Brand logo light
ব্রেকিং

ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের আড়ালে প্রভাবশালী নেটওয়ার্ক

জাতীয় সংসদের সাউন্ড সিস্টেমে দুর্নীতি ও কোটি টাকার কারচুপি: আড়ালে প্রভাবশালী চক্র,জাহিদ মালেকের ভায়রার প্রতিষ্ঠান দায়ী!

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ৯, ২০২৬ 0
সংসদে সাউন্ড সিস্টেম
সংসদে সাউন্ড সিস্টেম

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের অধিবেশন শুরু হতেই বারবার সামনে এসেছে সাউন্ড সিস্টেমের ত্রুটি। সংসদ কক্ষে মাইক্রোফোন বিকল, শব্দ বিকৃতি—এ যেন নিয়মিত ঘটনায় পরিণত হয়েছে। অথচ এই সিস্টেমই সম্প্রতি সংস্কার করা হয়েছিল। প্রশ্ন উঠেছে—তাহলে কোটি কোটি টাকা খরচ হলো কোথায়?

দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) এখন বলছে, এই সংস্কারকাজ ঘিরেই হয়েছে বড় ধরনের অনিয়ম ও দুর্নীতি। বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) এক সংবাদ সম্মেলনে সংস্থাটির উপ-পরিচালক আক্তারুল ইসলাম তুলে ধরেন চাঞ্চল্যকর তথ্য।

ভাঙচুরের পর সংস্কার—কিন্তু কার স্বার্থে?

জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানে সংসদ ভবনে ভাঙচুরের পর প্লেনারি হলের সাউন্ড সিস্টেম ক্ষতিগ্রস্ত হয়। অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নিয়ে দ্রুত সংস্কারের উদ্যোগ নেয়। জরুরি ভিত্তিতে চালু করার প্রয়োজনীয়তা দেখিয়ে শুরু হয় কাজ।

কিন্তু দুদকের অনুসন্ধানে উঠে এসেছে—এই “জরুরি কাজ” ছিল একটি সুপরিকল্পিত আর্থিক কারসাজির অংশ।

ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের আড়ালে প্রভাবশালী নেটওয়ার্ক

অভিযোগ অনুযায়ী, প্রায় ৪ কোটি টাকার সংস্কারকাজ পায় একটি নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠান। কিন্তু বাস্তবে কাজটি সম্পন্ন করে ‘কমিউনিকেশন টেকনোলজি লিমিটেড’—যার সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক-এর ভায়রা জাহিদুর রহিম জোয়ারদার-এর।

এছাড়া, এই প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সাবেক চিফ হুইপ নূরে আলম চৌধুরী লিটন-এর ঘনিষ্ঠতার অভিযোগও উঠেছে। দুদক বলছে, রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে কাজটি হাতিয়ে নেওয়া হয় এবং প্রকৃত ঠিকাদারি প্রক্রিয়া এড়িয়ে যাওয়া হয়।

প্রকৌশলীদের যোগসাজশ

গণপূর্ত অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী আনোয়ার হোসেন-এর বিরুদ্ধে সরাসরি সহযোগিতার অভিযোগ উঠেছে। দুদকের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রকৌশলীদের একটি অংশের সহায়তায় এই অনিয়ম সংঘটিত হয়।

অভিযোগ আরও গুরুতর—বারবার চিঠি দিয়েও প্রয়োজনীয় নথিপত্র পাচ্ছে না দুদক। সর্বশেষ ৭ এপ্রিল প্রধান প্রকৌশলীর কাছে পুনরায় চিঠি পাঠানো হয়েছে, কিন্তু এখনো সাড়া মেলেনি।

পুরোনো সিস্টেম, নতুন বিল

তদন্তে জানা গেছে:

সংসদ ভবনে আগে থেকেই স্থাপিত ছিল SURE ব্র্যান্ডের SIS System
এই সিস্টেমের সমমানের প্রযুক্তি বর্তমানে বাজারে নেই
তবুও “সংস্কার” নামে নতুন প্রাক্কলন তৈরি করা হয়েছে

সবচেয়ে বিস্ময়কর তথ্য—
 মেরামত, সংস্কার ও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য প্রাক্কলন ধরা হয়েছে প্রায় ৯ কোটি ৭০ লাখ টাকা

অথচ বাস্তবে পুরোনো সিস্টেম সামান্য মেরামত করেই চালু করা হয়েছে বলে অভিযোগ।

খরচের অজুহাত: ১১ লাখ টাকার ‘পরীক্ষা’

কমিউনিকেশন টেকনোলজি লিমিটেড শুধু কাজই নেয়নি, বরং:

প্রকৌশলীদের যাতায়াত
থাকা-খাওয়া
সম্মানী

এই খাতে ১১ লাখ ২৫ হাজার টাকা বরাদ্দ চেয়েছে।

দুদকের মতে, এসব খরচও ছিল অস্বচ্ছ এবং অযৌক্তিক।

বড় অভিযোগ: শত শত কোটি টাকা আত্মসাৎ ও পাচার

দুদক জানিয়েছে, এই সাউন্ড সিস্টেম কেলেঙ্কারি কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়।

জাহিদুর রহিম জোয়ারদার-এর বিরুদ্ধে রয়েছে আরও বড় অভিযোগ:

স্বাস্থ্যখাতে মেডিকেল সরঞ্জাম ক্রয়ে অনিয়ম
ওভার ইনভয়েসিংয়ের মাধ্যমে বিদেশে অর্থ পাচার


শত শত কোটি টাকা আত্মসাৎ

এই পুরো প্রক্রিয়ায় রাজনৈতিক পরিচয় ও প্রভাব ব্যবহার করা হয়েছে বলে ধারণা করছে তদন্ত সংস্থা।

সংসদে ত্রুটি, প্রশ্নে জবাব নেই

সংসদের সদস্যরা প্রথম দিন থেকেই সাউন্ড সিস্টেমের ত্রুটি নিয়ে অভিযোগ জানিয়ে আসছেন। কিন্তু সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে কোনো কার্যকর ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি।

এখন প্রশ্ন উঠছে—

কোটি টাকা খরচের পরও কেন সিস্টেম অকার্যকর?
কেন তথ্য গোপন করছে গণপূর্ত অধিদপ্তর?
কারা এই দুর্নীতির নেপথ্যে?
 

দুদক বলছে, তদন্ত চলমান। আরও কর্মকর্তার সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেলে তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এই ঘটনায় স্পষ্ট হচ্ছে—সংসদের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানের প্রযুক্তিগত অবকাঠামোও দুর্নীতির জাল থেকে মুক্ত নয়। আর সেই জালের সুতো গিয়ে জড়াচ্ছে প্রভাবশালী রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে। সংসদে শব্দ শোনা যাচ্ছে না—কিন্তু দুর্নীতির প্রতিধ্বনি এখন স্পষ্ট।

দুদক বলছে, তদন্ত এখনও চলমান। আরও কারও সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেলে তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এদিকে, সংসদের সদস্যরা এখনও সাউন্ড সিস্টেমের ত্রুটি নিয়ে অভিযোগ করে যাচ্ছেন—যা পুরো সংস্কার প্রক্রিয়ার কার্যকারিতা নিয়েই প্রশ্ন তুলছে।

সংসদে সাউন্ড সিস্টেমে অনিয়মের অভিযোগ, ব্যবস্থা নেয়া হবে : চিফ হুইপ

 জাতীয় সংসদের সাউন্ড সিস্টেমে গুরুতর অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছেন চিফ হুইপ মো. নূরুল ইসলাম মনি। তিনি বলেন, অভিযোগ অনুযায়ী, সাউন্ড ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে অদক্ষ প্রতিষ্ঠানকে কাজ দেওয়া, নির্ধারিত স্পেসিফিকেশনের সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ যন্ত্রপাতি সরবরাহ এবং দরপত্র প্রক্রিয়ায় ব্যাপক অনিয়ম হয়েছে। এ বিষয়ে দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। চলমান অধিবেশন ব্যাহত না করতে তা অধিবেশন শেষে কার্যকর করা হবে বলে তিনি জানান।

Popular post
ফারুকীর সম্পদ কমেছে, তিশার বেড়েছে দ্বিগুণেরও বেশি: সম্পদ বিবরণী ঘিরে আলোচনা

অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের সম্পদ বিবরণী প্রকাশের পর সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী ও তার স্ত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদের হিসাব নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। এক বছরের ব্যবধানে স্বামী ফারুকীর সম্পদ কমলেও স্ত্রী তিশার সম্পদ বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে প্রকাশিত তথ্যে উঠে এসেছে এই চিত্র। প্রকাশিত খতিয়ান অনুযায়ী, জনপ্রিয় অভিনেত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদ এক বছরে অভাবনীয় হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তিশার মোট সম্পদের পরিমাণ ছিল ১ কোটি ৪০ লাখ ৮১ হাজার ৮৬০ টাকা। ঠিক এক বছর পর, ২০২৫ সালের ৩০ জুন সেই সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ৯৯ লাখ ৮৯ হাজার ৫০১ টাকায়। অর্থাৎ মাত্র এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ বেড়েছে ১ কোটি ৫৯ লাখ ৭ হাজার ৬৪১ টাকা, যা আগের বছরের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি। অন্যদিকে সংস্কৃতি উপদেষ্টা ও নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর ক্ষেত্রে দেখা গেছে উল্টো চিত্র। এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ কমেছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তার মোট সম্পদ ছিল ২ কোটি ২৬ লাখ ৯২ হাজার ২৬ টাকা। ২০২৫ সালের ৩০ জুন তা কমে দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ১৫ লাখ ১৮ হাজার ২৬ টাকায়। হিসাব অনুযায়ী, এক বছরে তার সম্পদ কমেছে ১১ লাখ ৭৪ হাজার টাকা। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে গত মঙ্গলবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ প্রধান উপদেষ্টা, উপদেষ্টা ও সমমর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের পাশাপাশি তাদের স্ত্রী বা স্বামীর সম্পদ বিবরণী প্রকাশ করে। একই সময়ে স্বামী-স্ত্রীর সম্পদে এমন ভিন্নমুখী পরিবর্তন স্বাভাবিকভাবেই সাধারণ মানুষের কৌতূহলের জন্ম দিয়েছে। শোবিজ অঙ্গনের জনপ্রিয় দম্পতি হওয়ায় তাদের এই আয়-ব্যয়ের হিসাব এখন টক অব দ্য কান্ট্রি।

সংসার সামলাতে অটোরিকশা নিয়ে রাস্তায় নেমেছেন রোজিনা

বাসস : বাবা একজন তাঁত শ্রমিক। তিন বোন দুই ভাইয়ের মধ্যে সবার বড় রোজিনা। অভাব সংসার, তাই এক এতিম যুবকের সাথে বাবা-মা বিয়ে দেন তাকে। বিয়ের পর জন্ম হয় দুই কন্যা সন্তানের। অটোরিকশা চালিয়ে কোন রকম সংসার চালাচ্ছিলেন স্বামী রফিকুল ইসলাম। কিন্তু সড়ক দুর্ঘটনায় রফিকুলের এক চোখ সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যায়। আরেকটি চোখ আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ধীরে ধীরে ওই চোখের দৃষ্টি শক্তিও কমতে থাকে। ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে অটোরিকশা চালানো। সংসারের উপার্জনক্ষম মানুষটি অচল হয়ে পড়ায় চিকিৎসার খরচ, ঘর ভাড়া ও খাবারের পাশাপাশি মেয়েদের লেখাপড়ার খরচ চালানোই কঠিন হয়ে যায়। দিশেহারা হয়ে পরেন রোজিনা। এক পর্যায়ে মানুষের বাড়ি বাড়ি কাজ করে সংসার চালানোর চেস্টা করেন। কিন্তু সুবিধা করতে পারেন না। এমন পরিস্থিতিতে অটোরিকশা চালানোর সিদ্ধান্ত নেন তিনি। স্বামী রফিকুলের কাছেই হাতেখড়ি। গ্রামের স্কুলের মাঠে স্বামীর কাছেই অটোরিকশা চালানোর শিক্ষা নেন তিনি। পরে গ্রামের পথে নেমে পড়েন অটোরিকশা নিয়ে। ৫-৬ দিন এভাবে হাত পাকা করে একদিন টাঙ্গাইল শহরে চলে আসেন রোজিনা। এরপর শুরু করেন অটোরিক্সা চালানোর ব্যতিক্রমী জীবন সংগ্রাম। এখন টাঙ্গাইল পৌরসভায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার চালকদের মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা বেগম। জেলার বাসাইল উপজেলার আইসড়া গ্রামের বাসিন্দা রোজিনা টাঙ্গাইল পৌর শহরের এক প্রান্ত রাবনা বাইপাস থেকে আরেক প্রান্ত বেবিস্ট্যান্ডে যাত্রী আনা নেয়া করেন। যানজটের কারণে শহরে পুরুষ চালকরা যেখানে হিমসিম খায়, সেখানেই বিগত ৫ বছর ধরেই নির্বিঘেœ অটোরিকশা চালাচ্ছেন তিনি। টাঙ্গাইল পৌরসভা কার্যালয় সূত্রে জানা যাায়, টাঙ্গাইল শহরে চলাচলের জন্য ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক ও ৫ হাজার ব্যাটারিচালিত রিকশার অনুমতি (লাইসেন্স) দেওয়া হয়েছে। যানজট এড়াতে ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক জোড় ও বিজোড় সংখ্যায় দিনে দুই ভাগ করা হয়েছে। সকাল থেকে বেলা দুইটা পর্যন্ত এক ভাগ এবং বেলা দুইটা থেকে রাত পর্যন্ত আরেক ভাগের ইজিবাইক চলাচল করার নির্দেশনা দিয়েছে পৌর কর্তৃপক্ষ। কিন্তু রোজিনাকে দুই শিফটে চালানোর অনুমতি দিয়েছে পৌরসভা। সরেজমিনে দেখা যায়, নতুন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অটোরিকশা নিয়ে যাত্রী ডাকছেন রোজিনা। কলেজ গেট, পুরাতন বাসস্ট্যান্ড, ক্যাপসুল, নিরালা মোড়, বেবিস্ট্যান্ড সর্বত্রই যাত্রী আনানেয়া করেন তিনি। পুরাতন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অন্য অটো চালকদের দাঁড় করতে না দিলেও রোজিনাকে বাঁধা দেননা ট্রাফিক পুলিশ। বলতে গেলে সবাই তার প্রতি সহানুভুতিশীল। ট্রাফিক পুলিশসহ অন্য অটোচালকরাও তাকে সহযোগিতা করেন। রোজিনা বলেন, আমার অটোতে নারী যাত্রীরা খুব কম। তারা মনে করে আমার অটোতে উঠলে দুর্ঘটনায় পড়বে। কিন্তু আমি খুব সাবধানে অটো চালাই। দ্রুত গতিতেও না, আবার একেবারে ধীরগতিতেও না। এখন পর্যন্ত আমি কোন দুর্ঘটনার কবলে পড়ি নাই। শহরের পুরুষ অটোরিকশা চালকরা আমাকে অনেক সহযোগিতা করে। অটোচালক কাদের মিয়া বলেন, আমাদের শহরে কয়েক হাজার অটো চলাচল করে। তার মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। তাকে আমরা সব সময় সহযোগিতা করি। যাত্রী সাইদ মিয়া বলেন, আমি এ পর্যন্ত ৫-৬ বার রোজিনার অটোতে চড়েছি। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। অন্য পুরুষ অটো চালকের চেয়েও ভালো অটো চালান। নারী সংগঠক সেরাজুম মনিরা বলেন, তিনি অনেক দিন যাবত অটোরিকশা চালাচ্ছেন। আমি রোজিনাকে স্যালুট জানাই। একজন পুরুষের চেয়ে একজন নারী কোনো ভাবেই যে পিছিয়ে নেই, রোজিনা তা প্রমাণ করেছেন। রোজিনা বলেন, অটো চালানোর এই সিদ্ধান্তটি তার জন্য খুব সহজ ছিল না। তিনি বলেন, ৫ ও ১০ বছরের দুই মেয়েকে বাড়িতে রেখে অটোরিকশা নিয়ে সারাদিন রাস্তায় থাকতে হয়। তাদের ভালোভাবে দেখাশোনা করতে পারি না। কিন্তু কি করবো, অভাবের সংসার! এখন ঋণ নিয়ে একটু জমি কিনেছি। প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ণ প্রকল্পের অর্থায়নে প্রশাসন সেখানে ঘর তুলে দিয়েছে। শুরুতে যারা আমাকে নিয়ে ঠাট্টা করেছে এখন তারাই আমাকে সম্মান করেন। নারীরাও যে কিছু করতে পারে, তা প্রমাণ করেছি। আমার বড় মেয়ে আইসড়া উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়ে, ছোট মেয়ে পড়ে স্থানীয় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। মেয়েদের শিক্ষিত করতে হবে। ধার দেনা শোধ করতে হবে। তাই থেমে গেলো চলবে না। আমি অটোরিকশা চালিয়েই দুই সন্তানকে মানুষ করতে চাই।’ ঘারিন্দা ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য বাবুল সরকার বলেন, সরকার রোজিনাকে একটি ঘর নির্মাণ করে দিয়েছে। শুরুতে যারা তাকে নিয়ে নানান কথা বলতো, এখন তার সংকল্প ও মানষিক দৃঢ়তা দেখে থেমে গেছে। আমরা তাকে নিয়ে গর্ব করি। টাঙ্গাইলের ট্রাফিক ইন্সপেক্টর (প্রশাসন) দেলোয়ার হোসেন বলেন, শহরের একমাত্র নারী চালক রোজিনাকে কেউ যেন বিরক্ত করতে না পারে সেদিকে সব সময় নজর রাখে ট্রাফিক পুলিশ। আমরা তাকে সব সময় সহযোগিতা করে আসছি। টাঙ্গাইলের সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক শাহ আলম বলেন, বিষয়টি এখন জানতে পারলাম। ওই নারী এখনো পর্যন্ত আমাদের কাছে আসেন নাই। যদি আমাদের কাছে এসে আবেদন করেন অবশ্যই তাকে আমরা সহযেগিতা করবো, তার পাশে দাঁড়াবো।

