Brand logo light
বাংলাদেশ

পিরোজপুর-২ আসনের সাবেক এমপি শাহ আলম আটক

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ১, ২০২৬ 0
সাবেক এমপি শাহ আলম
সাবেক এমপি শাহ আলম

শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে রাজধানী ঢাকার রমনা থানা এলাকার ডিপ্লোমা ইনস্টিটিউটের সামনে থেকে তাকে আটক করা হয়। খবরটি নিশ্চিত করেছেন রমনা থানার ডিউটি অফিসার এসআই মনির।

তিনি জানান, সাবেক সংসদ সদস্য শাহ আলমকে পাবলিক কর্তৃক আটক করা হয়। যদিও তার গ্রেপ্তারের সঠিক সময়ের বিষয়ে এসআই মনির নিশ্চিত হতে পারেননি, তবে তিনি জানান যে, রাত ৮টার দিকে ডিউটিতে এসে তিনি দেখেন যে তাকে আটক করা হয়েছে। এ ঘটনার পর পুলিশ বিষয়টি তদন্ত করছে।

তবে এখন পর্যন্ত আটক হওয়া সাবেক এমপি শাহ আলমের বিরুদ্ধে কোন আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়ের করা হয়নি। ঘটনার বিস্তারিত জানতে পুলিশের পক্ষ থেকে তদন্ত চলছে এবং যেকোনো মুহূর্তে আরও তথ্য প্রদান করা হতে পারে।

স্থানীয়রা জানিয়েছেন যে, শাহ আলমের আটক হওয়ার সময় সেখানে বেশ কয়েকজন স্থানীয় নাগরিক উপস্থিত ছিলেন এবং তারা সক্রিয়ভাবে এই ঘটনায় জড়িত ছিলেন।

এদিকে, রাজনৈতিক অঙ্গনে এ ঘটনার প্রভাব ইতোমধ্যেই পড়তে শুরু করেছে এবং তার দল আওয়ামী লীগও বিষয়টি নিয়ে নিজস্ব অবস্থান স্পষ্ট করতে আগ্রহী।

Popular post
ফারুকীর সম্পদ কমেছে, তিশার বেড়েছে দ্বিগুণেরও বেশি: সম্পদ বিবরণী ঘিরে আলোচনা

অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের সম্পদ বিবরণী প্রকাশের পর সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী ও তার স্ত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদের হিসাব নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। এক বছরের ব্যবধানে স্বামী ফারুকীর সম্পদ কমলেও স্ত্রী তিশার সম্পদ বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে প্রকাশিত তথ্যে উঠে এসেছে এই চিত্র। প্রকাশিত খতিয়ান অনুযায়ী, জনপ্রিয় অভিনেত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদ এক বছরে অভাবনীয় হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তিশার মোট সম্পদের পরিমাণ ছিল ১ কোটি ৪০ লাখ ৮১ হাজার ৮৬০ টাকা। ঠিক এক বছর পর, ২০২৫ সালের ৩০ জুন সেই সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ৯৯ লাখ ৮৯ হাজার ৫০১ টাকায়। অর্থাৎ মাত্র এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ বেড়েছে ১ কোটি ৫৯ লাখ ৭ হাজার ৬৪১ টাকা, যা আগের বছরের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি। অন্যদিকে সংস্কৃতি উপদেষ্টা ও নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর ক্ষেত্রে দেখা গেছে উল্টো চিত্র। এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ কমেছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তার মোট সম্পদ ছিল ২ কোটি ২৬ লাখ ৯২ হাজার ২৬ টাকা। ২০২৫ সালের ৩০ জুন তা কমে দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ১৫ লাখ ১৮ হাজার ২৬ টাকায়। হিসাব অনুযায়ী, এক বছরে তার সম্পদ কমেছে ১১ লাখ ৭৪ হাজার টাকা। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে গত মঙ্গলবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ প্রধান উপদেষ্টা, উপদেষ্টা ও সমমর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের পাশাপাশি তাদের স্ত্রী বা স্বামীর সম্পদ বিবরণী প্রকাশ করে। একই সময়ে স্বামী-স্ত্রীর সম্পদে এমন ভিন্নমুখী পরিবর্তন স্বাভাবিকভাবেই সাধারণ মানুষের কৌতূহলের জন্ম দিয়েছে। শোবিজ অঙ্গনের জনপ্রিয় দম্পতি হওয়ায় তাদের এই আয়-ব্যয়ের হিসাব এখন টক অব দ্য কান্ট্রি।

