অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের সম্পদ বিবরণী প্রকাশের পর সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী ও তার স্ত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদের হিসাব নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। এক বছরের ব্যবধানে স্বামী ফারুকীর সম্পদ কমলেও স্ত্রী তিশার সম্পদ বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে প্রকাশিত তথ্যে উঠে এসেছে এই চিত্র। প্রকাশিত খতিয়ান অনুযায়ী, জনপ্রিয় অভিনেত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদ এক বছরে অভাবনীয় হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তিশার মোট সম্পদের পরিমাণ ছিল ১ কোটি ৪০ লাখ ৮১ হাজার ৮৬০ টাকা। ঠিক এক বছর পর, ২০২৫ সালের ৩০ জুন সেই সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ৯৯ লাখ ৮৯ হাজার ৫০১ টাকায়। অর্থাৎ মাত্র এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ বেড়েছে ১ কোটি ৫৯ লাখ ৭ হাজার ৬৪১ টাকা, যা আগের বছরের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি। অন্যদিকে সংস্কৃতি উপদেষ্টা ও নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর ক্ষেত্রে দেখা গেছে উল্টো চিত্র। এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ কমেছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তার মোট সম্পদ ছিল ২ কোটি ২৬ লাখ ৯২ হাজার ২৬ টাকা। ২০২৫ সালের ৩০ জুন তা কমে দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ১৫ লাখ ১৮ হাজার ২৬ টাকায়। হিসাব অনুযায়ী, এক বছরে তার সম্পদ কমেছে ১১ লাখ ৭৪ হাজার টাকা। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে গত মঙ্গলবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ প্রধান উপদেষ্টা, উপদেষ্টা ও সমমর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের পাশাপাশি তাদের স্ত্রী বা স্বামীর সম্পদ বিবরণী প্রকাশ করে। একই সময়ে স্বামী-স্ত্রীর সম্পদে এমন ভিন্নমুখী পরিবর্তন স্বাভাবিকভাবেই সাধারণ মানুষের কৌতূহলের জন্ম দিয়েছে। শোবিজ অঙ্গনের জনপ্রিয় দম্পতি হওয়ায় তাদের এই আয়-ব্যয়ের হিসাব এখন টক অব দ্য কান্ট্রি।
বাসস : বাবা একজন তাঁত শ্রমিক। তিন বোন দুই ভাইয়ের মধ্যে সবার বড় রোজিনা। অভাব সংসার, তাই এক এতিম যুবকের সাথে বাবা-মা বিয়ে দেন তাকে। বিয়ের পর জন্ম হয় দুই কন্যা সন্তানের। অটোরিকশা চালিয়ে কোন রকম সংসার চালাচ্ছিলেন স্বামী রফিকুল ইসলাম। কিন্তু সড়ক দুর্ঘটনায় রফিকুলের এক চোখ সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যায়। আরেকটি চোখ আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ধীরে ধীরে ওই চোখের দৃষ্টি শক্তিও কমতে থাকে। ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে অটোরিকশা চালানো। সংসারের উপার্জনক্ষম মানুষটি অচল হয়ে পড়ায় চিকিৎসার খরচ, ঘর ভাড়া ও খাবারের পাশাপাশি মেয়েদের লেখাপড়ার খরচ চালানোই কঠিন হয়ে যায়। দিশেহারা হয়ে পরেন রোজিনা। এক পর্যায়ে মানুষের বাড়ি বাড়ি কাজ করে সংসার চালানোর চেস্টা করেন। কিন্তু সুবিধা করতে পারেন না। এমন পরিস্থিতিতে অটোরিকশা চালানোর সিদ্ধান্ত নেন তিনি। স্বামী রফিকুলের কাছেই হাতেখড়ি। গ্রামের স্কুলের মাঠে স্বামীর কাছেই অটোরিকশা চালানোর শিক্ষা নেন তিনি। পরে গ্রামের পথে নেমে পড়েন অটোরিকশা নিয়ে। ৫-৬ দিন এভাবে হাত পাকা করে একদিন টাঙ্গাইল শহরে চলে আসেন রোজিনা। এরপর শুরু করেন অটোরিক্সা চালানোর ব্যতিক্রমী জীবন সংগ্রাম। এখন টাঙ্গাইল পৌরসভায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার চালকদের মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা বেগম। জেলার বাসাইল উপজেলার আইসড়া গ্রামের বাসিন্দা রোজিনা টাঙ্গাইল পৌর শহরের এক প্রান্ত রাবনা বাইপাস থেকে আরেক প্রান্ত বেবিস্ট্যান্ডে যাত্রী আনা নেয়া করেন। যানজটের কারণে শহরে পুরুষ চালকরা যেখানে হিমসিম খায়, সেখানেই বিগত ৫ বছর ধরেই নির্বিঘেœ অটোরিকশা চালাচ্ছেন তিনি। টাঙ্গাইল পৌরসভা কার্যালয় সূত্রে জানা যাায়, টাঙ্গাইল শহরে চলাচলের জন্য ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক ও ৫ হাজার ব্যাটারিচালিত রিকশার অনুমতি (লাইসেন্স) দেওয়া হয়েছে। যানজট এড়াতে ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক জোড় ও বিজোড় সংখ্যায় দিনে দুই ভাগ করা হয়েছে। সকাল থেকে বেলা দুইটা পর্যন্ত এক ভাগ এবং বেলা দুইটা থেকে রাত পর্যন্ত আরেক ভাগের ইজিবাইক চলাচল করার নির্দেশনা দিয়েছে পৌর কর্তৃপক্ষ। কিন্তু রোজিনাকে দুই শিফটে চালানোর অনুমতি দিয়েছে পৌরসভা। সরেজমিনে