বাংলাদেশে ঐতিহাসিক নির্বাচন: বিএনপি এগিয়ে, জামায়াতের উত্থান ও তরুণ ভোটারদের প্রভাব

২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশে আজ এক ঐতিহাসিক ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ২০০৮ সালের পর এই প্রথম একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হতে যাচ্ছে যেখানে দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগ রাজনৈতিক মানচিত্র থেকে কার্যত অনুপস্থিত। বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক জরিপ বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০০ আসনের মধ্যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) কার্যকর সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে যাচ্ছে। তবে ভোটের ব্যবধান এবং কিছু সমীকরণ নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। নির্বাচনের সবচেয়ে বড় নিয়ামক হয়ে দাঁড়িয়েছে আওয়ামী লীগের বিশাল ভোটব্যাংক। দলটির নিয়মিত প্রায় ৪ কোটি ভোটার এখন নতুন রাজনৈতিক আশ্রয় খুঁজছেন। সিআরএফ বা বিইপিওএস জরিপ বলছে, এই ভোটারদের প্রায় অর্ধেক বিএনপির দিকে ঝুঁকেছে, যা দলটিকে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতার পথে এগিয়ে দিচ্ছে। অন্যদিকে, প্রায় ৩০ শতাংশ আওয়ামী ভোটার জামায়াতে ইসলামীকে বেছে নিতে পারেন বলে আভাস পাওয়া যাচ্ছে। এছাড়া বাংলাদেশের বিদ্যমান নির্বাচনী ব্যবস্থার কারণে দেশজুড়ে সুষম জনসমর্থন থাকা বিএনপি আসন জয়ের ক্ষেত্রে জামায়াতের তুলনায় সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। তবে বিএনপির এই সম্ভাব্য জয়ের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও বিদ্রোহী প্রার্থীরা। প্রায় ৭৯টি নির্বাচনী এলাকায় দলের মনোনয়ন না পাওয়া ৯২ জন প্রভাবশালী নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, যা বিএনপির ১৫ থেকে ৩০টি আসন কমিয়ে দিতে পারে। অন্যদিকে, তরুণ ভোটার বা ‘জেন-জি’ প্রজন্মের বিশাল সমর্থন জামায়াতে ইসলামীর শক্তির উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেশের ৪৪ শতাংশ ভোটারই তরুণ, যাদের বড় একটি অংশ প্রথমবার ভোট দিচ্ছেন। এই তরুণরা যদি দলবেঁধে কেন্দ্রে উপস্থিত হন, তবে নির্বাচনী ফলে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। সবশেষে, প্রায় ১৭ থেকে ৩৫ শতাংশ দোদুল্যমান ভোটার এবং তাদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করবে আগামীর সরকার কতটা শক্তিশালী হবে। দ্য নিউইয়র্ক এডিটোরিয়ালের মূল পূর্বাভাস, তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি প্রায় ১৮৫টি আসনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করতে পারে এবং জামায়াতে ইসলামী ৮০টির মতো আসন পেয়ে প্রধান বিরোধী দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারে। তবে বিদ্রোহী প্রার্থীদের প্রভাব এবং তরুণ ভোটারদের উপস্থিতির ওপর ভিত্তি করে আসন সংখ্যায় বড় ধরনের হেরফের হওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