সংসার সামলাতে অটোরিকশা নিয়ে রাস্তায় নেমেছেন রোজিনা

বাসস : বাবা একজন তাঁত শ্রমিক। তিন বোন দুই ভাইয়ের মধ্যে সবার বড় রোজিনা। অভাব সংসার, তাই এক এতিম যুবকের সাথে বাবা-মা বিয়ে দেন তাকে। বিয়ের পর জন্ম হয় দুই কন্যা সন্তানের। অটোরিকশা চালিয়ে কোন রকম সংসার চালাচ্ছিলেন স্বামী রফিকুল ইসলাম। কিন্তু সড়ক দুর্ঘটনায় রফিকুলের এক চোখ সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যায়। আরেকটি চোখ আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ধীরে ধীরে ওই চোখের দৃষ্টি শক্তিও কমতে থাকে। ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে অটোরিকশা চালানো। সংসারের উপার্জনক্ষম মানুষটি অচল হয়ে পড়ায় চিকিৎসার খরচ, ঘর ভাড়া ও খাবারের পাশাপাশি মেয়েদের লেখাপড়ার খরচ চালানোই কঠিন হয়ে যায়। দিশেহারা হয়ে পরেন রোজিনা। এক পর্যায়ে মানুষের বাড়ি বাড়ি কাজ করে সংসার চালানোর চেস্টা করেন। কিন্তু সুবিধা করতে পারেন না। এমন পরিস্থিতিতে অটোরিকশা চালানোর সিদ্ধান্ত নেন তিনি। স্বামী রফিকুলের কাছেই হাতেখড়ি। গ্রামের স্কুলের মাঠে স্বামীর কাছেই অটোরিকশা চালানোর শিক্ষা নেন তিনি। পরে গ্রামের পথে নেমে পড়েন অটোরিকশা নিয়ে। ৫-৬ দিন এভাবে হাত পাকা করে একদিন টাঙ্গাইল শহরে চলে আসেন রোজিনা। এরপর শুরু করেন অটোরিক্সা চালানোর ব্যতিক্রমী জীবন সংগ্রাম। এখন টাঙ্গাইল পৌরসভায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার চালকদের মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা বেগম। জেলার বাসাইল উপজেলার আইসড়া গ্রামের বাসিন্দা রোজিনা টাঙ্গাইল পৌর শহরের এক প্রান্ত রাবনা বাইপাস থেকে আরেক প্রান্ত বেবিস্ট্যান্ডে যাত্রী আনা নেয়া করেন। যানজটের কারণে শহরে পুরুষ চালকরা যেখানে হিমসিম খায়, সেখানেই বিগত ৫ বছর ধরেই নির্বিঘেœ অটোরিকশা চালাচ্ছেন তিনি। টাঙ্গাইল পৌরসভা কার্যালয় সূত্রে জানা যাায়, টাঙ্গাইল শহরে চলাচলের জন্য ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক ও ৫ হাজার ব্যাটারিচালিত রিকশার অনুমতি (লাইসেন্স) দেওয়া হয়েছে। যানজট এড়াতে ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক জোড় ও বিজোড় সংখ্যায় দিনে দুই ভাগ করা হয়েছে। সকাল থেকে বেলা দুইটা পর্যন্ত এক ভাগ এবং বেলা দুইটা থেকে রাত পর্যন্ত আরেক ভাগের ইজিবাইক চলাচল করার নির্দেশনা দিয়েছে পৌর কর্তৃপক্ষ। কিন্তু রোজিনাকে দুই শিফটে চালানোর অনুমতি দিয়েছে পৌরসভা। সরেজমিনে দেখা যায়, নতুন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অটোরিকশা নিয়ে যাত্রী ডাকছেন রোজিনা। কলেজ গেট, পুরাতন বাসস্ট্যান্ড, ক্যাপসুল, নিরালা মোড়, বেবিস্ট্যান্ড সর্বত্রই যাত্রী আনানেয়া করেন তিনি। পুরাতন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অন্য অটো চালকদের দাঁড় করতে না দিলেও রোজিনাকে বাঁধা দেননা ট্রাফিক পুলিশ। বলতে গেলে সবাই তার প্রতি সহানুভুতিশীল। ট্রাফিক পুলিশসহ অন্য অটোচালকরাও তাকে সহযোগিতা করেন। রোজিনা বলেন, আমার অটোতে নারী যাত্রীরা খুব কম। তারা মনে করে আমার অটোতে উঠলে দুর্ঘটনায় পড়বে। কিন্তু আমি খুব সাবধানে অটো চালাই। দ্রুত গতিতেও না, আবার একেবারে ধীরগতিতেও না। এখন পর্যন্ত আমি কোন দুর্ঘটনার কবলে পড়ি নাই। শহরের পুরুষ অটোরিকশা চালকরা আমাকে অনেক সহযোগিতা করে। অটোচালক কাদের মিয়া বলেন, আমাদের শহরে কয়েক হাজার অটো চলাচল করে। তার মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। তাকে আমরা সব সময় সহযোগিতা করি। যাত্রী সাইদ মিয়া বলেন, আমি এ পর্যন্ত ৫-৬ বার রোজিনার অটোতে চড়েছি। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। অন্য পুরুষ অটো চালকের চেয়েও ভালো অটো চালান। নারী সংগঠক সেরাজুম মনিরা বলেন, তিনি অনেক দিন যাবত অটোরিকশা চালাচ্ছেন। আমি রোজিনাকে স্যালুট জানাই। একজন পুরুষের চেয়ে একজন নারী কোনো ভাবেই যে পিছিয়ে নেই, রোজিনা তা প্রমাণ করেছেন। রোজিনা বলেন, অটো চালানোর এই সিদ্ধান্তটি তার জন্য খুব সহজ ছিল না। তিনি বলেন, ৫ ও ১০ বছরের দুই মেয়েকে বাড়িতে রেখে অটোরিকশা নিয়ে সারাদিন রাস্তায় থাকতে হয়। তাদের ভালোভাবে দেখাশোনা করতে পারি না। কিন্তু কি করবো, অভাবের সংসার! এখন ঋণ নিয়ে একটু জমি কিনেছি। প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ণ প্রকল্পের অর্থায়নে প্রশাসন সেখানে ঘর তুলে দিয়েছে। শুরুতে যারা আমাকে নিয়ে ঠাট্টা করেছে এখন তারাই আমাকে সম্মান করেন। নারীরাও যে কিছু করতে পারে, তা প্রমাণ করেছি। আমার বড় মেয়ে আইসড়া উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়ে, ছোট মেয়ে পড়ে স্থানীয় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। মেয়েদের শিক্ষিত করতে হবে। ধার দেনা শোধ করতে হবে। তাই থেমে গেলো চলবে না। আমি অটোরিকশা চালিয়েই দুই সন্তানকে মানুষ করতে চাই।’ ঘারিন্দা ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য বাবুল সরকার বলেন, সরকার রোজিনাকে একটি ঘর নির্মাণ করে দিয়েছে। শুরুতে যারা তাকে নিয়ে নানান কথা বলতো, এখন তার সংকল্প ও মানষিক দৃঢ়তা দেখে থেমে গেছে। আমরা তাকে নিয়ে গর্ব করি। টাঙ্গাইলের ট্রাফিক ইন্সপেক্টর (প্রশাসন) দেলোয়ার হোসেন বলেন, শহরের একমাত্র নারী চালক রোজিনাকে কেউ যেন বিরক্ত করতে না পারে সেদিকে সব সময় নজর রাখে ট্রাফিক পুলিশ। আমরা তাকে সব সময় সহযোগিতা করে আসছি। টাঙ্গাইলের সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক শাহ আলম বলেন, বিষয়টি এখন জানতে পারলাম। ওই নারী এখনো পর্যন্ত আমাদের কাছে আসেন নাই। যদি আমাদের কাছে এসে আবেদন করেন অবশ্যই তাকে আমরা সহযেগিতা করবো, তার পাশে দাঁড়াবো।

বাংলাদেশে ঐতিহাসিক নির্বাচন: বিএনপি এগিয়ে, জামায়াতের উত্থান ও তরুণ ভোটারদের প্রভাব

