Brand logo light
সংবাদ

বিএনপির জয়ে ঢাকা-দিল্লি সম্পর্ক নতুনভাবে শুরুর সুযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক ফেব্রুয়ারি ১৪, ২০২৬ 0
BNP's victory offers opportunity for a fresh start in Dhaka-Delhi relations
BNP's victory offers opportunity for a fresh start in Dhaka-Delhi relations

শশী থারুরের আশঙ্কা সত্যি হয়নি। মোদি সরকারের আশঙ্কাও নয়। বাংলাদেশের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি জয়লাভ করেছে। গত বছরের শেষের দিকে বাংলাদেশের বৃহত্তম ইসলামপন্থী দল জামায়াতে ইসলামী বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র সংসদ নির্বাচনে জিততে শুরু করে, তখন দিল্লির কৌশলগত মহলে নিদ্রাহীন রাতের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছিল জামায়াতের উত্থান।

গত বছরের ১১ সেপ্টেম্বর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনে জামায়াতের ছাত্র সংগঠন শিবির জয়লাভ করার পর শশী থারুর প্রকাশ্যে প্রশ্ন তুলেছিলেন—এই ফলাফল আসন্ন সাধারণ নির্বাচনে কেমন প্রভাব ফেলতে পারে।

তিনি লিখেছিলেন, ‘এটি হয়তো অধিকাংশ ভারতীয়ের মনে তেমন কোনো আলোড়ন সৃষ্টি করেনি, তবে ভবিষ্যতের জন্য এটি একটি উদ্বেগজনক ইঙ্গিত।’

গতকাল (১২ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যার পর জামায়াত-নেতৃত্বাধীন ১১-দলীয় জোটকে অনেক পিছনে ফেলে বিএনপি যখন বিজয়ের দিকে এগিয়ে যায়, তখন ভারতে অনেকে সম্পর্ক পুনর্গঠনের একটি সুযোগ দেখতে পান।

আপাতত ইসলামপন্থী হুমকি এড়ানো গেছে:
দিল্লির উদ্বিগ্ন হওয়ার একাধিক কারণ ছিল। প্রথমত, ১৯৭১ সালের স্বাধীনতা যুদ্ধে জামায়াত পাকিস্তানকে সমর্থন করেছিল। পাশাপাশি ইসলামপন্থী এই দলটি শরিয়া আইন বাস্তবায়নের পক্ষেও কথা বলেছে।

২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে নিউইয়র্কে বক্তব্য দিতে গিয়ে জামায়াতের নায়েবে আমির সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের হুঁশিয়ারি দেন, ভারত যদি বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে ‘হস্তক্ষেপ করার সাহস দেখায়’, তবে পঞ্চাশ লাখ বাংলাদেশি তরুণকে নিয়ে ‘পবিত্র যুদ্ধ’ ঘোষণা করা হবে।

দিল্লি-ঢাকা সম্পর্কের অবনতির প্রধান কারণ ছিল ভারতের নিরাপত্তা উদ্বেগ এবং ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের উগ্রবাদের উত্থান রোধে অক্ষমতা—অথবা এতে তাদের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ। এর ফলে শুধু বাংলাদেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিই ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি, বরং এর প্রভাব ভারতে ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কাও তৈরি হয়েছিল।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পরপরই ঢাকা ট্রিবিউন জানায়, জামায়াত দেশের শীর্ষ কওমি আলেমদের সঙ্গে একটি বৈঠক করেছে। বৈঠকে অংশগ্রহণকারীরা জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমানের নেতৃত্বে ইসলামি বিধানভিত্তিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা নিয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

ইসলামপন্থী শক্তির ঐক্যের আহ্বান জানিয়ে বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের আমির শরিয়ত মুফতি আবু জাফর কাসেমি বলেন, ‘আমাদের অতীতের সব মতপার্থক্য ভুলে যেতে হবে এবং কোনো রাজনৈতিক দলকে সুযোগ দেওয়া যাবে না।’

বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের সাবেক হাইকমিশনার বীণা সিক্রি দ্য প্রিন্টকে বলেন, ২০২৪ সালের আগস্টে অন্তর্বর্তী সরকার গঠনের পেছনের ঘটনাপ্রবাহে জামায়াতে ইসলামী গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিল। ইউনূস সরকারের ওপর জামায়াত উল্লেখযোগ্য প্রভাব বজায় রেখেছিল, যা সরকারের সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় প্রতিফলিত হয়েছে।

দিল্লির উদ্বেগ আরও বাড়িয়েছিল মার্কিন প্রশাসনের সঙ্গে জামায়াতের ক্রমবর্ধমান ঘনিষ্ঠতা। ২০২৬ সালের ২৪ জানুয়ারির এক প্রতিবেদনে ইকোনমিক টাইমস লিখেছিল, নির্বাচনের আগে উগ্র ইসলামপন্থী দলটিকে কাছে টানার মার্কিন প্রচেষ্টা কূটনৈতিক মহল ও বাংলাদেশ-বিশেষজ্ঞদের মধ্যে ভ্রূকুটি সৃষ্টি করেছে।

এর আগে দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট ঢাকা অবস্থানরত এক মার্কিন কূটনীতিকের অডিও রেকর্ডিং সংগ্রহ করে প্রতিবেদন প্রকাশ করে, যেখানে তিনি বর্ণনা করেছিলেন কীভাবে ওয়াশিংটন জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে সম্পৃক্ত হতে চায়।

টানাপোড়েনপূর্ণ অতীত ভুলতে চাওয়া:

শেখ হাসিনা সরকারের পতনের সঙ্গে সঙ্গে বাংলাদেশে ভারতবিরোধী মনোভাব তীব্রভাবে বেড়ে যায়। ভারত হাসিনাকে আশ্রয় দিয়েছে—এই বিষয়টি বাংলাদেশের নাগরিক সমাজ ও রাজনৈতিক দলগুলোর কাছে ভালোভাবে গ্রহণযোগ্য হয়নি। হাসিনার শাসনামলে দুই দেশ ঘনিষ্ঠ কৌশলগত মিত্র ছিল। তবে তার অপসারণের পর দিল্লি-ঢাকা সম্পর্ক দ্রুত অবনতি ঘটে।

পরিস্থিতি রাতারাতি বদলাবে না। ২০০১-০৬ সময়কালে বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকারের জোটসঙ্গী ছিল জামায়াত। তখন ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক সবচেয়ে খারাপ সময়গুলোর একটি অতিক্রম করে।

