৪টি বন্যা ৮৩টি ঝড়সংক্রান্ত ঘটনা মানবিক সংস্থাগুলো জরুরি ত্রাণ কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। চট্টগ্রামে রেকর্ড বৃষ্টি, বিমান ও রেল চলাচলে বিঘ্ন গত ২৪ ঘণ্টায় চট্টগ্রামে ৩৩০.৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড হয়েছে। এর ফলে— নগরের বহু এলাকা পানিতে তলিয়ে যায়। তীব্র জলাবদ্ধতা তৈরি হয়। রেললাইন ডুবে যাওয়ায় কক্সবাজারগামী ট্যুরিস্ট এক্সপ্রেস কয়েক ঘণ্টা আটকা পড়ে। শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কয়েকটি আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ঢাকায় ডাইভার্ট করা হয়। একটি অভ্যন্তরীণ ফ্লাইট চট্টগ্রামে নামতে না পেরে ঢাকায় ফিরে যায়। বর্তমানে বিমানবন্দরে ঘণ্টায় ৮০–৯০ কিলোমিটার বেগে বাতাস বইছে। রাঙামাটিতেও প্রাণহানি রাঙামাটির বাঘাইছড়িতে পাহাড়ধসে উপড়ে পড়া গাছের নিচে চাপা পড়ে এক বৃদ্ধ নিহত হয়েছেন। কাপ্তাইয়ে পাহাড়ধস ও গাছ পড়ে সাময়িকভাবে চট্টগ্রাম–কাপ্তাই সড়ক বন্ধ হয়ে যায়। পরে যান চলাচল স্বাভাবিক করা হলেও প্রশাসন ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসবাসকারীদের নিরাপদ স্থানে চলে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। আবহাওয়া অধিদপ্তর কী বলছে? আবহাওয়াবিদ ওমর ফারুক জানিয়েছেন, উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট মৌসুমি লঘুচাপের প্রভাবে আগামী ৭২ ঘণ্টায়— চট্টগ্রাম ঢাকা রাজশাহী খুলনা বরিশাল সিলেট বিভাগের বিভিন্ন স্থানে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাত হতে পারে। বিশেষ করে চট্টগ্রামের পাহাড়ি এলাকায় পাহাড়ধসের ঝুঁকি আরও বাড়তে পারে। জলবায়ুজনিত দুর্যোগ কি নতুন বাস্তবতা হয়ে উঠছে? সাজেক বন্ধের সিদ্ধান্ত বিচ্ছিন্ন কোনো প্রশাসনিক পদক্ষেপ নয়। একই সময়ে রাঙামাটি, বান্দরবান, খাগড়াছড়ি, কক্সবাজার এবং চট্টগ্রামে একযোগে পাহাড়ধস, বন্যা, সড়ক বিচ্ছিন্নতা, পর্যটন স্থগিত, নদীর পানি বৃদ্ধি এবং প্রাণহানির ঘটনা একটি বড় জলবায়ুগত সংকটের ইঙ্গিত দিচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, অস্বাভাবিক বৃষ্টিপাত, পাহাড় কাটা, বন উজাড় এবং অপরিকল্পিত বসতি বিস্তারের কারণে প্রতিবছর বর্ষা মৌসুমে ঝুঁকি আরও বাড়ছে। ফলে কেবল জরুরি উদ্ধার নয়, দীর্ঘমেয়াদি ভূমি ব্যবস্থাপনা, পাহাড় সংরক্ষণ এবং দুর্যোগ প্রস্তুতিকে আরও শক্তিশালী করা এখন সময়ের দাবি।

নিজস্ব প্রতিবেদক জুলাই ৮, ২০২৬ 0
সরিষাবাড়ী উপজেলার গেন্দারপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে
জামালপুরে জমি নিজের নামে লিখে না দেওয়ায় বৃদ্ধা মাকে বাড়ি থেকে বের করে দেওয়ার অভিযোগ, ভাইরাল ভিডিও ঘিরে প্রশ্ন

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : জামালপুরের সরিষাবাড়ী উপজেলায় সম্পত্তি নিয়ে পারিবারিক বিরোধের জেরে এক বৃদ্ধা মাকে স্বামীর বাড়ি থেকে বের করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে তার একমাত্র ছেলের বিরুদ্ধে। ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর স্থানীয়ভাবে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনাটি উপজেলার পোগলদিঘা ইউনিয়নের গেন্দারপাড়া গ্রামের। অভিযোগের কেন্দ্রে রয়েছেন রাশেদা বেগম (৬৫) এবং তার একমাত্র ছেলে রাশেদুল ইসলাম জাকির। যে বিরোধ থেকে ঘটনার সূত্রপাত স্থানীয় সূত্র জানায়, প্রায় ছয় বছর আগে রাশেদা বেগমের স্বামী মোজাম্মেল হক গুঠু তালুকদার মারা যান। এরপর তিনি স্বামীর বাড়িতেই একা বসবাস করছিলেন। অন্যদিকে, তাদের একমাত্র ছেলে রাশেদুল ইসলাম জাকির স্ত্রীকে নিয়ে টাঙ্গাইলের মধুপুর উপজেলার মাস্টারপাড়া এলাকায় শ্বশুরবাড়িতে বসবাস করেন। রাশেদা বেগমের বাবার বাড়ি টাঙ্গাইলের ধনবাড়ী উপজেলার বাঁশনিওগী গ্রামে। পারিবারিক সূত্র অনুযায়ী, তিনি বাবার সম্পত্তি থেকে ওয়ারিশ হিসেবে পাওয়া ৫৬ শতাংশ জমি প্রায় ৮ লাখ টাকায় ভাইদের কাছে বিক্রি করেন। পরে সেই অর্থ দিয়ে নিজের নামে অন্য জায়গায় জমি কেনেন। 'জমি লিখে দেওয়ার চাপ'—অভিযোগ কী রাশেদা বেগমের অভিযোগ, নতুন কেনা জমি ছেলের নামে লিখে দেওয়ার জন্য দীর্ঘদিন ধরে তার ওপর চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছিল। এতে সম্মতি না দেওয়ায় তাকে বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি ও হুমকি দেওয়া হয়। তিনি দাবি করেন, এ নিয়ে এর আগেও সরিষাবাড়ী থানায় অভিযোগ করেছিলেন। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, বিরোধের একপর্যায়ে জাকির গেন্দারপাড়ার বাড়িতে তালা লাগিয়ে স্ত্রীকে নিয়ে মধুপুরে চলে যান। পরে রাশেদা বেগম বাড়িতে ফিরলে স্থানীয় বাসিন্দারা তালা ভেঙে তাকে ঘরে প্রবেশে সহায়তা করেন। স্থানীয়ভাবে একাধিকবার সালিশ বৈঠক অনুষ্ঠিত হলেও বিরোধের স্থায়ী সমাধান হয়নি বলে জানা গেছে। সালিশের পর কী ঘটেছে অভিযোগ অনুযায়ী, গত রোববার অনুষ্ঠিত সর্বশেষ সালিশ বৈঠকেও ছেলের পক্ষ থেকে জমি নিজের নামে লিখে দেওয়ার দাবি জানানো হয়। রাশেদা বেগম এতে রাজি না হলে তাকে মানসিক চাপ প্রয়োগ করে বাড়ি থেকে বের করে দেওয়া হয়। পরে খবর পেয়ে তার ভাইয়েরা ঘটনাস্থলে এসে তাকে বাবার বাড়িতে নিয়ে যান। ভাইরাল ভিডিওতে যা দেখা গেছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, হাতে পবিত্র কোরআন নিয়ে কান্নাজড়িত অবস্থায় স্বামীর বাড়ি থেকে বের হচ্ছেন রাশেদা বেগম। পরে স্বজনরা তাকে একটি ইজিবাইকে তুলে নিয়ে যান। ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর ঘটনাটি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। তবে ভিডিওটির ধারণের সময় ও সম্পূর্ণ প্রেক্ষাপট স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। রাশেদা বেগম যা বলছেন রাশেদা বেগম বলেন, "আমার ছেলে দীর্ঘদিন ধরে সম্পত্তি লিখে দেওয়ার জন্য নানা ধরনের ভয়ভীতি দেখাচ্ছে। সম্পত্তি লিখে না দেওয়ায় আমাকে স্বামীর বাড়িতে থাকতে দেয় না। আমি গেলে আত্মহত্যা করে আমাকে ফাঁসিয়ে দেওয়ারও হুমকি দেয়। রোববার আমাকে বাড়ি থেকে বের করে দিয়েছে। পরে ভাইদের খবর দিলে তারা এসে আমাকে নিয়ে যায়।" অভিযুক্তের বক্তব্য মেলেনি অভিযোগের বিষয়ে জানতে অভিযুক্ত রাশেদুল ইসলাম জাকিরের মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও সেটি বন্ধ পাওয়া যায়। ফলে এ অভিযোগের বিষয়ে তার বক্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি। পুলিশের অবস্থান সরিষাবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ ইকবাল হোসেন বলেন, "এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো লিখিত অভিযোগ পাইনি। তবে বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখা হবে।" তদন্তে যেসব প্রশ্ন সামনে আসছে ঘটনার পর কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন সামনে এসেছে— সম্পত্তি নিয়ে বিরোধের আগের অভিযোগগুলো আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে কীভাবে নিষ্পত্তি হয়েছিল? স্থানীয় সালিশগুলো কেন স্থায়ী সমাধান দিতে পারেনি? ভাইরাল ভিডিওতে উঠে আসা অভিযোগগুলোর বাস্তবতা তদন্তে কী তথ্য পাওয়া যায়? বৃদ্ধা নারীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসন কী পদক্ষেপ নেবে? লিখিত অভিযোগ না থাকলেও পুলিশ স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে তদন্ত করবে কি না? এসব প্রশ্নের উত্তর মিললেই পুরো ঘটনার প্রকৃত চিত্র আরও স্পষ্ট হবে।

নিজস্ব প্রতিবেদক জুলাই ৭, ২০২৬ 0
শেষ আটে ফ্রান্স
পেনালটিতে ফ্রান্স, অপেক্ষায় এমবাপ্পে-হাকিমি দ্বৈরথ

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন ডেস্ক : আগেরদিন অবিশ্বাস্য লড়াকু ফুটবলে আর্জেন্টিনার হৃৎস্পন্দন প্রায় থামিয়ে দিয়েছিল পুঁচকে কেপ ভার্দে। গত বিশ্বকাপের চ্যাম্পিয়নদের মতো রানার্সআপ ফ্রান্সকেও দিতে হলো অগ্নিপরীক্ষা। প্যারাগুয়ের অতি রক্ষণাত্মক কৌশল ও শরীরনির্ভর ফুটবলের বিপক্ষে চরম ভোগান্তির পর শেষ পর্যন্ত কিলিয়ান এমবাপ্পের পেনালটি গোলে পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছে ফরাসিরা। গত পরশু রাতে ফিলাডেলফিয়ায় প্রচণ্ড গরমের মধ্যে শেষ ষোলোর অগ্নিগর্ভ লড়াইয়ে প্যারাগুয়েকে ১-০ গোলে হারিয়ে বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে উঠেছে ফ্রান্স। শেষ আটে এমবাপ্পেদের প্রতিপক্ষ আশরাফ হাকিমির মরক্কো। গত পরশু রাতের আরেক ম্যাচে কানাডাকে ৩-০ গোলে হারিয়ে শেষ আটের টিকিট কাটে আটলাসের সিংহরা। ২০২২ বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে ফ্রান্সের কাছে ২-০ গোলে হেরে থেমেছিল মরক্কোর স্বপ্নযাত্রা। এবার শেষ আটে দুই বন্ধু এমবাপ্পে ও হাকিমির রোমাঞ্চকর লড়াইটা হবে আগামী বৃহস্পতিবার বোস্টনে। ফিলাডেলফিয়ায় ম্যাচজুড়ে তাপমাত্রা ৩৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসের আশপাশে ঘোরাফেরা করেছে। মাঠের আবহ ছিল আরও উত্তপ্ত। আগের চার ম্যাচে গতিময় আক্রমণাত্মক ফুটবলে প্রতিপক্ষকে উড়িয়ে দেওয়া ফ্রান্সকে এবার ভুগতে হয়েছে, ধুঁকতে হয়েছে। প্যারাগুয়ের ‘বাস পার্কিং ডিফেন্স’ নান্দনিক ফুটবল খেলার সুযোগই দেয়নি ফরাসিদের। আগের ম্যাচে এভাবেই জার্মানিকে ১২০ মিনিট আটকে রেখে টাইব্রেকারে বাজিমাত করেছিল প্যারাগুয়ে। ফ্রান্স-বধের জন্য লাতিন দলটি বেছে নেয় যুদ্ধের পথ। কিন্তু ফ্রান্স ‘সেরের ওপর সোয়া সের’ হওয়ায় যুদ্ধে জিততে পারেনি প্যারাগয়ে। অবস্থা বেগতিক দেখে ফ্রান্সও যোগ দেয় পেশিশক্তির প্রদর্শনীতে। ম্যাচের চার হলুদ কার্ডের তিনটিই দেখেছেন ফরাসিরা! একের পর এক কঠিন ট্যাকল, ধাক্কাধাক্কি, তর্কবিতর্ক ও পরস্পরের দিকে তেড়ে যাওয়ার মধ্যে প্রথমার্ধে দুদল লক্ষ্যে কোনো শটই নিতে পারেনি। দ্বিতীয়ার্ধে একের পর এক আক্রমণ সামলে ৬৯ মিনিট পর্যন্ত সমতা ধরে রেখেছিল প্যারাগুয়ে। তাদের প্রবল প্রতিরোধ ভাঙে ৭০ মিনিটে এমবাপ্পের পেনালটি গোলে। ফ্রান্সের তরুণ ফরোয়ার্ড দেজিরে দুয়েকে বক্সের মধ্যে ফাউল করে প্যারাগুয়ের বিপদ ডেকে আনেন দিয়েগো গোমেজ। ভিএআরের পরামর্শে মনিটরে ঘটনার রিপ্লে দেখে পেনালটির বাঁশি বাজান রেফারি। স্পটকিকে এবারের আসরে সপ্তম ও বিশ্বকাপ ক্যারিয়ারের ১৯তম গোলে আরও একগুচ্ছ রেকর্ড গড়েন এমবাপ্পে। গোল্ডেন বুটের লড়াইয়ে লিওনেল মেসিকে ধরে ফেলা ফ্রান্স অধিনায়ককে যোগ করা সময়ে দুবার গোলবঞ্চিত করেন প্যারাগুয়ের গোলকিপার অরলান্দো গিল। যুদ্ধ জয়ের পর প্রতিপক্ষের মারকাটারি আগ্রাসী ফুটবল নিয়ে এমবাপ্পে বলেছেন, ‘আমরা জানতাম ম্যাচটা কেমন হতে চলেছে। যদি কঠিন পথ বেছে নিতে হয়, আমরা সেই পথও বেছে নিতে পারি। প্রয়োজনে কুৎসিত ফুটবল আমরাও খেলতে জানি। ওরা ভেবেছিল আমরা কেতাদুরস্ত হয়ে মাঠে নামব; কিন্তু আমরা নিজেদের করণীয় জামতাম। এমনকি, ওই ধরনের ফুটবলেও আমরা ওদের চেয়ে ভালো ছিলাম।’

নিজস্ব প্রতিবেদক জুলাই ৬, ২০২৬ 0
আর্জেন্টিনার জয়
কেপ ভার্দেকে হারিয়ে শেষ ষোলোয় আর্জেন্টিনা

