Brand logo light

সরকারি অনিয়ম

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রনালয়ে এখনো  বহাল তবিয়্যাতেই আছে নিষিদ্ধ আওয়ামী ফ্যাসিবাদী সিন্ডিকেট চক্র
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রনালয়ে এখনো বহাল তবিয়তে আওয়ামী ফ্যাসিবাদী সিন্ডিকেট চক্র

এবি সিদ্দীক ভূইঁয়া,ইত্তেহাদ নিউজ,ঢাকা :   বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ভেতরে একটি প্রভাবশালী ‘সিন্ডিকেট’ সক্রিয় থাকার অভিযোগ উঠেছে, যা নিয়ে প্রশাসনিক মহলে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। অভিযোগে বলা হচ্ছে, অতীত সরকারের সময়ে নিয়োগপ্রাপ্ত কিছু কর্মকর্তা এখনো গুরুত্বপূর্ণ পদে বহাল থেকে প্রশাসনিক কার্যক্রমে প্রভাব বিস্তার করছেন। অভিযোগ অনুযায়ী, এই চক্রের সঙ্গে যুক্ত কয়েকজন প্রশাসনিক কর্মকর্তা দীর্ঘদিন ধরে মন্ত্রণালয়ের সংবেদনশীল দপ্তরে দায়িত্ব পালন করছেন এবং তাদের মাধ্যমে তদবির বাণিজ্যসহ বিভিন্ন অনিয়ম পরিচালিত হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র দাবি করেছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রনালয়ে এখনো  বহাল তবিয়্যাতেই আছে নিষিদ্ধ আওয়ামী ফ্যাসিবাদী সিন্ডিকেট চক্র।বাংলাদেশ সচিবালয়ের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রনালয়ে সিনিয়র সচিব মহোদয়ের দপ্তরে ফ্যাসিষ্ট আমলে নিয়োগ প্রাপ্ত প্রসাশনিক কর্মকর্তা  ইয়াসিন ফিরদৌস, প্রসাশনিক কর্মকর্তা আল কামার, সহ আরো একাধিক কর্মকর্তা যারা আওয়ামীলীগের রাজনিতির সঙ্গে জড়িত ছিল। আওয়ামীলীগের মন্ত্রী এমপিদের ডিউলেটের মাধ্যমে সচিবালয়ে নিয়োগ প্রাপ্তহন এবং এদের মাধ্যমে  তদবির বাণিজ্যের সিন্ডিকেট চক্র তৈরি হয়েছে। উক্ত সিন্ডিকেট চক্রের সাথে জড়িত আছেন বলে জানাগেছে আওয়ামী ফ্যাসিস্ট আমলের সাবেক স্বরাষ্ট্র সচিব জাহাঙ্গীর আলম ( বর্তমানে কারাগারে) , সাবেক সিনিয়র সচিব মোস্তফা কামাল উদ্দিন, আমিনুর রহমান, মোস্তাফিজুর রহমান, আক্তার হোসেন দপ্তরে কর্মরত ছিল ব্যক্তিগত কর্মকর্তা  মোঃ সাইফুল ইসলাম প্রসাশনিক কর্মকর্তা বি এম সাইফুল বর্তমানে ও সিনিয়র সচিবের দপ্তরে কর্মরত আছেন তাদের নেতৃত্বে একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট গঠিত হয়েছে অভিযোগ অনুযায়ী এই সিন্ডিকেট মন্ত্রনালয়ের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য নিয়ন্ত্রণ করছে এবং তা নিষিদ্ধ ফ্যাসিবাদী রাজনৈতিক দলের প্রভাব বিস্তারে ব্যবহার করছে ও সরকার বিরোধী বিভিন্ন ধরনের উস্কানি মূলক কথাবার্তা বলেন এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দ্বিতীয় তৃতীয় চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারীদের গ্রুপে ম্যাসেজ দিয়ে বিভিন্ন কর্মকর্তাদের বরাতে  ভয়ভীতি প্রদর্শন করেন, সম্প্রতি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রনালয়ের প্রসাশন- ১ শাখা জারিকৃত একটি সরকারি আদেশ ( Government Order) অনুযায়ী কয়েকজন কর্মকর্তা ও কর্মচারীকে পাসপোর্ট ইস্যু /রি ইস্যু সংক্রান্ত কাজে সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাই সফরের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে উক্ত আদেশে উল্লেখিত ব্যক্তিরা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রনালয়ের অতি গুরুত্বপূর্ণ সংবেদনশীল জায়গায় ফ্যাসিবাদীদের মধ্যে রয়েছেন ১. লাবনী সূত্রধর, স্টেনো টাইপিষ্ট কাম কম্পিউটার অপারেটর, লাবনী সূত্রধর সম্পর্কে অভিযোগ রয়েছে যে,স্বরাষ্ট্র মন্ত্রনালয়ের আলোচিত কর্মকর্তা যুগ্ম- সচিব ধনঞ্জয় কুমার দাসের আপন শেলিকা এ ছাড়া তার নিয়োগ এবং বিভিন্ন সূবিধা লাভের বিষয়ে প্রসাশনিক মহলে নানা প্রশ্ন উত্থাপিত হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ২.সূমি বড়ুয়া, স্টেনো টাইপিষ্ট কাম কম্পিউটার অপারেটর, সূমি বড়ুয়া সম্পর্কে অভিযোগ রয়েছে যে, তিনি সাবেক পলাতক সরকারের আলোচিত কর্মকর্তা যুগ্ম-সচিব ধনঞ্জয় কুমার দাসের নিয়োগপ্রাপ্ত এবং সে-সময়ে প্রসাশনিক প্রভাবে দায়িত্বে বহাল ছিলেন, ৩. বি এম সাইফুল, প্রসাশনিক কর্মকর্তা,মোঃ সাইফুল ইসলাম (ব্যক্তিগত কর্মকর্তা) সম্পর্কে জানাগেছে যে,তারা পতিত সরকারের সময়ে দায়িত্বে থাকা অত্র মন্ত্রনালয়ের  একাধিক সচিব ও সিনিয়র সচিবের  বিশ্বস্ত সহকারী হিসেবে দীর্ঘদিন কর্মরত ছিলেন সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি ওই সময়ের কয়েকজন সাবেক সচিব অতীত কর্মকান্ডের দায়ে কারাবন্দী রয়েছেন, ৪.আল কামার,প্রসাশনিক কর্মকর্তা, সসম্পর্কে জানাগেছে যে, তিনি শেরপুর জেলার আওয়ামীলীগের সাবেক হুইপ আতিক সাহেবের জামাতা এছাড়া সে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও শেখ রাসেলের প্রতিকৃতি তৈরির অন্যতম উদ্যোক্তা হিসেবে পরিচিত ছিলেন, তার সঙ্গে সংশ্লিষ্টভাবে ইয়াসিন ফেরদৌস নামের একজন ব্যক্তিও বিভিন্ন প্রসাশনিক কার্যক্রমে যুক্ত ছিলেন বলে জানাগেছে এবং তাদের নাম ও উক্ত সরকারি আদেশে অন্তরভূক্ত রয়েছে ৫. মোঃ নাজমুল হোসেন, যিনি বর্তমানে মাননীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর প্রটোকল অফিসার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন তিনি বিগত আওয়ামীলীগ সরকারের আমলে সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের প্রটোকল অফিসার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন এবং বিভিন্ন অপকর্মের সহযোগী ছিলেন। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানাগেছে সাবেক স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা সহ বিভিন্ন কর্মকর্তার পরিচয় দিয়ে তদবির বাণিজ্য করার কারণে এবং পূর্বে দায়িত্ব পালনে তাকে প্রটোকল অফিসারের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছিল বর্তমানে সে পূনরায় মাননীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর প্রটোকল অফিসারের দায়িত্ব পালন করছেন । এই সিন্ডিকেটের অভিযোগের  কারণে দুবাই অস্থায়ী মিশনে অন্তর্ভুক্ত হওয়া একজন সিনিয়র কর্মকর্তার নাম বাতিল করা হয়েছে। তা নিয়েও প্রসাশনিক মহলে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে, যারা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রনালয়ের নিচে বঙ্গবন্ধুর কর্নার ও শেখ রাসেলের  কর্নার তৈরি করে নিয়মিত ফুল দিত, তা ছাড়া গত ০৭মার্চ ২০২৪ যুগান্তর ই -পেপার পত্রিকায় প্রকাশিত স্বরাষ্ট্র মন্ত্রনালয় কল্যাণ সমিতির নামে একটি সংগঠন বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধাঞ্জলি জানিয়ে বঙ্গবন্ধুর স্থায়ী মূরাল নির্মাণের দাবি জানান, মন্ত্রনালয়ের সূত্রে জানাগেছে কয়েকজন কর্মকর্তাকে সাক্ষী দেওয়ার জন্য আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে ডাকা হয়েছে, তদন্ত সংস্থার কো-অর্ডিনেটর আনসার উদ্দিন খান পাঠান জানান, সিন্ডিকেটের মাধ্যমে প্রসাশনিক তথ্য ফাঁস হওয়ার ঝুকি রয়েছে, এমন পরিস্থিতিতে প্রশ্ন উঠেছে যে,২০২৪ সালের ৫ আগষ্টের পরবর্তী রাজনৈতিক পরিবর্তনের পরও এই কর্মকর্তারা কীভাবে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রনালয়ের মতো একটি অত্যন্ত গুরুত্বপুর্ণ ও রাষ্ট্রের সংবেদনশীল জায়গায় সিনিয়র সচিবের দপ্তরে বহাল রয়েছেন, সরকারের এমন একটি স্পর্শকাতর জায়গায় এখনো তাদের উপস্থিতি সত্যিই বিস্ময় এবং উদ্বেগ উভয়ই সৃষ্টি হয়েছে, নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক কর্মকর্তা জানান মাননীয় মন্ত্রী ও সিনিয়র সচিব মহোদয়ের দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে, মাননীয় মন্ত্রী ও সিনিয়র সচিব মহোদয়ের ষদ্বয় দৃষ্টি কামনা করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহনে মহোদয় গণের সূ- মর্জি কামনার কথা জানিয়েছেন। এই চক্রের বিষয়ে এখনই ব্যবস্থা না নিলে তাদের বেপরোয়া কর্মকান্ডে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তথা সরকারের মান ক্ষুন্ন হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এ বিষয়ে উক্ত সিন্ডিকেটের মূল হোতা সাইফুল ইসলাম স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের গ্রুপে একটি মেসেজ দিয়েছেন আমরা চলি পাতায় পাতায় আমরা একেকজনের হাঁড়ির খবর জানি,  তাই আমাদের কেউ কিছু করতে পারবে না। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিভিন্ন মহল থেকে এ বিষয় প্রতিকার সহ সরকারের উচ্চ মহলের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ৩, ২০২৬ 0
জনপ্রশাসন প্রশাসন মন্ত্রণালয়
বরিশাল সিটি করপোরেশনের আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তা পেলেন শাস্তি : দুই বছর বেতন বাড়বে না

