Brand logo light

সংঘর্ষ

নোয়াখালী সদরে মাইকে ঘোষণা দিয়ে আ.লীগের হামলা ছাত্রদলের ওপর, মোটরসাইকেলে আগুন

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন :  নোয়াখালীর সদর উপজেলায় ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে আওয়ামী লীগ ও তাদের সমর্থকদের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ সময় ছাত্রদলের একটি মোটরসাইকেলে আগুন দেওয়া হয়। সংঘর্ষে নোয়াখালী শহর শ্রমিক দলের সাংগঠনিক সম্পাদক হৃদয়সহ ছাত্রদল ও যুবদলের অন্তত ছয়জন আহত হয়েছেন। শনিবার (৬ জুন) সন্ধ্যায় উপজেলার কালাদরাপ ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের পশ্চিম শুল্লুকিয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলাকায় বিপুল সংখ্যক আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার বিকেলে উপজেলার নোয়ান্নই ইউনিয়নের বাঁধেরহাট এলাকায় ছাত্রলীগের উদ্যোগে একটি বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। এর প্রতিবাদে শনিবার বিকেলে জেলা ছাত্রদলের সভাপতি এন বি এস রাসেলের নেতৃত্বে একই এলাকায় বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ করে ছাত্রদল। সমাবেশ চলাকালে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা খবর পান যে, আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা কাফনের কাপড় মাথায় বেঁধে কালাদরাপ ইউনিয়নে একটি মিছিল করেছেন। পরে কর্মসূচি শেষ করে মোটরসাইকেল বহর নিয়ে ফেরার পথে তারা কালাদরাপ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এবং সাবেক ইউনিয়ন ছাত্রলীগ সভাপতি শাহাদাত হোসেন সেলিমকে তার বাড়ির পাশের একটি দোকানে দেখতে পান। এ সময় মিছিলকে কেন্দ্র করে চেয়ারম্যানের সঙ্গে ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের বাগবিতণ্ডা হয় বলে স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, পরে মসজিদের মাইকে চেয়ারম্যানের ওপর হামলার খবর প্রচার হলে আওয়ামী লীগ ও চেয়ারম্যানের সমর্থকেরা ঘটনাস্থলে জড়ো হন। একপর্যায়ে উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়। সংঘর্ষে ইটপাটকেল নিক্ষেপের পাশাপাশি ছাত্রদলের একটি মোটরসাইকেলে আগুন দেওয়া হয়। এ ঘটনায় শ্রমিকদল নেতা হৃদয়সহ অন্তত ছয়জন আহত হন। স্থানীয় সূত্র আরও জানায়, রাত পৌনে ৮টার দিকে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা পুনরায় সংঘবদ্ধ হয়ে শাহাদাত হোসেন সেলিমের একটি ব্যক্তিগত কার্যালয়ে অগ্নিসংযোগ করেন। জেলা ছাত্রদলের সভাপতি এন বি এস রাসেল অভিযোগ করেন, চেয়ারম্যানের বাড়ির পাশে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা মিছিলের জন্য জড়ো হয়েছিল। খবর পেয়ে ওয়ার্ড ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা সেখানে গেলে তাদের ওপর অতর্কিত হামলা চালানো হয়। পরে বাঁধেরহাটের কর্মসূচি শেষ করে তিনি ঘটনাস্থলে গিয়ে নেতাকর্মীদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেন। হামলায় ছাত্রদলের ছয়জন নেতাকর্মী আহত হয়েছেন এবং একটি মোটরসাইকেলে আগুন দেওয়া হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি। অন্যদিকে, সুধারাম মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ তৌহিদুল ইসলাম বলেন, সংঘর্ষ, মোটরসাইকেলে অগ্নিসংযোগ এবং একটি অফিসে আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ঘটনাস্থলে পুলিশ ও র‍্যাব সদস্যরা অবস্থান করছেন। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা এলাকায় নজরদারি অব্যাহত রেখেছেন। ঘটনার বিষয়ে তদন্ত চলছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক জুন ৭, ২০২৬ 0
বাকলিয়ায় শিশু ধর্ষণ
চট্টগ্রামের বাকলিয়ায় শিশু ধর্ষণের অভিযোগ: অভিযুক্তকে ঘিরে রাতভর রণক্ষেত্র, প্রশ্নে জনরোষ ও আইনশৃঙ্খলা

