Brand logo light

অর্থ পাচার

এ্যাংকর সিমেন্ট ফ্যাক্টরী
এ্যাংকর সিমেন্ট ফ্যক্টরী বন্ধ,ভ্যাট ফাঁকি ও অতিরিক্ত রেয়াত সুবিধা নেয়ায় তোলপাড় বরিশাল কাস্টমস- ভ্যাট অফিস

এ্যাংকর সিমেন্ট: ভ্যাট ফাঁকি, অর্থ পাচার ও অব্যবস্থাপনায় ধ্বংসের মুখে এক শিল্পপ্রতিষ্ঠান । ৪০ কোটি টাকার ভ্যাট ফাঁকির অভিযোগ, উৎপাদন বন্ধে বেতনহীন কর্মচারীদের আহাজারি। অর্থ পাচার ও বেতন বকেয়া: ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে বরিশালের এ্যাংকর সিমেন্ট ফ্যাক্টরী। ইত্তেহাদ নিউজ অনলাইন: একটি সফল প্রতিষ্ঠান ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে।বিদ্যুৎ বিল বকেয়ার কারনে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন।কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের বেতন বকেয়া।কর্ম বিরতি। ৪০ কোটি টাকার ভ্যাট ফাঁকি,শুধু ভ্যাট ফাকিঁই নয় নিয়েছে অতিরিক্ত রেয়াত সুবিধা।বিদেশে অর্থ পাচারের ঘটনা তদন্ত করছে দুদক।অগ্রীম টাকা দেয়া ডিলার,রিটেইলার সিমেন্ট না পেয়ে ক্ষুব্ধ।এখন তারা তাদের পাওনা ফেরৎ পেতে ভিড় জমাচ্ছেন।অন্যান্য পাওনাদাররাও একই পথে। বলছি বরিশালের অলিম্পিক সিমেন্ট লিমিটেডের এ্যাংকর সিমেন্ট এর কথা।   গভীর সংকটের মুখে  ‘এ্যাংকর সিমেন্ট ফ্যাক্টরী’ :   বরিশালের অন্যতম পরিচিত শিল্পপ্রতিষ্ঠান অলিম্পিক সিমেন্ট লিমিটেডের ব্র্যান্ড ‘এ্যাংকর সিমেন্ট’ এখন গভীর সংকটের মুখে। ভ্যাট ফাঁকি, অতিরিক্ত রেয়াত সুবিধা গ্রহণ, বিদেশে অর্থ পাচার, ব্যাংক ঋণ খেলাপি, বকেয়া বেতন এবং উৎপাদন বন্ধ হয়ে যাওয়ার ঘটনায় প্রতিষ্ঠানটিকে ঘিরে তৈরি হয়েছে বহুমাত্রিক বিতর্ক। কারখানায় বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন। তিন মাস ধরে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন বন্ধ। উৎপাদন কার্যক্রম স্থবির। অন্যদিকে অগ্রিম অর্থ দিয়েও সিমেন্ট না পেয়ে ক্ষোভে ফুঁসছেন ডিলার, রিটেইলার ও করপোরেট ক্রেতারা। পাওনাদারদের চাপ বাড়তে থাকায় প্রতিষ্ঠানটির ভবিষ্যৎ নিয়ে দেখা দিয়েছে অনিশ্চয়তা।এ্যাংকর সিমেন্ট ফ্যাক্টরীতে নেই বিদ্যুৎ, নেই পানি।হাহাকার অবস্থা।বেতন -ভাতা বকেয়ার কারনে চলছে কর্ম বিরতি।বন্ধ উৎপাদন।অচলাবস্থায় মালিক পক্ষ ভাড়ায় ও বিক্রির জন্য বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের সাথে যোগাযোগ করছেন।তবে কেউ দ্বায়িত্ব নিতে আগ্রহী হয়নি।কারন পাশে বৃহৎ ঔষধ কোম্পানীর ফ্যাক্টরী রয়েছে। এ্যাংকর সিমেন্টের ধুলাবালিতে ওখানের পরিবেশ দুষনের রেট অনেক উচ্চ।পরিবেশ অধিদপ্তরকে ঘুষ দিয়ে প্রতি বছর অলিম্পিক সিমেন্ট কর্তৃপক্ষ পরিবেশ ছাড়পত্র নবায়ন করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। ৪০ কোটি টাকার ভ্যাট ফাঁকির ঘটনায় বরিশাল কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট অফিসে তোলপাড় :    সম্প্রতি এ্যাংকর সিমেন্ট ফ্যক্টরীতে স্টক রেজিষ্টারে ৮০ হাজার মেট্রিক টন ক্লিংকার জমা থাকলেও বাস্তবে কোথাও নেই এই ক্লিংকারের হিসেব।এ্যাংকর সিমেন্ট লিমিটেডের ভ্যাট কর্মকর্তা মোস্তফা জানান,ক্লিংকার যা ছিল তা দিয়ে সিমেন্ট তৈরী করা হয়েছে। এ্যাংকর সিমেন্ট এর কপোরেট এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান,৮০ হাজার মেট্রিক টন ক্লিংকার দিয়ে প্রায় ২৬ লাখ ৬৫ হাজার ৬৬৭ ব্যাগ সিমেন্ট তৈরী করে ডুপ্লিকেট মুসক চালানের মাধ্যমে বিক্রি করে সরকারের রাজস্ব ফাঁকি দিয়েছে শুধু ক্লিংকার থেকে প্রায় ২০ কোটি টাকা এছাড়া লাইমস্টোন, জিপসাম, স্লাগ ও ফ্লাই এ্যাশ থেকে আরো ২০ কোটি টাকাসহ মোট ৪০ কোটি টাকার রাজস্ব ফাঁকি দেয়ার সংবাদ প্রকাশিত হলে তোলপাড় সৃষ্টি হয়  জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) নিয়ন্ত্রণাধীন বরিশাল কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট অফিসে। ইতিমধ্যে তারা খোজ খবর নিতে শুরু করেছেন ভ্যাট ফাঁকি ও অতিরিক্ত রেয়াতের বিষয়ে।   হতাশ কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা   ঈদুল ফিতরের বোনাসসহ বেতন বাকি তিন মাসের।ঈদুল আজহা আসন্ন।এখনো বকেয়া বেতন ভাতা না পেযে হতাশ ও ক্ষুব্ধ। সম্প্রতি কর্মকর্তারাও কর্ম বিরতি পালন করে আসছেন।কেউ কেউ অভিযোগ করেছেন, বছরের পর বছর কাজ করেও এখন বেতন ও পাওনা বুঝে পাচ্ছেন না। এতে কয়েক হাজার মানুষের জীবিকা অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।দীর্ঘদিন ধরে কর্মরত অনেক শ্রমিক-কর্মচারী ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তায় মানবেতর পরিস্থিতিতে দিন কাটাচ্ছেন।  ব্যাগ উৎপাদন ইউনিট অলিম্পিক ফাইবার লিমিটেডও এপ্রিলের শেষ দিক থেকে বন্ধ রয়েছে। শ্রমিক ইউনিয়নের নেতারা জানিয়েছেন, কয়েক দফা ছুটি বাড়ানোর পরও এখন পর্যন্ত উৎপাদন শুরু হয়নি।   দুদকের নজরে বিদেশে অর্থ পাচারের অভিযোগ প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে বিদেশে অর্থ পাচারের অভিযোগও উঠেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, সিমেন্ট তৈরির কাঁচামাল আমদানির ক্ষেত্রে এলসি ভ্যালু বাড়িয়ে এবং আন্ডার-ইনভয়েসিংয়ের মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ অর্থ বিদেশে পাচার করা হয়েছে। দুদকের একটি সূত্র জানিয়েছে, দুবাই, যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্রে বাড়ি, ফ্ল্যাট ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান কেনার বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের কাছে ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে। প্রাথমিক অনুসন্ধানে অবৈধ অর্থ পাচারের ইঙ্গিত পাওয়ায় ইতোমধ্যে নোটিশও দেয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।   বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন, বন্ধ উৎপাদন   গত ১৪ মে তিন কোটির বেশি টাকার বকেয়া বিদ্যুৎ বিলের কারণে এ্যাংকর সিমেন্ট কারখানার বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে বিদ্যুৎ বিভাগ। ওজোপাডিকোর বরিশাল বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগের এক কর্মকর্তা বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। বিদ্যুৎ ও পানির সরবরাহ বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর পুরো কারখানা কার্যত অচল হয়ে পড়ে। কাঁচামালের সংকট, শ্রমিক অসন্তোষ এবং আর্থিক অনিশ্চয়তার কারণে উৎপাদন পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে।   ব্যাংক ঋণের চাপ ও আর্থিক সংকট অলিম্পিক সিমেন্ট, অলিম্পিক ফাইবার এবং অলিম্পিক শিপিং লাইন্সে অর্থায়নকারী একাধিক ব্যাংক ঋণ আদায়ে চাপ বাড়িয়েছে। ইসলামী ব্যাংক, ন্যাশনাল ব্যাংক, মার্কেন্টাইল ব্যাংক, এনসিসি ব্যাংক এবং উত্তরা ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা অভিযোগ করেছেন, দীর্ঘদিন ধরে ঋণের কিস্তি পরিশোধ করা হচ্ছে না। এমনকি ব্যাংক প্রতিনিধিদের সঙ্গে দেখা করতেও অনীহা দেখাচ্ছে প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষ।   আরও পড়ুন: এ্যাংকর সিমেন্টে ৪০ কোটি টাকার ভ্যাট ফাঁকির অভিযোগ : বন্ধ হতে যাচ্ছে এ্যাংকর সিমেন্ট ফ্যাক্টরী বরিশালে এ্যাংকর সিমেন্ট ফ্যাক্টরী বন্ধ হতে যাচ্ছে : বাড়ছে পাওনাদারদের ভিড়,গা ঢাকা দিয়েছে  এ্যাংকর সিমেন্টের বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন, আর্থিক সংকট,উৎপাদন বন্ধ ,       ডিলার-রিটেইলারদের ক্ষোভ   অগ্রিম অর্থ নিয়েও সিমেন্ট সরবরাহ না করায় দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের ডিলার ও রিটেইলারদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। গোপালগঞ্জ, মাদারীপুর, রাজশাহী, সাতক্ষীরা, কুষ্টিয়া ও মেহেরপুরসহ বিভিন্ন জেলার ব্যবসায়ীরা লাখ লাখ টাকার পাওনা আদায়ে এখন প্রতিষ্ঠানটির অফিস ও কারখানার সামনে ভিড় করছেন। অনেকেই অভিযোগ করেছেন, কমিশনের লোভ দেখিয়ে বিপুল অগ্রিম অর্থ নেয়া হলেও এখন না মিলছে সিমেন্ট, না ফেরত দেয়া হচ্ছে টাকা।   গুণগত মান নিয়েও প্রশ্ন   প্রতিষ্ঠানটির সাবেক ও বর্তমান কয়েকজন কর্মকর্তা অভিযোগ করেছেন, উৎপাদন ব্যয় কমাতে সিমেন্টে ক্লিংকারের ব্যবহার কমিয়ে লাইমস্টোন ও ফ্লাই অ্যাশের পরিমাণ বাড়ানো হয়েছে। তাদের দাবি, এতে এ্যাংকর সিমেন্টের গুণগত মান আগের তুলনায় কমে গেছে এবং বাজারে ক্রেতাদের আস্থাও নষ্ট হয়েছে।   পরিবেশ দূষণের অভিযোগ কারখানাটির বিরুদ্ধে পরিবেশ দূষণের অভিযোগও রয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, সিমেন্ট কারখানার ধুলাবালির কারণে আশপাশের পরিবেশ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। অভিযোগ রয়েছে, প্রতিবছর পরিবেশ ছাড়পত্র নবায়নের ক্ষেত্রেও অনিয়ম হয়েছে। যদিও এসব অভিযোগের বিষয়ে প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। এ ব্যাপারে বরিশাল পরিবেশ অধিদপ্তরের পরিচালক মুহাম্মদ মুজাহিদুল ইসলাম বলেন, ৬ মাস আগে এ্যাংকর সিমেন্ট ফ্যাক্টরীতে অভিযান পরিচালনা করে ৬ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়।   নীরব প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষ   অভিযোগের বিষয়ে জানতে এ্যাংকর সিমেন্টের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তারা ফোন রিসিভ করেননি। প্রতিষ্ঠানটির অভ্যন্তরীণ এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “যেখানে বিদ্যুৎ বিলই পরিশোধ করা যাচ্ছে না, সেখানে ডিলারদের অগ্রিম টাকা ফেরত দেয়া বা নতুন করে সিমেন্ট সরবরাহ করা এখন প্রায় অসম্ভব।”   ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে একসময়কার সফল ব্র্যান্ড একসময় গুণগত মান, সঠিক ওজন, দ্রুত সরবরাহ এবং বিক্রয়োত্তর সেবার কারণে বাজারে শক্ত অবস্থান তৈরি করেছিল এ্যাংকর সিমেন্ট। তবে অনিয়ম, আর্থিক দুর্বলতা এবং ব্যবস্থাপনার সংকটের কারণে এখন প্রতিষ্ঠানটি কার্যত অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে। ব্যাংক ঋণ, পাওনাদারদের চাপ, উৎপাদন বন্ধ এবং তদন্ত সংস্থাগুলোর নজরদারির মধ্যে প্রতিষ্ঠানটির ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে সংশ্লিষ্ট মহলে।   ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত   এ্যাংকর সিমেন্ট ফ্যাক্টরীটি ভাড়া বা বিক্রির জন্য বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে বলেও একাধিক সূত্র জানিয়েছে। তবে পরিবেশগত ঝুঁকি ও আর্থিক দায়ের কারণে কেউ দায়িত্ব নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছে না। বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান ও পরিচালকদের অবস্থান নিয়েও বিভ্রান্তি রয়েছে। কারখানা কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে তাদের বিদেশে থাকার কথা বলা হলেও একাধিক সূত্র দাবি করছে, তারা দেশেই অবস্থান করছেন। সব মিলিয়ে, একসময় সফল শিল্পপ্রতিষ্ঠান হিসেবে পরিচিত এ্যাংকর সিমেন্ট এখন টিকে থাকার কঠিন সংকটের মুখে দাঁড়িয়ে আছে।     আগামী পর্বে থাকছে ------ ▪️অযোগ্য কর্মকর্তা ও কর্মচারী নিয়োগ নেপথ্যে করপোরেটে নিলা ও ফ্যক্টরীতে শাহেদ উদ্দিন।  ▪️ধ্বংসের দ্বার প্রান্তে অলিম্পিক সিমেন্ট, অলিম্পিক ফাইবার,অলিম্পিক শিপিং লাইনস লিমিটেড।  ▪️সহায় -সম্পত্তি জামানতের চেয়ে ব্যাংক ঋন পরিমান কত?।  ▪️কোম্পানী ধ্বংসের কারিগর  এমডি,ডিরেক্টর,এমডির পিস,ডিরেক্টরের পিএস,সিওও,সিএমও,ভ্যাট কর্মকর্তাসহ একাধিক কর্মকর্তা। ▪️অলিম্পিক সিমেন্ট লিমিটেড থেকে অনিয়ম, দুর্নীতির মাধ্যমে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনসহ টাকার পাহাড় গড়েছেন ব্যবস্থাপনা পরিচালকের পিএস নিলুফা ,পরিচালকের পিএস জুয়েল ইসলাম,মার্কেটিং প্রধান ইমাম ফারুকী,সেলস মার্কেটিং ম্যানেজার মেহেদী হাসান,ভ্যাট ব্যবস্থাপক মোস্তফা ও রিয়াজসহ একাধিক কর্মকর্তারা। এসব কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে  ব্যবস্থাপনা পরিচালককে অর্থ আত্মসাতে সহায়তাসহ বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতি করেছেন।  

