Brand logo light

তারেক রহমান

দীপেন দেওয়ান
পদত্যাগের পর রাজনৈতিক অবস্থান স্পষ্ট করলেন দীপেন দেওয়ান, পাহাড়ে শান্তি ও সম্প্রীতির আহ্বান

 ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগের পর প্রথমবারের মতো প্রকাশ্যে নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করেছেন দীপেন দেওয়ান। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক দীর্ঘ পোস্টে তিনি পার্বত্য অঞ্চলের জনগণের প্রতি শান্তি, ধৈর্য ও সম্প্রীতি বজায় রাখার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে নিজের রাজনৈতিক পরিচয় ও ভবিষ্যৎ পথচলা সম্পর্কেও স্পষ্ট বক্তব্য দেন। বুধবার (৪ জুন) রাত ৯টার দিকে দেওয়া ওই পোস্টে দীপেন দেওয়ান পার্বত্য চট্টগ্রামের বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠী ও সম্প্রদায়ের মানুষের প্রতি শুভেচ্ছা জানিয়ে বক্তব্য শুরু করেন। পদত্যাগের ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবানে যে প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে, সে বিষয়ে তিনি অবগত রয়েছেন বলে উল্লেখ করেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, রাজনৈতিক সহকর্মী, শুভানুধ্যায়ী এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে এ ঘটনায় আবেগ ও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। তবে তিনি পরিস্থিতি শান্ত রাখার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন। পাহাড়ি, বাঙালি ও অন্যান্য সম্প্রদায়ের মানুষের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, কোনো ধরনের উসকানি, বিভ্রান্তি বা সংঘাতের পথে না গিয়ে আইনশৃঙ্খলা ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখা প্রয়োজন। পাশাপাশি পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সহমর্মিতা ও সৌহার্দ্যের পরিবেশ অটুট রাখারও আহ্বান জানান তিনি। পার্বত্য অঞ্চলের ভবিষ্যৎ নিয়ে বার্তা ফেসবুক পোস্টে দীপেন দেওয়ান বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রাম সবার এবং এ অঞ্চলের উন্নয়ন, স্থিতিশীলতা ও শান্তি রক্ষার দায়িত্বও সবার। পাহাড়ি-বাঙালি নির্বিশেষে সব জনগণের মধ্যে পারস্পরিক আস্থা ও ভ্রাতৃত্ব আরও সুদৃঢ় হোক—এ প্রত্যাশার কথাও তুলে ধরেন তিনি। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, পদত্যাগের পরপরই সম্প্রীতি ও স্থিতিশীলতার প্রশ্নে এ ধরনের বার্তা দেওয়া পার্বত্য অঞ্চলের বিদ্যমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় তাৎপর্যপূর্ণ। বিএনপির প্রতি আনুগত্য পুনর্ব্যক্ত পোস্টের একটি বড় অংশজুড়ে নিজের রাজনৈতিক পরিচয় ও অতীতের কথা তুলে ধরেন সাবেক এই মন্ত্রী। তিনি জানান, তার পিতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। পরিবার থেকেই তিনি দেশপ্রেম ও জনসেবার আদর্শে উদ্বুদ্ধ হয়েছেন বলে উল্লেখ করেন। দীপেন দেওয়ানের ভাষ্য অনুযায়ী, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্ব ও দিকনির্দেশনায় তিনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলে (বিএনপি) যোগ দেন। রাজনৈতিক জীবনের শুরু থেকে তিনি দলের একজন নিবেদিত কর্মী হিসেবে কাজ করে আসছেন এবং ভবিষ্যতেও বিএনপির প্রতি তার আনুগত্য ও অঙ্গীকার অব্যাহত থাকবে বলে জানান। ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক পথচলার ইঙ্গিত ফেসবুক পোস্টের শেষাংশে ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক অবস্থান সম্পর্কেও ইঙ্গিত দেন দীপেন দেওয়ান। তিনি বলেন, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বের প্রতি তার পূর্ণ আস্থা রয়েছে এবং নতুন বাংলাদেশ গঠনের লক্ষ্যে সেই নেতৃত্বের অধীনেই কাজ করে যেতে চান। তার এই বক্তব্যকে অনেকেই পদত্যাগ-পরবর্তী রাজনৈতিক জল্পনার জবাব হিসেবে দেখছেন। যদিও পদত্যাগের কারণ বা এর পেছনের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট নিয়ে তিনি পোস্টে বিস্তারিত কোনো ব্যাখ্যা দেননি।

নিজস্ব প্রতিবেদক জুন ৪, ২০২৬ 0
তারেক রহমান
‘সামনে অত্যন্ত কঠিন সময়’: সরকার পরিচালনায় নেতা-কর্মীদের সতর্ক করলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন ডেস্ক : শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাতবার্ষিকীর আলোচনা সভা শুধু একটি স্মরণানুষ্ঠানেই সীমাবদ্ধ থাকেনি; এটি ক্ষমতাসীন বিএনপি সরকারের রাজনৈতিক অগ্রাধিকার, ভবিষ্যৎ চ্যালেঞ্জ এবং দলীয় কর্মীদের প্রতি সরকারের প্রত্যাশার একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তায় পরিণত হয়েছে। রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশ (কেআইবি) মিলনায়তনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, দেশের জনগণের প্রত্যাশা পূরণে সরকার বদ্ধপরিকর। তবে একইসঙ্গে তিনি সতর্ক করে দিয়েছেন যে সামনে ‘অত্যন্ত কঠিন’ এবং ‘অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ’ সময় অপেক্ষা করছে। কেন ‘কঠিন সময়ের’ কথা বললেন প্রধানমন্ত্রী? তারেক রহমানের বক্তব্যের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিল সরকারের সামনে থাকা চ্যালেঞ্জ নিয়ে তার সতর্কবার্তা। তিনি বলেন, সামনে এমন একটি সময় আসছে, যা হালকাভাবে নেওয়া হলে দেশের জন্য অপূরণীয় ক্ষতির কারণ হতে পারে। তার ভাষায়, এই ক্ষতি ব্যক্তি বা রাজনৈতিক দলের নয়; বরং দেশের এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ক্ষমতায় আসার পর বিএনপির সামনে এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হচ্ছে নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন, প্রশাসনিক সংস্কার, অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা এবং জনগণের প্রত্যাশা পূরণ করা। ‘জিয়ার দর্শন’কে রাষ্ট্র পরিচালনার ভিত্তি হিসেবে তুলে ধরা অনুষ্ঠানে তারেক রহমান বারবার শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের রাজনৈতিক দর্শনের কথা উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, দেশের মানুষ যে নির্বাচনী ইশতেহারের পক্ষে রায় দিয়েছে, সেটি মূলত জিয়াউর রহমানের পথনির্দেশনা অনুসরণ করেই প্রণয়ন করা হয়েছে। তার বক্তব্যে স্পষ্টভাবে উঠে আসে যে বর্তমান সরকার নিজেদের রাজনৈতিক বৈধতা এবং নীতিগত অবস্থানকে জিয়ার রাজনৈতিক উত্তরাধিকারের সঙ্গে যুক্ত করে দেখতে চায়। তিনি দাবি করেন, জিয়াউর রহমান দেশের বিভিন্ন খাতকে ধাপে ধাপে এগিয়ে নিয়ে একটি স্বাবলম্বী বাংলাদেশ গঠনের স্বপ্ন দেখেছিলেন এবং বর্তমান সরকার সেই ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে চায়। নির্বাচনী ইশতেহার: দলীয় অঙ্গীকার থেকে ‘জনগণের পরিকল্পনা’ বক্তব্যে তারেক রহমান একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ব্যাখ্যা তুলে ধরেন। তার মতে, নির্বাচনের আগে ইশতেহার ছিল বিএনপির রাজনৈতিক পরিকল্পনা; কিন্তু জনগণ দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা দিয়ে সমর্থন দেওয়ার পর সেটি আর শুধু দলের নয়, জনগণের পরিকল্পনায় পরিণত হয়েছে। এ কারণে সরকারের ওপর এখন সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের নৈতিক ও রাজনৈতিক দায় সৃষ্টি হয়েছে। এই বক্তব্যের মাধ্যমে তিনি নির্বাচনী অঙ্গীকার পূরণের প্রশ্নে সরকারের জবাবদিহিতার বিষয়টিও সামনে আনেন। দলীয় কর্মীদের প্রতি বিশেষ বার্তা তারেক রহমানের বক্তব্যের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিল দলীয় নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে দেওয়া নির্দেশনা। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, শুধু মন্ত্রী বা সংসদ সদস্যদের পরিশ্রমে একটি সরকার সফল হতে পারে না। বরং বিএনপি, যুবদল, ছাত্রদল, স্বেচ্ছাসেবক দল, মহিলা দল, শ্রমিক দলসহ সব অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীদের মাঠপর্যায়ে সক্রিয় থাকতে হবে। তার মতে, নির্বাচনে বিজয় অর্জনের মধ্য দিয়ে দায়িত্ব শেষ হয়নি; বরং সরকারের কর্মসূচি বাস্তবায়নের মধ্য দিয়েই প্রকৃত সাফল্য অর্জিত হবে। গণতন্ত্র, বিচার ও শিক্ষা সংস্কারের প্রতিশ্রুতি সরকারের ভবিষ্যৎ অগ্রাধিকার নিয়েও বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, মুক্তিযুদ্ধ-পরবর্তী সময় থেকে শুরু করে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বিচারব্যবস্থা, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এসব খাত পুনর্গঠন এবং গণতান্ত্রিক কাঠামোকে শক্তিশালী করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি। বক্তব্যে সামাজিক অবক্ষয় ও পারিবারিক মূল্যবোধের সংকট নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন তারেক রহমান। তিনি জানান, সামাজিক ও পারিবারিক মূল্যবোধ শক্তিশালী করতে সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। জিয়ার স্মৃতিচারণ এবং রাজনৈতিক উত্তরাধিকার বক্তব্যের শেষাংশে আবেগঘনভাবে নিজের বাবা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানকে স্মরণ করেন তারেক রহমান। তিনি বলেন, একসময় আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বাংলাদেশকে অনেকেই জিয়াউর রহমানের মাধ্যমেই চিনতেন, যা একজন সন্তান হিসেবে তাকে গর্বিত করে। এ বক্তব্যের মাধ্যমে তিনি শুধু পারিবারিক স্মৃতিচারণই করেননি; বরং জিয়াউর রহমানের রাজনৈতিক উত্তরাধিকারকে বর্তমান রাষ্ট্র পরিচালনার সঙ্গে সংযুক্ত করারও চেষ্টা করেছেন। অনুষ্ঠানে কারা ছিলেন? বিএনপির উদ্যোগে আয়োজিত এই আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী এবং বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। অনুষ্ঠানে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য, কেন্দ্রীয় নেতা, অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের প্রতিনিধিসহ বিপুলসংখ্যক নেতা-কর্মী উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া বিভিন্ন শিক্ষাবিদ ও বিশিষ্টজন জিয়াউর রহমানের রাজনৈতিক জীবন, রাষ্ট্রীয় অবদান এবং বাংলাদেশের উন্নয়ন প্রক্রিয়ায় তাঁর ভূমিকা নিয়ে আলোচনা করেন। কেন গুরুত্বপূর্ণ এই বক্তব্য? ক্ষমতায় আসার পর এটি তারেক রহমানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ভাষণ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। কারণ এতে একদিকে যেমন সরকারের রাজনৈতিক দর্শন, অগ্রাধিকার ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার ইঙ্গিত রয়েছে, অন্যদিকে দলীয় কর্মীদের জন্য দায়িত্ববোধ, শৃঙ্খলা এবং মাঠপর্যায়ের সক্রিয়তার স্পষ্ট বার্তাও রয়েছে। সব মিলিয়ে বক্তব্যটি শুধু অতীতের একজন রাষ্ট্রনায়ককে স্মরণ করার অনুষ্ঠান নয়; বরং নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতায় বিএনপি সরকারের করণীয় ও প্রত্যাশার একটি রূপরেখাও তুলে ধরেছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক জুন ২, ২০২৬ 0
বিএনপি
এক দশক পর বিএনপির কাউন্সিল: নেতৃত্বে ধারাবাহিকতা নাকি নতুন সমীকরণ? : মহাসচিব পদে নতুন মুখের সম্ভাবনা

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) গঠনতন্ত্র অনুযায়ী প্রতি তিন বছর অন্তর জাতীয় কাউন্সিল করার বাধ্যবাধকতা থাকলেও সর্বশেষ কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হয়েছিল ২০১৬ সালের মার্চে। এরপর কেটে গেছে এক দশকেরও বেশি সময়। দলটির শীর্ষ নেতাদের ভাষ্য অনুযায়ী, রাজনৈতিক বাস্তবতা, আন্দোলন-সংগ্রাম, মামলা-মোকদ্দমা এবং সাংগঠনিক সীমাবদ্ধতার কারণে নির্ধারিত সময়ে কাউন্সিল আয়োজন সম্ভব হয়নি। তবে এ সময়ে দলের কার্যক্রম সচল রাখতে বিভিন্ন পদে রদবদল, পদোন্নতি এবং সাংগঠনিক সমন্বয় করা হয়েছে। এখন দীর্ঘ বিরতির পর সপ্তম জাতীয় কাউন্সিলের প্রস্তুতি শুরু হওয়ায় বিএনপির অভ্যন্তরে নেতৃত্বের ভবিষ্যৎ, ক্ষমতার ভারসাম্য এবং নতুন প্রজন্মের অংশগ্রহণ নিয়ে আলোচনা তীব্র হয়েছে। তারেক রহমানের নেতৃত্বে কোনো চ্যালেঞ্জ নেই? দলের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের একাধিক সূত্র বলছে, আসন্ন কাউন্সিলে চেয়ারম্যান পদে পরিবর্তনের সম্ভাবনা কার্যত নেই। ২০২৫ সালের শেষ দিকে খালেদা জিয়ার মৃত্যুর পর স্থায়ী কমিটির সিদ্ধান্তে তারেক রহমান পূর্ণাঙ্গ চেয়ারম্যানের দায়িত্ব গ্রহণ করেন। এর আগে তিনি প্রায় আট বছর ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হিসেবে দলের নেতৃত্ব দিয়েছেন। দলের ভেতরে প্রচলিত মূল্যায়ন অনুযায়ী, বর্তমান সময়ে তারেক রহমানের বিকল্প নেতৃত্ব দৃশ্যমান নয়। ফলে চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতার সম্ভাবনাও অত্যন্ত ক্ষীণ বলে মনে করছেন নেতারা। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রামের পর বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব এখন স্থিতিশীলতা ও ধারাবাহিকতাকে অগ্রাধিকার দিতে চাইছে। সে কারণে শীর্ষ নেতৃত্বে বড় ধরনের পরিবর্তনের সম্ভাবনা সীমিত। সবচেয়ে বড় প্রশ্ন: মহাসচিব থাকছেন কি মির্জা ফখরুল? চেয়ারম্যানের পর বিএনপির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সাংগঠনিক পদ মহাসচিব। বর্তমান মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এক দশকেরও বেশি সময় ধরে এ দায়িত্ব পালন করছেন। দলের দুর্দিনে আন্দোলন, রাজনৈতিক সমঝোতা, আন্তর্জাতিক যোগাযোগ এবং সাংগঠনিক সমন্বয়ে তিনি কেন্দ্রীয় ভূমিকা রেখেছেন। সম্প্রতি এক টেলিভিশন সাক্ষাৎকারে তিনি নিজেই জানান যে তিনি ক্লান্ত এবং কাউন্সিলের পর অবসর নেওয়ার ইচ্ছা পোষণ করেন। তার এই বক্তব্যের পর থেকেই মহাসচিব পদে সম্ভাব্য উত্তরসূরি নিয়ে জোর আলোচনা শুরু হয়েছে। তবে দলের একটি অংশ মনে করে, সংকটময় সময়ে নেতৃত্ব দেওয়ার অভিজ্ঞতা এবং গ্রহণযোগ্যতার কারণে দল এখনও তাকে ধরে রাখতে চাইতে পারে। মহাসচিব পদে আলোচনায় চার নেতা দলীয় সূত্রগুলো বলছে, মির্জা ফখরুল সরে দাঁড়ালে অন্তত চারজন নেতা সম্ভাব্য উত্তরসূরি হিসেবে বিবেচনায় থাকতে পারেন। ১. সালাহউদ্দিন আহমদ বর্তমানে স্থায়ী কমিটির সদস্য। নীতি নির্ধারণ, রাজনৈতিক কৌশল এবং সাংগঠনিক পরিকল্পনায় সক্রিয় ভূমিকা রাখছেন। দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা তাকে শক্তিশালী প্রার্থী হিসেবে সামনে এনেছে। ২. আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী দলের আন্তর্জাতিক যোগাযোগ, অর্থনৈতিক নীতি এবং কূটনৈতিক তৎপরতায় গুরুত্বপূর্ণ মুখ হিসেবে পরিচিত। আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে গ্রহণযোগ্যতার কারণে তিনিও আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছেন। ৩. রুহুল কবির রিজভী দীর্ঘদিন ধরে দলীয় দফতর, সাংগঠনিক সমন্বয় এবং মাঠ পর্যায়ের রাজনীতি পরিচালনার অভিজ্ঞতা রয়েছে তার। আন্দোলনের সময় দৃশ্যমান ভূমিকা তাকে শক্ত অবস্থানে নিয়ে এসেছে। ৪. শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি ছাত্ররাজনীতি থেকে উঠে আসা এই নেতা সাংগঠনিক ধারাবাহিকতা, পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তি এবং দলীয় আনুগত্যের কারণে সম্ভাব্য প্রার্থীদের তালিকায় রয়েছেন। স্থায়ী কমিটিতে আসছে নতুন মুখ? বিএনপির সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম স্থায়ী কমিটি। বর্তমানে বিভিন্ন কারণে কয়েকটি পদ কার্যত শূন্য রয়েছে। এছাড়া কিছু সদস্য অসুস্থ এবং কয়েকজন রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করছেন। এ পরিস্থিতিতে নতুন সদস্য অন্তর্ভুক্তির সম্ভাবনা জোরালো হয়েছে। দলীয় সূত্রগুলো যাদের নাম সামনে আনছে, তাদের মধ্যে রয়েছেন— রুহুল কবির রিজভী হাবিব উন নবী খান সোহেল শামসুজ্জামান দুদু সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল বিশেষ করে আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় ভূমিকা এবং সাংগঠনিক অভিজ্ঞতার কারণে রিজভীর নাম সবচেয়ে বেশি আলোচিত হচ্ছে। তরুণ নেতৃত্বকে সামনে আনার পরিকল্পনা বিএনপির শীর্ষ নেতারা ইতোমধ্যে ইঙ্গিত দিয়েছেন যে নতুন কমিটিতে নবীন ও প্রবীণের সমন্বয় ঘটানো হবে। স্থায়ী কমিটি, ভাইস চেয়ারম্যান, যুগ্ম মহাসচিব এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ পদে অপেক্ষাকৃত তরুণ নেতৃত্বকে সুযোগ দেওয়ার চিন্তাভাবনা চলছে। দলটির একাধিক নেতা মনে করছেন, আগামী রাজনৈতিক বাস্তবতায় সাংগঠনিক সক্ষমতা, জনসম্পৃক্ততা এবং আধুনিক রাজনৈতিক যোগাযোগের জন্য নতুন প্রজন্মের অংশগ্রহণ বাড়ানো জরুরি। কাউন্সিল কেন গুরুত্বপূর্ণ? বিএনপির ইতিহাসে কাউন্সিল কেবল নেতৃত্ব নির্বাচন নয়; এটি দলীয় দিকনির্দেশনা নির্ধারণেরও প্রধান মঞ্চ। ১৯৭৮ সালে প্রতিষ্ঠার পর দলটি মাত্র ছয়টি জাতীয় কাউন্সিল করেছে। প্রতিটি কাউন্সিলের মাধ্যমে নেতৃত্বের পুনর্বিন্যাস এবং রাজনৈতিক কৌশলের নতুন রূপরেখা নির্ধারিত হয়েছে। দীর্ঘ এক দশক পর অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া সপ্তম কাউন্সিল তাই শুধু সাংগঠনিক আনুষ্ঠানিকতা নয়; এটি বিএনপির ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক পথচলারও গুরুত্বপূর্ণ মোড় হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। ধারাবাহিকতার সঙ্গে পরিবর্তনের বার্তা? বর্তমান পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, বিএনপি শীর্ষ নেতৃত্বে বড় ধরনের পরিবর্তনের চেয়ে ধারাবাহিকতাকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে। তারেক রহমানের নেতৃত্ব প্রশ্নাতীত অবস্থানে থাকলেও মহাসচিব পদে নতুন মুখ আসার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। অন্যদিকে স্থায়ী কমিটি ও কেন্দ্রীয় নেতৃত্বে তরুণদের অন্তর্ভুক্তি দলটির দীর্ঘমেয়াদি পুনর্গঠনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। ফলে সপ্তম জাতীয় কাউন্সিল বিএনপির জন্য কেবল নেতৃত্ব নির্বাচনের অনুষ্ঠান নয়; বরং আগামী দশকের রাজনৈতিক কৌশল, ক্ষমতার ভারসাম্য এবং উত্তরাধিকার রাজনীতির নতুন রূপরেখা নির্ধারণের মঞ্চ হয়ে উঠতে পারে।

