Brand logo light
বাংলাদেশ

ময়মনসিংহ মেডিকেলে হাম রোগে বাড়ছে মৃত্যু: ২৪ ঘণ্টায় ২ শিশু নিহত, ১২ দিনে আক্রান্ত ১০৬

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ৩০, ২০২৬ 0
ময়মনসিংহ মেডিকেলে হামে ১২ দিনে ১০৬ শিশু ভর্তি
ময়মনসিংহ মেডিকেলে হামে ১২ দিনে ১০৬ শিশু ভর্তি

ময়মনসিংহ : ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে গত ২৪ ঘণ্টায় হাম রোগে আক্রান্ত তিন শিশু ভর্তি হয়েছে, যাদের মধ্যে দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। হাসপাতালের রেকর্ড অনুযায়ী, গত ১২ দিনে ১০৬ জন শিশু হাম আক্রান্ত হয়ে ভর্তি হয়েছেন, আর তাদের মধ্যে মারা গেছে ৫ শিশু

হাসপাতালের নতুন ভবনের ৬ষ্ঠ তলায় তিনটি পৃথক কক্ষে ১০ শয্যার ‘হাম কর্নার’ চালু করা হলেও, রোগীর সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় কক্ষের শয্যা সীমার বাইরে রোগী রাখা হচ্ছে। এক বিছানায় দুই শিশু এবং মেঝে বা বারান্দায় চিকিৎসা নেওয়া হচ্ছে। শিশু বিভাগের ফোকাল পার্সন ডা. গোলাম মওলা জানান, “টিকা নেওয়া ও না নেওয়া—উভয় ধরনের রোগীই ভর্তি হচ্ছে। বর্তমানে কোনো রোগী আইসিইউতে  পাঠানোর প্রয়োজন হয়নি। তবে রোগীর চাপ ক্রমেই বাড়ছে।”

অভিভাবকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, হাম আক্রান্ত শিশুর প্রাথমিক লক্ষণ হিসেবে জ্বর, কাশি, নাক দিয়ে পানি পড়া, শরীরে লালচে দাগ এবং মুখে সাদা দাগ দেখা দেয়। এক অভিভাবক জানান, তিন দিন ফার্মেসি থেকে ওষুধ খাওয়ানো হলেও কোনো উন্নতি হয়নি। হাসপাতালে ভর্তি করাতে বাধ্য হন।

উপজেলা থেকে হাসপাতালে আসা শিশুরা প্রায় ১৫ দিন অন্যান্য হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়ে উন্নতি না হওয়ায় এখানে ভর্তি হচ্ছে। এক অভিভাবক বলেন, “নিউমোনিয়া পুরোপুরি কমেনি। তাই আমরা ময়মনসিংহ মেডিকেলে আছি।”

হাসপাতাল রেকর্ড অনুযায়ী, বর্তমানে ৬৬ শিশু হাম আক্রান্ত অবস্থায় চিকিৎসাধীন। শিশু বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক আক্তারুজ্জামান বলেন, “সাধারণ রোগীদের থেকে হাম আক্রান্ত শিশুদের আলাদা রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে। তবে হঠাৎ রোগী বেড়ে যাওয়ায় শতভাগ আইসোলেশন সম্ভব হচ্ছে না।”

হাসপাতাল প্রশাসনের অনুমান অনুযায়ী, করোনা পরিস্থিতি ও ৫ আগস্টের স্বাস্থ্য সহকারীর আন্দোলনের কারণে টিকাদান কার্যক্রম বিঘ্নিত হওয়ায় সম্প্রতি হামের প্রকোপ বেড়েছে। সম্প্রতি বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও)   প্রতিনিধি নিয়মিত নমুনা সংগ্রহ ও পরীক্ষা করছেন।

জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ জানায়, রোগীর সংখ্যা বাড়ায় জেলার ১৩টি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে তিনটি করে আলাদা বেড রাখা হয়েছে। এছাড়া, হাসপাতালের বহির্বিভাগে শিশুদের জন্য ডেডিকেটেড ফিবার ক্লিনিক চালুর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

তথ্য বিশ্লেষণ:

  • ২৪ ঘণ্টায় শিশু মৃত্যু: ২
  • ১২ দিনে হাসপাতাল ভর্তি: ১০৬
  • ১২ দিনে মৃত্যু: ৫
  • হাসপাতালের ‘হাম কর্নার’ শয্যা: ১০ (প্রতি কক্ষে)
  • বর্তমানে চিকিৎসাধীন শিশু: ৬৬

এই তথ্য স্পষ্টভাবে দেখাচ্ছে, হাসপাতালের শয্যা ও আইসোলেশন সীমার বাইরে রোগী, টিকাদানে ঘাটতি, এবং স্বাস্থ্য ব্যবস্থার প্রস্তুতি অভাব একসাথে শিশুদের জীবনের ঝুঁকি তৈরি করছে।

Popular post
ফারুকীর সম্পদ কমেছে, তিশার বেড়েছে দ্বিগুণেরও বেশি: সম্পদ বিবরণী ঘিরে আলোচনা

অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের সম্পদ বিবরণী প্রকাশের পর সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী ও তার স্ত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদের হিসাব নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। এক বছরের ব্যবধানে স্বামী ফারুকীর সম্পদ কমলেও স্ত্রী তিশার সম্পদ বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে প্রকাশিত তথ্যে উঠে এসেছে এই চিত্র। প্রকাশিত খতিয়ান অনুযায়ী, জনপ্রিয় অভিনেত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদ এক বছরে অভাবনীয় হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তিশার মোট সম্পদের পরিমাণ ছিল ১ কোটি ৪০ লাখ ৮১ হাজার ৮৬০ টাকা। ঠিক এক বছর পর, ২০২৫ সালের ৩০ জুন সেই সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ৯৯ লাখ ৮৯ হাজার ৫০১ টাকায়। অর্থাৎ মাত্র এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ বেড়েছে ১ কোটি ৫৯ লাখ ৭ হাজার ৬৪১ টাকা, যা আগের বছরের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি। অন্যদিকে সংস্কৃতি উপদেষ্টা ও নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর ক্ষেত্রে দেখা গেছে উল্টো চিত্র। এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ কমেছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তার মোট সম্পদ ছিল ২ কোটি ২৬ লাখ ৯২ হাজার ২৬ টাকা। ২০২৫ সালের ৩০ জুন তা কমে দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ১৫ লাখ ১৮ হাজার ২৬ টাকায়। হিসাব অনুযায়ী, এক বছরে তার সম্পদ কমেছে ১১ লাখ ৭৪ হাজার টাকা। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে গত মঙ্গলবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ প্রধান উপদেষ্টা, উপদেষ্টা ও সমমর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের পাশাপাশি তাদের স্ত্রী বা স্বামীর সম্পদ বিবরণী প্রকাশ করে। একই সময়ে স্বামী-স্ত্রীর সম্পদে এমন ভিন্নমুখী পরিবর্তন স্বাভাবিকভাবেই সাধারণ মানুষের কৌতূহলের জন্ম দিয়েছে। শোবিজ অঙ্গনের জনপ্রিয় দম্পতি হওয়ায় তাদের এই আয়-ব্যয়ের হিসাব এখন টক অব দ্য কান্ট্রি।

