Brand logo light
সংবাদ

ইরানের ৬০ শতাংশ সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামই আলোচনার কেন্দ্রে

নিজস্ব প্রতিবেদক ফেব্রুয়ারি ৬, ২০২৬ 0
ইউরেনিয়াম
ইউরেনিয়াম

ওমানের রাজধানী মাস্কাটে শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) উচ্চপর্যায়ের আলোচনায় বসতে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। দীর্ঘদিনের উত্তেজনা ও অচলাবস্থার মধ্যে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এই বৈঠকের মূল কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে ইরানের হাতে থাকা ৬০ শতাংশ সমৃদ্ধ কমপক্ষে ৪৪০ কিলোগ্রাম ইউরেনিয়াম।

আল জাজিরার এক বিশেষ প্রতিবেদনে নাম প্রকাশ না করার শর্তে দুই কূটনৈতিক সূত্র জানিয়েছে, তুরস্ক, মিসর ও কাতারের মধ্যস্থতায় প্রস্তাবিত একটি কাঠামোর আওতায় ইরানকে এই উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম তৃতীয় কোনো দেশে স্থানান্তরের শর্ত দেওয়া হতে পারে। একই সঙ্গে আগামী তিন বছর ইরানকে সম্পূর্ণভাবে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ বন্ধ রাখার প্রস্তাবও আলোচনায় রয়েছে। পরবর্তী ধাপে সীমিত পরিসরে সমৃদ্ধকরণের অনুমতি দেওয়ার বিষয়টিও বিবেচনায় রাখা হতে পারে।

হাম নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রস্তাবিত কাঠামোয় আরও উল্লেখ রয়েছে— ইরানকে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার থেকে বিরত থাকতে হবে এবং লেবাননের হিজবুল্লাহ ও ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের মতো আঞ্চলিক সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে সহায়তা দেওয়া বন্ধ করতে হবে। তবে এসব শর্তে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আদৌ কতটা ঐকমত্য তৈরি হবে, তা এখনো অনিশ্চিত।

কূটনৈতিক মহলের ধারণা, মাস্কাটের এই আলোচনা পারমাণবিক ইস্যুতে দীর্ঘদিন ধরে চলা অচলাবস্থা কাটানোর একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ হয়ে উঠতে পারে।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে বারবার জানানো হচ্ছে, সম্ভাব্য কোনো চুক্তি কেবল ইরানের পারমাণবিক কার্যক্রমে সীমাবদ্ধ থাকলে চলবে না। ওয়াশিংটন চায়— ইরানের ব্যালিস্টিক মিসাইল কর্মসূচি এবং মধ্যপ্রাচ্যে ইরানসমর্থিত প্রক্সি বাহিনীগুলোকে দেওয়া সহায়তার বিষয়টিও চুক্তির আওতায় আনতে।

অন্যদিকে তেহরান দৃঢ় অবস্থান নিয়ে বলছে, আলোচনার পরিধি শুধু পারমাণবিক ইস্যুতেই সীমাবদ্ধ থাকতে হবে। এই মতপার্থক্যের মধ্যেই মধ্যস্থতাকারী দেশগুলো প্রাথমিকভাবে আস্থা তৈরির লক্ষ্যে পারমাণবিক বিষয়টিকে অগ্রাধিকার দিয়ে আলোচনা এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছে।

Popular post
ফারুকীর সম্পদ কমেছে, তিশার বেড়েছে দ্বিগুণেরও বেশি: সম্পদ বিবরণী ঘিরে আলোচনা

অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের সম্পদ বিবরণী প্রকাশের পর সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী ও তার স্ত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদের হিসাব নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। এক বছরের ব্যবধানে স্বামী ফারুকীর সম্পদ কমলেও স্ত্রী তিশার সম্পদ বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে প্রকাশিত তথ্যে উঠে এসেছে এই চিত্র। প্রকাশিত খতিয়ান অনুযায়ী, জনপ্রিয় অভিনেত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদ এক বছরে অভাবনীয় হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তিশার মোট সম্পদের পরিমাণ ছিল ১ কোটি ৪০ লাখ ৮১ হাজার ৮৬০ টাকা। ঠিক এক বছর পর, ২০২৫ সালের ৩০ জুন সেই সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ৯৯ লাখ ৮৯ হাজার ৫০১ টাকায়। অর্থাৎ মাত্র এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ বেড়েছে ১ কোটি ৫৯ লাখ ৭ হাজার ৬৪১ টাকা, যা আগের বছরের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি। অন্যদিকে সংস্কৃতি উপদেষ্টা ও নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর ক্ষেত্রে দেখা গেছে উল্টো চিত্র। এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ কমেছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তার মোট সম্পদ ছিল ২ কোটি ২৬ লাখ ৯২ হাজার ২৬ টাকা। ২০২৫ সালের ৩০ জুন তা কমে দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ১৫ লাখ ১৮ হাজার ২৬ টাকায়। হিসাব অনুযায়ী, এক বছরে তার সম্পদ কমেছে ১১ লাখ ৭৪ হাজার টাকা। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে গত মঙ্গলবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ প্রধান উপদেষ্টা, উপদেষ্টা ও সমমর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের পাশাপাশি তাদের স্ত্রী বা স্বামীর সম্পদ বিবরণী প্রকাশ করে। একই সময়ে স্বামী-স্ত্রীর সম্পদে এমন ভিন্নমুখী পরিবর্তন স্বাভাবিকভাবেই সাধারণ মানুষের কৌতূহলের জন্ম দিয়েছে। শোবিজ অঙ্গনের জনপ্রিয় দম্পতি হওয়ায় তাদের এই আয়-ব্যয়ের হিসাব এখন টক অব দ্য কান্ট্রি।

বাংলাদেশে ঐতিহাসিক নির্বাচন: বিএনপি এগিয়ে, জামায়াতের উত্থান ও তরুণ ভোটারদের প্রভাব