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ১৮, ২০২৬ 0
সিআইডি
অনলাইন জুয়ার ১১৬ ওয়েবসাইট শনাক্ত, বন্ধে বিটিআরসিকে তালিকা দিল সিআইডি

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : বাংলাদেশে অনলাইন জুয়া ও সংশ্লিষ্ট অবৈধ আর্থিক কার্যক্রমের বিরুদ্ধে অভিযান জোরদার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। অনলাইন জুয়ার সঙ্গে জড়িত ১১৬টি ওয়েবসাইট শনাক্ত করে সেগুলো বন্ধের জন্য বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) কাছে তালিকা পাঠিয়েছে সংস্থাটি। রোববার (১৭ মে) সিআইডি সদর দপ্তরে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান সিআইডির অতিরিক্ত আইজিপি মোসলেহ্ উদ্দিন আহমেদ। সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, “গত ১ মে থেকে ১৭ মে পর্যন্ত পরিচালিত সাইবার পেট্রোলিং কার্যক্রমে অনলাইন জুয়ার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ১১৬টি ওয়েবসাইট শনাক্ত করা হয়েছে। সেগুলো ডাউন বা বন্ধ করার জন্য বিটিআরসিতে প্রয়োজনীয় তথ্য পাঠানো হয়েছে।” এসময় অনলাইন জুয়ার সাইট পরিচালনার মাধ্যমে বিদেশে কোটি কোটি টাকা পাচারের অভিযোগে একটি চক্রের আট সদস্যকে গ্রেফতারের তথ্যও তুলে ধরা হয়। সিআইডি জানায়, অনলাইন জুয়া ও সংশ্লিষ্ট অবৈধ আর্থিক কার্যক্রম প্রতিরোধে নিয়মিত সাইবার মনিটরিং চালানো হচ্ছে। একই সঙ্গে অপরাধচক্রের অন্যান্য সদস্যদের শনাক্ত, আর্থিক লেনদেনের উৎস অনুসন্ধান এবং পূর্ণাঙ্গ তথ্য উদঘাটনে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। কর্তৃপক্ষ বলছে, ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে পরিচালিত জুয়ার নেটওয়ার্ক ও অর্থ পাচারের প্রবণতা মোকাবিলায় প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি আরও জোরদার করা হবে।

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ১৭, ২০২৬ 0
মোরশেদ আলম খান
২১ হাজার কোটি টাকার অনিয়মের অভিযোগে তোলপাড় বিদ্যুৎ খাত , কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে মোরশেদ আলম খানের নাম

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : বাংলাদেশের বিদ্যুৎ খাতের অন্যতম বড় বিতরণ সংস্থা ঢাকা পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড–এর একটি জিটুজি (গভর্নমেন্ট টু গভর্নমেন্ট) প্রকল্পকে ঘিরে প্রায় ২১ হাজার কোটি টাকার দুর্নীতি, অনিয়ম, অতিমূল্য নির্ধারণ ও অর্থ পাচারের অভিযোগে ব্যাপক আলোড়ন তৈরি হয়েছে। অভিযোগগুলোর অনুসন্ধানে নেমেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। তদন্তের কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে ডিপিডিসির নির্বাহী পরিচালক (প্রকৌশল) মোরশেদ আলম খানের নাম। দুদক সূত্র বলছে, ডিপিডিসির আওতাধীন এলাকায় বিদ্যুৎ বিতরণ ব্যবস্থা সম্প্রসারণ ও শক্তিশালীকরণ প্রকল্পের বিভিন্ন ধাপে ভয়াবহ আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, প্রকল্প বাস্তবায়নের নামে অস্বাভাবিক ব্যয় বৃদ্ধি, নির্দিষ্ট ঠিকাদারকে সুবিধা দেওয়া, ভুয়া বিল-ভাউচার তৈরি, কাজ সম্পন্ন না করেই বিল উত্তোলন এবং বিদেশে অর্থ পাচারের মতো কর্মকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে। তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দাবি, এসব অনিয়মের পেছনে ডিপিডিসির ভেতরে একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট সক্রিয় ছিল। সেই সিন্ডিকেটের অন্যতম প্রভাবশালী ব্যক্তি হিসেবে উঠে এসেছে মোরশেদ আলম খানের নাম। দুদকের চিঠি ও নথি গোপনের অভিযোগ গত ২৩ এপ্রিল দুদক ডিপিডিসিকে একটি আনুষ্ঠানিক চিঠি দিয়ে প্রকল্প-সংশ্লিষ্ট গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র জমা দিতে বলে। চিঠিতে বিদেশি ও দেশি ঠিকাদারদের সঙ্গে সম্পাদিত মূল ও সংশোধিত চুক্তিপত্র, টেন্ডার ডকুমেন্ট, আর্থিক বিবরণী, ব্যাংক স্টেটমেন্ট, পেমেন্ট ভাউচার এবং ক্রয়সংক্রান্ত নথি চাওয়া হয়। তবে অভিযোগ রয়েছে, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ডিপিডিসি পূর্ণাঙ্গ তথ্য সরবরাহ করেনি। তদন্তসংশ্লিষ্টরা এটিকে তথ্য গোপনের সম্ভাব্য প্রচেষ্টা হিসেবেও দেখছেন। টেন্ডার প্রক্রিয়ায় কারসাজির অভিযোগ দুদকের অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, প্রকল্পের বিভিন্ন কাজে টেন্ডার প্রক্রিয়া ছিল প্রশ্নবিদ্ধ। অভিযোগ অনুযায়ী, প্রতিযোগিতামূলক দরপত্র আহ্বানের পরিবর্তে পূর্বনির্ধারিত কিছু প্রতিষ্ঠানকে কাজ পাইয়ে দেওয়া হয়েছে। তদন্তকারীদের ভাষ্য, প্রকৌশল বিভাগে মোরশেদ আলম খানের প্রভাব এতটাই বিস্তৃত ছিল যে কোন প্রতিষ্ঠান কাজ পাবে আর কোনটি বাদ পড়বে—তা অনেকাংশেই নির্ধারিত হতো তার সিদ্ধান্তে। অভিযোগ রয়েছে, নির্দিষ্ট কিছু ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের জন্য টেন্ডারের শর্তও বিশেষভাবে সাজানো হয়েছিল। বিনিময়ে কমিশন গ্রহণের অভিযোগও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ওভার ইনভয়েসিং ও অর্থ পাচারের সন্দেহ তদন্তে উঠে এসেছে, বিদেশ থেকে আমদানিকৃত যন্ত্রপাতির প্রকৃত মূল্যের তুলনায় কয়েকগুণ বেশি দাম দেখানো হয়েছে। অনুসন্ধানকারীরা ধারণা করছেন, ওভার ইনভয়েসিংয়ের মাধ্যমে বিপুল অর্থ বিদেশে পাচার করা হয়ে থাকতে পারে। যেহেতু প্রকল্পটি জিটুজিভিত্তিক, তাই আন্তর্জাতিক আর্থিক লেনদেনের সুযোগ ব্যবহার করে অর্থ পাচারের পথ সহজ করা হয়েছিল বলেও সন্দেহ করছে দুদক। তদন্তসংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, কিছু ক্ষেত্রে প্রকল্পে যেসব সরঞ্জাম আমদানির দাবি করা হয়েছে, বাস্তবে সেগুলোর পরিমাণ ছিল অনেক কম। আবার কিছু যন্ত্রপাতির মান নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। অথচ বিল পরিশোধ করা হয়েছে আন্তর্জাতিক মানের পণ্যের দামে। মাঠপর্যায়ে মিলেনি প্রকল্পের কাজ দুদকের অনুসন্ধানে আরও উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য। প্রকল্পের কিছু কাজ কাগজে শতভাগ সম্পন্ন দেখানো হলেও বাস্তবে তার অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি। মাঠপর্যায়ের তদন্তে কোথাও সাবস্টেশন নির্মাণ অসম্পূর্ণ, কোথাও বিদ্যুৎ লাইন স্থাপন হয়নি, আবার কোথাও যন্ত্রপাতি স্থাপনের তথ্য থাকলেও বাস্তবে তা অনুপস্থিত পাওয়া গেছে। কিন্তু এসব কাজের বিপরীতে পুরো বিল উত্তোলন করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। তদন্তকারীদের ধারণা, ভুয়া বিল-ভাউচার ও জাল নথিপত্র ব্যবহার করে শত শত কোটি টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে। “অদৃশ্য বলয়” ও ক্ষমতার নেটওয়ার্ক ডিপিডিসির একাধিক অভ্যন্তরীণ সূত্র দাবি করেছে, দীর্ঘদিন ধরেই প্রকৌশল বিভাগের নিয়ন্ত্রণ নিজের হাতে কেন্দ্রীভূত করেছিলেন মোরশেদ আলম খান। গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পে তার অনুমোদন ছাড়া কোনো সিদ্ধান্ত কার্যকর হতো না। বিদ্যুৎ খাত সংশ্লিষ্ট কয়েকজন কর্মকর্তার অভিযোগ, ডিপিডিসিতে একটি “অদৃশ্য বলয়” তৈরি হয়েছিল, যেখানে কিছু প্রভাবশালী কর্মকর্তা ও ঠিকাদার মিলে কোটি কোটি টাকার প্রকল্প নিয়ন্ত্রণ করতেন। অভিযোগ রয়েছে, নিজের ঘনিষ্ঠদের গুরুত্বপূর্ণ পদে বসিয়ে একটি শক্তিশালী নেটওয়ার্ক গড়ে তোলা হয়েছিল, যার মাধ্যমে প্রকল্পের আর্থিক ও কারিগরি সিদ্ধান্ত নিয়ন্ত্রিত হতো। ব্যক্তিগত সম্পদও তদন্তের আওতায় দুদক এখন শুধু প্রকল্প দুর্নীতিই নয়, মোরশেদ আলম খানের ব্যক্তিগত সম্পদের বিষয়টিও খতিয়ে দেখছে। তদন্তকারীরা তার ব্যাংক হিসাব, স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি, বিদেশ সফর, পরিবারের সদস্যদের নামে থাকা সম্পদ এবং আর্থিক লেনদেনের তথ্য সংগ্রহ করছেন। আয় ও সম্পদের মধ্যে কোনো অসামঞ্জস্য রয়েছে কি না, সেটিও যাচাই করা হচ্ছে। দুদক সূত্রে জানা গেছে, কয়েকটি ব্যাংক হিসাবের লেনদেনকে সন্দেহজনক মনে হয়েছে। বিশেষ করে প্রকল্পের বিল ছাড়ের সময়ের সঙ্গে কিছু আর্থিক লেনদেনের মিল পাওয়া গেছে বলে তদন্তকারীদের ধারণা। বিদ্যুৎ খাতে দীর্ঘদিনের অস্বচ্ছতা বিদ্যুৎ খাত বিশ্লেষকদের মতে, গত এক দশকে হাজার হাজার কোটি টাকার প্রকল্প বাস্তবায়িত হলেও সেবার মান সেই অনুপাতে উন্নত হয়নি। বরং একই ধরনের প্রকল্পে আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের তুলনায় কয়েকগুণ বেশি ব্যয় দেখানোর অভিযোগ বহুদিনের। বিশেষজ্ঞদের ভাষ্য, জিটুজি প্রকল্পে অনেক সময় স্বচ্ছতা কম থাকে। কারণ সরকার-টু-সরকার চুক্তির আড়ালে প্রতিযোগিতামূলক টেন্ডার প্রক্রিয়া সীমিত হয়ে যায়। এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে অসাধু কর্মকর্তা ও ঠিকাদারদের সিন্ডিকেট গড়ে ওঠে। ডিপিডিসির প্রকল্পেও একই ধরনের কৌশল প্রয়োগ করা হয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। “ভিন্নমত দমন” ও প্রশাসনিক চাপের অভিযোগ ডিপিডিসির একাধিক সাবেক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, প্রকল্পের বিভিন্ন পর্যায়ে অনিয়ম নিয়ে প্রশ্ন তুললে কর্মকর্তাদের প্রশাসনিক চাপ ও বদলির মুখে পড়তে হতো। ফলে অনেক কর্মকর্তা অনিয়ম দেখেও নীরব থাকতেন বলে অভিযোগ উঠেছে। কী বলছে দুদক দুদকের উপপরিচালক (জনসংযোগ) আকতারুল ইসলাম জানিয়েছেন, ডিপিডিসির বিভিন্ন প্রকল্পে দুর্নীতির অভিযোগের অনুসন্ধান চলছে এবং তদন্ত শেষে কমিশনে প্রতিবেদন জমা দেওয়া হবে। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে এখন পর্যন্ত আদালতে কোনো অভিযোগ প্রমাণিত হয়নি। সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য অনুযায়ী, তদন্ত চলমান এবং অভিযুক্তদের আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ রয়েছে। বিদ্যুৎ খাতের জন্য বড় সতর্কবার্তা বিশ্লেষকদের মতে, ডিপিডিসির ২১ হাজার কোটি টাকার প্রকল্প ঘিরে ওঠা অভিযোগ শুধু একটি প্রতিষ্ঠানের সংকট নয়; এটি দেশের বিদ্যুৎ খাতের শাসনব্যবস্থা, আর্থিক স্বচ্ছতা এবং প্রশাসনিক জবাবদিহিতার ওপর বড় ধরনের প্রশ্ন তুলে দিয়েছে। তাদের মতে, শুধু তদন্ত করলেই হবে না—প্রকল্প অনুমোদন থেকে বাস্তবায়ন পর্যন্ত পুরো ব্যবস্থায় সংস্কার আনতে হবে। নইলে রাষ্ট্রীয় অর্থ অপচয় ও দুর্নীতির এই চক্র থামানো কঠিন হবে।