নিজস্ব প্রতিবেদক জুন ১, ২০২৬ 0
ধরার খাল পুনঃখনন কাজের উদ্বোধন শেষে জনসভায় বক্তব্য রাখছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
ত্রিশালে খাল পুনঃখনন উদ্বোধনে তারেক রহমান: ‘সরকারের পরিকল্পনা ভেস্তে দিতে ষড়যন্ত্র চলছে’

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : ময়মনসিংহের ত্রিশালে প্রায় চার দশক আগে শুরু হওয়া একটি খাল পুনঃখনন কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক বার্তা দিলেন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি অভিযোগ করেছেন, সরকারের উন্নয়ন পরিকল্পনা ব্যাহত করতে একটি “মহল” পরিকল্পিতভাবে অস্থিতিশীলতা তৈরির চেষ্টা করছে এবং এর সঙ্গে “৫ আগস্ট বিতাড়িতদের” যোগসূত্র রয়েছে। শনিবার (২৩ মে) দুপুরে ত্রিশালের কানহর ধরার খালের পুনঃখনন কাজের উদ্বোধনের পর আয়োজিত জনসভায় তিনি এসব কথা বলেন। উদ্বোধন শেষে খালপাড়ে একটি তালগাছের চারা রোপণও করেন তিনি। ‘নির্বাচনের ফলেই তাদের জ্বালা’ সমাবেশে দেওয়া বক্তব্যে তারেক রহমান বলেন, ১২ তারিখের নির্বাচনে জনগণ বিএনপিকে ক্ষমতায় বসানোর পর থেকেই একটি পক্ষ অস্বস্তিতে রয়েছে। তার ভাষায়, “তাদের জ্বালা ধরেছে”, তাই তারা কৃষক, কর্মসংস্থান বা খাল খননের মতো জনস্বার্থের বিষয় এড়িয়ে অরাজক পরিস্থিতি তৈরির চেষ্টা করছে। তিনি প্রশ্ন তোলেন—অস্থিতিশীলতা তৈরি হলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে কারা? তার উত্তর ছিল, “কৃষক ও সাধারণ মানুষ।” প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, যারা দেশে অরাজক পরিস্থিতি তৈরির চেষ্টা করছে, তাদের সঙ্গে “৫ আগস্ট বিতাড়িতদের” সমঝোতা রয়েছে বলেও সরকার মনে করে। ৪৫ বছর আগের প্রকল্প, নতুন রাজনৈতিক তাৎপর্য ত্রিশালের কানহর ধরার খালটির সঙ্গে জড়িয়ে আছে বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের একটি প্রতীকী অধ্যায়। তারেক রহমান স্মরণ করিয়ে দেন, প্রায় ৪৫ বছর আগে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এই খাল খনন কাজের উদ্বোধন করেছিলেন। তার দাবি, পরবর্তীতে প্রকল্পটি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় স্থানীয় কৃষকরা দীর্ঘদিন ভোগান্তিতে ছিলেন। পুনঃখনন শেষ হলে ময়মনসিংহ জেলার প্রায় ৪ লাখ ৩ হাজার কৃষক এবং অন্তত ২০ হাজার মানুষ সরাসরি উপকৃত হবেন বলে তিনি উল্লেখ করেন। তিনি জানান, জেলায় প্রায় আড়াই হাজার কিলোমিটার খাল রয়েছে, যেগুলো পর্যায়ক্রমে পুনঃখননের পরিকল্পনা করছে সরকার। উন্নয়ন বনাম অস্থিতিশীলতার রাজনৈতিক বয়ান ভাষণে সরকার ঘোষিত বিভিন্ন সামাজিক কর্মসূচির কথাও তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, সরকার পর্যায়ক্রমে ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, চিকিৎসা সুবিধা, কর্মসংস্থান এবং প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের পোশাক ও ব্যাগ বিতরণ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে। তার ভাষায়, “২০ কোটি মানুষের ৪০ কোটি হাতকে কাজে লাগাতে হবে”—এবং সেটিই সরকারের উন্নয়ন দর্শনের মূল লক্ষ্য। তিনি আরও বলেন, জুলাইয়ের মধ্যে প্রাথমিক শিক্ষার্থীদের পোশাক ও ব্যাগ বিতরণ শুরু হবে। পাশাপাশি ইমাম ও ধর্মীয় নেতাদের সম্মানী কার্যক্রমও বাস্তবায়নের কথা উল্লেখ করেন। রামিসা হত্যাকাণ্ড প্রসঙ্গেও বার্তা ঢাকার মিরপুর-পল্লবীতে শিশু রামিসা হত্যাকাণ্ডের প্রসঙ্গ টেনে তারেক রহমান বলেন, “অপরাধীকে শাস্তি পেতেই হবে।” তবে একই সঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, কিছু গোষ্ঠী আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিকে ঘিরে ইচ্ছাকৃতভাবে উত্তেজনা তৈরির চেষ্টা করছে। তার মতে, বিচার নিশ্চিত করতে হলে আইনের শাসন কার্যকর রাখতে হবে এবং বিচার প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করা যাবে না। সমাবেশে ফিরে এল ১৯৭৯ সালের স্মৃতি সমাবেশের শুরুতে বক্তব্য দেন স্থানীয় যুবদলের সাবেক নেতা শাজাহান। তিনি জানান, ১৯৭৯ সালের ৬ সেপ্টেম্বর যখন জিয়াউর রহমান খাল খনন কর্মসূচির উদ্বোধনে এসেছিলেন, তখন তিনিও সেখানে উপস্থিত ছিলেন। একই স্থানে কয়েক দশক পর পুনঃখনন কর্মসূচিতে অংশ নিতে পেরে প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানান তিনি। সমাবেশ শেষে তারেক রহমান ত্রিশালের দরিরামপুরে অবস্থিত নজরুল মঞ্চের উদ্দেশে রওনা দেন। সেখানে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম–এর ১২৭তম জন্মজয়ন্তী উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেওয়ার কথা রয়েছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ২৪, ২০২৬ 0
শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ।
শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদতবার্ষিকী উপলক্ষে বিএনপির ৮ দিনের কর্মসূচি ঘোষণা

 ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) প্রতিষ্ঠাতা, বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রবক্তা, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদত বার্ষিকী উপলক্ষ্যে আগামী ২৫ মে থেকে ১ জুন পর্যন্ত আট দিনব্যাপী কর্মসূচি ঘোষণা করেছে বিএনপি।  রাজধানীর নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী এই কর্মসূচি ঘোষণা করেন। এর আগে শাহাদত বার্ষিকী সফলভাবে পালনের লক্ষ্যে দলীয় কার্যালয়ে এক যৌথসভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী। এতে দলের যুগ্ম মহাসচিব হাবিব-উন-নবী খান সোহেল, ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ বিএনপির আহ্বায়ক ও সদস্য সচিবগণ এবং অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের কেন্দ্রীয় সভাপতি, সাধারণ সম্পাদকসহ শীর্ষ নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। ঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী, আগামী ২৫ মে থেকে ১ জুন পর্যন্ত আট দিন দেশব্যাপী বিশেষ পোস্টার প্রকাশ করা হবে এবং দলীয় নেতাকর্মীরা কালো ব্যাজ ধারণ করবেন। এছাড়া বিভিন্ন সংবাদপত্র ও অনলাইন পোর্টালে বিশেষ ক্রোড়পত্র প্রকাশ করা হবে। ৩০ মে শনিবার ভোর ৬টায় নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়সহ সারা দেশের সকল স্তরের দলীয় কার্যালয়ে দলীয় পতাকা অর্ধনমিতকরণ ও কালো পতাকা উত্তোলন করা হবে। একই দিন সকাল ১১টায় প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বে দলের জাতীয় নেতৃবৃন্দসহ সর্বস্তরের নেতাকর্মীরা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের মাজারে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ ও মাজার জিয়ারত করবেন। জিয়ারত শেষে মাজার প্রাঙ্গণে জাতীয়তাবাদী ওলামা দলের উদ্যোগে এক দোয়া মহফিল অনুষ্ঠিত হবে। এছাড়া দিবসটি উপলক্ষ্যে ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণের প্রতিটি থানায় এবং দেশের অন্যান্য ইউনিটে অসচ্ছল ও দুঃস্থ মানুষের মাঝে কাপড় এবং চাল, ডালসহ খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করা হবে। অনুরূপভাবে, দেশের সকল জেলা, মহানগরীসহ প্রতিটি ইউনিটেও ৩০ মে ভোর ৬টায় দলীয় পতাকা অর্ধনমিতকরণ ও কালো পতাকা উত্তোলন করা হবে এবং স্থানীয় সুবিধা অনুযায়ী আলোচনা সভা, দোয়া মহফিল ও দুঃস্থদের মাঝে খাদ্যসামগ্রী ও বস্ত্র বিতরণ কর্মসূচি পালন করা হবে। পরদিন ৩১ মে রোববার বেলা ২টায় রাজধানীর রমনায় ইনস্টিটিউশন অব ইঞ্জিনিয়ার্স, বাংলাদেশ (আইইবি) মিলনায়তনে বিএনপির উদ্যোগে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে। সংবাদ সম্মেলনে দেশের ক্রান্তিকালে জিয়াউর রহমানের অবদানের কথা স্মরণ করে রিজভী বলেন, ‘দেশের ক্রান্তিকালে রাজনীতি ও রাষ্ট্রক্ষমতার পাদপীঠে আলো ছড়িয়েছিলেন জিয়াউর রহমান। এর আগে গণতন্ত্র হত্যা করা হয়েছিল, চরম নৈরাজ্য তৈরি হয়েছিল, দেশ দুর্ভিক্ষের করাল গ্রাসে নিপতিত হয়েছিল, সমাজে চলছিল ভয়ংকর রক্তপাত, সহিংসতা ও খুনাখুনি।’ তিনি বলেন, ‘স্বাধীনতা-উত্তর সেই ক্রান্তিকাল অতিক্রমের এক পর্যায়ে জনগণ ও সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যরা যৌথভাবে শান্তিময় পরিবেশ তৈরির প্রত্যয় নিয়ে শহীদ জিয়াউর রহমানকে নেতা হিসেবে গ্রহণ করেন এবং তিনি রাষ্ট্রের দায়িত্ব নেন। তাঁর আমলের শান্তি ও আইনের শাসন ফিরিয়ে আনার দৃষ্টান্ত বিরল। দেশকে সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে নিতে তাঁর যুগান্তকারী পদক্ষেপগুলো আজও মানুষের মনে অম্লান।’ বহুদলীয় গণতন্ত্রের পুনরুজ্জীবনের কথা উল্লেখ করে রিজভী বলেন, ‘১৯৭৫ সালের ২৫ জানুয়ারি তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার বাকশাল গঠন করে গণতন্ত্রকে হত্যা করেছিল। সেই মৃত গণতন্ত্রকে পুনরুজ্জীবিত করেন জিয়াউর রহমান। তিনি বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রবর্তন করেন, যার ফলে অনেক দল রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড শুরু করার এবং স্বাধীনভাবে কথা বলার সুযোগ পায়।’ এ সময় রিজভী দলীয় নেতাকর্মীদের কর্মসূচি পালনের সময় জনগণের ভোগান্তি এড়াতে কঠোর নির্দেশনা দিয়ে বলেন, জনগণের কষ্ট হয় এমন কোনো কর্মসূচি পরিচালনা করা যাবে না। রাস্তার মোড়ে অস্থায়ী মঞ্চ তৈরি করে কোনো আলোচনা সভা করা যাবে না, কর্মসূচি কেবল উন্মুক্ত মাঠ বা মিলনায়তনে সম্পন্ন করতে হবে।

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ১৯, ২০২৬ 0
তারেক রহমান
ইসির ৪৯৩ কোটি টাকার সার্ভার স্টেশন প্রকল্প ফেরত, এক ভবনে সব সরকারি সেবা চাইলেন প্রধানমন্ত্রী

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : দেশব্যাপী ভোটার তালিকা হালনাগাদ, জাতীয় পরিচয়পত্র সেবা শক্তিশালী করা এবং নির্বাচনি সরঞ্জামের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নেওয়া নির্বাচন কমিশনের (ইসি) প্রায় ৪৯৩ কোটি টাকার একটি বড় প্রকল্প ফেরত দিয়েছে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক)। ‘নির্বাচনি ডাটাবেজের জন্য উপজেলা/থানা, জেলা ও আঞ্চলিক নির্বাচন অফিসারের কার্যালয় ও সার্ভার স্টেশন নির্মাণ’ শীর্ষক প্রকল্পটি অনুমোদনের জন্য পরিকল্পনা কমিশনের আর্থ-সামাজিক অবকাঠামো বিভাগ একনেক সভায় উপস্থাপন করলেও তা চূড়ান্ত অনুমোদন পায়নি। রাজধানীর সচিবালয়ের কেবিনেট কক্ষে অনুষ্ঠিত বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী ও একনেক চেয়ারম্যান তারেক রহমান। প্রকল্পটির মোট প্রাক্কলিত ব্যয় ধরা হয়েছিল ৪৯২ কোটি ৮৩ লাখ ৭৭ হাজার টাকা। পুরো অর্থই সরকারি তহবিল থেকে ব্যয় করার পরিকল্পনা ছিল। ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৮ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে প্রকল্প বাস্তবায়নের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছিল। পরিকল্পনা কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, প্রকল্পের আওতায় একটি আঞ্চলিক নির্বাচন অফিস, তিনটি জেলা নির্বাচন অফিস ভবন, ৪৫টি উপজেলা নির্বাচন অফিস ও সার্ভার স্টেশন নির্মাণের পরিকল্পনা ছিল। এছাড়া মেট্রোপলিটন থানাগুলোর জন্য ১৬টি ফ্লোর-স্পেস কেনার কথাও উল্লেখ করা হয়। ২০০৮ সালে ছবিসহ ভোটার তালিকা প্রণয়নের পর যে বিশাল জাতীয় তথ্যভান্ডার তৈরি হয়েছে, সেটিকে তৃণমূল পর্যায়ে আরও নিরাপদ ও কার্যকর করতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। এর আগে অধিকাংশ উপজেলায় সার্ভার স্টেশন নির্মিত হলেও ভূমি জটিলতা ও নতুন উপজেলা গঠনের কারণে এখনও অনেক স্থানে স্থায়ী অবকাঠামো গড়ে ওঠেনি। নতুন প্রকল্পের মাধ্যমে সেই ঘাটতি পূরণের পরিকল্পনা ছিল। শুধু ভবন নির্মাণ নয়, প্রকল্পে ভূমি অধিগ্রহণ, আসবাবপত্র ও আধুনিক কম্পিউটার সরঞ্জাম ক্রয়ের বিষয়ও অন্তর্ভুক্ত ছিল। পরিকল্পনা কমিশনের ভাষ্য অনুযায়ী, আধুনিক সার্ভার স্টেশন নির্মিত হলে ভোটার তালিকা হালনাগাদ এবং জাতীয় পরিচয়পত্র সংক্রান্ত সেবা আরও দ্রুত ও নির্ভুলভাবে দেওয়া সম্ভব হতো। একইসঙ্গে জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও স্থানীয় সরকার নির্বাচনে ব্যবহৃত ইভিএম, ব্যালট বাক্সসহ বিভিন্ন নির্বাচনি সরঞ্জাম নিরাপদে সংরক্ষণের অবকাঠামো তৈরি হতো। তবে একনেক বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রকল্পটির কাঠামো ও বাস্তবায়ন পদ্ধতি নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ তুলে ধরেন। তিনি বলেন, উপজেলা পর্যায়ে আলাদা আলাদা সরকারি দপ্তরের জন্য পৃথক ভবন নির্মাণের পরিবর্তে একটি সমন্বিত বহুমুখী সরকারি কমপ্লেক্স গড়ে তোলা উচিত, যেখানে সব দপ্তর একই ছাদের নিচে থাকবে। প্রধানমন্ত্রীর ভাষায়, এতে সরকারি জমির সাশ্রয় হবে, ব্যয় কমবে এবং সাধারণ মানুষকে সেবা পেতে এক অফিস থেকে অন্য অফিসে ঘুরতে হবে না। নাগরিকরা একই ভবনে সব সরকারি সেবা পেলে জনভোগান্তিও কমবে। নির্বাচন কমিশনের ডেটা সেন্টারের অবস্থান নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী বলেন, গুরুত্বপূর্ণ তথ্যভান্ডার কেন বিভিন্ন জায়গায় ছড়িয়ে থাকবে—কখনও আইসিটি ভবনে, কখনও নির্বাচন কমিশনে। এর পরিবর্তে একটি নির্দিষ্ট, সমন্বিত ও উচ্চ নিরাপত্তাসম্পন্ন স্থানে ডেটা সেন্টার পরিচালনার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি। পরিকল্পনা কমিশনের আর্থ-সামাজিক অবকাঠামো বিভাগের সদস্য সচিব ড. কাইয়ুম আরা বেগম জানান, প্রকল্পটির ব্যয় ৫০ কোটির বেশি হওয়ায় নিয়ম অনুযায়ী একনেকে অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হয়েছিল। তিনি বলেন, আধুনিক অবকাঠামো নিশ্চিত করা গেলে নির্বাচন কমিশনের মাঠপর্যায়ের সক্ষমতা বাড়বে এবং ডিজিটাল নির্বাচনি ব্যবস্থাপনায় বড় ধরনের পরিবর্তন আসবে। প্রস্তাবিত প্রকল্পের আওতায় দেশের বিভিন্ন জেলা, উপজেলা ও মেট্রোপলিটন এলাকায় নির্বাচন অফিস ও সার্ভার স্টেশন নির্মাণের পরিকল্পনা ছিল। এর মধ্যে গাজীপুর সদর, লৌহজং, সালথা, টুঙ্গীপাড়া, আশুগঞ্জ, সেনবাগ, সন্দ্বীপ, ঈদগাঁও, দক্ষিণ সুরমা, শান্তিগঞ্জসহ একাধিক উপজেলায় অবকাঠামো নির্মাণের কথা উল্লেখ করা হয়। পাশাপাশি ঢাকা, চট্টগ্রাম, সিলেট, রাজশাহী, খুলনা ও কুমিল্লাসহ বিভিন্ন আঞ্চলিক ও জেলা নির্বাচন অফিসও প্রকল্পের অন্তর্ভুক্ত ছিল।

