ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ট্রান্সপ্যারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। সংস্থাটির পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, চলতি বছরের মার্চ ও এপ্রিল—এই দুই মাসে দেশে ৬০৫টি হত্যাকাণ্ড, ২০৯টি ধর্ষণ, ৩ হাজার ৪৯৬টি নারী ও শিশু নির্যাতন এবং ১৯৬টি অপহরণের ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে।
রোববার (৭ জুন) রাজধানীর ধানমন্ডিতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য তুলে ধরেন টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান। ‘সুশাসন প্রতিষ্ঠা ও দুর্নীতিবিরোধী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে নির্বাচন-পরবর্তী সরকারের ১০০ দিনের কার্যক্রম’ শীর্ষক পর্যবেক্ষণ প্রতিবেদনের বিভিন্ন দিক উপস্থাপন করা হয় অনুষ্ঠানে।
টিআইবির প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, মাত্র দুই মাসের ব্যবধানে সংঘটিত অপরাধের সংখ্যা দেশের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন প্রশ্ন তৈরি করেছে।
সংস্থাটির তথ্যমতে—
এছাড়া একই সময়ে গণপিটুনি ও মব সহিংসতার ৮০টি ঘটনায় ৪২ জন নিহত হয়েছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
মানবাধিকার পরিস্থিতির প্রসঙ্গ টেনে প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, আলোচিত সময়কালে একটি বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড এবং কারা হেফাজতে ১৮ জনের মৃত্যুর ঘটনাও নথিভুক্ত হয়েছে।
নির্বাচন-পরবর্তী সরকারের প্রথম ১০০ দিনের কার্যক্রম মূল্যায়ন করতে গিয়ে টিআইবি বলছে, কিছু ইতিবাচক সম্ভাবনা দৃশ্যমান হলেও সুশাসন প্রতিষ্ঠা, জবাবদিহিতা নিশ্চিতকরণ এবং দুর্নীতি প্রতিরোধে এখনো সুস্পষ্ট ও কার্যকর রোডম্যাপের ঘাটতি রয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে ইফতেখারুজ্জামান বলেন, রাষ্ট্রীয় সংস্কার ও নীতিগত পরিবর্তনের ক্ষেত্রে কিছু উদ্যোগ দেখা গেলেও বাস্তবায়ন কাঠামো এবং প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতার প্রশ্নে এখনও উল্লেখযোগ্য চ্যালেঞ্জ বিদ্যমান।
তার মতে, এসব সীমাবদ্ধতা দূর করা না গেলে ভবিষ্যতে সুশাসন প্রতিষ্ঠার পথে বড় ধরনের বাধা তৈরি হতে পারে।
টিআইবির পর্যবেক্ষণে রাষ্ট্রীয় বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে নিয়োগের ক্ষেত্রে দলীয় বিবেচনার অভিযোগও গুরুত্ব পেয়েছে।
সংস্থাটি মনে করছে, প্রশাসনিক ও সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানে স্বচ্ছতা এবং মেধাভিত্তিক নিয়োগ নিশ্চিত না হলে প্রতিষ্ঠানগুলোর স্বাধীনতা ও কার্যকারিতা প্রশ্নের মুখে পড়তে পারে।
প্রতিবেদনে ইঙ্গিত দেওয়া হয়, নিয়োগ প্রক্রিয়ায় রাজনৈতিক প্রভাবের অভিযোগ জনআস্থার জন্যও একটি বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিতে পারে।
সংবাদ সম্মেলনে অন্তর্বর্তী সরকারের কয়েকজন উপদেষ্টার বিরুদ্ধে ওঠা দুর্নীতির অভিযোগ নিয়েও মন্তব্য করেন টিআইবির নির্বাহী পরিচালক।
তিনি বলেন, অভিযোগগুলোর সত্যতা থাকলে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) উচিত নিরপেক্ষ ও কার্যকর তদন্ত পরিচালনা করা।
তার ভাষ্য অনুযায়ী, দুর্নীতির বিরুদ্ধে সরকারের ঘোষিত অবস্থানকে বিশ্বাসযোগ্য করতে হলে অভিযোগের ক্ষেত্রে ব্যক্তি বা পদমর্যাদা নয়, বরং তথ্য ও প্রমাণের ভিত্তিতে ব্যবস্থা গ্রহণ জরুরি।
বাংলাদেশে আইনশৃঙ্খলা, মানবাধিকার এবং সুশাসন নিয়ে আলোচনার মধ্যে টিআইবির এই প্রতিবেদন নতুন করে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন সামনে এনেছে।
বিশেষ করে হত্যাকাণ্ড, ধর্ষণ, নারী ও শিশু নির্যাতন এবং মব সহিংসতার পরিসংখ্যান জননিরাপত্তা ব্যবস্থার কার্যকারিতা নিয়ে উদ্বেগ বাড়িয়েছে। একই সঙ্গে সুশাসন, জবাবদিহিতা এবং দুর্নীতি দমনের ক্ষেত্রে সরকারের ঘোষিত প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের অগ্রগতি নিয়েও নতুন বিতর্ক তৈরি হয়েছে।
পর্যবেক্ষকদের মতে, অপরাধ নিয়ন্ত্রণ, বিচারিক স্বচ্ছতা, মানবাধিকার সুরক্ষা এবং দুর্নীতি প্রতিরোধ—এই চারটি ক্ষেত্রেই কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের সক্ষমতা আগামী দিনের রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থাপনার জন্য গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষায় পরিণত হতে পারে।
অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের সম্পদ বিবরণী প্রকাশের পর সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী ও তার স্ত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদের হিসাব নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। এক বছরের ব্যবধানে স্বামী ফারুকীর সম্পদ কমলেও স্ত্রী তিশার সম্পদ বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে প্রকাশিত তথ্যে উঠে এসেছে এই চিত্র। প্রকাশিত খতিয়ান অনুযায়ী, জনপ্রিয় অভিনেত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদ এক বছরে অভাবনীয় হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তিশার মোট সম্পদের পরিমাণ ছিল ১ কোটি ৪০ লাখ ৮১ হাজার ৮৬০ টাকা। ঠিক এক বছর পর, ২০২৫ সালের ৩০ জুন