বরিশাল অফিস : বরিশালের গৌরনদী উপজেলার বাটাজোর থেকে চন্দ্রহার খাল পুনঃখনন প্রকল্পকে ঘিরে অনিয়ম, অব্যবস্থাপনা এবং সরকারি সম্পদ আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, খাল পুনঃখননের নামে সরকারি অর্থ ব্যয় হলেও প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য বাস্তবায়িত হচ্ছে না। একদিকে খালের গভীরতা বাড়ানো হচ্ছে না, অন্যদিকে সরকারি রাস্তার গাছ কেটে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় প্রভাবশালীদের বিরুদ্ধে। স্থানীয় সূত্র বলছে, পানি উন্নয়ন বোর্ডের আওতায় বাটাজোর ইউনিয়ন থেকে সরিকল ইউনিয়নের সাকোকাঠী (আগরপুর) পর্যন্ত প্রায় ৮ কিলোমিটার খাল পুনঃখননের কাজ সম্প্রতি শুরু হয়েছে। প্রকল্পটির লক্ষ্য ছিল খালের পানি ধারণক্ষমতা বৃদ্ধি, জলাবদ্ধতা নিরসন এবং কৃষি সেচ ব্যবস্থার উন্নয়ন। তবে প্রকল্প এলাকা ঘুরে দেখা এবং স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে ভিন্ন চিত্র পাওয়া গেছে। ‘পুনঃখনন’ নাকি শুধু খালের পাড় ঘষামাজা? স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, প্রকৃত অর্থে খালের গভীরতা বৃদ্ধি না করে দুই পাড়ে সীমিত পরিসরে মাটি কাটার কাজ চলছে। ফলে বর্ষা মৌসুমে পানি ধারণক্ষমতা বাড়বে কি না, তা নিয়ে সন্দেহ রয়েছে। একাধিক কৃষক জানান, দীর্ঘদিন ধরে খালটি নাব্যতা হারিয়েছে। পুনঃখননের মাধ্যমে তারা কৃষি জমিতে সেচ সুবিধা এবং জলাবদ্ধতা নিরসনের আশা করেছিলেন। কিন্তু বর্তমানে যে কাজ হচ্ছে, তাতে কাঙ্ক্ষিত সুফল পাওয়া যাবে না বলে তাদের আশঙ্কা। অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে ‘বাছাই নীতি’? স্থানীয়দের অভিযোগ অনুযায়ী, খালের দক্ষিণ পাড়ে থাকা কিছু ব্যক্তিগত গাছ ও স্থাপনা অপসারণ করা হলেও রাস্তার পাশের বেশ কয়েকটি অবৈধ দোকান ও স্থাপনা অক্ষত রাখা হয়েছে। তাদের দাবি, খালের উভয় পাড় থেকে সমানভাবে প্রতিবন্ধকতা অপসারণ না করলে পানিপ্রবাহ স্বাভাবিক হবে না এবং পুনঃখননের কার্যকারিতাও সীমিত থাকবে। একজন স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, “যেখানে সাধারণ মানুষের স্থাপনা সরানো হয়েছে, সেখানে রাস্তার পাশের অবৈধ দোকানগুলো কেন বহাল রয়েছে—এ প্রশ্নের উত্তর কেউ দিচ্ছে না।” সরকারি গাছ কাটার অভিযোগ প্রকল্প ঘিরে সবচেয়ে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে সরকারি রাস্তার গাছ কাটাকে কেন্দ্র করে। স্থানীয়দের দাবি, খননকাজে ব্যবহৃত ভেকু (এক্সকাভেটর) দিয়ে দিনের বেলায়ই রাস্তার পাশের সরকারি গাছ কেটে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে। তবে এসব গাছ অপসারণের ক্ষেত্রে কোনো প্রকাশ্য নিলাম, টেন্ডার বা সরকারি অনুমোদনের তথ্য স্থানীয়রা জানেন না। কয়েকজন প্রবীণ রাজনৈতিক কর্মী অভিযোগ করেন, সরকারি সম্পদ ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা না থাকলে তা সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করতে পারে। তাদের মতে, সরকারি গাছ অপসারণের ক্ষেত্রে নিয়মতান্ত্রিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়েছে কি না, তা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্ত করা প্রয়োজন। খালের পাড় ভাঙনের আশঙ্কা স্থানীয়দের আরেকটি উদ্বেগ খনন পদ্ধতি নিয়ে। তাদের দাবি, ভারী যন্ত্র ব্যবহার করে খননকাজ পরিচালনার ফলে খালের দক্ষিণ পাড়ের বিভিন্ন অংশে মাটি ধসে পড়তে শুরু করেছে। এতে ভবিষ্যতে পাড় রক্ষা, ভূমিক্ষয় এবং খালের স্থায়িত্ব নিয়ে নতুন প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। প্রকৌশলগত মানদণ্ড অনুসরণ করা হচ্ছে কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন তুলছেন এলাকাবাসী। কর্তৃপক্ষের বক্তব্য মেলেনি অভিযোগগুলোর বিষয়ে বক্তব্য নিতে স্থানীয় ইউনিয়ন সদস্য মোহাম্মদ রেজাউল শেখের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। অন্যদিকে বাটাজোর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আব্দুর রব হাওলাদার অসুস্থ থাকায় তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি। তদন্তের দাবি স্থানীয়দের দাবি, খাল পুনঃখনন প্রকল্পে সরকারি অর্থের যথাযথ ব্যবহার, অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের বৈষম্য, সরকারি গাছ অপসারণের বৈধতা এবং খননকাজের মান যাচাইয়ে স্বাধীন তদন্ত প্রয়োজন। তাদের মতে, প্রকল্পটি যদি পরিকল্পনা অনুযায়ী বাস্তবায়িত না হয়, তাহলে কৃষি, পানি ব্যবস্থাপনা এবং স্থানীয় পরিবেশের ওপর প্রত্যাশিত ইতিবাচক প্রভাব পড়বে না।
