Brand logo light
বাংলাদেশ

বরিশালের ক্যান্সার, কিডনি ও হৃদরোগ হাসপাতাল মাত্র ৪ কোটি টাকায় ১৭ তলা ভবন নির্মাণ!

নিজস্ব প্রতিবেদক নভেম্বর ৭, ২০২৬ 0

৫০ লাখ টাকার অক্সিজেন পাইপ চুরির পর এবার অপপ্রচারের অভিযোগ; ৭০ কোটি টাকা আত্মসাতের দাবিকে ‘অবাস্তব’ বলছেন প্রকৌশলী ও ঠিকাদার-

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন :

বরিশালে নির্মাণাধীন একমাত্র ক্যান্সার, কিডনি ও হৃদরোগ হাসপাতাল নিয়ে নতুন করে ষড়যন্ত্র শুরু হয়েছে। প্রকল্পের প্রায় ৫০ লাখ টাকার অক্সিজেন পাইপ চুরির ঘটনার পর এবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন অনলাইন মাধ্যমে হাসপাতালটির নির্মাণকাজ, ব্যয় এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নিয়ে বিভ্রান্তিকর প্রচারণা চালানোর অভিযোগ উঠেছে। প্রকল্পসংশ্লিষ্ট প্রকৌশলী ও ঠিকাদারের দাবি, একটি স্বার্থান্বেষী মহল পরিকল্পিতভাবে অপপ্রচার চালিয়ে বৃহৎ এই স্বাস্থ্য অবকাঠামো প্রকল্পের বাস্তবায়ন বাধাগ্রস্ত করার চেষ্টা করছে।

তাঁদের অভিযোগ, হাসপাতালটির নির্মাণকাজ নিয়ে ৭০ কোটি টাকা আত্মসাতের যে দাবি প্রচার করা হচ্ছে, তা প্রকল্পের আর্থিক হিসাব ও বাস্তব নির্মাণকাজের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। একই সঙ্গে চাঁদা না পেয়ে প্রকল্পসংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে বলেও দাবি করেছেন তাঁরা। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে স্বাধীন তদন্ত কিংবা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

১৭ তলা হাসপাতাল নির্মাণে ব্যয়ের হিসাব নিয়ে বিতর্ক: 

গণপূর্ত অধিদপ্তরের অধীনে বরিশালের এই বৃহৎ হাসপাতাল প্রকল্পের নির্মাণকাজ যৌথভাবে বাস্তবায়ন করছে বঙ্গ বিল্ডার্স লিমিটেড ও  মেসার্স খান বিল্ডার্স। প্রকল্পটির নকশা অনুযায়ী, নিচে দ্বিতল এবং ওপরে ১৫ তলা—সব মিলিয়ে ১৭ তলা ভবন নির্মাণ করা হচ্ছে।

প্রকল্পের প্রাক্কলিত মূল্য ৯৯ কোটি ৫১ লাখ ৪৫ হাজার ৬১১ টাকা ৯৭৩ পয়সা। দরপত্রে গৃহীত মূল্য ৯৪ কোটি ১ লাখ ৮০ হাজার ৮১০ টাকা ৮৬৪ পয়সা। প্রকল্পসংশ্লিষ্টদের দেওয়া হিসাব অনুযায়ী, ভ্যাট ও জামানতের অর্থ বাদ দিলে কাজের মূল্য দাঁড়ায় প্রায় ৭৪ কোটি টাকা।

অথচ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার করা হচ্ছে, প্রায় ১০০ কোটি টাকার প্রকল্প থেকে ৭০ কোটি টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে।

এই দাবির পরিপ্রেক্ষিতে প্রকল্পসংশ্লিষ্টদের প্রশ্ন, তাঁদের হিসাব অনুযায়ী প্রকৃত কাজের মূল্য যদি প্রায় ৭৪ কোটি টাকা হয়, তাহলে ৭০ কোটি টাকা আত্মসাৎ করে অবশিষ্ট মাত্র ৪ কোটি টাকা দিয়ে কীভাবে ১৭ তলা ভবনের নির্মাণকাজ সম্পন্ন করা সম্ভব? তাঁদের মতে, প্রকল্পের প্রকৃত ব্যয়, দরপত্রের মূল্য ও বাস্তব অগ্রগতি যাচাই না করে এমন অভিযোগ প্রচার করা বিভ্রান্তিকর।

বাধা ও ষড়যন্ত্রের অভিযোগ প্রকৌশলীর: 

প্রকল্পটির বাস্তবায়ন নিয়ে নানা বাধা ও ষড়যন্ত্রের অভিযোগ করেছেন গণপূর্ত অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী ফয়সাল আলম।

তিনি বলেন, “আমি শত বাধা-বিপত্তির মধ্যেও বরিশাল অঞ্চলের মানুষ হিসেবে আন্তরিকভাবে চেষ্টা করেছি বরিশালের একমাত্র ক্যান্সার, কিডনি ও হৃদরোগ হাসপাতালটি শতভাগ বাস্তবায়ন করতে। একটি মহল চায় না এই বৃহৎ প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হোক। সব বাধা ও ষড়যন্ত্র উপেক্ষা করে হাসপাতালটির নির্মাণকাজ শতভাগ নিশ্চিত করেছি।”

অক্সিজেন পাইপ চুরির ঘটনার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, যারা হাসপাতাল নিয়ে অপপ্রচার করছে, তাদের কেউ কেউ ওই চুরির ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকতে পারে বলে তাঁর সন্দেহ। তবে এ বিষয়ে তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদ্‌ঘাটন হওয়া প্রয়োজন।

তাঁর দাবি, একটি স্বার্থান্বেষী মহল হাসপাতালটির কাজ যথাসময়ে বাস্তবায়ন হোক, তা চায় না। এ কারণে নির্মাণকাজের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে নেতিবাচক প্রচারণা চালানো হচ্ছে।

২০১৮ সালের রেটে নির্মাণকাজ, ৭০ কোটি টাকা আত্মসাতের দাবি অবাস্তব: ঠিকাদার: 

প্রকল্পের ঠিকাদার মিজানুর রহমান বলেন, দরপত্রে গৃহীত মূল্য ৯৪ কোটি ১ লাখ ৮০ হাজার ৮১০ টাকা। ভ্যাট ও জামানতের অর্থ বাদ দিলে কাজের মূল্য প্রায় ৭৪ কোটি টাকা। তাছাড়া তাঁরা ২০১৮ সালের রেট অনুযায়ী নির্মাণকাজ করছেন।

তিনি বলেন, “যদি ৭০ কোটি টাকা লুট করা হয়, তাহলে মাত্র ৪ কোটি টাকা দিয়ে ১৭ তলা ভবন নির্মাণ করা সম্ভব? এটি সম্পূর্ণ অবাস্তব কথা।”

মিজানুর রহমানের অভিযোগ, একটি চাঁদাবাজ চক্র চাঁদা না পেয়ে নির্মাণাধীন হাসপাতাল, গণপূর্তের নির্বাহী প্রকৌশলী এবং তাঁর বিরুদ্ধে পরিকল্পিতভাবে অপপ্রচার চালাচ্ছে।

ঠিকাদার আরও বলেন, বৃহৎ এই প্রকল্পের নির্মাণকাজ বাস্তবায়নের দায়িত্ব তাঁর প্রতিষ্ঠানের। সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগের কর্মকর্তারা প্রকল্প পরিদর্শনে এলে তাঁদের সঙ্গে থেকে কাজের অগ্রগতি ও নির্মাণের বিভিন্ন বিষয় বুঝিয়ে দিতে হয়। এটি ঠিকাদারি কাজের স্বাভাবিক প্রক্রিয়া।

আওয়ামী লীগের লোক বানানোর চেষ্টার অভিযোগ: 

নিজের রাজনৈতিক পরিচয় নিয়েও অপপ্রচার চালানো হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন ঠিকাদার মিজানুর রহমান।

তিনি বলেন, “আমি একজন প্রতিষ্ঠিত ঠিকাদার ও ব্যবসায়ী। আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে আমাকে দুটি মামলা দিয়ে হয়রানি করা হয়েছে। অথচ এখন একটি মহল আমাকে আওয়ামী লীগের লোক বানানোর জন্য মরিয়া হয়ে উঠেছে।”

তিনি আরও দাবি করেন, গত ৩ বছরে গণপূর্ত অধিদপ্তর থেকে টেন্ডারের মাধ্যমে তিনি মাত্র দুটি কাজ পেয়েছেন। অথচ তাঁকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও অনলাইন মাধ্যমে বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার করা হচ্ছে।

এসব প্রচারণার মাধ্যমে একজন পেশাদার ঠিকাদার ও ব্যবসায়ীর সামাজিক ও ব্যবসায়িক সুনাম ক্ষুণ্ন করা হচ্ছে বলে দাবি করেন তিনি।

 

সাইবার সুরক্ষা আইনে ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি: 


মিজানুর রহমান বলেন, কোনো প্রকল্প নিয়ে প্রশ্ন থাকলে তার সঠিক তথ্য, নথিপত্র ও বাস্তব অগ্রগতি যাচাই করে সমালোচনা করা যেতে পারে। কিন্তু মিথ্যা, বানোয়াট ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত তথ্য প্রচার করে কারও ব্যক্তিগত ও পেশাগত সুনাম নষ্ট করা গ্রহণযোগ্য নয়।

তিনি জানান, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও অনলাইন মাধ্যমে যারা উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে মিথ্যা তথ্য প্রচার করে তাঁর সুনামহানির চেষ্টা করছেন, তাঁদের বিরুদ্ধে প্রচলিত সাইবার সুরক্ষা আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হবে।

