ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : রোগীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে বরিশালের কেএমসি হাসপাতালে হামলা এবং এক নবীন চিকিৎসককে গুরুতর আহত করার ঘটনার পর হাসপাতাল পরিদর্শন করেছে ডক্টরস এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ড্যাব) বরিশাল জেলা শাখার একটি প্রতিনিধি দল। পরিদর্শন শেষে সংগঠনটির সভাপতি ও কেন্দ্রীয় কমিটির উপদেষ্টা ডা. কবিরুজ্জামান বলেছেন, সংশ্লিষ্ট রোগীর চিকিৎসা-সংক্রান্ত নথি ও চিকিৎসা প্রক্রিয়া পর্যালোচনা করে তারা কোনো ধরনের অবহেলার প্রমাণ পাননি। তার দাবি, হাসপাতালের সক্ষমতার মধ্যে রোগীকে সর্বোচ্চ চিকিৎসা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে। ড্যাব সূত্রে জানা যায়, হামলার শিকার চিকিৎসকের সহকর্মীরা ঘটনার পরদিন হাসপাতালে গিয়ে রোগীর চিকিৎসা-সংক্রান্ত বিভিন্ন দিক পর্যবেক্ষণ করেন। তাদের মূল্যায়নে, অচেতন রোগী হাসপাতালে আনার পর যেসব জরুরি চিকিৎসা পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন, তার সবগুলোই অনুসরণ করা হয়েছে। ডা. কবিরুজ্জামান বলেন, অচেতন রোগীর ক্ষেত্রে নাকের মাধ্যমে শ্বাস-প্রশ্বাস বা খাদ্য সরবরাহের নল, প্রস্রাবের পথের ক্যাথেটার এবং স্যালাইন সংযুক্ত করা প্রাথমিক চিকিৎসার অংশ। সংশ্লিষ্ট রোগীর ক্ষেত্রেও এসব ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছিল। এছাড়া রোগীর স্বজনদের সঙ্গে প্রয়োজনীয় কাউন্সেলিংয়েও কোনো ঘাটতি ছিল না বলে দাবি করেন তিনি। রোগীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে চিকিৎসকের ওপর হামলার ঘটনাকে ‘অগ্রহণযোগ্য’ আখ্যা দিয়ে ড্যাব সভাপতি বলেন, চিকিৎসাসেবা প্রদানকারী কোনো ব্যক্তির ওপর হামলা শুধু একজন চিকিৎসকের বিরুদ্ধে নয়, পুরো স্বাস্থ্যব্যবস্থার ওপর আঘাত। দ্রুত বিচার চায় চিকিৎসকরা ঘটনার পর রাষ্ট্রীয় আইন অনুযায়ী মামলা দায়ের করা হয়েছে উল্লেখ করে ডা. কবিরুজ্জামান বলেন, এখন তদন্ত ও আইন প্রয়োগের দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর। তার ভাষ্য, “এ ধরনের ঘটনায় আসামি গ্রেপ্তার এবং চার্জশিট দাখিলে এক সপ্তাহের বেশি সময় নেওয়া কাম্য নয়। আমরা দেখতে চাই আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলো তাদের দায়িত্ব পালনে কোনো শৈথিল্য দেখায় কি না।” চিকিৎসাসেবা বন্ধের সতর্কবার্তা ড্যাব নেতারা বলেছেন, তাদের আইন প্রয়োগের ক্ষমতা না থাকলেও চিকিৎসাসেবা দেওয়া বা না দেওয়ার বিষয়ে সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার রয়েছে। ডা. কবিরুজ্জামান প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, হামলার বিচার নিশ্চিত না হলে চিকিৎসক সমাজ কঠোর অবস্থানে যেতে বাধ্য হতে পারে। তিনি সতর্ক করে বলেন, অনির্দিষ্টকালের জন্য চিকিৎসাসেবা সীমিত বা বন্ধ করার মতো পরিস্থিতি তৈরি হোক, তা তারা চান না; তবে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার দায়িত্ব প্রশাসনের। কেন গুরুত্বপূর্ণ এই ঘটনা? স্বাস্থ্যখাতে কর্মরত চিকিৎসকদের নিরাপত্তা প্রশ্নে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বারবার উদ্বেগ দেখা গেছে। রোগীর মৃত্যু বা চিকিৎসা জটিলতাকে কেন্দ্র করে হাসপাতাল ও চিকিৎসকদের ওপর হামলার একাধিক ঘটনা চিকিৎসক সংগঠনগুলোকে নিরাপত্তা ইস্যুতে সোচ্চার করেছে। কেএমসি হাসপাতালের ঘটনাও সেই বিতর্ককে নতুন করে সামনে এনেছে। একদিকে রোগীর স্বজনদের ক্ষোভ, অন্যদিকে চিকিৎসকদের নিরাপত্তা—এই দুই বাস্তবতার মধ্যে ভারসাম্য কীভাবে রক্ষা করা হবে, সেটিই এখন স্বাস্থ্যখাত ও প্রশাসনের জন্য বড় প্রশ্ন হয়ে উঠেছে।
বরিশাল অফিস : বরিশাল নগরীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে স্ট্রোকে আক্রান্ত এক রোগীর মৃত্যুর পর সৃষ্টি হওয়া উত্তেজনা দ্রুত রূপ নেয় সহিংসতায়। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দাবি, রোগীর স্বজনদের সঙ্গে ভুল বোঝাবুঝির সুযোগ নিয়ে একদল বহিরাগত হামলাকারী চিকিৎসক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের ওপর আক্রমণ চালায় এবং হাসপাতালের বিভিন্ন স্থাপনায় ব্যাপক ভাঙচুর করে। ঘটনাটি ঘটেছে বুধবার (১০ জুন) দুপুরে নগরীর বাজার রোড এলাকার কেএমসি হাসপাতালে। হামলায় একজন চিকিৎসক গুরুতর আহত হয়েছেন বলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। এছাড়া কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারীও আহত হয়েছেন। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। যে মৃত্যুকে কেন্দ্র করে ঘটনার সূত্রপাত মৃত ব্যক্তি মনির খান (৩৮)। তিনি বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলার উত্তর বাহেরচর গ্রামের বাসিন্দা এবং আব্দুল হকের ছেলে। পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য অনুযায়ী, বড় ধরনের দ্বিতীয় স্ট্রোকের পর তাকে প্রথমে শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে কেএমসি হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। ৯ জুন তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। মনির খানের স্বজনরা বলছেন, রোগীর শারীরিক অবস্থা শুরু থেকেই সংকটাপন্ন ছিল। মৃত্যুর পর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কিছু ভুল বোঝাবুঝি ও বাকবিতণ্ডা তৈরি হলেও হামলায় জড়িত ব্যক্তিরা তাদের পরিবারের সদস্য নন। রোগীর চাচাতো ভাই ফয়সাল রিয়াজ মিরন বলেন, “মনির খানের অবস্থা খুবই খারাপ ছিল। চিকিৎসকদের সঙ্গে কথা-কাটাকাটি হয়েছিল ঠিকই, কিন্তু হাসপাতালের ওপর হামলা বা ভাঙচুরে পরিবারের কেউ অংশ নেয়নি।” হাসপাতালের অভিযোগ: ‘পরিকল্পিত হামলা’ কেএমসি হাসপাতালের প্রশাসনিক কর্মকর্তা কাওসার হোসেনের দাবি, রোগীর মৃত্যুর ঘটনাকে কেন্দ্র করে পরিকল্পিতভাবে একদল সন্ত্রাসী হাসপাতালে প্রবেশ করে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, হামলাকারীদের কেউ মুখে মাস্ক পরা ছিল, আবার কেউ প্রকাশ্যেই হাসপাতালে প্রবেশ করে। তারা চিকিৎসক ও কর্মচারীদের ওপর হামলা চালায় এবং বিভিন্ন কক্ষে ভাঙচুর করে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দাবি, হামলাকারীরা আবাসিক চিকিৎসক ডা. শুভেন্দ্র হালদার শিপুর কক্ষে ঢুকে তাকে মারধর করে এবং কক্ষের আসবাবপত্র ও সরঞ্জাম নষ্ট করে। কাওসার হোসেন বলেন, “সাংবাদিকদের ধারণ করা ভিডিও ফুটেজে হামলার দৃশ্য দেখা গেছে। এতে একজন চিকিৎসক গুরুতর আহত হয়েছেন এবং হাসপাতালের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।” হামলাকারী কারা? ঘটনার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হলো—হামলাকারীরা কারা? রোগীর পরিবারের সদস্যরা হামলায় জড়িত থাকার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। অন্যদিকে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষও বলছে, হামলাকারীরা রোগীর স্বজন নয়। এই দুই পক্ষের বক্তব্য যদি সঠিক হয়, তাহলে প্রশ্ন উঠছে—হাসপাতালে প্রবেশ করে হামলা চালানো ব্যক্তিরা কারা ছিলেন এবং তারা কীভাবে এত দ্রুত সংগঠিত হলো? ঘটনাস্থলে উপস্থিত সাংবাদিকদের ধারণ করা ভিডিও ফুটেজ এবং হাসপাতালের সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করলে হামলাকারীদের পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন। পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে তারা কোতোয়ালি মডেল থানায় যোগাযোগ করলে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে। কোতোয়ালি মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) লুৎফর রহমান বলেন, “রোগীর মৃত্যু নিয়ে একটি অপ্রীতিকর পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল। পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পরে দুই পক্ষ আলোচনার মাধ্যমে বিষয়টির সমাধান করে।” তবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় তাৎক্ষণিকভাবে কোনো আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। পুলিশ জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষ লিখিত অভিযোগ দেয়নি। ফলে মামলা বা আনুষ্ঠানিক তদন্ত প্রক্রিয়া শুরু হয়নি। যা বললেন কর্তব্যরত ডাক্তার শুভেন্দু এ ব্যাপারে কেএমসি হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক ডা.শুভেন্দু হালদার বলেন,মনির খান একজন স্ট্রোকের রোগী ছিলেন,আমরা যত্ন সহকারে সর্বোচ্চটা দিয়ে চিকিৎসা সেবা দিয়েছি।