বরিশাল অফিস : বরিশালের বাটাজোর ইউনিয়নের বাটাজোর থেকে চন্দ্রহার পর্যন্ত খাল পুনঃখনন প্রকল্পকে ঘিরে স্থানীয়দের মধ্যে নতুন বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, খালের দখলমুক্তকরণ কার্যক্রমের অংশ হিসেবে চন্দ্রহার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ওয়াশব্লক অপসারণের নির্দেশ দেওয়া হলেও খালের অপর পাড়ে গড়ে ওঠা প্রায় ৭০টি অবৈধ বাজার স্থাপনা উচ্ছেদের বিষয়ে কোনো দৃশ্যমান পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, খাল পুনঃখননের শেষ পর্যায়ে এসে প্রশাসনের এ সিদ্ধান্ত প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। তাদের ভাষ্য, খালের দক্ষিণ পাড়ে অবস্থিত বিদ্যালয়ের ওয়াশব্লক দ্রুত অপসারণের নির্দেশ দেওয়া হলেও উত্তর পাড়ে দীর্ঘদিন ধরে থাকা বাজারের অসংখ্য অবৈধ স্থাপনা অক্ষত রয়েছে। শিক্ষার্থীদের স্যানিটেশন সংকটের আশঙ্কা চন্দ্রহার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রায় ২৫০ শিক্ষার্থী অধ্যয়ন করে। বিদ্যালয়টির একমাত্র কার্যকর স্যানিটেশন সুবিধা হিসেবে ব্যবহৃত ওয়াশব্লকটি অপসারণ করা হলে শিক্ষার্থীরা চরম দুর্ভোগে পড়বে বলে আশঙ্কা করছেন অভিভাবক ও স্থানীয়রা। তাদের প্রশ্ন, বিকল্প স্যানিটেশন ব্যবস্থা নিশ্চিত না করে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অবকাঠামো অপসারণ কতটা যৌক্তিক? বিশেষ করে যখন একই খালের অপর পাড়ে বহু অবৈধ স্থাপনা বহাল রয়েছে। একাধিক অভিভাবক ও এলাকাবাসী জানান, খাল পুনঃখনন কার্যক্রমে তারা বাধা দিতে চান না। তবে উচ্ছেদ কার্যক্রমে সমতা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা জরুরি। তাদের মতে, জনস্বার্থে প্রয়োজন হলে অবৈধ দোকানপাট অপসারণ করা যেতে পারে, কিন্তু শিক্ষার্থীদের মৌলিক স্যানিটেশন সুবিধা ধ্বংস করে নয়। দ্বৈত নীতির অভিযোগ স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রশাসনের বর্তমান অবস্থান বৈষম্যমূলক বলে মনে হচ্ছে। একদিকে বিদ্যালয়ের অবকাঠামো অপসারণের তাগিদ, অন্যদিকে খালের জায়গা দখল করে থাকা বাজারের স্থাপনাগুলোর বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়া—এ দুই অবস্থানের মধ্যে স্পষ্ট অসঙ্গতি রয়েছে বলে তারা মনে করেন। এলাকাবাসীর ভাষ্য, যদি খাল পুনরুদ্ধারই মূল লক্ষ্য হয়, তাহলে খালের উভয় পাড়ে সমানভাবে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা উচিত। শুধুমাত্র বিদ্যালয়ের ওয়াশব্লক অপসারণের উদ্যোগ প্রকল্পের উদ্দেশ্য ও বাস্তবায়ন নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করছে। পুনর্বিবেচনার দাবি স্থানীয় জনগণ প্রশাসনের কাছে সিদ্ধান্তটি পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানিয়েছেন। তারা চান, বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের স্বার্থ বিবেচনায় ওয়াশব্লকটি আপাতত বহাল রাখা হোক অথবা বিকল্প ব্যবস্থা নিশ্চিত হওয়ার পর প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেওয়া হোক। একই সঙ্গে খালের উত্তর পাড়ে অবস্থিত অবৈধ বাজার স্থাপনাগুলোর বিষয়েও সমানভাবে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা। এলাকাবাসীর মতে, জনস্বার্থ, শিক্ষা ও স্যানিটেশন সুরক্ষার বিষয়টি বিবেচনায় এনে প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপ প্রয়োজন।
বরিশাল অফিস : বরিশালের উজিরপুর উপজেলার গুপ্ত খাল পুনঃখনন না হওয়ায় এলাকায় তীব্র পানির সংকট দেখা দিয়েছে। এর প্রভাব পড়েছে বোরো ধান চাষে। খালে পানি না থাকায় অনেক কৃষক এখন বাণিজ্যিক সেচ ব্যবস্থার ওপর নির্ভর করতে বাধ্য হচ্ছেন। এতে উৎপাদন খরচ বেড়ে যাওয়ায় কেউ কেউ বোরো আবাদই বন্ধ করে দিয়েছেন। স্থানীয়দের ভাষ্য, একসময় গুপ্ত খালের দুই প্রান্ত দিয়েই সন্ধ্যা নদীর পানি প্রবাহিত হতো। সেই পানির ওপর নির্ভর করে অন্তত ২০ হেক্টর জমিতে ধানসহ বিভিন্ন ফসলের আবাদ করা হতো। তবে দীর্ঘদিন পুনঃখনন না হওয়া এবং দখলের কারণে খালটি এখন প্রায় মৃতপ্রায় অবস্থায় পৌঁছেছে। কৃষকদের অভিযোগ, বর্ষা মৌসুম ছাড়া বছরের অধিকাংশ সময় খালে পর্যাপ্ত পানি থাকে না। শুষ্ক মৌসুমে খাল পুরোপুরি শুকিয়ে যায়। পাশাপাশি সন্ধ্যা নদীর পানির স্তর নিচে নেমে যাওয়ায় স্বাভাবিকভাবে খালে পানি প্রবেশও বন্ধ হয়ে গেছে। এই পরিস্থিতিতে নদীর মোহনায় সেচ পাম্প বসিয়ে খালে পানি তুলে জমিতে সেচ দিতে হচ্ছে কৃষকদের। এতে বোরো ধান চাষের ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে গেছে। স্থানীয় কৃষকদের দাবি, বাণিজ্যিক সেচ ব্যবস্থায় ২০ শতক জমিতে পানি দিতে পাম্প মালিককে তিন শতক জমির সমপরিমাণ ধান দিতে হয়। অতিরিক্ত এই ব্যয় বহন করতে না পেরে অনেক কৃষক এবার বোরো আবাদ কমিয়ে দিয়েছেন, কেউ কেউ পুরোপুরি বন্ধও করে দিয়েছেন। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কপিল বিশ্বাস বলেন, “শুষ্ক মৌসুমে সন্ধ্যা নদীর পানির স্তর নিচে নেমে যাওয়ায় গুপ্ত খালে পানি প্রবেশ করতে পারে না। কৃষকদের অভিযোগের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। খাল পুনঃখননের জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরে একটি প্রকল্প জমা দেওয়া হয়েছে।” স্থানীয়দের আশা, দ্রুত খাল পুনঃখননের উদ্যোগ নেওয়া হলে কৃষিতে সেচ সংকট কমবে এবং আবারও স্বাভাবিক উৎপাদনে ফিরতে পারবেন কৃষকরা।
