Brand logo light
বাংলাদেশ

আগস্টে তফসিল, অক্টোবরে ভোটগ্রহণ: স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে প্রস্তুতি শুরু ইসির

নিজস্ব প্রতিবেদক জুন ৭, ২০২৬ 0

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইনবাংলাদেশের স্থানীয় সরকার নির্বাচনের তফসিল চলতি বছরের আগস্ট মাসে ঘোষণা করা হতে পারে এবং অক্টোবরের শেষ দিকে মাঠপর্যায়ে ভোটগ্রহণ শুরু হতে পারে বলে জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। তবে ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা, উপজেলা, জেলা পরিষদ নাকি সিটি করপোরেশন— কোন স্তরের নির্বাচন আগে অনুষ্ঠিত হবে, সে বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। এ বিষয়ে সরকারের নীতিগত সম্মতির অপেক্ষায় রয়েছে সাংবিধানিক এই প্রতিষ্ঠান।

নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তারা বলছেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে গ্রহণযোগ্য, সুশৃঙ্খল ও ত্রুটিমুক্ত করার লক্ষ্যে ইতোমধ্যে কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন শুরু হয়েছে।

অন্যদিকে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম জানিয়েছেন, বর্ষা মৌসুম শেষ হওয়ার পর সেপ্টেম্বর বা অক্টোবর থেকে পর্যায়ক্রমে স্থানীয় সরকার নির্বাচন শুরু হতে পারে। সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী আগামী এক বছরের মধ্যে ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা, উপজেলা পরিষদ, জেলা পরিষদ ও সিটি করপোরেশন— এই পাঁচ ধরনের নির্বাচন সম্পন্ন করা হবে।

কেন আগে হতে পারে ইউনিয়ন পরিষদ ও পৌরসভা নির্বাচন

নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ বলেছেন, স্থানীয় সরকারের পাঁচটি স্তরের মধ্যে ইউনিয়ন পরিষদ ও পৌরসভা নির্বাচন আগে আয়োজন করাই নিয়মসম্মত এবং বাস্তবসম্মত।

তার ভাষ্য অনুযায়ী, ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানরা পদাধিকারবলে উপজেলা পরিষদের সদস্য হন। ফলে ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন সম্পন্ন না করে উপজেলা পরিষদ নির্বাচন আয়োজন করা যৌক্তিক নয়।

তিনি বলেন, “ইউনিয়ন পরিষদ ও পৌরসভা নির্বাচন আগে হওয়াই নিয়ম অনুযায়ী সঠিক। সমান্তরালভাবে সিটি করপোরেশন নির্বাচন আয়োজন করা সম্ভব হলেও জেলা পরিষদ নির্বাচন কোনোভাবেই আগে করা যাবে না। সেটি সবার শেষে হবে।”

তফসিল ঘোষণার সম্ভাব্য সময়সূচি সম্পর্কে তিনি জানান, “অক্টোবরের শেষ দিকে ভোটগ্রহণের লক্ষ্যমাত্রা থাকলে আগস্ট মাসেই তফসিল ঘোষণা করা হতে পারে।”

নারী প্রতিনিধিত্ব ও নির্বাচন কাঠামো

নির্বাচন কমিশনার জানান, উপজেলাধীন ইউনিয়ন পরিষদ ও পৌরসভার কাউন্সিলের মোট আসনের এক-তৃতীয়াংশ নারীদের জন্য সংরক্ষিত থাকবে। এসব সংরক্ষিত সদস্য সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদের নারী সদস্য বা পৌরসভার নারী কাউন্সিলরদের মাধ্যমে নির্বাচিত হবেন।

তিনি আরও বলেন, সরকার ইউনিয়ন পরিষদ ব্যবস্থা বাতিল করেনি। তবে অধিকাংশ পরিষদ বর্তমানে কার্যত শূন্য অবস্থায় রয়েছে। ফলে নিয়ম অনুযায়ী ইউনিয়ন পরিষদ ও পৌরসভা নির্বাচন দিয়েই স্থানীয় সরকার নির্বাচনী প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার সম্ভাবনা বেশি।

নির্বাচন বিধিমালায় বড় ধরনের পরিবর্তনের প্রস্তুতি

আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে আরও সহজ, স্বচ্ছ ও প্রভাবমুক্ত করতে নির্বাচন কমিশন নির্বাচন বিধিমালা ও আচরণবিধিতে ব্যাপক পরিবর্তনের উদ্যোগ নিয়েছে। জুন মাসের মধ্যেই সংশোধিত খসড়া চূড়ান্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে।

প্রস্তাবিত পরিবর্তনগুলোর মধ্যে রয়েছে—

  • নির্বাচনি পোস্টার নিষিদ্ধ করা;
  • অনলাইনে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার সুযোগ না রাখা;
  • দলীয় প্রতীকের পরিবর্তে নির্দলীয় ভিত্তিতে নির্বাচন আয়োজন;
  • ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) ব্যবহার না করা;
  • দেশে ও বিদেশে পোস্টাল ব্যালটে ভোট গ্রহণ না করা;
  • পলাতক আসামিদের প্রার্থী হওয়ার সুযোগ না দেওয়া;
  • স্বতন্ত্র প্রার্থীদের জন্য ভোটারের ১ শতাংশ সমর্থনের বাধ্যবাধকতা বাতিল;
  • প্রার্থীদের জামানতের পরিমাণ বৃদ্ধি;
  • সেনাবাহিনী মোতায়েন না করা;
  • হলফনামার সঙ্গে আচরণবিধি মেনে চলার অঙ্গীকার যুক্ত করা।

আব্দুর রহমানেল মাছউদ বলেন, “প্রার্থীদের জন্য আলাদা অঙ্গীকারনামা থাকবে না। তবে ঘোষণাপত্রে আচরণবিধি মেনে চলার বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করা হবে।”

সংলাপ নয়, মতামত নেওয়া হবে ওয়েবসাইটে

নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, বিধিমালার খসড়া চূড়ান্ত হওয়ার পর তা জনসাধারণের মতামতের জন্য কমিশনের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হবে।

এ বিষয়ে আব্দুর রহমানেল মাছউদ বলেন, “আমরা এই মাসেই কাজ শেষ করে খসড়াটি ওয়েবসাইটে উন্মুক্ত করে দেবো। সবাই সেখানে মতামত দিতে পারবেন।”

রাজনৈতিক দল ও অংশীজনদের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক সংলাপের সম্ভাবনা সম্পর্কে তিনি বলেন, “এ মুহূর্তে আলাদা করে সংলাপ বা বৈঠকের পরিকল্পনা নেই। অতীত অভিজ্ঞতায় দেখা গেছে, এসব আলোচনায় নতুন কিছু খুব বেশি পাওয়া যায় না। তবে প্রয়োজন হলে ভবিষ্যতে বিষয়টি বিবেচনা করা যেতে পারে।”

তার মতে, রাজনৈতিক দল, সাংবাদিক, সুশীল সমাজসহ সব নাগরিক ওয়েবসাইটের মাধ্যমে মতামত দিতে পারবেন।

আওয়ামী লীগের অংশগ্রহণ নিয়ে কী বলছে ইসি

আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা প্রার্থী হতে পারবেন কি না— এমন প্রশ্নের জবাবে নির্বাচন কমিশনার বলেন, নির্বাচন কমিশনের কাছে রাজনৈতিক পরিচয়ের চেয়ে প্রার্থীর যোগ্যতা ও আইনগত অবস্থানই গুরুত্বপূর্ণ।