এখানে চিকিৎসায় কোন অবহেলা হয়নি।যারা বলছে তারা অপপ্রচার করছে।এছাড়া তিনি বলেন,হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ কোন অবহেলা বা অসহযোগীতা করেনি।যারা হামলা করেছে তারা রোগীর স্বজন নয়। রয়ে গেছে নিরাপত্তা প্রশ্ন পুলিশের উপস্থিতিতে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও রোগীর স্বজনরা পরস্পরের প্রতি দুঃখ প্রকাশ করলে তাৎক্ষণিক বিরোধের অবসান হয়। তবে এই ঘটনার পর আবারও সামনে এসেছে বেসরকারি হাসপাতালগুলোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং রোগীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে সহিংসতা প্রতিরোধের প্রশ্ন। স্বাস্থ্য খাত সংশ্লিষ্টদের মতে, চিকিৎসা সংক্রান্ত বিরোধ বা অভিযোগ থাকলে তার নিষ্পত্তির জন্য আইনগত ও প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা রয়েছে। কিন্তু হাসপাতালের ভেতরে হামলা, চিকিৎসকদের ওপর আক্রমণ এবং চিকিৎসা কার্যক্রম ব্যাহত করা স্বাস্থ্যসেবার জন্য গুরুতর হুমকি। আইনি পদক্ষেপের প্রস্তুতি কেএমসি হাসপাতালের প্রশাসনিক কর্মকর্তা কাওসার হোসেন জানিয়েছেন, হাসপাতালের সম্পদের ক্ষতি এবং চিকিৎসকের ওপর হামলার ঘটনায় আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তুতি চলছে। তিনি বলেন, “হাসপাতালে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় দায়ীদের শনাক্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আমরা রোগীদের সর্বোচ্চ চিকিৎসাসেবা দিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।” ঘটনার প্রকৃত দায়ী কারা, হামলার পেছনে কোনো সংগঠিত গোষ্ঠী ছিল কি না এবং হাসপাতালের সিসিটিভি ও ভিডিও ফুটেজে কী তথ্য পাওয়া যায়—এসব প্রশ্নের ওপরই নির্ভর করছে।
বরিশাল অফিস : বরিশাল নগরীর আরিফ মেমোরিয়াল হাসপাতাল আবারও এসেছে সংবাদের শিরোনামে। এবার অভিযোগ উঠেছে চিকিৎসা অবহেলার কারণে এক নবজাতকের মৃত্যুর। শিশুটির পরিবারের দাবি, সময়মতো প্রয়োজনীয় চিকিৎসা এবং উন্নত হাসপাতালে রেফার না করায় তাদের সন্তানের মৃত্যু হয়েছে। ঘটনাটি নতুন হলেও অভিযোগের ধরন নতুন নয়। এর আগেও চিকিৎসা অবহেলায় রোগীর মৃত্যুর অভিযোগে আলোচনায় এসেছিল হাসপাতালটি। গত বছরের অক্টোবর মাসে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এবং সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকের বিরুদ্ধে বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দিয়েছিলেন একাধিক ভুক্তভোগী পরিবার। সেই অভিযোগগুলোর নিষ্পত্তি না হতেই নতুন করে নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় হাসপাতালটির সেবার মান ও জবাবদিহি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। স্থানীয়দের কেউ কেউ ক্ষোভ প্রকাশ করে প্রশ্ন তুলছেন—“আর কত প্রাণ গেলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের ঘুম ভাঙবে?” অপারেশনের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই সংকট পরিবার সূত্রে জানা যায়, উজিরপুর উপজেলার মোরাকাঠি গ্রামের বাসিন্দা মুনা সর্দার এবং তার স্বামী সাজ্জাদ ফরাজী বর্তমানে বরিশাল নগরীর ভাটিখানা জোর মসজিদ এলাকার একটি ভাড়া বাসায় বসবাস করেন। গত ৩১ মে দুপুরে অন্তঃসত্ত্বা মুনা সর্দারকে সিজারিয়ান অপারেশনের জন্য আরিফ মেমোরিয়াল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তার চিকিৎসার দায়িত্বে ছিলেন হাসপাতালের চিকিৎসক ডা. নজরুল ইসলাম। পরিবারের দাবি, ভর্তি হওয়ার পর প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষায় মা সুস্থ ছিলেন। রাত প্রায় ৮টার দিকে সিজারিয়ান অপারেশনের মাধ্যমে একটি পুত্রসন্তানের জন্ম হয়। তবে জন্মের পরপরই চিকিৎসক পরিবারকে জানান, নবজাতকের শারীরিক অবস্থা ভালো নয় এবং তাকে অক্সিজেন সাপোর্ট দিতে হবে। ছিল না প্রয়োজনীয় বিশেষায়িত সুবিধা? পরিবারের অভিযোগ অনুযায়ী, হাসপাতালটিতে নবজাতকের সংকটাপন্ন অবস্থার চিকিৎসার জন্য প্রয়োজনীয় সিসিইউ বা আইসিইউ সুবিধা ছিল না। শুধু তাই নয়, সিজারিয়ান অপারেশনের সময় কোনো শিশু বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকও উপস্থিত ছিলেন না। অভিযোগ রয়েছে, শিশুর অবস্থার অবনতি হলেও তাৎক্ষণিকভাবে তাকে উন্নত চিকিৎসা কেন্দ্রে পাঠানো হয়নি। বরং ডা. নজরুল ইসলাম তার পছন্দের একজন শিশু বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক আসার জন্য অপেক্ষা করতে বলেন। পরিবারের ভাষ্যমতে, রাত ১১টা ২০ মিনিটের দিকে শিশু বিশেষজ্ঞ ডা. মুজিবুর রহমান হাসপাতালে এসে নবজাতককে পরীক্ষা করেন এবং দ্রুত শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করেন। ততক্ষণে প্রায় সাড়ে তিন ঘণ্টা পেরিয়ে গেছে। ‘আরও আগে রেফার করলে বাঁচানো যেত’ নবজাতকের বাবা সাজ্জাদ ফরাজীর দাবি, চিকিৎসার ক্ষেত্রে এই বিলম্বই তাদের সন্তানের মৃত্যুর প্রধান কারণ। তিনি বলেন, “আমার সন্তানের মৃত্যুর জন্য ডা. নজরুল ইসলাম দায়ী। তিনি দায়িত্বে অবহেলা করেছেন এবং সময়মতো উন্নত চিকিৎসার জন্য রেফার করেননি। আমি এই ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই।” পরিবারের দাবি, শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসকরাও তাদের জানিয়েছেন যে, রোগীকে আরও আগে রেফার করা হলে পরিস্থিতি ভিন্ন হতে পারত। তবে হাসপাতালটিতে পৌঁছানোর আগেই পথিমধ্যে নবজাতকটির মৃত্যু হয়। পুরোনো অভিযোগের ছায়া আরিফ মেমোরিয়াল হাসপাতালের বিরুদ্ধে এটিই প্রথম অভিযোগ নয়। গত বছরের অক্টোবর মাসে চিকিৎসা অবহেলায় রোগীর মৃত্যুর অভিযোগ এনে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এবং সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে লিখিত অভিযোগ করেছিলেন একাধিক ভুক্তভোগী পরিবার। বর্তমান ঘটনাটি সেই অভিযোগগুলোর কার্যকর তদন্ত ও জবাবদিহি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তৈরি করেছে। এছাড়া হাসপাতালটিকে ঘিরে আরেকটি অভিযোগও রয়েছে। কয়েকজন ভুক্তভোগীর দাবি, ডা. নজরুল ইসলামের চেম্বারে চিকিৎসা নেওয়ার পর তার নির্ধারিত ডায়াগনস্টিক সেন্টারে পরীক্ষা-নিরীক্ষা না করালে অন্য প্রতিষ্ঠানের রিপোর্ট গ্রহণে অনীহা দেখানো হয়। যদিও এই অভিযোগের বিষয়ে স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। চিকিৎসকের বক্তব্য মেলেনি নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় ডা. নজরুল ইসলামের বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার মোবাইল ফোন রিসিভ না করায় কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। কী বলছে প্রশাসন? বরিশাল জেলা সিভিল সার্জন ডা. এস. এম. মনজুর-এ-এলাহী বলেন, “বিষয়টি আমি শুনেছি। অভিযোগের তদন্ত করা হবে। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।” আগের অভিযোগগুলোর বিষয়ে তিনি জানান, সেগুলো ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে। বরিশাল বিভাগীয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক ডা. মোহাম্মদ লোকমান হাকিম বলেন, “আমি সম্প্রতি দায়িত্ব গ্রহণ করেছি। বিষয়টি সম্পর্কে খোঁজখবর নিচ্ছি। আমাদের কাছে এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ আসেনি। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্তসাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” অন্যদিকে বরিশাল কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আল মামুন উল ইসলাম জানান, জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এর মাধ্যমে অভিযোগ পাওয়ার পরপরই পুলিশের একটি দল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছিল। তিনি বলেন, “ভুক্তভোগী পরিবারকে থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” জবাবদিহির অপেক্ষায় একটি মৃত্যু একটি নবজাতকের মৃত্যু শুধু একটি পরিবারের স্বপ্ন ভেঙে দেয় না, এটি স্বাস্থ্যসেবার মান, জরুরি চিকিৎসা ব্যবস্থা এবং বেসরকারি হাসপাতালের জবাবদিহির প্রশ্নও সামনে নিয়ে আসে। আরিফ মেমোরিয়াল হাসপাতালের বিরুদ্ধে অতীতের অভিযোগ এবং সাম্প্রতিক এই মৃত্যুর ঘটনার মধ্যে কোনো যোগসূত্র আছে কি না, সেটি এখন তদন্তের বিষয়। তবে একটি প্রশ্ন ইতোমধ্যে জনমনে জোরালো হয়ে উঠেছে—যদি অভিযোগগুলো আগেই কার্যকরভাবে তদন্ত হতো, তাহলে কি আরেকটি প্রাণহানি এড়ানো সম্ভব ছিল?
