অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের সম্পদ বিবরণী প্রকাশের পর সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী ও তার স্ত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদের হিসাব নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। এক বছরের ব্যবধানে স্বামী ফারুকীর সম্পদ কমলেও স্ত্রী তিশার সম্পদ বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে প্রকাশিত তথ্যে উঠে এসেছে এই চিত্র। প্রকাশিত খতিয়ান অনুযায়ী, জনপ্রিয় অভিনেত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদ এক বছরে অভাবনীয় হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তিশার মোট সম্পদের পরিমাণ ছিল ১ কোটি ৪০ লাখ ৮১ হাজার ৮৬০ টাকা। ঠিক এক বছর পর, ২০২৫ সালের ৩০ জুন সেই সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ৯৯ লাখ ৮৯ হাজার ৫০১ টাকায়। অর্থাৎ মাত্র এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ বেড়েছে ১ কোটি ৫৯ লাখ ৭ হাজার ৬৪১ টাকা, যা আগের বছরের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি। অন্যদিকে সংস্কৃতি উপদেষ্টা ও নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর ক্ষেত্রে দেখা গেছে উল্টো চিত্র। এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ কমেছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তার মোট সম্পদ ছিল ২ কোটি ২৬ লাখ ৯২ হাজার ২৬ টাকা। ২০২৫ সালের ৩০ জুন তা কমে দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ১৫ লাখ ১৮ হাজার ২৬ টাকায়। হিসাব অনুযায়ী, এক বছরে তার সম্পদ কমেছে ১১ লাখ ৭৪ হাজার টাকা। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে গত মঙ্গলবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ প্রধান উপদেষ্টা, উপদেষ্টা ও সমমর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের পাশাপাশি তাদের স্ত্রী বা স্বামীর সম্পদ বিবরণী প্রকাশ করে। একই সময়ে স্বামী-স্ত্রীর সম্পদে এমন ভিন্নমুখী পরিবর্তন স্বাভাবিকভাবেই সাধারণ মানুষের কৌতূহলের জন্ম দিয়েছে। শোবিজ অঙ্গনের জনপ্রিয় দম্পতি হওয়ায় তাদের এই আয়-ব্যয়ের হিসাব এখন টক অব দ্য কান্ট্রি।
দুই বাংলার জনপ্রিয় অভিনেত্রী জয়া আহসান—পর্দায় যেমন সাবলীল অভিনয়ে যে কোনো চরিত্রে নিজেকে মেলে ধরতে পারেন, তেমনি ব্যক্তিগত স্টাইল ও ফ্যাশন সেন্সেও বরাবরই রুচিশীল। অভিনয় ও পোশাক—এই দুইয়ে মিলে তার সৌন্দর্য হয়ে ওঠে এক অনন্য সমন্বয়। ট্র্যাডিশনাল হোক কিংবা ওয়েস্টার্ন, প্রতিটি সাজেই নিজের স্বকীয়তা বজায় রেখে নজর কাড়তে জানেন এই চিত্রনায়িকা। নতুন বছরের শুরুতেই ভারতে বড় এক স্বীকৃতি অর্জন করে আবারও আলোচনায় এসেছেন জয়া আহসান। পরিচালক সুমন মুখার্জি নির্মিত সিনেমা ‘পুতুলনাচের ইতিকথা’-তে অনবদ্য অভিনয়ের জন্য তিনি পেয়েছেন সেরা অভিনেত্রী (সমালোচক বিভাগ) পুরস্কার। এই আনন্দঘন মুহূর্তটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভক্তদের সঙ্গে ভাগ করে নেন জয়া নিজেই। এই খুশির রেশ ধরেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গোলাপি রঙের পোশাকে নতুন কয়েকটি ছবি পোস্ট করেন তিনি। ছবিগুলোতে ধরা পড়ে তার হাস্যোজ্জ্বল, অকৃত্রিম মুহূর্ত। প্রকাশের পরপরই ছবিগুলো নেটিজেনদের মাঝে ব্যাপক সাড়া ফেলে। জয়ার রূপের জাদুতে মুগ্ধ হয়ে পড়েন ভক্তরা। বর্তমানে টালিগঞ্জেই সময় কাটাচ্ছেন জয়া আহসান। সেখানে বিভিন্ন ইভেন্টেও নিয়মিত দেখা যাচ্ছে তাকে। শনিবার (৩১ জানুয়ারি) নিজের ফেসবুক পেজে একগুচ্ছ ছবি পোস্ট করেন এই তারকা। ছবিগুলোতে দেখা যায়, জয়া পরেছেন একটি স্লিভলেস হল্টার-নেক স্টাইল গোলাপি গাউন। পোশাকটির পেছনের অংশে রয়েছে ওপেন ব্যাক ডিজাইন, যা তার লুকে যোগ করেছে আধুনিক ও সাহসী ছোঁয়া। চুলে পরিপাটি পনিটেল এবং কানে ছোট টপ ব্যবহার করে তিনি তার সামগ্রিক লুকে এনেছেন আভিজাত্য ও পরিমিত সৌন্দর্য। ছবির ক্যাপশনে জয়া লেখেন, “গোলাপি আভা, অকৃত্রিম মুহূর্ত, চিরন্তন এক সন্ধ্যা…” ছবির ব্যাকগ্রাউন্ডে দেখা যায় বিভিন্ন পুরস্কারের ক্রেস্ট ও একটি অ্যান্টিক প্রজেক্টর, যা যেন ইঙ্গিত দেয় তার বর্ণাঢ্য ও সফল অভিনয়জীবনের। অভিনয় দক্ষতার