গাজায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা ট্রাম্প প্রশাসনে

ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। ৩৫০ একরের ঘাঁটিটিতে সামরিক বাহিনীর পাঁচ হাজার সদস্য থাকতে পারবে। গাজার ‘বোর্ড অব পিস’র নথি পর্যালোচনা করে এ তথ্য জানিয়েছে দ্য গার্ডিয়ান। প্রতিবেদনে ব্রিটিশ সংবাদ মাধ্যমটি জানিয়েছে, বোর্ড অব পিসে গাজাকে নিরাপদ করার জন্য ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যাবিলাইজেশন ফোর্স (আইএসএফ) নামে একটি আন্তর্জাতিক বাহিনী মোতায়েনের কথা বলা হয়েছে। যে স্থানটি ঘাঁটি করার জন্য বিবেচনা করা হচ্ছে সেখানে আইএসএফের সদস্যরা থাকবে। বোর্ড অব পিসের প্রধান হবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আর সংগঠনটির আংশিক নেতৃত্ব দেবেন ট্রাম্পের জামাতা জ্যারার্ড কুশনার।দ্য গার্ডিয়ান বোর্ড অব পিসের নথি পর্যালোচনা করে জানায়, ধাপে ধাপে একটি সামরিক ঘাঁটি নির্মাণ করা হবে। সবকিছু শেষ হলে ঘাঁটিটি ১৫ লাখ ১৭ হাজার ৫৭৫ বর্গমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত হবে। ঘাঁটিটির চারপাশে ট্রেইলার সংযুক্ত ২৬টি সাঁজোয়া নজরদারি টাওয়ার থাকবে। এছাড়া একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, বাংকার ও অস্ত্র রাখার গুদাম থাকবে। পুরো ঘাঁটিটি কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে ঘিরে রাখা হবে। সামরিক ঘাঁটি নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে দক্ষিণ গাজার একটি শুষ্ক সমতলভূমিতে। সেখানে ইসরায়েলি হামলার চিহ্ন রয়েছে। ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে বিভিন্ন ধাতবের ধ্বংসাবশেষ।  ওই এলাকার ভিডিও পর্যালোচনা করেছে দ্য গার্ডিয়ান। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, ঘাঁটি নির্মাণের জন্য টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে। যুদ্ধক্ষেত্রে কাজের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন আন্তর্জাতিক নির্মাণ কোম্পানিগুলোর একটি ছোট দলকে ইতোমধ্যেই এলাকাটি দেখানো হয়েছে। ওই দলটি দরপত্রে অংশ নিতে আগ্রহী।    ইন্দোনেশিয়া সরকার গাজায় আট হাজার সেনা সদস্য পাঠানোর জন্য প্রস্তাব দিয়েছে। বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটন ডিসিতে বোর্ড অব পিসের অনানুষ্ঠানিক বৈঠকে ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্টের অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। এছাড়া দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার আরও তিন নেতার ওই বৈঠকে অংশ নেবেন বলে জানা গেছে। জাতিসংঘের নিরাপত্তা কাউন্সিল গাজার সাময়িক স্থিতিশীলতার জন্য অস্থায়ীভাবে সামরিক বাহিনী মোতায়েনের অনুমোদন দিয়েছে। নিরাপত্তা কাউন্সিলই বোর্ড অব পিসের মূল হোতা। গাজার সীমান্ত ও শান্তি প্রণয়নে কাজ করবে আইএসএফ। এছাড়া বেসামরিকদের সুরক্ষা এবং ফিলিস্তিনি পুলিশ বাহিনীকে প্রশিক্ষণ ও সহায়তা দেবে তারা। যদি গাজায় ফের সংঘর্ষ হয়, ইসরায়েল বোমা হামলা চালায় অথবা হামাস হামলা চালায় সেক্ষেত্রে আইএসএফ কি করবে তা এখনও স্পষ্ট নয়। গাজা পুনর্গঠনে ইসরায়েল হামাসকে নিরস্ত্রীকরণের যে শর্ত দিয়েছে সেটির জন্য আইএসএফ কাজ করবে কিনা তাও স্পষ্ট না। ইতোমধ্যে বোর্ড অব পিসে ২০ এর অধিক দেশ যোগ দিয়েছে। তবে, এখনও অনেক পরাশক্তি এর থেকে দূরে রয়েছে। জাতিসংঘের অনুমোদন নিয়ে প্রতিষ্ঠিত হলেও ধারণা করা হচ্ছে, সংগঠনটির স্থায়ী নেতৃত্ব ও নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে। রুটজার্স বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক আদিল হক বলেন, “বোর্ড অব পিস এক ধরনের আইনি কল্পসত্তা। নামমাত্রভাবে এর নিজস্ব আন্তর্জাতিক আইনগত সত্তা রয়েছে, যা জাতিসংঘ ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে আলাদা। কিন্তু বাস্তবে এটি যুক্তরাষ্ট্রের ইচ্ছামতো ব্যবহারের জন্য একটি ফাঁপা খোলসমাত্র।” বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গাজা পুনর্গঠনে যে অর্থায়ন ও শাসন কাঠামো হচ্ছে তা অস্বচ্ছ। কয়েকজন ঠিকাদার গার্ডিয়ানকে জানান, গাজায় কাজ করার জন্য মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে তাদের প্রায়শ আলোচনা সরকারি ইমেলের বদলে সিগন্যালের মাধ্যমে করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রের তথ্য মতে, ঘাঁটি নির্মাণের সিদ্ধান্তটি বোর্ড অব পিসের। এতে সহায়তা করছে মার্কিন কর্মকর্তারা। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ঘাঁটিতে তৈরি বাংকার নেটওয়ার্কের মতোন কাজ করবে। প্রতিটি বাংকারের ২৪ মিটারের হবে। উচ্চতা থাকবে আড়াই মিটার। এগুলো এমনভাবে করা হবে যেন সেনা সদস্যরা আশ্রয় নিতে পারে। স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসের গাজায় সুড়ঙ্গ নেটওয়ার্ক বা টানেল রয়েছে। সেগুলোর আদলে নেটওয়ার্ক করতে চাওয়া হচ্ছে। পিস অব বোর্ডের নথি পর্যালোচনা করে এমন দাবি করছে গার্ডিয়ান। সংবাদ মাধ্যমটি বলছে,  স্থানটির ভূ-ভৌত জরিপ পরিচালনা করবে ঠিকাদাররা। নথির এক অংশে ‘হিউম্যান রেমিয়েনস প্রোটোকল’র কথা বলা হয়েছে। এর মানে দাঁড়ায়, সন্দেহভাজন মানব অবশিষ্ট বা সাংস্কৃতিক নিদর্শন পাওয়া গেলে অবিলম্বে সেই এলাকায় সব কাজ বন্ধ করতে হবে। চুক্তি কর্মকর্তাকে দিকনির্দেশনার জন্য অবিলম্বে জানাতে হবে। গাজা সিভিল ডিফেন্সের ধারণা, গাজার ধ্বংসস্তূপের নিচে ১০ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনির মরদেহ রয়েছে। ঘাঁটির জন্য যে স্থানটি বিবেচিত করা হচ্ছে সেটির মালিক কে তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে, দক্ষিণ গাজার বেশিরভাগ অংশ  বর্তমানে ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণে। জাতিসংঘের অনুমান, যুদ্ধ চলাকালীন ১৯ লাখ ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত হয়েছে। ফিলিস্তিনের জমিতে সরকারের অনুমতি না নিয়ে সামরিক ঘাঁটি স্থাপনকে দখল হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন ফিলিস্তিনি-কানাডিয়ান আইনজীবী এবং প্রাক্তন শান্তি আলোচক দিয়ানা বুট্টু। তিনি প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়ে বলেন, “কার অনুমতিতে তারা সামরিক ঘাঁটি স্থাপন করবে।” বিষয়টি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা বোর্ড অব পিসের কথা টানেন। ট্রাম্প প্রশাসনের একজন কর্মকর্তা সামরিক ঘাঁটির চুক্তি নিয়ে আলোচনা করতে অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, “যেমনটি প্রেসিডেন্ট বলেছেন, কোনও মার্কিন সেনা স্থলভাগে যাবে না। আমরা লিক হওয়া নথি নিয়ে আলোচনা করবো না।”

কুড়িগ্রামের তাজু ভাই ২.০: ‘সরকারি রেটে জিলাপি’ প্রশ্নে ভাইরাল এক নির্মাণশ্রমিকের গল্প

বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের প্রত্যন্ত চরাঞ্চল থেকে উঠে এসে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার কেন্দ্রে এখন তাইজুল ইসলাম, যিনি অনলাইনে পরিচিত ‘তাজু ভাই ২.০’ নামে। মাত্র একটি ভিডিও—যেখানে তিনি এক দোকানিকে প্রশ্ন করেন, “জিলাপি আজকে কত করে বেচতেছেন সরকারি রেটে?”—এই সরল উপস্থাপনাই তাকে রাতারাতি ভাইরাল করে তোলে।  কয়েক ঘণ্টায় ফলোয়ার লাখ ছাড়াল রোববার রাত পর্যন্ত তার ফেসবুক অনুসারী ছিল প্রায় ৩৫ হাজার। কিন্তু সোমবার সন্ধ্যা থেকে রাতের মধ্যেই তা বেড়ে এক লাখের বেশি হয়ে যায়। ভাইরাল ভিডিওটি ইতোমধ্যে প্রায় ৫০ থেকে ৫৫ লাখবার দেখা হয়েছে।  কী ছিল সেই ভিডিওতে? ভিডিওতে দেখা যায়, কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীর নারায়ণপুর বাজারে দাঁড়িয়ে স্থানীয় ভাষায় তিনি জিলাপির দাম জানতে চান। তার কথাগুলো ছিল একেবারেই সহজ ও গ্রাম্য ভঙ্গিতে— “সাদাডা কত, লালডা কত? সরকারি রেটে বেচতেছেন?” এই সরল প্রশ্নই সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।  কোথা থেকে উঠে এলেন তাজু ভাই? কুড়িগ্রাম জেলার নাগেশ্বরী উপজেলার নারায়ণপুর ইউনিয়নের একটি দুর্গম গ্রামে জন্ম তার। ব্রহ্মপুত্র নদবেষ্টিত এই অঞ্চলে পৌঁছাতে এখনও কয়েকটি নৌঘাট পার হতে হয়। দারিদ্র্যের কারণে কখনো স্কুলে যাওয়া হয়নি তার। পেশায় তিনি একজন নির্মাণশ্রমিকের সহকারী (হেলপার)। কাজের ফাঁকে ঢাকায় থাকাকালীন মোবাইল ফোনে ভিডিও তৈরি করাই তার শখ। ব্যক্তিগত সংগ্রাম তাইজুল ইসলামের পরিবারে ছয় ভাই-বোন। তিনি সবার বড়। তার বাবা-মা দুজনই শ্রবণপ্রতিবন্ধী। পরিবার চালাতে তাকে ছোটবেলা থেকেই সংগ্রাম করতে হয়েছে। তিনি বলেন, “পরিবারের কষ্ট ভুলতেই ভিডিও করি। আমি সাংবাদিক না, কিন্তু আমাদের এলাকায় কেউ আসে না—তাই নিজেরাই ভিডিও বানাই।” ভাইরাল হওয়ার পেছনের উদ্দেশ্য তাইজুলের দাবি, তার ভিডিও শুধুই বিনোদনের জন্য নয়। তিনি চান তার এলাকার অবহেলিত মানুষের কথা প্রশাসনের নজরে আসুক। “আমি চাই চরের মানুষের উন্নয়ন হোক,”—বলছেন তিনি।  মিশ্র প্রতিক্রিয়া ভিডিওটি নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে দুই ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ তার সরলতা ও বাস্তবতা তুলে ধরার চেষ্টা প্রশংসা করছেন আবার কেউ তাকে নিয়ে ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ করছেন তবে এসব সমালোচনায় তিনি বিচলিত নন।