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : আশ্রয়ণ-২ প্রকল্পের ঘর নির্মাণে অনিয়ম ও দায়িত্বে অবহেলার দায়ে রুম্পা সিকদার নামে এক জ্যেষ্ঠ সিনিয়র সহকারী সচিবকে শাস্তি দিয়েছে জনপ্রশাসন প্রশাসন মন্ত্রণালয়। লঘুদণ্ড হিসেবে তাঁর বেতন বৃদ্ধি দুই বছরের জন্য স্থগিত করা হয়েছে। রুম্পা সিকদার ঝালকাঠির নলছিটি উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) থাকার সময় এই অনিয়মের ঘটনা ঘটেছিল। পরে তিনি বরিশাল সিটি করপোরেশনে আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তার দায়িত্বও পালন করেন। বুধবার জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনে এই শাস্তির কথা জানানো হয়। প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, রুম্পা সিকদার ২০১৯ সালের ৮ জুলাই থেকে ২০২২ সালের ১ ডিসেম্বর পর্যন্ত নলছিটির ইউএনও থাকার সময় আশ্রয়ণ-২ প্রকল্পের আওতায় ২০২১-২২ অর্থবছরের তৃতীয় পর্যায়ের ৩০২টি ঘরের মধ্যে মাটিভাঙ্গা (চর ষাটপাকিয়া) এলাকায় ১২৮টি ঘর নির্মাণের জন্য ১ কোটি ৪৫ লাখ ৪৭ হাজার ৫০০ টাকা বরাদ্দ পান। পরে দায়িত্বপ্রাপ্ত ইউএনও মো. নজরুল ইসলামের সরেজমিন পরিদর্শনে দেখা যায়, ১২৮টি ঘরের মধ্যে ৫৫টি ঘর নির্মাণই করা হয়নি। এ বিষয়ে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা বিজন কৃষ্ণ খরাতীকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে তিনি অনির্মিত ঘরগুলো নির্মাণের প্রতিশ্রুতি দেন। সে অনুযায়ী ঘর প্রতি ৩ লাখ ৪ হাজার টাকা হারে ও পরিবহন ব্যয়সহ মোট ১ কোটি ৬৯ লাখ ৯৫ হাজার টাকা সংশ্লিষ্ট ব্যাংক হিসাবে জমা দেওয়ার জন্য বরিশালের বিভাগীয় কমিশনার তাঁকে নির্দেশ দেন। নির্দেশনা অনুযায়ী বিজন কৃষ্ণ খরাতী টাকা জমা দেন। প্রজ্ঞাপনে আরও বলা হয়, রুম্পা সিকদার তাঁর দায়িত্বকালে অনির্মিত ৫৫টি ঘর নির্মাণে কোনো কার্যকর পদক্ষেপ না নিয়ে বিজন কৃষ্ণ খরাতীর প্রস্তাবে পুরো অর্থের চেকে স্বাক্ষর করেন। এ ছাড়া ‘গৃহ প্রদান নীতিমালা, ২০২০’ অনুযায়ী ঘর নির্মাণের কথা থাকলেও সভাপতি হিসেবে সে অনুযায়ী গুণগত মান নিশ্চিত না করে তিনি কাজে চরম অবহেলা দেখান। এটি সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা অনুযায়ী অসদাচরণের মতো শাস্তিযোগ্য অপরাধ হওয়ায় বিভাগীয় মামলা করা হয়। এতে ওই কর্মকর্তার ব্যক্তিগত শুনানির বক্তব্য সন্তোষজনক হয়নি। এরপর বিভাগীয় মামলাটি তদন্ত করার জন্য তদন্তকারী কর্মকর্তা নিয়োগ করা হয়। তদন্ত প্রতিবেদনে দেখা যায়, রুম্পা সিকদার ও বিজন কৃষ্ণ খরাতীর যৌথ স্বাক্ষরে ঘর নির্মাণের টাকা উত্তোলন করা হয়েছিল। কিন্তু ৫৫টি ঘর নির্মাণ না হলেও রুম্পা সিকদার নলছিটি থেকে বদলির সময় এই টাকা সম্পর্কে কোনো তথ্য বিবরণী কাগজে লিপিবদ্ধ করেননি। একজন ইউএনও হিসেবে কত টাকার চেকে তিনি স্বাক্ষর করেছেন এবং সেই টাকা কী উদ্দেশ্যে ব্যবহার হয়েছে, তার প্রমাণ ও তা দাপ্তরিক নথিপত্রে লিপিবদ্ধ থাকা প্রয়োজন। এখানে তাঁর প্রশাসনিক দক্ষতার অভাব ও কর্তব্যে অবহেলা প্রমাণিত হয়েছে। প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, অসদাচরণের অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় সব বিষয় বিবেচনায় রুম্পা সিকদারকে দুই বছরের বেতন স্থগিতের লঘুদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ৩, ২০২৬ 0
এ.কে.এম. আরিফ উদ্দিন
বিআইডব্লিউটিএ’র অতিরিক্ত পরিচালক এ কে এম আরিফ উদ্দিনের বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জন

বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষ – বিআইডব্লিউটিএ)-এর বন্দর ও পরিবহন শাখার অতিরিক্ত পরিচালক এ.কে.এম. আরিফ উদ্দিন (ওরফে আরিফ হাসনাত)-এর বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জন, ক্ষমতার অপব্যবহার এবং প্রশাসনিক অনিয়মের একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এসব অভিযোগের বিষয়ে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুর্নীতি দমন কমিশন – দুদক) অনুসন্ধান শুরু করেছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। তবে অভিযোগগুলোর বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত তিনি আইনত নির্দোষ বলে বিবেচিত। রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ও অবস্থান পরিবর্তনের অভিযোগ অভিযোগে বলা হয়েছে, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে তিনি দলীয় ঘনিষ্ঠতা বজায় রেখে প্রভাবশালী অবস্থান তৈরি করেন। ৫ আগস্ট ২০২৪ তারিখে সরকার পরিবর্তনের পর তিনি রাজনৈতিক অবস্থান বদল করে নতুন প্রেক্ষাপটে নিজেকে মানিয়ে নিয়েছেন—এমন অভিযোগও উঠে এসেছে। তবে এসব অভিযোগের পক্ষে স্বাধীনভাবে যাচাইযোগ্য প্রমাণ এখনও প্রকাশ্যে আসেনি। দুদকের অনুসন্ধান: চিঠি ও নথি চাওয়া দুদকের উপ-পরিচালক মো. হাফিজুল ইসলাম (অনুসন্ধান ও তদন্ত-২) স্বাক্ষরিত ০৩/০৯/২০২৩ তারিখের এক পত্রে বিআইডব্লিউটিএ’র প্রশাসন বিভাগে আরিফ হাসনাত নামে এক যুগ্ম পরিচালকের বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে বিভিন্ন নথিপত্র চাওয়া হয়। দুদকের চাহিদাপত্রে যেসব তথ্য চাওয়া হয়েছে তার মধ্যে রয়েছে— নারায়ণগঞ্জ ও সদরঘাট পোর্টের নির্দিষ্ট সময়ের ব্যাংক হিসাব বিবরণী সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার ব্যক্তিগত নথি চাকরিজীবনের শুরু থেকে জুন ২০২৩ পর্যন্ত বেতন-ভাতার বিবরণ স্ত্রী/সন্তান/ভাইয়ের নামে ব্যবসা বা শেয়ার পরিচালনার অনুমোদন সংক্রান্ত কাগজপত্র তবে সংশ্লিষ্ট সূত্র দাবি করেছে, বিআইডব্লিউটিএতে “আরিফ হাসনাত” নামে কোনো যুগ্ম পরিচালক নেই—যা তদন্ত প্রক্রিয়ায় বিভ্রান্তি সৃষ্টি করেছে বলে জানা যায়। সম্পদের অভিযোগ অভিযোগে দাবি করা হয়েছে, আরিফ উদ্দিন ঢাকার এলিফ্যান্ট রোডে প্রায় ২২ কোটি টাকা মূল্যে একটি বহুতল বাড়ি ক্রয় করেছেন। এছাড়া বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় একটি বিলাসবহুল ফ্ল্যাট, অভ্যন্তরীণ ডেকোরেশন, সুইমিংপুল নির্মাণসহ কয়েক কোটি টাকার বিনিয়োগের অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া— পাবনা জেলার সুজানগরে বিপুল পরিমাণ জমি ক্রয় একাধিক বেসরকারি ব্যাংকে ফিক্সড ডিপোজিট বিদেশে (যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডা) সম্পদ থাকার গুঞ্জন একাধিক গাড়ি ব্যবহার ও সরকারি গাড়ির সুবিধা গ্রহণ উল্লেখ্য, এসব তথ্য অভিযোগভিত্তিক এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের চূড়ান্ত তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ না হওয়া পর্যন্ত নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না। আইন ও এস্টেট পরিচালক পদ নিয়ে প্রশ্ন নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন স্মারক অনুযায়ী, বিআইডব্লিউটিএ’র সাংগঠনিক কাঠামোতে এস্টেট ও আইন বিভাগের জন্য নতুন পরিচালক পদ সৃষ্টির প্রস্তাবে অর্থ মন্ত্রণালয় অসম্মতি জানিয়েছিল। ১৫ এপ্রিল ২০২৪ তারিখের এক পত্রে সাময়িক ভিত্তিতে সীমিত কিছু পদ সৃষ্টির বিষয়ে আলোচনা হলেও প্রস্তাবিত পরিচালক পদে চূড়ান্ত সম্মতির বিষয়টি স্পষ্ট নয়। কিন্তু বিআইডব্লিউটিএ’র ওয়েবসাইটে ল্যান্ড ও এস্টেট বিভাগের পরিচালক (অতিরিক্ত দায়িত্ব) হিসেবে এ.কে.এম. আরিফ উদ্দিনের নাম দেখা গেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এ নিয়ে প্রশাসনিক স্বচ্ছতা ও বিধিবিধান অনুসরণের প্রশ্ন উঠেছে। প্রতিষ্ঠানের ভেতরে অনিয়মের অভিযোগ বিআইডব্লিউটিএ সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র দাবি করেছে— দীর্ঘদিন প্রধান কার্যালয়ে অবস্থান করে প্রভাব বলয় তৈরি উন্নয়ন প্রকল্পে অনিয়ম সরকারি চাকরি বিধি লঙ্ঘন কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে আয়বহির্ভূত সম্পদের অভিযোগ তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে বিআইডব্লিউটিএ’র আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। উপসংহার বিআইডব্লিউটিএ’র অতিরিক্ত পরিচালক এ.কে.এম. আরিফ উদ্দিনের বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগগুলো বর্তমানে অনুসন্ধানাধীন বলে জানা গেছে। দুদকের তদন্ত এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের প্রশাসনিক পর্যালোচনা শেষে প্রকৃত চিত্র স্পষ্ট হবে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে—এমন প্রত্যাশা সংশ্লিষ্ট মহলের। অন্যদিকে, অভিযোগ মিথ্যা হলে তা দ্রুত পরিষ্কার করাও জরুরি বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

