Brand logo light
বাংলাদেশ

নরসিংদীতে কিশোরীকে ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনায় প্রধান আসামি নূরা গ্রেপ্তার

ইত্তেহাদ নিউজ : ফেব্রুয়ারি ২৮, ২০২৬ 0
প্রধান আসামি নূরা
প্রধান আসামি নূরা

নরসিংদীতে ধর্ষণের বিচার দাবি করায় বাবার কাছে থেকে অপহরণ করে এক কিশোরীকে হত্যার প্রধান আসামি নূর মোহাম্মদ ওরফে নূরা (২৮) কে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। আজ শুক্রবার রাত ৯টার দিকে গাজীপুরের মাওনা এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয় বলে মাধবদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামাল হোসেন প্রথম আলোকে নিশ্চিত করেছেন।

গত বৃহস্পতিবার দুপুর সাড়ে ১২টায় সদর উপজেলার মাধবদী থানার মহিষাশুড়া ইউনিয়নের বিলপাড় ও দড়িকান্দীর মধ্যবর্তী শর্ষেখেত থেকে ওই ১৫ বছর বয়সী কিশোরীর লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। পরিবারের অভিযোগ, ধর্ষণের বিচার চাওয়ার পর কিশোরীকে অপহরণ করে হত্যাকাণ্ড সংঘটিত করা হয়েছে।

এই ঘটনায় বৃহস্পতিবার রাতে মাধবদী থানায় মামলা দায়ের করেন নিহত কিশোরীর মা, যেটিতে ৯ জনের নাম উল্লেখ রয়েছে ও আরও ২–৩ জন অজ্ঞাত আসামি রাখা হয়েছে।

মামলার এজাহারে নামোল্লেখ  করা আসামিরা হচ্ছেন:

  • নূর মোহাম্মদ ওরফে নূরা (২৮)

  • এবাদুল্লাহ (৪০)

  • হযরত আলী (৪০)

  • মো. গাফফার (৩৭)

  • আহাম্মদ আলী দেওয়ান (৬৫)

  • ইমরান দেওয়ান (৩২)

  • ইছহাক ওরফে ইছা (৪০)

  • আবু তাহের (৫০)

  • মো. আইয়ুব (৩০)

পুলিশ ইতোমধ্যেই নূরা সহ পাঁচ আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে। বাকি চারজন হলেন ইমরান দেওয়ান, এবাদুল্লাহ, আইয়ুব ও গাফফার


📌 দলের সিদ্ধান্ত: আহাম্মদ আলী দেওয়ান বহিষ্কার

এ ঘটনায় স্থানীয় রাজনৈতিক দল বিএনপি সদর উপজেলা শাখা কর্তৃক সাবেক সদস্য আহাম্মদ আলী দেওয়ানকে দলীয় প্রাথমিক সদস্য পদসহ সব পদ থেকে অব্যাহতি/বহিষ্কার করা হয়েছে। সদর উপজেলা বিএনপি সভাপতি আবু সালেহ চৌধুরী ও সাধারণ সম্পাদক মো. ইকবাল হোসেন স্বাক্ষরিত নোটিশে উল্লেখ করা হয়, দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের প্রমাণ পাওয়ায় তাকে বহিষ্কার করা হয়েছে।


📌 পুলিশ ও মামলার বিবরণ

মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, স্থানীয়ভাবে বখাটে হিসেবে পরিচিত নূরা নামের এক তরুণের সাথে নিহত কিশোরীর কথাবার্তা ছিল। প্রায় ১৫ দিন পূর্বে নূরার নেতৃত্বে পাঁচ–ছয়জন তরুণ কিশোরীকে তুলে নিয়ে তাকে ধর্ষণ করা হয় বলে অভিযোগ উঠেছে, যা নিয়ে কিশোরীর পরিবার ন্যায্য বিচার চাইতে মাধবদী এলাকার প্রভাবশালীদের কাছে গিয়েছিল।

কিন্তু বিচার না পাওয়ায় পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। অভিযোগ রয়েছে, আহাম্মদ আলী দেওয়ান অপরাধীদের সঙ্গে রফাদফা করে টাকা নিয়ে ঘটনাটি ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টা করেন এবং একই সাথে পরিবারটিকে গ্রাম ছাড়তে অনুরোধ/চাপ দেন।


📌 অপহরণ ও হত্যাকাণ্ডের সময়

গত বুধবার রাতে মেয়েকে খালার বাড়িতে পৌঁছে দিতে যাওয়ার পথে কিশোরীকে তার বাবার সামনে থেকে নূরাসহ ছয় যুবক অপহরণ করে নিয়ে যায়। রাতভর খোঁজাখুঁজি করেও সন্ধান না মেলায় বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে স্থানীয় লোকজন শর্ষেখেতে কিশোরীর লাশ দেখে পুলিশে খবর দেয়। পরে মাধবদী থানা পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে লাশ উদ্ধার করে।


📌 পরিবারের অভিযোগ

নিহত কিশোরীর পরিবার অভিযোগ করেছে, ধর্ষণের বিচার দাবি করার পর ওই ঘটনার আসামিরা আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে। বিচার না হওয়া এবং প্রশাসনিক সহায়তা না পাওয়ায় তাদের উপর ধাক্কা দেয়া হয় এবং পরে অনাকাঙ্খিত এই অপহরণ ও হত্যাকাণ্ড ঘটে।

Popular post
ফারুকীর সম্পদ কমেছে, তিশার বেড়েছে দ্বিগুণেরও বেশি: সম্পদ বিবরণী ঘিরে আলোচনা

অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের সম্পদ বিবরণী প্রকাশের পর সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী ও তার স্ত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদের হিসাব নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। এক বছরের ব্যবধানে স্বামী ফারুকীর সম্পদ কমলেও স্ত্রী তিশার সম্পদ বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে প্রকাশিত তথ্যে উঠে এসেছে এই চিত্র। প্রকাশিত খতিয়ান অনুযায়ী, জনপ্রিয় অভিনেত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদ এক বছরে অভাবনীয় হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তিশার মোট সম্পদের পরিমাণ ছিল ১ কোটি ৪০ লাখ ৮১ হাজার ৮৬০ টাকা। ঠিক এক বছর পর, ২০২৫ সালের ৩০ জুন সেই সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ৯৯ লাখ ৮৯ হাজার ৫০১ টাকায়। অর্থাৎ মাত্র এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ বেড়েছে ১ কোটি ৫৯ লাখ ৭ হাজার ৬৪১ টাকা, যা আগের বছরের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি। অন্যদিকে সংস্কৃতি উপদেষ্টা ও নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর ক্ষেত্রে দেখা গেছে উল্টো চিত্র। এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ কমেছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তার মোট সম্পদ ছিল ২ কোটি ২৬ লাখ ৯২ হাজার ২৬ টাকা। ২০২৫ সালের ৩০ জুন তা কমে দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ১৫ লাখ ১৮ হাজার ২৬ টাকায়। হিসাব অনুযায়ী, এক বছরে তার সম্পদ কমেছে ১১ লাখ ৭৪ হাজার টাকা। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে গত মঙ্গলবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ প্রধান উপদেষ্টা, উপদেষ্টা ও সমমর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের পাশাপাশি তাদের স্ত্রী বা স্বামীর সম্পদ বিবরণী প্রকাশ করে। একই সময়ে স্বামী-স্ত্রীর সম্পদে এমন ভিন্নমুখী পরিবর্তন স্বাভাবিকভাবেই সাধারণ মানুষের কৌতূহলের জন্ম দিয়েছে। শোবিজ অঙ্গনের জনপ্রিয় দম্পতি হওয়ায় তাদের এই আয়-ব্যয়ের হিসাব এখন টক অব দ্য কান্ট্রি।

বাংলাদেশে ঐতিহাসিক নির্বাচন: বিএনপি এগিয়ে, জামায়াতের উত্থান ও তরুণ ভোটারদের প্রভাব

২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশে আজ এক ঐতিহাসিক ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ২০০৮ সালের পর এই প্রথম একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হতে যাচ্ছে যেখানে দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগ রাজনৈতিক মানচিত্র থেকে কার্যত অনুপস্থিত। বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক জরিপ বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০০ আসনের মধ্যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) কার্যকর সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে যাচ্ছে। তবে ভোটের ব্যবধান এবং কিছু সমীকরণ নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। নির্বাচনের সবচেয়ে বড় নিয়ামক হয়ে দাঁড়িয়েছে আওয়ামী লীগের বিশাল ভোটব্যাংক। দলটির নিয়মিত প্রায় ৪ কোটি ভোটার এখন নতুন রাজনৈতিক আশ্রয় খুঁজছেন। সিআরএফ বা বিইপিওএস জরিপ বলছে, এই ভোটারদের প্রায় অর্ধেক বিএনপির দিকে ঝুঁকেছে, যা দলটিকে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতার পথে এগিয়ে দিচ্ছে। অন্যদিকে, প্রায় ৩০ শতাংশ আওয়ামী ভোটার জামায়াতে ইসলামীকে বেছে নিতে পারেন বলে আভাস পাওয়া যাচ্ছে। এছাড়া বাংলাদেশের বিদ্যমান নির্বাচনী ব্যবস্থার কারণে দেশজুড়ে সুষম জনসমর্থন থাকা বিএনপি আসন জয়ের ক্ষেত্রে জামায়াতের তুলনায় সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। তবে বিএনপির এই সম্ভাব্য জয়ের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও বিদ্রোহী প্রার্থীরা। প্রায় ৭৯টি নির্বাচনী এলাকায় দলের মনোনয়ন না পাওয়া ৯২ জন প্রভাবশালী নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, যা বিএনপির ১৫ থেকে ৩০টি আসন কমিয়ে দিতে পারে। অন্যদিকে, তরুণ ভোটার বা ‘জেন-জি’ প্রজন্মের বিশাল সমর্থন জামায়াতে ইসলামীর শক্তির উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেশের ৪৪ শতাংশ ভোটারই তরুণ, যাদের বড় একটি অংশ প্রথমবার ভোট দিচ্ছেন। এই তরুণরা যদি দলবেঁধে কেন্দ্রে উপস্থিত হন, তবে নির্বাচনী ফলে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। সবশেষে, প্রায় ১৭ থেকে ৩৫ শতাংশ দোদুল্যমান ভোটার এবং তাদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করবে আগামীর সরকার কতটা শক্তিশালী হবে। দ্য নিউইয়র্ক এডিটোরিয়ালের মূল পূর্বাভাস, তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি প্রায় ১৮৫টি আসনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করতে পারে এবং জামায়াতে ইসলামী ৮০টির মতো আসন পেয়ে প্রধান বিরোধী দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারে। তবে বিদ্রোহী প্রার্থীদের প্রভাব এবং তরুণ ভোটারদের উপস্থিতির ওপর ভিত্তি করে আসন সংখ্যায় বড় ধরনের হেরফের হওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

