Brand logo light

ভারত

আ.লীগের সাবেক এমপি ডা. প্রাণ
ভারতে প্রকাশ্যে অধ্যাপক ডা. প্রাণ গোপাল দত্ত, ত্রিপুরার মেডিকেল কলেজে ক্লাস নেওয়ার ভিডিও ভাইরাল

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানের মুখে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর থেকে দীর্ঘদিন জনসমক্ষে দেখা যায়নি কুমিল্লা-৭ (চান্দিনা) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও চিকিৎসক অধ্যাপক ডা. প্রাণ গোপাল দত্তকে। তার বিরুদ্ধে দেশে একাধিক মামলা দায়ের হওয়ার পর তিনি কোথায় অবস্থান করছেন—এ নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গন, চিকিৎসক সমাজ এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা জল্পনা-কল্পনা চলছিল। অবশেষে সেই অনিশ্চয়তার অবসান ঘটিয়ে ভারতের ত্রিপুরার একটি বেসরকারি মেডিকেল কলেজে তার পাঠদান করার তথ্য এবং সংশ্লিষ্ট ভিডিও প্রকাশ্যে এসেছে। বাংলাদেশ সংবাদের অনুসন্ধানে জানা গেছে, ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের শান্তিনিকেতন মেডিকেল কলেজে বর্তমানে শিক্ষার্থীদের ক্লাস নিচ্ছেন অধ্যাপক ডা. প্রাণ গোপাল দত্ত। শনিবার (২৭ জুন ২০২৬) কলেজটির এক স্টাফ নার্স বাংলাদেশ সংবাদকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, অধ্যাপক প্রাণ গোপাল দত্ত নিয়মিতভাবে শিক্ষার্থীদের পাঠদান করছেন। তবে তিনি ঠিক কবে থেকে কলেজটিতে যুক্ত হয়েছেন, সে বিষয়ে নিশ্চিত কোনো তথ্য দিতে পারেননি।   ভিডিওতে মিলল অবস্থানের প্রমাণ সম্প্রতি শান্তিনিকেতন মেডিকেল কলেজের অফিসিয়াল ইউটিউব চ্যানেলে প্রকাশিত একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওতে দেখা যায়, আধুনিক শ্রেণিকক্ষে শিক্ষার্থীদের সামনে বক্তৃতা দিচ্ছেন অধ্যাপক ডা. প্রাণ গোপাল দত্ত। তার পেছনের ডিজিটাল ডিসপ্লেতে চিকিৎসাবিজ্ঞানের বিভিন্ন স্লাইড প্রদর্শিত হচ্ছিল। ভিডিওর বিষয়বস্তু পর্যালোচনা করে দেখা যায়, তিনি নাক-কান-গলা (ইএনটি) বিষয়ে একটি একাডেমিক ক্লাস পরিচালনা করছিলেন। ভিডিওটি প্রকাশের পরই তার বর্তমান অবস্থান নিয়ে দীর্ঘদিনের জল্পনার কার্যত অবসান ঘটে।   দীর্ঘ চিকিৎসা জীবনের পর রাজনীতিতে অধ্যাপক ডা. প্রাণ গোপাল দত্ত দেশের একজন সুপরিচিত নাক-কান-গলা বিশেষজ্ঞ। তিনি বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএমইউ) উপাচার্য হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। পরবর্তীতে তিনি সক্রিয় রাজনীতিতে যোগ দিয়ে আওয়ামী লীগের মনোনয়নে কুমিল্লা-৭ (চান্দিনা) আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।   সরকার পতনের পর আত্মগোপন গত ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর দলের শীর্ষ পর্যায়ের অনেক নেতা, মন্ত্রী ও সংসদ সদস্যের মতো ডা. প্রাণ গোপাল দত্তও জনসমক্ষে আর দেখা দেননি। তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা দায়ের হওয়ার পর তিনি দেশ ছেড়েছেন কি না, কোথায় অবস্থান করছেন কিংবা চিকিৎসা বা শিক্ষা কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন কি না—এসব প্রশ্নের কোনো নির্ভরযোগ্য তথ্য এতদিন পাওয়া যায়নি। সাম্প্রতিক ভিডিও এবং কলেজ-সংশ্লিষ্ট এক কর্মীর বক্তব্যের পর অন্তত এটুকু নিশ্চিত হওয়া গেছে যে তিনি বর্তমানে ভারতের ত্রিপুরায় অবস্থান করছেন এবং একটি মেডিকেল কলেজে একাডেমিক কার্যক্রম পরিচালনা করছেন। তবে তিনি কোন ধরনের ভিসায় ভারতে অবস্থান করছেন, কলেজটির সঙ্গে তার আনুষ্ঠানিক নিয়োগের ধরন কী এবং বাংলাদেশে তার বিরুদ্ধে চলমান মামলাগুলোর বর্তমান আইনি অবস্থা—এসব বিষয়ে স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া সম্ভব হয়নি। বাংলাদেশ সংবাদ এ বিষয়ে অধ্যাপক ডা. প্রাণ গোপাল দত্ত কিংবা শান্তিনিকেতন মেডিকেল কলেজ কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়ার চেষ্টা করছে। তাদের বক্তব্য পাওয়া গেলে এই প্রতিবেদনে সংযোজন করা হবে।

নিজস্ব প্রতিবেদক জুন ২৮, ২০২৬ 0
মুসলিম ধর্মীয় স্থাপনা গুঁড়িয়ে দিল উগ্র বিজেপি
ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে ৪৫ দিনে ২৩টির বেশি মসজিদ, মাদরাসা ও দরগাহ উচ্ছেদ: কী বলছে অনুসন্ধানী প্রতিবেদন?

 ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে গত ৪৫ দিনের মধ্যে ২৩টির বেশি মসজিদ, মাদরাসা, ঈদগাহ ও দরগাহ ভাঙা বা আংশিক উচ্ছেদের ঘটনা ঘটেছে বলে দাবি করেছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম মুসলিম মিরর। প্রকাশিত এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এসব ঘটনার উল্লেখযোগ্য অংশ সংঘটিত হয়েছে ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) শাসিত রাজ্যগুলোতে। প্রতিবেদনটি নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে—এসব অভিযান কি কেবল অবৈধ স্থাপনা অপসারণ ও উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের অংশ, নাকি এর প্রভাব পড়ছে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ধর্মীয় ও সামাজিক জীবনের ওপরও? কী বলছে প্রশাসন? বিভিন্ন রাজ্যের প্রশাসনিক কর্মকর্তারা দাবি করেছেন, অভিযানের মূল লক্ষ্য ছিল সরকারি জমি দখলমুক্ত করা, অনুমোদনহীন স্থাপনা অপসারণ এবং উন্নয়নমূলক প্রকল্প বাস্তবায়ন। তাদের বক্তব্য অনুযায়ী, কোনো নির্দিষ্ট ধর্মীয় গোষ্ঠীকে লক্ষ্য করে এসব পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। বরং আইন অনুযায়ী অবৈধ দখল উচ্ছেদ এবং নগর পরিকল্পনা বাস্তবায়নের অংশ হিসেবেই অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ কী? অন্যদিকে ক্ষতিগ্রস্তদের একাংশের অভিযোগ, যেসব স্থাপনা উচ্ছেদ বা আংশিক ভাঙা হয়েছে, তার অনেকগুলোই দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় মুসলিম সম্প্রদায়ের ধর্মীয়, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছিল। তাদের দাবি, বহু বছর ধরে বিদ্যমান এসব স্থাপনার বিরুদ্ধে হঠাৎ উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করায় স্থানীয় জনগণের মধ্যে উদ্বেগ ও অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। কয়েকটি ক্ষেত্রে স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযোগ করেছেন, ধর্মীয় স্থাপনার ঐতিহাসিক ও সামাজিক গুরুত্ব বিবেচনায় না নিয়েই প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করা হয়েছে। মানবাধিকার সংগঠনগুলোর উদ্বেগ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অল্প সময়ের ব্যবধানে বিভিন্ন রাজ্যে ধারাবাহিক উচ্ছেদ কার্যক্রম পরিচালিত হওয়ায় মানবাধিকার সংগঠন ও সংখ্যালঘু অধিকার পর্যবেক্ষকদের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। তারা ঘটনাগুলোর স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে ধর্মীয় স্বাধীনতা, আইনের সমান প্রয়োগ এবং ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য প্রয়োজনীয় পুনর্বাসন নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন। বিতর্কের কেন্দ্রে ধর্মীয় সংবেদনশীলতা মুসলিম সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিরা বলছেন, আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রে ধর্মীয় স্থাপনার বিষয়ে অধিক সংবেদনশীলতা দেখানো প্রয়োজন ছিল। তাদের মতে, প্রশাসনিক পদক্ষেপ গ্রহণের আগে স্থানীয় জনগোষ্ঠীর সঙ্গে পর্যাপ্ত আলোচনা ও বিকল্প ব্যবস্থা বিবেচনা করা উচিত ছিল। তবে প্রশাসনের অবস্থান ভিন্ন। কর্মকর্তারা পুনর্ব্যক্ত করেছেন যে, এসব অভিযান কোনো ধর্মীয় পরিচয়ের ভিত্তিতে পরিচালিত হয়নি এবং আইনগত প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবেই বাস্তবায়িত হয়েছে। কেন গুরুত্বপূর্ণ এই ঘটনা? ভারতের মতো বহুধর্মীয় ও বহুসাংস্কৃতিক রাষ্ট্রে ধর্মীয় স্থাপনা সংক্রান্ত যে কোনো প্রশাসনিক পদক্ষেপ প্রায়ই সামাজিক ও রাজনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে আসে। সাম্প্রতিক ঘটনাগুলোও তার ব্যতিক্রম নয়। একদিকে আইন প্রয়োগ ও উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের প্রশ্ন, অন্যদিকে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ধর্মীয় অধিকার ও নিরাপত্তার উদ্বেগ—এই দুই অবস্থানের সংঘাতে নতুন বিতর্ক তৈরি হয়েছে। ফলে বিষয়টি শুধু স্থানীয় প্রশাসনিক পদক্ষেপের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই; বরং ধর্মীয় স্বাধীনতা, সংখ্যালঘু অধিকার এবং রাষ্ট্রীয় নীতির ভারসাম্য নিয়ে বৃহত্তর জনপরিসরে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক জুন ২২, ২০২৬ 0
দিল্লির মেহরৌলিতে পাঁচতলা ভবন ধস: নিহত অন্তত ৯, ধ্বংসস্তূপে আটকে থাকার আশঙ্কা