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : চট্টগ্রাম নগরীর বাকলিয়া থানার চেয়ারম্যানঘাটা এলাকায় চার বছরের এক শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগ ঘিরে কয়েক ঘণ্টার মধ্যে পুরো এলাকা পরিণত হয় সংঘর্ষ, আগুন ও আতঙ্কের নগরীতে। একদিকে শিশুটির প্রতি নির্মম নির্যাতনের অভিযোগে ক্ষুব্ধ জনতা, অন্যদিকে অভিযুক্তকে নিরাপদে সরিয়ে নিতে পুলিশের মরিয়া প্রচেষ্টা—এই দুইয়ের সংঘাতে বৃহস্পতিবার বিকেল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত চলে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া, ইট-পাটকেল নিক্ষেপ, যানবাহন ভাঙচুর এবং অগ্নিসংযোগ। ঘটনায় আহত হয়েছেন অন্তত ১২ জন পুলিশ সদস্য, পাঁচজন সাংবাদিক এবং আরও বেশ কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দা। পুলিশের একটি গাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। রাতভর অচল হয়ে পড়ে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের একটি অংশ। অভিযোগ যেভাবে বিস্ফোরণে রূপ নেয় স্থানীয় সূত্র ও পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার বিকেলে শিশুটির মা পোশাক কারখানায় এবং বাবা রিকশা চালাতে বাইরে ছিলেন। সেই সুযোগে একই এলাকার ডেকোরেশন কর্মচারী মনির হোসেন শিশুটিকে একা পেয়ে ধর্ষণ করে বলে অভিযোগ ওঠে। ঘটনা প্রকাশ্যে আসতেই এলাকায় তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয়রা অভিযুক্তকে খুঁজতে শুরু করেন। একপর্যায়ে একটি ভবনে তার অবস্থানের খবর ছড়িয়ে পড়লে শত শত মানুষ সেখানে জড়ো হয়। ভবনের গেটে তালা ঝুলিয়ে দিলে বিক্ষুব্ধ জনতা কয়েক দফা গেট ভাঙার চেষ্টা চালায়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে শিশুটিকে উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠায়। কিন্তু ততক্ষণে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে যেতে শুরু করে। পুলিশের গাড়ি ঘিরে ছয় ঘণ্টার অবরোধ অভিযুক্ত মনির হোসেনকে আটক করে থানায় নেওয়ার সময় পুলিশের গাড়ি ঘিরে ফেলে জনতা। বিকেল ৪টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত কার্যত অবরুদ্ধ অবস্থায় পড়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বিক্ষোভকারীদের মূল দাবি ছিল অভিযুক্তকে জনতার হাতে তুলে দেওয়া। পুলিশ কাঁদানে গ্যাস, সাউন্ড গ্রেনেড এবং ফাঁকা গুলি ছুড়েও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পারেনি। রাত ১০টার দিকে এলাকায় বিদ্যুৎ চলে গেলে পুলিশ কৌশল নেয়। অভিযুক্তকে পুলিশের পোশাক পরিয়ে গোপনে ঘটনাস্থল থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়। তবে বিষয়টি টের পেয়ে ক্ষুব্ধ জনতা পুলিশের একটি গাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয়। কয়েকটি গাড়ি ভাঙচুরও করা হয়। সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে মহাসড়কে অভিযুক্তকে থানায় নেওয়ার পরও উত্তেজনা থামেনি। পুলিশের পিছু নিয়ে বিপুলসংখ্যক মানুষ বাকলিয়া এলাকায় চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কে অবস্থান নেয়। রাত সাড়ে ১০টার পর পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে। বিক্ষোভকারীরা মহাসড়ক অবরোধ করে টায়ার জ্বালিয়ে আগুন দেয় এবং যানবাহনে হামলা চালায়। পুলিশকে লক্ষ্য করে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করা হয়। পরে এপিবিএন ও র‌্যাব সদস্যরা যোগ দিলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী টিয়ার শেল, সাউন্ড গ্রেনেড ও রাবার বুলেট ছুড়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করে। রাত ১টার পর ধীরে ধীরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়। পুলিশ বলছে ‘দুষ্কৃতকারীদের’ বিরুদ্ধে মামলা হবে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের সহকারী কমিশনার (জনসংযোগ) আমিনুর রশিদ জানিয়েছেন, সংঘর্ষে ১০ থেকে ১২ জন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। কয়েকজনকে হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে হয়েছে। তিনি বলেন, পুলিশের দায়িত্ব পালনে বাধা দেওয়া হয়েছে, সরকারি গাড়িতে অগ্নিসংযোগ ও ভাঙচুর হয়েছে। এসব ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। বাকলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ সোলাইমান জানান, ধর্ষণের অভিযোগে শুক্রবার শিশুটির বাবা বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেছেন। অভিযুক্ত মনির হোসেনকে আদালতে পাঠানো হলে তিনি ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। অভিযুক্ত মনির হোসেন কে? পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, মনির হোসেনের বাড়ি কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার ঘারঘাটা এলাকায়। তিনি নগরীর বাকলিয়ার মিয়াখান নগরে ভাড়া থাকতেন এবং পেশায় ডেকোরেশন কর্মচারী। হাসপাতালে শিশুটিকে দেখতে রাজনৈতিক নেতারা শুক্রবার চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে গিয়ে শিশুটির খোঁজ নেন নগর জামায়াত নেতারা। চট্টগ্রাম মহানগর জামায়াতের আমির মুহাম্মদ নজরুল ইসলাম বলেন, শিশুটি এখনো ভয় ও মানসিক ট্রমার মধ্যে রয়েছে। তিনি এ ঘটনায় দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। একই দাবিতে নগরীর বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভ মিছিল করে ইসলামী ছাত্রশিবির ও জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। প্রশাসনের সামনে বড় প্রশ্ন ঘটনার পর চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা চমেক হাসপাতাল পরিদর্শনে গিয়ে বলেন, শুধু প্রতিবাদ করলেই হবে না, অপরাধ ঘটার আগেই সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। তার বক্তব্যে স্পষ্ট হয়েছে, প্রশাসন এখন শুধু একটি ধর্ষণ মামলাই নয়, বরং জনরোষ, বিচারহীনতার আশঙ্কা এবং আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার প্রবণতা—সবকিছুর সম্মিলিত চাপের মুখে রয়েছে। এই ঘটনা নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে—শিশু নির্যাতনের ঘটনায় জনতার ক্ষোভ কেন এত দ্রুত বিস্ফোরিত হচ্ছে? আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতি অনাস্থা কতটা গভীর হলে অভিযুক্তকে ছিনিয়ে নেওয়ার জন্য হাজারো মানুষ রাস্তায় নামে? বাকলিয়ার রাতভর সহিংসতা শুধু একটি অপরাধের প্রতিক্রিয়া নয়; এটি বিচারপ্রক্রিয়া, সামাজিক নিরাপত্তা এবং জনআস্থার সংকটেরও এক নির্মম প্রতিচ্ছবি।

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ২৩, ২০২৬ 0
কাঁঠালিয়ায় জমি বিরোধে সংঘর্ষ,
কাঁঠালিয়ায় জমি বিরোধে সংঘর্ষ, বিএনপি নেতা আহত

মো. আমিনুল ইসলাম,ইত্তেহাদ  নিউজ:  ঝালকাঠির কাঁঠালিয়া উপজেলায় জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে এক বিএনপি নেতা আহত হয়েছেন। স্থানীয় সূত্র ও ভুক্তভোগী পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, উপজেলার হেতালবুনিয়া গ্রামে মো. শাহজাহান মাষ্টারের সঙ্গে মো. সিদ্দিক উকিল ও ফুল মিয়া উকিলের দীর্ঘদিন ধরে জমি নিয়ে বিরোধ চলছিল। অভিযোগ রয়েছে, বিরোধীয় সম্পত্তি জোরপূর্বক দখলের চেষ্টা করে আসছিল প্রতিপক্ষ। স্থানীয়ভাবে একাধিকবার শালিশের মাধ্যমে বিষয়টি মীমাংসার উদ্যোগ নেওয়া হলেও তা সফল হয়নি। সর্বশেষ ২১ এপ্রিল চূড়ান্ত মীমাংসার তারিখ নির্ধারণ করা হলেও তার আগেই নতুন করে সহিংসতার ঘটনা ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে জানা যায়, গত ১৬ এপ্রিল সকালে শাহজাহান মাষ্টার নিজ বাগান থেকে কলা নিয়ে বাড়ি ফেরার পথে প্রতিপক্ষের হামলার শিকার হন। তাকে রক্ষা করতে গেলে কাঁঠালিয়া সদর ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক কবির মৃধা গুরুতর আহত হন। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। তিনি বর্তমানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। স্থানীয় বিএনপি নেতা আসাদুর রহমান বলেন, “দীর্ঘদিন ধরে এই জমি নিয়ে বিরোধ চলছে। শালিশের সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করে বারবার সহিংসতা ঘটানো হচ্ছে।” কাঁঠালিয়া সদর ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মো. জাকির হোসেন জানান, উভয় পক্ষের মধ্যে বিরোধ রয়েছে এবং শালিশ প্রক্রিয়া চলমান। এ বিষয়ে কাঁঠালিয়া থানার ওসি আবু নাসের রায়হান বলেন, অভিযোগ পাওয়া গেছে এবং তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ১৯, ২০২৬ 0
ঝিনাইদহের শৈলকুপা
ঝিনাইদহে ভিজিএফ কার্ড ভাগাভাগি নিয়ে বিএনপির দুই পক্ষের সংঘর্ষ, আহত -৫০