বরিশালের মানুষের প্রত্যাশা—হাসপাতালটি দ্রুত চালু হোক

বরিশালসহ দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা, নিজ অঞ্চলে উন্নত চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা। ক্যান্সার, কিডনি ও হৃদরোগের মতো জটিল রোগের চিকিৎসার জন্য এ অঞ্চলের বহু মানুষকে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ছুটতে হয়। এতে রোগীদের পাশাপাশি তাঁদের পরিবারের সদস্যদেরও অর্থনৈতিক ও মানসিক চাপের মুখে পড়তে হয়।

এ বাস্তবতায় বরিশালের ক্যান্সার, কিডনি ও হৃদরোগ হাসপাতালটি শুধু একটি ভবন নয়; দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের বিশেষায়িত চিকিৎসাসেবার একটি গুরুত্বপূর্ণ সম্ভাবনা।


বরিশালবাসীর প্রত্যাশা,ষড়যন্ত্রকারীদের মুখোশ উম্মোচন করতে হবে। তাতের মুখোশ উম্মোচিত হলেই দ্রুত প্রকল্পটির বাস্তবায়ন সম্পন্ন হবে এবং দক্ষিণাঞ্চলের মানুষ এর সুফল পাবেন।

Popular post
বাংলাদেশে ঐতিহাসিক নির্বাচন: বিএনপি এগিয়ে, জামায়াতের উত্থান ও তরুণ ভোটারদের প্রভাব

২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশে আজ এক ঐতিহাসিক ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ২০০৮ সালের পর এই প্রথম একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হতে যাচ্ছে যেখানে দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগ রাজনৈতিক মানচিত্র থেকে কার্যত অনুপস্থিত। বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক জরিপ বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০০ আসনের মধ্যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) কার্যকর সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে যাচ্ছে। তবে ভোটের ব্যবধান এবং কিছু সমীকরণ নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। নির্বাচনের সবচেয়ে বড় নিয়ামক হয়ে দাঁড়িয়েছে আওয়ামী লীগের বিশাল ভোটব্যাংক। দলটির নিয়মিত প্রায় ৪ কোটি ভোটার এখন নতুন রাজনৈতিক আশ্রয় খুঁজছেন। সিআরএফ বা বিইপিওএস জরিপ বলছে, এই ভোটারদের প্রায় অর্ধেক বিএনপির দিকে ঝুঁকেছে, যা দলটিকে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতার পথে এগিয়ে দিচ্ছে। অন্যদিকে, প্রায় ৩০ শতাংশ আওয়ামী ভোটার জামায়াতে ইসলামীকে বেছে নিতে পারেন বলে আভাস পাওয়া যাচ্ছে। এছাড়া বাংলাদেশের বিদ্যমান নির্বাচনী ব্যবস্থার কারণে দেশজুড়ে সুষম জনসমর্থন থাকা বিএনপি আসন জয়ের ক্ষেত্রে জামায়াতের তুলনায় সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। তবে বিএনপির এই সম্ভাব্য জয়ের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও বিদ্রোহী প্রার্থীরা। প্রায় ৭৯টি নির্বাচনী এলাকায় দলের মনোনয়ন না পাওয়া ৯২ জন প্রভাবশালী নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, যা বিএনপির ১৫ থেকে ৩০টি আসন কমিয়ে দিতে পারে। অন্যদিকে, তরুণ ভোটার বা ‘জেন-জি’ প্রজন্মের বিশাল সমর্থন জামায়াতে ইসলামীর শক্তির উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেশের ৪৪ শতাংশ ভোটারই তরুণ, যাদের বড় একটি অংশ প্রথমবার ভোট দিচ্ছেন। এই তরুণরা যদি দলবেঁধে কেন্দ্রে উপস্থিত হন, তবে নির্বাচনী ফলে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। সবশেষে, প্রায় ১৭ থেকে ৩৫ শতাংশ দোদুল্যমান ভোটার এবং তাদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করবে আগামীর সরকার কতটা শক্তিশালী হবে। দ্য নিউইয়র্ক এডিটোরিয়ালের মূল পূর্বাভাস, তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি প্রায় ১৮৫টি আসনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করতে পারে এবং জামায়াতে ইসলামী ৮০টির মতো আসন পেয়ে প্রধান বিরোধী দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারে। তবে বিদ্রোহী প্রার্থীদের প্রভাব এবং তরুণ ভোটারদের উপস্থিতির ওপর ভিত্তি করে আসন সংখ্যায় বড় ধরনের হেরফের হওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

গাজায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা ট্রাম্প প্রশাসনে

ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। ৩৫০ একরের ঘাঁটিটিতে সামরিক বাহিনীর পাঁচ হাজার সদস্য থাকতে পারবে। গাজার ‘বোর্ড অব পিস’র নথি পর্যালোচনা করে এ তথ্য জানিয়েছে দ্য গার্ডিয়ান। প্রতিবেদনে ব্রিটিশ সংবাদ মাধ্যমটি জানিয়েছে, বোর্ড অব পিসে গাজাকে নিরাপদ করার জন্য ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যাবিলাইজেশন ফোর্স (আইএসএফ) নামে একটি আন্তর্জাতিক বাহিনী মোতায়েনের কথা বলা হয়েছে। যে স্থানটি ঘাঁটি করার জন্য বিবেচনা করা হচ্ছে সেখানে আইএসএফের সদস্যরা থাকবে। বোর্ড অব পিসের প্রধান হবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আর সংগঠনটির আংশিক নেতৃত্ব দেবেন ট্রাম্পের জামাতা জ্যারার্ড কুশনার।দ্য গার্ডিয়ান বোর্ড অব পিসের নথি পর্যালোচনা করে জানায়, ধাপে ধাপে একটি সামরিক ঘাঁটি নির্মাণ করা হবে। সবকিছু শেষ হলে ঘাঁটিটি ১৫ লাখ ১৭ হাজার ৫৭৫ বর্গমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত হবে। ঘাঁটিটির চারপাশে ট্রেইলার সংযুক্ত ২৬টি সাঁজোয়া নজরদারি টাওয়ার থাকবে। এছাড়া একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, বাংকার ও অস্ত্র রাখার গুদাম থাকবে। পুরো ঘাঁটিটি কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে ঘিরে রাখা হবে। সামরিক ঘাঁটি নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে দক্ষিণ গাজার একটি শুষ্ক সমতলভূমিতে। সেখানে ইসরায়েলি হামলার চিহ্ন রয়েছে। ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে বিভিন্ন ধাতবের ধ্বংসাবশেষ।  ওই এলাকার ভিডিও পর্যালোচনা করেছে দ্য গার্ডিয়ান। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, ঘাঁটি নির্মাণের জন্য টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে। যুদ্ধক্ষেত্রে কাজের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন আন্তর্জাতিক নির্মাণ কোম্পানিগুলোর একটি ছোট দলকে ইতোমধ্যেই এলাকাটি দেখানো হয়েছে। ওই দলটি দরপত্রে অংশ নিতে আগ্রহী।    ইন্দোনেশিয়া সরকার গাজায় আট হাজার সেনা সদস্য পাঠানোর জন্য প্রস্তাব দিয়েছে। বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটন ডিসিতে বোর্ড অব পিসের অনানুষ্ঠানিক বৈঠকে ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্টের অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। এছাড়া দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার আরও তিন নেতার ওই বৈঠকে অংশ নেবেন বলে জানা গেছে। জাতিসংঘের নিরাপত্তা কাউন্সিল গাজার সাময়িক স্থিতিশীলতার জন্য অস্থায়ীভাবে সামরিক বাহিনী মোতায়েনের অনুমোদন দিয়েছে। নিরাপত্তা কাউন্সিলই বোর্ড অব পিসের মূল হোতা। গাজার সীমান্ত ও শান্তি প্রণয়নে কাজ করবে আইএসএফ। এছাড়া বেসামরিকদের সুরক্ষা এবং ফিলিস্তিনি পুলিশ বাহিনীকে প্রশিক্ষণ ও সহায়তা দেবে তারা। যদি গাজায় ফের সংঘর্ষ হয়, ইসরায়েল বোমা হামলা চালায় অথবা হামাস হামলা চালায় সেক্ষেত্রে আইএসএফ কি করবে তা এখনও স্পষ্ট নয়। গাজা পুনর্গঠনে ইসরায়েল হামাসকে নিরস্ত্রীকরণের যে শর্ত দিয়েছে সেটির জন্য আইএসএফ কাজ করবে কিনা তাও স্পষ্ট না। ইতোমধ্যে বোর্ড অব পিসে ২০ এর অধিক দেশ যোগ দিয়েছে। তবে, এখনও অনেক পরাশক্তি এর থেকে দূরে রয়েছে। জাতিসংঘের অনুমোদন নিয়ে প্রতিষ্ঠিত হলেও ধারণা করা হচ্ছে, সংগঠনটির স্থায়ী নেতৃত্ব ও নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে। রুটজার্স বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক আদিল হক বলেন, “বোর্ড অব পিস এক ধরনের আইনি কল্পসত্তা। নামমাত্রভাবে এর নিজস্ব আন্তর্জাতিক আইনগত সত্তা রয়েছে, যা জাতিসংঘ ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে আলাদা। কিন্তু বাস্তবে এটি যুক্তরাষ্ট্রের ইচ্ছামতো ব্যবহারের জন্য একটি ফাঁপা খোলসমাত্র।” বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গাজা পুনর্গঠনে যে অর্থায়ন ও শাসন কাঠামো হচ্ছে তা অস্বচ্ছ। কয়েকজন ঠিকাদার গার্ডিয়ানকে জানান, গাজায় কাজ করার জন্য মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে তাদের প্রায়শ আলোচনা সরকারি ইমেলের বদলে সিগন্যালের মাধ্যমে করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রের তথ্য মতে, ঘাঁটি নির্মাণের সিদ্ধান্তটি বোর্ড অব পিসের। এতে সহায়তা করছে মার্কিন কর্মকর্তারা। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ঘাঁটিতে তৈরি বাংকার নেটওয়ার্কের মতোন কাজ করবে। প্রতিটি বাংকারের ২৪ মিটারের হবে। উচ্চতা থাকবে আড়াই মিটার। এগুলো এমনভাবে করা হবে যেন সেনা সদস্যরা আশ্রয় নিতে পারে। স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসের গাজায় সুড়ঙ্গ নেটওয়ার্ক বা টানেল রয়েছে। সেগুলোর আদলে নেটওয়ার্ক করতে চাওয়া হচ্ছে। পিস অব বোর্ডের নথি পর্যালোচনা করে এমন দাবি করছে গার্ডিয়ান। সংবাদ মাধ্যমটি বলছে,  স্থানটির ভূ-ভৌত জরিপ পরিচালনা করবে ঠিকাদাররা। নথির এক অংশে ‘হিউম্যান রেমিয়েনস প্রোটোকল’র কথা বলা হয়েছে। এর মানে দাঁড়ায়, সন্দেহভাজন মানব অবশিষ্ট বা সাংস্কৃতিক নিদর্শন পাওয়া গেলে অবিলম্বে সেই এলাকায় সব কাজ বন্ধ করতে হবে। চুক্তি কর্মকর্তাকে দিকনির্দেশনার জন্য অবিলম্বে জানাতে হবে। গাজা সিভিল ডিফেন্সের ধারণা, গাজার ধ্বংসস্তূপের নিচে ১০ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনির মরদেহ রয়েছে। ঘাঁটির জন্য যে স্থানটি বিবেচিত করা হচ্ছে সেটির মালিক কে তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে, দক্ষিণ গাজার বেশিরভাগ অংশ  বর্তমানে ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণে। জাতিসংঘের অনুমান, যুদ্ধ চলাকালীন ১৯ লাখ ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত হয়েছে। ফিলিস্তিনের জমিতে সরকারের অনুমতি না নিয়ে সামরিক ঘাঁটি স্থাপনকে দখল হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন ফিলিস্তিনি-কানাডিয়ান আইনজীবী এবং প্রাক্তন শান্তি আলোচক দিয়ানা বুট্টু। তিনি প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়ে বলেন, “কার অনুমতিতে তারা সামরিক ঘাঁটি স্থাপন করবে।” বিষয়টি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা বোর্ড অব পিসের কথা টানেন। ট্রাম্প প্রশাসনের একজন কর্মকর্তা সামরিক ঘাঁটির চুক্তি নিয়ে আলোচনা করতে অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, “যেমনটি প্রেসিডেন্ট বলেছেন, কোনও মার্কিন সেনা স্থলভাগে যাবে না। আমরা লিক হওয়া নথি নিয়ে আলোচনা করবো না।”

