Brand logo light

নির্মাণ অনিয়ম

নির্মাণ শেষের ৬ মাস পরও হস্তান্তর হয়নি ভবন, কক্ষ সংকটে দুর্ভোগে রাজাপুরের ইসলামিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়

 ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : ঝালকাঠির রাজাপুর উপজেলার ৯১ নম্বর ইসলামিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নতুন একাডেমিক ভবনের নির্মাণকাজ শেষ হয়েছে প্রায় ছয় মাস আগে। কিন্তু নির্মাণে একাধিক ত্রুটির অভিযোগে এখনো ভবনটি বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হয়নি। ফলে নতুন ভবন তালাবদ্ধ থাকলেও শিক্ষার্থীরা বাধ্য হয়ে পাঠ নিচ্ছে পুরোনো জরাজীর্ণ ভবনের মাত্র তিনটি কক্ষে। বিদ্যালয়টিতে বর্তমানে ৬০ জন শিক্ষার্থী ও পাঁচজন শিক্ষক রয়েছেন। অথচ পাঁচটি শ্রেণির পাঠদান চালাতে ব্যবহার করা হচ্ছে মাত্র তিনটি কক্ষ। এর মধ্যে একটি কক্ষ অফিস হিসেবে নির্ধারিত থাকলেও কক্ষ সংকটের কারণে সেখানে নিয়মিত ক্লাস নিতে হচ্ছে। বাকি দুই কক্ষে একসঙ্গে দুটি করে শ্রেণির পাঠদান চলছে। শিক্ষকদের ভাষ্য, একই কক্ষে একাধিক শ্রেণির পাঠদান শিক্ষার স্বাভাবিক পরিবেশকে ব্যাহত করছে। একজন শিক্ষক ক্লাস নেওয়ার সময় অন্য শিক্ষককে অপেক্ষা করতে হচ্ছে। এতে যেমন সময় নষ্ট হচ্ছে, তেমনি শিক্ষার্থীদের মনোযোগও বিঘ্নিত হচ্ছে। বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, চতুর্থ প্রাথমিক শিক্ষা উন্নয়ন কর্মসূচি (পিইডিপি-৪) প্রকল্পের আওতায় ৭১ লাখ ৬৫ হাজার ৮০ টাকা ব্যয়ে তিন কক্ষবিশিষ্ট একতলা ভবন নির্মাণের দায়িত্ব পায় মেসার্স টোয়াইস কনস্ট্রাকশন। পরে কাজটি হাতবদল হয়ে মেসার্স নির্ণয় এন্টারপ্রাইজ নির্মাণকাজ সম্পন্ন করে। চুক্তি অনুযায়ী ২০২৪ সালের ২৪ মার্চ কাজ শুরু হয়ে ২০২৫ সালের ৯ ডিসেম্বরের মধ্যে শেষ হওয়ার কথা ছিল। তবে নির্মাণ শেষ হলেও ভবনটি এখনো ব্যবহার উপযোগী হয়নি বলে দাবি বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের। বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক দিলরুবা আক্তারী বলেন, ভবনের বিভিন্ন স্থানে ফাটল দেখা দিয়েছে। নিম্নমানের কাঠ ব্যবহারের কারণে কয়েকটি দরজা বেঁকে গেছে এবং দরজা খোলা-বন্ধেও সমস্যা হচ্ছে। এসব ত্রুটি সংশোধন না হওয়া পর্যন্ত ভবন গ্রহণ করা সম্ভব নয়। স্থানীয়দের অভিযোগ, নির্মাণকাজের শুরু থেকেই মান নিয়ন্ত্রণে ঘাটতি ছিল। তাদের দাবি, নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহারের কারণেই ভবনে অল্প সময়ের মধ্যে বিভিন্ন ত্রুটি দেখা দিয়েছে। ফলে নতুন ভবন নির্মিত হলেও শিক্ষার্থীরা এখনো গাদাগাদি করে পুরোনো ভবনে পাঠ নিতে বাধ্য হচ্ছে। যদিও এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার বাপ্পি কুণ্ডু। তিনি বলেন, চুক্তি অনুযায়ী কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ভবন বুঝে না নেওয়ায় হস্তান্তর প্রক্রিয়া বিলম্বিত হচ্ছে। অন্যদিকে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আক্তার হোসেন জানান, নির্মাণকাজে ত্রুটি থাকার কারণেই প্রধান শিক্ষক ভবন গ্রহণ করছেন না বলে তিনি জেনেছেন। রাজাপুর উপজেলা প্রকৌশলী অভিজিৎ মজুমদার বলেন, ভবন হস্তান্তরের জন্য ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে আগেই চিঠি দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রশ্ন রয়ে গেছে একটি সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় নির্মিত ভবন শেষ হওয়ার ছয় মাস পরও কেন ব্যবহার করা যাচ্ছে না? নির্মাণে যদি ত্রুটি থেকেই থাকে, তবে কাজ চলাকালীন তদারকি কতটা কার্যকর ছিল? আর যদি কাজ চুক্তি অনুযায়ী সম্পন্ন হয়ে থাকে, তাহলে হস্তান্তর প্রক্রিয়া দীর্ঘদিন আটকে থাকার দায় কার? এদিকে প্রশাসনিক জটিলতার ভার বইতে হচ্ছে বিদ্যালয়ের কোমলমতি শিক্ষার্থীদের, যাদের জন্য নির্মিত নতুন ভবন এখনো কেবল তালাবদ্ধ একটি অবকাঠামো।

নিজস্ব প্রতিবেদক জুন ২৬, ২০২৬ 0
উদ্বোধনের আগেই রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) নবনির্মিত ১০তলা বিশিষ্ট ‘বিজয় ৭১’ হলের ভবনের বেশ কয়েকটি স্থানে ফাটল দেখা দিয়েছে
উদ্বোধনের আগেই ফাটল: রাবির ‘বিজয় ৭১’ হলে নিরাপত্তা শঙ্কা, আলোচনায় পুরোনো অনিয়ম