২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশে আজ এক ঐতিহাসিক ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ২০০৮ সালের পর এই প্রথম একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হতে যাচ্ছে যেখানে দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগ রাজনৈতিক মানচিত্র থেকে কার্যত অনুপস্থিত। বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক জরিপ বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০০ আসনের মধ্যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) কার্যকর সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে যাচ্ছে। তবে ভোটের ব্যবধান এবং কিছু সমীকরণ নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। নির্বাচনের সবচেয়ে বড় নিয়ামক হয়ে দাঁড়িয়েছে আওয়ামী লীগের বিশাল ভোটব্যাংক। দলটির নিয়মিত প্রায় ৪ কোটি ভোটার এখন নতুন রাজনৈতিক আশ্রয় খুঁজছেন। সিআরএফ বা বিইপিওএস জরিপ বলছে, এই ভোটারদের প্রায় অর্ধেক বিএনপির দিকে ঝুঁকেছে, যা দলটিকে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতার পথে এগিয়ে দিচ্ছে। অন্যদিকে, প্রায় ৩০ শতাংশ আওয়ামী ভোটার জামায়াতে ইসলামীকে বেছে নিতে পারেন বলে আভাস পাওয়া যাচ্ছে। এছাড়া বাংলাদেশের বিদ্যমান নির্বাচনী ব্যবস্থার কারণে দেশজুড়ে সুষম জনসমর্থন থাকা বিএনপি আসন জয়ের ক্ষেত্রে জামায়াতের তুলনায় সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। তবে বিএনপির এই সম্ভাব্য জয়ের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও বিদ্রোহী প্রার্থীরা। প্রায় ৭৯টি নির্বাচনী এলাকায় দলের মনোনয়ন না পাওয়া ৯২ জন প্রভাবশালী নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, যা বিএনপির ১৫ থেকে ৩০টি আসন কমিয়ে দিতে পারে। অন্যদিকে, তরুণ ভোটার বা ‘জেন-জি’ প্রজন্মের বিশাল সমর্থন জামায়াতে ইসলামীর শক্তির উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেশের ৪৪ শতাংশ ভোটারই তরুণ, যাদের বড় একটি অংশ প্রথমবার ভোট দিচ্ছেন। এই তরুণরা যদি দলবেঁধে কেন্দ্রে উপস্থিত হন, তবে নির্বাচনী ফলে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। সবশেষে, প্রায় ১৭ থেকে ৩৫ শতাংশ দোদুল্যমান ভোটার এবং তাদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করবে আগামীর সরকার কতটা শক্তিশালী হবে। দ্য নিউইয়র্ক এডিটোরিয়ালের মূল পূর্বাভাস, তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি প্রায় ১৮৫টি আসনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করতে পারে এবং জামায়াতে ইসলামী ৮০টির মতো আসন পেয়ে প্রধান বিরোধী দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারে। তবে বিদ্রোহী প্রার্থীদের প্রভাব এবং তরুণ ভোটারদের উপস্থিতির ওপর ভিত্তি করে আসন সংখ্যায় বড় ধরনের হেরফের হওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

গাজায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা ট্রাম্প প্রশাসনে

ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। ৩৫০ একরের ঘাঁটিটিতে সামরিক বাহিনীর পাঁচ হাজার সদস্য থাকতে পারবে। গাজার ‘বোর্ড অব পিস’র নথি পর্যালোচনা করে এ তথ্য জানিয়েছে দ্য গার্ডিয়ান। প্রতিবেদনে ব্রিটিশ সংবাদ মাধ্যমটি জানিয়েছে, বোর্ড অব পিসে গাজাকে নিরাপদ করার জন্য ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যাবিলাইজেশন ফোর্স (আইএসএফ) নামে একটি আন্তর্জাতিক বাহিনী মোতায়েনের কথা বলা হয়েছে। যে স্থানটি ঘাঁটি করার জন্য বিবেচনা করা হচ্ছে সেখানে আইএসএফের সদস্যরা থাকবে। বোর্ড অব পিসের প্রধান হবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আর সংগঠনটির আংশিক নেতৃত্ব দেবেন ট্রাম্পের জামাতা জ্যারার্ড কুশনার।দ্য গার্ডিয়ান বোর্ড অব পিসের নথি পর্যালোচনা করে জানায়, ধাপে ধাপে একটি সামরিক ঘাঁটি নির্মাণ করা হবে। সবকিছু শেষ হলে ঘাঁটিটি ১৫ লাখ ১৭ হাজার ৫৭৫ বর্গমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত হবে। ঘাঁটিটির চারপাশে ট্রেইলার সংযুক্ত ২৬টি সাঁজোয়া নজরদারি টাওয়ার থাকবে। এছাড়া একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, বাংকার ও অস্ত্র রাখার গুদাম থাকবে। পুরো ঘাঁটিটি কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে ঘিরে রাখা হবে। সামরিক ঘাঁটি নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে দক্ষিণ গাজার একটি শুষ্ক সমতলভূমিতে। সেখানে ইসরায়েলি হামলার চিহ্ন রয়েছে। ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে বিভিন্ন ধাতবের ধ্বংসাবশেষ।  ওই এলাকার ভিডিও পর্যালোচনা করেছে দ্য গার্ডিয়ান। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, ঘাঁটি নির্মাণের জন্য টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে। যুদ্ধক্ষেত্রে কাজের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন আন্তর্জাতিক নির্মাণ কোম্পানিগুলোর একটি ছোট দলকে ইতোমধ্যেই এলাকাটি দেখানো হয়েছে। ওই দলটি দরপত্রে অংশ নিতে আগ্রহী।    ইন্দোনেশিয়া সরকার গাজায় আট হাজার সেনা সদস্য পাঠানোর জন্য প্রস্তাব দিয়েছে। বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটন ডিসিতে বোর্ড অব পিসের অনানুষ্ঠানিক বৈঠকে ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্টের অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। এছাড়া দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার আরও তিন নেতার ওই বৈঠকে অংশ নেবেন বলে জানা গেছে। জাতিসংঘের নিরাপত্তা কাউন্সিল গাজার সাময়িক স্থিতিশীলতার জন্য অস্থায়ীভাবে সামরিক বাহিনী মোতায়েনের অনুমোদন দিয়েছে। নিরাপত্তা কাউন্সিলই বোর্ড অব পিসের মূল হোতা। গাজার সীমান্ত ও শান্তি প্রণয়নে কাজ করবে আইএসএফ। এছাড়া বেসামরিকদের সুরক্ষা এবং ফিলিস্তিনি পুলিশ বাহিনীকে প্রশিক্ষণ ও সহায়তা দেবে তারা। যদি গাজায় ফের সংঘর্ষ হয়, ইসরায়েল বোমা হামলা চালায় অথবা হামাস হামলা চালায় সেক্ষেত্রে আইএসএফ কি করবে তা এখনও স্পষ্ট নয়। গাজা পুনর্গঠনে ইসরায়েল হামাসকে নিরস্ত্রীকরণের যে শর্ত দিয়েছে সেটির জন্য আইএসএফ কাজ করবে কিনা তাও স্পষ্ট না। ইতোমধ্যে বোর্ড অব পিসে ২০ এর অধিক দেশ যোগ দিয়েছে। তবে, এখনও অনেক পরাশক্তি এর থেকে দূরে রয়েছে। জাতিসংঘের অনুমোদন নিয়ে প্রতিষ্ঠিত হলেও ধারণা করা হচ্ছে, সংগঠনটির স্থায়ী নেতৃত্ব ও নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে। রুটজার্স বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক আদিল হক বলেন, “বোর্ড অব পিস এক ধরনের আইনি কল্পসত্তা। নামমাত্রভাবে এর নিজস্ব আন্তর্জাতিক আইনগত সত্তা রয়েছে, যা জাতিসংঘ ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে আলাদা। কিন্তু বাস্তবে এটি যুক্তরাষ্ট্রের ইচ্ছামতো ব্যবহারের জন্য একটি ফাঁপা খোলসমাত্র।” বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গাজা পুনর্গঠনে যে অর্থায়ন ও শাসন কাঠামো হচ্ছে তা অস্বচ্ছ। কয়েকজন ঠিকাদার গার্ডিয়ানকে জানান, গাজায় কাজ করার জন্য মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে তাদের প্রায়শ আলোচনা সরকারি ইমেলের বদলে সিগন্যালের মাধ্যমে করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রের তথ্য মতে, ঘাঁটি নির্মাণের সিদ্ধান্তটি বোর্ড অব পিসের। এতে সহায়তা করছে মার্কিন কর্মকর্তারা। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ঘাঁটিতে তৈরি বাংকার নেটওয়ার্কের মতোন কাজ করবে। প্রতিটি বাংকারের ২৪ মিটারের হবে। উচ্চতা থাকবে আড়াই মিটার। এগুলো এমনভাবে করা হবে যেন সেনা সদস্যরা আশ্রয় নিতে পারে। স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসের গাজায় সুড়ঙ্গ নেটওয়ার্ক বা টানেল রয়েছে। সেগুলোর আদলে নেটওয়ার্ক করতে চাওয়া হচ্ছে। পিস অব বোর্ডের নথি পর্যালোচনা করে এমন দাবি করছে গার্ডিয়ান। সংবাদ মাধ্যমটি বলছে,  স্থানটির ভূ-ভৌত জরিপ পরিচালনা করবে ঠিকাদাররা। নথির এক অংশে ‘হিউম্যান রেমিয়েনস প্রোটোকল’র কথা বলা হয়েছে। এর মানে দাঁড়ায়, সন্দেহভাজন মানব অবশিষ্ট বা সাংস্কৃতিক নিদর্শন পাওয়া গেলে অবিলম্বে সেই এলাকায় সব কাজ বন্ধ করতে হবে। চুক্তি কর্মকর্তাকে দিকনির্দেশনার জন্য অবিলম্বে জানাতে হবে। গাজা সিভিল ডিফেন্সের ধারণা, গাজার ধ্বংসস্তূপের নিচে ১০ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনির মরদেহ রয়েছে। ঘাঁটির জন্য যে স্থানটি বিবেচিত করা হচ্ছে সেটির মালিক কে তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে, দক্ষিণ গাজার বেশিরভাগ অংশ  বর্তমানে ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণে। জাতিসংঘের অনুমান, যুদ্ধ চলাকালীন ১৯ লাখ ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত হয়েছে। ফিলিস্তিনের জমিতে সরকারের অনুমতি না নিয়ে সামরিক ঘাঁটি স্থাপনকে দখল হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন ফিলিস্তিনি-কানাডিয়ান আইনজীবী এবং প্রাক্তন শান্তি আলোচক দিয়ানা বুট্টু। তিনি প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়ে বলেন, “কার অনুমতিতে তারা সামরিক ঘাঁটি স্থাপন করবে।” বিষয়টি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা বোর্ড অব পিসের কথা টানেন। ট্রাম্প প্রশাসনের একজন কর্মকর্তা সামরিক ঘাঁটির চুক্তি নিয়ে আলোচনা করতে অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, “যেমনটি প্রেসিডেন্ট বলেছেন, কোনও মার্কিন সেনা স্থলভাগে যাবে না। আমরা লিক হওয়া নথি নিয়ে আলোচনা করবো না।”

