Brand logo light

মধ্যপ্রাচ্য সংকট

ফাটল ধরতে পারে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল জোটে
দক্ষিণ লেবানন সংকট: যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল সম্পর্কে বিভাজন তৈরির সুযোগ দেখছে ইরান

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : দক্ষিণ লেবাননে চলমান ইসরায়েলি সামরিক অভিযানকে ঘিরে মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতিতে নতুন হিসাব-নিকাশ শুরু হয়েছে। প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ভল্ফগ্যাং পুস্তাইয়ের মতে, বর্তমান পরিস্থিতিকে কেবল সীমান্ত সংঘাত হিসেবে দেখলে ভুল হবে; বরং এটি যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যকার বৃহত্তর কৌশলগত প্রতিদ্বন্দ্বিতার অংশ। আল জাজিরাকে দেওয়া এক বিশ্লেষণধর্মী সাক্ষাৎকারে পুস্তাই বলেছেন, তেহরানের প্রধান লক্ষ্য এখন দক্ষিণ লেবাননের সংঘাতকে কাজে লাগিয়ে ওয়াশিংটন ও তেল আবিবের ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের মধ্যে চাপ সৃষ্টি করা। তার মতে, ইরান এমন একটি পরিস্থিতি তৈরি করতে চায় যেখানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের অবস্থানের পার্থক্য আরও স্পষ্ট হয়ে উঠবে। কোথায় দেখছেন সুযোগ? পুস্তাইয়ের বিশ্লেষণে উঠে এসেছে, ইরানের কৌশল শুধু রাষ্ট্রীয় পর্যায়ের সম্পর্ককে ঘিরে নয়। বরং এটি ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সরকার এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের মধ্যকার সম্ভাব্য মতপার্থক্যকেও কেন্দ্র করে গড়ে উঠছে। তার মতে, তেহরান বিশ্বাস করে যে চলমান সংকট দীর্ঘায়িত হলে দুই মিত্র দেশের কৌশলগত অগ্রাধিকারের মধ্যে ব্যবধান তৈরি হতে পারে। আর সেই ব্যবধানই ইরানের জন্য গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক ও রাজনৈতিক সুবিধা এনে দিতে পারে। লেবাননে ইসরায়েলি অভিযান থামানো কি সম্ভব? বিশ্লেষকের ভাষ্য অনুযায়ী, ইরান অবশ্যই দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলের সামরিক অভিযান বন্ধ দেখতে চায়। কিন্তু বাস্তবতা ভিন্ন। তিনি বলেন, তেহরান, বৈরুত, হিজবুল্লাহ, ইসরায়েল এবং যুক্তরাষ্ট্র—সংশ্লিষ্ট সব পক্ষই জানে যে এই লক্ষ্য অর্জন সহজ নয়। কারণ ইসরায়েলের নিরাপত্তা স্বার্থে হামলার জবাবে পাল্টা সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার নীতি দীর্ঘদিনের। ফলে সংঘাতের মাত্রা কমানোর কূটনৈতিক প্রচেষ্টা থাকলেও ময়দানের বাস্তবতা অনেক বেশি জটিল বলে মনে করছেন তিনি। ট্রাম্পের কূটনীতি বনাম ইসরায়েলের নিরাপত্তা হিসাব পুস্তাই মনে করেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে ইসরায়েল এমন অবস্থান নেওয়ার চেষ্টা করবে যাতে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের কূটনৈতিক উদ্যোগ সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত না হয়। তবে একই সঙ্গে তিনি সতর্ক করে বলেন, যদি নিরাপত্তা পরিস্থিতি অবনতির দিকে যায়, তাহলে ইসরায়েল প্রয়োজনীয় সামরিক প্রতিক্রিয়া জানাতে দ্বিধা করবে না। অর্থাৎ কূটনৈতিক সমন্বয় বজায় রাখার চেষ্টা থাকলেও নিরাপত্তা প্রশ্নে তেল আবিবের অবস্থান অপরিবর্তিত থাকতে পারে। মধ্যপ্রাচ্যের নতুন কৌশলগত সমীকরণ বিশ্লেষকের মূল্যায়নে, বর্তমান সংকটকে ইরান একটি গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত সুযোগ হিসেবে দেখছে। কারণ সরাসরি সামরিক সংঘাতে না গিয়ে প্রতিপক্ষ জোটের মধ্যে রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক দূরত্ব সৃষ্টি করা তুলনামূলকভাবে কম ব্যয়বহুল এবং দীর্ঘমেয়াদে কার্যকর কৌশল হতে পারে। তার মতে, তেহরানের বর্তমান মনোযোগ মূলত ওয়াশিংটন ও তেল আবিবের সম্পর্কের ভেতরে সম্ভাব্য ফাটল তৈরি করার দিকে। আর দক্ষিণ লেবাননের চলমান পরিস্থিতি সেই লক্ষ্য অর্জনের একটি পরীক্ষার ক্ষেত্র হয়ে উঠেছে।   মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনা কেবল সীমান্ত সংঘাত বা সামরিক অভিযানের প্রশ্ন নয়; এটি বৃহৎ শক্তিগুলোর মধ্যে প্রভাব বিস্তার, জোট রাজনীতি এবং কৌশলগত ভারসাম্যের লড়াইও। ভল্ফগ্যাং পুস্তাইয়ের মূল্যায়ন অনুযায়ী, ইরান এখন সরাসরি সংঘর্ষের চেয়ে প্রতিপক্ষের অভ্যন্তরীণ মতপার্থক্যকে কাজে লাগানোর পথেই বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে। ফলে দক্ষিণ লেবাননের পরিস্থিতি আগামী দিনগুলোতে শুধু নিরাপত্তা নয়, বরং যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল সম্পর্কের ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনার ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

নিজস্ব প্রতিবেদক জুন ২২, ২০২৬ 0
ইরান-যুক্তরাষ্ট্র শান্তিচুক্তি
ইরান-যুক্তরাষ্ট্র শান্তিচুক্তি: কেন রাজনৈতিক দুঃস্বপ্নে পড়েছেন নেতানিয়াহু, বদলে যাচ্ছে কি মধ্যপ্রাচ্যের ক্ষমতার ভারসাম্য?

 ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন ডেস্ক : যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধ অবসানের লক্ষ্যে সম্পাদিত শান্তিচুক্তি মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতিতে এক নতুন বাস্তবতা তৈরি করেছে। যুদ্ধবিরতি, হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালু করা এবং নিষেধাজ্ঞা শিথিলের সম্ভাবনাকে ঘিরে যখন আন্তর্জাতিক মহলে স্বস্তির বার্তা ছড়িয়েছে, তখনই রাজনৈতিক ও কৌশলগতভাবে চাপে পড়েছেন ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। বিশ্লেষকদের মতে, এই সমঝোতা শুধু একটি যুদ্ধের অবসান নয়; বরং এটি যুক্তরাষ্ট্র, ইরান, ইসরাইল এবং উপসাগরীয় অঞ্চলের শক্তির ভারসাম্যে বড় ধরনের পরিবর্তনের ইঙ্গিত বহন করছে। ট্রাম্পের পররাষ্ট্রনীতির বড় ভুল? মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক বিভিন্ন বিশ্লেষণে ইরান যুদ্ধকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পররাষ্ট্রনীতির অন্যতম বড় কৌশলগত ভুল হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। বিশ্লেষকদের দাবি, যুদ্ধের ফলে যুক্তরাষ্ট্রের বৈশ্বিক প্রতিপক্ষদের ওপর ভবিষ্যৎ প্রভাব বিস্তার ও নিয়ন্ত্রণের সক্ষমতা দুর্বল হতে পারে। যুদ্ধের সময় শত শত মানুষের প্রাণহানি, অবকাঠামোর ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি এবং আঞ্চলিক বাণিজ্যে গুরুতর বিঘ্ন ঘটে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বিশ্ববাজারে তেল, গ্যাস ও সারের সরবরাহ চাপে পড়ে। এ অবস্থায় উপসাগরীয় আরব রাষ্ট্রগুলোর সঙ্গে ওয়াশিংটনের দীর্ঘদিনের নিরাপত্তা জোটও প্রশ্নের মুখে পড়ে। কিছু আরব দেশের নীতিনির্ধারকেরা নীরবে নতুন আঞ্চলিক সমীকরণ খোঁজার চিন্তা করছেন বলেও বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। কী আছে শান্তিচুক্তিতে? চুক্তির খসড়ায় দুই পৃষ্ঠার একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) রয়েছে বলে জানা গেছে, যেখানে ১৪টি দফা অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। যদিও পুরো নথি প্রকাশ করা হয়নি, তবে বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়, এতে রয়েছে— হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়া যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বৃদ্ধি কিছু অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা শিথিল ভবিষ্যৎ পারমাণবিক আলোচনা অব্যাহত রাখা আঞ্চলিক উত্তেজনা প্রশমনের উদ্যোগ মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এই সমঝোতাকে “চমৎকার শান্তি চুক্তি” এবং “উভয় পক্ষের জন্য লাভজনক সমাধান” হিসেবে বর্ণনা করেছেন। এক্সে প্রকাশিত ভিডিও বার্তায় তিনি বলেন, চুক্তি কার্যকর হলে হরমুজ প্রণালি দ্রুত স্বাভাবিক চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া হবে এবং ইরান যেন কখনো পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে না পারে, সেই নিশ্চয়তাও এতে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। ভ্যান্সের ভাষ্য অনুযায়ী, ইরান যদি চুক্তির শর্ত মেনে চলে, তবে দেশটির জন্য বৈশ্বিক অর্থনীতির সঙ্গে আরও গভীরভাবে সম্পৃক্ত হওয়ার সুযোগ তৈরি হবে। চুক্তির নেপথ্যে পাকিস্তানের ভূমিকা যুদ্ধ শুরুর পর থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করে পাকিস্তান। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঘোষণা দেন যে, দুই দেশের মধ্যে একটি শান্তিচুক্তি সম্পাদিত হয়েছে। তিনি জানান, এতে লেবাননসহ সব যুদ্ধক্ষেত্রে স্থায়ীভাবে সামরিক অভিযান বন্ধের বিষয় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। আলোচনায় সহযোগিতার জন্য তুরস্ক, কাতার ও সৌদি আরবকেও ধন্যবাদ জানান তিনি। পরে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প চুক্তিটি "সম্পূর্ণ" হয়েছে বলে মন্তব্য করেন। একই সময়ে ইরানের পক্ষ থেকেও জানানো হয়, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে একটি পূর্ণাঙ্গ চুক্তি স্বাক্ষরের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। কেন চাপে নেতানিয়াহু? বিবিসির মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক বিশ্লেষক লুসি উইলিয়ামসনের মতে, এই চুক্তি বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর রাজনৈতিক জীবনের তিনটি মৌলিক ভিত্তিকেই নড়বড়ে করে দিয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে তিনি নিজেকে ওয়াশিংটনের ওপর প্রভাব বিস্তারকারী একজন আঞ্চলিক কৌশলবিদ হিসেবে উপস্থাপন করে এসেছেন। একই সঙ্গে ইরানকে ইসরাইলের সবচেয়ে বড় নিরাপত্তা হুমকি হিসেবে তুলে ধরে নিজের রাজনৈতিক অবস্থান শক্তিশালী করেছেন। কিন্তু নতুন চুক্তির ফলে সেই বয়ান বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। সমালোচকদের প্রশ্ন, যদি ইরান আগের চেয়ে আরও প্রভাবশালী অবস্থানে ফিরে আসে, তাহলে নেতানিয়াহুর দীর্ঘদিনের নিরাপত্তা কৌশল কতটা সফল ছিল? ইসরাইলে ক্ষোভ ও বিভক্তি চুক্তির ঘোষণার পর ইসরাইলজুড়ে রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া শুরু হয়। জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন-গভির প্রকাশ্যে বলেন, "ট্রাম্পের চুক্তি মানতে আমরা বাধ্য নই।" অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোট্রিচও চুক্তির তীব্র সমালোচনা করে বলেন, এটি ইসরাইল ও পশ্চিমা বিশ্বের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। লিকুদ পার্টির নেতারাও ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, ইসরাইল নিজেদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত নিতে পারে। অন্যদিকে বিরোধী রাজনৈতিক নেতারা নেতানিয়াহুকে ব্যর্থতার জন্য দায়ী করছেন। মধ্য-বামপন্থী নেতা ইয়ার গোলান বলেছেন, এই চুক্তি ইরানবিষয়ক নেতানিয়াহুর দীর্ঘদিনের নীতির ব্যর্থতার প্রতিফলন। সাবেক প্রধানমন্ত্রী নাফতালি বেনেটও অভিযোগ করেছেন যে বর্তমান সরকার দেশকে একটি দীর্ঘস্থায়ী ও ক্ষয়িষ্ণু সংঘাতের দিকে ঠেলে দিয়েছে। ইরান কি আরও শক্তিশালী হয়ে উঠল? ইসরাইলি নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, যুদ্ধের পর ইরানের ক্ষমতার কাঠামো আরও কঠোরপন্থী নেতৃত্বের হাতে কেন্দ্রীভূত হয়েছে। একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালিতে প্রভাব বজায় রেখে তেহরান নতুন কৌশলগত সুবিধাও অর্জন করেছে বলে মনে করা হচ্ছে। ইসরাইলের ইনস্টিটিউট ফর ন্যাশনাল সিকিউরিটি স্টাডিজের (আইএনএসএস) জ্যেষ্ঠ গবেষক ড্যানি সিট্রিনোভিচ মনে করেন, বর্তমান পরিস্থিতি ইসরাইলকে তেহরানবিষয়ক কৌশল পুনর্মূল্যায়নের প্রয়োজনীয়তা সামনে এনে দিয়েছে। তার মতে, ভবিষ্যতে আরও বাস্তববাদী ও সংযত নীতি গ্রহণ ছাড়া বিকল্প খুব বেশি নেই। মধ্যপ্রাচ্যের নতুন বাস্তবতা যুদ্ধ শেষ হলেও সংকট শেষ হয়নি। গাজা, লেবানন, সিরিয়া এবং ইরানকে ঘিরে নিরাপত্তা প্রশ্ন এখনো বহাল রয়েছে। তবে একটি বিষয় স্পষ্ট—যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের এই সমঝোতা মধ্যপ্রাচ্যের রাজনৈতিক মানচিত্রে নতুন বাস্তবতা তৈরি করেছে। এই বাস্তবতায় সবচেয়ে বড় প্রশ্ন এখন হলো—নেতানিয়াহু কি নতুন পরিস্থিতির সঙ্গে নিজেকে মানিয়ে নিতে পারবেন, নাকি এই চুক্তিই তার দীর্ঘ রাজনৈতিক অধ্যায়ের মোড় ঘুরিয়ে দেবে? আগামী নির্বাচন সেই প্রশ্নেরই উত্তর দেবে।

নিজস্ব প্রতিবেদক জুন ১৬, ২০২৬ 0
কুয়েতে ২৪ ড্রোন হামলা
হরমুজ প্রণালি বন্ধের ঘোষণা, কুয়েতে ড্রোন ও জাহাজে হামলার দাবি: নতুন করে উত্তপ্ত মধ্যপ্রাচ্য

 ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : মধ্যপ্রাচ্যে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রকে ঘিরে নতুন করে সামরিক উত্তেজনা দ্রুত বিস্তৃত হচ্ছে। কুয়েতের আকাশসীমায় ড্রোন অনুপ্রবেশ, ওমান উপসাগরে জাহাজে হামলা, জর্ডানে ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহতের দাবি এবং হরমুজ প্রণালি বন্ধের ঘোষণাকে কেন্দ্র করে পুরো অঞ্চলজুড়ে নিরাপত্তা উদ্বেগ তীব্র আকার ধারণ করেছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো শুধু আঞ্চলিক নিরাপত্তার জন্য নয়, বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের জন্যও বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। কুয়েতের আকাশে ২৪ ড্রোন কুয়েতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, গত ৪৮ ঘণ্টায় দেশটির আকাশসীমায় অন্তত ২৪টি ড্রোন শনাক্ত করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার দেওয়া এক বিবৃতিতে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মেজর জেনারেল সৌদ আব্দুল আজিজ আল-ওতাইবি বলেন, সশস্ত্র বাহিনী এসব ড্রোন সফলভাবে মোকাবিলা করেছে। তার দাবি, হামলায় কোনো প্রাণহানি ঘটেনি। তবে সীমিত পরিসরে কিছু ক্ষয়ক্ষতির ঘটনা ঘটেছে। তিনি আরও বলেন, জাতীয় নিরাপত্তা ও সাধারণ নাগরিকদের সুরক্ষায় কুয়েতের সশস্ত্র বাহিনী সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে এবং যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রস্তুত। ওমান উপসাগরে জাহাজ লক্ষ্য করে হামলার অভিযোগ একই সময়ে ওমান উপসাগরে একাধিক জাহাজকে কেন্দ্র করে নতুন বিতর্কের জন্ম হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, গিনি-বিসাউয়ের পতাকাবাহী ‘জলবীর’ নামের একটি জাহাজ মার্কিন অবরোধ উপেক্ষা করে ইরানের তেল পরিবহনের চেষ্টা করছিল। সেই প্রেক্ষাপটে জাহাজটির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেছে তারা। সেন্টকমের তথ্যমতে, চলতি সপ্তাহে ওমান উপসাগরে মার্কিন বাহিনীর অভিযানের মুখে পড়া এটি তৃতীয় জাহাজ। এর আগে ‘মারিভেক্স’ ও ‘সেত্তেবেলো’ নামের দুটি জাহাজও একই ধরনের অভিযানের শিকার হয়। অন্যদিকে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, শিনাস বন্দরের কাছে হামলার শিকার হওয়া জাহাজটিতে ২০ জন ভারতীয় নাবিক ছিলেন। ভারতীয় কর্তৃপক্ষ বলছে, নাবিকরা সবাই নিরাপদ আছেন এবং তাদের সরিয়ে নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। ইরানের পাল্টা অভিযোগ ওমান উপসাগরেই একটি ইরানি কার্গো বার্জে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার অভিযোগ তুলেছে তেহরান। ইরানের সিরিক কাউন্টির গভর্নর রেজা শাহিদিয়ান বলেন, প্রায় ১৫০ টন ধারণক্ষমতার একটি স্থানীয় মালিকানাধীন বার্জ খাসাব বন্দর থেকে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য পরিবহন করছিল। হামলার সময় সেটি বন্দরের প্রায় পাঁচ নটিক্যাল মাইল দূরে অবস্থান করছিল। তার ভাষ্য অনুযায়ী, হামলার পর আশপাশে থাকা জাহাজগুলো দ্রুত উদ্ধার অভিযান চালিয়ে পাঁচজন নাবিককে নিরাপদে ওমানে নিয়ে যায়। তবে এ ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। হরমুজ প্রণালি বন্ধের ঘোষণা সংকটের সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ দিক হিসেবে উঠে এসেছে হরমুজ প্রণালি বন্ধের ঘোষণা। ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) বুধবার রাতে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথ বন্ধের ঘোষণা দেয়। পরে পার্সিয়ান গালফ স্ট্রেট অথরিটি (পিজিএসএ) জানায়, পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত সিদ্ধান্ত কার্যকর থাকবে। সংস্থাটির বিবৃতিতে বলা হয়, মার্কিন সামরিক পদক্ষেপের কারণে সৃষ্ট উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। যেসব জাহাজ আগে চলাচলের অনুমতি পেয়েছিল, তাদেরও নতুন নির্দেশনা না পাওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করতে বলা হয়েছে। বিশ্বের সামুদ্রিক তেল পরিবহনের অন্যতম প্রধান রুট হিসেবে পরিচিত হরমুজ প্রণালির যেকোনো অচলাবস্থা আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে তাৎক্ষণিক প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। জর্ডানের দাবি: ২০ ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত অন্যদিকে জর্ডানের সামরিক বাহিনী দাবি করেছে, ইরান থেকে নিক্ষেপ করা ২০টি ক্ষেপণাস্ত্র তারা প্রতিহত করে ধ্বংস করেছে। বার্তা সংস্থা এএফপির বরাত দিয়ে জানা যায়, রাজধানী আম্মান থেকে প্রায় ৮০ কিলোমিটার পূর্বে জারকা প্রদেশের আজরাক এলাকার দিকে আসা ক্ষেপণাস্ত্রগুলো ভূপাতিত করা হয়। জর্ডান বলছে, ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষ পড়ে থাকলেও কোনো হতাহত বা অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতি হয়নি। তবে আইআরজিসি দাবি করেছে, তারা টানা দ্বিতীয় রাতের মতো জর্ডানের আল-আজরাক বিমানঘাঁটিকে লক্ষ্য করে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে। সংঘাতের কেন্দ্রবিন্দুতে কেন হরমুজ? বিশ্বের মোট সমুদ্রপথে পরিবাহিত জ্বালানি তেলের উল্লেখযোগ্য অংশ হরমুজ প্রণালির মাধ্যমে পরিবহন করা হয়। ফলে এই জলপথে যেকোনো সামরিক উত্তেজনা শুধু মধ্যপ্রাচ্য নয়, বৈশ্বিক অর্থনীতি ও জ্বালানি বাজারেও তাৎপর্যপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে। বর্তমান পরিস্থিতিতে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হলো—উত্তেজনা কি সীমিত সামরিক প্রতিক্রিয়ার মধ্যেই থাকবে, নাকি তা পূর্ণমাত্রার আঞ্চলিক সংঘাতে রূপ নেবে? কূটনৈতিক মহল বলছে, সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহের গতি-প্রকৃতি নির্ধারণ করবে মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি আগামী দিনগুলোতে কোন দিকে মোড় নেবে।

নিজস্ব প্রতিবেদক জুন ১২, ২০২৬ 0
হরমুজ সংকট ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান উত্তেজনা: যুদ্ধ, কূটনীতি ও মধ্যপ্রাচ্যের নতুন বাস্তবতা

ইত্তেহাদনিউজ,অনলাইন : মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র, ইসরাইল ও ইরানের মধ্যে চলমান উত্তেজনা নতুন এক অনিশ্চয়তার জন্ম দিয়েছে। ওয়াশিংটন ও তেল আবিবের ধারণা ছিল, সামরিক চাপের মাধ্যমে তেহরানকে দুর্বল করে আঞ্চলিক শক্তির ভারসাম্য নিজেদের অনুকূলে আনা সম্ভব হবে। তবে সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহ ইঙ্গিত দিচ্ছে, বাস্তবতা তাদের প্রত্যাশার চেয়ে অনেক বেশি জটিল। বিশ্লেষকদের মতে, ইরানকে দ্রুত পরাজিত করা সম্ভব হয়নি। বরং পরিস্থিতি এখন এমন এক দীর্ঘমেয়াদি ও ক্ষয়িষ্ণু সংঘাতের দিকে এগোচ্ছে, যা যেকোনো সময় বৃহত্তর যুদ্ধে রূপ নিতে পারে। ইরানের সক্ষমতা নিয়ে নতুন হিসাব সাম্প্রতিক উত্তেজনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালি। যুক্তরাষ্ট্রের দাবি অনুযায়ী, প্রণালির কাছে একটি অ্যাপাচি হেলিকপ্টার ভূপাতিত হওয়ার ঘটনায় ইরানের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে। যদিও এ বিষয়ে স্বাধীনভাবে যাচাইযোগ্য তথ্য এখনও প্রকাশিত হয়নি। এই ঘটনাকে অনেক পর্যবেক্ষক ওয়াশিংটনের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সতর্কবার্তা হিসেবে দেখছেন। তাদের মতে, অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা ও দীর্ঘমেয়াদি চাপের মধ্যেও ইরান এখনও আঞ্চলিকভাবে প্রতিরোধ গড়ে তোলার সক্ষমতা ধরে রেখেছে। ইরানের দৃষ্টিতে, এই সংঘাতে টিকে থাকাই এক ধরনের বিজয়। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালির মতো কৌশলগত নৌপথের ওপর প্রভাব বজায় রাখা তাদের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য। ট্রাম্পের সামনে কঠিন সমীকরণ মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সামনে এখন দ্বৈত চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়েছে। একদিকে তাকে শক্ত অবস্থান প্রদর্শন করতে হচ্ছে, অন্যদিকে যুদ্ধকে আরও বিস্তৃত না করে কূটনৈতিক পথও খোলা রাখতে হচ্ছে। মার্কিন রাজনৈতিক মহলে যুদ্ধ নিয়ে সমর্থন আগের তুলনায় কমেছে বলেও বিভিন্ন বিশ্লেষণে উঠে এসেছে। ফলে ট্রাম্প এমন একটি সমাধান খুঁজছেন, যা অভ্যন্তরীণভাবে ‘বিজয়’ হিসেবে উপস্থাপন করা সম্ভব হবে এবং একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালু করার পথও তৈরি করবে। তবে ইতিহাসের বহু সংঘাতের মতো এখানেও একটি বাস্তবতা সামনে এসেছে—যুদ্ধ শুরু করা যতটা সহজ, স্পষ্ট বিজয়ের মাধ্যমে তা শেষ করা ততটাই কঠিন। নেতানিয়াহুর কৌশল নিয়ে প্রশ্ন ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু দীর্ঘদিন ধরেই ইরানকে ইসরাইলের প্রধান কৌশলগত প্রতিপক্ষ হিসেবে চিহ্নিত করে আসছেন। ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলার পর তিনি যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থনে সামরিক শক্তির মাধ্যমে আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার কথা বারবার বলেছেন। তবে চলমান সংঘাতের প্রেক্ষাপটে সেই কৌশলের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। ইসরাইলি রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, সামরিক শক্তি প্রয়োগের মাধ্যমে পুরো অঞ্চলের রাজনৈতিক বাস্তবতা বদলে দেওয়ার যে লক্ষ্য ছিল, তা এখন অনেকটাই অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। কোথায় ভুল হয়েছিল? ওয়াশিংটন ও তেল আবিবের নীতিনির্ধারকদের একটি বড় অংশ ধারণা করেছিলেন যে, দীর্ঘমেয়াদি নিষেধাজ্ঞা, অর্থনৈতিক সংকট এবং আঞ্চলিক মিত্রদের দুর্বল হয়ে পড়ার কারণে ইরান অভ্যন্তরীণভাবে ভেঙে পড়বে। কিন্তু বাস্তবে তা ঘটেনি। বরং কয়েক দশক ধরে বহিরাগত চাপ মোকাবিলার অভিজ্ঞতা, শক্তিশালী নিরাপত্তা কাঠামো এবং আদর্শিক ভিত্তির কারণে দেশটি এখনও কার্যকর প্রতিরোধ গড়ে তুলতে সক্ষম হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের রাজনৈতিক ব্যবস্থার সহনশীলতা ও অভিযোজন ক্ষমতাকে অবমূল্যায়ন করা হয়েছিল। কেশম দ্বীপে বিস্ফোরণ এরই মধ্যে হরমুজ প্রণালিতে অবস্থিত ইরানের কেশম দ্বীপে নতুন করে বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গেছে। ইরানি সংবাদমাধ্যম মেহের নিউজ জানিয়েছে, বুধবার স্থানীয় সময় দুপুরে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। তবে বিস্ফোরণের কারণ সম্পর্কে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। প্রতিবেদনে বলা হয়, হরমুজগান প্রদেশ এবং পারস্য উপসাগর উপকূলবর্তী এলাকাগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের হামলার জবাব দিয়েছে ইরানের সশস্ত্র বাহিনী। পাল্টাপাল্টি হামলা ও উত্তেজনা মার্কিন প্রশাসনের দাবি অনুযায়ী, অ্যাপাচি হেলিকপ্টার ভূপাতিত হওয়ার ঘটনার পর যুক্তরাষ্ট্র ইরানের উপকূলীয় কয়েকটি স্থাপনায় হামলা চালায়। এর জবাবে ইরান বাহরাইন, কুয়েত ও জর্ডানে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিগুলোর দিকে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে বলে বিভিন্ন সূত্রে দাবি করা হয়েছে। পরবর্তীতে উভয় পক্ষই হামলা বন্ধের ঘোষণা দেয়। তবে ইরানের বিপ্লবী গার্ড সতর্ক করে জানিয়েছে, নতুন কোনো সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া হলে তার জবাব আরও কঠোর হবে। আঞ্চলিক কূটনীতির তৎপরতা মার্কিন হামলার পর সৌদি আরব ও তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে পৃথকভাবে টেলিফোনে কথা বলেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ইরনা জানায়, তিনি যুক্তরাষ্ট্রের হামলার নিন্দা জানিয়ে বলেন, দেশের ভৌগোলিক অখণ্ডতা রক্ষার জন্য আত্মরক্ষার অধিকার প্রয়োগ করবে তেহরান। এদিকে মধ্যপ্রাচ্যের তেলসমৃদ্ধ উপসাগরীয় দেশগুলোও পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। কারণ দীর্ঘস্থায়ী সংঘাত শুধু আঞ্চলিক নিরাপত্তাই নয়, বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের ওপরও বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে। সামনে কী? বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান পরিস্থিতিতে একটি বড় কূটনৈতিক সমঝোতা ছাড়া সংকট দ্রুত নিরসনের সম্ভাবনা সীমিত। হরমুজ প্রণালি দীর্ঘ সময় বন্ধ থাকলে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে নতুন অস্থিরতা দেখা দিতে পারে। অন্যদিকে সংঘাত আরও বিস্তৃত হলে পুরো মধ্যপ্রাচ্য নতুন নিরাপত্তা সংকটের মুখে পড়তে পারে। ফলে যুদ্ধ ও কূটনীতির মধ্যকার টানাপোড়েন এখন শুধু যুক্তরাষ্ট্র, ইরান বা ইসরাইলের নয়; এটি বৈশ্বিক অর্থনীতি ও আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতার জন্যও গুরুত্বপূর্ণ একটি প্রশ্ন হয়ে উঠেছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক জুন ১১, ২০২৬ 0
দক্ষিণ লেবাননের টাইর শহর
টাইর ছাড়ার নির্দেশ, বাড়ছে আতঙ্ক: নতুন সংঘাতের আশঙ্কায় দক্ষিণ লেবাননের ঐতিহাসিক শহর

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : দক্ষিণ লেবাননের ঐতিহাসিক ও গুরুত্বপূর্ণ উপকূলীয় শহর টাইরের বাসিন্দাদের জরুরিভাবে এলাকা ছাড়ার নির্দেশ দিয়েছে ইসরাইলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ)। মঙ্গলবার (৯ জুন) জারি করা এই নির্দেশনার আওতায় শহরের খ্রিস্টান অধ্যুষিত অঞ্চল এবং আশপাশের শরণার্থী শিবিরগুলোও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। আইডিএফের আরবি ভাষার মুখপাত্র আভিখাই আদরাই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে প্রকাশিত এক বার্তায় বলেন, টাইর শহরের বাসিন্দাদের দ্রুত সরে গিয়ে জাহরানি নদীর উত্তরে নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নিতে হবে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, হিজবুল্লাহর সদস্য ও তাদের ব্যবহৃত স্থাপনার কাছাকাছি অবস্থান করা বেসামরিক মানুষের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। তিনি সতর্ক করে বলেন, সামরিক উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত হচ্ছে বলে সন্দেহ করা যেকোনো স্থাপনা সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হতে পারে। কেন গুরুত্বপূর্ণ টাইর? ভূমধ্যসাগর তীরবর্তী টাইর শুধু দক্ষিণ লেবাননের একটি প্রধান শহরই নয়, এটি দেশটির অন্যতম ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক কেন্দ্র হিসেবেও পরিচিত। শহরটিতে মুসলিম, খ্রিস্টান এবং ফিলিস্তিনি শরণার্থী সম্প্রদায়ের দীর্ঘদিনের বসবাস রয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, টাইরের মতো জনবহুল এলাকায় সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ সাধারণত বড় ধরনের সামরিক অভিযানের পূর্বাভাস হিসেবে বিবেচিত হয়। বিশেষ করে যখন নির্দেশনাটি শহরের বিস্তৃত আবাসিক অঞ্চল ও শরণার্থী শিবির পর্যন্ত বিস্তৃত হয়, তখন সম্ভাব্য নিরাপত্তা ঝুঁকি নিয়ে উদ্বেগ আরও বাড়ে। গোলাবর্ষণের খবর, নীরব আইডিএফ লেবাননের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ন্যাশনাল নিউজ এজেন্সি (এনএনএ) জানিয়েছে, মঙ্গলবার সকালে টাইর জেলার মানসুরি ও মাজদাল জুন এলাকার উপকণ্ঠে গোলাবর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। তবে এসব হামলার বিষয়ে এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য করেনি আইডিএফ। স্থানীয় সূত্রগুলো বলছে, সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে সীমান্তবর্তী এলাকায় সামরিক তৎপরতা ও নজরদারি বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে নতুন করে সংঘাত বিস্তারের আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। বেসামরিকদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ মানবাধিকার পর্যবেক্ষকদের মতে, সংঘাতপূর্ণ এলাকায় আগাম সতর্কবার্তা দেওয়া হলেও দ্রুত বাস্তুচ্যুত হওয়া সবসময় সহজ নয়। বিশেষ করে বয়স্ক মানুষ, শিশু, অসুস্থ ব্যক্তি এবং শরণার্থী পরিবারগুলোর জন্য স্থানান্তর একটি বড় মানবিক চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায়। টাইরের বাসিন্দাদের অনেকেই ইতোমধ্যে শহর ছেড়ে নিরাপদ অঞ্চলের দিকে যাত্রা শুরু করেছেন বলে স্থানীয় সূত্রগুলো জানিয়েছে। তবে কত সংখ্যক মানুষ এই নির্দেশনার আওতায় পড়েছেন, সে বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। আঞ্চলিক উত্তেজনা কোন দিকে যাচ্ছে? ইসরাইল ও হিজবুল্লাহর মধ্যে দীর্ঘদিনের বৈরিতা গত কয়েক মাসে নতুন মাত্রা পেয়েছে। সীমান্তবর্তী এলাকায় পাল্টাপাল্টি হামলা, ড্রোন অভিযান এবং গোলাবর্ষণের ঘটনা ক্রমেই বেড়েছে। বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, যদি এই উত্তেজনা আরও বিস্তৃত আকার ধারণ করে, তাহলে দক্ষিণ লেবাননের বিস্তীর্ণ অঞ্চল নতুন মানবিক সংকটের মুখে পড়তে পারে। টাইর শহরের জন্য জারি করা সর্বশেষ সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ সেই আশঙ্কাকেই আরও জোরালো করছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক জুন ৯, ২০২৬ 0
ওমান উপসাগরে মার্কিন যুদ্ধজাহাজকে লক্ষ্য করে হামলা ইরানের, নতুন যুদ্ধবিরতিতে লেবানন-ইসরায়েল

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন ডেস্ক :  মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক ও কূটনৈতিক উত্তেজনা নতুন মোড় নিয়েছে। একদিকে ওমান উপসাগরে অবস্থানরত একটি মার্কিন ডেস্ট্রয়ার যুদ্ধজাহাজকে লক্ষ্য করে পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি করেছে ইরান, অন্যদিকে নতুন করে যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছে লেবানন ও ইসরায়েল। পরস্পর-সংযুক্ত এই দুই ঘটনাকে বিশ্লেষকরা বৃহত্তর আঞ্চলিক নিরাপত্তা সংকটের অংশ হিসেবে দেখছেন। ইরানের অভিযোগ, ওমান উপসাগরে অবস্থানরত মার্কিন যুদ্ধজাহাজটি ইরানি বাণিজ্যিক জাহাজের বিরুদ্ধে পরিচালিত মার্কিন কর্মকাণ্ডের সমন্বয় ও নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রাখছিল। তবে যুক্তরাষ্ট্র এ অভিযোগকে ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছে। ইরানের দাবি কী? বার্তাসংস্থা আনাদোলুর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বুধবার (৩ জুন) ইরানের নৌবাহিনী দাবি করে যে তারা ওমান উপসাগরে অবস্থানরত একটি মার্কিন ডেস্ট্রয়ারকে লক্ষ্য করে পদক্ষেপ নিয়েছে। ইরানি নৌবাহিনীর জনসংযোগ বিভাগ এক বিবৃতিতে জানায়, হরমুজ প্রণালিতে আন্তর্জাতিক নৌ-চলাচল সংক্রান্ত নিয়ম লঙ্ঘন, মার্কিন আগ্রাসী আচরণ এবং ইরানি বাণিজ্যিক জাহাজের বিরুদ্ধে পরিচালিত কর্মকাণ্ডের প্রতিক্রিয়ায় এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তেহরানের ভাষ্য অনুযায়ী, মার্কিন যুদ্ধজাহাজটি ইরানের আঞ্চলিক জলসীমার দিকে অগ্রসর হওয়ার চেষ্টা করছিল। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের পর জাহাজটিকে শনাক্ত করা হয় এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়। ইরান আরও দাবি করেছে, তারা ওই জাহাজকে একটি “শত্রুতামূলক তৎপরতার নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র” হিসেবে বিবেচনা করে পদক্ষেপ নিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিক্রিয়া ইরানের অভিযোগ সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম)। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে প্রকাশিত এক বার্তায় সেন্টকম জানিয়েছে, ইরানের উপস্থাপিত তথ্য বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সম্পদ নিরাপদ রয়েছে এবং নির্ধারিত কার্যক্রম স্বাভাবিকভাবেই পরিচালিত হচ্ছে। ওয়াশিংটনের অবস্থান হলো, অঞ্চলে তাদের নৌ-উপস্থিতি আন্তর্জাতিক নৌপথের নিরাপত্তা ও বাণিজ্যিক চলাচল নিশ্চিত করার অংশ। কেন গুরুত্বপূর্ণ ওমান উপসাগর ও হরমুজ প্রণালি? বিশ্বের অন্যতম কৌশলগত সামুদ্রিক করিডর হিসেবে পরিচিত হরমুজ প্রণালি ও ওমান উপসাগর দীর্ঘদিন ধরেই আন্তর্জাতিক শক্তিগুলোর প্রতিদ্বন্দ্বিতার কেন্দ্রবিন্দু। বিশ্বের উল্লেখযোগ্য অংশের জ্বালানি তেল ও গ্যাস এই নৌপথ ব্যবহার করে আন্তর্জাতিক বাজারে পৌঁছায়। ফলে এই অঞ্চলে সামান্য সামরিক উত্তেজনাও বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার, বাণিজ্য ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। বিশ্লেষকদের মতে, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সামরিক অবস্থানগত সংঘাতের ঝুঁকি নতুন নয়। তবে সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো ইঙ্গিত দিচ্ছে যে উভয় পক্ষই নিজেদের অবস্থান আরও দৃঢ়ভাবে তুলে ধরার চেষ্টা করছে। একই সময়ে যুদ্ধবিরতিতে লেবানন ও ইসরায়েল অন্যদিকে মধ্যপ্রাচ্যের আরেকটি সংঘাতপূর্ণ ফ্রন্টে আপাতত উত্তেজনা কমানোর উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে। ওয়াশিংটনে অনুষ্ঠিত আলোচনার পর মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্ট জানিয়েছে, লেবানন ও ইসরায়েল নতুন করে যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছে। যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়েছে, হামলা সম্পূর্ণরূপে বন্ধ রাখার বিষয়ে দুই পক্ষ নীতিগত সমঝোতায় পৌঁছেছে। এ চুক্তির আওতায় দক্ষিণ লিতানি নদী অঞ্চল থেকে হিজবুল্লাহ সদস্যদের সরিয়ে নেওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। একই সঙ্গে সীমান্তবর্তী এলাকায় নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দায়িত্ব গ্রহণ করবে লেবাননের সশস্ত্র বাহিনী। সংঘাতের পেছনের প্রেক্ষাপট গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের বিরুদ্ধে যৌথ হামলা চালানোর অভিযোগ ওঠে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে। পরবর্তী সময়ে মার্চ মাসে দক্ষিণ লেবাননে নতুন সামরিক অভিযান শুরু করে ইসরায়েল। এর জবাবে হিজবুল্লাহও পাল্টা হামলা চালায়। সংঘাত দ্রুত বিস্তৃত হয়ে সীমান্ত অঞ্চলে নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতি ঘটায়। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলোর তথ্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক সংঘর্ষে এক হাজারেরও বেশি লেবাননি নিহত হয়েছেন। এছাড়া বাস্তুচ্যুত হয়েছেন বহু মানুষ এবং ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে অবকাঠামো। আঞ্চলিক নিরাপত্তার জন্য কী বার্তা? মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান পরিস্থিতি একটি দ্বৈত বাস্তবতা তুলে ধরছে। একদিকে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সমুদ্রপথে উত্তেজনা বাড়ছে, অন্যদিকে লেবানন-ইসরায়েল ফ্রন্টে কূটনৈতিক সমাধানের চেষ্টা দেখা যাচ্ছে। নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, যুদ্ধবিরতি কার্যকরভাবে বাস্তবায়িত হলে সীমান্ত এলাকায় সহিংসতা কমতে পারে। তবে একই সময়ে ওমান উপসাগর ও হরমুজ প্রণালিতে উত্তেজনা অব্যাহত থাকলে বৃহত্তর অঞ্চলে অস্থিতিশীলতা পুরোপুরি কাটবে না। মধ্যপ্রাচ্যের সামরিক ও কূটনৈতিক সমীকরণ দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে। ফলে ইরান, যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল এবং লেবাননকে ঘিরে সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহ আগামী সপ্তাহগুলোতে আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও আন্তর্জাতিক রাজনীতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আলোচ্য বিষয় হয়ে উঠতে পারে।  