ফারুকীর সম্পদ কমেছে, তিশার বেড়েছে দ্বিগুণেরও বেশি: সম্পদ বিবরণী ঘিরে আলোচনা

অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের সম্পদ বিবরণী প্রকাশের পর সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী ও তার স্ত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদের হিসাব নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। এক বছরের ব্যবধানে স্বামী ফারুকীর সম্পদ কমলেও স্ত্রী তিশার সম্পদ বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে প্রকাশিত তথ্যে উঠে এসেছে এই চিত্র। প্রকাশিত খতিয়ান অনুযায়ী, জনপ্রিয় অভিনেত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদ এক বছরে অভাবনীয় হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তিশার মোট সম্পদের পরিমাণ ছিল ১ কোটি ৪০ লাখ ৮১ হাজার ৮৬০ টাকা। ঠিক এক বছর পর, ২০২৫ সালের ৩০ জুন সেই সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ৯৯ লাখ ৮৯ হাজার ৫০১ টাকায়। অর্থাৎ মাত্র এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ বেড়েছে ১ কোটি ৫৯ লাখ ৭ হাজার ৬৪১ টাকা, যা আগের বছরের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি। অন্যদিকে সংস্কৃতি উপদেষ্টা ও নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর ক্ষেত্রে দেখা গেছে উল্টো চিত্র। এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ কমেছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তার মোট সম্পদ ছিল ২ কোটি ২৬ লাখ ৯২ হাজার ২৬ টাকা। ২০২৫ সালের ৩০ জুন তা কমে দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ১৫ লাখ ১৮ হাজার ২৬ টাকায়। হিসাব অনুযায়ী, এক বছরে তার সম্পদ কমেছে ১১ লাখ ৭৪ হাজার টাকা। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে গত মঙ্গলবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ প্রধান উপদেষ্টা, উপদেষ্টা ও সমমর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের পাশাপাশি তাদের স্ত্রী বা স্বামীর সম্পদ বিবরণী প্রকাশ করে। একই সময়ে স্বামী-স্ত্রীর সম্পদে এমন ভিন্নমুখী পরিবর্তন স্বাভাবিকভাবেই সাধারণ মানুষের কৌতূহলের জন্ম দিয়েছে। শোবিজ অঙ্গনের জনপ্রিয় দম্পতি হওয়ায় তাদের এই আয়-ব্যয়ের হিসাব এখন টক অব দ্য কান্ট্রি।

সংসার সামলাতে অটোরিকশা নিয়ে রাস্তায় নেমেছেন রোজিনা

বাসস : বাবা একজন তাঁত শ্রমিক। তিন বোন দুই ভাইয়ের মধ্যে সবার বড় রোজিনা। অভাব সংসার, তাই এক এতিম যুবকের সাথে বাবা-মা বিয়ে দেন তাকে। বিয়ের পর জন্ম হয় দুই কন্যা সন্তানের। অটোরিকশা চালিয়ে কোন রকম সংসার চালাচ্ছিলেন স্বামী রফিকুল ইসলাম। কিন্তু সড়ক দুর্ঘটনায় রফিকুলের এক চোখ সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যায়। আরেকটি চোখ আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ধীরে ধীরে ওই চোখের দৃষ্টি শক্তিও কমতে থাকে। ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে অটোরিকশা চালানো। সংসারের উপার্জনক্ষম মানুষটি অচল হয়ে পড়ায় চিকিৎসার খরচ, ঘর ভাড়া ও খাবারের পাশাপাশি মেয়েদের লেখাপড়ার খরচ চালানোই কঠিন হয়ে যায়। দিশেহারা হয়ে পরেন রোজিনা। এক পর্যায়ে মানুষের বাড়ি বাড়ি কাজ করে সংসার চালানোর চেস্টা করেন। কিন্তু সুবিধা করতে পারেন না। এমন পরিস্থিতিতে অটোরিকশা চালানোর সিদ্ধান্ত নেন তিনি। স্বামী রফিকুলের কাছেই হাতেখড়ি। গ্রামের স্কুলের মাঠে স্বামীর কাছেই অটোরিকশা চালানোর শিক্ষা নেন তিনি। পরে গ্রামের পথে নেমে পড়েন অটোরিকশা নিয়ে। ৫-৬ দিন এভাবে হাত পাকা করে একদিন টাঙ্গাইল শহরে চলে আসেন রোজিনা। এরপর শুরু করেন অটোরিক্সা চালানোর ব্যতিক্রমী জীবন সংগ্রাম। এখন টাঙ্গাইল পৌরসভায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার চালকদের মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা বেগম। জেলার বাসাইল উপজেলার আইসড়া গ্রামের বাসিন্দা রোজিনা টাঙ্গাইল পৌর শহরের এক প্রান্ত রাবনা বাইপাস থেকে আরেক প্রান্ত বেবিস্ট্যান্ডে যাত্রী আনা নেয়া করেন। যানজটের কারণে শহরে পুরুষ চালকরা যেখানে হিমসিম খায়, সেখানেই বিগত ৫ বছর ধরেই নির্বিঘেœ অটোরিকশা চালাচ্ছেন তিনি। টাঙ্গাইল পৌরসভা কার্যালয় সূত্রে জানা যাায়, টাঙ্গাইল শহরে চলাচলের জন্য ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক ও ৫ হাজার ব্যাটারিচালিত রিকশার অনুমতি (লাইসেন্স) দেওয়া হয়েছে। যানজট এড়াতে ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক জোড় ও বিজোড় সংখ্যায় দিনে দুই ভাগ করা হয়েছে। সকাল থেকে বেলা দুইটা পর্যন্ত এক ভাগ এবং বেলা দুইটা থেকে রাত পর্যন্ত আরেক ভাগের ইজিবাইক চলাচল করার নির্দেশনা দিয়েছে পৌর কর্তৃপক্ষ। কিন্তু রোজিনাকে দুই শিফটে চালানোর অনুমতি দিয়েছে পৌরসভা। সরেজমিনে দেখা যায়, নতুন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অটোরিকশা নিয়ে যাত্রী ডাকছেন রোজিনা। কলেজ গেট, পুরাতন বাসস্ট্যান্ড, ক্যাপসুল, নিরালা মোড়, বেবিস্ট্যান্ড সর্বত্রই যাত্রী আনানেয়া করেন তিনি। পুরাতন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অন্য অটো চালকদের দাঁড় করতে না দিলেও রোজিনাকে বাঁধা দেননা ট্রাফিক পুলিশ। বলতে গেলে সবাই তার প্রতি সহানুভুতিশীল। ট্রাফিক পুলিশসহ অন্য অটোচালকরাও তাকে সহযোগিতা করেন। রোজিনা বলেন, আমার অটোতে নারী যাত্রীরা খুব কম। তারা মনে করে আমার অটোতে উঠলে দুর্ঘটনায় পড়বে। কিন্তু আমি খুব সাবধানে অটো চালাই। দ্রুত গতিতেও না, আবার একেবারে ধীরগতিতেও না। এখন পর্যন্ত আমি কোন দুর্ঘটনার কবলে পড়ি নাই। শহরের পুরুষ অটোরিকশা চালকরা আমাকে অনেক সহযোগিতা করে। অটোচালক কাদের মিয়া বলেন, আমাদের শহরে কয়েক হাজার অটো চলাচল করে। তার মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। তাকে আমরা সব সময় সহযোগিতা করি। যাত্রী সাইদ মিয়া বলেন, আমি এ পর্যন্ত ৫-৬ বার রোজিনার অটোতে চড়েছি। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। অন্য পুরুষ অটো চালকের চেয়েও ভালো অটো চালান। নারী সংগঠক সেরাজুম মনিরা বলেন, তিনি অনেক দিন যাবত অটোরিকশা চালাচ্ছেন। আমি রোজিনাকে স্যালুট জানাই। একজন পুরুষের চেয়ে একজন নারী কোনো ভাবেই যে পিছিয়ে নেই, রোজিনা তা প্রমাণ করেছেন। রোজিনা বলেন, অটো চালানোর এই সিদ্ধান্তটি তার জন্য খুব সহজ ছিল না। তিনি বলেন, ৫ ও ১০ বছরের দুই মেয়েকে বাড়িতে রেখে অটোরিকশা নিয়ে সারাদিন রাস্তায় থাকতে হয়। তাদের ভালোভাবে দেখাশোনা করতে পারি না। কিন্তু কি করবো, অভাবের সংসার! এখন ঋণ নিয়ে একটু জমি কিনেছি। প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ণ প্রকল্পের অর্থায়নে প্রশাসন সেখানে ঘর তুলে দিয়েছে। শুরুতে যারা আমাকে নিয়ে ঠাট্টা করেছে এখন তারাই আমাকে সম্মান করেন। নারীরাও যে কিছু করতে পারে, তা প্রমাণ করেছি। আমার বড় মেয়ে আইসড়া উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়ে, ছোট মেয়ে পড়ে স্থানীয় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। মেয়েদের শিক্ষিত করতে হবে। ধার দেনা শোধ করতে হবে। তাই থেমে গেলো চলবে না। আমি অটোরিকশা চালিয়েই দুই সন্তানকে মানুষ করতে চাই।’ ঘারিন্দা ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য বাবুল সরকার বলেন, সরকার রোজিনাকে একটি ঘর নির্মাণ করে দিয়েছে। শুরুতে যারা তাকে নিয়ে নানান কথা বলতো, এখন তার সংকল্প ও মানষিক দৃঢ়তা দেখে থেমে গেছে। আমরা তাকে নিয়ে গর্ব করি। টাঙ্গাইলের ট্রাফিক ইন্সপেক্টর (প্রশাসন) দেলোয়ার হোসেন বলেন, শহরের একমাত্র নারী চালক রোজিনাকে কেউ যেন বিরক্ত করতে না পারে সেদিকে সব সময় নজর রাখে ট্রাফিক পুলিশ। আমরা তাকে সব সময় সহযোগিতা করে আসছি। টাঙ্গাইলের সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক শাহ আলম বলেন, বিষয়টি এখন জানতে পারলাম। ওই নারী এখনো পর্যন্ত আমাদের কাছে আসেন নাই। যদি আমাদের কাছে এসে আবেদন করেন অবশ্যই তাকে আমরা সহযেগিতা করবো, তার পাশে দাঁড়াবো।