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন :  বিশ্বকাপের শেষ বত্রিশের অন্যতম রোমাঞ্চকর ম্যাচে চমক জাগানো কেপ ভার্দেকে ৩-২ গোলে হারিয়ে শেষ ষোলো নিশ্চিত করেছে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। অতিরিক্ত সময় পর্যন্ত গড়ানো নাটকীয় এই লড়াইয়ে জয় নিশ্চিত করে লিওনেল স্কালোনির দল, যেখানে পরবর্তী রাউন্ডে তাদের প্রতিপক্ষ হবে মোহাম্মদ সালাহর মিশর। ম্যাচের শুরু থেকেই বলের দখল ও আক্রমণে আধিপত্য দেখায় আর্জেন্টিনা। ২৯তম মিনিটে রক্ষণভাগ থেকে লিসান্দ্রো মার্তিনেজের নিখুঁত লং পাস ধরে বক্সে ঢুকে দুর্দান্ত ফিনিশে গোল করেন অধিনায়ক লিওনেল মেসি। গোলরক্ষক ভোজিনহাকে পরাস্ত করে দলকে এগিয়ে দেওয়ার পাশাপাশি বিশ্বকাপে নিজের ২০তম গোলের দেখা পান তিনি। এই গোলের মাধ্যমে মেসি বিশ্বকাপে ব্যক্তিগত গোলসংখ্যা আরও সমৃদ্ধ করেন। পাশাপাশি টুর্নামেন্টে তার ধারাবাহিক গোল করার রেকর্ডও আরও দীর্ঘ হয়। প্রথমার্ধে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে থাকা আর্জেন্টিনাকে দ্বিতীয়ার্ধে কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলে কেপ ভার্দে। ৫৯তম মিনিটে ডেরয় দুয়ার্তের জোরালো শটে সমতায় ফেরে আফ্রিকার দলটি। এরপর নির্ধারিত সময়জুড়ে একাধিক সুযোগ পেলেও আর কোনো দলই গোল করতে পারেনি। ফলে ম্যাচ গড়ায় অতিরিক্ত সময়ে। অতিরিক্ত সময়ের শুরুতেই আবারও এগিয়ে যায় আর্জেন্টিনা। কর্নার থেকে আসা বলে কেপ ভার্দের বক্সে সুযোগ পেয়ে গোল করেন লিসান্দ্রো মার্তিনেজ। তবে হাল ছাড়েনি কেপ ভার্দে। প্রথম অতিরিক্ত সময়ের শেষদিকে সিডনি লোপেস কাব্রালের দুর্দান্ত দূরপাল্লার শটে আবারও ২-২ সমতা ফেরে ম্যাচে। টাইব্রেকারের সম্ভাবনা তৈরি হলেও ১১১তম মিনিটে আর্জেন্টিনাকে স্বস্তি এনে দেন ক্রিস্টিয়ান রোমেরো। বক্সের ভেতরের জটলার মধ্যে থেকে নেওয়া তার নিখুঁত শট জালে জড়ালে ৩-২ ব্যবধানে আবারও এগিয়ে যায় বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত সমতায় ফেরার চেষ্টা চালায় কেপ ভার্দে। তবে আর্জেন্টিনার রক্ষণ আর কোনো সুযোগ দেয়নি। শেষ বাঁশি বাজার সঙ্গে সঙ্গে জয় নিশ্চিত করে শেষ ষোলোয় জায়গা করে নেয় আলবিসেলেস্তেরা। দারুণ লড়াই উপহার দিয়েও বিদায় নিতে হয়েছে কেপ ভার্দেকে। অন্যদিকে কঠিন পরীক্ষা উতরে এখন শেষ ষোলোতে মিশরের বিপক্ষে লড়াইয়ের প্রস্তুতি নেবে লিওনেল স্কালোনির দল।

নিজস্ব প্রতিবেদক জুলাই ৪, ২০২৬ 0
শেষ নিঃশ্বাস পর্যন্ত মেয়েকে আগলে রাখলেন মা
ভেনেজুয়েলার ভূমিকম্প: নিজের জীবন দিয়ে মেয়েকে বাঁচালেন এক মা

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : দক্ষিণ আমেরিকার দেশ ভেনেজুয়েলায় সাম্প্রতিক ভয়াবহ ভূমিকম্পের ধ্বংসস্তূপ থেকে উঠে আসছে একের পর এক হৃদয়বিদারক গল্প। এরই মধ্যে সবচেয়ে আলোচিত ঘটনাগুলোর একটি হলো—নিজের ছোট্ট মেয়েকে বাঁচাতে গিয়ে প্রাণ হারিয়েছেন আন্দ্রেয়া নামের এক নারী। তিনি ভেনেজুয়েলার ফুটবলার হেক্টর বেলোর স্ত্রী। স্বজন ও ক্রীড়া সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, ভূমিকম্পে ভবন ধসে পড়ার সময় শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত নিজের মেয়েকে আগলে রেখেছিলেন আন্দ্রেয়া। পরে উদ্ধারকারীরা ধ্বংসস্তূপ থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করেন। তবে একই ভবনে থাকা তার ছোট মেয়ে জীবিত উদ্ধার হয়, যা অনেকেই অলৌকিক ঘটনা হিসেবে দেখছেন।   'একদিন আমি আমাদের মেয়েকে সব বলব' স্ত্রীর মৃত্যুর পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ইনস্টাগ্রামে আবেগঘন বার্তা প্রকাশ করেন ফুটবলার হেক্টর বেলো। তিনি লেখেন, "একদিন আমি আমাদের মেয়েকে বলব, কীভাবে তুমি তাকে বাঁচিয়েছিলে। বলব, নিজের জীবন দিয়ে তুমি তাকে রক্ষা করেছ। তুমি ছিলে এক সাহসী মা, যে শেষ নিঃশ্বাস পর্যন্ত নিজের সন্তানকে ছেড়ে যায়নি।" হেক্টর জানান, দুর্ঘটনার খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তিনি রাজধানী কারাকাসে ছুটে যান। বর্তমানে তার মেয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। পরবর্তী এক পোস্টে তিনি লেখেন, "আমার মেয়ে ও তার খালা ভালো আছে। তবে আজ তাদের হাসপাতাল থেকে ছাড়া হচ্ছে না। এই অসহনীয় কষ্টের সময় পাশে থাকার জন্য সবাইকে ধন্যবাদ।" ইনস্টাগ্রাম স্টোরিতে আরও একটি আবেগঘন বার্তায় তিনি বলেন, "আমি কীভাবে আমার মেয়েকে বোঝাব, তাকে বাঁচাতে গিয়ে তার মা নিজের জীবন দিয়েছে? আমি তখন সেখানে ছিলাম না, কিছুই করতে পারিনি। আমাকে শক্তি দাও।"   মরদেহ উদ্ধারের তথ্য নিশ্চিত ক্রীড়া সংগঠন ভেনেজুয়েলার ক্রীড়া সংগঠন কুমানা দে কাম্পেওনেস জানিয়েছে, ধসে পড়া ভবনের ধ্বংসস্তূপ থেকে আন্দ্রেয়ার মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। একই সঙ্গে নিশ্চিত করা হয়েছে, তার ছোট মেয়ে জীবিত উদ্ধার হয়েছে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক স্প্যানিশ ভাষার সংবাদমাধ্যম ইউনিভিশনও আন্দ্রেয়ার মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত করেছে।   ভূমিকম্পে প্রাণ হারালেন আরও দুই ফুটবলার এই দুর্যোগে শুধু সাধারণ মানুষ নন, ক্রীড়াঙ্গনও বড় ক্ষতির মুখে পড়েছে। ভেনেজুয়েলা ফুটবল ফেডারেশন (এফভিএফ) এবং সংশ্লিষ্ট ক্লাবগুলোর তথ্য অনুযায়ী, অন্তত দুই তরুণ ফুটবলার নিহত হয়েছেন। কারাকাস ফুটবল ক্লাব জানিয়েছে, তাদের অনূর্ধ্ব-১৮ দলের খেলোয়াড় রাজান সিজা লা গুয়াইরায় নিজ বাড়িতে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে প্রাণ হারিয়েছেন। অন্যদিকে, ক্লাব স্পোর্ট সান আগুস্তিন নিশ্চিত করেছে, তাদের একাডেমির খেলোয়াড় ভিক্টর পালাসিওসও ভূমিকম্পে নিহত হয়েছেন। ক্লাবটি এক শোকবার্তায় জানায়, "তার মৃত্যুতে যে শূন্যতা তৈরি হয়েছে, তা ভাষায় প্রকাশ করা সম্ভব নয়।"   সাবেক মিস ভেনেজুয়েলার পরিবারেও শোক ভূমিকম্পের প্রভাব পড়েছে ভেনেজুয়েলার পরিচিত ব্যক্তিদের পরিবারেও। সাবেক মিস ভেনেজুয়েলা গিসেল রেয়েস জানিয়েছেন, লা গুয়াইরায় তার মায়ের বসবাস করা ভবন সম্পূর্ণ ধসে পড়ে। ওই ঘটনার ধাক্কায় হৃদ্‌রোগে আক্রান্ত হয়ে তার মা মারা যান। তিনি জানান, তার মায়ের দেখাশোনার দায়িত্বে থাকা একজন নার্স জীবিত উদ্ধার হন এবং তিনিই পরিবারের সদস্যদের কাছে মৃত্যুর খবর পৌঁছে দেন।   উদ্ধার অভিযান অব্যাহত বুধবার (২৪ জুন) রাজধানী কারাকাসের কাছে আঘাত হানা শক্তিশালী দুটি ভূমিকম্পে এখন পর্যন্ত অন্তত ৯২০ জন নিহত এবং ৩ হাজারের বেশি মানুষ আহত হয়েছেন। উদ্ধারকারী দল এখনও ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে পড়া জীবিতদের খুঁজে বের করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। তবে সময় যত গড়াচ্ছে, জীবিত উদ্ধারের সম্ভাবনা ততই কমে আসছে। একই সঙ্গে নিখোঁজ মানুষের প্রকৃত সংখ্যা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক জুন ২৮, ২০২৬ 0
ট্রেনের বগি
রাজনৈতিক পরিবর্তনের পরও থামেনি প্রকল্প, বাংলাদেশে পাঠানো হচ্ছে ভারতের নতুন ২০ রেল কোচ

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের মুখে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর প্রথমবারের মতো ভারত থেকে বাংলাদেশে আসছে নতুন যাত্রীবাহী রেল বগি। দীর্ঘ অনিশ্চয়তার পর আগামী জুলাই মাসে ২০টি ব্রডগেজ যাত্রীবাহী বগির প্রথম চালান বাংলাদেশে পৌঁছানোর কথা রয়েছে। ভারতের প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম ইকোনোমিক টাইমস বুধবার (২৪ জুন) এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে স্বাক্ষরিত ৯১৫ কোটি রুপির চুক্তির আওতায় নির্মিত ২০০টি ব্রডগেজ যাত্রীবাহী বগির মধ্যে প্রথম ২০টি ইতোমধ্যে রপ্তানির জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে। ভারতীয় রেলওয়ের রপ্তানি বিভাগের কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়, জুলাই মাসেই প্রথম চালান পাঠানোর লক্ষ্য নিয়ে সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে। বগিগুলো ভারতের পাঞ্জাবের কাপুরথালায় অবস্থিত রেল কোচ কারখানায় (Rail Coach Factory) নির্মাণ করা হচ্ছে। রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর প্রকল্পে অনিশ্চয়তা বাংলাদেশে ২০২৪ সালের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর ভারতীয় এই রপ্তানি প্রকল্পের ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন দেখা দেয়। শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর কিছু সময়ের জন্য প্রকল্পের কার্যক্রম ধীরগতিতে চললেও শেষ পর্যন্ত চুক্তির বাস্তবায়ন অব্যাহত রাখা হয়েছে। ভারতীয় রেলওয়ের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা ইকোনোমিক টাইমসকে বলেন, “চুক্তির প্রথম রেকগুলো আগামী জুলাইয়ের মধ্যে প্রস্তুত হয়ে যাবে। বাংলাদেশের কাছে সময়মতো বগিগুলো হস্তান্তরের জন্য প্রয়োজনীয় সব প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।” বিশ্লেষকদের মতে, রাজনৈতিক পরিবর্তনের মধ্যেও অবকাঠামোগত সহযোগিতা অব্যাহত রাখা দুই দেশের অর্থনৈতিক ও যোগাযোগ সম্পর্কের একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বহন করে। আন্তর্জাতিক অর্থায়নে বাস্তবায়িত প্রকল্প ২০০টি ব্রডগেজ বগি সরবরাহের এই প্রকল্পে অর্থায়ন করছে ইউরোপিয়ান ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংক (ইআইবি)। ২০২৪ সালের মে মাসে আন্তর্জাতিক দরপত্রের মাধ্যমে ভারতীয় প্রতিষ্ঠান এই নির্মাণ কাজের দায়িত্ব পায়। প্রকল্পটি শুধু রেল বগি সরবরাহেই সীমাবদ্ধ নয়। চুক্তি অনুযায়ী ভারত বাংলাদেশকে ডিজাইন সহায়তা, প্রয়োজনীয় যন্ত্রাংশ, রক্ষণাবেক্ষণ প্রশিক্ষণ এবং বগিগুলো পরিচালনার জন্য কারিগরি সহযোগিতাও দেবে। দীর্ঘমেয়াদি রেল সহযোগিতার ধারাবাহিকতা বাংলাদেশের রেল অবকাঠামো উন্নয়নে ভারতের অংশগ্রহণ নতুন নয়। এর আগে দুই দেশের যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন কর্মসূচির অংশ হিসেবে ভারত বাংলাদেশে ১২০টি ব্রডগেজ কোচ, ২৫টি ব্রডগেজ লোকোমোটিভ এবং ১০টি মিটারগেজ লোকোমোটিভ সরবরাহ করেছিল। সংশ্লিষ্টদের মতে, নতুন ২০০ কোচের প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশ রেলওয়ের যাত্রী পরিবহন সক্ষমতা আরও বৃদ্ধি পাবে। একই সঙ্গে আন্তঃনগর ও দূরপাল্লার রুটে যাত্রীসেবার মান উন্নয়নের সুযোগ তৈরি হবে। কেন গুরুত্বপূর্ণ এই চালান? হাসিনা-পরবর্তী রাজনৈতিক বাস্তবতায় ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের ভবিষ্যৎ নিয়ে নানা আলোচনা চললেও রেল বগির এই চালান দেখাচ্ছে যে অবকাঠামো ও অর্থনৈতিক সহযোগিতার বড় প্রকল্পগুলো এখনো কার্যকর রয়েছে। ফলে আগামী মাসে প্রথম ২০টি বগির আগমন শুধু একটি পরিবহন প্রকল্প নয়, বরং দুই দেশের চলমান কৌশলগত ও অর্থনৈতিক সম্পর্কেরও একটি গুরুত্বপূর্ণ সূচক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক জুন ২৫, ২০২৬ 0
এনবিআর ..
এনবিআর পুনর্গঠন: কর প্রশাসনের দীর্ঘদিনের সংকট কাটাতে সরকারের নতুন পরিকল্পনা