নিজস্ব প্রতিবেদক জুন ৫, ২০২৬ 0
হরমুজ প্রণালিতে ইরানের কঠোর নিয়ন্ত্রণ ঘোষণা, কুয়েতে মার্কিন ঘাঁটিতে হামলার দাবি: মধ্যপ্রাচ্যে নতুন সংকট

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন ডেস্ক : মধ্যপ্রাচ্যের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক করিডোর হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। একদিকে প্রণালির ওপর নিজেদের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ পুনর্ব্যক্ত করেছে ইরান, অন্যদিকে কুয়েতে অবস্থিত একটি মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার দাবি এবং ওমানের জলসীমায় সন্দেহভাজন নৌ-মাইন শনাক্ত হওয়ার ঘটনায় আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ আরও বেড়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, এসব ঘটনা শুধু সামরিক উত্তেজনার ইঙ্গিত নয়; বরং বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য এবং উপসাগরীয় অঞ্চলের কূটনৈতিক ভারসাম্যের ওপরও গভীর প্রভাব ফেলতে পারে। হরমুজে কঠোর নিয়ন্ত্রণের ঘোষণা ইরানের সামরিক বাহিনীর কেন্দ্রীয় সদর দপ্তর খাতাম আল-আম্বিয়া এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালির ব্যবস্থাপনা দেশটির সশস্ত্র বাহিনীর পূর্ণ কর্তৃত্বের অধীনে পরিচালিত হচ্ছে। বিবৃতিতে বলা হয়, প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী সব বাণিজ্যিক জাহাজ, তেলবাহী ট্যাংকার এবং অন্যান্য নৌযানকে নির্ধারিত রুট ব্যবহার করতে হবে। পাশাপাশি যাত্রার আগে ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) নৌবাহিনীর অনুমতি নেওয়ার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। ইরানের দাবি, নির্ধারিত বিধিনিষেধ অমান্য করলে সংশ্লিষ্ট জাহাজের নিরাপত্তা ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে। একই সঙ্গে প্রণালিতে অবস্থানরত বিদেশি সামরিক বাহিনীকেও সতর্ক করা হয়েছে। তেহরান বলছে, সামুদ্রিক চলাচল বা প্রণালির ব্যবস্থাপনায় বাইরের কোনো হস্তক্ষেপ মেনে নেওয়া হবে না। কাতারের আপত্তি: স্থায়ী টোলের বিরোধিতা এদিকে সিঙ্গাপুরে অনুষ্ঠিত শাংরি-লা ডায়ালগে কাতারের উপ-প্রধানমন্ত্রী ও প্রতিরক্ষা বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী আব্দুল রহমান আল-থানি হরমুজ প্রণালিতে স্থায়ী ট্রানজিট ফি বা টোল আরোপের সম্ভাবনার বিরোধিতা করেন। তার মতে, এমন কোনো ব্যবস্থা কার্যকর হলে এর অর্থনৈতিক চাপ শেষ পর্যন্ত বৈশ্বিক ভোক্তাদের ওপরই পড়বে। তবে তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন, মাইন অপসারণ বা নিরাপত্তা-সংক্রান্ত নির্দিষ্ট প্রকল্পের জন্য সীমিত সময়ের অস্থায়ী চার্জ নিয়ে আলোচনা হতে পারে। এই অবস্থান এমন সময়ে এসেছে, যখন ইরান ও ওমান হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল নিয়ন্ত্রণের সম্ভাব্য একটি কাঠামো নিয়ে আলোচনা করছে বলে আঞ্চলিক সূত্রগুলো জানিয়েছে। ওমানের জলসীমায় সন্দেহভাজন নৌ-মাইন উত্তেজনার মধ্যেই ওমানের মেরিটাইম সিকিউরিটি সেন্টার (এমএসসি) জানিয়েছে, দেশটির জলসীমায় একটি ভাসমান বস্তু শনাক্ত করা হয়েছে, যা নৌ-মাইন হতে পারে বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া বিবৃতিতে সংস্থাটি জানায়, হরমুজ প্রণালির ইনশোর ট্রাফিক জোনের পশ্চিম অংশে এই বস্তুটি দেখা গেছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে ওই অঞ্চলে চলাচলকারী জাহাজ, নাবিক এবং জেলেদের সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বনের আহ্বান জানানো হয়েছে। পাশাপাশি সন্দেহজনক কোনো বস্তু দেখা গেলে তা দ্রুত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবহিত করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। উল্লেখযোগ্যভাবে, এর কয়েকদিন আগেই মার্কিন সামরিক বাহিনী দাবি করেছিল যে তারা দক্ষিণ ইরানের কাছাকাছি এলাকায় মাইন স্থাপনকারী কিছু নৌযানের বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়েছে। কুয়েতে মার্কিন ঘাঁটিতে হামলার দাবি মার্কিন সংবাদমাধ্যম ব্লুমবার্গের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কুয়েতের আলি আল সালেম বিমানঘাঁটিকে লক্ষ্য করে চালানো এক ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় অন্তত পাঁচজন মার্কিন সেনা ও বেসামরিক ঠিকাদার আহত হয়েছেন। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, হামলায় মার্কিন বাহিনীর দুটি এমকিউ-৯ রিপার ড্রোন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে একটি সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়েছে এবং অন্যটি মারাত্মক ক্ষতির মুখে পড়েছে। মার্কিন পক্ষের দাবি অনুযায়ী, কুয়েতের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা একটি ইরানি ফাতেহ-১১০ ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত করলেও এর ধ্বংসাবশেষ ঘাঁটির ভেতরে পড়ে হতাহত ও ক্ষয়ক্ষতির কারণ হয়। অন্যদিকে আইআরজিসি দাবি করেছে, তারা ইচ্ছাকৃতভাবেই ওই মার্কিন ঘাঁটিকে লক্ষ্যবস্তু করেছিল। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, এর আগে একই ঘাঁটি ব্যবহার করে ইরানের বিরুদ্ধে হামলা চালানো হয়েছিল এবং ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ ছিল তারই প্রতিক্রিয়া। আইআরজিসি আরও সতর্ক করেছে, ভবিষ্যতে যেকোনো ধরনের আগ্রাসনের আরও কঠোর জবাব দেওয়া হবে। ট্রাম্পের মন্তব্যে নতুন বিতর্ক এমন পরিস্থিতির মধ্যেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের ইরান বা ইরাকে সামরিকভাবে জড়ানো উচিত ছিল না। তিনি ইরাক যুদ্ধকে ‘অত্যন্ত বোকামিপূর্ণ সিদ্ধান্ত’ হিসেবে বর্ণনা করেন এবং বলেন, শুরু থেকেই যুক্তরাষ্ট্রের সেখানে থাকা উচিত ছিল না। তবে একই সঙ্গে ট্রাম্প দাবি করেন, কয়েক মাস আগে মার্কিন বি-২ বোমারু বিমান ব্যবহার করে ইরানের সামরিক সক্ষমতার ওপর হামলা না চালানো হলে দেশটি পারমাণবিক অস্ত্র অর্জনের কাছাকাছি পৌঁছে যেত। ট্রাম্প আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ইচ্ছাকৃতভাবে ইরানের সামরিক কাঠামোর একটি অংশকে সরাসরি ধ্বংসের লক্ষ্যবস্তু বানায়নি। তার ভাষায়, সামরিক বাহিনীর কিছু অংশকে তারা তুলনামূলকভাবে ‘মধ্যপন্থী’ হিসেবে বিবেচনা করেছে। কেন গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি? বিশ্বের জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশদ্বার হরমুজ প্রণালি। প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ অপরিশোধিত তেল, প্রাকৃতিক গ্যাস এবং বাণিজ্যিক পণ্যবাহী জাহাজ এই জলপথ ব্যবহার করে। ফলে এখানে সামরিক উত্তেজনা, টোল আরোপ, মাইন বিস্ফোরণের আশঙ্কা কিংবা জাহাজ চলাচলে বাধা—সবকিছুই বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে তাৎক্ষণিক প্রভাব ফেলতে পারে। বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের সাম্প্রতিক অবস্থান, মার্কিন-ইরান উত্তেজনা এবং উপসাগরীয় রাষ্ট্রগুলোর ভিন্নমুখী অবস্থান মিলিয়ে হরমুজ প্রণালি আবারও আন্তর্জাতিক ভূরাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেয়, তা এখন শুধু মধ্যপ্রাচ্য নয়; বিশ্বের জ্বালানি নিরাপত্তা ও বৈশ্বিক অর্থনীতির জন্যও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ৩১, ২০২৬ 0
গাজায় ইসরাইলি হামলায় চার শিশুসহ অন্তত ১০ জন নিহত
গাজায় যুদ্ধবিরতির মধ্যেও ইসরাইলি হামলা, নিহত ১০: ৩ হাজারের বেশি লঙ্ঘনের অভিযোগ

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : উত্তর গাজায় ইসরাইলি বিমান হামলায় অন্তত ১০ জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে চারজন শিশু রয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা। হামলায় আরও অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন। বুধবার গভীর রাতে গাজা সিটির একটি আবাসিক ভবনে এই হামলা চালানো হয়। স্থানীয় সূত্র বলছে, হামলার সময় আশপাশের একটি পার্কে কয়েকজন শিশু খেলছিল। বিস্ফোরণের পর পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। কথিত যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকার পরও ইসরাইল প্রায় প্রতিদিন হামলা চালিয়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এতে সাধারণ ফিলিস্তিনিদের মধ্যে নতুন করে ভয়ের পরিবেশ তৈরি হয়েছে। পরিবারগুলো সন্তানদের নিয়ে ঘর কিংবা অস্থায়ী তাঁবু ছেড়ে বাইরে বের হতেও আতঙ্ক বোধ করছে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম Al Jazeera জানিয়েছে, উত্তর গাজাজুড়ে এখনো অনিশ্চয়তা ও আতঙ্ক বিরাজ করছে। হামাস নেতার জানাজার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই হামলা এই বিমান হামলার কয়েক ঘণ্টা আগেই গাজায় হামাসের সশস্ত্র শাখার প্রধান মোহাম্মদ ওদেহের জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। মঙ্গলবার ইসরাইলি হামলায় তিনি নিহত হন। জানাজায় শত শত ফিলিস্তিনি অংশ নেন। ইসরাইল জানিয়েছে, হামাসের শীর্ষ নেতৃত্বকে লক্ষ্য করেই তাদের সামরিক অভিযান অব্যাহত রয়েছে। গাজা সিটিতে চালানো হামলায় মোহাম্মদ ওদেহের স্ত্রী ও ছেলেও নিহত হয়েছেন। ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী Benjamin Netanyahu দাবি করেন, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামলার সময় ওদেহ হামাসের গোয়েন্দা বিভাগের প্রধান ছিলেন। গত সপ্তাহে ইসরাইলি হামলায় নিহত ইজ আল-দিন আল-হাদ্দাদের পর তাকে হামাসের সশস্ত্র শাখার প্রধান হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। ‘যুদ্ধ থামেনি, শুধু নাম বদলেছে’ ওদেহের স্বজন আবু আল-আব্দ ওদেহ সংবাদ সংস্থা Reuters-কে বলেন, গাজার বাস্তবতা এখনো ভয়াবহ। তার ভাষায়, “যুদ্ধ থেমে গেছে— এমন কথা বাস্তবতার সঙ্গে মেলে না। ফিলিস্তিনি জনগণের জন্য যুদ্ধের কোনো বিরতি নেই। জীবনযাত্রার অবস্থারও কোনো উন্নতি হয়নি।” স্থানীয় কর্তৃপক্ষের দাবি, গত অক্টোবরে কার্যকর হওয়া যুদ্ধবিরতি চুক্তি ইসরাইল ৩ হাজারের বেশি বার লঙ্ঘন করেছে। ত্রাণ প্রবেশ নিয়েও বাড়ছে অভিযোগ গাজার সরকারি মিডিয়া অফিস জানিয়েছে, যুদ্ধবিরতি চুক্তির আওতায় যে পরিমাণ ত্রাণবাহী ট্রাক গাজায় প্রবেশের কথা ছিল, বাস্তবে তার অল্প অংশ প্রবেশ করতে পেরেছে। বুধবার এক বিবৃতিতে সংস্থাটি জানায়, গত ২২৭ দিনে যুদ্ধবিরতির ৩,০০৫টি গুরুতর লঙ্ঘনের ঘটনা নথিভুক্ত করা হয়েছে। তাদের তথ্য অনুযায়ী, এই সময়ে গাজায় ১ লাখ ৩৫ হাজার ৬০০টি ত্রাণবাহী ট্রাক প্রবেশের কথা থাকলেও বাস্তবে প্রবেশ করেছে মাত্র ৪৯ হাজার ৯৭৩টি। অর্থাৎ চুক্তি বাস্তবায়নের হার ৩৬ শতাংশেরও কম। নতুন করে পূর্ণমাত্রার যুদ্ধের শঙ্কা ইসরাইল ও হামাস— উভয়পক্ষই একে অপরের বিরুদ্ধে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলছে। এতে মধ্যপ্রাচ্যে আবারও পূর্ণমাত্রার সংঘাত ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা বাড়ছে। ইসরাইল বলছে, হামাস অস্ত্র সমর্পণে রাজি না হওয়ায় সমঝোতা এগোচ্ছে না। অন্যদিকে হামাসের দাবি, ইসরাইল নিয়মিত হামলা চালানো এবং মানবিক সহায়তা বাধাগ্রস্ত করায় আলোচনা কার্যত অচল হয়ে পড়েছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, যুদ্ধবিরতি কাগজে-কলমে বহাল থাকলেও গাজার বাস্তবতা এখনো যুদ্ধক্ষেত্রের মতোই রয়ে গেছে। নিহতের সংখ্যা বাড়ার পাশাপাশি খাদ্য, চিকিৎসা ও আশ্রয় সংকটও ক্রমেই গভীর হচ্ছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ২৯, ২০২৬ 0
হরমুজে নতুন উত্তেজনা
হরমুজে নতুন উত্তেজনা : ইরানের সামুদ্রিক কর্তৃপক্ষের ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, ওমানকে ট্রাম্পের হুমকি

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন ডেস্ক : বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে মধ্যপ্রাচ্যে। ইরানের নতুন সামুদ্রিক নিয়ন্ত্রণ সংস্থা ‘পারসিয়ান গালফ স্ট্রেইট অথোরিটি’র ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি বিভাগ। একই সময়ে ওমানকে প্রকাশ্য হুমকি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বিশ্লেষকদের মতে, যুদ্ধবিরতির পরও হরমুজকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে কৌশলগত সংঘাত থামেনি; বরং তা এখন অর্থনীতি, সামুদ্রিক নিয়ন্ত্রণ ও কূটনৈতিক প্রভাব বিস্তারের নতুন পর্যায়ে প্রবেশ করেছে। নতুন নিষেধাজ্ঞার লক্ষ্য কী? যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি বিভাগ বুধবার এক বিবৃতিতে জানায়, ইরানের ‘পারসিয়ান গালফ স্ট্রেইট অথোরিটি’ হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী জাহাজের কাছ থেকে ফি আদায় করছে এবং কার্যত আন্তর্জাতিক নৌ চলাচলের ওপর প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছে। মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট বলেন, ইরানের এই উদ্যোগ “বৈশ্বিক সামুদ্রিক বাণিজ্য থেকে অর্থ আদায়ের একটি মরিয়া প্রচেষ্টা”, যা দেশটির গভীর অর্থনৈতিক সংকটের ইঙ্গিত বহন করে। ওয়াশিংটনের দাবি, যারা এই ফি পরিশোধ করবে তারাও নিষেধাজ্ঞার আওতায় পড়তে পারে, কারণ যুক্তরাষ্ট্রের মতে এই অর্থ শেষ পর্যন্ত ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর কর্মকাণ্ডে ব্যবহৃত হতে পারে। মার্কিন প্রশাসন আরও দাবি করেছে, নিষেধাজ্ঞা ও অর্থনৈতিক চাপের মাধ্যমে তারা ইতোমধ্যে ইরানকে ১০ বিলিয়ন ডলারের বেশি সম্ভাব্য রাজস্ব আয় থেকে বঞ্চিত করেছে। হরমুজে ইরানের নতুন নিয়ন্ত্রণ কাঠামো গত ২০ মে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে প্রকাশিত এক পোস্টে ‘পারসিয়ান গালফ স্ট্রেইট অথোরিটি’ হরমুজ প্রণালির একটি “নিয়ন্ত্রিত সামুদ্রিক অঞ্চল” ঘোষণা করে। সেখানে প্রকাশিত মানচিত্রে ইরান ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের মধ্যবর্তী জলসীমায় বিশেষ নিয়ন্ত্রণ রেখা দেখানো হয়। ইরানের দাবি, এই ব্যবস্থার উদ্দেশ্য নিরাপদ নৌ চলাচল নিশ্চিত করা। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাকাই বলেন, ইরান “নেভিগেশনাল সার্ভিস” বাবদ ফি নিচ্ছে, এটিকে টোল হিসেবে দেখা ঠিক হবে না। তবে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের আশঙ্কা, এই ব্যবস্থার মাধ্যমে ইরান কার্যত আন্তর্জাতিক জলপথের ওপর একক নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছে। বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাস হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হয়। ফলে এই জলপথে যেকোনো অস্থিরতা সরাসরি বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারকে প্রভাবিত করে। যুদ্ধবিরতির আড়ালে অব্যাহত সামরিক উত্তেজনা যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে ৮ এপ্রিল থেকে যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকলেও পরিস্থিতি পুরোপুরি স্থিতিশীল হয়নি। সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাষ্ট্র ইরানি লক্ষ্যবস্তুতে নতুন হামলা চালিয়েছে বলে বিভিন্ন সূত্রে দাবি করা হয়েছে। এর আগে ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যৌথ হামলার মধ্য দিয়ে বড় আকারের সংঘাত শুরু হয়। জবাবে ইরান মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন স্থানে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালায়। যুদ্ধের সময় তেহরানে বিমান হামলায় নিহত হন ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আলী খামেনি। পরে তার ছেলে মোজতবা খামেনি নতুন সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে দায়িত্ব নেন। ক্ষমতা গ্রহণের পর থেকে তিনি এখনো জনসমক্ষে আসেননি। তবে বৃহস্পতিবার ফার্স নিউজ এজেন্সিতে প্রকাশিত এক লিখিত বার্তায় তিনি জাতীয় ঐক্য বজায় রাখার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, কয়েক সপ্তাহের ভয়াবহ হামলার পরও ইরান “শক্তভাবে ঘুরে দাঁড়িয়েছে” এবং দেশের পুনর্গঠনের জন্য রাজনৈতিক বিভাজন এড়িয়ে ঐক্যবদ্ধ থাকা জরুরি। একই সঙ্গে সংসদ সদস্যদের উদ্দেশে তিনি আইন প্রণয়ন ও নজরদারি আরও জোরদারের আহ্বান জানান এবং পার্লামেন্টকে দেশের অগ্রযাত্রার “সম্মুখ সমরের পরিখা” হিসেবে বর্ণনা করেন। ওমানকে ট্রাম্পের সরাসরি হুমকি এই উত্তেজনার মধ্যেই নতুন বিতর্ক তৈরি হয়েছে ওমানকে নিয়ে। দ্য গার্ডিয়ানের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ইরান ও ওমানের মধ্যে হরমুজ প্রণালিতে চলাচলকারী জাহাজের কাছ থেকে যৌথভাবে ফি আদায়ের বিষয়ে আলোচনা চলছে। এ প্রসঙ্গে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কঠোর প্রতিক্রিয়া জানান। মন্ত্রিসভার বৈঠকে তিনি বলেন, “হরমুজ প্রণালি সবার জন্য উন্মুক্ত থাকবে। কেউ এটি নিয়ন্ত্রণ করবে না।” এরপর ওমানকে উদ্দেশ করে তিনি আরও বলেন, “ওমানকে ভদ্র আচরণ করতে হবে। না হলে আমাদের তাদের উড়িয়ে দিতে হবে।” ট্রাম্পের এই বক্তব্য আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে। বিশ্লেষকদের মতে, এটি শুধু ওমানকে লক্ষ্য করে নয়; বরং পুরো উপসাগরীয় অঞ্চলের প্রতি একটি কৌশলগত বার্তা। কূটনীতি কেন স্থবির? যুদ্ধবিরতির পর তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে পর্দার আড়ালে পরোক্ষ আলোচনা চললেও এখন পর্যন্ত কোনো স্থায়ী সমঝোতা হয়নি। ট্রাম্প প্রশাসনের অভিযোগ, ইরান ইচ্ছাকৃতভাবে আলোচনা দীর্ঘায়িত করছে এবং নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচন পর্যন্ত সময়ক্ষেপণের চেষ্টা করছে। অন্যদিকে মার্কিন সিনেটের সশস্ত্র বাহিনী বিষয়ক কমিটির চেয়ারম্যান রজার উইকার সম্ভাব্য ৬০ দিনের যুদ্ধবিরতির বিরোধিতা করে বলেছেন, এতে সামরিক অভিযানের অর্জন “বৃথা” যেতে পারে। বৈশ্বিক অর্থনীতির সামনে নতুন ঝুঁকি ফেব্রুয়ারির শেষ দিক থেকে হরমুজ প্রণালিতে অস্থিরতা তৈরি হওয়ার পর আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে উদ্বেগ বাড়ছে। গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হওয়ায় তেল সরবরাহ ও পরিবহন ব্যয় বেড়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, যদি ইরান হরমুজে আরও কঠোর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করে অথবা যুক্তরাষ্ট্র সামরিক চাপ বাড়ায়, তাহলে তা বৈশ্বিক অর্থনীতিতে নতুন ধাক্কা সৃষ্টি করতে পারে। বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতি এমন এক অবস্থায় দাঁড়িয়ে আছে, যেখানে সামরিক সংঘাত, অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা, জ্বালানি নিরাপত্তা এবং আন্তর্জাতিক নৌ চলাচল—সবকিছুই একে অপরের সঙ্গে গভীরভাবে জড়িয়ে পড়েছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ২৯, ২০২৬ 0
হরমুজ
হরমুজে গোপন সমঝোতার ইঙ্গিত, যুদ্ধের কিনারায় নতুন কূটনৈতিক হিসাব