নিজস্ব প্রতিবেদক ফেব্রুয়ারি ২৮, ২০২৬ 0
Popular post
ফারুকীর সম্পদ কমেছে, তিশার বেড়েছে দ্বিগুণেরও বেশি: সম্পদ বিবরণী ঘিরে আলোচনা

অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের সম্পদ বিবরণী প্রকাশের পর সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী ও তার স্ত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদের হিসাব নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। এক বছরের ব্যবধানে স্বামী ফারুকীর সম্পদ কমলেও স্ত্রী তিশার সম্পদ বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে প্রকাশিত তথ্যে উঠে এসেছে এই চিত্র। প্রকাশিত খতিয়ান অনুযায়ী, জনপ্রিয় অভিনেত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদ এক বছরে অভাবনীয় হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তিশার মোট সম্পদের পরিমাণ ছিল ১ কোটি ৪০ লাখ ৮১ হাজার ৮৬০ টাকা। ঠিক এক বছর পর, ২০২৫ সালের ৩০ জুন সেই সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ৯৯ লাখ ৮৯ হাজার ৫০১ টাকায়। অর্থাৎ মাত্র এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ বেড়েছে ১ কোটি ৫৯ লাখ ৭ হাজার ৬৪১ টাকা, যা আগের বছরের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি। অন্যদিকে সংস্কৃতি উপদেষ্টা ও নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর ক্ষেত্রে দেখা গেছে উল্টো চিত্র। এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ কমেছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তার মোট সম্পদ ছিল ২ কোটি ২৬ লাখ ৯২ হাজার ২৬ টাকা। ২০২৫ সালের ৩০ জুন তা কমে দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ১৫ লাখ ১৮ হাজার ২৬ টাকায়। হিসাব অনুযায়ী, এক বছরে তার সম্পদ কমেছে ১১ লাখ ৭৪ হাজার টাকা। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে গত মঙ্গলবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ প্রধান উপদেষ্টা, উপদেষ্টা ও সমমর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের পাশাপাশি তাদের স্ত্রী বা স্বামীর সম্পদ বিবরণী প্রকাশ করে। একই সময়ে স্বামী-স্ত্রীর সম্পদে এমন ভিন্নমুখী পরিবর্তন স্বাভাবিকভাবেই সাধারণ মানুষের কৌতূহলের জন্ম দিয়েছে। শোবিজ অঙ্গনের জনপ্রিয় দম্পতি হওয়ায় তাদের এই আয়-ব্যয়ের হিসাব এখন টক অব দ্য কান্ট্রি।