সংসার সামলাতে অটোরিকশা নিয়ে রাস্তায় নেমেছেন রোজিনা

বাসস : বাবা একজন তাঁত শ্রমিক। তিন বোন দুই ভাইয়ের মধ্যে সবার বড় রোজিনা। অভাব সংসার, তাই এক এতিম যুবকের সাথে বাবা-মা বিয়ে দেন তাকে। বিয়ের পর জন্ম হয় দুই কন্যা সন্তানের। অটোরিকশা চালিয়ে কোন রকম সংসার চালাচ্ছিলেন স্বামী রফিকুল ইসলাম। কিন্তু সড়ক দুর্ঘটনায় রফিকুলের এক চোখ সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যায়। আরেকটি চোখ আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ধীরে ধীরে ওই চোখের দৃষ্টি শক্তিও কমতে থাকে। ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে অটোরিকশা চালানো। সংসারের উপার্জনক্ষম মানুষটি অচল হয়ে পড়ায় চিকিৎসার খরচ, ঘর ভাড়া ও খাবারের পাশাপাশি মেয়েদের লেখাপড়ার খরচ চালানোই কঠিন হয়ে যায়। দিশেহারা হয়ে পরেন রোজিনা। এক পর্যায়ে মানুষের বাড়ি বাড়ি কাজ করে সংসার চালানোর চেস্টা করেন। কিন্তু সুবিধা করতে পারেন না। এমন পরিস্থিতিতে অটোরিকশা চালানোর সিদ্ধান্ত নেন তিনি। স্বামী রফিকুলের কাছেই হাতেখড়ি। গ্রামের স্কুলের মাঠে স্বামীর কাছেই অটোরিকশা চালানোর শিক্ষা নেন তিনি। পরে গ্রামের পথে নেমে পড়েন অটোরিকশা নিয়ে। ৫-৬ দিন এভাবে হাত পাকা করে একদিন টাঙ্গাইল শহরে চলে আসেন রোজিনা। এরপর শুরু করেন অটোরিক্সা চালানোর ব্যতিক্রমী জীবন সংগ্রাম। এখন টাঙ্গাইল পৌরসভায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার চালকদের মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা বেগম। জেলার বাসাইল উপজেলার আইসড়া গ্রামের বাসিন্দা রোজিনা টাঙ্গাইল পৌর শহরের এক প্রান্ত রাবনা বাইপাস থেকে আরেক প্রান্ত বেবিস্ট্যান্ডে যাত্রী আনা নেয়া করেন। যানজটের কারণে শহরে পুরুষ চালকরা যেখানে হিমসিম খায়, সেখানেই বিগত ৫ বছর ধরেই নির্বিঘেœ অটোরিকশা চালাচ্ছেন তিনি। টাঙ্গাইল পৌরসভা কার্যালয় সূত্রে জানা যাায়, টাঙ্গাইল শহরে চলাচলের জন্য ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক ও ৫ হাজার ব্যাটারিচালিত রিকশার অনুমতি (লাইসেন্স) দেওয়া হয়েছে। যানজট এড়াতে ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক জোড় ও বিজোড় সংখ্যায় দিনে দুই ভাগ করা হয়েছে। সকাল থেকে বেলা দুইটা পর্যন্ত এক ভাগ এবং বেলা দুইটা থেকে রাত পর্যন্ত আরেক ভাগের ইজিবাইক চলাচল করার নির্দেশনা দিয়েছে পৌর কর্তৃপক্ষ। কিন্তু রোজিনাকে দুই শিফটে চালানোর অনুমতি দিয়েছে পৌরসভা। সরেজমিনে দেখা যায়, নতুন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অটোরিকশা নিয়ে যাত্রী ডাকছেন রোজিনা। কলেজ গেট, পুরাতন বাসস্ট্যান্ড, ক্যাপসুল, নিরালা মোড়, বেবিস্ট্যান্ড সর্বত্রই যাত্রী আনানেয়া করেন তিনি। পুরাতন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অন্য অটো চালকদের দাঁড় করতে না দিলেও রোজিনাকে বাঁধা দেননা ট্রাফিক পুলিশ। বলতে গেলে সবাই তার প্রতি সহানুভুতিশীল। ট্রাফিক পুলিশসহ অন্য অটোচালকরাও তাকে সহযোগিতা করেন। রোজিনা বলেন, আমার অটোতে নারী যাত্রীরা খুব কম। তারা মনে করে আমার অটোতে উঠলে দুর্ঘটনায় পড়বে। কিন্তু আমি খুব সাবধানে অটো চালাই। দ্রুত গতিতেও না, আবার একেবারে ধীরগতিতেও না। এখন পর্যন্ত আমি কোন দুর্ঘটনার কবলে পড়ি নাই। শহরের পুরুষ অটোরিকশা চালকরা আমাকে অনেক সহযোগিতা করে। অটোচালক কাদের মিয়া বলেন, আমাদের শহরে কয়েক হাজার অটো চলাচল করে। তার মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। তাকে আমরা সব সময় সহযোগিতা করি। যাত্রী সাইদ মিয়া বলেন, আমি এ পর্যন্ত ৫-৬ বার রোজিনার অটোতে চড়েছি। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। অন্য পুরুষ অটো চালকের চেয়েও ভালো অটো চালান। নারী সংগঠক সেরাজুম মনিরা বলেন, তিনি অনেক দিন যাবত অটোরিকশা চালাচ্ছেন। আমি রোজিনাকে স্যালুট জানাই। একজন পুরুষের চেয়ে একজন নারী কোনো ভাবেই যে পিছিয়ে নেই, রোজিনা তা প্রমাণ করেছেন। রোজিনা বলেন, অটো চালানোর এই সিদ্ধান্তটি তার জন্য খুব সহজ ছিল না। তিনি বলেন, ৫ ও ১০ বছরের দুই মেয়েকে বাড়িতে রেখে অটোরিকশা নিয়ে সারাদিন রাস্তায় থাকতে হয়। তাদের ভালোভাবে দেখাশোনা করতে পারি না। কিন্তু কি করবো, অভাবের সংসার! এখন ঋণ নিয়ে একটু জমি কিনেছি। প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ণ প্রকল্পের অর্থায়নে প্রশাসন সেখানে ঘর তুলে দিয়েছে। শুরুতে যারা আমাকে নিয়ে ঠাট্টা করেছে এখন তারাই আমাকে সম্মান করেন। নারীরাও যে কিছু করতে পারে, তা প্রমাণ করেছি। আমার বড় মেয়ে আইসড়া উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়ে, ছোট মেয়ে পড়ে স্থানীয় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। মেয়েদের শিক্ষিত করতে হবে। ধার দেনা শোধ করতে হবে। তাই থেমে গেলো চলবে না। আমি অটোরিকশা চালিয়েই দুই সন্তানকে মানুষ করতে চাই।’ ঘারিন্দা ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য বাবুল সরকার বলেন, সরকার রোজিনাকে একটি ঘর নির্মাণ করে দিয়েছে। শুরুতে যারা তাকে নিয়ে নানান কথা বলতো, এখন তার সংকল্প ও মানষিক দৃঢ়তা দেখে থেমে গেছে। আমরা তাকে নিয়ে গর্ব করি। টাঙ্গাইলের ট্রাফিক ইন্সপেক্টর (প্রশাসন) দেলোয়ার হোসেন বলেন, শহরের একমাত্র নারী চালক রোজিনাকে কেউ যেন বিরক্ত করতে না পারে সেদিকে সব সময় নজর রাখে ট্রাফিক পুলিশ। আমরা তাকে সব সময় সহযোগিতা করে আসছি। টাঙ্গাইলের সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক শাহ আলম বলেন, বিষয়টি এখন জানতে পারলাম। ওই নারী এখনো পর্যন্ত আমাদের কাছে আসেন নাই। যদি আমাদের কাছে এসে আবেদন করেন অবশ্যই তাকে আমরা সহযেগিতা করবো, তার পাশে দাঁড়াবো।