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ১৪, ২০২৬ 0
মোহাম্মদ মাহবুব আলম খান
হত্যা মামলার আসামি, তবু ফেনীর এসপি: মাহবুব আলম খানকে ঘিরে প্রশ্ন

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) উপ-কমিশনার মোহাম্মদ মাহবুব আলম খানকে ফেনীর পুলিশ সুপার (এসপি) হিসেবে পদায়ন ঘিরে নতুন বিতর্ক তৈরি হয়েছে। দুটি হত্যা মামলার আসামি থাকা সত্ত্বেও তার এই পদায়নকে কেন্দ্র করে ভুক্তভোগী পরিবার, মানবাধিকারকর্মী এবং রাজনৈতিক মহলে প্রশ্ন উঠেছে—গুরুতর অভিযোগের মুখে থাকা একজন কর্মকর্তাকে কীভাবে জেলার শীর্ষ পুলিশ পদে নিয়োগ দেওয়া হলো? গত ৫ মে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের পুলিশ-১ শাখা থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে তাকে ফেনীর এসপি হিসেবে পদায়ন করা হয়। এর একদিন পর, ৬ মে, তার পদায়ন বাতিল এবং আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে লিখিত আবেদন করেন নিহত যুবদল নেতার পরিবারের সদস্য সেতাউর রহমান। দীর্ঘদিনের অভিযোগ খোঁজ নিয়ে জানা যায়, আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে মাহবুব আলম খান দীর্ঘদিন চাঁপাইনবাবগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। সে সময় বিএনপি-জামায়াতের কর্মসূচিতে বাধা, বিরোধী নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে দমন-পীড়ন এবং একাধিক গুম-হত্যার ঘটনায় তার সম্পৃক্ততার অভিযোগ রয়েছে। ২০২২ সালের মাঝামাঝি সময়ে তিনি চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে বদলি হন। সর্বশেষ তিনি সিএমপির ডিবি পশ্চিম জোনের উপ-কমিশনার হিসেবে কর্মরত ছিলেন। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন সরকারের পতনের পর তার বিরুদ্ধে অভিযোগগুলো নতুন করে সামনে আসে। পরে চাঁপাইনবাবগঞ্জের আদালত ও থানায় তার বিরুদ্ধে দুটি হত্যা মামলা দায়ের হয়। “বন্দুকযুদ্ধের” আড়ালে হত্যা? দুটি মামলার মধ্যে সবচেয়ে আলোচিতটি যুবদল কর্মী মিজানুর রহমান হত্যা মামলা। মামলার এজাহার অনুযায়ী, ২০১৬ সালের ১৭ আগস্ট ছাত্রদল নেতা সেতাউর রহমানকে গ্রেপ্তারের উদ্দেশ্যে আইনাল হকের বাড়িতে অভিযান চালায় পুলিশ। সেতাউরকে না পেয়ে তার ভাই মিজানুর রহমানকে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে পুলিশ তাকে আটকের বিষয়টি অস্বীকার করে। পরিবারের সদস্যরা অভিযোগ করেন, তারা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মাহবুব আলম খানের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি “খোঁজ নেওয়ার” আশ্বাস দেন। পরে পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়, মিজানুরকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রেঞ্জ ডিআইজি কার্যালয়ে নেওয়া হয়েছে। এজাহারে আরও বলা হয়, মিজানুরকে ছেড়ে দেওয়ার বিনিময়ে পরিবারের কাছে ২০ লাখ টাকা দাবি করা হয়। পরে বিএনপির তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সহযোগিতায় পরিবার ৯ লাখ টাকা জোগাড় করে পুলিশের হাতে দেয়। কিন্তু এরপরও আরও ১১ লাখ টাকা দাবি করা হয়। ঘটনার মধ্যে ২০১৬ সালের ২৮ ডিসেম্বর মিজানুরের আরেক ভাই রেজাউল করিমকেও রাজশাহী নগরী থেকে ডিবি পরিচয়ে তুলে নেওয়া হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এরপর দীর্ঘ সময় দুই ভাইয়ের কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি। ২০১৭ সালের ২৭ এপ্রিল শিবগঞ্জে পুলিশের কথিত “বন্দুকযুদ্ধে” মিজানুর নিহত হয়েছেন বলে জানানো হয়। তবে পরিবারের দাবি, এটি ছিল পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। অন্যদিকে রেজাউল করিম আজও নিখোঁজ। আট বছর পরও নিখোঁজ এক ভাই সরকার পরিবর্তনের পর ২০২৪ সালের ২১ আগস্ট সংবাদ সম্মেলন করেন মিজানুর ও রেজাউলের পরিবারের সদস্যরা। তারা অভিযোগ করেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পরিচয়ে তুলে নেওয়ার পর আট বছরেও রেজাউলের সন্ধান মেলেনি। একই ঘটনায় থানায় মামলা করার পাশাপাশি গুম কমিশনেও অভিযোগ জমা দিয়েছেন তারা। গত ফেব্রুয়ারিতে গুম কমিশন এবং আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটররা ঘটনাটি তদন্ত করতে চাঁপাইনবাবগঞ্জে যান। মিজান হত্যা মামলার তদন্ত কর্মকর্তা, শিবগঞ্জ থানার পরিদর্শক মাহমুদ বলেন, মামলায় ৬ থেকে ৭ জন আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। দ্বিতীয় হত্যা মামলাও মাহবুব আলম খানের বিরুদ্ধে আরেকটি হত্যা মামলা দায়ের হয় ২০২৪ সালের ২০ অক্টোবর। ফিরোজ আহমেদ নামে এক ব্যক্তি শিবগঞ্জ থানায় মামলাটি করেন। ওই মামলায় ১২ জন আসামির মধ্যে মাহবুব আলম খানকে তিন নম্বর আসামি করা হয়। তবে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই ইমরান হোসেন জানান, “প্রাথমিক তদন্তে তার নাম বাদ দেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে। তবে পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন এখনো জমা দেওয়া হয়নি।” “আমাদের পরিবার ধ্বংস করে দিয়েছেন” মাহবুব আলম খানের পদায়ন বাতিলের আবেদনকারী সেতাউর রহমান বলেন, “তিনি চাঁপাইনবাবগঞ্জে প্রায় আট বছর চাকরি করেছেন। এমন কোনো অপরাধ নেই, যা তিনি করেননি। আমাদের পরিবার ধ্বংস হয়ে গেছে। মামলা থাকার পরও কীভাবে তাকে এসপি করা হলো—আমরা এর বিচার চাই।” মাহবুব আলম যা বলছেন অভিযোগ অস্বীকার করে মাহবুব আলম খান বলেন, দুটি হত্যা মামলার একটিতে তাকে ইতোমধ্যে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। অন্য মামলার বিষয়ে তিনি দাবি করেন, ঘটনার সময় তিনি প্রশিক্ষণে ছিলেন এবং এ সংক্রান্ত প্রমাণ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে দিয়েছেন। তার ভাষায়, “আইনাল হকের মামলার ঘটনার সময় আমি ট্রেনিংয়ে ছিলাম। প্রমাণ দিয়েছি। আশা করছি, ওই মামলাতেও আমাকে অব্যাহতি দেওয়া হবে।” পুলিশ সদর দপ্তরের নীরবতা বিষয়টি নিয়ে পুলিশ সদর দপ্তরের সহকারী মহাপরিদর্শক (এআইজি-মিডিয়া অ্যান্ড পিআর) এ এইচ এম শাহাদাত হোসাইনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। পুলিশ সদর দপ্তরের ডিআইজি (এডমিন) আবু সালেহ রায়হান বলেন, “আমি নতুন যোগদান করেছি। বিস্তারিত খোঁজ না নিয়ে কিছু বলতে পারছি না।” “এসপি পদে এমন নিয়োগ উদ্বেগজনক” মানবাধিকার আইনজীবী অ্যাডভোকেট জিয়া হাবিব আহসান বলছেন, ফৌজদারি মামলার আসামি হয়ে জামিন না নেওয়া মানে কার্যত পলাতক থাকা। তার মতে, “এ ধরনের গুরুতর অভিযোগ থাকা ব্যক্তিকে জেলার শীর্ষ পুলিশ কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগ দেওয়া উদ্বেগজনক। এতে বিচারব্যবস্থা ও প্রশাসনের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে।” তিনি আরও বলেন, গণঅভ্যুত্থানের পর নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতায় বিতর্কিত কর্মকর্তাদের গুরুত্বপূর্ণ পদে বসানো হলে জনআস্থার সংকট আরও গভীর হতে পারে। তদন্তের আগেই পুরস্কার? মাহবুব আলম খানের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ এখনো বিচারাধীন। তবে ভুক্তভোগী পরিবারের প্রশ্ন—তদন্ত শেষ হওয়ার আগেই কেন তাকে গুরুত্বপূর্ণ পদে পদায়ন করা হলো? বাংলাদেশে বিচারবহির্ভূত হত্যা, গুম এবং রাজনৈতিক দমন-পীড়নের অভিযোগ বহু বছর ধরেই বিতর্কের বিষয়। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এ ধরনের অভিযোগে অভিযুক্ত কর্মকর্তাদের পদায়ন বা পদোন্নতি রাষ্ট্রের জবাবদিহি ও মানবাধিকার প্রতিশ্রুতিকে প্রশ্নের মুখে ফেলে।

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ১২, ২০২৬ 0
নবদম্পতিকে শুভেচ্ছা তারেক রহমানের
বিয়ের অনুষ্ঠানের কথা ভেবে আগেই শেষ হলো বিএনপির কর্মসূচি, নবদম্পতিকে শুভেচ্ছা তারেক রহমানের

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : একই মিলনায়তনে নির্ধারিত ছিল রাজনৈতিক কর্মসূচি ও একটি বিয়ের আয়োজন। অনুষ্ঠানসূচির সংঘাতের বিষয়টি জানার পর বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান নির্ধারিত সময়ের আগেই দলীয় কর্মসূচি শেষ করার নির্দেশ দেন। দলীয় সূত্রে জানা গেছে, সন্ধ্যায় ওই মিলনায়তনে একটি বিয়ের অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়েছিল। যাতে নবদম্পতি ও অতিথিদের কোনো ধরনের অসুবিধার মুখে পড়তে না হয়, সে বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে কর্মসূচি সংক্ষিপ্ত করা হয়। পরে তারেক রহমান নবদম্পতির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। এ সময় তিনি বর-কনেকে শুভেচ্ছা ও শুভকামনা জানান। ঘটনাস্থলে উপস্থিত অতিথিদের অনেকেই এ আচরণকে ইতিবাচক ও মানবিক উদ্যোগ হিসেবে উল্লেখ করেন। তাদের ভাষ্য, রাজনৈতিক ব্যস্ততার মধ্যেও সাধারণ মানুষের ব্যক্তিগত আয়োজন ও অনুভূতির প্রতি সম্মান দেখানো দায়িত্বশীল নেতৃত্বের পরিচয় বহন করে। এ ঘটনাকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও বিভিন্ন মহলে আলোচনা তৈরি হয়েছে। অনেকেই এটিকে সৌজন্য ও সামাজিক সংবেদনশীলতার উদাহরণ হিসেবে দেখছেন।

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ১০, ২০২৬ 0
পুলিশ পদক স্থগিত
বিতর্কিত কর্মকর্তাদের নাম থাকায় পুলিশ সপ্তাহে পদক প্রদান স্থগিত

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : পুলিশ সপ্তাহ ২০২৫ উপলক্ষে ঘোষিত পুলিশ পদক প্রদান অনুষ্ঠান শেষ মুহূর্তে স্থগিত করা হয়েছে। পদকপ্রাপ্তদের তালিকায় বিতর্কিত ও আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে একাধিকবার পুরস্কার পাওয়া কর্মকর্তাদের নাম উঠে আসায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও পুলিশ সদর দপ্তরের একাধিক সূত্র বলছে, এ বছর মোট ১০৭ জন পুলিশ সদস্যের পদক পাওয়ার কথা ছিল। তাদের মধ্যে অন্তত ১১ জন কর্মকর্তা অতীত সরকারের আমলেও পদক পেয়েছিলেন। এদের একজন বিগত সরকারের সময়ে দুইবার পদক লাভ করেন। পদকের জন্য মনোনীত অন্তত ছয়জন কর্মকর্তা কালবেলাকে জানিয়েছেন, তাদের মৌখিকভাবে জানানো হয়েছে যে রাজারবাগ পুলিশ লাইন্স প্যারেড গ্রাউন্ডে পদক প্রদানের আনুষ্ঠানিকতা আপাতত বাতিল করা হয়েছে। পরবর্তীতে নতুন সিদ্ধান্ত জানানো হবে বলেও তাদের জানানো হয়। যদিও এ বিষয়ে পুলিশ সদর দপ্তর আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো ব্যাখ্যা দেয়নি, তবে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর দাবি— পদকপ্রাপ্তদের তালিকায় কয়েকজন বিতর্কিত সদস্যের নাম শেষ মুহূর্তে নজরে আসায় অনুষ্ঠান স্থগিত করা হয়েছে। তবে শনিবার বিকেলে পুলিশ সদর দপ্তরের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ২০২৫ সালে অসীম সাহসিকতা ও বীরত্বপূর্ণ কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ ‘বাংলাদেশ পুলিশ পদক (বিপিএম)’ ও ‘রাষ্ট্রপতির পুলিশ পদক (পিপিএম)’ প্রদান করা হবে। পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ মামলার রহস্য উদঘাটন, অপরাধ নিয়ন্ত্রণ, কর্তব্যনিষ্ঠা, সততা ও শৃঙ্খলামূলক আচরণের জন্য ‘বিপিএম-সেবা’ ও ‘পিপিএম-সেবা’ পদক দেওয়ার কথাও জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে আরও উল্লেখ করা হয়, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান পদকপ্রাপ্তদের হাতে পদক তুলে দেবেন। এর আগে, গত ২ মে থেকে পদকের জন্য মনোনীত সদস্যরা রাজধানীর রাজারবাগ পুলিশ লাইন্স মাঠে প্যারেডের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। ‘আমার পুলিশ, আমার দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’— এই প্রতিপাদ্যে চার দিনব্যাপী পুলিশ সপ্তাহ শুরু হচ্ছে রোববার। চলবে ১৩ মে পর্যন্ত। রোববার সকালে রাজারবাগ পুলিশ লাইন্স মাঠে বার্ষিক পুলিশ প্যারেডের মধ্য দিয়ে কর্মসূচির উদ্বোধন হবে। অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বিভিন্ন কন্টিনজেন্ট ও পতাকাবাহী দলের প্যারেড পরিদর্শন এবং অভিবাদন গ্রহণ করবেন। এ সময় তিনি পুলিশ সদস্যদের উদ্দেশে দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্যও দেবেন। এবারের প্যারেডে অধিনায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ-পুলিশ কমিশনার হাসান মোহাম্মদ নাছের রিকাবদার। তার নেতৃত্বে বিভিন্ন ইউনিটের সদস্যরা অংশ নেবেন প্যারেডে। পুলিশ সপ্তাহ উপলক্ষে আয়োজিত বিভিন্ন কর্ম অধিবেশনে গত বছরের কার্যক্রম মূল্যায়ন এবং আগামী বছরের কর্মপরিকল্পনা নির্ধারণ করা হবে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্টরা।

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ১০, ২০২৬ 0
বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান
মব সহিংসতা ও কিশোর গ্যাং দমনে কার্যকর ভূমিকার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : পুলিশের প্রতি জনগণের আস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠা এবং স্থিতিশীল আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রা অব্যাহত রাখতে মব সহিংসতা, কিশোর গ্যাং ও মাদকের বিস্তার রোধে পুলিশকে আরও কার্যকর ভূমিকা পালন করতে হবে। শনিবার (৯ মে) পুলিশ সপ্তাহ ২০২৬ উপলক্ষে দেওয়া এক বিবৃতিতে সরকারপ্রধান এসব কথা বলেন। আগামীকাল ১০ মে শুরু হচ্ছে পুলিশ সপ্তাহ ২০২৬। বিবৃতিতে তিনি বলেন, “দীর্ঘ দেড় দশকের বেশি সময় পর একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে দেশে গণতান্ত্রিক সরকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। জনমনে শান্তি ও স্বস্তি ফিরেছে।” তিনি আরও বলেন, জনগণ এখন এমন একটি রাষ্ট্র ও সমাজ প্রত্যাশা করে যেখানে গুম, অপহরণ ও ভয়ের সংস্কৃতি থাকবে না এবং মানুষ জানমাল, অবিচার বা নির্যাতনের শঙ্কামুক্ত জীবনযাপন করতে পারবে। এই পরিস্থিতি বজায় রাখতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, বিশেষ করে পুলিশের ভূমিকা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেন তিনি। “জনগণের আস্থা ছাড়া পুলিশের কাজ কঠিন” প্রধানমন্ত্রী বলেন, একটি রাষ্ট্রে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, অপরাধ প্রতিরোধ এবং জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশ বাহিনীর বিকল্প নেই। তবে জনগণের সঙ্গে আস্থা ও বিশ্বাসের সম্পর্ক গড়ে তুলতে পারলে পুলিশের দায়িত্ব পালন আরও সহজ হবে। তারেক রহমান বলেন, রাষ্ট্রের স্থিতিশীলতা ও জনগণের আস্থা রক্ষায় একটি পেশাদার ও দায়িত্বশীল পুলিশ বাহিনী অপরিহার্য। তাঁর ভাষায়, পুলিশ সপ্তাহ শুধু আনুষ্ঠানিকতা নয়, বরং জনগণের বিশ্বস্ত হয়ে ওঠার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করার একটি সুযোগ হওয়া উচিত। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নকে অগ্রাধিকার বিবৃতিতে সরকারপ্রধান বলেন, বর্তমান সরকার একটি “সমৃদ্ধ, স্বনির্ভর, ন্যায়ভিত্তিক ও মানবিক গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র” গঠনের লক্ষ্যে কাজ করছে। তবে মানুষের মনে নিরাপত্তা ও স্বস্তি নিশ্চিত না হলে সেই লক্ষ্য অর্জন কঠিন হয়ে পড়বে। তিনি বলেন, “পুলিশের প্রতি জনগণের আস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠা এবং দেশে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নই এই মুহূর্তে আমাদের অগ্রাধিকার।” নির্বাচনে পুলিশের ভূমিকার প্রশংসা সম্প্রতি অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পুলিশের ভূমিকারও প্রশংসা করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, উপযোগী ও অনুকূল পরিবেশ পেলে পুলিশ দক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে সক্ষম—সাম্প্রতিক নির্বাচন সেই সক্ষমতার প্রমাণ দিয়েছে। আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও সাফল্যের উল্লেখ বাংলাদেশ পুলিশের আন্তর্জাতিক অবদানের কথাও উল্লেখ করেন তিনি। জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে পুলিশের ভূমিকা বাংলাদেশের মর্যাদা বাড়িয়েছে বলে মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রী। তবে পরিবর্তিত বৈশ্বিক বাস্তবতায় পুলিশ বাহিনীর আধুনিকায়ন ও সক্ষমতা বৃদ্ধি জরুরি বলেও তিনি উল্লেখ করেন। “জননিরাপত্তায় বিনিয়োগ অপরিহার্য” প্রধানমন্ত্রী বলেন, আইনশৃঙ্খলা উন্নয়ন, অপরাধ দমন এবং জাতীয় অগ্রগতি একে অপরের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে সম্পর্কিত। এজন্য পুলিশের উন্নয়নে বিনিয়োগকে সরকার জননিরাপত্তার অপরিহার্য অংশ হিসেবে বিবেচনা করছে। পুলিশ সপ্তাহ ২০২৬ উপলক্ষে তিনি বাংলাদেশ পুলিশের সার্বিক সাফল্য ও সমৃদ্ধি কামনা করেন।