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : ভারতের রাজধানী দিল্লির মেহরৌলি এলাকায় একটি পাঁচতলা আবাসিক ভবন ধসে অন্তত নয়জন নিহত হয়েছেন। শনিবার (৩০ মে) ঘটে যাওয়া এই দুর্ঘটনার পর ধ্বংসস্তূপের নিচে আরও কেউ আটকে আছেন কি না, তা নিশ্চিত হতে উদ্ধারকারীরা অভিযান চালিয়ে যাচ্ছেন। দুর্ঘটনার পরপরই এলাকায় ব্যাপক আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পরে জাতীয় দুর্যোগ মোকাবিলা বাহিনী (এনডিআরএফ), দমকল বিভাগ, দিল্লি পুলিশ এবং জেলা বিপর্যয় ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ যৌথভাবে উদ্ধার তৎপরতা শুরু করে। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, পুরোনো ভবনটি হঠাৎ করেই ধসে পড়ে। ভবনের একটি অংশ পাশের আরেকটি স্থাপনার ওপর গিয়ে পড়ায় সেখানে অবস্থানরত কয়েকজনও ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়েন বলে জানা গেছে। উদ্ধারকারীরা ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে সম্ভাব্য আটকে পড়াদের সন্ধান করছেন। এ ঘটনায় নিহতদের পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি। আহত কয়েকজনকে উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। দুর্ঘটনার পেছনে কী ছিল? দুর্ঘটনার পর স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশ ভবনটির নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তাদের দাবি, ভবনটি দীর্ঘদিন ধরেই ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় ছিল এবং নির্মাণ কিংবা রক্ষণাবেক্ষণে অনিয়ম থাকতে পারে। স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রশাসনিক নজরদারির ঘাটতির কারণে সম্ভাব্য ঝুঁকিপূর্ণ ভবনগুলো অনেক সময় ব্যবহার উপযোগী হিসেবেই থেকে যায়। ফলে এমন দুর্ঘটনা প্রাণহানির বড় কারণ হয়ে দাঁড়ায়। যদিও ভবন ধসের সুনির্দিষ্ট কারণ সম্পর্কে কর্তৃপক্ষ এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য দেয়নি, তবে দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত শুরু হতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো ইঙ্গিত দিয়েছে। স্থানীয়দের ভূমিকা প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, ভবন ধসের পর উদ্ধারকারী বাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগেই স্থানীয় বাসিন্দারা নিজেরাই উদ্ধারকাজ শুরু করেন। ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে কয়েকজনকে বের করে আনতেও তারা সহায়তা করেন। এ ধরনের ঘটনায় দুর্ঘটনার পরের প্রথম কয়েক ঘণ্টা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিশেষজ্ঞরা। কারণ এই সময়ের মধ্যেই আটকে পড়া ব্যক্তিদের জীবিত উদ্ধারের সম্ভাবনা তুলনামূলক বেশি থাকে। উদ্ধার অভিযান অব্যাহত প্রশাসনের আশঙ্কা, ধ্বংসস্তূপের নিচে এখনো আরও মানুষ আটকে থাকতে পারেন। এ কারণে ভারী যন্ত্রপাতি ও বিশেষায়িত উদ্ধার সরঞ্জাম ব্যবহার করে অভিযান জোরদার করা হয়েছে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, পুরো এলাকা নিরাপত্তা বেষ্টনীর আওতায় আনা হয়েছে এবং উদ্ধার কাজ শেষ না হওয়া পর্যন্ত অভিযান চলবে।

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ৩১, ২০২৬ 0
আটক কেন্দ্র
পশ্চিমবঙ্গে প্রতিটি জেলায় ‘হোল্ডিং সেন্টার’: বাংলাদেশি-রোহিঙ্গা সন্দেহে আটক আতঙ্ক, প্রশ্ন মানবাধিকার নিয়ে

পশ্চিমবঙ্গে ‘হোল্ডিং সেন্টার’: অনুপ্রবেশ ঠেকানো নাকি নতুন আতঙ্কের অবকাঠামো? ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন ডেস্ক : ভারতের পশ্চিমবঙ্গ সরকার কথিত ‘বাংলাদেশি ও রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশকারী’দের আটকে রাখার জন্য রাজ্যের প্রতিটি জেলায় ‘হোল্ডিং সেন্টার’ বা আটক কেন্দ্র তৈরির নির্দেশ দেওয়ার পর নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে নাগরিক অধিকার ও মানবাধিকার প্রশ্নে। গত সপ্তাহের শেষ দিকে রাজ্য পুলিশের কাছে পাঠানো এক সরকারি নোটে বলা হয়েছে, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের গত বছরের নির্দেশিকা অনুযায়ী প্রত্যেক জেলায় এমন কেন্দ্র গড়ে তুলতে হবে, যেখানে ‘অবৈধভাবে বসবাসরত বিদেশি নাগরিকদের’ রাখা হবে। শুধু কথিত অনুপ্রবেশকারীই নয়, জেল থেকে সাজা শেষ করে মুক্তি পাওয়া এবং নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর অপেক্ষায় থাকা বিদেশিদেরও এসব কেন্দ্রে রাখা হবে। ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে গত এক বছরে এ ধরনের হোল্ডিং সেন্টার গড়ে উঠলেও পশ্চিমবঙ্গে এই প্রথম এমন উদ্যোগ নেওয়া হলো। ‘হোল্ডিং সেন্টার’: নাম বদল, বাস্তবতা একই? গত বছর থেকে ভারতের গুজরাত, মহারাষ্ট্র, দিল্লি, হরিয়ানা ও ওড়িশাসহ বিভিন্ন রাজ্যে কথিত বাংলাদেশি ও রোহিঙ্গা শনাক্তে ব্যাপক অভিযান চালানো হয়। ওইসব অভিযানে হাজার হাজার মানুষকে আটক করা হয়েছিল, যাদের মধ্যে নারী ও শিশুও ছিলেন। পরিচয় যাচাইয়ের নামে অনেককে ছয়-সাত দিন কিংবা তারও বেশি সময় আটকে রাখা হয়। পরে দেখা যায়, আটক হওয়া অনেকেই প্রকৃত ভারতীয় নাগরিক; বিশেষ করে পশ্চিমবঙ্গ থেকে কাজের সন্ধানে অন্য রাজ্যে যাওয়া বাংলাভাষী মুসলিম পরিযায়ী শ্রমিকরা। আটক ব্যক্তিদের একাংশ বিবিসি বাংলাকে জানিয়েছেন, ‘হোল্ডিং সেন্টার’ নামে পরিচিত এসব স্থান বাস্তবে ছিল অস্থায়ী আটক শিবির। কোনো অনুষ্ঠানবাড়ি, বড় অফিস ভবন বা খালি প্রাঙ্গণ ব্যবহার করা হতো এসব কেন্দ্র হিসেবে। বাইরে থাকত পুলিশি পাহারা, ভেতরে সীমিত চলাফেরা। অনেকের অভিযোগ, মোবাইল ফোন ব্যবহার করতে দেওয়া হতো না, খাবারও ছিল অপ্রতুল। কেউ কেউ গোপনে ছবি বা ভিডিও পাঠিয়ে পরিবারের কাছে নিজেদের অবস্থার কথা জানান। ভাষা ও ধর্ম কি হয়ে উঠছে সন্দেহের কারণ? আটক হওয়া বহু মানুষের দাবি, শুধুমাত্র বাংলায় কথা বলা এবং মুসলমান পরিচয়ের কারণেই তাদের সন্দেহভাজন হিসেবে ধরা হয়েছিল। পরিযায়ী শ্রমিক মঞ্চের রাজ্য সাধারণ সম্পাদক আসিফ ফারুক বলেন, “বাংলাভাষী মুসলমান শ্রমিকদের লক্ষ্য করেই বহু জায়গায় অভিযান চালানো হয়েছে। পরবর্তীতে দেখা গেছে, আটক হওয়া অনেকেই প্রকৃত ভারতীয় নাগরিক ছিলেন। কিন্তু ততক্ষণে তারা হেনস্তা, মানসিক নির্যাতন ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের শিকার হয়েছেন।” মানবাধিকারকর্মীদের আশঙ্কা, পশ্চিমবঙ্গেও যদি একই ধরনের অভিযান শুরু হয়, তাহলে বৃহৎ সংখ্যক দরিদ্র শ্রমজীবী মানুষ নতুন করে হয়রানির মুখে পড়তে পারেন। ‘পুশব্যাক’: পরিচয় যাচাইয়ের আগেই সীমান্ত পার? গত এক বছরে একাধিক ঘটনায় দেখা গেছে, পরিচয় যাচাই সম্পন্ন হওয়ার আগেই অনেককে বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়া হয়েছে। সবচেয়ে আলোচিত ঘটনাগুলোর একটি পশ্চিমবঙ্গের সোনালী খাতুন ও তার পরিবারের। গর্ভবতী অবস্থায় তাকে পরিবারসহ বাংলাদেশে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছিল। পরে আন্তর্জাতিক সমালোচনার মুখে শুধু সোনালী খাতুনকে ভারতে ফিরিয়ে আনা হয়। মুর্শিদাবাদের মেহবুব শেখ এবং পূর্ব বর্ধমানের মুস্তাফা কামাল শেখের ঘটনাও একই ধরনের। দুজনকেই বাংলাদেশে পাঠিয়ে দেওয়ার পর পুনরায় ভারতে ফিরিয়ে আনা হয়, যখন প্রমাণিত হয় তারা ভারতীয় নাগরিক। এ ধরনের ঘটনা সীমান্ত নিরাপত্তা ও নাগরিক অধিকার—দুই প্রশ্নই সামনে এনে দিয়েছে। কেন্দ্রীয় নির্দেশনায় কী বলা আছে? ভারতের প্রচলিত আইনে অবৈধভাবে প্রবেশ বা বসবাসের অভিযোগে বিদেশি নাগরিকদের আটক করে আদালতের মাধ্যমে বিচার করার বিধান রয়েছে। সাজা শেষে সংশ্লিষ্ট দেশের দূতাবাসের সহায়তায় পরিচয় নিশ্চিত করে প্রত্যর্পণ করা হয়। কিন্তু কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নতুন নির্দেশনায় আলাদা প্রক্রিয়ার কথা বলা হয়েছে। সেখানে বলা হয়— প্রতিটি রাজ্যে বিশেষ টাস্ক ফোর্স গঠন করতে হবে প্রতিটি জেলায় পুলিশের তত্ত্বাবধানে হোল্ডিং সেন্টার তৈরি করতে হবে সন্দেহভাজন ব্যক্তি যে রাজ্যের বাসিন্দা দাবি করবেন, সেই রাজ্যের পুলিশকে ৩০ দিনের মধ্যে পরিচয় যাচাই করতে হবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে রিপোর্ট না এলে ফরেনার্স রিজিওনাল রেজিস্ট্রেশন অফিসার (FRRO) প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়া শুরু করতে পারবেন অধিকারকর্মীদের মতে, এই ব্যবস্থায় ভুল শনাক্তকরণের ঝুঁকি অত্যন্ত বেশি। প্রশ্নের মুখে পরিসংখ্যান সমালোচকদের বড় প্রশ্ন—পশ্চিমবঙ্গে কথিত বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীর প্রকৃত সংখ্যা কত? অর্থনীতিবিদ ও জাতীয় কংগ্রেস নেতা প্রসেনজিৎ বসু বলেন, “কতজন বাংলাদেশি বা রোহিঙ্গা পশ্চিমবঙ্গে আছেন, সেই তথ্য সরকার আগে প্রকাশ করুক। তথ্য ছাড়া এমন অবকাঠামো তৈরির যৌক্তিকতা কোথায়?” তিনি জানান, তথ্য অধিকার আইনে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কাছে জানতে চেয়েছিলেন— ২০০০ সাল থেকে কতজন কথিত অনুপ্রবেশকারী আটক হয়েছেন তাদের ধর্মীয় পরিচয় কী কতজন বর্তমানে জেল বা ডিটেনশন সেন্টারে আছেন কতজনকে বাংলাদেশে পুশব্যাক করা হয়েছে তবে এখনও তিনি কোনো সুস্পষ্ট উত্তর পাননি। নিরাপত্তা নাকি রাজনৈতিক বার্তা? বিশ্লেষকদের মতে, পশ্চিমবঙ্গে ‘হোল্ডিং সেন্টার’ তৈরির সিদ্ধান্ত শুধু প্রশাসনিক উদ্যোগ নয়, এটি রাজনৈতিকভাবেও তাৎপর্যপূর্ণ। রাজ্যের বিরোধী দল দীর্ঘদিন ধরেই ‘অনুপ্রবেশ’ ইস্যুকে রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার করে আসছে। অন্যদিকে মানবাধিকার সংগঠনগুলোর আশঙ্কা, এই ইস্যুকে ঘিরে বাংলাভাষী মুসলমান জনগোষ্ঠীর ওপর নজরদারি ও সন্দেহের সংস্কৃতি আরও প্রাতিষ্ঠানিক রূপ পেতে পারে। ফলে প্রশ্ন উঠছে— এই হোল্ডিং সেন্টার কি সত্যিই সীমান্ত নিরাপত্তার প্রয়োজন, নাকি তা ধীরে ধীরে নাগরিক পরিচয় যাচাইয়ের নামে নতুন এক আতঙ্কের অবকাঠামো হয়ে উঠছে?