বরিশাল অফিস : বরিশালে শিশু বিশেষজ্ঞ ডা. আশীষ কুমার হালদারের বিরুদ্ধে চিকিৎসা অবহেলার অভিযোগে এক নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করেছে ডা. আশীষ কুমার হালদার ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা শিশু বিশেষজ্ঞ ডা. আশীষ কুমার হালদারকে ঘিরেও উঠেছে নানা প্রশ্ন। মৃত নবজাতকের বাবা, বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের অর্থোপেডিকস বিভাগের মেডিকেল অফিসার ডা. ইসতিয়াক আহমেদ রিফাতের অভিযোগ— সাতদিন এনআইসিইউতে চিকিৎসাধীন থাকার পরও তার সন্তান প্রয়োজনীয় চিকিৎসা পায়নি। শেষ পর্যন্ত ঢাকায় নেওয়ার পর শিশুটির মৃত্যু হয়। ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ্যে আনার পর শুরু হয় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা। এরপর বেলভিউ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ডা. রিফাতকে ডেকে সমবেদনা জানায় এবং ভবিষ্যতে এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি না হওয়ার আশ্বাস দেয়। তদন্ত কমিটি, অব্যাহতি ও দায় এড়ানোর অভিযোগ বেলভিউ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, অভ্যন্তরীণ তদন্ত কমিটির প্রাথমিক প্রতিবেদনের ভিত্তিতে দায়ীদের শোকজ করা হয়েছে। একই সঙ্গে অভিযোগগুলো যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও বলা হয়েছে। তবে অভিযোগের মূল কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা শিশু বিশেষজ্ঞ ডা. আশীষ কুমার হালদারের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক কোনো প্রশাসনিক ব্যবস্থা নিতে অপারগতার কথা জানিয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। আরও পড়ুন: বরিশালে ডাঃ আশীষ কুমার হালদারের অবহেলায় চিকিৎসক দম্পতির নবজাতকের মৃত্যু ১৯ মে বরিশাল প্রাইভেট ডায়াগনস্টিক অ্যান্ড ক্লিনিক অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে ডা. নজরুল ইসলামের উদ্যোগে ডা. ইসতিয়াক আহমেদ রিফাতকে নিয়ে বেলভিউ হাসপাতালে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। হাসপাতালের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) রিয়াজ হাসানের কক্ষে অনুষ্ঠিত ওই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন বেলভিউর শেয়ারহোল্ডার ডা. জি কে চক্রবর্তীসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। বৈঠকে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার জন্য দুঃখ প্রকাশ করে এবং চিকিৎসা বাবদ নেওয়া অর্থ ফেরত দেওয়ার প্রস্তাব দেয়। ‘পা ধরে অনুরোধ করেও চিকিৎসককে পাওয়া যায়নি’ ডা. ইসতিয়াক আহমেদ রিফাত তার ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে দেওয়া দীর্ঘ পোস্টে অভিযোগ করেন, গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় তার সন্তানকে বেলভিউ হাসপাতালের এনআইসিইউতে ভর্তি করা হলেও সংশ্লিষ্ট কনসালটেন্ট ডা. আশীষ কুমার হালদার চিকিৎসা দিতে আসতে অপারগতা প্রকাশ করেন। তিনি দাবি করেন, ফোন করে “পা ধরে” অনুরোধ করার পরও চিকিৎসক হাসপাতালে আসেননি। এছাড়া প্রেসক্রিপশনে অস্পষ্ট নির্দেশনা, প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সরঞ্জামের ঘাটতি, হাসপাতাল স্টাফদের অসহযোগিতা ও দুর্ব্যবহারের কারণেও শিশুটি যথাযথ চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। তার ভাষায়, “ডাক্তার কাপলের সঙ্গেও যদি এমন আচরণ হয়, তাহলে সাধারণ রোগীরা কী পরিস্থিতির মুখোমুখি হন, সেটাই বড় প্রশ্ন।” এনআইসিইউ সেবার মান নিয়েও প্রশ্ন ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ অনুযায়ী, হাসপাতালের এনআইসিইউতে পর্যাপ্ত চিকিৎসা সরঞ্জাম ও দক্ষ ব্যবস্থাপনা ছিল না। তবুও সেখানে নবজাতককে ভর্তি রাখা হয় এবং সাত দিনের চিকিৎসা শেষে প্রায় ১ লাখ ১৪ হাজার টাকার বিল করা হয়। পরিবারের দাবি, অবস্থার অবনতি হওয়ার পর দায় এড়াতে শেষ মুহূর্তে শিশুটিকে ঢাকায় রেফার করা হয়। এ ঘটনায় স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থাপনা ও বেসরকারি হাসপাতালগুলোর জবাবদিহি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও ড্যাবের নজরে ঘটনা ঘটনাটি গণমাধ্যমে প্রকাশের পর বিষয়টি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এবং ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ড্যাব)-এর নজরে এসেছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। তারা জানিয়েছে, অভিযোগের বিষয়ে বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের প্রস্তুতি চলছে। হাসপাতাল সিইও যা বললেন বেলভিউ মা ও শিশু হাসপাতালের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রিয়াজ হাসান বলেন, “অভিযোগের বিষয়ে দায়ীদের শোকজ করা হয়েছে। মৃত নবজাতকের চিকিৎসা বাবদ নেওয়া বিল ফেরত দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। একই সঙ্গে ডা. আশীষ কুমার হালদার ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এ অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার জন্য দুঃখ প্রকাশ করেছে।”
বরিশাল অফিস : বরিশালে শিশু বিশেষজ্ঞ ডা. আশীষ কুমার হালদারের অবহেলায় ও ভুল চিকিৎসায় এক চিকিৎসক দম্পতির নবজাতকের মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। নবজাতকের বাবা বরিশাল শেবাচিম হাসপাতালের অর্থোপেডিকস বিভাগের মেডিকেল অফিসার এবং মা একজন এমবিবিএস ডাক্তার। ২১ দিন বয়সের নবজাতকের মৃত্যুর পর তার বাবা নিজের ফেসবুক আইডিতে এই নির্মম অবহেলা জনিত মৃত্যুর বর্ননা তুলে ধরেন।এ ঘটনায় নেট দুনিয়া সহ বরিশালের সচেতন মহলে নানা প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নেতিবাচক পোস্ট দেখেই তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে বেলভিউ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। তাদের হাসপাতাল স্টাফ বা কর্তৃপক্ষের কোন অবহেলা আছে কিনা সে বিষয়ে সঠিক তথ্য উদঘাটন ও ব্যবস্থা গ্রহণের নিমিত্তে তদন্ত করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন বেলভিউ মা ও শিশু হাসপাতলের সিইও রিয়াজ হাসান। এদিকে পোস্টের শুরুতেই ডা. ইসতিয়াক অহমেদ রিফাত লিখেছেন, আমার ‘ইজান’ আল্লাহর হুকুমে আল্লাহর কাছে চলে গেছে। বিনিময়ে আমাকে দেখিয়ে গেছে বরিশালে শিশু চিকিৎসার করুণ অবস্থা। তাছাড়া বেলভিউ হাসপাতালে তেমন কোন চিকিৎসা না পেলেও তারা ১লক্ষ ১১ হাজার টাকা বিল গ্রহণ করেছেন বলে অভিযোগ তোলেন তিনি। এরপর তিনি পুরো ঘটনার বর্ননা দিতে গিয়ে লিখেন, ২১ এপ্রিল রাত এগারটায় জরুরী ভিত্তিতে সিজারিয়ান এর মাধ্যমে মমতা হাসপাতালে আমার একটি ফুটফুটে পুত্র সন্তানের জন্ম হয়। গাইনি ম্যাম নিজেই ডা:আশিষ স্যারকে ডেলিভারির সময় বলে রাখেন। সিজার হলো। ইজান দুনিয়াতে আসলো। আশীষ স্যার প্রাইমারি রিসাসিটেশন করলেন। ইজান হালকা করে কাদলো। আশিষ স্যার প্রেসক্রিপশন করলেন আর বললেন শেবাচিম অথবা বেলভিউ হাসপাতালে নিতে পারেন। সিজারের এক ঘন্টা পর রাত বারোটার দিকে বেলভিউতে নিয়ে গেলাম। সেখানে গিয়ে আরেক ক্যাচাল। ডা:আশিষ স্যার তার প্রেসক্রিপশনে নরমাল বেড বা ইনকিউবেটরের কিছুই লিখেন নাই। আর অত রাতে স্যারকে কল দেয়া যাবে না। তাই তারা জেনারেল কেবিনে দিল। শুধু একটু অক্সিজেন লাগিয়ে দিল। আর ডাক্তার পরিচয় দেবার পরেও তাদের জঘন্য ব্যবহারের কথা আর নাই বলি। সারা রাতে একবার তারা খোজ নিতে আসলো না। হঠাত সন্ধ্যার পরে ইজান অসুস্থ্য হয়ে যায়। স্যাচুরেশন ফল করে। আবার অক্সিজেন লাগানো হলো। এরপরো অবস্থার উন্নতি না হওয়াতে আশীষ স্যারকে ডিউটি ডাক্তার কল দেয়। সে রুডলি বলে শেবাচিম বা ঢাকা নিতে। এতটুকু অসুস্থ্য একটা বাচ্চাকে ঢাকা নেয়া পসিবল? আবার বাচ্চাটি বেশি অসুস্থ্য হয়ে পড়ার পর ডিউটি ডাক্তার কল দিল। আমি কল দিলাম। আমি কল দিয়ে পা ধরছি। তাও আশিষ স্যার আসবেন না। শেষে শেবাচিম ড্যাবের প্রেসিডেন্ট ডা:নজরুল স্যার কল দেয়াতে তিনি আসেন এবং চিকিৎসা দেন। দিন দিন বাচ্চাটা ফ্লপি হয়ে যাচ্ছে সেটা আর খেয়াল করলেন না। আমাদেরও কিছু বলেন না। কথা একটাই,উন্নতি নাই। এর বাইরে কোন কাউন্সিলিং নাই। এরপর আমরা ঢাকা যাওয়ার প্রস্তুতি নিলাম। বেলভিউর রিসিপশনে বললাম আমি ডাক্তার,আমার স্ত্রী ডাক্তার। তারপরও খুবই বাজে একটা মন্তব্য পাইলাম। একদিন দুপুরে দুর্ভাগ্যক্রমে আমার বউ ডা.