বাংলাদেশে ঐতিহাসিক নির্বাচন: বিএনপি এগিয়ে, জামায়াতের উত্থান ও তরুণ ভোটারদের প্রভাব

২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশে আজ এক ঐতিহাসিক ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ২০০৮ সালের পর এই প্রথম একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হতে যাচ্ছে যেখানে দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগ রাজনৈতিক মানচিত্র থেকে কার্যত অনুপস্থিত। বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক জরিপ বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০০ আসনের মধ্যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) কার্যকর সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে যাচ্ছে। তবে ভোটের ব্যবধান এবং কিছু সমীকরণ নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। নির্বাচনের সবচেয়ে বড় নিয়ামক হয়ে দাঁড়িয়েছে আওয়ামী লীগের বিশাল ভোটব্যাংক। দলটির নিয়মিত প্রায় ৪ কোটি ভোটার এখন নতুন রাজনৈতিক আশ্রয় খুঁজছেন। সিআরএফ বা বিইপিওএস জরিপ বলছে, এই ভোটারদের প্রায় অর্ধেক বিএনপির দিকে ঝুঁকেছে, যা দলটিকে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতার পথে এগিয়ে দিচ্ছে। অন্যদিকে, প্রায় ৩০ শতাংশ আওয়ামী ভোটার জামায়াতে ইসলামীকে বেছে নিতে পারেন বলে আভাস পাওয়া যাচ্ছে। এছাড়া বাংলাদেশের বিদ্যমান নির্বাচনী ব্যবস্থার কারণে দেশজুড়ে সুষম জনসমর্থন থাকা বিএনপি আসন জয়ের ক্ষেত্রে জামায়াতের তুলনায় সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। তবে বিএনপির এই সম্ভাব্য জয়ের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও বিদ্রোহী প্রার্থীরা। প্রায় ৭৯টি নির্বাচনী এলাকায় দলের মনোনয়ন না পাওয়া ৯২ জন প্রভাবশালী নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, যা বিএনপির ১৫ থেকে ৩০টি আসন কমিয়ে দিতে পারে। অন্যদিকে, তরুণ ভোটার বা ‘জেন-জি’ প্রজন্মের বিশাল সমর্থন জামায়াতে ইসলামীর শক্তির উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেশের ৪৪ শতাংশ ভোটারই তরুণ, যাদের বড় একটি অংশ প্রথমবার ভোট দিচ্ছেন। এই তরুণরা যদি দলবেঁধে কেন্দ্রে উপস্থিত হন, তবে নির্বাচনী ফলে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। সবশেষে, প্রায় ১৭ থেকে ৩৫ শতাংশ দোদুল্যমান ভোটার এবং তাদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করবে আগামীর সরকার কতটা শক্তিশালী হবে। দ্য নিউইয়র্ক এডিটোরিয়ালের মূল পূর্বাভাস, তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি প্রায় ১৮৫টি আসনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করতে পারে এবং জামায়াতে ইসলামী ৮০টির মতো আসন পেয়ে প্রধান বিরোধী দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারে। তবে বিদ্রোহী প্রার্থীদের প্রভাব এবং তরুণ ভোটারদের উপস্থিতির ওপর ভিত্তি করে আসন সংখ্যায় বড় ধরনের হেরফের হওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