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ২৫, ২০২৬ 0
গাজায় গণহত্যা
গাজায় গণহত্যার অভিযোগের মধ্যেও থামেনি অস্ত্র সরবরাহ, আইসিজের রায়ের পরও ইসরাইলকে সহায়তা ৫১ দেশের

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন ডেস্ক :  ২০২৪ সালের জানুয়ারির শুরুর দিকে, নেদারল্যান্ডসের হেগে অবস্থিত আন্তর্জাতিক বিচার আদালত (আইসিজে)-এর সামনে জড়ো হয়েছিলেন কয়েকজন বিক্ষোভকারী। গাজায় ইসরাইলের সামরিক অভিযানের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতে শীত উপেক্ষা করে তারা সেখানে অবস্থান নিয়েছিলেন। তখন গাজায় যুদ্ধ চলছিল প্রায় ১০০ দিন ধরে। বিশ্বজুড়ে যুদ্ধবিরতির দাবিতে তীব্র চাপ, আন্তর্জাতিক মহলের নিন্দা এবং মানবাধিকার সংস্থাগুলোর উদ্বেগ সত্ত্বেও ইসরাইল সামরিক অভিযান অব্যাহত রাখে। যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার আগ পর্যন্ত, ২০২৫ সালের অক্টোবর নাগাদ গাজায় নিহত হন ৭০ হাজারের বেশি মানুষ এবং আহত হন অন্তত ১ লাখ ৭১ হাজার। এই সময়ের মধ্যেই ইসরাইলে অব্যাহতভাবে প্রবেশ করেছে অস্ত্র, গোলাবারুদ ও সামরিক সরঞ্জাম। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরার দীর্ঘ অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, আইসিজে গণহত্যার ঝুঁকি নিয়ে সতর্কতা জারি করার পরও অন্তত ৫১টি দেশ ও স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল থেকে ইসরাইলে সামরিক সরঞ্জাম পাঠানো হয়েছে। আইসিজের রায়ের পর বেড়েছে অস্ত্র আমদানি ইসরাইলের কর কর্তৃপক্ষের (আইটিএ) আমদানি তথ্য, শুল্ক নথি এবং তথ্য অধিকার আইনের আওতায় সংগৃহীত রেকর্ড বিশ্লেষণ করে আল-জাজিরা জানিয়েছে, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে ২০২৫ সালের অক্টোবর পর্যন্ত ইসরাইলে মোট ২ হাজার ৬০৩টি সামরিক সরঞ্জামের চালান পৌঁছেছে। এসব চালানের মোট মূল্য ছিল প্রায় ৩.২২ বিলিয়ন ইসরাইলি শেকেল, যা মার্কিন মুদ্রায় প্রায় ৮৮৫ মিলিয়ন ডলারের সমান। সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ তথ্য হলো—এই চালানের ৯১ শতাংশই এসেছে আইসিজের রায়ের পরবর্তী সময়ে। অধিকাংশ সরঞ্জাম ছিল গোলাবারুদ, বিস্ফোরক এবং যুদ্ধক্ষেত্রে ব্যবহৃত সামরিক উপকরণ। তথ্য অনুযায়ী, ইসরাইলের জন্য সবচেয়ে বড় অস্ত্র সরবরাহকারী দেশ ছিল যুক্তরাষ্ট্র। মোট সামরিক আমদানির ৪২ শতাংশের বেশি এসেছে দেশটি থেকে। দ্বিতীয় অবস্থানে ছিল ভারত, যার অংশ প্রায় ২৬ শতাংশ। শীর্ষ পাঁচ সরবরাহকারীর তালিকায় আরও রয়েছে রোমানিয়া, তাইওয়ান ও চেক প্রজাতন্ত্র। প্রকাশ্য সমালোচনা, আড়ালে সরবরাহ অনুসন্ধানে উঠে এসেছে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক। যেসব দেশ প্রকাশ্যে ইসরাইলের সামরিক অভিযানের সমালোচনা করেছে বা যুদ্ধবিরতির পক্ষে অবস্থান নিয়েছে, তাদের অনেকেই বাস্তবে অস্ত্র সরবরাহ বন্ধ করেনি। চীন আইসিজের রায়কে স্বাগত জানিয়েছিল। কিন্তু শুল্ক তথ্য অনুযায়ী, যুদ্ধ চলাকালেও দেশটি থেকে সামরিক চালান গেছে ইসরাইলে। তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান গাজা যুদ্ধ নিয়ে ইসরাইলের কঠোর সমালোচনা করলেও, বাণিজ্য নথিতে দেখা যায় অস্ত্র ও সামরিক সরঞ্জাম সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ হয়নি। একইভাবে ব্রাজিলও আইসিজের পদক্ষেপকে “বাধ্যতামূলক” বলে উল্লেখ করেছিল। তবে অনুসন্ধানে দেখা যায়, দেশটি থেকেও কিছু সামরিক সরঞ্জাম ইসরাইলে গেছে। ‘গণহত্যা প্রতিরোধের দায়িত্ব আগে থেকেই শুরু হয়’ আন্তর্জাতিক আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, গণহত্যার আশঙ্কা সম্পর্কে অবগত হওয়ার পরও অস্ত্র সরবরাহ অব্যাহত রাখা আন্তর্জাতিক আইনের গুরুতর প্রশ্ন তৈরি করে। লন্ডন স্কুল অব ইকোনমিক্সের অধ্যাপক স্টিফেন হামফ্রেস এবং ইউনিভার্সিটি অব দ্য ওয়েস্ট অব ইংল্যান্ডের অধ্যাপক গেরহার্ড কেম্প বলেছেন, গণহত্যা প্রতিরোধের দায়িত্ব কেবল চূড়ান্ত রায়ের পর শুরু হয় না; ঝুঁকির ইঙ্গিত দেখা দেওয়ার মুহূর্ত থেকেই রাষ্ট্রগুলোর দায়িত্ব কার্যকর হয়। ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে জাতিসংঘের স্বাধীন তদন্ত কমিশনও তাদের প্রতিবেদনে উল্লেখ করে, গাজায় ইসরাইল গণহত্যা চালিয়েছে। মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের গবেষক প্যাট্রিক উইলকেন বলেন, “ইসরাইল একা এত বড় পরিসরের বোমাবর্ষণ পরিচালনা করতে পারত না। এর পেছনে বৈশ্বিক অস্ত্র সরবরাহ শৃঙ্খলের বড় ভূমিকা রয়েছে।” বৈশ্বিক নীরবতার বাইরে সক্রিয় সহায়তা আল-জাজিরার অনুসন্ধান এমন এক বাস্তবতা সামনে এনেছে, যেখানে আন্তর্জাতিক আদালতের সতর্কতা, মানবাধিকার উদ্বেগ এবং গণহত্যার অভিযোগের পরও অস্ত্র সরবরাহ বন্ধ হয়নি। বরং বহু দেশ প্রকাশ্যে কূটনৈতিক সমালোচনা করলেও বাস্তবে সামরিক সহায়তা চালিয়ে গেছে। গাজা যুদ্ধ শুধু মধ্যপ্রাচ্যের একটি সংঘাত নয়—এই অনুসন্ধান দেখাচ্ছে, এটি একটি বৈশ্বিক অস্ত্র নেটওয়ার্কেরও প্রতিচ্ছবি; যেখানে যুদ্ধক্ষেত্রের বাইরে থেকেও বহু রাষ্ট্র প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে জড়িয়ে রয়েছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ২৪, ২০২৬ 0
বিহারের ফরবিসগঞ্জে পার্কিং নিয়ে বিবাদ
বিহারের ফরবিসগঞ্জে পার্কিং নিয়ে বিবাদ: শিরশ্ছেদ, গণপিটুনিতে অভিযুক্ত নিহত

ইত্তেহাদ নিউজ, অনলাইন ডেস্ক : ভারতের বিহারের আরারিয়া জেলার ফরবিসগঞ্জে পার্কিং নিয়ে সামান্য এক বিবাদকে কেন্দ্র করে ঘটে গেল চরম নৃশংসতা। বিবাদের জেরে এক পিকআপ ভ্যান চালককে কুপিয়ে শিরশ্ছেদ করার অভিযোগ উঠল এক হকারের বিরুদ্ধে। এর কিছুক্ষণ পরই উত্তেজিত জনতা অভিযুক্তকে ধরে গণপিটুনি দিলে তারও মৃত্যু হয়। বৃহস্পতিবারের এই জোড়া খুনের ঘটনায় গোটা এলাকা রণক্ষেত্রের চেহারা নিয়েছে। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নিহত চালকের নাম আলি হুসেন। তিনি যোগবনীর বাসিন্দা। ফরবিসগঞ্জ শহরে গাড়ি পার্কিং করা নিয়ে স্থানীয় এক রাস্তার ধারের বিক্রেতা রবি চৌহানের সঙ্গে তাঁর কথা কাটাকাটি শুরু হয়। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, সামান্য বচসা দ্রুত সহিংসতায় রূপ নেয়। রাগের মাথায় রবি চৌহান একটি ধারালো অস্ত্র দিয়ে আলিকে আক্রমণ করেন এবং সবার সামনে তাঁর শিরশ্ছেদ করেন। এক প্রত্যক্ষদর্শী জানান, "ঘটনার পর রবি বিচ্ছিন্ন মাথাটি হাতে নিয়ে দাঁড়িয়ে ছিল। মানুষ আতঙ্কে দিভ্রান্ত হয়ে পড়েছিল, অনেকেই এগিয়ে না এসে ভিডিও করতে ব্যস্ত ছিল।" এই নারকীয় হত্যাকাণ্ডের খবর ছড়িয়ে পড়তেই স্থানীয় বাসিন্দা ও নিহতের আত্মীয়রা ক্ষোভে ফেটে পড়েন। তাঁরা অভিযুক্ত রবি চৌহানকে তাঁর বাড়ির কাছ থেকে খুঁজে বের করেন। উত্তেজিত জনতা রবিকে টেনে-হিঁচড়ে ঘটনাস্থলে নিয়ে আসে এবং লাঠি ও রড দিয়ে বেধড়ক মারধর শুরু করে। পুলিশের উপস্থিতিতেই উন্মত্ত জনতার মারে মৃত্যু হয় অভিযুক্ত রবির। জোড়া খুনের ঘটনায় ফরবিসগঞ্জ জুড়ে দাঙ্গা পরিস্থিতি তৈরি হয়। উত্তেজিত জনতা পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটবৃষ্টি করে এবং সরকারি সম্পত্তি ভাঙচুর করে। মৃতদেহ নিয়ে যাওয়ার জন্য আসা একটি অ্যাম্বুল্যান্স ভাঙচুর করা হয়। এমনকি ফরবিসগঞ্জ মহকুমা হাসপাতালেও হামলা চালায় উত্তেজিত জনতা, যার ফলে চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীরা প্রাণভয়ে পালিয়ে যান। আতঙ্কে শহরের সমস্ত দোকানপাট বন্ধ হয়ে যায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে আরারিয়ার পুলিশ সুপার (এসপি) জিতেন্দ্র কুমার বিশাল পুলিশ বাহিনী নিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছান। এলাকায় মোতায়েন করা হয়েছে অতিরিক্ত পুলিশ ফোর্স।পুলিশ সুপার বলেন, "আমরা দুটি ঘটনারই তদন্ত শুরু করেছি। যারা এই হত্যাকাণ্ড এবং ভাঙচুরের সাথে জড়িত, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এলাকায় নিয়মিত টহল দেওয়া হচ্ছে।" বর্তমানে ফরবিসগঞ্জের পরিস্থিতি থমথমে থাকলেও পুলিশি নজরদারিতে তা ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হচ্ছে। এই ঘটনায় সাম্প্রদায়িক বা গোষ্ঠী সংঘর্ষের আশঙ্কা এড়াতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে শান্তি বজায় রাখার আবেদন জানানো হয়েছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ১০, ২০২৬ 0
ইরানি তেল
বাজারে আসছে ১৭ কোটি ব্যারেল ইরানি তেল,জ্বালানিতে বড় স্বস্তি