সংসার সামলাতে অটোরিকশা নিয়ে রাস্তায় নেমেছেন রোজিনা

বাসস : বাবা একজন তাঁত শ্রমিক। তিন বোন দুই ভাইয়ের মধ্যে সবার বড় রোজিনা। অভাব সংসার, তাই এক এতিম যুবকের সাথে বাবা-মা বিয়ে দেন তাকে। বিয়ের পর জন্ম হয় দুই কন্যা সন্তানের। অটোরিকশা চালিয়ে কোন রকম সংসার চালাচ্ছিলেন স্বামী রফিকুল ইসলাম। কিন্তু সড়ক দুর্ঘটনায় রফিকুলের এক চোখ সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যায়। আরেকটি চোখ আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ধীরে ধীরে ওই চোখের দৃষ্টি শক্তিও কমতে থাকে। ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে অটোরিকশা চালানো। সংসারের উপার্জনক্ষম মানুষটি অচল হয়ে পড়ায় চিকিৎসার খরচ, ঘর ভাড়া ও খাবারের পাশাপাশি মেয়েদের লেখাপড়ার খরচ চালানোই কঠিন হয়ে যায়। দিশেহারা হয়ে পরেন রোজিনা। এক পর্যায়ে মানুষের বাড়ি বাড়ি কাজ করে সংসার চালানোর চেস্টা করেন। কিন্তু সুবিধা করতে পারেন না। এমন পরিস্থিতিতে অটোরিকশা চালানোর সিদ্ধান্ত নেন তিনি। স্বামী রফিকুলের কাছেই হাতেখড়ি। গ্রামের স্কুলের মাঠে স্বামীর কাছেই অটোরিকশা চালানোর শিক্ষা নেন তিনি। পরে গ্রামের পথে নেমে পড়েন অটোরিকশা নিয়ে। ৫-৬ দিন এভাবে হাত পাকা করে একদিন টাঙ্গাইল শহরে চলে আসেন রোজিনা। এরপর শুরু করেন অটোরিক্সা চালানোর ব্যতিক্রমী জীবন সংগ্রাম। এখন টাঙ্গাইল পৌরসভায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার চালকদের মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা বেগম। জেলার বাসাইল উপজেলার আইসড়া গ্রামের বাসিন্দা রোজিনা টাঙ্গাইল পৌর শহরের এক প্রান্ত রাবনা বাইপাস থেকে আরেক প্রান্ত বেবিস্ট্যান্ডে যাত্রী আনা নেয়া করেন। যানজটের কারণে শহরে পুরুষ চালকরা যেখানে হিমসিম খায়, সেখানেই বিগত ৫ বছর ধরেই নির্বিঘেœ অটোরিকশা চালাচ্ছেন তিনি। টাঙ্গাইল পৌরসভা কার্যালয় সূত্রে জানা যাায়, টাঙ্গাইল শহরে চলাচলের জন্য ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক ও ৫ হাজার ব্যাটারিচালিত রিকশার অনুমতি (লাইসেন্স) দেওয়া হয়েছে। যানজট এড়াতে ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক জোড় ও বিজোড় সংখ্যায় দিনে দুই ভাগ করা হয়েছে। সকাল থেকে বেলা দুইটা পর্যন্ত এক ভাগ এবং বেলা দুইটা থেকে রাত পর্যন্ত আরেক ভাগের ইজিবাইক চলাচল করার নির্দেশনা দিয়েছে পৌর কর্তৃপক্ষ। কিন্তু রোজিনাকে দুই শিফটে চালানোর অনুমতি দিয়েছে পৌরসভা। সরেজমিনে দেখা যায়, নতুন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অটোরিকশা নিয়ে যাত্রী ডাকছেন রোজিনা। কলেজ গেট, পুরাতন বাসস্ট্যান্ড, ক্যাপসুল, নিরালা মোড়, বেবিস্ট্যান্ড সর্বত্রই যাত্রী আনানেয়া করেন তিনি। পুরাতন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অন্য অটো চালকদের দাঁড় করতে না দিলেও রোজিনাকে বাঁধা দেননা ট্রাফিক পুলিশ। বলতে গেলে সবাই তার প্রতি সহানুভুতিশীল। ট্রাফিক পুলিশসহ অন্য অটোচালকরাও তাকে সহযোগিতা করেন। রোজিনা বলেন, আমার অটোতে নারী যাত্রীরা খুব কম। তারা মনে করে আমার অটোতে উঠলে দুর্ঘটনায় পড়বে। কিন্তু আমি খুব সাবধানে অটো চালাই। দ্রুত গতিতেও না, আবার একেবারে ধীরগতিতেও না। এখন পর্যন্ত আমি কোন দুর্ঘটনার কবলে পড়ি নাই। শহরের পুরুষ অটোরিকশা চালকরা আমাকে অনেক সহযোগিতা করে। অটোচালক কাদের মিয়া বলেন, আমাদের শহরে কয়েক হাজার অটো চলাচল করে। তার মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। তাকে আমরা সব সময় সহযোগিতা করি। যাত্রী সাইদ মিয়া বলেন, আমি এ পর্যন্ত ৫-৬ বার রোজিনার অটোতে চড়েছি। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। অন্য পুরুষ অটো চালকের চেয়েও ভালো অটো চালান। নারী সংগঠক সেরাজুম মনিরা বলেন, তিনি অনেক দিন যাবত অটোরিকশা চালাচ্ছেন। আমি রোজিনাকে স্যালুট জানাই। একজন পুরুষের চেয়ে একজন নারী কোনো ভাবেই যে পিছিয়ে নেই, রোজিনা তা প্রমাণ করেছেন। রোজিনা বলেন, অটো চালানোর এই সিদ্ধান্তটি তার জন্য খুব সহজ ছিল না। তিনি বলেন, ৫ ও ১০ বছরের দুই মেয়েকে বাড়িতে রেখে অটোরিকশা নিয়ে সারাদিন রাস্তায় থাকতে হয়। তাদের ভালোভাবে দেখাশোনা করতে পারি না। কিন্তু কি করবো, অভাবের সংসার! এখন ঋণ নিয়ে একটু জমি কিনেছি। প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ণ প্রকল্পের অর্থায়নে প্রশাসন সেখানে ঘর তুলে দিয়েছে। শুরুতে যারা আমাকে নিয়ে ঠাট্টা করেছে এখন তারাই আমাকে সম্মান করেন। নারীরাও যে কিছু করতে পারে, তা প্রমাণ করেছি। আমার বড় মেয়ে আইসড়া উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়ে, ছোট মেয়ে পড়ে স্থানীয় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। মেয়েদের শিক্ষিত করতে হবে। ধার দেনা শোধ করতে হবে। তাই থেমে গেলো চলবে না। আমি অটোরিকশা চালিয়েই দুই সন্তানকে মানুষ করতে চাই।’ ঘারিন্দা ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য বাবুল সরকার বলেন, সরকার রোজিনাকে একটি ঘর নির্মাণ করে দিয়েছে। শুরুতে যারা তাকে নিয়ে নানান কথা বলতো, এখন তার সংকল্প ও মানষিক দৃঢ়তা দেখে থেমে গেছে। আমরা তাকে নিয়ে গর্ব করি। টাঙ্গাইলের ট্রাফিক ইন্সপেক্টর (প্রশাসন) দেলোয়ার হোসেন বলেন, শহরের একমাত্র নারী চালক রোজিনাকে কেউ যেন বিরক্ত করতে না পারে সেদিকে সব সময় নজর রাখে ট্রাফিক পুলিশ। আমরা তাকে সব সময় সহযোগিতা করে আসছি। টাঙ্গাইলের সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক শাহ আলম বলেন, বিষয়টি এখন জানতে পারলাম। ওই নারী এখনো পর্যন্ত আমাদের কাছে আসেন নাই। যদি আমাদের কাছে এসে আবেদন করেন অবশ্যই তাকে আমরা সহযেগিতা করবো, তার পাশে দাঁড়াবো।