কুড়িগ্রামের তাজু ভাই ২.০: ‘সরকারি রেটে জিলাপি’ প্রশ্নে ভাইরাল এক নির্মাণশ্রমিকের গল্প

বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের প্রত্যন্ত চরাঞ্চল থেকে উঠে এসে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার কেন্দ্রে এখন তাইজুল ইসলাম, যিনি অনলাইনে পরিচিত ‘তাজু ভাই ২.০’ নামে। মাত্র একটি ভিডিও—যেখানে তিনি এক দোকানিকে প্রশ্ন করেন, “জিলাপি আজকে কত করে বেচতেছেন সরকারি রেটে?”—এই সরল উপস্থাপনাই তাকে রাতারাতি ভাইরাল করে তোলে।  কয়েক ঘণ্টায় ফলোয়ার লাখ ছাড়াল রোববার রাত পর্যন্ত তার ফেসবুক অনুসারী ছিল প্রায় ৩৫ হাজার। কিন্তু সোমবার সন্ধ্যা থেকে রাতের মধ্যেই তা বেড়ে এক লাখের বেশি হয়ে যায়। ভাইরাল ভিডিওটি ইতোমধ্যে প্রায় ৫০ থেকে ৫৫ লাখবার দেখা হয়েছে।  কী ছিল সেই ভিডিওতে? ভিডিওতে দেখা যায়, কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীর নারায়ণপুর বাজারে দাঁড়িয়ে স্থানীয় ভাষায় তিনি জিলাপির দাম জানতে চান। তার কথাগুলো ছিল একেবারেই সহজ ও গ্রাম্য ভঙ্গিতে— “সাদাডা কত, লালডা কত? সরকারি রেটে বেচতেছেন?” এই সরল প্রশ্নই সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।  কোথা থেকে উঠে এলেন তাজু ভাই? কুড়িগ্রাম জেলার নাগেশ্বরী উপজেলার নারায়ণপুর ইউনিয়নের একটি দুর্গম গ্রামে জন্ম তার। ব্রহ্মপুত্র নদবেষ্টিত এই অঞ্চলে পৌঁছাতে এখনও কয়েকটি নৌঘাট পার হতে হয়। দারিদ্র্যের কারণে কখনো স্কুলে যাওয়া হয়নি তার। পেশায় তিনি একজন নির্মাণশ্রমিকের সহকারী (হেলপার)। কাজের ফাঁকে ঢাকায় থাকাকালীন মোবাইল ফোনে ভিডিও তৈরি করাই তার শখ। ব্যক্তিগত সংগ্রাম তাইজুল ইসলামের পরিবারে ছয় ভাই-বোন। তিনি সবার বড়। তার বাবা-মা দুজনই শ্রবণপ্রতিবন্ধী। পরিবার চালাতে তাকে ছোটবেলা থেকেই সংগ্রাম করতে হয়েছে। তিনি বলেন, “পরিবারের কষ্ট ভুলতেই ভিডিও করি। আমি সাংবাদিক না, কিন্তু আমাদের এলাকায় কেউ আসে না—তাই নিজেরাই ভিডিও বানাই।” ভাইরাল হওয়ার পেছনের উদ্দেশ্য তাইজুলের দাবি, তার ভিডিও শুধুই বিনোদনের জন্য নয়। তিনি চান তার এলাকার অবহেলিত মানুষের কথা প্রশাসনের নজরে আসুক। “আমি চাই চরের মানুষের উন্নয়ন হোক,”—বলছেন তিনি।  মিশ্র প্রতিক্রিয়া ভিডিওটি নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে দুই ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ তার সরলতা ও বাস্তবতা তুলে ধরার চেষ্টা প্রশংসা করছেন আবার কেউ তাকে নিয়ে ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ করছেন তবে এসব সমালোচনায় তিনি বিচলিত নন।

নিজস্ব প্রতিবেদক

বাংলাদেশ

View more
বরিশালের ক্যান্সার, কিডনি ও হৃদরোগ হাসপাতাল মাত্র ৪ কোটি টাকায় ১৭ তলা ভবন নির্মাণ!