২০০৩ সাল থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করা বীণা সিক্রি দ্য প্রিন্টকে বলেন, পাকিস্তানভিত্তিক সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলো ভারতের বিরুদ্ধে বাংলাদেশি ভূখণ্ড ব্যবহার করত। বাংলাদেশ উত্তর-পূর্বাঞ্চলের বিদ্রোহীদের জন্য নিরাপদ আশ্রয়ে পরিণত হয়েছিল।

ফ্রন্টলাইন-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়, তারেক রহমান তৎকালীন বিএনপি সরকারের একজন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি ছিলেন। তার কোনো আনুষ্ঠানিক পদ না থাকলেও বিপুল ক্ষমতা প্রয়োগ করতেন, কিন্তু কোনো জবাবদিহিতা ছিল না। ২০০৪ সালের চট্টগ্রাম অস্ত্র জব্দ মামলায় তার যুক্ত থাকার অভিযোগ ভারতের নিরাপত্তা মহল সহজে ভুলবে না। এটি ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে অস্থিরতা সৃষ্টির উদ্দেশ্যে ইউনাইটেড লিবারেশন ফ্রন্ট অব আসাম (উলফা)-এর সঙ্গে ষড়যন্ত্রের অংশ ছিল বলে গণ্য করা হয়।

ভারতের প্রতিনিধি হিসেবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর খালেদা জিয়ার জানাজায় অংশ নিয়েছিলেন। সে সময় তিনি তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। ইউনূস প্রশাসনের সঙ্গে সম্পর্কের টানাপোড়েনের মধ্যেই জয়শঙ্করের ঢাকা সফরটি হয়েছিল।

এখন বিএনপি ক্ষমতায় আসায় এবং জামায়াতের পরাজয়ের পর ভারত ও বাংলাদেশ নতুনভাবে শুরু করার আশা করতে পারে।

Popular post
ফারুকীর সম্পদ কমেছে, তিশার বেড়েছে দ্বিগুণেরও বেশি: সম্পদ বিবরণী ঘিরে আলোচনা

অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের সম্পদ বিবরণী প্রকাশের পর সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী ও তার স্ত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদের হিসাব নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। এক বছরের ব্যবধানে স্বামী ফারুকীর সম্পদ কমলেও স্ত্রী তিশার সম্পদ বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে প্রকাশিত তথ্যে উঠে এসেছে এই চিত্র। প্রকাশিত খতিয়ান অনুযায়ী, জনপ্রিয় অভিনেত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদ এক বছরে অভাবনীয় হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তিশার মোট সম্পদের পরিমাণ ছিল ১ কোটি ৪০ লাখ ৮১ হাজার ৮৬০ টাকা। ঠিক এক বছর পর, ২০২৫ সালের ৩০ জুন সেই সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ৯৯ লাখ ৮৯ হাজার ৫০১ টাকায়। অর্থাৎ মাত্র এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ বেড়েছে ১ কোটি ৫৯ লাখ ৭ হাজার ৬৪১ টাকা, যা আগের বছরের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি। অন্যদিকে সংস্কৃতি উপদেষ্টা ও নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর ক্ষেত্রে দেখা গেছে উল্টো চিত্র। এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ কমেছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তার মোট সম্পদ ছিল ২ কোটি ২৬ লাখ ৯২ হাজার ২৬ টাকা। ২০২৫ সালের ৩০ জুন তা কমে দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ১৫ লাখ ১৮ হাজার ২৬ টাকায়। হিসাব অনুযায়ী, এক বছরে তার সম্পদ কমেছে ১১ লাখ ৭৪ হাজার টাকা। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে গত মঙ্গলবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ প্রধান উপদেষ্টা, উপদেষ্টা ও সমমর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের পাশাপাশি তাদের স্ত্রী বা স্বামীর সম্পদ বিবরণী প্রকাশ করে। একই সময়ে স্বামী-স্ত্রীর সম্পদে এমন ভিন্নমুখী পরিবর্তন স্বাভাবিকভাবেই সাধারণ মানুষের কৌতূহলের জন্ম দিয়েছে। শোবিজ অঙ্গনের জনপ্রিয় দম্পতি হওয়ায় তাদের এই আয়-ব্যয়ের হিসাব এখন টক অব দ্য কান্ট্রি।

