Brand logo light
অনুসন্ধানী সংবাদ

গোমা সেতু: দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান, নাকি অনিয়মের প্রতীক?

গোমা সেতু নির্মাণে অনিয়ম ও দুর্নীতি: ৫৭ কোটি থেকে ৯২ কোটিতে ব্যয় বৃদ্ধি, ৯ বছরে প্রকল্প শেষ

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ১৮, ২০২৬ 0
গোমা সেতু
গোমা সেতু

মামুনুর রশীদ নোমানী,বরিশাল  :

বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলায় রাঙামাটি নদীর ওপর নির্মিত  গোমা সেতুটি দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর ২০২৬ সালের ১৭ মার্চ আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করা হয়েছে। সেতুটির নির্মাণ প্রক্রিয়া দীর্ঘায়িত হওয়া এবং ব্যয় বৃদ্ধির পেছনে বেশ কিছু অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনার অভিযোগ উঠে এসেছে।  এই সেতুর উদ্বোধনের সঙ্গে সঙ্গে সামনে এসেছে এক দীর্ঘ বিতর্কিত নির্মাণ ইতিহাস—যেখানে রয়েছে সময়ক্ষেপণ, ব্যয় বৃদ্ধি এবং অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ।

সরকারি উন্নয়ন প্রকল্প হিসেবে এটি স্থানীয় জনগণের জন্য আশার প্রতীক হওয়ার কথা থাকলেও, বাস্তবে এটি হয়ে উঠেছে প্রশ্নবিদ্ধ বাস্তবায়নের একটি উদাহরণ।


নির্মাণ ব্যয় ও সময় বৃদ্ধি 

    প্রাথমিক ও চূড়ান্ত ব্যয়: ২০১৭ সালে যখন প্রকল্পটি অনুমোদিত হয়, তখন এর প্রাথমিক ব্যয় ধরা হয়েছিল ৫৭ কোটি ৬২ লাখ টাকা । তবে কাজ শেষ হতে হতে এই ব্যয় বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯২ কোটি ৪৪ লাখ ৮৯ হাজার টাকা, যা মূল বাজেটের চেয়ে প্রায় ৩৪ কোটি টাকা বেশি ।

  সময়ক্ষেপণ: ৩ বছরের মধ্যে (২০১৮-২০২১) কাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও এটি সম্পন্ন করতে প্রায় ৯ বছর সময় লেগেছে । 

 

সেতু নির্মাণে  অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ  ও জটিলতা : 
 

 ভুল নকশা ও উচ্চতা সংক্রান্ত জটিলতা: বিআইডব্লিউটিএ-এর নিয়ম অনুযায়ী সেতুর উচ্চতা পর্যাপ্ত না হওয়ায় মাঝপথে দেড় বছর কাজ বন্ধ থাকে । পরবর্তীতে নকশা পরিবর্তন করে উচ্চতা বাড়াতে গিয়ে প্রকল্পের ব্যয় ও সময় উভয়ই অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পায় ।

বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলায় রাঙ্গামাটি নদীর ওপর গোমা সেতু নির্মাণে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এম খান গ্রুপ-এর বিরুদ্ধে নানা অনিয়ম, দুর্নীতি ও চরম গাফিলতির অভিযোগ সংবাদমাধ্যমে এসেছে। মূলত রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে এবং নকশা পরিবর্তনের সুযোগ নিয়ে কাজ দীর্ঘায়িত করার মাধ্যমে প্রকল্পের ব্যয় কয়েকগুণ বাড়িয়ে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে।

 

টাইমলাইন: কাগজে পরিকল্পনা বনাম বাস্তবতা

বছর পরিকল্পনা বাস্তব অগ্রগতি
২০১৭ প্রকল্প অনুমোদন প্রাথমিক ব্যয় ৫৭.৬২ কোটি টাকা
২০১৮ কাজ শুরু ধীরগতির সূচনা
২০২১ নির্ধারিত সমাপ্তি কাজ অসম্পূর্ণ
২০২২–২০২৪ সংশোধিত সময়সীমা বারবার স্থগিত
২০২৬ প্রকল্প শেষ ও উদ্বোধন চূড়ান্ত ব্যয় ৯২ কোটি ৪৪ লাখ ৮৯ হাজার টাকা

অনুসন্ধান: একটি সেতু, বহু প্রশ্ন

বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলার রাঙামাটি নদীর ওপর নির্মিত গোমা সেতু—যা ২০২৬ সালের ১৭ মার্চ উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে চালু হয়েছে—শুধু একটি অবকাঠামো প্রকল্প নয়, বরং এটি এখন একটি বিতর্কিত উন্নয়ন মডেলের উদাহরণ।

সরকারি নথি, স্থানীয় সূত্র এবং প্রকল্প সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, প্রকল্পটি শুরু থেকেই পরিকল্পনা, বাস্তবায়ন এবং তদারকির ক্ষেত্রে গুরুতর দুর্বলতায় ভুগেছে। এর ফল—সময় তিনগুণ, ব্যয় প্রায় দ্বিগুণ, এবং জনভোগান্তি দীর্ঘমেয়াদি।

ব্যয় বিশ্লেষণ: কোথায় গেল অতিরিক্ত ৩৪ কোটি?

প্রাথমিক ব্যয়: ৫৭ কোটি ৬২ লাখ টাকা
চূড়ান্ত ব্যয়: ৯২ কোটি ৪৪ লাখ ৮৯ হাজার টাকা

বৃদ্ধি: প্রায় ৩৪ কোটি টাকা

সম্ভাব্য কারণ (সরকারি যুক্তি অনুযায়ী):

  • নকশা পরিবর্তন

  • নির্মাণ সামগ্রীর মূল্য বৃদ্ধি

  • সময় বৃদ্ধি

অনুসন্ধানে উঠে আসা প্রশ্ন:

  • নকশা পরিবর্তন কেন শুরুতেই শনাক্ত হয়নি?

  • বিলম্বজনিত অতিরিক্ত ব্যয় কি নিয়ন্ত্রিত ছিল?

  • প্রকল্প সংশোধনে কারা অনুমোদন দিয়েছে?

অর্থনীতিবিদদের মতে, “এই ধরনের ব্যয় বৃদ্ধি সাধারণত প্রকল্প তদারকির দুর্বলতা বা ইচ্ছাকৃত অপচয়ের ইঙ্গিত দেয়।”

নকশাগত ত্রুটি: পরিকল্পনার কেন্দ্রে ব্যর্থতা

প্রকল্পের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ব্যর্থতা ছিল সেতুর উচ্চতা নির্ধারণে ভুল।

কী ঘটেছিল?

  • নদীপথে চলাচলকারী নৌযানের জন্য প্রয়োজনীয় ক্লিয়ারেন্স রাখা হয়নি

  • সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ আপত্তি জানায়

  • প্রায় দেড় বছর কাজ বন্ধ থাকে

ফলাফল:

  • পুনরায় নকশা প্রণয়ন

  • অতিরিক্ত নির্মাণ ব্যয়

  • প্রকল্প বিলম্ব

প্রশ্ন উঠেছে—ডিজাইন যাচাই প্রক্রিয়ায় কোন সংস্থা দায়িত্বে ছিল এবং তারা কেন ব্যর্থ হলো?

 

ধীরগতির নির্মাণ: কৌশল নাকি ব্যর্থতা?

স্থানীয় পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী—

  • দীর্ঘ সময় কাজ বন্ধ বা আংশিক চালু ছিল

  • শ্রমিক ও যন্ত্রপাতির উপস্থিতি অনিয়মিত ছিল

এটি ইচ্ছাকৃত বিলম্ব কিনা, তা তদন্তের দাবি রাখে।


প্রকল্প মেয়াদ বাড়ানো: প্রশাসনিক দুর্বলতা?

প্রকল্পটি অন্তত কয়েক দফা সময় বৃদ্ধি পেয়েছে।

প্রশ্ন হলো—

  • প্রতিটি সময় বৃদ্ধি কি প্রকৃত অগ্রগতির ভিত্তিতে ছিল?

  • নাকি রাজনৈতিক বা প্রভাবশালী মহলের চাপ ছিল?

দায় কার?

এই প্রকল্পে অন্তত চারটি স্তরে জবাবদিহিতার প্রশ্ন ওঠে—

১. পরিকল্পনা সংস্থা – নকশা অনুমোদনে ব্যর্থতা
২. বাস্তবায়ন সংস্থা – তদারকির ঘাটতি
৩. ঠিকাদার – কাজের গতি ও মান
৪. প্রশাসন – সময় ও ব্যয় নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতা

 

 

ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান  এম খান গ্রুপের  প্রধান অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ:

 

 মেয়াদ বাড়ানো: প্রকল্পের কাজ ২০১৮ সালে শুরু হয়ে ২০২১ সালে শেষ হওয়ার কথা থাকলেও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এম খান গ্রুপ কাজ ফেলে রাখে । পরবর্তীতে রাজনৈতিক প্রভাবে কয়েক দফায় প্রকল্পের মেয়াদ ২০২৬ সাল পর্যন্ত বাড়ানো হয়।

    ব্যয় বৃদ্ধি: কাজ শেষ করতে দেরি হওয়ায় এবং নতুন নতুন অজুহাতে বাজেট সংশোধনের মাধ্যমে প্রাথমিক ব্যয় ৫৭ কোটি ৬২ লাখ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৯২ কোটি ৪৪ লাখ ৮৯ হাজার টাকা করা হয় । অভিযোগ রয়েছে যে, এই অতিরিক্ত বরাদ্দের একটি বড় অংশই অনিয়মের মাধ্যমে আত্মসাৎ করা হয়েছে।

২. ভুল নকশায় কাজ শুরু

    ভুল উচ্চতা: সেতুটির উচ্চতা নিয়ে বিআইডব্লিউটিএ-এর আপত্তির পরও ভুল নকশায় কাজ শুরু করার জন্য ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে দায়ী করা হয় । এই জটিলতার কারণে মাঝপথে কাজ বন্ধ থাকায় কয়েক লাখ মানুষ বছরের পর বছর ফেরি,ট্রলার ও নৌকায় পারাপার হতে বাধ্য হয়েছে ।

    অর্ধসমাপ্ত কাজ: সেতুর মূল কাঠামো অনেক আগেই দাঁড়িয়ে গেলেও সংযোগ সড়ক (অ্যাপ্রোচ রোড) নির্মাণে প্রতিষ্ঠানটি বছরের পর বছর গড়িমসি করেছে ।যা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দেয় ।

৩. অন্যান্য অভিযোগ

    কালো তালিকাভুক্তির সম্ভাবনা: সরকারি বিভিন্ন কাজে এম খান গ্রুপের মালিক মাহফুজ খানের বিরুদ্ধে গাফিলতি ও অনিয়মের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় অতীতেও তাকে নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে ।

    শ্রমিক ও স্থানীয়দের পাওনা: কাজ চলাকালীন সময়ে স্থানীয় শ্রমিকদের মজুরি ও মালামাল সরবরাহকারীদের টাকা বকেয়া রাখার অভিযোগ রয়েছে  ।