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ১২, ২০২৬ 0
এস আলম
ব্যাংক খাতে আস্থার টানাপোড়েন:এস আলম ফেরার খবরে গ্রাহকদের মধ্যে অস্থিরতা

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : ৫ আগস্ট ২০২৪-এর ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের পর আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের প্রেক্ষাপটে দেশের ব্যাংকিং খাতের গভীর সংকট সামনে আসতে শুরু করে। একের পর এক তথ্য প্রকাশ পেতে থাকে, যা আর্থিক খাতের দীর্ঘদিনের অনিয়ম, দুর্নীতি এবং ব্যবস্থাপনার দুর্বলতাকে স্পষ্ট করে তোলে। বিশেষ করে চট্টগ্রামভিত্তিক ব্যবসায়ী গোষ্ঠী এস আলমসহ রাজনৈতিক প্রভাবপুষ্ট বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান ব্যাংক থেকে ঋণের নামে বিপুল পরিমাণ অর্থ অনিয়মের মাধ্যমে তুলে নিয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এর ফলে এক ডজনেরও বেশি ব্যাংক মারাত্মক আর্থিক সংকটে পড়ে। বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংক বাংলাদেশ ব্যাংক–এর তথ্য অনুযায়ী, এসব ব্যাংকের বড় অংশেই খেলাপি ঋণের হার অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যায়। মূলধন ঘাটতি ও তারল্য সংকটের কারণে অনেক ব্যাংক আমানতকারীদের টাকা ফেরত দিতে ব্যর্থ হয়। এতে গ্রাহকদের মধ্যে অসন্তোষ, আতঙ্ক এবং আস্থাহীনতা তৈরি হয়। কোথাও কোথাও ব্যাংক কর্মকর্তা ও গ্রাহকদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটে। অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর কিছু সংস্কারমূলক পদক্ষেপের মাধ্যমে পরিস্থিতি আংশিকভাবে স্থিতিশীল হয়। তবে সম্প্রতি পাস হওয়া ‘ব্যাংক রেজুলেশন অধ্যাদেশ-২০২৬’ নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। এই আইনের আওতায়, পূর্বে একীভূত বা পুনর্গঠনের আওতায় আসা ব্যাংকের পুরনো শেয়ারহোল্ডাররা নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ সাপেক্ষে পুনরায় মালিকানা ফিরে পাওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন। এর মধ্যে রয়েছে—সরকার ও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের দেওয়া অর্থ ফেরত, নতুন মূলধন সংযোজন, আমানতকারীদের দায় পরিশোধ, কর পরিশোধ এবং ক্ষতিগ্রস্তদের ক্ষতিপূরণ প্রদান। এছাড়া প্রাথমিকভাবে সরকারের দেওয়া অর্থের অন্তত ৭.৫০ শতাংশ পে-অর্ডার হিসেবে জমা এবং বাকি অর্থ দুই বছরের মধ্যে সুদসহ ফেরত দেওয়ার বিধান রাখা হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের একটি অংশ মনে করছেন, এই বিধান বাস্তবে বিতর্কিত ব্যবসায়ী গোষ্ঠীগুলোর পুনরায় ব্যাংক খাতে ফিরে আসার পথ তৈরি করতে পারে। এ নিয়ে সাধারণ গ্রাহকদের মধ্যেও উদ্বেগ বাড়ছে। ঢাকার এক গ্রাহক মুনিরা শাহরিন বলেন, নতুন আইনের খবর শুনে তিনি ব্যাংক থেকে আমানত তুলে নেওয়ার কথা ভাবছেন। অতীতে টাকা তুলতে গিয়ে ভোগান্তির অভিজ্ঞতার কথাও জানান তিনি। একই ধরনের অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন রুবেল নামের আরেক গ্রাহক। তিনি বলেন, আগে একীভূত হওয়া একটি ব্যাংকে স্থায়ী আমানত (এফডিআর) রেখেছিলেন, কিন্তু টাকা ফেরত পেতে দীর্ঘ সময় লেগেছে। নতুন করে অনিশ্চয়তার কারণে তিনি তার আমানত তুলে নিচ্ছেন। এস আলম সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলোর অবস্থা এস আলম গ্রুপ–এর নিয়ন্ত্রণে থাকা কয়েকটি ব্যাংকের আর্থিক অবস্থা এখনো অত্যন্ত নাজুক বলে জানা গেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী: ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক: খেলাপি ঋণ ~৯৬.২০% সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক: ~৭০.১৭% ইউনিয়ন ব্যাংক: ~৯৬.৬৪% গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক: ~৯৫.৭০% বাংলাদেশ কমার্স ব্যাংক: ~৫১.৬৫% ন্যাশনাল ব্যাংক: ৫২% এর বেশি অন্যদিকে, দেশের বৃহৎ শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংক ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসি–এর মোট ঋণের অর্ধেকেরও বেশি বর্তমানে খেলাপিতে পরিণত হয়েছে।  অর্থ পাচারের অভিযোগ বাংলাদেশ ব্যাংকের তদন্তে উঠে এসেছে, এস আলম গ্রুপ ব্যাংক খাত থেকে প্রায় ২ লাখ ২৫ হাজার কোটি টাকার ঋণ জালিয়াতির সঙ্গে জড়িত। এর মধ্যে প্রায় ১ লাখ ২৫ হাজার কোটি টাকা বিদেশে পাচার করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এই পাচারের অন্যতম মাধ্যম ছিল ভুয়া এলসি (লেটার অব ক্রেডিট)। অভিযোগ রয়েছে, পণ্য আমদানির নামে এলসি খুলে অর্থ বিদেশে স্থানান্তর করা হয়, কিন্তু বাস্তবে পণ্য দেশে আনা হয়নি। বিশেষভাবে আলোচিত একটি ঘটনায় প্রায় ১৮ হাজার কোটি টাকা বিদেশে সরিয়ে নেওয়ার পর তা খেলাপি ঋণে পরিণত হয়। এছাড়া অফশোর ব্যাংকিং ব্যবস্থার অপব্যবহার করেও অর্থ পাচারের অভিযোগ রয়েছে।   ব্যাংক খাত পুনর্গঠনের লক্ষ্যে প্রণীত আইনগুলো একদিকে সংস্কারের সুযোগ তৈরি করলেও, অন্যদিকে বিতর্কিত গোষ্ঠীর পুনঃপ্রবেশের আশঙ্কা তৈরি করছে। এতে সাধারণ আমানতকারীদের মধ্যে আস্থার সংকট পুরোপুরি কাটেনি—বরং নতুন করে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ৪, ২০২৬ 0
ডা. ভাস্কর সাহা
গোয়েন্দা নজরদারিতে বরিশালের ডা. ভাস্কর সাহা : অর্থ পাচার, অবৈধ সম্পদ ও দেশত্যাগের শঙ্কা