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) নবনির্মিত ১০ তলা আবাসিক ভবন ‘বিজয় ৭১’ হল আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের আগেই নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। ভবনের বিভিন্ন স্থানে ফাটল দেখা যাওয়ার পাশাপাশি মেরামতের পরও পলেস্তারা খসে পড়ার অভিযোগ করেছেন শিক্ষার্থীরা। ফলে প্রায় ৭০ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত এই আবাসিক হলের নির্মাণমান ও নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। বিষয়টি আরও আলোচনায় এসেছে কারণ ভবনটির নির্মাণকাজ করছে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের বহুল আলোচিত ‘বালিশকাণ্ড’-সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মজিদ সন্স অ্যান্ড কোম্পানি। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ইতোমধ্যে ফাটলের কারণ অনুসন্ধানে একটি তদন্ত প্রক্রিয়া শুরু করেছে। নতুন ভবন, পুরোনো আশঙ্কা বিশ্ববিদ্যালয় সূত্র বলছে, ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষিত শের-ই-বাংলা এ কে ফজলুল হক হল ও মন্নুজান হলের কিছু শিক্ষার্থীকে প্রায় তিন মাস আগে অস্থায়ীভাবে বিজয় ৭১ হলে স্থানান্তর করা হয়। কিন্তু নতুন আবাসিক ভবনে ওঠার পর থেকেই বিভিন্ন স্থানে ফাটল দেখতে পান শিক্ষার্থীরা। হল সংসদের সহ-বিতর্ক ও সাহিত্য সম্পাদক শাহরিয়ার হাসান বলেন, ঝুঁকিপূর্ণ পুরোনো হল থেকে নিরাপত্তার জন্য নতুন ভবনে আনা হলেও এখানেও ফাটল দেখা যাওয়ায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। তাঁর ভাষায়, এটি নির্মাণকাজে অনিয়ম বা দুর্নীতির ইঙ্গিত হতে পারে। একই ধরনের উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন শের-ই-বাংলা হল সংসদের নির্বাহী সম্পাদক শাহিব বিল্লাহ। তিনি বলেন, নিরাপদ আবাসনের প্রত্যাশায় শিক্ষার্থীরা নতুন হলে উঠলেও ভবনের দৃশ্যমান ত্রুটিগুলো নতুন করে শঙ্কা তৈরি করছে। বাংলাদেশ ছাত্রপক্ষের রাবি শাখার সভাপতি মো. গোলাম মোস্তফার অভিযোগ, মেরামতের পরও ভবনের কিছু অংশ থেকে পলেস্তারা খসে পড়ছে। এই প্রথম নয় বিজয় ৭১ হলকে ঘিরে এটি প্রথম নিরাপত্তা বিতর্ক নয়। ২০২৪ সালের ৩০ জানুয়ারি ভবনটির মিলনায়তনের ছাদ ঢালাইয়ের সময় একটি অংশ ধসে পড়ে। ওই ঘটনায় অন্তত নয় শ্রমিক আহত হন। পরে নির্মাণকাজে গাফিলতি ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার ঘাটতির অভিযোগ সামনে আসে। নির্মাণকাজ চলাকালে আরও দুটি বড় দুর্ঘটনার তথ্য পাওয়া যায়। বিদ্যুতায়িত হয়ে দুই শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের একটি ট্রাকের চাপায় হিমেল নামে এক শিক্ষার্থীরও প্রাণহানি ঘটে। এসব ঘটনার পরও প্রকল্পটির নির্মাণ কার্যক্রম অব্যাহত থাকে। আলোচিত ঠিকাদার, বিলম্বিত প্রকল্প বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিকল্পনা ও উন্নয়ন দফতরের তথ্য অনুযায়ী, বিজয় ৭১ হল এবং ২০ তলা বিজ্ঞান ভবন নির্মাণ করছে মজিদ সন্স কনস্ট্রাকশন লিমিটেড। প্রায় ৭০ কোটি টাকা ব্যয়ের আবাসিক হলটির নির্মাণকাজ নির্ধারিত সময়ের অনেক পরে গিয়েও পুরোপুরি শেষ হয়নি। গত বছরের ডিসেম্বরেই ভবনটি হস্তান্তরের কথা থাকলেও এখনও অফিস কক্ষসহ বেশ কিছু কাজ চলমান। প্রকল্প সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের ভৌত অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় নির্মাণাধীন চারটি বহুতল ভবনের কাজ তিন দফা সময় বাড়ানোর পরও সম্পন্ন হয়নি। বর্তমানে কাজের অগ্রগতি ৭০ থেকে ৯৫ শতাংশের মধ্যে সীমাবদ্ধ। ফলে প্রকল্পের মেয়াদ আরও এক দফা বাড়ানোর প্রস্তুতি চলছে। অডিটে উঠে এসেছে জরিমানা না আদায়ের অভিযোগ প্রকল্প বাস্তবায়নে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন উঠেছে আর্থিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে। নির্মাণ চুক্তির শর্ত অনুযায়ী, নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ করতে ব্যর্থ হলে ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানকে অসম্পাদিত কাজের মূল্যমানের ওপর দশমিক ০.০৫ থেকে ০.১০ শতাংশ পর্যন্ত জরিমানা দিতে হওয়ার কথা। কিন্তু শিক্ষা অডিট অধিদফতরের প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে প্রায় ২৩ কোটি টাকার সম্ভাব্য জরিমানা আদায় না করেই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে বিল পরিশোধ করা হয়েছে। অডিট প্রতিবেদনের এই তথ্য প্রকল্প তদারকি ও জবাবদিহিতা নিয়ে নতুন প্রশ্ন তৈরি করেছে। ৩৬৩ কোটি থেকে ৫১০ কোটির প্রকল্প বিশ্ববিদ্যালয়ের ভৌত অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পটি প্রথম অনুমোদন পায় ২০১৭ সালে। তখন ব্যয় ধরা হয়েছিল ৩৬৩ কোটি টাকা। পরবর্তীতে ২০১৯ সালে সংশোধিত প্রকল্পে বরাদ্দ বাড়িয়ে ৫১০ কোটি ৯৯ লাখ টাকা করা হয়। প্রকল্পের আওতায় বিজয় ৭১ হল, অপরাজিতা হল, ২০ তলা একাডেমিক ভবন, শিক্ষক কোয়ার্টার, ড্রেনেজ অবকাঠামো এবং অন্যান্য স্থাপনা নির্মাণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়। মূল পরিকল্পনা অনুযায়ী ২০২২ সালের জুনের মধ্যে কাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও একাধিক দফায় সময় বাড়িয়ে চলতি বছরের ৩০ জুন পর্যন্ত করা হয়েছে। কর্তৃপক্ষ কী বলছে? বিশ্ববিদ্যালয়ের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী মো. মিনহাজুল আলম বলছেন, দৃশ্যমান ফাটলগুলো তাপমাত্রাজনিত কারণেও হতে পারে। তাঁর মতে, বিষয়টি পরীক্ষা করে দেখা হবে এবং প্রয়োজন হলে মেরামত করা হবে। পরিকল্পনা ও উন্নয়ন দফতরের পরিচালক এস এম ওবায়দুল ইসলামও দাবি করেছেন, আপাতত ভবনের কাঠামোগত নিরাপত্তা নিয়ে তাৎক্ষণিক কোনো ঝুঁকির তথ্য তাদের কাছে নেই। তিনি বলেন, বিম ও দেয়ালের সংযোগস্থল অথবা প্লাস্টারের বিভিন্ন অংশে এ ধরনের ফাটল দেখা যেতে পারে। প্রকৌশলীদের একটি দল ইতোমধ্যে ভবনটি পরিদর্শন করেছে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। মূল প্রশ্ন: ফাটল কি কেবল প্লাস্টারে, নাকি কাঠামোতেও? প্রকৌশল বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন ভবনে ফাটল দেখা দেওয়ার ঘটনা সবসময় কাঠামোগত দুর্বলতার প্রমাণ নয়। অনেক ক্ষেত্রে প্লাস্টার, তাপমাত্রা পরিবর্তন বা নির্মাণসামগ্রীর সংকোচন-প্রসারণের কারণেও এমনটি হতে পারে। তবে উদ্বেগের জায়গা হলো—একই প্রকল্পে পূর্বে ছাদ ধস, নির্মাণ দুর্ঘটনা, দীর্ঘসূত্রতা, অডিটে অনিয়মের অভিযোগ এবং এখন দৃশ্যমান ফাটল—সব মিলিয়ে ভবনটির গুণগত মান নিয়ে জনমনে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে ফাটলের প্রকৃত কারণ, নির্মাণমানের অবস্থা এবং ভবনের দীর্ঘমেয়াদি নিরাপত্তা সম্পর্কে কী উঠে আসে, সেটিই এখন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও সংশ্লিষ্টদের প্রধান অপেক্ষার বিষয়।

নিজস্ব প্রতিবেদক জুন ২৫, ২০২৬ 0
বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) নতুন সদর দপ্তর
উদ্বোধনের আগেই ৫০ কোটি টাকার বিপিসি সদর দপ্তরে ফাটল, নির্মাণমান নিয়ে প্রশ্ন

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : প্রায় ৫০ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) নতুন সদর দপ্তর ভবন এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন হয়নি। কিন্তু এরই মধ্যে ভবনের একাধিক স্থানে ফাটল দেখা দেওয়ায় নির্মাণমান ও তদারকি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। চট্টগ্রাম নগরের সার্সন রোডের জয় পাহাড় এলাকায় নির্মিত পাঁচতলা ভবনটিতে সম্প্রতি কয়েকটি দেয়ালে ফাটল শনাক্ত করা হয়। স্থানীয় সূত্রগুলো বলছে, ফাটলগুলো দেখা দেওয়ার পর দ্রুততার সঙ্গে পুটিং ও প্লাস্টারের মাধ্যমে সেগুলো ঢেকে ফেলার কাজ চলছে। নির্মাণশ্রমিকদের তড়িঘড়ি মেরামত কার্যক্রম ভবনটির গুণগত মান নিয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি করেছে। উদ্বোধনের আগেই কেন মেরামত? ভবনটির উদ্বোধনের প্রস্তুতি যখন শেষ পর্যায়ে, ঠিক তখনই ফাটল মেরামতের কাজ শুরু হওয়ায় বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট মহলে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। সাধারণত নতুন কোনো সরকারি অবকাঠামো প্রকল্প উদ্বোধনের আগেই এমন সংস্কার কাজের প্রয়োজন দেখা দিলে নির্মাণপ্রক্রিয়া, উপকরণের মান এবং তদারকির কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। স্থানীয় পর্যবেক্ষকদের মতে, ফাটলগুলো কেবল নান্দনিক সমস্যা নাকি কাঠামোগত দুর্বলতার ইঙ্গিত—তা যাচাই করা প্রয়োজন। কারণ ভবনটি দীর্ঘমেয়াদে শতাধিক কর্মকর্তা-কর্মচারীর কর্মস্থল হিসেবে ব্যবহৃত হবে। প্রকল্প পরিচালকের ব্যাখ্যা তবে প্রকল্প কর্তৃপক্ষ বিষয়টিকে বড় কোনো সমস্যা হিসেবে দেখছে না। বিপিসির নতুন সদর দপ্তর নির্মাণ প্রকল্পের পরিচালক এবং সংস্থাটির উপমহাব্যবস্থাপক (ডিজিএম) মো. আপেল মামুন দাবি করেন, ভবনে যে ফাটলগুলো দেখা গেছে সেগুলো বড় ধরনের নয়। তার ভাষ্য, নির্মাণকাজের বিভিন্ন পর্যায়ে ছোটখাটো ফাটল তৈরি হওয়া অস্বাভাবিক নয় এবং সেগুলো পুটিং ও প্লাস্টারের মাধ্যমে মেরামত করা হচ্ছে। ভবনের সার্বিক মান নিয়ে উদ্বিগ্ন হওয়ার কোনো কারণ নেই বলেও তিনি উল্লেখ করেন। তিন দশক পর নিজস্ব ভবন বিপিসি সূত্রে জানা যায়, ১৯৯০ সাল থেকে সংস্থাটির সদর দপ্তর চট্টগ্রামে ভাড়া ভবনে পরিচালিত হয়ে আসছে। প্রথমে আগ্রাবাদের হাউজ বিল্ডিং ফাইন্যান্স করপোরেশন ভবনে এবং পরে ২০০১ সাল থেকে বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনের ভবনে কার্যক্রম পরিচালনা করছে প্রতিষ্ঠানটি। দীর্ঘ তিন দশকেরও বেশি সময় পর নিজস্ব সদর দপ্তর নির্মাণের উদ্যোগ নেয় বিপিসি। জয় পাহাড় এলাকায় নির্মিত স্টিল স্ট্রাকচারের পাঁচতলা ভবনের নির্মাণকাজ শুরু হয় গত বছর। প্রকল্পটির নির্মাণ দায়িত্ব পায় ইউনাইটেড করপোরেশন। ১৮০ কর্মকর্তা-কর্মচারীর কর্মস্থল নতুন ভবনটি চালু হলে বিপিসির প্রায় ১৮০ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী সেখানে কাজ করবেন। দেশের জ্বালানি খাতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান হিসেবে বিপিসি বছরে প্রায় ৭০ লাখ টন জ্বালানি তেল আমদানি করে। এসব তেল বিপণনের দায়িত্বে রয়েছে পদ্মা অয়েল, যমুনা অয়েল ও মেঘনা পেট্রোলিয়াম। নির্মাণমান নিয়ে প্রশ্নের উত্তর কে দেবে? বিশেষজ্ঞদের মতে, উদ্বোধনের আগেই সরকারি অর্থায়নে নির্মিত একটি গুরুত্বপূর্ণ ভবনে ফাটল দেখা দেওয়া স্বাভাবিকভাবে জনমনে প্রশ্ন তৈরি করে। ফাটলের প্রকৃতি, কারণ এবং ভবনের কাঠামোগত নিরাপত্তা সম্পর্কে স্বাধীন কারিগরি মূল্যায়ন হলে প্রকৃত অবস্থা স্পষ্ট হতে পারে। কারণ সরকারি অবকাঠামো প্রকল্পে ব্যয়, মান নিয়ন্ত্রণ ও জবাবদিহিতা—তিনটি বিষয়ই জনস্বার্থের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত।