বরিশাল সিটিতে বিএনপির মেয়র মনোনয়ন ঘিরে হিসাব–নিকাশ

মামুনুর রশীদ নোমানী,বরিশাল: আসন্ন বরিশাল সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদকে ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে সক্রিয়তা দেখা যাচ্ছে। দক্ষিণাঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ নগর প্রশাসনিক প্রতিষ্ঠান বরিশাল সিটি করপোরেশন এর নির্বাচন স্থানীয় ও জাতীয় রাজনীতিতে সমানভাবে তাৎপর্যপূর্ণ হবে।ইতিমধ্যে নির্বাচন কমিশন ঢাকা উত্তর ও দক্ষিন এবং চট্রগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচনের প্রস্তুতি নেয়ার পরেই বরিশাল নগরজুড়ে এখন এক ধরনের নীরব রাজনৈতিক উত্তাপ। চায়ের দোকান থেকে শুরু করে নদী তীরের আড্ডা—সবখানেই আলোচনা একটাই: আসন্ন বরিশাল সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদে কে হচ্ছেন বিএনপির প্রার্থী? দক্ষিণাঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ এই সিটি করপোরেশন শুধু একটি প্রশাসনিক ইউনিট নয়; এটি বরিশালের রাজনৈতিক স্পন্দনের কেন্দ্র। আর তাই বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)–র সম্ভাব্য মনোনয়ন ঘিরে শুরু হয়েছে জল্পনা–কল্পনা, হিসাব–নিকাশ আর ভেতরের নীরব লবিং। দীর্ঘদিন পর স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশগ্রহণের প্রশ্নে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)'র অবস্থান ও কৌশল রাজনৈতিক মহলে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে। দলটির সম্ভাব্য মনোনয়ন প্রত্যাশীরা ইতোমধ্যে মাঠপর্যায়ে সাংগঠনিক তৎপরতা জোরদার করেছেন। বিএনপির মেয়র পদে মনোনয়ন নিয়ে আলোচনায় যারা : বিএনপির ভেতরে কয়েকজন জ্যেষ্ঠ নেতা ও সাবেক জনপ্রতিনিধির নাম আলোচনায় রয়েছে। তাদের মধ্যে রয়েছেন সাবেক প্যানেল মেয়র আলহাজ্ব কে এম শহিদুল্লাহ,বরিশাল মহানগর বিএনপি'র সাবেক সদস্য সচিব সাবেক ছাত্রনেতা অ্যাডঃ মীর জাহিদুল কবির জাহিদ,মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক মনিরুজ্জামান ফারুক,বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য আবু নাসের রহমাতুল্লাহ,বিএনপির বরিশাল বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক বিলকিস জাহান শিরীন,বিএনপি নেতা এবায়েদুল হক চান ও  বরিশাল জেলা বিএনপির সাবেক সাধারন সম্পাদক এ্যাড.নজরুল ইসলাম খান রাজন। এছাড়া বরিশাল মহানগর যুবদলের সাবেক সভাপতি ও কেন্দ্রীয় যুবদলের সাবেক সহ- সভাপতি ও  বি এম কলেজ এর  সাবেক জি এস  এ্যাডভোকেট আকতারুজ্জামান শামীম আলোচনায় রয়েছেন। অভিজ্ঞতার পাল্লা ভারী: দলীয় সূত্র বলছে, এবার প্রার্থী বাছাইয়ে গুরুত্ব পাবে অভিজ্ঞতা ও গ্রহণযোগ্যতা।  নির্দিষ্ট কেউকে ঘিরেই আলোচনা সীমাবদ্ধ নয়। কেন্দ্রীয়, জেলা ও মহানগর বিএনপির শীর্ষ পর্যায়ের আরও কয়েকজন নেতা নীরবে মাঠ গুছিয়ে নিচ্ছেন। কেউ কেউ তৃণমূল নেতাকর্মীদের সঙ্গে বৈঠক করছেন, কেউ আবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সক্রিয় হয়ে নিজেদের অবস্থান জানান দিচ্ছেন। দলীয় সূত্রে জানা যায়, তৃণমূলের মতামত, সাংগঠনিক দক্ষতা, অতীত রাজনৈতিক ভূমিকা এবং জনসম্পৃক্ততা এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে চূড়ান্ত প্রার্থী নির্ধারণ করা হবে। চূড়ান্ত মনোনয়নের বিষয়ে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান এর সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত হবে। অন্যদিকে দলীয় একটি সূত্র জানায়, এবার বিএনপিকে এমন প্রার্থী দিতে হবে যিনি সর্বস্তরে গ্রহণযোগ্য। কারণ, মেয়র পদে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ–এর সম্ভাব্য প্রার্থীদের বিষয়টিও রাজনৈতিক সমীকরণে বিবেচনায় রাখতে হবে। দলীয় কৌশল ও চ্যালেঞ্জ : বিএনপি সূত্রে ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে, নির্বাচন অংশগ্রহণের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এলে প্রার্থী নির্ধারণ করবে কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব। সেক্ষেত্রে— *ফ্যাসিস্ট বিরোধী আন্দোলনে ভুমিকা, *জেল জুলম,মামলা হামলা নির্যাতন, *রাজনৈতিক অবস্থান। এসব বিষয় গুরুত্ব পাবে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বরিশালে দলীয় ঐক্য ধরে রাখা এবং গ্রহণযোগ্য প্রার্থী বাছাই করা বিএনপির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। অতীতের নির্বাচনে বিভক্তি বা বিদ্রোহী প্রার্থীর কারণে দল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলেও অনেকে মন্তব্য করেন। ভোটারদের প্রত্যাশা : বরিশাল নগরবাসীর প্রধান দাবি— * জলাবদ্ধতা নিরসন, * সড়ক ও ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন, * পরিচ্ছন্ন নগর ব্যবস্থাপনা, * কর্মসংস্থান ও ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ, মেয়র প্রার্থীদের জন্য এসব ইস্যু হবে নির্বাচনী প্রচারণার মূল প্রতিপাদ্য। বরিশাল সিটি করপোরেশন নির্বাচনকে ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা ক্রমেই বাড়ছে।চূড়ান্ত ঘোষণা না হওয়া পর্যন্ত সম্ভাব্য প্রার্থীদের তৎপরতা ও দলীয় কৌশলই থাকবে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। প্রার্থী ঘোষণার পর নির্বাচনী সমীকরণ আরও স্পষ্ট হবে বলে রাজনৈতিক মহল মনে করছে। বরিশালের রাজনীতির বাতাসে ইতিমধ্যেই নির্বাচনী সুর। বিএনপি শক্ত প্রার্থী দিলে নগর রাজনীতিতে জমে উঠতে পারে লড়াই।এখন সবার দৃষ্টি কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্তের দিকে। কে হবেন বিএনপির ‘নগর সেনাপতি’তার উত্তর মিললেই বরিশাল সিটির নির্বাচনী সমীকরণ আরও স্পষ্ট হয়ে উঠবে। উল্লেখ্য,বরিশাল সিটি করপোরেশ নির্বাচনে ২০১৩ সালে আওয়ামীলীগের মেয়র প্রার্থী শওকত হোসেন হিরনকে পরাজিত করে বিজয়ী হয়েছিলেন তৎকালীন মহানগর বিএনপির সভাপতি ও বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির মৎস্য বিষয়ক সম্পাদক আহসান হাবিব কামাল।২০১৮ সালে আলহাজ্ব মজিবর রহমান সরোয়ার দল থেকে দলীয় মনোনয়ন পেয়েছিলেন।ভোট ডাকাতির মাধ্যমে মেয়র নির্বাচিত হোন সাদিক আব্দুল্লাহ। ২০২৩ সালে অনুষ্ঠিত বরিশাল সিটি নির্বাচনে বিএনপি অংশ নেয়নি।  