গাজায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা ট্রাম্প প্রশাসনে

ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। ৩৫০ একরের ঘাঁটিটিতে সামরিক বাহিনীর পাঁচ হাজার সদস্য থাকতে পারবে। গাজার ‘বোর্ড অব পিস’র নথি পর্যালোচনা করে এ তথ্য জানিয়েছে দ্য গার্ডিয়ান। প্রতিবেদনে ব্রিটিশ সংবাদ মাধ্যমটি জানিয়েছে, বোর্ড অব পিসে গাজাকে নিরাপদ করার জন্য ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যাবিলাইজেশন ফোর্স (আইএসএফ) নামে একটি আন্তর্জাতিক বাহিনী মোতায়েনের কথা বলা হয়েছে। যে স্থানটি ঘাঁটি করার জন্য বিবেচনা করা হচ্ছে সেখানে আইএসএফের সদস্যরা থাকবে। বোর্ড অব পিসের প্রধান হবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আর সংগঠনটির আংশিক নেতৃত্ব দেবেন ট্রাম্পের জামাতা জ্যারার্ড কুশনার।দ্য গার্ডিয়ান বোর্ড অব পিসের নথি পর্যালোচনা করে জানায়, ধাপে ধাপে একটি সামরিক ঘাঁটি নির্মাণ করা হবে। সবকিছু শেষ হলে ঘাঁটিটি ১৫ লাখ ১৭ হাজার ৫৭৫ বর্গমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত হবে। ঘাঁটিটির চারপাশে ট্রেইলার সংযুক্ত ২৬টি সাঁজোয়া নজরদারি টাওয়ার থাকবে। এছাড়া একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, বাংকার ও অস্ত্র রাখার গুদাম থাকবে। পুরো ঘাঁটিটি কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে ঘিরে রাখা হবে। সামরিক ঘাঁটি নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে দক্ষিণ গাজার একটি শুষ্ক সমতলভূমিতে। সেখানে ইসরায়েলি হামলার চিহ্ন রয়েছে। ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে বিভিন্ন ধাতবের ধ্বংসাবশেষ।  ওই এলাকার ভিডিও পর্যালোচনা করেছে দ্য গার্ডিয়ান। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, ঘাঁটি নির্মাণের জন্য টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে। যুদ্ধক্ষেত্রে কাজের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন আন্তর্জাতিক নির্মাণ কোম্পানিগুলোর একটি ছোট দলকে ইতোমধ্যেই এলাকাটি দেখানো হয়েছে। ওই দলটি দরপত্রে অংশ নিতে আগ্রহী।    ইন্দোনেশিয়া সরকার গাজায় আট হাজার সেনা সদস্য পাঠানোর জন্য প্রস্তাব দিয়েছে। বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটন ডিসিতে বোর্ড অব পিসের অনানুষ্ঠানিক বৈঠকে ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্টের অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। এছাড়া দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার আরও তিন নেতার ওই বৈঠকে অংশ নেবেন বলে জানা গেছে। জাতিসংঘের নিরাপত্তা কাউন্সিল গাজার সাময়িক স্থিতিশীলতার জন্য অস্থায়ীভাবে সামরিক বাহিনী মোতায়েনের অনুমোদন দিয়েছে। নিরাপত্তা কাউন্সিলই বোর্ড অব পিসের মূল হোতা। গাজার সীমান্ত ও শান্তি প্রণয়নে কাজ করবে আইএসএফ। এছাড়া বেসামরিকদের সুরক্ষা এবং ফিলিস্তিনি পুলিশ বাহিনীকে প্রশিক্ষণ ও সহায়তা দেবে তারা। যদি গাজায় ফের সংঘর্ষ হয়, ইসরায়েল বোমা হামলা চালায় অথবা হামাস হামলা চালায় সেক্ষেত্রে আইএসএফ কি করবে তা এখনও স্পষ্ট নয়। গাজা পুনর্গঠনে ইসরায়েল হামাসকে নিরস্ত্রীকরণের যে শর্ত দিয়েছে সেটির জন্য আইএসএফ কাজ করবে কিনা তাও স্পষ্ট না। ইতোমধ্যে বোর্ড অব পিসে ২০ এর অধিক দেশ যোগ দিয়েছে। তবে, এখনও অনেক পরাশক্তি এর থেকে দূরে রয়েছে। জাতিসংঘের অনুমোদন নিয়ে প্রতিষ্ঠিত হলেও ধারণা করা হচ্ছে, সংগঠনটির স্থায়ী নেতৃত্ব ও নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে। রুটজার্স বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক আদিল হক বলেন, “বোর্ড অব পিস এক ধরনের আইনি কল্পসত্তা। নামমাত্রভাবে এর নিজস্ব আন্তর্জাতিক আইনগত সত্তা রয়েছে, যা জাতিসংঘ ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে আলাদা। কিন্তু বাস্তবে এটি যুক্তরাষ্ট্রের ইচ্ছামতো ব্যবহারের জন্য একটি ফাঁপা খোলসমাত্র।” বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গাজা পুনর্গঠনে যে অর্থায়ন ও শাসন কাঠামো হচ্ছে তা অস্বচ্ছ। কয়েকজন ঠিকাদার গার্ডিয়ানকে জানান, গাজায় কাজ করার জন্য মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে তাদের প্রায়শ আলোচনা সরকারি ইমেলের বদলে সিগন্যালের মাধ্যমে করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রের তথ্য মতে, ঘাঁটি নির্মাণের সিদ্ধান্তটি বোর্ড অব পিসের। এতে সহায়তা করছে মার্কিন কর্মকর্তারা। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ঘাঁটিতে তৈরি বাংকার নেটওয়ার্কের মতোন কাজ করবে। প্রতিটি বাংকারের ২৪ মিটারের হবে। উচ্চতা থাকবে আড়াই মিটার। এগুলো এমনভাবে করা হবে যেন সেনা সদস্যরা আশ্রয় নিতে পারে। স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসের গাজায় সুড়ঙ্গ নেটওয়ার্ক বা টানেল রয়েছে। সেগুলোর আদলে নেটওয়ার্ক করতে চাওয়া হচ্ছে। পিস অব বোর্ডের নথি পর্যালোচনা করে এমন দাবি করছে গার্ডিয়ান। সংবাদ মাধ্যমটি বলছে,  স্থানটির ভূ-ভৌত জরিপ পরিচালনা করবে ঠিকাদাররা। নথির এক অংশে ‘হিউম্যান রেমিয়েনস প্রোটোকল’র কথা বলা হয়েছে। এর মানে দাঁড়ায়, সন্দেহভাজন মানব অবশিষ্ট বা সাংস্কৃতিক নিদর্শন পাওয়া গেলে অবিলম্বে সেই এলাকায় সব কাজ বন্ধ করতে হবে। চুক্তি কর্মকর্তাকে দিকনির্দেশনার জন্য অবিলম্বে জানাতে হবে। গাজা সিভিল ডিফেন্সের ধারণা, গাজার ধ্বংসস্তূপের নিচে ১০ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনির মরদেহ রয়েছে। ঘাঁটির জন্য যে স্থানটি বিবেচিত করা হচ্ছে সেটির মালিক কে তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে, দক্ষিণ গাজার বেশিরভাগ অংশ  বর্তমানে ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণে। জাতিসংঘের অনুমান, যুদ্ধ চলাকালীন ১৯ লাখ ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত হয়েছে। ফিলিস্তিনের জমিতে সরকারের অনুমতি না নিয়ে সামরিক ঘাঁটি স্থাপনকে দখল হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন ফিলিস্তিনি-কানাডিয়ান আইনজীবী এবং প্রাক্তন শান্তি আলোচক দিয়ানা বুট্টু। তিনি প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়ে বলেন, “কার অনুমতিতে তারা সামরিক ঘাঁটি স্থাপন করবে।” বিষয়টি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা বোর্ড অব পিসের কথা টানেন। ট্রাম্প প্রশাসনের একজন কর্মকর্তা সামরিক ঘাঁটির চুক্তি নিয়ে আলোচনা করতে অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, “যেমনটি প্রেসিডেন্ট বলেছেন, কোনও মার্কিন সেনা স্থলভাগে যাবে না। আমরা লিক হওয়া নথি নিয়ে আলোচনা করবো না।”