নুসাইবা এবং তার এক মেয়ে কাজিন হাসপাতালে ছিল। ইজানকে জরুরী একটা টেস্ট করতে দেয়। আমার স্ত্রী নুসাইবা বেলভিউর কাউন্টারে গিয়ে ডাক্তার এবং মা পরিচয় দেবার পরেও বাজে বিহাভের স্বীকার হয়। পোস্টের শেষে মন্তব্যে তিনি লিখেন, বেলভিউ কর্তৃপক্ষ ডাক্তার কাপলের সাথে যদি এরকমটা করতে পারে, তাহলে অন্যান্য মানুষের সাথে কি করবে? এদিকে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বরিশাল শেরে বাংলা মেডিকেল কলেজের শিশু বিভাগের সহযোগি অধ্যাপক ডা. আশীষ কুমার হালদার। তার শশুর কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নিশি ভোটের একাধিকবার এমপি। স্বাচিপ এর রাজনীতির সাথে জড়িত ডা. আশীষ। এক সময় তার কলমের ধারে অনেক নীরিহ পেশাদার চিকিৎসককে হয়রানী হতে হয়েছে। বরিশাল সদররোড বেলভিউতে একটি এনআইসিইউ গড়ে তুলেছেন। শুধু বিল নেওয়ার বেলায় সেটি এনআইসিইউ হলেও সেখানে আসলে পর্যাপ্ত চিকিৎসা সামগ্রী ও ব্যবস্থাপনা নেই। মানুষের চোখে ধুলো দিয়ে সেখান থেকে লক্ষ লক্ষ টাকা আয় করছেন ডা. আশীষ। এর পূর্বেও একাধিক বাচ্চাকে ভুল চিকিৎসা প্রদানের অভিযোগ রয়েছে ডা. আশীষের বিরূদ্ধে। এ বিষয়ে শেরে বাংলা মেডিকেল কলেজের শিশু বিভাগের সহযোগি অধ্যাপক ডা. আশীষ কুমার হালদার বলেন, বাচ্চাটি আমার আন্ডারে বেলভিউতে ভর্তি ছিল। সাধ্যমত চিকিৎসা প্রদানের চেষ্টা করেছি, আমি আমার রাউন্ড ফি পর্যন্ত নেইনি। তাছাড়া কোন ডাক্তার ইচ্ছা করে কোন রোগীগে ভুল চিকিৎসা করেন না। বেলভিউ মা ও শিশু হাসপাতালের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) রিয়াজ হাসান বলেন, এ বিষয়ে তিন সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি করা হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন পেলে আসল তথ্য পাবো। যেহেতু আমাদের প্রাতিষ্ঠানিকভাবে বিষয়টি তদন্তানাধীন তাই এর বেশি এখন বলা সম্ভব নয়।
বরিশাল অফিস : ঝালকাঠিতে এক শিশু বিশেষজ্ঞের বিরুদ্ধে ভুল চিকিৎসার অভিযোগ তুলে একটি নিষ্পাপ শিশুর মৃত্যুর দাবি করেছে তার পরিবার। ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে এবং স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। পরিবারের অভিযোগ, চিকিৎসক ডা. অসীম কুমার সাহার দেওয়া চিকিৎসার পর শিশুটির শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে এবং পরবর্তীতে তার মৃত্যু হয়। যদিও এই ধরনের অভিযোগ নতুন নয় বলে দাবি করছেন স্থানীয় অনেকেই। তাদের মতে, অতীতেও একাধিকবার এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটেছে। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, ঝালকাঠি ও নলছিটি এলাকায় শিশু বিশেষজ্ঞের অভাব থাকায় অনেকেই বাধ্য হয়ে ওই চিকিৎসকের শরণাপন্ন হন। তবে তার আচরণ, রোগীর কথা মনোযোগ দিয়ে না শোনা এবং যথাযথ পরীক্ষা-নিরীক্ষা ছাড়া ওষুধ দেওয়ার অভিযোগ দীর্ঘদিনের। আরও পড়ুন: ঝালকাঠিতে ডাঃ অসীম কুমার সাহার ভুল চিকিৎসায় শিশুর মৃত্যুর অভিযোগ এক অভিভাবক জানান, তার নিজের সন্তানও একবার ওই চিকিৎসকের দেওয়া ওষুধ সেবনের পর আরও অসুস্থ হয়ে পড়ে। একই ধরনের অভিজ্ঞতার কথা আরও অনেকেই জানিয়েছেন। এদিকে প্রকাশিত একটি সংবাদ প্রতিবেদনেও শিশুটির মৃত্যুর বিষয়টি সামনে আসে, যা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও স্থানীয় গণমাধ্যমে ব্যাপক প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করে। তবে অভিযোগকারীদের দাবি, এতকিছুর পরও সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকের বিরুদ্ধে কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। স্থানীয়দের দাবি, ঘটনাটির সুষ্ঠু তদন্ত করে সত্যতা যাচাই করা হোক এবং যদি অভিযোগ প্রমাণিত হয়, তবে দায়ীদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হোক। তারা মনে করেন, চিকিৎসকের দায়িত্ব রোগীর জীবন রক্ষা করা—অবহেলার কারণে তা বিপন্ন করা নয়। এ বিষয়ে প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন ভুক্তভোগী পরিবারসহ সচেতন মহল। তারা দ্রুত তদন্ত ও বিচার প্রক্রিয়া শুরু করার আহ্বান জানিয়েছেন।
বরিশাল অফিস : শিশু অতিক্ষ হালদার। পিতা অনিমেষ হালদার। মাতা নিভা হালদার।গ্রামের বাড়ি পিরোজপুর জেলার ভান্ডারিয়া উপজেলার রাধানগর গ্রামে।২১ এপ্রিল বরিশাল শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের শিশু বিভাগের সাবেক বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ডাঃ অসীম কুমার সাহার নিকট ঝালকাঠীর চেম্বারে চিকিৎসা সেবা নেন। অসীম কুমার সাহার চিকিৎসা নেয়ার পরে শিশু অতিক্ষ হালদারের অবস্থার অবনতি হলে তার পরিবার ঢাকার একটি হাসপাতালে ভর্তি করান।৩ মে দুপুর সাড়ে ১২ টায় ১৮ মাস বয়সের সময় অসিম কুমার সাহার ভুল চিকিৎসায় মুত্যুর কোলো ঢলে পরেন অতিক্ষ হালদার। পরিবারের অভিযোগ শিশু অতিক্ষ হালদারের পরিবারের অভিযোগ ডাক্তার অসীম কুমার সাহার ভুল চিকিৎসায় অতিক্ষ হালদার মারা গেছে।তারা বলেন আর কোন শিশু যেন অসীম কুমার সাহার ভুল চিকিৎসায় মারা না যায়। ফেসবুকের এক পোস্টে গোপাল মিস্ত্রী এই অভিযোগ করেন। এছাড়া প্রণব হালদার তিনি ফেসবুকের এক পোস্টে লিখেন, ডাক্তার অসীম সাহা ঝালকাঠি উনি একজন মানুষ মারার কারিগর উনি নাকি শিশু বিশেষজ্ঞ ভুল চিকিৎসা দিয়ে। আমার ভাগ্নে টাকে মেরে ফেলল ওনার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই ।ডাক্তারকে বলা হয় সৃষ্টিকর্তার রূপ, কিন্তু যখন তারাই জীবনের কারণ হয়ে দাঁড়ায় মৃত্যুর, তখন আর অবশিষ্ট কিছু থাকে না।" . " ভুল ওষুধের বোঝায় আজ আমার বোনের পুরো পরিবার নিঃস্ব।" জ্বর আর কাশি কমাতে গিয়ে হায়ার এন্টিবায়োটিক দিয়ে আজীবনের হাহাকার উপহার দিলেন ডাক্তার অসিম সাহা ঝালকাঠি।" "সাদা কোটের আড়ালে লুকিয়ে থাকা খুনিদের শাস্তির দাবি জানাই।" ডাক্তার অসীম সাহার "একটি ভুল সিদ্ধান্ত, হাজারো স্বপ্ন ভেঙে চুরমার।" ঝালকাঠি। জেলা প্রশাসকের কাছে আবেদন ডাক্তার অসীম সাহাকে কঠিন দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ব্যবস্থা আনা হোক। ডাক্তার অসীম শাহা মানুষ মারার কারিগর আমার ভাগ্নে টা কে শেষ করে দিল। ডা: আসিম কুমার সাহার দৃষ্টান্ত মুলক শাস্তি দাবী প্রদীপ হাওলাদার এক পোস্টে " বরিশাল শিশু বিভাগীয় প্রধান (প্রাক্তন) ডা: আসিম কুমার সাহার দৃষ্টান্ত মুলক শাস্তি চাই। প্রদীপ হাওলাদার আরেক পোস্টে লিখেন "আমার ভাগ্নার হত্যাকারী, অধ্যাপক ডা: অসিম কুমার সাহা ও বিভাগীয় প্রধান, শিশু (প্রাক্তন)শেরে -ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ ও হাডপাতাল বরিশাল দৃস্টান্ত মুলক শাস্তি চাই।" মানুষ মারার কারিগর অসীম কুমার সাহা! শিশু অতিক্ষের মামা।প্রদীপ হাওলাদার ফেসবুকে সর্বশেষ পোস্টে লিখেন" ডাক্তার অসীম কুমার সাহা ঝালকাঠি উনি একজন মানুষ মারার কারিগর উনি নাকি শিশু বিশেষজ্ঞ ভুল চিকিৎসা দিয়ে। আমার ভাগ্নে টাকে মেরে ফেলল ওনার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই ।ডাক্তারকে বলা হয় সৃষ্টিকর্তার রূপ, কিন্তু যখন তারাই জীবনের কারণ হয়ে দাঁড়ায় মৃত্যুর, তখন আর অবশিষ্ট কিছু থাকে না।" . " ভুল ওষুধের বোঝায় আজ আমার বোনের পুরো পরিবার নিঃস্ব।" জ্বর আর কাশি কমাতে গিয়ে হায়ার এন্টিবায়োটিক দিয়ে আজীবনের হাহাকার উপহার দিলেন ডাক্তার অসিম সাহা ঝালকাঠি।" "সাদা কোটের আড়ালে লুকিয়ে থাকা খুনিদের শাস্তির দাবি জানাই।" ডাক্তার অসীম সাহার "একটি ভুল সিদ্ধান্ত, হাজারো স্বপ্ন ভেঙে চুরমার।" ঝালকাঠি। জেলা প্রশাসকের কাছে আবেদন ডাক্তার অসীম সাহাকে কঠিন দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ব্যবস্থা আনা হোক। ডাক্তার অসীম শাহা মানুষ মারার কারিগর আমার ভাগ্নে টা কে শেষ করে দিল। গল্প থেমে যায় হাসপাতালের বিছানায় পিরোজপুরের একটি সাধারণ পরিবার। ১৮ মাস বয়সী এক শিশুর হাসি-আনন্দে ভরে থাকত ঘর। কিন্তু কয়েক দিনের অসুস্থতা, তারপর চিকিৎসা—শেষ পর্যন্ত সেই গল্প থেমে যায় ঢাকার একটি হাসপাতালের বিছানায়। পরিবারের অভিযোগ, এটি শুধু একটি মৃত্যু নয়—এটি একটি “ভুল চিকিৎসার ফল”। তবে সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকের বক্তব্য এখনো সামনে আসেনি, আর স্বাধীনভাবে এসব অভিযোগ যাচাইও করা সম্ভব হয়নি। ফলে প্রশ্ন রয়ে গেছে—ঠিক কী ঘটেছিল? অসুস্থতা থেকে মৃত্যু পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য অনুযায়ী, শিশুটি প্রথমে জ্বর ও কাশিতে আক্রান্ত হয়। ঝালকাঠিতে ডাঃ অসীম কুমার সাহা নামে এক শিশু বিশেষজ্ঞের শরণাপন্ন হন তারা। অভিযোগ রয়েছে, চিকিৎসার অংশ হিসেবে শিশুটিকে উচ্চমাত্রার অ্যান্টিবায়োটিক দেওয়া হয়। স্বজনদের দাবি, এই ওষুধ প্রয়োগের পর থেকেই শিশুটির শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি ঘটে। অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাকে পরে ঢাকায় নেওয়া হয়। গত ৩ মে ২০২৬, দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে ঢাকার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শিশুটি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করে—এমনটাই জানিয়েছেন পরিবারের সদস্যরা। “একটি ভুল সিদ্ধান্ত, হাজারো স্বপ্নের অবসান” নিহত শিশুর মামা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক আবেগঘন পোস্টে লিখেছেন— “একটি ভুল সিদ্ধান্ত, হাজারো স্বপ্ন ভেঙে চুরমার করে দিল। ভুল ওষুধের বোঝায় আজ আমার বোনের পুরো পরিবার নিঃস্ব।” আরেক স্বজনের ভাষায়, সন্তানের মরদেহ কোলে নেওয়ার অভিজ্ঞতা “পৃথিবীর সবচেয়ে কঠিন ও বেদনাদায়ক মুহূর্ত”। পরিবারের দাবি, চিকিৎসকের ভুল সিদ্ধান্তই এই মৃত্যুর জন্য দায়ী। তারা অভিযুক্ত চিকিৎসক ডাঃ অসীম কুমার সাহার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চান। অভিযোগ ও প্রতিক্রিয়া পরিবারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, তারা জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগ দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। ঘটনাটি স্থানীয়ভাবে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও এ নিয়ে ক্ষোভ ও বিচার দাবি করছেন অনেকে। চিকিৎসা অবহেলা—কীভাবে নির্ধারিত হয় দায়? স্বাস্থ্যখাত সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা বলছেন, চিকিৎসা অবহেলার অভিযোগ প্রমাণ করা একটি জটিল প্রক্রিয়া। কোনো চিকিৎসা সিদ্ধান্ত ভুল ছিল কিনা, তা নির্ধারণে রোগীর পূর্ণাঙ্গ চিকিৎসা ইতিহাস, ব্যবহৃত ওষুধের ধরন, ডোজ, রোগের প্রকৃতি এবং চিকিৎসা প্রটোকল—সবকিছু বিশ্লেষণ করতে হয়। অনেক ক্ষেত্রেই জ্বর ও কাশির মতো উপসর্গের পেছনে গুরুতর সংক্রমণ লুকিয়ে থাকতে পারে, যেখানে অ্যান্টিবায়োটিক প্রয়োজন হতে পারে। আবার ভুল ডোজ বা অনুপযুক্ত ওষুধ প্রয়োগ করলে তা ঝুঁকিপূর্ণও হতে পারে। জবাবদিহিতার প্রশ্ন বাংলাদেশে চিকিৎসা অবহেলার অভিযোগ নতুন নয়। তবে প্রতিটি ঘটনায় নিরপেক্ষ তদন্ত ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা গেলে স্বাস্থ্যসেবার প্রতি মানুষের আস্থা বাড়তে পারে বলে মনে করেন বিশ্লেষকরা। এই ঘটনার ক্ষেত্রেও একই প্রশ্ন সামনে এসেছে— শিশুটির মৃত্যু কি প্রতিরোধযোগ্য ছিল? চিকিৎসা পদ্ধতিতে কোনো ত্রুটি ছিল কি? নাকি এটি ছিল একটি অনাকাঙ্ক্ষিত চিকিৎসাগত জটিলতা? একটি অসমাপ্ত গল্প একটি পরিবারের জন্য এটি কেবল একটি খবর নয়—এটি তাদের জীবনের স্থায়ী ক্ষত। একদিকে স্বজনদের বুকভাঙা কান্না, অন্যদিকে অনিশ্চিত প্রশ্ন—এই দুইয়ের মাঝে দাঁড়িয়ে আছে একটি শিশুর অসমাপ্ত জীবন। এখন নজর তদন্তের দিকে। কারণ সত্য উদঘাটনই নির্ধারণ করবে—এটি কি চিকিৎসা অবহেলা, নাকি এক অনিবার্য ট্র্যাজেডি। ডাঃ অসীম কুমার সাহার বক্তব্য এ ব্যাপারে ডাঃ অসীম কুমার সাহা জানান,আমার মনে পড়তেছেনা।রোগীর কাগজপত্র দিন।বললেতো হবেনা।আমি রোগীর অবস্থা খারাপ তাই হয়তো ঢাকায় রেফার্ড করছি।তিনি এও বলেন রোগীর হয়তো রোগটাই চিন্থিত করতে পারি নাই।তাই ঢাকায় পাঠিয়েছি।তিনি বলেন কাগজ পত্র না দেখে বলতে পারবোনা বিস্তারিত।
বরিশাল অফিস : বরিশাল জেনারেল হাসপাতালে পহেলা বৈশাখের দিনেও রোগীদের সেবা ও খাবার ব্যবস্থাপনায় অনিয়মের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। রোগী ও স্বজনদের দাবি, উন্নতমানের খাবারের বরাদ্দ থাকলেও বাস্তবে নিম্নমানের এবং কম পরিমাণ খাবার সরবরাহ করা হয়েছে। হাসপাতালের আরএমও এবং ঠিকাদারের যোগসাজশে রোগীর সংখ্যা কাগজে অতিরিক্ত দেখিয়ে বরাদ্দকৃত অর্থ আত্মসাতের অভিযোগও তুলেছেন ভুক্তভোগীরা। সরেজমিনে দেখা যায়, রেজিস্ট্রারে থাকা রোগীর সংখ্যা এবং ওয়ার্ডে বাস্তবে উপস্থিত রোগীর সংখ্যার মধ্যে গরমিল রয়েছে বলে দাবি করা হয়। এতে খাবার বরাদ্দ ও ব্যয়ের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এ বিষয়ে আরএমও (আবাসিক মেডিকেল অফিসার) মলয় কৃষ্ণন অভিযোগ প্রসঙ্গে বলেন, “দুই-একটি গরমিল থাকতেই পারে, তাতে কী হয়?” তবে খাবারের মান ও পরিমাণ কম হওয়ার বিষয়ে তিনি কোনো স্পষ্ট ব্যাখ্যা দেননি। রোগীদের অভিযোগ, চিকিৎসকদের নিয়মিত রাউন্ড না থাকা এবং জরুরি পরিস্থিতিতে যথাযথ মনোযোগ না দেওয়ার ঘটনা ঘটছে। কেউ কেউ অভিযোগ করেন, প্রশ্ন তুললে তাদের অন্য হাসপাতালে রেফারের কথা বলা হয়—যা ভয়ের পরিবেশ তৈরি করছে বলে দাবি তাদের। শিশু ওয়ার্ড, গাইনি ও ডায়রিয়া ওয়ার্ডসহ বিভিন্ন বিভাগে শয্যা সংকট, অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ এবং প্রয়োজনীয় সেবার ঘাটতির অভিযোগ পাওয়া গেছে। অনেক রোগী মেঝেতে চিকিৎসা নিতে বাধ্য হচ্ছেন বলেও জানান স্বজনরা। একজন স্বজন অভিযোগ করে বলেন, “ছয়দিন ধরে বাচ্চা নিয়ে ফ্লোরে আছি, কোনো ফোম বা চাদরও দেওয়া হয়নি।” অন্যদিকে টয়লেট ও পরিচ্ছন্নতা ব্যবস্থার অবস্থা নিয়েও তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন রোগী ও স্বজনরা। তাদের দাবি, ব্যবহার অনুপযোগী পরিবেশে চিকিৎসা নেওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। ডাক্তার না আসা, বাইরে থেকে ওষুধ কিনতে বাধ্য হওয়া এবং সেবায় অবহেলার অভিযোগও বিভিন্ন ওয়ার্ড থেকে উঠে এসেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে বরিশাল সিভিল সার্জন ডা. মনজুরুল এলাহী বলেন, বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে এবং অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ভুক্তভোগীদের মতে, দ্রুত তদন্ত ও কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে সরকারি স্বাস্থ্যসেবার ওপর সাধারণ মানুষের আস্থা আরও কমে যেতে পারে।