সংসার সামলাতে অটোরিকশা নিয়ে রাস্তায় নেমেছেন রোজিনা

বাসস : বাবা একজন তাঁত শ্রমিক। তিন বোন দুই ভাইয়ের মধ্যে সবার বড় রোজিনা। অভাব সংসার, তাই এক এতিম যুবকের সাথে বাবা-মা বিয়ে দেন তাকে। বিয়ের পর জন্ম হয় দুই কন্যা সন্তানের। অটোরিকশা চালিয়ে কোন রকম সংসার চালাচ্ছিলেন স্বামী রফিকুল ইসলাম। কিন্তু সড়ক দুর্ঘটনায় রফিকুলের এক চোখ সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যায়। আরেকটি চোখ আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ধীরে ধীরে ওই চোখের দৃষ্টি শক্তিও কমতে থাকে। ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে অটোরিকশা চালানো। সংসারের উপার্জনক্ষম মানুষটি অচল হয়ে পড়ায় চিকিৎসার খরচ, ঘর ভাড়া ও খাবারের পাশাপাশি মেয়েদের লেখাপড়ার খরচ চালানোই কঠিন হয়ে যায়। দিশেহারা হয়ে পরেন রোজিনা। এক পর্যায়ে মানুষের বাড়ি বাড়ি কাজ করে সংসার চালানোর চেস্টা করেন। কিন্তু সুবিধা করতে পারেন না। এমন পরিস্থিতিতে অটোরিকশা চালানোর সিদ্ধান্ত নেন তিনি। স্বামী রফিকুলের কাছেই হাতেখড়ি। গ্রামের স্কুলের মাঠে স্বামীর কাছেই অটোরিকশা চালানোর শিক্ষা নেন তিনি। পরে গ্রামের পথে নেমে পড়েন অটোরিকশা নিয়ে। ৫-৬ দিন এভাবে হাত পাকা করে একদিন টাঙ্গাইল শহরে চলে আসেন রোজিনা। এরপর শুরু করেন অটোরিক্সা চালানোর ব্যতিক্রমী জীবন সংগ্রাম। এখন টাঙ্গাইল পৌরসভায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার চালকদের মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা বেগম। জেলার বাসাইল উপজেলার আইসড়া গ্রামের বাসিন্দা রোজিনা টাঙ্গাইল পৌর শহরের এক প্রান্ত রাবনা বাইপাস থেকে আরেক প্রান্ত বেবিস্ট্যান্ডে যাত্রী আনা নেয়া করেন। যানজটের কারণে শহরে পুরুষ চালকরা যেখানে হিমসিম খায়, সেখানেই বিগত ৫ বছর ধরেই নির্বিঘেœ অটোরিকশা চালাচ্ছেন তিনি। টাঙ্গাইল পৌরসভা কার্যালয় সূত্রে জানা যাায়, টাঙ্গাইল শহরে চলাচলের জন্য ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক ও ৫ হাজার ব্যাটারিচালিত রিকশার অনুমতি (লাইসেন্স) দেওয়া হয়েছে। যানজট এড়াতে ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক জোড় ও বিজোড় সংখ্যায় দিনে দুই ভাগ করা হয়েছে। সকাল থেকে বেলা দুইটা পর্যন্ত এক ভাগ এবং বেলা দুইটা থেকে রাত পর্যন্ত আরেক ভাগের ইজিবাইক চলাচল করার নির্দেশনা দিয়েছে পৌর কর্তৃপক্ষ। কিন্তু রোজিনাকে দুই শিফটে চালানোর অনুমতি দিয়েছে পৌরসভা। সরেজমিনে দেখা যায়, নতুন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অটোরিকশা নিয়ে যাত্রী ডাকছেন রোজিনা। কলেজ গেট, পুরাতন বাসস্ট্যান্ড, ক্যাপসুল, নিরালা মোড়, বেবিস্ট্যান্ড সর্বত্রই যাত্রী আনানেয়া করেন তিনি। পুরাতন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অন্য অটো চালকদের দাঁড় করতে না দিলেও রোজিনাকে বাঁধা দেননা ট্রাফিক পুলিশ। বলতে গেলে সবাই তার প্রতি সহানুভুতিশীল। ট্রাফিক পুলিশসহ অন্য অটোচালকরাও তাকে সহযোগিতা করেন। রোজিনা বলেন, আমার অটোতে নারী যাত্রীরা খুব কম। তারা মনে করে আমার অটোতে উঠলে দুর্ঘটনায় পড়বে। কিন্তু আমি খুব সাবধানে অটো চালাই। দ্রুত গতিতেও না, আবার একেবারে ধীরগতিতেও না। এখন পর্যন্ত আমি কোন দুর্ঘটনার কবলে পড়ি নাই। শহরের পুরুষ অটোরিকশা চালকরা আমাকে অনেক সহযোগিতা করে। অটোচালক কাদের মিয়া বলেন, আমাদের শহরে কয়েক হাজার অটো চলাচল করে। তার মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। তাকে আমরা সব সময় সহযোগিতা করি। যাত্রী সাইদ মিয়া বলেন, আমি এ পর্যন্ত ৫-৬ বার রোজিনার অটোতে চড়েছি। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। অন্য পুরুষ অটো চালকের চেয়েও ভালো অটো চালান। নারী সংগঠক সেরাজুম মনিরা বলেন, তিনি অনেক দিন যাবত অটোরিকশা চালাচ্ছেন। আমি রোজিনাকে স্যালুট জানাই। একজন পুরুষের চেয়ে একজন নারী কোনো ভাবেই যে পিছিয়ে নেই, রোজিনা তা প্রমাণ করেছেন। রোজিনা বলেন, অটো চালানোর এই সিদ্ধান্তটি তার জন্য খুব সহজ ছিল না। তিনি বলেন, ৫ ও ১০ বছরের দুই মেয়েকে বাড়িতে রেখে অটোরিকশা নিয়ে সারাদিন রাস্তায় থাকতে হয়। তাদের ভালোভাবে দেখাশোনা করতে পারি না। কিন্তু কি করবো, অভাবের সংসার! এখন ঋণ নিয়ে একটু জমি কিনেছি। প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ণ প্রকল্পের অর্থায়নে প্রশাসন সেখানে ঘর তুলে দিয়েছে। শুরুতে যারা আমাকে নিয়ে ঠাট্টা করেছে এখন তারাই আমাকে সম্মান করেন। নারীরাও যে কিছু করতে পারে, তা প্রমাণ করেছি। আমার বড় মেয়ে আইসড়া উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়ে, ছোট মেয়ে পড়ে স্থানীয় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। মেয়েদের শিক্ষিত করতে হবে। ধার দেনা শোধ করতে হবে। তাই থেমে গেলো চলবে না। আমি অটোরিকশা চালিয়েই দুই সন্তানকে মানুষ করতে চাই।’ ঘারিন্দা ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য বাবুল সরকার বলেন, সরকার রোজিনাকে একটি ঘর নির্মাণ করে দিয়েছে। শুরুতে যারা তাকে নিয়ে নানান কথা বলতো, এখন তার সংকল্প ও মানষিক দৃঢ়তা দেখে থেমে গেছে। আমরা তাকে নিয়ে গর্ব করি। টাঙ্গাইলের ট্রাফিক ইন্সপেক্টর (প্রশাসন) দেলোয়ার হোসেন বলেন, শহরের একমাত্র নারী চালক রোজিনাকে কেউ যেন বিরক্ত করতে না পারে সেদিকে সব সময় নজর রাখে ট্রাফিক পুলিশ। আমরা তাকে সব সময় সহযোগিতা করে আসছি। টাঙ্গাইলের সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক শাহ আলম বলেন, বিষয়টি এখন জানতে পারলাম। ওই নারী এখনো পর্যন্ত আমাদের কাছে আসেন নাই। যদি আমাদের কাছে এসে আবেদন করেন অবশ্যই তাকে আমরা সহযেগিতা করবো, তার পাশে দাঁড়াবো।

বাংলাদেশে ঐতিহাসিক নির্বাচন: বিএনপি এগিয়ে, জামায়াতের উত্থান ও তরুণ ভোটারদের প্রভাব