নিজস্ব প্রতিবেদক

সংবাদ

View more
ফিলিপাইনে ‘জরুরি অবস্থা’
ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধের প্রভাবে ফিলিপাইনে জ্বালানি জরুরি অবস্থা ঘোষণা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধের প্রভাবে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা বাড়তে থাকলেও এর সবচেয়ে তীব্র প্রভাব পড়েছে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশ ফিলিপাইনে। জ্বালানি সংকট চরমে পৌঁছানোয় দেশটিতে ‘ন্যাশনাল এনার্জি ইমার্জেন্সি’ বা জাতীয় জ্বালানি জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছেন প্রেসিডেন্ট ফার্দিনান্দ মার্কোস জুনিয়র। মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) এক নির্বাহী আদেশে এই ঘোষণা দেন তিনি। এতে বলা হয়, দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা বর্তমানে গুরুতর হুমকির মুখে রয়েছে, যা সামগ্রিক অর্থনীতিকে মারাত্মকভাবে বিপর্যস্ত করতে পারে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ফিলিপাইন তাদের মোট জ্বালানির প্রায় ৯৮ শতাংশ পারস্য উপসাগরীয় দেশগুলো থেকে আমদানি করে থাকে। কিন্তু চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে ওই অঞ্চল থেকে তেল সরবরাহ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। ফলে দেশটিতে ডিজেল ও পেট্রোলের দাম দ্বিগুণেরও বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে। জরুরি অবস্থা ঘোষণার ফলে সরকার বিশেষ ক্ষমতা অর্জন করেছে। এর আওতায় আন্তর্জাতিক বাজার থেকে সরাসরি জ্বালানি আমদানি, মজুত বৃদ্ধি এবং সরবরাহ ব্যবস্থাপনা জোরদার করা সম্ভব হবে। এছাড়া নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সুষ্ঠু বণ্টন নিশ্চিত করতে উচ্চপর্যায়ের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। সরকার ইতোমধ্যে জ্বালানিতে ভর্তুকি দেওয়ার পরিকল্পনা নিয়েছে এবং মজুতদারি ও কৃত্রিম সংকট সৃষ্টিকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। ফিলিপাইনের জ্বালানি মন্ত্রী শ্যারন গেরিন জানিয়েছেন, বর্তমান ব্যবহারের হারে দেশটির হাতে মাত্র ৪৫ দিনের জ্বালানি মজুত রয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত অথবা নতুন নির্দেশনা না আসা পর্যন্ত এই জরুরি অবস্থা বহাল থাকবে। বিশ্লেষকরা বলছেন, এই সংকট দীর্ঘায়িত হলে শুধু ফিলিপাইন নয়, বরং পুরো অঞ্চলের অর্থনীতিতে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ২৪, ২০২৬ 0
যুক্তরাজ্যের একটি পারমাণবিক শক্তিচালিত সাবমেরিন।

মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনার মধ্যে আরব সাগরে ব্রিটিশ পারমাণবিক সাবমেরিন

ইরানি তেল

বাজারে আসছে ১৭ কোটি ব্যারেল ইরানি তেল,জ্বালানিতে বড় স্বস্তি

হরমুজ প্রণালী

হরমুজ প্রণালীতে নিরাপদ যাতায়াতে ২২ দেশের উদ্যোগ, ইরানের পদক্ষেপের নিন্দা

ট্রাম্প
ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাত: যুদ্ধের মোড় ঘোরার ইঙ্গিত, তেলের বাজারে তীব্র অস্থিরতা

