Brand logo light

ইসরাইল

ইরানের ‘হিট লিস্টে’ ৮ সেতু!
ইরানের কারাজে গুরুত্বপূর্ণ সেতুতে হামলা, নিহত ৮: প্রতিশোধের হুঁশিয়ারি তেহরানের

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যৌথ হামলায় ইরানের কারাজ শহরে অবস্থিত একটি গুরুত্বপূর্ণ ও বহুল আলোচিত সেতু ধ্বংস হয়েছে। এতে কমপক্ষে আটজন নিহত ও ৯৫ জন আহত হয়েছে। হামলার পরপরই কঠোর প্রতিশোধের হুঁশিয়ারি দিয়েছে তেহরান। পাশাপাশি উপসাগরীয় দেশ ও জর্ডানের আটটি প্রধান সেতুর একটি হিট লিস্ট প্রকাশ করেছে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)। ইরানের আধা-সরকারি ফার্স নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) দেশটির সর্বোচ্চ বি১ সেতুতে দুই দফায় এই হামলা চালানো হয়। ১৩৬ মিটার উঁচু নির্মাণাধীন এ সেতুটি তেহরানকে পশ্চিমের শহর কারাজের সঙ্গে সংযুক্ত করছে। হামলার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক ভিডিও পোস্ট করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, ইরানের সবচেয়ে বড় সেতুটি ধ্বংস হয়ে গেছে। বেশি দেরি হওয়ার আগেই যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চুক্তিতে রাজি হওয়া উচিত তেহরানের। প্রকাশিত হিট লিস্টে উল্লেখিত সেতুগুলো হলো-কুয়েতের শেখ জাবের আল-আহমাদ আল-সাবাহ সমুদ্র সেতু, সংযুক্ত আরব আমিরাতের শেখ জায়েদ সেতু, আল মাকতা সেতু ও শেখ খলিফা সেতু, সৌদি আরব-বাহরাইন সংযোগকারী কিং ফাহদ কজওয়ে সেতু, জর্ডানের কিং হুসেন ব্রিজ, দামিয়া ব্রিজ ও আবদুন ব্রিজ। এদিকে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ক্ষতিগ্রস্ত সেতুর ছবি পোস্ট করে লিখেছেন, নির্মাণাধীন বেসামরিক অবকাঠামোয় হামলা ইরানকে আত্মসমর্পণে বাধ্য করতে পারবে না। বরং এটি শত্রুর নৈতিক পতন ও চরম পরাজয়ের বার্তা বহন করে।

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ৩, ২০২৬ 0
ইসরায়েলের কারখানায় ইরানের হামলা
জর্ডানের মার্কিন ঘাঁটিতে ইরানের ড্রোন হামলা, ইসরাইলের শিল্পাঞ্চলে ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে অগ্নিকাণ্ড

রোববার (২৯ মার্চ) ইরানি সামরিক বাহিনী দাবি করেছে, জর্ডানের আজরাক এলাকায় অবস্থিত মার্কিন মোয়াফাক সালতি বিমানঘাঁটিতে তাদের ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে। ইরানের আধাসামরিক বার্তা সংস্থা ইসনা এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। ইসনার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হামলায় বিমানঘাঁটির সেনাদের আবাসন ও সামরিক সরঞ্জাম লক্ষ্যবস্তু হয়। ইরানি সামরিক বাহিনী এই ঘাঁটিকে ইরানের ওপর বিমান হামলা চালানোর জন্য একটি ‘মূল অপারেশনাল প্ল্যাটফর্ম’ হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছিল বলে উল্লেখ করেছে। একই সঙ্গে, ইরান ও হিজবুল্লাহর যৌথ হামলার প্রেক্ষিতে ইসরাইলে আঘাতের খবর এসেছে। হাইফার পর এবার নেগেভ মরুভূমির নিওত হোভভ শিল্পাঞ্চলে ইরানি ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে ব্যাপক অগ্নিকাণ্ড দেখা দিয়েছে। ইসরাইলের পরিবেশ সুরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দুর্ঘটনার ফলে বিপজ্জনক রাসায়নিক চুইয়ে পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। তবে প্রাথমিকভাবে আশেপাশের শহরগুলোতে কোনো ঝুঁকির সতর্কতা নেই। ইসরাইলি গণমাধ্যম জানিয়েছে, বিস্ফোরণের শকওয়েভে একজন ব্যক্তি আহত হয়েছেন। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে ৪০ নম্বর হাইওয়ে বন্ধ করে দিয়েছে এবং নাগরিকদের বিকল্প পথ ব্যবহার করার পরামর্শ দিয়েছে। হোম ফ্রন্ট কমান্ড স্থানীয়দের ঘরের ভেতরে অবস্থান করতে, এয়ার কন্ডিশনার বন্ধ রাখতে এবং জানালা বন্ধ রাখতে বলেছে। ইসরাইলি সামরিক বাহিনী ধারণা করছে, শিল্পাঞ্চলে ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষ বা শার্পনেলের আঘাতের কারণে আগুন লেগেছে। রোববার ইসরাইলি সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, তারা ইরান থেকে আসা পাঁচ দফায় ক্ষেপণাস্ত্র হামলা শনাক্ত করেছে এবং প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় রয়েছে। দক্ষিণ ইসরাইলের রামাত হোভভ শিল্পাঞ্চল থেকে আকাশে ঘন কালো ধোঁয়ার কুণ্ডলী দেখা গেছে। পুলিশ আরও জানিয়েছে, আগুন লাগার কারণ সম্ভবত গোলাবারুদ বা প্রতিহত করা ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষ। এই ঘটনার পর পুলিশ ও সেনা আরও কোনো ধ্বংসাবশেষ খুঁজে বের করতে এবং জনসাধারণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তল্লাশি চালাচ্ছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ৩০, ২০২৬ 0
ইসরাইলের শতাধিক শহরে হামলা
ইরান ও হিজবুল্লাহর যৌথ হামলা:ইসরাইলের শতাধিক শহরে পরিস্থিতি জটিল-কেঁপে উঠছে শহর:সৌদিতে মার্কিন বিমান লক্ষ্য করে হামলা

মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা নতুন মাত্রায় পৌঁছেছে। ইরান ও লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ একযোগে হামলা জোরদার করায় ইসরাইল জুড়ে নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও অবনতি হয়েছে। রোববার (২৯ মার্চ) ইসরাইলি গণমাধ্যম জানিয়েছে, উত্তরাঞ্চলসহ দেশটির ১০০টিরও বেশি শহরে সতর্ক সংকেত বা সাইরেন বাজানো হয়েছে। ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার সঙ্গে একই সময়ে হিজবুল্লাহর রকেট হামলা শুরু হওয়ায় পরিস্থিতি জটিল আকার ধারণ করে। হাইফায় ক্ষয়ক্ষতি ইসরাইলের গুরুত্বপূর্ণ বন্দরনগরী হাইফা-তে ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধ ব্যবস্থার মাধ্যমে ধ্বংস করা ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষ পড়ে বস্তুগত ক্ষয়ক্ষতির ঘটনা ঘটেছে। ইসরাইলি রেডিও জানিয়েছে, হাইফা উপসাগরীয় এলাকায় বেশ কিছু অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সৌদিতে মার্কিন বিমান লক্ষ্য করে হামলা এদিকে, ইরান যুক্তরাষ্ট্রের একটি অত্যাধুনিক গোয়েন্দা বিমান ধ্বংসের দাবি করেছে। শুক্রবার সৌদি আরবের প্রিন্স সুলতান বিমানঘাঁটি লক্ষ্য করে চালানো হামলায় এই ঘটনা ঘটে। মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাতে টাইমস অব ইসরায়েল জানিয়েছে, হামলায় একটি বোয়িং ই-৩ সেন্ট্রি বিমান গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়েছে। একই হামলায় যুক্তরাষ্ট্রের অন্তত ১২ সেনা আহত হয়েছেন এবং কয়েকটি রিফুয়েলিং বিমানও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বিরল ও গুরুত্বপূর্ণ যুদ্ধবিমান ই-৩ সেন্ট্রি মডেলের এই বিমানটি আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এটি উন্নত রাডারের মাধ্যমে কয়েকশ কিলোমিটার দূরের যুদ্ধবিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র শনাক্ত করতে পারে এবং তাৎক্ষণিক যুদ্ধ পরিস্থিতির তথ্য সরবরাহ করে। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে এ ধরনের মাত্র ১৬টি বিমান রয়েছে। প্রতিস্থাপন করতে হলে ব্যবহার করতে হবে ই-৭ ওয়েজটেইল, যার প্রতিটির মূল্য প্রায় ৭০০ মিলিয়ন ডলার বলে জানিয়েছে ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল। উত্তেজনা আরও বাড়ার আশঙ্কা বিশ্লেষকদের মতে, ইরান ও হিজবুল্লাহর সমন্বিত হামলা মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাতকে আরও বিস্তৃত করতে পারে। এতে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা হুমকির মুখে পড়ার পাশাপাশি বড় শক্তিগুলোর সরাসরি সম্পৃক্ততার আশঙ্কাও বাড়ছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ২৯, ২০২৬ 0
ভারতের প্রখ্যাত লেখক অরুন্ধতী রায়
অরুন্ধতী রায়ের বিস্ফোরক বক্তব্য: ইরান যুদ্ধ, গাজা ও ভারতের ভূমিকা নিয়ে সমালোচনা, ইরানের পাশে আছি

ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লি-এর কামানি মিলনায়তনে এক সাহিত্য অনুষ্ঠানে বই আলোচনা ছাপিয়ে উঠে এল বৈশ্বিক রাজনীতি ও যুদ্ধ পরিস্থিতি নিয়ে তীব্র বক্তব্য। প্রখ্যাত ভারতীয় লেখক অরুন্ধতী রায় তাঁর নতুন বই ‘মাদার মেরি কামস টু মি’ নিয়ে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত নিয়ে কঠোর সমালোচনা করেন। অনুষ্ঠানে তাঁর সঙ্গে আলোচনায় ছিলেন লেখক নীলাঞ্জনা রায়। যুদ্ধ ও মধ্যপ্রাচ্য প্রসঙ্গ বক্তব্যের শুরুতেই অরুন্ধতী রায় বলেন, বর্তমান বিশ্ব পরিস্থিতি উপেক্ষা করে সাহিত্য নিয়ে আলোচনা করা সম্ভব নয়। তিনি উল্লেখ করেন তেহরান, ইসফাহান এবং বৈরুত-এর মতো শহরগুলোর পরিস্থিতি। তিনি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের বিরুদ্ধে ইরানে হামলার অভিযোগ তুলে বলেন, এটি “বিনা উসকানিতে এবং অবৈধভাবে” হয়েছে এবং তা গাজা-তে চলমান সহিংসতার ধারাবাহিকতা। তার ভাষায়, “একই কৌশল—নারী ও শিশু হত্যা, হাসপাতাল বোমা হামলা, শহর ধ্বংস—তারপর নিজেদের ভুক্তভোগী হিসেবে উপস্থাপন।” বৈশ্বিক বিপদের আশঙ্কা অরুন্ধতী রায় সতর্ক করেন, ইরানকে ঘিরে এই সংঘাত বিশ্বব্যাপী বড় সংকটে রূপ নিতে পারে। তিনি বলেন, বিশ্ব কেবল সামরিক নয়, অর্থনৈতিক বিপর্যয়ের দিকেও এগোচ্ছে। তিনি ইতিহাস টেনে বলেন, হিরোশিমা ও নাগাসাকি পারমাণবিক বোমা হামলা-এর মতো ঘটনার পুনরাবৃত্তির আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যায় না। ইরানের প্রতি সমর্থন ইরানের প্রতি সমর্থন জানিয়ে তিনি বলেন, কোনো দেশের শাসনব্যবস্থা পরিবর্তনের দায়িত্ব সেই দেশের জনগণেরই। বাইরের শক্তির হস্তক্ষেপকে তিনি “সাম্রাজ্যবাদী আগ্রাসন” হিসেবে আখ্যা দেন। ভারতের সরকারের সমালোচনা ভারতের বর্তমান সরকারের ভূমিকা নিয়েও তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেন তিনি। তিনি অভিযোগ করেন, দেশটি আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে স্বাধীন অবস্থান হারাচ্ছে। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু-এর সম্পর্ক নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প-এর প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ভারতকে আন্তর্জাতিকভাবে অপমান করা হলেও সরকার নীরব। শ্রমিক ও নীতির প্রশ্ন গাজায় সংঘাত চলাকালে ইসরাইলে ভারতীয় শ্রমিক পাঠানোর বিষয়টি নিয়েও সমালোচনা করেন তিনি। তাঁর দাবি, এসব শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়নি। বই ও ব্যক্তিগত জীবন অনুষ্ঠানের মূল বিষয় ছিল তাঁর নতুন বই। অরুন্ধতী রায় জানান, এটি সরাসরি আত্মজীবনী নয়, বরং “একজন ঔপন্যাসিকের স্মৃতিকথা”। বইটিতে তাঁর মা মেরি রায়-এর সঙ্গে জটিল সম্পর্ক উঠে এসেছে—যিনি একদিকে কঠোর মা, অন্যদিকে নারীর অধিকার আন্দোলনের প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব। এআই ও সমাজ নিয়ে উদ্বেগ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি। তাঁর মতে, এআই ধীরে ধীরে মানুষের মৌলিক চিন্তাশক্তিকে ক্ষয় করছে। ভারতের শিক্ষাব্যবস্থা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দেশটি এখন শুধু “ফ্যাসিবাদী সরকার” নয়, বরং “ফ্যাসিবাদী সমাজ”-এর মুখোমুখি। অনুষ্ঠানের শেষভাগে তাঁর বক্তব্যে উপস্থিত দর্শকরা দাঁড়িয়ে সমর্থন জানান। জবাবে অরুন্ধতী রায় ‘বিজয়’ চিহ্ন দেখিয়ে বলেন, “দিল্লিতে আমরা সব সময় প্রতিরোধ করি।”  

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ২৯, ২০২৬ 0
টমাহক ক্ষেপণাস্ত্রের ঘাটতিতে দুশ্চিন্তায় পেন্টাগন
ইরান যুদ্ধ: টমাহক ক্ষেপণাস্ত্রের ঘাটতিতে দুশ্চিন্তায় পেন্টাগন, এক মাসে বাড়ছে প্রাণহানি