গাজায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা ট্রাম্প প্রশাসনে

ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। ৩৫০ একরের ঘাঁটিটিতে সামরিক বাহিনীর পাঁচ হাজার সদস্য থাকতে পারবে। গাজার ‘বোর্ড অব পিস’র নথি পর্যালোচনা করে এ তথ্য জানিয়েছে দ্য গার্ডিয়ান। প্রতিবেদনে ব্রিটিশ সংবাদ মাধ্যমটি জানিয়েছে, বোর্ড অব পিসে গাজাকে নিরাপদ করার জন্য ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যাবিলাইজেশন ফোর্স (আইএসএফ) নামে একটি আন্তর্জাতিক বাহিনী মোতায়েনের কথা বলা হয়েছে। যে স্থানটি ঘাঁটি করার জন্য বিবেচনা করা হচ্ছে সেখানে আইএসএফের সদস্যরা থাকবে। বোর্ড অব পিসের প্রধান হবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আর সংগঠনটির আংশিক নেতৃত্ব দেবেন ট্রাম্পের জামাতা জ্যারার্ড কুশনার।দ্য গার্ডিয়ান বোর্ড অব পিসের নথি পর্যালোচনা করে জানায়, ধাপে ধাপে একটি সামরিক ঘাঁটি নির্মাণ করা হবে। সবকিছু শেষ হলে ঘাঁটিটি ১৫ লাখ ১৭ হাজার ৫৭৫ বর্গমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত হবে। ঘাঁটিটির চারপাশে ট্রেইলার সংযুক্ত ২৬টি সাঁজোয়া নজরদারি টাওয়ার থাকবে। এছাড়া একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, বাংকার ও অস্ত্র রাখার গুদাম থাকবে। পুরো ঘাঁটিটি কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে ঘিরে রাখা হবে। সামরিক ঘাঁটি নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে দক্ষিণ গাজার একটি শুষ্ক সমতলভূমিতে। সেখানে ইসরায়েলি হামলার চিহ্ন রয়েছে। ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে বিভিন্ন ধাতবের ধ্বংসাবশেষ।  ওই এলাকার ভিডিও পর্যালোচনা করেছে দ্য গার্ডিয়ান। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, ঘাঁটি নির্মাণের জন্য টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে। যুদ্ধক্ষেত্রে কাজের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন আন্তর্জাতিক নির্মাণ কোম্পানিগুলোর একটি ছোট দলকে ইতোমধ্যেই এলাকাটি দেখানো হয়েছে। ওই দলটি দরপত্রে অংশ নিতে আগ্রহী।    ইন্দোনেশিয়া সরকার গাজায় আট হাজার সেনা সদস্য পাঠানোর জন্য প্রস্তাব দিয়েছে। বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটন ডিসিতে বোর্ড অব পিসের অনানুষ্ঠানিক বৈঠকে ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্টের অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। এছাড়া দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার আরও তিন নেতার ওই বৈঠকে অংশ নেবেন বলে জানা গেছে। জাতিসংঘের নিরাপত্তা কাউন্সিল গাজার সাময়িক স্থিতিশীলতার জন্য অস্থায়ীভাবে সামরিক বাহিনী মোতায়েনের অনুমোদন দিয়েছে। নিরাপত্তা কাউন্সিলই বোর্ড অব পিসের মূল হোতা। গাজার সীমান্ত ও শান্তি প্রণয়নে কাজ করবে আইএসএফ। এছাড়া বেসামরিকদের সুরক্ষা এবং ফিলিস্তিনি পুলিশ বাহিনীকে প্রশিক্ষণ ও সহায়তা দেবে তারা। যদি গাজায় ফের সংঘর্ষ হয়, ইসরায়েল বোমা হামলা চালায় অথবা হামাস হামলা চালায় সেক্ষেত্রে আইএসএফ কি করবে তা এখনও স্পষ্ট নয়। গাজা পুনর্গঠনে ইসরায়েল হামাসকে নিরস্ত্রীকরণের যে শর্ত দিয়েছে সেটির জন্য আইএসএফ কাজ করবে কিনা তাও স্পষ্ট না। ইতোমধ্যে বোর্ড অব পিসে ২০ এর অধিক দেশ যোগ দিয়েছে। তবে, এখনও অনেক পরাশক্তি এর থেকে দূরে রয়েছে। জাতিসংঘের অনুমোদন নিয়ে প্রতিষ্ঠিত হলেও ধারণা করা হচ্ছে, সংগঠনটির স্থায়ী নেতৃত্ব ও নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে। রুটজার্স বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক আদিল হক বলেন, “বোর্ড অব পিস এক ধরনের আইনি কল্পসত্তা। নামমাত্রভাবে এর নিজস্ব আন্তর্জাতিক আইনগত সত্তা রয়েছে, যা জাতিসংঘ ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে আলাদা। কিন্তু বাস্তবে এটি যুক্তরাষ্ট্রের ইচ্ছামতো ব্যবহারের জন্য একটি ফাঁপা খোলসমাত্র।” বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গাজা পুনর্গঠনে যে অর্থায়ন ও শাসন কাঠামো হচ্ছে তা অস্বচ্ছ। কয়েকজন ঠিকাদার গার্ডিয়ানকে জানান, গাজায় কাজ করার জন্য মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে তাদের প্রায়শ আলোচনা সরকারি ইমেলের বদলে সিগন্যালের মাধ্যমে করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রের তথ্য মতে, ঘাঁটি নির্মাণের সিদ্ধান্তটি বোর্ড অব পিসের। এতে সহায়তা করছে মার্কিন কর্মকর্তারা। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ঘাঁটিতে তৈরি বাংকার নেটওয়ার্কের মতোন কাজ করবে। প্রতিটি বাংকারের ২৪ মিটারের হবে। উচ্চতা থাকবে আড়াই মিটার। এগুলো এমনভাবে করা হবে যেন সেনা সদস্যরা আশ্রয় নিতে পারে। স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসের গাজায় সুড়ঙ্গ নেটওয়ার্ক বা টানেল রয়েছে। সেগুলোর আদলে নেটওয়ার্ক করতে চাওয়া হচ্ছে। পিস অব বোর্ডের নথি পর্যালোচনা করে এমন দাবি করছে গার্ডিয়ান। সংবাদ মাধ্যমটি বলছে,  স্থানটির ভূ-ভৌত জরিপ পরিচালনা করবে ঠিকাদাররা। নথির এক অংশে ‘হিউম্যান রেমিয়েনস প্রোটোকল’র কথা বলা হয়েছে। এর মানে দাঁড়ায়, সন্দেহভাজন মানব অবশিষ্ট বা সাংস্কৃতিক নিদর্শন পাওয়া গেলে অবিলম্বে সেই এলাকায় সব কাজ বন্ধ করতে হবে। চুক্তি কর্মকর্তাকে দিকনির্দেশনার জন্য অবিলম্বে জানাতে হবে। গাজা সিভিল ডিফেন্সের ধারণা, গাজার ধ্বংসস্তূপের নিচে ১০ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনির মরদেহ রয়েছে। ঘাঁটির জন্য যে স্থানটি বিবেচিত করা হচ্ছে সেটির মালিক কে তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে, দক্ষিণ গাজার বেশিরভাগ অংশ  বর্তমানে ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণে। জাতিসংঘের অনুমান, যুদ্ধ চলাকালীন ১৯ লাখ ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত হয়েছে। ফিলিস্তিনের জমিতে সরকারের অনুমতি না নিয়ে সামরিক ঘাঁটি স্থাপনকে দখল হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন ফিলিস্তিনি-কানাডিয়ান আইনজীবী এবং প্রাক্তন শান্তি আলোচক দিয়ানা বুট্টু। তিনি প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়ে বলেন, “কার অনুমতিতে তারা সামরিক ঘাঁটি স্থাপন করবে।” বিষয়টি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা বোর্ড অব পিসের কথা টানেন। ট্রাম্প প্রশাসনের একজন কর্মকর্তা সামরিক ঘাঁটির চুক্তি নিয়ে আলোচনা করতে অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, “যেমনটি প্রেসিডেন্ট বলেছেন, কোনও মার্কিন সেনা স্থলভাগে যাবে না। আমরা লিক হওয়া নথি নিয়ে আলোচনা করবো না।”

কুড়িগ্রামের তাজু ভাই ২.০: ‘সরকারি রেটে জিলাপি’ প্রশ্নে ভাইরাল এক নির্মাণশ্রমিকের গল্প

বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের প্রত্যন্ত চরাঞ্চল থেকে উঠে এসে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার কেন্দ্রে এখন তাইজুল ইসলাম, যিনি অনলাইনে পরিচিত ‘তাজু ভাই ২.০’ নামে। মাত্র একটি ভিডিও—যেখানে তিনি এক দোকানিকে প্রশ্ন করেন, “জিলাপি আজকে কত করে বেচতেছেন সরকারি রেটে?”—এই সরল উপস্থাপনাই তাকে রাতারাতি ভাইরাল করে তোলে।  কয়েক ঘণ্টায় ফলোয়ার লাখ ছাড়াল রোববার রাত পর্যন্ত তার ফেসবুক অনুসারী ছিল প্রায় ৩৫ হাজার। কিন্তু সোমবার সন্ধ্যা থেকে রাতের মধ্যেই তা বেড়ে এক লাখের বেশি হয়ে যায়। ভাইরাল ভিডিওটি ইতোমধ্যে প্রায় ৫০ থেকে ৫৫ লাখবার দেখা হয়েছে।  কী ছিল সেই ভিডিওতে? ভিডিওতে দেখা যায়, কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীর নারায়ণপুর বাজারে দাঁড়িয়ে স্থানীয় ভাষায় তিনি জিলাপির দাম জানতে চান। তার কথাগুলো ছিল একেবারেই সহজ ও গ্রাম্য ভঙ্গিতে— “সাদাডা কত, লালডা কত? সরকারি রেটে বেচতেছেন?” এই সরল প্রশ্নই সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।  কোথা থেকে উঠে এলেন তাজু ভাই? কুড়িগ্রাম জেলার নাগেশ্বরী উপজেলার নারায়ণপুর ইউনিয়নের একটি দুর্গম গ্রামে জন্ম তার। ব্রহ্মপুত্র নদবেষ্টিত এই অঞ্চলে পৌঁছাতে এখনও কয়েকটি নৌঘাট পার হতে হয়। দারিদ্র্যের কারণে কখনো স্কুলে যাওয়া হয়নি তার। পেশায় তিনি একজন নির্মাণশ্রমিকের সহকারী (হেলপার)। কাজের ফাঁকে ঢাকায় থাকাকালীন মোবাইল ফোনে ভিডিও তৈরি করাই তার শখ। ব্যক্তিগত সংগ্রাম তাইজুল ইসলামের পরিবারে ছয় ভাই-বোন। তিনি সবার বড়। তার বাবা-মা দুজনই শ্রবণপ্রতিবন্ধী। পরিবার চালাতে তাকে ছোটবেলা থেকেই সংগ্রাম করতে হয়েছে। তিনি বলেন, “পরিবারের কষ্ট ভুলতেই ভিডিও করি। আমি সাংবাদিক না, কিন্তু আমাদের এলাকায় কেউ আসে না—তাই নিজেরাই ভিডিও বানাই।” ভাইরাল হওয়ার পেছনের উদ্দেশ্য তাইজুলের দাবি, তার ভিডিও শুধুই বিনোদনের জন্য নয়। তিনি চান তার এলাকার অবহেলিত মানুষের কথা প্রশাসনের নজরে আসুক। “আমি চাই চরের মানুষের উন্নয়ন হোক,”—বলছেন তিনি।  মিশ্র প্রতিক্রিয়া ভিডিওটি নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে দুই ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ তার সরলতা ও বাস্তবতা তুলে ধরার চেষ্টা প্রশংসা করছেন আবার কেউ তাকে নিয়ে ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ করছেন তবে এসব সমালোচনায় তিনি বিচলিত নন।

নিজস্ব প্রতিবেদক

বাংলাদেশ

View more
শাহ আলী বাগদাদীর (রহ.) মাজারের আছে হাজার কোটি টাকার স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ।
শাহ আলী মাজারে হামলা: মাদকবিরোধী অভিযান নাকি সম্পদ ও আধিপত্যের লড়াই?