নিজস্ব প্রতিবেদক

ব্রেকিং

View more
পাহাড়ধস
চট্টগ্রামে পাহাড়ধসের ঝুঁকি: ১৯ বছরে বাস্তবায়ন হয়নি ৩৬ সুপারিশ, প্রাণ গেছে অন্তত ২৫০ জনের

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট লঘুচাপের প্রভাবে টানা বৃষ্টিতে আবারও পাহাড়ধসের আশঙ্কায় কাঁপছে চট্টগ্রাম। আবহাওয়া অধিদফতর আগামী ২৪ ঘণ্টায় ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস দিয়েছে এবং চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের পাহাড়ি এলাকায় পাহাড়ধসের ঝুঁকির কথা জানিয়েছে। প্রশাসন ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ের পাদদেশে বসবাসকারীদের নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যেতে মাইকিং করলেও স্থানীয় বাসিন্দাদের আতঙ্ক কাটছে না। কারণ, ২০০৭ সালের ভয়াবহ পাহাড়ধসের পর গঠিত কমিটির দেওয়া ৩৬টি সুপারিশ দীর্ঘ ১৯ বছরেও বাস্তবায়ন হয়নি। এই সময়ের মধ্যে পাহাড়ধস ও মাটিচাপায় প্রাণ হারিয়েছেন অন্তত ২৫০ জন। ১৯ বছরের অমীমাংসিত সুপারিশ জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, ২০০৭ সালের ১১ জুন চট্টগ্রামের ইতিহাসের ভয়াবহতম পাহাড়ধসে একদিনেই ১২৭ জন নিহত হন। ওই ঘটনার পর বিভাগীয় কমিশনারের নেতৃত্বে গঠন করা হয় পাহাড় রক্ষা ব্যবস্থাপনা কমিটি। কমিটি পাহাড়ধসের ২৮টি কারণ চিহ্নিত করে ৩৬টি সুপারিশ করলেও প্রায় দুই দশকেও সেগুলোর একটিও কার্যকর হয়নি। ফলে প্রতি বর্ষা মৌসুমে চট্টগ্রামে নতুন করে বাড়ে পাহাড়ধসের ঝুঁকি। বিশেষজ্ঞদের মতে, ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ের পাদদেশে বসতি স্থাপন, অবৈধ পাহাড় কাটা এবং প্রয়োজনীয় অবকাঠামোগত সুরক্ষা না থাকাই এ ঝুঁকিকে স্থায়ী রূপ দিয়েছে। ৮৮টি পাহাড় পুরোপুরি বিলুপ্ত বাংলাদেশ পরিবেশ ফোরামের তথ্য অনুযায়ী, স্বাধীনতার পর থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত চট্টগ্রামে ৮৮টি পাহাড় পুরোপুরি বিলুপ্ত হয়েছে। একই সময়ে আংশিক কাটা হয়েছে আরও ৯৫টি পাহাড়। এরপরের বছরগুলোতে জনসংখ্যা বৃদ্ধি ও নগরায়নের চাপের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে পাহাড় নিধনের প্রবণতা আরও বেড়েছে। পরিবেশ ফোরামের সাধারণ সম্পাদক আলিউর রহমান বলেন, ২০০৭ সালের পর থেকে পাহাড়ধসে অন্তত ২৫০ জনের মৃত্যু হয়েছে। তার ভাষায়, “যে ৩৬টি সুপারিশ বাস্তবায়ন করলে এ ধরনের দুর্ঘটনা অনেকাংশে কমানো সম্ভব ছিল, তার একটি পর্যন্ত কার্যকর হয়নি। বর্ষা এলেই প্রশাসনের তৎপরতা দেখা যায়, কিন্তু সারা বছর পাহাড় রক্ষায় ধারাবাহিক কার্যক্রম চোখে পড়ে না।” তিনি আরও জানান, ১৯৭৬ সালে নগরের পাঁচ থানা এলাকায় মোট পাহাড় ছিল ৩২ দশমিক ৩৭ বর্গকিলোমিটার। ২০০৮ সালে তা কমে দাঁড়ায় ১৪ দশমিক শূন্য দুই বর্গকিলোমিটারে। অর্থাৎ এই সময়ে ১৮ দশমিক ৩৪৪ বর্গকিলোমিটার পাহাড় কাটা হয়েছে, যা মোট পাহাড়ের প্রায় ৫৭ শতাংশ। সুপারিশগুলো কী ছিল পাহাড় রক্ষায় কমিটির সুপারিশগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিল: পাহাড়ের পাঁচ কিলোমিটারের মধ্যে নতুন হাউজিং প্রকল্প নিষিদ্ধ করা। পাহাড়ে ব্যাপক বনায়ন কর্মসূচি গ্রহণ। গাইডওয়াল ও ড্রেন নির্মাণের মাধ্যমে পাহাড়ের স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা। পাহাড়ি বালু উত্তোলন বন্ধ করা। পাহাড়সংলগ্ন এলাকায় ইটভাটা স্থাপন নিষিদ্ধ করা। ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ের পাদদেশের বসতি উচ্ছেদ করা। পাহাড় কাটার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা নেওয়া। নগর সম্প্রসারণ কর্ণফুলীর দক্ষিণ পাড়ে পটিয়া-আনোয়ারা অঞ্চলে স্থানান্তরের পরিকল্পনা গ্রহণ। তবে বাস্তবে এসব সুপারিশের কোনোটিই পূর্ণাঙ্গভাবে বাস্তবায়িত হয়নি। আবহাওয়ার সতর্কতা ও বর্তমান ঝুঁকি আবহাওয়া অধিদফতর জানিয়েছে, উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থানরত সুস্পষ্ট লঘুচাপের প্রভাবে চট্টগ্রামে আগামী ২৪ ঘণ্টায় ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাত হতে পারে। অতি ভারী বৃষ্টির কারণে চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের পাহাড়ি এলাকায় পাহাড়ধসের ঝুঁকি রয়েছে। পতেঙ্গা আবহাওয়া অফিসের আবহাওয়াবিদ বশির আহমেদ বলেন, “আগামী ২৪ ঘণ্টায় ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। কোথাও কোথাও অতি ভারী বৃষ্টিও হতে পারে। এতে পাহাড়ধসের ঝুঁকি আছে।” এ পরিস্থিতিতে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরকে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্কসংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ে এখনও বসবাস জেলা পাহাড় ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত উপ-কমিটির তথ্য অনুযায়ী, চট্টগ্রাম নগরীর ২৫টি ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ে এখনও এক হাজারের বেশি পরিবার বসবাস করছে। প্রশাসন প্রতি বছর বর্ষা মৌসুমে তাদের নিরাপদ স্থানে সরে যেতে বললেও অধিকাংশ পরিবার জীবিকার কারণে সেখানে থেকেই যায়। নগরের বাকলিয়া সার্কেলের সহকারী কমিশনার (ভূমি) শিফাত বিনতে আরা জানান, মতিঝরনা পাহাড়ে ঝুঁকিপূর্ণভাবে বসবাসকারী লোকজনকে নিরাপদ আশ্রয়ে যাওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, সকাল থেকে মাইকিং চালু রয়েছে এবং স্থানীয় মসজিদগুলোতে এ সংক্রান্ত ঘোষণা প্রচার করা হচ্ছে। অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) সাখাওয়াত জামিল সৈকত বলেন, বর্ষা মৌসুম শুরুর আগেই ঝুঁকিপূর্ণভাবে বসবাসকারী বাসিন্দাদের সরে যেতে বলা হয়েছে। মাইকিংয়ের পাশাপাশি লিফলেট বিতরণ ও আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখার কথাও জানান তিনি। দুর্ঘটনার দীর্ঘ তালিকা চট্টগ্রামে পাহাড়ধসের ইতিহাসে ২০০৭ সালের ১১ জুনের ঘটনা সবচেয়ে ভয়াবহ। ওই দিন মাত্র কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে সেনানিবাস এলাকা, লেডিস ক্লাব, কুসুমবাগ, কাছিয়াঘোনা, ওয়ার্কশপঘোনা, মতিঝরনা ও বিশ্ববিদ্যালয় এলাকাসহ বিভিন্ন স্থানে পাহাড়ধসে ১২৭ জন নিহত হন। এরপরও প্রাণহানি থেমে থাকেনি। ২০০৮ সালে মতিঝরনায় ১২ জন, ২০১১ সালে বাটালি হিলে ১৭ জন, ২০১২ সালে ২৪ জন, ২০১৩ সালে দুই জন, ২০১৫ সালে পাঁচ জন, ২০১৮ সালে চার জন, ২০১৯ সালে একজন, ২০২২ সালে চার জন এবং ২০২৩ সালে তিন জনের মৃত্যু হয়। সবমিলিয়ে ২০০৭ সালের পর থেকে পাহাড়ধস ও মাটিচাপায় প্রাণ গেছে অন্তত ২৫০ জনের। সর্বশেষ ২০২৩ সালের ২৭ আগস্ট পাঁচলাইশ থানার ষোলশহর আইডব্লিউ কলোনিতে পাহাড়ধসে মো. সোহেল ও তার সাত মাস বয়সী মেয়ে জান্নাত নিহত হন। একই বছরের ৭ এপ্রিল আকবরশাহ থানার বেলতলিঘোনা এলাকায় সড়ক নির্মাণকাজের সময় পাহাড়ধসে এক শ্রমিক নিহত হন। প্রশাসনের বর্তমান উদ্যোগ জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, পাহাড়ে অবৈধ বসবাসকারীদের পানি, গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংযোগদানে সহযোগিতাকারীদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা ও ফৌজদারি মামলা করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। পাশাপাশি অবৈধ দখলদারদের তালিকা প্রণয়ন, মূল মালিকদের চিহ্নিত করা এবং পাহাড় কাটার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা ও জেল-জরিমানা নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তবে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, কেবল বর্ষা মৌসুমে উচ্ছেদ অভিযান বা মাইকিং করে পাহাড়ধস ঠেকানো সম্ভব নয়। ২০০৭ সালের ট্র্যাজেডির পর দেওয়া সুপারিশগুলো বাস্তবায়ন, অবৈধ পাহাড় কাটা ও দখল বন্ধ এবং ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ের পাদদেশ থেকে স্থায়ীভাবে বসতি অপসারণ করা না গেলে চট্টগ্রামে পাহাড়ধসে মৃত্যুর মিছিল আরও দীর্ঘ হওয়ার আশঙ্কা থেকেই যাবে।  কেন ঝুঁকি কমছে না চট্টগ্রামে পাহাড়ধসের ঝুঁকি কমে না আসার পেছনে কয়েকটি কাঠামোগত কারণ স্পষ্ট হয়ে উঠেছে: দীর্ঘদিন ধরে চলা অবৈধ পাহাড় কাটা ও পাহাড় দখল। ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ের পাদদেশে বসবাসকারী পরিবারগুলোর নিরাপদ পুনর্বাসনের অভাব। পাহাড় রক্ষায় গৃহীত সুপারিশ বাস্তবায়নে প্রশাসনিক সমন্বয় ও রাজনৈতিক সদিচ্ছার ঘাটতি। পাহাড়ের স্থিতিশীলতা রক্ষায় প্রয়োজনীয় ড্রেনেজ, গাইডওয়াল ও বনায়ন কার্যক্রমের অনুপস্থিতি। বর্ষা মৌসুমে সাময়িক সতর্কতার বাইরে সারা বছরব্যাপী নজরদারির অভাব।   বঙ্গোপসাগরের লঘুচাপজনিত ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস চট্টগ্রামের পাহাড়ধস-ঝুঁকিকে আবারও সামনে নিয়ে এসেছে। ২০০৭ সালের ভয়াবহ দুর্ঘটনার পর ৩৬টি সুপারিশ করা হলেও ১৯ বছরে সেগুলোর বাস্তবায়ন না হওয়া প্রশাসনিক ব্যর্থতার একটি বড় প্রশ্ন তুলে দেয়। অন্তত ২৫০ মানুষের প্রাণহানির পরও পাহাড় কাটা, দখল এবং ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসতি স্থাপন পুরোপুরি বন্ধ হয়নি। ফলে প্রতিবার বর্ষা এলেই চট্টগ্রামের পাহাড়ি এলাকায় বসবাসকারী হাজারো পরিবারের জন্য আতঙ্ক নতুন করে ফিরে আসে।