এম খান গ্রুপের মালিক মাহফুজ খান তৎকালীন রাজনৈতিক নেতাদের সাথে ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের সুযোগ নিয়ে এই প্রকল্পের বাজেট বৃদ্ধি ও সময়ক্ষেপণ করেছেন। বর্তমানে সেতুটি চালু হলেও এই দীর্ঘসূত্রিতা ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে তদন্তের দাবি জানিয়েছে স্থানীয় সচেতন নাগরিকরা।


    ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের গাফিলতি: স্থানীয়দের অভিযোগ ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এম খান গ্রুপ-এর মালিক মাহফুজ খান নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করতে ব্যর্থ হয়েছেন । অভিযোগ রয়েছে যে, রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে বারবার মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে এবং নিম্নমানের কাজের বিষয়েও বিভিন্ন সময়ে স্থানীয়রা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ।

    সংযোগ সড়কের অভাব: সেতুর মূল কাজ শেষ হওয়ার পরও দীর্ঘ সময় সংযোগ সড়ক (অ্যাপ্রোচ রোড) না থাকায় সাধারণ মানুষকে মই বা সিঁড়ি বেয়ে সেতুতে উঠতে হয়েছে, যা নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা ও দুর্নীতির অভিযোগ ওঠে ।

বরিশালের রাঙ্গামাটিয়া নদীর ওপর নির্মিত গোমা সেতুর কাজ শেষ হয়েছে প্রায় নয় বছর পর।  মঙ্গলবার ( ১৭ মার্চ) দুপুরের দিকে উদ্বোধনের পর সেতুটি যান চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া হয়। সড়ক পরিবহন ও সেতু, রেলপথ এবং নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে নিয়োজিত মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম এমপি এবং রেলপথ মন্ত্রণালয় এবং সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ সেতুর উদ্ধোধন করেন।

 

সেতু নির্মাণে লেগেছে ৯ বছর:


সেতু নির্মাণে লেগেছে ৯ বছর।২০১৭ সালে প্রায় ৫৭ কোটি ৬২ লাখ টাকা ব্যয়ে তিন বছর মেয়াদি প্রকল্প হিসেবে সেতুটি অনুমোদন পায়। ২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়। কিন্তু নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ হয়নি। শুরুতেই উচ্চতা নিয়ে আপত্তি তোলে বিআইডব্লিউটিএ। তাদের দাবি ছিল, নদীপথ সচল রাখতে সেতুর উচ্চতা আরও বাড়াতে হবে। প্রথম নকশায় সেতুর মাঝ বরাবর সর্বোচ্চ জোয়ারের সময় উচ্চতা ধরা হয়েছিল ৭ দশমিক ৬২ মিটার। পরে তা বাড়িয়ে ১২ দশমিক ২০ মিটার করা হয়। এই পরিবর্তনের কারণে পুরো নকশাই সংশোধন করতে হয়। নতুন নকশায় সেতুর মাঝখানে স্টিল ট্রাস স্প্যান যুক্ত করা হয়।


পাঁচবার বাড়ানো হয় সময়সীমা, বেড়ে যায় ব্যয়ও:


নকশা পরিবর্তন, জমি অধিগ্রহণ ও নদী শাসনের কাজ যুক্ত হওয়ায় প্রকল্পটির সময়সীমা পাঁচবার বাড়ানো হয়। ব্যয়ও বেড়ে যায় উল্লেখযোগ্যভাবে। সংশোধিত প্রকল্পে সেতুর ব্যয় দাঁড়ায় প্রায় ৯২ কোটি ৪৪ লাখ ৮৯ হাজার টাকা, যা প্রাথমিক অনুমানের তুলনায় প্রায় ৬০ শতাংশ বেশি।


সেতুটির দৈর্ঘ্য ২৮৩ দশমিক ১৮৮ মিটার এবং প্রস্থ ১০ দশমিক ২৫ মিটার। দুই লেনের এই সেতুতে পিসি গার্ডারের পাশাপাশি স্টিল ট্রাস ব্যবহার করা হয়েছে, যা দক্ষিণাঞ্চলে এ ধরনের প্রথম সেতু বলে জানিয়েছেন সওজের প্রকৌশলীরা।  সেতুটির ঠিকাদার মো. মাহফুজ খান সাংবাদিকদের বলেন, উচ্চতা বৃদ্ধি, নকশা পরিবর্তন এবং নদী শাসনের কাজ বাড়ার কারণেই সময় ও ব্যয় দুইই বেড়েছে।


বরিশাল সওজের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. নাজমুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, নদীর ধারা পরিবর্তন, জমি অধিগ্রহণ এবং সেতুর উচ্চতা বৃদ্ধির কারণে বারবার নকশা সংশোধন করতে হয়েছে।  মঙ্গলবার দুপুরের দিকে উদ্বোধনের পরই সেতুটি যান চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া হয়।

 

উন্নয়ন না অপচয়?

গোমা সেতু এখন চালু—এটি নিঃসন্দেহে একটি ইতিবাচক দিক।

তবে এর নির্মাণ ইতিহাস একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন তুলে ধরে—
বাংলাদেশের উন্নয়ন প্রকল্পগুলো কি যথাযথ পরিকল্পনা ও জবাবদিহিতার মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে?

এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে হলে প্রয়োজন স্বাধীন ও স্বচ্ছ তদন্ত।

নয়তো গোমা সেতুর মতো প্রকল্প ভবিষ্যতেও পুনরাবৃত্তি হবে—
আর উন্নয়ন হবে, কিন্তু তার মূল্য দিতে হবে সাধারণ মানুষকেই।

 

মেয়াদ বৃদ্ধি: নিয়ম না ব্যতিক্রম?

প্রকল্পটি একাধিকবার সময় বৃদ্ধি পেয়েছে।

এখানে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন:

  • প্রতিবার মেয়াদ বৃদ্ধির যৌক্তিকতা কী ছিল?

  • কোনো দায় নির্ধারণ করা হয়েছিল কি?

অনেক ক্ষেত্রেই দেখা যায়, সময় বৃদ্ধি ঠিকাদারকে অতিরিক্ত আর্থিক সুবিধা দেয়।

 

জবাবদিহিতা: অমীমাংসিত প্রশ্ন

এই প্রকল্পে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন এখনো অমীমাংসিত—

  • নকশা ত্রুটির জন্য দায়ী কে?

  • ব্যয় বৃদ্ধির অনুমোদন কীভাবে দেওয়া হয়েছে?

  • প্রকল্প তদারকির দায়িত্বে থাকা সংস্থাগুলোর ভূমিকা কী ছিল?

এই প্রশ্নগুলোর উত্তর ছাড়া প্রকল্পটির পূর্ণ মূল্যায়ন সম্ভব নয়।


 তদন্তের প্রয়োজনীয়তা

বিশ্লেষকদের মতে, গোমা সেতু প্রকল্পে একটি স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্ত জরুরি।

কেন তদন্ত প্রয়োজন?

  • ব্যয় বৃদ্ধির প্রকৃত কারণ নির্ধারণ

  • অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ যাচাই

  • ভবিষ্যৎ প্রকল্পের জন্য শিক্ষা

 

সেতুটি নির্মাণ হওয়ার মাধ্যমে বরিশাল জেলা সদরের সাথে বাকেরগঞ্জের পূর্বাঞ্চল কবাই, নলুয়া, দুধল সহ পটুয়াখালীর বাউফল ও দুমকী উপজেলার মধ্যে যোগাযোগ ব্যবস্থার সহজ দ্বার উন্মোচিত হলো।

 

Popular post
ফারুকীর সম্পদ কমেছে, তিশার বেড়েছে দ্বিগুণেরও বেশি: সম্পদ বিবরণী ঘিরে আলোচনা

অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের সম্পদ বিবরণী প্রকাশের পর সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী ও তার স্ত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদের হিসাব নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। এক বছরের ব্যবধানে স্বামী ফারুকীর সম্পদ কমলেও স্ত্রী তিশার সম্পদ বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে প্রকাশিত তথ্যে উঠে এসেছে এই চিত্র। প্রকাশিত খতিয়ান অনুযায়ী, জনপ্রিয় অভিনেত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদ এক বছরে অভাবনীয় হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তিশার মোট সম্পদের পরিমাণ ছিল ১ কোটি ৪০ লাখ ৮১ হাজার ৮৬০ টাকা। ঠিক এক বছর পর, ২০২৫ সালের ৩০ জুন সেই সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ৯৯ লাখ ৮৯ হাজার ৫০১ টাকায়। অর্থাৎ মাত্র এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ বেড়েছে ১ কোটি ৫৯ লাখ ৭ হাজার ৬৪১ টাকা, যা আগের বছরের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি। অন্যদিকে সংস্কৃতি উপদেষ্টা ও নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর ক্ষেত্রে দেখা গেছে উল্টো চিত্র। এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ কমেছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তার মোট সম্পদ ছিল ২ কোটি ২৬ লাখ ৯২ হাজার ২৬ টাকা। ২০২৫ সালের ৩০ জুন তা কমে দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ১৫ লাখ ১৮ হাজার ২৬ টাকায়। হিসাব অনুযায়ী, এক বছরে তার সম্পদ কমেছে ১১ লাখ ৭৪ হাজার টাকা। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে গত মঙ্গলবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ প্রধান উপদেষ্টা, উপদেষ্টা ও সমমর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের পাশাপাশি তাদের স্ত্রী বা স্বামীর সম্পদ বিবরণী প্রকাশ করে। একই সময়ে স্বামী-স্ত্রীর সম্পদে এমন ভিন্নমুখী পরিবর্তন স্বাভাবিকভাবেই সাধারণ মানুষের কৌতূহলের জন্ম দিয়েছে। শোবিজ অঙ্গনের জনপ্রিয় দম্পতি হওয়ায় তাদের এই আয়-ব্যয়ের হিসাব এখন টক অব দ্য কান্ট্রি।