বাংলাদেশে ঐতিহাসিক নির্বাচন: বিএনপি এগিয়ে, জামায়াতের উত্থান ও তরুণ ভোটারদের প্রভাব

২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশে আজ এক ঐতিহাসিক ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ২০০৮ সালের পর এই প্রথম একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হতে যাচ্ছে যেখানে দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগ রাজনৈতিক মানচিত্র থেকে কার্যত অনুপস্থিত। বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক জরিপ বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০০ আসনের মধ্যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) কার্যকর সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে যাচ্ছে। তবে ভোটের ব্যবধান এবং কিছু সমীকরণ নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। নির্বাচনের সবচেয়ে বড় নিয়ামক হয়ে দাঁড়িয়েছে আওয়ামী লীগের বিশাল ভোটব্যাংক। দলটির নিয়মিত প্রায় ৪ কোটি ভোটার এখন নতুন রাজনৈতিক আশ্রয় খুঁজছেন। সিআরএফ বা বিইপিওএস জরিপ বলছে, এই ভোটারদের প্রায় অর্ধেক বিএনপির দিকে ঝুঁকেছে, যা দলটিকে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতার পথে এগিয়ে দিচ্ছে। অন্যদিকে, প্রায় ৩০ শতাংশ আওয়ামী ভোটার জামায়াতে ইসলামীকে বেছে নিতে পারেন বলে আভাস পাওয়া যাচ্ছে। এছাড়া বাংলাদেশের বিদ্যমান নির্বাচনী ব্যবস্থার কারণে দেশজুড়ে সুষম জনসমর্থন থাকা বিএনপি আসন জয়ের ক্ষেত্রে জামায়াতের তুলনায় সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। তবে বিএনপির এই সম্ভাব্য জয়ের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও বিদ্রোহী প্রার্থীরা। প্রায় ৭৯টি নির্বাচনী এলাকায় দলের মনোনয়ন না পাওয়া ৯২ জন প্রভাবশালী নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, যা বিএনপির ১৫ থেকে ৩০টি আসন কমিয়ে দিতে পারে। অন্যদিকে, তরুণ ভোটার বা ‘জেন-জি’ প্রজন্মের বিশাল সমর্থন জামায়াতে ইসলামীর শক্তির উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেশের ৪৪ শতাংশ ভোটারই তরুণ, যাদের বড় একটি অংশ প্রথমবার ভোট দিচ্ছেন। এই তরুণরা যদি দলবেঁধে কেন্দ্রে উপস্থিত হন, তবে নির্বাচনী ফলে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। সবশেষে, প্রায় ১৭ থেকে ৩৫ শতাংশ দোদুল্যমান ভোটার এবং তাদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করবে আগামীর সরকার কতটা শক্তিশালী হবে। দ্য নিউইয়র্ক এডিটোরিয়ালের মূল পূর্বাভাস, তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি প্রায় ১৮৫টি আসনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করতে পারে এবং জামায়াতে ইসলামী ৮০টির মতো আসন পেয়ে প্রধান বিরোধী দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারে। তবে বিদ্রোহী প্রার্থীদের প্রভাব এবং তরুণ ভোটারদের উপস্থিতির ওপর ভিত্তি করে আসন সংখ্যায় বড় ধরনের হেরফের হওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