কিশোরগঞ্জ: কিশোরগঞ্জের শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে অ্যাম্বুলেন্স ভাড়া নিয়ে বিরোধের জেরে সময়মতো চিকিৎসা না পেয়ে এক নবজাতকের মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। পরিবারের দাবি, মাত্র ৫০০ টাকার জন্য প্রায় এক ঘণ্টা অপেক্ষার পর শিশুটি মারা যায়। ঘटनাটি ঘটে শুক্রবার (২৭ মার্চ) দিবাগত রাতে। পরদিন সকালে খবর ছড়িয়ে পড়লে স্বজনরা হাসপাতালে বিক্ষোভ করেন, এতে হাসপাতাল এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। কী ঘটেছিল? নিহত নবজাতক কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার যশোদল ইউনিয়নের মীরপাড়া গ্রামের বাসিন্দা মো. রোহানের ছেলে। পরিবার জানায়, শুক্রবার রাত ১১টার দিকে শহরের একটি বেসরকারি ক্লিনিকে সিজারিয়ান অপারেশনের মাধ্যমে শিশুটির জন্ম হয়। জন্মের পরপরই সে শ্বাসকষ্ট ও ঠাণ্ডাজনিত সমস্যায় ভুগতে থাকে। চিকিৎসকের পরামর্শে তাকে রাত সাড়ে ১২টার দিকে শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য ময়মনসিংহে রেফার করা হয়। অ্যাম্বুলেন্স নিয়ে বিরোধ রাতের মধ্যেই শিশুটিকে নিয়ে হাসপাতাল গেটে আসেন স্বজনরা। তবে সেখানে গিয়ে তারা অ্যাম্বুলেন্স ভাড়া নিয়ে জটিলতায় পড়েন। পরিবারের অভিযোগ, সরকারি অ্যাম্বুলেন্স না থাকায় বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্স চালকরা ময়মনসিংহ যাওয়ার জন্য সাড়ে ৪ হাজার টাকা ভাড়া দাবি করেন। স্বজনরা সরকারি নির্ধারিত ভাড়া (১৬০০ টাকা) উল্লেখ করে কম ভাড়া প্রস্তাব করলেও চালকরা তা প্রত্যাখ্যান করেন। এমনকি ৪ হাজার টাকাও দিতে রাজি হলেও চালকরা সাড়ে ৪ হাজার টাকার নিচে নামেননি। অভিযোগ রয়েছে, একটি ‘সিন্ডিকেট’ বাইরের কোনো অ্যাম্বুলেন্সকে রোগী বহন করতে দেয় না এবং জোর করে নিজেদের গাড়িতে রোগী তুলতে বাধ্য করে। মৃত্যু ভাড়া নিয়ে আলোচনার মধ্যেই রাত প্রায় ৩টার দিকে নবজাতকটি মারা যায় বলে জানান স্বজনরা। এরপর অভিযুক্ত চালক ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। পরিবারের অভিযোগ নিহত শিশুর নানি কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “অনেক অনুরোধ করেছি, কিন্তু তারা নেয়নি। আমার নাতিকে বাঁচতে দিল না।” শিশুটির বাবা মো. রোহান বলেন, “হাসপাতালের এত কাছে থেকেও যদি এমন হয়, তাহলে দূর থেকে আসা মানুষ কী করবে?” স্থানীয়দের দাবি স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে হাসপাতালটিতে একটি অ্যাম্বুলেন্স সিন্ডিকেট সক্রিয়। তারা অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করে এবং অন্য গাড়িকে বাধা দেয়। তাদের মতে— সরকারি ভাড়া থাকলেও বাস্তবে বেশি টাকা নেওয়া হয় বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্সে দ্বিগুণ-তিনগুণ ভাড়া দাবি করা হয় ভাড়া না দিলে রোগী পরিবহন করা হয় না প্রশাসনের প্রতিক্রিয়া হাসপাতালের উপ-পরিচালক ডা. সাইফুল ইসলাম বলেন, “এ বিষয়ে আমাকে কেউ জানায়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” কিশোরগঞ্জের সিভিল সার্জন ডা. অভিজিত শর্ম্মা বলেন, “বিষয়টি জানা নেই। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের সম্পদ বিবরণী প্রকাশের পর সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী ও তার স্ত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদের হিসাব নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। এক বছরের ব্যবধানে স্বামী ফারুকীর সম্পদ কমলেও স্ত্রী তিশার সম্পদ বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে প্রকাশিত তথ্যে উঠে এসেছে এই চিত্র। প্রকাশিত খতিয়ান অনুযায়ী, জনপ্রিয় অভিনেত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদ এক বছরে অভাবনীয় হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তিশার মোট সম্পদের পরিমাণ ছিল ১ কোটি ৪০ লাখ ৮১ হাজার ৮৬০ টাকা। ঠিক এক বছর পর, ২০২৫ সালের ৩০ জুন সেই সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ৯৯ লাখ ৮৯ হাজার ৫০১ টাকায়। অর্থাৎ মাত্র এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ বেড়েছে ১ কোটি ৫৯ লাখ ৭ হাজার ৬৪১ টাকা, যা আগের বছরের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি। অন্যদিকে সংস্কৃতি উপদেষ্টা ও নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর ক্ষেত্রে দেখা গেছে উল্টো চিত্র। এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ কমেছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তার মোট সম্পদ ছিল ২ কোটি ২৬ লাখ ৯২ হাজার ২৬ টাকা। ২০২৫ সালের ৩০ জুন তা কমে দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ১৫ লাখ ১৮ হাজার ২৬ টাকায়। হিসাব অনুযায়ী, এক বছরে তার সম্পদ কমেছে ১১ লাখ ৭৪ হাজার টাকা। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে গত মঙ্গলবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ প্রধান উপদেষ্টা, উপদেষ্টা ও সমমর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের পাশাপাশি তাদের স্ত্রী বা স্বামীর সম্পদ বিবরণী প্রকাশ করে। একই সময়ে স্বামী-স্ত্রীর সম্পদে এমন ভিন্নমুখী পরিবর্তন স্বাভাবিকভাবেই সাধারণ মানুষের কৌতূহলের জন্ম দিয়েছে। শোবিজ অঙ্গনের জনপ্রিয় দম্পতি হওয়ায় তাদের এই আয়-ব্যয়ের হিসাব এখন টক অব দ্য কান্ট্রি।
বাসস : বাবা একজন তাঁত শ্রমিক। তিন বোন দুই ভাইয়ের মধ্যে সবার বড় রোজিনা। অভাব সংসার, তাই এক এতিম যুবকের সাথে বাবা-মা বিয়ে দেন তাকে। বিয়ের পর জন্ম হয় দুই কন্যা সন্তানের। অটোরিকশা চালিয়ে কোন রকম সংসার চালাচ্ছিলেন স্বামী রফিকুল ইসলাম। কিন্তু সড়ক দুর্ঘটনায় রফিকুলের এক চোখ সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যায়। আরেকটি চোখ আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ধীরে ধীরে ওই চোখের দৃষ্টি শক্তিও কমতে থাকে। ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে অটোরিকশা চালানো। সংসারের উপার্জনক্ষম মানুষটি অচল হয়ে পড়ায় চিকিৎসার খরচ, ঘর ভাড়া ও খাবারের পাশাপাশি মেয়েদের লেখাপড়ার খরচ চালানোই কঠিন হয়ে যায়। দিশেহারা হয়ে পরেন রোজিনা। এক পর্যায়ে মানুষের বাড়ি বাড়ি কাজ করে সংসার চালানোর চেস্টা করেন। কিন্তু সুবিধা করতে পারেন না। এমন পরিস্থিতিতে অটোরিকশা চালানোর সিদ্ধান্ত নেন তিনি। স্বামী রফিকুলের কাছেই হাতেখড়ি। গ্রামের স্কুলের মাঠে স্বামীর কাছেই অটোরিকশা চালানোর শিক্ষা নেন তিনি। পরে গ্রামের পথে নেমে পড়েন অটোরিকশা নিয়ে। ৫-৬ দিন এভাবে হাত পাকা করে একদিন টাঙ্গাইল শহরে চলে আসেন রোজিনা। এরপর শুরু করেন অটোরিক্সা চালানোর ব্যতিক্রমী জীবন সংগ্রাম। এখন টাঙ্গাইল পৌরসভায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার চালকদের মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা বেগম। জেলার বাসাইল উপজেলার আইসড়া গ্রামের বাসিন্দা রোজিনা টাঙ্গাইল পৌর শহরের এক প্রান্ত রাবনা বাইপাস থেকে আরেক প্রান্ত বেবিস্ট্যান্ডে যাত্রী আনা নেয়া করেন। যানজটের কারণে শহরে পুরুষ চালকরা যেখানে হিমসিম খায়, সেখানেই বিগত ৫ বছর ধরেই নির্বিঘেœ অটোরিকশা চালাচ্ছেন তিনি। টাঙ্গাইল পৌরসভা কার্যালয় সূত্রে জানা যাায়, টাঙ্গাইল শহরে চলাচলের জন্য ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক ও ৫ হাজার ব্যাটারিচালিত রিকশার অনুমতি (লাইসেন্স) দেওয়া হয়েছে। যানজট এড়াতে ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক জোড় ও বিজোড় সংখ্যায় দিনে দুই ভাগ করা হয়েছে। সকাল থেকে বেলা দুইটা পর্যন্ত এক ভাগ এবং বেলা দুইটা থেকে রাত পর্যন্ত আরেক ভাগের ইজিবাইক চলাচল করার নির্দেশনা