বাসস : বাবা শহীদ প্রেডিসেন্ট জিয়াউর রহমানের স্মৃতি বিজড়িত সিলেটের বাসিয়া নদীর খাল পুনঃখনন কাজের উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আজ বেলা ১টা ২০ মিনিটে দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার মধ্যেই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নিজে কোদাল হাতে নিয়ে মাটি কেটে এই কর্মসূচির উদ্বোধন করেন। সিলেট শহর থেকে প্রায় ৭ কিলোমিটার দূরে কাশিপুর ইউনিয়নের এই বাসিয়া নদী সুরমা নদীর সঙ্গে সংযুক্ত। পুনঃখনন কাজের উদ্বোধনে উপস্থিত এলাকাবাসীর উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, এই যে বাসিয়ায় যে নদীটা আছে, এখানে যে খালটা— এটা সেই ৭৭ সালে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান খনন করেছিলেন। তারপরে আবার এই খাল চলতে চলতে এখন বন্ধ হয়ে গেছে। এই খালটা আমরা আবারো কাটতে চাই। বাসিয়া নদীর এই খাল আবারো কাটার কারণ জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই খাল যদি আমরা কাটি, প্রায় ৮০ হাজার কৃষক প্রথমত সরাসরি উপকার পাবে। এর বাইরে দেড় লাখ কৃষক পরোক্ষভাবে উপকৃত হবে। যাদের জমি-জমা আছে এই খালের দুই পাশে, ফসল যে উৎপাদন হয়— প্রায় ৭ হাজার মেট্রিক টন ফসল বেশি উৎপাদন হবে। তিনি আরো বলেন, শুধু এই খাল না, সারা বাংলাদেশে এরকম অনেক বাসিয়া খাল আমরা খনন করব। কারণ, আমরা যদি খালগুলো খনন করতে পারি, কৃষক ভাইদের জন্য সুবিধা হবে। বিএনপির সরকার কৃষকবান্ধব উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, নির্বাচনের সময় যখন এসেছিলাম, তখন আমি বক্তব্যে বলেছিলাম— বিএনপি সরকার গঠন করতে পারলে, আমরা কৃষক ভাইদের কৃষি কার্ড প্রদান করব। এই কাজ শুরু করেছি টাঙ্গাইল থেকে। গত মাসের ১৪ তারিখে আমি কৃষক কার্ডের উদ্বোধন করেছি। তারপর এখন ধীরে ধীরে বাংলাদেশের কৃষক ভাইদেরকে আমরা কৃষক কার্ড পৌঁছে দেব। প্রধানমন্ত্রী বলেন, কৃষক কার্ডের মাধ্যমে অনেকগুলো সুবিধা আমরা কৃষক ভাইদেরকে দেব, তাদেরকে ঋণের সুবিধা, সার-বীজ, কীটনাশকের সুবিধা সরকার থেকে সরাসরি দিতে পারব। আর সবচেয়ে বড় যে সুবিধাটা— তারা বছরে আড়াই হাজার টাকা পাবে। যেটা দিয়ে তারা নিজেরা কীটনাশক ওষুধ, বীজ সরাসরি কিনতে পারবে। সরকার থেকে সরাসরি আমরা তাদেরকে এই অর্থ সাহায্য করব। কৃষকদের জন্য ১০ হাজার টাকা সুদসহ ঋণ মওকুফ করা হয়েছে জানিয়ে প্রধানন্ত্রী বলেন, ‘আমরা চাই এ দেশের কৃষক ভাইয়েরা ভালো থাকুক, আমরা চাই গ্রামের মানুষরা ভালো থাকুক। গ্রামসহ সব মানুষই ভালো থাকুক। কিন্তু যেহেতু বাংলাদেশের অধিকাংশ মানুষ গ্রামে বসবাস করে। মেজরিটি মানুষ গ্রামে বসবাস করে, এজন্য এই মেজরিটি মানুষ যাতে দেশে ভালো থাকতে পারে সেটিই হচ্ছে আমাদের লক্ষ্য, সেটিই হচ্ছে আমাদের উদ্দেশ্য। দেশের ৬০টি জায়গায় ইতোমধ্যে খাল খনন শুরু হয়েছে বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি আরো বলেন, এই এলাকায় আমরা এই বাসিয়া খাল পুনঃখননের মাধ্যমে খাল খননের কাজ শুরু করলাম। এর মধ্যে দেশের অনেকগুলো জায়গায় প্রায় ৬০ টার মতো জেলায় এর মধ্যে খাল খনন শুরু হয়ে গেছে। এই খাল খনন এবারই শেষ হবে না। এটা প্রায় ৪০ কিলোমিটার। তার মধ্যে ২৩ কিলোমিটার খাল আমরা পুনঃখনন করব। তিনি বলেন, এই ২৩ কিলোমিটার খাল খনন করতে আমাদের দুটো শুকনো মৌসুম লাগবে। এই এখন শুরু হলো, কিন্তু এখন তো বর্ষা শুরু হয়ে গেছে। এ বছর তো আর শেষ হবে না। কিন্তু এই বছর নভেম্বর থেকে আবার আমরা খাল খনন শুরু করবো। শুকনো মৌসুমটা শুরু হলে এবং ইনশাআল্লাহ আগামী বছর আমরা চেষ্টা করব এই ২৩ কিলোমিটার খাল সম্পূর্ণভাবে পুনঃখনন করতে। এর ফলে কৃষক ভাইয়েরা পানির সুবিধা পাবে। একইভাবে এলাকার মানুষরা পানির সুবিধা পাবে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, শুধু খাল খনন নয়, এই খালের দুই পাশে ২৩ কিলোমিটারে আমরা ৫০ হাজার বৃক্ষরোপণ করব। এর ফলে আমরা খালটাকেও ধরে রাখতে পারবো। এলাকার মানুষরাও বসার জায়গা পাবে গাছের তলায়। পাশাপাশি আমরা চেষ্টা করব সেখানে বিভিন্ন ফলাদি গাছও রোপণ করতে, যাতে এলাকার মানুষ ফল-ফলাদি খেতে পারে। উপস্থিত জন-সাধারণের উদ্দেশ্যে প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘কি ভাই আছেন নাকি কাজে। এই যে কাজগুলো আমরা করব, এই কাজগুলো করলে উপকার হবে কার? এলাকার মানুষের উপকার হবে। কাজ ঠিক আছে তাহলে? ঠিক আছে।’ এ সময় উপস্থিত জনগণ দু’হাত তুলে বলেন, ‘ঠিক আছে, ঠিক আছে।’ এই সরকার জনগণের সরকার উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, ‘এখন বাংলাদেশের মানুষ এমন একটি সরকারকে ১২ তারিখে নির্বাচনে ভোট দিয়ে নির্বাচন করেছে, যেই সরকার জনগণের জন্য কাজ করবে। কারণ, আমাদের একমাত্র জবাবদিহিতা হচ্ছে এই দেশের মানুষের কাছে, এই দেশের জনগণের কাছে। সেজন্যই আমরা সেই সকল কর্মসূচি পালন করতে চাই, সেই সকল কাজ আমরা করতে চাই— যেগুলোতে জনগণের উপকার হবে।’ তিনি বলেন, ‘এই সরকারের সবচেয়ে বড় দায়িত্ব হচ্ছে, এই দেশের মানুষের স্বার্থ দেখা। এই সরকারের এক নম্বর দায়িত্ব হচ্ছে, এই দেশের মানুষের সমস্যার সমাধান করা।’ দেশের বন্ধ কলকারখানা চালু হবে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘কথা কম কাজ বেশি। এখন কাজ হচ্ছে, দেশ গড়ার কাজ করতে হবে। আমরা নির্বাচনের আগে বলেছিলাম যে, দেশে যে সকল কল-কারখানা বন্ধ আছে, বিএনপি সরকার গঠন করলে এই কল-কারখানাগুলো আমরা চালু করব।’ তিনি আরো বলেন, ‘এই যে এখানে আপনাদের সন্তান বসে আছে মুক্তাদির (খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির)। মুক্তাদির হচ্ছে শিল্পমন্ত্রী। শিল্প মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব আছে মুক্তাদিরের কাছে। নির্বাচনের পর পাঁচ-সাত দিনের মধ্যে আমি মুক্তাদিরকে নিয়ে বসেছিলাম যে, কোথায় কোথায় বন্ধ কল-কারখানা রয়েছে। ইনশাআল্লাহ ধীরে ধীরে সেগুলো চালু করবো।’ দেশের বাইরেও বেকার যুবকদের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টির জন্য সরকার কাজ করছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আপনারা যদি সাথে থাকেন, আপনারা যদি পাশে থাকেন— তাহলে বাংলাদেশকে এগিয়ে নিয়ে যেতে সক্ষম হবো, বাংলাদেশকে উন্নত দেশের পাশে দাঁড় করাতে সক্ষম হবো। কাজেই সব সময় একটা কথা বলি, কাজ কাজ আর কাজ। সেজন্যই করব কাজ, গড়ব দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ।’ এ সময়ে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, পানিসম্পদ মন্ত্রী শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি, প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা উপস্থিত ছিলেন। সিলেটের বাসিয়া নদীর এই খাল ১৯৭৭ সালে তৎকালীন প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান খনন করেছিলেন। সুরমা ও কুশিয়ারা নদীর সংযোগকারী এই বাসিয়া নদীটি দীর্ঘদিন ধরে নাব্যতা হারিয়ে মৃতপ্রায় অবস্থায় পড়ে আছে। স্থানীয়দের দাবির প্রেক্ষিতে পানি সম্পদ মন্ত্রণালয় বাসিয়া নদীর খালটি পুনঃখনন কার্যক্রম গ্রহন করেছে।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : ঝালকাঠির রাজাপুর উপজেলায় খাল পুনঃখনন প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগের প্রেক্ষিতে সরেজমিনে গিয়ে কাজের বিভিন্ন অসঙ্গতি খুঁজে পেয়েছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রিফাত আরা মৌরি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া অভিযোগের ভিত্তিতে বুধবার (২২ এপ্রিল) বিকেলে তিনি প্রকল্প এলাকা পরিদর্শন করেন। উপজেলার আঙ্গারিয়া এলাকায় রাঢ়ি বাড়ির সামনে থেকে শুরু হওয়া খালের বিভিন্ন অংশে ফিতা দিয়ে মাপ নেওয়া হয়। এ সময় নির্ধারিত ৩০ ফুট প্রস্থের পরিবর্তে কোথাও কোথাও ২৬ থেকে ২৮ ফুট পাওয়া যায়। পরিদর্শনে রাজাপুর স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) উপজেলা প্রকৌশলী অভিজিৎ মজুমদারসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। প্রকল্পের ব্যয় ও পরিধি স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, এলজিইডির আওতায় প্রায় ১ হাজার ৪০০ মিটার খাল পুনঃখননের জন্য বরাদ্দ রয়েছে প্রায় ২৪ লাখ টাকা। এছাড়া উপজেলায় মোট ১৩টি খাল খনন ও ৩টি বাঁধ নির্মাণে প্রায় ৩ কোটি ৬৫ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে আলোচিত দুটি খালের ৪ দশমিক ৮৯ কিলোমিটার খননে ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ৫২ লাখ ৪৫ হাজার টাকা। স্থানীয়দের অভিযোগ স্থানীয় কৃষক ও সুবিধাভোগীরা অভিযোগ করেন, প্রকল্পের শিডিউল অনুযায়ী পূর্ণাঙ্গ খনন না করে দায়সারাভাবে কাজ করা হয়েছে। তাদের দাবি, খালের মাঝখান থেকে সামান্য পলি অপসারণ করে নালার মতো আকৃতি দেওয়া হয়েছে, যা প্রকৃত অর্থে খাল পুনঃখনন নয়। একজন কৃষক বলেন, “নিয়ম মেনে খাল খনন করা হলে হাজারো কৃষক সেচ সুবিধা পেত। কিন্তু বর্তমান কাজের কারণে কোনো উপকারই হবে না।” তাদের অভিযোগ, খনন কাজ শুরুর আগে খালের দুই পাড়ের বহু ফলজ ও বনজ গাছ কেটে ফেলা হয়েছে। কিন্তু যথাযথ খনন না হওয়ায় একদিকে গাছ হারিয়ে ক্ষতির মুখে পড়েছেন তারা, অন্যদিকে সেচ সুবিধা ও মাছ চাষের সম্ভাবনাও নষ্ট হয়েছে। এছাড়া খালের পাড় তির্যকভাবে কাটার কারণে ভেঙে পড়ার আশঙ্কাও তৈরি হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। প্রশাসনের প্রতিক্রিয়া পরিদর্শন শেষে ইউএনও রিফাত আরা মৌরি সাংবাদিকদের বলেন, “অনিয়মের অভিযোগ পাওয়ার পর আমরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। যেসব স্থানে প্রস্থ কম মনে হয়েছে, সেখানে মাপ নিয়ে ৩০ ফুট পাওয়া যায়নি। বিষয়টি গুরুত্বসহকারে দেখা হচ্ছে।” তিনি আরও জানান, পরবর্তীতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিয়ে কাজটি সঠিকভাবে সম্পন্ন করা হবে। এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে এবং দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।
ইত্তেহাদ নিউজ: যশোরের শার্শা উপজেলার ঐতিহাসিক উলাসী-যদুনাথপুর খাল পুনঃখনন কাজের উদ্বোধন করতে আগামী ২০ এপ্রিলের মধ্যে যশোর সফরে আসতে পারেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তবে তার এই সফরের নির্দিষ্ট দিনক্ষণ এখনো চূড়ান্ত হয়নি বলে জানিয়েছে জেলা প্রশাসন। বৃহস্পতিবার রাতে যশোরের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আশেক হাসান গণমাধ্যমকে জানান, প্রধানমন্ত্রীর সফরসূচি নির্ধারণের জন্য চেষ্টা চলছে। বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত এ বিষয়ে সমন্বয় করছেন। সম্ভাব্য সফরকে সামনে রেখে বৃহস্পতিবার উলাসী-যদুনাথপুর খাল পরিদর্শন করা হয়েছে। এই খালটি স্থানীয়ভাবে ‘জিয়া খাল’ নামে পরিচিত। প্রায় পাঁচ দশক আগে ১৯৭৬ সালের ১ নভেম্বর তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান নিজ হাতে কোদাল দিয়ে খনন কাজের সূচনা করেন। স্থানীয় মানুষের