ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন ডেস্ক : শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাতবার্ষিকীর আলোচনা সভা শুধু একটি স্মরণানুষ্ঠানেই সীমাবদ্ধ থাকেনি; এটি ক্ষমতাসীন বিএনপি সরকারের রাজনৈতিক অগ্রাধিকার, ভবিষ্যৎ চ্যালেঞ্জ এবং দলীয় কর্মীদের প্রতি সরকারের প্রত্যাশার একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তায় পরিণত হয়েছে। রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশ (কেআইবি) মিলনায়তনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, দেশের জনগণের প্রত্যাশা পূরণে সরকার বদ্ধপরিকর। তবে একইসঙ্গে তিনি সতর্ক করে দিয়েছেন যে সামনে ‘অত্যন্ত কঠিন’ এবং ‘অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ’ সময় অপেক্ষা করছে। কেন ‘কঠিন সময়ের’ কথা বললেন প্রধানমন্ত্রী? তারেক রহমানের বক্তব্যের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিল সরকারের সামনে থাকা চ্যালেঞ্জ নিয়ে তার সতর্কবার্তা। তিনি বলেন, সামনে এমন একটি সময় আসছে, যা হালকাভাবে নেওয়া হলে দেশের জন্য অপূরণীয় ক্ষতির কারণ হতে পারে। তার ভাষায়, এই ক্ষতি ব্যক্তি বা রাজনৈতিক দলের নয়; বরং দেশের এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ক্ষমতায় আসার পর বিএনপির সামনে এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হচ্ছে নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন, প্রশাসনিক সংস্কার, অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা এবং জনগণের প্রত্যাশা পূরণ করা। ‘জিয়ার দর্শন’কে রাষ্ট্র পরিচালনার ভিত্তি হিসেবে তুলে ধরা অনুষ্ঠানে তারেক রহমান বারবার শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের রাজনৈতিক দর্শনের কথা উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, দেশের মানুষ যে নির্বাচনী ইশতেহারের পক্ষে রায় দিয়েছে, সেটি মূলত জিয়াউর রহমানের পথনির্দেশনা অনুসরণ করেই প্রণয়ন করা হয়েছে। তার বক্তব্যে স্পষ্টভাবে উঠে আসে যে বর্তমান সরকার নিজেদের রাজনৈতিক বৈধতা এবং নীতিগত অবস্থানকে জিয়ার রাজনৈতিক উত্তরাধিকারের সঙ্গে যুক্ত করে দেখতে চায়। তিনি দাবি করেন, জিয়াউর রহমান দেশের বিভিন্ন খাতকে ধাপে ধাপে এগিয়ে নিয়ে একটি স্বাবলম্বী বাংলাদেশ গঠনের স্বপ্ন দেখেছিলেন এবং বর্তমান সরকার সেই ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে চায়। নির্বাচনী ইশতেহার: দলীয় অঙ্গীকার থেকে ‘জনগণের পরিকল্পনা’ বক্তব্যে তারেক রহমান একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ব্যাখ্যা তুলে ধরেন। তার মতে, নির্বাচনের আগে ইশতেহার ছিল বিএনপির রাজনৈতিক পরিকল্পনা; কিন্তু জনগণ দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা দিয়ে সমর্থন দেওয়ার পর সেটি আর শুধু দলের নয়, জনগণের পরিকল্পনায় পরিণত হয়েছে। এ কারণে সরকারের ওপর এখন সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের নৈতিক ও রাজনৈতিক দায় সৃষ্টি হয়েছে। এই বক্তব্যের মাধ্যমে তিনি নির্বাচনী অঙ্গীকার পূরণের প্রশ্নে সরকারের জবাবদিহিতার বিষয়টিও সামনে আনেন। দলীয় কর্মীদের প্রতি বিশেষ বার্তা তারেক রহমানের বক্তব্যের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিল দলীয় নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে দেওয়া নির্দেশনা। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, শুধু মন্ত্রী বা সংসদ সদস্যদের পরিশ্রমে একটি সরকার সফল হতে পারে না। বরং বিএনপি, যুবদল, ছাত্রদল, স্বেচ্ছাসেবক দল, মহিলা দল, শ্রমিক দলসহ সব অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীদের মাঠপর্যায়ে সক্রিয় থাকতে হবে। তার মতে, নির্বাচনে বিজয় অর্জনের মধ্য দিয়ে দায়িত্ব শেষ হয়নি; বরং সরকারের কর্মসূচি বাস্তবায়নের মধ্য দিয়েই প্রকৃত সাফল্য অর্জিত হবে। গণতন্ত্র, বিচার ও শিক্ষা সংস্কারের প্রতিশ্রুতি সরকারের ভবিষ্যৎ অগ্রাধিকার নিয়েও বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, মুক্তিযুদ্ধ-পরবর্তী সময় থেকে শুরু করে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বিচারব্যবস্থা, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এসব খাত পুনর্গঠন এবং গণতান্ত্রিক কাঠামোকে শক্তিশালী করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি। বক্তব্যে সামাজিক অবক্ষয় ও পারিবারিক মূল্যবোধের সংকট নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন তারেক রহমান। তিনি জানান, সামাজিক ও পারিবারিক মূল্যবোধ শক্তিশালী করতে সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। জিয়ার স্মৃতিচারণ এবং রাজনৈতিক উত্তরাধিকার বক্তব্যের শেষাংশে আবেগঘনভাবে নিজের বাবা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানকে স্মরণ করেন তারেক রহমান। তিনি বলেন, একসময় আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বাংলাদেশকে অনেকেই জিয়াউর রহমানের মাধ্যমেই চিনতেন, যা একজন সন্তান হিসেবে তাকে গর্বিত করে। এ বক্তব্যের মাধ্যমে তিনি শুধু পারিবারিক স্মৃতিচারণই করেননি; বরং জিয়াউর রহমানের রাজনৈতিক উত্তরাধিকারকে বর্তমান রাষ্ট্র পরিচালনার সঙ্গে সংযুক্ত করারও চেষ্টা করেছেন। অনুষ্ঠানে কারা ছিলেন? বিএনপির উদ্যোগে আয়োজিত এই আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী এবং বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। অনুষ্ঠানে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য, কেন্দ্রীয় নেতা, অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের প্রতিনিধিসহ বিপুলসংখ্যক নেতা-কর্মী উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া বিভিন্ন শিক্ষাবিদ ও বিশিষ্টজন জিয়াউর রহমানের রাজনৈতিক জীবন, রাষ্ট্রীয় অবদান এবং বাংলাদেশের উন্নয়ন প্রক্রিয়ায় তাঁর ভূমিকা নিয়ে আলোচনা করেন। কেন গুরুত্বপূর্ণ এই বক্তব্য? ক্ষমতায় আসার পর এটি তারেক রহমানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ভাষণ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। কারণ এতে একদিকে যেমন সরকারের রাজনৈতিক দর্শন, অগ্রাধিকার ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার ইঙ্গিত রয়েছে, অন্যদিকে দলীয় কর্মীদের জন্য দায়িত্ববোধ, শৃঙ্খলা এবং মাঠপর্যায়ের সক্রিয়তার স্পষ্ট বার্তাও রয়েছে। সব মিলিয়ে বক্তব্যটি শুধু অতীতের একজন রাষ্ট্রনায়ককে স্মরণ করার অনুষ্ঠান নয়; বরং নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতায় বিএনপি সরকারের করণীয় ও প্রত্যাশার একটি রূপরেখাও তুলে ধরেছে।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : পুলিশের প্রতি জনগণের আস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠা এবং স্থিতিশীল আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রা অব্যাহত রাখতে মব সহিংসতা, কিশোর গ্যাং ও মাদকের বিস্তার রোধে পুলিশকে আরও কার্যকর ভূমিকা পালন করতে হবে। শনিবার (৯ মে) পুলিশ সপ্তাহ ২০২৬ উপলক্ষে দেওয়া এক বিবৃতিতে সরকারপ্রধান এসব কথা বলেন। আগামীকাল ১০ মে শুরু হচ্ছে পুলিশ সপ্তাহ ২০২৬। বিবৃতিতে তিনি বলেন, “দীর্ঘ দেড় দশকের বেশি সময় পর একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে দেশে গণতান্ত্রিক সরকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। জনমনে শান্তি ও স্বস্তি ফিরেছে।” তিনি আরও বলেন, জনগণ এখন এমন একটি রাষ্ট্র ও সমাজ প্রত্যাশা করে যেখানে গুম, অপহরণ ও ভয়ের সংস্কৃতি থাকবে না এবং মানুষ জানমাল, অবিচার বা নির্যাতনের শঙ্কামুক্ত জীবনযাপন করতে পারবে। এই পরিস্থিতি বজায় রাখতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, বিশেষ করে পুলিশের ভূমিকা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেন তিনি। “জনগণের আস্থা ছাড়া পুলিশের কাজ কঠিন” প্রধানমন্ত্রী বলেন, একটি রাষ্ট্রে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, অপরাধ প্রতিরোধ এবং জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশ বাহিনীর বিকল্প নেই। তবে জনগণের সঙ্গে আস্থা ও বিশ্বাসের সম্পর্ক গড়ে তুলতে পারলে পুলিশের দায়িত্ব পালন আরও সহজ হবে। তারেক রহমান বলেন, রাষ্ট্রের স্থিতিশীলতা ও জনগণের আস্থা রক্ষায় একটি পেশাদার ও দায়িত্বশীল পুলিশ বাহিনী অপরিহার্য। তাঁর ভাষায়, পুলিশ সপ্তাহ শুধু আনুষ্ঠানিকতা নয়, বরং জনগণের বিশ্বস্ত হয়ে ওঠার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করার একটি সুযোগ হওয়া উচিত। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নকে অগ্রাধিকার বিবৃতিতে সরকারপ্রধান বলেন, বর্তমান সরকার একটি “সমৃদ্ধ, স্বনির্ভর, ন্যায়ভিত্তিক ও মানবিক গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র” গঠনের লক্ষ্যে কাজ করছে। তবে মানুষের মনে নিরাপত্তা ও স্বস্তি নিশ্চিত না হলে সেই লক্ষ্য অর্জন কঠিন হয়ে পড়বে। তিনি বলেন, “পুলিশের প্রতি জনগণের আস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠা এবং দেশে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নই এই মুহূর্তে আমাদের অগ্রাধিকার।” নির্বাচনে পুলিশের ভূমিকার প্রশংসা সম্প্রতি অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পুলিশের ভূমিকারও প্রশংসা করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, উপযোগী ও অনুকূল পরিবেশ পেলে পুলিশ দক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে সক্ষম—সাম্প্রতিক নির্বাচন সেই সক্ষমতার প্রমাণ দিয়েছে। আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও সাফল্যের উল্লেখ বাংলাদেশ পুলিশের আন্তর্জাতিক অবদানের কথাও উল্লেখ করেন তিনি। জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে পুলিশের ভূমিকা বাংলাদেশের মর্যাদা বাড়িয়েছে বলে মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রী। তবে পরিবর্তিত বৈশ্বিক বাস্তবতায় পুলিশ বাহিনীর আধুনিকায়ন ও সক্ষমতা বৃদ্ধি জরুরি বলেও তিনি উল্লেখ করেন। “জননিরাপত্তায় বিনিয়োগ অপরিহার্য” প্রধানমন্ত্রী বলেন, আইনশৃঙ্খলা উন্নয়ন, অপরাধ দমন এবং জাতীয় অগ্রগতি একে অপরের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে সম্পর্কিত। এজন্য পুলিশের উন্নয়নে বিনিয়োগকে সরকার জননিরাপত্তার অপরিহার্য অংশ হিসেবে বিবেচনা করছে। পুলিশ সপ্তাহ ২০২৬ উপলক্ষে তিনি বাংলাদেশ পুলিশের সার্বিক সাফল্য ও সমৃদ্ধি কামনা করেন।
পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনে বড় ধাক্কার পরও মুখ্যমন্ত্রীর পদ থেকে সরে দাঁড়াতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মঙ্গলবার (৫ মে) এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি স্পষ্ট করে বলেন, তিনি রাজভবনে গিয়ে পদত্যাগ করবেন না এবং বর্তমান নির্বাচনী ফলাফলও মেনে নিচ্ছেন না। “আমি কেন রাজভবনে যাব? শপথ নিতে গেলে যেতাম। ওরা দখল করেছে। আমি পদত্যাগ করতে যাব না। আমরা ভোটে হারিনি,”—সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বলেন তিনি। ফলাফল নিয়ে প্রশ্ন নির্বাচনের ফলাফলকে “অপ্রকৃত” দাবি করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ করেন, প্রায় ১০০টি আসনে ভোট লুট হয়েছে। তার মতে, গণনাকেন্দ্রে তৃণমূল কংগ্রেসের প্রতিনিধিদের মারধর করে বের করে দেওয়া হয়েছে। তিনি নির্বাচন প্রক্রিয়ায় গুরুতর অনিয়মের অভিযোগ তুলে নির্বাচন কমিশন-এর ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন। কেন্দ্রীয় বাহিনীর বিরুদ্ধে অভিযোগ কেন্দ্রীয় বাহিনীর আচরণ নিয়েও তীব্র সমালোচনা করেন তিনি। তার ভাষায়, “ওরা গুণ্ডার মতো আচরণ করেছে। এমন নির্বাচন আমি কোনোদিন দেখিনি।” বিরোধী নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ পশ্চিমবঙ্গের পরিস্থিতি নিয়ে ইতোমধ্যেই তিনি একাধিক বিরোধী নেতার সঙ্গে কথা বলেছেন বলে জানান। এদের মধ্যে রয়েছেন সোনিয়া গান্ধী, রাহুল গান্ধী, উদ্ধব ঠাকরে এবং হেমন্ত সোরেন। তবে সম্ভাব্য জোট বা ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক কৌশল নিয়ে এখনই কিছু বলতে চাননি তিনি। রাজনৈতিক অবস্থান তৃণমূল প্রধান দাবি করেন, তার ব্যক্তিগতভাবে ক্ষমতার প্রতি কোনো আগ্রহ নেই, বরং মানুষের জন্য কাজ করাই তার লক্ষ্য। তিনি বলেন, “যদি সঠিকভাবে পরাজয় পেতাম, তাহলে নিশ্চয়ই পদত্যাগ করতাম। কিন্তু আমাকে জোর করে পরাজিত করা হয়েছে। ফলে পদত্যাগের কোনো প্রশ্নই ওঠে না।” সারসংক্ষেপ এই অবস্থানের মধ্য দিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় স্পষ্ট করে দিয়েছেন, নির্বাচনী ফলাফল নিয়ে বিতর্ক চললেও তিনি রাজনৈতিক লড়াই চালিয়ে যাবেন এবং ক্ষমতা ছাড়ার কোনো ইঙ্গিত দিচ্ছেন না।
বরিশাল অফিস : বরিশাল নগরীর জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে অনুষ্ঠিত হয়েছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) বরিশাল জেলা শাখার উদ্যোগে “রাজনৈতিক কর্মশালা ও মিলন মেলা–২০২৬”। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন এনসিপির কেন্দ্রীয় সংগঠক আসাদ বিন রনি। বিশেষ অতিথি ছিলেন কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সদস্য রফিকুল ইসলাম কনক। সভাপতির দায়িত্বে ছিলেন বরিশাল জেলার আহ্বায়ক ও কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সদস্য আবু সাঈদ মুসা। অনুষ্ঠানে জেলা সদস্য সচিব মোহাম্মদ আবু সাঈদ ফেরদৌস, সিনিয়র যুগ্ম সদস্য সচিব আবেদ আহমেদ রনি, দপ্তর সম্পাদক নাজমুল হাসান, সাংগঠনিক সম্পাদক আসিফ আলি ও ইমরান মৃর্ধা, মহানগর সংগঠক মোহন হোসেন, জাতীয় যুব শক্তির কেন্দ্রীয় সংগঠক বনি আমিনসহ জেলা ও মহানগরের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া বিভিন্ন উপজেলা থেকে আগত প্রতিনিধিরাও অংশগ্রহণ করেন। প্রধান অতিথি আসাদ বিন রনি বক্তৃতায় বলেন, “দেশে একটি সুস্থ ও গঠনমূলক রাজনৈতিক পরিবেশ গড়ে তুলতে হলে তরুণ নেতৃত্বকে এগিয়ে আসতে হবে এবং জনগণের পাশে দাঁড়াতে হবে।” বিশেষ অতিথি রফিকুল ইসলাম কনক বলেন, “গণতন্ত্র রক্ষায় দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। রাজনৈতিক প্রতিহিংসা নয়, বরং ইতিবাচক রাজনৈতিক চর্চা প্রতিষ্ঠা করতে হবে।” সভাপতি আবু সাঈদ মুসা বলেন, “সংগঠনকে শক্তিশালী করতে তৃণমূল পর্যায়ে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে এবং দেশ ও জনগণের স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে সামনে এগিয়ে যেতে হবে।” অনুষ্ঠানে বক্তারা বিরোধীদলের করণীয়, সুশাসন, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ চর্চা এবং দেশের উন্নয়ন ও স্থিতিশীলতা বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা প্রদান করেন। জেলার বিভিন্ন উপজেলা থেকে আগত প্রতিনিধিরা ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক কর্মপরিকল্পনা নিয়ে সক্রিয়ভাবে মতবিনিময় করেন।
বাংলাদেশের নির্বাচন ব্যবস্থাকে আধুনিক ও স্বচ্ছ করার লক্ষ্য নিয়ে নেওয়া ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) প্রকল্প এখন বড় ধরনের বিতর্কের কেন্দ্রে। প্রকল্পটির আর্থিক অনিয়ম, ক্রয়প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা এবং প্রযুক্তিগত সক্ষমতা নিয়ে একাধিক গুরুতর অভিযোগ সামনে এসেছে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, প্রায় দেড় লাখ ইভিএম মেশিন কেনার জন্য প্রায় ৩ হাজার ৮২৫ কোটি টাকার একটি প্রকল্প গ্রহণ করা হয়। তবে মহাহিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রকের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, বাজারমূল্যের তুলনায় বহু গুণ বেশি দামে এই মেশিন কেনা হয়েছে, যার ফলে রাষ্ট্রের প্রায় ৩ হাজার ১৭২ কোটি টাকার আর্থিক ক্ষতি হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এ ধরনের বড় প্রযুক্তিগত প্রকল্পে সাধারণত উন্মুক্ত দরপত্রের মাধ্যমে প্রতিযোগিতামূলক মূল্য নিশ্চিত করা হয়। কিন্তু এই প্রকল্পে সেই নিয়ম অনুসরণ না করে সরাসরি ক্রয় পদ্ধতি গ্রহণ করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। সংশ্লিষ্টদের দাবি, সেনাবাহিনীর একটি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে সরবরাহ করা হলেও যন্ত্রাংশ বিদেশ থেকে আমদানি করা হয়েছে, যা পুরো প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। এদিকে প্রকল্পের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বেশ কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তি ও কর্মকর্তার বিরুদ্ধে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ সম্পৃক্ততার অভিযোগ রয়েছে। যদিও এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কেউ দায় স্বীকার করেননি, তবে দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ থাকলেও কার্যকর জবাবদিহিতার অভাব নিয়ে সমালোচনা রয়েছে। প্রযুক্তিগত দিক থেকেও প্রকল্পটির কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানাচ্ছে, বিপুল ব্যয়ে কেনা মেশিনের একটি বড় অংশ বর্তমানে অচল বা ব্যবহার অযোগ্য। সাম্প্রতিক অভিযানে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক মেশিন ত্রুটিপূর্ণ পাওয়া গেছে বলেও জানা গেছে। এছাড়া দীর্ঘমেয়াদি ব্যবহারের বিষয়টি উপেক্ষা করার অভিযোগও রয়েছে। যেখানে ১০ বছরের ওয়ারেন্টির সুপারিশ ছিল, সেখানে মাত্র এক বছরের ওয়ারেন্টি দেওয়া হয়—যা প্রকল্পের টেকসই ব্যবস্থাপনা নিয়ে সন্দেহ তৈরি করেছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, ২০১৮ সালের জাতীয় নির্বাচনের আগে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের সময়কাল এবং প্রেক্ষাপট এই বিতর্ককে আরও জটিল করেছে। অনেক রাজনৈতিক দল শুরু থেকেই ইভিএম ব্যবহারের বিরোধিতা করে আসছিল। বর্তমান নির্বাচন কমিশন ইতোমধ্যে ইভিএম ব্যবহার না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে, যা অনেকের কাছে প্রকল্পটির ব্যর্থতার একটি পরোক্ষ স্বীকৃতি হিসেবে দেখা হচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে দুর্নীতি দমন কমিশনের তদন্তকে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হলেও, বিশ্লেষকদের মতে, কেবল তদন্ত নয়—দায়ীদের চিহ্নিত করে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণই হবে প্রকৃত জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার মূল শর্ত। সবশেষে প্রশ্ন রয়ে যায়—জনগণের হাজার হাজার কোটি টাকা কীভাবে ব্যয় হলো এবং কারা এর সুবিধাভোগী? এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজে বের করা এখন শুধু আর্থিক বিষয় নয়, বরং দেশের গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতি আস্থা পুনর্গঠনের জন্যও জরুরি হয়ে উঠেছে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, জাতীয় সংসদকে তিনি সকল যুক্তি, তর্ক এবং জাতীয় সমস্যা সমাধানের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত করতে চান। আজ বৃহস্পতিবার সকালে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন শুরু হয়। অধিবেশনের শুরুতে তিনি ভাষণ দেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ফ্যাসিবাদের নির্মমতার শিকার অসংখ্য মানুষের কান্না ও হাজারো প্রাণের আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে আবারও জনগণের ভোটে জনগণের কাছে জবাবদিহিমূলক একটি সত্যিকারের জনপ্রতিনিধিত্বশীল জাতীয় সংসদের যাত্রা শুরু হচ্ছে। তিনি বলেন, বাংলাদেশের জাতীয় সংসদের রাজনীতির এই ঐতিহাসিক মুহূর্তে তিনি মহান আল্লাহর দরবারে শুকরিয়া আদায় করছেন, যার অশেষ রহমতে একটি ন্যায়ভিত্তিক, গণতান্ত্রিক ও মানবিক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে নতুন যাত্রা শুরু করা সম্ভব হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ১৯৭১ সালের স্বাধীনতা যুদ্ধ থেকে শুরু করে ২০২৪ সালে দেশ ও জনগণের স্বাধীনতা রক্ষার সংগ্রাম পর্যন্ত গণতন্ত্র ও মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে যারা শহীদ হয়েছেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের যাত্রালগ্নে তিনি তাঁদের কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করেন। তিনি বলেন, এসব আন্দোলন-সংগ্রামে যেসব মায়েরা সন্তান হারিয়েছেন, যেসব সন্তান তাঁদের প্রিয়জন হারিয়েছেন, যেসব পরিবার স্বজন হারিয়েছে এবং যেসব আহত মানুষ স্বাভাবিক জীবন হারিয়েছেন, তাঁদের অবদান তিনি কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করেন। তিনি আরও বলেন, নির্যাতন, নিপীড়ন, রাজনৈতিক হয়রানি কিংবা মিথ্যা মামলার শিকার হয়ে যারা সর্বস্ব হারিয়েছেন, দেশের ছাত্র-জনতা, কৃষক, শ্রমিক, শিক্ষক, কবি, সাহিত্যিক, সাংবাদিক, চিকিৎসক, প্রকৌশলী, আইনজীবী, কামার-কুমার, জেলে-তাঁতি, গাড়িচালক, ব্যবসায়ী, সরকারি-বেসরকারি চাকরিজীবী, গৃহিণীসহ দেশের সর্বস্তরের মানুষ যারা গুম, খুন, হত্যা, নির্যাতন, নিপীড়ন এবং মিথ্যা হামলা-মামলার শিকার হয়েছেন কিংবা জীবন্ত মানুষ কবরস্থানের মতো বর্বর বন্দিশালা ‘আয়নাঘর’-এর মতো পরিস্থিতির মধ্যেও যাদের গণতান্ত্রিক আকাঙ্ক্ষাকে রুখে দেওয়া যায়নি, তাদের সাহসী ভূমিকায় দেশে পুনরায় গণতন্ত্র ফিরে এসেছে। প্রধানমন্ত্রী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের এই যাত্রালগ্নে দেশের স্বাধীনতাপ্রিয় গণতান্ত্রিক বীর ছাত্র-জনতাকে অভিনন্দন জানান। ভাষণে তিনি বলেন, দেশনেত্রী মরহুমা খালেদা জিয়া জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠায় দেশে সংসদীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেছিলেন এবং সেটিকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিয়েছিলেন। কিন্তু পরে সেই গণতন্ত্রকে প্রহসনে পরিণত করে জাতীয় সংসদকে হাস্যরসের খোরাকে পরিণত এবং দেশে তাঁবেদারি শাসন-শোষণ কায়েম করা হয়। তিনি বলেন, দেশের সংসদীয় গণতন্ত্র ও জনগণের অধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠার জন্য বেগম খালেদা জিয়া জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত লড়াই করেছেন এবং জীবনে কখনো স্বৈরাচার কিংবা ফ্যাসিবাদের সঙ্গে আপস করেননি। আজ থেকে দেশে আবারও সেই কাঙ্ক্ষিত সংসদীয় গণতন্ত্রের যাত্রা শুরু হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, সংসদীয় রাজনীতির প্রতিষ্ঠাতা বেগম খালেদা জিয়া দেশ ও জনগণের এই সাফল্যের মুহূর্তটি দেখে যেতে পারেননি। তাই জাতীয় সংসদে দাঁড়িয়ে তিনি দেশ ও জনগণের স্বার্থে আপসহীন নেতৃত্বের অধিকারী, স্মরণীয় ও অনুকরণীয় রাজনীতিবিদ মরহুমা খালেদা জিয়াকে গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন। তিনি বলেন, দেশে বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রবক্তা, স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান বলেছিলেন—‘জনগণই যদি রাজনৈতিক দল হয়, তাহলে আমি সেই দলেই আছি’। অর্থাৎ ব্যক্তি বা দলের স্বার্থ নয়, জনগণের স্বার্থই সবচেয়ে বড়—এটাই বিএনপির রাজনীতি। প্রধানমন্ত্রী বলেন, তিনি প্রথমবারের মতো বিএনপি থেকে জাতীয় সংসদ সদস্য এবং সংসদীয় দলের নেতা নির্বাচিত হয়েছেন। তিনি বলেন, জাতীয় সংসদে দলের প্রতিনিধিত্ব করলেও প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তিনি দেশের প্রতিনিধিত্ব করছেন এবং দল-মত, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে দেশের জনগণের প্রতিনিধিত্ব করছেন। তিনি বলেন, তাঁর রাজনীতি দেশ ও জনগণের স্বার্থ রক্ষার রাজনীতি। বিএনপির রাজনীতি জনগণের জীবনমান উন্নয়ন এবং স্বনির্ভর বাংলাদেশ গড়ার রাজনীতি। প্রতিটি পরিবারকে স্বনির্ভর করাই তাঁদের রাজনীতির লক্ষ্য। প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রতিটি পরিবারকে স্বনির্ভর করার মাধ্যমেই বিএনপি একটি স্বনির্ভর, সমৃদ্ধ, নিরাপদ ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করতে চায়। এই লক্ষ্য অর্জনে তিনি গণতান্ত্রিক জনগণের সমর্থন ও সহযোগিতা কামনা এবং জাতীয় সংসদের সকল দলের নির্বাচিত সদস্যদের সমর্থন প্রত্যাশা করেন। তিনি বলেন, দল বা মত কিংবা কর্মসূচি ভিন্ন হতে পারে, কিন্তু তাঁবেদারমুক্ত, ফ্যাসিবাদমুক্ত, স্বাধীন, সার্বভৌম, নিরাপদ ও স্বনির্ভর বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে কোনো বিরোধ থাকতে পারে না। প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাতীয় সংসদকে জাতীয় কর্মকাণ্ডের কেন্দ্রবিন্দু না করে বিতাড়িত ফ্যাসিস্ট সরকার সংসদকে অকার্যকর করে ফেলেছিল। তিনি বলেন, নতুন সংসদের যাত্রা শুরু করার সময় সংসদের সাবেক স্পিকার কিংবা ডেপুটি স্পিকার উপস্থিত থাকার কথা থাকলেও পতিত ও পরাজিত সরকারের জনবিরোধী কর্মকাণ্ডের কারণে সৃষ্ট জনরোষের ফলে তাদের খুঁজে পাওয়া যায়নি। তাদের কেউ কারাগারে, কেউ নিখোঁজ কিংবা কেউ পলাতক রয়েছে। তিনি বলেন, দীর্ঘ দেড় দশকের ফ্যাসিবাদী ও তাঁবেদারি শাসন-শোষণের পর জনগণের ভোটে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের নিয়ে এক বিশেষ পরিস্থিতিতে জাতীয় সংসদের কার্যক্রম শুরু হচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে সংবিধান ও সংসদের কার্যপ্রণালি বিধির বিধান অনুসরণ করে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে সভাপতিত্ব করার জন্য তিনি প্রবীণ রাজনীতিবিদ ও পাঁচবারের নির্বাচিত জাতীয় সংসদ সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেনের নাম প্রস্তাব করেন। তিনি বলেন, সংসদীয় রীতিনীতির ইতিহাসে এ ধরনের পরিস্থিতি নজিরবিহীন নয়। ১৯৭৩ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ মুজিবুর রহমান ওই সংসদের সদস্য মাওলানা আব্দুর রশিদ তর্কবাগীশের নাম প্রস্তাব করেছিলেন এবং তার সভাপতিত্বে বাংলাদেশের প্রথম সংসদের প্রথম অধিবেশন শুরু হয়েছিল।