২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশে আজ এক ঐতিহাসিক ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ২০০৮ সালের পর এই প্রথম একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হতে যাচ্ছে যেখানে দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগ রাজনৈতিক মানচিত্র থেকে কার্যত অনুপস্থিত। বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক জরিপ বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০০ আসনের মধ্যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) কার্যকর সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে যাচ্ছে। তবে ভোটের ব্যবধান এবং কিছু সমীকরণ নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। নির্বাচনের সবচেয়ে বড় নিয়ামক হয়ে দাঁড়িয়েছে আওয়ামী লীগের বিশাল ভোটব্যাংক। দলটির নিয়মিত প্রায় ৪ কোটি ভোটার এখন নতুন রাজনৈতিক আশ্রয় খুঁজছেন। সিআরএফ বা বিইপিওএস জরিপ বলছে, এই ভোটারদের প্রায় অর্ধেক বিএনপির দিকে ঝুঁকেছে, যা দলটিকে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতার পথে এগিয়ে দিচ্ছে। অন্যদিকে, প্রায় ৩০ শতাংশ আওয়ামী ভোটার জামায়াতে ইসলামীকে বেছে নিতে পারেন বলে আভাস পাওয়া যাচ্ছে। এছাড়া বাংলাদেশের বিদ্যমান নির্বাচনী ব্যবস্থার কারণে দেশজুড়ে সুষম জনসমর্থন থাকা বিএনপি আসন জয়ের ক্ষেত্রে জামায়াতের তুলনায় সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। তবে বিএনপির এই সম্ভাব্য জয়ের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও বিদ্রোহী প্রার্থীরা। প্রায় ৭৯টি নির্বাচনী এলাকায় দলের মনোনয়ন না পাওয়া ৯২ জন প্রভাবশালী নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, যা বিএনপির ১৫ থেকে ৩০টি আসন কমিয়ে দিতে পারে। অন্যদিকে, তরুণ ভোটার বা ‘জেন-জি’ প্রজন্মের বিশাল সমর্থন জামায়াতে ইসলামীর শক্তির উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেশের ৪৪ শতাংশ ভোটারই তরুণ, যাদের বড় একটি অংশ প্রথমবার ভোট দিচ্ছেন। এই তরুণরা যদি দলবেঁধে কেন্দ্রে উপস্থিত হন, তবে নির্বাচনী ফলে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। সবশেষে, প্রায় ১৭ থেকে ৩৫ শতাংশ দোদুল্যমান ভোটার এবং তাদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করবে আগামীর সরকার কতটা শক্তিশালী হবে। দ্য নিউইয়র্ক এডিটোরিয়ালের মূল পূর্বাভাস, তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি প্রায় ১৮৫টি আসনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করতে পারে এবং জামায়াতে ইসলামী ৮০টির মতো আসন পেয়ে প্রধান বিরোধী দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারে। তবে বিদ্রোহী প্রার্থীদের প্রভাব এবং তরুণ ভোটারদের উপস্থিতির ওপর ভিত্তি করে আসন সংখ্যায় বড় ধরনের হেরফের হওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

গাজায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা ট্রাম্প প্রশাসনে

ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। ৩৫০ একরের ঘাঁটিটিতে সামরিক বাহিনীর পাঁচ হাজার সদস্য থাকতে পারবে। গাজার ‘বোর্ড অব পিস’র নথি পর্যালোচনা করে এ তথ্য জানিয়েছে দ্য গার্ডিয়ান। প্রতিবেদনে ব্রিটিশ সংবাদ মাধ্যমটি জানিয়েছে, বোর্ড অব পিসে গাজাকে নিরাপদ করার জন্য ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যাবিলাইজেশন ফোর্স (আইএসএফ) নামে একটি আন্তর্জাতিক বাহিনী মোতায়েনের কথা বলা হয়েছে। যে স্থানটি ঘাঁটি করার জন্য বিবেচনা করা হচ্ছে সেখানে আইএসএফের সদস্যরা থাকবে। বোর্ড অব পিসের প্রধান হবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আর সংগঠনটির আংশিক নেতৃত্ব দেবেন ট্রাম্পের জামাতা জ্যারার্ড কুশনার।দ্য গার্ডিয়ান বোর্ড অব পিসের নথি পর্যালোচনা করে জানায়, ধাপে ধাপে একটি সামরিক ঘাঁটি নির্মাণ করা হবে। সবকিছু শেষ হলে ঘাঁটিটি ১৫ লাখ ১৭ হাজার ৫৭৫ বর্গমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত হবে। ঘাঁটিটির চারপাশে ট্রেইলার সংযুক্ত ২৬টি সাঁজোয়া নজরদারি টাওয়ার থাকবে। এছাড়া একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, বাংকার ও অস্ত্র রাখার গুদাম থাকবে। পুরো ঘাঁটিটি কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে ঘিরে রাখা হবে। সামরিক ঘাঁটি নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে দক্ষিণ গাজার একটি শুষ্ক সমতলভূমিতে। সেখানে ইসরায়েলি হামলার চিহ্ন রয়েছে। ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে বিভিন্ন ধাতবের ধ্বংসাবশেষ।  ওই এলাকার ভিডিও পর্যালোচনা করেছে দ্য গার্ডিয়ান। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, ঘাঁটি নির্মাণের জন্য টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে। যুদ্ধক্ষেত্রে কাজের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন আন্তর্জাতিক নির্মাণ কোম্পানিগুলোর একটি ছোট দলকে ইতোমধ্যেই এলাকাটি দেখানো হয়েছে। ওই দলটি দরপত্রে অংশ নিতে আগ্রহী।    ইন্দোনেশিয়া সরকার গাজায় আট হাজার সেনা সদস্য পাঠানোর জন্য প্রস্তাব দিয়েছে। বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটন ডিসিতে বোর্ড অব পিসের অনানুষ্ঠানিক বৈঠকে ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্টের অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। এছাড়া দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার আরও তিন নেতার ওই বৈঠকে অংশ নেবেন বলে জানা গেছে। জাতিসংঘের নিরাপত্তা কাউন্সিল গাজার সাময়িক স্থিতিশীলতার জন্য অস্থায়ীভাবে সামরিক বাহিনী মোতায়েনের অনুমোদন দিয়েছে। নিরাপত্তা কাউন্সিলই বোর্ড অব পিসের মূল হোতা। গাজার সীমান্ত ও শান্তি প্রণয়নে কাজ করবে আইএসএফ। এছাড়া বেসামরিকদের সুরক্ষা এবং ফিলিস্তিনি পুলিশ বাহিনীকে প্রশিক্ষণ ও সহায়তা দেবে তারা। যদি গাজায় ফের সংঘর্ষ হয়, ইসরায়েল বোমা হামলা চালায় অথবা হামাস হামলা চালায় সেক্ষেত্রে আইএসএফ কি করবে তা এখনও স্পষ্ট নয়। গাজা পুনর্গঠনে ইসরায়েল হামাসকে নিরস্ত্রীকরণের যে শর্ত দিয়েছে সেটির জন্য আইএসএফ কাজ করবে কিনা তাও স্পষ্ট না। ইতোমধ্যে বোর্ড অব পিসে ২০ এর অধিক দেশ যোগ দিয়েছে। তবে, এখনও অনেক পরাশক্তি এর থেকে দূরে রয়েছে। জাতিসংঘের অনুমোদন নিয়ে প্রতিষ্ঠিত হলেও ধারণা করা হচ্ছে, সংগঠনটির স্থায়ী নেতৃত্ব ও নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে। রুটজার্স বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক আদিল হক বলেন, “বোর্ড অব পিস এক ধরনের আইনি কল্পসত্তা। নামমাত্রভাবে এর নিজস্ব আন্তর্জাতিক আইনগত সত্তা রয়েছে, যা জাতিসংঘ ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে আলাদা। কিন্তু বাস্তবে এটি যুক্তরাষ্ট্রের ইচ্ছামতো ব্যবহারের জন্য একটি ফাঁপা খোলসমাত্র।” বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গাজা পুনর্গঠনে যে অর্থায়ন ও শাসন কাঠামো হচ্ছে তা অস্বচ্ছ। কয়েকজন ঠিকাদার গার্ডিয়ানকে জানান, গাজায় কাজ করার জন্য মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে তাদের প্রায়শ আলোচনা সরকারি ইমেলের বদলে সিগন্যালের মাধ্যমে করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রের তথ্য মতে, ঘাঁটি নির্মাণের সিদ্ধান্তটি বোর্ড অব পিসের। এতে সহায়তা করছে মার্কিন কর্মকর্তারা। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ঘাঁটিতে তৈরি বাংকার নেটওয়ার্কের মতোন কাজ করবে। প্রতিটি বাংকারের ২৪ মিটারের হবে। উচ্চতা থাকবে আড়াই মিটার। এগুলো এমনভাবে করা হবে যেন সেনা সদস্যরা আশ্রয় নিতে পারে। স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসের গাজায় সুড়ঙ্গ নেটওয়ার্ক বা টানেল রয়েছে। সেগুলোর আদলে নেটওয়ার্ক করতে চাওয়া হচ্ছে। পিস অব বোর্ডের নথি পর্যালোচনা করে এমন দাবি করছে গার্ডিয়ান। সংবাদ মাধ্যমটি বলছে,  স্থানটির ভূ-ভৌত জরিপ পরিচালনা করবে ঠিকাদাররা। নথির এক অংশে ‘হিউম্যান রেমিয়েনস প্রোটোকল’র কথা বলা হয়েছে। এর মানে দাঁড়ায়, সন্দেহভাজন মানব অবশিষ্ট বা সাংস্কৃতিক নিদর্শন পাওয়া গেলে অবিলম্বে সেই এলাকায় সব কাজ বন্ধ করতে হবে। চুক্তি কর্মকর্তাকে দিকনির্দেশনার জন্য অবিলম্বে জানাতে হবে। গাজা সিভিল ডিফেন্সের ধারণা, গাজার ধ্বংসস্তূপের নিচে ১০ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনির মরদেহ রয়েছে। ঘাঁটির জন্য যে স্থানটি বিবেচিত করা হচ্ছে সেটির মালিক কে তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে, দক্ষিণ গাজার বেশিরভাগ অংশ  বর্তমানে ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণে। জাতিসংঘের অনুমান, যুদ্ধ চলাকালীন ১৯ লাখ ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত হয়েছে। ফিলিস্তিনের জমিতে সরকারের অনুমতি না নিয়ে সামরিক ঘাঁটি স্থাপনকে দখল হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন ফিলিস্তিনি-কানাডিয়ান আইনজীবী এবং প্রাক্তন শান্তি আলোচক দিয়ানা বুট্টু। তিনি প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়ে বলেন, “কার অনুমতিতে তারা সামরিক ঘাঁটি স্থাপন করবে।” বিষয়টি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা বোর্ড অব পিসের কথা টানেন। ট্রাম্প প্রশাসনের একজন কর্মকর্তা সামরিক ঘাঁটির চুক্তি নিয়ে আলোচনা করতে অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, “যেমনটি প্রেসিডেন্ট বলেছেন, কোনও মার্কিন সেনা স্থলভাগে যাবে না। আমরা লিক হওয়া নথি নিয়ে আলোচনা করবো না।”