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : ঢাকার মিরপুরে শাহ আলী বাগদাদী (রহ.) মাজারে সাম্প্রতিক হামলা ও সংঘর্ষ নতুন করে সামনে এনেছে বাংলাদেশের মাজারকেন্দ্রিক রাজনীতি, অর্থনীতি এবং ধর্মীয় মতাদর্শগত দ্বন্দ্বের পুরোনো বাস্তবতা। ঘটনাটিকে ঘিরে তৈরি হয়েছে তীব্র বিতর্ক। এক পক্ষের দাবি, মাজার এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে চলা মাদক বাণিজ্যের বিরুদ্ধে অভিযানে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। অন্যদিকে স্থানীয়দের একটি অংশ বলছে, ‘মাদকবিরোধী অভিযান’ ছিল মূলত প্রভাব বিস্তার ও অর্থনৈতিক নিয়ন্ত্রণ দখলের কৌশল। বিশ্লেষকদের মতে, ঘটনাটি কেবল আইনশৃঙ্খলা বা ধর্মীয় বিরোধের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। বরং এর পেছনে রয়েছে ওয়াকফ সম্পত্তির নিয়ন্ত্রণ, চাঁদাবাজি, স্থানীয় রাজনৈতিক আধিপত্য, অনুসারী নিয়ন্ত্রণ এবং মতাদর্শগত প্রভাব বিস্তারের বহুমাত্রিক সংঘাত। আধ্যাত্মিক কেন্দ্র থেকে অর্থনৈতিক বলয়ে দক্ষিণ এশিয়ার সমাজে মাজার শুধু ধর্মীয় উপাসনাকেন্দ্র নয়; বরং এটি সামাজিক, সাংস্কৃতিক এবং অর্থনৈতিক কেন্দ্র হিসেবেও দীর্ঘদিন ধরে প্রতিষ্ঠিত। মাজারকে ঘিরে গড়ে উঠেছে মসজিদ, মাদ্রাসা, বাজার ও বাণিজ্যিক স্থাপনা। ভক্তদের পাশাপাশি বিভিন্ন ধর্মের মানুষের কাছেও এসব স্থান সামাজিক মর্যাদা ও ঐতিহ্যের অংশ। মাজারপন্থিদের বিশ্বাস, শরিয়তের অনুশীলনের মধ্য দিয়েই সুফিরা আধ্যাত্মিক উৎকর্ষ অর্জন করেন। জিকির, ধ্যান ও আত্মসংযম আত্মশুদ্ধির পথ হিসেবে বিবেচিত হয়। তবে সমালোচকদের অভিযোগ, কিছু মাজারে কুসংস্কার, অন্ধবিশ্বাস, শিরকচর্চা এবং অপরাধী চক্রের প্রভাব বিস্তার করেছে। এই মতাদর্শগত দ্বন্দ্ব বহু সময় সহিংস রূপও নিয়েছে। বাংলাদেশের রাজনীতিতেও মাজারের প্রভাব দৃশ্যমান। বহু রাজনৈতিক নেতা গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচির আগে মাজার জিয়ারত করেন। ফলে মাজারকে ঘিরে বিরোধ এখন আর কেবল ধর্মীয় নয়; বরং তা রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক বাস্তবতার সঙ্গেও গভীরভাবে জড়িত। মাজারকেন্দ্রিক অপরাধ ও অপ্রাতিষ্ঠানিক অর্থনীতি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একাধিক সূত্র বলছে, কিছু মাজার এলাকায় মাদক গ্রহণ ও খুচরা মাদক বিক্রি এখন প্রায় নিয়মিত ঘটনায় পরিণত হয়েছে। প্রতিদিন বিপুল মানুষের সমাগম হওয়ায় বহিরাগতদের শনাক্ত করা কঠিন হয়ে পড়ে। অভিযানের খবর পেলেই সংশ্লিষ্টরা দ্রুত সরে যাওয়ার সুযোগ পায়। স্থানীয়দের অভিযোগ, কিছু ক্ষেত্রে মাজার এলাকা সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজ চক্রের গোপন যোগাযোগের কেন্দ্র হিসেবেও ব্যবহৃত হয়। অবৈধ অস্ত্র গোপন রাখা, কিশোর গ্যাং নিয়ন্ত্রণ, নতুন সদস্য সংগ্রহ কিংবা চাঁদাবাজির নেটওয়ার্ক পরিচালনার অভিযোগও রয়েছে। এর পাশাপাশি তাবিজ-কবজ, অলৌকিক চিকিৎসা কিংবা সমস্যা সমাধানের নামে প্রতারণার অভিযোগও দীর্ঘদিনের। জনসমাগমপূর্ণ পরিবেশের সুযোগে ছিনতাই, পকেটমার ও শিশু নিখোঁজের ঘটনাও মাঝে মধ্যে সামনে আসে। তবে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বিচ্ছিন্ন অপরাধের দায় পুরো সুফি ঐতিহ্য বা সব মাজারের ওপর চাপানোও বাস্তবসম্মত নয়। হাজার কোটি টাকার সম্পদ ঘিরে দ্বন্দ্ব শাহ আলী মাজারকে ঘিরে বিরোধের বড় একটি কারণ এর বিপুল সম্পদ। সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, মাজারের মোট জমির পরিমাণ ৩২ দশমিক ১৪ একর বা প্রায় ৯৭ দশমিক ৪০ বিঘা। এর মধ্যে প্রায় ৭৫ বিঘা ওয়াকফ সম্পত্তি হিসেবে নিবন্ধিত। এই সম্পত্তির ওপর গড়ে উঠেছে কাঁচামালের আড়ত, দোকান ও বিভিন্ন বাণিজ্যিক স্থাপনা। স্থানীয়দের অভিযোগ, দোকান বরাদ্দ, ভোগদখল ও তদারকিতে দীর্ঘদিন ধরে অনিয়ম, চাঁদাবাজি এবং রাজনৈতিক প্রভাব কাজ করছে। ক্ষমতার পালাবদলের সঙ্গে সঙ্গে সম্পত্তির নিয়ন্ত্রণও হাতবদল হয়। স্থানীয় সূত্রগুলো বলছে, মাজারকেন্দ্রিক এই অর্থনৈতিক বলয়কে ঘিরে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, স্থানীয় প্রভাবশালী গোষ্ঠী এবং সন্ত্রাসী চক্রের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে আধিপত্যের প্রতিযোগিতা চলছে। ২০২২ সালে ওয়াকফ সম্পত্তি নিয়ে উচ্চ আদালতে রিট হওয়াও এই দ্বন্দ্বের গভীরতা নির্দেশ করে। ‘তৌহিদী জনতা’ পরিচয়ের আড়ালে কারা? মাজারে হামলার ঘটনাগুলোতে বারবার উঠে আসছে ‘তৌহিদী জনতা’ শব্দবন্ধ। বিশ্লেষকদের একটি অংশের দাবি, ব্যক্তি বা গোষ্ঠীগত স্বার্থ হাসিলের উদ্দেশ্যে সংগঠিত হামলাকে স্বতঃস্ফূর্ত ধর্মীয় প্রতিক্রিয়া হিসেবে উপস্থাপন করতে এই পরিচয় ব্যবহার করা হচ্ছে। সুন্নি মতাদর্শভিত্তিক রাজনৈতিক দল বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্টের মহাসচিব স উ ম আবদুস সামাদ বলেন, সরকার পরিবর্তনের পরপরই দেশের বিভিন্ন স্থানে ধারাবাহিকভাবে মাজারে হামলার ঘটনা সামনে আসে। তার প্রশ্ন, রাজনৈতিক পরিবর্তনের সঙ্গে ধর্মীয় স্থাপনায় হামলার সম্পর্ক কীভাবে তৈরি হলো? তার দাবি, একটি সংগঠিত গোষ্ঠী নিজেদের প্রকৃত পরিচয় আড়াল করে ‘তৌহিদী জনতা’ পরিচয় ব্যবহার করছে, যাতে সাধারণ মানুষের কাছে ঘটনাগুলোকে স্বতঃস্ফূর্ত ধর্মীয় প্রতিক্রিয়া হিসেবে তুলে ধরা যায়। মাদকবিরোধী অভিযানের যুক্তি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দেশে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতর থাকা সত্ত্বেও সাধারণ মানুষ কেন আইন হাতে তুলে নেবে— সেই প্রশ্নের উত্তর প্রয়োজন। ধর্মীয় মতাদর্শ বনাম প্রশাসনিক দায় ইসলামিক বুদ্ধিজীবী ফ্রন্টের চেয়ারম্যান শাহসুফি ইঞ্জিনিয়ার আব্দুল হান্নান আল হাদীও মাজারে হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। তার মতে, কোথাও শরিয়তবিরোধী কর্মকাণ্ডের অভিযোগ থাকলে প্রশাসনের সহায়তায় তা বন্ধ করা উচিত; হামলা বা সহিংসতা কখনও সমাধান হতে পারে না। তিনি বলেন, কিছু স্থানে গাঁজা সেবন বা অসামাজিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ থাকলেও সেগুলো দমনের দায়িত্ব রাষ্ট্রের। একইসঙ্গে মাজারে শায়িত অলি-আউলিয়াদের প্রতি সম্মান বজায় রাখাও জরুরি। জামায়াতের অস্বীকার, প্রশ্ন রয়ে গেছে শাহ আলী মাজারে হামলার ঘটনায় স্থানীয় জামায়াত নেতাকর্মীদের সম্পৃক্ততার অভিযোগ উঠলেও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী তা অস্বীকার করেছে। দলটির সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বলেন, ঘটনার সঙ্গে জামায়াতের কোনও সম্পৃক্ততা নেই এবং একটি মহলউদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে দলের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে। তবে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান মনে করেন, কেবল অস্বীকার যথেষ্ট নয়। তার মতে, ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য বিষয়ে ইসলামপন্থি রাজনৈতিক দলগুলোর অবস্থান স্পষ্ট করা প্রয়োজন এবং অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। দুই বছরে ৬৮ মাজারে হামলা পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট থেকে ২০২৬ সালের এপ্রিল পর্যন্ত দেশে মোট ৬৮টি মাজারে হামলার ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনায় ৭০ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। একই সময়ে মাজারকেন্দ্রিক হুমকি নিয়ে ৪০টি সাধারণ ডায়েরি এবং ২৭টি মামলা হয়েছে। এর মধ্যে নয়টি মামলায় চার্জশিট দাখিল করা হয়েছে, ছয়টিতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেওয়া হয়েছে এবং ১২টি মামলা এখনও তদন্তাধীন। শাহ আলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর আলম জানিয়েছেন, শাহ আলী মাজার হামলার ঘটনায় ভিডিও ফুটেজ বিশ্লেষণ করে তিন জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। আদালতের মাধ্যমে তাদের রিমান্ডেও নেওয়া হয়েছে। হামলার কারণ এবং সংশ্লিষ্টদের রাজনৈতিক পরিচয় যাচাই চলছে। সংঘাতের কেন্দ্রে মাজার, সম্পদ ও প্রভাব স্থানীয়দের মতে, শাহ আলী মাজারের ঘটনাকে শুধুমাত্র ধর্মীয় উগ্রবাদ বা মাদকবিরোধী অভিযানের ফল হিসেবে দেখলে পুরো বাস্তবতা ধরা পড়বে না। এখানে জড়িয়ে আছে বিপুল ওয়াকফ সম্পত্তি, স্থানীয় অর্থনীতি, রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণ, ধর্মীয় মতাদর্শ এবং সামাজিক প্রভাবের জটিল সমীকরণ। ফলে প্রশ্ন উঠছে— মাজারকে ঘিরে চলমান এই সংঘাত কি কেবল ধর্মীয় মতভেদের বহিঃপ্রকাশ, নাকি এর গভীরে রয়েছে অর্থনৈতিক আধিপত্য ও রাজনৈতিক পুনর্বিন্যাসের বৃহত্তর লড়াই?