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : বাংলাদেশের রাজস্ব ব্যবস্থার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)কে ভেঙে নতুন কাঠামোয় সাজানোর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। প্রস্তাবিত এই সংস্কারের আওতায় করনীতি প্রণয়ন এবং রাজস্ব প্রশাসনের দায়িত্ব পৃথক দুটি সংস্থার হাতে তুলে দেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছে। সরকার বলছে, কর-জিডিপি অনুপাত বৃদ্ধি, রাজস্ব আহরণে দক্ষতা বাড়ানো এবং প্রশাসনিক জবাবদিহি নিশ্চিত করার লক্ষ্যেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। তবে প্রশ্ন উঠছে—এনবিআরের বিদ্যমান কাঠামোতে এমন কী সমস্যা রয়েছে, যার কারণে এই বড় ধরনের পুনর্গঠনের প্রয়োজন দেখা দিল? রোববার (২১ জুন) রাজধানীর একটি হোটেলে আয়োজিত অনুষ্ঠানে অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এই পরিকল্পনার কথা প্রকাশ করেন। কেন ভাঙা হচ্ছে এনবিআর? বাংলাদেশে দীর্ঘদিন ধরে এনবিআর একইসঙ্গে করনীতি প্রণয়ন এবং সেই নীতির বাস্তবায়নের দায়িত্ব পালন করে আসছে। অর্থনীতিবিদ ও কর বিশেষজ্ঞদের একটি অংশের মতে, একই প্রতিষ্ঠানের হাতে নীতি নির্ধারণ ও বাস্তবায়নের ক্ষমতা কেন্দ্রীভূত থাকায় স্বচ্ছতা, জবাবদিহি এবং কার্যকারিতার ক্ষেত্রে সীমাবদ্ধতা তৈরি হয়েছে। অর্থমন্ত্রীও সেই সংকটের কথা উল্লেখ করে বলেন, "এনবিআর এমন একটি সমস্যা, যা আমাদের সমাধান করতে হবে। আমরা এটিকে দুই ভাগে ভাগ করতে যাচ্ছি। নীতি নির্ধারণের জন্য একটি আলাদা বডি এবং ব্যবস্থাপনার জন্য আরেকটি আলাদা বডি থাকবে।" সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, একটি স্বাধীন রাজস্ব নীতি বিভাগ করনীতি প্রণয়ন করবে। অন্যদিকে রাজস্ব ব্যবস্থাপনা বিভাগ সেই নীতির বাস্তবায়ন, তদারকি ও প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনা করবে। আন্তর্জাতিক চর্চার সঙ্গে সামঞ্জস্য? কর প্রশাসন নিয়ে কাজ করা বিশেষজ্ঞরা দীর্ঘদিন ধরেই বলে আসছেন, নীতি প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের দায়িত্ব পৃথক করলে সিদ্ধান্ত গ্রহণে স্বচ্ছতা বাড়ে এবং প্রশাসনিক দক্ষতা উন্নত হয়। সরকারও মনে করছে, নতুন কাঠামো আন্তর্জাতিক মানের কর প্রশাসন ব্যবস্থার সঙ্গে বাংলাদেশের রাজস্ব খাতকে আরও সামঞ্জস্যপূর্ণ করবে। নীতিনির্ধারণে আমলাতন্ত্রের বাইরে কারা আসবেন? প্রস্তাবিত সংস্কারের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো করনীতি প্রণয়নের প্রক্রিয়ায় শুধুমাত্র আমলাদের ওপর নির্ভর না করা। অর্থমন্ত্রী জানিয়েছেন, ভবিষ্যতে কর বিশেষজ্ঞ, অর্থনীতিবিদ এবং দেশের আর্থ-সামাজিক বাস্তবতা সম্পর্কে অভিজ্ঞ ব্যক্তিদের নীতি প্রণয়ন প্রক্রিয়ায় সম্পৃক্ত করা হবে। তার ভাষায়, "নীতি নির্ধারণী পর্যায় আমলাদের দ্বারা পরিচালিত হতে যাচ্ছে না। আমরা চাই কর বিশেষজ্ঞ এবং যারা বাংলাদেশ ও এ দেশের মানুষকে বোঝেন, তারা নীতি প্রণয়ন প্রক্রিয়ায় আসুক।" কর ব্যবস্থার মূল দুর্বলতা কোথায়? অর্থমন্ত্রীর মতে, বাংলাদেশের কর প্রশাসনের বড় সংকটগুলোর একটি হলো দুর্বল নীতি প্রণয়ন। সঠিক সময়ে বাস্তবসম্মত এবং কার্যকর নীতি গ্রহণ করা না গেলে প্রশাসনিক পর্যায়ে নানা জটিলতা তৈরি হয়। তিনি বলেন, "শুরুতেই যদি নীতি নির্ধারণের জায়গাটি ঠিক করা যায়, তাহলে সমস্যার অন্তত ৫০ শতাংশ সমাধান হয়ে যায়।" এই বক্তব্য ইঙ্গিত দিচ্ছে যে সরকার প্রশাসনিক সংস্কারের পাশাপাশি করনীতির দর্শন ও প্রণয়ন প্রক্রিয়াকেও পুনর্বিন্যাস করতে চাইছে। কী পরিবর্তন আসতে পারে? বিশ্লেষকদের মতে, পরিকল্পনাটি বাস্তবায়িত হলে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন দেখা যেতে পারে— করনীতি প্রণয়নে পেশাদারিত্ব বৃদ্ধি পাবে। নীতি ও বাস্তবায়নের মধ্যে স্বার্থের সংঘাত কমবে। রাজস্ব প্রশাসনে জবাবদিহি ও স্বচ্ছতা বাড়বে। করদাতাবান্ধব পরিবেশ গড়ে তোলার সুযোগ তৈরি হবে। রাজস্ব আহরণে দক্ষতা বৃদ্ধি পেতে পারে। দীর্ঘদিনের নিম্ন কর-জিডিপি অনুপাত উন্নয়নে সহায়ক হতে পারে।   এনবিআর পুনর্গঠনের এই ঘোষণা দেশের রাজস্ব খাতে চলমান সংস্কার কার্যক্রমের একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড় হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে পরিকল্পনাটি বাস্তবায়নের জন্য আইনগত, প্রশাসনিক এবং প্রাতিষ্ঠানিক পর্যায়ে কী ধরনের পরিবর্তন আনা হবে, সে বিষয়ে এখনও বিস্তারিত প্রকাশ করা হয়নি। তবে একটি বিষয় স্পষ্ট—সরকার কর প্রশাসনের কাঠামোগত পরিবর্তনের মাধ্যমে রাজস্ব ব্যবস্থাকে নতুন রূপ দিতে চাইছে। সেই সংস্কার কতটা কার্যকর হবে, তা নির্ভর করবে নতুন কাঠামোর স্বাধীনতা, দক্ষতা এবং বাস্তবায়ন সক্ষমতার ওপর।

নিজস্ব প্রতিবেদক জুন ২২, ২০২৬ 0
বেনজীর আহমেদ।
বেনজীর আহমেদ: ক্ষমতার কেন্দ্র থেকে আবুধাবিতে গ্রেফতার—দুর্নীতি, অর্থপাচার ও মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগের পূর্ণ অনুসন্ধান

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা কাঠামোর সবচেয়ে প্রভাবশালী ব্যক্তিদের একজন ছিলেন বেনজীর আহমেদ। পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি), র‌্যাবের মহাপরিচালক এবং ঢাকা মহানগর পুলিশের কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করা এই কর্মকর্তা একসময় দেশের আইনশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা নীতিনির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন। কিন্তু কয়েক বছরের ব্যবধানে সেই ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা ব্যক্তিই এখন দুর্নীতি, অর্থপাচার, অবৈধ সম্পদ অর্জন, সম্পদের তথ্য গোপন, জমি অধিগ্রহণে অনিয়ম এবং মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে একাধিক মামলার আসামি। দুবাইয়ে তার গ্রেফতারের খবর প্রকাশের পর নতুন করে সামনে এসেছে প্রশ্ন—কীভাবে রাষ্ট্রের অন্যতম শক্তিশালী কর্মকর্তা এমন অবস্থায় পৌঁছালেন, এবং তাকে দেশে ফিরিয়ে এনে বিচার করা কতটা সম্ভব? অভিযোগ থেকে অনুসন্ধান দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন গণমাধ্যমে বেনজীর আহমেদের বিপুল সম্পদ, পরিবারের সদস্যদের নামে সম্পদ সঞ্চয় এবং প্রভাব খাটিয়ে জমি অধিগ্রহণের অভিযোগ প্রকাশিত হচ্ছিল। তবে দায়িত্বে থাকা অবস্থায় এসব অভিযোগ কখনও পূর্ণাঙ্গ তদন্তের মুখ দেখেনি। পরিস্থিতির মোড় ঘুরতে শুরু করে ২০২৪ সালের ১৮ এপ্রিল। সেদিন দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) তার সম্পদ অনুসন্ধানে একটি বিশেষ অনুসন্ধান দল গঠন করে। এরপর ঘটনাপ্রবাহ দ্রুত বদলাতে থাকে। দেশত্যাগের সেই রাত দুদকের অনুসন্ধান শুরুর মাত্র দুই সপ্তাহের মাথায়, ২০২৪ সালের ৪ মে রাতে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর দিয়ে দুবাইয়ের উদ্দেশে দেশ ছাড়েন বেনজীর আহমেদ। বিমানবন্দরের সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণে দেখা যায়, কয়েকজন পুলিশ সদস্যের সহায়তায় তিনি দ্রুত ইমিগ্রেশনসহ প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করেন। রাত ১১টা ৪০ মিনিটে সিঙ্গাপুর এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে তিনি ঢাকা ত্যাগ করেন। এরপর প্রায় দুই বছর তিনি দেশের বাইরে অবস্থান করেন। দুবাইয়ে গ্রেফতার: নতুন অধ্যায়ের সূচনা দুদকের মামলার ভিত্তিতে আদালতের নির্দেশে ইন্টারপোলের সহায়তায় আন্তর্জাতিক গ্রেফতারি প্রক্রিয়া শুরু হয়। চলতি বছরের ১০ ফেব্রুয়ারি ঢাকার আদালত তার বিরুদ্ধে ইন্টারপোলের মাধ্যমে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির নির্দেশ দেন। অবশেষে ১২ জুন দুবাইয়ে তাকে গ্রেফতার করা হয়। পরে জাতীয় সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বিষয়টি অবহিত করেন। বাংলাদেশ পুলিশের একাধিক সূত্র এবং দুদক কর্মকর্তারাও গ্রেফতারের তথ্য নিশ্চিত করেন। তবে গ্রেফতার হওয়া মানেই দ্রুত দেশে ফেরত আসা নয়। এখন শুরু হতে পারে দীর্ঘ আইনি, কূটনৈতিক ও প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়া। সম্পদের হিসাব নিয়ে প্রশ্ন দুদকের মামলার নথি অনুযায়ী, বেনজীর আহমেদ ও তার পরিবারের বিরুদ্ধে মোট প্রায় ৭৪ কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জন এবং সম্পদের তথ্য গোপনের অভিযোগ আনা হয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী— বেনজীর আহমেদ ৯ কোটি ৪৪ লাখ টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন করেছেন এবং ২ কোটি ৬২ লাখ টাকার সম্পদের তথ্য গোপন করেছেন। তার স্ত্রী জীশান মীর্জার বিরুদ্ধে ৩১ কোটি ৬৯ লাখ টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জন এবং ১৬ কোটি ১ লাখ টাকার সম্পদের তথ্য গোপনের অভিযোগ রয়েছে। বড় মেয়ে ফারিহা রিশতা বিনতে বেনজীরের বিরুদ্ধে ৮ কোটি ৭৫ লাখ টাকার অবৈধ সম্পদের অভিযোগ আনা হয়েছে। ছোট মেয়ে তাহসিন রাইসা বিনতে বেনজীরের বিরুদ্ধে ৫ কোটি ৫৯ লাখ টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ রয়েছে। দুদকের অনুসন্ধানে আরও উঠে আসে, তার নামে গুলশানে চারটি ফ্ল্যাট, ৩৩টি ব্যাংক হিসাব, ১৯টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার, তিনটি বিও হিসাব এবং ৩০ লাখ টাকার সঞ্চয়পত্র রয়েছে। আদালতের নির্দেশে এসব সম্পদ জব্দ করা হয়েছে। অর্থপাচারের সন্দেহ তদন্তে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় সামনে আসে। দুদকের তথ্যমতে, বেনজীর আহমেদ প্রায় ১১ কোটি ৩৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা ঋণ গ্রহণ করলেও সেই অর্থ কোথায় বিনিয়োগ করা হয়েছে, তার গ্রহণযোগ্য ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি। তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ধারণা, অর্থের একটি অংশ বিদেশে পাচার হয়ে থাকতে পারে। যদিও এই অভিযোগের চূড়ান্ত সত্যতা বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নির্ধারিত হবে। কতগুলো মামলার মুখোমুখি? বর্তমানে বেনজীর আহমেদ ও তার পরিবারের বিরুদ্ধে দুদকের একাধিক মামলা বিচারাধীন রয়েছে। এসব মামলায় অভিযোগের মধ্যে রয়েছে— অবৈধ সম্পদ অর্জন সম্পদের তথ্য গোপন অর্থপাচার সন্দেহজনক আর্থিক লেনদেন এছাড়া আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে দায়ের হওয়া কয়েকটি মামলাতেও তাকে আসামি করা হয়েছে। শাপলা চত্বর থেকে টিএফআই সেল ২০১৩ সালের ৫ মে মতিঝিলের শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশ ঘিরে সংঘটিত ঘটনাকে কেন্দ্র করে দায়ের হওয়া মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় বেনজীর আহমেদ অভিযুক্ত। সেই সময়ে তিনি ঢাকা মহানগর পুলিশের কমিশনার ছিলেন। এছাড়া র‌্যাবের টিএফআই সেলে গুম ও গোপন আটকের অভিযোগসংক্রান্ত মামলাতেও তার নাম রয়েছে। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মামলাটির সাক্ষ্যগ্রহণ চলছে। বিতর্কিত পাসপোর্ট ইস্যু বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে আরেকটি আলোচিত অভিযোগ সরকারি চাকরিতে থাকা অবস্থায় নিজেকে বেসরকারি চাকরিজীবী হিসেবে দেখিয়ে পাসপোর্ট গ্রহণ। অভিযোগ অনুযায়ী, ২০১৬ সালে র‌্যাবের মহাপরিচালক থাকা অবস্থায় পাসপোর্ট নবায়নের আবেদনে আপত্তি জানিয়েছিল পাসপোর্ট অধিদপ্তর। পরে র‌্যাব সদর দপ্তরের বিশেষ অনুরোধে দ্রুত তার পাসপোর্ট ইস্যু করা হয়। এমনকি তার বাসভবনে গিয়ে ছবি ও বায়োমেট্রিক তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছিল বলেও অভিযোগ রয়েছে। জমি, রিসোর্ট এবং স্থানীয়দের অভিযোগ বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে সবচেয়ে আলোচিত অভিযোগগুলোর একটি গোপালগঞ্জ ও মাদারীপুরে বিপুল পরিমাণ জমি অধিগ্রহণ। স্থানীয়দের অভিযোগ, তার প্রভাবের কারণে অনেক ভূমির মালিক—বিশেষত সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের সদস্যরা—জমি বিক্রি করতে বাধ্য হয়েছেন। গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার বৈরাগীটোল এলাকায় ৬০০ বিঘার বেশি জমির ওপর গড়ে ওঠা সাভানা ইকো রিসোর্ট অ্যান্ড ন্যাচারাল পার্কও তদন্তের আওতায় আসে। আদালতের নির্দেশে রিসোর্টসহ বিভিন্ন স্থাপনা জব্দ করে জেলা প্রশাসন নিয়ন্ত্রণ গ্রহণ করে। নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে তার পরিবারের মালিকানাধীন একটি বিলাসবহুল স্থাপনা নিয়েও তদন্ত চলছে। যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা ২০২১ সালে যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি বিভাগ মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে র‌্যাব এবং এর কয়েকজন সাবেক ও বর্তমান কর্মকর্তার বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। নিষেধাজ্ঞাপ্রাপ্তদের তালিকায় ছিলেন বেনজীর আহমেদও। যুক্তরাষ্ট্রের অভিযোগ ছিল, বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড ও গুমের মতো গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনায় র‌্যাবের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে। দেশে ফিরিয়ে আনা কতটা সহজ? সাধারণভাবে অনেকেই মনে করেন, ইন্টারপোলের রেড নোটিশ জারি হলেই কোনো আসামিকে দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনা সম্ভব। বাস্তবে বিষয়টি অনেক বেশি জটিল। ইন্টারপোলের নিজস্ব কোনো গ্রেফতারকারী বাহিনী নেই। তারা মূলত সদস্য রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে তথ্য আদান-প্রদান এবং সমন্বয় করে। কোনো ব্যক্তিকে দেশে ফিরিয়ে আনতে প্রয়োজন হয়— সংশ্লিষ্ট দেশের আদালতের অনুমোদন স্থানীয় আইনি প্রক্রিয়া প্রত্যর্পণ চুক্তির শর্ত কূটনৈতিক সমন্বয় বাংলাদেশ অতীতে কয়েকজন আলোচিত আসামিকে বিদেশ থেকে ফিরিয়ে আনতে সফল হয়েছে। তবে পি কে হালদার কিংবা আরাভ খানের মতো মামলাগুলো দেখিয়েছে, আন্তর্জাতিক প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়া অনেক সময় দীর্ঘ ও জটিল হতে পারে। একটি ক্ষমতার পতন বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলোর বিচারিক সত্যতা এখনও আদালতেই নির্ধারিত হবে। তবে একটি বিষয় ইতোমধ্যে স্পষ্ট—একসময় রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা কাঠামোর কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা একজন কর্মকর্তা আজ আন্তর্জাতিক আইনি প্রক্রিয়ার মুখোমুখি। দুবাইয়ে তার গ্রেফতার শুধু একটি ব্যক্তিগত বা আইনি ঘটনা নয়; এটি রাষ্ট্রীয় জবাবদিহি, ক্ষমতার ব্যবহার এবং প্রতিষ্ঠানগত দায়বদ্ধতা নিয়ে নতুন বিতর্কেরও জন্ম দিয়েছে। বাংলাদেশের প্রশাসনিক ইতিহাসে ক্ষমতার শীর্ষে থাকা একজন সাবেক পুলিশ প্রধানের বিরুদ্ধে দুর্নীতি, অর্থপাচার ও মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে আন্তর্জাতিক গ্রেফতার নিঃসন্দেহে একটি তাৎপর্যপূর্ণ অধ্যায় হয়ে থাকবে।