নিজস্ব প্রতিবেদক জুন ৪, ২০২৬ 0
ঝালকাঠির পালবাড়িতে নিয়মবহির্ভূত নির্মাণের অভিযোগ
ঝালকাঠির পালবাড়িতে নিয়মবহির্ভূত নির্মাণের অভিযোগ, ঝুঁকিতে মাদ্রাসা ভবন

 ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : ঝালকাঠির পালবাড়িতে পৌর কর্তৃপক্ষের নিয়ম বহির্ভুত সেমি পাকা ঘড় নির্মান করার অভিযোগ উঠেছে। একই সাথে অপরিকল্পিত কাজের জন্য পার্শবর্তী একটি মাদ্রাসার ভবন ঝুকিরমুখে পরেছে। ঝালকাঠির বিশিষ্ট্য ব্যাবসায়ী শরীফ ফ্লাওয়ার এন্ড ফুড প্রডাক্ট এর সত্বাধিকারী সাবেক পৌর কাউন্সিলর মো. কামাল শরিফ ঐ মাদ্রাসাটি তার নিজের ভবনে পরিচালনা করেন। নির্মাণাধীন বিল্ডিংয়ের পাশে থাকা কামাল শরীফের ভবনের দেয়াল সংযোগ করে পৌর কর্তৃপক্ষের নিয়ম না মেনে সেমিপাকা বিল্ডিংয়ের কাজ বন্ধের জন্য পৌরসভার প্রশাসক বরাবরে লিখিত অভিযোগ দিয়েছে।  অভিযোগকারী কামাল শরীফ মুঠোফোনে বলেন, 'আমার বিল্ডিং পৌরসভার সকল নিয়ম মেনে তৈরি করেছি। সেখানে দীর্ঘদিন ধরে এতিমদের মাদ্রাসা পরিচালনা করা হচ্ছে। তাহার উত্তর পাশে একটি বিল্ডিং উত্তোলন কাজ চলতেছে। তারা অবৈধভাবে আমার বিল্ডিং এর দেয়াল ব্যবহার করেছে। অতিদ্রুত কাজ বন্ধ করার দাবী জানাই। এবিষয়ে অভিযুক্তরা বলেন, 'আমরা পাশে জমি পাবো তাই এমনটা করেছি।'

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ৭, ২০২৬ 0
ঝালকাঠি জেলা শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের সহকারী প্রকৌশলী খাইরুল ইসলাম
দুদকের তলবের পরও বহাল তবিয়তে ঝালকাঠির শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের সহকারী প্রকৌশলী খাইরুল ইসলাম

   মামুনুর রশীদ নোমানী,বরিশাল  :  ঝালকাঠি  শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের সহকারী প্রকৌশলী (পুর) মো. খাইরুল ইসলামকে নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তলব করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। তবে তলবের পরও তিনি এখনো বহাল তবিয়তে দায়িত্ব পালন করছেন, যা নিয়ে সংশ্লিষ্ট মহলে আলোচনা-সমালোচনা চলছে। দুদক সূত্রে জানা গেছে, শিক্ষা অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে অনিয়ম, সরকারি অর্থ আত্মসাৎ, দরপত্র প্রক্রিয়ায় কারসাজি এবং নিম্নমানের নির্মাণকাজের অভিযোগের ভিত্তিতে তার বিরুদ্ধে অনুসন্ধান শুরু হয়েছে। প্রাথমিক যাচাই-বাছাই শেষে তাকে দুদকের প্রধান কার্যালয়ে হাজির হয়ে ব্যাখ্যা দেওয়ার জন্য নোটিশ পাঠানো হয়। অভিযোগ রয়েছে, জেলার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ভবন নির্মাণ ও সংস্কার কাজে নির্ধারিত মান বজায় না রেখে কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে কাজ সম্পন্ন না হলেও বিল উত্তোলনের অভিযোগও উঠেছে। এছাড়া নির্দিষ্ট কিছু ঠিকাদারকে কাজ পাইয়ে দিতে প্রভাব খাটানোর অভিযোগ রয়েছে, যার ফলে প্রতিযোগিতামূলক দরপত্র ব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। স্থানীয় একাধিক ঠিকাদার নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, প্রকল্প বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে অঘোষিত কমিশন এবং প্রভাব বিস্তারের সংস্কৃতি গড়ে উঠেছে। এতে সৎ ঠিকাদাররা বঞ্চিত হচ্ছেন এবং নিম্নমানের কাজের ঝুঁকি বাড়ছে। এদিকে, জেলার কয়েকটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক ও অভিভাবকরাও নির্মাণ কাজের মান নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তাদের দাবি, নতুন ভবনের কিছু অংশে ফাটল, প্লাস্টার খসে পড়া এবং নিম্নমানের উপকরণ ব্যবহারের প্রমাণ পাওয়া গেছে। এ বিষয়ে অভিযুক্ত সহকারী প্রকৌশলী মো. খাইরুল ইসলাম বলেন, “আমার বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ আনা হয়েছে, তা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। আমি নিয়ম মেনেই সব কাজ করেছি। দুদকের তলবের বিষয়ে আমি অবগত আছি এবং নির্ধারিত সময়ে উপস্থিত হয়ে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দেব।” শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর-এর সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানায়, বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে বিভাগীয় ব্যবস্থাও নেওয়া হতে পারে। দুদকের একাধিক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, তদন্তের স্বার্থে বিভিন্ন প্রকল্পের নথিপত্র সংগ্রহ করা হচ্ছে এবং সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার ও কর্মকর্তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হতে পারে। প্রয়োজনে মাঠ পর্যায়ে সরেজমিন পরিদর্শনও করা হবে। শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের সহকারী প্রকৌশলী পদে নিয়োগে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির চিত্র উঠে এসেছে। সম্প্রতি এক প্রতিবেদনে এই অনিয়মের বিষয়টি উঠে আসে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০১৯ সালে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের একটি নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে সহকারী প্রকৌশলী পদে নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু হয়। প্রিলিমিনারি, লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষার পর ২০২১ সালের আগস্ট মাসে ৫৬ জনকে নিয়োগ দেওয়া হয়। কিন্তু নিয়োগ পাওয়া ব্যক্তিদের মধ্য থেকে প্রথম কয়েকজনের বিরুদ্ধে আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে চাকরি নিশ্চিত করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এই অনিয়মের সঙ্গে সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) সাবেক গাড়িচালক “সৈয়দ আবেদ আলী” নামের এক প্রভাবশালী ব্যক্তি জড়িত ছিলেন। পিএসসিতে চাকরি নিজেই নিয়েছিলেন জালিয়াতি (ভুয়া ঠিকানা ব্যবহার) করেন। প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় পিএসসির থেকে চাকরি হারান এবং কারাগারে ছিলেন, এখন জামিনে আছেন। অনুসন্ধানে “আবেদ আলীর” হাতে নিয়োগ পাওয়া একাধিক প্রার্থীর সরাসরি যোগাযোগ ও অর্থ লেনদেনের প্রমাণ তুলে ধরা হয়। নিয়োগপ্রাপ্তদের মধ্য থেকে কয়েকজন মোটা অঙ্কের টাকা দিয়ে চাকরি পেয়েছেন। অনুসন্ধানে পাওয়া নথি ও ব্যাংক লেনদেনের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ২০২২ সালে সম্পন্ন হওয়া শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের সহকারী প্রকৌশলী (পুর) পদে সরকারি কর্ম কমিশনের সরাসরি নন-ক্যাডার নিয়োগ পরীক্ষায় মেধাতালিকার প্রথম, দ্বিতীয়, তৃতীয়সহ অন্তত চারজন প্রার্থীর সঙ্গে আবেদ আলীর আর্থিক লেনদেন হয়েছে। এই চার কর্মকর্তার মধ্যে অন্যতম হলেন,ঝালকাঠি জেলা শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের সহকারী প্রকৌশলী মো. খাইরুল ইসলাম।   শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের সহকারী প্রকৌশলী মো. খাইরুল ইসলামকে নিয়ে সাম্প্রতিক সময়ে নিয়োগ ও অন্যান্য অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। বিশেষ করে ২০২৬ সালের শুরুতে বিভিন্ন গণমাধ্যম ও অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে তাঁর নাম জড়িয়ে বেশ কিছু তথ্য উঠে এসেছে।  প্রধান অনিয়ম ও অভিযোগ : নিয়োগে অস্বচ্ছতা: ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে প্রকাশিত বিভিন্ন প্রতিবেদনে সহকারী প্রকৌশলী পদে নিয়োগের ক্ষেত্রে বড় ধরনের দুর্নীতির অভিযোগ পাওয়া যায়। অভিযোগ রয়েছে যে, নির্ধারিত যোগ্যতা ও মেধা তালিকার তোয়াক্কা না করে আর্থিক লেনদেন বা রাজনৈতিক প্রভাবে অনেককে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। আর্থিক লেনদেনের অভিযোগ: মো. খাইরুল ইসলামসহ আরও কয়েকজন প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে নিয়োগ ও পদায়নকে কেন্দ্র করে অবৈধ আর্থিক লেনদেনের অভিযোগ উঠেছে। বিভাগীয় ও দুদকের নজরদারি: শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের কেনাকাটা ও নির্মাণ কাজে অনিয়মের অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) অনুসন্ধান চালাচ্ছে। অনেক প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে মামলা ও চার্জশিট দাখিল করা হয়েছে। অযোগ্যদের নিয়োগের অভিযোগ: সাধারণ পরীক্ষার্থীদের অভিযোগ ছিল যে, যারা সহকারী প্রকৌশলী হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন, তাদের অনেকেরই প্রয়োজনীয় কারিগরি দক্ষতা বা যথাযথ শিক্ষাগত যোগ্যতা নেই। এই নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অনিয়ম নিয়ে বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল-২৪ এর অনুসন্ধানী অনুষ্ঠান 'সার্চলাইট'-এ বিস্তারিত তথ্য প্রকাশিত হয়েছে।  সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গ ও বর্তমান অবস্থা: মো. খাইরুল ইসলামের নামে এসব অভিযোগে জড়িয়েছে। অধিদপ্তরের শীর্ষ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধেও এসব অনিয়মে পরোক্ষ সহযোগিতার অভিযোগ রয়েছে   বর্তমান অবস্থা শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের নিয়োগ দুর্নীতি ও অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে মো. খাইরুল ইসলামসহ বেশ কয়েকজন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দুদকের অনুসন্ধান চলমান রয়েছে।        সম্পদ বিবরণী নোটিশ:        মো. খাইরুল ইসলামকে তাঁর সম্পদের উৎস ব্যাখ্যা করতে এবং নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সম্পদ বিবরণী দাখিলের জন্য প্রাথমিক নোটিশ দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। অভিযোগের ধরণ: তাঁর বিরুদ্ধে মূলত ২০২১ সালের নিয়োগ পরীক্ষায় জালিয়াতি এবং পরবর্তী সময়ে অবৈধ আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে সম্পদ গড়ার অভিযোগ অনুসন্ধান করা হচ্ছে। সুশাসন ও দুর্নীতিবিরোধী আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত স্থানীয় নাগরিকরা বলছেন, শিক্ষা খাতের উন্নয়ন প্রকল্পে এ ধরনের অনিয়ম দেশের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য হুমকি। তারা দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন। তবে এখনো পর্যন্ত প্রশাসনিকভাবে তার বিরুদ্ধে দৃশ্যমান কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা না নেওয়ায় জনমনে প্রশ্ন উঠেছে—দুদকের তলবের পরও কীভাবে তিনি বহাল তবিয়তে দায়িত্ব পালন করছেন? তদন্তের অগ্রগতি ও পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে এখন সবার নজর। জনমনে প্রশ্ন স্থানীয় সুশাসনকর্মীরা বলছেন, শিক্ষা খাতে এমন অনিয়ম ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। তাদের প্রশ্ন—দুদকের তলবের পরও কীভাবে অভিযুক্ত কর্মকর্তা দায়িত্বে বহাল থাকেন?       