ঝিনাইদহের শৈলকুপায় ভিজিএফ’র কার্ড ভাগাভাগি নিয়ে বিএনপির দুই পক্ষের সংঘর্ষ হয়েছে। এতে উভয়পক্ষের অন্তত ৫০ জন আহত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) রাতে উপজেলার মির্জাপুর ইউনিয়নের চরগোলকনগর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। স্থানীয়রা জানায়, পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষ্যে মির্জাপুর ইউনিয়নের অসহায় দরিদ্রদের মাঝে ভিজিএফ’র চাল দেওয়ার জন্য ইউনিয়ন পরিষদ থেকে কার্ড ইস্যু করা হয়। বৃহস্পতিবার সকালে ওই গ্রামের ওয়ার্ড বিএনপি নেতা সায়েম আলীর কাছে কার্ড চান যুবদল নেতা শামীম হোসেন লস্কর। এ নিয়ে দু’জনের মাঝে কথা কাটাকাটি হয়। এ নিয়ে সন্ধ্যায় স্থানীয় গ্রাম্য মাতব্বররা সালিশে বসে। এরই এক পর্যায়ে সায়েম আলী ও শামীম হোসেনের সমর্থকর দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। রাত ৮ টা থেকে সাড়ে ১০টা পর্যন্ত দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়। এতে অন্তত ৫০ জন আহত হয়। খবর পেয়ে পুলিশ ও সেনাবাহিনী লাঠিচার্জ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। আহতদের উদ্ধার করে শৈলকুপা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালসহ বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এলাকায় উত্তেজনা নিয়ন্ত্রণে মোতায়েন রয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য। ঝিনাইদহের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শেখ বিল্লাল হোসেন বলেন, ‘খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পুনরায় সংঘর্ষ এড়াতে ওই এলাকায় বিপুল সংখ্যক আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।’ তিনি আরও বলেন, এ ঘটনায় চারজনকে আটক করা হয়েছে। তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ১৩, ২০২৬ 0
মাদারীপুরে ৪০ বাড়িতে ভাঙচুর-লুটপাট-অগ্নিসংযোগ
মাদারীপুরে আধিপত্যের সংঘর্ষে হত্যা, ৪০ বাড়িতে হামলা ও অগ্নিসংযোগ

মাদারীপুর সদর উপজেলার নতুন মাদারীপুর এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে এক ব্যক্তিকে কুপিয়ে হত্যার জেরে অন্তত ৪০টি বসতবাড়িতে হামলা, ভাঙচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। মঙ্গলবার (১০ মার্চ) রাতে এই হামলার ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছে পুলিশ ও স্থানীয়রা। পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, সকালে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে বিরোধের জেরে সাবেক কাউন্সিলর মনিরুজ্জামান আখতার হাওলাদারের সমর্থক আলমগীর হাওলাদারকে কুপিয়ে হত্যা করে প্রতিপক্ষের লোকজন। এই হত্যাকাণ্ডের জের ধরে রাতে এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরে নিহত আলমগীর হাওলাদারের পক্ষের সমর্থকরা প্রতিপক্ষ হাসান মুন্সী পক্ষের লোকজনের বাড়িঘরে হামলা চালায়। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, হামলাকারীরা অন্তত ২০টি বসতবাড়িতে ভাঙচুর ও লুটপাট চালায়। পাশাপাশি জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক লাবলু হাওলাদার ও হাসান মুন্সীর বাড়িসহ অন্তত ২০টি বসতবাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। ফলে পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং অনেক বাসিন্দা নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে বাড়িঘর ছেড়ে চলে যান। ঘটনাস্থলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মাদারীপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল কালাম আজাদ জানিয়েছেন, হামলার খবর পাওয়ার পর ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। তিনি বলেন, হামলাকারীরা ঘটনাস্থলের বিভিন্ন সড়কে ইট ও গাছ ফেলে রাস্তা অবরোধ করে দেয়। এতে সেখানে পৌঁছাতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে বেগ পেতে হয়েছে। তবে বর্তমানে পুলিশ, সেনাবাহিনী, র‍্যাব ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা যৌথভাবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কাজ করছেন বলে জানান তিনি। দীর্ঘদিনের বিরোধ স্থানীয়দের দাবি, নতুন মাদারীপুর এলাকায় সাবেক কাউন্সিলর মনিরুজ্জামান আখতার হাওলাদার পক্ষ এবং হাসান মুন্সী পক্ষের মধ্যে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছে। গত কয়েক বছরে পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত থাকলেও, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর থেকে এলাকায় দুই পক্ষের উত্তেজনা আবারও বাড়তে শুরু করে। সাম্প্রতিক এই হত্যাকাণ্ডের পর সেই বিরোধ নতুন করে সহিংস রূপ নিয়েছে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এলাকায় অতিরিক্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ১১, ২০২৬ 0
আফগানিস্তানের খোস্ত প্রদেশে পাকিস্তানি যুদ্ধবিমানের সন্ধানে বিমান বিধ্বংসী বন্দুকের পাশে দাঁড়িয়ে থাকা একজন তালেবান সৈন্য
আফগানিস্তান-পাকিস্তান সংঘর্ষ: যুদ্ধবিরতির জন্য আলোচনা চায় তালেবান, পাকিস্তান ঘোষণা করেছে খোলা যুদ্ধ,২৭৪ জন যোদ্ধা নিহত