সেই সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ৯৯ লাখ ৮৯ হাজার ৫০১ টাকায়। অর্থাৎ মাত্র এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ বেড়েছে ১ কোটি ৫৯ লাখ ৭ হাজার ৬৪১ টাকা, যা আগের বছরের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি। অন্যদিকে সংস্কৃতি উপদেষ্টা ও নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর ক্ষেত্রে দেখা গেছে উল্টো চিত্র। এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ কমেছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তার মোট সম্পদ ছিল ২ কোটি ২৬ লাখ ৯২ হাজার ২৬ টাকা। ২০২৫ সালের ৩০ জুন তা কমে দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ১৫ লাখ ১৮ হাজার ২৬ টাকায়। হিসাব অনুযায়ী, এক বছরে তার সম্পদ কমেছে ১১ লাখ ৭৪ হাজার টাকা। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে গত মঙ্গলবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ প্রধান উপদেষ্টা, উপদেষ্টা ও সমমর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের পাশাপাশি তাদের স্ত্রী বা স্বামীর সম্পদ বিবরণী প্রকাশ করে। একই সময়ে স্বামী-স্ত্রীর সম্পদে এমন ভিন্নমুখী পরিবর্তন স্বাভাবিকভাবেই সাধারণ মানুষের কৌতূহলের জন্ম দিয়েছে। শোবিজ অঙ্গনের জনপ্রিয় দম্পতি হওয়ায় তাদের এই আয়-ব্যয়ের হিসাব এখন টক অব দ্য কান্ট্রি।
বাসস : বাবা একজন তাঁত শ্রমিক। তিন বোন দুই ভাইয়ের মধ্যে সবার বড় রোজিনা। অভাব সংসার, তাই এক এতিম যুবকের সাথে বাবা-মা বিয়ে দেন তাকে। বিয়ের পর জন্ম হয় দুই কন্যা সন্তানের। অটোরিকশা চালিয়ে কোন রকম সংসার চালাচ্ছিলেন স্বামী রফিকুল ইসলাম। কিন্তু সড়ক দুর্ঘটনায় রফিকুলের এক চোখ সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যায়। আরেকটি চোখ আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ধীরে ধীরে ওই চোখের দৃষ্টি শক্তিও কমতে থাকে। ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে অটোরিকশা চালানো। সংসারের উপার্জনক্ষম মানুষটি অচল হয়ে পড়ায় চিকিৎসার খরচ, ঘর ভাড়া ও খাবারের পাশাপাশি মেয়েদের লেখাপড়ার খরচ চালানোই কঠিন হয়ে যায়। দিশেহারা হয়ে পরেন রোজিনা। এক পর্যায়ে মানুষের বাড়ি বাড়ি কাজ করে সংসার চালানোর চেস্টা করেন। কিন্তু সুবিধা করতে পারেন না। এমন পরিস্থিতিতে অটোরিকশা চালানোর সিদ্ধান্ত নেন তিনি। স্বামী রফিকুলের কাছেই হাতেখড়ি। গ্রামের স্কুলের মাঠে স্বামীর কাছেই অটোরিকশা চালানোর শিক্ষা নেন তিনি। পরে গ্রামের পথে নেমে পড়েন অটোরিকশা নিয়ে। ৫-৬ দিন এভাবে হাত পাকা করে একদিন টাঙ্গাইল শহরে চলে আসেন রোজিনা। এরপর শুরু করেন অটোরিক্সা চালানোর ব্যতিক্রমী জীবন সংগ্রাম। এখন টাঙ্গাইল পৌরসভায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার চালকদের মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা বেগম। জেলার বাসাইল উপজেলার আইসড়া গ্রামের বাসিন্দা রোজিনা টাঙ্গাইল পৌর শহরের এক প্রান্ত রাবনা বাইপাস থেকে আরেক প্রান্ত বেবিস্ট্যান্ডে যাত্রী আনা নেয়া করেন। যানজটের কারণে শহরে পুরুষ চালকরা যেখানে হিমসিম খায়, সেখানেই বিগত ৫ বছর ধরেই নির্বিঘেœ অটোরিকশা চালাচ্ছেন তিনি। টাঙ্গাইল পৌরসভা কার্যালয় সূত্রে জানা যাায়, টাঙ্গাইল শহরে চলাচলের জন্য ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক ও ৫ হাজার ব্যাটারিচালিত রিকশার অনুমতি (লাইসেন্স) দেওয়া হয়েছে। যানজট এড়াতে ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক জোড় ও বিজোড় সংখ্যায় দিনে দুই ভাগ করা হয়েছে। সকাল থেকে বেলা দুইটা পর্যন্ত এক ভাগ এবং বেলা দুইটা থেকে রাত পর্যন্ত আরেক ভাগের ইজিবাইক চলাচল করার নির্দেশনা দিয়েছে পৌর কর্তৃপক্ষ। কিন্তু রোজিনাকে দুই শিফটে চালানোর অনুমতি দিয়েছে পৌরসভা। সরেজমিনে দেখা যায়, নতুন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অটোরিকশা নিয়ে যাত্রী ডাকছেন রোজিনা। কলেজ গেট, পুরাতন বাসস্ট্যান্ড, ক্যাপসুল, নিরালা মোড়, বেবিস্ট্যান্ড সর্বত্রই যাত্রী আনানেয়া করেন তিনি। পুরাতন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অন্য অটো চালকদের দাঁড় করতে না দিলেও রোজিনাকে বাঁধা দেননা ট্রাফিক পুলিশ। বলতে গেলে সবাই তার প্রতি সহানুভুতিশীল। ট্রাফিক পুলিশসহ অন্য অটোচালকরাও তাকে সহযোগিতা করেন। রোজিনা বলেন, আমার অটোতে নারী যাত্রীরা খুব কম। তারা মনে করে আমার অটোতে উঠলে দুর্ঘটনায় পড়বে। কিন্তু আমি খুব সাবধানে অটো চালাই। দ্রুত গতিতেও না, আবার একেবারে ধীরগতিতেও না। এখন পর্যন্ত আমি কোন দুর্ঘটনার কবলে পড়ি নাই। শহরের পুরুষ অটোরিকশা চালকরা আমাকে অনেক সহযোগিতা করে। অটোচালক কাদের মিয়া বলেন, আমাদের শহরে কয়েক হাজার অটো চলাচল করে। তার মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। তাকে আমরা সব সময় সহযোগিতা করি। যাত্রী সাইদ মিয়া বলেন, আমি এ পর্যন্ত ৫-৬ বার রোজিনার অটোতে চড়েছি। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। অন্য পুরুষ অটো চালকের চেয়েও ভালো অটো চালান। নারী সংগঠক সেরাজুম মনিরা বলেন, তিনি অনেক দিন যাবত অটোরিকশা চালাচ্ছেন। আমি রোজিনাকে স্যালুট জানাই। একজন পুরুষের চেয়ে একজন নারী কোনো ভাবেই যে পিছিয়ে নেই, রোজিনা তা প্রমাণ করেছেন। রোজিনা বলেন, অটো চালানোর এই সিদ্ধান্তটি তার জন্য খুব সহজ ছিল না। তিনি বলেন, ৫ ও ১০ বছরের দুই মেয়েকে বাড়িতে রেখে অটোরিকশা নিয়ে সারাদিন রাস্তায় থাকতে হয়। তাদের ভালোভাবে দেখাশোনা করতে পারি না। কিন্তু কি করবো, অভাবের সংসার! এখন ঋণ নিয়ে একটু জমি কিনেছি। প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ণ প্রকল্পের অর্থায়নে প্রশাসন সেখানে ঘর তুলে দিয়েছে। শুরুতে যারা আমাকে নিয়ে ঠাট্টা করেছে এখন তারাই আমাকে সম্মান করেন। নারীরাও যে কিছু করতে পারে, তা প্রমাণ করেছি। আমার বড় মেয়ে আইসড়া উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়ে, ছোট মেয়ে পড়ে স্থানীয় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। মেয়েদের শিক্ষিত করতে হবে। ধার দেনা শোধ করতে হবে। তাই থেমে গেলো চলবে না। আমি অটোরিকশা চালিয়েই দুই সন্তানকে মানুষ করতে চাই।’ ঘারিন্দা ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য বাবুল সরকার বলেন, সরকার রোজিনাকে একটি ঘর নির্মাণ করে দিয়েছে। শুরুতে যারা তাকে নিয়ে নানান কথা বলতো, এখন তার সংকল্প ও মানষিক দৃঢ়তা দেখে থেমে গেছে। আমরা তাকে নিয়ে গর্ব করি। টাঙ্গাইলের ট্রাফিক ইন্সপেক্টর (প্রশাসন) দেলোয়ার হোসেন বলেন, শহরের একমাত্র নারী চালক রোজিনাকে কেউ যেন বিরক্ত করতে না পারে সেদিকে সব সময় নজর রাখে ট্রাফিক পুলিশ। আমরা তাকে সব সময় সহযোগিতা করে আসছি। টাঙ্গাইলের সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক শাহ আলম বলেন, বিষয়টি এখন জানতে পারলাম। ওই নারী এখনো পর্যন্ত আমাদের কাছে আসেন নাই। যদি আমাদের কাছে এসে আবেদন করেন অবশ্যই তাকে আমরা সহযেগিতা করবো, তার পাশে দাঁড়াবো।
২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশে আজ এক ঐতিহাসিক ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ২০০৮ সালের পর এই প্রথম একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হতে যাচ্ছে যেখানে দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগ রাজনৈতিক মানচিত্র থেকে কার্যত অনুপস্থিত। বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক জরিপ বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০০ আসনের মধ্যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) কার্যকর সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে যাচ্ছে। তবে ভোটের ব্যবধান এবং কিছু সমীকরণ নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। নির্বাচনের সবচেয়ে বড় নিয়ামক হয়ে দাঁড়িয়েছে আওয়ামী লীগের বিশাল ভোটব্যাংক। দলটির নিয়মিত প্রায় ৪ কোটি ভোটার এখন নতুন রাজনৈতিক আশ্রয় খুঁজছেন। সিআরএফ বা বিইপিওএস জরিপ বলছে, এই ভোটারদের প্রায় অর্ধেক বিএনপির দিকে ঝুঁকেছে, যা দলটিকে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতার পথে এগিয়ে দিচ্ছে। অন্যদিকে, প্রায় ৩০ শতাংশ আওয়ামী ভোটার জামায়াতে ইসলামীকে বেছে নিতে পারেন বলে আভাস পাওয়া যাচ্ছে। এছাড়া বাংলাদেশের বিদ্যমান নির্বাচনী ব্যবস্থার কারণে দেশজুড়ে সুষম জনসমর্থন থাকা বিএনপি আসন জয়ের ক্ষেত্রে জামায়াতের তুলনায় সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। তবে বিএনপির এই সম্ভাব্য জয়ের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও বিদ্রোহী প্রার্থীরা। প্রায় ৭৯টি নির্বাচনী এলাকায় দলের মনোনয়ন না পাওয়া ৯২ জন প্রভাবশালী নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, যা বিএনপির ১৫ থেকে ৩০টি আসন কমিয়ে দিতে পারে। অন্যদিকে, তরুণ ভোটার বা ‘জেন-জি’ প্রজন্মের বিশাল সমর্থন জামায়াতে ইসলামীর শক্তির উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেশের ৪৪ শতাংশ ভোটারই তরুণ, যাদের বড় একটি অংশ প্রথমবার ভোট দিচ্ছেন। এই তরুণরা যদি দলবেঁধে কেন্দ্রে উপস্থিত হন, তবে নির্বাচনী ফলে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। সবশেষে, প্রায় ১৭ থেকে ৩৫ শতাংশ দোদুল্যমান ভোটার এবং তাদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করবে আগামীর সরকার কতটা শক্তিশালী হবে। দ্য নিউইয়র্ক এডিটোরিয়ালের মূল পূর্বাভাস, তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি প্রায় ১৮৫টি আসনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করতে পারে এবং জামায়াতে ইসলামী ৮০টির মতো আসন পেয়ে প্রধান বিরোধী দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারে। তবে বিদ্রোহী প্রার্থীদের প্রভাব এবং তরুণ ভোটারদের উপস্থিতির ওপর ভিত্তি করে আসন সংখ্যায় বড় ধরনের হেরফের হওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। ৩৫০ একরের ঘাঁটিটিতে সামরিক বাহিনীর পাঁচ হাজার সদস্য থাকতে পারবে। গাজার ‘বোর্ড অব পিস’র নথি পর্যালোচনা করে এ তথ্য জানিয়েছে দ্য গার্ডিয়ান। প্রতিবেদনে ব্রিটিশ সংবাদ মাধ্যমটি জানিয়েছে, বোর্ড অব পিসে গাজাকে নিরাপদ করার জন্য ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যাবিলাইজেশন ফোর্স (আইএসএফ) নামে একটি আন্তর্জাতিক বাহিনী মোতায়েনের কথা বলা হয়েছে। যে স্থানটি ঘাঁটি করার জন্য বিবেচনা করা হচ্ছে সেখানে আইএসএফের সদস্যরা থাকবে। বোর্ড অব পিসের প্রধান হবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আর সংগঠনটির আংশিক নেতৃত্ব দেবেন ট্রাম্পের জামাতা জ্যারার্ড কুশনার।