৫০ লাখ টাকার অক্সিজেন পাইপ চুরির পর এবার অপপ্রচারের অভিযোগ; ৭০ কোটি টাকা আত্মসাতের দাবিকে ‘অবাস্তব’ বলছেন প্রকৌশলী ও ঠিকাদার- ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : বরিশালে নির্মাণাধীন একমাত্র ক্যান্সার, কিডনি ও হৃদরোগ হাসপাতাল নিয়ে নতুন করে ষড়যন্ত্র শুরু হয়েছে। প্রকল্পের প্রায় ৫০ লাখ টাকার অক্সিজেন পাইপ চুরির ঘটনার পর এবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন অনলাইন মাধ্যমে হাসপাতালটির নির্মাণকাজ, ব্যয় এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নিয়ে বিভ্রান্তিকর প্রচারণা চালানোর অভিযোগ উঠেছে। প্রকল্পসংশ্লিষ্ট প্রকৌশলী ও ঠিকাদারের দাবি, একটি স্বার্থান্বেষী মহল পরিকল্পিতভাবে অপপ্রচার চালিয়ে বৃহৎ এই স্বাস্থ্য অবকাঠামো প্রকল্পের বাস্তবায়ন বাধাগ্রস্ত করার চেষ্টা করছে। তাঁদের অভিযোগ, হাসপাতালটির নির্মাণকাজ নিয়ে ৭০ কোটি টাকা আত্মসাতের যে দাবি প্রচার করা হচ্ছে, তা প্রকল্পের আর্থিক হিসাব ও বাস্তব নির্মাণকাজের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। একই সঙ্গে চাঁদা না পেয়ে প্রকল্পসংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে বলেও দাবি করেছেন তাঁরা। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে স্বাধীন তদন্ত কিংবা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। ১৭ তলা হাসপাতাল নির্মাণে ব্যয়ের হিসাব নিয়ে বিতর্ক:  গণপূর্ত অধিদপ্তরের অধীনে বরিশালের এই বৃহৎ হাসপাতাল প্রকল্পের নির্মাণকাজ যৌথভাবে বাস্তবায়ন করছে বঙ্গ বিল্ডার্স লিমিটেড ও  মেসার্স খান বিল্ডার্স। প্রকল্পটির নকশা অনুযায়ী, নিচে দ্বিতল এবং ওপরে ১৫ তলা—সব মিলিয়ে ১৭ তলা ভবন নির্মাণ করা হচ্ছে। প্রকল্পের প্রাক্কলিত মূল্য ৯৯ কোটি ৫১ লাখ ৪৫ হাজার ৬১১ টাকা ৯৭৩ পয়সা। দরপত্রে গৃহীত মূল্য ৯৪ কোটি ১ লাখ ৮০ হাজার ৮১০ টাকা ৮৬৪ পয়সা। প্রকল্পসংশ্লিষ্টদের দেওয়া হিসাব অনুযায়ী, ভ্যাট ও জামানতের অর্থ বাদ দিলে কাজের মূল্য দাঁড়ায় প্রায় ৭৪ কোটি টাকা। অথচ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার করা হচ্ছে, প্রায় ১০০ কোটি টাকার প্রকল্প থেকে ৭০ কোটি টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে। এই দাবির পরিপ্রেক্ষিতে প্রকল্পসংশ্লিষ্টদের প্রশ্ন, তাঁদের হিসাব অনুযায়ী প্রকৃত কাজের মূল্য যদি প্রায় ৭৪ কোটি টাকা হয়, তাহলে ৭০ কোটি টাকা আত্মসাৎ করে অবশিষ্ট মাত্র ৪ কোটি টাকা দিয়ে কীভাবে ১৭ তলা ভবনের নির্মাণকাজ সম্পন্ন করা সম্ভব? তাঁদের মতে, প্রকল্পের প্রকৃত ব্যয়, দরপত্রের মূল্য ও বাস্তব অগ্রগতি যাচাই না করে এমন অভিযোগ প্রচার করা বিভ্রান্তিকর। বাধা ও ষড়যন্ত্রের অভিযোগ প্রকৌশলীর:  প্রকল্পটির বাস্তবায়ন নিয়ে নানা বাধা ও ষড়যন্ত্রের অভিযোগ করেছেন গণপূর্ত অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী ফয়সাল আলম। তিনি বলেন, “আমি শত বাধা-বিপত্তির মধ্যেও বরিশাল অঞ্চলের মানুষ হিসেবে আন্তরিকভাবে চেষ্টা করেছি বরিশালের একমাত্র ক্যান্সার, কিডনি ও হৃদরোগ হাসপাতালটি শতভাগ বাস্তবায়ন করতে। একটি মহল চায় না এই বৃহৎ প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হোক। সব বাধা ও ষড়যন্ত্র উপেক্ষা করে হাসপাতালটির নির্মাণকাজ শতভাগ নিশ্চিত করেছি।” অক্সিজেন পাইপ চুরির ঘটনার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, যারা হাসপাতাল নিয়ে অপপ্রচার করছে, তাদের কেউ কেউ ওই চুরির ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকতে পারে বলে তাঁর সন্দেহ। তবে এ বিষয়ে তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদ্‌ঘাটন হওয়া প্রয়োজন। তাঁর দাবি, একটি স্বার্থান্বেষী মহল হাসপাতালটির কাজ যথাসময়ে বাস্তবায়ন হোক, তা চায় না। এ কারণে নির্মাণকাজের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে নেতিবাচক প্রচারণা চালানো হচ্ছে। ২০১৮ সালের রেটে নির্মাণকাজ, ৭০ কোটি টাকা আত্মসাতের দাবি অবাস্তব: ঠিকাদার:  প্রকল্পের ঠিকাদার মিজানুর রহমান বলেন, দরপত্রে গৃহীত মূল্য ৯৪ কোটি ১ লাখ ৮০ হাজার ৮১০ টাকা। ভ্যাট ও জামানতের অর্থ বাদ দিলে কাজের মূল্য প্রায় ৭৪ কোটি টাকা। তাছাড়া তাঁরা ২০১৮ সালের রেট অনুযায়ী নির্মাণকাজ করছেন। তিনি বলেন, “যদি ৭০ কোটি টাকা লুট করা হয়, তাহলে মাত্র ৪ কোটি টাকা দিয়ে ১৭ তলা ভবন নির্মাণ করা সম্ভব? এটি সম্পূর্ণ অবাস্তব কথা।” মিজানুর রহমানের অভিযোগ, একটি চাঁদাবাজ চক্র চাঁদা না পেয়ে নির্মাণাধীন হাসপাতাল, গণপূর্তের নির্বাহী প্রকৌশলী এবং তাঁর বিরুদ্ধে পরিকল্পিতভাবে অপপ্রচার চালাচ্ছে। ঠিকাদার আরও বলেন, বৃহৎ এই প্রকল্পের নির্মাণকাজ বাস্তবায়নের দায়িত্ব তাঁর প্রতিষ্ঠানের। সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগের কর্মকর্তারা প্রকল্প পরিদর্শনে এলে তাঁদের সঙ্গে থেকে কাজের অগ্রগতি ও নির্মাণের বিভিন্ন বিষয় বুঝিয়ে দিতে হয়। এটি ঠিকাদারি কাজের স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। আওয়ামী লীগের লোক বানানোর চেষ্টার অভিযোগ:  নিজের রাজনৈতিক পরিচয় নিয়েও অপপ্রচার চালানো হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন ঠিকাদার মিজানুর রহমান। তিনি বলেন, “আমি একজন প্রতিষ্ঠিত ঠিকাদার ও ব্যবসায়ী। আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে আমাকে দুটি মামলা দিয়ে হয়রানি করা হয়েছে। অথচ এখন একটি মহল আমাকে আওয়ামী লীগের লোক বানানোর জন্য মরিয়া হয়ে উঠেছে।” তিনি আরও দাবি করেন, গত ৩ বছরে গণপূর্ত অধিদপ্তর থেকে টেন্ডারের মাধ্যমে তিনি মাত্র দুটি কাজ পেয়েছেন। অথচ তাঁকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও অনলাইন মাধ্যমে বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার করা হচ্ছে। এসব প্রচারণার মাধ্যমে একজন পেশাদার ঠিকাদার ও ব্যবসায়ীর সামাজিক ও ব্যবসায়িক সুনাম ক্ষুণ্ন করা হচ্ছে বলে দাবি করেন তিনি।   সাইবার সুরক্ষা আইনে ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি:  মিজানুর রহমান বলেন, কোনো প্রকল্প নিয়ে প্রশ্ন থাকলে তার সঠিক তথ্য, নথিপত্র ও বাস্তব অগ্রগতি যাচাই করে সমালোচনা করা যেতে পারে। কিন্তু মিথ্যা, বানোয়াট ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত তথ্য প্রচার করে কারও ব্যক্তিগত ও পেশাগত সুনাম নষ্ট করা গ্রহণযোগ্য নয়। তিনি জানান, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও অনলাইন মাধ্যমে যারা উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে মিথ্যা তথ্য প্রচার করে তাঁর সুনামহানির চেষ্টা করছেন, তাঁদের বিরুদ্ধে প্রচলিত সাইবার সুরক্ষা আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হবে। বরিশালের মানুষের প্রত্যাশা—হাসপাতালটি দ্রুত চালু হোক বরিশালসহ দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা, নিজ অঞ্চলে উন্নত চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা। ক্যান্সার, কিডনি ও হৃদরোগের মতো জটিল রোগের চিকিৎসার জন্য এ অঞ্চলের বহু মানুষকে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ছুটতে হয়। এতে রোগীদের পাশাপাশি তাঁদের পরিবারের সদস্যদেরও অর্থনৈতিক ও মানসিক চাপের মুখে পড়তে হয়। এ বাস্তবতায় বরিশালের ক্যান্সার, কিডনি ও হৃদরোগ হাসপাতালটি শুধু একটি ভবন নয়; দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের বিশেষায়িত চিকিৎসাসেবার একটি গুরুত্বপূর্ণ সম্ভাবনা। বরিশালবাসীর প্রত্যাশা,ষড়যন্ত্রকারীদের মুখোশ উম্মোচন করতে হবে। তাতের মুখোশ উম্মোচিত হলেই দ্রুত প্রকল্পটির বাস্তবায়ন সম্পন্ন হবে এবং দক্ষিণাঞ্চলের মানুষ এর সুফল পাবেন।

নিজস্ব প্রতিবেদক নভেম্বর ৭, ২০২৬ 0

৭ নভেম্বর: সিপাহি-জনতার বিপ্লব, জিয়াউর রহমানের মুক্তি ও বাংলাদেশের রাজনীতির নতুন অধ্যায়

বরিশালে আরএকে সিরামিকের টাইলসে ত্রুটির অভিযোগ:কাঠের হাতুড়ির আঘাতেই ফাটছে টাইলস

পবিপ্রবিতে পরিবহন সংকট নিরসনে বিআরটিসির দুই ডাবল ডেকার বাস উদ্বোধন

বরিশাল সরকারি মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজে মাধ্যমিক শাখা বন্ধের ষড়যন্ত্র: প্রতিবাদে অভিভাবকদের স্মারকলিপি