সংসার সামলাতে অটোরিকশা নিয়ে রাস্তায় নেমেছেন রোজিনা

বাসস : বাবা একজন তাঁত শ্রমিক। তিন বোন দুই ভাইয়ের মধ্যে সবার বড় রোজিনা। অভাব সংসার, তাই এক এতিম যুবকের সাথে বাবা-মা বিয়ে দেন তাকে। বিয়ের পর জন্ম হয় দুই কন্যা সন্তানের। অটোরিকশা চালিয়ে কোন রকম সংসার চালাচ্ছিলেন স্বামী রফিকুল ইসলাম। কিন্তু সড়ক দুর্ঘটনায় রফিকুলের এক চোখ সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যায়। আরেকটি চোখ আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ধীরে ধীরে ওই চোখের দৃষ্টি শক্তিও কমতে থাকে। ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে অটোরিকশা চালানো। সংসারের উপার্জনক্ষম মানুষটি অচল হয়ে পড়ায় চিকিৎসার খরচ, ঘর ভাড়া ও খাবারের পাশাপাশি মেয়েদের লেখাপড়ার খরচ চালানোই কঠিন হয়ে যায়। দিশেহারা হয়ে পরেন রোজিনা। এক পর্যায়ে মানুষের বাড়ি বাড়ি কাজ করে সংসার চালানোর চেস্টা করেন। কিন্তু সুবিধা করতে পারেন না। এমন পরিস্থিতিতে অটোরিকশা চালানোর সিদ্ধান্ত নেন তিনি। স্বামী রফিকুলের কাছেই হাতেখড়ি। গ্রামের স্কুলের মাঠে স্বামীর কাছেই অটোরিকশা চালানোর শিক্ষা নেন তিনি। পরে গ্রামের পথে নেমে পড়েন অটোরিকশা নিয়ে। ৫-৬ দিন এভাবে হাত পাকা করে একদিন টাঙ্গাইল শহরে চলে আসেন রোজিনা। এরপর শুরু করেন অটোরিক্সা চালানোর ব্যতিক্রমী জীবন সংগ্রাম। এখন টাঙ্গাইল পৌরসভায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার চালকদের মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা বেগম। জেলার বাসাইল উপজেলার আইসড়া গ্রামের বাসিন্দা রোজিনা টাঙ্গাইল পৌর শহরের এক প্রান্ত রাবনা বাইপাস থেকে আরেক প্রান্ত বেবিস্ট্যান্ডে যাত্রী আনা নেয়া করেন। যানজটের কারণে শহরে পুরুষ চালকরা যেখানে হিমসিম খায়, সেখানেই বিগত ৫ বছর ধরেই নির্বিঘেœ অটোরিকশা চালাচ্ছেন তিনি। টাঙ্গাইল পৌরসভা কার্যালয় সূত্রে জানা যাায়, টাঙ্গাইল শহরে চলাচলের জন্য ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক ও ৫ হাজার ব্যাটারিচালিত রিকশার অনুমতি (লাইসেন্স) দেওয়া হয়েছে। যানজট এড়াতে ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক জোড় ও বিজোড় সংখ্যায় দিনে দুই ভাগ করা হয়েছে। সকাল থেকে বেলা দুইটা পর্যন্ত এক ভাগ এবং বেলা দুইটা থেকে রাত পর্যন্ত আরেক ভাগের ইজিবাইক চলাচল করার নির্দেশনা দিয়েছে পৌর কর্তৃপক্ষ। কিন্তু রোজিনাকে দুই শিফটে চালানোর অনুমতি দিয়েছে পৌরসভা। সরেজমিনে দেখা যায়, নতুন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অটোরিকশা নিয়ে যাত্রী ডাকছেন রোজিনা। কলেজ গেট, পুরাতন বাসস্ট্যান্ড, ক্যাপসুল, নিরালা মোড়, বেবিস্ট্যান্ড সর্বত্রই যাত্রী আনানেয়া করেন তিনি। পুরাতন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অন্য অটো চালকদের দাঁড় করতে না দিলেও রোজিনাকে বাঁধা দেননা ট্রাফিক পুলিশ। বলতে গেলে সবাই তার প্রতি সহানুভুতিশীল। ট্রাফিক পুলিশসহ অন্য অটোচালকরাও তাকে সহযোগিতা করেন। রোজিনা বলেন, আমার অটোতে নারী যাত্রীরা খুব কম। তারা মনে করে আমার অটোতে উঠলে দুর্ঘটনায় পড়বে। কিন্তু আমি খুব সাবধানে অটো চালাই। দ্রুত গতিতেও না, আবার একেবারে ধীরগতিতেও না। এখন পর্যন্ত আমি কোন দুর্ঘটনার কবলে পড়ি নাই। শহরের পুরুষ অটোরিকশা চালকরা আমাকে অনেক সহযোগিতা করে। অটোচালক কাদের মিয়া বলেন, আমাদের শহরে কয়েক হাজার অটো চলাচল করে। তার মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। তাকে আমরা সব সময় সহযোগিতা করি। যাত্রী সাইদ মিয়া বলেন, আমি এ পর্যন্ত ৫-৬ বার রোজিনার অটোতে চড়েছি। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। অন্য পুরুষ অটো চালকের চেয়েও ভালো অটো চালান। নারী সংগঠক সেরাজুম মনিরা বলেন, তিনি অনেক দিন যাবত অটোরিকশা চালাচ্ছেন। আমি রোজিনাকে স্যালুট জানাই। একজন পুরুষের চেয়ে একজন নারী কোনো ভাবেই যে পিছিয়ে নেই, রোজিনা তা প্রমাণ করেছেন। রোজিনা বলেন, অটো চালানোর এই সিদ্ধান্তটি তার জন্য খুব সহজ ছিল না। তিনি বলেন, ৫ ও ১০ বছরের দুই মেয়েকে বাড়িতে রেখে অটোরিকশা নিয়ে সারাদিন রাস্তায় থাকতে হয়। তাদের ভালোভাবে দেখাশোনা করতে পারি না। কিন্তু কি করবো, অভাবের সংসার! এখন ঋণ নিয়ে একটু জমি কিনেছি। প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ণ প্রকল্পের অর্থায়নে প্রশাসন সেখানে ঘর তুলে দিয়েছে। শুরুতে যারা আমাকে নিয়ে ঠাট্টা করেছে এখন তারাই আমাকে সম্মান করেন। নারীরাও যে কিছু করতে পারে, তা প্রমাণ করেছি। আমার বড় মেয়ে আইসড়া উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়ে, ছোট মেয়ে পড়ে স্থানীয় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। মেয়েদের শিক্ষিত করতে হবে। ধার দেনা শোধ করতে হবে। তাই থেমে গেলো চলবে না। আমি অটোরিকশা চালিয়েই দুই সন্তানকে মানুষ করতে চাই।’ ঘারিন্দা ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য বাবুল সরকার বলেন, সরকার রোজিনাকে একটি ঘর নির্মাণ করে দিয়েছে। শুরুতে যারা তাকে নিয়ে নানান কথা বলতো, এখন তার সংকল্প ও মানষিক দৃঢ়তা দেখে থেমে গেছে। আমরা তাকে নিয়ে গর্ব করি। টাঙ্গাইলের ট্রাফিক ইন্সপেক্টর (প্রশাসন) দেলোয়ার হোসেন বলেন, শহরের একমাত্র নারী চালক রোজিনাকে কেউ যেন বিরক্ত করতে না পারে সেদিকে সব সময় নজর রাখে ট্রাফিক পুলিশ। আমরা তাকে সব সময় সহযোগিতা করে আসছি। টাঙ্গাইলের সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক শাহ আলম বলেন, বিষয়টি এখন জানতে পারলাম। ওই নারী এখনো পর্যন্ত আমাদের কাছে আসেন নাই। যদি আমাদের কাছে এসে আবেদন করেন অবশ্যই তাকে আমরা সহযেগিতা করবো, তার পাশে দাঁড়াবো।

বাংলাদেশে ঐতিহাসিক নির্বাচন: বিএনপি এগিয়ে, জামায়াতের উত্থান ও তরুণ ভোটারদের প্রভাব

২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশে আজ এক ঐতিহাসিক ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ২০০৮ সালের পর এই প্রথম একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হতে যাচ্ছে যেখানে দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগ রাজনৈতিক মানচিত্র থেকে কার্যত অনুপস্থিত। বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক জরিপ বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০০ আসনের মধ্যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) কার্যকর সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে যাচ্ছে। তবে ভোটের ব্যবধান এবং কিছু সমীকরণ নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। নির্বাচনের সবচেয়ে বড় নিয়ামক হয়ে দাঁড়িয়েছে আওয়ামী লীগের বিশাল ভোটব্যাংক। দলটির নিয়মিত প্রায় ৪ কোটি ভোটার এখন নতুন রাজনৈতিক আশ্রয় খুঁজছেন। সিআরএফ বা বিইপিওএস জরিপ বলছে, এই ভোটারদের প্রায় অর্ধেক বিএনপির দিকে ঝুঁকেছে, যা দলটিকে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতার পথে এগিয়ে দিচ্ছে। অন্যদিকে, প্রায় ৩০ শতাংশ আওয়ামী ভোটার জামায়াতে ইসলামীকে বেছে নিতে পারেন বলে আভাস পাওয়া যাচ্ছে। এছাড়া বাংলাদেশের বিদ্যমান নির্বাচনী ব্যবস্থার কারণে দেশজুড়ে সুষম জনসমর্থন থাকা বিএনপি আসন জয়ের ক্ষেত্রে জামায়াতের তুলনায় সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। তবে বিএনপির এই সম্ভাব্য জয়ের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও বিদ্রোহী প্রার্থীরা। প্রায় ৭৯টি নির্বাচনী এলাকায় দলের মনোনয়ন না পাওয়া ৯২ জন প্রভাবশালী নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, যা বিএনপির ১৫ থেকে ৩০টি আসন কমিয়ে দিতে পারে। অন্যদিকে, তরুণ ভোটার বা ‘জেন-জি’ প্রজন্মের বিশাল সমর্থন জামায়াতে ইসলামীর শক্তির উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেশের ৪৪ শতাংশ ভোটারই তরুণ, যাদের বড় একটি অংশ প্রথমবার ভোট দিচ্ছেন। এই তরুণরা যদি দলবেঁধে কেন্দ্রে উপস্থিত হন, তবে নির্বাচনী ফলে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। সবশেষে, প্রায় ১৭ থেকে ৩৫ শতাংশ দোদুল্যমান ভোটার এবং তাদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করবে আগামীর সরকার কতটা শক্তিশালী হবে। দ্য নিউইয়র্ক এডিটোরিয়ালের মূল পূর্বাভাস, তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি প্রায় ১৮৫টি আসনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করতে পারে এবং জামায়াতে ইসলামী ৮০টির মতো আসন পেয়ে প্রধান বিরোধী দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারে। তবে বিদ্রোহী প্রার্থীদের প্রভাব এবং তরুণ ভোটারদের উপস্থিতির ওপর ভিত্তি করে আসন সংখ্যায় বড় ধরনের হেরফের হওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