২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশে আজ এক ঐতিহাসিক ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ২০০৮ সালের পর এই প্রথম একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হতে যাচ্ছে যেখানে দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগ রাজনৈতিক মানচিত্র থেকে কার্যত অনুপস্থিত। বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক জরিপ বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০০ আসনের মধ্যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) কার্যকর সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে যাচ্ছে। তবে ভোটের ব্যবধান এবং কিছু সমীকরণ নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। নির্বাচনের সবচেয়ে বড় নিয়ামক হয়ে দাঁড়িয়েছে আওয়ামী লীগের বিশাল ভোটব্যাংক। দলটির নিয়মিত প্রায় ৪ কোটি ভোটার এখন নতুন রাজনৈতিক আশ্রয় খুঁজছেন। সিআরএফ বা বিইপিওএস জরিপ বলছে, এই ভোটারদের প্রায় অর্ধেক বিএনপির দিকে ঝুঁকেছে, যা দলটিকে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতার পথে এগিয়ে দিচ্ছে। অন্যদিকে, প্রায় ৩০ শতাংশ আওয়ামী ভোটার জামায়াতে ইসলামীকে বেছে নিতে পারেন বলে আভাস পাওয়া যাচ্ছে। এছাড়া বাংলাদেশের বিদ্যমান নির্বাচনী ব্যবস্থার কারণে দেশজুড়ে সুষম জনসমর্থন থাকা বিএনপি আসন জয়ের ক্ষেত্রে জামায়াতের তুলনায় সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। তবে বিএনপির এই সম্ভাব্য জয়ের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও বিদ্রোহী প্রার্থীরা। প্রায় ৭৯টি নির্বাচনী এলাকায় দলের মনোনয়ন না পাওয়া ৯২ জন প্রভাবশালী নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, যা বিএনপির ১৫ থেকে ৩০টি আসন কমিয়ে দিতে পারে। অন্যদিকে, তরুণ ভোটার বা ‘জেন-জি’ প্রজন্মের বিশাল সমর্থন জামায়াতে ইসলামীর শক্তির উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেশের ৪৪ শতাংশ ভোটারই তরুণ, যাদের বড় একটি অংশ প্রথমবার ভোট দিচ্ছেন। এই তরুণরা যদি দলবেঁধে কেন্দ্রে উপস্থিত হন, তবে নির্বাচনী ফলে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। সবশেষে, প্রায় ১৭ থেকে ৩৫ শতাংশ দোদুল্যমান ভোটার এবং তাদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করবে আগামীর সরকার কতটা শক্তিশালী হবে। দ্য নিউইয়র্ক এডিটোরিয়ালের মূল পূর্বাভাস, তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি প্রায় ১৮৫টি আসনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করতে পারে এবং জামায়াতে ইসলামী ৮০টির মতো আসন পেয়ে প্রধান বিরোধী দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারে। তবে বিদ্রোহী প্রার্থীদের প্রভাব এবং তরুণ ভোটারদের উপস্থিতির ওপর ভিত্তি করে আসন সংখ্যায় বড় ধরনের হেরফের হওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