দিয়েছে পৌর কর্তৃপক্ষ। কিন্তু রোজিনাকে দুই শিফটে চালানোর অনুমতি দিয়েছে পৌরসভা। সরেজমিনে দেখা যায়, নতুন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অটোরিকশা নিয়ে যাত্রী ডাকছেন রোজিনা। কলেজ গেট, পুরাতন বাসস্ট্যান্ড, ক্যাপসুল, নিরালা মোড়, বেবিস্ট্যান্ড সর্বত্রই যাত্রী আনানেয়া করেন তিনি। পুরাতন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অন্য অটো চালকদের দাঁড় করতে না দিলেও রোজিনাকে বাঁধা দেননা ট্রাফিক পুলিশ। বলতে গেলে সবাই তার প্রতি সহানুভুতিশীল। ট্রাফিক পুলিশসহ অন্য অটোচালকরাও তাকে সহযোগিতা করেন। রোজিনা বলেন, আমার অটোতে নারী যাত্রীরা খুব কম। তারা মনে করে আমার অটোতে উঠলে দুর্ঘটনায় পড়বে। কিন্তু আমি খুব সাবধানে অটো চালাই। দ্রুত গতিতেও না, আবার একেবারে ধীরগতিতেও না। এখন পর্যন্ত আমি কোন দুর্ঘটনার কবলে পড়ি নাই। শহরের পুরুষ অটোরিকশা চালকরা আমাকে অনেক সহযোগিতা করে। অটোচালক কাদের মিয়া বলেন, আমাদের শহরে কয়েক হাজার অটো চলাচল করে। তার মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। তাকে আমরা সব সময় সহযোগিতা করি। যাত্রী সাইদ মিয়া বলেন, আমি এ পর্যন্ত ৫-৬ বার রোজিনার অটোতে চড়েছি। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। অন্য পুরুষ অটো চালকের চেয়েও ভালো অটো চালান। নারী সংগঠক সেরাজুম মনিরা বলেন, তিনি অনেক দিন যাবত অটোরিকশা চালাচ্ছেন। আমি রোজিনাকে স্যালুট জানাই। একজন পুরুষের চেয়ে একজন নারী কোনো ভাবেই যে পিছিয়ে নেই, রোজিনা তা প্রমাণ করেছেন। রোজিনা বলেন, অটো চালানোর এই সিদ্ধান্তটি তার জন্য খুব সহজ ছিল না। তিনি বলেন, ৫ ও ১০ বছরের দুই মেয়েকে বাড়িতে রেখে অটোরিকশা নিয়ে সারাদিন রাস্তায় থাকতে হয়। তাদের ভালোভাবে দেখাশোনা করতে পারি না। কিন্তু কি করবো, অভাবের সংসার! এখন ঋণ নিয়ে একটু জমি কিনেছি। প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ণ প্রকল্পের অর্থায়নে প্রশাসন সেখানে ঘর তুলে দিয়েছে। শুরুতে যারা আমাকে নিয়ে ঠাট্টা করেছে এখন তারাই আমাকে সম্মান করেন। নারীরাও যে কিছু করতে পারে, তা প্রমাণ করেছি। আমার বড় মেয়ে আইসড়া উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়ে, ছোট মেয়ে পড়ে স্থানীয় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। মেয়েদের শিক্ষিত করতে হবে। ধার দেনা শোধ করতে হবে। তাই থেমে গেলো চলবে না। আমি অটোরিকশা চালিয়েই দুই সন্তানকে মানুষ করতে চাই।’ ঘারিন্দা ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য বাবুল সরকার বলেন, সরকার রোজিনাকে একটি ঘর নির্মাণ করে দিয়েছে। শুরুতে যারা তাকে নিয়ে নানান কথা বলতো, এখন তার সংকল্প ও মানষিক দৃঢ়তা দেখে থেমে গেছে। আমরা তাকে নিয়ে গর্ব করি। টাঙ্গাইলের ট্রাফিক ইন্সপেক্টর (প্রশাসন) দেলোয়ার হোসেন বলেন, শহরের একমাত্র নারী চালক রোজিনাকে কেউ যেন বিরক্ত করতে না পারে সেদিকে সব সময় নজর রাখে ট্রাফিক পুলিশ। আমরা তাকে সব সময় সহযোগিতা করে আসছি। টাঙ্গাইলের সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক শাহ আলম বলেন, বিষয়টি এখন জানতে পারলাম। ওই নারী এখনো পর্যন্ত আমাদের কাছে আসেন নাই। যদি আমাদের কাছে এসে আবেদন করেন অবশ্যই তাকে আমরা সহযেগিতা করবো, তার পাশে দাঁড়াবো।
২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশে আজ এক ঐতিহাসিক ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ২০০৮ সালের পর এই প্রথম একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হতে যাচ্ছে যেখানে দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগ রাজনৈতিক মানচিত্র থেকে কার্যত অনুপস্থিত। বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক জরিপ বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০০ আসনের মধ্যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) কার্যকর সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে যাচ্ছে। তবে ভোটের ব্যবধান এবং কিছু সমীকরণ নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। নির্বাচনের সবচেয়ে বড় নিয়ামক হয়ে দাঁড়িয়েছে আওয়ামী লীগের বিশাল ভোটব্যাংক। দলটির নিয়মিত প্রায় ৪ কোটি ভোটার এখন নতুন রাজনৈতিক আশ্রয় খুঁজছেন। সিআরএফ বা বিইপিওএস জরিপ বলছে, এই ভোটারদের প্রায় অর্ধেক বিএনপির দিকে ঝুঁকেছে, যা দলটিকে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতার পথে এগিয়ে দিচ্ছে। অন্যদিকে, প্রায় ৩০ শতাংশ আওয়ামী ভোটার জামায়াতে ইসলামীকে বেছে নিতে পারেন বলে আভাস পাওয়া যাচ্ছে। এছাড়া বাংলাদেশের বিদ্যমান নির্বাচনী ব্যবস্থার কারণে দেশজুড়ে সুষম জনসমর্থন থাকা বিএনপি আসন জয়ের ক্ষেত্রে জামায়াতের তুলনায় সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। তবে বিএনপির এই সম্ভাব্য জয়ের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও বিদ্রোহী প্রার্থীরা। প্রায় ৭৯টি নির্বাচনী এলাকায় দলের মনোনয়ন না পাওয়া ৯২ জন প্রভাবশালী নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, যা বিএনপির ১৫ থেকে ৩০টি আসন কমিয়ে দিতে পারে। অন্যদিকে, তরুণ ভোটার বা ‘জেন-জি’ প্রজন্মের বিশাল সমর্থন জামায়াতে ইসলামীর শক্তির উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেশের ৪৪ শতাংশ ভোটারই তরুণ, যাদের বড় একটি অংশ প্রথমবার ভোট দিচ্ছেন। এই তরুণরা যদি দলবেঁধে কেন্দ্রে উপস্থিত হন, তবে নির্বাচনী ফলে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। সবশেষে, প্রায় ১৭ থেকে ৩৫ শতাংশ দোদুল্যমান ভোটার এবং তাদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করবে আগামীর সরকার কতটা শক্তিশালী হবে। দ্য নিউইয়র্ক এডিটোরিয়ালের মূল পূর্বাভাস, তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি প্রায় ১৮৫টি আসনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করতে পারে এবং জামায়াতে ইসলামী ৮০টির মতো আসন পেয়ে প্রধান বিরোধী দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারে। তবে বিদ্রোহী প্রার্থীদের প্রভাব এবং তরুণ ভোটারদের উপস্থিতির ওপর ভিত্তি করে আসন সংখ্যায় বড় ধরনের হেরফের হওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। ৩৫০ একরের ঘাঁটিটিতে সামরিক বাহিনীর পাঁচ হাজার সদস্য থাকতে পারবে। গাজার ‘বোর্ড অব পিস’র নথি পর্যালোচনা করে এ তথ্য জানিয়েছে দ্য গার্ডিয়ান। প্রতিবেদনে ব্রিটিশ সংবাদ মাধ্যমটি জানিয়েছে, বোর্ড অব পিসে গাজাকে নিরাপদ করার জন্য ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যাবিলাইজেশন ফোর্স (আইএসএফ) নামে একটি আন্তর্জাতিক বাহিনী মোতায়েনের কথা বলা হয়েছে। যে স্থানটি ঘাঁটি করার জন্য বিবেচনা করা হচ্ছে সেখানে আইএসএফের সদস্যরা থাকবে। বোর্ড অব পিসের প্রধান হবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আর সংগঠনটির আংশিক নেতৃত্ব দেবেন ট্রাম্পের জামাতা জ্যারার্ড কুশনার।দ্য গার্ডিয়ান বোর্ড অব পিসের নথি পর্যালোচনা করে জানায়, ধাপে ধাপে একটি সামরিক ঘাঁটি নির্মাণ করা হবে। সবকিছু শেষ হলে ঘাঁটিটি ১৫ লাখ ১৭ হাজার ৫৭৫ বর্গমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত হবে। ঘাঁটিটির চারপাশে ট্রেইলার সংযুক্ত ২৬টি সাঁজোয়া নজরদারি টাওয়ার থাকবে। এছাড়া একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, বাংকার ও অস্ত্র রাখার গুদাম থাকবে। পুরো ঘাঁটিটি কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে ঘিরে রাখা হবে। সামরিক ঘাঁটি নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে দক্ষিণ গাজার একটি শুষ্ক সমতলভূমিতে। সেখানে ইসরায়েলি হামলার চিহ্ন রয়েছে। ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে বিভিন্ন ধাতবের ধ্বংসাবশেষ। ওই এলাকার ভিডিও পর্যালোচনা করেছে দ্য গার্ডিয়ান। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, ঘাঁটি নির্মাণের জন্য টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে। যুদ্ধক্ষেত্রে কাজের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন আন্তর্জাতিক নির্মাণ কোম্পানিগুলোর একটি ছোট দলকে ইতোমধ্যেই এলাকাটি দেখানো হয়েছে। ওই দলটি দরপত্রে অংশ নিতে আগ্রহী। ইন্দোনেশিয়া সরকার গাজায় আট হাজার সেনা সদস্য পাঠানোর জন্য প্রস্তাব দিয়েছে। বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটন ডিসিতে বোর্ড অব পিসের অনানুষ্ঠানিক বৈঠকে ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্টের অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। এছাড়া দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার আরও তিন নেতার ওই বৈঠকে অংশ নেবেন বলে জানা গেছে। জাতিসংঘের নিরাপত্তা কাউন্সিল গাজার সাময়িক স্থিতিশীলতার জন্য অস্থায়ীভাবে সামরিক বাহিনী মোতায়েনের অনুমোদন দিয়েছে। নিরাপত্তা কাউন্সিলই বোর্ড অব পিসের মূল হোতা। গাজার সীমান্ত ও শান্তি প্রণয়নে কাজ করবে আইএসএফ। এছাড়া বেসামরিকদের সুরক্ষা এবং ফিলিস্তিনি পুলিশ বাহিনীকে প্রশিক্ষণ ও সহায়তা দেবে তারা। যদি গাজায় ফের সংঘর্ষ হয়, ইসরায়েল বোমা হামলা চালায় অথবা হামাস হামলা চালায় সেক্ষেত্রে আইএসএফ কি করবে তা এখনও স্পষ্ট নয়। গাজা পুনর্গঠনে ইসরায়েল হামাসকে নিরস্ত্রীকরণের যে শর্ত দিয়েছে সেটির জন্য আইএসএফ কাজ করবে কিনা তাও স্পষ্ট না। ইতোমধ্যে বোর্ড অব পিসে ২০ এর অধিক দেশ যোগ দিয়েছে। তবে, এখনও অনেক পরাশক্তি এর থেকে দূরে রয়েছে। জাতিসংঘের অনুমোদন নিয়ে প্রতিষ্ঠিত হলেও ধারণা করা হচ্ছে, সংগঠনটির স্থায়ী নেতৃত্ব ও নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে। রুটজার্স বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক আদিল হক বলেন, “বোর্ড অব পিস এক ধরনের আইনি কল্পসত্তা। নামমাত্রভাবে এর নিজস্ব আন্তর্জাতিক আইনগত সত্তা রয়েছে, যা জাতিসংঘ ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে আলাদা। কিন্তু বাস্তবে এটি যুক্তরাষ্ট্রের ইচ্ছামতো ব্যবহারের জন্য একটি ফাঁপা খোলসমাত্র।” বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গাজা পুনর্গঠনে যে অর্থায়ন ও শাসন কাঠামো হচ্ছে তা অস্বচ্ছ। কয়েকজন ঠিকাদার গার্ডিয়ানকে জানান, গাজায় কাজ করার জন্য মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে তাদের প্রায়শ আলোচনা সরকারি ইমেলের বদলে সিগন্যালের মাধ্যমে করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রের তথ্য মতে, ঘাঁটি নির্মাণের সিদ্ধান্তটি বোর্ড অব পিসের। এতে সহায়তা করছে মার্কিন কর্মকর্তারা। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ঘাঁটিতে তৈরি বাংকার নেটওয়ার্কের মতোন কাজ করবে। প্রতিটি বাংকারের ২৪ মিটারের হবে। উচ্চতা থাকবে আড়াই মিটার। এগুলো এমনভাবে করা হবে যেন সেনা সদস্যরা আশ্রয় নিতে পারে। স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসের গাজায় সুড়ঙ্গ নেটওয়ার্ক বা টানেল রয়েছে। সেগুলোর আদলে নেটওয়ার্ক করতে চাওয়া হচ্ছে। পিস অব বোর্ডের নথি পর্যালোচনা করে এমন দাবি করছে গার্ডিয়ান। সংবাদ মাধ্যমটি বলছে, স্থানটির ভূ-ভৌত জরিপ পরিচালনা করবে ঠিকাদাররা। নথির এক অংশে ‘হিউম্যান রেমিয়েনস প্রোটোকল’র কথা বলা হয়েছে। এর মানে দাঁড়ায়, সন্দেহভাজন মানব অবশিষ্ট বা সাংস্কৃতিক নিদর্শন পাওয়া গেলে অবিলম্বে সেই এলাকায় সব কাজ বন্ধ করতে হবে। চুক্তি কর্মকর্তাকে দিকনির্দেশনার জন্য অবিলম্বে জানাতে হবে। গাজা সিভিল ডিফেন্সের ধারণা, গাজার ধ্বংসস্তূপের নিচে ১০ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনির মরদেহ রয়েছে। ঘাঁটির জন্য যে স্থানটি বিবেচিত করা হচ্ছে সেটির মালিক কে তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে, দক্ষিণ গাজার বেশিরভাগ অংশ বর্তমানে ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণে। জাতিসংঘের অনুমান, যুদ্ধ চলাকালীন ১৯ লাখ ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত হয়েছে। ফিলিস্তিনের জমিতে সরকারের অনুমতি না নিয়ে সামরিক ঘাঁটি স্থাপনকে দখল হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন ফিলিস্তিনি-কানাডিয়ান আইনজীবী এবং প্রাক্তন শান্তি আলোচক দিয়ানা বুট্টু। তিনি প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়ে বলেন, “কার অনুমতিতে তারা সামরিক ঘাঁটি স্থাপন করবে।” বিষয়টি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা বোর্ড অব পিসের কথা টানেন। ট্রাম্প প্রশাসনের একজন কর্মকর্তা সামরিক ঘাঁটির চুক্তি নিয়ে আলোচনা করতে অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, “যেমনটি প্রেসিডেন্ট বলেছেন, কোনও মার্কিন সেনা স্থলভাগে যাবে না। আমরা লিক হওয়া নথি নিয়ে আলোচনা করবো না।”
বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের প্রত্যন্ত চরাঞ্চল থেকে উঠে এসে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার কেন্দ্রে এখন তাইজুল ইসলাম, যিনি অনলাইনে পরিচিত ‘তাজু ভাই ২.০’ নামে। মাত্র একটি ভিডিও—যেখানে তিনি এক দোকানিকে প্রশ্ন করেন, “জিলাপি আজকে কত করে বেচতেছেন সরকারি রেটে?”—এই সরল উপস্থাপনাই তাকে রাতারাতি ভাইরাল করে তোলে। কয়েক ঘণ্টায় ফলোয়ার লাখ ছাড়াল রোববার রাত পর্যন্ত তার ফেসবুক অনুসারী ছিল প্রায় ৩৫ হাজার। কিন্তু সোমবার সন্ধ্যা থেকে রাতের মধ্যেই তা বেড়ে এক লাখের বেশি হয়ে যায়। ভাইরাল ভিডিওটি ইতোমধ্যে প্রায় ৫০ থেকে ৫৫ লাখবার দেখা হয়েছে। কী ছিল সেই ভিডিওতে? ভিডিওতে দেখা যায়, কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীর নারায়ণপুর বাজারে দাঁড়িয়ে স্থানীয় ভাষায় তিনি জিলাপির দাম জানতে চান। তার কথাগুলো ছিল একেবারেই সহজ ও গ্রাম্য ভঙ্গিতে— “সাদাডা কত, লালডা কত? সরকারি রেটে বেচতেছেন?” এই সরল প্রশ্নই সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। কোথা থেকে উঠে এলেন তাজু ভাই? কুড়িগ্রাম জেলার নাগেশ্বরী উপজেলার নারায়ণপুর ইউনিয়নের একটি দুর্গম গ্রামে জন্ম তার। ব্রহ্মপুত্র নদবেষ্টিত এই অঞ্চলে পৌঁছাতে এখনও কয়েকটি নৌঘাট পার হতে হয়। দারিদ্র্যের কারণে কখনো স্কুলে যাওয়া হয়নি তার। পেশায় তিনি একজন নির্মাণশ্রমিকের সহকারী (হেলপার)। কাজের ফাঁকে ঢাকায় থাকাকালীন মোবাইল ফোনে ভিডিও তৈরি করাই তার শখ। ব্যক্তিগত সংগ্রাম তাইজুল ইসলামের পরিবারে ছয় ভাই-বোন। তিনি সবার বড়। তার বাবা-মা দুজনই শ্রবণপ্রতিবন্ধী। পরিবার চালাতে তাকে ছোটবেলা থেকেই সংগ্রাম করতে হয়েছে। তিনি বলেন, “পরিবারের কষ্ট ভুলতেই ভিডিও করি। আমি সাংবাদিক না, কিন্তু আমাদের এলাকায় কেউ আসে না—তাই নিজেরাই ভিডিও বানাই।” ভাইরাল হওয়ার পেছনের উদ্দেশ্য তাইজুলের দাবি, তার ভিডিও শুধুই বিনোদনের জন্য নয়। তিনি চান তার এলাকার অবহেলিত মানুষের কথা প্রশাসনের নজরে আসুক। “আমি চাই চরের মানুষের উন্নয়ন হোক,”—বলছেন তিনি। মিশ্র প্রতিক্রিয়া ভিডিওটি নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে দুই ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ তার সরলতা ও বাস্তবতা তুলে ধরার চেষ্টা প্রশংসা করছেন আবার কেউ তাকে নিয়ে ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ করছেন তবে এসব সমালোচনায় তিনি বিচলিত নন।