তিনি বলেন, “আওয়ামী লীগ, বিএনপি, জামায়াত বা অন্য কোনো দল নয়— আমাদের কাছে প্রার্থী গুরুত্বপূর্ণ। যোগ্যতা ও অযোগ্যতার শর্ত পূরণ করলে যে কেউ প্রার্থী হতে পারবেন। তিনি কোন দল করেন, সেটি নির্বাচন কমিশনের বিবেচ্য বিষয় নয়।”

দেশের স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের বর্তমান চিত্র

নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, দেশে বর্তমানে মোট ইউনিয়ন পরিষদ রয়েছে ৪ হাজার ৫৮১টি। এর মধ্যে চলতি বছর নির্বাচন উপযোগী হবে ৩ হাজার ৭৫৫টি ইউনিয়ন পরিষদ এবং আগামী বছরে আরও ৩৪৯টি।

এ ছাড়া নির্বাচন উপযোগী অবস্থায় রয়েছে—

  • ৩৩০টি পৌরসভা;
  • ৪৯৫টি উপজেলা পরিষদ;
  • ১২টি সিটি করপোরেশন;
  • ৬১টি জেলা পরিষদ।

সরকার সম্প্রতি বগুড়াকে নতুন সিটি করপোরেশন হিসেবে অনুমোদন দিয়েছে। ফলে দেশে সিটি করপোরেশনের সংখ্যা বেড়ে ১৩টিতে দাঁড়াবে। একই সঙ্গে নতুন পাঁচটি উপজেলা অনুমোদনের ফলে উপজেলার সংখ্যা হবে ৫০০।

স্থানীয় সরকার নির্বাচন কবে এবং কোন স্তর দিয়ে শুরু হবে, সে বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না হলেও নির্বাচন কমিশনের প্রস্তুতি ও সরকারের পরিকল্পনা ইঙ্গিত দিচ্ছে— দীর্ঘ বিরতির পর স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোতে নির্বাচনী কার্যক্রম আবারও শুরু হতে যাচ্ছে।

Popular post
ফারুকীর সম্পদ কমেছে, তিশার বেড়েছে দ্বিগুণেরও বেশি: সম্পদ বিবরণী ঘিরে আলোচনা

অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের সম্পদ বিবরণী প্রকাশের পর সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী ও তার স্ত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদের হিসাব নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। এক বছরের ব্যবধানে স্বামী ফারুকীর সম্পদ কমলেও স্ত্রী তিশার সম্পদ বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে প্রকাশিত তথ্যে উঠে এসেছে এই চিত্র। প্রকাশিত খতিয়ান অনুযায়ী, জনপ্রিয় অভিনেত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদ এক বছরে অভাবনীয় হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তিশার মোট সম্পদের পরিমাণ ছিল ১ কোটি ৪০ লাখ ৮১ হাজার ৮৬০ টাকা। ঠিক এক বছর পর, ২০২৫ সালের ৩০ জুন সেই সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ৯৯ লাখ ৮৯ হাজার ৫০১ টাকায়। অর্থাৎ মাত্র এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ বেড়েছে ১ কোটি ৫৯ লাখ ৭ হাজার ৬৪১ টাকা, যা আগের বছরের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি। অন্যদিকে সংস্কৃতি উপদেষ্টা ও নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর ক্ষেত্রে দেখা গেছে উল্টো চিত্র। এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ কমেছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তার মোট সম্পদ ছিল ২ কোটি ২৬ লাখ ৯২ হাজার ২৬ টাকা। ২০২৫ সালের ৩০ জুন তা কমে দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ১৫ লাখ ১৮ হাজার ২৬ টাকায়। হিসাব অনুযায়ী, এক বছরে তার সম্পদ কমেছে ১১ লাখ ৭৪ হাজার টাকা। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে গত মঙ্গলবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ প্রধান উপদেষ্টা, উপদেষ্টা ও সমমর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের পাশাপাশি তাদের স্ত্রী বা স্বামীর সম্পদ বিবরণী প্রকাশ করে। একই সময়ে স্বামী-স্ত্রীর সম্পদে এমন ভিন্নমুখী পরিবর্তন স্বাভাবিকভাবেই সাধারণ মানুষের কৌতূহলের জন্ম দিয়েছে। শোবিজ অঙ্গনের জনপ্রিয় দম্পতি হওয়ায় তাদের এই আয়-ব্যয়ের হিসাব এখন টক অব দ্য কান্ট্রি।