দেখা যায়, নতুন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অটোরিকশা নিয়ে যাত্রী ডাকছেন রোজিনা। কলেজ গেট, পুরাতন বাসস্ট্যান্ড, ক্যাপসুল, নিরালা মোড়, বেবিস্ট্যান্ড সর্বত্রই যাত্রী আনানেয়া করেন তিনি। পুরাতন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অন্য অটো চালকদের দাঁড় করতে না দিলেও রোজিনাকে বাঁধা দেননা ট্রাফিক পুলিশ। বলতে গেলে সবাই তার প্রতি সহানুভুতিশীল। ট্রাফিক পুলিশসহ অন্য অটোচালকরাও তাকে সহযোগিতা করেন। রোজিনা বলেন, আমার অটোতে নারী যাত্রীরা খুব কম। তারা মনে করে আমার অটোতে উঠলে দুর্ঘটনায় পড়বে। কিন্তু আমি খুব সাবধানে অটো চালাই। দ্রুত গতিতেও না, আবার একেবারে ধীরগতিতেও না। এখন পর্যন্ত আমি কোন দুর্ঘটনার কবলে পড়ি নাই। শহরের পুরুষ অটোরিকশা চালকরা আমাকে অনেক সহযোগিতা করে। অটোচালক কাদের মিয়া বলেন, আমাদের শহরে কয়েক হাজার অটো চলাচল করে। তার মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। তাকে আমরা সব সময় সহযোগিতা করি। যাত্রী সাইদ মিয়া বলেন, আমি এ পর্যন্ত ৫-৬ বার রোজিনার অটোতে চড়েছি। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। অন্য পুরুষ অটো চালকের চেয়েও ভালো অটো চালান। নারী সংগঠক সেরাজুম মনিরা বলেন, তিনি অনেক দিন যাবত অটোরিকশা চালাচ্ছেন। আমি রোজিনাকে স্যালুট জানাই। একজন পুরুষের চেয়ে একজন নারী কোনো ভাবেই যে পিছিয়ে নেই, রোজিনা তা প্রমাণ করেছেন। রোজিনা বলেন, অটো চালানোর এই সিদ্ধান্তটি তার জন্য খুব সহজ ছিল না। তিনি বলেন, ৫ ও ১০ বছরের দুই মেয়েকে বাড়িতে রেখে অটোরিকশা নিয়ে সারাদিন রাস্তায় থাকতে হয়। তাদের ভালোভাবে দেখাশোনা করতে পারি না। কিন্তু কি করবো, অভাবের সংসার! এখন ঋণ নিয়ে একটু জমি কিনেছি। প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ণ প্রকল্পের অর্থায়নে প্রশাসন সেখানে ঘর তুলে দিয়েছে। শুরুতে যারা আমাকে নিয়ে ঠাট্টা করেছে এখন তারাই আমাকে সম্মান করেন। নারীরাও যে কিছু করতে পারে, তা প্রমাণ করেছি। আমার বড় মেয়ে আইসড়া উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়ে, ছোট মেয়ে পড়ে স্থানীয় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। মেয়েদের শিক্ষিত করতে হবে। ধার দেনা শোধ করতে হবে। তাই থেমে গেলো চলবে না। আমি অটোরিকশা চালিয়েই দুই সন্তানকে মানুষ করতে চাই।’ ঘারিন্দা ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য বাবুল সরকার বলেন, সরকার রোজিনাকে একটি ঘর নির্মাণ করে দিয়েছে। শুরুতে যারা তাকে নিয়ে নানান কথা বলতো, এখন তার সংকল্প ও মানষিক দৃঢ়তা দেখে থেমে গেছে। আমরা তাকে নিয়ে গর্ব করি। টাঙ্গাইলের ট্রাফিক ইন্সপেক্টর (প্রশাসন) দেলোয়ার হোসেন বলেন, শহরের একমাত্র নারী চালক রোজিনাকে কেউ যেন বিরক্ত করতে না পারে সেদিকে সব সময় নজর রাখে ট্রাফিক পুলিশ। আমরা তাকে সব সময় সহযোগিতা করে আসছি। টাঙ্গাইলের সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক শাহ আলম বলেন, বিষয়টি এখন জানতে পারলাম। ওই নারী এখনো পর্যন্ত আমাদের কাছে আসেন নাই। যদি আমাদের কাছে এসে আবেদন করেন অবশ্যই তাকে আমরা সহযেগিতা করবো, তার পাশে দাঁড়াবো।
২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশে আজ এক ঐতিহাসিক ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ২০০৮ সালের পর এই প্রথম একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হতে যাচ্ছে যেখানে দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগ রাজনৈতিক মানচিত্র থেকে কার্যত অনুপস্থিত। বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক জরিপ বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০০ আসনের মধ্যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) কার্যকর সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে যাচ্ছে। তবে ভোটের ব্যবধান এবং কিছু সমীকরণ নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। নির্বাচনের সবচেয়ে বড় নিয়ামক হয়ে দাঁড়িয়েছে আওয়ামী লীগের বিশাল ভোটব্যাংক। দলটির নিয়মিত প্রায় ৪ কোটি ভোটার এখন নতুন রাজনৈতিক আশ্রয় খুঁজছেন। সিআরএফ বা বিইপিওএস জরিপ বলছে, এই ভোটারদের প্রায় অর্ধেক বিএনপির দিকে ঝুঁকেছে, যা দলটিকে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতার পথে এগিয়ে দিচ্ছে। অন্যদিকে, প্রায় ৩০ শতাংশ আওয়ামী ভোটার জামায়াতে ইসলামীকে বেছে নিতে পারেন বলে আভাস পাওয়া যাচ্ছে। এছাড়া বাংলাদেশের বিদ্যমান নির্বাচনী ব্যবস্থার কারণে দেশজুড়ে সুষম জনসমর্থন থাকা বিএনপি আসন জয়ের ক্ষেত্রে জামায়াতের তুলনায় সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। তবে