গাজায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা ট্রাম্প প্রশাসনে

ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। ৩৫০ একরের ঘাঁটিটিতে সামরিক বাহিনীর পাঁচ হাজার সদস্য থাকতে পারবে। গাজার ‘বোর্ড অব পিস’র নথি পর্যালোচনা করে এ তথ্য জানিয়েছে দ্য গার্ডিয়ান। প্রতিবেদনে ব্রিটিশ সংবাদ মাধ্যমটি জানিয়েছে, বোর্ড অব পিসে গাজাকে নিরাপদ করার জন্য ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যাবিলাইজেশন ফোর্স (আইএসএফ) নামে একটি আন্তর্জাতিক বাহিনী মোতায়েনের কথা বলা হয়েছে। যে স্থানটি ঘাঁটি করার জন্য বিবেচনা করা হচ্ছে সেখানে আইএসএফের সদস্যরা থাকবে। বোর্ড অব পিসের প্রধান হবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আর সংগঠনটির আংশিক নেতৃত্ব দেবেন ট্রাম্পের জামাতা জ্যারার্ড কুশনার।দ্য গার্ডিয়ান বোর্ড অব পিসের নথি পর্যালোচনা করে জানায়, ধাপে ধাপে একটি সামরিক ঘাঁটি নির্মাণ করা হবে। সবকিছু শেষ হলে ঘাঁটিটি ১৫ লাখ ১৭ হাজার ৫৭৫ বর্গমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত হবে। ঘাঁটিটির চারপাশে ট্রেইলার সংযুক্ত ২৬টি সাঁজোয়া নজরদারি টাওয়ার থাকবে। এছাড়া একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, বাংকার ও অস্ত্র রাখার গুদাম থাকবে। পুরো ঘাঁটিটি কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে ঘিরে রাখা হবে। সামরিক ঘাঁটি নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে দক্ষিণ গাজার একটি শুষ্ক সমতলভূমিতে। সেখানে ইসরায়েলি হামলার চিহ্ন রয়েছে। ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে বিভিন্ন ধাতবের ধ্বংসাবশেষ।  ওই এলাকার ভিডিও পর্যালোচনা করেছে দ্য গার্ডিয়ান। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, ঘাঁটি নির্মাণের জন্য টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে। যুদ্ধক্ষেত্রে কাজের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন আন্তর্জাতিক নির্মাণ কোম্পানিগুলোর একটি ছোট দলকে ইতোমধ্যেই এলাকাটি দেখানো হয়েছে। ওই দলটি দরপত্রে অংশ নিতে আগ্রহী।    ইন্দোনেশিয়া সরকার গাজায় আট হাজার সেনা সদস্য পাঠানোর জন্য প্রস্তাব দিয়েছে। বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটন ডিসিতে বোর্ড অব পিসের অনানুষ্ঠানিক বৈঠকে ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্টের অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। এছাড়া দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার আরও তিন নেতার ওই বৈঠকে অংশ নেবেন বলে জানা গেছে। জাতিসংঘের নিরাপত্তা কাউন্সিল গাজার সাময়িক স্থিতিশীলতার জন্য অস্থায়ীভাবে সামরিক বাহিনী মোতায়েনের অনুমোদন দিয়েছে। নিরাপত্তা কাউন্সিলই বোর্ড অব পিসের মূল হোতা। গাজার সীমান্ত ও শান্তি প্রণয়নে কাজ করবে আইএসএফ। এছাড়া বেসামরিকদের সুরক্ষা এবং ফিলিস্তিনি পুলিশ বাহিনীকে প্রশিক্ষণ ও সহায়তা দেবে তারা। যদি গাজায় ফের সংঘর্ষ হয়, ইসরায়েল বোমা হামলা চালায় অথবা হামাস হামলা চালায় সেক্ষেত্রে আইএসএফ কি করবে তা এখনও স্পষ্ট নয়। গাজা পুনর্গঠনে ইসরায়েল হামাসকে নিরস্ত্রীকরণের যে শর্ত দিয়েছে সেটির জন্য আইএসএফ কাজ করবে কিনা তাও স্পষ্ট না। ইতোমধ্যে বোর্ড অব পিসে ২০ এর অধিক দেশ যোগ দিয়েছে। তবে, এখনও অনেক পরাশক্তি এর থেকে দূরে রয়েছে। জাতিসংঘের অনুমোদন নিয়ে প্রতিষ্ঠিত হলেও ধারণা করা হচ্ছে, সংগঠনটির স্থায়ী নেতৃত্ব ও নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে। রুটজার্স বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক আদিল হক বলেন, “বোর্ড অব পিস এক ধরনের আইনি কল্পসত্তা। নামমাত্রভাবে এর নিজস্ব আন্তর্জাতিক আইনগত সত্তা রয়েছে, যা জাতিসংঘ ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে আলাদা। কিন্তু বাস্তবে এটি যুক্তরাষ্ট্রের ইচ্ছামতো ব্যবহারের জন্য একটি ফাঁপা খোলসমাত্র।” বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গাজা পুনর্গঠনে যে অর্থায়ন ও শাসন কাঠামো হচ্ছে তা অস্বচ্ছ। কয়েকজন ঠিকাদার গার্ডিয়ানকে জানান, গাজায় কাজ করার জন্য মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে তাদের প্রায়শ আলোচনা সরকারি ইমেলের বদলে সিগন্যালের মাধ্যমে করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রের তথ্য মতে, ঘাঁটি নির্মাণের সিদ্ধান্তটি বোর্ড অব পিসের। এতে সহায়তা করছে মার্কিন কর্মকর্তারা। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ঘাঁটিতে তৈরি বাংকার নেটওয়ার্কের মতোন কাজ করবে। প্রতিটি বাংকারের ২৪ মিটারের হবে। উচ্চতা থাকবে আড়াই মিটার। এগুলো এমনভাবে করা হবে যেন সেনা সদস্যরা আশ্রয় নিতে পারে। স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসের গাজায় সুড়ঙ্গ নেটওয়ার্ক বা টানেল রয়েছে। সেগুলোর আদলে নেটওয়ার্ক করতে চাওয়া হচ্ছে। পিস অব বোর্ডের নথি পর্যালোচনা করে এমন দাবি করছে গার্ডিয়ান। সংবাদ মাধ্যমটি বলছে,  স্থানটির ভূ-ভৌত জরিপ পরিচালনা করবে ঠিকাদাররা। নথির এক অংশে ‘হিউম্যান রেমিয়েনস প্রোটোকল’র কথা বলা হয়েছে। এর মানে দাঁড়ায়, সন্দেহভাজন মানব অবশিষ্ট বা সাংস্কৃতিক নিদর্শন পাওয়া গেলে অবিলম্বে সেই এলাকায় সব কাজ বন্ধ করতে হবে। চুক্তি কর্মকর্তাকে দিকনির্দেশনার জন্য অবিলম্বে জানাতে হবে। গাজা সিভিল ডিফেন্সের ধারণা, গাজার ধ্বংসস্তূপের নিচে ১০ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনির মরদেহ রয়েছে। ঘাঁটির জন্য যে স্থানটি বিবেচিত করা হচ্ছে সেটির মালিক কে তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে, দক্ষিণ গাজার বেশিরভাগ অংশ  বর্তমানে ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণে। জাতিসংঘের অনুমান, যুদ্ধ চলাকালীন ১৯ লাখ ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত হয়েছে। ফিলিস্তিনের জমিতে সরকারের অনুমতি না নিয়ে সামরিক ঘাঁটি স্থাপনকে দখল হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন ফিলিস্তিনি-কানাডিয়ান আইনজীবী এবং প্রাক্তন শান্তি আলোচক দিয়ানা বুট্টু। তিনি প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়ে বলেন, “কার অনুমতিতে তারা সামরিক ঘাঁটি স্থাপন করবে।” বিষয়টি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা বোর্ড অব পিসের কথা টানেন। ট্রাম্প প্রশাসনের একজন কর্মকর্তা সামরিক ঘাঁটির চুক্তি নিয়ে আলোচনা করতে অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, “যেমনটি প্রেসিডেন্ট বলেছেন, কোনও মার্কিন সেনা স্থলভাগে যাবে না। আমরা লিক হওয়া নথি নিয়ে আলোচনা করবো না।”

কুড়িগ্রামের তাজু ভাই ২.০: ‘সরকারি রেটে জিলাপি’ প্রশ্নে ভাইরাল এক নির্মাণশ্রমিকের গল্প

বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের প্রত্যন্ত চরাঞ্চল থেকে উঠে এসে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার কেন্দ্রে এখন তাইজুল ইসলাম, যিনি অনলাইনে পরিচিত ‘তাজু ভাই ২.০’ নামে। মাত্র একটি ভিডিও—যেখানে তিনি এক দোকানিকে প্রশ্ন করেন, “জিলাপি আজকে কত করে বেচতেছেন সরকারি রেটে?”—এই সরল উপস্থাপনাই তাকে রাতারাতি ভাইরাল করে তোলে।  কয়েক ঘণ্টায় ফলোয়ার লাখ ছাড়াল রোববার রাত পর্যন্ত তার ফেসবুক অনুসারী ছিল প্রায় ৩৫ হাজার। কিন্তু সোমবার সন্ধ্যা থেকে রাতের মধ্যেই তা বেড়ে এক লাখের বেশি হয়ে যায়। ভাইরাল ভিডিওটি ইতোমধ্যে প্রায় ৫০ থেকে ৫৫ লাখবার দেখা হয়েছে।  কী ছিল সেই ভিডিওতে? ভিডিওতে দেখা যায়, কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীর নারায়ণপুর বাজারে দাঁড়িয়ে স্থানীয় ভাষায় তিনি জিলাপির দাম জানতে চান। তার কথাগুলো ছিল একেবারেই সহজ ও গ্রাম্য ভঙ্গিতে— “সাদাডা কত, লালডা কত? সরকারি রেটে বেচতেছেন?” এই সরল প্রশ্নই সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।  কোথা থেকে উঠে এলেন তাজু ভাই? কুড়িগ্রাম জেলার নাগেশ্বরী উপজেলার নারায়ণপুর ইউনিয়নের একটি দুর্গম গ্রামে জন্ম তার। ব্রহ্মপুত্র নদবেষ্টিত এই অঞ্চলে পৌঁছাতে এখনও কয়েকটি নৌঘাট পার হতে হয়। দারিদ্র্যের কারণে কখনো স্কুলে যাওয়া হয়নি তার। পেশায় তিনি একজন নির্মাণশ্রমিকের সহকারী (হেলপার)। কাজের ফাঁকে ঢাকায় থাকাকালীন মোবাইল ফোনে ভিডিও তৈরি করাই তার শখ। ব্যক্তিগত সংগ্রাম তাইজুল ইসলামের পরিবারে ছয় ভাই-বোন। তিনি সবার বড়। তার বাবা-মা দুজনই শ্রবণপ্রতিবন্ধী। পরিবার চালাতে তাকে ছোটবেলা থেকেই সংগ্রাম করতে হয়েছে। তিনি বলেন, “পরিবারের কষ্ট ভুলতেই ভিডিও করি। আমি সাংবাদিক না, কিন্তু আমাদের এলাকায় কেউ আসে না—তাই নিজেরাই ভিডিও বানাই।” ভাইরাল হওয়ার পেছনের উদ্দেশ্য তাইজুলের দাবি, তার ভিডিও শুধুই বিনোদনের জন্য নয়। তিনি চান তার এলাকার অবহেলিত মানুষের কথা প্রশাসনের নজরে আসুক। “আমি চাই চরের মানুষের উন্নয়ন হোক,”—বলছেন তিনি।  মিশ্র প্রতিক্রিয়া ভিডিওটি নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে দুই ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ তার সরলতা ও বাস্তবতা তুলে ধরার চেষ্টা প্রশংসা করছেন আবার কেউ তাকে নিয়ে ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ করছেন তবে এসব সমালোচনায় তিনি বিচলিত নন।

নিজস্ব প্রতিবেদক

অনুসন্ধানী সংবাদ

View more
প্রধান প্রকৌশলী মনিরুজ্জামান
সওজের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী মনিরুজ্জামানের বিরুদ্ধে টেন্ডার জালিয়াতি, কমিশন বাণিজ্য ও অবৈধ সম্পদের অভিযোগ