সংসার সামলাতে অটোরিকশা নিয়ে রাস্তায় নেমেছেন রোজিনা

বাসস : বাবা একজন তাঁত শ্রমিক। তিন বোন দুই ভাইয়ের মধ্যে সবার বড় রোজিনা। অভাব সংসার, তাই এক এতিম যুবকের সাথে বাবা-মা বিয়ে দেন তাকে। বিয়ের পর জন্ম হয় দুই কন্যা সন্তানের। অটোরিকশা চালিয়ে কোন রকম সংসার চালাচ্ছিলেন স্বামী রফিকুল ইসলাম। কিন্তু সড়ক দুর্ঘটনায় রফিকুলের এক চোখ সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যায়। আরেকটি চোখ আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ধীরে ধীরে ওই চোখের দৃষ্টি শক্তিও কমতে থাকে। ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে অটোরিকশা চালানো। সংসারের উপার্জনক্ষম মানুষটি অচল হয়ে পড়ায় চিকিৎসার খরচ, ঘর ভাড়া ও খাবারের পাশাপাশি মেয়েদের লেখাপড়ার খরচ চালানোই কঠিন হয়ে যায়। দিশেহারা হয়ে পরেন রোজিনা। এক পর্যায়ে মানুষের বাড়ি বাড়ি কাজ করে সংসার চালানোর চেস্টা করেন। কিন্তু সুবিধা করতে পারেন না। এমন পরিস্থিতিতে অটোরিকশা চালানোর সিদ্ধান্ত নেন তিনি। স্বামী রফিকুলের কাছেই হাতেখড়ি। গ্রামের স্কুলের মাঠে স্বামীর কাছেই অটোরিকশা চালানোর শিক্ষা নেন তিনি। পরে গ্রামের পথে নেমে পড়েন অটোরিকশা নিয়ে। ৫-৬ দিন এভাবে হাত পাকা করে একদিন টাঙ্গাইল শহরে চলে আসেন রোজিনা। এরপর শুরু করেন অটোরিক্সা চালানোর ব্যতিক্রমী জীবন সংগ্রাম। এখন টাঙ্গাইল পৌরসভায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার চালকদের মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা বেগম। জেলার বাসাইল উপজেলার আইসড়া গ্রামের বাসিন্দা রোজিনা টাঙ্গাইল পৌর শহরের এক প্রান্ত রাবনা বাইপাস থেকে আরেক প্রান্ত বেবিস্ট্যান্ডে যাত্রী আনা নেয়া করেন। যানজটের কারণে শহরে পুরুষ চালকরা যেখানে হিমসিম খায়, সেখানেই বিগত ৫ বছর ধরেই নির্বিঘেœ অটোরিকশা চালাচ্ছেন তিনি। টাঙ্গাইল পৌরসভা কার্যালয় সূত্রে জানা যাায়, টাঙ্গাইল শহরে চলাচলের জন্য ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক ও ৫ হাজার ব্যাটারিচালিত রিকশার অনুমতি (লাইসেন্স) দেওয়া হয়েছে। যানজট এড়াতে ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক জোড় ও বিজোড় সংখ্যায় দিনে দুই ভাগ করা হয়েছে। সকাল থেকে বেলা দুইটা পর্যন্ত এক ভাগ এবং বেলা দুইটা থেকে রাত পর্যন্ত আরেক ভাগের ইজিবাইক চলাচল করার নির্দেশনা দিয়েছে পৌর কর্তৃপক্ষ। কিন্তু রোজিনাকে দুই শিফটে চালানোর অনুমতি দিয়েছে পৌরসভা। সরেজমিনে দেখা যায়, নতুন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অটোরিকশা নিয়ে যাত্রী ডাকছেন রোজিনা। কলেজ গেট, পুরাতন বাসস্ট্যান্ড, ক্যাপসুল, নিরালা মোড়, বেবিস্ট্যান্ড সর্বত্রই যাত্রী আনানেয়া করেন তিনি। পুরাতন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অন্য অটো চালকদের দাঁড় করতে না দিলেও রোজিনাকে বাঁধা দেননা ট্রাফিক পুলিশ। বলতে গেলে সবাই তার প্রতি সহানুভুতিশীল। ট্রাফিক পুলিশসহ অন্য অটোচালকরাও তাকে সহযোগিতা করেন। রোজিনা বলেন, আমার অটোতে নারী যাত্রীরা খুব কম। তারা মনে করে আমার অটোতে উঠলে দুর্ঘটনায় পড়বে। কিন্তু আমি খুব সাবধানে অটো চালাই। দ্রুত গতিতেও না, আবার একেবারে ধীরগতিতেও না। এখন পর্যন্ত আমি কোন দুর্ঘটনার কবলে পড়ি নাই। শহরের পুরুষ অটোরিকশা চালকরা আমাকে অনেক সহযোগিতা করে। অটোচালক কাদের মিয়া বলেন, আমাদের শহরে কয়েক হাজার অটো চলাচল করে। তার মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। তাকে আমরা সব সময় সহযোগিতা করি। যাত্রী সাইদ মিয়া বলেন, আমি এ পর্যন্ত ৫-৬ বার রোজিনার অটোতে চড়েছি। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। অন্য পুরুষ অটো চালকের চেয়েও ভালো অটো চালান। নারী সংগঠক সেরাজুম মনিরা বলেন, তিনি অনেক দিন যাবত অটোরিকশা চালাচ্ছেন। আমি রোজিনাকে স্যালুট জানাই। একজন পুরুষের চেয়ে একজন নারী কোনো ভাবেই যে পিছিয়ে নেই, রোজিনা তা প্রমাণ করেছেন। রোজিনা বলেন, অটো চালানোর এই সিদ্ধান্তটি তার জন্য খুব সহজ ছিল না। তিনি বলেন, ৫ ও ১০ বছরের দুই মেয়েকে বাড়িতে রেখে অটোরিকশা নিয়ে সারাদিন রাস্তায় থাকতে হয়। তাদের ভালোভাবে দেখাশোনা করতে পারি না। কিন্তু কি করবো, অভাবের সংসার! এখন ঋণ নিয়ে একটু জমি কিনেছি। প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ণ প্রকল্পের অর্থায়নে প্রশাসন সেখানে ঘর তুলে দিয়েছে। শুরুতে যারা আমাকে নিয়ে ঠাট্টা করেছে এখন তারাই আমাকে সম্মান করেন। নারীরাও যে কিছু করতে পারে, তা প্রমাণ করেছি। আমার বড় মেয়ে আইসড়া উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়ে, ছোট মেয়ে পড়ে স্থানীয় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। মেয়েদের শিক্ষিত করতে হবে। ধার দেনা শোধ করতে হবে। তাই থেমে গেলো চলবে না। আমি অটোরিকশা চালিয়েই দুই সন্তানকে মানুষ করতে চাই।’ ঘারিন্দা ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য বাবুল সরকার বলেন, সরকার রোজিনাকে একটি ঘর নির্মাণ করে দিয়েছে। শুরুতে যারা তাকে নিয়ে নানান কথা বলতো, এখন তার সংকল্প ও মানষিক দৃঢ়তা দেখে থেমে গেছে। আমরা তাকে নিয়ে গর্ব করি। টাঙ্গাইলের ট্রাফিক ইন্সপেক্টর (প্রশাসন) দেলোয়ার হোসেন বলেন, শহরের একমাত্র নারী চালক রোজিনাকে কেউ যেন বিরক্ত করতে না পারে সেদিকে সব সময় নজর রাখে ট্রাফিক পুলিশ। আমরা তাকে সব সময় সহযোগিতা করে আসছি। টাঙ্গাইলের সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক শাহ আলম বলেন, বিষয়টি এখন জানতে পারলাম। ওই নারী এখনো পর্যন্ত আমাদের কাছে আসেন নাই। যদি আমাদের কাছে এসে আবেদন করেন অবশ্যই তাকে আমরা সহযেগিতা করবো, তার পাশে দাঁড়াবো।

বাংলাদেশে ঐতিহাসিক নির্বাচন: বিএনপি এগিয়ে, জামায়াতের উত্থান ও তরুণ ভোটারদের প্রভাব

২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশে আজ এক ঐতিহাসিক ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ২০০৮ সালের পর এই প্রথম একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হতে যাচ্ছে যেখানে দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগ রাজনৈতিক মানচিত্র থেকে কার্যত অনুপস্থিত। বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক জরিপ বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০০ আসনের মধ্যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) কার্যকর সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে যাচ্ছে। তবে ভোটের ব্যবধান এবং কিছু সমীকরণ নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। নির্বাচনের সবচেয়ে বড় নিয়ামক হয়ে দাঁড়িয়েছে আওয়ামী লীগের বিশাল ভোটব্যাংক। দলটির নিয়মিত প্রায় ৪ কোটি ভোটার এখন নতুন রাজনৈতিক আশ্রয় খুঁজছেন। সিআরএফ বা বিইপিওএস জরিপ বলছে, এই ভোটারদের প্রায় অর্ধেক বিএনপির দিকে ঝুঁকেছে, যা দলটিকে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতার পথে এগিয়ে দিচ্ছে। অন্যদিকে, প্রায় ৩০ শতাংশ আওয়ামী ভোটার জামায়াতে ইসলামীকে বেছে নিতে পারেন বলে আভাস পাওয়া যাচ্ছে। এছাড়া বাংলাদেশের বিদ্যমান নির্বাচনী ব্যবস্থার কারণে দেশজুড়ে সুষম জনসমর্থন থাকা বিএনপি আসন জয়ের ক্ষেত্রে জামায়াতের তুলনায় সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। তবে বিএনপির এই সম্ভাব্য জয়ের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও বিদ্রোহী প্রার্থীরা। প্রায় ৭৯টি নির্বাচনী এলাকায় দলের মনোনয়ন না পাওয়া ৯২ জন প্রভাবশালী নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, যা বিএনপির ১৫ থেকে ৩০টি আসন কমিয়ে দিতে পারে। অন্যদিকে, তরুণ ভোটার বা ‘জেন-জি’ প্রজন্মের বিশাল সমর্থন জামায়াতে ইসলামীর শক্তির উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেশের ৪৪ শতাংশ ভোটারই তরুণ, যাদের বড় একটি অংশ প্রথমবার ভোট দিচ্ছেন। এই তরুণরা যদি দলবেঁধে কেন্দ্রে উপস্থিত হন, তবে নির্বাচনী ফলে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। সবশেষে, প্রায় ১৭ থেকে ৩৫ শতাংশ দোদুল্যমান ভোটার এবং তাদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করবে আগামীর সরকার কতটা শক্তিশালী হবে। দ্য নিউইয়র্ক এডিটোরিয়ালের মূল পূর্বাভাস, তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি প্রায় ১৮৫টি আসনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করতে পারে এবং জামায়াতে ইসলামী ৮০টির মতো আসন পেয়ে প্রধান বিরোধী দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারে। তবে বিদ্রোহী প্রার্থীদের প্রভাব এবং তরুণ ভোটারদের উপস্থিতির ওপর ভিত্তি করে আসন সংখ্যায় বড় ধরনের হেরফের হওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