নিজস্ব প্রতিবেদক জুন ১৫, ২০২৬ 0
নূরজাহান বেগমের মৃত্যু কি শুধু পারিবারিক ট্র্যাজেডি, নাকি রাষ্ট্রীয় ব্যর্থতারও প্রতিচ্ছবি
বৃদ্ধা নূরজাহানের গলিত লাশ: অবহেলা, আইন ও সামাজিক দায়বদ্ধতার প্রশ্নে দেশজুড়ে আলোড়ন

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : ঢাকার মিরপুরের পল্লবীর একটি ফ্ল্যাট। বহুতল ভবনের চতুর্থ তলার একটি কক্ষ। দরজার ওপাশে পড়ে আছেন ৭২ বছর বয়সী নূরজাহান বেগম। মৃত্যু হয়েছে কয়েকদিন আগে। কিন্তু কেউ জানে না। কেউ খোঁজও নেয়নি। পুলিশ যখন জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এর ফোন পেয়ে সেখানে পৌঁছায়, তখন মরদেহে পচন ধরেছে। লাশে জন্ম নিয়েছে পোকা। ঘরজুড়ে দুর্গন্ধ। চারপাশে আবর্জনা। এমন এক দৃশ্য, যা শুধু একটি মৃত্যুর নয়—বরং সমাজের বিবেককে নাড়া দেওয়া এক বাস্তবতার প্রতিচ্ছবি। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এখন প্রশ্ন উঠছে—নূরজাহান বেগমের মৃত্যু কি স্বাভাবিক? নাকি এটি দীর্ঘদিনের অবহেলা, বিচ্ছিন্নতা ও দায়িত্বহীনতার পরিণতি?   মৃত্যুর আগে কতদিন ছিলেন নিঃসঙ্গ? পল্লবী থানার তথ্য অনুযায়ী, গত ১ জুন রাতে মিরপুরের ৬ নম্বর সেকশনের একটি ফ্ল্যাট থেকে নূরজাহান বেগমের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পুলিশের ধারণা, অন্তত সাত থেকে আট দিন আগে তার মৃত্যু হয়েছে। সবচেয়ে আলোচিত বিষয় হলো—একই ফ্ল্যাটে তার মেয়ে বসবাস করলেও তিনি ছিলেন আলাদা একটি কক্ষে। কয়েকদিন ধরে কোনো সাড়া না পেয়ে পরে একজন নার্সকে ডেকে আনা হয়। সেই নার্সই প্রথম বুঝতে পারেন, বৃদ্ধা অনেক আগেই মারা গেছেন। স্থানীয়দের দাবি, মৃত্যুর পর বিষয়টি চেপে যাওয়ার চেষ্টা হয়েছিল। তবে নার্সের সন্দেহ হওয়ায় ৯৯৯-এ ফোন করা হয় এবং পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়।ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন এখনও প্রকাশ হয়নি। ফলে মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কারণ এখনো নিশ্চিত নয়।   প্রতিষ্ঠিত সন্তান, কিন্তু প্রশ্নবিদ্ধ দায়িত্ববোধ অনুসন্ধানে জানা গেছে, নূরজাহান বেগমের চার সন্তানই সমাজে প্রতিষ্ঠিত। বড় ছেলে সরকারের একজন যুগ্ম সচিব, মেজ ছেলে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট)-এর শিক্ষক, ছোট ছেলে কানাডাপ্রবাসী এবং মেয়ে একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত। কিন্তু তাদের সামাজিক অবস্থান যতই উঁচু হোক, মায়ের শেষ জীবন নিয়ে এখন ততটাই কঠিন প্রশ্নের মুখে পড়েছেন তারা। রিট আবেদনে অভিযোগ করা হয়েছে, পর্যাপ্ত খাবার, ওষুধ ও চিকিৎসা না দিয়ে তাকে কার্যত অবহেলার মধ্যে ফেলে রাখা হয়েছিল। এমনকি তাকে বাইরের পৃথিবী থেকে বিচ্ছিন্ন করে রাখা হয়ে থাকতে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে।   হাইকোর্টে রিট: অবহেলাজনিত মৃত্যুর অভিযোগে তদন্ত দাবি ঘটনার পর জনস্বার্থে হাইকোর্টে একটি রিট আবেদন করা হয়েছে। সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী এইচ এম সানজিদ সিদ্দিকী, আইনজীবী মো. শরীফ সরকারের পক্ষে রিটটি দায়ের করেন। রিটে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে— নূরজাহান বেগমের মৃত্যুর ঘটনায় সন্তানদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা; অবহেলাজনিত মৃত্যুর অভিযোগে ফৌজদারি তদন্ত; প্রথম শ্রেণির ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিটি; জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের তদন্ত প্রতিবেদন; ৬৫ বছরের ঊর্ধ্বে নাগরিকদের জন্য রাষ্ট্রীয়ভাবে কেয়ারগিভার নিয়োগের নীতিমালা। আগামী সোমবার হাইকোর্টে এ বিষয়ে শুনানি হতে পারে।   সরকারি প্রতিক্রিয়া: যুগ্ম সচিবকে ওএসডি ঘটনার প্রেক্ষাপটে সরকারের প্রতিক্রিয়াও নজর কাড়ছে। নূরজাহান বেগমের ছেলে এবং সরকারের যুগ্ম সচিব এ কে এম আনিসুর রহমানকে ইতোমধ্যে বর্তমান দায়িত্ব থেকে সরিয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে সংযুক্ত (ওএসডি) করা হয়েছে। জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী মো. আব্দুল বারী জানিয়েছেন, অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে পিতা-মাতার ভরণপোষণ আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এদিকে পৃথকভাবে সুপ্রিম কোর্টের আরেক আইনজীবী ফারজানা ইয়াসমিন (রাখি) চার সন্তানের কাছে আইনি নোটিশ পাঠিয়েছেন।   আইন কী বলে? বাংলাদেশে পিতা-মাতার ভরণপোষণ আইন, ২০১৩ অনুযায়ী, সন্তানদের ওপর বাবা-মায়ের ভরণপোষণের দায়িত্ব রয়েছে। আইনে বলা হয়েছে, কোনো সন্তান যুক্তিসঙ্গত কারণ ছাড়া বাবা-মায়ের ভরণপোষণ না করলে তা শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে গণ্য হতে পারে। তবে বর্তমান ঘটনায় সেই আইন কতটা প্রযোজ্য হবে, তা নির্ভর করবে তদন্তে কী তথ্য উঠে আসে তার ওপর।   শুধু একটি পরিবার নয়, বৃহত্তর সামাজিক সংকট? নূরজাহান বেগমের মৃত্যুর ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সবচেয়ে বেশি আলোচিত প্রশ্নটি হলো—শিক্ষা, চাকরি ও সামাজিক প্রতিষ্ঠা কি মানুষের নৈতিক দায়িত্ববোধ নিশ্চিত করতে পারে? কারণ এখানে অভিযোগের কেন্দ্রে রয়েছেন এমন কিছু মানুষ, যারা সমাজের উচ্চপদে অবস্থান করেন। সামাজিক বিশ্লেষকদের মতে, বাংলাদেশে দ্রুত নগরায়ণ, একক পরিবার ব্যবস্থা, বিদেশমুখী জীবনযাত্রা এবং পারিবারিক বন্ধনের পরিবর্তনের ফলে প্রবীণদের একাকিত্ব বাড়ছে। অনেক ক্ষেত্রে আর্থিক সচ্ছলতা থাকলেও মানসিক, শারীরিক ও সামাজিক যত্নের অভাব প্রকট হয়ে উঠছে।   তদন্তের অপেক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নগুলো নূরজাহান বেগমের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এখনো অজানা। তবে কয়েকটি প্রশ্ন ইতোমধ্যে সামনে এসেছে— মৃত্যু ঠিক কবে হয়েছিল? একই বাসায় থেকেও কেন দ্রুত বিষয়টি শনাক্ত হয়নি? বৃদ্ধার চিকিৎসা ও পরিচর্যার বাস্তব অবস্থা কী ছিল? তিনি কি দীর্ঘদিন অবহেলার শিকার ছিলেন? পিতা-মাতার ভরণপোষণ আইন এখানে কতটা প্রযোজ্য? রাষ্ট্রীয়ভাবে প্রবীণ সুরক্ষায় নতুন নীতিমালা প্রয়োজন কি না? ময়নাতদন্ত, পুলিশি তদন্ত এবং সম্ভাব্য আদালতীয় শুনানির মাধ্যমে এসব প্রশ্নের উত্তর খোঁজা হবে। কিন্তু এরই মধ্যে পল্লবীর সেই ফ্ল্যাট থেকে উঠে আসা দুর্গন্ধ যেন বাংলাদেশের সমাজব্যবস্থার এক অস্বস্তিকর বাস্তবতাকেই সামনে এনে দিয়েছে—যেখানে একজন মা জীবনের শেষ প্রান্তে এসে সবচেয়ে বেশি প্রয়োজনের সময়টিতে কতটা একা হয়ে যেতে পারেন, সেই প্রশ্নের উত্তর খুঁজছে পুরো দেশ।

নিজস্ব প্রতিবেদক জুন ৪, ২০২৬ 0
বিএনপি
এক দশক পর বিএনপির কাউন্সিল: নেতৃত্বে ধারাবাহিকতা নাকি নতুন সমীকরণ? : মহাসচিব পদে নতুন মুখের সম্ভাবনা