আল জাজিরা: কয়েক মাস ধরে চলা উত্তেজনা এবং পরস্পরের বিরুদ্ধে সংঘর্ষের পর ইসলামাবাদের প্রতিরক্ষামন্ত্রী প্রতিবেশীদের "খোলা যুদ্ধ" ঘোষণা করার পর আফগানিস্তানের তালেবান নেতারা বলেছেন যে তারা আলোচনায় আগ্রহী। শুক্রবার পাকিস্তান আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুল এবং কান্দাহার শহর, যেখানে তালেবান নেতারা অবস্থান করছেন, সেখানে হামলা চালিয়েছে, পাশাপাশি অন্যান্য শহরগুলিতেও, সীমান্তে লড়াই অব্যাহত রয়েছে। উভয় পক্ষই ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির খবর পেয়েছে। পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ তালেবান সরকারের সাথে "সর্বাত্মক সংঘাত" ঘোষণা করেছেন, X-তে পোস্ট করেছেন: "এখন আমাদের এবং আপনার মধ্যে খোলা যুদ্ধ।" আফগান সরকারের মুখপাত্র জাবিউল্লাহ মুজাহিদ বলেছেন যে তালেবান নেতারা সহিংসতার অবসান ঘটাতে পাকিস্তানের সাথে আলোচনায় বসতে প্রস্তুত। "ইসলামিক আমিরাত অফ আফগানিস্তান সর্বদা আলোচনার মাধ্যমে সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করেছে, এবং এখন আমরাও আলোচনার মাধ্যমে এই সমস্যা সমাধান করতে চাই," মুজাহিদ বলেছেন। গত সপ্তাহান্তে আফগান ভূখণ্ডে পাকিস্তানের বিমান হামলার পর বৃহস্পতিবার সীমান্তে আফগান প্রতিশোধমূলক হামলা শুরু হয়, যা পাকিস্তানের দাবির উপর দীর্ঘস্থায়ী উত্তেজনা বৃদ্ধি করে যে আফগানিস্তান পাকিস্তানি তালেবান যোদ্ধাদের আশ্রয় দেয়। আফগানিস্তান তা অস্বীকার করে। মুজাহিদ বলেন, বৃহস্পতিবার রাতে কাবুল, কান্দাহার এবং পাকতিয়ার কিছু অংশে এবং শুক্রবার পাকতিয়া, পাকতিকা, খোস্ত এবং লঘমানে পাকিস্তানি বিমান হামলা চালানো হয়েছে। এর পর বৃহস্পতিবার গভীর রাতে তাদের ভাগাভাগি সীমান্ত বরাবর উত্তর-পশ্চিম পাকিস্তানে পাকিস্তানি সামরিক অবস্থান এবং স্থাপনাগুলিতে আফগান ড্রোন হামলা শুরু হয়। পাকিস্তানের সেনাবাহিনীর মুখপাত্র লেফটেন্যান্ট জেনারেল আহমেদ শরীফ চৌধুরী বলেছেন, পাকিস্তানি বিমান ও স্থল অভিযানে আফগান বাহিনীর কমপক্ষে ২৭৪ জন সদস্য এবং সহযোগী যোদ্ধা নিহত এবং ৪০০ জনেরও বেশি আহত হয়েছে, যেখানে ১২ জন পাকিস্তানি সৈন্য নিহত এবং ২৭ জন আহত হয়েছে। অভিযানে একজন পাকিস্তানি সৈন্য নিখোঁজ রয়েছে। মুজাহিদ বিপুল সংখ্যক আফগান সৈন্যের হতাহতের দাবিকে "মিথ্যা" বলে প্রত্যাখ্যান করেছেন। তিনি বলেছেন যে ৫৫ জন পাকিস্তানি সৈন্য নিহত হয়েছে, যাদের মধ্যে ২৩ জনের মৃতদেহ আফগানিস্তানে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। তিনি আরও বলেছেন যে "অনেক" পাকিস্তানি সৈন্যকে বন্দী করা হয়েছে। তিনি বলেন, তেরোজন আফগান সৈন্য নিহত হয়েছে এবং আরও ২২ জন আহত হয়েছে, এবং ১৩ জন বেসামরিক নাগরিকও আহত হয়েছে।                                                                                                                 পরবর্তীতে শুক্রবার, আফগান সরকার জানিয়েছে যে দক্ষিণ-পূর্ব আফগানিস্তানের খোস্ত এবং পাকটিকা প্রদেশে পাকিস্তানের হামলায় ১৯ জন বেসামরিক লোক নিহত এবং ২৬ জন আহত হয়েছে।   সম্পর্কের অবনতি ২০২১ সালে ক্ষমতায় ফিরে আসার পর থেকে এটি ছিল আফগানিস্তানের রাজধানীর উপর পাকিস্তানের সবচেয়ে ব্যাপক বোমাবর্ষণ এবং তালেবান কর্তৃপক্ষের দক্ষিণাঞ্চলীয় শক্তি ঘাঁটিতে প্রথম বিমান হামলা। আফগানিস্তান এবং পাকিস্তানের সংঘাতের বিশ্লেষক, সুইডেন-ভিত্তিক আব্দুল সাঈদ বলেছেন যে পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ কারণগুলি আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধ শুরু করার ক্ষমতার উপর একটি উল্লেখযোগ্য বাধা। এই সীমাবদ্ধতা উভয় দেশের জনসংখ্যার, বিশেষ করে ডুরান্ড লাইনের উভয় পাশে বসবাসকারী উপজাতিদের মধ্যে গভীর সম্পর্ক থেকে উদ্ভূত, ২,৫৭৫ কিলোমিটার (১,৬০০ মাইল) সীমান্ত যা আন্তর্জাতিকভাবে পাকিস্তানের সীমান্ত হিসাবে স্বীকৃত কিন্তু আফগানিস্তান যাকে বৈধ বলে স্বীকৃতি দেয় না। “ফলস্বরূপ, তার বিশাল সামরিক সক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও, পাকিস্তান আফগানিস্তানের সাথে সশস্ত্র সংঘাতের ফলে যে বৃহৎ পরিসরে রক্তপাত হতে পারে তা সহ্য করতে পারে না,” তিনি বলেন। সাম্প্রতিক মাসগুলিতে প্রতিবেশীদের মধ্যে সম্পর্ক তলানিতে পৌঁছেছে, অক্টোবরে উভয় পক্ষের ৭০ জনেরও বেশি লোক নিহত হওয়ার পর থেকে স্থল সীমান্ত ক্রসিং মূলত বন্ধ হয়ে গেছে। কাতার এবং তুরস্কের মধ্যস্থতায় প্রাথমিক যুদ্ধবিরতির পর ইসলামাবাদ এবং কাবুলের মধ্যে বেশ কয়েক দফা আলোচনা হয়েছে, কিন্তু প্রচেষ্টা স্থায়ী চুক্তিতে পৌঁছাতে ব্যর্থ হয়েছে। প্রাথমিক যুদ্ধবিরতি বারবার লঙ্ঘনের পর, সৌদি আরব এই মাসে হস্তক্ষেপ করে, অক্টোবরে আফগানিস্তান কর্তৃক বন্দী তিন পাকিস্তানি সৈন্যের মুক্তির মধ্যস্থতা করে। জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস বলেছেন যে তিনি আফগানিস্তান এবং পাকিস্তানের মধ্যে "সহিংসতা বৃদ্ধি এবং বেসামরিক জনগণের উপর এর প্রভাব নিয়ে গভীরভাবে উদ্বিগ্ন", তার মুখপাত্র স্টিফেন ডুজারিক এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে বলেছেন। রাশিয়া, ইরান এবং ইরাক এমন দেশগুলির মধ্যে রয়েছে যারা অবিলম্বে যুদ্ধ বন্ধের আহ্বান জানিয়েছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক ফেব্রুয়ারি ২৮, ২০২৬ 0
ফতুল্লায় চাঁদাবাজি
ফতুল্লায় চাঁদাবাজির অভিযোগে এনসিপির দুই পক্ষের সংঘর্ষ, আহত ৪

নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় চাঁদাবাজির পাল্টাপাল্টি অভিযোগকে কেন্দ্র করে ন্যাশনাল সিটিজেন পার্টি (এনসিপি)-এর দুই পক্ষের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয়পক্ষের অন্তত চারজন আহত হয়েছেন। শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) বিকেল থেকে রাত পর্যন্ত ফতুল্লার পঞ্চবটি গুলশান রোড এলাকায় ইয়াসিন আরাফাত ও আলিফ গ্রুপের মধ্যে কয়েক দফায় এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। আলিফ গ্রুপের অভিযোগ নারায়ণগঞ্জ জেলা এনসিপির সংগঠক আলিফ জানান, ইয়াসিন আরাফাতের কোনো সাংগঠনিক পদ-পদবি নেই। তিনি নির্বাচনের সময় তাদের সঙ্গে থাকলেও বর্তমানে পঞ্চবটি মোড়ে ফুটপাতে চাঁদাবাজির সঙ্গে জড়িত বলে অভিযোগ করেন তিনি। আলিফের দাবি, এ বিষয়ে প্রতিবাদ করায় এনায়েতনগর ইউনিয়ন এনসিপির সংগঠক বিপ্লবকে রাস্তা থেকে ধরে ইয়াসিন আরাফাত তার রোলিং মিলে নিয়ে এলোপাতাড়ি মারধর করেন। পরে আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি। ইয়াসিন আরাফাতের পাল্টা বক্তব্য অভিযোগ অস্বীকার করে ইয়াসিন আরাফাত বলেন, তিনি পঞ্চবটি এলাকার এমদেদিয়া রোলিং মিলের মালিক। শনিবার বিকেলে আলিফের নেতৃত্বে সাব্বির, বিপ্লব, সিয়াম ও রাসেলসহ একটি দল তার মালিকানাধীন পঞ্চবটি এমদেদিয়া রোলিং মিলে গিয়ে ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। তিনি দাবি করেন, চাঁদা না পেয়ে তারা প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তাসহ চারজনকে মারধর করেন এবং ২৪ ঘণ্টার মধ্যে চাঁদা না দিলে রোলিং মিল জ্বালিয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়ে চলে যান। এ বিষয়েও থানায় অভিযোগ করা হয়েছে বলে জানান তিনি। পুলিশের বক্তব্য এ বিষয়ে ফতুল্লা মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আনোয়ার হোসেন বলেন, সংঘর্ষের ঘটনায় উভয়পক্ষের কাছ থেকে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। পুলিশ জানায়, পরিস্থিতি বর্তমানে নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। এলাকায় অতিরিক্ত নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক ফেব্রুয়ারি ২২, ২০২৬ 0
Popular post
ফারুকীর সম্পদ কমেছে, তিশার বেড়েছে দ্বিগুণেরও বেশি: সম্পদ বিবরণী ঘিরে আলোচনা

অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের সম্পদ বিবরণী প্রকাশের পর সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী ও তার স্ত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদের হিসাব নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। এক বছরের ব্যবধানে স্বামী ফারুকীর সম্পদ কমলেও স্ত্রী তিশার সম্পদ বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে প্রকাশিত তথ্যে উঠে এসেছে এই চিত্র। প্রকাশিত খতিয়ান অনুযায়ী, জনপ্রিয় অভিনেত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদ এক বছরে অভাবনীয় হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তিশার মোট সম্পদের পরিমাণ ছিল ১ কোটি ৪০ লাখ ৮১ হাজার ৮৬০ টাকা। ঠিক এক বছর পর, ২০২৫ সালের ৩০ জুন সেই সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ৯৯ লাখ ৮৯ হাজার ৫০১ টাকায়। অর্থাৎ মাত্র এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ বেড়েছে ১ কোটি ৫৯ লাখ ৭ হাজার ৬৪১ টাকা, যা আগের বছরের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি। অন্যদিকে সংস্কৃতি উপদেষ্টা ও নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর ক্ষেত্রে দেখা গেছে উল্টো চিত্র। এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ কমেছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তার মোট সম্পদ ছিল ২ কোটি ২৬ লাখ ৯২ হাজার ২৬ টাকা। ২০২৫ সালের ৩০ জুন তা কমে দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ১৫ লাখ ১৮ হাজার ২৬ টাকায়। হিসাব অনুযায়ী, এক বছরে তার সম্পদ কমেছে ১১ লাখ ৭৪ হাজার টাকা। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে গত মঙ্গলবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ প্রধান উপদেষ্টা, উপদেষ্টা ও সমমর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের পাশাপাশি তাদের স্ত্রী বা স্বামীর সম্পদ বিবরণী প্রকাশ করে। একই সময়ে স্বামী-স্ত্রীর সম্পদে এমন ভিন্নমুখী পরিবর্তন স্বাভাবিকভাবেই সাধারণ মানুষের কৌতূহলের জন্ম দিয়েছে। শোবিজ অঙ্গনের জনপ্রিয় দম্পতি হওয়ায় তাদের এই আয়-ব্যয়ের হিসাব এখন টক অব দ্য কান্ট্রি।