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ১৯, ২০২৬ 0
পবিত্র ঈদুল আজহা

বাংলাদেশে পবিত্র ঈদুল আজহা ২৮ মে: জিলহজ মাসের চাঁদ দেখার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা

বরগুনা এলজিইডি

বরগুনা এলজিইডির ৩৬ কোটি টাকার টেন্ডার: অনিয়ম-স্বজনপ্রীতির অভিযোগে বদলি নির্বাহী প্রকৌশলী

এনএসআই কার্যালয়

বরিশালে নির্মিত হচ্ছে এনএসআই’র আধুনিক কার্যালয়

মোরেলগঞ্জ থানা
মোরেলগঞ্জে বিএনপি কর্মী মিন্টু শেখকে কুপিয়ে হত্যা, হাত কেটে নেওয়ার অভিযোগ

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জ উপজেলায় মিন্টু শেখ ওরফে মিঠু শেখ নামে এক বিএনপি কর্মীকে কুপিয়ে হত্যার ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় তার ডান হাত কেটে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে, যা এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। সোমবার (১৮ মে) সন্ধ্যার পর উপজেলার বোলপুর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। স্থানীয় সূত্রগুলো জানিয়েছে, একদল দুর্বৃত্ত ধারালো অস্ত্র দিয়ে মিন্টু শেখের ওপর হামলা চালায়। হামলায় গুরুতর আহত অবস্থায় তিনি ঘটনাস্থলেই মারা যান। পরে তার ডান হাত কেটে নিয়ে যাওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেন স্থানীয়রা। ঘটনার পর এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে।মোরেলগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মাহমুদুর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, হত্যাকাণ্ডের পেছনের কারণ অনুসন্ধানে কাজ করছে পুলিশ। জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার চেষ্টা চলছে।তবে এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কাউকে আটক করা হয়েছে কি না, সে বিষয়ে পুলিশ আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানায়নি।

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ১৯, ২০২৬ 0
সুদের টাকা না পেয়ে কোলের বাচ্চাকে নিয়ে গেলো ‘সুদ কারবারি’

শরীয়তপুরে সুদের টাকা আদায়ে ছয় মাসের শিশুকে অপহরণ, র‍্যাব-পুলিশের অভিযানে উদ্ধার

ফরিদপুরে সোনালী ব্যাংক কোর্ট  শাখার ম্যানেজার ফিরোজার রহমানের বিরুদ্ধে স্বেচ্ছাচারীতা, ক্ষমতার অপব্যবহার

সোনালী ব্যাংকের শাখা ব্যবস্থাপকের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ

বরিশালে ৪০ শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ নিয়ে শঙ্কা

বরিশালে ভুল সিলেবাসে এসএসসি পরীক্ষা নেওয়ার অভিযোগ, ক্ষতিগ্রস্ত অন্তত ৪০ শিক্ষার্থী

ডিসি হতে ৮ কোটির ‘ডিল’, চসিক কর্মকর্তাকে শোকজ
কুমিল্লার ডিসি পদে ৮ কোটি টাকার চুক্তি! চসিক কর্মকর্তা সরওয়ার কামালকে শোকজ