গাজায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা ট্রাম্প প্রশাসনে

ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। ৩৫০ একরের ঘাঁটিটিতে সামরিক বাহিনীর পাঁচ হাজার সদস্য থাকতে পারবে। গাজার ‘বোর্ড অব পিস’র নথি পর্যালোচনা করে এ তথ্য জানিয়েছে দ্য গার্ডিয়ান। প্রতিবেদনে ব্রিটিশ সংবাদ মাধ্যমটি জানিয়েছে, বোর্ড অব পিসে গাজাকে নিরাপদ করার জন্য ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যাবিলাইজেশন ফোর্স (আইএসএফ) নামে একটি আন্তর্জাতিক বাহিনী মোতায়েনের কথা বলা হয়েছে। যে স্থানটি ঘাঁটি করার জন্য বিবেচনা করা হচ্ছে সেখানে আইএসএফের সদস্যরা থাকবে। বোর্ড অব পিসের প্রধান হবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আর সংগঠনটির আংশিক নেতৃত্ব দেবেন ট্রাম্পের জামাতা জ্যারার্ড কুশনার।দ্য গার্ডিয়ান বোর্ড অব পিসের নথি পর্যালোচনা করে জানায়, ধাপে ধাপে একটি সামরিক ঘাঁটি নির্মাণ করা হবে। সবকিছু শেষ হলে ঘাঁটিটি ১৫ লাখ ১৭ হাজার ৫৭৫ বর্গমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত হবে। ঘাঁটিটির চারপাশে ট্রেইলার সংযুক্ত ২৬টি সাঁজোয়া নজরদারি টাওয়ার থাকবে। এছাড়া একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, বাংকার ও অস্ত্র রাখার গুদাম থাকবে। পুরো ঘাঁটিটি কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে ঘিরে রাখা হবে। সামরিক ঘাঁটি নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে দক্ষিণ গাজার একটি শুষ্ক সমতলভূমিতে। সেখানে ইসরায়েলি হামলার চিহ্ন রয়েছে। ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে বিভিন্ন ধাতবের ধ্বংসাবশেষ।  ওই এলাকার ভিডিও পর্যালোচনা করেছে দ্য গার্ডিয়ান। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, ঘাঁটি নির্মাণের জন্য টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে। যুদ্ধক্ষেত্রে কাজের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন আন্তর্জাতিক নির্মাণ কোম্পানিগুলোর একটি ছোট দলকে ইতোমধ্যেই এলাকাটি দেখানো হয়েছে। ওই দলটি দরপত্রে অংশ নিতে আগ্রহী।    ইন্দোনেশিয়া সরকার গাজায় আট হাজার সেনা সদস্য পাঠানোর জন্য প্রস্তাব দিয়েছে। বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটন ডিসিতে বোর্ড অব পিসের অনানুষ্ঠানিক বৈঠকে ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্টের অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। এছাড়া দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার আরও তিন নেতার ওই বৈঠকে অংশ নেবেন বলে জানা গেছে। জাতিসংঘের নিরাপত্তা কাউন্সিল গাজার সাময়িক স্থিতিশীলতার জন্য অস্থায়ীভাবে সামরিক বাহিনী মোতায়েনের অনুমোদন দিয়েছে। নিরাপত্তা কাউন্সিলই বোর্ড অব পিসের মূল হোতা। গাজার সীমান্ত ও শান্তি প্রণয়নে কাজ করবে আইএসএফ। এছাড়া বেসামরিকদের সুরক্ষা এবং ফিলিস্তিনি পুলিশ বাহিনীকে প্রশিক্ষণ ও সহায়তা দেবে তারা। যদি গাজায় ফের সংঘর্ষ হয়, ইসরায়েল বোমা হামলা চালায় অথবা হামাস হামলা চালায় সেক্ষেত্রে আইএসএফ কি করবে তা এখনও স্পষ্ট নয়। গাজা পুনর্গঠনে ইসরায়েল হামাসকে নিরস্ত্রীকরণের যে শর্ত দিয়েছে সেটির জন্য আইএসএফ কাজ করবে কিনা তাও স্পষ্ট না। ইতোমধ্যে বোর্ড অব পিসে ২০ এর অধিক দেশ যোগ দিয়েছে। তবে, এখনও অনেক পরাশক্তি এর থেকে দূরে রয়েছে। জাতিসংঘের অনুমোদন নিয়ে প্রতিষ্ঠিত হলেও ধারণা করা হচ্ছে, সংগঠনটির স্থায়ী নেতৃত্ব ও নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে। রুটজার্স বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক আদিল হক বলেন, “বোর্ড অব পিস এক ধরনের আইনি কল্পসত্তা। নামমাত্রভাবে এর নিজস্ব আন্তর্জাতিক আইনগত সত্তা রয়েছে, যা জাতিসংঘ ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে আলাদা। কিন্তু বাস্তবে এটি যুক্তরাষ্ট্রের ইচ্ছামতো ব্যবহারের জন্য একটি ফাঁপা খোলসমাত্র।” বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গাজা পুনর্গঠনে যে অর্থায়ন ও শাসন কাঠামো হচ্ছে তা অস্বচ্ছ। কয়েকজন ঠিকাদার গার্ডিয়ানকে জানান, গাজায় কাজ করার জন্য মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে তাদের প্রায়শ আলোচনা সরকারি ইমেলের বদলে সিগন্যালের মাধ্যমে করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রের তথ্য মতে, ঘাঁটি নির্মাণের সিদ্ধান্তটি বোর্ড অব পিসের। এতে সহায়তা করছে মার্কিন কর্মকর্তারা। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ঘাঁটিতে তৈরি বাংকার নেটওয়ার্কের মতোন কাজ করবে। প্রতিটি বাংকারের ২৪ মিটারের হবে। উচ্চতা থাকবে আড়াই মিটার। এগুলো এমনভাবে করা হবে যেন সেনা সদস্যরা আশ্রয় নিতে পারে। স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসের গাজায় সুড়ঙ্গ নেটওয়ার্ক বা টানেল রয়েছে। সেগুলোর আদলে নেটওয়ার্ক করতে চাওয়া হচ্ছে। পিস অব বোর্ডের নথি পর্যালোচনা করে এমন দাবি করছে গার্ডিয়ান। সংবাদ মাধ্যমটি বলছে,  স্থানটির ভূ-ভৌত জরিপ পরিচালনা করবে ঠিকাদাররা। নথির এক অংশে ‘হিউম্যান রেমিয়েনস প্রোটোকল’র কথা বলা হয়েছে। এর মানে দাঁড়ায়, সন্দেহভাজন মানব অবশিষ্ট বা সাংস্কৃতিক নিদর্শন পাওয়া গেলে অবিলম্বে সেই এলাকায় সব কাজ বন্ধ করতে হবে। চুক্তি কর্মকর্তাকে দিকনির্দেশনার জন্য অবিলম্বে জানাতে হবে। গাজা সিভিল ডিফেন্সের ধারণা, গাজার ধ্বংসস্তূপের নিচে ১০ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনির মরদেহ রয়েছে। ঘাঁটির জন্য যে স্থানটি বিবেচিত করা হচ্ছে সেটির মালিক কে তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে, দক্ষিণ গাজার বেশিরভাগ অংশ  বর্তমানে ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণে। জাতিসংঘের অনুমান, যুদ্ধ চলাকালীন ১৯ লাখ ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত হয়েছে। ফিলিস্তিনের জমিতে সরকারের অনুমতি না নিয়ে সামরিক ঘাঁটি স্থাপনকে দখল হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন ফিলিস্তিনি-কানাডিয়ান আইনজীবী এবং প্রাক্তন শান্তি আলোচক দিয়ানা বুট্টু। তিনি প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়ে বলেন, “কার অনুমতিতে তারা সামরিক ঘাঁটি স্থাপন করবে।” বিষয়টি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা বোর্ড অব পিসের কথা টানেন। ট্রাম্প প্রশাসনের একজন কর্মকর্তা সামরিক ঘাঁটির চুক্তি নিয়ে আলোচনা করতে অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, “যেমনটি প্রেসিডেন্ট বলেছেন, কোনও মার্কিন সেনা স্থলভাগে যাবে না। আমরা লিক হওয়া নথি নিয়ে আলোচনা করবো না।”