সওজে ‘টেন্ডার সিন্ডিকেট’: মনিরুজ্জামানের বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও অবৈধ সম্পদের অভিযোগ ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের (সওজ) অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী মো. মনিরুজ্জামানের বিরুদ্ধে দুর্নীতি, টেন্ডার জালিয়াতি, কমিশন বাণিজ্য এবং অবৈধ সম্পদ অর্জনের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। বিভিন্ন দপ্তরসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা, ঠিকাদার ও অভিযোগপত্রের তথ্য অনুযায়ী, তিনি দীর্ঘদিন ধরে সওজের গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক ও প্রকল্প বাস্তবায়ন কাঠামোর ওপর প্রভাব বিস্তার করে একটি শক্তিশালী ঠিকাদারি সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগে বলা হয়েছে, আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে সাবেক সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত মনিরুজ্জামান কক্সবাজার, মুন্সিগঞ্জ, রংপুর ও রাজশাহীসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চলে দায়িত্ব পালনকালে প্রভাবশালী অবস্থান গড়ে তোলেন। রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর তিনি নিজেকে নতুন রাজনৈতিক পরিচয়ে উপস্থাপন করে প্রশাসনিক প্রভাব ধরে রাখার চেষ্টা করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। প্রশাসন ও বদলি বাণিজ্যের অভিযোগ বর্তমানে সওজের জনবল নিয়ন্ত্রণ ও বদলি-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ শাখায় তাঁর অদৃশ্য প্রভাব বজায় রয়েছে বলে একাধিক কর্মকর্তা দাবি করেছেন। অভিযোগ অনুযায়ী, মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সুবিধাজনক পোস্টিং ও বদলির ক্ষেত্রে মোটা অঙ্কের আর্থিক লেনদেন হয়ে থাকে। সওজের একাধিক কর্মকর্তা বলেছেন, প্রশাসন ও সংস্থাপন শাখা সাধারণত রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত বিশ্বস্ত কর্মকর্তাদের নিয়ন্ত্রণে থাকে। মনিরুজ্জামানের ক্ষেত্রে আওয়ামী লীগের উচ্চপর্যায়ের রাজনৈতিক মহলের সঙ্গে তাঁর সম্পর্কের কারণেই তিনি দীর্ঘদিন এই প্রভাব ধরে রাখতে সক্ষম হন বলে তাঁদের দাবি। কক্সবাজারে ১৫০ কোটি টাকার অনিয়মের অভিযোগ অনুসন্ধানসংশ্লিষ্ট নথি ও অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, কক্সবাজার সড়ক বিভাগে নির্বাহী প্রকৌশলী হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে অতিরিক্ত প্রাক্কলন দেখিয়ে প্রায় ১৫০ কোটি টাকার আর্থিক অনিয়ম সংঘটিত হয়। সেখানে সমুদ্র উপকূলীয় ও পর্যটন অবকাঠামো উন্নয়নের নামে বরাদ্দ পাওয়া প্রকল্পগুলোর কাজ সম্পন্ন না করেই বিল উত্তোলনের অভিযোগও রয়েছে। সংশ্লিষ্টদের ভাষ্য অনুযায়ী, ভুয়া বিল-ভাউচার ও অতিরিক্ত ব্যয় দেখানো ছিল নিয়মিত চর্চা। পরবর্তীতে রাজশাহী জোনে তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী হিসেবে পদোন্নতি পাওয়ার পর তাঁর বিরুদ্ধে টেন্ডার নিয়ন্ত্রণের অভিযোগ আরও জোরালো হয়ে ওঠে। ‘কোর সিন্ডিকেট’ গঠনের অভিযোগ রাজশাহীতে দায়িত্ব পালনকালে ৪ থেকে ৫ জন প্রভাবশালী ঠিকাদারকে নিয়ে একটি নির্দিষ্ট সিন্ডিকেট গড়ে তোলার অভিযোগ রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। একাধিক ঠিকাদার অভিযোগ করেছেন, নির্ধারিত কমিশন বা ‘পার্সেন্টেজ’ নিশ্চিত না করলে কোনো ঠিকাদারের পক্ষে টেন্ডারে অংশ নেওয়া কিংবা কাজ পাওয়া কার্যত অসম্ভব হয়ে পড়েছিল। রংপুর ও রাজশাহী অঞ্চলে অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে নির্দিষ্ট কয়েকটি লাইসেন্সধারী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে তাঁর ঘনিষ্ঠ আর্থিক সম্পর্কের তথ্য দুদকে জমা পড়া অভিযোগেও উল্লেখ রয়েছে। এর মধ্যে “আমিনুল ইসলাম কনস্ট্রাকশন” নামের একটি প্রতিষ্ঠানের কথাও উঠে এসেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, সরকারি ক্রয় বিধিমালা (পিপিআর) লঙ্ঘন করে দরপত্রের শর্ত এমনভাবে তৈরি করা হতো, যাতে নির্দিষ্ট সিন্ডিকেট ছাড়া অন্য কেউ প্রতিযোগিতায় টিকতে না পারে। নিম্নমানের কাজ ও পুনঃসংস্কারের চক্র মুন্সিগঞ্জ সড়ক বিভাগে দায়িত্ব পালনকালে সড়ক সংস্কার ও রক্ষণাবেক্ষণ প্রকল্পে নিম্নমানের কাজের অভিযোগও রয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, বিপুল অর্থ ব্যয়ে নির্মিত বা সংস্কার করা সড়ক বর্ষা শুরুর আগেই চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ে। যোগাযোগ বিশেষজ্ঞদের মতে, কমিশনভিত্তিক প্রকল্প অনুমোদনের সংস্কৃতি সড়ক নির্মাণে নিম্নমানের উপকরণ ব্যবহারের অন্যতম কারণ। ফলে এক থেকে দুই বছরের মধ্যেই জাতীয় ও আঞ্চলিক মহাসড়ক পুনরায় সংস্কারের তালিকায় চলে আসে। কমিশন ছাড়া ফাইল নড়ত না—অভিযোগ সওজের পরিকল্পনা ও উন্নয়ন উইংয়ের একাধিক সূত্র দাবি করেছে, বিভিন্ন প্রকল্পের প্রশাসনিক ও কারিগরি অনুমোদনের ক্ষেত্রে ৫ থেকে ৮ শতাংশ পর্যন্ত কমিশন ছাড়া কোনো ফাইল অনুমোদন হতো না। সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, ঠিকাদারদের কাছ থেকে অগ্রিম কমিশন নেওয়ার কারণে নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার হলেও চূড়ান্ত বিল অনুমোদনে বাধা থাকত না। টিআইবির পর্যবেক্ষণ ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)-এর সাম্প্রতিক পর্যবেক্ষণ ও গবেষণায় সড়ক খাতের উন্নয়ন প্রকল্পে গড়ে ২৩ থেকে ৪০ শতাংশ পর্যন্ত দুর্নীতি ও অর্থ আত্মসাতের তথ্য উঠে এসেছে। টিআইবির নির্বাহী পরিচালক বলেন, “সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের প্রকল্প বাস্তবায়নে দীর্ঘদিন ধরে একটি প্রাতিষ্ঠানিক সিন্ডিকেট কাজ করছে। রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক পৃষ্ঠপোষকতা ছাড়া কোনো কর্মকর্তার পক্ষে এত দীর্ঘ সময় টেন্ডার নিয়ন্ত্রণ ও বিপুল সম্পদ গড়ে তোলা সম্ভব নয়।” তিনি আরও বলেন, “যদি কোনো কর্মকর্তার বিরুদ্ধে শতকোটি টাকার অবৈধ সম্পদ ও টেন্ডার জালিয়াতির সুনির্দিষ্ট অভিযোগ থাকে, তাহলে তাঁর বিরুদ্ধে দ্রুত বিভাগীয় ও আইনি ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।” অবৈধ সম্পদের অভিযোগ অভিযোগ অনুযায়ী, ফরিদপুরে আদি বাড়ি থাকা মনিরুজ্জামান গত এক দশকে ঢাকা, ফরিদপুর ও রাজশাহীতে বিপুল পরিমাণ স্থাবর সম্পদ গড়ে তুলেছেন। অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, ফরিদপুরে কৃষি ও অকৃষি জমি, রাজশাহীতে বাণিজ্যিক প্লট ও ফ্ল্যাট, এবং ঢাকার বনানী, গুলশান, বসুন্ধরা ও নিকেতন এলাকায় তাঁর ও আত্মীয়স্বজনদের নামে একাধিক মূল্যবান সম্পত্তি রয়েছে। এছাড়া ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে বিপুল অঙ্কের এফডিআর ও সঞ্চয়পত্রের তথ্যও অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে। একজন সরকারি গ্রেড-২ বা গ্রেড-৩ কর্মকর্তার বৈধ আয়ের সঙ্গে এই সম্পদের অসামঞ্জস্য রয়েছে বলে সংশ্লিষ্টদের দাবি। বিদেশে অর্থ পাচারের অভিযোগ গোয়েন্দা সূত্রের বরাতে অভিযোগ করা হয়েছে, হুন্ডির মাধ্যমে তাঁর বিপুল পরিমাণ অর্থ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও দুবাইয়ে পাচার করা হয়েছে। দুদকের একটি দায়িত্বশীল সূত্র জানিয়েছে, তাঁর ব্যাংক হিসাব, সম্পত্তির দলিল ও আর্থিক লেনদেনের তথ্য যাচাই করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদের প্রাথমিক তথ্যপ্রমাণ সংগ্রহ করা হয়েছে বলেও সূত্রটি দাবি করেছে। দুদকের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, “মনিরুজ্জামানের বিরুদ্ধে টেন্ডার বাণিজ্য, ক্ষমতার অপব্যবহার ও অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ কমিশনে প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। প্রয়োজনীয় তথ্য যাচাই শেষে নিয়ম অনুযায়ী অনুসন্ধান কর্মকর্তা নিয়োগ করা হবে।” সওজের ভেতরে অসন্তোষ নাম প্রকাশ না করার শর্তে সওজের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বলেন, “কিছু প্রভাবশালী কর্মকর্তা নিজস্ব সিন্ডিকেট ও অবৈধ অর্থের জোরে পুরো প্রশাসনিক কাঠামো নিয়ন্ত্রণ করছেন। এতে সৎ কর্মকর্তারা কোণঠাসা হয়ে পড়ছেন।” তিনি আরও বলেন, “ই-জিপি ব্যবস্থায় কারিগরি প্রতিবন্ধকতা তৈরি করে অনেক ঠিকাদারকে প্রতিযোগিতা থেকে বাইরে রাখা হচ্ছে।” বক্তব্য পাওয়া যায়নি এই অভিযোগগুলোর বিষয়ে বক্তব্য জানতে মো. মনিরুজ্জামানের দপ্তরে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁকে পাওয়া যায়নি। তাঁর ব্যক্তিগত মুঠোফোনে একাধিকবার কল ও বার্তা পাঠানো হলেও কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। মন্ত্রণালয়ের প্রতিক্রিয়া সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেছেন, “কোনো কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দুর্নীতি, টেন্ডারবাজি বা অবৈধ সম্পদের অভিযোগের সুনির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া গেলে সরকার শূন্য সহনশীলতা নীতি অনুসরণ করবে।” তিনি বলেন, “দুদক বা অন্য কোনো তদন্ত সংস্থা তথ্য চাইলে মন্ত্রণালয় পূর্ণ সহযোগিতা করবে।”