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনার মধ্যে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে নতুন করে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে পূর্ব এশিয়া পর্যন্ত বিভিন্ন জাহাজে বিপুল পরিমাণ ইরানি অপরিশোধিত তেল মজুদ রয়েছে, যা যেকোনো সময় বাজারে প্রবেশ করতে পারে। মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার প্রভাবে বৈশ্বিক তেলের বাজারে দেখা দিয়েছে চরম অনিশ্চয়তা। এর মধ্যে বিপুল পরিমাণ ইরানি অপরিশোধিত তেল (ক্রুড) সমুদ্রে ভাসমান অবস্থায় মজুদ রয়েছে বলে জানা গেছে। সাম্প্রতিক ইরানের ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞা শিথিল হওয়ায় এবার বাজারে আসতে যাচ্ছে উপসাগরীয় অঞ্চলে বিভিন্ন জাহাজে থাকা প্রায় ১৭ কোটি ব্যারেল ইরানি তেল। শনিবার বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছেন বিশ্ব জ্বালানি খাতের বিশ্লেষকরা। তথ্য বিশ্লেষণ প্রতিষ্ঠান কেপলারের সিনিয়র ম্যানেজার ইমানুয়েল বেলোস্ট্রিনো বলেন, ‘বর্তমানে উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে চীনের জলসীমা পর্যন্ত বিভিন্ন জাহাজে প্রায় ১৭ কোটি (১৭০ মিলিয়ন) ব্যারেল ইরানি তেল মজুদ রয়েছে।’ অন্যদিকে পরামর্শক প্রতিষ্ঠান এনার্জি এসপেক্ট গত ১৯ মার্চের এক মূল্যায়নে জানায়, সমুদ্রে থাকা ইরানি তেলের পরিমাণ ১৩০ থেকে ১৪০ মিলিয়ন ব্যারেল, যা মধ্যপ্রাচ্যে বর্তমান উৎপাদন ঘাটতির তুলনায় ১৪ দিনেরও কম সরবরাহের সমান। এশিয়া অপরিশোধিত তেলের চাহিদার ৬০ শতাংশের জন্য মধ্যপ্রাচ্যের ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু চলতি মাসে হরমুজ প্রণালি প্রায় বন্ধ হয়ে যাওয়ায় এই অঞ্চলের শোধনাগারগুলো উৎপাদন কমিয়ে দিতে এবং জ্বালানি রপ্তানি সীমিত করতে বাধ্য হচ্ছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি প্রায় বন্ধ হয়ে যাওয়ার পরিস্থিতি তৈরি হওয়ায় উৎপাদন কমাতে বাধ্য হচ্ছে এশিয়ার বিভিন্ন দেশের তেল শোধনাগারগুলো। ফলে জ্বালানি রপ্তানিও হ্রাস পাচ্ছে। এ অঞ্চলের যেকোনো অস্থিরতা সরাসরি জ্বালানি বাজারে প্রভাব ফেলছে। তেল কিনতে যাচ্ছে যেসব দেশ ২০১৮ সালে ট্রাম্প প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞার পর থেকে চীন ছিল ইরানি তেলের প্রধান ক্রেতা। গত বছর চীনের স্বাধীন শোধনাগারগুলো প্রতিদিন গড়ে ১৩ দশমিক ৮ লাখ ব্যারেল ইরানি তেল কিনেছে। চীন ছাড়াও আগে ভারত, দক্ষিণ কোরিয়া, জাপান, ইতালি, গ্রিস, তাইওয়ান ও তুরস্ক ছিল ইরানি তেলের প্রধান আমদানিকারক। কেপলার জানায়, চীন গত বছর দৈনিক প্রায় ১৩ লাখ ৮০ হাজার ব্যারেল ইরানি তেল আমদানি করেছে। যা নিষেধাজ্ঞার কারণে অনেক দেশ এই তেল এড়িয়ে চলার সুযোগে সম্ভব হয়েছে। এদিকে যুক্তরাষ্ট্র রাশিয়ার ওপর থেকে সাময়িকভাবে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার পর ভারত রুশ তেল সংগ্রহ করেছিল। অন্যান্য বড় এশীয় আমদানিকারকদের তুলনায় ভারতের তেলের মজুদ কম হওয়ায় দেশটি ইরানি তেল কেনার পদক্ষেপ নিচ্ছে। ভারতের শোধনাগারের তিনটি সূত্র বলছে, তারা ইরানি তেল কিনতে আগ্রহী। এ বিষয়ে বর্তমানে সরকারের নির্দেশনা ও ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে পেমেন্ট শর্তাবলির মতো বিষয়গুলোর স্বচ্ছতার অপেক্ষায় রয়েছে তারা। আমদানিতে যে জটিলতা তবে ইরানি তেল কেনার ক্ষেত্রে কিছু জটিলতাও রয়েছে বলে জানিয়েছেন তেল ব্যবসায়ীরা। এর মধ্যে অন্যতম হলো—কিভাবে অর্থ প্রদান করা হবে, সে বিষয়ে অনিশ্চয়তা এবং সমুদ্রে থাকা তেলের একটি বড় অংশ পুরোনো ‘শ্যাডো ফ্লিট’ জাহাজে বহন করা হচ্ছে। এ ছাড়া কিছু পূর্ববর্তী ক্রেতা ইরানি তেল কম্পানির সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ ছিল বলে দুটি শোধনাগার সূত্র জানিয়েছে। তবে ২০১৮ সালের শেষ দিকে যুক্তরাষ্ট্র পুনরায় নিষেধাজ্ঞা আরোপ করার পর থেকে ইরানি তেলের বড় একটি অংশ তৃতীয় পক্ষের ব্যবসায়ীদের মাধ্যমে বিক্রি হচ্ছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ২১, ২০২৬ 0
রূহ আফজা
রমজানের প্রতীক রূহ আফজা