বরিশাল সিটিতে বিএনপির মেয়র মনোনয়ন ঘিরে হিসাব–নিকাশ

মামুনুর রশীদ নোমানী,বরিশাল: আসন্ন বরিশাল সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদকে ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে সক্রিয়তা দেখা যাচ্ছে। দক্ষিণাঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ নগর প্রশাসনিক প্রতিষ্ঠান বরিশাল সিটি করপোরেশন এর নির্বাচন স্থানীয় ও জাতীয় রাজনীতিতে সমানভাবে তাৎপর্যপূর্ণ হবে।ইতিমধ্যে নির্বাচন কমিশন ঢাকা উত্তর ও দক্ষিন এবং চট্রগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচনের প্রস্তুতি নেয়ার পরেই বরিশাল নগরজুড়ে এখন এক ধরনের নীরব রাজনৈতিক উত্তাপ। চায়ের দোকান থেকে শুরু করে নদী তীরের আড্ডা—সবখানেই আলোচনা একটাই: আসন্ন বরিশাল সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদে কে হচ্ছেন বিএনপির প্রার্থী? দক্ষিণাঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ এই সিটি করপোরেশন শুধু একটি প্রশাসনিক ইউনিট নয়; এটি বরিশালের রাজনৈতিক স্পন্দনের কেন্দ্র। আর তাই বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)–র সম্ভাব্য মনোনয়ন ঘিরে শুরু হয়েছে জল্পনা–কল্পনা, হিসাব–নিকাশ আর ভেতরের নীরব লবিং। দীর্ঘদিন পর স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশগ্রহণের প্রশ্নে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)'র অবস্থান ও কৌশল রাজনৈতিক মহলে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে। দলটির সম্ভাব্য মনোনয়ন প্রত্যাশীরা ইতোমধ্যে মাঠপর্যায়ে সাংগঠনিক তৎপরতা জোরদার করেছেন। বিএনপির মেয়র পদে মনোনয়ন নিয়ে আলোচনায় যারা : বিএনপির ভেতরে কয়েকজন জ্যেষ্ঠ নেতা ও সাবেক জনপ্রতিনিধির নাম আলোচনায় রয়েছে। তাদের মধ্যে রয়েছেন সাবেক প্যানেল মেয়র আলহাজ্ব কে এম শহিদুল্লাহ,বরিশাল মহানগর বিএনপি'র সাবেক সদস্য সচিব সাবেক ছাত্রনেতা অ্যাডঃ মীর জাহিদুল কবির জাহিদ,মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক মনিরুজ্জামান ফারুক,বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য আবু নাসের রহমাতুল্লাহ,বিএনপির বরিশাল বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক বিলকিস জাহান শিরীন,বিএনপি নেতা এবায়েদুল হক চান ও  বরিশাল জেলা বিএনপির সাবেক সাধারন সম্পাদক এ্যাড.নজরুল ইসলাম খান রাজন। এছাড়া বরিশাল মহানগর যুবদলের সাবেক সভাপতি ও কেন্দ্রীয় যুবদলের সাবেক সহ- সভাপতি ও  বি এম কলেজ এর  সাবেক জি এস  এ্যাডভোকেট আকতারুজ্জামান শামীম আলোচনায় রয়েছেন। অভিজ্ঞতার পাল্লা ভারী: দলীয় সূত্র বলছে, এবার প্রার্থী বাছাইয়ে গুরুত্ব পাবে অভিজ্ঞতা ও গ্রহণযোগ্যতা।  নির্দিষ্ট কেউকে ঘিরেই আলোচনা সীমাবদ্ধ নয়। কেন্দ্রীয়, জেলা ও মহানগর বিএনপির শীর্ষ পর্যায়ের আরও কয়েকজন নেতা নীরবে মাঠ গুছিয়ে নিচ্ছেন। কেউ কেউ তৃণমূল নেতাকর্মীদের সঙ্গে বৈঠক করছেন, কেউ আবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সক্রিয় হয়ে নিজেদের অবস্থান জানান দিচ্ছেন। দলীয় সূত্রে জানা যায়, তৃণমূলের মতামত, সাংগঠনিক দক্ষতা, অতীত রাজনৈতিক ভূমিকা এবং জনসম্পৃক্ততা এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে চূড়ান্ত প্রার্থী নির্ধারণ করা হবে। চূড়ান্ত মনোনয়নের বিষয়ে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান এর সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত হবে। অন্যদিকে দলীয় একটি সূত্র জানায়, এবার বিএনপিকে এমন প্রার্থী দিতে হবে যিনি সর্বস্তরে গ্রহণযোগ্য। কারণ, মেয়র পদে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ–এর সম্ভাব্য প্রার্থীদের বিষয়টিও রাজনৈতিক সমীকরণে বিবেচনায় রাখতে হবে। দলীয় কৌশল ও চ্যালেঞ্জ : বিএনপি সূত্রে ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে, নির্বাচন অংশগ্রহণের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এলে প্রার্থী নির্ধারণ করবে কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব। সেক্ষেত্রে— *ফ্যাসিস্ট বিরোধী আন্দোলনে ভুমিকা, *জেল জুলম,মামলা হামলা নির্যাতন, *রাজনৈতিক অবস্থান। এসব বিষয় গুরুত্ব পাবে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বরিশালে দলীয় ঐক্য ধরে রাখা এবং গ্রহণযোগ্য প্রার্থী বাছাই করা বিএনপির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। অতীতের নির্বাচনে বিভক্তি বা বিদ্রোহী প্রার্থীর কারণে দল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলেও অনেকে মন্তব্য করেন। ভোটারদের প্রত্যাশা : বরিশাল নগরবাসীর প্রধান দাবি— * জলাবদ্ধতা নিরসন, * সড়ক ও ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন, * পরিচ্ছন্ন নগর ব্যবস্থাপনা, * কর্মসংস্থান ও ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ, মেয়র প্রার্থীদের জন্য এসব ইস্যু হবে নির্বাচনী প্রচারণার মূল প্রতিপাদ্য। বরিশাল সিটি করপোরেশন নির্বাচনকে ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা ক্রমেই বাড়ছে।চূড়ান্ত ঘোষণা না হওয়া পর্যন্ত সম্ভাব্য প্রার্থীদের তৎপরতা ও দলীয় কৌশলই থাকবে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। প্রার্থী ঘোষণার পর নির্বাচনী সমীকরণ আরও স্পষ্ট হবে বলে রাজনৈতিক মহল মনে করছে। বরিশালের রাজনীতির বাতাসে ইতিমধ্যেই নির্বাচনী সুর। বিএনপি শক্ত প্রার্থী দিলে নগর রাজনীতিতে জমে উঠতে পারে লড়াই।এখন সবার দৃষ্টি কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্তের দিকে। কে হবেন বিএনপির ‘নগর সেনাপতি’তার উত্তর মিললেই বরিশাল সিটির নির্বাচনী সমীকরণ আরও স্পষ্ট হয়ে উঠবে। উল্লেখ্য,বরিশাল সিটি করপোরেশ নির্বাচনে ২০১৩ সালে আওয়ামীলীগের মেয়র প্রার্থী শওকত হোসেন হিরনকে পরাজিত করে বিজয়ী হয়েছিলেন তৎকালীন মহানগর বিএনপির সভাপতি ও বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির মৎস্য বিষয়ক সম্পাদক আহসান হাবিব কামাল।২০১৮ সালে আলহাজ্ব মজিবর রহমান সরোয়ার দল থেকে দলীয় মনোনয়ন পেয়েছিলেন।ভোট ডাকাতির মাধ্যমে মেয়র নির্বাচিত হোন সাদিক আব্দুল্লাহ। ২০২৩ সালে অনুষ্ঠিত বরিশাল সিটি নির্বাচনে বিএনপি অংশ নেয়নি।  