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনা নতুন এক মোড়ে দাঁড়িয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সামরিক অভিযান গুটিয়ে আনার বিষয়টি বিবেচনা করছেন বলে জানিয়েছেন, যা এই সংঘাতের গতিপথ বদলে দিতে পারে। একই সঙ্গে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে চাপ কমাতে ইরানি তেলের ওপর আংশিক নিষেধাজ্ঞা শিথিল করার সিদ্ধান্তও আন্তর্জাতিক মহলে নতুন আলোচনা সৃষ্টি করেছে। এই পরিস্থিতিতে একদিকে যেমন যুদ্ধ থামার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে, অন্যদিকে ইরানের নতুন করে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা আঞ্চলিক উত্তেজনাকে আরও জটিল করে তুলছে। যুদ্ধ গুটিয়ে আনার ইঙ্গিত: কৌশলগত পরিবর্তন? শুক্রবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্র তার সামরিক লক্ষ্য অর্জনের খুব কাছাকাছি পৌঁছে গেছে। তাই মধ্যপ্রাচ্যে চলমান বৃহৎ সামরিক অভিযান গুটিয়ে আনার বিষয়টি এখন বিবেচনায় রয়েছে। এই বক্তব্যকে বিশ্লেষকরা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন। কারণ, ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া এই সংঘাতের পর এটিই প্রথমবারের মতো এত স্পষ্টভাবে সম্ভাব্য সমাপ্তির ইঙ্গিত দেওয়া হলো। তবে ট্রাম্প একইসঙ্গে জানিয়েছেন, তিনি যুদ্ধবিরতির পক্ষে নন। তার ভাষায়, “যখন প্রতিপক্ষকে কার্যত ধ্বংস করা হচ্ছে, তখন যুদ্ধবিরতির প্রয়োজন নেই।” এই বক্তব্যে স্পষ্ট হয় যে, যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধ শেষ করতে চাইলেও তা কোনো কূটনৈতিক সমঝোতার মাধ্যমে নয়, বরং সামরিক সাফল্যের ভিত্তিতে করতে আগ্রহী। পেন্টাগনের পূর্বাভাস বনাম বাস্তবতা হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট জানিয়েছেন, এই সামরিক অভিযান সম্পন্ন করতে ৪৬ সপ্তাহ সময় লাগতে পারে বলে পূর্বাভাস ছিল। কিন্তু বর্তমানে মাত্র তিন সপ্তাহের মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্র উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে বলে দাবি করা হচ্ছে। এই দাবি কতটা বাস্তবসম্মত—তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা। কারণ, ইরান এখনও পাল্টা হামলা চালিয়ে যাচ্ছে এবং আঞ্চলিক উত্তেজনা কমার কোনো লক্ষণ স্পষ্ট নয়। ইরানের পাল্টা আঘাত: যুদ্ধ থামার বদলে বিস্তারের ঝুঁকি যখন যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধ গুটিয়ে আনার ইঙ্গিত দিচ্ছে, তখন ইরান বিপরীত পথে হাঁটছে বলে মনে হচ্ছে। সাম্প্রতিক ঘটনায়: সৌদি আরবের পূর্বাঞ্চলে ২০টিরও বেশি ড্রোন হামলা চালানো হয়, যা প্রতিহত করা হয়েছে ইসরাইলের দিকে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়েছে কুয়েতের একটি তেল শোধনাগারে ড্রোন হামলায় আগুন লাগে কাতারের গ্যাস স্থাপনাও হামলার শিকার হয় এছাড়া জেরুজালেমের গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় স্থাপনাগুলোর আশেপাশে হামলার ঘটনাও ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। এই ঘটনাগুলো ইঙ্গিত দেয় যে সংঘাত কেবল যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই, বরং তা পুরো মধ্যপ্রাচ্যে ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকিতে রয়েছে। হরমুজ প্রণালী: বৈশ্বিক অর্থনীতির কেন্দ্রবিন্দু বর্তমান সংকটের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিকগুলোর একটি হলো হরমুজ প্রণালী। বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল এই প্রণালী দিয়ে পরিবাহিত হয়। ইরান কার্যত এই প্রণালীতে চাপ সৃষ্টি করায়: তেলের সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম দ্রুত বেড়েছে জ্বালানি নিরাপত্তা নিয়ে নতুন উদ্বেগ দেখা দিয়েছে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যদি এই প্রণালী দীর্ঘ সময় অচল থাকে, তাহলে তা বৈশ্বিক অর্থনীতির ওপর মারাত্মক প্রভাব ফেলতে পারে। তেলের বাজারে অস্থিরতা: মূল্যবৃদ্ধির ঢেউ সংঘাতের প্রভাবে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ১১২ ডলারের বেশি হয়েছে। এর প্রভাব: পরিবহন খরচ বৃদ্ধি উৎপাদন ব্যয় বাড়া বিশ্বব্যাপী মুদ্রাস্ফীতির চাপ ওয়াল স্ট্রিটসহ বিভিন্ন শেয়ারবাজারে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। বিনিয়োগকারীরা