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন ডেস্ক : মধ্যপ্রাচ্যের উত্তপ্ত ভূরাজনীতিতে নতুন মোড়ের ইঙ্গিত মিলছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান সংঘাত নিরসনে একটি অনানুষ্ঠানিক সমঝোতা স্মারকের (এমওইউ) খসড়া কাঠামো হাতে এসেছে বলে দাবি করেছে ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন। খসড়াটির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ—বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহের অন্যতম কৌশলগত পথ হরমুজ প্রণালিতে আবারও যুদ্ধ-পূর্ব স্বাভাবিক বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল ফিরিয়ে আনার পরিকল্পনা। বুধবার (২৭ মে) ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, সম্ভাব্য এই সমঝোতার আওতায় এক মাসের মধ্যে হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করবে তেহরান। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের আশপাশে সামরিক উপস্থিতি কমাবে এবং নৌ অবরোধ প্রত্যাহারের পথে এগোবে। তবে খসড়া কাঠামোয় সামরিক জাহাজ চলাচল অন্তর্ভুক্ত নয়। এতে ওমানের সহযোগিতায় হরমুজ প্রণালির নৌ চলাচল ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব ইরান পালন করবে বলেও উল্লেখ রয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, এটি কার্যকর হলে উপসাগরীয় অঞ্চলে নতুন ধরনের নিরাপত্তা ও কূটনৈতিক বাস্তবতা তৈরি হতে পারে। ‘চূড়ান্ত যাচাই ছাড়া কোনো পদক্ষেপ নয়’ ইরান স্পষ্ট করে জানিয়েছে, বাস্তব যাচাই ও পূর্ণাঙ্গ সমঝোতা ছাড়া তারা কোনো ধরনের চূড়ান্ত পদক্ষেপ নেবে না। কূটনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, আগামী ৬০ দিনের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ চুক্তি হলে সেটিকে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের বাধ্যতামূলক প্রস্তাব হিসেবে অনুমোদনের সম্ভাবনাও তৈরি হতে পারে। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে ইরান-ইসরায়েল উত্তেজনা চরমে পৌঁছালে পরিস্থিতিতে সরাসরি জড়িয়ে পড়ে যুক্তরাষ্ট্র। পাল্টাপাল্টি ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার কারণে উপসাগরীয় অঞ্চলে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল ব্যাহত হয়। এর সরাসরি প্রভাব পড়ে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে; অপরিশোধিত তেলের দাম বেড়ে যায় এবং সরবরাহ নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়। এই প্রেক্ষাপটে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে পরোক্ষ আলোচনা শুরু হয়। আলোচনায় পাকিস্তান গুরুত্বপূর্ণ মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করছে বলে একাধিক কূটনৈতিক সূত্র জানিয়েছে। আইআরজিসির কড়া হুঁশিয়ারি কূটনৈতিক তৎপরতার মধ্যেই কঠোর অবস্থানের বার্তা দিয়েছে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি)। বাহিনীটির নৌবাহিনীর উপরাজনৈতিক প্রধান মোহাম্মদ আকবরজাদেহ ইরানের দক্ষিণ উপকূলকে “আগ্রাসনকারীদের কবরস্থান” বানানোর হুমকি দিয়েছেন। তিনি বলেন, “শত্রুর দুর্বলতার কারণে নতুন করে যুদ্ধ শুরু হওয়ার সম্ভাবনা কম। তবে ইরানের সশস্ত্র বাহিনী যেকোনো পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত।” ইরানের দীর্ঘ দক্ষিণ উপকূলের দুই প্রান্তের স্থান—চাবাহার থেকে মাহশাহর পর্যন্ত—উল্লেখ করে আকবরজাদেহ বলেন, “এই পুরো অঞ্চল আগ্রাসনকারীদের জন্য কবরস্থানে পরিণত হবে।” বিশ্লেষকদের মতে, একদিকে কূটনৈতিক সমঝোতার বার্তা, অন্যদিকে সামরিক হুঁশিয়ারি—এই দ্বৈত কৌশলের মাধ্যমে ইরান আলোচনায় নিজেদের অবস্থান শক্ত রাখতে চাইছে। যুদ্ধবিরতিতে চীনের সক্রিয় কূটনীতি মধ্যপ্রাচ্যের ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি রক্ষায় সক্রিয় অবস্থান নিয়েছে চীনও। জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের এক উন্মুক্ত বিতর্কে চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে যুদ্ধবিরতি মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছেন। চীনা রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম সিনহুয়াকে দেওয়া বক্তব্যে ওয়াং ই বলেন, “আমরা আশা করি সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো যুদ্ধবিরতি বাস্তবায়নে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ থাকবে এবং পারস্পরিক সমঝোতায় পৌঁছাবে, যাতে দ্রুত মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ফিরে আসে।” চীনের দাবি, তারা সংঘাত নিরসনে সংশ্লিষ্ট প্রধান পক্ষগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ ও সমন্বয় বজায় রেখেছে। এর আগে মার্কিন বাহিনী দক্ষিণ ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটি এবং মাইন পাতার চেষ্টা করা নৌকাগুলোর ওপর হামলা চালায় বলে অভিযোগ ওঠে। ইরান এটিকে যুদ্ধবিরতির পরিপন্থী পদক্ষেপ হিসেবে দেখছে। তেহরান ইতোমধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলে পাল্টা প্রতিশোধের হুঁশিয়ারিও দিয়েছে। হরমুজ কেন এত গুরুত্বপূর্ণ বিশ্বের মোট জ্বালানি পরিবহনের বড় একটি অংশ হরমুজ প্রণালি দিয়ে যাতায়াত করে। ফলে এই পথের যেকোনো অস্থিতিশীলতা সরাসরি বৈশ্বিক অর্থনীতি ও জ্বালানি বাজারে প্রভাব ফেলে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যদি যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে এই অনানুষ্ঠানিক সমঝোতা বাস্তব রূপ পায়, তাহলে তা শুধু উপসাগরীয় নিরাপত্তা নয়, বরং বৈশ্বিক তেলবাজার ও আন্তর্জাতিক কূটনীতিতেও বড় পরিবর্তনের সূচনা করতে পারে। তবে এখনো চুক্তিটি আনুষ্ঠানিক নয়। ফলে মধ্যপ্রাচ্যের এই ভঙ্গুর শান্তি কতটা স্থায়ী হবে, সেটিই এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন।  

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ২৮, ২০২৬ 0
তিন বছর ধরে ঈদ নেই গাজায়
তিন বছর ধরে ঈদ নেই গাজায়: নেই কোরবানির পশু, ভেঙে পড়েছে পুরো অর্থনীতি: পশু প্রায় বিলুপ্ত,যুদ্ধ, অবরোধ ও খাদ্য সংকটে নেই উৎসবের আমেজও

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন ডেস্ক : বছরের এই সময়টাতে গাজার খামারগুলোতে থাকার কথা ছিল ঈদুল আজহার ব্যস্ততা। কোরবানির পশুর হাঁকডাক, পশু কেনাবেচা, বাজারের ভিড়—সব মিলিয়ে উৎসবমুখর পরিবেশ। কিন্তু এখন সেই গাজায় নেই কোরবানির পশু, নেই উৎসবের আমেজও। যুদ্ধ, অবরোধ ও খাদ্য সংকটে টানা তৃতীয় বছরের মতো কার্যত থমকে গেছে ঈদুল আজহার প্রধান ধর্মীয় অনুষঙ্গ কোরবানি। গাজার পরিচিত পশু খামারি মাজেন আল-জেরজাউই একসময় ঈদের আগে শত শত ভেড়া ও গরু বিক্রি করতেন। এখন তিনি একটি ছোট রেস্তোরাঁ চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করছেন। সেখানে পরিবেশিত খাবারের জন্যও তাকে নির্ভর করতে হচ্ছে সীমিত পরিমাণে প্রবেশ করা হিমায়িত মাংসের ওপর। গাজা সিটির বাসিন্দা জেরজাউই বলেন, “এই সময়ে আমি প্রায় ২০০টি ভেড়া ও গরু বিক্রি করতাম। এখন আমার কাছে একটি পশুও নেই। গাজায় জীবন্ত পশু ঢুকতেই দেওয়া হচ্ছে না।” তার ভাষায়, ইসরায়েলের কঠোর নিয়ন্ত্রণ গাজার মানুষকে এমন অবস্থায় ঠেলে দিয়েছে, যেখানে টিকে থাকাই এখন সবচেয়ে বড় বাস্তবতা। যুদ্ধের আগে বছরে আসত ৬০ হাজার পশু ঈদুল আজহাকে কেন্দ্র করে যুদ্ধের আগে প্রতি বছর গাজায় ৪০ হাজার থেকে ৬০ হাজার ভেড়া ও বাছুর আমদানি হতো। স্থানীয় খামারগুলোও ছিল সক্রিয়। কোরবানির পশুকে ঘিরে গড়ে উঠেছিল বড় একটি অর্থনৈতিক চক্র। কিন্তু ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া যুদ্ধ ও অবরোধ পরিস্থিতি পুরো খাতকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিয়েছে। গাজার চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির তথ্য অনুযায়ী, গবাদিপশু খাতের ৯০ শতাংশের বেশি অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়েছে। শুধু খামার নয়, ধ্বংস হয়েছে গোয়ালঘর, পশুখাদ্যের গুদাম, পশু চিকিৎসা কেন্দ্র এবং কৃষিভিত্তিক সরবরাহ ব্যবস্থা। আকাশছোঁয়া পশুর দাম যুদ্ধের আগে গাজায় একটি ভেড়ার দাম ছিল ৫০০ থেকে ৬০০ ডলারের মধ্যে। বর্তমানে হাতে গোনা যে কয়েকটি পশু টিকে আছে, সেগুলোর দাম পৌঁছেছে প্রায় ৭ হাজার ডলারে। এই পরিস্থিতিতে অনেক প্রবাসী ফিলিস্তিনি এখনও গাজায় থাকা স্বজনদের নামে কোরবানি দিতে চাইছেন। তবে জেরজাউই তাদের নিরুৎসাহিত করেন। তিনি বলেন, “একটি ভেড়ার পেছনে ২০ হাজার শেকেল খরচ করার চেয়ে সেই অর্থ দিয়ে একটি পরিবারের বিয়ের খরচ চালানো সম্ভব। এখন ৫০ কেজি হিমায়িত মাংস কিনে মানুষকে খাওয়ানোই বেশি বাস্তবসম্মত।” নিশ্চিহ্নের পথে গবাদিপশু জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (এফএও)-এর তথ্য অনুযায়ী, গত নভেম্বরের মধ্যেই গাজার ৮০ শতাংশ ভেড়া এবং ৭০ শতাংশ ছাগল মারা গেছে বা হত্যা করা হয়েছে। গাজার কৃষি মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, যুদ্ধের আগে যেখানে উপত্যকাটিতে প্রায় ৬০ হাজার ভেড়া ও ছাগল ছিল, এখন সেই সংখ্যা নেমে এসেছে মাত্র ৩ হাজারে। গরু ও বাছুর প্রায় সম্পূর্ণ হারিয়ে গেছে। কৃষি মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রাফাত আসালিয়া বলেন, “যে অল্পসংখ্যক পশু বেঁচে আছে, সেগুলো যাযাবর রাখালদের কাছে রয়েছে এবং ঈদের বাজারে আনার মতো পরিস্থিতি নেই।” তার মতে, পানির সংকট ও কৃষি অবকাঠামোর ধ্বংস পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। ফলে এই খাত পুনরুদ্ধারের বাস্তব সম্ভাবনাও প্রায় নেই। বোমা হামলায় মারা গেছে পশু জেরজাউই জানান, যুদ্ধের মধ্যে পশু বাঁচিয়ে রাখাই হয়ে উঠেছিল অসম্ভব। তিনি বলেন, “পশুগুলোকে বাঁচিয়ে রাখতে আমরা পাস্তা পর্যন্ত খাইয়েছি। কিন্তু পাশের বাড়িতে বোমা হামলার পর আমার অনেক ভেড়া মারা যায়।” শুধু বোমা হামলাই নয়, বারবার বাস্তুচ্যুত হওয়ার ঘটনাও গবাদিপশু খাতকে চূড়ান্ত ধসের দিকে ঠেলে দিয়েছে। নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে পালানোর সময় অনেক পরিবার বাধ্য হয়ে কম দামে পশু বিক্রি বা জবাই করে দেয়। জেরজাউই বলেন, “প্রতিটি উচ্ছেদ আদেশের সঙ্গে সঙ্গে গাজায় গবাদিপশুর সংখ্যা কমে গেছে। শেষ পর্যন্ত মানুষ পরিবারকে বাঁচাবে, নাকি পশুর যত্ন নেবে—এই কঠিন বাস্তবতার মুখে পড়েছে সবাই।” ‘কোরবানি ছাড়া ঈদ নেই’ গাজার সাধারণ মানুষের কাছেও ঈদের অনুভূতি এখন প্রায় হারিয়ে গেছে। স্কুলশিক্ষক মুহাম্মদ আবু রিয়ালা বলেন, “মনে হচ্ছে আমরা তিন বছর ধরে ঈদই উদযাপন করছি না। কোরবানির আনন্দ, ভাগাভাগি করার অনুভূতি—সবকিছু হারিয়ে গেছে।” তিনি জানান, সংকট শুধু পশুর অভাবেই সীমাবদ্ধ নয়। বহু পরিবার এখন দৈনিক খাবার জোগাড় করতেই সংগ্রাম করছে। তার ভাষায়, “অনেকে এক বছরেরও বেশি সময় ধরে হিমায়িত মাংসও খেতে পারেনি। গাজায় কী ঢুকবে, তা পুরোপুরি সীমান্ত পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করে। ফলে বাজারে জিনিসপত্রের দামও অস্বাভাবিকভাবে ওঠানামা করে।” খাদ্য সংকটে ১৬ লাখ মানুষ জাতিসংঘ সমর্থিত ইন্টিগ্রেটেড ফুড সিকিউরিটি ফেজ ক্লাসিফিকেশন (আইপিসি)-এর মূল্যায়নে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালের শেষ নাগাদ গাজার প্রায় ১৬ লাখ মানুষ তীব্র খাদ্য নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে ছিল। যুদ্ধবিরতির আলোচনা চললেও মানবিক সহায়তা ও বাণিজ্যিক পণ্য প্রবেশে কড়াকড়ি অব্যাহত থাকায় পরিস্থিতির উন্নতি হয়নি। সীমান্ত ক্রসিং বন্ধ হয়ে গেলে বাজার থেকে খাদ্যপণ্য প্রায় উধাও হয়ে যায়। ধসে পড়ছে পুরো অর্থনৈতিক ব্যবস্থা বিশেষজ্ঞদের মতে, গবাদিপশু খাত ধ্বংস হওয়ায় শুধু কোরবানির ঐতিহ্যই নয়, গাজার একটি বড় অর্থনৈতিক ভিত্তিও ভেঙে পড়ছে। মুহাম্মদ আবু রিয়ালা বলেন, “গবাদিপশু প্রবেশের অনুমতি থাকলে পশু চিকিৎসক, খামারি, কৃষক, কসাই ও রেস্তোরাঁ ব্যবসায়ীরা সবাই উপকৃত হতেন। কিন্তু পুরো সমাজকে অকার্যকর করে দেওয়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।” গাজার বাস্তবতা এখন এমন এক পর্যায়ে পৌঁছেছে, যেখানে ঈদ মানে আর উৎসব নয়; বরং বেঁচে থাকার সংগ্রামের আরেকটি দিন।

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ২৬, ২০২৬ 0
গাজায় গণহত্যা
গাজায় গণহত্যার অভিযোগের মধ্যেও থামেনি অস্ত্র সরবরাহ, আইসিজের রায়ের পরও ইসরাইলকে সহায়তা ৫১ দেশের