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ৩০, ২০২৬ 0
গোমা সেতু
গোমা সেতু নির্মাণে অনিয়ম ও দুর্নীতি: ৫৭ কোটি থেকে ৯২ কোটিতে ব্যয় বৃদ্ধি, ৯ বছরে প্রকল্প শেষ

মামুনুর রশীদ নোমানী,বরিশাল  : বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলায় রাঙামাটি নদীর ওপর নির্মিত  গোমা সেতুটি দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর ২০২৬ সালের ১৭ মার্চ আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করা হয়েছে। সেতুটির নির্মাণ প্রক্রিয়া দীর্ঘায়িত হওয়া এবং ব্যয় বৃদ্ধির পেছনে বেশ কিছু অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনার অভিযোগ উঠে এসেছে।  এই সেতুর উদ্বোধনের সঙ্গে সঙ্গে সামনে এসেছে এক দীর্ঘ বিতর্কিত নির্মাণ ইতিহাস—যেখানে রয়েছে সময়ক্ষেপণ, ব্যয় বৃদ্ধি এবং অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ। সরকারি উন্নয়ন প্রকল্প হিসেবে এটি স্থানীয় জনগণের জন্য আশার প্রতীক হওয়ার কথা থাকলেও, বাস্তবে এটি হয়ে উঠেছে প্রশ্নবিদ্ধ বাস্তবায়নের একটি উদাহরণ। নির্মাণ ব্যয় ও সময় বৃদ্ধি      প্রাথমিক ও চূড়ান্ত ব্যয়: ২০১৭ সালে যখন প্রকল্পটি অনুমোদিত হয়, তখন এর প্রাথমিক ব্যয় ধরা হয়েছিল ৫৭ কোটি ৬২ লাখ টাকা । তবে কাজ শেষ হতে হতে এই ব্যয় বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯২ কোটি ৪৪ লাখ ৮৯ হাজার টাকা, যা মূল বাজেটের চেয়ে প্রায় ৩৪ কোটি টাকা বেশি ।   সময়ক্ষেপণ: ৩ বছরের মধ্যে (২০১৮-২০২১) কাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও এটি সম্পন্ন করতে প্রায় ৯ বছর সময় লেগেছে ।    সেতু নির্মাণে  অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ  ও জটিলতা :     ভুল নকশা ও উচ্চতা সংক্রান্ত জটিলতা: বিআইডব্লিউটিএ-এর নিয়ম অনুযায়ী সেতুর উচ্চতা পর্যাপ্ত না হওয়ায় মাঝপথে দেড় বছর কাজ বন্ধ থাকে । পরবর্তীতে নকশা পরিবর্তন করে উচ্চতা বাড়াতে গিয়ে প্রকল্পের ব্যয় ও সময় উভয়ই অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পায় । বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলায় রাঙ্গামাটি নদীর ওপর গোমা সেতু নির্মাণে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এম খান গ্রুপ-এর বিরুদ্ধে নানা অনিয়ম, দুর্নীতি ও চরম গাফিলতির অভিযোগ সংবাদমাধ্যমে এসেছে। মূলত রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে এবং নকশা পরিবর্তনের সুযোগ নিয়ে কাজ দীর্ঘায়িত করার মাধ্যমে প্রকল্পের ব্যয় কয়েকগুণ বাড়িয়ে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে।   টাইমলাইন: কাগজে পরিকল্পনা বনাম বাস্তবতা বছর পরিকল্পনা বাস্তব অগ্রগতি ২০১৭ প্রকল্প অনুমোদন প্রাথমিক ব্যয় ৫৭.৬২ কোটি টাকা ২০১৮ কাজ শুরু ধীরগতির সূচনা ২০২১ নির্ধারিত সমাপ্তি কাজ অসম্পূর্ণ ২০২২–২০২৪ সংশোধিত সময়সীমা বারবার স্থগিত ২০২৬ প্রকল্প শেষ ও উদ্বোধন চূড়ান্ত ব্যয় ৯২ কোটি ৪৪ লাখ ৮৯ হাজার টাকা অনুসন্ধান: একটি সেতু, বহু প্রশ্ন বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলার রাঙামাটি নদীর ওপর নির্মিত গোমা সেতু—যা ২০২৬ সালের ১৭ মার্চ উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে চালু হয়েছে—শুধু একটি অবকাঠামো প্রকল্প নয়, বরং এটি এখন একটি বিতর্কিত উন্নয়ন মডেলের উদাহরণ। সরকারি নথি, স্থানীয় সূত্র এবং প্রকল্প সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, প্রকল্পটি শুরু থেকেই পরিকল্পনা, বাস্তবায়ন এবং তদারকির ক্ষেত্রে গুরুতর দুর্বলতায় ভুগেছে। এর ফল—সময় তিনগুণ, ব্যয় প্রায় দ্বিগুণ, এবং জনভোগান্তি দীর্ঘমেয়াদি। ব্যয় বিশ্লেষণ: কোথায় গেল অতিরিক্ত ৩৪ কোটি? প্রাথমিক ব্যয়: ৫৭ কোটি ৬২ লাখ টাকা চূড়ান্ত ব্যয়: ৯২ কোটি ৪৪ লাখ ৮৯ হাজার টাকা বৃদ্ধি: প্রায় ৩৪ কোটি টাকা সম্ভাব্য কারণ (সরকারি যুক্তি অনুযায়ী): নকশা পরিবর্তন নির্মাণ সামগ্রীর মূল্য বৃদ্ধি সময় বৃদ্ধি অনুসন্ধানে উঠে আসা প্রশ্ন: নকশা পরিবর্তন কেন শুরুতেই শনাক্ত হয়নি? বিলম্বজনিত অতিরিক্ত ব্যয় কি নিয়ন্ত্রিত ছিল? প্রকল্প সংশোধনে কারা অনুমোদন দিয়েছে? অর্থনীতিবিদদের মতে, “এই ধরনের ব্যয় বৃদ্ধি সাধারণত প্রকল্প তদারকির দুর্বলতা বা ইচ্ছাকৃত অপচয়ের ইঙ্গিত দেয়।” নকশাগত ত্রুটি: পরিকল্পনার কেন্দ্রে ব্যর্থতা প্রকল্পের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ব্যর্থতা ছিল সেতুর উচ্চতা নির্ধারণে ভুল। কী ঘটেছিল? নদীপথে চলাচলকারী নৌযানের জন্য প্রয়োজনীয় ক্লিয়ারেন্স রাখা হয়নি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ আপত্তি জানায় প্রায় দেড় বছর কাজ বন্ধ থাকে ফলাফল: পুনরায় নকশা প্রণয়ন অতিরিক্ত নির্মাণ ব্যয় প্রকল্প বিলম্ব প্রশ্ন উঠেছে—ডিজাইন যাচাই প্রক্রিয়ায় কোন সংস্থা দায়িত্বে ছিল এবং তারা কেন ব্যর্থ হলো?   ধীরগতির নির্মাণ: কৌশল নাকি ব্যর্থতা? স্থানীয় পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী— দীর্ঘ সময় কাজ বন্ধ বা আংশিক চালু ছিল শ্রমিক ও যন্ত্রপাতির উপস্থিতি অনিয়মিত ছিল এটি ইচ্ছাকৃত বিলম্ব কিনা, তা তদন্তের দাবি রাখে। প্রকল্প মেয়াদ বাড়ানো: প্রশাসনিক দুর্বলতা? প্রকল্পটি অন্তত কয়েক দফা সময় বৃদ্ধি পেয়েছে। প্রশ্ন হলো— প্রতিটি সময় বৃদ্ধি কি প্রকৃত অগ্রগতির ভিত্তিতে ছিল? নাকি রাজনৈতিক বা প্রভাবশালী মহলের চাপ ছিল? দায় কার? এই প্রকল্পে অন্তত চারটি স্তরে জবাবদিহিতার প্রশ্ন ওঠে— ১. পরিকল্পনা সংস্থা – নকশা অনুমোদনে ব্যর্থতা ২. বাস্তবায়ন সংস্থা – তদারকির ঘাটতি ৩. ঠিকাদার – কাজের গতি ও মান ৪. প্রশাসন – সময় ও ব্যয় নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতা     ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান  এম খান গ্রুপের  প্রধান অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ:    মেয়াদ বাড়ানো: প্রকল্পের কাজ ২০১৮ সালে শুরু হয়ে ২০২১ সালে শেষ হওয়ার কথা থাকলেও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এম খান গ্রুপ কাজ ফেলে রাখে । পরবর্তীতে রাজনৈতিক প্রভাবে কয়েক দফায় প্রকল্পের মেয়াদ ২০২৬ সাল পর্যন্ত বাড়ানো হয়।     ব্যয় বৃদ্ধি: কাজ শেষ করতে দেরি হওয়ায় এবং নতুন নতুন অজুহাতে বাজেট সংশোধনের মাধ্যমে প্রাথমিক ব্যয় ৫৭ কোটি ৬২ লাখ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৯২ কোটি ৪৪ লাখ ৮৯ হাজার টাকা করা হয় । অভিযোগ রয়েছে যে, এই অতিরিক্ত বরাদ্দের একটি বড় অংশই অনিয়মের মাধ্যমে আত্মসাৎ করা হয়েছে। ২. ভুল নকশায় কাজ শুরু     ভুল উচ্চতা: সেতুটির উচ্চতা নিয়ে বিআইডব্লিউটিএ-এর আপত্তির পরও ভুল নকশায় কাজ শুরু করার জন্য ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে দায়ী করা হয় । এই জটিলতার কারণে মাঝপথে কাজ বন্ধ থাকায় কয়েক লাখ মানুষ বছরের পর বছর ফেরি,ট্রলার ও নৌকায় পারাপার হতে বাধ্য হয়েছে ।     