Brand logo light
সংবাদ

ইরানে হামলা পরিকল্পনায় ধাক্কা: কুর্দিদের ‘না’, চাপে ট্রাম্প প্রশাসন

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ২৬, ২০২৬ 0
ইরাকের কুর্দি যোদ্ধা।
ইরাকের কুর্দি যোদ্ধা।

ইরানে আগ্রাসন শুরুর আগে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের প্রত্যাশা ছিল দ্রুত ফলাফল—প্রথম দিনেই দেশটির সর্বোচ্চ নেতা ও শীর্ষ সামরিক কমান্ডারদের হত্যা করা গেলে সাধারণ জনগণ রাস্তায় নেমে আসবে এবং সরকার পতনের পথ সুগম হবে। কিন্তু বাস্তবে সেই হিসাব মেলেনি।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে অব্যাহত বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পরও ইরানের শাসন ব্যবস্থা দৃঢ়ভাবে টিকে আছে। বরং পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে। প্রাথমিক পরিকল্পনা ব্যর্থ হওয়ায় একপর্যায়ে স্থল হামলার চিন্তা করা হলেও, মার্কিন সেনাদের পক্ষে তা সম্ভব নয়—এমন উপলব্ধি থেকে নতুন কৌশল হিসেবে ইরানের সীমান্তবর্তী ইরাকের কুর্দি যোদ্ধাদের প্রস্তুত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়।

পরবর্তীতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট Donald Trump এবং তার প্রশাসনের কর্মকর্তারা বারবার দাবি করতে থাকেন যে, কুর্দিরা ইরানে আক্রমণ চালিয়ে শাসন ব্যবস্থার পরিবর্তন ঘটাতে পারে। কিন্তু সেই পরিকল্পনাও বাস্তবায়নের মুখ দেখছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের ঘনিষ্ঠ মিত্র—যুক্তরাজ্য, কানাডা, জার্মানি ও ফ্রান্সসহ ইউরোপের কয়েকটি দেশ ইতোমধ্যেই এই ইস্যুতে ট্রাম্প প্রশাসনের অবস্থান থেকে সরে এসেছে। ফলে আন্তর্জাতিক সমর্থনেও ভাটা পড়েছে।

এর মধ্যেই ইরাকের কুর্দি বাহিনী পেশমারগার শীর্ষ কর্মকর্তা সিরওয়ান বারজানি স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছেন, তারা ইরানের বিরুদ্ধে কোনো হামলায় অংশ নেবেন না। তিনি বলেন, হামলা শুরুর পর থেকে ইরাকের কুর্দিস্তান অঞ্চল প্রায় ৪৩০টি ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার শিকার হয়েছে।

উত্তর ইরাকে আইএসবিরোধী ফ্রন্টলাইনের দায়িত্বে থাকা বারজানি প্রশ্ন তোলেন, “আমরা তো তাদের বিরুদ্ধে কিছুই করিনি। আমরা প্রতিবেশী। আমাদের মধ্যে বাণিজ্যিক সম্পর্ক ও ঐতিহাসিক বন্ধন রয়েছে—তাহলে কেন প্রতিদিন আমাদের ঘাঁটিতে হামলা চালানো হচ্ছে?”

একই দিনে ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় পেশমারগা বাহিনীর ৬ সদস্য নিহত এবং অন্তত ৩০ জন আহত হন। এই ঘটনাকে ‘সন্ত্রাসবাদী হামলা’ হিসেবে আখ্যা দেন বারজানি।

বিশ্লেষকরা বলছেন, কুর্দিদের এই অবস্থান যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত পরিকল্পনায় বড় ধরনের ধাক্কা। এতে করে ইরানের বিরুদ্ধে বহুমুখী চাপ সৃষ্টির যে পরিকল্পনা ছিল, তা এখন অনেকটাই ভেঙে পড়ার মুখে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও যুক্তরাষ্ট্র ক্রমশ একঘরে হয়ে পড়ছে।

Popular post
ফারুকীর সম্পদ কমেছে, তিশার বেড়েছে দ্বিগুণেরও বেশি: সম্পদ বিবরণী ঘিরে আলোচনা

অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের সম্পদ বিবরণী প্রকাশের পর সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী ও তার স্ত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদের হিসাব নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। এক বছরের ব্যবধানে স্বামী ফারুকীর সম্পদ কমলেও স্ত্রী তিশার সম্পদ বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে প্রকাশিত তথ্যে উঠে এসেছে এই চিত্র। প্রকাশিত খতিয়ান অনুযায়ী, জনপ্রিয় অভিনেত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদ এক বছরে অভাবনীয় হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তিশার মোট সম্পদের পরিমাণ ছিল ১ কোটি ৪০ লাখ ৮১ হাজার ৮৬০ টাকা। ঠিক এক বছর পর, ২০২৫ সালের ৩০ জুন সেই সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ৯৯ লাখ ৮৯ হাজার ৫০১ টাকায়। অর্থাৎ মাত্র এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ বেড়েছে ১ কোটি ৫৯ লাখ ৭ হাজার ৬৪১ টাকা, যা আগের বছরের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি। অন্যদিকে সংস্কৃতি উপদেষ্টা ও নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর ক্ষেত্রে দেখা গেছে উল্টো চিত্র। এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ কমেছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তার মোট সম্পদ ছিল ২ কোটি ২৬ লাখ ৯২ হাজার ২৬ টাকা। ২০২৫ সালের ৩০ জুন তা কমে দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ১৫ লাখ ১৮ হাজার ২৬ টাকায়। হিসাব অনুযায়ী, এক বছরে তার সম্পদ কমেছে ১১ লাখ ৭৪ হাজার টাকা। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে গত মঙ্গলবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ প্রধান উপদেষ্টা, উপদেষ্টা ও সমমর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের পাশাপাশি তাদের স্ত্রী বা স্বামীর সম্পদ বিবরণী প্রকাশ করে। একই সময়ে স্বামী-স্ত্রীর সম্পদে এমন ভিন্নমুখী পরিবর্তন স্বাভাবিকভাবেই সাধারণ মানুষের কৌতূহলের জন্ম দিয়েছে। শোবিজ অঙ্গনের জনপ্রিয় দম্পতি হওয়ায় তাদের এই আয়-ব্যয়ের হিসাব এখন টক অব দ্য কান্ট্রি।