পাশাপাশি জয়ার চিরযৌবনা রূপ ও ফ্যাশন সেন্স বরাবরই প্রশংসিত। নতুন এই লুকেও তার ব্যতিক্রম হয়নি। পোস্টের মন্তব্য ঘরে ভক্তদের প্রশংসার বন্যা বইছে। এক ভক্ত লিখেছেন, “পিঙ্ক হিউসে জয়া আহসান মানেই আলাদা এক গ্রেস—ন্যাচারাল, ক্যান্ডিড আর চিরকালীন সৌন্দর্যের নিখুঁত মিল।” আরেকজনের মন্তব্য, “কি মিষ্টি লাগছে!” আরেক ভক্ত লিখেছেন, “অসাধারণ ফ্যাশন সেন্স, চোখ ফেরানো দায়!” প্রসঙ্গত, আগামী ফেব্রুয়ারিতেই টালিউডে মুক্তি পেতে যাচ্ছে জয়া আহসানের নতুন সিনেমা ‘ওসিডি’। সব মিলিয়ে অভিনয়, স্বীকৃতি ও জনপ্রিয়তায় ক্যারিয়ারের এক তুঙ্গ সময় পার করছেন এই তারকা।
কখনও মাসাবার নতুন পোশাক সম্ভারে, কখনও কান চলচ্চিত্র উৎসবের ঝলমলে লালগালিচায়, আবার কখনও নতুন ছবির শুটিং সেটে—সব মিলিয়ে পেশাজীবনের মধ্যগগনে এখন শ্রীদেবী-কন্যা জাহ্নবী কাপুর। অভিনয়ের পাশাপাশি তার ঘন কালো, ঝলমলে চুলের সৌন্দর্য বারবার নজর কেড়েছে অনুরাগীদের। তবে এই সাফল্যের আড়ালে রয়েছে ব্যস্ততা, শারীরিক পরিশ্রম, মানসিক চাপ এবং নিজেকে প্রতিনিয়ত ধরে রাখার চ্যালেঞ্জ। অভিনয়ের প্রয়োজনে নিয়মিত হিট স্টাইলিং, রাসায়নিক ব্যবহার, ধুলাবালি ও দূষণের মুখোমুখি হতে হয় তাকে। তবুও কীভাবে চুলের স্বাস্থ্য ও জেল্লা অটুট রাখেন জাহ্নবী? এর উত্তর লুকিয়ে আছে একেবারে সাধারণ রান্নাঘরের উপকরণেই। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে জাহ্নবী কাপুর জানিয়েছেন তার বিশেষ ‘ডিআইওয়াই’ হেয়ার প্যাকের কথা, যা মাত্র চারটি প্রাকৃতিক উপকরণ দিয়েই তৈরি। অভিনেত্রীর পছন্দের তালিকায় রয়েছে—টকদই, ডিম, মধু ও নারিকেলের দুধ। এই চারটি উপকরণ একসঙ্গে মিশিয়ে একটি ঘন মিশ্রণ তৈরি করেন তিনি। এরপর সেই প্যাক মাথার ত্বক (স্ক্যাল্প) থেকে শুরু করে চুলের শেষ প্রান্ত পর্যন্ত ভালোভাবে লাগিয়ে নেন। প্রায় ৩০ মিনিট অপেক্ষা করার পর হালকা শ্যাম্পু দিয়ে চুল ধুয়ে ফেলেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই হেয়ার প্যাকটি চুলের জন্য একেবারে পুষ্টির খনি। টকদই ও ডিম প্রাকৃতিকভাবে স্ক্যাল্প পরিষ্কার রাখতে সাহায্য করে এবং অতিরিক্ত তেল ও ময়লা দূর করে। অন্যদিকে মধু ও নারিকেলের দুধ প্রাকৃতিক কন্ডিশনার হিসেবে কাজ করে, যা চুলকে গভীরভাবে আর্দ্রতা জোগায় এবং নরম ও উজ্জ্বল রাখে। জাহ্নবী কাপুর জানান, এই ঘরোয়া রূপচর্চার পদ্ধতি তিনি বংশপরম্পরায় পেয়ে এসেছেন। তার মা, প্রয়াত অভিনেত্রী শ্রীদেবীও নাকি নামিদামি প্রসাধনী ব্র্যান্ডের বদলে ঘরোয়া ভেষজ তেল ও ফলের নির্যাস ব্যবহার করতেই বেশি স্বচ্ছন্দ ছিলেন। বাজারের দামি পণ্যের পেছনে না ছুটে জাহ্নবীর মতো আপনিও চাইলে ভরসা রাখতে পারেন এই সহজ, সাশ্রয়ী ও পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াহীন হেয়ার প্যাকে। নিয়মিত ব্যবহার করলে আপনার চুলও হতে পারে আরও স্বাস্থ্যবান, মসৃণ ও আকর্ষণীয়—ঠিক সেলিব্রিটিদের মতো।
বিয়ে, বিয়ের কনে, লাল বেনারসি কিংবা পাশ্চাত্য দেশে সাদা গাউন-এই তো পরিচিত দৃশ্য। বিয়ে মানেই আমাদের চোখে ভাসে উজ্জ্বল লাল বা সাদা সাজ। দক্ষিণ এশিয়া ও পাশ্চাত্যে এই রংগুলো বিয়ের প্রতীক হিসেবে অত্যন্ত জনপ্রিয়। কনের পরনে লাল বেনারসি, ঝলমলে গয়না কিন্তু এর ঠিক বিপরীত একটা দৃশ্য দেখা যায় কিছু দেশে। বিশ্বের কিছু দেশে বিয়ের দিনে কনে কালো পোশাক পরেন। আমাদের চোখে কালো রং শোকের প্রতীক হলেও, কিছু সংস্কৃতিতে এই রংকে মর্যাদা, স্থায়িত্ব ও প্রেমের প্রতীক হিসেবে দেখা হয়। স্পেনের বিশেষ করে আন্দালুসিয়া অঞ্চলে কনেরা ঐতিহ্যগতভাবে কালো লেইস বা সিল্কের পোশাক পরতেন। এই পোশাককে বলা হয় ‘ট্রাজে নেগ্রো’, সঙ্গে থাকে লম্বা কালো ঘোমটা বা মান্থিল্লা, মাথায় ফুল বা অলঙ্কার। এখানে কালো রং বোঝায় ‘মৃত্যু পর্যন্ত একসঙ্গে থাকার অঙ্গীকার’। আধুনিক দিনে সাদা গাউন বেশি জনপ্রিয় হলেও ঐতিহ্যবাহী পরিবার বা ফ্লামেঙ্কো সংস্কৃতিতে কালো পোশাক এখনো সম্মানের সঙ্গে ব্যবহৃত হয়। উত্তর ইউরোপের দেশগুলোতে বিশেষ করে নরওয়ে ও ফিনল্যান্ডে, গ্রামীণ কনেরা ভারী উলের কালো পোশাক পরতেন। সূচিকর্মের সঙ্গে এই পোশাককে বুনান্ড বলা হয়। কালো রং স্থায়িত্ব, ধনসম্পদ এবং পরিণত জীবনের প্রতীক। এছাড়া কালো পোশাক