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) গঠনতন্ত্র অনুযায়ী প্রতি তিন বছর অন্তর জাতীয় কাউন্সিল করার বাধ্যবাধকতা থাকলেও সর্বশেষ কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হয়েছিল ২০১৬ সালের মার্চে। এরপর কেটে গেছে এক দশকেরও বেশি সময়। দলটির শীর্ষ নেতাদের ভাষ্য অনুযায়ী, রাজনৈতিক বাস্তবতা, আন্দোলন-সংগ্রাম, মামলা-মোকদ্দমা এবং সাংগঠনিক সীমাবদ্ধতার কারণে নির্ধারিত সময়ে কাউন্সিল আয়োজন সম্ভব হয়নি। তবে এ সময়ে দলের কার্যক্রম সচল রাখতে বিভিন্ন পদে রদবদল, পদোন্নতি এবং সাংগঠনিক সমন্বয় করা হয়েছে। এখন দীর্ঘ বিরতির পর সপ্তম জাতীয় কাউন্সিলের প্রস্তুতি শুরু হওয়ায় বিএনপির অভ্যন্তরে নেতৃত্বের ভবিষ্যৎ, ক্ষমতার ভারসাম্য এবং নতুন প্রজন্মের অংশগ্রহণ নিয়ে আলোচনা তীব্র হয়েছে। তারেক রহমানের নেতৃত্বে কোনো চ্যালেঞ্জ নেই? দলের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের একাধিক সূত্র বলছে, আসন্ন কাউন্সিলে চেয়ারম্যান পদে পরিবর্তনের সম্ভাবনা কার্যত নেই। ২০২৫ সালের শেষ দিকে খালেদা জিয়ার মৃত্যুর পর স্থায়ী কমিটির সিদ্ধান্তে তারেক রহমান পূর্ণাঙ্গ চেয়ারম্যানের দায়িত্ব গ্রহণ করেন। এর আগে তিনি প্রায় আট বছর ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হিসেবে দলের নেতৃত্ব দিয়েছেন। দলের ভেতরে প্রচলিত মূল্যায়ন অনুযায়ী, বর্তমান সময়ে তারেক রহমানের বিকল্প নেতৃত্ব দৃশ্যমান নয়। ফলে চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতার সম্ভাবনাও অত্যন্ত ক্ষীণ বলে মনে করছেন নেতারা। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রামের পর বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব এখন স্থিতিশীলতা ও ধারাবাহিকতাকে অগ্রাধিকার দিতে চাইছে। সে কারণে শীর্ষ নেতৃত্বে বড় ধরনের পরিবর্তনের সম্ভাবনা সীমিত। সবচেয়ে বড় প্রশ্ন: মহাসচিব থাকছেন কি মির্জা ফখরুল? চেয়ারম্যানের পর বিএনপির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সাংগঠনিক পদ মহাসচিব। বর্তমান মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এক দশকেরও বেশি সময় ধরে এ দায়িত্ব পালন করছেন। দলের দুর্দিনে আন্দোলন, রাজনৈতিক সমঝোতা, আন্তর্জাতিক যোগাযোগ এবং সাংগঠনিক সমন্বয়ে তিনি কেন্দ্রীয় ভূমিকা রেখেছেন। সম্প্রতি এক টেলিভিশন সাক্ষাৎকারে তিনি নিজেই জানান যে তিনি ক্লান্ত এবং কাউন্সিলের পর অবসর নেওয়ার ইচ্ছা পোষণ করেন। তার এই বক্তব্যের পর থেকেই মহাসচিব পদে সম্ভাব্য উত্তরসূরি নিয়ে জোর আলোচনা শুরু হয়েছে। তবে দলের একটি অংশ মনে করে, সংকটময় সময়ে নেতৃত্ব দেওয়ার অভিজ্ঞতা এবং গ্রহণযোগ্যতার কারণে দল এখনও তাকে ধরে রাখতে চাইতে পারে। মহাসচিব পদে আলোচনায় চার নেতা দলীয় সূত্রগুলো বলছে, মির্জা ফখরুল সরে দাঁড়ালে অন্তত চারজন নেতা সম্ভাব্য উত্তরসূরি হিসেবে বিবেচনায় থাকতে পারেন। ১. সালাহউদ্দিন আহমদ বর্তমানে স্থায়ী কমিটির সদস্য। নীতি নির্ধারণ, রাজনৈতিক কৌশল এবং সাংগঠনিক পরিকল্পনায় সক্রিয় ভূমিকা রাখছেন। দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা তাকে শক্তিশালী প্রার্থী হিসেবে সামনে এনেছে। ২. আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী দলের আন্তর্জাতিক যোগাযোগ, অর্থনৈতিক নীতি এবং কূটনৈতিক তৎপরতায় গুরুত্বপূর্ণ মুখ হিসেবে পরিচিত। আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে গ্রহণযোগ্যতার কারণে তিনিও আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছেন। ৩. রুহুল কবির রিজভী দীর্ঘদিন ধরে দলীয় দফতর, সাংগঠনিক সমন্বয় এবং মাঠ পর্যায়ের রাজনীতি পরিচালনার অভিজ্ঞতা রয়েছে তার। আন্দোলনের সময় দৃশ্যমান ভূমিকা তাকে শক্ত অবস্থানে নিয়ে এসেছে। ৪. শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি ছাত্ররাজনীতি থেকে উঠে আসা এই নেতা সাংগঠনিক ধারাবাহিকতা, পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তি এবং দলীয় আনুগত্যের কারণে সম্ভাব্য প্রার্থীদের তালিকায় রয়েছেন। স্থায়ী কমিটিতে আসছে নতুন মুখ? বিএনপির সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম স্থায়ী কমিটি। বর্তমানে বিভিন্ন কারণে কয়েকটি পদ কার্যত শূন্য রয়েছে। এছাড়া কিছু সদস্য অসুস্থ এবং কয়েকজন রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করছেন। এ পরিস্থিতিতে নতুন সদস্য অন্তর্ভুক্তির সম্ভাবনা জোরালো হয়েছে। দলীয় সূত্রগুলো যাদের নাম সামনে আনছে, তাদের মধ্যে রয়েছেন— রুহুল কবির রিজভী হাবিব উন নবী খান সোহেল শামসুজ্জামান দুদু সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল বিশেষ করে আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় ভূমিকা এবং সাংগঠনিক অভিজ্ঞতার কারণে রিজভীর নাম সবচেয়ে বেশি আলোচিত হচ্ছে। তরুণ নেতৃত্বকে সামনে আনার পরিকল্পনা বিএনপির শীর্ষ নেতারা ইতোমধ্যে ইঙ্গিত দিয়েছেন যে নতুন কমিটিতে নবীন ও প্রবীণের সমন্বয় ঘটানো হবে। স্থায়ী কমিটি, ভাইস চেয়ারম্যান, যুগ্ম মহাসচিব এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ পদে অপেক্ষাকৃত তরুণ নেতৃত্বকে সুযোগ দেওয়ার চিন্তাভাবনা চলছে। দলটির একাধিক নেতা মনে করছেন, আগামী রাজনৈতিক বাস্তবতায় সাংগঠনিক সক্ষমতা, জনসম্পৃক্ততা এবং আধুনিক রাজনৈতিক যোগাযোগের জন্য নতুন প্রজন্মের অংশগ্রহণ বাড়ানো জরুরি। কাউন্সিল কেন গুরুত্বপূর্ণ? বিএনপির ইতিহাসে কাউন্সিল কেবল নেতৃত্ব নির্বাচন নয়; এটি দলীয় দিকনির্দেশনা নির্ধারণেরও প্রধান মঞ্চ। ১৯৭৮ সালে প্রতিষ্ঠার পর দলটি মাত্র ছয়টি জাতীয় কাউন্সিল করেছে। প্রতিটি কাউন্সিলের মাধ্যমে নেতৃত্বের পুনর্বিন্যাস এবং রাজনৈতিক কৌশলের নতুন রূপরেখা নির্ধারিত হয়েছে। দীর্ঘ এক দশক পর অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া সপ্তম কাউন্সিল তাই শুধু সাংগঠনিক আনুষ্ঠানিকতা নয়; এটি বিএনপির ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক পথচলারও গুরুত্বপূর্ণ মোড় হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। ধারাবাহিকতার সঙ্গে পরিবর্তনের বার্তা? বর্তমান পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, বিএনপি শীর্ষ নেতৃত্বে বড় ধরনের পরিবর্তনের চেয়ে ধারাবাহিকতাকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে। তারেক রহমানের নেতৃত্ব প্রশ্নাতীত অবস্থানে থাকলেও মহাসচিব পদে নতুন মুখ আসার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। অন্যদিকে স্থায়ী কমিটি ও কেন্দ্রীয় নেতৃত্বে তরুণদের অন্তর্ভুক্তি দলটির দীর্ঘমেয়াদি পুনর্গঠনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। ফলে সপ্তম জাতীয় কাউন্সিল বিএনপির জন্য কেবল নেতৃত্ব নির্বাচনের অনুষ্ঠান নয়; বরং আগামী দশকের রাজনৈতিক কৌশল, ক্ষমতার ভারসাম্য এবং উত্তরাধিকার রাজনীতির নতুন রূপরেখা নির্ধারণের মঞ্চ হয়ে উঠতে পারে।

নিজস্ব প্রতিবেদক জুন ১, ২০২৬ 0
সাইপ্রাসে এস আলমের সম্পত্তি ক্রোক
সাইপ্রাসে এস আলমের বিলাসবহুল বাড়ি ক্রোক, ৮০০ কোটি ইউরো পাচার তদন্তে নতুন মোড়

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : বাংলাদেশ থেকে বিপুল অর্থ পাচারের অভিযোগে তদন্তের মুখে এবার সাইপ্রাসে বিলাসবহুল সম্পত্তি হারানোর ঝুঁকিতে পড়েছেন এস আলম গ্রুপের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ সাইফুল আলম। বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ভূমধ্যসাগরীয় দ্বীপরাষ্ট্র সাইপ্রাসের নিকোসিয়া জেলা আদালত লিমাসসোল জেলার পারেকলিসিয়ায় অবস্থিত সাইফুল আলম ও তার স্ত্রীর মালিকানাধীন একটি বিলাসবহুল দোতলা বাড়ি ক্রোকের নির্দেশ দিয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৮ মে) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে Cyprus Mail। প্রতিবেদনে বলা হয়, ব্যাংক জালিয়াতি ও অর্থ পাচারের অভিযোগে চলমান ফৌজদারি তদন্তের অংশ হিসেবেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। সাইপ্রাসের মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ ইউনিট মোকাসের আবেদনের ভিত্তিতে গত ১৯ মে আদালত এই ক্রোক আদেশ জারি করে। তদন্তটি পরিচালিত হচ্ছে বাংলাদেশ ও সাইপ্রাসের মধ্যে পারস্পরিক আইনি সহায়তা প্রক্রিয়ার আওতায়। ৮০০ কোটি ইউরো পাচারের অভিযোগ বাংলাদেশের তদন্তকারী সংস্থাগুলোর অভিযোগ, ২০০৯ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে বিস্তৃত কোম্পানি নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে বিপুল পরিমাণ অর্থ বিদেশে পাচার করা হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরও প্রকাশ্যে দাবি করেছেন, এস আলম গ্রুপ প্রায় ৮০০ কোটি ইউরোর বেশি অর্থ দেশ থেকে সরিয়ে নিয়েছে। তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো মনে করছে, ওই অর্থের একটি অংশ সাইপ্রাস, সিঙ্গাপুরসহ বিভিন্ন দেশে বিনিয়োগ বা সম্পদ আকারে রয়েছে। যদিও মোহাম্মদ সাইফুল আলম সব ধরনের অনিয়ম ও অপরাধের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। ব্যাংক খাত থেকে সাম্রাজ্য বিস্তার এস আলম গ্রুপ বাংলাদেশের অন্যতম বৃহৎ এবং বহুল আলোচিত ব্যবসায়ী গোষ্ঠী। পরিবহন ও চিনি পরিশোধন খাত দিয়ে যাত্রা শুরু করলেও পরবর্তীতে ব্যাংক, বীমা, গণমাধ্যম, বিদ্যুৎ ও হোটেল খাতে ব্যাপক বিস্তার ঘটায় প্রতিষ্ঠানটি। ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের সময় ব্যাংক খাতে প্রভাব বিস্তার, জালিয়াতির মাধ্যমে ঋণ গ্রহণ, অর্থ পাচার এবং আর্থিক অনিয়মের অভিযোগে একাধিকবার আলোচনায় আসে গ্রুপটি। বাংলাদেশের বিভিন্ন আদালত ইতোমধ্যে সাইফুল আলম, তার পরিবারের সদস্য এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধ ও সম্পত্তি জব্দের নির্দেশ দিয়েছেন। শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর অন্তর্ধান ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা  সরকারের পতনের পর থেকে প্রকাশ্যে দেখা যায়নি সাইফুল আলম বা তার পরিবারের সদস্যদের। এ সময় তার বাংলাদেশের নাগরিকত্ব ত্যাগের আবেদন করার খবরও সামনে আসে। সর্বশেষ গত ২১ মে ইসলামী ব্যাংক থেকে নেওয়া ৮৪ কোটি ৪৯ লাখ টাকার ঋণ পরিশোধ না করায় সাইফুল আলমসহ ১১ জনকে পাঁচ মাসের কারাদণ্ড দেয় চট্টগ্রাম অর্থঋণ আদালত। আদালত তাদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানাও জারি করে, কারণ আসামিরা পলাতক রয়েছেন। ‘গোল্ডেন পাসপোর্ট’ ও সাইপ্রাস সংযোগ সাইপ্রাস মেইলের প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০১৬ সালে সাইফুল আলম দেশটির বিতর্কিত ‘সিটিজেন-বাই-ইনভেস্টমেন্ট’ কর্মসূচির মাধ্যমে সাইপ্রাসের নাগরিকত্ব লাভ করেন। এই কর্মসূচি স্থানীয়ভাবে ‘গোল্ডেন পাসপোর্ট স্কিম’ নামে পরিচিত। তবে বাংলাদেশ থেকে পাওয়া অভিযোগের ভিত্তিতে পরবর্তীতে তার নাগরিকত্ব বাতিল করে সাইপ্রাস সরকার। যদিও সাইপ্রাস সরকারের ‘নিকোলাটোস কমিটি’র তদন্ত প্রতিবেদনে তার নাম সরাসরি উল্লেখ ছিল না। তদন্তে বিদেশি কোম্পানি ও অফশোর নেটওয়ার্ক সাইপ্রাস মেইলের তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশের তদন্তকারীরা এখন ‘একলেয়ার ইন্টারন্যাশনাল’ নামের একটি সাইপ্রাসভিত্তিক কোম্পানির কার্যক্রমও খতিয়ে দেখছেন। ২০১৬ সালে সাইফুল আলম কোম্পানিটি কিনে নেন। তদন্তকারীদের সন্দেহ, অর্থ স্থানান্তর ও বিনিয়োগ ব্যবস্থাপনায় এই প্রতিষ্ঠান ব্যবহার করা হয়ে থাকতে পারে। আদালতের নথিতে সাইপ্রাস, ব্রিটিশ ভার্জিন আইল্যান্ডস এবং জার্সিভিত্তিক একাধিক কোম্পানি ও ট্রাস্টের কথাও উল্লেখ রয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানের মালিকানা কাঠামো এবং আর্থিক কার্যক্রম এখন তদন্তাধীন। বাংলাদেশের তদন্তকারী সংস্থাগুলো বিশেষভাবে খতিয়ে দেখছে, ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ ও First Security Islami Bank থেকে নেওয়া বিপুল ঋণের অর্থ কোনো আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্কের মাধ্যমে বিদেশে পাচার করা হয়েছিল কিনা। আন্তর্জাতিক আইনি লড়াইয়ে সাইফুল আলম অন্যদিকে আন্তর্জাতিক আইন প্রতিষ্ঠান Quinn Emanuel Urquhart & Sullivan–এর মাধ্যমে সাইফুল আলম দাবি করেছেন, তার বিদেশি বিনিয়োগ বৈধ উৎসের অর্থে পরিচালিত হয়েছে এবং তার বিরুদ্ধে ‘অন্যায়ভাবে’ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। তিনি ইতোমধ্যে International Centre for Settlement of Investment Disputes–এ আইনি প্রক্রিয়াও শুরু করেছেন। সেখানে তার দাবি, সম্পদ জব্দ ও ক্রোকের মতো পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ সুরক্ষা চুক্তির লঙ্ঘন এবং এসব ব্যবস্থা রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ২৯, ২০২৬ 0
জঙ্গল সলিমপুরে পাহাড় কেটে গড়ে উঠেছে অবৈধ বসতি
জঙ্গল সলিমপুরে আবার সশস্ত্র হামলা: নিয়ন্ত্রণ ও সন্ত্রাসীদের আধিপত্য