বাংলাদেশে ঐতিহাসিক নির্বাচন: বিএনপি এগিয়ে, জামায়াতের উত্থান ও তরুণ ভোটারদের প্রভাব

২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশে আজ এক ঐতিহাসিক ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ২০০৮ সালের পর এই প্রথম একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হতে যাচ্ছে যেখানে দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগ রাজনৈতিক মানচিত্র থেকে কার্যত অনুপস্থিত। বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক জরিপ বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০০ আসনের মধ্যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) কার্যকর সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে যাচ্ছে। তবে ভোটের ব্যবধান এবং কিছু সমীকরণ নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। নির্বাচনের সবচেয়ে বড় নিয়ামক হয়ে দাঁড়িয়েছে আওয়ামী লীগের বিশাল ভোটব্যাংক। দলটির নিয়মিত প্রায় ৪ কোটি ভোটার এখন নতুন রাজনৈতিক আশ্রয় খুঁজছেন। সিআরএফ বা বিইপিওএস জরিপ বলছে, এই ভোটারদের প্রায় অর্ধেক বিএনপির দিকে ঝুঁকেছে, যা দলটিকে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতার পথে এগিয়ে দিচ্ছে। অন্যদিকে, প্রায় ৩০ শতাংশ আওয়ামী ভোটার জামায়াতে ইসলামীকে বেছে নিতে পারেন বলে আভাস পাওয়া যাচ্ছে। এছাড়া বাংলাদেশের বিদ্যমান নির্বাচনী ব্যবস্থার কারণে দেশজুড়ে সুষম জনসমর্থন থাকা বিএনপি আসন জয়ের ক্ষেত্রে জামায়াতের তুলনায় সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। তবে বিএনপির এই সম্ভাব্য জয়ের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও বিদ্রোহী প্রার্থীরা। প্রায় ৭৯টি নির্বাচনী এলাকায় দলের মনোনয়ন না পাওয়া ৯২ জন প্রভাবশালী নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, যা বিএনপির ১৫ থেকে ৩০টি আসন কমিয়ে দিতে পারে। অন্যদিকে, তরুণ ভোটার বা ‘জেন-জি’ প্রজন্মের বিশাল সমর্থন জামায়াতে ইসলামীর শক্তির উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেশের ৪৪ শতাংশ ভোটারই তরুণ, যাদের বড় একটি অংশ প্রথমবার ভোট দিচ্ছেন। এই তরুণরা যদি দলবেঁধে কেন্দ্রে উপস্থিত হন, তবে নির্বাচনী ফলে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। সবশেষে, প্রায় ১৭ থেকে ৩৫ শতাংশ দোদুল্যমান ভোটার এবং তাদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করবে আগামীর সরকার কতটা শক্তিশালী হবে। দ্য নিউইয়র্ক এডিটোরিয়ালের মূল পূর্বাভাস, তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি প্রায় ১৮৫টি আসনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করতে পারে এবং জামায়াতে ইসলামী ৮০টির মতো আসন পেয়ে প্রধান বিরোধী দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারে। তবে বিদ্রোহী প্রার্থীদের প্রভাব এবং তরুণ ভোটারদের উপস্থিতির ওপর ভিত্তি করে আসন সংখ্যায় বড় ধরনের হেরফের হওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