বরিশাল অফিস :  বরিশালের শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ'র অবসরপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. ভাস্কর সাহাকে ঘিরে অর্থ পাচার, অবৈধ সম্পদ গঠন এবং সম্ভাব্য দেশত্যাগের পরিকল্পনা নিয়ে নানা মহলে আলোচনা বাড়ছে। সাম্প্রতিক সময়ে তার একটি মেডিকেল ভিসার আবেদনকে কেন্দ্র করে নতুন করে এসব প্রশ্ন সামনে এসেছে।সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, বিষয়টি এখন নজরে এসেছে গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর।ফলে তিনি রয়েছেন এখন গোয়েন্দা নজরদারীতে। অভিযোগের প্রেক্ষাপট বিভিন্ন সূত্রে দাবি করা হচ্ছে, ডা. সাহার পরিবারের সদস্যরা দীর্ঘদিন ধরে ভারতে বসবাস করছেন। একই সঙ্গে অভিযোগ উঠেছে, বাংলাদেশ থেকে অনানুষ্ঠানিক চ্যানেল—বিশেষ করে হুন্ডির মাধ্যমে ভারতে অর্থ স্থানান্তরের সঙ্গে তিনি জড়িত ।  বাংলাদেশে হুন্ডির মাধ্যমে অর্থ লেনদেন আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ। অর্থ পাচার প্রতিরোধ আইন অনুযায়ী, বৈধ ব্যাংকিং চ্যানেলের বাইরে অর্থ স্থানান্তর গুরুতর অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হয়। গোয়েন্দা নজরদারি সংবাদ প্রকাশের পর দেশের একটি শীর্ষ গোয়েন্দা সংস্থা বিষয়টি নজরদারিতে নিয়েছে বলে জানা গেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, ডা. সাহার আর্থিক লেনদেন, সম্পদ গঠন এবং বিদেশে অর্থ স্থানান্তরের সম্ভাব্য পথগুলো খতিয়ে দেখা হচ্ছে। একাধিক সূত্রের বরাতে জানা গেছে, একটি শীর্ষ গোয়েন্দা সংস্থা ইতোমধ্যে বিষয়টি নজরদারিতে নিয়েছে এবং ডা. সাহার আর্থিক লেনদেন ও সম্পদের বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ শুরু করেছে। ঐ গোয়েন্দা সংস্থার এক কর্মকর্তা জানান,ডা. ভাস্কর সাহার ব্যাপারে সংবাদ প্রকাশিত হওয়ার পরে খোজখবর নেয়া শুরু করা হয়েছে।তিনি বলেন,অর্থ পাচার,হুন্ডির ব্যাপারে ইতিমধ্যে চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে।আসা করি পুরো প্রক্রিয়ার তদন্ত করতে আরো সময় লাগবে।  মেডিকেল ভিসা নিয়ে প্রশ্ন ডা. সাহার সাম্প্রতিক মেডিকেল ভিসা আবেদন নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। সমালোচকদের কেউ কেউ মনে করছেন, এটি দেশত্যাগের সম্ভাব্য প্রস্তুতির অংশ হতে পারে।   প্রতিক্রিয়া ও অবস্থান এই অভিযোগগুলোর বিষয়ে ডা. ভাস্কর সাহার সরাসরি প্রতিক্রিয়া এখনো পাওয়া যায়নি। সাংবাদিকরা তার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করছেন বলে জানা গেছে। তার বক্তব্য পাওয়া গেলে তা যুক্ত করা হবে। সচেতন মহল ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থাগুলোর প্রতি নজরদারি জোরদারের আহ্বান জানিয়েছে। তাদের মতে, এই মুহূর্তে কয়েকটি বিষয়কে অগ্রাধিকার দিয়ে বিবেচনা করা জরুরি। এর মধ্যে রয়েছে—ভিসা আবেদন ও ভ্রমণসংক্রান্ত তথ্য পর্যবেক্ষণ, তার আর্থিক লেনদেনের উৎস অনুসন্ধান, ব্যাংক হিসাবের তথ্য যাচাই, দেশে ও বিদেশে সম্পদের প্রকৃত অবস্থা নিরূপণ এবং প্রয়োজনে আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এ ধরনের অভিযোগের ক্ষেত্রে নিরপেক্ষ তদন্ত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একই সঙ্গে, যদি অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়, তাহলে তা আইনের আওতায় আনা জরুরি। ডা. ভাস্কর সাহাকে ঘিরে ওঠা অভিযোগগুলো এখনো তদন্তাধীন । বিষয়টি নিয়ে জনমনে আগ্রহ বাড়লেও, তদন্তের অগ্রগতি পরিস্থিতিকে আরও পরিষ্কার করতে পারে।  

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ১৬, ২০২৬ 0
ডা. ভাস্কর সাহা
মেডিকেল ভিসার আড়ালে দেশত্যাগের প্রস্তুতি? ডা. ভাস্কর সাহাকে ঘিরে অর্থ পাচারের অভিযোগে নতুন উত্তাপ

বরিশাল অফিস :    বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. ভাস্কর সাহাকে ঘিরে অর্থ পাচার ও অবৈধ সম্পদ গঠনের অভিযোগ নতুন করে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, তিনি গত ৯ এপ্রিল একটি মেডিকেল ভিসার জন্য আবেদন করেছেন—যা সংশ্লিষ্ট মহলে তার সম্ভাব্য দেশত্যাগ নিয়ে উদ্বেগ আরও বাড়িয়ে তুলেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, ভিসা প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে তিনি স্থায়ীভাবে বিদেশে পাড়ি জমাতে পারেন। ইতোমধ্যে তার স্ত্রী ও সন্তানরা ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যে অবস্থান করছেন বলে জানা গেছে। এছাড়া তিনি নিজ বাসভবনের বাইরে বর্তমানে বরিশাল সদরে  একটি আবাসিক হোটেলে অবস্থান করছেন—যা তার চলাফেরায় গোপনীয়তার ইঙ্গিত দেয় বলে মনে করছেন অনেকে। অর্থ পাচারের অভিযোগ ডা. ভাস্কর সাহার বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে, তিনি একটি বেসরকারি চিকিৎসা প্রতিষ্ঠান “সাউথ অ্যাপোলো হাসপাতাল”-এর শেয়ার বিক্রি করে প্রায় দুই কোটি টাকা সংগ্রহ করেন এবং সেই অর্থ বিদেশে পাচার করেন। প্রাথমিকভাবে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, এই অর্থ ভারতের দিকে স্থানান্তর করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র দাবি করছে। সম্পদের বিস্তার ও বিক্রির উদ্যোগ  অনুসন্ধানে আরও জানা গেছে, বরিশাল শহরে তার মালিকানাধীন অন্তত তিনটি ফ্ল্যাট রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, এর মধ্যে দুটি বিক্রির প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে—যা সম্ভাব্য দেশত্যাগের প্রস্তুতির অংশ হতে পারে বলে মনে করছেন তদন্ত সংশ্লিষ্টরা। শুধু দেশেই নয়, ভারতের পশ্চিমবঙ্গের উত্তর ২৪ পরগনা জেলার বারাসাত এলাকাতেও তার নামে একাধিক বাড়ির তথ্য উঠে এসেছে বলে দাবি করা হচ্ছে।  এসব তথ্য  গুরুত্বসহকারে খতিয়ে দেখা প্রয়োজন বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। পারিবারিক নাগরিকত্ব ও অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন ডা. সাহার পরিবারের সদস্যদের নাগরিকত্ব, দীর্ঘদিন বিদেশে অবস্থান এবং সম্পদ অর্জনের উৎস নিয়েও নানা প্রশ্ন উঠছে। এসব বিষয় ভবিষ্যৎ তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। রাজনৈতিক যোগাযোগের ইঙ্গিত স্থানীয়ভাবে প্রচলিত রয়েছে, ডা. ভাস্কর সাহা সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ফুপাতো ভাই ও দক্ষিণাঞ্চলের প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব আবুল হাসনাত আবদুল্লাহর ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত। যদিও এই সম্পর্কের প্রভাব কতটুকু—তা নিয়ে স্পষ্ট কোনো প্রমাণ এখনো প্রকাশ্যে আসেনি। নজরদারি জোরদারের দাবি এমন পরিস্থিতিতে সচেতন মহল সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থাগুলোর প্রতি জরুরি ভিত্তিতে নজরদারি বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছে। তাদের মতে, কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ এখন অত্যন্ত জরুরি— ভিসা প্রক্রিয়ার ওপর কঠোর নজরদারি। সম্ভাব্য দেশত্যাগে নিয়ন্ত্রণমূলক ব্যবস্থা। অর্থের উৎস ও লেনদেনের পূর্ণাঙ্গ তদন্ত। বিদেশে সম্পদের সত্যতা যাচাই। প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা দ্রুত গ্রহণ।   সচেতন মহলের মতে, সময়মতো কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়া হলে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য-প্রমাণ হাতছাড়া হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। ফলে বিষয়টি শুধু ব্যক্তিগত অভিযোগের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে বৃহত্তর আর্থিক অনিয়মের চিত্রও উন্মোচন করতে পারে। ডা. ভাস্কর সাহাকে ঘিরে ওঠা অভিযোগ, তথ্য ও পরিস্থিতির প্রেক্ষাপট একটি পূর্ণাঙ্গ, স্বচ্ছ ও দ্রুত তদন্তের প্রয়োজনীয়তা স্পষ্ট করছে। সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সক্রিয়তা এখনই নির্ধারণ করতে পারে—এটি একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা, নাকি বড় কোনো আর্থিক জালিয়াতির অংশ।

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ১০, ২০২৬ 0
সংসদে সাউন্ড সিস্টেম
জাতীয় সংসদের সাউন্ড সিস্টেমে দুর্নীতি ও কোটি টাকার কারচুপি: আড়ালে প্রভাবশালী চক্র,জাহিদ মালেকের ভায়রার প্রতিষ্ঠান দায়ী!

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের অধিবেশন শুরু হতেই বারবার সামনে এসেছে সাউন্ড সিস্টেমের ত্রুটি। সংসদ কক্ষে মাইক্রোফোন বিকল, শব্দ বিকৃতি—এ যেন নিয়মিত ঘটনায় পরিণত হয়েছে। অথচ এই সিস্টেমই সম্প্রতি সংস্কার করা হয়েছিল। প্রশ্ন উঠেছে—তাহলে কোটি কোটি টাকা খরচ হলো কোথায়? দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) এখন বলছে, এই সংস্কারকাজ ঘিরেই হয়েছে বড় ধরনের অনিয়ম ও দুর্নীতি। বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) এক সংবাদ সম্মেলনে সংস্থাটির উপ-পরিচালক আক্তারুল ইসলাম তুলে ধরেন চাঞ্চল্যকর তথ্য। ভাঙচুরের পর সংস্কার—কিন্তু কার স্বার্থে? জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানে সংসদ ভবনে ভাঙচুরের পর প্লেনারি হলের সাউন্ড সিস্টেম ক্ষতিগ্রস্ত হয়। অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নিয়ে দ্রুত সংস্কারের উদ্যোগ নেয়। জরুরি ভিত্তিতে চালু করার প্রয়োজনীয়তা দেখিয়ে শুরু হয় কাজ। কিন্তু দুদকের অনুসন্ধানে উঠে এসেছে—এই “জরুরি কাজ” ছিল একটি সুপরিকল্পিত আর্থিক কারসাজির অংশ। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের আড়ালে প্রভাবশালী নেটওয়ার্ক অভিযোগ অনুযায়ী, প্রায় ৪ কোটি টাকার সংস্কারকাজ পায় একটি নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠান। কিন্তু বাস্তবে কাজটি সম্পন্ন করে ‘কমিউনিকেশন টেকনোলজি লিমিটেড’—যার সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক-এর ভায়রা জাহিদুর রহিম জোয়ারদার-এর। এছাড়া, এই প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সাবেক চিফ হুইপ নূরে আলম চৌধুরী লিটন-এর ঘনিষ্ঠতার অভিযোগও উঠেছে। দুদক বলছে, রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে কাজটি হাতিয়ে নেওয়া হয় এবং প্রকৃত ঠিকাদারি প্রক্রিয়া এড়িয়ে যাওয়া হয়। প্রকৌশলীদের যোগসাজশ গণপূর্ত অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী আনোয়ার হোসেন-এর বিরুদ্ধে সরাসরি সহযোগিতার অভিযোগ উঠেছে। দুদকের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রকৌশলীদের একটি অংশের সহায়তায় এই অনিয়ম সংঘটিত হয়। অভিযোগ আরও গুরুতর—বারবার চিঠি দিয়েও প্রয়োজনীয় নথিপত্র পাচ্ছে না দুদক। সর্বশেষ ৭ এপ্রিল প্রধান প্রকৌশলীর কাছে পুনরায় চিঠি পাঠানো হয়েছে, কিন্তু এখনো সাড়া মেলেনি। পুরোনো সিস্টেম, নতুন বিল তদন্তে জানা গেছে: সংসদ ভবনে আগে থেকেই স্থাপিত ছিল SURE ব্র্যান্ডের SIS System এই সিস্টেমের সমমানের প্রযুক্তি বর্তমানে বাজারে নেই তবুও “সংস্কার” নামে নতুন প্রাক্কলন তৈরি করা হয়েছে সবচেয়ে বিস্ময়কর তথ্য—  মেরামত, সংস্কার ও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য প্রাক্কলন ধরা হয়েছে প্রায় ৯ কোটি ৭০ লাখ টাকা অথচ বাস্তবে পুরোনো সিস্টেম সামান্য মেরামত করেই চালু করা হয়েছে বলে অভিযোগ। খরচের অজুহাত: ১১ লাখ টাকার ‘পরীক্ষা’ কমিউনিকেশন টেকনোলজি লিমিটেড শুধু কাজই নেয়নি, বরং: প্রকৌশলীদের যাতায়াত থাকা-খাওয়া সম্মানী এই খাতে ১১ লাখ ২৫ হাজার টাকা বরাদ্দ চেয়েছে। দুদকের মতে, এসব খরচও ছিল অস্বচ্ছ এবং অযৌক্তিক। বড় অভিযোগ: শত শত কোটি টাকা আত্মসাৎ ও পাচার দুদক জানিয়েছে, এই সাউন্ড সিস্টেম কেলেঙ্কারি কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। জাহিদুর রহিম জোয়ারদার-এর বিরুদ্ধে রয়েছে আরও বড় অভিযোগ: স্বাস্থ্যখাতে মেডিকেল সরঞ্জাম ক্রয়ে অনিয়ম ওভার ইনভয়েসিংয়ের মাধ্যমে বিদেশে অর্থ পাচার শত শত কোটি টাকা আত্মসাৎ এই পুরো প্রক্রিয়ায় রাজনৈতিক পরিচয় ও প্রভাব ব্যবহার করা হয়েছে বলে ধারণা করছে তদন্ত সংস্থা। সংসদে ত্রুটি, প্রশ্নে জবাব নেই সংসদের সদস্যরা প্রথম দিন থেকেই সাউন্ড সিস্টেমের ত্রুটি নিয়ে অভিযোগ জানিয়ে আসছেন। কিন্তু সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে কোনো কার্যকর ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি। এখন প্রশ্ন উঠছে— কোটি টাকা খরচের পরও কেন সিস্টেম অকার্যকর? কেন তথ্য গোপন করছে গণপূর্ত অধিদপ্তর? কারা এই দুর্নীতির নেপথ্যে?   দুদক বলছে, তদন্ত চলমান। আরও কর্মকর্তার সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেলে তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এই ঘটনায় স্পষ্ট হচ্ছে—সংসদের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানের প্রযুক্তিগত অবকাঠামোও দুর্নীতির জাল থেকে মুক্ত নয়। আর সেই জালের সুতো গিয়ে জড়াচ্ছে প্রভাবশালী রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে। সংসদে শব্দ শোনা যাচ্ছে না—কিন্তু দুর্নীতির প্রতিধ্বনি এখন স্পষ্ট। দুদক বলছে, তদন্ত এখনও চলমান। আরও কারও সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেলে তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এদিকে, সংসদের সদস্যরা এখনও সাউন্ড সিস্টেমের ত্রুটি নিয়ে অভিযোগ করে যাচ্ছেন—যা পুরো সংস্কার প্রক্রিয়ার কার্যকারিতা নিয়েই প্রশ্ন তুলছে। সংসদে সাউন্ড সিস্টেমে অনিয়মের অভিযোগ, ব্যবস্থা নেয়া হবে : চিফ হুইপ  জাতীয় সংসদের সাউন্ড সিস্টেমে গুরুতর অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছেন চিফ হুইপ মো. নূরুল ইসলাম মনি। তিনি বলেন, অভিযোগ অনুযায়ী, সাউন্ড ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে অদক্ষ প্রতিষ্ঠানকে কাজ দেওয়া, নির্ধারিত স্পেসিফিকেশনের সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ যন্ত্রপাতি সরবরাহ এবং দরপত্র প্রক্রিয়ায় ব্যাপক অনিয়ম হয়েছে। এ বিষয়ে দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। চলমান অধিবেশন ব্যাহত না করতে তা অধিবেশন শেষে কার্যকর করা হবে বলে তিনি জানান।