 জেলা প্রশাসকের কাছে অভিভাবকদের স্মারকলিপি: শিক্ষকদের বিরুদ্ধে শিক্ষার্থী প্রভাবিত করার দাবি - ইত্তেহাদ নিউজ, অনলাইন: বরিশাল সরকারি মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজের তৃতীয় থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষা কার্যক্রম অব্যাহত রাখার দাবিতে জেলা প্রশাসকের দ্বারস্থ হয়েছেন সচেতন অভিভাবকরা । সরকারের কোনো লিখিত নির্দেশনা ছাড়াই তৃতীয় শ্রেণিতে ভর্তি কার্যক্রম বন্ধ করে দেয়ায় তাঁরা সিদ্ধান্তটির প্রশাসনিক ও আইনগত ভিত্তি তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে প্রতিষ্ঠানের কয়েকজন শিক্ষকের বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীদের প্রভাবিত করে অভিভাবকদের দাবির বিপক্ষে অবস্থান তৈরির অভিযোগও তুলেছেন তাঁরা। গত ২ নভেম্বর ২০২৬ তারিখে বরিশাল জেলা প্রশাসকের কাছে দেয়া স্মারকলিপিতে অভিভাবকেরা তৃতীয় শ্রেণির ভর্তি কার্যক্রম বন্ধের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভূমিকা তদন্ত এবং তৃতীয় থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষা কার্যক্রম পূর্ণাঙ্গভাবে চালুর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানান। অভিভাবকদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে সুনামের সঙ্গে পরিচালিত প্রতিষ্ঠানটির তৃতীয় শ্রেণিতে ভর্তি কার্যক্রম ২০২৫ সালের শেষ দিকে বন্ধ করে দেওয়া হয়। এতে নতুন শিক্ষার্থী ভর্তির সুযোগ সংকুচিত হওয়ার পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানের ভবিষ্যৎ শিক্ষা কার্যক্রম নিয়েও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।   সরকারের লিখিত আদেশ ছাড়াই ভর্তি বন্ধ? বরিশাল সরকারি মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজের মাধ্যমিক শাখার শিক্ষা কার্যক্রমের ইতিহাস তুলে ধরে স্মারকলিপিতে বলা হয়েছে, প্রয়াত সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির অংশ হিসেবে ২০০৭ সালে ঢাকায় চারটিসহ দেশের বিভাগীয় শহরগুলোতে মোট ১১টি মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজ প্রতিষ্ঠা করা হয়। বরিশাল সরকারি মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজ সেগুলোর একটি। পরবর্তী সময়ে স্থানীয় জনগণের চাহিদার পরিপ্রেক্ষিতে ২০১৩ সালে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনায় বরিশালসহ দেশের নয়টি মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজে ষষ্ঠ শ্রেণির পরিবর্তে তৃতীয় থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষা কার্যক্রম সম্প্রসারণ করা হয়। অভিভাবকদের দাবি, সেই নির্দেশনার পর থেকেই প্রতিষ্ঠানটি তৃতীয় থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষাকার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। ভালো ফলাফলের কারণে প্রতিষ্ঠানটি বরিশালের অভিভাবকদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে। তাঁদের বক্তব্য, বরিশাল জিলা স্কুল, বরিশাল সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, কাউনিয়া সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও রুপাতলী সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের মতো বরিশাল সরকারি মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজেও মাধ্যমিক পর্যায়ের ভর্তি কার্যক্রম চালু থাকার কথা। কিন্তু গত এক বছর ধরে তৃতীয় শ্রেণিতে ভর্তি বন্ধ রয়েছে। স্মারকলিপিতে বলা হয়েছে, ২০১৩ সালে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের লিখিত নির্দেশনায় শিক্ষা কার্যক্রম সম্প্রসারণ করা হলেও ২০২৫ সালের শেষ দিকে তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ আবু মামুন একাডেমিক কাউন্সিলের সিদ্ধান্তে তৃতীয় শ্রেণিতে ভর্তি কার্যক্রম বন্ধ করেন। অভিভাবকদের প্রশ্ন, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের লিখিত আদেশে চালু হওয়া একটি শিক্ষা কার্যক্রম একাডেমিক কাউন্সিলের সিদ্ধান্তে বন্ধ করা যায় কি না। এ সিদ্ধান্তের পেছনে কোনো সরকারি অনুমোদন বা প্রশাসনিক নির্দেশনা ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।   প্রাথমিক শিক্ষা বিভাগের এখতিয়ার নেই, তাহলে ভর্তি বন্ধের নির্দেশ কে দিল? ভর্তি কার্যক্রম বন্ধের সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশাসনিক এখতিয়ারের প্রশ্নও তুলেছেন অভিভাবকেরা। স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়েছে, প্রাথমিক শিক্ষা বিভাগের বিভাগীয় কার্যালয়ের উপ-পরিচালক (ডিডি) লিখিতভাবে জানিয়েছেন, বরিশাল সরকারি মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজ মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) আওতাভুক্ত প্রতিষ্ঠান। ফলে তৃতীয় থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষা কার্যক্রম বন্ধ করে দেয়ার এখতিয়ার প্রাথমিক শিক্ষা বিভাগের নেই। এ অবস্থায় অভিভাবকদের মূল প্রশ্ন—প্রতিষ্ঠানটির কোন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে ভর্তি কার্যক্রম বন্ধ করা হয়েছে? সিদ্ধান্তটি কি যথাযথ প্রশাসনিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করে নেওয়া হয়েছিল, নাকি কেবল একাডেমিক কাউন্সিলের সিদ্ধান্তেই তা কার্যকর করা হয়েছে? তাঁরা এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সরকারি নথি, সিদ্ধান্ত ও অনুমোদন যাচাই করে প্রকৃত চিত্র প্রকাশের দাবি জানিয়েছেন।   শিক্ষকদের বিরুদ্ধে শিক্ষার্থী প্রভাবিত করার অভিযোগ স্মারকলিপিতে সাবেক ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ আবু মামুনের পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানের অর্থনীতি বিভাগের প্রভাষক মুহাম্মদ মাসুম বিল্লাহর ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়েছে। অভিভাবকদের অভিযোগ, সাবেক ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের সিদ্ধান্তে সরকারি শিক্ষা কার্যক্রম বন্ধ হওয়ার বিষয়টি তদন্ত করা প্রয়োজন। অন্যদিকে, প্রভাষক মুহাম্মদ মাসুম বিল্লাহ অভিভাবকদের স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও বর্তমান অধ্যক্ষের সঙ্গে যোগাযোগের ক্ষেত্রে বিঘ্ন সৃষ্টি করছেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এ ছাড়া কতিপয় শিক্ষক কোমলমতি শিক্ষার্থীদের প্রভাবিত করে অভিভাবকদের দাবির বিপক্ষে অবস্থান তৈরির চেষ্টা করছেন বলে স্মারকলিপিতে দাবি করা হয়েছে। অভিভাবকদের আশঙ্কা, এভাবে শিক্ষার্থীদের মধ্যে নেতিবাচক ধারণা তৈরি করে ভর্তি কার্যক্রম বন্ধের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে জনমত গড়ে ওঠার বিষয়টি বাধাগ্রস্ত করা হচ্ছে।   বৃত্তি পরীক্ষায় ৪৬ জনের মধ্যে ২৭ জনের সাফল্য তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষা কার্যক্রম বন্ধের যৌক্তিকতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন অভিভাবকেরা। স্মারকলিপির তথ্য অনুযায়ী, গত বছর প্রতিষ্ঠানটি থেকে ৪৬ জন শিক্ষার্থী প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে ২৭ জন বৃত্তি পেয়েছে। অর্থাৎ অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীদের মধ্যে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক শিক্ষার্থী বৃত্তি অর্জন করেছে।   