কুড়িগ্রামের তাজু ভাই ২.০: ‘সরকারি রেটে জিলাপি’ প্রশ্নে ভাইরাল এক নির্মাণশ্রমিকের গল্প

বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের প্রত্যন্ত চরাঞ্চল থেকে উঠে এসে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার কেন্দ্রে এখন তাইজুল ইসলাম, যিনি অনলাইনে পরিচিত ‘তাজু ভাই ২.০’ নামে। মাত্র একটি ভিডিও—যেখানে তিনি এক দোকানিকে প্রশ্ন করেন, “জিলাপি আজকে কত করে বেচতেছেন সরকারি রেটে?”—এই সরল উপস্থাপনাই তাকে রাতারাতি ভাইরাল করে তোলে।  কয়েক ঘণ্টায় ফলোয়ার লাখ ছাড়াল রোববার রাত পর্যন্ত তার ফেসবুক অনুসারী ছিল প্রায় ৩৫ হাজার। কিন্তু সোমবার সন্ধ্যা থেকে রাতের মধ্যেই তা বেড়ে এক লাখের বেশি হয়ে যায়। ভাইরাল ভিডিওটি ইতোমধ্যে প্রায় ৫০ থেকে ৫৫ লাখবার দেখা হয়েছে।  কী ছিল সেই ভিডিওতে? ভিডিওতে দেখা যায়, কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীর নারায়ণপুর বাজারে দাঁড়িয়ে স্থানীয় ভাষায় তিনি জিলাপির দাম জানতে চান। তার কথাগুলো ছিল একেবারেই সহজ ও গ্রাম্য ভঙ্গিতে— “সাদাডা কত, লালডা কত? সরকারি রেটে বেচতেছেন?” এই সরল প্রশ্নই সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।  কোথা থেকে উঠে এলেন তাজু ভাই? কুড়িগ্রাম জেলার নাগেশ্বরী উপজেলার নারায়ণপুর ইউনিয়নের একটি দুর্গম গ্রামে জন্ম তার। ব্রহ্মপুত্র নদবেষ্টিত এই অঞ্চলে পৌঁছাতে এখনও কয়েকটি নৌঘাট পার হতে হয়। দারিদ্র্যের কারণে কখনো স্কুলে যাওয়া হয়নি তার। পেশায় তিনি একজন নির্মাণশ্রমিকের সহকারী (হেলপার)। কাজের ফাঁকে ঢাকায় থাকাকালীন মোবাইল ফোনে ভিডিও তৈরি করাই তার শখ। ব্যক্তিগত সংগ্রাম তাইজুল ইসলামের পরিবারে ছয় ভাই-বোন। তিনি সবার বড়। তার বাবা-মা দুজনই শ্রবণপ্রতিবন্ধী। পরিবার চালাতে তাকে ছোটবেলা থেকেই সংগ্রাম করতে হয়েছে। তিনি বলেন, “পরিবারের কষ্ট ভুলতেই ভিডিও করি। আমি সাংবাদিক না, কিন্তু আমাদের এলাকায় কেউ আসে না—তাই নিজেরাই ভিডিও বানাই।” ভাইরাল হওয়ার পেছনের উদ্দেশ্য তাইজুলের দাবি, তার ভিডিও শুধুই বিনোদনের জন্য নয়। তিনি চান তার এলাকার অবহেলিত মানুষের কথা প্রশাসনের নজরে আসুক। “আমি চাই চরের মানুষের উন্নয়ন হোক,”—বলছেন তিনি।  মিশ্র প্রতিক্রিয়া ভিডিওটি নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে দুই ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ তার সরলতা ও বাস্তবতা তুলে ধরার চেষ্টা প্রশংসা করছেন আবার কেউ তাকে নিয়ে ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ করছেন তবে এসব সমালোচনায় তিনি বিচলিত নন।

নিজস্ব প্রতিবেদক

বাংলাদেশ

View more
আগস্টে তফসিল, অক্টোবরে ভোটগ্রহণ: স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে প্রস্তুতি শুরু ইসির