গাজায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা ট্রাম্প প্রশাসনে

ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। ৩৫০ একরের ঘাঁটিটিতে সামরিক বাহিনীর পাঁচ হাজার সদস্য থাকতে পারবে। গাজার ‘বোর্ড অব পিস’র নথি পর্যালোচনা করে এ তথ্য জানিয়েছে দ্য গার্ডিয়ান। প্রতিবেদনে ব্রিটিশ সংবাদ মাধ্যমটি জানিয়েছে, বোর্ড অব পিসে গাজাকে নিরাপদ করার জন্য ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যাবিলাইজেশন ফোর্স (আইএসএফ) নামে একটি আন্তর্জাতিক বাহিনী মোতায়েনের কথা বলা হয়েছে। যে স্থানটি ঘাঁটি করার জন্য বিবেচনা করা হচ্ছে সেখানে আইএসএফের সদস্যরা থাকবে। বোর্ড অব পিসের প্রধান হবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আর সংগঠনটির আংশিক নেতৃত্ব দেবেন ট্রাম্পের জামাতা জ্যারার্ড কুশনার।দ্য গার্ডিয়ান বোর্ড অব পিসের নথি পর্যালোচনা করে জানায়, ধাপে ধাপে একটি সামরিক ঘাঁটি নির্মাণ করা হবে। সবকিছু শেষ হলে ঘাঁটিটি ১৫ লাখ ১৭ হাজার ৫৭৫ বর্গমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত হবে। ঘাঁটিটির চারপাশে ট্রেইলার সংযুক্ত ২৬টি সাঁজোয়া নজরদারি টাওয়ার থাকবে। এছাড়া একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, বাংকার ও অস্ত্র রাখার গুদাম থাকবে। পুরো ঘাঁটিটি কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে ঘিরে রাখা হবে। সামরিক ঘাঁটি নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে দক্ষিণ গাজার একটি শুষ্ক সমতলভূমিতে। সেখানে ইসরায়েলি হামলার চিহ্ন রয়েছে। ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে বিভিন্ন ধাতবের ধ্বংসাবশেষ।  ওই এলাকার ভিডিও পর্যালোচনা করেছে দ্য গার্ডিয়ান। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, ঘাঁটি নির্মাণের জন্য টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে। যুদ্ধক্ষেত্রে কাজের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন আন্তর্জাতিক নির্মাণ কোম্পানিগুলোর একটি ছোট দলকে ইতোমধ্যেই এলাকাটি দেখানো হয়েছে। ওই দলটি দরপত্রে অংশ নিতে আগ্রহী।    ইন্দোনেশিয়া সরকার গাজায় আট হাজার সেনা সদস্য পাঠানোর জন্য প্রস্তাব দিয়েছে। বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটন ডিসিতে বোর্ড অব পিসের অনানুষ্ঠানিক বৈঠকে ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্টের অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। এছাড়া দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার আরও তিন নেতার ওই বৈঠকে অংশ নেবেন বলে জানা গেছে। জাতিসংঘের নিরাপত্তা কাউন্সিল গাজার সাময়িক স্থিতিশীলতার জন্য অস্থায়ীভাবে সামরিক বাহিনী মোতায়েনের অনুমোদন দিয়েছে। নিরাপত্তা কাউন্সিলই বোর্ড অব পিসের মূল হোতা। গাজার সীমান্ত ও শান্তি প্রণয়নে কাজ করবে আইএসএফ। এছাড়া বেসামরিকদের সুরক্ষা এবং ফিলিস্তিনি পুলিশ বাহিনীকে প্রশিক্ষণ ও সহায়তা দেবে তারা। যদি গাজায় ফের সংঘর্ষ হয়, ইসরায়েল বোমা হামলা চালায় অথবা হামাস হামলা চালায় সেক্ষেত্রে আইএসএফ কি করবে তা এখনও স্পষ্ট নয়। গাজা পুনর্গঠনে ইসরায়েল হামাসকে নিরস্ত্রীকরণের যে শর্ত দিয়েছে সেটির জন্য আইএসএফ কাজ করবে কিনা তাও স্পষ্ট না। ইতোমধ্যে বোর্ড অব পিসে ২০ এর অধিক দেশ যোগ দিয়েছে। তবে, এখনও অনেক পরাশক্তি এর থেকে দূরে রয়েছে। জাতিসংঘের অনুমোদন নিয়ে প্রতিষ্ঠিত হলেও ধারণা করা হচ্ছে, সংগঠনটির স্থায়ী নেতৃত্ব ও নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে। রুটজার্স বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক আদিল হক বলেন, “বোর্ড অব পিস এক ধরনের আইনি কল্পসত্তা। নামমাত্রভাবে এর নিজস্ব আন্তর্জাতিক আইনগত সত্তা রয়েছে, যা জাতিসংঘ ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে আলাদা। কিন্তু বাস্তবে এটি যুক্তরাষ্ট্রের ইচ্ছামতো ব্যবহারের জন্য একটি ফাঁপা খোলসমাত্র।” বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গাজা পুনর্গঠনে যে অর্থায়ন ও শাসন কাঠামো হচ্ছে তা অস্বচ্ছ। কয়েকজন ঠিকাদার গার্ডিয়ানকে জানান, গাজায় কাজ করার জন্য মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে তাদের প্রায়শ আলোচনা সরকারি ইমেলের বদলে সিগন্যালের মাধ্যমে করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রের তথ্য মতে, ঘাঁটি নির্মাণের সিদ্ধান্তটি বোর্ড অব পিসের। এতে সহায়তা করছে মার্কিন কর্মকর্তারা। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ঘাঁটিতে তৈরি বাংকার নেটওয়ার্কের মতোন কাজ করবে। প্রতিটি বাংকারের ২৪ মিটারের হবে। উচ্চতা থাকবে আড়াই মিটার। এগুলো এমনভাবে করা হবে যেন সেনা সদস্যরা আশ্রয় নিতে পারে। স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসের গাজায় সুড়ঙ্গ নেটওয়ার্ক বা টানেল রয়েছে। সেগুলোর আদলে নেটওয়ার্ক করতে চাওয়া হচ্ছে। পিস অব বোর্ডের নথি পর্যালোচনা করে এমন দাবি করছে গার্ডিয়ান। সংবাদ মাধ্যমটি বলছে,  স্থানটির ভূ-ভৌত জরিপ পরিচালনা করবে ঠিকাদাররা। নথির এক অংশে ‘হিউম্যান রেমিয়েনস প্রোটোকল’র কথা বলা হয়েছে। এর মানে দাঁড়ায়, সন্দেহভাজন মানব অবশিষ্ট বা সাংস্কৃতিক নিদর্শন পাওয়া গেলে অবিলম্বে সেই এলাকায় সব কাজ বন্ধ করতে হবে। চুক্তি কর্মকর্তাকে দিকনির্দেশনার জন্য অবিলম্বে জানাতে হবে। গাজা সিভিল ডিফেন্সের ধারণা, গাজার ধ্বংসস্তূপের নিচে ১০ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনির মরদেহ রয়েছে। ঘাঁটির জন্য যে স্থানটি বিবেচিত করা হচ্ছে সেটির মালিক কে তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে, দক্ষিণ গাজার বেশিরভাগ অংশ  বর্তমানে ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণে। জাতিসংঘের অনুমান, যুদ্ধ চলাকালীন ১৯ লাখ ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত হয়েছে। ফিলিস্তিনের জমিতে সরকারের অনুমতি না নিয়ে সামরিক ঘাঁটি স্থাপনকে দখল হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন ফিলিস্তিনি-কানাডিয়ান আইনজীবী এবং প্রাক্তন শান্তি আলোচক দিয়ানা বুট্টু। তিনি প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়ে বলেন, “কার অনুমতিতে তারা সামরিক ঘাঁটি স্থাপন করবে।” বিষয়টি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা বোর্ড অব পিসের কথা টানেন। ট্রাম্প প্রশাসনের একজন কর্মকর্তা সামরিক ঘাঁটির চুক্তি নিয়ে আলোচনা করতে অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, “যেমনটি প্রেসিডেন্ট বলেছেন, কোনও মার্কিন সেনা স্থলভাগে যাবে না। আমরা লিক হওয়া নথি নিয়ে আলোচনা করবো না।”