রূহ আফজা: রমজানের জনপ্রিয় পানীয়ের এক শতাব্দীর ইতিহাস রমজান মাস এলেই মুসলিম সমাজে বদলে যায় প্রতিদিনের জীবনযাত্রা। সেহরি ও ইফতারকে ঘিরে শুরু হয় নানা প্রস্তুতি, বাজারে বাড়ে বিশেষ খাবার ও পানীয়ের চাহিদা। পেঁয়াজু, বেগুনি, ছোলা-মুড়ি কিংবা খেজুরের পাশাপাশি ইফতার টেবিলে আরেকটি পরিচিত নাম হলো লাল রঙের শরবত—রূহ আফজা। বাংলাদেশ, ভারত ও পাকিস্তানে রমজানের সময় এই পানীয়ের জনপ্রিয়তা এতটাই বেশি যে অনেক পরিবারের মাসিক বাজারের তালিকায় এটি প্রায় অপরিহার্য হয়ে উঠেছে। শতাব্দীরও বেশি সময় ধরে টিকে থাকা এই পানীয় শুধু একটি শরবত নয়; এটি উপমহাদেশের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক স্মৃতির অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে। দিল্লির একটি ছোট ইউনানি ক্লিনিক থেকে শুরু হওয়া এই পানীয় আজ বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে। দিল্লির গলি থেকে শুরু ১৯০৬ সালের গরমের এক দিনে ব্রিটিশ শাসিত ভারতের রাজধানী দিল্লির পুরনো এলাকা লাল কুয়ান বাজারে একটি ক্লিনিকের সামনে অস্বাভাবিক ভিড় জমে। স্থানীয় মানুষজন বাতাসে ভেসে আসা গোলাপের সুবাসে আকৃষ্ট হয়ে জানতে পারেন, একজন ইউনানি চিকিৎসক একটি বিশেষ পানীয় তৈরি করেছেন। লাল রঙের সেই পানীয়ের স্বাদ নিতে ভিড় বাড়তেই থাকে। দিনের শেষে তৈরি প্রথম ব্যাচ শেষ হয়ে যায়। এই ঘটনাকেই অনেকে রূহ আফজার জন্মমুহূর্ত বলে মনে করেন। এই পানীয়ের উদ্ভাবক ছিলেন ইউনানি চিকিৎসক হাকিম হাফিজ আবদুল মজিদ। পুরনো দিল্লিতে তার ক্লিনিকের নাম ছিল হামদর্দ দাওয়াখানা। ‘হামদর্দ’ শব্দটির অর্থ—দুঃখ কষ্টের সময়ের সঙ্গী। ১৯০৭ সালের দিকে এই ক্লিনিক থেকেই বাণিজ্যিকভাবে উৎপাদন শুরু হয় এই অ্যালকোহলমুক্ত ভেষজ পানীয়ের। কেন তৈরি হয়েছিল রূহ আফজা শুরুর দিকে এটি তৈরি করা হয়েছিল মূলত চিকিৎসা উদ্দেশ্যে। দিল্লির প্রচণ্ড গরমে অনেক মানুষ ক্লান্তি, পানিশূন্যতা ও হিটস্ট্রোকের মতো সমস্যায় ভুগতেন। রোগীদের সতেজতা ফিরিয়ে দিতে গোলাপ, ভেষজ উপাদান ও ফলের নির্যাস দিয়ে এই পানীয় তৈরি করেন হাকিম মজিদ। গোলাপের সুবাস এবং সতেজ স্বাদের কারণে দ্রুতই এটি জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। এরপর তিনি এই পানীয়ের নাম দেন রূহ আফজা। উর্দু ভাষায় “রূহ” অর্থ আত্মা বা প্রাণ এবং “আফজা” অর্থ সতেজ করে এমন কিছু। অর্থাৎ নামের অর্থ দাঁড়ায়—“যা আত্মাকে সতেজ করে।” নামের পেছনের গল্প ইতিহাস বিষয়ক ম্যাগাজিন হেরিটেজ টাইমস-এর তথ্য অনুযায়ী, এই নামের অনুপ্রেরণা আসে একটি উর্দু কাব্যগ্রন্থ থেকে। উর্দু কবি পণ্ডিত দয়া শঙ্কর নাসিমের বিখ্যাত কাব্য “মসনবি গুলজার-ই-নাসিম”-এ রূহ আফজা নামে এক রাজকন্যার চরিত্র ছিল। সেখান থেকেই এই নাম গ্রহণ করেন হাকিম মজিদ। হাতে তৈরি বোতল থেকে শিল্প উৎপাদন প্রথমদিকে রূহ আফজা হাতে তৈরি করা হতো। ১৯২০ সালের মধ্যে কাঁচের বোতলে হাতে করে শরবত ভরা হতো এবং লেবেলও লাগানো হতো হাতে। দিল্লির শিল্পী মির্জা নূর আহমদ তৈরি করেছিলেন ঐতিহ্যবাহী লেবেল ডিজাইন, যা এখনো প্রায় অপরিবর্তিত রয়েছে। চাহিদা বাড়তে থাকলে দিল্লির বাইরে গাজিয়াবাদে একটি কারখানায় এর বড় আকারে উৎপাদন শুরু হয়। প্রতিষ্ঠাতার মৃত্যু ও নতুন অধ্যায় ১৯২২ সালে হাকিম হাফিজ আবদুল মজিদের মৃত্যু হয়। তখন তার বড় ছেলে আবদুল হামিদ মাত্র ১৪ বছর বয়সে পারিবারিক ব্যবসার দায়িত্ব নেন। তার নেতৃত্বে হামদর্দ ধীরে ধীরে বড় প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয় এবং রূহ আফজার উৎপাদন ও বাজার বিস্তৃত হতে থাকে। ভারত ভাগ ও তিন দেশের ব্র্যান্ড ১৯৪৭ সালে ভারত বিভক্ত হওয়ার পর হামদর্দও বিভক্ত হয়ে যায়। বড় ছেলে আবদুল হামিদ ভারতে থেকে যান ছোট ছেলে হাকিম মোহাম্মদ সৈয়দ পাকিস্তানে চলে যান এর ফলে প্রতিষ্ঠিত হয় দুইটি প্রতিষ্ঠান: হামদর্দ ইন্ডিয়া হামদর্দ পাকিস্তান দুই দেশেই রূহ আফজার উৎপাদন অব্যাহত থাকে। বাংলাদেশে রূহ আফজার যাত্রা ১৯৫০-এর দশকে হামদর্দ পাকিস্তান তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানে (বর্তমান বাংলাদেশ) তাদের কার্যক্রম শুরু করে। চট্টগ্রাম ও ঢাকায় বিক্রয় কেন্দ্র খোলা হয়। ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর প্রতিষ্ঠানটি হামদর্দ ল্যাবরেটরিজ (ওয়াকফ) বাংলাদেশ নামে কার্যক্রম চালিয়ে যায়। পরে ইউসূফ হারুন ভুঁইয়া নামের এক উদ্যোক্তার নেতৃত্বে বাংলাদেশে রূহ আফজার উৎপাদন ও বাজার সম্প্রসারণ শুরু হয়। রমজানের সঙ্গে গভীর সম্পর্ক সময়ের সঙ্গে সঙ্গে রূহ আফজা শুধু পানীয় নয়, রমজানের সংস্কৃতির অংশ হয়ে ওঠে। অনেক পরিবারে ইফতার মানেই রূহ আফজার শরবত। বাংলাদেশে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একসময় একটি জনপ্রিয় মন্তব্য ছিল— “ছোটবেলায় মনে করতাম রূহ আফজা শরবত খেলে সওয়াব হয়।” এটি অনেকটাই মজার মন্তব্য হলেও এটি দেখায় যে পানীয়টির সঙ্গে মানুষের আবেগ কতটা গভীর। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জনপ্রিয়তা পাকিস্তানি লেখক আজির হাসান রিজভী সামাজিক মাধ্যমে লিখেছেন, রমজানে এশীয় মুসলমানদের কাছে রূহ আফজার গুরুত্ব ঠিক যেমনটা কার্টুন চরিত্র পোপাই-এর কাছে পালং শাকের। অন্যদিকে মারিয়া সারতাজ নামের এক ব্যবহারকারী বলেন, রমজান ও রূহ আফজা একে অপরের পরিপূরক। দুধ না পানি—চলমান বিতর্ক রূহ আফজা কীভাবে খাওয়া উচিত তা নিয়েও সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক বিতর্ক রয়েছে। অনেকে বলেন এটি দুধের সঙ্গে খেলে স্বাদ সবচেয়ে ভালো। অন্যরা বলেন ঠান্ডা পানির সঙ্গে মিশিয়েই আসল স্বাদ পাওয়া যায়। কেউ কেউ আবার ফল, বেসিল সিড বা আইসক্রিম মিশিয়ে নিজস্ব রেসিপি তৈরি করেন। স্বাস্থ্য নিয়ে সমালোচনা তবে সবাই যে এই পানীয়ের ভক্ত তা নয়। সমালোচকদের মতে এতে চিনির মাত্রা বেশি। এছাড়া রঙ ও প্রিজারভেটিভ ব্যবহারের বিষয়েও প্রশ্ন তোলা হয়েছে। অনেকে মনে করেন, ঘরে তৈরি শরবত বা ফলের জুস বেশি স্বাস্থ্যকর। যুদ্ধ ও সংকটের সাক্ষী একটি পানীয় যে এত ঐতিহাসিক ঘটনার সাক্ষী হতে পারে, সেটি অনেকের কাছেই বিস্ময়কর। ভারত ভাগ, পাকিস্তান সৃষ্টি, বাংলাদেশের স্বাধীনতা—সবকিছুর মধ্য দিয়েই টিকে আছে এই ব্র্যান্ড। সোভিয়েত-আফগান যুদ্ধের সময় আফগান শরণার্থীদের ত্রাণ হিসেবে রূহ আফজা পাঠানো হয়েছিল। পরে দেখা যায়, অনেক শরণার্থী এটি পানি বা দুধ ছাড়াই সরাসরি পান করতেন। ২০১৯ সালের সংকট ২০১৯ সালে ভারতে হঠাৎ করেই বাজারে রূহ আফজা সংকট দেখা দেয়। কোম্পানি জানায়, কিছু ভেষজ উপাদান সহজলভ্য না হওয়ায় উৎপাদন কমে গিয়েছিল। এরপর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়। অনেক ভারতীয় ব্যবহারকারী হতাশা প্রকাশ করেন। পাকিস্তানি ব্যবহারকারীরা মজা করে ভারতকে রূহ আফজা পাঠানোর প্রস্তাবও দেন। আদালত পর্যন্ত গড়ানো বিতর্ক ২০২২ সালে দিল্লি হাই কোর্ট একটি গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশ দেয়। ই-কমার্স প্ল্যাটফর্ম অ্যামাজনকে পাকিস্তানে তৈরি রূহ আফজা ভারতের বাজারে বিক্রি না করার নির্দেশ দেওয়া হয়। ভারতীয় প্রস্তুতকারকেরা অভিযোগ করেছিলেন, পাকিস্তানি সংস্করণ অবৈধভাবে বিক্রি হচ্ছে। বাংলাদেশে জরিমানা বিতর্ক বাংলাদেশেও একবার আইনি জটিলতায় পড়েছিল এই ব্র্যান্ড। ২০১৮ সালে ঢাকার একটি বিশুদ্ধ খাদ্য আদালত অননুমোদিত উপাদান ব্যবহারের অভিযোগে হামদর্দকে চার লাখ টাকা জরিমানা করে। পরে আপিলের মাধ্যমে সেই রায় বাতিল হয়ে যায়। শতাব্দীর পানীয় আজ রূহ আফজা শুধু উপমহাদেশেই সীমাবদ্ধ নয়। ইউরোপ ও উত্তর আমেরিকার এশীয় দোকানেও এটি পাওয়া যায়। অনেক প্রবাসী মুসলিমের জন্য এটি রমজানের স্মৃতির সঙ্গে জড়িয়ে থাকা একটি পানীয়। স্বাদ, স্বাস্থ্য বা বিতর্ক—সবকিছুর বাইরে রূহ আফজা এখন এক শতাব্দীর ইতিহাসের অংশ। একটি লাল শরবত, যা সময়ের সঙ্গে সঙ্গে রমজানের প্রতীক হয়ে উঠেছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ৯, ২০২৬ 0
তারেক রহমান
তারেক রহমানের সামনে অর্থনীতি, কূটনীতিসহ ৫ চ্যালেঞ্জ