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ৯, ২০২৬ 0
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নিজে কোদাল হাতে নিয়ে মাটি কেটে সিলেটের বাসিয়া নদীর খাল পুনঃখনন কাজের উদ্বোধন করেন।
সিলেটে বাসিয়া নদীর খাল পুনঃখনন উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

বাসস : বাবা শহীদ প্রেডিসেন্ট জিয়াউর রহমানের স্মৃতি বিজড়িত সিলেটের বাসিয়া নদীর খাল পুনঃখনন কাজের উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আজ বেলা ১টা ২০ মিনিটে দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার মধ্যেই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নিজে কোদাল হাতে নিয়ে মাটি কেটে এই কর্মসূচির উদ্বোধন করেন। সিলেট শহর থেকে প্রায় ৭ কিলোমিটার দূরে কাশিপুর ইউনিয়নের এই বাসিয়া নদী সুরমা নদীর সঙ্গে সংযুক্ত। পুনঃখনন কাজের উদ্বোধনে উপস্থিত এলাকাবাসীর উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, এই যে বাসিয়ায় যে নদীটা আছে, এখানে যে খালটা— এটা সেই ৭৭ সালে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান খনন করেছিলেন। তারপরে আবার এই খাল চলতে চলতে এখন বন্ধ হয়ে গেছে। এই খালটা আমরা আবারো কাটতে চাই। বাসিয়া নদীর এই খাল আবারো কাটার কারণ জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই খাল যদি আমরা কাটি, প্রায় ৮০ হাজার কৃষক প্রথমত সরাসরি উপকার পাবে। এর বাইরে দেড় লাখ কৃষক পরোক্ষভাবে উপকৃত হবে। যাদের জমি-জমা আছে এই খালের দুই পাশে, ফসল যে উৎপাদন হয়— প্রায় ৭ হাজার মেট্রিক টন ফসল বেশি উৎপাদন হবে। তিনি আরো বলেন, শুধু এই খাল না, সারা বাংলাদেশে এরকম অনেক বাসিয়া খাল আমরা খনন করব। কারণ, আমরা যদি খালগুলো খনন করতে পারি, কৃষক ভাইদের জন্য সুবিধা হবে। বিএনপির সরকার কৃষকবান্ধব উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, নির্বাচনের সময় যখন এসেছিলাম, তখন আমি বক্তব্যে বলেছিলাম— বিএনপি সরকার গঠন করতে পারলে, আমরা কৃষক ভাইদের কৃষি কার্ড প্রদান করব। এই কাজ শুরু করেছি টাঙ্গাইল থেকে। গত মাসের ১৪ তারিখে আমি কৃষক কার্ডের উদ্বোধন করেছি। তারপর এখন ধীরে ধীরে বাংলাদেশের কৃষক ভাইদেরকে আমরা কৃষক কার্ড পৌঁছে দেব। প্রধানমন্ত্রী বলেন, কৃষক কার্ডের মাধ্যমে অনেকগুলো সুবিধা আমরা কৃষক ভাইদেরকে দেব, তাদেরকে ঋণের সুবিধা, সার-বীজ, কীটনাশকের সুবিধা সরকার থেকে সরাসরি দিতে পারব। আর সবচেয়ে বড় যে সুবিধাটা— তারা বছরে আড়াই হাজার টাকা পাবে। যেটা দিয়ে তারা নিজেরা কীটনাশক ওষুধ, বীজ সরাসরি কিনতে পারবে। সরকার থেকে সরাসরি আমরা তাদেরকে এই অর্থ সাহায্য করব। কৃষকদের জন্য ১০ হাজার টাকা সুদসহ ঋণ মওকুফ করা হয়েছে জানিয়ে প্রধানন্ত্রী বলেন, ‘আমরা চাই এ দেশের কৃষক ভাইয়েরা ভালো থাকুক, আমরা চাই গ্রামের মানুষরা ভালো থাকুক। গ্রামসহ সব মানুষই ভালো থাকুক। কিন্তু যেহেতু বাংলাদেশের অধিকাংশ মানুষ গ্রামে বসবাস করে। মেজরিটি মানুষ গ্রামে বসবাস করে, এজন্য এই মেজরিটি মানুষ যাতে দেশে ভালো থাকতে পারে সেটিই হচ্ছে আমাদের লক্ষ্য, সেটিই হচ্ছে আমাদের উদ্দেশ্য। দেশের ৬০টি জায়গায় ইতোমধ্যে খাল খনন শুরু হয়েছে বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি আরো বলেন, এই এলাকায় আমরা এই বাসিয়া খাল পুনঃখননের মাধ্যমে খাল খননের কাজ শুরু করলাম। এর মধ্যে দেশের অনেকগুলো জায়গায় প্রায় ৬০ টার মতো জেলায় এর মধ্যে খাল খনন শুরু হয়ে গেছে। এই খাল খনন এবারই শেষ হবে না। এটা প্রায় ৪০ কিলোমিটার। তার মধ্যে ২৩ কিলোমিটার খাল আমরা পুনঃখনন করব। তিনি বলেন, এই ২৩ কিলোমিটার খাল খনন করতে আমাদের দুটো শুকনো মৌসুম লাগবে। এই এখন শুরু হলো, কিন্তু এখন তো বর্ষা শুরু হয়ে গেছে। এ বছর তো আর শেষ হবে না। কিন্তু এই বছর নভেম্বর থেকে আবার আমরা খাল খনন শুরু করবো। শুকনো মৌসুমটা শুরু হলে এবং ইনশাআল্লাহ আগামী বছর আমরা চেষ্টা করব এই ২৩ কিলোমিটার খাল সম্পূর্ণভাবে পুনঃখনন করতে। এর ফলে কৃষক ভাইয়েরা পানির সুবিধা পাবে। একইভাবে এলাকার মানুষরা পানির সুবিধা পাবে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, শুধু খাল খনন নয়, এই খালের দুই পাশে ২৩ কিলোমিটারে আমরা ৫০ হাজার বৃক্ষরোপণ করব। এর ফলে আমরা খালটাকেও ধরে রাখতে পারবো। এলাকার মানুষরাও বসার জায়গা পাবে গাছের তলায়। পাশাপাশি আমরা চেষ্টা করব সেখানে বিভিন্ন ফলাদি গাছও রোপণ করতে, যাতে এলাকার মানুষ ফল-ফলাদি খেতে পারে। উপস্থিত জন-সাধারণের উদ্দেশ্যে প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘কি ভাই আছেন নাকি কাজে। এই যে কাজগুলো আমরা করব, এই কাজগুলো করলে উপকার হবে কার? এলাকার মানুষের উপকার হবে। কাজ ঠিক আছে তাহলে? ঠিক আছে।’ এ সময় উপস্থিত জনগণ দু’হাত তুলে বলেন, ‘ঠিক আছে, ঠিক আছে।’ এই সরকার জনগণের সরকার উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, ‘এখন বাংলাদেশের মানুষ এমন একটি সরকারকে ১২ তারিখে নির্বাচনে ভোট দিয়ে নির্বাচন করেছে, যেই সরকার জনগণের জন্য কাজ করবে। কারণ, আমাদের একমাত্র জবাবদিহিতা হচ্ছে এই দেশের মানুষের কাছে, এই দেশের জনগণের কাছে। সেজন্যই আমরা সেই সকল কর্মসূচি পালন করতে চাই, সেই সকল কাজ আমরা করতে চাই— যেগুলোতে জনগণের উপকার হবে।’ তিনি বলেন,  ‘এই সরকারের সবচেয়ে বড় দায়িত্ব হচ্ছে, এই দেশের মানুষের স্বার্থ দেখা। এই সরকারের এক নম্বর দায়িত্ব হচ্ছে, এই দেশের মানুষের সমস্যার সমাধান করা।’ দেশের বন্ধ কলকারখানা চালু হবে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘কথা কম কাজ বেশি। এখন কাজ হচ্ছে, দেশ গড়ার কাজ করতে হবে। আমরা নির্বাচনের আগে বলেছিলাম যে, দেশে যে সকল কল-কারখানা বন্ধ আছে, বিএনপি সরকার গঠন করলে এই কল-কারখানাগুলো আমরা চালু করব।’ তিনি আরো বলেন, ‘এই যে এখানে আপনাদের সন্তান বসে আছে মুক্তাদির (খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির)। মুক্তাদির হচ্ছে শিল্পমন্ত্রী। শিল্প মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব আছে মুক্তাদিরের কাছে। নির্বাচনের পর পাঁচ-সাত দিনের মধ্যে আমি মুক্তাদিরকে নিয়ে বসেছিলাম যে, কোথায় কোথায় বন্ধ কল-কারখানা রয়েছে। ইনশাআল্লাহ ধীরে ধীরে সেগুলো চালু করবো।’ দেশের বাইরেও বেকার যুবকদের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টির জন্য সরকার কাজ করছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আপনারা যদি সাথে থাকেন, আপনারা যদি পাশে থাকেন— তাহলে বাংলাদেশকে এগিয়ে নিয়ে যেতে সক্ষম হবো, বাংলাদেশকে উন্নত দেশের পাশে দাঁড় করাতে সক্ষম হবো। কাজেই সব সময় একটা কথা বলি, কাজ কাজ আর কাজ। সেজন্যই করব কাজ, গড়ব দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ।’ এ সময়ে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, পানিসম্পদ মন্ত্রী শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি, প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা উপস্থিত ছিলেন। সিলেটের বাসিয়া নদীর এই খাল ১৯৭৭ সালে তৎকালীন প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান খনন করেছিলেন। সুরমা ও কুশিয়ারা নদীর সংযোগকারী এই বাসিয়া নদীটি দীর্ঘদিন ধরে নাব্যতা হারিয়ে মৃতপ্রায় অবস্থায় পড়ে আছে। স্থানীয়দের দাবির প্রেক্ষিতে পানি সম্পদ মন্ত্রণালয় বাসিয়া নদীর খালটি পুনঃখনন কার্যক্রম গ্রহন করেছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ৩, ২০২৬ 0
মনোনয়ন পেলেন না যেসব নেত্রী-তারকা
সংরক্ষিত নারী আসনে আলোচনায় থেকেও মনোনয়ন পেলেন না যেসব নেত্রী-তারকা

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সংরক্ষিত নারী আসনের ৩৬ জনের তালিকা প্রকাশ করেছে বিএনপি। সোমবার (২০ এপ্রিল) দুপুরে নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে তাদের নাম ঘোষণা করেন দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। তবে এতে মনোনয়ন পাননি আলোচিত অনেক প্রার্থী। এর মধ্যে রয়েছেন– সৈয়দা আসিফা আশরাফি পাপিয়া, কনকচাঁপা, বেবী নাজনীন, রিজিয়া পারভীন, মেঘনা আলম, ফারজানা সিঁথি, প্রয়াত নাসির উদ্দীন পুন্টুর স্ত্রী নাসিমা আক্তার কল্পনা, ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদের স্ত্রী হাসনা মওদুদ, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়ের মেয়ে অপর্ণা রায়, সালাহ উদ্দিন আহমদ এর স্ত্রী হাসিনা আহমদ, ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেনের বড় ছেলের স্ত্রী নাঈমা খন্দকার, মহিলা দলের সহ-সভাপতি বেবী মওদুদ, বরিশাল মহানগর বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আফরোজা নাসরিন,সামিরা তাজরিন ও মাহরীন খান। পরিচিত মুখ হিসেবে এই কয়েকজন মোটামুটি আলোচনায় ছিলেন। তবে শেষ পর্যন্ত চূড়ান্ত বাছাইয়ে তারা বাদ পড়েছেন। দলীয় সূত্র জানিয়েছে, তাদের ভিন্নভাবে মূল্যায়ন করা হতে পারে। দলীয় সূত্রে জানা গেছে, এবার সংরক্ষিত নারী আসনে বিএনপির মনোনয়ন ফরম বিক্রি হয়েছে মোট ১ হাজার ২৫টি। তবে, জমা দিয়েছেন প্রায় ৯০০ জন। প্রতিটি ফরমের মূল্য নির্ধারণ করা হয় ২ হাজার টাকা এবং মনোনয়ন ফরম জমা দেওয়ার সময় প্রার্থীদের ৫০ হাজার টাকা জামানত দিতে হয়। গত ১৭ ও ১৮ এপ্রিল প্রার্থীদের সাক্ষাৎকার নেন দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান ও স্থায়ী কমিটির সদস্যরা।

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ২১, ২০২৬ 0
মির্জা ফখরুল , খন্দকার মোশাররফ , জমিরউদ্দিন সরকার ও মঈন খান
রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন কি থাকবেন, নাকি আসছে নতুন মুখ? বিএনপির ভেতরে আলোচনায় চার নেতা

বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় রাষ্ট্রপতির পদটি আবারও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে। অন্তর্বর্তী সরকারের সময়কার বিতর্ক, ক্ষমতার পালাবদল, এবং নতুন রাজনৈতিক সমীকরণ—সব মিলিয়ে প্রশ্ন উঠছে: মো. সাহাবুদ্দিন কি তাঁর পূর্ণ মেয়াদ শেষ করতে পারবেন, নাকি পরিবর্তনের পথে এগোচ্ছে রাষ্ট্রপতি ভবন?  পটপরিবর্তনের পর চাপ ও টিকে থাকা ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পরপরই রাষ্ট্রপতিকে ঘিরে অস্বস্তিকর পরিস্থিতি তৈরি হয়। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনসহ একাধিক রাজনৈতিক শক্তি তাঁকে অপসারণের দাবি তোলে। তাঁকে ‘ফ্যাসিস্টের দোসর’ আখ্যা দিয়ে বঙ্গভবনের সামনে বিক্ষোভও হয়। তবে অন্তর্বর্তী সরকার সাংবিধানিক সীমাবদ্ধতার কথা উল্লেখ করে এ দাবি নাকচ করে। গুরুত্বপূর্ণভাবে, দেশের অন্যতম বড় রাজনৈতিক দল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল তখন এ দাবির সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করেনি। ফলে আন্দোলনটি ধীরে ধীরে স্তিমিত হয়ে পড়ে। এর মধ্যেই রাষ্ট্রপতির অধীনেই শপথ নেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান মুহাম্মদ ইউনূস এবং তাঁর উপদেষ্টা পরিষদ। তবে পরিস্থিতি স্বাভাবিক ছিল না। রাষ্ট্রীয় আনুষ্ঠানিকতা সীমিত হয়ে আসে তাঁর জন্য। এমনকি জাতীয় দিবস বা ধর্মীয় বড় আয়োজনেও তাঁর উপস্থিতি অনেক ক্ষেত্রে অনুপস্থিত ছিল—যা রাষ্ট্রপতির পদটির প্রাতিষ্ঠানিক মর্যাদা নিয়ে প্রশ্ন তোলে।  নতুন সরকার, নতুন সমীকরণ ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে দুই-তৃতীয়াংশ আসন পেয়ে সরকার গঠন করে বিএনপি। অনেকেই ধারণা করেছিলেন, নতুন সরকার ক্ষমতায় এসে রাষ্ট্রপতিকে সরিয়ে দিতে পারে। কিন্তু বাস্তবতা ভিন্ন চিত্র দেখিয়েছে। বর্তমানে সরকারপ্রধান তারেক রহমান-এর সঙ্গে রাষ্ট্রপতিকে বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানে একসঙ্গে দেখা যাচ্ছে। এতে অন্তত আপাতদৃষ্টিতে দ্বন্দ্বের বদলে একটি কার্যকর সমঝোতার ইঙ্গিত মিলছে। তবুও রাজনৈতিক অন্দরে প্রশ্ন থামেনি—এই সহাবস্থান কতদিন?  সম্ভাব্য উত্তরসূরি: দলের ভেতরের চার নাম বিএনপির ভেতরে আলোচনায় রয়েছে কয়েকজন বর্ষীয়ান নেতা, যাদের ‘ক্লিন ইমেজ’ ও দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা বড় সম্পদ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। সবচেয়ে আলোচিত নাম: * মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর — বর্তমান মহাসচিব ও মন্ত্রী, দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রামের কারণে দলের আস্থাভাজন। এছাড়া আরও তিনজন: * খন্দকার মোশাররফ হোসেন * জমিরউদ্দিন সরকার * আব্দুল মঈন খান বিশেষত জমিরউদ্দিন সরকার অতীতে স্পিকার ও অস্থায়ী রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করেছেন, যা তাঁকে এই আলোচনায় আলাদা গুরুত্ব দেয়। দলীয় সূত্র বলছে, সরকারে সরাসরি না থাকলেও এই নেতাদের “রিজার্ভ” হিসেবে রাখা হয়েছে—যা ভবিষ্যৎ বড় পদে ব্যবহারের ইঙ্গিত দেয়।  সংবিধান কী বলছে? বাংলাদেশে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন এখন সরাসরি ভোটে হয় না। ১৯৯১ সালে সংসদীয় ব্যবস্থা চালুর পর থেকে সংসদ সদস্যদের ভোটে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন। সংবিধান অনুযায়ী: * রাষ্ট্রপতির মেয়াদ: ৫ বছর * সর্বোচ্চ: দুই মেয়াদ * যোগ্যতা: ন্যূনতম ৩৫ বছর বয়স ও সংসদ সদস্য হওয়ার যোগ্যতা রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হতে পারে: * মৃত্যু * পদত্যাগ * অভিশংসন * শারীরিক অক্ষমতা * সংবিধান লঙ্ঘন নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের আগ পর্যন্ত স্পিকার দায়িত্ব পালন করেন। মেয়াদ পূর্ণ করবেন, নাকি বিদায়? ২০২৩ সালের এপ্রিলে দায়িত্ব নেওয়া মো. সাহাবুদ্দিনের মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা ২০২৮ সালে। তবে তিনি নিজেই ইঙ্গিত দিয়েছেন, নির্বাচনের পর সরে দাঁড়াতে পারেন—কারণ অন্তর্বর্তী সময়ের অভিজ্ঞতা তাঁর জন্য “অপমানজনক” ছিল। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান পরিস্থিতিতে তিনটি সম্ভাবনা খোলা রয়েছে: পূর্ণ মেয়াদ শেষ করা — যদি সরকার তাঁকে রাখতে চায় সমঝোতার ভিত্তিতে পদত্যাগ রাজনৈতিক সিদ্ধান্তে অপসারণ (সংবিধানসম্মত প্রক্রিয়ায়) একজন বিএনপি ভাইস চেয়ারম্যানের ভাষায়, “পূর্ণ মেয়াদে থাকার সম্ভাবনা কম”—যদিও এটি আনুষ্ঠানিক অবস্থান নয়। পদটি প্রতীকী, তবু রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ বাংলাদেশের সংসদীয় ব্যবস্থায় রাষ্ট্রপতির নির্বাহী ক্ষমতা সীমিত হলেও, রাজনৈতিক সংকটকালে এই পদটি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। বিশেষ করে সরকার পরিবর্তন, অন্তর্বর্তী ব্যবস্থা বা সাংবিধানিক জটিলতায় রাষ্ট্রপতির ভূমিকা নির্ধারক হতে পারে। এই প্রেক্ষাপটে প্রশ্নটি এখনো উন্মুক্ত: রাষ্ট্রপতি কি কেবল সাংবিধানিক আনুষ্ঠানিকতার প্রতীক হয়ে থাকবেন, নাকি আবারও রাজনৈতিক সমীকরণের কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে আসবেন?এখন দেখার বিষয়—বর্তমান রাষ্ট্রপতি দায়িত্বে থাকবেন, নাকি নতুন কোনো মুখের মাধ্যমে রাষ্ট্রপতি ভবনে শুরু হবে নতুন অধ্যায়।  