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : বাংলাদেশের স্থানীয় সরকার নির্বাচনের তফসিল চলতি বছরের আগস্ট মাসে ঘোষণা করা হতে পারে এবং অক্টোবরের শেষ দিকে মাঠপর্যায়ে ভোটগ্রহণ শুরু হতে পারে বলে জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। তবে ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা, উপজেলা, জেলা পরিষদ নাকি সিটি করপোরেশন— কোন স্তরের নির্বাচন আগে অনুষ্ঠিত হবে, সে বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। এ বিষয়ে সরকারের নীতিগত সম্মতির অপেক্ষায় রয়েছে সাংবিধানিক এই প্রতিষ্ঠান। নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তারা বলছেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে গ্রহণযোগ্য, সুশৃঙ্খল ও ত্রুটিমুক্ত করার লক্ষ্যে ইতোমধ্যে কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন শুরু হয়েছে। অন্যদিকে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম জানিয়েছেন, বর্ষা মৌসুম শেষ হওয়ার পর সেপ্টেম্বর বা অক্টোবর থেকে পর্যায়ক্রমে স্থানীয় সরকার নির্বাচন শুরু হতে পারে। সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী আগামী এক বছরের মধ্যে ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা, উপজেলা পরিষদ, জেলা পরিষদ ও সিটি করপোরেশন— এই পাঁচ ধরনের নির্বাচন সম্পন্ন করা হবে। কেন আগে হতে পারে ইউনিয়ন পরিষদ ও পৌরসভা নির্বাচন নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ বলেছেন, স্থানীয় সরকারের পাঁচটি স্তরের মধ্যে ইউনিয়ন পরিষদ ও পৌরসভা নির্বাচন আগে আয়োজন করাই নিয়মসম্মত এবং বাস্তবসম্মত। তার ভাষ্য অনুযায়ী, ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানরা পদাধিকারবলে উপজেলা পরিষদের সদস্য হন। ফলে ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন সম্পন্ন না করে উপজেলা পরিষদ নির্বাচন আয়োজন করা যৌক্তিক নয়। তিনি বলেন, “ইউনিয়ন পরিষদ ও পৌরসভা নির্বাচন আগে হওয়াই নিয়ম অনুযায়ী সঠিক। সমান্তরালভাবে সিটি করপোরেশন নির্বাচন আয়োজন করা সম্ভব হলেও জেলা পরিষদ নির্বাচন কোনোভাবেই আগে করা যাবে না। সেটি সবার শেষে হবে।” তফসিল ঘোষণার সম্ভাব্য সময়সূচি সম্পর্কে তিনি জানান, “অক্টোবরের শেষ দিকে ভোটগ্রহণের লক্ষ্যমাত্রা থাকলে আগস্ট মাসেই তফসিল ঘোষণা করা হতে পারে।” নারী প্রতিনিধিত্ব ও নির্বাচন কাঠামো নির্বাচন কমিশনার জানান, উপজেলাধীন ইউনিয়ন পরিষদ ও পৌরসভার কাউন্সিলের মোট আসনের এক-তৃতীয়াংশ নারীদের জন্য সংরক্ষিত থাকবে। এসব সংরক্ষিত সদস্য সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদের নারী সদস্য বা পৌরসভার নারী কাউন্সিলরদের মাধ্যমে নির্বাচিত হবেন। তিনি আরও বলেন, সরকার ইউনিয়ন পরিষদ ব্যবস্থা বাতিল করেনি। তবে অধিকাংশ পরিষদ বর্তমানে কার্যত শূন্য অবস্থায় রয়েছে। ফলে নিয়ম অনুযায়ী ইউনিয়ন পরিষদ ও পৌরসভা নির্বাচন দিয়েই স্থানীয় সরকার নির্বাচনী প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। নির্বাচন বিধিমালায় বড় ধরনের পরিবর্তনের প্রস্তুতি আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে আরও সহজ, স্বচ্ছ ও প্রভাবমুক্ত করতে নির্বাচন কমিশন নির্বাচন বিধিমালা ও আচরণবিধিতে ব্যাপক পরিবর্তনের উদ্যোগ নিয়েছে। জুন মাসের মধ্যেই সংশোধিত খসড়া চূড়ান্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। প্রস্তাবিত পরিবর্তনগুলোর মধ্যে রয়েছে— নির্বাচনি পোস্টার নিষিদ্ধ করা; অনলাইনে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার সুযোগ না রাখা; দলীয় প্রতীকের পরিবর্তে নির্দলীয় ভিত্তিতে নির্বাচন আয়োজন; ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) ব্যবহার না করা; দেশে ও বিদেশে পোস্টাল ব্যালটে ভোট গ্রহণ না করা; পলাতক আসামিদের প্রার্থী হওয়ার সুযোগ না দেওয়া; স্বতন্ত্র প্রার্থীদের জন্য ভোটারের ১ শতাংশ সমর্থনের বাধ্যবাধকতা বাতিল; প্রার্থীদের জামানতের পরিমাণ বৃদ্ধি; সেনাবাহিনী মোতায়েন না করা; হলফনামার সঙ্গে আচরণবিধি মেনে চলার অঙ্গীকার যুক্ত করা। আব্দুর রহমানেল মাছউদ বলেন, “প্রার্থীদের জন্য আলাদা অঙ্গীকারনামা থাকবে না। তবে ঘোষণাপত্রে আচরণবিধি মেনে চলার বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করা হবে।” সংলাপ নয়, মতামত নেওয়া হবে ওয়েবসাইটে নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, বিধিমালার খসড়া চূড়ান্ত হওয়ার পর তা জনসাধারণের মতামতের জন্য কমিশনের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হবে। এ বিষয়ে আব্দুর রহমানেল মাছউদ বলেন, “আমরা এই মাসেই কাজ শেষ করে খসড়াটি ওয়েবসাইটে উন্মুক্ত করে দেবো। সবাই সেখানে মতামত দিতে পারবেন।” রাজনৈতিক দল ও অংশীজনদের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক সংলাপের সম্ভাবনা সম্পর্কে তিনি বলেন, “এ মুহূর্তে আলাদা করে সংলাপ বা বৈঠকের পরিকল্পনা নেই। অতীত অভিজ্ঞতায় দেখা গেছে, এসব আলোচনায় নতুন কিছু খুব বেশি পাওয়া যায় না। তবে প্রয়োজন হলে ভবিষ্যতে বিষয়টি বিবেচনা করা যেতে পারে।” তার মতে, রাজনৈতিক দল, সাংবাদিক, সুশীল সমাজসহ সব নাগরিক ওয়েবসাইটের মাধ্যমে মতামত দিতে পারবেন। আওয়ামী লীগের অংশগ্রহণ নিয়ে কী বলছে ইসি আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা প্রার্থী হতে পারবেন কি না— এমন প্রশ্নের জবাবে নির্বাচন কমিশনার বলেন, নির্বাচন কমিশনের কাছে রাজনৈতিক পরিচয়ের চেয়ে প্রার্থীর যোগ্যতা ও আইনগত অবস্থানই গুরুত্বপূর্ণ। তিনি বলেন, “আওয়ামী লীগ, বিএনপি, জামায়াত বা অন্য কোনো দল নয়— আমাদের কাছে প্রার্থী গুরুত্বপূর্ণ। যোগ্যতা ও অযোগ্যতার শর্ত পূরণ করলে যে কেউ প্রার্থী হতে পারবেন। তিনি কোন দল করেন, সেটি নির্বাচন কমিশনের বিবেচ্য বিষয় নয়।” দেশের স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের বর্তমান চিত্র নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, দেশে বর্তমানে মোট ইউনিয়ন পরিষদ রয়েছে ৪ হাজার ৫৮১টি। এর মধ্যে চলতি বছর নির্বাচন উপযোগী হবে ৩ হাজার ৭৫৫টি ইউনিয়ন পরিষদ এবং আগামী বছরে আরও ৩৪৯টি। এ ছাড়া নির্বাচন উপযোগী অবস্থায় রয়েছে— ৩৩০টি পৌরসভা; ৪৯৫টি উপজেলা পরিষদ; ১২টি সিটি করপোরেশন; ৬১টি জেলা পরিষদ। সরকার সম্প্রতি বগুড়াকে নতুন সিটি করপোরেশন হিসেবে অনুমোদন দিয়েছে। ফলে দেশে সিটি করপোরেশনের সংখ্যা বেড়ে ১৩টিতে দাঁড়াবে। একই সঙ্গে নতুন পাঁচটি উপজেলা অনুমোদনের ফলে উপজেলার সংখ্যা হবে ৫০০। স্থানীয় সরকার নির্বাচন কবে এবং কোন স্তর দিয়ে শুরু হবে, সে বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না হলেও নির্বাচন কমিশনের প্রস্তুতি ও সরকারের পরিকল্পনা ইঙ্গিত দিচ্ছে— দীর্ঘ বিরতির পর স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোতে নির্বাচনী কার্যক্রম আবারও শুরু হতে যাচ্ছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক জুন ৭, ২০২৬ 0