স্বেচ্ছাশ্রমে মাত্র ছয় মাসে প্রায় চার কিলোমিটার দীর্ঘ খালটি খনন সম্পন্ন হয়। পরের বছর ৩০ এপ্রিল আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়। খাল খননের এই উদ্যোগ পরবর্তীতে সারাদেশে ছড়িয়ে পড়ে এবং ‘জিয়া মডেল’ নামে পরিচিতি লাভ করে। এর লক্ষ্য ছিল কৃষিতে সেচ সুবিধা বৃদ্ধি, পানি সংরক্ষণ এবং গ্রামীণ অর্থনীতিকে শক্তিশালী করা। তবে দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় উলাসী-যদুনাথপুর খালটি বর্তমানে পলি জমে ভরাট হয়ে গেছে। শুষ্ক মৌসুমে পানিশূন্য হয়ে পড়ায় কৃষি কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। ফলে খালটি পুনঃখননের দাবি জানিয়ে আসছিল স্থানীয় বাসিন্দারা। সরকার এবার সেই খাল পুনঃখননের উদ্যোগ নিয়েছে। সম্ভাব্য উদ্বোধনকে ঘিরে প্রশাসনের পাশাপাশি রাজনৈতিক নেতাকর্মীরাও প্রস্তুতি নিচ্ছেন। বৃহস্পতিবার খাল পরিদর্শনে জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপারসহ স্থানীয় বিএনপি নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের সম্পদ বিবরণী প্রকাশের পর সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী ও তার স্ত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদের হিসাব নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। এক বছরের ব্যবধানে স্বামী ফারুকীর সম্পদ কমলেও স্ত্রী তিশার সম্পদ বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে প্রকাশিত তথ্যে উঠে এসেছে এই চিত্র। প্রকাশিত খতিয়ান অনুযায়ী, জনপ্রিয় অভিনেত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদ এক বছরে অভাবনীয় হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তিশার মোট সম্পদের পরিমাণ ছিল ১ কোটি ৪০ লাখ ৮১ হাজার ৮৬০ টাকা। ঠিক এক বছর পর, ২০২৫ সালের ৩০ জুন সেই সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ৯৯ লাখ ৮৯ হাজার ৫০১ টাকায়। অর্থাৎ মাত্র এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ বেড়েছে ১ কোটি ৫৯ লাখ ৭ হাজার ৬৪১ টাকা, যা আগের বছরের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি। অন্যদিকে সংস্কৃতি উপদেষ্টা ও নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর ক্ষেত্রে দেখা গেছে উল্টো চিত্র। এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ কমেছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তার মোট সম্পদ ছিল ২ কোটি ২৬ লাখ ৯২ হাজার ২৬ টাকা। ২০২৫ সালের ৩০ জুন তা কমে দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ১৫ লাখ ১৮ হাজার ২৬ টাকায়। হিসাব অনুযায়ী, এক বছরে তার সম্পদ কমেছে ১১ লাখ ৭৪ হাজার টাকা। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে গত মঙ্গলবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ প্রধান উপদেষ্টা, উপদেষ্টা ও সমমর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের পাশাপাশি তাদের স্ত্রী বা স্বামীর সম্পদ বিবরণী প্রকাশ করে। একই সময়ে স্বামী-স্ত্রীর সম্পদে এমন ভিন্নমুখী পরিবর্তন স্বাভাবিকভাবেই সাধারণ মানুষের কৌতূহলের জন্ম দিয়েছে। শোবিজ অঙ্গনের জনপ্রিয় দম্পতি হওয়ায় তাদের এই আয়-ব্যয়ের হিসাব এখন টক অব দ্য কান্ট্রি।
বাসস : বাবা একজন তাঁত শ্রমিক। তিন বোন দুই ভাইয়ের মধ্যে সবার বড় রোজিনা। অভাব সংসার, তাই এক এতিম যুবকের সাথে বাবা-মা বিয়ে দেন তাকে। বিয়ের পর জন্ম হয় দুই কন্যা সন্তানের। অটোরিকশা চালিয়ে কোন রকম সংসার চালাচ্ছিলেন স্বামী রফিকুল ইসলাম। কিন্তু সড়ক দুর্ঘটনায় রফিকুলের এক চোখ সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যায়। আরেকটি চোখ আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ধীরে ধীরে ওই চোখের দৃষ্টি শক্তিও কমতে থাকে। ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে অটোরিকশা চালানো। সংসারের উপার্জনক্ষম মানুষটি অচল হয়ে পড়ায় চিকিৎসার খরচ, ঘর ভাড়া ও খাবারের পাশাপাশি মেয়েদের লেখাপড়ার খরচ চালানোই কঠিন হয়ে যায়। দিশেহারা হয়ে পরেন রোজিনা। এক পর্যায়ে মানুষের বাড়ি বাড়ি কাজ করে সংসার চালানোর চেস্টা করেন। কিন্তু সুবিধা করতে পারেন না। এমন পরিস্থিতিতে অটোরিকশা চালানোর সিদ্ধান্ত নেন তিনি। স্বামী রফিকুলের কাছেই হাতেখড়ি। গ্রামের স্কুলের মাঠে স্বামীর কাছেই অটোরিকশা চালানোর শিক্ষা নেন তিনি। পরে গ্রামের পথে নেমে পড়েন অটোরিকশা নিয়ে। ৫-৬ দিন এভাবে হাত পাকা করে একদিন টাঙ্গাইল শহরে চলে আসেন রোজিনা। এরপর শুরু করেন অটোরিক্সা চালানোর ব্যতিক্রমী জীবন সংগ্রাম। এখন টাঙ্গাইল পৌরসভায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার চালকদের মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা বেগম। জেলার বাসাইল উপজেলার আইসড়া গ্রামের বাসিন্দা রোজিনা টাঙ্গাইল পৌর শহরের এক প্রান্ত রাবনা বাইপাস থেকে আরেক প্রান্ত বেবিস্ট্যান্ডে যাত্রী আনা নেয়া করেন। যানজটের কারণে শহরে পুরুষ চালকরা যেখানে হিমসিম খায়, সেখানেই বিগত ৫ বছর ধরেই নির্বিঘেœ অটোরিকশা চালাচ্ছেন তিনি। টাঙ্গাইল পৌরসভা কার্যালয় সূত্রে জানা যাায়, টাঙ্গাইল শহরে চলাচলের জন্য ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক ও ৫ হাজার ব্যাটারিচালিত রিকশার অনুমতি (লাইসেন্স) দেওয়া হয়েছে। যানজট এড়াতে ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক জোড় ও বিজোড় সংখ্যায় দিনে দুই ভাগ করা হয়েছে। সকাল থেকে বেলা দুইটা পর্যন্ত এক ভাগ এবং বেলা দুইটা থেকে রাত পর্যন্ত আরেক ভাগের ইজিবাইক চলাচল করার নির্দেশনা দিয়েছে পৌর কর্তৃপক্ষ। কিন্তু রোজিনাকে দুই শিফটে চালানোর অনুমতি দিয়েছে পৌরসভা। সরেজমিনে দেখা যায়, নতুন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অটোরিকশা নিয়ে যাত্রী ডাকছেন রোজিনা। কলেজ গেট, পুরাতন বাসস্ট্যান্ড, ক্যাপসুল, নিরালা মোড়, বেবিস্ট্যান্ড সর্বত্রই যাত্রী আনানেয়া করেন তিনি। পুরাতন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অন্য অটো চালকদের দাঁড় করতে না দিলেও রোজিনাকে বাঁধা দেননা ট্রাফিক পুলিশ। বলতে গেলে সবাই তার প্রতি সহানুভুতিশীল। ট্রাফিক পুলিশসহ অন্য অটোচালকরাও তাকে সহযোগিতা করেন। রোজিনা বলেন, আমার অটোতে নারী যাত্রীরা খুব কম। তারা মনে করে আমার অটোতে উঠলে দুর্ঘটনায় পড়বে। কিন্তু আমি খুব সাবধানে অটো চালাই। দ্রুত গতিতেও না, আবার একেবারে ধীরগতিতেও না। এখন পর্যন্ত আমি কোন দুর্ঘটনার কবলে পড়ি নাই। শহরের পুরুষ অটোরিকশা চালকরা আমাকে অনেক সহযোগিতা করে। অটোচালক কাদের মিয়া বলেন, আমাদের শহরে কয়েক হাজার অটো চলাচল করে। তার মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। তাকে আমরা সব সময় সহযোগিতা করি। যাত্রী সাইদ মিয়া বলেন, আমি এ পর্যন্ত ৫-৬ বার রোজিনার অটোতে চড়েছি। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। অন্য পুরুষ অটো চালকের চেয়েও ভালো অটো চালান। নারী সংগঠক সেরাজুম মনিরা বলেন, তিনি অনেক দিন যাবত অটোরিকশা চালাচ্ছেন। আমি রোজিনাকে স্যালুট জানাই। একজন পুরুষের চেয়ে একজন নারী কোনো ভাবেই যে পিছিয়ে নেই, রোজিনা তা প্রমাণ করেছেন। রোজিনা বলেন, অটো চালানোর এই সিদ্ধান্তটি তার জন্য খুব সহজ ছিল না। তিনি বলেন, ৫ ও ১০ বছরের দুই মেয়েকে বাড়িতে রেখে অটোরিকশা নিয়ে সারাদিন রাস্তায় থাকতে হয়। তাদের ভালোভাবে দেখাশোনা করতে পারি না। কিন্তু কি করবো, অভাবের সংসার! এখন ঋণ নিয়ে একটু জমি কিনেছি। প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ণ প্রকল্পের অর্থায়নে প্রশাসন সেখানে ঘর তুলে দিয়েছে। শুরুতে যারা আমাকে নিয়ে ঠাট্টা করেছে এখন তারাই আমাকে সম্মান করেন। নারীরাও যে কিছু করতে পারে, তা প্রমাণ করেছি। আমার বড় মেয়ে আইসড়া উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়ে, ছোট মেয়ে পড়ে স্থানীয় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। মেয়েদের শিক্ষিত করতে হবে। ধার দেনা শোধ করতে হবে। তাই থেমে গেলো চলবে না। আমি অটোরিকশা চালিয়েই দুই সন্তানকে মানুষ করতে চাই।’ ঘারিন্দা ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য বাবুল সরকার বলেন, সরকার রোজিনাকে একটি ঘর নির্মাণ করে দিয়েছে। শুরুতে যারা তাকে নিয়ে নানান কথা বলতো, এখন তার সংকল্প ও মানষিক দৃঢ়তা দেখে থেমে গেছে। আমরা তাকে নিয়ে গর্ব করি। টাঙ্গাইলের ট্রাফিক ইন্সপেক্টর (প্রশাসন) দেলোয়ার হোসেন বলেন, শহরের একমাত্র নারী চালক রোজিনাকে কেউ যেন বিরক্ত করতে না পারে সেদিকে সব সময় নজর রাখে ট্রাফিক পুলিশ। আমরা তাকে সব সময় সহযোগিতা করে আসছি। টাঙ্গাইলের সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক শাহ আলম বলেন, বিষয়টি এখন জানতে পারলাম। ওই নারী এখনো পর্যন্ত আমাদের কাছে আসেন নাই। যদি আমাদের কাছে এসে আবেদন করেন অবশ্যই তাকে আমরা সহযেগিতা করবো, তার পাশে দাঁড়াবো।
২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশে আজ এক ঐতিহাসিক ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ২০০৮ সালের পর এই প্রথম একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হতে যাচ্ছে যেখানে দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগ রাজনৈতিক মানচিত্র থেকে কার্যত অনুপস্থিত। বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক জরিপ বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০০ আসনের মধ্যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) কার্যকর সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে যাচ্ছে। তবে ভোটের ব্যবধান এবং কিছু সমীকরণ নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। নির্বাচনের সবচেয়ে বড় নিয়ামক হয়ে দাঁড়িয়েছে আওয়ামী লীগের বিশাল ভোটব্যাংক। দলটির নিয়মিত প্রায় ৪ কোটি ভোটার এখন নতুন রাজনৈতিক আশ্রয় খুঁজছেন। সিআরএফ বা বিইপিওএস জরিপ বলছে, এই ভোটারদের প্রায় অর্ধেক বিএনপির দিকে ঝুঁকেছে, যা দলটিকে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতার পথে এগিয়ে দিচ্ছে। অন্যদিকে, প্রায় ৩০ শতাংশ আওয়ামী ভোটার জামায়াতে ইসলামীকে বেছে নিতে পারেন বলে আভাস পাওয়া যাচ্ছে। এছাড়া বাংলাদেশের বিদ্যমান নির্বাচনী ব্যবস্থার কারণে দেশজুড়ে সুষম জনসমর্থন থাকা বিএনপি আসন জয়ের ক্ষেত্রে জামায়াতের তুলনায় সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। তবে বিএনপির