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধে ব্যাপক হারে টমাহক ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহারের ফলে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক মজুত নিয়ে উদ্বেগে পড়েছেন পেন্টাগনের কর্মকর্তারা। যুদ্ধ শুরুর মাত্র চার সপ্তাহের মধ্যে ৮৫০টির বেশি টমাহক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে বলে জানা গেছে। সামরিক সূত্র বলছে, টমাহক মূলত নৌযান ও সাবমেরিন থেকে উৎক্ষেপণযোগ্য দীর্ঘপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র, যা এক হাজার মাইলেরও বেশি দূরের লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম। তবে এর উৎপাদন সীমিত—বর্তমানে বছরে মাত্র কয়েকশ ইউনিট তৈরি হয়। ফলে দ্রুত ব্যবহারের কারণে সরবরাহ সংকট তৈরি হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। পেন্টাগনের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, মধ্যপ্রাচ্যে টমাহকের বর্তমান মজুত “চিন্তার বিষয়” হয়ে দাঁড়িয়েছে। সামরিক পরিভাষায় তারা “উইনচেস্টার”-এর কাছাকাছি পৌঁছে গেছেন—অর্থাৎ গোলাবারুদ প্রায় শেষের দিকে। ২০০৪ সাল থেকে ব্যবহৃত আধুনিক টমাহক ক্ষেপণাস্ত্র জিপিএস ও স্যাটেলাইট প্রযুক্তির মাধ্যমে অত্যন্ত নির্ভুলভাবে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে পারে। তবে প্রতিটি ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি করতে প্রায় দুই বছর সময় লাগে এবং এর একক মূল্য সর্বোচ্চ ৩.৬ মিলিয়ন ডলার পর্যন্ত হতে পারে। এই পরিস্থিতিতে উৎপাদন বাড়ানোর বিষয়ে ইতোমধ্যে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক করেছে পেন্টাগন। এক মাসে যুদ্ধের বিস্তার ও ক্ষয়ক্ষতি গত ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া এই যুদ্ধে আজ এক মাস পূর্ণ হলো। সংঘাতটি শুধু ইরানেই সীমাবদ্ধ নেই, বরং পুরো উপসাগরীয় অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়েছে। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ইরানে এখন পর্যন্ত প্রায় ১,৯০০ মানুষ নিহত হয়েছেন। ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে বহু এলাকা, হাজারো মানুষ গৃহহীন হয়ে পড়েছেন। জাতিসংঘে এক সংবাদ সম্মেলনে ইরানি রেড ক্রিসেন্টের প্রতিনিধি মারিয়া মার্টিনেজ জানান, ধসে পড়া ভবনের নিচে আটকে পড়াদের উদ্ধারের সময় অনেক উদ্ধারকর্মী নিজেদের পরিবারের সদস্যদের মরদেহ দেখতে পান—যা পরিস্থিতির ভয়াবহতাই তুলে ধরে। প্রতিবেশী দেশগুলোতেও প্রভাব ইরানের পাশাপাশি লেবাননেও হামলার প্রভাব মারাত্মক আকার ধারণ করেছে। সেখানে ২ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত ১,১৪২ জন নিহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে ১২২ জন শিশু। আহত হয়েছেন আরও ৩,৩১৫ জন। ইরাকে অন্তত ৯৬ জন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। দেশটির কুর্দিস্তান অঞ্চলে নিহত হয়েছেন অন্তত ১৩ জন। অন্যদিকে, পশ্চিম তীরে ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় চারজন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের ক্ষয়ক্ষতি মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড জানিয়েছে, ফেব্রুয়ারির শেষ থেকে এখন পর্যন্ত ১৩ জন মার্কিন সেনাসদস্য নিহত হয়েছেন। ইসরাইল জানিয়েছে, যুদ্ধ শুরুর পর থেকে দেশটিতে অন্তত ১৯ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন। এছাড়া দক্ষিণ লেবাননে চারজন ইসরাইলি সেনাও নিহত হয়েছেন। প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় চাপ মার্কিন কংগ্রেসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা থাড-এর মোট মজুতের এক-তৃতীয়াংশেরও বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কিছু রাডার সিস্টেম পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গেছে, যা পুনঃস্থাপন করতে কয়েক বছর সময় লাগতে পারে। এর ফলে পারস্য উপসাগর অঞ্চলে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলো এখন ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ঝুঁকিতে রয়েছে। প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, ইরান ইতোমধ্যে ইসরাইলের কিছু বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ভেঙে দিতে সক্ষম হয়েছে। এখন তাদের লক্ষ্য প্রতিরক্ষা অবকাঠামো, ক্ষেপণাস্ত্র এবং রাডার উৎপাদনকারী কারখানাগুলো ধ্বংস করা।

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ২৮, ২০২৬ 0
জাওয়াদ আবু নাসার
গাজায় শিশুসহ আটক ওসামা আবু নাসের নিখোঁজ, ২১ মাসের শিশুর ওপর নির্যাতনের অভিযোগ

গাজার কেন্দ্রীয় অঞ্চলে ঈদের দিন সন্তানকে কাঁধে নিয়ে মিষ্টি কিনতে বের হওয়া এক তরুণকে আটক করার পর তার আর কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি। তবে তার ২১ মাস বয়সী শিশুকে পরে পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে—যার শরীরে নির্যাতনের চিহ্ন পাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ব্রিটিশভিত্তিক সংবাদমাধ্যম মিডলইস্ট আইয়ের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। নিখোঁজ ওই তরুণের নাম ওসামা আবু নাসের (২৫)। তার শিশুপুত্র জাওয়াদ আবু নাসারকে গত ১৯ মার্চ গাজার কেন্দ্রীয় এলাকা থেকে বাবার সঙ্গে আটক করা হয় বলে জানিয়েছে পরিবার। পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য অনুযায়ী, চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতিতে নিজের বাড়ি, জীবিকা ও নিরাপত্তা হারিয়ে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত ছিলেন ওসামা। ঈদুল ফিতর উপলক্ষে তিনি সকাল ১০টার দিকে শিশুকে নিয়ে মিষ্টি কিনতে বের হন। ওসামার বাবা মুহাম্মদ হুসনি আবু নাসার জানান, প্রতিবেশীরা ফোন করে তাকে জানান, তার ছেলে শিশুকে কাঁধে নিয়ে পূর্ব দিকে যাচ্ছে—যেখানে একটি ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা রয়েছে। গাজার মাঘাজি শরণার্থী শিবিরের কাছে ‘ইয়েলো লাইন’ নামে পরিচিত একটি সামরিক সীমারেখা রয়েছে, যা সাধারণ মানুষের জন্য নিষিদ্ধ এলাকা হিসেবে বিবেচিত। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ওই এলাকায় পৌঁছানোর পর ইসরাইলি বাহিনী সরাসরি গুলি না চালিয়ে তার আশেপাশে গুলি ছোড়ে। এতে বিভ্রান্ত হলেও ওসামা থামেননি। পরে একটি কোয়াডকপ্টার ড্রোন তার কাছে এসে ভেসে থাকে। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, এরপর তাকে শিশুকে নামিয়ে রেখে সৈন্যদের দিকে এগিয়ে যেতে এবং কাপড় খুলে ফেলতে বলা হয়। ওসামার বাবা বলেন, “সে শুধু অন্তর্বাস পরে ছিল এবং শান্ত ছিল, কোনো আক্রমণাত্মক আচরণ করেনি।” ওসামা আটক হওয়ার পর তার বাবা বিভিন্ন স্থানে খোঁজ নিতে থাকেন এবং আল-আকসা শহীদ হাসপাতালে নিজের যোগাযোগ নম্বর দিয়ে আসেন। প্রায় ১০ ঘণ্টা পর আন্তর্জাতিক রেড ক্রস কমিটি (আইসিআরসি) থেকে তাকে ফোন করে জানানো হয়, তার নাতিকে তারা পেয়েছে। পরে মাঘাজি বাজার এলাকায় আইসিআরসি কর্মকর্তারা শিশুটিকে পরিবারের হাতে তুলে দেন। শিশুটিকে কম্বলে মোড়ানো অবস্থায় ফেরত দেওয়া হয়। কম্বল খুলে তার প্যান্টে রক্তের দাগ দেখতে পান পরিবারের সদস্যরা। আইসিআরসি জানায়, তারা শিশুটিকে ইসরাইলি কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে গ্রহণ করে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করেছে। তবে শিশুটির শারীরিক বা মানসিক অবস্থা নিয়ে তারা কোনো মন্তব্য করেনি। পরিবারের দাবি, বাড়িতে আনার পর শিশুটির শরীরে একাধিক আঘাতের চিহ্ন দেখা যায়। হাঁটুর চারপাশে পোড়া দাগ এবং ধারালো বস্তু দিয়ে করা গভীর ক্ষত ছিল। শিশুটি সারারাত ব্যথা ও আতঙ্কে কেঁদেছে এবং ঘুমাতে পারেনি। পরদিন হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকরা জানান, এসব আঘাত গোলাবারুদের কারণে নয়—বরং নির্যাতনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। চিকিৎসা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শিশুটির হাঁটু ফুলে গেছে এবং সেখানে সিগারেটের দাগের মতো ক্ষত রয়েছে। তবে ইসরাইলি সামরিক বাহিনীর এক মুখপাত্র এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, এটি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন এবং হামাসের প্রচারণার অংশ। এদিকে, আটক হওয়ার পর থেকে ওসামা আবু নাসারের কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে তার পরিবার।

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ২৭, ২০২৬ 0
তেলআবিবের আকাশে হাজার হাজার কাক
তেলআবিবের আকাশ ঢেকে দিল হাজার কাক! অশুভ সংকেত নাকি প্রাকৃতিক ঘটনা?

মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির মাঝেই ইসরাইলের বাণিজ্যিক রাজধানী তেলআবিবের আকাশে দেখা গেল এক বিরল ও ভয়ার্ত দৃশ্য। হঠাৎ করেই হাজার হাজার কালো কাকের ঝাঁক শহরের আকাশ ঢেকে ফেলে, যা মুহূর্তেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়ে যায়। বিশেষ করে শহরের অন্যতম আইকনিক স্থাপনা আজরিয়েলি টাওয়ারের ওপর দিয়ে যখন এই বিশাল পাখির দল ঘূর্ণায়মানভাবে উড়তে থাকে, তখন অনেকেই আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। অনেকের কাছে মনে হয়েছে, যেন পুরো শহর এক অদৃশ্য কালো চাদরে ঢেকে যাচ্ছে। ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর নেটিজেনদের মধ্যে তৈরি হয়েছে নানা জল্পনা-কল্পনা। কেউ কেউ একে ‘অশুভ লক্ষণ’ বা আসন্ন বিপর্যয়ের পূর্বাভাস হিসেবে ব্যাখ্যা করছেন। সামাজিক মাধ্যম প্ল্যাটফর্ম এক্স (সাবেক টুইটার) এ অনেক ব্যবহারকারী ইতিহাসের উদাহরণ টেনে দাবি করেছেন, বড় কোনো বিপর্যয়ের আগে প্রকৃতি এমন অস্বাভাবিক আচরণের মাধ্যমে সংকেত দেয়। ধর্মীয় ব্যাখ্যাও উঠে এসেছে আলোচনায়। অনেকেই বাইবেলের ‘বুক অব রেভেলেশন’-এর ১৯:১৭ নম্বর আয়াতের কথা টেনে এনে বলছেন, বিশাল যুদ্ধ বা বিপর্যয়ের আগে আকাশের পাখিরা এভাবে একত্রিত হওয়ার কথা সেখানে বলা আছে। এ ধরনের ঘটনা ঘিরে মানুষের ভীতি নতুন নয়। ইতিহাসে দেখা যায়, প্রাচীন রোমানরা পাখির আচরণ বিশ্লেষণের জন্য ‘অগার’ নামে বিশেষ পুরোহিত নিয়োগ করত। তারা পাখির গতিবিধি দেখে যুদ্ধ বা রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের পূর্বাভাস দিতেন। একইভাবে টাওয়ার অব লন্ডনের  দাঁড়কাকদের নিয়েও রয়েছে কিংবদন্তি—যদি তারা টাওয়ার ছেড়ে চলে যায়, তবে ব্রিটিশ রাজতন্ত্রের পতন ঘটবে বলে বিশ্বাস করা হয়। তবে বিশেষজ্ঞরা এই ঘটনাকে সম্পূর্ণ ভিন্নভাবে দেখছেন। পক্ষীবিদদের মতে, ইসরাইল বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পাখির পরিযায়ন পথ। প্রতিবছর বসন্তকালে কোটি কোটি পাখি এই অঞ্চল দিয়ে যাতায়াত করে। বিশেষজ্ঞদের ভাষ্য অনুযায়ী, ‘হুডেড ক্রো’ নামের এক ধরনের কাক এই অঞ্চলে খুবই সাধারণ। মার্চ মাসে এদের প্রজনন মৌসুম হওয়ায় তারা দলবদ্ধভাবে চলাফেরা করে। শহরের উঁচু ভবন ও সহজলভ্য খাদ্যও বড় ঝাঁক তৈরিতে সহায়তা করে। বিজ্ঞানীদের মতে, এটি কোনো অলৌকিক বা অশুভ ঘটনা নয়; বরং ঋতুভিত্তিক স্বাভাবিক আচরণ। পরিবেশগত চাপ, শব্দ বা শিকারির উপস্থিতিতেও পাখিরা এমন আচরণ করতে পারে। তবে বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা এই ঘটনাকে আরও রহস্যময় করে তুলেছে। ইরান ও ইসরাইলের মধ্যে চলমান সংঘাত এবং সামরিক উত্তেজনার কারণে অনেকেই এই দৃশ্যকে ‘যুদ্ধের পূর্বাভাস’ হিসেবে কল্পনা করছেন। সব মিলিয়ে, বিজ্ঞান যেখানে যুক্তি দিচ্ছে, সেখানে মানুষের মনে ভয় ও কল্পনার জায়গা এখনো দখল করে আছে এই রহস্যময় ‘কালো আকাশ’।

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ২৬, ২০২৬ 0
ইরানের হামলায় ইসরাইলে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি
তেল আবিবে সড়কে ধ্বংসযজ্ঞ, গাড়ি বিধ্বস্ত; এফ-১৫ ভূপাতিতের দাবি নাকচ করেছে যুক্তরাষ্ট্র—পুরনো ভিডিও নতুন করে ভাইরাল