সংসার সামলাতে অটোরিকশা নিয়ে রাস্তায় নেমেছেন রোজিনা

বাসস : বাবা একজন তাঁত শ্রমিক। তিন বোন দুই ভাইয়ের মধ্যে সবার বড় রোজিনা। অভাব সংসার, তাই এক এতিম যুবকের সাথে বাবা-মা বিয়ে দেন তাকে। বিয়ের পর জন্ম হয় দুই কন্যা সন্তানের। অটোরিকশা চালিয়ে কোন রকম সংসার চালাচ্ছিলেন স্বামী রফিকুল ইসলাম। কিন্তু সড়ক দুর্ঘটনায় রফিকুলের এক চোখ সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যায়। আরেকটি চোখ আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ধীরে ধীরে ওই চোখের দৃষ্টি শক্তিও কমতে থাকে। ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে অটোরিকশা চালানো। সংসারের উপার্জনক্ষম মানুষটি অচল হয়ে পড়ায় চিকিৎসার খরচ, ঘর ভাড়া ও খাবারের পাশাপাশি মেয়েদের লেখাপড়ার খরচ চালানোই কঠিন হয়ে যায়। দিশেহারা হয়ে পরেন রোজিনা। এক পর্যায়ে মানুষের বাড়ি বাড়ি কাজ করে সংসার চালানোর চেস্টা করেন। কিন্তু সুবিধা করতে পারেন না। এমন পরিস্থিতিতে অটোরিকশা চালানোর সিদ্ধান্ত নেন তিনি। স্বামী রফিকুলের কাছেই হাতেখড়ি। গ্রামের স্কুলের মাঠে স্বামীর কাছেই অটোরিকশা চালানোর শিক্ষা নেন তিনি। পরে গ্রামের পথে নেমে পড়েন অটোরিকশা নিয়ে। ৫-৬ দিন এভাবে হাত পাকা করে একদিন টাঙ্গাইল শহরে চলে আসেন রোজিনা। এরপর শুরু করেন অটোরিক্সা চালানোর ব্যতিক্রমী জীবন সংগ্রাম। এখন টাঙ্গাইল পৌরসভায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার চালকদের মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা বেগম। জেলার বাসাইল উপজেলার আইসড়া গ্রামের বাসিন্দা রোজিনা টাঙ্গাইল পৌর শহরের এক প্রান্ত রাবনা বাইপাস থেকে আরেক প্রান্ত বেবিস্ট্যান্ডে যাত্রী আনা নেয়া করেন। যানজটের কারণে শহরে পুরুষ চালকরা যেখানে হিমসিম খায়, সেখানেই বিগত ৫ বছর ধরেই নির্বিঘেœ অটোরিকশা চালাচ্ছেন তিনি। টাঙ্গাইল পৌরসভা কার্যালয় সূত্রে জানা যাায়, টাঙ্গাইল শহরে চলাচলের জন্য ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক ও ৫ হাজার ব্যাটারিচালিত রিকশার অনুমতি (লাইসেন্স) দেওয়া হয়েছে। যানজট এড়াতে ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক জোড় ও বিজোড় সংখ্যায় দিনে দুই ভাগ করা হয়েছে। সকাল থেকে বেলা দুইটা পর্যন্ত এক ভাগ এবং বেলা দুইটা থেকে রাত পর্যন্ত আরেক ভাগের ইজিবাইক চলাচল করার নির্দেশনা দিয়েছে পৌর কর্তৃপক্ষ। কিন্তু রোজিনাকে দুই শিফটে চালানোর অনুমতি দিয়েছে পৌরসভা। সরেজমিনে দেখা যায়, নতুন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অটোরিকশা নিয়ে যাত্রী ডাকছেন রোজিনা। কলেজ গেট, পুরাতন বাসস্ট্যান্ড, ক্যাপসুল, নিরালা মোড়, বেবিস্ট্যান্ড সর্বত্রই যাত্রী আনানেয়া করেন তিনি। পুরাতন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অন্য অটো চালকদের দাঁড় করতে না দিলেও রোজিনাকে বাঁধা দেননা ট্রাফিক পুলিশ। বলতে গেলে সবাই তার প্রতি সহানুভুতিশীল। ট্রাফিক পুলিশসহ অন্য অটোচালকরাও তাকে সহযোগিতা করেন। রোজিনা বলেন, আমার অটোতে নারী যাত্রীরা খুব কম। তারা মনে করে আমার অটোতে উঠলে দুর্ঘটনায় পড়বে। কিন্তু আমি খুব সাবধানে অটো চালাই। দ্রুত গতিতেও না, আবার একেবারে ধীরগতিতেও না। এখন পর্যন্ত আমি কোন দুর্ঘটনার কবলে পড়ি নাই। শহরের পুরুষ অটোরিকশা চালকরা আমাকে অনেক সহযোগিতা করে। অটোচালক কাদের মিয়া বলেন, আমাদের শহরে কয়েক হাজার অটো চলাচল করে। তার মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। তাকে আমরা সব সময় সহযোগিতা করি। যাত্রী সাইদ মিয়া বলেন, আমি এ পর্যন্ত ৫-৬ বার রোজিনার অটোতে চড়েছি। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। অন্য পুরুষ অটো চালকের চেয়েও ভালো অটো চালান। নারী সংগঠক সেরাজুম মনিরা বলেন, তিনি অনেক দিন যাবত অটোরিকশা চালাচ্ছেন। আমি রোজিনাকে স্যালুট জানাই। একজন পুরুষের চেয়ে একজন নারী কোনো ভাবেই যে পিছিয়ে নেই, রোজিনা তা প্রমাণ করেছেন। রোজিনা বলেন, অটো চালানোর এই সিদ্ধান্তটি তার জন্য খুব সহজ ছিল না। তিনি বলেন, ৫ ও ১০ বছরের দুই মেয়েকে বাড়িতে রেখে অটোরিকশা নিয়ে সারাদিন রাস্তায় থাকতে হয়। তাদের ভালোভাবে দেখাশোনা করতে পারি না। কিন্তু কি করবো, অভাবের সংসার! এখন ঋণ নিয়ে একটু জমি কিনেছি। প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ণ প্রকল্পের অর্থায়নে প্রশাসন সেখানে ঘর তুলে দিয়েছে। শুরুতে যারা আমাকে নিয়ে ঠাট্টা করেছে এখন তারাই আমাকে সম্মান করেন। নারীরাও যে কিছু করতে পারে, তা প্রমাণ করেছি। আমার বড় মেয়ে আইসড়া উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়ে, ছোট মেয়ে পড়ে স্থানীয় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। মেয়েদের শিক্ষিত করতে হবে। ধার দেনা শোধ করতে হবে। তাই থেমে গেলো চলবে না। আমি অটোরিকশা চালিয়েই দুই সন্তানকে মানুষ করতে চাই।’ ঘারিন্দা ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য বাবুল সরকার বলেন, সরকার রোজিনাকে একটি ঘর নির্মাণ করে দিয়েছে। শুরুতে যারা তাকে নিয়ে নানান কথা বলতো, এখন তার সংকল্প ও মানষিক দৃঢ়তা দেখে থেমে গেছে। আমরা তাকে নিয়ে গর্ব করি। টাঙ্গাইলের ট্রাফিক ইন্সপেক্টর (প্রশাসন) দেলোয়ার হোসেন বলেন, শহরের একমাত্র নারী চালক রোজিনাকে কেউ যেন বিরক্ত করতে না পারে সেদিকে সব সময় নজর রাখে ট্রাফিক পুলিশ। আমরা তাকে সব সময় সহযোগিতা করে আসছি। টাঙ্গাইলের সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক শাহ আলম বলেন, বিষয়টি এখন জানতে পারলাম। ওই নারী এখনো পর্যন্ত আমাদের কাছে আসেন নাই। যদি আমাদের কাছে এসে আবেদন করেন অবশ্যই তাকে আমরা সহযেগিতা করবো, তার পাশে দাঁড়াবো।