সহজে নোংরা হয় না, তাই বিয়ের পরে দৈনন্দিন ব্যবহারের জন্যও এটি ব্যবহার করা যেত। ফ্রান্স ও ইতালির গ্রামীণ এলাকাতেও কনেরা কালো পোশাক পরতেন। ফ্রান্সে এটি পরিপক্বতা ও দায়িত্বের প্রতীক, আর ইতালিতে ব্যবহারিক কারণেই। কালো গাউনগুলোতে সূক্ষ্ম লেইস, হাতের কাজ এবং কখনো কখনো রুপালি অলঙ্করণ থাকত। কালো বিয়ের পোশাক মানেই একঘেয়ে নয়। সাধারণত লেইস ও সূচিকর্ম থাকে, লম্বা ঘোমটা, সিলভার বা সোনালি গয়না, এবং মাথায় ফুল বা অলঙ্কার। স্পেনে অনেক কনে কালো পোশাকের সঙ্গে লাল গোলাপ বা লিপস্টিক ব্যবহার করেন, যা প্রেম ও শক্তির প্রতীক। কালো পোশাক মানেই গম্ভীর বিয়ে নয়। স্পেনে বিয়েতে থাকে ফ্লামেঙ্কো নাচ, লাইভ গিটার সংগীত এবং রাতভর উৎসব। নরওয়ে ও স্ক্যান্ডিনেভিয়ায় বিয়েতে থাকে লোকসংগীত, পারিবারিক ভোজ এবং খোলা আকাশের নিচে আনন্দ। যেখানে কনে বিয়েতে লাল নয়, কালো পোশাক পরে স্পেনে বিয়ের খাবারে থাকে সি-ফুড, পায়েলা, অলিভ অয়েল ও চিজ, এবং ওয়াইন। নরওয়েতে পরিবেশন করা হয় মাছ, মাংস, স্থানীয় রুটি এবং মধু বা বেরি দিয়ে তৈরি ডেজার্ট। এসব খাবার শুধু পেট ভরায় না, ঐতিহ্যকেও তুলে ধরে। আজকাল বিশ্বজুড়ে অনেক কনে ইচ্ছাকৃতভাবে কালো গাউন বেছে নিচ্ছেন। কেউ ঐতিহ্যের কারণে, কেউ ফ্যাশন স্টেটমেন্ট হিসেবে। বিশেষ করে ইউরোপ ও আমেরিকায় ‘ব্ল্যাক ওয়েডিং ড্রেস’ এখন সাহসী ও আধুনিক ট্রেন্ড। আসলে যে কোনো রংই সব জায়গায় একই অর্থ বহন করে না। কোথাও চিরন্তন ভালোবাসা, কোথাও দায়িত্ব ও মর্যাদা। বিশ্বজুড়ে বিয়ের রীতিগুলো শুধু উৎসব নয়, একেকটি সমাজের গভীর বিশ্বাসের প্রতিফলন। তাইতো কালো বিয়ের পোশাক আমাদের শেখায় যে ভালোবাসা শুধু রঙে বাঁধা নয়, সংস্কৃতি ও ইতিহাসও তার অংশ।
বাড়িতে তরুণীকে আটকে রেখে যৌন ও মানসিক নির্যাতন করার অভিযোগে গ্রেফতার হয়েছেন ভারতের কলকাতার সোশ্যাল মিডিয়া ইনফ্লুয়েন্সার ও ইউটিউবার শমীক অধিকারী। এ ঘটনায় করা মামলায় অভিযুক্তকে ১০ দিনের পুলিশি হেফাজতে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম হিন্দুস্তান টাইমসের প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, গত ২ ফেব্রুয়ারি রাত থেকে ৩ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যা পর্যন্ত ভুক্তভোগী তরুণীকে ফ্ল্যাটে আটকে রাখেন শমীক। মারধরের পাশাপাশি তাকে একাধিকবার ধর্ষণও করেন, এমন অভিযোগ তরুণীর। এ ঘটনায় গত ৪ ফেব্রুয়ারি শারীরিক নির্যাতন ও যৌন হেনস্তার অভিযোগ (জিডি) দায়ের করেন তরুণী। ৫ ফেব্রুয়ারি তার অভিযোগের ভিত্তিতে বেহালা থানায় শমীকের বিরুদ্ধে মামলার প্রথম পদক্ষেপ এফআইআর দায়ের করা হয়। ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ১২৭ (২), ৭, ৪ এবং ৩৫১ (২) ধারায় মামলা করা হয়েছে। থানায় এফআইআর দায়েরের খবরে বাবা মাকে নিয়ে নিখোঁজ হন ইউটিউবার। এরপর পুলিশের চিরুনি অভিযানে তাকে দমদম থেকে গ্রেফতার করা হয়। শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) ভারতের আলিপুর আদালতে শমীককে পেশ করা হলে শুনানীতে ভুক্তভোগীর সারা শরীরে একাধিক ক্ষতচিহ্ন পায় আদালত। শমীকের বিরুদ্ধে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য থাকায় তাকে আগামী ১৬ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ১০ দিনের পুলিশি হেফাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেয়া হয়। প্রসঙ্গত, ভুক্তভোগী তরুণী শমীক অধিকারীর পূর্ব পরিচিত, বান্ধবী। এ ঘটনার প্রকৃত সত্য খুঁজে পেতে থানায় ইনফ্লুয়েন্সারকে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করা হয়েছে। এদিকে ভুক্তভোগী তরুণীও আদালতে গোপন জবানবন্দি দিতে রাজি হয়েছেন।