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ১৮, ২০২৬ 0
নির্বাহী প্রকৌশলী ড. মো. শফিকুল ইসলাম

গণপূর্ত অধিদপ্তরে টেন্ডার কারসাজির অভিযোগ: নির্বাহী প্রকৌশলীসহ কয়েক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে কমিশন বাণিজ্যের দাবি

এ্যাংকর সিমেন্ট ফ্যাক্টরী

এ্যাংকর সিমেন্ট ফ্যক্টরী বন্ধ,ভ্যাট ফাঁকি ও অতিরিক্ত রেয়াত সুবিধা নেয়ায় তোলপাড় বরিশাল কাস্টমস- ভ্যাট অফিস

বরিশাল এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে ঘুষ ও দুর্নীতির অভিযোগ

বরিশাল এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী আল ইমরানের বিরুদ্ধে ঘুষ-কমিশন বাণিজ্যের অভিযোগ

বাংলাদেশ রেলওয়ের ডিজি আফজাল হোসেন
বাংলাদেশ রেলওয়ের ডিজি আফজাল হোসেনের বিরুদ্ধে হাজার কোটি টাকার দুর্নীতির অভিযোগ

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : বাংলাদেশ রেলওয়ের মহাপরিচালক (ডিজি) আফজাল হোসেনের বিরুদ্ধে হাজার হাজার কোটি টাকার দুর্নীতি, ঘুষ বাণিজ্য, অনিয়ম ও অর্থপাচারের অভিযোগ এনে দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) লিখিত আবেদন দিয়েছেন রেলওয়ের সাবেক প্রধান প্রকৌশলী রমজান আলী। গত ৫ এপ্রিল জমা দেওয়া ওই অভিযোগপত্রে আফজাল হোসেনকে “দুর্নীতির সিন্ডিকেটের প্রধান”, “ঘুষখোর” এবং সাবেক সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের “পোষ্যপুত্র” বলে উল্লেখ করা হয়েছে। অভিযোগপত্রে বলা হয়, পদ্মা সেতু রেলপথ নির্মাণ প্রকল্প এবং খুলনা-মোংলা রেললাইন প্রকল্পে প্রকল্প পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে আফজাল হোসেন ব্যাপক আর্থিক অনিয়ম করেছেন। একই সঙ্গে রেলওয়ের শীর্ষ পদে নিয়োগ পেতেও তিনি ঘুষ দিয়েছেন বলে অভিযোগে দাবি করা হয়। রমজান আলী অভিযোগ করেন, “রেলওয়েকে একটি দুর্নীতির স্বর্গরাজ্যে পরিণত করা হয়েছে”, যেখানে ঠিকাদার, আমলা ও রাজনৈতিক প্রভাবশালীদের সমন্বয়ে একটি শক্তিশালী চক্র কাজ করেছে। পদ্মা সেতু রেল প্রকল্পে ‘সাড়ে ১৩ হাজার কোটি টাকার অনিয়ম’ অভিযোগপত্রে সবচেয়ে গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে পদ্মা সেতু রেলপথ নির্মাণ প্রকল্প ঘিরে। সাবেক প্রধান প্রকৌশলীর দাবি, প্রকল্পের মূল চুক্তিপত্রের বিভিন্ন কাজ বাতিল করে সম্পূরক চুক্তির মাধ্যমে ব্যয় অস্বাভাবিকভাবে বাড়ানো হয়। এতে সরকারের হাজার হাজার কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, রেললাইনের এমব্যাংকমেন্ট নির্মাণে নির্ধারিত পাথরের পরিবর্তে কম খরচের ইটের খোয়া ব্যবহারের অনুমোদন দেওয়া হয়। অভিযোগে বলা হয়, এতে ঠিকাদারদের শত শত কোটি টাকার আর্থিক সুবিধা দেওয়া হয় এবং বিনিময়ে মোটা অঙ্কের ঘুষ নেওয়া হয়। রমজান আলীর দাবি, এই প্রকল্পে প্রায় সাড়ে ১৩ হাজার কোটি টাকার অডিট আপত্তিও রয়েছে। তিনি আরও অভিযোগ করেন, ঠিকাদারদের কাছ থেকে নেওয়া বিপুল পরিমাণ অর্থ বিদেশে পাচার করা হয়েছে এবং এর একটি অংশ অস্ট্রেলিয়ায় পাঠানো হয়েছে, যেখানে আফজাল হোসেনের সন্তানরা বসবাস করেন। খুলনা-মোংলা রেললাইন প্রকল্পেও অনিয়মের অভিযোগ খুলনা-মোংলা পোর্ট রেললাইন নির্মাণ প্রকল্প নিয়েও একই ধরনের অভিযোগ আনা হয়েছে। অভিযোগে বলা হয়, ভারতীয় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছ থেকে নিয়মিত ঘুষ গ্রহণের বিনিময়ে নিম্নমানের কাজ অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। রূপসা সেতু প্রকল্পে ব্যয় বৃদ্ধির মাধ্যমেও অনিয়ম করা হয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়। ‘১০ কোটি টাকা ঘুষ দিয়ে ডিজি পদ’ রমজান আলীর অভিযোগপত্রে আরও দাবি করা হয়, রেলওয়ের মহাপরিচালক পদে নিয়োগ পেতে আফজাল হোসেন প্রায় ১০ কোটি টাকা ঘুষ দিয়েছেন। তিনি অভিযোগ করেন, মেধা ও জ্যেষ্ঠতার ভিত্তিতে অন্য কর্মকর্তারা এগিয়ে থাকলেও প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক প্রভাব ব্যবহার করে আফজাল হোসেন গুরুত্বপূর্ণ পদগুলো পেয়েছেন। অভিযোগে বলা হয়, “দুদকের ছাড়পত্র ছাড়াই” তাকে মহাপরিচালক পদে নিয়োগ দেওয়া হয়, যা সরকারি বিধিবিধানের পরিপন্থী। ‘দুর্নীতির সিন্ডিকেট’ পরিচালনার অভিযোগ অভিযোগপত্রে রেলওয়ের অভ্যন্তরে একটি প্রভাবশালী দুর্নীতির চক্রের কথাও তুলে ধরা হয়েছে। রমজান আলীর ভাষ্য, গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প, টেন্ডার ও সরবরাহ কাজ নির্দিষ্ট ঠিকাদারদের দেওয়া হতো এবং বিনিময়ে কমিশন আদায় করা হতো। তিনি দাবি করেন, বিভিন্ন প্রকল্পে ঠিকাদারদের কাছ থেকে চুক্তিমূল্যের ১০ শতাংশ পর্যন্ত ঘুষ নেওয়া হয়েছে। কোথাও কোথাও নিম্নমানের কাজ করে পুরো বিল তুলে নেওয়ারও অভিযোগ আনা হয়েছে। রাজনৈতিক পরিচয় বদলের অভিযোগ অভিযোগপত্রে আরও বলা হয়, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় ক্ষমতাসীনদের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত আফজাল হোসেন সরকার পরিবর্তনের পর দ্রুত রাজনৈতিক অবস্থান বদলে বিএনপিপন্থী পরিচয়ে সক্রিয় হন। রমজান আলীর অভিযোগ, “ক্ষমতার পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে নিজের অবস্থান বদলে প্রভাব ধরে রাখার চেষ্টা করেছেন” আফজাল হোসেন। তদন্ত ও সম্পদ জব্দের দাবি দুদকের কাছে দেওয়া আবেদনে আফজাল হোসেন ও তার পরিবারের সদস্যদের নামে থাকা সম্পদের অনুসন্ধান, ব্যাংক হিসাব জব্দ এবং বিদেশে পাচার হওয়া অর্থ ফেরত আনার দাবি জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে একটি স্বাধীন তদন্ত কমিশন গঠনের আহ্বান জানিয়ে অভিযোগকারী বলেন, “রেলওয়েকে ধ্বংসের হাত থেকে বাঁচাতে দায়ীদের জবাবদিহির আওতায় আনা জরুরি।” এই অভিযোগের বিষয়ে বাংলাদেশ রেলওয়ে বা আফজাল হোসেনের আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।অভিযোগপত্রে উত্থাপিত দাবিগুলোর বিষয়ে স্বাধীন তদন্ত ও প্রমাণ উপস্থাপনই চূড়ান্তভাবে বিষয়টির সত্যতা নির্ধারণ করবে।

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ১৭, ২০২৬ 0
এলজিইডি কুমিল্লা জেলা নির্বাহী প্রকৌশলীর কার্যালয়ের উপসহকারী প্রকৌশলী একরামুল হক

৪৯ হাজার টাকা বেতনের এলজিইডি কর্মকর্তার ৫০ কোটি টাকার সম্পদ

প্রিমিয়ার ব্যাংক

প্রিমিয়ার ব্যাংকের এলসির আড়ালে ১০ হাজার কোটি টাকা পাচার: বাংলাদেশ ব্যাংকের তদন্তে ভয়াবহ অনিয়ম

মোঃ হেলাল উদ্দিন,সহকারি পরিচালক,আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিস, মাদারীপুর।

৪৫ হাজার টাকার চাকরি, ৫৯ কোটির সম্পদের অভিযোগ

এ্যাংকর সিমেন্ট
এ্যাংকর সিমেন্টের বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন, আর্থিক সংকট,উৎপাদন বন্ধ ,বহুমাত্রিক সংকটে বন্ধ হওয়ার দ্বারপ্রান্তে এ্যাংকর সিমেন্ট ফ্যাক্টরী