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ২১, ২০২৬ 0
রাশেদ প্রধান
তারেক রহমানকে নিয়ে মন্তব্যে দুঃখ প্রকাশ রাশেদ প্রধানের, বিএনপি-জাগপা উত্তেজনা

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্যের জন্য দুঃখ প্রকাশ করেছেন জাগপার সিনিয়র সহসভাপতি রাশেদ প্রধান।  শনিবার রাজধানীর পল্টনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে দুঃখ প্রকাশ করেন তিনি। রাশেদ প্রধান বলেন, ‘যেহেতু বিএনপির কর্মীরা একটি শব্দ ব্যবহার করার জন্য রাগ করেছেন, কষ্ট পেয়েছেন তাই আমি বিএনপি সমর্থকগোষ্ঠীর কাছে আন্তরিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করছি। ভবিষ্যতে আর ওই শব্দটি ব্যবহার করব না বলে কথা দিচ্ছি।’ তিনি বলেন, ‘জাতীয় নির্বাচনের আগে থেকেই আমার বক্তব্যে বারবার বলেছি, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান এবং আপসহীন বেগম খালেদা জিয়ার বিএনপি আর নেই। তারেক রহমান তার বাবা-মায়ের আদর্শে বর্তমান বিএনপি পরিচালনা করেন না। তিনি তাদের সম্মান নষ্ট করেছেন, তাদের অপমান করেছেন।’ রাশেদ প্রধান বলেন, ‘গত বুধবার এক আলোচনা সভায় আমার দেওয়া বক্তব্যে আমি একই কথা বলেছি। আমার এই বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে আলোচনা এবং সমালোচনার ঝড় উঠেছে। অতীতে অসংখ্যবার দেওয়া বক্তব্যে তেমন কোনো প্রতিক্রিয়া দেখা না গেলেও ১৫ এপ্রিলের বক্তব্যে বড় রকমের প্রতিক্রিয়া লক্ষ্য করা যাচ্ছে।’ জাগপা নেতা বলেন, ‘আমি মনে-প্রাণে বিশ্বাস করি, তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বিএনপি, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ও দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার আদর্শের বিএনপি নয়। যেটা তিনি নির্বাচনের পরে জুলাইয়ের সঙ্গে বেইমানি করে প্রমাণ করেছেন। আমার এই বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বিএনপি সমর্থকগোষ্ঠী প্রতিবাদ, মিছিল, মিটিং, আমার কুশপুত্তলিকা দাহসহ নানাবিধ কর্মসূচি পালন করেছেন। সেটা করার সম্পূর্ণ গণতান্ত্রিক অধিকার তাদের আছে। আমি সরকারি দলের নেতাকর্মীদের সাধুবাদ জানাই।’ তিনি বলেন, ‘শুক্রবার সকালে আমার বাসভবনের সামনে সরকারি দল ও বিএনপি সমর্থকগোষ্ঠী যেভাবে অবরুদ্ধ করে মব সৃষ্টি করেছে হতবাক করার মতোই। জুলাই গণঅভ্যুথানের সময় আওয়ামী সন্ত্রাসীরা পঞ্চগড় জেলায় জাগপা কার্যালয় হামলা ও ভাঙচুর করেছিল। গতকাল দেখলাম ছাত্রদল ও যুবদলের নেতাকর্মীরা মিছিল করে সেই আওয়ামী সন্ত্রাসী কায়দায় পঞ্চগড় জেলা জাগপা কার্যালয়ে হামলা ও ভাঙচুর করেছে।’ রাশেদ প্রধান বলেন, ‘স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছিলেন বাংলাদেশে আর কোনো মব কালচার থাকবে না। তারেক রহমান দেশে আসার আগে সোশ্যাল মিডিয়াতে নিজের ব্যঙ্গাত্মক চিত্র শেয়ার করে বাকস্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছিলেন। আমি তারেক রহমান ও সালাহউদ্দিন আহমদের কথার প্রতিফলন দেখার অপেক্ষায় আছি।’ তিনি বলেন, ‘আমি যে রাজনৈতিক বক্তব্য দিয়েছি, তা শুধুমাত্র আমার বক্তব্য অথবা দলীয় মুখপাত্র হিসেবে জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির (জাগপা) বক্তব্য। এর সঙ্গে আমাদের ১১ দলীয় ঐক্যের কোনো সম্পর্ক নেই। ফলে আমার বক্তব্যকে জামায়াত অথবা ১১ দলের বক্তব্য হিসেবে যারা প্রচার করছেন তারা ভুল করছেন।’ জাগপার সহসভাপতি বলেন, ‘আমাকে বিব্রত করার লক্ষ্যে সোশ্যাল মিডিয়ায় আমার ফোন নম্বর ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। অতি উৎসাহী বিএনপি সমর্থকেরা আমার ফোন করে বকাঝকা দিচ্ছেন। আমাকে হত্যার হুমকিও দিয়েছেন। জুলাই গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশে বাকস্বাধীনতার এতো চমৎকার উদাহরণ আমরা আশা করিনি। বিএনপি সমর্থকদের বলতে চাই, জুলাই গণঅভ্যুথানে আমার ১৯ তারিখ মৃত্যু হতে পারত। আমি আল্লাহপ্রদত্ত দ্বিতীয় জীবনযাপন করছি। মৃত্যু ভয় নিয়ে আমি রাজনীতি করি না। মহান রাব্বুল আলামিন যেদিন যে সময়ে আমার মৃত্যু নির্ধারণ করেছেন, তার ১ সেকেন্ড আগে অথবা ১ সেকেন্ড পরে আমার মৃত্যু হবে না।’ জাগপা মুখপাত্র বলেন, ‘রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত না থাকার পরেও শুধুমাত্র আমার সহধর্মিণী হওয়ার অপরাধে সোশ্যাল মিডিয়ায় তার ফোন নম্বর ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। আমার বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে আমার পরিবারের মানুষকে হেনস্তা করা হচ্ছে, যা একটি গোষ্ঠীর রুচিবোধকে প্রশ্নবিদ্ধ করে। আমার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করতে যেয়ে আমার মরহুম দাদা পাকিস্তান আমলের স্পিকার মুসলিম লীগ নেতা গমীর উদ্দিন প্রধানকে রাজাকার বলা হচ্ছে। অথচ আওয়ামী লীগ, বিএনপিসহ কোনো সরকারের আমলে তার নামে এই ধরনের কোনো অপবাদ কেউ দেয়নি।’ তিনি বলেন, ‘আমার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করতে যেয়ে আমার মরহুম পিতা জাগপা প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি শফিউল আলম প্রধানকে রাজাকার বলা হচ্ছে। অথচ ইতিহাস বলে শফিউল আলম প্রধান ৭১ সালের ২৩ মার্চ পরাধীন বাংলার দিনাজপুরে পাকিস্তানের পতাকা নামিয়ে স্বাধীন বাংলার পতাকা উত্তোলন করেছিলেন। তিনি একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন। একজন বীর মুক্তিযোদ্ধাকে রাজাকার বানানোর এই মিথ্যা চক্রান্ত নিন্দনীয়। তাকে মহসিন হলে সংগঠিত সাত খুনের হত্যাকারী বলা হচ্ছে। বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ অসংখ্য বর্ষীয়ান বিএনপি নেতাদের মুখে আমরা শুনেছি এটা মিথ্যা অপবাদ।’ রাশেদ প্রধান বলেন, ‘তৎকালীন ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের ৬৪ জন দুর্নীতিবাজের নামের তালিকা প্রকাশের এক সপ্তাহের মধ্যে সাত খুন সংগঠিত হয় এবং শফিউল আলম প্রধানকে আসামি করা হয় মুজিব সরকারের নির্দেশে। শফিউল আলম প্রধান তখন ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক ছিলেন আর সভাপতি ছিলেন বর্তমান বিএনপি সরকারের সংসদ সদস্য মনিরুল হক চৌধুরী। আমি বিএনপি সমর্থকদের বিনয়ের সঙ্গে অনুরধ করব, আমার মরহুম পিতাকে আওয়ামী কায়দায় খুনি বলার আগে আপনাদের নেতা মনিরুল হক চৌধুরীর কাছে প্রকৃত ঘটনাটি সম্পর্কে অবগত হওয়ার জন্য। ওনাকে খুনি বলা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের সিদ্ধান্তকে অসম্মান করা।’

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ১৯, ২০২৬ 0
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
টাইমের ১০০ প্রভাবশালী ব্যক্তিত্বের তালিকায় তারেক রহমান | বিশ্ব রাজনীতিতে নতুন অবস্থান

ইত্তেহাদ নিউজ, অনলাইন ডেস্ক : বিশ্বখ্যাত সাময়িকী টাইম ম্যাগাজিন প্রকাশিত বিশ্বের ১০০ প্রভাবশালী ব্যক্তিত্বের তালিকায় স্থান পেয়েছেন বিএনপির চেয়ারম্যান ও বাংলাদেশের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বুধবার (১৫ এপ্রিল) টাইমের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে তাকে ‘লিডার’ ক্যাটাগরিতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। প্রতিবেদন অনুযায়ী, দীর্ঘদিন নির্বাসনে থাকার পর বাংলাদেশের রাজনীতিতে তার প্রত্যাবর্তন এবং সাম্প্রতিক সক্রিয়তা তাকে এই তালিকায় জায়গা করে দিয়েছে। তিনি দীর্ঘ সময় যুক্তরাজ্যের লন্ডন-এ অবস্থান করলেও দেশের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর আবারও প্রভাবশালী ভূমিকায় ফিরে আসেন। টাইমের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, ২০২৪ সালে বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা-এর ক্ষমতাচ্যুতির পর দেশের রাজনৈতিক সমীকরণে বড় ধরনের পরিবর্তন ঘটে। এই প্রেক্ষাপটে তারেক রহমান বিরোধীদলীয় রাজনীতির কর্মী থেকে সম্ভাব্য জাতীয় নেতা হিসেবে উঠে আসেন। প্রায় ১৭ বছর দেশের বাইরে থাকার পর তিনি আরও সংগঠিতভাবে রাজনৈতিক কার্যক্রম শুরু করেন এবং একটি বড় নির্বাচনী সাফল্যের মাধ্যমে নিজের অবস্থান দৃঢ় করেন। প্রতিবেদনে তার রাজনৈতিক উত্তরাধিকার নিয়েও আলোচনা করা হয়। সেখানে বলা হয়, তিনি বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া-এর পথ অনুসরণ করছেন। খালেদা জিয়া দেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী। এছাড়া তার ব্যক্তিগত  ও রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতির বিষয়ও তুলে ধরা হয়েছে। জানুয়ারিতে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি দেশের জনগণকে ঐক্যবদ্ধ করা এবং অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় কাজ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। প্রতিবেদনটিতে বাংলাদেশের বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতি, মূল্যস্ফীতি ও বেকারত্বের চাপের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। পাশাপাশি প্রতিবেশী ভারত-র সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্কের টানাপোড়েনের বিষয়টিও উঠে আসে। তবে প্রতিবেদনে তার অতীতের কিছু আইনি ও রাজনৈতিক বিতর্কের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে, যদিও সেগুলো আদালতে খারিজ হয়েছে বলে দাবি করা হয়। সবশেষে টাইম উল্লেখ করে, দীর্ঘ রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা ও নির্বাসনের পর তারেক রহমান এখন দ্রুত রাজনৈতিক ঐক্য গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন। ম্যাগাজিনকে তিনি বলেন, রাজনৈতিক বিভাজন দূর করে জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠায় ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করা প্রয়োজন।

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ১৬, ২০২৬ 0
তারেক রহমান
যশোরের ঐতিহাসিক ‘জিয়া খাল’ পুনঃখনন উদ্বোধনে আসছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

ইত্তেহাদ  নিউজ: যশোরের শার্শা উপজেলার ঐতিহাসিক উলাসী-যদুনাথপুর খাল পুনঃখনন কাজের উদ্বোধন করতে আগামী ২০ এপ্রিলের মধ্যে যশোর সফরে আসতে পারেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তবে তার এই সফরের নির্দিষ্ট দিনক্ষণ এখনো চূড়ান্ত হয়নি বলে জানিয়েছে জেলা প্রশাসন। বৃহস্পতিবার রাতে যশোরের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আশেক হাসান গণমাধ্যমকে জানান, প্রধানমন্ত্রীর সফরসূচি নির্ধারণের জন্য চেষ্টা চলছে। বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত এ বিষয়ে সমন্বয় করছেন। সম্ভাব্য সফরকে সামনে রেখে বৃহস্পতিবার উলাসী-যদুনাথপুর খাল পরিদর্শন করা হয়েছে। এই খালটি স্থানীয়ভাবে ‘জিয়া খাল’ নামে পরিচিত। প্রায় পাঁচ দশক আগে ১৯৭৬ সালের ১ নভেম্বর তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান নিজ হাতে কোদাল দিয়ে খনন কাজের সূচনা করেন। স্থানীয় মানুষের স্বেচ্ছাশ্রমে মাত্র ছয় মাসে প্রায় চার কিলোমিটার দীর্ঘ খালটি খনন সম্পন্ন হয়। পরের বছর ৩০ এপ্রিল আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়। খাল খননের এই উদ্যোগ পরবর্তীতে সারাদেশে ছড়িয়ে পড়ে এবং ‘জিয়া মডেল’ নামে পরিচিতি লাভ করে। এর লক্ষ্য ছিল কৃষিতে সেচ সুবিধা বৃদ্ধি, পানি সংরক্ষণ এবং গ্রামীণ অর্থনীতিকে শক্তিশালী করা। তবে দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় উলাসী-যদুনাথপুর খালটি বর্তমানে পলি জমে ভরাট হয়ে গেছে। শুষ্ক মৌসুমে পানিশূন্য হয়ে পড়ায় কৃষি কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। ফলে খালটি পুনঃখননের দাবি জানিয়ে আসছিল স্থানীয় বাসিন্দারা। সরকার এবার সেই খাল পুনঃখননের উদ্যোগ নিয়েছে। সম্ভাব্য উদ্বোধনকে ঘিরে প্রশাসনের পাশাপাশি রাজনৈতিক নেতাকর্মীরাও প্রস্তুতি নিচ্ছেন। বৃহস্পতিবার খাল পরিদর্শনে জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপারসহ স্থানীয় বিএনপি নেতারা উপস্থিত ছিলেন।  