বিএনপির এই সম্ভাব্য জয়ের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও বিদ্রোহী প্রার্থীরা। প্রায় ৭৯টি নির্বাচনী এলাকায় দলের মনোনয়ন না পাওয়া ৯২ জন প্রভাবশালী নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, যা বিএনপির ১৫ থেকে ৩০টি আসন কমিয়ে দিতে পারে। অন্যদিকে, তরুণ ভোটার বা ‘জেন-জি’ প্রজন্মের বিশাল সমর্থন জামায়াতে ইসলামীর শক্তির উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেশের ৪৪ শতাংশ ভোটারই তরুণ, যাদের বড় একটি অংশ প্রথমবার ভোট দিচ্ছেন। এই তরুণরা যদি দলবেঁধে কেন্দ্রে উপস্থিত হন, তবে নির্বাচনী ফলে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। সবশেষে, প্রায় ১৭ থেকে ৩৫ শতাংশ দোদুল্যমান ভোটার এবং তাদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করবে আগামীর সরকার কতটা শক্তিশালী হবে। দ্য নিউইয়র্ক এডিটোরিয়ালের মূল পূর্বাভাস, তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি প্রায় ১৮৫টি আসনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করতে পারে এবং জামায়াতে ইসলামী ৮০টির মতো আসন পেয়ে প্রধান বিরোধী দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারে। তবে বিদ্রোহী প্রার্থীদের প্রভাব এবং তরুণ ভোটারদের উপস্থিতির ওপর ভিত্তি করে আসন সংখ্যায় বড় ধরনের হেরফের হওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। ৩৫০ একরের ঘাঁটিটিতে সামরিক বাহিনীর পাঁচ হাজার সদস্য থাকতে পারবে। গাজার ‘বোর্ড অব পিস’র নথি পর্যালোচনা করে এ তথ্য জানিয়েছে দ্য গার্ডিয়ান। প্রতিবেদনে ব্রিটিশ সংবাদ মাধ্যমটি জানিয়েছে, বোর্ড অব পিসে গাজাকে নিরাপদ করার জন্য ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যাবিলাইজেশন ফোর্স (আইএসএফ) নামে একটি আন্তর্জাতিক বাহিনী মোতায়েনের কথা বলা হয়েছে। যে স্থানটি ঘাঁটি করার জন্য বিবেচনা করা হচ্ছে সেখানে আইএসএফের সদস্যরা থাকবে। বোর্ড অব পিসের প্রধান হবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আর সংগঠনটির আংশিক নেতৃত্ব দেবেন ট্রাম্পের জামাতা জ্যারার্ড কুশনার।দ্য গার্ডিয়ান বোর্ড অব পিসের নথি পর্যালোচনা করে জানায়, ধাপে ধাপে একটি সামরিক ঘাঁটি নির্মাণ করা হবে। সবকিছু শেষ হলে ঘাঁটিটি ১৫ লাখ ১৭ হাজার ৫৭৫ বর্গমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত হবে। ঘাঁটিটির চারপাশে ট্রেইলার সংযুক্ত ২৬টি সাঁজোয়া নজরদারি টাওয়ার থাকবে। এছাড়া একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, বাংকার ও অস্ত্র রাখার গুদাম থাকবে। পুরো ঘাঁটিটি কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে ঘিরে রাখা হবে। সামরিক ঘাঁটি নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে দক্ষিণ গাজার একটি শুষ্ক সমতলভূমিতে। সেখানে ইসরায়েলি হামলার চিহ্ন রয়েছে। ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে বিভিন্ন ধাতবের ধ্বংসাবশেষ। ওই এলাকার ভিডিও পর্যালোচনা করেছে দ্য গার্ডিয়ান। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, ঘাঁটি নির্মাণের জন্য টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে। যুদ্ধক্ষেত্রে কাজের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন আন্তর্জাতিক নির্মাণ কোম্পানিগুলোর একটি ছোট দলকে ইতোমধ্যেই এলাকাটি দেখানো হয়েছে। ওই দলটি দরপত্রে অংশ নিতে আগ্রহী। ইন্দোনেশিয়া সরকার গাজায় আট হাজার সেনা সদস্য পাঠানোর জন্য প্রস্তাব দিয়েছে। বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটন ডিসিতে বোর্ড অব পিসের অনানুষ্ঠানিক বৈঠকে ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্টের অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। এছাড়া দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার আরও তিন নেতার ওই বৈঠকে অংশ নেবেন বলে জানা গেছে। জাতিসংঘের নিরাপত্তা কাউন্সিল গাজার সাময়িক স্থিতিশীলতার জন্য অস্থায়ীভাবে সামরিক বাহিনী মোতায়েনের অনুমোদন দিয়েছে। নিরাপত্তা কাউন্সিলই বোর্ড অব পিসের মূল হোতা। গাজার সীমান্ত ও শান্তি প্রণয়নে কাজ করবে আইএসএফ। এছাড়া বেসামরিকদের সুরক্ষা এবং ফিলিস্তিনি পুলিশ বাহিনীকে প্রশিক্ষণ ও সহায়তা দেবে তারা। যদি গাজায় ফের সংঘর্ষ হয়, ইসরায়েল বোমা হামলা চালায় অথবা হামাস হামলা চালায় সেক্ষেত্রে আইএসএফ কি করবে তা এখনও স্পষ্ট নয়। গাজা পুনর্গঠনে ইসরায়েল হামাসকে নিরস্ত্রীকরণের যে শর্ত দিয়েছে সেটির জন্য আইএসএফ কাজ করবে কিনা তাও স্পষ্ট না। ইতোমধ্যে বোর্ড অব পিসে ২০ এর অধিক দেশ যোগ দিয়েছে। তবে, এখনও অনেক পরাশক্তি