কুড়িগ্রামের তাজু ভাই ২.০: ‘সরকারি রেটে জিলাপি’ প্রশ্নে ভাইরাল এক নির্মাণশ্রমিকের গল্প

বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের প্রত্যন্ত চরাঞ্চল থেকে উঠে এসে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার কেন্দ্রে এখন তাইজুল ইসলাম, যিনি অনলাইনে পরিচিত ‘তাজু ভাই ২.০’ নামে। মাত্র একটি ভিডিও—যেখানে তিনি এক দোকানিকে প্রশ্ন করেন, “জিলাপি আজকে কত করে বেচতেছেন সরকারি রেটে?”—এই সরল উপস্থাপনাই তাকে রাতারাতি ভাইরাল করে তোলে।  কয়েক ঘণ্টায় ফলোয়ার লাখ ছাড়াল রোববার রাত পর্যন্ত তার ফেসবুক অনুসারী ছিল প্রায় ৩৫ হাজার। কিন্তু সোমবার সন্ধ্যা থেকে রাতের মধ্যেই তা বেড়ে এক লাখের বেশি হয়ে যায়। ভাইরাল ভিডিওটি ইতোমধ্যে প্রায় ৫০ থেকে ৫৫ লাখবার দেখা হয়েছে।  কী ছিল সেই ভিডিওতে? ভিডিওতে দেখা যায়, কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীর নারায়ণপুর বাজারে দাঁড়িয়ে স্থানীয় ভাষায় তিনি জিলাপির দাম জানতে চান। তার কথাগুলো ছিল একেবারেই সহজ ও গ্রাম্য ভঙ্গিতে— “সাদাডা কত, লালডা কত? সরকারি রেটে বেচতেছেন?” এই সরল প্রশ্নই সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।  কোথা থেকে উঠে এলেন তাজু ভাই? কুড়িগ্রাম জেলার নাগেশ্বরী উপজেলার নারায়ণপুর ইউনিয়নের একটি দুর্গম গ্রামে জন্ম তার। ব্রহ্মপুত্র নদবেষ্টিত এই অঞ্চলে পৌঁছাতে এখনও কয়েকটি নৌঘাট পার হতে হয়। দারিদ্র্যের কারণে কখনো স্কুলে যাওয়া হয়নি তার। পেশায় তিনি একজন নির্মাণশ্রমিকের সহকারী (হেলপার)। কাজের ফাঁকে ঢাকায় থাকাকালীন মোবাইল ফোনে ভিডিও তৈরি করাই তার শখ। ব্যক্তিগত সংগ্রাম তাইজুল ইসলামের পরিবারে ছয় ভাই-বোন। তিনি সবার বড়। তার বাবা-মা দুজনই শ্রবণপ্রতিবন্ধী। পরিবার চালাতে তাকে ছোটবেলা থেকেই সংগ্রাম করতে হয়েছে। তিনি বলেন, “পরিবারের কষ্ট ভুলতেই ভিডিও করি। আমি সাংবাদিক না, কিন্তু আমাদের এলাকায় কেউ আসে না—তাই নিজেরাই ভিডিও বানাই।” ভাইরাল হওয়ার পেছনের উদ্দেশ্য তাইজুলের দাবি, তার ভিডিও শুধুই বিনোদনের জন্য নয়। তিনি চান তার এলাকার অবহেলিত মানুষের কথা প্রশাসনের নজরে আসুক। “আমি চাই চরের মানুষের উন্নয়ন হোক,”—বলছেন তিনি।  মিশ্র প্রতিক্রিয়া ভিডিওটি নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে দুই ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ তার সরলতা ও বাস্তবতা তুলে ধরার চেষ্টা প্রশংসা করছেন আবার কেউ তাকে নিয়ে ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ করছেন তবে এসব সমালোচনায় তিনি বিচলিত নন।

নিজস্ব প্রতিবেদক

বাংলাদেশ

View more
নিহত মোতালেব
ফতুল্লায় বিকাশ ব্যবসায়ী হত্যা: পাঁচ লাখ টাকার বিরোধ, তোশকে মোড়ানো মরদেহ ও পলাতক অংশীদার