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন ডেস্ক :  ২০২৪ সালের জানুয়ারির শুরুর দিকে, নেদারল্যান্ডসের হেগে অবস্থিত আন্তর্জাতিক বিচার আদালত (আইসিজে)-এর সামনে জড়ো হয়েছিলেন কয়েকজন বিক্ষোভকারী। গাজায় ইসরাইলের সামরিক অভিযানের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতে শীত উপেক্ষা করে তারা সেখানে অবস্থান নিয়েছিলেন। তখন গাজায় যুদ্ধ চলছিল প্রায় ১০০ দিন ধরে। বিশ্বজুড়ে যুদ্ধবিরতির দাবিতে তীব্র চাপ, আন্তর্জাতিক মহলের নিন্দা এবং মানবাধিকার সংস্থাগুলোর উদ্বেগ সত্ত্বেও ইসরাইল সামরিক অভিযান অব্যাহত রাখে। যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার আগ পর্যন্ত, ২০২৫ সালের অক্টোবর নাগাদ গাজায় নিহত হন ৭০ হাজারের বেশি মানুষ এবং আহত হন অন্তত ১ লাখ ৭১ হাজার। এই সময়ের মধ্যেই ইসরাইলে অব্যাহতভাবে প্রবেশ করেছে অস্ত্র, গোলাবারুদ ও সামরিক সরঞ্জাম। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরার দীর্ঘ অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, আইসিজে গণহত্যার ঝুঁকি নিয়ে সতর্কতা জারি করার পরও অন্তত ৫১টি দেশ ও স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল থেকে ইসরাইলে সামরিক সরঞ্জাম পাঠানো হয়েছে। আইসিজের রায়ের পর বেড়েছে অস্ত্র আমদানি ইসরাইলের কর কর্তৃপক্ষের (আইটিএ) আমদানি তথ্য, শুল্ক নথি এবং তথ্য অধিকার আইনের আওতায় সংগৃহীত রেকর্ড বিশ্লেষণ করে আল-জাজিরা জানিয়েছে, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে ২০২৫ সালের অক্টোবর পর্যন্ত ইসরাইলে মোট ২ হাজার ৬০৩টি সামরিক সরঞ্জামের চালান পৌঁছেছে। এসব চালানের মোট মূল্য ছিল প্রায় ৩.২২ বিলিয়ন ইসরাইলি শেকেল, যা মার্কিন মুদ্রায় প্রায় ৮৮৫ মিলিয়ন ডলারের সমান। সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ তথ্য হলো—এই চালানের ৯১ শতাংশই এসেছে আইসিজের রায়ের পরবর্তী সময়ে। অধিকাংশ সরঞ্জাম ছিল গোলাবারুদ, বিস্ফোরক এবং যুদ্ধক্ষেত্রে ব্যবহৃত সামরিক উপকরণ। তথ্য অনুযায়ী, ইসরাইলের জন্য সবচেয়ে বড় অস্ত্র সরবরাহকারী দেশ ছিল যুক্তরাষ্ট্র। মোট সামরিক আমদানির ৪২ শতাংশের বেশি এসেছে দেশটি থেকে। দ্বিতীয় অবস্থানে ছিল ভারত, যার অংশ প্রায় ২৬ শতাংশ। শীর্ষ পাঁচ সরবরাহকারীর তালিকায় আরও রয়েছে রোমানিয়া, তাইওয়ান ও চেক প্রজাতন্ত্র। প্রকাশ্য সমালোচনা, আড়ালে সরবরাহ অনুসন্ধানে উঠে এসেছে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক। যেসব দেশ প্রকাশ্যে ইসরাইলের সামরিক অভিযানের সমালোচনা করেছে বা যুদ্ধবিরতির পক্ষে অবস্থান নিয়েছে, তাদের অনেকেই বাস্তবে অস্ত্র সরবরাহ বন্ধ করেনি। চীন আইসিজের রায়কে স্বাগত জানিয়েছিল। কিন্তু শুল্ক তথ্য অনুযায়ী, যুদ্ধ চলাকালেও দেশটি থেকে সামরিক চালান গেছে ইসরাইলে। তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান গাজা যুদ্ধ নিয়ে ইসরাইলের কঠোর সমালোচনা করলেও, বাণিজ্য নথিতে দেখা যায় অস্ত্র ও সামরিক সরঞ্জাম সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ হয়নি। একইভাবে ব্রাজিলও আইসিজের পদক্ষেপকে “বাধ্যতামূলক” বলে উল্লেখ করেছিল। তবে অনুসন্ধানে দেখা যায়, দেশটি থেকেও কিছু সামরিক সরঞ্জাম ইসরাইলে গেছে। ‘গণহত্যা প্রতিরোধের দায়িত্ব আগে থেকেই শুরু হয়’ আন্তর্জাতিক আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, গণহত্যার আশঙ্কা সম্পর্কে অবগত হওয়ার পরও অস্ত্র সরবরাহ অব্যাহত রাখা আন্তর্জাতিক আইনের গুরুতর প্রশ্ন তৈরি করে। লন্ডন স্কুল অব ইকোনমিক্সের অধ্যাপক স্টিফেন হামফ্রেস এবং ইউনিভার্সিটি অব দ্য ওয়েস্ট অব ইংল্যান্ডের অধ্যাপক গেরহার্ড কেম্প বলেছেন, গণহত্যা প্রতিরোধের দায়িত্ব কেবল চূড়ান্ত রায়ের পর শুরু হয় না; ঝুঁকির ইঙ্গিত দেখা দেওয়ার মুহূর্ত থেকেই রাষ্ট্রগুলোর দায়িত্ব কার্যকর হয়। ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে জাতিসংঘের স্বাধীন তদন্ত কমিশনও তাদের প্রতিবেদনে উল্লেখ করে, গাজায় ইসরাইল গণহত্যা চালিয়েছে। মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের গবেষক প্যাট্রিক উইলকেন বলেন, “ইসরাইল একা এত বড় পরিসরের বোমাবর্ষণ পরিচালনা করতে পারত না। এর পেছনে বৈশ্বিক অস্ত্র সরবরাহ শৃঙ্খলের বড় ভূমিকা রয়েছে।” বৈশ্বিক নীরবতার বাইরে সক্রিয় সহায়তা আল-জাজিরার অনুসন্ধান এমন এক বাস্তবতা সামনে এনেছে, যেখানে আন্তর্জাতিক আদালতের সতর্কতা, মানবাধিকার উদ্বেগ এবং গণহত্যার অভিযোগের পরও অস্ত্র সরবরাহ বন্ধ হয়নি। বরং বহু দেশ প্রকাশ্যে কূটনৈতিক সমালোচনা করলেও বাস্তবে সামরিক সহায়তা চালিয়ে গেছে। গাজা যুদ্ধ শুধু মধ্যপ্রাচ্যের একটি সংঘাত নয়—এই অনুসন্ধান দেখাচ্ছে, এটি একটি বৈশ্বিক অস্ত্র নেটওয়ার্কেরও প্রতিচ্ছবি; যেখানে যুদ্ধক্ষেত্রের বাইরে থেকেও বহু রাষ্ট্র প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে জড়িয়ে রয়েছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ২৪, ২০২৬ 0
আমিরাতের তেল ডিপোতে বিশেষ সুরক্ষা
ইরান-ইসরায়েল উত্তেজনা: ড্রোন হামলার আশঙ্কায় আমিরাতের তেল ডিপোতে বিশেষ সুরক্ষা, হরমুজ নিয়ে অচলাবস্থা

 ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন ডেস্ক : মধ্যপ্রাচ্যে ইরানকে ঘিরে ক্রমবর্ধমান সামরিক উত্তেজনার মধ্যে সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) তাদের গুরুত্বপূর্ণ তেল স্থাপনাগুলোতে বিশেষ সুরক্ষা ব্যবস্থা জোরদার করছে বলে একাধিক আন্তর্জাতিক সূত্রে দাবি উঠেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া কয়েকটি ছবিতে দেখা যায়, তেল ডিপো ও জ্বালানি অবকাঠামোর ওপর লোহার খাঁচা সদৃশ ধাতব কাঠামো বসানো হচ্ছে। বিশ্লেষকদের ধারণা, সম্ভাব্য ড্রোন হামলা মোকাবিলার লক্ষ্যেই এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। যদিও আমিরাত সরকার এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে এসব কাঠামোর উদ্দেশ্য নিয়ে বিস্তারিত মন্তব্য করেনি, তবে আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণকারী বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এটি মূলত স্বল্প উচ্চতায় পরিচালিত ছোট আকারের ড্রোন হামলা প্রতিহত করার প্রতিরক্ষামূলক কৌশল হতে পারে। তেল স্থাপনায় বাড়তি সতর্কতা কেন? গত ফেব্রুয়ারিতে ইরানকে কেন্দ্র করে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে সামরিক উত্তেজনা তৈরি হওয়ার পর অঞ্চলজুড়ে জ্বালানি স্থাপনা, সামরিক ঘাঁটি ও কৌশলগত অবকাঠামোকে ঘিরে হামলা-পাল্টা হামলার ঘটনা বাড়তে থাকে। এর জেরে উপসাগরীয় দেশগুলো বিশেষ করে তেল রপ্তানিনির্ভর অর্থনীতির রাষ্ট্রগুলো নিরাপত্তা ব্যবস্থা পুনর্মূল্যায়ন শুরু করে। বিশ্লেষকদের মতে, ইউএইর মোট জিডিপির একটি বড় অংশ তেল ও গ্যাস খাতনির্ভর। ফলে তেল ডিপো, রিফাইনারি ও রপ্তানি টার্মিনালের ওপর যেকোনো হামলা দেশটির অর্থনীতিতে বড় ধরনের ধাক্কা তৈরি করতে পারে। সাম্প্রতিক ভাইরাল ছবিগুলো সেই উদ্বেগেরই প্রতিফলন বলে মনে করা হচ্ছে। যুদ্ধের আড়ালে কূটনৈতিক তৎপরতা এদিকে চলমান মার্কিন-ইসরায়েল যুদ্ধ অবসানের লক্ষ্যে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে পরোক্ষ সংলাপে কিছু ইতিবাচক অগ্রগতির ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। তবে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কর্মসূচি এবং কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ প্রশ্নে এখনো গভীর মতবিরোধ রয়ে গেছে। এই সংকটে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকায় সামনে এসেছে পাকিস্তান। ইরানি গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার (২২ মে) তেহরানে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী Abbas Araghchi-এর সঙ্গে বৈঠক করেন পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী Syed Mohsin Naqvi। সেখানে যুদ্ধবিরতি ও রাজনৈতিক সমাধানের সম্ভাব্য রূপরেখা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। কূটনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, যুক্তরাষ্ট্রের সর্বশেষ বার্তা ইরানি কর্তৃপক্ষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার পর এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। পাকিস্তান মূলত দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা কমিয়ে দীর্ঘমেয়াদি সমঝোতার পথ তৈরির চেষ্টা করছে। হরমুজ প্রণালি: সংঘাতের কেন্দ্রবিন্দু মার্কিন প্রশাসনের ভাষ্যমতে, আলোচনায় কিছু “আশাব্যঞ্জক সংকেত” মিললেও হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে অচলাবস্থা এখনো কাটেনি। যুক্তরাষ্ট্র স্পষ্ট করেছে, ইরান যদি এই আন্তর্জাতিক নৌপথে নিজস্ব শুল্ক বা টোল ব্যবস্থা চাপিয়ে দিতে চায়, তাহলে স্থায়ী সমাধান অর্জন কঠিন হয়ে পড়বে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরুর পর ইরান কার্যত হরমুজ প্রণালি দিয়ে অধিকাংশ বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল সীমিত করে দেয়। এর ফলে আন্তর্জাতিক জ্বালানি সরবরাহ চেইনে বড় ধরনের চাপ তৈরি হয়। একজন জ্যেষ্ঠ ইরানি কূটনৈতিক সূত্রের দাবি, উভয় পক্ষের অবস্থানের দূরত্ব আগের তুলনায় কমেছে। তবে ইউরেনিয়াম মজুত ও সমৃদ্ধকরণ কার্যক্রম এবং হরমুজে অবাধ নৌচলাচলের প্রশ্ন এখনো সবচেয়ে স্পর্শকাতর ইস্যু হিসেবে রয়ে গেছে। বৈশ্বিক অর্থনীতিতে বাড়ছে চাপ বিশ্বের মোট জ্বালানি তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) প্রায় এক-পঞ্চমাংশ হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হয়। ফলে এই নৌপথে অস্থিতিশীলতা তৈরি হওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির দাম দ্রুত বাড়ছে। বিশ্লেষকরা সতর্ক করছেন, পরিস্থিতি দীর্ঘায়িত হলে বৈশ্বিক মুদ্রাস্ফীতি আরও তীব্র হতে পারে। ইতোমধ্যে বিনিয়োগকারীদের অনিশ্চয়তা বেড়ে যাওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে মার্কিন ডলারের মূল্য গত ছয় সপ্তাহের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। অর্থনীতিবিদদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের এই সংকট শুধু আঞ্চলিক নিরাপত্তা নয়, বরং বৈশ্বিক জ্বালানি নিরাপত্তা, বাণিজ্য প্রবাহ এবং আন্তর্জাতিক আর্থিক স্থিতিশীলতার জন্যও বড় ধরনের ঝুঁকির ইঙ্গিত বহন করছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ২৩, ২০২৬ 0
মার্কিন প্রস্তাবে ট্রাম্পের বিপক্ষে ৪ রিপাবলিকান, সিনেটে পাস
ইরান যুদ্ধ নিয়ে ট্রাম্পকে চাপে ফেলল মার্কিন সিনেট, নতুন নিষেধাজ্ঞা ও তেহরানের হুঁশিয়ারিতে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা তীব্র

মধ্যপ্রাচ্যে টানা প্রায় তিন মাসের সংঘাতের মধ্যে এবার যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতেই বড় চাপের মুখে পড়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ইরানে মার্কিন ও ইসরাইলি সামরিক অভিযানের ৮০ দিনের মাথায় মার্কিন সিনেট এমন একটি যুদ্ধ-ক্ষমতা সংক্রান্ত প্রস্তাব অনুমোদন করেছে, যা কার্যকর হলে কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়া প্রেসিডেন্টের যুদ্ধ পরিচালনার ক্ষমতা সীমিত হয়ে যেতে পারে। মঙ্গলবারের ভোটে চার রিপাবলিকান সিনেটর নিজ দলের প্রেসিডেন্টকে অগ্রাহ্য করে ডেমোক্র্যাটদের সঙ্গে অবস্থান নেন। ৫০-৪৭ ভোটে পাস হওয়া এই প্রস্তাবকে ওয়াশিংটনে ট্রাম্পের বিরুদ্ধে বিরল প্রকাশ্য রাজনৈতিক বার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে। রিপাবলিকানদের ভাঙন কেন গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাবটির পক্ষে ভোট দেন রিপাবলিকান সিনেটর র‍্যান্ড পল, সুসান কলিন্স, লিসা মুরকোস্কি এবং বিল ক্যাসিডি। অন্যদিকে ডেমোক্র্যাট সিনেটর জন ফেটারম্যান প্রস্তাবের বিপক্ষে ভোট দেন। আরও তিন রিপাবলিকান অনুপস্থিত ছিলেন। মার্কিন রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, রিপাবলিকানদের এই অবস্থান কেবল প্রতীকী নয়; বরং এটি প্রেসিডেন্টের যুদ্ধ পরিচালনার সাংবিধানিক সীমা নিয়ে দীর্ঘদিনের বিতর্ককে নতুন করে সামনে এনেছে। ডেমোক্র্যাটরা যুক্তি দিচ্ছেন, যুক্তরাষ্ট্রের ‘ওয়ার পাওয়ারস অ্যাক্ট’ অনুযায়ী কোনো প্রেসিডেন্ট কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়া ৬০ দিনের বেশি সময় সামরিক বাহিনী মোতায়েন রাখতে পারেন না। তাদের দাবি, সেই সময়সীমা ১ মে শেষ হয়েছে। তবে হোয়াইট হাউসের অবস্থান ভিন্ন। প্রশাসনের দাবি, ৮ এপ্রিল ঘোষিত যুদ্ধবিরতির কারণে ওই সময়সীমার হিসাব স্থগিত ছিল, ফলে ট্রাম্পের হাতে এখনো অতিরিক্ত সময় রয়েছে। যুদ্ধের মানবিক ও অর্থনৈতিক মূল্য ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া সংঘাতে এখন পর্যন্ত উপসাগরীয় অঞ্চলে ১০ হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন বলে বিভিন্ন সূত্রের হিসাব। একই সঙ্গে জ্বালানি অবকাঠামো, বন্দর ও শিল্প খাতে শত শত কোটি ডলারের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। সবচেয়ে বড় ধাক্কা এসেছে হরমুজ প্রণালি ঘিরে। বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ তেল পরিবহন রুটটি কার্যত অচল হয়ে পড়ায় বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে নতুন অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। পেন্টাগনের হিসাব অনুযায়ী, এই সামরিক অভিযানে এখন পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের ব্যয় দাঁড়িয়েছে প্রায় ২৯ বিলিয়ন ডলার। পাশাপাশি ইউরোপীয় মিত্রদের সঙ্গে ওয়াশিংটনের সম্পর্কেও টানাপোড়েন তৈরি হয়েছে। যুদ্ধ থামাতে পারবে কি সিনেট? যদিও সিনেটের ভোট তাৎক্ষণিকভাবে ট্রাম্পকে সেনা প্রত্যাহারে বাধ্য করছে না, তবুও এটি প্রশাসনের ওপর রাজনৈতিক চাপ বাড়িয়েছে। ওয়ার পাওয়ারস অ্যাক্ট কার্যকর করতে হলে সিনেট ও প্রতিনিধি পরিষদ—উভয় কক্ষেই দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রয়োজন। ফলে বাস্তবে প্রস্তাবটি আইনে পরিণত হওয়া এখনও কঠিন। তবে এই ভোট যুদ্ধবিরোধী আইনপ্রণেতাদের জন্য একটি বড় প্রতীকী জয়। তারা দীর্ঘদিন ধরে বলে আসছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধান অনুযায়ী যুদ্ধ ঘোষণার ক্ষমতা কংগ্রেসের, প্রেসিডেন্টের নয়। নতুন নিষেধাজ্ঞায় ইরানের আর্থিক নেটওয়ার্ক লক্ষ্যবস্তু রাজনৈতিক চাপের মধ্যেই ইরানের বিরুদ্ধে নতুন আর্থিক নিষেধাজ্ঞা ঘোষণা করেছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ইরানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ১২ ব্যক্তি, ২৯টি প্রতিষ্ঠান এবং ১৯টি জাহাজকে নিষেধাজ্ঞার আওতায় আনা হয়েছে। ওয়াশিংটনের অভিযোগ, এসব নেটওয়ার্ক আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে তেহরানকে বৈশ্বিক আর্থিক ব্যবস্থায় প্রবেশে সহায়তা করছিল। নিষেধাজ্ঞার অন্যতম লক্ষ্য ‘আমিন এক্সচেঞ্জ’, যা ‘ইব্রাহিমি অ্যান্ড অ্যাসোসিয়েটস পার্টনারশিপ কোম্পানি’ নামেও পরিচিত। যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, প্রতিষ্ঠানটি বিভিন্ন দেশে ভুয়া কোম্পানির নেটওয়ার্ক গড়ে ইরানি ব্যাংকের হয়ে লেনদেন পরিচালনা করেছে। মার্কিন ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্ট অভিযোগ করেন, ইরানের তথাকথিত “ছায়া ব্যাংকিং ব্যবস্থা” সন্ত্রাসবাদ-সংশ্লিষ্ট অর্থ স্থানান্তরে ব্যবহৃত হচ্ছে। জাহাজ থেকে তেল—নিষেধাজ্ঞার বিস্তৃতি নতুন নিষেধাজ্ঞার আওতায় আনা হয়েছে কয়েকটি তেল ও কেমিক্যালবাহী জাহাজকেও। এর মধ্যে রয়েছে— বার্বাডোজের পতাকাবাহী এলপিজি ট্যাংকার গ্রেট সেইল পালাউয়ের পতাকাবাহী ট্যাংকার ওশান ওয়েভ পানামার পতাকাবাহী কেমিক্যাল ও অয়েল ট্যাংকার সুইফট ফ্যালকন যুক্তরাষ্ট্র বলছে, এসব জাহাজ ইরানি তেল ও পেট্রোকেমিক্যাল পণ্য পরিবহনে জড়িত ছিল। নিষেধাজ্ঞার ফলে তালিকাভুক্ত ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সম্পদ জব্দ করা হবে। একই সঙ্গে মার্কিন নাগরিক ও কোম্পানিগুলোর জন্য তাদের সঙ্গে লেনদেন নিষিদ্ধ থাকবে। ‘আরও বড় সারপ্রাইজ’—ইরানের নতুন হুঁশিয়ারি উত্তেজনার মধ্যেই কড়া বার্তা দিয়েছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বিবৃতিতে তিনি দাবি করেন, ইরান প্রথমবারের মতো যুক্তরাষ্ট্রের অত্যাধুনিক এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করতে সক্ষম হয়েছে। আরাগচির ভাষায়, “আগের যুদ্ধ থেকে আমরা যে অভিজ্ঞতা অর্জন করেছি, তা ভবিষ্যৎ সংঘাতে আরও বড় সারপ্রাইজ দেওয়ার সক্ষমতা তৈরি করেছে।” তিনি আরও দাবি করেন, মার্কিন কংগ্রেসের গবেষণা সংস্থা ‘কংগ্রেসনাল রিসার্চ সার্ভিস’-এর সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে ড্রোনসহ অন্তত ৪২টি মার্কিন যুদ্ধবিমান ধ্বংস বা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার তথ্য উঠে এসেছে। যদিও এই দাবিগুলোর স্বাধীন যাচাই এখনও সম্ভব হয়নি। কূটনীতির শেষ সুযোগ? ইরানের কঠোর অবস্থানের মধ্যেও কূটনৈতিক প্রচেষ্টা পুরোপুরি থেমে যায়নি। মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স জানিয়েছেন, উত্তেজনা সত্ত্বেও আলোচনা অব্যাহত রয়েছে এবং দুই পক্ষ “গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি” অর্জন করেছে। অন্যদিকে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ইরানকে যুদ্ধ বন্ধে “দুই থেকে তিন দিন” সময় বেঁধে দিয়েছেন বলে মার্কিন গণমাধ্যম জানিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান পরিস্থিতি এমন এক পর্যায়ে পৌঁছেছে যেখানে সামরিক সংঘাত, জ্বালানি নিরাপত্তা, বৈশ্বিক অর্থনীতি এবং যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ সাংবিধানিক রাজনীতি—সবকিছু একে অপরের সঙ্গে গভীরভাবে জড়িয়ে গেছে। মধ্যপ্রাচ্যের এই সংকট এখন কেবল যুদ্ধক্ষেত্রের নয়; বরং এটি ওয়াশিংটন ও তেহরানের ক্ষমতার লড়াইয়ের পাশাপাশি বৈশ্বিক ভূরাজনীতিরও বড় পরীক্ষায় পরিণত হয়েছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ২০, ২০২৬ 0
ইরানের তেল রপ্তানিতে নিষেধাজ্ঞা শিথিলের ইঙ্গিত
শান্তি আলোচনার মধ্যে ইরানের তেল নিষেধাজ্ঞা আংশিক শিথিলে নীতিগত সম্মতি যুক্তরাষ্ট্রের