এই সম্ভাব্য জয়ের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও বিদ্রোহী প্রার্থীরা। প্রায় ৭৯টি নির্বাচনী এলাকায় দলের মনোনয়ন না পাওয়া ৯২ জন প্রভাবশালী নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, যা বিএনপির ১৫ থেকে ৩০টি আসন কমিয়ে দিতে পারে। অন্যদিকে, তরুণ ভোটার বা ‘জেন-জি’ প্রজন্মের বিশাল সমর্থন জামায়াতে ইসলামীর শক্তির উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেশের ৪৪ শতাংশ ভোটারই তরুণ, যাদের বড় একটি অংশ প্রথমবার ভোট দিচ্ছেন। এই তরুণরা যদি দলবেঁধে কেন্দ্রে উপস্থিত হন, তবে নির্বাচনী ফলে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। সবশেষে, প্রায় ১৭ থেকে ৩৫ শতাংশ দোদুল্যমান ভোটার এবং তাদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করবে আগামীর সরকার কতটা শক্তিশালী হবে। দ্য নিউইয়র্ক এডিটোরিয়ালের মূল পূর্বাভাস, তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি প্রায় ১৮৫টি আসনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করতে পারে এবং জামায়াতে ইসলামী ৮০টির মতো আসন পেয়ে প্রধান বিরোধী দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারে। তবে বিদ্রোহী প্রার্থীদের প্রভাব এবং তরুণ ভোটারদের উপস্থিতির ওপর ভিত্তি করে আসন সংখ্যায় বড় ধরনের হেরফের হওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। ৩৫০ একরের ঘাঁটিটিতে সামরিক বাহিনীর পাঁচ হাজার সদস্য থাকতে পারবে। গাজার ‘বোর্ড অব পিস’র নথি পর্যালোচনা করে এ তথ্য জানিয়েছে দ্য গার্ডিয়ান। প্রতিবেদনে ব্রিটিশ সংবাদ মাধ্যমটি জানিয়েছে, বোর্ড অব পিসে গাজাকে নিরাপদ করার জন্য ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যাবিলাইজেশন ফোর্স (আইএসএফ) নামে একটি আন্তর্জাতিক বাহিনী মোতায়েনের কথা বলা হয়েছে। যে স্থানটি ঘাঁটি করার জন্য বিবেচনা করা হচ্ছে সেখানে আইএসএফের সদস্যরা থাকবে। বোর্ড অব পিসের প্রধান হবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আর সংগঠনটির আংশিক নেতৃত্ব দেবেন ট্রাম্পের জামাতা জ্যারার্ড কুশনার।দ্য গার্ডিয়ান বোর্ড অব পিসের নথি পর্যালোচনা করে জানায়, ধাপে ধাপে একটি সামরিক ঘাঁটি নির্মাণ করা হবে। সবকিছু শেষ হলে ঘাঁটিটি ১৫ লাখ ১৭ হাজার ৫৭৫ বর্গমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত হবে। ঘাঁটিটির চারপাশে ট্রেইলার সংযুক্ত ২৬টি সাঁজোয়া নজরদারি টাওয়ার থাকবে। এছাড়া একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, বাংকার ও অস্ত্র রাখার গুদাম থাকবে। পুরো ঘাঁটিটি কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে ঘিরে রাখা হবে। সামরিক ঘাঁটি নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে দক্ষিণ গাজার একটি শুষ্ক সমতলভূমিতে। সেখানে ইসরায়েলি হামলার চিহ্ন রয়েছে। ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে বিভিন্ন ধাতবের ধ্বংসাবশেষ। ওই এলাকার ভিডিও পর্যালোচনা করেছে দ্য গার্ডিয়ান। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, ঘাঁটি নির্মাণের জন্য টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে। যুদ্ধক্ষেত্রে কাজের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন আন্তর্জাতিক নির্মাণ কোম্পানিগুলোর একটি ছোট দলকে ইতোমধ্যেই এলাকাটি দেখানো হয়েছে। ওই দলটি দরপত্রে অংশ নিতে আগ্রহী। ইন্দোনেশিয়া সরকার গাজায় আট হাজার সেনা সদস্য পাঠানোর জন্য প্রস্তাব দিয়েছে। বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটন ডিসিতে বোর্ড অব পিসের অনানুষ্ঠানিক বৈঠকে ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্টের অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। এছাড়া দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার আরও তিন নেতার ওই বৈঠকে অংশ নেবেন বলে জানা গেছে। জাতিসংঘের নিরাপত্তা কাউন্সিল গাজার সাময়িক স্থিতিশীলতার জন্য অস্থায়ীভাবে সামরিক বাহিনী মোতায়েনের অনুমোদন দিয়েছে। নিরাপত্তা কাউন্সিলই বোর্ড অব পিসের মূল হোতা। গাজার সীমান্ত ও শান্তি প্রণয়নে কাজ করবে আইএসএফ। এছাড়া বেসামরিকদের সুরক্ষা এবং ফিলিস্তিনি পুলিশ বাহিনীকে প্রশিক্ষণ ও সহায়তা দেবে তারা। যদি গাজায় ফের সংঘর্ষ হয়, ইসরায়েল বোমা হামলা চালায় অথবা হামাস হামলা চালায় সেক্ষেত্রে আইএসএফ কি করবে তা এখনও স্পষ্ট নয়। গাজা পুনর্গঠনে ইসরায়েল হামাসকে নিরস্ত্রীকরণের যে শর্ত দিয়েছে সেটির জন্য আইএসএফ কাজ করবে কিনা তাও স্পষ্ট না। ইতোমধ্যে বোর্ড অব পিসে ২০ এর অধিক দেশ যোগ দিয়েছে। তবে, এখনও অনেক পরাশক্তি এর থেকে দূরে রয়েছে। জাতিসংঘের অনুমোদন নিয়ে প্রতিষ্ঠিত হলেও ধারণা করা হচ্ছে, সংগঠনটির স্থায়ী নেতৃত্ব ও নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে। রুটজার্স বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক আদিল হক বলেন, “বোর্ড অব পিস এক ধরনের আইনি কল্পসত্তা। নামমাত্রভাবে এর নিজস্ব আন্তর্জাতিক আইনগত সত্তা রয়েছে, যা জাতিসংঘ ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে আলাদা। কিন্তু বাস্তবে এটি যুক্তরাষ্ট্রের ইচ্ছামতো ব্যবহারের জন্য একটি ফাঁপা খোলসমাত্র।” বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গাজা পুনর্গঠনে যে অর্থায়ন ও শাসন কাঠামো হচ্ছে তা অস্বচ্ছ। কয়েকজন ঠিকাদার গার্ডিয়ানকে জানান, গাজায় কাজ করার জন্য মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে তাদের প্রায়শ আলোচনা সরকারি ইমেলের বদলে সিগন্যালের মাধ্যমে করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রের তথ্য মতে, ঘাঁটি নির্মাণের সিদ্ধান্তটি বোর্ড অব পিসের। এতে সহায়তা করছে মার্কিন কর্মকর্তারা। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ঘাঁটিতে তৈরি বাংকার নেটওয়ার্কের মতোন কাজ করবে। প্রতিটি বাংকারের ২৪ মিটারের হবে। উচ্চতা থাকবে আড়াই মিটার। এগুলো এমনভাবে করা হবে যেন সেনা সদস্যরা আশ্রয় নিতে পারে। স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসের গাজায় সুড়ঙ্গ নেটওয়ার্ক বা টানেল রয়েছে। সেগুলোর আদলে নেটওয়ার্ক করতে চাওয়া হচ্ছে। পিস অব বোর্ডের নথি পর্যালোচনা করে এমন দাবি করছে গার্ডিয়ান। সংবাদ মাধ্যমটি বলছে, স্থানটির ভূ-ভৌত জরিপ পরিচালনা করবে ঠিকাদাররা। নথির এক অংশে ‘হিউম্যান রেমিয়েনস প্রোটোকল’র কথা বলা হয়েছে। এর মানে দাঁড়ায়, সন্দেহভাজন মানব অবশিষ্ট বা সাংস্কৃতিক নিদর্শন পাওয়া গেলে অবিলম্বে সেই এলাকায় সব কাজ বন্ধ করতে হবে। চুক্তি কর্মকর্তাকে দিকনির্দেশনার জন্য অবিলম্বে জানাতে হবে। গাজা সিভিল ডিফেন্সের ধারণা, গাজার ধ্বংসস্তূপের নিচে ১০ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনির মরদেহ রয়েছে। ঘাঁটির জন্য যে স্থানটি বিবেচিত করা হচ্ছে সেটির মালিক কে তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে, দক্ষিণ গাজার বেশিরভাগ অংশ বর্তমানে ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণে। জাতিসংঘের অনুমান, যুদ্ধ চলাকালীন ১৯ লাখ ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত হয়েছে। ফিলিস্তিনের জমিতে সরকারের অনুমতি না নিয়ে সামরিক ঘাঁটি স্থাপনকে দখল হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন ফিলিস্তিনি-কানাডিয়ান আইনজীবী এবং প্রাক্তন শান্তি আলোচক দিয়ানা বুট্টু। তিনি প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়ে বলেন, “কার অনুমতিতে তারা সামরিক ঘাঁটি স্থাপন করবে।” বিষয়টি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা বোর্ড অব পিসের কথা টানেন। ট্রাম্প প্রশাসনের একজন কর্মকর্তা সামরিক ঘাঁটির চুক্তি নিয়ে আলোচনা করতে অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, “যেমনটি প্রেসিডেন্ট বলেছেন, কোনও মার্কিন সেনা স্থলভাগে যাবে না। আমরা লিক হওয়া নথি নিয়ে আলোচনা করবো না।”
বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের প্রত্যন্ত চরাঞ্চল থেকে উঠে এসে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার কেন্দ্রে এখন তাইজুল ইসলাম, যিনি অনলাইনে পরিচিত ‘তাজু ভাই ২.০’ নামে। মাত্র একটি ভিডিও—যেখানে তিনি এক দোকানিকে প্রশ্ন করেন, “জিলাপি আজকে কত করে বেচতেছেন সরকারি রেটে?”—এই সরল উপস্থাপনাই তাকে রাতারাতি ভাইরাল করে তোলে। কয়েক ঘণ্টায় ফলোয়ার লাখ ছাড়াল রোববার রাত পর্যন্ত তার ফেসবুক অনুসারী ছিল প্রায় ৩৫ হাজার। কিন্তু সোমবার সন্ধ্যা থেকে রাতের মধ্যেই তা বেড়ে এক লাখের বেশি হয়ে যায়। ভাইরাল ভিডিওটি ইতোমধ্যে প্রায় ৫০ থেকে ৫৫ লাখবার দেখা হয়েছে। কী ছিল সেই ভিডিওতে? ভিডিওতে দেখা যায়, কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীর নারায়ণপুর বাজারে দাঁড়িয়ে স্থানীয় ভাষায় তিনি জিলাপির দাম জানতে চান। তার কথাগুলো ছিল একেবারেই সহজ ও গ্রাম্য ভঙ্গিতে— “সাদাডা কত, লালডা কত? সরকারি রেটে বেচতেছেন?” এই সরল প্রশ্নই সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। কোথা থেকে উঠে এলেন তাজু ভাই? কুড়িগ্রাম জেলার নাগেশ্বরী উপজেলার নারায়ণপুর ইউনিয়নের একটি দুর্গম গ্রামে জন্ম তার। ব্রহ্মপুত্র নদবেষ্টিত এই অঞ্চলে পৌঁছাতে এখনও কয়েকটি নৌঘাট পার হতে হয়। দারিদ্র্যের কারণে কখনো স্কুলে যাওয়া হয়নি তার। পেশায় তিনি একজন নির্মাণশ্রমিকের সহকারী (হেলপার)। কাজের ফাঁকে ঢাকায় থাকাকালীন মোবাইল ফোনে ভিডিও তৈরি করাই তার শখ। ব্যক্তিগত সংগ্রাম তাইজুল ইসলামের পরিবারে ছয় ভাই-বোন। তিনি সবার বড়। তার বাবা-মা দুজনই শ্রবণপ্রতিবন্ধী। পরিবার চালাতে তাকে ছোটবেলা থেকেই সংগ্রাম করতে হয়েছে। তিনি বলেন, “পরিবারের কষ্ট ভুলতেই ভিডিও করি। আমি সাংবাদিক না, কিন্তু আমাদের এলাকায় কেউ আসে না—তাই নিজেরাই ভিডিও বানাই।” ভাইরাল হওয়ার পেছনের উদ্দেশ্য তাইজুলের দাবি, তার ভিডিও শুধুই বিনোদনের জন্য নয়। তিনি চান তার এলাকার অবহেলিত মানুষের কথা প্রশাসনের নজরে আসুক। “আমি চাই চরের মানুষের উন্নয়ন হোক,”—বলছেন তিনি। মিশ্র প্রতিক্রিয়া ভিডিওটি নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে দুই ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ তার সরলতা ও বাস্তবতা তুলে ধরার চেষ্টা প্রশংসা করছেন আবার কেউ তাকে নিয়ে ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ করছেন তবে এসব সমালোচনায় তিনি বিচলিত নন।