যুক্তরাজ্যে ১৭ বছরের নির্বাসিত জীবন কাটিয়ে গত ডিসেম্বরে বাংলাদেশে ফেরেন তারেক রহমান। এর দেড় মাসের মাথায় তাঁকে দক্ষিণ এশিয়ার দেশটির নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নির্বাচিত করা হচ্ছে। বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত নির্বাচনের ফলাফল দেখাচ্ছে, বিএনপি সংখ্যাগরিষ্ঠ আসন নিয়ে সরকার গঠন করতে যাচ্ছে। টাইম সাময়িকী গত জানুয়ারিতে দলটির নেতা তারেক রহমানের মুখোমুখি হয়েছিল। তখন তাঁকে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল, প্রথম অগ্রাধিকার নিয়ে। জবাবে তিনি আইনের শাসন নিশ্চিত করার কথা বলেছিলেন। তাঁর কাছে দ্বিতীয় অগ্রাধিকার হলো অর্থনৈতিক শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা। তৃতীয়ত, জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করা। তারেক রহমান বলেছেন, যতই রাজনৈতিক কর্মসূচি কিংবা নীতি নেওয়া হোক না কেন, ঐক্যবদ্ধ হতে না পারলে দেশকে সামনে এগিয়ে নেওয়া যাবে না। আস্থা ফিরিয়ে ঐক্যবদ্ধ করা ২০২৪ সালে গণঅভ্যুত্থানের সময় বাংলাদেশে অন্তত ১ হাজার ৪০০ লোক প্রাণ হারায়। এর আগে শেখ হাসিনার ১৫ বছরের শাসনামলে বিচারবহির্ভূতভাবে গুমের শিকার হয় সাড়ে তিন হাজার মানুষ। সেই ক্ষতগুলো এখনও বেশ তাজা। শেখ হাসিনার সময় যেসব প্রতিষ্ঠানে রাজনীতিকরণ হয়েছিল সেগুলোর ওপর এখন মানুষের আস্থা ফেরাতে তারেক রহমানকে কাজ করতে হবে। এসব প্রতিষ্ঠানের মধ্যে আছে সেনাবাহিনী, আদালত, সিভিল সার্ভিস ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোট এর আগে ক্ষমতায় বসেছিল ২০০১ সালে। এর পরপরই আওয়ামী লীগ ও ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের লক্ষ্য করে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়েছিল। ১৭ কোটি ৫০ লাখ মানুষের এই দেশে ফিরে আসার পর থেকে তারেক রহমান ঐক্যের বাণী প্রচার করছেন। তিনি বলেন, ‘প্রতিহিংসা কিছুই ফিরিয়ে আনবে না। বরং আমরা যদি এটি নিয়ন্ত্রণ করতে পারি, সবাইকে ঐক্যবদ্ধ রাখতে পারি, দেশকে ঐক্যবদ্ধ রাখতে পারি, তাহলে হয়তো ভালো কিছু পাব।’ অর্থনীতির মেরামত আওয়ামী লীগের আমলে এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের মধ্যে বাংলাদেশের অর্থনীতি ছিল দ্রুত বর্ধনশীল। জিডিপি ২০০৬ সালের ৭১ বিলিয়ন থেকে ২০২২ সালে ৪২০ বিলিয়নে পৌঁছায়। কিন্তু জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি, বৈষম্য ও বেকারত্বের কারণে দলটির বিরুদ্ধে জনমনে ক্ষোভ তৈরি হয়। কার্যক্রম নিষিদ্ধ হওয়ায় দলটি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে পারেনি। কিন্তু শেখ হাসিনার পতনের পরও মানুষের জীবনযাত্রার মানের খুব একটা উন্নতি হয়নি। উচ্চ মুদ্রাস্ফীতি ও টাকার মান কমে যাওয়ায় সাধারণ পরিবারগুলোর প্রকৃত আয় সংকুচিত হয়েছে। প্রতি বছর প্রায় ২০ লাখ তরুণ শ্রমবাজারে প্রবেশ করছে। অথচ যুব বেকারত্বের হার বর্তমানে ১৩ দশমিক ৫ শতাংশ। বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ কমে যাওয়ায় আমদানির ওপর বিধিনিষেধ আরোপ করতে হয়েছে। এটি জ্বালানি সরবরাহ এবং গুরুত্বপূর্ণ উৎপাদন শিল্পকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। প্রায় ৪ কোটির বেশি বাংলাদেশি চরম দারিদ্রতার মধ্যে বসবাস করছে। এ অবস্থায় বিএনপি তাদের নির্বাচনী প্রচারে নারীদের ভাতা ও বেকারদের ‘ফ্যামিলি কার্ডের’ প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। কিন্তু এতে অর্থায়ন কীভাবে হবে তা নিয়ে এখনও প্রশ্ন আছে। তরুণ উদ্যোক্তাদের ডিজিটাল অর্থনীতিতে যুক্ত করতে তারেক রহমান সংযোগ ব্যবস্থা জোরদার করতে চান। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাজারে উদ্যোক্তাদের সহজ প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করতে ব্যাংকিং খাতের উদারীকরণও তাঁর লক্ষ্য। বর্তমানে বিদেশে প্রায় ১০ লাখ বাংলাদেশি কর্মী আছেন। তারা যাতে ভালো বেতনের চাকরি পান সেজন্য দক্ষ করে গড়ে তোলার পরিকল্পনাও আছে তারেক রহমানের। তিনি বলেন, ‘আমরা তাদের ভাষা এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ দিতে পারি।’ ভারত-যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক বাংলাদেশের রপ্তানি খাতের উন্নয়ন করতে দুটি শক্তিধর দেশের সঙ্গে সম্পর্ক ঘনিষ্ঠ করা জরুরি। একটি প্রতিবেশী দেশ ভারত, অন্যটি বাংলাদেশি পণ্যের অন্যতম শীর্ষ আমদানিকারক যুক্তরাষ্ট্র। শেখ হাসিনা ভারতে আশ্রয় নেওয়ার পর দিল্লির সঙ্গে ঢাকার সম্পর্কে অবনতি ঘটেছে। ক্রিকেটার মোস্তাফিজুর রহমানকে আইপিএল থেকে বাদ দেওয়াটা এই উত্তেজনার সবশেষ উদাহরণ। বাংলাদেশও আইপিএল সম্প্রচার না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। কিন্তু এখনও বিএনপির সঙ্গে ভারতের কাজ করার আগ্রহের কিছু ইঙ্গিত আছে। গত ডিসেম্বরে ঢাকা সফরের সময় তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন পরাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর। তবে তিস্তা নদীসহ বেশ কিছু অমীমাংসিত বিষয় নিয়ে বিতর্ক রয়ে গেছে। কারণ, বিএনপি ১৯৯৭ সালের জাতিসংঘ ওয়াটার কনভেনশনে স্বাক্ষরের মাধ্যমে ‘পানির ন্যায্য হিস্যা দাবি’ করে আসছে। তারেক রহমান বলেছেন, ভারতের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক সঠিক পুনর্গঠনের জন্য আগেকার চুক্তির সংশোধন প্রয়োজন। শেখ হাসিনার সময়ে হওয়া অনেক চুক্তিতে অসামঞ্জস্যতা আছে। আমরা প্রতিবেশী হলেও বাংলাদেশের ও মানুষের স্বার্থ রক্ষা করাটা সবার আগে। এরপর সম্পর্ককে এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করব। এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্কে চিন্তার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছিল ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের আরোপ করা ৩৭ শতাংশ পারস্পরিক শুল্ক। আলোচনার মাধ্যমে চলতি মাসে তা ১৯ শতাংশে নামানো হয়েছে। কিন্তু এর বিনিময়ে মার্কিন পণ্যের জন্য বাজার আরও উন্মুক্ত করতে রাজি হয়েছে ঢাকা। এছাড়া, মার্কিন তুলা ও কৃত্রিম তন্তু দিয়ে তৈরি নির্দিষ্ট কিছু পোশাক ও টেক্সটাইল পণ্য এখন শুল্কমুক্তভাবে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করতে পারবে। এটি একটি অগ্রগতি, তবে তারেক রহমানের লক্ষ্য হলো দেশের বাণিজ্য ঘাটতি কমিয়ে শুল্কের ক্ষেত্রে আরও ছাড় পাওয়ার বিষয়ে আলোচনা চালিয়ে যাওয়া। সম্ভবত বোয়িংয়ের উড়োজাহাজ ও মার্কিন জ্বালানি অবকাঠামো কেনার মাধ্যমে। ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রসঙ্গে তারেক বলেন, ‘আমরা একে অপরকে সাহায্য করতে পারি।’ ইসলামপন্থীদের উত্থান সামলানো বৃহস্পতিবারের নির্বাচনে আসন প্রাপ্তির সংখ্যায় দ্বিতীয় অবস্থানে আছে জামায়াতে ইসলামী। দলটির গঠনতন্ত্রে শরিয়াহ আইন প্রতিষ্ঠার লক্ষ্য থাকলেও কট্টরপন্থী অবস্থান কিছুটা কমিয়ে আনা হয়েছে। এখন তারা সামাজিক কল্যাণ ও নিজেদেরকে ‘ফ্যাসিবাদবিরোধী’ হিসেবে প্রচারের ওপর বেশি জোর দিচ্ছে। কিন্তু সমালোচকরা মনে করেন, ‘স্বভাব কখনও বদলায় না’। নারীদের নিয়ে দলটির আমির শফিকুর রহমানের মন্তব্য মানবাধিকার কর্মীদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়িয়েছে। জামায়াত এক সময় বিএনপির নির্বাচনী জোট সঙ্গী ছিল। এবার জাতীয়তাবাদী দল একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়ায় ধারণা করা হচ্ছে, দেশ পরিচালনায় ইসলামপন্থীদের প্রভাব সীমিত থাকবে। কিন্তু ভবিষ্যতের রাজনীতিতে জামায়াত একটি গুরুত্বপূর্ণ শক্তি হিসেবেই থাকবে। এই প্রেক্ষাপটে তারেক রহমান বলেছেন, ‘বৃহত্তর মঙ্গলের জন্য সব দলের ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করা জরুরি।’ তারেক রহমান বলেন, ‘এটি কেবল বিএনপির দায়িত্ব নয়, বরং গণতন্ত্র ও জনগণের ভোটাধিকারে বিশ্বাসী সব রাজনৈতিক দলের দায়িত্ব। আমাদের একত্রে কাজ করতে হবে এবং ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। যাতে আমরা ৫ আগস্টের আগের পরিস্থিতিতে ফিরে না যাই। মানুষ যাতে তাদের রাজনৈতিক অধিকার ভোগ করতে পারে সেজন্য আমাদের সামনের দিকে এগিয়ে যেতে হবে।’ শিক্ষার্থীদের জন্য কী? শেখ হাসিনা সরকারের বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন শুরু হয়েছিল চাকরিতে কোটা বৈষম্য ঘিরে। তারা অন্তর্বর্তী সরকারের সময়েও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকায় ছিল। কিন্তু ছাত্র নেতাদের গঠন করা জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) জামায়াতের নির্বাচনী জোট সঙ্গী হওয়ায় অনেক নারী ও সংখ্যালঘু সদস্য মুখ ফিরিয়ে নিয়েছেন। গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী সময়ে আন্দোলনকারী ছাত্রদের মধ্যে বিভাজন তৈরি হয়েছে। বর্তমানে প্রচলিত রাজনৈতিক দলগুলোর নির্বাচনী আধিপত্য অনেক তরুণকে হতাশ করেছে। বিশেষ করে জুলাই বিপ্লবের সময় সামনের সারিতে থাকা নারীরা সংস্কার প্রক্রিয়ায় ব্যাপকভাবে অবহেলিত হয়েছেন। এনসিপির সাবেক নেত্রী তাসনিম জারা বলছেন, তিনি বিশ্বাস করেন এখনও প্রকৃত রাজনৈতিক বিকল্পের আশা আছে। তবে তা রাতারাতি তৈরি হবে না। এ জন্য কিছু মানুষকে পেশাগত সততা নিয়ে রাজনীতিতে এসে, নীতিতে অবিচল থেকে মানুষের মাঝে ধীরে ধীরে আস্থা তৈরি করতে হবে। এমনকি যদি একটি আসনেও কেউ সফল হয়, সেটিও প্রমাণ করবে, পুরনো রাজনৈতিক নেতৃত্বই একমাত্র ভবিষ্যৎ নয়। নিজের দায়িত্ব প্রসঙ্গে তারেক রহমান বলেছেন, যারা গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনার জন্য সবকিছু বিসর্জন দিয়েছেন, তাদের প্রতি সম্মান জানাতে তিনি দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। যারা জীবন উৎসর্গ করেছেন তাদের প্রতি এক গভীর দায়িত্ব আছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক ফেব্রুয়ারি ১৪, ২০২৬ 0
Popular post
ফারুকীর সম্পদ কমেছে, তিশার বেড়েছে দ্বিগুণেরও বেশি: সম্পদ বিবরণী ঘিরে আলোচনা

অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের সম্পদ বিবরণী প্রকাশের পর সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী ও তার স্ত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদের হিসাব নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। এক বছরের ব্যবধানে স্বামী ফারুকীর সম্পদ কমলেও স্ত্রী তিশার সম্পদ বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে প্রকাশিত তথ্যে উঠে এসেছে এই চিত্র। প্রকাশিত খতিয়ান অনুযায়ী, জনপ্রিয় অভিনেত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদ এক বছরে অভাবনীয় হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তিশার মোট সম্পদের পরিমাণ ছিল ১ কোটি ৪০ লাখ ৮১ হাজার ৮৬০ টাকা। ঠিক এক বছর পর, ২০২৫ সালের ৩০ জুন সেই সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ৯৯ লাখ ৮৯ হাজার ৫০১ টাকায়। অর্থাৎ মাত্র এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ বেড়েছে ১ কোটি ৫৯ লাখ ৭ হাজার ৬৪১ টাকা, যা আগের বছরের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি। অন্যদিকে সংস্কৃতি উপদেষ্টা ও নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর ক্ষেত্রে দেখা গেছে উল্টো চিত্র। এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ কমেছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তার মোট সম্পদ ছিল ২ কোটি ২৬ লাখ ৯২ হাজার ২৬ টাকা। ২০২৫ সালের ৩০ জুন তা কমে দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ১৫ লাখ ১৮ হাজার ২৬ টাকায়। হিসাব অনুযায়ী, এক বছরে তার সম্পদ কমেছে ১১ লাখ ৭৪ হাজার টাকা। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে গত মঙ্গলবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ প্রধান উপদেষ্টা, উপদেষ্টা ও সমমর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের পাশাপাশি তাদের স্ত্রী বা স্বামীর সম্পদ বিবরণী প্রকাশ করে। একই সময়ে স্বামী-স্ত্রীর সম্পদে এমন ভিন্নমুখী পরিবর্তন স্বাভাবিকভাবেই সাধারণ মানুষের কৌতূহলের জন্ম দিয়েছে। শোবিজ অঙ্গনের জনপ্রিয় দম্পতি হওয়ায় তাদের এই আয়-ব্যয়ের হিসাব এখন টক অব দ্য কান্ট্রি।