অর্ধসমাপ্ত কাজ: সেতুর মূল কাঠামো অনেক আগেই দাঁড়িয়ে গেলেও সংযোগ সড়ক (অ্যাপ্রোচ রোড) নির্মাণে প্রতিষ্ঠানটি বছরের পর বছর গড়িমসি করেছে ।যা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দেয় । ৩. অন্যান্য অভিযোগ     কালো তালিকাভুক্তির সম্ভাবনা: সরকারি বিভিন্ন কাজে এম খান গ্রুপের মালিক মাহফুজ খানের বিরুদ্ধে গাফিলতি ও অনিয়মের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় অতীতেও তাকে নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে ।     শ্রমিক ও স্থানীয়দের পাওনা: কাজ চলাকালীন সময়ে স্থানীয় শ্রমিকদের মজুরি ও মালামাল সরবরাহকারীদের টাকা বকেয়া রাখার অভিযোগ রয়েছে  । এম খান গ্রুপের মালিক মাহফুজ খান তৎকালীন রাজনৈতিক নেতাদের সাথে ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের সুযোগ নিয়ে এই প্রকল্পের বাজেট বৃদ্ধি ও সময়ক্ষেপণ করেছেন। বর্তমানে সেতুটি চালু হলেও এই দীর্ঘসূত্রিতা ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে তদন্তের দাবি জানিয়েছে স্থানীয় সচেতন নাগরিকরা।     ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের গাফিলতি: স্থানীয়দের অভিযোগ ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এম খান গ্রুপ-এর মালিক মাহফুজ খান নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করতে ব্যর্থ হয়েছেন । অভিযোগ রয়েছে যে, রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে বারবার মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে এবং নিম্নমানের কাজের বিষয়েও বিভিন্ন সময়ে স্থানীয়রা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ।     সংযোগ সড়কের অভাব: সেতুর মূল কাজ শেষ হওয়ার পরও দীর্ঘ সময় সংযোগ সড়ক (অ্যাপ্রোচ রোড) না থাকায় সাধারণ মানুষকে মই বা সিঁড়ি বেয়ে সেতুতে উঠতে হয়েছে, যা নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা ও দুর্নীতির অভিযোগ ওঠে । বরিশালের রাঙ্গামাটিয়া নদীর ওপর নির্মিত গোমা সেতুর কাজ শেষ হয়েছে প্রায় নয় বছর পর।  মঙ্গলবার ( ১৭ মার্চ) দুপুরের দিকে উদ্বোধনের পর সেতুটি যান চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া হয়। সড়ক পরিবহন ও সেতু, রেলপথ এবং নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে নিয়োজিত মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম এমপি এবং রেলপথ মন্ত্রণালয় এবং সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ সেতুর উদ্ধোধন করেন।   সেতু নির্মাণে লেগেছে ৯ বছর: সেতু নির্মাণে লেগেছে ৯ বছর।২০১৭ সালে প্রায় ৫৭ কোটি ৬২ লাখ টাকা ব্যয়ে তিন বছর মেয়াদি প্রকল্প হিসেবে সেতুটি অনুমোদন পায়। ২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়। কিন্তু নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ হয়নি। শুরুতেই উচ্চতা নিয়ে আপত্তি তোলে বিআইডব্লিউটিএ। তাদের দাবি ছিল, নদীপথ সচল রাখতে সেতুর উচ্চতা আরও বাড়াতে হবে। প্রথম নকশায় সেতুর মাঝ বরাবর সর্বোচ্চ জোয়ারের সময় উচ্চতা ধরা হয়েছিল ৭ দশমিক ৬২ মিটার। পরে তা বাড়িয়ে ১২ দশমিক ২০ মিটার করা হয়। এই পরিবর্তনের কারণে পুরো নকশাই সংশোধন করতে হয়। নতুন নকশায় সেতুর মাঝখানে স্টিল ট্রাস স্প্যান যুক্ত করা হয়। পাঁচবার বাড়ানো হয় সময়সীমা, বেড়ে যায় ব্যয়ও: নকশা পরিবর্তন, জমি অধিগ্রহণ ও নদী শাসনের কাজ যুক্ত হওয়ায় প্রকল্পটির সময়সীমা পাঁচবার বাড়ানো হয়। ব্যয়ও বেড়ে যায় উল্লেখযোগ্যভাবে। সংশোধিত প্রকল্পে সেতুর ব্যয় দাঁড়ায় প্রায় ৯২ কোটি ৪৪ লাখ ৮৯ হাজার টাকা, যা প্রাথমিক অনুমানের তুলনায় প্রায় ৬০ শতাংশ বেশি। সেতুটির দৈর্ঘ্য ২৮৩ দশমিক ১৮৮ মিটার এবং প্রস্থ ১০ দশমিক ২৫ মিটার। দুই লেনের এই সেতুতে পিসি গার্ডারের পাশাপাশি স্টিল ট্রাস ব্যবহার করা হয়েছে, যা দক্ষিণাঞ্চলে এ ধরনের প্রথম সেতু বলে জানিয়েছেন সওজের প্রকৌশলীরা।  সেতুটির ঠিকাদার মো. মাহফুজ খান সাংবাদিকদের বলেন, উচ্চতা বৃদ্ধি, নকশা পরিবর্তন এবং নদী শাসনের কাজ বাড়ার কারণেই সময় ও ব্যয় দুইই বেড়েছে। বরিশাল সওজের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. নাজমুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, নদীর ধারা পরিবর্তন, জমি অধিগ্রহণ এবং সেতুর উচ্চতা বৃদ্ধির কারণে বারবার নকশা সংশোধন করতে হয়েছে।  মঙ্গলবার দুপুরের দিকে উদ্বোধনের পরই সেতুটি যান চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া হয়।   উন্নয়ন না অপচয়? গোমা সেতু এখন চালু—এটি নিঃসন্দেহে একটি ইতিবাচক দিক। তবে এর নির্মাণ ইতিহাস একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন তুলে ধরে— বাংলাদেশের উন্নয়ন প্রকল্পগুলো কি যথাযথ পরিকল্পনা ও জবাবদিহিতার মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে? এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে হলে প্রয়োজন স্বাধীন ও স্বচ্ছ তদন্ত। নয়তো গোমা সেতুর মতো প্রকল্প ভবিষ্যতেও পুনরাবৃত্তি হবে— আর উন্নয়ন হবে, কিন্তু তার মূল্য দিতে হবে সাধারণ মানুষকেই।   মেয়াদ বৃদ্ধি: নিয়ম না ব্যতিক্রম? প্রকল্পটি একাধিকবার সময় বৃদ্ধি পেয়েছে। এখানে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন: প্রতিবার মেয়াদ বৃদ্ধির যৌক্তিকতা কী ছিল? কোনো দায় নির্ধারণ করা হয়েছিল কি? অনেক ক্ষেত্রেই দেখা যায়, সময় বৃদ্ধি ঠিকাদারকে অতিরিক্ত আর্থিক সুবিধা দেয়।   জবাবদিহিতা: অমীমাংসিত প্রশ্ন এই প্রকল্পে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন এখনো অমীমাংসিত— নকশা ত্রুটির জন্য দায়ী কে? ব্যয় বৃদ্ধির অনুমোদন কীভাবে দেওয়া হয়েছে? প্রকল্প তদারকির দায়িত্বে থাকা সংস্থাগুলোর ভূমিকা কী ছিল? এই প্রশ্নগুলোর উত্তর ছাড়া প্রকল্পটির পূর্ণ মূল্যায়ন সম্ভব নয়।  তদন্তের প্রয়োজনীয়তা বিশ্লেষকদের মতে, গোমা সেতু প্রকল্পে একটি স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্ত জরুরি। কেন তদন্ত প্রয়োজন? ব্যয় বৃদ্ধির প্রকৃত কারণ নির্ধারণ অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ যাচাই ভবিষ্যৎ প্রকল্পের জন্য শিক্ষা   সেতুটি নির্মাণ হওয়ার মাধ্যমে বরিশাল জেলা সদরের সাথে বাকেরগঞ্জের পূর্বাঞ্চল কবাই, নলুয়া, দুধল সহ পটুয়াখালীর বাউফল ও দুমকী উপজেলার মধ্যে যোগাযোগ ব্যবস্থার সহজ দ্বার উন্মোচিত হলো।  