স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, মব জাস্টিস নিয়ন্ত্রণ করা হবে। আইনশৃঙ্খলা যতটুকু খারাপ ছিল, এটাকে ইমপ্রুভ করার চেষ্টা করতেই হবে। বুধবার (১৮ জানুয়ারি) সচিবালয়ে সরকার গঠনের পর প্রথম কর্মদিবসে এসে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন। এই সময়ের চ্যালেঞ্জ, সরকারের চ্যালেঞ্জটা কী, জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘চ্যালেঞ্জ নিয়ে এসছি আমরা। চ্যালেঞ্জটা হচ্ছে— টু বিল্ড দ্য নেশন (দেশকে গড়ে তোলা)। আমাদের প্রধানমন্ত্রী, যিনি আমাদের এখন নেতৃত্ব দিচ্ছেন, তার প্রথম কথাটি ছিল বাংলাদেশের জন্য, আই হ্যাভ এ প্ল্যান (আমার একটা পরিকল্পনা আছে)। সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করার জন্য তিনি তার মন্ত্রিসভা গঠন করেছেন। মন্ত্রিসভা তার পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করবে, বাংলাদেশের মানুষের সমস্যাগুলো সমাধান করার চেষ্টা করবে এবং বাংলাদেশকে এগিয়ে নিয়ে যাবে সামনের দিকে।’ ফখরুল বলেন, ‘ডেমোক্রেসি হচ্ছে আমাদের প্রধান... ইনগ্রেডিয়েন্ট (উপাদান), যাকে নিয়ে আমরা সামনে এগোচ্ছি। অর্থাৎ আমাদের সবকিছুর মধ্যেই গণতন্ত্র থাকবে। আমরা সেই গণতন্ত্রকে বিশ্বাস করি। বিশেষ করে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়, এটার পুরোপুরি মানুষের সঙ্গে সম্পর্ক, একেবারে গ্রাসরুট (তৃণমূল) মানুষের সঙ্গে। আমার একটা অ্যাডভান্টেজ আছে, আমি কিন্তু একসময় নিজে লোকাল গভর্নমেন্টে ছিলাম।’ ‘তো আমরা এই জিনিসগুলো সম্পর্কে কিছু ধারণা রাখি। আমি বিশ্বাস করি যে আপনাদের এই মন্ত্রণালয়কে অত্যন্ত ডাইনামিক (গতিময়) একটা মন্ত্রণালয়ে পরিণত করতে পারব। মানুষের যে সমস্যাগুলো আছে, সেই সমস্যাগুলো নিয়ে আমরা কাজ করতে পারব।’ দেশের ‘আইনশৃঙ্খলা, অর্থনীতি ও পররাষ্ট্রনীতি ভঙ্গুর’ দাবি করে সাংবাদিকদের প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘না না, অতটা খারাপ না। আপনারা যতটা খারাপভাবে দেখছেন, অতটা খারাপ না। আমাদের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি আগের চেয়ে অনেক ইমপ্রুভ (উন্নত) হয়েছে। অর্থনীতি, ম্যাক্রো ইকোনমিক স্ট্যাবিলিটি (ব্যাষ্টিক অর্থনীতির স্থিতিশীলতা) এটা অনেক ফিরে এসেছে। ব্যাংক তো অনেকটা কন্ট্রোলে এসেছে। এগুলো তো ধ্বংস হয়ে গিয়েছিল। আমরা মনে করি, সবার সমন্বিত প্রচেষ্টায় এটাকে আরও ভালো করতে পারব।’ ‘গেল দেড় বছর ব্যাপক মবজাস্টিস হয়েছে,’ এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিএনপির মহাসচিব বলেন, ‘অবশ্যই। এটাকে নিয়ন্ত্রণ করা হবে। আইনশৃঙ্খলা যতটুকু খারাপ ছিল, এটাকে ইমপ্রুভ করার চেষ্টা করতেই হবে। একটা বড় ঝড় গেছে আমাদের। একটা বিপ্লব হয়েছে, বিদ্রোহ হয়েছে, গণঅভ্যুত্থান হয়েছে। এসব মুহূর্তের মধ্যে সব ঠিক হয়ে যাবে, এটা মনে করার কারণ নেই। এক-দেড় বছর আমরা পার হয়েছি একটা ইন্টারিম গভর্নমেন্টের অধীনে। তারা একটা ইলেকশন দিয়ে গেছে। ইলেকশন করে একটা গভর্নমেন্ট হয়েছে, ইলেকটেড গভর্নমেন্ট হয়েছে। এটাই তো একটা বড় অ্যাচিভমেন্ট (অর্জন)। আমি তো মনে করি, দ্যাটস অলসো এ ভেরি বিগ অ্যাচিভমেন্ট (এটা একটা ভালো অর্জন)।’ ‘আওয়ামীলীগ বিহীন’ নির্বাচন অন্তর্ভুক্তিমূলক হয়েছে কিনা, প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘না, এটা কিন্তু জাতীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে সবাই বলছে, এটা ইনক্লুসিভ ইলেকশন (অন্তর্ভুক্তিমূলক নির্বাচন) হয়েছে। এবং এটা ইনক্লুসিভ ইলেকশন হয়েছে বলেই আজকে এটা একসেপ্টেবল টু অল (গ্রহণযোগ্য) হয়েছে, সকলের কাছে।’ আওয়ামী লীগের বিষয়ে সরকারের সিদ্ধান্ত কী হবে, প্রশ্নে মন্ত্রী বলেন, ‘এটা আমরা পলিটিক্যালি পরে আপনাদের জানাব। আমাদের গভর্নমেন্টের আলোচনার পরে জানাব।’ অন্তর্বর্তী সরকারের কার্ক্রম নিয়ে শ্বেতপত্র প্রকাশ করবেন কিনা, জানতে চাইলে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘প্রয়োজন নেই। কারণ তারা একটা বিশেষ মুহূর্তে দায়িত্ব নিয়েছে। সেই সময়, আমি মনে করি, আমার দলও মনে করে যতটুকু প্রয়োজন ছিল, তারা সেই কাজের সিংহভাগ করতে পেরেছে। মূল সমস্যাটা কী ছিল? ট্রানজিশন টু ডেমোক্রেসি। সেটা তো তারা করে দিয়ে গেছে। সুতরাং ইউ মাস্ট গিভ ক্রেডিট টু দেম (তাদের সেই কৃতিত্ব)। দিতেই হবে। তারা অনেক ভালো কাজ করেছে।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, শহীদদের আকাঙ্ক্ষার বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যেই তার সরকারের কাজ শুরু হয়েছে। বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) বেলা ১১টার দিকে সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধে মুক্তিযুদ্ধের বীর শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে পরিদর্শন বইয়ে লিখিত মন্তব্যে তিনি এ কথা জানান। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার পরদিনই তিনি জাতীয় স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। পরে স্মৃতিসৌধের পরিদর্শন বইয়ে স্বাক্ষর করে নিজের অনুভূতি ব্যক্ত করেন। পরিদর্শন বইয়ের মন্তব্যে প্রধানমন্ত্রী লেখেন, বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম। ফ্যাসিবাদী শাসন-শোষণের অবসানের পর একটি অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে গণতন্ত্রকামী জনগণের সরাসরি ভোটে নির্বাচিত হয়ে দেশের জনগণ গণতন্ত্রের পথে নতুন যাত্রা শুরু করেছে। আলহামদুলিল্লাহ। আমি আল্লাহর দরবারে শুকরিয়া জানাই। তিনি আরও লেখেন, বাংলাদেশের নবনির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নবগঠিত মন্ত্রিসভাসহ আমি ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের বীর শহীদদের প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা নিবেদন করছি, যাদের আত্মত্যাগে আমাদের স্বাধীন বাংলাদেশ। ১৯৭১ সালের স্বাধীনতা অর্জনের যুদ্ধ থেকে শুরু করে ২০২৪ সালে দেশ ও জনগণের স্বাধীনতা রক্ষার সংগ্রামসহ দেশের ইতিহাসে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার আন্দোলনের সকল শহীদদের প্রতিও আমি গভীর শ্রদ্ধা জানাই। প্রধানমন্ত্রী বলেন, শহীদদের আকাঙ্ক্ষা ছিল একটি নিরাপদ, মানবিক, গণতান্ত্রিক, স্বাধীন ও সার্বভৌম বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা। সেই লক্ষ্য বাস্তবায়নেই তাঁর সরকার কাজ শুরু করেছে। তিনি আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করেন, যেন জনগণের সামনে ঘোষিত প্রতিটি কর্মসূচি বাস্তবায়নে সরকার তৌফিক লাভ করে এবং সকল শহীদের মাগফিরাত কামনা করেন। এদিকে প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিপরিষদের সদস্যদের আগমনকে কেন্দ্র করে স্মৃতিসৌধ এলাকায় তিন স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়। পুলিশ, র্যাব ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা সমন্বিতভাবে দায়িত্ব পালন করেন। মহাসড়কে বাড়ানো হয় গোয়েন্দা নজরদারি। ডগ স্কোয়াড ও বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিট মহড়া দেয়। পুরো স্মৃতিসৌধ এলাকা সিসিটিভি ক্যামেরার আওতায় আনা হয়। উল্লেখ্য, মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন।
একটা অনির্বাচিত সরকারের হাত থেকে দেশকে গণতন্ত্রায়নের পথে নিয়ে যেতে সশস্ত্রবাহিনীর (সেনা, নৌ ও বিমানবাহিনী) সদস্যরা যে ভূমিকা রেখেছেন তা ইতিহাসে অবস্মরণীয় হয়ে থাকবে, বলছেন দেশের আপামর সচেতন মানুষ। সর্বস্তরের মানুষের প্রশংসায় ভাসছেন এখন সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যরা। বিশেষ করে সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান। তাঁর বিশেষ প্রচেষ্টায় এবং নেতৃত্বেই ঐতিহাসিক এক অকল্পনীয় অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলো, দেশে ফিরে এলো গণতন্ত্র। প্রতিটি সাধারণ-সচেতন মানুষ এমন সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের প্রশংসা করছেন। ৫ আগস্ট, ২০২৪ এর পরে মানুষ সুশাসন, ন্যায় প্রতিষ্ঠা এবং পরিবর্তনের যে স্বপ্ন দেখেছিল তা ধুলিস্মাৎ করে দিয়েছেন ড. মুহাম্মদ ইউনূস। মানুষেকে হতাশ করেছেন। যে কারণে মানুষ নতুন করে স্বপ্ন দেখছিল অনির্বাচিত সরকারের পরিবর্তে নতুন একটি সুষ্ঠু গণতান্ত্রিক পরিবেশের। কিন্তু ড. ইউনূস ক্ষমতা ছাড়াতও কোনো ক্রমেই রাজি হচ্ছিলেন না। রাজনৈতিক দলগুলোর রোডম্যাপের দাবিকে তিনি বার বারই এড়িয়ে যাচ্ছিলেন। সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামানই প্রথম এক বক্তৃতায় ঘোষণা করেন, ১৮ মাসের মধ্যে নির্বাচনে সেনাবাহিনী সরকারকে সহযোগিতা করবে। তাক্ষণিকভাবে সরকারের তরফ থেকে সেনাপ্রধানের এই বক্তব্যের বিরোধিতা করা হয়। কিন্ত জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান তাঁর লক্ষ্যে অটল থাকেন। অনেকে বিভিন্ন সময়ে প্রকাশ্যে-অপ্রকাশ্যে এও গুজব ছড়িয়েছে, ‘আর্মি ক্ষমতা টেকওভার করছে।’ কোনো কোনো মহল থেকে এ ব্যাপারে নেপথ্যে উস্কানিও দেওয়া হয়েছে। এত কিছু সত্ত্বেও ওয়াকার উজ জামান অত্যন্ত ধৈর্য্যরে সঙ্গে পরিস্থিতি মোকাবেলা করেছেন। গণতন্ত্রায়নের পথে ছিলেন অবিচল। গত বছরের মে মাসে সেনাপ্রধানের নেতৃত্বে তিন বাহিনীর প্রধানরা যমুনায় ড. ইউনূসের সাক্ষাত করে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠানের জোর দাবি জানান। এসবের কারণেই মূলতঃ ড. মুহাম্মদ ইউনূস বাধ্য হন লন্ডনে তারেক রহমানের সঙ্গে বৈঠক ও নির্বাচন আয়োজনের সমঝোতায় যেতে। কিন্তু লন্ডন বৈঠকের সমঝোতায়ও ড. ইউনূস পরবর্তীতে ঠিক থাকতে চাননি। একেক সময় একেক কথা বলেছেন। জামায়াত-এনসিপির নির্বাচন বিরোধী ভূমিকায় নেপথ্য থেকে তা দিয়েছেন। নানামুখী চাপে পড়ে অবশেষে ৫ আগস্ট, ২০২৫ বাধ্য হয়ে তিনি জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময় নির্ধারণের কথা ঘোষণা করেন। এর ধারাবাহিকতায় নির্বাচনের রোডম্যাপ প্রকাশ ও পরবর্তীতে তফসিল ঘোষণা হয়। তবে বরাবরই এমনকি নির্বাচন হয়ে যাওয়ার মুহূর্তেও দফায় দফায় বিভ্রান্তি ছড়ানো হয়েছে নির্বাচন নিয়ে। অনিশ্চয়তা, গুজব ও নেতিবাচক প্রচার-প্রচারণার মাধ্যমে নির্বাচন বানচালের চেষ্টা করা হয়েছে। এতসব বাধা অতিক্রম করে কল্পনাতীত অবাধ, সুষ্ঠু-নিরপক্ষে পরিবেশে নির্বাচন হয়ে গেলো। ‘কল্পনাতীত’ বলা হচ্ছে এ কারণে যে, তফসিল ঘোষণার পরদিনই ওসমান হাদী হত্যাকাণ্ডকে কেন্দ্র করে সারা দেশ উত্তাল হয়ে উঠে। তখনই মনে করা হয়েছিল, নির্বাচনকে কেন্দ্র করে কত ঘটনা যে ঘটবে এর ইয়ত্তা নেই। বিশেষ করে নির্বাচনের দিনকে সামনে রেখে সর্বমহলেরই বড় আশংকা ছিল। সব আশংকা এবং জল্পনা-কল্পনাকে মিথ্যা প্রমাণ করে অবাধ ও সুষ্ঠু পরিবেশের মধ্য দিয়ে এক ঐতিহাসিক নির্বাচন হয়ে গেছে। এত বাধা-বিঘ্ন দূর করে দেশকে নির্বাচনের দিকে নিয়ে যাওয়া এবং শেষ পর্যন্ত একটি ঐতিহাসিক নির্বাচন উপহার দেওয়ার প্রধান কৃতিত্ব জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামানেরই। বিশ্বে এবং বাংলাদেশেও অতীতে বিভিন্ন সময়ে দেখা গেছে, সেনাবাহিনীর ভূমিকা থাকে গণতন্ত্র বিরোধী। নিজেদের কর্তৃত্ব এবং ক্ষমতা গ্রহণের প্রতি আগ্রহ থাকে। বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর বর্তমান নেতৃত্বের এ ক্ষেত্রে নতুন নজির স্থাপন করলো। বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খান (মাঝে) এবং নৌবাহিনী প্রধান এডমিরাল এম নাজমুল হাসানেরও এতে ভূমিকা রয়েছে। সশস্ত্রবাহিনীর প্রধান হিসেবে সেনাপ্রধান ওয়াকার উজ জামানের আন্তরিকতা, উদ্যোগ ও একাগ্রতা বিশেষভাবে প্রশংসার দাবিদার। নির্বাচনের পর বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিনি প্রশংসায় ভাসছেন। অনেকে বলছেন, এই মানুষটি বাংলাদেশের ইতিহাসে অবিস্মরণীয় হয়ে থাকবেন। গণতন্ত্রের প্রহরী হিসেবে তাঁর নাম শ্রদ্ধার সঙ্গে উচ্চারিত হবে। সম্ভাব্য এক গৃহযুদ্ধের দুঃস্বপ্ন থেকে দেশকে রক্ষা করার কৃতিত্ব তাঁরই। ইতিহাস রচনা করে গেলেন তিনি। সেনাপ্রধানসহ সশস্ত্র বাহিনীর প্রতিটি সদস্যের প্রতি স্যালুট জানাচ্ছে মানুষ।
ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন ও গণভোট শঙ্কামুক্ত ও বিশ্বাসযোগ্য করতে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ‘সম্পূর্ণ দৃঢ়প্রতিজ্ঞ’ বলে পুনর্ব্যক্ত করেছেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। পাশাপাশি এই ভোট যেন তরুণসহ সব ভোটারদের কাছে উৎসবমুখর গণতান্ত্রিক অভিজ্ঞতায় পরিণত হয় তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব সবার বলেও স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন তিনি।বুধবার নির্বাচন উপলক্ষে দেওয়া বাণীতে ইউনূস বলেন, এ নির্বাচন আয়োজনের ক্ষেত্রে আমাদের বিশেষভাবে স্মরণ রাখতে হবে যে, দেশের বিপুলসংখ্যক তরুণ নাগরিক এবারই প্রথম তাদের সাংবিধানিক ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ পাচ্ছেন। একই সঙ্গে পূর্ণবয়স্ক অনেক নাগরিকও দীর্ঘদিন ধরে প্রকৃত অর্থে ভোট প্রদানের সুযোগ থেকে বঞ্চিত ছিলেন। তাই এ গণভোট ও জাতীয় সংসদ নির্বাচন যেন প্রতিটি ভোটারের কাছে একটি আনন্দময়, শঙ্কামুক্ত, বিশ্বাসযোগ্য ও উৎসবমুখর গণতান্ত্রিক অভিজ্ঞতায় পরিণত হয়-তা নিশ্চিত করা আমাদের সকলের নৈতিক ও সাংবিধানিক দায়িত্ব। এ লক্ষ্য অর্জনে বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার সম্পূর্ণ দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। তিনি এ নির্বাচনকে ‘দীর্ঘ সময় ধরে ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত’ জাতির জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে যে গণতান্ত্রিক আকাঙ্ক্ষা ও আত্মমর্যাদার ঘোষণা দিয়েছিল সে ‘আকাঙ্ক্ষার চূড়ান্ত’ ও ‘প্রাতিষ্ঠানিক বহিঃপ্রকাশ’ হিসেবেও দাবি করেন।জনগণের উদ্দেশে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, আমি আশা করি, গণভোটের মাধ্যমে বাংলাদেশের জনগণ ভবিষ্যৎ রাষ্ট্রকাঠামো ও শাসনব্যবস্থা সম্পর্কে তাদের সুস্পষ্ট মতামত ব্যক্ত করবেন এবং জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে সেই মতামত বাস্তবায়নের জন্য যোগ্য, দায়বদ্ধ ও জনআকাঙ্ক্ষার প্রতি শ্রদ্ধাশীল জনপ্রতিনিধি নির্বাচন করবেন। এভাবে জনগণ সরাসরি রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব গ্রহণে অংশীদার হবেন। তিনি নির্বাচন উপলক্ষে দেশবাসীকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, এ যুগান্তকারী গণভোট ও জাতীয় সংসদ নির্বাচন বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক অনন্য ও তাৎপর্যপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত হবে। এটি শুধু একটি নির্বাচন বা সাংবিধানিক প্রক্রিয়া নয়; বরং দেশের ভবিষ্যৎ রাষ্ট্রব্যবস্থা, গণতান্ত্রিক ধারা ও জনগণের সার্বভৌম ইচ্ছার প্রতিফলনের এক গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণ।
নিরাপদ, গণতান্ত্রিক ও জবাবদিহিমূলক বাংলাদেশ গঠনে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দেশবাসীর সমর্থন চেয়েছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) চেয়ারম্যান তারেক রহমান। একই সঙ্গে অতীতে রাষ্ট্র পরিচালনায় অনিচ্ছাকৃত ভুল-ত্রুটির জন্য তিনি দেশবাসীর কাছে আন্তরিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করেছেন। জাতির উদ্দেশ্যে দেওয়া প্রায় ৩৭ মিনিটের ভাষণে তারেক রহমান বলেন, বিদেশে অবস্থানকালীন সময় শেষ করে দেশে ফিরে স্বল্প সময়ের মধ্যেই তিনি জনগণের কাছে পৌঁছানোর চেষ্টা করেছেন এবং সর্বত্র বিএনপির প্রতি মানুষের ভালোবাসা ও আবেগ অনুভব করেছেন। তিনি বলেন, “১২ ফেব্রুয়ারি বিএনপির প্রতি আপনাদের ভালোবাসা প্রকাশের দিন।” অতীত প্রসঙ্গে তিনি বলেন, জনগণের সমর্থনে বিএনপি একাধিকবার রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পালন করেছে। তবে দেশ পরিচালনার সময় কিছু ক্ষেত্রে অনিচ্ছাকৃত ভুল হয়ে থাকতে পারে উল্লেখ করে তিনি বলেন, “সেসব ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে অর্জনগুলোকে ভিত্তি করে বর্তমান ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি নিরাপদ বাংলাদেশ গড়তে চাই।” ধানের শীষ প্রতীকে ভোট চেয়ে বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, জনগণের কাছে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা ছাড়া রাষ্ট্র পরিচালনার কোনো বিকল্প নেই। দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা এবং সরকারকে জনগণের কাছে দায়বদ্ধ রাখার অঙ্গীকার করেন তিনি। তার ভাষায়, “বিএনপি সরকার যতটা সম্ভব দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর হবে। এটি আমার অঙ্গীকার, বিএনপির অঙ্গীকার।” ২০২৪ সালের ৭ জানুয়ারির নির্বাচনের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ফ্যাসিবাদী আমলে অনুষ্ঠিত তথাকথিত ডামি নির্বাচনে জনগণকে ভোটকেন্দ্রে না যাওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছিল। তবে এবার ফ্যাসিবাদমুক্ত বাংলাদেশে অনুষ্ঠিত জাতীয় নির্বাচনে সবাইকে ধানের শীষে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। বিশেষ করে তরুণ ভোটারদের উদ্দেশে বলেন, “তারুণ্যের প্রথম ভোট ধানের শীষের জন্য হোক।” তারেক রহমান বলেন, নির্বাচিত প্রতিনিধিরা জনগণের দায়িত্ব ঠিকভাবে পালন করছেন কি না, তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব তিনি নিজেই নেবেন। তিনি আরও বলেন, বিএনপি রাষ্ট্র পরিচালনার সুযোগ পেলে মহানবীর ন্যায়পরায়ণতার আদর্শ হবে দলের মূল মন্ত্র। ধর্মীয় সহনশীলতার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বিএনপি এমন একটি বাংলাদেশ গড়তে চায় যেখানে মুসলমান, হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টানসহ সব ধর্মের মানুষ নিরাপদে বসবাস করবে। তিনি বলেন, “ধর্ম যার যার, রাষ্ট্র সবার—এটাই একটি আধুনিক সভ্য সমাজের ভিত্তি।” শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার অবদানের কথা তুলে ধরে তারেক রহমান বলেন, দেশের স্বার্থে আপোষ না করেই তারা রাজনীতি করেছেন। খালেদা জিয়া জেল-জুলুম সহ্য করেও দেশের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেননি বলে মন্তব্য করেন তিনি। প্রশাসনিক সংস্কার প্রসঙ্গে বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, প্রশাসনের দলীয়করণ নয়, মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে পদোন্নতি নিশ্চিত করা হবে। জাতীয় পে-স্কেল বাস্তবায়নসহ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি। এ সময় বিএনপির ইশতেহারে ঘোষিত ফ্যামিলি কার্ড, কৃষি কার্ড, বেকার ভাতা, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, প্রবাসী কার্ড ও বিদেশে চাকরি পেতে আর্থিক সহায়তা প্রদানের পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন তিনি। সংবিধানে ‘সর্বশক্তিমান আল্লাহর ওপর পূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাস’ পুনঃস্থাপনের অঙ্গীকার করে তারেক রহমান বলেন, জনগণের রায়ে বিএনপি সরকার গঠন করলে এই বিষয়টি পুনরায় সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত করা হবে। ভাষণের শেষাংশে তিনি বলেন, “ধানের শীষের বিজয় মানেই বাংলাদেশের বিজয়। স্বাধীন, সার্বভৌম ও তাবেদারমুক্ত বাংলাদেশ গড়তে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ধানের শীষে ভোট দিন।”