ইরানের হামলায় ইসরাইলের রাজধানী তেল আবিবের একটি সড়কে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। প্রকাশ্যে এসেছে ধ্বংসযজ্ঞের ছবিও। আজ মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) আলজাজিরার লাইভ আপডেট থেকে এ তথ্য জানা গেছে। লাইভ সম্প্রচারিত ভিডিওতে দেখা যায়, ইরানের সর্বশেষ ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর ইসরাইলের তেল আবিব এলাকার একটি অংশে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ হয়েছে। একটি স্থানে দেখা যায়, জরুরি কর্মী ও পুলিশ ভাঙাচোরা ধ্বংসাবশেষে ভরা একটি ব্যস্ত রাস্তায় জড়ো হয়েছেন। সেখানে বেশ কয়েকটি গাড়ি গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে—একটি গাড়ি উল্টে পাশের দিকে পড়ে আছে এবং অন্য কয়েকটি গাড়ি মারাত্মকভাবে দুমড়ে-মুচড়ে গেছে। সাম্প্রতিক সময়ে ইরান-ইসরাইল সংঘাতে তেল আবিবসহ বিভিন্ন এলাকায় ক্ষেপণাস্ত্র হামলার খবর পাওয়া গেছে এবং কিছু স্থানে ভবন ও যানবাহনের ক্ষতি হয়েছে।   আরও একটি মার্কিন এফ-১৫ যুদ্ধবিমান গুলি করে ভূপাতিত করা হয়েছে বলে দাবি করেছে ইরান। বিমানটি মধ্যপ্রাচ্যের কুয়েতে বিধ্বস্ত হয়েছে দাবি করে প্রমাণ হিসেবে একটি ভিডিও প্রকাশ করেছে দেশটির সামরিক বাহিনী। অনলাইনে দ্রুত ছড়িয়ে পড়া ফুটেজটিতে দেখা যাচ্ছে, একটি বিমান ধোঁয়া ও আগুন ছড়াতে ছড়াতে নিচের দিকে নামছে। পাইলট নিরাপদে বেরিয়ে এসেছেন বলেও খবর পাওয়া গেছে। এর আগে গত রোববার (২২ মার্চ) একটি এফ-১৫ যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করা হয়েছে বলে দাবি করে ইরান। দেশটির কর্তৃপক্ষ জানায়, দক্ষিণে হরমুজ দ্বীপের কাছে তাদের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা একটি এফ-১৫ যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করা হয়েছে। প্রমাণ হিসেবে একটি ভিডিও ফুটেজও প্রকাশ করা হয়। যুক্তরাষ্ট্র এফ-১৫ যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করার এই দাবিগুলো প্রত্যাখ্যান করেছে। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) এই দাবিগুলোকে ‘মিথ্যা’ আখ্যা দিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক পোস্টে জানিয়েছে: ‘গুজব ছড়ানো হচ্ছে যে ইরানি শাসকগোষ্ঠী সম্প্রতি ইরানের আকাশে একটি মার্কিন এফ-১৫ যুদ্ধবিমান গুলি করে ভূপাতিত করেছে।’ আরও বলা হয়েছে, ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ চলাকালীন মার্কিন বাহিনী ৮ হাজারেরও বেশিবার যুদ্ধবিমান উড্ডয়ন করেছে। ইরানের গুলিতে কোনো মার্কিন যুদ্ধবিমান ভূপাতিত হয়নি।’ সেন্টকম আরও দাবি করেছে যে, যুদ্ধক্ষেত্রে থাকা সমস্ত মার্কিন যুদ্ধবিমান সচল রয়েছে এবং ইরানের গুলিতে কোনো ক্ষয়ক্ষতি ছাড়াই মার্কিন বিমান ব্যাপক তৎপর রয়েছে।   এর আগে মার্চের শুরুর দিকে কুয়েতের আকাশে তিনটি মার্কিন এফ-১৫ই স্ট্রাইক ঈগল যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হয়। যুক্তরাষ্ট্র দাবি করে, এটা ‘ফ্রেন্ডলি ফায়ারের’ কারণে ঘটেছে। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড জানায় যে, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার সময় কুয়েতের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ভুলবশত বিমানগুলোকে লক্ষ্যবস্তু বানায়। তবে ছয়জন ক্রু সদস্যই নিরাপদে ইজেক্ট করেন এবং স্থিতিশীল অবস্থায় সুস্থ হয়ে ওঠেন। কুয়েত এই ভুল স্বীকার করে এবং মার্কিন কর্মকর্তারা বৃহত্তর এই অভিযানে কুয়েতের সমর্থনের জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। মূলত ইরান সংঘাতের তৃতীয় দিন ২ মার্চ কুয়েতের আল জাহরা বা অন্যান্য এলাকার কাছে এফ-১৫ বিমানগুলোকে বিধ্বস্ত হতে দেখা যায়।   প্রকাশিত ফুটেজে বিমানের সর্পিল গতি এবং ইজেক্ট করার বর্ণনার সাথে মিলে যায় এবং তখন থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এটি ব্যাপকভাবে শেয়ার করা হয়। কিছু বিশ্লেষক ও গণমাধ্যম মনে করছে যে, বর্তমান ভাইরাল ক্লিপটি হয়তো ইরানের নতুন কোনো বিমান ভূপাতিত করার প্রমাণ নয়, বরং এটি পূর্ববর্তী সেই ঘটনার নতুন কোনো দৃষ্টিকোণ বা পুনঃপ্রচারিত ভিডিও। ইরান একটি মার্কিন এফ-৩৫ স্টেলথ ফাইটার ক্ষতিগ্রস্ত করার দাবি করেছে, যেটি ইরানের আকাশসীমায় একটি অভিযানের সময় ইরানি ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতের পর একটি আঞ্চলিক মার্কিন ঘাঁটিতে জরুরি অবতরণ করে বলে দাবি করে যুক্তরাষ্ট্র।   এছাড়া অন্তত তিনটি ইসরাইলি এফ-১৬ যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করার দাবি করেছে ইরান। গত শনিবার (২১ মার্চ) ইরানের আইআরজিসি জানায়, তারা ইরানের মধ্যাঞ্চলের আকাশে একটি ইসরাইলি এফ-১৬ যুদ্ধবিমান সফলভাবে ভূপাতিত করেছে। তাদের দাবি অনুযায়ী, এটি ইসরাইলের তৃতীয় এফ-১৬ যুদ্ধবিমান যা গত তিন সপ্তাহে ভূপাতিত করা হয়েছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ২৪, ২০২৬ 0
ইসরাইলে মিসাইল হামলা
ইসরাইলে ইরানের ভয়াবহ মিসাইল হামলা: শতাধিক আহত, অবস্থা গুরুতর : বন্ধ স্কুল, জরুরি নির্দেশনা জারি

মধ্যপ্রাচ্যে আবারও উত্তেজনা চরমে পৌঁছেছে। ইরান থেকে ছোড়া শক্তিশালী মিসাইল হামলায় ইসরাইল-এর বিভিন্ন এলাকায় শতাধিক মানুষ আহত হয়েছেন। এর মধ্যে অন্তত ১০ জনের অবস্থা গুরুতর বলে জানা গেছে। ইসরাইলের দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর দিমোনা ও আরদ এলাকায় এই হামলার প্রভাব সবচেয়ে বেশি দেখা গেছে। শুধু আরদ শহরেই আহত হয়েছেন অন্তত ৮৪ জন। ইসরাইলি সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইসরায়েলের বরাতে জানা যায়, একটি ক্লাস্টার মিসাইল রিশন লেজিওন শহরের তিনটি স্থানে আঘাত হানে। শহরটি বাণিজ্যিক রাজধানী তেল আবিব থেকে মাত্র ৮ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। শনিবার মধ্যরাতে এই হামলা সংঘটিত হয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা গেছে, তীব্র গতিতে ছুটে এসে মিসাইলটি বিস্ফোরিত হচ্ছে, যার ফলে আশপাশের এলাকায় ব্যাপক আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। হামলার পরপরই দক্ষিণাঞ্চলে নিরাপত্তা জোরদার করেছে ইসরাইলি কর্তৃপক্ষ। দেশটির সেনাবাহিনীর হোম ফ্রন্ট কমান্ড নতুন নির্দেশনায় জানিয়েছে, পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত ৫০ জনের বেশি মানুষ একত্রিত হতে পারবেন না। একই সঙ্গে যেকোনো কার্যক্রম পরিচালনার ক্ষেত্রে নিকটস্থ বোমা শেল্টার সক্রিয় রাখা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এছাড়া পরিস্থিতির অবনতি বিবেচনায় রোববার ও সোমবার দেশের সব স্কুল বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ক্লাস্টার মিসাইল অত্যন্ত বিপজ্জনক। সাধারণত একটি ক্লাস্টার মিসাইলে প্রায় ২০টি ছোট বোমা থাকে, যার প্রতিটির ওজন প্রায় আড়াই কেজি। বিস্ফোরণের পর এসব বোমা বিস্তীর্ণ এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে এবং ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি ঘটাতে সক্ষম। বর্তমান পরিস্থিতিতে দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা আরও বৃদ্ধি পাওয়ার আশঙ্কা করছেন বিশ্লেষকরা।

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ২২, ২০২৬ 0
ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা
মধ্যপ্রাচ্যে নতুন সংঘাতের আশঙ্কা: ইসরাইল-যুক্তরাষ্ট্রের অর্ধশতাধিক স্থাপনায় ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনা আরও এক ধাপ এগিয়ে গেছে বলে দাবি করেছে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)। সংস্থাটি জানিয়েছে, তাদের প্রতিশোধমূলক সামরিক অভিযান ‘অপারেশন ট্রু প্রমিস ৪’-এর ৭০তম ধাপে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের নিয়ন্ত্রিত ৫৫টিরও বেশি স্থাপনায় ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে। শনিবার প্রকাশিত এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে আইআরজিসি এই হামলাকে “ক্রমিক ক্ষয়সাধন কৌশলের অংশ” হিসেবে উল্লেখ করে। এতে বলা হয়, হামলার ফলে লক্ষ্যবস্তু এলাকায় ব্যাপক বিস্ফোরণ, আগুন এবং ধোঁয়ার কুণ্ডলী দেখা গেছে। এই দাবি যদি সত্য হয়, তবে এটি সাম্প্রতিক সময়ের অন্যতম বড় আঞ্চলিক সামরিক উত্তেজনার ইঙ্গিত বহন করে।  লক্ষ্যবস্তু: কোথায় আঘাত হানা হয়েছে? আইআরজিসির বিবৃতি অনুযায়ী, হামলার মূল লক্ষ্য ছিল যুক্তরাষ্ট্রের অন্তত পাঁচটি সামরিক ঘাঁটি: সৌদি আরবের আল-খারজ সংযুক্ত আরব আমিরাতের আল-ধাফরা কুয়েতের আলী আল-সালেম ইরাকের ইরবিল (কুর্দিস্তান অঞ্চল) বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন পঞ্চম নৌবহরের সদর দপ্তর এছাড়া ইসরাইলের বিভিন্ন কৌশলগত স্থানও হামলার আওতায় এসেছে বলে দাবি করা হয়। সেগুলোর মধ্যে রয়েছে: হাইফা বন্দর তেল আবিবের কৌশলগত অঞ্চল হাদেরা কিরিয়াত ওনো সাভিয়ন বেন আমি বিশ্লেষকদের মতে, এই স্থানগুলো নির্বাচন করা হয়েছে সামরিক ও অর্থনৈতিক গুরুত্ব বিবেচনায়।  ব্যবহৃত অস্ত্র: উন্নত ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন প্রযুক্তি আইআরজিসি জানিয়েছে, হামলায় বিভিন্ন ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ব্যবহার করা হয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য: ‘কিয়াম’ ক্ষেপণাস্ত্র ‘এমাদ’ ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ‘খোররামশাহ-৪’ ‘কদর’ মাল্টি-ওয়ারহেড সিস্টেম এই অস্ত্রগুলো দীর্ঘ পাল্লার এবং উচ্চ ধ্বংসক্ষমতাসম্পন্ন হিসেবে পরিচিত। বিশেষ করে মাল্টিপল ওয়ারহেড প্রযুক্তি ব্যবহারের ফলে প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ভেদ করা তুলনামূলক সহজ হয় বলে সামরিক বিশেষজ্ঞরা মনে করেন। ড্রোন ব্যবহারের বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এটি আধুনিক যুদ্ধের নতুন মাত্রা তৈরি করেছে—কম খরচে নির্ভুল আঘাত হানার সক্ষমতা।  কৌশলগত বার্তা: “ক্রমিক ক্ষয়সাধন” আইআরজিসি তাদের এই অভিযানকে “ধাপে ধাপে ক্ষয় করার কৌশল” হিসেবে বর্ণনা করেছে। এই কৌশলের মূল উদ্দেশ্য হতে পারে: শত্রুপক্ষের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে ক্লান্ত করে ফেলা অর্থনৈতিক ও সামরিক চাপ বাড়ানো দীর্ঘমেয়াদে কৌশলগত ভারসাম্য বদলে দেওয়া বিশ্লেষকরা বলছেন, এটি সরাসরি পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধের পরিবর্তে “নিয়ন্ত্রিত সংঘাত” বজায় রাখার একটি পদ্ধতি। সময় নির্বাচন: রমজান ও ঈদের প্রেক্ষাপট আইআরজিসির বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়, এই হামলার সময় নির্বাচন করা হয়েছে রমজান মাসের শেষ সময়ে, ঈদুল ফিতরের প্রাক্কালে। তারা এটিকে “নতুন আঞ্চলিক ব্যবস্থার ভিন্ন এক ভোর” হিসেবে বর্ণনা করেছে। এটি একটি প্রতীকী বার্তা হতে পারে: মুসলিম বিশ্বে সমর্থন অর্জনের চেষ্টা ধর্মীয় আবেগকে রাজনৈতিক কৌশলে ব্যবহার সংঘাতকে আদর্শিক রূপ দেওয়া আঞ্চলিক প্রভাব: উত্তেজনার বিস্তার এই হামলার দাবির ফলে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা আরও বৃদ্ধি পাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। সম্ভাব্য প্রভাবগুলো হলো: ১. যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিক্রিয়া যুক্তরাষ্ট্র সাধারণত তাদের সামরিক ঘাঁটিতে হামলার ক্ষেত্রে দ্রুত প্রতিক্রিয়া জানায়। ফলে পাল্টা হামলার ঝুঁকি রয়েছে। ২. ইসরাইলের অবস্থান ইসরাইল বরাবরই ইরানের সামরিক কার্যক্রমকে হুমকি হিসেবে দেখে। ফলে এই ঘটনার পর তাদের সামরিক প্রস্তুতি বাড়তে পারে। ৩. উপসাগরীয় দেশগুলোর উদ্বেগ সৌদি আরব, ইউএই এবং কুয়েতের মতো দেশগুলো সরাসরি হামলার আওতায় আসায় তাদের নিরাপত্তা ঝুঁকি বেড়েছে। আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া: নীরবতা নাকি প্রস্তুতি? এই ধরনের বড় হামলার দাবির পর সাধারণত আন্তর্জাতিক মহল থেকে প্রতিক্রিয়া আসে। সম্ভাব্য প্রতিক্রিয়া হতে পারে: জাতিসংঘে জরুরি বৈঠক কূটনৈতিক চাপ বৃদ্ধি নতুন নিষেধাজ্ঞা তবে অনেক সময় সরাসরি নিশ্চিত তথ্য না থাকলে দেশগুলো অপেক্ষাকৃত সতর্ক অবস্থান নেয়। তথ্য যাচাই: দাবি বনাম বাস্তবতা এই প্রতিবেদনের গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো—আইআরজিসির দাবি স্বাধীনভাবে যাচাই করা কঠিন। বর্তমানে: যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরাইল আনুষ্ঠানিকভাবে হামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেনি স্বাধীন সংবাদমাধ্যমগুলোর কাছেও পূর্ণাঙ্গ তথ্য নেই স্যাটেলাইট বা ওপেন সোর্স বিশ্লেষণ প্রয়োজন ফলে এই ধরনের পরিস্থিতিতে “তথ্য যুদ্ধ” একটি বড় উপাদান হয়ে দাঁড়ায়।  সম্ভাব্য ঝুঁকি: পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধ কি সামনে? বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ধরনের হামলা যদি সত্যি হয়ে থাকে, তবে তা বৃহত্তর সংঘাতে রূপ নিতে পারে। ঝুঁকিগুলো হলো: সরাসরি ইরান-ইসরাইল যুদ্ধ যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সম্পৃক্ততা জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা বৈশ্বিক অর্থনীতিতে প্রভাব  বিশ্লেষণ: কৌশল না সংকেত? আইআরজিসির এই ঘোষণা কয়েকটি সম্ভাব্য উদ্দেশ্য নির্দেশ করতে পারে: মনস্তাত্ত্বিক চাপ সৃষ্টি অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক বার্তা আঞ্চলিক শক্তির ভারসাম্য বদলানো ভবিষ্যৎ আলোচনায় প্রভাব বিস্তার   ইরানের আইআরজিসির দাবি অনুযায়ী ‘অপারেশন ট্রু প্রমিস ৪’-এর ৭০তম ধাপ মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড় নির্দেশ করছে। তবে এই ঘটনার বাস্তবতা, প্রভাব এবং ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনা নির্ভর করছে পরবর্তী আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া, তথ্য যাচাই এবং কূটনৈতিক পদক্ষেপের ওপর। বর্তমান পরিস্থিতি স্পষ্ট করে দিচ্ছে—মধ্যপ্রাচ্য আবারও একটি অনিশ্চিত ও সংবেদনশীল পর্যায়ে প্রবেশ করেছে, যেখানে একটি ছোট ঘটনা বড় সংঘাতে রূপ নিতে পারে।