“ডিসি পদে ৮ কোটি”: প্রশাসনে নতুন বিস্ফোরণ, চসিকে তোলপাড় শীর্ষনিউজ: মেয়রের নির্দেশনার তোয়াক্কা না করা, অধীনস্থ কর্মকর্তাদের যখন-তখন বদলি ও পদায়ন এবং ঊর্ধ্বতনের পদায়ন করা কর্মকর্তাকে এখতিয়ারের বাইরে বদলির মাধ্যমে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা, উপসচিব এস এম সরওয়ার কামাল আগেই আলোচনায় এসেছেন। এবার ফাঁস হয়েছে কুমিল্লার জেলা প্রশাসক (ডিসি) পদে পদায়নের বিনিময়ে চট্টগ্রামের বিভাগীয় কমিশনারকে দেওয়া তাঁর ৮ কোটি টাকা পরিশোধের অঙ্গীকারনামা। ১০০ টাকা মূল্যের ৩০০ টাকার স্ট্যাম্পে করা এই অঙ্গীকারনামা প্রকাশিত হওয়ার পর তোলপাড় চলছে প্রশাসন ও চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনে। শোকজে যা বলা হয়েছে এদিকে বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগ থেকে এস এম সরওয়ার কামালকে আনুষ্ঠানিকভাবে কারণ দর্শানোর (শোকজ) নোটিশ জারি করা হয়েছে। ১৩ মে উপসচিব মো. রবিউল ইসলাম স্বাক্ষরিত এই নোটিশে কেন তাঁর বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে না, তা ৩ কার্যদিবসের মধ্যে লিখিতভাবে জানাতে বলা হয়েছে। শোকজ নোটিশে সরওয়ারের বিরুদ্ধে ৮ কোটি টাকার বিনিময়ে কুমিল্লার ডিসি পদে পদায়নে বিভাগীয় কমিশনারকে দেওয়া একটি অঙ্গীকারনামা ও চুক্তিপত্র স্বাক্ষর করার কথা বলা হয়েছে। বিভিন্ন সূত্র থেকে এ-সংক্রান্ত প্রমাণাদি পাওয়ার কথা নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে। নোটিশে বলা হয়, “উপর্যুক্ত বিষয়ে জানানো যাচ্ছে যে, আপনি জনাব এস এম সরওয়ার কামাল (উপসচিব, আইডি নম্বর: ১৬২১৯) প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা হিসেবে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনে বর্তমানে কর্মরত আছেন। আপনার বিরুদ্ধে ৮,০০,০০,০০০/- (আট কোটি) টাকার বিনিময়ে কুমিল্লার জেলা প্রশাসক পদে পদায়নের লক্ষ্যে চট্টগ্রাম বিভাগের বিভাগীয় কমিশনারকে একটি অঙ্গীকারনামা ও চুক্তিপত্র স্বাক্ষর করেছেন মর্মে বিভিন্ন সূত্র থেকে প্রমাণাদি পাওয়া গেছে। ০২। এমতাবস্থায় আপনার বিরুদ্ধে ৮.০০.০০.০০০/-(আট কোটি) টাকার বিনিময়ে কুমিল্লার জেলা প্রশাসক পদে পদায়নের লক্ষ্যে চট্টগ্রাম বিভাগের বিভাগীয় কমিশনারকে অঙ্গীকারনামা ও চুক্তিপত্র স্বাক্ষরের কারণে কেন বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য পরবর্তী কার্যক্রম গ্রহণ করা হবে না, সে বিষয়ে আগামী ৩ (তিন) কার্যদিবসের মধ্যে সচিব, স্থানীয় সরকার বিভাগ এর নিকট লিখিতভাবে কারণ দর্শানোর জন্য নির্দেশক্রমে অনুরোদ করা হলো।” আগে থেকেই বিতর্কিত ছিলেন সরওয়ার কামাল চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা, উপসচিব এস এম সরওয়ার কামালের বিরুদ্ধে ইতিপূর্বেও বিভিন্ন অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। গত ২ এপ্রিল সিটি করপোরেশনের সচিব ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) মো. আশরাফুল আমিন লাইসেন্স শাখায় (সার্কেল-৬) উপ-কর কর্মকর্তা হিসেবে মোহাম্মদ নিজাম উদ্দিন ও মো. তৈয়বুর রহমান চৌধুরীকে একই শাখায় (সার্কেল-৮) এই পদায়ন করেন। কিন্তু নিম্নতম কর্মকর্তা হয়েও প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা সরওয়ার কামাল ৭ এপ্রিল ঊর্ধ্বতনের সেই আদেশ বাতিল করে দেন। একইভাবে সচিব মো. আশরাফুল আমিন ১৬ নম্বর চকবাজার ওয়ার্ডে অনুমতিপত্র পরিদর্শক হিসেবে আবদুল মতিন ও মো. ইকবালকে পদায়ন করেন। প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা আবার দুই কর্মকর্তাকে গত ৯ এপ্রিল সেখান থেকে সরিয়ে চট্টগ্রাম নগরীর ৩৯ নম্বর ওয়ার্ডে দেন। এই ধরনের পদক্ষেপে রাজস্ব শাখায় অস্থিরতা শুরু হলে রাজস্ব বিভাগে তিনটি বদলি আদেশ এক চিঠিতেই বাতিল করেন মেয়র। ১২ এপ্রিল চসিকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আশরাফুল আমিন স্বাক্ষরিত চিঠিতে এসব বদলি আদেশ বাতিল করা হয়। মেয়রের নির্দেশও উপেক্ষার অভিযোগ চসিকের রাজস্ব বিভাগ সূত্র জানায়, কর্মকর্তা ঘাটতিতে থাকা রাজস্ব বিভাগে গতি আনতে সম্প্রতি ১৪ জন কর আদায়কারীকে উপ-কর কর্মকর্তার অতিরিক্ত দায়িত্ব দেওয়ার সিদ্ধান্ত দেন মেয়র। এর আলোকে ১৪ জনকে বাছাই করে কাকে কোন কর অঞ্চলে বদলি করা হবে, তার একটি তালিকা ঠিক করে দেন মেয়র নিজে। কোন উপ-কর কর্মকর্তাকে কোন ওয়ার্ডে দায়িত্ব দেওয়া হবে, তা ঠিক করে দেওয়ার জন্য প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তাকে মৌখিকভাবে বলে দেওয়া হয়। কিন্তু প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা সরওয়ার কামাল মেয়রের সেই নির্দেশনা না মেনে নিজের ইচ্ছেমতো আবার একেকজনকে একেক কর অঞ্চলে পাঠিয়ে দেন। এ ক্ষেত্রে মেয়রের নির্দেশনাও অমান্য করার অভিযোগ ওঠে তাঁর বিরুদ্ধে। এই অবস্থায় বিষয়টি যাচাই করে মেয়র এক চিঠিতেই সব বদলি আদেশ বাতিল করেন।   প্রশাসনে নতুন প্রশ্ন সরকারি প্রশাসনে পদায়নকে কেন্দ্র করে অর্থ লেনদেনের অভিযোগ নতুন নয়। তবে সরাসরি লিখিত অঙ্গীকারনামার মাধ্যমে কোটি টাকার প্রতিশ্রুতির অভিযোগ সামনে আসা বিরল ঘটনা বলে মনে করছেন প্রশাসন বিশ্লেষকরা। তাদের মতে, অভিযোগ প্রমাণিত হলে এটি শুধু প্রশাসনিক অনিয়ম নয়; বরং রাষ্ট্রীয় নিয়োগ ও পদায়ন ব্যবস্থার স্বচ্ছতা নিয়ে বড় ধরনের প্রশ্ন তৈরি করবে। অন্যদিকে স্থানীয় সরকার বিভাগের শোকজ নোটিশ প্রশাসনের ভেতরে চলমান ক্ষমতার দ্বন্দ্ব, প্রভাব বিস্তার এবং পদ বাণিজ্যের অভিযোগকে নতুন করে সামনে নিয়ে এসেছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ১৮, ২০২৬ 0
সেলিনা বেগম

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্রীড়া দপ্তরের উপ-পরিচালক সেলিনা বেগম সাময়িক বরখাস্ত

সিআইডি

অনলাইন জুয়ার ১১৬ ওয়েবসাইট শনাক্ত, বন্ধে বিটিআরসিকে তালিকা দিল সিআইডি

রাষ্ট্রীয় ব্যাংকের টাকায় ‘জিএমের রাজকীয় অন্দরমহল’: অগ্রণী ব্যাংকে নীতিমালা ভেঙে বিলাসবহুল আবাসনের অভিযোগ

অর্থনীতি

করপোরেট ভ্যাট ফাঁকির নেটওয়ার্কে বিপুল রাজস্ব ঘাটতি, চাপ বাড়ছে সাধারণ করদাতার ওপর

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ১২, ২০২৬ 0




অপরাধ

মো. রুস্তুম গাজী (৬০)

গলাচিপায় শশুরের ধর্ষনে পুত্রবধুর গর্ভধারন, সন্তান জন্মের পর নবজাতক অপহরণ—শ্বশুরসহ ২ জন গ্রেপ্তার

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ২৮, ২০২৬ 0




কৃষি ও জলবায়ু

ধান

শেরপুরে বোরো ধানের দাম কমে লোকসানে কৃষকরা, উৎপাদন খরচও উঠছে না

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ৬, ২০২৬ 0