বরিশালে সাংবাদিকদের ওপর ডিসির ক্ষোভ: নির্বাচনী কার্ড ইস্যুতে হয়রানির অভিযোগ

বরিশালে কর্মরত সাংবাদিকদের ওপর যেন পাহাড়সম ক্ষোভ উগরে দিচ্ছেন বর্তমান জেলা প্রশাসক (ডিসি)। পারিবারিক কলহ ও স্ত্রীকে নির্যাতনের অভিযোগ নিয়ে অতীতে সংবাদ প্রকাশিত হওয়ায় সাংবাদিকদের ওপর এই চটে থাকা বলে জানা গেছে। বর্তমানে আসন্ন নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সাংবাদিকদের পেশাগত কাজের জন্য প্রয়োজনীয় 'নির্বাচনী কার্ড' ইস্যু করাকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করছেন তিনি। কার্ড ইস্যু নিয়ে চলছে টালবাহানা ভুক্তভোগী সংবাদকর্মীদের দাবি, যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করার পরেও কার্ড দিতে নানা অজুহাতে হয়রানি করা হচ্ছে। মূলত ডিসির ব্যক্তিগত ক্ষোভের কারণেই মাঠ পর্যায়ের সাংবাদিকদের এই ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। বরিশালের সাংবাদিক সমাজ এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন এবং একে গণমাধ্যমের কণ্ঠরোধ করার চেষ্টা হিসেবে দেখছেন। ব্যক্তিগত আক্রোশের প্রভাব পেশাগত কাজে উল্লেখ্য যে, ইতিপূর্বে এই জেলা প্রশাসকের বিরুদ্ধে স্ত্রীকে শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছিল, যা বিভিন্ন গণমাধ্যমে ফলাও করে প্রচার হয়। সেই থেকে সাংবাদিকদের প্রতি তার বিরূপ মনোভাব তৈরি হয়েছে। ফলস্বরূপ, এখন সরকারি ক্ষমতার অপব্যবহার করে তিনি সাংবাদিকদের পেশাগত অধিকার হরণ করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। পরিশেষে বলা যায়, একজন দায়িত্বশীল সরকারি কর্মকর্তার কাছ থেকে এমন আচরণ কাম্য নয়। নির্বাচনের মতো স্পর্শকাতর সময়ে সাংবাদিকদের অবাধ তথ্য সংগ্রহের সুযোগ নিশ্চিত করা প্রশাসনের নৈতিক দায়িত্ব। একজন সাংবাদিক লিখেছেন, বৌ পেটানো নিউজ করার মাসুল দিচ্ছে বরিশালের সাংবাদিকরা। আরেক সাংবাদিক প্রশাসনের এই প্রভাবকে চ্যালেঞ্জ করে লিখেছেন, ডিসি তার ক্ষমতা দেখাইছে, এখন আমাদের বরিশালের সাংবাদিকদের উচিত সবাই এক হয়ে ক্ষমতা দেখানো। কার পাশা যাবে কার টেবিলে, খেলা যে চলছে কোন লেভেলের! ​নির্বাচনী তথ্য সংগ্রহের জন্য কার্ড একটি অত্যন্ত প্রয়োজনীয় নথি। কিন্তু কার্ড পেতে বিলম্ব হওয়ায় মাঠ পর্যায়ে তথ্য সংগ্রহ ও প্রতিবেদন তৈরির কাজ ব্যাহত হচ্ছে। সাংবাদিকদের অভিযোগ, ​সঠিক কারণ ছাড়াই আবেদন ঝুলিয়ে রাখা হচ্ছে। ​জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো সন্তোষজনক ব্যাখ্যা পাওয়া যাচ্ছে না। ​স্বাধীন সাংবাদিকতার পথ রুদ্ধ করার অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে। এই প্রতিকূল পরিস্থিতিতে বরিশালের সংবাদকর্মী মহলে ঐক্যের ডাক দেওয়া হয়েছে। প্রশাসনের এমন ‘ব্যক্তিগত রোষ’ এবং ‘ক্ষমতার দাপট’ রুখতে স্থানীয় সাংবাদিক সংগঠনগুলো কঠোর কর্মসূচির কথা ভাবছে। নির্বাচনী স্বচ্ছতা বজায় রাখতে অবিলম্বে সাংবাদিকদের কার্ড প্রদানের দাবি জানিয়েছেন সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরাও। কে এই ডিসি খাইরুল আলম সুমন যৌতুক সংক্রান্ত মামলায় কারাবাসের অভিযোগ থাকা একজন কর্মকর্তাকে বরিশালের জেলা প্রশাসক (ডিসি) হিসেবে নিয়োগ দেওয়ায় প্রশাসনের ভেতর ও বাইরে বিস্ময় ও বিতর্ক তৈরি হয়েছে। বরিশালের ডিসি  খায়রুল আলম সুমন ২৯তম বিসিএস ব্যাচের কর্মকর্তা। জেলা প্রশাসকের দায়িত্ব জেলার আইনশৃঙ্খলা, ম্যাজিস্ট্রেসি ও ভূমিসংক্রান্ত সার্বিক কার্যক্রম তদারকি করা—যেখানে ব্যক্তিগত সুনাম ও নৈতিকতা গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেন প্রশাসনের একাধিক কর্মকর্তা। তাদের ভাষ্য, যাদের ব্যক্তিগত জীবনে গুরুতর অভিযোগ রয়েছে, এমন কর্মকর্তাকে ডিসি পদে বসানো ইমেজ ও আস্থার প্রশ্ন তৈরি করে। আদালত ও মামলার তথ্য সূত্র অনুযায়ী, কিশোরগঞ্জের