ঝুঁকিপূর্ণ সম্পদ থেকে সরে গিয়ে নিরাপদ বিনিয়োগে ঝুঁকছেন। নিষেধাজ্ঞা শিথিল: বাস্তববাদী সিদ্ধান্ত? এই প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্র একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নিয়েছে—ইরানি তেলের ওপর কিছু নিষেধাজ্ঞা সাময়িকভাবে শিথিল করা হয়েছে। এই সিদ্ধান্তের আওতায়: ২০ মার্চের আগে জাহাজে লোড করা তেল ১৯ এপ্রিল পর্যন্ত বাজারে সরবরাহ ও বিক্রি করা যাবে মার্কিন ট্রেজারি বিভাগের মতে, এতে প্রায় ১৪ কোটি ব্যারেল তেল বাজারে আসবে, যা স্বল্পমেয়াদে সরবরাহ সংকট কমাতে সাহায্য করবে। এই পদক্ষেপকে অনেকেই বাস্তববাদী হিসেবে দেখছেন। কারণ, যুদ্ধ চলমান থাকলেও বৈশ্বিক জ্বালানি স্থিতিশীল রাখা যুক্তরাষ্ট্রের জন্য একটি কৌশলগত অগ্রাধিকার। আঞ্চলিক শক্তিগুলোর ভূমিকা বর্তমান সংঘাতে শুধু যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান নয়, বরং একাধিক আঞ্চলিক শক্তি জড়িয়ে পড়েছে: সৌদি আরব নিজেদের তেল স্থাপনা রক্ষায় সক্রিয় প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা জোরদার করেছে। ইসরাইল ইরানের হামলার জবাবে পাল্টা আক্রমণ চালাচ্ছে এবং লেবাননে অভিযান পরিচালনা করছে। তুরস্ক সিরিয়ায় ইসরাইলি হামলার সমালোচনা করেছে, যা নতুন কূটনৈতিক উত্তেজনার ইঙ্গিত দেয়। সিরিয়া এখনও সরাসরি যুদ্ধে জড়ায়নি, তবে পরিস্থিতি অত্যন্ত সংবেদনশীল। ইরানের অভ্যন্তরীণ বার্তা: ‘আমরা জিতেছি’ ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি দাবি করেছেন, তারা শত্রুপক্ষকে বড় ধরনের আঘাত হেনেছেন। তার বক্তব্যে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক উঠে এসেছে: জাতীয় ঐক্যের ওপর জোর সামরিক সাফল্যের দাবি প্রতিপক্ষের বিভ্রান্তির কথা উল্লেখ এই ধরনের বক্তব্য সাধারণত অভ্যন্তরীণ সমর্থন ধরে রাখার কৌশল হিসেবে দেখা হয়। কূটনৈতিক শূন্যতা: আলোচনার পথ বন্ধ? ট্রাম্প জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের সঙ্গে আলোচনায় আগ্রহী। তবে তিনি দাবি করেন, ইরানের শীর্ষ নেতৃত্বের অনুপস্থিতির কারণে কার্যকর আলোচনার সুযোগ নেই। এই পরিস্থিতি কূটনৈতিক সমাধানের পথকে জটিল করে তুলছে। বিশ্লেষকদের মতে: সরাসরি সংলাপের অভাব সংঘাত দীর্ঘায়িত করতে পারে মধ্যস্থতাকারী দেশের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে জাতিসংঘ বা ইউরোপীয় শক্তিগুলোর উদ্যোগ প্রয়োজন মার্কিন সামরিক উপস্থিতি: কমছে না, বাড়ছে? যদিও ট্রাম্প সামরিক অভিযান গুটিয়ে আনার কথা বলেছেন, অন্যদিকে অতিরিক্ত ২,২০০–২,৫০০ মেরিন সেনা পাঠানোর খবর প্রকাশ পেয়েছে। এতে দুটি সম্ভাবনা তৈরি হয়: কৌশলগত চাপ বজায় রাখা প্রয়োজনে দ্রুত আক্রমণের প্রস্তুতি এই দ্বৈত অবস্থান যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক কৌশলকে আরও জটিল করে তুলেছে। ভবিষ্যৎ পরিস্থিতি: তিনটি সম্ভাব্য পথ বর্তমান পরিস্থিতি থেকে ভবিষ্যতে তিনটি সম্ভাব্য পথ দেখা যাচ্ছে: ১. সীমিত যুদ্ধ ও ধীরে ধীরে সমাপ্তি যুক্তরাষ্ট্র ধীরে ধীরে অভিযান গুটিয়ে নেবে, তবে সরাসরি যুদ্ধ এড়াবে। ২. আঞ্চলিক যুদ্ধের বিস্তার ইরান, ইসরাইল, সৌদি আরবসহ একাধিক দেশ সরাসরি সংঘাতে জড়িয়ে পড়তে পারে। ৩. কূটনৈতিক সমাধান আন্তর্জাতিক চাপের মুখে আলোচনার মাধ্যমে সমাধান আসতে পারে। বৈশ্বিক প্রভাব: শুধু মধ্যপ্রাচ্যে সীমাবদ্ধ নয় এই সংঘাতের প্রভাব বিশ্বজুড়ে পড়ছে: জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা খাদ্য ও পণ্যের মূল্য বৃদ্ধি বিনিয়োগ পরিবেশে অনিশ্চয়তা ভূরাজনৈতিক জোটে পরিবর্তন বিশেষ করে উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য এটি বড় ধরনের অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে। অনিশ্চয়তার মধ্যে অপেক্ষা মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান পরিস্থিতি একদিকে যেমন যুদ্ধের সমাপ্তির সম্ভাবনা তৈরি করছে, অন্যদিকে নতুন সংঘাতের ঝুঁকিও বাড়াচ্ছে। ট্রাম্পের বক্তব্য পরিস্থিতিকে শান্ত করার ইঙ্গিত দিলেও বাস্তবতা এখনো অত্যন্ত অনিশ্চিত। ইরানের ধারাবাহিক হামলা, আঞ্চলিক শক্তিগুলোর সক্রিয়তা এবং জ্বালানি বাজারের অস্থিরতা—সব মিলিয়ে এটি একটি বহুমাত্রিক সংকটে পরিণত হয়েছে। বিশ্ব এখন তাকিয়ে আছে—এই সংঘাত কি ধীরে ধীরে থামবে, নাকি আরও বড় আকার ধারণ করবে?