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ৩, ২০২৬ 0
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন । অধিবেশনের শুরুতে ভাষণ দেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
সংসদকে জাতীয় সমস্যা সমাধানের কেন্দ্র করতে চান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, জাতীয় সংসদকে তিনি সকল যুক্তি, তর্ক এবং জাতীয় সমস্যা সমাধানের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত করতে চান। আজ বৃহস্পতিবার সকালে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন শুরু হয়। অধিবেশনের শুরুতে তিনি ভাষণ দেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ফ্যাসিবাদের নির্মমতার শিকার অসংখ্য মানুষের কান্না ও হাজারো প্রাণের আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে আবারও জনগণের ভোটে জনগণের কাছে জবাবদিহিমূলক একটি সত্যিকারের জনপ্রতিনিধিত্বশীল জাতীয় সংসদের যাত্রা শুরু হচ্ছে। তিনি বলেন, বাংলাদেশের জাতীয় সংসদের রাজনীতির এই ঐতিহাসিক মুহূর্তে তিনি মহান আল্লাহর দরবারে শুকরিয়া আদায় করছেন, যার অশেষ রহমতে একটি ন্যায়ভিত্তিক, গণতান্ত্রিক ও মানবিক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে নতুন যাত্রা শুরু করা সম্ভব হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ১৯৭১ সালের স্বাধীনতা যুদ্ধ থেকে শুরু করে ২০২৪ সালে দেশ ও জনগণের স্বাধীনতা রক্ষার সংগ্রাম পর্যন্ত গণতন্ত্র ও মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে যারা শহীদ হয়েছেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের যাত্রালগ্নে তিনি তাঁদের কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করেন। তিনি বলেন, এসব আন্দোলন-সংগ্রামে যেসব মায়েরা সন্তান হারিয়েছেন, যেসব সন্তান তাঁদের প্রিয়জন হারিয়েছেন, যেসব পরিবার স্বজন হারিয়েছে এবং যেসব আহত মানুষ স্বাভাবিক জীবন হারিয়েছেন, তাঁদের অবদান তিনি কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করেন। তিনি আরও বলেন, নির্যাতন, নিপীড়ন, রাজনৈতিক হয়রানি কিংবা মিথ্যা মামলার শিকার হয়ে যারা সর্বস্ব হারিয়েছেন, দেশের ছাত্র-জনতা, কৃষক, শ্রমিক, শিক্ষক, কবি, সাহিত্যিক, সাংবাদিক, চিকিৎসক, প্রকৌশলী, আইনজীবী, কামার-কুমার, জেলে-তাঁতি, গাড়িচালক, ব্যবসায়ী, সরকারি-বেসরকারি চাকরিজীবী, গৃহিণীসহ দেশের সর্বস্তরের মানুষ যারা গুম, খুন, হত্যা, নির্যাতন, নিপীড়ন এবং মিথ্যা হামলা-মামলার শিকার হয়েছেন কিংবা জীবন্ত মানুষ কবরস্থানের মতো বর্বর বন্দিশালা ‘আয়নাঘর’-এর মতো পরিস্থিতির মধ্যেও যাদের গণতান্ত্রিক আকাঙ্ক্ষাকে রুখে দেওয়া যায়নি, তাদের সাহসী ভূমিকায় দেশে পুনরায় গণতন্ত্র ফিরে এসেছে। প্রধানমন্ত্রী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের এই যাত্রালগ্নে দেশের স্বাধীনতাপ্রিয় গণতান্ত্রিক বীর ছাত্র-জনতাকে অভিনন্দন জানান। ভাষণে তিনি বলেন, দেশনেত্রী মরহুমা খালেদা জিয়া জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠায় দেশে সংসদীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেছিলেন এবং সেটিকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিয়েছিলেন। কিন্তু পরে সেই গণতন্ত্রকে প্রহসনে পরিণত করে জাতীয় সংসদকে হাস্যরসের খোরাকে পরিণত এবং দেশে তাঁবেদারি শাসন-শোষণ কায়েম করা হয়। তিনি বলেন, দেশের সংসদীয় গণতন্ত্র ও জনগণের অধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠার জন্য বেগম খালেদা জিয়া জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত লড়াই করেছেন এবং জীবনে কখনো স্বৈরাচার কিংবা ফ্যাসিবাদের সঙ্গে আপস করেননি। আজ থেকে দেশে আবারও সেই কাঙ্ক্ষিত সংসদীয় গণতন্ত্রের যাত্রা শুরু হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, সংসদীয় রাজনীতির প্রতিষ্ঠাতা বেগম খালেদা জিয়া দেশ ও জনগণের এই সাফল্যের মুহূর্তটি দেখে যেতে পারেননি। তাই জাতীয় সংসদে দাঁড়িয়ে তিনি দেশ ও জনগণের স্বার্থে আপসহীন নেতৃত্বের অধিকারী, স্মরণীয় ও অনুকরণীয় রাজনীতিবিদ মরহুমা খালেদা জিয়াকে গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন। তিনি বলেন, দেশে বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রবক্তা, স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান বলেছিলেন—‘জনগণই যদি রাজনৈতিক দল হয়, তাহলে আমি সেই দলেই আছি’। অর্থাৎ ব্যক্তি বা দলের স্বার্থ নয়, জনগণের স্বার্থই সবচেয়ে বড়—এটাই বিএনপির রাজনীতি। প্রধানমন্ত্রী বলেন, তিনি প্রথমবারের মতো বিএনপি থেকে জাতীয় সংসদ সদস্য এবং সংসদীয় দলের নেতা নির্বাচিত হয়েছেন। তিনি বলেন, জাতীয় সংসদে দলের প্রতিনিধিত্ব করলেও প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তিনি দেশের প্রতিনিধিত্ব করছেন এবং দল-মত, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে দেশের জনগণের প্রতিনিধিত্ব করছেন। তিনি বলেন, তাঁর রাজনীতি দেশ ও জনগণের স্বার্থ রক্ষার রাজনীতি। বিএনপির রাজনীতি জনগণের জীবনমান উন্নয়ন এবং স্বনির্ভর বাংলাদেশ গড়ার রাজনীতি। প্রতিটি পরিবারকে স্বনির্ভর করাই তাঁদের রাজনীতির লক্ষ্য। প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রতিটি পরিবারকে স্বনির্ভর করার মাধ্যমেই বিএনপি একটি স্বনির্ভর, সমৃদ্ধ, নিরাপদ ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করতে চায়। এই লক্ষ্য অর্জনে তিনি গণতান্ত্রিক জনগণের সমর্থন ও সহযোগিতা কামনা এবং জাতীয় সংসদের সকল দলের নির্বাচিত সদস্যদের সমর্থন প্রত্যাশা করেন। তিনি বলেন, দল বা মত কিংবা কর্মসূচি ভিন্ন হতে পারে, কিন্তু তাঁবেদারমুক্ত, ফ্যাসিবাদমুক্ত, স্বাধীন, সার্বভৌম, নিরাপদ ও স্বনির্ভর বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে কোনো বিরোধ থাকতে পারে না। প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাতীয় সংসদকে জাতীয় কর্মকাণ্ডের কেন্দ্রবিন্দু না করে বিতাড়িত ফ্যাসিস্ট সরকার সংসদকে অকার্যকর করে ফেলেছিল। তিনি বলেন, নতুন সংসদের যাত্রা শুরু করার সময় সংসদের সাবেক স্পিকার কিংবা ডেপুটি স্পিকার উপস্থিত থাকার কথা থাকলেও পতিত ও পরাজিত সরকারের জনবিরোধী কর্মকাণ্ডের কারণে সৃষ্ট জনরোষের ফলে তাদের খুঁজে পাওয়া যায়নি। তাদের কেউ কারাগারে, কেউ নিখোঁজ কিংবা কেউ পলাতক রয়েছে। তিনি বলেন, দীর্ঘ দেড় দশকের ফ্যাসিবাদী ও তাঁবেদারি শাসন-শোষণের পর জনগণের ভোটে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের নিয়ে এক বিশেষ পরিস্থিতিতে জাতীয় সংসদের কার্যক্রম শুরু হচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে সংবিধান ও সংসদের কার্যপ্রণালি বিধির বিধান অনুসরণ করে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে সভাপতিত্ব করার জন্য তিনি প্রবীণ রাজনীতিবিদ ও পাঁচবারের নির্বাচিত জাতীয় সংসদ সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেনের নাম প্রস্তাব করেন। তিনি বলেন, সংসদীয় রীতিনীতির ইতিহাসে এ ধরনের পরিস্থিতি নজিরবিহীন নয়। ১৯৭৩ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ মুজিবুর রহমান ওই সংসদের সদস্য মাওলানা আব্দুর রশিদ তর্কবাগীশের নাম প্রস্তাব করেছিলেন এবং তার সভাপতিত্বে বাংলাদেশের প্রথম সংসদের প্রথম অধিবেশন শুরু হয়েছিল।

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ১২, ২০২৬ 0
খালি হাতে ত্যাগীরা
নতুন মন্ত্রিসভা: কেন বাদ পড়লেন বিএনপির জ্যেষ্ঠ নেতারা? রাজনৈতিক বিশ্লেষণ

বাংলাদেশের রাজনীতিতে নতুন এক অধ্যায়ের সূচনা করেছে বিএনপির নেতৃত্বাধীন সরকার। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে গঠিত ৪৯ সদস্যের নতুন মন্ত্রিসভা ঘোষণার পর থেকেই রাজনৈতিক অঙ্গনে শুরু হয়েছে ব্যাপক আলোচনা, বিশ্লেষণ এবং সমালোচনা। কারণ, এই মন্ত্রিসভায় দেখা গেছে এক বড় ধরনের প্রজন্মগত পরিবর্তন। দীর্ঘদিন ধরে দলের কঠিন সময়ে রাজপথে সক্রিয় থাকা এবং খালেদা জিয়ার শাসনামলে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করা অনেক প্রবীণ নেতা মন্ত্রিসভা থেকে বাদ পড়েছেন। অন্যদিকে নতুন প্রজন্মের রাজনীতিবিদ এবং জোটের তরুণ নেতাদের ওপর আস্থা রেখেছেন প্রধানমন্ত্রী। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই সিদ্ধান্ত শুধু মন্ত্রিসভা গঠন নয়—এটি বিএনপির ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক কৌশলেরও একটি গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত। নতুন মন্ত্রিসভায় বড় পরিবর্তন তারেক রহমানের নতুন মন্ত্রিসভায় মোট সদস্য সংখ্যা ৪৯। এর মধ্যে প্রায় ৪০ জনই নতুন মুখ। এমনকি প্রধানমন্ত্রী নিজেও এবারই প্রথম সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে সরকারের নেতৃত্ব দিচ্ছেন। এই মন্ত্রিসভার বৈশিষ্ট্য হলো— তরুণ নেতৃত্বের প্রাধান্য জোটের কিছু নতুন মুখের অন্তর্ভুক্তি টেকনোক্র্যাট নিয়োগ প্রবীণদের আংশিক সাইডলাইন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এই মন্ত্রিসভা বিএনপির ঐতিহ্যগত নেতৃত্ব কাঠামোর তুলনায় অনেকটাই ভিন্ন। বাদ পড়া হেভিওয়েট নেতারা সবচেয়ে বেশি আলোচনায় এসেছে বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির কয়েকজন প্রভাবশালী সদস্যের নাম মন্ত্রিসভায় না থাকা। তাদের মধ্যে রয়েছেন: ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন গয়েশ্বর চন্দ্র রায় ড. আব্দুল মঈন খান এই তিনজনই অতীতে খালেদা জিয়ার মন্ত্রিসভায় গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন। এছাড়া স্থায়ী কমিটির প্রবীণ সদস্যদের মধ্যে ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার এবং সেলিমা রহমানও মন্ত্রিপরিষদে স্থান পাননি। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বিএনপির দুঃসময়ে দলকে সংগঠিত রাখার ক্ষেত্রে এই নেতাদের ভূমিকা ছিল গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে তারেক রহমান বিদেশে নির্বাসনে এবং খালেদা জিয়া কারাবন্দি থাকার সময় দলকে সক্রিয় রাখতে তাদের ভূমিকা দলীয় নেতাকর্মীদের কাছে স্বীকৃত। উপদেষ্টা পদে ‘সমঝোতা’? তবে পুরোপুরি বাদ পড়েননি দলের কিছু গুরুত্বপূর্ণ নেতা। মির্জা আব্বাস উদ্দিন আহমেদ, নজরুল ইসলাম খান এবং রুহুল কবির রিজভী আহমেদকে মন্ত্রী পদমর্যাদায় প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা করা হয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এটি এক ধরনের ভারসাম্য রক্ষার চেষ্টা। একজন সাবেক কূটনীতিক বলেন, “দলের প্রবীণদের সম্পূর্ণ উপেক্ষা করলে রাজনৈতিক অসন্তোষ তৈরি হতে পারে। উপদেষ্টা পদ দিয়ে সেই অসন্তোষ কিছুটা কমানোর চেষ্টা করা হয়েছে।” মঈন খানের প্রতিক্রিয়া মন্ত্রিসভায় স্থান না পাওয়ার বিষয়ে স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আব্দুল মঈন খান সংক্ষিপ্ত প্রতিক্রিয়া দিয়েছেন। তিনি বলেন, “মন্ত্রিপরিষদে স্থান পাওয়ার বিষয়টি দেখছেন দলের চেয়ারম্যান। এটা নিয়ে আমার মন্তব্য না করা ভালো।” রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই সংযত প্রতিক্রিয়া দলীয় শৃঙ্খলার ইঙ্গিত দেয়। জোট রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তারেক রহমানের নতুন মন্ত্রিসভায় বিএনপির বাইরের কিছু রাজনৈতিক দল থেকেও নেতা অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন। তাদের মধ্যে রয়েছেন: গণসংহতি আন্দোলনের জোনায়েদ সাকি গণঅধিকার পরিষদের নুরুল হক নুর এনডিএম চেয়ারম্যান ববি হাজ্জাজ এই অন্তর্ভুক্তিকে অনেকেই জোট রাজনীতির নতুন বার্তা হিসেবে দেখছেন। যুগপৎ আন্দোলনের সঙ্গীদের ক্ষোভ তবে সব জোটসঙ্গী সন্তুষ্ট নন। যুগপৎ আন্দোলনের দীর্ঘদিনের অংশীদার কয়েকটি দলের নেতারা মন্ত্রিসভায় জায়গা না পাওয়ায় হতাশা প্রকাশ করেছেন। নাগরিক ঐক্যের মাহমুদুর রহমান মান্না, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাইফুল হক এবং ভাসানী জনশক্তি পার্টির শেখ রফিকুল ইসলাম বাবলুর নাম আলোচনায় থাকলেও তারা শেষ পর্যন্ত মন্ত্রিসভায় জায়গা পাননি। বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক এ নিয়ে প্রকাশ্যেই সমালোচনা করেছেন। তিনি বলেন, “প্রথমত এটি পুরোটাই বিএনপির সরকার। যুগপৎ আন্দোলনের দুই-তিনজন থাকছেন। বিএনপি বাস্তবে যুগপৎ সঙ্গীদের বাদ দিয়েই হাঁটছে।” তিনি আরও বলেন, “কঠিন সময়ের সঙ্গীদের বাদ দিয়ে সরকার গঠন করা হয়েছে। এর রাজনৈতিক অভিঘাত পরে বোঝা যাবে।” সবচেয়ে বড় চমক: খলিলুর রহমান এই মন্ত্রিসভার সবচেয়ে বড় চমক হিসেবে দেখা হচ্ছে খলিলুর রহমানকে। তিনি অন্তর্বর্তী সরকারের সময় জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা এবং রোহিঙ্গা সমস্যা বিষয়ক হাই রিপ্রেজেন্টেটিভ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। বিএনপির ভেতরে অনেক নেতাকর্মী তার ভূমিকা নিয়ে সমালোচনা করেছিলেন। বিশেষ করে দুটি বিষয় নিয়ে বিতর্ক ছিল— বিদেশি কোম্পানিকে বন্দর ইজারা রোহিঙ্গা করিডোর প্রস্তাব তবুও এমপি না হয়েও টেকনোক্র্যাট কোটায় তাকে গুরুত্বপূর্ণ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। দলের ভেতরে অনেকেই এই সিদ্ধান্তে বিস্ময় প্রকাশ করেছেন। যাদের কপাল খুলল না সাবেক মন্ত্রীদের মধ্যে আরও কয়েকজনের নাম মন্ত্রিসভায় আসতে পারে বলে আলোচনায় ছিল। তাদের মধ্যে ছিলেন— মীর নাছির আলতাফ হোসেন চৌধুরী বরকত উল্লাহ বুলু লুৎফুজ্জামান বাবর আমান উল্লাহ আমান কিন্তু শেষ পর্যন্ত তারা কেউই মন্ত্রিসভায় জায়গা পাননি। এছাড়া দলের দুঃসময়ের কান্ডারি হিসেবে পরিচিত যুগ্ম মহাসচিব হাবিবুন নবী খান সোহেলের নামও আলোচনায় ছিল। তাকেও টেকনোক্র্যাট মন্ত্রী হিসেবে বিবেচনা করা হতে পারে বলে গুঞ্জন ছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সেই সম্ভাবনাও বাস্তবায়িত হয়নি। নেতৃত্বের নতুন কৌশল? বিএনপির এক স্থায়ী কমিটির সদস্য নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “তারেক রহমান তার নিজের রাজনৈতিক কৌশল অনুযায়ী মন্ত্রিসভা গঠন করেছেন। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে এটি তার এখতিয়ার।” তিনি আরও বলেন, “মর্নিং শোজ দ্য ডে—এখন দেখার বিষয় এই মন্ত্রিসভা কতটা কার্যকর হয়।” যারা অবস্থান ধরে রেখেছেন তবে সব প্রবীণ নেতা বাদ পড়েননি। দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ কয়েকজন শীর্ষ নেতা মন্ত্রিসভায় জায়গা পেয়েছেন। তাদের মধ্যে রয়েছেন— মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী সালাহউদ্দিন আহমদ ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন হাফিজ উদ্দিন খান এদের অন্তর্ভুক্তি দলীয় অভিজ্ঞতা ও নেতৃত্বের ধারাবাহিকতা বজায় রাখার প্রচেষ্টা হিসেবে দেখা হচ্ছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মত রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, তারেক রহমানের এই মন্ত্রিসভা তিনটি বার্তা দেয়। প্রথমত, বিএনপি নেতৃত্বে প্রজন্মগত পরিবর্তন শুরু হয়েছে। দ্বিতীয়ত, দলীয় রাজনীতির পাশাপাশি টেকনোক্র্যাট ও জোট রাজনীতিকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। তৃতীয়ত, ভবিষ্যৎ নির্বাচনের আগে নতুন নেতৃত্ব তৈরি করার একটি প্রচেষ্টা থাকতে পারে। তবে এর ঝুঁকিও রয়েছে। প্রবীণ নেতাদের একটি বড় অংশ যদি নিজেকে উপেক্ষিত মনে করেন, তাহলে দলের ভেতরে অসন্তোষ তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যায় না। সামনে কী হতে পারে? রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, আগামী কয়েক মাসেই বোঝা যাবে এই মন্ত্রিসভার কার্যকারিতা। যদি সরকার সফলভাবে প্রশাসন পরিচালনা করতে পারে, তাহলে তারেক রহমানের এই ‘নতুন নেতৃত্বের পরীক্ষা’ সফল হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। কিন্তু যদি দলীয় অসন্তোষ বাড়ে, তাহলে তা সরকারের জন্য রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে। একজন বিশ্লেষকের ভাষায়, “এই মন্ত্রিসভা শুধু সরকার গঠনের ঘটনা নয়, এটি বিএনপির ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক রূপরেখারও ইঙ্গিত।”

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ১০, ২০২৬ 0
বিএনপি
বিএনপি’র বিদ্রোহী প্রার্থীদের ভাগ্যে কী আছে

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি’র দলীয় সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করে প্রার্থী হওয়ার কারণে শতাধিক নেতাকে বহিষ্কার।বহিষ্কৃত কেউ কেউ জয়ী হয়ে এখন দলে ফিরতে চাচ্ছেন কেউ।কী আছে  তাদের ভাগ্যে।        ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ায় বহিষ্কৃত শতাধিক নেতাকে নিয়ে নতুন করে রাজনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। নির্বাচনের পর তাদের অনেকেই আবার দলের রাজনীতিতে সক্রিয় হতে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। তবে দলটির শীর্ষ নেতৃত্ব এখনো এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত নেয়নি। দলীয় সূত্র বলছে, বিষয়টি নিয়ে এখন পর্যন্ত কেন্দ্রীয় কোনো ফোরামে আলোচনা হয়নি। চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হবে দলটির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান এবং সংশ্লিষ্ট স্থানীয় কমিটির মতামতের ভিত্তিতে। শতাধিক নেতা বহিষ্কার মনোনয়ন না পেয়ে অন্তত ১৯০ জন বিএনপি নেতা ১১৭টি আসনে স্বতন্ত্র বা বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র জমা দেন। পরে কেন্দ্রীয় নির্দেশনা মেনে অনেকেই প্রার্থিতা প্রত্যাহার করলেও শেষ পর্যন্ত ৭৮টি আসনে বিদ্রোহী প্রার্থীরা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় থাকেন। দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে তাদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নিয়ে বহিষ্কার করা হয়। এছাড়া বিদ্রোহী প্রার্থীদের সমর্থনের অভিযোগে দেশের বিভিন্ন এলাকায় সহস্রাধিক নেতাকর্মীকেও বহিষ্কার করা হয়। সাত বিদ্রোহীর জয় নির্বাচনের ফলাফলে দেখা গেছে, অন্তত সাতজন স্বতন্ত্র প্রার্থী বিএনপি মনোনীত বা জোট সমর্থিত প্রার্থীদের হারিয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। এদিকে বেশ কয়েকটি আসনে বিদ্রোহী প্রার্থীদের অংশগ্রহণের কারণে ধানের শীষ প্রতীকের ভোট বিভক্ত হয়ে যায়, যার ফলে দলীয় প্রার্থীরা প্রত্যাশিত ফল পায়নি। বিশ্লেষকদের মতে, অন্তত ২৮টি আসনের ফলাফলে বিদ্রোহী প্রার্থীদের সরাসরি প্রভাব ছিল। ভোট বিভক্তির উদাহরণ ঢাকা–১২ এ আসনে বিএনপি সমর্থিত বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক পেয়েছেন ৩০,৯৬৩ ভোট। অন্যদিকে বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী সাইফুল আলম (নীরব) পান ২৯,৮৬৯ ভোট। দুই প্রার্থীর মোট ভোট দাঁড়ায় ৬০,৮৩২। কিন্তু ভোট বিভক্তির সুযোগে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামি সমর্থিত প্রার্থী সাইফুল আলম খান মিলন ৫৩,৭৭৩ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন। সিলেট–৫ এখানে বিএনপি সমর্থিত জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম সভাপতি উবায়দুল্লাহ ফারুক পান ৬৯,৭৭৪ ভোট। বিদ্রোহী প্রার্থী মামুনুর রশিদ পান ৫৬,৩৬৯ ভোট। ভোট বিভক্তির সুযোগে খেলাফত মজলিস প্রার্থী আবুল হাসান ৭৯,৩৫৫ ভোট পেয়ে জয়ী হন। নারায়ণগঞ্জ–৪ এ আসনে বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী মনির হোসেন কাসেমী পান ৮০,৬১৯ ভোট। বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী মো. শাহ আলম পান ৩৯,৫৮৯ ভোট এবং মুহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন পান ৪,৭৭৯ ভোট। ফলে ভোট বিভক্ত হয়ে যাওয়ায় জাতীয় নাগরিক পার্টি প্রার্থী আব্দুল্লাহ আল আমিন ১,০৬,১৭১ ভোট পেয়ে জয়ী হন। এ ছাড়া চট্টগ্রাম–১৬, পাবনা–৪, বাগেরহাট–১, ঝিনাইদহ–৪, নড়াইল–২, যশোর–৫, মাদারীপুর–১, ঢাকা–১৪, সাতক্ষীরা–৩ ও ময়মনসিংহ–৬সহ আরও কয়েকটি আসনে একই ধরনের পরিস্থিতি তৈরি হয়। দলে ফেরার চেষ্টা দলীয় সূত্র বলছে, বহিষ্কৃত অনেক নেতা ইতোমধ্যে নিজেদের ভুল স্বীকার করে দলীয় কর্মকাণ্ডে ফেরার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। কেউ কেউ বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহারের জন্য আনুষ্ঠানিক আবেদন করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। আবার অনেকে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন এবং দলের হাইকমান্ডের ইতিবাচক সংকেতের অপেক্ষায় আছেন। বিষয়টি নিয়ে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, “বিদ্রোহী বা স্বতন্ত্র প্রার্থীদের বহিষ্কারাদেশ নিয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। বিষয়টি দলের চেয়ারম্যান এবং স্থানীয় কমিটির আলোচনার ভিত্তিতে নির্ধারণ করা হবে।” কঠোর অবস্থানে হাইকমান্ড বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতাদের মতে, যারা দলের সিদ্ধান্ত অমান্য করেছেন তাদের ফেরার পথ সহজ হবে না। বিশেষ করে নির্বাচনে পরাজিত বিদ্রোহীদের ক্ষেত্রে দলের অবস্থান তুলনামূলক কঠোর। দলীয় সূত্র বলছে, দলের শীর্ষ পর্যায়ের বার্তা পরিষ্কার— “দল আগে, ব্যক্তি পরে।” তৃণমূলে মিশ্র প্রতিক্রিয়া বহিষ্কৃত নেতাদের দলে ফেরানো নিয়ে তৃণমূলেও মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে। কিছু নেতাকর্মী মনে করেন, দলীয় শৃঙ্খলা বজায় রাখতে কঠোর অবস্থান প্রয়োজন। অন্যদিকে কেউ কেউ মনে করছেন, জনপ্রিয় ও সংগঠক নেতাদের বাইরে রাখলে তৃণমূল পর্যায়ে সংগঠন দুর্বল হয়ে পড়তে পারে। বিশ্লেষকদের মত রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বাংলাদেশের প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোতে নির্বাচন ঘিরে বিদ্রোহী প্রার্থীদের বহিষ্কার এবং পরে আবার দলে ফেরানোর নজির নতুন নয়। তাদের মতে, স্থানীয়ভাবে প্রভাবশালী অনেক নেতাকে দীর্ঘদিন বাইরে রাখলে সাংগঠনিক ক্ষতি হতে পারে। তাই সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বিএনপিও হয়তো বাস্তবতার ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নিতে পারে।