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ১৮, ২০২৬ 0
Popular post
ফারুকীর সম্পদ কমেছে, তিশার বেড়েছে দ্বিগুণেরও বেশি: সম্পদ বিবরণী ঘিরে আলোচনা

অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের সম্পদ বিবরণী প্রকাশের পর সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী ও তার স্ত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদের হিসাব নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। এক বছরের ব্যবধানে স্বামী ফারুকীর সম্পদ কমলেও স্ত্রী তিশার সম্পদ বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে প্রকাশিত তথ্যে উঠে এসেছে এই চিত্র। প্রকাশিত খতিয়ান অনুযায়ী, জনপ্রিয় অভিনেত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদ এক বছরে অভাবনীয় হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তিশার মোট সম্পদের পরিমাণ ছিল ১ কোটি ৪০ লাখ ৮১ হাজার ৮৬০ টাকা। ঠিক এক বছর পর, ২০২৫ সালের ৩০ জুন সেই সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ৯৯ লাখ ৮৯ হাজার ৫০১ টাকায়। অর্থাৎ মাত্র এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ বেড়েছে ১ কোটি ৫৯ লাখ ৭ হাজার ৬৪১ টাকা, যা আগের বছরের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি। অন্যদিকে সংস্কৃতি উপদেষ্টা ও নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর ক্ষেত্রে দেখা গেছে উল্টো চিত্র। এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ কমেছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তার মোট সম্পদ ছিল ২ কোটি ২৬ লাখ ৯২ হাজার ২৬ টাকা। ২০২৫ সালের ৩০ জুন তা কমে দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ১৫ লাখ ১৮ হাজার ২৬ টাকায়। হিসাব অনুযায়ী, এক বছরে তার সম্পদ কমেছে ১১ লাখ ৭৪ হাজার টাকা। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে গত মঙ্গলবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ প্রধান উপদেষ্টা, উপদেষ্টা ও সমমর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের পাশাপাশি তাদের স্ত্রী বা স্বামীর সম্পদ বিবরণী প্রকাশ করে। একই সময়ে স্বামী-স্ত্রীর সম্পদে এমন ভিন্নমুখী পরিবর্তন স্বাভাবিকভাবেই সাধারণ মানুষের কৌতূহলের জন্ম দিয়েছে। শোবিজ অঙ্গনের জনপ্রিয় দম্পতি হওয়ায় তাদের এই আয়-ব্যয়ের হিসাব এখন টক অব দ্য কান্ট্রি।

সংসার সামলাতে অটোরিকশা নিয়ে রাস্তায় নেমেছেন রোজিনা

বাসস : বাবা একজন তাঁত শ্রমিক। তিন বোন দুই ভাইয়ের মধ্যে সবার বড় রোজিনা। অভাব সংসার, তাই এক এতিম যুবকের সাথে বাবা-মা বিয়ে দেন তাকে। বিয়ের পর জন্ম হয় দুই কন্যা সন্তানের। অটোরিকশা চালিয়ে কোন রকম সংসার চালাচ্ছিলেন স্বামী রফিকুল ইসলাম। কিন্তু সড়ক দুর্ঘটনায় রফিকুলের এক চোখ সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যায়। আরেকটি চোখ আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ধীরে ধীরে ওই চোখের দৃষ্টি শক্তিও কমতে থাকে। ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে অটোরিকশা চালানো। সংসারের উপার্জনক্ষম মানুষটি অচল হয়ে পড়ায় চিকিৎসার খরচ, ঘর ভাড়া ও খাবারের পাশাপাশি মেয়েদের লেখাপড়ার খরচ চালানোই কঠিন হয়ে যায়। দিশেহারা হয়ে পরেন রোজিনা। এক পর্যায়ে মানুষের বাড়ি বাড়ি কাজ করে সংসার চালানোর চেস্টা করেন। কিন্তু সুবিধা করতে পারেন না। এমন পরিস্থিতিতে অটোরিকশা চালানোর সিদ্ধান্ত নেন তিনি। স্বামী রফিকুলের কাছেই হাতেখড়ি। গ্রামের স্কুলের মাঠে স্বামীর কাছেই অটোরিকশা চালানোর শিক্ষা নেন তিনি। পরে গ্রামের পথে নেমে পড়েন অটোরিকশা নিয়ে। ৫-৬ দিন এভাবে হাত পাকা করে একদিন টাঙ্গাইল শহরে চলে আসেন রোজিনা। এরপর শুরু করেন অটোরিক্সা চালানোর ব্যতিক্রমী জীবন সংগ্রাম। এখন টাঙ্গাইল পৌরসভায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার চালকদের মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা বেগম। জেলার বাসাইল উপজেলার আইসড়া গ্রামের বাসিন্দা রোজিনা টাঙ্গাইল পৌর শহরের এক প্রান্ত রাবনা বাইপাস থেকে আরেক প্রান্ত বেবিস্ট্যান্ডে যাত্রী আনা নেয়া করেন। যানজটের কারণে শহরে পুরুষ চালকরা যেখানে হিমসিম খায়, সেখানেই বিগত ৫ বছর ধরেই নির্বিঘেœ অটোরিকশা চালাচ্ছেন তিনি। টাঙ্গাইল পৌরসভা কার্যালয় সূত্রে জানা যাায়, টাঙ্গাইল শহরে চলাচলের জন্য ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক ও ৫ হাজার ব্যাটারিচালিত রিকশার অনুমতি (লাইসেন্স) দেওয়া হয়েছে। যানজট এড়াতে ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক জোড় ও বিজোড় সংখ্যায় দিনে দুই ভাগ করা হয়েছে। সকাল থেকে বেলা দুইটা পর্যন্ত এক ভাগ এবং বেলা দুইটা থেকে রাত পর্যন্ত আরেক ভাগের ইজিবাইক চলাচল করার নির্দেশনা দিয়েছে পৌর কর্তৃপক্ষ। কিন্তু রোজিনাকে দুই শিফটে চালানোর অনুমতি দিয়েছে পৌরসভা। সরেজমিনে দেখা যায়, নতুন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অটোরিকশা নিয়ে যাত্রী ডাকছেন রোজিনা। কলেজ গেট, পুরাতন বাসস্ট্যান্ড, ক্যাপসুল, নিরালা মোড়, বেবিস্ট্যান্ড সর্বত্রই যাত্রী আনানেয়া করেন তিনি। পুরাতন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অন্য অটো চালকদের দাঁড় করতে না দিলেও রোজিনাকে বাঁধা দেননা ট্রাফিক পুলিশ। বলতে গেলে সবাই তার প্রতি সহানুভুতিশীল। ট্রাফিক পুলিশসহ অন্য অটোচালকরাও তাকে সহযোগিতা করেন। রোজিনা বলেন, আমার অটোতে নারী যাত্রীরা খুব কম। তারা মনে করে আমার অটোতে উঠলে দুর্ঘটনায় পড়বে। কিন্তু আমি খুব সাবধানে অটো চালাই। দ্রুত গতিতেও না, আবার একেবারে ধীরগতিতেও না। এখন পর্যন্ত আমি কোন দুর্ঘটনার কবলে পড়ি নাই। শহরের পুরুষ অটোরিকশা চালকরা আমাকে অনেক সহযোগিতা করে। অটোচালক কাদের মিয়া বলেন, আমাদের শহরে কয়েক হাজার অটো চলাচল করে। তার মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। তাকে আমরা সব সময় সহযোগিতা করি। যাত্রী সাইদ মিয়া বলেন, আমি এ পর্যন্ত ৫-৬ বার রোজিনার অটোতে চড়েছি। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। অন্য পুরুষ অটো চালকের চেয়েও ভালো অটো চালান। নারী সংগঠক সেরাজুম মনিরা বলেন, তিনি অনেক দিন যাবত অটোরিকশা চালাচ্ছেন। আমি রোজিনাকে স্যালুট জানাই। একজন পুরুষের চেয়ে একজন নারী কোনো ভাবেই যে পিছিয়ে নেই, রোজিনা তা প্রমাণ করেছেন। রোজিনা বলেন, অটো চালানোর এই সিদ্ধান্তটি তার জন্য খুব সহজ ছিল না। তিনি বলেন, ৫ ও ১০ বছরের দুই মেয়েকে বাড়িতে রেখে অটোরিকশা নিয়ে সারাদিন রাস্তায় থাকতে হয়। তাদের ভালোভাবে দেখাশোনা করতে পারি না। কিন্তু কি করবো, অভাবের সংসার! এখন ঋণ নিয়ে একটু জমি কিনেছি। প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ণ প্রকল্পের অর্থায়নে প্রশাসন সেখানে ঘর তুলে দিয়েছে। শুরুতে যারা আমাকে নিয়ে ঠাট্টা করেছে এখন তারাই আমাকে সম্মান করেন। নারীরাও যে কিছু করতে পারে, তা প্রমাণ করেছি। আমার বড় মেয়ে আইসড়া উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়ে, ছোট মেয়ে পড়ে স্থানীয় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। মেয়েদের শিক্ষিত করতে হবে। ধার দেনা শোধ করতে হবে। তাই থেমে গেলো চলবে না। আমি অটোরিকশা চালিয়েই দুই সন্তানকে মানুষ করতে চাই।’ ঘারিন্দা ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য বাবুল সরকার বলেন, সরকার রোজিনাকে একটি ঘর নির্মাণ করে দিয়েছে। শুরুতে যারা তাকে নিয়ে নানান কথা বলতো, এখন তার সংকল্প ও মানষিক দৃঢ়তা দেখে থেমে গেছে। আমরা তাকে নিয়ে গর্ব করি। টাঙ্গাইলের ট্রাফিক ইন্সপেক্টর (প্রশাসন) দেলোয়ার হোসেন বলেন, শহরের একমাত্র নারী চালক রোজিনাকে কেউ যেন বিরক্ত করতে না পারে সেদিকে সব সময় নজর রাখে ট্রাফিক পুলিশ। আমরা তাকে সব সময় সহযোগিতা করে আসছি। টাঙ্গাইলের সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক শাহ আলম বলেন, বিষয়টি এখন জানতে পারলাম। ওই নারী এখনো পর্যন্ত আমাদের কাছে আসেন নাই। যদি আমাদের কাছে এসে আবেদন করেন অবশ্যই তাকে আমরা সহযেগিতা করবো, তার পাশে দাঁড়াবো।