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় পাঁচ লাখ টাকার ব্যবসায়িক বিরোধকে কেন্দ্র করে এক বিকাশ ব্যবসায়ীকে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। নিহতের পরিবারের দাবি, পাওনা টাকা আত্মসাৎ করার উদ্দেশ্যে ব্যবসায়িক অংশীদার মোতালেব (৬৫)-কে বাসায় ডেকে নিয়ে হত্যা করা হয়। পরে মরদেহ তোশকে মুড়িয়ে একটি ইজিবাইকে করে সড়কের পাশে ফেলে দেওয়া হয়। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সন্দেহে একটি গ্যারেজের মহাজন ও এক ইজিবাইক চালককে আটক করা হয়েছে। তবে মূল অভিযুক্ত হিসেবে যাঁর নাম উঠে এসেছে, সেই জাকির হোসেন সপরিবারে পলাতক রয়েছেন। ঘটনাটি বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) ফতুল্লার মাসদাইর এলাকায় ঘটে। নিহত কে? নিহত মোতালেব লক্ষ্মীপুর জেলার রামগঞ্জ উপজেলার শিবপুর গ্রামের মৃত সোলেমান মিয়ার ছেলে। তিনি পরিবার নিয়ে ফতুল্লার মাসদাইর কবরস্থান এলাকার ফারুক মিয়ার জাজিরা টাওয়ারের ষষ্ঠ তলায় বসবাস করতেন। পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য অনুযায়ী, মাসদাইর বাজারে তিনি বইয়ের দোকানের পাশাপাশি বিকাশের ব্যবসা পরিচালনা করতেন। একই ব্যবসার সূত্রে জাকির হোসেনের সঙ্গে তার পরিচয় এবং পরে যৌথভাবে ব্যবসা পরিচালনা শুরু হয়। পাঁচ লাখ টাকার বিরোধ পরিবারের অভিযোগ, ব্যবসায়িক লেনদেনে জাকির হোসেনের কাছে প্রায় পাঁচ লাখ টাকা পাওনা ছিল মোতালেবের। সেই টাকা আত্মসাৎ করার উদ্দেশ্যেই তাকে পরিকল্পিতভাবে বাসায় ডেকে নিয়ে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। এ অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত জাকির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তিনি বর্তমানে পলাতক বলে জানিয়েছে পুলিশ। যেভাবে সামনে আসে মরদেহ উদ্ধারের ঘটনা স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, গভীর রাতে একটি গ্যারেজ থেকে একটি ইজিবাইক বের করা হয়। ভোরে বিষয়টি নিয়ে গ্যারেজ মালিক সোহেল মিয়া ও চালক ফারুকের মধ্যে বাকবিতণ্ডা শুরু হলে স্থানীয়দের সন্দেহ তৈরি হয়। এর কিছু সময় পর সড়কের পাশে তোশকে মোড়ানো একটি মরদেহ উদ্ধারের খবর ছড়িয়ে পড়ে। ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয়রা গ্যারেজ মহাজন সোহেল মিয়া ও ইজিবাইক চালক ফারুককে আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দেন। ইজিবাইক চালকের দাবি পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে ইজিবাইক চালক ফারুক দাবি করেন, গভীর রাতে জাকির হোসেন তাকে ঘুম থেকে ডেকে তোলেন। ফারুকের ভাষ্যমতে, জাকির তাকে বলেন, একটি তোশকে পোকার আক্রমণ হয়েছে এবং সেটি ফেলে দিতে হবে। প্রথমে তিনি রাজি না হলেও পাঁচ হাজার টাকা দেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হলে সম্মত হন। পরে জাকিরের বাসার সামনে থেকে তোশকটি ইজিবাইকে তুলে কিছু দূরে সড়কের পাশে ফেলে দিয়ে তিনি টাকা নিয়ে চলে যান বলে পুলিশের কাছে জানিয়েছেন। সিসিটিভিতে যা দেখেছে পুলিশ ফতুল্লা মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) রফিকুল ইসলাম জানান, সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে, জাকির হোসেন হাসিমুখে মোতালেবের কাঁধে হাত রেখে তাকে নিজের বাসার দিকে নিয়ে যাচ্ছেন। পরে একই রাতে ওই বাসা থেকে একটি তোশক ইজিবাইকে তুলে নেওয়া হয়। আরেকটি ফুটেজে একই ইজিবাইক চালককে আরও দুজনের সহায়তায় সড়কের পাশে তোশকটি ফেলে দিতে দেখা গেছে বলে দাবি পুলিশের। উদ্ধার হওয়া আলামত পুলিশ জানিয়েছে, জাকির হোসেনের বাড়ির পেছন থেকে নিহত মোতালেবের ব্যবহৃত দুটি মোবাইল ফোন ও একটি ব্যাগ উদ্ধার করা হয়েছে। তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মতে, এসব আলামত হত্যাকাণ্ডের ঘটনাপ্রবাহ ও সম্ভাব্য উদ্দেশ্য সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিতে পারে। তদন্তের বর্তমান অবস্থা পুলিশ জানিয়েছে, প্রধান অভিযুক্ত জাকির হোসেন সপরিবারে পলাতক রয়েছেন। তাকে গ্রেপ্তার করা গেলে হত্যার প্রকৃত কারণ, ঘটনার পরিকল্পনা এবং অন্য কারও সম্পৃক্ততা ছিল কি না—এসব বিষয়ে আরও স্পষ্ট তথ্য পাওয়া যেতে পারে। এদিকে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত অভিযোগগুলোর বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব নয় বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

নিজস্ব প্রতিবেদক জুলাই ৩, ২০২৬ 0
সরকারি বরাদ্দের ১০ মসজিদের আটটি গেছে জামায়াত এমপি ড. মু. মিজানুর রহমানের নিজ উপজেলায়

চাঁপাইনবাবগঞ্জ-২ আসনে ১০ মসজিদের বরাদ্দের ৮টি গোমস্তাপুরে: বৈষম্যের অভিযোগ, ভুলের ইঙ্গিত জামায়াত নেতাদের

স্বাস্থ্য অধিদফতর

বেসরকারি হাসপাতাল নজরদারিতে নতুন নির্দেশনা: চিকিৎসকদের উপস্থিতি নিশ্চিত করতে ৫ দফা পদক্ষেপ

টেকনাফ সীমান্তের ওপারে রাখাইনে ফের বিস্ফোরণ, সীমান্তজুড়ে আতঙ্ক; সতর্ক অবস্থানে বিজিবি

নরসিংদী পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্র
এইচএসসি ২০২৬: নরসিংদীর কেন্দ্রে ভুলে ২০২৫ সালের প্রশ্নপত্র বিতরণ, দুই শিক্ষক প্রত্যাহার, তদন্তে জেলা প্রশাসন

 ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : এইচএসসি পরীক্ষার প্রথম দিনেই নরসিংদীর একটি পরীক্ষাকেন্দ্রে গুরুতর প্রশাসনিক ত্রুটির অভিযোগ উঠেছে। বাংলা প্রথমপত্র পরীক্ষায় একাধিক পরীক্ষার্থীর হাতে চলতি বছরের পরিবর্তে ২০২৫ সালের প্রশ্নপত্র তুলে দেওয়া হয়। প্রায় ১৫ মিনিট পর ভুলটি ধরা পড়লে নতুন প্রশ্নপত্র সরবরাহ করা হলেও পরীক্ষার্থীরা অভিযোগ করেছেন, হারিয়ে যাওয়া সময়ের কোনো ক্ষতিপূরণ তারা পাননি। ঘটনার পর কেন্দ্রের দায়িত্বে থাকা দুই শিক্ষককে সাময়িকভাবে প্রত্যাহার করা হয়েছে। একই সঙ্গে জেলা প্রশাসন বিষয়টি তদন্তে একজন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসককে দায়িত্ব দিয়েছে। বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) সকালে নরসিংদী পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রের অধীন নরসিংদী সরকারি মহিলা কলেজের সাব-সেন্টারের ২০১ নম্বর কক্ষে এ ঘটনা ঘটে। ১৫ মিনিট পর ধরা পড়ে ভুল কেন্দ্র সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, পরীক্ষা শুরু হওয়ার পর কিছু শিক্ষার্থী প্রশ্নপত্রে অসঙ্গতি লক্ষ্য করেন। পরে নিশ্চিত হওয়া যায়, তাদের হাতে চলতি বছরের পরিবর্তে ২০২৫ সালের প্রশ্নপত্র দেওয়া হয়েছে। এরপর নতুন প্রশ্নপত্র সরবরাহ করে পরীক্ষা অব্যাহত রাখা হলেও পরীক্ষার্থীদের দাবি, ভুলের কারণে নষ্ট হওয়া সময়ের জন্য অতিরিক্ত সময় দেওয়া হয়নি। তবে কোনো শিক্ষার্থীই পরিচয় প্রকাশে রাজি হননি। ওই কক্ষে মোট কতজন পরীক্ষার্থী ছিলেন, তাও আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়নি। 'বিষয়টি আমাদের জন্য বিব্রতকর' কেন্দ্রসচিব ও নরসিংদী সরকারি মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ নাছিমা আক্তার ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন,     "২০১ নম্বর কক্ষে ভুলবশত পুরোনো সিলেবাসের প্রশ্নপত্র বিতরণ করা হয়েছিল। কিছুক্ষণ পর বিষয়টি জানতে পেরে ২০২৬ সালের প্রশ্নপত্র সরবরাহ করা হয়েছে। বিষয়টি আমাদের জন্য বিব্রতকর।" তিনি জানান, ঘটনার প্রাথমিক দায়ে প্রশ্নপত্র আনা-নেওয়া ও কেন্দ্র পরিচালনার সঙ্গে যুক্ত সমাজবিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক অলক কুমার পাল এবং হিসাববিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক সুব্রত কুমার সাহাকে সাময়িকভাবে প্রত্যাহার করা হয়েছে। অধ্যক্ষের ভাষ্য, তদন্ত শেষে লিখিত প্রতিবেদন পাওয়ার পর পরবর্তী প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। জেলা প্রশাসনের তদন্ত এইচএসসি কেন্দ্রের দায়িত্বপ্রাপ্ত সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সারোয়ার আলম জানান, বিষয়টি জেলা প্রশাসনের নজরে এসেছে। জেলা প্রশাসক অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) মু. রাসেদুজ্জামানকে তদন্তের দায়িত্ব দিয়েছেন। অন্যদিকে নরসিংদী সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আসমা জাহান সরকার বলেন, অভিযোগ পাওয়ার পর তিনি নিজেই কেন্দ্রে গিয়ে ঘটনাটি যাচাই করেছেন। তার ভাষায়,     "ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত হলে অবশ্যই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।" কত শিক্ষার্থী পরীক্ষা দিয়েছেন? জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা এ এস এম আব্দুল খালেক জানান, মূল কেন্দ্রের প্রায় ৬০০ শিক্ষার্থী সরকারি মহিলা কলেজের সাব-সেন্টারে পরীক্ষায় অংশ নেন। এদিকে জেলা শিক্ষা প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছর নরসিংদী জেলায় মাধ্যমিক, কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা মিলিয়ে ৩১টি কেন্দ্রে ১৫ হাজার ১৬৮ জন পরীক্ষার্থী প্রথম দিনের পরীক্ষায় অংশ নেন। প্রথম দিনে অনুপস্থিত ছিলেন ২১৪ জন। তদন্তে যেসব প্রশ্নের উত্তর মিলতে পারে ঘটনাটি শুধু মানবিক ভুল, নাকি প্রশ্নপত্র ব্যবস্থাপনায় আরও বড় ধরনের ত্রুটির ইঙ্গিত—তা এখন তদন্তের বিষয়। তদন্তে যেসব বিষয় গুরুত্ব পেতে পারে—     কেন ২০২৫ সালের প্রশ্নপত্র পরীক্ষাকক্ষে পৌঁছালো?     প্রশ্নপত্র গ্রহণ, সংরক্ষণ ও বিতরণের দায়িত্বে কারা ছিলেন?     ভুল শনাক্ত হওয়ার পর পরীক্ষার্থীদের অতিরিক্ত সময় না দেওয়ার সিদ্ধান্ত কে নিয়েছিলেন?     এ ঘটনায় পরীক্ষার্থীদের মূল্যায়নে কোনো প্রভাব পড়বে কি না?     শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা পরিচালনা নির্দেশিকা যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়েছিল কি না? প্রশাসনের তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশের পরই এসব প্রশ্নের আনুষ্ঠানিক উত্তর মিলতে পারে।  

নিজস্ব প্রতিবেদক জুলাই ২, ২০২৬ 0

কলাপাড়ায় আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংকের ক্যাশিয়ারের বিরুদ্ধে কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ, বিক্ষোভে গ্রাহকরা

পিরোজপুরের নাজিরপুরে শিব মন্দিরের জমি দখলচেষ্টার অভিযোগ, বাধা দেওয়ায় আনসার কমান্ডারকে কুপিয়ে জখম

মাগুরায় কৃষকদল নেতা কারাগারে

বিয়ের আশ্বাসে প্রতারণা ও হুমকির অভিযোগে মাগুরায় কৃষকদল নেতা গ্রেফতার, কারাগারে প্রেরণ

বাংলাদেশ সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্ট আয়োজিত সেমিনারে সাংস্কৃতিক আগ্রাসন নাকি পরিবর্তনের ধারা নিয়ে বিস্তৃত আলোচনা