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার জঙ্গল সলিমপুর বহু বছর ধরেই স্থানীয়দের কাছে পরিচিত এক ভিন্ন বাস্তবতার জনপদ হিসেবে। প্রশাসনের ভাষায় এটি “ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা”, আর স্থানীয়দের কাছে—“দেশের ভেতর আরেক দেশ”। রাষ্ট্রের আইন, প্রশাসন কিংবা সরকারি নিয়ন্ত্রণের চেয়ে এখানে দীর্ঘদিন বেশি কার্যকর ছিল সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর নিজস্ব শাসনব্যবস্থা। পাহাড় কেটে অবৈধ বসতি, প্লট বাণিজ্য, চাঁদাবাজি এবং অস্ত্রনির্ভর আধিপত্যের মধ্য দিয়ে গড়ে ওঠে এক জটিল অপরাধ অর্থনীতি। গত জানুয়ারিতে র‌্যাব কর্মকর্তার নিহত হওয়ার ঘটনার পর বড় ধরনের অভিযানে নামে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। তখন দাবি করা হয়েছিল, জঙ্গল সলিমপুরের নিয়ন্ত্রণ “রাষ্ট্রের হাতে ফিরে এসেছে”। কিন্তু রবিবার মধ্যরাতে যৌথ বাহিনীর ক্যাম্পে সশস্ত্র হামলা সেই দাবিকে নতুন করে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে। মধ্যরাতের হামলা: দুই ঘণ্টা ধরে গোলাগুলি রাত প্রায় ১টা। সীতাকুণ্ডের আলীনগর স্কুলে স্থাপিত যৌথ বাহিনীর অস্থায়ী ক্যাম্পে দায়িত্ব পালন করছিল র‌্যাব, পুলিশ, এপিবিএন ও আরআরএফ সদস্যরা। হঠাৎ পাশের পাহাড়ি এলাকার কয়েকটি টিনের ঘর থেকে শুরু হয় গুলিবর্ষণ। স্থানীয় সূত্রগুলোর দাবি, টিনের দেয়াল ও চালে আগে থেকেই ছোট ছোট ছিদ্র তৈরি করে পরিকল্পিতভাবে ফায়ারিং পজিশন তৈরি করা হয়েছিল। আকস্মিক এই হামলার পর পাল্টা অবস্থান নেয় যৌথ বাহিনী। প্রায় দুই ঘণ্টা ধরে থেমে থেমে গোলাগুলিতে পুরো এলাকা আতঙ্কে কেঁপে ওঠে। একই সময় সন্ত্রাসীদের আরেকটি দল পাশেই নির্মাণাধীন যৌথ বাহিনীর নতুন ক্যাম্পে হামলা চালায়। সেখানে থাকা একটি এক্সকাভেটর ব্যবহার করে ভবনের বিভিন্ন অংশ গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সূত্র জানায়, ক্যাম্পটির প্রায় ৯০ শতাংশ নির্মাণকাজ শেষ হয়েছিল। আগামী ৩১ মে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর উপস্থিতিতে সেটি উদ্বোধনের পরিকল্পনা ছিল। হামলার পুনরাবৃত্তি কেন? জঙ্গল সলিমপুরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ওপর হামলার ঘটনা নতুন নয়। গত ১৯ জানুয়ারি অভিযানে গিয়ে সশস্ত্র হামলার মুখে পড়ে র‌্যাবের একটি দল। ওই ঘটনায় নিহত হন র‌্যাব কর্মকর্তা আবদুল মোতালেব। আহত হন আরও তিন সদস্য। এর আগে ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বরে বড়ইতলা এলাকায় অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ অভিযান শেষে ফেরার পথে হামলার শিকার হন জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা। আহত হন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট উমর ফারুক, সীতাকুণ্ড থানার তৎকালীন ওসি তোফায়েল আহমেদসহ অন্তত ২০ জন। স্থানীয়দের মতে, প্রতিবারই প্রশাসন অভিযান চালালেও কিছুদিন পর পরিস্থিতি আগের অবস্থায় ফিরে যায়। পাহাড় কেটে গড়ে ওঠা ‘অপরাধ অর্থনীতি’ জঙ্গল সলিমপুরের বর্তমান বাস্তবতা মূলত পাহাড় দখল ও জমি বাণিজ্যকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ অনুযায়ী, ‘চট্টগ্রাম মহানগর ছিন্নমূল বস্তিবাসী সমন্বয় সংগ্রাম পরিষদ’ নামের একটি সংগঠন ৩৪টি পাহাড় কেটে প্রায় ৫৮৬ একর সরকারি জমিতে প্রায় ১৪ হাজার প্লট তৈরি করেছে। অন্যদিকে ‘আলীনগর সমবায় সমিতি’ আরও তিনটি পাহাড় কেটে ২৩৬ একর জমিতে আড়াই হাজারের বেশি প্লট তৈরি করেছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এসব প্লট ৫ থেকে ১০ লাখ টাকায় বিক্রি করা হয় বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন। এলাকাজুড়ে চালু রয়েছে কথিত “টোকেন সিস্টেম”। অভিযোগ রয়েছে, প্রতিদিন নির্দিষ্ট পরিমাণ টাকা দিয়ে টোকেন সংগ্রহের মাধ্যমে পাহাড় কাটার অনুমতি দেওয়া হয়। এরপর সেই জমি বিক্রি করে হাতিয়ে নেওয়া হচ্ছে কোটি কোটি টাকা। ভূমি অফিসের জরিপে অন্তত ৩৭টি পাহাড় কাটার প্রমাণ পাওয়া গেছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। কীভাবে গড়ে উঠল ‘অন্য এক শাসনব্যবস্থা’? স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, দুর্গম পাহাড়ি অবস্থানের কারণে বহু বছর ধরেই জঙ্গল সলিমপুর অপরাধীদের নিরাপদ আশ্রয়স্থল হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। নব্বইয়ের দশকে ভূমিদস্যু আলী আক্কাসের হাত ধরে শুরু হয় পাহাড় দখল ও অবৈধ নিয়ন্ত্রণের বিস্তার। ২০১০ সালে র‌্যাবের অভিযানে আলী আক্কাস নিহত হওয়ার পর তার অনুসারীরা বিভিন্ন গ্রুপে বিভক্ত হয়ে এলাকায় আধিপত্য বিস্তার শুরু করে। বর্তমানে রোকন মেম্বার, মশিউর, ইয়াছিন, ফারুক, গাজী সাদেক, গফুর মেম্বার, রিপন ও আল আমিন সাগরসহ একাধিক সশস্ত্র গ্রুপের নাম স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তাদের মতে, এসব গ্রুপের মধ্যে আধিপত্যের দ্বন্দ্ব এবং অর্থনৈতিক স্বার্থই সংঘাতকে আরও জটিল করে তুলেছে। ইয়াছিন: শ্রমিক থেকে সশস্ত্র গোষ্ঠীর নেতৃত্বে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দাবি, রবিবারের হামলার পেছনে ছিল ইয়াছিন গ্রুপ। স্থানীয় সূত্র অনুযায়ী, ২০০৩ সালে নোয়াখালী থেকে চট্টগ্রামে আসেন মোহাম্মদ ইয়াছিন। শুরুতে একটি জুট মিলে চাকরি করলেও পরে জঙ্গল সলিমপুরে স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেন। ধীরে ধীরে তিনি অপরাধ জগতের সঙ্গে জড়িয়ে পড়েন। অভিযোগ রয়েছে, পুলিশের ভয় আছে—এমন অপরাধীদের আশ্রয় দেওয়া থেকে শুরু করে পাহাড় কেটে প্লট বাণিজ্য—সবকিছুর মধ্য দিয়ে তিনি গড়ে তোলেন নিজস্ব সশস্ত্র নেটওয়ার্ক। পরবর্তীতে সেটিই রূপ নেয় একটি শক্তিশালী গোষ্ঠীতে।  নিয়ন্ত্রণ” কতটা বাস্তব? র‌্যাব-৭ এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল হাফিজুর রহমান জানিয়েছেন, হামলায় ২০০ থেকে ৩০০ সশস্ত্র ব্যক্তি অংশ নেয়। তাদের হাতে দেশীয় অস্ত্রের পাশাপাশি আধুনিক আগ্নেয়াস্ত্রও ছিল। অন্যদিকে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলম বলেছেন, “যেই জড়িত থাকুক, কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।” তবে নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, শুধুমাত্র অভিযান দিয়ে জঙ্গল সলিমপুরের পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হবে। কারণ এখানে অপরাধ শুধু অস্ত্রের নয়—ভূমি, অবৈধ বসতি, রাজনৈতিক প্রভাব, দখল অর্থনীতি এবং দীর্ঘদিনের প্রশাসনিক দুর্বলতার সঙ্গে গভীরভাবে জড়িত। প্রশ্ন রয়ে যাচ্ছে যৌথ বাহিনীর ক্যাম্পে হামলা এবং নির্মাণাধীন স্থাপনা গুঁড়িয়ে দেওয়ার ঘটনা নতুন করে দেখিয়ে দিয়েছে—জঙ্গল সলিমপুরে সংঘাত এখনো শেষ হয়নি। রাষ্ট্র সেখানে উপস্থিত হলেও, নিয়ন্ত্রণের লড়াই এখনও চলছে ছায়ার আড়ালে। আর সেই লড়াইয়ের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে পাহাড়, জমি এবং কোটি কোটি টাকার অবৈধ অর্থনীতি।

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ২৭, ২০২৬ 0
ভাইরাল মহিষ ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প’-এর রাজকীয় বিদায়: নারায়ণগঞ্জে লাল গালিচায় সংবর্ধনা
ভাইরাল মহিষ ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প’-এর রাজকীয় বিদায়: সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে আন্তর্জাতিক আলোচনায়

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচিত মহিষ ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প’-কে জমকালো আয়োজনের মধ্য দিয়ে বিদায় জানিয়েছে নারায়ণগঞ্জের রাবেয়া এগ্রো ফার্ম। সোমবার সন্ধ্যায় নতুন মালিকের কাছে পশুটি হস্তান্তরের সময় লাল গালিচা সংবর্ধনা, বিশেষ আলোকসজ্জা ও ধোঁয়ার ইফেক্টে সাজানো আয়োজনে তৈরি হয় এক ব্যতিক্রমী দৃশ্য। নারায়ণগঞ্জ শহরের পাইকপাড়ায় অবস্থিত খামারটিতে দুপুর থেকেই ভিড় জমাতে শুরু করেন উৎসুক মানুষ। কেউ ভিডিও ধারণ করেন, কেউ ছবি তোলেন, আবার অনেকে শুধুই একনজর দেখতে আসেন ভাইরাল এই মহিষটিকে। খামার কর্তৃপক্ষ জানায়, বিদায়ের আগে মহিষটিকে গোসল করিয়ে বিশেষভাবে সাজানো হয়। পরে রাজকীয় পোশাক পরিয়ে লাল গালিচা ধরে গাড়িতে তোলা হয়। পুরো আয়োজনটি ছিল অনেকটা কোনো সেলিব্রিটিকে বিদায় জানানোর মতো। কীভাবে ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প’ নাম? খামার সূত্র বলছে, বিরল এলভিনো জাতের এই মহিষটির গায়ের রঙ, চোখ ও লোমের গঠন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট Donald Trump-এর সঙ্গে কিছুটা সাদৃশ্যপূর্ণ মনে হওয়ায় এর নাম রাখা হয় ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প’। নামটি দেন খামারের মালিক জিয়াউদ্দিন মৃধার ছোট ভাই। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রথমে মহিষটির ছবি ও ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে। পরে বিভিন্ন অনলাইন প্ল্যাটফর্মে সেটি ভাইরাল হলে দেশের বাইরে থেকেও আগ্রহ তৈরি হয়। খামার কর্তৃপক্ষের দাবি, আন্তর্জাতিক কিছু গণমাধ্যমেও বিষয়টি প্রকাশিত হওয়ার পর দর্শনার্থীর চাপ আরও বেড়ে যায়। কোরবানির পশু থেকে ‘সামাজিক ব্র্যান্ড’ প্রায় ৭০০ কেজি ওজনের এই মহিষটি রাজধানীর জিনজিরা এলাকার বাসিন্দা সামির আগেই কিনে নেন। খামার সূত্র অনুযায়ী, প্রতি কেজি ৫৫০ টাকা দরে পশুটি বিক্রি করা হয়। তবে বিক্রির পর পরিস্থিতি বদলে যায়। অনলাইনে ভাইরাল হওয়ার কারণে মহিষটি শুধু কোরবানির পশু হিসেবেই নয়, বরং এক ধরনের সামাজিক আলোচনার বিষয়বস্তুতে পরিণত হয়। ঈদকেন্দ্রিক বাজার সংস্কৃতি, অনলাইন ভাইরাল প্রবণতা এবং ব্যতিক্রমী বিপণন কৌশল—সবকিছুর মিশেলে ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প’ হয়ে ওঠে আলোচিত এক নাম। বিশ্লেষকরা বলছেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে কোরবানির পশুর বাজারে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম একটি বড় প্রভাবক হিসেবে কাজ করছে। বড় আকৃতির গরু, বিরল জাতের পশু কিংবা অদ্ভুত নাম ব্যবহার করে অনেক খামার এখন অনলাইন জনপ্রিয়তা অর্জনের চেষ্টা করছে। ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প’ সেই প্রবণতারই আলোচিত উদাহরণ। আবেগঘন বিদায় রাবেয়া এগ্রো ফার্মের স্বত্বাধিকারী জিয়াউদ্দিন মৃধা বলেন, বহুদিন ধরে মহিষটিকে লালন-পালন করেছেন তারা। তাই বিদায়ের সময় আবেগ কাজ করেছে। তবে কোরবানির মূল শিক্ষা ত্যাগের মধ্যেই নিহিত বলে মন্তব্য করেন তিনি। নতুন মালিক সামির বলেন, তিনি সাধারণভাবেই পশুটি কিনেছিলেন। পরে এটি ভাইরাল হয়ে গেলে এলাকায়ও মানুষের আগ্রহ তৈরি হয়। বর্তমানে জিনজিরাতেও অনেকে মহিষটিকে দেখতে আসছেন।

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ২৬, ২০২৬ 0
আটক কেন্দ্র
পশ্চিমবঙ্গে প্রতিটি জেলায় ‘হোল্ডিং সেন্টার’: বাংলাদেশি-রোহিঙ্গা সন্দেহে আটক আতঙ্ক, প্রশ্ন মানবাধিকার নিয়ে