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : চলমান শান্তি আলোচনা চলাকালে ইরানের তেল বিক্রির ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা সাময়িকভাবে শিথিল করতে যুক্তরাষ্ট্র নীতিগতভাবে সম্মত হয়েছে বলে দাবি করেছে ইরানি সংবাদমাধ্যম। ইরানের সংবাদ সংস্থা তাসনিম নিউজ এজেন্সি এক প্রতিবেদনে জানায়, আলোচনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রের বরাতে এই তথ্য পাওয়া গেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, চূড়ান্ত সমঝোতা না হওয়া পর্যন্ত নিষেধাজ্ঞা পুরোপুরি প্রত্যাহার না করলেও তা আংশিকভাবে স্থগিত রাখার বিষয়ে আলোচনা চলছে। এর আগে থেকেই ইরান বলে আসছিল, যেকোনো শান্তি চুক্তির অংশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রকে সব ধরনের অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের প্রতিশ্রুতি দিতে হবে। তবে এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য করেনি যুক্তরাষ্ট্র। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানকে লক্ষ্য করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যৌথ হামলার পর মধ্যপ্রাচ্যে ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। সংঘাতে বহু মানুষের প্রাণহানির পাশাপাশি অঞ্চলজুড়ে নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতি ঘটে। পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় ইরান মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে অবস্থিত মার্কিন সামরিক স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্য করে হামলা চালায়। এর প্রভাব পড়ে জর্ডান, ইরাক, সৌদি আরব, বাহরাইন, কুয়েত এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ একাধিক দেশে। যুদ্ধের প্রভাবে পশ্চিম এশিয়াজুড়ে বিমান চলাচল, জ্বালানি সরবরাহ ও বৈশ্বিক তেলবাজারে অস্থিরতা তৈরি হয়। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালী ঘিরে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি হয়। পরবর্তীতে সংঘাত শুরুর প্রায় ৪০ দিন পর দুই পক্ষ সাময়িক যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়। পরে সেই যুদ্ধবিরতির মেয়াদ অনির্দিষ্টকালের জন্য বাড়ানো হলেও এখনও স্থায়ী শান্তিচুক্তি হয়নি। বর্তমানে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় শান্তি আলোচনা চললেও ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে এখনো চূড়ান্ত কোনো সমঝোতা হয়নি বলে জানা গেছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ১৯, ২০২৬ 0
ইরান
ইরানকে ঘিরে নতুন যুদ্ধের শঙ্কা: ট্রাম্পের হুমকি, যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের বিরুদ্ধে বিভেদের অভিযোগ তেহরানের

 ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : মধ্যপ্রাচ্যে আবারও নতুন করে উত্তেজনা ঘনীভূত হচ্ছে। ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে মুসলিম বিশ্বে বিভেদ সৃষ্টি এবং আঞ্চলিক অস্থিতিশীলতা উসকে দেওয়ার অভিযোগ তুলেছেন। একই সময়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কঠোর ভাষার হুমকি এবং ইসরায়েলের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ কূটনৈতিক যোগাযোগ নতুন সংঘাতের আশঙ্কা আরও বাড়িয়ে তুলেছে। ইরানি প্রেসিডেন্টের দাবি, তেহরানের বিরুদ্ধে পরিচালিত সামরিক ও রাজনৈতিক চাপের মূল উদ্দেশ্য ছিল দেশটির অভ্যন্তরীণ স্থিতিশীলতা নষ্ট করা এবং ইসলামি শাসনব্যবস্থাকে দুর্বল করে দেওয়া। পেজেশকিয়ান বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও “জায়নবাদী শাসকগোষ্ঠী” ইরানে হামলার মাধ্যমে এমন এক পরিস্থিতি তৈরি করতে চেয়েছিল, যাতে দেশের অভ্যন্তরে বিশৃঙ্খলা ছড়িয়ে পড়ে এবং রাষ্ট্রীয় কাঠামো অস্থিতিশীল হয়ে ওঠে। তার অভিযোগ, পশ্চিমা শক্তিগুলো দীর্ঘদিন ধরে মুসলিম দেশগুলোর মধ্যে অবিশ্বাস ও বিভাজন তৈরির কৌশল অনুসরণ করছে, যাতে আঞ্চলিক ঐক্য দুর্বল হয়ে পড়ে এবং সংঘাত দীর্ঘস্থায়ী হয়। ‘পুনরায় হামলা হলে ভয়াবহ জবাব’ এদিকে, ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর মুখপাত্র আবোলফজল শেকারচি মার্কিন প্রশাসনকে সরাসরি সতর্ক করে বলেছেন, নতুন করে সামরিক আগ্রাসন চালানো হলে তার প্রতিক্রিয়া হবে “নজিরবিহীন”। রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেওয়া বক্তব্যে তিনি বলেন, ওয়াশিংটন যদি আবারও ইরানে হামলার পথ বেছে নেয়, তবে মার্কিন সামরিক ও অর্থনৈতিক স্বার্থ “আকস্মিক ও তীব্র আঘাতের” মুখে পড়বে। শেকারচির ভাষায়, ইরান একটি দীর্ঘমেয়াদি অচলাবস্থা ও সংঘাত মোকাবিলার প্রস্তুতি নিয়েই এগোচ্ছে। শান্তি আলোচনা অচলাবস্থায় ইরানি গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, যুদ্ধবিরতি ও উত্তেজনা প্রশমনের লক্ষ্যে তেহরান যে প্রস্তাব দিয়েছিল, তার জবাবে যুক্তরাষ্ট্র কার্যত কোনও বড় ছাড় দিতে রাজি হয়নি। বার্তা সংস্থা ফার্স নিউজের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে পাঁচ দফা শর্ত দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে—ইরানকে মাত্র একটি পারমাণবিক স্থাপনা চালু রাখার অনুমতি এবং উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত যুক্তরাষ্ট্রের কাছে হস্তান্তর। প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র বিদেশে জব্দ থাকা ইরানি সম্পদের সামান্য অংশও ছাড় করতে রাজি হয়নি। একই সঙ্গে যুদ্ধের ক্ষয়ক্ষতির জন্য কোনও ধরনের ক্ষতিপূরণ নিয়েও ওয়াশিংটনের আগ্রহ নেই বলে দাবি তেহরানের। ইরানের দৃষ্টিতে এসব শর্ত “শান্তির প্রস্তাব” নয়; বরং কৌশলগত চাপ সৃষ্টির অংশ। মেহর নিউজ এজেন্সিও একই ধরনের অভিযোগ তুলে জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র এমন সুবিধা আদায়ের চেষ্টা করছে, যা তারা সামরিকভাবে অর্জন করতে পারেনি। ইরানের পাল্টা প্রস্তাব কী ছিল তেহরানের প্রস্তাবে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন ফ্রন্টে চলমান সংঘাত বন্ধের আহ্বান জানানো হয়েছিল। বিশেষ করে, ইসরায়েলের লেবানন অভিযান বন্ধ, ইরানি বন্দরগুলোর ওপর মার্কিন নৌ-অবরোধ প্রত্যাহার এবং যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত সব অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার দাবি জানায় ইরান। এ ছাড়া বিদেশে অবরুদ্ধ ইরানি সম্পদ মুক্ত করার আহ্বানও ছিল ওই প্রস্তাবে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে ইরান কৌশলগত হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে রাখার অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেছে। বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথ যুদ্ধের শুরু থেকেই কার্যত সীমিত অবস্থায় রয়েছে। ট্রাম্পের নতুন হুমকি এই উত্তেজনার মধ্যেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে ইরানকে উদ্দেশ করে কঠোর বার্তা দিয়েছেন। তিনি লিখেছেন, “সময় ফুরিয়ে আসছে। তাদের খুব দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে হবে, অন্যথায় আর কিছুই অবশিষ্ট থাকবে না।” একই পোস্টে বড় অক্ষরে তিনি লেখেন, “সময় অত্যন্ত মূল্যবান।” এর আগে ট্রাম্প নিজের একটি ছবি পোস্ট করে সেটির ক্যাপশনে লিখেছিলেন, “এটি ছিল ঝড়ের আগের শান্ত অবস্থা।” ইসরায়েলি সূত্রগুলো জানিয়েছে, ট্রাম্প ও ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সাম্প্রতিক ফোনালাপের মূল আলোচ্য বিষয় ছিল ইরান। যুদ্ধবিরতির পর নতুন করে সামরিক প্রস্তুতি জোরদারের বিষয়েও আলোচনা হয়েছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। চীনের উদ্বেগ নেতানিয়াহুর সঙ্গে আলোচনার কয়েক দিন আগেই চীন সফর শেষ করেন ট্রাম্প। সফরকালে চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে ইরান পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলে জানা গেছে। যদিও শি সরাসরি এ বিষয়ে প্রকাশ্যে মন্তব্য করেননি, তবে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতকে কঠোর ভাষায় সমালোচনা করেছে। বেইজিংয়ের ভাষ্য, এটি এমন একটি যুদ্ধ “যা কখনও শুরু হওয়া উচিত ছিল না এবং যার অব্যাহত থাকারও কোনও যৌক্তিকতা নেই।”

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ১৮, ২০২৬ 0
ইরান সংকটে অচলাবস্থা
নতুন করে সংঘাতের আশঙ্কায় মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা

ইত্তেহাদ নিউজ, অনলাইন ডেস্ক : ইরানের সঙ্গে কূটনৈতিক আলোচনায় অগ্রগতি না হওয়ায় পরিস্থিতি আবারও সংঘাতের দিকে গড়াতে পারে বলে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সূত্রের বরাতে জানা গেছে, আগামী সপ্তাহের মধ্যেই ইরানের বিরুদ্ধে নতুন সামরিক অভিযান চালাতে পারে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউইয়র্ক টাইমসের বরাতে মধ্যপ্রাচ্যের দুই কর্মকর্তার তথ্য অনুযায়ী, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে চলমান আলোচনায় কোনও সমাধান না আসায় দুই দেশই সামরিক প্রস্তুতি জোরদার করছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সম্ভাব্য নতুন হামলায় ইরানের গুরুত্বপূর্ণ সামরিক স্থাপনা ও অবকাঠামো লক্ষ্যবস্তু হতে পারে। আগের চেয়ে আরও তীব্র ও ব্যাপক বোমাবর্ষণের পরিকল্পনাও রয়েছে। এছাড়া পারস্য উপসাগরে অবস্থিত ইরানের কৌশলগত তেল রপ্তানি কেন্দ্র খার্গ দ্বীপ দখলের বিষয়টিও বিবেচনায় আছে। সূত্রগুলো আরও জানিয়েছে, ইরানের ভেতরে বিশেষ বাহিনী পাঠিয়ে সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম সংগ্রহের পরিকল্পনাও চলছে। তবে এ ধরনের অভিযান অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ এবং এতে বড় ধরনের হতাহতের সম্ভাবনা রয়েছে। পাশাপাশি হাজার হাজার সেনা মোতায়েন করে সরাসরি সংঘর্ষের পরিস্থিতিও তৈরি হতে পারে। ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম চ্যানেল-১২-কে দেওয়া এক বক্তব্যে এক ইসরায়েলি কর্মকর্তা বলেন, যুদ্ধ প্রায় অনিবার্য ধরে নিয়েই প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। তিনি জানান, এখন মূল নজর যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সিদ্ধান্তের দিকে। ওই কর্মকর্তা আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্রও বুঝতে পারছে যে ইরানের সঙ্গে চলমান আলোচনা থেকে কার্যকর সমাধান আসবে না। তার ভাষায়, “আমরা কয়েকদিন থেকে কয়েক সপ্তাহের যুদ্ধ পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত হচ্ছি এবং চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় আছি।” এর আগে চীন সফর শেষে দেশে ফেরার পথে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প মন্তব্য করেন, ইরান যদি দীর্ঘমেয়াদে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ বন্ধ রাখার প্রতিশ্রুতি দেয়, তবে বিষয়টি বিবেচনা করা যেতে পারে। যদিও আগে তিনি পুরোপুরি এবং স্থায়ীভাবে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ বন্ধের শর্ত দিয়েছিলেন।

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ১৭, ২০২৬ 0
ইসরাইল
গাজা যুদ্ধের পর বিশ্বে সবচেয়ে নেতিবাচক ভাবমূর্তির দেশ ইসরাইল, যুক্তরাষ্ট্রও নেমেছে ‘হুমকি রাষ্ট্র’ তালিকায়

ইত্তেহাদ নিউজ, অনলাইন ডেস্ক : বিশ্বের মানুষের কাছে বর্তমানে সবচেয়ে নেতিবাচকভাবে দেখা দেশ ইসরাইল। এর পরেই রয়েছে উত্তর কোরিয়া, আফগানিস্তান ও ইরান। বিপরীতে সবচেয়ে ইতিবাচক ভাবমূর্তির দেশগুলোর তালিকায় উঠে এসেছে সুইজারল্যান্ড, কানাডা, জাপান, সুইডেন ও ইতালির নাম। গণতন্ত্র ও বৈশ্বিক জনমত নিয়ে পরিচালিত নতুন আন্তর্জাতিক জরিপে এমন তথ্য উঠে এসেছে। ‘গ্লোবাল কান্ট্রি পারসেপশনস ২০২৬’ শীর্ষক এই সমীক্ষা পরিচালনা করেছে বৈশ্বিক জরিপ সংস্থা Nira Data। জরিপে বিশ্বের ১২৯টি দেশ ও তিনটি আন্তর্জাতিক সংস্থাকে নিয়ে ৪৬ হাজার ৬৬৭ জন উত্তরদাতা মতামত দিয়েছেন। একইসঙ্গে সংস্থাটির ‘গ্লোবাল ডেমোক্রেসি পারসেপশন ইনডেক্স ২০২৬’ জরিপে ৯৮টি দেশের ৯৪ হাজার ১৪৬ জন নাগরিক নিজ নিজ দেশে গণতন্ত্রের বাস্তব অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন। গাজা যুদ্ধের প্রভাব জরিপ বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, গাজায় দীর্ঘমেয়াদি সামরিক অভিযান, ব্যাপক বেসামরিক হতাহতের ঘটনা, খাদ্য ও মানবিক সহায়তায় অবরোধ, জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুতি এবং পশ্চিম তীরে সহিংসতা বৃদ্ধির কারণে আন্তর্জাতিক পরিসরে ইসরাইলের ভাবমূর্তি বড় ধরনের ধাক্কা খেয়েছে। মানবাধিকার সংস্থা, জাতিসংঘের বিশেষজ্ঞ এবং আন্তর্জাতিক আদালতগুলোও ইসরাইলের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইন ও যুদ্ধ আইনের গুরুতর লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলেছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া গাজা অভিযানের পর বিশ্ব জনমতের পরিবর্তন দ্রুত দৃশ্যমান হয়। এতে বলা হয়েছে, এ সময়ের মধ্যে ৭৪ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন, গাজার অধিকাংশ বেসামরিক অবকাঠামো ধ্বংস হয়েছে এবং প্রায় পুরো জনগোষ্ঠী বাস্তুচ্যুত অবস্থায় পড়েছে। জাতিসংঘের একাধিক বিশেষজ্ঞ ও গণহত্যা গবেষক পরিস্থিতিকে “গণহত্যাসদৃশ” হিসেবে বর্ণনা করেছেন। যুক্তরাষ্ট্রের ভাবমূর্তিতেও বড় পতন সমীক্ষায় সবচেয়ে আলোচিত বিষয়গুলোর একটি হলো যুক্তরাষ্ট্রের আন্তর্জাতিক গ্রহণযোগ্যতার নাটকীয় অবনতি। জরিপ অনুযায়ী, বৈশ্বিক জনমতের বিচারে যুক্তরাষ্ট্র এখন বিশ্বের সবচেয়ে নেতিবাচকভাবে দেখা পাঁচ দেশের একটি। এমনকি আন্তর্জাতিক গ্রহণযোগ্যতার সূচকে দেশটি রাশিয়া ও চীনেরও নিচে অবস্থান করছে। ২০২৪ সালে যুক্তরাষ্ট্রের নেট ইতিবাচক ধারণার স্কোর ছিল +২২ শতাংশ। কিন্তু ২০২৬ সালে তা নেমে এসেছে -১৬ শতাংশে। মাত্র দুই বছরে ৩৮ পয়েন্ট পতনকে গবেষকেরা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ পরিবর্তন হিসেবে দেখছেন। বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প-এর পররাষ্ট্রনীতি, ন্যাটো মিত্রদের সঙ্গে উত্তেজনা, আগ্রাসী শুল্কনীতি, গ্রিনল্যান্ড প্রশ্নে বিতর্কিত অবস্থান, ইউক্রেনকে সহায়তা কমানো এবং ইরানকে ঘিরে মার্কিন-ইসরাইল জোটের ভূমিকা বিশ্বজুড়ে নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া তৈরি করেছে। জরিপে অংশ নেওয়া বহু উত্তরদাতা যুক্তরাষ্ট্রকে এখন “বৈশ্বিক স্থিতিশীলতার জন্য ঝুঁকি” হিসেবে দেখছেন। এ তালিকায় রাশিয়া ও ইসরাইলের পরই যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান উঠে এসেছে। ‘দ্বৈত মানদণ্ডের’ অভিযোগ প্রতিবেদনে যুক্তরাষ্ট্রের ভাবমূর্তি ক্ষয়ের অন্যতম কারণ হিসেবে ইসরাইলের প্রতি ওয়াশিংটনের অব্যাহত সামরিক, কূটনৈতিক ও রাজনৈতিক সমর্থনের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, জাতিসংঘে ইসরাইলকে জবাবদিহি থেকে রক্ষা করা, যুদ্ধাপরাধের অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও অস্ত্র সহায়তা অব্যাহত রাখা এবং মানবাধিকার প্রশ্নে নির্বাচিত অবস্থান নেওয়ার কারণে বিশ্বজুড়ে মার্কিন নীতিকে “দ্বৈত মানদণ্ড” হিসেবে দেখা হচ্ছে। ফলে অনেকের চোখে যুক্তরাষ্ট্র এখন আর শুধু একটি বৈশ্বিক শক্তি নয়; বরং আন্তর্জাতিক অস্থিতিশীলতা ও সংঘাত রাজনীতিরও প্রতীক হয়ে উঠছে। গণতন্ত্র মূল্যায়নের নতুন ধারা ‘গ্লোবাল ডেমোক্রেসি পারসেপশন ইনডেক্স ২০২৬’ নিজেদের বিশ্বের সবচেয়ে বড় বার্ষিক গণতন্ত্র জরিপ হিসেবে দাবি করেছে। বিশেষজ্ঞভিত্তিক রেটিংয়ের পরিবর্তে এই জরিপে সাধারণ নাগরিকদের সরাসরি অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে গণতন্ত্রের মান মূল্যায়ন করা হয়। জরিপে যেসব সূচক বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে, সেগুলোর মধ্যে রয়েছে— নির্বাচনী ব্যবস্থার গ্রহণযোগ্যতা মতপ্রকাশের স্বাধীনতা রাজনৈতিক বহুত্ববাদ নাগরিক শিক্ষা ক্ষমতার ভারসাম্য আইনের শাসন সরকারের স্বচ্ছতা শান্তিপূর্ণ ক্ষমতা হস্তান্তর বিশ্লেষকদের মতে, বৈশ্বিক রাজনীতি, যুদ্ধ এবং মানবাধিকার সংকট এখন শুধু কূটনৈতিক সম্পর্ক নয়; বরং দেশগুলোর আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তি ও গণতান্ত্রিক গ্রহণযোগ্যতাকেও গভীরভাবে প্রভাবিত করছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ১৫, ২০২৬ 0
ক্ষেপণাস্ত্র ভাণ্ডার অক্ষত
ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা এখনও অক্ষত: মার্কিন গোয়েন্দা রিপোর্টে ট্রাম্প প্রশাসনের দাবি প্রশ্নে