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ১৩, ২০২৬ 0
জাতিসংঘ
জাতিসংঘ : ফিলিস্তিন সরে দাঁড়ানোয় বাংলাদেশ-সাইপ্রাস মুখোমুখি লড়াই

আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে নাটকীয় মোড় নিয়েছে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ-এর ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি পদে আসন্ন নির্বাচন। আগে ধারণা করা হচ্ছিল, ফিলিস্তিন প্রতিদ্বন্দ্বিতায় সক্ষম হলে বাংলাদেশ সরে দাঁড়াবে—এমন নীতিগত অবস্থান ছিল সরকারের। তবে হঠাৎ করেই ফিলিস্তিন নিজ প্রার্থিতা প্রত্যাহার করায় নতুন সমীকরণ তৈরি হয়েছে। ফলে এখন এই পদে লড়াই হবে বাংলাদেশ ও সাইপ্রাস-এর মধ্যে। এশিয়া-প্যাসিফিক গ্রুপের পালা জাতিসংঘে প্রচলিত রীতি অনুযায়ী পাঁচটি আঞ্চলিক গ্রুপ থেকে পালাক্রমে সাধারণ পরিষদের সভাপতি নির্বাচিত হন। এবারের পালা এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের। যদিও সাইপ্রাস ভৌগোলিকভাবে ইউরোপের অংশ, তবে জাতিসংঘের গঠনতান্ত্রিক কাঠামো অনুযায়ী তারা এশিয়া-প্যাসিফিক গ্রুপের সদস্য হিসেবেই প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে। সাধারণত এ ধরনের নির্বাচন সমঝোতার ভিত্তিতে সম্পন্ন হয়। তবে ফিলিস্তিনের সরে দাঁড়ানোর পর প্রতিদ্বন্দ্বিতা জোরালো হতে পারে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা। বাংলাদেশের প্রার্থী ও প্রস্তুতি কূটনৈতিক সূত্র জানায়, নবনির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাতিসংঘে বাংলাদেশের প্রার্থী হিসেবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান-কে মনোনয়ন দিয়েছেন। নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রয়োজনীয় কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদার করার নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে। ২০২৬-২০২৭ মেয়াদের জন্য এই নির্বাচন আগামী জুন মাসে নিউ ইয়র্ক-এ অবস্থিত জাতিসংঘ সদর দপ্তরে অনুষ্ঠিত হবে। জয়লাভের জন্য প্রয়োজন হবে সদস্য রাষ্ট্রগুলোর সংখ্যাগরিষ্ঠ সমর্থন। ৪০ বছর পর আবার সুযোগ উল্লেখযোগ্যভাবে, ১৯৮০-এর দশকে জাতিসংঘের ৪১তম সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে সভাপতি পদে নির্বাচিত হয়েছিল বাংলাদেশ। তখন খ্যাতিমান কূটনীতিক হুমায়ুন রশীদ চৌধুরী নিরঙ্কুশ জয় লাভ করেন। প্রায় চার দশক পর আবারও সেই মর্যাদাপূর্ণ পদে নির্বাচিত হওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে বাংলাদেশের সামনে। কূটনৈতিক গুরুত্ব জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতি পদটি বৈশ্বিক কূটনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ মর্যাদার। এই পদে নির্বাচিত হলে সংশ্লিষ্ট দেশ আন্তর্জাতিক ইস্যুতে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে অবস্থান করে এবং বহুপাক্ষিক কূটনীতিতে সক্রিয় ভূমিকা রাখার সুযোগ পায়। ফিলিস্তিনের প্রার্থিতা প্রত্যাহারের পর এখন মূল লড়াই বাংলাদেশ ও সাইপ্রাসের মধ্যে। আন্তর্জাতিক মহলে ইতোমধ্যেই শুরু হয়েছে সমর্থন আদায়ের নীরব কূটনৈতিক প্রচেষ্টা। আগামী জুনের নির্বাচন ঘিরে কূটনৈতিক অঙ্গনে উত্তেজনা ক্রমেই বাড়ছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক ফেব্রুয়ারি ২৭, ২০২৬ 0
মশার ভয়াবহ বিস্তার
মশার ভয়াবহ বিস্তার: পরিস্থিতি আরও অবনতির আশঙ্কা

রাজধানী ঢাকায় মশার তীব্র উপদ্রব জনজীবনকে বিপর্যস্ত করে তুলেছে। শহরের ঘরবাড়ি, সড়ক ও আবাসিক এলাকার প্রায় প্রতিটি স্থানে মশার ঘনত্ব আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। সাম্প্রতিক এক গবেষণায় দেখা গেছে, জানুয়ারির তুলনায় ফেব্রুয়ারিতে মশার পরিমাণ ৪০ শতাংশের বেশি বেড়েছে। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে মার্চে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতে পারে। গবেষণায় উদ্বেগজনক তথ্য জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়-এর প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক কবিরুল বাশার-এর নেতৃত্বে পরিচালিত এক গবেষণায় উঠে এসেছে, বর্তমানে রাজধানীর প্রায় ৯০ শতাংশ মশাই কিউলেক্স প্রজাতির। গবেষণায় আরও জানা যায়, এক ঘণ্টায় কামড়াতে আসা মশার সংখ্যা এক মাসের ব্যবধানে প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে। বিশ্বমান অনুযায়ী, ঘণ্টায় পাঁচটি মশা কামড়াতে এলেই তা ক্ষতিকর হিসেবে বিবেচিত হয়। সেখানে বাংলাদেশে এই সংখ্যা পৌঁছেছে প্রায় ৮৫০-এ, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ঝুঁকির ইঙ্গিত দেয়। মশা বৃদ্ধির তিন প্রধান কারণ গবেষকদের মতে, এ বছর মশার প্রকোপ বৃদ্ধির পেছনে তিনটি মূল কারণ রয়েছে— ১. কম তীব্র শীত ও আগাম শীত বিদায় — ফলে মশার বংশবিস্তার দ্রুত শুরু হয়েছে। ২. নর্দমা ও জলাশয়ের দূষণ নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতা — অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ প্রজননের অনুকূল ক্ষেত্র তৈরি করেছে। ৩. প্রশাসনিক দুর্বলতা ও তদারকির ঘাটতি — দীর্ঘদিন জনপ্রতিনিধি না থাকায় কার্যক্রমে সমন্বয়হীনতা দেখা দিয়েছে। প্রশাসনিক স্থবিরতায় মশক নিধন কার্যক্রম ব্যাহত গত ৫ আগস্টের পর ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন এবং ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন-এর প্রশাসনিক কাঠামো নড়বড়ে হয়ে পড়ে। মেয়র ও কাউন্সিলরদের অনুপস্থিতিতে মশক নিধন ও পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম কার্যত স্থবির হয়ে যায়। করপোরেশনের স্বাস্থ্য বিভাগ জানায়, ফগিং বা ধোঁয়া ছিটানো পূর্ণবয়স্ক মশা কমাতে কিছুটা কার্যকর হলেও লার্ভা ধ্বংসে তেমন ফল পাওয়া যাচ্ছে না। ফলে সমস্যা স্থায়ীভাবে সমাধান হচ্ছে না। নাগরিকদের দুর্ভোগ চরমে মিরপুরের বাসিন্দা শিল্পী আক্তার বলেন, আগে ওয়ার্ড কাউন্সিলররা মাঠপর্যায়ে তদারকি করতেন। এখন সেই জবাবদিহি না থাকায় মশার উপদ্রব নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেছে। বাড্ডার বাসিন্দা জুনায়েদ জানান, আগে মশারি ছাড়া ঘুমানো যেত, এখন স্প্রে করেও রেহাই মিলছে না। শেওড়াপাড়ার পারভিন তালুকদার বলেন, আগে সন্ধ্যায় মশা বেশি থাকত, এখন দিনভর উপদ্রব চলছে। দরজা-জানালা খোলা রাখার সুযোগ নেই। নতুন সরকারের নির্দেশনা নতুন নির্বাচিত সরকার ছয় সিটিতে প্রশাসক নিয়োগ দিয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নবনিযুক্ত প্রশাসকদের মশক নিধন, বনায়ন ও পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম জোরদারের নির্দেশ দিয়েছেন। ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন-এর নতুন প্রশাসক আবদুস সালাম জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী সমন্বিতভাবে অভিযান পরিচালিত হবে। অন্যদিকে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেন বকুল জানিয়েছেন, মশা নিয়ন্ত্রণে সিটি করপোরেশন ও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় যৌথভাবে কাজ করবে। মশা নিধনের ওষুধ কার্যকর কিনা তা পরীক্ষা করে দেখা হচ্ছে এবং ডিপো পরিদর্শনের পরিকল্পনাও রয়েছে। চলতি বছর এডিস মশা নিয়ন্ত্রণে আগেভাগেই প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি। সমন্বিত পরিকল্পনার বিকল্প নেই বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু ফগিং নয়— কার্যকর ড্রেনেজ ব্যবস্থা নিয়মিত বর্জ্য অপসারণ খাল-নালার পরিষ্কার নির্মাণাধীন ভবন ও ছাদে জমে থাকা পানির নজরদারি জবাবদিহিমূলক প্রশাসনিক কাঠামো এসব নিশ্চিত না হলে রাজধানীতে মশার বিস্তার নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হবে। মার্চ মাস ঘনিয়ে আসছে। এখনই কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে রাজধানীবাসীর জন্য সামনে অপেক্ষা করছে আরও দুর্বিষহ সময়। জনস্বাস্থ্য রক্ষায় জরুরি ভিত্তিতে সমন্বিত ও টেকসই উদ্যোগ নেওয়াই সময়ের দাবি।  

নিজস্ব প্রতিবেদক ফেব্রুয়ারি ২৫, ২০২৬ 0
Popular post
ফারুকীর সম্পদ কমেছে, তিশার বেড়েছে দ্বিগুণেরও বেশি: সম্পদ বিবরণী ঘিরে আলোচনা

অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের সম্পদ বিবরণী প্রকাশের পর সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী ও তার স্ত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদের হিসাব নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। এক বছরের ব্যবধানে স্বামী ফারুকীর সম্পদ কমলেও স্ত্রী তিশার সম্পদ বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে প্রকাশিত তথ্যে উঠে এসেছে এই চিত্র। প্রকাশিত খতিয়ান অনুযায়ী, জনপ্রিয় অভিনেত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদ এক বছরে অভাবনীয় হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তিশার মোট সম্পদের পরিমাণ ছিল ১ কোটি ৪০ লাখ ৮১ হাজার ৮৬০ টাকা। ঠিক এক বছর পর, ২০২৫ সালের ৩০ জুন সেই সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ৯৯ লাখ ৮৯ হাজার ৫০১ টাকায়। অর্থাৎ মাত্র এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ বেড়েছে ১ কোটি ৫৯ লাখ ৭ হাজার ৬৪১ টাকা, যা আগের বছরের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি। অন্যদিকে সংস্কৃতি উপদেষ্টা ও নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর ক্ষেত্রে দেখা গেছে উল্টো চিত্র। এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ কমেছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তার মোট সম্পদ ছিল ২ কোটি ২৬ লাখ ৯২ হাজার ২৬ টাকা। ২০২৫ সালের ৩০ জুন তা কমে দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ১৫ লাখ ১৮ হাজার ২৬ টাকায়। হিসাব অনুযায়ী, এক বছরে তার সম্পদ কমেছে ১১ লাখ ৭৪ হাজার টাকা। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে গত মঙ্গলবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ প্রধান উপদেষ্টা, উপদেষ্টা ও সমমর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের পাশাপাশি তাদের স্ত্রী বা স্বামীর সম্পদ বিবরণী প্রকাশ করে। একই সময়ে স্বামী-স্ত্রীর সম্পদে এমন ভিন্নমুখী পরিবর্তন স্বাভাবিকভাবেই সাধারণ মানুষের কৌতূহলের জন্ম দিয়েছে। শোবিজ অঙ্গনের জনপ্রিয় দম্পতি হওয়ায় তাদের এই আয়-ব্যয়ের হিসাব এখন টক অব দ্য কান্ট্রি।

সংসার সামলাতে অটোরিকশা নিয়ে রাস্তায় নেমেছেন রোজিনা

বাসস : বাবা একজন তাঁত শ্রমিক। তিন বোন দুই ভাইয়ের মধ্যে সবার বড় রোজিনা। অভাব সংসার, তাই এক এতিম যুবকের সাথে বাবা-মা বিয়ে দেন তাকে। বিয়ের পর জন্ম হয় দুই কন্যা সন্তানের। অটোরিকশা চালিয়ে কোন রকম সংসার চালাচ্ছিলেন স্বামী রফিকুল ইসলাম। কিন্তু সড়ক দুর্ঘটনায় রফিকুলের এক চোখ সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যায়। আরেকটি চোখ আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ধীরে ধীরে ওই চোখের দৃষ্টি শক্তিও কমতে থাকে। ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে অটোরিকশা চালানো। সংসারের উপার্জনক্ষম মানুষটি অচল হয়ে পড়ায় চিকিৎসার খরচ, ঘর ভাড়া ও খাবারের পাশাপাশি মেয়েদের লেখাপড়ার খরচ চালানোই কঠিন হয়ে যায়। দিশেহারা হয়ে পরেন রোজিনা। এক পর্যায়ে মানুষের বাড়ি বাড়ি কাজ করে সংসার চালানোর চেস্টা করেন। কিন্তু সুবিধা করতে পারেন না। এমন পরিস্থিতিতে অটোরিকশা চালানোর সিদ্ধান্ত নেন তিনি। স্বামী রফিকুলের কাছেই হাতেখড়ি। গ্রামের স্কুলের মাঠে স্বামীর কাছেই অটোরিকশা চালানোর শিক্ষা নেন তিনি। পরে গ্রামের পথে নেমে পড়েন অটোরিকশা নিয়ে। ৫-৬ দিন এভাবে হাত পাকা করে একদিন টাঙ্গাইল শহরে চলে আসেন রোজিনা। এরপর শুরু করেন অটোরিক্সা চালানোর ব্যতিক্রমী জীবন সংগ্রাম। এখন টাঙ্গাইল পৌরসভায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার চালকদের মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা বেগম। জেলার বাসাইল উপজেলার আইসড়া গ্রামের বাসিন্দা রোজিনা টাঙ্গাইল পৌর শহরের এক প্রান্ত রাবনা বাইপাস থেকে আরেক প্রান্ত বেবিস্ট্যান্ডে যাত্রী আনা নেয়া করেন। যানজটের কারণে শহরে পুরুষ চালকরা যেখানে হিমসিম খায়, সেখানেই বিগত ৫ বছর ধরেই নির্বিঘেœ অটোরিকশা চালাচ্ছেন তিনি। টাঙ্গাইল পৌরসভা কার্যালয় সূত্রে জানা যাায়, টাঙ্গাইল শহরে চলাচলের জন্য ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক ও ৫ হাজার ব্যাটারিচালিত রিকশার অনুমতি (লাইসেন্স) দেওয়া হয়েছে। যানজট এড়াতে ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক জোড় ও বিজোড় সংখ্যায় দিনে দুই ভাগ করা হয়েছে। সকাল থেকে বেলা দুইটা পর্যন্ত এক ভাগ এবং বেলা দুইটা থেকে রাত পর্যন্ত আরেক ভাগের ইজিবাইক চলাচল করার নির্দেশনা দিয়েছে পৌর কর্তৃপক্ষ। কিন্তু রোজিনাকে দুই শিফটে চালানোর অনুমতি দিয়েছে পৌরসভা। সরেজমিনে দেখা যায়, নতুন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অটোরিকশা নিয়ে যাত্রী ডাকছেন রোজিনা। কলেজ গেট, পুরাতন বাসস্ট্যান্ড, ক্যাপসুল, নিরালা মোড়, বেবিস্ট্যান্ড সর্বত্রই যাত্রী আনানেয়া করেন তিনি। পুরাতন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অন্য অটো চালকদের দাঁড় করতে না দিলেও রোজিনাকে বাঁধা দেননা ট্রাফিক পুলিশ। বলতে গেলে সবাই তার প্রতি সহানুভুতিশীল। ট্রাফিক পুলিশসহ অন্য অটোচালকরাও তাকে সহযোগিতা করেন। রোজিনা বলেন, আমার অটোতে নারী যাত্রীরা খুব কম। তারা মনে করে আমার অটোতে উঠলে দুর্ঘটনায় পড়বে। কিন্তু আমি খুব সাবধানে অটো চালাই। দ্রুত গতিতেও না, আবার একেবারে ধীরগতিতেও না। এখন পর্যন্ত আমি কোন দুর্ঘটনার কবলে পড়ি নাই। শহরের পুরুষ অটোরিকশা চালকরা আমাকে অনেক সহযোগিতা করে। অটোচালক কাদের মিয়া বলেন, আমাদের শহরে কয়েক হাজার অটো চলাচল করে। তার মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। তাকে আমরা সব সময় সহযোগিতা করি। যাত্রী সাইদ মিয়া বলেন, আমি এ পর্যন্ত ৫-৬ বার রোজিনার অটোতে চড়েছি। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। অন্য পুরুষ অটো চালকের চেয়েও ভালো অটো চালান। নারী সংগঠক সেরাজুম মনিরা বলেন, তিনি অনেক দিন যাবত অটোরিকশা চালাচ্ছেন। আমি রোজিনাকে স্যালুট জানাই। একজন পুরুষের চেয়ে একজন নারী কোনো ভাবেই যে পিছিয়ে নেই, রোজিনা তা প্রমাণ করেছেন। রোজিনা বলেন, অটো চালানোর এই সিদ্ধান্তটি তার জন্য খুব সহজ ছিল না। তিনি বলেন, ৫ ও ১০ বছরের দুই মেয়েকে বাড়িতে রেখে অটোরিকশা নিয়ে সারাদিন রাস্তায় থাকতে হয়। তাদের ভালোভাবে দেখাশোনা করতে পারি না। কিন্তু কি করবো, অভাবের সংসার! এখন ঋণ নিয়ে একটু জমি কিনেছি। প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ণ প্রকল্পের অর্থায়নে প্রশাসন সেখানে ঘর তুলে দিয়েছে। শুরুতে যারা আমাকে নিয়ে ঠাট্টা করেছে এখন তারাই আমাকে সম্মান করেন। নারীরাও যে কিছু করতে পারে, তা প্রমাণ করেছি। আমার বড় মেয়ে আইসড়া উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়ে, ছোট মেয়ে পড়ে স্থানীয় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। মেয়েদের শিক্ষিত করতে হবে। ধার দেনা শোধ করতে হবে। তাই থেমে গেলো চলবে না। আমি অটোরিকশা চালিয়েই দুই সন্তানকে মানুষ করতে চাই।’ ঘারিন্দা ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য বাবুল সরকার বলেন, সরকার রোজিনাকে একটি ঘর নির্মাণ করে দিয়েছে। শুরুতে যারা তাকে নিয়ে নানান কথা বলতো, এখন তার সংকল্প ও মানষিক দৃঢ়তা দেখে থেমে গেছে। আমরা তাকে নিয়ে গর্ব করি। টাঙ্গাইলের ট্রাফিক ইন্সপেক্টর (প্রশাসন) দেলোয়ার হোসেন বলেন, শহরের একমাত্র নারী চালক রোজিনাকে কেউ যেন বিরক্ত করতে না পারে সেদিকে সব সময় নজর রাখে ট্রাফিক পুলিশ। আমরা তাকে সব সময় সহযোগিতা করে আসছি। টাঙ্গাইলের সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক শাহ আলম বলেন, বিষয়টি এখন জানতে পারলাম। ওই নারী এখনো পর্যন্ত আমাদের কাছে আসেন নাই। যদি আমাদের কাছে এসে আবেদন করেন অবশ্যই তাকে আমরা সহযেগিতা করবো, তার পাশে দাঁড়াবো।