বাংলাদেশে চলমান রাষ্ট্রীয় সংস্কার কার্যক্রমের সারসংক্ষেপ তুলে ধরে একটি বই প্রকাশ করেছে অন্তর্বর্তী সরকার। রবিবার (৮ ফেব্রুয়ারি) বইটি প্রকাশ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং। প্রেস উইং জানায়, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট স্বৈরাচারী শাসনের বিরুদ্ধে ‘যথেষ্ট হয়েছে’ স্লোগানে রাস্তায় নেমে আসা লাখ লাখ বাংলাদেশির সাহস ও ত্যাগের মধ্য দিয়েই দেশের রাজনৈতিক রূপান্তরের সূচনা ঘটে। টানা প্রায় ষোল বছর শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকারের ফ্যাসিবাদী দমন-পীড়নের বিরুদ্ধে জনতার সেই অভ্যুত্থান থেকেই জুলাই বিদ্রোহের জন্ম হয়। এরই ধারাবাহিকতায়, গভীর অর্থনৈতিক, প্রাতিষ্ঠানিক ও গণতান্ত্রিক সংকটের মুখে প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে গঠিত হয় অন্তর্বর্তী সরকার। দায়িত্ব গ্রহণের সময় রাষ্ট্রব্যবস্থা ছিল ব্যাপক দুর্নীতি, দুঃশাসন ও প্রতিষ্ঠানিক ভাঙনের ভারে ন্যুব্জ। বছরের পর বছর ধরে চলা দুর্নীতিতে সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো ফাঁপা হয়ে পড়ে। শত শত বিলিয়ন ডলার বিদেশে পাচার হয়, অনুৎপাদক ঋণে পঙ্গু হয়ে যায় ব্যাংকিং খাত। কেন্দ্রীয় ব্যাংকসহ নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলো রাজনৈতিক ও ব্যক্তিগত স্বার্থের অধীনস্থ হয়ে পড়ে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী রাজনৈতিক দমন-পীড়নের হাতিয়ারে পরিণত হয় এবং বিচার বিভাগ পড়ে যায় দুর্নীতি ও রাজনৈতিক হস্তক্ষেপের জালে। এর ফলে জনগণ ভোটাধিকার হারায়, ভোটারবিহীন নির্বাচন নিয়মে পরিণত হয় এবং গণমাধ্যম ও নাগরিক সমাজ কার্যত নিস্তব্ধ হয়ে পড়ে। এই ধ্বংসস্তূপ থেকে দেশকে পুনর্গঠনের লক্ষ্যে অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পরপরই বিভিন্ন সেক্টরে সংস্কার কার্যক্রম শুরু করে। সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রের বিশেষজ্ঞদের নিয়ে গঠন করা হয় একাধিক সংস্কার কমিশন, যারা খাতভিত্তিক সুপারিশ প্রদান করে। গত ১৮ মাসে অন্তর্বর্তী সরকার প্রায় ১৩০টি আইন (নতুন ও সংশোধিত) প্রণয়ন করেছে এবং ৬০০টির বেশি নির্বাহী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। এসব সিদ্ধান্তের প্রায় ৮৪ শতাংশ ইতোমধ্যে বাস্তবায়িত হয়েছে—যা কাগুজে পরিবর্তনের পরিবর্তে কার্যকর সংস্কারের প্রতিফলন বলে উল্লেখ করেছে সরকার। অর্থনীতি ও বৈদেশিক সম্পর্কেও উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জিত হয়েছে। জাপানের সঙ্গে অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তির ফলে প্রায় ৭ হাজার ৪০০ বাংলাদেশি পণ্য শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার পেয়েছে। চীনের সঙ্গে কৌশলগত সহযোগিতায় ঋণের পরিশোধ সময়সীমা বৃদ্ধি, স্বাস্থ্যসেবা অবকাঠামো উন্নয়ন এবং বন্যা পূর্বাভাস ব্যবস্থার উন্নতি হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে পারস্পরিক শুল্ক ৩৭ শতাংশ থেকে কমিয়ে ২০ শতাংশে নামানো হয়েছে। পাশাপাশি ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক আরও ভারসাম্যপূর্ণ ও সম্মানজনক ভিত্তিতে পুনর্গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। জবাবদিহির ক্ষেত্রেও দৃশ্যমান অগ্রগতি হয়েছে। শত শত রাজনীতিবিদ ও কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দুর্নীতিবিরোধী মামলা হয়েছে এবং বিপুল পরিমাণ সম্পদ জব্দ করা হয়েছে। ব্যাংকিং খাতে কার্যকর তদারকি চালু করা হয়েছে, ৪২টি মন্ত্রণালয়ে স্বচ্ছ ক্রয় ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে এবং বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোকে পূর্ণ স্বায়ত্তশাসন দেওয়া হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সংস্কারে তদন্তাধীন ১ হাজার ২০০-এর বেশি কর্মকর্তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে এবং মানবাধিকারভিত্তিক প্রশিক্ষণ চালু করা হয়েছে। র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব) পুনর্গঠন করে এর নাম পরিবর্তন করে রাখা হয়েছে ‘স্পেশাল ইন্টারভেনশন ফোর্স’। বিচার বিভাগকে নির্বাহী হস্তক্ষেপ থেকে মুক্ত করে সুপ্রিম কোর্টের পূর্ণ প্রশাসনিক কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। বিচারক নিয়োগে মেধাভিত্তিক ও রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত প্রক্রিয়া চালু হয়েছে। একইসঙ্গে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলা প্রত্যাহার এবং পূর্বে নিষিদ্ধ গণমাধ্যমগুলোকে পুনরায় কার্যক্রম পরিচালনার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। অন্তর্বর্তী সরকার সাত মাসব্যাপী অন্তর্ভুক্তিমূলক রাজনৈতিক সংলাপ পরিচালনা করে, যা জাতীয় টেলিভিশনে সম্প্রচারিত হয়। এই সংলাপের ফল হিসেবে প্রণীত জুলাই সনদ সাংবিধানিক সংস্কারের মৌলিক দলিল হিসেবে গণভোটের অপেক্ষায় রয়েছে। বইটিতে উল্লেখ করা হয়, এই সংস্কার কার্যক্রম একটি পুনর্কল্পিত শাসনব্যবস্থার প্রথম ধাপ—যেখানে রাষ্ট্র নাগরিকদের ওপর আধিপত্য নয়, বরং তাদের সেবায় নিয়োজিত থাকবে। সরকার স্বীকার করেছে, ১৬ বছরের ক্ষতি ১৮ মাসে পূরণ করা সম্ভব নয়। তবে ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে জনগণের যে সাহসী অবস্থান, তা একটি গণতান্ত্রিক ভবিষ্যৎ নির্মাণের পথনির্দেশক হয়ে থাকবে।
অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের সম্পদ বিবরণী প্রকাশের পর সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী ও তার স্ত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদের হিসাব নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। এক বছরের ব্যবধানে স্বামী ফারুকীর সম্পদ কমলেও স্ত্রী তিশার সম্পদ বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে প্রকাশিত তথ্যে উঠে এসেছে এই চিত্র। প্রকাশিত খতিয়ান অনুযায়ী, জনপ্রিয় অভিনেত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদ এক বছরে অভাবনীয় হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তিশার মোট সম্পদের পরিমাণ ছিল ১ কোটি ৪০ লাখ ৮১ হাজার ৮৬০ টাকা। ঠিক এক বছর পর, ২০২৫ সালের ৩০ জুন সেই সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ৯৯ লাখ ৮৯ হাজার ৫০১ টাকায়। অর্থাৎ মাত্র এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ বেড়েছে ১ কোটি ৫৯ লাখ ৭ হাজার ৬৪১ টাকা, যা আগের বছরের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি। অন্যদিকে সংস্কৃতি উপদেষ্টা ও নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর ক্ষেত্রে দেখা গেছে উল্টো চিত্র। এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ কমেছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তার মোট সম্পদ ছিল ২ কোটি ২৬ লাখ ৯২ হাজার ২৬ টাকা। ২০২৫ সালের ৩০ জুন তা কমে দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ১৫ লাখ ১৮ হাজার ২৬ টাকায়। হিসাব অনুযায়ী, এক বছরে তার সম্পদ কমেছে ১১ লাখ ৭৪ হাজার টাকা। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে গত মঙ্গলবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ প্রধান উপদেষ্টা, উপদেষ্টা ও সমমর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের পাশাপাশি তাদের স্ত্রী বা স্বামীর সম্পদ বিবরণী প্রকাশ করে। একই সময়ে স্বামী-স্ত্রীর সম্পদে এমন ভিন্নমুখী পরিবর্তন স্বাভাবিকভাবেই সাধারণ মানুষের কৌতূহলের জন্ম দিয়েছে। শোবিজ অঙ্গনের জনপ্রিয় দম্পতি হওয়ায় তাদের এই আয়-ব্যয়ের হিসাব এখন টক অব দ্য কান্ট্রি।