বাজিতপুরে সহকারী কমিশনার (ভূমি) হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে খায়রুল আলম সুমনের বিরুদ্ধে যৌতুকের মামলা হয়। মামলার নথি অনুযায়ী, ২০১৬ সালের এপ্রিল মাসে ওই মামলায় খায়রুল আলম সুমন ও তার মা খোদেজা বেগমকে আদালত কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। তদন্ত কর্মকর্তা ওয়ারী থানার এসআই শাহ আলম আদালতে তাদের হাজির করে পাঁচ দিনের রিমান্ড আবেদন করেন। অপরদিকে আসামিপক্ষের আইনজীবী জামিন আবেদন করেন। শুনানি শেষে আদালত রিমান্ড ও জামিন—উভয় আবেদন নাকচ করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। পরবর্তী সময়ে তিনি দীর্ঘ সময় কারাবাসে ছিলেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়। মামলার অভিযোগে বলা হয়, ২০১৫ সালের ৫ জুন বিয়ের পর থেকেই যৌতুকের দাবিতে ভুক্তভোগীকে বিভিন্নভাবে নির্যাতন করা হতো। অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, ২০১৬ সালের ২৪ মার্চ রাতে ঢাকার ওয়ারী এলাকায় খায়রুলের বাসায় তার মায়ের মাধ্যমে গরম খুন্তি দিয়ে ছেঁকা দেওয়া হয় এবং এ সময় খায়রুল আলম সুমন ভুক্তভোগীর হাত চেপে ধরেন। পরদিন ওয়ারী থানায় মামলা করা হয়। বিভাগীয় মামলা ও পদোন্নতি স্ত্রীর করা মামলার পাশাপাশি জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়েও অভিযোগ দেওয়া হলে খায়রুল আলম সুমনের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা হয়। এর ফলে নিয়মিত পদোন্নতি ব্যাহত হয় বলে জানা গেছে। গত বছরের ৩ ডিসেম্বর উপসচিব পদে তার পদোন্নতির আদেশ জারি হলেও সেখানে ২০২৩ সালের ১১ সেপ্টেম্বর থেকে ভূতাপেক্ষ (ব্যাকডেটেড) পদোন্নতি দেখানো হয়। সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, নিজেকে পদোন্নতিতে বঞ্চিত দাবি করে তিনি ভূতাপেক্ষ পদোন্নতি গ্রহণ করেন। ব্যক্তিগত তথ্য ও ডিসির বক্তব্য খায়রুল আলম সুমনের ‘ব্যক্তিগত ডাটা শিটে’ (পিডিএস) বর্তমানে তাকে ‘অবিবাহিত’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে বলেও জানা গেছে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে খায়রুল আলম সুমন বলেন, “এসব আমার ব্যক্তিগত তথ্য। আমার নামে বিভাগীয় মামলা  ছিল—সবই কর্তৃপক্ষ জানে এবং জেনেই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আমি এসব নিয়ে কোনো মন্তব্য করতে চাই না।” প্রশাসন বিশেষজ্ঞদের মত জনপ্রশাসন বিশেষজ্ঞদের মতে, জেলা প্রশাসক পদটি কেবল প্রশাসনিক নয়—এটি নৈতিক নেতৃত্বেরও প্রতীক। একজন ডিসির ব্যক্তিগত জীবনে গুরুতর অভিযোগ থাকলে জেলার আইনশৃঙ্খলা ও ম্যাজিস্ট্রেসি কার্যক্রম পরিচালনায় প্রশ্ন ও অস্বস্তি তৈরি হতে পারে। তাদের ভাষ্য, “ডিসির সুনামটাই সবচেয়ে জরুরি।” সূত্র জানায়, খায়রুল আলম সুমন প্রবেশনার হিসেবে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় চাকরি শুরু করেন। সে সময়ের ডিসি মো. আবদুল মান্নানের মেয়েকে তিনি বিয়ে করেছিলেন বলে জানা যায়। পরবর্তীতে তিনি চট্টগ্রাম ডিসি কার্যালয়ে দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়া নাঙ্গলকোট, নিকলি ও বাজিতপুরে এসিল্যান্ড এবং ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়াডাঙ্গী ও দিনাজপুরের ফুলবাড়ীতে ইউএনও হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। বরিশালের ডিসি হিসেবে তার  নিয়োগ প্রশাসনে নৈতিকতা ও যোগ্যতার প্রশ্ন নতুন করে সামনে এনেছে। বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের স্পষ্ট ব্যাখ্যা ও অবস্থান প্রত্যাশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

নিজেস্ব প্রতিবেদক

বাংলাদেশ

View more
বরিশাল আদালত ভাঙচুর -আইনজীবী গ্রেফতার
বরিশালে এজলাসে ঢুকে হামলা‑হট্টগোল: প্রধান আসামি লিংকন কারাগারে; অন্যান্য আসামিরা এখনও পলাতক