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুদ্ধে ইরানের সামরিক শক্তি কার্যত ধ্বংস হয়ে গেছে বলে ট্রাম্প প্রশাসনের দাবি এবার মিথ্যা প্রমাণিত করেছে খোদ মার্কিন এক গোয়েন্দা সংস্থা। গোপনএই গোয়েন্দা সংস্থার মূল্যায়নে উঠে এসেছে সম্পূর্ণ ভিন্ন এক চিত্র।  বুধবার মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য নিউইয়র্ক টাইমস-এর এক প্রতিবেদনে এ তথ্য প্রকাশ করা হয়। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরান এখনও উল্লেখযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা ধরে রেখেছে এবং বহু ঘাঁটি পুনরায় সচল করতে সক্ষম হয়েছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, মে মাসের শুরুতে প্রস্তুত করা ওই গোয়েন্দা রিপোর্টে দেখা গেছে, কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি সংলগ্ন ৩৩টি ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটির মধ্যে ৩০টিই আবার কার্যক্রম শুরু করেছে। এছাড়া, দেশজুড়ে ইরানের ভূগর্ভস্থ ক্ষেপণাস্ত্র সংরক্ষণ ও উৎক্ষেপণ কেন্দ্রগুলোর প্রায় ৯০ শতাংশ বর্তমানে আংশিক বা পুরোপুরি কার্যকর অবস্থায় রয়েছে। গোয়েন্দা সূত্রগুলোর বরাতে প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ৭ এপ্রিল পর্যন্ত চলা সর্বশেষ মার্কিন-ইসরায়েলি হামলার আগে ইরানের যে পরিমাণ ক্ষেপণাস্ত্র ভাণ্ডার ও মোবাইল লঞ্চার ছিল তার প্রায় ৭০ শতাংশ এখনও অক্ষত রয়েছে।  তবে এই মূল্যায়ন সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে হোয়াইট হাউস। হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র অলিভিয়া ওয়ালেস বলেন, ‘ইরান তাদের সামরিক সক্ষমতার ক্ষয়ক্ষতি কাটিয়ে উঠেছে এমন ধারণা বাস্তবসম্মত নয়।’  দ্য নিউইয়র্ক টাইমস-এর উদ্ধৃতি অনুযায়ী, তিনি আরও বলেন, ‘ইরান বুঝতে পারছে যে তাদের বর্তমান বাস্তবতা টেকসই নয়।’ একইসঙ্গে তিনি মন্তব্য করেন, ‘যদি কেউ মনে করে ইরান তার সামরিক শক্তি পুরোপুরি পুনর্গঠন করেছে, তাহলে সে হয় বিভ্রান্ত, নয়তো আইআরজিসির মুখপাত্র।’  উল্লেখ্য, জেনেভায় কূটনৈতিক আলোচনা চলাকালে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে হামলা চালায় মার্কিন-ইসরায়েলি যৌথবাহিনী। ইরানের দাবি অনুযায়ী, ওই হামলায় দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিসহ বেশ কয়েকজন শীর্ষ কর্মকর্তা নিহত হন। এর জবাবে টানা ৩৯ দিনে ইসরায়েল ও মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে ১০০ দফা পাল্টা হামলা চালায় ইরান। পরে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় গত ৮ এপ্রিল যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়। তবে হরমুজ প্রণালি, ইউরেনিয়ামসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে দুই দেশের মধ্যে এখনও উত্তেজনা বিরাজ করছে। 

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ১৪, ২০২৬ 0
মার্কিন অস্ত্রভাণ্ডার
হরমুজ প্রণালিতে ফের শক্তিশালী ইরান: ৩০ ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটি সচল, নতুন তেল সংকটের শঙ্কা

ইত্তেহাদ নিউজ, অনলাইন ডেস্ক : বিশ্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক বাণিজ্যপথগুলোর একটি হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে আবারও বাড়ছে সামরিক উত্তেজনা। মার্কিন গোয়েন্দা তথ্য বলছে, প্রণালির আশপাশে থাকা ৩৩টি ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ কেন্দ্রের মধ্যে ৩০টিই পুনরায় সচল করেছে ইরান। শুধু তাই নয়, তেহরানের যুদ্ধপূর্ব অস্ত্রভাণ্ডারের প্রায় ৭০ শতাংশ এখনও অক্ষত রয়েছে। এই তথ্য সামনে আসার পর মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাত নতুন মাত্রা পেতে পারে বলে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। কারণ বিশ্বের মোট অপরিশোধিত তেলের প্রায় ২০ শতাংশ সরবরাহ হয় এই হরমুজ প্রণালি দিয়ে। ফলে এখানকার যেকোনো সামরিক অস্থিতিশীলতা সরাসরি আঘাত হানতে পারে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে। মার্কিন দাবির সঙ্গে গোয়েন্দা প্রতিবেদনের অসামঞ্জস্য মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউ ইয়র্ক টাইমস-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরান তাদের ভূগর্ভস্থ অস্ত্রভাণ্ডারের প্রায় ৯০ শতাংশ পুনরায় সক্রিয় করতে সক্ষম হয়েছে। এসব স্থাপনায় বিপুল সংখ্যক ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র মজুত রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। গোয়েন্দা কর্মকর্তারা যুক্তরাষ্ট্রের নীতিনির্ধারকদের সতর্ক করে বলেছেন, বর্তমান যুদ্ধবিরতি চুক্তি ভেঙে গেলে মার্কিন বাহিনী বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে। বিশেষ করে টমাহক ও প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্রের সীমিত মজুদ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে। এই তথ্য ট্রাম্প প্রশাসনের গত কয়েক সপ্তাহের বক্তব্যের সঙ্গে স্পষ্ট বিরোধ তৈরি করেছে। যুদ্ধের পঞ্চম দিনে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছিলেন, ইরানের নৌবাহিনী “পুরোপুরি ধ্বংস” হয়ে গেছে। পরে তিনি আরও বলেন, ইরানের বিমানবাহিনী, রাডার ব্যবস্থা ও ক্ষেপণাস্ত্র কারখানার বড় অংশ নিশ্চিহ্ন করা হয়েছে। একই সুরে বক্তব্য দিয়েছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও  এবং প্রতিরক্ষামন্ত্রীপিট হেগসেথ। তবে নতুন গোয়েন্দা মূল্যায়ন বলছে, বাস্তব পরিস্থিতি ভিন্ন। ১৩ হাজার হামলার পরও অক্ষত ইরানের বড় অংশের সামরিক সক্ষমতা মার্কিন ও মিত্র গোয়েন্দা সূত্রের বরাতে প্রকাশিত বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ৩৫ দিনে ১৩ হাজারের বেশি ইরানি সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালানো হলেও দেশটির ৭০ থেকে ৭৫ শতাংশ ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা এখনও টিকে আছে। এছাড়া মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ইরানের হাতে এখনও কয়েক হাজার ‘ওয়ান-ওয়ে অ্যাটাক ড্রোন’ রয়েছে, যা তাদের মোট ড্রোন সক্ষমতার প্রায় অর্ধেক। ইরানের ইসলামী বিপ্লবী গার্ড বাহিনী বাইসলামিক বিপ্লবী রক্ষী বাহিনী(আইআরজিসি)ও একই ধরনের দাবি করছে। বাহিনীটির এক মুখপাত্র সম্প্রতি বলেন, ইরান এখন পর্যন্ত তাদের “পুরোনো মজুদ” থেকেই মাত্র ৩ হাজার ৬০০ ড্রোন এবং ৭০০ ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করেছে। ইরানের এক সংসদ সদস্য তুরস্কের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা আনাদোলু এজেন্সি-কে বলেছেন, বিদ্যমান মজুদ দিয়েই “বছরের পর বছর যুদ্ধ চালানো সম্ভব”। হরমুজ প্রণালি কেন এত গুরুত্বপূর্ণ বিশ্বের জ্বালানি নিরাপত্তার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে হরমুজ প্রণালি। মধ্যপ্রাচ্যের প্রধান তেল উৎপাদনকারী দেশগুলোর রপ্তানির বড় অংশ এই নৌপথ ব্যবহার করে আন্তর্জাতিক বাজারে পৌঁছায়। যুদ্ধের আগে আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম প্রতি ব্যারেল ৬০ থেকে ৭৫ ডলারের মধ্যে থাকলেও বর্তমানে তা ১০০ থেকে ১১০ ডলারের ঘরে অবস্থান করছে। গত চার বছরের মধ্যে এটিই সর্বোচ্চ মূল্যস্তর। এই মূল্যবৃদ্ধির সবচেয়ে বড় প্রভাব পড়ছে আমদানিনির্ভর দেশগুলোর ওপর। ভারতের মোট তেল চাহিদার প্রায় ৮৯ শতাংশ আমদানি করতে হয়, যার ৪০ শতাংশ আসে হরমুজ প্রণালি দিয়ে। পরিস্থিতি সামাল দিতে নয়াদিল্লি ইতোমধ্যে আমদানির উৎস বহুমুখী করেছে। পাশাপাশি কেন্দ্রীয় কর কমিয়ে রাষ্ট্রায়ত্ত তেল বিপণন সংস্থাগুলোকে অতিরিক্ত ব্যয় সামাল দিতে সহায়তা করছে সরকার। চলতি সপ্তাহে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিi-এর সরকার দাবি করেছে, দেশে পর্যাপ্ত তেল ও গ্যাস মজুদ রয়েছে। যুদ্ধবিরতি ভাঙার আশঙ্কা তেহরানের সর্বশেষ শান্তি প্রস্তাব ইতোমধ্যে প্রত্যাখ্যান করেছে ওয়াশিংটন। ইরানের প্রস্তাবে যুদ্ধের ক্ষতিপূরণ, নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং হরমুজ প্রণালিতে ইরানের কর্তৃত্ব স্বীকারের দাবি ছিল। জবাবে ট্রাম্প বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র হয় একটি সমঝোতায় পৌঁছাবে, নতুবা ইরানকে “ধুলোয় মিশিয়ে দেওয়া হবে”। ওয়াশিংটন স্পষ্ট করে জানিয়েছে, ইরান পারমাণবিক কর্মসূচি ও সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম কর্মসূচি বন্ধ না করলে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের প্রশ্নই আসে না। ফলে পরিস্থিতি এখন দুটি সম্ভাবনার দিকে এগোচ্ছে— এক. দীর্ঘস্থায়ী জ্বালানি অচলাবস্থা, যা বৈশ্বিক অর্থনীতিকে আরও চাপে ফেলবে। দুই. নতুন করে সামরিক সংঘাত, যা আগের চেয়ে আরও বিস্তৃত ও ভয়াবহ হতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্র মজুদ নিয়েও বাড়ছে উদ্বেগ ট্রাম্প প্রশাসন যদিও ক্ষেপণাস্ত্র সংকটের খবর অস্বীকার করছে, তবে একাধিক গোয়েন্দা মূল্যায়নে বলা হচ্ছে, দীর্ঘমেয়াদি সংঘাতে মার্কিন অস্ত্রভাণ্ডারও চাপের মুখে পড়তে পারে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধ এবং তাইওয়ান ইস্যুতে চীনের বাড়তি তৎপরতার মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যে আরেকটি দীর্ঘ যুদ্ধ যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সক্ষমতার ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করবে। হংকংভিত্তিক সংবাদমাধ্যম সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট জানিয়েছে, বেইজিং এই সংঘাত গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। বিশেষ করে তাইওয়ান ইস্যুতে ভবিষ্যৎ সামরিক কৌশল নির্ধারণে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা ও আক্রমণ সক্ষমতার সীমাবদ্ধতা বিশ্লেষণ করছে চীন।

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ১৪, ২০২৬ 0
লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলে ইসরায়েলের ড্রোন হামলা
লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলে ইসরায়েলি ড্রোন হামলা: আরও দুই বাংলাদেশি কর্মীর মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত

ইত্তেহাদ নিউজ, অনলাইন ডেস্ক : লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলে ইসরায়েলি ড্রোন হামলায় আরও দুই বাংলাদেশি কর্মীর মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত করেছে বৈরুতের বাংলাদেশ দূতাবাস। নিখোঁজ দুই বাংলাদেশির একজনের মরদেহ উদ্ধার করা হলেও আরেকজন এখনও ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে থাকতে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। বুধবার (১৩ মে) দূতাবাস এক বিবৃতিতে জানায়, গত ১১ মে রাতে দক্ষিণ লেবাননের নাবাতিয়ে জেলার মাইফাদুন এলাকায় একটি আবাসিক ভবনে ইসরায়েলি ড্রোন হামলা চালানো হয়। ওই হামলায় সাতক্ষীরার শ্রী শুভ কুমার দাস এবং নরসিংদীর করিম মিয়ার মৃত্যুর তথ্য বিভিন্ন সূত্রে পাওয়া যায়। দূতাবাস বলছে, লেবানিজ আর্মি ও লেবানিজ রেডক্রসের সহায়তায় বুধবার ধ্বংসস্তূপ থেকে একটি অঙ্গবিচ্ছিন্ন মরদেহ উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। স্থানীয় হাসপাতালে নেওয়ার পর সেটি শ্রী শুভ কুমার দাসের মরদেহ বলে শনাক্ত করেন একই এলাকায় বসবাসকারী আরেক বাংলাদেশি প্রবাসী কর্মী রাজিব। মরদেহটি বর্তমানে নাবাতিয়ের নাযদ হাসপাতালে রাখা হয়েছে। অন্যদিকে একই ভবনে অবস্থানকারী বাংলাদেশি কর্মী করিম মিয়ার মরদেহ এখনও উদ্ধার করা যায়নি। স্থানীয় সূত্রের বরাতে দূতাবাস জানিয়েছে, তার মরদেহ ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে থাকতে পারে। তবে চলমান নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণে উদ্ধার অভিযান পুরোপুরি চালানো সম্ভব হয়নি। দূতাবাস জানিয়েছে, সম্ভাব্য দ্বিতীয় মরদেহ উদ্ধারে স্থানীয় প্রশাসন, লেবানিজ আর্মি এবং রেডক্রসের সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে। সংঘাতের মধ্যে ঝুঁকিতে প্রবাসীরা গত কয়েক মাস ধরে দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েল ও সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলা বেড়েছে। সীমান্তবর্তী এলাকাগুলোতে নিয়মিত বিমান হামলা ও ড্রোন আক্রমণের কারণে সেখানে অবস্থানরত বিদেশি শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। বাংলাদেশি প্রবাসী কর্মীদের একটি অংশ জীবিকার তাগিদে সংঘাতপ্রবণ এলাকাগুলোতেও কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। তবে সাম্প্রতিক হামলাগুলো নতুন করে তাদের নিরাপত্তা ও জরুরি সরিয়ে নেওয়ার সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছে। এর আগে গত সোমবারও দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি হামলায় দুই বাংলাদেশি কর্মী নিহত হওয়ার খবর প্রকাশিত হয়েছিল। সর্বশেষ দূতাবাসের নিশ্চিত তথ্যে নিহতের সংখ্যা আরও বেড়েছে। দূতাবাসের তৎপরতা বৈরুতের বাংলাদেশ দূতাবাস জানিয়েছে, নিহতদের পরিচয় নিশ্চিত করা, মরদেহ সংরক্ষণ এবং পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগের কাজ চলছে। একই সঙ্গে নিখোঁজদের বিষয়ে স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় অব্যাহত রয়েছে। কূটনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, চলমান সংঘাতের কারণে দক্ষিণ লেবাননে উদ্ধার তৎপরতা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। ফলে অনেক ক্ষেত্রেই হতাহতদের শনাক্ত ও উদ্ধারে সময় লাগছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ১৪, ২০২৬ 0
Popular post
ফারুকীর সম্পদ কমেছে, তিশার বেড়েছে দ্বিগুণেরও বেশি: সম্পদ বিবরণী ঘিরে আলোচনা

অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের সম্পদ বিবরণী প্রকাশের পর সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী ও তার স্ত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদের হিসাব নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। এক বছরের ব্যবধানে স্বামী ফারুকীর সম্পদ কমলেও স্ত্রী তিশার সম্পদ বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে প্রকাশিত তথ্যে উঠে এসেছে এই চিত্র। প্রকাশিত খতিয়ান অনুযায়ী, জনপ্রিয় অভিনেত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদ এক বছরে অভাবনীয় হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তিশার মোট সম্পদের পরিমাণ ছিল ১ কোটি ৪০ লাখ ৮১ হাজার ৮৬০ টাকা। ঠিক এক বছর পর, ২০২৫ সালের ৩০ জুন সেই সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ৯৯ লাখ ৮৯ হাজার ৫০১ টাকায়। অর্থাৎ মাত্র এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ বেড়েছে ১ কোটি ৫৯ লাখ ৭ হাজার ৬৪১ টাকা, যা আগের বছরের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি। অন্যদিকে সংস্কৃতি উপদেষ্টা ও নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর ক্ষেত্রে দেখা গেছে উল্টো চিত্র। এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ কমেছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তার মোট সম্পদ ছিল ২ কোটি ২৬ লাখ ৯২ হাজার ২৬ টাকা। ২০২৫ সালের ৩০ জুন তা কমে দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ১৫ লাখ ১৮ হাজার ২৬ টাকায়। হিসাব অনুযায়ী, এক বছরে তার সম্পদ কমেছে ১১ লাখ ৭৪ হাজার টাকা। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে গত মঙ্গলবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ প্রধান উপদেষ্টা, উপদেষ্টা ও সমমর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের পাশাপাশি তাদের স্ত্রী বা স্বামীর সম্পদ বিবরণী প্রকাশ করে। একই সময়ে স্বামী-স্ত্রীর সম্পদে এমন ভিন্নমুখী পরিবর্তন স্বাভাবিকভাবেই সাধারণ মানুষের কৌতূহলের জন্ম দিয়েছে। শোবিজ অঙ্গনের জনপ্রিয় দম্পতি হওয়ায় তাদের এই আয়-ব্যয়ের হিসাব এখন টক অব দ্য কান্ট্রি।