সংসার সামলাতে অটোরিকশা নিয়ে রাস্তায় নেমেছেন রোজিনা

বাসস : বাবা একজন তাঁত শ্রমিক। তিন বোন দুই ভাইয়ের মধ্যে সবার বড় রোজিনা। অভাব সংসার, তাই এক এতিম যুবকের সাথে বাবা-মা বিয়ে দেন তাকে। বিয়ের পর জন্ম হয় দুই কন্যা সন্তানের। অটোরিকশা চালিয়ে কোন রকম সংসার চালাচ্ছিলেন স্বামী রফিকুল ইসলাম। কিন্তু সড়ক দুর্ঘটনায় রফিকুলের এক চোখ সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যায়। আরেকটি চোখ আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ধীরে ধীরে ওই চোখের দৃষ্টি শক্তিও কমতে থাকে। ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে অটোরিকশা চালানো। সংসারের উপার্জনক্ষম মানুষটি অচল হয়ে পড়ায় চিকিৎসার খরচ, ঘর ভাড়া ও খাবারের পাশাপাশি মেয়েদের লেখাপড়ার খরচ চালানোই কঠিন হয়ে যায়। দিশেহারা হয়ে পরেন রোজিনা। এক পর্যায়ে মানুষের বাড়ি বাড়ি কাজ করে সংসার চালানোর চেস্টা করেন। কিন্তু সুবিধা করতে পারেন না। এমন পরিস্থিতিতে অটোরিকশা চালানোর সিদ্ধান্ত নেন তিনি। স্বামী রফিকুলের কাছেই হাতেখড়ি। গ্রামের স্কুলের মাঠে স্বামীর কাছেই অটোরিকশা চালানোর শিক্ষা নেন তিনি। পরে গ্রামের পথে নেমে পড়েন অটোরিকশা নিয়ে। ৫-৬ দিন এভাবে হাত পাকা করে একদিন টাঙ্গাইল শহরে চলে আসেন রোজিনা। এরপর শুরু করেন অটোরিক্সা চালানোর ব্যতিক্রমী জীবন সংগ্রাম। এখন টাঙ্গাইল পৌরসভায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার চালকদের মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা বেগম। জেলার বাসাইল উপজেলার আইসড়া গ্রামের বাসিন্দা রোজিনা টাঙ্গাইল পৌর শহরের এক প্রান্ত রাবনা বাইপাস থেকে আরেক প্রান্ত বেবিস্ট্যান্ডে যাত্রী আনা নেয়া করেন। যানজটের কারণে শহরে পুরুষ চালকরা যেখানে হিমসিম খায়, সেখানেই বিগত ৫ বছর ধরেই নির্বিঘেœ অটোরিকশা চালাচ্ছেন তিনি। টাঙ্গাইল পৌরসভা কার্যালয় সূত্রে জানা যাায়, টাঙ্গাইল শহরে চলাচলের জন্য ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক ও ৫ হাজার ব্যাটারিচালিত রিকশার অনুমতি (লাইসেন্স) দেওয়া হয়েছে। যানজট এড়াতে ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক জোড় ও বিজোড় সংখ্যায় দিনে দুই ভাগ করা হয়েছে। সকাল থেকে বেলা দুইটা পর্যন্ত এক ভাগ এবং বেলা দুইটা থেকে রাত পর্যন্ত আরেক ভাগের ইজিবাইক চলাচল করার নির্দেশনা দিয়েছে পৌর কর্তৃপক্ষ। কিন্তু রোজিনাকে দুই শিফটে চালানোর অনুমতি দিয়েছে পৌরসভা। সরেজমিনে দেখা যায়, নতুন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অটোরিকশা নিয়ে যাত্রী ডাকছেন রোজিনা। কলেজ গেট, পুরাতন বাসস্ট্যান্ড, ক্যাপসুল, নিরালা মোড়, বেবিস্ট্যান্ড সর্বত্রই যাত্রী আনানেয়া করেন তিনি। পুরাতন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অন্য অটো চালকদের দাঁড় করতে না দিলেও রোজিনাকে বাঁধা দেননা ট্রাফিক পুলিশ। বলতে গেলে সবাই তার প্রতি সহানুভুতিশীল। ট্রাফিক পুলিশসহ অন্য অটোচালকরাও তাকে সহযোগিতা করেন। রোজিনা বলেন, আমার অটোতে নারী যাত্রীরা খুব কম। তারা মনে করে আমার অটোতে উঠলে দুর্ঘটনায় পড়বে। কিন্তু আমি খুব সাবধানে অটো চালাই। দ্রুত গতিতেও না, আবার একেবারে ধীরগতিতেও না। এখন পর্যন্ত আমি কোন দুর্ঘটনার কবলে পড়ি নাই। শহরের পুরুষ অটোরিকশা চালকরা আমাকে অনেক সহযোগিতা করে। অটোচালক কাদের মিয়া বলেন, আমাদের শহরে কয়েক হাজার অটো চলাচল করে। তার মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। তাকে আমরা সব সময় সহযোগিতা করি। যাত্রী সাইদ মিয়া বলেন, আমি এ পর্যন্ত ৫-৬ বার রোজিনার অটোতে চড়েছি। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। অন্য পুরুষ অটো চালকের চেয়েও ভালো অটো চালান। নারী সংগঠক সেরাজুম মনিরা বলেন, তিনি অনেক দিন যাবত অটোরিকশা চালাচ্ছেন। আমি রোজিনাকে স্যালুট জানাই। একজন পুরুষের চেয়ে একজন নারী কোনো ভাবেই যে পিছিয়ে নেই, রোজিনা তা প্রমাণ করেছেন। রোজিনা বলেন, অটো চালানোর এই সিদ্ধান্তটি তার জন্য খুব সহজ ছিল না। তিনি বলেন, ৫ ও ১০ বছরের দুই মেয়েকে বাড়িতে রেখে অটোরিকশা নিয়ে সারাদিন রাস্তায় থাকতে হয়। তাদের ভালোভাবে দেখাশোনা করতে পারি না। কিন্তু কি করবো, অভাবের সংসার! এখন ঋণ নিয়ে একটু জমি কিনেছি। প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ণ প্রকল্পের অর্থায়নে প্রশাসন সেখানে ঘর তুলে দিয়েছে। শুরুতে যারা আমাকে নিয়ে ঠাট্টা করেছে এখন তারাই আমাকে সম্মান করেন। নারীরাও যে কিছু করতে পারে, তা প্রমাণ করেছি। আমার বড় মেয়ে আইসড়া উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়ে, ছোট মেয়ে পড়ে স্থানীয় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। মেয়েদের শিক্ষিত করতে হবে। ধার দেনা শোধ করতে হবে। তাই থেমে গেলো চলবে না। আমি অটোরিকশা চালিয়েই দুই সন্তানকে মানুষ করতে চাই।’ ঘারিন্দা ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য বাবুল সরকার বলেন, সরকার রোজিনাকে একটি ঘর নির্মাণ করে দিয়েছে। শুরুতে যারা তাকে নিয়ে নানান কথা বলতো, এখন তার সংকল্প ও মানষিক দৃঢ়তা দেখে থেমে গেছে। আমরা তাকে নিয়ে গর্ব করি। টাঙ্গাইলের ট্রাফিক ইন্সপেক্টর (প্রশাসন) দেলোয়ার হোসেন বলেন, শহরের একমাত্র নারী চালক রোজিনাকে কেউ যেন বিরক্ত করতে না পারে সেদিকে সব সময় নজর রাখে ট্রাফিক পুলিশ। আমরা তাকে সব সময় সহযোগিতা করে আসছি। টাঙ্গাইলের সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক শাহ আলম বলেন, বিষয়টি এখন জানতে পারলাম। ওই নারী এখনো পর্যন্ত আমাদের কাছে আসেন নাই। যদি আমাদের কাছে এসে আবেদন করেন অবশ্যই তাকে আমরা সহযেগিতা করবো, তার পাশে দাঁড়াবো।

বাংলাদেশে ঐতিহাসিক নির্বাচন: বিএনপি এগিয়ে, জামায়াতের উত্থান ও তরুণ ভোটারদের প্রভাব

২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশে আজ এক ঐতিহাসিক ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ২০০৮ সালের পর এই প্রথম একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হতে যাচ্ছে যেখানে দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগ রাজনৈতিক মানচিত্র থেকে কার্যত অনুপস্থিত। বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক জরিপ বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০০ আসনের মধ্যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) কার্যকর সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে যাচ্ছে। তবে ভোটের ব্যবধান এবং কিছু সমীকরণ নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। নির্বাচনের সবচেয়ে বড় নিয়ামক হয়ে দাঁড়িয়েছে আওয়ামী লীগের বিশাল ভোটব্যাংক। দলটির নিয়মিত প্রায় ৪ কোটি ভোটার এখন নতুন রাজনৈতিক আশ্রয় খুঁজছেন। সিআরএফ বা বিইপিওএস জরিপ বলছে, এই ভোটারদের প্রায় অর্ধেক বিএনপির দিকে ঝুঁকেছে, যা দলটিকে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতার পথে এগিয়ে দিচ্ছে। অন্যদিকে, প্রায় ৩০ শতাংশ আওয়ামী ভোটার জামায়াতে ইসলামীকে বেছে নিতে পারেন বলে আভাস পাওয়া যাচ্ছে। এছাড়া বাংলাদেশের বিদ্যমান নির্বাচনী ব্যবস্থার কারণে দেশজুড়ে সুষম জনসমর্থন থাকা বিএনপি আসন জয়ের ক্ষেত্রে জামায়াতের তুলনায় সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। তবে বিএনপির এই সম্ভাব্য জয়ের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও বিদ্রোহী প্রার্থীরা। প্রায় ৭৯টি নির্বাচনী এলাকায় দলের মনোনয়ন না পাওয়া ৯২ জন প্রভাবশালী নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, যা বিএনপির ১৫ থেকে ৩০টি আসন কমিয়ে দিতে পারে। অন্যদিকে, তরুণ ভোটার বা ‘জেন-জি’ প্রজন্মের বিশাল সমর্থন জামায়াতে ইসলামীর শক্তির উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেশের ৪৪ শতাংশ ভোটারই তরুণ, যাদের বড় একটি অংশ প্রথমবার ভোট দিচ্ছেন। এই তরুণরা যদি দলবেঁধে কেন্দ্রে উপস্থিত হন, তবে নির্বাচনী ফলে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। সবশেষে, প্রায় ১৭ থেকে ৩৫ শতাংশ দোদুল্যমান ভোটার এবং তাদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করবে আগামীর সরকার কতটা শক্তিশালী হবে। দ্য নিউইয়র্ক এডিটোরিয়ালের মূল পূর্বাভাস, তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি প্রায় ১৮৫টি আসনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করতে পারে এবং জামায়াতে ইসলামী ৮০টির মতো আসন পেয়ে প্রধান বিরোধী দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারে। তবে বিদ্রোহী প্রার্থীদের প্রভাব এবং তরুণ ভোটারদের উপস্থিতির ওপর ভিত্তি করে আসন সংখ্যায় বড় ধরনের হেরফের হওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