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ২১, ২০২৬ 0
ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ধ্বংসাবশেষে বেনগুরিয়ন বিমানবন্দরে ৩ উড়োজাহাজ ক্ষতিগ্রস্ত
ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ধ্বংসাবশেষে বেনগুরিয়ন বিমানবন্দরে ৩ উড়োজাহাজ ক্ষতিগ্রস্ত

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে ইরানের ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষে ইসরাইলের প্রধান আন্তর্জাতিক প্রবেশদ্বার বেনগুরিয়ন বিমানবন্দরে তিনটি বেসামরিক উড়োজাহাজ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে একটি উড়োজাহাজে আগুন ধরে যায় বলে জানিয়েছে ইসরাইলি কর্তৃপক্ষ। বুধবার ইসরাইলের বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ এক বিবৃতিতে জানায়, ইরানের ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্রগুলো দেশটির আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সফলভাবে প্রতিহত করলেও সেগুলোর ধ্বংসাবশেষ নিচে পড়ে এই ক্ষয়ক্ষতির ঘটনা ঘটে। কর্তৃপক্ষ আরও জানায়, গত কয়েক দিনের মধ্যে এই ঘটনা ঘটেছে। তবে ক্ষতিগ্রস্ত উড়োজাহাজগুলোর মালিকানা বা কোন এয়ারলাইনের তা এখনো প্রকাশ করা হয়নি। ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ইসরাইলের প্রধান বিমানবন্দর বেনগুরিয়নে থাকা তিনটি বেসামরিক উড়োজাহাজ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে একটি উড়োজাহাজে আগুন ধরে যায়। ইসরাইলের বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ বুধবার জানায়, ইরানের ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্র ইসরাইলি প্রতিরক্ষাব্যবস্থার মাধ্যমে প্রতিহত করার পর সেগুলোর ধ্বংসাবশেষ নিচে পড়ে এই ক্ষয়ক্ষতি হয়। ইসরাইলি কর্তৃপক্ষ জানায়, গত কয়েক দিনের মধ্যে এই ক্ষয়ক্ষতির ঘটনা ঘটেছে। তবে ক্ষতিগ্রস্ত উড়োজাহাজগুলোর মালিকানার বিষয়ে কিছু বলা হয়নি। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান ও ইসরাইলের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলা শুরু হওয়ার পর থেকে আকাশপথে দেশটির প্রধান এই প্রবেশদ্বারে সাধারণ বাণিজ্যিক ফ্লাইট চলাচল বন্ধ রয়েছে। তবে ইসরাইলি উড়োজাহাজ সংস্থাগুলো বিদেশে আটকে পড়া নাগরিকদের ফিরিয়ে আনতে কিছু ফ্লাইট পরিচালনা করছে। বর্তমানে এই বিমানবন্দরটি ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীও ব্যবহার করছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ইসরাইলের আকাশসীমায় প্রবেশ করা ইরানি ক্ষেপণাস্ত্রগুলোর প্রায় অর্ধেকই ছিল ‘ক্লাস্টার মিউনিশন’ বা গুচ্ছ বোমা। এ ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র মাঝ আকাশে বিস্ফোরিত হয়ে ছোট ছোট অনেক বোমা বিশাল এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে। দ্য টাইমস অব ইসরায়েলের প্রকাশিত ছবিতে দেখা গেছে, একটি বিমানে ধ্বংসাবশেষের আঘাতে আগুন ধরে গেছে এবং অন্যগুলোও মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ইসরাইলের বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের একজন মুখপাত্র নিশ্চিত করে বলেন, “ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষের আঘাতে তিনটি বেসামরিক উড়োজাহাজ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।”

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ১৯, ২০২৬ 0
People watch smoke rising from an Israeli attack in the central Beirut neighbourhood of Bashoura
ইরান–যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনা: বিদ্যুৎ অবকাঠামোতে হামলার হুমকি, পাল্টা কঠোর সতর্কবার্তা তেহরানের

যুক্তরাষ্ট্র–ইসরাইল যৌথ হামলা ও পাল্টা প্রতিশোধমূলক হামলার মধ্য দিয়ে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন এক যুদ্ধ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাত নতুন করে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে ।কী আছে  তাদের ভাগ্যে ।        ব্রেকিং নিউজ জানতে চোখ রাখুন ইত্তেহাদ নিউজে............................       মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাত নতুন করে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হুমকি এবং সামরিক তৎপরতার কারণে। ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের সচিব আলী লারিজানি যুক্তরাষ্ট্রকে সতর্ক করে বলেছেন, যদি ইরানের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি ও বিদ্যুৎ অবকাঠামোতে হামলা করা হয়, তাহলে “পুরো অঞ্চল আধা ঘণ্টার মধ্যে অন্ধকারে ডুবে যেতে পারে।” যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক মন্তব্যের জবাবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এই সতর্কবার্তা দেন। লারিজানি বলেন, “যদি তারা এমন কিছু করে, তাহলে আধা ঘণ্টার মধ্যে পুরো অঞ্চল অন্ধকারে ডুবে যাবে এবং সেই অন্ধকারে নিরাপদ আশ্রয় খুঁজতে থাকা মার্কিন সেনাদের খুঁজে বের করা সহজ হয়ে যাবে।” এই মন্তব্য এমন এক সময়ে এসেছে যখন যুক্তরাষ্ট্র–ইসরাইল যৌথ হামলা ও পাল্টা প্রতিশোধমূলক হামলার মধ্য দিয়ে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন এক যুদ্ধ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। ট্রাম্পের হুমকি: এক ঘণ্টার মধ্যে ইরানের বিদ্যুৎ ব্যবস্থা ধ্বংস করা সম্ভব মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্র চাইলে খুব দ্রুতই ইরানের বিদ্যুৎ অবকাঠামো ধ্বংস করতে পারে। মারিল্যান্ডে সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন, “আমরা চাইলে এক ঘণ্টার মধ্যে তাদের পুরো বিদ্যুৎ সক্ষমতা ধ্বংস করে দিতে পারি। এবং সেটি পুনর্গঠনে তাদের ২৫ বছর সময় লাগবে।” ট্রাম্প আরও দাবি করেন যে যুক্তরাষ্ট্র ইতোমধ্যে ইরানের সামরিক সক্ষমতাকে “প্রায় সম্পূর্ণভাবে নিরপেক্ষ” করে ফেলেছে। তার ভাষায়, “তাদের কোনো নৌবাহিনী নেই, কোনো বিমান বাহিনী নেই, কোনো কার্যকর বিমান প্রতিরক্ষা নেই। আমরা সেই আকাশে মুক্তভাবে চলাচল করছি।” যুদ্ধের সূচনা: ২৮ ফেব্রুয়ারির হামলা বর্তমান সংঘাতের সূত্রপাত ঘটে ২৮ ফেব্রুয়ারি, যখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল যৌথভাবে ইরানের একাধিক সামরিক স্থাপনায় হামলা চালায়। ওয়াশিংটনের দাবি, ইরানের সামরিক ও পারমাণবিক সক্ষমতা ধ্বংস করার লক্ষ্যেই এই অভিযান শুরু করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (CENTCOM) জানিয়েছে, গত ১২ দিনে ইরানে প্রায় ৬ হাজার লক্ষ্যবস্তুতে হামলা করা হয়েছে। সেন্টকমের তথ্যমতে— ৯০টির বেশি ইরানি নৌযান ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়েছে এর মধ্যে ৬০টির বেশি যুদ্ধজাহাজ রয়েছে ৩০টির বেশি মাইন বসানোর জাহাজ ধ্বংস করা হয়েছে এই তথ্যগুলো স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতার বার্তা এই সংকটের মধ্যেই ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি তার প্রথম সরকারি বিবৃতি দেন। তিনি জাতীয় ঐক্যের আহ্বান জানান এবং বলেন, ইরানের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে চাইলে হরমুজ প্রণালী বন্ধ রাখা হবে। মোজতবা খামেনি বলেন, “ইরানের বিরুদ্ধে যারা ষড়যন্ত্র করছে তাদের বুঝতে হবে, আমাদের প্রতিরোধ চলবে।” হরমুজ প্রণালী: বৈশ্বিক জ্বালানি বাণিজ্যের কেন্দ্র বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক বাণিজ্যপথ হলো হরমুজ প্রণালী। বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল এই প্রণালী দিয়ে পরিবাহিত হয়। ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (IRGC) ইতোমধ্যে ঘোষণা দিয়েছে— “ইরানের শত্রুদের ওপর চাপ বজায় রাখতে আমরা এই পথ দিয়ে এক লিটার তেলও যেতে দেব না।” যদি এই ঘোষণা বাস্তবায়িত হয়, তাহলে বিশ্ব জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরি হতে পারে। তেলের বাজারে অস্থিরতা ইরান–যুক্তরাষ্ট্র সংঘাতের কারণে ইতোমধ্যে আন্তর্জাতিক তেলের বাজারে ব্যাপক অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে— হরমুজ প্রণালী বন্ধ হলে বৈশ্বিক সরবরাহে বড় ধরনের ঘাটতি তৈরি হবে তেলের দাম দ্রুত বৃদ্ধি পাবে এই পরিস্থিতি বিশ্ব অর্থনীতিতে নতুন চাপ সৃষ্টি করতে পারে। ট্রাম্পের মন্তব্য: তেলের দাম বাড়লে লাভ যুক্তরাষ্ট্রের তেলের দাম বৃদ্ধিকে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য ইতিবাচক হিসেবে তুলে ধরেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যাল-এ তিনি লিখেছেন, “যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বের সবচেয়ে বড় তেল উৎপাদক। তাই তেলের দাম বাড়লে আমরা অনেক টাকা উপার্জন করি।” তবে তিনি আরও বলেন, মূল লক্ষ্য হলো ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন থেকে বিরত রাখা। তার ভাষায়, “আমাদের বড় লক্ষ্য হলো ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে না দেওয়া।” মধ্যপ্রাচ্যে সম্ভাব্য আঞ্চলিক যুদ্ধ বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান সংঘাত যদি দীর্ঘায়িত হয় তাহলে এটি বৃহত্তর আঞ্চলিক যুদ্ধে রূপ নিতে পারে। বিশেষ করে— ইসরাইল লেবাননের হিজবুল্লাহ ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহী ইরাকের শিয়া মিলিশিয়া এই গোষ্ঠীগুলো সংঘাতে জড়িয়ে পড়লে পুরো মধ্যপ্রাচ্য অস্থিতিশীল হয়ে উঠতে পারে। বিশ্ব শক্তিগুলোর উদ্বেগ এই সংঘাত নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন, চীন ও রাশিয়া। তাদের মতে, যুদ্ধ বিস্তৃত হলে বিশ্ব অর্থনীতি ও আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা বড় ধরনের ঝুঁকির মুখে পড়বে। কূটনৈতিক মহলের মতে, দ্রুত কূটনৈতিক আলোচনার মাধ্যমে সংকট সমাধান না হলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে। সামনে কী হতে পারে? বিশ্লেষকদের মতে সামনে তিনটি সম্ভাব্য পরিস্থিতি দেখা যেতে পারে— ১. সীমিত যুদ্ধ যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সীমিত সামরিক হামলা চলতে পারে। ২. আঞ্চলিক যুদ্ধ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠী এতে জড়িয়ে পড়তে পারে। ৩. কূটনৈতিক সমাধান আন্তর্জাতিক মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতি ও আলোচনার পথ তৈরি হতে পারে।   ইরান–যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনা এখন এমন এক পর্যায়ে পৌঁছেছে যেখানে সামান্য ভুল হিসাবও বড় ধরনের সংঘাতে রূপ নিতে পারে। বিদ্যুৎ অবকাঠামো ধ্বংসের হুমকি, হরমুজ প্রণালী বন্ধের ঘোষণা এবং তেলের বাজারে অস্থিরতা—সব মিলিয়ে মধ্যপ্রাচ্য আবারও বৈশ্বিক ভূরাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে। বিশ্ব এখন নজর রাখছে—এই সংঘাত কি পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধে রূপ নেবে, নাকি কূটনৈতিক আলোচনার মাধ্যমে পরিস্থিতি শান্ত করা সম্ভব হবে।

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ১৩, ২০২৬ 0
নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে ইসরাইলিরা।
ইরানের ব্যালিস্টিক মিসাইল হামলায় নির্ঘুম রাত কাটালেন লাখো ইসরাইলি

ইরানের ধারাবাহিক ব্যালিস্টিক মিসাইল হামলার আশঙ্কায় নিরাপদ আশ্রয়ে নির্ঘুম রাত কাটাতে হয়েছে লাখ লাখ ইসরাইলি নাগরিককে। শুক্রবার (৬ মার্চ) মধ্যরাত থেকে ইসরাইলের বিভিন্ন অঞ্চলের দিকে অন্তত পাঁচটি ব্যালিস্টিক মিসাইল নিক্ষেপ করেছে ইরান। এর ফলে দেশজুড়ে সতর্কতা সাইরেন বাজতে থাকে এবং বিপুল সংখ্যক মানুষকে রাতভর বোম্ব শেল্টারে অবস্থান নিতে হয়। ইসরাইলি গণমাধ্যম ও নিরাপত্তা সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, এই হামলাগুলো একসঙ্গে না করে ভিন্ন ভিন্ন সময় ব্যবধানে চালানো হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের এই কৌশলের লক্ষ্য হলো সাধারণ নাগরিকদের দীর্ঘ সময় ধরে আশ্রয়কেন্দ্রে থাকতে বাধ্য করা এবং এর মাধ্যমে ইসরাইল সরকারের ওপর মানসিক ও রাজনৈতিক চাপ সৃষ্টি করা। আতঙ্কে স্থবির জনজীবন ধারাবাহিক মিসাইল সতর্কতার কারণে ইসরাইলের বিভিন্ন শহরে রাতভর আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। বহু পরিবার তাদের ঘর ছেড়ে নিরাপদ বাঙ্কার বা বোম্ব শেল্টারে আশ্রয় নেয়। স্থানীয় প্রশাসন নাগরিকদের সতর্ক থাকতে এবং জরুরি নির্দেশনা মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছে। প্রত্যাশার তুলনায় কম হামলা এর আগে ইসরাইলি নিরাপত্তা বাহিনী সতর্ক করে জানিয়েছিল, সংঘাতের প্রথম সপ্তাহে ইরান থেকে প্রায় ১,০০০ মিসাইল হামলা হতে পারে। তবে বাস্তবে এখন পর্যন্ত প্রায় ২০০টি মিসাইল ছোড়া হয়েছে বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে। ইসরাইলি সামরিক বিশ্লেষকদের দাবি, প্রত্যাশার তুলনায় কম সংখ্যক হামলা ইঙ্গিত দিচ্ছে যে ইরানের সামরিক সক্ষমতা কিছুটা সীমিত হয়ে পড়েছে। তাদের মতে, ইসরাইলি বাহিনীর ধারাবাহিক “অপারেশনাল সাকসেস” বা সফল সামরিক অভিযানের কারণে ইরান বড় আকারের হামলা চালাতে পারছে না। উত্তেজনা বাড়ছে মধ্যপ্রাচ্যে এদিকে চলমান এই হামলা-পাল্টা হামলার ঘটনায় মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা আরও বাড়ছে। আন্তর্জাতিক মহল পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে এবং সংঘাত দ্রুত প্রশমনের আহ্বান জানাচ্ছে। বিশ্লেষকদের মতে, পরিস্থিতি দীর্ঘায়িত হলে তা আঞ্চলিক নিরাপত্তা এবং বৈশ্বিক রাজনীতিতেও প্রভাব ফেলতে পারে।