বরিশাল সিটিতে বিএনপির মেয়র মনোনয়ন ঘিরে হিসাব–নিকাশ

মামুনুর রশীদ নোমানী,বরিশাল: আসন্ন বরিশাল সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদকে ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে সক্রিয়তা দেখা যাচ্ছে। দক্ষিণাঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ নগর প্রশাসনিক প্রতিষ্ঠান বরিশাল সিটি করপোরেশন এর নির্বাচন স্থানীয় ও জাতীয় রাজনীতিতে সমানভাবে তাৎপর্যপূর্ণ হবে।ইতিমধ্যে নির্বাচন কমিশন ঢাকা উত্তর ও দক্ষিন এবং চট্রগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচনের প্রস্তুতি নেয়ার পরেই বরিশাল নগরজুড়ে এখন এক ধরনের নীরব রাজনৈতিক উত্তাপ। চায়ের দোকান থেকে শুরু করে নদী তীরের আড্ডা—সবখানেই আলোচনা একটাই: আসন্ন বরিশাল সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদে কে হচ্ছেন বিএনপির প্রার্থী? দক্ষিণাঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ এই সিটি করপোরেশন শুধু একটি প্রশাসনিক ইউনিট নয়; এটি বরিশালের রাজনৈতিক স্পন্দনের কেন্দ্র। আর তাই বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)–র সম্ভাব্য মনোনয়ন ঘিরে শুরু হয়েছে জল্পনা–কল্পনা, হিসাব–নিকাশ আর ভেতরের নীরব লবিং। দীর্ঘদিন পর স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশগ্রহণের প্রশ্নে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)'র অবস্থান ও কৌশল রাজনৈতিক মহলে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে। দলটির সম্ভাব্য মনোনয়ন প্রত্যাশীরা ইতোমধ্যে মাঠপর্যায়ে সাংগঠনিক তৎপরতা জোরদার করেছেন। বিএনপির মেয়র পদে মনোনয়ন নিয়ে আলোচনায় যারা : বিএনপির ভেতরে কয়েকজন জ্যেষ্ঠ নেতা ও সাবেক জনপ্রতিনিধির নাম আলোচনায় রয়েছে। তাদের মধ্যে রয়েছেন সাবেক প্যানেল মেয়র আলহাজ্ব কে এম শহিদুল্লাহ,বরিশাল মহানগর বিএনপি'র সাবেক সদস্য সচিব সাবেক ছাত্রনেতা অ্যাডঃ মীর জাহিদুল কবির জাহিদ,মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক মনিরুজ্জামান ফারুক,বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য আবু নাসের রহমাতুল্লাহ,বিএনপির বরিশাল বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক বিলকিস জাহান শিরীন,বিএনপি নেতা এবায়েদুল হক চান ও  বরিশাল জেলা বিএনপির সাবেক সাধারন সম্পাদক এ্যাড.নজরুল ইসলাম খান রাজন। এছাড়া বরিশাল মহানগর যুবদলের সাবেক সভাপতি ও কেন্দ্রীয় যুবদলের সাবেক সহ- সভাপতি ও  বি এম কলেজ এর  সাবেক জি এস  এ্যাডভোকেট আকতারুজ্জামান শামীম আলোচনায় রয়েছেন। অভিজ্ঞতার পাল্লা ভারী: দলীয় সূত্র বলছে, এবার প্রার্থী বাছাইয়ে গুরুত্ব পাবে অভিজ্ঞতা ও গ্রহণযোগ্যতা।  নির্দিষ্ট কেউকে ঘিরেই আলোচনা সীমাবদ্ধ নয়। কেন্দ্রীয়, জেলা ও মহানগর বিএনপির শীর্ষ পর্যায়ের আরও কয়েকজন নেতা নীরবে মাঠ গুছিয়ে নিচ্ছেন। কেউ কেউ তৃণমূল নেতাকর্মীদের সঙ্গে বৈঠক করছেন, কেউ আবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সক্রিয় হয়ে নিজেদের অবস্থান জানান দিচ্ছেন। দলীয় সূত্রে জানা যায়, তৃণমূলের মতামত, সাংগঠনিক দক্ষতা, অতীত রাজনৈতিক ভূমিকা এবং জনসম্পৃক্ততা এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে চূড়ান্ত প্রার্থী নির্ধারণ করা হবে। চূড়ান্ত মনোনয়নের বিষয়ে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান এর সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত হবে। অন্যদিকে দলীয় একটি সূত্র জানায়, এবার বিএনপিকে এমন প্রার্থী দিতে হবে যিনি সর্বস্তরে গ্রহণযোগ্য। কারণ, মেয়র পদে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ–এর সম্ভাব্য প্রার্থীদের বিষয়টিও রাজনৈতিক সমীকরণে বিবেচনায় রাখতে হবে। দলীয় কৌশল ও চ্যালেঞ্জ : বিএনপি সূত্রে ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে, নির্বাচন অংশগ্রহণের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এলে প্রার্থী নির্ধারণ করবে কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব। সেক্ষেত্রে— *ফ্যাসিস্ট বিরোধী আন্দোলনে ভুমিকা, *জেল জুলম,মামলা হামলা নির্যাতন, *রাজনৈতিক অবস্থান। এসব বিষয় গুরুত্ব পাবে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বরিশালে দলীয় ঐক্য ধরে রাখা এবং গ্রহণযোগ্য প্রার্থী বাছাই করা বিএনপির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। অতীতের নির্বাচনে বিভক্তি বা বিদ্রোহী প্রার্থীর কারণে দল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলেও অনেকে মন্তব্য করেন। ভোটারদের প্রত্যাশা : বরিশাল নগরবাসীর প্রধান দাবি— * জলাবদ্ধতা নিরসন, * সড়ক ও ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন, * পরিচ্ছন্ন নগর ব্যবস্থাপনা, * কর্মসংস্থান ও ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ, মেয়র প্রার্থীদের জন্য এসব ইস্যু হবে নির্বাচনী প্রচারণার মূল প্রতিপাদ্য। বরিশাল সিটি করপোরেশন নির্বাচনকে ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা ক্রমেই বাড়ছে।চূড়ান্ত ঘোষণা না হওয়া পর্যন্ত সম্ভাব্য প্রার্থীদের তৎপরতা ও দলীয় কৌশলই থাকবে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। প্রার্থী ঘোষণার পর নির্বাচনী সমীকরণ আরও স্পষ্ট হবে বলে রাজনৈতিক মহল মনে করছে। বরিশালের রাজনীতির বাতাসে ইতিমধ্যেই নির্বাচনী সুর। বিএনপি শক্ত প্রার্থী দিলে নগর রাজনীতিতে জমে উঠতে পারে লড়াই।এখন সবার দৃষ্টি কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্তের দিকে। কে হবেন বিএনপির ‘নগর সেনাপতি’তার উত্তর মিললেই বরিশাল সিটির নির্বাচনী সমীকরণ আরও স্পষ্ট হয়ে উঠবে। উল্লেখ্য,বরিশাল সিটি করপোরেশ নির্বাচনে ২০১৩ সালে আওয়ামীলীগের মেয়র প্রার্থী শওকত হোসেন হিরনকে পরাজিত করে বিজয়ী হয়েছিলেন তৎকালীন মহানগর বিএনপির সভাপতি ও বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির মৎস্য বিষয়ক সম্পাদক আহসান হাবিব কামাল।২০১৮ সালে আলহাজ্ব মজিবর রহমান সরোয়ার দল থেকে দলীয় মনোনয়ন পেয়েছিলেন।ভোট ডাকাতির মাধ্যমে মেয়র নির্বাচিত হোন সাদিক আব্দুল্লাহ। ২০২৩ সালে অনুষ্ঠিত বরিশাল সিটি নির্বাচনে বিএনপি অংশ নেয়নি।  