বাংলাদেশে ঐতিহাসিক নির্বাচন: বিএনপি এগিয়ে, জামায়াতের উত্থান ও তরুণ ভোটারদের প্রভাব

২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশে আজ এক ঐতিহাসিক ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ২০০৮ সালের পর এই প্রথম একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হতে যাচ্ছে যেখানে দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগ রাজনৈতিক মানচিত্র থেকে কার্যত অনুপস্থিত। বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক জরিপ বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০০ আসনের মধ্যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) কার্যকর সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে যাচ্ছে। তবে ভোটের ব্যবধান এবং কিছু সমীকরণ নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। নির্বাচনের সবচেয়ে বড় নিয়ামক হয়ে দাঁড়িয়েছে আওয়ামী লীগের বিশাল ভোটব্যাংক। দলটির নিয়মিত প্রায় ৪ কোটি ভোটার এখন নতুন রাজনৈতিক আশ্রয় খুঁজছেন। সিআরএফ বা বিইপিওএস জরিপ বলছে, এই ভোটারদের প্রায় অর্ধেক বিএনপির দিকে ঝুঁকেছে, যা দলটিকে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতার পথে এগিয়ে দিচ্ছে। অন্যদিকে, প্রায় ৩০ শতাংশ আওয়ামী ভোটার জামায়াতে ইসলামীকে বেছে নিতে পারেন বলে আভাস পাওয়া যাচ্ছে। এছাড়া বাংলাদেশের বিদ্যমান নির্বাচনী ব্যবস্থার কারণে দেশজুড়ে সুষম জনসমর্থন থাকা বিএনপি আসন জয়ের ক্ষেত্রে জামায়াতের তুলনায় সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। তবে বিএনপির এই সম্ভাব্য জয়ের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও বিদ্রোহী প্রার্থীরা। প্রায় ৭৯টি নির্বাচনী এলাকায় দলের মনোনয়ন না পাওয়া ৯২ জন প্রভাবশালী নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, যা বিএনপির ১৫ থেকে ৩০টি আসন কমিয়ে দিতে পারে। অন্যদিকে, তরুণ ভোটার বা ‘জেন-জি’ প্রজন্মের বিশাল সমর্থন জামায়াতে ইসলামীর শক্তির উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেশের ৪৪ শতাংশ ভোটারই তরুণ, যাদের বড় একটি অংশ প্রথমবার ভোট দিচ্ছেন। এই তরুণরা যদি দলবেঁধে কেন্দ্রে উপস্থিত হন, তবে নির্বাচনী ফলে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। সবশেষে, প্রায় ১৭ থেকে ৩৫ শতাংশ দোদুল্যমান ভোটার এবং তাদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করবে আগামীর সরকার কতটা শক্তিশালী হবে। দ্য নিউইয়র্ক এডিটোরিয়ালের মূল পূর্বাভাস, তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি প্রায় ১৮৫টি আসনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করতে পারে এবং জামায়াতে ইসলামী ৮০টির মতো আসন পেয়ে প্রধান বিরোধী দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারে। তবে বিদ্রোহী প্রার্থীদের প্রভাব এবং তরুণ ভোটারদের উপস্থিতির ওপর ভিত্তি করে আসন সংখ্যায় বড় ধরনের হেরফের হওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