দ্য গার্ডিয়ান বোর্ড অব পিসের নথি পর্যালোচনা করে জানায়, ধাপে ধাপে একটি সামরিক ঘাঁটি নির্মাণ করা হবে। সবকিছু শেষ হলে ঘাঁটিটি ১৫ লাখ ১৭ হাজার ৫৭৫ বর্গমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত হবে। ঘাঁটিটির চারপাশে ট্রেইলার সংযুক্ত ২৬টি সাঁজোয়া নজরদারি টাওয়ার থাকবে। এছাড়া একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, বাংকার ও অস্ত্র রাখার গুদাম থাকবে। পুরো ঘাঁটিটি কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে ঘিরে রাখা হবে। সামরিক ঘাঁটি নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে দক্ষিণ গাজার একটি শুষ্ক সমতলভূমিতে। সেখানে ইসরায়েলি হামলার চিহ্ন রয়েছে। ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে বিভিন্ন ধাতবের ধ্বংসাবশেষ। ওই এলাকার ভিডিও পর্যালোচনা করেছে দ্য গার্ডিয়ান। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, ঘাঁটি নির্মাণের জন্য টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে। যুদ্ধক্ষেত্রে কাজের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন আন্তর্জাতিক নির্মাণ কোম্পানিগুলোর একটি ছোট দলকে ইতোমধ্যেই এলাকাটি দেখানো হয়েছে। ওই দলটি দরপত্রে অংশ নিতে আগ্রহী। ইন্দোনেশিয়া সরকার গাজায় আট হাজার সেনা সদস্য পাঠানোর জন্য প্রস্তাব দিয়েছে। বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটন ডিসিতে বোর্ড অব পিসের অনানুষ্ঠানিক বৈঠকে ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্টের অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। এছাড়া দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার আরও তিন নেতার ওই বৈঠকে অংশ নেবেন বলে জানা গেছে। জাতিসংঘের নিরাপত্তা কাউন্সিল গাজার সাময়িক স্থিতিশীলতার জন্য অস্থায়ীভাবে সামরিক বাহিনী মোতায়েনের অনুমোদন দিয়েছে। নিরাপত্তা কাউন্সিলই বোর্ড অব পিসের মূল হোতা। গাজার সীমান্ত ও শান্তি প্রণয়নে কাজ করবে আইএসএফ। এছাড়া বেসামরিকদের সুরক্ষা এবং ফিলিস্তিনি পুলিশ বাহিনীকে প্রশিক্ষণ ও সহায়তা দেবে তারা। যদি গাজায় ফের সংঘর্ষ হয়, ইসরায়েল বোমা হামলা চালায় অথবা হামাস হামলা চালায় সেক্ষেত্রে আইএসএফ কি করবে তা এখনও স্পষ্ট নয়। গাজা পুনর্গঠনে ইসরায়েল হামাসকে নিরস্ত্রীকরণের যে শর্ত দিয়েছে সেটির জন্য আইএসএফ কাজ করবে কিনা তাও স্পষ্ট না। ইতোমধ্যে বোর্ড অব পিসে ২০ এর অধিক দেশ যোগ দিয়েছে। তবে, এখনও অনেক পরাশক্তি এর থেকে দূরে রয়েছে। জাতিসংঘের অনুমোদন নিয়ে প্রতিষ্ঠিত হলেও ধারণা করা হচ্ছে, সংগঠনটির স্থায়ী নেতৃত্ব ও নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে। রুটজার্স বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক আদিল হক বলেন, “বোর্ড অব পিস এক ধরনের আইনি কল্পসত্তা। নামমাত্রভাবে এর নিজস্ব আন্তর্জাতিক আইনগত সত্তা রয়েছে, যা জাতিসংঘ ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে আলাদা। কিন্তু বাস্তবে এটি যুক্তরাষ্ট্রের ইচ্ছামতো ব্যবহারের জন্য একটি ফাঁপা খোলসমাত্র।” বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গাজা পুনর্গঠনে যে অর্থায়ন ও শাসন কাঠামো হচ্ছে তা অস্বচ্ছ। কয়েকজন ঠিকাদার গার্ডিয়ানকে জানান, গাজায় কাজ করার জন্য মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে তাদের প্রায়শ আলোচনা সরকারি ইমেলের বদলে সিগন্যালের মাধ্যমে করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রের তথ্য মতে, ঘাঁটি নির্মাণের সিদ্ধান্তটি বোর্ড অব পিসের। এতে সহায়তা করছে মার্কিন কর্মকর্তারা। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ঘাঁটিতে তৈরি বাংকার নেটওয়ার্কের মতোন কাজ করবে। প্রতিটি বাংকারের ২৪ মিটারের হবে। উচ্চতা থাকবে আড়াই মিটার। এগুলো এমনভাবে করা হবে যেন সেনা সদস্যরা আশ্রয় নিতে পারে। স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসের গাজায় সুড়ঙ্গ নেটওয়ার্ক বা টানেল রয়েছে। সেগুলোর আদলে নেটওয়ার্ক করতে চাওয়া হচ্ছে। পিস অব বোর্ডের নথি পর্যালোচনা করে এমন দাবি করছে গার্ডিয়ান। সংবাদ মাধ্যমটি বলছে, স্থানটির ভূ-ভৌত জরিপ পরিচালনা করবে ঠিকাদাররা। নথির এক অংশে ‘হিউম্যান রেমিয়েনস প্রোটোকল’র কথা বলা হয়েছে। এর মানে দাঁড়ায়, সন্দেহভাজন মানব অবশিষ্ট বা সাংস্কৃতিক নিদর্শন পাওয়া গেলে অবিলম্বে সেই এলাকায় সব কাজ বন্ধ করতে হবে। চুক্তি কর্মকর্তাকে দিকনির্দেশনার জন্য অবিলম্বে জানাতে হবে। গাজা সিভিল ডিফেন্সের ধারণা, গাজার ধ্বংসস্তূপের নিচে ১০ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনির মরদেহ রয়েছে। ঘাঁটির জন্য যে স্থানটি বিবেচিত করা হচ্ছে সেটির মালিক কে তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে, দক্ষিণ গাজার বেশিরভাগ অংশ বর্তমানে ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণে। জাতিসংঘের অনুমান, যুদ্ধ চলাকালীন ১৯ লাখ ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত হয়েছে। ফিলিস্তিনের জমিতে সরকারের অনুমতি না নিয়ে সামরিক ঘাঁটি স্থাপনকে দখল হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন ফিলিস্তিনি-কানাডিয়ান আইনজীবী এবং প্রাক্তন শান্তি আলোচক দিয়ানা বুট্টু। তিনি প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়ে বলেন, “কার অনুমতিতে তারা সামরিক ঘাঁটি স্থাপন করবে।” বিষয়টি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা বোর্ড অব পিসের কথা টানেন। ট্রাম্প প্রশাসনের একজন কর্মকর্তা সামরিক ঘাঁটির চুক্তি নিয়ে আলোচনা করতে অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, “যেমনটি প্রেসিডেন্ট বলেছেন, কোনও মার্কিন সেনা স্থলভাগে যাবে না। আমরা লিক হওয়া নথি নিয়ে আলোচনা করবো না।”
বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের প্রত্যন্ত চরাঞ্চল থেকে উঠে এসে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার কেন্দ্রে এখন তাইজুল ইসলাম, যিনি অনলাইনে পরিচিত ‘তাজু ভাই ২.০’ নামে। মাত্র একটি ভিডিও—যেখানে তিনি এক দোকানিকে প্রশ্ন করেন, “জিলাপি আজকে কত করে বেচতেছেন সরকারি রেটে?”—এই সরল উপস্থাপনাই তাকে রাতারাতি ভাইরাল করে তোলে। কয়েক ঘণ্টায় ফলোয়ার লাখ ছাড়াল রোববার রাত পর্যন্ত তার ফেসবুক অনুসারী ছিল প্রায় ৩৫ হাজার। কিন্তু সোমবার সন্ধ্যা থেকে রাতের মধ্যেই তা বেড়ে এক লাখের বেশি হয়ে যায়। ভাইরাল ভিডিওটি ইতোমধ্যে প্রায় ৫০ থেকে ৫৫ লাখবার দেখা হয়েছে। কী ছিল সেই ভিডিওতে? ভিডিওতে দেখা যায়, কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীর নারায়ণপুর বাজারে দাঁড়িয়ে স্থানীয় ভাষায় তিনি জিলাপির দাম জানতে চান। তার কথাগুলো ছিল একেবারেই সহজ ও গ্রাম্য ভঙ্গিতে— “সাদাডা কত, লালডা কত? সরকারি রেটে বেচতেছেন?” এই সরল প্রশ্নই সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। কোথা থেকে উঠে এলেন তাজু ভাই? কুড়িগ্রাম জেলার নাগেশ্বরী উপজেলার নারায়ণপুর ইউনিয়নের একটি দুর্গম গ্রামে জন্ম তার। ব্রহ্মপুত্র নদবেষ্টিত এই অঞ্চলে পৌঁছাতে এখনও কয়েকটি নৌঘাট পার হতে হয়। দারিদ্র্যের কারণে কখনো স্কুলে যাওয়া হয়নি তার। পেশায় তিনি একজন নির্মাণশ্রমিকের সহকারী (হেলপার)। কাজের ফাঁকে ঢাকায় থাকাকালীন মোবাইল ফোনে ভিডিও তৈরি করাই তার শখ। ব্যক্তিগত সংগ্রাম তাইজুল ইসলামের পরিবারে ছয় ভাই-বোন। তিনি সবার বড়। তার বাবা-মা দুজনই শ্রবণপ্রতিবন্ধী। পরিবার চালাতে তাকে ছোটবেলা থেকেই সংগ্রাম করতে হয়েছে। তিনি বলেন, “পরিবারের কষ্ট ভুলতেই ভিডিও করি। আমি সাংবাদিক না, কিন্তু আমাদের এলাকায় কেউ আসে না—তাই নিজেরাই ভিডিও বানাই।” ভাইরাল হওয়ার পেছনের উদ্দেশ্য তাইজুলের দাবি, তার ভিডিও শুধুই বিনোদনের জন্য নয়। তিনি চান তার এলাকার অবহেলিত মানুষের কথা প্রশাসনের নজরে আসুক। “আমি চাই চরের মানুষের উন্নয়ন হোক,”—বলছেন তিনি। মিশ্র প্রতিক্রিয়া ভিডিওটি নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে দুই ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ তার সরলতা ও বাস্তবতা তুলে ধরার চেষ্টা প্রশংসা করছেন আবার কেউ তাকে নিয়ে ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ করছেন তবে এসব সমালোচনায় তিনি বিচলিত নন।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সংস্কৃতি বিষয়ক উপদেষ্টার দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ানোর পরও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন চলচ্চিত্র নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী। সাম্প্রতিক সময়ে তাকে ঘিরে রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনে চলমান সমালোচনার প্রেক্ষাপটে দেওয়া একটি দীর্ঘ ফেসবুক স্ট্যাটাস নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। রোববার (৭ জুন) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে প্রকাশিত ওই স্ট্যাটাসে ফারুকী দাবি করেন, জনস্বার্থে কাজ করতে গেলে মূল্য দিতে হয় এবং সেই উপলব্ধি নিয়েই তিনি সরকারের দায়িত্ব গ্রহণ করেছিলেন। তবে দায়িত্ব পালনের সময় যে মাত্রার সমালোচনা, আক্রমণ ও বিতর্কের মুখোমুখি হতে হবে, তা তার প্রত্যাশার বাইরে ছিল। ‘ভালো কাজের কাফফারা’ প্রসঙ্গ স্ট্যাটাসের শুরুতেই ফারুকী লেখেন, “প্রত্যেকটা ভালো কাজের একটা কাফফারা দিতে হয়। এটা জেনেই সরকারে ঢোকার ঝুঁকি নিয়েছিলাম। কিন্তু সেটা যে এতটা ভয়াবহ হবে, ভাবিনি।” তার এই মন্তব্যকে অনেকেই সাম্প্রতিক সমালোচনার সরাসরি জবাব হিসেবে দেখছেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দায়িত্ব পালনকালে নেওয়া সিদ্ধান্ত এবং জনপরিসরে তার অবস্থান নিয়ে যে বিতর্ক তৈরি হয়েছিল, সেই প্রেক্ষাপটেই তিনি নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করার চেষ্টা করেছেন। সমালোচকদের উদ্দেশে কড়া বার্তা ফারুকী তার স্ট্যাটাসে এমন ব্যক্তিদের সমালোচনা করেন, যাদের বক্তব্যের প্রতিক্রিয়া দেওয়াকেও তিনি নিজের জন্য অস্বস্তিকর বলে উল্লেখ করেন। তার ভাষায়, এমন অনেক ব্যক্তি তাকে নিয়ে মন্তব্য করছেন, যাদের তিনি অতীতে গুরুত্ব দেওয়ার প্রয়োজনও অনুভব করেননি। এমনকি তাদের নামও কখনও তার আলোচনার অংশ ছিল না। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে সাংবাদিকদের কাছ থেকে সেইসব ব্যক্তির মন্তব্যের প্রতিক্রিয়া জানতে চাওয়া হচ্ছে। এই বক্তব্যের মাধ্যমে তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, তার বিরুদ্ধে পরিচালিত সমালোচনার একটি অংশকে তিনি গুরুত্বহীন বা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে মনে করেন। ‘প্রোপাগান্ডা’ অভিযোগ স্ট্যাটাসের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ অংশে ফারুকী দাবি করেন, তার বিরুদ্ধে পরিচালিত মিথ্যাচার ও সংগঠিত প্রচারণা বরং প্রমাণ করে যে তিনি দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে সঠিক অবস্থানে ছিলেন। তিনি লেখেন, “এদের মিথ্যাচার এবং সম্মিলিত প্রোপাগান্ডাই বলে দেয়, আমি আমার কাজটা ঠিকমতো করতে পেরেছি।” এই বক্তব্যকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। সমর্থকদের একটি অংশ এটিকে দৃঢ় অবস্থান হিসেবে দেখছেন। অন্যদিকে সমালোচকদের মতে, জনসমালোচনাকে পুরোপুরি ‘প্রোপাগান্ডা’ হিসেবে ব্যাখ্যা করা বাস্তব পরিস্থিতির পূর্ণ প্রতিফলন নাও হতে পারে। ‘মানুষের পক্ষেই ছিলাম’ স্ট্যাটাসের শেষাংশে নিজের রাজনৈতিক ও নৈতিক অবস্থান তুলে ধরেন ফারুকী। তিনি বলেন, দেশের সংকটময় সময়গুলোতে তিনি সবসময় মানুষের পক্ষেই অবস্থান নিয়েছেন এবং ভবিষ্যতেও সেই অবস্থান অব্যাহত থাকবে। তার বক্তব্যে মুক্তিযুদ্ধ এবং সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ঘটনাপ্রবাহের প্রসঙ্গও উঠে আসে। তিনি দাবি করেন, ইতিহাসের যেকোনো গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে তার অবস্থান ছিল জনগণের পক্ষে। সামাজিক মাধ্যমে নতুন বিতর্ক ফারুকীর স্ট্যাটাস প্রকাশের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। একদিকে তার সমর্থকরা এটিকে ‘চাপের মুখেও দৃঢ় অবস্থান’ হিসেবে দেখছেন। অন্যদিকে সমালোচকরা বলছেন, দায়িত্ব পালনকালে উত্থাপিত বিভিন্ন প্রশ্ন ও বিতর্কের নির্দিষ্ট জবাব না দিয়ে তিনি সমালোচনাকে রাজনৈতিক বা সংগঠিত প্রচারণা হিসেবে উপস্থাপন করেছেন। বিশ্লেষকদের মতে, সংস্কৃতি অঙ্গনের পরিচিত মুখ থেকে রাষ্ট্রীয় দায়িত্বে আসা এবং পরে দায়িত্ব ছাড়ার অভিজ্ঞতা ফারুকীকে এমন এক অবস্থানে নিয়ে গেছে, যেখানে তার প্রতিটি বক্তব্য রাজনৈতিক ও সামাজিক ব্যাখ্যার বিষয় হয়ে উঠছে। ফলে তার সর্বশেষ ‘কাফফারা’ মন্তব্য শুধু ব্যক্তিগত প্রতিক্রিয়া নয়, বরং সমসাময়িক রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক বিতর্কেরও একটি নতুন অধ্যায় হিসেবে আলোচিত হচ্ছে।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : বিসিবি পরিচালনা পর্ষদ নির্বাচনে বিভাগীয় ক্রীড়া সংস্থার বেশির ভাগ পরিচালকই নির্বাচিত হয়ে গেছেন বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায়। তবে নির্বাচন হয়েছে খুলনা ও বরিশাল বিভাগ এবং ক্লাব ক্যাটাগরিতেই। ক্লাবগুলোকে নিয়ে ক্যাটাগরি-২ এ ১২ পরিচালককে ভোট দিয়ে নির্বাচিত করেছেন ৭৬ জন কাউন্সিলর। এই পদগুলোর জন্য প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন ১৬ জন প্রার্থী। সর্বোচ্চ ৭৩ ভোট পেয়ে পরিচালক নির্বাচিত হয়েছেন নির্বাচন আয়োজনের দায়িত্বে থাকা অ্যাডহক কমিটির প্রধান ও জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক তামিম ইকবাল। ক্লাব ক্যাটাগরির নির্বাচনে হেরে যাওয়া চার প্রার্থী হলেন মেজর ইমরোজ আহমেদ, ফৈয়াজুর রহমান, আমজাদ হোসেন ও সৈয়দ বোরহানুল হোসেন। জেলা ও বিভাগীয় ক্রীড়া সংস্থাগুলোকে নিয়ে ক্যাটাগরি-১ এ ১০ পরিচালকের ৭ জনই বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন। বরিশালে ভোটের সমীকরণ বিসিবির ক্যাটাগরি-১-এর আওতায় জেলা ও বিভাগীয় ক্রীড়া সংস্থাগুলোর প্রতিনিধিদের ভোটে পরিচালক নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। বরিশাল বিভাগে পরিচালক পদের জন্য প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন মিজানুর রহমান মিজান এবং মুন্তাসির আলম। নির্বাচনের ফল অনুযায়ী, মিজানুর রহমান মিজান পেয়েছেন ৫ ভোট এবং মুন্তাসির আলম পেয়েছেন মাত্র ১ ভোট। তবে ভোটের হিসাব পর্যালোচনা করে সংশ্লিষ্ট মহলের দাবি, বরিশালের কাউন্সিলর মোহাম্মদ মাইনুদ্দিন রুবেল কোনো প্রার্থীকেই ভোট দেননি। স্থানীয় ক্রীড়া সংশ্লিষ্টদের একাংশের মতে, কাউন্সিলর হিসেবে দায়িত্ব পালনকারী একজন প্রতিনিধির ভোটদান থেকে বিরত থাকা বা কাউকে সমর্থন না করা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। তাদের দাবি, বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট ক্রীড়া সংস্থার অভ্যন্তরে আলোচনা হওয়া প্রয়োজন। ভোট হয়েছে খুলনা ও বরিশাল বিভাগে ভোট হয়েছে খুলনা ও বরিশাল বিভাগে। এর মধ্যে বরিশালের একটি পদে মুন্তাসির আলমকে হারিয়ে বিসিবির পরিচালক হয়েছেন বিপিএলের দল ফরচুন বরিশালের মালিক মিজানুর রহমান। বরিশালে ক্রীড়ার উন্নয়নে,খেলাধুলার প্রসারে ও সাংগঠনিক দক্ষতার স্বীকৃতিস্বরূপ বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) বরিশাল জেলার কাউন্সিলর হন মোহাম্মদ মাইনুদ্দিন রুবেল। তিনি পরিচালক পদে নির্বাচনে মিজানুর রহমান মিজান ও মুন্তাসির আলম এ দু প্রার্থীর কাউকেই ভোট প্রদান করেন নি। স্থানীয় লোকজন জানান,তাতে দ্রুত ক্রীড়া সংস্থা থেকে অপসারন করা হোক। এদিকে মুন্তাসির আলম তিনি তার নিজের একটি ভোট পেয়েছেন।