গাজায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা ট্রাম্প প্রশাসনে

ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। ৩৫০ একরের ঘাঁটিটিতে সামরিক বাহিনীর পাঁচ হাজার সদস্য থাকতে পারবে। গাজার ‘বোর্ড অব পিস’র নথি পর্যালোচনা করে এ তথ্য জানিয়েছে দ্য গার্ডিয়ান। প্রতিবেদনে ব্রিটিশ সংবাদ মাধ্যমটি জানিয়েছে, বোর্ড অব পিসে গাজাকে নিরাপদ করার জন্য ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যাবিলাইজেশন ফোর্স (আইএসএফ) নামে একটি আন্তর্জাতিক বাহিনী মোতায়েনের কথা বলা হয়েছে। যে স্থানটি ঘাঁটি করার জন্য বিবেচনা করা হচ্ছে সেখানে আইএসএফের সদস্যরা থাকবে। বোর্ড অব পিসের প্রধান হবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আর সংগঠনটির আংশিক নেতৃত্ব দেবেন ট্রাম্পের জামাতা জ্যারার্ড কুশনার।দ্য গার্ডিয়ান বোর্ড অব পিসের নথি পর্যালোচনা করে জানায়, ধাপে ধাপে একটি সামরিক ঘাঁটি নির্মাণ করা হবে। সবকিছু শেষ হলে ঘাঁটিটি ১৫ লাখ ১৭ হাজার ৫৭৫ বর্গমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত হবে। ঘাঁটিটির চারপাশে ট্রেইলার সংযুক্ত ২৬টি সাঁজোয়া নজরদারি টাওয়ার থাকবে। এছাড়া একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, বাংকার ও অস্ত্র রাখার গুদাম থাকবে। পুরো ঘাঁটিটি কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে ঘিরে রাখা হবে। সামরিক ঘাঁটি নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে দক্ষিণ গাজার একটি শুষ্ক সমতলভূমিতে। সেখানে ইসরায়েলি হামলার চিহ্ন রয়েছে। ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে বিভিন্ন ধাতবের ধ্বংসাবশেষ।  ওই এলাকার ভিডিও পর্যালোচনা করেছে দ্য গার্ডিয়ান। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, ঘাঁটি নির্মাণের জন্য টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে। যুদ্ধক্ষেত্রে কাজের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন আন্তর্জাতিক নির্মাণ কোম্পানিগুলোর একটি ছোট দলকে ইতোমধ্যেই এলাকাটি দেখানো হয়েছে। ওই দলটি দরপত্রে অংশ নিতে আগ্রহী।    ইন্দোনেশিয়া সরকার গাজায় আট হাজার সেনা সদস্য পাঠানোর জন্য প্রস্তাব দিয়েছে। বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটন ডিসিতে বোর্ড অব পিসের অনানুষ্ঠানিক বৈঠকে ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্টের অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। এছাড়া দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার আরও তিন নেতার ওই বৈঠকে অংশ নেবেন বলে জানা গেছে। জাতিসংঘের নিরাপত্তা কাউন্সিল গাজার সাময়িক স্থিতিশীলতার জন্য অস্থায়ীভাবে সামরিক বাহিনী মোতায়েনের অনুমোদন দিয়েছে। নিরাপত্তা কাউন্সিলই বোর্ড অব পিসের মূল হোতা। গাজার সীমান্ত ও শান্তি প্রণয়নে কাজ করবে আইএসএফ। এছাড়া বেসামরিকদের সুরক্ষা এবং ফিলিস্তিনি পুলিশ বাহিনীকে প্রশিক্ষণ ও সহায়তা দেবে তারা। যদি গাজায় ফের সংঘর্ষ হয়, ইসরায়েল বোমা হামলা চালায় অথবা হামাস হামলা চালায় সেক্ষেত্রে আইএসএফ কি করবে তা এখনও স্পষ্ট নয়। গাজা পুনর্গঠনে ইসরায়েল হামাসকে নিরস্ত্রীকরণের যে শর্ত দিয়েছে সেটির জন্য আইএসএফ কাজ করবে কিনা তাও স্পষ্ট না। ইতোমধ্যে বোর্ড অব পিসে ২০ এর অধিক দেশ যোগ দিয়েছে। তবে, এখনও অনেক পরাশক্তি এর থেকে দূরে রয়েছে। জাতিসংঘের অনুমোদন নিয়ে প্রতিষ্ঠিত হলেও ধারণা করা হচ্ছে, সংগঠনটির স্থায়ী নেতৃত্ব ও নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে। রুটজার্স বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক আদিল হক বলেন, “বোর্ড অব পিস এক ধরনের আইনি কল্পসত্তা। নামমাত্রভাবে এর নিজস্ব আন্তর্জাতিক আইনগত সত্তা রয়েছে, যা জাতিসংঘ ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে আলাদা। কিন্তু বাস্তবে এটি যুক্তরাষ্ট্রের ইচ্ছামতো ব্যবহারের জন্য একটি ফাঁপা খোলসমাত্র।” বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গাজা পুনর্গঠনে যে অর্থায়ন ও শাসন কাঠামো হচ্ছে তা অস্বচ্ছ। কয়েকজন ঠিকাদার গার্ডিয়ানকে জানান, গাজায় কাজ করার জন্য মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে তাদের প্রায়শ আলোচনা সরকারি ইমেলের বদলে সিগন্যালের মাধ্যমে করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রের তথ্য মতে, ঘাঁটি নির্মাণের সিদ্ধান্তটি বোর্ড অব পিসের। এতে সহায়তা করছে মার্কিন কর্মকর্তারা। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ঘাঁটিতে তৈরি বাংকার নেটওয়ার্কের মতোন কাজ করবে। প্রতিটি বাংকারের ২৪ মিটারের হবে। উচ্চতা থাকবে আড়াই মিটার। এগুলো এমনভাবে করা হবে যেন সেনা সদস্যরা আশ্রয় নিতে পারে। স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসের গাজায় সুড়ঙ্গ নেটওয়ার্ক বা টানেল রয়েছে। সেগুলোর আদলে নেটওয়ার্ক করতে চাওয়া হচ্ছে। পিস অব বোর্ডের নথি পর্যালোচনা করে এমন দাবি করছে গার্ডিয়ান। সংবাদ মাধ্যমটি বলছে,  স্থানটির ভূ-ভৌত জরিপ পরিচালনা করবে ঠিকাদাররা। নথির এক অংশে ‘হিউম্যান রেমিয়েনস প্রোটোকল’র কথা বলা হয়েছে। এর মানে দাঁড়ায়, সন্দেহভাজন মানব অবশিষ্ট বা সাংস্কৃতিক নিদর্শন পাওয়া গেলে অবিলম্বে সেই এলাকায় সব কাজ বন্ধ করতে হবে। চুক্তি কর্মকর্তাকে দিকনির্দেশনার জন্য অবিলম্বে জানাতে হবে। গাজা সিভিল ডিফেন্সের ধারণা, গাজার ধ্বংসস্তূপের নিচে ১০ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনির মরদেহ রয়েছে। ঘাঁটির জন্য যে স্থানটি বিবেচিত করা হচ্ছে সেটির মালিক কে তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে, দক্ষিণ গাজার বেশিরভাগ অংশ  বর্তমানে ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণে। জাতিসংঘের অনুমান, যুদ্ধ চলাকালীন ১৯ লাখ ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত হয়েছে। ফিলিস্তিনের জমিতে সরকারের অনুমতি না নিয়ে সামরিক ঘাঁটি স্থাপনকে দখল হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন ফিলিস্তিনি-কানাডিয়ান আইনজীবী এবং প্রাক্তন শান্তি আলোচক দিয়ানা বুট্টু। তিনি প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়ে বলেন, “কার অনুমতিতে তারা সামরিক ঘাঁটি স্থাপন করবে।” বিষয়টি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা বোর্ড অব পিসের কথা টানেন। ট্রাম্প প্রশাসনের একজন কর্মকর্তা সামরিক ঘাঁটির চুক্তি নিয়ে আলোচনা করতে অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, “যেমনটি প্রেসিডেন্ট বলেছেন, কোনও মার্কিন সেনা স্থলভাগে যাবে না। আমরা লিক হওয়া নথি নিয়ে আলোচনা করবো না।”

কুড়িগ্রামের তাজু ভাই ২.০: ‘সরকারি রেটে জিলাপি’ প্রশ্নে ভাইরাল এক নির্মাণশ্রমিকের গল্প

বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের প্রত্যন্ত চরাঞ্চল থেকে উঠে এসে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার কেন্দ্রে এখন তাইজুল ইসলাম, যিনি অনলাইনে পরিচিত ‘তাজু ভাই ২.০’ নামে। মাত্র একটি ভিডিও—যেখানে তিনি এক দোকানিকে প্রশ্ন করেন, “জিলাপি আজকে কত করে বেচতেছেন সরকারি রেটে?”—এই সরল উপস্থাপনাই তাকে রাতারাতি ভাইরাল করে তোলে।  কয়েক ঘণ্টায় ফলোয়ার লাখ ছাড়াল রোববার রাত পর্যন্ত তার ফেসবুক অনুসারী ছিল প্রায় ৩৫ হাজার। কিন্তু সোমবার সন্ধ্যা থেকে রাতের মধ্যেই তা বেড়ে এক লাখের বেশি হয়ে যায়। ভাইরাল ভিডিওটি ইতোমধ্যে প্রায় ৫০ থেকে ৫৫ লাখবার দেখা হয়েছে।  কী ছিল সেই ভিডিওতে? ভিডিওতে দেখা যায়, কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীর নারায়ণপুর বাজারে দাঁড়িয়ে স্থানীয় ভাষায় তিনি জিলাপির দাম জানতে চান। তার কথাগুলো ছিল একেবারেই সহজ ও গ্রাম্য ভঙ্গিতে— “সাদাডা কত, লালডা কত? সরকারি রেটে বেচতেছেন?” এই সরল প্রশ্নই সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।  কোথা থেকে উঠে এলেন তাজু ভাই? কুড়িগ্রাম জেলার নাগেশ্বরী উপজেলার নারায়ণপুর ইউনিয়নের একটি দুর্গম গ্রামে জন্ম তার। ব্রহ্মপুত্র নদবেষ্টিত এই অঞ্চলে পৌঁছাতে এখনও কয়েকটি নৌঘাট পার হতে হয়। দারিদ্র্যের কারণে কখনো স্কুলে যাওয়া হয়নি তার। পেশায় তিনি একজন নির্মাণশ্রমিকের সহকারী (হেলপার)। কাজের ফাঁকে ঢাকায় থাকাকালীন মোবাইল ফোনে ভিডিও তৈরি করাই তার শখ। ব্যক্তিগত সংগ্রাম তাইজুল ইসলামের পরিবারে ছয় ভাই-বোন। তিনি সবার বড়। তার বাবা-মা দুজনই শ্রবণপ্রতিবন্ধী। পরিবার চালাতে তাকে ছোটবেলা থেকেই সংগ্রাম করতে হয়েছে। তিনি বলেন, “পরিবারের কষ্ট ভুলতেই ভিডিও করি। আমি সাংবাদিক না, কিন্তু আমাদের এলাকায় কেউ আসে না—তাই নিজেরাই ভিডিও বানাই।” ভাইরাল হওয়ার পেছনের উদ্দেশ্য তাইজুলের দাবি, তার ভিডিও শুধুই বিনোদনের জন্য নয়। তিনি চান তার এলাকার অবহেলিত মানুষের কথা প্রশাসনের নজরে আসুক। “আমি চাই চরের মানুষের উন্নয়ন হোক,”—বলছেন তিনি।  মিশ্র প্রতিক্রিয়া ভিডিওটি নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে দুই ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ তার সরলতা ও বাস্তবতা তুলে ধরার চেষ্টা প্রশংসা করছেন আবার কেউ তাকে নিয়ে ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ করছেন তবে এসব সমালোচনায় তিনি বিচলিত নন।

নিজস্ব প্রতিবেদক

সংবাদ

View more
তুলসি গ্যাবার্ড
ট্রাম্প প্রশাসন ছাড়লেন তুলসি গ্যাবার্ড, স্বামীর ক্যান্সার চিকিৎসার কারণ দেখিয়ে পদত্যাগ

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন ডেস্ক : যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প-এর প্রশাসন থেকে সরে দাঁড়াচ্ছেন জাতীয় গোয়েন্দা পরিচালক তুলসী গ্যাবার্ড। ব্যক্তিগত ও পারিবারিক কারণ দেখিয়ে দায়িত্ব ছাড়ার ঘোষণা দিয়েছেন তিনি। মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন এ তথ্য জানিয়েছে। স্থানীয় সময় শুক্রবার (২২ মে) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে প্রকাশিত এক পদত্যাগপত্রে গ্যাবার্ড জানান, তার স্বামী বিরল ধরনের হাড়ের ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়েছেন। পরিবারের পাশে থাকা এখন তার জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব বলেই তিনি প্রশাসন ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। চিঠিতে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে গ্যাবার্ড বলেন, জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থার নেতৃত্ব দেওয়ার সুযোগ পাওয়া তার জন্য ছিল ‘সম্মানের বিষয়’। প্রায় দেড় বছর দায়িত্ব পালনকালে ট্রাম্প প্রশাসনের আস্থা ও সহযোগিতার কথাও উল্লেখ করেন তিনি। অন্যদিকে ট্রাম্প তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্ল্যাটফর্ম ট্রুথ সোশ্যালে গ্যাবার্ডের পদত্যাগের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, আগামী ৩০ জুন আনুষ্ঠানিকভাবে প্রশাসন ছাড়বেন গ্যাবার্ড। ট্রাম্প তার কাজের প্রশংসা করে বলেন, দায়িত্ব পালনে তিনি দক্ষতা ও নিষ্ঠার পরিচয় দিয়েছেন এবং প্রশাসন তাকে ‘মিস করবে’। হোয়াইট হাউস সূত্রে জানা গেছে, ন্যাশনাল ইন্টেলিজেন্স বিভাগের প্রিন্সিপাল ডেপুটি ডিরেক্টর অ্যারন লুকাস অন্তর্বর্তীকালীন ভারপ্রাপ্ত পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। ডেমোক্র্যাট থেকে ট্রাম্প শিবিরে তুলসি গ্যাবার্ডের রাজনৈতিক যাত্রা বরাবরই ছিল আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। তিনি ২০১৩ থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত ডেমোক্র্যাটিক পার্টির হয়ে মার্কিন কংগ্রেসে প্রতিনিধিত্ব করেন। ২০২০ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনেও দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন। সামরিক পটভূমির অধিকারী গ্যাবার্ড ইরাক যুদ্ধে দায়িত্ব পালন করেন। যুদ্ধ-পরবর্তী সময়ে বিদেশে মার্কিন সামরিক হস্তক্ষেপের কড়া সমালোচক হিসেবে পরিচিতি পান তিনি। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্য নীতিতে ওয়াশিংটনের অবস্থানের বিরুদ্ধে একাধিকবার প্রকাশ্যে মত দেন। পরবর্তীতে ডেমোক্র্যাটিক পার্টি ত্যাগ করে ট্রাম্পকে সমর্থন জানান গ্যাবার্ড। বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের বৈদেশিক নীতিতে সামরিক সম্পৃক্ততা কমানোর প্রশ্নে ট্রাম্পের অবস্থানের সঙ্গে তার রাজনৈতিক অবস্থানের মিলই এ ঘনিষ্ঠতার অন্যতম কারণ। এক নির্বাচনী সমাবেশে তিনি সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন -এর প্রশাসনের সমালোচনা করে দাবি করেছিলেন, বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে সংঘাত ও পারমাণবিক উত্তেজনার ঝুঁকি আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় বেড়েছে। তবে ভেনিজুয়েলা ও ইরান ইস্যুতে ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে গ্যাবার্ডের কিছু নীতিগত মতপার্থক্য ছিল। পরে তিনি ইরান প্রসঙ্গে প্রশাসনের অবস্থানকে সমর্থন করেন। তার ভাষ্য ছিল, জাতীয় নিরাপত্তা হুমকি মূল্যায়নের চূড়ান্ত কর্তৃত্ব প্রেসিডেন্টের কাছেই থাকা উচিত। রাজনৈতিক বার্তা না ব্যক্তিগত সংকট? গ্যাবার্ডের পদত্যাগকে আপাতদৃষ্টিতে ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখা হলেও ওয়াশিংটনের রাজনৈতিক মহলে এটি নতুন আলোচনা তৈরি করেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা কাঠামো, বৈদেশিক নীতি এবং ট্রাম্প প্রশাসনের অভ্যন্তরীণ ভারসাম্যের প্রশ্নে এ পদত্যাগ ভবিষ্যতে কী প্রভাব ফেলতে পারে, তা নিয়ে ইতোমধ্যে বিশ্লেষণ শুরু হয়েছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ২৩, ২০২৬ 0
দিল্লিতে কোরবানি