গাজায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা ট্রাম্প প্রশাসনে

ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। ৩৫০ একরের ঘাঁটিটিতে সামরিক বাহিনীর পাঁচ হাজার সদস্য থাকতে পারবে। গাজার ‘বোর্ড অব পিস’র নথি পর্যালোচনা করে এ তথ্য জানিয়েছে দ্য গার্ডিয়ান। প্রতিবেদনে ব্রিটিশ সংবাদ মাধ্যমটি জানিয়েছে, বোর্ড অব পিসে গাজাকে নিরাপদ করার জন্য ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যাবিলাইজেশন ফোর্স (আইএসএফ) নামে একটি আন্তর্জাতিক বাহিনী মোতায়েনের কথা বলা হয়েছে। যে স্থানটি ঘাঁটি করার জন্য বিবেচনা করা হচ্ছে সেখানে আইএসএফের সদস্যরা থাকবে। বোর্ড অব পিসের প্রধান হবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আর সংগঠনটির আংশিক নেতৃত্ব দেবেন ট্রাম্পের জামাতা জ্যারার্ড কুশনার।দ্য গার্ডিয়ান বোর্ড অব পিসের নথি পর্যালোচনা করে জানায়, ধাপে ধাপে একটি সামরিক ঘাঁটি নির্মাণ করা হবে। সবকিছু শেষ হলে ঘাঁটিটি ১৫ লাখ ১৭ হাজার ৫৭৫ বর্গমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত হবে। ঘাঁটিটির চারপাশে ট্রেইলার সংযুক্ত ২৬টি সাঁজোয়া নজরদারি টাওয়ার থাকবে। এছাড়া একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, বাংকার ও অস্ত্র রাখার গুদাম থাকবে। পুরো ঘাঁটিটি কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে ঘিরে রাখা হবে। সামরিক ঘাঁটি নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে দক্ষিণ গাজার একটি শুষ্ক সমতলভূমিতে। সেখানে ইসরায়েলি হামলার চিহ্ন রয়েছে। ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে বিভিন্ন ধাতবের ধ্বংসাবশেষ।  ওই এলাকার ভিডিও পর্যালোচনা করেছে দ্য গার্ডিয়ান। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, ঘাঁটি নির্মাণের জন্য টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে। যুদ্ধক্ষেত্রে কাজের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন আন্তর্জাতিক নির্মাণ কোম্পানিগুলোর একটি ছোট দলকে ইতোমধ্যেই এলাকাটি দেখানো হয়েছে। ওই দলটি দরপত্রে অংশ নিতে আগ্রহী।    ইন্দোনেশিয়া সরকার গাজায় আট হাজার সেনা সদস্য পাঠানোর জন্য প্রস্তাব দিয়েছে। বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটন ডিসিতে বোর্ড অব পিসের অনানুষ্ঠানিক বৈঠকে ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্টের অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। এছাড়া দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার আরও তিন নেতার ওই বৈঠকে অংশ নেবেন বলে জানা গেছে। জাতিসংঘের নিরাপত্তা কাউন্সিল গাজার সাময়িক স্থিতিশীলতার জন্য অস্থায়ীভাবে সামরিক বাহিনী মোতায়েনের অনুমোদন দিয়েছে। নিরাপত্তা কাউন্সিলই বোর্ড অব পিসের মূল হোতা। গাজার সীমান্ত ও শান্তি প্রণয়নে কাজ করবে আইএসএফ। এছাড়া বেসামরিকদের সুরক্ষা এবং ফিলিস্তিনি পুলিশ বাহিনীকে প্রশিক্ষণ ও সহায়তা দেবে তারা। যদি গাজায় ফের সংঘর্ষ হয়, ইসরায়েল বোমা হামলা চালায় অথবা হামাস হামলা চালায় সেক্ষেত্রে আইএসএফ কি করবে তা এখনও স্পষ্ট নয়। গাজা পুনর্গঠনে ইসরায়েল হামাসকে নিরস্ত্রীকরণের যে শর্ত দিয়েছে সেটির জন্য আইএসএফ কাজ করবে কিনা তাও স্পষ্ট না। ইতোমধ্যে বোর্ড অব পিসে ২০ এর অধিক দেশ যোগ দিয়েছে। তবে, এখনও অনেক পরাশক্তি এর থেকে দূরে রয়েছে। জাতিসংঘের অনুমোদন নিয়ে প্রতিষ্ঠিত হলেও ধারণা করা হচ্ছে, সংগঠনটির স্থায়ী নেতৃত্ব ও নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে। রুটজার্স বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক আদিল হক বলেন, “বোর্ড অব পিস এক ধরনের আইনি কল্পসত্তা। নামমাত্রভাবে এর নিজস্ব আন্তর্জাতিক আইনগত সত্তা রয়েছে, যা জাতিসংঘ ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে আলাদা। কিন্তু বাস্তবে এটি যুক্তরাষ্ট্রের ইচ্ছামতো ব্যবহারের জন্য একটি ফাঁপা খোলসমাত্র।” বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গাজা পুনর্গঠনে যে অর্থায়ন ও শাসন কাঠামো হচ্ছে তা অস্বচ্ছ। কয়েকজন ঠিকাদার গার্ডিয়ানকে জানান, গাজায় কাজ করার জন্য মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে তাদের প্রায়শ আলোচনা সরকারি ইমেলের বদলে সিগন্যালের মাধ্যমে করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রের তথ্য মতে, ঘাঁটি নির্মাণের সিদ্ধান্তটি বোর্ড অব পিসের। এতে সহায়তা করছে মার্কিন কর্মকর্তারা। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ঘাঁটিতে তৈরি বাংকার নেটওয়ার্কের মতোন কাজ করবে। প্রতিটি বাংকারের ২৪ মিটারের হবে। উচ্চতা থাকবে আড়াই মিটার। এগুলো এমনভাবে করা হবে যেন সেনা সদস্যরা আশ্রয় নিতে পারে। স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসের গাজায় সুড়ঙ্গ নেটওয়ার্ক বা টানেল রয়েছে। সেগুলোর আদলে নেটওয়ার্ক করতে চাওয়া হচ্ছে। পিস অব বোর্ডের নথি পর্যালোচনা করে এমন দাবি করছে গার্ডিয়ান। সংবাদ মাধ্যমটি বলছে,  স্থানটির ভূ-ভৌত জরিপ পরিচালনা করবে ঠিকাদাররা। নথির এক অংশে ‘হিউম্যান রেমিয়েনস প্রোটোকল’র কথা বলা হয়েছে। এর মানে দাঁড়ায়, সন্দেহভাজন মানব অবশিষ্ট বা সাংস্কৃতিক নিদর্শন পাওয়া গেলে অবিলম্বে সেই এলাকায় সব কাজ বন্ধ করতে হবে। চুক্তি কর্মকর্তাকে দিকনির্দেশনার জন্য অবিলম্বে জানাতে হবে। গাজা সিভিল ডিফেন্সের ধারণা, গাজার ধ্বংসস্তূপের নিচে ১০ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনির মরদেহ রয়েছে। ঘাঁটির জন্য যে স্থানটি বিবেচিত করা হচ্ছে সেটির মালিক কে তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে, দক্ষিণ গাজার বেশিরভাগ অংশ  বর্তমানে ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণে। জাতিসংঘের অনুমান, যুদ্ধ চলাকালীন ১৯ লাখ ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত হয়েছে। ফিলিস্তিনের জমিতে সরকারের অনুমতি না নিয়ে সামরিক ঘাঁটি স্থাপনকে দখল হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন ফিলিস্তিনি-কানাডিয়ান আইনজীবী এবং প্রাক্তন শান্তি আলোচক দিয়ানা বুট্টু। তিনি প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়ে বলেন, “কার অনুমতিতে তারা সামরিক ঘাঁটি স্থাপন করবে।” বিষয়টি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা বোর্ড অব পিসের কথা টানেন। ট্রাম্প প্রশাসনের একজন কর্মকর্তা সামরিক ঘাঁটির চুক্তি নিয়ে আলোচনা করতে অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, “যেমনটি প্রেসিডেন্ট বলেছেন, কোনও মার্কিন সেনা স্থলভাগে যাবে না। আমরা লিক হওয়া নথি নিয়ে আলোচনা করবো না।”

কুড়িগ্রামের তাজু ভাই ২.০: ‘সরকারি রেটে জিলাপি’ প্রশ্নে ভাইরাল এক নির্মাণশ্রমিকের গল্প

বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের প্রত্যন্ত চরাঞ্চল থেকে উঠে এসে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার কেন্দ্রে এখন তাইজুল ইসলাম, যিনি অনলাইনে পরিচিত ‘তাজু ভাই ২.০’ নামে। মাত্র একটি ভিডিও—যেখানে তিনি এক দোকানিকে প্রশ্ন করেন, “জিলাপি আজকে কত করে বেচতেছেন সরকারি রেটে?”—এই সরল উপস্থাপনাই তাকে রাতারাতি ভাইরাল করে তোলে।  কয়েক ঘণ্টায় ফলোয়ার লাখ ছাড়াল রোববার রাত পর্যন্ত তার ফেসবুক অনুসারী ছিল প্রায় ৩৫ হাজার। কিন্তু সোমবার সন্ধ্যা থেকে রাতের মধ্যেই তা বেড়ে এক লাখের বেশি হয়ে যায়। ভাইরাল ভিডিওটি ইতোমধ্যে প্রায় ৫০ থেকে ৫৫ লাখবার দেখা হয়েছে।  কী ছিল সেই ভিডিওতে? ভিডিওতে দেখা যায়, কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীর নারায়ণপুর বাজারে দাঁড়িয়ে স্থানীয় ভাষায় তিনি জিলাপির দাম জানতে চান। তার কথাগুলো ছিল একেবারেই সহজ ও গ্রাম্য ভঙ্গিতে— “সাদাডা কত, লালডা কত? সরকারি রেটে বেচতেছেন?” এই সরল প্রশ্নই সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।  কোথা থেকে উঠে এলেন তাজু ভাই? কুড়িগ্রাম জেলার নাগেশ্বরী উপজেলার নারায়ণপুর ইউনিয়নের একটি দুর্গম গ্রামে জন্ম তার। ব্রহ্মপুত্র নদবেষ্টিত এই অঞ্চলে পৌঁছাতে এখনও কয়েকটি নৌঘাট পার হতে হয়। দারিদ্র্যের কারণে কখনো স্কুলে যাওয়া হয়নি তার। পেশায় তিনি একজন নির্মাণশ্রমিকের সহকারী (হেলপার)। কাজের ফাঁকে ঢাকায় থাকাকালীন মোবাইল ফোনে ভিডিও তৈরি করাই তার শখ। ব্যক্তিগত সংগ্রাম তাইজুল ইসলামের পরিবারে ছয় ভাই-বোন। তিনি সবার বড়। তার বাবা-মা দুজনই শ্রবণপ্রতিবন্ধী। পরিবার চালাতে তাকে ছোটবেলা থেকেই সংগ্রাম করতে হয়েছে। তিনি বলেন, “পরিবারের কষ্ট ভুলতেই ভিডিও করি। আমি সাংবাদিক না, কিন্তু আমাদের এলাকায় কেউ আসে না—তাই নিজেরাই ভিডিও বানাই।” ভাইরাল হওয়ার পেছনের উদ্দেশ্য তাইজুলের দাবি, তার ভিডিও শুধুই বিনোদনের জন্য নয়। তিনি চান তার এলাকার অবহেলিত মানুষের কথা প্রশাসনের নজরে আসুক। “আমি চাই চরের মানুষের উন্নয়ন হোক,”—বলছেন তিনি।  মিশ্র প্রতিক্রিয়া ভিডিওটি নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে দুই ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ তার সরলতা ও বাস্তবতা তুলে ধরার চেষ্টা প্রশংসা করছেন আবার কেউ তাকে নিয়ে ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ করছেন তবে এসব সমালোচনায় তিনি বিচলিত নন।

অর্থনীতি

ইসলামী ব্যাংক,

ইসলামী ব্যাংকে আস্থা সংকট কেন কাটছে না?: দেশের বৃহত্তম শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংককে ঘিরে নতুন প্রশ্ন

নিজস্ব প্রতিবেদক জুন ২২, ২০২৬ 0




অপরাধ

ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো

ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকোর বিরুদ্ধে ৩০ বিলিয়ন ডলার জালিয়াতি ও অর্থপাচার অভিযোগে দুদকের অনুসন্ধান

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ২৪, ২০২৬ 0




কৃষি ও জলবায়ু

ধান

শেরপুরে বোরো ধানের দাম কমে লোকসানে কৃষকরা, উৎপাদন খরচও উঠছে না

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ৬, ২০২৬ 0