সংসার সামলাতে অটোরিকশা নিয়ে রাস্তায় নেমেছেন রোজিনা

বাসস : বাবা একজন তাঁত শ্রমিক। তিন বোন দুই ভাইয়ের মধ্যে সবার বড় রোজিনা। অভাব সংসার, তাই এক এতিম যুবকের সাথে বাবা-মা বিয়ে দেন তাকে। বিয়ের পর জন্ম হয় দুই কন্যা সন্তানের। অটোরিকশা চালিয়ে কোন রকম সংসার চালাচ্ছিলেন স্বামী রফিকুল ইসলাম। কিন্তু সড়ক দুর্ঘটনায় রফিকুলের এক চোখ সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যায়। আরেকটি চোখ আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ধীরে ধীরে ওই চোখের দৃষ্টি শক্তিও কমতে থাকে। ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে অটোরিকশা চালানো। সংসারের উপার্জনক্ষম মানুষটি অচল হয়ে পড়ায় চিকিৎসার খরচ, ঘর ভাড়া ও খাবারের পাশাপাশি মেয়েদের লেখাপড়ার খরচ চালানোই কঠিন হয়ে যায়। দিশেহারা হয়ে পরেন রোজিনা। এক পর্যায়ে মানুষের বাড়ি বাড়ি কাজ করে সংসার চালানোর চেস্টা করেন। কিন্তু সুবিধা করতে পারেন না। এমন পরিস্থিতিতে অটোরিকশা চালানোর সিদ্ধান্ত নেন তিনি। স্বামী রফিকুলের কাছেই হাতেখড়ি। গ্রামের স্কুলের মাঠে স্বামীর কাছেই অটোরিকশা চালানোর শিক্ষা নেন তিনি। পরে গ্রামের পথে নেমে পড়েন অটোরিকশা নিয়ে। ৫-৬ দিন এভাবে হাত পাকা করে একদিন টাঙ্গাইল শহরে চলে আসেন রোজিনা। এরপর শুরু করেন অটোরিক্সা চালানোর ব্যতিক্রমী জীবন সংগ্রাম। এখন টাঙ্গাইল পৌরসভায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার চালকদের মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা বেগম। জেলার বাসাইল উপজেলার আইসড়া গ্রামের বাসিন্দা রোজিনা টাঙ্গাইল পৌর শহরের এক প্রান্ত রাবনা বাইপাস থেকে আরেক প্রান্ত বেবিস্ট্যান্ডে যাত্রী আনা নেয়া করেন। যানজটের কারণে শহরে পুরুষ চালকরা যেখানে হিমসিম খায়, সেখানেই বিগত ৫ বছর ধরেই নির্বিঘেœ অটোরিকশা চালাচ্ছেন তিনি। টাঙ্গাইল পৌরসভা কার্যালয় সূত্রে জানা যাায়, টাঙ্গাইল শহরে চলাচলের জন্য ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক ও ৫ হাজার ব্যাটারিচালিত রিকশার অনুমতি (লাইসেন্স) দেওয়া হয়েছে। যানজট এড়াতে ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক জোড় ও বিজোড় সংখ্যায় দিনে দুই ভাগ করা হয়েছে। সকাল থেকে বেলা দুইটা পর্যন্ত এক ভাগ এবং বেলা দুইটা থেকে রাত পর্যন্ত আরেক ভাগের ইজিবাইক চলাচল করার নির্দেশনা দিয়েছে পৌর কর্তৃপক্ষ। কিন্তু রোজিনাকে দুই শিফটে চালানোর অনুমতি দিয়েছে পৌরসভা। সরেজমিনে দেখা যায়, নতুন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অটোরিকশা নিয়ে যাত্রী ডাকছেন রোজিনা। কলেজ গেট, পুরাতন বাসস্ট্যান্ড, ক্যাপসুল, নিরালা মোড়, বেবিস্ট্যান্ড সর্বত্রই যাত্রী আনানেয়া করেন তিনি। পুরাতন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অন্য অটো চালকদের দাঁড় করতে না দিলেও রোজিনাকে বাঁধা দেননা ট্রাফিক পুলিশ। বলতে গেলে সবাই তার প্রতি সহানুভুতিশীল। ট্রাফিক পুলিশসহ অন্য অটোচালকরাও তাকে সহযোগিতা করেন। রোজিনা বলেন, আমার অটোতে নারী যাত্রীরা খুব কম। তারা মনে করে আমার অটোতে উঠলে দুর্ঘটনায় পড়বে। কিন্তু আমি খুব সাবধানে অটো চালাই। দ্রুত গতিতেও না, আবার একেবারে ধীরগতিতেও না। এখন পর্যন্ত আমি কোন দুর্ঘটনার কবলে পড়ি নাই। শহরের পুরুষ অটোরিকশা চালকরা আমাকে অনেক সহযোগিতা করে। অটোচালক কাদের মিয়া বলেন, আমাদের শহরে কয়েক হাজার অটো চলাচল করে। তার মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। তাকে আমরা সব সময় সহযোগিতা করি। যাত্রী সাইদ মিয়া বলেন, আমি এ পর্যন্ত ৫-৬ বার রোজিনার অটোতে চড়েছি। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। অন্য পুরুষ অটো চালকের চেয়েও ভালো অটো চালান। নারী সংগঠক সেরাজুম মনিরা বলেন, তিনি অনেক দিন যাবত অটোরিকশা চালাচ্ছেন। আমি রোজিনাকে স্যালুট জানাই। একজন পুরুষের চেয়ে একজন নারী কোনো ভাবেই যে পিছিয়ে নেই, রোজিনা তা প্রমাণ করেছেন। রোজিনা বলেন, অটো চালানোর এই সিদ্ধান্তটি তার জন্য খুব সহজ ছিল না। তিনি বলেন, ৫ ও ১০ বছরের দুই মেয়েকে বাড়িতে রেখে অটোরিকশা নিয়ে সারাদিন রাস্তায় থাকতে হয়। তাদের ভালোভাবে দেখাশোনা করতে পারি না। কিন্তু কি করবো, অভাবের সংসার! এখন ঋণ নিয়ে একটু জমি কিনেছি। প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ণ প্রকল্পের অর্থায়নে প্রশাসন সেখানে ঘর তুলে দিয়েছে। শুরুতে যারা আমাকে নিয়ে ঠাট্টা করেছে এখন তারাই আমাকে সম্মান করেন। নারীরাও যে কিছু করতে পারে, তা প্রমাণ করেছি। আমার বড় মেয়ে আইসড়া উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়ে, ছোট মেয়ে পড়ে স্থানীয় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। মেয়েদের শিক্ষিত করতে হবে। ধার দেনা শোধ করতে হবে। তাই থেমে গেলো চলবে না। আমি অটোরিকশা চালিয়েই দুই সন্তানকে মানুষ করতে চাই।’ ঘারিন্দা ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য বাবুল সরকার বলেন, সরকার রোজিনাকে একটি ঘর নির্মাণ করে দিয়েছে। শুরুতে যারা তাকে নিয়ে নানান কথা বলতো, এখন তার সংকল্প ও মানষিক দৃঢ়তা দেখে থেমে গেছে। আমরা তাকে নিয়ে গর্ব করি। টাঙ্গাইলের ট্রাফিক ইন্সপেক্টর (প্রশাসন) দেলোয়ার হোসেন বলেন, শহরের একমাত্র নারী চালক রোজিনাকে কেউ যেন বিরক্ত করতে না পারে সেদিকে সব সময় নজর রাখে ট্রাফিক পুলিশ। আমরা তাকে সব সময় সহযোগিতা করে আসছি। টাঙ্গাইলের সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক শাহ আলম বলেন, বিষয়টি এখন জানতে পারলাম। ওই নারী এখনো পর্যন্ত আমাদের কাছে আসেন নাই। যদি আমাদের কাছে এসে আবেদন করেন অবশ্যই তাকে আমরা সহযেগিতা করবো, তার পাশে দাঁড়াবো।

বাংলাদেশে ঐতিহাসিক নির্বাচন: বিএনপি এগিয়ে, জামায়াতের উত্থান ও তরুণ ভোটারদের প্রভাব

২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশে আজ এক ঐতিহাসিক ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ২০০৮ সালের পর এই প্রথম একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হতে যাচ্ছে যেখানে দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগ রাজনৈতিক মানচিত্র থেকে কার্যত অনুপস্থিত। বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক জরিপ বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০০ আসনের মধ্যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) কার্যকর সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে যাচ্ছে। তবে ভোটের ব্যবধান এবং কিছু সমীকরণ নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। নির্বাচনের সবচেয়ে বড় নিয়ামক হয়ে দাঁড়িয়েছে আওয়ামী লীগের বিশাল ভোটব্যাংক। দলটির নিয়মিত প্রায় ৪ কোটি ভোটার এখন নতুন রাজনৈতিক আশ্রয় খুঁজছেন। সিআরএফ বা বিইপিওএস জরিপ বলছে, এই ভোটারদের প্রায় অর্ধেক বিএনপির দিকে ঝুঁকেছে, যা দলটিকে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতার পথে এগিয়ে দিচ্ছে। অন্যদিকে, প্রায় ৩০ শতাংশ আওয়ামী ভোটার জামায়াতে ইসলামীকে বেছে নিতে পারেন বলে আভাস পাওয়া যাচ্ছে। এছাড়া বাংলাদেশের বিদ্যমান নির্বাচনী ব্যবস্থার কারণে দেশজুড়ে সুষম জনসমর্থন থাকা বিএনপি আসন জয়ের ক্ষেত্রে জামায়াতের তুলনায় সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। তবে বিএনপির এই সম্ভাব্য জয়ের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও বিদ্রোহী প্রার্থীরা। প্রায় ৭৯টি নির্বাচনী এলাকায় দলের মনোনয়ন না পাওয়া ৯২ জন প্রভাবশালী নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, যা বিএনপির ১৫ থেকে ৩০টি আসন কমিয়ে দিতে পারে। অন্যদিকে, তরুণ ভোটার বা ‘জেন-জি’ প্রজন্মের বিশাল সমর্থন জামায়াতে ইসলামীর শক্তির উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেশের ৪৪ শতাংশ ভোটারই তরুণ, যাদের বড় একটি অংশ প্রথমবার ভোট দিচ্ছেন। এই তরুণরা যদি দলবেঁধে কেন্দ্রে উপস্থিত হন, তবে নির্বাচনী ফলে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। সবশেষে, প্রায় ১৭ থেকে ৩৫ শতাংশ দোদুল্যমান ভোটার এবং তাদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করবে আগামীর সরকার কতটা শক্তিশালী হবে। দ্য নিউইয়র্ক এডিটোরিয়ালের মূল পূর্বাভাস, তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি প্রায় ১৮৫টি আসনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করতে পারে এবং জামায়াতে ইসলামী ৮০টির মতো আসন পেয়ে প্রধান বিরোধী দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারে। তবে বিদ্রোহী প্রার্থীদের প্রভাব এবং তরুণ ভোটারদের উপস্থিতির ওপর ভিত্তি করে আসন সংখ্যায় বড় ধরনের হেরফের হওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

গাজায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা ট্রাম্প প্রশাসনে

ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। ৩৫০ একরের ঘাঁটিটিতে সামরিক বাহিনীর পাঁচ হাজার সদস্য থাকতে পারবে। গাজার ‘বোর্ড অব পিস’র নথি পর্যালোচনা করে এ তথ্য জানিয়েছে দ্য গার্ডিয়ান। প্রতিবেদনে ব্রিটিশ সংবাদ মাধ্যমটি জানিয়েছে, বোর্ড অব পিসে গাজাকে নিরাপদ করার জন্য ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যাবিলাইজেশন ফোর্স (আইএসএফ) নামে একটি আন্তর্জাতিক বাহিনী মোতায়েনের কথা বলা হয়েছে। যে স্থানটি ঘাঁটি করার জন্য বিবেচনা করা হচ্ছে সেখানে আইএসএফের সদস্যরা থাকবে। বোর্ড অব পিসের প্রধান হবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আর সংগঠনটির আংশিক নেতৃত্ব দেবেন ট্রাম্পের জামাতা জ্যারার্ড কুশনার।দ্য গার্ডিয়ান বোর্ড অব পিসের নথি পর্যালোচনা করে জানায়, ধাপে ধাপে একটি সামরিক ঘাঁটি নির্মাণ করা হবে। সবকিছু শেষ হলে ঘাঁটিটি ১৫ লাখ ১৭ হাজার ৫৭৫ বর্গমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত হবে। ঘাঁটিটির চারপাশে ট্রেইলার সংযুক্ত ২৬টি সাঁজোয়া নজরদারি টাওয়ার থাকবে। এছাড়া একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, বাংকার ও অস্ত্র রাখার গুদাম থাকবে। পুরো ঘাঁটিটি কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে ঘিরে রাখা হবে। সামরিক ঘাঁটি নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে দক্ষিণ গাজার একটি শুষ্ক সমতলভূমিতে। সেখানে ইসরায়েলি হামলার চিহ্ন রয়েছে। ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে বিভিন্ন ধাতবের ধ্বংসাবশেষ।  ওই এলাকার ভিডিও পর্যালোচনা করেছে দ্য গার্ডিয়ান। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, ঘাঁটি নির্মাণের জন্য টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে। যুদ্ধক্ষেত্রে কাজের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন আন্তর্জাতিক নির্মাণ কোম্পানিগুলোর একটি ছোট দলকে ইতোমধ্যেই এলাকাটি দেখানো হয়েছে। ওই দলটি দরপত্রে অংশ নিতে আগ্রহী।    ইন্দোনেশিয়া সরকার গাজায় আট হাজার সেনা সদস্য পাঠানোর জন্য প্রস্তাব দিয়েছে। বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটন ডিসিতে বোর্ড অব পিসের অনানুষ্ঠানিক বৈঠকে ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্টের অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। এছাড়া দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার আরও তিন নেতার ওই বৈঠকে অংশ নেবেন বলে জানা গেছে। জাতিসংঘের নিরাপত্তা কাউন্সিল গাজার সাময়িক স্থিতিশীলতার জন্য অস্থায়ীভাবে সামরিক বাহিনী মোতায়েনের অনুমোদন দিয়েছে। নিরাপত্তা কাউন্সিলই বোর্ড অব পিসের মূল হোতা। গাজার সীমান্ত ও শান্তি প্রণয়নে কাজ করবে আইএসএফ। এছাড়া বেসামরিকদের সুরক্ষা এবং ফিলিস্তিনি পুলিশ বাহিনীকে প্রশিক্ষণ ও সহায়তা দেবে তারা। যদি গাজায় ফের সংঘর্ষ হয়, ইসরায়েল বোমা হামলা চালায় অথবা হামাস হামলা চালায় সেক্ষেত্রে আইএসএফ কি করবে তা এখনও স্পষ্ট নয়। গাজা পুনর্গঠনে ইসরায়েল হামাসকে নিরস্ত্রীকরণের যে শর্ত দিয়েছে সেটির জন্য আইএসএফ কাজ করবে কিনা তাও স্পষ্ট না। ইতোমধ্যে বোর্ড অব পিসে ২০ এর অধিক দেশ যোগ দিয়েছে। তবে, এখনও অনেক পরাশক্তি এর থেকে দূরে রয়েছে। জাতিসংঘের অনুমোদন নিয়ে প্রতিষ্ঠিত হলেও ধারণা করা হচ্ছে, সংগঠনটির স্থায়ী নেতৃত্ব ও নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে। রুটজার্স বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক আদিল হক বলেন, “বোর্ড অব পিস এক ধরনের আইনি কল্পসত্তা। নামমাত্রভাবে এর নিজস্ব আন্তর্জাতিক আইনগত সত্তা রয়েছে, যা জাতিসংঘ ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে আলাদা। কিন্তু বাস্তবে এটি যুক্তরাষ্ট্রের ইচ্ছামতো ব্যবহারের জন্য একটি ফাঁপা খোলসমাত্র।” বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গাজা পুনর্গঠনে যে অর্থায়ন ও শাসন কাঠামো হচ্ছে তা অস্বচ্ছ। কয়েকজন ঠিকাদার গার্ডিয়ানকে জানান, গাজায় কাজ করার জন্য মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে তাদের প্রায়শ আলোচনা সরকারি ইমেলের বদলে সিগন্যালের মাধ্যমে করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রের তথ্য মতে, ঘাঁটি নির্মাণের সিদ্ধান্তটি বোর্ড অব পিসের। এতে সহায়তা করছে মার্কিন কর্মকর্তারা। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ঘাঁটিতে তৈরি বাংকার নেটওয়ার্কের মতোন কাজ করবে। প্রতিটি বাংকারের ২৪ মিটারের হবে। উচ্চতা থাকবে আড়াই মিটার। এগুলো এমনভাবে করা হবে যেন সেনা সদস্যরা আশ্রয় নিতে পারে। স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসের গাজায় সুড়ঙ্গ নেটওয়ার্ক বা টানেল রয়েছে। সেগুলোর আদলে নেটওয়ার্ক করতে চাওয়া হচ্ছে। পিস অব বোর্ডের নথি পর্যালোচনা করে এমন দাবি করছে গার্ডিয়ান। সংবাদ মাধ্যমটি বলছে,  স্থানটির ভূ-ভৌত জরিপ পরিচালনা করবে ঠিকাদাররা। নথির এক অংশে ‘হিউম্যান রেমিয়েনস প্রোটোকল’র কথা বলা হয়েছে। এর মানে দাঁড়ায়, সন্দেহভাজন মানব অবশিষ্ট বা সাংস্কৃতিক নিদর্শন পাওয়া গেলে অবিলম্বে সেই এলাকায় সব কাজ বন্ধ করতে হবে। চুক্তি কর্মকর্তাকে দিকনির্দেশনার জন্য অবিলম্বে জানাতে হবে। গাজা সিভিল ডিফেন্সের ধারণা, গাজার ধ্বংসস্তূপের নিচে ১০ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনির মরদেহ রয়েছে। ঘাঁটির জন্য যে স্থানটি বিবেচিত করা হচ্ছে সেটির মালিক কে তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে, দক্ষিণ গাজার বেশিরভাগ অংশ  বর্তমানে ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণে। জাতিসংঘের অনুমান, যুদ্ধ চলাকালীন ১৯ লাখ ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত হয়েছে। ফিলিস্তিনের জমিতে সরকারের অনুমতি না নিয়ে সামরিক ঘাঁটি স্থাপনকে দখল হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন ফিলিস্তিনি-কানাডিয়ান আইনজীবী এবং প্রাক্তন শান্তি আলোচক দিয়ানা বুট্টু। তিনি প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়ে বলেন, “কার অনুমতিতে তারা সামরিক ঘাঁটি স্থাপন করবে।” বিষয়টি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা বোর্ড অব পিসের কথা টানেন। ট্রাম্প প্রশাসনের একজন কর্মকর্তা সামরিক ঘাঁটির চুক্তি নিয়ে আলোচনা করতে অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, “যেমনটি প্রেসিডেন্ট বলেছেন, কোনও মার্কিন সেনা স্থলভাগে যাবে না। আমরা লিক হওয়া নথি নিয়ে আলোচনা করবো না।”

কুড়িগ্রামের তাজু ভাই ২.০: ‘সরকারি রেটে জিলাপি’ প্রশ্নে ভাইরাল এক নির্মাণশ্রমিকের গল্প

বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের প্রত্যন্ত চরাঞ্চল থেকে উঠে এসে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার কেন্দ্রে এখন তাইজুল ইসলাম, যিনি অনলাইনে পরিচিত ‘তাজু ভাই ২.০’ নামে। মাত্র একটি ভিডিও—যেখানে তিনি এক দোকানিকে প্রশ্ন করেন, “জিলাপি আজকে কত করে বেচতেছেন সরকারি রেটে?”—এই সরল উপস্থাপনাই তাকে রাতারাতি ভাইরাল করে তোলে।  কয়েক ঘণ্টায় ফলোয়ার লাখ ছাড়াল রোববার রাত পর্যন্ত তার ফেসবুক অনুসারী ছিল প্রায় ৩৫ হাজার। কিন্তু সোমবার সন্ধ্যা থেকে রাতের মধ্যেই তা বেড়ে এক লাখের বেশি হয়ে যায়। ভাইরাল ভিডিওটি ইতোমধ্যে প্রায় ৫০ থেকে ৫৫ লাখবার দেখা হয়েছে।  কী ছিল সেই ভিডিওতে? ভিডিওতে দেখা যায়, কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীর নারায়ণপুর বাজারে দাঁড়িয়ে স্থানীয় ভাষায় তিনি জিলাপির দাম জানতে চান। তার কথাগুলো ছিল একেবারেই সহজ ও গ্রাম্য ভঙ্গিতে— “সাদাডা কত, লালডা কত? সরকারি রেটে বেচতেছেন?” এই সরল প্রশ্নই সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।  কোথা থেকে উঠে এলেন তাজু ভাই? কুড়িগ্রাম জেলার নাগেশ্বরী উপজেলার নারায়ণপুর ইউনিয়নের একটি দুর্গম গ্রামে জন্ম তার। ব্রহ্মপুত্র নদবেষ্টিত এই অঞ্চলে পৌঁছাতে এখনও কয়েকটি নৌঘাট পার হতে হয়। দারিদ্র্যের কারণে কখনো স্কুলে যাওয়া হয়নি তার। পেশায় তিনি একজন নির্মাণশ্রমিকের সহকারী (হেলপার)। কাজের ফাঁকে ঢাকায় থাকাকালীন মোবাইল ফোনে ভিডিও তৈরি করাই তার শখ। ব্যক্তিগত সংগ্রাম তাইজুল ইসলামের পরিবারে ছয় ভাই-বোন। তিনি সবার বড়। তার বাবা-মা দুজনই শ্রবণপ্রতিবন্ধী। পরিবার চালাতে তাকে ছোটবেলা থেকেই সংগ্রাম করতে হয়েছে। তিনি বলেন, “পরিবারের কষ্ট ভুলতেই ভিডিও করি। আমি সাংবাদিক না, কিন্তু আমাদের এলাকায় কেউ আসে না—তাই নিজেরাই ভিডিও বানাই।” ভাইরাল হওয়ার পেছনের উদ্দেশ্য তাইজুলের দাবি, তার ভিডিও শুধুই বিনোদনের জন্য নয়। তিনি চান তার এলাকার অবহেলিত মানুষের কথা প্রশাসনের নজরে আসুক। “আমি চাই চরের মানুষের উন্নয়ন হোক,”—বলছেন তিনি।  মিশ্র প্রতিক্রিয়া ভিডিওটি নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে দুই ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ তার সরলতা ও বাস্তবতা তুলে ধরার চেষ্টা প্রশংসা করছেন আবার কেউ তাকে নিয়ে ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ করছেন তবে এসব সমালোচনায় তিনি বিচলিত নন।

অর্থনীতি

ইসলামী ব্যাংক,

ইসলামী ব্যাংকে আস্থা সংকট কেন কাটছে না?: দেশের বৃহত্তম শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংককে ঘিরে নতুন প্রশ্ন

নিজস্ব প্রতিবেদক জুন ২২, ২০২৬ 0




অপরাধ

ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো

ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকোর বিরুদ্ধে ৩০ বিলিয়ন ডলার জালিয়াতি ও অর্থপাচার অভিযোগে দুদকের অনুসন্ধান

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ২৪, ২০২৬ 0




কৃষি ও জলবায়ু

ধান

শেরপুরে বোরো ধানের দাম কমে লোকসানে কৃষকরা, উৎপাদন খরচও উঠছে না

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ৬, ২০২৬ 0