ইত্তেহাদ নিউজ অনলাইন: চারদিক অন্ধকার।কারো মোবাইল বন্ধ।কারো সচল।সচল থাকলেও কল রিসিভ করছেননা।সকল দিক থেকে পাওনাদারদের আওয়াজ।কোন সারা শব্দ নাই।এ্যাংকর সিমেন্ট ফ্যাক্টরীতে নেই বিদ্যুৎ, নেই পানি।হাহাকার অবস্থা।বেতন -ভাতা বকেয়ার কারনে চলছে কর্ম বিরতি।বন্ধ উৎপাদন।অচলাবস্থায় মালিক পক্ষ ভাড়ায় ও বিক্রির জন্য বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের সাথে যোগাযোগ করছেন।তবে কেউ দ্বায়িত্ব নিতে আগ্রহী হয়নি।কারন পাশে বৃহৎ ঔষধ কোম্পানীর ফ্যাক্টরী রয়েছে। এ্যাংকর সিমেন্টের ধুলাবালিতে ওখানের পরিবেশ দুষনের রেট অনেক উচ্চ।পরিবেশ অধিদপ্তরকে ঘুষ দিয়ে প্রতি বছর অলিম্পিক সিমেন্ট কর্তৃপক্ষ পরিবেশ ছাড়পত্র নবায়ন করেন বলে অভিযোগ রয়েছে।   তিন কোটি টাকার বেশি বকেয়া, বিচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সংযোগ:    ব্যাগ ফ্যাক্টরীর পর এবার এ্যাংকর সিমেন্ট ফ্যাক্টরী বন্ধ। এরই মাঝে ১৪ মে বেলা ১১ টার দিকে তিন কোটি টাকারও বেশী বিদ্যুৎ বিল বকেয়া থাকার কারনে এ্যাংকর সিমেন্ট ফ্যাক্টরীর বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করেছে বিদ্যুৎ বিভাগ। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ওজোপাডিকো বরিশালের বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগ-১ এর নির্বাহী প্রকৌশলী মনজুল কুমার স্বর্ণকার। পাওনাদারদের তালিকা হচ্ছে দীর্ঘ :    অলিম্পিক সিমেন্ট লিমিটেড বর্তমানে দেউলিয়া হওয়ার পথে।আর্থিক সংকট।অচলাবস্থা ভিতরে ও বাইরে।একে একে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে ব্যাংক ও অর্থ লগ্নিকারী প্রতিষ্ঠানগুলো।বিদেশে অর্থপাচার,লুটপাট,অনিয়ম,দুর্নীতি, অব্যবস্থাপনার কারনে শতভাগ সফল হওয়া কোম্পানীটি এখন ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে। এ্যাংকর সিমেন্ট কর্তৃপক্ষের নিকট এই মুহুর্তে বিদ্যুৎ বিভাগের ৬ কোটি টাকারও বেশী পাওনা রয়েছে।চট্রগ্রামের মেরিন সার্ভিস এ্যান্ড ট্রেডার্স ৫ কোটিরও বেশী টাকা পাওনা রয়েছে। যেসব ডিলার টাকা পাবে :    গোপালগঞ্জের মুকসুদপুরের ডিলার মিখাইল শেখ পাবে ৫০ লাখ টাকা।এ ভাবে মাদারীপুরের ফয়সাল ট্রেডার্স পাবে ৫ হাজার ব্যাগ  সিমেন্টের টাকা,মোড়লগঞ্জের হাওলাদার ট্রেডার্স। রাজশাহীর মক্কা ট্রেডার্স ( ট্রাইকন মার্কেটিং) পাবে ৭০ হাজার  ব্যাগ সিমেন্টের টাকা। আলহাজ্ব আতাউর রহমান পাবে ৩৫০০০  হাজার ব্যাগ সিমেন্টের টাকা। সাতক্ষীরার আল আমিন এজেন্সি পাবে ১০০০০ ব্যাগ সিমেন্টের টাকা।কুষ্টিয়ার সালাম এন্ড সন্স পাবে ৫০০০ ব্যাগ সিমেন্টের টাকা। মেহেরপুরের সন্ধ্যা ট্রেডার্স পাবে  ৫০০০ ব্যাগ সিমেন্টের টাকা। এভাবে  প্রায় শতাধিক ডিলার ও রিটেইলারের থেকে বেশী কমিশনের লোভ দেখিয়ে লাখ লাখ টাকা নিয়ে সিমেন্ট দিতে ব্যর্থ হয়েছে অলিম্পিক সিমেন্ট লিমিটেড কর্তৃপক্ষ।  সিমেন্ট দিচ্ছেনা ডিলার ও রিটেইলাদারকে। আবার পাওনা অর্থও দিচ্ছেনা।ফলে ক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছে রিটেইলার ও ডিলাররা।      আরও পড়ুন: এ্যাংকর সিমেন্টে ৪০ কোটি টাকার ভ্যাট ফাঁকির অভিযোগ : বন্ধ হতে যাচ্ছে এ্যাংকর সিমেন্ট ফ্যাক্টরী বরিশালে এ্যাংকর সিমেন্ট ফ্যাক্টরী বন্ধ হতে যাচ্ছে : বাড়ছে পাওনাদারদের ভিড়,গা ঢাকা দিয়েছে      টাকা ফেরৎ বা সিমেন্ট কবে দেয়া হবে তা কেউ জানেনা:   এ ব্যাপারে এ্যাংকর সিমেন্টের কর্মকর্তা  ইমাম ফারুকীর মোবাইলে কল করা হলেও তিনি রিসিভ করেন নি।নাম প্রকাশে এক কর্মকর্তা বলেন,যেখানে বিদ্যুৎ বিল দিতে পারছেনা সেখানে কিভাবে অগ্রীম টাকা দেয়া ডিলার, রিটেইলার ও করপোরেট ক্রেতাদের টাকা ফেরৎ দিবে। কবে টাকা ফেরৎ বা টাকার বিনিময়ে সিমেন্ট দেয়া হবে তা কেউ জানেনা।     কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে ইমাম ফারুকী ও  দীপংকর   এ্যাংকর সিমেন্টের সাবেক কর্মকর্তা আমিনুল জানান, ডিলারদের থেকে দাম বৃদ্ধির কথা বলে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে সিএমও ইমাম ফারুকী, ও আরএসএম দীপংকর।এখন সিমেন্ট এর জন্য কল দিলেও  কেউ ডিলারদের ফোন রিসিভ করেনা এবং মার্কেটে না এসে আত্নগোপনে চলে গেছে। কোম্পানীকে কিছু টাকা দিয়ে ইমাম ফারুকী বরিশালে আলিশান বাড়ি ও মালয়েশিয়ায় সেকেন্ড হোম গড়েছেন।     যেসব সাবেক কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের বেতন এখনও বকেয়া:   অলিম্পিক সিমেন্ট লিমিটেড কর্তৃপক্ষের নিকট সিফাত পাবে প্রায় ৩ লক্ষ টাকা।এছাড়া এখনো সাবেক কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা বেতন ভাতা পাবে তারা হলেন,মোঃ তুহিন শেখ, মেঃ আরিফ আহম্মেদ,মোঃ দেলোয়ার হোসেন,মোঃ এনামুল হক,রফিক,মোঃ মামুন হোসেন,মোঃ মুকিত হাসান,মোঃ মাহফুজর রহমান,মো: মামুন, রিয়াজ খান, মোঃ শাহিন ও মোঃ কামরুল ইসলাম সহ অসংখ্য কর্মকর্তা ও কর্মচারী।     আকাশ বাতাস ভাড়ি হয়ে উঠেছে আর্তনাদে   এ ছাড়া একাধিক কর্মকর্তা ও কর্মচারী শ্রম আদালতে মামলা করলেও কোন সুফল পাচ্ছেননা।বার বার তারিখের গ্যাড়াকলে পরে সাবেক কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা নিঃস্ব হয়ে গেছে।তাদের আর্তনাদে আকাশ বাতাস ভাড়ি হয়ে উঠেছে।   দেশে আছেন তারা:   অলিম্পিক সিমেন্ট লিমিটেডের চেয়ারম্যান,ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও পরিচালকরা বাংলাদেশে থাকলেও তাদের মোবাইল ফোন বন্ধ রয়েছে। এ্যাংকর সিমেন্ট ফ্যাক্টরী ও করপোরেট অফিস থেকে বলা হচ্ছে চেয়ারম্যান,ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও পরিচালকরা বিদেশে। অলিম্পিক সিমেন্ট লিমিটেডের চেয়ারম্যান,ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও পরিচালকরা বাংলাদেশেই রয়েছেন বলে বিশ্বস্ত একটি সুত্র নিশ্চিত করেছেন। পরিবেশ দূষণ নিয়ে নতুন উদ্বেগ : দুষনে শীর্ষে এ্যাংকর সিমেন্ট ফ্যাক্টরী    বরিশালের এ্যাংকর সিমেন্ট ফ্যাক্টরী এলাকা অন্যতম দূষিত বাতাসের স্থান। IQAir Barisal ও  AccuWeather Barishal-এর প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী ২০২৬ সালের মে মাসের বর্তমান তথ্য অনুযায়ী, বরিশালের রুপাতলীর এ্যাংকর সিমেন্ট ফ্যাক্টরী ও  সংলগ্ন শিল্প এলাকায় সিমেন্টের গুঁড়ো এবং গাড়ির ধোঁয়ার কারণে বাতাসে ক্ষতিকর ভাসমান কণা বা PM2.5-এর উপস্থিতি অনেক বেশি।যার কারনে যেসব মানুষের ফুসফুসের সমস্যা বা শ্বাসকষ্টে ভুগছেন এমন সংবেদনশীল ব্যক্তিদের দীর্ঘসময় এই এলাকায় মাস্ক ছাড়া অবস্থান না করার পরামর্শ দেওয়া হয়। এ ছাড়া তারা জানিয়েছে, সাম্প্রতিক খবর অনুযায়ী, আর্থিক  জটিলতার কারণে এ্যাংকর সিমেন্ট ফ্যাক্টরির উৎপাদন বন্ধ রয়েছে। ফলে কারখানার নিজস্ব নির্গমন কম থাকলেও ধুলাবালির প্রভাব রয়ে গেছে।   সৃষ্ট বায়ু দূষণের প্রভাব:    রুপাতলীতে এ্যাংকর সিমেন্ট এবং অন্যান্য শিল্পকারখানার কারণে সৃষ্ট বায়ু দূষণের প্রভাব প্রধানত মানবদেহ, স্থানীয় পরিবেশ এবং জীববৈচিত্র্যের ওপর মারাত্মক প্রভাব ফেলছে।  প্রধান প্রভাবগুলো তুলে ধরা হলো:  MDPI  +1 ১. মানবস্বাস্থ্যের ওপর প্রভাব (Health Impacts): শ্বাসকষ্ট ও অ্যাজমা: সিমেন্ট উৎপাদনের সময় নির্গত সূক্ষ্ম ডাস্ট কণা (PM2.5 এবং PM10) বাতাসে মিশে ফুসফুসে প্রবেশ করে। ফলে স্থানীয় বাসিন্দা ও শ্রমিকদের মধ্যে অ্যাজমা, ব্রঙ্কাইটিস এবং ক্রনিক শ্বাসকষ্টের হার ব্যাপক বৃদ্ধি পায়। চোখ ও গলার সংক্রমণ: বাতাসের ক্ষতিকর গ্যাসের কারণে চোখ জ্বালাপোড়া করা, অনবরত কাশি এবং গলায় ইনফেকশন বা অ্যালার্জি দেখা দেয়। দীর্ঘমেয়াদি ঝুঁকি: দীর্ঘদিন এই দূষিত বাতাসের সংস্পর্শে থাকলে ফুসফুসের কার্যক্ষমতা হ্রাস পায়, হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়ে এবং ফুসফুসের ক্যানসার পর্যন্ত হতে পারে।    ২. পরিবেশ ও প্রকৃতির ওপর প্রভাব (Environmental Impacts): গাছপালা ও ফসলের ক্ষতি: বাতাসে ভাসমান সিমেন্টের ডাস্ট ও ছাই আশেপাশের গাছপালার পাতার ওপর আস্তরণ তৈরি করে। এর ফলে উদ্ভিদের সালোকসংশ্লেষণ (খাদ্য তৈরি) ব্যাহত হয়, গাছের বৃদ্ধি কমে যায় এবং ফলন হ্রাস পায়। মাটির গুণাগুণ নষ্ট: ডাস্ট ও ভারী ধাতু বৃষ্টির পানির সাথে মিশে মাটিতে পড়ে। এতে মাটির অম্লতা বা ক্ষারীয় ভাব পরিবর্তিত হয়ে জমির উর্বরতা নষ্ট হয়।  MDPI  +2 ৩. কীর্তনখোলা নদী ও জলজ জীবনের ওপর প্রভাব: নদীর পানি দূষণ: কারখানার ধোঁয়া ও ডাস্ট সরাসরি বাতাসে ছড়ানোর পাশাপাশি বৃষ্টির মাধ্যমে এবং উড়ন্ত ছাই কীর্তনখোলা নদীর পানিতে পতিত হয়। এতে পানির পিএইচ (pH) লেভেল পরিবর্তন হয়ে পানি ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়ে। জলজ জীববৈচিত্র্য ধ্বংস: পানিতে রাসায়নিক ও ডাস্ট কণা দ্রবীভূত হওয়ায় অক্সিজেনের মাত্রা (DO) কমে যায়, যা মাছসহ অন্যান্য জলজ প্রাণীর জীবনকে সংকটাপন্ন করে তোলে।  MDPI  +4 ৪. মানসিক স্বাস্থ্য ও জীবনযাত্রার মান: মানসিক চাপ ও অস্বস্তি: অতিরিক্ত ধুলাবালি এবং কারখানার যান্ত্রিক শব্দের কারণে স্থানীয় মানুষের ঘুম ব্যাহত হয় এবং মানসিক অবসাদ বা অ্যাংজাইটি বৃদ্ধি পায়।    পরিবেশ অধিদপ্তরের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন   এ্যাংকর সিমেন্ট ফ্যাক্টরীর  এই দূষণ নিয়ন্ত্রণে পরিবেশ অধিদপ্তরের আইন বাস্তবায়ন ও কারখানার নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেই বললেই চলে।পরিবেশগত ছাড়পত্র হালনাগাদ (Updated)  এবং ডাস্ট ফিল্টারগুলো শতভাগ সচল রাখার আইনি বাধ্যবাধকতা থাকলেও পরিবেশ অধিদপ্তর বরিশালের অফিসকে ঘুষ দিয়ে ছাড়পত্র হালনাগাদের অভিযোগ রয়েছে।   পরিবেশ সংরক্ষণ আইন :    বাংলাদেশ পরিবেশ সংরক্ষণ আইন, ১৯৯৫ এবং পরিবেশ সংরক্ষণ বিধিমালা, ২০২৩ (যা পূর্ববর্তী ১৯৯৭ সালের বিধিমালাকে প্রতিস্থাপন করেছে) অনুযায়ী সিমেন্ট কারখানার মতো লাল শ্রেণীভুক্ত (Red Category) শিল্পের জন্য কঠোর আইনি বাধ্যবাধকতা রয়েছে। এ্যাংকর সিমেন্ট ফ্যাক্টরীসহ এ জাতীয় ভারী শিল্পের দূষণ নিয়ন্ত্রণে পরিবেশ অধিদপ্তরের প্রধান আইন ও নিয়মাবলী নিচে দেওয়া হলো: ১. পরিবেশগত ছাড়পত্র (Environmental Clearance Certificate - ECC): বাধ্যতামূলক ছাড়পত্র: যেকোনো সিমেন্ট কারখানা স্থাপনের আগে পরিবেশ অধিদপ্তর থেকে বাধ্যতামূলকভাবে পরিবেশগত প্রভাব নিরূপণ (EIA) অনুমোদন এবং অবস্থানগত ও পরিবেশগত ছাড়পত্র নিতে হয়। নবায়ন: প্রতি বছর এই ছাড়পত্র নির্দিষ্ট ফি দিয়ে নবায়ন করতে হয়। ছাড়পত্র ছাড়া কারখানা পরিচালনা সম্পূর্ণ অবৈধ।  ২. তরল বর্জ্য ও ইটিপি (Effluent Treatment Plant) স্থাপন: বাধ্যতামূলক ইটিপি: কারখানার ধোঁয়া বা ওয়াশিং প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তৈরি তরল বর্জ্য সরাসরি কীর্তনখোলা নদী বা বাইরের কোনো জলাশয়ে ফেলা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। পানি শোধন: কারখানায় নিজস্ব ইটিপি (ETP) থাকতে হবে এবং শোধন করা পানির মান পরিবেশ অধিদপ্তর নির্ধারিত প্যারামিটারের মধ্যে থাকতে হবে।  ৩. বায়ু দূষণ ও ডাস্ট কন্ট্রোল (Air Emission Standards): অনলাইন মনিটরিং: কারখানার চিমনি বা ক্লিংকার ক্রাশিং ইউনিট থেকে নির্গত ধোঁয়ার ওপর সার্বক্ষণিক নজরদারি করতে অনলাইন কন্টিনিউয়াস এমিশন মনিটরিং সিস্টেম (OCEMS) চালু রাখার নিয়ম রয়েছে। ডাস্ট কালেক্টর: কারখানায় আধুনিক 'ব্যাগ ফিল্টার' (Bag Filter) বা 'ইলেক্ট্রোস্ট্যাটিক প্রিসিপিটেটর' (ESP) ব্যবহার করতে হবে, যেন বাতাসে সিমেন্টের সূক্ষ্ম ডাস্ট কণা ছড়াতে না পারে। মুক্ত ডাস্ট ছড়ানো নিষিদ্ধ: কাঁচামাল আনলোড বা লোড করার সময় জেটি বা নদী তীরে কোনো উপাদান বাতাসে উড়তে পারবে না। ৪. শব্দ দূষণ নিয়ন্ত্রণ বিধিমালা:  সিমেন্ট কারখানার ভারী যন্ত্রপাতির শব্দ দিনের বেলা ৭৫ ডেসিবেল এবং রাতের বেলা ৭০ ডেসিবেলের মধ্যে সীমিত রাখতে হবে। ৫. আইন অমান্যের শাস্তি ও জরিমানা: কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড: আইন লঙ্ঘন করে পরিবেশের ক্ষতি করলে বা ছাড়পত্র ছাড়া কারখানা চালালে পরিবেশ সংরক্ষণ আইন অনুযায়ী সর্বোচ্চ ১০ বছরের কারাদণ্ড বা ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত জরিমানা (অথবা উভয় দণ্ড) হতে পারে। ক্ষতিপূরণ (Compensation): পরিবেশের ক্ষতি করলে পরিবেশ অধিদপ্তর নিজস্ব মেজিস্ট্রেটের মাধ্যমে শুনানির আয়োজন করে কারখানাকে বড় অঙ্কের আর্থিক ক্ষতিপূরণ বা জরিমানা করতে পারে এবং কারখানার গ্যাস-বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার আদেশ দিতে পারে।  খোজ নিয়ে জানা গেছে,এ্যাংকর সিমেন্টের ধুলা কনায় বায়ু মারাত্মকভাবে দুষিত হলেও বরিশালের পরিবেশ অধিদপ্তর নিশ্চুপ রয়েছে। এ ব্যাপারে বরিশাল পরিবেশ অধিদপ্তরের পরিচালক মুহাম্মদ মুজাহিদুল ইসলাম বলেন, ৬ মাস আগে এ্যাংকর সিমেন্ট ফ্যাক্টরীতে অভিযান পরিচালনা করে ৬ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়।   ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত   এ্যাংকর সিমেন্ট ফ্যাক্টরীটি ভাড়া বা বিক্রির জন্য বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে বলেও একাধিক সূত্র জানিয়েছে। তবে পরিবেশগত ঝুঁকি ও আর্থিক দায়ের কারণে কেউ দায়িত্ব নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছে না। বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান ও পরিচালকদের অবস্থান নিয়েও বিভ্রান্তি রয়েছে। কারখানা কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে তাদের বিদেশে থাকার কথা বলা হলেও একাধিক সূত্র দাবি করছে, তারা দেশেই অবস্থান করছেন। সব মিলিয়ে, একসময় সফল শিল্পপ্রতিষ্ঠান হিসেবে পরিচিত এ্যাংকর সিমেন্ট এখন টিকে থাকার কঠিন সংকটের মুখে দাঁড়িয়ে আছে।     আগামী পর্বে থাকছে ------ ▪️অযোগ্য কর্মকর্তা ও কর্মচারী নিয়োগ নেপথ্যে করপোরেটে নিলা ও ফ্যক্টরীতে শাহেদ উদ্দিন।  ▪️ধ্বংসের দ্বার প্রান্তে অলিম্পিক সিমেন্ট, অলিম্পিক ফাইবার,অলিম্পিক শিপিং লাইনস লিমিটেড।  ▪️সহায় -সম্পত্তি জামানতের চেয়ে ব্যাংক ঋন পরিমান কত?।  ▪️কোম্পানী ধ্বংসের কারিগর  এমডি,ডিরেক্টর,এমডির পিস,ডিরেক্টরের পিএস,সিওও,সিএমও,ভ্যাট কর্মকর্তাসহ একাধিক কর্মকর্তা। ▪️অলিম্পিক সিমেন্ট লিমিটেড থেকে অনিয়ম, দুর্নীতির মাধ্যমে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনসহ টাকার পাহাড় গড়েছেন ব্যবস্থাপনা পরিচালকের পিএস নিলুফা ,পরিচালকের পিএস জুয়েল ইসলাম,মার্কেটিং প্রধান ইমাম ফারুকী,সেলস মার্কেটিং ম্যানেজার মেহেদী হাসান,ভ্যাট ব্যবস্থাপক মোস্তফা ও রিয়াজসহ একাধিক কর্মকর্তারা। এসব কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে  ব্যবস্থাপনা পরিচালককে অর্থ আত্মসাতে সহায়তাসহ বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতি করেছেন।  