ঈদুল আজহা সামনে রেখে দিল্লিতে কঠোর বিধিনিষেধ, প্রকাশ্যে কোরবানি নিষিদ্ধ

ইরানের তেল রপ্তানিতে নিষেধাজ্ঞা শিথিলের ইঙ্গিত

শান্তি আলোচনার মধ্যে ইরানের তেল নিষেধাজ্ঞা আংশিক শিথিলে নীতিগত সম্মতি যুক্তরাষ্ট্রের

কুমারী মেয়ের ‘নীরবতাই’ বিয়ের সম্মতি

আফগানিস্তানে তালেবানের নতুন পারিবারিক আইন: নীরবতাই কি বিয়ের সম্মতি, বৈধতা পেল বাল্যবিয়ে?

ক্ষেপণাস্ত্র ভাণ্ডার অক্ষত
ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা এখনও অক্ষত: মার্কিন গোয়েন্দা রিপোর্টে ট্রাম্প প্রশাসনের দাবি প্রশ্নে

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুদ্ধে ইরানের সামরিক শক্তি কার্যত ধ্বংস হয়ে গেছে বলে ট্রাম্প প্রশাসনের দাবি এবার মিথ্যা প্রমাণিত করেছে খোদ মার্কিন এক গোয়েন্দা সংস্থা। গোপনএই গোয়েন্দা সংস্থার মূল্যায়নে উঠে এসেছে সম্পূর্ণ ভিন্ন এক চিত্র।  বুধবার মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য নিউইয়র্ক টাইমস-এর এক প্রতিবেদনে এ তথ্য প্রকাশ করা হয়। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরান এখনও উল্লেখযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা ধরে রেখেছে এবং বহু ঘাঁটি পুনরায় সচল করতে সক্ষম হয়েছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, মে মাসের শুরুতে প্রস্তুত করা ওই গোয়েন্দা রিপোর্টে দেখা গেছে, কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি সংলগ্ন ৩৩টি ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটির মধ্যে ৩০টিই আবার কার্যক্রম শুরু করেছে। এছাড়া, দেশজুড়ে ইরানের ভূগর্ভস্থ ক্ষেপণাস্ত্র সংরক্ষণ ও উৎক্ষেপণ কেন্দ্রগুলোর প্রায় ৯০ শতাংশ বর্তমানে আংশিক বা পুরোপুরি কার্যকর অবস্থায় রয়েছে। গোয়েন্দা সূত্রগুলোর বরাতে প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ৭ এপ্রিল পর্যন্ত চলা সর্বশেষ মার্কিন-ইসরায়েলি হামলার আগে ইরানের যে পরিমাণ ক্ষেপণাস্ত্র ভাণ্ডার ও মোবাইল লঞ্চার ছিল তার প্রায় ৭০ শতাংশ এখনও অক্ষত রয়েছে।  তবে এই মূল্যায়ন সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে হোয়াইট হাউস। হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র অলিভিয়া ওয়ালেস বলেন, ‘ইরান তাদের সামরিক সক্ষমতার ক্ষয়ক্ষতি কাটিয়ে উঠেছে এমন ধারণা বাস্তবসম্মত নয়।’  দ্য নিউইয়র্ক টাইমস-এর উদ্ধৃতি অনুযায়ী, তিনি আরও বলেন, ‘ইরান বুঝতে পারছে যে তাদের বর্তমান বাস্তবতা টেকসই নয়।’ একইসঙ্গে তিনি মন্তব্য করেন, ‘যদি কেউ মনে করে ইরান তার সামরিক শক্তি পুরোপুরি পুনর্গঠন করেছে, তাহলে সে হয় বিভ্রান্ত, নয়তো আইআরজিসির মুখপাত্র।’  উল্লেখ্য, জেনেভায় কূটনৈতিক আলোচনা চলাকালে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে হামলা চালায় মার্কিন-ইসরায়েলি যৌথবাহিনী। ইরানের দাবি অনুযায়ী, ওই হামলায় দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিসহ বেশ কয়েকজন শীর্ষ কর্মকর্তা নিহত হন। এর জবাবে টানা ৩৯ দিনে ইসরায়েল ও মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে ১০০ দফা পাল্টা হামলা চালায় ইরান। পরে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় গত ৮ এপ্রিল যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়। তবে হরমুজ প্রণালি, ইউরেনিয়ামসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে দুই দেশের মধ্যে এখনও উত্তেজনা বিরাজ করছে। 

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ১৪, ২০২৬ 0
মার্কিন অস্ত্রভাণ্ডার

হরমুজ প্রণালিতে ফের শক্তিশালী ইরান: ৩০ ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটি সচল, নতুন তেল সংকটের শঙ্কা

বার্লিনে বাংলাদেশ দূতাবাসে তানভীর কবিরকে ঘিরে অনিয়মের অভিযোগ, তদন্তে যাচ্ছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়

ইরাকের মরুভূমিতে ইসরায়েলের গোপন ঘাঁটি

ইরাকের মরুভূমিতে ইসরায়েলের গোপন ঘাঁটির দাবি, তথ্য দিলেন এক মেষপালক

হরমুজ প্রণালীতে এবার সাবমেরিন মোতায়েন
হরমুজে ইরানের ‘ডলফিন’ সাবমেরিন, প্রস্তুত হচ্ছে ব্রিটেন-ফ্রান্সের নৌমিশন