নিজস্ব প্রতিবেদক

সংবাদ

View more
ইসরায়েলের সেনা সদর দপ্তরে হিজবুল্লাহর ক্ষেপণাস্ত্র হামলা
হিজবুল্লাহ ইসরায়েলের সামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা, দক্ষিণ লেবাননে উত্তেজনা বৃদ্ধি

লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ নতুন করে ইসরায়েলের উপর ক্ষেপণাস্ত্র হামলার দাবি করেছে, যা মধ্যপ্রাচ্যে ইতিমধ্যে উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। হিজবুল্লাহ-এর এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, তারা তেল আবিবের কিরিয়া এলাকায় অবস্থিত ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর সদর দপ্তর এবং তেল আবিবের উত্তরে অবস্থিত একটি সামরিক গোয়েন্দা স্থাপনা লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে। বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে, হামলা স্থানীয় সময় বুধবার দিবাগত রাত ১টা ১০ মিনিটে চালানো হয়েছে। কিরিয়া অঞ্চলটি ইসরায়েলের সামরিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রমের অন্যতম কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত। এদিকে, ইসরায়েলের পক্ষ থেকে এখনও পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। ফলে হামলার প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতি বা প্রভাব সম্পর্কে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া সম্ভব হয়নি। তবে দক্ষিণ লেবানন সীমান্তেও পরিস্থিতি ক্রমেই উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। হিজবুল্লাহ জানিয়েছে, সীমান্তে অনুপ্রবেশকারী ইসরায়েলি সেনাদের সঙ্গে তাদের যোদ্ধাদের মধ্যে সংঘর্ষ চলছে। পাল্টা হিসেবে ইসরায়েল জানিয়েছে, ওই সংঘর্ষে তাদের একজন সেনা গুরুতর আহত হয়েছেন। এই ঘটনার প্রেক্ষিতে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে সংঘাতের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে, এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় উদ্বিগ্ন হয়ে পরেছে সম্ভাব্য বড় ধরনের উত্তেজনা বৃদ্ধির কারণে।

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ২৬, ২০২৬ 0
ইরাকের কুর্দি যোদ্ধা।

ইরানে হামলা পরিকল্পনায় ধাক্কা: কুর্দিদের ‘না’, চাপে ট্রাম্প প্রশাসন

হরমুজ প্রণালী

হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচলে টোল আরোপে আইন আনছে ইরান

সাদা ফসফরাস ব্যবহার করেছে ইসরায়েল

দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলের সাদা ফসফরাস ব্যবহার: আবাসিক এলাকায় হামলার অভিযোগ, যুদ্ধ আইন লঙ্ঘনের আশঙ্কা

ইসরায়েলে সাইরেন আতঙ্ক
ইসরায়েলে ক্ষেপণাস্ত্র আতঙ্ক: ইরানের হামলা, লেবানন সীমান্তে উত্তেজনা, আশ্রয়কেন্দ্রে ছুটছে মানুষ

হামলার আশঙ্কায় ইসরায়েলের বিভিন্ন অঞ্চলে একের পর এক সতর্কতামূলক সাইরেন বেজে ওঠায় মুহূর্তেই ছড়িয়ে পড়েছে ব্যাপক আতঙ্ক। মধ্য ও দক্ষিণাঞ্চলজুড়ে জরুরি সতর্কতা জারি হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বাসিন্দারা দ্রুত আশ্রয়কেন্দ্রে ছুটতে শুরু করেন। একই সময়ে উত্তরাঞ্চলে লেবানন সীমান্ত থেকে সম্ভাব্য রকেট হামলার খবর পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করে তোলে। মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) এক বিবৃতিতে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) জানায়, ইরান থেকে মধ্য ও দক্ষিণ ইসরায়েল লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণের ঘটনায় অন্তত সাতটি সতর্কতা জারি করা হয়েছে। পাশাপাশি উত্তর ইসরায়েলে লেবানন থেকে সম্ভাব্য রকেট হামলার প্রেক্ষিতে আরও ছয়টি সতর্ক সংকেত পাঠানো হয়। আইডিএফ জনগণকে নিরাপদ আশ্রয়ে অবস্থান করার জন্য বারবার আহ্বান জানিয়েছে। প্রতিরক্ষা বাহিনীর দাবি অনুযায়ী, ইরান থেকে নিক্ষেপ করা ক্ষেপণাস্ত্রের প্রায় ৯০ শতাংশের বেশি প্রতিহত করা সম্ভব হয়েছে। তবে তারা স্বীকার করেছে, আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা পুরোপুরি অভেদ্য নয় এবং যেকোনো সময় ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। এদিকে, পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তেল আবিব এলাকায় একাধিক স্থানে বিস্ফোরণ বা ক্ষয়ক্ষতির চিহ্ন পাওয়া গেছে। ঘটনাস্থলে বোমা নিষ্ক্রিয়করণ দল মোতায়েন করা হয়েছে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা চলছে। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের বরাতে জানা গেছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ সামরিক তৎপরতার পরিপ্রেক্ষিতে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে। চীন ইতোমধ্যে ইরানে অবস্থানরত তাদের নাগরিকদের সরিয়ে নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। পাশাপাশি মঙ্গলবার চীন তাদের নাগরিকদের ইসরায়েল ত্যাগ করার নির্দেশও দিয়েছে। অন্যদিকে, উত্তেজনার মধ্যেই কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)। তারা জানিয়েছে, লেবানন ও গাজায় বেসামরিক নাগরিকদের ওপর হামলা অব্যাহত থাকলে ‘কোনো ধরনের সংযম ছাড়াই’ পাল্টা আঘাত হানা হবে। আইআরজিসি তাদের বিবৃতিতে অভিযোগ করেছে, যুদ্ধ পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে ইসরায়েল ফিলিস্তিন ও লেবাননে বেসামরিকদের ওপর ব্যাপক হামলা চালাচ্ছে, যা তাদের ভাষায় ‘স্পষ্ট যুদ্ধাপরাধ’। তারা আরও হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছে, এই হামলা অব্যাহত থাকলে উত্তর ইসরায়েল ও গাজা উপকূলীয় এলাকায় ভারী ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালানো হবে এবং ভবিষ্যৎ অভিযানে কোনো সীমাবদ্ধতা রাখা হবে না। এদিকে, ইরানের শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তা মোহসেন রাজাই যুক্তরাষ্ট্রকেও সতর্ক করে বলেছেন, ইরানের অবকাঠামোতে হামলা হলে কঠোর জবাব দেওয়া হবে। এমনকি প্রয়োজনে মার্কিন নৌযানও লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হতে পারে বলে ইঙ্গিত দেন তিনি। বর্তমান পরিস্থিতিতে গোটা অঞ্চলে যুদ্ধাবস্থার মতো উত্তেজনা বিরাজ করছে এবং আন্তর্জাতিক মহলে গভীর উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ২৫, ২০২৬ 0
বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু - ডোনাল্ড ট্রাম্প