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ৭, ২০২৬ 0
জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস
মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে : জাতিসংঘ মহাসচিব

জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে চলমান ‘বেআইনি হামলার’ তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। শুক্রবার তিনি সতর্ক করে বলেন, সংঘাত বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে পড়ায় পরিস্থিতি যে কোনো সময় নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে। জাতিসংঘ থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানায়। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের বিরুদ্ধে ব্যাপক বিমান হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলি বাহিনী। ইরানও এর জবাবে ইসরাইল ও উপসাগরীয় দেশগুলোতে পাল্টা হামলা চালিয়েছে। ওয়াশিংটন জানায়, তেহরানের পারমাণবিক ও ক্ষেপণাস্ত্র হুমকি ঠেকাতেই এই অভিযান।  তবে এই হামলায় দেশটির সরকার কার্যত নেতৃত্বহীন হয়ে পড়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এখন ইরানের ‘নিঃশর্ত আত্মসমর্পণ’ দাবি করছেন। এদিকে গুতেরেস বলেন, ‘মধ্যপ্রাচ্য ও এর বাইরে চলমান সব বেআইনি হামলা ওই অঞ্চলের সাধারণ মানুষের জন্য চরম দুর্ভোগ ও ক্ষতির কারণ হচ্ছে। এটি বিশ্ব অর্থনীতি, বিশেষ করে অসহায় মানুষের জন্য মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি করেছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘পরিস্থিতি সবার নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে। এখন লড়াই থামানোর এবং গুরুত্বের সঙ্গে কূটনৈতিক আলোচনা শুরু করার সময়।’ জাতিসংঘের মানবিক সহায়তা বিষয়ক প্রধান টম ফ্লেচার শুক্রবার বলেন, ‘আমরা দেখছি যে এই যুদ্ধে ধ্বংসযজ্ঞ চালাতে প্রতিদিন প্রায় ১০০ কোটি ডলার অর্থাৎ রেকর্ড পরিমাণ অর্থ ব্যয় করা হচ্ছে। অথচ রাজনীতিবিদরা অসহায় মানুষের জন্য বরাদ্দ করা সহায়তা তহবিল কাটছাঁট করার বড়াই করছেন।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমরা প্রযুক্তি ও বিচারহীনভাবে মানুষ হত্যার এক ভয়াবহ সমন্বয় দেখছি।’ ফ্লেচার বলেন, ‘মানুষের ধ্বংসাত্মক প্রবৃত্তি ও বেপরোয়া যুদ্ধ ঠেকাতে যে সব আইন ও ব্যবস্থা রয়েছে, সেগুলোর ওপর এখন লাগাতার আঘাত করা হচ্ছে।’ যুদ্ধের অন্যান্য প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি সতর্ক করেন, এই সংঘাতের ফলে বাজার ব্যবস্থা ও সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে এবং খাদ্যপণ্যের দাম বাড়ছে। এতে সবচেয়ে অসহায় মানুষগুলোই সবার আগে এবং সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। Iran Israel War, Middle East Crisis, UN Warning, Global Economy Risk, Trump Iran Conflict

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ৭, ২০২৬ 0
ইরানে এক রাতে ২৩০টি বোমা-ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ
মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা তীব্র,লেবাননে নিহত ১২:তেহরানে একাধিক বিস্ফোরণ

মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। ইরানের বিভিন্ন সামরিক স্থাপনায় রাতভর বিমান হামলা চালিয়েছে ইসরাইল। একই সময়ে লেবাননেও ইসরাইলি বিমান হামলায় অন্তত ১২ জন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। ইসরাইলি সামরিক বাহিনীর বরাত দিয়ে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা শনিবার (৭ মার্চ) এ তথ্য জানিয়েছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই অভিযানে ইসরাইলের ৮০টির বেশি যুদ্ধবিমান অংশ নেয় এবং তারা মোট ২৩০টি বোমা ও ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে। তেহরানে একাধিক বিস্ফোরণ রাতভর ইরানের বিভিন্ন এলাকায়, বিশেষ করে রাজধানী তেহরানে একাধিক বড় ধরনের বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গেছে। ইসরাইলি সেনাবাহিনী দাবি করেছে, হামলার লক্ষ্য ছিল কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সামরিক স্থাপনা। এর মধ্যে রয়েছে— ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)-এর একটি সামরিক বিশ্ববিদ্যালয় ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ অবকাঠামোর একটি গুদাম ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র সংরক্ষণ ও উৎপাদনের একটি ভূগর্ভস্থ স্থাপনা তবে এসব স্থাপনার সুনির্দিষ্ট অবস্থান সম্পর্কে ইসরাইলি বাহিনী বিস্তারিত কিছু জানায়নি। লেবাননে হামলায় নিহত ১২ এদিকে লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দেশটির পূর্বাঞ্চলীয় বেকা উপত্যকার নাবি শহরে ইসরাইলি বিমান হামলায় অন্তত ১২ জন নিহত এবং ৩৩ জন আহত হয়েছেন। এই হামলার ফলে ওই এলাকায় ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ এবং মানবিক বিপর্যয়ের সৃষ্টি হয়েছে বলে জানিয়েছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ। গত এক সপ্তাহ ধরে ইসরাইলি সামরিক বাহিনী দক্ষিণ লেবানন এবং রাজধানী বৈরুতের দক্ষিণাঞ্চলীয় শহরতলিতে বড় ধরনের উচ্ছেদ আদেশ জারি করায় হাজার হাজার মানুষ এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়েছেন। সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকে লেবাননে এ পর্যন্ত ২০০-র বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। এছাড়া প্রায় ৯৫ হাজার মানুষ ঘরবাড়ি ছেড়ে বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। মানবিক সংস্থাগুলো বলছে, অব্যাহত বোমাবর্ষণ এবং ক্রমবর্ধমান বাস্তুচ্যুত মানুষের কারণে লেবাননের মানবিক পরিস্থিতি অত্যন্ত সংকটজনক হয়ে উঠেছে। সৌদিতে ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত অন্যদিকে সৌদি আরবের একটি গুরুত্বপূর্ণ বিমানঘাঁটিকে লক্ষ্য করে ছোড়া দুটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র আকাশেই ধ্বংস করার দাবি করেছে দেশটির সামরিক বাহিনী। সৌদি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ক্ষেপণাস্ত্র দুটি প্রিন্স সুলতান বিমানঘাঁটিকে লক্ষ্য করে নিক্ষেপ করা হয়েছিল। তবে সেগুলো প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে আকাশেই ধ্বংস করা হয়। এর আগে শনিবারই সৌদি বাহিনী দেশের দক্ষিণাঞ্চলে চারটি ড্রোন এবং একই ঘাঁটিকে লক্ষ্য করে ছোড়া আরও একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত করার দাবি করে। তবে এসব হামলার জন্য কে দায়ী— সে বিষয়ে সৌদি কর্তৃপক্ষ বিস্তারিত কিছু জানায়নি। পাকিস্তানের সামনে নতুন কূটনৈতিক চ্যালেঞ্জ মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত ক্রমশ বিস্তৃত হওয়ায় পাকিস্তানের কূটনৈতিক অবস্থান নিয়েও নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। ইরানের সঙ্গে পাকিস্তানের প্রায় ৯০০ কিলোমিটার দীর্ঘ সীমান্ত রয়েছে, যা ভূ-রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত সংবেদনশীল। অন্যদিকে সৌদি আরব এবং উপসাগরীয় দেশগুলোতে বিপুলসংখ্যক পাকিস্তানি শ্রমিক কর্মরত রয়েছেন, যাদের পাঠানো রেমিট্যান্স দেশটির অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ঐতিহাসিকভাবে সৌদি আরবের সঙ্গে পাকিস্তানের সম্পর্কও অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ। সম্প্রতি দুই দেশের মধ্যে একটি আনুষ্ঠানিক পারস্পরিক প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষর হয়েছে। তবে মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাতের বিস্তার ঘটলে ইসলামাবাদের জন্য দুই পক্ষের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখা ক্রমেই কঠিন হয়ে উঠতে পারে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা। বর্তমান পরিস্থিতিতে আঞ্চলিক যুদ্ধ আরও ছড়িয়ে পড়লে পাকিস্তান কোন অবস্থান নেবে— তা নিয়ে দেশটির ভেতরে ও আন্তর্জাতিক মহলে ব্যাপক আলোচনা চলছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ৭, ২০২৬ 0
ইরানের শাহেদ ড্রোন
ইরানের শাহেদ ড্রোনের চাপে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইল: ব্যয়বহুল ক্ষেপণাস্ত্র বনাম যুদ্ধকৌশল

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাত ক্রমেই নতুন মাত্রা পাচ্ছে। বিশ্বের অন্যতম শক্তিধর সামরিক জোটের বিরুদ্ধে তুলনামূলক স্বল্প ব্যয়ে তৈরি ড্রোন ব্যবহার করে প্রতিরোধ গড়ে তুলেছে ইরান। বিশ্লেষকদের মতে, এটি আধুনিক যুদ্ধের এক নতুন কৌশল, যেখানে কম খরচের প্রযুক্তি দিয়ে ব্যয়বহুল প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে চ্যালেঞ্জ জানানো হচ্ছে। বিশেষ করে ইরানের তৈরি শাহেদ-১৩৬ আত্মঘাতী ড্রোন এখন যুক্তরাষ্ট্র, ইসরাইল এবং তাদের মিত্রদের জন্য বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। শত শত ড্রোনে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার চ্যালেঞ্জ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রতিদিন শত শত শাহেদ ড্রোন বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালাচ্ছে। অত্যন্ত নিচু দিয়ে ধীরগতিতে উড়ার কারণে এগুলোকে শনাক্ত ও ধ্বংস করা কঠিন হয়ে পড়ছে। মার্কিন সামরিক কর্মকর্তাদের মতে, তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা অধিকাংশ ড্রোন ধ্বংস করতে সক্ষম হলেও ঝাঁকে ঝাঁকে আসা সব ড্রোন প্রতিহত করা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ছে। মার্কিন জয়েন্ট চিফস অব স্টাফসের চেয়ারম্যান জেনারেল ড্যান কেইন কংগ্রেস সদস্যদের এক রুদ্ধদ্বার বৈঠকে জানান, ইরানের কাছে এখন হাজার হাজার আত্মঘাতী ড্রোন মজুত রয়েছে। সস্তা ড্রোন বনাম ব্যয়বহুল প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, এই যুদ্ধে সবচেয়ে বড় বিষয় হচ্ছে ব্যয়ের পার্থক্য। একটি শাহেদ ড্রোন তৈরির খরচ প্রায় ৩৫ হাজার ডলার অন্যদিকে একটি প্যাট্রিয়ট বা থাড ইন্টারসেপ্টর ক্ষেপণাস্ত্রের খরচ কয়েক মিলিয়ন ডলার ফলে একটি সস্তা ড্রোন ধ্বংস করতে যুক্তরাষ্ট্রকে ব্যয় করতে হচ্ছে বহু গুণ বেশি অর্থ। এতে যুদ্ধের সামগ্রিক ব্যয় দ্রুত বাড়ছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, সংঘাত শুরুর পর প্রতিদিন যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধ ব্যয় গড়ে এক বিলিয়ন ডলারের বেশি। যুদ্ধের প্রথম দুই দিনে ব্যয় হয়েছিল প্রায় চার বিলিয়ন ডলার। ইরানের নতুন যুদ্ধকৌশল সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, ইরান এখন মূলত ড্রোনের ঝাঁক ব্যবহার করে প্রতিপক্ষের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ক্লান্ত করে দেওয়ার কৌশল গ্রহণ করেছে। প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ইরানের লক্ষ্য হলো যুক্তরাষ্ট্রের ব্যয়বহুল ইন্টারসেপ্টর মিসাইলের মজুত দ্রুত ফুরিয়ে ফেলা। এই পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্র এখন ড্রোন ধ্বংসের পাশাপাশি সেগুলোর উৎক্ষেপণস্থল বা লঞ্চিংপ্যাড ধ্বংস করার ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে। ড্রোন যুদ্ধের নতুন যুগ প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক স্টিভ ফেল্ডস্টাইনের মতে, এই সংঘাত বিশ্বকে ড্রোন যুদ্ধের নতুন যুগে প্রবেশ করাচ্ছে। তিনি বলেন, ভবিষ্যতের যুদ্ধে মানববিহীন বিমান বা ড্রোনের ব্যবহার আরও বাড়বে এবং এটি প্রচলিত প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে। যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হওয়ার আশঙ্কা বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের কাছে প্রায় ৮০ হাজার ড্রোনের মজুত রয়েছে এবং প্রতিদিন ৪০০-৫০০ ড্রোন ব্যবহার করা সম্ভব। এ হিসাবে শুধু ড্রোন দিয়েই দেশটি কয়েক মাস যুদ্ধ চালিয়ে যেতে পারে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের ব্যয়বহুল প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা দীর্ঘ সময় ধরে বজায় রাখা কঠিন হতে পারে। অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ মধ্যপ্রাচ্যের এই সংঘাত কবে শেষ হবে, তা এখনো অনিশ্চিত। বিশ্লেষকদের মতে, এটি এমন এক যুদ্ধ যেখানে দ্রুত বিজয় পাওয়া কঠিন। অনেকে মনে করছেন, এই সংঘাত দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে এবং ভবিষ্যতের যুদ্ধের কৌশল নির্ধারণে বড় প্রভাব ফেলতে পারে।

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ৬, ২০২৬ 0
মার্কিন ট্যাঙ্কারে আঘাত করেছে ইরান
হরমুজ প্রণালিতে উত্তেজনা: মার্কিন ট্যাঙ্কারে হামলার দাবি আইআরজিসির, যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলের জাহাজকে হুঁশিয়ারি

মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। ইরানের ইসলামিক রেভ্যুলুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) দাবি করেছে, পারস্য উপসাগরের উত্তরাংশে তারা একটি মার্কিন ট্যাঙ্কারে হামলা চালিয়েছে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র, ইসরাইল এবং তাদের সমর্থনকারী ইউরোপীয় দেশগুলোর সামরিক ও বাণিজ্যিক জাহাজকে হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচল না করার হুঁশিয়ারি দিয়েছে তারা। বৃহস্পতিবার সকালে দেওয়া এক বিবৃতিতে আইআরজিসি জানায়, তাদের নৌবাহিনী পারস্য উপসাগরের উত্তরের একটি এলাকায় যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি ট্যাঙ্কারকে লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে। যদিও এ হামলায় কী ধরনের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বা ট্যাঙ্কারটির অবস্থা কী— সে বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানায়নি তারা। এ খবর প্রকাশ করেছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান তাদের অনলাইন প্রতিবেদনে। হরমুজ প্রণালি নিয়ে কড়া হুঁশিয়ারি আইআরজিসি তাদের বিবৃতিতে আরও বলেছে, যুক্তরাষ্ট্র, ইসরাইল এবং তাদের ইউরোপীয় মিত্রদের কোনো সামরিক বা বাণিজ্যিক জাহাজ যদি হরমুজ প্রণালির আশপাশে দেখা যায়, তাহলে সেগুলোর ওপর হামলা চালানো হতে পারে। বিবৃতিতে বলা হয়, “আমরা আগেও স্পষ্ট করে বলেছি— আন্তর্জাতিক আইন ও বিভিন্ন প্রস্তাবের আলোকে যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতে ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরান হরমুজ প্রণালি দিয়ে যাতায়াত নিয়ন্ত্রণ করার অধিকার রাখে।” তারা দাবি করে, ইরানের নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার স্বার্থে প্রয়োজন হলে ওই গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক পথ ব্যবহার সীমিত বা বন্ধ করে দেওয়া হতে পারে। বিশ্ব বাণিজ্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ পথ হরমুজ প্রণালি বিশ্ব অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি সামুদ্রিক পথ। পারস্য উপসাগরকে ওমান উপসাগর ও আরব সাগরের সঙ্গে যুক্ত করেছে এই সংকীর্ণ জলপথ। বিশ্বের মোট সমুদ্রপথে পরিবাহিত তেলের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই প্রণালি দিয়ে পরিবহন করা হয়। প্রতিদিন লাখ লাখ ব্যারেল তেল এবং বিপুল পরিমাণ তরল প্রাকৃতিক গ্যাস এই পথে আন্তর্জাতিক বাজারে যায়। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই প্রণালিতে কোনো ধরনের সামরিক সংঘাত বা অবরোধ সৃষ্টি হলে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের অস্থিরতা দেখা দিতে পারে। এর প্রভাব পড়তে পারে বিশ্ব অর্থনীতিতেও। যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিক্রিয়া আইআরজিসির এই দাবির পর এখনো যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো বিস্তারিত প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তবে অতীতে ওয়াশিংটন বারবার বলেছে, আন্তর্জাতিক জলপথে জাহাজ চলাচল অবাধ রাখার জন্য তারা প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুত। যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনী দীর্ঘদিন ধরে পারস্য উপসাগর ও হরমুজ প্রণালিতে টহল দিয়ে আসছে। আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচল নিরাপদ রাখতে সেখানে বিভিন্ন সময় বহুজাতিক নৌজোটও গঠন করা হয়েছে। ইরান-যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনার দীর্ঘ ইতিহাস ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে উত্তেজনা বহুদিনের। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক উপস্থিতি, পারমাণবিক কর্মসূচি এবং আঞ্চলিক প্রভাব বিস্তার নিয়ে দুই দেশের মধ্যে বারবার সংঘাতের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। গত কয়েক বছর ধরে পারস্য উপসাগর এলাকায় একাধিকবার ট্যাঙ্কার জব্দ, ড্রোন ভূপাতিত করা এবং নৌবাহিনীর মধ্যে উত্তেজনাপূর্ণ মুখোমুখি অবস্থার ঘটনা ঘটেছে। বিশ্লেষকদের মতে, এসব ঘটনার পেছনে রয়েছে বৃহত্তর ভূরাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা এবং আঞ্চলিক ক্ষমতার ভারসাম্য রক্ষার লড়াই। আন্তর্জাতিক উদ্বেগ হরমুজ প্রণালি ঘিরে নতুন এই উত্তেজনা আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ তৈরি করেছে। অনেক দেশ আশঙ্কা করছে, পরিস্থিতি আরও খারাপ হলে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে বড় ধরনের সংকট দেখা দিতে পারে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের কয়েকজন কূটনীতিক ইতোমধ্যে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা কমানোর আহ্বান জানিয়েছেন। তাদের মতে, সামুদ্রিক বাণিজ্যপথকে সংঘাতের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত করা হলে তার প্রভাব গোটা বিশ্বের ওপর পড়বে। সম্ভাব্য প্রভাব বিশ্লেষকদের মতে, যদি সত্যিই হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল বাধাগ্রস্ত হয়, তাহলে তেলের দাম দ্রুত বেড়ে যেতে পারে। এর ফলে বিশ্বব্যাপী জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা দেখা দিতে পারে এবং অনেক দেশের অর্থনীতিতে চাপ তৈরি হতে পারে। বিশেষ করে তেল আমদানিনির্ভর দেশগুলোর জন্য পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে। পরিস্থিতি নজরে বিশ্ব বর্তমানে আন্তর্জাতিক মহল গভীরভাবে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে। অনেকেই আশঙ্কা করছেন, মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে বড় ধরনের সামরিক উত্তেজনা তৈরি হতে পারে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে কূটনৈতিক উদ্যোগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অন্যথায় পারস্য উপসাগরের গুরুত্বপূর্ণ এই সামুদ্রিক পথ বিশ্ব রাজনীতির নতুন সংঘাতের কেন্দ্রে পরিণত হতে পারে।

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ৬, ২০২৬ 0
ইসরায়েলি ভূখণ্ড লক্ষ্য করে ইরান থেকে ঝাঁকে ঝাঁকে ব্যালেস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র
ইরান-যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইল সংঘাত: মধ্যপ্রাচ্য ও ভারত মহাসাগরে যুদ্ধ জোরদার,মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে হামলা চালিয়ে যাচ্ছে ইরান

ইরান যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলকে প্রতিহত করছে, মধ্যপ্রাচ্য ও ভারত মহাসাগরে তীব্র যুদ্ধ, তেহরান ছেড়ে যাচ্ছে লক্ষাধিক মানুষ ,ইরান যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলের যৌথ হামলার জবাবে কঠোর পাল্টা হুমকি ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ সামরিক হামলার পর ইরান যুদ্ধ ত্যাগের অঙ্গীকার জোরদার করেছে। খাতাম আল আম্বিয়া কেন্দ্রীয় দপ্তরের ডেপুটি কমান্ডার জেনারেল কিওমারস হেইদারি বলেন, তার দেশ লক্ষ্য পূরণ এবং যুক্তরাষ্ট্রের ওপর তীব্র আঘাত না হানা পর্যন্ত যুদ্ধ ত্যাগ করবে না। ২৮শে ফেব্রুয়ারি হামলার পর তেহরান প্রতিশোধমূলক অভিযান শুরু করে। ইরান এখন পর্যন্ত ইসরাইলের রাজধানী তেল আবিব ও মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। লেবাননের হিজবুল্লাহ ইরানের পাশে সরাসরি যুদ্ধে নেমেছে। উভয়ে মিলে তেল আবিবে হামলা চালাচ্ছে। মধ্যপ্রাচ্য থেকে ভারত মহাসাগরে যুদ্ধের ছড়িয়ে পড়া ভূমধ্যসাগরের উত্তেজনা ভারত মহাসাগরে পৌঁছেছে। সাইপ্রাসে ফ্রান্স রণতরী মোতায়েন করেছে, যুক্তরাজ্য অ্যান্টি-মিসাইল সরঞ্জাম পাঠিয়েছে, এবং জার্মানি মৌন সমর্থন দিয়েছে। বুধবার ভারত মহাসাগরে অবস্থানরত ইরানের জাহাজে হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র। পাল্টা হিসেবে ইরান একটি মার্কিন তেলবাহী জাহাজে হামলা চালিয়েছে। আইআরজিসি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছে, যুক্তরাষ্ট্র, ইসরাইল ও তাদের সমর্থিত কোনো জাহাজ হরমুজ প্রণালী পার হতে পারবে না। এদিকে যুদ্ধের তীব্রতায় স্কুল ও হাসপাতালেও ক্ষতি হচ্ছে। ইরানের রেড ক্রিসেন্ট জানিয়েছে, শনিবার থেকে বুধবার পর্যন্ত অন্তত ১০৫টি বেসামরিক স্থাপনায় হামলা হয়েছে। লাখ লাখ মানুষ নিরাপদ আশ্রয় খুঁজতে তেহরান ছাড়ছে। জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, যুদ্ধের প্রথম দুইদিনে লক্ষাধিক মানুষ দেশ ছাড়েছে। ইরানের তিন দেশে যুক্তরাষ্ট্রের ২০ সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে হামলা ইরানের রেভ্যুলুশনারি গার্ড (আইআরজিসি) জানিয়েছে, কুয়েত, বাহরাইন ও সংযুক্ত আরব আমিরাতে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের ২০টি সামরিক স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে। হামলায় উল্লেখযোগ্য ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ট্রাম্পের পরিকল্পনায় পরিবর্তন ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্র ইরানে যৌথ অভিযান শুরু করার মূল লক্ষ্য ছিল তেহরানের শাসনব্যবস্থা দ্রুত পরিবর্তন। তবে, মাঠ পর্যায়ের পরিস্থিতিতে দেখা যাচ্ছে, ইরানের ভেতরে অস্থিরতা তৈরি হয়নি। উল্টো, ইরান ও হিজবুল্লাহ পাল্টা আঘাত চালাচ্ছে। সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির মৃত্যু হলে ইরান আলোচনায় যেতে রাজি নয়। আঞ্চলিক কূটনৈতিক তৎপরতা ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি বলেছেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প কূটনীতির সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছেন। তার মতে, তথ্য বিকৃতি পরমাণু আলোচনাকে ব্যর্থ করেছে। হতাহতের সংখ্যা যুদ্ধ শুরুর পর এ পর্যন্ত ইরানে ১২৩০ জন নিহত হয়েছেন। মিনাবে স্কুলে হামলায় ১৭৫ জন নিহত হয়েছেন। ইসরাইলে ১১ জন, যুক্তরাষ্ট্রে ৬ জন, কুয়েতে দুই সেনা নিহত হয়েছেন। লেবাননে ৭৭ জন নিহত হয়েছেন। সংযুক্ত আরব আমিরাতে তিনজন ও ওমান উপকূলের কাছে এক জন নিহত হয়েছেন। ট্রাম্পের যুদ্ধ নিয়ন্ত্রণ প্রচেষ্টা ব্যর্থ মার্কিন কংগ্রেসের সিনেটে ট্রাম্পের সামরিক নিয়ন্ত্রণ প্রস্তাব ৪৭-৫২ ভোটে খারিজ হয়েছে। রিপাবলিকানরা প্রস্তাবের বিপক্ষে ভোট দিয়েছেন। এর ফলে ট্রাম্পের সামরিক আকাঙ্ক্ষা কংগ্রেস নিয়ন্ত্রণে আনা ব্যর্থ হলো এবং যুদ্ধ পরিচালনায় প্রেসিডেন্টের সমর্থন স্পষ্ট হলো।

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ৬, ২০২৬ 0
মাইক্রোসফটের কার্যালয়ে হামলা-দোহায় ফের বিস্ফোরণ
ইসরাইলে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা, মাইক্রোসফট অফিসে আঘাতের দাবি; স্পেন-যুক্তরাজ্যের ভিন্ন অবস্থান, ইরানের পাশে চীন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: প্রতিশোধমূলক অভিযানের অংশ হিসেবে সোমবার (২ মার্চ) ইসরাইলে একাধিক দফায় ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালানোর দাবি করেছে ইরান। দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমের বরাতে জানানো হয়েছে, গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ও শিল্প স্থাপনাকে লক্ষ্য করে এ হামলা পরিচালিত হয়েছে। বীরশেবায় সামরিক কমপ্লেক্সে হামলার দাবি ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) দাবি করেছে, তাদের ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনের ১১ তম ঢেউ ইসরাইলের বীরশেবা শহরকে লক্ষ্যবস্তু করেছে। সংস্থাটির ভাষ্য অনুযায়ী, বীরশেবায় অবস্থিত ইসরাইলি সেনাবাহিনীর একটি যোগাযোগ ও শিল্প কমপ্লেক্সে আঘাত হানা হয়েছে। পরে প্রকাশিত একটি ছবিতে দেখানো ভবনটিকে লক্ষ্যবস্তু বলে দাবি করা হয়। ওই কমপ্লেক্সে কয়েকটি আন্তর্জাতিক প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের কার্যালয় রয়েছে বলে জানানো হয়েছে, যার মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান মাইক্রোসফট -এর অফিসও আছে বলে দাবি করেছে ইরান। তবে এ বিষয়ে ইসরাইলি কর্তৃপক্ষ বা সংশ্লিষ্ট কোম্পানির পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। নেতানিয়াহুর কার্যালয়ে হামলার দাবি ফার্স নিউজ এজেন্সিতে প্রচারিত এক বিবৃতিতে আইআরজিসি জানিয়েছে, তেল আবিবে ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর কার্যালয় এবং বিমানবাহিনীর কমান্ডারের সদর দপ্তরকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে। এতে ‘খাইবার’ ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে বলে দাবি করা হয়। হামলার সময় নেতানিয়াহু কোথায় ছিলেন, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ইসরাইলি প্রশাসনও এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া দেয়নি। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর নেতানিয়াহু বেইত শেমেশ সফর বাতিল করেন। স্পেনের ঘাঁটি ব্যবহারে ‘না’ ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সামরিক অভিযানে নিজেদের ভূখণ্ডে থাকা যৌথ সামরিক ঘাঁটি ব্যবহারের অনুমতি দেয়নি Spain। দেশটির রোটা ও মোরন ঘাঁটি ইরানের বিরুদ্ধে চলমান হামলায় ব্যবহার করা যাবে না বলে জানানো হয়েছে। স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ  যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের ‘একতরফা সামরিক পদক্ষেপ’-এর সমালোচনা করে একে ‘অন্যায় ও বিপজ্জনক’ আখ্যা দিয়েছেন। তিনি সতর্ক করে বলেন, এ ধরনের অভিযান আন্তর্জাতিক ব্যবস্থাকে আরও অস্থিতিশীল করে তুলছে। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী হোসে ম্যানুয়েল আলবারেস জানান, স্পেনের ঘাঁটিগুলো কেবল দ্বিপাক্ষিক চুক্তি ও জাতিসংঘ সনদের কাঠামোর মধ্যেই ব্যবহৃত হবে। প্রতিরক্ষামন্ত্রী মার্গারিটা রবেলসও  একই অবস্থান ব্যক্ত করেছেন। ইরানের পাশে থাকার ঘোষণা চীনের মধ্যপ্রাচ্যে ছড়িয়ে পড়া উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে ইরানের সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তা রক্ষায় জোরালো সমর্থন জানিয়েছে চীন । দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই  ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচিকে ফোন করে বেইজিংয়ের অবস্থান পরিষ্কার করেন। চীন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলকে অবিলম্বে সামরিক অভিযান বন্ধের আহ্বান জানিয়েছে এবং জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে যুদ্ধ বন্ধে গঠনমূলক ভূমিকা রাখার কথা বলেছে। যুক্তরাজ্য সরাসরি হামলায় অংশ নেবে না ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলের হামলায় সরাসরি অংশ নেবে না বলে জানিয়েছেন যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার । তবে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা প্রতিরোধে যুক্তরাষ্ট্রকে নির্দিষ্ট সামরিক ঘাঁটি ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি। স্টারমার জোর দিয়ে বলেন, যুক্তরাজ্য সরাসরি সামরিক অভিযানে অংশ নিচ্ছে না। একই ধরনের অবস্থান নেওয়ার বিষয়ে ফ্রান্স ও জার্মানিও প্রস্তুত রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। আঞ্চলিক উত্তেজনা বৃদ্ধির আশঙ্কা পর্যবেক্ষকরা বলছেন, ইরান-ইসরাইল পাল্টাপাল্টি হামলা মধ্যপ্রাচ্যে বৃহত্তর সংঘাতের ঝুঁকি তৈরি করেছে। যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপীয় দেশসমূহ এবং চীনের ভিন্ন ভিন্ন অবস্থান পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে। এদিকে আন্তর্জাতিক মহল পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। সামরিক উত্তেজনা যেন পূর্ণাঙ্গ আঞ্চলিক যুদ্ধে রূপ না নেয়—সেই আশঙ্কাই এখন সবচেয়ে বড় উদ্বেগ হিসেবে দেখা দিয়েছে।   কাতারের দোহায় ফের বিস্ফোরণ   কাতারের রাজধানী দোহায় নতুন বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। ধারণা করা হচ্ছে, ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং ড্রোন হামলার ফলে এ বিস্ফোরণ হতে পারে। সোমবার (২ মার্চ) রাতে নতুন করে এ বিস্ফোরণ হয়। এর আগে এদিন কাতারের শিল্পনগরী রাস লাফানের একাধিক জ্বালানি স্থাপনায় আঘাত হানে ইরানের ড্রোন। তবে এ ঘটনায় কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। এদিকে, কাতারের বিমানবাহিনী দেশটির দিকে আসা দুটি ইরানি জেট গুলি করে নামিয়েছে এবং কয়েকটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনও প্রতিহত করেছে বলে দাবি করেছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ৩, ২০২৬ 0
ইরানের সাবেক প্রেসিডেন্ট আহমেদিনেজাদ
ইরানের সাবেক প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আহমেদিনেজাদ নিহত

ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ হামলায় ইরানে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এই হামলার মধ্যে সবচেয়ে বড় বিপর্যয় হলো দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির হত্যাকাণ্ড। তবে, এই হামলায় ইরানের সাবেক প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আহমেদিনেজাদও নিহত হয়েছেন বলে খবর প্রকাশিত হয়েছে। ইসরাইলি গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, রোববার ইরানে ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের বিমান হামলায় সাবেক প্রেসিডেন্ট আহমেদিনেজাদ নিহত হন। এই হামলা ঘটে তার নিজ বাসভবনে, যেখানে তিনি একান্তে ছিলেন। ইসরাইলি সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, এই হত্যাকাণ্ডটি ইরানের শীর্ষস্থানীয় ব্যক্তিদের ওপর পরিচালিত চলমান হামলার একটি অংশ হিসেবে দেখানো হচ্ছে। মাহমুদ আহমেদিনেজাদ ২০০৫ থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত ইরানের প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি কট্টরপন্থী বক্তব্যের জন্য পরিচিত ছিলেন এবং পশ্চিমাদের প্রতি কঠোর অবস্থান নিয়েছিলেন। বিশেষত, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলের মধ্যে ব্যাপক নজরদারি ছিল, এবং তার নেতৃত্বে ইরান এই বিতর্কের কেন্দ্রে ছিল। ২০০৯ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের ফলাফল নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়, যা ইরানজুড়ে গণবিক্ষোভের জন্ম দেয়। এই ঘটনাগুলো তার প্রেসিডেন্সি আমলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। এই হামলাগুলোকে ইরানে একটি বড় রাজনৈতিক বিপর্যয় হিসেবে দেখা হচ্ছে, এবং এর ফলে ইরানের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে। ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে দেশটির সরকারের প্রতিক্রিয়া কেমন হবে, তা এখন দেখার বিষয়। এই হামলার মাধ্যমে ইরানের শীর্ষ রাজনৈতিক নেতাদের ওপর আক্রমণ চালানো অব্যাহত রাখা হলে, আন্তর্জাতিক রাজনীতি ও শান্তি প্রতিষ্ঠায় বড় ধরনের প্রভাব ফেলবে বলে বিশ্লেষকরা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন।

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ২, ২০২৬ 0
বাংলাদেশ  বিমান
ইরানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল যৌথ হামলা:বাহরাইন-কুয়েত ও কাতারে বাংলাদেশ থেকে বিমান চলাচল বন্ধ

ইরানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল যৌথ হামলা চালানোর পর প্রতিরোধ গড়ে তোলে তেহরান। এরই অংশ হিসেবে ইসরাইলে পাল্টা হামলা চালায় ইরান। একইসঙ্গে বাহরাইন, আরব আমিরাত, কুয়েত ও কাতারে মার্কিন সেনা ঘাঁটি লক্ষ্য করে হামলা চালায় তেহরান। একইসঙ্গে সৌদি আরবের রিয়াদে হামলার খবরও পাওয়া গেছে। এমন পরিস্থিতিতে বাহরাইন, কুয়েত ও কাতারে বাংলাদেশ থেকে বিমান চলাচল বন্ধ ঘোষণা করা হয়। অন্যদিকে, কাতারে থাকা নাগরিকদের নিরাপদে থাকার আহ্বান জানিয়েছে দেশটিতে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস কর্তৃপক্ষ।  

নিজস্ব প্রতিবেদক ফেব্রুয়ারি ২৮, ২০২৬ 0
Popular post
ফারুকীর সম্পদ কমেছে, তিশার বেড়েছে দ্বিগুণেরও বেশি: সম্পদ বিবরণী ঘিরে আলোচনা

অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের সম্পদ বিবরণী প্রকাশের পর সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী ও তার স্ত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদের হিসাব নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। এক বছরের ব্যবধানে স্বামী ফারুকীর সম্পদ কমলেও স্ত্রী তিশার সম্পদ বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে প্রকাশিত তথ্যে উঠে এসেছে এই চিত্র। প্রকাশিত খতিয়ান অনুযায়ী, জনপ্রিয় অভিনেত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদ এক বছরে অভাবনীয় হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তিশার মোট সম্পদের পরিমাণ ছিল ১ কোটি ৪০ লাখ ৮১ হাজার ৮৬০ টাকা। ঠিক এক বছর পর, ২০২৫ সালের ৩০ জুন সেই সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ৯৯ লাখ ৮৯ হাজার ৫০১ টাকায়। অর্থাৎ মাত্র এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ বেড়েছে ১ কোটি ৫৯ লাখ ৭ হাজার ৬৪১ টাকা, যা আগের বছরের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি। অন্যদিকে সংস্কৃতি উপদেষ্টা ও নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর ক্ষেত্রে দেখা গেছে উল্টো চিত্র। এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ কমেছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তার মোট সম্পদ ছিল ২ কোটি ২৬ লাখ ৯২ হাজার ২৬ টাকা। ২০২৫ সালের ৩০ জুন তা কমে দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ১৫ লাখ ১৮ হাজার ২৬ টাকায়। হিসাব অনুযায়ী, এক বছরে তার সম্পদ কমেছে ১১ লাখ ৭৪ হাজার টাকা। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে গত মঙ্গলবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ প্রধান উপদেষ্টা, উপদেষ্টা ও সমমর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের পাশাপাশি তাদের স্ত্রী বা স্বামীর সম্পদ বিবরণী প্রকাশ করে। একই সময়ে স্বামী-স্ত্রীর সম্পদে এমন ভিন্নমুখী পরিবর্তন স্বাভাবিকভাবেই সাধারণ মানুষের কৌতূহলের জন্ম দিয়েছে। শোবিজ অঙ্গনের জনপ্রিয় দম্পতি হওয়ায় তাদের এই আয়-ব্যয়ের হিসাব এখন টক অব দ্য কান্ট্রি।

বাংলাদেশে ঐতিহাসিক নির্বাচন: বিএনপি এগিয়ে, জামায়াতের উত্থান ও তরুণ ভোটারদের প্রভাব

২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশে আজ এক ঐতিহাসিক ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ২০০৮ সালের পর এই প্রথম একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হতে যাচ্ছে যেখানে দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগ রাজনৈতিক মানচিত্র থেকে কার্যত অনুপস্থিত। বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক জরিপ বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০০ আসনের মধ্যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) কার্যকর সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে যাচ্ছে। তবে ভোটের ব্যবধান এবং কিছু সমীকরণ নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। নির্বাচনের সবচেয়ে বড় নিয়ামক হয়ে দাঁড়িয়েছে আওয়ামী লীগের বিশাল ভোটব্যাংক। দলটির নিয়মিত প্রায় ৪ কোটি ভোটার এখন নতুন রাজনৈতিক আশ্রয় খুঁজছেন। সিআরএফ বা বিইপিওএস জরিপ বলছে, এই ভোটারদের প্রায় অর্ধেক বিএনপির দিকে ঝুঁকেছে, যা দলটিকে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতার পথে এগিয়ে দিচ্ছে। অন্যদিকে, প্রায় ৩০ শতাংশ আওয়ামী ভোটার জামায়াতে ইসলামীকে বেছে নিতে পারেন বলে আভাস পাওয়া যাচ্ছে। এছাড়া বাংলাদেশের বিদ্যমান নির্বাচনী ব্যবস্থার কারণে দেশজুড়ে সুষম জনসমর্থন থাকা বিএনপি আসন জয়ের ক্ষেত্রে জামায়াতের তুলনায় সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। তবে বিএনপির এই সম্ভাব্য জয়ের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও বিদ্রোহী প্রার্থীরা। প্রায় ৭৯টি নির্বাচনী এলাকায় দলের মনোনয়ন না পাওয়া ৯২ জন প্রভাবশালী নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, যা বিএনপির ১৫ থেকে ৩০টি আসন কমিয়ে দিতে পারে। অন্যদিকে, তরুণ ভোটার বা ‘জেন-জি’ প্রজন্মের বিশাল সমর্থন জামায়াতে ইসলামীর শক্তির উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেশের ৪৪ শতাংশ ভোটারই তরুণ, যাদের বড় একটি অংশ প্রথমবার ভোট দিচ্ছেন। এই তরুণরা যদি দলবেঁধে কেন্দ্রে উপস্থিত হন, তবে নির্বাচনী ফলে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। সবশেষে, প্রায় ১৭ থেকে ৩৫ শতাংশ দোদুল্যমান ভোটার এবং তাদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করবে আগামীর সরকার কতটা শক্তিশালী হবে। দ্য নিউইয়র্ক এডিটোরিয়ালের মূল পূর্বাভাস, তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি প্রায় ১৮৫টি আসনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করতে পারে এবং জামায়াতে ইসলামী ৮০টির মতো আসন পেয়ে প্রধান বিরোধী দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারে। তবে বিদ্রোহী প্রার্থীদের প্রভাব এবং তরুণ ভোটারদের উপস্থিতির ওপর ভিত্তি করে আসন সংখ্যায় বড় ধরনের হেরফের হওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

কুড়িগ্রামের তাজু ভাই ২.০: ‘সরকারি রেটে জিলাপি’ প্রশ্নে ভাইরাল এক নির্মাণশ্রমিকের গল্প

বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের প্রত্যন্ত চরাঞ্চল থেকে উঠে এসে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার কেন্দ্রে এখন তাইজুল ইসলাম, যিনি অনলাইনে পরিচিত ‘তাজু ভাই ২.০’ নামে। মাত্র একটি ভিডিও—যেখানে তিনি এক দোকানিকে প্রশ্ন করেন, “জিলাপি আজকে কত করে বেচতেছেন সরকারি রেটে?”—এই সরল উপস্থাপনাই তাকে রাতারাতি ভাইরাল করে তোলে।  কয়েক ঘণ্টায় ফলোয়ার লাখ ছাড়াল রোববার রাত পর্যন্ত তার ফেসবুক অনুসারী ছিল প্রায় ৩৫ হাজার। কিন্তু সোমবার সন্ধ্যা থেকে রাতের মধ্যেই তা বেড়ে এক লাখের বেশি হয়ে যায়। ভাইরাল ভিডিওটি ইতোমধ্যে প্রায় ৫০ থেকে ৫৫ লাখবার দেখা হয়েছে।  কী ছিল সেই ভিডিওতে? ভিডিওতে দেখা যায়, কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীর নারায়ণপুর বাজারে দাঁড়িয়ে স্থানীয় ভাষায় তিনি জিলাপির দাম জানতে চান। তার কথাগুলো ছিল একেবারেই সহজ ও গ্রাম্য ভঙ্গিতে— “সাদাডা কত, লালডা কত? সরকারি রেটে বেচতেছেন?” এই সরল প্রশ্নই সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।  কোথা থেকে উঠে এলেন তাজু ভাই? কুড়িগ্রাম জেলার নাগেশ্বরী উপজেলার নারায়ণপুর ইউনিয়নের একটি দুর্গম গ্রামে জন্ম তার। ব্রহ্মপুত্র নদবেষ্টিত এই অঞ্চলে পৌঁছাতে এখনও কয়েকটি নৌঘাট পার হতে হয়। দারিদ্র্যের কারণে কখনো স্কুলে যাওয়া হয়নি তার। পেশায় তিনি একজন নির্মাণশ্রমিকের সহকারী (হেলপার)। কাজের ফাঁকে ঢাকায় থাকাকালীন মোবাইল ফোনে ভিডিও তৈরি করাই তার শখ। ব্যক্তিগত সংগ্রাম তাইজুল ইসলামের পরিবারে ছয় ভাই-বোন। তিনি সবার বড়। তার বাবা-মা দুজনই শ্রবণপ্রতিবন্ধী। পরিবার চালাতে তাকে ছোটবেলা থেকেই সংগ্রাম করতে হয়েছে। তিনি বলেন, “পরিবারের কষ্ট ভুলতেই ভিডিও করি। আমি সাংবাদিক না, কিন্তু আমাদের এলাকায় কেউ আসে না—তাই নিজেরাই ভিডিও বানাই।” ভাইরাল হওয়ার পেছনের উদ্দেশ্য তাইজুলের দাবি, তার ভিডিও শুধুই বিনোদনের জন্য নয়। তিনি চান তার এলাকার অবহেলিত মানুষের কথা প্রশাসনের নজরে আসুক। “আমি চাই চরের মানুষের উন্নয়ন হোক,”—বলছেন তিনি।  মিশ্র প্রতিক্রিয়া ভিডিওটি নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে দুই ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ তার সরলতা ও বাস্তবতা তুলে ধরার চেষ্টা প্রশংসা করছেন আবার কেউ তাকে নিয়ে ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ করছেন তবে এসব সমালোচনায় তিনি বিচলিত নন।