এর থেকে দূরে রয়েছে। জাতিসংঘের অনুমোদন নিয়ে প্রতিষ্ঠিত হলেও ধারণা করা হচ্ছে, সংগঠনটির স্থায়ী নেতৃত্ব ও নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে। রুটজার্স বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক আদিল হক বলেন, “বোর্ড অব পিস এক ধরনের আইনি কল্পসত্তা। নামমাত্রভাবে এর নিজস্ব আন্তর্জাতিক আইনগত সত্তা রয়েছে, যা জাতিসংঘ ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে আলাদা। কিন্তু বাস্তবে এটি যুক্তরাষ্ট্রের ইচ্ছামতো ব্যবহারের জন্য একটি ফাঁপা খোলসমাত্র।” বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গাজা পুনর্গঠনে যে অর্থায়ন ও শাসন কাঠামো হচ্ছে তা অস্বচ্ছ। কয়েকজন ঠিকাদার গার্ডিয়ানকে জানান, গাজায় কাজ করার জন্য মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে তাদের প্রায়শ আলোচনা সরকারি ইমেলের বদলে সিগন্যালের মাধ্যমে করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রের তথ্য মতে, ঘাঁটি নির্মাণের সিদ্ধান্তটি বোর্ড অব পিসের। এতে সহায়তা করছে মার্কিন কর্মকর্তারা। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ঘাঁটিতে তৈরি বাংকার নেটওয়ার্কের মতোন কাজ করবে। প্রতিটি বাংকারের ২৪ মিটারের হবে। উচ্চতা থাকবে আড়াই মিটার। এগুলো এমনভাবে করা হবে যেন সেনা সদস্যরা আশ্রয় নিতে পারে। স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসের গাজায় সুড়ঙ্গ নেটওয়ার্ক বা টানেল রয়েছে। সেগুলোর আদলে নেটওয়ার্ক করতে চাওয়া হচ্ছে। পিস অব বোর্ডের নথি পর্যালোচনা করে এমন দাবি করছে গার্ডিয়ান। সংবাদ মাধ্যমটি বলছে, স্থানটির ভূ-ভৌত জরিপ পরিচালনা করবে ঠিকাদাররা। নথির এক অংশে ‘হিউম্যান রেমিয়েনস প্রোটোকল’র কথা বলা হয়েছে। এর মানে দাঁড়ায়, সন্দেহভাজন মানব অবশিষ্ট বা সাংস্কৃতিক নিদর্শন পাওয়া গেলে অবিলম্বে সেই এলাকায় সব কাজ বন্ধ করতে হবে। চুক্তি কর্মকর্তাকে দিকনির্দেশনার জন্য অবিলম্বে জানাতে হবে। গাজা সিভিল ডিফেন্সের ধারণা, গাজার ধ্বংসস্তূপের নিচে ১০ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনির মরদেহ রয়েছে। ঘাঁটির জন্য যে স্থানটি বিবেচিত করা হচ্ছে সেটির মালিক কে তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে, দক্ষিণ গাজার বেশিরভাগ অংশ বর্তমানে ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণে। জাতিসংঘের অনুমান, যুদ্ধ চলাকালীন ১৯ লাখ ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত হয়েছে। ফিলিস্তিনের জমিতে সরকারের অনুমতি না নিয়ে সামরিক ঘাঁটি স্থাপনকে দখল হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন ফিলিস্তিনি-কানাডিয়ান আইনজীবী এবং প্রাক্তন শান্তি আলোচক দিয়ানা বুট্টু। তিনি প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়ে বলেন, “কার অনুমতিতে তারা সামরিক ঘাঁটি স্থাপন করবে।” বিষয়টি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা বোর্ড অব পিসের কথা টানেন। ট্রাম্প প্রশাসনের একজন কর্মকর্তা সামরিক ঘাঁটির চুক্তি নিয়ে আলোচনা করতে অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, “যেমনটি প্রেসিডেন্ট বলেছেন, কোনও মার্কিন সেনা স্থলভাগে যাবে না। আমরা লিক হওয়া নথি নিয়ে আলোচনা করবো না।”
বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের প্রত্যন্ত চরাঞ্চল থেকে উঠে এসে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার কেন্দ্রে এখন তাইজুল ইসলাম, যিনি অনলাইনে পরিচিত ‘তাজু ভাই ২.০’ নামে। মাত্র একটি ভিডিও—যেখানে তিনি এক দোকানিকে প্রশ্ন করেন, “জিলাপি আজকে কত করে বেচতেছেন সরকারি রেটে?”—এই সরল উপস্থাপনাই তাকে রাতারাতি ভাইরাল করে তোলে। কয়েক ঘণ্টায় ফলোয়ার লাখ ছাড়াল রোববার রাত পর্যন্ত তার ফেসবুক অনুসারী ছিল প্রায় ৩৫ হাজার। কিন্তু সোমবার সন্ধ্যা থেকে রাতের মধ্যেই তা বেড়ে এক লাখের বেশি হয়ে যায়। ভাইরাল ভিডিওটি ইতোমধ্যে প্রায় ৫০ থেকে ৫৫ লাখবার দেখা হয়েছে। কী ছিল সেই ভিডিওতে? ভিডিওতে দেখা যায়, কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীর নারায়ণপুর বাজারে দাঁড়িয়ে স্থানীয় ভাষায় তিনি জিলাপির দাম জানতে চান। তার কথাগুলো ছিল একেবারেই সহজ ও গ্রাম্য ভঙ্গিতে— “সাদাডা কত, লালডা কত? সরকারি রেটে বেচতেছেন?” এই সরল প্রশ্নই সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। কোথা থেকে উঠে এলেন তাজু ভাই? কুড়িগ্রাম জেলার নাগেশ্বরী উপজেলার নারায়ণপুর ইউনিয়নের একটি দুর্গম গ্রামে জন্ম তার। ব্রহ্মপুত্র নদবেষ্টিত এই অঞ্চলে পৌঁছাতে এখনও কয়েকটি নৌঘাট পার হতে হয়। দারিদ্র্যের কারণে কখনো স্কুলে যাওয়া