গাজায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা ট্রাম্প প্রশাসনে

ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। ৩৫০ একরের ঘাঁটিটিতে সামরিক বাহিনীর পাঁচ হাজার সদস্য থাকতে পারবে। গাজার ‘বোর্ড অব পিস’র নথি পর্যালোচনা করে এ তথ্য জানিয়েছে দ্য গার্ডিয়ান। প্রতিবেদনে ব্রিটিশ সংবাদ মাধ্যমটি জানিয়েছে, বোর্ড অব পিসে গাজাকে নিরাপদ করার জন্য ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যাবিলাইজেশন ফোর্স (আইএসএফ) নামে একটি আন্তর্জাতিক বাহিনী মোতায়েনের কথা বলা হয়েছে। যে স্থানটি ঘাঁটি করার জন্য বিবেচনা করা হচ্ছে সেখানে আইএসএফের সদস্যরা থাকবে। বোর্ড অব পিসের প্রধান হবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আর সংগঠনটির আংশিক নেতৃত্ব দেবেন ট্রাম্পের জামাতা জ্যারার্ড কুশনার।দ্য গার্ডিয়ান বোর্ড অব পিসের নথি পর্যালোচনা করে জানায়, ধাপে ধাপে একটি সামরিক ঘাঁটি নির্মাণ করা হবে। সবকিছু শেষ হলে ঘাঁটিটি ১৫ লাখ ১৭ হাজার ৫৭৫ বর্গমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত হবে। ঘাঁটিটির চারপাশে ট্রেইলার সংযুক্ত ২৬টি সাঁজোয়া নজরদারি টাওয়ার থাকবে। এছাড়া একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, বাংকার ও অস্ত্র রাখার গুদাম থাকবে। পুরো ঘাঁটিটি কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে ঘিরে রাখা হবে। সামরিক ঘাঁটি নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে দক্ষিণ গাজার একটি শুষ্ক সমতলভূমিতে। সেখানে ইসরায়েলি হামলার চিহ্ন রয়েছে। ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে বিভিন্ন ধাতবের ধ্বংসাবশেষ।  ওই এলাকার ভিডিও পর্যালোচনা করেছে দ্য গার্ডিয়ান। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, ঘাঁটি নির্মাণের জন্য টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে। যুদ্ধক্ষেত্রে কাজের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন আন্তর্জাতিক নির্মাণ কোম্পানিগুলোর একটি ছোট দলকে ইতোমধ্যেই এলাকাটি দেখানো হয়েছে। ওই দলটি দরপত্রে অংশ নিতে আগ্রহী।    ইন্দোনেশিয়া সরকার গাজায় আট হাজার সেনা সদস্য পাঠানোর জন্য প্রস্তাব দিয়েছে। বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটন ডিসিতে বোর্ড অব পিসের অনানুষ্ঠানিক বৈঠকে ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্টের অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। এছাড়া দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার আরও তিন নেতার ওই বৈঠকে অংশ নেবেন বলে জানা গেছে। জাতিসংঘের নিরাপত্তা কাউন্সিল গাজার সাময়িক স্থিতিশীলতার জন্য অস্থায়ীভাবে সামরিক বাহিনী মোতায়েনের অনুমোদন দিয়েছে। নিরাপত্তা কাউন্সিলই বোর্ড অব পিসের মূল হোতা। গাজার সীমান্ত ও শান্তি প্রণয়নে কাজ করবে আইএসএফ। এছাড়া বেসামরিকদের সুরক্ষা এবং ফিলিস্তিনি পুলিশ বাহিনীকে প্রশিক্ষণ ও সহায়তা দেবে তারা। যদি গাজায় ফের সংঘর্ষ হয়, ইসরায়েল বোমা হামলা চালায় অথবা হামাস হামলা চালায় সেক্ষেত্রে আইএসএফ কি করবে তা এখনও স্পষ্ট নয়। গাজা পুনর্গঠনে ইসরায়েল হামাসকে নিরস্ত্রীকরণের যে শর্ত দিয়েছে সেটির জন্য আইএসএফ কাজ করবে কিনা তাও স্পষ্ট না। ইতোমধ্যে বোর্ড অব পিসে ২০ এর অধিক দেশ যোগ দিয়েছে। তবে, এখনও অনেক পরাশক্তি এর থেকে দূরে রয়েছে। জাতিসংঘের অনুমোদন নিয়ে প্রতিষ্ঠিত হলেও ধারণা করা হচ্ছে, সংগঠনটির স্থায়ী নেতৃত্ব ও নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে। রুটজার্স বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক আদিল হক বলেন, “বোর্ড অব পিস এক ধরনের আইনি কল্পসত্তা। নামমাত্রভাবে এর নিজস্ব আন্তর্জাতিক আইনগত সত্তা রয়েছে, যা জাতিসংঘ ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে আলাদা। কিন্তু বাস্তবে এটি যুক্তরাষ্ট্রের ইচ্ছামতো ব্যবহারের জন্য একটি ফাঁপা খোলসমাত্র।” বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গাজা পুনর্গঠনে যে অর্থায়ন ও শাসন কাঠামো হচ্ছে তা অস্বচ্ছ। কয়েকজন ঠিকাদার গার্ডিয়ানকে জানান, গাজায় কাজ করার জন্য মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে তাদের প্রায়শ আলোচনা সরকারি ইমেলের বদলে সিগন্যালের মাধ্যমে করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রের তথ্য মতে, ঘাঁটি নির্মাণের সিদ্ধান্তটি বোর্ড অব পিসের। এতে সহায়তা করছে মার্কিন কর্মকর্তারা। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ঘাঁটিতে তৈরি বাংকার নেটওয়ার্কের মতোন কাজ করবে। প্রতিটি বাংকারের ২৪ মিটারের হবে। উচ্চতা থাকবে আড়াই মিটার। এগুলো এমনভাবে করা হবে যেন সেনা সদস্যরা আশ্রয় নিতে পারে। স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসের গাজায় সুড়ঙ্গ নেটওয়ার্ক বা টানেল রয়েছে। সেগুলোর আদলে নেটওয়ার্ক করতে চাওয়া হচ্ছে। পিস অব বোর্ডের নথি পর্যালোচনা করে এমন দাবি করছে গার্ডিয়ান। সংবাদ মাধ্যমটি বলছে,  স্থানটির ভূ-ভৌত জরিপ পরিচালনা করবে ঠিকাদাররা। নথির এক অংশে ‘হিউম্যান রেমিয়েনস প্রোটোকল’র কথা বলা হয়েছে। এর মানে দাঁড়ায়, সন্দেহভাজন মানব অবশিষ্ট বা সাংস্কৃতিক নিদর্শন পাওয়া গেলে অবিলম্বে সেই এলাকায় সব কাজ বন্ধ করতে হবে। চুক্তি কর্মকর্তাকে দিকনির্দেশনার জন্য অবিলম্বে জানাতে হবে। গাজা সিভিল ডিফেন্সের ধারণা, গাজার ধ্বংসস্তূপের নিচে ১০ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনির মরদেহ রয়েছে। ঘাঁটির জন্য যে স্থানটি বিবেচিত করা হচ্ছে সেটির মালিক কে তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে, দক্ষিণ গাজার বেশিরভাগ অংশ  বর্তমানে ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণে। জাতিসংঘের অনুমান, যুদ্ধ চলাকালীন ১৯ লাখ ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত হয়েছে। ফিলিস্তিনের জমিতে সরকারের অনুমতি না নিয়ে সামরিক ঘাঁটি স্থাপনকে দখল হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন ফিলিস্তিনি-কানাডিয়ান আইনজীবী এবং প্রাক্তন শান্তি আলোচক দিয়ানা বুট্টু। তিনি প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়ে বলেন, “কার অনুমতিতে তারা সামরিক ঘাঁটি স্থাপন করবে।” বিষয়টি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা বোর্ড অব পিসের কথা টানেন। ট্রাম্প প্রশাসনের একজন কর্মকর্তা সামরিক ঘাঁটির চুক্তি নিয়ে আলোচনা করতে অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, “যেমনটি প্রেসিডেন্ট বলেছেন, কোনও মার্কিন সেনা স্থলভাগে যাবে না। আমরা লিক হওয়া নথি নিয়ে আলোচনা করবো না।”