নিজস্ব প্রতিবেদক জুলাই ৯, ২০২৬ 0
সাজেকে সব পর্যটনকেন্দ্র বন্ধ ঘোষণা

টানা বৃষ্টি, পাহাড়ধস ও বন্যার ঝুঁকিতে সাজেক বন্ধ: চট্টগ্রাম-সিলেটসহ ১৭ জেলায় সতর্কতা, বিপর্যয়ের মুখে পাহাড়ি অঞ্চল

সরিষাবাড়ী উপজেলার গেন্দারপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে

জামালপুরে জমি নিজের নামে লিখে না দেওয়ায় বৃদ্ধা মাকে বাড়ি থেকে বের করে দেওয়ার অভিযোগ, ভাইরাল ভিডিও ঘিরে প্রশ্ন

শেষ আটে ফ্রান্স

পেনালটিতে ফ্রান্স, অপেক্ষায় এমবাপ্পে-হাকিমি দ্বৈরথ

আর্জেন্টিনার জয়
কেপ ভার্দেকে হারিয়ে শেষ ষোলোয় আর্জেন্টিনা

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন :  বিশ্বকাপের শেষ বত্রিশের অন্যতম রোমাঞ্চকর ম্যাচে চমক জাগানো কেপ ভার্দেকে ৩-২ গোলে হারিয়ে শেষ ষোলো নিশ্চিত করেছে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। অতিরিক্ত সময় পর্যন্ত গড়ানো নাটকীয় এই লড়াইয়ে জয় নিশ্চিত করে লিওনেল স্কালোনির দল, যেখানে পরবর্তী রাউন্ডে তাদের প্রতিপক্ষ হবে মোহাম্মদ সালাহর মিশর। ম্যাচের শুরু থেকেই বলের দখল ও আক্রমণে আধিপত্য দেখায় আর্জেন্টিনা। ২৯তম মিনিটে রক্ষণভাগ থেকে লিসান্দ্রো মার্তিনেজের নিখুঁত লং পাস ধরে বক্সে ঢুকে দুর্দান্ত ফিনিশে গোল করেন অধিনায়ক লিওনেল মেসি। গোলরক্ষক ভোজিনহাকে পরাস্ত করে দলকে এগিয়ে দেওয়ার পাশাপাশি বিশ্বকাপে নিজের ২০তম গোলের দেখা পান তিনি। এই গোলের মাধ্যমে মেসি বিশ্বকাপে ব্যক্তিগত গোলসংখ্যা আরও সমৃদ্ধ করেন। পাশাপাশি টুর্নামেন্টে তার ধারাবাহিক গোল করার রেকর্ডও আরও দীর্ঘ হয়। প্রথমার্ধে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে থাকা আর্জেন্টিনাকে দ্বিতীয়ার্ধে কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলে কেপ ভার্দে। ৫৯তম মিনিটে ডেরয় দুয়ার্তের জোরালো শটে সমতায় ফেরে আফ্রিকার দলটি। এরপর নির্ধারিত সময়জুড়ে একাধিক সুযোগ পেলেও আর কোনো দলই গোল করতে পারেনি। ফলে ম্যাচ গড়ায় অতিরিক্ত সময়ে। অতিরিক্ত সময়ের শুরুতেই আবারও এগিয়ে যায় আর্জেন্টিনা। কর্নার থেকে আসা বলে কেপ ভার্দের বক্সে সুযোগ পেয়ে গোল করেন লিসান্দ্রো মার্তিনেজ। তবে হাল ছাড়েনি কেপ ভার্দে। প্রথম অতিরিক্ত সময়ের শেষদিকে সিডনি লোপেস কাব্রালের দুর্দান্ত দূরপাল্লার শটে আবারও ২-২ সমতা ফেরে ম্যাচে। টাইব্রেকারের সম্ভাবনা তৈরি হলেও ১১১তম মিনিটে আর্জেন্টিনাকে স্বস্তি এনে দেন ক্রিস্টিয়ান রোমেরো। বক্সের ভেতরের জটলার মধ্যে থেকে নেওয়া তার নিখুঁত শট জালে জড়ালে ৩-২ ব্যবধানে আবারও এগিয়ে যায় বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত সমতায় ফেরার চেষ্টা চালায় কেপ ভার্দে। তবে আর্জেন্টিনার রক্ষণ আর কোনো সুযোগ দেয়নি। শেষ বাঁশি বাজার সঙ্গে সঙ্গে জয় নিশ্চিত করে শেষ ষোলোয় জায়গা করে নেয় আলবিসেলেস্তেরা। দারুণ লড়াই উপহার দিয়েও বিদায় নিতে হয়েছে কেপ ভার্দেকে। অন্যদিকে কঠিন পরীক্ষা উতরে এখন শেষ ষোলোতে মিশরের বিপক্ষে লড়াইয়ের প্রস্তুতি নেবে লিওনেল স্কালোনির দল।