হয়নি তার। পেশায় তিনি একজন নির্মাণশ্রমিকের সহকারী (হেলপার)। কাজের ফাঁকে ঢাকায় থাকাকালীন মোবাইল ফোনে ভিডিও তৈরি করাই তার শখ। ব্যক্তিগত সংগ্রাম তাইজুল ইসলামের পরিবারে ছয় ভাই-বোন। তিনি সবার বড়। তার বাবা-মা দুজনই শ্রবণপ্রতিবন্ধী। পরিবার চালাতে তাকে ছোটবেলা থেকেই সংগ্রাম করতে হয়েছে। তিনি বলেন, “পরিবারের কষ্ট ভুলতেই ভিডিও করি। আমি সাংবাদিক না, কিন্তু আমাদের এলাকায় কেউ আসে না—তাই নিজেরাই ভিডিও বানাই।” ভাইরাল হওয়ার পেছনের উদ্দেশ্য তাইজুলের দাবি, তার ভিডিও শুধুই বিনোদনের জন্য নয়। তিনি চান তার এলাকার অবহেলিত মানুষের কথা প্রশাসনের নজরে আসুক। “আমি চাই চরের মানুষের উন্নয়ন হোক,”—বলছেন তিনি। মিশ্র প্রতিক্রিয়া ভিডিওটি নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে দুই ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ তার সরলতা ও বাস্তবতা তুলে ধরার চেষ্টা প্রশংসা করছেন আবার কেউ তাকে নিয়ে ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ করছেন তবে এসব সমালোচনায় তিনি বিচলিত নন।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : ঢাকার মিরপুরে শতবর্ষী শাহ আলী বোগদাদির মাজারে মধ্যরাতের হামলা শুধু একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়—এটি গত প্রায় দুই বছরে বাংলাদেশজুড়ে সুফি মাজার, দরবার শরীফ, বাউল আখড়া ও পাগল-ফকিরদের আস্তানায় সংঘটিত ধারাবাহিক হামলার নতুন সংযোজন। ভিডিওতে দেখা গেছে, লাঠিসোঁটা হাতে একদল লোক মাজারে জড়ো হওয়া ভক্তদের ছত্রভঙ্গ করে দিচ্ছে। আতঙ্কে নারী-পুরুষ ছোটাছুটি করছেন। কয়েকজনকে মারধর করে বের করে দেওয়া হচ্ছে। প্রত্যক্ষদর্শীরা অভিযোগ তুলেছেন, হামলাকারীদের একটি অংশ রাজনৈতিক পরিচয়ে সংগঠিত ছিল। যদিও অভিযুক্ত রাজনৈতিক দল এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছে। এই হামলার মধ্য দিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে—বাংলাদেশে কি সুফি ঐতিহ্য, বাউল সংস্কৃতি ও মাজারকেন্দ্রিক ধর্মীয় চর্চা ক্রমেই সংগঠিত আক্রমণের মুখে পড়ছে? শাহ আলী মাজারে কী ঘটেছিল? মিরপুর ১ নম্বর সেকশনে অবস্থিত শাহ আলী বোগদাদির মাজারে প্রতি বৃহস্পতিবার রাতে নিয়মিত জলসা বসে। দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে ভক্তরা সেখানে জড়ো হন। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার গভীর রাতে মুখে সার্জিক্যাল মাস্ক ও হাতে লাঠি নিয়ে একদল লোক হঠাৎ হামলা চালায়। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, মাজারসংলগ্ন খোলা জায়গায় মাদুর বিছিয়ে বসা ভক্তদের লক্ষ্য করেই হামলা শুরু হয়। হকারদের দোকানপাটও ভাঙচুর করা হয়। আতঙ্কে অনেকেই পালিয়ে যান। পুলিশ জানিয়েছে, হামলায় জড়িতদের বিষয়ে তদন্ত চলছে। তবে এখনো কোনো মামলা হয়নি এবং কাউকে আটকও করা হয়নি। এই ঘটনার পর স্থানীয় ভক্তদের মধ্যে সবচেয়ে বড় উদ্বেগ—এটি কি দেশজুড়ে চলমান মাজারবিরোধী সহিংসতার আরেকটি ধাপ? হামলার পরিসংখ্যান: কতটা বিস্তৃত এই সহিংসতা? সুফি গবেষণা প্রতিষ্ঠান ‘মাকাম: সেন্টার ফর সুফি হেরিটেজ’-এর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের আগস্ট থেকে ২০২৫ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত অন্তত ৯৭টি মাজারে হামলার ঘটনা ঘটেছে। মানবাধিকার সংগঠন ও গবেষণা প্রতিবেদনের তথ্য একত্র করলে দেখা যায়— শতাধিক মাজারে হামলা, ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ ও লুটপাট হয়েছে নিহত হয়েছেন অন্তত ৩ জন আহত হয়েছেন কয়েক শত মানুষ বহু মাজার পরিত্যক্ত হয়ে পড়েছে অনেক জায়গায় ওরস, কাওয়ালি ও বাউল সংগীত বন্ধ হয়ে গেছে। সবচেয়ে বেশি হামলার ঘটনা ঘটেছে ঢাকা ও চট্টগ্রাম বিভাগে। কুমিল্লা, নরসিংদী, নারায়ণগঞ্জ, ঢাকাসহ বিভিন্ন এলাকায় একাধিক হামলার অভিযোগ পাওয়া গেছে। হামলার ধরন: শুধু ভাঙচুর নয়, সাংস্কৃতিক দমনও অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, হামলাগুলোর ধরন প্রায় একই রকম: প্রথমে ভক্ত ও খাদেমদের মারধর করে সরিয়ে দেওয়া এরপর মাজারে ভাঙচুর লুটপাট কোথাও কোথাও অগ্নিসংযোগ কিছু ঘটনায় বুলডোজার দিয়ে স্থাপনা গুঁড়িয়ে দেওয়া বাউল গান, কাওয়ালি ও ওরস বন্ধে চাপ প্রয়োগ কিছু ঘটনায় মাইকিং করে লোক জড়ো করারও অভিযোগ রয়েছে। বিভিন্ন স্থানে ভক্তদের চুল-দাড়ি কেটে অপমান করার অভিযোগও এসেছে। কেন টার্গেট মাজার? বিশ্লেষকদের মতে, এর পেছনে একাধিক কারণ কাজ করছে। ১. ধর্মীয় মতাদর্শগত সংঘাত মাজার সংস্কৃতির সমালোচকরা দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ করে আসছেন যে, কিছু মাজারে গান, ধূমপান, নারী-পুরুষের একসঙ্গে অবস্থান বা