পশ্চিমবঙ্গে ‘হোল্ডিং সেন্টার’: অনুপ্রবেশ ঠেকানো নাকি নতুন আতঙ্কের অবকাঠামো? ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন ডেস্ক : ভারতের পশ্চিমবঙ্গ সরকার কথিত ‘বাংলাদেশি ও রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশকারী’দের আটকে রাখার জন্য রাজ্যের প্রতিটি জেলায় ‘হোল্ডিং সেন্টার’ বা আটক কেন্দ্র তৈরির নির্দেশ দেওয়ার পর নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে নাগরিক অধিকার ও মানবাধিকার প্রশ্নে। গত সপ্তাহের শেষ দিকে রাজ্য পুলিশের কাছে পাঠানো এক সরকারি নোটে বলা হয়েছে, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের গত বছরের নির্দেশিকা অনুযায়ী প্রত্যেক জেলায় এমন কেন্দ্র গড়ে তুলতে হবে, যেখানে ‘অবৈধভাবে বসবাসরত বিদেশি নাগরিকদের’ রাখা হবে। শুধু কথিত অনুপ্রবেশকারীই নয়, জেল থেকে সাজা শেষ করে মুক্তি পাওয়া এবং নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর অপেক্ষায় থাকা বিদেশিদেরও এসব কেন্দ্রে রাখা হবে। ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে গত এক বছরে এ ধরনের হোল্ডিং সেন্টার গড়ে উঠলেও পশ্চিমবঙ্গে এই প্রথম এমন উদ্যোগ নেওয়া হলো। ‘হোল্ডিং সেন্টার’: নাম বদল, বাস্তবতা একই? গত বছর থেকে ভারতের গুজরাত, মহারাষ্ট্র, দিল্লি, হরিয়ানা ও ওড়িশাসহ বিভিন্ন রাজ্যে কথিত বাংলাদেশি ও রোহিঙ্গা শনাক্তে ব্যাপক অভিযান চালানো হয়। ওইসব অভিযানে হাজার হাজার মানুষকে আটক করা হয়েছিল, যাদের মধ্যে নারী ও শিশুও ছিলেন। পরিচয় যাচাইয়ের নামে অনেককে ছয়-সাত দিন কিংবা তারও বেশি সময় আটকে রাখা হয়। পরে দেখা যায়, আটক হওয়া অনেকেই প্রকৃত ভারতীয় নাগরিক; বিশেষ করে পশ্চিমবঙ্গ থেকে কাজের সন্ধানে অন্য রাজ্যে যাওয়া বাংলাভাষী মুসলিম পরিযায়ী শ্রমিকরা। আটক ব্যক্তিদের একাংশ বিবিসি বাংলাকে জানিয়েছেন, ‘হোল্ডিং সেন্টার’ নামে পরিচিত এসব স্থান বাস্তবে ছিল অস্থায়ী আটক শিবির। কোনো অনুষ্ঠানবাড়ি, বড় অফিস ভবন বা খালি প্রাঙ্গণ ব্যবহার করা হতো এসব কেন্দ্র হিসেবে। বাইরে থাকত পুলিশি পাহারা, ভেতরে সীমিত চলাফেরা। অনেকের অভিযোগ, মোবাইল ফোন ব্যবহার করতে দেওয়া হতো না, খাবারও ছিল অপ্রতুল। কেউ কেউ গোপনে ছবি বা ভিডিও পাঠিয়ে পরিবারের কাছে নিজেদের অবস্থার কথা জানান। ভাষা ও ধর্ম কি হয়ে উঠছে সন্দেহের কারণ? আটক হওয়া বহু মানুষের দাবি, শুধুমাত্র বাংলায় কথা বলা এবং মুসলমান পরিচয়ের কারণেই তাদের সন্দেহভাজন হিসেবে ধরা হয়েছিল। পরিযায়ী শ্রমিক মঞ্চের রাজ্য সাধারণ সম্পাদক আসিফ ফারুক বলেন, “বাংলাভাষী মুসলমান শ্রমিকদের লক্ষ্য করেই বহু জায়গায় অভিযান চালানো হয়েছে। পরবর্তীতে দেখা গেছে, আটক হওয়া অনেকেই প্রকৃত ভারতীয় নাগরিক ছিলেন। কিন্তু ততক্ষণে তারা হেনস্তা, মানসিক নির্যাতন ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের শিকার হয়েছেন।” মানবাধিকারকর্মীদের আশঙ্কা, পশ্চিমবঙ্গেও যদি একই ধরনের অভিযান শুরু হয়, তাহলে বৃহৎ সংখ্যক দরিদ্র শ্রমজীবী মানুষ নতুন করে হয়রানির মুখে পড়তে পারেন। ‘পুশব্যাক’: পরিচয় যাচাইয়ের আগেই সীমান্ত পার? গত এক বছরে একাধিক ঘটনায় দেখা গেছে, পরিচয় যাচাই সম্পন্ন হওয়ার আগেই অনেককে বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়া হয়েছে। সবচেয়ে আলোচিত ঘটনাগুলোর একটি পশ্চিমবঙ্গের সোনালী খাতুন ও তার পরিবারের। গর্ভবতী অবস্থায় তাকে পরিবারসহ বাংলাদেশে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছিল। পরে আন্তর্জাতিক সমালোচনার মুখে শুধু সোনালী খাতুনকে ভারতে ফিরিয়ে আনা হয়। মুর্শিদাবাদের মেহবুব শেখ এবং পূর্ব বর্ধমানের মুস্তাফা কামাল শেখের ঘটনাও একই ধরনের। দুজনকেই বাংলাদেশে পাঠিয়ে দেওয়ার পর পুনরায় ভারতে ফিরিয়ে আনা হয়, যখন প্রমাণিত হয় তারা ভারতীয় নাগরিক। এ ধরনের ঘটনা সীমান্ত নিরাপত্তা ও নাগরিক অধিকার—দুই প্রশ্নই সামনে এনে দিয়েছে। কেন্দ্রীয় নির্দেশনায় কী বলা আছে? ভারতের প্রচলিত আইনে অবৈধভাবে প্রবেশ বা বসবাসের অভিযোগে বিদেশি নাগরিকদের আটক করে আদালতের মাধ্যমে বিচার করার বিধান রয়েছে। সাজা শেষে সংশ্লিষ্ট দেশের দূতাবাসের সহায়তায় পরিচয় নিশ্চিত করে প্রত্যর্পণ করা হয়। কিন্তু কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নতুন নির্দেশনায় আলাদা প্রক্রিয়ার কথা বলা হয়েছে। সেখানে বলা হয়— প্রতিটি রাজ্যে বিশেষ টাস্ক ফোর্স গঠন করতে হবে প্রতিটি জেলায় পুলিশের তত্ত্বাবধানে হোল্ডিং সেন্টার তৈরি করতে হবে সন্দেহভাজন ব্যক্তি যে রাজ্যের বাসিন্দা দাবি করবেন, সেই রাজ্যের পুলিশকে ৩০ দিনের মধ্যে পরিচয় যাচাই করতে হবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে রিপোর্ট না এলে ফরেনার্স রিজিওনাল রেজিস্ট্রেশন অফিসার (FRRO) প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়া শুরু করতে পারবেন অধিকারকর্মীদের মতে, এই ব্যবস্থায় ভুল শনাক্তকরণের ঝুঁকি অত্যন্ত বেশি। প্রশ্নের মুখে পরিসংখ্যান সমালোচকদের বড় প্রশ্ন—পশ্চিমবঙ্গে কথিত বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীর প্রকৃত সংখ্যা কত? অর্থনীতিবিদ ও জাতীয় কংগ্রেস নেতা প্রসেনজিৎ বসু বলেন, “কতজন বাংলাদেশি বা রোহিঙ্গা পশ্চিমবঙ্গে আছেন, সেই তথ্য সরকার আগে প্রকাশ করুক। তথ্য ছাড়া এমন অবকাঠামো তৈরির যৌক্তিকতা কোথায়?” তিনি জানান, তথ্য অধিকার আইনে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কাছে জানতে চেয়েছিলেন— ২০০০ সাল থেকে কতজন কথিত অনুপ্রবেশকারী আটক হয়েছেন তাদের ধর্মীয় পরিচয় কী কতজন বর্তমানে জেল বা ডিটেনশন সেন্টারে আছেন কতজনকে বাংলাদেশে পুশব্যাক করা হয়েছে তবে এখনও তিনি কোনো সুস্পষ্ট উত্তর পাননি। নিরাপত্তা নাকি রাজনৈতিক বার্তা? বিশ্লেষকদের মতে, পশ্চিমবঙ্গে ‘হোল্ডিং সেন্টার’ তৈরির সিদ্ধান্ত শুধু প্রশাসনিক উদ্যোগ নয়, এটি রাজনৈতিকভাবেও তাৎপর্যপূর্ণ। রাজ্যের বিরোধী দল দীর্ঘদিন ধরেই ‘অনুপ্রবেশ’ ইস্যুকে রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার করে আসছে। অন্যদিকে মানবাধিকার সংগঠনগুলোর আশঙ্কা, এই ইস্যুকে ঘিরে বাংলাভাষী মুসলমান জনগোষ্ঠীর ওপর নজরদারি ও সন্দেহের সংস্কৃতি আরও প্রাতিষ্ঠানিক রূপ পেতে পারে। ফলে প্রশ্ন উঠছে— এই হোল্ডিং সেন্টার কি সত্যিই সীমান্ত নিরাপত্তার প্রয়োজন, নাকি তা ধীরে ধীরে নাগরিক পরিচয় যাচাইয়ের নামে নতুন এক আতঙ্কের অবকাঠামো হয়ে উঠছে?

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ২৫, ২০২৬ 0
Popular post
সংসার সামলাতে অটোরিকশা নিয়ে রাস্তায় নেমেছেন রোজিনা

বাসস : বাবা একজন তাঁত শ্রমিক। তিন বোন দুই ভাইয়ের মধ্যে সবার বড় রোজিনা। অভাব সংসার, তাই এক এতিম যুবকের সাথে বাবা-মা বিয়ে দেন তাকে। বিয়ের পর জন্ম হয় দুই কন্যা সন্তানের। অটোরিকশা চালিয়ে কোন রকম সংসার চালাচ্ছিলেন স্বামী রফিকুল ইসলাম। কিন্তু সড়ক দুর্ঘটনায় রফিকুলের এক চোখ সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যায়। আরেকটি চোখ আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ধীরে ধীরে ওই চোখের দৃষ্টি শক্তিও কমতে থাকে। ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে অটোরিকশা চালানো। সংসারের উপার্জনক্ষম মানুষটি অচল হয়ে পড়ায় চিকিৎসার খরচ, ঘর ভাড়া ও খাবারের পাশাপাশি মেয়েদের লেখাপড়ার খরচ চালানোই কঠিন হয়ে যায়। দিশেহারা হয়ে পরেন রোজিনা। এক পর্যায়ে মানুষের বাড়ি বাড়ি কাজ করে সংসার চালানোর চেস্টা করেন। কিন্তু সুবিধা করতে পারেন না। এমন পরিস্থিতিতে অটোরিকশা চালানোর সিদ্ধান্ত নেন তিনি। স্বামী রফিকুলের কাছেই হাতেখড়ি। গ্রামের স্কুলের মাঠে স্বামীর কাছেই অটোরিকশা চালানোর শিক্ষা নেন তিনি। পরে গ্রামের পথে নেমে পড়েন অটোরিকশা নিয়ে। ৫-৬ দিন এভাবে হাত পাকা করে একদিন টাঙ্গাইল শহরে চলে আসেন রোজিনা। এরপর শুরু করেন অটোরিক্সা চালানোর ব্যতিক্রমী জীবন সংগ্রাম। এখন টাঙ্গাইল পৌরসভায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার চালকদের মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা বেগম। জেলার বাসাইল উপজেলার আইসড়া গ্রামের বাসিন্দা রোজিনা টাঙ্গাইল পৌর শহরের এক প্রান্ত রাবনা বাইপাস থেকে আরেক প্রান্ত বেবিস্ট্যান্ডে যাত্রী আনা নেয়া করেন। যানজটের কারণে শহরে পুরুষ চালকরা যেখানে হিমসিম খায়, সেখানেই বিগত ৫ বছর ধরেই নির্বিঘেœ অটোরিকশা চালাচ্ছেন তিনি। টাঙ্গাইল পৌরসভা কার্যালয় সূত্রে জানা যাায়, টাঙ্গাইল শহরে চলাচলের জন্য ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক ও ৫ হাজার ব্যাটারিচালিত রিকশার অনুমতি (লাইসেন্স) দেওয়া হয়েছে। যানজট এড়াতে ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক জোড় ও বিজোড় সংখ্যায় দিনে দুই ভাগ করা হয়েছে। সকাল থেকে বেলা দুইটা পর্যন্ত এক ভাগ এবং বেলা দুইটা থেকে রাত পর্যন্ত আরেক ভাগের ইজিবাইক চলাচল করার নির্দেশনা দিয়েছে পৌর কর্তৃপক্ষ। কিন্তু রোজিনাকে দুই শিফটে চালানোর অনুমতি দিয়েছে পৌরসভা। সরেজমিনে দেখা যায়, নতুন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অটোরিকশা নিয়ে যাত্রী ডাকছেন রোজিনা। কলেজ গেট, পুরাতন বাসস্ট্যান্ড, ক্যাপসুল, নিরালা মোড়, বেবিস্ট্যান্ড সর্বত্রই যাত্রী আনানেয়া করেন তিনি। পুরাতন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অন্য অটো চালকদের দাঁড় করতে না দিলেও রোজিনাকে বাঁধা দেননা ট্রাফিক পুলিশ। বলতে গেলে সবাই তার প্রতি সহানুভুতিশীল। ট্রাফিক পুলিশসহ অন্য অটোচালকরাও তাকে সহযোগিতা করেন। রোজিনা বলেন, আমার অটোতে নারী যাত্রীরা খুব কম। তারা মনে করে আমার অটোতে উঠলে দুর্ঘটনায় পড়বে। কিন্তু আমি খুব সাবধানে অটো চালাই। দ্রুত গতিতেও না, আবার একেবারে ধীরগতিতেও না। এখন পর্যন্ত আমি কোন দুর্ঘটনার কবলে পড়ি নাই। শহরের পুরুষ অটোরিকশা চালকরা আমাকে অনেক সহযোগিতা করে। অটোচালক কাদের মিয়া বলেন, আমাদের শহরে কয়েক হাজার অটো চলাচল করে। তার মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। তাকে আমরা সব সময় সহযোগিতা করি। যাত্রী সাইদ মিয়া বলেন, আমি এ পর্যন্ত ৫-৬ বার রোজিনার অটোতে চড়েছি। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। অন্য পুরুষ অটো চালকের চেয়েও ভালো অটো চালান। নারী সংগঠক সেরাজুম মনিরা বলেন, তিনি অনেক দিন যাবত অটোরিকশা চালাচ্ছেন। আমি রোজিনাকে স্যালুট জানাই। একজন পুরুষের চেয়ে একজন নারী কোনো ভাবেই যে পিছিয়ে নেই, রোজিনা তা প্রমাণ করেছেন। রোজিনা বলেন, অটো চালানোর এই সিদ্ধান্তটি তার জন্য খুব সহজ ছিল না। তিনি বলেন, ৫ ও ১০ বছরের দুই মেয়েকে বাড়িতে রেখে অটোরিকশা নিয়ে সারাদিন রাস্তায় থাকতে হয়। তাদের ভালোভাবে দেখাশোনা করতে পারি না। কিন্তু কি করবো, অভাবের সংসার! এখন ঋণ নিয়ে একটু জমি কিনেছি। প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ণ প্রকল্পের অর্থায়নে প্রশাসন সেখানে ঘর তুলে দিয়েছে। শুরুতে যারা আমাকে নিয়ে ঠাট্টা করেছে এখন তারাই আমাকে সম্মান করেন। নারীরাও যে কিছু করতে পারে, তা প্রমাণ করেছি। আমার বড় মেয়ে আইসড়া উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়ে, ছোট মেয়ে পড়ে স্থানীয় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। মেয়েদের শিক্ষিত করতে হবে। ধার দেনা শোধ করতে হবে। তাই থেমে গেলো চলবে না। আমি অটোরিকশা চালিয়েই দুই সন্তানকে মানুষ করতে চাই।’ ঘারিন্দা ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য বাবুল সরকার বলেন, সরকার রোজিনাকে একটি ঘর নির্মাণ করে দিয়েছে। শুরুতে যারা তাকে নিয়ে নানান কথা বলতো, এখন তার সংকল্প ও মানষিক দৃঢ়তা দেখে থেমে গেছে। আমরা তাকে নিয়ে গর্ব করি। টাঙ্গাইলের ট্রাফিক ইন্সপেক্টর (প্রশাসন) দেলোয়ার হোসেন বলেন, শহরের একমাত্র নারী চালক রোজিনাকে কেউ যেন বিরক্ত করতে না পারে সেদিকে সব সময় নজর রাখে ট্রাফিক পুলিশ। আমরা তাকে সব সময় সহযোগিতা করে আসছি। টাঙ্গাইলের সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক শাহ আলম বলেন, বিষয়টি এখন জানতে পারলাম। ওই নারী এখনো পর্যন্ত আমাদের কাছে আসেন নাই। যদি আমাদের কাছে এসে আবেদন করেন অবশ্যই তাকে আমরা সহযেগিতা করবো, তার পাশে দাঁড়াবো।

ফারুকীর সম্পদ কমেছে, তিশার বেড়েছে দ্বিগুণেরও বেশি: সম্পদ বিবরণী ঘিরে আলোচনা

অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের সম্পদ বিবরণী প্রকাশের পর সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী ও তার স্ত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদের হিসাব নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। এক বছরের ব্যবধানে স্বামী ফারুকীর সম্পদ কমলেও স্ত্রী তিশার সম্পদ বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে প্রকাশিত তথ্যে উঠে এসেছে এই চিত্র। প্রকাশিত খতিয়ান অনুযায়ী, জনপ্রিয় অভিনেত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদ এক বছরে অভাবনীয় হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তিশার মোট সম্পদের পরিমাণ ছিল ১ কোটি ৪০ লাখ ৮১ হাজার ৮৬০ টাকা। ঠিক এক বছর পর, ২০২৫ সালের ৩০ জুন সেই সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ৯৯ লাখ ৮৯ হাজার ৫০১ টাকায়। অর্থাৎ মাত্র এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ বেড়েছে ১ কোটি ৫৯ লাখ ৭ হাজার ৬৪১ টাকা, যা আগের বছরের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি। অন্যদিকে সংস্কৃতি উপদেষ্টা ও নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর ক্ষেত্রে দেখা গেছে উল্টো চিত্র। এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ কমেছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তার মোট সম্পদ ছিল ২ কোটি ২৬ লাখ ৯২ হাজার ২৬ টাকা। ২০২৫ সালের ৩০ জুন তা কমে দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ১৫ লাখ ১৮ হাজার ২৬ টাকায়। হিসাব অনুযায়ী, এক বছরে তার সম্পদ কমেছে ১১ লাখ ৭৪ হাজার টাকা। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে গত মঙ্গলবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ প্রধান উপদেষ্টা, উপদেষ্টা ও সমমর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের পাশাপাশি তাদের স্ত্রী বা স্বামীর সম্পদ বিবরণী প্রকাশ করে। একই সময়ে স্বামী-স্ত্রীর সম্পদে এমন ভিন্নমুখী পরিবর্তন স্বাভাবিকভাবেই সাধারণ মানুষের কৌতূহলের জন্ম দিয়েছে। শোবিজ অঙ্গনের জনপ্রিয় দম্পতি হওয়ায় তাদের এই আয়-ব্যয়ের হিসাব এখন টক অব দ্য কান্ট্রি।