অপরদিকে মিজানুর রহমান মিজান পেয়েছেন ৫ ভোট। বরিশালের কাউন্সিলর মোহাম্মদ মাইনুদ্দিন রুবেল কাউকেই ভোট প্রদান করেন নি। বিজয়ী মিজানুর রহমানের উত্থানের গল্প মিজানুর রহমান মিজান হলেন দেশের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় রপ্তানিমুখী জুতা প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান ফরচুন সুজ লিমিটেড এবং জনপ্রিয় ফ্র্যাঞ্চাইজি ফরচুন বরিশাল-এর প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান। ২০১২ সালে তিনি বরিশালের বিসিক শিল্পনগরীতে ফরচুন সুজ নামে তাঁর স্বপ্নের জুতার কারখানাটি প্রতিষ্ঠা করেন । বর্তমানে এটি একটি শতভাগ রপ্তানিমুখী প্রতিষ্ঠান, যা ইউরোপ ও আমেরিকাসহ বিশ্বের বিভিন্ন স্বনামধন্য ব্র্যান্ডের জুতা তৈরি করে থাকে । তিনি বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের (বিপিএল) ফ্র্যাঞ্চাইজি ফরচুন বরিশালের মালিক এবং চেয়ারম্যান ।কর্মজীবন ও সংগ্রামব্যক্তিগত জীবনে তিনি ১৯৯৬ সালে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে পদার্থবিজ্ঞান বিভাগে পড়ার সময় বাবার আকস্মিক মৃত্যুর সম্মুখীন হন ।সংসারের হাল ধরতে তিনি চাকরি নেন সেখান থেকে ধীরে ধীরে অভিজ্ঞতা অর্জন করে একক উদ্যোগে শিল্পপ্রতিষ্ঠান গড়ে তোলেন এবং নিজ জন্মস্থান বরিশালে শিল্পায়নের পথ সুগম করেন। খুলনায় প্রতিদ্বন্দ্বিতা, নির্বাচিত দুই পরিচালক খুলনা বিভাগে দুই পরিচালক পদের বিপরীতে ৩ জন প্রার্থী ছিলেন। তাদের মধ্যে শান্তনু ইসলাম ও শফিকুল আলম পরিচালক নির্বাচিত হয়েছেন। এ ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয় ও বিভিন্ন সংস্থা নিয়ে গঠিত ক্যাটাগরি-৩ এ আগেই বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় পরিচালক নির্বাচিত হয়েছেন সিরাজউদ্দিন মোহাম্মদ আলমগীর।পরিচালকদের ভোটে বিসিবির নতুন সভাপতি নির্বাচিত হবেন । সেটি তামিম ইকবাল হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি। বিসিবির পরিচালক হলেন যারা ক্যাটাগরি-১ঢাকা বিভাগ: সাইদ বিন জামান, এস এম আবদুল্লাহ আল ফুয়াদ।চট্টগ্রাম বিভাগ: মিনহাজুল আবেদীন, মঈন উদ্দিন চৌধুরীখুলনা বিভাগ: শফিকুল আলম, শান্তনু ইসলাম।রাজশাহী বিভাগ: মীর শাকরুল আলম।রংপুর বিভাগ: মির্জা ফয়সল আমীন।সিলেট বিভাগ: আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী।বরিশাল বিভাগ: মিজানুর রহমান। ক্যাটাগরি - ২ তামিম ইকবাল, মাসুদুজ্জামান, ফাহিম সিনহা, আসিফ রব্বানী, ইয়াসির মোহাম্মদ ফয়সাল আশিক, মির্জা ইয়াসির আব্বাস, ইসরাফিল খসরু, রফিকুল ইসলাম, সরকার মাহবুব আহমেদ শামীম, শানিয়ান তানিম, সাঈদ ইব্রাহিম আহমেদ, সাকিফ আহমেদ,ক্যাটাগরি - ৩ সিরাজউদ্দিন মোহাম্মদ আলমগীর। বরিশালের ভোট নিয়ে এখন কয়েকটি প্রশ্ন স্থানীয় ক্রীড়া মহলে আলোচনার জন্ম দিয়েছে— কাউন্সিলর মোহাম্মদ মাইনুদ্দিন রুবেল কেন কোনো প্রার্থীকে ভোট দিলেন না? এটি কি ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত? বরিশালের ক্রিকেট প্রশাসনে এর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব কী হতে পারে? নতুন পরিচালক হিসেবে মিজানুর রহমান মিজান বরিশালের ক্রিকেট অবকাঠামো উন্নয়নে কী ধরনের উদ্যোগ নেবেন?
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : বরিশাল নগরীর গণপাড়া এলাকায় রাজনৈতিক পরিচয়, পারিবারিক প্রভাব এবং সম্পত্তি নিয়ে বিরোধকে কেন্দ্র করে আহসান হাবিব লিংকন, রেজাউল ইসলাম পান্না ও তার পরিবারের বিরুদ্ধে একাধিক গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগগুলোর মধ্যে রয়েছে প্রেমের সম্পর্কের মাধ্যমে বিয়ে করে সম্পত্তি আত্মসাৎ, জমি দখল, আদালতে মামলা , প্রভাব বিস্তার, ভুক্তভোগীকে হয়রানি এবং ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের সম্পদ নিয়ে বিতর্ক। অভিযোগগুলোর কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ফরিদা মাফরোজা (রিক্তা) নামের এক নারী। তার দাবি, দীর্ঘ প্রেমের সম্পর্কের পর বিয়ের মাধ্যমে তাকে একটি পরিকল্পিত সম্পদ দখল প্রক্রিয়ার মধ্যে ফেলা হয়। পরবর্তীতে তার সম্পত্তি নিজের নামে লিখে নেওয়ার পর তাকে তালাক দেওয়া হয়। বর্তমানে সম্পত্তি ফিরে পাওয়ার জন্য আদালতে লড়াই চালিয়ে গেলেও নানা ধরনের চাপ ও হয়রানির মুখোমুখি হতে হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন তিনি। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে যে পরিবার অভিযোগের তীর মূলত বরিশাল মহানগরের ৩০ নম্বর ওয়ার্ডের গণপাড়া এলাকার বাসিন্দা রেজাউল ইসলাম পান্না ও তার পরিবারের দিকে। স্থানীয় সূত্রগুলো বলছে, রেজাউল ইসলাম পান্না নিজেকে বিএনপি ও ছাত্রদলের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত হিসেবে পরিচয় দিলেও তার রাজনৈতিক অবস্থান এবং প্রভাব নিয়ে এলাকায় নানা আলোচনা রয়েছে। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি একইসঙ্গে বরিশাল মহানগর ছাত্রলীগের ৩০ নম্বর ওয়ার্ড সভাপতি মশিউরের আপন ভাই হিসেবেও পরিচিত। স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দার দাবি, অতীতের রাজনৈতিক যোগাযোগ এবং বিভিন্ন মহলের সঙ্গে সম্পর্ককে কাজে লাগিয়ে ও বর্তমানে রেজাউল ইসলাম পান্না বরিশাল নগরীর ৩০ নং ওয়ার্ড বিএনপির সাবেক আহবায়ক মিশাদ বেগের নাম ভাঙ্গিয়ে প্রভাব বিস্তার করছেন বলে স্থানীয় লোকজন জানিয়েছে। প্রেম থেকে বিয়ে, তারপর সম্পত্তি বিরোধ ভুক্তভোগী ফরিদা মাফরোজার বর্ণনা অনুযায়ী, ২০০৬ সালে ঢাকায় চাকরির সুবাদে আহসান হাবিব লিংকনের সঙ্গে তার পরিচয় হয়। পরিচয় ধীরে ধীরে প্রেমের সম্পর্কে রূপ নেয় এবং দীর্ঘ ছয় বছরের সম্পর্কের পর ২০১২ সালের ৭ সেপ্টেম্বর দুই লাখ টাকা কাবিনে তাদের বিয়ে সম্পন্ন হয়। রিক্তার অভিযোগ, বিয়ের পর থেকেই তার ওপর আর্থিক নির্ভরতা তৈরির চেষ্টা শুরু হয়। ধীরে ধীরে তাকে বিভিন্ন বিনিয়োগ ও জমি ক্রয়ের বিষয়ে উৎসাহিত করা হয়। পরিবারের সদস্যদের পরামর্শে বরিশালের গণপাড়া ও মংগলহাটা এলাকায় কয়েক দফায় প্রায় ৫০ লাখ টাকার জমি কেনা হয়। তার দাবি, পরবর্তীতে পরিস্থিতি এমনভাবে তৈরি করা হয় যাতে জমির মালিকানা তার হাতছাড়া হয়ে যায়। ‘হেবা দলিলের’ মাধ্যমে সম্পত্তি হস্তান্তরের অভিযোগ ফরিদা মাফরোজা অভিযোগ করেন, একপর্যায়ে তাকে বিভিন্ন ধরনের ওষুধ প্রয়োগ করা হয়, যার ফলে তিনি মানসিকভাবে অসুস্থ বা ভারসাম্যহীন অবস্থায় পড়েন। তার ভাষ্যমতে, সেই সুযোগে তার কাছ থেকে হেবা দলিলের মাধ্যমে জমিগুলো অন্যের নামে লিখে নেওয়া হয়। ভুক্তভোগীর দাবি, দলিল সম্পাদনের সময় তিনি স্বাভাবিক মানসিক অবস্থায় ছিলেন না এবং বিষয়টি সম্পর্কে পূর্ণাঙ্গ ধারণাও তার ছিল না। তবে এই অভিযোগ আদালতে বিষয়টি বিচারাধীন থাকায় অভিযোগগুলোর সত্যতা নির্ধারণের দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট বিচারিক কর্তৃপক্ষের। সম্পত্তি হস্তান্তরের পর তালাক ভুক্তভোগীর অভিযোগ অনুযায়ী, সম্পত্তির মালিকানা পরিবর্তনের পর পারিবারিক সম্পর্কে টানাপোড়েন শুরু হয়।পরবর্তীতে তাকে বিভিন্ন অপবাদ দিয়ে তালাক দেওয়া হয় বলে দাবি করেন তিনি।ফরিদা মাফরোজা বলেন, “যে মানুষকে বিশ্বাস করে জীবন গড়তে চেয়েছিলাম, শেষ পর্যন্ত সেই বিশ্বাসই আমার সবচেয়ে বড় ক্ষতির কারণ হয়েছে।”তার অভিযোগ, তালাকের পর সম্পত্তি ফিরে পাওয়ার জন্য আইনি লড়াই শুরু করলে তাকে নানাভাবে বাধার মুখে পড়তে হয়। আদালতের দ্বারস্থ ভুক্তভোগী নিজের দাবি প্রতিষ্ঠার জন্য ফরিদা মাফরোজা বরিশাল সদর আদালতে একাধিক মামলা দায়ের করেছেন। ভুক্তভোগী পক্ষের সরবরাহ করা নথি অনুযায়ী, ০৫/২০২১ এবং ৬৪৯/২১ নম্বর মামলায় সম্পত্তি সংক্রান্ত বিরোধ ও সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো বিচারাধীন রয়েছে।তিনি অভিযোগ করেন, মামলা দায়েরের পর তাকে বিভিন্নভাবে হয়রানি করা হয়েছে এবং মিথ্যা মামলায় জড়ানোর চেষ্টা করা হয়েছে।তার আরও দাবি, এসব কার্যক্রমের পেছনে রেজাউল ইসলাম পান্না প্রত্যক্ষভাবে জড়িত। আমমোক্তারনামা ও মামলার নিয়ন্ত্রণ নিয়ে প্রশ্ন ভুক্তভোগী পক্ষের অভিযোগ অনুযায়ী, রেজাউল ইসলাম পান্না তার ভাই আহসান হাবিব লিংকনের কাছ থেকে আমমোক্তারনামা গ্রহণ করে সম্পত্তি ও আদালত-সংক্রান্ত বিষয়গুলো পরিচালনা করছেন। তাদের দাবি, মামলার কার্যক্রমে পান্নার সক্রিয় ভূমিকা রয়েছে এবং সম্পত্তি সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণেও তিনি প্রভাব বিস্তার করছেন।এ বিষয়ে আমমোক্তারনামা, মামলা সংক্রান্ত নথি এবং সাব-রেজিস্ট্রার কার্যালয়ের একটি চিঠির কপিও ভুক্তভোগী পক্ষ সরবরাহ করেছে বলে জানা গেছে। মসজিদের জমি নিয়েও নতুন অভিযোগ ব্যক্তিগত সম্পত্তি বিরোধের বাইরেও রেজাউল ইসলাম পান্নার বিরুদ্ধে ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের সম্পদ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, তার এক নিঃসন্তান চাচার দেওয়া পূর্ব চহঠা জামে মসজিদের প্রায় ১৬ শতাংশ জমি, যার বর্তমান বাজারমূল্য আনুমানিক ৫০ থেকে ৬০ লাখ টাকা, কৌশলে নিজের নামে নেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা দাবি করেছেন, বিষয়টি নিয়ে এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে আলোচনা রয়েছে। মসজিদ কমিটি ও আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ স্থানীয় সূত্রগুলোর আরও দাবি, রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রভাব ব্যবহার করে গণপাড়া দেওয়ান বাড়ি জামে মসজিদ কমিটির গুরুত্বপূর্ণ পদে আসীন হয়েছেন রেজাউল ইসলাম পান্না।একইসঙ্গে মসজিদ পরিচালনা ও আর্থিক ব্যবস্থাপনায় অনিয়মের অভিযোগও রয়েছে বলে জানিয়েছেন কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দা। স্থানীয়দের দাবি: প্রয়োজন গভীর তদন্ত গণপাড়া এলাকার কয়েকজন বাসিন্দা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, সম্পত্তি বিরোধ, রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার এবং স্থানীয় প্রভাব বিস্তারকে কেন্দ্র করে রেজাউল ইসলাম পান্না ও তার পরিবারের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরেই নানা অভিযোগ রয়েছে। তাদের মতে, সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থা বা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী নিরপেক্ষ অনুসন্ধান চালালে আরও তথ্য সামনে আসতে পারে।