আচার ইসলামী শরিয়তের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। অন্যদিকে সুফি অনুসারীরা বলছেন, মাজার হচ্ছে বহুত্ববাদী ও আধ্যাত্মিক চর্চার জায়গা, যেখানে ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে মানুষ অংশ নেয়। এই মতাদর্শগত দ্বন্দ্বই সহিংসতার বড় কারণ হয়ে উঠছে বলে মনে করছেন গবেষকরা। ২. রাজনৈতিক সম্পৃক্ততার অভিযোগ ‘মাকাম’-এর প্রতিবেদনে কয়েকটি হামলায় রাজনৈতিক কর্মীদের সম্পৃক্ততার অভিযোগ এসেছে। বিভিন্ন ঘটনায় ইসলামপন্থী দলগুলোর স্থানীয় নেতা-কর্মীদের নাম উঠে এসেছে। যদিও অভিযুক্ত দলগুলো অধিকাংশ ক্ষেত্রেই দায় অস্বীকার করেছে। ৩. প্রশাসনিক শূন্যতা ও দায়মুক্তি ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর প্রশাসনিক দুর্বলতার সুযোগে বহু এলাকায় ‘মব’ হামলা বাড়ে বলে অভিযোগ রয়েছে। মানবাধিকারকর্মীরা বলছেন, অধিকাংশ ঘটনায় মামলা হয়নি, তদন্ত হয়নি বা বিচার হয়নি। ফলে দায়মুক্তির সংস্কৃতি তৈরি হয়েছে। বাউল ও সুফি সংস্কৃতির ওপর প্রভাব মাজারভিত্তিক সাংস্কৃতিক চর্চা বাংলাদেশের লোকজ ঐতিহ্যের বড় অংশ। ওরস, কাওয়ালি, বাউলগান ও ফকিরি সাধনা শুধু ধর্মীয় অনুষ্ঠান নয়, বহু মানুষের জীবিকা ও পরিচয়ের অংশ। কিন্তু হামলার পর— অনেক মাজারে গান বন্ধ ওরস স্থগিত শিল্পীরা বেকার খাদেম ও ভক্তরা পালিয়ে আছেন মাজার পরিত্যক্ত হয়ে পড়েছে বাউল শিল্পীরা বলছেন, তারা সংঘর্ষে জড়াতে চান না, কিন্তু ক্রমাগত ভয় ও নিষেধাজ্ঞার মধ্যে আছেন। ঐতিহ্যের ওপর আঘাত আক্রান্ত মাজারগুলোর অনেকই শত শত বছরের পুরোনো। কিছু মাজার মুঘল আমল কিংবা মধ্যযুগীয় ইসলামী প্রচারের ইতিহাসের সঙ্গে যুক্ত। গবেষকদের মতে, এসব স্থাপনা শুধু ধর্মীয় কেন্দ্র নয়—এগুলো বাংলাদেশের সামাজিক ইতিহাস, লোকসংস্কৃতি ও আধ্যাত্মিক ঐতিহ্যের অংশ। কিছু মাজারে হিন্দু, মুসলিম, বৌদ্ধ ও খ্রিস্টান—সব ধর্মের মানুষের যাতায়াত ছিল। ফলে হামলাকে অনেকে সাংস্কৃতিক বহুত্ববাদের ওপর আঘাত হিসেবেও দেখছেন। মাজারে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা আশঙ্কাজনকহারে বেড়েছে অপরাধ বিশ্লেষকরা বলছেন, গত ১৯ মাসে দেশে ‘মব সন্ত্রাস’, ‘গণপিটুনি’, মাজারে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা আশঙ্কাজনকহারে বেড়েছে। আর বর্তমান সরকার ক্ষমতা গ্রহণের প্রায় দুই মাসের কাছাকাছি সময়ে কুষ্টিয়ায় মাজারে হামলার ঘটনাটি নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। এসব ঘটনায় সরকার কঠোর অবস্থান না নিলে অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে মব পরিস্থিতি আবারও তৈরি হতে পারে। মাজার সংস্কৃতি ইসলামী মরমীবাদের পরম্পরাগুলো তরিকা বা সিলসিলা নামে পরিচিত। প্রতিটি তরিকার মধ্যে পীর, ফকির ও পাগল ইত্যাদি বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন সাধক দেখা যায়। আবার কলন্দরিয়া ও মাদারী তরিকা মূলত পাগলদের তরিকা। সেমেটিক ও ভারতীয় ঐতিহ্যে প্রাচীনকাল থেকে সাধকদের মধ্যে পাগলপন্থা একটি প্রবহমান ধারা। সবধরনের সামাজিকতা আর বিধি-বিধানকে পাশ কাটিয়ে স্রষ্টার প্রেমে মগ্ন পাগলদের সুফি পরিভাষায় বলা হয় 'মজ্জুব'। সুফি গবেষক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফারসি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আহসানুল হাদী ইসলামী ঐতিহ্যে পাগল-ফকিরি ধারার সূচনা প্রসঙ্গে বলেন, 'সুফি শব্দের উৎপত্তি নিয়ে কয়েকটি মত আছে। এর মধ্যে একটি হচ্ছে, "সুফফা" শব্দ থেকে সুফি শব্দের উদ্ভব। সুফফা হচ্ছে মসজিদে নববী সংলগ্ন একটি স্থান, সেখানে মক্কা থেকে হিজরত করে আসা একদল তরুণ অবিবাহিত মুহাজির দরিদ্রতার মধ্যে বসবাস করতেন। তাদের "আসহাব আল সুফফা", "আহলুস সুফফা" অথবা "আহলে সুফফা" বলা হয়। সুফফা প্রতিষ্ঠা করেছিলেন রাসুল (স.)। রাসুলের (স.) সাহচর্যের জন্য আহলে সুফফারা উন্মুখ হয়ে থাকতেন, এবাদতে মগ্ন থাকতেন। পাশাপাশি তারা ধর্ম, কৃষি ও শিল্পসহ জ্ঞান-বিজ্ঞানের নানা শাখায় দক্ষতা অর্জনের চেষ্টা করতেন।' ড. হাদী আরও বলেন, 'আহলে সুফফাদের নিয়মিত খাবার জুটতো না। কারও কারও পোশাক ছিল ছেঁড়া। আহলে সুফফাদের উপহাস করে কেউ কেউ পাগল বলতো।' সুফিদের প্রার্থনাসহ তৎপরতা পরিচালনার কেন্দ্র দরবার শরীফ মূলত কমপ্লেক্স ধরনের হয়। একেকটি কমপ্লেক্সে মসজিদ, মাদ্রাসা, হেফজখানা, গ্রন্থাগার, এতিমখানা, লঙ্গরখানা, হাসপাতাল, অফিস, অতিথি নিবাস ও ভাণ্ডারকক্ষ থাকে। কোনো কোনো দরবার শরীফের রয়েছে একাধিক শাখা দরবার ও খানকাহ। সুফি ঐতিহ্যে যেমন দরবার শরীফ, তেমনি বাউল-ফকিরদের মধ্যে রয়েছে আখড়া-আশ্রম প্রতিষ্ঠার রেওয়াজ। বাউল-ফকিরদের আখড়া ও আশ্রমের পরিসর সাধারণত দরবারের তুলনায় ছোট