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ৯, ২০২৬ 0
গাজী হাফিজুর রহমান (লিকু)
শেখ হাসিনার সাবেক সহকারী একান্ত সচিব-২ গাজী হাফিজুর রহমান লিকুর সম্পদ রয়েছে বরিশালেও

মামুনুর রশীদ নোমানী,বরিশাল : গাজী হাফিজুর রহমান লিকু ওরফে লিকু গাজির উত্থান ও দুর্নীতির চিত্র একটি রূপকথার গল্পের মতো, যেখানে ক্ষমতার অপব্যবহার করে মাত্র কয়েক বছরে গড়ে তোলা হয়েছে বিপুল সম্পদের পাহাড়।  টেকনাফ  থেকে তেতুলিয়া,ঢাকা থেকে বরিশাল। কাশিয়ানী  থেকে  কুয়াকাটা । খুলনা থেকে সিলেট।সকল স্থানেই রয়েছে লিকু গাজির সম্পদ। সাবেক প্রধানমন্ত্রীর অ্যাসাইনমেন্ট অফিসার হিসেবে নিয়োগের পর পিছু তাকাতে হয়নি। ছিলেন বিআরটিসির নিয়ন্ত্রকও।শেখ সেলিমের আশির্বাদে পেয়ে যান আলাদিনের চেরাগ।যখন তখন বিআরটিসির চেয়ারম্যানকে বাসায় তলব করতেন।ঢাকা-বরিশাল -ঢাকা  বিআরটিসির চলাচলরত বাসের আয় নিয়ে যেতেন নিয়মিত। বরিশাল বিআরটিসি ডিপোতে রেখেছিলেন আপন চাচাতো ভাইর পুত্র টিটু গাজি নামে একজন প্রতিনিধি।যেখানেই টাকা সেখানেই গাজী হাফিজুর রহমান লিকুর হাত।বরিশালের রুপাতলীতে গড়ে তুলেন এক বিশাল সাম্রাজ্য।এক একরের ওপরে ক্রয় করেন জমি ।নির্মান করেন ডুপ্লেক্স বাড়ি। এখানে যখন আসতেন তখন সাথে থাকতো বিশাল গাড়ি বহর।রাতভর চলতো নারীদের নৃত্য। মদের এক মিনিবারও গড়ে তুলেছিলেন এখানে। লিকু গাজি ২০২৪ সালের ৫ আগষ্টের পর পালিয়ে গেছেন।সেই সাথে থেমে গেছে বরিশালের বাড়িরও  কোলাহল। বাড়িটি এখন নিরব নিস্তব্ধ। চারদিকে দেয়াল দিয়ে ঘেরা বাড়িটির সন্ধান জানেনা দুদকসহ অনেকেই।বিভিন্ন স্থানে লিকু গাজির সহায় সম্পদ বাজেয়াপ্ত হলেও বরিশালের জমি ও বাড়ি বাজেয়াপ্ত হয়নি এখনো।                                                                                             লিকু ও স্ত্রী রহিমা আক্তার লিকুর হাজার কোটি টাকার সম্পদ: সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সহকারী একান্ত সচিব-২ গাজী হাফিজুর রহমান (লিকু)। ২০০৯ সালে প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের অ্যাসাইনমেন্ট অফিসার হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন। তারপর থেকেই আলাদিনের আশ্চর্য প্রদীপ হাতে পান। পরবর্তীতে তিনি এপিএস হিসাবে পদোন্নতি পেয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ে কাজ করার সুযোগ পেয়ে কমিশন বাণিজ্য এবং প্রভাব খাটিয়ে অবৈধ সম্পদের পাহাড় গড়েছেন গাজী হাফিজুর রহমান (লিকু)। মূল বেতন পাঁচ হাজার ১০০ টাকা দিয়ে শুরু। এরপর দুর্নীতি ও অনিয়মের আশ্রয় নিয়ে প্রায় হাজার কোটি টাকার মালিক হয়েছেন তিনি। শুধু নিজের নামে নয়; স্ত্রী, শ্যালক ও আত্মীয়-স্বজনের নামে বিঘার পর বিঘা জমি এবং ডজনখানেক বাড়ি নির্মাণ করেছেন। সরকার পরিবর্তনের পর যেগুলোর সন্ধান মিলছে। মূল বেতন পাঁচ হাজার ১০০ টাকা দিয়ে শুরু। এরপর দুর্নীতি ও অনিয়মের আশ্রয় নিয়ে প্রায় হাজার কোটি টাকার মালিক হয়েছেন তিনি। শুধু নিজের নামে নয়; স্ত্রী, শ্যালক ও আত্মীয়-স্বজনের নামে বিঘার পর বিঘা জমি এবং ডজনখানেক বাড়ি নির্মাণ করেছেন।নিজেকে আড়ালে রাখতে সব ধরনের ছলনার আশ্রয় নিয়েছেন তিনি। দালিলিকভাবে নিজ নামে সম্পদ কম দেখিয়ে বেনামে গড়ে তুলেছেন অধিকাংশ অবৈধ সম্পদ। এ ছাড়া ভিয়েতনামে শত কোটি টাকা পাচার করেছেন, শ্যালককে সেই দেশের ব্যবসায়ী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। বর্তমানে পালিয়ে শালা-দুলাভাই দেশটিতে বিলাসী জীবনযাপন করছেন। দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) গোয়েন্দা অনুসন্ধানেও তার বিরুদ্ধে কয়েক-শ কোটি টাকার অবৈধ সম্পদের দালিলিক প্রমাণ মিলেছে। বাস্তবে যার মূল্য প্রায় হাজার কোটি টাকা। গোয়েন্দা অনুসন্ধানে প্রাথমিক প্রমাণ পাওয়ার পর আনুষ্ঠানিক অনুসন্ধান শুরু করেছে সংস্থাটি। সাবেক প্রধানমন্ত্রীর এপিএস-২ গাজী হাফিজুর রহমান লিকু ক্ষমতার অপব্যবহার করে অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে অঢেল সম্পদের মালিক হয়েছেন। গোয়েন্দা অনুসন্ধানে তার নিজ ও আত্মীয়-স্বজনের নামে-বেনামে বিপুল সম্পদের প্রমাণ পাওয়ায় কমিশন থেকে প্রকাশ্যে অনুসন্ধানের জন্য অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। আয়কর ফাইলে সর্বশেষ ২০২৩-২৪ করবর্ষে মূল বেতন ৬৭ হাজার ১০ টাকা, নিট আয় নয় লাখ পাঁচ হাজার ৪৪৪ টাকা এবং নিট সম্পদ এক কোটি চার লাখ ৮৭ হাজার টাকা দেখিয়েছেন। আয়কর রিটার্নের বাইরে স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংকে ৬০ লাখ ২১ হাজার ২৮৮ টাকার সন্ধান পাওয়া গেছে। যার মধ্যে ২০২৩ সালের ২৫ জুন স্ত্রী রহিমা আক্তারের নামে ৫০ লাখ টাকা স্থানান্তর করা হয়েছে। এ ছাড়া মেটলাইফ এলিকোতে ২৮ লাখ টাকার পলিসির সন্ধান পেয়েছে দুদক লিকু প্রথম আয়কর প্রদান করেন ২০০৯-২০১০ করবর্ষে। তার আয়কর ফাইলে সর্বশেষ ২০২৩-২৪ করবর্ষে মূল বেতন ৬৭ হাজার ১০ টাকা, নিট আয় নয় লাখ পাঁচ হাজার ৪৪৪ টাকা এবং নিট সম্পদ এক কোটি চার লাখ ৮৭ হাজার টাকা দেখিয়েছেন। আয়কর রিটার্নের বাইরে স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংকে ৬০ লাখ ২১ হাজার ২৮৮ টাকার সন্ধান পাওয়া গেছে। যার মধ্যে ২০২৩ সালের ২৫ জুন স্ত্রী রহিমা আক্তারের নামে ৫০ লাখ টাকা স্থানান্তর করা হয়েছে। এ ছাড়া মেটলাইফ এলিকোতে ২৮ লাখ টাকার পলিসির সন্ধান পেয়েছে দুদক। লিকুর স্ত্রী রহিমা আক্তারের নামে গোপালগঞ্জ জেলার কাশিয়ানী থানাধীন রামদিয়াতে ‘মেসার্স রাফি অ্যাগ্রো অ্যান্ড ফিশারিজ’ নামের প্রতিষ্ঠান রয়েছে। যার জমির পরিমাণ ৪৭১ শতাংশ এবং দালিলিক মূল্য প্রায় দুই কোটি টাকা রাজধানী ঢাকা শহরের মোহাম্মদপুর থানাধীন বসিলায় ‘মধু সিটিতে’ এক বিঘা জমির ওপর ছয়তলা ভবন নির্মাণ করেছেন লিকু। যার মূল্য কোটি টাকা। এ ছাড়া ঢাকার আদাবরের ৬ নম্বর রোডের ৫৮৩ নম্বর বাড়ির এ-৬ ফ্ল্যাটটি তার স্ত্রী রহিমা আক্তারের নামে। ওই বাড়ির মালিক নজরুল ইসলাম রহিমা আক্তারের বন্ধু বলে জানা গেছে। ২৫ মিতালী রোড, আনোয়ার ল্যান্ডমার্ক, ধানমন্ডি, ঢাকায় লিকুর বেনামে আরও একটি ফ্ল্যাটের সন্ধান মিলেছে। স্ত্রী ও অন্যদের নামে অর্ধডজন প্রাইভেট গাড়ি ও মাইক্রোবাসের খোঁজ পাওয়া গেছে। খুলনা-ঢাকা-সাতক্ষীরা-গোপালগঞ্জ রুটে ‘ওয়েলকাম এক্সপ্রেস’ নামে ৪২টি যাত্রীবাহী পরিবহন চলাচল করছে। এর মধ্যে সাতটি গাড়ি তিনি বিক্রি করে দিয়েছেন। গাড়িগুলো টুঙ্গিপাড়া উপজেলার কালু ও তার যৌথ মালিকানায় পরিচালিত হচ্ছে। প্রতিটি গাড়ির মূল্য প্রায় ৫০ লাখ টাকা। এ ছাড়া ঢাকা মহানগরে ওয়েলকাম বাস সার্ভিসেও তার শেয়ার রয়েছে। গোপালগঞ্জ পৌরসভার ১৩ নম্বর ওয়ার্ডের সোনাকুড় নিলের মাঠের পাশে ১৩ শতাংশ জমির ওপর শ্যালক শেখ মো. ইকরাম ওরফে হালিম মোল্লার নামে (বেনামে) ১০তলা কমার্শিয়াল ও আবাসিক ভবন নির্মাণ করেছেন। যা ‘স্বর্ণা টাওয়ার’ নামে পরিচিত। জানা যায়, হালিম মোল্লা তার স্ত্রী স্বর্ণা খানমের নামে এটি গড়েছেন অনুসন্ধানে আরও দেখা