বরিশালে আদালতের এজলাসে ঢুকে হামলা‑হট্টগোলের ঘটনায় দায়ের করা মামলায় প্রধান আসামি বরিশাল আইনজীবী সমিতির সভাপতি সাদিকুর রহমান লিংকনকে গ্রেফতার করে কারাগারে পাঠানো হয়। তবে তার পর থেকে অপর  আসামিরা পলাতক রয়েছেন এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তাদের ধরতে অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে। গত বুধবার দুপুরে বরিশাল আদালতের আইনজীবী সমিতির একটি কক্ষ থেকে যৌথবাহিনী লিংকনকে গ্রেফতার করে। একই রাতে কোতোয়ালি মডেল থানা পুলিশ অন্যান্য পলাতক আসামিদের ধরতে অভিযান চালায়; কিন্তু এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেফতার করা সম্ভব হয়নি বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র নিশ্চিত করেছে। আইনজীবীদের গ্রেফতারের প্রতিবাদে বৃহস্পতিবার দ্বিতীয় দিনের মতো তারা আদালত বর্জন করে বিক্ষোভ সমাবেশ করেন। এ সময় আদালতে বিচার কার্যক্রম ছিল স্বাভাবিকভাবে চলছিল। আদালতের বিচারকেরা আইনজীবীদের অনুপস্থিতিতে সরাসরি আসামিদের সঙ্গে কথা বলে শুনানি চালিয়ে নেন বলে কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আল মামুন উল ইসলাম জানিয়েছেন। তিনি বলেন, পলাতক আসামিদের খুঁজে গ্রেফতার  অভিযান এখনও চলছে। পুলিশ ও মামলার সংশ্লিষ্ট পক্ষের তথ্য অনুযায়ী, মামলার পলাতক আসামিদের মধ্যে রয়েছেন — ➡️ বরিশাল আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক মীরজা রিয়াজুল ইসলাম, ➡️  পিপি আবুল কালাম আজাদ, ➡️ পিপি নাজিম উদ্দিন পান্না, ➡️ এপিপি হাফিজ উদ্দিন বাবলু, ➡️ এপিপি তারেক আল ইমরান, ➡️ এপিপি আবুল কালাম আজাদ ইমন, ➡️ বরিশাল জেলা আইনজীবী সমিতির নেতা মহসিন মন্টু, ➡️ মিজানুর রহমান, ➡️ অ্যাডভোকেট আব্দুল মালেক, ➡️ অ্যাডভোকেট সাঈদ, ➡️  অ্যাডভোকেট বশির আহমেদ সবুজ। মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, গত মঙ্গলবার দুপুরে আওয়ামী লীগের সাবেক এমপি ও নেতাদের জামিনের বিরোধিতা করে বরিশাল জেলা আইনজীবী সমিতির নেতারা আদালতের এজলাসে প্রবেশ করে চিৎকার‑চেঁচামেচি ও আসবাবপত্র ধাক্কাধাক্কি করেন। ঘটনাটি সিসিটিভি ক্যামেরায় ধরা পড়ে এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিওটি দ্রুত ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক তোলপাড় সৃষ্টি হয়। ভিডিওতে দেখা যায়, অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট এসএম শরীয়তউল্লাহ একটি শুনানি পরিচালনা করছিলেন। হঠাৎ দরজা খোলার পর একদল আইনজীবী চিৎকার করে এজলাসে ঢুকেন এবং বেঞ্চগুলোকে ধাক্কা দেন। এক আইনজীবী বিচারকের সামনে যেতে দেখা যায়, যেখানে তিনি আঙ্গুল তুলে চিৎকার করেন এবং বেঞ্চে আঘাত করেন। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, এজলাসে প্রথম ঢোকার সময় উপস্থিত ছিলেন সাদিকুর রহমান লিংকন। এরপর তাকে  আইনজীবী সমিতির ভবন থেকে গ্রেফতার করা হয়। তার গ্রেফতারের পর অন্য আইনজীবীরা বিক্ষোভ সমাবেশ করার ঘোষণা দেন ও কর্মবিরতি পালন করেন। বর্তমানে পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট আদালত কর্তৃপক্ষ ঘটনা তদন্ত ও পলাতক আসামিদের গ্রেফতারে সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেছেন।

ইত্তেহাদ নিউজ : ফেব্রুয়ারি ২৮, ২০২৬ 0
ড. ইউনূসসহ সাবেক উপদেষ্টারা

ড. ফাওজুল কবির খানের ইফতার আয়োজনে ড. ইউনূসসহ সাবেক উপদেষ্টারা

প্রধান আসামি নূরা

নরসিংদীতে কিশোরীকে ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনায় প্রধান আসামি নূরা গ্রেপ্তার

মুরাদ খান

খুলনায় যুবদল কর্মী মুরাদ খানকে কুপিয়ে হত্যা,শোকের ছায়া

এম সাখাওয়াত
ইউনূসের উপদেষ্টা পরিষদের একটি কিচেন কেবিনেট ছিল: এম সাখাওয়াত

মুখ খুললেন অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার (অব.) এম সাখাওয়াত হোসেন। এক সাক্ষাৎকারে তিনি বাংলাদেশে পুলিশ পুনর্গঠন, নির্বাচনের পরিস্থিতি, ৭.৬২ বুলেটের প্রসঙ্গ, এবং আন্তর্জাতিক চুক্তি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন। তিনি জানান, ইউনূসের উপদেষ্টা পরিষদের একটি কিচেন কেবিনেট ছিল, যেখানে তিনি ছিলেন না। সেখানে কী আলোচনা হতো তা জানানো হতো না, এবং তিনি ওই কেবিনেটে অংশ নিতে পারেননি। সাখাওয়াত হোসেন বলেন, “দেশটা তখন এক অগ্নিগর্ভের মধ্যে ছিল এবং কেউ আমাকে ডাকে নি, আমি তাদের সাথে একমত হতে পারতাম না।” পুলিশ পুনর্গঠন নিয়ে তিনি বলেন, “আমার প্রধান লক্ষ্য ছিল পুলিশকে পুনর্গঠন করা এবং আমি মনে করি, আমি এতে সফল হয়েছি।” তিনি জানান, নির্বাচনের সময় পুলিশ কিছু সমস্যার মুখোমুখি ছিল। অনেক থানায় আগুন দেয়া হয়েছিল, এবং পুলিশকে মাঠে আনার জন্য তাকে বেশ কিছু কথা বলতে হয়েছিল। “প্রায় ৪ হাজার রাইফেল লুট হয়ে গেছে,” বলেন সাখাওয়াত হোসেন, “এখনো হাজার খানেক রাইফেল পিস্তল লুট করা অবস্থায় রয়েছে।” এছাড়া, ৭.৬২ বুলেট সম্পর্কিত এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “এই বুলেট খুব মারাত্মক অস্ত্র। এটি সাধারণত সমরাস্ত্র হিসেবে ব্যবহৃত হয়।” তিনি মনে করেন, এটি পুলিশের কাছে থাকা উচিত নয়। এই রাইফেলগুলো কখন, কী কারণে এবং কেন দেয়া হয়েছে, সেই বিষয়েও ইনকোয়ারি করার তার ইচ্ছা ছিল। নির্বাচন নিয়ে সাখাওয়াত বলেন, “নির্বাচন ভালো হয়েছে, তবে পৃথিবীতে কোনো নির্বাচনই একশ পার্সেন্ট খাঁটি হয় না।” তিনি জামায়াতে ইসলামী দলকে ৭৭টি সিট পাওয়া একটি বড় ঘটনা হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি আরও বলেন, “আমাদের দেশে তিনটি নির্বাচনে মানুষ ভোটই দিতে পারেনি। সেখানে জামায়াত ৭৭টি সিট পেয়ে কী ধরনের বার্তা দিল তা ভাবুন।” চুক্তি বিষয়েও সাখাওয়াত বলেন, “ননডিসক্লোজার ক্লজ থাকা চুক্তি প্রকাশ করা যায় না। তবে, এসব চুক্তিতে কোনো দেশবিরোধী কিছু নেই।” তিনি জানান, বাংলাদেশ সরকারের গ্যাস উত্তোলন সম্পর্কিত আলোচনা চলাকালীন সময়ে আমেরিকান কোম্পানির শ্রমিকদের কল্যাণ তহবিলের ৪ শতাংশ দেয়ার বিষয়ে বেশ তর্ক-বিতর্ক হয়েছে। তবে, তিনি দাবি করেছেন, এতে শ্রমিকদের কোনো ক্ষতি হওয়ার কথা নয়। অবশেষে, সাখাওয়াত হোসেন বলেন, “সরকার যদি চায়, তবে যেকোনো সময় এসব সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করতে পারে। এটি একটি অর্ডিনেন্স এবং সরকারের হাতে রয়েছে ক্ষমতা।” এই মন্তব্যগুলো বাংলাদেশে রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং প্রশাসনিক কার্যক্রম সম্পর্কে এক গভীর আলোকপাত করছে। সাখাওয়াত হোসেনের বক্তব্য, দেশের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো নিয়ে আরও বেশি আলোচনার সুযোগ সৃষ্টি করেছে।