সংসার সামলাতে অটোরিকশা নিয়ে রাস্তায় নেমেছেন রোজিনা

বাসস : বাবা একজন তাঁত শ্রমিক। তিন বোন দুই ভাইয়ের মধ্যে সবার বড় রোজিনা। অভাব সংসার, তাই এক এতিম যুবকের সাথে বাবা-মা বিয়ে দেন তাকে। বিয়ের পর জন্ম হয় দুই কন্যা সন্তানের। অটোরিকশা চালিয়ে কোন রকম সংসার চালাচ্ছিলেন স্বামী রফিকুল ইসলাম। কিন্তু সড়ক দুর্ঘটনায় রফিকুলের এক চোখ সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যায়। আরেকটি চোখ আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ধীরে ধীরে ওই চোখের দৃষ্টি শক্তিও কমতে থাকে। ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে অটোরিকশা চালানো। সংসারের উপার্জনক্ষম মানুষটি অচল হয়ে পড়ায় চিকিৎসার খরচ, ঘর ভাড়া ও খাবারের পাশাপাশি মেয়েদের লেখাপড়ার খরচ চালানোই কঠিন হয়ে যায়। দিশেহারা হয়ে পরেন রোজিনা। এক পর্যায়ে মানুষের বাড়ি বাড়ি কাজ করে সংসার চালানোর চেস্টা করেন। কিন্তু সুবিধা করতে পারেন না। এমন পরিস্থিতিতে অটোরিকশা চালানোর সিদ্ধান্ত নেন তিনি। স্বামী রফিকুলের কাছেই হাতেখড়ি। গ্রামের স্কুলের মাঠে স্বামীর কাছেই অটোরিকশা চালানোর শিক্ষা নেন তিনি। পরে গ্রামের পথে নেমে পড়েন অটোরিকশা নিয়ে। ৫-৬ দিন এভাবে হাত পাকা করে একদিন টাঙ্গাইল শহরে চলে আসেন রোজিনা। এরপর শুরু করেন অটোরিক্সা চালানোর ব্যতিক্রমী জীবন সংগ্রাম। এখন টাঙ্গাইল পৌরসভায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার চালকদের মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা বেগম। জেলার বাসাইল উপজেলার আইসড়া গ্রামের বাসিন্দা রোজিনা টাঙ্গাইল পৌর শহরের এক প্রান্ত রাবনা বাইপাস থেকে আরেক প্রান্ত বেবিস্ট্যান্ডে যাত্রী আনা নেয়া করেন। যানজটের কারণে শহরে পুরুষ চালকরা যেখানে হিমসিম খায়, সেখানেই বিগত ৫ বছর ধরেই নির্বিঘেœ অটোরিকশা চালাচ্ছেন তিনি। টাঙ্গাইল পৌরসভা কার্যালয় সূত্রে জানা যাায়, টাঙ্গাইল শহরে চলাচলের জন্য ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক ও ৫ হাজার ব্যাটারিচালিত রিকশার অনুমতি (লাইসেন্স) দেওয়া হয়েছে। যানজট এড়াতে ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক জোড় ও বিজোড় সংখ্যায় দিনে দুই ভাগ করা হয়েছে। সকাল থেকে বেলা দুইটা পর্যন্ত এক ভাগ এবং বেলা দুইটা থেকে রাত পর্যন্ত আরেক ভাগের ইজিবাইক চলাচল করার নির্দেশনা দিয়েছে পৌর কর্তৃপক্ষ। কিন্তু রোজিনাকে দুই শিফটে চালানোর অনুমতি দিয়েছে পৌরসভা। সরেজমিনে দেখা যায়, নতুন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অটোরিকশা নিয়ে যাত্রী ডাকছেন রোজিনা। কলেজ গেট, পুরাতন বাসস্ট্যান্ড, ক্যাপসুল, নিরালা মোড়, বেবিস্ট্যান্ড সর্বত্রই যাত্রী আনানেয়া করেন তিনি। পুরাতন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অন্য অটো চালকদের দাঁড় করতে না দিলেও রোজিনাকে বাঁধা দেননা ট্রাফিক পুলিশ। বলতে গেলে সবাই তার প্রতি সহানুভুতিশীল। ট্রাফিক পুলিশসহ অন্য অটোচালকরাও তাকে সহযোগিতা করেন। রোজিনা বলেন, আমার অটোতে নারী যাত্রীরা খুব কম। তারা মনে করে আমার অটোতে উঠলে দুর্ঘটনায় পড়বে। কিন্তু আমি খুব সাবধানে অটো চালাই। দ্রুত গতিতেও না, আবার একেবারে ধীরগতিতেও না। এখন পর্যন্ত আমি কোন দুর্ঘটনার কবলে পড়ি নাই। শহরের পুরুষ অটোরিকশা চালকরা আমাকে অনেক সহযোগিতা করে। অটোচালক কাদের মিয়া বলেন, আমাদের শহরে কয়েক হাজার অটো চলাচল করে। তার মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। তাকে আমরা সব সময় সহযোগিতা করি। যাত্রী সাইদ মিয়া বলেন, আমি এ পর্যন্ত ৫-৬ বার রোজিনার অটোতে চড়েছি। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। অন্য পুরুষ অটো চালকের চেয়েও ভালো অটো চালান। নারী সংগঠক সেরাজুম মনিরা বলেন, তিনি অনেক দিন যাবত অটোরিকশা চালাচ্ছেন। আমি রোজিনাকে স্যালুট জানাই। একজন পুরুষের চেয়ে একজন নারী কোনো ভাবেই যে পিছিয়ে নেই, রোজিনা তা প্রমাণ করেছেন। রোজিনা বলেন, অটো চালানোর এই সিদ্ধান্তটি তার জন্য খুব সহজ ছিল না। তিনি বলেন, ৫ ও ১০ বছরের দুই মেয়েকে বাড়িতে রেখে অটোরিকশা নিয়ে সারাদিন রাস্তায় থাকতে হয়। তাদের ভালোভাবে দেখাশোনা করতে পারি না। কিন্তু কি করবো, অভাবের সংসার! এখন ঋণ নিয়ে একটু জমি কিনেছি। প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ণ প্রকল্পের অর্থায়নে প্রশাসন সেখানে ঘর তুলে দিয়েছে। শুরুতে যারা আমাকে নিয়ে ঠাট্টা করেছে এখন তারাই আমাকে সম্মান করেন। নারীরাও যে কিছু করতে পারে, তা প্রমাণ করেছি। আমার বড় মেয়ে আইসড়া উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়ে, ছোট মেয়ে পড়ে স্থানীয় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। মেয়েদের শিক্ষিত করতে হবে। ধার দেনা শোধ করতে হবে। তাই থেমে গেলো চলবে না। আমি অটোরিকশা চালিয়েই দুই সন্তানকে মানুষ করতে চাই।’ ঘারিন্দা ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য বাবুল সরকার বলেন, সরকার রোজিনাকে একটি ঘর নির্মাণ করে দিয়েছে। শুরুতে যারা তাকে নিয়ে নানান কথা বলতো, এখন তার সংকল্প ও মানষিক দৃঢ়তা দেখে থেমে গেছে। আমরা তাকে নিয়ে গর্ব করি। টাঙ্গাইলের ট্রাফিক ইন্সপেক্টর (প্রশাসন) দেলোয়ার হোসেন বলেন, শহরের একমাত্র নারী চালক রোজিনাকে কেউ যেন বিরক্ত করতে না পারে সেদিকে সব সময় নজর রাখে ট্রাফিক পুলিশ। আমরা তাকে সব সময় সহযোগিতা করে আসছি। টাঙ্গাইলের সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক শাহ আলম বলেন, বিষয়টি এখন জানতে পারলাম। ওই নারী এখনো পর্যন্ত আমাদের কাছে আসেন নাই। যদি আমাদের কাছে এসে আবেদন করেন অবশ্যই তাকে আমরা সহযেগিতা করবো, তার পাশে দাঁড়াবো।