গেছে, গোপালগঞ্জ জেলার কোটালীপাড়া থানাধীন কুশলা ইউনিয়নসহ গোপালগঞ্জ সদর থানাধীন কাজুলিয়া গ্রামে ৪০০ বিঘা জমিতে মৎস্যঘের রয়েছে। এ ছাড়া গোপালগঞ্জ জেলার সদর থানাধীন থানাপাড়া রোডে পৈত্রিক জমিতে পাঁচতলা ভবন নির্মাণ করেছেন। যার মূল্য দুই কোটি টাকা। জানা যায়, লিকুর শ্যালক শেখ মো. ইকরাম ওরফে হালিম মোল্লা। তিনি গার্মেন্টস ব্যবসার আড়ালে মূলত হুন্ডি ব্যবসা করতেন। হুন্ডির মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা তিনি বিদেশে পাচার করেছেন। তিনি ভিয়েতনামে বসবাস করেন। গাজী হাফিজুর রহমান লিকুর সব অবৈধ অর্থ বৈধ করার কাজে তিনি সহযোগিতা করেন। দুদকের গোয়েন্দা অনুসন্ধানে বিষয়টি বেরিয়ে এসেছে। নিজ বাড়ির পাশে থানাপাড়া রোডে অনির্বাণ স্কুলের দক্ষিণ পাশে ছয়তলা ভবন নির্মাণ করেছেন লিকু। সেখানে তার শ্বশুর-শাশুড়ি বসবাস করছেন। গোপালগঞ্জ পৌরসভার ১৩ নম্বর ওয়ার্ডের সোনাকুড় নিলের মাঠের পাশে ১৩ শতাংশ জমির ওপর শ্যালক শেখ মো. ইকরাম ওরফে হালিম মোল্লার নামে (বেনামে) ১০তলা কমার্শিয়াল ও আবাসিক ভবন নির্মাণ করেছেন। যা ‘স্বর্ণা টাওয়ার’ নামে পরিচিত। জানা যায়, হালিম মোল্লা তার স্ত্রী স্বর্ণা খানমের নামে এটি গড়েছেন। লিকুর সেজ ভাই গাজী মুস্তাফিজুর রহমান দিপুর নামে পটুয়াখালীর কুয়াকাটার লাইট হাউজের পাশে ‘ওশান ব্লু’ নামের রিসোর্ট রয়েছে। এটি মূলত গড়েছেন লিকু। সেখানে সাবেক ডিএমপি কমিশনার হাবিবুর রহমানেরও শেয়ার রয়েছে বলে জানা গেছে অনুসন্ধানে দেখা গেছে, লিকুর সেজ ভাই গাজী মুস্তাফিজুর রহমান দিপুর নামে পটুয়াখালীর কুয়াকাটার লাইট হাউজের পাশে ‘ওশান ব্লু’ নামের রিসোর্ট রয়েছে। এটি মূলত গড়েছেন লিকু। সেখানে সাবেক ডিএমপি কমিশনার হাবিবুর রহমানেরও শেয়ার রয়েছে বলে জানা গেছে। অন্যদিকে, গোপালগঞ্জ সদর থানাধীন পৌরসভার ১৫ নম্বর ওয়ার্ডের উত্তর গোবরা নামক স্থানে লিকুর শ্যালক হালিম মোল্লার শ্যালক রিপন ফকিরের নামে ১৫ শতক জমিতে আলিশান ডুপ্লেক্স বাড়ির সন্ধান মিলেছে। একই ওয়ার্ডে হালিম মোল্লার অপর শ্যালক মিল্টন ফকিরের নামে তিনতলা বাড়ি এবং ১০ নম্বর ওয়ার্ডের সোনাকুড় নামক স্থানে নিলের মাঠের পাশে ১০ শতাংশ জায়গায় একতলা বাড়ির সন্ধান পাওয়া গেছে। লিকুর আপন ছোট ভাই গাজী শফিকুর রহমান ছোটনের নামে গোপালগঞ্জ পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডে ২২ শতাংশ জমি, ১০ নম্বর ওয়ার্ডে শ্যালকের নামে সোয়া কোটি টাকার সাত কাঠা জমি, গোপালগঞ্জের বেদগ্রাম মোড়ে স্ত্রী রহিমা বেগমের নামে ৮ শতাংশ ও ১০ শতাংশ বসতভিটা, গোপালগঞ্জ পৌরসভার ১৩ নম্বর ওয়ার্ডে ১৫ বিঘা জমি, ভায়রাভাই ওমর আলীর নামে পৌরসভার ১১ নম্বর ওয়ার্ডে চারতলা বাড়ি ক্রয় করেছেন বলে দুদকের গোয়েন্দা অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে। লিকু গাজির বরিশালের বাড়ি                                                                                                                 ছবি - ইত্তেহাদ নিউজ   লিকু গাজির অনিয়ম ও দুর্নীতির বিবরণ: ১. শূন্য থেকে শতকোটিপতি ২০০৯ সালে মাত্র ৫,১০০ টাকা মূল বেতনের অ্যাসাইনমেন্ট অফিসার হিসেবে যাত্রা শুরু করেছিলেন লিকু। পরবর্তীতে সাবেক প্রধানমন্ত্রীর সহকারী একান্ত সচিব-২  হওয়ার পর তার সম্পদ অবিশ্বাস্য গতিতে বাড়তে থাকে। বর্তমানে তার বিরুদ্ধে কয়েকশ কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ রয়েছে। ২. ব্যাংকিং লেনদেন ও অর্থ পাচার দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) তদন্তে তার এবং তার সহযোগীদের ব্যাংক হিসেবে প্রায় ১৫০ কোটি টাকার সন্দেহজনক লেনদেনের প্রমাণ মিলেছে। লিকু ও তার সংশ্লিষ্টদের নামে পরিচালিত ৩৩টি ব্যাংক হিসেবে প্রায় ১৪৪.৫৯ কোটি টাকা লেনদেনের তথ্য পাওয়া গেছে। দুদক তার বিরুদ্ধে অর্থ পাচার এবং অবৈধভাবে সম্পদ রূপান্তরের অভিযোগে পৃথক চারটি মামলা করেছে। ৩. বেনামী সম্পদের পাহাড় নিজের পরিচয় আড়াল করতে লিকু অধিকাংশ সম্পদ তার স্ত্রী, ভাই এবং আত্মীয়-স্বজনের নামে করেছেন: স্ত্রীর নামে সম্পদ: তার স্ত্রী রহিমা আক্তারের নামে প্রায় ২৩.২৫ কোটি টাকার অবৈধ সম্পদের খোঁজ পেয়েছে দুদক। রিসোর্ট ও মৎস্য ঘের: কুয়াকাটায় 'ওশান ব্লু' নামক রিসোর্ট এবং গোপালগঞ্জের কাশিয়ানীতে 'মেসার্স রফি এগ্রো অ্যান্ড ফিশারিজ'-এর নামে কয়েকশ বিঘা জমিতে মৎস্য ঘের গড়ে তুলেছেন। স্থাপনা: ঢাকার উত্তরা ও মোহাম্মদপুরে একাধিক ফ্ল্যাট এবং প্লট ছাড়াও গোপালগঞ্জে ১০ তলা বাণিজ্যিক ভবন ও বিলাসবহুল বাড়ি রয়েছে তার ও তার স্বজনদের নামে। ৪. আইনি পদক্ষেপ ও বর্তমান অবস্থা মামলা: ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে দুদক লিকু, তার স্ত্রী এবং স্বজনসহ মোট ১৫ জনের বিরুদ্ধে চারটি মামলা দায়ের করে। সম্পদ জব্দ: ২০২৫ সালের জুলাইয়ে আদালতের নির্দেশে তার উত্তরায় অবস্থিত ৩ কাঠার প্লট, গোপালগঞ্জের জমি এবং ব্যাংক হিসাব, ক্রেডিট কার্ড ও সঞ্চয়পত্র জব্দ করা হয়। দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা: দুর্নীতির অনুসন্ধান চলাকালীন লিকু ও তার স্ত্রীর ওপর আদালত দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিল। ক্ষমতার প্রভাব খাটিয়ে নিয়োগ বাণিজ্য, কমিশন গ্রহণ এবং প্রকল্পের অর্থ আত্মসাতের মাধ্যমেই লিকু এই বিশাল বিত্ত-বৈভবের মালিক হয়েছেন বলে দুদকের প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে। কে এই লিকু গাজি গাজী হাফিজুর রহমান লিকু সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সহকারী একান্ত সচিব-২  ছিলেন। তার বাড়ি গোপালগঞ্জ জেলায় এবং তিনি সাবেক ছাত্রনেতা হিসেবে পরিচিত ছিলেন।  রাজনৈতিক ক্যারিয়ার: তিনি গোপালগঞ্জ বঙ্গবন্ধু সরকারি কলেজ ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ও ভিপি এবং পরবর্তীতে জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। ২০০৯ সালে তিনি প্রধানমন্ত্রীর অ্যাসাইনমেন্ট অফিসার হিসেবে যোগ দিয়েছিলেন।২০১৯ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি তাকে প্রধানমন্ত্রীর সহকারী একান্ত সচিব-২ পদে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেওয়া হয়। ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে পুনরায় এই পদে তার নিয়োগ নবায়ন করা হয়েছিল। পদচ্যুতি: ২০২৪ সালের ২৯ মে এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে সাবেক প্রধানমন্ত্রী  শেখ হাসিনার সহকারী একান্ত সচিব-২ পদ থেকে তার চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ বাতিল করা হয়, যা ১ জুন ২০২৪ থেকে কার্যকর হয়। জন্ম ও আদি নিবাস: তিনি গোপালগঞ্জ জেলার সদর উপজেলার চন্দ্রদিঘলিয়া গ্রামে  জন্মগ্রহণ করেন। পিতার নাম গাজী শুকুর আহম্মেদ। স্ত্রীর নাম রহিমা আক্তার (হকি)।     

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ৩০, ২০২৬ 0
Popular post
ফারুকীর সম্পদ কমেছে, তিশার বেড়েছে দ্বিগুণেরও বেশি: সম্পদ বিবরণী ঘিরে আলোচনা

অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের সম্পদ বিবরণী প্রকাশের পর সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী ও তার স্ত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদের হিসাব নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। এক বছরের ব্যবধানে স্বামী ফারুকীর সম্পদ কমলেও স্ত্রী তিশার সম্পদ বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে প্রকাশিত তথ্যে উঠে এসেছে এই চিত্র। প্রকাশিত খতিয়ান অনুযায়ী, জনপ্রিয় অভিনেত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদ এক বছরে অভাবনীয় হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তিশার মোট সম্পদের পরিমাণ ছিল ১ কোটি ৪০ লাখ ৮১ হাজার ৮৬০ টাকা। ঠিক এক বছর পর, ২০২৫ সালের ৩০ জুন সেই সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ৯৯ লাখ ৮৯ হাজার ৫০১ টাকায়। অর্থাৎ মাত্র এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ বেড়েছে ১ কোটি ৫৯ লাখ ৭ হাজার ৬৪১ টাকা, যা আগের বছরের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি। অন্যদিকে সংস্কৃতি উপদেষ্টা ও নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর ক্ষেত্রে দেখা গেছে উল্টো চিত্র। এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ কমেছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তার মোট সম্পদ ছিল ২ কোটি ২৬ লাখ ৯২ হাজার ২৬ টাকা। ২০২৫ সালের ৩০ জুন তা কমে দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ১৫ লাখ ১৮ হাজার ২৬ টাকায়। হিসাব অনুযায়ী, এক বছরে তার সম্পদ কমেছে ১১ লাখ ৭৪ হাজার টাকা। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে গত মঙ্গলবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ প্রধান উপদেষ্টা, উপদেষ্টা ও সমমর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের পাশাপাশি তাদের স্ত্রী বা স্বামীর সম্পদ বিবরণী প্রকাশ করে। একই সময়ে স্বামী-স্ত্রীর সম্পদে এমন ভিন্নমুখী পরিবর্তন স্বাভাবিকভাবেই সাধারণ মানুষের কৌতূহলের জন্ম দিয়েছে। শোবিজ অঙ্গনের জনপ্রিয় দম্পতি হওয়ায় তাদের এই আয়-ব্যয়ের হিসাব এখন টক অব দ্য কান্ট্রি।

সংসার সামলাতে অটোরিকশা নিয়ে রাস্তায় নেমেছেন রোজিনা

বাসস : বাবা একজন তাঁত শ্রমিক। তিন বোন দুই ভাইয়ের মধ্যে সবার বড় রোজিনা। অভাব সংসার, তাই এক এতিম যুবকের সাথে বাবা-মা বিয়ে দেন তাকে। বিয়ের পর জন্ম হয় দুই কন্যা সন্তানের। অটোরিকশা চালিয়ে কোন রকম সংসার চালাচ্ছিলেন স্বামী রফিকুল ইসলাম। কিন্তু সড়ক দুর্ঘটনায় রফিকুলের এক চোখ সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যায়। আরেকটি চোখ আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ধীরে ধীরে ওই চোখের দৃষ্টি শক্তিও কমতে থাকে। ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে অটোরিকশা চালানো। সংসারের উপার্জনক্ষম মানুষটি অচল হয়ে পড়ায় চিকিৎসার খরচ, ঘর ভাড়া ও খাবারের পাশাপাশি মেয়েদের লেখাপড়ার খরচ চালানোই কঠিন হয়ে যায়। দিশেহারা হয়ে পরেন রোজিনা। এক পর্যায়ে মানুষের বাড়ি বাড়ি কাজ করে সংসার চালানোর চেস্টা করেন। কিন্তু সুবিধা করতে পারেন না। এমন পরিস্থিতিতে অটোরিকশা চালানোর সিদ্ধান্ত নেন তিনি। স্বামী রফিকুলের কাছেই হাতেখড়ি। গ্রামের স্কুলের মাঠে স্বামীর কাছেই অটোরিকশা চালানোর শিক্ষা নেন তিনি। পরে গ্রামের পথে নেমে পড়েন অটোরিকশা নিয়ে। ৫-৬ দিন এভাবে হাত পাকা করে একদিন টাঙ্গাইল শহরে চলে আসেন রোজিনা। এরপর শুরু করেন অটোরিক্সা চালানোর ব্যতিক্রমী জীবন সংগ্রাম। এখন টাঙ্গাইল পৌরসভায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার চালকদের মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা বেগম। জেলার বাসাইল উপজেলার আইসড়া গ্রামের বাসিন্দা রোজিনা টাঙ্গাইল পৌর শহরের এক প্রান্ত রাবনা বাইপাস থেকে আরেক প্রান্ত বেবিস্ট্যান্ডে যাত্রী আনা নেয়া করেন। যানজটের কারণে শহরে পুরুষ চালকরা যেখানে হিমসিম খায়, সেখানেই বিগত ৫ বছর ধরেই নির্বিঘেœ অটোরিকশা চালাচ্ছেন তিনি। টাঙ্গাইল পৌরসভা কার্যালয় সূত্রে জানা যাায়, টাঙ্গাইল শহরে চলাচলের জন্য ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক ও ৫ হাজার ব্যাটারিচালিত রিকশার অনুমতি (লাইসেন্স) দেওয়া হয়েছে। যানজট এড়াতে ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক জোড় ও বিজোড় সংখ্যায় দিনে দুই ভাগ করা হয়েছে। সকাল থেকে বেলা দুইটা পর্যন্ত এক ভাগ এবং বেলা দুইটা থেকে রাত পর্যন্ত আরেক ভাগের ইজিবাইক চলাচল করার নির্দেশনা দিয়েছে পৌর কর্তৃপক্ষ। কিন্তু রোজিনাকে দুই শিফটে চালানোর অনুমতি দিয়েছে পৌরসভা। সরেজমিনে দেখা যায়, নতুন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অটোরিকশা নিয়ে যাত্রী ডাকছেন রোজিনা। কলেজ গেট, পুরাতন বাসস্ট্যান্ড, ক্যাপসুল, নিরালা মোড়, বেবিস্ট্যান্ড সর্বত্রই যাত্রী আনানেয়া করেন তিনি। পুরাতন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অন্য অটো চালকদের দাঁড় করতে না দিলেও রোজিনাকে বাঁধা দেননা ট্রাফিক পুলিশ। বলতে গেলে সবাই তার প্রতি সহানুভুতিশীল। ট্রাফিক পুলিশসহ অন্য অটোচালকরাও তাকে সহযোগিতা করেন। রোজিনা বলেন, আমার অটোতে নারী যাত্রীরা খুব কম। তারা মনে করে আমার অটোতে উঠলে দুর্ঘটনায় পড়বে। কিন্তু আমি খুব সাবধানে অটো চালাই। দ্রুত গতিতেও না, আবার একেবারে ধীরগতিতেও না। এখন পর্যন্ত আমি কোন দুর্ঘটনার কবলে পড়ি নাই। শহরের পুরুষ অটোরিকশা চালকরা আমাকে অনেক সহযোগিতা করে। অটোচালক কাদের মিয়া বলেন, আমাদের শহরে কয়েক হাজার অটো চলাচল করে। তার মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। তাকে আমরা সব সময় সহযোগিতা করি। যাত্রী সাইদ মিয়া বলেন, আমি এ পর্যন্ত ৫-৬ বার রোজিনার অটোতে চড়েছি। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। অন্য পুরুষ অটো চালকের চেয়েও ভালো অটো চালান। নারী সংগঠক সেরাজুম মনিরা বলেন, তিনি অনেক দিন যাবত অটোরিকশা চালাচ্ছেন। আমি রোজিনাকে স্যালুট জানাই। একজন পুরুষের চেয়ে একজন নারী কোনো ভাবেই যে পিছিয়ে নেই, রোজিনা তা প্রমাণ করেছেন। রোজিনা বলেন, অটো চালানোর এই সিদ্ধান্তটি তার জন্য খুব সহজ ছিল না। তিনি বলেন, ৫ ও ১০ বছরের দুই মেয়েকে বাড়িতে রেখে অটোরিকশা নিয়ে সারাদিন রাস্তায় থাকতে হয়। তাদের ভালোভাবে দেখাশোনা করতে পারি না। কিন্তু কি করবো, অভাবের সংসার! এখন ঋণ নিয়ে একটু জমি কিনেছি। প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ণ প্রকল্পের অর্থায়নে প্রশাসন সেখানে ঘর তুলে দিয়েছে। শুরুতে যারা আমাকে নিয়ে ঠাট্টা করেছে এখন তারাই আমাকে সম্মান করেন। নারীরাও যে কিছু করতে পারে, তা প্রমাণ করেছি। আমার বড় মেয়ে আইসড়া উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়ে, ছোট মেয়ে পড়ে স্থানীয় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। মেয়েদের শিক্ষিত করতে হবে। ধার দেনা শোধ করতে হবে। তাই থেমে গেলো চলবে না। আমি অটোরিকশা চালিয়েই দুই সন্তানকে মানুষ করতে চাই।’ ঘারিন্দা ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য বাবুল সরকার বলেন, সরকার রোজিনাকে একটি ঘর নির্মাণ করে দিয়েছে। শুরুতে যারা তাকে নিয়ে নানান কথা বলতো, এখন তার সংকল্প ও মানষিক দৃঢ়তা দেখে থেমে গেছে। আমরা তাকে নিয়ে গর্ব করি। টাঙ্গাইলের ট্রাফিক ইন্সপেক্টর (প্রশাসন) দেলোয়ার হোসেন বলেন, শহরের একমাত্র নারী চালক রোজিনাকে কেউ যেন বিরক্ত করতে না পারে সেদিকে সব সময় নজর রাখে ট্রাফিক পুলিশ। আমরা তাকে সব সময় সহযোগিতা করে আসছি। টাঙ্গাইলের সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক শাহ আলম বলেন, বিষয়টি এখন জানতে পারলাম। ওই নারী এখনো পর্যন্ত আমাদের কাছে আসেন নাই। যদি আমাদের কাছে এসে আবেদন করেন অবশ্যই তাকে আমরা সহযেগিতা করবো, তার পাশে দাঁড়াবো।

বাংলাদেশে ঐতিহাসিক নির্বাচন: বিএনপি এগিয়ে, জামায়াতের উত্থান ও তরুণ ভোটারদের প্রভাব

২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশে আজ এক ঐতিহাসিক ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ২০০৮ সালের পর এই প্রথম একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হতে যাচ্ছে যেখানে দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগ রাজনৈতিক মানচিত্র থেকে কার্যত অনুপস্থিত। বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক জরিপ বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০০ আসনের মধ্যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) কার্যকর সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে যাচ্ছে। তবে ভোটের ব্যবধান এবং কিছু সমীকরণ নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। নির্বাচনের সবচেয়ে বড় নিয়ামক হয়ে দাঁড়িয়েছে আওয়ামী লীগের বিশাল ভোটব্যাংক। দলটির নিয়মিত প্রায় ৪ কোটি ভোটার এখন নতুন রাজনৈতিক আশ্রয় খুঁজছেন। সিআরএফ বা বিইপিওএস জরিপ বলছে, এই ভোটারদের প্রায় অর্ধেক বিএনপির দিকে ঝুঁকেছে, যা দলটিকে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতার পথে এগিয়ে দিচ্ছে। অন্যদিকে, প্রায় ৩০ শতাংশ আওয়ামী ভোটার জামায়াতে ইসলামীকে বেছে নিতে পারেন বলে আভাস পাওয়া যাচ্ছে। এছাড়া বাংলাদেশের বিদ্যমান নির্বাচনী ব্যবস্থার কারণে দেশজুড়ে সুষম জনসমর্থন থাকা বিএনপি আসন জয়ের ক্ষেত্রে জামায়াতের তুলনায় সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। তবে বিএনপির এই সম্ভাব্য জয়ের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও বিদ্রোহী প্রার্থীরা। প্রায় ৭৯টি নির্বাচনী এলাকায় দলের মনোনয়ন না পাওয়া ৯২ জন প্রভাবশালী নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, যা বিএনপির ১৫ থেকে ৩০টি আসন কমিয়ে দিতে পারে। অন্যদিকে, তরুণ ভোটার বা ‘জেন-জি’ প্রজন্মের বিশাল সমর্থন জামায়াতে ইসলামীর শক্তির উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেশের ৪৪ শতাংশ ভোটারই তরুণ, যাদের বড় একটি অংশ প্রথমবার ভোট দিচ্ছেন। এই তরুণরা যদি দলবেঁধে কেন্দ্রে উপস্থিত হন, তবে নির্বাচনী ফলে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। সবশেষে, প্রায় ১৭ থেকে ৩৫ শতাংশ দোদুল্যমান ভোটার এবং তাদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করবে আগামীর সরকার কতটা শক্তিশালী হবে। দ্য নিউইয়র্ক এডিটোরিয়ালের মূল পূর্বাভাস, তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি প্রায় ১৮৫টি আসনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করতে পারে এবং জামায়াতে ইসলামী ৮০টির মতো আসন পেয়ে প্রধান বিরোধী দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারে। তবে বিদ্রোহী প্রার্থীদের প্রভাব এবং তরুণ ভোটারদের উপস্থিতির ওপর ভিত্তি করে আসন সংখ্যায় বড় ধরনের হেরফের হওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