ইত্তেহাদ নিউজ : ফেব্রুয়ারি ২৮, ২০২৬ 0
ভোলায় ছয় পা বিশিষ্ট বিরল বাছুরের জন্ম

ভোলার লালমোহনে ছয় পা বিশিষ্ট বিরল বাছুরের জন্ম, দেখতে ভিড় করছে উৎসুক জনতা

বরিশালের বিউটি রোডে গভীর রাতে ভয়াবহ অগ্নিসংযোগ

বরিশালের বিউটি রোডে গভীর রাতে ভয়াবহ অগ্নিসংযোগ, ব্যবসায়ীরা নিরাপত্তাহীনতায় উদ্বিগ্ন

বানারীপাড়ায় ছাত্রদল-যুবদলের ২ নেতা গ্রেপ্তার

বরিশালের বানারীপাড়ায় সরকারি ব্রিজের মালামাল চুরির ঘটনায় ছাত্রদল ও যুবদল নেতা গ্রেপ্তার

সরকারি গাছ কেটে নেওয়ার অভিযোগ
জামায়াত নেতা পিয়ার আলীর বিরুদ্ধে সরকারি রাস্তার দুই গাছ কেটে বিক্রির অভিযোগ

সুনামগঞ্জ : সুনামগঞ্জ জেলার জগন্নাথপুর উপজেলায় সরকারি রাস্তার পাশে লাগানো দুটি গাছ কেটে বিক্রির অভিযোগ উঠেছে এক জামায়াত নেতার বিরুদ্ধে। অভিযুক্ত পিয়ার আলী স্থানীয়ভাবে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর শ্রীরামিসি আঞ্চলিক শাখার সভাপতি বলে জানা গেছে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার মিরপুর ইউনিয়নের শ্রীরামিসী রসুলপুর গ্রামের বাসিন্দা পিয়ার আলী ও তার ভাই আহবাব মিয়া গত ২০ ফেব্রুয়ারি কোনো ধরনের সরকারি অনুমতি ছাড়াই শ্রীরামিসি বাজার থেকে মিয়ার বাজার সড়কের পাশে থাকা সরকারি দুটি প্রাপ্তবয়স্ক গাছ কেটে নেন। গাছ দুটির আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ২০ হাজার টাকা। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক স্থানীয় বাসিন্দা জানান, পিয়ার আলী ও তার ভাই আহবাব হোসেন রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে সরকারি জায়গার গাছ কেটে নিয়ে বিক্রি করেছেন। তারা অভিযোগ করেন, প্রভাবশালী হওয়ায় কেউ প্রকাশ্যে প্রতিবাদ করতে সাহস পাচ্ছেন না। অভিযোগের বিষয়ে পিয়ার আলী বলেন, “যাতায়াতের সময় গাছটি বিদ্যুতের তার ও গাড়ির সঙ্গে লাগছিল। সরল মনে সমস্যা সমাধানের জন্য গাছ কেটে ফেলেছি।” এ বিষয়ে মিরপুর ও সৈয়দপুর শাহাড়পাড়া ইউনিয়নের উপ-সহকারী ভূমি কর্মকর্তা সজল তালুকদার বলেন, স্থানীয় জামায়াতে ইসলামীর নেতা পিয়ার আলী ও আহবাব মিয়া সরকারি রাস্তার পাশের দুটি গাছ কাটার চেষ্টা করছিলেন। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে গাছ জব্দ করা হয়েছে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়ে প্রতিবেদন পাঠানো হয়েছে। জগন্নাথপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. মহসীন উদ্দীন বলেন, “বিষয়টি শুনেছি। তদন্তে সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, সরকারি সম্পদ বিনষ্টের অভিযোগ প্রমাণিত হলে দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ইত্তেহাদ নিউজ : ফেব্রুয়ারি ২৭, ২০২৬ 0
ছাত্রী হোস্টেলে কনডম

ছাত্রী হোস্টেলে ‘কনডম’ উদ্ধার ঘিরে বিক্ষোভ, অধ্যক্ষকে অবরুদ্ধ

শাহরিয়ার শারমিন বিন্তি

রাজধানীর হাজারীবাগে স্কুলছাত্রী বিন্তিকে ছুরিকাঘাতে হত্যা

বরিশালের ঘটনায় আদালত অবমাননার রুল

বরিশালে আদালত ভাঙচুর: ১২ আইনজীবীর সনদ বাতিলের সুপারিশ, ৯ জনের বিরুদ্ধে হাইকোর্টের রুল