বাসস : বাবা একজন তাঁত শ্রমিক। তিন বোন দুই ভাইয়ের মধ্যে সবার বড় রোজিনা। অভাব সংসার, তাই এক এতিম যুবকের সাথে বাবা-মা বিয়ে দেন তাকে। বিয়ের পর জন্ম হয় দুই কন্যা সন্তানের। অটোরিকশা চালিয়ে কোন রকম সংসার চালাচ্ছিলেন স্বামী রফিকুল ইসলাম। কিন্তু সড়ক দুর্ঘটনায় রফিকুলের এক চোখ সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যায়। আরেকটি চোখ আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ধীরে ধীরে ওই চোখের দৃষ্টি শক্তিও কমতে থাকে। ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে অটোরিকশা চালানো। সংসারের উপার্জনক্ষম মানুষটি অচল হয়ে পড়ায় চিকিৎসার খরচ, ঘর ভাড়া ও খাবারের পাশাপাশি মেয়েদের লেখাপড়ার খরচ চালানোই কঠিন হয়ে যায়। দিশেহারা হয়ে পরেন রোজিনা। এক পর্যায়ে মানুষের বাড়ি বাড়ি কাজ করে সংসার চালানোর চেস্টা করেন। কিন্তু সুবিধা করতে পারেন না। এমন পরিস্থিতিতে অটোরিকশা চালানোর সিদ্ধান্ত নেন তিনি। স্বামী রফিকুলের কাছেই হাতেখড়ি। গ্রামের স্কুলের মাঠে স্বামীর কাছেই অটোরিকশা চালানোর শিক্ষা নেন তিনি। পরে গ্রামের পথে নেমে পড়েন অটোরিকশা নিয়ে। ৫-৬ দিন এভাবে হাত পাকা করে একদিন টাঙ্গাইল শহরে চলে আসেন রোজিনা। এরপর শুরু করেন অটোরিক্সা চালানোর ব্যতিক্রমী জীবন সংগ্রাম। এখন টাঙ্গাইল পৌরসভায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার চালকদের মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা বেগম। জেলার বাসাইল উপজেলার আইসড়া গ্রামের বাসিন্দা রোজিনা টাঙ্গাইল পৌর শহরের এক প্রান্ত রাবনা বাইপাস থেকে আরেক প্রান্ত বেবিস্ট্যান্ডে যাত্রী আনা নেয়া করেন। যানজটের কারণে শহরে পুরুষ চালকরা যেখানে হিমসিম খায়, সেখানেই বিগত ৫ বছর ধরেই নির্বিঘেœ অটোরিকশা চালাচ্ছেন তিনি। টাঙ্গাইল পৌরসভা কার্যালয় সূত্রে জানা যাায়, টাঙ্গাইল শহরে চলাচলের জন্য ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক ও ৫ হাজার ব্যাটারিচালিত রিকশার অনুমতি (লাইসেন্স) দেওয়া হয়েছে। যানজট এড়াতে ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক জোড় ও বিজোড় সংখ্যায় দিনে দুই ভাগ করা হয়েছে। সকাল থেকে বেলা দুইটা পর্যন্ত এক ভাগ এবং বেলা দুইটা থেকে রাত পর্যন্ত আরেক ভাগের ইজিবাইক চলাচল করার নির্দেশনা দিয়েছে পৌর কর্তৃপক্ষ। কিন্তু রোজিনাকে দুই শিফটে চালানোর অনুমতি দিয়েছে পৌরসভা। সরেজমিনে দেখা যায়, নতুন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অটোরিকশা নিয়ে যাত্রী ডাকছেন রোজিনা। কলেজ গেট, পুরাতন বাসস্ট্যান্ড, ক্যাপসুল, নিরালা মোড়, বেবিস্ট্যান্ড সর্বত্রই যাত্রী আনানেয়া করেন তিনি। পুরাতন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অন্য অটো চালকদের দাঁড় করতে না দিলেও রোজিনাকে বাঁধা দেননা ট্রাফিক পুলিশ। বলতে গেলে সবাই তার প্রতি সহানুভুতিশীল। ট্রাফিক পুলিশসহ অন্য অটোচালকরাও তাকে সহযোগিতা করেন। রোজিনা বলেন, আমার অটোতে নারী যাত্রীরা খুব কম। তারা মনে করে আমার অটোতে উঠলে দুর্ঘটনায় পড়বে। কিন্তু আমি খুব সাবধানে অটো চালাই। দ্রুত গতিতেও না, আবার একেবারে ধীরগতিতেও না। এখন পর্যন্ত আমি কোন দুর্ঘটনার কবলে পড়ি নাই। শহরের পুরুষ অটোরিকশা চালকরা আমাকে অনেক সহযোগিতা করে। অটোচালক কাদের মিয়া বলেন, আমাদের শহরে কয়েক হাজার অটো চলাচল করে। তার মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। তাকে আমরা সব সময় সহযোগিতা করি। যাত্রী সাইদ মিয়া বলেন, আমি এ পর্যন্ত ৫-৬ বার রোজিনার অটোতে চড়েছি। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। অন্য পুরুষ অটো চালকের চেয়েও ভালো অটো চালান। নারী সংগঠক সেরাজুম মনিরা বলেন, তিনি অনেক দিন যাবত অটোরিকশা চালাচ্ছেন। আমি রোজিনাকে স্যালুট জানাই। একজন পুরুষের চেয়ে একজন নারী কোনো ভাবেই যে পিছিয়ে নেই, রোজিনা তা প্রমাণ করেছেন। রোজিনা বলেন, অটো চালানোর এই সিদ্ধান্তটি তার জন্য খুব সহজ ছিল না। তিনি বলেন, ৫ ও ১০ বছরের দুই মেয়েকে বাড়িতে রেখে অটোরিকশা নিয়ে সারাদিন রাস্তায় থাকতে হয়। তাদের ভালোভাবে দেখাশোনা করতে পারি না। কিন্তু কি করবো, অভাবের সংসার! এখন ঋণ নিয়ে একটু জমি কিনেছি। প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ণ প্রকল্পের অর্থায়নে প্রশাসন সেখানে ঘর তুলে দিয়েছে। শুরুতে যারা আমাকে নিয়ে ঠাট্টা করেছে এখন তারাই আমাকে সম্মান করেন। নারীরাও যে কিছু করতে পারে, তা প্রমাণ করেছি। আমার বড় মেয়ে আইসড়া উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়ে, ছোট মেয়ে পড়ে স্থানীয় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। মেয়েদের শিক্ষিত করতে হবে। ধার দেনা শোধ করতে হবে। তাই থেমে গেলো চলবে না। আমি অটোরিকশা চালিয়েই দুই সন্তানকে মানুষ করতে চাই।’ ঘারিন্দা ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য বাবুল সরকার বলেন, সরকার রোজিনাকে একটি ঘর নির্মাণ করে দিয়েছে। শুরুতে যারা তাকে নিয়ে নানান কথা বলতো, এখন তার সংকল্প ও মানষিক দৃঢ়তা দেখে থেমে গেছে। আমরা তাকে নিয়ে গর্ব করি। টাঙ্গাইলের ট্রাফিক ইন্সপেক্টর (প্রশাসন) দেলোয়ার হোসেন বলেন, শহরের একমাত্র নারী চালক রোজিনাকে কেউ যেন বিরক্ত করতে না পারে সেদিকে সব সময় নজর রাখে ট্রাফিক পুলিশ। আমরা তাকে সব সময় সহযোগিতা করে আসছি। টাঙ্গাইলের সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক শাহ আলম বলেন, বিষয়টি এখন জানতে পারলাম। ওই নারী এখনো পর্যন্ত আমাদের কাছে আসেন নাই। যদি আমাদের কাছে এসে আবেদন করেন অবশ্যই তাকে আমরা সহযেগিতা করবো, তার পাশে দাঁড়াবো।
২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশে আজ এক ঐতিহাসিক ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ২০০৮ সালের পর এই প্রথম একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হতে যাচ্ছে যেখানে দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগ রাজনৈতিক মানচিত্র থেকে কার্যত অনুপস্থিত। বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক জরিপ বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০০ আসনের মধ্যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) কার্যকর সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে যাচ্ছে। তবে ভোটের ব্যবধান এবং কিছু সমীকরণ নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। নির্বাচনের সবচেয়ে বড় নিয়ামক হয়ে দাঁড়িয়েছে আওয়ামী লীগের বিশাল ভোটব্যাংক। দলটির নিয়মিত প্রায় ৪ কোটি ভোটার এখন নতুন রাজনৈতিক আশ্রয় খুঁজছেন। সিআরএফ বা বিইপিওএস জরিপ বলছে, এই ভোটারদের প্রায় অর্ধেক বিএনপির দিকে ঝুঁকেছে, যা দলটিকে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতার পথে এগিয়ে দিচ্ছে। অন্যদিকে, প্রায় ৩০ শতাংশ আওয়ামী ভোটার জামায়াতে ইসলামীকে বেছে নিতে পারেন বলে আভাস পাওয়া যাচ্ছে। এছাড়া বাংলাদেশের বিদ্যমান নির্বাচনী ব্যবস্থার কারণে দেশজুড়ে সুষম জনসমর্থন থাকা বিএনপি আসন জয়ের ক্ষেত্রে জামায়াতের তুলনায় সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। তবে বিএনপির এই সম্ভাব্য জয়ের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও বিদ্রোহী প্রার্থীরা। প্রায় ৭৯টি নির্বাচনী এলাকায় দলের মনোনয়ন না পাওয়া ৯২ জন প্রভাবশালী নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, যা বিএনপির ১৫ থেকে ৩০টি আসন কমিয়ে দিতে পারে। অন্যদিকে, তরুণ ভোটার বা ‘জেন-জি’ প্রজন্মের বিশাল সমর্থন জামায়াতে ইসলামীর শক্তির উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেশের ৪৪ শতাংশ ভোটারই তরুণ, যাদের বড় একটি অংশ প্রথমবার ভোট দিচ্ছেন। এই তরুণরা যদি দলবেঁধে কেন্দ্রে উপস্থিত হন, তবে নির্বাচনী ফলে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। সবশেষে, প্রায় ১৭ থেকে ৩৫ শতাংশ দোদুল্যমান ভোটার এবং তাদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করবে আগামীর সরকার কতটা শক্তিশালী হবে। দ্য নিউইয়র্ক এডিটোরিয়ালের মূল পূর্বাভাস, তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি প্রায় ১৮৫টি আসনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করতে পারে এবং জামায়াতে ইসলামী ৮০টির মতো আসন পেয়ে প্রধান বিরোধী দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারে। তবে বিদ্রোহী প্রার্থীদের প্রভাব এবং তরুণ ভোটারদের উপস্থিতির ওপর ভিত্তি করে আসন সংখ্যায় বড় ধরনের হেরফের হওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। ৩৫০ একরের ঘাঁটিটিতে সামরিক বাহিনীর পাঁচ হাজার সদস্য থাকতে পারবে। গাজার ‘বোর্ড অব পিস’র নথি পর্যালোচনা করে এ তথ্য জানিয়েছে দ্য গার্ডিয়ান। প্রতিবেদনে ব্রিটিশ সংবাদ মাধ্যমটি জানিয়েছে, বোর্ড অব পিসে গাজাকে নিরাপদ করার জন্য ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যাবিলাইজেশন ফোর্স (আইএসএফ) নামে একটি আন্তর্জাতিক বাহিনী মোতায়েনের কথা বলা হয়েছে। যে স্থানটি ঘাঁটি করার জন্য বিবেচনা করা হচ্ছে সেখানে আইএসএফের সদস্যরা থাকবে। বোর্ড অব পিসের প্রধান হবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আর সংগঠনটির আংশিক নেতৃত্ব দেবেন ট্রাম্পের জামাতা জ্যারার্ড কুশনার।