খামেনিকে টার্গেট করে গোপন ফোনালাপ! ইরান যুদ্ধ শুরুর আগে ট্রাম্প-নেতানিয়াহুর বিস্ফোরক পরিকল্পনা ফাঁস

সোনিয়া গান্ধী

সোনিয়া গান্ধীকে দিল্লির স্যার গঙ্গারাম হাসপাতালে ভর্তি

ফিলিপাইনে ‘জরুরি অবস্থা’

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধের প্রভাবে ফিলিপাইনে জ্বালানি জরুরি অবস্থা ঘোষণা

যুক্তরাজ্যের একটি পারমাণবিক শক্তিচালিত সাবমেরিন।
মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনার মধ্যে আরব সাগরে ব্রিটিশ পারমাণবিক সাবমেরিন

মধ্যপ্রাচ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে আরব সাগরে পৌঁছেছে যুক্তরাজ্যের একটি পারমাণবিক শক্তিচালিত সাবমেরিন। ব্রিটিশ একটি ট্যাবলয়েডের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, ‘এইচএমএস অ্যানসন’ নামের আধুনিক এই সাবমেরিনটি গত ৬ মার্চ অস্ট্রেলিয়ার পার্থ শহর থেকে যাত্রা শুরু করে। বর্তমানে এটি হরমুজ প্রণালির নিকটবর্তী উত্তর আরব সাগরে অবস্থান করছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ এই অঞ্চলে সাবমেরিনটির উপস্থিতি আন্তর্জাতিক মহলে নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। সাবমেরিনটি অত্যাধুনিক টমাহক ব্লক-৪ ল্যান্ড অ্যাটাক ক্ষেপণাস্ত্রে সজ্জিত, যার কার্যক্ষমতা প্রায় ১ হাজার ৬০০ কিলোমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত। এছাড়া এতে রয়েছে স্পিয়ারফিশ হেভিওয়েট টর্পেডো, যা সমুদ্রের গভীরে শত্রু লক্ষ্যবস্তু ধ্বংসে সক্ষম। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে, কারণ যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার যুক্তরাষ্ট্রকে সম্ভাব্য সামরিক অভিযানের ক্ষেত্রে ব্রিটিশ সামরিক ঘাঁটি ব্যবহারের অনুমতি দেওয়ার বিষয়ে সম্মতি জানিয়েছেন বলে জানা গেছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, সাম্প্রতিক এই সামরিক তৎপরতা অঞ্চলটিতে নতুন করে সংঘাতের আশঙ্কা বাড়িয়ে তুলছে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালি বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হওয়ায় সেখানে যেকোনো সামরিক উপস্থিতি বৈশ্বিক অর্থনীতিতেও প্রভাব ফেলতে পারে। বর্তমান পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়।  

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ২২, ২০২৬ 0
ইরানি তেল

বাজারে আসছে ১৭ কোটি ব্যারেল ইরানি তেল,জ্বালানিতে বড় স্বস্তি

হরমুজ প্রণালী

হরমুজ প্রণালীতে নিরাপদ যাতায়াতে ২২ দেশের উদ্যোগ, ইরানের পদক্ষেপের নিন্দা

ট্রাম্প

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাত: যুদ্ধের মোড় ঘোরার ইঙ্গিত, তেলের বাজারে তীব্র অস্থিরতা

অর্থনীতি

তেল-গ্যাস অনুসন্ধানে ৪৭ ব্লকে আন্তর্জাতিক দরপত্র

বাংলাদেশে ৪৭টি তেল-গ্যাস ব্লকে আন্তর্জাতিক দরপত্র শিগগির: এলএনজি নির্ভরতা কমানোর পরিকল্পনা

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ১৯, ২০২৬ 0




অপরাধ

হাতিরঝিল থানার ওসি

‘নবীন’ পাঞ্জাবির দোকান বন্ধে চাপ: হাতিরঝিল থানার ওসি ক্লোজড, ডিএমপির তদন্ত কমিটি

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ২৬, ২০২৬ 0




কৃষি ও জলবায়ু

সার ডিলার নিয়োগ ও বিতরণ নীতিমালা  দ্রুত বাস্তবায়নের দাবিতে বরিশালে মানববন্ধন

সার ডিলার নিয়োগ ও বিতরণ নীতিমালা দ্রুত বাস্তবায়নের দাবিতে বরিশালে মানববন্ধন

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ১৯, ২০২৬ 0