বাংলাদেশে ঐতিহাসিক নির্বাচন: বিএনপি এগিয়ে, জামায়াতের উত্থান ও তরুণ ভোটারদের প্রভাব

২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশে আজ এক ঐতিহাসিক ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ২০০৮ সালের পর এই প্রথম একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হতে যাচ্ছে যেখানে দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগ রাজনৈতিক মানচিত্র থেকে কার্যত অনুপস্থিত। বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক জরিপ বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০০ আসনের মধ্যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) কার্যকর সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে যাচ্ছে। তবে ভোটের ব্যবধান এবং কিছু সমীকরণ নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। নির্বাচনের সবচেয়ে বড় নিয়ামক হয়ে দাঁড়িয়েছে আওয়ামী লীগের বিশাল ভোটব্যাংক। দলটির নিয়মিত প্রায় ৪ কোটি ভোটার এখন নতুন রাজনৈতিক আশ্রয় খুঁজছেন। সিআরএফ বা বিইপিওএস জরিপ বলছে, এই ভোটারদের প্রায় অর্ধেক বিএনপির দিকে ঝুঁকেছে, যা দলটিকে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতার পথে এগিয়ে দিচ্ছে। অন্যদিকে, প্রায় ৩০ শতাংশ আওয়ামী ভোটার জামায়াতে ইসলামীকে বেছে নিতে পারেন বলে আভাস পাওয়া যাচ্ছে। এছাড়া বাংলাদেশের বিদ্যমান নির্বাচনী ব্যবস্থার কারণে দেশজুড়ে সুষম জনসমর্থন থাকা বিএনপি আসন জয়ের ক্ষেত্রে জামায়াতের তুলনায় সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। তবে বিএনপির এই সম্ভাব্য জয়ের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও বিদ্রোহী প্রার্থীরা। প্রায় ৭৯টি নির্বাচনী এলাকায় দলের মনোনয়ন না পাওয়া ৯২ জন প্রভাবশালী নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, যা বিএনপির ১৫ থেকে ৩০টি আসন কমিয়ে দিতে পারে। অন্যদিকে, তরুণ ভোটার বা ‘জেন-জি’ প্রজন্মের বিশাল সমর্থন জামায়াতে ইসলামীর শক্তির উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেশের ৪৪ শতাংশ ভোটারই তরুণ, যাদের বড় একটি অংশ প্রথমবার ভোট দিচ্ছেন। এই তরুণরা যদি দলবেঁধে কেন্দ্রে উপস্থিত হন, তবে নির্বাচনী ফলে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। সবশেষে, প্রায় ১৭ থেকে ৩৫ শতাংশ দোদুল্যমান ভোটার এবং তাদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করবে আগামীর সরকার কতটা শক্তিশালী হবে। দ্য নিউইয়র্ক এডিটোরিয়ালের মূল পূর্বাভাস, তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি প্রায় ১৮৫টি আসনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করতে পারে এবং জামায়াতে ইসলামী ৮০টির মতো আসন পেয়ে প্রধান বিরোধী দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারে। তবে বিদ্রোহী প্রার্থীদের প্রভাব এবং তরুণ ভোটারদের উপস্থিতির ওপর ভিত্তি করে আসন সংখ্যায় বড় ধরনের হেরফের হওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

গাজায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা ট্রাম্প প্রশাসনে

ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। ৩৫০ একরের ঘাঁটিটিতে সামরিক বাহিনীর পাঁচ হাজার সদস্য থাকতে পারবে। গাজার ‘বোর্ড অব পিস’র নথি পর্যালোচনা করে এ তথ্য জানিয়েছে দ্য গার্ডিয়ান। প্রতিবেদনে ব্রিটিশ সংবাদ মাধ্যমটি জানিয়েছে, বোর্ড অব পিসে গাজাকে নিরাপদ করার জন্য ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যাবিলাইজেশন ফোর্স (আইএসএফ) নামে একটি আন্তর্জাতিক বাহিনী মোতায়েনের কথা বলা হয়েছে। যে স্থানটি ঘাঁটি করার জন্য বিবেচনা করা হচ্ছে সেখানে আইএসএফের সদস্যরা থাকবে। বোর্ড অব পিসের প্রধান হবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আর সংগঠনটির আংশিক নেতৃত্ব দেবেন ট্রাম্পের জামাতা জ্যারার্ড কুশনার।দ্য গার্ডিয়ান বোর্ড অব পিসের নথি পর্যালোচনা করে জানায়, ধাপে ধাপে একটি সামরিক ঘাঁটি নির্মাণ করা হবে। সবকিছু শেষ হলে ঘাঁটিটি ১৫ লাখ ১৭ হাজার ৫৭৫ বর্গমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত হবে। ঘাঁটিটির চারপাশে ট্রেইলার সংযুক্ত ২৬টি সাঁজোয়া নজরদারি টাওয়ার থাকবে। এছাড়া একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, বাংকার ও অস্ত্র রাখার গুদাম থাকবে। পুরো ঘাঁটিটি কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে ঘিরে রাখা হবে। সামরিক ঘাঁটি নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে দক্ষিণ গাজার একটি শুষ্ক সমতলভূমিতে। সেখানে ইসরায়েলি হামলার চিহ্ন রয়েছে। ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে বিভিন্ন ধাতবের ধ্বংসাবশেষ।  ওই এলাকার ভিডিও পর্যালোচনা করেছে দ্য গার্ডিয়ান। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, ঘাঁটি নির্মাণের জন্য টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে। যুদ্ধক্ষেত্রে কাজের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন আন্তর্জাতিক নির্মাণ কোম্পানিগুলোর একটি ছোট দলকে ইতোমধ্যেই এলাকাটি দেখানো হয়েছে। ওই দলটি দরপত্রে অংশ নিতে আগ্রহী।    ইন্দোনেশিয়া সরকার গাজায় আট হাজার সেনা সদস্য পাঠানোর জন্য প্রস্তাব দিয়েছে। বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটন ডিসিতে বোর্ড অব পিসের অনানুষ্ঠানিক বৈঠকে ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্টের অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। এছাড়া দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার আরও তিন নেতার ওই বৈঠকে অংশ নেবেন বলে জানা গেছে। জাতিসংঘের নিরাপত্তা কাউন্সিল গাজার সাময়িক স্থিতিশীলতার জন্য অস্থায়ীভাবে সামরিক বাহিনী মোতায়েনের অনুমোদন দিয়েছে। নিরাপত্তা কাউন্সিলই বোর্ড অব পিসের মূল হোতা। গাজার সীমান্ত ও শান্তি প্রণয়নে কাজ করবে আইএসএফ। এছাড়া বেসামরিকদের সুরক্ষা এবং ফিলিস্তিনি পুলিশ বাহিনীকে প্রশিক্ষণ ও সহায়তা দেবে তারা। যদি গাজায় ফের সংঘর্ষ হয়, ইসরায়েল বোমা হামলা চালায় অথবা হামাস হামলা চালায় সেক্ষেত্রে আইএসএফ কি করবে তা এখনও স্পষ্ট নয়। গাজা পুনর্গঠনে ইসরায়েল হামাসকে নিরস্ত্রীকরণের যে শর্ত দিয়েছে সেটির জন্য আইএসএফ কাজ করবে কিনা তাও স্পষ্ট না। ইতোমধ্যে বোর্ড অব পিসে ২০ এর অধিক দেশ যোগ দিয়েছে। তবে, এখনও অনেক পরাশক্তি এর থেকে দূরে রয়েছে। জাতিসংঘের অনুমোদন নিয়ে প্রতিষ্ঠিত হলেও ধারণা করা হচ্ছে, সংগঠনটির স্থায়ী নেতৃত্ব ও নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে। রুটজার্স বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক আদিল হক বলেন, “বোর্ড অব পিস এক ধরনের আইনি কল্পসত্তা। নামমাত্রভাবে এর নিজস্ব আন্তর্জাতিক আইনগত সত্তা রয়েছে, যা জাতিসংঘ ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে আলাদা। কিন্তু বাস্তবে এটি যুক্তরাষ্ট্রের ইচ্ছামতো ব্যবহারের জন্য একটি ফাঁপা খোলসমাত্র।” বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গাজা পুনর্গঠনে যে অর্থায়ন ও শাসন কাঠামো হচ্ছে তা অস্বচ্ছ। কয়েকজন ঠিকাদার গার্ডিয়ানকে জানান, গাজায় কাজ করার জন্য মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে তাদের প্রায়শ আলোচনা সরকারি ইমেলের বদলে সিগন্যালের মাধ্যমে করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রের তথ্য মতে, ঘাঁটি নির্মাণের সিদ্ধান্তটি বোর্ড অব পিসের। এতে সহায়তা করছে মার্কিন কর্মকর্তারা। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ঘাঁটিতে তৈরি বাংকার নেটওয়ার্কের মতোন কাজ করবে। প্রতিটি বাংকারের ২৪ মিটারের হবে। উচ্চতা থাকবে আড়াই মিটার। এগুলো এমনভাবে করা হবে যেন সেনা সদস্যরা আশ্রয় নিতে পারে। স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসের গাজায় সুড়ঙ্গ নেটওয়ার্ক বা টানেল রয়েছে। সেগুলোর আদলে নেটওয়ার্ক করতে চাওয়া হচ্ছে। পিস অব বোর্ডের নথি পর্যালোচনা করে এমন দাবি করছে গার্ডিয়ান। সংবাদ মাধ্যমটি বলছে,  স্থানটির ভূ-ভৌত জরিপ পরিচালনা করবে ঠিকাদাররা। নথির এক অংশে ‘হিউম্যান রেমিয়েনস প্রোটোকল’র কথা বলা হয়েছে। এর মানে দাঁড়ায়, সন্দেহভাজন মানব অবশিষ্ট বা সাংস্কৃতিক নিদর্শন পাওয়া গেলে অবিলম্বে সেই এলাকায় সব কাজ বন্ধ করতে হবে। চুক্তি কর্মকর্তাকে দিকনির্দেশনার জন্য অবিলম্বে জানাতে হবে। গাজা সিভিল ডিফেন্সের ধারণা, গাজার ধ্বংসস্তূপের নিচে ১০ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনির মরদেহ রয়েছে। ঘাঁটির জন্য যে স্থানটি বিবেচিত করা হচ্ছে সেটির মালিক কে তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে, দক্ষিণ গাজার বেশিরভাগ অংশ  বর্তমানে ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণে। জাতিসংঘের অনুমান, যুদ্ধ চলাকালীন ১৯ লাখ ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত হয়েছে। ফিলিস্তিনের জমিতে সরকারের অনুমতি না নিয়ে সামরিক ঘাঁটি স্থাপনকে দখল হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন ফিলিস্তিনি-কানাডিয়ান আইনজীবী এবং প্রাক্তন শান্তি আলোচক দিয়ানা বুট্টু। তিনি প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়ে বলেন, “কার অনুমতিতে তারা সামরিক ঘাঁটি স্থাপন করবে।” বিষয়টি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা বোর্ড অব পিসের কথা টানেন। ট্রাম্প প্রশাসনের একজন কর্মকর্তা সামরিক ঘাঁটির চুক্তি নিয়ে আলোচনা করতে অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, “যেমনটি প্রেসিডেন্ট বলেছেন, কোনও মার্কিন সেনা স্থলভাগে যাবে না। আমরা লিক হওয়া নথি নিয়ে আলোচনা করবো না।”

কুড়িগ্রামের তাজু ভাই ২.০: ‘সরকারি রেটে জিলাপি’ প্রশ্নে ভাইরাল এক নির্মাণশ্রমিকের গল্প

বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের প্রত্যন্ত চরাঞ্চল থেকে উঠে এসে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার কেন্দ্রে এখন তাইজুল ইসলাম, যিনি অনলাইনে পরিচিত ‘তাজু ভাই ২.০’ নামে। মাত্র একটি ভিডিও—যেখানে তিনি এক দোকানিকে প্রশ্ন করেন, “জিলাপি আজকে কত করে বেচতেছেন সরকারি রেটে?”—এই সরল উপস্থাপনাই তাকে রাতারাতি ভাইরাল করে তোলে।  কয়েক ঘণ্টায় ফলোয়ার লাখ ছাড়াল রোববার রাত পর্যন্ত তার ফেসবুক অনুসারী ছিল প্রায় ৩৫ হাজার। কিন্তু সোমবার সন্ধ্যা থেকে রাতের মধ্যেই তা বেড়ে এক লাখের বেশি হয়ে যায়। ভাইরাল ভিডিওটি ইতোমধ্যে প্রায় ৫০ থেকে ৫৫ লাখবার দেখা হয়েছে।  কী ছিল সেই ভিডিওতে? ভিডিওতে দেখা যায়, কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীর নারায়ণপুর বাজারে দাঁড়িয়ে স্থানীয় ভাষায় তিনি জিলাপির দাম জানতে চান। তার কথাগুলো ছিল একেবারেই সহজ ও গ্রাম্য ভঙ্গিতে— “সাদাডা কত, লালডা কত? সরকারি রেটে বেচতেছেন?” এই সরল প্রশ্নই সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।  কোথা থেকে উঠে এলেন তাজু ভাই? কুড়িগ্রাম জেলার নাগেশ্বরী উপজেলার নারায়ণপুর ইউনিয়নের একটি দুর্গম গ্রামে জন্ম তার। ব্রহ্মপুত্র নদবেষ্টিত এই অঞ্চলে পৌঁছাতে এখনও কয়েকটি নৌঘাট পার হতে হয়। দারিদ্র্যের কারণে কখনো স্কুলে যাওয়া হয়নি তার। পেশায় তিনি একজন নির্মাণশ্রমিকের সহকারী (হেলপার)। কাজের ফাঁকে ঢাকায় থাকাকালীন মোবাইল ফোনে ভিডিও তৈরি করাই তার শখ। ব্যক্তিগত সংগ্রাম তাইজুল ইসলামের পরিবারে ছয় ভাই-বোন। তিনি সবার বড়। তার বাবা-মা দুজনই শ্রবণপ্রতিবন্ধী। পরিবার চালাতে তাকে ছোটবেলা থেকেই সংগ্রাম করতে হয়েছে। তিনি বলেন, “পরিবারের কষ্ট ভুলতেই ভিডিও করি। আমি সাংবাদিক না, কিন্তু আমাদের এলাকায় কেউ আসে না—তাই নিজেরাই ভিডিও বানাই।” ভাইরাল হওয়ার পেছনের উদ্দেশ্য তাইজুলের দাবি, তার ভিডিও শুধুই বিনোদনের জন্য নয়। তিনি চান তার এলাকার অবহেলিত মানুষের কথা প্রশাসনের নজরে আসুক। “আমি চাই চরের মানুষের উন্নয়ন হোক,”—বলছেন তিনি।  মিশ্র প্রতিক্রিয়া ভিডিওটি নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে দুই ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ তার সরলতা ও বাস্তবতা তুলে ধরার চেষ্টা প্রশংসা করছেন আবার কেউ তাকে নিয়ে ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ করছেন তবে এসব সমালোচনায় তিনি বিচলিত নন।

অর্থনীতি

ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান খুরশীদ আলম, কৃষি ব্যাংকে নূরুল আমিন: ব্যাংক খাতে নতুন সমীকরণ

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ২৪, ২০২৬ 0




অপরাধ

ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো

ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকোর বিরুদ্ধে ৩০ বিলিয়ন ডলার জালিয়াতি ও অর্থপাচার অভিযোগে দুদকের অনুসন্ধান

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ২৪, ২০২৬ 0




কৃষি ও জলবায়ু

ধান

শেরপুরে বোরো ধানের দাম কমে লোকসানে কৃষকরা, উৎপাদন খরচও উঠছে না

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ৬, ২০২৬ 0