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ২১, ২০২৬ 0
ইসরায়েলের তেল শোধনাগার

ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ইসরায়েলের তেল শোধনাগারে আগুন, মধ্যপ্রাচ্যে জ্বালানি সংকটের শঙ্কা

যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস জেরাল্ড ফোর্ড।

আগুনের ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত ইউএসএস জেরাল্ড ফোর্ড, মেরামতে গ্রিসের সৌদা বে বন্দরে ফিরছে

ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ধ্বংসাবশেষে বেনগুরিয়ন বিমানবন্দরে ৩ উড়োজাহাজ ক্ষতিগ্রস্ত

ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ধ্বংসাবশেষে বেনগুরিয়ন বিমানবন্দরে ৩ উড়োজাহাজ ক্ষতিগ্রস্ত

সৌদি আরবে পবিত্র ঈদুল ফিতর শুক্রবার
সৌদি আরবে পবিত্র ঈদুল ফিতর শুক্রবার

সৌদি আরবে  বুধবার ১৪৪৭ হিজরি সনের পবিত্র শাওয়াল মাসের চাঁদ দেখা যায়নি। এর ফলে বৃহস্পতিবার রমজান মাসের ৩০ দিন পূর্ণ হবে। আগামী শুক্রবার সৌদি আরবে পবিত্র ঈদুল ফিতর উদ্‌যাপিত হবে। এক মাস রোজা রাখার পর শাওয়াল মাসের প্রথম দিন মুসলমানরা ঈদুল ফিতর উদ্‌যাপন করেন। এটি সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব। চাঁদ দেখা সাপেক্ষে এই তারিখ নির্ধারণ করা হয়। সাধারণত সৌদি আরবের এক দিন পর বাংলাদেশে পবিত্র ঈদুল ফিতর উদ্‌যাপন করা হয়। বৃহস্পতিবার বাংলাদেশে জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির বৈঠকে পবিত্র ঈদুল ফিতর উদ্‌যাপনের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। হিজরি বর্ষপঞ্জি অনুযায়ী, চাঁদ দেখা সাপেক্ষে ২৯ বা ৩০ দিনে মাস হয়ে থাকে। ২৯ রমজান শেষে যদি চাঁদ দেখা যায়, তাহলে পরদিন ঈদুল ফিতর উদ্‌যাপিত হয়। আর চাঁদ দেখা না গেলে ঈদুল ফিতর উদ্‌যাপিত হয় ৩০ রমজান শেষে। গালফ নিউজের খবরে বলা হয়েছে, তুরস্ক ও সিঙ্গাপুর চাঁদ দেখা নয়, জ্যোতির্বিজ্ঞানের হিসাবের আলোকে ইসলামি মাস নির্ধারণ করে। তার ভিত্তিতে এই দুই দেশ পবিত্র ঈদুল ফিতরের তারিখ ঘোষণা করেছে। তুরস্ক শুক্রবার ঈদুল ফিতর উদ্‌যাপন করবে। আর সিঙ্গাপুরে ঈদ উদ্‌যাপন করা হবে শনিবার। এদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের চলমান যুদ্ধের কারণে এবার সংযুক্ত আরব আমিরাত ও কাতারে উন্মুক্ত স্থানে ঈদুল ফিতরের জামাত হচ্ছে না। নিরাপত্তা নিশ্চিতে এই দুই দেশে এবার শুধু মসজিদেই ঈদের নামাজ আদায় করা হবে।

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ১৯, ২০২৬ 0
বাংলাদেশিদের ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ

ইরানে আটকে পড়া বাংলাদেশিদের ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ

গোলামরেজা সোলেমানি

ইরানের বাসিজ প্রধান গোলামরেজা সোলেমানি নিহত: আইআরজিসির দাবি “আমেরিকান-জায়োনিস্ট হামলা”

মোজতবা খামেনি

ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনিকে ধরিয়ে দিতে কোটি ডলার পুরস্কারের ঘোষণা দিলো যুক্তরাষ্ট্র

অর্থনীতি

তেল-গ্যাস অনুসন্ধানে ৪৭ ব্লকে আন্তর্জাতিক দরপত্র

বাংলাদেশে ৪৭টি তেল-গ্যাস ব্লকে আন্তর্জাতিক দরপত্র শিগগির: এলএনজি নির্ভরতা কমানোর পরিকল্পনা

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ১৯, ২০২৬ 0




অপরাধ

বন ও পরিবেশ অধিদপ্তরের বরিশাল বিভাগীয় কার্যালয়ের নমুনা সংগ্রহকারী গ্রেফতার

বরিশাল পরিবেশ অধিদপ্তরের বিভাগীয় কার্যালয়ের নমুনা সংগ্রহকারী গ্রেফতার

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ২০, ২০২৬ 0




কৃষি ও জলবায়ু

সার ডিলার নিয়োগ ও বিতরণ নীতিমালা  দ্রুত বাস্তবায়নের দাবিতে বরিশালে মানববন্ধন

সার ডিলার নিয়োগ ও বিতরণ নীতিমালা দ্রুত বাস্তবায়নের দাবিতে বরিশালে মানববন্ধন

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ১৯, ২০২৬ 0