আরও পড়ুন:  বরিশাল সরকারি মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজে ফল বিপর্যয়:  নেপথ্যে শিক্ষকদের কোন্দল, অবহেলা ও রাজনীতি   অভিভাবকদের প্রশ্ন, প্রাথমিক স্তরে এমন ফলাফল থাকা সত্ত্বেও কেন তৃতীয় শ্রেণির ভর্তি কার্যক্রম বন্ধ রাখা হচ্ছে? শিক্ষার মান, শিক্ষকসংকট কিংবা অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা যদি কারণ হয়ে থাকে, তাহলে সেগুলো সমাধানের উদ্যোগ না নিয়ে ভর্তি বন্ধের সিদ্ধান্ত কেন নেওয়া হলো? তাঁরা আরও উল্লেখ করেছেন, কলেজ শাখার ২২ জন জ্যেষ্ঠ শিক্ষকের অধিকাংশের সন্তান একসময় এই প্রতিষ্ঠানের তৃতীয় থেকে দশম শ্রেণিতে পড়াশোনা করেছে। তখন এই শিক্ষা কার্যক্রম চালু রাখার বিষয়ে আপত্তি না থাকলেও বর্তমানে কেন তা বন্ধের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে, সে প্রশ্নও তুলেছেন তাঁরা।অভিভাবকদের মতে, প্রতিষ্ঠানের স্থানীয় শিক্ষার্থীদের শিক্ষার সুযোগ কোনোভাবেই উপেক্ষা করা উচিত নয়।   শিক্ষার্থীদের মধ্যে ভুল তথ্য ছড়ানোর অভিযোগ স্মারকলিপিতে আরও অভিযোগ করা হয়েছে, বর্তমানে চতুর্থ থেকে দশম শ্রেণিতে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীদের মধ্যেও মাধ্যমিক শাখার শিক্ষা কার্যক্রম চালু রাখার বিষয়ে নেতিবাচক ধারণা তৈরি করা হচ্ছে। অভিভাবকদের বক্তব্য, ২০১৩ সালের পর থেকে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনার জন্য প্রতিষ্ঠানে ভবন ও শিক্ষক রয়েছেন। এর পাশাপাশি নতুন করে আরও ছয়জন অতিথি শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তাহলে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনায় প্রকৃত সমস্যা কোথায়, তা স্পষ্ট করা প্রয়োজন। অভিযোগে বলা হয়েছে, কলেজ শাখার শিক্ষার্থীদের মধ্যে এমন ধারণা ছড়ানো হয়েছে যে, তাঁদের দেওয়া অর্থ দিয়ে মাধ্যমিক ও প্রাথমিক স্তরের শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালিত হয়। অভিভাবকেরা মনে করেন, প্রতিষ্ঠানটি একটি সমন্বিত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। এ অবস্থায় মাধ্যমিক ও কলেজ শাখার অর্থ ব্যয়ের বিষয়ে সুস্পষ্ট বিধান ও প্রশাসনিক ব্যাখ্যা ছাড়া শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি করা অনুচিত।তাঁদের প্রশ্ন, শিক্ষার্থীরা এসব প্রশাসনিক ও আর্থিক বিষয়ে কীভাবে অবগত হচ্ছে এবং কারা তাদের কাছে এসব তথ্য তুলে ধরছে?   সিটি করপোরেশন প্রশাসকের আশ্বাস, তবু কাটেনি অচলাবস্থা স্মারকলিপিতে বরিশাল সিটি করপোরেশনের প্রশাসকের সঙ্গে অভিভাবকদের যোগাযোগের বিষয়টিও তুলে ধরা হয়েছে। অভিভাবকদের দাবি, সিটি করপোরেশনের প্রশাসক তৃতীয় থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষা কার্যক্রম চালু রাখার পক্ষে মত দিয়েছেন। একই সঙ্গে শিক্ষক ও ভবনসংকটের বিষয়টি শিক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করে সমাধানের সর্বোচ্চ চেষ্টা এবং সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন। তবে অভিভাবকদের অভিযোগ, এমন আশ্বাসের পরও প্রতিষ্ঠানের কতিপয় জ্যেষ্ঠ শিক্ষক শিক্ষার্থীদের প্রভাবিত করে স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত করছেন। তাঁদের মতে, প্রশাসনিক পর্যায় থেকে সহযোগিতার আশ্বাস পাওয়া গেলেও বাস্তবে শিক্ষা কার্যক্রম চালুর বিষয়ে দৃশ্যমান অগ্রগতি নেই।   অধ্যক্ষদের সঙ্গে শিক্ষকদের দ্বন্দ্বে ব্যাহত হচ্ছে শিক্ষা পরিবেশ? প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরীণ পরিবেশ নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন স্মারকলিপিদাতারা। তাঁদের অভিযোগ, গত কয়েক বছর ধরে সামান্য বিষয়কে কেন্দ্র করে অধ্যক্ষদের বিরুদ্ধে আন্দোলন ও অসহযোগিতার ঘটনা ঘটছে। এর ফলে কোনো অধ্যক্ষই প্রতিষ্ঠান থেকে স্বাভাবিক ও সম্মানজনকভাবে বিদায় নিতে পারেননি বলে দাবি তাঁদের। স্মারকলিপিতে বলা হয়েছে, কতিপয় শিক্ষক অধ্যক্ষের ওপর বিভিন্ন বিষয়ে চাপ সৃষ্টি করেন এবং নিজেদের ইচ্ছামতো প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করতে চান। এতে প্রশাসনিক কার্যক্রমের পাশাপাশি শ্রেণিকক্ষে পাঠদানও ব্যাহত হচ্ছে। অভিভাবকদের মতে, শিক্ষকদের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব, অধ্যক্ষের সঙ্গে অসহযোগিতা এবং শিক্ষার্থীদের প্রভাবিত করার অভিযোগগুলো আলাদাভাবে তদন্ত করা প্রয়োজন। কারণ, একটি সরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ব্যক্তিগত বা পেশাগত দ্বন্দ্বের প্রভাব যেন শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবনে না পড়ে, তা নিশ্চিত করা প্রশাসনের দায়িত্ব।   অভিভাবকদের দাবি—তৃতীয় থেকে দশম শ্রেণির শিক্ষা কার্যক্রম চালু রাখতে হবে স্মারকলিপির শেষাংশে অভিভাবকেরা স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, বরিশাল সরকারি মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজের তৃতীয় থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষা কার্যক্রম কোনো অবস্থাতেই বন্ধ করা যাবে না। এ জন্য প্রয়োজনীয়সংখ্যক শিক্ষক নিয়োগ, অবকাঠামোগত সংকট নিরসন এবং প্রয়োজনে পৃথক ভবন নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন তাঁরা। অভিভাবকদের বক্তব্য, বরিশাল মহানগরীতে মানসম্মত সরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সংখ্যা সীমিত। এ অবস্থায় একটি প্রতিষ্ঠানের শিক্ষা কার্যক্রম সংকুচিত হলে বৃহত্তর বরিশালের শিক্ষার্থী ও অভিভাবকেরা ক্ষতিগ্রস্ত হবেন। তাঁরা মনে করেন, শিক্ষক বা অবকাঠামোর ঘাটতি থাকলে তা সমাধানের দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের। ঘাটতির অজুহাতে দীর্ঘদিনের শিক্ষা কার্যক্রম বন্ধ রাখা কোনো স্থায়ী সমাধান হতে পারে না। জেলা প্রশাসকের কাছে চার দফা পদক্ষেপের দাবি স্মারকলিপিতে বরিশাল জেলা প্রশাসকের কাছে মূলত কয়েকটি বিষয়ে পদক্ষেপ নেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছে— ১. তৃতীয় শ্রেণিতে ভর্তি কার্যক্রম বন্ধের প্রশাসনিক ও আইনগত ভিত্তি তদন্ত করা। ২. সাবেক ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভূমিকা এবং শিক্ষকদের বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগ যাচাই করা। ৩. অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা। ৪. প্রয়োজনীয় শিক্ষক ও অবকাঠামোর ব্যবস্থা করে দ্রুত তৃতীয় শ্রেণির  শিক্ষা কার্যক্রম পূর্ণাঙ্গভাবে চালু করা। অভিভাবকদের ভাষ্য, বরিশাল সরকারি মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজ কেবল একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নয়; বৃহত্তর বরিশালের শিক্ষার্থীদের মানসম্মত সরকারি শিক্ষার একটি গুরুত্বপূর্ণ ভরসা। তাই ভর্তি কার্যক্রম বন্ধের সিদ্ধান্তের প্রকৃত কারণ উদ্‌ঘাটন এবং শিক্ষা কার্যক্রম অব্যাহত রাখার বিষয়ে প্রশাসনের কার্যকর উদ্যোগ এখন সময়ের দাবি। এখন মূল প্রশ্ন—২০১৩ সালে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনায় চালু হওয়া শিক্ষা কার্যক্রম ২০২৫ সালে কোন প্রশাসনিক সিদ্ধান্তে বন্ধ হলো? সেই সিদ্ধান্তের বৈধতা কী? আর শিক্ষকদের অভ্যন্তরীণ বিরোধের প্রভাব কি শেষ পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের শিক্ষার অধিকারকে সংকুচিত করছে? এসব প্রশ্নের নিরপেক্ষ তদন্ত ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সুস্পষ্ট ব্যাখ্যার ওপরই নির্ভর করছে বরিশাল সরকারি মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজের মাধ্যমিক শাখার ভবিষ্যৎ।