দক্ষিণী সিনেমা ইন্ডাস্ট্রির জনপ্রিয় অভিনেত্রী রাশমিকা মান্দানা ও অভিনেতা বিজয় দেবেরাকোন্ডার বিয়ে নিয়ে জোর আলোচনা চলছে। আগামী ২৬ ফেব্রুয়ারি উদয়পুরে রাজকীয় বিয়ের আয়োজন হতে চলেছে এ তারকা যুগলের, এমনটিই জানা গেছে। যদিও এর আগে একবার বিয়ে ঠিক হয় অভিনেত্রীর। বাগদানও হয়ে যায়। কিন্তু বছরখানেকের মাথায় সেই বিয়ে ভেঙে যায়। তিনিও দক্ষিণী সিনেমার অভিনেতা, নাম রক্ষিত শেঠি। অথচ এ অভিনেতার হাত ধরেই নাকি রাশমিকা মান্দানার সিনেমা জগতে অভিষেক হয়। কিন্তু কী কারণে ভাঙে সেই বিয়ে? এর আগে ২০১৬ সালে ‘কিরিক পার্টি’ সিনেমার মাধ্যমে বিনোদনজগতে পা রাখেন অভিনেত্রী রাশমিকা মান্দানা। সেই সিনেমার প্রযোজক ছিলেন রক্ষিত শেঠি। সেই সিনেমার সেটেই একে অন্যের প্রেমে পড়েন এ তারকা জুটি। ২০১৭ সালে বাগদানও সারেন তারা। যদিও সম্পর্ক টেকেনি তাদের। ২০১৮ সালে রক্ষিত ও রাশমিকার প্রেমে ভাঙন ধরে। বাগদান ভেঙে বেরিয়ে আসেন দুই তারকা। তবে প্রেমভাঙলেও পরস্পরের প্রতি তিক্ততা পুষে রাখেননি কেউ-ই। যখন রাশমিকা মান্দানার সঙ্গে রক্ষিতের আংটিবদল হয়, তখন অভিনেত্রীর বয়স ছিল মাত্র ২১ বছর। রক্ষিতের ৩৪। দুজনের মধ্যে বয়সের তফাত ১৩ বছরের হলেও সেই পার্থক্যকে বিশেষ আমলে নেননি তারা। আংটিবদলের অনুষ্ঠানে আত্মীয়স্বজন ও ঘনিষ্ঠ বন্ধুবান্ধবকে আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন রাশমিকা মান্দানা এবং রক্ষিত শেঠি। আংটিবদলের পাশাপাশি কেকও কাটেন তারা। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন আড়াই হাজারের বেশি অতিথি। এদিকে ২০১৮ সালে মুক্তি পাওয়া ‘গীতা গোবিন্দম’ সিনেমায় বিজয় দেবেরাকোন্ডার বিপরীতে জুটি বেঁধে অভিনয় করেন রাশমিকা মান্দানা। সিনেমা মুক্তি পাওয়ার পর বিজয় ও রাশমিকার সম্পর্কের রসায়ন মনে ধরে যায় দর্শকের। তারপরেই ২০১৮ সালের সেপ্টেম্বর মাসে বিয়ে ভেঙে যায় রাশমিকা ও রক্ষিত শেঠির। দুই তারকার বাড়ি থেকে আংটিও ফিরিয়ে দেওয়া হয়। রাশমিকা-বিজয়ের ‘ঘনিষ্ঠতা’ই নাকি রক্ষিতের সঙ্গে সম্পর্ক ভাঙার কারণ বলে শোনা যায়। তারপর থেকেই নানাভাবে কটাক্ষের শিকার হতে থাকেন অভিনেত্রী। যদিও এ নিয়ে সরাসরি কেউ কখনো কোনো মন্তব্য করেননি।
ঢাকাই সিনেমার এক সময়ের জনপ্রিয় খল-অভিনেত্রী রিনা খান। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত এই শোবিজ তারকা সম্প্রতি সংরক্ষিত নারী আসনে সংসদ সদস্য হওয়ার আগ্রহের কথা প্রকাশ করেছেন। শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের পক্ষে ধানের শীষ প্রতীকে ভোট চাইতে রাজধানীর গুলশান এলাকায় নির্বাচনি প্রচারণায় অংশ নেন রিনা খান। প্রচারণার এক পর্যায়ে এই প্রত্যাশার কথা জানান তিনি। এদিন বিকালে গুলশান-১ পুলিশ প্লাজার আশপাশে প্রচারণাকালে এই অভিনেত্রী বলেন, তারেক রহমানের নেতৃত্ব ও ধানের শীষকে শক্তিশালী করতেই তিনি সাধারণ মানুষের কাছে ভোট চাইছেন। এ সময় রিনা খানের সঙ্গে আরও উপস্থিত ছিলেন কণ্ঠশিল্পী মনির খান, রবি চৌধুরী, সংগীত পরিচালক শওকত আলী ইমন এবং অভিনেত্রী হুমায়রা সুবাহ। তিনি জানান, সাংস্কৃতিক অঙ্গনে বিএনপিপন্থী সংগঠন জিয়া সাংস্কৃতিক সংগঠনের (জিসাস) সিনিয়র সহসভাপতি হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে তিনি রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সংরক্ষিত আসনে এমপি হওয়ার প্রত্যাশার কথা উল্লেখ করে রিনা খান বলেন, ‘আমি সংরক্ষিত নারী আসন থেকে সংসদ সদস্য হতে চাই। আশা করছি, দল থেকে একটি আসন পাব। গত ১৭ বছরে অনেক শিল্পী দেশ ছেড়ে যেতে বাধ্য হয়েছেন। আর যারা দেশে থেকেছেন, তারা নানা ধরনের নির্যাতনের শিকার হয়েছেন।আমি নিজেও দেশে থেকে বিভিন্নভাবে নির্যাতিত হয়েছি।
দণ্ডিত যৌন অপরাধী জেফ্রি এপস্টেইনকে কোনো অনুষ্ঠানে ‘হ্যারি পটার’ স্রষ্টা জেকে রাউলিং আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন—এমন অভিযোগকে ‘একেবারেই হাস্যকর’ বলে স্পষ্টভাবে অস্বীকার করেছেন তিনি। এডিনবরাভিত্তিক এ লেখক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে বলেন, আমি বা আমার দলের কেউ কখনোই জেফ্রি এপস্টেইনের সঙ্গে দেখা করেনি, যোগাযোগ করেনি বা তাকে কোনো অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ জানায়নি। যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ (ডিওজে) সম্প্রতি এপস্টেইন সংক্রান্ত বিপুল পরিমাণ নথি প্রকাশ করার পর এ আলোচনা নতুন করে শুরু হয়। প্রকাশিত নথিতে প্রায় ৩০ লাখ পৃষ্ঠা, এক লাখ ৮০ হাজার ছবি এবং ২ হাজার ভিডিও রয়েছে। এসব নথিতে প্রিন্স অ্যান্ড্রু, বিল গেটস ও ডোনাল্ড ট্রাম্পসহ বহু প্রভাবশালী ব্যক্তির নাম এসেছে। জেকে রাউলিংয়ের নামও নথিতে পাওয়া গেলেও, সেখানে এপস্টেইনের সঙ্গে তার কোনো সরাসরি যোগাযোগের প্রমাণ নেই। বরং ২০১৬ সালের মে মাসে এক অজ্ঞাত ব্যক্তি (যার পরিচয় গোপন রাখা হয়েছে) এপস্টেইনকে ই-মেইল করে রাউলিংয়ের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেওয়ার অনুরোধ করেছিলেন। তবে এ বিষয়ে কোনো অগ্রগতি বা যোগাযোগের প্রমাণ নথিতে নেই। নথি থেকে আরও জানা যায়, ২০১৮ সালের এপ্রিলে ব্রডওয়েতে ‘হ্যারি পটার অ্যান্ড দ্য কার্সড চাইল্ড’-এর প্রিমিয়ারে এপস্টেইন উপস্থিত থাকতে চেয়েছিলেন। উদ্বোধনের দুই দিন আগে তার জনসংযোগ প্রতিনিধি পেগি সিগাল থিয়েটার প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান প্লেগ্রাউন্ড এন্টারটেইনমেন্টের প্রধান কলিন ক্যালেন্ডারের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। তিনি একজন ‘খুব গুরুত্বপূর্ণ বন্ধু’-এর জন্য টিকিট বা প্রবেশের অনুরোধ জানান, তবে প্রথমে ওই ব্যক্তির পরিচয় প্রকাশ করেননি। কলিন ক্যালেন্ডার সেই অনুরোধে সম্মতি দিলেও, নথিতে কোথাও জেকে রাউলিংয়ের সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়া যায় না। সব মিলিয়ে, প্রকাশিত নথিতে রাউলিং ও এপস্টেইনের মধ্যে কোনো সম্পর্ক বা যোগাযোগের সত্যতা মেলে না—এটাই স্পষ্ট করেছে সংশ্লিষ্ট তথ্য।
মার্কিন অর্থলগ্নিকারী ও দণ্ডিত যৌন অপরাধী জেফ্রি এপস্টেইন–সংক্রান্ত নতুন নথি প্রকাশের পর বিশ্বজুড়ে শুরু হয়েছে তীব্র আলোচনা ও বিতর্ক। এই প্রেক্ষাপটে নড়েচড়ে বসেছে বলিউডও। কারণ, সদ্য প্রকাশিত নথিতে বলিউড নির্মাতা ও ভারতীয় বংশোদ্ভূত মার্কিন লেখক ও আধ্যাত্মিক চিন্তাবিদ দীপক চোপড়ার নাম উল্লেখ রয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ এপস্টেইন–সংক্রান্ত নতুন কিছু নথি প্রকাশ করে। এর আগেও প্রকাশিত নথিগুলোর মতো এবারও তালিকায় রয়েছেন বিশ্বের নানা প্রান্তের প্রভাবশালী ও পরিচিত ব্যক্তিত্ব। উল্লেখযোগ্যভাবে ইলন মাস্ক, বিল গেটস, ভারতীয় নির্মাতা মীরা নায়ারসহ আরও অনেকের নাম এই নথিতে দেখা গেছে বলে জানানো হয়েছে। তবে আইনগতভাবে স্পষ্ট করে বলা হয়েছে—এই নথিতে নাম থাকা মানেই সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে কোনো অপরাধের প্রমাণ বা অভিযোগ নয়।নথিতে একজন ‘বলিউড গাই’ হিসেবে ‘অনুরাগ’ নামের একজনের উল্লেখ নিয়েও সামাজিকমাধ্যমে চলছে জল্পনা। কঙ্গনা রনৌতের প্রতিক্রিয়া এই বিষয়ে ইনস্টাগ্রাম স্টোরিতে অভিনেত্রী কঙ্গনা রনৌত লেখেন, “অপরাধ সব জায়গাতেই হয়। কিন্তু এখানে অপরাধকে আলাদা করে দেখানো হচ্ছে। ছোটবেলা থেকে যাদের শিল্পী হিসেবে দেখে এসেছি, তারা কীভাবে এমন অপরাধের সঙ্গে যুক্ত থাকতে পারেন—ভাবতেই কষ্ট হয়।” চিন্ময়ী শ্রিপাদার মন্তব্য কণ্ঠশিল্পী চিন্ময়ী শ্রিপাদা লেখেন, “এপস্টেইন ফাইলসে দীপক চোপড়ার নাম। ভাবছি, সামনে আরও কত প্রভাবশালী ভারতীয়ের নাম প্রকাশ পাবে।” পরবর্তী আরেকটি পোস্টে তিনি যৌন নির্যাতনের ভুক্তভোগীদের দীর্ঘদিন অবিশ্বাস করার সংস্কৃতির কড়া সমালোচনা করেন। তার ভাষায়, “একজন মৃত মানুষের নথি প্রকাশ না হওয়া পর্যন্ত হাজার জীবিত নারীর কথা মানুষ বিশ্বাস করে না—এতেই বোঝা যায়, কার কণ্ঠস্বরের মূল্য দেওয়া হয় আর কারটা দেওয়া হয় না।” স্বরা ভাস্করের উদ্বেগ অভিনেত্রী স্বরা ভাস্কর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে লেখেন, এপস্টেইন–সংক্রান্ত নথি প্রকাশের পর তার মানসিক অবস্থা ‘বিস্ফোরিত’ হয়ে যাচ্ছে। তিনি ক্ষমতা, অর্থ এবং জবাবদিহিহীনতার ভয়াবহ প্রভাব নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন। অন্যান্য প্রতিক্রিয়া এছাড়া ‘বিগ বস ১৯’-এর প্রতিযোগী মালতি চাহার এপস্টেইন ফাইলসকে ‘অমানবিক ও ভীষণ বিরক্তিকর’ বলে মন্তব্য করেন। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই নথি প্রকাশ বিশ্বব্যাপী ক্ষমতা ও প্রভাবশালী ব্যক্তিদের জবাবদিহিতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলছে। তবে একই সঙ্গে তারা সতর্ক করে দিচ্ছেন—নথিতে নাম থাকা আর অপরাধ প্রমাণ হওয়া এক বিষয় নয়। বিষয়টি আইন ও তদন্তের মাধ্যমেই চূড়ান্ত হওয়া উচিত।
অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের সম্পদ বিবরণী প্রকাশের পর সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী ও তার স্ত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদের হিসাব নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। এক বছরের ব্যবধানে স্বামী ফারুকীর সম্পদ কমলেও স্ত্রী তিশার সম্পদ বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে প্রকাশিত তথ্যে উঠে এসেছে এই চিত্র। প্রকাশিত খতিয়ান অনুযায়ী, জনপ্রিয় অভিনেত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদ এক বছরে অভাবনীয় হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তিশার মোট সম্পদের পরিমাণ ছিল ১ কোটি ৪০ লাখ ৮১ হাজার ৮৬০ টাকা। ঠিক এক বছর পর, ২০২৫ সালের ৩০ জুন সেই সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ৯৯ লাখ ৮৯ হাজার ৫০১ টাকায়। অর্থাৎ মাত্র এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ বেড়েছে ১ কোটি ৫৯ লাখ ৭ হাজার ৬৪১ টাকা, যা আগের বছরের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি। অন্যদিকে সংস্কৃতি উপদেষ্টা ও নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর ক্ষেত্রে দেখা গেছে উল্টো চিত্র। এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ কমেছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তার মোট সম্পদ ছিল ২ কোটি ২৬ লাখ ৯২ হাজার ২৬ টাকা। ২০২৫ সালের ৩০ জুন তা কমে দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ১৫ লাখ ১৮ হাজার ২৬ টাকায়। হিসাব অনুযায়ী, এক বছরে তার সম্পদ কমেছে ১১ লাখ ৭৪ হাজার টাকা। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে গত মঙ্গলবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ প্রধান উপদেষ্টা, উপদেষ্টা ও সমমর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের পাশাপাশি তাদের স্ত্রী বা স্বামীর সম্পদ বিবরণী প্রকাশ করে। একই সময়ে স্বামী-স্ত্রীর সম্পদে এমন ভিন্নমুখী পরিবর্তন স্বাভাবিকভাবেই সাধারণ মানুষের কৌতূহলের জন্ম দিয়েছে। শোবিজ অঙ্গনের জনপ্রিয় দম্পতি হওয়ায় তাদের এই আয়-ব্যয়ের হিসাব এখন টক অব দ্য কান্ট্রি।
২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশে আজ এক ঐতিহাসিক ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ২০০৮ সালের পর এই প্রথম একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হতে যাচ্ছে যেখানে দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগ রাজনৈতিক মানচিত্র থেকে কার্যত অনুপস্থিত। বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক জরিপ বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০০ আসনের মধ্যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) কার্যকর সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে যাচ্ছে। তবে ভোটের ব্যবধান এবং কিছু সমীকরণ নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। নির্বাচনের সবচেয়ে বড় নিয়ামক হয়ে দাঁড়িয়েছে আওয়ামী লীগের বিশাল ভোটব্যাংক। দলটির নিয়মিত প্রায় ৪ কোটি ভোটার এখন নতুন রাজনৈতিক আশ্রয় খুঁজছেন। সিআরএফ বা বিইপিওএস জরিপ বলছে, এই ভোটারদের প্রায় অর্ধেক বিএনপির দিকে ঝুঁকেছে, যা দলটিকে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতার পথে এগিয়ে দিচ্ছে। অন্যদিকে, প্রায় ৩০ শতাংশ আওয়ামী ভোটার জামায়াতে ইসলামীকে বেছে নিতে পারেন বলে আভাস পাওয়া যাচ্ছে। এছাড়া বাংলাদেশের বিদ্যমান নির্বাচনী ব্যবস্থার কারণে দেশজুড়ে সুষম জনসমর্থন থাকা বিএনপি আসন জয়ের ক্ষেত্রে জামায়াতের তুলনায় সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। তবে বিএনপির এই সম্ভাব্য জয়ের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও বিদ্রোহী প্রার্থীরা। প্রায় ৭৯টি নির্বাচনী এলাকায় দলের মনোনয়ন না পাওয়া ৯২ জন প্রভাবশালী নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, যা বিএনপির ১৫ থেকে ৩০টি আসন কমিয়ে দিতে পারে। অন্যদিকে, তরুণ ভোটার বা ‘জেন-জি’ প্রজন্মের বিশাল সমর্থন জামায়াতে ইসলামীর শক্তির উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেশের ৪৪ শতাংশ ভোটারই তরুণ, যাদের বড় একটি অংশ প্রথমবার ভোট দিচ্ছেন। এই তরুণরা যদি দলবেঁধে কেন্দ্রে উপস্থিত হন, তবে