সংসার সামলাতে অটোরিকশা নিয়ে রাস্তায় নেমেছেন রোজিনা

বাসস : বাবা একজন তাঁত শ্রমিক। তিন বোন দুই ভাইয়ের মধ্যে সবার বড় রোজিনা। অভাব সংসার, তাই এক এতিম যুবকের সাথে বাবা-মা বিয়ে দেন তাকে। বিয়ের পর জন্ম হয় দুই কন্যা সন্তানের। অটোরিকশা চালিয়ে কোন রকম সংসার চালাচ্ছিলেন স্বামী রফিকুল ইসলাম। কিন্তু সড়ক দুর্ঘটনায় রফিকুলের এক চোখ সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যায়। আরেকটি চোখ আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ধীরে ধীরে ওই চোখের দৃষ্টি শক্তিও কমতে থাকে। ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে অটোরিকশা চালানো। সংসারের উপার্জনক্ষম মানুষটি অচল হয়ে পড়ায় চিকিৎসার খরচ, ঘর ভাড়া ও খাবারের পাশাপাশি মেয়েদের লেখাপড়ার খরচ চালানোই কঠিন হয়ে যায়। দিশেহারা হয়ে পরেন রোজিনা। এক পর্যায়ে মানুষের বাড়ি বাড়ি কাজ করে সংসার চালানোর চেস্টা করেন। কিন্তু সুবিধা করতে পারেন না। এমন পরিস্থিতিতে অটোরিকশা চালানোর সিদ্ধান্ত নেন তিনি। স্বামী রফিকুলের কাছেই হাতেখড়ি। গ্রামের স্কুলের মাঠে স্বামীর কাছেই অটোরিকশা চালানোর শিক্ষা নেন তিনি। পরে গ্রামের পথে নেমে পড়েন অটোরিকশা নিয়ে। ৫-৬ দিন এভাবে হাত পাকা করে একদিন টাঙ্গাইল শহরে চলে আসেন রোজিনা। এরপর শুরু করেন অটোরিক্সা চালানোর ব্যতিক্রমী জীবন সংগ্রাম। এখন টাঙ্গাইল পৌরসভায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার চালকদের মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা বেগম। জেলার বাসাইল উপজেলার আইসড়া গ্রামের বাসিন্দা রোজিনা টাঙ্গাইল পৌর শহরের এক প্রান্ত রাবনা বাইপাস থেকে আরেক প্রান্ত বেবিস্ট্যান্ডে যাত্রী আনা নেয়া করেন। যানজটের কারণে শহরে পুরুষ চালকরা যেখানে হিমসিম খায়, সেখানেই বিগত ৫ বছর ধরেই নির্বিঘেœ অটোরিকশা চালাচ্ছেন তিনি। টাঙ্গাইল পৌরসভা কার্যালয় সূত্রে জানা যাায়, টাঙ্গাইল শহরে চলাচলের জন্য ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক ও ৫ হাজার ব্যাটারিচালিত রিকশার অনুমতি (লাইসেন্স) দেওয়া হয়েছে। যানজট এড়াতে ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক জোড় ও বিজোড় সংখ্যায় দিনে দুই ভাগ করা হয়েছে। সকাল থেকে বেলা দুইটা পর্যন্ত এক ভাগ এবং বেলা দুইটা থেকে রাত পর্যন্ত আরেক ভাগের ইজিবাইক চলাচল করার নির্দেশনা দিয়েছে পৌর কর্তৃপক্ষ। কিন্তু রোজিনাকে দুই শিফটে চালানোর অনুমতি দিয়েছে পৌরসভা। সরেজমিনে দেখা যায়, নতুন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অটোরিকশা নিয়ে যাত্রী ডাকছেন রোজিনা। কলেজ গেট, পুরাতন বাসস্ট্যান্ড, ক্যাপসুল, নিরালা মোড়, বেবিস্ট্যান্ড সর্বত্রই যাত্রী আনানেয়া করেন তিনি। পুরাতন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অন্য অটো চালকদের দাঁড় করতে না দিলেও রোজিনাকে বাঁধা দেননা ট্রাফিক পুলিশ। বলতে গেলে সবাই তার প্রতি সহানুভুতিশীল। ট্রাফিক পুলিশসহ অন্য অটোচালকরাও তাকে সহযোগিতা করেন। রোজিনা বলেন, আমার অটোতে নারী যাত্রীরা খুব কম। তারা মনে করে আমার অটোতে উঠলে দুর্ঘটনায় পড়বে। কিন্তু আমি খুব সাবধানে অটো চালাই। দ্রুত গতিতেও না, আবার একেবারে ধীরগতিতেও না। এখন পর্যন্ত আমি কোন দুর্ঘটনার কবলে পড়ি নাই। শহরের পুরুষ অটোরিকশা চালকরা আমাকে অনেক সহযোগিতা করে। অটোচালক কাদের মিয়া বলেন, আমাদের শহরে কয়েক হাজার অটো চলাচল করে। তার মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। তাকে আমরা সব সময় সহযোগিতা করি। যাত্রী সাইদ মিয়া বলেন, আমি এ পর্যন্ত ৫-৬ বার রোজিনার অটোতে চড়েছি। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। অন্য পুরুষ অটো চালকের চেয়েও ভালো অটো চালান। নারী সংগঠক সেরাজুম মনিরা বলেন, তিনি অনেক দিন যাবত অটোরিকশা চালাচ্ছেন। আমি রোজিনাকে স্যালুট জানাই। একজন পুরুষের চেয়ে একজন নারী কোনো ভাবেই যে পিছিয়ে নেই, রোজিনা তা প্রমাণ করেছেন। রোজিনা বলেন, অটো চালানোর এই সিদ্ধান্তটি তার জন্য খুব সহজ ছিল না। তিনি বলেন, ৫ ও ১০ বছরের দুই মেয়েকে বাড়িতে রেখে অটোরিকশা নিয়ে সারাদিন রাস্তায় থাকতে হয়। তাদের ভালোভাবে দেখাশোনা করতে পারি না। কিন্তু কি করবো, অভাবের সংসার! এখন ঋণ নিয়ে একটু জমি কিনেছি। প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ণ প্রকল্পের অর্থায়নে প্রশাসন সেখানে ঘর তুলে দিয়েছে। শুরুতে যারা আমাকে নিয়ে ঠাট্টা করেছে এখন তারাই আমাকে সম্মান করেন। নারীরাও যে কিছু করতে পারে, তা প্রমাণ করেছি। আমার বড় মেয়ে আইসড়া উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়ে, ছোট মেয়ে পড়ে স্থানীয় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। মেয়েদের শিক্ষিত করতে হবে। ধার দেনা শোধ করতে হবে। তাই থেমে গেলো চলবে না। আমি অটোরিকশা চালিয়েই দুই সন্তানকে মানুষ করতে চাই।’ ঘারিন্দা ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য বাবুল সরকার বলেন, সরকার রোজিনাকে একটি ঘর নির্মাণ করে দিয়েছে। শুরুতে যারা তাকে নিয়ে নানান কথা বলতো, এখন তার সংকল্প ও মানষিক দৃঢ়তা দেখে থেমে গেছে। আমরা তাকে নিয়ে গর্ব করি। টাঙ্গাইলের ট্রাফিক ইন্সপেক্টর (প্রশাসন) দেলোয়ার হোসেন বলেন, শহরের একমাত্র নারী চালক রোজিনাকে কেউ যেন বিরক্ত করতে না পারে সেদিকে সব সময় নজর রাখে ট্রাফিক পুলিশ। আমরা তাকে সব সময় সহযোগিতা করে আসছি। টাঙ্গাইলের সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক শাহ আলম বলেন, বিষয়টি এখন জানতে পারলাম। ওই নারী এখনো পর্যন্ত আমাদের কাছে আসেন নাই। যদি আমাদের কাছে এসে আবেদন করেন অবশ্যই তাকে আমরা সহযেগিতা করবো, তার পাশে দাঁড়াবো।

বাংলাদেশে ঐতিহাসিক নির্বাচন: বিএনপি এগিয়ে, জামায়াতের উত্থান ও তরুণ ভোটারদের প্রভাব

২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশে আজ এক ঐতিহাসিক ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ২০০৮ সালের পর এই প্রথম একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হতে যাচ্ছে যেখানে দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগ রাজনৈতিক মানচিত্র থেকে কার্যত অনুপস্থিত। বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক জরিপ বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০০ আসনের মধ্যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) কার্যকর সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে যাচ্ছে। তবে ভোটের ব্যবধান এবং কিছু সমীকরণ নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। নির্বাচনের সবচেয়ে বড় নিয়ামক হয়ে দাঁড়িয়েছে আওয়ামী লীগের বিশাল ভোটব্যাংক। দলটির নিয়মিত প্রায় ৪ কোটি ভোটার এখন নতুন রাজনৈতিক আশ্রয় খুঁজছেন। সিআরএফ বা বিইপিওএস জরিপ বলছে, এই ভোটারদের প্রায় অর্ধেক বিএনপির দিকে ঝুঁকেছে, যা দলটিকে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতার পথে এগিয়ে দিচ্ছে। অন্যদিকে, প্রায় ৩০ শতাংশ আওয়ামী ভোটার জামায়াতে ইসলামীকে বেছে নিতে পারেন বলে আভাস পাওয়া যাচ্ছে। এছাড়া বাংলাদেশের বিদ্যমান নির্বাচনী ব্যবস্থার কারণে দেশজুড়ে সুষম জনসমর্থন থাকা বিএনপি আসন জয়ের ক্ষেত্রে জামায়াতের তুলনায় সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। তবে বিএনপির এই সম্ভাব্য জয়ের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও বিদ্রোহী প্রার্থীরা। প্রায় ৭৯টি নির্বাচনী এলাকায় দলের মনোনয়ন না পাওয়া ৯২ জন প্রভাবশালী নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, যা বিএনপির ১৫ থেকে ৩০টি আসন কমিয়ে দিতে পারে। অন্যদিকে, তরুণ ভোটার বা ‘জেন-জি’ প্রজন্মের বিশাল সমর্থন জামায়াতে ইসলামীর শক্তির উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেশের ৪৪ শতাংশ ভোটারই তরুণ, যাদের বড় একটি অংশ প্রথমবার ভোট দিচ্ছেন। এই তরুণরা যদি দলবেঁধে কেন্দ্রে উপস্থিত হন, তবে নির্বাচনী ফলে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। সবশেষে, প্রায় ১৭ থেকে ৩৫ শতাংশ দোদুল্যমান ভোটার এবং তাদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করবে আগামীর সরকার কতটা শক্তিশালী হবে। দ্য নিউইয়র্ক এডিটোরিয়ালের মূল পূর্বাভাস, তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি প্রায় ১৮৫টি আসনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করতে পারে এবং জামায়াতে ইসলামী ৮০টির মতো আসন পেয়ে প্রধান বিরোধী দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারে। তবে বিদ্রোহী প্রার্থীদের প্রভাব এবং তরুণ ভোটারদের উপস্থিতির ওপর ভিত্তি করে আসন সংখ্যায় বড় ধরনের হেরফের হওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