হয়। অনেকক্ষেত্রে বসতবাড়ির এক কোণে একটি ঘর তৈরির পর পরিণত করা হয় আখড়া বা আশ্রমে। এ ছাড়া, পাগল-ফকিরদের কিছুটা স্থায়ী অবস্থানস্থলকে বলা হয় আস্তানা। অনুসন্ধানে জানা যায়, ইসলামী ঐতিহ্যের মরমী ধারার চার ধরনের প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত হয়েছে পাগল-ফকিরদের, বিশেষ করে পাগলদের মাজার। যেখানে ধর্ম-বর্ণ, লিঙ্গ নির্বিশেষে সবার প্রবেশাধিকার এবং প্রার্থনার অংশ হিসেবে নিয়মিত সংগীতচর্চা ছিল। অনুষ্ঠিত হতো বাৎসরিক ওরস ও মেলা। এ প্রসঙ্গে কবি এবং সুরেশ্বরী তরিকার ফকিরি ধারা অনুশীলনকারী সৈয়দ তারিক বলেন, 'মাজারের নিজস্ব সংস্কৃতি আছে। এখানে ভক্তিবাদী সাংস্কৃতিক আবহ বিরাজ করে। মাজারে সব ধর্মের, সব বর্ণের মানুষ আসে। এখানে নারীদের প্রবেশাধিকার আছে। যার যেভাবে মন চায়, সেভাবেই প্রার্থনা করে। কোনো ধর্মীয় কঠোরতা নেই। মাজার হচ্ছে আধ্যাত্মিক মুক্তাঞ্চল।' 'মাজার ভাঙার মাধ্যমে সংগীতচর্চা বন্ধ, নারীদের প্রবেশ ও ভক্তি প্রকাশে বাধা দেওয়া হচ্ছে। জোর করে শরিয়ত সিস্টেম চাপিয়ে দিয়ে মাজারের নিজস্ব সংস্কৃতি ধ্বংসের পায়তারা চলছে। নিজের নিয়ম অন্যের ওপর চাপিয়ে দেওয়াটা অগণতান্ত্রিক। মাজারে জোর-জবরদস্তি করলে ফল ভালো হবে না। শরীয়ত বনাম মারিফত লড়াই বেঁধে যেতে পারে', বলেন তিনি। প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বলছে, অভিযোগ পাওয়া মাত্র ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। কিছু ঘটনায় মামলা ও গ্রেপ্তারও হয়েছে। তবে মানবাধিকারকর্মী ও গবেষকরা বলছেন, ভিডিও প্রমাণ থাকা সত্ত্বেও অধিকাংশ ঘটনায় দৃশ্যমান অগ্রগতি নেই। অনেক ভুক্তভোগী নিরাপত্তাহীনতার কারণে মামলা করতেও সাহস পাচ্ছেন না। সামনে কী আশঙ্কা? বিশ্লেষকদের মতে, দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে। কারণ, এই হামলাগুলো এখন আর শুধু ধর্মীয় স্থাপনায় সীমাবদ্ধ নয়; এগুলো ধীরে ধীরে সাংস্কৃতিক পরিচয়, আধ্যাত্মিক স্বাধীনতা ও সামাজিক সহনশীলতার প্রশ্নে রূপ নিচ্ছে। শাহ আলী মাজারে মধ্যরাতের হামলার পর তাই প্রশ্ন আরও জোরালো হয়েছে—বাংলাদেশ কি তার দীর্ঘদিনের সুফি-লোকজ ঐতিহ্যের ওপর সংগঠিত চাপের নতুন অধ্যায়ে প্রবেশ করছে?
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : ইরানকে ঘিরে আঞ্চলিক উত্তেজনার প্রভাবে গত দুই মাস ধরে দেশে অপরিশোধিত তেল (ক্রুড অয়েল) আমদানি বন্ধ থাকায় সংকটে পড়েছিল বাংলাদেশের একমাত্র রাষ্ট্রায়ত্ত তেল পরিশোধনাগার ইস্টার্ন রিফাইনারি লিমিটেড (ইআরএল)। অবশেষে নতুন চালান পৌঁছানোয় প্রতিষ্ঠানটি আবার পূর্ণ সক্ষমতায় ফেরার আশা দেখা দিয়েছে। সৌদি আরবের ইয়ানবু বন্দর থেকে এক লাখ টন ক্রুড তেলবাহী ট্যাংকার ‘এমটি নিনেমিয়া’ মঙ্গলবার বাংলাদেশের জলসীমায় পৌঁছেছে। বুধবার এটি চট্টগ্রাম বন্দরের কুতুবদিয়া চ্যানেলে ভেড়ার কথা রয়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সবকিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী চললে ৭ মে থেকে ইআরএল পূর্ণোদ্যমে উৎপাদনে ফিরতে পারবে। ডেড স্টক দিয়ে টিকে থাকা নতুন তেল সরবরাহ বন্ধ থাকায় গত দেড় মাস ধরে পাইপলাইনে জমে থাকা ‘ডেড স্টক’ ব্যবহার করে সীমিত আকারে চালু রাখা হয়েছিল রিফাইনারিটি। সাধারণত পাইপলাইনের কার্যকারিতা বজায় রাখতে ভেতরে যে ন্যূনতম তেল জমা থাকে, সেটি ব্যবহার করা হয় না। তবে জরুরি পরিস্থিতিতে সেই তেলই কাজে লাগানো হয়। এ সময় উৎপাদন কমিয়ে আনা হয় প্রায় দুই-তৃতীয়াংশে। জ্বালানির ধরনও ১৩টি থেকে কমিয়ে ২টিতে নামিয়ে আনা হয়েছিল। নতুন চালান আসছে আরও বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সংযুক্ত আরব আমিরাতের ফুজাইরা বন্দর থেকে আরও এক লাখ টন ক্রুড তেল আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ‘এমটি ফসিল’ নামের একটি ট্যাংকারে ১০ মে তেল লোড করার পরিকল্পনা রয়েছে। নির্ধারিত সময়সূচি ঠিক থাকলে চলতি মাসেই সেটিও দেশে পৌঁছাতে পারে। এই চালানটি গুরুত্বপূর্ণ, কারণ ফুজাইরা থেকে তেল আনতে হলে হরমুজ প্রণালি এড়িয়ে সরাসরি ভারত মহাসাগর হয়ে বাংলাদেশে আসা সম্ভব—যা নিরাপত্তা ঝুঁকি কমাবে। সরবরাহ বিঘ্নের পেছনে কারণ হরমুজ প্রণালিতে নিরাপত্তা ঝুঁকি বেড়ে যাওয়ায় আগে নির্ধারিত কয়েকটি জাহাজ বাংলাদেশে আসতে পারেনি। ‘নর্ডিক পোলাক্স’ নামের একটি ট্যাংকার গত এপ্রিল থেকে সেখানে আটকা পড়ে আছে। একই কারণে ‘ওমেরা গ্যালাক্সি’ নামের আরেকটি জাহাজ তাদের যাত্রা বাতিল করে। ফলে ক্রুড তেলের সংকট তৈরি হয়ে ইআরএলের উৎপাদন বন্ধ হওয়ার আশঙ্কা দেখা দেয়—যা এর আগে কখনও ঘটেনি। দেশের জ্বালানি খাতে ইআরএলের ভূমিকা ১৯৬৮ সালে প্রতিষ্ঠিত ইআরএল দেশের জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। বছরে প্রায় ১৫ লাখ টন অপরিশোধিত তেল পরিশোধন করে প্রতিষ্ঠানটি, যা দেশের মোট জ্বালানি চাহিদার প্রায় এক-পঞ্চমাংশ। বাংলাদেশে বছরে প্রায় ৭২ লাখ টন জ্বালানি তেলের চাহিদা রয়েছে, যার ৯২ শতাংশই আমদানিনির্ভর। ইআরএলের উৎপাদিত ডিজেল দেশের মোট ডিজেল সরবরাহের প্রায় এক-ষষ্ঠাংশ। সামনে কী নতুন চালান নিয়মিতভাবে আসতে থাকলে জ্বালানি সরবরাহ পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক হতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে। তবে বৈশ্বিক ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতির ওপর এই সরবরাহ ব্যবস্থার স্থিতিশীলতা অনেকটাই নির্ভর করছে।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : রাজশাহীর দুর্গাপুর উপজেলার দাওকান্দি সরকারি কলেজে নারী শিক্ষককে লাঞ্ছনা ও শিক্ষকদের ওপর হামলার ঘটনায় প্রশাসনিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। অভিযুক্ত ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে তদন্তের পাশাপাশি এক নারী শিক্ষককে সাময়িক বরখাস্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের রাজশাহী অঞ্চলের পরিচালক মোহা. আসাদুজ্জামান রোববার কলেজ পরিদর্শন শেষে প্রদর্শক আলিয়া খাতুনকে সাময়িক বরখাস্তের নির্দেশ দেন। একইসঙ্গে তাকে এবং কলেজের অধ্যক্ষ আবদুর রাজ্জাককে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ঘটনার বিষয়ে লিখিত ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছে। কী ঘটেছিল? স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) বেলা ১১টার দিকে কলেজে একটি তাফসির মাহফিলকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। আয়োজকদের সঙ্গে তর্কাতর্কির এক পর্যায়ে আলিয়া খাতুন দুইজনকে থাপ্পড় মারেন বলে অভিযোগ ওঠে। পরে মৎস্য ব্যবসায়ী ও বিএনপি কর্মী শাহাদাত আলী কলেজে গিয়ে আলিয়ার সঙ্গে বিরোধে জড়ান। আলিয়ার দাবি, তাকে আপত্তিকর কথা বলায় তিনি প্রতিক্রিয়ায় চড় মারেন। এর জেরে শাহাদাত আলী তাকে জুতা খুলে মারধর করেন বলে অভিযোগ। এরপর তার ছেলে লিটন ও কর্মচারী মাহবুব এসে দ্বিতীয় দফায় হামলা চালান। পরে আরও ৪০-৫০ জন বিএনপি নেতা-কর্মী কলেজে ঢুকে অধ্যক্ষের কার্যালয়ে ভাঙচুর এবং শিক্ষকদ্বয়কে মারধর করেন বলে জানা গেছে। প্রশাসনের পদক্ষেপ পরিদর্শনের সময় পরিচালক জানান, সংশ্লিষ্ট শিক্ষক ও অধ্যক্ষ কলেজে উপস্থিত ছিলেন না এবং তাদের ফোনও বন্ধ পাওয়া যায়। পরে বিকল্প উপায়ে যোগাযোগ করে তাদের ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছে। তিনি বলেন, “উদ্ভূত পরিস্থিতিতে তদন্তের স্বার্থে আলিয়া খাতুনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।” এ ঘটনায় দুর্গাপুর মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে প্রাথমিক তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তার প্রতিবেদন এবং সংশ্লিষ্টদের ব্যাখ্যার ভিত্তিতে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তদন্ত কমিটি গঠন এদিকে শিক্ষা মন্ত্রণালয় তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সিনিয়র সহকারী সচিব মনজুরুল আলম স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, যুগ্ম সচিব (কলেজ-২) আহ্বায়ক উপ-পরিচালক (কলেজ-১, সরকারি কলেজ) সদস্য রাজশাহীর অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) সদস্যসচিব কমিটিকে ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে। রাজনৈতিক চাপ ও নিরাপত্তা উদ্বেগ ঘটনার পরদিন বিএনপির কয়েকজন নেতা অধ্যক্ষ ও সংশ্লিষ্ট শিক্ষককে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে অপসারণের আলটিমেটাম দেন। অধ্যক্ষ আবদুর রাজ্জাক দাবি করেন, তার ওপর হামলা হয়েছে এবং তার মুঠোফোন ভেঙে পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। তিনি জানান, নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণে সরাসরি মামলা করতে পারছেন না, তবে প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে বিষয়টি জানিয়েছেন। পুলিশের অবস্থান দুর্গাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জানান, অভিযুক্ত শাহাদাত আলীর বিরুদ্ধে আগেই একটি গ্রেপ্তারি পরোয়ানা রয়েছে এবং পুলিশ তাকে খুঁজছে। তাকে আটক করা গেলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বর্তমান পরিস্থিতি হামলার শিকার আলিয়া খাতুন বর্তমানে চিকিৎসাধীন এবং এখনো কর্মস্থলে ফেরার মতো অবস্থায় নেই বলে জানিয়েছেন। তিনি সুস্থ হওয়ার পর আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন বলে জানান।