নির্বাচনী ফলে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। সবশেষে, প্রায় ১৭ থেকে ৩৫ শতাংশ দোদুল্যমান ভোটার এবং তাদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করবে আগামীর সরকার কতটা শক্তিশালী হবে। দ্য নিউইয়র্ক এডিটোরিয়ালের মূল পূর্বাভাস, তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি প্রায় ১৮৫টি আসনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করতে পারে এবং জামায়াতে ইসলামী ৮০টির মতো আসন পেয়ে প্রধান বিরোধী দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারে। তবে বিদ্রোহী প্রার্থীদের প্রভাব এবং তরুণ ভোটারদের উপস্থিতির ওপর ভিত্তি করে আসন সংখ্যায় বড় ধরনের হেরফের হওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
বরিশালে কর্মরত সাংবাদিকদের ওপর যেন পাহাড়সম ক্ষোভ উগরে দিচ্ছেন বর্তমান জেলা প্রশাসক (ডিসি)। পারিবারিক কলহ ও স্ত্রীকে নির্যাতনের অভিযোগ নিয়ে অতীতে সংবাদ প্রকাশিত হওয়ায় সাংবাদিকদের ওপর এই চটে থাকা বলে জানা গেছে। বর্তমানে আসন্ন নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সাংবাদিকদের পেশাগত কাজের জন্য প্রয়োজনীয় 'নির্বাচনী কার্ড' ইস্যু করাকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করছেন তিনি। কার্ড ইস্যু নিয়ে চলছে টালবাহানা ভুক্তভোগী সংবাদকর্মীদের দাবি, যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করার পরেও কার্ড দিতে নানা অজুহাতে হয়রানি করা হচ্ছে। মূলত ডিসির ব্যক্তিগত ক্ষোভের কারণেই মাঠ পর্যায়ের সাংবাদিকদের এই ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। বরিশালের সাংবাদিক সমাজ এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন এবং একে গণমাধ্যমের কণ্ঠরোধ করার চেষ্টা হিসেবে দেখছেন। ব্যক্তিগত আক্রোশের প্রভাব পেশাগত কাজে উল্লেখ্য যে, ইতিপূর্বে এই জেলা প্রশাসকের বিরুদ্ধে স্ত্রীকে শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছিল, যা বিভিন্ন গণমাধ্যমে ফলাও করে প্রচার হয়। সেই থেকে সাংবাদিকদের প্রতি তার বিরূপ মনোভাব তৈরি হয়েছে। ফলস্বরূপ, এখন সরকারি ক্ষমতার অপব্যবহার করে তিনি সাংবাদিকদের পেশাগত অধিকার হরণ করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। পরিশেষে বলা যায়, একজন দায়িত্বশীল সরকারি কর্মকর্তার কাছ থেকে এমন আচরণ কাম্য নয়। নির্বাচনের মতো স্পর্শকাতর সময়ে সাংবাদিকদের অবাধ তথ্য সংগ্রহের সুযোগ নিশ্চিত করা প্রশাসনের নৈতিক দায়িত্ব। একজন সাংবাদিক লিখেছেন, বৌ পেটানো নিউজ করার মাসুল দিচ্ছে বরিশালের সাংবাদিকরা। আরেক সাংবাদিক প্রশাসনের এই প্রভাবকে চ্যালেঞ্জ করে লিখেছেন, ডিসি তার ক্ষমতা দেখাইছে, এখন আমাদের বরিশালের সাংবাদিকদের উচিত সবাই এক হয়ে ক্ষমতা দেখানো। কার পাশা যাবে কার টেবিলে, খেলা যে চলছে কোন লেভেলের! নির্বাচনী তথ্য সংগ্রহের জন্য কার্ড একটি অত্যন্ত প্রয়োজনীয় নথি। কিন্তু কার্ড পেতে বিলম্ব হওয়ায় মাঠ পর্যায়ে তথ্য সংগ্রহ ও প্রতিবেদন তৈরির কাজ ব্যাহত হচ্ছে। সাংবাদিকদের অভিযোগ, সঠিক কারণ ছাড়াই আবেদন ঝুলিয়ে রাখা হচ্ছে। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো সন্তোষজনক ব্যাখ্যা পাওয়া যাচ্ছে না। স্বাধীন সাংবাদিকতার পথ রুদ্ধ করার অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে। এই প্রতিকূল পরিস্থিতিতে বরিশালের সংবাদকর্মী মহলে ঐক্যের ডাক দেওয়া হয়েছে। প্রশাসনের এমন ‘ব্যক্তিগত রোষ’ এবং ‘ক্ষমতার দাপট’ রুখতে স্থানীয় সাংবাদিক সংগঠনগুলো কঠোর কর্মসূচির কথা ভাবছে। নির্বাচনী স্বচ্ছতা বজায় রাখতে অবিলম্বে সাংবাদিকদের কার্ড প্রদানের দাবি জানিয়েছেন সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরাও। কে এই ডিসি খাইরুল আলম সুমন যৌতুক সংক্রান্ত মামলায় কারাবাসের অভিযোগ থাকা একজন কর্মকর্তাকে বরিশালের জেলা প্রশাসক (ডিসি) হিসেবে নিয়োগ দেওয়ায় প্রশাসনের ভেতর ও বাইরে বিস্ময় ও বিতর্ক তৈরি হয়েছে। বরিশালের ডিসি খায়রুল আলম সুমন ২৯তম বিসিএস ব্যাচের কর্মকর্তা। জেলা প্রশাসকের দায়িত্ব জেলার আইনশৃঙ্খলা, ম্যাজিস্ট্রেসি ও ভূমিসংক্রান্ত সার্বিক কার্যক্রম তদারকি করা—যেখানে ব্যক্তিগত সুনাম