গাজায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা ট্রাম্প প্রশাসনে

ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। ৩৫০ একরের ঘাঁটিটিতে সামরিক বাহিনীর পাঁচ হাজার সদস্য থাকতে পারবে। গাজার ‘বোর্ড অব পিস’র নথি পর্যালোচনা করে এ তথ্য জানিয়েছে দ্য গার্ডিয়ান। প্রতিবেদনে ব্রিটিশ সংবাদ মাধ্যমটি জানিয়েছে, বোর্ড অব পিসে গাজাকে নিরাপদ করার জন্য ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যাবিলাইজেশন ফোর্স (আইএসএফ) নামে একটি আন্তর্জাতিক বাহিনী মোতায়েনের কথা বলা হয়েছে। যে স্থানটি ঘাঁটি করার জন্য বিবেচনা করা হচ্ছে সেখানে আইএসএফের সদস্যরা থাকবে। বোর্ড অব পিসের প্রধান হবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আর সংগঠনটির আংশিক নেতৃত্ব দেবেন ট্রাম্পের জামাতা জ্যারার্ড কুশনার।দ্য গার্ডিয়ান বোর্ড অব পিসের নথি পর্যালোচনা করে জানায়, ধাপে ধাপে একটি সামরিক ঘাঁটি নির্মাণ করা হবে। সবকিছু শেষ হলে ঘাঁটিটি ১৫ লাখ ১৭ হাজার ৫৭৫ বর্গমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত হবে। ঘাঁটিটির চারপাশে ট্রেইলার সংযুক্ত ২৬টি সাঁজোয়া নজরদারি টাওয়ার থাকবে। এছাড়া একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, বাংকার ও অস্ত্র রাখার গুদাম থাকবে। পুরো ঘাঁটিটি কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে ঘিরে রাখা হবে। সামরিক ঘাঁটি নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে দক্ষিণ গাজার একটি শুষ্ক সমতলভূমিতে। সেখানে ইসরায়েলি হামলার চিহ্ন রয়েছে। ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে বিভিন্ন ধাতবের ধ্বংসাবশেষ।  ওই এলাকার ভিডিও পর্যালোচনা করেছে দ্য গার্ডিয়ান। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, ঘাঁটি নির্মাণের জন্য টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে। যুদ্ধক্ষেত্রে কাজের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন আন্তর্জাতিক নির্মাণ কোম্পানিগুলোর একটি ছোট দলকে ইতোমধ্যেই এলাকাটি দেখানো হয়েছে। ওই দলটি দরপত্রে অংশ নিতে আগ্রহী।    ইন্দোনেশিয়া সরকার গাজায় আট হাজার সেনা সদস্য পাঠানোর জন্য প্রস্তাব দিয়েছে। বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটন ডিসিতে বোর্ড অব পিসের অনানুষ্ঠানিক বৈঠকে ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্টের অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। এছাড়া দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার আরও তিন নেতার ওই বৈঠকে অংশ নেবেন বলে জানা গেছে। জাতিসংঘের নিরাপত্তা কাউন্সিল গাজার সাময়িক স্থিতিশীলতার জন্য অস্থায়ীভাবে সামরিক বাহিনী মোতায়েনের অনুমোদন দিয়েছে। নিরাপত্তা কাউন্সিলই বোর্ড অব পিসের মূল হোতা। গাজার সীমান্ত ও শান্তি প্রণয়নে কাজ করবে আইএসএফ। এছাড়া বেসামরিকদের সুরক্ষা এবং ফিলিস্তিনি পুলিশ বাহিনীকে প্রশিক্ষণ ও সহায়তা দেবে তারা। যদি গাজায় ফের সংঘর্ষ হয়, ইসরায়েল বোমা হামলা চালায় অথবা হামাস হামলা চালায় সেক্ষেত্রে আইএসএফ কি করবে তা এখনও স্পষ্ট নয়। গাজা পুনর্গঠনে ইসরায়েল হামাসকে নিরস্ত্রীকরণের যে শর্ত দিয়েছে সেটির জন্য আইএসএফ কাজ করবে কিনা তাও স্পষ্ট না। ইতোমধ্যে বোর্ড অব পিসে ২০ এর অধিক দেশ যোগ দিয়েছে। তবে, এখনও অনেক পরাশক্তি এর থেকে দূরে রয়েছে। জাতিসংঘের অনুমোদন নিয়ে প্রতিষ্ঠিত হলেও ধারণা করা হচ্ছে, সংগঠনটির স্থায়ী নেতৃত্ব ও নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে। রুটজার্স বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক আদিল হক বলেন, “বোর্ড অব পিস এক ধরনের আইনি কল্পসত্তা। নামমাত্রভাবে এর নিজস্ব আন্তর্জাতিক আইনগত সত্তা রয়েছে, যা জাতিসংঘ ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে আলাদা। কিন্তু বাস্তবে এটি যুক্তরাষ্ট্রের ইচ্ছামতো ব্যবহারের জন্য একটি ফাঁপা খোলসমাত্র।” বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গাজা পুনর্গঠনে যে অর্থায়ন ও শাসন কাঠামো হচ্ছে তা অস্বচ্ছ। কয়েকজন ঠিকাদার গার্ডিয়ানকে জানান, গাজায় কাজ করার জন্য মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে তাদের প্রায়শ আলোচনা সরকারি ইমেলের বদলে সিগন্যালের মাধ্যমে করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রের তথ্য মতে, ঘাঁটি নির্মাণের সিদ্ধান্তটি বোর্ড অব পিসের। এতে সহায়তা করছে মার্কিন কর্মকর্তারা। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ঘাঁটিতে তৈরি বাংকার নেটওয়ার্কের মতোন কাজ করবে। প্রতিটি বাংকারের ২৪ মিটারের হবে। উচ্চতা থাকবে আড়াই মিটার। এগুলো এমনভাবে করা হবে যেন সেনা সদস্যরা আশ্রয় নিতে পারে। স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসের গাজায় সুড়ঙ্গ নেটওয়ার্ক বা টানেল রয়েছে। সেগুলোর আদলে নেটওয়ার্ক করতে চাওয়া হচ্ছে। পিস অব বোর্ডের নথি পর্যালোচনা করে এমন দাবি করছে গার্ডিয়ান। সংবাদ মাধ্যমটি বলছে,  স্থানটির ভূ-ভৌত জরিপ পরিচালনা করবে ঠিকাদাররা। নথির এক অংশে ‘হিউম্যান রেমিয়েনস প্রোটোকল’র কথা বলা হয়েছে। এর মানে দাঁড়ায়, সন্দেহভাজন মানব অবশিষ্ট বা সাংস্কৃতিক নিদর্শন পাওয়া গেলে অবিলম্বে সেই এলাকায় সব কাজ বন্ধ করতে হবে। চুক্তি কর্মকর্তাকে দিকনির্দেশনার জন্য অবিলম্বে জানাতে হবে। গাজা সিভিল ডিফেন্সের ধারণা, গাজার ধ্বংসস্তূপের নিচে ১০ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনির মরদেহ রয়েছে। ঘাঁটির জন্য যে স্থানটি বিবেচিত করা হচ্ছে সেটির মালিক কে তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে, দক্ষিণ গাজার বেশিরভাগ অংশ  বর্তমানে ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণে। জাতিসংঘের অনুমান, যুদ্ধ চলাকালীন ১৯ লাখ ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত হয়েছে। ফিলিস্তিনের জমিতে সরকারের অনুমতি না নিয়ে সামরিক ঘাঁটি স্থাপনকে দখল হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন ফিলিস্তিনি-কানাডিয়ান আইনজীবী এবং প্রাক্তন শান্তি আলোচক দিয়ানা বুট্টু। তিনি প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়ে বলেন, “কার অনুমতিতে তারা সামরিক ঘাঁটি স্থাপন করবে।” বিষয়টি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা বোর্ড অব পিসের কথা টানেন। ট্রাম্প প্রশাসনের একজন কর্মকর্তা সামরিক ঘাঁটির চুক্তি নিয়ে আলোচনা করতে অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, “যেমনটি প্রেসিডেন্ট বলেছেন, কোনও মার্কিন সেনা স্থলভাগে যাবে না। আমরা লিক হওয়া নথি নিয়ে আলোচনা করবো না।”

সংসার সামলাতে অটোরিকশা নিয়ে রাস্তায় নেমেছেন রোজিনা

বাসস : বাবা একজন তাঁত শ্রমিক। তিন বোন দুই ভাইয়ের মধ্যে সবার বড় রোজিনা। অভাব সংসার, তাই এক এতিম যুবকের সাথে বাবা-মা বিয়ে দেন তাকে। বিয়ের পর জন্ম হয় দুই কন্যা সন্তানের। অটোরিকশা চালিয়ে কোন রকম সংসার চালাচ্ছিলেন স্বামী রফিকুল ইসলাম। কিন্তু সড়ক দুর্ঘটনায় রফিকুলের এক চোখ সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যায়। আরেকটি চোখ আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ধীরে ধীরে ওই চোখের দৃষ্টি শক্তিও কমতে থাকে। ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে অটোরিকশা চালানো। সংসারের উপার্জনক্ষম মানুষটি অচল হয়ে পড়ায় চিকিৎসার খরচ, ঘর ভাড়া ও খাবারের পাশাপাশি মেয়েদের লেখাপড়ার খরচ চালানোই কঠিন হয়ে যায়। দিশেহারা হয়ে পরেন রোজিনা। এক পর্যায়ে মানুষের বাড়ি বাড়ি কাজ করে সংসার চালানোর চেস্টা করেন। কিন্তু সুবিধা করতে পারেন না। এমন পরিস্থিতিতে অটোরিকশা চালানোর সিদ্ধান্ত নেন তিনি। স্বামী রফিকুলের কাছেই হাতেখড়ি। গ্রামের স্কুলের মাঠে স্বামীর কাছেই অটোরিকশা চালানোর শিক্ষা নেন তিনি। পরে গ্রামের পথে নেমে পড়েন অটোরিকশা নিয়ে। ৫-৬ দিন এভাবে হাত পাকা করে একদিন টাঙ্গাইল শহরে চলে আসেন রোজিনা। এরপর শুরু করেন অটোরিক্সা চালানোর ব্যতিক্রমী জীবন সংগ্রাম। এখন টাঙ্গাইল পৌরসভায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার চালকদের মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা বেগম। জেলার বাসাইল উপজেলার আইসড়া গ্রামের বাসিন্দা রোজিনা টাঙ্গাইল পৌর শহরের এক প্রান্ত রাবনা বাইপাস থেকে আরেক প্রান্ত বেবিস্ট্যান্ডে যাত্রী আনা নেয়া করেন। যানজটের কারণে শহরে পুরুষ চালকরা যেখানে হিমসিম খায়, সেখানেই বিগত ৫ বছর ধরেই নির্বিঘেœ অটোরিকশা চালাচ্ছেন তিনি। টাঙ্গাইল পৌরসভা কার্যালয় সূত্রে জানা যাায়, টাঙ্গাইল শহরে চলাচলের জন্য ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক ও ৫ হাজার ব্যাটারিচালিত রিকশার অনুমতি (লাইসেন্স) দেওয়া হয়েছে। যানজট এড়াতে ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক জোড় ও বিজোড় সংখ্যায় দিনে দুই ভাগ করা হয়েছে। সকাল থেকে বেলা দুইটা পর্যন্ত এক ভাগ এবং বেলা দুইটা থেকে রাত পর্যন্ত আরেক ভাগের ইজিবাইক চলাচল করার নির্দেশনা দিয়েছে পৌর কর্তৃপক্ষ। কিন্তু রোজিনাকে দুই শিফটে চালানোর অনুমতি দিয়েছে পৌরসভা। সরেজমিনে দেখা যায়, নতুন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অটোরিকশা নিয়ে যাত্রী ডাকছেন রোজিনা। কলেজ গেট, পুরাতন বাসস্ট্যান্ড, ক্যাপসুল, নিরালা মোড়, বেবিস্ট্যান্ড সর্বত্রই যাত্রী আনানেয়া করেন তিনি। পুরাতন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অন্য অটো চালকদের দাঁড় করতে না দিলেও রোজিনাকে বাঁধা দেননা ট্রাফিক পুলিশ। বলতে গেলে সবাই তার প্রতি সহানুভুতিশীল। ট্রাফিক পুলিশসহ অন্য অটোচালকরাও তাকে সহযোগিতা করেন। রোজিনা বলেন, আমার অটোতে নারী যাত্রীরা খুব কম। তারা মনে করে আমার অটোতে উঠলে দুর্ঘটনায় পড়বে। কিন্তু আমি খুব সাবধানে অটো চালাই। দ্রুত গতিতেও না, আবার একেবারে ধীরগতিতেও না। এখন পর্যন্ত আমি কোন দুর্ঘটনার কবলে পড়ি নাই। শহরের পুরুষ অটোরিকশা চালকরা আমাকে অনেক সহযোগিতা করে। অটোচালক কাদের মিয়া বলেন, আমাদের শহরে কয়েক হাজার অটো চলাচল করে। তার মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। তাকে আমরা সব সময় সহযোগিতা করি। যাত্রী সাইদ মিয়া বলেন, আমি এ পর্যন্ত ৫-৬ বার রোজিনার অটোতে চড়েছি। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। অন্য পুরুষ অটো চালকের চেয়েও ভালো অটো চালান। নারী সংগঠক সেরাজুম মনিরা বলেন, তিনি অনেক দিন যাবত অটোরিকশা চালাচ্ছেন। আমি রোজিনাকে স্যালুট জানাই। একজন পুরুষের চেয়ে একজন নারী কোনো ভাবেই যে পিছিয়ে নেই, রোজিনা তা প্রমাণ করেছেন। রোজিনা বলেন, অটো চালানোর এই সিদ্ধান্তটি তার জন্য খুব সহজ ছিল না। তিনি বলেন, ৫ ও ১০ বছরের দুই মেয়েকে বাড়িতে রেখে অটোরিকশা নিয়ে সারাদিন রাস্তায় থাকতে হয়। তাদের ভালোভাবে দেখাশোনা করতে পারি না। কিন্তু কি করবো, অভাবের সংসার! এখন ঋণ নিয়ে একটু জমি কিনেছি। প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ণ প্রকল্পের অর্থায়নে প্রশাসন সেখানে ঘর তুলে দিয়েছে। শুরুতে যারা আমাকে নিয়ে ঠাট্টা করেছে এখন তারাই আমাকে সম্মান করেন। নারীরাও যে কিছু করতে পারে, তা প্রমাণ করেছি। আমার বড় মেয়ে আইসড়া উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়ে, ছোট মেয়ে পড়ে স্থানীয় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। মেয়েদের শিক্ষিত করতে হবে। ধার দেনা শোধ করতে হবে। তাই থেমে গেলো চলবে না। আমি অটোরিকশা চালিয়েই দুই সন্তানকে মানুষ করতে চাই।’ ঘারিন্দা ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য বাবুল সরকার বলেন, সরকার রোজিনাকে একটি ঘর নির্মাণ করে দিয়েছে। শুরুতে যারা তাকে নিয়ে নানান কথা বলতো, এখন তার সংকল্প ও মানষিক দৃঢ়তা দেখে থেমে গেছে। আমরা তাকে নিয়ে গর্ব করি। টাঙ্গাইলের ট্রাফিক ইন্সপেক্টর (প্রশাসন) দেলোয়ার হোসেন বলেন, শহরের একমাত্র নারী চালক রোজিনাকে কেউ যেন বিরক্ত করতে না পারে সেদিকে সব সময় নজর রাখে ট্রাফিক পুলিশ। আমরা তাকে সব সময় সহযোগিতা করে আসছি। টাঙ্গাইলের সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক শাহ আলম বলেন, বিষয়টি এখন জানতে পারলাম। ওই নারী এখনো পর্যন্ত আমাদের কাছে আসেন নাই। যদি আমাদের কাছে এসে আবেদন করেন অবশ্যই তাকে আমরা সহযেগিতা করবো, তার পাশে দাঁড়াবো।

অর্থনীতি

মন্ত্রী আফরোজা খানম

মায়ের কাছ থেকে প্রায় ১৮ কোটি টাকার শেয়ার পেলেন মন্ত্রী আফরোজা খানম

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ১১, ২০২৬ 0




অপরাধ

বিয়াম ফাউন্ডেশন

বিয়াম ভবনে বিস্ফোরণ ও হত্যাকাণ্ড:পরিকল্পিত নাশকতার অভিযোগ, এক বছরেও থমকে তদন্ত

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ৪, ২০২৬ 0




কৃষি ও জলবায়ু

সবুজের সমারোহ

কুমিল্লার মনোহরগঞ্জে ৯ হাজার হেক্টরে বোরো চাষ, সবুজে ছেয়ে গেছে কৃষি মাঠ

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ১০, ২০২৬ 0