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ১৪, ২০২৬ 0
বরিশালে বন্ধ হতে যাচ্ছে এ্যাংকর সিমেন্ট ফ্যাক্টরী

বরিশালে এ্যাংকর সিমেন্ট ফ্যাক্টরী বন্ধ হতে যাচ্ছে : বাড়ছে পাওনাদারদের ভিড়,গা ঢাকা দিয়েছে কর্তৃপক্ষ

সাইদুর রহমান

বিআইডব্লিউটিএ ড্রেজিং বিভাগে দুর্নীতির অভিযোগ: অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী সাইদুর রহমানকে ঘিরে উঠছে একের পর এক প্রশ্ন

প্রদীপ কুমার দে ও নুরুল ইসলাম

বিএডিসিতে ‘বীজ সিন্ডিকেট’: নুরুল ইসলাম ও প্রদীপ কুমার দের বিরুদ্ধে দুর্নীতির বিস্ফোরক অভিযোগ

অর্থনীতি

করপোরেট ভ্যাট ফাঁকির নেটওয়ার্কে বিপুল রাজস্ব ঘাটতি, চাপ বাড়ছে সাধারণ করদাতার ওপর

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ১২, ২০২৬ 0




অপরাধ

মো. রুস্তুম গাজী (৬০)

গলাচিপায় শশুরের ধর্ষনে পুত্রবধুর গর্ভধারন, সন্তান জন্মের পর নবজাতক অপহরণ—শ্বশুরসহ ২ জন গ্রেপ্তার

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ২৮, ২০২৬ 0




কৃষি ও জলবায়ু

ধান

শেরপুরে বোরো ধানের দাম কমে লোকসানে কৃষকরা, উৎপাদন খরচও উঠছে না

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ৬, ২০২৬ 0