গাজায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা ট্রাম্প প্রশাসনে

ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। ৩৫০ একরের ঘাঁটিটিতে সামরিক বাহিনীর পাঁচ হাজার সদস্য থাকতে পারবে। গাজার ‘বোর্ড অব পিস’র নথি পর্যালোচনা করে এ তথ্য জানিয়েছে দ্য গার্ডিয়ান। প্রতিবেদনে ব্রিটিশ সংবাদ মাধ্যমটি জানিয়েছে, বোর্ড অব পিসে গাজাকে নিরাপদ করার জন্য ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যাবিলাইজেশন ফোর্স (আইএসএফ) নামে একটি আন্তর্জাতিক বাহিনী মোতায়েনের কথা বলা হয়েছে। যে স্থানটি ঘাঁটি করার জন্য বিবেচনা করা হচ্ছে সেখানে আইএসএফের সদস্যরা থাকবে। বোর্ড অব পিসের প্রধান হবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আর সংগঠনটির আংশিক নেতৃত্ব দেবেন ট্রাম্পের জামাতা জ্যারার্ড কুশনার।দ্য গার্ডিয়ান বোর্ড অব পিসের নথি পর্যালোচনা করে জানায়, ধাপে ধাপে একটি সামরিক ঘাঁটি নির্মাণ করা হবে। সবকিছু শেষ হলে ঘাঁটিটি ১৫ লাখ ১৭ হাজার ৫৭৫ বর্গমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত হবে। ঘাঁটিটির চারপাশে ট্রেইলার সংযুক্ত ২৬টি সাঁজোয়া নজরদারি টাওয়ার থাকবে। এছাড়া একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, বাংকার ও অস্ত্র রাখার গুদাম থাকবে। পুরো ঘাঁটিটি কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে ঘিরে রাখা হবে। সামরিক ঘাঁটি নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে দক্ষিণ গাজার একটি শুষ্ক সমতলভূমিতে। সেখানে ইসরায়েলি হামলার চিহ্ন রয়েছে। ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে বিভিন্ন ধাতবের ধ্বংসাবশেষ।  ওই এলাকার ভিডিও পর্যালোচনা করেছে দ্য গার্ডিয়ান। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, ঘাঁটি নির্মাণের জন্য টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে। যুদ্ধক্ষেত্রে কাজের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন আন্তর্জাতিক নির্মাণ কোম্পানিগুলোর একটি ছোট দলকে ইতোমধ্যেই এলাকাটি দেখানো হয়েছে। ওই দলটি দরপত্রে অংশ নিতে আগ্রহী।    ইন্দোনেশিয়া সরকার গাজায় আট হাজার সেনা সদস্য পাঠানোর জন্য প্রস্তাব দিয়েছে। বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটন ডিসিতে বোর্ড অব পিসের অনানুষ্ঠানিক বৈঠকে ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্টের অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। এছাড়া দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার আরও তিন নেতার ওই বৈঠকে অংশ নেবেন বলে জানা গেছে। জাতিসংঘের নিরাপত্তা কাউন্সিল গাজার সাময়িক স্থিতিশীলতার জন্য অস্থায়ীভাবে সামরিক বাহিনী মোতায়েনের অনুমোদন দিয়েছে। নিরাপত্তা কাউন্সিলই বোর্ড অব পিসের মূল হোতা। গাজার সীমান্ত ও শান্তি প্রণয়নে কাজ করবে আইএসএফ। এছাড়া বেসামরিকদের সুরক্ষা এবং ফিলিস্তিনি পুলিশ বাহিনীকে প্রশিক্ষণ ও সহায়তা দেবে তারা। যদি গাজায় ফের সংঘর্ষ হয়, ইসরায়েল বোমা হামলা চালায় অথবা হামাস হামলা চালায় সেক্ষেত্রে আইএসএফ কি করবে তা এখনও স্পষ্ট নয়। গাজা পুনর্গঠনে ইসরায়েল হামাসকে নিরস্ত্রীকরণের যে শর্ত দিয়েছে সেটির জন্য আইএসএফ কাজ করবে কিনা তাও স্পষ্ট না। ইতোমধ্যে বোর্ড অব পিসে ২০ এর অধিক দেশ যোগ দিয়েছে। তবে, এখনও অনেক পরাশক্তি এর থেকে দূরে রয়েছে। জাতিসংঘের অনুমোদন নিয়ে প্রতিষ্ঠিত হলেও ধারণা করা হচ্ছে, সংগঠনটির স্থায়ী নেতৃত্ব ও নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে। রুটজার্স বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক আদিল হক বলেন, “বোর্ড অব পিস এক ধরনের আইনি কল্পসত্তা। নামমাত্রভাবে এর নিজস্ব আন্তর্জাতিক আইনগত সত্তা রয়েছে, যা জাতিসংঘ ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে আলাদা। কিন্তু বাস্তবে এটি যুক্তরাষ্ট্রের ইচ্ছামতো ব্যবহারের জন্য একটি ফাঁপা খোলসমাত্র।” বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গাজা পুনর্গঠনে যে অর্থায়ন ও শাসন কাঠামো হচ্ছে তা অস্বচ্ছ। কয়েকজন ঠিকাদার গার্ডিয়ানকে জানান, গাজায় কাজ করার জন্য মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে তাদের প্রায়শ আলোচনা সরকারি ইমেলের বদলে সিগন্যালের মাধ্যমে করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রের তথ্য মতে, ঘাঁটি নির্মাণের সিদ্ধান্তটি বোর্ড অব পিসের। এতে সহায়তা করছে মার্কিন কর্মকর্তারা। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ঘাঁটিতে তৈরি বাংকার নেটওয়ার্কের মতোন কাজ করবে। প্রতিটি বাংকারের ২৪ মিটারের হবে। উচ্চতা থাকবে আড়াই মিটার। এগুলো এমনভাবে করা হবে যেন সেনা সদস্যরা আশ্রয় নিতে পারে। স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসের গাজায় সুড়ঙ্গ নেটওয়ার্ক বা টানেল রয়েছে। সেগুলোর আদলে নেটওয়ার্ক করতে চাওয়া হচ্ছে। পিস অব বোর্ডের নথি পর্যালোচনা করে এমন দাবি করছে গার্ডিয়ান। সংবাদ মাধ্যমটি বলছে,  স্থানটির ভূ-ভৌত জরিপ পরিচালনা করবে ঠিকাদাররা। নথির এক অংশে ‘হিউম্যান রেমিয়েনস প্রোটোকল’র কথা বলা হয়েছে। এর মানে দাঁড়ায়, সন্দেহভাজন মানব অবশিষ্ট বা সাংস্কৃতিক নিদর্শন পাওয়া গেলে অবিলম্বে সেই এলাকায় সব কাজ বন্ধ করতে হবে। চুক্তি কর্মকর্তাকে দিকনির্দেশনার জন্য অবিলম্বে জানাতে হবে। গাজা সিভিল ডিফেন্সের ধারণা, গাজার ধ্বংসস্তূপের নিচে ১০ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনির মরদেহ রয়েছে। ঘাঁটির জন্য যে স্থানটি বিবেচিত করা হচ্ছে সেটির মালিক কে তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে, দক্ষিণ গাজার বেশিরভাগ অংশ  বর্তমানে ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণে। জাতিসংঘের অনুমান, যুদ্ধ চলাকালীন ১৯ লাখ ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত হয়েছে। ফিলিস্তিনের জমিতে সরকারের অনুমতি না নিয়ে সামরিক ঘাঁটি স্থাপনকে দখল হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন ফিলিস্তিনি-কানাডিয়ান আইনজীবী এবং প্রাক্তন শান্তি আলোচক দিয়ানা বুট্টু। তিনি প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়ে বলেন, “কার অনুমতিতে তারা সামরিক ঘাঁটি স্থাপন করবে।” বিষয়টি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা বোর্ড অব পিসের কথা টানেন। ট্রাম্প প্রশাসনের একজন কর্মকর্তা সামরিক ঘাঁটির চুক্তি নিয়ে আলোচনা করতে অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, “যেমনটি প্রেসিডেন্ট বলেছেন, কোনও মার্কিন সেনা স্থলভাগে যাবে না। আমরা লিক হওয়া নথি নিয়ে আলোচনা করবো না।”