কুড়িগ্রামের তাজু ভাই ২.০: ‘সরকারি রেটে জিলাপি’ প্রশ্নে ভাইরাল এক নির্মাণশ্রমিকের গল্প

বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের প্রত্যন্ত চরাঞ্চল থেকে উঠে এসে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার কেন্দ্রে এখন তাইজুল ইসলাম, যিনি অনলাইনে পরিচিত ‘তাজু ভাই ২.০’ নামে। মাত্র একটি ভিডিও—যেখানে তিনি এক দোকানিকে প্রশ্ন করেন, “জিলাপি আজকে কত করে বেচতেছেন সরকারি রেটে?”—এই সরল উপস্থাপনাই তাকে রাতারাতি ভাইরাল করে তোলে।  কয়েক ঘণ্টায় ফলোয়ার লাখ ছাড়াল রোববার রাত পর্যন্ত তার ফেসবুক অনুসারী ছিল প্রায় ৩৫ হাজার। কিন্তু সোমবার সন্ধ্যা থেকে রাতের মধ্যেই তা বেড়ে এক লাখের বেশি হয়ে যায়। ভাইরাল ভিডিওটি ইতোমধ্যে প্রায় ৫০ থেকে ৫৫ লাখবার দেখা হয়েছে।  কী ছিল সেই ভিডিওতে? ভিডিওতে দেখা যায়, কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীর নারায়ণপুর বাজারে দাঁড়িয়ে স্থানীয় ভাষায় তিনি জিলাপির দাম জানতে চান। তার কথাগুলো ছিল একেবারেই সহজ ও গ্রাম্য ভঙ্গিতে— “সাদাডা কত, লালডা কত? সরকারি রেটে বেচতেছেন?” এই সরল প্রশ্নই সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।  কোথা থেকে উঠে এলেন তাজু ভাই? কুড়িগ্রাম জেলার নাগেশ্বরী উপজেলার নারায়ণপুর ইউনিয়নের একটি দুর্গম গ্রামে জন্ম তার। ব্রহ্মপুত্র নদবেষ্টিত এই অঞ্চলে পৌঁছাতে এখনও কয়েকটি নৌঘাট পার হতে হয়। দারিদ্র্যের কারণে কখনো স্কুলে যাওয়া হয়নি তার। পেশায় তিনি একজন নির্মাণশ্রমিকের সহকারী (হেলপার)। কাজের ফাঁকে ঢাকায় থাকাকালীন মোবাইল ফোনে ভিডিও তৈরি করাই তার শখ। ব্যক্তিগত সংগ্রাম তাইজুল ইসলামের পরিবারে ছয় ভাই-বোন। তিনি সবার বড়। তার বাবা-মা দুজনই শ্রবণপ্রতিবন্ধী। পরিবার চালাতে তাকে ছোটবেলা থেকেই সংগ্রাম করতে হয়েছে। তিনি বলেন, “পরিবারের কষ্ট ভুলতেই ভিডিও করি। আমি সাংবাদিক না, কিন্তু আমাদের এলাকায় কেউ আসে না—তাই নিজেরাই ভিডিও বানাই।” ভাইরাল হওয়ার পেছনের উদ্দেশ্য তাইজুলের দাবি, তার ভিডিও শুধুই বিনোদনের জন্য নয়। তিনি চান তার এলাকার অবহেলিত মানুষের কথা প্রশাসনের নজরে আসুক। “আমি চাই চরের মানুষের উন্নয়ন হোক,”—বলছেন তিনি।  মিশ্র প্রতিক্রিয়া ভিডিওটি নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে দুই ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ তার সরলতা ও বাস্তবতা তুলে ধরার চেষ্টা প্রশংসা করছেন আবার কেউ তাকে নিয়ে ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ করছেন তবে এসব সমালোচনায় তিনি বিচলিত নন।

অর্থনীতি

দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য

বাংলাদেশে জ্বালানি আমদানিতে সীমাবদ্ধতা, বাজেটে সতর্কতার পরামর্শ দিলেন দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ১, ২০২৬ 0




অপরাধ

জাল সনদে ১২ বছর সরকারি চাকরি -অভিযুক্ত অফিস সহায়ক সোহাগ

বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজে ১২ বছর জাল সার্টিফিকেটে সরকারি চাকরি

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ৩, ২০২৬ 0




কৃষি ও জলবায়ু

সার ডিলার নিয়োগ ও বিতরণ নীতিমালা  দ্রুত বাস্তবায়নের দাবিতে বরিশালে মানববন্ধন

সার ডিলার নিয়োগ ও বিতরণ নীতিমালা দ্রুত বাস্তবায়নের দাবিতে বরিশালে মানববন্ধন

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ১৯, ২০২৬ 0