গাজায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা ট্রাম্প প্রশাসনে

ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। ৩৫০ একরের ঘাঁটিটিতে সামরিক বাহিনীর পাঁচ হাজার সদস্য থাকতে পারবে। গাজার ‘বোর্ড অব পিস’র নথি পর্যালোচনা করে এ তথ্য জানিয়েছে দ্য গার্ডিয়ান। প্রতিবেদনে ব্রিটিশ সংবাদ মাধ্যমটি জানিয়েছে, বোর্ড অব পিসে গাজাকে নিরাপদ করার জন্য ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যাবিলাইজেশন ফোর্স (আইএসএফ) নামে একটি আন্তর্জাতিক বাহিনী মোতায়েনের কথা বলা হয়েছে। যে স্থানটি ঘাঁটি করার জন্য বিবেচনা করা হচ্ছে সেখানে আইএসএফের সদস্যরা থাকবে। বোর্ড অব পিসের প্রধান হবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আর সংগঠনটির আংশিক নেতৃত্ব দেবেন ট্রাম্পের জামাতা জ্যারার্ড কুশনার।দ্য গার্ডিয়ান বোর্ড অব পিসের নথি পর্যালোচনা করে জানায়, ধাপে ধাপে একটি সামরিক ঘাঁটি নির্মাণ করা হবে। সবকিছু শেষ হলে ঘাঁটিটি ১৫ লাখ ১৭ হাজার ৫৭৫ বর্গমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত হবে। ঘাঁটিটির চারপাশে ট্রেইলার সংযুক্ত ২৬টি সাঁজোয়া নজরদারি টাওয়ার থাকবে। এছাড়া একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, বাংকার ও অস্ত্র রাখার গুদাম থাকবে। পুরো ঘাঁটিটি কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে ঘিরে রাখা হবে। সামরিক ঘাঁটি নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে দক্ষিণ গাজার একটি শুষ্ক সমতলভূমিতে। সেখানে ইসরায়েলি হামলার চিহ্ন রয়েছে। ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে বিভিন্ন ধাতবের ধ্বংসাবশেষ।  ওই এলাকার ভিডিও পর্যালোচনা করেছে দ্য গার্ডিয়ান। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, ঘাঁটি নির্মাণের জন্য টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে। যুদ্ধক্ষেত্রে কাজের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন আন্তর্জাতিক নির্মাণ কোম্পানিগুলোর একটি ছোট দলকে ইতোমধ্যেই এলাকাটি দেখানো হয়েছে। ওই দলটি দরপত্রে অংশ নিতে আগ্রহী।    ইন্দোনেশিয়া সরকার গাজায় আট হাজার সেনা সদস্য পাঠানোর জন্য প্রস্তাব দিয়েছে। বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটন ডিসিতে বোর্ড অব পিসের অনানুষ্ঠানিক বৈঠকে ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্টের অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। এছাড়া দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার আরও তিন নেতার ওই বৈঠকে অংশ নেবেন বলে জানা গেছে। জাতিসংঘের নিরাপত্তা কাউন্সিল গাজার সাময়িক স্থিতিশীলতার জন্য অস্থায়ীভাবে সামরিক বাহিনী মোতায়েনের অনুমোদন দিয়েছে। নিরাপত্তা কাউন্সিলই বোর্ড অব পিসের মূল হোতা। গাজার সীমান্ত ও শান্তি প্রণয়নে কাজ করবে আইএসএফ। এছাড়া বেসামরিকদের সুরক্ষা এবং ফিলিস্তিনি পুলিশ বাহিনীকে প্রশিক্ষণ ও সহায়তা দেবে তারা। যদি গাজায় ফের সংঘর্ষ হয়, ইসরায়েল বোমা হামলা চালায় অথবা হামাস হামলা চালায় সেক্ষেত্রে আইএসএফ কি করবে তা এখনও স্পষ্ট নয়। গাজা পুনর্গঠনে ইসরায়েল হামাসকে নিরস্ত্রীকরণের যে শর্ত দিয়েছে সেটির জন্য আইএসএফ কাজ করবে কিনা তাও স্পষ্ট না। ইতোমধ্যে বোর্ড অব পিসে ২০ এর অধিক দেশ যোগ দিয়েছে। তবে, এখনও অনেক পরাশক্তি এর থেকে দূরে রয়েছে। জাতিসংঘের অনুমোদন নিয়ে প্রতিষ্ঠিত হলেও ধারণা করা হচ্ছে, সংগঠনটির স্থায়ী নেতৃত্ব ও নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে। রুটজার্স বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক আদিল হক বলেন, “বোর্ড অব পিস এক ধরনের আইনি কল্পসত্তা। নামমাত্রভাবে এর নিজস্ব আন্তর্জাতিক আইনগত সত্তা রয়েছে, যা জাতিসংঘ ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে আলাদা। কিন্তু বাস্তবে এটি যুক্তরাষ্ট্রের ইচ্ছামতো ব্যবহারের জন্য একটি ফাঁপা খোলসমাত্র।” বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গাজা পুনর্গঠনে যে অর্থায়ন ও শাসন কাঠামো হচ্ছে তা অস্বচ্ছ। কয়েকজন ঠিকাদার গার্ডিয়ানকে জানান, গাজায় কাজ করার জন্য মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে তাদের প্রায়শ আলোচনা সরকারি ইমেলের বদলে সিগন্যালের মাধ্যমে করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রের তথ্য মতে, ঘাঁটি নির্মাণের সিদ্ধান্তটি বোর্ড অব পিসের। এতে সহায়তা করছে মার্কিন কর্মকর্তারা। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ঘাঁটিতে তৈরি বাংকার নেটওয়ার্কের মতোন কাজ করবে। প্রতিটি বাংকারের ২৪ মিটারের হবে। উচ্চতা থাকবে আড়াই মিটার। এগুলো এমনভাবে করা হবে যেন সেনা সদস্যরা আশ্রয় নিতে পারে। স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসের গাজায় সুড়ঙ্গ নেটওয়ার্ক বা টানেল রয়েছে। সেগুলোর আদলে নেটওয়ার্ক করতে চাওয়া হচ্ছে। পিস অব বোর্ডের নথি পর্যালোচনা করে এমন দাবি করছে গার্ডিয়ান। সংবাদ মাধ্যমটি বলছে,  স্থানটির ভূ-ভৌত জরিপ পরিচালনা করবে ঠিকাদাররা। নথির এক অংশে ‘হিউম্যান রেমিয়েনস প্রোটোকল’র কথা বলা হয়েছে। এর মানে দাঁড়ায়, সন্দেহভাজন মানব অবশিষ্ট বা সাংস্কৃতিক নিদর্শন পাওয়া গেলে অবিলম্বে সেই এলাকায় সব কাজ বন্ধ করতে হবে। চুক্তি কর্মকর্তাকে দিকনির্দেশনার জন্য অবিলম্বে জানাতে হবে। গাজা সিভিল ডিফেন্সের ধারণা, গাজার ধ্বংসস্তূপের নিচে ১০ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনির মরদেহ রয়েছে। ঘাঁটির জন্য যে স্থানটি বিবেচিত করা হচ্ছে সেটির মালিক কে তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে, দক্ষিণ গাজার বেশিরভাগ অংশ  বর্তমানে ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণে। জাতিসংঘের অনুমান, যুদ্ধ চলাকালীন ১৯ লাখ ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত হয়েছে। ফিলিস্তিনের জমিতে সরকারের অনুমতি না নিয়ে সামরিক ঘাঁটি স্থাপনকে দখল হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন ফিলিস্তিনি-কানাডিয়ান আইনজীবী এবং প্রাক্তন শান্তি আলোচক দিয়ানা বুট্টু। তিনি প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়ে বলেন, “কার অনুমতিতে তারা সামরিক ঘাঁটি স্থাপন করবে।” বিষয়টি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা বোর্ড অব পিসের কথা টানেন। ট্রাম্প প্রশাসনের একজন কর্মকর্তা সামরিক ঘাঁটির চুক্তি নিয়ে আলোচনা করতে অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, “যেমনটি প্রেসিডেন্ট বলেছেন, কোনও মার্কিন সেনা স্থলভাগে যাবে না। আমরা লিক হওয়া নথি নিয়ে আলোচনা করবো না।”

কুড়িগ্রামের তাজু ভাই ২.০: ‘সরকারি রেটে জিলাপি’ প্রশ্নে ভাইরাল এক নির্মাণশ্রমিকের গল্প

বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের প্রত্যন্ত চরাঞ্চল থেকে উঠে এসে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার কেন্দ্রে এখন তাইজুল ইসলাম, যিনি অনলাইনে পরিচিত ‘তাজু ভাই ২.০’ নামে। মাত্র একটি ভিডিও—যেখানে তিনি এক দোকানিকে প্রশ্ন করেন, “জিলাপি আজকে কত করে বেচতেছেন সরকারি রেটে?”—এই সরল উপস্থাপনাই তাকে রাতারাতি ভাইরাল করে তোলে।  কয়েক ঘণ্টায় ফলোয়ার লাখ ছাড়াল রোববার রাত পর্যন্ত তার ফেসবুক অনুসারী ছিল প্রায় ৩৫ হাজার। কিন্তু সোমবার সন্ধ্যা থেকে রাতের মধ্যেই তা বেড়ে এক লাখের বেশি হয়ে যায়। ভাইরাল ভিডিওটি ইতোমধ্যে প্রায় ৫০ থেকে ৫৫ লাখবার দেখা হয়েছে।  কী ছিল সেই ভিডিওতে? ভিডিওতে দেখা যায়, কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীর নারায়ণপুর বাজারে দাঁড়িয়ে স্থানীয় ভাষায় তিনি জিলাপির দাম জানতে চান। তার কথাগুলো ছিল একেবারেই সহজ ও গ্রাম্য ভঙ্গিতে— “সাদাডা কত, লালডা কত? সরকারি রেটে বেচতেছেন?” এই সরল প্রশ্নই সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।  কোথা থেকে উঠে এলেন তাজু ভাই? কুড়িগ্রাম জেলার নাগেশ্বরী উপজেলার নারায়ণপুর ইউনিয়নের একটি দুর্গম গ্রামে জন্ম তার। ব্রহ্মপুত্র নদবেষ্টিত এই অঞ্চলে পৌঁছাতে এখনও কয়েকটি নৌঘাট পার হতে হয়। দারিদ্র্যের কারণে কখনো স্কুলে যাওয়া হয়নি তার। পেশায় তিনি একজন নির্মাণশ্রমিকের সহকারী (হেলপার)। কাজের ফাঁকে ঢাকায় থাকাকালীন মোবাইল ফোনে ভিডিও তৈরি করাই তার শখ। ব্যক্তিগত সংগ্রাম তাইজুল ইসলামের পরিবারে ছয় ভাই-বোন। তিনি সবার বড়। তার বাবা-মা দুজনই শ্রবণপ্রতিবন্ধী। পরিবার চালাতে তাকে ছোটবেলা থেকেই সংগ্রাম করতে হয়েছে। তিনি বলেন, “পরিবারের কষ্ট ভুলতেই ভিডিও করি। আমি সাংবাদিক না, কিন্তু আমাদের এলাকায় কেউ আসে না—তাই নিজেরাই ভিডিও বানাই।” ভাইরাল হওয়ার পেছনের উদ্দেশ্য তাইজুলের দাবি, তার ভিডিও শুধুই বিনোদনের জন্য নয়। তিনি চান তার এলাকার অবহেলিত মানুষের কথা প্রশাসনের নজরে আসুক। “আমি চাই চরের মানুষের উন্নয়ন হোক,”—বলছেন তিনি।  মিশ্র প্রতিক্রিয়া ভিডিওটি নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে দুই ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ তার সরলতা ও বাস্তবতা তুলে ধরার চেষ্টা প্রশংসা করছেন আবার কেউ তাকে নিয়ে ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ করছেন তবে এসব সমালোচনায় তিনি বিচলিত নন।

অর্থনীতি

ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান খুরশীদ আলম, কৃষি ব্যাংকে নূরুল আমিন: ব্যাংক খাতে নতুন সমীকরণ

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ২৪, ২০২৬ 0




অপরাধ

ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো

ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকোর বিরুদ্ধে ৩০ বিলিয়ন ডলার জালিয়াতি ও অর্থপাচার অভিযোগে দুদকের অনুসন্ধান

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ২৪, ২০২৬ 0




কৃষি ও জলবায়ু

ধান

শেরপুরে বোরো ধানের দাম কমে লোকসানে কৃষকরা, উৎপাদন খরচও উঠছে না

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ৬, ২০২৬ 0