কুড়িগ্রামের তাজু ভাই ২.০: ‘সরকারি রেটে জিলাপি’ প্রশ্নে ভাইরাল এক নির্মাণশ্রমিকের গল্প

বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের প্রত্যন্ত চরাঞ্চল থেকে উঠে এসে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার কেন্দ্রে এখন তাইজুল ইসলাম, যিনি অনলাইনে পরিচিত ‘তাজু ভাই ২.০’ নামে। মাত্র একটি ভিডিও—যেখানে তিনি এক দোকানিকে প্রশ্ন করেন, “জিলাপি আজকে কত করে বেচতেছেন সরকারি রেটে?”—এই সরল উপস্থাপনাই তাকে রাতারাতি ভাইরাল করে তোলে।  কয়েক ঘণ্টায় ফলোয়ার লাখ ছাড়াল রোববার রাত পর্যন্ত তার ফেসবুক অনুসারী ছিল প্রায় ৩৫ হাজার। কিন্তু সোমবার সন্ধ্যা থেকে রাতের মধ্যেই তা বেড়ে এক লাখের বেশি হয়ে যায়। ভাইরাল ভিডিওটি ইতোমধ্যে প্রায় ৫০ থেকে ৫৫ লাখবার দেখা হয়েছে।  কী ছিল সেই ভিডিওতে? ভিডিওতে দেখা যায়, কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীর নারায়ণপুর বাজারে দাঁড়িয়ে স্থানীয় ভাষায় তিনি জিলাপির দাম জানতে চান। তার কথাগুলো ছিল একেবারেই সহজ ও গ্রাম্য ভঙ্গিতে— “সাদাডা কত, লালডা কত? সরকারি রেটে বেচতেছেন?” এই সরল প্রশ্নই সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।  কোথা থেকে উঠে এলেন তাজু ভাই? কুড়িগ্রাম জেলার নাগেশ্বরী উপজেলার নারায়ণপুর ইউনিয়নের একটি দুর্গম গ্রামে জন্ম তার। ব্রহ্মপুত্র নদবেষ্টিত এই অঞ্চলে পৌঁছাতে এখনও কয়েকটি নৌঘাট পার হতে হয়। দারিদ্র্যের কারণে কখনো স্কুলে যাওয়া হয়নি তার। পেশায় তিনি একজন নির্মাণশ্রমিকের সহকারী (হেলপার)। কাজের ফাঁকে ঢাকায় থাকাকালীন মোবাইল ফোনে ভিডিও তৈরি করাই তার শখ। ব্যক্তিগত সংগ্রাম তাইজুল ইসলামের পরিবারে ছয় ভাই-বোন। তিনি সবার বড়। তার বাবা-মা দুজনই শ্রবণপ্রতিবন্ধী। পরিবার চালাতে তাকে ছোটবেলা থেকেই সংগ্রাম করতে হয়েছে। তিনি বলেন, “পরিবারের কষ্ট ভুলতেই ভিডিও করি। আমি সাংবাদিক না, কিন্তু আমাদের এলাকায় কেউ আসে না—তাই নিজেরাই ভিডিও বানাই।” ভাইরাল হওয়ার পেছনের উদ্দেশ্য তাইজুলের দাবি, তার ভিডিও শুধুই বিনোদনের জন্য নয়। তিনি চান তার এলাকার অবহেলিত মানুষের কথা প্রশাসনের নজরে আসুক। “আমি চাই চরের মানুষের উন্নয়ন হোক,”—বলছেন তিনি।  মিশ্র প্রতিক্রিয়া ভিডিওটি নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে দুই ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ তার সরলতা ও বাস্তবতা তুলে ধরার চেষ্টা প্রশংসা করছেন আবার কেউ তাকে নিয়ে ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ করছেন তবে এসব সমালোচনায় তিনি বিচলিত নন।

অর্থনীতি

ইসলামী ব্যাংক,

ইসলামী ব্যাংকে আস্থা সংকট কেন কাটছে না?: দেশের বৃহত্তম শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংককে ঘিরে নতুন প্রশ্ন

নিজস্ব প্রতিবেদক জুন ২২, ২০২৬ 0




অপরাধ

ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো

ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকোর বিরুদ্ধে ৩০ বিলিয়ন ডলার জালিয়াতি ও অর্থপাচার অভিযোগে দুদকের অনুসন্ধান

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ২৪, ২০২৬ 0




কৃষি ও জলবায়ু

ধান

শেরপুরে বোরো ধানের দাম কমে লোকসানে কৃষকরা, উৎপাদন খরচও উঠছে না

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ৬, ২০২৬ 0