নিজস্ব প্রতিবেদক নভেম্বর ৩, ২০২৬ 0

দুই বছরে জিপিএ-৫ কমেছে ১ লাখের বেশি, পাসের হারেও বড় ধস

বরিশাল সরকারি মডেল স্কুল এন্ড কলেজ

বরিশাল সরকারি মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজে ফল বিপর্যয়: নেপথ্যে শিক্ষকদের কোন্দল, অবহেলা ও রাজনীতি

বানারীপাড়ায় সার ডিলার নিয়োগে স্বজনপ্রীতি,তালিকায় বিএনপি নেতাদের স্বজন ও স্বজনেরা

আদালতের নিষেধাজ্ঞার পরও বাকেরগঞ্জে বিদ্যালয়ের ভবন নির্মাণ
আদালতের নিষেধাজ্ঞার পরও বাকেরগঞ্জে বিদ্যালয়ের ভবন নির্মাণ, জমি দখলের অভিযোগ

ইত্তেহাদ নিউজ, অনলাইন : বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলার বোয়ালিয়া জে এম মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের নতুন ভবন নির্মাণকে কেন্দ্র করে জমির মালিকানা নিয়ে বিরোধ দেখা দিয়েছে। আদালতের নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও নির্মাণকাজ চালিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় জমির দাবিদার কুলসুম বেগমের পক্ষ থেকে আদালতের নির্দেশ অমান্য, জমি দখল, গাছপালা কেটে বিক্রি এবং ভয়ভীতি দেখানোর অভিযোগ করা হয়েছে। কুলসুম বেগমের দাবি, বিদ্যালয়ের নতুন ভবন নির্মাণের জন্য তাঁদের মালিকানাধীন প্রায় ১৫ শতাংশ জমি দখল করা হয়েছে। পাশাপাশি ভবনের পেছনে জায়গা থাকা সত্ত্বেও তাঁদের অন্য একটি জমিতে জোরপূর্বক সেপটিক ট্যাংক নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ওই জমির পরিমাণ প্রায় ২১ শতাংশ বলে দাবি তাঁর। জমি দুটি এসএ ২০৯৩ ও ২০৯৪ দাগের অন্তর্ভুক্ত বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এসব অভিযোগের সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করেছে। তাদের দাবি, পুরোনো ভবনের একই সীমানায় নতুন ভবন নির্মাণ করা হচ্ছে এবং বিদ্যালয়ের জমি নিয়ে ওঠা দাবির আইনগত ভিত্তি নেই। বিষয়টি আদালতে বিচারাধীন থাকায় আইনগতভাবেই মোকাবিলা করার কথা জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। আদালতের নির্দেশ, তবু নির্মাণকাজ চলার অভিযোগ কুলসুম বেগমের অভিযোগ, জমির মালিকানা নিয়ে বিরোধের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত নির্মাণকাজ বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছেন। কিন্তু সেই নির্দেশের পরও বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের নিয়োজিত শ্রমিকেরা কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। তাঁর দাবি, আদালতের নির্দেশ কার্যকর করতে পুলিশের পক্ষ থেকে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। ফলে বিরোধপূর্ণ জমিতে নির্মাণকাজ অব্যাহত রয়েছে। এ বিষয়ে স্থানীয় সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল হোসেন খানের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে তিনি বিষয়টি নিয়ে আদালতের দৃষ্টি আকর্ষণ করার পরামর্শ দেন বলে জানান কুলসুম বেগম। পরে আদালতের শরণাপন্ন হয়ে নির্মাণকাজ বন্ধ রাখার নির্দেশ নেওয়া হলেও পুলিশি পদক্ষেপ নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন তিনি।   জমি দখল, গাছপালা বিক্রি ও হুমকির অভিযোগ লিখিত অভিযোগে কুলসুম বেগম দাবি করেন, বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ কখনো তাঁদের সঙ্গে জমির বিরোধ নিয়ে সমঝোতা বা মীমাংসায় আসেনি। বরং প্রভাব খাটিয়ে তাঁদের ভয়ভীতি দেখানো এবং খুন-জখমের হুমকি দেওয়ার মাধ্যমে জমি দখলে রাখা হয়েছে। তাঁর ভাষ্য, বিভিন্ন সময়ে মামলা-মোকদ্দমা করে তাঁরা নিজেদের পক্ষে রায় পেয়েছেন। কিন্তু বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ সেসব রায়কে গুরুত্ব দেয়নি বলে অভিযোগ তাঁর। কুলসুম বেগম আরও অভিযোগ করেন, তাঁদের জমিতে লাগানো গাছপালা কেটে বিক্রি করা হয়েছে। নিজেরা গাছ কাটতে গেলে তাঁদের কাছে মোটা অঙ্কের টাকা দাবি করা হয়। টাকা দিতে না পারলে পুলিশ ডেকে মিথ্যা লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয় বলেও দাবি করেন তিনি। এ ছাড়া বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও তাঁর অনুসারীদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময়ে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করার অভিযোগ তুলেছেন কুলসুম বেগম। বর্তমানে বাকেরগঞ্জ থানায় তাঁদের বিরুদ্ধে আরও একটি লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।   চাকরির আশ্বাস দিয়েও নিয়োগ না দেওয়ার অভিযোগ জমি নিয়ে বিরোধের পাশাপাশি বিদ্যালয়ে চাকরি দেওয়ার আশ্বাস ভঙ্গের অভিযোগও তুলেছেন কুলসুম বেগম। তাঁর অভিযোগ, তাঁর সন্তানদের বিভিন্ন সময়ে চাকরি দেওয়ার প্রলোভন দেখানো হয়েছিল। এ বিষয়ে বিদ্যালয়ের রেজুলেশনও করা হয়েছিল বলে দাবি করেন তিনি। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তাঁদের চাকরি দেওয়া হয়নি। বরং অন্য ব্যক্তিদের কাছ থেকে নগদ অর্থ নিয়ে চাকরি দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ তাঁর। কুলসুম বেগমের দাবি, একদিকে তাঁদের জমি দখল করে রাখা হয়েছে, অন্যদিকে চাকরির আশ্বাস দিয়ে তাঁদের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করা হয়েছে।   পুলিশের বক্তব্য কী? আদালতের নির্দেশের পরও নির্মাণকাজ চলার অভিযোগের বিষয়ে বাকেরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আদিল হোসেন বলেন, আদালতের নির্দেশ পাওয়ার পর তিনি পুলিশ পাঠিয়ে নির্মাণকাজ বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি আরও বলেন, এরপরও কাজ চলার বিষয়ে তাঁর কাছে কোনো অভিযোগ আসেনি। পুলিশের এই বক্তব্যের সঙ্গে কুলসুম বেগমের অভিযোগের স্পষ্ট পার্থক্য রয়েছে। তাঁর দাবি, আদালতের নির্দেশের পরও কাজ চলছে এবং পুলিশ কার্যকর ব্যবস্থা নিচ্ছে না। অন্যদিকে ওসির বক্তব্য, পুলিশ পাঠিয়ে কাজ বন্ধ রাখতে বলা হয়েছে এবং পরবর্তী সময়ে কাজ চলার বিষয়ে কোনো অভিযোগ তিনি পাননি। এ অবস্থায় আদালতের আদেশ বাস্তবায়নে পুলিশ কী পদক্ষেপ নিয়েছে, ঘটনাস্থলে পরবর্তী সময়ে কাজ চলেছে কি না এবং এ বিষয়ে কোনো লিখিত অভিযোগ জমা পড়েছে কি না—এসব বিষয় যাচাই করা জরুরি।   বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের বক্তব্য বিদ্যালয়ের সভাপতি জিন্নাহ রথী বলেন, বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠার পর ১৯৬৬ সাল থেকেই সেখানে ভবন ছিল। তাঁর পূর্বপুরুষেরা এই বিদ্যালয়ে পড়াশোনা করেছেন এবং তিনিও এখান থেকে পাস করেছেন।তাঁর দাবি, পুরোনো ভবনটি একই সীমানার মধ্যে পুনর্নির্মাণ করতে গেলে বিদ্যালয়ের সাবেক কর্মচারী কুলসুম বেগমের পক্ষ থেকে জমির মালিকানা নিয়ে অভিযোগ তোলা হচ্ছে।জিন্নাহ রথী বলেন, বিষয়টি তাঁরা আইনগতভাবেই মোকাবিলা করছেন। তিনি আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল বলেও জানান। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ইদ্রিসুর রহমান বলেন, তিনি প্রায় ১০ থেকে ১২ বছর ধরে বিদ্যালয়টির দায়িত্ব পালন করছেন এবং বিদ্যালয়ের সব কাগজপত্র তাঁর হেফাজতে রয়েছে। প্রধান শিক্ষকের দাবি, পুরোনো ভবন থাকা অবস্থায় কেউ সেখানে জমির মালিকানা নিয়ে দাবি তোলেননি। কিন্তু পুরোনো ভবন ভেঙে নতুন ভবন নির্মাণের কাজ শুরু হলে বিদ্যালয়ের সাবেক কর্মচারী কুলসুম বেগমের পক্ষ থেকে জমির দাবি করা হচ্ছে, যার কোনো ভিত্তি নেই বলে মনে করেন তিনি।ইদ্রিসুর রহমান বলেন, কুলসুম বেগমের পক্ষ থেকে আদালতে অভিযোগ করা হয়েছে। বিষয়টি তাঁরা আইনগতভাবেই মোকাবিলা করবেন। বিরোধের নিষ্পত্তিতে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি বোয়ালিয়া জে এম মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের নতুন ভবন নির্মাণ ঘিরে বিরোধটি এখন জমির মালিকানা, আদালতের নির্দেশ বাস্তবায়ন এবং প্রশাসনিক দায়িত্ব পালনের প্রশ্ন সামনে এনেছে। একদিকে কুলসুম বেগমের পক্ষ থেকে জমি দখল, গাছপালা বিক্রি, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং আদালতের নির্দেশ অমান্যের অভিযোগ তোলা হয়েছে। অন্যদিকে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ দাবি করছে, পুরোনো ভবনের একই সীমানায় নির্মাণকাজ হচ্ছে এবং জমির মালিকানা নিয়ে ওঠা দাবির আইনগত ভিত্তি নেই। এ অবস্থায় জমির দলিল, এসএ ও অন্যান্য প্রাসঙ্গিক খতিয়ান, দাগভিত্তিক নকশা, আদালতের আদেশ, পূর্ববর্তী মামলার রায় এবং বিদ্যালয়ের জমি-সংক্রান্ত নথি যাচাই করে বিরোধের প্রকৃত অবস্থা নির্ধারণ করা প্রয়োজন।এলাকার সচেতন মহলের পক্ষ থেকে বিষয়টি সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়েছে। আদালতের নির্দেশের পর নির্মাণকাজের প্রকৃত অবস্থা কী, বিরোধপূর্ণ জমির বৈধ মালিক কে এবং আদালতের আদেশ যথাযথভাবে বাস্তবায়িত হচ্ছে কি না—এসব প্রশ্নের নিরপেক্ষ নিষ্পত্তি হলেই বিরোধের প্রকৃত চিত্র স্পষ্ট হবে।  

নিজস্ব প্রতিবেদক অক্টোবর ২৮, ২০২৬ 0
চরফ্যাশনে হর্টিকালচার প্রকল্পের রড গায়েব

চরফ্যাশনে ৮৪ কোটি টাকার প্রকল্পে রড উধাওয়ের অভিযোগ

স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়...

নির্বাচন সামনে রেখে ইউনিয়ন পরিষদ পুনর্গঠন ও বিভক্তকরণ স্থগিত

পবিপ্রবির সাবেক উপাচার্য স্বদেশ চন্দ্র সামন্ত ও রেজিস্ট্রার সন্তোষ কুমার বসু

পবিপ্রবির সাবেক উপাচার্য স্বদেশ চন্দ্র সামন্ত ও রেজিস্ট্রার সন্তোষ কুমার বসুর বিরুদ্ধে দুদকের মামলা

অর্থনীতি

ইসলামী ব্যাংক,

ইসলামী ব্যাংকে আস্থা সংকট কেন কাটছে না?: দেশের বৃহত্তম শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংককে ঘিরে নতুন প্রশ্ন

নিজস্ব প্রতিবেদক জুন ২২, ২০২৬ 0




অপরাধ

ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো

ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকোর বিরুদ্ধে ৩০ বিলিয়ন ডলার জালিয়াতি ও অর্থপাচার অভিযোগে দুদকের অনুসন্ধান

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ২৪, ২০২৬ 0




কৃষি ও জলবায়ু

ধান

শেরপুরে বোরো ধানের দাম কমে লোকসানে কৃষকরা, উৎপাদন খরচও উঠছে না

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ৬, ২০২৬ 0