 ইত্তেহাদ নিউজ, অনলাইন ডেস্ক : হরমুজ প্রণালিতে শত্রুপক্ষের নৌযান মোকাবিলায় দেশীয় প্রযুক্তিতে নির্মিত হালকা বিশেষ সাবমেরিন মোতায়েন করেছে ইরান। ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কোর (আইআরজিসি)-এর নৌবাহিনী এসব সাবমেরিনকে “পারস্য উপসাগরের ডলফিন” হিসেবে উল্লেখ করেছে। প্রতিরক্ষা সূত্রের বরাতে পার্সটুডে জানিয়েছে, ইরানের নৌবাহিনীর কমান্ডার অ্যাডমিরাল শাহরাম ইরানি এক ভাষণে বলেন, দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি এসব হালকা সাবমেরিন শত্রুর হুমকি মোকাবিলায় কার্যকর সক্ষমতা প্রদর্শন করতে পারে এবং প্রয়োজন হলে হরমুজ প্রণালীর বিস্তীর্ণ এলাকায় অবস্থান নিতে সক্ষম। তিনি আরও বলেন, দীর্ঘ সময় সমুদ্রতলের গভীরে অবস্থান করা, শত্রু জাহাজের গতিবিধি প্রতিরোধ করা এবং প্রয়োজন হলে আঘাত হানার সক্ষমতা এসব সাবমেরিনের অন্যতম বৈশিষ্ট্য। এ কারণেই এগুলোকে “পারস্য উপসাগরের ডলফিন” নামে ডাকা হয়। ইরানি এই নৌকমান্ডার জানান, হরমুজ প্রণালীতে দেনা ডেস্ট্রয়ারের শহীদদের স্মরণে আয়োজিত এক অভিযানে এসব সাবমেরিন পানির ওপর উঠে আসে। পরে প্রদর্শনীমূলক মহড়া শেষে আবার গভীর সমুদ্রে নিজেদের নির্ধারিত দায়িত্বে ফিরে যায়। হরমুজ ঘিরে সক্রিয় হচ্ছে ইউরোপ এদিকে হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সম্ভাব্য বহুজাতিক অভিযানের প্রস্তুতি নিচ্ছে যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্স। এই পরিকল্পনার অংশ হিসেবে যুক্তরাজ্য তাদের যুদ্ধজাহাজ ‘এইচএমএস ড্রাগন’ পশ্চিম এশিয়ায় মোতায়েন করছে। যুদ্ধজাহাজটি এর আগে গত মার্চে পূর্ব ভূমধ্যসাগরে সাইপ্রাসকে সহায়তা দিতে পাঠানো হয়েছিল। ফ্রান্স ইতোমধ্যে লোহিত সাগরে একটি বিমানবাহী রণতরী ও তার সঙ্গে থাকা যুদ্ধজাহাজের বহর মোতায়েন করেছে। এর পরই যুক্তরাজ্যের এই পদক্ষেপ সামনে এলো। মূলত হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলে আস্থা ফিরিয়ে আনতে যৌথ নিরাপত্তা পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছে লন্ডন ও প্যারিস। ব্রিটিশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক মুখপাত্র বলেন, “এইচএমএস ড্রাগনকে আগাম মোতায়েন করা হয়েছে একটি বিচক্ষণ পরিকল্পনার অংশ হিসেবে। পরিস্থিতি অনুকূলে এলে ব্রিটিশ-ফরাসি যৌথ নেতৃত্বাধীন বহুজাতিক জোটের অংশ হয়ে হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এটি ভূমিকা রাখবে।” ইরানের সঙ্গে সমন্বয়ের প্রশ্ন ফ্রান্স ও যুক্তরাজ্য কয়েক সপ্তাহ ধরে এমন একটি প্রস্তাব নিয়ে কাজ করছে, যার লক্ষ্য হলো সংঘাত কমে এলে হরমুজ প্রণালিতে নিরাপদ নৌচলাচলের ভিত্তি তৈরি করা। তবে এ পরিকল্পনা বাস্তবায়নে ইরানের সঙ্গে সমন্বয় প্রয়োজন হবে বলেও ধারণা করা হচ্ছে। প্রস্তুতিমূলক বিভিন্ন বৈঠকে অংশ নেওয়া কয়েকটি দেশও সম্ভাব্য এ অভিযানে আগ্রহ প্রকাশ করেছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পর পশ্চিম এশিয়াজুড়ে উত্তেজনা ও রক্তক্ষয়ী সংঘাত ছড়িয়ে পড়ে। শুরুতে ইউরোপের দেশগুলো সরাসরি সম্পৃক্ততা এড়িয়ে চলার চেষ্টা করলেও নৌচলাচলে বিঘ্ন এবং বিশ্ববাজারে তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলারের বেশি উঠে যাওয়ায় এখন তারা নিজেদের অর্থনৈতিক ও কৌশলগত স্বার্থ রক্ষায় সক্রিয় হচ্ছে। তেহরান কার্যত হরমুজ প্রণালির চলাচল সীমিত করে দেওয়ার পর ইরানি বন্দরগুলোর ওপর অবরোধ জোরদার করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প। তবে সেই অবরোধ কার্যকরে ইউরোপীয় দেশগুলো সরাসরি সহযোগিতা না করায় ওয়াশিংটনের সঙ্গে তাদের দূরত্বও বেড়েছে বলে কূটনৈতিক মহলে আলোচনা রয়েছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ১৪, ২০২৬ 0
সরকার গঠনের পথে বাধা কাটল অভিনেতা থালাপতির

তামিলনাড়ুতে সরকার গঠনের পথে থালাপতি বিজয়ের টিভিকে, সমর্থনে ভিসিকে ও আইইউএমএল

মমতা...

পশ্চিমবঙ্গ নির্বাচন: বড় ব্যবধানে বিজেপির জয়, অন্তর্বর্তী মুখ্যমন্ত্রী থাকতে পারেন মমতা

ইরানে সামরিক অভিযান সমাপ্ত

ইরানে ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ সমাপ্ত: শান্তিপূর্ণ সমাধানে জোর যুক্তরাষ্ট্রের

অর্থনীতি

করপোরেট ভ্যাট ফাঁকির নেটওয়ার্কে বিপুল রাজস্ব ঘাটতি, চাপ বাড়ছে সাধারণ করদাতার ওপর

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ১২, ২০২৬ 0




অপরাধ

মো. রুস্তুম গাজী (৬০)

গলাচিপায় শশুরের ধর্ষনে পুত্রবধুর গর্ভধারন, সন্তান জন্মের পর নবজাতক অপহরণ—শ্বশুরসহ ২ জন গ্রেপ্তার

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ২৮, ২০২৬ 0




কৃষি ও জলবায়ু

ধান

শেরপুরে বোরো ধানের দাম কমে লোকসানে কৃষকরা, উৎপাদন খরচও উঠছে না

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ৬, ২০২৬ 0