নোয়াখালী সদরে মাইকে ঘোষণা দিয়ে আ.লীগের হামলা ছাত্রদলের ওপর, মোটরসাইকেলে আগুন

তনহাদ আহমেদ নীরব

বরিশালে ইয়াবা-গাঁজাসহ আটক পুলিশ কনস্টেবল: মাদক সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে চাঞ্চল্য

আহসান হাবিব লিংকন

প্রেমের সম্পর্ক থেকে বিয়ে, এরপর কোটি টাকার সম্পত্তি আত্মসাত: বরিশালে লিংকন,পান্নার বিরুদ্ধে অভিযোগ

বিদ্যুৎ বিল
গ্রাহকদের বিদ্যুৎ বিল বাড়ল প্রায় ১৫%: নিম্ন আয়ের পরিবারে নতুন চাপের আশঙ্কা

 ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : দেশের সবচেয়ে কম বিদ্যুৎ ব্যবহারকারী শ্রেণি—‘লাইফ লাইন’ গ্রাহকরাও এখন আর মূল্যবৃদ্ধির চাপ থেকে বাইরে নয়। নতুন সিদ্ধান্তে এই শ্রেণির বিদ্যুতের দাম প্রায় ১৫ শতাংশ বাড়ানো হয়েছে, ফলে সীমিত আয়ের লাখো পরিবারকে মাস শেষে বাড়তি বিল গুনতে হবে। নতুন মূল্যহার অনুযায়ী, শূন্য থেকে ৫০ ইউনিট পর্যন্ত বিদ্যুৎ ব্যবহারকারীদের প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের দাম ৪ টাকা ৬৩ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ৫ টাকা ৩২ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছে। বিদ্যুৎ উন্নয়ন নীতির এই পরিবর্তনে সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়বে নিম্নবিত্ত ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর ওপর—যারা দীর্ঘদিন ধরে সরকারি ভর্তুকি সুবিধার আওতায় ছিল।  কত মানুষের ওপর পড়ছে প্রভাব? সরকারি হিসাব অনুযায়ী, দেশে বর্তমানে লাইফ লাইন গ্রাহকের সংখ্যা প্রায় ১ কোটি ৭৮ লাখ ৮২ হাজার ৩৮০ জন। এর মধ্যে শুধু পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির আওতায় রয়েছে ১ কোটি ৬১ লাখ ৪৭ হাজার ৫৯১টি সংযোগ। অর্থাৎ, গ্রামাঞ্চলের বিশাল জনগোষ্ঠী এই মূল্যবৃদ্ধির সরাসরি প্রভাবে পড়ছে।   বাস্তবে কত বাড়ছে বিল? বিদ্যুৎ বিশেষজ্ঞদের মতে, বিদ্যুৎ বিল শুধু ইউনিট মূল্যের ওপর নির্ভর করে না। এর সঙ্গে যুক্ত থাকে— ডিমান্ড চার্জ ভ্যাট মিটার ভাড়া ফলে ইউনিট মূল্য ১৫ শতাংশ বাড়লেও বাস্তবে গ্রাহকদের মোট বিল প্রায় ১৮ থেকে ২০ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পেতে পারে। হিসাব অনুযায়ী, মাসে সর্বোচ্চ ৫০ ইউনিট ব্যবহারকারী একজন গ্রাহককে প্রায় ৩৭ টাকা অতিরিক্ত বিল দিতে হতে পারে। যদিও অঙ্কটি আপাতদৃষ্টিতে ছোট মনে হতে পারে, বিশেষজ্ঞরা বলছেন—নিম্ন আয়ের পরিবারের জন্য প্রতিটি অতিরিক্ত টাকা গুরুত্বপূর্ণ, বিশেষ করে যেখানে খাদ্য ও জ্বালানির ব্যয়ও বাড়ছে।   নীতির পেছনের চাপ: ভর্তুকি বনাম অর্থনীতি বিদ্যুৎ খাতের এই মূল্য সমন্বয়কে ব্যাখ্যা করছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। বুধবার ঘোষণায় সংস্থাটি পাইকারি পর্যায়ে ১৯.৮৫ শতাংশ এবং গ্রাহক পর্যায়ে গড়ে ১৬.৬৮ শতাংশ মূল্য বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত জানায়। বিইআরসি চেয়ারম্যান বলেন, ভর্তুকির চাপ কমানো এবং ভোক্তাদের স্বার্থ রক্ষার মধ্যে ভারসাম্য রাখতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তার ভাষায়, লাইফ লাইন গ্রাহকদের জন্য তুলনামূলকভাবে সবচেয়ে কম—প্রায় ১৫ শতাংশ হারে মূল্য বৃদ্ধি করা হয়েছে। তিনি আরও জানান, সরকার ১৭ থেকে ২১ শতাংশ পর্যন্ত মূল্য বৃদ্ধির প্রস্তাব পেয়েছিল। কিন্তু সব পক্ষের মতামত বিবেচনা করে গড়ে ১৯.৮৫ শতাংশ বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।  বিদ্যুৎ খাতের বড় সমস্যা: ক্যাপাসিটি চার্জ বিশেষজ্ঞদের মতে, বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যয়ের বড় অংশ তৈরি করছে ‘ক্যাপাসিটি পেমেন্ট’। বিদ্যুৎকেন্দ্র প্রস্তুত থাকলেও উৎপাদন না করলেও নির্দিষ্ট অর্থ পরিশোধ করতে হয় সরকারকে—যা সামগ্রিক ব্যয় বাড়িয়ে দিচ্ছে। বিইআরসি চেয়ারম্যানও বলেন, দক্ষ বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে বেশি বিদ্যুৎ গ্রহণ এবং অদক্ষ কেন্দ্রের ব্যবহার কমানোর ওপর জোর দেওয়া হবে। পাশাপাশি ক্যাপাসিটি পেমেন্ট কমানোর সুযোগ আছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।    প্রশ্নের মুখে নীতি বাস্তবতা নতুন সিদ্ধান্তে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন উঠছে—যাদের জন্য এতদিন ভর্তুকি ছিল, তারাই কেন এখন বাড়তি চাপের মুখে? অর্থনীতিবিদ ও জ্বালানি বিশ্লেষকদের মতে, বিদ্যুৎ খাতে দীর্ঘদিনের কাঠামোগত সমস্যার বোঝা এখন সরাসরি ভোক্তার কাঁধে গিয়ে পড়ছে। বিশেষ করে প্রান্তিক ও নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য এটি একটি নতুন অর্থনৈতিক চাপ তৈরি করতে পারে।

নিজস্ব প্রতিবেদক জুন ৪, ২০২৬ 0
‘মেমেই’ নামের কেমিক্যাল ট্যাংকার।

মার্কিন নিষেধাজ্ঞায় চট্টগ্রামে আটকে ‘মেমেই’ ট্যাংকার, ৬০ কোটি টাকার কেমিক্যাল জাহাজ ফেরত পাঠানোর সিদ্ধান্ত