গাজায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা ট্রাম্প প্রশাসনে

ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। ৩৫০ একরের ঘাঁটিটিতে সামরিক বাহিনীর পাঁচ হাজার সদস্য থাকতে পারবে। গাজার ‘বোর্ড অব পিস’র নথি পর্যালোচনা করে এ তথ্য জানিয়েছে দ্য গার্ডিয়ান। প্রতিবেদনে ব্রিটিশ সংবাদ মাধ্যমটি জানিয়েছে, বোর্ড অব পিসে গাজাকে নিরাপদ করার জন্য ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যাবিলাইজেশন ফোর্স (আইএসএফ) নামে একটি আন্তর্জাতিক বাহিনী মোতায়েনের কথা বলা হয়েছে। যে স্থানটি ঘাঁটি করার জন্য বিবেচনা করা হচ্ছে সেখানে আইএসএফের সদস্যরা থাকবে। বোর্ড অব পিসের প্রধান হবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আর সংগঠনটির আংশিক নেতৃত্ব দেবেন ট্রাম্পের জামাতা জ্যারার্ড কুশনার।দ্য গার্ডিয়ান বোর্ড অব পিসের নথি পর্যালোচনা করে জানায়, ধাপে ধাপে একটি সামরিক ঘাঁটি নির্মাণ করা হবে। সবকিছু শেষ হলে ঘাঁটিটি ১৫ লাখ ১৭ হাজার ৫৭৫ বর্গমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত হবে। ঘাঁটিটির চারপাশে ট্রেইলার সংযুক্ত ২৬টি সাঁজোয়া নজরদারি টাওয়ার থাকবে। এছাড়া একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, বাংকার ও অস্ত্র রাখার গুদাম থাকবে। পুরো ঘাঁটিটি কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে ঘিরে রাখা হবে। সামরিক ঘাঁটি নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে দক্ষিণ গাজার একটি শুষ্ক সমতলভূমিতে। সেখানে ইসরায়েলি হামলার চিহ্ন রয়েছে। ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে বিভিন্ন ধাতবের ধ্বংসাবশেষ।  ওই এলাকার ভিডিও পর্যালোচনা করেছে দ্য গার্ডিয়ান। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, ঘাঁটি নির্মাণের জন্য টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে। যুদ্ধক্ষেত্রে কাজের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন আন্তর্জাতিক নির্মাণ কোম্পানিগুলোর একটি ছোট দলকে ইতোমধ্যেই এলাকাটি দেখানো হয়েছে। ওই দলটি দরপত্রে অংশ নিতে আগ্রহী।    ইন্দোনেশিয়া সরকার গাজায় আট হাজার সেনা সদস্য পাঠানোর জন্য প্রস্তাব দিয়েছে। বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটন ডিসিতে বোর্ড অব পিসের অনানুষ্ঠানিক বৈঠকে ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্টের অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। এছাড়া দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার আরও তিন নেতার ওই বৈঠকে অংশ নেবেন বলে জানা গেছে। জাতিসংঘের নিরাপত্তা কাউন্সিল গাজার সাময়িক স্থিতিশীলতার জন্য অস্থায়ীভাবে সামরিক বাহিনী মোতায়েনের অনুমোদন দিয়েছে। নিরাপত্তা কাউন্সিলই বোর্ড অব পিসের মূল হোতা। গাজার সীমান্ত ও শান্তি প্রণয়নে কাজ করবে আইএসএফ। এছাড়া বেসামরিকদের সুরক্ষা এবং ফিলিস্তিনি পুলিশ বাহিনীকে প্রশিক্ষণ ও সহায়তা দেবে তারা। যদি গাজায় ফের সংঘর্ষ হয়, ইসরায়েল বোমা হামলা চালায় অথবা হামাস হামলা চালায় সেক্ষেত্রে আইএসএফ কি করবে তা এখনও স্পষ্ট নয়। গাজা পুনর্গঠনে ইসরায়েল হামাসকে নিরস্ত্রীকরণের যে শর্ত দিয়েছে সেটির জন্য আইএসএফ কাজ করবে কিনা তাও স্পষ্ট না। ইতোমধ্যে বোর্ড অব পিসে ২০ এর অধিক দেশ যোগ দিয়েছে। তবে, এখনও অনেক পরাশক্তি এর থেকে দূরে রয়েছে। জাতিসংঘের অনুমোদন নিয়ে প্রতিষ্ঠিত হলেও ধারণা করা হচ্ছে, সংগঠনটির স্থায়ী নেতৃত্ব ও নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে। রুটজার্স বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক আদিল হক বলেন, “বোর্ড অব পিস এক ধরনের আইনি কল্পসত্তা। নামমাত্রভাবে এর নিজস্ব আন্তর্জাতিক আইনগত সত্তা রয়েছে, যা জাতিসংঘ ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে আলাদা। কিন্তু বাস্তবে এটি যুক্তরাষ্ট্রের ইচ্ছামতো ব্যবহারের জন্য একটি ফাঁপা খোলসমাত্র।” বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গাজা পুনর্গঠনে যে অর্থায়ন ও শাসন কাঠামো হচ্ছে তা অস্বচ্ছ। কয়েকজন ঠিকাদার গার্ডিয়ানকে জানান, গাজায় কাজ করার জন্য মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে তাদের প্রায়শ আলোচনা সরকারি ইমেলের বদলে সিগন্যালের মাধ্যমে করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রের তথ্য মতে, ঘাঁটি নির্মাণের সিদ্ধান্তটি বোর্ড অব পিসের। এতে সহায়তা করছে মার্কিন কর্মকর্তারা। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ঘাঁটিতে তৈরি বাংকার নেটওয়ার্কের মতোন কাজ করবে। প্রতিটি বাংকারের ২৪ মিটারের হবে। উচ্চতা থাকবে আড়াই মিটার। এগুলো এমনভাবে করা হবে যেন সেনা সদস্যরা আশ্রয় নিতে পারে। স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসের গাজায় সুড়ঙ্গ নেটওয়ার্ক বা টানেল রয়েছে। সেগুলোর আদলে নেটওয়ার্ক করতে চাওয়া হচ্ছে। পিস অব বোর্ডের নথি পর্যালোচনা করে এমন দাবি করছে গার্ডিয়ান। সংবাদ মাধ্যমটি বলছে,  স্থানটির ভূ-ভৌত জরিপ পরিচালনা করবে ঠিকাদাররা। নথির এক অংশে ‘হিউম্যান রেমিয়েনস প্রোটোকল’র কথা বলা হয়েছে। এর মানে দাঁড়ায়, সন্দেহভাজন মানব অবশিষ্ট বা সাংস্কৃতিক নিদর্শন পাওয়া গেলে অবিলম্বে সেই এলাকায় সব কাজ বন্ধ করতে হবে। চুক্তি কর্মকর্তাকে দিকনির্দেশনার জন্য অবিলম্বে জানাতে হবে। গাজা সিভিল ডিফেন্সের ধারণা, গাজার ধ্বংসস্তূপের নিচে ১০ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনির মরদেহ রয়েছে। ঘাঁটির জন্য যে স্থানটি বিবেচিত করা হচ্ছে সেটির মালিক কে তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে, দক্ষিণ গাজার বেশিরভাগ অংশ  বর্তমানে ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণে। জাতিসংঘের অনুমান, যুদ্ধ চলাকালীন ১৯ লাখ ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত হয়েছে। ফিলিস্তিনের জমিতে সরকারের অনুমতি না নিয়ে সামরিক ঘাঁটি স্থাপনকে দখল হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন ফিলিস্তিনি-কানাডিয়ান আইনজীবী এবং প্রাক্তন শান্তি আলোচক দিয়ানা বুট্টু। তিনি প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়ে বলেন, “কার অনুমতিতে তারা সামরিক ঘাঁটি স্থাপন করবে।” বিষয়টি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা বোর্ড অব পিসের কথা টানেন। ট্রাম্প প্রশাসনের একজন কর্মকর্তা সামরিক ঘাঁটির চুক্তি নিয়ে আলোচনা করতে অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, “যেমনটি প্রেসিডেন্ট বলেছেন, কোনও মার্কিন সেনা স্থলভাগে যাবে না। আমরা লিক হওয়া নথি নিয়ে আলোচনা করবো না।”

কুড়িগ্রামের তাজু ভাই ২.০: ‘সরকারি রেটে জিলাপি’ প্রশ্নে ভাইরাল এক নির্মাণশ্রমিকের গল্প

বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের প্রত্যন্ত চরাঞ্চল থেকে উঠে এসে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার কেন্দ্রে এখন তাইজুল ইসলাম, যিনি অনলাইনে পরিচিত ‘তাজু ভাই ২.০’ নামে। মাত্র একটি ভিডিও—যেখানে তিনি এক দোকানিকে প্রশ্ন করেন, “জিলাপি আজকে কত করে বেচতেছেন সরকারি রেটে?”—এই সরল উপস্থাপনাই তাকে রাতারাতি ভাইরাল করে তোলে।  কয়েক ঘণ্টায় ফলোয়ার লাখ ছাড়াল রোববার রাত পর্যন্ত তার ফেসবুক অনুসারী ছিল প্রায় ৩৫ হাজার। কিন্তু সোমবার সন্ধ্যা থেকে রাতের মধ্যেই তা বেড়ে এক লাখের বেশি হয়ে যায়। ভাইরাল ভিডিওটি ইতোমধ্যে প্রায় ৫০ থেকে ৫৫ লাখবার দেখা হয়েছে।  কী ছিল সেই ভিডিওতে? ভিডিওতে দেখা যায়, কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীর নারায়ণপুর বাজারে দাঁড়িয়ে স্থানীয় ভাষায় তিনি জিলাপির দাম জানতে চান। তার কথাগুলো ছিল একেবারেই সহজ ও গ্রাম্য ভঙ্গিতে— “সাদাডা কত, লালডা কত? সরকারি রেটে বেচতেছেন?” এই সরল প্রশ্নই সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।  কোথা থেকে উঠে এলেন তাজু ভাই? কুড়িগ্রাম জেলার নাগেশ্বরী উপজেলার নারায়ণপুর ইউনিয়নের একটি দুর্গম গ্রামে জন্ম তার। ব্রহ্মপুত্র নদবেষ্টিত এই অঞ্চলে পৌঁছাতে এখনও কয়েকটি নৌঘাট পার হতে হয়। দারিদ্র্যের কারণে কখনো স্কুলে যাওয়া হয়নি তার। পেশায় তিনি একজন নির্মাণশ্রমিকের সহকারী (হেলপার)। কাজের ফাঁকে ঢাকায় থাকাকালীন মোবাইল ফোনে ভিডিও তৈরি করাই তার শখ। ব্যক্তিগত সংগ্রাম তাইজুল ইসলামের পরিবারে ছয় ভাই-বোন। তিনি সবার বড়। তার বাবা-মা দুজনই শ্রবণপ্রতিবন্ধী। পরিবার চালাতে তাকে ছোটবেলা থেকেই সংগ্রাম করতে হয়েছে। তিনি বলেন, “পরিবারের কষ্ট ভুলতেই ভিডিও করি। আমি সাংবাদিক না, কিন্তু আমাদের এলাকায় কেউ আসে না—তাই নিজেরাই ভিডিও বানাই।” ভাইরাল হওয়ার পেছনের উদ্দেশ্য তাইজুলের দাবি, তার ভিডিও শুধুই বিনোদনের জন্য নয়। তিনি চান তার এলাকার অবহেলিত মানুষের কথা প্রশাসনের নজরে আসুক। “আমি চাই চরের মানুষের উন্নয়ন হোক,”—বলছেন তিনি।  মিশ্র প্রতিক্রিয়া ভিডিওটি নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে দুই ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ তার সরলতা ও বাস্তবতা তুলে ধরার চেষ্টা প্রশংসা করছেন আবার কেউ তাকে নিয়ে ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ করছেন তবে এসব সমালোচনায় তিনি বিচলিত নন।

অর্থনীতি

ইসলামী ব্যাংক,

ইসলামী ব্যাংকে আস্থা সংকট কেন কাটছে না?: দেশের বৃহত্তম শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংককে ঘিরে নতুন প্রশ্ন

নিজস্ব প্রতিবেদক জুন ২২, ২০২৬ 0




অপরাধ

ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো

ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকোর বিরুদ্ধে ৩০ বিলিয়ন ডলার জালিয়াতি ও অর্থপাচার অভিযোগে দুদকের অনুসন্ধান

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ২৪, ২০২৬ 0




কৃষি ও জলবায়ু

ধান

শেরপুরে বোরো ধানের দাম কমে লোকসানে কৃষকরা, উৎপাদন খরচও উঠছে না

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ৬, ২০২৬ 0