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : বিশ্বায়ন ও ডিজিটাল প্রযুক্তির দ্রুত বিস্তারের যুগে বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক পরিচয় কতটা চ্যালেঞ্জের মুখে? বিদেশি সংস্কৃতির প্রভাব কি কেবল বৈচিত্র্য বাড়াচ্ছে, নাকি ধীরে ধীরে দুর্বল করে দিচ্ছে দেশের নিজস্ব ভাষা, ঐতিহ্য ও মূল্যবোধ? এমন প্রশ্নকে সামনে রেখেই "সুস্থ সংস্কৃতি, বিনোদন চর্চা ও জাতীয় ভাবধারাভিত্তিক গণতান্ত্রিক সাংস্কৃতিক বিকাশ" শীর্ষক একটি সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (২৮ জুন) বাংলাদেশ সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্টের বোর্ড সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত এ সেমিনারের আয়োজন করে বাংলাদেশ সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্ট এবং তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়। আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় প্রেসক্লাবের সভাপতি কবি হাসান হাফিজ এবং বিএফইউজের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক শাহজাহান সাজু। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ আবদুল বাছির। সংস্কৃতি শুধু বিনোদন নয়, জাতির আত্মপরিচয়ের ভিত্তি প্রবন্ধে উল্লেখ করা হয়-  সংস্কৃতি একটি জাতির আত্মপরিচয়ের ভিত্তি। ভাষা, সাহিত্য, শিল্প, সংগীত, লোকজ ঐতিহ্য, ধর্মীয় ও সামাজিক মূল্যবোধ, আচার-অনুষ্ঠান এবং জীবনযাপন পদ্ধতির সমন্বয়ে একটি জাতির সংস্কৃতি গড়ে ওঠে। বর্তমান বিশ্বায়নের যুগে তথ্যপ্রযুক্তির অভূতপূর্ব বিস্তার মানুষের জ্ঞান ও চিন্তার পরিধি যেমন বৃদ্ধি করেছে, তেমনি সাংস্কৃতিক আগ্রাসন ও মূল্যবোধের সংকটও সৃষ্টি করেছে। বাংলাদেশের মতো ঐতিহ্যবাহী সমাজে সুস্থ সংস্কৃতি চর্চা, বিনোদনের ইতিবাচক পরিবেশ এবং জাতীয় ভাবধারাভিত্তিক গণতান্ত্রিক সাংস্কৃতিক বিকাশ সময়ের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দাবি। সাংস্কৃতিক আগ্রাসন: পরিবর্তন নাকি পরিচয়ের সংকট? ১. সাংস্কৃতিক আগ্রাসনের প্রভাব বিশ্লেষণ, জাতীয় সংস্কৃতি সংরক্ষণ ও বিকাশ, তরুণ প্রজন্মের জন্য ইতিবাচক সাংস্কৃতিক পরিবেশ সৃষ্টি: সাংস্কৃতিক আগ্রাসন বলতে এমন এক প্রক্রিয়াকে বোঝায় যার মাধ্যমে একটি শক্তিশালী সংস্কৃতি অন্য সংস্কৃতির উপর প্রভাব বিস্তার করে এবং ধীরে ধীরে স্থানীয় সংস্কৃতিকে দুর্বল করে দেয়। বর্তমানে স্যাটেলাইট টেলিভিশন, ওটিটি প্ল্যাটফর্ম, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এবং বৈশ্বিক বিনোদন শিল্পের মাধ্যমে এই প্রভাব ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে। বাংলাদেশে তরুণ প্রজন্মের মধ্যে বিদেশি সংস্কৃতির বিভিন্ন উপাদান দ্রুত জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। এতে ইতিবাচক কিছু দিক থাকলেও অন্ধ অনুকরণ অনেক ক্ষেত্রে নিজস্ব সাংস্কৃতিক পরিচয়কে দুর্বল করছে। বাংলা ভাষার ব্যবহার কমে যাওয়া, লোকজ সংস্কৃতির প্রতি অনাগ্রহ, পারিবারিক ও সামাজিক মূল্যবোধের অবক্ষয় এবং ভোগবাদী মানসিকতার বিস্তার এর অন্যতম প্রভাব। জাতীয় সংস্কৃতি সংরক্ষণের জন্য আমাদের লোকসংগীত, বাউলগান, ভাটিয়ালি, জারি-সারি, পালাগান, লোকনাটা, পহেলা বৈশাখ, নবান্ন উৎসবসহ বিভিন্ন ঐতিহ্যকে নতুন প্রজন্মের কাছে আকর্ষণীয়ভাবে তুলে ধরতে হবে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সাংস্কৃতিক সংগঠন এবং গণমাধ্যমকে একযোগে কাজ করতে হবে। তরুণদের জন্য ইতিবাচক সাংস্কৃতিক পরিবেশ গড়ে তুলতে সাহিত্যচর্চা, নাট্যচর্চা, সংগীত শিক্ষা, বিতর্ক, বইপাঠ এবং সৃজনশীল কর্মকান্ডের সুযোগ বৃদ্ধি করা প্রয়োজন। কারণ সংস্কৃতি শুধু বিনোদনের মাধ্যম নয়; এটি ব্যক্তিত্ব গঠন ও মানবিক মূল্যবোধ বিকাশেরও অন্যতম হাতিয়ার। তরুণ প্রজন্মের সামনে কী ধরনের চ্যালেঞ্জ? ২. সাংস্কৃতিক আগ্রাসন ও জাতীয় পরিচয়: ক. বৈশ্বিক সাংস্কৃতিক প্রবাহ: বিশ্বায়নের ফলে পৃথিবী আজ একটি বৈশ্বিক গ্রামে পরিণত হয়েছে। বিভিন্ন দেশের সংস্কৃতি, ভাষা ও জীবনধারা সহজেই মানুষের কাছে পৌঁছে যাচ্ছে। এটি জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা বিনিময়ের সুযোগ সৃষ্টি করলেও স্থানীয় সংস্কৃতির জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে। খ. স্থানীয় সংস্কৃতির চ্যালেঞ্জ: বাংলাদেশের লোকসংস্কৃতি, গ্রামীণ ঐতিহ্য এবং নিজস্ব জীবনবোধ ক্রমশ নগরায়ণ ও বৈশ্বিক সংস্কৃতির চাপে সংকুচিত হচ্ছে। অনেক তরুণ নিজের সংস্কৃতির চেয়ে বিদেশি সংস্কৃতিকে বেশি আকর্ষণীয় মনে করছে। ফলে জাতীয় পরিচয়ের ভিত্তি দুর্বল হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম: সুযোগের পাশাপাশি ঝুঁকিও গ. সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রভাব: ফেসবুক, ইউটিউব, টিকটকসহ বিভিন্ন ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম মানুষের চিন্তা, রুচি ও আচরণে ব্যাপক প্রভাব ফেলছে। ইতিবাচক তথ্য ও শিক্ষামূলক কনটেন্টের পাশাপাশি অশালীনতা, সহিংসতা, অসত্য তথ্য ও অসুস্থ বিনোদনের বিস্তারও ঘটছে। তাই ডিজিটাল সাক্ষরতা ও দায়িত্বশীল ব্যবহার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বাংলা ভাষা ও মূল্যবোধের প্রশ্ন ঘ. ভাষা, ঐতিহ্য ও মূল্যবোধ: বাংলা ভাষা আমাদের জাতীয় পরিচয়ের প্রধান ভিত্তি। ভাষা আন্দোলনের মাধ্যমে অর্জিত এই ঐতিহ্য রক্ষার দায়িত্ব আমাদের সবার। একইসঙ্গে পারিবারিক বন্ধন, বয়োজ্যেষ্ঠদের প্রতি শ্রদ্ধা, সামাজিক সহমর্মিতা, সততা ও মানবিকতা-এসব মূল্যবোধও জাতীয় সংস্কৃতির অবিচ্ছেদ্য অংশ। এগুলো সংরক্ষণ না করতে পারলে জাতীয় পরিচয়ও দুর্বল হয়ে পড়বে। পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও গণমাধ্যমের দায়িত্ব ৩. সুস্থ সংস্কৃতি ও বিনোদন চর্চার পরিবেশ: পরিবার ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ভূমিকা: একটি শিশুর সাংস্কৃতিক বিকাশের প্রথম প্রতিষ্ঠান পরিবার। পরিবারে বই পড়ার অভ্যাস, গান, কবিতা, গল্প এবং নৈতিক শিক্ষার চর্চা থাকলে শিশু সুস্থ সাংস্কৃতিক পরিবেশে বেড়ে ওঠে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেও সহশিক্ষা কার্যক্রম, সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা, নাটক, সংগীত ও সাহিত্যচর্চার সুযোগ বাড়াতে হবে। গণমাধ্যম ও বিনোদন শিল্প: গণমাধ্যম সমাজের রুচি গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তাই টেলিভিশন, রেডিও, চলচ্চিত্র, অনলাইন প্ল্যাটফর্ম ও সংবাদমাধ্যমকে শিক্ষামূলক, নৈতিক ও দেশীয় সংস্কৃতিনির্ভর কনটেন্ট প্রচারে অগ্রাধিকার দিতে হবে। শিশু-কিশোরদের সাংস্কৃতিক বিকাশ: শিশু-কিশোরদের সৃজনশীলতা বিকাশে সাংস্কৃতিক কর্মকান্ড অপরিহার্য। তাদের জন্য মানসম্মত শিশুতোষ অনুষ্ঠান, নাটক, কার্টুন, সাহিত্য এবং সাংস্কৃতিক প্রশিক্ষণের সুযোগ বৃদ্ধি করতে হবে। ইতিবাচক কনটেন্ট নির্মাণ: ডিজিটাল যুগে ইতিবাচক ও মূল্যবোধভিত্তিক কনটেন্ট নির্মাণ অত্যন্ত জরুরি। তরুণদের কাছে দেশপ্রেম, মানবিকতা, বিজ্ঞানমনস্কতা, পরিবেশ সচেতনতা ও সামাজিক দায়িত্ববোধ তুলে ধরতে হবে। জাতীয় ভাবধারা ও গণতান্ত্রিক সংস্কৃতি ৪. জাতীয় ভাবধারা ও গণতান্ত্রিক সংস্কৃতির বিকাশ: মুক্তিযুদ্ধের চেতনা: বাংলাদেশের জাতীয় ভাবধারার মূল ভিত্তি মহান মুক্তিযুদ্ধ। স্বাধীনতা, মানবমর্যাদা, ন্যায়বিচার ও গণতন্ত্রের আদর্শ নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দিতে হবে। অসাম্প্রদায়িকতা ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ: বাংলাদেশের সংবিধানের অন্যতম ভিত্তি অসাম্প্রদায়িকতা। ধর্ম, বর্ণ ও মতের ভিন্নতা সত্ত্বেও পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সহনশীলতা ও সহাবস্থানের সংস্কৃতি গড়ে তুলতে হবে। গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ মানে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, ভিন্নমতের প্রতি সম্মান এবং আইনের শাসনের প্রতি শ্রদ্ধা। সংস্কৃতি ও সামাজিক সম্প্রীতি: সংস্কৃতি মানুষকে একত্রিত করে। উৎসব, নাটক, সংগীত, সাহিত্য ও শিল্পচর্চা সামাজিক সম্প্রীতি বৃদ্ধি করে এবং বিভাজনের পরিবর্তে ঐক্যের বার্তা দেয়।   রাষ্ট্রের ভূমিকা কতটা গুরুত্বপূর্ণ? রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতা: সাংস্কৃতিক বিকাশে রাষ্ট্রের ভূমিকা অত্যন্ত পুরুত্বপূর্ণ। সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান শক্তিশালীকরণ, শিল্পী-সাহিত্যিকদের সহায়তা, জেলা-উপজেলা পর্যায়ে সাংস্কৃতিক কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা এবং লোকজ ঐতিহ্য সংরক্ষণে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে। উপসংহার: সুস্থ সংস্কৃতি, ইতিবাচক বিনোদন এবং জাতীয় ভাবধারাভিত্তিক গণতান্ত্রিক সাংস্কৃতিক বিকাশ একটি উন্নত, মানবিক ও অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ গঠনের পূর্বশর্ত। সাংস্কৃতিক আগ্রাসনের নেতিবাচক প্রভাব মোকাবিলা করে আমাদের নিজস্ব ভাষা, ঐতিহ্য ও মূল্যবোধকে ধারণ করতে হবে। পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, গণমাধ্যম, সাংস্কৃতিক সংগঠন এবং রাষ্ট্রের সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমেই একটি সৃজনশীল, প্রগতিশীল ও গণতান্ত্রিক সাংস্কৃতিক সমাজ প্রতিষ্ঠা সম্ভব।