ও নৈতিকতা গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেন প্রশাসনের একাধিক কর্মকর্তা। তাদের ভাষ্য, যাদের ব্যক্তিগত জীবনে গুরুতর অভিযোগ রয়েছে, এমন কর্মকর্তাকে ডিসি পদে বসানো ইমেজ ও আস্থার প্রশ্ন তৈরি করে। আদালত ও মামলার তথ্য সূত্র অনুযায়ী, কিশোরগঞ্জের বাজিতপুরে সহকারী কমিশনার (ভূমি) হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে খায়রুল আলম সুমনের বিরুদ্ধে যৌতুকের মামলা হয়। মামলার নথি অনুযায়ী, ২০১৬ সালের এপ্রিল মাসে ওই মামলায় খায়রুল আলম সুমন ও তার মা খোদেজা বেগমকে আদালত কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। তদন্ত কর্মকর্তা ওয়ারী থানার এসআই শাহ আলম আদালতে তাদের হাজির করে পাঁচ দিনের রিমান্ড আবেদন করেন। অপরদিকে আসামিপক্ষের আইনজীবী জামিন আবেদন করেন। শুনানি শেষে আদালত রিমান্ড ও জামিন—উভয় আবেদন নাকচ করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। পরবর্তী সময়ে তিনি দীর্ঘ সময় কারাবাসে ছিলেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়। মামলার অভিযোগে বলা হয়, ২০১৫ সালের ৫ জুন বিয়ের পর থেকেই যৌতুকের দাবিতে ভুক্তভোগীকে বিভিন্নভাবে নির্যাতন করা হতো। অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, ২০১৬ সালের ২৪ মার্চ রাতে ঢাকার ওয়ারী এলাকায় খায়রুলের বাসায় তার মায়ের মাধ্যমে গরম খুন্তি দিয়ে ছেঁকা দেওয়া হয় এবং এ সময় খায়রুল আলম সুমন ভুক্তভোগীর হাত চেপে ধরেন। পরদিন ওয়ারী থানায় মামলা করা হয়। বিভাগীয় মামলা ও পদোন্নতি স্ত্রীর করা মামলার পাশাপাশি জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়েও অভিযোগ দেওয়া হলে খায়রুল আলম সুমনের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা হয়। এর ফলে নিয়মিত পদোন্নতি ব্যাহত হয় বলে জানা গেছে। গত বছরের ৩ ডিসেম্বর উপসচিব পদে তার পদোন্নতির আদেশ জারি হলেও সেখানে ২০২৩ সালের ১১ সেপ্টেম্বর থেকে ভূতাপেক্ষ (ব্যাকডেটেড) পদোন্নতি দেখানো হয়। সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, নিজেকে পদোন্নতিতে বঞ্চিত দাবি করে তিনি ভূতাপেক্ষ পদোন্নতি গ্রহণ করেন। ব্যক্তিগত তথ্য ও ডিসির বক্তব্য খায়রুল আলম সুমনের ‘ব্যক্তিগত ডাটা শিটে’ (পিডিএস) বর্তমানে তাকে ‘অবিবাহিত’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে বলেও জানা গেছে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে খায়রুল আলম সুমন বলেন, “এসব আমার ব্যক্তিগত তথ্য। আমার নামে বিভাগীয় মামলা ছিল—সবই কর্তৃপক্ষ জানে এবং জেনেই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আমি এসব নিয়ে কোনো মন্তব্য করতে চাই না।” প্রশাসন বিশেষজ্ঞদের মত জনপ্রশাসন বিশেষজ্ঞদের মতে, জেলা প্রশাসক পদটি কেবল প্রশাসনিক নয়—এটি নৈতিক নেতৃত্বেরও প্রতীক। একজন ডিসির ব্যক্তিগত জীবনে গুরুতর অভিযোগ থাকলে জেলার আইনশৃঙ্খলা ও ম্যাজিস্ট্রেসি কার্যক্রম পরিচালনায় প্রশ্ন ও অস্বস্তি তৈরি হতে পারে। তাদের ভাষ্য, “ডিসির সুনামটাই সবচেয়ে জরুরি।” সূত্র জানায়, খায়রুল আলম সুমন প্রবেশনার হিসেবে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় চাকরি শুরু করেন। সে সময়ের ডিসি মো. আবদুল মান্নানের মেয়েকে তিনি বিয়ে করেছিলেন বলে জানা যায়। পরবর্তীতে তিনি চট্টগ্রাম ডিসি কার্যালয়ে দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়া নাঙ্গলকোট, নিকলি ও বাজিতপুরে এসিল্যান্ড এবং ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়াডাঙ্গী ও দিনাজপুরের ফুলবাড়ীতে ইউএনও হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। বরিশালের ডিসি হিসেবে তার নিয়োগ প্রশাসনে নৈতিকতা ও যোগ্যতার প্রশ্ন নতুন করে সামনে এনেছে। বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের স্পষ্ট ব্যাখ্যা ও অবস্থান প্রত্যাশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা। ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে। সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।” জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর। সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।