গাজায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা ট্রাম্প প্রশাসনে

ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। ৩৫০ একরের ঘাঁটিটিতে সামরিক বাহিনীর পাঁচ হাজার সদস্য থাকতে পারবে। গাজার ‘বোর্ড অব পিস’র নথি পর্যালোচনা করে এ তথ্য জানিয়েছে দ্য গার্ডিয়ান। প্রতিবেদনে ব্রিটিশ সংবাদ মাধ্যমটি জানিয়েছে, বোর্ড অব পিসে গাজাকে নিরাপদ করার জন্য ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যাবিলাইজেশন ফোর্স (আইএসএফ) নামে একটি আন্তর্জাতিক বাহিনী মোতায়েনের কথা বলা হয়েছে। যে স্থানটি ঘাঁটি করার জন্য বিবেচনা করা হচ্ছে সেখানে আইএসএফের সদস্যরা থাকবে। বোর্ড অব পিসের প্রধান হবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আর সংগঠনটির আংশিক নেতৃত্ব দেবেন ট্রাম্পের জামাতা জ্যারার্ড কুশনার।দ্য গার্ডিয়ান বোর্ড অব পিসের নথি পর্যালোচনা করে জানায়, ধাপে ধাপে একটি সামরিক ঘাঁটি নির্মাণ করা হবে। সবকিছু শেষ হলে ঘাঁটিটি ১৫ লাখ ১৭ হাজার ৫৭৫ বর্গমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত হবে। ঘাঁটিটির চারপাশে ট্রেইলার সংযুক্ত ২৬টি সাঁজোয়া নজরদারি টাওয়ার থাকবে। এছাড়া একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, বাংকার ও অস্ত্র রাখার গুদাম থাকবে। পুরো ঘাঁটিটি কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে ঘিরে রাখা হবে। সামরিক ঘাঁটি নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে দক্ষিণ গাজার একটি শুষ্ক সমতলভূমিতে। সেখানে ইসরায়েলি হামলার চিহ্ন রয়েছে। ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে বিভিন্ন ধাতবের ধ্বংসাবশেষ।  ওই এলাকার ভিডিও পর্যালোচনা করেছে দ্য গার্ডিয়ান। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, ঘাঁটি নির্মাণের জন্য টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে। যুদ্ধক্ষেত্রে কাজের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন আন্তর্জাতিক নির্মাণ কোম্পানিগুলোর একটি ছোট দলকে ইতোমধ্যেই এলাকাটি দেখানো হয়েছে। ওই দলটি দরপত্রে অংশ নিতে আগ্রহী।    ইন্দোনেশিয়া সরকার গাজায় আট হাজার সেনা সদস্য পাঠানোর জন্য প্রস্তাব দিয়েছে। বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটন ডিসিতে বোর্ড অব পিসের অনানুষ্ঠানিক বৈঠকে ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্টের অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। এছাড়া দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার আরও তিন নেতার ওই বৈঠকে অংশ নেবেন বলে জানা গেছে। জাতিসংঘের নিরাপত্তা কাউন্সিল গাজার সাময়িক স্থিতিশীলতার জন্য অস্থায়ীভাবে সামরিক বাহিনী মোতায়েনের অনুমোদন দিয়েছে। নিরাপত্তা কাউন্সিলই বোর্ড অব পিসের মূল হোতা। গাজার সীমান্ত ও শান্তি প্রণয়নে কাজ করবে আইএসএফ। এছাড়া বেসামরিকদের সুরক্ষা এবং ফিলিস্তিনি পুলিশ বাহিনীকে প্রশিক্ষণ ও সহায়তা দেবে তারা। যদি গাজায় ফের সংঘর্ষ হয়, ইসরায়েল বোমা হামলা চালায় অথবা হামাস হামলা চালায় সেক্ষেত্রে আইএসএফ কি করবে তা এখনও স্পষ্ট নয়। গাজা পুনর্গঠনে ইসরায়েল হামাসকে নিরস্ত্রীকরণের যে শর্ত দিয়েছে সেটির জন্য আইএসএফ কাজ করবে কিনা তাও স্পষ্ট না। ইতোমধ্যে বোর্ড অব পিসে ২০ এর অধিক দেশ যোগ দিয়েছে। তবে, এখনও অনেক পরাশক্তি এর থেকে দূরে রয়েছে। জাতিসংঘের অনুমোদন নিয়ে প্রতিষ্ঠিত হলেও ধারণা করা হচ্ছে, সংগঠনটির স্থায়ী নেতৃত্ব ও নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে। রুটজার্স বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক আদিল হক বলেন, “বোর্ড অব পিস এক ধরনের আইনি কল্পসত্তা। নামমাত্রভাবে এর নিজস্ব আন্তর্জাতিক আইনগত সত্তা রয়েছে, যা জাতিসংঘ ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে আলাদা। কিন্তু বাস্তবে এটি যুক্তরাষ্ট্রের ইচ্ছামতো ব্যবহারের জন্য একটি ফাঁপা খোলসমাত্র।” বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গাজা পুনর্গঠনে যে অর্থায়ন ও শাসন কাঠামো হচ্ছে তা অস্বচ্ছ। কয়েকজন ঠিকাদার গার্ডিয়ানকে জানান, গাজায় কাজ করার জন্য মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে তাদের প্রায়শ আলোচনা সরকারি ইমেলের বদলে সিগন্যালের মাধ্যমে করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রের তথ্য মতে, ঘাঁটি নির্মাণের সিদ্ধান্তটি বোর্ড অব পিসের। এতে সহায়তা করছে মার্কিন কর্মকর্তারা। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ঘাঁটিতে তৈরি বাংকার নেটওয়ার্কের মতোন কাজ করবে। প্রতিটি বাংকারের ২৪ মিটারের হবে। উচ্চতা থাকবে আড়াই মিটার। এগুলো এমনভাবে করা হবে যেন সেনা সদস্যরা আশ্রয় নিতে পারে। স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসের গাজায় সুড়ঙ্গ নেটওয়ার্ক বা টানেল রয়েছে। সেগুলোর আদলে নেটওয়ার্ক করতে চাওয়া হচ্ছে। পিস অব বোর্ডের নথি পর্যালোচনা করে এমন দাবি করছে গার্ডিয়ান। সংবাদ মাধ্যমটি বলছে,  স্থানটির ভূ-ভৌত জরিপ পরিচালনা করবে ঠিকাদাররা। নথির এক অংশে ‘হিউম্যান রেমিয়েনস প্রোটোকল’র কথা বলা হয়েছে। এর মানে দাঁড়ায়, সন্দেহভাজন মানব অবশিষ্ট বা সাংস্কৃতিক নিদর্শন পাওয়া গেলে অবিলম্বে সেই এলাকায় সব কাজ বন্ধ করতে হবে। চুক্তি কর্মকর্তাকে দিকনির্দেশনার জন্য অবিলম্বে জানাতে হবে। গাজা সিভিল ডিফেন্সের ধারণা, গাজার ধ্বংসস্তূপের নিচে ১০ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনির মরদেহ রয়েছে। ঘাঁটির জন্য যে স্থানটি বিবেচিত করা হচ্ছে সেটির মালিক কে তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে, দক্ষিণ গাজার বেশিরভাগ অংশ  বর্তমানে ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণে। জাতিসংঘের অনুমান, যুদ্ধ চলাকালীন ১৯ লাখ ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত হয়েছে। ফিলিস্তিনের জমিতে সরকারের অনুমতি না নিয়ে সামরিক ঘাঁটি স্থাপনকে দখল হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন ফিলিস্তিনি-কানাডিয়ান আইনজীবী এবং প্রাক্তন শান্তি আলোচক দিয়ানা বুট্টু। তিনি প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়ে বলেন, “কার অনুমতিতে তারা সামরিক ঘাঁটি স্থাপন করবে।” বিষয়টি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা বোর্ড অব পিসের কথা টানেন। ট্রাম্প প্রশাসনের একজন কর্মকর্তা সামরিক ঘাঁটির চুক্তি নিয়ে আলোচনা করতে অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, “যেমনটি প্রেসিডেন্ট বলেছেন, কোনও মার্কিন সেনা স্থলভাগে যাবে না। আমরা লিক হওয়া নথি নিয়ে আলোচনা করবো না।”

বাংলাদেশে ঐতিহাসিক নির্বাচন: বিএনপি এগিয়ে, জামায়াতের উত্থান ও তরুণ ভোটারদের প্রভাব

২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশে আজ এক ঐতিহাসিক ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ২০০৮ সালের পর এই প্রথম একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হতে যাচ্ছে যেখানে দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগ রাজনৈতিক মানচিত্র থেকে কার্যত অনুপস্থিত। বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক জরিপ বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০০ আসনের মধ্যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) কার্যকর সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে যাচ্ছে। তবে ভোটের ব্যবধান এবং কিছু সমীকরণ নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। নির্বাচনের সবচেয়ে বড় নিয়ামক হয়ে দাঁড়িয়েছে আওয়ামী লীগের বিশাল ভোটব্যাংক। দলটির নিয়মিত প্রায় ৪ কোটি ভোটার এখন নতুন রাজনৈতিক আশ্রয় খুঁজছেন। সিআরএফ বা বিইপিওএস জরিপ বলছে, এই ভোটারদের প্রায় অর্ধেক বিএনপির দিকে ঝুঁকেছে, যা দলটিকে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতার পথে এগিয়ে দিচ্ছে। অন্যদিকে, প্রায় ৩০ শতাংশ আওয়ামী ভোটার জামায়াতে ইসলামীকে বেছে নিতে পারেন বলে আভাস পাওয়া যাচ্ছে। এছাড়া বাংলাদেশের বিদ্যমান নির্বাচনী ব্যবস্থার কারণে দেশজুড়ে সুষম জনসমর্থন থাকা বিএনপি আসন জয়ের ক্ষেত্রে জামায়াতের তুলনায় সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। তবে বিএনপির এই সম্ভাব্য জয়ের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও বিদ্রোহী প্রার্থীরা। প্রায় ৭৯টি নির্বাচনী এলাকায় দলের মনোনয়ন না পাওয়া ৯২ জন প্রভাবশালী নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, যা বিএনপির ১৫ থেকে ৩০টি আসন কমিয়ে দিতে পারে। অন্যদিকে, তরুণ ভোটার বা ‘জেন-জি’ প্রজন্মের বিশাল সমর্থন জামায়াতে ইসলামীর শক্তির উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেশের ৪৪ শতাংশ ভোটারই তরুণ, যাদের বড় একটি অংশ প্রথমবার ভোট দিচ্ছেন। এই তরুণরা যদি দলবেঁধে কেন্দ্রে উপস্থিত হন, তবে নির্বাচনী ফলে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। সবশেষে, প্রায় ১৭ থেকে ৩৫ শতাংশ দোদুল্যমান ভোটার এবং তাদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করবে আগামীর সরকার কতটা শক্তিশালী হবে। দ্য নিউইয়র্ক এডিটোরিয়ালের মূল পূর্বাভাস, তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি প্রায় ১৮৫টি আসনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করতে পারে এবং জামায়াতে ইসলামী ৮০টির মতো আসন পেয়ে প্রধান বিরোধী দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারে। তবে বিদ্রোহী প্রার্থীদের প্রভাব এবং তরুণ ভোটারদের উপস্থিতির ওপর ভিত্তি করে আসন সংখ্যায় বড় ধরনের হেরফের হওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

কুড়িগ্রামের তাজু ভাই ২.০: ‘সরকারি রেটে জিলাপি’ প্রশ্নে ভাইরাল এক নির্মাণশ্রমিকের গল্প

বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের প্রত্যন্ত চরাঞ্চল থেকে উঠে এসে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার কেন্দ্রে এখন তাইজুল ইসলাম, যিনি অনলাইনে পরিচিত ‘তাজু ভাই ২.০’ নামে। মাত্র একটি ভিডিও—যেখানে তিনি এক দোকানিকে প্রশ্ন করেন, “জিলাপি আজকে কত করে বেচতেছেন সরকারি রেটে?”—এই সরল উপস্থাপনাই তাকে রাতারাতি ভাইরাল করে তোলে।  কয়েক ঘণ্টায় ফলোয়ার লাখ ছাড়াল রোববার রাত পর্যন্ত তার ফেসবুক অনুসারী ছিল প্রায় ৩৫ হাজার। কিন্তু সোমবার সন্ধ্যা থেকে রাতের মধ্যেই তা বেড়ে এক লাখের বেশি হয়ে যায়। ভাইরাল ভিডিওটি ইতোমধ্যে প্রায় ৫০ থেকে ৫৫ লাখবার দেখা হয়েছে।  কী ছিল সেই ভিডিওতে? ভিডিওতে দেখা যায়, কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীর নারায়ণপুর বাজারে দাঁড়িয়ে স্থানীয় ভাষায় তিনি জিলাপির দাম জানতে চান। তার কথাগুলো ছিল একেবারেই সহজ ও গ্রাম্য ভঙ্গিতে— “সাদাডা কত, লালডা কত? সরকারি রেটে বেচতেছেন?” এই সরল প্রশ্নই সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।  কোথা থেকে উঠে এলেন তাজু ভাই? কুড়িগ্রাম জেলার নাগেশ্বরী উপজেলার নারায়ণপুর ইউনিয়নের একটি দুর্গম গ্রামে জন্ম তার। ব্রহ্মপুত্র নদবেষ্টিত এই অঞ্চলে পৌঁছাতে এখনও কয়েকটি নৌঘাট পার হতে হয়। দারিদ্র্যের কারণে কখনো স্কুলে যাওয়া হয়নি তার। পেশায় তিনি একজন নির্মাণশ্রমিকের সহকারী (হেলপার)। কাজের ফাঁকে ঢাকায় থাকাকালীন মোবাইল ফোনে ভিডিও তৈরি করাই তার শখ। ব্যক্তিগত সংগ্রাম তাইজুল ইসলামের পরিবারে ছয় ভাই-বোন। তিনি সবার বড়। তার বাবা-মা দুজনই শ্রবণপ্রতিবন্ধী। পরিবার চালাতে তাকে ছোটবেলা থেকেই সংগ্রাম করতে হয়েছে। তিনি বলেন, “পরিবারের কষ্ট ভুলতেই ভিডিও করি। আমি সাংবাদিক না, কিন্তু আমাদের এলাকায় কেউ আসে না—তাই নিজেরাই ভিডিও বানাই।” ভাইরাল হওয়ার পেছনের উদ্দেশ্য তাইজুলের দাবি, তার ভিডিও শুধুই বিনোদনের জন্য নয়। তিনি চান তার এলাকার অবহেলিত মানুষের কথা প্রশাসনের নজরে আসুক। “আমি চাই চরের মানুষের উন্নয়ন হোক,”—বলছেন তিনি।  মিশ্র প্রতিক্রিয়া ভিডিওটি নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে দুই ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ তার সরলতা ও বাস্তবতা তুলে ধরার চেষ্টা প্রশংসা করছেন আবার কেউ তাকে নিয়ে ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ করছেন তবে এসব সমালোচনায় তিনি বিচলিত নন।

অর্থনীতি

ইসলামী ব্যাংক,

ইসলামী ব্যাংকে আস্থা সংকট কেন কাটছে না?: দেশের বৃহত্তম শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংককে ঘিরে নতুন প্রশ্ন

নিজস্ব প্রতিবেদক জুন ২২, ২০২৬ 0




অপরাধ

ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো

ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকোর বিরুদ্ধে ৩০ বিলিয়ন ডলার জালিয়াতি ও অর্থপাচার অভিযোগে দুদকের অনুসন্ধান

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ২৪, ২০২৬ 0




কৃষি ও জলবায়ু

ধান

শেরপুরে বোরো ধানের দাম কমে লোকসানে কৃষকরা, উৎপাদন খরচও উঠছে না

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ৬, ২০২৬ 0