সালমান

মোবাইল ফোনের দাবি থেকে রক্তাক্ত সংঘর্ষ: ফতুল্লায় বাবাকে কুপিয়ে জখমের ঘটনায় ছেলে গ্রেপ্তার

বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) নতুন সদর দপ্তর

উদ্বোধনের আগেই ৫০ কোটি টাকার বিপিসি সদর দপ্তরে ফাটল, নির্মাণমান নিয়ে প্রশ্ন

বরগুনা জেলা পরিষদ ডাকবাংলো
বরগুনা জেলা পরিষদ ডাকবাংলোয় মা ও দুই কন্যার মরদেহ: ঋণের চাপ, নাকি অন্য কোনো রহস্য? তদন্তে পুলিশ

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : বরগুনার জেলা পরিষদ ডাকবাংলোর দুটি কক্ষ থেকে এক নারী ও তার দুই কন্যা সন্তানের মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে ঘটনাটির প্রকৃত কারণ নিয়ে। পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, সন্তানদের হত্যার পর মা আত্মহত্যা করে থাকতে পারেন। তবে তদন্ত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হতে অপেক্ষা করতে হবে ময়নাতদন্ত ও ফরেনসিক প্রতিবেদনের জন্য। বুধবার (৩ জুন) বিকেলে জেলা পরিষদ ডাকবাংলোর ৩ ও ৪ নম্বর কক্ষ থেকে মরদেহগুলো উদ্ধার করা হয়। নিহত নারী স্মৃতি রানী বরগুনা শহরের কালিবাড়ী এলাকার বাসিন্দা এবং জেলা পরিষদ ডাকবাংলোয় পার্টটাইম ঝাড়ুদার হিসেবে কর্মরত ছিলেন। উদ্ধার হওয়া দুই শিশুই তার কন্যা। দুটি কক্ষ, তিনটি মরদেহ পুলিশ সূত্র জানায়, ডাকবাংলোর ৩ নম্বর কক্ষের বিছানার ওপর আনুমানিক ছয় বছর বয়সী এক কন্যা শিশুর মরদেহ পাওয়া যায়। পরে পাশের ৪ নম্বর কক্ষের দরজা ভেঙে উদ্ধার করা হয় স্মৃতি রানী ও প্রায় দুই বছর বয়সী আরেক কন্যা শিশুর মরদেহ। একই ভবনের দুটি পৃথক কক্ষে মরদেহ উদ্ধারের ঘটনা তদন্তকারীদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ সূত্র হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। কী কারণে শিশু দুটিকে আলাদা কক্ষে রাখা হয়েছিল, কিংবা মৃত্যুর আগে তাদের অবস্থান কী ছিল—এসব প্রশ্নের উত্তর খুঁজছে পুলিশ। ঘটনার আগে কী করেছিলেন স্মৃতি রানী? জেলা পরিষদ প্রশাসক মো. নজরুল ইসলাম মোল্লা জানিয়েছেন, ঘটনার দিন বেলা ১১টার দিকে দুই সন্তানকে সঙ্গে নিয়ে কর্মস্থলে আসেন স্মৃতি রানী। প্রাথমিক অনুসন্ধানে পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসন জানতে পেরেছে, তিনি কিছুদিন ধরে আর্থিক সংকটে ছিলেন। পরিবার ও প্রতিবেশীদের সঙ্গে কথা বলে তদন্তকারীরা জেনেছেন, তার ওপর ঋণের চাপ ছিল। তবে শুধুমাত্র আর্থিক সংকটই এই মৃত্যুর একমাত্র কারণ কি না, সেটি এখনো নিশ্চিত নয়। আত্মহত্যা তত্ত্বের বাইরে যেসব প্রশ্ন তদন্ত-সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, এমন ঘটনায় কয়েকটি বিষয় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ— শিশু দুটির মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কারণ কী? তাদের মৃত্যু একই সময়ে হয়েছে কি না? মায়ের মৃত্যুর ধরন আত্মহত্যা নাকি অন্য কিছু? ঘটনাস্থলে কোনো সুইসাইড নোট বা লিখিত বার্তা পাওয়া গেছে কি না? মৃত্যুর আগে কারও সঙ্গে স্মৃতি রানীর যোগাযোগ হয়েছিল কি না? ফরেনসিক বিশ্লেষণ ও ডিজিটাল তথ্য পর্যালোচনার মাধ্যমে এসব প্রশ্নের উত্তর খোঁজা হচ্ছে। পুলিশের অবস্থান বরগুনা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আ. আলীম বলেছেন, ঘটনাটির রহস্য উদঘাটনে পুলিশের একাধিক টিম কাজ করছে। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নির্ধারণে ময়নাতদন্ত রিপোর্ট এবং অন্যান্য আলামত বিশ্লেষণের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। তিনি বলেন, তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত কোনো সম্ভাবনাকেই উড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে না। সামাজিক বাস্তবতার নির্মম প্রতিচ্ছবি স্মৃতি রানী ও তার দুই কন্যার মৃত্যুর ঘটনা শুধু একটি পারিবারিক ট্র্যাজেডি নয়; এটি আর্থিক অনিশ্চয়তা, সামাজিক নিরাপত্তা ও মানসিক চাপের মতো বৃহত্তর বাস্তবতার দিকেও দৃষ্টি আকর্ষণ করছে। তবে এই মৃত্যুকে আত্মহত্যা হিসেবে চূড়ান্তভাবে বিবেচনা করার আগে তদন্তের পূর্ণাঙ্গ ফলাফলের অপেক্ষা করার পরামর্শ দিচ্ছেন সংশ্লিষ্টরা। কারণ, ঘটনাস্থলের পরিস্থিতি, আলামত এবং ময়নাতদন্তের তথ্যই শেষ পর্যন্ত বলে দেবে—ডাকবাংলোর ওই দুটি কক্ষে ঠিক কী ঘটেছিল।

নিজস্ব প্রতিবেদক জুন ৪, ২০২৬ 0
দীপেন দেওয়ান

পদত্যাগের পর রাজনৈতিক অবস্থান স্পষ্ট করলেন দীপেন দেওয়ান, পাহাড়ে শান্তি ও সম্প্রীতির আহ্বান

এলজিইডি বরিশাল

বরিশালের চন্দ্রমোহনে এলজিইডির ৩ কোটি টাকার সড়ক প্রকল্পে নিম্নমানের কাজের অভিযোগ,নির্মাণ শেষ হওয়ার আগেই হেলে পড়ছে প্যালাসাইডিং

আরিফ মেমোরিয়াল হাসপাতাল

বরিশালে আরিফ মেমোরিয়াল হাসপাতালে নবজাতকের মৃত্যু: চিকিৎসা অবহেলার অভিযোগে ফের বিতর্কে হাসপাতাল

অর্থনীতি

ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান খুরশীদ আলম, কৃষি ব্যাংকে নূরুল আমিন: ব্যাংক খাতে নতুন সমীকরণ

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ২৪, ২০২৬ 0




অপরাধ

ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো

ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকোর বিরুদ্ধে ৩০ বিলিয়ন ডলার জালিয়াতি ও অর্থপাচার অভিযোগে দুদকের অনুসন্ধান

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ২৪, ২০২৬ 0




কৃষি ও জলবায়ু

ধান

শেরপুরে বোরো ধানের দাম কমে লোকসানে কৃষকরা, উৎপাদন খরচও উঠছে না

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ৬, ২০২৬ 0