নিজস্ব প্রতিবেদক জুলাই ৪, ২০২৬ 0
শেষ নিঃশ্বাস পর্যন্ত মেয়েকে আগলে রাখলেন মা

ভেনেজুয়েলার ভূমিকম্প: নিজের জীবন দিয়ে মেয়েকে বাঁচালেন এক মা

ট্রেনের বগি

রাজনৈতিক পরিবর্তনের পরও থামেনি প্রকল্প, বাংলাদেশে পাঠানো হচ্ছে ভারতের নতুন ২০ রেল কোচ

এনবিআর ..

এনবিআর পুনর্গঠন: কর প্রশাসনের দীর্ঘদিনের সংকট কাটাতে সরকারের নতুন পরিকল্পনা

বেনজীর আহমেদ।
বেনজীর আহমেদ: ক্ষমতার কেন্দ্র থেকে আবুধাবিতে গ্রেফতার—দুর্নীতি, অর্থপাচার ও মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগের পূর্ণ অনুসন্ধান

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা কাঠামোর সবচেয়ে প্রভাবশালী ব্যক্তিদের একজন ছিলেন বেনজীর আহমেদ। পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি), র‌্যাবের মহাপরিচালক এবং ঢাকা মহানগর পুলিশের কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করা এই কর্মকর্তা একসময় দেশের আইনশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা নীতিনির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন। কিন্তু কয়েক বছরের ব্যবধানে সেই ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা ব্যক্তিই এখন দুর্নীতি, অর্থপাচার, অবৈধ সম্পদ অর্জন, সম্পদের তথ্য গোপন, জমি অধিগ্রহণে অনিয়ম এবং মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে একাধিক মামলার আসামি। দুবাইয়ে তার গ্রেফতারের খবর প্রকাশের পর নতুন করে সামনে এসেছে প্রশ্ন—কীভাবে রাষ্ট্রের অন্যতম শক্তিশালী কর্মকর্তা এমন অবস্থায় পৌঁছালেন, এবং তাকে দেশে ফিরিয়ে এনে বিচার করা কতটা সম্ভব? অভিযোগ থেকে অনুসন্ধান দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন গণমাধ্যমে বেনজীর আহমেদের বিপুল সম্পদ, পরিবারের সদস্যদের নামে সম্পদ সঞ্চয় এবং প্রভাব খাটিয়ে জমি অধিগ্রহণের অভিযোগ প্রকাশিত হচ্ছিল। তবে দায়িত্বে থাকা অবস্থায় এসব অভিযোগ কখনও পূর্ণাঙ্গ তদন্তের মুখ দেখেনি। পরিস্থিতির মোড় ঘুরতে শুরু করে ২০২৪ সালের ১৮ এপ্রিল। সেদিন দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) তার সম্পদ অনুসন্ধানে একটি বিশেষ অনুসন্ধান দল গঠন করে। এরপর ঘটনাপ্রবাহ দ্রুত বদলাতে থাকে। দেশত্যাগের সেই রাত দুদকের অনুসন্ধান শুরুর মাত্র দুই সপ্তাহের মাথায়, ২০২৪ সালের ৪ মে রাতে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর দিয়ে দুবাইয়ের উদ্দেশে দেশ ছাড়েন বেনজীর আহমেদ। বিমানবন্দরের সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণে দেখা যায়, কয়েকজন পুলিশ সদস্যের সহায়তায় তিনি দ্রুত ইমিগ্রেশনসহ প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করেন। রাত ১১টা ৪০ মিনিটে সিঙ্গাপুর এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে তিনি ঢাকা ত্যাগ করেন। এরপর প্রায় দুই বছর তিনি দেশের বাইরে অবস্থান করেন। দুবাইয়ে গ্রেফতার: নতুন অধ্যায়ের সূচনা দুদকের মামলার ভিত্তিতে আদালতের নির্দেশে ইন্টারপোলের সহায়তায় আন্তর্জাতিক গ্রেফতারি প্রক্রিয়া শুরু হয়। চলতি বছরের ১০ ফেব্রুয়ারি ঢাকার আদালত তার বিরুদ্ধে ইন্টারপোলের মাধ্যমে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির নির্দেশ দেন। অবশেষে ১২ জুন দুবাইয়ে তাকে গ্রেফতার করা হয়। পরে জাতীয় সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বিষয়টি অবহিত করেন। বাংলাদেশ পুলিশের একাধিক সূত্র এবং দুদক কর্মকর্তারাও গ্রেফতারের তথ্য নিশ্চিত করেন। তবে গ্রেফতার হওয়া মানেই দ্রুত দেশে ফেরত আসা নয়। এখন শুরু হতে পারে দীর্ঘ আইনি, কূটনৈতিক ও প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়া। সম্পদের হিসাব নিয়ে প্রশ্ন দুদকের মামলার নথি অনুযায়ী, বেনজীর আহমেদ ও তার পরিবারের বিরুদ্ধে মোট প্রায় ৭৪ কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জন এবং সম্পদের তথ্য গোপনের অভিযোগ আনা হয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী— বেনজীর আহমেদ ৯ কোটি ৪৪ লাখ টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন করেছেন এবং ২ কোটি ৬২ লাখ টাকার সম্পদের তথ্য গোপন করেছেন। তার স্ত্রী জীশান মীর্জার বিরুদ্ধে ৩১ কোটি ৬৯ লাখ টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জন এবং ১৬ কোটি ১ লাখ টাকার সম্পদের তথ্য গোপনের অভিযোগ রয়েছে। বড় মেয়ে ফারিহা রিশতা বিনতে বেনজীরের বিরুদ্ধে ৮ কোটি ৭৫ লাখ টাকার অবৈধ সম্পদের অভিযোগ আনা হয়েছে। ছোট মেয়ে তাহসিন রাইসা বিনতে বেনজীরের বিরুদ্ধে ৫ কোটি ৫৯ লাখ টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ রয়েছে। দুদকের অনুসন্ধানে আরও উঠে আসে, তার নামে গুলশানে চারটি ফ্ল্যাট, ৩৩টি ব্যাংক হিসাব, ১৯টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার, তিনটি বিও হিসাব এবং ৩০ লাখ টাকার সঞ্চয়পত্র রয়েছে। আদালতের নির্দেশে এসব সম্পদ জব্দ করা হয়েছে। অর্থপাচারের সন্দেহ তদন্তে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় সামনে আসে। দুদকের তথ্যমতে, বেনজীর আহমেদ প্রায় ১১ কোটি ৩৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা ঋণ গ্রহণ করলেও সেই অর্থ কোথায় বিনিয়োগ করা হয়েছে, তার গ্রহণযোগ্য ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি। তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ধারণা, অর্থের একটি অংশ বিদেশে পাচার হয়ে থাকতে পারে। যদিও এই অভিযোগের চূড়ান্ত সত্যতা বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নির্ধারিত হবে। কতগুলো মামলার মুখোমুখি? বর্তমানে বেনজীর আহমেদ ও তার পরিবারের বিরুদ্ধে দুদকের একাধিক মামলা বিচারাধীন রয়েছে। এসব মামলায় অভিযোগের মধ্যে রয়েছে— অবৈধ সম্পদ অর্জন সম্পদের তথ্য গোপন অর্থপাচার সন্দেহজনক আর্থিক লেনদেন এছাড়া আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে দায়ের হওয়া কয়েকটি মামলাতেও তাকে আসামি করা হয়েছে। শাপলা চত্বর থেকে টিএফআই সেল ২০১৩ সালের ৫ মে মতিঝিলের শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশ ঘিরে সংঘটিত ঘটনাকে কেন্দ্র করে দায়ের হওয়া মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় বেনজীর আহমেদ অভিযুক্ত। সেই সময়ে তিনি ঢাকা মহানগর পুলিশের কমিশনার ছিলেন। এছাড়া র‌্যাবের টিএফআই সেলে গুম ও গোপন আটকের অভিযোগসংক্রান্ত মামলাতেও তার নাম রয়েছে। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মামলাটির সাক্ষ্যগ্রহণ চলছে। বিতর্কিত পাসপোর্ট ইস্যু বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে আরেকটি আলোচিত অভিযোগ সরকারি চাকরিতে থাকা অবস্থায় নিজেকে বেসরকারি চাকরিজীবী হিসেবে দেখিয়ে পাসপোর্ট গ্রহণ। অভিযোগ অনুযায়ী, ২০১৬ সালে র‌্যাবের মহাপরিচালক থাকা অবস্থায় পাসপোর্ট নবায়নের আবেদনে আপত্তি জানিয়েছিল পাসপোর্ট অধিদপ্তর। পরে র‌্যাব সদর দপ্তরের বিশেষ অনুরোধে দ্রুত তার পাসপোর্ট ইস্যু করা হয়। এমনকি তার বাসভবনে গিয়ে ছবি ও বায়োমেট্রিক তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছিল বলেও অভিযোগ রয়েছে। জমি, রিসোর্ট এবং স্থানীয়দের অভিযোগ বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে সবচেয়ে আলোচিত অভিযোগগুলোর একটি গোপালগঞ্জ ও মাদারীপুরে বিপুল পরিমাণ জমি অধিগ্রহণ। স্থানীয়দের অভিযোগ, তার প্রভাবের কারণে অনেক ভূমির মালিক—বিশেষত সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের সদস্যরা—জমি বিক্রি করতে বাধ্য হয়েছেন। গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার বৈরাগীটোল এলাকায় ৬০০ বিঘার বেশি জমির ওপর গড়ে ওঠা সাভানা ইকো রিসোর্ট অ্যান্ড ন্যাচারাল পার্কও তদন্তের আওতায় আসে। আদালতের নির্দেশে রিসোর্টসহ বিভিন্ন স্থাপনা জব্দ করে জেলা প্রশাসন নিয়ন্ত্রণ গ্রহণ করে। নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে তার পরিবারের মালিকানাধীন একটি বিলাসবহুল স্থাপনা নিয়েও তদন্ত চলছে। যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা ২০২১ সালে যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি বিভাগ মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে র‌্যাব এবং এর কয়েকজন সাবেক ও বর্তমান কর্মকর্তার বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। নিষেধাজ্ঞাপ্রাপ্তদের তালিকায় ছিলেন বেনজীর আহমেদও। যুক্তরাষ্ট্রের অভিযোগ ছিল, বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড ও গুমের মতো গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনায় র‌্যাবের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে। দেশে ফিরিয়ে আনা কতটা সহজ? সাধারণভাবে অনেকেই মনে করেন, ইন্টারপোলের রেড নোটিশ জারি হলেই কোনো আসামিকে দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনা সম্ভব। বাস্তবে বিষয়টি অনেক বেশি জটিল। ইন্টারপোলের নিজস্ব কোনো গ্রেফতারকারী বাহিনী নেই। তারা মূলত সদস্য রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে তথ্য আদান-প্রদান এবং সমন্বয় করে। কোনো ব্যক্তিকে দেশে ফিরিয়ে আনতে প্রয়োজন হয়— সংশ্লিষ্ট দেশের আদালতের অনুমোদন স্থানীয় আইনি প্রক্রিয়া প্রত্যর্পণ চুক্তির শর্ত কূটনৈতিক সমন্বয় বাংলাদেশ অতীতে কয়েকজন আলোচিত আসামিকে বিদেশ থেকে ফিরিয়ে আনতে সফল হয়েছে। তবে পি কে হালদার কিংবা আরাভ খানের মতো মামলাগুলো দেখিয়েছে, আন্তর্জাতিক প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়া অনেক সময় দীর্ঘ ও জটিল হতে পারে। একটি ক্ষমতার পতন বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলোর বিচারিক সত্যতা এখনও আদালতেই নির্ধারিত হবে। তবে একটি বিষয় ইতোমধ্যে স্পষ্ট—একসময় রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা কাঠামোর কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা একজন কর্মকর্তা আজ আন্তর্জাতিক আইনি প্রক্রিয়ার মুখোমুখি। দুবাইয়ে তার গ্রেফতার শুধু একটি ব্যক্তিগত বা আইনি ঘটনা নয়; এটি রাষ্ট্রীয় জবাবদিহি, ক্ষমতার ব্যবহার এবং প্রতিষ্ঠানগত দায়বদ্ধতা নিয়ে নতুন বিতর্কেরও জন্ম দিয়েছে। বাংলাদেশের প্রশাসনিক ইতিহাসে ক্ষমতার শীর্ষে থাকা একজন সাবেক পুলিশ প্রধানের বিরুদ্ধে দুর্নীতি, অর্থপাচার ও মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে আন্তর্জাতিক গ্রেফতার নিঃসন্দেহে একটি তাৎপর্যপূর্ণ অধ্যায় হয়ে থাকবে।

নিজস্ব প্রতিবেদক জুন ১৫, ২০২৬ 0
নূরজাহান বেগমের মৃত্যু কি শুধু পারিবারিক ট্র্যাজেডি, নাকি রাষ্ট্রীয় ব্যর্থতারও প্রতিচ্ছবি

বৃদ্ধা নূরজাহানের গলিত লাশ: অবহেলা, আইন ও সামাজিক দায়বদ্ধতার প্রশ্নে দেশজুড়ে আলোড়ন

বিএনপি

এক দশক পর বিএনপির কাউন্সিল: নেতৃত্বে ধারাবাহিকতা নাকি নতুন সমীকরণ? : মহাসচিব পদে নতুন মুখের সম্ভাবনা

সাইপ্রাসে এস আলমের সম্পত্তি ক্রোক

সাইপ্রাসে এস আলমের বিলাসবহুল বাড়ি ক্রোক, ৮০০ কোটি ইউরো পাচার তদন্তে নতুন মোড়

অর্থনীতি

ইসলামী ব্যাংক,

ইসলামী ব্যাংকে আস্থা সংকট কেন কাটছে না?: দেশের বৃহত্তম শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংককে ঘিরে নতুন প্রশ্ন

নিজস্ব প্রতিবেদক জুন ২২, ২০২৬ 0




অপরাধ

ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো

ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকোর বিরুদ্ধে ৩০ বিলিয়ন ডলার জালিয়াতি ও অর্থপাচার অভিযোগে দুদকের অনুসন্ধান

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ২৪, ২০২৬ 0




কৃষি ও জলবায়ু

ধান

শেরপুরে বোরো ধানের দাম কমে লোকসানে কৃষকরা, উৎপাদন খরচও উঠছে না

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ৬, ২০২৬ 0