দ্য গার্ডিয়ান বোর্ড অব পিসের নথি পর্যালোচনা করে জানায়, ধাপে ধাপে একটি সামরিক ঘাঁটি নির্মাণ করা হবে। সবকিছু শেষ হলে ঘাঁটিটি ১৫ লাখ ১৭ হাজার ৫৭৫ বর্গমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত হবে। ঘাঁটিটির চারপাশে ট্রেইলার সংযুক্ত ২৬টি সাঁজোয়া নজরদারি টাওয়ার থাকবে। এছাড়া একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, বাংকার ও অস্ত্র রাখার গুদাম থাকবে। পুরো ঘাঁটিটি কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে ঘিরে রাখা হবে। সামরিক ঘাঁটি নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে দক্ষিণ গাজার একটি শুষ্ক সমতলভূমিতে। সেখানে ইসরায়েলি হামলার চিহ্ন রয়েছে। ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে বিভিন্ন ধাতবের ধ্বংসাবশেষ। ওই এলাকার ভিডিও পর্যালোচনা করেছে দ্য গার্ডিয়ান। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, ঘাঁটি নির্মাণের জন্য টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে। যুদ্ধক্ষেত্রে কাজের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন আন্তর্জাতিক নির্মাণ কোম্পানিগুলোর একটি ছোট দলকে ইতোমধ্যেই এলাকাটি দেখানো হয়েছে। ওই দলটি দরপত্রে অংশ নিতে আগ্রহী। ইন্দোনেশিয়া সরকার গাজায় আট হাজার সেনা সদস্য পাঠানোর জন্য প্রস্তাব দিয়েছে। বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটন ডিসিতে বোর্ড অব পিসের অনানুষ্ঠানিক বৈঠকে ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্টের অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। এছাড়া দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার আরও তিন নেতার ওই বৈঠকে অংশ নেবেন বলে জানা গেছে। জাতিসংঘের নিরাপত্তা কাউন্সিল গাজার সাময়িক স্থিতিশীলতার জন্য অস্থায়ীভাবে সামরিক বাহিনী মোতায়েনের অনুমোদন দিয়েছে। নিরাপত্তা কাউন্সিলই বোর্ড অব পিসের মূল হোতা। গাজার সীমান্ত ও শান্তি প্রণয়নে কাজ করবে আইএসএফ। এছাড়া বেসামরিকদের সুরক্ষা এবং ফিলিস্তিনি পুলিশ বাহিনীকে প্রশিক্ষণ ও সহায়তা দেবে তারা। যদি গাজায় ফের সংঘর্ষ হয়, ইসরায়েল বোমা হামলা চালায় অথবা হামাস হামলা চালায় সেক্ষেত্রে আইএসএফ কি করবে তা এখনও স্পষ্ট নয়। গাজা পুনর্গঠনে ইসরায়েল হামাসকে নিরস্ত্রীকরণের যে শর্ত দিয়েছে সেটির জন্য আইএসএফ কাজ করবে কিনা তাও স্পষ্ট না। ইতোমধ্যে বোর্ড অব পিসে ২০ এর অধিক দেশ যোগ দিয়েছে। তবে, এখনও অনেক পরাশক্তি এর থেকে দূরে রয়েছে। জাতিসংঘের অনুমোদন নিয়ে প্রতিষ্ঠিত হলেও ধারণা করা হচ্ছে, সংগঠনটির স্থায়ী নেতৃত্ব ও নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে। রুটজার্স বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক আদিল হক বলেন, “বোর্ড অব পিস এক ধরনের আইনি কল্পসত্তা। নামমাত্রভাবে এর নিজস্ব আন্তর্জাতিক আইনগত সত্তা রয়েছে, যা জাতিসংঘ ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে আলাদা। কিন্তু বাস্তবে এটি যুক্তরাষ্ট্রের ইচ্ছামতো ব্যবহারের জন্য একটি ফাঁপা খোলসমাত্র।” বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গাজা পুনর্গঠনে যে অর্থায়ন ও শাসন কাঠামো হচ্ছে তা অস্বচ্ছ। কয়েকজন ঠিকাদার গার্ডিয়ানকে জানান, গাজায় কাজ করার জন্য মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে তাদের প্রায়শ আলোচনা সরকারি ইমেলের বদলে সিগন্যালের মাধ্যমে করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রের তথ্য মতে, ঘাঁটি নির্মাণের সিদ্ধান্তটি বোর্ড অব পিসের। এতে সহায়তা করছে মার্কিন কর্মকর্তারা। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ঘাঁটিতে তৈরি বাংকার নেটওয়ার্কের মতোন কাজ করবে। প্রতিটি বাংকারের ২৪ মিটারের হবে। উচ্চতা থাকবে আড়াই মিটার। এগুলো এমনভাবে করা হবে যেন সেনা সদস্যরা আশ্রয় নিতে পারে। স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসের গাজায় সুড়ঙ্গ নেটওয়ার্ক বা টানেল রয়েছে। সেগুলোর আদলে নেটওয়ার্ক করতে চাওয়া হচ্ছে। পিস অব বোর্ডের নথি পর্যালোচনা করে এমন দাবি করছে গার্ডিয়ান। সংবাদ মাধ্যমটি বলছে, স্থানটির ভূ-ভৌত জরিপ পরিচালনা করবে ঠিকাদাররা। নথির এক অংশে ‘হিউম্যান রেমিয়েনস প্রোটোকল’র কথা বলা হয়েছে। এর মানে দাঁড়ায়, সন্দেহভাজন মানব অবশিষ্ট বা সাংস্কৃতিক নিদর্শন পাওয়া গেলে অবিলম্বে সেই এলাকায় সব কাজ বন্ধ করতে হবে। চুক্তি কর্মকর্তাকে দিকনির্দেশনার জন্য অবিলম্বে জানাতে হবে। গাজা সিভিল ডিফেন্সের ধারণা, গাজার ধ্বংসস্তূপের নিচে ১০ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনির মরদেহ রয়েছে। ঘাঁটির জন্য যে স্থানটি বিবেচিত করা হচ্ছে সেটির মালিক কে তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে, দক্ষিণ গাজার বেশিরভাগ অংশ বর্তমানে ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণে। জাতিসংঘের অনুমান, যুদ্ধ চলাকালীন ১৯ লাখ ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত হয়েছে। ফিলিস্তিনের জমিতে সরকারের অনুমতি না নিয়ে সামরিক ঘাঁটি স্থাপনকে দখল হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন ফিলিস্তিনি-কানাডিয়ান আইনজীবী এবং প্রাক্তন শান্তি আলোচক দিয়ানা বুট্টু। তিনি প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়ে বলেন, “কার অনুমতিতে তারা সামরিক ঘাঁটি স্থাপন করবে।” বিষয়টি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা বোর্ড অব পিসের কথা টানেন। ট্রাম্প প্রশাসনের একজন কর্মকর্তা সামরিক ঘাঁটির চুক্তি নিয়ে আলোচনা করতে অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, “যেমনটি প্রেসিডেন্ট বলেছেন, কোনও মার্কিন সেনা স্থলভাগে যাবে না। আমরা লিক হওয়া নথি নিয়ে আলোচনা করবো না।”
বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের প্রত্যন্ত চরাঞ্চল থেকে উঠে এসে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার কেন্দ্রে এখন তাইজুল ইসলাম, যিনি অনলাইনে পরিচিত ‘তাজু ভাই ২.০’ নামে। মাত্র একটি ভিডিও—যেখানে তিনি এক দোকানিকে প্রশ্ন করেন, “জিলাপি আজকে কত করে বেচতেছেন সরকারি রেটে?”—এই সরল উপস্থাপনাই তাকে রাতারাতি ভাইরাল করে তোলে। কয়েক ঘণ্টায় ফলোয়ার লাখ ছাড়াল রোববার রাত পর্যন্ত তার ফেসবুক অনুসারী ছিল প্রায় ৩৫ হাজার। কিন্তু সোমবার সন্ধ্যা থেকে রাতের মধ্যেই তা বেড়ে এক লাখের বেশি হয়ে যায়। ভাইরাল ভিডিওটি ইতোমধ্যে প্রায় ৫০ থেকে ৫৫ লাখবার দেখা হয়েছে। কী ছিল সেই ভিডিওতে? ভিডিওতে দেখা যায়, কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীর নারায়ণপুর বাজারে দাঁড়িয়ে স্থানীয় ভাষায় তিনি জিলাপির দাম জানতে চান। তার কথাগুলো ছিল একেবারেই সহজ ও গ্রাম্য ভঙ্গিতে— “সাদাডা কত, লালডা কত? সরকারি রেটে বেচতেছেন?” এই সরল প্রশ্নই সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। কোথা থেকে উঠে এলেন তাজু ভাই? কুড়িগ্রাম জেলার নাগেশ্বরী উপজেলার নারায়ণপুর ইউনিয়নের একটি দুর্গম গ্রামে জন্ম তার। ব্রহ্মপুত্র নদবেষ্টিত এই অঞ্চলে পৌঁছাতে এখনও কয়েকটি নৌঘাট পার হতে হয়। দারিদ্র্যের কারণে কখনো স্কুলে যাওয়া হয়নি তার। পেশায় তিনি একজন নির্মাণশ্রমিকের সহকারী (হেলপার)। কাজের ফাঁকে ঢাকায় থাকাকালীন মোবাইল ফোনে ভিডিও তৈরি করাই তার শখ। ব্যক্তিগত সংগ্রাম তাইজুল ইসলামের পরিবারে ছয় ভাই-বোন। তিনি সবার বড়। তার বাবা-মা দুজনই শ্রবণপ্রতিবন্ধী। পরিবার চালাতে তাকে ছোটবেলা থেকেই সংগ্রাম করতে হয়েছে। তিনি বলেন, “পরিবারের কষ্ট ভুলতেই ভিডিও করি। আমি সাংবাদিক না, কিন্তু আমাদের এলাকায় কেউ আসে না—তাই নিজেরাই ভিডিও বানাই।” ভাইরাল হওয়ার পেছনের উদ্দেশ্য তাইজুলের দাবি, তার ভিডিও শুধুই বিনোদনের জন্য নয়। তিনি চান তার এলাকার অবহেলিত মানুষের কথা প্রশাসনের নজরে আসুক। “আমি চাই চরের মানুষের উন্নয়ন হোক,”—বলছেন তিনি। মিশ্র প্রতিক্রিয়া ভিডিওটি নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে দুই ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ তার সরলতা ও বাস্তবতা তুলে ধরার চেষ্টা প্রশংসা করছেন আবার কেউ তাকে নিয়ে ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ করছেন তবে এসব সমালোচনায় তিনি বিচলিত নন।