নিজস্ব প্রতিবেদক জুন ২৯, ২০২৬ 0

বরিশালে জাতীয় ভিটামিন এ প্লাস ক্যাম্পেইন : ২২০ কেন্দ্রে শিশুদের ভিটামিন এ ক্যাপসুল বিতরণ

রিফাত হত্যা মামলার সাত বছর: মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত মিন্নির কারাজীবন

মাদক ও সাইবার আইন সংশোধনে দুই বিল সংসদে

মাদক মামলায় বিশেষ ট্রাইব্যুনাল, সাইবার আইন থেকে বাদ জুয়া

অর্থনীতি

ইসলামী ব্যাংক,

ইসলামী ব্যাংকে আস্থা সংকট কেন কাটছে না?: দেশের বৃহত্তম শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংককে ঘিরে নতুন প্রশ্ন

নিজস্ব প্রতিবেদক জুন ২২, ২০২৬ 0




অপরাধ

ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো

ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকোর বিরুদ্ধে ৩০ বিলিয়ন ডলার জালিয়াতি ও অর্থপাচার অভিযোগে দুদকের অনুসন্ধান

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ২৪, ২০২৬ 0




কৃষি ও জলবায়ু

ধান

শেরপুরে বোরো ধানের দাম কমে লোকসানে কৃষকরা, উৎপাদন খরচও উঠছে না

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ৬, ২০২৬ 0